text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
খালেদা জিয়াকে যথাযথ মর্যাদায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে-স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে 'ডাহা মিথ্যাচার' বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ অভিযোগ করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কারা কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করছে না। বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, সরকারি মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়াকে বেড দেওয়াসহ যেসব চিকিৎসার সুপারিশ করেছিল, তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। কারাগারে খালেদা জিয়ার কোনো চিকিৎসাই হচ্ছে না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দ্বারা যেসব চিকিৎসাসেবা পেতেন, সে সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। রিজভীর কথা, 'মনে হচ্ছে এর পেছনে সরকারি কোনো গভীর চক্রান্ত রয়েছে।' রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও অসুস্থাকে আড়াল করতে সরকার নানা ফন্দিফিকির করছে। খালেদা জিয়াকে তাঁর নিজস্ব চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান ও রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আবারও দাবি জানান সাবেক এই ছাত্রনেতা। প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী টার্গেট তারেক রহমান: সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী টার্গেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রিজভী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তো চাইবেন তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে। তিনি যেমন অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ রেখে জুলুম-নির্যাতন করছেন, চিকিৎসা করতে দিচ্ছেন না, শারীরিক ও মানুষিকভাবে হেনস্তা করছেন। এখন তাঁর পরবর্তী টার্গেট হচ্ছে তারেক রহমান।' বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যে মনের ক্ষোভ, তাঁর যে প্রতিহিংসা, তা চরিতার্থ করার জন্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) রোডম্যাপ করছেন। কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন প্রমুখ। | 9 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সোনিয়া আক্তার (২০) নামের এক সহকারী নার্সের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাত ১টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ এলাকার আজিজুর রহমানের মেয়ে। পুলিশের ধারণা, কীটনাশক খেয়ে ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করেছে পুলিশ।হাসপাতাল ও পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সোনিয়া আক্তার প্রায় তিন বছর আগে আল ফালাহ হাসপাতালে সহকারী নার্স হিসেবে যোগদান করেন। চাকরির সুবাদে পাশের রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের কর্মচারী মোহাম্মদ শীতলের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শীতলের বাড়ি জেলার কসবা উপজেলার নেমতাবাদে। দুই বছর ধরে সোনিয়া ও শীতলের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সম্প্রতি তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।সবশেষ গত রোববার সন্ধ্যায় দুজনের সরাসরি সাক্ষাতে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সোনিয়াকে থাপ্পড় দেন শীতল। এরপর সোনিয়া তাঁর হাসপাতালে গিয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় প্রেমিক শীতলকে আটক করেছে পুলিশ।সোনিয়ার মামা মনির হোসেন বলেন, 'হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অথচ হাসপাতালের কেউ আমাদের এখনো কিছু জানায়নি এবং মর্গেও কেউ আসেনি।তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে চাই।'সদর মডেল থানার ওসি এমরানুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, সোনিয়া আক্তার 'কেরির বড়ি' খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। | 6 |
অনেক জল্পনা-কল্পনা আর বিলম্বের পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার আইওয়ান-ই-সদরে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।সিনেট চেয়ারম্যান সাদিক সাঞ্জরানি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রপতি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত থাকার প্রেক্ষাপটে সাদিকই ওই দায়িত্ব পালন করেন। ইমরান খানের পদত্যাগের পর শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় হলেও মন্ত্রিসভা গঠিত হচ্ছিল না। আজ গঠিত মন্ত্রিসভায় মোট ৩১ জন মন্ত্রী, তিনজন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপদেষ্টা রয়েছেন। শাহবাজ শরিফের পিএমএল-এন থেকে মন্ত্রীরা হচ্ছেনখাজা মোহাম্মদ আসিফআহসান ইকবাল চৌধুরীরানা সানা উল্লাহ খানসর্দার আয়াজ সাদিকরানা তানভির হোসাইনখুররম দস্তগির খানমরিয়ম আওরঙ্গজেবখাজা সাদ রফিকমিয়া জাভেদ লতিফমিয়া রিয়াজ হোসেন পিরজাদামুর্তজা নাজির তারারমিফতা ইসমাইল। পিপিপি থেকে যারা মন্ত্রী হয়েছেনসৈয়দ খুরশিদ আহমদ শাহসৈয়দ নাভিদ কামারশেরি রেহমানআবদুল কাদির প্যাটেলশাজিয়া মারিসৈয়দ মতুর্জা মাহমুদসাজিদ হোসাইন তুরিএহসান উর রহমান মাজারিআবিদ হোসাইন ভায়ো। জেইউআই-এফ থেকে যারা মন্ত্রী হয়েছেনআসাদ মাহমুদআবদুল ওয়াসিমুফতি আবদুল শাকুরমোহাম্মদ তালহা মাহমুদ। এমকিউএম-পি থেকে যারা মন্ত্রী হয়েছেনসৈয়দ আমিন উল-হকসৈয়দ ফয়সাল আলী সবজওয়ারি বিএপি থেকে হওয়া মন্ত্রীমোহাম্মদ ইসরার তারিন জেডব্লিউপি থেকে হওয়া মন্ত্রীনওয়াবজাদা শাজাইন বুগতি পিএমএল-কিউ থেকে হওয়া মন্ত্রীতারিক বাশির চিমা প্রতিমন্ত্রীপিএমএল-এনড. আয়েশা গাউস পাশাআবদুল রহমান খান কানজু পিপিপিহিনা রাব্বানি খার উপদেষ্টাপিএমএল-এনআমির মাকাম পিপিপিকামার জামান কাইরা জেকেটি গ্রুপআওন চৌধুরী সূত্র : জিও টিভি | 3 |
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরবর্তী নতুন সরকার গঠনে বিভিন্ন দলের সমঝোতার পর ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের স্পিকার ইয়ারিভ লেভিনকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নির্বাচনের জন্য ভোটের আহ্বান করেছে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট। বৃহস্পতিবার নেসেট সেক্রেটারি ইয়ারদেনা মুলার-হরোউইটজের কাছে এই বিষয়ে এক আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পত্র জমা দেয়া হয়। নেতানিয়াহুর পরবর্তী সরকার গঠন কার্যকর করার জন্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। লেভিনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে নতুন সরকার গঠনে লিকুদ সমর্থিত এই স্পিকার শুধু আস্থাভোটের আহ্বান করবেন। বিরোধীরা বলছেন, জোটের রক্ষণশীল ইয়ামিনা দলের সদস্যদের ওপর সরকার গঠনের বিরুদ্ধে ভোটে চাপ দিতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এদিকে ইয়ামিনা দলীয় নেসেট সদস্য নির ওরবাখ জানিয়েছেন, লেভিনকে অপসারনের অনুরোধ তিনি সমর্থন করেননি। ওরবাখের সমর্থন ছাড়া লেভিনকে পদচ্যুত করতে ৬১ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে বুধবার সরকার গঠনে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার সামান্য আগে ইয়েশ আতিদ দলের প্রধান ইয়ায়ির লাপিদ সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। ইয়ামিনা দলের প্রধান নাফতলি বেনেটের সাথে লাপিদের সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের এই ঘোষণা দেন তিনি। লাপিদ ও বেনেটের মধ্যকার সমঝোতা অনুযায়ী, তারা পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম দু'বছর বেনেট প্রধানমন্ত্রী হবেন, পরের দু'বছর লাপিদ থাকবেন ওই দায়িত্বে। তবে এই সমঝোতা ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে অনুমোদিত হতে হবে। আগামী সাত থেকে ১২ দিনের মধ্যে সেখানে ভোটাভুটি হবে। সূত্র : জেরুসালেম পোস্ট | 3 |
করোনা আক্রান্ত হয়ে জসিম উদ্দিন মিয়াজি (৫২) নামে কুমিল্লার এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোর সাড়ে ছয়টায় ঢাকার তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে তিনি মারা যান। জসিম উদ্দিন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের তুলা পুষ্করিণী (শলাকান্দি) গ্রামের আমিনুল্লাহ মিয়াজির ছেলে। মৃতের ভাগ্নে ও ব্র্যাক ব্যাংক চট্টগ্রাম ডিভিশনের রিজিওনাল অপারেটিং সেন্টারের সিনিয়র ম্যানেজার মোল্লা খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃত জসিম উদ্দিন প্রাইম ব্যাংক কার্ড ডিভিশনের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার ভোরে ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে তিনি মারা যান। তিনি আরও জানান, মৃত জসিম উদ্দিনের তার দুই মেয়ে কলেজে ও এক ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। তার স্ত্রী একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষিকা। তার ভাই রিয়াজ উদ্দিন স্থানীয় ইউপি সদস্য। | 6 |
'ঘুম' শব্দটির সবচেয়ে পরিচিত সমার্থক শব্দ হচ্ছে নিদ্রা। বিশ্রাম, নিদ, সুপ্তি, তন্দ্রা, নিষুপ্তি, সুষুপ্তি-এসবও ঘুমের সমার্থক শব্দ। মজার ব্যাপার হচ্ছে ঘুম নামে দার্জিলিংয়ে একটি রেলস্টেশন আছে, যেটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ৪০৭ ফুট উচ্চতায় এবং ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত।উল্লিখিত নিদ শব্দটি নজরুলের বিখ্যাত ঈদের গানে পাই। সেখানে একটি লাইন এমন-রজনীকান্তের গানে পাই- 'জাগাও পথিকে, ও যে ঘুমে অচেতন।বেলা যায়, বহু দূরে পান নিকেতন।'শিল্প বিপ্লবের যুগে ঘুমে অচেতন ব্রিটিশ ও আইরিশ শ্রমিকদের ঘুম থেকে জাগাতে কিছু লোককে নাকি চাকরিতে রাখা হতো। তখন অ্যালার্ম ঘড়ির প্রচলন ছিল না। তাই তাঁদের কাজই ছিল মানুষকে ঘুম থেকে তোলা।'তন্দ্রা', 'সুপ্তি' শব্দগুলো আমরা বিভিন্ন লেখায় প্রায়ই দেখে থাকি। 'সুষুপ্ত' শব্দটি পাই রজনীকান্তের আরেক গানে-'যবে, কনক প্রভাতে নব রবি সাথে জাগে সুষুপ্ত ধরা'।এমনি করে বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিক ঘুমের সমার্থক অনেক শব্দ যেমন ব্যবহার করেছেন, তেমনি বিভিন্ন মনীষী ঘুমের সংজ্ঞাও দিয়েছেন বিভিন্ন অনুভূতিতে। থমাস ডেক্কারের মতে, 'ঘুমই সেই স্বর্ণের শেকল, যা আমাদের দেহ ও স্বাস্থ্যকে একসঙ্গে বেঁধে রাখে।' ক্রিস্টিনা রসেটি বলেছেন, 'সব ধরনের যন্ত্রণার মহৌষধ হচ্ছে আনন্দঘন ঘুম।' উইকিপিডিয়ার মতে, 'ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যখন সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া স্তিমিত থাকে।'তবে আমি জানি সবার ক্ষেত্রে ঘুমের সময় সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া স্তিমিত থাকে না। উদাহরণ আরব আলী। আরব আলী আমার বাল্যকালের বন্ধু। বলতে গেলে আমার সবকিছুই ওর জানা। তারপরও আমার একটা গোপনীয় বিষয় ছিল, যা ওর কাছ থেকে আড়াল করেছিলাম।একবার রাঙামাটি বেড়াতে গিয়েছিলাম। সারা রাত জার্নি শেষে হোটেলে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় যেতেই আরব আলী ঘুমিয়ে পড়ল। ঠিক সে সময় আমার কাঙ্ক্ষিত একটি ফোন এল। সে ঘুমিয়ে আছে ভেবে রুমে বসেই কথা চালাতে লাগলাম। ফল এই দাঁড়িয়েছিল-আমার একমাত্র গোপন তথ্যটিও আর তাঁর অজানা রইল না। কাজেই বিল কসবির ভাষায়, 'সব খোলা চোখই যেমন দেখতে পায় না, সব বন্ধ চোখও তেমন ঘুমায় না।' এমন সংজ্ঞায়ন আরব আলীর কথা ভেবেই কি-না কে জানে?তাঁর এই ঘুমহীনতার জন্য কোথাও গিয়েও শান্তি নেই। সন্ধ্যার পর চা পান করা যাবে না, ভারী খাবার খাওয়া যাবে না, জোরে হাসি দেওয়া যাবে না এমনকি রাত ১০টার পর গল্পও করা যাবে না।বিছানায় শুয়ে উল্টো গুনতে হবে, মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে কিংবা শহীদ আল বোখারি মহাজাতকের মতো ধ্যানমগ্ন হয়ে বলতে হবে-শরীর বলতে আপনার আর কিছুই নেই, আছে শুধু মন! আপনি শিথিলায়নের গভীর স্তরে পৌঁছে গেছেন... ইত্যাদি ইত্যাদি করতে হয় কিংবা কে জানে আরও কত কী!আমি বলি, আরে বাবা তুই তো ঘুমাসই না, তাহলে অত নিয়ম মানার দরকার কী? এই আমারে দেখ, ঘুম তাড়ানোর দরকার হলে চা পান করি। আবার গরম চায়ে চুমুক না দিলে ঘুমটাও ভালো জমে না! আর কী খাই না আমি? পান, বিড়ি ছাড়া আর কোনো কিছুতেই কি আমার অরুচি আছে? বল? সব খাবি। যখন দরকার ঘুমাবি, প্রয়োজনে জেগে থাকবি-এই না হলে কিসের জীবন? কিসের কি!আসলে যতই বলি আরব আলীর কপাল খারাপ। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রধানত দুই ধরনের ঘুম রেম আর নন-রেমের মধ্যে সে র্যাম (র্যাপিড আই মুভমেন্ট) ভাগে পড়ে গেছে। রেম ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক সজাগ থাকে, আমাদের মাংসপেশি শিথিল থাকে, আমাদের চোখ এদিক থেকে ওদিকে ঘুরতে থাকে। পক্ষান্তরে নন-রেম ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় থাকে, তবে শরীর নড়াচড়া করতে পারে। এই সময় হরমোন নিঃসৃত হয় এবং দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে শরীর আবার সতেজ হয়ে ওঠে।নজরুলের ভাষায়-'শিয়রে বসি চুপি চুপি চুমিলে নয়নমোর বিকশিল আবেশে তনুনীপ-সম, নিরুপম, মনোরম!'অবশ্য আরও কত ধরনের ঘুম যে আমরা প্রত্যহ অবলোকন করে থাকি। একেকজন একেক তরিকায় ঘুমায়। কেউ ঘুমের মাঝে বালিশসহ বৃত্তাকারে বিছানায় চক্কর মারে। কেউ কাৎ হয়ে, কেউ চিৎ হয়ে, কেউ হাঁ করে, কেউ দাঁড়িয়ে আবার কেউ ঘুমায় মরার মতো। কেউ ঘুমানোর সময় নাক ডাকে, কেউ বা আবার আবোলতাবোল বকে! ইত্যাদি, ইত্যাদি।আছে কায়া ঘুম, আছে মায়া ঘুম। আছে শোকের ঘুম, আছে টেনশনের ঘুম। আছে গরমের দিনের ঘুম, আছে বৃষ্টির দিনের ঘুম। তা ছাড়া দুপুরের খাবার খেয়ে টানা ঘুম দেওয়া বাঙালির যে চিরায়ত রীতি, তার নাম ভাতঘুম। যাঁরা লোকাল বাসে চড়ে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন, তাঁদের মধ্যেও একধরনের ঘুম প্রচলিত, যাকে বলা যায় বাসঘুম! মাথা একটু একটু করে ঝুঁকতে ঝুঁকতে হঠাৎ দুম করে বাসের সিটে ধাক্কা খাওয়া কিংবা হেলতে হেলতে অন্যের কাঁধে দড়াম করে ঢলে পড়া।সিটে ধাক্কা খাওয়া কিংবা অন্যের কাঁধে ঢলে পড়ার বিষয়টি না থাকলেও বাসে ঘুমানোর অভ্যাসটি আমারও আছে। কতবার যে কলেজে যাওয়ার সময় কলেজের গেটে নামতে না পেরে মাধবপুর চলে গেছি, তার হিসেব নেই। সাধারণত আড়াইটা-তিনটার মধ্যে কলেজ শেষে বাসায় ফিরি। এর ব্যতিক্রম হলেই বাসা থেকে আম্মা ফোন করেন। একবার এ রকমই আম্মার ফোনে আমার ঘুম ভাঙে। চোখ মেলে কোথায় আছি, কিছুই ঠাহর করতে পারছি না। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কেবল বাস আর বাস। খানিকপর সম্বিৎ ফিরতেই আবিষ্কার করলাম, আমি ভাদুঘর বাস টার্মিনালে। ততক্ষণে ড্রাইভার, কন্ডাক্টর বাসে তালা মেরে চলে গেছেন।আরেকটি ঘটনা না বলে পারছি না। আমি আর আমাদের ক্যামেস্ট্রি স্যার। বাসে ঘুমানোর ক্ষেত্রে তাঁকে বলা যায় সবার ওস্তাদ। জীবনে একবারই উনি কলেজে ছাতা নিয়ে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়িয়ে রাধিকা গিয়ে হুঁশ হলে হুড়মুড় করে নিজে নেমে আসতে পারলেও ছাতাটিকে নামাতে পারেননি। হা! হা! তো সেদিন আমরা দুজনে দিগন্ত বাসের পেছনের দিকে পাশাপাশি বসে যথারীতি ঘুম। সুহিলপুর-ঘাটুরার মাঝামাঝি কোনো এক জায়গায় হইচই শুনে প্রথমে আমি জেগে উঠি। স্যার তখনো গভীর ঘুমে। আমি বললাম, নামবেন না? তিনি চোখ বন্ধ করেই বললেন, 'কোথায় আসছে?' আমি বললাম, ধানখেতে! বুঝলেন কি বুঝলেন না, সম্বিৎ ফিরতেই হুড়মুড় করে নামতে নামতে বললেন, 'এক্সিডেন্ট হইছে!' | 8 |
রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ওপর হামলার দায়ে করা মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি নিউ মার্কেট থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। শুক্রবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিষয়টি জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন, নিউ মার্কেট ও ঢাকা কলেজ সংঘর্ষে বেআইনি জনতাবদ্ধে পুলিশের সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশের ওপর আক্রমণ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে জখম ও ভাঙচুর করার অপরাধে নিউ মার্কেট থানার মামলার এক নম্বর আসামি অ্যাডভোকেট মকবুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে নিউ মার্কেট থানায় হস্তান্তর করা হবে। গত সোমবার (১৮ এপ্রিল) মধ্যরাতে ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরদিন মঙ্গলবার দিনভর দফায় দফায় চলে সংঘর্ষ। বুধবার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। সংঘর্ষের ঘটনায় মারা গেছেন দুজন, আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। বুধবার রাতে পুলিশ বাদি হয়ে দুটি মামলা করে নিউ মার্কেট থানায়। এর মধ্যে একটি পুলিশের ওপর হামলার দায়ে, আরেকটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা এক হাজার জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়। অন্যদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় অজ্ঞাত আসামি ২০০ জন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় যাদের নাম দেয়া হয়েছে, তারা হলেন- অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন, আমির হোসেন আলমগীর, মিজান, টিপু, হাজি জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী, হাসান জাহাঙ্গীর মিঠু, হারুন হাওলাদার, শাহ আলম শন্টু, শহিদুল ইসলাম শহিদ, জাপানি ফারুক, মিজান বেপারী, আসিফ, রহমত, সুমন, জসিম, বিল্লাল, হারুন, তোহা, মনির, বাচ্চু, জুলহাস, মিঠু, মিন্টু ও বাবুল। | 6 |
বিনোদন দুনিয়ার হালচাল বদলে যাচ্ছে রাতারাতি। করোনা মহামারিতে এই বদলে যাওয়ায় লেগেছে নতুন হাওয়া। বন্ধ সিনেমা হল, সিনেপ্লেক্স। মানুষ সবাই ঘরবন্দী। এই সুযোগে ওত পেতে থাকা ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো যেন জেগে উঠেছে সজোরে। তার সাড়াও মিলেছে বেশ। মানুষ এখন সবাই ঘরে। চোখ হাতে রাখা মুঠোফোন কিংবা ঘরের স্মার্ট টিভিতে। ইচ্ছে হলেই ঢুঁ মেরে আসছেন নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন, মুবি, ডিজনি প্লাস থেকে। এক 'এক্সট্র্যাকশন'-ঝড়েই বোঝা গেছে মানুষ কী পরিমাণ ঝুঁকছে অনলাইনে কনটেন্ট দেখায়। শুধু তাই না, এই সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর হিসাব-নিকাশ দেখলে বোঝা যায়, ওটিটির দৌরাত্ম্য ভেতরে ভেতরে কত!বলিউডে সম্প্রতি এই হাওয়া লেগেছে ছবি মুক্তিতে। এত দিন কেবল অনলাইনে মুক্তি দেওয়া হতে পারে, এই ছিল শেষ কথা। এবার দুটি ছবির অনলাইন মুক্তির ঘোষণায় যেন নতুন সিনেমা পরিবেশনের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে বলিউডে। শুধু তা-ই নয়, সিনেমা হল মালিক, পরিবেশক, আইনক্স ও মাল্টিপ্লেক্স মালিকেরা নড়েচড়ে বসলেন। তৈরি হচ্ছে বিতর্কও। সে যা-ই হোক বলিউড যে কিছুটা হলেও ঝুঁকছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দিকে, সেটা বলা যায়।সম্প্রতি অ্যামাজন প্রাইম থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সুজিত সরকার পরিচালিত 'গুলাবো সিতাবো' ছবিটি আগামী ১২ জুন বিশ্ব উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে। আমিতাভ বচ্চন ও আয়ুষ্মান খুরানার মতো দুই তারকা অভিনেতার ছবি সিনেমা হলে মুক্তি পাবে না। এই খবরে অবশ্য হতাশ চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট অনেকেই।এদিকে আরেক তারকাবহুল সিনেমা 'শকুন্তলা দেবী'ও অ্যামাজনে মুক্তি পাচ্ছে, এমন ঘোষণা এসেছে। ভারতীয় নারী গণিতবিদ ও মানব কম্পিউটারখ্যাত শকুন্তলা দেবীকে নিয়ে জীবনীভিত্তিক ছবিতে শকুন্তলা দেবীর চরিত্রে দেখা যাবে বিদ্যা বালানকে। আছেন যিশু সেনগুপ্ত, সানিয়া মালহোত্রা ও অমিত সাধ।আরও কিছু ছবির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, এগুলো সরাসরি মুক্তি পেতে পারে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। অক্ষয় কুমার ও কিয়ার আদভানির 'লক্ষ্মী বোম্ব', জাহ্নবী কাপুর অভিনীত 'গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কারগিল গার্ল' এই কাতারে আছে।যদিও সিনেমা হলে মুক্তি না দিয়ে সরাসরি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মুক্তি দেওয়ায় বিতর্ক উঠছে বলিউডে। নাখোশ হচ্ছেন পরিবেশক, সিনেমা হল ও মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে আইনক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, 'চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সিনেমা হল মালিকদের মধ্যে একটা নিজস্ব ব্যবসায়িক সম্পর্কও থাকে। যেখানে উভয় পক্ষই লাভবান হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটাই হয়ে এসেছে। আর আজ যখন একে ওপরের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার সময় তখন অপর পক্ষ সেই সম্পর্ক থেকে সরে গেলেন।' | 2 |
ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যভুক্ত জনতা ব্যাংক লিমিটেডের সিনিয়র অফিসার (অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর) পদের এমসিকিউ পরীক্ষার সূচি ও কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর প্রার্থীদের এক ঘণ্টায় ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর টিকাটুলীর সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজে এ পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার প্রবেশপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট (://...) থেকে ডাউনলোড করা যাবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কোনো ধরনের কাগজপত্র বা ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষার হলে ঢোকা যাবে না। মাস্ক পরা ছাড়া কাউকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। | 1 |
দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মূল্য বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে ভোজ্যতেল মজুদকারীদের প্রতিরোধে টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। পন্যমজুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। ওিএমএসের কার্যক্রম বাড়ানো হবে। সয়াবিন তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে চেষ্টা করছে সরকার। নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স তুলে নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। রবিবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে এদিন বিকেল ৪টার দিকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের জরুরি এ বৈঠক শুরু হয়। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সভা করেন তারা। দেশের দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি ও বাজার পর্যালোচনা করতে এই বৈঠকে ছিলেন সরকারের চার মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয় এ বৈঠকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে যোগ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এবং পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। | 6 |
পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএসের বাড়িতেই থাকেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মমতাজ। প্রথম জীবনের একটা বড় সময় কেটেছে গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে। ঢাকার কর্মব্যস্ত দিন শেষে সময়-সুযোগ মিললেই ছোটেন গ্রামের বাড়িতে। নিজের মতো করে কয়েকটা দিন সেখানে কাটিয়ে আসেন। জন্মস্থানের সাংসদ হওয়ার কারণে সেখানকার মানুষদের খোঁজখবর নিতেও তাঁকে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকতে হয়। এবার গ্রামে গিয়ে জীবনের সেরা সময় কাটিয়ে এসেছেন বলে জানালেন মমতাজ। সিঙ্গাইরের গোলাইডাঙ্গা গ্রামে তাসলিমা জালাল মঞ্চবাড়িতে সম্প্রতি জীবনের সেরা সেই সময় কাটিয়ে এসেছেন মমতাজ। ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার কিছু সময় পর সেখানে আমন্ত্রিত হয়ে যান তিনি । সেখানে তিনি প্রায় ৪ ঘন্টা ছিলেন। ফিরে আসেন যখন, তখন রাত ১২টা পেরিয়ে গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনন জামানের আমন্ত্রণে সেখানে তাঁর যাওয়া। মমতাজ সেখানে কাটানো সময়ে তাঁর ভালো লাগার অনুভূতি ফেসবুকেও প্রকাশ করেছেন। প্রথম আলোকে গতকাল সোমবার এই সংগীতশিল্পী ও সাংসদ বললেন, 'তিন ঘণ্টার বেশি কাটানো সেই সময়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেছি আমি। ওই সময়কার অনুভূতি শুধু হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করা যায়।' ফেসবুকে পোস্ট করা কিছু স্থিরচিত্রে দেখা যায়, মমতাজকে কেউ পালকির আদলে তৈরি একটি বাহনে করে কাঁধে চড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর ঘুরন্তম নামের একটি বাহনে বসিয়ে তাঁকে ঘোরানো হচ্ছে, আর চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই ছিটাচ্ছেন ফুল। অন্য কোনো স্থিরচিত্রে তাসলিমা জালাল মঞ্চবাড়ির মাঝখানে বসে আছেন মমতাজ, তাঁকে ঘিরে নাচছেন কেউ। জাদু গায়েন গাইছিলেন বাউল গান। মমতাজ বললেন, 'সত্যিই সত্যিই অন্য রকম মুহূর্ত। ওই সময়টা কোন জগতে ছিলাম, বুঝতেই পারিনি।' মমতাজ বললেন, 'আমি গ্রামের মানুষ, শহরে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে, তাই সুযোগ পেলেই ছুটে আসি গ্রামে। গ্রামের মানুষের সহজ-সরল ভালোবাসা আমাকে পাগল করে দেয়। গ্রামীণ সব ঐতিহ্য আমাকে মুগ্ধ করে সব সময়। মনে হয় এটাই আমি আমার অস্তিত্ব। সব সময়ই ভালো লাগে, তবে এবার একটু বেশি ভালো সময় কেটেছে আমার।' | 2 |
গঙ্গাচড়ার কৃষকদের মধ্যে রিলে ক্রপিং অর্থাৎ মিশ্র ফসল চাষের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। অতিরিক্ত আয়ের মুখ দেখায় এমন চাষাবাদে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের উত্তর কোলকোন্দ বানিয়াপাড়া গ্রামের চাষিরা মিশ্র ফসলের চাষে সব থেকে বেশি ঝুঁকেছেন।কথা হয় ভূটকা গ্রামের চাষি মোকলেছার মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, আগে তাঁদের এলাকার জমিতে মাত্র দুটি ফসল হতো। রোপা আমন ধান এবং ভুট্টা অথবা আলুর মধ্যে যেকোনো একটি জাতের ফসল চাষ করা যেত। এর কারণ হচ্ছে এখানকার চাষাবাদের জমিগুলো একেবারেই নিচু।মিশ্র চাষ বিষয়ে মোকলেছার বলেন, 'আমি ১০ বছর আগে নিজের বুদ্ধিতেই রোপা আমন ধান তোলার পর জমি প্রস্তুত করে আলুর বীজ লাগাই। পরে আলুগাছের বয়স ৬০ দিন হলে খেতে শেষ সেচ দেওয়ার কয়েক দিন আগে গাছগুলো লাঙল দিয়ে টেনে ভুট্টার বীজ ফেলানো হয়। ৩০ দিনের মাথায় ভুট্টার গাছগুলো বড় হয়ে উঠে। এদিকে আলুর বয়স ৯০ দিন হলে তা জমি থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে আগাম জাতের ভুট্টার সঙ্গে আমি এ ভুট্টা তুলে নেই। এই কাজে বাড়তি সার দিতে হয়নি। ফলনও ভালো হওয়ায় তখন থেকে আমি জমিতে এ ধরনের মিশ্র ফসল চাষ করে আসছি। আমাকে দেখে অনেকে এভাবে ফসল ফলানো শুরু করেন।'কৃষক দিলীপ রায় জানান, তিনি ১০০ শতক জমিতে আলুর আবাদ করে পান ২০০ বস্তা আলু, যার বর্তমান বাজার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই ফসল চাষে তাঁর ব্যয় হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। এই আলুর সঙ্গে মিশ্র ফসল চাষের মাধ্যমে যে ভুট্টা তিনি পাবেন তা হবে কমপক্ষে ১২০ মণ। এই ভুট্টায় কোনো প্রকার ব্যয় ছাড়াই পাওয়া যাবে সর্বনিম্ন ৭২ হাজার টাকা হবে।দিলীপ রায় বলেন, 'এ ফসলটি আমরা কোনো প্রকার খরচ ছাড়া পেলাম। তাহলে আমরা এভাবে চাষ না করে কী করব? মিশ্র চাষে কম সময়ে ভালো ফসল মিলে।'কোলকোন্দ ইউনিয়নের তেঁতুলতলা গ্রামের মিশ্র ফসল চাষি ফনি রায় বলেন, 'যেখানে আমাদের দুটা ফসল জমি থেকে উঠতে না উঠতেই জল এসে জমি ডুবে যেত, সেখানে এখন জল আসার আগেই আমরা তিন জাতের ফসল ঘরে তুলতে পারছি। ভুট্টাটা আমরা ফাউ ফসল হিসেবে পাচ্ছি। তবে আমাদের যদি সরকারিভাবে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হতো, তাহলে আমরা আরও ভালো কিছু চাষাবাদ করতে পারতাম।'এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, 'কীভাবে জমিতে কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়, সে বিষয়ে আমরা মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।' | 6 |
নারীঘটিত বিরোধে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন হামজাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সজীব ও জসিম নামে দু'জন এবং অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে বনানী থানায় মামলা করেছেন নিহতের বাবা আলতাফ হোসেন। তবে জড়িত কেউ এখনও গ্রেফতার হয়নি। এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর মহাখালীর কড়াইলের টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে রাকিব ও তার বন্ধু নূর ইসলামকে উপর্যুপরি কোপায় সজীব ও জসিম এবং অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। নূর ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহত রাকিব ঢাকা উত্তরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি এবং তিতুমীর কলেজে এমবিএর শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সম্প্রতি কড়াইলের মোশাররফ বস্তির বাসিন্দা সজীবকে তালাক দেন তার স্ত্রী মিম। তবে মিমকে ফেরাতে নানাভাবে চেষ্টা করেন সজীব। মিম তার সঙ্গে আর সংসার করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এতে সজীবের মধ্যে ধারণা জন্মায় যে রাকিবের সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই মিম তাকে তালাক দিয়েছেন এবং ফিরে আসছেন না। এতে রাকিবের ওপর সজীবের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর জেরে সজীব সহযোগীদের নিয়ে রাকিবকে হত্যা করেছে বলে ধারণা পুলিশের। রাকিবের বাবা আলতাফ হোসেন টিঅ্যান্ডটির লাইনম্যান। কড়াইল টিঅ্যান্ডটি কলোনি বস্তিতে তারা থাকেন। গ্রামের বাড়ি বরিশালের বিমানবন্দর থানার চন্দ্রপাড়ায়। শনিবার রাকিবের জন্মদিন। জন্মদিন পালনের জন্য এক সপ্তাহ আগে থেকে রাকিব প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। অনেক কেনাকাটাও করেছিলেন। জন্মদিন আর পালন করা হলো না তার। শুক্রবার সরেজমিন জানা যায়, কড়াইলের টিঅ্যান্ডটি কলোনির পাশে আনসার ক্যাম্প মাঠে বৃহস্পতিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলেন রাকিব। সেখান থেকে বন্ধু নূর ইসলামকে নিয়ে রাত সোয়া ১২টার দিকে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। বাসায় ঢোকার আগেই আনুমানিক একশ' গজ দূরে ফাঁকাস্থানে তাদের কুপিয়ে ফেলে রাখে অভিযুক্তরা। বৈদ্যুতিক পিলারের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তারা পড়েছিলেন। এই এলাকার পরিচ্ছন্ন কর্মী প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবুদ্দিন সমকালকে জানান, তিনি ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরে ড্রেন পরিস্কার করছিলেন। নূর ইসলামের চিৎকারে তিনি ছুটে আসেন। রাকিব কথা বলতে পারছিলেন না, শুধু গোঙাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে রাকিবের বোনসহ স্বজনরা ছুটে আসেন। রাকিব ও নূর ইসলামকে কারা কুপিয়েছে, তা তিনি দেখেননি বলে জানান। নূর ইসলাম হাসপাতালের ৩০৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তার বাঁ গালে ও কোমরে কোপানো হয়েছে। তিনি পুলিশকে জানান, সজীবসহ ছয়-সাতজন তাদের কোপায়। কোপানোর সময় জসিম নামে একজনের নাম ধরে ডাকা হয়। তবে তিনি জসিমকে চেনেন না। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই আবু তাহের ভূঁইয়া সমকালকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে মিমের সঙ্গে রাকিবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০১৫ সালে সজীবের সঙ্গে মিমের বিয়ে হয়ে যায়। এরপরও সজীব-রাকিবের মধ্যে কথাবার্তা চলত। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ শুরু হয়। দাম্পত্য কলহ নিয়ে মিম থানায় জিডিও করেছেন। গত জুনে মিম সজীবকে তালাক দেন। পরে মিমকে নিয়ে আবার নতুন করে সংসার করার চেষ্টাও করেন সজীব। তবে মিম রাজি হননি। সজীব ধারণা করে, রাকিবের কারণেই তাকে তালাক দিয়েছেন মিম। এতে সজীব ক্ষুব্ধ হন রাকিবের ওপর। এ কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা এই পুলিশ কর্মকর্তার। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাকিবের মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে কড়াইলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিকেলে বরিশালের উদ্দেশে মৃতদেহ নিয়ে রওনা হন স্বজনরা। | 6 |
