text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী টিকটক, পাবজি, লাইকিসহ বিভিন্ন সাইট বন্ধের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার। তিনি বলেন, এর কিছু কারিগরি দিক রয়েছে। সেগুলো সম্পন্ন হলে সাইটগুলোও বন্ধ হবে। সংস্থাটির অনলাইন গণশুনানীতে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে রবিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে তিনি এ কথা জানান। গণশুনানীতে দেশে ইন্টারনেটের ধীরগতি, মোবাইল ফোনে অযাচিত ক্ষুদে বার্তা, মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অবশিষ্ট ডেটা কেটে নেয়া, কলড্রপসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ উঠে আসে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, গণশুনানীর মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের মতামত সরাসরি জানতে পারি যেন এখাতের সেবার মান আরো বাড়ানো যায়। ২০১৯ সালের গণশুনানিতে অংশ নেয়া গ্রাহকদের অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই সমাধান করা হয়েছে। মোবাইল ফোনে ডোন্ট ডিসটার্ব সেবা চালু করা হয়েছে। ৮৪টি বৈধ ও ১৪টি অবৈধ আইএসপির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর বাইরেও সেবার মান বাড়াতে ও গ্রাহকের ভোগান্তি কমাতে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। গণশুনানীতে অংশ নিয়ে মোবাইল ফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, অযাচিত ক্ষুদে বার্তা বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিটিআরসি ডু নট ডিস্টার্ব এসএমএস চালু করেছে। আমাদের প্রশ্ন, ডু নট ডিস্টার্ব এসএমএস দিয়ে কি ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস প্রোভাইডারদের মেসেজ বন্ধ করা যায়? তিনি গ্রাহকদের টাকায় কেনা ডাটা মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে কেন কেটে নেয়া হয়েছে তা জানতে চান। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্রি ফায়ার, পাপজি, লাইকি, ভিগোলাইভসহ ক্ষতিকর ইন্টারনেটের সাইটগুলো কবে বন্ধ হচ্ছে তা জানাতে চান মহিউদ্দিন আহমেদ। এর উত্তরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান, এটি প্রক্রিয়াধীন। তারা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন। কিছু কারিগরি কাজ সম্পন্ন হলে সাইটগুলো বন্ধ হবে। ইসরাইলের কাছ থেকে পেগাসাস স্পাইওয়্যার ও ইমচী ক্যাচার কেনা ও মুঠোফোনে আড়িপাতা বিষয়ে কমিশনের কাছে কী তথ্য আছে তা জানতে চায় এসোসিয়েশন মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন। এছাড়া গণশুনানীতে তারা ২০টি প্রশ্ন উত্থাপন করে। সেগুলোর উত্তর পরে লিখিতভাবে দেয়া হবে বলে বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়। শুনানীতে বিটিআরসির সিস্টেম এন্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ ও স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল আলম বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। | 6 |
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের মা ফৌজিয়া মালেক আর নেই। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর এ.এম.জেট হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে মরহুমার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মা করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থও হয়েছিলেন। কিন্তু পোস্ট কোভিড জটিলতাও যোগ হয়েছিল। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে 'গৃহবন্দি' উল্লেখ করে দেওয়া তথ্য বানোয়াট ও আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। সোমবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ড.মোমেন বলেন, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ উন্নয়ন দপ্তর প্রকাশিত মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে যাচাই-বাছাই না করেই তথ্য দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য বানোয়াট ও আপত্তিকর। বাংলাদেশ সেই আপত্তির কথা যুক্তরাজ্যকে জানিয়েছে। দুদিন আগে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ উন্নয়ন দপ্তর প্রকাশিত 'মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিবেদন ২০২০'-এর বাংলাদেশ অংশে বিএনপি চেয়ারপারসন 'হাউস অ্যারেস্ট' বা 'গৃহবন্দি' আছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) ফাইয়াজ মুরশিদ কাজীর দপ্তরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জাভেদ প্যাটেলকে তলব করা হয়। এ সময় তাকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অধ্যায়ে কিছু বিষয়ের অবতারণা করা বাংলাদেশকে হতাশ করেছে। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থানকে 'হাউস অ্যারেস্ট' বা গৃহবন্দি হিসেবে মন্তব্য করা হয়েছে। যা চরম বিভ্রান্তিকর। এ ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে হাইকমিশনারকে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারি দণ্ডবিধি-১৮৯৮ অনুসারে তার কারাদণ্ড স্থগিত করে ২০২০ সালের ২০ মার্চ খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি বিদেশ যাবেন না, দেশেই চিকিৎসা নেবেন, এ শর্তেই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য কারাদণ্ড স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর ও ২০২১ সালের মার্চে দুই দফায় তার কারাদণ্ড স্থগিত করে মুক্তির আদেশের সময়সীমা বাড়ানো হয়। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থানের বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে বাংলাদেশের সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করার জন্য ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে পরামর্শ দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্য সরকার যাতে বাংলাদেশ সরকার কিংবা সরকারি দল আওয়ামী লীগের বিষয়ে কটাক্ষমূলক ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে, সে বিষয়টিও এ সময় মনে করিয়ে দেওয়া হয় হাইকমিশনারকে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে করোনাভাইরাস টিকা আনার প্রক্রিয়া চলছে। জাপান থেকে টিকা পাওয়ার ব্যাপারেও বাংলাদেশ আশাবাদী। | 6 |
ব্রিটেন থেকে পালিয়ে সিরিয়া চলে যাওয়া ইসলামিক স্টেটের বধূ শামীমা বেগমের কিছু দিন আগে জন্মানো শিশু সন্তানটি মারা গেছে। শুক্রবার এ খবর নিশ্চিত করেছে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স বা এসডিএফ- এর একজন মুখপাত্র। এসডিএফ হলো মার্কিন সমর্থনপুষ্ট আইএসবিরোধী গ্রুপ যারা বর্তমানে বেগম যে শরণার্থী ক্যাম্পে রয়েছেন তার তদারকি করছেন। কুর্দি রেড ক্রিসেন্টের একজন প্যারামেডিক বিবিসিকে বলেছেন, তিন সপ্তাহের কম বয়সী শিশুটির ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার সে মারা যায়। এর আগে শামীমা বেগমের পরিবারের আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জি এক টুইট বার্তায় বলেন, তার কাছে জোরালো কিন্তু নিশ্চিত করা হয়নি এমন রিপোর্ট এসেছে যে শামীমা বেগমের প্রায় দু-সপ্তাহ বয়সী পুত্রসন্তানটির মৃত্যু হয়েছে। আকুঞ্জি তার টুইটে শামীমা বেগমের পুত্রসন্তানকে ব্রিটিশ নাগরিক বলে উল্লেখ করেন। পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকার এক স্কুলের ছাত্রী শামীমা বেগম ২০১৫ সালে তার আরো দুই বান্ধবীসহ তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় পালিয়ে যান। সেখানে তিনি ডাচ বংশোদ্ভূত এক উগ্রবাদী বিয়ে করেন এবং তাদের প্রথম দুটি সন্তানও এর আগেই মারা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে - যখন ইসলামিক স্টেটের স্বঘোষিত খেলাফত বিলুপ্তপ্রায় - তখন সিরিয়ার বাঘুজে এক শরণার্থী শিবিরে তাকে খুঁজে পান দ্য টাইমস পত্রিকার এক সাংবাদিক। শামীমা বেগম ব্রিটেনে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিল করে। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শামীমা বেগম বলেছিলেন তিনি সিরিয়ায় যাবার জন্য অনুতপ্ত নন, তবে তাদের সব কর্মকান্ডের সাথে একমতও নন। তার কথায়, তিনি আইএসের পোস্টার গার্ল হতে চাননি, তিনি শুধু যুক্তরাজ্যে একান্তে তার সন্তানকে বড় করতে চান।সূত্র : বিবিসি | 3 |
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। এ ছাড়া চলছে ক্যাম্পাসে টং নির্মাণের কাজ। 'গীতি-আলেখ্য' নামে আজ রোববার রাত ৮টায় এই সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।রোববার বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদিন এ তথ্য জানান।শাহরিয়ার আবেদিন বলেন, নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলায় মদদদাতা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ রাতে সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গতকাল শনিবার থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে উচ্ছেদকৃত টংগুলোর পুনর্নির্মাণ শুরু করেছে।বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে পাঁচটি জায়গায় টং দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।গত শনিবার থেকে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে টং দোকানগুলো নির্মাণ করা শুরু করে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি স্থানে টং নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে শিক্ষা ভবন 'ই', 'বি' ও 'ডি'-এর পাশে এবং চেতনা-৭১ ও ফুডকোর্টের পাশে টংগুলো স্থাপন করা হচ্ছে।২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি টং দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলে প্রায় ১৫টি টং দোকানের ৩টি টং দোকান এবং ফুডকোর্ট চালু করা হয় এবং বাকিগুলোকে উঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া নতুনভাবে আরও ফুডকোর্ট তৈরি করা হবে বলে প্রশাসন থেকে বলা হয়।এদিকে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, ক্যাফেটেরিয়া, ফুডকোর্ট ও টং দোকান বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। পরবর্তীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের খাবারের চাহিদা মিটাতে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে 'চাষাভুষার টং' নামে নতুন টং দোকান স্থাপন করে।এদিকে গত ১৬ জানুয়ারি জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর আজ রোববার থেকে অর্ধ জনবল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস খোলা থাকলেও নিজ কার্যালয়ে আসেননি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এমনকি আন্দোলনের পর থেকে এখনো বাসা থেকে বের হননি তিনি।বাসা থেকে উপাচার্যের অফিস করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, উপাচার্য বাসায়ই আছেন। এখনো অফিসে আসেননি। জরুরি কোনো ফাইল আসলে ওনার বাসায় পাঠানো হবে।উল্লেখ্য, গত বুধবার শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে সরে আসলেও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলে জানায়। এরই অংশ হিসেবে রোববার রাতে গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। | 6 |
বাংলাদেশের রাজনীতি অনেক বছর ধরেই ঘুরপাক খেয়েছে রাজপথে আর ময়দানে। বিক্ষোভ সমাবেশ ও জনসভায়। এ দেশে রাজনীতি মানেই মিছিল, অবরোধ, লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস আর গুলিবর্ষণ। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ বরাবরই সরকারের হুকুম তামিল করে। যারা পিটুনি বা গুলি খায়, তারা যখন সরকারে যায়, তারা আবার বিরোধীদের পেটায়, গুলি করে। ব্যাপারটা চলে আসছে মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো। রাজপথে গুলি খেয়ে আজ পর্যন্ত কতজন নিহত হয়েছেন, তাঁদের সংখ্যা কেউ বলতে পারবে না। দলের বড় নেতারা দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বড় রকমের হামলার শিকার হন না। বেশির ভাগই দেখা যায়, পথচারী, রিকশাওয়ালা, দোকানদার, ভবঘুরে কিশোরেরা হতাহত হয়। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিয়ে কিছুটা সময় মাতম করে। তারপর তা ঝিমিয়ে পড়ে। তবে কিছু কিছু ঘটনা মানুষের স্মৃতিতে থেকে যায় অনেক দিন। তেমন একটি ঘটনা হলো ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বরের। ওই দিন ঢাকার জিরো পয়েন্টের কাছে গুলিতে নিহত হয়েছিলেন নূর হোসেন। দেশে তখন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকার। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বিচারপতি আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে হটিয়ে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নেন সেনাপতি এরশাদ। বাংলাদেশে এর আগেও সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতায় পালাবদল হয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করল। ওই সময় বিএনপি সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছিল। বিএনপির একটি অংশ তলে-তলে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত করেছিল। আওয়ামী লীগের মতো বড় রাজনৈতিক দল এটিকে প্রকারান্তরে স্বাগত জানিয়েছিল। আওয়ামী লীগ হয়তো ভেবেছিল-শত্রুর শত্রু তো বন্ধু। এ দেশে যখনই কোনো সামরিক অভ্যুত্থান হয়, তখনই দেখা যায়, একটি দল ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়েছে, তাদের প্রতিপক্ষ এই পরিবর্তনে খুশি হয়েছে। এটি ১৯৭৫ সালে ঘটেছে, ২০০৭ সালেও এর পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে। অনেক টালবাহানা করে এরশাদ একটি সংসদ নির্বাচন দিয়েছিলেন ১৯৮৬ সালের ৭ মে। বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করে। আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা নির্বাচনে অংশ নিয়ে এরশাদকে একধরনের রাজনৈতিক বৈধতা দিয়ে দেয়। সীমাহীন কারচুপির এই নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। আওয়ামী লীগকে বিরোধী দলের আসনে বসতে হয় এবং শেখ হাসিনা সংসদে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। এরশাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিএনপিবিরোধী এই সমীকরণ টেকসই হয়নি। অনেক ব্যাপারেই এরশাদ 'কথা রাখেননি'। তখন ছিল জোটের রাজনীতি। একদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫-দলীয় জোট আর বিএনপির নেতৃত্বে ৭-দলীয় জোট। পরে ১৫-দলীয় জোট ছেড়ে কয়েকটি দল গড়ে তোলে ৫-দলীয় বাম জোট। একপর্যায়ে তারা সবাই মাঠে নামে। জামায়াতে ইসলামী এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ছিল সব সময়। তারা কোনো জোটে না থেকেও একই ধরনের কর্মসূচি দিত। এ নিয়ে জোটগুলোর মধ্যে কোনো অস্বস্তি ছিল না। তবে এ সময় একটি ঘটনা ঘটেছিল, যার তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী। ১৯৮৭ সালের ২৮ অক্টোবর ১৫-দলীয় জোটের নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে ৭-দলীয় জোটের নেতা খালেদা জিয়ার একটি সাক্ষাৎ ও কথা হয় শেখ হাসিনার স্বামী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার মহাখালীর আণবিক শক্তি কমিশনের আবাসিক কলোনির ফ্ল্যাটে। তাঁরা একটি যৌথ ইশতেহারও তৈরি করেন। এর ফলে রাজপথের আন্দোলন বেগবান হয়। এরশাদবিরোধী সব দল মিলে ১০ নভেম্বর (১৯৮৭) ঢাকায় অবরোধ ডেকেছিল। সেদিন ঢাকা শহর ছিল উত্তাল। জিরো পয়েন্টের কাছে এক সমাবেশে পুলিশের গুলিতে নিহত হলেন তিনজন-নুরুল হুদা বাবুল, আমিনুল হুদা টিটো ও নূর হোসেন। নূর হোসেন সবার নজর কেড়েছিলেন। গায়ের শার্ট খুলে তিনি প্যান্টের ওপর পেঁচিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর বুকে আর পিঠে শিল্পীর নিপুণ তুলিতে আঁকা ছিল দুটি চমৎকার স্লোগান। বুকে ছিল, 'স্বৈরাচার নিপাত যাক' আর পিঠে ছিল 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক'। বোঝা যায়, তিনি তৈরি হয়েই এসেছিলেন। তিনজন নিহত হলেও এই স্লোগান দুটি নূর হোসেনকে অমরত্ব দিয়েছে। পরে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়। তিনি ছিলেন আওয়ামী যুবলীগের ঢাকা নগর শাখার একজন সংগঠক। থাকতেন বনগ্রামে। লেখাপড়া বেশি দূর হয়নি। ক্লাস এইটে উঠে দারিদ্র্যের কারণে স্কুল ছাড়েন। বাবা ছিলেন বেবিট্যাক্সির চালক। ২৬ বছরের নূর হোসেন 'গণতন্ত্রে'র জন্য প্রাণ দিলেন। নূর হোসেনের আত্মত্যাগ মানুষের মনকে নাড়া দিয়েছিল। বুকে-পিঠের স্লোগানসংবলিত তাঁর শরীর হয়ে উঠল আন্দোলনের প্রতীক। এরশাদ ঘাবড়ে গেলেন। মাস না পেরোতেই ৬ ডিসেম্বর তিনি জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। তিন মাস পর তিনি জাতীয় সংসদের আরেকটি নির্বাচনের আয়োজন করেন। ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বড় দলগুলো অংশ নেয়নি। ফলে এই সংসদ রাজনৈতিক বৈধতা পায়নি। এরশাদ এরপরও ক্ষমতায় টিকে ছিলেন পৌনে তিন বছর। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ঘটনাবহুল একটি দশক শেষ হয়। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নেয়। বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। নূর হোসেনকে কেউ ভোলেননি। কিন্তু কীভাবে দিনটি স্মরণ করা হবে, এ নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। বিএনপি দিনটিকে ঐতিহাসিক ১০ নভেম্বর দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। আওয়ামী লীগ ঘোষণা দেয় নূর হোসেন দিবস হিসেবে। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। এরশাদ এই পাঁচ বছর ছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। তাঁর দল জাতীয় পার্টি সরকার গঠনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়। এরশাদ সব কটি মামলায় জামিন পেয়ে যান। জেলে থেকেই তিনি পাঁচটি আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নূর হোসেনের মৃত্যুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। জাতীয় পার্টি ১০ নভেম্বরকে গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়। ২০১২ সালে এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, বিরোধী দলগুলো জনগণকে উসকে দেওয়ার জন্য লাশের রাজনীতি করে। ২০১২ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নূর হোসেনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের মানুষ ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরে পেয়েছে। এ সময় নূর হোসেনের মা মরিয়ম বিবির একটি কথা তৈরি করে অ্যান্টি-ক্লাইমেক্স। তিনি বলেন, 'আমার ছেলে যে জন্য প্রাণ দিল, তা অর্জিত হয়নি। তবে আমার কোনো দুঃখ নেই। আমি নূর হোসেনের জন্য গর্ব অনুভব করি।' জিরো পয়েন্ট এখন নূর হোসেন চত্বর। তাঁর স্মরণে ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়েছে। নূর হোসেনের রক্তে এ দেশে গণতন্ত্র কতটুকু এগোল, তা নিয়ে কথা-চালাচালি চলছে, চলবে। নূর হোসেন শহীদের মর্যাদা পেয়েছেন, তবে আরও অনেক শহীদের মতোই তাঁর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বা বিচার হয়নি। বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে আজ অবধি রাজপথের আন্দোলনে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তার দায় কেউ নেননি। কারও বিচার হয়নি। মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক [] | 8 |
নিজের দেশের করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন 'স্পুটনিক ভি' নিতে চলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ সরকারি টিভি চ্যানেলের এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। সোমবার থেকে গণহারে টিকাকরণ শুরু হবে রাশিয়ায়। ওদিনই টিকাটি নিতে পারেন পুতিনও। ডিসেম্বরের শুরুতে রাশিয়া স্বেচ্ছাসেবী ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু করে। মস্কোর সবচেয়ে আক্রান্ত এলাকায় স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন দেয়ার মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সবিয়ানিন তার ওয়েবসাইটে জানান, ৬০ বছরের বেশি বয়স্কের সোমবার থেকে ভ্যাকসিনের ডোজ দেয়া শুরু হবে। এর আগের দিন রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, একটি পৃথক ট্রায়ালের পর ভ্যাকসিনটি বয়স্কদের প্রদানের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয় রাশিয়া। রাশিয়ার গ্যামালেয়া গবেষণা ইন্সটিটিউটের বানানো স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিনের অনুমোদন নিয়ে তখন পশ্চিমের বিভিন্ন দেশসহ রাশিয়াতেও সমালোচনা তৈরি হয়। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 4 |
অন্যবারের মতো এবারও সেরা করদাতা হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৪১টি ট্যাক্স কার্ড বা কর কার্ড দিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে ব্যক্তি রয়েছেন ৭৪ জন, বাকি ৬৭টি প্রতিষ্ঠান। গতকাল বৃহস্পতিবার র্যাডিসন হোটেলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এসব ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের হাতে কর কার্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন ও জেলা পর্যায়ে তিনজন সর্বোচ্চ করদাতা, দুজন দীর্ঘ সময় ধরে কর প্রদানকারী এবং একজন করে নারী ও তরুণ করদাতাকে সম্মাননা হিসেবে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশে চার কোটি মানুষ মধ্যম আয়ে পৌঁছে গেছেন, কিন্তু তাঁরা কর দেন না। তাঁরা আশঙ্কা করেন, একবার কর দিলে সারা জীবনের জন্য করজালে ঢুকে যাবেন। মন্ত্রী আরও বলেন, কর হার কমাব। এ জন্য কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বিশ্লেষণ করে বলবে, কর কত কমালে কর আদায় কমবে না। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান আশা প্রকাশ বলেন, ভবিষ্যতে সেরা করদাতাদের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি তাঁর বক্তব্যে কয়েক বছর ধরে সেরা করদাতা হওয়া কাউছ মিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, কাউছ মিয়া বছরে ৪৩-৪৫ কোটি টাকা কর দেন। অন্য শ্রেণিতে যাঁরা সর্বোচ্চ কর দেন, তাঁরা কেউ কাউছ মিয়ার ধারেকাছে নেই। এ সময় তিনি কাউছ মিয়াকে মঞ্চে ডেকে অতিথিদের সঙ্গে আসন গ্রহণ করতে বলেন। পরে এনবিআরের অনুরোধে কাউছ মিয়া নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। কোন শ্রেণিতে কারা কর কার্ড পেলেন জ্যেষ্ঠ নাগরিক: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ও বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) গোলাম দস্তগীর গাজী, খন্দকার বদরুল হাসান, অনিতা চৌধুরী এর আলীহোসাইন আকবরআলী ও মোস্তাফিজুর রহমান। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা: ঢাকার কর অঞ্চল-৯ এর লে. জেনারেল (অব.) আবু সালেহ মো. নাসিম, কর অঞ্চল-৪ এর এস এম আবদুল ওয়াহাব ও কুমিল্লা কর অঞ্চলের আল মামুন সরকার। প্রতিবন্ধী: সুকর্ণ ঘোষ, ঢাকার আকরাম মাহমুদ ও সিলেটের মামুনুর রশিদ। নারী: রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন, লায়লা হোসেন, হোসনে আরা হোসেন, পাবনার রত্না পাত্র ও কর অঞ্চল ৬-এর মাহমুদা আলী শিকদার। তরুণ: এলটিইউর করদাতা নাফিস সিকদার, ঢাকার কর অঞ্চল-৪ এর গাজী গোলাম মর্তুজা, কর অঞ্চল-৩ এর মেহেদী হাসান, ময়মনসিংহের আবু রায়হান রুবেল ও ঢাকা কর অঞ্চল-১০ এর জুলফিকার হোসেন মাসুদ রানা। ব্যবসায়ী: ঢাকার কর অঞ্চল-২ এর মো. কাউছ মিয়া, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের সৈয়দ আবুল হোসেন, ঢাকার কর অঞ্চল-১৫ এর কামরুল আশরাফ খান, চট্টগ্রামের কর অঞ্চল-৪ এর মোহাম্মদ কামাল ও ঢাকা কর অঞ্চল-১২ এর আসলাম সেরনিয়াবাত। বেতনভোগী: এ শ্রেণির পাঁচজনের মধ্যে তিনজনই একই পরিবারের: মোহাম্মদ ইউসুফ, খাজা তাজমহল ও এম এ হায়দার হোসেন। অন্যরা হলেন ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির এবং ঢাকার কর অঞ্চল-৭ এর করদাতা ও বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। চিকিৎসক: পাঁচ করদাতাই কর অঞ্চল-১০ এর: এ কে এম ফজলুল হক, প্রাণ গোপাল দত্ত, এম এ এম মোমেনুজ্জামান, নার্গিস ফাতেমা ও শামসুল আরেফিন। সাংবাদিক: এই শ্রেণিতে আছেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ ও সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। আইনজীবী: এ শ্রেণির সবাই কর অঞ্চল ৮-এর। তালিকায় আছেন সাংসদ শেখ ফজলে নূর তাপস, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, নিহাদ কবির, আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন ও রফিক-উল হক। প্রকৌশলী: ঢাকার রেজাউল করিম, শাহ মোহাম্মদ হান্নান ও চট্টগ্রামের এস এম আবু সুফিয়ান। স্থপতি: ঢাকার ফয়েজ উল্লাহ, রফিক আজম ও গোলাম আজম সিজার। হিসাবরক্ষক (অ্যাকাউন্ট্যান্ট): ঢাকার মোক্তার হোসেন, মনজুরুল আলম ও মোহাম্মদ ফারুক। নতুন করদাতা: ঢাকার মতিউর রহমান, সিলেটের সৈয়দা জমিলা বেগম, মিরাজুল ইসলাম, ঢাকার হোসনে নুজহাত, নারগিছ আকতার, মিয়া মো. রেজুয়ান কবির ও সোনিয়া সারহা পিংকি। খেলোয়াড়: এ শ্রেণিতে আছেন তিন ক্রিকেটার। কর অঞ্চল-১ এর তামিম ইকবাল, কর অঞ্চল-৭ এর সাকিব আল হাসান ও কর অঞ্চল-১ এর মাশরাফি বিন মুর্তজা। অভিনেতা-অভিনেত্রী: আনিসুল ইসলাম হিরু, ফরিদা আক্তার ববিতা ও শাকিব খান। গায়ক-গায়িকা: তাহসান রহমান খান, এস ডি রুবেল ও মমতাজ বেগম। অন্যান্য: এলটিইউর শওকত আলী চৌধুরী, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও আকতার মতিন চৌধুরী। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কর কার্ড পেয়েছে যারা ব্যাংক: ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও এইচএসবিসি, ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও ইউসিবিএল। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান: ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), আইডিএলসি ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড। প্রকৌশল: বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, খুলনা শিপইয়ার্ড ও বিএসআরএম স্টিলস। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক: নেসলে বাংলাদেশ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। জ্বালানি: তিতাস গ্যাস, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। পাটশিল্প: আকিজ জুট মিলস, জনতা জুট মিলস ও সুপার জুট মিলস। স্পিনিং ও টেক্সটাইল: কোটস বাংলাদেশ, বাদশা টেক্সটাইলস, এ সি এস টেক্সটাইলস, নোমান টেরিটাওয়েল মিলস, এপেক্স টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল ও ফখরুদ্দীন টেক্সটাইল মিলস। ওষুধ ও রসায়ন: ইউনিলিভার, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস ও রেনাটা লিমিটেড। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া: মিডিয়াস্টার লিমিটেড, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড, ট্রান্সক্রাফট লিমিটেড ও মিডিয়া ওয়ার্ল্ড। আবাসন: র্যাংগস প্রপার্টিজ, ইক্যুইটি প্রোপার্টি ম্যানেজমেন্ট ও বে ডেভেলপমেন্টস। তৈরি পোশাক: ইয়াংওয়ান হাইটেক স্পোর্টসওয়্যার, রিফাত গার্মেন্টস, জিএমএস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ, হা-মীম ডেনিম, দ্যাটস ইট স্পোর্টসওয়্যার, প্যাসিফিক জিনস ও ফোর এইচ ফ্যাশন। চামড়াশিল্প: বাটা শু, এপেক্স ফুটওয়্যার ও এটলাস ফুটওয়্যার। টেলিযোগাযোগ: গ্রামীণফোন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কর কার্ড পেয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, আমেরিকান লাইফ ইনস্যুরেন্স, সাধারণ বীমা করপোরেশন, তমা কনস্ট্রাকশন, এস এন করপোরেশন, মেসার্স এ এস বি এস, মেসার্স ছালেহ আহম্মদ, ঢাকার ভাটারার ওয়ালটন প্লাজা, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, মোংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, বেসরকারি সংস্থা আশা, ব্যুরো বাংলাদেশ ও আর এস ট্রেডিং। | 0 |
ফেব্রুয়ারি থেকে টানা তিন মাস নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে মে মাসে পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। শহর ও গ্রাম-দুই জায়গাতেই চাল, ডাল, তেল, আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম পড়তির দিকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিবিএসের তথ্য বলছে, মে মাসে গড় মূল্যস্ফীতির হার কমে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে এপ্রিলে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার কমে হয়েছে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এপ্রিলে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে গড় খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এপ্রিলে ছিল ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ, মে মাসে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গড় মূল্যস্ফীতি কমে আসার ব্যাখ্যা দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চালের দাম কমে এসেছে। চালের পাশাপাশি মাছসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমেছে। চিনি, মাংস, ব্রয়লার মুরগি, শাকসবজি, ফল, মসলা, দুগ্ধজাতীয় দ্রব্যের দাম কমেছে। তবে মে মাসে প্রসাধনী, জুতা, পরিধেয় বস্ত্র, বাড়িভাড়া, আসবাব, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও গৃহস্থালির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। সে হিসাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে মূল্যস্ফীতি। | 0 |
