text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
ত্রাণ বিতরণে কোনোরূপ অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, 'স্পষ্টভাবে একটা কথা বলতে চাই, ত্রাণ বিতরণে কোনোরূপ অনিয়ম সহ্য করা হবে না। খেটে খাওয়া মানুষের ত্রাণ নিয়ে যারাই ছিনিমিনি খেলবে, তারা যে-ই হোক, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।'আজ শনিবার নিজের সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সরকারি ছুটির কারণে নিম্ন আয়সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'করোনা নামের এ অদৃশ্য শক্তিকে পরাজিত করতে আমাদের সবাইকে দল-মতনির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সব মতপার্থক্য ভুলে সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সবাইকে ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।' তিনি বলেন, এই লড়াইয়ে জিততে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১দফা নির্দেশনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। কর্মহীন মানুষের পাশে সামর্থ্যবানদের দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই দুর্যোগে খেটে খাওয়া কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের চলমান প্রয়াস আরও জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, একটি কুচক্রী মহল এই দুর্যোগকালে নানান গুজব ছড়াচ্ছে। এসব গুজবের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার এবং গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, মনে রাখতে হবে ঘরে ঘরে অবস্থান এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে যাঁরা পারবেন না, তাঁরা নিজেরাই নিজেদের জন্য বিপদ ডেকে আনবেন। সেতুমন্ত্রী জানান, সরকার সাধারণ ছুটি আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করায় দেশব্যাপী চলমান গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। পণ্যবাহী পরিবহন খাদ্যদ্রব্য জরুরি সেবা, পচনশীল দ্রব্য পরিবাহী, ওষুধ শিল্প, ত্রাণবাহী গাড়ি, গণমাধ্যম, কৃষি, মৎস্যজাত পণ্য, দুগ্ধজাত পণ্য পরিবহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। | 9 |
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এখন বিএনপি আছে লাশের রাজনীতি নিয়ে। তারা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে নেই। প্রধানমন্ত্রী চান না যে, দলের মধ্যে কোনো অনুপ্রবেশ ঘটুক। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক চরিত্র হনন করতে চান না। তিনি আওয়ামী লীগের দরজা খুলে দিলে, বিএনপির ঘর শূন্য হয়ে যাবে। মির্জা ফখরুলরা জানে না, তারা ডানে, বামে পেছনে কাউকেই পাবেন না। সোমবার রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান অপরাধীদেরকে নিয়ে আদর্শহীন, নীতিহীন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। বাংলার মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে, খুনি অপরাধীদের সঙ্গে আমরা নেই। আমরা সত্য এবং সুন্দরের সঙ্গে আছি। সত্য এবং সুন্দর হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। পৃথিবীর অনেক রাজনৈতিক নেতা নিহত হলেও, সপরিবারে এভাবে নারী, পুরুষ, গর্ভবতী নারী, শিশু এত মানুষকে এভাবে হত্যা করা হয়নি কোথাও। এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিল জিয়াউর রহমান। একটি হত্যাকাণ্ড কীভাবে দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল, আমরা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর দেখেছি। একটি হত্যাকাণ্ডকে জায়েয করার জন্য রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে জিয়াউর রহমান কীভাবে অপপ্রচার চালিয়েছে! কীভাবে কলুষিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কীভাবে নোংরা কল্পকাহিনী সাজিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু একটি অপরাধকে, একটি হত্যাকাণ্ডকে জায়েয করার জন্য জিয়াউর রহমান এই কল্পকাহিনী বানিয়েছিলেন। তার ধারাবাহিকতা এরশাদ ও খালেদা জিয়া একইভাবে পালন করেছেন। আজকের বাস্তবতায় বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের বন্ধু নয়; বঙ্গবন্ধু বিশ্বের বন্ধু। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুকে লালন করি বলেই আজকে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর ঘাতকরা বার বার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বলেই সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরের সমালোচনা করা হয়; ১৩৯টি আইন অধ্যাদেশ দিয়ে কীভাবে বাংলাদেশ পরিচালিত হবে, প্রতিটি বিষয়ে ফাউন্ডেশন (ভিত্তি) বঙ্গবন্ধু দিয়ে গেছেন। এই কথাগুলো বলা হয় না। নৌ পর্যটনে বিআইডব্লিউটিসি'র সম্পৃক্ততা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই আমরা দুটি ক্রুজ ভ্যাসেলের চুক্তিপত্র করেছি। এ দুটি ভেসেলে সব আন্তর্জাতিক সুবিধা থাকবে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যেই এ জাহাজ দুটি পেয়ে গেলে বিদেশি পর্যটকরাও এখানে আগ্রহ দেখাবে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের কথা চিন্তা করেই বিআইডব্লিউটিসিকে এগিয়ে যেতে হবে। বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (সিবিএ) সভাপতি ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মো. মহসিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান, কার্যকরী সভাপতি মো. আলাউদ্দিন মিয়া, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, সাহাবুদ্দিন মিয়া, মো. মশিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম এবং বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুন্সী জুলহাস রহমান। অনুষ্ঠানে জাতির পিতাসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়। | 6 |
বৈশ্বিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিশ্বের ১০০টি প্রধান শহরের মধ্যে বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকা এক নম্বরে ছিল। বায়ুমানের সূচক ২০০ অতিক্রম করলে একে 'খুব অস্বাস্থ্যকর' বলে ধরা হয়। একিউআই অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল ২৪১; যা বুধবার সকাল ১০টায় ২৬৯ রেকর্ড করা হয়। বুধবারও ঢাকার বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর ছিল। সেদিন বায়ুর মানের সূচক ছিল ২৬৯। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাজধানীর বায়ু ২০১৪ সালে ১৬৫ দিন বিপজ্জনক ছিল। ২০১৫ সালে দূষণের মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৮ দিনে। পর্যায়ক্রমে ২০১৬ সালে ১৯২ দিন, ২০১৭ সালে ২১২ দিন, ২০১৮ সালে ২৩৬ দিন, ২০১৯ সালে ২৮৩ দিন ঢাকার বায়ু দূষিত ছিল, যার ধারাবাহিকতায় ২০২০ ও ২০২১ সালে বায়ুদূষণের তালিকায় প্রথম হয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) পরিচালক ড. আহ্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, 'শীত শুরুর পর থেকেই ঢাকার বায়ুমান কখনও চরম অস্বাস্থ্যকর এবং কখনো বিপজ্জনক পর্যায়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য শহরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ওইসব দেশে হেলথ এলার্ট দিয়ে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বাইরে যাওয়ার জন্য নিষেধ করা হয়। এছাড়া বায়ুদূষণ দূর করতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু ঢাকা টানা তিনদিন বায়ুদূষণে শীর্ষে থাকার পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কোনো উদ্যোগ নেই। বায়ুদূষণে স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঠেকাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো কার্যক্রম নেই।' তিনি বলেন, 'দুই কারণে ঢাকার বায়ু বেশি দূষিত। প্রথমটি হচ্ছে বাতাসের দূষিত উপাদান বাতাসেই রয়ে যাচ্ছে। শহরে বড় প্রকল্পের কাজ, নির্মাণাধীন ভবনের কাজ, যানবাহনের ধোঁয়ায় ঢাকার বায়ুর চাপ বেশি। এই দূষিত অংশ বায়ুর নিম্নস্তরে ২০০-৩০০ ফুট ওপরে অবস্থান করছে। ফলে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।' | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের মধ্যে অন্তত ছয়জন হোয়াইট হাউজ বিষয়ক আলাপ আলোচনা চালাতে নিজেদের ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন। যার মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প।দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এই ছয়জনের নাম প্রকাশ করেছে।নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে সরকারী কাজে ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করার অভিযোগে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে বারংবার অভিযুক্ত করেছেন ট্রাম্প।এজন্য তিনি এমনকি কয়েকবারই হিলারি ক্লিনটনকে কারাদণ্ডের মত শাস্তি দেবার দাবি তুলেছিলেন।এদিকে,নিউজউইক ম্যাগাজিন জানিয়েছে,এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে সহযোগিতা চেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের পাঠানো একটি মেইল এবং দুজন ফেডারেল কর্মকর্তাকে সেই মেইলটির পাঠানো কপির বিস্তারিত তাদের হাতে রয়েছে।এর আগে রোববার প্রকাশ পায় ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টা জেরার্ড কুশনারের ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।ডেমোক্রেট সিনিয়র কংগ্রেসম্যান এলিজাহ কামিংস কুশনারের কাছে চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি যেন তার সব ধরনের ব্যক্তিগত ইমেইল সংরক্ষণ করেন।হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স জানিয়েছেন, এসব ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।রোববার মি কুশনারের একজন আইনজীবী নিশ্চিত করেন, জানুয়ারি থেকে অগাস্ট পর্যন্ত একশোর মত ইমেইল কুশনার এবং তার স্ত্রী ইভাঙ্কা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো হয়েছে।
| 3 |
সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ করেন পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু বারবার তা অস্বীকার করে আসছিল ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি ও বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেই বেরিয়ে আসে প্রশ্নফাঁসের সত্যতা। এরইমধ্যে প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত ৫ জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে আটজন ব্যাংক কর্মকর্তা ও দুইজন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। বুধবার (১০ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, প্রশ্ন ও উত্তর ফাঁসের মূলহোতা আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যায়ের আইসিটি টেকনিশিয়ান মোক্তারুজ্জামান রয়েল (২৬), জনতা ব্যাংকের গুলশান শাখার কর্মকর্তা শামসুল হক শ্যামল (৩৪), রূপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জানে আলম মিলন (৩০), পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান মিলন (৩৮) ও পরীক্ষার্থী স্বপন। ডিবি জানায়, প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্যরা প্রথম ব্যক্তির কাছে একটি প্রশ্ন বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকায়। সেই প্রশ্ন হাত বদল করে কোটি কোটি টাকা পকেটে তুলেছে চক্রের সদস্যরা। গোয়েন্দার উত্তরের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেন, তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তের পর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ৫ জনকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে আজ বুধবার বেলা ৩টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ। | 6 |
মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গনে সৈন্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর একটি সামরিক ট্রাক তুলে দিলে বেশ কয়েকজন নিহত এবং আরো বহু মানুষ আহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সৈন্যরা এরপর ছুটে পালানো বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়, এবং অন্য অনেককে মারধর করে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ঐ বিক্ষোভ সমাবেশ শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে জমায়েতের ভেতর ঢুকে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনী বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে বিক্ষোভ চলার সময় ১,২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে এবং আরো কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে বন্দি করা হয়েছে। সর্বসাম্প্রতিক এই ঘটনা নিয়ে সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি, তবে এর আগে সেনা সরকার সহিংসতায় উস্কানি দেবার জন্য প্রতিবাদকারীদেরই দায়ী করেছে। মিয়ানমারে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রোববার ইয়াঙ্গনে অন্তত তিনটি বিক্ষোভ হয়েছে। অতীতে সৈন্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর পর থেকে প্রতিবাদকারীরা ছোট ছোট দলে সংগঠিত হয়ে বিক্ষোভ করে, যাতে হতাহতের সংখ্যা কম হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আজ ইয়াঙ্গনে প্রতিবাদকারীরা সমাবেশে ''হঠাৎ করে জড়ো হয়'' এবং তারা জড়ো হবার কয়েক মিনিটের মধ্যে সৈন্যরা তাদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেয়। 'আমাকে একটা ট্রাক ধাক্কা মারে এবং আমি ট্রাকের সামনে মাটিতে পড়ে যাই। একজন সৈন্য আমাকে রাইফেলের বাঁট দিয়ে মারে। কিন্তু আমি তাকে ঠেলে সরিয়ে দিই। তারপর সে আমাকে লক্ষ্য করে সাথে সাথে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। আমি এঁকেবেঁকে ছুটছিলাম এবং সৌভাগ্যবশত আমি পালাতে সক্ষম হই,' বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন একজন বিক্ষোভকারী। জাতিসঙ্ঘ বলেছে, সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হতে পারে। তবে, জাতিসঙ্ঘ দূতকে ঘটনার তদন্ত করতে কয়েকবার মিয়ানমারে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের স্বপক্ষে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা যুক্তি দেখায় এই অভিযোগ এনে যে, গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। ঐ নির্বাচনে মিয়ানমারে সেসময়কার নেত্রী অং সান সু চির দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী হয়। নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলেন নির্বাচন মূলত অবাধ ও নিরপেক্ষ ছিল। মিজ সু চির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগে মামলা দায়ের করাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত বলে ব্যাপকভাবে সমালোচনা করা হয়। এ বছরের গোড়ার দিকে শান্তিপূর্ণ নাগরিক আইন অমান্য আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন অথবা সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় যেসব বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘাঁটি রয়েছে - তাদের কাছে সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। গণপ্রতিরক্ষা বাহিনীর সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবীরা মিয়ানমারের শহর ও গ্রামে বিভিন্ন জায়গায় কয়েক শ' বোমা হামলা চালিয়েছে এবং সামরিক সরকারের সাথে কাজ করছেন এমন কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে। যেসব জায়গায় জোরালো সশস্ত্র প্রতিবাদ হয়েছে, সেসব এলাকায় সামরিক বাহিনী বড়ধরনের অভিযান চালিয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে জঙ্গলে পালাতে বা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য করেছে।সূত্র : বিবিসি | 3 |
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১১ জন। নতুন রোগীদের মধ্যে সাত জন ঢাকার এবং বাকি চার জন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিভাগের। রবিবার (২ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ৩২ জন রোগী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে এবং ৩২ জন সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। নতুন বছরে এখন পর্যন্ত ১৫ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রবিবার ৪৯ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। এছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদিকে ২০২১ সালে রাজধানীসহ সারাদেশে এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই সময়ে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা যান ১০৫ জন। ২০২১ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে নভেম্বরে তিন হাজার ৫৬৭ জন, অক্টোবরে পাঁচ হাজার ৪৫৮ জন, সেপ্টেম্বরে ৭ হাজার ৮৪১ জন, আগস্টে ৭ হাজার ৬৯৮ জন, জুলাইয়ে ২ হাজার ২৮৬ জন এবং জুন মাসে ২৭২ জন ও মে মাসে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। | 6 |
ভারতের বিজেপি বিরোধী দলগুলির মধ্যে অনৈক্যের চেহারা আরও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে প্রকাশ্যেই চলছে বিবৃতির লড়াই। উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কৃষক হত্যাকাণ্ডে কংগ্রেস কিছুটা প্রচারের আলো দেখালেও সেখানে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে শতাব্দী প্রাচীন দলের ঝগড়া শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্র কংগ্রেস ও এনসিপি একসঙ্গে সরকার চালালেও একে অন্যকে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বিরোধীদের অনৈক্যের ছবিই স্পষ্ট হচ্ছে ভারতে।বিজেপির বিকল্প কে হবে তা নিয়েই ভারতে শুরু হয়েছে বিরোধীদের মধ্যে লড়াই। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে হারানোর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকেই তুলে ধরতে মরিয়া তৃণমূল। তবে পশ্চিমবঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর অভিযোগ, মোদীর সঙ্গে 'গোপন ডিল করে' বিরোধী ঐক্য ভাঙতে চাইছেন মমতা।তৃণমূলের নাম না করে, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তথা উত্তর প্রদেশের কংগ্রেস ভারপ্রাপ্ত ভূপেশ বাঘেল সামাজিক গণমাধ্যমে কটাক্ষ করেন, 'কংগ্রেস এমন নেতাদের ভাঙিয়ে নিয়ে কেউ কেউ জাতীয় বিকল্প হতে চাইছে।' সেই সঙ্গে জাতীয় বিকল্প হয়ে উঠতে যে গোটা দেশে নিজেদের প্রভাব জরুরি সেটাও স্মরণ করিয়ে দেন বাঘেল। তাঁর সাফ কথা, দল ভাঙিয়ে জাতীয় বিকল্প হয় না। তবে প্রথমবারের মুখ্যমন্ত্রী বাঘেলের জবাব কংগ্রেসের নাম করেই দিয়েছে তৃণমূল। আমেঠি কেন্দ্রে রাহুল গান্ধীর হার নিয়ে তৃণমূলের টুইটার হ্যান্ডল থেকে কংগ্রেসকে খোঁচা দেওয়া হয়।এরই মধ্যে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই দলের মুখপত্র জাগো বাংলার শারদীয় সংখ্যায় কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন শতাব্দী প্রাচীন দলটির নেতৃত্ব তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে মানবেন না। তাঁর ভাইপো, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, 'সিপিএম রাস্তায় নেই। আর কংগ্রেস অস্তিত্বহীন। বাম-কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া মানে ভোট নষ্ট করা। বিজেপিকে হারাতে হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্তিশালী করতে হবে।'সামনেই উত্তর প্রদেশসহ ভারতের ৫ রাজ্যে ভোট। কিন্তু বিরোধীদের মধ্যে ঐক্যের কোনো লক্ষণ নেই। বরং নিজেরা যেভাবে বিবৃতির লড়াই শুরু করেছেন তাতে করে আদৌ বিরোধী ভোট ভাগাভাগি বন্ধ করার কোনো চেষ্টা হতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন না। ফলে বিরোধীদের ভোট ভাগাভাগিতে সুবিধা হতে পারে বিজেপির। | 3 |
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার 'পদত্যাগপত্র'রাষ্ট্রপতির দফতরেআসেনি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছে বলে শুক্রবার রাতে খবর ছড়ায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আমি যতদূর জানি, এখনও কোনো পদত্যাগপত্র মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছায়নি।'এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'যখন পৌঁছাবে তখন আকাশে চাঁদ উঠার মতো আপনারাও জানতে পারবেন।'ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেছেন বলে শুক্রবার গভীর রাতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে খবর প্রচার করা হয়েছে। 'ব্রেকিং নিউজ' হিসেবে প্রচারিত এ খবরে বলা হয়- 'রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।' এর কিছুক্ষণের মধ্যে আরও কয়েকটি চ্যানেলের স্ক্রলে সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ হিসেবে একই তথ্য প্রচার করা হয়। তবে কোনোটিরই তথ্যসূত্র ছিল না।তাৎক্ষণিকভাবে সমকালের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। রাত পৌনে ২টায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সমকালকে বলেন, 'এ রকম কোনো কিছু তার জানা নেই।'পরে এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ও তথ্য কর্মকর্তা সাইফুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ-সংক্রান্ত চিঠির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।এদিকে, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে প্রধান বিচারপতি শুক্রবার কানাডা গেছেন। এর আগে সোমবার তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। শুক্রবার তার ছুটির মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও তিনি ঠিক কবে দেশে ফিরবেন, তা জানাতে পারেননি সুপ্রিম কোর্ট।সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল জাকির হোসেন জানান, 'ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও কাজে যোগ দেওয়া বা ছুটি বাড়ানোর ব্যাপারে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছ থেকে কোনো চিঠি তারা এখনও পাননি।'সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত ২ অক্টোবর অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে যান প্রধান বিচারপতি। ১৩ অক্টোবর তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। যাওয়ার আগে প্রধান বিচারপতি লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি অসুস্থ নই। পালিয়েও যাচ্ছি না। সাময়িকভাবে যাচ্ছি। আবার ফিরে আসব। বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার জন্য যাচ্ছি। সরকারকে ভুল বোঝানো হয়েছে।'পরদিন এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক বিবৃতিতে জানায়, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
| 6 |
প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যেও বেলারুশের বনাঞ্চলের গুদামঘরে অবস্থান নিয়েছেন অসংখ্য অভিবাসী। এসব গুদামঘরের অবস্থান পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে। সেখানে এসব অভিবাসীদেরকে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে এক হালকা রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে খাবারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তারা গরম খাবার ও পানির জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মঙ্গলবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে ডেইলি সাবাহ। অসংখ্য অভিবাসী প্রায় এক মাস ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করার আশায় বেলারুশের সীমান্ত অঞ্চলের এ বনাঞ্চলে আটকে পড়েছেন। যদিও এ হিমশীতল তাপমাত্রার মধ্যে তারা চেষ্টা করেছিলেন ইউরোপে (পোল্যান্ড) প্রবেশ করার, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। এখনো অনেক অভিবাসী আশা করছেন যে তারা ইউরোপে প্রবেশ করার অনুমতি পাবেন। ৮ নভেম্বর তারিখ থেকে বিভিন্ন দেশের অসংখ্য অভিবাসী বেলারুশে গেছেন। তারা বেলারুশ-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে অবস্থান করছেন। এখানকার অধিকাংশ অভিবাসীই তাদের নিজ দেশে সঙ্ঘাত ও বিপর্যয়ের কারণে এখন ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নিজেদের দেশে অসহায় ও নিরাশ অবস্থায় থাকা এসব মানুষ এখন পোল্যান্ড হয়ে জার্মানি বা পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে যেতে চান। সূত্র : ডেইলি সাবাহ | 3 |
শুধু এই স্টেশনেই যাত্রীদের মাসে কমপক্ষে ৩২ লাখ টাকা এবং বছরে আনুমানিক ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। জামালপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন পাঁচটি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে। ট্রেনগুলোতে ১ হাজার ৮৭টি আসনের জামালপুরের যাত্রীদের জন্য বরাদ্দ আছে। কিন্তু প্রতিদিন যাত্রী পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি থাকে। বেশির ভাগ যাত্রী কাউন্টার থেকে টিকিট পান না। কালোবাজারিদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি টাকায় টিকিট কিনতে হয় তাঁদের। এতে যাত্রীদের মাসে কমপক্ষে ৩২ লাখ টাকা এবং বছরে আনুমানিক ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। যার পুরোটাই যাচ্ছে কালোবাজারিদের পকেটে। স্টেশনের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রীর সঙ্গে প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, জরুরি কাজে তাঁকে ঢাকায় যেতেই হবে। তিনি আন্তনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের জন্য স্টেশনের কাউন্টারে ছুটে যান। কিন্তু অন্য সব যাত্রী যেভাবে ফেরেন তাঁকেও সেভাবে কাউন্টার থেকে খালি হাতে ফিরতে হলো। পরে তাঁকে এক ব্যক্তি কালোবাজারিদের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন। সেই ব্যক্তির মাধ্যমে স্টেশনের পার্কিং এলাকায় এক কালোবাজারির কাছ থেকে ৩৮০ টাকার দুটি (প্রতি টিকিটের দাম ১৯০ টাকা) আন্তনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট ৯০০ টাকায় কেনেন। জামালপুরের স্টেশনমাস্টার মো. আছাদ উজ জামান প্রথম আলোকে বলেন, 'টিকিট কালোবাজারি হয়; এটি সত্য। তবে আমার প্ল্যাটফর্মের মধ্যে কালোবাজারিরা টিকিট বিক্রি করে না। শুধু এই স্টেশনের নয়, বিভিন্ন স্টেশনের টিকিট এইখানে বিক্রি হয়। বিষয়গুলো জিআরপি থানাকে জানানো হয়েছে।' ঢাকা-জামালপুর রেলপথে প্রতিদিন পাঁচ জোড়া আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে। এগুলো হচ্ছে তিস্তা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, অগ্নিবীণা ও জামালপুর এক্সপ্রেস। ট্রেনগুলোতে মোট ১ হাজার ৮৭টি আসন জামালপুরের জন্য বরাদ্দ। এর মধ্যে তিস্তায় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) সাধারণ কামরায় আসন আছে ৫৫টি, এসি কেবিনে আসন ১২টি, সাধারণ কেবিনে আসন ১৫টি, শোভন চেয়ার ১২০টি; ব্রহ্মপুত্রে এসি আসন ৪৫টি, শোভন চেয়ার ১৪০টি; যমুনায় প্রথম শ্রেণিতে জামালপুরের জন্য আসন আছে ২২টি, কেবিনে ১৫টি, শোভন চেয়ার ৫০টি ও শোভন সাধারণ ১০৫টি; অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসে প্রথম শ্রেণিতে ২৮টি, কেবিনে ১৫টি, শোভন চেয়ার ৫০টি ও শোভন সাধারণ ১২০টি এবং জামালপুর এক্সপ্রেসে এসি বগিতে আসন ৭০টি ও শোভন চেয়ার ২২৫টি আসন আছে। একাধিক যাত্রী ও কালোবাজারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসি কামরায় একটি টিকিট ৩৬৮ টাকার জায়গায় কালোবাজারে প্রায় ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়। এসি কেবিনে ৪৩৭ টাকার স্থলে ৭৫০, শোভন চেয়ার ১৯০ টাকার স্থলে ৪০০, প্রথম শ্রেণির টিকিট ২৫৫ টাকার স্থলে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫টি আন্তনগর ট্রেনের ১ হাজার ৮৭টি আসনের মধ্যে অর্ধেক টিকিট (পাঁচ শতাধিক) কালোবাজারিদের হাতে যাচ্ছে। টিকিটের দাম প্রকারভেদে দুই থেকে তিন গুণ বেশি নেন কালোবাজারিরা। তবে প্রতিটি টিকিটে গড়ে ২০০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয়-সে হিসাব ধরে ৫৪৩টি টিকিটের বিপরীতে প্রতিদিন ৩২ লাখ টাকা এবং বছরে ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কালোবাজারিরা পকেটে পুরছেন। জামালপুরে ট্রেনে আসনসংখ্যার তুলনায় যাত্রীর চাপ পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি। ফলে এই স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি চক্র বেশি জোরদার বলে মনে করেন যাত্রীরা। একজন কালোবাজারি ২৪ ঘণ্টায় তিন থেকে চারটি টিকিট বিক্রি করতে পারলেই ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা উপার্জন হয়ে যায়। ফলে অনেকেই এই পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। যাত্রী সেজে এই প্রতিবেদক কথা বলেন এক কালোবাজারির সঙ্গে। ওই কালোবাজারি বলেন, স্টেশনের বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি আন্তনগর ট্রেনের টিকিট নিয়ম মেনে পাঁচ দিন আগে ছাড়া হয়। কিন্তু সেই টিকিট এক ঘণ্টার মধ্যে কাউন্টার থেকে উধাও হয়ে যায়। সকালে যাঁরা লাইনে দাঁড়ান, তাঁদের বেশির ভাগই কালোবাজারি। তাঁদের সবাইকেই স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চেনেন। সকালে কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুধু লোকদেখানো। বেশির ভাগ টিকিট কৌশলে স্টেশনের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী কেটে নিজেদের কাছে রাখেন। বিশেষ করে তিস্তা ট্রেনের টিকিট সাধারণ যাত্রীরা পান না। জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসি মো. গোলজার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সদস্যদের দেখলেই কালোবাজারিরা সটকে পড়েন। | 6 |