সুশোষিত জাতি মাত্রেই স্বশোষিত। ২০০ বছর ধরে ইংরেজ এবং চব্বিশ বছর ধরে পাকিস্তানিরা বাঙালি জাতিকে যে পরিমাণ শোষণ করেছে, বাঙালি নিজেকে নিজে তার চেয়ে কম শোষণ করেনি গত ৫০ বছরে।বাঙালি জাতি যে কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি, দুর্নীতি তার একমাত্র কারণ না হলেও অন্যতম কারণ তো বটেই। অর্থের জোগান নয়, আমি মনে করি, যেকোনো অর্থনীতির প্রধান সমস্যা সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব, যার অন্যতম লক্ষণ বেহিসাব ও দুর্নীতি। হিসাবের গরুকে বাঘে খায় না। বারো ভূতে বা বারো বাঘে বাংলাদেশের বেহিসাবের গরু খেয়ে নিচ্ছে।চালুনি জিনিসটা কাজের অবশ্যই, কিন্তু তেল বা জল জমিয়ে রাখার জন্য নয়। দুর্নীতিপ্রবণ সমাজও চালুনির মতো। উন্নয়নের সুবিধাটুকু এখানে অনর্থক অপচয় ও নষ্ট হয়।দুই রকমের চোর ছিল প্রাচীন ভারতবর্ষে: প্রকাশ চোর ও অপ্রকাশ চোর। চাণক্য খান বিশেক রকমের অপ্রকাশ চোরের উল্লেখ করেছেন অর্থশাস্ত্রে। প্রকাশ্যে চুরি-ছিনতাই যারা করত, তাদের বলা হতো প্রকাশ চোর। আমলা-পুলিশের মতো গোপনে যারা ঘুষ খেত, তাদের বলা হতো অপ্রকাশ চোর। কোন চুরি সমাজের বেশি ক্ষতি করে? প্রকাশ্য চুরি, নাকি অপ্রকাশ্য চুরি?'চোরে চোরে মাসতুতো ভাই', 'ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়', 'বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?', 'চোরের মায়ের বড় গলা' যুগান্তরের ইত্যাদি বাংলা প্রবাদ প্রমাণ করে যে বাঙালি সমাজে অতীতেও দুর্নীতি ছিল। ব্রিটিশরাজ যখন ভারতবর্ষে প্রথম দারোগা নিয়োগ করে, দারোগার নাকি বেতন ছিল না। একে মেরে, ওকে ধরে দারোগাকে নিজের আয়ের ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হতো। দারোগার এতটাই প্রতাপ ছিল যে গ্রামের এক অশিক্ষিতা, সরল বৃদ্ধা একবার কোর্টে সুবিচার পেয়ে এক জজকে নাকি আশীর্বাদ করে বলেছিল: 'বাবা, প্রমোশন পেয়ে তুমি দারোগা হও!' আধুনিক ভারতবর্ষে দুর্নীতির শুরুই সম্ভবত বাঙালিকে দিয়ে। প্রথম ক্যালকাটা করপোরেশনে নাকি এত দুর্নীতি হয়েছিল যে লোকে সেটাকে 'ক্যালকাটা চোরপোরেশন' বলত।গুরু, লঘু ও মাঝারি-দুর্নীতি তিন প্রকার। প্রশান্ত হালদার কয়েক হাজার কোটি টাকা মেরে ফেরার হয়েছেন। এটা গুরু দুর্নীতির উদাহরণ। পিয়ন আপনার হাতে চিঠি দিয়ে বকশিশের জন্য হাত কচলাচ্ছেন। এটা লঘু দুর্নীতির নমুনা। ধরা যাক, ঢাকা নিউমার্কেটে ফুটপাতের অতি দুস্থ এক চা-দোকানিকে মাসে কমপক্ষে ছয় হাজার টাকা ঘুষ বা তোলা গুনতে হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষক দল এবং যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের ধামাধরা ছাত্রসংগঠনকে দিতে হয় এই টাকা। এটা মাঝারি দুর্নীতির উদাহরণ।গুরু দুর্নীতিবাজেরা যেকোনো সরকারের কাছের লোক হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে হাতেনাতে ধরা পড়লেও বেশির ভাগ সময় তারা অধরা থেকে যায়। এদের কারণে এবং এদের প্রতি সরকারের সমর্থন কিংবা কৌশলগত উদাসীনতার কারণে লঘু দুর্নীতি সমাজে ছড়িয়ে যায়। বড়কে দেখেই তো ছোটরা শেখে।গুরু দুর্নীতি সমাজের গুরুতর ক্ষতি করে সন্দেহ নেই, এই উভয় প্রকার দুর্নীতিই দমন করার বিকল্প নেই সেটাও সত্য, কিন্তু আমার মতে, লঘু দুর্নীতি গুরুতর বিপদের কারণ। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয় লঘু ও মাঝারি দুর্নীতি, ভেতরে ভেতরে উইপোকার মতো খেয়ে ফোকলা করে দেয় সমাজকাঠামোকে।উপরিকাঠামো ফিটফাট আছে বলে মনে হলেও ভেতর থেকে সমাজ এতটাই ধসে যায় যে সামান্য ধাক্কাতেই ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।সভ্য দেশে সমাজের উচ্চপর্যায়ে গুরু দুর্নীতি আছে, জাপান ও কোরিয়ার মতো দেশেও আছে। কিন্তু এসব দেশে সমাজের সর্বস্তরে লঘু ও মাঝারি দুর্নীতি দুরারোগ্য কর্কট রোগের মতো ছড়িয়ে যায়নি, যেমনটা হয়েছে বাংলাদেশে, গত ১০০ বছরে বা তারও আগে থেকে।যেহেতু আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই, সেহেতু বাংলাদেশের সর্বস্তরে দুর্নীতির বীজতলা তৈরি হয়েই আছে। কাজি-কায়স্থ-কোতোয়ালের মতো অতি 'ঘুষপ্রবণ' পেশাগুলোতে ব্যক্তির আয়-ব্যয়ের বিবরণ দেখলেই এই সত্য উঠে আসবে। দেখা যাবে, মাসিক বেতন ৫০ হাজার, কিন্তু মাসিক খরচ দেড়-দুই লাখ। স্ত্রী-পুত্র, পিতা-মাতা কারও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই যে তারা হারামের টাকায় শরীর-মন পুষ্ট করছে। 'সুই বলে চালুনিরে, তোর পিছনে ফুটা!' বাংলাদেশে এক ঘুষখোর আরেক ঘুষখোর সম্পর্কে বলে: 'আমি তো সৎ থেকে কিছুই করতে পারলাম না এই জীবনে। ওমুকের তো চোখের লজ্জাটুকুও নাই'!শূন্য দুর্নীতি আকাশকুসুম কল্পনা। লক্ষ রাখতে হবে, দুর্নীতি যেন সীমা ছাড়িয়ে না যায়। দুর্নীতি দমনের অন্যতম উপায় সব গরুকে হিসাবের আওতায় আনা। হিসাব থাকলে চুরি হলেও জানা যাবে, ঠিক কত টাকা চুরি হয়েছে বা হচ্ছে।কার কত আয়, সরকারকে কম-বেশি জানতে হবে। নাগরিকমাত্রেরই একটি টিন নম্বর থাকবে, থাকতে হবে। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর, তিনি রাস্তার অতি নগণ্য ফুচকা বিক্রেতাই হোন না কেন, কমপক্ষে একটা ট্রেড লাইসেন্স থাকতেই হবে। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রকার পণ্য কেনাবেচা নিষিদ্ধ। ট্রেড লাইসেন্সের ফি ছাড়াও ব্যবসায়ীকে প্রতিবছর একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পরিশোধ করতে হবে সরকারকে।প্রশ্ন হতে পারে, এই টাকা অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কোথায় পাবেন? যে পরিমাণ টাকা তোলাবাজ বা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে কিংবা প্রতি মাসে (একেক এলাকায় একেক রকম তোলা সংস্কৃতি বাংলাদেশে!), সেই পরিমাণ বা তার চেয়ে কম পরিমাণ টাকা ফি হিসেবে দিতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।এই ব্যবস্থায় গরিবের টাকা সরকারের তহবিলে আসবে, ভুঁইফোড় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে যাবে না। বছরে যে ব্যবসায়ী ৭২ হাজার টাকা তোলা বা ঘুষ দিতে সক্ষম, তিনি বছরে কমবেশি ১২ হাজার টাকা আয়কর দিতে আপত্তি করবেন না নিশ্চয়ই। ব্যবসায়ীরা সাধারণত বলেন যে ঘুষ-তোলা বন্ধ হলে আইনসংগতভাবে সরকারকে টাকা দিতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। টাকাটা এখনো তাঁরা দিচ্ছেন, বহুগুণ বেশিই দিচ্ছেন, কিন্তু সরকারের খাতায় টাকাটা আসছে না, বারো ভূতে লুটে খাচ্ছে।চোরা কি ধর্মের কাহিনি শুনবে? প্রশ্ন করতে পারেন কেউ। আমার উত্তর: ব্যর্থতাটা চোরের নয় নয়, ধর্মের।দুর্নীতিকে সামাজিকভাবে ঘৃণার সংস্কৃতি চালু করার চেষ্টা করতে হবে। দুর্নীতিকে উপজীব্য করে জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন-নাটক-সিনেমা নিয়মিত প্রচার করা যেতে পারে। প্রতিটি ব্যাংকের দেয়ালে ঋণখেলাপিদের ছবি ও নামসহ তালিকা টাঙিয়ে রাখলে কেমন হয়?চোরাকে শোনানো হোক রাষ্ট্রধর্মের কাহিনি। দুর্নীতি দমনে অন্যতম হাতিয়ার হতে পারেন ধর্মগুরুরা। সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে সমাজ ও ধর্মের উপযুক্ত 'হেফাজত' করতে পারেন তাঁরা।তবে 'সরিষায় ভূত' যুগান্তরের বাঙালি প্রবাদ এবং ধর্মগুরুরা সবাই যে 'মামুন' (আরবি শব্দ। অর্থ 'বিশ্বস্ত') নন, তাও আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি বটে।দুর্নীতি দূর করতে হলে দুর্নীতিকে অপ্রয়োজনীয়, অগ্রহণীয় করে তুলতে হবে। বাংলাদেশের বেতনকাঠামো কেন অন্ততপক্ষে পাকিস্তান বা ভারতের সমান হবে না? এমন বেতন দিতে হবে, যাতে উপরি আয় ছাড়াই নাগরিকেরা সাদামাটাভাবে খেয়ে-পরে চলতে পারে। দ্রব্যমূল্যের ওপরও নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে বৈকি। 'বাড়িভাড়া, রিকশাভাড়াসহ সব জিনিসপত্রের দামের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে! তা যদি না করতে পারে, তো সরকার ব্যর্থ! দাম এমন উল্টাপাল্টা বাড়লে আমরা তো বাঁচবার পারি না।গরিবের কথা সরকার না ভাবলে আর কে ভাববে?' কথাটা বলেছিলেন এক অশিক্ষিত রিকশাচালক। হয়তো একটু বেশিই দাবি করছেন তিনি সরকারের কাছে, কিন্তু কথাটার মধ্যে সত্য যে একেবারে নেই, তা তো নয়। 'সরকারের কাজই হইল গিয়া (প্রয়োজনে) নিয়ন্ত্রণ করা। (দরকারমতো) নিয়ন্ত্রণই যদি না করতে পারল, তবে সরকার থাইকা কী লাভ?' নিউমার্কেটে আমাকে নামিয়ে দিয়ে রিকশাওয়ালা বলেন।বেতন বাড়লে অর্থনীতির ক্ষতি যত, লাভ তার চেয়ে বহুগুণ বেশি। কম বেতন শ্রমিককে অতি দুর্বল করে, মালিককে অতি সবল করে, আখেরে পুরো জাতিকে অতি দুর্বল করে দেয়। বেতন বেশি হলে বাজারচক্রে বেশি টাকা প্রবেশ করবে এবং বেশি মূলধন সৃষ্টি হবে। বেতন বেশি হলে বেতনভোগীর আয়করও বেশি হবে। সৎভাবে উপার্জিত অর্থ কোনো প্রকার মনোবেদনা ছাড়াই খরচ করবে মানুষ খাদ্য, বিনোদন, সন্তানের শিক্ষা ও ভ্রমণে। এতে সমাজে বিচিত্র সেবা ও পেশার সৃষ্টি হবে, বিদ্যমান পেশা ও সেবার সমৃদ্ধি হবে। সব মিলিয়ে শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ সামগ্রিকভাবে জাতির মান বৃদ্ধি পাবে।বাংলাদেশে যে লেবেঞ্চুস খাওয়ার বেতন দেয় সরকার, তা সৎ মানুষকে স্বস্তিতে থাকতে দেয় না এবং অসৎকে অধিকতর অসৎ হতে প্রণোদনা দেয়। উপযুক্ত বেতন দিলে দুর্নীতিবাজের কাছে জবাবদিহি দাবি করতে পারত সমাজ। লেবেঞ্চুসের বেতন দিলে দুর্নীতির ব্যাপারে প্রশ্ন করার মতো নৈতিক ভিত্তিটাই সমাজের থাকে না।কী বললেন, টাকা নেই? 'মানি ইজ নো প্রবলেম! বাট আই উইল মেক পলিটিকস ডিফিকাল্ট!' বাংলাদেশের এক পাতাবাহার রাষ্ট্রপ্রধান বলেছিলেন বটে এমন কথা। হলমার্ক না কোন এক কোম্পানি কয়েক বছর আগে যখন কয়েক হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়েছিল, তখন 'এটা কোনো টাকাই না!' বলেছিলেন বাংলাদেশের বয়োবৃদ্ধ, ঝানু অর্থমন্ত্রী।আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নাকি উপচে পড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের নারকীয় গরমে মরুভূমিতে মাথার ঘাম শাবলে ফেলে এই রিজার্ভ বাড়াচ্ছে লাখ লাখ আম বাঙালি। প্রবাদ আছে: ধন গোবরের মতো, এক জায়গায় জমিয়ে রাখলে দুর্গন্ধ বের হয়, খেতে ছড়িয়ে দিলে ফসল ফলে। রিজার্ভে টাকা যদি থেকেই থাকে, তবে সতর্কতা, বুদ্ধিমত্তা ও বিবেচনার সঙ্গে সেই সম্পদ দেশের মানুষের নগদ অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দিতে হবে প্রয়োজনমতো ব্যক্তির আয়-ব্যয় সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে। সঠিক রাজনীতি মূলত রাষ্ট্রের সম্পদের সুষম বণ্টন ছাড়া আর কিছুই নয়। বাংলাদেশে সম্পদ আছে, কিন্তু সেই সম্পদের সুষম বণ্টন হচ্ছে না এবং সে কারণে টেকসই উন্নয়নও থেমে আছে।অস্থাবর সম্পদ খামাখা জমিয়ে রাখলে আখেরে বিপদেরও সম্ভাবনা থাকে। 'নেপোয় মারে দই!' ফিলিপাইনের কোনো হ্যাকার নেপো কখন যে দেশি নেপোদের সহায়তায় রিজার্ভের দই আবারও 'মেরে দেবে না', তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? তার চেয়ে বরং আমরা খেয়ে মরি না কেন, বিশেষ করে এই করোনার আকালে, যখন কিনা কার কখন শ্বাস উঠবে (আক্ষরিক অর্থে) তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই।দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে সামাজিক মিডিয়ার বিকল্প নেই। দুর্নীতির যাবতীয় খবর সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হতে দেওয়া হোক এবং সরকার সামাজিক মিডিয়াসহ সব মিডিয়ায় কড়া নজর রাখুক। প্রকৃত অপরাধীকে আটক করা হোক এবং নিরপরাধকে স্বস্তি ও শান্তির নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। বন্ধনে নয়, মুক্তিতেই স্বস্তি ব্যক্তির, সমাজের এবং রাষ্ট্রের-এই সত্য আমাদের সরকারগুলো কবে বুঝবে? তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সামাজিক মিডিয়া অধিদপ্তর গঠনের প্রয়োজনীয়তা এখনই অনুভূত হচ্ছে।আর্থরাজনীতিতে অনধিকারী আমার কথাটি আপাতত ফুরোল। অধিকারী সরকার সদিচ্ছা থাকলে একে একে নটে গাছগুলো মুড়োতে শুরু করুক। পথ আটকে থাকা সমস্যা পর্বতপ্রমাণ, কিন্তু কোদাল দিয়ে একটানা কোপাতে শুরু করলে যেকোনো পর্বতই একসময় পথ করে দিতে বাধ্য হয়-এমন গল্প নামমাত্র মূল্যে কেনা মাও সেতুংয়ের লাল বইয়ে কিশোর বয়সে পড়েছিলাম বটে। খাওবাদী এই যুগে এসব তামাদি হয়ে যাওয়া মাওবাদী আলাপের কি আর কোনো মূল্য আছে? সুহৃদ কুদরাত-এ-খুদা যেমন বলে থাকেন, উলুবনে মুক্তাই হয়তো ছড়ালাম আবার, বরাবরের মতো।শিশির ভট্টাচার্যঅধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | 5 |
দক্ষিণ ভারতের হায়দ্রাবাদ শহরের একটি স্ক্র্যাপ গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দিবাগত রাত পৌঁনে ৩টার দিকে শহরের ভৈগুদা এলাকায় শওদান ট্রেডার্সের মালিকানাধীন দোতলা গোডাউনের নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৯ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করলেও আগুন নেভাতে তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাপিয়া স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, "গোডাউনের প্রথম তলায় প্রায় ১২ জন কর্মী ঘুমিয়েছিলেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই তাদের মধ্যে ১১ জন জীবন্ত দগ্ধ হয়।" পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা সবাই পূর্ব রাজ্যবিহারের অভিবাসী শ্রমিক। হায়দ্রাবাদের পুলিশ প্রধান সিভি আনন্দ বলেছেন, "তাদের মধ্যে একজন আগুন থেকে জীবন রক্ষা করে বের হতে সক্ষম হয়েছে এবং তাকে একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।" তিনি বলেন, "বেশিরভাগ মৃতদেহ এতোটাই পুড়ে গেছে যে তাদের দেখে শনাক্ত করা যাচ্ছে না।" ফা্য়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা জানান, গোডাউনে রাখা ফাইবার তারের কারণে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করছেন। যদিও দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। | 3 |
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান তিনি।ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশবাসী দেখেছে একজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বহীন বক্তব্য এবং অসৎ আচরণের জন্য শেখ হাসিনা ছাড় দেননি। আর তার বিপরীতে দেশবাসী দেখল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর দলের একজন নেতার অশালীন বক্তব্যকে নির্লজ্জভাবে কীভাবে দলীয়ভাবে সমর্থন দিলেন। দেশবাসী বিস্মিত, ক্ষুব্ধ এবং লজ্জিত। দলটির নেতারা রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে ভূলুণ্ঠিত করেছেন।কাদের বলেন, বিএনপি লালন করে প্রতিহিংসা, ষড়যন্ত্র আর পরশ্রীকাতরতা। তাদের মাঝে কৃতজ্ঞতাবোধ নেই, তারা কৃতঘ্ন। তারা জন্মলগ্ন থেকে রাজনীতির সুষ্ঠু ধারা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিবেশকে কলুষিত করে আসছে।বিএনপির কখনো কৃতজ্ঞতাবোধ ছিল না দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলগতভাবে তারা শিষ্টাচারবর্জিত দল। তা না হলে শোকসন্তপ্ত মাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে তারা দরজা বন্ধ করে অসম্মানজনকভাবে ফিরিয়ে দিত না। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চায়ের আমন্ত্রণের বিপরীতে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সেদিনের অশালীন বক্তব্য সে সময় দেশবাসী শুনেছিল। তাই বলতে চাই, শিষ্টাচারহীনতা, অশালীনতা তাদের মজ্জাগত। এটা তাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার।ওবায়দুল কাদের বলেন, 'মঞ্চে-সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপি নেতা-নেত্রীরা যেসব ভাষায় বক্তব্য দেন তা বলারও অযোগ্য, ছাপারও অযোগ্য। কথায় ও কাজে পরিশীলিত রুচিবোধ ও শালীনতা তাদের মাঝে নেই। না হয়, তাদের নেতা আলালের এমন অরাজনৈতিক কুরুচিপূর্ণ ভাষাকে কীভাবে রাজনীতিতে সজ্জন বলে বিবেচিত মির্জা ফখরুল সাহেবরা যৌক্তিকতা আছে বলে পাবলিকলি সার্টিফিকেট দেন? তাহলে জনগণ ধরে নিচ্ছে তাদের সব অপপ্রচার আর বিষোদগারের মতো লোকদেখানো ভদ্রতাও একধরনের মুখোশ? আসলে বিএনপির রাজনীতি এখন তলানিতে ঠেকে গেছে। তারা মেরুদণ্ডহীন ফরমায়েশসর্বস্ব এক রাজনৈতিক দল।'জিয়া পরিবারের সদস্যদের অনেক কীর্তি এ দেশের মানুষ জানে দাবি করে কাদের বলেন, 'সেসব পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনীতির মাঠে আসুক তা আমরা চাই না। কিন্তু দলটির নেতারা আজ সে প্যান্ডোরার বাক্স উন্মুক্ত করতে উসকানি দিচ্ছেন স্পষ্টত। বিএনপি নেতারা এতটাই অন্ধ এবং ফরমায়েশনির্ভর হয়ে গেছেন যে, দলের একজন নেতা মিথ্যাচার করল, অশালীন কথা বলল অথচ সিনিয়র নেতারা তার পক্ষেই সাফাই গাইলেন। আবার তাঁরা সরকারকে মানবিক হওয়ার সবক দেন।'বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক শিষ্টাচারে বিশ্বাসী বলে জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐতিহ্যগতভাবেই রাজনীতিতে বিনয়, সহমর্মিতা, পরমতসহিষ্ণুতা চর্চা করে আওয়ামী লীগ। দলে কিংবা সরকারে কেউ শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হয় না, এ কথা শেখ হাসিনা বারবার প্রমাণ করেছেন। যত বড় রাজনৈতিক পরিচয় হোক, অন্যায়, অনিয়ম কিংবা রাজনৈতিক শিষ্টাচার অথবা শৃঙ্খলাবহির্ভূত কাজ করলে দল কখনো তার পক্ষে দাঁড়ায় না। | 9 |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সংসদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, যা পেয়েছেন তাই নিয়ে আসুন, আমরা রাজনীতি করে সংসদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখি। মাথা গরম করে আপনাদের ক্ষতি হয়েছে। তাই আর মাথা গরম না করে ইতিবাচক রাজনীতিতে আসুন। বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট যা পেয়েছে তা নিয়েই তাদের আসা উচিত। আশা করি, তারা সংসদে আসবে। অতীতের মতো একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না তারা। কেননা অতীতে ভুলের জন্য অনেক ক্ষতি হয়েছে। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে মহাজোটের নিরঙ্কুশ জয়ে ভোটারসহ দেশের সব মানুষকে ১৪ দলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এই বিজয় গণতন্ত্রের বিজয়। এই বিজয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবিস্মরণীয় নেতৃত্বের বিজয়। তিনি বলেন, নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত। কিন্তু বাংলার জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে আমরা অবিস্মরণীয় বিজয় অর্জন করেছি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিদের শপথ না নেওয়ার ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা অনেক কথা বলেছেন, কিন্তু নিজেরাই কোনো কথা রাখেননি। তারা বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন করবেন না। এখন শপথ গ্রহণ করবেন না বলেছেন। আমি বিশ্বাস করি, তারা শপথ গ্রহণও করবেন। পুনঃভোটের দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে। জনগণ প্রকাশ্যে ভোট দিয়েছে, সবাই দেখেছে। তাই তাদের এই দাবি হাস্যকর। নতুন মন্ত্রিভায় ১৪ দলের কতজন নেতার স্থান হবে জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রীকে আমরা পূর্ণ সমর্থন করি এবং তার নেতৃত্বে আছি ও থাকব। এ সময় জাসদের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ দুটি রায় দিয়েছে। একটি হচ্ছে জঙ্গি-সন্ত্রাসমুক্ত শান্তি-উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির পক্ষে রায়। আরেকটি রায় হচ্ছে, যারা রাজাকার, জামায়াত ও সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে, অশান্তির রাজনীতি করে জনগণ তাদের বর্জন ও চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর আগে মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে ১৪ দল নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, দিলীপ বড়ুয়া, শিরীন আখতার, ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, রেজাউর রশীদ খান, এস কে সিকদার, জাকির হোসেন, ডা. শাহাদাত হোসেন, ডা. অসীত বরণ রায়, আনিসুর রহমান মল্লিক, ইসমাইল হোসেন, এজাজ আহমেদ মুক্তা, মোহাম্মদ খালেদ, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। | 9 |
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, সরকার প্রধান বিচারপতিকে জোর করে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের যেটুকু স্বাধীনতা ছিল, সেটাও এই সরকার নস্যাৎ করে দিল। তার পদত্যাগে গোটা জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ৭ নভেম্বর 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মওদুদ আহমদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নাকি পদত্যাগ করেছেন! যা বিচারবিভাগের ও আদালতের স্বাধীনতার জন্য কলঙ্কের দিন। তাকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে। বিচারবিভাগের যে সামান্য স্বাধীনতা ছিল এই সরকার তা নস্যাৎ করে দিয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ও ঐতিহ্য নিয়ে আমরা যে গর্ববোধ করতাম তা আর থাকলো না। তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় সরকারের বিপক্ষে গেছে বলেই এ ঘটনা ঘটলো। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এসব করলো। অথচ সরকার রিভিউ আবেদন করতে পারতো। তারা সমন্বিতভাবে প্রধান বিচারপতিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করলো। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারির সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান,যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ,জিনাপের সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।
| 9 |
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে উদ্দেশ্য মুলকভাবে কটূক্তি ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা সেই ট্যাক্সিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাতেই অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। সোমবার বিকালে বালিগঞ্জ ফাঁড়ির দিক থেকে নিজের গাড়িতে করে গড়িয়াহাটের দিকে যাচ্ছিলেন যাদবপুরের এমপি মিমি চক্রবর্তী। সঙ্গে ছিলেন কেবল তার গাড়ির চালক। বালিগঞ্জ এবং গড়িয়াহাটের মাঝামাঝি রাস্তায় সিগন্যাল থাকায় মিমির গাড়িটি বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। তখনই তার পাশে এসে দাঁড়ায় একটি ট্যাক্সি। মিমিকে লক্ষ্য করে ওই ট্যাক্সিচালক অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে থাকেন বলে অভিযোগ। প্রথমে তাকে গুরুত্ব না দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায় মিমির গাড়ি। এরপর ওভারটেক করে ওই ট্যাক্সিটি ফের মিমির গাড়ির পাশে এসে দাঁড়ায়। ফের একই অসভ্যতা করে বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গেই নিজের গাড়ি থেকে ওই ট্যাক্সিচালককে বের করে এনে তাকে সাবধান করেন মিমি। কিন্তু ঘটনার সময় ট্যাক্সিচালক মাতাল অবস্থায় ছিলেন বলে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তখন মিমিকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করতে থাকেন ওই ট্যাক্সিচালক। দুইজনের বাদানুবাদ দেখে রাস্তায় মানুষের ভিড় জমে গেলে মিমি তখনকার মতো গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে গড়িয়াহাট থানায় গিয়ে ওই ট্যাক্সির নম্বর দিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন মিমি। অভিযোগ পেয়ে রাতেই অভিযুক্ত ট্যাক্সিচালক ভীমা যাদবকে দক্ষিণ কলকাতার ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের ধারে আনন্দপুর থানা এলাকার উত্তর পঞ্চান্নগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয় তার ট্যাক্সিটিকেও। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় সংবিধানের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। এ ব্যাপারে মিমি জানান 'একজন হলুদ ট্যাক্সিচালক হঠাৎ করে আমার গাড়ির সামনে এসে খুব নোংরা ইঙ্গিত করতে থাকেন। আমায় চোখ মারতে থাকেন। আমি তা এড়িয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। কিন্তু ওই ট্যাক্সিচালক ওভারটেক করে আবার ওই একইভাবে নোংরা অঙ্গভঙ্গি করতে থাকেন। যখন এটা করে তখন আমার মাথায় একটাই জিনিস ঘুরছিল যে, আজকে যদি ওকে আমি ছেড়ে দিই তবে অন্য কারোর সঙ্গে তো আরও খারাপ কিছু করতে পারে। যাইহোক আমি সঙ্গে সঙ্গেই থানায় জানাই। ওই ট্যাক্সিচালক মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন মিমি। | 2 |
গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি অফিসারের পর এবার ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার সরোয়ার হোসেন খানকে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কোর সাফারির প্রাণীদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করবেন ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মোহাম্মদ হেলিম রায়হান।আজ বৃহস্পতিবার সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক মোল্লা রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পার্কের প্রকল্প পরিচালক মোল্লা রেজাউল করিম জানান, সারোয়ার হোসেনকে তার পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটা সরকারি চাকরির স্বাভাবিক বদলির অংশ।উল্লেখ্য, এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ১১টি জেব্রা, একটি বাঘ এবং সর্বশেষ একটি সিংহী মারা যায়। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে গত ৩১ জানুয়ারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বনসংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান, ভেটেরিনারি অফিসার ডা. হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকারনাইনকে পার্কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল কবিরকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।প্রাণী মৃত্যুর ঘটনায় বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। আরও পড়ুন:প্রাণী মৃত্যুর খবরে সাফারি পার্কে দর্শনার্থী কমেছে কয়েক গুণসাফারি পার্কে একদিনে আরও ২ জেব্রার মৃত্যুবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে নতুন প্রকল্প পরিচালকগত ২০ দিনে সাফারি পার্কে ৯ জেব্রার মৃত্যু | 6 |
বাবুগঞ্জ (বরিশাল): বরিশালের বাবুগঞ্জে প্রথম ধাপের চারটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার (২১ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ১১টায় বাবুগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম এই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন।নির্বাচনে চারটি ইউনিয়নের দুটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা, একটিতে জাতীয় পার্টি সমর্থিত লাঙল এবং বাকি একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ীরা হলেন কেদারপুর ইউনিয়নের নূরে আলম বেপারী ও দেহেরগতি ইউনিয়নে মশিউর রহমান। জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র থেকে চেয়ারম্যান হয়েছেন যথাক্রমে মাধবপাশা ইউনিয়নে মো. সিদ্দিকুর রহমান ও আগরপুর ইউনিয়নে মো. কামরুল আহসান হিমু।নূরে আলম বেপারী ৬৬৮৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ২৯৩৩ ভোট। মশিউর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ৮৩৮৮ ভোট পেয়ে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ার্কার্স পার্টির মো. রনি খান পেয়েছেন ৩০৫১ ভোট। মো. সিদ্দিকুর রহমানের ৬৩১৫ ভোটের বিপরীতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৫৩১০ ভোট। আর স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. কামরুল আহসান হিমুর ৬৯৪২ ভোটের বিপরীতে নৌকার প্রার্থী মো. তারিকুল ইসলাম তারেক পেয়েছেন ৩৯৮৬ ভোট।প্রথম ধাপের এ ইউপি নির্বাচনে একটি ইউনিয়নে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এবং তিনটিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৩৭। কোনো ধরনের সহিংসতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলেছে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। নির্বাচনে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়া নির্বাচনে পুলিশের সদস্য, স্ট্রাইকিং পুলিশ, র্যাবের টিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ছিল। | 6 |
