text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
দেবহাটায় মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার আসামি ও বরখাস্ত শিক্ষক ফজর আলী চাকরি ফিরে পেতে বিভিন্ন স্থানে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। গত সোমবার তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিক ও থানার ওসিকে নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফজর আলী যে অপকর্ম করেছেন এরপর তাঁকে আর শিক্ষক বলা যায় না। তার মতো শিক্ষকের জন্য বাবা-মা এখন সন্তানদের মাদ্রাসায় দিতেও ভয় পান। সেই ফজর যদি আবারও স্বপদে বহাল হন তাহলে তাঁদের সন্তানদের এখানে পড়ানো সম্ভব হবে না।প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক ফজর আলী তাঁর সহকর্মী এক শিক্ষককের কন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন। ২০১৮ সালের ৬ জুন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়ে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দেবহাটা থানায় মামলা হয়। যার চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ।এর আগে ফজর আলী ২০১৮ সালের ৫ জুন দেবহাটা থানা মসজিদের ভিতরে একটি হলুদ খামে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন চিঠি প্রদান করে। ঘটনা তদন্ত শেষে ফজর আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।এসব ঘটনায় একই বছরের ২৭ জুন ম্যানেজিং কমিটির সভায় শিক্ষক ফজর আলীকে মাদ্রাসা পরিচালনা নীতি মোতাবেক বরখাস্ত করা হয়।
6
আফগানিস্তান থেকে বহুজাতিক বাহিনীর প্রত্যাহারের সমাপ্তির পথে দেশটির বিষয়ে 'প্রধান অংশীদারদের' নিয়ে এক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠক সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে রোববার রাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এক বিবৃতিতে বলেন, 'সামনের দিন ও সপ্তাহগুলোতে সমন্বিত উদ্যোগ সম্পর্কে অংশীদাররা আলোচনা করবেন।' বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, ব্রিটেন, তুরস্ক, কাতার, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ন্যাটো প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার জেরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় মার্কিন বাহিনী। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রসজ্জ্বিত মার্কিন সৈন্যদের হামলায় আফগানিস্তানের তৎকালীন তালেবান সরকার পিছু হটে। তবে একটানা দুই দশক যুদ্ধ চলে দেশটিতে। দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দখলের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দেশটি থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়। চুক্তি অনুসারে ক্ষমতাসীন থাকা মার্কিন সমর্থনপুষ্ট আফগান সরকারের সমঝোতার জন্য তালেবান চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর মার্কিন নেতৃত্বের বহুজাতিক বাহিনীর প্রত্যাহারের মধ্যে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাতে শুরু করে তালেবান। মে থেকে অভিযান শুরুর পর সাড়ে তিন মাসের মাথায় ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুলের অধিকার নেয় তালেবান যোদ্ধারা। সূত্র : আলজাজিরা
3
সামনেই মুক্তি পাবে অক্ষয় কুমার ও কারিনা কাপুর অভিনীত ছবি 'গুড নিউজ'। তার আগে ছবির প্রমোশনে গিয়ে কারিনার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে অনেক কথা দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন অক্ষয়। অক্ষয়ের পাশাপাশি অনেক পুরনো কথা জানালেন কারিনাও। কারিনা বলেন, 'অক্ষয় যখন জীবনের প্রথম শট দিচ্ছিল, তখন আমি ক্যামেরার পিছনে ছিলাম। অক্ষয়ের সঙ্গে কাজ করা আমার কাছে ঘরে ফেরার মতোই। ও আমার পরিবারের সদস্যের মতোই একজন, আমি ওর সঙ্গে কাজ করতে ভীষণই স্বচ্ছন্দবোধ করি।' কারিনার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অক্ষয় বলেন, 'আমি যখন কারিশমার সঙ্গে কাজ করতাম, তখন কারিনা অনেক ছোট। আমি ওকে কোলে নিয়ে খেলতাম। আর এখন সেই কারিনাই আমার নায়িকা।' এদিকে অক্ষয়ের আরও একটি ছবি 'বচ্চন পান্ডে' ও কারিনা-আমিরের 'লাল সিং চাড্ডা' ছবির মুক্তির দিন একই দিনে হওয়ায়, দুই প্রযোজনা সংস্থার মধ্যে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার এ বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় অক্ষয় ও কারিনাকে। কারিনা অবশ্য এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র অবগত ছিলেন না। তবে অক্ষয় বলেন, 'এ বিষয়ে যদি পেশাদারি কথা বলতে হয় তাহলে আমি বলব 'লাল সিং চাড্ডা' ছবির মুক্তির দিন পরিবর্তন করলে খুব ভালো হত।' সূত্র: জিনিউজ
2
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় মুখে খাওয়ার ট্যাবলেটের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্যে। দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বুধবার (৩ নভেম্বর) "মলনুপিরাভির" নামের এই ট্যাবলেটের অনুমোদন দেয় বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যেসব রোগী ঝুঁকিতে রয়েছেন তাদেরকে দিনে দুইবার "মলনুপিরাভির"ট্যাবলেট খেতে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মার্ক (এমএসডি নামে যুক্তরাজ্যে পরিচিত) উদ্ভাবিত এই মলনুপিরাভির ট্যাবলেটটি করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় মুখে খাওয়ার প্রথম অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ। মূলত ফ্লু'র চিকিৎসার জন্য উদ্ভাবিত এই ট্যাবলেটের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি সেবনের ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যু অর্ধেক কমাতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ জানায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হালকা থেকে মাঝারি অবস্থার রোগী, যারা স্থূলতা, বেশি বয়স, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো অন্তত একটি গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য এই ওষুধের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চিকিৎসা পদ্ধতিকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে একটি থেরাপিউটিক অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী জুন রেইনে।
3
বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমান জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৭৫ এর হত্যার সঙ্গে জিয়া জড়িত, এতে তো কোনো সন্দেহ নেই। আমি তাকে আসামি করতে চেয়েছিলাম। তখন আমাদের হোম সেক্রেটারি ছিলেন রেজাউল হায়াত, তিনি বললেন, মৃত মানুষকে তো আসামি করা যায় না। আমার মনে হয় নামটা থাকা উচিত ছিল। বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার আলীপুরা ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জি. বাদশা ফয়সাল আহম্মেদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ভুক্তভোগীরা। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের শ্লুইজ বাজার এলাকায় স্থানীয় ভুক্তভোগী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। ৪ নং ওয়ার্ডের মিনতি রানী, খালেদা বেগম, ২ নং ওয়ার্ডের চাঁদপুর এলাকার লিপি বেগম, চানবনু জানান, আমরাতো অতো ভালো বুঝি না। চেয়ারম্যান ইঞ্জি. বাদশা ফয়সাল আহম্মেদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের ৬১৫ জন ভুক্তভোগীর ভুয়া মাস্টার রোল ও কার্ডে ভুয়া টিপ সই দিয়ে ভিজিডির চাল আত্মসাৎ করেন। আমাদের মতো গরীবের চাল যে মাইরা খাইছে তার বিচার চাই। এ ঘটনায় গত রোববার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন ইউপি সদস্য। তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাগো চাল দিচ্ছে আর চেয়ারম্যান আমাগো তা মাইরা খাইছে। আমরা আমাগো চাউল চাই। চেয়ারম্যানের বিচার চাই। আলীপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন সরদার বলেন, চেয়ারম্যান ফয়সাল ভুক্তভোগীদের তিন মাসের ভিজিডি চাল আত্মসাৎ করেছেন। এর সাথে মেম্বাররাও জড়িত আর নয়তো চেয়ারম্যান একা এই কাজ করে কীভাবে? মেম্বাররা প্রতিবাদ করেনি কেন? এ বিষয় অভিযুক্ত আলীপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. বাদশা ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। সময় মতো সকল তথ্য সঠিক স্থানে দেখানো হবে।
6
পার্বতীপুরে পুকুরে বিষাক্ত গ্যাস টেবলেট প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০ মন মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকার মাছ বিনষ্ট হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কোন এক সময় উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের ঘনেশ্যামপুর নয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভবানীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মমতাজ আলী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ঘনশ্যামপুর গ্রামের রুবেল বাবু ও ঝিনাইকুড়ি গ্রামের শাহীন মন্ডল ৮ মাস পূর্বে নয়াপাড়ায় দেড় একর পরিমাণ একটি পুকুর লিজ দিয়ে মাছ চাষ করে। সোমবার গভীর রাতে অজ্ঞাত দূর্বৃত্ত্রা বিষাক্ত গ্যাস টেবলেট প্রয়োগ করে। এতে করে পুকুরের রুই, কাতলা, মৃগেল, ব্রিগেড, সিলভার কাপ, তেলাপিয়াসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির ছোটবড় মাছ, ব্যাঙ ও পোকামাকড় মারা যায়। ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্যচাষী রুবেল ও শাহীন জানান- গতকাল সকালে পুকুর পাড়ে গিয়ে তারা দেখতে পান গোটা পুকুরের পানিতে মাছ মরে ভেসে আছে। দূর্বৃত্ত্বরা গ্যাস টেবলেট প্রয়োগ করে পুকুরের ছোট বড় মিলে প্রায় ৩০ মন মাছ নিধন করেছে। এতে তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ভবানীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক এম আর সাঈদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান- এ ব্যাপারে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
6
ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন ক্রিকেটার জাভেদ ওমর। দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত 'মাশরাফি জুনিয়র' ধারাবাহিকের একটি বিশেষ পর্বে দেখা যাবে তাঁকে। পর্বটি প্রচার হবে আজ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। সব বাধা ডিঙিয়ে স্বপ্নছোঁয়ার গল্প নিয়ে ধারাবাহিক 'মাশরাফি জুনিয়র'।আজকের পর্বে দেখা যাবে রুনাকে ফিরিয়ে দেয় সোহানা। কৌশলে বিদায় করে দেয় আলিয়াকেও। পুরো বাড়ি নিয়ন্ত্রণে নেয় সে। জন্ম দেয় আরেক সন্দেহের। সোহানার ভয়ে অফিসেও রুনাকে সমীহ করার ভান করে সাদিক। অন্যদিকে একাডেমিতে চান্স পাওয়ার পরীক্ষায় ক্রিকেটার জাভেদ ওমরের মুখোমুখি হয় মণিদের দল অলস্টার ক্লাব।আহমেদ খান হীরকের গল্পে 'মাশরাফি জুনিয়র' ধারাবাহিকের চিত্রনাট্য করেছেন আসফিদুল হক। সংলাপ লিখেছেন মারুফ হাসান। লাইন প্রডিউসার কিশোর খন্দকার এবং পরিচালনায় সাজ্জাদ সুমন।অভিনয় করেছেন সাফানা নমনি, অনিন্দ্য, হামিম, শতাব্দী ওয়াদুদ, গোলাম ফরিদা ছন্দা, ডা. এজাজ, ফজলুর রহমান বাবু, রুনা খান, লুৎফর রহমান জর্জ, আইরিন আফরোজ, মাইমুনা ফেরদৌস মমসহ অনেকে।টিভিতে প্রচারের পরপরই ধারাবাহিক 'মাশরাফি জুনিয়র' নাটকটি দেখা যাচ্ছে দীপ্ত টিভির ইউটিউবে।
6
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে যে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপির দাবি একটাই, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার। এ ছাড়া, আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে না তাঁর দল। বরিশাল নগরের একটি হোটেলে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশাল (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিমা রহমান বলেন, বিএনপি সার্চ কমিটি কী, তা জানে না, আর মানেও না। তবে বিএনপি এটা জানে, নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন করবে না। কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে সোমবার। আগামী নির্বাচনের জন্য নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ে রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। নতুন ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্নভাবে ৩২২ জনের নামের প্রস্তাব পেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি। এই প্রক্রিয়া শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে বিএনপি। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে সেলিমা রহমান বলেন, 'আমরা এখন দেশের গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছি। তাই আগামী আন্দোলনে এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে কাজ করতে হবে।' বিএনপির এই নেতার ভাষ্য, খালেদা জিয়া এই সরকারের অত্যাচার, নির্যাতন ও মিথ্যা অন্যায়ের সাজা ভোগ করার পরও এক সেকেন্ডের জন্যও মাথা নত করেননি, আপস করেননি। এ দেশের মানুষ আজ একটা অবৈধ সরকারের শাসনের মধ্যে আছে। আজ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে গুম, খুন করে দেশ দখল করে রাখার কারণে প্রশাসনের ওপর বিভিন্ন দেশ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব আকতার হোসেনের সঞ্চালনায় পরিচিতি সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন খান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবায়েদুল হক, নগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান খান, সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ, সদস্যসচিব মিজানুর রহমান প্রমুখ। পরে সেলিমা রহমান নবগঠিত আহ্বায়ক, সদস্যসচিবসহ ৪৭ জন সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান।
9
দুই বউকে তালাক দেওয়া হাফিজুর রহমান (২৫) মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে প্রেমের জালে ফেলে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানাধীন ১৫ নং লােহানীপাড়া ইউনিয়নের কাচাবাড়ি গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে। এরপর জড়ান অন্তরঙ্গ সম্পর্কে। আর তার দৃশ্যটি ধারণ করেন বন্ধু বিপুল চন্দ্র (২৬)। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেও একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। আর ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ভয়েই আত্মহত্যা করে মেয়েটি। বুধবার (২৪) দুপুরে অশ্লীল ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এসব কথা বলেন সিআইডির ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম। তিনি বলেন, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানাধীন ১৫ নং লােহানীপাড়া ইউনিয়নের কাচাবাড়ি গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী গত ৫ জানুয়ারি বিষপানে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় কোতােয়ালী থানায় (ইউডি) মামলা হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ইউনুস আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান মেয়েটিকে প্রেমের ফাদে ফেলে ধর্ষণ করে ও তার সহযােগী বিপুল চন্দ্রকে দিয়ে মুঠোফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও একাধিকবার ধর্ষণ করে হাফিজুর রহমান। ভিডিও টি ভাইরাল হবার আশঙ্কায় মেয়েটি তার ও পরিবারের আত্মমর্যাদাহানীর কথা চিন্তা করে বিষপান করে। মেয়েটিকে বদরগঞ্জ উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে নিতে বলেন ও রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটি মারা যায়। তিনি আরও বলেন, তবে ভিডিওটি ২২ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকায় ভাইরাল হয়। এরপর থেকেই কিশােরীর বিধবা মা বাড়ি ছাড়ে। তিনি কোথায় গেছেন, প্রতিবেশীরা কেউই তা জানতাে না। বাড়িতে তখন তালা ঝুলছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার দুই ব্যক্তি অভিযােগ করেন, হাফিজুর রহমান মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করায় মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। হাফিজুর রহমানের এলাকার লােকজন বলেন, হাফিজুর দুটি বিয়ে করে দুই স্ত্রীকেই তালাক দিয়েছেন। তাকে তখন বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাবা ইউনুছ বলেন, তিনি ইউপি নির্বাচন করবে তাই তাহার পরিবারকে ঘায়েল করতেই তার ছেলের নামে অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন। ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম বলেন, অপরাধ সংঘটনের পরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মাে. হাফিজুর রহমানকে তথ্যাদি যাচাই-বাছাই পূর্বক পর্যালােচনার মাধ্যমে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন জামগড়া এলাকা থেকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে হাফিজুর রহমান। তবে ভিডিওটি ভাইরাল করে বিপুল চন্দ্র। তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে আটক করা গেলে আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।
6
আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনের তফসিল এক মাস পেছানোরও দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সংবাদ সম্মেলনে জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনের পাশাপাশি ৭ দফা দাবিতে জোটের আন্দোলনও চলবে। বিডি-প্রতিদিন/১১ নভেম্বর, ২০১৮/মাহবুব
6
ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রশিদ সরকারআর নেই। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা৫৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাইহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ড. এম এ রশিদ সরকার সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইন্সটিউটের পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ও ডিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়েছে। সেই সাথে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে ওয়াসা। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
মিয়ানমারের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কারেন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত গ্রামে প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে আজ রোববার সীমান্ত পেরিয়ে শরণার্থী হিসেবে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। কারেন নারী অধিকার সংগঠন ও থাই গণমাধ্যমের বরাতে এই খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গতকাল শনিবার কারেন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগঠন কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন দাবি করে, থাইল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় মিয়ানমারের একটি সেনাচৌকিতে হামলা চালিয়ে ১০ জনকে হত্যা করেছে তারা। তাদের মধ্যে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তাও রয়েছেন। হামলায় সংগঠনটির একজন সদস্যও নিহত হন। আজ রোববার এক বিবৃতিতে কারেন নারী অধিকার সংগঠন 'কারেন ওমেন্স অর্গানাইজেশন' বলেছে, ওই হামলার জবাবে গতকাল মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলে মুতরা জেলায় কারেনদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্তত পাঁচটি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। বিমান হামলা হয়েছে বাস্তুচ্যুত লোকজনের স্থানীয় একটি আশ্রয়শিবিরেও। সংগঠনটি বলেছে, বিমান হামলার সময় গ্রামবাসী জঙ্গল ও পাহাড়ের ঢালে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচান। এরপর তিন হাজারের মতো মানুষ শরণার্থী হিসেবে সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ড চলে যান। জান্তার হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে থাইল্যান্ডে প্রায় তিন হাজার মানুষের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানিয়েছে থাইল্যান্ডের গণমাধ্যম পিবিএস। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জান্তা প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া মেলেনি। বিমান হামলায় কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের অন্তত দুই সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের সংগঠন ফ্রি বার্মা রেঞ্জার্সের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড ইউবাঙ্ক। তিনি বলেন, 'গত ২০ বছরে আমি এখানে বিমান হামলা দেখিনি। রাতের বেলায় হামলা চালিয়েছেন জান্তা সেনারা।' এদিকে মিয়ানমারের একটি নাগরিক সংগঠন বলেছে, ওই বিমান হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক লোকও নিহত হয়েছেন। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কারেন বিদ্রোহীদের ২০১৫ সালে অস্ত্রবিরতি চুক্তি হয়। তবে মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থান ও অং সান সু চিকে আটকের পর থেকে দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ উত্তেজনার মধ্যেই সেনাচৌকিতে হামলা চালান কারেন বিদ্রোহীরা।
3
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণভাবে লকডাউন হিসেবে পরিচিত চলমান বিধিনিষেধ আরো সাত তিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ আগামী ৫ মে পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানা গেছ। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সীমিত বিধিনিষেধ দেয়া হলেও তা খুব একটা কার্যকর হয়নি। পরে ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ। এটি বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। যদিও শপিং মল খোলাসহ বেশকিছু বিষয়ে বিধিনিষেধের শর্ত শিথিল করেছে সরকার। এখন বাড়তি এই সময়ে বিধিনিষেধ কঠোর হবে নাকি শিথিল থাকবে তা জানা যাবে প্রজ্ঞাপন জারির পর।
6
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ছয়ানী বাজারের শ্রী শ্রী সার্বজনীন দূর্গামন্দিরের দূর্গাপুজার মন্ডপে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বাত্বক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিনের নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মন্দির কমিটির নেতাদের হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দিয়ে এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন বলেন, মন্দিরে হামলাকারী এরা কারা? আমরা ক্লিয়ার, এরা হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা এদেশের দু'লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছেন তারা, এরা হচ্ছে আমার দেশের ত্রিশ লক্ষ লোককে যারা শহীদ করেছে, তারা। এরা তারা, যারা পচাঁত্তর সালে বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে মদদ দিয়েছে, তারা। একাত্তরের পরাজিত শত্রু, পচাঁত্তরের খুনি চক্র এবং যারা এদেশে মৌলবাদের রাজনীতিতে পৃষ্ঠপোষকতা করছে, তাদের অর্থায়নে ও সহযোগিতায় মন্দিরে হামলার মতো এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বাংলাদেশকে অস্থিশীল করে তারা ঘোলা পানিতে রাজনীতি করতে চাই। তিনি বলেন, এদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের অবদান রয়েছে। রাষ্ট্রীয় চার নীতি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয়। আজ সেই স্বাধীন দেশে ধর্মের নামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা হচ্ছে, এটা দুঃখজনক। আমাদের দলের যারা আছেন, আমাদেরকে আরো যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে। শাহীন বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশকে জননেত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আজকে এই ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশকে কোন সাম্প্রধায়িক গোষ্ঠি তাদের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে আমরা দিবো না। বঙ্গবন্ধুর আর্দশে বিশ্বাস করার কারণেই বার বার হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। এসময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. এবিএম জাফর উল্যাহ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট হুমায়ুন কবির হিরো, সাইফুল ইসলাম হারুন, ছয়ানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন রশিদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। পরে শিহাব উদ্দিন শাহিনসহ জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কবিরহাট উপজেলার দরাপ নগর কালী মন্দির দুর্গাপুজামন্ডপে হামলার স্থল ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ ও ভীতসন্ত্রস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে কথা বলেন। তাদের পাশে থাকার আশ্বান দেন এবং তাদেরকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বৃহস্পতিবার মাগরীবের নামাজের পর শতশত মানুষ বিভিন্ন দিক থেকে জড়ো হয়ে ছয়ানী সার্বজনীন দূর্গাপুজা মন্ডপে হামলা করে প্রতীমা ভাঙচুর করে ও আগুন ধরিয়ে দেয়। পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাদের ছোড়া ইটপাটকেলে বেগমগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত রুহুল আমিনসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। রাতেই ঘটনাস্থল পরিবর্দন করেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা। এ ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। অপর দিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কবির উপজেলার দরাপ নগর কালী মন্দির দুর্গাপুজামন্ডপে হামলা চালায় দুবৃর্ত্তরা।
6
উত্তেজনায় টগবগ করা আসামের পাশাপাশি এবার আগুনের হলকা ছড়াল কাশ্মীরে। আনুষ্ঠানিকভাবে অঞ্চলটির সাংবিধানিক স্বাতন্ত্র্য প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। গত দুই সপ্তাহে সেখানে প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় সৈন্য প্রবেশ করেছে। এটা ছিল এত দিনকার সামরিক উপস্থিতির অতিরিক্ত। কাশ্মীরকে ইতিমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিকায়িত এলাকা হিসেবে গণ্য করা হয়। নতুন করে সৈন্য মোতায়েনের পর অবস্থা কী দাঁড়িয়েছে, সহজে বোধগম্য। এই লেখা তৈরির সময় শ্রীনগরে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। স্কুল-কলেজ, ফোন ও ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেবল টিভি নেটওয়ার্কও বন্ধ। সরকার নির্দেশ দিয়েছে, কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল করা যাবে না। সৈয়দ আলী শাহ গিলানিসহ অনেক নেতা ইতিমধ্যে গৃহবন্দী সেখানে। সর্বশেষ আটক করা হয়েছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে। দ্বিতীয় জনপ্রিয় নেতা ইয়াসিন মালিককে বন্দী রাখা হয়েছে দিল্লিতে তিহার কারাগারে। গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী কোনো রাজনীতিবিদই সেখানে আর মুক্ত অবস্থায় নেই। সমগ্র কাশ্মীরে থমথমে অবস্থা এবং রাস্তাঘাট পুরোদস্তুর ফাঁকা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সামরিক বাহিনী ব্যারিকেড বসিয়ে রেখেছে। গত দুই সপ্তাহের আতঙ্কে সমগ্র ভ্যালিজুড়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম থমকে গেছে। নাজুক অবস্থায় রয়েছে বাজারব্যবস্থা। কেউ জানে না এই জঘন্য অবস্থার শেষ কোথায়। তরুণ রাজনৈতিক সংগঠক শেহলা রশীদ তাঁর টুইটার বার্তায় লিখেছেন 'ভারত কাশ্মীরকে এক কৃঞ্চগহ্বরে ঢুকিয়ে দিয়েছে।' ঠিক এ রকম এক দিনে নয়া দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সরকার সিদ্ধান্ত জানাল, জম্মু ও কাশ্মীরের মর্যাদার স্মারক সংবিধানের 'অনুচ্ছেদ ৩৭০' প্রত্যাহার চায় তারা। লোকসভায় সেই প্রস্তাবই তুলে ধরলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর ফলে সংবিধানের ৩৫-এ অনুচ্ছেদও বাতিল হয়ে যাবে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, মোদি নয়, অমিত শাহই কাশ্মীর বিষয়ে এ মুহূর্তে চালকের আসনে রয়েছেন। নতুন ভারতীয় সিদ্ধান্তের তাৎপর্যকয়েক মাস ধরে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার নজর ছিল আসামের দিকে। ৩১ আগস্ট সেখানে নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা ঘোষিত হবে এবং ধারণা করা হচ্ছে ৩০-৪০ লাখ মানুষ সেখানে রাষ্ট্রবিহীন হয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে ভয়াবহ এই মানবিক দুর্যোগের আশঙ্কার মুখেই সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া কেঁপে উঠল কাশ্মীর বিষয়ে মোদি সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে। শুধু ৩৭০ ধারাই তুলে দিল না মোদি সরকার, একই সঙ্গে কাশ্মীর থেকে ভেঙে আলাদা করে দেওয়া হলো লাদাখকে। এখন থেকে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ। দুটি জায়গাতেই দুজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করা হবে। অর্থাৎ, কাশ্মীরের পতন হলো রাজ্যের মর্যাদারও নিচে। ভারতীয় সংবিধানের আলোচ্য দুটি অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের বহু রকমের তাৎপর্য রয়েছে। সাধারণভাবে এটা কাশ্মীরকে সাধারণ একটা ভারতীয় অঙ্গরাজ্যে পরিণত করবে। অর্থাৎ, কাশ্মীরের 'আজাদি'র বিষয়টি বহু দূর পিছিয়ে যাবে এর মাধ্যমে। তবে বিশেষভাবে ৩৫-ক অনুচ্ছেদ বাতিলের তাৎপর্য হবে সুদূরপ্রসারী। কাশ্মীর আর আগের মতো মুসলমানপ্রধান থাকবে না। জম্মুতেও অমুসলমানদের হিস্যা বাড়ানো হবে। মূলত জনমিতি পাল্টে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নতুন এক নিরীক্ষা হিসেবেই দোভাল-অমিত শাহ জুটি উদ্যোগটি নিচ্ছে। আরএসএসের অনেকেই মনে করেন, হিন্দুপ্রধান জম্মু এবং বৌদ্ধপ্রধান লাদাখকে পাশে রেখে কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, যদি কাশ্মীরে অমুসলমান হিস্যা বাড়ানো যায়। কাশ্মীরি অমুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধির আইনগত প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হলে ধীরলয়ে এটা একসময় পূর্ণ ভারতীয় রূপ নিয়ে নেবে। এ ছাড়া ৩৫-ক-এর অনুপস্থিতিতে কাশ্মীরের ভারতীয় করপোরেটদের সম্পদ ক্রয় ও বিনিয়োগেও বিশেষ সুবিধা হবে। ভারতে এ মুহূর্তে যে আটটি প্রদেশে হিন্দুরা সংখ্যালঘু, তার একটি জম্মু ও কাশ্মীর। প্রদেশের জম্মুতে হিন্দু রয়েছে ৬৩ ভাগ, লাদাখে ১২ এবং কাশ্মীরে ২ ভাগ। গড়ে পুরো রাজ্যে ৩৬ ভাগ। বিজেপি এই অবস্থারই পরিবর্তন ঘটাতে চায় ৩৫-ক পাল্টে। অর্থাৎ, ভ্যালিতে জনমিতিক পরিবর্তন ঘটিয়ে। রাজ্যের সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিক গ্রেপ্তার হওয়ার আগে নয়া দিল্লির 'পরিকল্পনা'কে আগুনে বারুদের গুঁড়া ছিটানোর মতো ভুল হিসেবে হুঁশিয়ার করেছিলেন। তাঁর মতে, এতে পরিস্থিতির ওপর কারোরই নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। মেহবুবার দ্বিতীয় বাক্যটি তাৎপর্যপূর্ণ। '৩৫-ক' কিংবা '৩৭০' বাতিল হওয়া মানে কাশ্মীরি তরুণ-তরুণীদের কাছে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাওয়া। অতঃপর কাশ্মীরের সাংবিধানিক স্বাতন্ত্র্য শেষ হয়ে যাবেকাশ্মীরের রাষ্ট্রনৈতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক ভারতীয় সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদ। 