পৃথিবীর আলো দেখেই মাকে চিরতরে হারাল সন্তান। ঘটনা নেত্রকোনার সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দার রংছাতি ইউনিয়নের সন্ন্যাসীপাড়া গ্রামের। ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী তারমিনা (২৫) বৃহস্পতিবার রাতে নিজবাড়িতে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এর পরপরই তিনি রক্ত স্বল্পতাজনিত কারণে জটিলতায় পড়েন বলে জানায় স্বজনরা। পরে রাতেই কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সড়কের ভাঙাচোরা জায়গা পাড়ি দিতে দিতে সময় চলে যায়। এদিকে রক্তক্ষরণ হতে হতে রক্ত শূন্যতা দেখা দেয়। এদিকে এমন ঘটনায় শিশুটির পরিবারসহ হাসপাতালের নার্স চিকিৎসকদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় পেছন থেকে ঠেলে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবিয়ে দেয়ার ঘটনায় এমভি রূপসী-৯ জাহাজের চালকসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের হোসেনবাগ থেকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাদের আটক করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ নৌ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, আটকের পর তাদের রূপসী-৯ জাহাজে নেয়া হয়েছে। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরপর জাহাজটিসহ তাদের নারায়ণগঞ্জে আনা হবে। এর আগে মুন্সীগঞ্জের একটি ডকইয়ার্ড থেকে রূপসী-৯ জাহাজটি আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। নৌ পুলিশের কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, এমএল আফসার উদ্দিন নামের লঞ্চটি ঠেলে ডুবিয়ে দেয়ার পর জাহাজটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এর চালক ও সুকানিরা। তবে অবস্থা বেগতিক দেখে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীর একটি ডকইয়ার্ডে জাহাজটি রেখে তারা সটকে পড়েছিল। নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান বলেন, 'লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মুন্সীগঞ্জ যাচ্ছিল। সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন রূপসী-৯ কার্গো জাহাজ একে ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চটি ডুবে যায়। পরে একে একে উদ্ধার করা হয় পাঁচজনের লাশ। 'এর আগেও শীতলক্ষ্যা নদীতে জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চ ডুবে প্রাণহানি হয়েছে। নৌপুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা ঠিকমতো তদারকি না করায় শীতলক্ষ্যা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।' ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে সাঁতরে বন্দরের মাহমুদনগরে ওঠেন যাত্রী সোলায়মান মিয়া। তিনি জানান, লঞ্চটি সদর উপজেলার সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে এমভি রূপসী পরপর কয়েকবার ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। তখন অনেকে নদীতে লাফিয়ে পড়েন। এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আলাদা কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সময় দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন গঠিত ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটিকে। লাশ দাফনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। | 6 |
শরীর অনাবৃত করে এক তরুণী লন্ডনের রাস্তায় ঘুরে বেড়ালেন আর অধিকাংশ মানুষই তার এই নগ্নতা ধরতে পারলেন না। শুনতে আশ্চর্যজনক লাগলেও এটাই সত্যি। কিলি ক্লেইন নামের এক তরুণী শরীরের ঊর্ধ্বাংশ উন্মুক্ত করে লন্ডনের কিংস্টনের রাস্তায় ১০ মিনিট হেঁটে বেড়ালেন। আর অধিকাংশ মানুষই বুঝতে পারলেন না যে তিনি নগ্ন। কিলি ক্লেইনের লন্ডনের রাজপথের মানুষদের ধোঁকা দেয়ার এই খেলার পিছনের আসল মাথাটা কিন্তু ছিলেন সারা অ্যাশলি। সারার পেশা এবং নেশা বডি পেইন্টিং। এই সারাই কিলি ক্লেইনের জামাকাপড়হীন ঊর্ধ্বাংশে রঙের প্রলেপ পরান। এর জন্য ২ ঘণ্টা ধরে কিলির কাঁধ থেকে বুক এবং কোমর পর্যন্ত রঙের ব্রাশ বোলাতে হয়েছে সারাকে। কিলির শরীরের ঊর্ধ্বাংশে যে কোনও কাপড় নেই, তা সাধারণ চোখে
বোঝার কোনই উপায় ছিল না। কারণ, সারা এমনভাবে কিলির শরীরের অনাবৃত ঊর্ধ্বাংশে রঙের প্রলেপ দিয়েছিলেন যে মনে হচ্ছিল তিনি একটি সবুজ টি-শার্ট পরে আছেন। সুত্রঃ এবেলা।
বিডি-প্রতিদিন/ ২৭ জানুয়ারি, ২০১৬/ আব্দুল্লাহ সিফাত-১০ | 5 |
ক্ষুধাবিরোধী লড়াইয়ে ইলন মাস্কের ছয় বিলিয়ন ডলার কিভাবে ব্যয় করা হবে তার 'প্রুফ' দিয়েছে জাতিসংঘ। এর আগে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) পরিচালক ডেভিড বেসলি অ্যামজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও টেসলা প্রধান ইলন মাস্কদের মতো বিলিয়নিয়ররা যদি তাদের সম্পদের সামান্য অংশ দান করেন তাহলে বিশ্বের খাদ্য সঙ্কট সমাধান হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটে ভুগছে ৪২ মিলিয়ন মানুষ। আর এই সংকট নিরসনে প্রয়োজন ৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার। বেসলির ওই মন্তব্যের পর টুইটারে এই সংক্রান্ত কথোপকথনে জড়িয়ে যান ইলন মাস্ক। তিনি জাতিসংঘের কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, ডব্লিউএফটি যদি নির্দিষ্ট করে ব্যাখ্যা করতে পারে যে তারা কিভাবে ওই ছয় বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে খাদ্য সংকট দূর করবে তাহলে তিনি তার কোম্পানির কিছু শেয়ার বিক্রি করে সেই অর্থ দান করে দিবেন। আর সেটা অবশ্য প্রকাশ্যে হতে হবে যাতে মানুষ দেখতে পারে কিভাবে অর্থ ব্যয় হয়েছে। খবর ল্যাড বাইবেল। ইলন মাস্কের ওই ব্যাখ্যা চাওয়া টুইটার পোস্টের পর চলতি সপ্তাহে বেসলি টুইটে বলেছেন, পৃথিবী আগুনে পুড়ছে। করোনা, যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন আর এখনকার সাপ্লাই চেইনের খরচের কারণে পৃথিবী বড় সঙ্কটের মুখোমুখি হবে বলে আমি সর্তক করতেছি। ৪৫ মিলিয়ন মানুষ খাদ্য সঙ্কটে আছে এবং দিন দিন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি যদি মানুষকে খাওয়াতে ব্যয় না করেন তাহলে যুদ্ধে, ধ্বংসে এবং গণঅভিবাসনে ব্যয় করেন। এই খাদ্য সঙ্কট খুব আসন্ন, নজিরবিহনী এবং তা এড়ানো যায় না। ইলন মাস্ক আপনি উন্মুক্ত এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চেয়েছিলেন। এই দিলাম। . ' , , , . . - . ' , , . ../ তিনি আরও বলেন, আপনার সঙ্গে কথা বলতে আমরা প্রস্তুত। যে কারও সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত, যারা জীবন বাঁচানোর ব্যাপারে সত্যিই আগ্রহী। ২০২২ সালের দুর্ভিক্ষ এড়াতে ৬.৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার চাই। পোস্টে তিনি জাতিসংঘ ওয়েবসাইটের একটা লিঙ্ক শেয়ার করেন যেখানে অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হবে তা বলা আছে। খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে, খাদ্য ক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ এবং তা সরবরাহে ৩.৫ ইউএস ডলার। নগদ এবং লেনদেন খরচসহ ফুড ভাউচারে ২ বিলিয়ন ইউএস ডলার। আর ৭০০ মিলিয়ন ডলারে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন, ব্যবস্থাপনা এবং সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। কারণ বিশ্বে ৪৩টি দেশ আছে যেগুলোতে খাদ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। | 3 |
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন হামলায় আহত স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতা। বৃহস্পতিবার গোপালপুরের হাদিরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুয়েল রানা টাঙ্গাইলের গোপালপুর আমলী আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। আদালতের পরিদর্শক তানবীর আহাম্মেদ জানান, বিচারক শামছুল হক মামলার মূল কাগজপত্র দাখিল সাপেক্ষে আদেশের জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পরবর্তী তারিখ রেখেছেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, বাদী জুয়েল রানা গত রবিবার দুপুরে গোপালপুরের নগদা শিমলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে মিটিং শেষে নগদা শিমলা বাজার মোড়ে একটি সেলুনে চুল কাটার জন্য যান। সেখানে রাজনৈতিক মত বিরোধের জেরে এমপি তানভীর হাসানের হুকুমে আসামিরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। রানা বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- গোপালপুর উপজেলার ডুবাইল দক্ষিণ পাড়ার মৃত এরশাদের ছেলে শফিকুল ইসলাম শফিক, মো. সোবাহানের ছেলে ইকবাল হোসেন, দক্ষিণ গোপালপুরের রশিদের ছেলে মিলন, মৃত লাল মিয়ার ছেলে কবির, নজরুল ইসলামের ছেলে জুয়েল, গোপালপুর কাজিবাড়ীর আব্দুল মজিদের ছেলে লাভলু, কোনাবাড়ী বাজারের মৃত আকবর হোসেনের ছেলে রিপন ও কাচারি পাড়া নন্দনপুরের মৃত নান্নুর ছেলে বাবু। তারা এমপির মদদপুষ্ট বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর আইনজীবী গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, এই মামলায় এমপি তানভীর হাসান ছোট মনিরসহ নয়জনকে আসামি করা হয়েছে এবং এমপিকে করা হয়েছে হুকুমের আসামি। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম পুরোপুরি না হলেও অনেকটাই শঙ্কামুক্ত হয়ে উঠছেন। কিন্তু চিন্তার বিষয়, তার শরীরের ডান অংশ প্যারালাইজড হয়ে গেছে। এখন তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেও, তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরা বহু সময়ের ব্যাপার। কারণ তার মুখ থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীরের ডান অংশ এখনো প্যারালাইজড অবস্থায় আছে। ফলে তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে চিকিৎসকরা সেই ভয়কে দুর করে বলেছেন, আমরা আশাবাদী হয়ে বলতে পারছি যে, তিনি হয়তো সুস্থ হয়ে উঠবেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য দিয়েছেন। হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল হক বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থা কালকের চেয়ে আজ আরেকটু উন্নতি হয়েছে। তার অনুভূতি কাজ করছে, তিনি সাড়া দিতে পারছেন। কয়েকবার পানি খেতে চেয়েছেন, তাকে পানি খেতে দেওয়া হয়েছে। তার অপারেশন ভালো হয়েছে এবং রোগী হিসেবে তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন। এই প্যারালাইজড সম্পর্কে ডা. বদরুল হক বলেন, যখন এ ধরনের আঘাত আসে, তখন মাথার ভেতরে মস্তিষ্কের সবকিছু তছনছ হয়ে যায়। এ কারণে কোনো কেনো ক্ষেত্রে শরীরের একাংশ প্যারালাইজড হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তেমন কিছুই ঘটেছে। এর চিকিৎসা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও অপারেশনের পরবর্তী চিকিৎসায় যেভাবে সাড়া দিচ্ছেন, যেভাবে সুস্থ হয়ে উঠছেন, আমরা আশা করছি যে, তিনি হয়তো সুস্থ হয়েই উঠবেন। কিন্তু তার স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফেরা অনেক দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত ওয়াহিদাকে বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে আনা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন ওয়াহিদার ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন। এদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে তার বাসভবনের সামনে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। ঘোড়াঘাট উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোজিনা পারভিন জানান, ইউএনও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৪ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পিসি ও অপর তিনজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। | 6 |
পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে রাজাকার রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাংসদ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। আজ রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নিজের দলের এক অনুষ্ঠানে এ অভিযোগ করেন তিনি। আনোয়ার হোসেন বলেন, 'আমরা কথায় কথায় বলি-রাজাকারের সঙ্গে আপস হবে না। রাজাকারের দল আছে আর আপনার দলের কমিটিতেই আছে (রাজাকার)। অন্য জেলার কথা আমি জানি না, আমি তো আমার জেলার (পিরোজপুর) কথা জানি। আগে নিজের চেহারা আয়নায় দেখুন।' পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও ইন্দুরকানী) আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, 'এই কথার সঙ্গে কোনো দ্বিমত হবে না, তাদের সঙ্গে আমাদের চিন্তার মিল নেই, রাজনীতির মিল নেই, আদর্শের মিল নেই। এ প্রজন্মের ছেলেপেলে। তারা তো এগুলো জানে না। তারা খালি শোনে ধর্ষণ।' জেপি চেয়ারম্যান বলেন, 'স্বাধীনতার ৫১ বছরে যেসব আলোচনা এখন আমরা করি, আমি মনে করি, সময়ক্ষেপণ করছি।' অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাংসদ শাজাহান খানকে উদ্দেশ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, 'শাজাহান খান বা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আমার দ্বিমত হয় না। আমি যখন ভাবি, জাতীয় পার্টি বা বিএনপি খিচুড়ি পার্টি; এসব দলের কমিটিতে তারা (রাজাকাররা) থাকতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মধ্যে কেমন করে আছে? ছাত্রলীগের মধ্যে কেমন করে আছে? যুবলীগের মধ্যে কেমন করে আছে? শাজাহান খান, জবাব দিয়ে যেতে হবে।' শাজাহান খানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। | 6 |
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শব্দকর সম্প্রদায়ের প্রায় ৯০ শতাংশ লোক হতদরিদ্র। বেশির ভাগেরই নেই নিজস্ব কোনো ভূমি। স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির নেই সুব্যবস্থা। দিনমজুর, কৃষিকাজ, রিকশা চালানো ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে চলে তাঁদের জীবন। স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। তবে এখানকার পিছিয়ে পড়া ১ হাজার ৪০০ শব্দকর পরিবারে এখনো লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। এ জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার, আদমপুর, পতনঊষার, রহিমপুরসহ ৯টি ইউনিয়নের ৩৭টি গ্রামে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শব্দকর পরিবার বাস করে। একটা সময় তাঁদের পেশা ছিল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাজানো। বর্তমানে এটি কমে শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে। শব্দকর সম্প্রদায়ের নারী, পুরুষের মধ্যে বেশির ভাগ দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানের চালক, কৃষিকাজ ও ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অভাবের কারণে এখানকার সম্প্রদায়ের মধ্যে এখনো বাল্যবিবাহের প্রবণতা রয়েছে। অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে এখনো অনগ্রসর সম্প্রদায় হিসেবে তাঁরা পরিচিত।কমলগঞ্জ শব্দকর সমাজকল্যাণ উন্নয়ন পরিষদের দেওয়া তথ্যমতে, সম্প্রদায়টি এখনো শিক্ষায় পিছিয়ে। তাঁদের সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধা সীমিত। প্রাথমিক পর্যন্ত ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করলেও মাধ্যমিকে এসে দাঁড়ায় ১৫ শতাংশে। মাধ্যমিক বলতে সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর থেকে শুরু হয় বেঁচে থাকার সংগ্রাম। আর এসএসসি বা এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে, এমন সংখ্যা সারা উপজেলায় ১০-১২ জন হবে।সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, 'ছোট ছোট ঘরে একেকটি এলাকায় ৬০ থেকে ১০০ পরিবার বসবাস করছে। তাঁদের বেশির ভাগেরই নিজস্ব কোনো ভূমি নেই। কয়েক পরিবার মিলে একটি বাথরুম ব্যবহার করে। তাঁদের অনেকে আবার খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করে। এ ছাড়া বিশুদ্ধ পানির অভাব তো রয়েছেই।সরকারের পক্ষ থেকে স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন সম্প্রদায়ের নেতারা। তাঁদের জন্য বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি ও জীবনমান উন্নয়নে নির্দিষ্ট কোটাপদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।মুন্সিবাজার ইউনিয়নের উপেন্দ্র শব্দকর বলেন, 'বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই আমাদের। অভাবের কারণে বাচ্চাদেরও লেখাপড়া করানোর সুযোগ নেই। কাজ করলে কপালে ভাত জোটে, না হয় উপোস থাকতে হয়।'কমলগঞ্জ শব্দকর সমাজকল্যাণ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি প্রতাপ চন্দ্র কর বলেন, 'শব্দকর সম্প্রদায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনাহার ও অর্ধাহার আমাদের জীবনসঙ্গী। আমাদের বাসস্থান, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি কিংবা চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। এখানকার মানুষের উন্নতির জন্য সরকারিভাবে প্রণোদনা ও বিশেষ কোটা বরাদ্দের আহ্বান জানাচ্ছি।'এ বিষয়ে সমাজসেবী আব্দুল হান্নান বলেন, 'দিন দিন শব্দকর সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন হচ্ছে না। তাঁদের বেকারত্বের সমস্যা সমাধান করতে হবে। এদের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। সব নৃগোষ্ঠীকে সমানভাবে সরকারি সুবিধা দিলে তাঁদের সমস্যার সমাধান হতে পারে।'কমলগঞ্জ শব্দকর সমাজকল্যাণ উন্নয়ন পরিষদের উপদেষ্টা লেখক গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, 'অনুন্নত জনগোষ্ঠী হলো শব্দকর। অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর মতো তাঁদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা জরুরি।'এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দিন বলেন, 'সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।' | 6 |
যুক্তরাজ্যে আর্ট ইন দ্য কমিউনিটি পুরস্কার পেলেন কবি শামীম আজাদ। শিল্প-সাহিত্যের কল্যাণকর কাজে অনুদান দেওয়ার বড় প্রতিষ্ঠান দ্য ন্যাশনাল লটারি তাকে এ সম্মাননা দিয়েছে। পুরো যুক্তরাজ্য থেকে তালিকাভুক্ত ছয় হাজার জনের মধ্যে থেকে ১৩ জনকে বিশেষ এ সম্মাননার জন্য চূড়ান্ত করা হয়। তাদের মধ্যে কবি শামীম আজাদ অন্যতম। লকডাউনে নিয়মিত ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও চলমান করোনা সংকটে শামীম আজাদ কমিউনিটিগুলোর মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মনে করে অনলাইনে নানা রকম কাজ করেন। দেশ-বিদেশে নানা অনলাইন অনুষ্ঠানে মননশীলতার চর্চা ও মানসিক স্বাস্থ্য অটুট রাখতে নবতর পদ্ধতিতে শিল্প-সাহিত্য চর্চায় নিরলস কাজ করার জন্য তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সম্মাননার অংশ হিসেবে নির্বাচিত ১৩ জনের স্থিরচিত্র ও ভিডিওচিত্র মাসব্যাপি প্রদর্শন করবে ব্রিটেনের বৃহৎ আটটি আর্ট গ্যালারি ও প্রতিষ্ঠান। আটটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও এ প্রদর্শনী চলবে। গ্যালারি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- দ্য ন্যাশনাল পোট্টেট গ্যালারি, লন্ডন, দ্য ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ওয়েলস, কার্ডিফ, দ্য ম্যাক, বেলফাস্ট, আইকেওএন গ্যালারি বার্মিংহাম, সামারহল, এডিনবরা টাই পব, রেক্সহাম, রোথিন ক্রাফট সেন্টার রোথিন ওয়েলস, দ্য ফটোগ্রাফারস গ্যালারি, লন্ডন এবং ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট। এই বিশিষ্ট জনদের পোট্রেটগুলো তুলেছেন ব্রিটেনের বিশ্বখ্যাত ফটোগ্রাফার ক্রিস ফ্লয়েড। কবি শামীম আজাদ দ্বিভাষিক কবি ও লেখক এবং গল্পকথক। তার প্রকাশিত কাজ প্রায় ৩০টির বেশি। তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ-নিবন্ধ ইত্যাদি। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আবাসিক কবি হিসেবে কাজ করছেন লন্ডনের বৃহৎ সাহিত্য সংগঠন এপেল অ্যান্ড স্নেইকসের সঙ্গে। গত বছর তিনি এথেন্স এগোরা পোয়েটিক রেসিডেন্সি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। কবি শামীম আজাদ ১৯৯১ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করছেন। দীর্ঘ সময়ে ব্রিটেনের কমিউনিটিতে বিভিন্ন অবদানের জন্য তিনি সুপরিচিত মুখ। তিনি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে লন্ডন এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশি পোয়েট্টি কালেক্টিভ- এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার। এছাড়া পূর্ব লন্ডনের শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার বৃহৎ প্রতিষ্ঠান রিচমিক্সের ট্রাস্টি এবং লন্ডনের এক্সাইল রাইটার্স ইঙ্ক এর নির্বাহি কমিটির সদস্য তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্মারক বিজয়ফুল কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা তিনি।প্রদর্শনী দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন ://../___ ://...//----- | 4 |
মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারের মেটংঘর এলাকায় বৃদ্ধ হাবিজ মিয়া (৬৫) হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মেটংঘর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শুক্রবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মহিউদ্দিন মিয়া (৩০)। তিনি মামলার এজাহার নামীয় আসামি। গত বুধবার সকালে উপজেলার মেটংঘর গ্রামে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত হাবিজ মিয়া মেটংঘর গ্রামেরই বাসিন্দা। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে লিটন মিয়া বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার মেটংঘর গ্রামের মহিউদ্দিন ও একই গ্রামের শিবু ঠাকুরের সঙ্গে জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছিল। মামলায় শিবু ঠাকুরকে সহযোগিতার অভিযোগ এনে লিটন মিয়া ও তাঁর বাবা হাবিজ উদ্দিনকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন মহিউদ্দিন। এরই জের ধরে গত বুধবার সকালে লিটনের ভাবি শাহিদা বেগমকে মারধর করে মহিউদ্দিন। এরপর পুত্রবধূকে মারধরের কারণ জিজ্ঞেস করতে মেটংঘর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মুদি দোকানের সামনে মহিউদ্দিনের কাছে যান বৃদ্ধ হাবিজ।এ সময় কাঠের লাঠি দিয়ে হাবিজ মিয়াকে মাথা এবং শরীরে আঘাত করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা বৃদ্ধকে উদ্ধার করে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার মাতুয়াইল ফ্রেন্ডশিপ স্পেশালিস্ট হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি মারা যান।বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, 'গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে গতকাল দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।' | 6 |
নড়াইলের লোহাগড়ায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালিয়ে পিস্তল ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে তা উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কুমড়ি গ্রামে ওই হামলা করা হয়। গুরুতর আহত লোহাগড়া থানার এএসআই মীর আলমগীরকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত এএসআই মিকাইল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মীর আলমগীরের মাথায়, বাম হাতের কনুইয়ে কোপানো হয়েছে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাত। মিকাইল হোসেনের শরীরে লাঠির আঘাত রয়েছে। লোহাগড়া থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমড়ি গ্রামের ওহিদুর সরদার ও লুটিয়া গ্রামের ফিরোজ শেখ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার সময়ে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রথমে ফিরোজ শেখ পক্ষকে নিবৃত্ত করেন। পরে ওহিদুর সরদার পক্ষের লোকজনকে নিবৃত্ত করতে গেলে তাদের ২০-২৫ জন মিলে ওই হামলা চালায়। লোহাগড়া থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, 'এএসআই মীর আলমগীরের কাছ থেকে আটটি গুলিসহ পিস্তলটি ছিনিয়ে নিয়েছিল। দুপুর আড়াইটার দিকে ওই এলাকায় একটি মসজিদের পাশে অস্ত্রটি পাওয়া গেছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।' | 6 |
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াশিম রেজা চৌধুরী রাজা। আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি হতে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে নিজের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার চেয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন রাজা। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজার পরিবর্তে মোকামতলায় আওয়ামী লীগের নতুন প্রার্থী কে হচ্ছেন-তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।মনোনয়ন প্রত্যাহার চেয়ে রাজা চৌধুরীর আবেদন করার তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজী জুয়েল। আল রাজী জানান, মোকামতলা ইউপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা থেকে কেন্দ্রে কয়েকজনের নাম পাঠানো হয়েছিল। রাজা চৌধুরী সরে দাঁড়ানোর পর নতুন করে কাকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে কেন্দ্র সে সিদ্ধান্ত নেবে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজা চৌধুরী সরে দাঁড়ানোর পর চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী হওয়ার জন্য নতুন করে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব সবুজ, জেলা পরিষদের সদস্য মারুফ রহমান মঞ্জু ও মোকামতলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আপেল সরকার। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নানাভাবে লবিং চালাচ্ছেন তাঁরা।নৌকা পেয়েও রাজা কেন সরে দাঁড়ালেন-এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। কেউ বলছেন, পরাজিত হওয়ার ভয়ে সরে রাজা সরে দাঁড়িয়েছেন। কারও দাবি, চাপে পড়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে চাইছেন তিনি। যদিও রাজা চৌধুরীর দাবি, নিতান্ত পারিবারিক কারণেই নির্বাচন করতে চাইছেন না। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, 'আমার আপন চাচাতো ভাই আওলাদ চৌধুরীও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। তিনি পারিবারিকভাবে ওয়াদা করেছিলেন, আমি দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি সরে দাঁড়াবেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি। মনোনয়ন না পেয়েও তিনি ভোটে থাকছেন। আমার মনে হয়েছে, এক বাড়ি থেকে দুজন প্রার্থী হলে কেউ জিততে পারবেন না। আমি হেরে গেলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। এর চেয়ে অন্য কেউ নৌকা নিয়ে ভোট করলেই ভালো। যিনি দলীয় প্রার্থী হবেন আমি তাঁর পক্ষেই কাজ করব।'তবে রাজা চৌধুরীর এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন তাঁর চাচাতো ভাই আওলাদ চৌধুরী। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, 'রাজা নৌকা পেলে ভোটে দাঁড়াব না-এমন কোনো ওয়াদা করিনি। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে বসাও হয়নি। গত নির্বাচনেও রাজা আমার বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছেন।' আওলাদ আরও বলেন, 'স্বাধীনতার পর থেকে আমার বাবা বাদশাহ চৌধুরী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছেন। এরপর আমিও করছি। ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াটা আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। ভোটের এই লড়াই উপভোগ করি। তাই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি।'রাজা চৌধুরীর সরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা বলেন, 'তিনি (রাজা) পারিবারিক কারণে সরে দাঁড়াতে চান। এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে বলার কিছু নেই। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাই তার পক্ষেই কাজ করবে।' | 6 |