করোনা মহামারির কারণে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের সম্প্রসারণ ও মেয়াদ বাড়াতে অর্থনীতিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। রোববার (১১ এপ্রিল) দুপুরে অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।ব্যবসায়ীরা প্রণোদনা প্যাকেজের মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলেছে, এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা কি বলেছেন জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'ইনসেনটিভ প্যাকেজের মেয়াদ বাড়ানো হবে কি-না সে বিষয়ে অর্থনীতিবিদরাও কথা বলেছেন। যারা প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য তাঁদের অনেকেই পাননি, তাদেরও এই প্যাকেজের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এলোকেশন বাড়াতে বলেছেন। এটাকে সম্প্রসারিত এবং মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে অবহিত করবো, তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।'অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, 'এখন যে ক্রাইসিসটা আমাদের আছে, এটি কোনো একটি দেশের ক্রাইসিস নয়, সারাবিশ্বের ক্রাইসিস। এই ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস মোকাবিলা করার জন্য আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবো।'অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ প্রসঙ্গে বলেন, 'অর্থনীতিবিদরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা আমাদের টিম নিয়ে বসবো, বসে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তাদের পরামর্শগুলো এখনো আমাদের কাছে পারমর্শ হিসাবেই আছে।'সামনে কঠোর লকডাউনে হতদরিদের জন্য কোনো চিন্তা আছে কি-না জানতে চাইলে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের বাজেট হবে আরও পরে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে দেখেন। তার চিন্তা হলো দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা। এর জন্য যা প্রয়োজন তিনি তা অবশ্যই বিবেচনা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।ট্যাক্স-জিডিপির রেশিও বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থনীতিবিদরা ট্যাক্স-জিডিপির রেশিও বাড়াতে বলেছেন। আমাদের দেশে ট্যাক্স-জিডিপির রেশিও কম। আমরা যদি প্রতিটি আইটেমে ট্যাক্স নিতে পারতাম, তাহলে আমাদের ট্যাক্সের রেশিও অনেক ভালো থাকত। আমরা অনেক জায়গায় ট্যাক্স আদায় করি না। সরকারি মেগা প্রজেক্টসহ বিভিন্ন প্রকল্পেও ট্যাক্সেস আদায় করি না। তবে কাগজে কলমে এটা আসা উচিত। প্রতিটা আইটেমের ওপর ট্যাক্স আরোপ করলে ট্যাক্স-জিডিপি বাড়বে কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রজেক্টের কস্ট (ব্যয়) বেড়ে যাবে। আবার মানুষের ওপর তার চাপও পড়বে।সভায় অন্যান্যের মধ্যে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান, ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) চেয়ারম্যান ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ তারেক, সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ. মনসুর, সিপিডির ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল মোকাদ্দেম আকাশ, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমদ এফসিএ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম প্রমুখ। | 6 |
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের মা মুক্তিযোদ্ধা জাহানারা হক (৮৬) আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর পৌনে ৪টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রীর ঘনিষ্টজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক তাকজিল খলিফা কাজল। ঢাকাতেই তার মরদেহ দাফনের কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিন বছরের ব্যবধানে মন্ত্রী তার ভাই, বোনের পর মাকে হারালেন। ২০১৭ সালের ১০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে একটি হাসপাতালে মন্ত্রীর একমাত্র ছোট ভাই আরিফুল হক রনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। মন্ত্রীর বড় বোন সায়মা ইসলাম ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই ঢাকায় মারা যান। তিনি স্বামী ও এক ছেলে রেখে গেছেন। বিয়ের কিছুদিন পর ১৯৯১ সালের ২ জানুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী নূর আমাতুল্লাহ্ রিনা হককে হারান আইনমন্ত্রী। ২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর মারা যান বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর আনিসুল হকের বাবা অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক। আনিসুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। | 6 |
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি) বাংলাদেশে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। পদের নাম: রিস্ক অ্যান্ড কমপ্ল্যায়েন্স টেকনিক্যাল অফিসারপদসংখ্যা: অনির্ধারিতযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাজে ১ থেকে ৩ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এমএস অফিসে পারদর্শী হতে হবে। ইংরেজি ভাষায় সাবলীল হতে হবে। কক্সবাজারের যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। চাকরির ধরন: এক বছরের চুক্তিভিত্তিককর্মস্থল: কক্সবাজারবেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: এনআরসির নীতিমালা অনুযায়ী আকর্ষণীয় বেতন। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিমা, উৎসব বোনাস ও বার্ষিক ছুটির সুযোগ রয়েছে। আবেদন যেভাবেআগ্রহী প্রার্থীদের এনআরসির ওয়েবসাইটের এই লিংকে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে হবে। এরপর -এ ক্লিক করে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ সময়: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২। | 1 |
আজহারুল ইসলামকে সভাপতি ও হিমুন সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠিত হয়েছে। এ কমিটি ঘোষণার পরপরই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পদবঞ্চিতরা। জানা যায়, গতকাল শনিবার রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়। এরপর রাত ১২টার দিকে শহরের চৌরাস্তা সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন পদবঞ্চিতরা। এ সময় নতুন কমিটি বাতিল করে পুনরায় কমিটি গঠনের দাবি জানান তাঁরা। পরে রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষুব্ধ ও পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী এক বছরের জন্য ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটির ১২ জন সহসভাপতি হলেন-সঞ্জয় কুমার, আখতারুজ্জামান, ফেরদৌস টফি, মিথুন, শাহাজালাল জনি, জি এম সুফি নিয়াজী, আসাদ, শিপন, সৃজন গুহ, তানভীর আলী তুহিন, তাসফিরুল রহমান ও সোহেল রানা।৬ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন-সাদিউল হাবীব সাদি, মাহবুব হোসেন, অনুপ দত্ত, সাব্বির ইসলাম, এনএ নিউমুন ও আরাফাত হোসেন বাপ্পী।৯ জন সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন-সৈয়দ আলী নোমান, মিল্টন খন্দকার, সাব্বির, ঋতু, মাহাবুব হাসান মেহেদি, বদিউজ্জামান বাবলু, অমৃত মোদক, বাঁধন ও ফয়সাল সাদেক শোভন।ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম বলেন, রাতে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা সড়কে মিছিল ও বিক্ষোভ করছিলে। তাঁদের কোন দাবি থাকলে কেন্দ্রীয়ভাবে বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে। | 6 |
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।গত শুক্রবার বিকেলে ওই ইউনিয়নের চেরাডাঙ্গী মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদারগঞ্জ অররা সংঘ দল ৩-০ গোলে পার্বতীপুর শহিদুল ইসলাম আর্মি একাডেমি টিমকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহ. সাদেক কুরাইশী। এ সময় পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিড লিমিটিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলাল আহম্মেদ, জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আব্দুল মজিদ আপেল, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত সমীর, জেলা পরিষদ সদস্য মো. মারুফ হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজেদুর রহমানসহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।বিজয়ী দলকে প্রথম পুরস্কার দেওয়া হয়েছে একটি ট্রফি ও ৫০ হাজার টাকা। পরাজিত দলকে দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। | 6 |
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেখানেই যান সেখানেই তিনি কোন না কোন অদ্ভুত কাণ্ডের জন্ম দেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগের ট্রাম্পের তেমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই ভিডিওতে রেসলিং মঞ্চে প্রতিপক্ষের সঙ্গে অদ্ভুত কাণ্ড করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির ৫৪ সেকেন্ডে দেখা যায়, প্রতিপক্ষ দলের কর্ণধার ওয়ার্ল্ড রেসলিং ফেডারেশনের (ডব্লিউডব্লিউএফ) চেয়ারমান ভিন্স ম্যাকমোহনকে ফ্লোরে ফেলে ইচ্ছেমতো মাথায় আঘাত করছেন ট্রাম্প। তার কাছ থেকে কোনো রকমে ছাড়া পান ভিন্স।
এখানেই শেষ নয়। খেলা শেষে বিজয়ী হয় ট্রাম্প সমর্থিত দল। বিজয়ী হয়েই তিনি নতুন এক খেলায় মেতে ওঠেন।
ভিডিওটির ১ মিনিট ও ৪৮ সেকেন্ডে দেখা যায়, ভিন্স ম্যাকমোহনকে ন্যাড়া করে দিতে উদ্যত হন ট্রাম্প। তাই তাকে চেয়ারের সঙ্গে তার হাত বেঁধে ফেলেন।
এসময় ভিন্স চিৎকার করে বলছিলেন, "আমাকে ছেড়ে দাও। বন্ধ করো, তোমরা আমাকে এটা করতে পারো না।" অন্যদিকে ট্রাম্প হাসছিলেন আর সহযোগীদের বলছিলেন, "চল ওকে এবার ন্যাড়া করে দেই।"
এরপরেই ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা তাকে ট্রিমার দিয়ে ন্যাড়া করতে শুরু করেন। ন্যাড়া করা শেষে তার মাথায় সেভিং ফোম দিয়ে আবারও পরিষ্কার করে দেন ট্রাম্প। বিডি-প্রতিদিন/১১ নভেম্বর, ২০১৬/তাফসীর-১৭ | 3 |
আগামী দ্বাদশ নির্বাচনে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মত শক্ত হয়ে মাঠ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। আর এ বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছে রাশিয়া। দেশটির ঢাকার দূতাবাস এ বক্তব্যকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান হিসেবে দেখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাশিয়া দূতাবাসের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভোট বর্জন সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নতুন সিইসি ইউক্রেন-রাশিয়ার আগ্রাসন আর যুদ্ধের চলমান ঘটনাপ্রবাহ টেনে আনেন সিইসি।সিইসি বলেন, 'মাঠ ছেড়ে চলে গেলে হবে না। মাঠে থাকবেন। কষ্ট হবে। জেলেনস্কি হয়তো দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারতেন। তিনি পালাননি। তিনি (জেলেনস্কির) বলেছেন-রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করব। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরোধ যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। যেখানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, কিছুটা ধস্তাধস্তি হয়।'পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সিইসির এ ধরনের বক্তব্যকে ঠিক ভাবে নেয়নি ঢাকার রাশিয়ার দূতাবাস। অনানুষ্ঠানিকভাবে ঢাকার রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভি মানটিটসকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন। যেহেতু আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাওয়া হয়নি। ফলে এ নিয়ে কোন উত্তর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়নি। রাশিয়ার ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, 'এটি একান্তই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ব্যক্তিগত মন্তব্য।'নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ এ ইস্যুতে তার অবস্থান বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে। আর এ নিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশ তার অবস্থানের ব্যাখ্যাও দিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে যদি জানতে চাইতেন, তবে তাকে বাংলাদেশের অবস্থানই জানিয়ে দেওয়া হত। আর সিইসি হয়তো তাঁর ব্যক্তিগত মত দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানের কোন সম্পর্ক নেই।' এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য একাধিকবার সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে ফোনে যোগাযোগ ও দপ্তরে গেলেও তাঁর দেখা পাওয়া যায়নি। | 6 |
বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ফুলেফেঁপে ওঠা কোম্পানি ইতিহাসে কম নয়। বেশির ভাগ সময়ই মূল ক্ষতিটা হয় বিনিয়োগকারীদের। হাজার হাজার টাকা লগ্নি করে ফলাফলের খাতা হয় শূন্য। তবে অনেক সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি শক্ত হাতে লেগে থাকে, তবে অপরাধী সংস্থা খুব সহজে পার পায় না। তেমনটায় ঘটে ভারতের সাহারা গ্রুপের সঙ্গে। সাহারা গ্রুপের কেলেঙ্কারি প্রথম ধরা পড়ে ২০০৯ সালে। ১২ বছর পার হয়েছে, এখন পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে কাজ করে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সাহারা স্ক্যাম নামে পরিচিত এই বিখ্যাত কেলেঙ্কারি প্রধানত সাহারা গ্রুপের দুটি কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ছিল। এ কোম্পানি দুটি হলো সাহারা ইন্ডিয়া রিয়েল এস্টেট করপোরেশন লিমিটেড (এসআইআরইসিএল) ও সাহারা হাউজিং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড (এসএইচআইসিএল)। আর তাদের এই কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়ার (এসইবিআই) রাডারে। তবে সাহারা স্ক্যামের ঘটনা বুঝতে হলে প্রথমে যে দুটি বিষয়ে জানতে হবে, তা হলো আইপিও ও ডিআরএইচপি। যখন কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারের মাধ্যমে প্রথমবার অর্থ সংগ্রহ করে, তখন তাকে বলা হয় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও)। ভারতে আইপিও ছাড়ার আগে কোম্পানিটিকে এসইবিআইয়ের থেকে অনুমোদন নিতে হয়। আর এই উদ্দেশ্যে কোম্পানিটিকে একটি ড্রাফট রেড হেরিং প্রসপেক্টাস (ডিআরএইচপি) এসইবিআইতে জমা দিতে হয়। এটি একটি কোম্পানির একধরনের বায়োডাটা, যাতে একটি কোম্পানির প্রায় সব বিবরণই উল্লেখ থাকে। এরপর এসইবিআই কোম্পানিটির ডিআরএইচপি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয় আইপিওর অনুমোদন দেওয়া হবে কি না। ২০০৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম সাহারা প্রাইম সিটি (সাহারা গ্রুপের একটি কোম্পানি) আইপিওর জন্য এসইবিআইয়ের কাছে ডিআরএইচপি জমা দেয়। ডিআরএইচপি বিশ্লেষণ করার সময়, এসইবিআই সাহারা গ্রুপের দুটি সংস্থার (সাহারা ইন্ডিয়া রিয়েল এস্টেট করপোরেশন ও সাহারা হাউজিং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন) তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি শনাক্ত করে। তারা দেখতে পায়, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে অবৈধভাবে আমানত সংগ্রহ করে নিজেদের সম্পদ গড়ে তুলেছে সাহারা। এর মধ্যে এসইবিআই অভিযোগ পায়, সাহারা ইন্ডিয়া রিয়েল এস্টেট করপোরেশন ও সাহারা হাউজিং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন ঐচ্ছিক রূপান্তরযোগ্য ডিবেঞ্চার (ওএফসিডি) প্রদান করছে এবং বেআইনিভাবে তহবিল সংগ্রহ করছে। এসইবিআইয়ের সন্দেহ সঠিক প্রমাণিত হয়। এসইবিআই এই দুটি কোম্পানির ওপর তদন্ত শুরু করে এবং তাদের তহবিল সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে সাহারা গ্রুপের কাছে ব্যাখ্যা চায়। তদন্তে এসইবিআই জানতে পারে, ইতিমধ্যে ওই ওএফসিডির মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি বিনিয়োগকারী থেকে ২৪ হাজার কোটি রুপি তুলে নিয়েছে সাহারার অধীনে থাকা ওই দুই কোম্পানি। বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি রুপি ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এসইবিআই ও সাহারার মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়। সাহারা দাবি করে, এই বন্ডগুলো হাইব্রিড পণ্য, যা এসইবিআইয়ের নিয়ন্ত্রণে নয়, করপোরেটবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে, যেখান থেকে সাহারা এর দুটি কোম্পানির অনুমতি নিয়েছে। তবে এসইবিআই সাহারার ওই ব্যাখ্যা আমলে না নিয়ে দুটি কোম্পানিকে ওএফসিডির মাধ্যমে অর্থ তোলা বন্ধ করতে এবং ১৫ শতাংশ সুদে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এসইবিআইয়ের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সাহারা প্রথমে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এসইবিআইয়ের এ বিষয়ের কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ করে। তবে এর মাত্র পাঁচ মাস পরে ২০১১ সালের এপ্রিলে এলাহাবাদ হাইকোর্ট উল্লিখিত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। মামলাটি অবশেষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আসে। ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, সাহারা গোষ্ঠীর কোম্পানিগুলো থেকে বেআইনিভাবে ২৬ হাজার কোটি রুপি (সুদ যোগ হওয়ার পর) তুলেছে। লাখ লাখ মানুষ ব্যাংকে টাকা জমা না রেখে সাহারাকে টাকা দিয়েছেন। সাহারা তাঁদের টাকা ফেরত দিতে পারেনি। সুপ্রিম কোর্ট সাহারার ওই দুটি কোম্পানির ওএফডিআই হোল্ডারদের টাকা সুদের সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে এসইবিআইতে জমা দিতে বলেন। সেই সঙ্গে এসইবিআইয়ের কাছে ওএফসিডি ধারকদের সমস্ত বিবরণ জমা দিতেও বলা হয়, যাতে এসইবিআই নিশ্চিত করতে পারে যে অর্থ বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছেছে। ২০১৩ সালের মধ্যে সাহারা ১২৭টি ট্রাকে ওএফডিআই হোল্ডারদের বিশদ বিবরণ এসইবিআই অফিসে পাঠায়। তবে এসইবিআই দ্বিতীয় ব্যাচের ফাইল প্রত্যাখ্যান করেছিল, কারণ ট্রাকগুলো অফিস সময়ের পরে এসইবিআইয়ের কাছে পৌঁছেছিল। ওই ব্যাচে ২৫ শতাংশ বিনিয়োগকারীর তথ্য ছিল। এসইবিআই বুঝতে পারে যে ফাইলগুলোতে বিনিয়োগকারীদের সম্পর্কে সঠিক এবং সম্পূর্ণ বিবরণ নেই। মামলাটি মুদ্রা পাচার মামলার দিকে মোড় নিতে শুরু করে। এর মধ্যে সাহারা তিন মাসের মধ্যে ১৫ শতাংশ সুদসহ এসইবিআইতে অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হয়। সুপ্রিম কোর্ট সাহারা গ্রুপকে তিন কিস্তিতে অর্থ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাহারা প্রথম কিস্তি পরিশোধ করে ৫ হাজার ১২০ কোটি রুপি। আর দাবি করে যে তারা ইতিমধ্যে বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রদান করেছে। এর পেছনে সাহারার যুক্তি ছিল দুই থেকে আড়াই কোটি বিনিয়োগকারীর মধ্যে কেবল ৪ হাজার ৬০০ জন অর্থ দাবি করতে এগিয়ে এসেছিলেন। সাহারা ইন্ডিয়ার যুক্তি ছিল যেহেতু অন্য বিনিয়োগকারীরা দাবি করতে এগিয়ে আসেননি, তার অর্থ দাঁড়ায় তাঁদের অর্থ ইতিমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে। তবে এটি প্রমাণ করতে বলা হলে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি সাহারা গ্রুপ। এমনকি তারা শোধ করা অর্থের কোনো আয়ের উৎসও উল্লেখ করেনি। এদিকে সুপ্রিম কোর্ট ও এসইবিআই উভয়ই এটিকে অর্থ পাচারের মামলা হিসাবে বিবেচনা করতে শুরু করে। ফলে সম্পদসহ সাহারা ইন্ডিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে শুরু করে এসইবিআই। ঘটনার এ পর্যায়ে এসে সাহারার প্রতিপত্তি কিছুটা তুলে ধরা যাক। ২০০৪ সালে টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় রেলওয়ের পর জনশক্তির দিক দিয়ে সাহারা গ্রুপ দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান। ভারতে তখন সাহারার পাঁচ হাজারের বেশি অফিস ছিল। প্রায় ১৪ লাখ মানুষ ওই কোম্পানিতে চাকরি করতেন।১৯৭৬ সালে প্রথম সাহারা ফিন্যান্স নামে এক চিট ফান্ড কোম্পানিতে যোগ দেন এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সুব্রত রায়। পরে তিনি কোম্পানিটি কিনে নেন। ১৯৭৮ সালে তিনি কোম্পানির আর্থিক মডেলটি বদলে দেন। নব্বইয়ের দশকে সুব্রত রায় সাহারার সদর দপ্তর তৈরি করেন লক্ষ্ণৌতে। ১৯৯২ সালে সুব্রত রায় 'রাষ্ট্রীয় সাহারা' নামে এক সংবাদপত্র চালু করেন। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে পুনের কাছে শুরু করেন অ্যাম্বি ভ্যালি প্রকল্প। মহারাষ্ট্রের লোনাভালা থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের ওপর ৮ হাজার ৯০০ একর জমিতে গড়ে তোলা উপশহর অ্যাম্বি ভ্যালিকে বলা হয় সাহারার মুকুটের সেরা রত্ন। ২০০০ সালে চালু হয় সাহারা টিভি। লন্ডন ও নিউইয়র্কে বেশ কয়েকটি নামকরা হোটেলেরও মালিক তিনি। সাহারা ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পৃষ্ঠপোষকতাও করে। আবাসন প্রকল্প দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে আর্থিক খাত, অবকাঠামো, সংবাদমাধ্যম, চলচ্চিত্র প্রযোজনা, স্বাস্থ্যসেবা, পণ্য উৎপাদন, ক্রীড়া ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সাহারার ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ে। তবে ২০০৯ সালে এসে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল জনপ্রিয় সাহারা গ্রুপ যে এক ঘোলাটে ব্যবসা করে গেছে, তা প্রকাশ পেতে শুরু করে। আবার ফিরে আসি সাহারা স্ক্যামে। নেটফ্লিক্সের 'ব্যাড বয় বিলিয়নিয়ারস' সিরিজে জায়গা নিয়ে রেখেছে সুব্রত রায়ের আলোচিত এই মামলা। এ যেন আসলেই এক সিনেমার গল্প। ২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুলিশ ভারতের লক্ষ্ণৌ শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাহারা গ্রুপের চেয়ারম্যান সুব্রত রায়কে। মার্চে তাঁকে সাহারা গ্রুপের অন্য দুই পরিচালকের সঙ্গে তিহার কারাগারে পাঠানো হয়। ২০১৫ সালে সাহারার মিউচুয়াল ফান্ড ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল করে এসইবিআই। ২০১৬ সালের গোড়ার দিকে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে জামিন দেন। তিনি তাঁর সম্পদের একটি অংশ বিক্রি করার অনুমতিও পান। জামিনের শুনানিতে সুব্রত রায়ের আইনজীবী কপিল সিবল সেপ্টেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের জন্য আরও ২০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। সাহারা গ্রুপ দাবি করে, তাদের হেনস্তা করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত সুদ চাপিয়েছে এসইবিআই। সাহারার দাবি, বিনিয়োগকারীদের আগেই পাওনা মিটিয়ে দিয়েছে তারা। তা সত্ত্বেও দুবার করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে আদালত প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হননি। আদালত সুব্রত রায়কে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ৩০০ কোটি রুপি দেওয়ার নির্দেশ দেন। তা না হলে আবারও গ্রেপ্তার হতে হবে-এমনটা বলা হয়। জামিন হয় সুব্রত রায়ের। ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্যারোলে মুক্ত রয়েছেন ভারতের সাহারা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুব্রত রায়। কয়েক কিস্তিতে মোট টাকার একটি বড় অংশ আমানতকারীদের ফেরত দেওয়া হলেও বাকি অর্থ পরিশোধের জন্য ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত সময় চায় সাহারা গ্রুপ। কিন্তু তা নাকচ করে দিয়ে ২০১৭ সালে সাহারার অ্যাম্বি ভ্যালি নিলামে তোলার আদেশ দেন আদালত। এখন পর্যন্ত এই কাণ্ডে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকা জমা করেছে সাহারা। গত বছর এসইবিআই জানায়, গত নয় বছরে সাহারার দুই সংস্থার দেনা সুদে-আসলে বেড়ে ৬২ হাজার ৬০০ কোটি রুপি হয়েছে। জেলমুক্ত থাকতে হলে সুব্রত রায়কে সেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। যদিও এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গত নয় বছরে সাহারার বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১২৯ কোটি রুপি ফেরত দিয়েছে এসইবিআই। এসইবিআই-সাহারা রিফান্ড অ্যাকাউন্টে আমানতের পরিমাণ এখন প্রায় ২৩ হাজার কোটি রুপি। তবে বারবার বিজ্ঞাপন দিয়েও এখন পর্যন্ত তার থেকে খুব সামান্য অর্থই বিনিয়োগকারীদের পরিশোধ করতে পেরেছে এসইবিআই। তবে এখানে একটি প্রশ্ন এনেছিলেন অনেক বিশ্লেষক, সুব্রত রায় ২০১৪ সালে বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধ করে সহজেই জামিন নিতে পারতেন। তা সত্ত্বেও তিনি কেন দীর্ঘ দুই বছর কারাগারে ছিলেন, তা অবাক করে বিশ্লেষকদের। কারণ, সুব্রত রায়ের ব্যক্তিগত সম্পদ এবং বিনিয়োগকারীদের পাওনার মধ্যে বিশাল ব্যবধান ছিল। ২০১৬ সালের সুব্রত রায়ের আইনজীবী কপিল সিবলও সুপ্রিম কোর্টে তাঁর জামিনের আবেদনের পক্ষে যুক্তি দেখানোর সময় বলেছিলেন, সাহারার মালিক পালিয়ে যাবেন না, কারণ তাঁর প্রচুর সম্পদ রয়েছে। তবে কেন তিনি তা করেননি, তা অজানা বিশ্লেষকদের। উল্লেখ্য, সুব্রত রায়ের সম্পদ ছিল বলেই বিনিয়োগকারীদের তা ফিরে পাওয়ার আশা ছিল। যাঁদের সম্পদ নেই, তাঁদের নিয়েই বিপদ। ভারতে বেআইনিভাবে বাজার থেকে তোলা অর্থ লগ্নিকারীদের কাছে না ফেরানোর অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো সহারা। সাহারার ছিল নানা ডিপোজিট স্কিমের ব্যবসা। সাহারা মাইনর, সাহারা সুপার বা সাহারা এমআইএস-এ ধরনের নানা ডিপোজিট স্কিমের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করত সাহারা ইন্ডিয়া ফিন্যান্সিয়াল করপোরেশন। এই ডিপোজিট স্কিমের কোনোটির কিস্তি এক রুপিও ছিল। বিপুল জনসংখ্যার দেশ ভারতে এভাবে অর্থ সংগ্রহের চেয়ে সহজ পথ আর কী হতে পারে। বিষয়টা ছিল অনেকটা বাংলাদেশের ডেসটিনির অর্থ সংগ্রহের মতোই। মিল আছে ইভ্যালি-কাণ্ডের সঙ্গেও। তবে এসইবিআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় এই বিশাল প্রতারণা আটকে ফেলা সম্ভব হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনায় সমস্ত প্রমাণ থাকলেও নানা ধরনের আইনি ফাঁকফোকর ও অর্থের ক্ষমতার কারণে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সর্বশেষ বলা যা, এই কেস হলো এমন একটি উদাহরণ-নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি শক্ত হয়, তবে কোনো অপরাধী জয়ী হতে পারে না। | 0 |
গত দুদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঝিনাইগাতীর বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জনদুর্ভোগ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল থেকে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীতে পানি বাড়তে শুরু করে। এতে উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক, প্রধান বাজার, উপজেলা পরিষদ ভবন ও জেলা পরিষদের ডাকবাংলো প্লাবিত হয়। এ ছাড়া মহারশি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সদর ইউনিয়নের দিঘিরপাড় এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ভেঙে সদর ইউনিয়নের অন্তত পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আর সোমেশ্বরী ও কালাঘোঁষা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধানশাইল ইউনিয়নের আরও পাঁচটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।প্লাবিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের ঝিনাইগাতী বাজার, রামেরকুড়া, খৈলকুড়া, দিঘিরপাড়, ধানশাইল ইউনিয়নের দক্ষিণ দাড়িয়ারপাড়, উত্তর দাড়িয়ারপাড়, কান্দুলী ও দক্ষিণ কান্দুলীসহ অন্তত ১০টি গ্রাম। এতে উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার। এসব এলাকার আউশ ও সবজির খেত পানিতে নিচে পড়ে গেছে। আর পানিতে মাছ ভেসে গিয়ে অন্তত ৭০টি মৎস্য খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে পাহাড়ি ঢলের চাপে কাংশা ইউনিয়নের গুরুচরণ-দুধনই থেকে আয়নাপুরগামী সড়কের মাঝখানে ভেঙে পানি প্রবেশ করছে। এতে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালি নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চেল্লাখালি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উপজেলার অন্যান্য নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কিছু নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরে দেখা যায়, উপজেলার প্রধান বাজারে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে নিচু দোকানপাট ডুবে গেছে। এতে বিভিন্ন দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ী মো. আবু বকর বলেন, 'আমি এ বাজারে অনেক দিন থেকে ব্যবসা করতেছি। প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল আসলেই মহারশি নদীর পাড় ভাইঙা বাজারে পানি ঢোকে মালামাল ক্ষতি হয়। আশেপাশের বাড়িঘর ভাইঙা যায়। আমরা মহারশি নদীতে একটি শক্ত বাধের দাবি করে আসলেও এটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। যত দিন বাধ না হবে, তত দিন আমাদের এ রকম ক্ষতি হতেই থাকবে।'সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আব্দুল করিম বলেন, সকালে ওঠেই দেখি বাড়ির ভেতর পানি ঢুকতেছে।আহমেদনগর এলাকার গৃহবধূ আছিয়া বেগম বলেন, 'বাড়ির মধ্যে পানি ঢুকে উঠানে গর্ত হয়ে গেছে। এখন বাড়ির ভেতরে যাওয়ার সাহসও পাইতাছি না। কিচু মালামাল রাত্রে সরায়া নিছিলাম। আর কিছু মালামাল ঘরেই রয়ে গেছে। চুলায় পানি ওঠার কারণে রান্না-বান্নাও বন্ধ। এখন চিড়া-মুড়ি খায়া আছি।' এ নিয়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জাহিদুল হক মনির বলেন, 'মহারশি নদীর পানি বেড়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঝিনাইগাতী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠতে শুরু করেছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা বারবার মহারশী নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি করে আসছি। কিন্তু তা হচ্ছে না। এতে আমাদের জনসাধারণকে খুবই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।'এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আল মাসুদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। উপজেলা পরিষদে পানি ওঠায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। উপজেলা প্রশাসন পানিবন্দী মানুষের পাশে রয়েছে। তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে। আর পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হবে। | 6 |