'অনুচ্ছেদ ৩৭০' এবং 'অনুচ্ছেদ ৩৫-ক'। ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ ও পররাষ্ট্রনীতি ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার বাকি বিষয়গুলোতে জম্মু ও কাশ্মীরে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হলে ভারত সরকারকে স্থানীয় আইনসভার সঙ্গে আলাপ করে করতে হয়। প্রথমে এই অনুচ্ছেদ ছিল ৩০৬-এ আকারে। ১৯৫২-এর ১৭ নভেম্বর থেকে তা বর্তমানের 'অনুচ্ছেদ ৩৭০' পরিচয় পায়। আইন বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই অনুচ্ছেদ জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতীয় সংবিধান মেনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেয়, এই অঞ্চলের ওপর ভারত সরকারের কর্তৃত্ব সীমিত করে এবং জম্মু ও কাশ্মীরের নিজস্ব আইনসভার শক্তিমত্তারও স্বীকৃতি দেয়। ভারতের সংবিধান প্রণয়নকালে ভারত সংযুক্ত পূর্বতন প্রিন্সলি স্টেটগুলোকে প্রতিনিধি প্রেরণের অনুরোধ করা হলেও কাশ্মীরের মহারাজা তাতে কোনো প্রতিনিধি প্রেরণ করেননি। স্থানীয় ন্যাশনাল কনফারেন্স দল তাতে চারজন প্রতিনিধি প্রেরণ করেছিল। কাশ্মীরের মহারাজা প্রতিনিধি প্রেরণ না করার রাষ্ট্রনৈতিক ভিত্তি ছিল এই যে ভারতভুক্তি বিষয়ে তিনি দিল্লির শাসকদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিলেন, তাতে (ধারা ৭) কাশ্মীরের ভারতীয় সংবিধান মেনে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না, বরং নিজস্ব সংবিধান প্রণয়নের এখতিয়ার ছিল। এ রকম ঐতিহাসিক পটভূমিতেই ভারতীয় সংবিধান প্রণয়নকালে তাতে কাশ্মীর বিষয়ে ৩৭০ নম্বর ধারাটি যুক্ত হয়। ভারতভুক্ত প্রিন্সলি স্টেটগুলোর মধ্যে কেবল জম্মু ও কাশ্মীরই এইরূপ বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা ভোগ করছে। প্রায় সম্পূরক আরেকটি সাংবিধানিক ধারা হলো '৩৫-এ'। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরে 'স্থায়ী বাসিন্দা'দের বিশেষ মর্যাদা ও অধিকার দিতে পারে স্থানীয় আইনসভা। পাশাপাশি '৩৫-ক' অনুযায়ী কাশ্মীরের বাসিন্দা নন এমন ভারতীয়দের সেখানে সম্পদের মালিক হওয়া ও চাকরি পাওয়ায় বাধা আছে। ১৯৫৪ সালের ১৪ মে ভারতের প্রেসিডেন্ট রাজেন্দ্র প্রসাদ অধ্যাদেশের মাধ্যমে কাশ্মীরের এই মর্যাদা নির্ধারণ করেছিলেন। কাশ্মীরিরা যাতে সার্বভৌমত্বের বোধ নিয়ে, সুখী মনোভাবের সঙ্গে 'ভারত ইউনিয়ন'-এ থেকে যায়, সেই লক্ষ্যে নেহেরু সরকারের সুপারিশে প্রেসিডেন্ট অধ্যাদেশটি জারি করেন সে সময়। সংবিধানের 'অনুচ্ছেদ ৩৭০'-এর আলোকে অধ্যাদেশটি জারি হয়। ৩৭০ এবং ৩৫-ক অনুচ্ছেদ এত দিন কাশ্মীরকে ভারতীয় সংবিধান মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দিয়েছিল বলে মনে করা হলেও এবার তার আনুষ্ঠানিক অবসান চাইছে ভারত সরকার। যদিও ইতিমধ্যেই অনেক কাগুজে বিষয় হয়ে গিয়েছিল রাষ্ট্রনৈতিক ওই স্বাতন্ত্র্য। বাস্তবে কাশ্মীর ছিল একটি অধিকৃত অঞ্চলের মর্যাদায়। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে জম্মু ও কাশ্মীর একটি সাধারণ ভারতীয় রাজ্যের চাইতেও নিচে চলে যাবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসভার হাতে কোনো ক্ষমতাই থাকবে না। কাশ্মীর ও লাদাখ নিয়ন্ত্রিত হবে গভর্নরের দ্বারা। এটা বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলবিজেপি সরকারের দিক থেকে কাশ্মীর বিষয়ে সর্বশেষ পদক্ষেপ অস্বাভাবিক নয়। যেহেতু '৩৫-ক' এবং '৩৭০' অনুচ্ছেদের বাতিল মোদি-অমিত শাহ জুটির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল এবং শেষোক্তজনই আছেন এখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে, সুতরাং এ রকমই হওয়ার কথা। তবে এসব অনুচ্ছেদ নিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে অন্তত সাতটি মামলা চলছে। বিজেপি সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সেটারও তোয়াক্কা করতে চাইছে না। বিজেপি নেতাদের মতে, কাশ্মীরের মর্যাদাবিষয়ক উল্লিখিত অনুচ্ছেদসমূহ কাশ্মীরি তরুণদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার মনস্তত্ত্ব তৈরি করছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠকেরা বলছেন, সমগ্র ভারতের জন্য থাকবে'এক প্রধান-এক বিধান-এক নিশান'। অর্থাৎ, ভারতে থাকবে কেবল 'একটি রাষ্ট্রীয় পতাকা, একজন সরকারপ্রধান এবং একটি সংবিধান।' সৈয়দ গিলানির আর্তি 'এসওএস'বড় একটা গ্যারিসনের মতো কাশ্মীরের পরিবেশে এ মুহূর্তে স্বাধীন মতামত বা ভিন্নমত প্রকাশের কার্যত কোনো নিয়মতান্ত্রিক উপায় নেই। এক বছর হলো রাজ্যটিতে প্রথমে গভর্নরের শাসন এবং পরে প্রেসিডেন্টের শাসন চলছে। ২২ বছর পর সেখানে আবার নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির চরম দুর্দিন নেমে এল। বিজেপি ছাড়া অন্যান্য দলের রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ। স্থানীয় সমাজে সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা শাহ গিলানি এক টুইটার বার্তায় বিশ্ববাসীর কাছে তাঁদের রক্ষার আর্তি জানিয়ে লিখেছেন: 'এই বার্তাকে এসওএস হিসেবে গণ্য করুন।' তবে পাকিস্তান ব্যতীত বিশ্বের আর কোথাও থেকে কাশ্মীর নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো উদ্বেগ দেখা যায়নি। মূল ভারতে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখাচ্ছে ন্যূনতম মাত্রায়-কেবল বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে। পার্লামেন্টে তারা বিজেপির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কোনো সম্মিলিত অবস্থান নিতে পারবে বলেও মনে হয় না। কারণ, সাধারণভাবে বিজেপিবিরোধী শিবিরেও কাশ্মীর বিষয়ে নীতিগত ভিন্নতা আছে বিভিন্ন দলের মধ্যে। আলতাফ পারভেজ: দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ে গবেষক আরও পড়ুন: জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদদ্বিখণ্ডিত জম্মু-কাশ্মীর আর রাজ্য নয়
8
একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক আর নেই। সোমবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মেয়ের জামাই অভিনেতা সাজু খাদেম জানান, 'বাবা সকালে বেশ সুস্থ ছিলেন। দুপুরে বাসাতেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেহাসপাতালে নেওয়া হয়। বেলা ৩টার দিকে চিকিৎসকরা জানান, তিনি মারা গেছেন।' দেশের অভিনয় জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র ড. ইনামুল হক পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬৫ সালে প্রভাষক হিসেবে বুয়েটের রসায়ন বিভাগে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ড. ইনামুল হকের অভিনয় জীবন শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের সময়। জনগণকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করার জন্য নাটকের পথ বেছে নেন তিনি। একাত্তরে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে ঘুরে ঘুরে পথনাটক করেছেন। পরবর্তীতে তিনি টিভি নাটক, সিনেমা এবং ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে অভিনয় করে দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। গুণী এই অভিনেতার পুরো পরিবার নাটকে সম্পৃক্ত। তার স্ত্রী লাকী ইনামও কিংবদন্তি অভিনেত্রী, মেয়ে হৃদি হকও নির্দেশক ও অভিনেত্রী। তার অপর মেয়ে পৈত্রি হকের স্বামী সাজু খাদেম। ২০১২ সালে ড. ইনামুল হক একুশে পদক লাভ করেন। ২০১৭ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে সরকার। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
2
বাংলা প্রেসক্লাব রাশিয়ার কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি হয়েছেন বারেক কায়সার এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে স্বরুপ দেবকে। শনিবার মস্কোর একটি রেস্টুরেন্টে এক বছরের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়।কমিটির অন্যরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সৌরভ এলাহী, সহ-সভাপতি আনিতা বিশ্বাস, আকিকুল ইসলাম ও মো. রহমাতুল্লাহ। এছাড়া কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মাহমুদ আল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এডওয়ার্ড আর্থার, দপ্তর সম্পাদক মো. ইলিয়াস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহন তালুকদার এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সৈয়দ মেহেদী হাসান।বাংলা প্রেসক্লাব রাশিয়ার সভাপতি বারেক কায়সার ও সাধারণ সম্পাদক স্বরুপ দেব বলেন, 'সংগঠনের সদস্যরা পারস্পরিক একতা বজায় রেখে দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ, নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও সৃজনশীল সাংবাদিকতা চর্চা করবে- এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। সাংবাদিকরা রাশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। এছাড়া বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অটুট রাখতে কাজ করবে।'
4
দ্বিতীয় ম্যাচে আজ টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ফিল্ডিংয়ে পাঠায় ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদ। আর উইন্ডিজের হয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ব্যাট করতে আসেন কিরন ওটলে এবং সুনীল অ্যাম্ব্রিস। তবে ব্যাট হাতে তারা শুরুটা ভালো করতে পারেনি। কারণ টাইগার দলের দাপুটে বোলার মোস্তাফিজের আঘাতে প্রথম উইকেট খুঁইয়েছে সফরকারীরা। পরে জোড়া আঘাত করেন মেহেদী হাসান। ইনিংসের ৫ম ওভারে বল হাতে আসেন মোস্তাফিজ, ওই ওভারের ৫ম বলে সুনীল অ্যাম্ব্রিসকে তুলে নিলে প্রথম উইকেট হারায় উইন্ডিজ। আর আউট হওয়ার আগে অ্যাম্ব্রিস নামের পাশে যোগ করেন কেবল ছয়টি রান। এরপরই বোলিংয়ে এসে জোড়া আঘাত করেন মেহেদী। তিনি বিপজ্জনক হয়ে ওঠা কিরন ওটলে এবং জশুয়া ডা. সিলভাকে আউট করেন। এই রিপোর্ট লেখা পযর্ন্ত উইন্ডিজের সংগ্রহ ১৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৭ রান।
12
করোনা আক্রান্ত স্বামীর প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হতেই তাকে নিয়ে অটোতে করে হাসপাতালের দিকে রওনা দিয়েছিলেন ভারতের আগরার রেণু সিঙ্ঘল। তবে অটোর মধ্যেই স্বামীর শ্বাসকষ্ট আরো বাড়তে থাকে। নিরুপায় হয়ে স্বামীকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা শুরু করেন রেণু। স্বামীর মুখে মুখ রেখে কৃত্রিম উপায়ে তাকে শ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি। সোমবার হাসপাতালের বাইরে রেণুর কোলে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন তার স্বামী রবি সিঙ্ঘল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রেণুর এই মরিয়া প্রচেষ্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পুরো ঘটনায় আবারো প্রকাশ পেয়েছে করোনা রোগীদের করুণ অবস্থা। দেশটির পুলিশ বলছে, উত্তর প্রদেশের আবাস বিকাশ সেক্টর-৭-এর বাসিন্দা রবি সিঙ্ঘলের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হওয়ায় তাকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওনা হয়েছিলেন রেণু। অটোতে করে দ্রুত পৌঁছাতে চেয়েছিলেন সরোজিনী নাইডু মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তবে ওই সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানোর আগেই রবির শ্বাসকষ্টের সমস্যা গুরুতর হতে শুরু করে। স্বামীকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে অটোর মধ্যেই তাকে কৃত্রিম উপায় বাঁচানোর চেষ্টা শুরু করেন রেণু। তবে শেষমেশ রবিকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। ঘটনার পর রীতিমতো বিহ্বল রেণুর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। রেণুর ঘটনায় দিল্লি, আগরাসহ ভারতের অসংখ্য হাসপাতালে কোভিড রোগীদের ভয়াবহ দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে। করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় অক্সিজেনের হাহাকার শুরু হয়েছে হাসপাতালগুলোয়। অপ্রতুল হয়ে পড়েছে করোনা রোগীদের বেড। এ অবস্থায় সংক্রমণও প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশ নতুন করে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৯১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৮১২ জন। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা (৮৩২)। তার পরেই রয়েছে দিল্লি (৩৫০)। সব মিলিয়ে দেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। সূত্র : অনন্দবাজার পত্রিকা
3
জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বিদিশা এরশাদ ঢাকেশ্বরী মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকেশ্বরী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। পূজা উৎসব পরিদর্শন শেষে বিদিশা তার বক্তব্যে সব ধর্মের মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহবান জানান। শান্তিপূর্ণভাবে যার যার ধর্ম পালনের কথা উল্লেখ করে সবাইকে দূর্গাপূজা উৎসবে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান বিদিশা এরশাদ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জাপা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কাজী অ্যাডভোকেট কাজী রুবায়েত হাসান,পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট শোয়েব আহমেদ, ময়মনসিংহ বিভাগের সমন্বয়ক লুৎফুল গনি টিটু, প্রচার ও প্রকাশনার দায়িত্বপ্রাপ্ত নাফিজ মাহবুব, দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. ইদ্রিস আলী ও জাতীয় মহিলা পার্টি নেত্রী শেখ রুনা ও মীরাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
6
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চলছে ভূমি অফিসের কার্যক্রম। ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণের অজুহাতে দীর্ঘ চার বছর ধরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা কার্যক্রম বন্ধ আছে । সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অযত্ন-অবহেলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের আশপাশে ময়লা আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, ডাক্তারদের কক্ষেও ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। স্থানীয় আবুল কাশেম জানান, দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে বন্ধ রয়েছে চিকিৎসা সেবা, তবে বন্ধ নেই ভূমি অফিসের কার্যক্রম। ভূমি অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে নিয়মিত খোলা হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। এ সুযোগে ডাক্তাররা থাকেন অনুপস্থিত। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সেবা বঞ্চিত রয়েছে এলাকাবাসী। পোড়াকান্দুলিয়া গ্রামের আব্দুল মতিন জানান, গত দেড় বছরের মধ্যে একবার মাত্র ডাক্তার এসে কোনোমতে এক ঘন্টা সময় দিয়েই চলে গেছেন। নামেই শুধু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। কার্যক্রমে সেটি ভূমি অফিস। সেবা নিতে রোগীদের যেতে হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র কর্মকর্তা সুলতান আমিন আহমেদ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমাদের ডাক্তার সংকট থাকায় পুরোপুরি সেবা দিতে পারছি না। হাসপাতালে ভূমি অফিসের কার্যক্রম চলার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিকুজ্জমান বলেন, ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদার অসুস্থ্ থাকায় এলজিইডি হস্তান্তর করতে পারছে না, হস্তান্তর করলেই নতুন ভবনে চলে যাবে।
6
চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু খুনে তার বাবার দায়ের করা দ্বিতীয় মামলায় পিবিআই'য়ের দায়ের করা চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে দ্বিতীয় মামলা তথা মিতুর বাবার দায়ের করা মামলার সকল তথ্য ও উপাত্ত প্রথম মামলায় একীভূত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দ্বিতীয় মামলার বাদীর দায়ের করা নারাজি পিটিশন খারিজ করে দেন আদালত। রোববার চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হালিম এর আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক সমকালকে বলেন, দ্বিতীয় মামলায় পিবিআই'র দায়ের করা চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালত গ্রহণ করে এ মামলার তথ্যউপাত্ত প্রথম মামলায় একীভূত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের দাখিল করা নারাজি পিটিশনের উপর শুনানি শেষে তা খারিজ করে দেন আদালত। আদালত পিবিআই'র চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি পিটিশনটি দাখিল করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। গত ২৫ জানুয়ারি মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে তার বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা দ্বিতীয় মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। সেখানে থাকা তথ্যউপাত্ত স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের মামলায় একীভূত করতে আবেদন জানানো হয়। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি মিতুর বাবার করা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা বাবুলকে তার নিজের করা মামলাতেও গ্রেফতার দেখাতে আদেশ দেন আদালত। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতের কাছে সংক্রান্ত আবেদনটি করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে পাঁচলাইশ থানাধীন ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মিতু। এই ঘটনায় তখন বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। সেই সময় বাবুল আক্তার দাবি করেন, জঙ্গিরাই তার স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেছে। উক্ত মামলা ডিবি পুলিশ হয়ে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্ত শেষে সংস্থাটি ২০২১ সালের ১২ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেটিতে বলা হয়, বাবুল আক্তারই স্ত্রী মিতুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন। বাবুলের মামলায় পিবিআই যেদিন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সেদিন পাঁচলাইশ থানায় মিতু খুনের ঘটনায় বাবুল আক্তারসহ ৮ জনকে আসামি করে বাবুলের শ্বশুর মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন নতুন একটি মামলা করেন। শ্বশুরের করা সেই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাবুল আক্তারই পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী মিতুকে লোক লাগিয়ে হত্যা করে। বাবুল বর্তমানে ফেনী কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
6
দেশের অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন সঙ্কট রয়েছে। এই সঙ্কটের কারণে অর্থনীতির চালিকা শক্তির প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও পলিসি রির্চাস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআরআই) যৌথ গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। দেশের অর্থিনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সমাধান শীর্ষক এই প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই)। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকগুলো বড় বড় ঋণ গ্রহীতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ছোট গ্রহীতাদের প্রতি ব্যাংকগুলোর নজর খুব কম। এতে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ও ব্যাংকের ২৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার অর্থায়ন সুবিধায় দূরত্ব তৈরি হয়েছে। পিআরআই একটি বেসরকারি, অলাভজনক ও স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের অর্থনীতি, মূল নীতিগত চ্যালেঞ্জগুলো, দেশীয় এবং আর্ন্তজাতিক বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। গবেষণা প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অর্থায়ন খাতের বিশেষজ্ঞ মিহাসোনিরিনা আন্দ্রিয়ানাভিও বলেছেন, দেশের অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত ব্যাংক থেকে অর্থায়ন সুবিধা পান মাত্র ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর বড় ঋণ গ্রহীতারা এই সুবিধা পান ৪৪ শতাংশ। দেশের ব্যবসার পরিবেশ ব্যবস্থাপনাকেও অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) খাতের জন্য আরও একটি বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। আন্দ্রিয়ানাভিও বলেন, কেন্দ্রীয় (বাংলাদেশ) ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য ভাণ্ডারে এমএসএমই ঋণ সংক্রান্ত যথেষ্ট তথ্য নেই। এমএসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম সিআইবি রিপোর্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতে এক লাখ ৫২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের বিতরণ করা ঋণের ৭৬ শতাংশ এবং সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মোট ঋণের ১৯ শতাংশ বিতরণ করেছে এমএসএমই খাতে। এ বিষয়ে পলিসি রির্চাস ইনস্টিটিউট (পিআরআই) চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার বলেন, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাত দেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় অবদান রাখছে। এমএসএমই খাতের অর্থায়ন সমস্যা সমাধান করা গেলে দেশের অর্থনীতি বিশাল আকারে উপকৃত হবে। এমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণে সমস্যার বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ঋণ সুবিধা পাওয়ার জন্য জামানত একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্র্যাক ব্যাংকের এসএমই বিভাগের প্রধান সৈয়দ আবদুল মোমেন বলেন, এমএসএমইর জন্য অর্থায়ন সহজতর করার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর নীতি প্রবিধি অনুসরণ করে বাস্তবতার ভিত্তিতে যুগোপযুগী নীতি প্রণয়ন করা উচিত। যোগাযোগ করা হলে প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেল আহমেদ বলেন, বেশির ভাগ ঋণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ব্যাংকগুলো ছোট ব্যবসার চেয়ে বড় ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেয়, এ কথা সত্য। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
0
দুর্নীতি ও অন্যায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজিকে দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই বছরের নজরদারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। প্যারিসের এক আদালতে চলা মামলায় সোমবার ৬৬ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। নিকোলাস সারকোজি ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে আনা এক অভিযোগের তদন্তের তথ্য অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করে সংগ্রহের চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সরকারি কৌঁসুলিরা বিচারককে বলেন, বিচারক গিলবার্ট আজিবার্টকে মনাকোতে নিশ্চিত এক চাকরির প্রস্তাব দিয়ে সারকোজি তার বিরুদ্ধে আনা এক অভিযোগের তদন্তের গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন। ওই অভিযোগে বলা হয়, ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় বিশ্ববিখ্যাত পারফিউম ব্র্যান্ড ল'রেলের উত্তরাধিকারী লিলিয়ান বেতানকোরের কাছ থেকে অবৈধ অনুদান গ্রহণ করেছিলেন। সারকোজির প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অব্যাহতির পর তার ও তার আইনজীবী থিয়েরি হ্যারজগের মধ্যে ফোনালাপে আঁড়ি পাতার মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। ওই প্রচারণায় কথিত এক লিবীয় অর্থায়নের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে তাদের ফোনালাপে এই আঁড়ি পাতা হয়। আদালত সারকোজিকে জানান, তিনি এই ধরনের অবৈধ কাজের বিষয়ে 'যথার্থভাবে অবগত' ছিলেন। এই মামলায় আদালত সারকোজির আরো দুই সহযোগীকে দোষী সাব্যস্ত করে একই দণ্ড দেন। আদালতে সারকোজি জানান, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। বরং তিনি অর্থনৈতিক কৌঁসুলিদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন, যারা তার বিষয়ে অতিরিক্ত নাক গলিয়েছে। সোমবারের আদালতের আদেশের পর আপিলের জন্য সারকোজির হাতে ১০ দিন সময় রয়েছে। আদালত সারকোজিকে জানিয়েছেন, ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট পরা অবস্থায় তাকে নিজ বাড়িতে আটক রাখা হবে। এই মাসের শেষে ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় অবৈধ অর্থ গ্রহণের অভিযোগে অপর এক মামলার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন নিকোলাস সারকোজি। এই মামলায় তার সাথে আরো ১৩ জন অভিযুক্ত রয়েছেন। সূত্র : আলজাজিরা
3
নাগরিকদের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতেই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় ত্রুটির বিষয়টি বড় করে দেখাতে চাইছে বিজেপি। এমনই অভিযোগ কংগ্রেসের। এমনকি কংগ্রেসশাসিত পাঞ্জাবে সরকার ফেলে দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও মনে করছেন কংগ্রেস নেতারা।বিজেপি অবশ্য কংগ্রেসের অভিযোগকে আমল না দিয়ে রাজ্যে রাজ্যে নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তা দিতে কংগ্রেস সরকারের ব্যর্থতাকে তুলে ধরছে। পাঞ্জাবের ঘটনা নিয়ে উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর ও গোয়াতেও ভোটে সহানুভূতির হাওয়া তুলতে চাইছে বিজেপি। ফলে চাপা পড়ে যাচ্ছে ভোটের মুখে অন্য বিষয়গুলো।ভারতের রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মোদি জামানায় ভোট এলেই দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলার হিড়িক লেগে যায়। জঙ্গি হামলা বা সার্জিকাল স্ট্রাইকের মতো ঘটনা দিয়ে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা অতীতেও হয়েছে। তা ছাড়া গত বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে হারের পর বিজেপির কাছে দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশসহ পাঁচ রাজ্যে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন জরুরি। কিন্তু কৃষক আন্দোলন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কোভিড পরিস্থিতিতে বেকারের সংখ্যাবৃদ্ধি, ধর্ম সংসদের নামে ঘৃণার রাজনীতি বিজেপির জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।গত কয়েক বছর ধরেই মোদির ভাবমূর্তিকেই বাজি ধরে বিজেপি নির্বাচনে লড়েছে। কিন্তু সেই ভাবমূর্তি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বিজেপির অন্দরমহলে। মেঘালয়ের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক তো মোদির বুদ্ধি-বিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। দলের দুই সাংসদ বরুণ গান্ধী এবং সুব্রাহ্মণিয়াম স্বামীর বিতর্কিত মন্তব্যেও দল বেশ বিব্রত। এ ছাড়াও উত্তর প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রর উত্থান বিজেপিকে চিন্তায় ফেলেছে। তাই অনেকেই মনে করছেন, পাঞ্জাবের ভাতিন্ডা থেকে সহানুভূতির হাওয়া তুলতে চাইছে বিজেপি।প্রধানমন্ত্রীর কনভয় টানা ২০ মিনিট অবরোধে আটকে থাকার ঘটনাটিকে অত্যন্ত সিরিয়াস বিষয় হিসেবেই দেখছেন ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব। কিন্তু তারপরও গাফিলতি কীভাবে হলো তা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে মামলা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর সফরের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সঠিক তথ্য তুলে আনতে পারেন কি না।তবে পাঁচ রাজ্যের ভোটের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টায় খামতি রাখতে চান না বিজেপি নেতারা। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার ডাকে সাড়া দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ প্রভৃতি রাজ্য থেকে 'মোদিকে হত্যাচেষ্টার' প্রতিবাদে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। দাবি উঠছে রাষ্ট্রপতি শাসনের।পাল্টা প্রচার শুরু করেছে কংগ্রেসও। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ভূপেশ ভাগলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাকে সামনে এনে বিজেপি নোংরা রাজনীতি করছে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে দেশের নিরাপত্তা নিয়েও রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন তিনি।পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিত সিং চান্নী বিজেপির সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সড়কপথে যাত্রার কথা আগাম জানানো হয়নি। তা ছাড়া মোদির জনসভায় লোক না হওয়াতেই বিজেপি এখন নাটক করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।ঘটনা যাই হোক না কেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে এ ধরনের গাফিলতির অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পক্ষে বিপজ্জনক বলে মনে করেন তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব। তাঁর মতে, সুপ্রিম কোর্ট গোটা ঘটনার তদন্ত করলেই প্রকৃত বিষয় উঠে আসবে।
3
হাসান। তারকা কণ্ঠশিল্পী। দীর্ঘদিনের বিরতি ভেঙে তিনি ফিরেছেন গানের ভুবনে। ব্যান্ড আর্কের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় কাটছে তার নতুন গানের আয়োজন নিয়ে। সংগীতায়োজন নিয়ে এখনকার ভাবনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে- গানের ভুবনে ফিরেছেন বেশ কিছুদিন আগে। এরপর নতুন কোনো গান রেকর্ড করেছেন? গানের কথা-সুর নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে, তবে প্রকাশ করার জন্য এখনও কোনো গান রেকর্ড করা হয়নি। কাজ শেষ হলে তারপর গান প্রকাশ নিয়ে ভাবব। শুনেছি একটি অডিও-ভিডিও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গান প্রকাশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে? আলোচনা তো হয়ই, কিন্তু গান যদি তৈরি না থাকে, তাহলে প্রকাশ করব কীভাবে। আগে গানের বিষয়ে সবকিছু চূড়ান্ত হোক, তারপর ব্যানার নিয়ে ভাবা যাবে। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার পরও হঠাৎ করেই গানের ভুবন থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন কেন? পাইরেসি, অ্যালবাম প্রকাশনার মাধ্যম বদলে যাওয়া, রয়্যালিটি নিয়ে ঝামেলা, ব্যান্ড লাইনআপে বারবার পরিবর্তন- এমন আরও কিছু কারণ ছিল, যার জন্য গানে নিয়মিত সময় দিতে পারছিলাম না। আর সেই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতেও এক ধরনের পালাবদল চলছিল। নতুনদের অনেকে গানের ভুবনে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে, আবার অনেকের ব্যস্ততাও কমে গেছে। সময় এভাবেই বদলে যায়, তাই গানের ভুবনের অনুপস্থিতি স্বাভাবিক বলেই মেনে নিয়েছি। পুরোনো দিনের কথা কী কখনও মনে পড়ে না? মনে পড়বে না কেন, ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময়ের কথা তো ভুলে থাকা সম্ভব নয়। ব্যান্ড নিয়ে দেশ-বিদেশ ছুটে যাওয়া, রাতদিন একাকার করে গান সৃষ্টিতে ডুবে থাকা, লাখো দর্শক-শ্রোতার ভালোবাসায় সিক্ত হওয়া- এসব নিয়েই তো শিল্পী জীবনের অধ্যায়। যার সূচনা নব্বই দশকে। সে সময় দেশীয় ব্যান্ডগুলোর যে জয়জয়কার চলছিল- তা ইতিহাস হয়ে থাকবে বলেই মনে করি। বিরতি নেওয়ার সময় কি ভেবেছিলেন আপনার কাছে শ্রোতার কোনো প্রত্যাশা আছে কিনা? শ্রোতা সবসময় আমার কাছে নতুন কিছু চেয়েছে। কিন্তু তা জেনেও কিছু করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে মনে হয়েছে, ভালোবাসার দাবি পূরণের জন্য হলেও কিছু করা উচিত। তাই গানের ভুবনে ফিরতে একটা ভালো সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম। আর সেই অপেক্ষার ফাঁকে ফাঁকে ব্যান্ড লাইনআপ গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে গেছি। একটু সময় লেগেছে আর্কে যে মানের মিউজিক তৈরি করে, সেই মানের মিউজিক তৈরি করার মতো সদস্য খুঁজে নিতে। অবশেষে আর্কের নতুন লাইনআপ দাঁড় করিয়ে বিরতি ভাঙা সম্ভব হয়েছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে শ্রোতাদের জন্য। এক কথায়, শ্রোতার ভালোবাসা ফিরিয়ে এনেছে গানের ভুবনে। স্টেজ শো নেই, টিভি আয়োজনেও চোখে পড়েনি- সময় কাটছে কীভাবে? করোনার এই দুঃসময়ে ঘরেই বন্দি থাকতে হচ্ছে। শুধু আমি নই, আমার সঙ্গে যেসব মিউজিশিয়ান কাজ করেন, তাদের সবারই একই অবস্থা। কেউ কেউ ঘরে বসে গান লিখছেন, সুর বা কম্পোজিশনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমি কিছু করার চেষ্টা করছি, কিন্তু সেভাবে সৃষ্টির আনন্দ খুঁজে পাচ্ছি না। এই বৈরী সময়ে মন যখন ভালো নেই, কাজে আনন্দ খুঁজে পাওয়াও কঠিন। আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই এটা চোখে পড়ছে।