পটুয়াখালী-৩ আসন তথা গলাচিপা ও দশমিনার সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এসএম শাহাজাদা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চিপার মধ্যে রয়েছেন বলে জাতীয় সংসদকে জানান। তিনি বলেন, 'আমি আড়াই বছর আগে মন্ত্রী মহোদয়কে পত্র দিয়েছিলাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য। আমি এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পাইনি। এখানে ৭ লাখ লোক স্বাস্থ্যসেবার চিপার ভেতরে আছে। জানতে চাই এখানে নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ হবে কি না? হলে সেটা কবে?'আজ রোববার একাদশ সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরে সরকারি দলের এই সংসদ সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে সম্পূরক প্রশ্নে এসব কথা বলেন।প্রশ্ন করার সময় তিনি বলেন, 'আমার নির্বাচনী এলাকায় দুটি উপজেলা। তার একটির নাম গলাচিপা। এই উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নামের সাথে সাথে কিছুটা চিপার মধ্যেই পড়ে গেছি। এই উপজেলার একটি অংশ ছিল, এখন সেটি রাঙাবালি নামের উপজেলা। সেটা এখন পটুয়াখালী-৪ আসনের ভেতরে। ওখানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই। আবার আমার গলাচিপাতে যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আছে। সেটা বেশ আগের। এটা জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় আছে।'সংসদ সদস্য আরও বলেন, 'এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে একাধিক ভবন রয়েছে, সেগুলো জীর্ণশীর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়েছে। এই উপজেলায় ৫ লাখ জনসংখ্যা। পার্শ্ববর্তী উপজেলায় (রাঙাবালি) আরও প্রায় আড়াই লাখ লোক রয়েছে। দুই উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা পরিচালিত হয় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে।'পরে এসএম শাহাজাদার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার জীর্ণশীর্ণ সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র নতুন করে নির্মাণ করে দিচ্ছে। এই উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্র সে ধরনের হলে সরকার তা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেবে।উল্লেখ্য, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। করোনাকালের পুরো সময়টি মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হতো। দীর্ঘদিন পর রোববার সরাসরি প্রশ্নোত্তরপর্ব হয়। যদিও গত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেন। | 6 |
নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার বসুরহাট পৌরসভার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে করণীয় ঠিক করতে দলীয় নেতাকর্মী ও তার সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ হরতালের ডাক দেন। এসময় তিনি বলেন, যারা অপরাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা কবিরহাট থেকে লোক পাঠিয়ে কোম্পানীগঞ্জে রক্তপাত করার ষড়যন্ত্র করছে। আমি একজন অসাম্প্রদায়িক ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনৈতিক কর্মী। সবার মুখ বন্ধ করে ফেললেও আমি বলব। কারণ আমি ওই নেতার আদর্শের রাজনীতি করি, যে নেতা ফাঁসির কাষ্ঠে গিয়েও সত্য কথা বলতে বা আদর্শ থেকে পিছপা হননি। এদিকে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে মিছিল করেছেন কাদের মির্জার সমর্থকরা। এর আগে আজ শুক্রবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারীদের সাথে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত দুই পক্ষের ৩৫জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুলিবিদ্ধরা হচ্ছে, উপজেলার বড়রাজাপুর গ্রামের আবদুল ওয়াহিদের ছেলে সাইদুর রহমান (২৬), চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলামের ছেলে নুরুল অমিত (২০), বসুরহাট পৌরসভার আবুল কালামের ছেলে রায়হান (২০)। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
নিউজিল্যান্ডের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে খেলোয়াড়দের চাপমুক্ত রাখলে সাফল্য আসতে পারে বলে জানালেন দেশের সফল এই অধিনায়ক। শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মাশরাফি বলেন, আমরা সবাই জানি নিউজিল্যান্ড খুব কঠিন জায়গা। আর দ্বিতীয়ত সাকিব আল হাসান নেই। সব মিলিয়ে খুব কঠিন হবে। তবে যাওয়ার আগে যেভাবে কথা বলেছে (তামিম ইকবাল) সেটা খুবই ইতিবাচক মনে হয়েছে। আমার বিশ্বাস যে ওরা ভালো করবে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 12 |
ইসরায়েলের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতা ত্যাগ করার পর দুর্নীতির অভিযোগে তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ইসরায়েলের ডেমোক্রেসি রিসার্চ সেন্টারের সংবিধান বিষয়ক আইনজীবী আমির ফুক্স একথা জানিয়েছেন। তিনি শনিবার তেল আবিবে বলেন, দুর্নীতি, তহবিল তসরুফ ও প্রতারণার অভিযোগে ২০২০ সালের মে মাস থেকে আদালতে নেতানিয়াহুর বিচার চলছে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার কারণে এতদিন আইনি দায়মুক্তি থাকায় তাকে আটক করা যাচ্ছিল না। কিন্তু ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর তার শাস্তি ভোগ অবধারিত হয়ে যাবে। ইসরায়েলের পাবলিক প্রসিকিউটর নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক মামলায় তিনটি চার্জশিট দিয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে একটানা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নেতানিয়াহু এ পর্যন্ত নিজের বিচারকাজকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। ইসরায়েলের সংসদ স্পিকার ইয়েরিভ লেভিন গত মঙ্গলবার এক টুইটে বলেছেন, নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নেতানিয়াহুর ১২ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। টুইটবার্তায় তিনি বলেন, অবশেষে এটা হচ্ছে। ইসরায়েলের নাগরিকদের কল্যাণে ঐক্যের সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন নতুন ঐক্যের সরকার রবিবার শপথ নেওয়ার কথা। আর এ সরকার গঠিত হলে নেতানিয়াহুর ১২ বছরের শাসনের অবসান হবে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
বগুড়ার সদর উপজেলায় ধারালো অস্ত্রসহ পাঁচজনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১২)। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা সদরের স্টেশন রোডের (তিনমাথা-সাতমাথা সড়ক) এলাকা থেকে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়। তারা একসঙ্গে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে দাবি করেছে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি ধারালো ছুরি ও একটি রশি উদ্ধার করা হয়। আজ সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়া র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. সোহরাব হোসেন।আটককৃতরা হলেন-সদরের কাটনারপাড়া এলাকার বাবু (৩২), উত্তর চেলোপাড়ার নছিব রহমান (২০), উপশহর কসাইপাড়ার আশিদুল (২৬), ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকার আরিফ (২২) ও বাদুরতলা এলাকার সজীব প্রামাণিক (৩৬)।র্যাব কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়। তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যে বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে একত্র হয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক পাঁচজনকে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
দখলকৃত জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪২ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার রমজান মাসের শেষ জুমার দিন (জুমাতুল বিদা)ইসরায়েল এই অভিযান চালায় বলে জানিয়েছে, কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। স্থানীয় রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, অধিকাংশ আহতই শরীরের উপরিভাগে আঘাত পেয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২২ জনকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তিন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই জন পাথর ছুড়েছে, আরেকজনের বিরুদ্ধে 'বোমা' ছোড়ার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। যদিও প্রতিবারের মতোই এবারও রমজান মাস ঘিরে আল আকসায় অভিযানের হার বাড়ায় পুলিশ। মুসলিমদের পবিত্র এই মাসের শুরু থেকে আল আকসা সংঘাত বড় আকার ধারণ করে। এই সময়েইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত কয়েকশ' ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা বিডি প্রতিদিন/নাজমুল | 3 |
কুষ্টিয়ার মিরপুরে করোনায় মারা যাওয়া স্বামীর লাশ নিয়ে পুরো রাত শ্মশানে কাটিয়েছেন কল্পনা রানী কর্মকার নামে এক বৃদ্ধা। লাশ সৎকারে শ্মশান কমিটি কিংবা আত্মীয়-স্বজন কেউ এগিয়ে আসেননি। রবিবার (৪ জুলাই) দুপুরে সুলতানপুর গ্রামের কয়েকজন মুসলিম যুবকের সহায়তায় শ্মশানের পাশে লাশ সমাহিত করা হয়। মিরপুর উপজেলার পৌর শ্মশানের ঘটনা এটি। স্থানীয়রা জানায়, শনিবার (৩ জুলাই) রাতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিতলা এলাকার প্রফুল্ল কর্মকারের (৭০) মৃত্যু হয়। রাতেই অ্যাম্বুলেন্সযোগে মিরপুর পৌর শ্মশানে তার লাশ নিয়ে যান স্ত্রী কল্পনা কর্মকার। মৃত ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হওয়ায় শ্মশানে আসেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। লাশ সৎকারে অনীহা প্রকাশ করেন স্বজনরাও। কল্পনা রানী কর্মকার জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্স লাশ নিয়ে যখন শ্মশানে পৌঁছায় তখন মধ্যরাত। শ্মশান কমিটির সদস্যদের বিষয়টি জানালে শ্মশানের গেটের চাবি দিলেও আসেননি কেউ। লাশ নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ফেরত যায়। এরই মধ্যে শুরু হয় বৃষ্টি। পরে লাশ শ্মশানের পাশে রেখে গোপালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় আশ্রয় নেন কল্পনা। সেখানে একাই রাত পার করে দেন। সকাল পর্যন্ত অপেক্ষার পরও লাশ সৎকারে আত্মীয়-স্বজন কিংবা শ্মশান কমিটির কেউ আসেননি। স্থানীয় কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রফুল্ল কর্মকারের দুই ছেলে, ছেলের বউ ও নাতি করোনায় আক্রান্ত। তাই শ্মশানে আসতে পারেননি তারা। পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়েরও কেউ লাশ সৎকারে এগিয়ে আসেননি। সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি জানালে স্থানীয় মুসলিম যুবকদের সহায়তায় শ্মশানের পাশে লাশ সমাহিত করা হয়। কাউন্সিলর আরও বলেন, প্রফুল্ল কর্মকার এক সপ্তাহ ধরে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শ্মশান কমিটির সভাপতি আনন্দ দেবনাথ বলেন, শনিবার রাত ২টার দিকে প্রফুল্ল কর্মকারের বড় ছেলে আনন্দ কুমার তার বাবার মৃৃত্যুর সংবাদ দেয়। পরে আমি শ্মশানের চাবি দিই। কিন্তু লাশ সৎকারের জন্য আমাদের সহযোগিতা চাননি পরিবারের সদস্যরা। তিনি আরও বলেন, হিন্দু ধর্মের কেউ মারা গেলে ওই গোত্রের লোকদের জানানোর নিয়ম রয়েছে। এখানে সেই নিয়ম মানা হয়নি। এমনকি লাশ সমাহিত করার সময় তার সন্তানরাও ছিল না। মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি জানার পর পৌর মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানিয়েছি। তারা স্থানীয় মুসলিম যুবকদের নিয়ে লাশ সমাহিত করেছেন। | 6 |
ইমরান খানকে সোজা বোল্ড আউট করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন শাহবাজ শরীফ। প্রধানমন্ত্রীর পদে বসেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার প্রধানমন্ত্রিত্ব পেয়েইশাহবাজ দেশের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে সাথে বিদেশের সাথে তার সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে সে বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাথে শাহবাজ আরও জানিয়েছেন কাশ্মীর, ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তানের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে তার সরকার সব সময় কথা বলবে। সূত্র: ডন বিডি প্রতিদিন/নাজমুল | 3 |
স্বাধীনতাবিরোধী সব অপশক্তিকে নির্মূল করে বাংলাদেশকে স্বপ্নের ঠিকানায় নিয়ে যাওয়াই স্বাধীনতা দিবসের শপথ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। শনিবার মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতার বাংলাদেশ রচনা এবং বঙ্গবন্ধু কন্যার দেশ পরিচালনার সার্থকতা সেখানেই যে পাকিস্তান আমাদের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তিনি বলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয়, এদেশে এখনো স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। আজকের দিনে আমাদের শপথ হচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী সব অপশক্তিকে নির্মূল করে বাংলাদেশকে স্বপ্নের ঠিকানায় নিয়ে যাওয়া। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 9 |
'সুপ্রভাত', বলে মুচকি হাসি দিলেন। হাঁটতে গিয়ে দেখা হলো পরিচিত একজনের সঙ্গে। বাচ্চা ঘুম থেকে উঠে যাওয়ার আগেই ভোরের হাঁটা শেষ করেন রেজিনা পারভীন। বাসায় ফিরে সকালের নাশতা সেরে বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে হেঁটেই বাসায় ফেরেন। এটা তাঁর প্রতিদিনের রুটিন। স্কুল ছুটির দিনও বাদ দেন না হাঁটা। নিয়ম করে ভোরে হাঁটতেই হয় তাঁকে। স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ সচেতন তিনি। বাড়তি মেদ ঝরাতে তা-ই বেছে নিয়েছেন হাঁটা। ব্যাংকের বসা চাকরি করে রায়হাত আজিমের মেদ জমে গেছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রেডমিলে দৌড়ানোর। ট্রেডমিল কিনতে গিয়ে জানতে পারলেন জুতা ছাড়া এই যন্ত্রে দৌড়ানো যাবে না। এ রকম হাঁটা, দৌড় কিংবা ব্যায়ামের জন্য জুতা তো লাগবেই। ফিট থাকতে হলে সচেতনতার শেষ নেই। হাঁটার সময় পায়ের ওপর দিয়ে বেশ ধকল যায়। পায়ের আরাম ও সুরক্ষার জন্য কিনতে হবে হাঁটার বিশেষ জুতা। অ্যাপেক্সের সহকারী ব্যবস্থাপক (ব্র্যান্ড) রিফাতুল করিম হাঁটা বা দৌড়ানোর জুতা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দিলেন। এ ধরনের জুতা কী দিয়ে তৈরি হয়, কখন কোন জুতা পায়ে দেবেন, কতটা আরামদায়ক হয় ইত্যাদি আদ্যোপান্ত ব্যাখ্যা করলেন তিনি। কী ধরনের জুতা স্পোর্টস বা স্নিকার জুতাগুলো সাধারণত হাঁটা, দৌড় ও ব্যায়ামের জন্য ব্যবহার করা হয়। এসব জুতা একেবারেই ক্যাজুয়াল। উপাদান হাঁটার জুতাগুলোর সোল খুব হালকা হয়। এতে হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় পা ভারী মনে হবে না। জুতার ভেতরে ব্যবহার করা হয় খুব নরম একধরনের ফোম। এটা পা'কে আরামদায়ক অবস্থায় রাখে। ম্যারাথন বা পেশাগত দৌড়বিদদের জন্য রয়েছে এর চেয়ে বেশি মজবুত জুতা। যেহেতু বাইরে দৌড়ানোর জন্য, তাই এগুলোর ব্যবহারিক কাজ আরও বেশি হয়। নতুন কিছু জুতা বাজারে আসছে, যেগুলো ঘাম শোষণ করতে পারে কিংবা ঘাম হতে দেয় না। অনেক জুতাতে ঘৃতকুমারীর (অ্যালোভেরা) নির্যাস ব্যবহারও করা হয় এ জন্য। যাঁরা পরেন সাধারণত ১৫-৫৫ বছর বয়সীরা হাঁটা বা ব্যায়ামের জন্য জুতা কিনে থাকেন। এসব জুতা খেলাধুলা করার জন্যও ব্যবহার করেন অনেকে। মেদ ঝরানোর বাইরেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত হাঁটেন অনেকে। তাঁদের জন্য জুতা কেনা বাঞ্ছনীয়। কোথায় কোন জুতা নারীদের ফিতা ছাড়া হাঁটার জুতাগুলো ইদানীং খুব জনপ্রিয়। তবে এই জুতা বাইরে হাঁটার জন্য ঠিক আছে। ট্রেডমিলে দৌড়ানোর জন্য কিনতে হবে যেসব জুতায় ফিতা আছে, সেগুলো। নইলে দৌড়াতে গিয়ে হঠাৎ জুতা খুলে যেতে পারে। তবে ব্যায়াম করার জন্য যেকোনোটাই কিনতে পারেন। ঋতুভেদে জুতা বাইরের দেশে ঋতুভেদে জুতার উপাদানে পার্থক্য থাকলেও আমাদের দেশে নেই। আবহাওয়া অনুযায়ী আমাদের দেশের জুতাগুলো যেকোনো ঋতুর জন্য উপযোগী। সাধারণত এসব জুতার পরিচয় আসলে 'গ্রীষ্মকালীন'। শীতে ভারী মোজা পরে নিলেই চলে। গরমে পাতলা মোজা দিয়ে পরা যাবে। মোজা ছাড়া জুতা পরা যাবে না, কথাটা ঠিক নয়। অনেকের পায়ে দুর্গন্ধ হয়। মোজা পরলে পায়ের দুর্গন্ধ মোজাতেই আটকে থাকবে। সেটা ধুয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু মোজা ছাড়া জুতা পরলে পায়ের দুর্গন্ধ জুতাতে গিয়ে আটকাবে। সেই দুর্গন্ধ দূর করা মুশকিল! কেনাকাটা ব্র্যান্ডের জুতা ছাড়াও জুতার বাজার ঘুরলে হাঁটা বা দৌড়ানোর জন্য জুতা পাবেন। কিনতে পারবেন অনলাইনেও। ব্র্যান্ড ও ননব্র্যান্ডের মধ্যে ৫০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকার মধ্যে সবকিছু মিলিয়ে মনের মতো জুতা পেয়ে যাবেন। | 4 |
ভালোবাসা দিবসের পর প্রকাশ পেলো ভালোবাসার গানের নতুন মিউজিক ভিডিও 'তুমি এতো ভালো কেন' শিরোনামের নতুন একটি গান। রবিবার দুপুরে সেভেন টিউনস ইউটিউব চ্যানেলে রোম্যান্টিক এ গানটি অবমুক্ত হয়েছে। যে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন পারভিন সুলতানা ও আকাশ সেন। শরীফ আল-দীনের লেখা গানটির সুর নাজির মাহমুদের ও সংগীত করেছেন মুশফিক লিটু। মিউজিক ভিডিওতে একজোড়া কাপলের চরিত্রের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেছেন তাসনুভা তিশা এবং সাব্বির অর্ণব। তাদের নিয়ে মিউজিক ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন সময়ের সুপরিচিত নির্মাতা ভিকি জাহেদ। দুবছর আগে কণ্ঠশিল্পী পারভিন সুলতানার 'তোমাকে ভালোবেসেছি' ও 'সিগ্ধ শিশির নিয়ে' নামে দুটি গানের অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে। এছাড়া 'কাল সারারাত' এবং 'কোন জোসনার চাঁদ' নামে আরও দুটি মিউজিক ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। 'তুমি এতো ভালো কেন' গানটির শিল্পীর তৃতীয় গান। বললেন, এটি রোমান্টিক গান। একেবারে মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো গান। যারা শুনেছেন প্রশংসা করছেন। | 2 |
বাংলাদেশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নতুন একটি নির্দেশনায় জানিয়েছে, করোনাভাইরাস টিকার পূর্ণ ডোজ নিয়ে দেশটিতে এলে এখন থেকে আর বাধ্যতামূলক কোয়ারিন্টাইনে থাকতে হবে না। তবে ১৩টি দেশের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা কার্যকর করা হবে না। খবর বিবিসি বাংলার যারা করোনা টিকা নেননি তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের পর ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারিন্টাইনে থাকতে হবে। বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীর স্বাক্ষরিত নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবেশের ১৪ দিন পূর্বে ডব্লিউএইচও অনুমোদনপ্রাপ্ত কোভিড ১৯ এর টিকা নিলে তাদেরকে কোয়ারিন্টাইনে থাকার প্রয়োজন নেই। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, যে ১৩টি দেশকে এখনও বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে সেই দেশগুলো হলো আর্মেনিয়া, বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, মালদোভা, মঙ্গোলিয়া, ফিলিস্তিন, রোমানিয়া, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া এবং ইউক্রেন। | 6 |
মেক্সিকোর টিলটেপেক নামের একটি গ্রামের সকলে দৃষ্টিহীন। তবে কেউ জন্মান্ধ নন। স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি নিয়ে জন্মালেও এক সপ্তাহের মধ্যেই অন্ধ হয়ে যান এই গ্রামের সকলেই! শুধু মানুষই নয়, এই নিয়ম থেকে বাদ পড়ে না গ্রামের গৃহপালিত পশুরাও। জন্মের কিছুদিনের মধ্যে রহস্যজনক ভাবেই দৃষ্টিশক্তি হারায় তারাও! গ্রামটিতে ৭০টি কুঁড়েঘরে বসবাস করেন জাপোটেক নামের এক উপজাতী গোষ্ঠীর ৩০০ মানুষ। এই গ্রামের সকলেরই রহস্যজনক ভাবে অন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে নড়ে চড়ে বসেছে মেক্সিকো প্রশাসন। টিলটেপেক গ্রামের সকলের এ ভাবে হঠাৎ অন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গবেষণাও শুরু করেছেন সে দেশের বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক অনুমান, ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই গ্রামে 'ব্ল্যাক ফ্লাই' নামের এক বিষাক্ত প্রজাতির মাছির আনাগোণা রয়েছে আর সেই মাছির কামড়ে শৈশবেই দৃষ্টিশক্তি হারায় এই গ্রামের সকলে। তাই প্রশাসনও এখন ওই এলাকাটিকে 'ব্ল্যাক ফ্লাই' মুক্ত করার পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে। প্রয়োজনে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে এই গ্রামের বাসিন্দাদের। | 3 |
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের কৃষকেরা আগাম পেঁয়াজ চাষ করে লাভের আশায় বুক বেঁধেছেন। চলতি বছর স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে পেঁয়াজের ব্যাপক চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় বিগত বছরের চেয়ে এবার বেশি জমিতে মসলাজাতীয় পণ্যটির চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কম খরচে অধিক ফলন, ভালো দাম পেলে বিঘাপ্রতি ২৫-৩০ হাজার টাকা লাভ পাবেন-এমনটাই আশা পেঁয়াজচাষিদের।কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় উপজেলার কৃষকেরা পেঁয়াজ চাষে বেশি লাভবান হবেন। এ বছর ১০ হেক্টরে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন পেঁয়াজের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কিষান-কিষানিরা আগাম পেঁয়াজের বাজার ধরার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন। এ জন্য জমিতে আগাছা পরিষ্কার, সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।বড়ভিটা মেলাবর গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, 'সরকারি রাজস্ব খাতের কৃষি প্রণোদনার সার, বীজ, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও অর্থসহায়তা পেয়ে আমি দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। এতে সেচ, কৃষিশ্রমিক বাদে পুরোটাই লাভ হবে। এক বিঘা জমিতে ফলন পাওয়া যাবে ১৬-২০ মণ। সঠিক বাজারমূল্য পেলে খরচ বাদে ২ বিঘা জমিতে ৫০ হাজার টাকার মতো লাভ হতে পারে।'একই গ্রামের কৃষক বিনয় চন্দ্র দুই বিঘা, পুঁটিমারী কাচারীপাড়ার আনছার আলী এক বিঘা, মাগুড়া মিয়াপাড়ার শাহজাহান আলী দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। তাঁরা বলেন, এ এলাকার বালুমিশ্রিত জমি অন্য ফসলের তুলনায় পেঁয়াজ চাষে খুবই উপযোগী। যথাসময়ে সেচ, পরিচর্যা করলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে। সঠিক সময়ের কৃষি প্রণোদনা, কম পরিশ্রম ও লাভ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পেঁয়াজ চাষ দিন দিন বাড়ছে।কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, 'ভারত থেকে আমদানি কমানোসহ দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে কৃষিবান্ধব সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭৫ জন কৃষককে বিনা মূল্যে নাসিক রেড-৩ জাতের উচ্চফলনশীল বীজ, সার, পরামর্শ, পদ্ধতিগত প্রদর্শনী প্লট স্থাপন এবং অর্থসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মৌসুমের আগে এ পেঁয়াজ তোলা হলে বাজারে চাহিদা মিটবে এবং কৃষকেরা লাভবান হবেন।' | 6 |
করোনা আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যানের চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়া গেছে। চূড়ান্ত রিপোর্টেও উদ্বেগজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন।শুক্রবার সকালে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ' বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেই (আনুমানিক দেড়টা) আমরা ম্যাডামের সিটি স্ক্যানের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেয়েছি। আগে যা বলছি, এ রিপোর্টে ও তাই দেখা গেছে। তার ফুসফুসে করোনার মিনিমাম ইনভলভমেন্ট আছে। তবে ভয়ের কিছু নাই।'চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর সে অনুযায়ী রাত থেকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শুরু হয়েছে বলেও জানান ডা. জাহিদ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সিটি স্ক্যান করাতে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয় খালেদা জিয়াকে। সিটি স্ক্যান শেষে রাতেই আবার তাকে গুলশানের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে খালেদা জিয়াকে দেখতে তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় যান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদলের প্রধান ডা. এফ এম সিদ্দিকী। ফিরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, 'কোভিডের প্রথম সপ্তাহের সঙ্গে দ্বিতীয় সপ্তাহের পার্থক্য আছে। দ্বিতীয় সপ্তাহটা আরও সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনও এক সময় সিটি স্ক্যান করানো হবে। 'গত রোববার বিকেলে খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দলের সদস্যরা জুমে বৈঠক করে তার সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেন। এসব বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও থাকেন। জোবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি সমন্বয় করছেন। | 9 |
ব্রাজিলের কারাবন্দী সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা (৭২) দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে তার রানিংমেট র্ফানান্দো হাদ্দাদকে তার স্থলাভিষিক্ত করে তাকে জয়ী করতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রাজিলের নির্বাচন ট্রাইবুনাল লুলা'র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতার ব্যপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করার দু সপ্তাহের মধ্যে তার স্থলে ওর্য়ার্কাস পার্টির নেতা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী র্ফানান্দো হাদ্দাদকে মঙ্গলবার দলটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।দুর্নীতির অভিযোগে গত এপ্রিল থেকে লুলা কারাগরে আটক রয়েছেন। তাকে ১২ বছর কারাগারে থাকতে হবে। দলটির নেতারা বলেন, 'দেশটির দক্ষিণের শহর কিউরিটিবাতে অনুষ্ঠিত ওর্য়ার্কাস পার্টির সভায় লুলার পরিবর্তে হাদ্দাদকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।' লুলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোতে তার প্রতিদ্বন্ধী ডানপন্থী নেতা জাইর বলসনারোর জন্য সুবিধা বয়ে আনতে পারে। | 3 |
আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল করতে যাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় চার মন্ত্রী। পাশাপাশি পদত্যাগ করেছেন সাত কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীও।পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন, শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক, শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাংওয়া, রাসায়নিক ও সার মন্ত্রী সদানন্দ গৌড়। এ ছাড়া নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী; তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় ধোত্রে; সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রতনলাল কাটারিয়া; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়; ভোক্তা অধিকার, খাদ্য ও বিতরণ প্রতিমন্ত্রী রাও শাহেব ধানবে পাতিল; পশু প্রজনন, দুগ্ধ ও মৎস্য এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গি পদত্যাগ করেছেন।গত এপ্রিল-মে মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ছিল ভারত। তখন দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেন এবং শয্যার চরম সংকট অভাব দেখা দেয়। এ ছাড়া ভারতের করোনা টিকা প্রয়োগ কর্মসূচিও ঝিমিয়ে পড়ে। আর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন।উল্লেখ্য, আজ বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ভারতের মোট ৪৩ জন মন্ত্রী শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। | 3 |
ইসরাইলের ওপর সাইবার হামলার কারণে অন্তত দুটি শহরে এক ঘণ্টা ধরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজেছে। ইসরাইলের গণমাধ্যম এই খবর দিয়েছে। ইসরাইলি গণমাধ্যম বলছে, পবিত্র আল-কুদস এবং এইলাত শহরে শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ইসরাইলের সামরিক কর্তৃপক্ষ লোকজনকে নিশ্চিত করেছে যে ভুলক্রমে এই সাইরেন বেজেছে। একে যান্ত্রিক ত্রুটি বলে উল্লেখ করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। তবে সোমবার ইসরাইলের সামরিক বাহিনী পরিচালিত রেডিও চ্যানেল জানিয়েছে, সাইবার হামলার কারণেই শনিবার সাইরেন বেজেছে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বলছে, মিউনিসিপাল সাইরেন সিস্টেম সাইবার হামলার শিকার হয় এবং হামলাকারীরা অ্যালার্ট সিস্টেমে ঢুকে পড়ে তা সক্রিয় করে দেয়। ইসরাইলের কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি তবে ইসরাইলের সাবেক একজন কর্মকর্তা আর্মি রেডিওর কাছে বলেছেন, এই হামলার জন্য ইরান দায়ী। গত কয়েক মাস ধরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা জোরদার হয়েছে। গত বুধবার 'মুসার লাঠি' নামে একটি হ্যাকার গ্রুপ ইলেক্ট্রিসিটি নেটওয়ার্কে সাইবার হামলা চালায়। তারা সেসময় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে যে ইসরাইলকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখা হবে। সূত্র : পার্সটুডে | 3 |
রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লেরেনটিনো পেরেজ দীর্ঘদিন ধরে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দলে ভেড়াতে চাইছে। বিশেষ করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়ার পর থেকেই পেরেজের নজর এমবাপ্পের দিকে। এমবাপ্পেকে পেতে পিএসজিকে এবার ১৬০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি। কিন্তু এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে পিএসজি। আগামী গ্রীষ্মে এমবাপ্পের চুক্তি শেষ হবে। ২২ বছর বয়সী এ তারকা চুক্তি নবায়ন করবেন না তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তবে পিএসজি আশায় আছে, লিওনেল মেসির চুক্তিতে এমবাপ্পের মন গলতেও পারে। মাঠে নেমে যদি দুই তারকার রয়াসন জমে যায় তাহলে নিশ্চিতভাবেই এমবাপ্পে সিদ্ধান্ত পাল্টাবেন। তবে এসব নিয়ে দুই ক্লাবের কেউই মুখ খুলছে না।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 12 |
ভারতের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রোববার রামলীলা ময়দানে তৃতীয়বারের মতো দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। নির্বাচনে ৭০ আসনের মধ্যে ৬২ আসন পেয়েছে আম আদমি পার্টি। বিজেপি পেয়েছে মাত্র আটটি। ২০১৫ সালের কাছাকাছিই ফলাফল করেছে আম আদমি পার্টি। শপথ গ্রহণের পর কেজরিওয়াল জানান, তিনি সবার মুখ্যমন্ত্রী। সবার জন্য কাজ করাই তার লক্ষ্য। খবর এনডিটিভির তিনি বলেন, কেউ আম আদমি পার্টিকে ভোট দিয়েছেন, কেউ বিজেপিকে। কেউ কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছেন, তো কেউ আবার অন্য কোনো দলকে। কিন্তু শপথ নেওয়ার পর থেকে আমি সবার মুখ্যমন্ত্রী। গত পাঁচ বছর শুধু কাজ করে গিয়েছি। কাজের ক্ষেত্রে কারও মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করিনি। যে কোনো রকম প্রয়োজনই হোক না কেন, নির্দ্বিধায় আমার কাছে চলে আসবেন। কে কোন পার্টির, কে কোন ধর্মের, কে কোন জাতের দেখব না আমি। দিল্লির জন্য আরও অনেক কাজ বাকি জানিয়ে তিনি বলেন, আমি একা কাজ করতে পারব না। সবাই মিলে করতে হবে। বিরোধীদের বলব, রাজনীতিতে যা হয়েছে সব ভুলে যান। সবার সঙ্গে মিলে দিল্লির উন্নতি করতে চাই আমি। দিল্লির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দিল্লির মানুষ দেশের রাজনীতির সংজ্ঞা পাল্টে দিয়েছেন। নেতা আসবে যাবে, দল আসবে যাবে, উন্নতির চাবিকাঠি মানুষের হাতেই। ২০১৫ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো শপথ নিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রামলীলা ময়দানেই হয়েছিল অনুষ্ঠান। তার আগে ২০১৩ সালে তার প্রথম শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানও রামলীলা ময়দানেই হয়েছিল। | 3 |
অক্টোবরের শুরু থেকেই রাজধানী ঢাকায় আবারও বায়ু দূষণের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। মাসের শেষদিকে এসে তা রীতিমতো অসহনীয় রূপ ধারণ করেছে। বায়ু দূষণ রোধে অতি দ্রুত কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ না নিলে ডিসেম্বরের শুকনো মৌসুমে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ''এয়ার ভিজ্যুয়াল''-এর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, রবিবার (২৪ অক্টোবর) প্রায় সারা দিনেই রাজধানীর বাতাসের অবস্থা ছিল অস্বাস্থ্যকর। এদিন সকাল ৯টায় বায়ুদূষণের মানমাত্রায় ১৫৬ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকার অবস্থান ছিল তৃতীয় অবস্থানে। দুপুর ৩টায় ১৬১ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকার অবস্থান ছিল অপরিবর্তিত। তবে বিকআল ৫টায় দিকে বায়ু দূষণের মাত্রা কিছুটা কমে এসেছিল। ওই সময়ে বায়ুদূষণের মানমাত্রায় ১৫৫ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা ছিল ৪র্থ অবস্থানে। বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনাভাইরাসের লকডাউন উঠে যাওয়ার পর থেকে বাতাসে দূষণ বাড়তে শুরু করেছে। মাঝে কিছুদিন বৃষ্টির কারণে ধুলাবালি কম হওয়ায় দূষণের পরিমাণ কম ছিল। তবে এখন তা আবার অনেক বেড়ে গেছে। তাদের আশঙ্কা, সামনে শীতকালের শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি বেড়ে যাওয়ায় তখন বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ ড. কামরুজ্জামান অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ''যেসব কারণে বাতাসের দূষণ বাড়ে তার সবকিছুই এখন পুরোদমে চলছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসায় মানুষ এখন বাইরে বের হচ্ছে। গণপরিবহন, ইটভাটা, রাস্তা মেরামতসহ ভবন নির্মাণের কাজও আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। ফলে সরকার উদ্যোগ না নিলে আবারও আমরা দূষণমাত্রার দিক থেকে প্রথম অবস্থানে উঠে আসব।'' তিনি আরও বলেন, ''আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, বায়ুমান সূচক যদি ৩ দিন ৩০০ পয়েন্টের ওপরে যায় এবং তা যদি তিন ঘণ্টার মতো বজায় থাকে, তাহলে বাতাসের দূষণগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এখন যে অবস্থায় আছে, তাতে শীতকালে সেটা সেখানে গিয়েই দাঁড়াবে। এখনই উদ্যোগ না নিলে আগামী ডিসেম্বরে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।'' তিনি জানান, বায়ুদূষণের কারণের মধ্যে ক্ষুদ্র ধূলিকণা, গ্যাসীয় এবং অণুজীবকে চিহ্নিত করা হয়। এখন ধুলাবালির পাশাপাশি অণুজীবগত স্বাস্থ্য সমস্যাো বাড়ছে। ঢাকার বর্জ্য পচে অণুজীবগুলো বাতাসে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এতে অণুজীবগত দূষণ বাড়ছে। ডিসেম্বরে আমরা ৩ গুণ বেশি দূষণের মধ্যে বসবাস করি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞ শরীফ জামিল বলেন, ''লকডাউনে যখন বাতাসের দূষণ কমে এসেছিল, তখনই বলেছিলাম এ অবস্থা বেশি দিন থাকবে না। কারণগুলো আমরা সবাই জানি। সেগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতেই হবে। আমরা বারবার ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট চূড়ান্ত করার কথা বলছি। কিন্তু পরিবেশ মন্ত্রণালয় সেটি ফেলে রেখেছে। সবকিছু দেখে আমাদের মনে হয়, সরকার আন্তরিক না।'' তিনি জানান, ঢাকার দূষণ কমাতে সরকার একটা নিয়ম জারি করছে বলে আমরা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আর সরকার আবারও একাই কাজ করে যেতে চাইছে। এতে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার সুবিধা দেওয়া হবে। এইভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। | 6 |
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ফয়সাল আহম্মেদ পাপ্পু (২২) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রবিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ পারভেজের আদালত এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। এ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নাম বলেন। সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার বলেন, সুদীপ্তর ওপর সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিল পাপ্পু। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় রিয়াজউদ্দিন বাজারের তিনপুলের মাথায় তাদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটি বিকল হয়ে যায়। এ সময় তাদের অটোরিকশায় থাকা রড, লাঠিসোটা নালায় ফেলে দেয়। তার তথ্যমতে, রাত ১১টার দিকে নালা থেকে রডটি উদ্ধার করা হয়। এসব বিষয় স্বীকার করে নিয়ে সে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর খুন হন ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাবুল বিশ্বাস বাদি হয়ে নগরীর সদরঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করা হয়। ঘটনায় এই পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ; যার মধ্যে দুইজন ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি দুইজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। বিডিপ্রতিদিন/ ২২ অক্টোবর,২০১৭/ ই জাহান | 6 |
করোনায় মৃত্যু হয়েছে পৃথিবীখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা কিম কি দুকের। উত্তর-পূর্ব ইউরোপে বাল্টিক সাগরের পূর্ব তীরে লিথুয়ানিয়া ও এস্তোনিয়ার মধ্যস্থলে অবস্থিত লাতভিয়ার একটি হাসপাতালে শুক্রবার মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৯ বছর। তিনি দেশটিতে গত ২০ নভেম্বর এসেছিলেন। সমকালীন পৃথিবীতে যে ক'জন নির্মাতা দাপটের সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে আসছেন, তাদের মধ্যে সবার আগে যে নামটি চলে আসে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ান নির্মাতা কিম কি দুক। ১৯৬০ সালের ২০ ডিসেম্বর জন্ম নেয়া বিখ্যাত এই নির্মাতার প্রথম কাজ 'ক্রোকোডাইল'। স্বল্প বাজেটের চলচ্চিত্র দিয়েই তার হাতেখড়ি। এরপর একে একে নির্মাণ করেন রিয়েল ফিকশন, বেড গাই, দ্য কোস্ট গার্ড, স্প্রিং সামার ফল উইন্টার এন্ড স্প্রিং, থ্রি আইরন, সামারিটান গার্ল, দ্য বো, ড্রিম, আরিরাং, পিয়েতা এবং আমেন এর মতো পৃথিবী বিখ্যাত সব সিনেমা। তার নির্মিত সিনেমাগুলো মস্কো, বার্লিন, ভেনিস ও কান চলচ্চিত্র উৎসবের মতো সবচেয়ে দাপটে উৎসবগুলোতে নিয়মিত প্রতিযোগিতা করে এবং সম্মান বয়ে আনে। ষাট বছর বয়সী এই নির্মাতার হাত ধরেই কোরিয়ান সিনেমা বিশ্ব দরবারে পরিচিতি পায়। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 2 |
ঘরের মাঠে সিরিজ জেতাকে যেন অভ্যাসে পরিণত করেছে নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর পর নিজেদের মাঠে টানা ৬ টেস্ট জিতল নিউজিল্যান্ড। এ নিয়ে নিউজিল্যান্ড হারের মুখ দেখেনি টানা ১৭ টেস্টে। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে সর্বশেষ হেরেছিল নিউজিল্যান্ড, দলটা ছিল সেরা ফর্মের দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও পাকিস্তানকে হারিয়ে টানা তিন সিরিজ জিতেছে নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে সিরিজ জয়ের সঙ্গে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও শীর্ষে উঠে গেল নিউজিল্যান্ড। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার পথেও আরেকটু এগোল এই সিরিজে।দুই টেস্ট সিরিজ জয়ের পাশাপাশি পাকিস্তানকে পেয়ে যেন রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। বোলিং ও ব্যাটিং-দুই বিভাগেই একের পর এক রেকর্ড করে গ্রীষ্মের শেষ টেস্ট সিরিজের সমাপ্তি টানে কেন উইলিয়ামসনের দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে জুটির রেকর্ড সর্বশেষ ৯ টেস্টে পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা তিনটি ৩০০ ছাড়ানো জুটি গড়েন। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মোট পাঁচটি ট্রিপল সেঞ্চুরি জুটি হয়েছে। তিনটিই এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা বাকি দুটি জুটির ভুক্তভোগী। গত দুই দশকে পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে হয়েছে ১৫টি ট্রিপল সেঞ্চুরি জুটি। এর ১৩টিই এসেছে ২০০০ সালের পর থেকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে চতুর্থ সর্বোচ্চ স্কোর দ্বিতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেটে ৬৫৯ রান পাকিস্তানের বিপক্ষে যা টেস্টে তাদের চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ভুলে যাওয়ার মতো অভিষেক নিউজিল্যান্ড সিরিজে অভিষিক্ত স্পিনার জাফর গহর ১৫৯ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বাজে অভিষেক পারফরম্যান্স। ইংল্যান্ডের আদিল রশিদও ২০১৫ সালে প্রায় একই ভাগ্য বরণ করেন। কোনো উইকেট না নিয়ে খরচা করেন ১৬৩ রান। | 12 |
বাংলাদেশের আকাশপথে অভ্যন্তরীণ রুটে সৈয়দপুর থেকে কক্সবাজার যেতে চাইলে একজন যাত্রীকে ঢাকায় এসে ফ্লাইটের টিকিট কাটতে হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। ক্রমবর্ধমান চাহিদায় যাত্রীদের সেই ভোগান্তি লাঘব করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সৈয়দপুর ও কক্সবাজার থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটি।গতকাল বুধবার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিমান সূত্রে জানা গেছে, নতুন এয়ারক্রাফট আসার ওপর নতুন করে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নির্ভর করছে। আগামী বছরের প্রথম দিকে বিমান বহরে তিনটি নতুন ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। এসব উড়োজাহাজ দিয়ে আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে সংস্থাটি।বিমানের সৈয়দপুর জেলা ব্যবস্থাপক মাহবুব আল হাসান আজকের পত্রিকাকে জানান, সৈয়দপুর হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ বাণিজ্য ও শিল্পসমৃদ্ধ শহর। রংপুর বিভাগের একমাত্র সৈয়দপুর বিমানবন্দরটিতে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে প্রচুর পরিমাণে যাত্রী বাড়ছে। বিমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মাথায় রেখেছে। ইতিমধ্যে সরকার সৈয়দপুরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এই বিমানবন্দর থেকে ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। তাই অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট রুটে নতুন পরিকল্পনা করা হয়েছে।তিনি বলেন, বিমান ছাড়াও বেসরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনা করছে সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে। সব মিলিয়ে এ রুটে প্রতি সপ্তাহে ফ্লাইটের সংখ্যা বর্তমানে ৭৮টি। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার কাজ চলছে। তাই এই রুটে যাত্রীর চাহিদা বিবেচনা করে ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এটি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। | 6 |
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীতে ডুবে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তন্ময় দাশের (১৯) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে কাপ্তাই শীলছড়ির সীতারঘাটর কর্ণফুলী নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে রাঙামাটির কাপ্তাই নৌবাহিনীর শহীদ মোয়াজ্জম নৌ ঘাঁটির ডুবুরি দল। সে চট্টগ্রাম টাইগার পাস এলার বাসিন্দা সুবল দাশের পুত্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তন্ময় দাশ বন্ধুদের সাথে চট্টগ্রাম থেকে বেরাতে আসে রাঙামাটি কাপ্তাই উপজেলায় খালার বাসায়। সারাদিন ঘোরাঘুরির পর শীলছড়ির সীতারঘাট মন্দির দর্শন করেন সবাই। একটা সময় মন্দির ঘাটে কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নামে তন্ময় দাশসহ তার ৯ বন্ধু। কিন্তু হঠাৎ কর্ণফুলীর স্রোতে তলিয়ে যায় তন্ময়। পরে তার বন্ধুরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে ৯৯৯ নাম্বারে কল দিয়ে বিষয়টি অবগত করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের লিডার ধীমান বড়ুয়া। তার নেতৃত্বে নদীতে উদ্ধারে নামে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। কিন্তু ঘণ্টাব্যাপী চেষ্ট চালিয়েও খোঁজ পাইনি ডুবে যাওয়া তন্ময়ের। পরে তাদের সাথে যুক্ত হয় কাপ্তাই নৌবাহিনীর শহীদ মোয়াজ্জম নৌ ঘাঁটির ডুবুরি দল। ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের যৌথ চেষ্টার পর রাতে উদ্ধার করা হয় কর্ণফুলীতে তলিয়ে যাওয়া তন্ময় দাশকে। উদ্ধারের পর কাপ্তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এব্যাপারে কাপ্তাই চন্দ্রঘোনা থানার (ওসি) মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃত তন্ময়ের লাশ মানবিক কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মা বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কোন মামলা হয়নি। এ ঘটনার পর জোয়ারের সময় কর্ণফুলী নদীতে কাউকে গোসল করতে না নামার কড়া নিদের্শেনা দেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান। তিনি বলেনে, সাঁতার না জানা কেউ যেন নদীতে গোসল করতে না নামে, সেই বিষয়ে বারবার সর্তক করা হয়েছে। কিন্তু তবুও আদেশ আমান্য করে কেউ কেউ নদীতে নেমে যায়। পরে জীবন হারায়। এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন মারাঠি ছবির অভিনেত্রী ঈশ্বরী দেশপান্ডে। আজ বুধবার সকালে ভারতের গোয়া থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দীর্ঘদিনের বন্ধু শুভম দেগড়ে। দুর্ঘটনায় তাঁরও মৃত্যু হয়েছে।আগামী মাসে ঈশ্বরী ও শুভমের বাগদান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই চিরবিদায় নিলেন এই হবু দম্পতি।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঈশ্বরী ও শুভম ১৫ সেপ্টেম্বর গোয়া গিয়েছিলেন। ফেরার পথে গোয়ার বাগা-কালাংগুট এলাকায় অঞ্জুনা বিচের রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটা গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর গাড়িটি খাদে পড়ে যায়। গাড়িটি সেন্ট্রাল লকড ছিল বলে তাঁরা বের হতে পারেননি। গাড়িসহ পানিতে ডুবেই ঈশ্বরী ও শুভমের মৃত্যু হয়েছে।গোয়া পুলিশ বলছে, দ্রুতগতিতে চলছিল তাঁদের গাড়ি। পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। তবে গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন, তা জানা যায়নি।ঈশ্বরী ও শুভম দুজনেই ভারতের পুনের বাসিন্দা। ২৫ বছর বয়সী ঈশ্বরী মারাঠি ছবির নামী নায়িকা। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণী চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে। | 2 |
খুলনার বন্ধ হওয়া প্লাটিনাম, খালিশপুর ও স্টার পাটকল কারখানার ইজারা মিলছে না। এতে দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানই আগ্রহ দেখায়নি। ইজারা নিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও এই মিলের জন্য কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। ১৭ জুন ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।শিগ্গির কারখানা তিনটি ইজারার জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনাও নেই কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে বন্ধ হওয়া পাঁচটি ক্রিসেন্ট, ইস্টার্ন, দৌলতপুর, জেজেআই ও কার্পেটিং কারখানার জন্য ভারতীয় দুই প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। এদিকে এক বছরের বেশি সময় হলেও শ্রমিকেরা তাঁদের বকেয়ার পুরো পাওনা এখনো বুঝে পাননি। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ।অব্যাহত লোকসানের কারণে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় গত বছরের ১ জুলাই থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়। বন্ধ মিলের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকার পাটকলগুলো ৯৯ বছর মেয়াদে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বন্ধ পাটকলগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হবে। মালিকানা থাকবে সরকারের হাতে। লিজ-গ্রহীতারা চালু করতে না পারলে মিলগুলো ফেরত নেওয়া হবে।বিজেএমসির খুলনা জোনের মহাব্যবস্থাপক মো. গোলাম রব্বানী বলেন, খালিশপুর ও স্টার জুট মিল, প্লাটিনাম মিল লিজ নেওয়ার বিষয়ে দেশি-বিদেশি কারও সাড়া মেলেনি। ক্রিসেন্টসহ অপর মিলগুলো লিজ নিতে ভারতের মোহন জুট ও প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল দরপত্র জমা দিয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে শর্ত পূরণ হলে ডিসেম্বরে মিল চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ইনভাইটেশন ফর এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) স্তর শেষ হয়েছে। চূড়ান্ত কাজ ২০২১ সালের মধ্যেই শেষ হতে পারে। এরপরই লিজ বা ইজারা গ্রহীতাদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।গোলাম রব্বানী বলেন, গত অক্টোবরে প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল ইজারা গ্রহণের জন্য চীনের একটি প্রতিষ্ঠান মিল পরিদর্শন করেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তারা আগ্রহ দেখায়নি। লিজ নিতে আগ্রহ দেখায়নি খালিশপুর ও স্টার জুট মিলেরও। তবে আপাতত মিল তিনটির নতুন করে দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা নেই বলে জানান ওই কর্মকর্তা।তিনি বলেন, খুলনার যে পাঁচটি মিল লিজ নিতে দরপত্র জমা পড়েছে, এই মুহূর্তে তা নিয়ে কাজ চলছে। ওই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ৩টি মিল নিয়ে পরিকল্পনা করা হবে।মিল বন্ধ ঘোষণা করার পর গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের আওতায় আট মিলের ৩৬ হাজার ৩৯৫ জন শ্রমিকের পাওনা বাবদ নগদ ৭২৯ কোটি টাকা এবং ২৭৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়ে পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিজেএমসির মালিকানাধীন জুট মিলগুলোর বার্ষিক কাঁচা পাটের চাহিদা ১৯ লাখ ১১ হাজার মণ। বার্ষিক উৎপাদন হোসিয়ান ৩২ হাজার ৮০০ মেট্রিকটন, স্যাকিং ৬৫ হাজার ৯৩ মেট্রিকটন ও সিবিসি ৭ হাজার ৮০০ মেট্রিকটন। যাত্রার শুরুতে মিলের শ্রমিক ছিলেন ২০ হাজার ৬১৬ জন। বন্ধ থাকার আগ পর্যন্ত সাত মিলের শ্রমিক ৩৬ হাজার ৩৯৫ জন। তার মধ্যে স্থায়ী ১০ হাজার ৩৬৪ জন এবং বদলি শ্রমিক ২১ হাজার ৩৯১ জন। বাকিরা অবসরের শ্রমিক।এদিকে বন্ধ হওয়া পাটকলের সব শ্রমিক এখনো পাওনা বুঝে পাননি। বন্ধের সময় ঘোষণা ছিল, নগদ এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। নগদ টাকা সবাই পেলেও এখনো পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পাওনা বুঝে পাননি বেশির ভাগ শ্রমিক। এ ব্যাপারে বিজেএমসির খুলনা জোনের মহাব্যবস্থাপক মো. গোলাম রব্বানী বলেন, শ্রমিকদের পাওনার হিসাব করতে একটু সময় লাগছে। যাঁদের হিসাব করা হচ্ছে, তাঁদের পাওনা পর্যায়ক্রমে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি হলে তাঁদের পাওনা দিয়ে দেওয়া হবে।এদিকে মিলের শ্রমিকেরা এখনো স্বপ্ন দেখছেন কবে মিলে সাইরেন বাজবে। কবে মিল চালু হবে। এ ব্যাপারে প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল সিবিএর সাবেক সভাপতি মো. খলিলুর রহমান বলেন, বন্ধের সময় কর্তৃপক্ষ বলেছিল তিন মাসের মধ্যে মিলগুলো চালু হবে। দীর্ঘ এক বছরেও মিল চালু হয়নি। বকেয়া না পেয়ে অনেকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পাওনার হিসাব করতে কত দিন লাগে?' তিনি দ্রুত মিল চালু এবং বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। | 6 |
টানা ভারী বর্ষণে ডুবে গেছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানা রাজ্য। ভারী বর্ষণজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শুধু শুক্রবারই এই দুই রাজ্যে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর এনডিটিভি'র। হায়দরাবাদে তিনদিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার শহরটির তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের নিজেদের বাসা থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকায় উদ্ধারকাজে সহযোগিতার জন্য সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছে। অন্যদেকে তেলেঙ্গানার মেদাক জেলায় বর্ষণজনিত পৃথক কয়েকটি দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ছয়জন আহত হয়েছেন। সাত্তেনাপল্লি এলাকায় পানির তোড়ে দুই কিলোমিটার রেল লাইন ভেসে যাওয়ায় গুন্তার ও সেকেন্দ্রাবাদ জেলার মধ্যে রেল চলাচল দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ আছে। বৃহত্তর হায়দরাবাদ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুক্র ও শনিবার ছুটি ঘোষণা করেছে তেলেঙ্গানা সরকার। বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ | 3 |
ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারে সেরা সময় কাটচ্ছেন লিটন দাস। এবার তার পুরস্কারও পেলেন। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়ে ১৭তম স্থানে উঠে এসেছেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৮৮ রানের ইনিংস খেলেন লিটন। এই ইনিংসের পর আইসিসির সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদে ২০তম স্থান থেকে ১৭তম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। তবে এটা লিটনের ক্যারিয়ারসেরা র্যাঙ্কিং নয়। এ বছরের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ১৫তম স্থানে উঠেছিলেন।টেস্ট ক্রিকেটে শেষ দেড় বছরে দারুণ ছন্দে আছেন লিটন দাস। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন তিনি। এই সিরিজেও এর ব্যতিক্রম নয়। চট্টগ্রাম টেস্টে ১২ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করলেও ঢাকা টেস্টে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন। ধারাবাহিক এমন ভালো খেলার পুরস্কার পেলেন হাতেনাতে।লিটন দাস সম্পর্কিত পড়ুন:পরিসংখ্যান দেখে ভালো করার চ্যালেঞ্জ নেন লিটনটেস্ট ক্রিকেটের ধরনটা বোঝেন লিটনএমন জুটি কমই দেখেছেন ডমিঙ্গো৫ উইকেট পড়ার পর মাঠে থাকলে হার্ট অ্যাটাক করতামবিপর্যয় কাটিয়ে লিটনের দাপুটে সেঞ্চুরি | 12 |
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুরে জাহিন গার্মেন্টস নামের রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার মদনপুর এলাকার স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট। তবে আগুনে তাৎক্ষণিক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাহিন পোশাক কারখানায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কারখানা বন্ধ থাকায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে সোনারগাঁ, বন্দর, নারায়ণগঞ্জসহ ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪ এর পরিদর্শক বশির আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ওই কারখানায় দেড় হাজার শ্রমিক কাজ করেন। শুক্রবার কারখানা বন্ধ ছিল। শুধু নিটিং সেকশন ২০ জন ও ডাইং সেকশনে ৪০-৪৫ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। বিকেলে দোতলায় ফিনিসিং ও কাটিং ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুন দ্রুত পাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে কাজ শুরু করেন। | 6 |