সাপ্তাহিক আইএইচএস জেন্স ম্যাগাজিনকে সম্প্রতি দেয়া এক সাক্ষাতকারে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর চিফ অব এয়ার স্টাফ (সিএএস) এয়ার চিফ মার্শাল (এসিএম) মুজাহিদ আনোয়ার খান পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পরবর্তী প্রতিরক্ষা ক্রয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো অতিরিক্ত জেএফ-১৭ থান্ডার বহুমুখী জঙ্গিবিমান ক্রয়, নতুন লিড-ইন-ফাইটার ট্রেইনার (এলআইএফটি) এবং পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পঞ্চম প্রজন্মের জঙ্গি বিমান (এফজিএফএ) কর্মসূচি। প্রথমত, পাকিস্তানী বিমান বাহিনী তাদের জেএফ-১৭ ব্লক-টু কর্মসূচি শেষ করতে যাচ্ছে, যেখানে শেষ তিনটি বিমান এ বছরের জুনেই মধ্যে হাতে পাবে তারা। দ্বিতীয়ত, পরবর্তী জেএফ-১৭ ব্লক-থ্রি কর্মসূচির জন্য বিমান বাহিনী দুটো অ্যাকটিভ ইলেক্ট্রনিক্যালি স্ক্যানড রাডারের (এইএসএ) মধ্যে একটিকে বেছে নেবে। এই দুটো হলো নানজিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজির (এনআরআইইটি) কেএলজে-৭এ বা লেইহুয়া ইলেক্ট্রনিক টেকনোলজি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (এলইটিআরআই) এলকেএফ৬০১ই। পাকিস্তান বিমান বাহিনী ২০২০ সালের মার্চের মধ্যে এইএসএ রাডার সজ্জিত জেএফ-১৭ বিমান বহরে যুক্ত করতে চায়। মূল পরিকল্পনায় পাকিস্তানী বিমান বাহিনী তিনটি ধাপে (ব্লক-ওয়ান, ব্লক-টু ও ব্লক-থ্রি) ১৫০টি জেএফ-১৭ বিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়েছিল। তবে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্সের (সিএএস) উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখার জন্য, পাকিস্তান বিমান বাহিনী তাদের ব্লক-টু অর্ডারের সাথে আরও ১২টি যোগ করেছিল। এখন সিএএসের সর্ব সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, পাকিস্তান বিমান বাহিনী তাদের বহরে ২৬টি ডাবল সিটের জেএফ-১৭বি বিমানও যুক্ত করবে। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের জেএফ-১৭ বিমানের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৮৮টিতে। ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রথম জেএফ-১৭বি উড়ানো হয়েছিল। তবে প্রথমে এটাকে দুই সিটের প্রশিক্ষণ বিমান করার কথা ভাবা হয়নি। বরং জেএফ-১৭ ব্লক-থ্রি'র ভিত্তিও ছিল এই বিমান। এই বিমানে নতুন তিন অক্ষের ফ্লাই-বাই-ওয়্যার (এফবিডাব্লিউ) ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করা হয় এবং একইসাথে দীর্ঘ উইংস্প্যান যুক্ত করা হয়। তবে কিছু বিদেশী ব্যবহারকারীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই জেএফ-১৭বি ডিজাইন করা হয়েছিল। তবে পাকিস্তানী বিমান বাহিনী পরে জেএফ-১৭বি নিজেরাও পছন্দ করে। সম্ভাবনা রয়েছে যে, পাক বিমান বাহিনী এই বিমানগুলোকে জেএফ-১৭ ব্লক-থ্রি কর্মসূচির সাথে একই সাথে সুসজ্জিত করবে। এভাবে, পাক বিমান বাহিনী ৭৬টি নতুন এইএসএ রাডার-সজ্জিত জেএফ-১৭ বিমান বহরে যুক্ত করবে এবং অন্তর্বতীকালীন জঙ্গিবিমানের পরিবর্তে আরও এ ধরনের বিমান তারা বহরে যুক্ত করতে পারে।সূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর | 3 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আরো ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে তাণ্ডবের ঘটনায় ৩৭৫ জন গ্রেফতার হলো। মঙ্গলবার সকালে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাণ্ডবের ঘটনায় জেলার বিভিন্ন থানায় ৫৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৪৯টি, আশুগঞ্জ থানায় ৪টি, সরাইল থানায় ২টি এবং আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি। ৫৬টি মামলায় এজাহারনামীয় ৪১৪ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫ হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় অর্ধ-শতাধিক স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
লিবিয়ার যাত্রীবাহী একটি বিমান ছিনতাইয়ের পর সেটি জোরপূর্বক মাল্টায় অবতরণ করানো হয়েছে। আফ্রিকিয়াহ এয়ারওয়েজের বিমানটিতে ১১৮ জন আরোহী রয়েছে।
আফ্রিকিয়াহ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এয়ারবাস এ৩২০ বিমানটি লিবিয়ার অভ্যন্তরেই ছিনতাইয়ের শিকার হয় এবং পরে বিমানটির যাত্রাপথ বদলে মাল্টার দিকে নেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ছিনতাইয়ে দুইজন জড়িত, যারা বিমানটি বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।
মাল্টার প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মাসকট জানিয়েছেন, মাল্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থানরত নিরাপত্তাকর্মীরা টুইটারে জানিয়েছেন যে বিমানবন্দরে 'অবৈধ হস্তক্ষেপের' ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেখানে দ্রুত জরুরি বাহিনী পাঠানো হয়েছে বলেও জানান মাল্টার প্রধানমন্ত্রী।
মাল্টায় কর্মরত বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ফটোগ্রাফার ড্যারিন জ্যামিট লুপি বিবিসিকে বলেন, ঘটনাস্থলে তিনি বেশ কিছু সৈন্য ও বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের দেখেছেন।
এ ঘটনার পর মাল্টাগামী কয়েকটি ফ্লাইটের পথ পরিবর্তন করে ইতালির সিসিলি দ্বীপে পাঠানো হয়েছে।
| 3 |
গত ২৬ মার্চ, ২০২২ তারিখের দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় পঞ্চম পাতায় 'মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব এক হাসপাতাল' শিরোনামে একটি গবেষণা-প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশি জনবল ও অর্থায়নে ভারতের আগরতলায় স্থাপিত 'বাংলাদেশ হাসপাতাল' নামে চিকিৎসাকেন্দ্রের অনুসন্ধান করা হয় লেখাটিতে। সেটির পাঁচ নম্বর কলামে উল্লেখ করা হয়েছে, 'মুজিবনগর সরকারের কাছ থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত তিনজন প্রকৌশলী নূরুল হুদা, তাজুল ইসলাম ও মাহবুবুল হক হাসপাতালের কাজ তদারকি করতে আসেন।' প্রকৃতপক্ষে চারজন প্রকৌশলী হবে, যেখানে আমার নামটি (মো. আবুল হাসেম) বাদ পড়ে। এখানে উল্লেখ্য যে, আমরা ৫ জন প্রকৌশলী একসঙ্গে ১ নং সেক্টরে হরিনা ক্যাম্পে এইচটি ইমামের নির্দেশে ইয়থ ক্যাম্প নির্মাণের কাজ করছিলাম, যা প্রায় শেষের দিকে ছিল। ১ জুলাই ৭১ সালে এইচটি ইমাম মৌখিকভাবে আমাকে ও নূরুল হুদা সাহেবকে বিশ্রামগঞ্জে হাসপাতাল কাজ তদারকি করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। আমরা বিশ্রামগঞ্জ এসে হাসপাতালের নকশা ও প্রাক্কলন প্রস্তুত করে ব্রিগে. খালেদ মোশাররফের কাছে দিই এবং তিনি তা অনুমোদন করেন। পরবর্তীতে জে. ওসমানী পরিদর্শনে আসলে তাঁকে নকশা দেখানো হয় এবং তিনিও নকশা অনুমোদন করেন। এরপর সেই অনুসারে কাজ শুরু করা হয়। পরবর্তীতে তাজুল ইসলাম ও মাহবুবুল হক আমাদের সঙ্গে যোগদান করেন। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মনোনীত হলে আমাকে ট্রেনিংয়ের জন্য অক্টোবর মাসে বিহারের চাকুলীয়া পাঠানো হয়। এ সময় হাসপাতালের কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল। ট্রেনিং সমাপ্তির পর আমাকে ৯নং সেক্টরে পোস্টিং করা হয়। এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য-প্রমাণপত্র আমার কাছে আছে, যা আপনাদের কাছেও পাঠিয়েছি। অতএব ইতিহাসের অংশ হিসেবে আমার নামটিও গবেষণা-প্রতিবেদনটিতে যুক্ত করা উচিত বলে আমি মনে করি। মো. আবুল হাশেম৮১/বি, কাকরাইলরমনা, ঢাকা | 8 |
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা এলাকায় পারাবত ট্রেনের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাটেরার হোসেনপুর বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিমে রেল লাইন ক্রস করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছিল আন্তনগর পারাবত ট্রেন। পথে হোসেনপুর এলাকায় মাইক্রোবাসটি দ্রুত রেললাইন অতিক্রম করতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সেখান থেকে স্থানীয়রা নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে।কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মুহিবুর রহমান দুর্ঘটনার ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। ঘটনার পর থেকে সিলেটের সঙ্গে রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভুনষ রায় জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে জেনেছি ৩ জন মারা গেছেন। ঘটনাস্থলের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন,৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। | 6 |
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সারা দেশের ন্যায় রংপুরে গণপরিবহন বন্ধ রেখেছে মালিক শ্রমিকরা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এছাড়া ট্রাক ও ট্যাংক লরি বন্ধ থাকায় পণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার সকালে রংপুর নগরীর ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল, মর্ডান মোড় ও সাতমাথাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কোথাও বাস-ট্রাক চলছে না। তবে মর্ডান মোড়ে দুই-একটি হালকা যানবাহন চললেও তারা যাত্রীদের কাছ থেকে নিচ্ছেন মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া। এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর মটরমালিক সমিতির এক বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ও রংপুর জেলা মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, কোনো ঘোষণা ছাড়াই কেরোসিন ও ডিজেলের দাম বাড়ানো সরকারের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। দেশের ৭০ শতাংশ অর্থনীতি সড়ক পথে নির্ভরশীল। গাড়ির চাকা না ঘুরলে স্থবির হবে সবকিছু। হঠাৎ করে কেরোসিন ও ডিজেলের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এদিকে মটর মালিক ও শ্রমিকদের একাধিক নেতা বলেন, কোনো আলোচনা ছাড়াই তেলের দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। ফলে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি সব কিছুতেই খারাপ প্রভাব পড়বে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে প্রতি লিটার কেরোসিন ও ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে। এর আগে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি হতো ৬৫ টাকা করে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
যে বয়সে বেশির ক্রিকেটারের মাঠের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে না, সে বয়সেই আন্তর্জাতিক আঙিনায় ফিরেছেন রায়ান টেন ডেসকাট। তাও আবার বিশ্ব মঞ্চে!৪১ বছর বয়সী ডেসকাটকে ফিরিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। ২০ ওভারের ধুন্ধুমার আসরটি খেলেই অবশ্য ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন তিনি।দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক দেশেই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার সুযোগ হয়েছে ডেসকাটের। মিশেছেন বিশ্বের সব প্রান্তের ক্রিকেটারদের সঙ্গে। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সেও পাঁচ মৌসুম কাটিয়েছেন। সেখানে সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন সাকিব আল হাসানকে। বাংলাদেশের তারকাকেই আধুনিক যুগের সেরা অলরাউন্ডার মানছেন তিনি। তবে সাকিব একা নন, জাদেজাকেও রাখছেন সেরাদের কাতারে।সম্প্রতি ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ডেসকাট। নিজে একজন অলরাউন্ডার হওয়ায় তাঁকেও সময়ের সেরা অলরাউন্ডারকে বেছে নিয়ে বলা হয়েছিল।বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকা ডায়নামাইটস, চিটাগং কিংস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও রাজশাহী কিংসের হয়ে খেলা ডেসকাট সবার ওপরে রেখেছেন এক সময়ের সতীর্থ সাকিবকে। বলেছেন, 'সাকিবকে বাদ দেওয়া কঠিন। রবীন্দ্র জাদেজাও এগিয়ে আছে। আমি মনে করি এই ভূমিকায় একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের চেয়ে স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের কার্যকারিতা বেশি। আমাকে যদি দুজনকে বেছে নিতে হয়, তাহলে সাকিব-জাজেদাকেই রাখব। ওরাই আধুনিক যুগের সেরা।' | 12 |
ঢাকা মহানগরসহ সব জেলা শহরের মধ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৬ মে) সকাল থেকে গণপরিবহন চলবে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল আগের মতোই বন্ধ থাকবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে আগামী ৫ মের পর যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। তবে ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল আগের মতোই বন্ধ থাকবে। এদিকে, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা মহানগরসহ সব জেলা শহরের মধ্যে গণপরিবহন চলাচল করবে। কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করে গাড়ি চালানোর জন্য ঢাকা মহানগরে চলাচলকারী সব রুট মালিক সমিতি বা পরিবহন কোম্পানির নেতাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে- ১. মাস্ক ছাড়া কোনও যাত্রী গাড়িতে উঠাতে পারবে না এবং গাড়ির স্টাফদেরকে মালিক মাস্ক সরবরাহ করবে। ২. গাড়িতে সিটের অর্ধেক যাত্রী বহন করতে হবে। অর্থাৎ ২ সিটে একজন যাত্রী বসবে। ৩. লকডাউনে মালিক-শ্রমিকেরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এক্ষেত্রে রুট মালিক সমিতি বা পরিবহন কোম্পানির জিপির নামে কোনও প্রকার অর্থ গাড়ি থেকে আদায় করতে পারবে না। | 6 |
বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলেই নিজ দেশের উদ্দেশ্য উড়াল দেবেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। ম্যাচ শেষ হবার পরপরই হোটেলে ফিরে যাবেন তারা। সেখানে কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে দিবাগত রাত ১টায় ভাড়া করা বিশেষ বিমানে করে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন ম্যাথু ওয়েড-মিচেল স্টার্করা। ইতোমধ্যে সেই বিমানটি ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। সফরকারীরা সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচ হেরে সিরিজ খুঁইয়েছে। যদিও চতুর্থ ম্যাচে জিতে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে তারা। সিরিজটি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া উভয় দলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই সিরিজেই অজিদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। শুধু ম্যাচ নয়, সিরিজই জিতে নিয়েছে মাহমুদউল্লাহবাহিনী। আজ জিতলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতার গৌরব অর্জন করবে বাংলাদেশ। | 12 |
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। আজ শুক্রবার (২৮ জুন) বিকেলে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমন অভিযোগ করেন তিনি। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'আওয়ামী লীগকে দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টায় কিছুটা সফলও হয়েছিলেন তিনি (জিয়াউর রহমান)। অনেকের নিশ্চই মনে আছে-১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে মিজান চৌধুরীকে দিয়ে দল ভাগ করানো হয়েছিল। মিজান চৌধুরীর নেতৃত্বে যদি সেদিন দল ভাগ না হতো তাহলে ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে আমরা আরও বেশি সংখ্যক আসন লাভ করতে পারতাম।' তিনি বলেন, 'যে দলকে জিয়াউর রহমান নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলেন সে দল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পর পর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়।' ড. হাছান মাহমুদ বলেন, '১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এদেশের মানুষের স্বাধীকার আন্দোলন, ভাষা আন্দোলনসহ সবকিছুতে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৭৫ সালের গণতন্ত্র যখন মার্শাল ডেমোক্রেসিতে রূপান্তর হলো জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে, গণতন্ত্র যখন অবরুদ্ধ হলো, রাজনীতি যখন কেনাবেচার পণ্যে পরিণত করা হলো, তখন রাজনীতিকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে মুক্ত করার জন্য, গণতন্ত্রকে মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য, মানুষের ভোট এবং ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আওয়ামী লীগ রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সংগ্রাম করে গেছে।' উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। সভায় বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, সহ-সভাপতি ও মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ফখরুদ্দীন চৌধুরী প্রমুখ। | 6 |
বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী মো. শাফিন আহমেদকে জাতীয় পার্টির (জাপা) ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বোরহান উদ্দিন আহমেদ মিঠুকে কেন্দ্রীয় সদস্য নিযুক্ত করা হয়েছে। রবিবার দলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদের ৯ম জাতীয় সম্মেলনের প্রদত্ত ক্ষমতা ও গঠনতন্ত্রের ধারা ১২ এর ৩ উপধারা মোতাবেক দেশের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী মো. শাফিন আহমেদকে (ঢাকা) জাপা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বোরহান উদ্দিন আহমেদ মিঠুকে (নোয়াখালী) কেন্দ্রীয় সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এ নিয়োগ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। | 6 |
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভ্যান ও ট্রাকের সংঘর্ষে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী। আজ মঙ্গলবার সকালে আগৈলঝাড়া-পয়সারহাট সড়কের পূর্ব সুজনকাঠি হাজি বাবন উদ্দিন তালুকদার নেছারিয়া এতিমখানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত নারীর নাম রওশনা বেগম। তিনি পূর্ব পতিহার গ্রামের ভ্যানচালক মান্নান সরদারের স্ত্রী।জানা গেছে, ভ্যানচালক দম্পতি পতিহার থেকে রাজিহার এলাকায় রওনা দেন। পথে আগৈলঝাড়া-পয়সারহাট সড়কের পূর্বের একটি এতিমখানার সামনে গেলে তাঁদের ভ্যান ও ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ভ্যানচালকের স্ত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় স্থানীয়রা নিহতের স্বামীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আলামিন হোসেন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হিসার-এ+ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে তুরস্ক। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় এই তথ্য জানায়। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় আকসারাই প্রদেশে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়। সোমবার চালানো এই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় মিসাইল উৎক্ষেপণের চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ছবি প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যায় ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে উড়ে যাচ্ছে। হিসার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সামরিক স্থাপনা, বন্দর, বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো ও পরিবহন সুবিধা আর সেনাদের ওপর আকাশ হামলা থেকে প্রতিরক্ষায় তৈরি হয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম উচ্চতায় তুরস্কের সামরিক বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষার বিদ্যমান চাহিদা এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পূরণ হবে। হিসার-এ+ ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন উপাদান হলো রাডার, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ অংশ আর ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার নিয়ন্ত্রণ অংশ। এ ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন উপাদানগুলো আসেলসান ও রকেটসান কোম্পানি উন্নয়ন করেছে। তুরস্কের এ দুই প্রতিরক্ষা কোম্পানি সম্পূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উদ্ভাবন করেছে। এ দুই প্রতিরক্ষা কোম্পানিই তুরস্কের সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা জঙ্গি বিমান, হেলিকপ্টার, ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন ও আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর। সূত্র : ইয়েনি শাফাক | 3 |
সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে সিরিয়ার আরেকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তুরস্ক। যখন সিরিয়ার সেনারা ইদলিব প্রদেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে তখন সেখানে তুরস্ক কয়েকটি বিমান ভূপাতিত করল। ইদলিব প্রদেশে তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে তুর্কি সরকার। মঙ্গলবার সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তুরস্ক এফ-১৬ জঙ্গিবিমানের সাহায্যে সিরিয়ায় একটি এল-৩৯ টাইপের বিমান ভূপাতিত করেছে। বিমানটি ইদলিবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিল। সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা সানা-ও খবরটি নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত রবিবার তুরস্ক সিরিয়ার দুটি জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করে। এদিকে, সিরিয়ার সেনারা সারাকেব শহরের আশপাশের কয়েকটি ছোট শহর ও গ্রাম থেকে তুর্কি সমর্থিত সন্ত্রাসীদেরকে উচ্ছেদ করেছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের ডাকঘর এলাকায় ট্রাকচাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তোফায়েল আহমেদ সানি (২২) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর কলাবাড়ী গ্রামের তৈয়বুর রহমানের ছেলে।নিহত যুবক কলাবাড়ী থেকে মোটরসাইকেলযোগে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় আহত মোটরসাইকেলের অপর আরোহী শাওনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলটি ডাকঘরে পৌঁছালে বিপরীতমুখী একটি ট্রাক সেটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী তোফায়েল আহমেদ গুরুতর আহত হন। দ্রুত তাঁকে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় চালক পালিয়ে গেলেও ট্রাকটি আটক করা হয়।কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম নজরুল বলেন, এ ঘটনায় ট্রাক আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
পাকিস্তানের পরমাণু পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করার পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। ১৯৮৪ সালেই পাকিস্তানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে বোমা বর্ষণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল ভারতীয় বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে। এমনই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রকাশিত গোপন নথি থেকে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পর সাউথ ব্লক থেকে এই গোপন তথ্য জোগাড় করেছিলেন মার্কিন গোয়েন্দারা। ভারত যদি সে বছর হামলা চালাত, তা হলে পরবর্তী বহু বছরের জন্য পরমাণু গবেষণা সম্পূর্ণ থেমে যেত পাকিস্তানে, এমনও মনে করছিলেন মার্কিন গোয়েন্দারা। বছরের পর বছর ধরে জমতে থাকা বেশ কিছু গোপন নথি সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রকাশ্যে এনেছে। ১৯৮৪ সালের নভেম্বরের কিছু নথি থেকে ভারতের এই পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। এর থেকেই স্পষ্ট যে ইন্দিরার মৃত্যুর পর পরই এই সব গোপন তথ্য মার্কিন গোয়েন্দাদের হাতে পৌঁছেছিল। এই সব তথ্য হাতে পাওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন পরিস্থিতির বিশদ কাটাছেঁড়া শুরু করে। মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পেরেছিলেন, ভারত আকাশপথে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর মিগ-২৯ বা মিগ-২৩ এবং জাগুয়ার যুদ্ধবিমান হামলা চালাবে বলে নাকি স্থির হয়েছিল। সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ভারতীয় বিমানঘাঁটিগুলি থেকে ইসলামাবাদ পৌঁছাতে যে কোনও ফাইটার জেটের মাত্র আধ ঘণ্টা সময় লাগে। কাহুতা পৌঁছনো যায় আরও কম সময়ে। তাই ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে থাকা মিগ-২৩ আর জাগুয়ারের স্কোয়াড্রনগুলির পক্ষে পাকিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পরমাণু কেন্দ্রে বিধ্বংসী বোমা বর্ষণ করা যে একেবারেই কঠিন বিষয় নয়, তা আমেরিকা বুঝতে পারছিল। পাকিস্তানকে সম্ভবত সে বিষয়ে সতর্কও করেছিল আমেরিকা। কিন্তু পাক বিমানবাহিনীর হাতে সে সময়ে থাকা এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কোনও ভাবেই ভারতের মিগ-২৯ ফাইটারের মোকাবিলায় সক্ষম ছিল না। সিআইএ-র নথিতেই এ কথা লেখা হয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী পাক এয়ার ফোর্সের চেয়ে আকারে এবং দক্ষতায় অনেক এগিয়ে বলেও মার্কিন নথিতে স্বীকার করা হয়েছে। প্রকাশ্যে আসা গোয়েন্দা নথি থেকে জানা গেছে যে, আমেরিকা সে সময় পাক এয়ার ফোর্সের 'কম্যান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল' সিস্টেমের দুর্বলতা নিয়েও খুব চিন্তিত ছিল। ভারতীয় বিমান বাহিনী যদি কাহুতা এবং পিনসটেক পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালায়, তা হলে সেই হামলা পাকিস্তান কোনও ভাবেই রুখতে পারবে না বলে মার্কিন প্রশাসন মনে করছিল সে সময়। সিআইএ-র 'ইন্টেলিজেন্স অ্যাসেসমেন্ট'-এ সে সময় লেখা হয়েছিল, কাহুতা এবং পিনসটেকে ভারত হামলা চালালে পাকিস্তানের এত ক্ষতি হবে যে আগামী বহু বছরের জন্য পাকিস্তানের পরমাণু গবেষণা থমকে যাবে। সূত্র: আনন্দবাজার | 3 |
চট্টগ্রামে ফেসবুকে পরিচয়, তারপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গোলাম কিবরিয়া রিগান একজন প্রফেশনাল অনলাইনভিত্তিক জুয়াড়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার আসামি রিগানকে আদালতে পাঠালে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালত। ২০১৭ সালে পরিচয়ের কিছুদিন যেতেই রিগান বারবার বিয়ের প্রলোভন ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক তৈরি করেন বলে অভিযোগ করেন উচ্চশিক্ষিতওই তরুণী। রিগান তাকে প্রায় তিন বছর ধরে ধর্ষণ করেছেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বাকলিয়ায় থানায় মামলাটি দায়ের করেন ওই তরুণী। তারপররাতেই ৩৩ বছর বয়সী অভিযুক্ত রিগানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনিচট্টগ্রামের রাঙ্গুনিনয়া উপজেলার বেতাগী গ্রামের মৃত গোলামমোস্তফার ছেলে। বর্তমানে নগরীর বাকলিয়া থানার ইছহাকেরপুল আলিফটাওয়ারের তৃতীয় তলায় ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন সমকালকে বলেন, 'মাস্টার্স পাশকরা একটি মেয়ের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন গোলাম কিবরিয়া রিগান। ২০১৭ সাল থেকে প্রেম ও বিয়েরদোহাই দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের হোটেল ও রির্সোটে নিয়ে গিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছেন তিনি। মেয়েটির বাবা নেই। মেয়েটি একাধিকবার বিয়ের কথা বললেও কোনভাবেই রাজি ছিলেন না রিগান। পরে বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ভিকটিম।' ওসি আরও বলেন, 'বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষণ মামলায় রিগানকেগ্রেফতার করে শুত্রক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। রিগান একজনপ্রফেশনাল অনলাইনভিত্তিক জুয়াড়ি। কিছুদিন আগে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলও খাটেন তিনি। তথ্য যাচাই বাছাই করে প্রয়োজন হলে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।' | 6 |
এভারেস্টে চূড়ায় ওঠার সর্বশেষ বড় চ্যালেঞ্জ হলো হিলারি স্টেপ। ১৯৫৩ সালে নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী স্যার অ্যাডমুন্ড হিলারি এভারেস্ট জয় করার পর এই স্টেপটির নামকরণ করা হয় তার নামেই। এরপর হিমালয়ের নেপাল অংশ হয়ে পৃথিবীর যত পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন, বরফে ঢাকা ওই পাথুরে পথটি তাদের সবাইকে পার হতে হয়েছে। কিন্তু সেই পথটি ধসে পড়ায় এভারেস্ট জয় করা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠলো বলে আশঙ্কা করছেন পর্বতরোহীরা। খবর বিবিসির। কিন্তু সমস্যাটা দেখা যায় গত বছর। সেসময় কিছু ছবিতে দেখা গিয়েছিল যে হিলারি স্টেপের আকার বদলে গেছে। ২৯ হাজার ফিট উচ্চতায় সম্পূর্ণ খাড়াভাবে উঠে যাওয়া এই পথটি ছিল ১২ মিটার। কিন্তু ব্রিটেনের পর্বতারোহী টিম মোসডেল এ সপ্তাহের শুরুতেই এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার পর প্রথম আবিষ্কার করেন যে হিলারি স্টেপ ধসে পড়েছে। বেজ ক্যাম্পে নামার পর নিজের ফেইসবুক পাতায় তিনি লিখেছেন তার অভিজ্ঞতার কথা। নেপাল ও তিব্বতের অংশে হিমালয়ের পর্বতগুলোর চূড়ায় ওঠা এমনিতেই বিপজ্জনক।মাত্র গতকালই চারজন পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। এখন হিলারি স্টেপ ধসে পড়ায় এভারেস্টের চূড়া পর্যন্ত যাওয়া আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে পর্বতারোহীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিডি-প্রতিদিন/২২ মে, ২০১৭/মাহবুব | 3 |
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী নাহিদ সুলতানা তৃপ্তির পক্ষে নির্বাচনী কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সান্তাহার ইউনিয়নের ছাতনী-ঢেকড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নাইট রাইডার্সের প্রথম ম্যাচে খেলেননি সাকিব আল হাসান। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচে অবশ্য মুস্তাফিজুর রহমানকে বসে থাকতে হলো না। একাদশে সুযোগ পেয়েছেন প্রথম ম্যাচেই। খেলছেন ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামীতে, যেখানে সপ্তাহ তিনেক আগে বাংলাদেশের হয়ে ভারতের কাছে ম্যাচ হেরেছেন মাত্র ১ রানে!
সেদিন ৩৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছিলেন 'কাটার মুস্তাফিজ'। কষ্টের অভিজ্ঞতায় চেনা সেই স্টেডিয়ামে ফিরলেন আরও ধারালো হয়ে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) বিপক্ষে আজ মঙ্গলবার টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় মুস্তাফিজের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিদেশি লিগে খেলতে গিয়ে আজ চার ওভার বল করেন এই 'কাটার মাস্টার'। মুস্তাফিজ বোলিংয়ে আসেন ইনিংসের তৃতীয় ওভারে।
প্রথম দুটি ওভারে বোলিং করতে হয়েছে বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। বিশ্ব ক্রিকেটের অনন্য দুই ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজের প্রথম দুই ওভারে নিয়েছেন মাত্র ১০ রান, যার মধ্যে ডট বলই ছয়টি!