2
জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেছেন, দেশে নতুন করে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। সুতরাং এখন থেকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে বড় বিপদ আসতে পারে। রোববার রাজধানীর শ্যামলীর ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতালে ওয়ান স্টপ টিবি সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। মহাপরিচালক এও বলছেন, এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই তরুণ এবং আক্রান্তদের অনেকেরই আইসিইউতে ভর্তি করা লাগছে। গত দুই মাসে তার কাছে কখনোই আইসিইউ শয্যার জন্য কোনো অনুরোধ আসেনি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে আইসিইউ শয্যার জন্য অনুরোধের ফোন পাচ্ছি। অথচ হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা পাওয়া যাচ্ছে না। আগে কোমরবিডিটি থাকা ব্যক্তিরা করোনায় আক্রান্ত হলে, তাদের আইসিইউ লাগত। এটাই দেখছিলাম আমরা। এখন তরুণদেরও আইসিইউ লাগছে। সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, গত দুই মাস সবাই স্বস্তিতে থাকায় অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেনি। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনের দিকে বড় বিপদ হতে পারে। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনার কথা তুলে ধরে ডা. খুরশীদ আলম বলেন, সারাদেশের সব সিভিল সার্জনদের চিঠি পাঠিয়ে জেলা পর্যায়ে আইসিইউ পস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বিভাগীয় পরিচালক ও রাজধানীর সব হাসপাতালের পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার জন্য তাদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবু রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যক্ষ্ণা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. শামিউল ইসলাম, আইসিডিডিআর'বির শর্ট স্টে ইউনিটের প্রধান ডা. আজহারুল ইসলামসহ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক হাজার ১৫৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট করোনা শনাক্ত পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৫ জনের। একইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে আট হাজার ৫৪৫ জনের। এর বিপরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৩৮৫ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন পাঁচ লাখ ১১ হাজার ৬৯৫ জন।
6
ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সময় বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন আজিম রফিক। বলেছেন, একবার জোর করে তাঁকে মদ খাইয়েছিল ইয়র্কশায়ার ও হ্যাম্পশায়ারের এক খেলোয়াড়। যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৫।কাউন্টি দলগুলোর 'মদ্যপান সংস্কৃতি'র কারণে এশিয়ান এবং কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়রা ইংলিশ ক্রিকেটে যথেষ্ট সুযোগ পায় না বলে দাবি করেছেন টিনো বেস্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই পেসার একসময় আজিমের সতীর্থ ছিলেন। গত পরশু ব্রিটিশ সংসদীয় কমিটির কাছে ইয়র্কশায়ারের সাবেক ক্রিকেটার আজিম এই বর্ণবাদ ও 'মদ্যপান সংস্কৃতি'র বিষয়টি উত্থাপন করেন।আজিমের সঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেটে এমন আচরণ নিয়ে মুখ খুলেছেন টিনো। ইংলিশ ক্রিকেটের বর্ণবাদের সমালোচনা করে সাবেক উইন্ডিজ পেসার বলেছেন, 'ক্রিকেটের চারপাশের মদ্যপানের সংস্কৃতি আছে। এটা একটা বড় সমস্যা। কাউকে ক্লাব হাউসে যেতে কিংবা মদ পানে চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়।'টিনো বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মদ্যপান সংস্কৃতির কারণে কীভাবে কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয়ানরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ইংলিশ ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এই পেসার বলেন, 'আপনি যদি মদ্যপান সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত না হোন কিংবা ক্লাবে নিয়মিত যাতায়াত না করে থাকেন, তবে আপনি ইংলিশ ক্রিকেটে সুযোগ পাবেন না। ইংলিশদের মদ্যপানের এই সংস্কৃতির কারণে কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয়ানরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।'
12
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও তিনজনকে আটক করেছে ডিএমপি'র গোয়েন্দা বিভাগ। আটককৃতরা হলেন আটকরা হলেন শামসুল আরেফিন রাফাত (২১), মনিরুজ্জামান মনির (২১) ও আকাশ হোসেন (২১)। মনির বুয়েটের পানিসম্পদ বিভাগের ১৬তম ব্যাচের এবং আকাশ একই ব্যাচের সিই বিভাগের ছাত্র। রাফাত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র। ডিবি দক্ষিণ বিভাগের (লালবাগ জোন) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার খন্দকার রবিউল আরাফাত জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডেমরা থেকে মনিরুজ্জামান মনিরকে ও গাজীপুরের বাইপাল থেকে আকাশ হোসেনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সোমবার (০৭ অক্টোবর) ১০ জনকে আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদেরকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর মঙ্গলবার ৩ জনকে নিয়ে এ ঘটনায় মোট ১৩ জনকে আটক করলো ঢাকা মহানগর পুলিশ। বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ
1
২০১৯ সালের অক্টোবরের প্রথম দিকেই চীনে করোনাভাইরাস ছড়ানো শুরু হয়ে থাকতে পারে। নতুন এক গবেষণায় এমনটাই বলা হচ্ছে। আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। পিএলওএস প্যাথোজেনস সাময়িকীতে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের গবেষকেরা গবেষণাটি করেছেন। করোনাভাইরাসের উৎপত্তি-বিস্তারের সময়কাল বের করতে গবেষকেরা সংরক্ষণ বিজ্ঞানের (কনজারভেশন সায়েন্স) সূত্র ব্যবহার করেছেন। এ গবেষণা অনুযায়ী, চীনে করোনাভাইরাসের উৎপত্তির সবচেয়ে সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর। আর ২০২০ সালের জানুয়ারি নাগাদ এই ভাইরাস সম্ভবত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল। চীনের আনুষ্ঠানিক ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে উহানে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। উহানের সামুদ্রিক খাবারের বাজারের সঙ্গে করোনা বিস্তারের যোগসূত্র আছে। তবে পিএলওএস প্যাথোজেনস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, উহানে করোনার প্রথম উৎপত্তির বিষয়ে চীন যে সময়কালের কথা দাবি করছে, তার দুই মাস আগেই এই ভাইরাসের আগমন ঘটে থাকতে পারে। চীনে করোনার উৎপত্তি-বিস্তার নিয়ে তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে। তা ছাড়া চীনের বিরুদ্ধে করোনার উৎপত্তি-বিস্তার নিয়ে জাতিসংঘের তদন্তকারীদের যথেষ্ট সহযোগিতা না করারও অভিযোগ আছে। সম্প্রতি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, উহানের একটি ল্যাবে কর্মরত তিনজন গবেষক অসুস্থতা নিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে চীনের তথ্য প্রকাশের আগেই এই ঘটনা ঘটেছিল। করোনার উৎস ও তার উৎপত্তির সময়কাল সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা তথ্য সামনে এলেও তা অকাট্য নয়। গত মাসের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন করোনার উৎপত্তি নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্বে চলমান মহামারির জন্য দায়ী করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে তা ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে পেশ করতে বলেছেন বাইডেন। বিস্তারিত তদন্তে অংশ নেওয়ার জন্য চীনের ওপর চাপ দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
3
করোনাভাইরাস সতর্কতায় গত ১৮ মার্চ থেকে থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন অভিনয়শিল্পী দম্পতি আজিজুল হাকিম এবং জিনাত হাকিম। শুটিং বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই তাঁরা শুটিং বন্ধ করে দিয়েছেন, চলাফেরা করতে শুরু করেছেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে। করোনা পরিস্থিতির কারণে সতর্কতায় এপ্রিল মাসের শেষ দিন পর্যন্ত ঘর থেকে না বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। আর এই সময়ের মধ্যে অনলাইনে যে কোনো খবর শেয়ারের আগে ভাবতে বলেছেন অভিনেতা আজিজুল হাকিম। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিনেতা আজিজুল হাকিম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এই মুহূর্তে মহামারি করোনা থেকে বাঁচতে আমাদের ঘরে থাকার বিকল্প নেই। সবাই মিলে যাতে করোনাকে প্রতিরোধ করতে পারি সে জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কয়টা দিন নিজেকে আটকে রাখুন।' হোম কোয়ারেন্টাইনে অবস্থানের মাত্র দুদিন অতি প্রয়োজনে অল্প সময়ের জন্য বাইরে বের হয়েছিলেন তিনি। এখন আর বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে আজিজুল হাকিম বলেন, 'বাইরে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তারপরও জরুরি প্রয়োজনে ক্ষণিকের জন্য বের হলেও সতর্ক হয়েই বের হব। বাসায় মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস আছে। তা ছাড়া পাশেই আমাদের আত্মীয়রা থাকেন, তাদের সঙ্গেই ভিডিওতে কথা বলছি। কিন্তু দেখা করতে যাচ্ছি না। আগামী এক মাস মনে হয় বাড়ির বাইরে যাওয়া হবে না।' সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্থা এবং আইনের প্রয়োগ চেয়েছেন আজিজুল হাকিমের স্ত্রী জিনাত হাকিম। তিনি বলেন, 'মানুষগুলোকে নিয়ন্ত্রণের কোনো উপায় নেই। মানুষ এখনো রাস্তায় ঘুরছে। অনেকে ফাঁকা শহর দেখতে বের হচ্ছে। শক্তের ভক্ত নীতির প্রয়োগই এখন যথাযথ। জনসমাগম মানেই রোগজীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি। সে জন্য সরকার নির্দেশিত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আদেশ পালন নিশ্চিত করতে, দেশ ও দশের স্বার্থে মানুষকে ঘরে রাখতে পারলে এই ভাইরাস থেকে আমরা পুরোপুরি রক্ষা পাব। আমরা যদি এক মাস ঘরে বন্দী থাকি তাহলে এই মহামারি থেকে দেশ এবং দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানো সম্ভব।' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন অনেকে। এ প্রসঙ্গে আজিজুল হাকিম বলেন, 'মানুষ করোনা নিয়ে আতঙ্কে আছে। যারা গুজব ছড়িয়ে মানুষকে আরও বেশি আতঙ্কিত করছেন তারা দয়া করে এসব থেকে বিরত থাকুন।' ভক্তদের উদ্দেশে এই অভিনেতা বলেন, 'আপনারা গুজবে কান দেবেন না। সঠিক এবং বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যমের খবর শেয়ার করুন। এই ব্যাপারে সব সময় সতর্ক থাকুন।' অন্তত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে করোনার প্রভাব ও বিস্তার পর্যবেক্ষণ করা উচিত উল্লেখ করে জিনাত হাকিম বলেন, 'পৃথিবী জুড়ে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা জেনেও আমরা সচেতন না। আমার পাশের বাসার নিচে বাচ্চারা খেলাধুলা করছে। অথচ সব জেনেও যদি আমরা সচেতন না হই তাহলে আমাদেরও বিপদে পড়তে হবে। একমাত্র সচেতনতাই আমাদের এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে পারে।' জিনাত হাকিম আরও বলেন, 'আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এপ্রিল ৩০ তারিখ পর্যন্ত আমরা বাসা থেকে এক পা বের হব না। নন্দলাল হয়েই থাকার চেষ্টা করব। নন্দলাল কবিতায় যেমন নন্দলাল বাসার বাইরে যেতে ভয় পায়। জীবন বাঁচাতে ঘরে মধ্যে নিজেকে আটকে রাখে, আমরাও এখন নিজের এবং মানুষের সচেতনতার জন্য ঘরে বসে বসে থাকব।' শুধু ঘরে বসে থেকেই আমরা এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে পারি উল্লেখ করে আজিজুল হাকিম বলেন, 'মানুষের সংস্পর্শে গেলেই সংক্রমণ বাড়তে পারে। আমরা জানি না কে ভাইরাসে আক্রান্ত। যে কারণে সরকার বারবার সতর্ক করছে। আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে জীবনের স্বল্প কিছু সময় ঘরের মধ্যে থাকতেই পারি। বিশ্বের দিকে তাকালেই বোঝা যায় এই মহামারি আমাদের দেশে এলে মহা বিপর্যয়ের মধ্যে পারব।' এখনকার স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যমের খবর শেয়ার করার আহ্বান জানিয়েছেন। আজিজুল হাকিম বলেন, 'কোন মাধ্যমের খবর শেয়ার করছেন সেটা আগে ভাবুন। অথেনটিক না হলে খবর শেয়ার করে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেবেন না।'
2
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বাবুল হোসেন (৪০) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভুবনকুড়া ইউনিয়নের আমিরকুড়া গ্রামে নিহতের বাড়ির সামনে খড়ের গাদা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের শিকার বাবুল হোসেন একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক মৃত আব্দুল করিমের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, আজ সকাল ৯টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে বাবুল হোসেনকে খড়ের গাদার পাশেই মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে ও মাথার বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুজ্জামান খান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে মূল রহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে কাজ শুরু করেছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
কালের বিবর্তনে বগুড়ার নন্দীগ্রামে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী শখের মৃৎশিল্প। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক, দস্তা ও অ্যালুমিনিয়ামের সামগ্রী। আধুনিক এ সকল বাহারি পণ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না মৃৎশিল্প কারিগরদের। তাই দইয়ের ভাঁড় এখন উপজেলার কুমোর সম্প্রদায়ের একমাত্র ভরসা।আগে অনেক কদর ছিল এই মৃৎশিল্পের। কুমোররা হাতের নৈপুণ্য ও কারিগরি জ্ঞান দিয়ে তৈরি করত বিভিন্ন ধরনের শখের মৃৎশিল্প। এ ছাড়া তাঁরা তৈরি করত পূজা পার্বণের জন্য নানা রঙের বাহারি মাটির জিনিস। আর এ সব সামগ্রী তৈরি করতে কারিগরদের দরকার হয় বিশেষ ধরনের কাঠের তৈরি চাকা, মাটি ও কিছু ছোটখাটো যন্ত্রপাতি।এই উপজেলার কুমোর সম্প্রদায়রা যুগ যুগ ধরে তৈরি করে আসছে মাটির কলস, হাঁড়ি, সরা, থালা-বাসন, পেয়ালা, সরাই, দইয়ের ভাঁড়, মটক ও পিঠা তৈরির ছাঁচসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এখন পূর্ব পুরুষদের এ পেশাটিকে ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে কারিগরদের। তবে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের তেমন কদর না থাকলেও দইয়ের ভাঁড়ের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক।উপজেলার আমড়া গোহাইল গ্রামের নির্মলা রানী পাল বলেন, মাটি থেকে তৈরি সব ধরনের জিনিসপত্রের চাহিদা কমে গেছে। আমরা এখনো কিছু কিছু জিনিসপত্র তৈরি করি। তবে প্লাস্টিক কোম্পানিগুলো সব ধরনের জিনিসপত্র তৈরি করলেও দইয়ের সরা ও ভাঁড়ের কোনো বিকল্প তৈরি করতে পারেনি। এ জন্য এখনো আমরা টিকে আছি। আর পূর্ব পুরুষদের এ পেশা ছাড়তেও পারি না। মাটির তৈরি এ জিনিসগুলো হাট-বাজারে বিক্রি করতে হয়। আর দইয়ের ভাঁড় ঘোষেরা বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যায়। নিতিশ চন্দ্র পাল বলেন, আগে মাটি কিনতে হয়নি। এখন মাটি, গুঁড়া ও জ্বালানি কিনতে হয়। মাটি ও জ্বালানির খরচ বেড়ে গেছে। আর পরিশ্রমের তুলনায় মাটির তৈরি জিনিসের দাম কমে গেছে। ১ কেজি ওজনের ১শ দইয়ের ভাঁড় ৪শ টাকা, ২ কেজি ওজনের ১শ দইয়ের ভাঁড় ৫শ টাকা, বড় ১শ দইয়ের পাতিল ৮শ টাকায় বিক্রি হয়। সরকারি কোনো সুবিধা আমরা পাই না। সরকারি ভাবে আমাদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করলে এ পেশা টিকিয়ে রাখা সম্ভব।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিফা নুসরাত বলেন, মৃৎশিল্পীদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা থাকলে তাঁদের সে ব্যবস্থা করে দিব।
6
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিই এদেশে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।তিনি বলেন, 'মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফেনা তুললেও বিএনপিই এদেশে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ধারক ও বাহক। বিপরীতে শেখ হাসিনা সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে গ্রহণ করেছে 'শূন্য সহিষ্ণুতা' নীতি। ওবায়দুল কাদের আজ সোমবার সকালে ময়মনসিংহ সড়ক জোন, বিআরটিএ ও বিআরটিসি'র কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন। বিএনপি নিজেদের শাসনামলে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল, তাদের আমলে তারা দুর্নীতিবান্ধব ও দুর্নীতি সহায়ক ছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'এখন তারা তাদের সেই ব্যর্থতা ও দুর্নীতি ঢাকতে সরকারের বিরুদ্ধে নানা সময়ে নানা কল্পিত অভিযোগ হাজির করে।' করোনা পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা কখন কমে আবার কখন বাড়ে তা বলা যায় না। তাই আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। করোনা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোন কারণ নেই। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নিতে হবে এবং সামাজিক দুরত্ব ও শতভাগ মাস্ক পরিধান করতে হবে। সেতুমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ ও নগদ অর্থ সাহায্যের প্রস্তাবে এবারের ঈদে ৩৬ লাখ পরিবারের জন্য দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় অর্থ সাহায্য পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, যারা এই অর্থ বিতরণে সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে গতবারও অনেক অভিযোগ এসেছিলো এবং অনেককেই শাস্তি পেতে হয়েছে এমনকি অনেক জনপ্রতিনিধিদেরকেও কারাগারে যেতে হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য নিয়ে এবার এধরণের অপকর্ম এবং অর্থ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে তারা গণদুশমন হিসেবে চিহ্নিত হবে। গণপরিবহন চলাচলের বিষয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, জেলার গাড়িগুলো জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ চলবে, এবং কোনোভাবেই জেলার সীমানা অতিক্রম করতে পারবে না। সিটির ক্ষেত্রেও সিটি পরিবহন সিটির বাইরে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো গাড়ি ঢাকা জেলার সীমারেখার বাইরে যেতে পারবে না। পরিবহনগুলোকে অবশ্যই অর্ধেক আসন খালি রেখে নতুন সমন্বয়কৃত ভাড়ায় চলতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং প্রতি ট্রিপে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করাও বাধ্যতামূলক হতে হবে। সূত্র : বাসস
9
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে সম্প্রতি ২৭৪ জনকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে পদটির যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে যোগ দিতে পারবেন যে কেউ। অনলাইনে পদটির জন্য আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। ডেটা এন্ট্রি অপারেটর। পদসংখ্যা ২৭৪ জন। কর্মস্থল: রাজশাহী ও রংপুর পদটির আবেদনের জন্য আবেদনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বয়সসীমার শর্তাবলি জানা যাবে বিজ্ঞপ্তিতে। আগ্রহী প্রার্থীরা (://./-/) ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। ৮ অক্টোবরের মধ্য আবেদন জমা দিতে পারবেন আগ্রহীরা।
1
দেশে দফায় দফায় বাড়ছে জেট ফুয়েলের দাম। গত রোববার আবারও ৬ টাকা বাড়ানোর পর জেট ফুয়েলের দাম এখন লিটার প্রতি ১০৬ টাকা। এ নিয়ে গত ১৮ মাসে ১৪ দফা জেট ফুয়েলের দাম বাড়াল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি।অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছে, করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত দেশের অ্যাভিয়েশন খাত যখন আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, এ অবস্থায় জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোয় আকাশপথে ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। অতিরিক্ত খরচ পুষিয়ে নিতে টিকিটের দাম বাড়াতে হবে এয়ারলাইনসগুলোকে। দিন শেষে এ বাড়তি খরচের ভার নিতে হবে যাত্রীদের।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, দেশে গত দেড় বছরে দেশে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম বেড়েছে ১৪ বার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে দেশে জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৪৬ টাকা। এরপর ডিসেম্বরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয় ৪৮ টাকা। পরের মাস অর্থাৎ ২০২১ সালের জানুয়ারিতে দাম বাড়িয়ে করা হয় ৫৩ টাকা। এরপর ধারাবাহিকভাবে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫৫ টাকা, মার্চে ৬০ টাকা এবং এপ্রিলে ৬১ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়। তবে মে মাসে লিটারে ১ টাকা দাম কমানো হয়েছিল। জুনে আবার ৩ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৬৩ টাকা। একইভাবে জুলাইয়ে ৬৬, আগস্টে ৬৭, অক্টোবরে ৭০ এবং নভেম্বরে ৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয় প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এসে দুই দফায় ৪ টাকা কমানো হয়েছিল দাম। কিন্তু পরের দুই মাস ফেব্রুয়ারি ও মার্চে দুই দফায় ১৪ টাকা বাড়িয়ে ৮৭ টাকায় দিয়ে ঠেকে দাম। গত ৬ এপ্রিল লিটারে ১৩ টাকা বেড়ে দাম পৌঁছায় ১০০ টাকায়। সর্বশেষ ১৫ মে ৬ টাকা বাড়ানোর পর জেট ফুয়েলের দাম এখন লিটার প্রতি ১০৬ টাকা। এভাবে ১৮ মাসের ব্যবধানে দেশে জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা।অ্যাভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি ফ্লাইট পরিচালনা খরচের ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানিতে ব্যয় হয়। দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইনস সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মাসে জেট ফুয়েলের দাম ১৩০ শতাংশ বেড়েছে।জেট ফুয়েলের দাম বাড়া নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'উড়োজাহাজ চালাতে যে খরচ, তার একটি বড় অংশ হয় জ্বালানির পেছনে। ফলে জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই টিকিটের দাম বাড়বে। আর ভাড়া বেড়ে গেলে দেশের ভেতরে বিমানে ওড়ার যাত্রী কমে যাবে।' দেশের অ্যাভিয়েশন খাতকে সুরক্ষিত রাখতে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই জরুরি বলে মনে করেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এই কর্মকর্তা।এ বিষয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, 'রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বর্তমানে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে জেট ফুয়েলের দামও বেড়েছে। আমরা জেট ফুয়েল উৎপাদন করি না। আমাদের আমদানি করতে হবে। তাই, জেট ফুয়েলের স্থানীয় দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে হয়।'বিপিসির চেয়ারম্যান আরও জানান, ভারতের দামের তুলনায় আমাদের দেশে এখনো জেট ফুয়েলের দাম কম।
0
ময়মনসিংহের নান্দাইলে এক কলেজ ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রোববার এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকালে লাকি আক্তার (১৮) নামের এক কলেজ ছাত্রীগলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত লাকি আক্তারকুতুবপুর গ্রামের আব্দুল মন্নাছের মেয়ে। এ তরুণীরআত্মহত্যার কোনো কারন জানা যায়নি।
6
বলিউড ভাইজান সালমান খানের অনুরাগীর সংখ্যা যে কোনো সুপারস্টারের কাছে ঈর্ষণীয়। কেবল ইনস্টাগ্রামেই তাঁর অনুসারী ৩ কোটি ১৭ লাখ। তাঁরা সালমানকে যেমন ভালোবাসেন, তেমনি ভাইজানও তাঁর অনুরাগীদের ভালোবাসেন। বলা যায়, ভক্তদের সঙ্গে তাঁর এক আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। নিজের জীবনের নানা মুহূর্ত প্রায়ই সালমান তাঁর ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন। এবার এই বলিউড সুপারস্টার তাঁর অনুরাগীদের আরও কাছে আসতে চলেছেন। তাঁদের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়তে চলেছেন ভাইজান। সালমান তাঁর ব্যক্তিগত এবং পেশাদার জীবন নিয়ে আরও খোলামেলা হতে যাচ্ছেন। জীবনের ছোট বড় সব মুহূর্ত এবার আরও বেশি করে তুলে ধরবেন সবার সামনে। সে জন্য এই বলিউড সুপারস্টার শিগগির নিয়ে আসছেন তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল। জানা গেছে, সালমান তার ইউটিউব চ্যানেল 'বিয়িং সালমান খান'-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চলেছেন। এই সংবাদ তাঁর কোটি ভক্তের জন্য যে সুখবর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ এই ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে ভক্তরা তাঁদের প্রিয় ভাইজানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। আর সালমানের জীবনকে আরও কাছ থেকে দেখতে পাবেন তাঁরা। 'বিয়িং সালমান খান'-এর মাধ্যমে সালমান তাঁর জীবনের খুঁটিনাটি তুলে ধরবেন। ইনস্টাগ্রামের এক ভিডিওতে সালমান খান বলেছেন, 'না, কোন বিগ বস নয়, এটা জীবনের বিগ বস। আমরা সবাই প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে আছি। একজন রোগীর দুরবস্থা না বুঝতে পারা খুবই দুঃখজনক। সরকার যে বলছেন, ঘরে থাকতে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। তা কি সরকারের লাভের জন্য? না। পুলিশ, সরকার, ডাক্তার, ব্যাংকারদের কথা আপনাকে আপনার নিজের জন্যই মানতে হবে। পুলিশ যা করছে, সেটা আপনার জন্য। আপনারা যদি সেটা মানতেন, তাহলে এত দিনে করোনা দূর হয়ে যেত। তাই আর বোকামি করবেন না। পুলিশ ও ডাক্তারকে তাঁদের কাজ করতে দিন। আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করুন। ঘরে থাকুন।' মূলত ভারতে ডাক্তার ও পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমাতে সালমান ৯ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের এই বক্তব্য দেন।
2
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বলেছেন, সরকার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে চায় এবং এগুলোতে কোনো ধরনের অন্যায় ও অবিচারমূলক কাজ সহ্য করা হবে না। 'আমাদের কথা খুবই পরিষ্কার। কোনো অন্যায়-অবিচার আমরা সহ্য করব না, আগেও করি নাই এবং ভবিষ্যতেও করব না। যারাই করুক, সে যেই অপরাধী হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার পরিবেশ রাখতে হবে,' সতর্ক করেন তিনি । শনিবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহিলা শ্রমিক লীগের দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি খুন হওয়া আবরার হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার খুনিকে খুনি হিসেবে ও অন্যায়কারীকে অন্যায়কারী হিসেবে দেখে। আমি খবরটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছি। বুয়েটের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি মেনে নেয়ার পরও তাদের আন্দোলন করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। সম্প্রতি ভারতের সাথে করা সমঝোতা স্মারকের যারা বিরোধিতা করছেন তাদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালেই কেবল দেশের স্বার্থ রক্ষা করেছে। কয়েকটি স্বার্থন্বেষী মহল বিশেষ করে এলপিজি ও নয়াদিল্লির সাথে পানি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার জন্য সরকারের সমালোচনা করছে। বাংলাদেশ কেবল আমদানি করা এলপিজি ভারতে রপ্তানি করবে। ১৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফেনী নদীর পানি বণ্টনের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তে থাকা এ নদীর পানির ব্যবহারে দুদেশের সমান অধিকার আছে। এর মধ্যে এ নদীর ১০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে, যার মধ্যে ৪০ কিলোমিটার বাংলাদেশের ফেনী, সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়া জুড়ে রয়েছে। মহিলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বেগম রওশান জাহান সাথির সভাপতিত্বে এ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুন নাহার ভূঁইয়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। এর আগে ২০০৪ সালের ২৯ মার্চ মহিলা শ্রমিক লীগের প্রথম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।সূত্র : ইউএনবি
9