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুব্রত মণ্ডল ২০১৮ সালে মাল্টা ও চুইঝালের বাগান করেন। চুইঝাল বিক্রি করে তিনি ইতিমধ্যে ১২ লাখ টাকা পেয়েছেন খুলনা সরকারি ব্রজলাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (বিএল কলেজ) থেকে ইংরেজিতে স্নাতক শেষ করেছেন সুব্রত মণ্ডল। চাকরিও করছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু তাতে আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। এ কারণে চাকরির পাশাপাশি সংসারে সুদিন ফেরানোর জন্য শুরু করেছেন কৃষিকাজ। এক একর জমিতে সমন্বিতভাবে গড়ে তুলেছেন মাল্টা ও চুইঝালের বাগান। আর তাতেই স্বপ্ন বুনছেন অর্থনৈতিক মুক্তির। আগামী বছর মাল্টা ও চুই বিক্রি করে এক কোটি টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। সুব্রত মণ্ডলের বাড়ি খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বটিয়াঘাটা গ্রামে। বয়স ৩৯ বছর। তাঁর বাগানে মাল্টাগাছ রয়েছে ৩০৮টি। আর চুইঝালের গাছ রয়েছে ১ হাজার ৮০০-এর মতো। এর পাশাপাশি সিডলেস (বিচিবিহীন) লেবুর গাছ রয়েছে ১৪০টি। দুই বছর আগে করা বাগানে এ বছর থেকেই মাল্টা ধরতে শুরু করেছে। তবে তা বিক্রি করেননি। প্রথম বছর আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন। তবে বিক্রি করতে শুরু করেছেন চুইঝাল। দুই বছরেই একেকটি চুইঝালের গাছ থেকে ১০ থেকে ১২ কেজি করে চুই বিক্রি করতে পারছেন। প্রতি কেজি চুই পাইকারি বিক্রি হচ্ছে কমপক্ষে ৫০০ টাকায়। সুব্রত মণ্ডল বলেন, 'বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। কখন চাকরি চলে যায় সব সময় এমন আতঙ্কে থাকতে হয়। ওই আতঙ্ক থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে মাল্টাগাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েও দেখা গেছে এর বাণিজ্যিক সাফল্য বেশ। এ কারণেই মাল্টাবাগান করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।' সুব্রত মণ্ডল আরও বলেন, ইতিমধ্যে ২০০টির মতো চুইগাছ থেকে আড়াই হাজার কেজির মতো চুই বিক্রি করা হয়েছে। সেখান থেকেই সাড়ে ১২ লাখ টাকার মতো পাওয়া গেছে। এখন জমিতে এক হাজারের মতো বিক্রি উপযোগী চুইঝালগাছ রয়েছে। সেটি বিক্রি করেই ৪০ লাখ টাকার বেশি পাওয়া যাবে। স্বপ্ন বোনার শুরু: ২০১০ সালে স্নাতক শেষ করেন সুব্রত। এরপর নিজের টিউশনি থেকে জমানো টাকা বিনিয়োগ শুরু করেন শেয়ারবাজারে। শেয়ারবাজার তখন বেশ রমরমা। প্রথম বছর বেশ লাভও আসে সেখান থেকে। পরে শেয়ারবাজার ধসে যা লাভ হয়েছিল, তাসহ ১১ লাখ টাকার মতো গচ্চা যায়। এরপর ২০১২ সালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেন। ২০১৫ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে তাঁর চাকরি নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। বিকল্প কিছু করার চিন্তা শুরু করেন সুব্রত। সম্বল বলতে আছে শুধু বাবার ১০ বিঘা জমি। সেটিকেই কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিই ছিল তাঁর মাথায়। কিন্তু ছেলের কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেন না বাবা, তাই জমিও ছেলের কাছে ছাড়তে নারাজ। এভাবে চলে যায় আরও তিন বছর। ২০১৭ সালে বিয়ে করেন সুব্রত। বিয়ের পর ছেলেবউয়ের পীড়াপীড়িতে ২০১৮ সালে এক একর জমি দিতে রাজি হন বাবা নীহাররঞ্জন। এরপর সুব্রত ওই জমিতে কী লাগানো যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। ওই বছর খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত বৃক্ষমেলা থেকে মাল্টা চাষের ধারণা নেন। এরপর কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তা ও খুলনা নগরের দৌলতপুরে অবস্থিত হর্টিকালচার সেন্টার থেকে মাল্টা চাষের খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। সে অনুযায়ী ২০১৯ সালের শুরুতে ধানের জমিতে মাটি তুলে উঁচু করে মাল্টা চাষের উপযোগী করা হয়। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে জুন মাসের দিকে হর্টিকালচার সেন্টার থেকে বারি-১ জাতের মাল্টা চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন। দুই গাছের ফাঁকে লাগান চুইয়ের চারা। আর জমির সীমানা বরাবর রোপণ করেন বিচিবিহীন লেবুর চারা। বর্তমানে ওই বাগানের বয়স মাত্র আড়াই বছর। সুব্রতর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর বাগানে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার চুইঝাল রয়েছে। আর আগামী বছর কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন। প্রতিবছর মাল্টার উৎপাদন বাড়বে। বর্তমানে সার্বক্ষণিক একজন শ্রমিক রেখেছেন। তাঁর বেতন লেবু বিক্রির টাকা থেকেই দেওয়া হচ্ছে। জমিকে মাটি দিয়ে উঁচু করাসহ নানা কাজে গত আড়াই বছরে সুব্রতর খরচ হয়েছে ১০ লাখ টাকার মতো। দুই বছর সেখানে শুধু টাকা খরচ করেছেন। আর তার সুফল পাচ্ছেন এখন। শুরুর দিকে আশপাশের লোকজন প্রকল্পটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করলেও এখন তাঁরাই প্রকল্পটি দেখতে আসছেন। অনেকে ছোট আকারে হলেও সুব্রতর মতো এমন প্রকল্প গড়ে তুলছেন। বটিয়াঘাটা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এখন সুব্রতকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন। এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, সুব্রত ওই বাগান থেকে আগামী বছর প্রায় এক কোটি টাকার মাল্টা ও চুই বিক্রি করতে পারবেন। তাঁর ওই সফলতার কাহিনি এখন বটিয়াঘাটার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। | 6 |
২৩ আগস্ট সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে কৌন বনেগা ক্রোড়পতি। 'জওয়াব আপ হি হো' স্লোগান নিয়ে এই মৌসুম উদ্যাপন করবে প্রত্যেক মানুষের 'জ্ঞান, ধ্যান ও সম্মান' পাওয়ার অধিকারকে। বরাবরের মতোই এবারও সঞ্চালক হিসেবে থাকছেন অমিতাভ বচ্চন। তবে এবার এই রিয়েলিটি শোয়ে থাকছে বেশ কিছু পরিবর্তন। প্রথম: এবার থেকে আর কৌন বনেগা ক্রোড়পতির সেটে 'ফাস্টেস্ট ফিঙ্গার ফার্স্ট'-এর সুযোগ রাখা হবে না। তার বদলে প্রতিযোগীদের চারটি বিকল্পসহ তিনটি সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। যিনি সেই প্রশ্নের জবাব অতি দ্রুত দিতে পারবেন, তিনিই থাকবেন হট সিটে। দ্বিতীয়: নতুন মৌসুমে 'অডিয়েন্স পোল' আবারও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মাঝখানে করোনার কারণে স্টুডিওতে দর্শক উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাই এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন মৌসুমে আবারও স্টুডিওতে দর্শক থাকবেন। তাই পুরোনো নিয়ম ফের বহাল হলো। তৃতীয়: কৌন বনেগা ক্রোড়পতির সেটের সজ্জায় আসছে পরিবর্তন। শুটিং সেটের মেঝেটি এলইডি দিয়ে সাজানো হয়েছে। 'অগমেন্টেড রিয়েলিটি'র ধারণায় মঞ্চ সাজানো হয়েছে এবার। চতুর্থ: এই শোয়ের চতুর্থ পরিবর্তনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এর আগের মৌসুমগুলোয় কর্মবীর পর্বগুলোতে বাস্তব জীবনের নায়কদের অংশগ্রহণ থাকত। এই মৌসুমে শুক্রবার থাকবে বিশেষ আয়োজন 'শানদার শুক্রাবার' নামে। এদিন অতিথি থাকবেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকারা। পঞ্চম: কৌন বনেগা ক্রোড়পতিতে এবার থেকে গেম টাইমারের নতুন নাম রাখা হয়েছে। শো চলাকালীন অমিতাভ বচ্চন এবার থেকে গেম টাইমারটিকে ডেকে উঠবেন, 'ধুকধুকিজি' বলে। সনি টিভিতে ২৩ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে কৌন বনেগা ক্রোড়পতির ১৩তম মৌসুম। সোমবার থেকে শুক্রবার রাত ৯টায় দেখা যাবে এই আয়োজন। | 2 |
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এবার আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের আলোচিত নায়ক হেলাল খানের বাবা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন তিনি। এর আগে তার ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। হেলাল খান নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে হেলাল খান লিখেছেন, আমার বাবা মাওলানা আব্দুন নুর খান করোনায় আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটা হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। আমার ছোট ভাই মাহবুব খান ও তার স্ত্রী নাসরিন মুন্নি অসুস্থ। তবে তারা দুজন অনেকটা সুস্থতার পথে। জানা গেছে, হেলাল খান বর্তমানে চিকিৎসাধীন বাবার পাশে আমেরিকায় অবস্থান করছেন। অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও তার আলোচিত ছবিগুলো দর্শক আজও ভুলেনি। ছবিগুলোর মধ্যে 'জুয়াড়ি', 'বাজিগর', 'সাগরিকা', 'আশা আমার আশা', 'হাছন রাজা', 'মমতাজ', 'গুরু ভাই', 'কুখ্যাত খুনি' অন্যতম। 'জুয়াড়ি' চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। | 5 |
টাকা ফেরত ও ই-অরেঞ্জের মূল হোতা সোহেলকে দেশে আনার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে গ্রাহকরা। এ সময় সড়ক থেকে তাদের তুলে দিতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩ জনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাইকোর্ট থেকে মৎস্য ভবনের দিকে যাওয়ার সময় সড়কের এ ঘটনা ঘটে। ই-অরেঞ্জে অর্ডার করা পণ্য ডেলিভারি অথবা বিনিয়োগ করা টাকা রিফান্ডের দাবিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিতে যাচ্ছিলেন গ্রাহকরা। এ সময় গ্রাহকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাব থেকে মৎস্যভবন গেলে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুই জনকে আটক করে পুলিশ। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আজ বৃহস্পতিবার, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস। এমনিতেই যানবাহনের চাপ বেশি ছিল। এরমধ্যে তারা সড়ক অবরোধ করেছিল। আমরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেই। মিছিলে তারা পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানা ও মাশরাফির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ই-কমার্সের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন ই-অরেঞ্জ গ্রাহকরা। এ বিষয়ে ই-অরেঞ্জ ভুক্তভোগী কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আফজাল হোসেন বলেন, পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে। আমাদের ১০ জন এতে আহত হয়েছে। আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে। আমরা নতুন করে কর্মসূচি দেবো। নিরীহ মানুষের ওপর পুলিশ কেন হামলা করবে, আমরা তো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। আমরা আবারও শাহবাগে একত্রিত হবো। | 6 |
একটি কলমের জন্য সর্বোচ্চ কত খরচ করবেন? ৫০ টাকা? দাম ১০০-এর ঘরে চলে গেলেই মনে হতে পারে অপ্রয়োজনীয় খরচ। সাদা পৃষ্ঠায় কয়েকটি বাক্য লেখা ছাড়া এর আর কাজ কী? কাজ যেটাই হোক, হীরা ও পাথরখচিত কলমের দাম কোটি টাকা হবে না, তা হয় নাকি! সাধারণ একটি কলমে শুধু কালি থাকে। বিলাসবহুল এসব কলমে কয়েক শ হীরা থাকে।মঁ ব্লাঁমিস্ট্রি মাস্টারপিস এ কলমটি বানাতে সময় লাগে দেড় বছর। মাত্র তিনটি বানানো হয়েছিল। প্রতিটি কলমে ছিল ৮০০টি করে হীরা। এ ছাড়া ছিল রুবি, শেফিয়ার্স ও এমরাল্ড। কলমটি বিক্রি হয় ৭ লাখ ৩০ হাজার ডলারে।হ্যাভেন গোল্ড পেননারীদের জন্য এ কলমটির ডিজাইন করেছেন আনিতা মাই তান। এতে আছে ১৬১টি রঙিন হীরা। এ ছাড়া রয়েছে ৪৩ ক্যারেটের সাভোরিতে জেমস্টোন নামের বহু পুরোনো একটি পাথর। এর দাম ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলার।লা মর্ডানিস্তা ডায়মন্ডবিখ্যাত গয়না নির্মাতা রবার্ট প্যারন লা মর্ডানিস্তা ডায়মন্ড নামে এ কলমটির ডিজাইনার। হীরা, রুবি ও সোনার তৈরি এ কলমটি একসময় বিশ্বের সবচেয়ে দামি কলম ছিল। ২০০১ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লিখিয়েছিল এটি। সুইস ব্র্যান্ড কারান ডি'অ্যাকের তৈরি এ কলমটির দাম ১২ লাখ ডলার।আরোরা দিয়ামানতেআরোরা দিয়ামানতে ফাউন্টেন পেন নামের কলমটি প্ল্যাটিনাম, ৩০ ক্যারেটের হীরা ও ১৮ ক্যারেটে তৈরি। সোনার নিবসহ এর দাম ১৩ লাখ ডলার। এতে আছে ১ হাজার ৯১৯টি হীরা। কলমটি এতই বিশেষ যে বছরে মাত্র একবারই তৈরি করা হয়।ফালগার নকটার্নাসইতালির কলম নির্মাতা কোম্পানি টিবালদির তৈরি ফুলগোর নকতুরনো বিশ্বের সবচেয়ে দামি কলম। এতে ৯৪৫টি কালো হীরা রয়েছে। কলমটির ইংরেজি নাম নাইট গ্লো। এর দাম ৮০ লাখ ডলার। সাংহাইয়ে এক নিলামে সেটি বিক্রি হয়। পাইয়ের মান অনুযায়ী, ক্যাপ ও ব্যারেলের অনুপাত ১:১:৬১৮।সূত্র: ডিজাইন লিমিটেড এডিশন | 6 |
আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্ট আরমেন সারকিসিয়ান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তার দেশ আরেকবার তুরস্ককে আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অনুমতি দেবে না। কারাবাখ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়ার সঙ্গে আজারবাইজানের সীমান্ত সংঘর্ষে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বাকুর প্রতি সমর্থন ঘোষণার পর ইয়েরেভানের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি এলো। আরমেন সারকিসিয়ান আজ মঙ্গলবার ইয়েরেভানে বলেন, ন্যাটোর সদস্যদেশ তুরস্ক তার সমস্ত শক্তি নিয়ে আজারবাইজানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তিনি আজারবাইজানকে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে 'সামরিক উসকানি' দেয়ার জন্য তুরস্ককে অভিযুক্ত করে বলেন, তৎকালীন উসমানীয় শাসকগোষ্ঠী ১০৫ বছর আগে একবার আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছিল, কিন্তু এবার তার পুনরাবৃত্তি করতে দেয়া হবে না। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত) তৎকালীন উসমানীয় সরকার তার নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলের আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ভয়াবহ গনহত্যা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করে আর্মেনিয়া। দেশটি মনে করে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীর ওপর জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছিল উসমানীয় সাম্রাজ্য যাতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ নিহত হয়। তুরস্ক বরাবর এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 3 |
দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্টে বেঞ্চ তার আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। ২০০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর ৫৬ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকার সম্পদ গোপন ও ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৭ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর মামলাটির কার্যক্রম ২০১৭ সালে সচল হয়। এ মামলায় ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তার অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন চট্টগ্রামের বিচারিক আদালত। ওই আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিভিশন করেন আব্দুর রহমান বদি। সেটি গত ১৮ জানুয়ারি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন। এরপর বিচারিক আদালতে মামলা স্থগিতের আবেদন করেন আব্দুর রহমান বদি। যা ১৮ এপ্রিল খারিজ করে দেন বিচারিক আদালত। পরে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লোকবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার স্থায়ী বাসিন্দারাই শুধু আবেদন করতে পারবেন। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২৩ জুনের মধ্যে ডাকে আবেদনপত্র পাঠাতে পারবেন। পদের নাম অফিস সহায়ক। পদের সংখ্যা ৬টি। চাকরির গ্রেড ২০। বেতন স্কেল ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা। চাকরির ধরন অস্থায়ী। প্রার্থীকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হবে। পদের নাম পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পদের সংখ্যা ৮টি। চাকরির গ্রেড ২০। বেতন স্কেল ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা। চাকরির ধরন অস্থায়ী। প্রার্থীকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হবে। পদের নাম নিরাপত্তাপ্রহরী। পদের সংখ্যা ৮টি। চাকরির গ্রেড ২০। বেতন স্কেল ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা। চাকরির ধরন অস্থায়ী। প্রার্থীকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হবে। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে। ২০২১ সালের ২৩ জুন প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধী, বীর মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-পোষ্যদের ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। ৫০ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ১-০৭৪২-০০০১-২০৩১ নম্বর কোডে জমা দিয়ে চালানের মূল কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। প্রার্থীকে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। *চাকরির বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন | 1 |
নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা চত্ত্বরে শ্রমিক লীগ নেতা মো. আলা উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করবেন তাঁর পরিবার। শনিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার চর কালী গ্রামের নিজ বাড়িতে নিহত আলা উদ্দিনের কুলখানি অনুষ্ঠানে তার ছোট ভাই মো. এমদাদ হোসেন আদাললতে মামলা করার বিষয়টি জানান। নিহত আলা উদ্দিন চর ফকিরা ইউনিয়নের চর কালী গ্রামের মমিনুল হকের ছেলে। তিনি চর ফকিরা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় একজন সিএনজি চালক ছিলেন। এমদাদ হোসেন বলেন, আমার ভাইকে কাদের মির্জার লোকজন তার উপস্থিতিতে পৌর ভবন থেকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি কাদের মির্জাসহ ১৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে দুই দিন কোম্পানীগঞ্জ থানায় গিয়েছি মামলা করতে। এজাহারে কাদের মির্জার নাম থাকায় পুলিশ আমার ভাইয়ের হত্যার মামলা নেননি। থানার ওসি জাহেদুল হক রনি বলেছেন, এজাহার থেকে কাদের মির্জার নাম বাদ দিলে মামলা নিবেন। এমদাদ হোসেন আরো বলেন, থানার পুলিশ মামলা না নিলে আমরা কোর্টে (আদালত) মামলা করবো। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবো। তারপরও আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাইবো। | 6 |
বাংলাদেশ সফরে আসছেন মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং লি। তিনি মিয়ানমারের প্রতিবেশী থাইল্যান্ডও সফর করবেন। জেনেভা থেকে পাওয়া বার্তা অনুসারে, মিয়ানমারের প্রতিবেশী দুই দেশে লি'র ১১ দিনব্যাপী সফর শুরু হবে আগামী ১৪ জানুয়ারি, যা শেষ হবে ২৪ জানুয়ারি। প্রথমে থাইল্যান্ড দিয়ে যাত্রা শুরু করা ইয়াং লি'র ১৯ জানুয়ারি ঢাকা পৌঁছার কথা রয়েছে। বাংলাদেশে আসার পর এখানকার শরণার্থী শিবিরগুলোতেও যাবেন তিনি। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ এ দূতের সফর পরিকল্পনায় নোয়াখালীর ভাসানচরেও যাওয়ার কথা রয়েছে। এ দ্বীপটিতে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে বাংলাদেশ সরকার। এদিকে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ লি'কে অসহযোগিতার ব্যাপারে নিজেদের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে মিয়ানমার। অর্থাৎ মিয়ানমারে প্রবেশ করতে পারবেন না জাতিসংঘের এ দূত। তবে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন লি। | 6 |
দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর পর প্রতিবেশী কাতারের জন্য স্থল সীমান্ত খুলে দিল সৌদি আরব। কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে কাতারের আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেল এ খবর দিয়েছে। সৌদি আরবে আজ মঙ্গলবার পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ নাসের আল-সাবাহ সোমবার কুয়েত টিভি চ্যানেলকে বলেন, "ভূমি, আকাশ ও সমুদ্র সীমান্ত খুলে দিতে কাতারের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে সৌদি আরব।" সাড়ে তিন বছর পর সৌদি আরব কাতারকে তার সীমান্ত খুলে দিল। আশা করা হচ্ছে- সৌদি আরব, সংয়ুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে কাতারের দীর্ঘদিন ধরে যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল তা নিরসনের পথ খুলে দেবে এই শীর্ষ সম্মেলন। ২০১৭ সালের জুন মাসে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর কাতারের ওপর স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের অবরোধ আরোপ করে। এসব দেশ তখন কাতারকে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ তোলে। এছাড়া, ইরানের সঙ্গে কাতারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেও এসব দেশ ভালো চোখে দেখেনি। তবে সন্ত্রাসবাদের প্রতি পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ সবসময় নাকচ করে এসেছে কাতার। অবশ্য, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল এবং আরব দেশগুলোর অবরোধের পর তেহরানের সঙ্গে দোহার সম্পর্ক আরও বেশি ঘনিষ্ঠ হয়। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
মাদারীপুরে নিখোঁজ কলেজছাত্র জিহাদ মাতুব্বরের (২৪) মরহেদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার মধ্য খাগদী এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত জিহাদ মাদারীপুর সরকারি কলেজের ডিগ্রি শেষবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ও মাদারীপুর পুলিশ লাইনের ঝাড়ুদার রাজু মাতুব্বরের ছেলে। স্বজনরা জানায়, শনিবার রাতে পারিবারিক বিরোধের কারনে পরিবারের সদস্যদের সাথে জিহাদের কথার কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জিহাদ রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন রাতেই অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। রবিবার দুপুরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে জিহাদের মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। নিহতের শ্যালিকা তানজিলা ইসলাম তানিয়া বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য ও বিচার দাবি করছি। মাদারীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 6 |
রাশেদ উদ্দিন আহমেদ তপু। কণ্ঠশিল্পী। সম্প্রতি 'পৃথিবী ঘুমাক' শিরোনামে একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি এর কথা ও সুর করেছেন নিজেই। এ ছাড়া ব্যস্ত আছেন বেশকিছু নতুন গানের আয়োজন নিয়ে। এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে- আড়াই বছর পর 'পৃথিবী ঘুমাক' শিরোনামে নতুন গান করলেন। গানটি শ্রোতাদের মধ্যে কেমন সাড়া জাগাবে বলে মনে করছেন? দেখুন, বিষয়টি নিয়ে আগেই কথা বলা কঠিন। গানটি শ্রোতাদের কতটা ভালো লাগবে, তা এখনই বলতে পারছি না। তবে করোনার এই সময়ে আমার জীবনে যে উপলব্ধি হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে গানটি করেছি। ফলে আমার গাওয়া আগের গান থেকে এটি কিছুটা হলেও ভিন্ন। গানের সংগীত আয়োজনে আছেন রাফা। এটা ঠিক যে, আমরা সম্মিলিতভাবে এমন একটি কাজ করতে চেয়েছি, যা সব ধরনের শ্রোতার মনে দাগ কাটে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি এটি প্রকাশ হবে জি-সিরিজ ও রাফার ইউটিউব চ্যানেলে। তখনই জানা যাবে, যে ভাবনা থেকে গান তৈরি করা, তা সার্থক হলো কিনা। শুনলাম নতুন আয়োজনে 'পৃথিবী ঘুমাক'-এর মিউজিক ভিডিও করেছেন? হ্যাঁ। ঠিকই শুনেছেন। গানের ভিডিওটি করা হয়েছে একেবারে অন্যভাবে। এই যেমন পৃথিবী থেকে আমরা শুধু নিয়েই যাচ্ছি। তাকে কোনো কিছু দিচ্ছি না। উল্টো করছি অত্যাচার। পৃথিবীর বিশ্রাম প্রয়োজন, যা গানের মাধ্যমে বলতে চেয়েছি। এর ওপর ভিত্তি করে কিছু ছবি দিয়েই এর ভিডিও সাজানো হয়েছে। আলোকচিত্রী পিনু রহমানের করোনার সময় তোলা ছবি অ্যানিমেশন করা হয়েছে। পাশাপাশি থাকছে রাফা আর আমার পরিবেশনাও। গান প্রকাশে এত বিরতির কারণ কী? এমনিতে কম গান করি। ভিন্নধর্মী কিছু না করতে পারলে অযথা গান প্রকাশ করে কোনো লাভ নেই। গান যদি নিজেকেই না ছুঁয়ে যায়, শ্রোতাদের কেমন করে ভালো লাগবে। জোর করে গান করতে চাই না। ২০১৩ সালে সর্বশেষ 'আর তোমাকে' অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ বিরতি। নতুন অ্যালবাম নিয়ে কিছু ভাবছেন? অ্যালবাম নিয়ে এখন কেউ-ই ভাবে না।এর মধ্যে ব্যান্ডের অ্যালবাম প্রকাশ করেছি। এই সময়ে কয়েকটি একক গান করছি। পর্যায়ক্রমে সেগুলো প্রকাশ পাবে। গান প্রকাশের মাধ্যম বদলে যাওয়াকে কীভাবে দেখছেন? এটা সময়ের দাবি। কিন্তু এটাও সত্যি, ক্যাসেট বা সিডিতে অ্যালবাম প্রকাশ করে যে আনন্দ পেতাম, তা এখন আর পাই না। অ্যালবাম সংগ্রহে রাখারও আলাদা আনন্দ ছিল। ক্যাসেট যুগের ফেলে আসা সময় খুব মিস করি। ওই সময় একটি ক্যাসেট বের হলে পারিশ্রমিক পেতাম। এই সময়ে অন্যভাবে পাচ্ছি। এখন কে গান করবে, কার করা উচিত- এটা নিয়েও কেউ ভাবছেন না। এখন সব সহজ হয়ে গেছে। যে জিনিস যত সহজ হয়ে যায় তার মূল্য কমে যায়। আমার মনে হয়, বর্তমানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গানের জন্য নয়। গানের আলাদা জায়গা দকরার। সেই জায়গা খুঁজছি। গানের 'ভিউ'য়ের বিষয়টি আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? ভিউয়ের কোনো মূল্য নেই। ভিউ যে কোনো কিছু করেই নেওয়া যায়। সস্তা একটি জিনিস দিয়েও ভিউ নেওয়া সম্ভব। গান হচ্ছে শিল্পকর্ম। ১০ জন মানুষও যদি আমার গান শোনেন, সেটিই সার্থকতা। জীবনকে আপনি কীভাবে দেখেন? প্রতিটি মুহূর্ত উদযাপনই জীবনের সার্থকতা। আশপাশের মানুষকে নিয়ে ভালো থাকতে হবে। জীবনে যতটুকু সময় আমরা মন খারাপ করে থাকব, সেটাই লোকসানের পাল্লায় যাবে। | 2 |
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক দিনে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাঁরা মারা যান।এর আগে গত ২৮ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টায় এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যু। চলতি মাসে রামেক হাসপাতালে মোট ২৪৮ জনের মৃত্যু হলো। গেল জুনে মারা গেছেন ৪০৫ জন।আজ বুধবার সকালে হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন করে মারা যাওয়া ২৫ জনের মধ্যে ১২ জন রাজশাহীর। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও পাবনার তিনজন করে; নওগাঁর দুজন এবং কুষ্টিয়া ও যশোরের একজন করে রোগী মারা গেছেন।তাঁদের মধ্যে রাজশাহীর তিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই এবং পাবনা ও যশোরের একজন করে মোট সাতজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। রাজশাহীর দুজন এবং নওগাঁ ও নাটোরের একজন করে রোগীর করোনা নেগেটিভ হলেও শারীরিক নানা জটিলতায় কোভিড ওয়ার্ডে মারা গেছেন।আর ১৪ জন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। তাঁদের মধ্যে রাজশাহীর সাতজন, নাটোর ও পাবনার দুজন করে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও কুষ্টিয়ার একজন করে রোগী ছিলেন।মৃতদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। তাঁদের মধ্যে ২১-৩০ বছরের মধ্যে একজন পুরুষ, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে একজন পুরুষ ও দুজন নারী; ৪১-৫০ বছরের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও চারজন নারী; ৫১-৬০ বছরের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী এবং ষাটোর্ধ্ব ছয়জন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন।হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ছয়জন রোগী মারা গেছেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। এ ছাড়া নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চারজন, ২৯, ৩০, ৩ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে একজন করে; ১৫, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন করে এবং ১৪ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজন করে রোগী মারা গেছেন।হাসপাতালটিতে করোনা ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা ৪৫৪টি। বুধবার সকালে ভর্তি ছিলেন ৫০০ জন। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৭২ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৪ জন।আজ বুধবার সকালে রাজশাহীর ২৭১, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৯, নাটোরের ৬৫, নওগাঁর ৪৭, পাবনার ৬৪, কুষ্টিয়ার ১৬, চুয়াডাঙ্গার ৩, জয়পুরহাটের দুজন এবং মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও বগুড়ার একজন করে রোগী ভর্তি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর ১৯৪ জন ছিলেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। এ ছাড়া করোনা নেগেটিভ হলেও শারীরিক নানা জটিলতায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন ৭৪ জন।রাজশাহীর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও আরটি-পিসিআর মিলে মঙ্গলবার জেলায় মোট ১ হাজার ৪৭১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ২৭৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ১৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর শুধু রাজশাহীর দুটি আরটি-পিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার ৩৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। | 6 |
পুলিশি বাধায় ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন পণ্ড হয়ে গেছে। গতকাল রোববার সকালে শহরের মধ্যচাঁদকাঠিতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের বাধায় তা হয়নি। এ দিকে বিএনপির নেতারা জেলা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছেন যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।তবে যুবলীগ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে; বরং যুবলীগ বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনার দায় দিচ্ছে বিএনপির ওপর।জানা গেছে, সদর উপজেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন বেলা ১১টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ বিলকিস জাহান শিরিন। সম্মেলন উপলক্ষে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যথাসময়ে দলটির কার্যালয়ে আসতে শুরু করেন। কিন্তু সম্মেলন করার অনুমতি না থাকার অজুহাতে সম্মেলন পণ্ড করে দেয় পুলিশ।এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন বলেন, 'সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীরা পার্টি অফিসে আসতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ সম্মেলন করতে দেয়নি; বরং নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একই সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন।'ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, 'সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করার কোনো অনুমতি ছিল না। এরপরও বিএনপি নিজেদের কার্যালয়ে সম্মেলনের চেষ্টা করলে পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়। তবে কারা তাদের কার্যালয় ভাঙচুর করেছে, তা জানা নেই।'এদিকে বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেন ঝালকাঠি জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকির। তিনি বলেন, 'বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে অফিস ভাঙচুর হতে পারে। যুবলীগ বা ছাত্রলীগের কোনো নেতা-কর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ও জাতীয় শহীদ দিবসের কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত।'গত শনিবার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় বিএনপির সম্মেলনও করতে দেয়নি পুলিশ। অনুমতি না থাকার অভিযোগে সম্মেলন করতে দেওয়া হয়নি দাবি পুলিশের। সম্মেলনে বাধা দেওয়ায় বিএনপির নেতা-কর্মী ও পুলিশের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সম্মেলনস্থল ছেড়ে চলে যান। | 6 |