মুস্তাফিজের বোলিং কতটা ভালো হয়েছে, তার আরেক দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় দ্বিতীয় ওভারের দিকে তাকালে। আশিস নেহরা আর ভুবনেশ্বর কুমারের করা আগের দুটি ওভার থেকে কোহলি-ভিলিয়ার্স নেন যথাক্রমে ১৫ ও ১৬ রান। কিন্তু ব্যাট চওড়া হতে থাকা ওই সময়ে মুস্তাফিজ বোলিংয়ে এসে দেন মাত্র ৬ রান। স্লোয়ার আর বাউন্সার সামাল দিতে গিয়েই সমঝে খেলতে হয় কোহলি-ভিলিয়ার্সকে। ভারতের বোলার আশিষ নেহরা ও ভুবনেশ্বর কুমারের বলে একের পর এক বাউন্ডারি মারলেও মুস্তাফিজকে পেটাতে পারলেন না ব্যাটসম্যানরা।
পাওয়ার প্লেতে নেহরা দেন ২ ওভারে ২০ রান। ভুবনেশ্বরর ২ ওভারে দেন ১৯ রান। এরপর যারাই বল করেন, কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্সের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি।
অবশেষে ১৮তম ওভারে ফের বল হাতে আসে মুস্তাফিজের। প্রথম বলে ডি ভিলিয়ার্স কোনো রান নিতে পারলেন না। অল্পের জন্য আউটের হাত থেকে বেঁচে যান তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় বলেই ক্যাচ তুলে দেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান। মাঠ ছাড়ার আগে ৪২ বলে ৮২ রান করেন ভিলিয়ার্স। তৃতীয় বলে ওয়াটসনকে বিদায় করে দেন মুস্তাফিজ। আগের ওভারে ওয়াটসন তিনটি ছক্কা মারলেও মুস্তাফিজের বলে ক্যাচ আউট হন। হ্যাটট্রিক করার সুযোগও আসে মুস্তাফিজের সামনে। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি। ওভারের শেষ তিন বলে একটি করে রান হয়। ৪ ওভার বল করে ২৬ রান দিয়ে মুস্তাফিজ তুলে নেন ২ উইকেট।
২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৭ রান করে বেঙ্গালুরু।
| 12 |
যশোরের চৌগাছায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় নির্মিত ড্রেন নির্মানের সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে ধসে ভেসে গেছে। রোববার (৫ জুলাই) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ধসে যাওয়া ওই ড্রেনের ইট পরিস্কার করছেন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সার্বজনীন শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির থেকে পানি নিস্কাশনের জন্য বাওড় পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। জুনমাসের শেষের দিকে তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এই ড্রেন নির্মাণ করে। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন নির্মাণ কাজটি সরেজমিনে পর্যবক্ষেণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিল প্রদান করেন। কিন্তু অতি নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় গত সপ্তাহে বৃষ্টিতে ওই ড্রেনটি ধসে ইট ও সামগ্রী ভেসে যায়। উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে মাধবপুর সার্বজনীন শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দিরসহ কয়েক জায়গাতে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। এসব ড্রেন নির্মানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ দিকে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা এসব ড্রেনের পার্শ্ববর্তী জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি বার বার অবহিত করলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, মাধবপুরের ড্রেনটি নির্মেোণর সময় খুবই নিম্নমানের ইট, খোয়া, বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে বার বার অবহিত করেও কোনো কাজ হয়নি। নির্মাণের পরেই বৃষ্টির পানিতে সিমেন্ট বালু ধুয়ে গিয়ে ড্রেনটি ধসে যায়। এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়, বলেন, এডিবির বরাদ্দে এই ড্রেন নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুবই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছে। যে কারণে ড্রেনটির সিমেন্ট বালু বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গিয়ে ধ্বসে পড়েছে। ড্রেন নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মিলন মিয়া বলেন, নির্মাণের প্রায় বিশ দিনের মধ্যেই ড্রেনটি বৃষ্টির পানিতে ধ্বসে ভেসে গেছে। তিনি বলেন ড্রেন নির্মাণের সময় পানি পড়ার জায়গায় একটি হাউজ তৈরি করলে এমন হতনা। এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন ড্রেনটি নির্মাণ কাজের কয়েক দিনের মধ্যে ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলেছি। তিনি পুনরায় মেরামত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। | 6 |
করোনার অভিঘাত থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার নিয়ে বিভিন্ন পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মাথাপিছু জিডিপি ভারতের ১ হাজার ৮৭৭ ডলার ছাড়িয়ে বাংলাদেশের ১ হাজার ৮৮৮ ডলার হবে। তবে বিশ্বব্যাংক বলেছিল প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের এ পূর্বাভাস বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান উত্তরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন নয় বলে ভিন্নমত পোষণ করেছেন অর্থমন্ত্রী। অধিকাংশ আলোচনা প্রবৃদ্ধিতেই আটকে আছে। কিন্তু পুনরুদ্ধারের সার্বিক বিষয় তথা কী ধরনের, কী উপায়ে এবং কার জন্য পুনরুদ্ধার নিয়ে আলোচনা অল্প বিস্তর। নতুন দারিদ্র্য মোকাবিলা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) 'কোভিড-১৯ বাংলাদেশ: জীবিকার ওপর অভিঘাত ধারণা জরিপ' অনুযায়ী, এই মহামারির প্রথম চার মাসে বেকারত্ব ১০ গুণ বেড়ে যায়। বিবিএস জানাচ্ছে, আর্থিক সংকটে পড়া ৪৬ দশমিক ২২ শতাংশ পরিবার সঞ্চয় ভেঙে এবং ৪৩ শতাংশের বেশি পরিবার আত্মীয়স্বজনের সাহায্য-সহায়তায় সংসার চালিয়েছে। ১১ শতাংশ পরিবার জমি বিক্রি করেছে বা বন্ধক রেখেছে। সরকারি ত্রাণ বা অনুদান পেয়েছে মাত্র ২১ শতাংশ পরিবার। বিবিএসের জরিপ স্পষ্ট করেছে, চলমান উন্নয়ন কৌশল দুর্যোগ-দুর্বিপাকের অভিঘাত লাঘব করতে পারছে না। অভিঘাত মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা নেই। ফলে অধিকাংশ মানুষ নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে দরিদ্র হয়ে পড়ছে। করোনার প্রভাবে দারিদ্র্য পরিস্থিতি পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি হবে বলে অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান দেখিয়েছে। বিরাটসংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবস্থা পরিবর্তন করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, ৬৮ শতাংশ পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। সংকট থেকে উত্তরণে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের নিয়োজিত সবার কর্মসংস্থান সুরক্ষা জরুরি। দেশের ৮৭ শতাংশ শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। বেতন সামান্য, দুর্ঘটনা বা অভিঘাতে কোনো সুরক্ষা নেই এবং যেকোনো সময় ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটে। বিবিএস বলছে, পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে ৮৫ শতাংশ রিকশা-ভ্যানচালক। দিনমজুর-শ্রমিকদের ৮৪ শতাংশ আর্থিক সংকটে। ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের কাছে সরকারঘোষিত আড়াই হাজার টাকা করে প্রদানের চিত্র সুখকর নয়। প্রায় ১৫ লাখ পরিবার এখনো টাকা পায়নি। সব মিলিয়ে ২১ শতাংশ পরিবার সরকারি ত্রাণ বা অনুদান পেয়েছে। সুবিধাভোগী নির্বাচনে রয়েছে বিস্তর অনিয়ম। এ জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব প্রণোদনা, সহায়ক কাজ, দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প ও নতুন কর্ম সন্ধানের ব্যবস্থা দরকার। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্জীবন করতে প্রতিটি গ্রামকে 'বিকাশ কেন্দ্র' হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নগদ আর্থিক সহায়তা, শ্রমিকের অধিকারসমূহের স্বীকৃতি ও সুরক্ষা এবং সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলে মানুষের সঞ্চয় ভাঙা, জমি বিক্রয় বা বন্ধক রাখা অথবা আত্মীয়স্বজনের ওপর নির্ভর করতে হতো না। অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদাও হ্রাস পেত না। সর্বজনীন স্বাস্থ্য ও শিক্ষাআইইডিসিআর এবং আইসিডিডিআরবির যৌথ গবেষণা জানাচ্ছে, তিন মাস আগেই রাজধানীর ৪৫ শতাংশ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। করোনায় স্বাস্থ্য খাতের নাজুক দশা আরও প্রকট হয়েছে। কিন্তু এখনো স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বজনীন করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের পকেট থেকেই দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ পরিমাণের ৬৭ শতাংশ খরচ করতে হয়। দরিদ্র-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে অললাইন শিক্ষাকার্যক্রম তেমন কাজ করছে না। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ একটি সময় বিনষ্ট হচ্ছে। অটো প্রমোশন দেওয়া হলেও শিক্ষা খাতের মৌলিক সমস্যা সমাধানের কোনো নীতিকাঠামো এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে না; নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও নাগরিকত্ব তৈরিতেও ব্যর্থ হচ্ছে। কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে নজরকুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ বিতরণ হয়েছে মাত্র ২০ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ব্যাংক খাতের প্যাকেজ থেকে বড় ব্যবসায়ীরা ঋণ নিতে পারলেও সিএমএসএমই খাত তেমন নিতে পারছে না। ১ হাজার ৭৮৬ জন বড় ব্যবসায়ীকে দেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে ৯ হাজার ৫০ জন এসএমই খাতের উদ্যোক্তা পেয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। এ খাতসমূহ জিডিপির ৪০ শতাংশ। সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধাগুলো গুটিকয় গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হলে বৈষম্য ও মেরুকরণ বৃদ্ধি পাবে। কৃষি ও কৃষকের অবস্থার পরিবর্তনে গুরুত্বারোপবন্যায় ৩১টি জেলায় অল্প কদিনেই ১ লাখ ৪২ হাজার টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বাজারমূল্যে এ ক্ষতি প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। করোনার অভিঘাতের সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের থাবায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক। অন্যদিকে বাজারে কৃষিপণ্যের দাম বেশি হলেও কৃষক মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতাপে প্রকৃত মূল্য পাচ্ছে না। চাষাবাদে বৈচিত্র্য না থাকায় সমস্যা প্রকট হয়েছে। কৃষিতে পর্যাপ্ত ভর্তুকির ঘাটতি রয়েছে। এ অর্থবছরে সরকার ভর্তুকিতে ৫০০ কোটি টাকা বাড়িয়েছে। মহামারির মুখে এই সামান্য বৃদ্ধি স্থিতিশীল খাদ্য সুরক্ষা তৈরি করতে যথেষ্ট নয়। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের সরকারি উদ্যোগ থাকলেও ব্যাংকগুলোর আগ্রহে ঘাটতি রয়েছে। গত পাঁচ মাসে ছয়টি ব্যাংক কৃষি খাতে কোনো ঋণই বিতরণ করেনি বলে খবরে প্রকাশ। রপ্তানি পণ্য ও বৈদেশিক শ্রমশক্তি বাজারের বহুমুখীকরণরপ্তানি পণ্য ও বাজারের যেমন বহুমুখীকরণ ও বৈচিত্র্য দরকার তেমনি জনশক্তি রপ্তানির জন্যও নতুন বাজার খোঁজা জরুরি। করোনার কারণে নিয়মিত বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ার আগে গত ২১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরে এসেছেন ৬ লাখ ২৪ হাজারের বেশি প্রবাসী। নিয়মিত বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ার পর বিশেষ ব্যবস্থায় গত ছয় মাসে গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ফিরে এসেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। এসেই দেশে আটকা পড়েন তাঁরা। সম্প্রতি কর্মস্থলে ফেরার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে যেতে পারছেন না তাঁরা। এতে কর্মচ্যুতির আশঙ্কা রয়েছে। মালয়েশিয়া ও আরব আমিরাতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মী রপ্তানি বন্ধ থাকায় একটি মাত্র দেশ সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপের অনেক দেশে বাংলদেশি শ্রমিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই। যুক্ত হয়েছে বৈদেশিক শ্রমবাজার নিয়ে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনশক্তি রপ্তানির বাজার ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে ভূরাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও নতুন বাজার সৃষ্টি, সংযোগ স্থাপন এবং বঙ্গোপসাগরের বিপুল সম্পদ ব্যবহারে কার্যকরী কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়। বৈষম্য হ্রাসে জোর পদক্ষেপকোভিড মহামারি প্রকট অসমতা আরও উন্মোচিত করেছে। উন্নয়ন অন্বেষণ গবেষণায় দেখিয়েছে, বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়া এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জিনি সহগ ০.৩২ থেকে বেড়ে ০.৫০ এবং পা'মা রেশিও ২.৯৩ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। করোনার কারণে কিছু কিছু খাতের আয় অনেক গুণ বেড়েছে আর অধিকাংশ খাতের আয় কমেছে। প্রচলিত কায়দায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রণোদনা, নীতি-কৌশল নতুন দরিদ্র এবং বেকারদের সমস্যা সমাধানে কাজ করেনি। প্রণোদনাগুলো মূলত ক্ষমতাশালী মানুষের উপকারে লেগেছে। ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের লাগাম টেনে না ধরতে পারলে সর্বজনীন পুনরুদ্ধার হবে না। পুনরুদ্ধারের মূলনীতিসংকট কাটিয়ে উঠতে এখানে সাতটি মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর আলোকে নীতি-কৌশল নেওয়া গেলে এখনো তুলনামূলকভাবে একটি বৈষম্যহীন পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। প্রথমত, সর্বজনীন প্রাথমিক আয় হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের কাছে অবশ্যই নগদ অর্থ পৌঁছাতে হবে। দ্বিতীয়ত, গণদ্রব্য যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সর্বজনীন ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত, কতিপয় ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ চিন্তা না করেই সংখ্যাগরিষ্ঠদের স্বার্থে নীতি-কৌশল গ্রহণ করতে। চতুর্থত, রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য রপ্তানিমুখী পণ্য এবং বাজারের বৈচিত্র্যকরণে গুরুত্বারোপ করতে হবে। পঞ্চমত, টেকসই ও সবুজ বিকাশের জন্য উত্পাদন ব্যবস্থা অবশ্যই সবুজ এবং পরিবেশবান্ধব করতে হবে। ষষ্ঠত, শুধু মুদ্রানীতিনির্ভর না হয়ে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ে নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। সপ্তমত, কর্মসূচি এবং নীতিগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হতে হবে, যাতে অর্থনীতিতে গুণকপ্রভাবক সৃষ্টিতে সক্ষম খাতে বিনিয়োগ বাড়ে। ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং 'উন্নয়ন অন্বেষণ'-এর চেয়ারপারসন [] | 8 |
এক দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশে পুঁজি পাচার। যদিও এ সময়ে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ক্রমান্বয়ে বেড়েছে, তবু জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার প্রতিবছর যা হওয়ার কথা, তার চেয়ে এক শতাংশ বা দেড় শতাংশ কম হচ্ছে পুঁজি পাচার ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায়। এই ক্রমবর্ধমান পুঁজি পাচারের কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ-জিডিপির অনুপাত ২৩ শতাংশের আশপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। অপর দিকে সরকারি বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত গত এক দশকে বেড়ে ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার তেমন কমছে না। এই পুঁজি পাচারকারীরা জাতির 'এক নম্বর দুশমন'। তারা যদি ব্যাপকহারে বিদেশে পুঁজি পাচার না করত, তাহলে এত দিনে বাংলাদেশ শুধু ভারত নয়, শ্রীলঙ্কাকেও পেছনে ফেলে দক্ষিণ এশিয়ায় মাথাপিছু জিডিপির বিচারে সবচেয়ে অগ্রগামী দেশে পরিণত হতো। সে জন্যই, শুধু সরকার নয়, দেশে-বিদেশে অবস্থানকারী সব বাংলাদেশির কর্তব্য এদের ঘৃণা, বর্জন এবং প্রতিহত করা। অনেকেরই হয়তো জানা নেই, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ সালে বাংলাকে উপনিবেশ করার আগে কয়েক শ বছর ধরে ভারতবর্ষের সবচেয়ে প্রাচুর্যময় অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত ছিল তদানীন্তন বাংলা। এই স্বীকৃতি প্রথম দিয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা, যিনি বাংলার সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের আমলে এ দেশে এসেছিলেন। দ্বিতীয় স্বীকৃতিটি এসেছিল মোগল শাসক আকবরের 'নবরত্ন' সভার খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের লিখিত ইতিহাসে। তাঁর রচিত আকবরনামায় তিনি স্বীকার করেছেন, আকবরের শাসনাধীন ভারতবর্ষে সবচেয়ে প্রাচুর্যময় প্রদেশ ছিল 'সুবা বাংলা'। তৃতীয় যে স্বীকৃতি, সেটা দিয়েছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের ফরাসি 'কোর্ট ডাক্তার' ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার। বার্নিয়ারের মতে, সপ্তদশ শতাব্দীতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচুর্যময় অঞ্চল হিসেবে মিসরের যে সুনাম ছিল, সে সুনামের প্রকৃত দাবিদার ছিল বাংলা। কিছুদিনের মধ্যেই আরেকজন ফরাসি ব্যবসায়ী ট্যাভারনিয়ার বার্নিয়ারকে এ বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছিলেন। ট্যাভারনিয়ার চামড়ার ব্যবসার জন্য বেশ কয়েকবার বাংলায় আসার কারণে এই অঞ্চল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। কার্ল মার্ক্স বার্নিয়ারের এই স্বীকৃতির উদ্ধৃতি দেওয়ায় বিশ্বে তা বহুল পরিচিতি অর্জন করেছে। ১৭৫৭ সালে বাংলা দখল করার পর ১০০ বছর ধরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী-সিপাহসালার এবং সিপাহিরা জাহাজের পর জাহাজ বোঝাই করে বাংলা থেকে ধনসম্পদ লুণ্ঠন করে ইংল্যান্ডে নিয়ে গেছে। তাদের এই পুঁজি পাচারের পরিমাণ এতই বেশি ছিল যে লন্ডন বন্দরে লুণ্ঠিত সামগ্রীবাহী জাহাজগুলো খালাস করার জন্য তিন মাসের একটি জাহাজ-জট সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রমাণ করেছেন ব্রুক এডামস নামের একজন মার্কিন ইতিহাসবিদ। আরও অনেক ঐতিহাসিকের গবেষণার মাধ্যমে এই বাংলা লুণ্ঠনের কাহিনি প্রমাণিত হওয়ার ফলে এখন ইতিহাসে এই লুণ্ঠন পর্বকে 'দ্য বেঙ্গল লুট' নামে অভিহিত করা হচ্ছে। ১৯৪৭ সালে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার নামে আবার ২৪ বছরের জন্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশে পরিণত হওয়ায় আরেক দফা লুণ্ঠন, বঞ্চনা ও পুঁজি পাচারের শিকার হয়েছিল তদানীন্তন পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তান। সে জন্যই স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালে হেনরি কিসিঞ্জারের কল্যাণে বাংলাদেশের কপালে তকমা জুটেছিল 'ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস' এবং 'বটমলেস ব্রেড বাস্কেট'। এই দুটি ঔপনিবেশিক লুণ্ঠন পর্বের ২১৪ বছর পার হয়ে এসে ভারতবর্ষের 'একদা সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ' বাংলার কপালে কেন এই অপমানতিলক জুটল, সেটা বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে কেন বর্তমান সময়ের পুঁজি পাচারকারীদের আমি 'জাতির এক নম্বর দুশমন' বলছি। স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে আগাগোড়াই প্রধান বাধা দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে দুর্নীতি ক্রমেই বিস্তার লাভ করলেও বঙ্গবন্ধুর শাসনকালে দুর্নীতি ছিল ব্যতিক্রমী আচরণ, রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রে তখনো ওটা নিয়মে পরিণত হয়নি। কিন্তু জিয়াউর রহমান নিজেকে সততার পরাকাষ্ঠা হিসেবে জাহির করলেও তাঁর শাসনামল থেকে দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠন বাড়তে শুরু করেছিল। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি স্বৈরাচার এরশাদ আমলে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। ১৯৯১ সালে ভোটের রাজনীতি চালু হওয়ার পর গত ৩১ বছর একই প্রক্রিয়াগুলো আরও জোরদার হয়েছে। প্রবাসী আয়ও বঙ্গবন্ধুর আমলে অর্থনীতির জন্য বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠেনি। ১৯৭৩ সালের প্রথম বৈশ্বিক তেলসংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোতে যখন নগর উন্নয়নযজ্ঞ শুরু হয়, সেখানে সস্তা শ্রমিক জোগানের অন্যতম আকর্ষণীয় সূত্র হিসেবে সত্তর দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক অভিবাসনে গতি সঞ্চারিত হয়। গত সাড়ে চার দশক অভিবাসনের এই ধারা বেগবান রয়েছে। নব্বই দশক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশিদের অভিবাসন দ্রুত বাড়তে শুরু করে, যার ফলে গত ৩০ বছরে যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা বাংলাদেশিদের গন্তব্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২১ সালের শেষে সারা বিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছে গেছে বলে প্রাক্কলন করা হচ্ছে। যদিও অবৈধ অভিবাসনের কারণে এ ক্ষেত্রে একটা 'গ্রে জোন' রয়েছে। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে প্রবাসী আয় দ্রুত বাড়তে শুরু করে। কিন্তু তখন এরশাদ সরকারের আমদানি উদারীকরণ নীতিমালা ভারতের তুলনায় প্রায় ছয় বছর আগে বাস্তবায়িত হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে চোরাচালান গুরুতর সমস্যায় পরিণত হয়, যার ফলে চোরাচালানের অন্যতম সুবিধাজনক পেমেন্ট সিস্টেম হিসেবে 'হুন্ডি সিস্টেম' জনপ্রিয় হতে শুরু করে। এরপর থেকে বিদেশে বাংলাদেশিদের অভিবাসনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদেশে পুঁজি পাচারও ক্রমশ বেড়ে এখন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ২০২১ সালে ১ কোটি ৩০ লাখ প্রবাসী বৈধ পথে ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যার বিপরীতে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটির প্রাক্কলন মোতাবেক বাংলাদেশ থেকে বিদেশে ২০১৮ সালেই পুঁজি পাচারও প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এ পর্যায়ে বলা প্রয়োজন, বৈধ পথে হোক কিংবা হুন্ডি সিস্টেমে হোক, যেভাবেই দেশে প্রবাসী আয় আসুক, এই টাকার সিংহভাগ প্রধানত নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকগুলোতে আমানত হিসেবে জমা পড়বেই। সে জন্যই আমরা দেখছি, বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা বেড়ে এখন ৬১ হলেও ব্যাংকগুলোতে আমানতের ঢল অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক হিসাব অনুয়ায়ী, ব্যাংকগুলোতে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকার আমানত রয়েছে, অথচ খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণও হয়তো এখন ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি হবে। এর ফলে 'উদ্বৃত্ত আমানত' এ দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেটা বিদেশে পাচার করার যে সনাতন সংস্কৃতি আমদানি বাণিজ্যের 'ওভার ইনভয়েসিং' এবং রপ্তানি বাণিজ্যের 'আন্ডার ইনভয়েসিং' পদ্ধতির প্রায় একচেটিয়া দখলে ছিল, তার সঙ্গে জোরেশোরে যুক্ত হলো দুর্নীতিবাজ সামরিক-সিভিল আমলা, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী এবং নব্য ব্যাংক-মালিকদের পুঁজি পাচারের মহাযজ্ঞ। সাম্প্রতিককালে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠানোর জটিল পদ্ধতি অনেকখানি সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির বিপ্লবের কারণে প্রবাসী আয় পাঠানোর হুন্ডি সিস্টেমও একেবারেই সহজ ও উন্নত হয়ে গেছে। উপরন্তু, এই চার দশকে পুঁজি পাচারের প্রয়োজনে হুন্ডি ডলারের একটা বিশাল চাহিদাকাঠামো সম্প্রসারিত হয়ে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জালের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। অতিসম্প্রতি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, এতে নাকি বিদেশে পুঁজি পাচার কমবে। আসলে পুঁজি পাচারকে আড়াল করবে এই সিদ্ধান্ত। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ২৩ শতাংশে স্থবির রয়েছে। এই হারকে বাড়ানোই অর্থমন্ত্রীর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বিদেশে বিনিয়োগ উৎসাহিত করলে এই স্থবিরতা কাটবে না। ড. মইনুল ইসলাম অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি | 8 |
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষে (বিআরটিএ) কর্মকর্তাদের বদলিতে রাজনৈতিক তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, 'কোনো কর্মকর্তার জরুরি বদলি প্রয়োজন হলে তা নিয়মের মধ্যে করা হবে। তবে এ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক তদবির কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।' সোমবার দুপুরে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এসময় বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'সড়কে শৃঙ্খলা না আসলে যতই উন্নয়ন হোক তাতে কোনো লাভ হবে না। যেকোনো মূল্যে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।' তিনি বিআরটিএ থেকে যেকোনো মূল্যে দালালের দৌরাত্ম্য দূর করার নির্দেশ দেন। আগামী ৪ মাসের মধ্যে অপেক্ষমান গ্রাহকদের লাইসেন্স প্রদান শেষ করতে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। | 6 |
দেশের নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, 'দুর্নীতি একটি ক্যান্সার। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থায় কোনো কম্প্রোমাইজ নয়।' আজ রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মামলাজট কমানো, বিচারবিভাগ থেকে দুর্নীতি দূর করা, বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয়ে কাজ করারও কথা বলেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
আফগানিস্তানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহর গাড়িবহর লক্ষ্য করে বোমা হামলা হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার রাজধানী কাবুলের একটি সড়কের পাশের এ হামলায় সালেহ বেঁচে গেলেও প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন। বিবিসি বলছে, হামলায় সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সালেহ মুখে ও হাতে কিছুটা দগ্ধ হয়েছেন। তার অবস্থা গুরুতর নয়। আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের প্রস্তুতির আগেই এমন হামলার ঘটনা ঘটলো। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক টুইট বার্তায় বলেছেন, এই হামলায় তাদের কোনও দায় নেই। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তারেক আরিয়ান বলেন, সরকারি কাজের উদ্দেশে যাত্রাকালে ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহর গাড়িবহর লক্ষ্য করে বোমা হামলা হয়েছে। তিনি জানান, হামলায় ১০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছন। আহত হয়েছেন সালেহর দেহরক্ষীসহ ১৫ জন। হামলার ঘটনার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট সালেহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। | 3 |
আরব বিশ্ব এবং তিউনিসিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বল্প পরিচিত একজন ভূতত্ত্ব প্রকৌশলী নাজলা বাউডেন রমধান। দেশটির প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইয়েদ তাঁকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।গতকাল বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট দপ্তরের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইয়েদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাজলা বাউডেনের নাম ঘোষণা করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট কায়েস বাউডেনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সরকার গঠনের নির্দেশ দিচ্ছেন। কারণ এরই মধ্যে অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। এ ছাড়া তিনি বলছেন, এটা নারীদের জন্য সম্মানের যে আপনি প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।এর আগে গত জুলাইয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইয়েদ তাঁর আগের প্রধানমন্ত্রী হিসেম মিসিসিকে বরখাস্ত করে সমস্ত ক্ষমতা নিজের কাছে নেন এবং সংসদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন।উল্লেখ্য, নাজলা বাউডেন এর আগে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পে কাজ করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি তেমন পরিচিত নন। তিনি ভূ-পদার্থবিদ্যা বিভাগের একজন অধ্যাপক। | 3 |
আগৈলঝাড়ায় ৮ বছর ধরে শিকলে বন্দী করে রাখা হয়েছিল জাহাঙ্গীর হোসেন তোতা মিয়াকে। গতকাল স্থানীয় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা সেখানে যাওার পর শিকলমুক্ত করা হয়েছে তাঁকে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ তোতা মিয়া মানসিকভাবে শিকলে বেধে রাখার মতো অসুস্থ নয়। সম্পত্তির লোভে ছোট ভাই তাঁকে এভাবে বন্দী করে রেখেছিলেন। ভালো মতো চিকিৎসাও করাচ্ছেন না । তবে পরিবারের দাবি তোতা মিয়া মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় এভাবে শিকলবন্দী করে রাখতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।তোতা মিয়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা গ্রামের আলতাব হোসেনের বড় ছেলে। গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, তোতা মিয়ার ডান পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এর আগে বাম পায়ে শিকল ছিল। সেখানে ঘাঁ হলে ডান পায়ে শিকল দেওয়া হয়। এভাবে পা বদলিয়ে দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়েছিল তাঁকে।স্বাভাবিকভাবে দেখলে সুস্থই মনে হয় তোত মিয়াকে। বাড়িতে স্থানীয় লোকজন যাওয়ার পর তোতা তাঁদের পা জড়িয়ে ধরে বলেন, 'ভাই আমি পাগল না। আমাকে বিনা কারণে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে।' শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিও জানাতেন তখন তোতা।স্থানীয় বাসিন্দা কামরুজ্জামান সবুজ বলেন, ছোট একটি টিনের চালার ঘরে থাকেন তোতা।ফারুক হাওলাদার নামে এক গ্রামবাসী জানান, তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর হোসেন তোতা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা তিতুমীর কলেজে পড়াশোনা করা অবস্থায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরেন। পরে পরিবার থেকে বিয়ে করালেও মানসিক সমস্যার কারণে স্ত্রী তাকে ১০ বছর আগে ছেড়ে চলে যান।স্থানীয় দুলাল মাতুব্বর জানান, রাংতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মানিক মিয়া তোতা মিয়ার ছোট ভাই। কিন্তু আট বছর থেকে বড় ভাইকে চিকিৎসা করাচ্ছেন না। নিজে থাকার জন্য দুতলা পাকা ভবন নির্মাণ করলেও বড় ভাইকে রাখা হচ্ছে ধানের গোলা ঘরে। দলিলে স্বাক্ষর করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে তাঁর সম্পত্তি।রাংতা ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, ছোট ভাই মানিক মিয়ার অবহেলার কারণে ৮ বছর ধরে জাহাঙ্গীর হোসেন তোতা শিকলবন্দী। শুধুমাত্র সম্পত্তি নিজের নামে করতে একমাত্র বড় ভাইকে সুচিকিৎসা না করিয়ে শিকলবন্দী করে রেখেছেন।জাহাঙ্গীর হোসেন তোতার মা হাওয়া বেগম বলেন, '২৮ বছর ধরে মানসিক সমস্যা নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় আছে আমার ছেলে তোতা। ৮ বছর আগে বাড়ির পাশের সেলিম মল্লিকের স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে মারধর করার কারণে তখন থেকে তোতাকে শিকল দিয়ে বন্দী করে রাখা হয়েছে।'জাহাঙ্গীর হোসেন তোতার ছোট ভাই রাংতা মানিক মিয়া বলেন, 'আমার বড় ভাইকে মানসিক সমস্যার কারণেই শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে। ভাইয়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পরেছি। তাকে বর্তমানে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। ভালো চিকিৎসার সুযোগ পেলে তোতার চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। তাঁর স্বাক্ষর নিয়েছি জমির কাগজপত্র ঠিক করার জন্য।'উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা জানান, রাংতা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন তোতাকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিকলেবন্দী থেকে মুক্ত করা হয়েছে। শিকলে বাধা জাহাঙ্গীরের জমি তাঁর ছোট ভাইয়ের নামে লিখে নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তা আজ সোমবারের মধ্যে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাশেম বলেন, সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ৬ নম্বর বয়ড়া ইউনিয়নে টিসিবির পণ্য কার্ডধারীদের না দিয়ে বেশি দামে বাইরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ৮ ঘন্টা বসে থেকেও পণ্য পাননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পরে ভুক্তভোগীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাকটি আটকে রাখেন।বয়ড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সুমন রাজবংশী বলেন, 'দুপুর দুইটা থেকে বসে থেকেও আমার ওয়ার্ডের পাঁচজন পণ্য পায়নি। ডিলারের লোকজন ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যের যোগসাজেশে কার্ড ছাড়া মাল বিক্রি করায় মাল কম পরেছে।'২ নং ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ইমদাদুল হক শাহিন বলেন, 'ইউনিয়নে ৮২ জন টিসিবির পণ্য পায়নি। টোটাল ৫২০ জন মাল পাবে। ডিলার বাদল মোল্লার লোকজন কার্ডধারীদের মাল না দিয়ে বেশি দামে বাইরে বিক্রি করায় কম পড়েছে।'টিসিবির পণ্য ডিলার মোল্লা ট্রেডার্সের কর্মচারী শরিফুল ইসলাম বলেন, 'যাত্রাপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কালিখোলা এলাকায় ২৬০ জনের মাল নেওয়ায় কম পড়েছে। ওখানে পণ্য কম দেওয়ার কথা ছিল।'এ ঘটনায় ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সেকেন্দার আলী বলেন, 'আমার কাছে ১৭৮ জনের কার্ড রয়েছে। আমরা ১৭৮ জনের পণ্য নিয়েছি। ডিলারের লোকজন কালীখোলায় মাল বিক্রি করেছে। বেশি বিক্রির বিষয়ে আমি জানিনা।'২ নং ওয়ার্ডের কার্ডধারি মঞ্জু বেগম বলেন, 'রোজা থেকে পণ্যের জন্য বসে আছি। তিন গ্লাস পানি খেয়ে ইফতার করছি। রাত আটটা বাজে এখনো পাইনি।'৬ নং বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদুর রহমান ফরিদ বলেন, 'আমার ইউনিয়নে ৫২০ জন কার্ডধারী পণ্য পাবে। ডিলার মোল্লা ট্রেডার্সকে ৫২০ জন কার্ডধারীকে পণ্য বুঝিয়ে দিতে হবে।'হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, 'কার্ডধারীদের পণ্য ডিলারের কর্ণধারকেই দিতে হবে। পণ্য কম দিতে পারবেনা। আমি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।' | 6 |
জৈন্তাপুরে গ্রামীণ কিচ্ছা পালার আয়োজন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে শিল্পীরা পরিবেশন করেন প্রেম, বীরত্ব, সম্মান আর নৈতিক অখণ্ডতার চমৎকার সব কিচ্ছা। দর্শক-শ্রোতারাও মন্ত্রমুগ্ধের মতো সে সব শুনে মোহিত হন। অর্গানাইজেশন অব ইয়ুথ টু সেভ হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (ঐশী) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় চারদিকে আলোকিত। সে আলোয় হেমন্তের ওই রাতের শীত শীত আবহাওয়া কিচ্ছা পালার এই আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে শ্রোতাদের কাছে। হাজার বছরের স্মৃতিঘেরা ঐতিহাসিক জৈন্তেশ্বরী বাড়ির সামনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের ডিন অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম।আব্দুল হাই আল-হাদী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএফএম জাকারিয়া ও কলেজ পরিদর্শক মো. তাজিম উদ্দিন। আনোয়ার হোসেন সোহাগের সঞ্চালনায় কিচ্ছা পালা পরিবেশন করেন প্রবীণ কিচ্ছা শিল্পী ফরিদ উদ্দিন ও তাঁর দল। অনুষ্ঠানে মোহন বাঁশি বাজান স্থানীয় শিল্পী সাবুল ও তাঁর দল। | 6 |
অর্থমূল্যের দিক থেকে শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুরস্কার ইদান প্রাইজ বৃহস্পতিবার স্যার ফজলে হাসান আবেদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারের স্বর্ণপদকটি গ্রহণ করেন তার মেয়ে ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন তামারা আবেদ। আর সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন তার ছেলে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স ও আলট্রা পুওর গ্র্যাজুয়েশন কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক শামেরান আবেদ। পুরষ্কার প্রদান উপলক্ষে এর প্রবর্তক ড. চার্লস চেন ইদান চলতি সপ্তাহে দু'দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ পুরষ্কার তুলে দেন। শিক্ষার উন্নয়নে যুগান্তকারী অবদানের জন্য ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্যার ফজলে হাসান আবেদ 'ইদান প্রাইজ ফর এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট লরিয়েট' হিসেবে ঘোষিত হন। অক্টোবরে ইদান প্রাইজ ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অঙ্গনের এই কীর্তিমান মানুষটির কাছ থেকে তারা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে পটপরিবর্তনের লক্ষ্যে তার দিকদর্শী নির্দেশনা এবং কেন্দ্রীয় ভূমিকা বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন। ২০ ডিসেম্বর স্যার ফজলে হাসান আবেদ মৃত্যুবরণ করার পরে ড. চেন ঢাকায় উপস্থিত হয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও পুরষ্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে ব্র্যাক পরিচালিত একটি স্কুল এবং বনশ্রীতে একটি প্রাক-শৈশব উন্নয়ন কেন্দ্র (আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার) বা প্লে ল্যাব পরিদর্শন করেন। পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার উন্নয়নে স্যার ফজলে হাসান আবেদের নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন ড. চার্লস চেন। তিনি বলেন, প্রকৃত সহানুভূতি, সাহস ও বিশ্বাসের সঙ্গে মানুষের সেবায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ জীবন উৎসর্গ করেছেন। চারপাশের মানুষকে নিরাশা ত্যাগ করে আশাবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তিনি। মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনায় আস্থাশীল হতে শিখিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে শামেরান আবেদ ধন্যবাদসূচক বক্তব্য পাঠ করেন। তামারা আবেদ বলেন, বাবার পক্ষ থেকে আজ এই পুরষ্কার গ্রহণ করতে পেরে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। তার বিপুল কর্মযোগের উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা বদ্ধপরিকর।' 'ইদান প্রাইজ ফর এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট লরিয়েট' হিসেবে স্যার ফজলে হাসান আবেদকে একটি সোনার মেডেল, একটি সার্টিফিকেট এবং তিন কোটি হংকং ডলার (প্রায় ৩৩ কোটি টাকা) মূল্যমানের অর্থ প্রদান করা হয়েছে। অর্থ পুরস্কারের অর্ধেক নগদ অর্থ এবং বাকি অর্ধেক একটি প্রকল্পের তহবিল হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্, ইদান প্রাইজ ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি-জেনারেল এডওয়ার্ড মা, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের (বিআইইডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইরাম মারিয়াম এবং ব্র্যাক ও ইদান প্রাইজ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার মাধ্যমে উত্তম বিশ্ব সৃষ্টির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৬ সালে হংকংয়ে ইদান প্রাইজ প্রবর্তন করা হয়। চীনভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানি টেনসেন্টের অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা ড. চার্লস চেন ইদান এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। | 6 |