সিলেট জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে (জেসিপিএসসি) রোবটিক্স ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার জেসিপিএসসির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল চিন্তা ও সৃষ্টিশীল কর্ম হাতে-কলমে দেখাতে এই প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) তরুণ উদ্ভাবকদের সংগঠন 'রোবো সাস্টে'র উদ্যোগে স্কুল রোবট প্রোগ্রামের আওতায় এই ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে রোবট কী, কেন এবং কীভাবে কাজ করে- প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তার ডেমো দেখানো হয়। এ সময় রোবো সাস্টের প্রকৌশলীদের উপস্থাপনায় রোবটের বিভিন্ন প্রজেক্ট ও রিবো () রোবট প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানটির আহ্বায়ক ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক সরকার হেলাল উদ্দিন এবং সদস্য সহকারী শিক্ষক মোস্তফা আহমেদ ও রবিন আচার্য। প্রধান অতিথি জেসিপিএসসি পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ১১ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, এসপিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'বর্তমান বিশ্বে মানুষের সৃজনশীল চিন্তার সঙ্গী হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট। এসব রোবট নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের চেয়েও বেশি কাজ করতে পারে। তাই রোবটের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোবট তৈরি একটি সৃষ্টিশীল কাজ হলেও, এটি পেশা হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. কুদ্দুসুর রহমান বলেন, 'প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণ করতে হবে। বর্তমানে শিল্প-কারখানা, খনি, গবেষণাগার, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি সামরিক কাজেও স্বয়ংক্রিয় রোবট দিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করা হচ্ছে। রোবটের চাহিদা বহুবিধ ও বহুমাত্রিক। অনুষ্ঠানে জেসিপিএসসির অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. কুদ্দুসুর রহমান, পিএসসি, উপাধ্যক্ষ আরিফ সেলিম রেজা, রোবো সাস্টের প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান চৌধুরী জয়, সাদিয়া নওরিন মিথিলা, প্রমিত দে, আফিফ হাসান, অম্বয় রঞ্জন তালুকদার, অর্ণব পাল, মোয়াজ মোহাম্মদ আব্দুল করিম, নাইনাই রাখাইন, সুরাইয়া তাসনুর তানহা, পুলক ভূইয়া, রাজিন কবির, অনিমেষ সাহা দিব্য,বখতিয়ার আলম কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
6
সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ মো. আব্দুর রহিমের আদালতে অভিযোগ গঠন করা। এর মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচার শুরু হয়।বাদী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম.এ ফজল চৌধুরী বলেন, সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয় আসামিদের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই (বরখাস্তকৃত) আকবর হোসেন ভুঁইয়াসহ অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য। পরে দুপুর ১২টার দিকে বিচারক মো. আব্দুর রহিমের আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। এরপর আসামিদের পক্ষে ডিসচার্জ পিটিশনের (খারিজ আবেদন) শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারক এ সময় পিটিশন নামঞ্জুর করে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। ছয়জন আসামির মধ্যে চারজনের পক্ষে ডিসচার্জ পিটিশন (খারিজ আবেদন) দেওয়া হয় আদালতে। সেটি নামঞ্জুর হয়। এরপর আগামী ১০ মে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। ওই দিন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা বেগমসহ আরও দু-একজন সাক্ষ্য দেবেন।এদিকে ছেলে খুন হওয়ার দীর্ঘ দেড় বছরে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন রায়হানের মা সালমা আক্তার। তবে একটু দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন রায়হানের মা।এর আগে কয়েক দফা পিছিয়ে যায় অভিযোগ গঠনের তারিখ। সর্বশেষ গত ১২ এপ্রিল আসামিদের পক্ষে ডিসচার্জ পিটিশন দাখিল ও তা শুনানি না হওয়ায় অভিযোগ গঠনের তারিখ পিছিয়ে যায়।বহুল আলোচিত রায়হান হত্যার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালতউল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে নগরের আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে ধরে নিয়ে আসে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন সকালে তিনি মারা যান। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা ফাঁড়িতে নির্যাতন চালিয়ে রায়হানকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতাও মিলে। এরপর এসআই আকবরসহ ফাঁড়িতে কর্মরত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।বিচারকাজ শুরুই হয়নি পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনেএ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। গত বছরের ৫ মে এই মামলার অভিযোগপত্র প্রদান করে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)। এতে বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, হারুনুর রশিদ ও কথিত সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল নোমানকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে নোমান ছাড়া সবাই কারাগারে আছেন। চলতি বছরের ৮ মার্চ সিলেট অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে মামলাটি সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত করা হয়।
6
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নূরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১২ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস আগামী ১২ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় ভিপি নূরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন। এই মামলার প্রধান আসামি ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক (সাময়িক অব্যাহতিপ্রাপ্ত) হাসান আল মামুন। ভিপি নূর একই সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক। বাকি চার আসামি নাজমুল হাসান সোহাগ, সাইফুল ইসলাম, নাজমুল হুদা এবং আবদুল্লাহ হিল বাকী। বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন
6
সৌদি আরবের নারীরা এবার যোগ দিতে পারবেন দেশটির সামরিক বাহিনীতে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন এক আদেশের মধ্য দিয়ে এই সুযোগ তৈরি হলো। এই আদেশের পর গত রোববার থেকে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যুক্ত হতে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন নারীরা। আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর সৈনিক থেকে শুরু করে সার্জেন্ট পদ পর্যন্ত নারীদের জন্য উন্মুক্ত হলো। তাঁরা দেশটির সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, রয়্যাল সৌদি স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্স এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল সার্ভিসেসে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শারীরিক কোনো ত্রুটি থাকা যাবে না। বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। উচ্চতা হতে হবে ১৫৫ সেন্টিমিটার বা ৫.০৮৬ ফুট। সামরিক বাহিনীতে সেই সব নারীই যুক্ত হতে পারবেন, যাঁরা কোনো সরকারি চাকরি করেন না। আবেদনকারী নারীকে কমপক্ষে হাইস্কুল পাস হতে হবে এবং স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। সৌদি আরবের নাগরিক নন, এমন কাউকে যদি কোনো নারী বিয়ে করে থাকেন, তবে তিনি সামরিক বাহিনীর চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে দেশটির এক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ রাহমা আল-খায়রি বলেন, 'আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, সামরিক বাহিনীতে নারীর যুক্ত হওয়ার ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের রক্ষণশীল সমাজে তাঁরা একটি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবেন।' এ ছাড়া অপারেটিং সিস্টেম স্পেশালিস্ট হালাহ আল-ইনাবাওই বলেন, গত ৩০ বছর ধরে এটি একটি বিতর্কিত বিষয় ছিল। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর কাজ করার সুযোগ তৈরিতে বাদশাহ সালমান বড় ভূমিকা রাখছেন। সম্প্রতি সৌদি আরবের নারীরা আরও কিছু নাগরিক সুবিধা পেতে শুরু করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি চালাতে পারা, হলে গিয়ে সিনেমা দেখা ও স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখতে পারা। তবে রক্ষণশীল এই সমাজব্যবস্থায় এখন অনেক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত নারীরা।
3
দুর্নীতি প্রতিরোধে একুশের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় চেয়ারম্যান দেশের মানুষের প্রতি এ আহ্বান জানান। কমিশন চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে রোববার ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। বলা হয়, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। আজকের বাংলাদেশ তাদেরই স্বপ্ন ছিল। ইকবাল মাহমুদ বলেন, ভাষা আন্দোলনের স্রোতধারায় আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। একুশ হচ্ছে একটি চেতনার নাম, যা স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছে। এ চেতনা বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা ও গণমানুষের মুক্তির পথ দেখায়। তিনি আরও বলেন, একুশের চেতনাকে ধারণ করে সব ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে না বলতে হবে। সবাইকে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে, যার যার প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। তিনি আরও বলেন, আসুন আমরা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিকভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধে একুশের চেতনাকে ধারণ করি। সভায় দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলা ভাষার সর্বজনীন ব্যবহার কার্যকর করা জরুরি। শুদ্ধ বানান ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্ব আরোপ করেন। বাংলা ভাষার বিকৃত উচ্চারণ আগামী প্রজন্মকে প্রভাবিত করে, যা অত্যন্ত নেতিবাচক দিক। দুদক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময়ই বাংলা ভাষার প্রতি বঞ্চনার বীজ বপন করা হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ভাষাগত স্বতন্ত্র বিলোপ করতে চেয়েছিল। এ জন্য তারা বাংলা ভাষার প্রতি আক্রমণ চালিয়েছিল। এই দেশে জন্ম নিয়ে, এই দেশের আলো-বাতাসে বড় হয়ে এই দেশের ভাষায় কথা বলে কেউ সংখ্যালঘু হতে পারে না। এ আলোচনা সভায় দুদকের প্রতিরোধ ও গবেষণা উইংয়ের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল, সবন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ ও সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়ার উপপরিচালক জাকারিয়া ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
6
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৭০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। শুক্রবার পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলের ইহুদি বসতি স্থাপনের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শুক্রবার ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আহত হওয়া বেশিরভাগই টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে সাতজন তাজা গুলি ও ৫০ জন রাবার মোড়ানো গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগ পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় নাবলুস শহরের কাছে বাইতা গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামটির বাইরে ফিলিস্তিনি কৃষকদের কৃষিজমি দখল করে ইহুদি বসতি নির্মাণের কারণে বাসিন্দারা গত মে মাস থেকেই নিয়মিত বিক্ষোভ করে আসছিলেন। বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, বাইতায় প্রায় এক শ' ৫০ ফিলিস্তিনির একটি দল দায়িত্বরত সৈন্যদের লক্ষ্য করে পাথর ও জ্বলন্ত টায়ার নিক্ষেপ করলে সৈন্যরা দাঙ্গা দমনের ব্যবস্থা নেয় এবং কয়েক দফা গুলি ছোঁড়ে। অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় হেবরন শহরের কাছে বাইত উম্মার গ্রামের ফিলিস্তিনি তরুণ শওকত খালিদ আওয়াদের হত্যার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত অপর এক বিক্ষোভে ইসরাইলি বাহিনী হামলা করেছে। বিক্ষোভ দমনে তারা রাবার মোড়ানো গুলি, স্টান গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। গত বুধবার বাইত উম্মারের বাসিন্দা ফিলিস্তিনি শিশু মোহাম্মদ আল-আলামি তার বাবার সাথে গাড়িতে বসা অবস্থায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিবর্ষণে নিহত হয়। তার হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে ইসরাইলি সৈন্যদের গুলিতে নিহত হন শওকত খালিদ আওয়াদ। ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীর দখল করে ইসরাইল। ওই সময় থেকে ইসরাইলি নাগরিকরা পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন শুরু করে। দখলকৃত ভূমিতে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ অবৈধ হলেও এখনো পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করে আসছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। ১৯৯৩ সালে অসলো শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম তীর থেকে ধীরে ধীরে ইহুদি বসতি সরিয়ে নিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে তার নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের কথা থাকলেও ইসরাইল এই বিষয়ে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ধারণা অনুসারে, বর্তমানে পশ্চিম তীরে ১৬৪ বসতি ও ১১৬ উপনিবেশে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী বাস করছেন। সূত্র : আলজাজিরা
3
করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের প্রতি আস্থা রেখে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সরকার করোনার সংক্রমণ রোধ এবং চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। আস্থার সঙ্গে মনোবল দৃঢ় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে হবে। শনিবারবাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) প্রধান কার্যালয়ে ঈদ সার্ভিস উপলক্ষে বিআরটিসি গৃহীত পদক্ষেপ ও দিক-নির্দেশনামূলক আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। সংসদ ভবনের তার সরকারি বাসভবন থেকে এই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দুর্যোগ ও সংকটের সাহসী নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি বিষয় নিবিড়ভাবেপর্যবেক্ষণকরছেন। শেখ হাসিনার হাত ধরেই দেশে স্থাপিত হয়েছে হাজার হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক। চিকিৎসা সেবা জণগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন জেলায় স্থাপন করেছেন মেডিকেল কলেজ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে স্থাপন করা হচ্ছে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। শেখ হাসিনার এসব উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং জনমানুষের প্রতি তার যে প্রগাঢ় ভালবাসা, তাতে দেশের মানুষকে তার ওপর আস্থা রাখতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি দেশের সঙ্গে মিলিয়েছেন তার নিজের জীবনের আশা আকাঙ্খা। সংকটে তিনি আস্থার প্রতীক। সেতুমন্ত্রী বলেন, ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়, ঘটে মূল্যবান প্রাণহানি। তাই ঈদ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যাত্রায় সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোয় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অনুরোধ জানান তিনি। একইসঙ্গে ঈদের পর কোনো শৈথিল্য না দেখিয়ে কড়া নজরদারির জন্য জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী। বিআরটিসিকে অনিয়মের ধারা থেকে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বিআরটিসির সমস্যা শ্রমিক কর্মচারীতে নয়। ডিপোকেন্দ্রিক যে অনিয়ম তা শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ জরুরি। আর অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান রয়েছে। কেউ জবাবদিহিতারঊর্ধ্বে নন। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করতে হবে।
6
জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, দেশে আইনের শাসন নেই। চলছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। দেশে চলছে হ্যাঁ-না'র সংসদ। মানুষের দুঃখ বেদনার সমস্যার কথা তুলে ধরতে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ১৪ জুলাই দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যবার্ষিকী পালন উপলক্ষে জাপার বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের এ প্রস্তুতি সভা হয়। এতে জিয়াউদ্দিন বাবলু বলেন, দেশে করোনার টিকা নেই, সুচিকিৎসা নেই, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সরকার চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার উদ্যোগ নিলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ মানুষ দেখতে পাচ্ছে না। প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। দেশের তিন ভাগ মানুষকে এখনো টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, 'মাসে ২৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে'। এ গতিতে টিকা দিলে সব নাগরিককে টিকা দিতে ছয় বছর লাগবে। করোনা কি ততদিন বসে থাকবে? মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকবে। ১৫ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সমালোচনা করে জাপা মহাসচিব বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে করোনার সংক্রমণ বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। তারা সংক্রমণ হার বৃদ্ধি-হ্রাসের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করছে, খুলছে। বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের ১৫ মাস ধরে ঘরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এর খেসারত দিতে হবে জাতিকে। সভায় বক্তৃতা করেন জাপার কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অতিরিক্ত মহাসচিব সভাপতি সাহিদুর রহমান টেপা, প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি প্রমুখ।
9
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আগামী জানুয়ারি থেকে সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা একেবারেই অমূলক। গ্যাসের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে। বিদ্যুৎ খরচ বাড়লে কৃষি খাতের উৎপাদন খরচ বাড়বে। সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মলনে এসব কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, 'বিগত অর্থবছরে গ্যাস কোম্পানিগুলো যেমন মোটা অংকের মুনাফা করেছে তেমনি সরকারের কোষাগারে দিচ্ছে মোটা অংকের অর্থ। তারপরও কেন গ্যাসের দাম বাড়াঁনো হচ্ছে?' সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে কি ধরনের কর্মসূচি বিএনপি পালন করবে সে সম্পর্কে রিজভী বলেন, কর্মসূচির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম আলোচনা করে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেবে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, গ্যাসের এই মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্য হচ্ছে লুটপাট, সরকারি দল ও ক্ষমতাসীনদের স্বজনদের পকেট ভারী করা। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি অযৌক্তিক গণবিরোধী গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন মামুন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক আব্দুস সালাম প্রমুখ।
9
পাকিস্তানিদের শোষণের বিষয়টি ষাটের দশকে ভালো করে বুঝতে পারছিল বাঙালিরা। একষট্টি সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীতে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই অনুষ্ঠান করেছিলেন সংস্কৃতিসেবীরা। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে হয়েছিল সেই অনুষ্ঠান। ফাহমিদা সেই অনুষ্ঠানে গেয়েছিলেন গান-'হৃদয় আমার প্রকাশ হলো অনন্ত আকাশে...'। মঞ্চ ছিল অন্ধকার। ধীরে ধীরে আলো আসছিল মঞ্চে। গান চলছে আর আলো এসে পড়ছে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে। সে এক অপূর্ব দৃশ্য।সে সময় রবীন্দ্রগীতিনাট্যগুলোর মূল দুটি চরিত্রে কণ্ঠ দিতেন ফাহমিদা আর জাহিদুর রহিম। আর প্রতিটি অনুষ্ঠানেই গাইতে হতো নির্দিষ্ট তিনটি গান। 'বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা...', 'আমার সোনার বাংলা...' আর 'আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে...'।রবীন্দ্রসংগীতের পাশাপাশি তখন গণসংগীতেও কণ্ঠ মেলাতেন। শেখ লুৎফর রহমান, আবদুল আহাদ, আবদুল লতিফ, আলতাফ মাহমুদের সঙ্গে মিলে গেয়েছেন রক্ত গরম করা কত গান! একুশে ফেব্রুয়ারির অমর গানটিতে যখন 'সেদিনও এমনি নীল গগনের...' অংশটি আসত, তখন অবধারিতভাবে সেটা গাইতে হতো ফাহমিদা খাতুনকে।ষাটের দশকের প্রথমার্ধে ফাহমিদা খাতুন ছিলেন ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন, তাই মতিয়া চৌধুরী, রাশেদ খান মেননদের সঙ্গে ছিল আদর্শিক বন্ধন।'ধারাপাত' নামে একটি চলচ্চিত্রের জন্য ফাহমিদা খাতুন রেকর্ড করলেন 'আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ...' গানটি। অনেকেই জানেন না, পাকিস্তান আমলে চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত এটাই ছিল প্রথম রবীন্দ্রসংগীত।এত যার অর্জন, তিনি কিন্তু নরম মনের মানুষ। শৈশবে যখন রবীন্দ্রনাথের 'ছেলেটা' কিংবা 'দেবতার গ্রাস' কবিতা পড়ে রওনা হতেন স্কুলের পথে, তখন বুঝতেন গলায় দলা পাকিয়ে উঠছে কান্না!আর তিনিই কিনা ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবসে টেলিভিশন অনুষ্ঠানে 'আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে...' গানটি বারবার গেয়ে পার করে দিলেন রাত ১২টা! তাই ২৩ মার্চ টেলিভিশনে দেখা গেল না পাকিস্তানি পতাকা!সূত্র: জাহীদ রেজা নূর, চোখের আলোয় ২, পৃষ্ঠা ৭৮-৮২
6
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন আহত হয়েছেন। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল বুধবার উপজেলার আলীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন আলীপুর গ্রামের কিরণ তালুকদার (৫০), পিপুলা আক্তার (৩০), হাটনাইয়া গ্রামের গোলাম আহমেদ বাবু (২৫) ও তার ভাই গোলাম সামিউল (২০)।সংঘর্ষের পর আহতের মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোলাম আহমেদ বাবু ও গোলাম সামিউলকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়।মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার শাকের আহমেদ জনি বলেন, 'দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজন হওয়ায় তাঁদের ময়মনসিংহ পাঠানো হয়েছে।'স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবাকাহাজ ফজলুল উলুম কওমি মাদ্রাসা'র কমিটি গঠনের জন্য সকালে আলোচনায় বসেন স্থানীয়রা। এতে সভাপতি পদে মানিক চৌধুরী, ইকবাল হোসেন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম সেলিম নাম আলোচনায় আসে। তাঁদের মধ্যে কে সভাপতি হবেন এ নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাঁধে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে চারজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যান।সভাপতি প্রার্থী মানিক ইকবাল হোসেন বলেন, 'ঝামেলা সভাপতির পদ নিয়ে হলেও পরে পারিবারিক দ্বন্দ্বে এ সংঘর্ষ হয়। তবে সভাপতি হিসেবে সবাই আমাকে সমর্থন দেন। চেয়ারম্যান এটি মেনে নিলেও অপর প্রার্থী মানিক চৌধুরী তা মেনে নেননি।'তবে অপর সভাপতি প্রার্থী মানিক চৌধুরী বলেন, 'ইকবাল হোসেনকে তেমন কেউ সমর্থন করেননি। সভাপতি হিসেবে সবাই আমাকে সমর্থন দেন। আমি চেয়ারম্যান সাহেবকে সভাপতি হওয়ার জন্য অনুরোধ করি। তবে তিনি রাজি হননি।'সুয়াইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম সেলিম বলেন, ইকবাল হোসেন ওই কমিটিতে সভাপতি হতে গিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করেন। কেউ সমর্থন না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর লোকজন অন্যদের ওপর হামলা চালান।'মোহনগঞ্জ থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, 'মারামারি হয়েছে শুনেছি। তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
মরুভূমির দেশ সৌদি আরবকে সবুজ করে তুলতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এর অংশ হিসেবে সারাদেশে ১০ বিলিয়ন ম্যানগ্রোভ গাছ লাগাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং পরিবেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে গত বছর সৌদি গ্রিন ইনিশিয়েটিভ চালু করে দেশটির সরকার। এর অংশ হিসেবেই ১০ বিলিয়ন ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর বিশাল প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে সেদেশের সরকার। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেজিটেশন কভার অ্যান্ড কমব্যাটিং ডেজার্টফিকেশনের উপকূলীয় ও সামুদ্রিক পরিবেশ বিষয়ক পরামর্শক আহমেদ আলমানসি বলেন, "লোহিত সাগর (রেড সি) এবং আরব উপসাগরের উপকূলে ম্যানগ্রোভ জন্মে, যা এই পরিবেশে আরও ম্যানগ্রোভ চাষের প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।" সৌদির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেজিটেশন কভার অ্যান্ড কমব্যাটিং ডেজার্টফিকেশনের তথ্যমতে, লোহিত সাগরের উপকূলে সাধারণত দুই ধরনের ম্যানগ্রোভ জন্মে- একটি হল অ্যাভিসেনিয়া মেরিনা, যা সাধারণত ধূসর বা সাদা ম্যানগ্রোভ নামে পরিচিত। আর অন্যটি হল- রাইজোফোরা মুক্রোনাটা, লুপ-রুট, লাল বা এশিয়াটিক ম্যানগ্রোভ নামেও পরিচিত। এগুলো ঠান্ডার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। আসির এবং জিজান অঞ্চলে বেড়ে ওঠা অ্যাভিসেনিয়া মেরিনা ধরণের ম্যানগ্রোভগুলো সৌদি উপকূলে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এবং উপকূলীয় অঞ্চল এবং লোহিত সাগরে ম্যানগ্রোভ রয়েছে প্রায় আনুমানিক ৩৫ হাজার ৫০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে। সূত্র: আরব নিউজ বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করাসহ চার দফা দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। শিক্ষক সমিতির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট স্থানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং হামলার সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা তদন্ত করা। এক্ষেত্রে কারো কোনো অবহেলা বা শিথিলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, হামলার ঘটনায় নিহতদের পরিবার, ক্ষতিগ্রস্ত পূজামন্ডপ, আশ্রম, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যথাযথ পূরণ দেওয়া, হামলাকারীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা করা। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের নামে যেকোনো সহিংসতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী যেকোনো অপতৎপরতা রোধে সর্বাত্মক সতকর্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত
1
দেশের সবচেয়ে বড় শহুরে জলাধার চট্টগ্রামের ফয়'স লেক। ঐতিহ্যবাহী এই লেকটির আয়তন কাগজকলমে ৩৩৬ একর। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ২০০ একর দখল হয়ে গেছে। লেকের ১০টি পাহাড় ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ বসতি। সবুজের বুকে যেন পাকা, সেমিপাকা, আর কাঁচা ঘরের ধূসর বস্তি, যেখানে বসবাস ৩০ হাজার মানুষের।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় ফয়'স লেকে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সমানতালে চলছে মাদক, অস্ত্রের ব্যবসা, পাহাড় কাটা এবং দখলবাজি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার এই স্থানটি হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী আর অপরাধীদের এক অভয়ারণ্য।পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর পরিচালক নুরুল্লাহ নুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমরা বেশ কয়েকবার উচ্ছেদের জন্য নোটিশ দিয়েছি, এ বছর জুনেও আমরা উচ্ছেদে গিয়েছিলাম। কিন্তু আদালতের একটি নির্দেশনা আছে, পুনর্বাসন না করে তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না। এ কারণে আমরা চাইলেও পারছি না। এ সুযোগে বসতি বাড়ছে।'ফয়'স লেকের পুরো জায়গাটির মালিক বাংলাদেশ রেলওয়ে। ২০০৫ সালে ৫০ বছরের জন্য লেকের ৩৩৬ একর জায়গা কনকর্ড গ্রুপের কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানিকে ইজারা দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। বছরে ৩৭ লাখ টাকা ইজারামূল্য পরিশোধ করে তারা। কিন্তু ভূমিকর নিয়ে বিরোধ, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ, পরিবেশ নষ্ট করার অপরাধে ২০১৭ সালে ইজারার চুক্তি বাতিল করে রেল কর্তৃপক্ষ। এর বিরুদ্ধে সে বছর আদালতে যায় কনকর্ড। তখন থেকেই প্রায় চার বছর আদালতের স্থগিতাদেশের মধ্যেই ব্যবসা পরিচালনা করছে কনকর্ড।ফয়'স লেক অ্যামিউজম্যান্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার বিশ্বজিৎ ঘোষ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমরা এখন বড়জোর ৭০ থেকে ৮০ একর জায়গায় কার্যক্রম পরিচালনা করি। বাকিটা অন্যদের দখলে। আমরা রেলকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাদেরই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।'আর রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মাহবুবুল করিম বলেন, 'আমাদের ৩৩৬ একর জায়গা আছে সেখানে, অথচ ২০০ একরই বেদখল, মামলার কারণে আমরা এগোতে পারছি না।'সরেজমিনে দেখা যায়, ফয়'স লেকের পানির অংশটুকু ছাড়া বাকি পাহাড়ি অংশ প্রায় দখল হয়ে গেছে। চারপাশে অন্তত ১০টি পাহাড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল ও ৩ নম্বর ঝিলের পাহাড়গুলো।পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০২১ সালের জুন মাসের হিসাবে দেখা গেছে, এই তিনটি ঝিলেই অন্তত ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করে।কথা হয়, ১ নম্বর ঝিলের দখলদার মহল্লা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'আমি ১৯৯৪ সালে জায়গাটি দখল করেছি, আমাদের কোনো কাগজপত্র নেই। এখানে সব বাসিন্দারই একই অবস্থা। তবে স্ট্যাম্পের ওপর জায়গা হাতবদল হয়। মূল জায়গার মালিক রেলওয়ে। আপনি সাংবাদিক তাই সত্য কথা বললাম। আপনার মতো করে লিখবেন।'মুনীর নামে আরেকজন বলেন, 'জায়গা দখল করতে এখানে ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা দিতে হয়। কিন্তু কাদের দিতে হয়, তা আমি বলতে পারব না। আপনি খবর বের করে নেন।'আকবার শাহ থানা-পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় সন্ত্রাসী নুরুল আলম নুরু, তাঁর ভাই জয়নালসহ অন্তত চারটি গ্রুপ এখানে সক্রিয়। এর মধ্যে নুরুর বিরুদ্ধে পাহাড় কাটা, মাদক ব্যবসা, কাঠ পাচারসহ ২৮টি মামলা আছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে। তবে তাঁর বড় একটি গ্যাং আছে পাহাড়ে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় বিগত সরকার ও বর্তমান সরকারের আমলে পাহাড় দখল করে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ঘর বানানোর ইট, লোহা, বালু এমনকি কাজের শ্রমিকও নিয়ন্ত্রণে রাখেন এঁরা। সরেজমিনে জানা যায়, দখলদারদের অনেকেই স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমের অনুসারী।জসিমের বিরুদ্ধে কয়েক বছর আগে পাহাড় কাটার অভিযোগে মামলা হয়েছিল বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক নুরুল্লাহ নূরী।পাহাড় কাটা ও দখলের বিষয়ে জানতে জাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেন কাউন্সিলর জসিম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমি উল্টো যারা পাহাড় কাটছে তাদের তালিকা তৈরি করছি। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে পাহাড়ে অবৈধ বসতি যারা করছে তাদের তালিকা প্রণয়নেও আমি সহযোগিতা করেছি।'আর কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুবল চাকমা আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমরা মামলার কারণে গত তিন বছর ফয়'স লেকের প্রায় তিন কোটি টাকা ভূমিকর পাচ্ছি না। তা ছাড়া জায়গাটিতে উচ্ছেদ অভিযানে রেল আমাদের সহযোগিতা চায়নি। আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে অবশ্যই করব।'কিন্তু রেল পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'ফয়'স লেক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কনকর্ডের সঙ্গে আমাদের মামলা চলছে। তবে সম্প্রতি একটি সমঝোতা হয়েছে। তারা মামলা তুলে নেবে বলে জানিয়েছে। আমরা শিগগিরই সেখানে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করে আমাদের জায়গা বুঝে নেব।'
