text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
ইউরোপের অনন্য এক ঋতুর দেশ মেসিডোনিয়া। প্রাতিষ্ঠানিক নাম 'রিপাবলিক অব নর্থ মেসিডোনিয়া'। ঋতু ও রূপবৈচিত্র্যের কারণে ইউরোপীয় পর্যটকদের কাছে মেসিডোনিয়া বেশ প্রিয়। বিশেষত প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলো দেশটিতে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। মেসিডোনিয়ায় আছে বিভিন্ন ধর্মের অসংখ্য প্রাচীন নিদর্শন। ইতিহাসখ্যাত 'আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট কিং'-এর জন্ম এই মেসিডোনিয়াতেই। ২৫ হাজার ৭১৩ বর্গকিলোমিটারের দেশ মেসিডোনিয়ার জনসংখ্যা ২০ লাখ ৭৭ হাজার ১৩২ জন। রাজধানীর নাম স্কোপজে। ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালে যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি। দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ অর্থডক্স চার্চের অনুসারী। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটেনিকা মতে, মেসিডোনিয়ার জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ মুসলিম। তবে পিউ ফোরাম ডটঅর্গের তথ্য মতে, মুসলিমদের সংখ্যা ৩৯.৩ শতাংশ, যা ২০৫০ সালে ৫৬.২ শতাংশে উন্নীত হবে। দেশটিতে এক হাজার দুই শ চার্চ, ৫৮০টি মসজিদ এবং একাধিক ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রথম বলকান যুদ্ধ পর্যন্ত তুর্কিরাই কার্যত মেসিডোনিয়া শাসন করে। উসমানীয় শাসকরা মেসিডোনিয়ায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। উসমানীয় শাসনামলে গড়ে তোলা পাঁচ শতাধিক মসজিদ এখনো মেসিডোনিয়ায় টিকে আছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিমের কিছু অঞ্চলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতাও রয়েছে। সেন্টার জুপা, দেবার, স্ট্রুগা ও প্লাসনিকা এর অন্যতম। মুসলিম শাসনের অবসানের পর মেসিডোনিয়ার মুসলিম জনসংখ্যা ক্রমেই কমতে থাকে। ১৯২১ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত মুসলিম জনসংখ্যা ৩১ শতাংশ থেকে ২৪ শতাংশে নেমে আসে। ১৯৭১ সাল থেকে মুসলিম জনসংখ্যা আবারও বাড়তে থাকে। মেসিডোনিয়ার মুসলিম জনগণের বেশির ভাগ আলবেনীয় ও তুর্কি বংশোদ্ভূত। বাকিরা বসনিক ও স্থানীয়। মেসিডোনিয়া ইউরোপিয়ান দেশ হলেও এখানকার মুসলিম জীবনে তুর্কি সংস্কৃতির প্রভাবই বেশি। খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে ধর্মীয় উদযাপন পর্যন্ত সব কিছুতেই তারা তুর্কি সংস্কৃতির অনুসারী। দীর্ঘদিন তুর্কি শাসনাধীন থাকাই এর প্রধান কারণ। মেসিডোনিয়ান মুসলিমদের এক-তৃতীয়াংশই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন এবং তাদের প্রায় অর্ধেক গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন। দেশটির মুসলিম জনগণের সর্বোচ্চ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দারুল ইফতা মেসিডোনিয়া। সরকার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান-সংস্থায় তারাই মুসলমানের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। সূত্র : আলজাজিরা, নুনপোস্ট ও মালুমাত বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
10
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় উদযাপিত হলো বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে সেদেশের রাজধানীর হায়াত হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারতের হাইকমিশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এ সময় আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম, ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যা, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও এতে ভারতীয় সহায়তা, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা, বিশ্ব মিডিয়ায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে তৎকালীন ভারত সরকারের ভূমিকা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী দু'দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন সহযোগিতা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচনা, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রা এবং বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশি ও ভারতীয় শিল্পীরা পৃথকভাবে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, ভারতের হাইকমিশনার মনপ্রীত ভোরা এবং অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হারিন্দার সিধু বক্তৃতা করেন। এছাড়া রাশিয়াসহ অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ৩১টি দেশের মিশনপ্রধান, বাংলদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, থিংকট্যাঙ্ক, মুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসী বাংলাদেশি ও ভারতীয়সহ শতাধিক ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের হাইকমিশনার সুফিউর রহমান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা, স্বাধীন বাংলাদেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সহায়তা এবং বঙ্গবন্ধু ও ইন্দ্রিরা কর্তৃক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপনের বিষয়কে স্মরণ করেন। তিনি ভারত-বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ এবং দু'দেশের সকল ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন, যা প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধনামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গতিশীল নেতৃত্বে বেগবান হয়েছে। ভারতের হাইকমিশনার মনপ্রীত ভোরা বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে থাকতে পেরে ভারতের জনগণ গর্বিত। বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বাংলাদেশ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হারিন্দার সিধু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে অস্ট্রেলিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা আশ্রয়দানের জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন। শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অস্ট্রেলিয়াসহ ১৮টি দেশে বাংলাদেশ ও ভারতীয় দূতাবাসে যৌথভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। গত মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দিবস ৬ ডিসেম্বরকে মৈত্রী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
6
কিডনির বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে কিছু যেমন প্রকট লক্ষণ নিয়ে হাজির হয়, তেমনি কিছু ক্ষতি করে যায় নীরবে। এর এক উদাহরণ হাইড্রোনেফ্রোসিস। হাইড্রোনেফ্রোসিস হলো, প্রস্রাব জমার কারণে কিডনি ফুলে যাওয়া বা বড় হয়ে যাওয়া। সাধারণত কিডনি থেকে প্রস্রাব তৈরি হয়ে মূত্রনালির মাধ্যমে মূত্রথলিতে যায়। সেখান থেকে মূত্রাশয়ের মাধ্যমে নির্গত হয়। যখন কোনো বাধা বা ব্লকের কারণে প্রস্রাব কিডনি থেকে মূত্রাশয় দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে না, তখন হাইড্রোনেফ্রোসিস হয়। এটি এক দিকের বা উভয় কিডনিতে ঘটতে পারে।লক্ষণহাইড্রোনেফ্রোসিস উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে বা না-ও করতে পারে। প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে:পেটের পাশে এবং পিঠে, পেটে বা কুঁচকিতে ব্যথা।প্রস্রাবের সময় ব্যথা।প্রস্রাবের সঙ্গে অন্যান্য সমস্যা, যেমন বেশি বা কম পরিমাণ প্রস্রাব, বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা, প্রস্রাবের থলি পুরো খালি না হওয়া ইত্যাদি।বমি বমি ভাব।জ্বর।কিডনি সুস্থ রাখতেকীভাবে হয়হাইড্রোনেফ্রোসিস সাধারণত অন্য অন্তর্নিহিত অসুস্থতা বা ঝুঁকির কারণে সৃষ্টি হয়। যেমন:কিডনিতে পাথর। এর জন্য প্রস্রাবের পথ আটকে থাকে।জন্মগতভাবে ইউরিনারি ট্রাক্টের কোনো অংশে বাধা বা ব্লক থাকা।রক্ত জমাট বেঁধে প্রস্রাবের পথ আটকে যাওয়া।আঘাত বা পূর্ববর্তী অপারেশন থেকে ক্ষত থাকা।টিউমার বা ক্যানসার, যেমন মূত্রাশয়, জরায়ুমুখ, কোলন বা প্রোস্টেট ক্যানসার ইত্যাদি।প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া।গর্ভাবস্থা।মূত্রনালির প্রদাহ সৃষ্টিকারী অন্যান্য রোগ।কিডনি ফুলে যাওয়া, নীরব ঘাতকপরীক্ষা-নিরীক্ষাকিডনি ও ইউরিনারি ট্রাস্টের আলট্রাসনোগ্রাফি।কিডনি ও তলপেট অংশের এক্স-রে।সিটি স্ক্যান ও ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমার্জিং (এমআরআই)।সিস্টোস্কোপিও।রক্ত, প্রস্রাব ও কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা।কিডনি চিকিৎসায় বেসরকারিতেই ভরসাচিকিৎসাহাইড্রোনেফ্রোসিস সাধারণত অন্তর্নিহিত রোগ বা কারণের সমাধান করে চিকিৎসা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই সমাধান করা যেতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সংক্রমণের চিকিৎসা করা যেতে পারে। কখনো কখনো অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।জটিল হাইড্রোনেফ্রোসিসের ক্ষেত্রে মূত্রাশয় থেকে প্রস্রাব নিষ্কাশনের জন্য একটি ক্যাথেটার ব্যবহার করে বা কিডনি থেকে প্রস্রাব বের করার জন্য নেফ্রোস্টোমি নামক একটি বিশেষ টিউব ব্যবহার করে অতিরিক্ত প্রস্রাব অপসারণ করতে হতে পারে। একদম শেষ পর্যায়ে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হতে পারে। কিডনির স্থায়ী ক্ষতি এড়াতে চিকিৎসার মূল চাবিকাঠি হলো, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটির সমাধান করা।লেখক: আবাসিক চিকিৎসক নেফ্রোলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
4
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রচারণায় এমপিদের অংশ না নেয়ার বিধান বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'নারায়ণগঞ্জে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ঘোষণা দিয়েছেন তিনি নৌকার পক্ষে কাজ করবেন। আমি মনে করি এটিই সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেটি নিয়ে দেখলাম কিছু গণমাধ্যমে শামীম ওসমান নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন এমন কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রণীত আচরণবিধিতে বলা হচ্ছে সংসদ সদস্যরা কোনো স্থানীয় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কিন্তু আশেপাশে কোনো দেশেই এ ধরণের আচরণবিধি নেই, ইউরোপেও এ ধরনের বিধিনিষেধ নেই। মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা অন্যদেশে তাদের প্রটোকল বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারে। পার্শ্ববর্তী দেশে এমনকি মুখ্যমন্ত্রীরাও পারে, মন্ত্রীরাও পারে। সেক্ষেত্রে শুধু প্রটোকল সুযোগ-সুবিধা বাদ দিতে হয়। সংসদ সদস্যদের ওপর নির্বাচন কমিশনের এ ধরণের বিধিনিষেধ বৈষম্যমূলক। ২০১৫ সালেও এ বিধিনিষেধ ছিলো না। অনেকেই বলছেন যে এই বিধিনিষেধ অগণতান্ত্রিক। আমাদের দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি বেশ কয়েকবার নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়েছে এবং কয়েকটি বৈঠকে আমি নিজেও ছিলাম। সেখানে এ বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছিলো।' বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী'র করোনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা দেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. হাছাান মাহমুদ বলেন, 'রিজভী সাহেবের এই বক্তব্যে মনে হয়, আসলে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি নেতারা দিক-বিদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন এবং আবোল-তাবোল বলছেন, এটি তারই ধারাবাহিকতা।' মন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে করোনা মোকাবিলা করেছেন সেটি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোসহ অনেক দেশই করতে পারেনি। এটি সারা বিশ্ব কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে এবং করোনা মহামারিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হওয়ার কারণে আমাদের দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা আছে। করোনা মহামারিতে গতবছর পৃথিবীর মাত্র ২০টি দেশে পজেটিভ জিডিপি গ্রোথ হয়েছে তারমধ্যে বাংলাদেশ একটি, বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। করোনা এবং টিকা নিয়েও বিএনপির নেতারা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন, আবার নিজেরাই করোনার টিকা নিয়েছেন। রিজভী আহমেদসহ বিএনপি'র সামনের সারির নেতারা ফ্রন্টলাইনার কারণ তারা রাজনীতির মাঠে সামনে থেকে সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করছেন। আমরা চাই তারা সুস্থ থাকেন এবং ফ্রন্টলাইনার হিসেবে বুস্টার ডোজ নেবেন এই আশা করি।' এর আগে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে নিজ নির্বাচনী উপজেলা রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সমতল ভূমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সমন্বিত প্রকল্পের আওতায় ভেড়া ও শেড নির্মাণ সামগ্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ সহায়তার আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি, ৪৩তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে বিজ্ঞান মেলায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্কুল কলেজ পর্যায়ে ১২-১৮ বছর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের করোনার টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার ইউনুসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শমসের আলম, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আকতার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল বাসার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
6
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষকে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে। আজ রবিবার (১২ জানুয়ারি) সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই জোন সংযোগ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৪৬টি সরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ও ইনষ্টিটিউশনে একযোগে ১০ মেগাবাইট গতিসম্পন্ন এই নেটওয়ার্ক চালু কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন জানিয়ে সজিব ওয়াজেদ জয় বলেন, দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের সবার দাবি অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক চালু করা হলো। পুরো দেশের ১৬ কোটি মানুষকে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার। আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিটিসিএল এর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু সারাদেশের মানুষেকে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় আনলেই হবে না। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে ইন্টারনেটের উচ্চগতি নিশ্চিত হয়। যাতে সারাদেশের তরুণ সমাজ দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সেবা পায়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. নূর-উর-রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধীনস্ত সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
6
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন চাঁদ উদ্যান থেকে ৫ কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- মো. হাসান (১৭), মো. শাকিল হোসেন (১৬), মো. হাসান (১৫), মো. রিয়াজ (১৮) ও মো. সুমন (২৬)। র্যাব বলছে, আটককৃতরা সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। এর আগেও তাদের একই অপরাধে কারাদণ্ড দিয়েছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। সংশোধনাগার থেকে বের হয়ে আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিল তারা। র্যাব-২ এর এসপি মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মোহাম্মদপুর লাউতলা বস্তি ও পাশ্ববর্তী বোর্ডগার্ড বরকত মিয়ার বস্তিতে কিছু সংখ্যক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েক দফায় এলাকায় মারমারিসহ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া করে আসছে। এমন সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতেই সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে চাঁদ উদ্যান ৬নং সড়কের সুজন জেনারেল ষ্টোরের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। সে সময় তাদের কাছ থেকে ১টি ধারালো দা, ৩টি চাপাতি ও ১টি ছোরা উদ্ধার করা হয়। কারাভোগ শেষে বের হয়ে আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিল তারা। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা শেষে মোহাম্মদপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
6
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, যারা ক্ষমতায় আছেন তারা ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, চেতনা ও মূল্যবোধ এই সরকার ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহিলা দল সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, ছাত্রদলের সাধারান সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন, মহিলা দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ। মওদুদ বলেন, আজ দেশে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র থাকলে খালেদা জিয়া কারাগারে থাকতেন না। তিনি কারাগারে আছেন কারণ দেশে ন্যায়বিচার নাই, গণতন্ত্র নাই এবং দেশে একটি এক দলীয় শাসন ব্যাবস্থা কায়েম হয়েছে। তা না হলে তার মুক্তি অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, এমন একটি ফালতু মামলায় দলীয় চেয়ারপারসনকে সাজা দেয়া হয়েছে যে মামলায় তার শাস্তি হওয়ার কথা না। একটি ভিত্তিহীন মিথ্যা ও ভুয়া অভিযোগ এনে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। তারপর তার জামিনের বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করায় তার জামিন হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়ার স্বাস্থের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এই সরকার একটি অমানবিক সরকার। অনেক ফ্যাসিস্ট সরকার আছে অনেক কর্তৃত্ববাদী সরকার আছে যারা এতটা অমানবিক নয়। অন্তত অনেক সরকার অনেক ক্ষেত্রে মানবতাবোধ দেখিয়েছে যা অতীতে আমরা দেখেছি। কিন্তু এই সরকার সম্পূর্ণ একটি মানবতাহীন সরকার। বিএনপির এই বেতা বলেন, জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার একই সুত্রে গাথা হয়ে গেছে। আমরা আবারো জামিনের জন্য আবেদন করেছি আমি আশাবাদী একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খালেদা জিয়াকে মানবিক কারণে জামিন দিবেন। আর যদি না দেন তাহলে আমাদের আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই এবং আমাদেরকে বাধ্য করা হবে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি হাতে নিতে।
6
আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় কৃষকদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছে। কৃষকরা যাতে তাদের ফসল কম খরচে তাদের উৎপাদন করতে পারে সে জন্য কৃষিতে সব ধরনের ভুর্তকি প্রদান করা হচ্ছে। রবিবার (১০ এপ্রিল) সকালে উপজেলা পরিষদ মাঠে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে সমন্ধিত ব্যবস্হাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে আওতায় বোরো মৌসুমে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ভুর্তকি) মূল্যে কম্বাইন হারবাষ্টার ধান কাটার মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অসীম কুমার উকিল এমপি। তিনি আরো বলেন, কৃষক বাচঁলে দেশ বাঁচবে, তাই আমাদের সব সময় কৃষকদের প্রতি নজর দিতে হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগম এর সভাপতিত্বে ও কৃষি কর্মকর্তা শাহজান কবিরের সন্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ও প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদির ভূইয়া,সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আসাদুল হক ভূইয়া সহ অন্যান্য নেতারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অসীম কুমার উকিল এমপি ছয় জন কৃষকের হাতে কম্বাইন হারবেষ্টার মেশিনের চাবি তুলে দেন।
6
বলিউড তারকাদের ভেতরে এই মুহূর্তে আয়ের দিক থেকে সবার ওপরে অক্ষয় কুমার। মহামারিকালে দানের দিক থেকেও নিজের নামটা ওপরের দিকেই রাখছেন তিনি। এবার গৌতম গম্ভীর ফাউন্ডেশনে করোনার বিরুদ্ধে লড়তে হাসপাতালগুলোর সহায়তায় ১ কোটি রুপি বা ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা দিলেন তিনি। এই ফাউন্ডেশন একটি টুইট করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গৌতম গম্ভীর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, 'এই অন্ধকার সময়ে প্রতিটা সাহায্য একটু করে আলো নিয়ে আসে। ধন্যবাদ অক্ষয় কুমার, এই দুঃসময়ে জিজিএফকে দেওয়া আপনার এই অর্থ মানুষের উপকারে আসবে। আমরা করোনায় আক্রান্ত দরিদ্রদের খাবার, ওষুধ আর অক্সিজেনের পেছনে এই অর্থ খরচ করব। সৃষ্টিকর্তা আপনার মঙ্গল করুন।' টুইটটি রিটুইট করে অক্ষয় লিখেছেন, 'আসলেই ভয়ংকর দুঃসময় যাচ্ছে। এমন সময় আমি মানুষের পাশের দাঁড়াতে পারছি। এটা আমার সৌভাগ্য। এই মহামারিকাল দ্রুত শেষ হোক। সবাই নিরাপদে থাকবেন।' অক্ষয় কুমার নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এর আগে ২০২০ সালে বলিউডের এই হিট মেশিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 'পি এম কেয়ারস'ফান্ডে দিয়েছিলেন ২৫ কোটি রুপি। টুইটারে সেই খবর জানিয়ে লিখেছিলেন, 'এই মুহূর্তে বেঁচে থাকা সবচেয়ে জরুরি। মানুষের জীবনের ওপরে আর কিচ্ছু নেই। আর জীবন বাঁচাতে যা করার, আমাদের তা-ই করতে হবে। নিজের জমানো অর্থ থেকে মোদি সরকারের ফান্ডে ২৫ কোটি রুপি দিতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। আসেন, আমরা মানুষ বাঁচাতে এগিয়ে আসি।' শেষ বাক্যে অক্ষয় কুমার লিখেছেন, 'জান হ্যায় তো জাহান হ্যায়'। অর্থাৎ মানুষ থাকলেই জগৎ থাকবে।অবশ্য অক্ষয়ের আয়ের তুলনায় এগুলো এমন বড় সংখ্যা নয়। বছরে গড়ে ৭০০ কোটি রুপি আয় করেন তিনি। ফোর্বসের বিশ্বের সবচেয়ে অর্থ উপার্জনকারী তারকার তালিকায় একমাত্র ভারতীয় হিসেবে নাম আছে তাঁর। ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ২ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকার মালিক তিনি। ছবিপ্রতি তিনি ১৩৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন। হ্যাঁ, আপনি যদি কোনো সিনেমা বানান, আর সেখানে অক্ষয় কুমারকে হিরো হিসেবে চান, তাহলে আপনার পকেট থেকে চলে যাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫৫ কোটি টাকার বেশি!