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদ এবং অযৌক্তিকভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা রুখে দাঁড়াতে আগামী সোমবার (২৮ মার্চ) শান্তিপূর্ণভাবে দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল পালন করবে সিপিবিসহ বাম গণতান্ত্রিক জোট। হরতাল সফল করার বিষয়ে বাম নেতারা বলেছেন, করোনার কারণে দেশে কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় সরকারের বাজার ব্যবস্থা জিম্মি হয়ে পড়েছে সিন্ডিকেটের কাছে, দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বি। তার ওপর গ্যাস, পানি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে সরকার, যা গরিব ও সাধারণ জনগণের কাছে 'মড়ার ওপর খাড়ার ঘা' এর মতো। গতকাল শনিবার হরতাল পূর্ববর্তী একাধিক বিক্ষোভ মিছিল ও পদযাত্রার এসব কথা বলেন বাম নেতাকর্মীরা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, সরকার লুটেরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা করে চলছে। এর বিরুদ্ধে জনগণের রায় দিতে হবে। তিনি হরতাল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুমকির সমালোচনা করে বলেন, সব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এরকম মুখস্থ কথা বলেন। এসব কথা পুরোনো ফাইল দেখে বলে, জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। প্রিন্স জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জান বাঁচাতে এ হরতাল কোন দলের নয়, সব মানুষের। তাই নিজে হরতাল পালন করুন। অন্যকে উৎসাহিত করুন। হরতালের প্রচার অব্যাহত রাখুন। হরতাল সফল করতে ভূমিকা নিন। নীতিনিষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তি সমাবেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসুন। সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ বলেছেন, সরকারের জনস্বার্থ না দেখে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখছে। তাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাফার স্টক গড়ে তুলেছে না। পর্যাপ্ত ন্যায্যমূল্যের দোকান ও রেশনিং ব্যাবস্থা চালু করছে না। তিনি সোমবার (২৮ মার্চ) দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল সফল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ন্যায্যমূল্যের দোকান ও রেশনিং চালু না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চলবে। হরতালের সমর্থনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীরা শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ সাভার স্মৃতিসৌধ এলাকায় ও হাতিরঝিলে পদযাত্রা, প্রচারপত্র বিতরণ এবং পথসভা করে। এসময় সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, আহসান হাবীব লাভলু, ডা.সাজেদুল হক রুবেল, লুনা নূর, রাগীব আহসান মুন্না, লাকী আক্তারসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ঢাকা পর্ব শেষে ফুরফুরে মেজাজে চট্টগ্রাম পর্ব শুরু করার কথা ছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের। হয়েছে তার ঠিক উল্টোটা। অধিনায়ক পরিবর্তনের ঘটনায় বিতর্কের জন্ম দিয়ে মাঠের ক্রিকেটেও তারা ছিল ছন্দহীন। চার ম্যাচের তিনটিতে হেরে পয়েন্ট তালিকায় দুই ধাপ নিচে নেমে গেছে চট্টগ্রাম।এদিকে ঢাকা পর্বে সবচেয়ে টালমাটাল মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা চমক দেখিয়েছে চট্টগ্রাম পর্বে। দুই ম্যাচের দুটিতেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকে উঠে এসেছে তিনে। দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ঢাকা পর্বে ভরাডুবির পর যে আশার কথা শুনিয়েছিলেন, চট্টগ্রাম পর্বে সেটিই তাঁরা করে দেখিয়েছেন। ঢাকা পর্ব শেষে তামিম জানিয়েছিলেন, কোয়ালিফাই করতে বাকি ম্যাচগুলোর বেশির ভাগই জিততে হবে তাঁদের। কাজটা কঠিন স্বীকার করে তামিম বলেছিলেন, কাজটা তাদের জন্য কঠিন, কারণ বাকি ছয় ম্যাচে বেশির ভাগই জিততে হবে। কোয়ালিফাই করতে হয়তো চারটি জিততে হবে। তামিম এ-ও বলেছিলেন, 'কাজটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।'ঢাকা পর্বে দুই ফিফটি করেও দলের হারে সমালোচিত তামিম জবাব দিয়েছেন চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম ম্যাচে। সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে ৬৪ বলে ১১১ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে জিতিয়েছেন দলকে, জবাব দিয়েছেন সমালোচনার। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে জয়েও তামিমের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ৩৫ বলে করেছিলেন ৪৬ রান। তবে এই ম্যাচে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।ব্যাটে-বলে পারফর্ম করেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৪১ বলে অপরাজিত ৭০ রানের সঙ্গে বল হাতে উইকেট না পেলেও ৩ ওভারে দিয়েছেন ১৭ রান। অধিনায়কের এমন আলো ছড়ানোর ম্যাচে কুমিল্লার বিপক্ষে ঢাকা জিতেছে ৫০ রানের ব্যবধানে। ব্যাটারদের সঙ্গে ঢাকার বোলাররাও এই দুই ম্যাচে নিজেদের কাজ ঠিকঠাকভাবে করেছেন। প্রথম ৪ ম্যাচে ৩ হারের বল তামিম বলেছিলেন একটা দল হয়ে খেলতে পারছে না তারা। তবে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে অবশ্য দল হয়ে খেলেই জিতেছে ঢাকা।এই পর্বে মুদ্রার ওপিঠ দেখেছে চট্টগ্রাম। ৪ ম্যাচে জয় পেয়েছে মাত্র এক ম্যাচে। মাঠের বাইরের বিতর্কে মাঠেও ছন্নছাড়া মিরাজ-আফিফ-সাব্বিররা। চট্টগ্রামের পেসার শরীফুল ইসলাম অবশ্য বলছেন মিরাজের ঘটনা দলে প্রভাব ফেলেনি। গতকাল ফরচুন বরিশালের কাছে হারের পর দলের এমন পারফরম্যান্সের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন শরীফুল। ২০ বছর বয়সী এই পেসারের সরল স্বীকারোক্তি, 'চট্টগ্রামে এসে আমরা ভালো খেলতে পারিনি কারণ এখানে আমরা ভালো ক্রিকেটটা খেলতে পারিনি। ভালো খেলা এই কথা বলটা সহজ কিন্তু করা কঠিন। চেষ্টা করব এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর। আমাদের দলের পরিবেশ ভালো। উইকেটও ঠিক আছে। আসলে আমরা আমাদের পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে পারছি না আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে।'মিরাজকে নিয়ে শরীফুলে উত্তর, 'দলে এটার কোনো প্রভাব পড়েনি। সবকিছুই ঠিক আছে। বাইরে থেকে যেটাই মনে হোক না কেন আমরা এখানে একটা পরিবারের মতোই আছি। ম্যাচে ফল নিজেদের দিকে না এলে অনেক কথায় হয়।'চট্টগ্রাম পর্বে তাদের ভরাডুবি হলেও দাপট দেখিয়েছে ফরচুন বরিশাল। এই পর্বে সবচেয়ে বেশি সফল তারা। ৩ ম্যাচের ৩ টিতেই জিতেছে সাকিব আল হাসানের দল। সব মিলিয়ে ৬ ম্যাচের ৪ জয়ের সাকিবের বরিশাল এখন টেবিলের এক নম্বরে। দলের জয়ে ব্যাটে বলে অবদান রাখছেন সাকিব। শেষ দুটি ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচও তিনিই। টেবিলের দুই আছে কুমিল্লা, পাঁচে খুলনা টাইগার্স আর ছয়ে সিলেট সানরাইজার্স। | 12 |
করোনা পরিস্থিতির কারণে দুই বছর বিরতির পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে আবার শুরু হচ্ছে স্মার্টফোন ও ট্যাব মেলা। গ্রাহক সেবার কথা মাথায় রেখে আকর্ষণীয় ছাড়ে স্মার্টফোন ও ট্যাব কেনার সুযোগ দিতে দীর্ঘদিন থেকেই এ মেলা আয়োজন করে আসছিল এক্সপো মেকার।আগামীকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। মেলা চলবে শনিবার পর্যন্ত।এক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেকার কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহম্মদ খান জানান, মেলায় দর্শকেরা ঢুকতে পারবেন বিনা মূল্যে। তবে মাস্ক না পরে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রবেশদ্বারে তাপমাত্রা মেপে তা গ্রহণযোগ্য হলেই প্রবেশ করা যাবে মেলায়।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সব সময়ের মতো এবারও দেশের স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারকারীদের সর্বশেষ মডেলের স্মার্টফোন ও ট্যাব পরখ করে দেখার সুযোগ থাকছে এ মেলায়। স্যামসাং, অপো, রিয়েলমি, শাওমি, টেকনো, ভিভো, ওয়ালটন, ওয়ান প্লাসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন পাওয়া যাবে এবার। এ ছাড়া স্মার্টফোনের জন্য আনুষঙ্গিক গ্যাজেট ও অ্যাক্সেসরিজ নিয়ে থাকবে বেশ কয়েকটি স্টল ও প্যাভিলিয়ন।এবার মেলায় প্রথমবারের মতো থাকছে ফাইভ-জি এক্সপেরিয়েন্স জোন। মোবাইল অপারেটর টেলিটকের পরিচালনায় ও হুয়াওয়ে টেকনোলজির বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় এ জোনে এসে দর্শকেরা সরাসরি ফাইভ-জি অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।মেলার পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে মোবাইল ব্যান্ড স্যামসাং, অপো, ভিভো, রিয়েলমি, টেকনো ও ডিএক্স। মেলার টেকনোলজি পার্টনার হুয়াওয়ে। লজিস্টিক পার্টনার হিসেবে রয়েছে ই-কুরিয়ার। | 11 |
ঘ্রাণে বোঝার উপায় নেই কোনটি আসল আর কোনটি নকল ঘি। অভিযোগ আছে ডালডা, পাম অয়েল, নারিকেল তেল, ফ্লেভার, রং তার সঙ্গে সামান্য পরিমাণে ঘি মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে খাঁটি গাওয়া ঘি! এসব ঘি বাহারি নাম দিয়ে কৌটাজাত করা হচ্ছে। এরপর বিএসটিআইয়ের নকল সিল বসিয়ে অবাধে বাজারজাত করা হচ্ছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্য সময়ের চেয়ে রমজানে ঘিয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি অসাধু চক্র ভেজাল ঘি তৈরি করে বাজারজাত করে আসছে। আর এসব ভেজাল ঘিতে সয়লাব কর্ণফুলীর অধিকাংশ বাজার। দোকানিরাও এসবকে খাঁটি গাওয়া ঘি হিসেবে ক্রেতাদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। এতে করে দোকানিরা আর্থিকভাবে লাভবান অন্যদিকে ঠকছে সাধারণ মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালাচ্ছে। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা গ্রামকে টার্গেট করেই এসব ভেজাল ও মানহীন ঘি বাজারজাত করে। এর মধ্যে কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলায় ভেজাল ঘি কারখানার সংখ্যা বেশি। নির্দিষ্ট এলাকাকে টার্গেট করেই ঘি কারখানা গড়ে উঠে। মার্কেটিং পলিসির মাধ্যমে ঘি বাজারজাত করা হয়। এসব ভেজাল ও মানহীন ঘি খেয়ে মানুষের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।গত শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মইজ্জেরটেক, চরলক্ষ্যা, চরপাথরঘাটা, খোয়াজনগর, শিকলবাহা, মাস্টার হাট, কলেজ বাজার, ফকিনীর হাট, ফাজিলখার হাট, বড় উঠান মিয়ারহাটসহ বিভিন্ন বাজারে মুদির দোকানগুলোতে সুদৃশ্য কৌটায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে এসব ভেজাল ঘি। আবার প্রকারভেদে এসব ঘি উচ্চ মূল্যেও বিক্রি করতে দেখা যায়। ডালডা আর পাম ওয়েল আবার কোন কোনটাতে পাওয়া যায় নারিকেল তেলের গন্ধ। কোন কোন ঘিয়ের কৌটার লেবেলে বিএসটিআইয়ের সিল নকল করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি অসাধু চক্র এসব ভেজাল ঘি ক্রেতাদের ধরিয়ে দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এসব ভেজাল ঘিয়ের মধ্যে বিন্টু ঘি, বাঘা বাড়ি ঘি, থ্রি স্টার ঘি, রূপসা ঘি, কর্ণফুলী ঘি, এসপি ঘি, ভিআইপি ঘি, ডানুফা ঘি, এ সেভেন, কুক-মি ঘি, শাহি স্পেশাল গাওয়া ঘিসহ অন্তত ২০টি ভুঁইফোড় ও অবৈধ কোম্পানির ঘি রয়েছে।দোকানিরা জানান, সাধারণত প্রতিটি কৌটায় ৯০০ গ্রাম ঘি থাকে। এ পরিমাণ ঘি তৈরিতে ৬০০ গ্রাম পাম ওয়েল, ২০০ গ্রাম ডালডা ও ১০০ গ্রাম খাঁটি ঘি দেওয়া হয়। এ মিশ্রণে সামান্য পরিমাণে রং ব্যবহার করা হয়। রমজান মাসে ঘিয়ের চাহিদা বেড়ে যায় প্রায় দ্বিগুণ। এ সুযোগে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘিয়ের পাশাপাশি নিম্নমানের ঘিও বিক্রি করে। কম মূল্যে এসব ঘি কিনে নেন।উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মনোয়ারা বেগম বলেন, রমজান মাসে অবৈধ ঘি কারখানাগুলো বেশি তৎপর হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে ছোট্ট কারাখানা বসিয়ে ভেজাল ঘি বানানো হয়। গত বছরও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় অভিযান পরিচালনা করেছেন। রমজানের প্রথম দিন থেকে খোঁজ রেখেছি কোথায় তৈরি হচ্ছে ভেজাল ঘি। আর ক্ষতিকর ঘি গুলো বিক্রি করছেন কারা।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'পুরো রমজান মাস জুড়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভেজাল ঘি বিরোধী অভিযান চালানো হবে। যেখানেই ভেজাল নিত্য পণ্য পাওয়া যাবে সঙ্গে সঙ্গে জব্দ ও জরিমানা করা হবে।' | 6 |
বাসটার্মিনালের ভেতরে কাদা-পানি। সেখানে কেবল রাখা হয়েছে বাসগুলো। ভেতরে যাত্রীদের যাওয়ার জো নেই। শুধু বর্ষাকাল নয়, সারা বছরই এমন বেহাল থাকে রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল।নগরীর শিরোইল এলাকায় অবস্থিত বাসটার্মিনালটি সবচেয়ে পুরোনো। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এটির রক্ষণাবেক্ষণ করে। টার্মিনালের ভেতর কাদা-পানিতে একাকার থাকায় বাসে যাত্রী তুলতে হয় সড়কে। বাসের মেরামতের কাজও চলে সড়ক দখল করে। ফলে রাস্তাটিতে যানজট লেগেই থাকে।গত বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, টার্মিনালের বেশির ভাগ অংশই কাদা-পানিতে ডুবে আছে। পানিতে বসে আছে মশার দল। পুরো টার্মিনালই ময়লা-আবর্জনায় ভরা। ভেতরে কিছু গাড়ি রাখা হলেও যাত্রী ওঠা-নামানো করা হচ্ছে টার্মিনালের বাইরের সড়কে। ফলে সড়ক সংকীর্ণ হয়ে সেখানে যানজট দেখা দিচ্ছে।বাসটার্মিনালের সামনের সড়কের ওপর জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বাসের মেরামতের কাজ চলছিল। বাসটির চালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, 'টার্মিনালের ভেতর কাদার জন্য দাঁড়ানোর মতোও জায়গা নেই। সেখানে গাড়ির নিচে শুয়ে মেকানিক কাজ করবে কীভাবে? কোনো উপায় নাই। বাধ্য হয়েই সড়কে কাজ করাতে হয়।'টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় গাড়ি রেখে যাত্রী তুলছিল জাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বাস। বাসের চালক মো. সুইট বলেন, কাদা-পানির ভেতরে গিয়ে গাড়িতে উঠবেন না যাত্রী। তাই তিনি বাধ্য হয়ে রাস্তায় এসে যাত্রী তুলছেন।আবদুল হালিম নামের চালকের এক সহযোগী বলেন, শুধু যে বর্ষাকালে কাদা-পানি তা নয়, সারা বছরই এ রকম বেহাল থাকে টার্মিনালটি। এখন বৃষ্টির পানি জমে কাদা হয়েছে। কিন্তু অন্য সময় গাড়ি ধোয়া-মোছার পানি জমা হয়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এ রকম খারাপ অবস্থা। হালিম আরও বলেন, টার্মিনালের ভেতর অনেক আগে বিছানো ইটগুলোও কোথাও আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কারকাজও হয়নি, তাই এ অবস্থা।রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, টার্মিনালের ভেতরের গর্তে পড়ে অনেক সময় গাড়ির পাতি ভেঙে যায়। আমরা বারবার আরডিএ চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করেছি। তিনি কর্ণপাত করেন না। ফলে রাস্তাতেই মেরামত এবং যাত্রী ওঠানামার কাজ করতে হয়।বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে একাধিকবার আরডিএ চেয়ারম্যান মো. আনওয়ার হোসেনের সরকারি মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। এস্টেট অফিসার মো. বদরুজ্জামানের সরকারি মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তাই তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। | 6 |
তালেবানের সঙ্গে লড়াইয়ে আফগানিস্তানের পানশির প্রদেশ দখল থাকা আহমাদ মাসুদের ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের মুখপাত্র ও প্রখ্যাত সাংবাদিক ফাহিম দাশতি নিহত হয়েছেন। রবিবার পানশির প্রদেশে তালেবানের সঙ্গে লড়াইয়ে নিহত হন তালেবান বিদ্রোহী রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের এ মুখপাত্র। এদিকে, রবিবার রাতে এনআরএফ এর ফেসবুক পেজে এ ঘোষণায় আহমাদ মাসুদ বলেছেন, লড়াই বন্ধ করতে তিনি ধর্মীয় নেতাদের সমঝোতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি। আহমাদ মাসুদ বলেন, নীতিগতভাবে এনআরএফ বর্তমান সমস্যার সমাধানে রাজি। তিনি বলেন, শান্তি স্থায়ী করতে এনআরএফ যুদ্ধ বন্ধে রাজি। তবে শর্ত হলো-তালেবানকেও পানশির এবং আনদারাবে আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক বলেছেন, ২৬ এপ্রিল পোশাক কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে কিনা তা পুরোপুরি নির্ভর করছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ওপর। শুক্রবার তিনি ইউএনবিকে বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আমরা কারখানাগুলো আবারও খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করব। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে রুবানা হক বলেন, আমরা মানুষ হত্যা করার জন্য বা আমাদের শ্রমিকদের সমস্যায় ফেলতে কারখানাগুলো খুলব না। তৈরি পোশাকের কারখানাগুলো খোলার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করা হবে বলেও জানান তিনি। এর আগে, ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মেয়াদ আবারও যদি না বাড়ানো হয় তাহলে ২৬ এপ্রিল থেকে কারখানাগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিজিএমইএ। পোশাক খাতের শীর্ষ এ সংস্থাটি গত ৫ এপ্রিল কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার চেষ্টা করেছিল, যার ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যেই বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার শ্রমিক ঢাকায় চলে আসেন। তবে সরকার সাধারণ ছুটির মেয়াদ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর পর কারখানাগুলো পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিজিএমইএ। এদিকে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় পুরো বাংলাদেশ এখন করোনাভাইরাস মহামারির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। | 0 |
দেশে এখন করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে সবার মনে। যে যার মতো করে নিরাপদ থাকার চেষ্টা করছেন। এর থেকে পিছিয়ে নেই অভিনয় শিল্পীরা। তারা নিজোরা নেজেদেরকে গৃহবন্দি করে রেখেছেন। আর এই সময়টি পরিবারের সঙ্গে থাকার উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন তারা। সময়ও দিচ্ছেন পরিবারকে। গৃহবন্দি সময়ে আজ বৃহস্পতিবার জয়া আহসান তার ইনস্টাগ্রাম এক পোস্টে বলেন, নিজের সঙ্গে পরিবারের সঙ্গে এত দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ কি সহজে আসবে? তাই উৎকণ্ঠা সরিয়ে রেখে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করুন..নিজের সঙ্গে থাকুন। যতটা সম্ভব ঘরে থাকুন, স্বাস্থ্যবিধি মানুন। জয়া আহসান তার রুমে তার নিজস্ব দুইটি ছবি দিয়ে ওই পোস্টটি শেয়ার করেন। মুহূর্তেই লাইক ও কমেন্টে ভরে যায় এবং একেক জন একেক ধরণের মন্তব্য করেন। জয়ার এই পোস্টে এক ভক্ত কমেন্ট করেন একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। কমেন্টে শাকেরুলি নামের ঐ ব্যক্তি বলেন, বুড়িয়ে যেতে চলেছেন! বিয়ের আয়োজন করুন। অভিষেক রোমিও নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্যে বলা হয়, তুমি আমাকে জাগ্রত রাখ যাতে আমি তোমার কাছে গান করি, হে আমার ঘুম ভাঙা! আর তাই আমার হৃদয় আপনি আপনার আহ্বান দিয়ে চমকে দিয়েছেন, হে আমার দুঃখের বেদনা! সন্ধ্যার ছায়া পড়ে, পাখিরা তাদের বাসাতে আসে। নৌকো তীরে পৌঁছেছে, তবুও আমার হৃদয় বিশ্রাম জানে না, হে আমার দুঃখের ওয়াকার! ১৯৭২ সালের ১ জুলাই জন্ম নেন এই নায়িকা। তার বয়স এখন ৪৭ বছর। ২০১১ সালে ফয়সালের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। কিন্তু এতা বয়সে এখনো যেন তার বয় কুড়ি বছর পার হয়নি। দাপিয়ে চলছেন দেশি-বিদেশি মিডিয়া। তার রুপে এখনো পাগল অগনিত ভক্তরা। জয়ার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ব্যাচেলর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। | 2 |
করোনা মুক্ত হওয়ায় ধুমধাম করে সংবর্ধনা পেলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ-আল-মারুফ। স্থানীয় ভূমি, কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও পুলিশ প্রশাসেনর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে ইউএনও'র কার্যালয়ে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।ইউএনও মোহাম্মদ-আল-মারুফ করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্তের পর প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে প্রাপ্ত রিপোর্টে করোনাভাইরাস নেগেটিভ আসে।আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ইউএনওর করোনা মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিসংখ্যানবিদ মো. ইলিয়াস মিয়া।তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই করোনা পজিটিভ হন মাঠ প্রশাসনের এ কর্মকর্তা। সেই থেকে তিনি বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। দ্বিতীয়বারের নমুনার ফলাফল গত মঙ্গলবার নেগেটিভ আসে।কোভিড থেকে সেরে ওঠায় ইউএনও মোহাম্মদ-আল-মারুফকে আনুষ্ঠানিকভাবে করোনা সনদ দেওয়া হয়েছে। আজ দুপুরে অফিসার্স ক্লাবে করোনা সনদপত্র প্রদানকালে উপস্থিত সবাই তাঁকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদ আল হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা একেএম ফরিদুল হক, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. বিশ্বেশ্বর রায়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিফ মন্ডল ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী খোকন রানা প্রমুখ।অবশ্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ এই সংবর্ধনার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পরই ঘটনাটি সবার নজরে আসে।মহামারির মধ্যে ইউএনওকে এভাবে সংবর্ধনা কেন দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলেন- এমন প্রশ্নে কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ বলেন, তিনি করোনাকালের সম্মুখসারীর যোদ্ধা। সংক্রমণ মোকাবিলায় চলমান লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে থেকে কাজ করছেন তিনি। এ জন্যই আমরা তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছি। সরকারি অন্য কর্মকর্তা এবং তাঁকে অনুপ্রাণিত করতেই আমরা এমন আয়োজন করেছি।করোনা থেকে সেরে উঠে বেশ উৎফুল্ল ইউএনও মোহাম্মদ-আল-মারুফ। তিনি বলেন, কাজে ফিরতে পারলাম। খুব ভালো লাগছে। এতোদিন মোবাইলে কথা বলেছি। কিন্তু মাঠে যেতে পারিনি। এখন থেকে নিয়মিত মাঠে থেকে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করতে পারবো ভেবে খুবই ভালো লাগছে। | 6 |
পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ। সারাদেশ ঈদ উদযাপন করছে। কিন্তু এর মধ্যেও অসংখ্য রোগী রয়েছেন যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই উৎসবের দিনটি তাদের হাসপাতালেই কাটাতে হবে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা এই মানুষগুলোর মধ্যে ঈদ কোনো আনন্দ নেই। ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার সকালে ভর্তি হয়েছেন শাকিল হোসেন (৩০)। হাসপাতালের বেডে জায়গা হয়নি তার, বারান্দাতেই চলছে তার চিকিৎসা। শাকিল হোসেনের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলায়। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে ফরিদপুরে কর্মরত রয়েছেন। শাকিল হোসেন বলেন, সোমবার সকালে হঠাৎ করেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হই। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হই। কিন্তু কিছুতেই বমি ও পায়খানা কমছে না। সাথে রয়েছে পেট ব্যথা। রোগী শাকিলের মা আফসানা বেগম বলেন, ছেলের অসুস্থতার কথা শুনেই চলে এসেছি। হাসপাতালেই কেটে যাবে ঈদ। তবুও ছেলে সুস্থ হোক, সামনের বছর ঈদ পালন করবো। ফরিদপুর সদর উপজেলার ধুলদী এলাকার বাসিন্দা আজিজ বেপারী। তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত শুক্রবার থেকে ভর্তি রয়েছেন। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ। তিনি বলেন, চারদিন ধরে ভর্তি রয়েছি। এখন কিছুটা সুস্থ। সম্পূর্ন ভালো হতে আরও কয়েকদিন লাগবে। এবার আর ঈদের আনন্দ করা হবে না। হাসপাতালেই থাকতে হবে। বাড়িতে ছেলে মেয়ে রয়েছে, আমার জন্য তাদেরও ঈদ করা হবে না। শুধুমাত্র শাকিল, আজিজই নয় ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে বিভিন্ন বয়সের ৭০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের ডায়রিয়া রোগীদের সেবার কাজে নিয়োজিত সেবিকা গোলাপী বেগম জানান, রোগী আসছে প্রচুর, জায়গা দিতে পারছি না। নিরুপায় হয়ে অনেকেই ফ্লোর, বারান্দায় সেবা নিচ্ছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সেবা নিশ্চিত করতে। তিনি জানান, রোগীর চাপ থাকায় আমাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। রোগীদের সাথে আমাদের হাসপাতালেই ঈদ করতে হচ্ছে। ফরিদপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গনেষ আগারওয়াল জানান, গত দেড় মাস ধরে ডায়রিয়া রোগী আসছে। তবে দুই দফা ডায়রিয়ার সংক্রমনের হার বেড়েছে। এবারের আক্রান্তের হার গত কয়েক বছরের তুলনায় অধিক। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক ওপর রোগী ভর্তি হচ্ছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে মাত্র ১০ বেড রয়েছে। অন্যান্য ওয়ার্ডেও ডায়রিয়ার চিকিৎসা চলছে। তাতেও জায়গা সংকুলন হচ্ছে না, একারণে বারান্দায়ও রোগীর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান জানান, সদর হাসপাতালে অন্য রোগীদের সেবা সাময়িক স্থগিত করে সকল ওয়ার্ডে ডায়রিয়া রোগীদের সেবা চলছে দিন রাত। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা দিতে নার্স ও চিকিৎসকদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। তিনি জানান, রোগীদের সেবা দিতে হাসপাতালে কর্মরতদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সূত্র : ইউএনবি | 6 |
তালেবান বাহিনী আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর দেশ ছেড়ে পালানোর ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। তিনি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আশ্রয়ে আছেন। গত ১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পতন হয়। তালেবানের কাবুল দখলের মুখে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যান। গত বুধবার টুইটারে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে গনি বলেন, দেশে ছেড় পালানো তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত। তিনি এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সহিংসতার ব্যাপকতা এড়াতে তাঁর দেশ ছেড়ে যাওয়া ছাড়া অন্য উপায় ছিল না। গনির দাবি, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিরাপত্তা দলের পরামর্শে তিনি আফগানিস্তান ত্যাগ করেন। তিনি কাবুল ও তার ৬০ লাখ জনগণকে বাঁচাতে এমনটাই করেছেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানকে 'গণতান্ত্রিক, উন্নত ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে' পরিণত করতে তিনি ২০ বছর কাজ করে গেছেন। ৭২ বছর বয়সী গনি বলেন, পূর্বসূরিদের মতোই তাঁর অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটায় তিনি গভীর দুঃখভারাক্রান্ত।১৮ আগস্ট ফেসবুক লাইভে গনি বলেছিলেন, তাঁর নিরাপত্তার বাহিনীর 'চাপের' মুখে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। কারণ, তাঁকে আটক করে হত্যার আশঙ্কা ছিল। তিনি বলেন, 'তালেবান যখন প্রেসিডেন্ট প্যালেসে ঢোকে, তখন তারা আমাকে প্রতিটি কক্ষে গিয়ে খুঁজছিল।' তবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রচুর অর্থ সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন 'স্যান্ডেল খুলে জুতা পরার সুযোগও আমাকে দেওয়া হয়নি।' অভিযোগ রয়েছে, গনি দেশ ছাড়ার সময় ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের সম্পদ সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন। | 3 |
সুনামগঞ্জে অষ্টমবারের মতো শ্রেষ্ঠ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জগন্নাথপুর থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলার পুলিশ লাইনে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান নাম ঘোষণা করেন।পরে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের কাছ থেকে বিশেষ পুরস্কার হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন আইজিপি ব্যাজ পদক প্রাপ্ত পুলিশের এ কর্মকর্তা। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সুনামগঞ্জের সকল থানার কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এর আগে জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত থাকা সময়ে ৬ষ্ঠ বার মত সুনামগঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে মনোনীত হন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। জগন্নাথপুর থানায় যোগদানের কিছুদিন পর আইজিপি ব্যাজ পদকে ভূষিত হন পুলিশের এ কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে গত ৭ জুলাই সপ্তমবারের মত শ্রেষ্ঠ ওসি হন।অষ্টমবারের মত শ্রেষ্ঠ হওয়ায় ঊর্ধ্বতন সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এই স্বীকৃতি আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে, এই অর্জন আমার একার নয়, থানার সকল পুলিশ সদস্যের। তাদের দায়িত্বশীলতায় আমি এই পুরস্কার পেয়েছি।' | 6 |
৫০ বছরের বেশি সময় ধরে হস্তচালিত তাঁতে কাপড় বোনেন তোফাজ্জল হোসেন। সত্তরোর্ধ্ব এই কারিগরের কারখানা চট্টগ্রাম নগরীর শুলকবহরের পাখির দোকান এলাকায়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সদস্যরাই মূলত তাঁর ক্রেতা। দৈনিক ৫-৭টি কাপড় বুনতে পারেন তোফাজ্জল। তা দিয়েই চলে সংসার। তবে সুতা-রঙের দাম বাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা লাভ থাকে না বলে জানান তিনি। আধুনিক প্রযুক্তির এই রমরমা সময়ে তাঁর মতো অন্য হস্তচালিত তাঁতশিল্পীদেরও ঘোর দুর্দিন।গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো একটি ঝুপড়ি ঘরে ৮-৯ জন বয়স্ক লোক হস্তচালিত মেশিনে কাপড় বুনছেন। নিচে কাঁচা মাটির স্যাঁতসেঁতে মেঝে। এলোমেলো পড়ে আছে সুতা ও অন্যান্য উপকরণ। সেখানে কথা হয় তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'আগে আমরা ২২টি হ্যান্ড লুমে (হস্ত চালিত মেশিন) কাপড় বুনতাম। এখন মাত্র ১০-১২ জন কাজ করি। মেশিন চালু আছে মাত্র ১২টি।'এখন সুতার দামও বেশি, তাঁদের তৈরি কাপড়ের চাহিদাও কমে গেছে বলে জানান তিনি। বলেন, 'সুতা কিনে, রং করে কাপড় বানিয়ে বিক্রি করে পোষায় না। কাপড়ের দাম তেমন বাড়েনি। এখনো একটি কাপড় ২০০ থেকে ২২০ টাকা বিক্রি হয়।' সুতা কেনা, রং করা, ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ খরচ দিয়ে খুব একটা লাভ থাকে না বলেও জানান তিনি।তাঁদের এখানে মূলত তৈরি হয় পিনন ও হাদি। যার ক্রেতাও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নারীরা। আক্ষেপ করে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, 'জীবন তো শেষের দিকে, আর কোনো কাজ শিখিনি। কী করব? দিনে এক থেকে দেড় শ' টাকা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালাই।' ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে শুলকবহর এলাকায় কারখানা চালাচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে সরকারি কোনো সহযোগিতা মেলেনি তাঁর ভাগ্যে।তোফাজ্জল হোসেনেরই সমবয়সী আবুল কাশেম ও করিম মিয়া। তাঁরা স্বাধীনতার পর থেকে শুলকবহরের পাখির দোকান এলাকার হস্তচালিত তাঁতে পিনন ও হাদি বুনে আসছেন। তবে এখন আর আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পেরে উঠছেন না বলে জানান তাঁরাও।এ প্রসঙ্গে কথা হয় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) চট্টগ্রাম জেলা কর্মকর্তা উপমহাব্যবস্থাপক আহাম্মেদ জামাল নাসের চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি শুলকবহরের পাখির দোকান এলাকার হস্তচালিত তাঁত শিল্পের ব্যাপারে জানতেন না। আহাম্মেদ জামাল নাসের আজকের পত্রিকাকে চৌধুরী, 'ওই এলাকার তাঁতশিল্পীদের শিগগির দেখতে যাব। এ ব্যাপারে আমাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করব।' | 6 |