গাজীপুরে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জাতীয় সম্মেলন ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকালে জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন শেখ হাসিনা। ১৯৮০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনসার বাহিনী গঠন করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর এই দিনে বাহিনীর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গাজীপুরের আনসার ভিডিপি একাডেমিসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাহুথড় বাজারে নামযজ্ঞ পরিচালনা মিটিং চলাকালে একদল সন্ত্রাসীর হামলায় উজানী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শ্যামল কান্তি বোসসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কাশিয়ানী উপজেলার রাহুথড় দ্বীননাথ সেবাশ্রমে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত চেয়ারম্যান শ্যামল কান্তি বোস, অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার তপন মজুমদারসহ পাঁচজন গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্যামল কান্তি বোস জানান, বার্ষিক নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে দ্বীননাথ সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ও রাজপাট এবং মুকসুদপুর উপজেলার উজানী ইউনিয়নের মোট ১৪টি গ্রামের তিন শতাধিক মানুষ উপস্থিত হন। মিটিং চলাকালে সন্ধ্যা ৬টার দিকে নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দীনেশ মণ্ডল এবং তাঁর জামাই বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও মাদক মামলার আসামি কমলেশ ঘোষের সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।হামলায় টুঙ্গিপাড়া ইনস্টিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজির (আইএইচটি) সহকারী পরিচালক (অব.) ডা. তপন মজুমদার, অজিতেষ বিশ্বাস, মিল্টন বিশ্বাস ও অজয় বিশ্বাসসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ক্ষোভে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। এ জন্য আইনের মাধ্যমেই এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।অভিযোগ অস্বীকার করে দীনেশ মণ্ডল বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই তিনি অসুস্থ এবং বাড়িতে অবস্থান করছেন। হামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এ ঘটনা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।কাশিয়ানী থানার ওসি মাসুদ রায়হান বলেন, রাহুথড়ের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কের বিশৃঙ্খলা দেখলে মনে হবে না যে এখানে কোনো আইন আছে। কিন্তু আমরা জানি, দেশে আইন আছে এবং এরপরও কেন এত বিশৃঙ্খলা, সেই কারণটিও জানি। আইন যদি প্রয়োগ না হয়, তবে সেই আইন অর্থহীন। সড়কে বিশৃঙ্খলার মূল কারণ আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা। সময়ের সঙ্গে আইন যুগোপযোগী করতে হয়। সেই পুরোনো আইনের বদলে এখন একটি নতুন সড়ক আইন হয়েছে, যা গত বছরের এক অভাবিত ছাত্র আন্দোলনের সরাসরি ফল হিসেবে আমরা বিবেচনা করতে পারি। সেই আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আট বছর ধরে আটকে থাকা সড়ক পরিবহন আইন দ্রুতই মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। এর বছরখানেকের বেশি সময় পর ১ নভেম্বর সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়।নতুন আইন আগেরটির চেয়ে কঠোর হয়েছে, শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ অনেক বাড়ানো হয়েছে। সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে অনেক ক্ষেত্রে আইনটির আধুনিকায়নও হয়েছে। তবে নতুন আইন কার্যকর করার বিষয়টি শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। আইনটি ১ নভেম্বর কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও করা যায়নি। দুই দফায় দুই সপ্তাহ পেছানো হয়েছে কিন্তু প্রস্তুতিতে সমস্যা ও নতুন আইন নিয়ে নানা বিভ্রান্তি এখনো কাটেনি। তবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী গতকাল সোমবার ঘোষণা করেছেন, আইন কার্যকর হয়ে গেছে।আইন কঠোর হলে বা শাস্তি-জরিমানা বাড়লে মানুষের মধ্যে আইন ভাঙার ব্যাপারে ভয় বাড়বে, এটা স্বাভাবিক। ফলে নতুন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ারই কথা। কিন্তু আগের আইনে শাস্তি-জরিমানা কম থাকার কারণেই কি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি, নাকি সেই আইন মানাতে বাধ্য করা যায়নি? নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি আগের তুলনায় কঠোর, কিন্তু সেই আইন মানাতে যদি বাধ্য করা না যায়, তবে শুধু আইনের কঠোরতায় ফল মিলবে কি? দরকার আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে 'কঠোর' হওয়া, সেটাই এখন আসল চ্যালেঞ্জ। পুরো প্রস্তুতি ও বিভ্রান্তিগুলো দূর না করে আইন কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়ায় জনগণ হয়রানির মুখে পড়তে পারে। দীর্ঘ সময় পাওয়ার পরও কেন পুরো প্রস্তুতি নেওয়া গেল না বা আইনের মধ্যে বিভ্রান্তি থেকে গেল কেন, তার একটা জবাবদিহি দরকার। নতুন আইনে কিছু ক্ষেত্রে অস্পষ্টতার বিষয়গুলো ধরা পড়েছে। যানবাহন নিবন্ধন, চালকের লাইসেন্স পরীক্ষার পদ্ধতি, যানবাহনের ফিটনেসের মেয়াদ, গণপরিবহনের রুট পারমিট-এই বিষয়গুলো নতুন বিধি তৈরির মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। সড়ক পরিবহন বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে সেই কাজ চলছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে, নতুন আইনে যেহেতু শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, তাই ট্রাফিক পুলিশের জরিমানা করার যন্ত্রগুলোর সফটওয়্যারও সে অনুযায়ী আপডেট করতে হবে। তা না হলে নতুন আইনে জরিমানা করা কঠিন। সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, সেই কাজটি এখনো শেষ হয়নি। এমন একটি অবস্থায় আরও কিছু সময় লাগলেও বিধিমালা তৈরিসহ ট্রাফিক পুলিশের যান্ত্রিক প্রস্তুতি শেষ করে আইনটি কার্যকর করাই হতো বাস্তবসম্মত। কারণ, আইন কার্যকর করে তা থেকে কোনো অজুহাতেই পিছিয়ে আসতে হলে তা এক বাজে নজির হয়ে থাকবে। আইন কার্যকর করার আগে যে কাজটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল তা হচ্ছে, নতুন আইনের ব্যাপারে যথাযথ প্রচারণা চালানো। কিছু প্রচারণা হচ্ছে, তবে আরও ব্যাপক ভিত্তিতে তা হওয়া উচিত। টিভি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য সহজবোধ্য প্রচারণা উপকরণ বানিয়ে তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া যায়। জোরেশোরে ও ব্যাপকভাবে এই প্রচারণার কাজটি চালানো হলে জনগণের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হবে যে আইনটির যথাযথ বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর। জনগণ ও সড়ক-মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে আইন মেনে চলার ভয় হোক বা সচেতনতা হোক, তা বাড়বে। আইন অমান্যের শাস্তি বা জরিমানা বেশি হলে তা আইন মেনে চলায় ভূমিকা রাখে ঠিকই, তবে আমাদের মতো দেশে কঠোর আইন অপব্যবহারের আশঙ্কাকেও বাড়িয়ে তোলে। শাস্তি বা জরিমানা যখন কম ছিল, তখনো ট্রাফিক আইনের যথেষ্ট অপব্যবহার হয়েছে। যানবাহনের মালিক ও চালকদের এসব ভোগান্তির অভিজ্ঞতা রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের অনেক সদস্যের চাঁদাবাজি কোনো গোপন বিষয় নয়। নতুন আইনে যেহেতু শাস্তি ও জরিমানার হার অনেক বেশি, তাই এই আইনের অপব্যবহার হলে জনগণের হয়রানির আর সীমা থাকবে না। আপনার গাড়ি রাস্তায় কোনো আইন ভাঙলে ট্রাফিক পুলিশ এসে কাগজপত্র চাইবে এবং আইন না মানার জন্য জরিমানা করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা কী বলে? ট্রাফিক পুলিশ মাঝরাস্তা থেকে হোক বা পার্কিং অবস্থা থেকে হোক, গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে হাঁটা দেয়। ড্রাইভার বা গাড়ির চালকের এরপর সেই ট্রাফিক পুলিশের খোঁজে বের হতে হয়। রাস্তার নানা জায়গায় দাঁড়িয়ে তাঁরা দেনদরবার করেন, কখনো জরিমানা দিয়ে বা কখনো ঘুষ দিয়ে চালক বা গাড়ির মালিক এ থেকে মুক্তি পান। অনেক ক্ষেত্রে আইন যে আদৌ ভাঙা হয়েছে, তা প্রমাণ করার কোনো ব্যাপার থাকে না। এ নিয়ে কোনো কথা বলতে গেলে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে 'খারাপ' ব্যবহার বা 'কাজে বাধা' দেওয়ার অভিযোগে বাড়তি জরিমানা গুনতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি খুবই হয়রানিমূলক। আর ট্রাক বা বাসের মতো পরিবহন থেকে কীভাবে চাঁদা নেওয়া হয় এবং তাতে ট্রাফিক পুলিশের যুক্ততা কতটুকু, তা পরিবহনশ্রমিক ও মালিকেরা হাড়ে হাড়ে টের পান। তবে এগুলো সবই সাধারণ মানুষের জন্য। আপনি 'গুরুত্বপূর্ণ' কেউ হলে অবশ্য আপনার জন্য ট্রাফিক আইন বলে কিছু নেই। আপনি উল্টো পথে চলুন, গাড়িতে নিয়ম ভেঙে হর্ন বা সাইরেন লাগান, সেগুলো অহেতুক বাজাতে থাকুন, কোনো ট্রাফিক পুলিশের সাহস নেই আপনার সেই গাড়ি আটকায়। মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে এক যুগ্ম সচিবের জন্য তিন ঘণ্টা ফেরি আটকে রাখা হয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্সের জন্যও কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। সেই ফেরিঘাটে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় এক স্কুলছাত্র। এ ঘটনার পর হাইকোর্টে এ নিয়ে একটি রিট হলে আদালত মন্তব্য করেছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন, বাকি সবাই রাষ্ট্রের কর্মচারী। কিন্তু রাস্তায় চলতে গিয়ে আমরা এখন কী দেখি? 'রাষ্ট্রের কর্মচারী' বলে তো কেউ নেই। আপনার আগে-পিছে, ডানে-বাঁয়ে সবাই তো 'ভিআইপি'। গাড়ির হর্ন, গাড়িতে লাগানো পতাকার দণ্ড-এগুলো হচ্ছে ভিআইপি গাড়ির সিম্বল। দেশে এত ভিআইপি! এসব 'ভিআইপির' জন্য নতুন সড়ক আইন ঠিকভাবে কাজ করবে তো? বিআরটিএর যে আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল থেকে কাজ করা শুরু করেছেন, তাঁরা ভিআইপি কারও আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে কি? নাকি ট্রাফিক পুলিশ সামনে নিয়মিত এই কাজটি করতে পারবে? আমরা দেখে আসছি, পুলিশের সহায়তায় তথাকথিত ভিআইপিদের গাড়ি উল্টো পথে চলে, আইন ভাঙে। নতুন আইন কি এই সংস্কৃতি বদলাতে পারবে? প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের অনেকেই মনে করছেন, নতুন আইনে নানা ধারা অমান্যের জন্য যে শাস্তির বিধান করা হয়েছে, তা বেশ কঠোর। পুলিশ যদি এমনটা মনে করে, তবে তা বিপদের কথা। একজন চালকের সচেতন সিদ্ধান্তেই ট্রাফিক আইন অমান্যের ঘটনা ঘটে। একজন চালক সিদ্ধান্ত নিয়েই উল্টো পথে গাড়ি চালান, সিগন্যাল অমান্য করেন, নির্দিষ্ট গতির বেশি গতিতে যানবাহন চালান, মোটরসাইকেলের চালক ফুটপাতে ওঠেন বা ফিটনেস না থাকা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামেন। এসব ঠেকাতে কঠোর আইনের বিকল্প কী? পদচারী-সেতু থাকার পরও যখন একজন পথচারী নিচ দিয়ে রাস্তা পার হন, তখন তাঁকে ঠেকানোর পথই-বা কী? নতুন আইনে ফিটনেস ছাড়া গাড়ির জরিমানা বাড়ানো হয়েছে। জরিমানার ভয় কিন্তু কাজে দিতে শুরু করেছে। ফিটনেস সার্টিফিকেট জোগাড়ের জন্য বিআরটিএতে যানবাহনের ভিড় লেগে গেছে। কিন্তু নতুন কঠোর আইন যদি আগের মতোই শিথিলভাবে প্রয়োগ করা হয়, কেউ কেউ যদি ছাড় পেয়ে যায়, ট্রাফিক পুলিশের অনিয়ম-দুর্নীতি যদি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে নতুন আইন আদৌ কোনো ফল দেবে না। বরং অপব্যবহারের বিপদ বাড়বে এবং জনগণ চরম হয়রানির মধ্যে পড়বে। নতুন আইন কার্যকর করার পাশাপাশি এই দিকগুলোতেও নজর দিতে হবে, এখানেও নতুন সংস্কৃতি চালু করতে হবে। বিআরটিএর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ করতে হবে, লোকবল বাড়াতে হবে। ফিটনেস সনদ ছাড়া গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হলে যানবাহনের মালিকেরা যাতে সহজে এই সনদ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। ফুটপাত হাঁটার উপযোগী রাখা বা পথচারী পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় জেব্রা ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা না করতে পারলে শুধু জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে পথচারীদের বিশৃঙ্খল চলাফেরা বন্ধ করা যাবে না। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে এই আইন বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। তাঁর এই অবস্থানকে স্বাগত জানাই। কিন্তু তিনি প্রয়োজনে এই আইন সংশোধনের কথাও বলেছেন। আইন কার্যকরের প্রাথমিক পর্যায়ে এ ধরনের বক্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। আইনটির যাঁরা বিরোধিতা করছেন, তাঁদের উৎসাহিত করবে। নতুন আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা রয়েছে এবং এর সঙ্গে অনেক বিষয় পরস্পর সম্পর্কিত। এই অবস্থায় যা বাস্তবসম্মত হতে পারে তা হচ্ছে, কিছু সড়ক ও মহাসড়ক নির্দিষ্ট করে সেখানে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা ও লোকবল নিশ্চিত করে নতুন সড়ক আইন কঠোরভাবে ও শতভাগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া। পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে যে বিশৃঙ্খলা জেঁকে বসেছে, তা চাইলেও দ্রুত দূর করা যায় না। এ কে এম জাকারিয়া: প্রথম আলোর উপসম্পাদক[] | 8 |
বৃহস্পতিবার রাতে গুজব ছড়ায় জাতীয় ফুটবল দলের কোচ জেমি ডেকে বরখাস্ত করেছে বাফুফে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি আতাউর রহমান মানিককে উদ্ধৃত করে একটি টিভি চ্যানেলে প্রকাশ হয় যে, কাতারে ব্যর্থতার দায়ে বরখাস্ত হচ্ছেন প্রধান কোচ জেমি ডে। এমন গুজবে অবাক হয়ে যান ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফে সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ এমপি। জেমিকে বরখাস্ত করার কোনো সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নেয়নি বলে জানান তিনি। ব্রিটিশ এ কোচকে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ঝড় ওঠে। সুদূর ইংল্যান্ডে থাকা জেমিও এই খবরে বিস্মিত হয়ে যান। মাত্রই করোনা থেকে মুক্ত হওয়া বাংলাদেশ কোচ শুক্রবার সমকালকে শুধু এটুকুই বলেছেন, এই সংবাদটি তার জন্য অসম্মানজনক, 'আমি মনে করি এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। আমাকে বরখাস্ত করার সংবাদটি সম্পূর্ণ গুজব। কিন্তু এমন নিউজ আমার জন্য অসম্মানজনক। এমন খবর শুনে আমি খুব অবাক হয়েছি। তবে আপনাকে মানতে হবে, এটাই ফুটবল। আর এসব নিয়েই কিন্তু চলতে হবে। ইতোমধ্যে আজ আমি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আগামী বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছি।' গত নভেম্বরে নেপালের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আগে করোনায় আক্রান্ত হন জেমি ডে। যে কারণে দলের সঙ্গে কাতারে যেতে পারেননি। ম্যাচ শুরুর চার দিন আগে কভিড পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়া জেমি কাতার ম্যাচে বাংলাদেশের ডাগআউটে দাঁড়িয়েছিলেন। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ৫-০ গোলে। তিন বছর ধরে বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে থাকা জেমি কাতারের বিপক্ষে রেজাল্ট নিয়ে মোটেও হতাশ নন। মাত্র পাঁচ সপ্তাহের প্রস্তুতি নিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজকদের সঙ্গে এর চেয়ে বেশি লড়াই করার সামর্থ্য নেই বাংলাদেশের। ইতোমধ্যে সামনের বছরের পরিকল্পনা নিয়ে টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্রিটিশ এ কোচ। আর বড়দিনের ছুটির পর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কিংবা জানুয়ারির শুরুর দিকে ঢাকায় আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ডাক্তারের পরামর্শে চার সপ্তাহের জন্য বিশ্রাম নিতে হবে জেমিকে। তার সময়ে বাংলাদেশের ফুটবল উন্নতি করেছে বলেও দাবি করেছেন জেমি, 'আমার সময়ে বাংলাদেশ দল অনেক উন্নতি করেছে। দলের উন্নতিতে আমি খুশি। পরিসংখ্যান বিশ্নেষণ করলে আপনি দেখবেন ৪৪ ভাগ ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। আর আপনি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ বাদ দিলে ১৬টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ৯টিতে।' | 12 |
২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছিল ইসলামিক স্টেট (আইএস)। বাংলাদেশ সরকার সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছিল। সেই সময় আইএস এক বিশাল জায়গাজুড়ে একটি কথিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে সারা বিশ্বে চালিয়েছিল সন্ত্রাসী তৎপরতা। সেই রাষ্ট্রের পতন হয়েছে, কিন্তু আইএসের ভবিষ্যৎ কী, দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কতটা হুমকি আইএস-এ নিয়ে লিখেছেন আলী রীয়াজ ইসলামিক স্টেটের (আইএস) শেষ অবস্থান সিরিয়া ও ইরাকের সীমান্তবর্তী ছোট্ট গ্রাম বাগুজের পতনের তিন মাস পার হয়ে গেলেও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকদের কাছে এই প্রশ্নের কোনো সহজ ও সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই যে আইএসের নেতৃত্ব ও অনুসারীরা ভবিষ্যতে কী করবে। এই প্রশ্নের উত্তরের সঙ্গে অংশত জড়িত আছে আগামী দিনে বৈশ্বিকভাবে সন্ত্রাসী তৎপরতার রূপ কী দাঁড়াবে এবং তা মোকাবিলার উপায় কী। বৈশ্বিক তৎপরতার অংশ হিসেবে আইএসের কৌশলের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া কতটা গুরুত্ব পাবে, সেটা এই অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও বিশ্লেষকদের মনোযোগ দাবি করে। এ কথা ঠিক যে আবু বকর আল-বাগদাদির নেতৃত্বাধীন আইএস বলে পরিচিত সংগঠনটিই একমাত্র বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন নয়, কিন্তু একসময় প্রায় ব্রিটেনের আকারের সমান এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত যে ভয়াবহ শক্তি, হত্যা ও বর্বরতায় যারা আর সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল, কার্যত একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল এবং যাদের সামরিকভাবে পরাজিত করতেই চার বছরের বেশি সময় লেগেছে, সেই সংগঠনের নেতৃত্ব ও অনুসারীদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম যেকোনো বিবেচনাতেই গুরুত্বপূর্ণ। লোকবলের দিক থেকে এত বড় সন্ত্রাসী সংগঠন আগে কখনোই গড়ে ওঠেনি; অনুমান করা হয় যে ২০১৪ সালেই আইএসের যোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার, পরের বছরগুলোতে তা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; ২০১৮ সালে তাদের কথিত রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, কর আদায় ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে জড়িত ছিল দুই লাখ মানুষ। এর বাইরেও ছিল এর প্রচার-প্রোপাগান্ডার সঙ্গে জড়িত কয়েক শ মানুষ, যারা ওই অঞ্চলের বাইরে থেকেই কাজ করেছে। সারা পৃথিবী থেকে যোদ্ধা হিসেবে আইএস কতজনকে আকর্ষণ করেছিল, তার আনুমানিক হিসাব পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা গবেষক ও গণমাধ্যমগুলোর কাছে; কমপক্ষে ৮৫টি দেশের নাগরিকদের উপস্থিতি চিহ্নিত করা গেছে। আইএসের বিভিন্ন ঘাঁটি দখলের পরে সংগঠনটির যেসব দলিলপত্র উদ্ধার হয়েছে, তাতেও এই তথ্যের পক্ষে প্রমাণ আছে। এই হিসাবে মোট বিদেশি যোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব র্যাডিক্যালিজমের হিসাব অনুযায়ী, এই বিদেশি যোদ্ধাদের ১৩ শতাংশ ছিল নারী। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজমের করা ২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে আইএসের অন্তত তিনটি নারী ব্যাটালিয়ন ছিল; এর একটি ছিল বিদেশি, প্রধানত ইউরোপ থেকে আসা নারীদের নিয়ে আল খানসা ব্যাটালিয়ন। লন্ডনের কিংস কলেজের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল যে যোদ্ধা হিসেবে আইএসের হয়ে লড়াই করতে যোগ দিয়েছিল যারা, তাদের ১২ শতাংশকে কিশোর বা মাইনর বলে চিহ্নিত করা যায়। কেন এসব মানুষ বিভিন্ন দেশ থেকে এত ব্যাপক সংখ্যায় আইএসের কথিত 'ইসলামি রাষ্ট্রে' গিয়ে হাজির হয়েছিল? তাদের প্রণোদনা কী ছিল? সাবেক যোদ্ধা এবং যারা যুদ্ধে যোগ না দিয়েও ইসলামিক স্টেটের আকর্ষণে গিয়ে সেখানে বাস করেছে, তাদের সাক্ষাৎকারে দেখা যায় যে এদের এক অংশের প্রণোদনা হচ্ছে ধর্মীয়-তারা মনে করে তারা 'হিজরত' করেছে। ইসলামিক স্টেটের সূচনায় আবু বকর আল-বাগদাদি সারা বিশ্বের মুসলিমদের প্রতি যে আহ্বান করেছিলেন, তাতে সাড়া দিয়েই অনেকে সেখানে যায়। কিন্তু সেটাই একমাত্র কারণ নয়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক ভেরা মিরোনোভা দেখান যে প্রধানত তিনটি কারণে মানুষ আইএসে যোগ দিয়েছিল। সেগুলো হচ্ছে অর্থ, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ, যার মধ্যে ছিল কুর্দিবিরোধিতা ও ইরাকে সুন্নিদের প্রতি সরকারের বিরূপ আচরণ এবং নিজ নিজ দেশের সরকারের ব্যাপারে ক্ষোভ। মিরোনোভা লিখেছেন যে বিদেশি যোদ্ধাদের নিজ নিজ দেশের ব্যাপারে ক্ষোভের দুটি দিক ছিল-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি এবং এসব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদের পথ না থাকা (হু আর দ্য আইএস পিপল? পারস্পেকটিভ অন টেররিজম, ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। অর্থের জন্য যারা যোগ দিয়েছিল, তাদের বড় অংশই এসেছিল সিরিয়া ও ইরাক থেকে। এফ্রেইম বেনমেলেচ ও এস্তেবান ক্লোর এক গবেষণা নিবন্ধে বলেছেন, বিদেশিদের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের কারণে আইএসে যোগ দেওয়ার কোনো প্রমাণ তাঁরা পাননি (হোয়াট এক্সপ্লেইন্স দ্য ফ্লো অব ফরেন ফাইটার্স টু আইএস? টেররিজম অ্যান্ড পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স, অক্টোবর ২০১৮)। ফলে যারা কেবল অর্থের জন্য যোগ দিয়েছে, তাদের বাদ দিলে হিজরতের যুক্তিতে বা যোদ্ধা হিসেবে যারা গেছে, তারা আদর্শিকভাবেই আইএসের অনুসারী। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি থেকে ইসলামিক রাষ্ট্র বলে কথিত ব্যবস্থার পতন অত্যাসন্ন হয়ে পড়লে বিদেশি যোদ্ধাদের অনেকেই স্বদেশে বা অন্যত্র চলে যায়। স্থানীয় যোদ্ধাদের অনেকে ফেব্রুয়ারি থেকে আত্মসমর্পণ করতে থাকে। আইএস অধিকৃত এলাকাগুলো মুক্ত করার পরে অনেক যোদ্ধাই স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে মিশে যায়-২৬ মার্চ ২০১৯, ইউএসএ টুডে সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে এই সংখ্যা ৩০ হাজার বলে দাবি করা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে স্থানীয় উপজাতিগুলোর সঙ্গে এসডিএফ এ ব্যবস্থা করে যে ওই সব যোদ্ধার পুনর্বাসনের দায়িত্ব উপজাতিদের। সাংবাদিক রবিন রাইট তাঁর এক প্রতিবেদনে রাকার কাছে আল-কারামহতে এ ধরনের একটি পুনর্বাসন ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন (দ্য নিউইয়র্কার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯)। এ প্রচেষ্টার সবটাই ইতিবাচক, এমন বলা যাবে না। এদের ভেতরে অনেকেই আছে যারা এখনো মানসিকভাবে ইসলামিক স্টেটের আদর্শের সমর্থক। বিদেশি যোদ্ধাদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকেরাও ছিল। এই সংখ্যা ২০১৪-১৫ সালে ছিল কমপক্ষে ৪০ জন, পরে আরও অনেকে যোগ দিয়েছে। তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন সময় নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে বাগুজের পতনের পরে অন্তত ৯ জন বাংলাদেশি সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বা আটক হয়েছে, এর মধ্যে আছেন সাইফুল্লাহ ওজাকি, জুনায়েদ হাসান ও তাহমিদ শফি। ওজাকি বাংলাদেশে আইএসের প্রধান সদস্য সংগ্রহকারী ছিলেন। আইএসের কট্টর সমর্থক ও যোদ্ধা-যাদের মধ্যে বিদেশিরাও আছে-তারাই শেষ পর্যন্ত বাগুজে লড়াই চালিয়েছে। এসডিএফ ইতিমধ্যে কমপক্ষে এক হাজার বিদেশি যোদ্ধাকে চিহ্নিত করে কারাগারে রেখেছে। বাগুজে শেষ পর্যন্ত ছিল এমন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এখন আছে এসডিএফ ও মার্কিনিদের তৈরি ক্যাম্পে। রোজাভায় অবস্থিত এ ক্যাম্পের নাম আল-হল ক্যাম্প। এগুলোকে ক্যাম্প না বলে বন্দিশিবির বলাই বোধ হয় যথাযথ। শিবিরে থাকা এই আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১-১২ হাজার নারী ও কমপক্ষে ৩ হাজার শিশু। এদের অধিকাংশের পরিবারের পুরুষ সদস্য যুদ্ধে নিহত হয়েছে। নারীদের অনেকে গেছে বিভিন্ন দেশ থেকে। এদের অনেকে সক্রিয় যোদ্ধা ছিল বলেও অনুমান করা হয়। এদের ভবিষ্যৎ কী, কেউ জানে না। কেননা, কোনো দেশই তাদের নাগরিকদের, বিশেষ করে যারা যোদ্ধা হিসেবে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হচ্ছে না। আটক এসব ব্যক্তির অনেককে ইরাকে বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে, কিন্তু ওই সব বিচার কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যেই সংক্ষিপ্ত বিচারে অন্তত এক শ জনকে মৃত্যুদণ্ড বা দীর্ঘ কারাবাস দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ১৫ জন ফরাসি নাগরিককে ইরাকের আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলেও ফ্রান্স এ বিষয়ে ইরাকি আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা মিশেল ব্যাশেলেট সম্প্রতি বলেছেন যে ক্যাম্পে থাকা ও আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করা দরকার অথবা তাদের ছেড়ে দেওয়া দরকার। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে এসব আটক ব্যক্তিকে কারাগারে যে ধরনের ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছে, তাতে তাদের মধ্যে আরও বেশি করে ক্ষোভ ও সহিংস হওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে কি না। স্মর্তব্য যে আইএসের উত্থানের পেছনে কারাগারের ভেতরে র্যাডিক্যালাইজেশনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৪ সালে আবু বকর আল-বাগদাদি ইরাকের আল-বুকা কারাগারে ৯ মাস আটক থাকার সময়েই আইএসের ভিত্তি গড়ে ওঠে। ইতিমধ্যে এসব ক্যাম্পে আইএস নতুন করে পুনর্গঠিত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে এবং এই চেষ্টায় নারীরাই অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে। আইএসের যেসব যোদ্ধা ও সমর্থক ইতিমধ্যেই নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে, যারা এখন কারাগারে বা ক্যাম্পে আছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনো ধরনের উদ্যোগের অভাবে যেসব ব্যক্তি সুবিচার পাচ্ছে না, যারা ভবিষ্যতে নিজ দেশ ফিরতে না পেরে অন্যত্র আশ্রয় নেবে বলে আশঙ্কা, তারা ভবিষ্যতে কী ধরনের ভূমিকা নেবে, সেটি আইএস এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসী তৎপরতার পথরেখা নির্ধারণ করে দেবে। কিন্তু কেবল ব্যক্তির ভূমিকা নয়, সাংগঠনিকভাবে আইএসের পদক্ষেপও আগামী দিনের ইঙ্গিত দেয়। বাগুজের পতন সত্ত্বেও আবু বকর আল-বাগদাদি সরে গেছেন অনুমান করা হচ্ছে, তিনি ইরাকের কোথাও আছেন। এপ্রিলের ২৯ তারিখে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে বাগদাদি কেবল তাঁর অস্তিত্বের, তাঁর নেতৃত্বের জানান দেননি, আইএসের সদস্য ও সমর্থকদের মনোবলও জোরদার করেছেন। এই বছরের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক ড্যানিয়েল কোটস গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যে সমন্বিত রিপোর্ট পেশ করেন, তাতে বলা হয়েছে যে আইএস ইতিমধ্যে ৮টি শাখা এবং কমপক্ষে ১২টি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের সমর্থকেরা সংগঠিত হয়ে নতুন করে গেরিলা যুদ্ধের চেষ্টা শুরু করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় আইএসের মনোযোগ দেওয়ার ঘটনা ইতিমধ্যে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বাগদাদির ২৯ এপ্রিলের ভিডিও বার্তায় শ্রীলঙ্কায় ২১ এপ্রিলের সন্ত্রাসী হামলার উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও অনেকেই এ হামলা আইএসের চালানো কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া একসময় গোটা দক্ষিণ এশিয়াকে খোরাশান প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত বলেই বলা হতো, কিন্তু ১০ ও ১৫ মে আইএস ভারত ও পাকিস্তানকে আলাদা দুটি প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে ও ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বেশ কিছু ছোট আকারের হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে। তবে এই অঞ্চলে আইএসের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে আফগানিস্তানে। সিরিয়া ও ইরাক থেকে সরে আসা অনেক যোদ্ধাই এখন আফগানিস্তানে উপস্থিত হয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। তদুপরি নানগার, নুরিস্তান ও কুনার প্রদেশে আইএসের উপস্থিতির কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনাপ্রবাহ এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আইএসের প্রতিষ্ঠিত কথিত ভৌগোলিকভাবে খিলাফতের পতন হয়েছে, কিন্তু আদর্শ হিসেবে আইএসের আদর্শের পরাজয় হতে এখনো অনেক সময় বাকি আছে। আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর | 8 |