2
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের নাওরা গ্রামের মো. ইউনুচ শরীফ (৪৮) কাঁচামালের ব্যবসা করেন। তিনি এখন নিজেই স্বাবলম্বী। এই সাফল্য তিনি অর্জন করেছেন গাভির খামার করে।ইউনুচ শরীফ ২০০২ সালে নড়াইল জেলার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় তার চোখে পড়ে একটি গাভির খামার। তখনই তার মাথায় আসে নিজেই একটি গাভির খামার করবেন। এরপর তিনি স্ত্রী রেনুকা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে নেমে পড়েন সেই কাজে।ইউনুচ শরীফের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০২ সালে দুইটি ফ্রিজিয়ান গাভি নিয়ে শুরু হয় তাঁর খামারের কার্যক্রম। এখন সে ৪টি গাভি ও ৩টি বাছুরের মালিক। কাঁচা ঘাসের চাহিদা মেটাতে বাড়ির পাশে ৫০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন নেপিআর ঘাস। সেই ঘাস থেকে ৭টি গরুর খাবার হয়ে যায়। পাশাপাশি অবশ্য দানাদার খাদ্য খৈল, ভুসি ও ক্যালসিয়াম ওষুধ খাওয়াতে হয়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাঁর দুইটি গরু গাভিন আর দুইটি গাভি প্রতিদিনে ৩৫ কেজি করে দুধ দেয়।ইউনুচ শরীফ জানান, তিনি বর্তমান ৫০ টাকা দরে দৈনিক ৩৫ কেজি দুধ বিক্রি করছেন। তাঁর মাসিক খরচ হয় গড়ে ৩০ হাজার টাকা। দুধ বিক্রি করে তাঁর আয় হয় ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। শুধু তাই নয়, তিনি প্রতিটি বাছুর ৭০-৮০ হাজার টাকা করে বিক্রি করতে পারেন। শুধু গরু পালন করেই থেমে নেই তিনি। তিনি কাঁচামালের ব্যবসা করছেন। এ টাকা দিয়ে তিনি তিন ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন।উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৬৫১টি খামার রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধন ৬০টি এবং নিবন্ধন ছাড়া ৫৯১টি খামার।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জিন্নু রাইন বলেন, 'কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে জীবনে সফলতা আসে ইউনুচ শরীফ এর উদাহরণ। আমরা সব সময়ই খামারিদের পাশে আছি। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সব সময়ই খামারিদের প্রয়োজন অনুযায়ী খামার গুলো পরিদর্শন করছে।'
6
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত ২২জনের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১১টার পর্যন্ত এই লাশ হস্তান্তর করেন নারায়ণগঞ্জ ফতুলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, সকালে শামীম ও নাদিমের মৃতদেহ স্বনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতাল থেকে তাদের ছাড়পত্র, মৃত্যু সনদপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দাফনকাফনের জন্য ২০হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে স্বজনদের কাছে। তিনি আরো বলেন, নিহত জুলহাসের কাগজপত্র এখনও আমাদের হাতে এসে পৌছায়নি। তার কাগজপত্র পেলে স্বজনদের কাছে ওই লাশটিও হস্তান্তর করা হবে।
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়া দিল্লীতে তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারতকে পরাজিত করায় জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লীর অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে টি-২০তে ভারতের বিরুদ্ধে ৭ উইকেটে জয়লাভ করে টাইগাররা রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।জয়ের পর এক বার্তায় ক্রিকেট অনুরাগী প্রধানমন্ত্রী ভারতকে পরাজিত করার জন্য জাতীয় ক্রিকেট দলের সকল খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের খেলোয়াড়দের টিম স্প্রিট ও তাদের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখে গোটা জাতি গর্বিত।'বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভবিষ্যতেও বিজয়ের এ ধারা অব্যাহত রাখবে বলে শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন।
9
দীর্ঘ ৫০ বছর পরে সংসদে পাস হওয়া 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল- ২০২২' এ সই করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রপতি বিলটিতে স্বাক্ষর করেন বলে জানান তার প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন। ফলে এখন আইন অনুযায়ী সার্চ কমিটি গঠনের পথ সুগম হলো। আগামী সোমবার সার্চ কমিটি গঠন হতে পারে। রাষ্ট্রপ্রধান বিলটিতে সম্মতি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. তারিক মাহমুদ। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদে পাস হওয়া কোনো বিলে সম্মতি দিলে তা আইনে পরিণত হয়। সরকার এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন আইনটির গেজেট প্রকাশ করবে। এরপরই আসবে সার্চ কমিটির ঘোষণা, যেটিও গেজেট আকার প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বহুল আলোচিত এ বিল অনুমোদন দেয় দেশের আইনসভা। সংসদের ভেতরে ও বাইরে আইনটি নিয়ে চলছে অনেক আলোচনা-সমালোচনা। ইসি গঠনে দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রণয়নের দাবি উঠেছিল। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সময় থেকে সার্চ কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন গঠন শুরু হয়, যা অনুসরণ করেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এবার সার্চ কমিটি গঠনে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে গত ১৭ জানুয়ারী পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সংলাপের মধ্যেই গত ১৭ জানুয়ারী আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা কমিটি, যা গত বৃহস্পতিবার সংসদে পাস হয়। এ দিন অনুসন্ধান কমিটিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত দুই বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে একজন নারীকে রাখার বাধ্যবাধকতা রেখে বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশন গঠন আইনের প্রস্তাবে সায় দেয় জাতীয় সংসদ। পাস হওয়া বিলে সার্চ কমিটির কাজ ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে, যা খসড়ায় ১০ কার্যদিবস ছিল। শনিবার রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব জয়নাল আবেদীন বলেন, নতুন এ আইন অনুযায়ী এখন পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং নির্বাচন কমিশনারদের নাম সুপারিশের জন্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি। এ অনুসন্ধান কমিটি রাজনৈতিক দলগুলো থেকে পাওয়া এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দেয়া নামের তালিকা থেকে কয়েক বার বৈঠক করে ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেবেন। এর পরে রাষ্ট্রপতি (প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চার নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন। উল্লেখ্য, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কে এম নূরুল হুদা কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সুতরাং নতুন ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির হাতে মাত্র ১৩-১৪ দিন সময় থাকছে।
6
নির্বাচনী প্রচারে গতকাল শুক্রবার বের হয়েছিলেন ইউপি সদস্য প্রার্থী শামশুল আলম। এ সময় গ্রামের বয়োবৃদ্ধ নারী ফাতেমা বেগমের মৃত্যুর খবর পান তিনি। প্রচার বন্ধ করে নেমে পড়েন কবর খননে। কাজ শেষ করে আবার বের হন প্রচারে।জানা গেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারার চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী শামশুল আলম। তিনি প্রায় ২৭ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কবর খননের কাজ করেন। শেষ বিদায়ের বন্ধু হিসেবে এলাকায় পরিচিত।শামশুল বলেন, 'ভোটে প্রার্থী হয়েছি বলেই নয়, সারা জীবন আমি এই কাজ করে যাব। মানুষের শেষ বিদায়ে সহযোগী হওয়ার চেয়ে পুণ্যের কাজ আর কিছু হতে পারে না। নিজের গ্রাম ডুমুরিয়া বা আশপাশের গ্রামে কেউ মারা গেলেই তাঁর ডাক পড়ে। ১৮ বছর বয়স থেকে মুরব্বিদের সঙ্গে মিলে কবর খননের হাতে খড়ি। সেই থেকে ৪৫ বছর জীবনে খনন করেছে শতাধিক কবর।' বিনা পারিশ্রমিকে সেবার মানসিকতায় এই কাজ করেন বলে জানান তিনি।শামশুল আলম আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে টিউবওয়েল প্রতীকে ডুমুরিয়া থেকে নির্বাচন করছেন। কবর খননের কাজ শেষ করে গ্রামে অন্তত ১০ পাড়ায় গণসংযোগ করেছেন। ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের খবর নিয়েছেন।
6
খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি. সিম্পসন আজ কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকেরসঙ্গে সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তাদের মধ্যে ২০২২ সালে এফএও'র ৩৬তম এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন বাংলাদেশে আয়োজনের পূর্বপ্রস্তুতি, ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার, কৃষিতে ইনোভেশন ল্যাব, করোনা পরিস্থিতিতে কৃষিক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ এবং কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এসময় কৃষিসচিব মো: নাসিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। কৃষিমন্ত্রী কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ও সহযোগিতার বিষয়ে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহযোগিতা কামনা করেন। ড. রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশে ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার চলমান আছে। দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে চাষযোগ্য অনেক জাত উদ্ভাবন হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো সেচের জন্য ফ্রেশ পানির অভাব। সেজন্য খালগুলো পুন:খনন করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এছাড়া, অপ্রচলিত ফসলের চাষাবাদও বাড়ানো দরকার। এসব ক্ষেত্রে ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচারকে আরও সম্পৃক্ত করতে হবে। এফএও'র বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি. সিম্পসন বলেন, কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় অফিসগুলোর সাথে যোগাযোগ করে সহযোগিতার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষিক্ষেত্রের উদ্ভাবনী বা আইডিয়াগুলো সংরক্ষণ ও শেয়ার করার জন্য 'ইনোভেশন ল্যাব' স্থাপন করা প্রয়োজন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
9
পাল্টা পাল্টি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রোববার নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন একাংশের সভাপতি নাজমুল হাসান নাহিদসহ অন্তত পাঁচজন।এদের মধ্যে নাহিদকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় চারটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার কাউন্সিলের মাধ্যমে আতিক হাসান বিদ্যুৎকে সভাপতি ও শহিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে রবিবার নাজমুল হাসান নাহিদকে সভাপতি ও সিহাব মোহম্মদ সজলকে সাধারণ সম্পাদক করে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রকিবুল হাসান জেমস ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুম। জেলা ছাত্রলীগ ঘোষিত কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ এ অংশের নোতা-কর্মীরা সন্ধ্যায় বাগাতিপাড়া রেলগেট এলাকায় গেলে সেখানে থাকা কাউন্সিলে গঠিত কমিটির নেতা-কর্মীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাগাতিপাড়া থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার জন্য দু'কমিটির নেতারা পরষ্পরকে দায়ী করেছেন।
9
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ট্রাকের ভেতর থেকে চালক ও হেলপারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (২০ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বাঘাবাড়ি এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত চালক শাহাব উদ্দিন (৫০) চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও হেলপার ইলিয়াস (২০) নাটোর জেলার বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তারা নাটোর কিষোয়ান অ্যাগ্রো লিমিটেডর ট্রাকে কর্মরত ছিলেন। শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাজা গোলাম কিবরিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
6
দুই দিন বন্ধ থাকার পর অস্ট্রেলিয়ারসিডনি রাজ্যেরসমুদ্র সৈকত খুলে দেয়া হয়েছে। বুধবার সাদা হাঙরের আক্রমণেএক সাঁতারু মারা যাওয়ার পর কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়েই সব সমুদ্র সৈকতে নামা ও সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ করে সিডনি প্রশাসন। অভিযানে নামে সমু্দ্র নিরাপত্তা বাহিনী। সেই অভিযানে স্পিড বোটের পাশাপাশি হেলিকপ্টার ও ড্রোনও ব্যবহার করা হয়। তবে ভিডিও ফুটেজে দেখা ঘাতক সাদা হাঙরটিকে শনাক্ত করতে পারেনি প্রশাসন। সৈকত খুলে দিলেও তাই সতর্ক অবস্থানে থাকছে নিরাপত্তা বাহিনী। সিডনির রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, হাঙর বিশেষজ্ঞরা নানা দিক পর্যালোচনা করে বলেছেন এটা একটি সাদা হাঙর। ফুটেজ দেখে বোঝা গেছে যার দৈর্ঘ্য কমপক্ষে তিন মিটার হবে। বিডি প্রতিদিন/নাজমুল
3
মন্ত্রী বা দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য বাজার সিন্ডিকেট, মুনাফাখোর ও কালোবাজারিদের উৎসাহী করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজ শনিবার সকালে খাদ্যদ্রব্য ও নিত্যপণ্যের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।হাসানুল হক ইনু বলেন, 'মন্ত্রী বা দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য বাজার সিন্ডিকেট, মুনাফাখোর ও কালোবাজারিদেরই উৎসাহিত করছে। সরকার ও প্রশাসনের নাকের ডগায় বাজার সিন্ডিকেট, কালোবাজারি, মুনাফাখোররা বাজার কারসাজি করে নিত্যপণ্যের লাগামহীন, অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি করছে। সরকারকেই যেকোনো মূল্যে বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিতে হবে।'ইনু আরও বলেন, দেশে নিত্যপণ্য সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, মূল্যস্ফীতি নেই, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই, আন্তর্জাতিক বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি নেই। তারপরও নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক। বাজার সিন্ডিকেট, কালোবাজারি, মুনাফাখোররা কারসাজি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটছে এবং সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।এ সময় তিনি গ্যাস ও পানির দাম না বাড়িয়ে দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করার জন্য শক্ত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।মানববন্ধনে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, 'প্রতিদিন চাল, ডাল, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। আমরা যখন স্বাধীনতার ৫০ বছর, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করছি এবং বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে, ঠিক সে সময় খাবারের জন্য জনগণ হাহাকার করবে এটা মানায় না। দেশে এই সময়ে অনেক উন্নয়ন হচ্ছে সত্য, তবে মানুষকে মেরে ফেলে এই উন্নয়ন কাজে লাগবে বলে মনে হয় না। যারা এই দাম বাড়ানোর সঙ্গে জড়িত, তাদের ধ্বংস করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।'এ সময় তিনি শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।ঢাকা মহানগর জাসদের সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতারের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুর রহমান চুন্নুর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মহানগর জাসদের সহসভাপতি ফজলুর রহমান বাবুল, উম্মে হাসান ঝলমল, জাসদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মিহির প্রমুখ।
9
নিখোঁজের পাঁচ দিনেও সন্ধান মেলেনি আবদুল ওয়াহাব (৪২) নামে এক দিনমজুরের। বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজের ছোট ভাই আবুল খায়ের বাদী হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।আবুল খায়ের জানান, তাঁদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার শিব প্রসাদপুর গ্রামে। গত দুই মাস ধরে ওয়াহাব মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রাব্বি নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করতেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় আবদুল ওয়াহাব রাব্বির মোবাইল ফোন থেকে তাঁর স্ত্রী আসমা আক্তারকে ফোন করে জানান, তিনি বাড়ি আসছেন। তবে গত বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টার দিকে আসমা আক্তারের মোবাইলে একটি কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয় আবদুল ওয়াহাব কারওয়ান বাজার এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। চিকিৎসার জন্য ওই নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়।আবুল খায়ের আরও জানান, ওয়াহাবের স্ত্রী ফোন পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে ৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন ওই নম্বরে। পরে আরও ৩ হাজার ৫০০ টাকা পাঠানো হয়। এরপরেও তাঁর সন্ধান না পাওয়ায় ভাগনে মাজহারুল ইসলামকে কারওয়ান বাজারে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে ওয়াহাবের কোনো সন্ধান না পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা-পুলিশের শরণাপন্ন হন আসমা।আবুল খায়ের আরও জানান, ওয়াহাব নিজে কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। যে নম্বর থেকে টাকা চাওয়া হয়েছে সেটিও গত দুদিন ধরে বন্ধ। এ বিষয়ে তিনি নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ তা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে পূর্বধলা থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পূর্বধলা থানা থেকে বলা হয় ঘটনাস্থল মুন্সিগঞ্জ অথবা কারওয়ান বাজারের আশপাশের থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে হবে। পরে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী (স্থানীয় সাংসদ) আশরাফ আলী খান খসরুর সহায়তায় সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, 'ঘটনাস্থলটি আমার থানা এলাকায় নয়, তাঁরা জোর করে জিডি করিয়েছেন। তবে আমার টিম এ ব্যাপারে কাজ করছে।'নেত্রকোনা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা করছে।
6
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ নিয়ে ফেডারেল তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের শপথ নেওয়ার কথা আগামী ২০ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারের সময়েই বাইডেনের ছেলের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থ পাচার, কর ফাঁকি নিয়ে হান্টার বাইডেন সম্পর্কে অভিযোগ করে আসছিলেন ট্রাম্প। তবে জো বাইডেন এ তদন্তের আওতায় নয় বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে এমন তদন্তের রাজনৈতিক প্রভাবের কথা চিন্তা করে বিচার বিভাগ এ নিয়ে সময় ক্ষেপণ করে। নির্বাচনের ফলাফল চলে আসার পর হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্ত নড়েচড়ে উঠেছে। মার্কিন সরকারের রাজস্ব বিভাগের তদন্ত দল এবং এফবিআই তদন্তকাজে সক্রিয় হয়েছে। ডেলোয়ার রাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস থেকে এমন তদন্ত শুরু হওয়ার কথা হান্টার বাইডেনের আইনজীবী নিজেই জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা সিএনএনকে হান্টার বাইডেন বলেছেন, ট্যাক্সসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার কথা তিনি জেনেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে দেখা যাবে তিনি সবকিছুই আইন মেনে যথাযথ পথেই সম্পন্ন করেছেন। সিএনএন বলছে, হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে একাধিক বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কর আইনের লঙ্ঘন, বিদেশের সঙ্গে বিশেষ করে চীনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। ফক্স নিউজ এক প্রতিবেদনে বলেছে, এখনো এমন তদন্তে কোনো অপরাধ সংগঠিত হয়েছে বলে বলা যাবে না। তবে এফবিআই থেকে পাওয়া নথিপত্র থেকে দেখা যাচ্ছে, তদন্তের আওতায় অর্থপাচার ও বিদেশে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ২০১৮ সাল থেকেই এমন তদন্ত শুরু হয়। ডেলোয়ার রাজ্যে নিজেদের বাড়ির পাশে এক কম্পিউটার মেরামতের দোকান থেকে একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। নির্বাচনের আগেও রহস্যজনক এ ল্যাপটপ আলোচনায় এসেছে। মেরামতের দোকান থেকে পাওয়া ল্যাপটপের তথ্য ট্রাম্পের আইনজীবীদের নজরে আসে প্রথমে। পরে বিষয়টি নিয়ে এফবিআই তদন্ত করে। এ ল্যাপটপে হান্টার বাইডেনের ব্যবসা-বাণিজ্যের গোপন তথ্য পাওয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নানা রাজনৈতিক নাটকীয়তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই ছেলের বিরুদ্ধে এমন অপরাধের তদন্ত জো বাইডেনের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠেছে। যদিও ছেলের কোনো কাজের দায় তাঁর নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে বারবার জো বাইডেনের পুরো পরিবারকে দুর্নীতিবাজ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে চার দশকের বেশি সময় দাপটের সঙ্গে বিচরণ করেছেন জো বাইডেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আট বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ডেলোয়ার রাজ্য থেকে কয়েক দফা সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে জো বাইডেন একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসেবেই সব সময় পরিচিত ছিলেন। তবে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সমর্থকদেরও বিব্রত করে তুলেছে।বাইডেনের ট্রানজিশন টিমের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাঁর ছেলেকে নিয়ে গর্ব বোধ করেন। হান্টার বাইডেন ব্যক্তিগত কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছেন। হান্টার বাইডেনের তদন্তের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুপ থাকবেন, এমন আশা কেউ করে না। ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টের এক মন্তব্য উল্লেখ করে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচনের আগে হান্টার বাইডেনের এমন কর্মকাণ্ডের কথা জানতে পারলে ১০ শতাংশ কম ভোট পেতেন জো বাইডেন। এরপরও নিজেই নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন বলে আবারও বলেছেন তিনি।
3
আট বছর পর বাংলাদেশে এসেছে ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি। সেই ট্রফি নিয়ে হইচইয়ের মাঝে খানিকটা আলো হারিয়েছিল এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশ-বাহরাইন ম্যাচ। রক্ষণাত্মক খেলে হারের পর আড়ালেই চলে গেলেন জামাল ভূঁইয়ারা।এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের 'ই' গ্রুপের চার দলের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে বাহরাইনই মূল পর্বে খেলার সবচেয়ে বড় দাবিদার। ৯৯ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আক্রমণে সাফল্যের আশা ছেড়ে রক্ষণকেই ভরসা মেনে ছিলেন বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। সেই রক্ষণের ছিদ্র খুঁজে বের করে ম্যাচ জিতেছে বাহরাইন। ডি-বক্সের সামনে ১০ ফুটবলারকে রেখেও বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে ২-০ গোলে।রক্ষণাত্মক ফুটবলে ইন্দোনেশিয়াকে তাদের মাটিতেই রুখে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই একাদশটাকেই আজ মাঠে নামিয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। বাহরাইনের বিপক্ষে গোলের আশা নেই দেখে ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিলকেও শুরুর দলেও রাখলেন না কাবরেরা। ফরোয়ার্ডদের ডিফেন্ডার সাজিয়ে ৩৩ মিনিট পর্যন্ত বাহরাইনকে আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ। এরপর প্রবল আক্রমণেই শেষ পর্যন্ত হার মানলেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো।কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই বাহরাইনের একের পর আক্রমণ ঠেকিয়ে গেলেন ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের নায়ক জিকো। প্রথম ৩০ মিনিটে প্রতিপক্ষের বেশ ভালো চারটি আক্রমণ প্রতিহত করেছেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক। ১১ মিনিটে কর্নার থেকে মোহাম্মদ বেনাদ্দির শট ঝাঁপিয়ে ফেরান জিকো।১৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া রহমান আল মালোদের শটও ফেরান তিনি। ২৪ মিনিটে আব্দুল্লাহ হারামের দূরপাল্লার শটও প্রতিহত হয় জিকোর ফিস্টে।জিকোর সব চেষ্টাই বিফলে গেছে বাহরাইনের ৮ মিনিটের মধ্যে দুই গোলে। ৩৪ মিনিটে কোমাইল হাসানের কর্নারে দারুণ হেডে জাল খুঁজে নেন আব্দুল্লাহ হারাম। ৪২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে কোমাইলের হাসানের গতিময় শট ঝাঁপিয়েও নাগালে পাননি জিকো।ব্যবধানটা বড় হতে পারত বিরতির পরও। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১০ মিনিটে আরও দুবার বাহরাইনকে হতাশ করেছেন জিকো। ৫৫ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ বক্সে ঢুকেও জিকোকে পরাস্ত করতে পারেননি বাহরাইন ডিফেন্ডার রাশেদ আলহুতি। শেষ দিকে বাহরাইনের আরেকটি ভালো সুযোগ আটকে ব্যবধানটাকে আর বড় করতে দেননি জিকো। গ্রুপে দ্বিতীয় ম্যাচে শনিবার তুর্কমিনিস্তান বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
12
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৯৮ জনে। এ সময় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬১৪ জন। নতুন পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার (প্রতি একশ' জনে) ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৩ জন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) মোট ২৪ হাজার ৯৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৭০৪ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই ৫৮ জন। এছাড়া খুলনায় ৩৮, চট্টগ্রামে ৩২, রাজশাহীতে ১১, বরিশালে ৮, সিলেটে ৬, রংপুরে ১৬ এবং ময়মনসিংহে ৪ জন মারা গেছেন। প্রসঙ্গত, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
6
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলাকে গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার যে হুমকি দিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তিনি বলেছেন, ভেনিজুয়েলার সমুদ্রসীমা আগের মতোই 'অবাধ ও স্বাধীন' থাকবে। শুক্রবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, "একটি স্বাধীন দেশকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার হুমকি দেওয়ার অধিকার তাকে কে দিয়েছে? এটি সম্পূর্ণভাই বেআইনি।" ভেনিজুয়েলায় গত বছর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে মাদুরোকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেইসঙ্গে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, ভেনিজুয়েলাকে গোটা বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভেনিজুয়েলার মাদুরো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেশটিকে অবরুদ্ধ করতে চান তিনি। এ সময় তিনি দেশটির সঙ্গে গোটা বিশ্বের সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রেরও ইঙ্গিত দেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিল শুরু হয়েছে।পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে রোববার সকাল ৯টায় মাহফিল শুরু হয়। কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তরের সমমান দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা 'হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ'র ব্যানারে এই শোকরানা মাহফিল হচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হেফাজতে ইসলামের আমির ও আল হাইয়াতুল উলা লিল জামিয়াতুল কওমিয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে চলমান শোকরানা মাহফিলে যোগ দিতে কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীরা ভোর থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন। এতে কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে উদ্যান এলাকা। হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী সমকালকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্বীকৃতি দিয়ে কওমি মাদ্রাসার লাখো শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি পূরণ করেছেন। মাহফিল থেকে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হবে। আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, মাহফিল থেকে তিনটি দাবি জানানো হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এগুলো হলো কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা, আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও 'ইসলামবিরোধী' শক্তিকে প্রতিহত করা। এদিকে, এ অনুষ্ঠানের কারণে চলমান জেএসসি ও জেডিসির রোববারের পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মাহফিলের কারণেই এ সিদ্ধান্ত। এছাড়া এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশের সড়কে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দীর্ঘ চার দশক দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতি দাবি করছেন কওমির শিক্ষার্থীরা। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় এ দাবিতে তারা রাজপথে নামেন। তবে বিএনপি দাবি পূরণ করেনি। ক্ষমতা ছাড়ার কয়েক দিন আগে ২০০৬ সালের অক্টোবরে স্বীকৃতির প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু আইন না করায় তা কার্যকর হয়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কওমি শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিতে ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান করে কমিশন করে। পরের বছর ২০১৩ সালে হেফাজতের ১৩ দফা নিয়ে সরকারের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বছরের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় সম্পর্কের আরও অবনতি হয়। আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর স্বীকৃতির বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। গত বছরের এপ্রিলে স্বীকৃতির প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। দাওরায়ে হাদিসকে আরবি সাহিত্য ও ইসলাম শিক্ষায় মাস্টার্সের সমমান দিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে আইন পাস হয়। আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান করে গঠিত আল হাইয়াতুল উলা লিল জামিয়াতুল কওমিয়ার অধীনে সনদ দেওয়া হবে।