১৯৭১ সালে ২৬ বছরের টগবগে যুবক তোজাব উদ্দিন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে যান ভারতের কোচবিহারে। সেখানে কিছুদিন থাকার পর শিলিগুড়ির মুজিব ক্যাম্পে ২৮ দিন প্রশিক্ষণ নেন। ৬ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন তিনি। বর্তমান লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার দোয়ানীর চর, হাতিবান্ধার বড়খাতা ও পাটগ্রামের জমগ্রাম এলাকায় যুদ্ধে অংশ নেন তিনি।দেশ স্বাধীনের পর দীর্ঘ ৪০ বছর অর্থকষ্টে কাটিয়েছেন তিনি। অর্থাভাবে সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারেননি।স্বাধীন দেশে জীবনের দীর্ঘ সময় রিকশার প্যাডেল মেরে লাশ বহন করে চালিয়েছেন সংসার। বর্তমানে স্ত্রী এছরা বিবিকে নিয়ে তাঁর সংসার।তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে কাঁচাপাকা সড়ক ধরে ঘনিরামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পঘেঁষে তোজাব উদ্দিনের বাড়ি। বাড়ির উঠানে বসে যুদ্ধদিনের সেই সব গল্প শুরু করেন। তোজাব উদ্দিন বলেন, 'সাত দিন কলাপাতা, দুর্বা ঘাস খেয়ে জীবন বাঁচিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দীর্ঘ সময় অর্থকষ্টে কাটিয়েছি। সন্তানদের বেশি লেখাপড়া করাতে পারিনি। সরকার এখন ঘর করে দিয়েছে। প্রতিমাসে ভাতা দিচ্ছে। শেষ সময়টা ভালো কাটছে।'যুদ্ধের স্মরণীয় ঘটনা জানতে চাইলে তোজাব উদ্দিন বলেন, '১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বরের কথা। লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার বড়খাতা এলাকা। পরের দিন ২০ নভেম্বর ছিল ঈদুল ফিতর। পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের ঈদ পালন করতে দেয়নি। ওই দিন সকাল ১০টার দিকে তাঁরা অতর্কিত হামলা চালায়। কমান্ডার ক্যাপ্টেন মেজবাহ উদ্দিন ফারুকের নেতৃত্ব আমাদের কোম্পানিসহ আরও তিনটি কোম্পানি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেয়। এ যুদ্ধে ৯ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। আমাদের মধ্যে শহীদ হন তিনজন। ২৪ নভেম্বর আমাদের কাছে খবর আসে ঈদ উপলক্ষে পাকহানাদার বাহিনীরা বড়খাতার একটি বড় মাঠে গরু জবাই করে আনন্দে মাংস খাবে। তখন আমাদের চারটি কোম্পানি একত্রিত হয়ে পাকিস্তানিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ি। তারা জবাই করা গরু রেখে পালিয়ে যায়। শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ। এতে একটি কোম্পানির সবাই শহীদ হন।'আগামীর বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চান? এমন প্রশ্নে তোজাব উদ্দিন বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে সমতার। নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠবে। মানুষ মানুষের জন্য কাজ করবে। আগামী দিনে এই দেশ আরও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে বিশ্বদরবারে স্থান করে নিতে পারে, এটাই প্রত্যাশা।মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন বলেন, তারাগঞ্জে প্রথম যে ছয়জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানী ভাতা দেওয়া হয় তাঁর মধ্যে তোজাব উদ্দিনের নাম ছিল। কিন্তু প্রথম দিকে ৩০০ টাকায় তাঁর জীবন চলত না। তাই একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও লাশ বহন করে সংসার চালাতেন। এখন তোজাব উদ্দিনের সুখের সংসার। | 6 |
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার কৌশল নিয়েছে, যা কিছু ঘটবে সব বিএনপি ওপরে চাপিয়ে দেওয়া হবে। জমির মালিক ও ডেভেলপার সরকারের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তাসবিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 'উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে' চাপানোর জন্য তাসবিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। ওলামা দলের সদ্য প্রয়াত সভাপতি আবদুল মালেক, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ প্রয়াত মোয়াজ্জেম হোসেনের জন্য দোয়ার আয়োজন করে ওলামা দল। রুহুল কবির রিজভী বলেন, তাসবিরুল ইসলাম কুড়িগ্রাম বিএনপির সভাপতি ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এফ আর টাওয়ারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, তিনি শুধু রূপায়নের কাছ থেকে তিনটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের নিন্দা করে রিজভী বলেন, সরকারের লাশের গন্ধ ভালো লাগে। তাই তারা ফায়ার সার্ভিসকে উন্নত না করে, বিরোধীদলীয় নেতাদের নির্যাতন করার জন্য যন্ত্র কিনেছে। মানুষকে বাঁচার ব্যবস্থা না করে '৩০ লাখ প্লাটুন' অস্ত্র কিনেছে, ৩০ হাজার বন্দুক কিনেছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক নেছারুল হক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। | 9 |
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় হজরত আলীকে (রাঃ) নিয়ে ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক অশালীন পোস্ট দেয়ায় জীবন ওয়াহিদ (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের মৃত তরিকুল ইসলামের ছেলে। তার এই কটুক্তির ঘটনায় এলকায় তীব্র দাঙ্গার সম্ভাবনা সৃষ্টি হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার শেরপুর গ্রামের জোড়া মসজিদ এলাকায় জীবন ওয়াহিদ ওরফে জীবন হজরত আলী (রাঃ) সম্পর্কে ফেসবুকের মাধ্যমে উসকানি ছড়াতে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেন। পরে তিনি নিজেই তা স্থানীয় মুসল্লিদের দেখান। ধর্মীয় অনুভূতিতে অাঘাত হানায় মুসল্লিরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় মুসল্লিদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন জীবন। বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা জীবন ওয়াহিদকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে দৌলতপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দৌলতপুর থানার ওসি জহুরুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা এবং এ নিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টার দায়ে জীবন ওয়াহিদের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। | 6 |
জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্যের অধিক হারে লাভের সুযোগ করে দিতে মালিকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সরকার একচেটিয়া গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যান সমিতি। একই সঙ্গে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাখ্যান করে একটি ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য ভাড়া নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন সংগঠনটি।আজ সোমবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার শিশু কল্যাণ পরিষদের মিলনায়তনে 'যাত্রী স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে মালিক শ্রমিক সরকার মিলেমিশে একচেটিয়া গণপরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি'র প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবী জানান।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোজাম্মেল হক বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর সকল পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সহনীয় মাত্রায় ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও এই ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তা বলা প্রতিফলিত হয়নি। বাস ও লঞ্চ মালিকদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে সরকার তাদের চাহিদা অনুযায়ী একচেটিয়া ভাড়া বাড়িয়ে দিতে যাত্রী প্রতিনিধি বাদ দিয়ে বাস ও লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।ঢাকা মহানগরীতে যেভাবে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে সেটা এক প্রকার জুলুম উল্লেখ করে মোজাম্মেল হক আরো বলেন, এখানে সিএনজি গ্যাসের দাম বাড়ার পরে একদফা ভাড়া বাড়ানো হয়েছিলো আবার তেলের দাম বাড়ার পরে ভাড়া বাড়ানো হলো। এতে যাত্রীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হলো। তাই ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো মহানগরীগুলোতে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর করার আগে এসব এলাকায় কি পরিমান গ্যাস চালিত গণপরিবহন ও তেলে চালিত গণপরিবহন আছে সেটার সুরাহা করা দরকার। ভাড়া নির্ধারণের ব্যয় বিশ্লেষণে পুরনো বাসকে নতুন বাস হিসেবে দেখানো হয়েছে। চালক, হেলপারদের বেতন, বোনাস প্রদানের মিথ্যা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, ২০ বছরের পুরনো বাসেও ব্যাংক লোন দেখানো হয়েছে। এভাবে নানা খাতে অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি দেখিয়ে এক লাফে ১.৪২ পয়সার ভাড়া ১.৮০ পয়সা করা হয়েছে।মোজাম্মেল হক বলেন, সঠিক ব্যায় বিশ্লেষন করলে ভাড়া বড়জোর ১.৬০ পয়সা নির্ধারণ করা যেত।আরো অভিযোগ করে বলা হয়, নিবন্ধিত যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত সংগঠন হিসেবে যাত্রী কল্যান সমিতিকে যাত্রীসাধারনের প্রতিনিধি হিসেবে বাস ও লঞ্চের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে দরকষাকষির সুযোগ দেওয়া হলে এ ধরণের অবাস্তব একচেটিয়া ভাড়া বাড়ানো যেত না। তাই সরকার ও মালিক পক্ষ মিলে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টামন্ডলী সদস্য শরিফুজ্জামান শরিফ, সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক লিটন, যুগ্ম সমাসচীব এম. মনিরুল হক। | 6 |
তারকাসন্তান হিসেবে বরাবরই প্রচারের আলোয় থাকেন বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানের ছেলে ইব্রাহিম আলি খান। ছবি-ভিডিও দেখে অনেকেই বলেন- ছেলে অবিকল বাবা সাইফ আলি খানের মতোই দেখতে। তিনি যে হুবহু বাবার মতো, তা মানেন ইব্রাহিম নিজেও। এবার সেই সাদৃশ্যের কথা উঠে এল সাইফের কথাতেও। সাইফ আলি খান ও তার প্রাক্তন স্ত্রী অমৃতা সিংহের ছেলে ইব্রাহিম। তাদের কন্যা সারা আলি খানকেও হুবহু কম বয়সের অমৃতার মতো দেখায়। সাদৃশ্য এতটাই যে ইনস্টাগ্রামে সম্প্রতি দুই ভাইবোনের ছবি দেখে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছিল! অনেকেই বলেছিলেন, 'আরে, এ তো ভাইবোন সেজে সাইফ-অমৃতা!' সে সময় অনেক বিতর্কিত মন্তব্যও জমা হয় মন্তব্য বাক্সে। বাধে বিতর্কও। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 2 |
ইউনাইটেড ফিন্যান্স লিমিটেড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। অফিসার ও সিনিয়র অফিসার নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ইউনাইটেড ফিন্যান্স লিমিটেড। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আগামী ১৭ মের মধ্যে ই-মেইলে আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। ইউনাইটেড ফিন্যান্স লিমিটেড কমপেনসেশন অ্যান্ড বেনিফিট বিভাগে নেওয়া হবে অফিসার গ্রেড-২ ও সিনিয়র অফিসার। ফুলটাইম এ চাকরির বেতন নির্ধারণ হবে আলোচনার মাধ্যমে। এ পদে আবেদনের বয়স ২৮ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে হতে হবে। অভিজ্ঞতা থাকতে হবে কমপক্ষে ৩ বছরের। প্রার্থীকে হিউম্যান রিসোর্স, ম্যানেজমেন্ট অথবা বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন/পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করা থাকতে হবে। সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.০০ পেতে হবে। ইউনাইটেড ফিন্যান্স লিমিটেড ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগে নেওয়া হবে সিনিয়র অফিসার ও প্রিন্সিপাল অফিসার। ফুলটাইম এ চাকরির বেতন নির্ধারণ করা হবে আলোচনার মাধ্যমে। বয়স হতে হবে ২৮ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট খাতে অভিজ্ঞতা কমপক্ষে ৪ বছরের। প্রার্থীকে হিউম্যান রিসোর্স, ম্যানেজমেন্ট অথবা বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন/পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করা থাকতে হবে। সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.০০ পেতে হবে। আগ্রহী প্রার্থীকে মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। ইংরেজিতে সাবলীলভাবে বলতে ও লিখতে পারতে হবে। এসব পদের আবেদন পাঠাতে হবে [] তে। *অফিসার গ্রেড-২ ও সিনিয়র অফিসার এবং সিনিয়র অফিসার ও প্রিন্সিপাল অফিসার পদের বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে | 1 |
রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু সালেহ মো. তাজিমুল ইসলাম শামীম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ পৌর নির্বাচনে ৬টি ঝুঁকিপূর্ণসহ ৯টি ভোটকেন্দ্রে একটানা চলে ভোটগ্রহণ। এরপর ভোটগণনা শেষে সন্ধ্যায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
শামীম তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৫ হাজার ৭৯২ ভোট বেশি পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৭১ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সায়দুর রহমান (নারিকেল গাছ প্রতীক) পেয়েছেন এক হাজার ৮৭৯ ভোট। এছাড়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট কাজী লুমুম্বা লুমু জগ প্রতীকে এক হাজার ১৭১ ভোট ও বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম সেবু (ধানের শীষ) পেয়েছেন এক হাজার ৬৮ ভোট।
এছাড়া পীরগঞ্জ পৌর নির্বাচনে বিজয়ী কাউন্সিলরা হলেন-১নং ওয়ার্ডে উটপাখি মার্কার কবিরুল ইসলাম, ২নং ওয়ার্ডে উট পাখি মার্কার গারুর আলী মণ্ডল, ৩নং ওয়ার্ডে পানির বোতল মার্কার রাজা মিয়া, ৪নং ওয়ার্ডে ডালিম মার্কার সাইফুল আজাদ, ৫নং ওয়ার্ডে পাঞ্জাবি মার্কার পবিত্র কুমার বিশ্বাস, ৬নং ওয়ার্ডে পানির বোতল মার্কার আশরাফুল, ৭নং ওয়ার্ডে উটপাখি মার্কার আলমগীর হোসেন, ৮নং ওয়ার্ডের পাঞ্জাবি মার্কার শফিকুল ইসলাম সফু এবং ৯নং ওয়ার্ডে ডালিম মার্কার সাহেব আলী।
সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর হিসেবে ১, ২, ৩নং ওয়ার্ডে ভ্যানিটি ব্যাগ মার্কার আঞ্জয়ারা বেগম, ৩,৪,৫নং ওয়ার্ডে কাঁচি মার্কায় সালমা বেগম এবং ৭,৮,৯নং ওয়ার্ডে আঙুর ফল মার্কায় শিউলী বেগম বিজয়ী হয়েছেন।
| 9 |
দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে তার প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেছ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনটির প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ ২১ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান আজ ২১ নভেম্বর প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, "বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ভারতীয় হাইকমিশনার মিঃ শ্রিংলার বক্তব্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই না যে, বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতের হাই কমিশনার এ ধরনের কোন বক্তব্য রেখেছেন। এ ধরনের বক্তব্য যদি তিনি আদৌ রেখে থাকেন, তাহলে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি হবে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের শামিল। আমরা এর প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন সংগঠন। কখন কার সাথে রাজনৈতিক মিত্রতা করবে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্ণ অধিকার অন্য দশটি দলের মতো তার রয়েছে। এতে বলা হয়, অবশ্য শ্রিংলা তার বক্তব্যের শেষ প্রান্তে এসে বলেছেন, 'বাংলাদেশের জনগণ এটা দেখবে।' আমরাও প্রিয় বাংলাদেশের জনগণের উপর পূর্ণ আস্থা রেখে তাদের উপর এর বিবেচনার ভার ছেড়ে দিলাম। আমরা বাংলাদেশের এবং এদেশের জনগণের ন্যায়সঙ্গত সকল অধিকার সংরক্ষণ এবং জনগণের অধিকার হরণের তৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখবো ইনশাআল্লাহ।"প্রেস বিজ্ঞপ্তি | 9 |
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত হয়ে সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়া সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করে জিতে আসা আরও অনেকেই শপথ নেবেন বলে তিনি জানেন।আজ শুক্রবার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিতদের অনেকে শপথ নেবেন। এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে সুলতান মনসুর বলেন, 'কে কে শপথ নেবেন, তা বলতে পারব না, তবে নেবেন এটা আমি জানি। অপেক্ষা করেন, দেখবেন। এঁদের মধ্য থেকে নেবেন। ৯০ দিনের মধ্যেই নেবেন।'গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মোট আটজন নির্বাচিত হন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ছয়জন আর গণফোরাম থেকে দুজন।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুলতান মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ আসনে নির্বাচিত হন। ৭ মার্চ তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। সেদিন বিকেলেই সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। এখন তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য। নির্বাচনের পর থেকে তিনি ঐক্যফ্রন্টের কোনো কার্যক্রমে অংশ নেননি।সুলতান মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে যিনি প্রার্থী হন তাঁর যোগ্যতা আছে বলেই প্রার্থী হন। যেহেতু সংসদ নির্বাচন করেছেন, শপথের জন্যই এবং সংসদে যাওয়ার জন্যই নির্বাচন করেছেন। এবারের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে আটজন নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বিএনপির এবং দুজন গণফোরামের। সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খানও শপথ নিতে আগ্রহী। ৭ মার্চ তাঁর ও শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেদিন শপথ নেননি। শপথ নেওয়ার ব্যাপারে মোকাব্বির খান আজ প্রথম আলোকে বলেন, 'আগামীকাল শনিবার দলের প্রেসিডিয়াম মেম্বারদের বৈঠক হবে। সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। আশা করছি বিষয়টির একটি সুরাহা হবে।' বিএনপি শপথ নেওয়ার ব্যাপারে বিরোধিতা করে আসছে। | 9 |
বান্ধবীকে আইফোন কিনে দিতে আত্মগোপনে থেকে অপহরণ নাটকের তিন দিন পর ধরা পড়েছেন রাকিবুল হাসান রিয়াদ নামে এক যুবক। এ সময় রাকিবুলকে সহযোগিতা করা মুন্না হাসান নামের এক বন্ধুকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।অপহরণ অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে দুপচাঁচিয়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে র্যাব। পরে র্যাব জানতে পারে তারা নিজেরাই অপহরণের এই নাটক সাজান। বগুড়া র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (লেফটেন্যান্ট কমান্ডার) আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।রাকিবুল হাসান রিয়াদ সোনাতলা উপজেলার নামাজখালী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম ওবায়দুল সরকার। তাঁর বন্ধু মুন্না হাসান জয়পুরহাট কালাই উপজেলার মোলামগাড়ী গ্রামের মইফুল আকন্দের ছেলে।র্যাব জানায়, রিয়াদ তাঁর এক বান্ধবীকে আইফোন কিনে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর কাছে কোনো টাকা ছিল না। বাবা-মায়ের কাছ থেকে টাকা নিতে রিয়াদ তাঁর বন্ধু মুন্নাকে নিয়ে অপহরণ নাটকের পরিকল্পনা করেন। তাঁদের পরিকল্পনা মোতাবেক গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে বের হন রিয়াদ। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ করে রাখেন তিনি। রাতে বাড়ি না ফেরায় তাঁর বাবা-মা চিন্তিত হয়ে পড়েন। এদিকে রিয়াদকে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। পরে গত ২৫ জুলাই তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সোনাতলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।র্যাব আরও জানায়, গত ২৬ জুলাই সকালে রিয়াদের নম্বর থেকে তাঁর বাবার কাছে ফোন আসে। ফোনে বলা হয়, তোর ছেলে রিয়াদকে জীবিত উদ্ধার করতে হলে জরুরিভাবে এক লাখ টাকা রেডি করে জানা।' এ ফোনের পর পরই রিয়াদের বাবা বুঝতে পারেন তাঁর ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। ছেলে অপহরণ হয়েছে ভেবে তাঁকে উদ্ধারের জন্য র্যাব ক্যাম্পে এসে সহযোগিতা চান তাঁর (রিয়াদ) বাবা।র্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রিয়াদ ও মুন্নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, রিয়াদ তাঁর বাবার কাছ থেকে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই অপহরণ নাটক সাজান। এই টাকা দিয়ে রিয়াদ তার এক বান্ধবীকে আইফোন উপহার দিতে চেয়েছিলেন। এ কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই বন্ধুর এই নাটক। দুজনই তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাঘুরি করতেন ও বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করতেন।তিনি আরও বলেন, রিয়াদ ও তার বন্ধু মুন্নাকে নিজ নিজ অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তাঁরা জড়াবেন না বলে মুচলেকা দিয়েছেন। | 6 |
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক আবু সাঈদ খান বলেছেন, সাংবাদিকতা পেশায় ঝুঁকি আছে, চাকরির অনিশ্চয়তাসহ আরও অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। কিন্তু এইসব প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়েই এ পেশায় মেয়েদের এগিয়ে যেতে হবে। রাজধানীর হাটখোলায় আজ বুধবার সকালে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটিতে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের আয়োজনে 'সাংবাদিকতার সমসাময়িক চর্চা : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ' শীর্ষক এক সেমিনার তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ ও একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন সজীব সরকার, প্রভাষক হাসিনুস সাবাহ ও মাহমুদা আক্তার কণা, আইন বিভাগের শিক্ষক ব্যারিস্টার আফরিন ইসলাম, সারওয়ার আলম চৌধুরী ও ফারহান হক, সোশিওলজি অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক প্রতিমা দেব ও তাসফিয়া তানজিমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/ তাফসীর আব্দুল্লাহ | 1 |
হ্যাপী আখান্দ্ (জিয়া হাসান আখন্দ্ হ্যাপী, ১২ অক্টোবর ১৯৬০-২৮ ডিসেম্বর ১৯৮৭) নামটা আমি প্রথম শুনি ফিডব্যাকের 'মেলা' অ্যালবামে। সেই অ্যালবামে পালকি শিরোনামে একটা গান আছে, যেটা আসলে হ্যাপী আখান্দ্কে নিয়ে লেখা। গানের শুরুতে ছোট্ট একটি সংলাপ আছে, যা থেকে জানা যায়, হ্যাপী আখান্দের অকালপ্রয়াণের কষ্ট থেকেই তাঁর সহকর্মী, গুণমুগ্ধ বন্ধুরা এই গান করছেন তাঁকে উৎসর্গ করে। '...শিল্পীর মৃত্যু নেই। আমাদের বিশ্বাস হ্যাপী আখান্দের মৃত্যু নেই। অন্য সুরের ভুবনে বর বেশে এ যেন হ্যাপীর পালকি চড়ে মহাপ্রস্থান! কানে এখনো বাজে, তার শেষ যাওয়ার সুর...'-এভাবে হ্যাপীর কথা বলেছিলেন ফিডব্যাক ব্যান্ডে তাঁর সহকর্মী বন্ধুরা।নামটা দেরিতে শুনলেও তাঁর গান অনেক আগেই শোনা হয়ে গিয়েছিল সিনেমার বদৌলতে। আমার আব্বু-আম্মু সিনেমাপাগল মানুষ ছিলেন। নতুন সিনেমা এলেই সিনেমা হলে গিয়ে দেখতেন তাঁরা। ছোটকালে বাবা-মায়ের সঙ্গে আমিও সাথ ধরতাম। তখনই প্রথম 'ঘুড্ডি' ছবিতে শুনি 'কে বাঁশি বাজায় রে'। কিন্তু, সেই সময়ের যা রীতি, নায়ক-নায়িকা আর প্রধান চরিত্রগুলো ছাড়া বাকি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের খোঁজ কে রাখে? তাই নায়িকার ভাইয়ের চরিত্র রূপায়ণকারী, যে গিটার বাজিয়ে বোনকে গান শোনাতে শোনাতে গেয়ে ফেলে এক কালজয়ী গানের মুখটুকু, ওই শিল্পীই যে তুমুল আলোচিত হ্যাপী আখান্দ্, তা তখন কীভাবে জানব? খুব সম্ভবত তখনো আমি সেভাবে পড়তে শিখিনি। তাই সিনেমার স্ক্রিনে হ্যাপী আখান্দের নাম পড়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। আর সিনেমায় দেখারও আগে, ওই সিনেমারই আরেক সুপার হিট গান 'আবার এলো যে সন্ধ্যা' পিকনিক সং হিসেবে সবচেয়ে বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল। তখন 'আবার এলো যে সন্ধ্যা' ছাড়া বন্ধুদের আড্ডা অকল্পনীয়। 'কে বাঁশি বাজায় রে' হ্যাপীর নিজেরই লেখা ও সুর করা। 'আবার এলো যে সন্ধ্যা' অবশ্য তাঁর লেখা বা সুর করা নয়, এর গীতিকার এস এম হেদায়েত এবং সুরকার লাকী আখান্দ। কিন্তু গানটা নির্মিত হয় হ্যাপী আখান্দের সংগীতায়োজনে। গাওয়ার সময় হ্যাপী ও লাকী দুই ভাই-ই গেয়েছেন একসঙ্গে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ১৯৭৫ সালে এই গান তাঁর সংগীত পরিচালনায় পরিবেশিত হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে। বিটিভির তৎকালীন প্রযোজক ও পরবর্তীতে পরিচালক সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকি সেই পরিবেশনা শুনে মুগ্ধ হন। তাই যখন তিনি 'ঘুড্ডি' ছবিটি তৈরি করতে শুরু করেন, ছবির সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব দেন লাকী আখান্দকে; অবশ্যই 'আবার এলো যে সন্ধ্যা' গানটিসহ।হ্যাপীর রেকর্ড করা গানের সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি নয়। মাত্র ২৭ বছরের ক্যারিয়ারে পাঁচ-ছয়টি গানের বেশি রেকর্ড তিনি করতে পারেননি। পারার কথাও নয়। এখনকার মতো তখন গান প্রকাশের এত মাধ্যম যেমন ছিল না, তেমনি ছিল না রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থাও। হাতে গোনা অল্প কয়েকটি স্টুডিও, যেখানে সিনেমা, টিভি, রেডিও, রেকর্ড-সব মাধ্যমের জন্য রেকর্ডিং চলছে অবিরাম। এত এত গুণী মিউজিশিয়ানের মাঝে সময় বের করে নিজেদের একটা শিফট নিতে পারা চাট্টিখানি কথা নয়। এই ভিড় ঠেলে কোনো শিল্পীরই পর্যাপ্ত গান তখন রেকর্ড করা যেত না। বড় ভাই লাকী তখন পুরোদস্তুর সংগীত পরিচালক। তিনি বিটিভির নিয়মিত তালিকাভুক্ত শিল্পী ও সংগীত পরিচালক, সিনেমাতেও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, রেডিও তো আছেই। নিজের গান করার চেয়ে লাকী বরং অন্য শিল্পীদের জন্যই গান করেন বেশি। বড় ভাইকে দেখে সেই চর্চাতেই অভ্যস্ত হয়ে গেলেন হ্যাপী। তিনিও নিজে গাওয়ার চেয়ে অন্যদের গান কম্পোজ করতেই বেশি মনোযোগী হলেন। তাঁর সংগীতায়োজনে সবচেয়ে বেশি গান করেছেন ফিরোজ সাঁই। সাঁইজির বিখ্যাত মাইজভান্ডারি ক্ল্যাসিক গান-'ইশকুল খুইলাছে রে মওলা'র সংগীতায়োজন হ্যাপীর করা। ফেরদৌস ওয়াহিদের বিখ্যাত 'এমন একটা মা দে না' গানেরও সংগীত পরিচালক হ্যাপী আখান্দ। এভাবে অনেক শিল্পীর অনেক বিখ্যাত গান তিনি করেছেন। আরেকটি গানের কথা মনে পড়ছে, সোলস ব্যান্ডের তৎকালীন লিড ভোকালিস্ট কুমার বিশ্বজিতের জন্য তিনি কম্পোজ করেছিলেন 'তোকে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে' গানটি। পরে অবশ্য বিশ্বজিৎ সেই গানটি তাঁর নিজের সলো অ্যালবামে প্রকাশ করেন। সোলসও বহুদিন গানটি স্টেজে পারফর্ম করেছে।হ্যাপীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছিলেন তাঁর সমবয়সী ব্যান্ড তারকা মাকসুদুল হক, যিনি শুরুতে বলা পালকি গানটি সৃষ্টি করেছিলেন হ্যাপীর স্মৃতির উদ্দেশে। ইউটিউব আবিষ্কারেরও অনেক আগে একটি ভিডিও দেখেছিলাম এক সাইটে, এখন সেটি আর খুঁজে পেলাম না কোথাও। সেই ভিডিওতে মাকসুদ হ্যাপীর ইন্টারকনে পিয়ানো বাজানোর ঘটনা স্মরণ করেন। হোটেল ইন্টারকনের অধুনালুপ্ত চাম্বেলি হাউসে একটি গ্র্যান্ড পিয়ানো ছিল, যা সাধারণত ইন্টারকনের কমিশন্ড মিউজিশিয়ান এবং বিদেশি অতিথিদের কেউ বাজাতে পারতেন, সর্বসাধারণের সেই পিয়ানো বাজানোর অনুমতি নেই।ফিডব্যাক তখন ইন্টারকনের রেসিডেন্ট ব্যান্ড হিসেবে নিয়মিত বাজায়। হ্যাপীর প্রতিষ্ঠা করা মাইলস ব্যান্ডও এনলিস্ট হয়েছে। তাই বলে সেই হাইলি ডিস্টিংগুইশড গ্র্যান্ড পিয়ানোতে হাত দেওয়ার অনুমতি এঁদের কারও নেই। কিন্তু সেটা মানতে পারতেন না সদ্য কৈশোর পেরোনো হ্যাপী। প্রায়ই তিনি বলতেন, একদিন আমি ওই পিয়ানো বাজাবই। এবং সত্যিই তিনি একদিন বসে গেলেন কাছেপিঠে কেউ নেই দেখে। মাকসুদ বলছেন, 'আমি তাকে বাধা দেওয়ার আগেই সে এগিয়ে গেল এবং বসে পড়ল পিয়ানোর সামনে। স্ট্যান্ডে একটা খাতা ছিল, স্টাফ নোটেশন লেখা। সেটা খুলেই হ্যাপী বাজাতে শুরু করল।' এর পর যা হলো, তা অভাবনীয়। প্রথম কিছুক্ষণ কেউ খেয়াল করল না, কে বাজাচ্ছে, কারণ এতটাই নিখুঁত ছিল সে বাজনা যে, কারও সন্দেহ হয়নি যে, নিয়মিত পিয়ানো বাদকের বাইরে অন্য কেউ বাজাচ্ছে। কিন্তু একটু পরই যখন বাজনা শুনে লোকজন জড়ো হতে শুরু করল, তখন কর্তৃপক্ষের টনক নড়ল। কিন্তু তারা কেউ হ্যাপীকে থামাতে গেলেন না। কারণ, ততক্ষণে সমঝদার শ্রোতারা তন্ময় হয়ে গেছেন হ্যাপির বাদনে। বয়স্ক এক বিদেশি ভদ্রলোক মাকসুদের কাছে জানতে চাইলেন, 'যে ছেলেটি বাজাচ্ছে, তুমি কি তাকে চেনো?' মাকসুদ 'হ্যাঁ' বলতেই, তিনি বললেন, 'অনেক বছরের সাধনা ছাড়া গ্র্যান্ড পিয়ানোর রিডে এভাবে আঙুল চালানো যায় না।' মাকসুদ তাঁকে বললেন যে, 'ওর নাম হ্যাপী এবং ও আজই প্রথম গ্র্যান্ড পিয়ানোতে হাত দিল। এর আগে সে কিবোর্ড বাজিয়েছে। কিন্তু অরিজিনাল পিয়ানো বলতে যা বোঝায়, মানে এখন যেটা বাজাচ্ছে, সেটাতে হাত দেওয়ার সুযোগ তার কোনো দিন হয়নি!' বলাই বাহুল্য, সেই বিদেশি বিশ্বাস করলেন না। কারণ, স্টাফ নোটেশন দেখে দেখে হ্যাপী তাঁর সুনিপুণ হাতে বাজাচ্ছিলেন কোনো কালজয়ী শিল্পীর অমর সৃষ্টি (মাকসুদ বলেছিলেন সেটি কোনো বিখ্যাত সুরস্রষ্টার সৃষ্টিকর্ম, এত দিন পর আমার এখন তা মনে পড়ছে না)। হ্যাপী মাত্র ১২ বছর বয়সে যোগ দেন 'উইন্ডি সাইড অব কেয়ার' নামক বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ডে। এই ব্যান্ড সৃষ্টি হয়েছিল পাকিস্তান আমলে, পাকিস্তানিদেরই হাতে। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে সেই ব্যান্ডের বাংলাদেশি সদস্যদের সঙ্গে যোগ দিয়ে তাকে আবারও গড়ে তোলেন হ্যাপী। সেই সময়ে বড় ভাই লাকীর সঙ্গে কলকাতার এইচএমভি স্টুডিওতে রেকর্ডিংয়ে অংশ নেন হ্যাপী। মাত্র ১২ বছর বয়সে। তিনি সেখানে তবলা বাজিয়েছিলেন। তবলার শুধু বাঁয়া বা ডুগি ব্যবহার করে তিনি ড্রামবিট দিচ্ছিলেন, যার অভিনব কায়দায় অবাক হয়ে রেকর্ডিং চলার সময়েই রেকর্ডিং রুমে ঢুকে পড়েছিলেন বিখ্যাত সংগীত পরিচালক কলিম শরাফিও। রেকর্ডিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঠায় দাঁড়িয়ে শুনেছিলেন তাঁর বাজানো। এর কিছুদিন পর লাকী আবারও কলকাতা গেলে হ্যাপীর কণ্ঠে রেকর্ড করা এবং তাঁর সংগীতায়োজনে 'আবার এলো যে সন্ধ্যা' গানটির রেকর্ড নিয়ে যান। সেই রেকর্ড বাজানো হয় বিখ্যাত শিল্পী বনশ্রী সেনগুপ্তার বাসায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত শিল্পী মান্না দে এবং সংগীত পরিচালক আর ডি বর্মণ। তাঁরা মুগ্ধ হন এইটুকু ছেলের এত পরিণত সৃষ্টিকর্ম শুনে। তাঁরা আমন্ত্রণ জানান হ্যাপীকে কলকাতায় বাজানোর জন্য। হ্যাপী কলকাতা যান ১৯৭৫ সালে, বীরভূমের দুর্গাপুরে কনসার্টে অংশ নেন, যে কনসার্টের মূল আকর্ষণ ছিলেন আশা ভোসলে এবং আর ডি বর্মণ। তাঁদের উপস্থিতিতে মঞ্চে উঠে হ্যাপী গেয়ে শোনান টানা ১১টি গান। আশা ভোসলের গান শুনতে আসা দর্শক বিমোহিত হয়ে শোনেন হ্যাপীর গান। পরে স্টেজে উঠে আশা ও আর ডি বর্মণ আশীর্বাদ করেন ছোট্ট হ্যাপীকে। আর হ্যাপী পেয়ে যান তাঁর এক অন্ধ ভক্তকে, যিনি পরে বিখ্যাত হন অনেক সাড়া জাগানো সব অ্যালবামের সংগীতায়োজন করে; নাম মধু মুখোপাধ্যায়। হ্যাপী আখন্দের এই ছাত্রের কম্পোজিশনেই প্রকাশ পায় সুমন চট্টোপাধ্যায় ও নচিকেতার প্রথম দিককার সব অ্যালবাম।বাংলাদেশের পপ-রক ঘরানার পাশ্চাত্য সংগীতের সবচেয়ে প্রতিভাবান শিল্পী ছিলেন হ্যাপী আখান্দ্। তাঁর বড় ভাই লাকী আখান্দ শুধু নয়, সমসাময়িক সব শিল্পীই দাবি করেন, তিনি আসলে সংগীতের একজন প্রডিজি ছিলেন। সময়ের অনেক আগে জন্মে যাওয়া অসামান্য এক প্রতিভা, যার বিকাশের উপযুক্ত সময়টা আসার আগেই তাঁকে চলে যেতে হয় অন্য সুরের ভুবনে। হ্যাপীর অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারেননি লাকী। দিনের পর দিন তিনি সেই শোকে মুহ্যমান থেকেছেন, দূরে থেকেছেন সংগীত থেকে। এও আমাদের বাংলা গানের আরেক ক্ষতি। হ্যাপীর চলে যাওয়ায় আমরা হ্যাপীর সৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছি যেমন, তেমনি বঞ্চিত হয়েছি লাকীর সৃষ্টি থেকেও। বাংলা গানের অসামান্য এই আখান্দ ভ্রাতৃদ্বয় যদি পূর্ণ আয়ুষ্কালের শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ করে যেতে পারতেন, নিঃসন্দেহে আমাদের গান আরও অনেক অনেক সমৃদ্ধ হতো।আজ ২৮ ডিসেম্বর হ্যাপী আখান্দের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। যেখানেই থাকুন তিনি, ভালো থাকুন, শান্তিতে থাকুন। তাঁর সুরেলা স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। | 2 |