পাইকগাছায় রাস্তায় বেড়া দেওয়ায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়া তিন পরিবারের দুরবস্থা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান। গত মঙ্গলবার বিকেলে তাঁরা এ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, কোনো ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নয়। খাস জমির ওপর দিয়ে তাঁদের চলাচলের রাস্তা করে দেওয়া হবে। এ সময় তিনি গড়ুইখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সমন্বয় সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ করে খাস জমির ওপর দিয়ে রাস্তার নির্দেশ দেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, গড়ুইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম কেরু, ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উল্লেখ্য, উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের হুগলার চক গ্রামে মো. ইউনুস আলী শেখ (৭০) ও তার ভাইয়েরা বসবাস করে। তাঁদের ৩টি পরিবার প্রায় ৪ বছর ধরে রাস্তা না থাকার কারণে জমির আইলের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি তাঁদের যাতায়াতের পথ স্থানীয় সামছুর ঢালী, কওসার ঢালী ও মুজিবর ঢালী বন্ধ করে দেন। এতে ওই ৩ পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অবরুদ্ধ পরিবারের যাতায়াতের জন্য খাস জমি অবমুক্ত করে রাস্তা তৈরির নির্দেশ দেন। | 6 |
কুমিল্লা নগরীতে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ফরিদ মুন্সী ও পেয়ারা বেগমের একমাত্র মেয়ে আঁখি আক্তার (১৭) মারা গেছেন। সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কলেজছাত্রী আঁখি মারা যান। গত পাঁচদিন ধরে আঁখি অজ্ঞান ছিল। সে দেবিদ্বার উপজেলার একটি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তিনি আরো জানান, ভাগনে রাকিবুল ইসলামের (২০) সিএনজি অটোরিকশাতে চড়ে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার গজারিয়া গ্রামের ফরিদ মুন্সী চিকিৎসার জন্য স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। নগরীর শাসনগাছা রেলক্রসিংয়ে তাদের বহন করা সিএনজি অটোরিকশায় মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় তিনি ও তার স্ত্রী পেয়ারা বেগম নিহত হন। আহত হন তাদের মেয়ে ও ভাগনে। এদিকে ওই দুর্ঘটনায় অপর আহত সিএনজিচালক রাকিবুল ঢামেকের চিকিৎসকদের পরামর্শে বর্তমানে বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন। তার অবস্থাও তেমন ভালো নয়। রাকিবুলের পুরো শরীর এখনও ফুলে রয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, আপনারা হয়তো দেখেছেন- আমি তিন দিন হেলিকপ্টারযোগে চার জেলার বন্যা পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছি। আমার এ যাওয়াটা ত্রাণ বিতরণ করতে নয়। বন্যা পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে গিয়েছি। এটা হেলিকপ্টার ছাড়া দেখা সম্ভব ছিল না। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে ডেঙ্গু জ্বর ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যখন বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে গিয়েছি, তখন কর্মীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য আমিও কিছু ত্রাণ বিতরণ করেছি। তবে, মূল কাজটি করেছে আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীরা ও মেডিকেল টিম। জিএম কাদের বলেন, দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমি সে কাজটিই করেছি। এর পাশাপাশি বন্যাদুর্গত মানুষকে সাহস যোগানোর চেষ্টা করেছি। তবে, দুর্গতদের সব ধরনের সহায়তা করার দায়িত্ব সরকারের। তিনি বলেন, বন্যা ও ডেঙ্গুতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল দেশ। এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আমরা জামালপুর, শেরপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটে ত্রাণ দিয়েছি। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, তাদের (বন্যদুর্গত) দাবি ত্রাণ নয়, বন্যা প্রতিরোধ করা। অনেকেই ত্রাণ নিতে চান না। এ সমস্যাগুলোর কারণে তারা ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ, সময়মত না পাওয়ার অভিযোগ করেন। যেসব এলাকা আক্রান্ত হবে, সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণ দেওয়া দরকার। তিনি বলেন, আমি যা দেখেছি, তার ভয়াবহতা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরেছি। সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি, বন্যার্তদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেবার জন্য। জিএম কাদের বলেন, দেশ এখন ভয়াবহভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরকার নির্ধারিত সময়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এডিস মশা নিধনের ওষুধ কাজ করছে না ভেজালের কারণে। কত মানুষ মারা গেছে, কত মানুষ আক্রান্ত- তার সঠিক হিসাব সরকারের কাছে নেই। তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে ফ্রি ডেঙ্গু চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার সে বিল পরিশোধ করবে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। | 6 |
ভোলায় পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট করতে আসলে আনোয়ারা বেগম নামে এক রোহিঙ্গা নারীসহ ৩ ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে ভোলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃত হলেন, আনোয়ারা বেগম, হালিমা খাতুন ও তার স্বামী মোঃ জাফর। আটককৃত আনোয়ারা বেগম কক্সবাজারের রামু থেকে এসেছেন বলে জানা গেছে। অন্যরা আনোয়ারা বেগমের বোন ও দুলাভাই পরিচয় দেন। ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ছগির মিয়া জানান, মঙ্গলবার দুপুরে পাসপোর্ট করতে এলে আনোয়ারা বেগমকে ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা খন্দকার তাজুল ইসলাম রোহিঙ্গা সন্দেহ হলে তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আনোয়ারা বেগমসহ তার কথিত বোন ও দুলাভাইকে আটক করে। তবে আনোয়ারা প্রকৃত রোহিঙ্গা কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও ভোলা থানার ওসি জানিয়েছেন। | 6 |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। জোটের বৈঠক শেষে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে রোববার সন্ধ্যায় ২০-দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।নজরুল ইসলাম খান বলেন, ২০-দলীয় জোটের নেতারা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে মিথ্যা মামলায় আটক রাজবন্দীদের মুক্তি ও নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবিতে সবাইকে একমত হয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য করতে হবে। এ বিষয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে জাতীয় ঐক্যের যে কথা বলেছেন, তাতেও সমর্থন জানিয়েছে ২০ দল।নজরুল ইসলাম খান বলেন, জোটের নেতারা খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার জোর দাবি জানিয়েছেন। বৈঠক শেষে বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বিএনপির সঙ্গে অন্য দলের ঐক্য নিয়ে ২০-দলীয় জোটের কোনো সমস্যা নেই। তবে শর্ত দিয়ে কোনো ঐক্য হয় না, বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে ২০ দলের শরিক দলের এক নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, আজকের বৈঠকের মূল আলোচনা ছিল চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তাঁর সুচিকিৎসা ও আগামী সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার দাবি আদায়ে যেকোনো মূল্যে বৃহত্তর ঐক্য গঠন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। জোটের নেতাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য এ টি এম আবদুল হালিম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিজেপির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ, এলডিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদ, লেবার পার্টির একাংশের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, এনপিপির সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার তাসনিয়া প্রধান, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস, নূর হোসেন কাসেমী, ইসলামি ঐক্যজোটের আবদুর রকিব, পিপলস লীগের সভাপতি গরিবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানির সভাপতি আজহারুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির সাভাপতি সাঈদুল হাসান প্রমুখ। | 9 |
সরকার পতন লড়াইয়ের ময়দানে দলের অনেকেই দালালি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নজরুল বলেন, 'আমাদের লড়াই করতে হবে। লড়াইয়ের ময়দানে দেখবেন, অনেকেই নতুন যুক্ত হবে, অনেকেই ঝরে যাবে। অনেকেই দালালি করবে, অনেকেই ষড়যন্ত্রের শিকার হবে। আবার অনেকেই লোভে পড়বে। এরপরও যারা সাচ্চা গণতান্ত্রিক, জনগণের পক্ষের শক্তি, তারা অবশিষ্ট থাকবে। সেই অবশিষ্ট সৎ, নিষ্ঠাবান, সংগ্রামী, গণতান্ত্রিক ও জনগণের পক্ষের মানুষগুলোকে নিয়ে হবে সংগ্রাম। তারা একসঙ্গে দেশ চালাবে।'নজরুল আরও বলেন, 'লড়াই ও সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারকে অপসারণ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। আপনি আলোচনা করে ও যুক্তি দিয়ে তাদের বোঝাতে পারবেন না। কারণ, তারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি। আর ভবিষ্যতে যদি নির্বাচন হয়, তাহলেও তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না।'কে কত বড় বীর তা নির্ধারণ করবে লড়াইয়ের ময়দান এমন মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'প্রয়োজনে জান দিতে হবে, গুলি খেতে হবে, মার খেতে হবে। কিন্তু পিছিয়ে যাওয়া চলবে না।''বিএনপির সব নেতার পদত্যাগ করা উচিত' ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে নজরুল বলেন, 'ওবায়দুল কাদের সাহেব, আপনারা ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিলেন। সবাই কি পদত্যাগ করেছিল? উনি পদত্যাগ করতে বলার কে? ২১ বছরে যারা পারেনি, তারা ১৩ বছর নিয়ে সমালোচনা করতে পারে?'লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নুর, মুসলিম লীগের চেয়ারম্যান কাজী আবুল খায়ের ও ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুর রকিব প্রমুখ বক্তব্য দেন। | 9 |
মানিকগঞ্জের গোপীনাথপুর থেকে প্রায় এক ঘণ্টার ট্রলারযাত্রা শেষে যে ঘাটে পৌঁছানো গেল, তার নামটি বেশ সুন্দর-গঙ্গাদধি। অনেকটা দূর থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, ওখানেই চলছে শুটিং। নদীর পাড়ে ভিড় করে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ। তাঁরা শুটিং দেখতে এসেছেন। কেউ আশপাশের গ্রাম থেকে, কারও বাড়ি আরও দূরে। তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অনেক আগে এ এলাকায় শাকিব খানের একটি সিনেমার শুটিং হয়েছিল। তারপর এ মুখো হয়নি কোনো শুটিং ইউনিট। এত বছর পর 'রেডিও' সিনেমার শুটিং করতে অনন্য মামুন পা রেখেছেন ওই চরে। গ্রামের মানুষের তাই আগ্রহের কমতি নেই।রোববারের দুপুরের রোদ যেন আরও তীব্র। ছায়ার উৎস কেবল একটি মাঝারি আকৃতির কাঁঠালগাছ। তার নিচে চেয়ার পেতে বসে আছেন রিয়াজ, মম, নাদের চৌধুরী ও লুৎফর রহমান জর্জ। নানা বিষয়ে গল্প চলছে। খানিক বাদে ডাক পড়লে পাড়ের খাদ বেয়ে সাবধানী পায়ে তাঁরা নেমে গেলেন চরে। ওখানে চিত্রগ্রাহক হৃদয় সরকার ক্যামেরা তাক করে আছেন। শট শুরু হবে।দৃশ্যটি এমন-নদীর চরে হঠাৎ এক বীর মুক্তিযোদ্ধার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। এ-কান ও-কান করে খবর পৌঁছালে দৌড়ে আসেন সবাই। লাশ ঘিরে চলতে থাকে মাতম। এ দৃশ্যের শুটিং করতে বিকেল গড়িয়ে গেল। এরপর হঠাৎ বৃষ্টি। অনেকটা পথ দৌড়ে টিনে ছাওয়া ছোট এক ছাউনিতে আশ্রয় নিলেন ইউনিটের সবাই।বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ছে। সন্ধ্যা নামছে পদ্মার পাড়ে। এদিন আর শুটিং হবে কি না, এ নিয়ে সংশয়। এর মধ্যে 'রেডিও' সিনেমায় স্কুলশিক্ষক চরিত্রের অভিনেতা রিয়াজ বললেন, 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে সিনেমাটি তৈরি হচ্ছে। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে যেখানে একটিমাত্র রেডিও ছিল খবর পাওয়ার সম্বল, সেখানে ৭ মার্চের ভাষণ কীভাবে উজ্জীবিত করেছে সাধারণ মানুষকে, সেটিই এ সিনেমার গল্প।''রেডিও' সিনেমার গল্প লিখেছেন আনন জামান। ৭ মার্চ সিনেমাটির প্রিমিয়ার করা হবে, এ উদ্দেশ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে কাজ, জানালেন নির্মাতা অনন্য মামুন। | 6 |
সাড়া জাগানো প্যান্ডোরা পেপারস কেলেঙ্কারি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। রাজা-বাদশাহ, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, সেলিব্রেটিসহ গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যক্তিরা তথ্য গোপন করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন এবং অবৈধ লেনদেনে যুক্ত রয়েছেন, তাদের নিয়ে গতকাল থেকে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। কর্তৃত্ববাদী রাশিয়া, আজারবাইজান, চেক প্রজাতন্ত্র ও রাজতান্ত্রিক জর্ডানের রাষ্ট্রপ্রধানদের অবৈধ সম্পদ নিয়ে কথা হলেও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গণতান্ত্রিক দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। সরাসরি দুর্নীতির দায় না থাকলেও দলীয় তহবিলে অনৈতিক লেনদেনের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গদিতেই টান পড়া শুরু হয়েছে। খবর বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, এনডিটিভি ও দ্য ডনের। গত রোববার ইন্টারন্যাশনাল করসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) প্যান্ডোরা পেপারস প্রকাশ করে। আইসিআইজের ফাঁস করা নথিতে দেখা গেছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাছের মানুষরাই অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার বিদেশে পাচার করেছেন। এ তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম দেশটির অর্থমন্ত্রী ও ইমরান খানের বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত শওকত তারিন এবং তার পরিবারের সদস্যরা। শিল্প ও উৎপাদনমন্ত্রী খোশরো বখতিয়ারের পরিবারও কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে আছেন। আরও আছেন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্য ফয়সাল ওয়াদা, ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের শীর্ষস্থানীয় দাতা আরিফ নকভি, দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আবদুল আলিম খান এবং ইমরান খানের সাবেক অর্থ ও রাজস্ববিষয়ক উপদেষ্টা ওয়াকার মাসুদ খানের ছেলে। আরিফ নকভির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে প্রতারণার মামলা চলছে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে আরিফ নকভি ছিলেন ইমরান খানের পৃষ্ঠপোষক এবং তহবিল জোগানদাতা। প্যান্ডোরা পেপারসে বেশ কয়েকটি অফশোর কোম্পানিতে তার বিনিয়োগের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী শওকত তারিন এবং তার পরিবারের সদস্যরা অন্তত চারটি অফশোর কোম্পানির মালিক। যদিও গতকাল এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে শওকত তারিন বলেছেন, যে অফশোর কোম্পানিগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলো তার ব্যাংকের তহবিল সংগ্রহের জন্য গঠন করা হয়েছিল। রাজনীতিক, সাংবাদিক, সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাসহ সাত শতাধিক পাকিস্তানির নাম প্যান্ডোরা পেপারসে এলেও ঘনিষ্ঠদের দুর্নীতি ও অর্থ পাচার নিয়ে বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন ইমরান খান। কারণ এর আগে প্যারাডাইস ও পানামা কেলেঙ্কারি নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করেছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে পানামা পেপারসের দুর্নীতির তথ্যকে কাজে লাগিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার সরকারকে কোনঠাসা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই মামলায় ক্ষমতা হারান নওয়াজ। উত্থান হয় ইমরান খানের। সে সময় থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ইমরান খান। তবে এবার প্যান্ডোরা পেপারসে দেখা যাচ্ছে, তার চারপাশেই ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতিবাজ ও সম্পদ গোপনকারীরা সুবিধাজনক জায়গায় বসে আছেন। ফলে বিষয়টি ইমরান খানের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের সাধারণ সম্পাদক আহসান ইকবাল গতকাল সোমবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে প্যান্ডোরা পেপারস নিয়ে ইমরান খানকে একহাত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ইমরানের পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি। আহসান ইকবাল বলেন, প্যান্ডোরা পেপারসে নাম এসেছে প্রধানমন্ত্রীর। ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার নৈতিকতা হারিয়েছেন তিনি। আহসান ইকবাল আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলে বিরোধীদের ঘায়েল করেছেন ইমরান খান। এখন সেই বন্দুক তার দিকেই তাক হয়েছে। তথ্য গোপন করে বিদেশি পুরস্কারও নিয়েছেন তিনি। তার পদত্যাগ করা উচিত। তবে গতকাল একাধিক টুইটে ইমরান খান প্যান্ডোরা পেপারসের বিষয়ে তার অবস্থান পরিস্কার করার চেষ্টা করেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করবেন তিনি। এদিকে প্যান্ডোরা পেপারস নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও ব্যাপক চাপে পড়েছেন। জনসনের ঘনিষ্ঠ ও শীর্ষস্থানীয় দাতা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমেরসি অবৈধভাবে নির্বাচনের সময় দলীয় তহবিলে চাঁদা দিয়েছিলেন বলে প্যান্ডোরা পেপারসে উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে ২২০ মিলিয়ন ডলার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এমন একজন দুর্নীতিবাজের কাছ থেকে দলীয় তহবিলে অর্থ নেওয়ায় গতকাল জনসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন বিরোধী দল লেবার পার্টি ও অন্য দলের নেতারা। এ বিষয়ে গতকাল লেবার নেতা অ্যানেলিয়েসি বলেছেন, ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির হোতার (আমেরসি) কাছ থেকে হাজার হাজার পাউন্ড নিয়েছেন কনজারভেটিভরা, এটি খুবই উদ্বেগের বিষয়। সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার শর্তে এই বিপুল অর্থ নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ফেরত দেওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার গতকাল দলীয় সম্মেলনে জনসন বলেছেন, সব নিয়ম নেমে স্বাভাবিকভাবেই দাতাদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। তবে বিতর্কিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমেরসির কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন তিনি। এ বিষয়ে লেবার এমপি মার্গারেট হজ বলেছেন, কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাজ্য। নোংরা অর্থের পথ হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে আমাদের অফশোর কোম্পানিগুলো। এটি যুক্তরাজ্যের জন্য লজ্জাজনক।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমও প্রধানমন্ত্রী জনসনকে জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় তুলেছে। এখন দেখার বিষয় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়। গণতান্ত্রিক ব্রিটেনে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় টিকে থাকা কতটা সম্ভব, তা সময়ই বলে দেবে। | 3 |
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলবে হাজির হননি এনআরবি ব্যাংকের তিন পরিচালক ও এক শেয়ার হোল্ডার। তাদের সবাইকে গতকাল সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তারা হাজির না হয়ে কমিশনের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কতদিন পেছাতে আবেদন করা হয়েছে তা জানা যায়নি। তলবকৃত ব্যাক্তিরা হলেন এরআরবি ব্যাংকের পরিচালক নাফিহ রশিদ খান, নাভিদ রশিদ খান, তাদের বাবা ব্যাংকটির শেয়ার হোল্ডার আমিনুর রশিদ খান ও পরিচালক ইদ্রিস ফরায়জী। তাদেরকে গতকাল সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছিল। এর আগে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের বিপুল অংকের শেয়ার ক্রয় ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সিরাজুল হক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ তাদের ঠিকানায় পাঠানো হয়। এছাড়া অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছের চিঠি দেয় দুদক। | 6 |
কান্নার শব্দ শুনে দরজা খুলতেই বাড়ির মালিক তানিয়া দেখতে পান মাটিতে পড়ে থাকা একটি শিশু চিৎকার করে কান্না করছে। তখন বাজে রাত ৮ টা। অচেনা শিশুটিকে দেখে চিৎকার দিয়ে ওঠেন তানিয়া। এসময় আশপাশের আরও কয়েকজন নারী ছুটে আসেন। তারা ফুটফুটে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। মুহুর্তেই লোকজন ছুটে আসে। পরে তানিয়ার স্বামী অশোক চন্দ্র পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির মা শিশুটিকে ওই বাড়ির মূল ফটকের সামনে মাটিতে ফেলে রেখে চলে যায় বলে অনুমান করছে স্থানীয়রা। শিশুটির বয়স ১ মাস। পেয়ারা মজুমদার জানান, রিমু তার ওই শিশু সন্তানকে আমাকে দিয়ে দিতে চায়। কিন্তু তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে তাকে পরে আসতে বলেন। এর পর পরই শিশুটিকে তানিয়ার বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যায় সে। শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে দত্তক নেয়ার জন্য হাসপাতালে ভিড় জমে ওঠে। এসময় শিশুটিকে এক পলক দেখার জন্য অনেক লোকজন ছুটে আসে। অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। দত্তক নেয়ার আগ্রহীরা শিশুটিকে যত্ন সহকারে লালন পালন করবেন বলে জানান। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সিরাজদৌল্লা পলিন জানান, শিশুটি সুস্থ আছে। শিশুটিকে শিশু ওয়ার্ডে নিবির পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী শিশুটিকে দেখতে আসেন। জেলা প্রশাসক শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করেন। এসময় জেলা প্রশাসক জানান দত্তক নেয়ার জন্য অনেকেই ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। কিন্তু আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দত্তক নিতে হবে। তিনি শিশুটির সকল প্রকার দায়িত্ব নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে শিশুটির মা ও বাবাকে খুঁজছে পুলিশ। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
নতুন ধান কাটা উপলক্ষ্যে বাঙালি অন্যতম উৎসব 'নবান্ন'। হেমন্তের দ্বিতীয় মাস অগ্রহায়নের প্রথম দিন নবান্ন হলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পঞ্জিকা মতে আজ মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) পালিত হচ্ছে নবান্ন উৎসব। এ উপলক্ষ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলী হাটে বসেছে নবান্নের মেলা। যার মূল আকর্ষণ 'বড় মাছ'। হাটে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত ক্রেতা বিক্রেতার পদভারে সকাল থেকেই মুখরিত হাট প্রাঙ্গন। রুই, কাতল, চিতল,পাঙ্গাসসহ নানা জাতের মাছের আমদানী হয়েছে নবান্নের হাটে। এ উপলক্ষ্যে আশে পাশের ২০টি গ্রামের মানুষেরা নতুন জামাই সহ আত্মীয়স্বজনদের দাওয়াত দিয়েছেন। তারা মেলায় এসেছেন বড় মাছ ও মিষ্টি কিনতে। করোনা ভাইরাসের কারণে সীমিত আকারে হলেও হাটটি মেলায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, নবান্নের এই হাটের মূল আকর্ষণ বড় মাছ। এবার ১০ থেকে ১৫কেজি ওজনের মাছ উঠেছে। প্রতিবছর সনাতন পঞ্জিকা মতে অগ্রহায়নের প্রথম দিনে নবান্নের এই হাট বসে। তবে কবে থেকে এই নবান্নের হাট বসে তা কেউ বলতে পারে না। মাছ বিক্রেতা আব্দুল বাছেদ, খয়বর হোসেন জানান, প্রতি বছর নবান্নের হাটে একদিনেই প্রায় এক থেকে দেড়কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়। হাটে উঠেছে নতুন শীতকালীন সবজি। এছাড়াও হাটে নানা ধরনের মিষ্টান্ন, মুড়ি মুড়কি এবং শিশুতোষ খেলনারও দোকান বসে। | 6 |
গত বুধবার বিকেল থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাটের তিনটি ইউনিয়নের ২৫০ হেক্টর জমির আমন ধান পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নড়াইল, বিলডোরা, স্বদেশি ও কৈচাপুর এলাকার নিম্নাঞ্চলে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রতিনিয়ত হওয়া বৃষ্টির কারণে প্লাবন বেড়ে যাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।এর আগে চলতি বছরের গত জুলাইয়ের শুরুতে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন কাটায়। ওই সময় ঘরবাড়ি, রাস্তা ও বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়।বিলডোরা গ্রামের প্রান্তিক কৃষকেরা বলেন, গত মাসে পাহাড়ি ঢলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। সেই ধাক্কা সামলে গত সপ্তাহে ধারদেনা করে চারা রোপণ করা হয়েছে। কিন্তু আবারও পুরো খেত এখন পানির নিচে চলে গেছে।নড়াইল ইউনিয়নের কৃষক শহিদুল্লাহ বলেন, ধারদেনা কইরা ১০ শতক জমিতে আমন চারা রোপণ করছিলাম। দুই দিন ধইরা তা পানির নিচে। এখন খুব চিন্তায় আছি।এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ২৫০ হেক্টর জমির ফসল পানি নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। কিন্তু দ্রুত পানি কমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত তা পর্যবেক্ষণ করছেন। | 6 |
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে দুইটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাদ্দাম হোসেন (২৫) নামে এক যুবক নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর দেড় টায় বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত সাদ্দাম উপজেলার দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের মৃত্যু বাবুল হাওলাদারের পুত্র।স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর দেড় টায় মো. সাদ্দাম হোসেন ও তাঁর ভাগনে মো. শুভ মোটরসাইকেল যোগে বরিশাল শহর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পূর্ব রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হয়।স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে মো. সাদ্দাম হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩টায় মারা যান। | 6 |
নগরীর মনসুরাবাদে আধা কিলোমিটারের মধ্যে পুলিশের জন্য নির্মিত হচ্ছে বিশতলাবিশিষ্ট দুটি আবাসিক ভবন। এর মধ্যে মনসুরাবাদ পুলিশ লাইনের ভেতরে নির্মিতব্য ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৬৫০ বর্গফুট। এতে থাকবেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও কনস্টেবলরা। অন্য ভবনটিতে ১ হাজার বর্গফুটের ১৫২টি ফ্ল্যাট থাকছে। এগুলোর বরাদ্দ পাবেন পুলিশের পরিদর্শক থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। পুলিশ লাইনে নির্মিতব্য ভবনের ফ্ল্যাটের আকার-আয়তন নিয়ে এএসআই ও কনস্টেবলদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) কর্মরত এক কনস্টেবল নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'এই ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকাটা কঠিন হবে। ফ্ল্যাটে ছোট্ট দুটি রুম থাকবে। সেখানে গাদাগাদি করে ছেলেমেয়ের পাশাপাশি বাবা-মাকে নিয়ে থাকা অসম্ভব। সরকারি কোয়ার্টারগুলো এর চেয়ে অনেক বড়। আবার ভাড়া হিসেবে বেতনের বেসিক অনুযায়ী অর্ধেক টাকা কেটে রাখা হবে। আমাদের ভয় হচ্ছে, স্যারেরা কোনদিন জোর করে এসব ফ্ল্যাট আমাদের ওপর চাপিয়ে দেবেন।'ফ্ল্যাটগুলো তুলনামূলক ছোটো হওয়ায় এতে থাকার বিষয়ে তাঁর মতো অন্য অনেক পুলিশ কনস্টেবল ও এএসআইয়ের মধ্যে অনীহা রয়েছে। নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, পিডব্লিউর অধীনে যেসব সরকারি কোয়ার্টার নির্মিত হচ্ছে, সেসব ফ্ল্যাট সর্বনিম্ন ৮০০ বর্গফুট করে নির্মিত হচ্ছে। সেখানে পুলিশ সদস্যদের জন্য মাত্র ৬৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পুলিশ কনস্টেবলদের জন্য নির্মিত ফ্ল্যাটে অন্তত তিনটি বেডরুম রাখার প্রয়োজন ছিল।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক পুলিশ সদস্য বলেছেন, এখানে বৈষম্য চলছে। কনস্টেবলদের জন্য গাদাগাদি করে ছোট ফ্ল্যাট দিচ্ছে। আর অফিসারদের জন্য দিচ্ছে আলিশান বাড়ি।এ বিষয়ে সিএমপির পক্ষে প্রকল্পটির তদারককারী উপকমিশনার (এস্টেট ও ডেভেলপমেন্ট) এস এম মোস্তাইন হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ভবন নির্মাণের আগে সরকার ৬৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়। পরে আমরা ফ্ল্যাটের আয়তন ৭৫০ বর্গফুট করার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। এ বিষয়ে তো আমরা আর বেশি কিছু করতে পারি না। ওপরের নির্দেশনার বাইরে তো আমরা যেতে পারি না।'তবে পরবর্তীতে সিএমপিতে যেসব ভবন নির্মিত হবে, সেসব ফ্ল্যাটের আয়তন বাড়ানোর বিষয়ে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এরপর থেকে যেসব ভবন নির্মিত হবে সেগুলো আয়তনে বড় হবে।প্রকল্পের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, চট্টগ্রামের মনসুরাবাদ পুলিশ লাইন ও ডবলমুরিং থানার ভেতর প্রথমবারের মতো বিশতলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। পুলিশের জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৯টি আবাসিক টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই ভবন দুটি নির্মিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রকল্পের কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ পেয়েছেন বিবিএল ও ডিইসিএল (জেভি)। মনসুরাবাদের ভবনটির প্রতি তলায় ১২ ইউনিট করে মোট ২২৮টি ফ্ল্যাট নির্মিত হচ্ছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৮১ কোটি ৪৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। গত বছরের ১২ অক্টোবর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কার্যাদেশ দে্য়ও হয়েছে। ২০ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।এদিকে ডবলমুরিং থানার কম্পাউন্ডের ভেতরে নির্মিত ২২ তলা ভিত্তিসহ ২০ তলা আবাসিক ভবনটির প্রতি তলায় ৮টি ইউনিট করে মোট ১৫২টি ফ্ল্যাট নির্মিত হচ্ছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৪১ লাখ ৭৭ হাজার টাকার ওপরে। গত বছরের ১৭ আগস্ট প্রকল্পটির চুক্তি সম্পাদিত হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ পায় কুশলী নির্মাতা লিমিটেড। ১৮ মাসের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল মেয়াদ ধরা হয়েছে।প্রকল্প তদারক করছে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ডেভেলপমেন্ট-২), সিএমপির ডিসি (এস্টেট ও ডেভেলপমেন্ট) ও চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ।ডিসি এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, সিএমপিতে কর্মকালীন সরকারি বাসা হিসেবে ফ্ল্যাটগুলো পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এই বরাদ্দ প্রক্রিয়া শুরু হবে। পুলিশ সদস্যদের বেসিক অনুযায়ী ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ যে বাসা ভাড়া পেয়ে থাকেন, বাসা বরাদ্দ পেলে তা কেটে রাখা হবে।পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'অবকাঠামোগত কাজ শুরু হতে আমাদের একটু দেরি হয়েছিল। যে কারণে নির্মাণকাজ শেষ হতে আরও দেড় বছরের মতো লেগে যাবে।' | 6 |
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ধর্মভিত্তিক দলের ছাত্রসংগঠনের রাজনীতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা ডাকসু বা ঢাবি কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার বহির্ভূত বিষয় বলে মনে করেন ভিপি নুরুল হক নুর। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ মত দেন। বিবৃতিতে নুর লিখেছেন, গতকাল ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর বৈঠকে ডাকসুর এজিএস ও ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন ও সদস্য রাকিবুল ইসলাম এর ঢাবিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আমার বক্তব্য ছিল নিম্নরূপ: তিনি আরও বলেন, মিটিংয়ের এক পর্যায়ে ৩৪ জন ছাত্রলীগ নেতার অবৈধভাবে ভর্তি ও জিএস এর পদে থাকা নিয়ে আলোচনা তুললে অবৈধভাবে ভর্তি হওয়া ডাকসু নেতাদের ব্যক্তি আক্রমাণাত্মক কথা বার্তায় আমি সভা বর্জন করে বের হয়ে আসি। আমার অনুপস্থিতিতে তারা নিজেদের মতো করে সংযোজন বিয়োজন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং তা ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনের স্বাক্ষরসহ প্রকাশ করে, যা সর্বসম্মত নয়। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 1 |
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল বুয়েট। তাদের চলমান আন্দোলন মঙ্গলবার রাতে স্থগিত করে বুধবার সকাল থেকে আবার তা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাত পৌনে ১০টার দিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে উপাচার্য সাইফুল ইসলামের কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়ার সময় কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় অবস্থান নিয়ে তারা আবার আন্দোলন শুরু করবেন। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের তালা খুলে দিলে তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন। এর আগে সন্ধ্যায় ওই কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এতে ভেতরে আটকা পড়েন উপাচার্য সাইফুল ইসলাম। এদিকে, আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। রাত ১১টার দিকে কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় এই তথ্য জানান উপাচার্য সাইফুল ইসলাম। এর আগে দিনভর উত্তাল থাকে বুয়েট। ক্যাম্পাস থেকে
হত্যাকারীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাসহ আট দফা
দাবিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বার আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাস। দাবির সমর্থনে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান
নেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বুধবারও বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি
চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ
আশপাশের এলাকায় আবরারের প্রতীকী লাশ নিয়ে বিক্ষোভও করেন ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। বিক্ষোভে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
অধিভুক্ত রাজধানীর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাসে আবরার ফাহাদের গায়েবি জানাজাও পড়েন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে আট
দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন বুয়েটের
শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব ক্লাস-পরীক্ষা ও একাডেমিক
কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন তারা। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে
অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান বুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন
শিক্ষার্থীরাও। ঢাবি ও বুয়েট ক্যাম্পাসে পূজার ছুটি থাকা সত্ত্বেও
শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলনরতদের আট
দফা দবি হলো- আবরারের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ৭২ ঘণ্টার
মধ্যে খুনিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা, আবাসিক হলগুলোতে
র্যাগের নামে এবং ভিন্নমত দমানোর নামে নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের সক্রিয়
ভূমিকা নিশ্চিত করা, ঘটনার ৩০ ঘণ্টা পরও ভিসি কেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি
তা মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে
জবাব দেওয়া, আবরার হত্যা মামলার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বহন করা,
এর আগের ঘটনাগুলোর বিচার করা, ১১ অক্টোবরের মধ্যে শেরেবাংলা হলের
প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করা এবং বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি স্থায়ীভাবে
নিষিদ্ধ করা। বুয়েটের শেরেবাংলা হলে প্রভোস্ট পদত্যাগে সম্মত হয়েছেন বলে
জানা গেছে। এ ছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে বুয়েটে সব ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলন
চলাকালে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করতে আসেন বুয়েটের
ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে
তিনি ক্যাম্পাসে এলে আন্দোলনকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। শিক্ষার্থীরা
ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের জন্য তার কাছে দাবি জানান। তোপের মুখে পড়েন
তিনি। তিনি স্বীকার করেন, 'আমাদের দেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে কোনো
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি থাকার দরকার নেই। বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি থাকার
কোনো প্রয়োজন নেই।' এ সময় শিক্ষার্থীরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।
তবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা না বলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও দেখান
আন্দোলনকারী অনেকেই। এক পর্যায়ে মিজানুর রহমান বলেন, তিনি উপাচার্যকে
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি অবহিত করবেন। তিনি বলেন, 'আমি
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছি'। এ সময় তাকে সেখানে ৫টা পর্যন্ত থাকার অনুরোধ
জানান শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার
জন্যও তার কাছে অনুরোধ করেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ:
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে বলে
অভিযোগ করেছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের
সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে এমন অভিযোগ করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড.