6
সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া নয় আসামির মধ্যে পাঁচজনের যাবজ্জীবন সাজা বহাল এবং বাকি চারজনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। অন্যদিকে, খালাস পাওয়া ৪ জন হলেন আসিফ ইমতিয়াজ বুলু, কামরুল ইসলাম আপন, কাজী মুরাদ ও রাজীব হাসান মিয়া। এর আগে, ২০১৩ সালের ২৭ জুন ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারক মো. শাহেদ নূরউদ্দিন এই মামলায় ৯ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর সন্ত্রাসীরা সমকালের ফরিদপুর ব্যুরো অফিসে ঢুকে সাংবাদিক গৌতমকে নির্মমভাবে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ওইদিনই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সমকালের জেলা প্রতিনিধি হাসানউজ্জামান। বিডি-প্রতিদিন/৩০ জানুয়ারি, ২০১৯/মাহবুব
6
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা ব্যানার্জিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক উইংয়ের সদস্য তাবিথ আউয়াল। নিজের ফেসবুকে পেইজে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা তাবিথ বলেন, আশা করি, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে তৃণমূলের এই বিজয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসকে মোকাবিলায় কেবল নিজ স্বার্থ না দেখে দুই বাংলার পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব প্রত্যাশা করছি।
6
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএমএ ওয়ারেজ নাইমের সফলতার দুই বছর পূর্তি অনুষ্ঠানমঞ্চে জুতা নিক্ষেপ করেছে তারই রাইস মিলের সাবেক কর্মচারী আবু বক্কর সিদ্দিক। এ ঘটনায় পুলিশ আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তার সিদ্দিক নোয়াখলীর বসুরহাট উপজেলার চরহাজারী গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। তিনি ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও গ্রামে বসবাস করতেন। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান নাইমের রাইস মিলে কাজ করার সময় একটি পুরাতন রিমোট চুরির অপবাদ দিয়ে আবু বক্করকে চাকরিচ্যুত ও লাঞ্ছিত করা হয়। সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝিনাইগাতী সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুষ্ঠানমঞ্চে জুতা নিক্ষেপ করেন আবু বক্কর। এ সময় উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে সিদ্দিককে গণপিটুনি দিতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেজ নাইম বলেন, আমার মিলে চাকুরি করার সময় আবু বক্কর নেশা করতেন। এ জন্য আমার মিলের কর্মচারীরা তাকে বের করে দেন। সেই ক্ষোভে গতকাল আমার অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করেছেন। ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফায়েজুর রহমান বলেন, জুতা নিক্ষেপ করেছেন কি-না, তা বলতে পারব না। তবে তার নামে ওমর আলী বাদী হয়ে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তাই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
6
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের প্রথম টার্মের ক্লাস আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে সশরীরে শুরু হবে।গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ ভবনের পুরাতন সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন।সভায় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক ক্যালেন্ডার, ক্লাস শুরু এবং প্রথম বর্ষের ভর্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের প্রথম টার্মের ক্লাস আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে সশরীরে শুরু হবে।এ ছাড়া আগামী ১৬ জানুয়ারি (রোববার) থেকে প্রথম বর্ষ ব্যতীত অন্যান্য সকল বর্ষের প্রথম টার্মের ক্লাস সশরীরে শুরু হবে। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ব্যাপারে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।সভায় জানানো হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের দ্বিতীয় ডোজ টিকাগ্রহণ বাকি আছে তাঁদের দ্রুত টিকাদানে গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেন।উল্লেখ্য, এ সভায় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, বিভিন্ন স্কুলের ডিনবৃন্দ এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) উপস্থিত ছিলেন।
6
১৯৯০-৯১ সালে আমি ভলান্টারি হেলথ সার্ভিসেস সোসাইটির (ভিএইচএসএস) গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে সে সোসাইটির সদস্য সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওপর একটি অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ গবেষণা কাজ শুরু করি। সে গবেষণার অন্যতম অংশীদার ও দাতা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ড ফাউন্ডেশন। এই কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ আমার জীবনের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, আমি প্রায় এক বছর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সান্নিধ্য পাই। সে সুবাদে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্মের ইতিহাস আমি সবিস্তারে জানার সুযোগ পেয়েছিলাম, যার আদ্যোপান্ত আমার রচিত 'অনুভব' সিরিজের ১১তম প্রকাশনায় ১৯৯৩ সালে পুস্তকাকারে ছাপা হয়। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে আমার পরিচয় হয় ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে। আমার তৎকালীন কর্মস্থল বিএভিএস-এ (পরিবার পরিকল্পনার ক্লিনিক্যাল সেবার একটি প্রতিষ্ঠান, আমি যার প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী হিসেবে নিযুক্ত ছিলাম) ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নিয়মিত যাতায়াত ছিল ও সেই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ডা. আজিজুর রহমান তাঁর বিশেষ ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সেই সুবাদেই তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। ১৯৯০ সালে আমি যখন 'অনুভব' সিরিজের জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করি ও জানাই যে এই সিরিজে বাংলাদেশের তৃণমূলে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্মের ইতিহাস থেকে তাদের কাজের মিশন ও সমাজে প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক রচনা পুস্তকাকারে প্রকাশিত হবে, তিনি সব শুনে আমাকে বললেন, 'এটা একটা আমার প্রাণের কাজ তুমি করবে; কারণ এ রকম একটা ডকুমেন্টেশন আমাদের দরকার।' আমার সঙ্গে সহায়তার জন্য কেন্দ্রের প্রথম সারির দুজন কর্মকর্তাকে তিনি পরামর্শ দিলেন, ডা. মোরশেদ চৌধুরী (বিচিত্রা সম্পাদক হিসেবে খ্যাত শাহাদাত চৌধুরীর ভাই) ও ডা. কাশেম চৌধুরী (বিশিষ্ট শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর ভাই)। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাভার কার্যালয়ে সব কাগজপত্র পাওয়া যাবে বলে আমাকে যে স্টোরটি খুলে দেওয়া হয়, সেটি ছিল আমার অনুসন্ধানী গবেষণা কাজের জীবনে সবচেয়ে দুরূহ কাজ। ধুলাবালু ছাড়াও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রকাশনা, কাগজপত্র, ছেঁড়াখোড়া ছবি, দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা সারি সারি বই ও কাগজের বস্তা, ইত্যাদি মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিবেশে একটি এক পা ভাঙা টেবিলে বসে আমি কাজ শুরু করলাম। জাফর ভাই দু-এক দিন পরে আমার খোঁজ নিতে এসে খুব মর্মাহত হলেন, বিনয়ের সঙ্গে বললেন, 'কখনো ভাবিনি এগুলো নিয়ে কাজ করা দরকার, তাই প্রচারের চিন্তা না থাকায় এই হাল হয়েছে।' তিনি আমাকে পাশের আর একটি রুম থেকে এক জোড়া ভালো চেয়ার-টেবিল আনিয়ে দিলেন ও রুমে লাইট লাগাতে বললেন। যত দূর মনে পড়ে গণস্বাস্থ্য তখন পাট ও প্লাস্টিকের সমন্বয়ে ফার্নিচার বানানোর প্রকল্প শুরু করেছিল, চেয়ারটি সম্ভবত সে রকম জুটেক্স টাইপের ছিল। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাগজপত্র ঘেঁটে আমি যে প্রকাশনা পুস্তিকা তৈরি করেছিলাম, তাতে এর শুরুকালের ইতিহাস থেকে সে সময় পর্যন্ত যত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, সেসবের বিস্তৃত বিবরণ উল্লেখ আছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল এর পটভূমি রচনা। জাফর ভাইয়ের সঙ্গে নিয়মিত বসে তাঁর মুখে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস শুনে শুনে, সেগুলোর সূত্র ধরে ধরে তথ্য যাচাই করা ছিল যথেষ্ট দুরূহ কাজ, কারণ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তারা প্রচারবিমুখ, বিধায় এই বিষয়ে খুবই উদাসীন ছিলেন। দ্বিতীয়ত, এই কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জড়িয়ে আছে, যা যথেষ্ট যাচাই না করে লেখা একদিকে আমার জন্য যেমন ছিল স্পর্শকাতর বিষয়, অপর দিকে জাফর ভাই নিজেও তা চাইতেন না, ফলে আমাকে সেই সূত্রসমূহ নিশ্চিত হতে এর জন্মস্থান ত্রিপুরায় যেতে হয়েছিল। তৃতীয়ত, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রবর্তিত সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্য কার্যক্রম ছিল আমাদের দেশের প্রচলিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত একটি মডেল, যার তাত্ত্বিক আলোচনা অনুসন্ধান আমার জন্য যথেষ্ট সহায়ক ছিল না। বাইরের জগতে এই নিয়ে কথা বলতে গেলে আমি তেমন একটা সহযোগিতা পেতাম না। এই সব চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে আমাকে এগোতে হয়েছে ও একটানা দেড় বছরের কিছু বেশি সময় কাজ করে আমি একটি নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলাম। আমার সে গবেষণা কাজের মাধ্যমে ছয় বছরে (১৯৮৯-৯৫) মোট ১৮টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রকাশনা শেষে ১৯৯৬ সালে আমি 'আমাদের গ্রাম' প্রকল্প তৈরি করি, যার অন্যতম আদর্শ সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্য কার্যক্রমও জাফর ভাই, এ কথা বলতে আমি সর্বদাই গর্ববোধ করি। ২০১০ সালে আমি যখন ধানমন্ডি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিসে বসে দেশে আমার প্রকল্পের মাধ্যমে অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ ও ক্যানসার নিয়ে গ্রামভিত্তিক কাজের যুক্তি তুলে ধরেছিলাম, জাফর ভাই আমাকে উচ্ছ্বসিত উৎসাহ দিয়ে বলেছিলেন, 'লড়াইটা কিন্তু শেষ পর্যন্ত করে যেতে হবে।' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গণস্বাস্থ্যের ভিত তৈরি হয় রণাঙ্গনে আহত ও অসুস্থ হয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে। ত্রিপুরার সোনামুড়া ডাক বাংলোতে (আগরতলা থেকে ৩০ মাইলের মতো দূরে) প্রথম চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করেন ক্যাপ্টেন আকতার আহমেদ, ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ ও স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক কেরামত আলী। মে মাসে এই চিকিৎসা কেন্দ্র সোনামুড়ার দারোগাবাগিচায় স্থানান্তরিত হয়। সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ প্রত্যক্ষভাবে এই চিকিৎসা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধান করতেন। ২ নম্বর সেক্টরের হেড কোয়ার্টার মেলাঘরে স্থানান্তরিত হলে তাঁরই উৎসাহে ও উদ্যোগে কাছাকাছি বিশ্রামগঞ্জ গ্রামের হাবুল ব্যানার্জির আনারসবাগানের ছোট-বড় আটটি টিলায় একটি পূর্ণাঙ্গ ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপিত হয়। সম্পূর্ণ বাঁশ, বেত ও ছন দিয়ে তৈরি করা হয় এই হাসপাতাল। বিছানা, টেবিল, চেয়ার সবই বাঁশ কেটে কেটে তৈরি করা হয়েছিল। ছন বা শুকনা খড় বিছিয়ে বিছানার উপযোগী গদি বানানো হতো। অক্টোবর মাস নাগাদ এর শয্যা সংখ্যা হয় ৪৮০। এখানে মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ আগত শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হতো। হাসপাতালে একটি সজ্জিত অপারেশন থিয়েটার ছিল, যেখানে সব ধরনের অপারেশনই করা যেত। নাম দেওয়া হয় 'বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল'। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ডা. এম এ মোবিন লন্ডন থেকে যুদ্ধে চিকিৎসাসেবায় যোগ দিতে রণাঙ্গনে চলে আসেন। দুজনেই ছিলেন সার্জারিতে উচ্চ শিক্ষায় অধ্যয়নরত ও এই ফিল্ড হাসপাতালের মুখ্য সার্জনের কাজ করতেন। নভেম্বরে এঁদের আরও চার বন্ধু বিলেত থেকে এসে এই হাসপাতালের কাজ যোগ দেন। এঁরা ছিলেন ডা. বরকত চৌধুরী, ডা. আলতাফুর রহমান, ডা. কাজী কামরুজ্জামান (পরে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা) ও ডা. মোশাররফ জোয়ারদার। প্রথম তিনজন বিভিন্ন ফ্রন্টে গিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবার কাজ করতেন ও ডা. মোশাররফ কাজ করতেন মুজিবনগর সরকারের স্বাস্থ্যসচিব ডা. টি হোসেনের সঙ্গে। এঁরা সবাই ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ডা. এম এ মোবিনের ত্যাগী প্রচেষ্টায় অনুপ্রাণিত হয়েই যুদ্ধকালীন চিকিৎসাসেবায় যোগ দিতে এসেছিলেন। আরও যাঁরা এই হাসপাতালের মূল প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন, যাঁদের নাম আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকার কথা, আমি যতটুকু তথ্য পেয়েছি ক্যাপ্টেন আকতার আহমেদ (২ নম্বর সেক্টরের মেডিকেল অফিসার), ক্যাপ্টেন সেতারা রহমান (বীর প্রতীক) ও ডা. মোরশেদ চৌধুরী (ক্র্যাক প্লাটুনের যোদ্ধা ফতেহ আলী চৌধুরী ও সাংবাদিক শাহাদাৎ চৌধুরীর ভাই) ও জানা-অজানা অনেকে। স্বাধীনতার পরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাঁর কর্মী বাহিনী নিয়ে প্রথমে কুমিল্লা ও পরে '৭২ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় এসে ১৩২ নম্বর ইস্কাটনের একটি বাড়িতে বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের অস্থায়ী কেন্দ্র করেন এই মানসে যে সদ্য স্বাধীন দেশের জন্য একটি নতুন কৌশলের সাশ্রয়ী সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গঠনে তাঁরা ভূমিকা রাখবেন। সে অনুসারে সাভারের পাথালিয়া গ্রামে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর চিকিৎসক বন্ধু ডা. মাহমুদুর রহমানের বাবা ডা. লুৎফর রহমান ও মা জোহরা রহমানের সহায়তায় ১১ বিঘা জমি পেয়ে সেখানে তাঁবু গেড়ে কাজ শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু তাঁদের পরামর্শ দেন পাইলট আকারে এই সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার চিন্তা নিয়ে কাজ শুরু করতে ও বাংলাদেশ হাসপাতালের নাম 'গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র' নির্বাচন করে এর জন্য ২৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে দান করেন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু এই কেন্দ্রের আদর্শ গঠনেও পরামর্শ দেন এই বলে যে "এই হাসপাতালে শুধু চিকিৎসা হবে না। দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা সবকিছু নিয়ে কাজ করতে হবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে"। সে ঘটনার ১৮ বছর পরে আমি পর্যবেক্ষণ করেছি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অক্ষরে অক্ষরে বঙ্গবন্ধুর পরামর্শ অনুসরণ করেছেন। আজকের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দিকে তাকালেই বোঝা যায় এই সব উন্নয়নের সফল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে এই প্রতিষ্ঠান। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। আছে স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসও। দুর্ভাগ্যবশত এই দুটো ইতিহাসই আমরা ঠিকঠাকভাবে তৈরি করতে পারিনি। '৭৫ পরের পট পরিবর্তন ও দেশের রাজনৈতিক বিভাজন এই ইতিহাস নির্মাণে বড় বাধা হয়েই ছিল, যদিও এখন ধীরে ধীরে তা কেটে যাচ্ছে। অনেকে বলে থাকেন ও যুক্তিসংগতভাবেই বলেন যে সামরিক শাসনের আমলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী যেসব কাজ করছেন, সেগুলো সঠিক হয়নি। এই প্রশ্ন আমিও জাফর ভাইকে করেছিলাম, তিনি বলেছিলেন, 'এরা ক্ষমতা জোর করে দখল করেছে কিন্তু আমাদের সে জোর নেই তাকে উৎখাত করার, যতক্ষণ না রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হয়। কিন্তু কিছু ভালো কাজ তো তাদের দিয়ে করিয়ে নিতে পারি, সে চেষ্টা যদিও খুব সহজ নয়।' জীবনভর এই সমাজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য লড়াই করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসে তিনি যেসব অঙ্গীকার স্থাপন করেছেন, সেসবের মূল্যায়ন তাঁকে অবশ্যই স্মরণীয় করে রাখবে। যাঁরা তাঁকে নিয়ে শুধুই বিতর্ক করতে পছন্দ করেন, তাঁদের অবশ্যই উচিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্যোগগুলোর সঙ্গে ভালোভাবে পরিচিত হওয়া। এ দেশের সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে, নিজ দেশের প্রাতিষ্ঠানিক অর্জনের, ওষুধশিল্পের বিকাশের, সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য অর্জন, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সম্মিলিত নেতৃত্ব ও চিকিৎসাসেবার গবেষণায় জাফরুল্লাহ চৌধুরী অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন, এ সত্য আমাদের অস্বীকার করে বালুতে মুখ গুঁজে রাখলে ইতিহাস তা কখনো সমর্থন করবে না। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এখন অসুস্থ এবং লড়াই করছেন আবার কাজে ফিরে আসতে। পত্রপত্রিকায় তাঁর এই দৃঢ় মনোবলের খবর পেয়ে আমরা আশ্বস্ত হই বটে কিন্তু তাঁর জন্য উদ্বেগ কমে না। অনেক দিন দেখা হোক বা না হোক, এ রকম একজন মানুষের ছায়া আমাদের কাজের জগতের সামনে না থাকলে আমরা কিছুটা অসহায় বোধ করি। যাদের দেখানো পথ ধরে গ্রাম উন্নয়নের স্বপ্নে নিজেদের ভাবনাকে সাজিয়েছি আমাদের জন্য এ রকম মানুষের কর্মচিন্তা ও অভিজ্ঞতাই প্রকৃত নির্দেশক, কারণ তা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শসঞ্জাত, আমরা তা থেকে বিচ্যুত হতে পারি না। এমনকি সংবিধানের অন্যতম মৌলিক অধিকার নাগরিকের স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে আমরা যে বিচ্যুত হয়েছি বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বাহুল্য আয়োজনের যে ভুল হয়েছে, তা আজকের এই করোনা পরিস্থিতিতে প্রমাণিত হয়েছে, এখন নিশ্চয়ই আমরা সারা দেশের জন্য গ্রামমুখী 'সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা' চূড়ান্ত নির্মাণের কথা ভাবতে পারি। রেজা সেলিম, পরিচালক, আমাদের গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প ই-মেইল: []
8
বিরল রোগে আক্রান্ত বৃক্ষমানব আবুল বাজনদারের অস্ত্রোপচার করা ডান হাতের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। শনিবার তৃতীয় দফায় তার হাতে ড্রেসিং শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানান, আবুল বাজনদারের হাতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া ইনফেকশনও হয়নি। তার হাতের অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, 'আবুল বাজনদারের চিকিৎসার বিষয়ে তারা ধীরে অগ্রসর হচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ড ও দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডান হাত স্বাভাবিক হওয়ার পর আবুল বাজনদারের বাম হাতে অস্ত্রোপচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ।' এদিকে রংপুরের একই পরিবারের তিনজনও আবুল বাজনদারের মতো 'ট্রি-ম্যান' রোগে আক্রান্ত কি-না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি চিকিৎসকরা। হাতে ও পায়ে শিকড়ের মতো গজানো তিনজনের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা। বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বলেন, বুধবার ওই তিনজন ভর্তি হওয়ার পর তাদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার তাদের রোগ সম্পর্কে বলা যাবে।
6
ঢাকা: আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস। পাশাপাশি সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আজ বুধবার বিকেলে এই তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিস।আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানায়, বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছে। শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। এরই মধ্যে ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সতর্কতা আছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকাসহ সারা দেশে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।এ নিয়ে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, আগামী ১১ জুন বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপটি সৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে চলমান বৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই। দেশে মৌসুমি বায়ু এসেছে বলেই এই বৃষ্টি হচ্ছে।এ আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, ঢাকায় অধিকাংশ সময় আকাশে মেঘ থাকবে। হালকা বৃষ্টিও হবে বিরতি দিয়ে। সন্ধ্যার পর বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে লঘুচাপটি সৃষ্টি হলে ভারী বৃষ্টিপাত দীর্ঘায়িত হবে।আগামী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাজশাহীতে। আর মঙ্গলবার (৮ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৫২ মি. মি। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। মৌসুমি বায়ু দেশের পূর্বাঞ্চলের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর পূর্ব বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।
7
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই সরকার ও চিকিৎসকদের নির্দেশ মেনে চললে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতো বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে দলটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির আয়োজনে কোভিড-১৯ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষণ কর্মশালার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং দলটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপকমিটির সদস্য সচিব এবং দলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। আলোচনা অনুষ্ঠানটি আওয়ামী লীগের ফেইসবুক পেইজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। হানিফ বলেন, এই ভাইরাস থেকে মানুষবে মুক্ত করায় বিশ্বের চ্যালেঞ্জ। উন্নত বিশ্বের মতো আমরাও এই দুর্যোগ অতিবাহিত করছি। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, দিন দিন সংক্রমণ বাড়ছে, তবে শুরু থেকে সরকার ও চিকিৎসকদের নির্দেশ মেনে চললে এতো সংক্রমণ হতো না। মানুষের খাদ্য ও চিকিৎসার ঘাটতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী প্রতি মূহুর্তে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন, যাতে দুর্যোগকে মোকাবিলা করতে পারি। মানুষ যাতে খাদ্য ও চিকিৎসার কষ্ট না পায় সেজন্য তিনি সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। এর পাশপাশি জীবন ও জীবিকার কথা মাথায় রেখে অনেক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গার্মেন্ট চালুর পর অনেকেই চিন্তা করেছেন এতে হয়তো সংক্রমন আরো বাড়বে। কিন্তু আমরা মনে করি অনেক প্রজ্ঞা ও দুরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতির একটি মূলস্তম্ভ হচ্ছে এই পোশাক শিল্প। এই খাতে আমাদের প্রতিযোগী ভিয়েতনাম, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা যখন তাদের প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে, তখন আমরা যদি কারখানা বন্ধ রাখি, তাহলে আমাদের বাজারটা আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলবো। এই চিন্তা থেকেই গার্মেন্ট খোলা হয়েছে। সেইফটিকে অগ্রাধিকার দিলে সংক্রমণ হওয়ার সুযোগ নেই জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা যদি সেইফটিকে অগ্রাধিকার দেই, তাহলে সংক্রমণ হওয়ার সুযোগ নেই। এটি কঠিন কাজ নয়- মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করা, নাকে-মুখে যতটো সম্ভব হাত না দেয়া, হাত ধোয়া ও সামাজিক দুরত্ব যদি রাখতে পারি তাহলে করোনার এই ট্রান্সমিশন বন্ধ রাখতে পারব। করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, সেজন্য আমরা সচেতন হই। শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখুন। উনি দায়িত্ব নেয়ার পর সকল সেক্টরে আমরা এগিয়ে গেছি। তিনি এই দুর্যোগ মোকাবিলা করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সফল হবেন। সারাদেশেই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে স্বাগত বক্তব্যে আবদুস সবুর বলেন, অনলাইনে কোভিড-১৯ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষণ কর্মশালা দেশের প্রত্যেক জেলা-উপজেলা পর্যন্ত হবে। আমরা প্রথমে বিভাগ ভিত্তিক করবো, এরপর জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এটা শুরু করবো।
6
সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, যৌথভাবে বাংলাদেশে অনেকগুলো ক্ষতিকর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ভারত। এসব কাজে ব্যবহূত সমস্ত পণ্যও ভারতীয়। সুযোগ সুবিধাও নিচ্ছে দেশটি। একসময় পাকিস্তান সুবিধা ভোগ করত। পূর্ব পাকিস্তান শোষিত ছিল। এখন আবার সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল এসব কথা বলেন। ইউনেস্কোর ৪৩তম সভার সকল সুপারিশ বাস্তবায়ন, সুন্দরবনের পাশে রামপালসহ সকল শিল্প নির্মাণ প্রক্রিয়া বন্ধ ও সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা সম্পন্ন করার দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি। সুলতানা কামাল আরও বলেন, রামপালের প্রকল্প নির্মাতা ভারতীয় কম্পানি এনটিপিসি তাদের নিজ দেশে সকল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থগিত করেছে। তারা তাদের কার্বন তৈরির দায় কমাতে চায়। তারা গুজরাটে বিশ্বের বৃহত্তম সৌর শক্তির পার্ক স্থাপনের জন্য ২৫ হাজার কোপি রুপি বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েকটি রাজ্যের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র অর্ধদিবস বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছে। অথচ একই প্রতিষ্ঠান প্রবল গণআপত্তির মুখেও বাংলাদেশে কয়লা বিদ্যুৎ তৈরিতে পিছপা হচ্ছে না। এটি নিঃসন্দেহে একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। তিনি বলেন, ভারতবিরোধী কোনো কথা বলছি না। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত যদি পাশে না দাঁড়াতো তাহলে মুক্তিযুদ্ধটা আমরা ওভাবে শেষ করতে পারতাম না। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আজকে বাংলাদেশকে একটা বাজার কিংবা তাদের শিল্প কারখানার জায়গা বানিয়ে সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে নেবে, এ বিষয়ে আমাদের এখন চিন্তাভাবনা করতে হবে। এ মানবাধিকার কর্মী বলেন, সবচেয়ে সস্তা শ্রমের এই দেশে বিনিয়োগের সবচেয়ে ভালো পরিবেশ রয়েছে। অর্থাৎ আমরা সব দিয়ে দিতে পারি। মানুষকে তাদের জায়গা-জমি থেকে উৎখাত করে রামপালের মতো পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্প বিভিন্ন জায়গায় করা হচ্ছে। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর সভার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দুরাবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে ৪১তম সভায় (২০১৭) বেশ কিছু নেতিবাচক কিন্তু সঠিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছিল ইউনেস্কো। বাংলাদেশের দায়িত্ব ছিল সেসব বিষয়ে করণীয় সকল কাজ সম্পন্ন করে এবারের অর্থাৎ গত জুনের ৪৩তম সভায় প্রতিবেদন জমা দেয়া। কিন্তু বাকুর সভায় বাংলাদেশের তৎপরতা বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির মনপূত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালের কাজগুলো সম্পন্ন করার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। সুলতানা কামাল বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের পর্যবেক্ষণ দল সুন্দরবন দেখতে আসবে। আর বাংলাদেশকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবার প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যা ৪৪তম সভায় মূল্যায়িত হবে। বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট না হলে 'সুন্দরবন বিপদাপন্ন ঐহিত্য' তালিকায় চলে যেতে পারে। যা হবে জনগণের ও দেশের জন্য অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, দুঃখজনক, লজ্জাকর ও অপমানজনক। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ডা. আবদুল মতিন, সদস্য রুহীন হোসেন প্রিন্স ও শরীফ জামিল।
6
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়ায় এক হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে ঢাকার ক্যান্সার মিশন ফাউন্ডেশন। ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের সেবায় এ ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ঈদগাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পরদিন শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) সাহেবরামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ক্যান্সার মিশন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পে নারী ও শিশুসহ প্রায় ১০০০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। ক্যান্সার মিশন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. নাজমুল করিম মানিকের উদ্যোগে ক্যাম্পে ১০ জন চিকিৎসক বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেন। বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পেয়ে খুবই খুশি এই দুই এলাকার সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. নাজমুল করিম মানিক বলেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ক্যান্সার মিশন ফাউন্ডেশন ঢাকার লক্ষ্য। আগামীতেও এ ধরনের সেবা অব্যাহত থাকবে।