6
পূর্ব মহিপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনের মহিপুর শেখ হাসিনা সেতুর পাশে চরের দুই একরের মিষ্টি কুমড়ার খেত বন্যায় নষ্ট হয়ে যায়। নতুন করে বাঁচার তাগিদে স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে ফের রোপণ করেন মিষ্টি কুমড়ার বীজ। এক সময় সবুজে ভরে উঠে তিস্তার চর। গাছ জুড়ে ফল আসে। কিন্তু মিষ্টি কুমড়ার খেতে মোজাইক ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দেওয়ায় খেত রক্ষায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আবুল। বাজারে প্রচলিত কীটনাশক দিয়ে এ রোগ দমন হচ্ছে না।সরেজমিনে তিস্তার বিভিন্ন চর ঘুরে অন্তত ১০ জন মিষ্টি কুমড়া চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাছে ফুল ও ফল ধরার পর এ রোগ খেতে ছড়িয়ে পড়ে। এ ভাইরাস আক্রান্তের ফলে মিষ্টি কুমড়ার গাছের পাতায় ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত পাতায় হলদে বর্ণের দাগ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে পাতার আকার ছোট ও অনিয়মিত হয়ে যায়। কচিপাতা সরু হয়ে কুঁকড়ে যায় এবং খসখসে হয়ে যায়।তিস্তার চর ছালাপাকে কথা হয় কৃষক সহিদার রহমানের সঙ্গে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, 'বাবা, মুই এবার ফকির। আড়াই একর জমির কুমড়া এক দিনের বন্যাত ভাসি গেইছে। ফের ধারদেনা করি ওই জমিত কুমড়া নাগাছনু। গাছ দেখি মনে হছলো এবার ভালোই লাভ হইবে। কিন্তু ফল ধরার সময় রোগ ধরি গাছে পাতা কোঁকড়া নাগি শুঁকি যাওছে। ওষুধ দিয়াও কাম হওচে না।'গান্নারপার চরে কথা হয় বর্গাচাষি ইউসুফ আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁরও তিন একর জমির মিষ্টি কুমড়ার খেত বন্যায় বালুচাপা পড়ে। নদীর পানি নেমে গেলে পোষা দুটি গরু বিক্রি করে এক লাখ টাকায় সেই জমিতে ফের কুমড়ার চাষ শুরু করেন। খেতের অধিকাংশ গাছেই কুমড়া ধরে। সেই কুমড়া খেতজুড়ে এখন মোজাইক ভাইরাসের হানা। কয়েক দফা কীটনাশক প্রয়োগ করেও এ রোগ দমন করতে পারছেন না তিনি।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় নোহালী, কোলকন্দ, সিংগীমারী, গান্নারপার চর, লক্ষ্মীটারী, চর ছালাপাকসহ বেশ কয়েকটি চরে মোট ১১৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। মোজাইক ভাইরাসটি সাধারণত বীজ থেকে ছড়ায়। লিফ হপারস বা ছোট আকৃতির ফড়িং এই রোগ ছড়াতে সাহায্য করে। জাব পোকা এ রোগের অন্যতম বাহক।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'রোগ দমনে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। রোগমুক্ত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ ও আক্রান্ত গাছ খেত থেকে তুলে ফেললে এ রোগ অনেকটাই দমন হয়। এটি ভাইরাসজনিত রোগ। কৃষি শ্রমিক, খেতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম দ্বারাও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই কৃষকদের সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।'
6
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য আহত হয়েছেন পরে হেলমেট পরিয়ে লেখককে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। অপরাজেয় বাংলায় মঞ্চ স্থাপন করে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা দুইটার দিকে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই দাঁড়ানোর জায়গা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রলীগ এবং ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে উদ্বোধনীর পর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয় ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা, সামনে অবস্থান নেন বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা মঞ্চের সামনে কবি জসীমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রলীগ ও ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পাশাপাশি অবস্থান নিয়েছিলেন। এ সময় অনুষ্ঠানে দাঁড়ানোর জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা পরস্পরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। তখন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সংঘর্ষ থামাতে মঞ্চ থেকে নিচে নামেন এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল-ছোড়াছুড়িতে লেখকসহ কবি জসীমউদদীন হল শাখা ছাত্রলীগের ৮-১০ জন নেতা-কর্মী আহত হন। পরে ছাত্রলীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা লেখক ভট্টাচার্যকে হেলমেট পরিয়ে গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন। ছাত্রলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আহত লেখক ভট্টাচার্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন তাঁর মাথায় সেলাইও পড়েছে পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে বিশ্রাম নিতে যান। এ বিষয়ে জানতে লেখক ভট্টাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল জব্বার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, লেখক ভট্টাচার্য সামান্য আঘাত পেয়েছেন। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে এদিকে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন সংগঠনের সাবেক কয়েকজন নেতা
9
বলিউডে ভৌতিক ঘরাণার জনপ্রিয় ছবি 'ভুল ভুলাইয়া'। আজও বলিউডপ্রেমীদের প্রিয়দর্শন পরিচালিত এ ছবিটি সমানভাবে মুগ্ধ করে। বিদ্যা বালান ও অক্ষয় কুমারের অনবদ্য অভিনয় ছবিটি অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাই ছবিটির সিক্যুয়েল কেমন হবে তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ছবিটি বক্স অফিসে বাজিমাত করেছে। দর্শকরাও ছবিটি পছন্দ করেছেন। এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন কার্তিক আরিয়ান, টাবু ও কিয়ারা আদভানি। 'ভুল ভুলাইয়া' ছবির একটি গান বেশ নজর কেড়েছিল। শ্রেয়া ঘোষাল ও এম জে শ্রীকুমারের গাওয়া 'আমি যে তোমার' শিরোনামের সেই গানে নেচেছিলেন বিদ্যা বালান। তার সঙ্গে ছিলেন ভিনিথ বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
2
শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথার জবাবে আজ রবিবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতির আহবান জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, "আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ভয় পায় না। আওয়ামী লীগ জনগণকে সাথে নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। আওয়ামী লীগ কি ভয় পাওয়ার দল। ভয় আপনাদেরই পেতে হবে। এসব বাদ দিয়ে আগামী নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিন।" বিডি-প্রতিদিন/৬ নভেম্বর, ২০১৬/তাফসীর-১৮
6
ঈদের আগে ট্রেন চালানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নির্দেশনা পেলে যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালানো যায় সে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী পরিবহন, শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রিসহ প্রতিটি ট্রেন ও স্টেশনে জীবাণুনাশকের ব্যবস্থা করা হবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন নিয়ে সন্দিহান খোদ রেল কর্মকর্তারাই। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা এখনও আসেনি। যখন আসবে তখন সেগুলো আমরা মানবো। ট্রেনতো সবই প্রস্তুত আছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন বলেন, জাতীয় কমিটি থেকে যে নির্দেশনাগুলো আছে সেগুলো সব মানার চেষ্টা করা হবে। সীমিত কয়েকটি ট্রেন চালু করা হতে পারে, যার টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনে। এক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী বসা, প্রতিটি স্টেশনে তাপমাত্রা পরীক্ষাসহ নানা প্রস্তুতি নিয়েছে রেলওয়ের, তবে কর্মকর্তারা বলছেন ট্রেন চলাচল শুরু হলে স্বাস্থ্যবিধি মানা প্রায় অসম্ভব। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, নির্দেশনায় যা বলা আছে সেগুলো মানার চেষ্টা করব। প্রতিদিন ৯৪টি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
9
দেশে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীদের চেয়ে ছাত্রদের ড্রপ-আউটের (ঝরে পড়া) হার বাড়ছে। ২০১২ সালে এ হার ছিল ৩৪.০৯ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১ শতাংশে। এর বিপরীতে ছাত্রীদের ড্রপ আউটের হার কমেছে। উল্লিখিত সময়ে মেয়েদের হার ছিল ৫২ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে তা দাঁড়ায় ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশে। প্রতি বছরই ছাত্রদের ড্রপ আউটের হার বৃদ্ধিকে আশংকাজনক মনে করছেন খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাই। তবে, কেন এই ড্রপআউট বাড়ছে, এর সঠিক কোন কারণ তাদের জানা নেই। তারা মনে করেন, উপবৃত্তির হার ছাত্রের চাইতে ছাত্রীরা বেশী পাচ্ছেন। এ কারনেই হয়তোবা ছাত্রীদের ঝরে পড়ার হার কমতে পারে। রোববার শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) আয়োজিত এ'সংক্রান্ত কর্মশালায় ২০১৮ সালের বার্ষিক শিক্ষা জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। কর্মশালায় জরিপ প্রতিবেদন তুলে ধরেন ব্যানবেইসের বিশেষজ্ঞ শেখ মো. আলমগীর। ব্যানবেইস-এর মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ্র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এবং করিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর সহ অন্যান্য আলোচক। শিক্ষা জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে চাঁদপুর ও ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলায় সর্বাধিক সংখ্যক ৫৯ শতাংশ ছাত্রী শিক্ষায় যুক্ত। সবচেয়ে কম হচ্ছে টাঙ্গাইল জেলায় ৫০ শতাংশ। সারাদেশে ৫৪ শতাংশ ছাত্রী শিক্ষায় যুক্ত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শ্রেণী কক্ষে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার পরিসংখ্যানে অনুপস্থিত শিক্ষকদের তথ্য থাকা দরকার ছিল। শিক্ষা বিষয়ক তথ্য সঠিকভাবে সন্নিবেশ করা, তথ্যের বিশ্লেষণ এবং সঠিক কাজে লাগানোর মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব। নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তথ্যকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান অর্জন নয়, নৈতিকতা, আদর্শসহ পরিপূর্ণ মানুষ হওয়া। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, জীবন-যাপন পদ্ধতি নিয়ে হীনমন্যতার কোন কারন নেই। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থারও সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। শিক্ষার উন্নয়নে সঠিকভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, অনেকেই শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা বলেন। কিন্তু পরিসংখ্যানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতিমালা করতে হবে। তবেই মান সম্পন্ন শিক্ষার নিশ্চয়তা পাওয়া সম্ভব হবে।
9
দেশে করোনায় মৃত্যু আগের দিনের চেয়ে কমলেও শনাক্ত বেড়েই চলছে। মহামারী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময় শনাক্ত হয়েছে আরো ১৩ হাজার ৫০১ জন। এ পর্যন্ত দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৩৯৪ জনে। এর আগে রোববার করোনায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ হাজার ৩৫৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৮৩৩ জনে পৌঁছেছে। এসময় শনাক্তের হার ২৯.৭৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মোট মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫৮ শতাংশ। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরো দুই হাজার ৫৬৮ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার ২১৩ জনে। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।সূত্র : ইউএনবি
6
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শূন্য পদসমূহে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক ও মাদ্রাসা পরিদর্শক পদে নিয়োগের লক্ষ্য এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। পদের নাম: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক-১টি।শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর।বেতন স্কেল: ৫৬,৫০০-৭৪,৪০০ টাকা।পদের নাম: পরিচালক (অর্থ ও হিসাব)-১টি।শিক্ষাগত যোগ্যতা: অর্থনীতি/বাণিজ্য/ব্যবসায় প্রশাসনের যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর। বেতন স্কেল: ৫৬,৫০০-৭৪,৪০০ টাকা।পদের নাম: পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন)-১টি।শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর।বেতন স্কেল: ৫৬,৫০০-৭৪,৪০০ টাকা। পদের নাম: মাদ্রাসা পরিদর্শক-১টি।শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর।বেতন স্কেল: ৫৬,৫০০-৭৪,৪০০ টাকা।আবেদনের শেষ সময়২৯ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।আবেদনের নিয়মআগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে ://... ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
1
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে প্রথমবার পাঁচ ম্যাচের কোন সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে অস্ট্রেলিয়া পুরো ২০ ওভার খেলে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রান করে। ফলে বাংলাদেশ পায় ১০ রানের জয়। তাছাড়া অজিদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুটি সিরিজে জয় পেয়েছে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা। ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া জিতবে না, বাংলাদেশ জিতবে? এ প্রশ্ন সকল দর্শকের মনে এসেছে একটু পর পর। ম্যাচটির মাঝের সময় ম্যাচ বাংলাদেশের হাত থেকে বলতে গেলে ফসকে যায়। কিন্তু মোস্তাফিজ তার শেষ দুই ওভারে ম্যাচ বাংলাদেশের করে ফেলেন। ১৯তম ওভারে মোস্তাফিজ মাত্র এক রান দেন। শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ২২ রান। সেখানে বোলার মাহাদি হাসান মাত্র ১১ রান দেন। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে শুক্রবার তৃতীয় ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগে হানা দেয় বৃষ্টি। নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ বৃষ্টির কারণে ৭৫ মিনিট পরে শুরু হয়। টস জিতে মন্থর উইকেটে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আগের দুই ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়া অজিরা গতকাল সিরিজে ফিরতে দলে তিন পরিবর্তন আনেন। অধিনায়ক রিয়াদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান সংগ্রহ করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি। শুরুতেই অজি বোলারদের চাপের মুখে পড়ে টাইগাররা। দলীয় ৩ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও নাঈম শেখ। এরপর ক্রিজে আসা সাকিব আল হাসান ও আফিফ হোসেন ম্যাচের হাল ধরেন। তবে প্রথম দুই ম্যাচের মতো ইনিংস বড় করতে পারেননি সাকিব। তিনি ১৭ বলে ২৬ রান করে অ্যাডাম জাম্পার বলে অ্যাস্টন অ্যাগারের হাতে তালুবন্দি হয়ে মাঠ ছাড়েন। সাকিবের পর আফিফ রান আউট হয়ে ফেরেন। অ্যালেক্সক্যারির সরাসরি থ্রোতে আউট হন। আউট হওয়ার আগে আফিফের ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। অপরদিকে এক প্রান্ত আগলে ধরে রাখেন টাইগার অধিনায়ক। মাহমুদউল্লাহরিয়াদ অবশ্য প্রায় পুরো ইনিংসজুড়েই ক্রিজে ছিলেন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ক্রিজে এসে ছিলেন শেষ ওভারেও। তবে তার কাজটা কতটা ঠিকঠাক করতে পেরেছেন তা নিয়ে হয়তো প্রশ্ন উঠতে পারে।
12
বরগুনার তালতলীর সোনাকাটা ইউনিয়নে জেলা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে নৌকার প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।সোনাকাটা ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন এমন অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন সোনাকাটা ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সুলতান ফরাজি।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৫ জুন উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হবে। এই নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. সুলতান ফরাজী নৌকার প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন। গত ১ জুন বড় আমখোলা এলাকায় নৌকার প্রচার করতে যান। সেখানে প্রতিপক্ষ আনারস প্রতীকের প্রার্থী ফরাজী ইউনুচের বেয়াইয়ের ছেলে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য গোলাম রাব্বানী ডানিয়ালসহ ৪০-৫০ জন প্রচারে বাধা দেন। ছাত্রলীগের এই নেতা প্রচার-প্রচারণা না চালিয়ে তাঁদের চলে যেতে বলেন। শুধু তাই নয়, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের এইনেতা বহিরাগতদের নিয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি আনারস প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতার প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সুলতান ফরাজী বলেন, 'আমার প্রতিপক্ষ আনারস মার্কার প্রার্থী ইউনুস ফরাজী নির্বাচনের শুরু থেকেই বহিরাগতদের দিয়ে আমার কর্মীদের হুমকি দিয়ে আসছে। এই গোলাম রব্বানী ডানিয়েল ইউনুচ ফরাজীর বেয়াইয়ের ছেলে এবং তার বাসা বরগুনা সদরে। সে তার বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমার নির্বাচনে বাধা দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে আমি রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।'অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনারস প্রতীকের প্রার্থী ফরাজী মো. ইউনুস বলেন, 'ছাত্রলীগের নেতা গোলাম রাব্বানী ডানিয়েল আমার বাসায় আছেন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।'সংগঠনের নেতা বিএনপির নেতার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক বলেন, 'নৌকা প্রতীকের প্রার্থী যদি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'সোনাকাটা ও নিশানবাড়িয়া রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'এ বিষয়ে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনও ও থানায় পাঠানো হয়েছে।'
6
আত্মহত্যার আগে মাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন সুশান্ত সিংহ রাজপুত। তিনি ১৭ বছর ধরে মায়ের স্মৃতি আঁকড়ে ধরেছিলেন। আর সুশানন্তের মৃত্যুর পর নিজের সমস্ত আবেগ উজাড় করে দেয়া সামাজিক মাধ্যমে তার পোস্টটিই যেন এখন সবার চোখে ভাসছে। কৈশোরে মাকে হারিয়েছিলেন সুশান্ত। তারকা হয়ে যাওয়ার পরেও সেই আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। একাধিক বার সংবাদমাধ্যমে নিজেই সে কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রায়শই সামাজিক মাধ্যমে মাকে নিয়ে পোস্টও করতেন তিনি। বুধবার (৩ জুন) ইনস্টাগ্রামে শেষ পোস্টটিও মাকে নিয়েই করেন সুশান্ত। মায়ের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, চোখের জলে ঝাপসা হচ্ছে স্মৃতিগুলো /অথচ স্বপ্নের নিরন্তর আনাগোনা স্মিত হাসির মতো ঠোঁটে লেগে থাকে /বহমান জীবন, এই দুইয়ের সঙ্গে বোঝাপড়ামা। সুশান্তের আত্মহত্যার কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে জানা যায়, সুশান্তে দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ভাবে বেশ অবসাদে ভুগছিলেন। ২০১৭ সালে টুইটারে মায়ের উদ্দেশে হাতে লেখা একটি চিঠি পোস্ট করে তিনি লেখেন, চিরকাল আমার সঙ্গে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে, আমিও কথা দিয়েছিলাম, যাই হোক না কেন মুখে হাসি ধরে রাখব। মনে হচ্ছে আমরা দু'জনেই ভুল ছিলাম মা।
2
সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আজ বৃহস্পতিবার। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ। ইতিমধ্যে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মাঝে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি শঙ্কাও কাজ করছে। প্রতিটি ইউপিতে নৌকার প্রার্থীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।হবিগঞ্জ: আজমিরীগঞ্জের পাঁচটি ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইতিমধ্যে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যের পাশাপাশি মাঠে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক আনসার ও পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের পাশাপাশি প্রতিটি ইউপিতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে একটি করে মোবাইল টিম কাজ করবে। পাশাপাশি র্যাবের একাধিক টিম নির্বাচনের মাঠে টহলে থাকবে। প্রয়োজনে বিজিবিকে মাঠে নামানো হবে।আজমিরীগঞ্জের পাঁচটি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ জন। এ ছাড়া সাধারণ ওয়ার্ডে ৪৫টির বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৪ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ১৫টির বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬০ জন।মোট ভোটকেন্দ্র ৪৮টি ও ভোটকক্ষের সংখ্যা ১৯১টি। এর মধ্যে অস্থায়ী ভোটারের সংখ্যা ২০টি। এসব ইউপিতে মোট ভোটারসংখ্যা ৭৪ হাজার ৯৯৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৩৭ হাজার ৭৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ৩৭ হাজার ৯১৯ জন।এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, 'প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।'সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ১৯ ইউপিতে ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচন কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে থাকবে। ভোটকেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি থাকবে আনসার সদস্যও।সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোরাদ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, 'অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিচারে জুডিশিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। দুই উপজেলার ১৯ ইউপিতে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।'দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১ জন প্রার্থী। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০৮ প্রার্থী এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩৫৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৮২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার সংখ্যা ৮৩ হাজার ৫৫৬ জন, পুরুষ ভোটার ৮৫ হাজার ৫৪০ জন।ছাতক উপজেলার ১০টি ইউপিতে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১০৯টি। ১০ ইউপিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ৫১ জন। সংরক্ষিত নারী ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৭৪ জন ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। ছাতক উপজেলার ১০ ইউপিতে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৮৫ জন ভোটার রয়েছে।
6
বাংলাদেশসহ ৯৫টি দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোকে নিজেদের তৈরি করোনার ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে ফাইজার। এ বিষয়ে মঙ্গলবার জাতিসংঘ সমর্থিত গ্রপ মেডিসিনস প্যাটেন্ট পুলের (এমপিপি) সঙ্গে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্টদের চুক্তি হয়েছে। এতে নির্ধারিত দেশগুলোকে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ফাইজারের তৈরি অ্যান্টিভাইরাল প্যাক্সলোভিড উৎপাদনের লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে ফাইজার জানিয়েছে, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের পাশাপাশি সাব-সাহারান অঞ্চলের কিছু উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং গত পাঁচ বছরের মধ্যে নিম্ন-মধ্যম আয় থেকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে- এমন ৯৫টি দেশ তাদের তৈরি করোনার ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি পাবে। চুক্তি অনুসারে, দরিদ্র দেশগুলোতে করোনার ওষুধ বিক্রি থেকে কোনো অর্থ নেবে না ফাইজার। এমনকি চুক্তির আওতায় থাকা অন্য দেশগুলোতে ওষুধ বিক্রির লভ্যাংশও ছেড়ে দিচ্ছে তারা। ফাইজার-এমপিপির চুক্তি অনুসারে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে করোনার ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে জেনেভাভিত্তিক গ্রুপ এমপিপির সঙ্গে একই ধরনের চুক্তির আওতায় মার্কের তৈরি করোনার ওষুধ মলনুপিরাভির তৈরির লাইসেন্স পেয়েছিল বাংলাদেশসহ ১০৫টি দেশ।
6
গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রাক-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে লেগুনার ১১ যাত্রী আহত হয়েছেন। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শ্রীপুর-মাওনা সড়কের মাওনা হাইওয়ে থানার প্রধান ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক কে এম নাজমুল আহসান জানান, গুরুতর আহত মৌসুমি আক্তার, লিপি আক্তার, বিবি হাজেরা এবং হোসাইনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান, মাওনাগামী ট্রাকের সাথে শ্রীপুরগামী যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে লেগুনার সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় লেগুনার ১১ যাত্রী আহত হয়। ট্রাক চালক টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার পারপুষিয়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে শাহাদাত হোসেনকে (৩০) আটক করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাক এবং দুর্ঘটনা কবলিত লেগুনা মাওনা হাইওয়ে থানা হেফাজতে রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর
6