একেএম মাসুদ। এর আগে আবরার হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে
বিবৃতি দেয় শিক্ষকদের এ সংগঠন। উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ:
শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম অনুসারে বিকেল ৫টার মধ্যে উপাচার্য উপস্থিত না
হওয়ায় বিকেলে তার সঙ্গে দেখা করতে উপাচার্যের কার্যালয় ঘিরে বিক্ষোভ মিছিল
করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে কার্যালয়ের গেটের ভেতর থেকে তালা দেওয়া
থাকায় প্রবেশ করতে পারেননি তারা। পরে গেটের বাইরে থেকে আরেকটি তালা লাগিয়ে
দিয়ে কার্যালয় সামনে অবস্থান নেন তারা। বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান
কর্মসূচি পালন করার পর বিকেল ৪টার পর থেকেই উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে
জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ওই সময় বিভিন্ন
হল প্রভোস্টদের নিয়ে মিটিং করছিলেন। এদিকে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে না
পারায় গেটের তালা ভেঙে প্রবেশ করার দাবিও জানায় শিক্ষার্থীদের একপক্ষ।
অপরপক্ষের দাবি, উপাচার্য নিজ থেকে এসে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি করুক।
অবশেষে সন্ধ্যা ৬টার পর শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.
সাইফুল ইসলাম। শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। শিক্ষার্থীরা
নানা প্রশ্নবাণে তাকে জর্জরিত করেন। উপাচার্য বলেন, 'তোমাদের দাবির বিষয়ে
নীতিগতভাবে আমরা একমত। সবকটা দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। তোমরা অধৈর্য হয়ো না।
দাবিগুলো বাস্তবায়নে আমরা কাজ করব। শিক্ষার্থীরা জানতে চান, 'সোমবার আপনি
আসেননি কেন?' উপাচার্য বলেন, 'আমি রাত একটা পর্যন্ত অফিস করেছি। তোমাদের
জন্যই কাজ করেছি।' এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অধৈর্য না হওয়ার আহ্বান জানান। এ
সময় তিনি সার্বিক বিষয়ে কথা বলার জন্য শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল
পাঠিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
তারা সবাই মিলে একসঙ্গে বসতে চান। এ সময় উপাচার্য সবাইকে নিয়ে বসা যায় না
বলে জানান। শিক্ষার্থীরা তার আশ্বাসে আশ্বস্ত না হলে দাবি দ্রুত মেনে
নিতে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উপাচার্য স্থান ত্যাগের
চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাকে উপাচার্য কার্যালয়ে ঢুকতে বাধ্য করেন। এরপর
তাকে কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক। এ সময়
শিক্ষার্থীরা তাদের আট দফা দাবি না মানা পর্যন্ত আগামী ১৪ অক্টোবর
অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার
ঘোষণা দেন। পরে প্রায় ৩ ঘণ্টা পর উপাচার্যের কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়। এদিকে
রাতে বুয়েট শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীরা মোমবাতি প্রজ্বালন করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, তারা রাতে ব্যাচভিত্তিক বৈঠক করে বুধবার সকালে নতুন
কর্মসূচি ও দাবিগুলো তুলে ধরবেন। | 6 |
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায় জমি ক্রয় সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন চাচাকে হত্যার দায়ে দুই ভাতিজাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের উভয়কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।গত সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন।দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ইটাল (৩৬) ও তাঁর আপন ছোট ভাই আজম (৩৩)। তাঁরা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার নৃসিংহপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে।আদালত সূত্রে জানা যায়, জমি ক্রয় সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১০ সালের ৩ জুন সকালে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে আপন চাচা তহির উদ্দিনকে (৫৫) জখম ও গুরুতর আহত করে আসামি ইটাল ও আজম। অজ্ঞান ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন নিহত তহির উদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ইবি থানার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলার তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর ইবি থানা-পুলিশের এসআই সৈয়দ আশিকুর রহমান দণ্ডবিধির ৩০২ / ৩৪ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে সোমবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে রোববার আদালত এ রায় দেন।আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী বলেন, হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আসামি আজম ও ইটালকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। | 6 |
বিক্ষিপ্ত সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেরপুর, জামালপুর এবংনেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন ইউপনিয়ন পরিষদে (ইউপি) গতকাল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর এবংজামালপুর জেলার কয়েকটি কেন্দ্রে সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:শেরপুর: শেরপুর সদর উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ ভালোভাবে শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীর সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ২৫ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা এবং ৩৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ।জানা গেছে, কামারিয়া ইউনিয়নের খুনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষের জেরে পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চকপাড়া ও গণইভরুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে লছমনপুর ইউনিয়নের হাতিআলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় ওই দুই কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে চরশেরপুর ইউনিয়নের নাগপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া একই ইউনিয়নের বামনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও একপর্যায়ে ইউপি সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সদস্য প্রার্থী তোফাজ্জল মিয়া (৩৫) ও তার ছোট ভাই শামীম হোসেন (২৪) প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন।কামারিয়া ইউনিয়নের খুনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. মোখলেছুর রহমান জানান, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকেরা হুড়মুড়িয়ে ভোটকেন্দ্রের ভেতর ঢুকে পড়েন। এ সময় তাঁরা কর্তব্যরত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে থেকে তিনটি করে ব্যালট বইয়ের ৯ সেট ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং শটগানের এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ব্যালট ছিনতাইয়ের পর কেন্দ্রটির ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়।এদিকে, লছমনপুর ইউনিয়নের হাতিআগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা পৌনে ১২টার দিকে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের শটগানের গুলিতে তোতা মিয়া (৩২) নামে ব্যক্তি আহত হন। ওঘিনাপাড়া কওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রেও প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকেরা সহিংসতায় জড়ালে ৬ রাউন্ড গুলি করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া চরশেরপুর, পাকুড়িয়া ও চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৪ জনের মতো আহত হওয়ার সংবাদপাওয়া গেছে।জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শানিয়াজ্জামান তালুকদার জানান, এখন পর্যন্ত পাঁচটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কন্ট্রোল রুমে পর্যায়ক্রমে ফলাফল ও অন্যান্য ঘটনার খবর আসছে। স্থগিত কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।জামালপুর: বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ আর হামলা-ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে গতকাল জামালপুর সদর উপজেলার তিন ইউপির নির্বাচন শেষ হয়েছে। বাকি ১২ ইউপিতে নির্বাচনী পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের বুখুঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ব্যালট পেপারে সিল দেওয়ার খবরে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকেরা কেন্দ্রে হামলা চালান। এ সময় কেন্দ্রে ভাঙচুর করে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়।এদিকে শাহাবাজপুর ইউনিয়নের পক্ষীমারি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টকে বের করে দেন। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম কেন্দ্রে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে।এদিকে দুপুর দুইটায় লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নে গজারিয়া কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে তিন পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। সহকারী পুলিশ সুপার সুমন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।নেত্রকোনা: কয়েকটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন গোলযোগ ছাড়া নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা ও আটপাড়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সদর উপজেলার দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নের আতকাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বায়রাউড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট কক্ষ দখল করে নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা ভোট দিতে চাইলে গোলযোগের সৃষ্টি হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি সাপেক্ষে প্রিসাইডিং অফিসাররা কেন্দ্র দুটির ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ স্থগিত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া একই কারণে দুপুর ১২টার দিকে লক্ষ্মীগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কিছুক্ষণ ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকে। পরে পুলিশ ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার পর আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বায়রাউড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে থেকে পুলিশ ১০০টি ব্যালট পেপার উদ্ধার করেছে। | 6 |
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে রবিবার প্রথম আপসেট ঘটাল চেকরা। শক্তি-সামর্থ্যে এগিয়ে থাকা নেদারল্যান্ডসকে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল চেকরা। রবিবার চেক প্রজাতন্ত্রকে জিতিয়ে নায়ক বনে যান থমাস হোলস। একটি গোলসহ ম্যাচে একটি অ্যাসিস্টও এসেছে তার পা থেকে। অন্যদিকে এ ম্যাচে অন টার্গেট শট নিতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। অথচ নেদারল্যান্ডসের ফিফা র্যাঙ্কিং ১৬ এবং চেক প্রজাতন্ত্রের ৪০। বিশাল ফারাক থাকলেও মাঠের খেলায় অন্য রকম ফল দেখিয়েছে চেকরা। এ নিয়ে চেকের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডস টানা তিনটি ম্যাচে হারল। সব মিলিয়ে ১২ বারের মুখোমুখি দেখায় ডাচদের হার ৬টি। ৩টি জয়ের বিপরীতে অপর তিনটি ম্যাচে ড্র করেছে তারা। একই সঙ্গে ১৯৮৮ সালে শিরোপা জয়ের পর নেদারল্যান্ডস নকআউটের বাধা পেরোতে পেরেছে মাত্র দুইবার। রবিবার পেরেঙ্ক পুসকাস স্টেডিয়ামে ১০ মিনিট যেতে না যেতেই বড় সুযোগ তৈরি করে নেদারল্যান্ডস। মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ে ডিফেন্সের ফাঁক দিয়ে চেক প্রজাতন্ত্রের ডি বক্সে ঢুকে যান ডানজেল ডামফ্রিস। চেক প্রজাতন্ত্রের কালাস ডানজেল ডামফ্রিসের সেই প্রচেষ্টা হেডের মাধ্যমে ব্যর্থ করেন। ২২তম মিনিটের সময় ডাচ ডিফেন্ডার ম্যাথিস ডি লিটকে পরাস্ত করে বল নিয়ে এগিয়ে যান সুচেক। তবে উড়িয়ে মারার কারণে গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে যায় তার শট, প্রাণে বাঁচে নেদারল্যান্ডস। এই বেলা পরাস্ত হওয়া ডি লিট দলকে উদ্ধার করেন ম্যাচের বিরতির আগে। রক্ষণচেড়া দৌড়ে চেক প্রজাতন্ত্র বল নিয়ে ঢুকে গেলে সুন্দরভাবে প্রতিপক্ষকে রুখে দেন জুভেন্টাস তারকা। এভাবেই এগিয়েছে ম্যাচের বয়স। গোলশূন্য ড্র নিয়ে প্রথমার্ধের বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের খেলাও এগোচ্ছিল ড্রয়ের পথে। ৫৫তম মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ডাচরা। সুচেককে ফাউল করলে লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন লিট। চেক প্রজাতন্ত্র সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে। কালাসের পাস থেকে বল পেয়ে নেদারল্যান্ডসের জালে জড়ান থমাস হোলস। তাতে নিরাশ হয় ডাচ সমর্থকরা। আশা বাড়ে চেক প্রজাতন্ত্রের। ৮০তম মিনিটে থমাস হোলের পাসে গোল করেন প্যাট্রিক সিখ। এ নিয়ে টুর্নামেন্টে চার গোল হলো তার। যা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পর্তুগিজ তারকা ৫ গোল করে শীর্ষে আছেন । শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে চেক প্রজাতন্ত্র। ব্যর্থ হয় ডাচ স্বপ্ন। ডাচদের সবচেয়ে বড় তারকা মেম্ফিস ডিপাই। এ মৌসুমেই অলিম্পিন লিঁও থেকে বার্সেলোনায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। আক্রমণভাগে তার সঙ্গে আরো রয়েছেন লুক ডি ইয়ং, কুইন্সি প্রমেসরা। মধ্য মাঠে ডাচদের সবচেয়ে বড় ভরসা জর্জিনিও উইনাল্ডাম। দলের অধিনায়কও তিনি। টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন তিনি যা যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মধ্যমাঠে এছাড়াও রয়েছেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, ডাভি ক্লাসেন, মার্টেন ডি রনরা। রক্ষণভাগে দলটির একঝাঁক তরুণ তারকা। জুভেন্টাসের ম্যাথিস ডি লিট থেকে শুরু করে নাথান এইকে, ডানজেল ডামফ্রিস ও জুয়েল ভেল্টম্যানরা। চেক প্রজাতন্ত্রের একমাত্র তারকা প্যাট্রিক সিখ। ১৯৭৬ সালের চ্যাম্পিয়ন চেকরা এবার কত দূর যেতে পারে তাই দেখার বিষয়। | 12 |
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে "বিদেশী প্রতিপক্ষ" থেকে রক্ষা করার জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। প্রেসিডেন্ট এই সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। যেটি মার্কিন কোম্পানি যারা বিদেশী টেলিকম ব্যবহার করেন তাদের জন্য কার্যকর হবে। ধারণা করা হচ্ছে এর ফলে দেশটি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছে। ট্রাম্প নির্দ্দিষ্টভাবে কোন কোম্পানির নাম উল্লেখ করেন নি। যাইহোক, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এটা প্রধানত চীনের টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি হুয়াওয়েকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে ,চীনের তৈরি কোম্পানি পণ্য নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। চীনের এই কোম্পানি যারা টেলিকম খাতের যন্ত্র তৈরির সবচেয়ে বড় কোম্পানি তারা অস্বীকার করে বলেছে তাদের কাজ কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে না। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই আদেশর লক্ষ্য হল "বিদেশী প্রতিপক্ষ" থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করা।সূত্র : বিবিসি | 3 |
মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ইউনিপে টু ইউ'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুনতাসির হোসেন ইমনসহ (৩৭) ছয়জনকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থপাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ-৩ এর বিচারক দিলদার হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাদের দুই হাজার ৭০২ কোটি ৪১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৪ টাকাও অর্থদণ্ড করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হলেন- ইউনিপে টু ইউ'র বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ইউনিল্যান্ডের পরিচালক শহীদুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক মাসুদুর রহমান, জিএম এম জামসেদ রহমান, উপদেষ্টা মঞ্জুর এহসান চৌধুরী এবং ইউনিল্যান্ড লি. এর পরিচালক এইচ এম আরশাদ উল্লাহ। আসামিদের মধ্যে এমডি মুনতাসির হোসেন ইমন কারাগারে আছেন। বাকিরা পলাতক। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে প্রায় সাড়ে ১৩শ' কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি শাহবাগ থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওই বছরের ২২ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ৬ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়। মামলায় মোট ২৭ সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন। | 6 |
কোভ্যাক্স সহায়তার আওতায় আজ সোমবার দিবাগত রাত দেড়টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে ন্যাশনাল এয়ার লাইনস কার্গো বিমানে আরও ২৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছাবে।ভ্যাকসিনগুলো গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিএমএসডি ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ উপস্থিত থাকবেন।এর আগে কোভ্যাক্স সহায়তার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রথম দফায় ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ লাখ ৩ হাজার ৮৬০ ডোজ ফাইজারের ভ্যাকসিন দেশে এসেছে।আজ আরও ২৫ লাখ ডোজ দেশে আসলে এ নিয়ে ফাইজারের মোট ৩৬ লাখ ৪ হাজার ৪৮০ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছাবে। | 6 |
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) গণিত বিভাগের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক গণিত দিবস পালিত হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় একাডেমিক ভবনের সামনে আন্তর্জাতিক গণিত দিবসের আয়োজন করা হয়। বেলুন উড়িয়ে গণিত দিবসের উদ্বোধন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেন। র্যালি শেষে গণিত বিভাগের সম্মেলন কক্ষে কেক কাটা হয়। এ ছাড়া বেলা ১১টায় গণিত প্রতিযোগিতা ও বেলা ১২টায় পুরস্কার বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান, সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন, রেজিস্ট্রার ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. মুছা মিয়া, প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
উনিশ মাস পর রোববার খুলছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলো। সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবেন। তাদের স্বাগত জানাতে হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদ নানা প্রস্তুতি নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাত স্যানিটাইজ করার জন্য হলের সামনে বসানো হয়েছে বেসিন। হলগুলো রং করা হয়েছে। আশপাশে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নও করা হয়েছে। তবে ১৭টি আবাসিক হলের অধিকাংশেরই সংস্কার শেষ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান জানান, হলে ওঠার জন্য শিক্ষার্থীদের অন্তত এক ডোজ করোনার টিকা নিতে হবে। প্রবেশপথে টিকা নেওয়ার প্রমাণপত্র ও হল কার্ড দেখাতে হবে। শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার জন্য মাস্ক ব্যবহারসহ অবশ্যপালনীয় ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে আবশ্যিকভাবে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। এদিকে, দীর্ঘ ছুটিতে নষ্ট হয়ে গেছে হলগুলোর দেয়ালের রং। অকেজো হয়ে পড়েছে পানি ও বিদ্যুতের লাইন। সংস্কারকাজের জন্য দরপত্র আহ্বানের কথা থাকলেও এখনও অধিকাংশ হলে তা করা হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদ জানিয়েছে, হল খোলার প্রস্তুতি সম্পন্ন। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, দেয়ালে নতুন রং করাসহ প্রায় সব কাজ সম্পন্ন। কক্ষের ভেতরের কাজ ও বড় বাজেটের কাজে দরপত্রের প্রক্রিয়া চলমান। হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক জুলকার নায়েন বলেন, হলের প্রাধ্যক্ষরা যা যা চাহিদা পাঠিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সেসব কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, হলের বিভিন্ন চাহিদার বিষয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দ্রুতই সব চাহিদা পূরণ করা হবে। সার্বিক বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম টিপু বলেন, শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শতভাগ প্রস্তুত। যারা টিকা পায়নি, তাদের জন্য টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করবে। তার আগে সাড়ে ৯টা থেকে তাদের করোনার টিকা দেওয়া শুরু হবে। গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল। একই দিন থেকে ক্লাসও বন্ধ রয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ক্লাসের কার্যক্রম শুরু হবে। | 6 |
পুরান ঢাকার ইসকন মন্দিরে 'হামলার' নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইন্দ্রেশ কুমার। বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষা দিতে সরকার 'পুরোপুরি ব্যর্থ' হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই আজ শনিবার এই খবর প্রকাশ করেছে। পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দ্রেশ কুমার কংগ্রেসসহ ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি 'ধর্ম-বর্ণের রাজনীতির' ঊর্ধ্বে উঠে ঢাকার ওই ঘটনার নিন্দা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা বন্ধে ঢাকার ওপর চাপ তৈরি করতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইন্দ্রেশ কুমার ভারতের 'মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের' প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক। ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিও ইসকন মন্দিরে 'হামলার' নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনাকে 'সন্ত্রাসবাদের একটি ধরন' আখ্যা দিয়ে ইন্দ্রেশ কুমার বলেন, 'বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এটা একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি।' পুরান ঢাকার ওয়ারীতে অবস্থিত রাধাকান্ত জিউ ইসকন মন্দির। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একদল লোক সীমানাপ্রাচীর ভেঙে সেখানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ মন্দির কর্তৃপক্ষের। | 3 |
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের শূন্য পদে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরীফা কাদের। বুধবার গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দলটি এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় শেরীফা কাদের নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন। জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাসুদা এম রশিদ চৌধুরীর মৃত্যুতে সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৪৫ নম্বর আসনটি শূন্য হয়। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীই সেখান থেকে নির্বাচিত হবেন। আর দল মনোনীত একক প্রার্থীরাই প্রতিটি সংরক্ষিত আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ফলে শেরীফা কাদেরই সংসদ সদস্য হতে চলেছেন। শেরীফা কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টার পাশাপাশি দলটির সাংস্কৃতিক কর্মীদের শাখা জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতির পদে আছেন। তিনি লালমনিরহাট জেলা কমিটিরও সভাপতি। | 9 |
কখনো খেয়াল করেছেন, দাঁত ব্রাশ করার পরও দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে খাবার আটকে থাকে। অনেক সময় দুই দাঁতের মাঝে যে খাদ্যকণা আটকে থাকে, ভালো করে ব্রাশ করার পরও সেই খাদ্যকণা বের হয় না। ফলে দুই দাঁতের মাঝে গর্ত বা ক্যাভিটি হয়, যেটাকে আমরা ডেন্টাল ক্যারিজ বলি। এই ক্যারিজ শুধু এক্স-রে করলে ধরা পড়ে, খালি চোখে দেখা যায় না। তাই আটকে থাকা খাদ্যকণা বের করার জন্য ব্রাশের পাশাপাশি দরকার ডেন্টাল ফ্লস।ডেন্টাল ফ্লস হলো একরকম পাতলা নাইলন ফিলামেন্টসের বান্ডিল অথবা প্লাস্টিক রিবন, যা দেখতে সুতার মতো। এটা জমে থাকা সূক্ষ্ম খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। নিয়মিত ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ ও মুখের দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহারের নিয়মপ্রায় ১ ফুট পরিমাণ করে ফ্লস নিন। দুই আঙুলের মাঝে ২ ইঞ্চির মতো ফ্লস ফাঁকা রেখে দুই হাতের মধ্যমায় পেঁচিয়ে তা দুই দাঁতের ফাঁকে ঢুকিয়ে '' আকারে ধরুন। এরপর তা সাবধানে ওপরে-নিচে করে দাঁতের দিকে ঘষুন। পেছনের দাঁতসহ সব দাঁতের ফাঁকে ফ্লস করবেন।প্রতিবার নতুন করে ফ্লস ব্যবহার করতে হবে।দাঁতের মাড়িতে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে বা জোরে ঘষে দাঁত ফ্লস করবেন না। এতে মাড়ি কেটে রক্তপাত হতে পারে।দাঁত ব্রাশের আগে ফ্লস ব্যবহার করে ভালোভাবে কুলি করে নেবেন।অনেকে দুই দাঁতের মাঝে আটকে থাকা খাদ্যকণা বের করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কাঠি ব্যবহার করেন, যা উচিত নয়। কারণ কাঠির বারবার ব্যবহারের কারণে দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা বেড়ে গিয়ে একধরনের পকেট তৈরি হয়। এটি পেরিওডেন্টাল পকেট নামে পরিচিত। এই পকেটে বারবার খাদ্যকণা ঢুকে দাঁতের পাশাপাশি মাড়িরও মারাত্মক ক্ষতি করে।যেকোনো ফার্মেসি ও সুপারশপে ডেন্টাল ফ্লস কিনতে পাওয়া যায়। ডেন্টাল ফ্লস সুগন্ধিযুক্ত বা সুগন্ধিবিহীন, মোম মিশ্রিত বা মোমবিহীন হতে পারে। বর্তমানে ফ্লোরাইড মিশ্রিত ডেন্টাল ফ্লস পাওয়া যায়। ফ্লোরাইড মিশ্রিত ডেন্টাল ফ্লস দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করার পাশাপাশি ফ্লোরাইডের প্রয়োজনও পূরণ করে। এ ছাড়া প্লাস্টিকের কিছু ফ্লসও কিনতে পাওয়া যায়।প্রকারভেদে ডেন্টাল ফ্লসের দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।লেখক: ডেন্টাল সার্জন, সিকদার ডেন্টাল কেয়ার, ঢাকা | 4 |
গাজীপুরে মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র থেকে নারী ও শিশুসহ ১৭ নিবাসী পালিয়ে গেছে। এদের মধ্যে ১৪ জনকে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্নস্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত অপর তিনজনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ নওয়াজ দিলরুবা জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মোগড়খাল এলাকাস্থিত মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের কয়েকজন নিবাসী শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় তলার জানালার গ্রীল ভেঙ্গে ফেলে। তারা খাটের বিছানা দিয়ে ছাদের সঙ্গে বাউন্ডারী ওয়াল পর্যন্ত সিড়ি (মাঁচা) তৈরী করে। পরে একে একে ১৭ জন নিবাসী পালিয়ে যেতে থাকে। রাত পৌনে বারটার দিকে কেন্দ্রের লোকজন টের পেয়ে ছাদ থেকে দুই জনকে আটক করে এবং বাকীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ কেন্দ্রের আশপাশ এলাকা থেকে আরো চারজনকে উদ্ধার করে। আজ শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকায় সন্দেহ জনকভাবে ঘোরাঘুরি করার সময় পুলিশ আরো আটজনকে উদ্ধার করে। আবাসন কেন্দ্র থেকে নিবাসী পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনা তদন্তে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ম্যাজিষ্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত আরো তিন নিবাসীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার ওসি একেএম মিজানুল হক জানান, আটককৃতরা হলো, সুরমা (২৮), বাকপ্রতিবন্ধি লাইজু (২৫), লাইজুর মেয়ে লামিয়া (৮), শাবানা (২২), বাক প্রতিবন্ধি জেসমিন (২৮), তানিয়া (১২), রিনা ওরফে রিমা (২১) ও বৃষ্টি (২৩)। এদের বিস্তারিত ঠিকানা জানা যায়নি। সন্ধ্যায় কেন্দ্রের কর্মকর্তাগণ মির্জাপুর থানা থেকে ওই আটজনকে নিয়ে গাজীপুরের উদ্দ্যেশে রওনা হয়েছেন। শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকায় সন্দেহ জনকভাবে ঘোরাঘুরি করার সময় পুলিশ তাদের আটক করে। গাজীপুরে মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের সহকারী হোস্টেল সুপার পারভীন আক্তার জানান, এই কেন্দ্রে ৩৪জন নিবাসী রয়েছে। এদের মধ্যে সবাই নারী ৩২জন নারী ও কিশোরী এবং দুই জন শিশু। | 6 |
উপমহাদেশের কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার আর নেই। বুধবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। খবর এনডিটিভির। 'ট্র্যাজেডি কিং' দিলীপ কুমারের সংগ্রামী জীবন সিনেমার জগতে দিলীপ কুমারের প্রবেশ দেবিকা রানির বম্বে টকিজ প্রযোজনা সংস্থার কর্মী হিসেবে। মাসিক ১২৫০ টাকার বিনিময়ে এই কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। সেখানেই অশোক কুমার ও শশধর মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য আসেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। অভিনেতা দিলীপ কুমারের বলিউডে আত্মপ্রকাশ ১৯৪৪ সালে 'জোয়ার ভাটা' সিনেমার মাধ্যমে। তবে, নায়ক হিসেবে তাকে পরিচিতি দেয় ১৯৪৭ সালে মুক্তি পাওয়া 'জুগনু' চলচ্চিত্র। তারপর থেকেই বলিউডে শুরু হয় দিলীপ কুমারের 'নয়া দওর'। তিনি চলচ্চিত্র জগতে ছয় দশকের অধিক সময় ধরে বিচরণ করেছেন এবং অভিনয় করেছেন ৬০টির বেশি ছায়াছবিতে। তিনি বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্রময় ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যেমন- রোমান্টিক ধাঁচের চলচ্চিত্র হিসেবে ১৯৪৯ সালের আন্দাজ, ১৯৫২ সালের বেপরোয়া বা হঠকারী এবং চালবাজ চরিত্রে আন, ১৯৫৫ সালে নাটকীয় চলচ্চিত্র দেবদাস, ১৯৫৫ সালের হাস্যরসাত্মক চলচ্চিত্র আজাদ, ১৯৬০ সালে ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র 'মুঘল-এ-আজম এবং ১৯৬১ সালের সামাজিক ঘরানার চলচ্চিত্র গঙ্গা যমুনা-তে। 'মধুমতী' থেকে 'ক্রান্তি', 'মশাল', 'কর্মা', 'সওদাগর', 'কিলা' প্রায় পাঁচ দশক ধরে বলিউডে রাজত্ব করেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা। তিনিই প্রথম ছবি প্রতি ১ লাখ টাকা করে পারিশ্রমিক নিতে শুরু করেন। ১৯৭৬ সালে, দিলীপ কুমার ছবিতে অভিনয় থেকে পাঁচ বছর বিরতি নেন। এরপর আবার শুরু। ১৯৯৮ সালে শেষবার সিনেমায় অভিনয় করেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। ১৯৬৬ সালে অভিনেত্রী সায়রা বানুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দিলীপ কুমার। 'গোপী', 'সাগিনা' চলচ্চিত্রে তারা জুটি বেঁধে কাজ করেছেন। যেসব পুরস্কার জেতেন দিলীপ কুমার সেরা অভিনেতা হিসেবে ৮টি ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন দিলীপ কুমার। সবচেয়ে বেশি পুরস্কার জেতার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও রয়েছে তার। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ১৯৯১ সালে পদ্মভূষণ সম্মান দেওয়া হয় দিলীপ কুমারকে। ভারতীয় সিনেমায় অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৪ সালে 'দাদা সাহেব ফালকে' পুরস্কার পান দিলীপ কুমার। ২০১৫ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে 'পদ্মবিভূষণ' সম্মানও দেওয়া হয় তাকে। ২০০০ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত রাজ্যসভার সাংসদও ছিলেন তিনি। এমনকি ১৯৯৮ সালে দিলীপ কুমারকে নিশান-ই-ইমতিয়াজ সম্মানে সম্মানিত করে পাকিস্ততান সরকার। দিলীপ কুমারকে হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অভিনেতাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 2 |