কিছুদিন ধরে ছেলে সেতুকে দেখতে ইচ্ছা করছিল মা অঞ্জনার। তিনি বারবার ছেলেকে গ্রামের বাড়িতে আসতে বলেন, কিন্তু ছুটি পাচ্ছিলেন না সেতু। অবশেষে সেতু ছুটি পেয়েছেন, চিরদিনের ছুটি। তিনি গ্রামের বাড়িতে এলেন, তবে জীবিত নয়, লাশ হয়ে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার হেমসেন লেন এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান সেতু। সেতুর পুরো নাম সেতু মিত্র তালুকদার (৩০)। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ ঘাটচেক গ্রামে। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে তাঁর লাশ আনা হয়। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা অঞ্জনা মিত্র তালুকদার ও বাবা প্রদীপ মিত্র তালুকদার। স্বজনেরা বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে সেতু ছোট। তিনি ২০১১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। সর্বশেষ চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বিশেষ শাখায় (সিটিএসবি) কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে হেমসেন লেন এলাকায় হেঁটে যাওয়ার সময় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি সেতুকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। গাড়িসহ চালককে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ আটক করেছে। বুধবার দুপুরে সেতুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে প্রচুর মানুষের ভিড়। কাঁচা ঘরের ভেতর বিলাপ করে কাঁদছেন সেতুর মা। তিনি বলেন, এ বছরের জানুয়ারির শুরুতে বাড়িতে আসেন সেতু। এক সপ্তাহ আগে তিনি মুঠোফোনে ছেলেকে বাড়িতে আসতে বলেন। কিন্তু ছুটি পাচ্ছিলেন না বলে বাড়িতে আসতে পারছিলেন না তাঁর ছেলে। সর্বশেষ সোমবার রাতে তাঁর সঙ্গে কথা হয় সেতুর। তখন সেতু তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি ওষুধ খেয়েছেন কি না। এ কথা বলতেই আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন অঞ্জনা। বিলাপ করে বলতে থাকেন, 'এখন ওষুধ খেয়েছ কি না, আমাকে জিজ্ঞাসা করবে কে?' ঘরের বাইরে কাপড়ের শামিয়ানার ভেতর সেতুর শেষকৃত্যের প্রস্তুতি চলছিল। সেখানে চেয়ারে বসে কাঁদছিলেন সেতুর বাবা। এক স্বজন তাঁকে জড়িয়ে ধরে আছেন। তিনি কোনো কথাই বলতে পারছেন না। এ সময় উপস্থিত স্বজনেরা বলেন, বাড়ির পাশে বৌদ্ধবিহারের উঠানে শেষকৃত্য হবে সেতুর। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা সোমবার জেনেভায় মিলিত হয়ে ইউক্রেন সীমান্ত বরাবর রাশিয়ার বিশাল সেনা সমাবেশ এবং পশ্চিমের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়ে রাশিয়ার দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।.যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র বলেন স্থানীয় সময় ঠিক সকাল ৯টায় এই আলোচনা শুরু হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র ইউক্রেন নয়, তারা ন্যাটো জোট ও ইউরোপজুড়ে অন্যা মিত্রদের সাথে শলা-পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করছেন। এক বিবৃতিতে মুখপাত্র বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনসহ আমাদের ইউরোপীয় মিত্র ও অংশীদারদের সাথে নিরাপত্তার ব্যাপারে 'তুমি ছাড়া তোমার সম্পর্কে কিছু নয়' এই নীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিটি স্তরে আমরা আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের সাথে দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতেও একই ব্যবস্থা নেবো।" জেনেভা আলোচনার পর রাশিয়া বুধবার ব্রাসেলসে নেটো জোট ও বৃহস্পতিবার জেনিভায় ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার ( ওএসসিই) সাথেও আলোচনা করার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন আবার বলেছেন, '৮ বছর আগে ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া কুক্ষিগত করার পর মস্কো যদি এবার ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।' এবিসি টিভি চ্যানেলের 'দিস উইক' অনুষ্ঠানে ব্লিংকেন বলেন, 'কূটনৈতিক নিষ্পত্তিতে আমরা সবিশেষ জোর দিচ্ছি, তবে রাশিয়ার ওপরই তা নির্ভর করছে।' তিনি বলেন, ইউরোপে সামরিক মহড়া এবং পুনরায় অস্ত্র সীমিত করা সংক্রান্ত আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে অতীতে লঙ্ঘনের জন্য তিনি রাশিয়াকে দোষারোপ করেন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া আলোচনা বৈঠকের আগে দুটি পক্ষের শীর্ষ কূটনীতিকেরা এ সপ্তাহে দুটি দেশের উত্তেজনা প্রশমিত হবার ব্যাপারে সামান্যই আশাবাদ প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন, 'মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সামরিক মহড়ার ব্যাপারে রাশিয়ার উদ্বেগের কথা আমরা শুনব, তবে সাথে আরো বলেন, রাশিয়া যে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে ১ লাখের বেশি বিশাল সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে, সে ব্যাপারে আমাদের উদ্বেগের কথাও তাদের শুনতে হবে।' ইউক্রেন আক্রমণের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে রাশিয়া। তারা দাবি করেছে, ন্যাটোর সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে এবং ১৯৯৭ সালের পর ন্যাটোতে যোগ দেয়া মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় ইউরোপীয় দেশগুলোতে জোটের সামরিক মহড়া বন্ধ করতে হবে।সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা | 3 |
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের সঞ্চয়ী আমানত প্রকল্পের (ডিপিএস) মাসিক কিস্তি বিলম্বে পরিশোধে জরিমানা মওকুফ করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ঘোষণার দিন থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সবধরনের ডিপিএস গ্রাহকরা এ সুবিধা পাবেন। মহামারী করোনাভাইরাসের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে গ্রাহক স্বার্থে এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটির (ম্যানকম) সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) তারিকুল ইসলাম চৌধুরী। নভেল করোনাভাইরাস প্রেক্ষিতে সরকার ২৬ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বর্ধিত করেছে। এসময়ে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তাছাড়া মানুষের আয়ও অনেকাংশে কমে গেছে। এপ্রেক্ষিতে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে আগামী ৩০ জুন, ২০২০ পর্যন্ত বিলম্বে কিস্তি পরিশোধে জরিমানা ছাড় করা হয়েছে। অর্থাৎ এসময়ে ডিপিএস গ্রাহক তাদের কিস্তি পরিশোধে অপারগ হলে ব্যাংক কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত জরিমানা ফি মওকুফ করবে। গ্রাহকরা তাদের বকেয়া ডিপিএসের অর্থ জমায় পরবর্তী তিন মাস অতিরিক্ত সময় পাবেন এবং এসময়ে তাদের নিয়মিত কিস্তিও পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি যেসব গ্রাহকদের স্কিমের কিস্তির অর্থ ব্যাংক হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়ার চুক্তি রয়েছে, তা পর্যাপ্ত তহবিল থাকাসাপেক্ষে অব্যাহত থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা অর্থের স্বল্পতা থাকলে তিনিও জরিমানা মওকুফের সুবিধা পাবেন। এবিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মহামারী করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে গেছে। মানুষের উপার্জনও সঙ্কুচিত হয়েছে। তাছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে সরকার কোভিড-১৯ সংক্রামণ রোধে জনসাধারণকে ঘরে রাখতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এমতবস্থায় গ্রাহকদের সুবিধা বিবেচনায় ব্যাংকের সবধরনের সঞ্চয়ী আমানত প্রকল্পের মাসিকভিত্তিক কিস্তি বিলম্বে পরিশোধে জরিমানা আরোপে রেহাই দেওয়া হয়েছে। বিলম্বে কিস্তি পরিশোধে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের স্কিমের সুবিধায় কোনো পরিবর্তন আসবে না। এতে করে বিরূপ পরিস্থিতিতে ডিপিএসের কিস্তি জমার বিড়ম্বনা থেকে গ্রাহকরা মুক্তি পাবেন। | 0 |
বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগে বিরতির পর গত ১৯ মে ফিরেই বড় জয় পেয়েছিল আতাউর রহমান ভূঁইয়া কলেজ স্পোর্টিং ক্লাব (এআরবি)। শনিবার এআরবি ও বসুন্ধরা কিংস দুদলই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। এআরবি ১১-০ গোলের ব্যবধানে কাচিঝুলি স্পোর্টিং ক্লাবকে ও বসুন্ধরা কিংস ৬-০ ব্যবধানে হারিয়েছে এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। বসুন্ধরার হয়ে হ্যাটট্রিক করেন কৃষ্ণা রানি সরকার। এ নিয়ে টুর্নামেন্টে ১০ গোল করলেন বসুন্ধরার ফরোয়ার্ড। এবারের লিগকে সামনে রেখে গত ১০ মার্চ থেকে ২০ মার্চ সময়ে দলগুলোকে গুছিয়ে ওঠার সুযোগ দেয় বাফুফে। এর মধ্যে বসুন্ধরা কিংসের স্কোয়াড সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। দলবদলে ঘর গুছিয়েছিল আতাউর রহমান ভূঁইয়া কলেজ স্পোর্টিং ক্লাবও। মাঠের খেলায় এবার তারই ফল পাচ্ছে এআরবি। আগের খেলায় নাসরিন একাডেমরি বিপক্ষে বড় জয় পায় তারা। সেই ধারাবাহিকতা শনিবারও কাচিঝুলির বিপক্ষে ধরে রেখেছে এআরবি। তবে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে যেন আরো ভয়ঙ্কররূপে দেখা দিয়েছে তারা। কাচিঝুলিকে দাঁড়াতেই দেয়নি এআরবি। অন্য ম্যাচে বসুন্ধরা ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে হারায় ৬-০ গোলে। বসুন্ধরা কিংসের পক্ষে কৃষ্ণা রানি সরকার ৭, ১৬ ও ৫৬ মিনিটে তিনটি, শামসুন্নাহার জুনিয়র ৫৪ ও ৫৯ মিনিটে দুটি এবং মারিয়া মান্ডা ৮৯ মিনিটে একটি গোল করেন। মার্চের ৩১ তারিখ শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের এবারের আসর। করোনা ভাইরাসের কারণে ৪ এপ্রিল সূচি স্থগিত করা হয়। এ পর্যন্ত নারী ফুটবল লিগের মোট তিনটি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বপ্রথম ২০১১ সালে শিরোপা জিতে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য সালমা খাতুন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। দুই বছর বিরতি দিয়ে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আসর। যেখানে ঢাকা মোহামেডানকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনী। আগের আসরেও ঢাকা মোহামেডান রানার্সআপ হয়েছিল। শিরোপাজয়ী দলের অং চিং মারমা টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেন। সর্বশেষ ২০২০ সালের টুর্নামেন্টে বসুন্ধরা কিংসের মেয়েরা ট্রফি জিতে। | 12 |
সিঙ্গাপুরের ফার্স্ট জেন্টেলম্যান মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল হাবশি ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জন্য উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) সিলেট মহানগরীর দরগা গেট এলাকায় হোটেল স্টার প্যাসিফিকে 'উন্নয়ন অগ্রযাত্রা' শিরোনামে সিলেটের উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়ার পর সিঙ্গাপুর তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। আজ ভাসানচরে আরও ৩ হাজার রোহিঙ্গা যাবে এবং এক লাখ সেখানে নেওয়া হবে। রোহিঙ্গাদের মঙ্গলের জন্য তাদের ভাসানচরে নেওয়া হবে। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেটের সব নদীর পাড় অন্য দেশের মতো দৃষ্টিনন্দন হবে। এ রিংরোড হলে এ শহরের যানজট কমে যাবে। 'সিলেটে দৃষ্টিনন্দন স্বাধীনতা টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। শেখ হাসিনার সরকার আছে বলে সারাদেশে অভাবনীয় সাফল্য দেখছি। ' ড. মোমেন মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সিলেট একটি বিশেষ কর্মসূচির প্রত্যাশা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, উন্নয়নের মহাসড়কের জন্য ধন্যবাদ দিতে হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। | 6 |
মুকুলে ছেয়ে গেছে রাঙামাটির নানিয়ারচরের আমবাগানগুলো। থোকা থোকা মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে ডাল। বাতাসে অনেক দূরে থেকে পাওয়া যায় সেই ঘ্রাণ। উপজেলার বগাছড়ি, ডাকবাংলো, ইসলামপুর খাইল্লা বাড়ি এলাকায় এই চিত্র দেখা যায়। মুকুলের গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে স্বপ্ন।জেলায় আনারসের পর আমের জন্য পরিচিত এই উপজেলা। সারা দেশে যায় এখানকার আম। আবহাওয়া প্রতিকূলে না গেলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকেরা।এদিকে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে আমগাছগুলো।বিগত বছরের মতো এবারও আম্রুপালি, ল্যাংড়া, ফজলি জাতের আমের চাষ হয়েছে। সব গাছের পুরোপুরি মুকুল ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকেরা।বাগান মালিক ওমর ফারুক ও কামরুল ইসলাম জানান, তিন সপ্তাহ আগে থেকে বাগানের আমগাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশির ভাগ গাছই মুকুলে ছেয়ে গেছে, কিছু গাছে এখনো মুকুল বের হচ্ছে। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন তাঁরা।বাগান মালিকেরা আরও জানান, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন বলে আশা করা হচ্ছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুয়ায়ী, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এতে ৪ হাজার ৫৬০ মেট্রিকটন আম উৎপাদন হয়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, আবহাওয়াগত কারণে দেশীয় জাতের গাছে আগাম মুকুল আসতে শুরু করে। এ সময় বাগানে থাকা পোকা মুকুলের ক্ষতি করে। পোকা দমনে বালইনাশক ছিটাতে হবে। | 6 |
বাজারে স্বস্তি নেই সাধারণ মানুষের। প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। চাল, ডাল, তেল, চিনি থেকে শুরু করে মৌসুমি সবজির দামও চড়া। বেড়েছে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম। এরই মধ্যে হঠাৎ করে পেঁয়াজের বাজার গরম হয়ে উঠেছে। তাই রমজান নিয়ে চিন্তা আরও বাড়ছে।পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, বাজারে বর্তমানে মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ রয়েছে। তবে এর মজুত প্রায় শেষ হওয়ার পথে। এ কারণে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। নতুন হালি পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত বাজারে দাম কিছুটা বাড়তির দিকে থাকবে বলে মনে করছেন তাঁরা।পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগেও তাঁদের বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ২২-২৬ টাকায়। গতকাল বুধবার তা বিক্রি হয়েছে ৩৬-৩৮ টাকায়। অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১২-১৪ টাকা।পাবনার সুজানগর এলাকার মথুয়াপুর গ্রামের কৃষক মামুনুর রহমান জানান, এক সপ্তাহ আগে তাঁদের এলাকায় প্রতিমণ (৪০ কেজি) পেঁয়াজের দাম ছিল ৯৫০ থেকে ৯৮০ টাকা পর্যন্ত। এ হিসেবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ২৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ২৪ টাকা ৫০ পয়সা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা। এ হিসেবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৪০ টাকায়। কৃষক পর্যায়ে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত।রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫-৩৫ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকায়। এক বছর আগে একই দিনে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ২৫-৩৫ টাকা। আর এক সপ্তাহ আগে মানভেদে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৪০-৫০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকায়। যা এক বছর আগে একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ২০-২৫ টাকা।পেঁয়াজচাষিরা জানান, পেঁয়াজ আবাদের প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই বেশি। কীটনাশক থেকে শুরু করে দিনমজুরের দামও অনেক চড়া। বর্তমানে ৭০০-৭৫০ টাকার নিচে একজন মজুর পাওয়া যাচ্ছে না। পেঁয়াজ আবাদে যে খরচ হচ্ছে, তাতে কৃষক দাম ভালো না পেলে তাঁদের মন খারাপ থাকে। পাঁচ-ছয় দিন ধরে বাজারে দাম বাড়লেও অনেকের কাছেই এখন পেঁয়াজের বেশি মজুত নেই।বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে পেঁয়াজের মোট চাহিদা ২৫ লাখ মেট্রিক টন। দেশে উৎপাদন হয় ২৯ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। সংরক্ষণের কারণে প্রসেস লস হয় ২৫ শতাংশ। আর আমদানি করা পেঁয়াজে প্রসেস লস হয় ৮-১০ শতাংশ। দেশে বছরে পেঁয়াজ আমদানি হয় ৬-৭ লাখ মেট্রিক টন। বাজার যাতে অস্বাভাবিক না বাড়ে সেজন্য সরকার টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে। বর্তমানে দেশের পাবনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ, রাজশাহী ও নাটোরে পেঁয়াজ আবাদ হয়। | 6 |
চলে গেলেন বিপ্লবী ফিদেল ক্যাস্ত্রো।। তবে তার মৃত্যুর পরেও কেউই ভুলতে পারবেন না তার কয়েকটি স্মরণীয় মন্তব্য। যা সবার মনে থেকে যাবে আজীবন- ১। 'আমাকে খুন করে জনতার মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করতেই পারেন। তবে ইতিহাস আমাকে মুছতে পারবে না।' ৩। 'এখনই দাড়ি কেটে ফেলব না। কারণ আমার দাড়ি অনেক সংগ্রামের প্রতীক। আমরা যেদিন লক্ষ্যে পৌঁছে যাব, সেদিন দাড়ি কেটে ফেলব।' ৪। 'কিউবার জনগণের জন্য যদি শেষ কোনও আত্মত্যাগ করতে হয়, তাহলে ধূমপান ছেড়ে দেবো।' ৫। 'আশি বছর বয়স হয়ে গেল। জীবন থেকে এখন আর কিছুই চাওয়ার নেই।' ৬। 'যা বুঝতে পারছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমার লড়াই কোনও দিনই শেষ হবে না।' ৭। 'বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুফল কী জানেন? আমাদের দেশের যৌনকর্মীরাও সকলেই স্নাতকস্তর পর্যন্ত পড়াশুনো করেছেন।'
বিডি-প্রতিদিন/২৬ নভেম্বর, ২০১৬/তাফসীর-১৪ | 3 |
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহাদুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কৌশল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বিশ্বনেতাদের কাছে তা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী।মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে প্রত্যেক দেশের সরকারপ্রধান নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে লকডাউনে যে কৌশল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। করোনাকালে ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটা দুর্বল হয়ে যায়। আর সে সময় বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৌশলীভাবে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেন।তাজুল ইসলাম বলেন, করোনাকালে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অনেকটা থমকে দাঁড়ায়। আমাদের প্রতিটা সেক্টরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা উদ্যোগ নেন। গার্মেন্টস, ব্যাংক, কলকারখানাসহ বিভিন্ন সেক্টরে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার ২৮টির বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এতে করে করোনাকালে যে ক্ষতি হয়েছে সেটা খুব দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, তৈরি পোশাক ও চামড়াশিল্পের দুস্থ শ্রমিক, রপ্তানিমুখী শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজীবী চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মী, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং গৃহহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীসহ সব মানুষের কথা চিন্তা করে প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে সরকার।সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এমপি, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ড্রা বার্গ ভন লিন্ডে, এশিয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই বিভাগের সহ মহাব্যবস্থাপক লিজা ফাহমিদাসহ অন্যরা। | 6 |
জার্মানির হামবুর্গে ইরানের কনস্যুলেট জেনারেলে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা হামলা চালিয়েছে। শনিবার স্থানীয় পুলিশ এ তথ্য জানায়। হামবুর্গে পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কনস্যুলেটের লোহার গেটে দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মারে। খবর আনাদুলু অ্যাজেন্সির। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে এলাকায় কনস্যুলেট অবস্থিত সেখানে ধোঁয়া উঠেছিল। তবে আগুন তাৎক্ষণিকভাবে নিভিয়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইদ খাতিবজাদেহ তার দেশের কনস্যুলেট জেনারেলের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে, খতিবজাদেহ কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিয়েনা কনভেনশনের অধীনে জার্মানিতে ইরানের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জার্মান সরকারকে আহ্বান জানান। পার্সটুডের খবরে বলা হয়েছে, হামলার প্রত্যক্ষদর্শী একজন গাড়িচালক জানান, তিনি দুই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যেতে দেখেছেন। এ ঘটনার জের ধরে জার্মানির পুলিশ রোমানিয়ার সন্দেহভাজন দুই নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে এবং ইরানি কনস্যুলেটের আশপাশে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই হামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর হোতাদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বার্লিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। বেশ কয়েক বছর ধরে এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এমন সংকটের কারণে উপজেলার শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ঠাকুর দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রায়টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মালিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্ষেমিরদিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বৃত্তিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম বাইরচর বারো মাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জুনিয়াদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটষট্টিপাড়া রূপালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারোদাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সলেমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোলাপনগর চাঁদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজন এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। কয়েকটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সহকারী শিক্ষকও নেই। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের ১৮টি পদ শূন্য রয়েছে।ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ, এমনিতেই শিক্ষক সংকট। তাঁরা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারছেন না। দাপ্তরিক কাজ করতে গিয়েই সময় শেষ হয়ে যায়। পর্যাপ্ত শিক্ষকের বিপরীতে দুই থেকে তিনজন শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের। এতে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।একাধিক সহকারী শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা অধিকাংশ সময় দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। দাপ্তরিক কাজ শেষ করে অবশিষ্ট সময়ে পাঠদান করেন। তাঁদের মতে, সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষকের কাজ করলে তাঁর পক্ষে শতভাগ পাঠদান করা সম্ভব না।এ বিষয়ে মালিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম প্রধান শিক্ষক নিয়ন্ত্রণ করেন। পদ খালি থাকায় সহকারী শিক্ষক হয়ে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব পালন করছি। একজন সহকারী শিক্ষকের যে কাজ তা করতে পারছি না। আমাদের বিদ্যালয়ে ৫ জন সহকারী শিক্ষকের পদ থাকলেও আছেন তিনজন। এর মধ্যে একজন পিটিআই ট্রেনিংয়ে আছেন। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করাসহ দুজন শিক্ষকের পক্ষে পাঠদান সম্ভব না। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে এবং শিক্ষক ও অভিভাবকেরা দুশ্চিন্তায় থাকবেন।'ঠাকুর দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, 'আমার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক পদে মোট সাত জনশিক্ষক থাকার কথা। সেখানে রয়েছেন মাত্র ৪ জন। তাঁর মধ্যে আমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।'রায়টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম নবী বলেন, 'প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সেই দায়িত্ব পালন করছি আমি। আমাকে সব সময় স্কুলের খাতাপত্র ও দাপ্তরিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে তেমন মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে এ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে ঠেকবে জানি না।'গোলাম নবী আরও বলেন, 'প্রধান শিক্ষকেরা বাড়তি সুবিধা পেলেও আমরা যাঁরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি তাঁরা কোনো বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি প্রধান শিক্ষকের মতো দায়িত্ব পালন করছি।'ভেড়ামারা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান আরা বলেন, 'যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে তার একটি তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে বলে আশা করছি।' | 6 |
যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১১ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর মাধ্যমে সম্রাটের বিরুদ্ধে আর কোন মামলা না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। এরআগে গত ১১ এপ্রিল রমনা থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় এবং গত ১০ এপ্রিল অস্ত্র ও অর্থপাচারের মামলাতে জামিন পান সম্রাট। সম্রাটের আইনজীবী মাহবুবুল আলম দুলাল বলেন, সম্রাটের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের মামলা বাদে অস্ত্র, মাদক ও অর্থপাচারের মামলায় আগেই জামিন পান তিনি। তবে আজ দুদকের মামলাতেও জামিন পাওয়ায় সম্রাটের কারামুক্ত হতে আর কোনো বাধা নেই। এদিকে, জামিন পেলেও দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না সম্রাট। এটিসহ তিন শর্তে তাকে জামিন দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে অসুস্থতা বিবেচনা করে, বিদেশে না যাওয়ার শর্তে এবং প্রতিটি ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দেয়ার শর্তে তাকে জামিন দেয়া বলে জানান সম্রাটের আইনজীবী মাহবুবুল আলম দুলাল। এই তিন শর্তে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তাকে জামিন দেয়া হয়। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করার পর তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালায় র্যাব। পরে একই বছরের ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, সম্রাট বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযোগ আছে তিনি মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকায় ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সেগুলোতে লোক বসিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন। অনেক সময় ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তিনি অবৈধভাবে উপার্জিত এসব অর্থ দিয়ে ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি ও উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট কিনেছেন ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া তার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে নামে-বেনামে এক হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সম্রাটের নামে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। গত ২২ মার্চ এ মামলাটির চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। | 6 |