'জালালাবাদের পাহাড়েতে রক্তে লিখেছি কত নাম, চট্টগ্রাম, বীর চট্টগ্রাম।' ব্রিটিশবিরোধী লড়াই-সংগ্রামের অগ্নিযুগের বীরপুরুষ মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের বীর সন্তানেরা পরাক্রমশালী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ১৯৩০ সালে। দেশপ্রেমের বীরত্বপূর্ণ সেই আত্মত্যাগের নজির দেশ ও জাতির জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল বীর চট্টলা। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে সেনা-জনতা সম্মিলিতভাবে ঘটিয়েছিল প্রায় অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি।১৯৩০ সালের ১৮ থেকে ২১ এপ্রিল-তিন দিন চট্টগ্রাম ছিল স্বাধীন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত। চট্টগ্রামে ওই তিন দিন ব্রিটিশের পতাকার পরিবর্তে উড়েছিল স্বাধীন ভারতবর্ষের পতাকা। একইভাবে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ-পরবর্তী তিন দিন হানাদার পাকিস্তানি জান্তামুক্ত ছিল চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের সর্বত্র উড়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রসংবলিত জাতীয় পতাকা। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নিশ্চয় ঘটে না। কিন্তু চট্টগ্রামের ইতিহাসে এ দুই পর্বের ঘটনার যোগসূত্র অস্বীকারও করা যাবে না। জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের দুই পর্বের সাদৃশ্য চট্টগ্রামের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি আমাদের ভূখণ্ডের জন্যও।একাত্তরের মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে অবাঙালি-বিহারি অধ্যুষিত পাহাড়তলীর ওয়্যারলেস কলোনি, শেরশাহ কলোনি ও ফিরোজশাহ কলোনির অবাঙালিদের বাঙালিবিরোধী নির্মম তাণ্ডবে স্থানীয় বাঙালিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা-সমর্থনে, এমনকি অস্ত্র জোগানের মাধ্যমে অবাঙালি বিহারিদের দৌরাত্ম্যের সীমা-পরিসীমা ছিল না। কৈবল্যধাম মন্দিরসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বেপরোয়া হামলা-লুণ্ঠন চালায় তারা। ২ ও ৩ মার্চ রেলওয়ে কলোনি, ওয়্যারলেস কলোনি এবং শেরশাহ কলোনি এলাকায় চট্টগ্রামের সামরিক প্রশাসক কর্নেল ফাতেমির নেতৃত্বে পাঞ্জাবি ও পাঠান সেনারা এবং অবাঙালি বিহারিরা যৌথভাবে বাঙালিদের আবাসে-স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, নারী-শিশুনির্বিশেষে বাঙালিদের হত্যা করে। চট্টগ্রামে মার্চের শুরু থেকেই ঘটতে থাকে এমনি নানা অঘটন।অসহযোগ আন্দোলন, হরতাল-অবরোধে বিস্ফোরণোন্মুখ চট্টগ্রামে গঠিত হয় 'চট্টগ্রাম সংগ্রাম পরিষদ'। স্বাধীনতার জন্য চট্টগ্রাম কলেজ ও মেডিকেল কলেজে শুরু হয় রাজনৈতিক দীক্ষা ও অস্ত্রের প্রশিক্ষণ। অগণিত ছাত্র-শ্রমিক-জনতা প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রশিক্ষণ হয় আগ্রাবাদ স্কুল মাঠে, কলোনি মাঠে, জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর প্রাঙ্গণে। নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত চট্টগ্রাম সংগ্রাম পরিষদের আদেশ-নির্দেশেই একাত্তরের মার্চের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে চট্টগ্রামের পুরো প্রশাসন পরিচালিত হয়েছিল। পাকিস্তানি সামরিক সরকারের ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ-ভূমিকা ছিল না।১৯৭১-এর ২৫ মার্চের কালরাতে সেনানিবাস, ইপিআর, পুলিশ লাইনসসহ দেশজুড়ে পাকিস্তানি হানাদারেরা শুরু করে নারকীয় গণহত্যা। নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালি সেনা, ইপিআর ও পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ন্যায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসেও চালিয়েছিল একই কায়দায় গণহত্যা। প্রকৃতপক্ষে মার্চের শুরুতেই চট্টগ্রামে এমভি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র নামানোকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ-প্রতিরোধ। ২ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত সর্বস্তরের জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধে এমভি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করা সম্ভব হয়নি। বন্দরে নোঙর করা এমভি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের বিরুদ্ধে স্থানীয় ছাত্র-জনতা চট্টগ্রাম রেডিও অফিস থেকে দেওয়ানহাট মোড়সহ বন্দরে আসা-যাওয়ার সব পথে ব্যারিকেড গড়ে তুলেছিল। জনতার সুকঠিন বেষ্টনী ভেদ করে সোয়াত জাহাজের অস্ত্র স্থানীয় অস্ত্রাগারে এবং ঢাকার সেনানিবাসে নেওয়া সংগত কারণেই সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক সংঘের তৎকালীন সভাপতি এম আর সিদ্দিকীসহ জহুর আহমেদ চৌধুরী, এম এ হান্নান প্রমুখ অস্ত্র খালাসের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন।২৫ মার্চ রাতে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ঘুমন্ত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণে হতবিহ্বল বাঙালি সেনারা ঝাঁকে ঝাঁকে গুলির মুখে আত্মরক্ষার্থে ক্রলিং করে কেউ অস্ত্র নিয়ে, কেউবা অস্ত্র ছাড়াই রাতের অন্ধকারে পশ্চিমের পাহাড়-জঙ্গল ডিঙিয়ে বহু কষ্টে মিরসরাই-সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন লোকালয়ে এসে আশ্রয় নেয় এবং স্থানীয় জনগণের কাছে ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করে। স্থানীয় মানুষ তাদের আশ্রয়, খাবার ও বিশ্রামের বন্দোবস্তে পূর্ণ সহায়তা করে। লোকমুখে নৃশংস ঘটনার সংবাদ মিরসরাই-সীতাকুণ্ড এলাকার সর্বত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পাওয়া বাঙালি সেনাসদস্যরা স্থানীয়দের মাধ্যমে সংগঠিত হতে থাকেন। ওদিকে হালিশহর ইপিআর ক্যাম্পের সদস্যরা এবং সেনানিবাস থেকে ট্যাংকের গোলা ও গুলির মুখ থেকে বেঁচে পালিয়ে আসা সেনাদের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় চট্টগ্রাম সংগ্রাম পরিষদ। জাতীয়-প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্যরা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও ছাত্র-জনতার সম্মিলিত অংশগ্রহণে তখন চট্টগ্রাম ছিল সম্পূর্ণরূপে হানাদারমুক্ত। চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানি হানাদারেরা নিতে পারেনি। সেনানিবাসে অবরুদ্ধ থেকেছে। একইভাবে অবরুদ্ধ অবস্থায় বিহারি অধ্যুষিত ফিরোজশাহ কলোনি, শেরশাহ কলোনি ও ওয়্যারলেস কলোনিতে বসবাসকারী অবাঙালি বিহারিরাও। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে দুপুরে এবং কালুরঘাট বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে শেষ বিকেলে স্বাধীনতা ঘোষণা বিপন্ন দেশ-জাতিকে উজ্জীবিত ও নতুন পথের দিশা দিয়েছিল। বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে সর্বস্তরের জনগণকে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে লালদীঘি ময়দানে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানালেও; পরে অপর এক ঘোষণায় তা বাতিল করে দেওয়া হয়।২৬ থেকে ২৮ মার্চ দুপুর পর্যন্ত সারা চট্টগ্রাম ছিল হানাদার পাকিস্তানি নিয়ন্ত্রণমুক্ত। চারদিকে চলছিল প্রতিরোধযুদ্ধের প্রস্তুতি। ২৮ মার্চ ঢাকা ট্রাঙ্ক রোড ধরে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে আগত বিশাল সাঁজোয়া পাকিস্তানি বাহিনীর আগমনের সংবাদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। শুভপুর ব্রিজ থেকে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন স্থানে এবং সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, জোড়া-আমতল, মাদামবিবির হাট, ভাটিয়ারী, ফৌজদারহাট, নিউ পতেঙ্গা, পাকিস্তান বাজার, দক্ষিণ সলিমপুরের ঢাকা ট্রাঙ্ক রোডের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের সুবিধাজনক স্থানে সেনা ও ইপিআর জোয়ানদের সমন্বয়ে প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেওয়া দলগুলো তাদের পরিমিত গুলি ও হালকা অস্ত্র নিয়ে নিশ্চিত মৃত্যু উপেক্ষা করে কুমিল্লা থেকে আগত পাকিস্তানি বিশাল সাঁজোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে বীর বিক্রমে লড়াই করেছিল। বিশাল সাঁজোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে মাত্র এক-দুই ঘণ্টার বেশি তারা টিকতে পারেনি, পারা সম্ভবও ছিল না। প্রতিরোধযুদ্ধ ত্যাগে সেদিন একজনেরও আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে যাওয়ার নজির দেখা যায়নি। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করে আত্মদান করেছিলেন দেশপ্রেমিক প্রতিরোধ যোদ্ধারা। হানাদার বাহিনী যেসব স্থানে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে সেই সমস্ত এলাকা নির্বিচারে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়েছিল। প্রতিরোধযুদ্ধের বাধা অতিক্রম করে কুমিল্লা থেকে আগত সাঁজোয়া পাকিস্তানি বাহিনী সন্ধ্যার আগেই চট্টগ্রাম শহরে ঢুকে পড়ে এবং ওই দিনই তিন দিনের পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত স্বাধীন চট্টগ্রামের পতন ঘটে।পাকিস্তানি হানাদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় স্বাধীন চট্টগ্রাম। ভীতসন্ত্রস্ত শহরের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সমুদ্রের তীর, গ্রামের মেঠোপথ ধরে হেঁটে আত্মরক্ষার্থে শহর ছেড়ে শহরতলি ও গ্রাম অভিমুখে কাফেলার ন্যায় ছুটে আসে। গ্রামগুলো অপরিচিত লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। স্থানীয়রা যে যার সাধ্যানুযায়ী তাদের সাহায্য-সহযোগিতাসহ আশ্রয় প্রদান করে। সে বছর টমেটো ও কহির মাত্রাতিরিক্ত ফলনের কারণে মানুষের প্রাণ রক্ষা সহজ হয়েছিল। ভাতের সঙ্গে টমেটোর ঝোল এবং ভাজি-নিরামিষ দুর্গত মানুষের খাদ্যতালিকায় ছিল একমাত্র বস্তু। চট্টগ্রাম শহর নিয়ন্ত্রণের পরই হানাদার বাহিনী নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। পথঘাট ও পাকিস্তানবিরোধীদের এবং সংখ্যালঘুদের খুঁজে খুঁজে চিনিয়ে দেওয়ার ঘৃণিত কাজে যুক্ত হয় কনভেনশন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী দলের নানা স্তরের নেতা-কর্মীসহ বিহারিদের একটি বিরাট অংশ। বাঙালিমাত্রই কারও জীবন নিরাপদ ছিল না। নির্মম হত্যাযজ্ঞে কত মানুষ প্রাণ দিয়েছে, তার সংখ্যা কোনো দিন নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি এবং হওয়ারও নয়।মযহারুল ইসলাম বাবলা, নির্বাহী সম্পাদক, নতুন দিগন্ত
6
আওয়ামী লীগ' নয়, দেশ চালাচ্ছে 'আমলা লীগ' বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সকালে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের এক প্রতিনিধি সম্মেলনের উদ্বোধন করতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এখন আওয়ামী লীগ কোথায়? এখন সমস্ত হচ্ছে আমলা লীগ। আপনারা যে যেখানে যাবেন দেখবেন ডিসি, এসপি, ওসি-এরা অনেক বড় সাহেব। ওদের (আওয়ামী লীগ) চাইতে অনেক বড়। ওরা নিজেরাই বলে মাছের রাজা ইলিশ আর দেশের রাজা পুলিশ। এই যে অবস্থা তৈরি করেছে, এই অবস্থার জন্য শেখ হাসিনাকে, তার সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে দলের অবস্থা স্পষ্ট করে মির্জা ফখরুল বলেল, আমাদের কথা খুব স্পষ্ট- অবশ্যই এদেশে একটা নির্বাচন হতে হবে এবং সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগন তাদের মতামত দেবেন এবং সেই নির্বাচন হতে হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। যাতে করে জনগন ভোট দিতে যেতে পারে। যার ভোট যাকে দেবে, যাকে ইচ্ছা তাকে দেবে-সেই ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। কিসের সার্চ কমিটি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে এনারা নির্বাচন কমিশন নিয়ে খুব মতামাতি করছেন। আরে সার্চ কমিটি। কিসের সার্চ কমিটি? এটা আপনার যাকে দেবেন তাকে দিয়ে করবেন তো যাকে চাইবেন সেই হবে। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সাহেব সত্য কথা কিছু বলেছেন। এখন তার বিরুদ্ধে উঠে-পড়ে লেগেছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম কথা বলছে এবং মাসনিক রোগী বলছে। মানসিক রোগী তো আপনারা (সরকার) হয়ে বসে আছেন। সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ঘর থেকে বের হন না। ওই যে এতো কথা বলেন তাদেরকে ঘর থেকে তো কোনদিন বেরুতে দেখি না। সব দেখি যে- কেউ গণভবনে, কেউ আপনার মন্ত্রীর বাসায়। সব তো ভেতরে বন্ধ হয়ে থেকে সবকিছু ভার্চুয়াল যা কিছু করছেন। তাদেরকে বলব, আসেন, জনগনের সঙ্গে আসেন। একটা ভোট দেন, যে ভোটটাতে সবাই ভোট দিতে পারবে। জনগনের জন্য সেই অবস্থা তৈরি করেন। দেখেন, আপনারা কোথায় থাকেন? পালাবার পখও খুঁজে পাবেন না।
6
টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পার্বত্যাঞ্চলের জনজীবন। বাড়ছে পাহাড় ধস। আতঙ্ককে ঘর ছাড়ছে মানুষ। একই সাথে বৃষ্টির তীব্রতাও যেন থেমে নেই। কখনো হালকা, কখনো মাঝারি, আবার কখনো ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে এখানে। থেমে থেমে চলছে বর্ষার বর্ষণ। ভেঙ্গে পরছে পাহাড়ের মাটি। উপরে পরছে গাছপালা। মাটি সরে পাহাড়ে ঝুঁলে আছে শত শত বাড়ি ঘর। এসব অসহায় মানুষদের জন্য খোলা আছে আশ্রয় কেন্দ্র। বিপদগ্রস্তরা শুরু করেছে আশ্রয় নিতে। এখন পর্যন্ত ২১টি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ এসেছে প্রায় ১২ শতাধিক। তাদের তিন বেলা খাবার ব্যবস্থা করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। তাদের সার্বিক সহযোগিতায় কাজ করছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা। এছাড়া এখনো যারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে তাদের জন্য সতর্কতা মাইকিং অব্যবহত রেখেছে প্রশাসন। মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এলাকায় যাচ্ছে জেলা প্রশাসক। অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিপাতে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের আশেপাশের এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস দেখা দিয়েছে। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় থেকে মাটি ধসে সড়কের ওপর পড়ছে। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে কোনো সময় বড় ধরণের সড়ক ধস হতে পারে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই মাটি ও বালির বস্তা দিয়ে আপাতত সড়ক মেরামতে কাজ অব্যাহত রেখেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু মুছা জানান, বিগত বছরের যেসব স্থানে পাহাড় ধস হয়েছে, সে সব স্থানে আবারও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাঙামাটি মহলছড়ি- রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যবহত থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে যেসব স্থানে ছোট ছোট ধস হয়েছে, সেগুলো মেরামতের কাজ চলছে। তাই যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম
6
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সদস্য প্রার্থী সমান সংখ্যক ভোট পাওয়ায় দ্বিতীয়বার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মোরগ প্রতীকের মাসুদুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হোসেন থেকে ৩৫ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে গোকর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ হাজার ৪০৫ ভোটারের মধ্যে ২ হাজার ২৯২ ভোটার ভোট দেন। অনুপস্থিত ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ১১৩ জন। প্রাপ্ত ভোট থেকে ৩৯ ভোট বাতিল হয়।কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর মাহবুব আলম বলেন, সকালে থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।গোকর্ণ ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, গত ১১ নভেম্বর নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
6
পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে বাবাকে ডেকে অপমান করায় তা সহ্য করতে না পেরে অরিত্রি অধিকারী (১৫) নামে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার দুপুরে অরিত্রি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে বিকাল ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অরিত্রি অধিকারী ভিকারুন্নেসা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী একজন কাস্টসম (সিঅ্যান্ডএফ) ব্যবসায়ী। পরিবারের সাথে রাজধানীর শান্তিনগরে থাকতো সে। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, অরিত্রি ক্লাস পরীক্ষায় মোবাইলে উত্তর লিখে নিয়ে গিয়েছিল। শিক্ষকের কাছে তার নকল ধরা পড়ে। এরপর তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দিয়ে স্কুল থেকে অভিভাবককে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, সোমবার সকালে আমি স্কুলের প্রিন্সিপালের রুমে দুঃখ প্রকাশ করতে গেলে তারা অরিত্রিকে টিসি দিয়ে দেবে বলে জানায় এবং মেয়ের সামনেই আমাকে অনেক কথা শোনায়। অরিত্রির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরো বলেন, এ সময় আমি মেয়ের সামনেই কেঁদে ফেলি। অরিত্রি হয়তো আমার ওই কান্না-অপমান সহ্য করতে পারেনি। এরপর বাসায় ফিরেই সে তার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে। তবে রাতে ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ঢাকা মেডিকেল কলেজে গেলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের রোষানলে পড়েন বলে জানা যায়। এ বিষয়ে ভিকারুননিসা নন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
6
দেবকুমার বসুর সঙ্গে কবি বেলাল চৌধুরীর দেখা হয়েছিল কলকাতা কফি হাউসেই। গাঁট্টাগোট্টা এই মানুষটি একজন প্রকাশক। চৌরঙ্গী এলাকায় বিশাল বইয়ের দোকান ছিল তাঁর। কিন্তু এক অঘটনের কারণে তিনি সে ব্যবসা ধরে রাখতে পারেননি। তাই 'বিশ্বজ্ঞান' নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা করেছেন কলেজ স্ট্রিটে। এই প্রকাশক আবার ছিলেন পেশাদার মুষ্টিযোদ্ধা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি এক কাণ্ড বাধিয়েছিলেন, সে গল্পই করব এখন। সবাই জানে, বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পর অন্যান্য দেশের মতোই ভারতেও মিত্রবাহিনীর সৈন্য সমাগম হতে থাকে।দেবকুমার বসুরা তখন স্বাস্থ্যচর্চা, ডনবৈঠক, ব্যায়াম করে যাচ্ছেন। সেনাছাউনির বিদেশি সৈন্যদেরও তো ইচ্ছে হয় শহরটা ঘুরে দেখার। তেমন একজন কৃষ্ণাঙ্গ সৈনিক শহর দেখার কৌতূহল নিয়ে ছাউনি থেকে বেরিয়েছিলেন। শহর ঘুরে ঘুরে রাসবিহারী অ্যাভিনিউতে এসে দেখলেন, মূত্রাশয়ের ভার কমিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন পড়েছে। তিনি একটি গাছের আড়ালে জলবিয়োগ করছিলেন।ঠিক সে সময় পাড়ার এক হার্টথ্রব নারী ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেটা তো আর দেখেননি সেই কৃষ্ণাঙ্গ সৈনিক। কিন্তু তাঁর অজান্তেই সেই নারী পাড়ার ছেলেদের দেখে বলল, 'দেখছেন, জানোয়ারটার কাণ্ড! আমাকে দেখেই...!'পাড়ার দাদাবাবুরা মওকা পেয়ে গেলেন। ভদ্রলোক ঘুরতেই তাঁর চোখে-মুখে পড়তে লাগল আপার কাট, লোয়ার কাট, জ্যাব! কে মারছে? মারছেন দেবকুমার, কলকাতার পেশাদার মুষ্টিযোদ্ধা!কিন্তু সেই ভদ্রলোকের কোনো বিকার নেই। তিনি হেসে বলছেন, 'খোকা বুঝি বক্সিং লড়ো? তোমরা প্র্যাকটিস করো কোথায়? তোমরা যদি সত্যিই ইন্টারেস্টেড হও, আমাদের ছাউনিতে চলে এসো, শিখিয়ে দেব।'বলে একটা ভিজিটিং কার্ড এগিয়ে দিলেন। ভিজিটিং কার্ডে লেখা, 'জার্সি জো ওয়ালকট'।কার্ড দেখে পাথর হয়ে গেলেন দেবকুমার। বক্সিংয়ে বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন এতক্ষণ তাঁর হাতের ঘুষি হজম করেছেন, সেটা যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না!সূত্র: বেলাল চৌধুরী, নিরুদ্দেশ হাওয়ায় হাওয়ায়, পৃষ্ঠা: ১৮৫-১৮৮
2
'মার্দানি ২' দিয়ে বড় পর্দায় ফিরেছেন রানি মুখার্জি। আজ শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে ছবিতে। এতে পুলিশ সুপারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রানি। এদিকে ২০ ডিসেম্বর বলিউডের আরেক বড় তারকা সালমান খান হাজির হচ্ছেন 'দাবাং থ্রি' ছবিতে। এ ছবিতে সালমানকেও দেখা যাবে পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকায়। 'মার্দানি ২'তে পুলিশ সুপার শিবানী রাও-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রানি। 'দাবাং থ্রি'তে চুলবুল পান্ডে রূপী সালমান সাব ইনস্পেক্টর। পদের নিরিখে সাব ইনস্পেক্টরের থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন পুলিশ সুপার। বিষয়টি নিয়ে মজা করেছেন রানিও। এক সাক্ষাৎকারে রানিকে জিজ্ঞাসা করা হয়, শিবানী আর চুলবুলের মধ্যে পার্থক্য কী? রানির সহাস্য জবাব, 'শিবানী মেয়ে এবং চুলবুল ছেলে। চুলবুল সাবইনস্পেক্টর। শিবানী কিন্তু পদের দিক দিয়ে তার থেকে সিনিয়র। চুলবুলের ইউনিফর্মে এখনও দু'টো স্টার। এটাই পার্থক্য।'
2
কুমিল্লার হোমনায় বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধসহ ২২ জন আহত হয়েছেন। রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার ঘারমোরা বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দুজন হলে উপজেলার বড় ঘারমোড়া গ্রামের রাজিব মিয়া এবং শাহ আলম। সংঘর্ষে তাদের পায়ে গুলি লাগে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে তাঁরা কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাকতালে ভর্তি আছেন।এ দিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড় ঘারমোড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের বিয়ে ঠিক হয় উপজেলার বাগমারা গ্রামের এক ছেলের সঙ্গে। গত শুক্রবার বিয়ের দিন নির্ধারিত হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলাকালে পাশের হুজুর কান্দি গ্রামের রাসেল ইমরান অন্তরসহ ৮ / ৯ জন ছেলে গিয়ে মেয়েদের ছবি ওঠাতে থাকে। এ সময় বড় ঘারমোড়া গ্রামের কয়েকজন ছেলে এসব ছবি ডিলিট করতে বলে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে গতকাল শনিবার সকালে বড় ঘারমোরা গ্রামের আউয়াল মিয়া বাজারে আসলে তাঁকে মারধর করে হুজুর কান্দি গ্রামের কয়েকজন ছেলে।এ ঘটনায় আওয়াল মিয়ার ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে হুজুর কান্দি গ্রামের ১৫ জনকে আসামি করে ওইদিন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ হুজুর কান্দি গ্রামের বকুল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার সকাল ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন ঘাড়মোড়া বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এই সংঘর্ষ। সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধসহ ২২ জন আহত হন। এদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বড় ঘারমোরা গ্রামের আউয়াল মিয়া জানান, হুজুর কান্দি গ্রামের কয়েকজন বখাটে ছেলে তাঁদের বাড়িতে এসে মেয়েদের ছবি ওঠায়। ছবি ডিলেট করতে বলায় তাঁরা উত্তেজিত হয়ে তাঁদের গ্রামের লোকজনকে মারধর করেন। শনিবার বাজারে গেলে তাঁকে হুজুর কান্দি গ্রামের লোকজন মারধর করে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। আজকে সকালে হুজুর কান্দি গ্রামের লোকজন তাঁদের গ্রামের লোকজনের ওপর হামলা করে। হামলাকরীদের গুলিতে দুইজন গুলিবিদ্ধসহ তাদের ১৫ জন্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।হুজুর কান্দি গ্রামের গোলাম মোস্তফা বলেন, 'গ্রামের ছেলেদের নিয়ে সমস্যাটি আমরা মিটমাট করার জন্য চেষ্টা করছিলাম। এই সময় বড় ঘারমোরা গ্রামের লোকজন আমাদের গ্রামের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের ১০ / ১৫ জনকে আহত করেছে তারা। আমাদের লোকজন কোন গুলি চালায়নি। বরং তাদের ইটের আঘাতে আমাদের লোকজন আহত হয়েছে।'ঘারমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান মোল্লা বলেন, 'বৃহস্পতিবার বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ছেলেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে গত শনিবারও একজনকে মারার ঘটনায় থানায় মামলা হয়। আজকে (রোববার) আমরা বিষয়টি মিটমাট করার জন্য বসলে হুজুর কান্দি ও বড় ঘারমোরা গ্রামের লোকজন নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।'হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কায়েছ আকন্দ বলেন, 'বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে একজন এয়ারগান নিয়ে এসেছিল বলে শুনেছি। তবে গুলির বিষয়ে আমি বলতে পারব না। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি।'
6
যশোর সদর হাসপাতাল যেন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের আনাচে-কানাচে পড়ে থাকতে দেখা যায় ফেনসিডিলের বোতল আর সিরিঞ্জ। ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গত ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের মধ্যে এক নারী মাদক কারবারিকে ১১০ গ্রাম গাঁজা এবং গত ২৯ তারিখ রাতে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের সামনে থেকে দুই মাদক কারবারিকে ৩০টি ইয়াবা এবং চাকুসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে হাসপাতাল চত্বর থেকে ১০ দিনে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালের পেছনের দিকের আঙিনা এবং পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে ঢুকে মাদকসেবীরা আড্ডায় মেতে ওঠেন। আর মর্গের সামনে তো প্রায় দিনের বেলাও প্রকাশ্যে মাদক সেবনের দৃশ্য চোখে পড়ে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, 'হাসপাতালে মানুষ আসে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। তবে এখানে মাদক কারবারিদের অবাধ চলাফেরা রয়েছে। যেখানে-সেখানে মাদকের ছড়াছড়ি। প্রায় সময়ই মাদক সেবন করতে দেখা যায় অনেককে। এ ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে গেলে আমাদের হুমকির শিকার হতে হয়।'হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবু সালেহ বলেন, 'হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করতে আমরা সব সময় প্রখর দৃষ্টি রাখি। গত কয়েক দিন আগেও আমরা তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করেছি। মাদক নির্মূল করতে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নেব।'হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আরিফ আহমেদ বলেন, 'এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা মাঝেমধ্যে কয়েকজনকে আটকও করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া হাসপাতালের নিরাপত্তা প্রহরীদেরও এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।'
6
রাজধানীর খিলক্ষেতে সড়ক বিভাজক ভেঙে বিপরীতমুখী মাইক্রোবাসের উপরে উঠে পড়া সেই এনা পরিবহনের বাসের চালককে আটক করেছে র্যাব। এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ওই চালককে আটক করা হয়। চালকের নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, "ওই বাস চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানান হবে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এরআগে সকালে অফিস শুরুর ব্যস্ত সময়ে বিমানবন্দর সড়কের ডিভাইডার ভেঙে মহাখালী থেকে রওনা হওয়া এনা পরিবহনের বাসটি রাস্তার অন্যপাশে চলে যায় এবং বিপরীতমুখী একটি মাইক্রোবাসের উপরে উঠে যায়। এ ঘটনায় মাইক্রোবাস চালক কিছুটা আহত হন। এতে ওই সড়কে কিছুটা যানজট তৈরি হয় এবং এনা বাসের চালক ও কর্মীরা পালিয়ে যান। পরে মাইক্রোবাসের আহত চালক বাদী হয়ে এনা পরিবহনের অজ্ঞাতনামা বাস চালককে আসামি করে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন। এ প্রসঙ্গে এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ বলেন, "র্যাব ওই বাসের নিয়মিত চালককে নিয়ে গেছে, যদিও তিনি তখন বাসটি চালাচ্ছিলেন না। ওটা ছিল নাইটের বাস। সিলেট থেকে ট্রিপ নিয়ে এসে চালক চাবি রেখে গেছেন ঘুমাতে। এর মধ্যে কে বা কারা গাড়িটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ওই ঘটনা ঘটায়। এর সঙ্গে হয়তো আমাদের স্টাফদের কেউ থাকতে পারেন।" এনা পরিবহন এককভাবে দেশের অন্যতম বৃহৎ পরিবহন কোম্পানি। এ কোম্পানির বহরে কয়েকশ হিনো নন এসি বাস ছাড়াও হুন্দাই ও ইন্দোনেশিয়ার লাকসানার তৈরি বিলাসবহুল ডাবল ডেকার বাসও রয়েছে।
6
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ধান নিয়ে একটি মালবাহী ট্রলার ডুবে গেছে। এতে ১৫ জন শ্রমিকের মধ্যে হেলাল (৩৮) ও কাজল (২৮) নামের দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।আজ শনিবার সকাল ৬টায় উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট বরাবর পদ্মা নদীর মাঝে এ ঘটনা ঘটে। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবু তাহের এ খবর নিশ্চিত করেন।নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানান, মাওয়া থেকে শিবচরগামী ট্রলারটি হঠাৎ ঝড়ে ডুবে যায়। এতে ১৫ ব্যক্তি ছিলেন। ১৩ জন সাঁতরে আশপাশের ট্রলারে ওঠেন। বাকি দুজনকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসেছেন। তবে ট্রলারটি এখনো উদ্ধার হয়নি।
6
শিল্পী-সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের একটা বড় অংশকে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতেই হয়। এই সংগ্রামে অত্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন নাট্যকর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অন্য সব মাধ্যম।মুক্তিযুদ্ধের পরের কথা লিখতে গেলে অবশ্যই ষাটের দশকের কথা বলতে হয়। আবার ষাটের দশকের কথা বলতে গেলে পঞ্চাশ দশকটা আসে। কেমন ছিল সেই দুটি দশক? পূর্ব বাংলার মানুষ দরিদ্র-তার মধ্যে নিম্নবিত্ত আছে কিছু, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত মানুষের সংখ্যা খুব কম। স্কুলের শিক্ষকেরা খুবই অল্প বেতন পান, কেরানিকুল, পিয়ন চাপরাশিদের জীবন-জীবিকা বড়ই দুর্বিষহ। দেশভাগের পর একদল লোক হিন্দুর সম্পত্তি দখল, কালোবাজারি, নানা ধরনের দালালি করে বেশ কিছু পয়সা কামিয়েছে। শিল্প-সাহিত্যে হিন্দুদেরই ছিল সিংহভাগ অধিকার। তাদের দেশত্যাগের ফলে একটা শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সেই শূন্যতা পূরণে মুসলিমদের মধ্যে একটা সচেতনতা তৈরি হয়েছে।ভাষা আন্দোলনের প্রভাবে কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ শুরু হয়েছে। রাজনীতি টালমাটাল হলেও শিল্প-সাহিত্যের অগ্রযাত্রা রুদ্ধ হয়নি। বাম রাজনীতির ধারার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ধারাও প্রখর। বঞ্চনা পাকিস্তানিদের অপরাজনীতির ফলে প্রবল হলেও প্রতিবাদী চেতনাও বাড়তে থাকে সর্বত্রই। ষাটের দশকে এই চেতনা ক্রমেই বাড়তে থাকে। এই সময় মধ্যবিত্তের মধ্যে শিল্পের একটা রুচিও তৈরি হয়। উচ্চাঙ্গসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত ও আধুনিক গানের একধরনের সমঝদারও তৈরি হয়। যাত্রা-নাটকেও দর্শক আগের চেয়ে সর্বত্র বেশি দেখা দিতে থাকে। একদিকে মিছিল, সমাবেশ, কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়ন, অন্য দিকে নানা শিল্পের চর্চায় এ দেশের মধ্যবিত্ত সমৃদ্ধ হতে থাকে। শিল্প ও সংগ্রামের চৈতন্যই উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের দিকে অগ্রসর হয়।মুক্তিযুদ্ধে অসমসাহসী তরুণদের আত্মত্যাগ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন বাজি রাখা অংশগ্রহণের ফলে একটা বড় বিজয় অর্জিত হয়। বাঙালি একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে স্বাধীন এক জাতিসত্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। যাঁরা দেশ শাসন করবেন, তাঁরা বাঙালি, তাঁদের ভাষা বাংলা এবং নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মালিকানা বাঙালি ও আরও ৪০টি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর।১৯৭২ সাল থেকেই নিয়মিত নাট্যচর্চা শুরু হয়। কাব্যে-চিত্রকলায় বাঙালির পরিচয়টা কীভাবে প্রকাশ করা যায়, তার জন্য একটা যেন জীবন-মরণ পণ শুরু হয়ে যায়। যথার্থই শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রে এক অভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধের তাজা স্মৃতি নিয়ে চলচ্চিত্র, কবিতা, নাটক, চারুকলার সূচনা হয়। কিন্তু রাজনীতি একটা অস্থিরতায় পড়ে যায়। এই অস্থিরতার একটা চূড়ান্ত পরিণতি পঁচাত্তরের মধ্য-আগস্টের নিশি হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ড শিল্পীদের মানসভূমিতে একটা বিরাট আঘাত হানে। সুবিধাবাদী রাজনীতিকেরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নামে কেউ কেউ দৃশ্যের অন্তরালে চলে যায় আর কেউ কেউ নিজেদের ভোল পাল্টে ক্ষমতার কাছে আশ্রয় নেয়। শিল্পী-সাহিত্যিক ও একশ্রেণির নাগরিক এবং ছাত্ররা এই পরিস্থিতিতে তাদের আপসহীন ভূমিকা চালিয়ে যেতে থাকে। ফলে আশির দশকজুড়ে একটা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন চলে, যার ফলে সেনা শাসনের অবসান ঘটে।কিন্তু সেই শুরু থেকেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। তাই শিল্পী-সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের একটা বড় অংশকে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতেই হয়। এই সংগ্রামে অত্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন নাট্যকর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অন্য সব মাধ্যম। চলচ্চিত্রের কর্মীরাও তাঁদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে কাজ করতে থাকেন। কিন্তু সত্তরের দশকের যে চলচ্চিত্র, তা আশির দশকে এসে এক ভয়ংকর রূপ নেয়। অশ্লীলতা ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেয়। সে সময়ে মুষ্টিমেয় কিছু চলচ্চিত্রকার প্রাণপণ চেষ্টা করে দু-চারটি ছবি করে তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন।নব্বইয়ের দশকে এসে মিডিয়া কিছুটা মুক্ত হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের একচ্ছত্র আধিপত্যের জায়গায় বেশ কয়েকটি টেলিভিশন যুক্ত হয়। এই সময়ে একুশে টেলিভিশন এসে সংবাদ প্রচারকে প্রাচীন পদ্ধতি থেকে অবমুক্ত করে। এর প্রভাব অন্যান্য চ্যানেলেও দেখা দেয়। নতুন নতুন অনুষ্ঠানেও দর্শকেরা অনুপ্রাণিত হয়। এই সময়ে মঞ্চনাটকের ভালো ভালো অভিনেতা-অভিনেত্রী-পরিচালক মিডিয়ায় যুক্ত হন। এই যুক্ত হওয়ার ফলে মিডিয়া জনপ্রিয় হয় বটে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে নাট্যচর্চা সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঐতিহাসিকভাবে এই ক্ষতি ক্ষণিকের। মঞ্চ তার নিজস্ব পরাক্রমেই চলতে থাকে। মিডিয়া খুবই বিজ্ঞাপনের কাছে অর্থনির্ভর। তাই এই মাধ্যমের মালিকদের সে রকম সংস্কৃতি না থাকায় অনুষ্ঠানের মানের চেয়ে বিজ্ঞাপনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। একসময় ভিন্ন রাজনীতির প্রভাবে বন্ধ হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিচালিত একুশে টেলিভিশন। ফলে অন্য চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপনের কাছে আত্মসমর্পণ করে মাধ্যমটির অনুষ্ঠানের বিপর্যয় ডেকে আনে। কিন্তু সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে কিছু চ্যানেলে একুশের প্রভাব লক্ষ করা যায়। তাই তারা সংবাদের মাধ্যমে অনেক দুর্নীতিকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করেছে। সংবাদপত্র এসব ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে।এর মধ্যেই এসেছে ইন্টারনেট। সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমই এখন জনপ্রিয়। তরুণ প্রজন্ম এসব ব্যবহার করতে খুবই সিদ্ধহস্ত। কিন্তু যখন গণজাগরণ মঞ্চ হয়েছিল, তখন তরুণেরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদমুখর হয়েছিল। প্রতিবাদমুখর সেই কিশোর-তরুণদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রবলভাবে লক্ষণীয়। মুক্তিযুদ্ধের ভালো নাটক, চলচ্চিত্রেও তাদের সরব উপস্থিতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আজও স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের সেই গান তাদের মধ্যে সাড়া জাগায়। একটা গভীর ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এ দেশের ৫০ বছরের রাজনীতি চলছে, তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের একটা অন্ধকার যুগে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। এসবকে প্রতিহত করার জন্য একটা দুর্বার সাংস্কৃতিক আন্দোলন যে প্রয়োজন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