আমেরিকা-ভিত্তিক ইরানবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী 'তোন্দার'-এর প্রধান জামশিদ শরমাহদকে আটক করেছে ইরান। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমেরিকায় বসে ইরানে সশস্ত্র ও নাশকতামূলক অভিযান পরিচালনাকারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তোন্দার-এর প্রধান জামশিদ শরমাহদকে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এক জটিল অভিযান চালিয়ে আটক করেছে।" এছাড়া, গত কয়েক বছরে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইরানে বহু সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে যেগুলো ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতার কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এসব পরিকল্পনার মধ্যে ছিল শিরাজের 'সেইভান্দ' বাধ উড়িয়ে দেওয়া, তেহরানের বইমেলায় সায়ানাইড বোমা হামলা এবং ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর মাজারে বোমা বিস্ফোরণ। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকা-ভিত্তিক এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নেতাকে আটক করা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরে সর্বসাধারণকে জানানো হবে বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
স্বামী আজহারকে খুনের পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন আসমা আক্তার। এক ইমামের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে তিনি এ খুনের পরিকল্পনা করেন। জানা গেছে, আজহারের ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল আসমার। পরে আজহার ও আসমার মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর স্বামীকে তালাক দিয়ে তার ভাই আজহার করে করেন আসমা। আজহারের সঙ্গে বিয়ের আগে আরও তিনটি বিয়ে করেছিলেন আসমা। সম্প্রতি তিনি রাজধানীর দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে ইমাম ও তিনি মিলে আজহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। খুন হওয়া আজহারের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার রাজাবাড়ি গ্রামে। তিনি জানান, কিন্তু ছয় মাস যেতে না যেতেই তার বাড়ির মেজ বউ আসমা ও তার আরেক ছেলে আজহারুল বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান। পরে তিনি জানতে পারেন সাহাবুদ্দিনকে তালাক দিয়ে আসমা আজহারুলকে বিয়ে করেছে। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি জুলহাস উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন। হঠাৎ করেই রোজার আগে খবর পান অসুস্থ হয়ে পড়ায় আজহারুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তিনি ঢাকায় গিয়ে আজহারুল ও আসমাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে রেখেই আজহারুলকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একটু সুস্থ হলে হঠাৎ করেই ১৭ মে আসমা আজহারুলকে ঢাকায় যেতে চাপ দিতে থাকে। এ কারণে আজহারুল পরদিন ১৮ মে ঢাকায় যেতে রাজি হন। এই অসুস্থতার মধ্যে ঢাকা যাওয়া নিয়ে আজহারুলকে তার মা কয়েকবার বাধাও দেন। কিন্তু আসমার পীড়াপীড়িতে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় রওয়ানা হন আহজারুল। এসময় আসমা তার স্বামী আজহারুলকে ৫শ টাকাও দেন গাড়ি ভাড়া হিসেবে।' আজহারুলের চাচাতো ভাই মো. হাফিজ উদ্দিন জানান, ১৮ মে আজহারুর ঢাকা যাওয়ার পর আসমা তাদের বাড়িতেই ছিলেন। পরদিন বুধবার (১৯ মে) আজহারুলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর আসমা তার বাবা আশরাফ আলীকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। দু'দিন পর তারা দু'জন ফিরে আসেন এবং আশরাফ আলী তার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি রেখে তড়িঘড়ি করে চলে যান। ২৫ মে তারা জানতে পারেন দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পাওয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে পরিবারের লোকজন ঢাকায় রওয়ানা হলে রাস্তা থেকেই র্যাব আসমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরে তারা জানতে পারেন এই হত্যার সঙ্গে আসমা ও ইমাম জড়িত। আজহারুলের ভাতিজা লিসান উদ্দিন জানান, র্যাবের মাধ্যমে জানতে পারেন আসমা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন এবং মোবাইল ফোনটি আজহারুলের বাড়িতেই রয়েছে। একথা শুনে পরিবারের সবাই হত্যার পরিকল্পনা করার জন্য ব্যবহৃত মোবাইল ফোন খোঁজাখুজি করতে থাকেন। কিন্তু কোথাও না পেয়ে বাড়ির পাশের জঙ্গলে ব্যাটারি ও সিমবিহীন একটি মোবাইল ফোন পান। পরে সেটি র্যাবের কাছে জমা দেন তারা। তিনি জানান, আসমা যে নম্বর দিয়ে ইমামের সঙ্গে কথা বলেছেন সেই সিমকার্ডটি এখনো উদ্ধার হয়নি। তাদের ধারণা আজহারুলকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই সিম কার্ডটি কোথাও ফেলে দিয়েছেন আসমা আক্তার। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
প্রেমিকাকে খুশি করতে এখন হয়তো কেউ তাজমহল বানাবেন না। তবে দামি হিরের আংটি তো দেওয়া যায়! বলিউড তারকাদের বাগদানের আংটির দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে। | 2 |
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একাধিকবার বলেছেন এ বছরের জুনেই পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও এমন কথাই বলা হয়েছে। তবে গতকাল বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের শেষ নাগাদ পদ্মা সেতু উদ্বোধনের কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে পরে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবার বললেন, জুনেই চালু হবে পদ্মা সেতু।ফলে পদ্মা সেতুতে আসলে কবে থেকে গাড়ি চলবে, এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে।আজ বিকেলে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এ বছরের শেষের দিকে পদ্মা সেতু চালু হবে। আমরা প্রত্যাশা করে আছি এ বছরের শেষ নাগাদ এটি চালু করতে পারব, এটা আমাদের প্রত্যাশা। আমাদের বছরটি শেষ হবে জুন মাসে। আমাদের ফিন্যান্সিয়াল (অর্থবছর) বছর যেটি জুনে শেষ হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এর মধ্যে আমরা এটি চালু করতে পারব।'চলতি বছরের শেষ নাগাদ পদ্মা সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে বলে গতকাল বুধবার সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।সাংসদ শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পদ্মা সেতু প্রকল্পের উভয় প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোড ও সার্ভিস এরিয়ার কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। মূল সেতুর ভৌত অগ্রগতি ৯৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। বর্তমানে সেতুতে কার্পেটিং, ভায়াডাক্ট কার্পেটিং, ওয়াটারপ্রুফ মেমব্রেন, মূল সেতু ও ভায়াডাক্টের মুভমেন্ট জয়েন্ট, ল্যাম্পপোস্ট, অ্যালুমিনিয়াম রেলিং, গ্যাসের পাইপলাইন, ৪০০ কেভিএ বিদ্যুৎ এবং রেললাইন নির্মাণের কাজ চলমান। ২০২২ সালের শেষ নাগাদ পদ্মা সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।'পদ্মা সেতু প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।এর আগে গত ৩ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে উদ্ধৃত করে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের জুনে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।পদ্মা সেতুর সর্বশেষ অগ্রগতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯২ শতাংশ এবং নদীশাসনের কাজ শেষ হয়েছে ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ। মূল সেতুর কার্পেটিং কাজ হয়েছে ৬৬ শতাংশ। গ্যাস পাইপলাইনের কাজের অগ্রগতি ৯৯ শতাংশ এবং ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের কাজের অগ্রগতি ৭৯ শতাংশ।এ ছাড়া আগামী জুন মাসের মধ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে একাধিকবার জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।এদিকে প্রধানমন্ত্রীর মুখে সেই সময়সীমা পেছানোর তথ্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। উদ্বোধনের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক নিয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'আমরা বলেছি ৩০ জুনের মধ্যে পদ্মা সেতু ওপেন করে দেব।'তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পদ্মা সেতু চালু হবে বলে প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, 'আসলে তো পদ্মা সেতু শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ২০২২ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত। আমরা চেষ্টা করছি যে, যদি সম্ভব হয়, দেখা যাক, আমি ওনার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গেও কথা বলব যে উনি কী বলেন।'সচিব আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'উনি (প্রধানমন্ত্রী) যে কথাটি বলেছেন তার একটি লজিক হলো, রিসেন্টলি কিছু মালামাল আসতে সমস্যা হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য। এই মালামালগুলো মার্চ মাসে আসার কথা ছিল, কিন্তু এখন কিছুটা অনিশ্চয়তা চলে এসেছে। এ জন্য আমার মনে হয়, আমাদের একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। আমাদের টাইম আছে ২০২২ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত।' খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব মালামাল আসবে। কিছু কিছু মালামাল আছে যেগুলো পৃথিবীতে একটা বা দু'টো দেশই বানায়। এখন এমনিতেও কোভিডের জন্য আসতে দেরি হচ্ছিল, এখন যুদ্ধের কারণে দেরি হচ্ছে।'এদিকে পদ্মা সেতুর টোল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আজ অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, 'পদ্মা সেতুতে আমরা যে পরিমাণ খরচ করেছি, সেটা পূর্ণমাত্রায় টোল বাবদ আদায় করব। আমরা অন্য প্রজেক্টগুলো থেকেও কিন্তু টোল আদায় করছি। টোলের হার এখনো ঠিক হয়নি। হলে আপনারা জানতে পারবেন।'স্বপ্নের পদ্মা সেতুসম্পর্কে সবশেষ খবর পেতে - এখানেক্লিককরুনশ্রীলঙ্কার সঙ্গে হঠাৎ করে বাংলাদেশের অর্থনীতির তুলনা করছেন অনেকে। এ নিয়ে অস্বস্তিবোধ করছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'এ আলোচনা তো আমরা করিনি। কেউ যদি আলোচনা করে সেটি তারা করতে পারে। সেটি আমাদের জন্য প্রযোজ্য কি না তা আপনারা ভালোভাবে বুঝতে পারছেন। এটি আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আপনারা ভালোভাবেই জানেন আমাদের ফরেন এক্সচেঞ্জ (বৈদেশিক মুদ্রা) রিজার্ভও অনেক ওপরে আছে। আমাদের রেভিনিউ (রাজস্ব) বাড়ছে, রিজার্ভ বাড়ছে, ইনফ্লেশনও (মুদ্রাস্ফীতি) নিয়ন্ত্রিত। তাহলে সমস্যা কোথায়, আমাদের তো সমস্যা নাই। আমি মনে করি আমরা নিরাপদ।'পদ্মা সেতুসম্পর্কিত আরও পড়ুন:জুনের মধ্যে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছি: ওবায়দুল কাদেরশিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে রাতেও চলছে ফেরিপদ্মা সেতুর কাজ বাকি আর মাত্র ২ শতাংশআগামী মাসেই পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছি: কাদেরআগামী মাসেই চালু হবে পদ্মা সেতুবাকি অর্ধেক কাজ, পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলবে কবেঢাকা-ভাঙ্গা রেললাইন চালু হবে আগামী বছরের মার্চে: রেলমন্ত্রীপদ্মা সেতুর টোল চূড়ান্ত করল সরকার | 6 |
শসা খান না এমন মানুষ কমই আছেন। একে প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী ডিটক্সিফাইও বলা হয়। যাঁরা ওজন কমাতে ডায়েট করছেন, তাঁরা সুষম খাবারের পাশাপাশি শসা দৈনিক খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন নির্দ্বিধায়। শসা সারা বছর পাওয়া যায় এবং সহজলভ্য।ওজন কমাতে শসাশসায় ক্যালরি কম ও চর্বি নেই। ১ কাপ শসায় ১৪ থেকে ১৬ ক্যালরি পাওয়া যায়। এই লো-ক্যালরির জন্য ওজন বাড়ার ভয় নেই।শসায় চিনির পরিমাণ কম। তাই স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায় না। একটি শসার ৯৫ শতাংশ পানি। তাই শসা খেলে শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় থাকে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে ওজন কমাতে সহায়তা করে।এতে পেকটিন দ্রবণীয় আঁশ রয়েছে। এই আঁশ বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। ফলে ওজন বাড়ে না।শসায় লো-ক্যালরি থাকায় এর সঙ্গে প্রোটিন যোগ করে খেলে ওজন কমে। যেমন শসার সঙ্গে ডিম, মাছ, মুরগি, পনির যেকোনো একটি মিশিয়ে খেতে পারেন। এ ছাড়া বাজারের যেকোনো স্পোর্টস ড্রিংকস ও জুসের চেয়ে শসার পানি স্বাস্থ্যকর।প্রতিটি খাবারের সঙ্গে একটি শসা খেলে বিপাক প্রক্রিয়ার হার বেড়ে যায়, যা ওজন কমাতে সহায়ক।যেভাবে শসা খাবেনখাওয়ার ঠিক আগে শসার কিছু টুকরো খেয়ে নিন। এটি আপনাকে খুব বেশি খাওয়া থেকে বিরত রাখবে। ফলে ক্যালরি গ্রহণ কমবে এবং ওজন হ্রাস পাবে।খোসাসহ শসা খেলে সর্বোচ্চ পুষ্টি পাওয়া যায়।রান্না করা শসায় কিছু পুষ্টিগুণ কমে যায়। তাই সালাদ আকারে খাওয়া ভালো।ব্যায়ামের পরে একটি শসা খেলে শরীরে পানিশূন্যতা দূর করে পেশি শিথিল করে।ওজন কমাতে শসার সালাদ ছাড়াও শসার ডিটক্স পানি, শসার স্যান্ডউইচ খেতে পারেন।খাবারের সঙ্গে শসা কুচি করে ১ কাপ দইয়ের সঙ্গে খাওয়া যায়। এতে ওজন কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়।হলুদ রঙের শসা কিনবেন না।দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত শসা খেলে ভিটামিন ও পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত শসা খেতে হবে।শসায় শকরাবাইটাসিস নামে একটি যৌগ থাকে। এটি কারও কারও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া কারও কারও ক্ষেত্রে শসা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এ রকম সমস্যা হলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।লেখক: পুষ্টিবিদ, ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক ও স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতাল | 6 |
আজ ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত রোহিঙ্গা গণহত্যা শুরুর তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০১৭ সালের ২৫ ও ২৬ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিরস্ত্র বেসামরিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিষ্ঠুর এ নির্যাতন-নিপীড়ন শুরু করে। মিয়ানমার সরকার আরোপিত বিবিধ নিষেধাজ্ঞা এবং অসহযোগিতার কারণে চরম নির্যাতিতের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করা কঠিন। তবে বিভিন্ন জরিপ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, এ গণহত্যায় মিয়ানমারের সেনা, পুলিশ ও স্থানীয় বৌদ্ধ চরমপন্থীদের হাতে অন্তত ২৪ হাজার অসামরিক রোহিঙ্গা নিহত হয় এবং ১৮ হাজার রোহিঙ্গা নারী বা বালিকা ধর্ষণের শিকার হয়। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মুখে প্রাণ বাঁচাতে আট লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এ গণহত্যা শুরুর আগেই পর্যায়ক্রমে তিন লক্ষাধিক নির্যাতিত রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল বাংলাদেশে। সাকল্যে ১১ লাখ বাস্তুহারা রোহিঙ্গা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত শরণার্থী শিবিরগুলোতে এবং তার আশপাশে গাদাগাদি করে অবস্থান করছে। উচ্চ জন্মহারের কারণে এ সংখ্যা এখন ১২ লাখ পেরিয়ে গেছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী দাবি করে আসছে যে ২৫ আগস্ট ২০১৭ তারিখে পুলিশ ও সামরিক চৌকিতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) নামের একটি সশস্ত্র সংগঠনের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতেই উত্তর রাখাইনের এই 'ক্লিয়ারেন্স অপারেশন' চালানো হয়েছিল, আর তাতে ভয় পেয়ে অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে তাদের এ দাবি ধোপে টেকে না। সুস্পষ্ট তথ্য আছে যে অপারেশনের অন্তত তিন সপ্তাহ আগে থেকে সেনাবাহিনীর এই ইউনিটগুলোকে উত্তর মিয়ানমারে জড়ো করা হয়। সেনাবাহিনী কি তাহলে জানত যে ঠিক এই দিনে আরসা তাদের আক্রমণ চালাবে? এ ঘটনার আগে-পরে কখনোই এই কথিত সংগঠনের এ রকম কোনো কার্যকলাপের নজির পাওয়া যায় না। তাই যাঁরা মনে করেন যে সংগঠনটি আসলে অস্তিত্বহীন এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের কৃত অপরাধের পক্ষে অজুহাত সৃষ্টির জন্য এই তথাকথিত আক্রমণের নাটক সাজিয়েছিল, তাদের বক্তব্যকে অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মিয়ানমারের মুষ্টিমেয় অন্ধ সমর্থক ছাড়া সবার কাছেই এটি স্পষ্ট যে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের উদ্দেশ্যেই সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর এ হত্যাযজ্ঞ এবং নির্যাতন চালিয়েছিল। রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান নিরাপত্তা এবং অধিকারসহ তাদের নিজ বাসভূমে ফিরে যেতে দেওয়া-এ বিষয়ে দ্বিমতের কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর বক্তৃতায় এ কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু গত তিন বছরে আলাপ-আলোচনা, চুক্তি সই, তালিকা বিনিময় ইত্যাদির ফলে এ ক্ষেত্রে সামান্যতমও কোনো অগ্রগতি হয়নি। গত বছরে দুটো ইতিবাচক কাজ হয়েছে এ ক্ষেত্রে, তা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধে জড়িত মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলা। তবে আইনি প্রক্রিয়া একটি দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এমনকি মিয়ানমার যদি গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ও, সঙ্গে সঙ্গে বিতাড়িত রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফেরত যেতে পারবে, বিষয়টি তেমন সরল নয়। এ সংকট সমাধানে বাংলাদেশ তাহলে কী করতে পারে? যদিও কোনো ফল দেবে না, তারপরও আমাদের দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়াটি চালু রাখতে হবে, যাতে বাংলাদেশ সহযোগিতা করছে না-এ মিথ্যা অভিযোগের সপক্ষে মিয়ানমার কোনো রসদ না পায়। কোভিড মহামারিতে থমকে যাওয়া দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আবার কীভাবে শুরু করা যায়, তা ভেবে দেখা যেতে পারে। একটি বিষয় এড়িয়ে যেতে হবে অবশ্যই, সেটা হচ্ছে দু-পাঁচ শ পরিবারের টোকেন প্রত্যাবর্তন। প্রথমত, যাদের ফেরতের তালিকায় রাখা হবে তারা স্বেচ্ছায় যেতে চাইবে না। কারণ, তারা জানে সেখানে তাদের জন্য কোনো নিরাপদ পুনর্বাসন অপেক্ষা করছে না। দ্বিতীয়ত, এটা শুধু মিয়ানমারকে একটা প্রচার সুবিধা দেবে, প্রকৃত সমস্যার কোনো সমাধান দেবে না। মূল বিষয় হবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি, যাতে সব শরণার্থী নিরাপত্তার সঙ্গে ফেরত যেতে পারে। সে দেশের সরকার বা সেনাবাহিনীর তা করার ইচ্ছা আছে, এমন কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। কূটনৈতিক পর্যায়ে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে মহামারি এবং মহামারি-উত্তর অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত পৃথিবী যেন রোহিঙ্গাদের ভুলে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। সামনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আছে। প্রধানমন্ত্রীর (বা বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল প্রধানের) বক্তব্যে তো বটেই, উদ্ভূত প্রতিটি সুযোগেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা এবং তাদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের প্রতিকারের বিষয়টিকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সাম্প্রতিক সফরকালে আমাদের পররাষ্ট্রসচিব বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে তুলতে অনুরোধ করেছেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রসচিব তা করার আশ্বাস দিয়েছেন। ভারত আগামী দুই বছরের জন্য পরিষদের অস্থায়ী সদস্য। চীন ও রাশিয়ার অবস্থানের কারণে নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না, তা আমরা জানি। তবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানসংবলিত একটি প্রস্তাব যদি পাস করানো যায়, সেটাও ছোটখাটো সাফল্য বলে বিবেচিত হতে পারে। পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে পশ্চিমের দেশগুলোকে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করার। আর সেই সঙ্গে চেষ্টা করতে হবে চীন ও রাশিয়ার অবস্থানকে নমনীয় করার, নিদেনপক্ষে তারা যেন মিয়ানমারের প্রতি তাদের নিরঙ্কুশ সমর্থনের পরিবর্তে সমস্যা সমাধানে খানিকটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ত্বরান্বিত করতে রাখাইন রাজ্যে তাদের জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল (সেফ জোন) সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক 'এথনিক ক্লিঞ্জিং' সংঘটনের আগে উত্তর রাখাইনের মংডু জেলা এবং সিতউয়ে জেলার রাথিডং মহকুমায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের সূত্র ধরে এ স্থানগুলোকে নিয়ে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিস্তারিত প্রস্তাব বাংলাদেশ উত্থাপন করতে পারে এবং এ প্রস্তাবের সপক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে পারে। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী যেহেতু তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, তাই আসিয়ান দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল মাঠে থাকতে পারে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। মিয়ানমার ও তার সমর্থকেরা অবশ্যই এ প্রস্তাবে রাজি হবে না, তারপরও বিষয়টিকে টেবিলে দৃশ্যমান রাখলে কৌশলগত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। উল্লিখিত কোনো উদ্যোগই সাততাড়াতাড়ি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান নিয়ে আসবে না। সংকট হবে দীর্ঘস্থায়ী এবং যতই দিন যাবে, গণহত্যাকারী মিয়ানমার সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে বাস্তবতাকে ততই পরিবর্তন করতে থাকবে। বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাদের জন্য তাই তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করবে। পালিয়ে আসা প্রতিটি মানুষ যা কিছু দেখেছে, যা কিছু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ ভিডিও, অডিও এবং লিখিত মাধ্যমে রেকর্ড ও সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিটি মানুষের বিতাড়ন-পূর্ব বাসস্থানের ঠিকানা, বিবরণ সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করতে হবে। সেই সঙ্গে ওই সব স্থানের অপারেশনের আগেকার এবং পরের উপগ্রহভিত্তিক ছবিসহ রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এ জন্য যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে সেখানে অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তুলছে, যাতে একসময় মাঠপর্যায়ে এই জায়গাগুলোকে খুঁজে পাওয়া না যায়। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে সরকার নিজে ছাড়াও দেশি-বিদেশি এনজিও এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাহায্য নিতে পারে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০১৮ সালের তথ্যমতে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী অন্তত ৫৫টি রোহিঙ্গা গ্রাম সম্পূর্ণ মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এরূপ কোনো কোনো স্থানে সামরিক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগে শিল্পকারখানা স্থাপনের কথাও শোনা যাচ্ছে। সঠিক তথ্য থাকলে জাতিগত নিশ্চিহ্নকরণের মাধ্যমে খালি করা স্থানে শিল্প স্থাপনে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করা সম্ভব হতে পারে। সবশেষে সমস্যা সমাধানে দীর্ঘসূত্রতায় আশাহত হলে চলবে না। আমাদের মেনে নিতে হবে যে এ সংকট নিরসনে ১০, ১৫ বা ২০ বছর লেগে যেতে পারে আর সে জন্য মানসিক এবং বাস্তব প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের দেখতে হবে যে শরণার্থীরা যেন একটা সহনীয় জীবন যাপন করতে পারে, সেই সঙ্গে এই এলাকার স্থানীয় মানুষের সমস্যা সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে সৃষ্ট অসন্তোষ ও বিরূপ মনোভাব নিরসন করা যায়। বাংলাদেশ এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। তবে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে তা করতে হলে অপর পক্ষকেও তাই চাইতে হবে এবং সে চাওয়াটা আমাদের হাতে নয়। যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রস্তুতি থাকতে হবে এবং আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। মো. তৌহিদ হোসেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব | 8 |
'যেভাবে র্যাবের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, এটা অনভিপ্রেত, দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। এ জন্য সরকার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।'আজ রোববার সচিবালয়ে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে তথ্য অধিদপ্তরের বিশেষ প্রকাশনা 'মা ও শিশু' গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন শেষে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।তবে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ও উন্নয়ন সহযোগী উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, 'আশা করছি এ ক্ষেত্রে তারা আমাদের সেন্টিমেন্ট অনুধাবন করতে সমর্থ হবে। কারণ আমরা মনে করি, কোনো ধরনের যোগাযোগ ছাড়া হঠাৎ করে এভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হয়েছে।তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা মনে করি, এ ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই থাক। আমাদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে সম্পর্ক, সেটির ওপর এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।'হাছান মাহমুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের উন্নয়ন সহযোগী এবং নানাভাবে আমাদের জাতির অগ্রগতিতে সহযোগিতা করে আসছে। সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের ট্যাকটিক্যাল সহযোগিতা রয়েছে। তাদের সেই সহযোগিতা নিয়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো উপকৃত হয়েছে।'যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। তাদের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো ক্রমাগতভাবে বছরের পর বছর মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। তাদের হেফাজতে যে মৃত্যু হয়, সেগুলো নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা রয়েছে। গুয়ানতানামো বে-তে বন্দীদের ওপর নির্যাতন করা হয়, সেগুলো নিয়ে বহু প্রতিবেদন বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত হয়েছে, সেটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদ হয়েছে, এখনো হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় অভিবাসীরা যখন সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছে, তখন মা-বাবার কাছ থেকে যেভাবে শিশুদের আলাদা করে রাখা হয়েছে, সেটি অন্য কোনো দেশে হয়েছে বলে আমার জানা নেই। সে নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ হয়েছে। ফ্রয়েডকে দিনের বেলায় গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে হত্যা করা হয়েছে, এমন ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি। আমাদের দেশে জঙ্গি দমনের সময় এনকাউন্টারে অনেক জঙ্গি মারা যায়। বোস্টনে যখন বোমা হামলা হয়, এরপর তাদেরও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো বড় দেশ ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা দেয় কি না, সেটি দেখার বিষয়।'জাতীয় নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবে জনগণ। কোন দেশ কার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল, সেটি জনগণের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, কিন্তু ইসরাইলের কোনো কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দেখিনি। যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভালো সম্পর্ক, ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, সেসব দেশের কারও ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দেখিনি।'হাছান মাহমুদ বলেন, 'আমরা মনে করি দিজ অ্যাকশন ইজ মিস লিডেড। কারণ আমাদের দেশের কিছু এনজিও, কিছু ব্যক্তিবিশেষ ক্রমাগতভাবে বিভিন্ন জায়গায় দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা বিভিন্ন দেশে ভুলভাবে তথ্যউপাত্ত সরবরাহ করে। ফেব্রিকেটেড, মিসলিডেড তথ্য-উপাত্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মনে করি।' | 6 |
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার এই ভয়ংকর মহামারির মধ্যেও ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে। তিনি বলেন, এ দুর্যোগের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা ত্রাণ দিচ্ছি। দুঃখের বিষয় হল, সরকার এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তারা ত্রাণ বিতরণে নিজেদের লোক নিয়োগ দিয়েছে। আর নেতাকর্মীরা লুটে খাচ্ছে ত্রাণ। শুক্রবার সকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার নিমতলা এলাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুর উদ্যোগে ৩ শতাধিক দরিদ্র মানুষের মধ্যে সেমাই, চিনি, চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে এ সব কথা বলেন তিনি। রিজভী আরও বলেন, লকডাউন শাটডাউন মেনে চলতে হবে, সাবধান হয়েই কাজ করতে হবে- এটা হচ্ছে করোনার মূল প্রতিষেধক। আজ দেশে সাংবাদিক মারা যাচ্ছে, পুলিশ সদস্য মারা যাচ্ছে। অথচ সরকার করোনা রোগীদের বাঁচাতে উন্নত হাসপাতালের ব্যবস্থা করেনি। সরকার একবার বলে লকডাউন শিথিল, আরেকবার বলছে লকডাউন চলবে- এভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিরাজদীখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ধীরন, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জল প্রমুখ। পরে জেলার শ্রীনগর উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের সাতঘরিয়া এলাকায় হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন রুহুল কবির রিজভী। | 6 |
দলের তুরুপের তাসটিই যেন নেই। তাই একের পর এক ব্যর্থতার জালে আটকাচ্ছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে এবার পেরুর সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা। দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পয়েন্ট তালিকায় আর্জেন্টিনা এখন পাঁচে, সরাসরি মূল পর্বে যেতে হলে তাদেরকে চারের মধ্যে থাকতে হবে। অন্যদিকে শুক্রবার নিজেদের মাঠে বলিভিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নেইমারের ব্রাজিল। চার দিন পরেই আবার নিজেদের মাঠে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ | 12 |
ফেনী সদর উপজেলায় সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে লেমুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফেরদৌস কোরাইশী। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেনী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফেরদৌস কোরাইশী ও তাঁর কর্মী-সমর্থকদের হয়রানিসহ প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে গত ২৭ ডিসেম্বর তিনি নির্বাচন কমিশনসহ জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফেরদৌস কোরাইশী অভিযোগ করেন, 'আগামী ৫ জানুয়ারি ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিনিয়ত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোশারফ হোসেন নাসিম আমার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আমার প্রচারের ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন আমার বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করছেন। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।'অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ হোসেন নাসিম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফেরদৌস কোরাইশী। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.