ঢাকা: বিশ্বে জলবায়ু সংকটের পেছনে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। প্রত্যাশা করা হয়, তারাই এই সংকটের সমাধানে সবসময় অগ্রগামী থাকবে। কিন্তু এই দেশগুলো কখনোই প্রত্যাশার পুরোটা দিতে পারেনি। সম্প্রতি শেষ হওয়া জি৭ সম্মেলনেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণে কিছু অগ্রগতি হয়েছে।যুক্তরাজ্যে জি-৭ সম্মেলনের পর উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কয়লা নির্ভরতা থেকে বের করে আনতে সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ধনী দেশগুলোর নেতারা। তবে এবারও এটি প্রতিশ্রুতিই থেকে গেল। সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি। যেখানে এর আগেও বহুবার জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোর জন্য প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েই গেছে।এটা সত্য যে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে সহায়তা নিয়ে ধনী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হচ্ছে। তবে আমরা সেটি এখনো দেখিনি। ওই চুক্তি যে ১০০তে ১০০ পাবে কি-না সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, ডিসেম্বরে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় কোপ-২৬ সম্মেলনে এই অর্থের নিশ্চয়তা না দিতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্ভব নয়।এ নিয়ে অ্যাকশন এইডের জলবায়ু নীতির সমন্বয়ক তেরেসা এন্ডারসন বলেন, জি৭ গ্রুপের বছরে দশ হাজার কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এই সংকট মোকাবিলার গুরুত্বের কাছে পৌঁছায়নি। ধনী দেশগুলো জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় অর্থ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত যা দেওয়া হয়েছে তা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। যা দেশগুলোকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। এটি দেশগুলোকে ঋণের বোঝা এবং দরিদ্রতার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো অর্থায়নের বিষয়টি। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনা মহামারির মধ্যে দরিদ্র দেশগুলোর কোভিড সাহায্যের দাবি।তবে এই সব ইস্যু ছায়ায় ঢেকে গেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কয়লা নির্ভরতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে কখন বের হবে কীভাবে বের হবে তা নিয়ে বাইডেন কিছুই বলেননি। জার্মানি এবং জাপানের বিদ্যুৎখাতের কয়লা নির্ভরতা থেকে বের হয়ে যাওয়া কঠিন হবে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দরিদ্র দেশগুলোর কয়লা শিল্পে অর্থায়ন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটি চীনের ওপর চাপ বাড়াবে।ফ্রান্সের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ লরেন্স তুবিয়ানা বলেন, জি৭ দেশগুলো এগিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে এগিয়ে এলে বাকি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এগিয়ে আসতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমরা এই তালিকায় রাখতে পারি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোকে। আর হ্যাঁ চীনকেও। এসব দেশ যখন দেখবে ধনী দেশগুলো এগিয়ে আসছে তখন তারাও জলবায়ু ইস্যুতে আরও সক্রিয় হবে। | 7 |
যেদিকে চোখ যায়, শুধু ব্যানার আর পোস্টার। তার ওপর নগরীর বিভিন্ন জায়গায় কদিন ধরে চলে মোটরসাইকেল-ট্রাক শোভাযাত্রায় নেতাদের বন্দনা। ফেসবুকেও চলে নেতাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রচার। সব মিলিয়ে মহানগর যুবলীগের আজকের (সোমবার) সম্মেলন ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এদিকে কর্মীরা যখন মাঠে-ঘাটে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটান, পদপ্রত্যাশী নেতাদের তখন সময় কাটে কেন্দ্রীয় নেতাদের মন জয়ের মধ্য দিয়ে।আজ নগরীর দি কিং অব চিটাগংয়ে মহানগর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এর আগে দক্ষিণ ও উত্তর জেলার সম্মেলন হচ্ছে। এ উপলক্ষে যুবলীগের দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস ও সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান গত শনিবার চট্টগ্রামে এলেও সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে নাইম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ চলে আসেন আরও আগেই। গত ২২ মে বিকেলে তাঁরা চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লুতে এসে ওঠেন। থাকছেন এই হোটেলেই। এরপর থেকে তাঁদের মন জয়ের চেষ্টা করে যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা।তবে সম্মেলনেই পদপ্রত্যাশীদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না-এমন আভাসই মিলেছে। ঝামেলা এড়াতে ঢাকা থেকেই ঘোষণা হতে পারে কমিটি। তবে এতেও পদপ্রত্যাশীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে না।প্রধান দুই পদে বেশ কিছু নেতা জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে নগর যুবলীগের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমন ও দিদারুল আলম, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন, ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক জিএস আরশেদুল আলম বাচ্চু, সাবেক ছাত্রনেতা দেবাশীষ পাল দেবু, শেখ নাসির উদ্দিন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন ও হাসান মুরাদ বিপ্লব, সুরঞ্জিত বড়ুয়া লাভু, দিদারুল আলম, সুমন দেবনাথসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন।নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, সাবেক ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান তারেক, ইয়াছির আরাফাত, নগর ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপু, সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজনসহ অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন।সাধারণ সম্পাদক পদে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়া ফজলে রাব্বী সুজন বলেন, '২০০২ সালে আমি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হই। চট্টগ্রামে যুবলীগকে আমি সেই জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যেখান থেকে আমরা ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে পারব।' | 6 |
এবার উপন্যাস নিয়ে তৈরি গানে কন্ঠ দিলেন মাহতিম সাকিব। তরুণ উপন্যাসিক আবদুল্লাহ আল ইমরানের নতুন উপন্যাস 'হৃদয়ের দখিন দুয়ার' থেকে নেওয়া গানটির সুর ও সংগীতায়জন করেছেন শফিক তুহিন। ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে উপন্যাসটির প্রচারণায় গানটি ব্যবহার করা হবে। গানটি সম্পর্কে মাহতিম সাকিব বলেন, 'অনেকেই অভিযোগ করেন এ প্রজন্মের তরুণেরা বই পড়ে না। বই পড়ার প্রতি তাই মানুষকে আরও আগ্রহী করে তুলতে ভিন্ন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছি। গানটির কথা ও সুর খুবই হৃদয়গ্রাহী। আমার বিশ্বাস অনেকেই স্মৃতিকাতর হবেন।' সুরকার শফিক তুহিন জানান, 'আবদুল্লাহ আল ইমরান এ সময়ের জনপ্রিয় লেখক। তার এবারের উপন্যাসের নায়ক একজন কবি। উপন্যাসে ব্যবহৃত একটি কবিতা থেকে গানটি তৈরি করেছি। আমাদের সকল পপুলার কালচারে বই নিয়ে কথা বলতে হবে। না হয় নতুন প্রজন্মের পাঠাভ্যাস কমে যাবে।' একুশে গ্রন্থমেলায় 'হৃদয়ের দখিন দুয়ার' উপন্যাসটি প্রকাশিত হবে অন্বেষা প্রকাশন থেকে। | 2 |
ইসরায়েলে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত দু ওয়েইর মরহেদ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার তেল আবিবের উত্তরাঞ্চলে শহরতলির বাসভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইসরাইলী পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। কী কারণে তার মৃত্যেু হয়েছে তা এখনো জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। তবে ইসরাইলের টিভি চ্যানেল১২ নামহীন এক চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দু ওয়েইর প্রাকৃতিকভাবেই ঘুমন্ত অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে বলে ইসরাইলী পুলিশের এক মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির মাঝে গত ফেব্রুয়ারিতে দু ওয়েইকে (৫৭) ইসরায়েলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয় চীন। এর আগে তিনি ইউক্রেনে চীনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চীনা এই রাষ্ট্রদূতের এক সন্তান এবং স্ত্রী রয়েছে; বর্তমানে তারা ইসরায়েলে নেই। চীনের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক সবসময়ই ভালো। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর ইসরায়েল সফরে এসে চীনের সমালোচনা করায় তার নিন্দা জানানোর দু'দিন পর চীনা এই রাষ্ট্রদূতের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। ইসরায়েলে চীনা বিনিয়োগ এবং করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের তথ্য লুকানো নিয়ে চীনের সমালোচনা করেছিলেন মাইক পম্পেও। দু'দিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর এই সমালোচনার নিন্দা জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রদূত দু ওয়েই। | 3 |
বাবার জন্মদিন পালনের জন্য এপ্রিল মাসেই সিলেটে আসতে চেয়েছিলেন। আগামী জুনে জন্মদিন হলেও কয়েকদিন ধরে এপ্রিলে বাবার জন্মদিন বলছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এজন্য পরিবারের সবাইকে নিয়ে নগরীর ধোপাদিঘীরপারের পৈত্রিক বাড়ি হাফিজ কমপ্লেক্সে আসার কথা বলেছিলেন তিনি। শেষপর্যন্ত জন্মমাটিতে এলেন তিনি, তবে শীতল কফিনে শুয়ে। আজ শনিবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে হাফিজ কমপ্লেক্সে পৌঁছায় সাবেক অর্থমন্ত্রীর মরদেহ। পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় তাকে নিয়ে সিলেটে আসার আবদারও করেছিলেন বলে জানান প্রয়াতের অনুজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ঈদের আগে সিলেট আসতে চেয়েছিলেন। সিলেটে আসার জন্য তিনি সবসময় উদগ্রীব থাকতেন। শেষবেলাও সিলেটে আসতে চেয়েছিলেন। প্রয়াতের ইচ্ছে অনুযায়ী, পরিবারের সকল সদস্য সড়কপথে তার সঙ্গে আসেন। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে দেখতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আগে থেকে হাফিজ কমপ্লেক্সে ভিড় করেন। এদের মধ্যে অন্যতম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। এই রিপোর্ট লেখার সময় (রাত সাড়ে ১০টা) হাফিজ কমপ্লেক্সে রাখা প্রয়াতের মরদেহ শেষবারের মতো দেখছেন নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নগরীর রায়নগরের ডেপুটি বাড়ি বা সাহেব বাড়ি হিসেবে পরিচিত পৈত্রিক বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। রোববার দুপুর ২টায় নগরীর ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সর্বশেষ জানাজার পর তাকে দাফন করা হবে। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জানাজার আগে দুপুর ১২টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রয়াত অর্থনীতিবিদ মুহিতের মরদেহ রাখা হবে। সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ (সদর-নগর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন। এই সময়ে তিনি অর্থমন্ত্রী হিসেবে দেশের সবচেয়ে বেশিবার বাজেট প্রণয়নের রেকর্ড গড়েন। 'আলোকিত সিলেট' গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। | 6 |
আগামী সপ্তাহে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য আসনে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আগামী সপ্তাহে সংরক্ষিত মহিলা আসনে তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন অনুসারে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি চারটি, বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একটি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে দুটি আসন পাবে। এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা যদি শপথ না নেন, তাহলে তো আর একটি সংরক্ষিত আসনও পাওয়ার সুযোগ থাকছে না। এ ছাড়া স্বতন্ত্র এমপিরা যদি কোনো জোটে যোগ না দেন, তাহলে তাঁরাও পাবেন না। | 9 |
বাবার চাকরির কারণে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার ছোটবেলা কেটেছে ঢাকার বাইরে। রমজান মাসে ঢাকায় এসে আড়ংয়ে ঈদের কেনাকাটা করে আবার ফিরে যেতেন বাড়ি। তখন ভাবতেন কবে বড় হবেন আর ঢাকায় ঘুরে ঘুরে ঈদের কেনাকাটা করবেন। এখন কি সে ইচ্ছা পূরণ হয়? শবনম ফারিয়ার উত্তর, 'আসলে ঈদের পোশাক আলাদা করে কেনার সুযোগ পাই না।' কারণ হিসেবে জানালেন, ঈদের আগে নাটকের কাজ থাকে প্রচুর। তাই নাটকের এক একটি চরিত্রের জন্য বানাতে হয় নতুন নতুন পোশাক। এ ছাড়া বাড়ির ছোট মেয়ে হওয়ার কারণে উপহারের পাল্লাটা বরাবরই ফারিয়ার দিকে বেশি ভারী থাকে। ঈদের জন্য যেসব বুটিক হাউসের ফটোশুট করেন তারাও পোশাক উপহার পাঠান।অন্যান্য বছরের মতো এবারও চাঁদরাত পর্যন্ত ফারিয়ার শুটিং চলবে। শুটের কারণে চুলের বারোটা বেজে যায়, তাই ঈদের আগের রাতে বাড়ি ফিরেই চুলে তেল মাখবেন ফারিয়া। তারপর দেবেন লম্বা ঘুম। মায়ের হাতের ভুনা খিচুড়ি খেয়ে শুরু হবে ফারিয়ার ঈদের দিন। সকালে পরবেন সালোয়ার-কামিজ। সেটির রং হবে হালকা। সাজগোজের জন্য মুখে লাগাবেন বিবি (বিউটি বাম) ক্রিম, ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক আর চোখে থাকবে আইলাইনার। সন্ধ্যায় ভারী মেকআপ, জমকালো পোশাক আর চোখের সাজ-এই হবে ফারিয়ার ঈদ সাজ।এবারের ঈদে চুল রাঙানোর ইচ্ছে ছিল ফারিয়ার। কিন্তু একটি সিনেমার শুটিংয়ের জন্য তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই পোশাক যা পরবেন তার সঙ্গে মিলিয়ে সাজাবেন চুল। গয়না সংগ্রহ ফারিয়ার প্রিয় শখ। ঈদের দিন নিজের কাছে থাকা গয়নাগুলো থেকেই বেছে নেবেন। চার বছর ধরে এভাবেই ফারিয়া তাঁর ঈদটা কাটাচ্ছেন। জানালেন এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। | 4 |
হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে করা কটূক্তির প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর মোড় অবরোধের পর বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিক্ষোভ করেন বাইশমাইলে অবস্থিত মির্জা গোলাম হাফিজ কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে নবীনগরমুখী দুই লেনে এবং নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের নবীনগরমুখী লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা ১১টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা সড়কে জমা হতে থাকে। এ সময় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে অবমাননা ও কটূক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। প্রায় ৪০ মিনিট তারা সড়ক অবরুদ্ধ রেখে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা নবীনগরে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে যান চলাচল শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সড়ক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। | 6 |
রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এ মন্তব্য করেছেন। আজ বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে এক মানববন্ধন নেতারা এ বক্তব্য দেন।খুলনার রূপসার শিয়ালি সুনামগঞ্জের শাল্লা, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, কুমিল্লার মুরাদনগর, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, ঢাকার সাভারে অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্ ব্মন অপহরণ ও হত্যাসহ দেশের নানাস্থানে সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং ধর্মীয় প্রতিগত সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-উপাসনালয়ে অব্যাহত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ভূমি জবরদখল প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে এ কথা বলেন সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।আজ (বুধবার) বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য হয়ে টিএসসি গিয়ে শেষ হয়।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর এসব হামলার পেছনে আছে সাম্প্রদায়িক শক্তি। তারা এসব হামলার মাধ্যমে তাদের শক্তির জানান দিতে চায়। এটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য হুমকি।নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, এসব হামলা রুখতে প্রশাসনের ব্যর্থতা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। হামলা রুখতে সব অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে এক হতে হবে।বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করে যায় কিন্তু তাঁর কোন বিচার করা হয় না। রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের ভূমিকার প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিচার না করার কারণে সেগুলো জিইয়ে রাখা হচ্ছে।বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি বলেন, দেশের সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ওপর সাম্প্রতিক হামলা শুভ লক্ষণ নয়। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রকেই মোকাবিলা করতে হবে। কারণ, তাঁরা রাষ্ট্রবিরোধী।এ ছাড়া সুনামগঞ্জের শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলায় প্রধান অভিযুক্ত স্বাধীন মেম্বারসহ অন্যান্য আসামিরা জামিনে ছাড়া পেলেও নির্দোষ ঝুমন দাস আপন একাধিকবার আদালতে জামিনের আবেদন করলেও অদৃশ্য কারণে এখনো জামিন না পাওয়ায় নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান নেতারা।এ মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন শ্রী কাজল দেবনাথ, শ্রী তে. এল ভৌমিক, শ্রী মণীন্দ্র কুমার নাথ, অ্যাড. তাপস কুমার পাল, অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, অ্যাড কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, শ্রী শুভাশীষ বিশ্বাস সাধন প্রমুখ। | 6 |
গাইবান্ধায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় আনিছুর রহমান (৩০) নামের এক যুবককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আনিছুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আনিছুর রহমানের বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের সরদারহাট গ্রামে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, আনিছুর রহমানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ছাড়াও সাত হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে জব্দ করা হেরোইন ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার হিরকপাড়া এলাকায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী হেরোইন বেচাকেনা করছিলেন। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা-পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে তল্লাশি করে ২১ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যান। ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি গোবিন্দগঞ্জ থানায় ও ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পলাশবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা পৃথক দুটি মামলার আসামি ছিলেন আনিছুর রহমান। | 6 |
ব্রিটেনের এক তৃতীয়াংশ স্কুলছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। প্রতি তিনজনের একজন মেয়ে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থাতেই প্রকাশ্যে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। আর পুরুষের অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন দৃষ্টির সংস্পর্শে আসতে বাধ্য হয় ওই মেয়েদের দুই তৃতীয়াংশ। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা চ্যারিটি সংস্থা প্ল্যান ইনটারন্যাশনাল ইউকে'র নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। স্কুলগামী ১ হাজার মেয়ের উপর জরিপ চালানোর পাশাপাশি শিক্ষাবিদদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন হাজির করেছে সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে রাস্তা-ঘাটে হয়রানিকে নিজেদের বেড়ে ওঠার একটি অপরিহার্য অংশ বলে মনে করছে অনেক মেয়ে। প্রতিবেদনে হয়রানির ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের তা প্রতিহত করার আহবান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরীর জন্য প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এক হাজারের বেশি কিশোরী ও ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী তরুণ নারীদের উপর জরিপ চালিয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে মেয়েদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। গবেষণা ফলাফলে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেয়া মেয়েদের ৬৬ শতাংশই প্রকাশ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন নিপীড়ন অথবা পুরুষের যৌন হয়রানিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি শিকার হয়েছে। ৩৫ শতাংশ মেয়ে স্পর্শ করা, ধরা বা এলোমেলো স্পর্শের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে। স্পর্শ, তাকানো, কটূক্তি বা জোরে শিস দেয়ার মতো যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে এক তৃতীয়াংশের বেশি মেয়ে। এদের এক চতুর্থাংশ জানিয়েছে, অনুমতি না নিয়ে অপরিচিত লোকজন তাদের ছবি তুলেছে নয়তো ভিডিও করেছে। জরিপে অংশ নেয়া ৮ বছর বয়সী অনেক মেয়ে জানিয়েছে, তারাও যৌন হয়রানি থেকে রেহাই পায়নি। প্রতিবেদনে বার্মিংহামের ১৯ বছর বয়সী তরুণী মালিকাহসহ আরো বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়েছে। মালিকাহ জানান, একদিন একাকী হাঁটার সময় একটি কারের মধ্যে বসে কেউ একজন তার পিছু নিয়েছিল। তিনি বলেন, আমার ফোন তখন বন্ধ ছিল কিন্তু আমি এমন ভাব করে ফোনে কথা বলি যাতে মনে হয় কিছুক্ষণের মধ্যে আমার বাবা এসে আমাকে নিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, এখন আমার বাড়ি ফেরা ও সন্ধ্যার পর বাইরে যাওয়ার বিষয়ে মা-বাবা বেশি সচেতন থাকে। ১৮ বছর বয়সী আরেক মেয়ে মনে করছেন, প্রকাশ্যে হয়রানির বিষয়টি তরুণদের পুরুষালি সংস্কৃতির অংশ। ওই মেয়ের বাবাও তাকে বলেছেন তুমি জানো যে, অনেক পুরুষ এমনই। ১৭ বছর বয়সী আরেক তরুণী বলেছে এটা এখন তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে। গবেষণাকারী চ্যারিটি সংস্থা এই ধরনের প্রকাশ্যে হয়রানিকে সেক্সুয়াল হেরেজম্যান্ট ( যৌন হয়রানি) হিসেবে ঘোষণা দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। যৌন হয়রানি ঠিক নয় এমন বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য জনসেচতনতামূলক প্রচারাভিযান চালানোর পরামর্শ দিয়েছে তারা। সেইসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীরা কিভাবে নিরাপদে এইসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে পারেন তার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, কিশোর ও পুরুষদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও হয়রানি প্রতিহত করতে সহায়তা করা তরুণ জনগোষ্ঠিকে সম্পর্ক ও যৌন বিষয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষা দেয়ার সুপারিশ করেছে ওই গবেষণা সংস্থা। এর পাশাপাশি প্রকাশ্যে পাবলিক প্লেসে কাজ করা বাসচালক ও দোকান কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষকে হয়রানি প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ইউকে'র প্রধান নির্বাহী টানআ ব্যারন বলেন, দুঃখজনক ও গভীর উদ্বেগের বিষয় যে স্কুলপড়ুয়া মেয়েরাও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, ১২ বছর বয়সী একটি মেয়েকে প্রকাশ্যে শিস দেয়া হবে, ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্পর্শ করা হবে, বাজে দৃষ্টিতে তাকানো হবে বা পিছু নেয়া হবে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, এই লজ্জাজনক আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, তা বন্ধ করতে হবে। | 3 |
নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই জনগণ বিএনপিকে 'প্রত্যাখ্যান' করেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির কারণে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে। আজ রোববার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালীর হাতিয়ার দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে ভালো আচরণও করুন। নইলে যতোই উন্নয়ন করুন না কেনো, খারাপ আচরণের কারণে তা ঢেকে যাবে। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি। হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালীউল্লাহর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন- পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়শা ফেরদৌস, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম হাতিয়ার নলচিরা ঘাটের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা এসময় ভাঙনকবলিত এলাকার দুস্থ শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্রও বিতরণ করেন। | 6 |
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এ প্রতিষ্ঠানে দুই পদে লোক নেওয়া হবে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। পদের নাম: ফার্মাসিস্টপদসংখ্যা: ২যোগ্যতা: স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ফার্মাসিস্ট সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত হতে হবে।বেতন স্কেল: ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা পদের নাম: গাড়িচালকপদসংখ্যা: ৬যোগ্যতা: অষ্টম শ্রেণি পাস এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। গাড়ি চালনায় তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা বয়সসীমাপ্রার্থীদের বয়স ৯ নভেম্বর ২০২১ তারিখে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর। আবেদন যেভাবেপরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। আবেদন ফিপরীক্ষার ফি বাবদ ৩০০ টাকা, সার্ভিস চার্জ বাবদ ৩৬ টাকাসহ মোট ৩৩৬ টাকা টেলিটক প্রিপেইড মুঠোফোনের মাধ্যমে আবেদন করার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে। আবেদনের শেষ সময়: ২৬ জানুয়ারি ২০২২ বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। | 1 |
গত মার্চ মাসের আগে বিমানের টিকেট ব্লক করা হতো এ কথা স্বীকার করেছেন বেসরকারী বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী। তিনি বলেছেন, এর আগে আমরা বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এটি তদন্ত করেছি। মনিটরিং করেছি..এটি অসত্য ছিল না। একটেনশন স্টাডি করেছি, তার পরে আমরা সার্ভিস সেন্টারগুলো তদন্ত করে দেখেছি কিছু কিছু সেন্টারে টিকেট ব্লক করা হতো। আমরা এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করেচি। এবং সব টিকেট যাকে ওপেন থাকে তার ব্যবস্থা নিয়েছি। এর পরে এ বছরের মার্চ মাস তেকে বিমানের কোন টিকেট ব্লক করার কোন উপায় নেই, এমনটি মন্ত্রীর জন্য বা ভি আইপিদের জন্যও কোন টিকেট ব্লক করার কোন উপায় নেই। সে জন্য মার্চ মাস থেকে বিমানের সব সিটে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে বিমান পরিবহন বা মন্ট্রিল কনভেনশন বিল উত্তাপণ ও পাশের সময় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানসহ জাতীয় পার্টির এমপিদের এধরনের একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা স্বীকার করে এমন মন্তব্য করেন। বিএনপির হারুন আর রশীদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে শাহজালাল বিমান বন্দরের অবস্থা আমুল পরিবর্তন হয়েছে। বিমান বন্দরে কোন যাত্রী হয়রানী ঘটে না আর র্যাগেজ নিয়ে কোন সমস্যা সৃষি।টন হচ্ছে না। বিশ্বের অন্য বিমান বন্দরে এক ঘন্টা পরে ল্যাগেজ পাওয়অ গেলেও আমাদের বিমান বন্দরে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে ল্যাগেজ হাতে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, বিমে।ভর যাত্রীরা আগে নামেন বিমান বন্দরে, সেখান তেকে দেশেল প্রতি তারা যেন একটা ভাল মনোভাব নিয়ে আসেন সে জন্য বিমান বন্দরগুলেঅকে ঢেলে সাজান হচ্ছে। আমরা তৃতীয় টার্মিনাল করছি। এর ফলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিমান বন্দরের চিত্র একেবারে নান্দনিক হব বলে জানান তিনি। | 6 |
আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। তবে দেশের সবচেয়ে বড় এই সেতুতে হেঁটে বা সাইকেল চালিয়ে পাড়ি দেয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুতে গাড়ি পারাপারে টোল নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে কোনো ধরনের গাড়ি এ সেতুতে চলাচল করতে পারবে তাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সেতুতে ১৩ ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। তবে নসিমন, করিমন, ভটভটি ও সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করতে পারবে না। এমনকি হেঁটেও মানুষ যাতায়াত করতে পারবেন না। সোমবার (৩০ মে) পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সেতু ও সড়ক) শাহ মো. মুসা গণমাধ্যমকে বলেন, হেঁটে সেতু পার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া কেউ সাইকেল বা সিএনজিতেও নিয়েও পার হতে পারবে না। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, সেতুর ওপর দিয়ে কোন যানবাহন পার হতে পারবে এবং টোল কত-সবকিছুর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সেখানে সাইকেলের কথা উল্লেখ নেই। শাহ মো. মুসা আরও বলেন, সেতুর ওপর দিয়ে গতির যানবাহন চলবে। সেখানে হেঁটে বা স্লো মুভিং কিছু থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে ১০০ টাকা, কার বা জিপে ৭৫০ টাকা, পিকআপ ভ্যানে ১ হাজার ২০০ টাকা, মাইক্রোবাসে ১ হাজার ৩০০ টাকা, ছোট বাসে (৩১ আসন বা এর কম) ১ হাজার ৪০০ টাকা, মাঝারি বাসে (৩২ আসন বা এর বেশি) ২ হাজার টাকা, বড় বাসে (৩ এক্সেল) ২ হাজার ৪০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ছোট ট্রাকে (৫ টন পর্যন্ত) ১ হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে (৫-৮ টন) ২ হাজার ১০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (৮-১১ টন পর্যন্ত) ২ হাজার ৮০০ টাকা, ট্রাক (৩ এক্সেল পর্যন্ত) ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ট্রেইলার (৪ এক্সেল পর্যন্ত) ৬ হাজার টাকা ও টেইলর (৪ এক্সেলের বেশি) ৬ হাজারের সঙ্গে প্রতি এক্সেলে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে যোগ করে টোল দিতে হবে। এর মধ্যে সাইকেলের কথা উল্লেখ নেই। | 6 |
১০ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে সহসভাপতি মুর্শেদা খানমের পা কেটে রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনায় বহিষ্কার হন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা। বহিষ্কারের তিন দিন পর ১৩ এপ্রিল তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় সংগঠনটি। এর তিন দিন পর আজ সোমবার সেই মুর্শেদাকে বহিষ্কার করল ছাত্রলীগ। শুধু তা-ই নয়, ওই ঘটনায় হল শাখার সংগঠনের ২৪ নেতা-কর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। সোমবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীরা হলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসেন মুন, সুফিয়া কামাল হল শাখার সহসভাপতি মুর্শেদা খানম, আতিকা হক স্বর্ণা, মিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতী আক্তার সুমি, সহসম্পাদক শ্রাবণী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার, উপতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আশা। বহিষ্কৃত কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী লিজা ও মিথিলা ইসরাত চৈতী, চারুকলা বিভাগের সুদীপ্তা মণ্ডল ও অনামিকা দাশ, সংগীত বিভাগের সোনম সীথি, প্রিয়াঙ্কা দে ও প্রভা, ভূতত্ত্ব বিভাগের শিলা ও জাকিয়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মনিরা ও রুনা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শারমিন সুলতানা, উর্দু বিভাগের মিতু, শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগ জুঁই, বাংলা বিভাগের তানজিলা ও সমাজকল্যাণ বিভাগের তাজ । এ ব্যাপারে সাইফুর রহমান সোহাগ প্রথম আলোকে বলেন, সুফিয়া কামাল হলের সেই দিনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় যাঁরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, শুধু তাঁদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই হলের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় এ শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে রাতেই ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে উঠলে এশাকে একাধারে হল, ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যায় থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে জানা যায়, এশার বিরুদ্ধে পা কেটে দেওয়ার অভিযোগকারী শিক্ষার্থী সুফিয়াকামাল হল শাখা ছাত্রলীগেরই সহসভাপতি মুর্শেদা খানম। তিনি নিজেই কাচে লাথি দিয়ে পা কেটে ছিলেন। এরপর ১৩ এপ্রিল এশার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয় ছাত্রলীগ। | 9 |
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সংস্কৃতিমনা একঝাঁক তারুণ্যের হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছে 'শেকড়ের খোঁজে' নামে একটি সংগঠন। গতকাল শনিবার ৫৫ জন সদস্য নিয়ে কাজী গুলশান আরার নেতৃত্বে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। এর আগে, সংগঠনটি সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও নারী উদ্যোক্তা কাজী গুলশান আরাকে সভাপতি ও সংগীত শিল্পী জাবেদ আহমেদ মাসুমকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৭ সদস্যের একটি কার্যকরী পরিষদ গঠন করে। সংগঠনের আত্মপ্রকাশ সম্পর্কে সভাপতি কাজী গুলশান আরা বলেন, শেকড়ের খোঁজে শুধুমাত্র নাচ, গান বা আবৃত্তির কোন সংগঠন নয়। এটি যোগসূত্র তৈরি করবে বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালিদের মাঝে। বাঙালি সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সভ্যতাকে পৌঁছে দেবে এ প্রজন্মের দোরগোড়ায়। শেকড়ের খোঁজে'র ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে আরও রয়েছেন সহ-সভাপতি বেলায়েত হিরু, সহ-সভাপতি অনিন্দিতা খান সুমি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির রবিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামিদা চৌধুরী পপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন রেজা, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফা নুশরাত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সৈয়দ আরিফ, যুগ্ম সাংস্কৃতিক সম্পাদক লুৎফর রশীদ রাসেল, যুগ্ম সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশিকুর রহমান, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক সামসুদ্দিন ফারুক সুমন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাকসুদা খানম, যুগ্ম শিক্ষা সম্পাদক নাজনীন আক্তার, যুগ্ম শিক্ষা সম্পাদক আলী মোকাদ্দেস, প্রচার সম্পাদক সামসুদ্দিন ফারুক সুমন ও দপ্তর সম্পাদক সারোয়ার জামান জাবেদ। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 4 |
করোনার সংক্রমণ ও দ্বিতীয় ঢেউজনিত মৃত্যুসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকার জনজীবন ও গণস্বাস্থ্যের কথা ভেবে লকডাউন বা তালাবদ্ধতা দিয়েছে। তার যৌক্তিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্নই তুলছি না। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেনই, আগে জীবন বাঁচাই, তারপর সবকিছু গুছিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু মাত্র তিন দিনের নোটিশে আন্তর্জাতিক শত শত ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হলো-এটা কতটা যুক্তিযুক্ত? এটা তো নালিতাবাড়ী যাওয়ার বাসের টিকিট নয় যে এক দিন আগেও বাতিল করা যায়। এটা তো ধনবাড়ী যাত্রা নয় যে বাস বন্ধ থাকলেও ভ্যানে চেপে যাওয়া যাবে। প্রায় এক কোটি প্রবাসী বাঙালি আজ বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নিত্যজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শুধু রেমিট্যান্স বা আমদানি-রপ্তানিতে এদের আর্থিক ভাগের অঙ্ক দেখলে ভুল হবে। এদের অবদান আছে প্রযুক্তি, জ্ঞান ও উদ্ভাবনী বিষয়ে। তাই হঠাৎ করে দ্বার রুদ্ধ করে দেওয়া বিজ্ঞতার লক্ষণ নয়। ভাবাই হয়নি প্রবাসীদের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির কথা। বহির্গামী শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করে বিদেশমুখী ফ্লাইট আদায় করে নিয়েছেন। স্বদেশমুখী মানুষের সেভাবে সংঘবদ্ধ হওয়ার সুযোগ নেই বলেই কি এই উপেক্ষা? এই পক্ষপাতিত্ব? কেউ বলবেন, লকডাউনে ফ্লাইট বন্ধ থাকবে-এটা প্রত্যাশিত। তা ঠিক নয়। ১৪ এপ্রিলের আগেও লকডাউন ছিল কিন্তু ফ্লাইট বন্ধ ছিল না। ফ্লাইট বন্ধের কোনো নীতিসংকেতও পাওয়া যায়নি। লকডাউনেরও কি নানা জাত আছে? করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রবাসীদের যাতায়াত ব্যয় দ্বিগুণ বা তিন গুণ হয়ে পড়েছে। সেটা কাটিয়ে ওঠার জন্য মানুষ দুই তিন মাস আগে থেকে টিকিট করার চেষ্টা করে। হঠাৎ করে ফ্লাইট বন্ধ করা এবং এই পাখা কর্তনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না দেওয়ার কারণে প্রচণ্ড অনিশ্চয়তার কবলে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী। কেনা টিকিট ফেরত দেওয়ার হিড়িক পড়েছে। ক্ষতির শিকার হয়ে এয়ারলাইনসগুলো বাংলাদেশমুখী ফ্লাইট ভবিষ্যতে কমিয়ে দেওয়া বা বন্ধ করার কথা ভাবছে। ফ্লাইট কমিয়ে দেওয়া মানেই প্রতি টিকিটে বেশি দামের গচ্চা দেওয়া। এদিকে টিকিট ফেরত দেওয়ার পর আগের মতো আর যথাসময়ে টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। ঢিলেমি করে, টাকা কাটে। অনেকেই দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার টিকিট কাটার ক্ষমতা হারান। গতবার এ রকম অর্থদণ্ড ও ভোগান্তির পর শেষে চার গুণ মূল্য দিয়ে একমুখী ঢাকাগামী চার্টার বিমানে উঠতে হয়েছিল। তার আগে কাগজপত্র, ডাক্তার, রেজিস্ট্রেশন ও ধৈর্যের যে পরীক্ষা দিতে হয়েছিল-মনে হয়েছে নাসার রকেট যানে চেপে চাঁদে যাচ্ছি। প্রবাসীদের 'কল্যাণ' নিয়ে ভাবার জন্য মন্ত্রণালয় রয়েছে। এটাই কি কল্যাণ ভাবনার নমুনা? এই মঙ্গলচিন্তার সঙ্গে এক নতুন উপাদান যুক্ত হয়েছে। তার নাম হোটেলে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক খাঁচায়ন বা কোয়ারেন্টিন। তা আবার নিজের গাঁটের পয়সা দিয়ে। এটা অবাস্তব ও একশ্রেণির অত্যাচার। কজনের পকেটে এত টাকা থাকে যে চৌদ্দ রজনী হোটেলে কাটাবে! বিশেষ করে ঢাকায় নামার পর সে অবস্থা কি সবার থাকে? বিদেশ থেকে যাঁরা আসছেন তাঁদের অধিকাংশই 'টিকায়িত'। তদুপরি তাঁরা 'করোনামুক্ত' এমন সনদ নিয়েই দেশে প্রবেশ করেন। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে তাঁদের সচেতনতা কোনো দেশীয় স্বজনদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বরং বেশি। এই প্রবাসী সম্প্রদায়কে জোর করে ১৪ দিনের হোটেলবাস দেওয়া মানে হোটেল থেকে নতুন করে রোগবালাই ও ছারপোকা নিয়ে আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত করে ঘরে ফেরানো। গত বছর মে-জুন মাসে চার্টার ফ্লাইটে দেশে ফিরেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসীদের এই অযৌক্তিক নির্বাসনের কবলে পড়তে হয়নি। কাগজ হাতে সোজা গ্রামে চলে গিয়ে 'আত্মখাঁচায়নে' থেকে বর্ষার রূপ দেখেছি। স্থানীয় প্রশাসনও জানত। পাড়ার লোকেও দেখত ঠিকমতো নিয়ম মেনে চলছি কি না। এটাই বাস্তবানুগ নীতি। ঢাকা তো আর সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক নয় যে দুকদম হাঁটলেই একটা করে হোটেল পাওয়া যাবে। ফ্লাইট বন্ধ রাখা আত্মঘাতী। কি অর্থনীতি কি মানবিক দিক-সব বিচারেই। সামনে ঈদ। হাজার হাজার প্রবাসীর বাসনা পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবে। একই সঙ্গে শুরু হতে যাচ্ছে উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকাল। ফ্লাইট খুললে শত কড়াকড়ির মধ্যেও যে হাজার হাজার প্রবাসী দেশে ঢুকবে তাদের ২৯ কেন ২৯০টা হোটেলে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁদের সামর্থ্যের কথা ভাবাই হয়নি। তাই গ্রামেগঞ্জে স্বগৃহে আত্মখাঁচায়ই উত্তম পন্থা। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন খোঁজখবর রাখবে। দরকারে ১৪ দিন পর থানায় রিপোর্ট করতে হবে। করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েকবার ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে ঢুকেছি। ওরা ঢাকা থেকে প্রাপ্ত করোনাহীনতার সনদ দেখেছে, তাৎক্ষণিক তাপমাত্রা নিয়েছে, উপদেশের কাগজ ধরিয়ে ছেড়ে দিয়েছে-সাত দিন আত্মখাঁচায়নে থাকতে বলেছে। এই যা। টেনেহিঁচড়ে নিয়ে হোটেলে তোলেনি। বরং হোটেলগুলো ছোঁয়াচে রোগের আখড়া। এ ব্যাপারে সবাই সতর্ক। এ জন্য করোনা শুরুর পর থেকে হোটেল ব্যবসায় ধস নামে। লোকে পারলে এয়ারপোর্টে রাত কাটায় (মশা নেই)। কিন্তু হোটেলে ঢোকে না। এদিকে ঢাকার চিত্র উল্টো। ওখানে হোটেল ব্যবসার যেন মরা গাঙে বান ডাকার উপক্রম। সেটিও উদ্ভট নীতির কারণে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ স্বদেশে লেগেছে, যা উদ্বেগজনক। মৃত্যু বৃদ্ধি দুঃখজনক। কিন্তু ফ্লাইট থেকে এগুলো স্বদেশে ঢুকেছে-এ ধারণা এখনো অপ্রতিষ্ঠিত। আসলে করোনা সঠিক গবেষণার ফল পেতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রের ছোঁয়াচে রোগের বিশেষজ্ঞ মনিকা গান্ধী আজ সকালে জাতীয় গণবেতারে বলছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রে এই রোগ নানা শাখা-প্রশাখা বা প্রজাতি সৃষ্টি করে কোন দিকে যাচ্ছে বলা কঠিন। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও টিকাবিপ্লবের বদৌলতে মনে হয় এর চোটপাট কমে আসছে। তিনি ফ্লাইট বন্ধ রাখতে বলেননি। দ্বার রুদ্ধ করে থাকা কিংবা দূরে থাকার কারণেই এ মহামারি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে-এ ধারণাও অপ্রতিষ্ঠিত। চীনের বহুদূরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও ব্রাজিলে মৃত্যুর মিছিল কি বড়ই না হলো। অথচ পাশে থেকে ভিয়েতনাম বেশ সামাল দিল, দ্বার রুদ্ধ করে দিয়ে উত্তর কোরিয়া রক্ষা পায়নি। আবার উত্তর কোরিয়ার মতো থাকলে বাংলাদেশ বাঁচতে পারবে না। প্রবাসীদের অর্থনীতি না থাকলে আজকের বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ক্ষমতা বা ব্যালান্স অব পেমেন্ট বলে কিছু থাকত না। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে কমলা হ্যারিস বলেছিলেন যে ট্রাম্প প্রশাসন করোনা যে 'বায়ুবাহিত' এটা স্বীকার করেনি, বরং উল্টো প্রচার দিয়ে মৃত্যু বাড়িয়েছে। বায়ুবাহিত হলে ফ্লাইট বন্ধ রাখলেও এটি যাবে। কিংবা ফ্লাইট থেকে নামিয়ে সম্পূর্ণ নীরোগ ও টিকায়িত প্রবাসীদের বারো জাতের মানুষের মেলামেশার হোটেলে পুরে দিলে করোনার দ্বিতীয় জোয়ারে ভাটা নামবে-এই দাবি কি প্রতিষ্ঠিত? প্রমাণিত? কোনো বিশেষজ্ঞ এর দাবি করলে পৃথিবীর আরও সভ্য দেশগুলোর 'বেস্ট প্র্যাকটিস' দেখতে বলব। ঝুঁকি তো কিছু থাকেই। কিন্তু ঝুঁকির ভয়ে দ্বার রুদ্ধ করলে তার ক্ষতিটা অনেক বেশি হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র আমিশ নামে একটা সম্প্রদায় আছে। বড়ই প্রকৃতিবাদী। টিভি দেখে না। বিদ্যুৎ ব্যবহার করে না। বাইরের কারও সঙ্গে মেশে না। অন্য সম্প্রদায়ে বিয়েও করে না। শুরুতে ওরা অহংকার করেছিল ওদের করোনা হবে না। দ্বার রুদ্ধ! আমাদের দেশেও এ রকম ধর্মান্ধ কিছু 'মহাবাণী' কানে এসেছিল। ইউএসএ টুডে পত্রিকা তাদের এই অবাস্তব অহংকার নিয়ে কটাক্ষ করেছে। মহামারি তাদের কোনো অংশে কম হয়নি। ওদের নেতারা দ্বিতীয় দফা বাণী ছেড়েছে, টিকা না নেওয়ার জন্য। জানের ভয় সবারই আছে। রেডিওতে শুনলাম চালাক আমিশেরা লুকিয়ে লুকিয়ে টিকা নিচ্ছে। করোনাযুগের কবে অবসান হবে, কেউ বলতে পারে না। এর মধ্যেই সতর্কতার সঙ্গে জীবন চলবে। ফ্লাইটও চলবে। কারণ, বাংলাদেশে আগের চেয়ে আজ অনেক বেশি বিশ্বায়িত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, আকাশপথে দেশে নেমে আমরা যেন তথাকথিত নিরাপত্তার নামে হোটেলবাসের অর্ধমাসিক অত্যাচারে না পড়ি। যাব বাপের বাড়ি বা শ্বশুরবাড়ি। গ্রামে যেতে চাই! বিরূপাক্ষ পাল যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অর্থনীতির অধ্যাপক।[] | 8 |
বরিশালের উজিরপুরে কৃষি ব্যাংকের উদ্যোগে গ্রাহক সমাবেশ ও ঋণ বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আবু মাহমুদ। সঞ্চালনা করেন উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক দেবাশীষ রায়।বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ মজিদ সিকদার বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণতি বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন ব্যাপারী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অপূর্ব কুমার বাইন রন্টু, সীমা রানী শীল, ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম মৃধা, ইউসুফ হাওলাদার প্রমুখ।অনুষ্ঠান শেষে ৪৭ জন গ্রাহকের মাঝে ৪১ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না পাকিস্তানের। দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল রেহমান মালিক বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিরক্ত হয়ে আছেন পাকিস্তানের ওপর। গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন। বাইডেনের বিরক্তির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পাকিস্তানি এক ব্যবসায়ী ওয়াশিংটনে অবস্থিত আমাদের দূতাবাস সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন। এ নিয়েই নাখোশ বাইডেন। আবদুল রেহমান মালিক বলেন, বাইডেনের মন এখনো গলেনি। যদি গলতো তাহলে অবশ্যই পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলতেন। আফগানিস্তানে পাকিস্তানের প্রভাব নিয়েও নারাজ হয়ে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় গত ফেব্রুয়ারিতে সন্ত্রাসী হামলার জেরে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাতে একটি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল পাকিস্তান। ভারত অবশ্য বারবারই নিজেদের বিমান ভূপাতিত করার কথা অস্বীকার করে এসেছে। তবে শুক্রবার ভারতের বিমানবাহিনী স্বীকার করেছে, সে সময় তাদের একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়েছিল। তবে সেটা পাকিস্তানের হাতে নয়, ভুল করে নিজেদের হেলিকপ্টারই ভূপাতিত করেছিল ভারতীয় সেনারা। খবর এনডিটিভির। ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল ভদৌরিয়া বলেছেন, আমরা একটি তদন্ত সম্পন্ন করেছি। এতে দেখা গেছে, পাকিস্তানিদের নয়, আমাদের হাতেই এমআই -১৭ হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়েছে। এটি আসলে একটি বড় ধরনের ভুল হয়েছে। আমরা এটিকে মেনে নিয়েছি। ভারতের বিচারবিভাগীয় তদন্তে দেখা গেছে, শ্রীনগর বিমানবন্দরে স্পাইডার বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম থেকে মিসাইল ছুঁড়ে ওই হেলিকপ্টারটি নামানো হয়েছিল। টেক-অফের ১০ মিনিট পরেই হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। ভয়াবহ আগুন ধরে যায় তাতে। যেখানে ওই হেলকপ্টারটি ভেঙে পড়ে তার পাশেই জনবসতি ছিল। এমআই -১৭ হেলিকপ্টারটি ভেঙে দু'টুকরো হয়ে যায় এবং তাতে আগুন ধরে যায়। ওই ঘটনায় বায়ুসেনার ৬ সদস্য এবং একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। | 3 |
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার
সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে দশ দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে বুধবার।
জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ১৭ মার্চ থেকে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে এসব
অনুষ্ঠান। সীমিতসংখ্যক দেশি-বিদেশি অতিথি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এতে অংশ
নেবেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক
ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ১৭ মার্চ
বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী 'মুজিব চিরন্তন' প্রতিপাদ্যে দশ
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিদিন পৃথক বিষয়ভিত্তিক (থিম) আলোচনা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,
অডিওভিজুয়াল এবং অন্যান্য বিশেষ পরিবেশনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রতি
শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। ১৭ মার্চের অনুষ্ঠানের থিম- 'ভেঙেছ দুয়ার এসেছো জ্যোতির্ময়', ১৮ মার্চ
বৃহস্পতিবার 'মহাকালের তর্জনী', ১৯ মার্চ শুক্রবার 'যতকাল রবে পদ্মা
যমুনা', ২০ মার্চ শনিবার 'তারুণ্যের আলোকশিখা', ২১ মার্চ রোববার
'ধ্বংসস্তূপে জীবনের গান', ২২ মার্চ সোমবার 'বাংলার মাটি আমার মাটি', ২৩
মার্চ মঙ্গলবার 'নারীমুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতা', ২৪ মার্চ বুধবার
'শান্তি-মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত', ২৫ মার্চ বৃহস্পতিবার 'গণহত্যার
কালরাত্রি ও আলোকের অভিযাত্রা' এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে
'স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা'। অনুষ্ঠানমালায় ১৭, ২২ ও ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ
এবং ১৭, ১৯, ২২, ২৪ ও ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
উপস্থিত থাকবেন। এই পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা
উপস্থিত থাকবেন। বুধবারের অনুষ্ঠানে থাকবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম
মোহামেদ সলিহ্। ১৯ মার্চের অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা
রাজাপাকসে, ২২ মার্চের অনুষ্ঠানে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি,
২৪ মার্চের অনুষ্ঠানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং এবং ২৬ মার্চের
অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকবেন। এই পাঁচ
দিনের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ৫০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত
থাকবেন। অনুষ্ঠানমালায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান,
আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ধারণকৃত বক্তব্য
প্রদর্শন করা হবে। প্রতিদিনের অনুষ্ঠান টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন ও সোশ্যাল
মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বুধবারের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ১৮ মার্চ কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী
হুন সেন, ২০ মার্চ ওআইসির সেক্রেটারি জেনারেল ড. ইউসেফ আহমেদ আল-ওথাইমিন,
২২ মার্চ জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউশিহিদে সুগা, ২৪ মার্চ পোপ ফ্রান্সিস, ২৫
মার্চের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চুং
স্যু-কুয়েন এবং বাংলাদেশের বন্ধু জাপানের তাকাশি হাওয়াকাওয়ার ছেলে ওসামু
হাওয়াকাওয়া। অনুষ্ঠানের সময় সম্পর্কে ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ১৭, ১৯, ২২, ২৪
ও ২৬ মার্চের অনুষ্ঠান বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হয়ে রাত ৮টায় শেষ হবে।
অন্যান্য দিনের অনুষ্ঠান বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে শুরু হবে এবং রাত ৮টায় শেষ
হবে। প্রতিদিনের অনুষ্ঠানে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বিরতি থাকবে।
| 6 |
ফেসবুকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে অ্যাপল। ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসেতে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলোপার কনফারেন্সে অ্যাপল তার সফটওয়ারের বিষয়ে পরবর্তী বছরের পরিকল্পনা কী হবে তা জানিয়েছে। অ্যাপল জানায়, আগামী বছর ফোনের দক্ষতা ও সেবা আরও বেশি বাড়ানো হবে যাতে গ্রাহকরা নানাবিধভাবে এটি ব্যবহার করতে পারেন। ম্যাক'এ আইওএস অ্যাপ ও ম্যাশিন লার্নিং প্রযুক্তি থাকছে। এছাড়াও অ্যাপল ওয়াচ আপগ্রেড করা হবে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 11 |
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শুরু থেকেই সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে চলেছে সেনা কল্যান সংস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ এপ্রিল সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৮০০০ পরিবারের জন্য ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করেছে সেনা কল্যাণ সংস্থা। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর)এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইতিমধ্যে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সেনা কল্যাণ সংস্থার ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ নির্দেশক্রমে এবং সেনা কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সাজ্জাদুল হকের নেতৃত্বে সংস্থাটি শুরু থেকেই সরকার ও জনগণের পাশে দাঁড়ায় এবং অতি দ্রুততার সাথে সংস্থার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের বেতনসহ ৫ কোটি ১০ লক্ষাধিক টাকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করে। এছাড়াও আশকোনা হজ ক্যাম্পের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে বিভিন্ন ব্যবহার্য সরঞ্জামাদিসহ ১৫০ সজ্জা প্রদান ও স্থাপন করে দেয়। করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সেনা কল্যাণ সংস্থার বিভিন্ন কলকারখানা বন্ধ হয়ে পড়লে কর্মহীন শ্রমিকদের মাঝেও নিয়মিত ত্রাণ বিতরণ করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি সেনা কল্যাণ সংস্থার আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলালিংক, ওয়ালটন গ্রুপ, ফিনিক্স গ্রুপ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, মোংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন এর মত দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সমূহ তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, সেনা কল্যাণ সংস্থা বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত একটি কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতা পরবর্তী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই সংস্থাটি "সেনা কল্যাণ সংস্থা' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে সংস্থাটি সামরিক বাহিনী হতে অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের কল্যাণমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। | 6 |
রাজধানীতে মশা নিধনে ব্যর্থ দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র। তাই ফুটপাতে মশারি টানিয়ে মশা নিধনে মেয়রদের এ ব্যর্থতার অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজধানীর ভাড়াটিয়া পরিষদ। শুক্রবার (১২ মার্চ) সকাল পৌনে ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই অভিনব প্রতিবাদ জাানান তারা। ভাড়াটিয়া পরিষদের মানববন্ধনে আধা ইঞ্চি মশা মারতে দুই মেয়র ব্যর্থ দাবি করে অবিলম্বে মশার উপদ্রব থেকে রাজধানীবাসীকে রক্ষার দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজধানীর বস্তি থেকে অভিজাত এলাকা, সর্বত্রই মশার আক্রমণ। এ যেন মানুষের আবাসস্থল নয়, যেন মশার রাজধানী। মশা মারতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে দ্রুত মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান তারা। ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি মো. বাহারানে সুলতান বাহারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, ভাড়াটিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মো. মোস্তফা, মো. মাকসুদুর রহমান, জামাল শিকদার ও শামীম আহমেদ প্রমুখ। | 6 |
অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন একটি আমবাগানে। স্থানীয় ব্যক্তিরা দেখতে পেয়ে খবর দেন পুলিশকে। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে ভর্তি করে হাসপাতালে। ১২ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান তিনি। গতকাল রোববার ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ব্যক্তির পরিচয় বের করে পুলিশ। তাঁর নাম হকজেল শেখ (৪৫)। তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল ময়ামারি গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের কাছে আজ সোমবার বিকেলে তাঁর লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। সদর থানা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের নুরু মিয়ার আমবাগান এলাকায় হকজেল অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। সকালে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে ফোন দেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু সারা দিন তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। রাত পৌনে ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এরপর রাজবাড়ী সদর থানা-পুলিশ তাঁর হাতের ছাপ বের করে পরিচয় শনাক্ত করে। তাঁর বাড়ি মেহেরপুর হওয়ায় সেখানকার থানায় বিষয়টি জানানো হয়। সেখান থেকে যোগাযোগ করা হয় হকজেল শেখের পরিবারের সঙ্গে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মুখে নেশাজাতীয় বা বিষাক্ত পদার্থের গন্ধ ছিল। মরদেহ থেকে নমুনা রেখেছেন তাঁরা। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ওই ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার তিনি বাড়ি থেকে বের হন। অজ্ঞান হয়ে একটি আমবাগানে পড়ে ছিলেন। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার কারণে তিনি আগেও বাড়ি থেকে বের হয়েছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। | 6 |