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে মহা ধন্দে পড়ে গেছেন পশ্চিমা গোয়েন্দারা। কিছুতেই তার মনোজগৎ পাঠ করতে পারছেন না তারা। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এ নেতার মানসিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে। কখনও তাকে 'উন্মাদ', 'দুষ্ট পাগল', 'বিকৃত মস্তিস্ক', 'বিচ্ছিন্ন নেতা' বা 'অস্থির' উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও পুতিন ও তার নানা পদক্ষেপের বিষয়ে কোনো উপসংহারে পৌঁছতে পারেননি গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে 'পুতিনপাঠে'র তোড়জোড় চলছে। রুশ প্রেসিডেন্টের মাথায় এখন কী চলছে, সামনের দিনগুলোতে তার লক্ষ্য কী- তা অনুধাবনের চেষ্টা করছেন পশ্চিমারা। পাশাপাশি তাকে নানা নেতিবাচক খেতাব দেওয়া হচ্ছে। আলজাজিরা ও বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাস্তবে এখন এসব উপাধি দেওয়ার সময় নয়; এখন সময় যুদ্ধ বন্ধের উপায় খোঁজা। ২৪ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভিযান ঘোষণার দিন থেকে ইউক্রেনে টানা হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। এ সময় পুতিনকে পড়তে পারা পশ্চিমাদের জন্য আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ও চাপে রুশ নেতার দিশেহারা অবস্থা হওয়ার কথা। তবুও আত্মপ্রত্যয়ী পুতিনকে তারা বুঝতে পারছেন না। মাঝেমধ্যে পুতিনকে নিয়ে নানা গুজবও ছড়ান পশ্চিমারা। কিছু দিন আগে ক্রেমলিন নেতা অসুস্থ ছিলেন বলে অনুমাননির্ভর খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর রাশিয়া অপারেশনের সাবেক পরিচালনা কর্মকর্তা জন সিফার বলেন, ক্রেমলিনের কৌশল বোঝার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মস্কোতে পুতিন একাই সব সিদ্ধান্ত নেন।' তবে আগে তার মতামত প্রায়ই স্পষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু এখন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি কীভাবে কাজ করবেন, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে সমর বিশেষজ্ঞ ও গোয়েন্দাদের পক্ষে। যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ৬-এর সাবেক প্রধান স্যার জন সাওয়ারস বলেন, 'রাশিয়ার মতো সুরক্ষিত একটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে নেতার মাথায় কী চলছে, সে সম্পর্কে জানা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ, বিশেষ করে যখন তার ঘনিষ্ঠ অনেক লোকেই জানে না, সেখানে আসলে কী ঘটছে।' দ্য সাইকোলজি অব স্পাইস অ্যান্ড স্পাইং নামে আসন্ন বইয়ের সহলেখক ও মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ার ফার্নহ্যাম বলেন, 'এক অর্থে, পুতিন নিজেই নিজের শিকার। কারণ তিনি শুধু নির্দিষ্ট কিছু লোকের কথা শোনেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিশ্ব সম্পর্কে এক অদ্ভুত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে পুতিনের।' ইউক্রেনে মস্কোর হামলার শুরুর পর পশ্চিমা সমরবিদদের বিশ্বাস হয়েছে, পুতিনের পরামর্শদাতার সংখ্যা 'খুবই কম'। তারাও ক্রেমলিন নেতার মতো 'উন্মাদ'। এর আগে সাদ্দাম হোসাইনকে 'উন্মাদ' গাদ্দাফিকে 'বিকৃত মস্তিস্ক' হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। যে কোনো সংঘাতের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য 'ভালো' বনাম 'মন্দে'র বাইনারিতে ফেলতে এমন বিশেষণ দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিরোধীদের মনোবল ভাঙতে এমন বিশেষণ কাজে এলেও এবারের অবস্থা ভিন্ন। তবে এবার এমন কৌশল ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা ছড়াতে সুবিধা দেবে। নিঃসন্দেহে মস্কোর এই আক্রমণ অতিদানবীয়তা। তারপরও পুতিনের এ হামলা, তার যৌক্তিকতা বা উদ্দেশ্য নির্বিশেষে- অনিবার্যভাবে তিনটি ইস্যুতে প্রভাব ফেলবে- সিরিয়ায় যুদ্ধ, ইরানের পারমাণবিক চুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্র-চীনের শত্রুতা। রাশিয়ার ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে সিরিয়া থেকে অর্থ ও সেনা সরিয়ে এখন পুরোদমে ইউক্রেনে হামলা শুরু করতে পারে মস্কো। দ্বিতীয়ত, ইরান চুক্তির অন্যতম অংশীদার মিত্র রাশিয়া। যার কারণে চুক্তিতে পৌঁছানো এটির ওপর নির্ভর করছে। এ যুদ্ধ সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বৈরিতার ওপর। বেইজিং ও মস্কে কৌশলগত মিত্র এবং সুপারপাওয়ার হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও চীন 'উৎসাহমূলক' পদক্ষেপ ইন্দো-প্যাসিফিকেও উত্তেজনা বাড়াতে পারে। সব লক্ষণই বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ ছড়ালে আরও যুদ্ধক্ষেত্র বাড়বে। এরই মধ্যে ১৩ মার্চ ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ড সীমান্তেও রকেট হামলা চালিয়েছে মস্কো। এখন এটি ন্যাটোর মধ্যে ছড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে। এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন পুতিন 'দুষ্ট পাগল', ইউক্রেনে যা করেছেন, তা অযৌক্তিক- এসব অভিযোগ করার সময় নয়। এখন 'ভালো' বনাম 'মন্দে'র বাইনারিতে সময় বিনিয়োগের সুযোগ নেই। এখন সময় উত্তেজনা হ্রাসে, আস্থা তৈরিতে ও শান্তি স্থাপনে বৈশ্বিকভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার। এর ব্যতিক্রম হলে ভয়াবহ পরিণতি হবে সবার। | 3 |
'সুপার ট্যাকটিশিয়ান' হিসেবে পরিচিত লুই ফন গাল কত পরিকল্পনাই তো গোপন রাখেন। তাই বলে এত বড় রোগ লুকিয়ে রাখবেন, তা কি কেউ ঘুণাক্ষরেও ভেবেছিলেন?নেদারল্যান্ডস কোচ প্রোস্টেট ক্যানসারে (মূত্রস্থলীর গ্রন্থিবিশেষ) আক্রান্ত। সম্প্রতি স্থানীয় টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন নিজেই। দলের স্বার্থেই নাকি গোপনীয়তা রক্ষা করেছেন ৭০ বছর বয়সী কোচ, 'সত্যি বলতে এই খবর (ক্যানসারে আক্রান্ত) শিষ্যদের জানাতে চাইনি। এটা ওদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারত। আমি পেছনের দরজা দিয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়েছি। ২৫ বার রেডিওথেরাপি নিয়েছি। আমার চিকিৎসা বিস্ময়করভাবে হয়েছে।'ফন গালের এই লুকোচুরি ছুঁয়ে গেছে সবার হৃদয়, বিশেষ করে ভার্জিল ফন ডাইকের। তাই তো ডাচ অধিনায়ক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কোচের জন্যই কাতার বিশ্বকাপ রাঙাবেন, তাঁকে উপহার দেবেন শিরোপা।লিভারপুলের তারকা ডিফেন্ডার বলেছেন, 'ওই সাক্ষাৎকারের পর আমি তাঁকে বার্তা পাঠিয়েছি। তিনি সম্ভবত সে ধরনের মানুষ নন, যাঁর অনেক সহানুভূতির প্রয়োজন। তিনি এমনই। তবে আমি তাঁকে বলেছি, আমরা দল হিসেবে পাশে থাকব। আশা করছি, আমরা তাঁকে এমন একটি বিশ্বকাপ উপহার দেব, যেটা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।'পারিবারিক কারণে ২০১৭ সালে অবসরে গিয়েছিলেন ফন গাল। পরে জানান, তার সেই অবসর ছিল সাময়িক। সবাই যখন তাঁর ফেরার অপেক্ষায়, তখন ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন ডাচ কিংবদন্তি।কিন্তু কোচিং করানোর নেশা নির্মূল করতে পারেননি ফন গাল। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েও গত বছরের আগস্ট তৃতীয় দফায় নিজ দেশের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন তিনি। দলকে কাতার বিশ্বকাপের টিকিট পাইয়ে দেওয়া কোচ ফুটবল মহাযজ্ঞেও ডাগআউটে দাঁড়াবেন। | 12 |
শনিবার মধ্যরাতে জম্মুতে ভারতীয় বিমান বাহিনী স্টেশনে ড্রোনের সাহাড্যে বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রোববার রাতে জম্মু ও কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলায় এক স্পেশাল পুলিশ অফিসারের (এসপিও) বাড়িতে হামলা চালাল অস্ত্রধারীরা। মৃত্যু হয়েছে ওই স্পেশাল পুলিশ অফিসার এবং তার স্ত্রী'র। আহত হয়েছেন তাদের মেয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত স্পেশাল পুলিশ অফিসারের নাম ফয়াজ আহমেদ। তিনি পুলওয়ামায় কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে অবন্তীপোরার পুলিশ কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, 'হামলায় উনি মারা গিয়েছেন। তার স্ত্রী এবং মেয়ে আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।' পরে পুলিশের তরফে জানানো হয়, স্পেশাল পুলিশ অফিসারের স্ত্রীও মারা গিয়েছেন। টুইটারে কাশ্মির জোনের পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবন্তীপোরার হরিপরিগামে ফয়াজের বাড়িতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় অস্ত্রধারীরা। সেই সন্ত্রাসবাদী হামলায় ফয়াজ, তার স্ত্রী এবং মেয়ে গুলিবিদ্ধ হন। কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যু হয় ফয়াজের। পরে হাসপাতালে মারা যান স্পেশাল পুলিশ অফিসারের স্ত্রী। আপাতত পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। চালানো হচ্ছে তল্লাশি। মাত্র দিনকয়েক আগেই শ্রীনগরের বাইরের দিকে মৃত্যু হয়েছিল এক পুলিশ কর্মকর্তার। পুলিশের তরফে জানানো হয়, নওগামে বাড়ির কাছেই পারভেজ আহমেদ নামে ওই ইন্সপেক্টরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তড়িঘড়ি তাকে পুরনো শহরের শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। সেই ঘটনায় উগ্রবাদীদের হাত আছে বলেই প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের। দিনকয়েকের ব্যবধানে একই ধাঁচে দুই পুলিশ কর্মকর্তার উপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষত শনিবার মধ্যরাতে জম্মুতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জম্মু বিমানবন্দরের বিমানবাহিনীর স্টেশনে দুটি বিস্ফোরক-বোঝাই ড্রোন আছড়ে পড়ে। পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বিস্ফোরণ হয়। যা ভিভিআইপি এবং সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জোড়া বিস্ফোরণে আহত হন দু'জন বিমানবাহিনী কর্মকর্তা। পরে জম্মু ও কাশ্মির পুলিশের ডিজি দিলবাগ সিং জানান, উগ্রবাদী হামলা চালানো হয়েছিল বিমানবাহিনীর স্টেশনে। তিনি বলেন, 'আমরা অপর একটি ঘটনায় এক উগ্রবাদীর কাছ থেকে পাঁচ থেকে ছয় কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করেছি। সেই সব বিস্ফোরক ভারতে আনার নেপথ্যে ছিল লস্কর (লস্কর-ই-তৈয়বা)। এই বিস্ফোরক কোনো জনবহুল এলাকায় রেখে আসার পরিকল্পনা ছিল। এই বিস্ফোরক উদ্ধার করার ফলে অনেক বড় হামলা আটকানো গেছে। এই ঘটনায় আরো সন্দেহভাজনদের শিগগিরই আটক করা হবে। কেন্দ্রীয় সংস্থার সাথে হাত মিলিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটির বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।'সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস | 3 |
যানজটে আরও একটি চরম দুর্ভোগের দিন পোহাতে হয়েছে রাজধানীবাসীকে। সকালে অফিস সময়ের প্রতিদিনের স্বাভাবিক যানজট বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কমে যায়। কিন্তু গতকাল সোমবার ছিল এর উল্টো চিত্র। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে যানজট দীর্ঘ হতে থাকে। বিশেষ করে বনানী, মহাখালী, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, মগবাজার, মৎস্য ভবন মোড়, পুরনা পল্টন- সর্বত্র যানজটে প্রায় স্থবির হয়ে গিয়েছিল রাজপথ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরও যানজটের কবলে পড়ে। বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় তিনি বলেন, 'আজ সমাবেশে আসার সময় আমিও যানজটে পড়েছিলাম।'
যদিও প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের নিরাপত্তার প্রয়োজনে রাস্তা আগেই ফাঁকা করা হয়। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরের পর যানজট এত বেড়ে যায় যে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের জন্য রাস্তা ফাঁকা করাও দুরূহ হয়ে পড়ে।
দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর বাধ্য হয়ে বাস বা নিজস্ব গাড়ি থেকে নেমে অনেককে হেঁটেই গন্তব্যের দিকে যাত্রা করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি এমন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দু-একটি সড়ক কোনো কারণে বন্ধ হলে পুরো নগরীই প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
সকালেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ হোটেল র্যাডিসনে এবং পরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যান দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।
সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে যোগ দিতে যান সচিবালয়ে। অনিবার্যভাবে নিরাপত্তার প্রয়োজনে একাধিক রাস্তা দফায় দফায় বন্ধ রাখা হয়। দুপুরের মধ্যে ভিভিআইপি চলাচল শেষ হলেও বিকেলে যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানমুখী খণ্ড খণ্ড মিছিলের কারণে বিভিন্ন সড়কে সাময়িক যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে তা প্রায় স্থায়ী যানজটে রূপ নেয়। সন্ধ্যার পরও বিভিন্ন রাস্তায় যানজট ছিল। সকালে কর্মস্থলে আসার সময় যে দুর্ভোগ দিয়ে দিনের শুরু হয়েছিল, সেই দুর্ভোগ সন্ধ্যায় অসহনীয় হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে যানবাহন স্বল্পতা, অন্যদিকে যানজট! দুইয়ে মিলে দাঁড়িয়েছিল অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।
| 6 |
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে কোভেক্স ফ্যাসিলিটির আওতায় করোনাভাইরাস টিকা দ্রুত সরবরাহ করার আহ্বান জানিয়েছেনজাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বুধবারজেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের ১৪৮তম সভায় এ আহ্বান জানান তিনি। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দ্রুত টিকা সরবরাহ করার জন্যদৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ গাভি দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স, সিইপিআই এবং ইউনিসেফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেনমোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, চলমান মহামারি বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে উন্মোচিত করেছে। এসময় তিনি কভিড-১৯ ও মহামারি পরবর্তী সময়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রদূতমোস্তাফিজুররহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্স (এএমআর) সংক্রান্ত 'ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স' গ্রুপের কো-চেয়ার হিসেবে মনোনীত করায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, পশু স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশ্ব সংস্থা (ওআইই) এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. তেদরোস আধানোম গেব্রোয়াসুস গ্রুপের কো-চেয়ার হিসেবে নেতৃত্ব দানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া ড. তেদরোস করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত ও সঠিক সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করে একটি চিঠি দেন এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারেরে সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। এবারের নির্বাহী বোর্ডের সভায় স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ৫০টি বিষয়ের ওপর বিশদ আলোচনা হয়। এসময় পাঁচটি রেজুলেশন ও ১৩টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়সর্বসম্মতিক্রমে। গত ১৮ থেকে ২৬ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জেনেভাস্থ সদরদপ্তরে নির্বাহী বোর্ডের ১৪৮তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভার্চুয়াল এ সভায় নির্বাচিত সদস্য হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও অংশগ্রহণ করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি | 4 |
অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামাল তৃতীয় বাজেট পেশ করবেন আজ। অসুস্থ থাকায় প্রথম বাজেটটি ঠিকমতো উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় বাজেট দিতে হয়েছে করোনাভাইরাসের মধ্যে। আকাঙ্ক্ষা ছিল, পরের অর্থবছরের বাজেটটি দেওয়া যাবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে। কিন্তু তৃতীয় বাজেটও দিতে হচ্ছে তথাকথিত 'কঠোর' লকডাউনের মধ্যে, সরকারের ভাষায়, বিধিনিষেধের মধ্যে। নতুন বাজেটের আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি হবে বাংলাদেশের ৫০তম বাজেট। বাংলাদেশের বাজেটের একটি গতানুগতিক চেহারা আছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতাটি খুবই গতানুগতিক, অনাবশ্যকভাবে দীর্ঘ এবং ক্লান্তিকর। বাজেট তৈরির প্রক্রিয়াটিও গতানুগতিক। এই বাজেটে জনপ্রতিনিধিদেরও কোনো সম্পৃক্ততা থাকে না। নতুন বাজেট নিয়ে কিছু ব্যক্তি ও গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করেন অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আর বাজেটের পরে জাতীয় সংসদে আলোচনার পরে বাজেট পাস। পাসের আগে প্রধানমন্ত্রীর কিছু নির্দেশ, কিছু সংশোধন এবং বাজেট পাস। কেমন বাজেট চাই-এটি হচ্ছে বাজেটের আগের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। প্রত্যেকেই যাঁর যাঁর জায়গা থেকে বাজেট নিয়ে বেশ কিছু প্রত্যাশার কথা বলেন। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্ব অর্থনীতি সংকটে। জীবন ও জীবিকা-দুটোই একসঙ্গে রক্ষা করা অনেক দেশের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে বিভিন্ন দেশ গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে নতুন নতুন পথ বের করছে। এ রকম এক সময়ে কেমন বাজেট চাই-এ কথা না বলে একটু উল্টো করে বলা প্রয়োজন-কেমন বাজেট চাই না। তাহলে দেখি, কী কী চাই না। করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন নিয়েই এখন যত আলোচনা ও উৎকণ্ঠা। তাহলে ভারতীয় বাজেট নিয়েও আলোচনা করা যেতে পারে। দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট দিয়েছিলেন। পুরো বক্তৃতা ৬৫ পৃষ্ঠার, এর মধ্যে মূল বক্তৃতা ৩৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। বাকিটা পরিশিষ্ট। শুরুতেই তিনি জানান যে তাঁর বাজেটের পিলার বা স্তম্ভ ৬টি। যেমন: ১. স্বাস্থ্য ও ভালো থাকা, ২. ভৌত ও আর্থিক পুঁজি এবং অবকাঠামো, ৩. উন্নয়নে আগ্রহী ভারতের সার্বিক বিকাশ, ৪. মানবসম্পদের ক্ষেত্রে প্রাণসঞ্চার, ৫. উদ্ভাবন তথা গবেষণা ও উন্নয়ন এবং ৬. ন্যূনতম সরকার, সর্বাধিক প্রশাসন (মিনিমাম গভর্নমেন্ট, ম্যাক্সিমাম গভর্নেন্স)। অর্থমন্ত্রীর পুরো বক্তৃতাই এই ছয়টি বিষয়ের ওপর করা। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও ভালো থাকা খাতে বাজেট রেখেছেন আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বেশি। বাজেটের মোট আকার, আয় ও ব্যয়ের কোনো পরিসংখ্যান পুরো বক্তৃতার কোথাও উল্লেখ নেই। নেই কঠিন এই সময়ে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি অর্জনের কোনো ধরনের তথ্য। তবে আছে রাজস্ব পরিস্থিতি ও ঘাটতি অর্থায়ন নিয়ে বড় আলোচনা। যেমন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ প্রকৃত বাজেটে হিসাব অনুযায়ী ৩০.৪২ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিবর্তে সংশোধিত বাজেটে ৩৪.৫ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে বাজেট হিসেবে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে জিডিপির ৬.৮ শতাংশ, ২০২০-২১-এর সংশোধিত বাজেটে এই ঘাটতি জিডিপির ৯.৫ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে বাজার থেকে মোট ঋণ সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১২ লাখ কোটি টাকা। তবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬-এর মধ্যে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির সাড়ে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। বাজেটে সুখবরও দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, করপোরেট করহার কমিয়ে বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন করা হয়েছে। আর সুবিধা বাড়িয়ে ছোট করদাতাদের রেহাই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাজেটে উদ্যোক্তা, নারী, বয়স্ক জনগোষ্ঠীসহ কোন শ্রেণির জন্য কী কী সুবিধা রাখা হয়েছে, তারই বিবরণ রয়েছে। বিগত বছরের ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল যে বাজেটটি দিয়েছিলেন, সেখানে শুরুতেই অর্থনীতিতে দেশের সেরা জিডিপি প্রবৃদ্ধি উপহার না দিতে পারার জন্য আক্ষেপের কথা ছিল। ১১০ পাতার বাজেট বক্তৃতায় তিনি বেশ কয়েকবার এই জিডিপির কথা উল্লেখ করেছেন। নতুন বাজেটে জিডিপির আলোচনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন অর্থনীতিবিদ। কারণ, সময়টা জিডিপি প্রবৃদ্ধির নয়, বরং টিকে থাকার। সুতরাং প্রবৃদ্ধিমুখী বাজেটের কথা তুলে বাজেট আলোচনা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তা ছাড়া মানুষ আছে সীমাহীন কষ্টে। এ সময় প্রবৃদ্ধি আর মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তথ্য অনেকের কাছেই পরিসংখ্যানের অসারতা প্রমাণ করবে। সময়ের দিক থেকে ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম বক্তৃতা দিয়েছিলেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। ২০০০ সালে তিনি ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বক্তব্য দিয়েছিলেন। তবে শব্দসংখ্যা বিচারে সবচেয়ে বড় বক্তব্যটি দিয়েছিলেন মনমোহন সিং, ১৯৯১ সালে। তাঁর বক্তৃতায় শব্দসংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৬৫০। তবে ব্যাপক সংস্কার শুরুর ব্যাপক পরিকল্পনার কথা এই বাজেটেই উল্লেখ ছিল। এ কারণেই এটি ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। আর নির্মলা সীতারমণের বক্তৃতায় শব্দসংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ২৭৫। এবার অবশ্য নির্মলা সীতারমণ বক্তৃতার আকার কমিয়েছেন। বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতা ছিল ১৩০ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে ১১০ পাতাজুড়েই অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতা। বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী এর বড় অংশই হচ্ছে সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও সম্পদ সঞ্চালনের দীর্ঘ বিবরণ। এই বিবরণের বড় অংশই ক্লান্তিকর। বেশির ভাগই জানা তথ্য, কেবল বিবরণ আর বিবরণ। অন্য কোনো দেশের বাজেট বক্তৃতায় এ ধরনের বিবরণ চোখে পড়ে না। অথচ ছোট এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের বিবরণ থাকলেই বরং বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়বে। করোনার বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরিপ বলছে, আয় হারিয়েছে ৬০ শতাংশ মানুষ। কাজ হারিয়েছেন অনেকে। নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে বহু মানুষ। সরকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ দিয়েছে। এই ঋণের বড় অংশ বড়রা বেশি পেলেও ছোটরা পেয়েছে কম। চলতি বাজেটে সব শ্রেণির মানুষের জন্য যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তার ফল কী হয়েছে, সরকারের কী মূল্যায়ন, কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, কার কতটা লাভ হয়েছে, কারা পিছিয়ে আছে-এসবেরই বিবরণ মানুষ জানতে চাইবে বাজেটে। বর্তমান সংকটের সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের যত কাজ, সবকিছুর বিবরণ বাজেট বক্তৃতায় না দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের তথ্য দেওয়াটাই বেশি জরুরি। মুখে মুখে স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয় ঠিকই, কিন্তু বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয় প্রায় আগের মতোই। অগ্রাধিকারের কথা বললে, বরাদ্দে এর প্রতিফলন থাকা চাই। গত এক বছরে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে যা যা করা হয়েছে, তার একটি মূল্যায়ন থাকা দরকার নতুন বাজেটে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেন বাজেট ব্যয়ে পিছিয়ে, তারও কারণ জানানো চাই। গবেষণায় বরাদ্দ অর্থ ব্যবহার করতে না পারার কারণও জানতে চাইবে সাধারণ মানুষ। সুতরাং এ খাত নিয়ে গতানুগতিক বিবরণে আগ্রহ থাকবে না কারোই। বরং টিকার একটি রোডম্যাপ থাকা উচিত বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতসহ অন্য দেশের বাজেট বক্তৃতা পড়ে কত টাকার বাজেট তা জানার কোনো উপায় নেই। কিন্তু বাংলাদেশে থাকে এর বিস্তারিত বিবরণ। কেননা, ৬ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার মধ্যে অর্থমন্ত্রীর আত্মতৃপ্তি থাকে ঠিকই, কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষের কিছু যায় আসে না। অন্যান্য দেশের বাজেট মূলত কার জন্য কী আছে সেই বিবরণই থাকে, বাজেটের পরিসংখ্যান সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ, ৬ লাখ কোটি টাকা মাথাপিছু বিতরণ করা হবে না। বরং সরকার যে অর্থ ব্যয় করবে, তার প্রভাব ও ফলটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতির স্বার্থেই বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার অলিখিত একটি নিয়ম রয়েছে। মনে করা হয়, এ পর্যন্ত ঘাটতি রাখা যেতে পারে। তবে ঘাটতির হার নয়, এখানে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ঘাটতি অর্থায়ন। যদি সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করা হয়, তাহলে আশঙ্কা কম। কিন্তু বেশি সুদের ঋণ নিলেই তা ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করবে। যেমন সরকারি ব্যয়ে সবচেয়ে বড় খাত এখন সুদ পরিশোধ। বেশি সুদে ঋণ নিয়ে দায় যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ। অর্থাৎ শেষ বিচারে তা সাধারণ মানুষের কাঁধেই পড়ছে। ধরেই নেওয়া যায় এবার বাজেট ঘাটতি বাড়বে। এই ঘাটতি অর্থায়নের পরিষ্কার ব্যাখ্যা, এ প্রভাব ও ভবিষ্যতে কমিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা অর্থমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে জানাবেন-এই সবার প্রত্যাশা। | 0 |
দুই বাংলার ছবিতে আগেও অনেকেই অভিনয় করেছেন। এখনও অনেকেই করেন। কিন্তু অভিনেত্রী রফিয়াত রশিদ মিথিলা এবার এক নতুন নজির গড়তে চলেছেন। আগামী শুক্রবার একইসঙ্গে দুই বাংলায় মুক্তি পেতে চলেছে তার দুটি ছবি। বাংলাদেশে 'অমানুষ', পশ্চিমবঙ্গে 'আয় খুকু আয়'। বিষয়টি নিয়ে রোমাঞ্চিত অভিনেত্রী। শৌভিক কুণ্ডুর পরিচালনায় 'আয় খুকু আয়' ছবিতে মিথিলা অভিনয় করেছেন প্রসেনজিতের স্ত্রীর ভূমিকায়। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, প্রসেনজিতের মেয়ের ভূমিকায় দিতিপ্রিয়া রায়। সম্পূর্ণ নতুন লুক-এ অভিনয় করেছেন 'বুম্বাদা' নিজে। গ্রামের এক বাবা-মেয়ের গল্প ঘিরে ছবি। মেয়েকে বড় করার লড়াইয়ে বাবা যেন একইসঙ্গে মায়েরও ভূমিকায়। নায়ক জিতের প্রযোজনায় এই ছবির প্রচার-ঝলক মুগ্ধ করেছে তসলিমা নাসরিনকেও। প্রসেনজিৎকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সেই ঝলক শেয়ার করেছেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের নায়ক নীরবের বিপরীতে মিথিলার প্রথম ছবি 'অমানুষ'। বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে ছবিটির পরিচালনায় অনন্য মামুন। এই ছবিতে নীরব-মিথিলা ছাড়া রয়েছেন কাজী নওশাবা আহমেদ, মিশা সওদাগর, শহিদুজ্জামান সেলিম, রাশেদ অপু, ডনের মতো তারকা অভিনেতারা। নায়ক নীরব জানান, "নগর জীবনের বাইরের গল্প। আশা করি দর্শক নতুন স্বাদ পাবেন। শ্যুটিংয়ের পুরো সময়টা জঙ্গল ছাড়া আর কিছুই দেখিনি। রাতে ঘরে ফিরে ঘুমিয়েছি। পরের দিন ভোরে আবার জঙ্গলে। সবাই পরিশ্রম করেছি। ছবির সাফল্য নিয়ে আমরা আশাবাদী।" একই দিনে দুই বাংলায় একসঙ্গে দুটি ছবি মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় ভীষণ খুশি মিথিলা। দর্শকের কেমন লাগবে ছবি দুটি? তারই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন অভিনেত্রী। | 2 |
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ছাড়াও আগামী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ৮ আগস্ট রোববার ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের লেনদেন বন্ধ থাকবে।আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, মাস্ক পরিধানসহ কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক লোকবল দিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, আগামী রোববার ব্যাংক বন্ধ থাকবে। আর ৯ ও ১০ আগস্ট সীমিত পরিসরে চলবে ব্যাংকিং কার্যক্রম। দেশে করোনার বিস্তার রোধকল্পে এ সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হবে। তবে লেনদেন-পরবর্তী ব্যাংকের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে।করোনার বিস্তার রোধে এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ ও ৪ আগস্ট ব্যাংক বন্ধ ছিল।এদিকে, ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আগামী রোববার পুঁজিবাজারের লেনদেনও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আজ বিএসইসি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।এ ছাড়া ব্যাংক-পুঁজিবাজারের পাশাপাশি রোববার আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে।এর আগে আজ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ আগামী ১০ আগস্ট মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। | 0 |
সাবেক আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। বুধবার রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবদুল মতিন খসরু। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মতিন খসরু। তারপর ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে মোট ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ৭ম সংসদে (১৯৯৬-২০০১) আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান সংসদে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তিনি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 9 |