6
বিয়ানীবাজার (সিলেট): বিয়ানীবাজার উপজেলায় হঠাৎ বাড়ছে জ্বর-সর্দির প্রকোপ। দুই সপ্তাহ ধরে আক্রান্ত বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসকদের চেম্বার ও সাধারণ ফার্মেসিতে এ ধরনের রোগীর চাপ বেড়েছে। করোনার উপসর্গের সঙ্গে মিল থাকায় এ নিয়ে অনেকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, এটি ভাইরাসজনিত সিজনাল-ফ্লু এবং খুব ছোঁয়াচে। যে কারণে একই ঘরে একাধিক ব্যক্তি এ ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছেন।বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু ইসহাক আজাদ বলেন, গত এক সপ্তাহে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১২০ জনের মতো রোগী দেখেছেন। তাঁরা সবাই সিজনাল ফ্লুতে আক্রান্ত। হাসপাতালে আউটডোরে আসা রোগীদের সিংহভাগই জ্বর, সর্দি-কাশির রোগী।এসব রোগীর মেডিকেল চেকআপে শুধু জ্বর-কাশি ছাড়া অন্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।তবে অনেক ক্ষেত্রে জ্বরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হয়। এই ফ্লুতে আক্রান্তদের আতঙ্কিত না হয়ে মুখে মাস্ক পরা, ঘন ঘন হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় মুখে রুমাল বা কনুই ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন এ চিকিৎসক।ডা. আবু ইসহাক আরও বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেলে শিশু ও বয়স্কদের জন্য কিছুটা ঝুঁকি থাকে। কাশি জটিল পর্যায়ে গেলে শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা ফ্লুতে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। করোনার সংক্রমণ এখনো চলমান থাকলেও বেশির ভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় আরেক বিপদের আশঙ্কার কথাও বলেন তিনি।এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান বলেন, এখন যে জ্বর, সর্দি-কাশির প্রকোপ দেখা দিয়েছে এটা মৌসুমি সমস্যা। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, এ ধরনের ফ্লুতে আক্রান্তদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই লোকজনকে বাইরে বেরোতে হলে মাস্ক ব্যবহার এবং নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপী সমবায় আন্দোলনকে জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, দেশের উন্নয়কে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সমবায় একটি পরীক্ষিত কৌশল।প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সমবায়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর আমাদের খাদ্য নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করার জন্য এই আন্দোলনকে দেশের কৃষিক্ষেত্রের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে।'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪৭তম জাতীয় সমবায় দিবস এবং জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৬ এবং ২০১৭ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেন। নেতৃত্ব সৃষ্টি, মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সমবায়ের সঙ্গে অধিকহারে নারীদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সমবায় বিভাগ আয়োজিত সমবায় পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে ১০টি ক্যাটাগরিতে সমবায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় দু'বছওে মোট ২০ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক গ্রহণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।সমবায়ের ভিত্তিতে চাষাবাদে জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সমবায় ভিত্তিক কৃষির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এটা আমাদের করা উচিত এইজন্য যে, আজকাল সকলেই লেখাপড়া শেখে, চাকরি করে, দেশে-বিদেশে চলে যায়। জমি কিন্তু অনাবাদী পড়ে থাকে। আমাদের যেহেতু দেশের মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে তাই আমাদের লক্ষ্য থাকবে এই জমি যেন অনাবাদী পড়ে না থাকে। তিনি জাতির পিতার ভাষণ থেকে 'আমাদের দেশের জমি এত উর্বর যে বীজ ফেললেই গাছ হয়, গাছ হলে ফল হয়। সেদেশের মানুষ কেন ক্ষুধার জ্বালায় কষ্ট পাবে' উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, কাজেই আমরা এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখবো না। আর অনিবাসীদের জমিগুলো উৎপাদনের আওতায় আনতে গেলে আমরা সমবায়ের মাধমেই তা আনতে পারি। সেক্ষেত্রে মালিক যেমন তার অংশ পাবে তেমনি বেশি অংশ পাবে যারা শ্রম দিচ্ছে তারা। আর একটি রক্ষণাবেক্ষণ এবং কৃষি উপকরণ সরবরাহকারী সমবায় পাবে।তিনি বলেন, এইভাবে একটা নীতিমালা তৈরি করে আমরা যদি আমাদের সমস্ত জমি চাষ করতে পারি বা উৎপাদন বাড়াতে পারি তাহলে আমাদের দেশে আর কখনই কোন খাদ্যের অভাব হবে না।এলজিআরডি এবং সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দোকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. কামাল উদ্দিন তালুকদার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি শেখ নাদির হোসেন লিপু, সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নিবন্ধক মো. আব্দুল মজিদও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।একমাত্র সমবায়ের মাধ্যমেই দ্রুত উন্নয়ন করা সম্ভব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কারণেই জাতির পিতা সমবায়কে আমাদের সংবিধানের অর্থনৈতিক নীতিমালায় সংযুক্ত করে গেছেন, সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদে।তিনি বলেন, সমবায় ছিল জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার। তিনি কৃষি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, শিল্প উদ্যোগ, কৃষি ঋণসহ সবক্ষেত্রেই সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থাপনা প্রসারিত করতে চেয়েছিলেন।
9
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে ইরান। এক কোটি ৬২ লাখ ডলার বার্ষিক বকেয়া চাঁদা পরিশোধ করার মাধ্যমে ইরান এই ভোটাধিকার ফিরে পায়। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখতে রাভাঞ্চি শুক্রবার টুইটার পোস্টে জানান, বিষয়টি নিয়ে ছয় মাস কাজ করার পর শুক্রবার জাতিসংঘ ঘোষণা করেছে যে, তারা বকেয়া অর্থ পেয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দেশের ওপর থেকে সমস্ত অমানবিক নিষেধাজ্ঞা এখন তুলে নিতে হবে। মাজিদ তাখতে রাভাঞ্চির টুইটার পোস্টের আগে জাতিসংঘের প্রেসিডেন্ট ভলকান বোযকির শুক্রবার জানান, বিশ্ব সংস্থা ইরানের কাছ থেকে চাঁদার টাকা হাতে পেয়েছে যার কারণে ইরানের ভোটাধিকারও পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'কথিত গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমানকে টেমস নদীর ওপার থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে খোমেনি স্টাইলে বিপ্লব করার দুঃস্বপ্ন দেখছে বিএনপি।'আজ শনিবার সকালে নিজবাসভবনে ব্রিফিংকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে এ কথা বলেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'তাদের শাসনামলে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম জিয়া এক সময় বলেছিলেন বিরোধী দলকে ঠেকানোর জন্য ছাত্রদলই যথেষ্ট।' গণ-আন্দোলনের রঙিন স্বপ্ন দেখছে বিএনপি, কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অর্জনে বিএনপির আন্দোলনে সংকটের কালো ছায়া পড়েছে বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি আরও বলেন, 'তাদের গণআন্দোলন স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নের নামান্তর, এই দুঃস্বপ্ন দেখে কোনোলাভ আছে কী? দেশের মানুষ শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনে এত খুশি যে গত ১৩ বছরে বিএনপি বারবার ডাক দিলেও আন্দোলন করতে পারেনি, জনগণও তাতে সাড়া দেয়নি। ১৩ বছর যখন জনগণ সাড়া দেয়নি আগামী দিনেও সাড়া দিবে বলে বিশ্বাস হয় না। বিএনপির গণআন্দোলনের আশা তাই অচিরেই নিরাশায় পরিণত হবে। বিএনপি নাকি কোন ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসাতে নয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলনে নেমেছে; বিএনপি মহাসচিবের এ বক্তব্য জাতির সঙ্গে চরম মিথ্যাচার এবং প্রতারণা বলে জনগণ মনে করে।' আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'যারা ক্ষমতায় থাকাকালে গণতন্ত্র হত্যা করেছিলো তারা আবার ক্ষমতায় গিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে, এটা নিছক মিথ্যাচার আর প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।' বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
9
কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহন, নারী-শিশু ও শ্রমিক তথা গণবিরোধী বাজেটের প্রতিবাদে অর্থমন্ত্রীকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে-সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী। তিনি বলেন, নির্মম মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে দেয়া এই বাজেট যেন নিরন্ন মানুষের উপকারে আসে; তা না হলে লকডাউন কবলিত-ব্যবসা-চাকুরি হারানো মানুষগুলোর রাজপথে নামা ব্যতিত কোন পথই থাকবে না। আশা করি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী দ্রুত তথাকথিত এই বাজেট সংশোধনের মধ্য দিয়ে কৃষি ১০, শিক্ষা ২০, খাদ্য ১০, পরিবহন ১০, স্বাস্থ্য ১০, মহিলা-সমাজকল্যাণ ও যুব ৫ ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ১০ ভাগ করার পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং আবাসন খাতে ভর্তুকি দিয়ে অসংখ্য মধ্যবিত্ত-নিন্ম মধ্যবিত্তের অন্তত ৬ মাসের বাড়ি ভাড়া সমস্যা সমাধানের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখবেন। অধ্যাপক শুভঙ্কর দেবনাথের প্রেরণার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সমাবেশে নতুনধারার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেরাব সভাপতি লিটন দ্রং, কামরাঙ্গির চর শাখার সভাপতি মো. শরীফ, মতিঝিল থানা সভাপতি মো. ইউসুফ, কালিগঞ্জ শাখা সভাপতি মো. আল আমিন, সেভ দ্য রোড সদস্য কান্তা আক্তার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
6
নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের শেখচিলান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি সভা আহ্বান করায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই মাঠ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মুল বানীন দ্যুতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাজেদুল ইসলাম জানান, তিনি ইউএন'র কাছে ওই মাঠে সম্মেলন আয়োজনের অনুমতি নিয়েছিলেন। সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকে সেখানে প্যান্ডেল নির্মাণের জন্য মাইক, সামিয়ানা ও চেয়ার জড়ো করা হয়। দুপুরের দিকে জানতে পারি সেখানে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। তবে একই সময়ে বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা দলের বিশেষ বর্ধিত সভা আহ্বান করেন। অথচ তাদের কোনো পূর্ব ঘোষণা ছিল না বলেও জানান তিনি। সাংসদ শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, আমাকে ওয়ার্ড সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সে অনুযায়ী এসেছিলাম। এসে জানতে পারি ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তখন সভাস্থল ত্যাগ করে চলে এসেছি। একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে আমি আইন ভঙ্গ করতে পারি না। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজস্ব অর্থায়নে বহু-প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত বিশ্বের দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। আগামী ২৫ জুন যান চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেয়া হবে। আজ সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, 'নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের এই একটি সিদ্ধান্ত- বিশ্বের দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশিপাশি জাতির আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিয়েছে।' তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি পদ্মা সেতু প্রকল্পে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ আনায়- কোন বোর্ড মিটিং না করেই বিশ্বব্যাংক সেতুটি নির্মাণে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। যদিও পরে ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। তিনি আরও বলেন, 'আমরা যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছি, (বাংলাদেশকে স্বল্পেন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জন করেছে) তা নিয়ে আমাদের আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যেত হবে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন জাতি গঠনমূলক ও সামাজিক কর্মকা-ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর্মি সব সময়ই অবকাঠামো নির্মাণসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রেখে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের আত্মবিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন। সূত্র: বাসস বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
দুই দিনের সফরে ঢাকা পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে বহনকারী বিশেষ উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।এর আগে সকাল ৮টায় তিনি রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন বলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক টুইটে জানানো হয়।বেলা ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতার পর তিনি সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা দিবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের জন্য ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে যাবেন। আজ সন্ধ্যায় মোদি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথভাবে 'বঙ্গবন্ধু-বাপু জাদুঘর' উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। তিনি তার সম্মানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া এক রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।২৭ মার্চ শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি ও কাশিয়ানী উপজেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করবেন। এরই মধ্যে সেখানে তাকে স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে উলু ও শঙ্খধ্বনি দিয়ে এবং ডঙ্কা ও কাঁসা বাজিয়ে মতুয়া ধর্মাবলম্বীরা নরেন্দ্র মোদিকে বরণ করবেন বলে জানা গেছে।একই দিন সাতক্ষীরায় হিন্দু মন্দিরও পরিদর্শন করবেন মোদি। এছাড়া বাংলাদেশ সফরে তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এ সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকগুলো চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা অন্যতম। এছাড়া তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারত দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে আসবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
6
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। জাতির পিতার আদর্শ মাথায় নিয়ে আওয়ামী লীগ অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ করে। সরকারে এসে তা বাস্তবায়ন শুরু করে। একটি সুষ্ঠু নীতিমালার মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে গেলে যে সাফল্য অর্জিত হয়, আওয়ামী লীগই তা প্রমাণ করেছে। ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যমআয়ের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় নেতাকর্মীসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, ২০২০ সালে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবো। এজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। আর ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যমআয়ের দেশ প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি, সেটি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে যেন আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করতে পারি, সেই লক্ষ্যেও সবাই কাজ করবেন। রোববার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে তাঁতী লীগের প্রথম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দেশ ও জাতির কল্যাণে তার সরকারের সাফল্য জনগণের কাছে তুলে ধরার জন্য তাঁতী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগঠনকে গড়ে তুলতে হবে, শক্তিশালী করতে হবে। দেশের যে উন্নয়ন করেছি, সারাদেশে তার ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। সেই সঙ্গে মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যার সমাধান করতে হবে। একমাত্র আওয়ামী লীগই যে এদেশের উন্নয়ন করতে পারে এবং আমরা সেটি প্রমাণও করেছি- সেটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাঁতী লীগকে তাঁতীদের কল্যাণে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব আসবে। কিন্তু কেবল নেতা হয়ে বসে থাকলে চলবে না। তাঁতীদের সমস্যাগুলো দেখতে হবে। তাদের সন্তানরা যেন লেখাপড়ার সঙ্গে তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারেন- সেদিকেও বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। বংশপরম্পরায় তাঁতীদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। আওয়ামী লীগের সব সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা বিষয়ভিত্তিক সংগঠন গড়ে দিয়েছি। যিনি যে বিষয়ে সংগঠন করছেন, তিনি সেই সম্প্রদায়ের মানুষের যেন কল্যাণ ও উন্নতি হয়- সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। তাদের সমস্যাগুলো বের করতে হবে, সমাধানের পথও দেখাতে হবে। তাহলেই দেশে কোনা অভাব থাকবে না, দরিদ্র থাকবে না। প্রতিটি সংগঠনকে নীতি-আর্দশ মেনে চলারও নির্দেশও দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এর আগে সম্মেলনস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কবুতর উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন তাঁতীয় লীগের আহ্বায়ক এনাজুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, সাধনা দাস গুপ্তা ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী শওকত আলী। সম্মেলনমঞ্চে আসনগ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং সম্মেলনের বিশেষ অতিথি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সম্মেলনের ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁতী লীগের আহবায়ক এনাজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন যুগ্ম আহবায়ক খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ। স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম আহবায়ক সাধনা দাস গুপ্তা। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী শওকত আলী।
9
বাংলাদেশ সফরে এসে প্রথম দিনের অনুশীলন সারল পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় মিরপুরের একাডেমি মাঠে গা গরমের পর নেট প্র্যাকটিস করেন দলটির ক্রিকেটাররা। সফরকারী দলের নেট প্র্যাকটিস করার সময় অভিনব একটি জিনিস ধরা পড়ে সবার চোখে। শের-ই-বাংলা একাডেমির পশ্চিম-উত্তর কোণে নেটের দুদিকে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা টানিয়ে ব্যাটিং-বোলিং প্র্যাকটিস করতে থাকেন দেশটির ক্রিকেটাররা। পাকিস্তান শিবিরের কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না থাকায়, কেন এভাবে পতাকা টানিয়ে অনুশীলন সেই সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে খেয়াল করে দেখা গেছে, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই এভাবে নেটের দুই পাশে পতাকা টানিয়ে নেট প্র্যাকটিস করছেন দলটির ক্রিকেটাররা। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে অনুশীলনে পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানকে দেখা যায় পাকিস্তানের দুটি পতাকা কাঁধে করে নিয়ে আসতে। এরপর পতাকা দুটি অনুশীলনের মূল এলাকার পাশে পুঁতে দিয়ে খেলোয়াড়রা সেরেছিলেন প্রস্তুতি। এরপর দলের কোচ সাকলায়েন মুশতাক ব্যাখ্যা করেন কেন ক্রিকেটাররা এভাবে জাতীয় পতাকা নিয়ে অনুশীলনে এসেছিলেন। তিনি বলেন, 'এই দল পুরো দেশের (পাকিস্তানের) প্রতিনিধিত্ব করছে। দেখেই মনে হচ্ছে দেশের ২২ কোটি লোক যেন এক হয়ে আমাদের জন্যে গলা ফাটাচ্ছে।' সূত্র : জাগো নিউজ বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
12
নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই আবদুর কাদের মির্জা বলেছেন, 'অন্যায়ের বিরুদ্ধে যখন কথা বলি তখন আমাকে জাতীয়ভাবে বলা হয় আমি নাকি পাগল, উন্মাদ। এর বিচারটা আপনাদের কাছে দিলাম।' আজ শনিবার সকালে বসুরহাট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পথসভায় বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন। কাদের মির্জা আরও বলেন, 'আমি সবার বিরুদ্ধে বলি না, দলের মধ্যে ভাল লোকও আছে। কিন্তু অধিকাংশ শেখ হাসিনাকে অসহযোগিতা করে। বিএনপি দুর্নীতির বিচার করতে পারেনি, শেখ হাসিনা পেরেছে, আমি অনিয়মের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই নির্বাচন করছি।' জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি প্রশ্ন ছেুড়ে বলেন, 'আমি পাগল?' এসময় জনগণ সমস্বরে উত্তর দেন- 'না না।' এরপর তিনি বলেন, '১৬ তারিখে আমি পাগল না কি সেটা প্রমাণ করবো।' নোয়াখালীর আঞ্চলিক উচ্চারণে তিনি বলেন, 'যে আমাকে পাগল আর উন্মাদ বলেছে, গোপালগঞ্জে যেখানে ৯৯ ভাগ আওয়ামী লীগ সেখান থেকে সে এমপি হয়েছে। আগে মন্ত্রী ছিলো এখন নেই। ওনার সম্পর্কে সবাই জানে। কি কি অনিয়ম তিনি করেছেন। অনিয়ম না করলে ওনাকে মন্ত্রী বানায়নি কেন? উনি আমাকে বলেন পাগল উন্মাদ।' বিডি-প্রতিদিন/শফিক
6
অনেক দিন নতুন ছবির খবরে নেই অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ের কথা হলেও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে এসেছেন। মিমের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খায়রুল বাসার নির্ঝরসিয়ামের সঙ্গে 'ইত্তেফাক' ছবির শুটিং শুরু করেছিলেন। দুই বছর পর আবার নাকি কাজ শুরু হচ্ছে?আমার সঙ্গে এখনো কথা হয়নি। যদি নির্মাতা-প্রযোজক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে এটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করব।নতুন ছবিতে আপনাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন?একটা ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে কথা হয়েছে। আর ওয়েবে কাজের অফার প্রচুর আসছে। কিন্তু প্রপার গল্প না হলে করতে চাই না। আবার অনেক সময় গল্প ভালো লাগলেও বাজেটে মেলে না।শুনেছিলাম মোশাররফ করিমের সঙ্গে 'ড্রাইভার' ছবিতে অভিনয়ের কথা ছিল?আগে থেকেই এতে অভিনয়ের ব্যাপারে আমার সঙ্গে নির্মাতার আলাপ হচ্ছিল। আমি করতেও চেয়েছিলাম। যে পারিশ্রমিক চেয়েছিলাম, সেটার সঙ্গে মেলেনি। এ কারণে করা হয়নি শেষ পর্যন্ত।পারিশ্রমিকের বিষয়টি কি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন?লাস্ট যে চার-পাঁচটা ওয়েব ফিল্ম ও সিরিজে অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছে, সবগুলোতেই ঝামেলা হয়েছে। বাধ্য হয়ে না করে দিতে হয়েছে।যদি কখনো এ রকম হয়, একটা ফিল্মের গল্প আসছে, যে গল্পটা অ্যাকচুয়ালি মন থেকে করতে উৎসাহ বোধ করছি, তখন আমি ওটা এমনিই করে দেব। কোনো পারিশ্রমিক নেব না।মানে চলচ্চিত্রের জন্য আপনি ছাড় দিতে রাজি আছেন। ওয়েব কনটেন্টের জন্য না, তাই তো?আমি চলচ্চিত্রের জন্য ছাড় দিই। ওই যে বললাম, ভালো কাজ হলে প্রয়োজনে টাকাই নেব না। কিন্তু কাজটা ভালো হতে হবে। এটাই শর্ত। আর ওয়েব কনটেন্টের ক্ষেত্রে গল্প পছন্দ হলে এবং আমি যে পারিশ্রমিক নিই সেটা দিলে কাজ করব। না হলে করব না। বরং ওয়েবের চেয়ে টিভি নাটকে অভিনয় করা ভালো।এটা কেন মনে হয় আপনার?একটা নাটক যদি আপনি করেন, সেটা না হলেও কোটি দর্শক দেখছেন। আর একটা ওয়েব করলে কি এত দর্শক দেখেন? বড়জোর দুই-তিন লাখ দর্শকের কাছে পৌঁছায়। তাহলে কোনটা বেটার? যেটা সবাই ওপেনলি দেখতে পারবে ওটাই বেটার না?যে ছবিটি নিয়ে কথা হচ্ছে এখন, ওটা শুরুর পরিকল্পনা কবে থেকে?ওরা ডেট চাচ্ছে ডিসেম্বরে। কিন্তু ডিসেম্বরে আমার ডেটগুলো লক হয়ে আছে। লাক্সের সঙ্গে একটা লম্বা ডেট দেওয়া আছে। ভিভোর কাজ আছে। আমি অনেকগুলো ব্র্যান্ডের সঙ্গে আছি। সব কাজই এই নভেম্বর-ডিসেম্বরে পড়েছে। এগুলো শেষ করে জানুয়ারি থেকে নতুন ছবির শুটিংয়ে যেতে পারি।
6
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় বাড়িতে সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে মা ও নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে বাবার বাড়িতে গ্রাম্য ধাইয়ের মাধ্যমে প্রসবের চেষ্টা করাতে গিয়ে মারা যায় তাঁর নবজাতক কন্যা শিশু।মৃত প্রসূতি মায়ের নাম রাহিমা আক্তার (২৫)। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের জলিল সরদার পাড়ার নিজাম মণ্ডলের মেয়ে।এদিকে এ ঘটনার জেরে প্রচণ্ড শোকে রাহিমার স্বামী ইসলাম সরদার (৩৫) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরেছেন। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে দ্রুত তাঁকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি পেশায় একজন টেইলর মাস্টার।রাহিমার ছোট চাচা মাসুদ রানা ও ননদ রুবি খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রসব বেদনা শুরু হয় রাহিমার। এ সময় তাঁকে বাড়িতে রেখে গ্রামের মহিলাদের (ধাই) দিয়ে প্রসব করানোর চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর বেলা ২টার দিকে একটি মৃত মেয়ে শিশুর জন্ম হয়। অপরিকল্পিতভাবে প্রসব করাতে গিয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।এদিকে বাচ্চা প্রসব করার পর প্রচুর রক্তক্ষরণে রাহিমার অবস্থাও ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। একপর্যায়ে বাড়ির লোকজন তাঁকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর অবস্থা জটিল দেখে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে পরামর্শ দেন। স্বজনরা তাঁকে ফরিদপুর নিয়ে যাওয়ার পথে বেলা ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ চন্দন কুমার ঘোষ জানান, রাহিমাকে অনেক দেরিতে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তারপরও তাঁকে স্যালাইন দিয়ে দ্রুত ফরিদপুরে রেফার করি। তাঁকে যদি বাড়িতে প্রসব করানোর চেষ্টা না করে সকালেই হাসপাতালে নিয়ে আসা হতো তাহলে হয়তো এভাবে দুটো প্রাণ অকালে ঝড়ে যেত না।তিনি আরও জানান, হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনা খরচে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের সহায়তায় অনেক নরমাল ডেলিভারি করা হচ্ছে এবং সরকারিভাবে তাঁদের বিভিন্ন উপহার সামগ্রীও দেওয়া হচ্ছে। তারপরও অসচেতনভাবে অনেকেই বাড়িতে বাচ্চা প্রসব করানোর চেষ্টা করাতে গিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সকলকে এগিয়ে আসা দরকার।
6
যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো মডার্নার ২৫ লাখ ডোজ করোনার টিকা আগামী দুই দিনে দেশে পৌঁছানোর কথা। এর মধ্যে প্রথম চালান হিসেবে প্রায় ১২ লাখ ডোজ আসবে শুক্রবার এবং অবশিষ্ট ১৩ লাখ শনিবার। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক সূত্রে তথ্যটি গণমাধ্যমকে জানান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান। তিনি জানান, আগামীকাল শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকার প্রথম চালান পৌঁছবে। দ্বিতীয় চালান আসবে শনিবার সকালে। মডার্নার এ টিকা গ্রহণ করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন। এর আগে গত ২৫ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কোভ্যাক্স সুবিধার (বিশ্বজুড়ে টিকা সরবরাহের আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম) আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার ২৫ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া যাবে। টিকা পেতে গত জুনে কোভ্যাক্সকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ। সেই হিসেবে ওই উদ্যোগ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রায় সাত কোটি টিকা দেয়ার কথা বাংলাদেশকে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ বক্তব্যের এক দিন পরই ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার টুইট করে জানান, কোভ্যাক্স উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে মডার্নার ২৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর গত ২৯ জুন দেশে জরুরি ব্যবহারের জন্য মডার্নার টিকা ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের অনুমোদন পায়।