শুধু শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানই সেদিন ধরা পড়েননি, ওই রাতে আরও সাতজন আটক হন বলে জানা গেছে। কিন্তু এই সাতজন আলোচনায় নেই; এক আছেন আরিয়ান, তার সঙ্গে আছেন তারই বান্ধবী হিসেবে পরিচয় পাওয়া মুনমুন ধমেচা। আরিয়ানকে কে না চেনে; বলিউড বাদশাহর ছেলে বলে কথা! কিন্তু মুনমুনকে কয়জন চেনে? তাহলে কে এই মুনমুন? এই প্রশ্ন থেকেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, মুনমুন ধমেচার স্যানিটারি প্যাডের মধ্যে মাদক লুকানো ছিল বলে জানিয়েছে ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু শুধু এটুকুই নয়। এই তরুণীর সঙ্গে ২৩ বছর বয়সী আরিয়ানের গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে বলেও ইতোমধ্যেই ফিসফাস শুরু হয়েছে। জানা গেছে, মধ্যপ্রদেশের এক ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে মুনমুন ধমেচা। পেশায় তিনি একজন মডেল। এই কাজের সূত্রেই বলিউড তারকাদের সঙ্গে তার ওঠাবসা। গুরু রান্ধাওয়া, অর্জুন রামপালের মতো তারকাও রয়েছেন সেই তালিকায়। ইনস্টাগ্রামেও বেশ জনপ্রিয় মুনমুন। সেখানে তার অনুসারীর সংখ্যা ১০ হাজারের কিছু বেশি। ২০১৪ সাল থেকে এই যোগাযোগ মাধ্যমটি তিনি ব্যবহার করছেন। এখন পর্যন্ত তার পোস্টের সংখ্যা ১৩৪টি। তবে সেগুলোর মধ্যে কোনো ছবিতেই শাহরুখপুত্রের সঙ্গে দেখা যায়নি তাকে। এদিকে আটকের পর এনসিবির জিজ্ঞাসাবাদে মাদক নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মুনমুন। জানিয়েছেন, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি হোটেলের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। আরিয়ানের সঙ্গে তাকেও ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে এনিসিবি। সোমবার আরিয়ানের সঙ্গে তাকেও আদালতে তোলা হয়েছে। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনসিবি হেফাজতে চায় সংস্থাটি। শনিবার রাতে আরিয়ানের সঙ্গে তার আরেক বন্ধু আরবাজ মার্চেন্টও গ্রেপ্তার হন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর এনসিবি মুম্বাই থেকে শ্রেয়াস নায়ার নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করে। শ্রেয়াসের নাম পাওয়া যায় আরিয়ান ও আরবাজের মোবাইল থেকে। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার ড্রাগ নিয়ে কথোপকথন হয়েছে তাদের মধ্যে। এনসিবি জানায়, শ্রেয়াস নায়ারেরও শনিবার রাতের ওই মাদক পার্টিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছু কারণে তিনি যেতে পারেননি। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আরিয়ান এবং আরবাজ এনসিবিকে সঠিকভাবে বলছেন না, কে তাদের মাদক সরবরাহ করতেন। তবে আরবাজ বলেছেন, গোয়ার একজন মাদক কারবারি তাকে মাদক সরবরাহ করতেন। *** শাহরুখপুত্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের যোগাযোগের সন্দেহ | 2 |
বগুড়ায় দু'বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাওয়া সেই আলমগীর কবির (৩২) চাকরি পাচ্ছেন। জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে তার কার্যালয়ে ডেকে বগুড়ার স্বপ্ন আউটলেটে চাকরির আশ্বাস দেন। তবে তিনি কোন পদে চাকরি পাচ্ছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বুধবার বেলা ১২টার দিকে তাকে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ডাকা হয় আলমগীরকে। পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী তার সঙ্গে দীর্ঘসময় কথা বলেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজন থাকায় তাকে বগুড়ায় স্বপ্ন সুপারশপের আউটলেটে চাকরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে কোন পদে চাকরির হচ্ছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তার যোগ্যতা অনুসারে চাকরি হবে। পুলিশ সুপার বলেন, "তাকে বলা হয়েছে এ ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়া হীন মানসিকতার পরিচয়।" এ প্রসঙ্গে আলমগীর কবির জানান, আর্থিক অনটনের কারণ তার তিনবেলা ঠিকমতো খাওয়া হচ্ছিল না। উপায় না দেখে তিনি বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নেন। আলমগীর কবির জানান, ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের ছবি দিয়ে পোস্ট তিনি করেননি, এটি অন্য কারও কাজ। তার দাবি, তিনি কেবল টিউশনি পেতেই বিজ্ঞাপনটি প্রচার করেছেন। তার অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে অনেকে নেতিবাচকভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন। আরও পড়ুন: দুবেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চেয়ে বিজ্ঞাপন তবে স্থানীয়রা আলমগীর কবির সম্পর্কে ভিন্ন কথা বলছেন। টিউশনির বিজ্ঞাপন ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে আলমগীরের দেওয়া বিভিন্ন সময়ের পোস্টের বেশ কিছু স্ক্রিনশটও ছড়িয়ে পড়েছে। যেগুলোর কোনোটিতে তিনি সিগারেট মুখে নিয়ে ছবি পোস্ট করেছেন, কোনোটিতে বিয়ারের ক্যান আবার কোনোটিতে নানান অঙ্গভঙ্গি করে কুরুচিপূর্ণ কথাও লিখেছেন। আলমগীর অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি ধূমপান করেন না। বন্ধুদের কাছ থেকে সিগারেট চেয়ে নিয়ে ছবিগুলো তুলেছেন, পোস্ট করেছেন মজা করে। বগুড়া শহরের জহুরুলনগর এলাকার পারভেজসহ বেশ কয়েকজন জানান, আলমগীর কবির মূলত ভাইরাল হওয়ার জন্য ওই বিজ্ঞাপন দেন। তার তেমন অভাব নেই। একটি বাড়িতে বিনা পয়সায় থাকেন। নিজের আইটি প্রতিষ্ঠানে আলমগীরকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন বলেও জানান পারভেজ। অনেকের ধারণা, তার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল। এদিকে, আলমগীর নিজেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবেও দাবি করেছেন। তবে সরকারি আজিজুল হক কলেজের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কর্তৃপক্ষ বলছেন, সারাদেশে নন, তিনি কেবল নিজের বিভাগেই প্রথম হয়েছেন। বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি না পাওয়ায় মানসিক হতাশা থেকে এমন বিজ্ঞাপনের কৌশল নিয়েছেন আলমগীর কবির। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলমগীর কবিরের বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার শরাইল গ্রামে। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। গত ১০ বছর তিনি কলেজ সংলগ্ন শহরের জহুরুলনগর এলাকায় বসবাস করেন। আগে মেসে থাকলেও গত পাঁচ বছর ধরে ঢাকায় থাকা এক ব্যক্তির চারতলা বাড়িতে থেকে সেটির দেখাশোনা করেন। সম্প্রতি আলমগীর জহুরুলনগর ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় "শুধুমাত্র দু'বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাই" লেখা পোস্টার সাঁটিয়ে দেন। এরপর সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন পত্রিকা ছাড়াও বিষয়টি নিয়ে বিদেশি গণমাধ্যমকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বগুড়া পুলিশ তাকে খোঁজ শুরু করে। | 6 |
সৌদি আরবের মক্কায় রাস্তার পাশ থেকে এক বাংলাদেশি তরুণের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সেখানকার একটি হাসপাতালের মর্গে মরদেহ শনাক্ত করেন তার খালুশ্বশুর। নিহত বাংলাদেশির নাম হাসিবুল হাসান মুন্সী। তিনি ওই হাসপাতালে কাজ করতেন। হাসিবুলের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ গ্রামে। তিনি আবদুল হান্নান মুন্সীর জ্যেষ্ঠ ছেলে। দেশে হাসিবুলের স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। গতকাল রোববার (৮ মে) হাসিবুলের মা নাসিমা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে ছেলের সঙ্গে তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলেন। পরেরদিন শুক্রবার ভোরে হাসিবুল তার স্ত্রীর সাঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিন দিন পর তার খালুশ্বশুর হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। হাসিবুলের পরিবার মনে করছে, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গাড়িচাপায় মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করছে ওই হাসপাতালের মালিকপক্ষ। হাসিবুলের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আহাজারি করছেন বাবা-মা। পারিবারিক সূত্র জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে এক আত্মীয়র মাধ্যমে চাকরির জন্য হাসিবুল সৌদি যান। তিন মাস আগে তিনি ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। কিছুদিন আগে আবারও উপার্জনের তাগিদে তিনি সৌদিতে কর্মস্থলে ফিরে যান। | 6 |
চ্যাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী পূর্ণিমা রানী রায় ওরফে সুন্দরী আত্মহত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন হাজিরহাট থানার পুলিশ। তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামি সুরজিত ও তার সহযোগী শ্যামলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে রংপুরের উপ- পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কাজী মুত্তাকিন ইবনু মিনানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তিনি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার(অপরাধ) মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার পিপিএম। এঘটনায় নিহতের পিতা ফটিক চন্দ্র রায় বাদী হয়ে সুরজিতকে আসামি করে রংপুর মেট্রোপলিটন হাজীরহাট থানায় মামলা করে। পুলিশের অভিযানের এক পর্যায়ে সুরজিত আদালতে আত্মসমর্পণ করে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক শাহ আলম আদালতে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। ৮ আগষ্ট শনিবার সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় মজনু (৬০) নামে একজনকে দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের লালুর মোড় এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ এই আদেশ দেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
কলকাতা থেকে ছেড়ে আসা ভারতীয় এয়ারলাইন্স স্পাইস জেটের একটি বিমান হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের সময় চাকা ফেটে গেছে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনাটি ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিনিয়র তথ্য অফিসার এটিএম রেজাউল করিম জানিয়েছেন, কলকাতা থেকে ঢাকা আসা বিমানটির পেছনের বাম পাশের ল্যান্ডিং গিয়ারের চাকা ফেটে গেছে। তিনি জানান, বিমানটি বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে অবতরণ করে। সব যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে নেয়া হয়েছে। বিমানটিতে পাইলট ও কেবিনক্রুসহ ১৭৯ জন যাত্রী ছিলেন। | 6 |
করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে খুলনার পৃথক চারটি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি খুলনা জেলার সর্বোচ্চ মৃত্যু। মারা যাওয়া ২২ জনের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১০, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে পাঁচ, শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দুই ও বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের ফোকাল পারসন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন বাগেরহাটের ফকিরহাটের সুনীল রায় (৭৫), বটিয়াঘাটার নারায়ণ চন্দ্র (৮০), যশোরের ঝুমুর বেগম (৪৫), নড়াইলের এস এম বোরহান (৪৫), যশোরের কেশবপুরের সুকান্ত কুণ্ডু (৫৫), সোনাডাঙ্গার ঝর্ণা বেগম (৬০), বাগেরহাটের আব্দুল হামিদ (৮৭), কেশবপুরের শরিফা (২৭) ও লবণচরার রুমানা বেগম (৭১)। এ ছাড়া হাসপাতালের ইয়েলো জোনে উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডা. গাজী মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন মুসলমানপাড়ার নাসরিন আরা বেগম (৪৫), সোনাডাঙ্গার আব্দুল হাই (৬৭), নড়াইলের লুৎফুর রহমান (৬২), ডুমুরিয়ার উম্মে কুলসুম (৭০) ও টুটপাড়ার নাসিমা বেগম (৪৬)।খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ জানান, খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন সোনাডাঙ্গার রেজাউল (৭০), তেরখাদার আকলিমা (৭৫), যশোরের পদ্মা রানী (৬৪), বাগেরহাটের প্রভুনাথ (৫০) ও রামপালের রুহিকরণ (৬০)।শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের ফোকাল পারসন ডা. প্রকাশ দেবনাথ জানান, করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় পাইকগাছার আব্দুল হালিম (৫০) ও সাতক্ষীরার শেখ আব্দুল মজিদ (৬৫) নামের দুজন রোগী মারা গেছেন। | 6 |
দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদেরকে মানেন না বলে জতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ যে বিবৃতি দিয়েছেন তা 'বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য' নয় বলে মন্তব্য করেছেন কাদের। তিনি বলেছেন, 'জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নেই। জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। নেতৃত্বের প্রশ্নে জাতীয় পার্টিতে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।'রওশনের হাতে লেখা একটি বিবৃতির প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, 'বিবৃতিটি হাতে লেখা ও কাঁচা। এটা বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্য নয়।' আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে অনির্ধারিত আলোচনায় জি এম কাদের এ কথা বলেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যানের উপ প্রেস সচিব খন্দকার দেলোয়ার জালালী। এর আগে জি এম কাদেরের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিবৃতি দেন জাতীয় পার্টির সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের স্ত্রী রওশন। অবশ্য গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পর জি এম কাদের প্রথম আলোকে বলেন, তিনি 'বিবৃতিটি হাতে লেখা ও কাঁচা। এটা বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্য নয়।' এটা বলতে চাননি। তিনি বলেন, 'আমি বলতে চেয়েছি বিবৃতিটি (রওশন এরশাদের) যেভাবে এসেছে তাতে আমার মনে হয়েছে এটি ওনার (রওশন) পক্ষ থেকে নাও আসতে পারে। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে তাঁর জানা ছিল। এটি তিনি প্রত্যাহার করতে বলবেন বলে জানান। আর ওই বিবৃতির মাধ্যমে দলটির ভেতরের দ্বন্দ্ব অনেকটাই প্রকাশিত হয়ে উঠেছে। যদিও গত ১৮ জুলাই কাদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সর্বসম্মতিক্রমেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর দলটির মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ নেই বলেই দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু রওশনের বিবৃতিতে 'বিভেদ' না থাকার দাবিটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। ১৪ জুলাই এরশাদ মারা যান। তবে এর আগে গত মে মাসে তিনি তাঁর ছোটভাই জি এম কাদেরকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেন। ছোট ভাইকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই অখুশি হন। তবে এ নিয়ে আর বড় ধরনের কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হয়নি। এরশাদের মৃত্যু পর্যন্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন কাদের। জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে রওশনপন্থী একটি অংশ জাতীয় পার্টিতে সক্রিয় আগে থেকেই। গতকাল দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রওশন বলেন, সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছেন, জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এ নিয়ে আদৌ কোনো যথাযথ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, জাপার অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা রওশন এরশাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত। বিজ্ঞপ্তিতে দলের নয়জন নেতার নামও উল্লেখ করা হয়। তাঁরা হলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাংসদ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ফখরুল ইমাম, সেলিম ওসমান, নাসরিন জাহান রত্না, মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ ও দেলোয়ার হোসেন এবং সাংসদ রওশন আরা মান্নান ও লিয়াকত হোসেন খোকা। আজ বিবৃতি প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, 'হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমাদের পরিবারে পিতৃতুল্য ছিলেন। সেই ভাবেই বেগম রওশন এরশাদ আমাদের মায়ের মতো।' কাদের বলেন, পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এরশাদের নির্দেশনায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছি। এখনো তাঁর নির্দেশনাতেই চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছি। কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন। তারা যে নামেই সম্বোধন করবে তাতে কোন সমস্যা নেই। জাতীয় পার্টিতে কাজ করাটাই আসল কথা। তিনি বলেন, কোনো সমস্যা থাকলে আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করব। জি এম কাদের বলেন, সএরশাদের মৃত্যুতে বিশ্বের প্রায় সকল দেশের রাষ্ট্রদূত জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে এসে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। এ ছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি নরেন্দ্র মোদীর শোকবার্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এরশাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে এরশাদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করবে। এর আগে জি এম কাদের বনানী কার্যালয়ে বন্যার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য ত্রাণ ব্যবস্থাপণা পরিদর্শন করেন। কাল বুধবার দুপুরে কাদের জামালপুরের ইসলামপুরে বণ্যাদূর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন। আজ কাদেরের ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা আশরাফ উদ-দৌলা, ভাইস চেয়ারম্যান দেওয়ান আলী, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় প্রমুখ। | 9 |
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েই চলেছে। পূর্ববর্তী সপ্তাহের তুলনায় গত এক সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ২২২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েছে ৬১ শতাংশ। করোনা সংক্রমণের এমন পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ (এবিএম) খুরশীদ আলম। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বর্তমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ও করণীয়, হাসপাতালের প্রস্তুতিসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবেন।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 4 |
রিজেন্টকাণ্ডে এরই মধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চুক্তি সইয়ের নথিও সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদেরও ইঙ্গিত দুদক সচিবের। কমিশনের বর্তমান ও সাবেক আইন বিভাগের কর্মকর্তারাও বলছেন, তদন্তের স্বার্থে যে কাউকে তলবে আইনি বাধা নেই। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এ সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। পরদিন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা জানতে চায় মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে চুক্তিপত্র কপি, রিজেন্ট হাসপাতালের নবায়ন কপিসহ বেশ কিছু নথি দুদকের হাতে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে লাইসেন্সের নবায়ন নেই এমন প্রতিষ্ঠান কিভাবে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে অনুমোদন পেল। অন্যদিকে ছবিতে স্পষ্ট চুক্তি সাক্ষরে কারা উপস্থিত ছিলেন। রিজেন্টকাণ্ডে এবার মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের ইঙ্গিত দুদক সচিবের। দুদক সচিব দিলোওয়ার বখত বলেন, 'আপনারা দেখেছেন অতীতে কাকে কাকে ডাকা হয়েছ কি করা হয়েছে। পরবর্তীতে যদি আরও কিছু করতে হয় কমিশনের সিদ্ধান্তে তা করা হবে।' এর আগেও বিভিন্ন দুর্নীতি অনুসন্ধানের স্বার্থে দায়িত্বরত মন্ত্রী সচিবদেরও দুদকে তলবের দৃষ্টান্ত রয়েছে। দুদকের ২০৪ এর ১৯ ও ২০ ধারা অনুযায়ী যে কাউকে তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদে আইনি বাধা নেই, বলছেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান আইনজীবীরা। দুদক আইন শাখার সাবেক পরিচালক মইদুল ইসলাম অ্যাড খুরশিদ আলম বলেন, 'দুর্নিতি দমন কমিশন তার নিজস্ব আইন অনুযায়ী তদন্তের স্বার্থে যে কাউকে ডাকার ক্ষমতা আছে। কাকে ডাকা হচ্ছে সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়।' বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
জামালপুরের বকশীগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু না থাকায় ভোগান্তিতে ১৫ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি কলকিহারা এবং ফকিরপাড়া গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। সেতু থাকলে নদের পশ্চিম পারের ১৫ গ্রামের মানুষ ১০ মিনিটের মধ্যে পূর্ব প্রান্তে আসতে পারত। কেননা পূর্ব প্রান্তে ইউনিয়ন পরিষদ, পাকা রাস্তা, হাটবাজারসহ উপজেলা সদর। এখন সেখানে যেতে সময় লাগছে দুই ঘণ্টারও বেশি। এলাকার মানুষ বর্তমানে দড়িবাঁধা একটি নৌকা দিয়ে ব্রহ্মপুত্র পার হচ্ছে। দড়ি টেনে নৌকা এপার থেকে ওপারে সময় লাগে দুই ঘণ্টার বেশি। এতে স্কুলে যাওয়া-আসায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। এলাকাবাসীর দাবি, নদের ওপর যেন একটি সেতু স্থাপন করা হয়। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেতু নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, ওই এলাকার শিশুদের প্রতিদিন কষ্ট করে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় পানিতে পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। অনেকে আহত হয়। তারা আরও বলছেন, নদের ওপর সেতু না থাকায় তারা নানা সমস্যায় পড়ছে। অসুস্থ রোগীদের সদরে আনতে হলে অনেক সময় লাগে। অনেকেই মৃত্যুবরণ করে চিকিৎসা নেওয়ার আগেই। উৎপাদিত ফসলের সঠিক দামও পাওয়া যায় না। কম দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে উৎপাদিত ফসল।মেরুরচরের মুনসুর মিয়া বলেন, 'নদীর পশ্চিম পারে ২৫ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা দড়িটানা এই নৌকা। ভোর থেকে নদী পার হয়ে উপজেলা সদরে যেতে পাড়ে এসে ভিড় করে শত শত মানুষ। একটি নৌকা দিয়ে পারাপার হতে যেন যুদ্ধ করতে হয়। আর স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা নদী পার হয়ে যেতে যেতে স্কুলের সময় চলে যায়। দেশ স্বাধীনের পর থেকে কত সরকার এলগেল প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আর প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয় না।'একই গ্রামের বৃদ্ধ নসের আলী বলেন, 'নদী পার হতে হতে বুড়া হয়ে গেলাম। দেশের সরকার এত সেতু করে এই নদীর ওপর সেতু দেয় না। আমগরে এলাকার রাস্তাঘাট পাকা হয় না। ছেলেমেয়েদের বিয়ে পর্যন্ত হতে চায় না রাস্তা না থাকার কারণে। প্রতিদিন দড়ি টানা নৌকা দিয়ে উপজেলায় যাই। সকালে বের হলে রাতে ঘরে ফিরি। ফসল যা হয় এগুলা বাজারে নিয়ে বেচতে পারি না। কম দামেই বেচি।স্কুলছাত্র শফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমরা অনেক অসুবিধায় আছি। আমরা ৪০০ ছাত্র-ছাত্রী নদী পার হয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসা করি। অনেক সময় অনেক ছাত্র-ছাত্রী নদীতে পড়ে যায়। বই-খাতা ভিজে যায়। দড়িটানা একটা নৌকা দিয়েই যেতে হয়। অনেক সময় নৌকা না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। ওপার থেকে এপারে নৌকা আসতে সময় লাগে এক ঘণ্টা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় আমদের। নৌকায় চাপাচাপি করে নদী পার হতে হয়। সরকার যদি এই নদীর ওপর একটি সেতু করে দেয় তাহলে এই এলাকার ৪০-৫০ হাজার মানুষের কষ্ট লাগব হবে।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন জাহান লিজা বলেন, 'গত মাসে উপজেলার উন্নয়ন সভায় মেরুরচর ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু নির্মাণের সব প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।'উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সামছুল হক জানিয়েছেন, মেরুরচর ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু নির্মাণে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ৩০০ মিটার এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ২০ কোটি টাকা। | 6 |
অবশেষে বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেন। বৈশ্বিক এবং করোনাভাইরাসের প্রকৃতিগত কারণে এটি স্বাভাবিক ব্যাপারই ছিল। করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ব্যাপার ঘটে গেছে বাংলাদেশে। এর প্রথমটি হলো ব্যাপক পরিমাণে গুজব ও ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি। আর দ্বিতীয়টি হলো মজুতদারি। এমন নয় যে এ বিষয় দুটি আমি অনেক গবেষণা করে বের করেছি। পথে নামলে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললে দুটি ব্যাপারই চোখে পড়ছে। আবার এটিও চোখে পড়ছে, সচেতন মানুষ সচেতনভাবেই করোনাভাইরাস নিয়ে চলমান স্রোতে না ভিড়ে সচেতন করছেন লোকজনকে। তবে তাঁদের সংখ্যা খুব বেশি নয় বলে অবস্থা নাজুক। এই মুহূর্তে আসলে আমাদের করণীয় কী? সাধারণ মানুষের করণীয় তেমন কিছু নেই, যথাযথ কর্তৃপক্ষের সতর্কীকরণ নির্দেশনা মেনে চলা ছাড়া। যা করার সেটা করতে হবে সরকারকে। তবে আমরা যেটা বলতে পারি, সম্ভব হলে সরকারের উচিত একটি মনিটরিং সেল তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে থাকা ভুয়া খবর, গুজব এবং অপপ্রচারকে কঠোরভাবে বন্ধ করা। অবশ্যই সেটি কঠোরভাবে হতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ 'কেরালা ফর্মুলা' গ্রহণ করতে পারে। এক মাসের কিছু বেশি আগে ভারতের কেরালায় করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। প্রস্তুত ছিল কেরালার রাজ্য সরকার। তারা দ্রুততার সঙ্গে স্বাস্থ্যগত সমস্ত বিষয় গুছিয়ে ফেলে। ঘটনা সেটা নয়। ঘটনা হলো কেরালা সরকার একটি মনিটরিং সেল তৈরি করে। করোনাভাইরাস বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া সংবাদ ছড়ানো কঠোরভাবে বন্ধ করেছিল সেই সেল। শুধু তা-ই নয়, তারা রোগীদের সমস্ত সাধারণ তথ্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল, যাতে সুযোগসন্ধানীরা কোনো সুযোগ না পায়। এর পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজে কেরালার রাজ্য সরকার কাজে লাগিয়েছিল তাদের মাঠপর্যায়ের সব প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানকে। সম্ভবত সবচেয়ে বেশি কাজে লাগিয়েছিল গ্রাম পঞ্চায়েতকে। তারা সফল হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে, সেখানে কোনো আতঙ্ক নেই, সতর্কতা আছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সঠিক তথ্যের অভাবে ভুয়া সংবাদ, গুজব, অপপ্রচারের মতো বিষয়গুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছড়ানো মানুষ দুই ধরনের-অতি ধুরন্ধর ও অবোধ। প্রথম শ্রেণির মানুষ বিভিন্নভাবে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফায়দা তুলে নিতে চায় বলে দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষের ওপর ভর করে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংবাদেও আমরা সেটা দেখছি। সংবাদমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশ করেছে যে আতঙ্কের কারণে মানুষ বাজার করছে বেশি বেশি। আর সে কারণে ইতিমধ্যে সাধারণ মাস্ক, জীবাণুনাশক ইত্যাদি বাজার থেকে উধাও অথবা উধাও হওয়ার উপক্রম। ১৫ টাকার মাস্ক এখন ১৫০ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে না। কারওয়ান বাজারে কানাঘুষো শোনা গেল, বিক্রি ভালো। কারণ মানুষ কিনছে বেশি বেশি, যাতে বিপদের দিনে খাবারের অভাবে পড়তে না হয়। কিন্তু কেউ বুঝতে পারছে না বিপদটা কেমন, কীভাবে আসতে পারে। মানুষের এই আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার বড় কারণ ভুয়া খবর, গুজব ও অপপ্রচার। কিছুদিন আগে পেঁয়াজের দাম যখন আকাশছোঁয়া, তখন হঠাৎ লবণ নিয়ে এমন গুজব শোনা গিয়েছিল। ভুয়া খবর ছড়িয়ে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টির নেতিবাচক দিক প্রচুর। মানুষ ক্রমে করোনাভাইরাস নিয়ে এসব খবর, গ্রাফিকস, ভিডিও দেখতে দেখতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কী করবে ভেবে না পেয়ে ট্রেন্ড ফলো করছে। একজন কোনো কারণে স্যানিটাইজার কিনলে আরও পাঁচজন কিনছে। একজন মাস্ক কিনলে আরও দশজন কিনছে। ফলে যাদের জিনিসটির আসলেই দরকার, তারা পাচ্ছে না বা তাদের বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এ ব্যাপারটা যে শুধু শহরকেন্দ্রিক, তা নয়; এটি ক্রমে ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামের দিকেও, ক্রমাগত আমরা সেই খবর পাচ্ছি। আমাদেরও ইউনিয়ন পরিষদ আছে একেবারে গ্রাম পর্যায়ে। এই মাঠপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানটিকে কর্মক্ষম করে তোলা হোক। এই প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবিক অর্থে শক্তিশালী। যাঁরা এই ইউনিয়ন পরিষদ বিষয়ে ন্যূনতম খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা জানেন, একজন চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বার কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন। সরকারকে আমরা এসব বলতে পারি, চাপ প্রয়োগ করতে পারি। করোনাভাইরাস নিয়ে ভুয়া খবর, গুজব আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগে, মানুষের মধ্যে আরও আতঙ্ক চেপে বসার আগে, তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিক। কারণ, করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য চিকিৎসাব্যবস্থা এবং সতর্কতার দিকে জোর দিলেই এখন আর হচ্ছে না। ভুয়া খবর, গুজব কিংবা অপপ্রচার বন্ধ করুন, মানুষের আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কেনাকাটা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। রজত কান্তি রায়: লেখক ও সাংবাদিক[] | 8 |