6
ভারতের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের সম্পত্তি, বিশেষত জমিজমা সাংঘাতিক বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা গত কয়েক সপ্তাহে দেশটিতে এক বড় বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। গত এক মাসে এ-সংক্রান্ত অন্তত তিনটি বড় অভিযোগ সামনে এসেছে। এর প্রথমটি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে দুটি সংবাদমাধ্যম। এ অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিংকি ভূঁইয়া শর্মা ও তাঁর পরিবার সরকারি জমি হস্তগত, ব্যবহার এবং বিক্রি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ১০ জানুয়ারি থেকে আসামে প্রায় এক মাসের জন্য আন্দোলনে নামছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে তাঁরা পথে নামবেন বলে আজ মঙ্গলবার জানিয়েছেন আসাম কংগ্রেসের সভাপতি ভূপেন কুমার বরা। পাশাপাশি কলকাতা পৌর করপোরেশনের নির্বাচনী হলফনামায় দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের স্ত্রী কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির অধিকারী। একজন সমাজকর্মী কাজরীর এত সম্পত্তি কোথা থেকে এল, তা জানতে মঙ্গলবার হলফনামা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও অযোধ্যায় রামমন্দিরের জন্য অধিগ্রহণ করা জমি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে। সম্প্রতি আরও একাধিক রাজ্য যেমন তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র বা অন্ধ্র প্রদেশ থেকে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে আইনবহির্ভূতভাবে জমি অধিগ্রহণের খবর পাওয়া গেছে। মমতার পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে হলফনামা পেশের নির্দেশআসামের পাশের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ দেখে অবাক হয়েছেন অনেকে। মমতা বরাবরই বলে এসেছেন তাঁর বা তাঁদের পরিবারের বিরাট সম্পত্তি নেই। অথচ গত ডিসেম্বরে কলকাতা পৌর করপোরেশনের নির্বাচনের প্রাক্কালে দেখা গেল, মুখ্যমন্ত্রীর ভাই সমীর বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে। কাজরী পৌর করপোরেশন নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে এবং জিতেছেন। কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী হলফনামায় বলেছেন, তাঁদের দক্ষিণ কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটসহ কালীঘাট এলাকায় নয়টি জমি রয়েছে। ওডিশা রাজ্যের পুরী ও তালতোরেও সম্পত্তি রয়েছে। এই ১১টি অস্থাবর সম্পত্তির বাজারমূল্য ২ কোটি ১০ লাখ রুপি বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন তিনি। প্রশ্ন হলো হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট কলকাতার অন্যতম অভিজাত এলাকা; যেখানে জমির দাম খুব বেশি। সেখানকার একটি প্লটের দাম কী করে ভারতীয় মুদ্রায় ২ কোটির কাছাকাছি হয় তা নিয়ে অল্পবিস্তর লেখালেখি হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। কাজরী জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর স্বামী সমাজকর্মী এবং তাঁদের প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। কোনো সমাজকর্মীর কীভাবে ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি ও ১১টি জমির মালিকানা থাকতে পারে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বিরোধীরা অবশ্য এ নিয়ে বিশেষ মুখ খোলেননি। ইমতিয়াজ আহমেদ নামের এক আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করে জানতে চান, কাজরী নিজেকে সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিলেও কীভাবে তাঁর কাছে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি এল। আহমেদ বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানান। এই মামলায় হাইকোর্ট রাজ্যের নির্বাচন কমিশন, রাজ্য সরকারের সদর দপ্তর নবান্ন, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইনজীবী আহমেদকে আদালতে হলফনামা জমা দিয়ে নিজেদের অবস্থান ও বক্তব্য জানাতে বলেছে। সপ্তাহ কয়েক আগে কাজরী তাঁর সম্পত্তি সম্পর্কে বলেন, 'আমাদের সবকিছুই বৈধ। সবকিছুরই কাগজপত্র রয়েছে এবং প্রয়োজনে তদন্ত করে দেখতে পারে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না।' এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। আদালত মামলাটি গ্রহণ করায় ও এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় ভবিষ্যতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের সম্পত্তির বিষয়টি যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটা ইস্যু হয়ে উঠবে, তা ইতিমধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগসম্ভবত সবচেয়ে খোলাখুলিভাবে জমি কেনাবেচা হয়েছে আসামে; যা মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আসামের অনলাইন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ক্রসকারেন্ট' ও দিল্লির 'দ্য ওয়্যার' একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলেছে, আর বি রিয়েলটারস প্রাইভেট লিমিটেড নামে আসামে একটি জমি বেচাকেনার সংস্থা অতীতে ১৮ একর (৭২ বিঘা) সরকারি জমি অধিগ্রহণ করেছে। সংস্থার যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী ও তাঁর ছেলে নন্দিল বিশ্বশর্মার এ সংস্থায় বিরাট অঙ্কের শেয়ার রয়েছে। জমিটি রয়েছে গুয়াহাটির জালুকবারি অঞ্চলে; যা মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বশর্মার নির্বাচনী কেন্দ্রের মধ্যে। জমিটি আইনবহির্ভূতভাবে অধিগ্রহণ, ব্যবহার ও বিক্রি করা হয়েছে-জানিয়েছে দুই সংবাদমাধ্যম। জমি কেনা হয়েছে দুই পর্যায়ে; ২০০৬-০৭ সালে ও ২০০৯ সালে। সেই সময়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা আসামের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। তিনি কংগ্রেস দলের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। সেই সময় আসামে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। ২০০৯ সালে রিনিকি ভূঁইয়া সংস্থার নির্দেশকের পদ থেকে সরে যান ও তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন একজন ব্যবসায়ী। যদিও বিজেপির কৃষক মোর্চার সহসভাপতি রঞ্জিত ভট্টাচার্য আরবিএস রিয়েলটারসে থেকে যান। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ নেতা বলে মনে করা হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই জমি কেনাবেচার মাধ্যমে প্রভূত লাভ করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করা হয়েছে। কেনাবেচাসংক্রান্ত তথ্য আসাম সরকারের ওয়েবসাইটেই রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আসাম বিধানসভায় কংগ্রেসের নেতা দেবব্রত শইকীয়া বলেছেন, আসামের দুটি জমিসংক্রান্ত আইন রয়েছে; যা ১৯৮৯ ও ১৯৫৬ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই আইন মোতাবেক যে পরিমাণ জমি একজন কিনতে পারেন, তার চেয়ে বেশি জমি কিনে তা দ্রুত বিক্রি করা হয়েছে। এ ধরনের সরকারি জমি ১০ বছরের আগে বেচাকেনা করা যায় না। অভিযোগ রয়েছে, জমি তিন মাসের মধ্যে বিক্রি করে মুনাফা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে শইকীয়া মন্তব্য করেন।উল্লেখ্য, আসামের জমি বহিরাগতরা নিয়ে নিচ্ছে বলে লাগাতার উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে সরকার। এই উচ্ছেদ অভিযানে অনেকের মৃত্যুও হয়েছে। জনসমক্ষে এই অভিযানকে সমর্থন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। আসাম সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগের কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ একজন সাংবাদিক অতনু ভূঁইয়া সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, অভিযোগগুলো ভ্রান্ত। সম্পত্তির নতুন মালিক রঞ্জিত ভট্টাচার্য তাঁকে জানিয়েছেন, তাঁরা মামলা করবেন। বস্তুত ওই সংস্থা (যার বর্তমান নাম বশিষ্ঠ রিয়ালটারস প্রাইভেট লিমিটেড) দ্য ওয়্যারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। এ দুই অভিযোগের পাশাপাশি কংগ্রেসের তরফে ডিসেম্বরে অভিযোগ করা হয়, অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য জমির দাম 'মিনিটে মিনিটে বেড়ে' ২ কোটি টাকা থেকে প্রায় ২০ কোটিতে পৌঁছেছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী অভিযোগ করেন, যে জমির দাম ২ কোটি টাকা, তার জন্য দুই ভাগে ৮ ও সাড়ে ১৮ কোটি টাকা দিয়েছে রামমন্দির ট্রাস্ট। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বিজেপি নেতাদের একাংশ ও সরকারি আমলাদের কয়েকজনের নামে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উত্তর প্রদেশ সরকার।
3
ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলেও দেশে অক্সিজেনের হাহাকার নেই। অক্সিজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে সারাদেশে প্রতিদিন শত শত করোনা রোগীর প্রাণ বাঁচাচ্ছে চট্টগ্রাম। বন্দর নগরীর তিনটি শিল্প গ্রুপ তাদের উৎপাদিত তরল অক্সিজেন বিনামূল্যে সরবরাহ করছে বিভিন্ন হাসপাতালে। জরুরি এ প্রয়োজন মেটাতে তারা উৎপাদনও বাড়িয়েছে। জিপিএইচ ইস্পাত প্রতিদিন গড়ে ২৫ টন তরল অক্সিজেন উৎপাদন করে বিনামূল্যে সরবরাহ করছে। একইভাবে আবুল খায়ের স্টিল (একেএস) প্রতিদিন গড়ে ২২ টন অক্সিজেন সরবরাহ করছে স্বাস্থ্য খাতে। মোস্তফা হাকিম গ্রুপও তাদের ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উৎপাদিত অক্সিজেন বিনামূল্যে সরবরাহ করছে করোনা রোগীদের কাছে। করোনার এ দুঃসময় যতদিন থাকবে, ততদিন এ সেবা চলবে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অক্সিজেন দরকার হয় খুব বেশি। বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেনের সরবরাহ আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দিচ্ছে চট্টগ্রামের শিল্প গ্রুপগুলোও। তাই ভারত থেকে অক্সিজেন আমদানি বন্ধ থাকলেও অক্সিজেনের সংকট তীব্র হয়নি এখনও। তবে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে আমাদের অক্সিজেন প্লান্টগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে এখনই। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. আবদুর রব মাসুম বলেন, করোনার দুঃসময় দীর্ঘস্থায়ী হবে আরও। তাই তরল অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াতে হবে আমাদের। এজন্য জরুরি কিছু সরঞ্জাম কিনতে হবে। বায়বীয় অক্সিজেনকে তরলে রূপান্তর করতে নতুন করে প্রয়োজনে প্লান্ট বসাতে হবে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাঁচ থেকে ছয় মাস লেগে যাবে। তাই কাজ শুরু করতে হবে এখনই। চাহিদা এখন দ্বিগুণ: স্বাভাবিক সময়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতে অক্সিজেনের চাহিদা থাকে দৈনিক ১০০ টনের কাছাকাছি। করোনার কারণে এ চাহিদা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টনে। সংক্রমণের হার একটু কমতির দিকে থাকায় অক্সিজেনের চাহিদাও কমছে। তবে সংক্রমণ আবার বাড়লে প্রয়োজন বাড়বে অক্সিজেনেরও। দেশের স্বাস্থ্য খাতে সর্বাধিক অক্সিজেন সরবরাহ করে বহুজাতিক কোম্পানি লিনডে বাংলাদেশ। এ ছাড়া আছে ইসলাম অক্সিজেন, স্পেক্ট্রা অক্সিজেনসহ অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠান। তবে শিল্প গ্রুপের অক্সিজেনকে স্বাস্থ্যে ব্যবহার উপযোগী করার দক্ষতা ও সক্ষমতা রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি লিনডে, স্পেক্ট্রাসহ হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের। অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাই তাদের মাধ্যমে তরল অক্সিজেন বাজারজাত করে। তরলে অক্সিজেনের বিশুদ্ধতা থাকতে হয় কমপক্ষে ৯৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। চট্টগ্রামের একেএস গ্রুপ ও জিপিএইচ গ্রুপের দুটি কারখানায় ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ মাত্রার অক্সিজেন উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ: মেডিকেল অক্সিজেন সংকট নিরসনে উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান একেএস। জরুরি প্রয়োজন মেটাতে একেএস প্লান্টে উৎপাদিত অক্সিজেন ২০২০ সাল থেকে জনস্বার্থে উন্মুক্ত করে দেয় আবুল খায়ের গ্রুপ। প্রতিদিন ২৬০ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের বৃহত্তম এ অক্সিজেন প্লান্ট থেকে এতদিন তরল অক্সিজেন উৎপাদন হতো দৈনিক ১০ টন। ভারত থেকে অক্সিজেন আমদানি বন্ধ থাকায় এখন সেটি দ্বিগুণ করা হয়েছে। ১০ টনের স্থলে উৎপাদন করা হচ্ছে ২২ টন। এছাড়া ১০ হাজারেরও বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রতিনিয়ত রিফিল করে বিভিন্ন হাসপাতালে বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে তারা। উদ্বৃত্ত অক্সিজেন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা সরবরাহ করছে সারাদেশে। নিজস্ব উদ্যোগে ২০টি হাসপাতালে বিনামূল্যে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাও স্থাপন করে দিয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ। গত ১৮ এপ্রিল থেকে উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করে তা সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সিইও মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ। জিপিএইচ অক্সিজেন দিচ্ছে সর্ববৃহৎ প্লান্ট থেকে: দেশের সর্ববৃহৎ অক্সিজেন প্লান্ট আছে জিপিএইচ গ্রুপের। প্রায় ৩০০ টন ধারণ ক্ষমতার এ প্লান্টে এখন তরল অক্সিজেন উৎপাদন হয় দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ টন। ২৪০ থেকে ২৫০ টন উৎপাদন হয় বায়বীয় অক্সিজেন। ইস্পাত তৈরির কাঁচামালকে বিশুদ্ধ করতে অত্যাধুনিক এ অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করেছে তারা। ইস্পাতের প্রয়োজেন গড়ে তোলা অক্সিজেন প্লান্ট এখন বাঁচাচ্ছে অনেক মানুষের প্রাণ। ঢাকা ও চট্টগ্রামের এক ডজনের বেশি হাসপাতালে বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ করছে তারা। উদ্বৃত্ত অক্সিজেন স্পেক্ট্রা কোম্পানির মাধ্যমে সারাদেশে বাজারজাত করা হচ্ছে। তরল অক্সিজেনের উৎপাদন আরও বাড়ানোর সক্ষমতা আছে এ প্লান্টের। এজন্য নতুন লিকুইড প্লান্ট স্থাপন করতে হবে। চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতনরা। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের উৎপাদন আরও বাড়ানোর প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। তবে লজিস্টিক সাপোর্ট দরকার তাদের। এটি পেলে তরল অক্সিজেনের উৎপাদন অল্প সময়ে বর্তমানের দ্বিগুণ করতে পারবে তারা। কল দিলেই মিলছে মোস্তফা হাকিম ফাউন্ডেশনের অক্সিজেন: করোনায় শ্বাসকষ্টের রোগীদের বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করছে মোস্তফা হাকিম গ্রুপের ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। গোল্ডেন ইস্পাত ও এইচএম স্টিল নামে এ গ্রুপের দুটি কারখানা রয়েছে। এ কারখানার জন্য ব্যবহূত হওয়া অক্সিজেন এখন মানবসেবায় ব্যবহার করছে তারা। প্রায় ৫০০ বোতল অক্সিজেন দিয়ে সেবা সংস্থাটি এ মানবিক কার্যক্রম শুরু করেছে। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে নিজস্ব প্রতিনিধি দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছে মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। কারও অক্সিজেন প্রয়োজন হলে ফাউন্ডেশনের সংশ্নিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিকে কল করতে হবে। এরপর তারা অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে হাজির হবেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যা বললেন: জিপিএইচ ইস্পাতের নির্বাহী পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, গত এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত হাজার টন তরল অক্সিজেন উৎপাদন করেছি আমরা। সীতাকুণ্ডের কারখানাটিতে আছে দেশের সর্ববৃহৎ অক্সিজেন প্লান্ট। একেএস মিলের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ও কারখানা ইনচার্জ ইমরুল কাদের ভূঁঁইয়া বলেন, গত বছরের ১২ মে থেকে দৈনিক গড়ে ৫০০ সিলিন্ডার অক্সিজেন বিভিন্ন হাসপাতালে বিনামূল্যে দিচ্ছি আমরা। মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলম বলেন, ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা নগরের ৪১টি ওয়ার্ড ও বিভিন্ন হাসপাতালে মোটরসাইকেলে বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছেন। বিভিন্ন উপজেলাতেও গত ১৪ এপ্রিল থেকে ১৫ জন প্রতিনিধির মাধ্যমে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবার এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমরা স্থাপন করে দিয়েছি সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম। গাউছিয়া কমিটি ও আল মানাহিলের মাধ্যমেও অক্সিজেন বিতরণ করছি।
6
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বিএনপি নেতা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। রবিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস থেকে গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন আকারাম হোসেন খান ও মাজেদুল ইসলাম। অপর বিএনপি নেত তৈমুর আলমও মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
আগেও গান গেয়েছেন শুভ। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া 'অগ্নি' ছবির 'সহেনা যাতনা' গানে শোনা গেছে আরিফিন শুভর কণ্ঠ। ফুয়াদের সংগীত পরিচালনায় গত বছর গেয়েছিলেন 'মনটা বোঝে না'। গানটি এখনো শুভর ইউটিউব চ্যানেলে আছে। যে কেউ চাইলে যে কোনো সময় শুনে ফেলতে পারেন গায়ক শুভকে।তবে সোমবার রাতে অভিনেতা যে খবর দিলেন, সেটা গান সম্পর্কিত হলেও ব্যাপারটি শুভর জীবনে এই প্রথম ঘটছে। কী সেটা? এই প্রথম র্যাপ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। 'মিশন এক্সট্রিম' ছবি মুক্তি উপলক্ষে গানটি গেয়েছেন শুভ। ছবিটি মুক্তি পাবে ৩ ডিসেম্বর। তাই প্রচারণার অংশ হিসেবে গানটি আগেই মুক্তি দেওয়া হবে। আরিফিন শুভ জানালেন, কয়েকদিনের মধ্যেই গানটি শুনতে পাবেন সবাই। এর সংগীত পরিচালনা করেছেন অদিত, আর গানের কথা লিখেছেন হিপহপ শিল্পী ব্ল্যাক জ্যাং। গানের শিরোনাম, 'কইরা দেখা'। আরিফিন শুভ বলেন, 'আমার জন্য এই অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন। র্যাপের ধরনটাই আলাদা। কেউ ভালো গাইলেই ভালো র্যাপ করবে, বিষয়টি এমন নয়। এ র্যাপটির জন্য আমি পুরো ক্রেডিট দেব অদিতকে। পাঁচ-ছয়দিন ধরে এক একটা লাইন করে ভয়েস টেক করা হয়েছে। কারণ আমি তো আগে কখনো করিনি এমন কিছু। তবে শেষ পর্যন্ত যা দাঁড়িয়েছে, শ্রোতাদের ভালো লাগবে।'শুনুন আরিফিন শুভর গাওয়া গান 'মনটা বোঝে না'
2
সময়ের তাগিদে সাধারণ যোগাযোগমাধ্যম থেকে একটি মেটাভার্স কোম্পানিতে পরিণত হচ্ছে ফেসবুক। তাই নিজেদের নতুন বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমন একটি নাম খুঁজছিল তারা। ভাবনাচিন্তার পর ফেসবুক ইনকরপোরেশনের নতুন নাম 'মেটা' হবে বলে গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। কোম্পানির নাম বদলালেও ফেসবুকের নাম ফেসবুকই থাকছে।বৃহস্পতিবারের ভার্চুয়াল সভায় জাকারবার্গ বলেন, 'ফেসবুক ইনকরপোরেশনের নামে আমরা আসলে যা করছি, তা শুধু সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে আবদ্ধ নেই। তাই এমন একটি নাম দরকার ছিল, যা আমাদের সব কার্যক্রমকে ধারণ করে। এ জায়গা থেকে কোম্পানির নাম "মেটা" করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'গ্রিক ভাষায় মেটা অর্থ সীমার অতীত বা সীমার চেয়ে বেশি, যা মেটাভার্স বা ভার্চুয়াল বাস্তবতাকে (ভিআর) ফুটিয়ে তোলে এমন কোম্পানির পরিচয় হিসেবে যথেষ্ট মানানসই। এ নামটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত মার্কিন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি লেখক নিল স্টিফেনসনের 'স্নো ক্র্যাশ' উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।জাকারবার্গের যুক্তি, 'আমাদের বর্তমান নামটি শুধু একটি পণ্যকে প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু ফেসবুকের বাইরেও আমরা হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদিতে প্রচুর বিনিয়োগ করছি, যা তথাকথিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ছাড়িয়ে গেছে।'আমাদের এসব প্ল্যাটফর্মে ফেসবুক ব্যবহারকারী না হয়েও ফেসবুকের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। এসব পরিবর্তনের কারণে ফেসবুকের করপোরেট গঠনও বদলে যাবে।'কোম্পানির নতুন নামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে গেছে লোগো। একই দিন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজেদের প্রধান কার্যালয়ে উন্মোচন করা হয়েছে নতুন একটি লোগো। আগের লোগোর 'লাইক চিহ্নের' জায়গা দখল করেছে 'ইনফিনির' চিহ্ন, যা মেটা নামের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। চলতি বছর ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন স্টক স্টিকার 'এমভিআরএস' নামে কার্যক্রম শুরু করবে কোম্পানিটি। নতুন ঘোষণায় বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারদর ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৩১৬ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছেছে।
6
মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক বন্ধু অপর বন্ধুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। আজ বুধবার সকালে কুমিল্লা নগরীর টিক্কারচর কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।নিহত যুবকের নাম আব্দুল করিম হৃদয় (১৮)। তিনি সংরাইশ এলাকার গেদু পোদ্দার বাড়ির নুর মিয়ার ছেলে।স্থানীয়রা জানায়, সুজানগর পশ্চিম পাড়া এলাকার শাহাজাহান মিয়ার কলোনির ভাড়াটিয়া সিরাজ মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়ার (১৮) সঙ্গে নিহত মো. আব্দুল করিম হৃদয়ের বন্ধুত্ব ছিল। সম্প্রতি মোবাইল নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েক দিন আগে হৃদয়ের কথা-কাটাকাটি হয়।এর জের ধরে আজ সকালে হৃদয় কাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হলে রাজিব তাঁর পিছু নেয়। পরে টিক্কারচর কবরস্থানের দিকে আসলে রাজিব তাঁর পেটে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।নিহত হৃদয়ের মামা সোহেল মিয়া জানান, তাঁরা দুজনে বন্ধু ছিল। সম্প্রতি তাদের মধ্যে মোবাইল ও সিমকার্ড নিয়ে কিছুদিন আগে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে রাজিব পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার ভাগনেকে হত্যা করে।নিহত হৃদয়ের মা নূর জাহান বেগম বলেন, আমার ছেলে কাঠের আসবাবপত্রের বার্নিশের কাজ করে। সকালে খাওয়া দাওয়া করে নগরীর ঝাউতলা এলাকায় কাজের জন্য বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে বের হয়। পথে রাজিব তাঁকে হত্যা করে। আমরা এর বিচার চাই। নিহত হৃদয়ের স্ত্রী ও আড়াই বছরের একটি সন্তান রয়েছে।এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল আজিম বলেন, আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। রাজিব নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
6
দুর্গা পুজায় ৩ দিনের সরকারী ছুটি বাস্তবায়ণসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটে। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন করেন তারা। হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিধান বিহারী গোস্বামীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নির্বাহী সভাপতি দীনবন্ধু রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রদীপ পাল, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় ভট্টাচার্য, মহাসচিব অ্যাডঃ গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, যুগ্ম মহাসচিব নকুল মন্ডল, সাংগঠণিক সম্পাদক সুজয় ভট্টাচার্য, হিন্দু মহিলা মহাজোটের সহ সভাপতি কাকলী নাগ, সাধারণ সম্পাদক মুক্তা বিশ্বাস, হিন্দু মহাজোটের ঢাকা মহানগর দক্ষিন এর সভাপতি ডি.কে সমির, নির্বাহী সভাপতি অখিল বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঘোষ সাংগঠণিক সম্পাদক নিপুন চন্দ্র পাল, ঢাকা জেলা হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক গোপাল পাল, হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক মহাজোটের সভাপতি সঞ্জয় শীল, সহ সভাপতি তুলন পাল, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, হিন্দু যুব মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি প্রদীপ শঙ্কর, প্রধান সমন্বয়কারী প্রশান্ত হালদার, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সাজেন কৃষ্ণ বল, সাধারণ সম্পাদক সজিব সকুন্ডু তপু প্রমূখ। মানববন্ধনে মহাজোটের নেতারা বলেন, দূর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যগণ পরিবার পরিজনের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য সারাবছর এই দিনগুলির জন্য অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দূর্গা পুজায় ৫ দিনের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও সরকারীভাবে মাত্র একদিনের ছুটি থাকে, সেটাও বিজয়া দশমীর দিন। ফলে কারো পক্ষেই পরিবার পরিজনের সাথে ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকে না। বক্তারা বলেন, সংবিধানের মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও কার্যক্ষেত্রে তার কোন প্রয়োগ নেই। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় দুটি ধর্মীয় উৎসবে ৬ দিনের সরকারী ছুটি ভোগ করলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবী দুর্গা পূজায় ৩ দিনের ছুটির দাবীটি উপেক্ষিত। পূজায় ৩ দিনের ছুটির দাবীটি প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাহী আদেশে ঘোষণা করবেন এ আশা প্রকাশ করেন তারা। তারা বলেন, সারাদেশে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাংচুর, মন্দিরে চুরি, জমি দখল, দেশত্যাগে বাধ্য করতে হামলা, জমি-বাড়ীঘর জোরপূর্বক দখল, মহানবীর বিরুদ্ধে কটুক্তির অজুহাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ব্ড়াীঘর ভাংচুর, লুঠতরাজ মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার চলছে। একই সাথে আশঙ্খাজনক হারে বেড়েছে হিন্দু কিশোরী অপহরন। তারা মন্দির, প্রতিমা ভাংচুর সহ সকল হিন্দু নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তার, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আগামী ১৭ সেপ্টেম্বেরের মধ্যে দূর্গা পুজায় ৩ দিনের ছুটির দাবী বাস্তবায়নের ঘোষণা না হলে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বের সারাদেশের সকল জেলা ও উপজেলায় মানববন্ধন করার ঘোষণা দেন।
6
আবির্ভাবের পর একটা-দুইটা ম্যাচ ভালো খেললেই হলো, তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে শুরু হয়ে যায় মাতামাতি! সেই উন্মাদনার ভার বইতে না পেরে হোঁচট খাওয়ার উদাহরণও এ দেশের ক্রিকেটে কম নেই। সবচেয়ে বড় উদাহরণ নাসির হোসেন-সাব্বির রহমান তো আছেনই।জিম্বাবুয়েতে ভালো খেলার পর এখন যেমন বেশি আলোচনা হচ্ছে হচ্ছে শরিফুল ইসলাম, শামীম পাটোয়ারীদের নিয়ে। আজ থেকে শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তরুণদের দেখানোর পালা, তাঁদের ওপর সত্যি আস্থা রাখা যায়!অবশ্য শুধু বাংলাদেশ দলের তরুণদের জন্য নয়, অস্ট্রেলিয়া দলের তরুণ ক্রিকেটারদেরও এই সিরিজটা নিজেদের প্রমাণের দারুণ এক মঞ্চ। বেশ কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার হারিয়ে দুই দলই এই সিরিজে আস্থা রেখেছে তরুণদের ওপর।অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে এসেছে অ্যারন ফিঞ্চ, স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, প্যাট কামিন্স, মার্কাস স্টয়নিস, ঝাই রিচার্ডসন ও কেইন রিচার্ডসনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ছাড়া। অস্ট্রেলিয়ার এই দলে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড, জশ হ্যাজলউড, ময়জেস হেনরিকস, ড্যান ক্রিশ্চিয়ান, অ্যান্ড্রু টাইয়ের বয়স শুধু ত্রিশের ওপরে। ম্যাথু ওয়েড গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, 'এই সফরে সম্ভবত কম বয়সী ব্যাটিং লাইনআপ পাচ্ছি। আমাদের সব ব্যাটসম্যানের সেভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা নেই।'তবে 'কচিকাঁচার মেলা' বাংলাদেশ দলেই বেশি। স্কোয়াডে থাকা ১৭ জনের মধ্যে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ আর সাকিব আল হাসানই শুধু ত্রিশোর্ধ্ব। বাকিরা ২০-২৯ বছর বয়সী। এই তরুণ খেলোয়াড়েরাই জিম্বাবুয়ে সফরের তিনটি সিরিজ জিততে অসামান্য অবদান রেখেছেন।জিম্বাবুয়ের সফরে তামিম-মুশফিক-লিটনকে ছাড়া টি-টোয়েন্টি সিরিজটা বলতে গেলে বাংলাদেশ জিতেছে তরুণদের কাঁধে চড়েই। সেই সিরিজে ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন সৌম্য সরকার। তিনটি টি-টোয়েন্টিতে এই বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ৪২ গড়ে করেছেন ১২৬ রান। নিজের অভিষেক সিরিজেই শামীম বুঝিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে কেন এত আলোচনা। ভালো ব্যাটিং করেছেন মোহাম্মদ নাঈম ও আফিফ হোসেনও। ওই সিরিজের সেরা বোলার ছিলেন শরিফুল ইসলাম। তিন টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ৬ উইকেট। সৌম্য-শামীম-শরিফুলরা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজটাও হতে পারে তাঁদের।অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহরও অগাধ আস্থা দলের তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, 'সোহান-আফিফ-শামীমদের ম্যাচ শেষ করে আসার সামর্থ্য আছে। ওরা ভালো ছন্দে আছে। ওদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছি। আশা করি এই সিরিজেও তারা প্রতিভা ও স্কিল দেখাতে পারবে।'অধিনায়কের অনুপ্রেরণা তো পাচ্ছেনই, সৌম্য-শরিফুলরা অনুপ্রেরণা খুঁজে নিতে পারেন ভারতের তরুণদের কাছ থেকেও। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে রিজার্ভ বেঞ্চের ক্রিকেটারদের নিয়েই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ভারত। ভারতের ২-১ ব্যবধানে সেই জয় এসেছিল তরুণ ক্রিকেটারদের হাত ধরে।অস্ট্রেলিয়াও অবশ্য আস্থা রাখতে পারে তরুণদের ওপর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজটা বাজেভাবে হারলেও আলো ছড়িয়েছেন মিচেল মার্শ। সিরিজসেরা এই ব্যাটসম্যান পাঁচ টি-টোয়েন্টিতে করেছিলেন ২১৯ রান। বোলিংয়েও দলের সেরা বোলার ছিলেন তিনি, নিয়েছেন ৮ উইকেট। তরুণ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাও আলো ছড়িয়েছেন বোলিংয়ে।সিরিজে দুই দলের তরুণদের লড়াইটা তাহলে সমানে সমান হচ্ছে!