6
নওগাঁয় সপ্তাহ খানেক ধরে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের সংকট চলছে। ডিলাররা বলছেন, কোম্পানি থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় এ সংকট। পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশ কিছুদিন থেকেই ডিলারদের কাছ থেকে তাঁরা তেল পাচ্ছেন না। এ জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ভোজ্যতেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে পাঁচ লিটার বোতলের তেল নেই। এক ও দুই লিটার বোতলের তেলও কম পাওয়া যাচ্ছে। ডিলার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা মিলে তেল মজুত করে 'কৃত্রিম সংকট' তৈরি করতে পারেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলায় একটি আমদানিকারক কোম্পানির ডিলার মো. পিন্টু মণ্ডল বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে কোম্পানি থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কোম্পানি থেকে বলা হচ্ছে, সরকার সয়াবিন বিক্রির যে দর নির্ধারণ করেছে, বিদেশ থেকে তার চেয়ে বেশি দামে তেল আমদানি করতে হচ্ছে। এ জন্য কোম্পানি থেকে তেল দেওয়া হচ্ছে না।অন্য আরেকটি কোম্পানির ডিলার সুমন সাহা বলেন, কোনো কোনো খুচরা ব্যবসায়ী চাহিদার তুলনায় বেশি তেল নিয়েছেন। আবার ক্রেতারাও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনছেন। এ জন্য বাজারে তেলের কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে।নওগাঁর ধর্মতলা রোডের খুচরা ব্যবসায়ী তাপস সরকার বলেন, অর্ডার দিলেও ডিলাররা তেল দিচ্ছেন না। এ জন্য তেলের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। আগের যা কিছু কেনা ছিল সেগুলো এখন বিক্রি করা হচ্ছে। তবে সেগুলো শেষ পর্যায়ে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে উকিলপাড়া এলাকার এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, 'আমার মনে হচ্ছে, ডিলার ও পাইকারেরা তেলের মজুত করে সংকট তৈরি করছেন। বাজারে তেলের সংকট থাকায় ক্রেতাদের অনেককে চাহিদার চেয়ে কম তেল নিতে হচ্ছে।'শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে সয়াবিন তেলের ঘাটতি দেখা গেছে। বাজারে এক লিটার ও দুই লিটার বোতল এবং খোলা তেল থাকলেও এর পরিমাণ খুবই কম। এ ছাড়া বাজারে পাঁচ লিটারের বোতল নেই। ফলে অনেককে প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল কিনতে হচ্ছে।দুপুরে ধর্মতলা রোডের এক খুচরা ব্যবসায়ীর দোকানে পাঁচ লিটার বোতলের তেল কিনতে আসেন সিএনজিচালক আফজাল হোসেন। তবে সেটি না পেয়ে ওই ক্রেতা এক লিটার বোতলের তেল কিনে নিয়ে যান। তবে অনেক বিক্রেতা ক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনের বেশি তেল কেনার অভিযোগ করেছেন।এদিকে দফায় দফায় সয়াবিনের দাম বাড়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে পণ্যটি। এতে অস্বস্তি ও অসন্তুষ্টিতে ভুগছেন সাধারণ ক্রেতারা।উকিলপাড়া এলাকার গৃহিণী নাসরিন বেগম বলেন, প্রতিদিনের রান্নাবান্না ছাড়াও আত্মীয়স্বজন ও মেহমান আপ্যায়নের রান্নায় তেলের ব্যবহার হয়। ইচ্ছা থাকলেও তেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া যাচ্ছে না।এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শামিম হোসেন বলেন, বাজারে তেলের সংকট নেই, তবে বোতলজাত তেলের সংকটের অভিযোগ রয়েছে। ডিলার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা মিলে এ সংকট তৈরি করেছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংকট তৈরি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
লালমনিরহাটের বুড়িমারী-চ্যাংরাবান্ধা রুট দিয়ে চারদেশীয় বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী এবং পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরিদর্শনের এসে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, এ রুট দিয়ে চারদেশীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। ১৯৬৫ সালের পর ভারতের সঙ্গে বন্ধ হওয়া সব ট্রেনের সংযোগ চালু করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এ বছরের শেষের দিকে 'তিনবিঘা এক্সপ্রেস' চালু করা হবে। আজ শুক্রবার দুপুরে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলপথ পরিদর্শন শেষে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ভারতের চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দরের রেলপথ ব্রডগেজ। তাই ভারতের সঙ্গে রেলপথের যোগাযোগের জন্য বুড়িমারী থেকে কাউনিয়া ডুয়েল ব্রডগেজ লাইনের কাজ দ্রুত শুরু হবে। ভারতের সঙ্গে ৪টি রুটে ট্রেন যোগাযোগ চালু হয়েছে। বুড়িমারী-চ্যাংরাবান্ধা রুটে রেল যোগাযোগ চালু হলে ভারত, নেপাল ও ভুটানের ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য বুড়িমারী স্থলবন্দরটি খুবই গুরুত্ব পাবে। বুড়িমারী জিরো লাইনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বুড়িমারী-চ্যাংরাবান্ধা রুট চালু হলে তিন দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীরা দ্রুত ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও তাদের পণ্য পরিবহন করতে পারবেন। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এক সময় রেলওয়েতে যৌবন ছিল, কিন্তু বিএনপি জামায়াত জোট সরকার ১৯৯১ সালে রেলওয়ের ১০ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরিচুত্য করেছেন। তখন তারা রেলওয়ের কোনো উন্নয়ন করেনি। তিনি বলেন, জাইকার সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে খুব শিগগিরই পৃথক যমুনা রেলসেতু ও লালমনিরহাট রেল সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এটা হলে রেলপথে পণ্য বা যাত্রী পরিবহনে ঝুঁকি থাকবে না। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন, সাবেক সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী, রেলপথের মহাপরিচালক খন্দকার শহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক ও পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল উপস্থিত ছিলেন। এর আগে রেলমন্ত্রী দুইদিনের সফরে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় 'লালমনি এক্সপ্রেস' ট্রেনে করে লালমনিরহাট রেল স্টেশনে পৌঁছান। এরপর লালমনিরহাট সার্কিট হাউজে বিশ্রাম শেষে একটি শাটল ট্রেনে করে বুড়িমারী স্থলবন্দর রেল স্টেশনে আসেন। এরপর বুড়িমারী জিরো লাইন পরিদর্শন করে পুনরায় শার্টল ট্রেনে করে লালমনিরহাটের উদ্দেশে রওনা করেন।
6
ফিলিস্তিনিদের জন্য মার্কিন কনস্যুলেট জেরুসালেমের বদলে পশ্চিম তীরে স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে ইসরাইল। শনিবার ইসরাইলের অধিকৃত জেরুসালেমে ইসরাইলি গভর্নমেন্ট প্রেস অফিসে প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ায়ির লাপিদ ও অর্থমন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যানের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নাফতালি বেনেত বলেন, 'মার্কিনিদের কাছে আমার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছি যে জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ রক্ষায় কোনো মার্কিন কনস্যুলেটের স্থান হবে না। আমরা কোনো নাটকীয়তা ছাড়াই স্থিরভাবে অবিরাম আমাদের মতামত জানিয়ে আসছি।' পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ায়ির লাপিদ তার বক্তব্যে মার্কিন কনস্যুলেটটি জেরুসালেমের বদলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কেন্দ্র পশ্চিম তীরের রামাল্লায় স্থাপন করার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, 'যদি রামাল্লায় তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কোনো কনস্যুলেট খোলে, আমাদের তাতে কোনো আপত্তি নেই।' এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছিলেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য জেরুসালেমে একটি মার্কিন কনস্যুলেট খুলছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে কবে তা খোলা হবে তা স্পষ্ট করে জানাননি তিনি। ব্রিটেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদাইনা ইয়ায়ির লাপিদের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমরা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী জেরুসালেমেই শুধু মার্কিন কনস্যুলেট স্থাপনকে গ্রহণ করবো। মার্কিন প্রশাসন এটিই ঘোষণা করেছিলো এবং এটি করার জন্য তারা প্রতিজ্ঞা করেছিলো।' অক্টোবরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনি ব্লিনকেন জানিয়েছিলেন, ফিলিস্তিনিদের সাথে সম্পর্ক জোরদারে ওয়াশিংটন একটি কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর জেরুসালেম শহরের পশ্চিম অংশ দখল করে নেয় ইসরাইলি বাহিনী। পরে ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর মসজিদুল আকসাসহ পূর্ব জেরুসালেম ইসরাইল দখল করে নেয়। আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত ভূমি হিসেবে বিবেচিত হলেও ১৯৮০ সালে ইসরাইল শহরটিকে একীভূত করে নেয় এবং অখণ্ড জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে। বিভিন্ন সময় শহরটিতে থাকা ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে ইসরাইলি ইহুদিদের শহরে আবাসনের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অখণ্ড জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। ২০১৮ সালের ১৪ মে তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে আনা হয়। সূত্র : রয়টার্স
3
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। তবে এখন তিনি খাবার খেতে পারছেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ঘরে তৈরি স্যুপ এবং বিভিন্ন ফলের জুস খাচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া এখন দুই বেলা স্যুপ খাচ্ছেন। এ ছাড়া পেঁপে, আপেল এবং মালটার জুস খাচ্ছেন। গত তিন দিন তার বমি হয়নি। সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধার পরে করে তার হিমোগ্লেবিন কমে যায়। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তবে তিনি মুখে খাবার থেকে পারছিলেন না। খাবারের ঘাটতি পূরনের জন্য তাকে স্যালাইন দেয়া হচ্ছিলো। বিএনপি প্রধানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমান সিঁথি হাসপাতালে তার সেবা-যত্ন করছেন। সূত্র জানায়, ২৩ নভেম্বর রাতে যে অবস্থা হয়েছিলো তার চেয়ে একটু ভালো আছেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক খোঁজ নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানান, তার (খালেদা জিয়ার) শারীরিক জটিলতা কিছুতেই কাটছে না। এ অবস্থায় তার আরোগ্য লাভের ভরসা হচ্ছে বিদেশের কোনো হাসপাতালে যদি সময়মতো তাকে 'অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট' দেয়া। বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসনের হার্ট, কিডনিসহ অনেক শারীরিক জটিলতা রয়েছে। তবে তিনি এখন লিভারের সমস্যায় বেশি ভুগছেন। সব মিলিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থা ভালো নয়। এছাড়া সরকার দেশের বাইরে থেকে ডাক্তার এসে তার (খালেদা জিয়ার) ট্রিটমেন্টের কথা বললেও সেটা সম্ভব না। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি হারুন আল রশিদ বলেন, খালেদা জিয়ার যে অসুস্থতা তার কয়েকবার রক্তক্ষরণ হয়েছে। এটা এমন একপর্যায়ে আছে, এখানে কালক্ষেপণ করার সুযোগ নেই। তার চিকিৎসা পুরোটাই একটা টিম ওয়ার্ক। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির জায়গায় জায়গায় এই চিকিৎসা হয় না, দু-একটা সেন্টারে হয়। এটা টোটাল একটা টিম ওয়ার্ক। যদি চিকিৎসক আনা হয়, তিনি বলবেন, আমি তো একা পারব না।
6
ভালোবাসা দিবসে আবারও নতুন গান নিয়ে আসছেন সাংবাদিক ও কণ্ঠশিল্পী সানি আজাদ। এবারের 'নিঝুম রাতে' শিরোনামের গানটির কথা লিখেছেন সাংবাদিক-গীতিকার রেজাউর রহমান রিজভী। এ নিয়ে সানি এবং রিজভী তৃতীয়বারে মতো কাজ করছেন একসঙ্গে। গানটির সুর ও সঙ্গীত করেছেন সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ সজিব। সামনে ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে ভিডিওসহ গানটি বাজারে আসবে 'সানি আজাদ বিডি' ইউটিউব চ্যানেল থেকে। 'নিঝুম রাতে' গানটি সানির ৪১তম গান। সানি এবং তার স্ত্রী আরিয়া খণ্ড ভিডিওতে বেশ জনপ্রিয় থাকলেও এই প্রথম কোন গানের ভিডিওতে একসঙ্গে দেখা যাবে তাদের। এমনটাই জানালেন সানি। বললেন, এর আগেও রিজভী ভাইয়ের সঙ্গে দুটি কাজ করা হয়েছে। 'আঁধার' গানটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এরপর আরও একটি কাজ করা হয়েছে। এবার আবারও কাজ করছি। এ গানটিও অনেক চমৎকার লিখেছেন রিজভী ভাই। আশা করছি; সবার ভালো লাগবে। তবে এবারের মিউজিক ভিডিওটি একটু ভিন্ন। আমরা একসঙ্গে অনেক খণ্ড ভিডিও'তে কাজ করলেও আরিয়ার মিউজিক ভিডিওতে তেমন আগ্রহ ছিল না। এটা আমাদের মোবাইল ভিডিওগ্রাফি। আমরা মূলত নিজেদের মতো করেই ভিডিওটি করার চেষ্টা করেছি। কারণ- দেশ এবং দেশের বাইরে এখন মোবাইলেও অনেক সুন্দর সুন্দর ভিডিও নির্মাণ হচ্ছে। ভিডিওটি পরিচালনায় ছিলেন সোহেল মনির। রেজাউর রহমান রিজভী বলেন, সানি ভাইয়ের সঙ্গে এর আগেও কাজ করেছি, এবারও একসঙ্গে কাজ হচ্ছে। এবারের গানও অসাধারণ গেয়েছেন সানি ভাই। রোমান্টিক গান। গানটি সবার ভালো লাগবে। আহমেদ সজিব বলেন, সানি ভাইয়ের সঙ্গে আমার অনেকগুলো কাজ হয়েছে। বরাবরই তিনি অনেক ভালো করেন। এবারের গানটিও তিনি অনেক ভালো গেয়েছেন। আমার বিশ্বাস; গানটি সাড়া ফেলবে।
2
স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদকে উড়িয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উড়ন্ত সূচনা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। 'এ' গ্রুপের এই ম্যাচে বুধবার রাতে ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ৪-০ গোলে জয় তুলে নেয় বায়ার্ন। 'এ' গ্রুপের আরেক ম্যাচে সালসবুর্কের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছে লোকোমোতিভ মস্কো। বিডি প্রতিদিন/কালাম
12
দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর অন্যান্য ফসলের তুলনায় মরিচের ভালো দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। অন্যদিকে বাজারদর বেশি হওয়ায় কৃষকেরাও অনেক উচ্ছ্বসিত।আজ মঙ্গলবার সদর উপজেলার খোঁচাবাড়ী শিবগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, ভাউলার হাট, ভেলাজান, রুহিয়া, বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকের খেত, বাড়ির আঙিনা এখন পাকা মরিচে উপচে পড়ছে। চলছে মরিচ শুকানোর ধুম।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার প্রতি বিঘা (৫০ শতক ) জমিতে গড়ে কাঁচা অবস্থায় ৮০ থেকে ৮৫ মণ করে মরিচের ফলন হয়েছে। শুকানোর পর বিঘাপ্রতি ফলন টিকছে ২০ থেকে ২২ মণ। খেত থেকে তুলেই প্রতি মণ কাঁচা মরিচ ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করে বিঘাপ্রতি কৃষক পাচ্ছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ২০ মণ শুকনা মরিচ বিক্রি করে পাচ্ছেন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অবশ্য এক বিঘা জমির মরিচ শুকাতে মজুরি বাবদ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। মজুরি খরচ বাদ দিয়ে কৃষকেরা বিঘাপ্রতি প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মতো লাভ করছেন।সদর উপজেলার ভাউলার হাট এলাকার মরিচচাষি সাদেকুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এবার মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর প্রতি মণ ৬ হাজারের বেশি টাকা দরে বিক্রি হলেও এবার শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায়। বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরাও আসছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভালো দাম পেলে লাভবান হতে পারব বলে আশা করছি।হরিপুর কাঁঠালডাঙ্গীর কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে মরিচের দাম কম ছিল। এখন মোটামুটি ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। এক বিঘা জমিতে তিনি মরিচের আবাদ করেছেন। পাকা মরিচ তুলে এখন শুকাতে দিয়েছেন।আরেক কৃষক বিলপাড়া গ্রামের সায়েম সোবহান জানান, এবার তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। চাহিদামতো দাম পেয়ে তিনিও সন্তুষ্ট।একই উপজেলার আরও কয়েকজন কৃষক জানান, এবার খেত থেকে ওঠানো পর্যন্ত এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষে খরচ হয়েছে গড়ে ৪০-৪৫ হাজার টাকা। এক মণ মরিচ খেত থেকে তোলার জন্য শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে ১৫০ টাকা। হাটে নিতে পরিবহন বাবদ আরেক দফা খরচ হচ্ছে। সেই হিসাবে খেত থেকেই যাঁরা পাকা মরিচ বিক্রি করছেন, তাঁদের খুব একটা লাভ হচ্ছে না। তবে যাঁরা শুকিয়ে বিক্রি করছেন, তাঁরা ভালো দাম পাচ্ছেন।সদর উপজেলার রুহিয়া কুজিশহর এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম রবি জানান, এ বছর শুকনা মরিচ ৮ হাজার টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া জিরা মরিচ (চিকন) ৮ হাজারের ওপরে বিক্রি হচ্ছে। শুকনা মরিচ ৭ হাজারের ওপরে বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ বছর মরিচের অনেক ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর মরিচে রোগবালাই নেই বললেই চলে, তাই মরিচের ফলন ভালো হয়েছে।এবার আমাদের হিসাব অনুযায়ী জেলায় ১ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারদরও ভালো থাকায় বেশ লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।
6
চাহিদা নিরূপণ করে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে লবণ উৎপাদনের জন্য নীতিমালা অনুমোদন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় লবণ নীতিমালা-২০২২ অনুমোদন দেওয়া হয়।সভা শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'উপকূলীয় জেলাগুলোর অনেক জায়গায় গতানুগতিক পদ্ধতিতে লবণ চাষ হচ্ছে। এর উন্নয়ন করা দরকার। মাতারবাড়ি, কক্সবাজার, পায়রায় বেশ কিছু জায়গা উন্নয়নমূলক কাজের জন্য নিয়েছি। সে জন্য নতুন নতুন জায়গা উদ্ভাবন করা এবং নতুন আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে লবণের উৎপাদন আরও বাড়াতে নীতিমালা করা হয়েছে।'নীতিমালা না মেনে আইসিডিআনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'আশা করা হচ্ছে, ২০২০-২৫ মেয়াদি এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করলে আমরা লবণ উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করব এবং আমাদের লবণের ঘাটতি হবে না। এ জন্য ২০২৫ সাল পর্যন্ত বার্ষিক খাতভিত্তিক লবণের চাহিদা নিরূপণ, পরিবেশবান্ধব উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, লবণচাষিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অপরিশোধিত লবণের মান ও মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। ঈদুল আজহার সময় চামড়াগুলো যেন সংরক্ষণ করতে পারি, সে জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণের ব্যবস্থা করতে হবে। গুণগত মান নিশ্চিত, আয়োডিন ঘাটতিজনিত রোগ প্রতিরোধে ভোজ্য লবণে আয়োডিনের পরিমাণ নিশ্চিত করতে হবে।''বিপণন নীতিমালা তৈরি হচ্ছে'নীতিমালা অনুযায়ী আপৎকালে লবণের বাফার স্টক রাখার ব্যবস্থা করতে হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ জন্য লবণশিল্প জরিপ করতে হবে। তার ফলাফলের ভিত্তিতে পদক্ষেপগুলো নিতে হবে।
6
রাজশাহীর বাঘায় আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনে দুই ট্রেন এক লাইনে মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (পাকশী) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুস সুবহানকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর দায়িত্ব অবহেলার কারণে আড়ানী স্টেশন মাস্টার একরামুল হক ও পয়েন্টম্যান রওশন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার আড়ানী রেল স্টেশনে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একই লাইনে ছুটে আসে রাজশাহীগামী কপোতাক্ষ আন্তঃনগর ট্রেন। অবস্থা বেগতিক দেখে কপোতাক্ষের চালক রুহুল আমিন সিরাজ স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের মাত্র ১৫ গজ দূরে নিজের ট্রেনটি থামাতে সক্ষম হন। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পায় ট্রেনসহ হাজারো যাত্রী। কপোতাক্ষের চালক রুহুল আমিন সিরাজ বলেন, আড়ানী স্টেশনে কপোতাক্ষ ট্রেনের স্টপেজ নেই। স্টেশনের পূর্বদিকের পয়েন্ট পার হওয়ার পর দেখেন একই লাইনে আরেকটি ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। এটা দেখে কৌশলে ট্রেনটি থামিয়ে দেন তিনি। প্রায় ৩৩ মিনিট পর ট্রেনটি পেছনে গিয়ে ২ নম্বর লাইন দিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ইশ্বরদীগামী সিক্স ডাউন মেইল ট্রেনের চালক রাজু আহম্মেদ বলেন, ওই ট্রেনটি আসার আগেই স্টেশনে তার ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। তবে লাইন ক্লিয়ার না পেয়ে তার ট্রেনের লাইন দিয়ে আরেকটি ট্রেন ঢুকে পড়ে। পয়েন্টম্যানের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন আড়ানী স্টেশন মাস্টার একরামুল হক। তবে পয়েন্টম্যান রওশন আলী বলেন, পয়েন্ট ঠিক করতে যাওয়ার আগেই কপোতাক্ষ ট্রেন আড়ানী স্টেশনের একই লাইনে ঢুকে পড়ে।
6
ইদানীং বাংলা ছবির শুটিংয়ের জন্য আগ্রহের জায়গা হয়ে উঠেছে তুরস্ক। এর আগে শাকিব খান তাঁর 'পাসওয়ার্ড' ছবির গানের শুটিং করেছেন তুরস্কে। অনন্ত জলিল 'দিন দ্য ডে'র কিছু অংশের কাজ করেছেন সেখানে। আরও কয়েকজন নির্মাতা তুরস্কে কাজের পরিকল্পনা করছেন।এর মধ্যেই খবর এল, 'ট্যুর' নামে আট পর্বের ওয়েব সিরিজের শুটিংয়ের জন্য তুরস্কে যাচ্ছেন নির্মাতা অনন্য মামুন। মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভ্রমণপিপাসু এক খুনির গল্প নিয়ে তৈরি হবে সিরিজটি। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন রাশেদ মামুন অপু। আরও থাকবেন সেমন্তি সৌমি, শাকিলা পারভিনসহ অনেকেই।অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু বলেন, 'গল্পের প্রয়োজনেই তুরস্কে শুটিং ফেলেছেন নির্মাতা। বাংলাদেশি এক ব্যক্তি, তুরস্কে যায় জীবিকার তাগিদে। সেখানেই পুরো সিরিজের গল্প। এর বেশি এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না অফিশিয়াল কারণেই। এ মাসের শেষের দিকে শুটিং টিম তুরস্কে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে আমি জানি।'অনন্য মামুন বলেন, 'তুরস্কেই সম্পূর্ণ ওয়েব সিরিজের শুটিং করব আমরা। পরিকল্পনা আছে ২০ দিনের শুটিংয়ের। চিত্রনাট্য তৈরি হয়ে গেছে। আমরা এখন শিল্পী ও কলাকুশলীদের ভিসার জন্য কাজ করছি। ভিসা হাতে পেলেই সামনের মাসে শুটিংয়ের জন্য দেশ ছাড়ব আমরা।'শুটিং শেষে দেশের একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে আট পর্বের ওয়েব সিরিজ 'ট্যুর'।
2
পশ্চিম জার্মানির নর্থ রাইন ভেস্টফ্যালিয়া প্রদেশের লুভারকুজেন শহরের একটি শিল্প পার্কে বিস্ফোরণে একজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার এ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত চারজন নিখোঁজ থাকার খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। শিল্প পার্কের চেমপার্ক সাইটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পার্কের অপারেটর কারেনটা বলেন, দুর্ঘটনায় রাসায়নিক কোম্পানি বায়ের ও ল্যানক্সেসের ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে বিস্ফোরণের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। চেমপার্ক সাইটের প্রধান লার্স ফ্রেডরিক তাৎক্ষণিক এক টুইট বার্তায় বলেন, 'সহকর্মীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।' দুর্ঘটনায় আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানান তিনি। উদ্ধারকর্মীরা ১২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। শহরের নিরাপত্তা বাহিনীর বরাত দিয়ে স্থানীয় ওয়েল্ট টিভি একজনের মৃত্যুর খবর জানায়। তবে তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে একজন কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের পরে পার্শ্ববর্তী এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় জরুরি সেবাদানকারী যানবাহন পুরো এলাকা ঘিরে রাখে। দুর্ঘটনার পর পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ঘরের দরজা-জানালাও বন্ধ রাখতে বলেছে তারা। কারেনটা বলেন, বিষাক্ত গ্যাস যাতে ঘরে ঢুকতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের এয়ারকন্ডিশনারও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। গত সপ্তাহে জার্মানিতে ভয়াবহ বন্যায় ১৮০ জন মারা যাওয়া এলাকার ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে লেভারকুজেন শহর। বিস্ফোরণের পর পার্শ্ববর্তী অধিকাংশ সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য গাড়িচালকদের নির্দেশ দেয় পুলিশ। লেভারকুজেনের চেমপার্ক সাইটে ৩০টির বেশি কোম্পানির কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোম্পানি হলো কভেস্ত্রো, বায়ার, ল্যানক্সেস ও আরলানজো।
3
কুড়িগ্রামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় আল হামীম পাবলিক লিমিটেড নামের একটি ভুয়া কোম্পানির ৩ কর্মকর্তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই কর্মকর্তারা রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আদালতে জামিন নিতে গেলে আদালত তাদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার প্রতারকরা হচ্ছে, মাওলানা আনিছুর রহমান, মাওলানা রেজাউল করিম ও মাওলানা আছয়াদুর রহমান আপেল। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি কোম্পানির কর্মী ওমর ফারুক আল হামীমের এই ৩ সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উলিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আকর্ষণীয় মুনাফা দেয়ার মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে ভুয়া ওই কোম্পানির নামে কর্মকর্তারা গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আদায় করেন। পরে মেয়াদ শেষে সদস্যদের বিভিন্ন স্কীমের নামে জমাকৃত টাকার লভ্যাংশ না দিয়ে কোম্পানির কর্মকর্তারা তালবাহানা করতে থাকেন। তাদের এমন প্রতারণামূলক আচরণ দেখে সদস্যরা বুঝতে পারে তাদের সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছে এ চক্রটি । এ অবস্থায় প্রতারণার শিকার উপকার ভোগীগণ কোন উপায়ান্তর না পেয়ে আদালতের আশ্রয় নেন। মামলা দায়েরের পর গত ৭ ফেব্রুয়ারি ওই সাবেক ৩ কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে অস্থায়ী জামিন নেন। রোববার আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। জানা গেছে, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় ৩ হাজার গ্রাহকের ৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় আল হামীম পাবলিক লিমিটেড এর এমডি এনামুল কবীর কোহিনুর ও তার সহযোগীরা। এই কোম্পানী কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় ৪টি ক্যাটাগরিতে সদস্য সংগ্রহ করে। কাগজপত্রে চক্রটি ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক ব্যবসা পরিচালনার কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে।
6
উপহার দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে এবার সাবধান হবেন। এমনও হতে পারে আপনার দেওয়া উপহারই আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে। এমনটাই হল যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএল নেওটয়ার্কের সাংবাদিক জেন স্লাটার। এনএফএল, আমেরিকার ন্যাশনাল ফুটবল লিগের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। সাবেক বয়ফ্রেন্ড সম্পর্কে জেন তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন টুইটারে। সেখানে তিনি লিখেছেন কীভাবে তার এক সাবেক বয়ফ্রেন্ডের দেওয়া ফিটবিট ধরিয়ে দিয়েছিল তাকে (বয়ফ্রেন্ডকে)। জেন লিখেছেন, এক ক্রিসমাসে একটি ফিটবিট উপহার দিয়েছিলেন সেই বয়ফ্রেন্ড। তার ফিটবিটের সঙ্গে নিজের ফিটবিটও কানেক্ট করে নিয়েছিলেন ওই প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ড। এমন একটি উপহার পেয়ে জেন বেশ খুশি হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। সেই খুশি একদিন দুঃখে পরিণত হয়ে যায়। জেন লিখেছেন, একদিন ভোর চারটার সময় ওই প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ডের শারীরিক সক্রিয়তা লক্ষ্য করেন। সেই সঙ্গে জেন পাঠকদের জানান, ভোর চারটার সময় জিমেও যাননি তার বয়ফ্রেন্ড। এই ঘটনার পর, বয়ফ্রেন্ডের কাছে জেন জানতে চান গোটা বিষয়টি। ভোর চারটার সময় তার ওই প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ড কী করছিলেন সেটা জানতে পেরেই সম্পর্ক ভেঙে দেন জেন। টুইটারে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন জেন স্লটার। বিডি প্রতিদিন/কালাম
5
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বায়োপসি করা হয়েছে। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত। তবে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। সোমবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর পৌনে একটায় তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। বায়োপসি শেষে বিকেল তিনটা ৫০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত। তার বায়োপসির পরে পরে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ছোট ছেলের স্ত্রী শমীলা রহমান সিঁথির সঙ্গে কথা বলেছেন। চিকিৎসক সূত্র মতে, খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। বর্তমানে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাকে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে কিডনি সমস্যা বেড়েছে, রক্তের হিমোগ্লোবিনেরও ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে আবার থেমে থেমে জ্বর আসায় একাধিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হচ্ছে। এদিকে আরেকটি সূত্র জানায়, গত রবিবার লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যান আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি। রাত সোয়া ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রবেশ করেন শর্মিলা সিঁথি। এরপর বের হন রাত ১১টার। বর্তমানে তিনি খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় আছেন বলেও জানা গেছে। বিএনপি ও বিভিন্ন সংস্থার সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। খালেদা জিয়ার জন্য তিনি কিছু ফলমূল সঙ্গে করে নিয়ে যান। বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে চেয়ারপাসনকে দেখতে এভার কেয়ার হাসপাতালে যান। গত ১২ অক্টোবর জ্বর আসায় খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর আগে করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে টানা ৫৪ দিন একই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