বাবা আমাকে টানা ছ'বছর ধরে ধর্ষণ করেছে..." ভরা আদালতে দাঁড়িয়ে মেয়েটা এই কথা বলল। শুধু এই টুকুই নয়, মেয়েটি সবিস্তারে বর্ণনা করল ঠিক কেমন করে বাবা তার সঙ্গে 'জবরদস্তি যৌনতায়' মেতে উঠত। কিন্তু মেয়েটির এই অভিযোগ এবং তার শরীরী ভাষা আগাগোড়াই সন্দেহজনক ঠেকেছিল মেয়েটির বাবার আইনজীবী ক্যাথি ম্যাককুলোচের। তারপর ক্যাথি তার মক্কেল অর্থাৎ অভিযোগকারিণীর বাবার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানতে পারেন যে তাঁর মেয়ের পছন্দের উপন্যাস ই এল জেমসের 'ফিফটি শেডস্ অফ গ্রে'। আর এই পছন্দের উপন্যাসের সূত্র ধরেই বেরিয়ে গেল যে মেয়েটা আসলে বাবার নামে মিথ্যা অভিযোগ করছে। কিন্তু কেন? আইনজীবী ক্যাথির খটকা লাগাতে, সেদিনই তিনি 'ফিফটি শেডস্ অফ গ্রে' পড়ে ফেলেন রাত জেগে। আর তাতেই বুঝতে পারেন, ওই উপন্যাসের ১৭টি অংশ বা ঘটনার সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে এই মেয়েটির অভিযোগ। ব্যাস ওমনি সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায় ক্যাথির কাছে। পরদিনই আদালতে এই মেয়েটিকে জেরা করতে শুরু করেন নারী আইনজীবী ক্যথি। এক পর্যায়ে জেরার সামনে ভেঙে পড়ে সেই মেয়ে এবং স্বীকার করে নেয় যে তার বাবার বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। সে এই অভিযোগ এনেছে কারণ, তার বাবা অত্যন্ত কড়া ধাঁচের মানুষ, খুব শাসন করতেন তাকে। তাই তাকে উচিত শিক্ষা দিতেই সে এই ছক তৈরি করে। আদালত সব শোনার পর তৎক্ষণাৎ ওই ব্যক্তিকে সসম্মানে মুক্তি দেয়। বিডি-প্রতিদিন/২০ আগস্ট, ২০১৬/মাহবুব
| 5 |
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রিন্টিং প্রেস অফিসের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেনকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব হিসেবে প্রকৌশল অফিসের উপ-প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শরিফ উদ্দিন। কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ইবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তার ঘনিষ্ট বন্ধু মাসুদ করিমের কাছ থেকে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ ওঠেছে। নির্ধারিত সময়ের পরে মাসুদ তার কাছে টাকা চাইলে গত ১৩ জানুয়ারি সব টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু তিনি ঐ তারিখে টাকা প্রদানে অপারগ হওয়ায় অগ্রণী ব্যাংক, ইবি শাখার ৪২৯৬ হিসাব নম্বরে একটি চেক প্রদান করেন। পরে মাসুদ ঐ তারিখেই চেক নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দিলে অপর্যাপ্ত তহবিল স্বাক্ষরে অমিল মর্মে একটি ডিজঅনার স্লিপসহ ফিরিয়ে দেন। অর্থের বিষয়ে মনিরুলকে অবহিত করার পরেও সে টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করা এবং হিসাব নম্বরে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় প্রতারণ করে টাকা আত্মসাত করার অসৎ উদ্দেশ্যের অভিযোগ এনে সে আইনজীবীর দ্বারস্থ হন। পরে ঐ কর্মকর্তা বরাবর সম্প্রতি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়। যা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং তাকে ফাঁসানোর জন্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঐ কর্মকর্তা। | 6 |
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া বাজারে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে গেছে। এসব ময়লা অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫০টি গ্রামের অন্তত ২১ হাজার মানুষের বসবাস বাবুছড়া ইউনিয়নে। দীঘিনালা উপজেলা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে এই বাজারের অবস্থান। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে এসব মানুষ আসে এই বাজারে। এত লোকের সমাগম হলেও বাজারের যথোপযুক্ত উন্নতি হয়নি।একসময় বেশ জমজমাট ছিল এই বাজার। কালের বিবর্তনে হারিয়েছে এ বাজারের দৃশ্যপট। নেই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। আছে খাবার পানির সংকট। বাজারে নেই শৌচাগার। বাবুছড়া বাজারটিতে দুই শতাধিক দোকান-পাট রয়েছে।বাবুছড়া বাজারের চারপাশে এখন নোংরা পরিবেশ। দুর্গন্ধ আর মলমূত্রের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। বাজারের মাঝখানে কোথাও আছে নিত্যপণ্যের দোকান, আবার ফাঁকা জায়গায় দেখা যায় মানুষ আর জীবজন্তুর মল-মূত্র। বাজারের পানি নিষ্কাশনের জন্য যে নালা আছে তা-ও না থাকার মতো। ময়লার স্তূপে এখন নালাটি মাটির নিচে চাপা পড়তে বসছে। চারদিকে স্যাঁতসেঁতে আর ময়লার স্তূপের পাশেই বসছে বাজার। সপ্তাহে প্রতি রোববার হাট বসে এই বাবুছড়া বাজারে। অস্থায়ী কাঁচামাল আর নিত্যপণ্যের দোকানের আসর থাকে হাটের দিনে বাজারের চারপাশে।১৫ বছর পর্যন্ত এই বাজারের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে ছিলেন মুনশি মিয়া। কিছুটা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগিয়েছিলেন তিনি। ২০০০ সালের আগেই দায়িত্ব থেকে অবসর নেন তিনি। তাঁর সময়ে বাজারের সেট নির্মাণ, মাইনী নদী থেকে বাজার ওঠার জন্য তৈরি করেছিলেন সিঁড়ি। বাজারের সৌন্দর্য বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে অনেকটাই অবহেলিত এই বাজার।তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'যখন ছোট ছিলাম বাবার সঙ্গে হাত ধরে বাবুছড়া বাজারে আসতাম। এই বাজারের অনেক নাম-ডাক ছিল। এখন আর সেই বাজার নেই।'বাবুছড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ব্রিটিশ শাসন আমলের এই বাজারটি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়ন দরকার ছিল। হাটের দিন হাজারো লোকের সমাগম ঘটে এ বাজারে। অথচ বাজারে নেই পানির ব্যবস্থা, নেই শৌচাগার। ফাঁকা জায়গায় মানুষ মলমূত্র ত্যাগ করে। আর এসবের কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।বাবুছড়া বাজার কমিটির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে বাজার প্রকল্পের আওতায় পানি সরবরাহর জন্য একটি প্রকল্প দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের মাস না যেতেই পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম আজকের পত্রিকাকে জানান, ২০১৮ সালে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাজার প্রকল্পের পানি সরবরাহের একটি প্রকল্প দেওয়া হয়।পানি সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রকল্পের সময় অনুযায়ী কোনো সরঞ্জাম নষ্ট হলে কোম্পানির পক্ষ থেকে মেরামত করে দেওয়ার কথা আছে। তবে বাজার কমিটির মেরামত করে নিতে চাচ্ছে না। নতুনভাবে প্রকল্পের নষ্ট হওয়া সরঞ্জাম চাচ্ছে। | 6 |
মুন্সিগঞ্জ সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ, পাল্টাপাল্টি হামলা, নির্বাচনী ক্যাম্পসহ কর্মী-সমর্থক ও স্থানীয় ভোটারদের বসতঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক কাজ করছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই শেষ সময়ে চলছে প্রার্থীদের জমজমাট প্রচার।জানা যায়, তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচনে দলের সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিপাকে পড়েছেন দল সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। এতে কর্মী-সমর্থকেরা বিভক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে সংঘাত-সহিংসতায় ঘটনা।গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী মুন্সিগঞ্জ সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে ঘুরে দেখা গেছে, নানা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, উন্নয়ন আর পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরা। আর এসব ইউনিয়নে প্রায় সবকটিতে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন অনেক নেতা-কর্মী। প্রতিটি ইউনিয়নে দল সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী থাকায় বিপাকে পড়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। তবে প্রচার, প্রচারণায়, বাধা পোস্টার ছেঁড়াসহ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে উভয়পক্ষের।সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, 'এবারও নির্বাচনে আমি সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। তাই একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।'নির্বাচনী সহিংসতায় উত্তপ্ত সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের (তরুণ) চেয়ারম্যান প্রার্থী রিপন হোসেন পাটোয়ারী বলেন, 'দীর্ঘদিন সংঘাত আর সহিংসতায় একের পর এক সংঘর্ষের কারণে ককটেলের জনপদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এই ইউনিয়নটি। আমাকে নির্বাচিত করলে দীর্ঘদিন চলা এসব বিরোধ নিরসনে কাজ করে যাব।'এদিকে পুরুষের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই নারী প্রার্থীরাও। মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী নারী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মহাসিনা হক কল্পনা বলেন, 'আমি দীর্ঘদিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রয়েছি, ভবিষ্যতেও আমি জয়ী হব। আর ইউনিয়নের সব নারী ভোটার আমার পাশে রয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন চলা সংঘাত ও সহিংসতা সমাধানে আমি চেষ্টা করেছি, তবু তা সমাধান করে উঠতে পারিনি। তাই ভবিষ্যতে নির্বাচিত হলে আমি আমার কর্মী-সমর্থকদের সংযত করার চেষ্টা করব। কিন্তু আমি পরাজিত হলে ইউনিয়নজুড়ে এমন সহিংসতার ঘটনা আরও বাড়বে।'অপরদিকে কোনো প্রকার সহিংসতা ছাড়াই শেষ মুহূর্তে শান্তিপূর্ণভাবে চলছে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা। নানা প্রতিশ্রুতি আর উন্নয়ন ও পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে ভোট প্রার্থনা করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের মোটরসাইকেল প্রতীকে (স্বতন্ত্র) চেয়ারম্যান প্রার্থী রোকনুজ্জামান শিকদার রিগান বলেন, 'আমি একজন তরুণ প্রার্থী হিসেবে তরুণ ভোটারদের কাছে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তারা আমার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাসহ সব কাজে আমাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করছে।'উপজেলার কাঠাদিয়া শিমুলিয়া ইউনিয়ন নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আনিসুর রহমান বলেন, 'তৃণমূলকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে আমি নৌকার জয়ের লক্ষ্যে অবিরত কাজ করে যাচ্ছি। উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় আমার ইউনিয়নের মানুষের শতভাগ আস্থা রয়েছে।'সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, দ্বন্দ্ব ও সহিংসতায় গত দুই দিনে দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের হত্যা করেছেন। ইউনিয়নটিতে গত রোববার দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। এসব ঘটনায় দুই পক্ষের শতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হন। এ দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা ইউনিয়নে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হামলা-মামলার ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন গ্রামের পুরুষেরা। আতঙ্কে দিন পার করছেন বাড়ির নারীরা। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ভোটাররা।সদর উপজেলার চর কেউ ইউনিয়নের এক স্থানীয় নারী ভোটার সুরাইয়া আক্তার বলেন, 'আমরা যেন সুষ্ঠুভাবে আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারি, প্রশাসনের কাছে সেই দাবি জানাই।'মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আরেক ভোটার সাইফ উদ্দিন রবিন বলেন, 'আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম, শুধু ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য দেশে এসেছি। ভোটের আগে একাধিক সহিংস ঘটনার কারণে উত্তপ্ত থাকা পরিস্থিতে আমরা সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে অনেকটাই শঙ্কিত।'জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ বলেন, 'তৃতীয় দফায় ইউপি নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জের ওপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। একাধিক সহিংস ঘটনার কারণে নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত থাকায় আমরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি। একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং ভোটের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।'মুন্সিগঞ্জ সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ২১টি ইউনিয়নে সবকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে ব্যালট পেপারে। এতে চেয়ারম্যান পদে ১০৯ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ২১৯ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৬৭৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ২১১টি কেন্দ্রে ভোট দেবে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৩ জন নারী ও পুরুষ ভোটার। | 6 |
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নে মধ্যরাতে ঘরে ঢুকে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন ইব্রাহিম মিয়া ও আলাউদ্দিন মঞ্জু নামের দুই বখাটে।এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে দুই বখাটের নামে গত সোমবার সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।স্থানীয় লোকজন, ভুক্তভোগী ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ওই প্রবাসীর স্ত্রী বাড়িতে শিশুসন্তান নিয়ে একা থাকেন। গত ৫ নভেম্বর ইব্রাহিম নামের একজন টিনের ছাপড়া ঘরের দরজা খুলে ঘরে ঢুকে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে গৃহবধূকে কিল-ঘুষি মেরে তিনি বেরিয়ে যান। এ সময় আরেক বখাটে আলাউদ্দিন মঞ্জু আরও দুজনকে নিয়ে ঘরের সামনে অবস্থান নেন। গৃহবধূকে ঘটনা প্রকাশ না করতে হুমকি দিয়ে তারাও চলে যান।এদিকে থানায় অভিযোগের খবর পেয়ে এলাকা থেকে গা-ঢাকা দিয়েছেন ইব্রাহিম মিয়া ও আলাউদ্দিন মঞ্জু।তবে অভিযুক্ত ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি এটাকে সাজানো ঘটনা বলে দাবি করেন।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাগাজী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেলায়েত হোসেন জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। | 6 |
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত ২৮ নভেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সেদিন বিচারক এজলাসে এসে বলেন, রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন তা বিশ্লেষণ করে রায় প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। রায় প্রস্তুত করতে আরো সময় লাগবে। তাই রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেন বিচারক। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। যেন ভবিষ্যতে র্যাগিংয়ের নামে আর কাউকে হত্যা করা না হয়। এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জের ধরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরে বাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর একই বছরের ১৩ নভেম্বর তদন্তে প্রাপ্ত আরো কয়েকজনকে আসামি করে ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। তাদের মধ্যে পলাতক তিনজন বাদে ২২ আসামি হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদুর রহমান, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, নাজমুস সাদাত, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও এস এম মাহমুদ সেতু। পলাতক তিন আসামি হলেন- মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। | 6 |
করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ভারত ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও মার্কিন নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবার কাউকে যদি ভারতে ভ্রমণ করতেই হয়, তার আগে যাতে টিকার সব কটি ডোজ নেন। করোনা সংক্রমণে চতুর্থ মাত্রার বিপজ্জনক দেশ হিসেবে ভারতকে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানায়, 'ভারতের বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে টিকার সব ডোজ নেওয়ার পরও ঝুঁকিমুক্ত থাকতে দেশটিতে ভ্রমণ এড়িয়ে চলা উচিত।' ভারতে ভ্রমণকারীদের জন্য মার্কিন নাগরিকদের একটি গাইডলাইন দিয়েছে সিডিসি। সংস্থাটির পরামর্শক কমিটি জানায়, 'যদি আপনাকে ভারতে যেতেই হয়, তাহলে ভ্রমণের আগে টিকার সব কটি ডোজ নিতে হবে। সব ভ্রমণকারীকে মাস্ক পরতে হবে, অন্যদের থেকে ছয় ফুট দূরত্বে থাকতে হবে, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে এবং নিয়মিত হাত ধুতে হবে।' নতুন করে করোনার সংক্রমণে বিপর্যস্ত ভারত। গতকাল সোমবার এক দিনেই দেশটিতে ১ হাজার ৭৬১ জন মারা গেছেন। ভারতে এখন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যু। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৫০ জন। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ছাড়িয়েছে। রাজধানী দিল্লিতেও এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সেখানে মারা যান ২৪০ জন। গতকাল সোমবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হলো ভারতে। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যায় ভারত এখন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। করোনা মহামারির শুরু থেকে আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের পরই ব্রাজিলের অবস্থান। | 3 |
নোয়াখালী নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কলেজের ৯১ শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমণের জেরে শ্রেণি কক্ষে ক্লাস নেয়া বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এই তথ্য জানা যায়। তবে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হচ্ছে। নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার জানিয়েছেন, সোমবার জেলার নোয়াখালী নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কলেজের এক শিক্ষার্থী করোনায় সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হন। পরে আরো ৯০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা করানো হলে তাদেরও করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। নোয়াখালী নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের ইনস্ট্রাক্টর (ইনচার্জ) খালেদা খানম জানান, 'গত ৩ জানুয়ারি থেকে সাতদিনের ছুটি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে যায়। ছুটি শেষে বাড়ি থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজে ফিরলে গত সোমবার আমি তাদের ক্লাসে যাই। ক্লাসে যাওয়ার পর দেখি কয়েক জন ছাত্রী কাশি দিচ্ছে।' খালেদা খানম জানান, পরে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদের পর দুইজন শিক্ষার্থী তাদের জ্বর থাকার কথা জানান। তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুই শিক্ষার্থীকে করোনা পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান তিনি। ওই দুইজনের মধ্যে একজনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। তিনি বলেন, 'এর পরের দিন আরো ৫৫ শিক্ষার্থী নমুনা পরীক্ষা দিলে তাদের মধ্যে ১১ জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর বুধবার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের কর্মকর্তারা কলেজে এসে বাকী শিক্ষার্থীদের নমুনা নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে জানানো হয় আরো ৮০জন শিক্ষার্থীর করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে।' ইনচার্জ খালেদা খানম আরো জানান, করোনায় আক্রান্ত ৯১ শিক্ষার্থীর ৮-১০ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে গেছেন। এখনো ৮০ শিক্ষার্থী কলেজের হোস্টেলে অবস্থান করছেন। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স ও ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারির প্রথম বর্ষের ২৮ জন, দ্বিতীয় বর্ষের ৪০ ও তৃতীয় বর্ষের ২৩ শিক্ষার্থী। আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের শরীরে করোনার কিছু লক্ষণ থাকলেও সবাই এখন অনেকটা ভালো আছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন বাড়িতে এবং ৮০ জন শিক্ষার্থী কলেজ হোস্টেলে হোমকোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। | 6 |
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ভয়াবহ বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফের পানির নিচে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি। বন্ধ রয়েছে জেলা সদরের সঙ্গে উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। হুমকির মুখে নদী তীরবর্তী ১০টি গ্রামের বেরিবাঁধ। বাঁধ ভেঙে যে কোনো সময় প্লাবিত হতে পারে গ্রামগুলো। দ্রুত বাঁধ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া উপজেলা সদরের সঙ্গে আন্তঃসড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সম্পূর্ণ বন্ধ। শ্রীপুর দক্ষিণ তাহিরপুর সদরসহ ৭ ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী। বাড়িঘর, গৃহ পালিত পশু, গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এখনও উপজেলার অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। উপজেলার সীমান্ত নদী যাদুকাটার পানি বিপদ সীমার ১২৫ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় তাহিরপুরে ২৫২মি.মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে বন্যা কবলিতদের মধ্যে শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ১ মে.টন করে চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান জানিয়েছেন, তাহিরপুর ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। যদি এ রকম ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে তাহলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে। সুনামগঞ্জ ১ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, প্রয়োজনের তুলনায় আশ্রয়কেন্দ্র অপ্রতুল হওয়ায় আপাতত স্কুলে বানভাসিদের আশ্রয় নিতে বলেছি। হাওর এলাকায় গৃহ পালিত পশু নিয়ে হাওরবাসী পরেছে বিপাকে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ করে বানভাসিদের সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতাও করছি। | 6 |
মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে যাত্রীবেশে চালকের গলা কেটে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে তার পরের ঘটনা অবাক করে দিয়েছে সবাইকে। মৃত্যুর আগে চালক আশরাফ নিজেই মাটিতে লিখে যান ঘাতকদের নাম। তারই সূত্র ধরে, হাসান, রাজা ও তাদের সহযোগী রুবেলকে আটক করে পুলিশ। অটোরিকশা চালক আশরাফুলের অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তার স্বজনরা। প্রিয়জন আর ফিরবেন না, তবু ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে অপেক্ষায় ভাই। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের চানখার বাড়ি নামক এলাকায় আশরাফুলের ইজিবাইকটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এসময় বাঁধা দিলে দুর্বৃত্তরা তার গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নেয়। এর কিছুক্ষণপর জ্ঞান ফিরলে রক্তাক্ত অবস্থায় আশরাফ গোয়ালীমান্দ্রা বটতলা এলাকায় যান। পরে স্থানীয়রা তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমানের পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেছেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরে অবস্থিত সেলিম ওসমানের মালিকানাধীন 'উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড' নামে কারখানাটি পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল জাহেরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন দলটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন বাবলু, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বগুড়া থেকে নির্বাচিত এমপি নুরুল ইসলাম ওমর, দলের যুগ্ম মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফয়সাল চিশতি, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, নূর ইসলাম নুরু, গোলাম মোহাম্মদ রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী নাসির, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব বেলাল হোসেন। এ ছাড়া সেখানে নারায়ণঞ্জ মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সানু, সদস্যসচিব আকরাম আলী শাহীন, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল জাহের সাংবাদিকদের বলেন, দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সেলিম ওসমানের কারখানায় বেলা দেড়টার দিকে আসেন। তিনি সেখানে আড়াই ঘণ্টার মতো অবস্থান করেন। এ সময় সেখানে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আগামী নির্বাচনসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে দলীয় চেয়ারম্যানের কাছে। | 9 |
জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আজ বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করেছেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন।'কোভিডের অভিঘাত কাটিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন'-এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য ধরা হয়েছে। যেখানে মূল লক্ষ্য সক্ষমতার উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি কাটিয়ে অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গে জনজীবনে স্বস্তি ফেরানো।স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু পণ্যে শুল্ক ও কর আরোপ বা আগের চেয়ে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন। এ কারণে অনেক পণ্যের দাম বাড়তে পারে।প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব দাম বাড়তে পারেপনির, দই, তামাকজাত পণ্য, এসি, মোবাইল, পেপার কাপলেট, জিআই ফিটিং, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, গাড়ির সিলিন্ডার, লাইটার, কম্পিউটার প্রিন্টারের টোনার, ট্রেনের প্রথম শ্রেণির ভাড়া, মেডিটেশন সেবার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, আমদানিকৃত ইলেকট্রনিক ক্যাবল, সব ধরনের পাইপ, আমদানিকৃত মোটরসাইকেল, সব ধরনের রাবার জাতীয় পণ্য, আমদানিকৃত সোলার প্যানেল, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, আমদানিকৃত চেয়ার, প্রিন্টিং কালি, আমদানিকৃত বিলাসবহুল পাখি, কিট-মাস্কসহ সব ধরনের কোভিড-১৯ সরঞ্জাম ইত্যাদি। | 0 |
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলের ফাইনালে দুরন্ত জয় দিয়েশিরোপা ঘরে তুলেছেবাংলাদেশের মেয়েরা। আজ বুধবার দারুণ লড়াইয়ে শক্তিশালী ভারতকে১-০ গোলে হারিয়েছে মারিয়া মান্ডারা। ম্যাচজুড়ে ভারতকে চাপের মুখে রেখে শেষ মুহূর্তে আনাই মোগিনির গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। আর এ গোলেই চ্যাম্পিয়নের তকমা পায় গোলাম রব্বানি ছোটনের দল। এদিন কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে খেলার ৮০ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোল করেছেন আনাই মুঘিনি। বাংলাদেশ অসংখ্য আক্রমণ করে গোল পাচ্ছিল না। ৮০ মিনিটে আসে সেই মহেন্দ্রক্ষণ। রিপা ব্যাকহিল পাস করেন। আনাই মুঘিনি বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। ভারতের গোলরক্ষক বলের ফ্লাইট বুঝতে পারেননি। তিনি বলে হাত লাগালেও গোল লাইন অতিক্রম করা থেকে বিরত রাখতে পারেননি। গোল লাইন অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে নেচে ওঠে কমলাপুর স্টেডিয়াম। বিডি-প্রতিদিন/শিফিক | 12 |
উপকরণলইট্টা শুঁটকি ১০টি, শিম ২০-২৫টি, বেগুন মাঝারি আকারের ২টি, আলু মাঝারি আকারের ৩-৪টি, কাঁচা মরিচ ৮-১০টি বা স্বাদমতো, রসুন ৭-৮টি, তেল আধা কাপ, লবণ পরিমাণমতো, হলুদ এক ১ চা-চামচ, মরিচের গুঁড়ো আধা চা-চামচ।প্রণালিপ্রথমে শুঁটকি ১ ইঞ্চি করে কেটে লবণ আর অল্প গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফোটানো গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। কাঁচা মরিচ আর রসুন ছেঁচে নিন। এবার একটি কড়াই বা প্যানে তেল গরম করে ছেঁচা রসুন আর কাঁচা মরিচ দিয়ে অল্প পানি আর খুব অল্প লবণ দিন, হলুদ আর মরিচের গুঁড়ো দিন। তারপর শুঁটকি দিয়ে কয়েক মিনিট জ্বাল দিয়ে দুই টুকরো করে কাটা শিম দিন। মাঝারি আঁচে মিনিট দশেক জ্বাল দিয়ে লম্বা লম্বা করে কাটা আলু দিন। তারপর নেড়ে দিয়ে ঢেকে দিন। মিনিট দশেক পর বেগুন কেটে দিন। এবার পরিমাণমতো লবণ দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন।পুরো রান্নাই মাঝারি আঁচে পানি ছাড়া হবে। রান্না হলে পুরো তরকারি একটু তেলতেলে হবে। পানি পানি হলে জ্বাল বাড়িয়ে মাখা মাখা করে নেবেন। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.