12
লালন কন্যা হিসেবে পরিচিত সালমা আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন। বিয়ের বিষয়ে সালমা জানান, চলতি বছর তিনি বিয়ে করবেন। তার পরিবার থেকে পাত্র খুঁজছে। ২০১৬ সালে ২০ নভেম্বর দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সঙ্গে সালমার ডিভোর্স হয়ে যায় এরপর থেকে সালমা ছিলেন সিঙ্গেল। ক্লোজআপ ওয়ানখ্যাত দিয়ে উঠে আসা এই কণ্ঠশিল্পীর জন্মদিন ছিল গতকাল। এদিনে তিনি জানিয়েছেন, আবারও বিয়ে করতে যাচ্ছেন। সালমা এখন গানের পাশাপাশি আইন বিষয়ে লেখাপড়া করছেন। তিনি ব্যারিস্টার হতে চান। সেজন্য এ বছরেই লন্ডনে উচ্চশিক্ষা নিতে যাবেন বলে জানান। তিনি বলেন, 'পড়াশোনা করতে চলতি বছর দেশের বাইরে যাব। এর আগেই, বিয়ের কাজটা সেরে ফেলতে চাই। বাসার লোকজনও সে অনুযায়ী আগাচ্ছে। খুব শিগগিরই বিয়ের খবর জানানো হবে। কুষ্টিয়ার মেয়ে মৌসুমি আক্তার সালমা সংগীত রিয়্যালিটি শো 'ক্লোজআপ - তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ'-এর দ্বিতীয় সিরিজের বিজয়ী ছিলেন। এরপর কয়েকটি লোকগীতি দিয়ে সালমা সারাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পান। ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে শিবলী সাদিককে বিয়ে করেন সালমা। শিবলী সংগীত পরিবারের ছেলে হলেও পিতার উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১২ সালে ১ জানুয়ারি তাদের সংসারে কন্যা সন্তান স্নেহার জন্ম। সাংসারিক দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সালমার মেয়ে স্নেহা তার বাবা শিবলীর কাছে থাকে বলে জানা যায়। সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
2
শাহীন রেজা নূর আজ প্রয়াত একটি মানুষের নাম। এক বছর হলো সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। কী বলে আমার সাথে তার সম্পর্ক চিহ্নিত করব, আমি নিজেই ভাষা খুঁজে পাই না। সন্তানপ্রতিম বললেও যেন কথাটা বলা হয় না। কিছু যেন অব্যক্ত, কিছু যেন অপূর্ণ থেকে যায়। সে আমার ঔরসজাত সন্তান না হলেও সন্তানই ছিল। তাই সন্তানপ্রতিম বলতেও আমার দ্বিধা হয়, হৃদয়টা খচ্খচ্ করে।জন্মের পর থেকেই না হলেও শাহীন যখন ছোট ছোট পা ফেলে হাঁটত, তখন থেকেই তাকে কোলে-পিঠে নিতে আমি একটা অনাবিল আনন্দ পেতাম। তার পিতা শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন বড় ভাইয়ের মতো নয়, আমার বড় ভাই-ই ছিলেন। ঢাকায় আমার অভিভাবক বলতে তিনিই ছিলেন। অবশ্য বাকী ভাইয়ের (সৈয়দ মাযহারুল হক বাকী) নাম উল্লেখ না করলে সত্যকে অস্বীকার করা হবে, অন্যায় হবে। সে যাই হোক, সিরাজ ভাইয়ের বাড়ি বৃহত্তর যশোরের মাগুরার শালিখায়। আমাদের ঝিনাইদহের বাড়ি হতে খুব বড়জোর বিশ মাইল। এই বিশ মাইলের দূরত্ব নিঃশেষিত হয়েছিল সিরাজ ভাইয়ের হৃদয় হতে। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের পরপর যখন আমি ঢাকায় আসি, তখনই সিরাজ ভাই হৃদয়ের সমস্ত ঔদার্য দিয়ে আমাকে গ্রহণ করে নেন অনুজের স্নেহলালিত্যে। তারপর থেকে কোনো দিন কোনো অবস্থাতেই সিরাজ ভাইয়ের স্নেহবঞ্চিত হইনি। এটা শাহীন রেজা নূরের চোখে দেখা ঘটনা।সিরাজ ভাই আমাকে তার মায়ের পেটের ভাইয়ের মতোই স্নেহ করতেন। সিরাজ ভাইয়ের আট ছেলে। শাহীন রেজা নূর ছিল তাদের মধ্যে দ্বিতীয়। ওরা সবসময় আমাকে কাকা ডাকত। আলম কাকা বা সিদ্দিকী কাকা বলে কখনো ডাকেনি। রক্তের বাঁধন না থাকলেও সম্পর্ক কত গভীর ও অমলিন হতে পারে, আজকের দিনে অনেকের পক্ষে তা ভাবাও কঠিন। রাত নাই-দিন নাই, সকাল নাই-দুপুর নাই, চামেলীবাগের বাসায় গেলে আমাকে ভাত খেতেই হতো। এ ব্যাপারে ভাবির আন্তরিকতাও আমাকে মুগ্ধ করে।সিরাজুদ্দীন হোসেন শাহীন রেজা নূরের পিতা। সিরাজুদ্দীন হোসেনের ভালোবাসার অনবদ্য টান ও অকৃত্রিম আকর্ষণ আমার কাছে এতই তীব্র ছিল যে, সন্ধ্যার পর ইত্তেফাক অফিসে সিরাজ ভাইয়ের বিরাট টেবিলের বিপরীতে বসে টোস্ট বিস্কুট, আর চা খাওয়াটা নৈমিত্তিক ছিল। এ ছাড়া যেন পেটের ভাত হজম হতো না। ইত্তেফাকে ঢুকলেই সিরাজ ভাই যে কাউকে দেখতে পেতেন। কারণ, তার টেবিলটা ছিল সরাসরি দরজা বরাবর। দিনের বেলায় গেলে সিরাজ ভাই বলতেন, 'এই আলম, আমি দুপুরে বাসায় যাব, তুই চলে যাস না।' আমিও সন্তুষ্টচিত্ত ঋষিবালকের মতো শান্তভাবে বসে থাকতাম সিরাজ ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য। শাহীন স্বপ্রণোদিত হয়ে আমার জীবনী লেখার দায়িত্ব নিয়েছিল। টেলিফোনে তার সঙ্গে আমার শেষ আলাপেও সে আমাকে দৃঢ় চিত্তে বলেছিল, 'কাকা, আপনার জীবনীটা শেষ করাই আমার জীবনের প্রধান কাজ। এটা ছাড়া আমি মরেও শান্তি পাব না।' আল্লাহ তার আত্মার শান্তি প্রদান করুন। আমার আত্মজীবনীর কাজ কোন পর্যায়ে আছে, আমি জানিও না। জিজ্ঞেস করলেই সে বলত, 'কাকা, চিন্তা করবেন না। আপনার আত্মজীবনীর কাজ শেষ না করে আমি মরব না।'আত্মজীবনীটি বড় কথা নয়। আমার শাহীন ইহকাল থেকে বিদায় নিয়েছে ভাবতেই আমার বুকটা হাহাকার করে ওঠে। রাতে বিছানায় ছটফট করি, উঠে চেয়ারে বসি। কখনো কখনো নিজের অজান্তেই ভাবি, শাহীনকে একটা ফোন করি। ওদের ওখানে তো (ভ্যাঙ্কুভারে) দিন। তাই ওর দিনের বেলা, আমাদের এই গভীর রাতে বিরক্ত করা হবে না। অথচ আমি অবর্ণনীয় পরিতৃপ্তি লাভ করব। আমার কনিষ্ঠ পুত্র তানজিরের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গতা প্রচণ্ড গভীর ছিল। ওরা রোজই দু-একবার ফোনে কথা বলত। আমার কনিষ্ঠ পুত্র আমাকে কখনো বলেনি, শাহীন মৃত্যুর দিকে এতখানি এগিয়ে গেছে। তার রক্তশূন্য পাণ্ডুর মুখ দেখলে তার পরিচিত যেকোনো লোকই হয়তো চমকে উঠত। ভ্যাঙ্কুভার থেকে শাহীন রেজা নূর বা ঢাকা থেকে তানজির, কেউই আমাকে বুঝতে দেয়নি, শাহীন এত দ্রুত পরপারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। শেষ যেদিন তার সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়, সেদিনও আমি অনুধাবন করতে পারিনি তার জীবনঘাতী ব্যাধির গভীরতা। বরং কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে আমি বলেছি, 'আত্মজীবনী বইটা হয়তো প্রকাশ পাবে, তবে আমি জীবিত থাকাকালীন নয়, আমার মৃত্যুর পর।' শাহীন ও তানজির উভয়কেই বলতাম, আত্মজীবনীটা আমি আমার জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারব না, এটা আমার বদ্ধমূল ধারণা। এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করলে শাহীন বলত, 'না কাকা, বইয়ের কাজ নব্বই ভাগ শেষ। আর একটু সময় পেলেই আমি অমি'র (তানজির) ই-মেইলে পাণ্ডুলিপি পাঠিয়ে দেব।' বেদনাহত চিত্তে অশ্রুসিক্ত নয়নে শূন্য হৃদয় নিয়ে এখন আমার ভাবনায় পাণ্ডুলিপি আমার কাছে অন্তঃসারশূন্য, আমার শাহীনই যেখানে নেই।দীর্ঘসময় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ৭১-এর সভাপতি ছিল শাহীন রেজা নূর। তার পিতা শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেনের প্রতি আজও আমার একটা ক্ষোভ, তাঁর মতো একজন প্রথিতযশা, প্রগতিশীল, স্বাধীনচেতা ও স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষ কেন ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে নিজের বাড়িতে থাকতেন। আজকের দিনের মতো তখন মোবাইল ফোনের ব্যবস্থা থাকলে তাঁকে সরে থাকার জন্য পীড়াপীড়ি করতাম। জানি না, তিনি আমার অনুরোধ রাখতেন কি-না। আমার হৃদয়ের নিভৃত কন্দরে স্নেহের মণিমুক্তা-খচিত যে আসন, সেখানে শাহীন রেজা নূরের অবস্থান অমলিন। অনেক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত সময়ে শাহীন আমার কাছে ছুটে এসেছে। 'কাকা, কী হয়েছে'-বলে ডাকলেই বেশ কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছি, মনোবল পেয়েছি। এটা হয়তো কাউকেই বোঝানো যাবে না, তাহজীব-তানজিরই কেবল আমার সন্তান নয়। শাহীন রেজা নূরও আমার সন্তান। বলতে গেলে বয়সের মাপকাঠিতে সেই জ্যেষ্ঠ সন্তান। সিরাজ ভাইয়ের সুবাদে আমাকে ও কাকা ডাকত। আমি কিন্তু তাকে সন্তানপ্রতিমই মনে করতাম।মৃত্যু জীবনেরই আরেকটি নাম। কোনো জীবিত প্রাণীই মৃত্যুকে এড়াতে পারে না। তবুও কিছু কিছু মৃত্যুকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তু। এটা বহন করা খুবই কঠিন। শাহীন রেজা নূর শুধু আমার কাছে নয়, অসংখ্য অগণিত মানুষের কাছে অপরিসীম গুরুত্ব বহন করত। প্রজন্ম ৭১-এর সভাপতি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা, যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিটি বিচারের অকুতোভয় একজন সৈনিক। দেশবাসীর কাছে নানাবিধ গৌরবদীপ্ত পরিচয়ে উদ্ভাসিত তার নাম। সরাসরি রাজনৈতিক দল না করলেও সে একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিমনস্ক সংগঠক ছিল। সাংবাদিকতা তার পেশা হলেও সামাজিক কর্মকাণ্ডই ছিল তার নেশা। একাত্তরে সীমান্তের ওপারে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করেনি বটে, কিন্তু তার ক্ষুরধার বিশ্লেষণ স্বাধীনতার চেতনাকে মানুষের হৃদয়ে অমলিনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যে শুধু সাংবাদিক বা সংবাদ বিশ্লেষক ছিল না। তার সমগ্র সত্তাটাই ছিল স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের এক বাস্তবধর্মী বিশ্লেষণ। তার পিতা সিরাজুদ্দীন হোসেন বুদ্ধিজীবী হিসেবে আলবদর বাহিনীর হাতে প্রাণ দিয়েছেন। এই যন্ত্রণা শেষ নিশ্বাস ত্যাগের মুহূর্ত পর্যন্ত শাহীন রেজা নূর সবার অলক্ষ্যে আপন হৃদয়ে বহন করেছে। ঔরসজাত সন্তান না হলেও আমি নিঃসংশয় চিত্তে দাবি করব, সন্তানপ্রতিম নয়, সে আমার সন্তান। আমি শতভাগ নিশ্চিত, সে আমার চেতনা ও বিশ্বাসকে বক্ষে লালন করত।অসংখ্য বিবেকবান কলমধারী মানুষ তার বিবেক-আপ্লুত আদর্শ ও দেশপ্রেমকে হৃদয়ের নিভৃত কন্দরে সযত্নে লালন করেন। শাহীন রেজা নূরের অকাল মৃত্যু, যত বেদনাদায়কই হোক না কেন, তার চেতনার প্রদীপ্ত শিখা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রজ্বলিত মশালের মতো পথ দেখাবে-এটা তো বিশ্বাস করে বলাই যায়। নিষ্ঠুর সত্য হলো, শাহীন রেজা নূর আজ পরলোকে। বাংলাদেশের অনেক তরুণ তাজা দীপ্ত প্রাণ মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন। শাহীন রেজা নূরের পিতা সিরাজুদ্দীন হোসেনও শহীদ হয়েছেন। কলম দিয়ে তিনি যেভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিরতিহীন যুদ্ধ করেছেন, তাতে আল্লাহ তাঁকে নির্মল শহীদী সম্মান দেবেন-এ আশা আমরা করতেই পারি। শাহীন রেজা নূর আজকে না ফেরার দেশের স্থায়ী বাসিন্দা। এ যে কী কষ্টের, কতখানি যন্ত্রণায় অনুভূতিকে কীভাবে ক্ষতবিক্ষত করে, স্বাভাবিক জীবনের চিন্তা-চেতনা, সুখ-দুঃখকে কীভাবে বিপর্যস্ত করে বিশ্বের সমগ্র স্বাভাবিকতাকে ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে দেয়, শাহীন রেজা নূরের মৃত্যুর সংবাদ আমার ক্ষেত্রে তাই করেছিল। এই শোক আমি আজীবন বহন করে যাব।লেখক: স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি
8
নাটোরের লালপুর উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের সাত বছরের এক মেয়ে শিশুকে একা পেয়ে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হাঁসুয়ার আঘাতে হত্যা করে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। মৃত্যু নিশ্চিতের পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে বস্তায় করে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে ভরে রাখে কিশোরটি। এক দিন পর ওই শিশুর মরদেহ আবার সেপটিক ট্যাংক থেকে তুলে একটি ধানখেতে ফেলে রাখে ওই কিশোর।নিখোঁজের আগে ওই শিশু কিশোরটির বাড়িতে আসার বিষয়টি জানাজানি হলে কিশোরের বাবার কাছে ওই কিশোর হত্যার কথা স্বীকার করেন। তখন তার বাবা বস্তাবন্দী মরদেহটি দূরের আরেকটি ধানখেতে ফেলে আসেন।আজ রোববার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই ওই শিশু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেন জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। এর আগে গতকাল শনিবার রাতে কিশোর ও তার বাবা গ্রেপ্তার করে লালপুর থানার পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাঁসুয়াটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, গত ১৯ অক্টোবর নিহত শিশু ও হত্যাকারী কিশোরসহ বেশ কয়েকজন শিশু পিকনিকের জন্য প্রতিবেশীর বাড়িতে যায়। রান্না শেষে গোসলের জন্য সবাই বাড়ি গেলে ওই কিশোরও তার বাড়িতে চলে যায়। বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগী শিশুও সেখানে যায়। এ সময় শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে ওই কিশোর। শিশুটি কান্নাকাটি করলে কিশোর তার গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে ধারালো হাঁসুয়ার উল্টোদিক দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করে কিশোরটি। এতে শিশুটি মারা যায়।পুলিশ সুপার বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটিকে হত্যার পর তাৎক্ষণিক মরদেহ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে ফেলে দেয় কিশোর। পরদিন ২০ অক্টোবর রাতে টয়লেট থেকে মরদেহ তুলে শিশুটির বাড়ির ৫০০ মিটার দূরে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের আমবাগানের পাশের ধানখেতে ফেলে রাখে। পরদিন কিশোরটির বাবা তার কাছে জানতে চান, ওই শিশুর তাঁদের বাড়িতে আসার ঘটনা সত্য কি না। এ সময় বাবার কাছে হত্যা ও মরদেহ রেখে আসার স্থান বলে দেয় ওই কিশোর। পরে বাবা ছেলেকে বাঁচাতে মরদেহভর্তি বস্তাটি সরিয়ে আরেকটু দূরে আরেক ধানখেতে ফেলে আসেন।লিটন কুমার সাহা আরও বলেন, হত্যার দিন দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা তাকে বাড়িতে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে বাবা আত্মীয়স্বজনকে জানানোর পাশাপাশি আব্দুলপুর এলাকায় মাইকিং ও রেলস্টেশনে পোস্টারিং করেন। নিখোঁজের চতুর্থ দিনে বাবা জানতে পারেন তাঁর বাড়ির ৭০০ মিটার দূরে একটি জমিতে বস্তাবন্দী অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে আছে। পরে সেখানে গিয়ে মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ শনাক্ত করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক জোবায়ের, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ জালাল উদ্দীনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
6
মালয়েশিয়া থেকে ফিরে এসে মাছ চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন ডুমুরিয়ার হাসানপুর গ্রামের বাসিন্দা বেনজির হোসেন। ৭ বছর মালয়েশিয়া থাকার পর ২০২০ সালে করোনা মহামারি দেখা দিলে দেশে ফিরে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে সরকারি একটি জলাশয় ইজারা নিয়ে করছেন পাবদা ও কার্প জাতীয় মাছের চাষ। পাশাপাশি সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির।বেনজিরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৫ বছর আগে অন্য দুই ভাইয়ের পথ ধরে বেনজিরও চাকরির উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে জীবন ভালো কাটলেও মন টিকত না তাঁর। একপর্যায়ে করোনার সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালে বিদেশ থেকে গ্রামে চলে আসেন। কিছুদিন বেকার থাকার পর বেশ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দেশীয় পাবদা ও কার্প জাতীয় মাছের চাষ শুরু করেন। ইতিমধ্যে পাবদা মাছ চাষে সফলতার পর কার্প চাষেও ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন বেনজির (২৮)।বেনজির বলেন, ২০২১ সালে ৭ একরের একটি সরকারি জলাশয় ইজারা নিই। বছরে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা চুক্তিতে ৫ বছরের জন্য ইজারা নিই। শুরুতে ৩ লাখ ৮০ হাজার দেশীয় পাবদা এবং ৫ হাজার রুই, কাতলা, মৃগেল, কালো কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ শুরু করি। এতে সব মিলিয়ে ২৮ লাখ টাকা খরচ হলেও ২০২১ সালের অক্টোবর মাস থেকে পাবদা মাছ বিক্রি করে খরচের টাকা প্রায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া পুকুরে এখনো যে পরিমাণ পাবদা মাছ রয়েছে তা বিক্রি করে মোট অঙ্কের লাভ আসবে। পাশাপাশি পুকুরে যে পরিমাণ কার্প জাতীয় মাছ দিয়েছি তা থেকে অন্তত ২০ লাখ টাকা আয় হবে।বেনজির আরও বলেন, 'আলাউদ্দীন নামের এক স্বজন ব্যবসার অংশীদার হিসেবে আছেন। আলাউদ্দীনের আগে থেকেই পাবদা ও কার্প জাতীয় মাছ চাষের অভিজ্ঞতা ছিল। বর্তমানে আমাদের মৎস্য খামারে ৪ জন স্থায়ী কর্মী আছেন। অস্থায়ীভাবে প্রতিদিন আরও ২-৩ জন কাজ করেন।'সফলতার গল্প জানতে চাইলে বেনজির বলেন, 'আমি আগে জীবনে কখনো কোনো ধরনের মাছ চাষ করিনি। আর এখানকার বেশির ভাগ মানুষ চিংড়ি ও কার্প জাতীয় মাছের চাষ করেন। কিন্তু আমার ইচ্ছা ছিল ব্যতিক্রমী কিছু করার। ফলে ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তরে যোগাযোগ করার পর তাঁরা আমাকে পাবদা ও কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষের পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে আমি ৪ দিনের একটি প্রশিক্ষণ নিই।'ডুমুরিয়ার জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বলেন, 'করোনাকালীন দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য মৎস্য অধিদপ্তর বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেয়। বিদেশ ফেরত বেনজির মাছ চাষের আগ্রহের কথা জানালে তাঁকে পাবদা ও কার্প জাতীয় মাছ চাষের পরামর্শ দিই। ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তিসেবা সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় ফেজ) প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণসহ বেনজিরের প্রদর্শনী খামারে কিছু মাছের পোনাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মাছ চাষে তাঁরা ব্যাপকভাবে সফল হয়েছেন।'
6
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি চার বছর ধরে অকেজো। ফিল্ম না থাকায় ব্যবহার করা হচ্ছে না যন্ত্রটি। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগী ও স্বজনেরা। অন্যদিকে হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে করাতে না পেরে দ্বিগুণ টাকা ও সময় ব্যয় করতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। দ্রুত সময়ের মধ্যে যন্ত্রটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে এক্স-রে মেশিনটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে একাধিকবার চিঠি দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি।সরেজমিনে দেখা গেছে, অর্থোপেডিক বহির্বিভাগের সামনে রোগীদের ভিড়। গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। তাঁদের অধিকাংশের হাতে রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করে আনা ডিজিটাল এক্স-রে পেপার। এ ছাড়া হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগেও একই দৃশ্য লক্ষ করা গেছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা বলেন, হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে করার ব্যবস্থা নেই। তাই বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক থেকে বাড়তি টাকা দিয়ে এক্স-রে করে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তাঁরা।আতোয়ার রহমান নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, 'জেনারেল হাসপাতালে এ পর্যন্ত তিনবার রোগী নিয়ে এসেছি। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন অকেজো থাকায় প্রত্যেকবারই বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে হয়েছে। প্রতিটি এক্স-রে করাতে ৫০০ টাকা করে নিয়েছে। এ ছাড়া বাইরের ক্লিনিক থেকে এক্স-রে করাতে গেলে রোগীকে অনেক কষ্ট ও ভোগান্তি পোহাতে হয়।'অপর এক রোগীর স্বজন আব্দুস সালাম বলেন, 'গত চার দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বড় মামা কামরুলের পা ভেঙে গেছে। হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক এক্স-রে করাতে বললেন। কিন্তু হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন না থাকায় পাশের ক্লিনিক থেকে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে করাতে হয়েছে। ১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে তিনটি ডিজিটাল এক্স-রে করিয়েছি।'হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবহার না করায় মেশিনের ওপরে ধুলার আস্তর পড়ে আছে। কক্ষটির অবস্থাও নাজুক। মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।রেডিওলজি বিভাগের টেকনোলজিস্ট মো. কবির হোসেন জানান, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানির ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বসানো হয়। ছয় মাসের মতো এই মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়। এরপর প্রায় চার বছর অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যন্ত্রটির পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি থাকলেও কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী কোনো মেরামত করেনি। একাধিকবার চিঠি দিয়েও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। ফলে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক থেকে অধিক টাকা ব্যয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খন্দকার সাদেকুর রহমান বলেন, 'ডিজিটাল এক্স-রের ফিল্ম কেনার কোনো কোড আমাদের নেই। এর জন্য কোনো বরাদ্দও আমরা পাই না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ কোম্পানিকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিরও কোনো উত্তর পাইনি। তবে অ্যানালগ মেশিনের মাধ্যমে এক্স-রে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।'
6
অযোধ্যার বাবরি মসজিদ মামলায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানকে চেয়েছিলেন সদ্য সাবেক হওয়া ভারতের প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে। শুক্রবার বোবদের এই ইচ্ছার কথা জানালেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিকাশ সিংহ। গতকালই অবসর নিলেন বোবদে। তার আগে আয়োজিত হয়েছিল একটি ভারচুয়াল ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠানের। সেখানেই এই অজানা কথাটি সকলের সামনে তুলে ধরলেন বিকাশ। অযোধ্যা মামলার রায়দানকারী বিচারপতিদের বেঞ্চে ছিলেন বোবদে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় বিকাশ বলেন, 'অযোধ্যা মামলা নিয়ে একটি গোপন কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। এত দিন এটা আমার আমার বিচারপতি বোবদের মধ্যেই ছিল। শুনানির শুরুর দিকে উনি গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। ওই সময়ই তিনি আমাকে বলেছিলেন, শাহরুখ খান কি মধ্যস্থতার অংশ হতে রাজি হবেন? আমি শাহরুখের সঙ্গে এই নিয়ে কথাও বলেছিলাম। উনিও অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন মধ্যস্থতার বিষয়ে। তার বিশ্বাস ছিল, এভাবেই আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রাখা সম্ভব।' এবিষয়ে শাহরুখের একটি পরামর্শের কথাও তুলে ধরেন বিকাশ। তার কথায়, 'তার পরামর্শ ছিল হিন্দু মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করুন কোনো খ্যাতনামা মুসলিম। এবং একইভাবে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করুন কোনো বিখ্যাত হিন্দু ব্যক্তিত্ব। দুর্ভাগ্যবশত, মধ্যস্থতার ব্যাপারটা পরে আর এগয়নি।' আলোচনার মধ্যে দিয়ে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি বিবাদ মেটাতে ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ তিনজন মধ্যস্থতাকারীর একটি কমিটি গড়েছিল। তাতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এফ এম আই কলিফুল্লা, অধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব শ্রী শ্রী রবিশংকর ও প্রবীণ আইনজীবী শ্রীরাম পঞ্চু। শেষ পর্যন্ত এতে কাজ না হওয়ায় শুরু হয় শুনানি। ৪০ দিনের শুনানির শেষে ২০১৯ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলার রায় দেয়। পাঁচ বিচারপতিদের ওই বেঞ্চের অন্যতম সদস্য ছিলেন এসএ বোবদে। পরে তিনি ভারতের প্রধান বিচারপতি হন। শুক্রবার অবসর নিলেন তিনি। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন
3
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়াবাসীর হাতে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। সোমবার বেলা ১২টার দিকে দাসিয়ারছড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে স্মাটকার্ড তুলে দেন সিইসি। এসময় স্মাট জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়ে অনেকেই আনন্দে কেঁদে ফেলেন। স্মাটকার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, 'ছিটমহলের অধিবাসীরা অনেক কষ্ট করেছেন। এজন্য নাগরিকত্ব প্রমাণের এই অনন্য দলিল আপনাদের হাতে তুলে দিতে পেরে নিজেদেরকে ধন্য মনে করছি। এটি আপনারা সযত্নে রাখবেন। নিজেদের চেষ্টায় আপনারা সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।' তিনি আরও বলেন, 'এখন শুধু ভোটারদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হচ্ছে। এখন যাদের বয়স ১৮ নিচে ভবিষ্যতে যখন তারা ভোটার হবেন তখন তাদেরকেও পর্যায়ক্রমে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।' সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ও মোহাম্মদ আবু হাফিজ, মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিন, রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ও কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন। স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আশরাফুল আলম ও চম্পা খাতুন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি, যুগ্ম-সচিব (আইন) ড. মোঃ শাহজাহান ও কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার ডা. মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ প্রমূখ। এদিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দেলোওয়ার হোসেন জানান, গত বছরের ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে কুড়িগ্রাম জেলায় ভারতের ১২টি ছিটমহল অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। এসব ছিটমহলের ৮ হাজার ৯৬৬ জন অধিবাসীকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপর চলতি বছরের ১০ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য ফরম পূরণ, ১৭ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিক তথ্যাদি গ্রহণ এবং ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোর ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৯৪৪ জন। এদের হাতে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এদিন ছোট কামাতের পূর্ব দক্ষিণ অংশ, পশ্চিম উত্তর অংশ ও দক্ষিণ রাবাইতারীর ৯৮৫ জন ভোটারের হাতে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, মাঠ পর্যায়ে স্মার্ট পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা তৈরির জন্য সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলগুলো অন্তর্ভূক্ত হয়েছে এমন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছিল। এখন এই ইউনিয়ন পরিষদগুলো নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর এগুলোতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলের অধিবাসীরা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
6
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বহিষ্কৃত কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে দুই দিন রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মিল্লাত হোসেন রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা অর্থ পাচার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি রাজীবকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় বাদী হয়ে এ মামলা করেন। ২০১৫ সালে ডিএনসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে দৃশ্যমান কোনো ব্যবসাই ছিল না মোহাম্মদপুরের তারেকুজ্জামান রাজীবের। বর্তমানেও কাউন্সিলর হিসেবে সরকারি সম্মানীর বাইরে কোনো আয়ের উৎস নেই। তবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন স্বঘোষিত 'জনতার কাউন্সিলর' রাজীব। ২০১৫ সালে কাউন্সিলর নির্বাচনে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। দলীয় প্রার্থী ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমানকে হারিয়ে তিনি নির্বাচিত হন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
চীন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও যে অভিযোগ করেছেন তা নাকচ করে দিয়েছে বেইজিং। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আরোপ থেকে ওয়াশিংটনকে বিরত থাকতে হবে। পম্পেও সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং এ কাজে চীনা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। গেং শুয়াং বলেন, চীনের জনগণ নিজস্ব ধাঁচের সমাজবাদী ব্যবস্থা মেনে চলছে এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টি হচ্ছে এই ব্যবস্থার ধারক ও বাহক। কাজেই 'চীনা কমিউনিস্ট পার্টি আমেরিকায় হস্তক্ষেপ করছে' বলে অভিযোগ তুলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীনের জনগণ ও সরকারের মধ্যে ফাটল ধরানোর যে চেষ্টা করছেন তাও ব্যর্থ হবে বলে ওই মুখপাত্র উল্লেখ করেন। গেং শুয়াং আরও বলেন, "আমরা কিছু মানুষকে শীতল যুদ্ধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে চীনা রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সম্মান জানাতে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করার আহ্বান জানাচ্ছি।" সূত্র: পার্সটুডে বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
পাঁচ দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল রোববার কিশোরগঞ্জ আসছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সফরকালে তিনি নিজ উপজেলা হাওরের মিঠামইনসহ অষ্টগ্রাম, ইটনা ও কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রাষ্ট্রপতির সফরের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরসূচি অনুযায়ী, ২৭ মার্চ বিকেলে ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পৌঁছাবেন তিনি। বিকেল সাড়ে চারটায় মিঠামইনে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক সরকারি কলেজ মাঠে তৃতীয় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্কাউট ক্যাম্পের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি। ওই দিন সন্ধ্যা সাতটায় মিঠামইনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অডিটরিয়ামে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। এদিন মিঠামইনের কামালপুরের বাড়িতে রাতযাপন করবেন। ২৮ মার্চ বেলা ১১টায় মিঠামইনে ও সাড়ে ৩টায় ইটনা উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যা ৭টায় ইটনায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অডিটরিয়ামে মতবিনিময়ে অংশ নেবেন। এদিন মিঠামইনে নিজ বাড়িতে রাতযাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। ২৯ মার্চ বেলা ১১টায় মিঠামইনে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন ও ৩টায় মিঠামইন ক্যান্টনমেন্ট পরিদর্শন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিকেল ৫টায় যাবেন অষ্টগ্রামে। সেখানে উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যা ৭টায় মতবিনিময় করবেন তিনি। ৩০ মার্চ বেলা তিনটায় কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে যাবেন রাষ্ট্রপতি। এদিন বিকেল পাঁচটায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। এ উপলক্ষে সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভায় অংশ নেবেন। সফর শেষে ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
6
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরখাস্ত গাড়িচালক আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার চার নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক রবিউল আলম এ দিন ঠিক করেন। তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে মালেক আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। একই সঙ্গে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন তিনি। এ মামলায় আদালতে ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ১১ মার্চ মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন আদালত। এর আগে ১১ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান চৌধুরী আদালতে মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। রাজধানীর তুরাগ থানার কামারপাড়া থেকে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
6
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দুটো বিয়োগ দরকার। রাজাকার এবং রাজাকারের পৃষ্ঠপোষক খালেদা-বিএনপিকে বাদ দিতে হবে। আগামী নির্বাচনে খালেদা ও রাজাকারের চূড়ান্ত বিদায় হবে। শোকাবহ আগস্ট স্মরণে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোডে পিআইবি নিজেদের সেমিনার কক্ষে বঙ্গবন্ধু ও গণমাধ্যম শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেখানে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, অস্বাভাবিক সরকার প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত ধারাবাহিকভাবে আছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে এ অপরাজনীতি শুরু হয়েছে। জঙ্গি-রাজাকারের আসল মা খালেদাকে বাদ দিয়ে অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের সৃষ্টি, আবার তিনি নিজেও ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। বঙ্গবন্ধু গবেষক ইতালির নাগরিক আন্না কোক্কিয়ারেল্লা বলেন, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সম্পত্তি নন, তিনি শুধু এ দেশের সব মানুষেরও নন, তিনি বিশ্ব মানবতার। সভায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক স্বদেশ রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্য সচিব আবদুল মালেক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার, দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান প্রমুখ।
9
করোনা মহামারিতে অনেক মানুষ দরিদ্র হলেও বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণ। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের বরাত দিয়ে আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।অক্সফাম বলছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দ্বিগুণেরও বেশি পরিমাণ সম্পদ বেড়েছে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী ব্যক্তির। ৭০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদ বেড়ে দেড় ট্রিলিয়ন হয়েছে। প্রতিদিন তাঁদের সম্পদ বেড়েছে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধনীরা ধনী হলেও অর্থনৈতিক অসমতার জন্য বিভিন্ন ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। দরিদ্ররা স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। ক্ষুধা, লিঙ্গবৈষম্যগত সহিংসতা বেড়েছে। অক্সফাম বলছে, আর্থিক অসমতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা সংকট, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব পড়ছে। এতে প্রতিদিন মৃত্যু হচ্ছে ২১ হাজার জন মানুষের।যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস সাময়িকী যে সম্পদশালী মানুষের তালিকা করেছে, সেই অনুসারে এ প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ফোর্বসের হিসেবে শীর্ষ ধনীর তালিকায় রয়েছেন টেসলা ও স্পেসেক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক, আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান নির্বাহী স্টিভ বলমার, ওরাকলের সাবেক প্রধান নির্বাহী ল্যারি এলিসন, মার্কিন ব্যবসায়ী ওয়ারেন বাফেট, ফ্রান্সের ফ্যাশন জায়ান্ট এলভিএমএইচের প্রধান বার্নার্ড আর্নল্ট।
3