6
এ যেন সাক্ষাৎ সত্যজিৎ রায়। শুটিং করছেন। শিল্পীকে দৃশ্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন। ক্যামেরায় লুক থ্রু করছেন। 'পথের পাঁচালী' তৈরির সময়ের সত্যজিৎ রায়ের জীবন নিয়ে ছবি বানাচ্ছেন কলকাতার পরিচালক অনীক দত্ত, নাম 'অপরাজিত'। ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন জিতু কমল। তাঁর প্রথম লুক প্রকাশ পেয়েছে। ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। দুই বাংলার অনেক সত্যজিৎ-ভক্ত ছবিগুলো শেয়ার করেছেন। দেখে নিই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত সেসব ছবি। বাড়তি থাকল সত্যজিৎ রায়, সায়নী ঘোষ, জিতু কমলের আরও কিছু ছবি।
2
বুয়েটে 'সাংগঠনিক রাজনীতি' নিষিদ্ধ করার যে প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে, তা মোটের ওপর ইতিবাচক। অধিকাংশ মানুষ এই সিদ্ধান্তে খুশি হয়েছেন। অনেকে এই বলে স্বস্তি প্রকাশ করছেন যে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতিই সবচেয়ে বেশি মনোযোগী হবে; মারামারি, দলাদলি এসব বন্ধ হবে। বুয়েট ক্যাম্পাসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও বিস্তারের প্রয়োজন আর থাকবে না। অবশ্য এমন সংশয়বাদী মানুষের দেখাও পেয়েছি যাঁরা বলছেন, কাগজে-কলমে যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, বুয়েটসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসলে কোনো পরিবর্তন আসবে না; সরকারপন্থী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বলপ্রয়োগের চর্চা বন্ধ হবে না। কারণ, বিষয়টা গভীরভাবে রাজনৈতিক। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারপন্থী ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য চলছে সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছায়। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যেসব বেআইনি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অভিযুক্ত ও সমালোচিত হচ্ছেন, সরকারের অনুমোদন না থাকলে তাঁদের পক্ষে সেগুলো চালানো কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলে হলে দেশের প্রচলিত আইনকানুন ও বিচারের ব্যবস্থার ধরাছোঁয়ার বাইরে যে নিষ্ঠুর ও বিপজ্জনক নির্যাতনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তা গড়ে ওঠা অসম্ভব ছিল, যদি সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেটাকে প্রশ্রয় না দিতেন। বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে যখন শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের কয়েকজন নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন চকবাজার থানার একজন উপপরিদর্শক খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাদের বাধার কারণে তিনি আবরারের কাছে পৌঁছাতে পারেননি; হলের অভ্যর্থনাকক্ষে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করে থানায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই ঘটনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে খুব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, সরকারপন্থী ছাত্রসংগঠনের অপরাধ সংঘটনের মুহূর্তে দেশের আইন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ ও আইনপ্রয়োগের ব্যবস্থা কী বিপজ্জনকভাবে নিষ্ক্রিয় ও অকার্যকর হয়ে যায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে এ পর্যন্ত যত শিক্ষার্থী খুনের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর কোনোটারই বিচার কেন হয়নি, এমনকি কোনো কোনো খুনের মামলার রায়ে খুনিদের কেন খুঁজেই পাওয়া যায়নি-তা-ও এই ঘটনায় আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এর জন্য দায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র-শিক্ষকদের বিষয়ে সরকারের রাজনৈতিক নেতাদের একান্তই দলীয় স্বার্থতাড়িত দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান। এই দেশে যখন যে রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় কিংবা নেয়, তখন সেই দল অঘোষিতভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের অনুগত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যে বলপ্রয়োগ ও নিষ্ঠুরতার চর্চা চলে এসেছে, তারই ভয়ংকর রূপ আবরার হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আরও একবার উন্মোচিত হলো। এখন বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাদের কক্ষ সিলগালা কিংবা আবরারের হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেই এই গুরুতর সমস্যার সমাধান হবে না; কাগজে-কলমে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেও বস্তুত কোনো কাজ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান বদলাচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারীদের দলভিত্তিক রাজনৈতিক আনুগত্য বা সমর্থন লাভের আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত কোনো কিছুতেই কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা যায় না। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো কি এই আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করবে? বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ রকম আশা করা কি বাস্তবসম্মত? মনে হয় না। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারকদের ভাবনায় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা, জ্ঞান, সংস্কৃতির গুরুত্ব আছে বলে মনে হয় না। বরং দলীয় স্বার্থে, উপদলীয় স্বার্থে, এমনকি ব্যক্তিগত স্বার্থেও তাঁরা সন্তানতুল্য তরুণ-তরুণীদের পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী সহিংসতায় লিপ্ত হতে মদদ জোগান, অপরাধবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তে উৎসাহ দেন। এ যেন এক সন্তানকে দিয়ে আরেক সন্তানকে হত্যা করার সংস্কৃতি। রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপারে আরও বেশি হতাশ লাগে এ জন্য যে তাদের কাছে অসৎ, অপরাধপ্রবণ ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির লোকদের সমাদর বেড়েছে; দলগুলোতে অপেক্ষাকৃত সৎ, ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীদের স্থান অনেক সংকুচিত হয়ে এসেছে। ক্ষমতাসীন দলে অপরাধপ্রবণ নেতা-কর্মীদের দৌরাত্ম্য ও উপদলীয় খুনোখুনির ঘটনা এ কারণেই অনেক বেড়েছে। এমনকি, যেসব রাজনৈতিক দল ক্ষমতার বাইরে রয়েছে, তাদের মধ্যেও দলাদলির কারণও একই। তাই এসব রাজনৈতিক দলের কাছে আশা করা যায় না যে তারা তাদের অশুভ প্রভাববলয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মুক্তি দেবে। তাহলে উপায় কী? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বলপ্রয়োগ ও নিষ্ঠুরতা চর্চার ভয়ংকর অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত করে সত্যিকারের বিদ্যাপীঠে পরিণত করার কোনো পথ কি খোলা আছে? যদি থাকে তাহলে সেই পথে কে সাহস করে হাঁটা শুরু করবে? এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। অবশ্য আবরার হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটসহ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসমাজের মধ্যে যে সাহসী প্রতিবাদ-বিক্ষোভ লক্ষ করা গেল, তা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, এখন কী করা প্রয়োজন। বুয়েটে 'সাংগঠনিক রাজনীতি' নিষিদ্ধ করার দাবির মর্মার্থ ছাত্রলীগের প্রদর্শিত অপরাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসানের দাবি। এই দাবি পূরণের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সবকিছু বদলে যাবে, এমনটা আশা করা হয়তো যায় না। কিন্তু এটা পরিষ্কার হয়েছে যে ছাত্ররাজনীতির নামে এই নিষ্ঠুর দুর্বৃত্তপনা প্রবলভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এবং এটা ঘটেছে কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক শক্তির জোরে নয়, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ সাহসিকতার জোরে। এটাই সঠিক রাজনীতি; অপরাজনীতিকে উৎখাত করার জন্য শিক্ষার্থীসমাজের এই রাজনীতিই করতে হবে। 'সাংগঠনিক রাজনীতি' নামক অপরাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা নিষিদ্ধ করার এই পদক্ষেপ আসলে খুবই প্রাথমিক একটা ধাপ। শিক্ষার্থীদের আরও অনেক কিছু করতে হবে। প্রথমত এই ভাবনা মাথায় রাখতে হবে যে ব্যক্তি মানুষ কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়; সে সমষ্টির অংশ, সবার ভালোমন্দের সঙ্গে ব্যক্তির ভালোমন্দ আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। ভালো ছাত্র হওয়া, পরীক্ষায় ভালো ফল করা, ভালো চাকরি পাওয়া-সবই খুব জরুরি কথা। কিন্তু শেষ কথা নয়। শেষ কথা হলো একা একা ভালো থাকা যায় না। ভালো থাকতে হয় সবাইকে নিয়ে, সবার সঙ্গে। সবার ভালোর স্বার্থে এই সংঘবদ্ধতাই রাজনীতি। আবরার হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে যে নৃশংস অন্যায় সংঘটিত হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোই রাজনীতি। শিক্ষার্থীদের এমন অন্যায়বিরোধী রাজনীতিই চালু রাখতে হবে। এই রাজনীতি চালু রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলে হলে যে নির্যাতনের অপসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা চিরতরে উচ্ছেদ করে নির্ভয়, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পড়াশোনার পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। শিক্ষার্থীরা পাঠচক্র করবেন, জ্ঞানবিজ্ঞানের সর্বসাম্প্রতিক অগ্রগতির নানা দিক নিয়ে সভা-সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করবেন, ডিবেটিং ক্লাব করবেন, চলচ্চিত্র সংসদ করবেন, নাটক-সংগীত-চিত্রকলার চর্চা করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসবের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে, শিক্ষকেরা অনুপ্রেরণা জোগাবেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নানা বিষয়ে গবেষণা করবেন, জরিপ-সমীক্ষা ইত্যাদি করবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু ক্যারিয়ারিস্ট পেশাজীবী তৈরি করবে না; সমাজ, দেশ, পৃথিবী সম্পর্কে সচেতন মানুষ গড়ে তুলবে-শিক্ষার্থীদের রাজনীতি হবে এই লক্ষ্যাভিমুখী। এসব কথা উচ্চাভিলাষী মনে হতে পারে, কিন্তু এটাই পথ। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশে বড় ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিজেদেরই তা করতে হবে, শুধু তাঁরাই তা করতে পারবেন। তাঁদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে শিক্ষকদের। শিক্ষাজীবনকে আনন্দদায়ক ও অনুসন্ধিৎসাময় করে তোলার জন্য সামষ্টিক কল্যাণকামী ও পরার্থপর রাজনীতি প্রয়োজন। সেই রাজনীতির বীজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্য সুপ্ত রয়েছে। প্রয়োজন সেই রাজনীতিকে বিকশিত করা। শিক্ষার্থীরাই সেটা করতে পারবেন। মশিউল আলম: প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক[]
8
এরশাদ পুত্র নাকি হিরো আলম। বগুড়া-৬ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন কে? এই প্রশ্ন এখন রাজনীতির মাঠে। যেহেতু বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, আর আওয়ামী লীগও আসনটি ছেড়ে দিয়েছে জাতীয় পার্টিকে। তাই জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বড় ছেলে রাহগির আল মাহির নাম শোনা যাচ্ছে। 'সাদ এরশাদ' হিসেবে পরিচিত এরশাদ-রওশন দম্পতির এ সন্তানের রাজনীতিতে অভিষেক ঘটতে পারে এর মাধ্যমে। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে মহাজোটের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে জাপার। সরকারি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুই নেতা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, উপনির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন সাদ এরশাদকেই ছেড়ে দেয়া হবে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে জাপা নেতাদের অনেকে বলছেন, রাজনীতির মাঠে 'অপরিচিত' সাদ এরশাদ বেশিরভাগ সময় ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাইরে থাকেন। হঠাৎ করে রাজনীতিতে এসে নির্বাচনী মাঠে কতটা সুবিধা করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আসন থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলেও নির্ধারিত সময়ে শপথ না নেয়ায় আসনটি শূন্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন এ আসনে ২৪ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। মহাজোটসঙ্গী জাপার জন্য এ আসনে ছাড় দেয়া হয়েছিল। এবারও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের দুই নেতা। তবে, জাপার অধিকাংশ নেতাই অবশ্য এরশাদতনয়ের রাজনীতিযাত্রার বিষয়টি স্রেফ গুঞ্জন বলে মনে করছেন। সম্প্রতি করা ট্রাস্টেও সাদকে রাখেননি পার্টির চেয়ারম্যান। শুধু তা-ই নয়, তাকে দলের সাধারণ সদস্য পদও দেয়া হয়নি। এমন অবস্থায় মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি নেতাদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে না। অপরদিকে এ উপনির্বাচনে এবারও দলের মনোনয়ন চান একাদশ সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের কাছে পরাজিত জাপার হয়ে লড়াই করা নূরুল ইসলাম ওমর। পাশাপাশি সদ্য জাপায় যোগ দেওয়া আশরাফুল ইসলাম, যিনি 'হিরো আলম' হিসেবে পরিচিত; তিনিও মনোনয়ন চান।
9
খ্যাতিমান পরিচালক ও শিল্পনির্দেশক মহিউদ্দিন ফারুক আর নেই। বনানীর বাসায় অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি। জ্বর, সর্দি-কাশির ছিল বলে স্বজনরা দ্রুত তাঁকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালে নেওয়ার পরই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। ছোট ছেলে নাসিরুদ্দিন ফারুক বলেন, বাবা ভালোই ছিলেন। কিছুদিন আগে জ্বর আসে। এরপর ভালো হয়ে যান। আব্বা যেহেতু হার্টের রোগী, তিনি আলাদা থাকতেন। বাসার সবাই সাবধানতা মেনে চলতেন। শুক্রবার সকালে বাবার রুমে গিয়ে দেখলাম, স্ট্রোক করেছেন। এরপর দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা বাবাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। মহিউদ্দিন ফারুক স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ আত্মীয়স্বজন এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। শিল্পনির্দেশক মহিউদ্দিন ফারুক ১৯৪২ সালের ১ মার্চ ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবির 'বিরাজ বউ'। তিনি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটেরও শিক্ষক ছিলেন। শিল্পনির্দেশক হিসেবে মহিউদ্দিন ফারুকের প্রথম ছবিটি হচ্ছে 'পুনম কি রাত'। এরপর একে একে তিনি কাজ করেন 'লাঠিয়াল', 'মিন্টু আমার নাম', 'প্রতিজ্ঞা', 'বসুন্ধরা', 'ডুমুরের ফুল', 'নাজমা', 'সোহাগ মিলন', 'সারেং বউ', 'সুর্যদীঘল বাড়ি', 'সৎ ভাই', 'চাপা ডাঙার বউ', 'অভিযান', 'জনি', 'মান সম্মান', 'চ্যালেঞ্জ', 'নসিব', 'উছিলা', 'নিয়ত', 'দুখাই', 'মেঘলা আকাশ', 'পদ্মানদীর মাঝি', 'পিতা মাতা সন্তান'সহ আরো অনেক ছবিতে। মহিউদ্দিন ফারুকের শিল্পনির্দেশনা দেয়া সর্বশেষ ছবি যৌথ প্রযোজনার 'মনের মানুষ'। গৌতম ঘোষ পরিচালিত এই ছবির জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।
2
আগামী বছরই ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। আর এর জন্য ১ লাখ ৭৫ হাজার রুশ সেনাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে গতকাল শুক্রবার এমনটি বলা হয়েছে।তবে ইউক্রেন সরকারের আশঙ্কা, আগামী মাসেই হামলা চালাবে রাশিয়া।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, মস্কো ১০০ ব্যাটালিয়নে ১ লাখ ৭৫ হাজার সেনাকে অস্ত্রশস্ত্রসহ প্রস্তুত করছে ।মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, গোয়েন্দাদের কোনো তথ্য নিয়ে তারা মন্তব্য করবে না।ইউক্রেনে হামলার জন্য প্রস্তুত রাশিয়া: ফ্রান্সএর আগে পেন্টাগন জানিয়েছিল, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর এ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।পেন্টাগনের মুখপাত্র কর্নেল টনি সেমেলরথ বলেন, আমরা পূর্ব ইউক্রেন নিয়ে চলমান সংঘাত কূটনৈতিকভাবে সমাধানের বিষয়টিকে সমর্থন করছি।'মার্কিন গোপন নথির বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ান বাহিনী বর্তমানে চারটি পয়েন্টে সেনা বাড়াচ্ছে। সেখানে অস্ত্রশস্ত্রসহ ৫০টি কৌশলগত দল মোতায়েন করা হয়েছে।সংকট সমাধানে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠক চায় ইউক্রেনমার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর আগে বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা ঠেকানোর জন্য নতুন নীতি গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অলেক্সি রেজনিকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া প্রায় ১ লাখ সেনা সীমান্তে মোতায়েন করেছে। তবে রাশিয়া এটি অস্বীকার করেছে।গত বুধবার লাটভিয়ার রিগায় ন্যাটো মন্ত্রীদের এক বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য আগ্রাসী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেছে বলে প্রমাণ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।নাগরিকদের ইউক্রেন ছাড়ার আহ্বান আরও ৭ দেশেরমস্কো ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়া দখল করে। রাশিয়ার সমর্থনে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
3
ঢাকা: হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হককে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়েছে।আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ।রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ জানান, ২০২০ সালের মোহাম্মদপুর থানার একটি ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় তদন্ত চলছিল। তদন্তে হেফাজত নেতা মামুনুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়ায় আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।প্রসঙ্গত, গতকাল রোববার দুপুরে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।
6
রাষ্ট্র পরিচালনার কর্তৃত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বের। আর তাঁদের প্রণীত আইন, বিধিবিধান প্রয়োগ, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার দায়িত্ব প্রধানত সিভিল সার্ভিসের। তাদের তদারকি ব্যবস্থা স্তরে স্তরে বিভাজিত। বিধিবিধান ও যুগবাহিত রেওয়াজ এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। ক্ষেত্রবিশেষে তাদের কারও কাজে জন-অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। ভাবমূর্তিতে দেখা দেয় সংকট। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে অন্যদের জন্য তা দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকে। ব্যবস্থাটি প্রশংসিত হয় সব মহলে। সম্প্রতি সরকারের এরূপ কিছু পদক্ষেপ নজর কেড়েছে। অধীন কর্মচারীর সঙ্গে একজন জেলা প্রশাসকের অনৈতিক সম্পর্কের জন্য তাঁর পদাবনতি অন্যদের কঠোর বার্তা দিল। ঠিক তেমনি আরও একজন জেলা প্রশাসক ও তাঁর অধীন কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে হয়েছে ফৌজদারি মামলাও। বিচারাধীন বিষয়ে আর মন্তব্য করা হলো না। সরকারি কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ দুর্নীতি বা অনিয়মের মধ্যে অবস্থান করে না। সুতরাং তাদের অন্যদের মন্দ কাজের দায় নিতে যাওয়া সমীচীন নয়। কারও অন্যায় কাজে সমর্থন বা ধামাচাপা দিলে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। ভালো ব্যক্তিরাও অন্যদের সঙ্গে বিবেচিত হন বিতর্কিত ব্যক্তিদের কাতারে। তবে এসব বিষয় নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় আইনকানুন, ন্যায়নিষ্ঠা ও পরিমিতিবোধও বিবেচনায় রাখা সংগত। লঘু পাপে যেন কেউ গুরুদণ্ড না পায়, সেটাও বিবেচনায় রাখা সমীচীন। অন্যদিকে অপরাধী দমনে দৃঢ় ভূমিকার জন্য কাউকে যেন ক্ষতিকর বা অমর্যাদাকর অবস্থায় না পড়তে হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিবেচনায় রাখা আবশ্যক যে আমাদের সমাজব্যবস্থায় অন্যায়কারীরা খুবই শক্তিশালী সামাজিকভাবে। এ প্রসঙ্গে বিশেষ কয়েকটি নজির সামনে আনা প্রয়োজন। একজন অতিরিক্ত সচিব একপর্যায়ে বলেছিলেন, তাঁর সঙ্গে জনা ১৫ সৎ কর্মকর্তা দিলে তিনি সরকার থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে পারবেন। এ বক্তব্যের জন্য তাঁকে ত্বরিত বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয় আট মাস আগে। করা হয় বিভাগীয় মামলাও। মামলায় তাঁকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয় 'তিরস্কার' করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিজ্ঞজনোচিত কথা বলেননি। এটা মানানসই হয়নি তাঁর পদের দায়িত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে। মনে হয়, আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি অবাস্তব একটি বক্তব্য দেন। তবে জানা যায়, তিনি সৎ কর্মকর্তা। সরকার কিংবা কাউকে বিব্রত করার জন্য এমনটি তিনি বলেছেন, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। আর আট মাস আছেন ওএসডি হিসেবে। আমরা সরকারিভাবে যা-ই বলি, এ ধরনের ওএসডি থাকা একটি শাস্তিও বটে। এ দেশে চাকরিজগতে এমনটাই বিবেচনা করা হয়। চাকরির শেষ প্রান্তে আছেন এই কর্মকর্তা। পদোন্নতির সম্ভাবনাও নিজ থেকেই শেষ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁকে বিভাগীয় মামলা করে তিরস্কার না করলেও চলত বলে মনে হয়। দীর্ঘদিন ওএসডিতে তিনি আছেন। হয়তোবা আরও থাকতে হবে। এর মাধ্যমেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া যে তাঁর অসংগত ছিল, সে বার্তা দেওয়া হয়েছে। সবাই ভেবেছিল, বিষয়টি চুকে গেছে। এটা যে চোকেনি, তা দেখা গেল এ ধরনের তিরস্কারের মাধ্যমে। তাঁর ওপর অবিচার করা হয়েছে, এমন কথা বলা যাবে না। তবে এটুকু বলা যাবে, বর্ণিত মৃদু শাস্তি অনাবশ্যক ছিল। কয়েক দিন আগে উপসচিব পদে বিভিন্ন ক্যাডার থেকে তিন শতাধিক কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন। তাঁদের চাকরির মেয়াদ ১২ বছরের মতো। পদোন্নতি দিতে এখন শূন্য পদের সংখ্যার বালাই নেই। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এর সূচনা। প্রশাসন হয়ে এখন পুলিশেও চলছে। অনেক বলা ও লেখা হয়েছে এসব বিষয়ে। এ ছাড়া দেখা যায়, মেধাক্রমে ওপরে থাকা কর্মকর্তাকে টপকে নিচের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়ে যান। আর তা হতে পারে পদোন্নতির শর্তাদি পূরণ না করলেও। সেসব নাই-বা ধরলাম। এসব দিক দিয়ে ঠিক থেকেও কেউ কেউ ছিটকে পড়েন বলে জানা যায়। সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সদস্যদের প্রজ্ঞা, ন্যায়নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতা সম্পর্কে আমাদের আস্থা আছে। তা-ও তো দেখি, এ ধরনের অযাচিত ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক কালে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে র্যাবের সঙ্গে ছয় বছর সাড়াজাগানো কাজ করে একজন তরুণ কর্মকর্তা ছিটকে পড়েছেন তালিকা থেকে। তাঁর আকস্মিক বদলির সময়ে বলা হয়, এক কর্মক্ষেত্রে তিন বছরের অধিক কাজ করার কথা নয়। তাহলে আরও তিন বছর আগে তাঁর ন্যায্য বদলি করা হলো না কেন? এই কর্মকর্তা ক্যাসিনো অভিযানসহ পুরান ঢাকার এক প্রভাবশালী সাংসদ-তনয়কে গ্রেপ্তার ও তাঁর বাসায় তল্লাশির নেতৃত্বে ছিলেন। খুবই কঠিন ছিল তাঁর কাজ। ভেজালবিরোধী অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক ডাকসাইটে লোক। হয়তো বলা হবে, পদোন্নতির জন্য আরও অনেক যোগ্যতা-অযোগ্যতা আছে। আর এসএসবির সদস্যরা দেখেশুনেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হতে পারে। জোর দিয়ে কিছু বলা যাবে না। কিন্তু জনশ্রুতি ভিন্ন। এসএসবির সদস্যরা যেসব তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করেন, সেগুলো তাঁদের তৈরি নয়। সুতরাং ভুলভাবে পরিবেশিত তথ্যের ওপর সিদ্ধান্তও ভুল হতে পারে। এ ধরনের জানা-অজানা আরও বিষয়াদি আছে। মাঠ প্রশাসনে ডাকসাইটে কর্মকর্তা হিসেবে দেশব্যাপী সুপরিচিত কর্মকর্তা কেউ কেউ সচিব হন না অজ্ঞাত কারণে, হলে অবদান রাখতে পারতেন। আশা করব, বিষয়গুলো ভুল হলে পুনর্বিবেচনায় সংশোধিত হবে। শুধু সচিবালয় বা জেলা প্রশাসনে নয়। রাষ্ট্রযন্ত্রের অন্যদিকেও ঘটছে এ ধরনের অযাচিত ঘটনা। আমাদের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অল্প দিন কাজ করেছিলেন এক তরুণ কাস্টমস কর্মকর্তা। এর আগে তাঁর পদায়ন ছিল প্রশিক্ষণ একাডেমিতে। বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন তিনি কয়েক মাস। সেখানে এক মাসেই ২০ কেজি স্বর্ণ আর বৈদেশিক ডাক থেকে আড়াই কোটি টাকার ওষুধ উদ্ধার করেন। অল্প দিনের মধ্যেই সরে যেতে হয় তাঁকে। আর আঁতে ঘা লাগার চক্রটি কোনো ক্ষেত্রেই কম প্রভাবশালী নয়। একপর্যায়ে সফল হয়ে যায় তারা। বিতাড়িত কর্মকর্তা সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন কিছু অযাচিত বিশেষণ, যেন 'আপনা মাঁসে হরিণা বৈরী'। সিভিল সার্ভিসে পুরস্কার সর্বক্ষেত্রে সোজা পথে আসে না। শুদ্ধাচার পদকজয়ী কেউ কেউ অল্প দিনেই হয়ে যান ভিলেন। তেমনটা হন বিপিএম-পিপিএমজয়ী ব্যক্তিদের গুটিকয়। এর অর্থ আমরা যথার্থ লোককে মূল্যায়ন করি না। গিল্টিকেই সোনা বলে চালিয়ে দিতে চাই। আর খাঁটি সোনা পড়ে থাকে ছাইয়ের স্তূপে। একপর্যায়ে নিক্ষিপ্ত হয় ভাগাড়ে। অথচ নিষ্ঠাবান ও যোগ্যদের যথোচিত মূল্যায়ন এবং বৈরী পরিস্থিতিতে সহায়তা করলে তাঁদের মনোবল আরও বাড়বে। দিতে পারবেন অধিকতর সেবাও। অপরাধী চক্র দেখবে লাল সংকেত। কিছুটা হলেও পিছু হটবে। অন্যদিকে যাঁরা সমাজবিরোধীদের প্রতি সহায়ক থাকেন, নিজেরা মনোযোগী হন ভোগ কিংবা অন্যায় ক্ষমতা প্রয়োগে, তাঁদের প্রতি হওয়া দরকার ক্ষমাহীন। সম্প্রতি এ ধরনের কিছু হয়েছে। তবে পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে যত ন্যায়নিষ্ঠ ও সংবেদনশীল হবে, তবেই অধিকতরও গণমুখী হবে সিভিল সার্ভিস। আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব []
8
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের জিয়াউর রহমান জিয়া ২৭ বছর ধরে চাকরি করছেন। বর্তমানে তিনি ক্লার্ক (কেরানি) পদে আছেন। বেতন সামান্যই। অথচ তার বিরুদ্ধে ২০-২৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়, অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে গাড়ি, বাড়ি, জমি, প্লটসহ নানা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি যেন আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। সূত্র জানায়, জিয়াউর রহমান ঢাকার খিলগাঁওয়ের আনসার সদর দপ্তরে বিভাগীয় হিসাব ও কল্যাণ শাখায় কেরানি পদে কর্মরত। এর আগে তিনি আরও ছোট পদে কর্মরত ছিলেন। দুদকে পেশ করা অভিযোগে আরও বলা হয়, জিয়াউর রহমান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের আনসার সদস্যদের জিম্মি করে অনৈতিকভাবে তাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন। ভুয়া বিল-ভাউচারে অর্থ বরাদ্দ করিয়ে, জাল-জালিয়াতি করে আনসার সদস্যদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এভাবে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের কেরানি মো. জিয়াউর রহমান জিয়া সমকালকে বলেন, তার নামে অবৈধ সম্পদ নেই। রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার টেংরা নামক গ্রামে বিলাসবহুল যে বাড়িটি নির্মাণ করেছেন, সেটি তার ভাইয়েরা মিলে পারিবারিকভাবে নির্মাণ করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি জমি-ফ্ল্যাট ক্রয় করেননি। তার নামে কোনো প্রাইভেটকার নেই। অভিযোগে তার নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ওই সব সম্পদের মালিকানা স্বীকার করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আনসার সদস্য সমকালকে বলেন, জিয়াউর রহমান আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লুটে নিয়েছেন। অর্থ আত্মসাতে অনেকের সঙ্গে তার যোগসাজশ রয়েছে। নিজের দুর্নীতি এড়াতে তিনি এখন চাকরি ছাড়ারও পাঁয়তারা করছেন। কারণ, এখন তিনি যে পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন, তাতে তার আর চাকরির প্রয়োজন নেই। অভিযোগে জিয়াউর রহমানের মালিকানাধীন সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে তিনি রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার টেংরা নামক গ্রামে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করে তিনতলা আলিশান পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। নাম দেওয়া দেয়েছে 'মৃধাবাড়ি'। অভিযোগে বলা হয়, জমির মূল্যসহ বাড়িটির নির্মাণ খরচ হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। কালুখালী উপজেলার টেংরা এলাকায় তার নামে আরও একটি বাড়ি রয়েছে। নিজ এলাকায় ১০-১৫ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন, যার মূল্য ৬০-৭০ লাখ টাকা। ওই এলাকার বাজারের পাশে বাগপাড়া মমিন মিস্ত্রির বাড়ির সামনে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ২০ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন, যার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় তার স্ত্রীর নামে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। দুটি প্রাইভেটকার রয়েছে তার নামে। এর মধ্যে আধুনিক মডেলের 'নোয়া' গাড়িটি কেনা হয়েছে ২৫-২৬ লাখ টাকায়। অ্যালিয়েন ব্র্যান্ডের নতুন একটি গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। তিনি প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা গাড়িচালককে বেতন দেন। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পদমদি এলাকায় তার বোনের বাড়ির পাশে ৫০-৬০ লাখ টাকা মূল্যের জমি ক্রয় করেছেন। কালুখালী উপজেলার হেলেনচা এলাকায় আরেক বোনের বাড়ির পাশে ১৫-২০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। এই জমির মূল্য প্রায় ৫০-৬০ লাখ টাকা। দুদকে পেশ করা অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকটি ব্যাংকে নামে-বেনামে জমা রেখেছেন বিপুল অঙ্কের টাকা। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের কল্যাণ শাখায় জালিয়াতি করে অর্জন করেছেন ওই সব টাকা। অবৈধ উপায়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতে তিনি নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন। এর মধ্যে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আনসার সদস্য থেকে শুরু করে কর্মকর্তা পর্যন্ত অনেকের অসুস্থতার কাগজপত্র তৈরি করে দু-তিন লাখ টাকা বরাদ্দ করিয়ে নেন। পরে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা যার নামে অসুস্থতার কাগজপত্র তৈরি করেন তাকে দেন, বাকি অর্ধেক টাকা তিনি নিজের পকেটে তোলেন। অভিযোগে বলা হয়, কেরানি জিয়াউর রহমানের কাছে বিভিন্ন ডাক্তারের জাল সিল ও প্যাড রয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অসুস্থ উল্লেখ করে টাকা বরাদ্দ করানোর কাজ করেন। এভাবে আনসার বাহিনীর কল্যাণ ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অনেক কর্মকর্তা অফিসের গাড়িতে চলেন, নিজের গাড়ি কেনার টাকা নেই। এ ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান একজন সাধারণ কর্মচারী হয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাফেরা করেন। অফিসের বাইরে গাড়ি রেখে হাঁটতে হাঁটতে অফিসের ভেতর প্রবেশ করেন, আবার অফিস থেকে বের হয়ে একটু হেঁটে নিজের গাড়িতে ওঠেন। তার দুটি মেয়ে রাজধানীতে স্কুলে ব্যক্তিগত গাড়িতেই আসা-যাওয়া করে।