বিগত কয়েক মাস ধরেই খবরের শিরোনামে বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেনের লাভ লাইফ। বয়ফ্রেন্ড রোহমান শলের সঙ্গে নিত্যনতুন সোশ্যাল পোস্ট থেকেই স্পষ্ট প্রেমের সমুদ্রে ভাসছেন সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী। ১৫ বছরের ছোট প্রেমিকেই আপাতত মজেছেন তিনি। কখনও এক সঙ্গে শরীরচর্চা, তো আবার কখনও জন্মদিনে নিবিড় মুহূর্ত শেয়ার করছেন নিজস্ব সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে। তবে এবার যে ভিডিওটি আপলোড করেছেন সুস্মিতা তা বেশ মজার। সব শেষে চমক দিলেন সুস্মিতা। তিনি দু'জনকেই শেখালেন এই বাক্যটি বাংলায় বলতে। গুরু মা এক বারেই পারলেন, কিন্তু প্রেমিক রোহমান পারলেন না। উচ্চারণের সামান্য ভুলের জন্য বকা খেলেন প্রেমিকার কাছে। গোটা ব্যাপারটার ভিডিও নিজেই করছিলেন সুস্মিতা। তবে, এই ভিডিও শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করার জন্যই আপলোড করেননি সুস্মিতা। ভিডিওর শেষে তাঁর ফ্যান ফলোয়ার্সদের জন্য একটি বিশেষ আবেদনও রেখেছেন নায়িকা। নিজেদের মাতৃভাষায় এই বাক্যটিকে বলার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। আপলোডের পরেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কে বেশ ভাইরাল এই ভিডিওটি। সূত্র: সিয়াসাত ও বলিউড লাইফ। ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন: বিডি প্রতিদিন/কালাম
2
বগুড়ার শেরপুরে ইয়াবাসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের গাড়ীদহ দশমাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই নেতার নাম মো. আসাদুজ্জামান বেলাল (৩২)। তিনি জেলার শাজাহানপুর উপজেলার রহিমাবাদ উত্তরপাড়া গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে। এছাড়াও তিনি আড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম জানান, পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার হওয়া আসাদুজ্জামান বেলাল একজন বড় মাদক ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে নিজেও মাদকসেবন করেন। তিনি আশপাশের জেলা-উপজেলায় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ রকমারি মাদকদ্রব্য পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে উক্ত স্থানে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করছেন-গোপনে এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে হাতেনাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার শরীর তল্লাশী করে ৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটও উদ্ধার করা হয়।
6
জর্ডানের মধ্যস্থতায় পুনরায় শান্তি আলোচনা করেছে সিরিয়ার বিরোধীদল ও রুশ আলোচনাকারীরা। রবিবার সিরিয়ার বিদ্রোহী- অধ্যুষিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বসরা আল- শামে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিরিয়ার বিমান বাহিনীর হামলায় ২৩ শিশু ও ১৪ নারীসহ ৭৫ জন নিহত হলে এই শান্তি আলোচনায় বসে দুই পক্ষ। বিদ্রোহী দল 'ফ্রি সিরিয়ান আর্মির'(এফএসএ) একটি প্রতিনিধিদলের সাথে আলোচনা করেছেন রুশ কর্মকর্তারা। এফএসএ প্রতিনিধিদলের এক মুখপাত্র ইব্রাহিম আল-জাবাওয়ি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটা জানিয়েছেন। এর আগে শনিবার দুই পক্ষের মধ্যে একটি আলোচনার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, রুশ কর্মকর্তারা তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণের দাবি জানালে ওই আলোচনা নিয়ে আর অগ্রসর হয়নি বিদ্রোহীরা। শনিবারের ওই ব্যর্থ বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল, সেনাবাহিনী বা পুলিশ মোতায়েন করা ছাড়াই সিরিয়ার দেরা প্রদেশে বাশার আল-আসাদ সরকারের সার্বভৌমত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা। সম্প্রতি দেরার বিদ্রোহী- অধ্যুষিত এলাকাগুলো পুনর্দখল করতে সেখানে তীব্র আকারে হামলা চালানো শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। জাতিসঙ্ঘের মতে এসব হামলায় কমপক্ষে ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্ত্যুচুত হয়েছেন। বেঁকে বসেছে রাশিয়া, গভীর খাদের কিনারে বাশার আল আসাদ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে তার দেশ গত কয়েক দিনে ১,১৪০ জন রুশ সেনা এবং ২৭টি বিমান প্রত্যাহার করে নিয়েছে। রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তে বেকায়দায় পড়বেনবাশার আল আসাদ। রাশিয়া কী কোনো কারণে বেঁকে বসেছে, মিত্রতা-ঘনিষ্ঠতা কমাতে চাচ্ছে নাকি দীর্ঘদিনের মিত্র বাশার আল আসাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নিচ্ছে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্য পুতিন বলেন, আপনারাজানেন যে আমি সিরিয়ার হামেইমিম বিমান ঘাঁটি পরিদর্শনে যাওয়ার সময় থেকেই দেশটির ভূখণ্ড থেকে আমাদের সৈন্যদের ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। এখনো এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, গত কয়েক দিনে ১৩টি জঙ্গিবিমান, ১৪টি হেলিকপ্টার এবং ১,১৪০ জনসেনা ফিরিয়ে আনাহয়েছে। গত ডিসেম্বর আমার সিরিয়ার হামেইমিম বিমান ঘাঁটি সফরের সময় থেকে রুশ সেনাদের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় লতাকিয়া প্রদেশে অবস্থিত হামেইমিম বিমান ঘাঁটিকে তাদের স্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। এটি বাশার আল আসাদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কাছে অবস্থিত। পুতিন বলেন, সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার কাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়ার বিমান বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সিরিয়ার সেনাবাহিনী এরইমধ্যে দেশটির বেশিরভাগ ভূখণ্ড সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কাছে থেকে পুনরুদ্ধার করায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়া সরকারের অনুরোধে রাশিয়া সন্ত্রাসীদের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ বিমান হামলার প্রশংসা করে বলেছেন, মস্কোর সামরিক সহযোগিতার কারণে সিরিয়ার সেনারা উগ্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এগিয়ে যেতে সুবিধা পেয়েছে। এখন রাশিয়া সামরিক সহায়তা কমিয়ে আনলে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টগভীর খাদের কিনারে পড়বেন কি-না তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। আসলে রাশিয়া-সিরিয়া সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয় এবং সিরিয়ার জনগণের ভবিষ্যত কেমন হয় কিংবা বাশার আল আসাদের পরিণত্দই বা কী হয় তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন।
3
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারকে নির্বাচনের মাঠে স্বাগত জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেছেন, 'আমি তৈমূর আলম খন্দকার কাকাকে স্বাগত জানাই। আগামী ১৬ জানুয়ারী আপনার সাথে আমি নির্বাচন করবো। চাচা ভাতিজি নির্বাচন করবো। এটা হবে কাকা ভাতিজীর নির্বাচন। মানুষ যাকে চয়েজ করে তিনিই নির্বাচিত হবেন। তারপরেও আমি বলবো আপনি আলী আহমদ চুনকার শিষ্য ছিলেন। আমি সব সময় সত্যের পক্ষে আছি সত্য বলি আপনিও সত্য কথা বলবেন। মিথ্যা অভিযোগ দিবেন না। রাসেল পার্ক, বাবুরাইল খাল কোথাও টাকা বাড়ানো হয়নি। অন্যের কথা শুনে কথা বলবেন না।' বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস আয়োজিত ফুটবল খেলা শেষে রাতে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। আইভী বলেন, 'আমাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। কিন্তু আমি আপনাদের আইভী। আমি আপনাদের কন্যা, আপনাদের মেয়ে। আমার বাবাও আপনাদের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন। আমি আপনাদের চুনকার মেয়ে আইভী। আমি কোনো ভুল করলে ক্ষমা করবেন। আমাকে আরেকবার ভোট দিবেন। আমাকে আরেকবার সেবা করার সুযোগ দিবেন। আপনারা নৌকাকে ভোট দিবেন আপনাদের আইভীকে ভোট দিবেন।' বিডি প্রতিদিন/হিমেল
6
হাম-রুবেলা রোগের বিস্তার ঠেকাতে ৯ মাস থেকে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১৮ মার্চ থেকে দেয়া হবে হাম-রুবেলার টিকা। প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে এক ডোজ করে এই টিকা দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
4
অকালে ঝরে পড়ল আরও একটি জীবন। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জয়শ্রী চক্রবর্তী আত্মহত্যা করেছে তা বললে ভুল হবে বরং বলা উচিত, এই তরুণীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর নিজ বাড়ি থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই জয়শ্রীর জীবন প্রদীপ নিভে যায়। শ্যামনগর উপজেলার ওয়াবেঁকী ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের এই ছাত্রী কলেজে যাওয়া-আসার পথে বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার হতো। ২৫ অক্টোবর দুপুরে কলেজ থেকে ফেরার পথে বখাটেরা প্রথমে তাকে উত্ত্যক্ত করে এবং এক পর্যায়ে চেষ্টা চালায় শ্নীলতাহানির। জয়শ্রী তখন প্রতিবাদ করলে বখাটেরা তাকে মারধর করে তার চুল কেটে দেয়। জয়শ্রীর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে ওই দিন রাতেই অপমানে সে বেছে নেয় আত্মহননের পথ। জয়শ্রীর অসহায় বাবা মাখন চক্রবর্তী মেয়েকে উত্ত্যক্তের বিষয়ে মুখ খুলতে গেলে প্রভাবশালী বখাটেরা তাকে হুমকি দেয়। তাই মামলা করতেও বয়ে যায় বেশ কিছু সময়। যাদের কারণে জয়শ্রীর জীবন প্রদীপ নিভে গেল সেসব দুর্বৃত্ত কি পার পেয়ে যাবে? এই জিজ্ঞাসার উত্তর দেওয়ার দায় যাদের তারা তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন ও কাজের মধ্য দিয়ে উত্তর দেবেন- এ প্রত্যাশা আমাদের।জয়শ্রী সর্বশেষ আক্রান্ত হওয়ার পর তার পরিবার জয়শ্রীর কলেজ যাওয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বাধ্য হয়ে। তারা তার বিয়ে ঠিক করেন। কিন্তু জয়শ্রী তা মেনে নিতে পারেনি। জয়শ্রীর বার বার বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার হওয়ার খবরটি এলাকার অনেকেরই ছিল না অজানা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউই তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। সবার সম্মিলিত এই নীরবতার বলি হতে হয়েছে তরুণীটিকে। এতে প্রতীয়মান হয়, দুর্বৃত্তের খুঁটি অনেক গভীরে প্রোথিত। বখাটেদের কারণে এ পর্যন্ত কম জীবন প্রদীপ নিভে যায়নি। এ নিয়ে গণমাধ্যমে হৈচৈও এ পর্যন্ত কম হয়নি। কিন্তু বখাটেদের উন্মত্ততা বন্ধ হয়নি। বখাটেদের ব্যাপারে যাদের ক্ষমাহীন হওয়ার কথা তারা দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার চিত্র দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়েছেন। সমাজের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টিও সমভাবেই আলোচনার দাবি রাখে। অতীতে বহুবার বলা হয়েছে, শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা দিয়ে এ ধরনের ব্যাধির সফল চিকিৎসা সম্ভব নয়। তারপরও মূল প্রত্যাশাটা থাকে প্রশাসনের কাছেই। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা কি তাদের দায়িত্ব পালনে এ পর্যন্ত যথেষ্ট সক্ষমতার পরিচয় দিতে পেরেছেন? না, নিশ্চয়ই না। যদি তাই হতো তাহলে জয়শ্রীদের তালিকা ক্রম দীর্ঘ হয়ে চলতে পারত না।আমাদের অনেকের নিশ্চয়ই মনে আছে- সিমি, তিথি, রুমি, রিনা, তৃষা, পিংকির কথা। কিশোরী-তরুণী বয়সের মেয়েরা স্বভাবতই থাকে খুব স্পর্শকাতর। আর তাদের কারও কারওর অভিমান- লজ্জা-অপমানের দাগগুলো যেহেতু এমনিতেই স্পষ্টত মোটা সেক্ষেত্রে তাদের সহ্য ক্ষমতাও সঙ্গতই কম। আর কেনইবা এমনটি সহ্য করবে? নিকট অতীতে উত্ত্যক্ত করার মাত্রা এত বেড়ে গিয়েছিল যে, এর বহুমুখী বিরূপ প্রভাব পড়েছিল সমাজ জীবনে। সরকার ১৩ জুনকে ছাত্রীদের উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করে শিক্ষাঙ্গনে এর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছিল। নারীদের হয়রানি প্রতিরোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সমাজ এ ব্যাপারে অনেকটা নিস্পৃহ। আমাদের সমাজে নারী যতদিন এই লাঞ্ছনার শিকার হবে, কারও জীবন ধ্বংস করে পার পেয়ে যেতে থাকবে দুর্বৃত্তরা, ততদিন নারীর জন্য সামাজিক পরিসর নিরাপদ হবে না। যারা বখাটেদের অত্যাচারে শিকার তাদের সুরক্ষা ও সহায়তা দেওয়া, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং এমন সহিংসতার মূল কারণগুলোতে আঘাত করা প্রয়োজন। নির্যাতনের শিকার হওয়া নারী, কিশোরী, তরুণীরা যেন আত্মহত্যার পথ বেছে না নিয়ে প্রতিবাদ করার সহাস দেখাতে পারে তার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি। অস্বীকার করা যাবে না যে, মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে সমাজ। সময় সমাজকে এগিয়ে দেয়। সমাজের হাত ধরেই তো এগিয়ে যায় দেশ। কিন্তু বখাটেদের উত্ত্যক্ততার কারণে সমাজ দিনের পর দিন যাচ্ছে অধঃপতনের দিকে। একটি ব্যাধির সংক্রমণ কেমন করে সমাজের মূল্যবোধ থেকে শুরু করে সব ধরনের বন্ধন নষ্ট করে দেয়, ইভটিজিং তারই বড় প্রমাণ। সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি যে পরিবারের সন্তানরা এ ধরনের বখাটেপনায় যুক্ত হয় তাদের অবশ্যই দিতে হবে দায়িত্ববোধের পরিচয়। যদি তারা তা না পারে তাহলে সমাজের মধ্যে থেকে তাদের ধিক্কার জানিয়ে ত্যাজ্য করতে হবে।আমাদের অনেকেরই নিশ্চয় মনে আছে চাঁদপুরের সেই মর্মান্তিক ঘটনা। অতীতে বখাটেরা এক তরুণীর বাবাকে কাঠমিস্ত্রির বাটালি দিয়ে হত্যা করেছিল। মেয়েকে নিয়ে বাবা ঢাকা পালিয়ে এসেছিলেন এবং বিয়েও দিয়েছিলেন। এটাই ছিল বখাটেদের দৃষ্টিতে তার অপরাধ এবং পরিণতিতে ওই হতভাগ্য বাবার জীবনে পড়ে ওদের ছোবল। এভাবে কোনো সমাজ চলতে পারে না। যারা রাষ্ট্রযন্ত্রের নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে আছেন তারা এ ব্যাপারে দ্রুত সজাগ হবেন- নিশ্চয় আমরা এই আশা করি। এ পর্যন্ত বখাটেদের বিরুদ্ধে উচ্চারণসর্বস্ব অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি কম ব্যক্ত হয়নি। কিন্তু কাজের কাজ যে তেমন কিছুই হয়নি বিদ্যমান বাস্তবতা এর সাক্ষ্য বহন করছে। যদি কিছু হতো তাহলে জয়শ্রীদের তালিকা ক্রম দীর্ঘ হতে পারত না।আমাদের সমাজ ব্যবস্থা বদলে ফেলার সময় এসেছে। সামাজিক মূল্যবোধগুলো নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে সমাজকে এই রোগ থেকে মুক্ত করা যাবে না। দিনের পর দিন বেড়ে যাবে 'ইভটিজিং' নামের যৌন হয়রানি। আরও জয়শ্রীকে হয়তো এই হয়রানির বলি হতে হবে। জয়শ্রীর আত্মহত্যার কারণ এলাকার চিহ্নিত বখাটেরা। তাদের নাম পাওয়া গেছে। এই বখাটেদের এলাকার সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। বখাটেদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন দরকার এবং তাদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে সংঘবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন। অবশ্যই আমলে রাখা জরুরি যে, আইন তৈরি তো বটেই, এ ধরনের উত্ত্যক্ত করার মানসিকতা পরিবর্তনে অবশ্যই তীব্র সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া গত্যন্তর নেই।লেখক: সাংবাদিক_.
5
নবগঠিত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্ট সংকট আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মত দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। নেতারা বলেছেন, সরকার ঘনিষ্ঠ সাবেক আমলাদের নিয়ে গঠিত নতুন এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকেন্দ্রিক সংকট সমাধান করবেন না। বরং তা আরও ঘনীভূত করবে। সোমবার বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, আশঙ্কা অনুযায়ী সরকারের আস্থাভাজন ও অনুগত ব্যক্তিদের নতুন নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মতৈক্য ছাড়া ঘোষিত এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা রাখার কোনো অবকাশ নেই। নেতারা বলেন, নির্বাচন কমিশনের চেয়ে গুরম্নত্বপূর্ণ হচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকার। বিদ্যমান অবস্থায় লীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। সে কারণে দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য সরকারের পত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন জরুরি। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি'র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক।
9
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম প্রয়ান দিবস স্মরণ ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে 'শিল্পীর তুলিতে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক' শীর্ষক এক আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার ময়মনসিংহ জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ও তরুণ চারুশিল্পীদের সংগঠন ময়মনসিংহ বিভাগীয় চারুশিল্পী পর্ষদ এর সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী এই আর্ট ক্যাম্প। সারাদেশ থেকে ৩৭ জন তরুণ চিত্রশিল্পী এই আর্টক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বগুড়া আর্ট কলেজের সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থী। রোববার সকালে আর্ট ক্যাম্প উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ মনিরা সুলতানা মনি এবং ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান। আর্ট ক্যাম্পে অংশ নেওয়া শিল্পীরা মূলত ক্যানভাসে অ্যাক্রেলিক রঙে জাতির জনকের জীবন, কর্ম, প্রতিকৃতি বা তার জীবনের ঐতিহাসিক বিশেষ বিশেষ মুহূর্ত অবলম্বনে চিত্রাঙ্কন করেন। চিত্রকর্মে বঙ্গবন্ধুর জীবনকর্ম সম্বলিত আগামীর প্রামাণ্য দলিল এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর শিল্পিত অস্তিত্ব তুলে ধরতেই এই আর্ট ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান। আর্ট ক্যাম্পে আঁকা চিত্রকর্মগুলো নিয়ে পরবর্তীতে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
6
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেরএকদিন পার হয়ে গেলেও এখনও কার জয় হয়েছে, চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। আরও পাঁচটি অঙ্গরাজ্যের ফলাফল বাকি। 'ম্যাজিক ফিগার' ২৭০-এ পৌঁছে কে হচ্ছেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট, দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও জানতে না পেরে নির্ঘুম আর শ্বাসরুদ্ধকর রাত কাটিয়েছেন সমর্থকরাও। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন জর্জিয়া এবং পেনসিলভেনিয়ায় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লড়াই করছেন। ট্রাম্প রাজ্য দুটিতে এগিয়ে গেলেও বেশি ব্যবধানে পিছিয়ে নেই বাইডেন। জর্জিয়ায় ৪৯.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ট্রাম্প। আর বাইডেনের দখলে ৪৯.২ শতাংশ। আবার পেনসিলভেনিয়ায় ৫০.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প। বাইডেন পেয়েছেন ৪৮.১ শতাংশ। তবে অ্যারিজোনায় ট্রাম্পের নেতৃত্ব হ্রাস পেয়েছে। ৫০.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন জো বাইডেন। অর্থাৎ একজন আরেকজনের চেয়ে এগিয়ে-পিছিয়ে থাকলেও সেটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যেই। সে কারণেই তুমুল অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে একটি রাত কেটেছে সবার। নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, জয় ঘোষণা হয়নি এমন পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) আরও ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে। এতে প্রতিযোগিতাপূর্ণ রাজ্যগুলোর ফলাফল আরও স্পষ্ট হতে পারে। ভোটগণনা এখনও চলছে। কার জয়, কার পরাজয় নিশ্চিত হতে আরও অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। চুলচেরা বিশ্লেষণের কমতি নেই কোথাও। ইলেক্টোরাল ভোটের জটিল হিসাবও দেখছেন অনেকে। তাই সে উদ্বেগে সবার একটি শ্বাসরুদ্ধকর রাত কেটেছ বলে উল্লেখ করেছে নিউইয়র্ক টাইমসও। করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে এই নির্বাচন। তাই ১০ কোটির বেশি আগাম ভোট পড়েছে। এছাড়া এক শতকের বেশি সময়ের মধ্যে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়ছে বলে ধারণা। এরমধ্যে পোস্টাল ব্যালট গুনতে সময় বেশি লাগছে বলে জানা গেছে। বুধবার (০৪ নভেম্বর) বাইডেনের মিশিগান আর উইসকনসিন জয়ের পর হোয়াইট হাউস দৌড়ে অনেক এগিয়ে যান তিনি। এরপর মনোযোগ চলে যায় বাইডেন জয় নিশ্চিত করে ফেলছেন কি-না তার ওপর। এবার কয়েকটি মুখ্য অঙ্গরাজ্যের ওপর নির্ভর করছে জয়-পরাজয়। রাত পোহানোর পর সবার নজরও সেদিকেই। অবশ্য ট্রাম্প শিবির এরইমধ্যে আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়ে দিয়েছেন। গণনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি মামলাও করে ফেলেছেন। এবারের নির্বাচনের ভোটগণনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে 'মিরর-ইমেজ' ড্রামা তৈরি করেছে। জো বাইডেনের অ্যারিজোনা দখলে নেওয়া এক ধরনের বাজিমাত। যেখানে ট্রাম্প জর্জিয়া এবং পেনসিলভেনিয়ায় খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি বাইডেনের পিছুটান উত্তাপে। বাইডেন ধীরে ধীরে ট্রাম্পের নেতৃত্বগুলো দখলে নিয়ে নিয়েছেন। জর্জিয়া এবং পেনসিলভেনিয়ায় বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে আরও একটি দফায় ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া অ্যারিজোনা দিনের শেষের দিকে আরও ফলাফল প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নেভাদার ফলও এরইমধ্যে আসার কথা। যেখানে বাইডেন প্রায় আট হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্পের চেয়ে। এদিকে জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হয়ে উঠেছে ছয় ইলেক্টোরাল ভোটের নেভাদা। জো বাইডেনের মিশিগানে এগিয়ে যাওয়ার পরই এই অঙ্গরাজ্য হয়ে উঠেছে তার জন্য হোয়াইট হাউসের চাবি। অঙ্গরাজ্যটির ৭৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। রাজ্যের সরাসরি ও ডাকযোগে জমা পড়া সব ভোট গণনা হয়ে গেছে। কিন্তু নির্বাচনের দিন ডাকযোগে আসা ভোটের গণনা বাকি। 'ম্যাজিক ফিগার' ২৭০ থেকে মাত্র ছয় ভোট দূরে দাঁড়িয়ে আছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। ২৬৪টি ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে ট্রাম্পের চেয়ে বেশ এগিয়ে আছেন তিনি। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ২১৪টি ইলেক্টোরাল ভোটেই থেমে আছেন। আবার ট্রাম্প যদি হেরে যান, তাহলে ১৯৯২ সালে জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের পর এটিই হবে দেশটির প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের পুনর্নির্বাচনে হার।
3
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের দলে যোগ দিয়েছেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. বরকত আলী। নুরের নতুন রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের মাগুরা জেলা শাখায় যোগদানের বিষয়টি গতকাল মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন বরকত আলী। তিনি উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।এর আগে সোমবার রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের সদস্যসচিব নুরুল হক নুরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যুব অধিকার পরিষদে যোগদান করেন মো. বরকত আলী। তাঁর সঙ্গে অন্যান্যদের মধ্যে যোগ দেন জেলা যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট শিবলু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহেদ জোয়ার্দার, মুহাম্মাদ রাসেল।তাঁরা গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে আজীবন থাকার বিষয়ে অঙ্গীকার করেন। পরে মুখে মিষ্টি তুলে দিয়ে নতুনদের স্বাগত জানান দলটির সদস্যসচিব নুরুল হক নুর।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. বরকত আলী বলেন, 'আমি একজন অবহেলিত ভাইস চেয়ারম্যান। কিন্তু দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনীতি করি। উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। কিন্তু কেউ আমাকে দাম দেয় না। সবকিছুতে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।'তিনি আরও বলেন, 'আমি গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গেই আছি। তাদের চিন্তা ইতিবাচক। দল ছোট হলেও জনসমর্থনে বড়।'
6
কক্সবাজারের চকরিয়ায় কুখ্যাত ডাকাত, ভূমিদস্যু এবং গরু চোর সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত লেদু মিয়াকে আটক করেছে র্যাব। আটকের সময় তাঁর কাছ থেকে ৬টি লম্বা বন্দুক ও ১৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। গতকাল বুধবার উপজেলার চোঁয়ার ফাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।বুধবার রাত সোয়া ১০টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক মো. বিল্লাল উদ্দিন।আটক লেদু মিয়া চকরিয়ার উপজেলার সাহাবিল ইউনিয়নের কোরালখালী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তাঁর ছোট ভাই নবী হোসেন নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান।র্যাব বলছে, চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়ার চোঁয়ার ফাড়ি স্টেশনের কাছে আব্দুল মান্নানের খামার বাড়িতে একদল সন্ত্রাসী অবস্থান করছে বলে খবর পায় র্যাব। এ সংবাদের ভিত্তিতে ভোর পাঁচটায় র্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। সেখানে বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মো. লেদু মিয়াকে (৪৬) আটক করা হয়।র্যাবের সহকারী পরিচালক মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ওই ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁর কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। তখন উপস্থিত সবার সামনে খামার বাড়ির কক্ষে খাটের নিচে, প্লাস্টিকের বস্তাবন্দী অবস্থায় ৬টি একনলা বন্দুক ও ১৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।তিনি আরও বলেন, আটক লেদু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ অস্ত্র বেচাকেনা, ঘের দখল, গরু চুরি, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে মারামারি, চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁকে চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
6
প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো আজ উন্নত প্রতিশ্রুতিশীল কানাডিয়ান তৈরি কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন কেনার জন্য আরও একটি চুক্তি ঘোষণা করেছেন। কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যম সিবিসি নিউজ জানায়, প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডু বলেছেন, সরকার কুইবেক সিটি-বায়োটেক সংস্থা মেডিকাগো থেকে ৭৬ মিলিয়ন ডোজ সংগ্রহের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ফেডারেল সরকার মেডিকাগোকে ভ্যাকসিনটি তৈরি করতে এবং কুইবেকে একটি বৃহৎ প্লান্ট তৈরি করার সহায়তা করতে ১৭৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। ট্রুডো ভ্যানকুভার-ভিত্তিক যথার্থ ন্যানো সিস্টেমগুলিতে ১৮.২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগেরও ঘোষণা করেছেন, যা ভ্যাকসিন এবং থেরাপিউটিক ড্রাগগুলি উৎপদন করার প্রযুক্তি সরবরাহ করে। কানাডা ইতিমধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মোদারনা এবং ফাইজারের মতো অন্যান্য ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্টদের সাথে আরও কয়েক মিলিয়ন ভ্যাকসিন ডোজ চুক্তির সাইন করেছে। ফেডারেল সরকার কোভিড -১৯ ভ্যাকসিনের ৩৫৮ মিলিয়ন ডোজ সুরক্ষিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, আমি আশাবাদী, ২০২১ সালের প্রথম দিকে ভ্যাকসিনগুলি স্থাপন করা যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী কেয়ার হোমে বসবাসকারী সিনিয়রদের মতো ফ্রন্ট লাইনের স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীরা অগ্রাধিকার পাবে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
4
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তেহরানের সামনে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ত্র রপ্তানি করার বিরাট সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা ভীত হয়ে পড়েছে। ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে যতটা অস্ত্র কিনবে তার চেয়ে অনেক বেশি অস্ত্র রপ্তানি করার সম্ভাবনা রয়েছে। তেহরানে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে এসব কথা বলেছেন। তিনি জানান, ইরানের সামরিক খাতে যে সমস্ত অস্ত্র ও সরঞ্জাম প্রয়োজন তার শতকরা ৯০ ভাগ নিজস্ব প্রযুক্তিতে দেশীয়ভাবে তৈরি হয়। সংবাদ সম্মেলনে ইরানের এক কূটনীতিক জানান, ২০১৫ সালে যখন পরমাণু সমঝোতা সই হয় তার আগে ইরানের আলোচকরা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার বিষয়টি সমঝোতায় যুক্ত করার চেষ্টা করেন তবে তাতে বাধা দিয়েছিল আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলো। কিন্তু আলোচনার এক পর্যায়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি যুক্ত করা হয় এবং তারই আলোকে গত ১৮ অক্টোবর ইরানের ওপর থেকে ১৩ বছরের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। তবে এই নিষেধাজ্ঞা যাতে বহাল থাকে সে জন্য দীর্ঘদিন ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে আমেরিকা। সূত্র : পার্সটুডে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
3
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেছেন, করোনা মহামারি মোকাবিলায় দেশের ৬৮টি কারাগারে আটক বন্দীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়েছে। করোনার কারণে বন্দীদের দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধথাকায় তাদের পরিবারের সাথে সপ্তাহে ১ দিন ১০ মিনিট মোবাইলে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। মোবাইলে কথা বলার পাশাপাশি ভিডিও কলের ব্যবস্থা করার জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রবিবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সের প্যারেড গ্রাউন্ডে ১২তম ব্যাচ ডেপুটি জেলার এবং ৫৯তম ব্যাচ কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের শপথ এবং সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসাদুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় কারাগারকে সংশোধনাগারে রূপান্তর করতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। কারাগারের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং বৃদ্ধি করা হয়েছে বন্দীদের সুযোগ-সুবিধা। বর্তমান সরকারের আমলেই ২০০ বছরের ইতিহাসের সকালের নাস্তায় রুটি ও গুড়ের পরিবর্তে সপ্তাহে চার দিন সবজি-রুটি, দুই দিন খিচুড়ি, একদিন হালুয়া-রুটি দেওয়া হচ্ছে, যা যুগান্তকারী পরিবর্তন। বাংলা নববর্ষসহ বিশেষ দিবসগুলোতে উন্নত মানের খাবারের জন্য বন্দী প্রতি বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কারাগার এখন কেবল শাস্তি কার্যকর করার জায়গা নয়, বরং কারাবন্দীদের বিভিন্ন প্রকার কর্মমুখী প্রেষণামূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে দেওয়ার ন্যায় গুরুদায়িত্ব পালন করছে কারাগারগুলো। দেশের সকল কেন্দ্রীয় কারাগারসহ অধিকাংশ জেলা কারাগারে বন্দীদের যুগোপযোগী বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। বন্দী শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আয়ের অর্ধেক বন্দীকে দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল হক, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন, গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল কালাম, গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, কারা প্রশিকক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট (ভারপ্রাপ্ত) সুরাইয়া আক্তার, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. গিয়াস উদ্দিন, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল ও গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ আখন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানে পৌঁছালে কারা মহাপরিদর্শক তাকে স্বাগত জানান। একটি খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন শেষে তিনি রিক্রুট ডেপুটি জেলারদের র্যাংক ব্যাজ প্রদান এবং রিক্রুট প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। কারাগারের পক্ষ থেকে কারা মহাপরিদর্শক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্রেস্ট প্রদান করেন। প্রশিক্ষণে ১৩ জন ডেপুটি জেলার, ৩০৬ জন কারারক্ষী এবং ১৫ জন মহিলা কারারক্ষী অংশগ্রহণ করেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই
9
ভাষাবীর ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে জাতীয় মর্যাদা প্রদান করার আহ্বান জানিয়েছে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পরিষদ ইউএসএ। শনিবার ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষেনিউইয়র্কেআয়োজিত আলোচনা সভায় এই দাবি জানান আলোচকরা। জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শিতাংশু গুহ। সাধারন সম্পাদক তফাজ্জল লিটন। এর আগে গত নভেম্বরে এই সংগঠন একটি চমৎকার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত'র জন্মজয়ন্তী পালন করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। সংগঠনটি ঘোষণা করেছে, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত'র নাতনী সংসদ সদস্য এরোমা দত্ত এবং টেনেসির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ড. ওয়াহিদুজ্জামান মানিক এর উপস্থিতিতে সেপ্টেম্বরে 'শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মারক বক্তৃতা' অনুষ্ঠান হবে। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত'র মৃত্যুবার্ষিকীর এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য এরোমা দত্ত এবং প্রফেসর ড. ওয়াহিদুজ্জামান মানিক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড. আবদিন কাদের, সাপ্তাহিক বর্ণমালার প্রধান সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ওবায়দুল্লাহ মামুন, ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডা. টমাস দুলু রায়, গণজাগরণের গোপাল সান্যাল; স্বাগতিক সংগঠনের বিভাস মল্লিক, প্রতীপ দাশগুপ্ত, বাবুল রোজারিও, মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচার্য্য, দীনেশ মজুমদার, রবীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশ গুপ্ত, অশোক দাস ও আব্দুল হামিদ। ঢাকা থেকে টেলিফোনে সংসদ সদস্য এরোমা দত্ত প্রবাসে তার দাদু শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু দিবস পালনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের যথাযথ মর্যাদা পাওয়া উচিত।' টেনেসির অধ্যাপক ও ড. ওয়াহিদুজ্জামান মানিক বলেন, 'শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা আন্দোলনের অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বাংলা ভাষাকে দাপ্তরিক ও অন্যতম ভাষার হিসাবে প্রতিষ্টিত করার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।' ওবায়দুল্লাহ মামুন বলেন, 'ধীরেন্দনাথ দত্ত ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে প্রথম বাংলা ভাষার পক্ষে প্রস্তাব রেখেছিলেন, ঠিক চার বছর পর ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে ঢাকায় প্রথম শহীদ মিনার স্থাপিত হয়। তিনিই প্রথম রাজনৈতিক শহীদ।' বর্ণমালার প্রধান সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, 'ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে যে সাহসী প্রস্তাব রেখেছিলেন, একাত্তরে জীবন দিয়ে তার মূল্য পরিশোধ করেছেন।' সভায় অন্যান্য বক্তারা স্কুলের পাঠ্যসূচিতে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কীর্তি তুলে ধরার আহ্বান জানান।
4