6
ঢাকা: সরকারি নথি চুরি ও অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম। পাঁচ হাজার টাকা জামানত এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তিনি জামিন পেয়েছেন।রোববার (২৩ মে) ঢাকা মহানগর হাকিম বাকি বিল্লাহর ভার্চ্যুয়াল আদালত এ আদেশ দেন।শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু বলেন, 'আমরা কিছু ডকুমেন্ট আদালতে দাখিল করেছি। তবে রোজিনা ইসলামকে বিজ্ঞ আদালত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিতে পারেন যদি তাঁর পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখেন। পাসপোর্ট জমা দিলে আমাদের জামিনে আপত্তি নেই।'রোজিনার পক্ষে অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আশরাফ-উল-আলম, আমিনুল গনি টিটু ও প্রশান্ত কুমার কর্মকার শুনানিতে অংশ নেন। আইনজীবীরা বলেন, 'প্রকৃতপক্ষে শর্তযুক্ত জামিন আইনে নেই। তারপরও রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তাবে আমরা দ্বিমত করছি না। বিজ্ঞ আদালত যদি পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিন দেন আমরা তা জমা দেব।'এরপর আদালত বলেন, রোজিনা ইসলামকে জামিন দেওয়া হলো। তবে তাঁর পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।আদালত মৌখিকভাবে আরও বলেন, 'রাষ্ট্র ও সমাজের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রত্যেকেরই কিছু দায়িত্ব আছে। গণমাধ্যম ও আমরা যে যেখানে আছি প্রত্যেকেই আরও দায়িত্বশীল আচরণ করব।'প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১৭ মে) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় সেখানে রোজিনা ইসলামকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে না নিয়ে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। রাত পৌনে ১২টায় পুলিশ জানায়, রোজিনার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করেছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী।মঙ্গলবার (১৮ মে) সিএমএম আদালতে তোলা হয় রোজিনাকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান সরদারের করা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে রোজিনাকে কারাগারে পাঠান বিচারক।গত বৃহস্পতিবার (২০ মে) সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের পক্ষে জামিন বিষয়ে শুনানি হয়। রোজিনার পক্ষে শুনানি করেন একাধিক আইনজীবী। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ নথি উপস্থাপনসহ জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য আজ রোববার (২৩ মে) দিন ধার্য করেন।
6
বাংলাদেশি আমেরিকান চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. রায়ান সাদির অক্লান্ত পরিশ্রমে উদ্ভাবিত করোনা চিকিৎসার ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতির জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের 'ফুড এ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন' (এফডিএ) এ ১৪ অক্টোবর সাবমিট করা হয়েছে। নিউজার্সিস্থ 'টেভোজেন বায়ো' নামক একটি ওষুধ প্রস্তুতাকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাবমিট করা এই ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এ্যান্টিজেন বিশেষ করে 'টি সেল টেকনোলজি'র অনুকরণে এই নতুন ভ্যাকসিনের পন্থা উদ্ভাবন করতে ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রশিক্ষিত সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ পাবনার সন্তান ড. রায়ানের গবেষণায় সহায়তা দিয়েছেন বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনের জন্যে বিশ্বব্যাপি খ্যাতি অর্জনকারি ফিলাডেলফিয়ার থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটিতে মেডিকেল অনকোলজি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান ড. নীল ফ্লোমেনবার্গ। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, টেভোজেন উদ্ভাবিত 'টি সেল' থেরাপির অভিজ্ঞতার আলোকে যে ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্যে এফডিএ সমীপে আবেদন জানানো হয়েছে, সেটি সাফল্য লাভে সক্ষম হলে শুধু কভিড-১৯ রোগী চিকিৎসা নয়, একইসাথে ফ্লু, টিউমার এবং মারাত্মক অনেক রোগ প্রতিরোধের পথও সুগম হবে। সম্মিলিত চেষ্টায় উদ্ভাবনের পথে থাকা করোনা ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলবে চলমান স্বাভাবিক প্রত্রিয়ায়। আক্রান্তদের শরীরে স্পেশিফিক টি সেল নিজে থেকেই সচল হয় এবং কভিড-১৯ ভাইরাসে রূপ নেয়। প্রস্তাবিত ট্রায়ালে টি সেল তৈরী হবে ল্যাবরেটরিতে এবং মারাত্মকভাবে অসুস্থ রোগীকে তা প্রয়োগ করা হবে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, চার দশকেরও অধিক সময় যাবত রোগ প্রতিরোধক বিজ্ঞানী হিসেবে অত্যন্ত দাপটের সাথে কর্মরত ড. ফ্লোমেনবার্গ বলেন, 'ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্যদিয়ে টেভোজেনের টি সেল থেরাপিকে কভিন-১৯ এর চিকিৎসার পথে বর্তমান পর্যায়ে উপনীত হতে পারায় গবেষণায় সহযোগীসহ আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা আশা করছি, ফেজ-ওয়ান ট্রায়ালের পর যে তথ্য পাবো তার পথ ধরে টি সেল'র সুরক্ষায় অনেক অগ্রগতি আসবে। শরীরের জন্যে ক্ষতিকর সেল আমরা শনাক্ত করতে সক্ষম হবো এবং করোনা রোগ সারাতে আমাদের সামনে সুস্পষ্ট একটি দিক-নির্দেশনা আসবে। যদিও ট্রায়ালের প্রথম পর্বে সচরাচর রোগী কিংবা ওষুধের নিরাপত্তার ব্যাপারটি প্রাধান্য পায়, ফলাফলের চেয়ে। তবে আমরা সবসময় আশাবাদি যে, এসব সেল করোনা ভাইরাসকে নিধনের ক্ষেত্রে নেয়ামক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।' বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
4
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, পরাজয়ের আশংকায় বিএনপি নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়ায় জেলার ক্রীড়াবিদদের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।হানিফ বলেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে বিএনপি ক্ষমতায় থাকতেও জনবিচ্ছিন্ন ছিল, আবার ক্ষমতার বাইরে থেকেও জনবিচ্ছিন্ন।তিনি বলেন, বিএনপি জানে নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে তাদের জয়লাভের কোন সুযোগ নেই। শুরুতে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করতে না পেরে নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পর নিশ্চিত পরাজয়ের আশংকায় এখন তারা নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।এ সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থর সাধারণ সম্পাদক অনুপ নন্দী, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদসহ জেলার ক্রীড়াবিদ ও সংস্থার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
9
রাজউকের নকশা বাতিল করতে ল্যাবএইড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কনকর্ড আর্কেডিয়া শপিংমলে নেক্কারজনক হামলা, ভাংচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে ধানমন্ডির ৪ নম্বর রোডে কনকর্ড আর্কেডিয়া শপিং মলে মল ওনার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন এসোসিয়েশনের সভাপতি সানাউল হক নীরু। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি একেএম সাইদুর রহমান, সেক্রেটারী মোতাহার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারী লোকমান, কোষাধাক্ষ ওয়াহিদুর রহমান প্রমুখ। সানাউল হক নীরু বলেন, গত ২১ জানুয়ারী সকালে ল্যাবএইড হাসপাতালের এমডি ডা. এমএ শামীমের মদদে বিপুল পরিমান লোকজন লাঠি-সোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শপিং মলে হামলা চালানো হয়। তারা মলের পশ্চিম দিকের মেইন গেটের গ্লাস ডোরসহ গেটের উপর গ্লাস ভাংচুর করে। এছাড়াও মলে থাকা ব্যাংকের এটিএম বুথ, নিফট ও নিচ তলার ১০১ নম্বর দোকানে ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় তাদের হামলায় মলের সিকিউরিটি গার্ডসহ ১০/১২ জন গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালেও সংখ্যায় কম থাকায় তাদের সাথে পেরে ওঠেনি। দ্বিতীয় দফায় আরো অধিক পুলিশ ফোর্স মজুত করা হয়। বিকেলে পুনরায় আরো লোকবলে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায় তারা। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে লাঠিচার্জ ও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলে করে। পুলিশ তাদের ধাওয়া করে একজন চিকিৎসকসহ ৭ জনকে আটক করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমরা শপিং মলের শাটার বন্ধ করে ভেতরে মিটিং করা অবস্থায় আমাকেসহ ৫জনকেও আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরবর্তীতে আমরা জামিনে বেরিয়ে আসি। নীরু আরো বলেন, রাজউকের নকশা অনুযায়ী ২০০২ সালের ১ নভেম্বর শপিং মলটি উদ্বোধন করা হয়। ওই নকশার উপর ভিত্তি করেই এখানে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানসহ বিভিন্ন পজিশন ক্রয় করেন। কিন্তু ২০০৫ হঠাৎ করে জানা যায়, কনকর্ড কর্তৃপক্ষ মার্কেটের তৃতীয় তলার ৩০১-০৫১ চতুর্থ তলার ৪০১ থেকে ৪৫১ এবং প ম তলার ৭০০০ বর্গফুট ল্যাবএইড হাসপাতালের কাছে বিক্রি করে দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ওই দোকান গুলো ভেঙ্গে হাসপাতাল নির্মান করেন। হাসপাতালের মধ্যে কোন ক্রেতা শপিং করতে না আশায় চরম ক্ষতির শিকার হন ব্যবসায়ীরা। পরে আদালত দোকান ভেঙ্গে হাসপাতাল নির্মানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু তারপরও ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ একটি নানা অজুহাতে মার্কেটটি ভেঙ্গে রাজউকের নকশা পরিবর্তন করে ব্যবসায়ীদের বথা বসানোর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা করছে শপিং মলের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা ।
6
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। যারা বর্বর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, রায়ে তাদের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি হয়েছে। জনগণকে আমরা এ বার্তা দিতে চাই, যে যত ক্ষমতাধর হোক না কেন, শেখ হাসিনার সরকার বিচার করবেই। শুক্রবার পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আশা করবো, নিম্ন আদালতের রায় উচ্চ আদালতেও তড়িৎগতিতে সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, সব আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতি দ্রুততম সময়ের মাধ্যমে নুসরাত হত্যার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। আওয়ামী লীগ সরকার বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বিচার পাওয়ার সংস্কৃতিতে এ জাতিকে ফিরিয়ে এনেছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজন ও উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যু হয়।এদিকে সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৬টি নমুনা পরীক্ষায় নয়জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় ২২ হাজার ৩৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলেন। এঁদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২১ হাজার ২০৩ জন।মারা যাওয়াদের মধ্যে ময়মনসিংহের চারজন, গাজীপুরের দুজন, নেত্রকোনা ও জামালপুরের একজন করে রয়েছেন। এর মধ্যে চারজন মহিলা ও চারজন পুরুষ রোগী মারা গেছেন।এ নিয়ে চলতি অক্টোবর মাসে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে ৩৪ জনের মৃত্যু হলো। গত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ময়মনসিংহ মেডিকেলে করোনা ও উপসর্গে ১ হাজার ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।ওই গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তে হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম তাহমিনা (২৬)। তিনি জেলার তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা।এ ছাড়া উপজেলা সদরের মোক্তার উদ্দিন (৬০), তারাকান্দা উপজেলার আবদুল হাকিম (৫০), ফুলবাড়িয়ার আমেনা (২০), গাজীপুরের শ্রীপুরের আবদুল হাসেম (৪০), প্রদীপ (৭০), নেত্রকোনার কেন্দুয়ার রহিমা আক্তার (৫০) ও জামালপুরের বকসীগঞ্জের সাজেদা (৪০) করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন মহিউদ্দিন খান জানান, এ ইউনিটে নতুন আরও ১৫ জন ভর্তি হয়েছেন।এ নিয়ে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৯২ জন রোগী ভর্তি আছেন। এঁদের মধ্যে আইসিইউতে সাতজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
6
পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার মধ্যে সিলেটে হঠাৎ লবণের দাম বেড়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। লবণের দাম বাড়ার গুজবে অনেকে লবণ কেনার জন্য দোকানে ভিড় করেন। এই সুযোগে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী প্রতি কেজি লবণ ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেন। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে নগরীর অনেক দোকানে লবণ পাওয়া যায়নি। সিলেট চেম্বার অব কমার্স কমার্সের সভাপতি আবু তাহের মো. শুয়েব পুরো বিষয়টাকে 'স্যাবটাজ' আখ্যায়িত করেন। তিনি সমকালকে বলেন, কতিপয় সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এতে পুরো ব্যবসায়ী সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ কমিশনার জেদান আল মুসা সমকালকে বলেন, কেউ বাড়তি দামে লবণ বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান চেম্বার সভাপতি আবু তাহের। মঙ্গলবার বাজার মনিটরিং টিমও মাঠে নামবে। নগরীর মিরাবাজারের শাহাবুদ্দিন সমকালকে জানান, লবণের দাম বাড়ছে শুনে তিনি মাজু মিয়ার দোকান থেকে ৫০ টাকায় এক কেজি লবণ কিনেছেন। নগরীর কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, শুনেছি লবণের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এমন খবরে আমরা লবণ বিক্রি আপাতত বন্ধ রেখেছি। কোথা থেকে এমন খবর পেয়েছেন- জানতে চাইলে তারা বলেন 'শুনেছি'। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায়ও গুজব ছড়িয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন নিজের ফেসবুকে লিখেছেন- 'প্রিয় সিলেটবাসী, বাজারে নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কোন নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়তে পারে এমন গুজবে কান না দেয়ার জন্য সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।'
6
হলিউডসহ বিশ্বের তারকাদের স্বপ্ন সম্মানজনক একাডেমি পুরস্কার অস্কার জয় করা। কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারটি পাওয়ার পর সেটি কে কোথায় রাখবেন, তা নিয়েও খবরের শিরোনাম হন তারকারা। পুরস্কার ক্রেস্টটি যত্নেই রাখেন শিল্পীরা। তেমন যত্নে রেখেছিলেন ১৪ বছরের খুদে অভিনেত্রী হেইলি মিলস। তারপরও সেই পুরস্কার হারিয়ে যায়। ৬১ বছর পর সেই অস্কার পুরস্কারের পরিবর্তে নতুন আরেকটি পুরস্কার পেলেন মিলস। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে একাডেমি কর্তৃপক্ষ। 'দ্য মোস্ট আউটস্ট্যান্ডিং জুভেনাইল পারফরম্যান্স ডিউরিং ১৯৬০' বিভাগে অভিনয় দিয়ে অবদান রাখার কারণে মিলসকে বিশেষ এ পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারটি পাওয়ার সময়ে এই অভিনেত্রী পড়াশোনার জন্য বোর্ডিং স্কুলে ছিলেন। সে সময় তিনি লন্ডন থেকে আয়োজনে উপস্থিত হননি। পরে তাঁর কাছে পুরস্কারটি পৌঁছে দেওয়া হয়। একসময় তিনি টেলিভিশন সিরিজ 'গুড মর্নিং, মিস ব্লিস'-এ অভিনয় করতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেই সময় অস্কার পুরস্কারটি হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায়, যা পরবর্তী সময়ে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মিলস সেই সময় দুঃখের সঙ্গে গণমাধ্যমে জানান, প্রথম দিকে তিনি বুঝতে পারেননি পুরস্কারটি কতটা সম্মানের। অথচ বুঝে ওঠার পরই তিনি পুরস্কারটি হারিয়ে ফেলেছেন। পরে তিনি ঘটনাটি অস্কার কর্তৃপক্ষকে জানান। সেই সময়ে ঘটনা স্মরণ করে মিলস গণমাধ্যমে বলেন, 'হতাশ হয়ে আমি একাডেমি কর্তৃপক্ষকে জানালাম, পুরস্কারটি খোয়া গেছে। আমি হয়তো কখনোই সেটা আর খুঁজে পাব না। এমনকি ক্যারিয়ারে আর পাব কি না, জানি না। হারিয়ে যাওয়া পুরস্কারের পরিবর্তে আমাকে বড় আরেকটি পুরস্কার দেন। তারা বলল, আমরা দুঃখিত। এভাবে পুরস্কার দেওয়ার নিয়ম নেই। তখন হৃদয়টা ভেঙে গিয়েছিল। আবার পুরস্কারটি পেয়ে খুবই খুশি।' অস্কারের অফিশিয়াল টুইটার পেজে পুরস্কার হাতে ছবিতে দেখা গেল মিলসকে। হারিয়ে যাওয়া পুরস্কারটির বদলে নতুন আরেকটি পেয়ে খুশি ও উচ্ছ্বসিত এই অভিনেত্রী। মিলসের বয়স এখন ৭৫ বছর। পুরস্কারটি দেখে আত্মহারা। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অস্কার একাডেমির সভাপতি ডেভিড রুবিন। মিলস ১৯৬০ সালে 'পলিয়ানা' সিনেমার জন্য পুরস্কারটি পেয়েছিলেন। একই সিনেমার জন্য গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারও জিতেছিলেন। এর আগে ১৯৫৯ সালে নতুন মুখ হিসেবে 'টাইগার বে' সিনেমার জন্য বাফটা ও বার্লিনে বিশেষ পুরস্কার জিতেছিলেন। বর্তমানে তিনি সিরিজ ও চলচ্চিত্র নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।
2
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকসহ ছোট বড় প্রায় ৬৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। এমনকি ২০১৬ সাল থেকে এ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারের পদটিও শূন্য রয়েছে। পাঁচ বছর যাবৎ ড্রাইভার না থাকায় ২০১৯ সালে পাওয়া নতুন অ্যাম্বুলেন্সটিও পড়ে আছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছ দূর দুরান্ত থেকে আসা রোগীদের। আর বাড়তি সুবিধা নিচ্ছে বাইরের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের চালকেরা।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের ২১টি পদের মধ্যে ডেন্টাল সার্জনসহ ৬টি পদ শূন্য। ২৯ জন নার্সের মধ্যে ৫ জন ও ল্যাব ইসিজির ২ জনসহ মোট ৬৫টি পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া সাপের কামড়ে আহতদের চিকিৎসাও হচ্ছে না। সাপে কামড়ালে যে পরামর্শক বা চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন ওই পদটিও খালি রয়েছে এই হাসপাতালে। ফলে সাপে কামড়ানো রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে এ এলাকার বাসিন্দাদের।হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, নিয়মিত এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় তিন শতাধিকের বেশি রোগী। হাসপাতালে নিয়মিত রোগী ভর্তি থাকেন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন। গুরুতর রোগীদের কুমিল্লা বা ঢাকা রেফার করা হলেও অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে সময় মতো রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারসহ অন্যান্য শূন্য পদ পূরণ করা জরুরি। এতে সেবার মান বাড়ানো সম্ভব। তবে ইদানীং জ্বর-সর্দি রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার, নার্স ও আয়াদের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নার্সের সঙ্গে কথা হলে বলেন, করোনা মহামারি আসার পর থেকে আমরা বেশির ভাগ সময়ই অতিরিক্ত ডিউটি করছি। রোগীদের তুলনায় নার্সের সংখ্যা কম। কিন্তু সে তুলনায় আমরা বাড়তি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোয়েব আহমদ চিশতী বলেন, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে ডাক্তার, নার্স, ড্রাইভার, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ প্রায় ৬৫টি পদ শূন্য রয়েছে। যে হারে প্রতিদিন হাসপাতালের রোগী ভর্তি থাকে, সে তুলনায় সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম পড়তে হয় আমাদের। এ সংক্রান্ত বিষয়ে চাঁদপুর সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাবর অবহিত করা আছে।
6
যে মধ্যম মেধার ধ্যানধারণার ওপর ভিত্তি করে পাঠদান এবং পাস করানোর সংকীর্ণ গণ্ডিতে শিক্ষাকে দেখতে সবাই অভ্যস্ত, সেই একই ধ্যানধারণার ওপর ভিত্তি করে সমাজে আদর্শ শিক্ষকের অলিখিত সংজ্ঞা দাঁড় করানো হয়েছে। সেই সংজ্ঞায় আদর্শ শিক্ষক বলতে যাঁকে নির্দেশ করা হয়, তিনি বলতে গেলে বৈষয়িক অভাব-অভিযোগের প্রায় ঊর্ধ্বে থাকা ত্রুটিবিহীন এক অতিমানব, ক্ষুধা-তৃষ্ণার মতো জাগতিক মোহ তাঁকে প্রলুব্ধ করতে পারে না। শিক্ষক সম্পর্কে এই অদৃশ্য মহামানবীয় অবয়ব সেই 'বর্ণ পরিচয়'-এর সন্ধিক্ষণ থেকে বাঙালির মননে-চেতনে-স্বপনে রুয়ে দেওয়া হয়। সে কারণেই সমাজ শিক্ষকের দারিদ্র্য ও অভাবকে দূরীভূত না করে অমূল্য অলংকারজ্ঞানে সংরক্ষণ করে এসেছে। যখনই শিক্ষকেরা একটু বৈষয়িক স্বাচ্ছন্দ্যের সলজ্জ অভিলাষ প্রকাশ করেছেন, তখনই তাঁদের শিক্ষাদানের মানসিকতা যথার্থতা নিয়ে সরকারি-বেসরকারি মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এই চর্চার কারণেই শিক্ষকদের অভাব-অভিযোগের খবর যথার্থ দৃষ্টি আকর্ষক পরিসরে প্রকাশ পায় না। চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ-এই দুই উপজেলার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিক্ষকের ১৩ মাস ধরে বেতন না পাওয়া এবং টিউশনি বন্ধ থাকার খবর তাঁদের আদর্শ শিক্ষকের মহিমা কতখানি দিয়েছে, তা স্পষ্ট না করলেও এই ধারাবাহিক আর্থিক অপ্রাপ্তি তাঁদের দারা-পুত্র-পরিবারকে যে অনাহার-অর্ধাহারে রাখছে, সন্দেহ নেই। খবরে এসেছে, মতলব উত্তরে ৯০টি কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৯০০ আর দক্ষিণে ৪৫টি কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৫ শতাধিক। এত দিন বেতন ও টিউশনির সুযোগ বন্ধ থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য অর্থ বা খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়নি। এসব পরিবার দুর্বিষহ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন অনেক শিক্ষক। ঘরভাড়া দিতে না পেরে বেশ কিছু কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু চাঁদপুরে যে এই ছবি দেখা যাচ্ছে, তা কিন্তু নয়। গোটা দেশের বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষকদের এই অবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। 'শিক্ষকেরা মানুষ গড়ার কারিগর'-জাতীয় গুটিকয় শিষ্টবাক্য নিক্ষেপ, অতঃপর বিস্মৃতি-এই চিরায়ত অনুসৃত নীতি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে আরোপ করার ফল দীর্ঘ মেয়াদে সুখকর হবে না। কারণ, এই নিষ্ঠুর ঔদাসীন্যের কারণেই নাগরিকদের শিক্ষকতা পেশায় আসার ইচ্ছা ক্রমেই কমে আসছে। শিক্ষকতা যদি অবৈতনিক কিঙ্করতার আরেক নাম হয়, তাহলে এই পেশাকে মহান ও স্বর্ণালি ভাবার কোনো কারণ আছে কি?
8
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রথমবারের মতো কবিতা উৎসব হয়েছে। উপজেলা কবিতা পরিষদের আয়োজনে গতকাল শনিবার পৌর শিশুপার্কে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।শহীদ গোলাম কিবরিয়া ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় গতকাল সকাল ১০টায় বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন যু্বলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কুষ্টিয়া -০৪ আসনের সাংসদ ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। পরে শিশুপার্কের মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা করা হয়।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ বলেন, 'কবিদের ভাবনায় থাকবে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশ। কবিদের কাছ থেকেই নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে পড়বে আগামীর ভাবনা।' তিনি আরো বলেন, 'জীবন প্রবাহের অন্য নাম হলো সাহিত্য। সাহিত্যের অন্যতম ধারা হলো কবিতা। কবিতার মাধ্যমে মানুষ তাঁর মনের ভাব খুব সহজেই অন্যের কাছে পৌঁছাতে পারে।'কবিতা উৎসবের সভাপতি কবি সৈয়দ আব্দুস সাদীক বলেন, 'প্রথমবারের মতো কুমারখালীতে এত বড় কবিতা উৎসব হলো। নতুন কবিদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আয়োজন সফল হয়েছে।'কবি ও সাংবাদিক আব্দুর রশীদ চৌধুরী বলেন, 'দেশের যেকোনো পরিস্থিতিতে কবিরা শক্তি জুগিয়েছে, মনোবল বাড়িয়েছি, দেশপ্রেম ফুটিয়ে তুলেছে। নতুন প্রজন্মে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত কবি ও কবিতার উৎসবের আয়োজন করতে হবে।'কবি ও সাহিত্যিক আলম আরা জুঁই বলেন, 'কবিরা সমাজে স্রোতের মতো। তাঁরা মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেন। সাংস্কৃতিক জনপদে বড় পরিসরে এই কবিতা উৎসবে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।'কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাসের সঞ্চালনায় উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র সামসুজ্জামান অরুণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মণ্ডল, উপজেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি মমতাজ বেগম সাবেক সচিব আখতারুজ্জামান, সাবেক সচিব কবি আলকামা সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল কবি শমশের আলী, কবি অ্যাডভোকেট লালিম হক, সাংবাদিক ও কবি আব্দুর রশীদ চৌধুরী, কবি রবিউল হক, কবি ড. শান্তা মারিয়া, কবি কামরুল হাসান, কবি আলম আরা জুঁই, কবি মীর মুর্তজা বাবু প্রমুখ উৎসবে দিনব্যাপী প্রায় শতাধিক কবি কবিতা আবৃত্তি করেন।
6
ইনজুরির কারণে চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দুই দিন খেলতে পারেননি। ঢাকা টেস্টেও নেই নতুন চোটের কারণে। ঘরে বউ সন্তানসম্ভবা। সব মিলিয়ে সাকিব আল হাসান আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফর থেকে নিজেকে বিরত রাখার নিমিত্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে ছুটি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার ছুটি মঞ্জুর হয়েছে। তার মানে মার্চে বাংলাদেশ দলের সাথে নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন না তারকা এই অলরাউন্ডার। বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড যাবে ২৪ ফেব্রুয়ারি। বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বৃহস্পতিবার বিকেলে মিডিয়াকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সাকিব নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে আকরাম খান বলেন, 'না! সে তো যাচ্ছে না, নিউজিল্যান্ডের জন্য সে চিঠি দিয়েছে। পরিবারের কাছে থাকতে ছুটি চেয়েছে। আমরা বোর্ড সভাপতির সাথে আলাপ করেছি। ওর ছুটিটা দিয়ে দিয়েছি।'
12
'কবির সিং' ছবির পর বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানির ভাগ্যের চাকা অনেকটাই ঘুরে যায়। 'শেরশাহ' ছবির পর তাঁর সাফল্য আরও উচ্চতায় পৌঁছে যায়। এখন তাঁর বাসার সামনে প্রযোজকদের লম্বা লাইন। তবে একসময় কিয়ারাকে একাধিক প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আর তা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে নানান কথা বললেন এই বলিউড নায়িকা।কিয়ারা ওই সাক্ষাৎকারে প্রত্যাখ্যান প্রসঙ্গে বলেছেন, 'বাদ পড়া আর প্রত্যাখ্যান জীবনের একটি অংশ। প্রতেক অভিনয়শিল্পীকে তাঁর নিজের ক্যারিয়ারে কখনো না কখনো প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়েছে। "ফাগলি" ছবির পর একাধিকবার আমাকে ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, সব বিষয়ের প্রতি মানুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিত। আপনাকে কোনো একটা ছবি থেকে বাদ দেওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনার ক্যারিয়ার একদমই শেষ হয়ে গেছে। প্রত্যাখ্যানকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।' এই বলিউড রূপসী আরও বলেছেন, 'আমি মনে করি জীবন এক সফর, এখানে ভালো দিন আসবে, আবার মন্দ দিনও আসবে। একসময় আমি ক্রমাগত ছবি থেকে বাদ পড়ছিলাম। আমি মনের মতো চরিত্র পাচ্ছিলাম না। বারবার অডিশন দিচ্ছিলাম। আর আমাকে বাদ দেওয়া হচ্ছিল। সে একটি মন্দ সময় গেছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। ধোনির বায়োপিক করার পর সবকিছু বদলে গেল। আজ আমি এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি।' বলিউডে কিয়ারার তথাকথিত কোনো 'গডফাদার' নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'কোনো গডফাদার আপনার সফলতার গ্যারান্টি দেবেন না। নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে। আমি তো মনেপ্রাণে ওপরওয়ালাকেই আমার গডফাদার বলে বিশ্বাস করি। আর এই বিশ্বাস আমি অত্যন্ত গভীরভাবে অন্তর থেকে করি। আপনি আজ যে জায়গায় পৌঁছেছেন, তার পেছনে আছে আপনার প্রতিভা আর যোগ্যতা।' কিয়ারার ঝুলিতে আছে 'যুগ যুগ জিও', 'ভুল ভুলাইয়া টু', 'আরসি-ফিফটিন'-এর মতো ছবি।
2