'এমন একটা জাফলং চাই-যার আশপাশে ময়লা ও আবর্জনা নাই'- এই স্লোগানে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাফলংয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।গতকাল শনিবার বিকেলে সংগঠনের সভাপতি আবির আরিফের নেতৃত্বে জাফলংয়ের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার সিঁড়ি ও জিরো পয়েন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।গত কয়েক দিনে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসায় তাঁদের ফেলে যাওয়া খাবারের প্যাকেট, কোমল পানীয়ের খালি বোতল, চিপস ও বিস্কুটের খালি প্যাকেটসহ বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনায় ভরে যায় মূল পর্যটনকেন্দ্র ও এর আশপাশ এলাকা। ফলে নোংরাহয়ে যায় গোটা পর্যটন এলাকার পরিবেশ।এ সময় টুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ইনচার্জ মো. রতন শেখ, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. করিম মামুদ লিমন, হোসাইন ডিস্ট্রিবিউশনের পরিচালক দেলোয়ার হোসেনসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং জাফলংয়ে ভ্রমণে আসা কয়েকজনও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।এ বিষয়ে সেবা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য নাদিম মাহমুদ বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা অনেক দিন থেকেই লক্ষ করছি জাফলং জিরো পয়েন্ট ও এর আশপাশ এলাকা ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে।তিনি আরও বলেন, 'নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে উঠেছে গোটা এলাকার পরিবেশ। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া আবর্জনায় জিরো পয়েন্টের সাদা পাথর ও এর আশপাশের এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়ে যায়। বিশ্রী হয়ে পড়ে এলাকার পরিবেশ। তাই পর্যটন কেন্দ্রের পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমে পড়ি।' | 6 |
পাবনার বেড়া উপজেলার ভ্যানচালক ময়ছের শেখের (৩৮) ভ্যানে একটি ব্যাগ ফেলে যান এক যাত্রী। ব্যাগটির মধ্যে ছিল আমেরিকার ভিসা, নগদ ৪০ হাজার টাকা ও আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ডলার। ব্যাগটি পাওয়ার পর ময়ছের এর মালিককে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ব্যাগটির মালিক বেড়া উপজেলার আমেরিকা প্রবাসী বাবলু সিকদারকে খুঁজে বের করে সেটি তাকে ফেরত দেন। বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার কাশীনাথপুর সংলগ্ন নয়াবাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। ময়ছেরের বাড়ি বেড়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে। স্থানীয়রা জানান, বাবলু সিকদার শনিবার দুপুরে নয়াবাড়ি রোড থেকে ময়ছেরের ভ্যানে ওঠেন। ভ্যান থেকে নেমে যাওয়ার সময় তিনি ভুলে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগটি ফেলে যান। বাবলুর ব্যাগে তার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও অন্যান্য জরুরি কাগজপত্র ছাড়াও বাংলাদেশি ৪০ হাজার টাকা ও প্রায় আড়াই লাখ টাকার মূল্যে ইউএস ডলার ছিল। ময়ছের শেখ ব্যাগটি পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় এর মালিক বাবলু সিকদারের ঠিকানা খুঁজে বের করেন। এরপর তার হাতে ব্যাগটি তুলে দেন। এ বিষয়ে ময়ছের সমকালকে বলেন, ২০ বছর ধরে ভ্যান চালাই। জীবনে এরকম আরও দুয়েকবার টাকা-পয়সা পেয়েছি। কিন্তু পরের জিনিসের প্রতি লোভ করিনি। তাই মালিককে খুঁজে ফেরত দিয়েছি। আমার ছেলে-মেয়েকেও পরের জিনিস না নেওয়ার শিক্ষা দিয়েছি। আর বাবলু সিকদার বলেন, ব্যাগে আমার আমেরিকা যাওয়ার ভিসা ছিল। হারিয়ে গেলে বিপদে পড়তাম। ময়ছের শেখের সততার কারণেই ব্যাগটি পেয়েছি। ময়ছের শেখের সততায় মুগ্ধ এলাকাবাসীও। কাশীনাথপুর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. আমিরুল ইসলাম সানু বলেন, ময়ছের তার লোভকে সংবরণ করেসততাকে শক্তিশালী করতে পেরেছে। ঘুষ-দুর্নীতি ভরা আমাদের এই সমাজ তার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে। | 6 |
কিছুদিনের তেজি থাকা পুঁজিবাজার আবারও দরপতনের মুখে পড়েছে। টানা সাত কার্যদিবস ধরে অব্যাহত রয়েছে সূচকের পতন। ফলে অজানা আতঙ্ক বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের মনে। গতকাল এক দিনেই সূচক কমেছে ৮৯ পয়েন্ট। ফলে সার্বিক সূচক কমে ৭ হাজার ৯৭ পয়েন্টে এসে ঠেকেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, স্বাভাবিক মূল্য সংশোধনসহ বেশ কয়েকটি কারণে বাজারে পতন চলছে। সহসাই বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আশা তাঁদের।সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল ১৮ অক্টোবর দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়। সেই সঙ্গে শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের। লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে লেনদেনের পাঁচ মিনিট না যেতেই বদলে যায় বাজারের পুরো চিত্র।একপর্যায়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হতে থাকে। ফলে ২০ মিনিটের মাথায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ৪৬ পয়েন্ট পড়ে যায়। এরপর সূচক কিছু বাড়লেও বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে টানা নিচের দিকে নামতে থাকে সূচক, পরবর্তী সময়ে এ পতন ১৩০ পয়েন্ট গিয়ে পৌঁছায়। টানা সূচক পতনে উদ্বিগ্ন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। গতকাল কয়েকজন বিনিয়োগকারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাজারে কী হচ্ছে তাঁরা বুঝতে পারছেন না। অব্যাহতভাবে সূচকের পতনে তাঁরা উদ্বেগে আছেন। এ ব্যাপারে বিএসইসির কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মার্চেন্টস ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান বলেন, বিনিয়োগ নিয়ে কয়েকটি ব্যাংকের ওপর চাপ ছিল। এ ছাড়া তিনি মার্জিন রেশিও নিয়ে বিএসইসির একটি নির্দেশনার বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'বিএসইসি আট হাজার ইনডেক্স পর্যন্ত মার্জিন রেশিও পয়েন্ট ৮ থাকবে বলে জানিয়েছিল। আট হাজার পার হলে এ রেশিও কমে যাবে। এটাও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। সত্যিকার অর্থে বাজারে পয়েন্ট ৮ নেই। এটা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। আমরা এ ব্যাপারে আগে থেকেই সতর্ক আছি।' তিনি আরও বলেন, 'বাজার নিজস্ব গতিতেই দাঁড়াচ্ছে। মার্জিননির্ভর বাজার আমরা চাই না। মার্জিন আমাদের ব্যবসা নয়। এই সব কিছু মিলিয়েই বাজারের গতি একটু কমেছে। আশা করি ঠিক হয়ে যাবে।'গতকালের বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, লেনদেনের শেষ দিকে এসে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ে। এতে সূচকের পতনের মাত্রা কিছুটা কম হয়। তারপরও ধসের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শেয়ারবাজার। প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি কমেছে ডিএসইর অপর দুই সূচক। এর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৬৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া মাত্র ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও কমেছে ৩২৪টির দাম। আর অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির দাম। বাজারে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ওরিয়ন ফার্মা, ডেলটা লাইফ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ফরচুন সুজ, বেক্সিমকো, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, জিনেক্স ইনফোসিসি এবং পাওয়ার গ্রিড।অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩১৪ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ৭৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩০৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৫৭টির। আর অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির দাম। | 0 |
ইথেরিয়াম ফাউন্ডেশনের সাবেক জ্যেষ্ঠ গবেষক ভার্জিল গ্রিফিথ গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। উত্তর কোরিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তিনি সহায়তা করেছিলেন। পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত 'ব্লকচেইন অ্যান্ড ক্রিপ্টোকারেন্সি' সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বক্তব্য রেখেছিলেন। ভার্জিল গ্রিফিথের বক্তব্যের বিষয় ছিল 'ব্লকচেইন অ্যান্ড পিস'। সেই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন ১০০ জন।যুক্তরাষ্ট্রের আদালত বলেছে, ভার্জিল গ্রিফিথের এমন কাজে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছিল।গ্রিফিথের আইনজীবী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, 'গ্রিফিথ এ ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত।'বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিফিথ উত্তর কোরিয়ায় ভ্রমণের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু গ্রিফিথ অন্য উপায় অবলম্বন করে উত্তর কোরিয়ায় যান। তিনি চীন হয়ে উত্তর কোরিয়ায় পাড়ি জমান। সাত মাস পরে সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী গ্রিফিথকে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রসিকিউটর বলেন, 'গ্রিফিথ ব্লকচেইন অ্যান্ড ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে উত্তর কোরিয়ায় আয়োজিত সম্মেলনে প্রেজেন্টেশন দিয়েছিলেন। আলোচনার বিষয়টি উত্তর কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করেছিল। নিষেধাজ্ঞা ও অর্থ পাচার এড়াতে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রযুক্তি ব্যবহার করা নিয়ে তিনি আলোচনা করেছিলেন।'ভার্জিল গ্রিফিথ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইথেরিয়াম ক্রিপ্টোকারেন্সির সহপ্রতিষ্ঠাতা ভিটালিক বুটেরিন বলেন, 'উত্তর কোরিয়ায় গ্রিফিথের কার্যক্রমকে ফাউন্ডেশন সমর্থন করেনি।' এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, 'এটি ভার্জিল গ্রিফিথের ব্যক্তিগত সফর ছিল। অনেকেই তাঁকে এর বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছিল।'যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, উত্তর কোরিয়াকে সেবা প্রদান করে ভার্জিল গ্রিফিথ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন লঙ্ঘন করেছেন। এ কারণ তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে উত্তর কোরিয়াকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেন।গ্রিফিথের প্রেজেন্টেশন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, গ্রিফিথের আলোচনায় কীভাবে স্মার্ট চুক্তির মতো ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপকৃত হওয়া যায়, সে বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ে দেনদরবারের বিষয়ও আলোচনায় তুলে আনেন তিনি।যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অড্রে স্ট্রস বলেছেন, 'গ্রিফিথ আমাদের দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিদেশি প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়াকে সাহায্য করতে সম্মত হয়েছিলেন।'আগামী জানুয়ারিতে গ্রিফিথকে সাজা দেওয়া হবে। তাঁর ২০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। যদিও দোষ স্বীকার করায় সাজা কমে হতে পারে সাড়ে ছয় বছর।উত্তর কোরিয়ার সেই সম্মেলনে অংশ নেওয়া সাংবাদিক ইথান ল টুইটারে বলেন, 'গ্রিফিথ যখন কথা বলছিলেন, তখন তাঁকে আবেগাপ্লুত মনে হয়েছে।'উল্লেখ্য, গ্রিফিথ ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত তিনি ইথেরিয়াম ফাউন্ডেশনের বিশেষ প্রজেক্ট গ্রুপে কর্মরত ছিলেন। টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যেত। তাঁর আইনজীবী ব্রায়ান ক্লেইন বলেন, 'তাঁর অনেক গুণ রয়েছে। তাঁকে শুধু তাঁর এই ভুল দিয়ে বিচার করলে হবে না।' | 11 |
চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া গোলাম রাব্বানী ক্ষমা চেয়েছেন। সোমবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এই ক্ষমা চান তিনি। এই স্ট্যাটাসে গোলাম রাব্বানী বলেন, 'মমতাময়ী নেত্রী, আপনার মনে কষ্ট দিয়েছি, আমি অনুতপ্ত, ক্ষমাপ্রার্থী। প্রিয় অগ্রজ ও অনুজ, আপনাদের প্রত্যাশা-প্রাপ্তির পুরো মেলবন্ধন ঘটাতে পারিনি বলে আপনাদের কাছেও ক্ষমাপ্রার্থী।' গর্হিত কোন অপরাধ করেননি দাবি করে ছাত্রলীগের এ নেতা বলেন, 'মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আমিও ভুলত্রুটির উর্ধ্বে নই। তবে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, স্বেচ্ছায়-স্বজ্ঞানে আবেগ-ভালোবাসার এই প্রাণের সংগঠনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী 'গর্হিত কোন অপরাধ' করিনি। আনীত অভিযোগের কতটা ষড়যন্ত্রমূলক আর অতিরঞ্জিত, সময় ঠিক বলে দেবে।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে গোলাম রাব্বানী বলেন, 'প্রাণপ্রিয় আপা, আপনি আদর্শিক পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবের সুযোগ্য তনয়া, ১৮ কোটি মানুষের আশার বাতিঘর। আপনার দিগন্ত বিস্তৃত স্নেহের আঁচল, এক কোণে যেন ঠাঁই পাই। আপনার ক্ষমা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বাকিটা জীবন চলতে চাই।' চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের কাছে গিয়ে চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছিল। এই দুই নেতা উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন আদায় করে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও দু'জনই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় শোভন ও রাব্বানীর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় দু'জনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের অন্য নেতারাও বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের খবরে তোলপাড় চলছিল কয়েকদিন ধরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্তর লেখালেখিও হয়। বিতর্কিত নেতাদের সরাতে ও সংগঠনকে গতিশীল করতে ছাত্রলীগের আগাম সম্মেলনের দাবি তুলে ধরেন অনেকেই। কেউ কেউ সম্মেলন ছাড়াই শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিরই যোগ্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান। শেষ পর্যন্ত সে রকম সিদ্ধান্তই এসেছে। | 9 |
ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কলকাতায় প্রকাশ্যে রাস্তায় জামা-কাপড় ছিঁড়ে মারধর মন্ত্রীর ছেলেকে। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কালনায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একদল ছেলে মারধর করছে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের ছেলে সৌরভকে। যদিও ঘটনাটি নিয়ে মুখ খোলেনি কোনও পক্ষই। খবর হিন্দুস্তান টাইমস। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের ছোট ছেলে সৌরভ দেবনাথকে রাতের বেলা রাস্তার ওপর মারধর করছেন কিছু যুবক। ভিডিওটি নিয়ে খোঁজ খবর করতে জানা যায়, গত ১৬ অগাস্ট রাতে বাড়ি ফিরছিলেন সৌরভ। গাড়ি চালাচ্ছিলেন ড্রাইভার। হঠাৎই কালনা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খুঁটিতে ধাক্কা মেরে থেমে যায়। অল্পের জন্য প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান সেখানে বসে থাকা কয়েকজন যুবক। এরপর গাড়ি থেকে চালককে বার করে মারধর শুরু করেন যুবকরা। সৌরভবাবু তাঁকে বাঁচাতে এলে তার ওপরেও আক্রমণ হয়। যদিও এই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেনি কোনও পক্ষই। থানায় জমা পড়েনি কোনও অভিযোগ। | 5 |
চট্টগ্রামে চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আব্দুর ওয়ারিশ। তিনি জানান, চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যকে গুলি করার ঘটনায় মো. খোকন, আয়মান জিহাদ ও মাহি নামে আরও তিনজনকে। এদের মধ্যে খোকন ও আয়মানকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা থেকে এবং মাহিকে নগরীর রহমান নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে খোকনই সেদিন চেকপোস্টে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এর আগে আবদুল হাকিম অভি, মাঈনুদ্দিন ফরিদ রাকিব ও মোহাম্মদ জুবায়ের হোসেন প্রত্যয় নামে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর দুই নম্বর গেইট এলাকায় একটি চেকপোস্টে তল্লাশি চৌকিতে পুলিশ একটি মোটর সাইকেলকে থামার নির্দেশ দিলে তারা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন পুলিশের এএসআই আবদুল মালেক। তবে তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। জানা যায়, বিরোধের জের ধরে চট্টগ্রাম নগরের শীর্ষ সন্ত্রাসী অমিত মুহুরীর অনুসারীরা নগরের ২ নম্বর গেট আল ফালাহ গলিকেন্দ্রিক কথিত ছাত্রলীগ নামধারী এক সন্ত্রাসীকে মারধর করে। এর প্রতিশোধ নিতে ওই নেতার নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেলে আল ফালাহ গলি থেকে বের হয়ে ২ নম্বর গেট হয়ে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিল ১০ জন। ২ নম্বর গেট থেকে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাওয়ার পথেই প্রথম মোটরসাইকেলটি থামাতে সিগন্যাল দেয় পুলিশ। গ্রেফতার এড়াতে পেছনের মোটরসাইকেলে থাকা খোকন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে ধাওয়া দিলে দুটি মোটরসাইকেল ঘটনাস্থলে রেখে অন্য মোটরসাইকেলটির আরোহীরাসহ নয়জন পালিয়ে যায়। একটি গ্রুপ শপিং কমপ্লেক্সের পাশের গলি দিয়ে দিকে ঢুকে পড়ে। অন্য গ্রুপটি ২ নম্বর গেটের দিকে পালিয়ে যায়। এ সময় ধাওয়া দিয়ে পুলিশ অভিকে আটক করে। পরে শুক্রবার রাতেই অভিযান চালিয়ে মুরাদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় রাকিব ও প্রত্যয়কে, যাদের দু'জনেই এসএসসি পরীক্ষার্থী। শুক্রবার পরীক্ষা না থাকায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে তারাও কিলিং মিশনে অংশ নেয়। | 6 |
গাজীপুরে বাসের ধাক্কায় মাজহারুল ইসলাম (৪০) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের চালককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে মহানগরীর সদর থানাধীন মাস্টারবাড়ি এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও এলাকাবাসি জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বেপরোয়া গতিতে ময়মনসিংহগামী একটি বাস গাজীপুরের মাস্টারবাড়ি এলাকায় একটি রিক্সাভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানচালক মাজহারুল গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় এবং চালকসহ বাসটি আটক করে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাজহারুলকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকসহ বাসটি আটক করে। নিহত ভ্যানচালক মাজহারুল ইসলাম মহানগরীর লক্ষ্মীপুরা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এস্তোনিয়ার চেয়ে ১০৬ ধাপ ওপরে আর্জেন্টিনা। ফিফা প্রীতি ম্যাচে ব্যবধানটা পরিস্কার ফুটে উঠেছে। উত্তর ইউরোপের দেশটিকে দিয়েছে একের পর এক গোল। লিওনেল মেসির জাদুকরি নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনা ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে এস্তোনিয়া কে। ৫টি গোলই করেছেন মেসিই! ফিনালিসিমায় ইতালির বিপক্ষে জেতা একাদশ খেলেনি এই ম্যাচে। ডি মারিয়া- লাওতারো মার্টিনেজরা ছিলেন বিশ্রামে। তাদের ছাড়াই স্পেনের মাঠে আলবিসেলেস্তেরা দুর্বার। বিশেষ করে অধিনায়ক মেসি। তাকে কোনওভাবেই আটকাতে পারেননি এস্তোনিয়ার ডিফেন্ডাররা। একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছে আর্জেন্টিনা। বল দখলে দাপট দেখিয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধে এসেছে দুটি গোল। ম্যাচ ঘড়ির ৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা প্রথম গোল করে এগিয়ে যায়। মাতভেই ইগোনেন ফাউল করেন পেজ্জেল্লাকে। পেনাল্টি থেকে অধিনায়ক মেসি বাঁ পায়ের শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন। দ্বিতীয় গোল পেতে অনেক সময় পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে স্কালোনির দলকে। ১১ মিনিটে মেসির শট ব্লক হয়। চার মিনিট পর অ্যালিস্টারের শট পোস্টের ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ২৫ মিনিটে হুলিয়ান আলাভেজের ডান পায়ের নেওয়া শট গোলরক্ষক প্রতিহত করেন। ৩৮ মিনিটে মেসি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৪০ ও ৪৪ মিনিটে আরও দুটি গোলের প্রচেষ্টা থেকে ব্যবধান বাড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তবে ৪৫ মিনিটে সমর্থকদের মুখে আবারও হাসি ফোটান মেসি নিজেই। পাপু গোমেজের পাসে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে বা পায়ে স্কোর লাইন ২-০ করেন। ড্রেসিং রুম থেকে ফিরে আক্রমণে আরও তেজ বাড়ে আর্জেন্টিনার।৪৭ মিনিটে মেসি হ্যাট্রটিক পূর্ণ করেন। ডান প্রান্ত থেকে মলিনার ক্রসে এই তারকা প্লেসিং করে বল জড়িয়ে দেন জালে। ৭১ মিনিটে মেসি চতুর্থ গোল পান। বক্সের ভিতরে থেকে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন। ৭৬ মিনিটে মেসি আবারও পোস্ট কাঁপান। বাঁ পায়ের শটে প্রতিপক্ষ কে বোকা বানান ৩৪ বছর বয়সী তারকা। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। এস্তোনিয়া প্রতি আক্রমণ বারকয়েক গোল শোধে চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি। | 12 |
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।গতকাল শনিবার রাজধানীর কমলাপুরে ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) শ্রমিক ও দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী চক্রান্ত করছে, ষড়যন্ত্র করছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েও বাংলাদেশের বিজয় আটকাতে পারেনি। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি এখনো মার্কিন-ব্রিটিশ বেনিয়াদের সহ্য হচ্ছে না। তারা টেনে ধরার ষড়যন্ত্র করছে।'খালিদ চৌধুরী আরও বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়েও ষড়যন্ত্র করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের নিয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এ বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'পঁচাত্তরের পর পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার ও মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছে।'চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, পদ্মা সেতুর কানেক্টিং পয়েন্ট কমলাপুরের আইসিডিতে যুক্ত হলেও সমস্যা হবে না। রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইসিডি স্থানান্তর হলেও শ্রমিকদের কাজের সমস্যা হবে না। আরও আইসিডি প্রতিষ্ঠা করা হবে।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান, আইসিডির ম্যানেজার আহমাদুল করিম প্রমুখ।আরও পড়ুন:নৌ-দুর্ঘটনা কমেছে দাবি প্রতিমন্ত্রীরউন্নয়ন থামাতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছেআইনে আমরা আটকে আছিপুরো লঞ্চ পুড়ে যাওয়ার ঘটনা রহস্যজনকদেশে নদী দখলদার ৬৫ হাজার ১২৭ জনবাংলাদেশ এখন ঋণ নেয় না, ঋণ দেয় | 6 |
লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে সর্বোচ্চ দামে ওঠার পর একই দিনে অভিহিত মূল্যের (ফেসভ্যালু) নিচেও নেমেছে আলোচিত বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক বন্ডের দাম। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে বন্ডটির লেনদেন শুরু হয়। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বন্ডটির লেনদেন শুরু হয় দিনের সর্বোচ্চ দামে। লেনদেনের শুরুতেই এটির ইউনিটের বাজারমূল্য ১০ শতাংশ বা ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ১১০ টাকায়। কিন্তু সেই দাম খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। লেনদেনের একপর্যায়ে বন্ডটির ইউনিটের বাজারমূল্য ৯৯ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে আসে। তাতে এদিন এটির দামের সাড়ে ১০ শতাংশের উত্থান-পতন ঘটে। তবে দিন শেষে অভিহিত মূল্যের চেয়ে ১ শতাংশ বা ১ টাকা বেড়ে ১০১ টাকায় লেনদেন শেষ হয়। প্রথম দিনে বন্ডটির প্রায় ৩২ লাখ ইউনিটের হাতবদল হয়েছে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বন্ডটির দাম ৪ শতাংশ বা ৪ টাকা বেড়ে ১০৪ টাকায় লেনদেন শেষ হয়েছে। ঢাকার বাজারে লেনদেনের একপর্যায়ে এটির দাম অভিহিত মূল্যের নিচে নামলেও সিএসইতে অভিহিত মূল্যের বেশি দামেই হাতবদল হয় দিনভর। এদিকে বন্ডটির তালিকাভুক্তি উপলক্ষে ডিএসই আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, 'বন্ডটিতে বিনিয়োগকারীদের ৯ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়া হবে। অথচ ব্যাংকে এখন স্থায়ী আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ। তাই সুকুক বন্ড নিয়ে আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু সেই তুলনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সেভাবে সাড়া মেলেনি।' এ জন্য বন্ডটি সম্পর্কে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ভালোভাবে তুলে ধরতে না পারাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারে নতুন নতুন পণ্য নিয়ে আসতে শুরু থেকে কাজ করছে বর্তমান কমিশন। বেক্সিমকো সুকুকের তালিকাভুক্তি সেই চেষ্টাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া, বন্ডটির ইস্যু ব্যবস্থাপক সিটি ব্যাংক ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরশাদ হোসেন প্রমুখ। | 0 |
টাঙ্গাইলে 'বাংলাদেশ পুলিশ' লেখা লাশের একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের দক্ষিণ কলেজ পাড়ার মহিষখোলা সড়কের পাশ থেকে এই ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। তবে ওই ব্যাগে কোন লাশ ছিল না; ছিল একটি মোড়ানো তালাই (লাশের সাথে থাকা বাঁশের চাটাই) এবং কিছু কাপড় ও ন্যাকরা। এ নিয়ে শহরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানায়, শহরের দক্ষিণ কলেজ পাড়ার মহিষখোলা সড়কের শামীম কাউন্সিলরের বাড়ির পাশে লাশের একটি ব্যাগ দেখতে পায় এলাকাবাসী। সাদা রঙের ওই ব্যাগের গায়ে ইংরেজিতে লেখা ছিল 'বাংলাদেশ পুলিশ'। ব্যাগ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এ নিয়ে শহরে কিছুটা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল থানা পুলিশ সবার সামনে ওই ব্যাগের চেইন খুলে ব্যাগের ভিতর থেকে একটি মোড়ানো তালাই এবং কিছু কাপড় ও ন্যাকরা উদ্ধার করে। টাঙ্গাইল মডেল থানার ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, শহরে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এসব বিষয়ে এলাকাবাসীকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। | 6 |
পাবনায় ১০ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি হচ্ছে। খামারিরা এত কম দামে দুধ বিক্রির ঘোষণা দিলেও মিলছে না ক্রেতা। ফলে অনেক খামারি গরুকে সুস্থ রাখতে দুধ দোহোনোর পর বিক্রি করতে না পেরে তা ফেলে দিচ্ছেন। সোম ও মঙ্গলবার পাবনার সাথিয়া, চাটমোহর ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ১৩টি কোম্পানির পাস্তুরিত তরল দুধ উৎপাদন-ক্রয় বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনায় পাবনায় খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে কোম্পানিগুলো। এতে বিপাকে পড়েছেন এই জেলার খামারিরা। ফরিদপুর উপজেলার পুঙ্গলী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত রতনপুরের খামারি বাবু মোল্লা সমকালকে বলেন, সকাল-বিকাল মিলে তার খামারে ২শ' লিটার দুধ হয়। কয়েকটি কোম্পানির এজেন্টরা দুধ কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। দুধ দোহানের পর ক্রেতা না পেয়ে খামারের পাশেই ফেলে দিয়েছি। একই গ্রামের জমিরুন খাতুন সমকালকে বলেন, আমার খামারে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লিটার দুধ হয়। এই দুধ বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্টরা কিনে নেয়। কিন্তু সোম ও মঙ্গলবার দুধ বিক্রি করতে পারিনি। পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর মেয়র ও দুগ্ধ খামারি গোলাম হাসনায়েন রাসেল সমকালকে জানান, আমার ৪৫টি গাভী ছিল। আমি গত ১৫ দিনে ৩৭টি বিক্রি করেছি। আর আটটি রয়েছে। এগুলোও বিক্রি করে দেব। পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, সমস্যাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকার তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা ইরফান খানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়, তিনি 'বিরল রোগে' ভুগছেন। তবে ইরফান বা পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু্ই বলা হচ্ছিল না। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন ইরফানের স্ত্রী সুতপা সিকদার, যদিও ইরফানের 'বিরল রোগের' বিষয়টি খোলাসা করেননি তিনিও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে করা এক পোস্টে শনিবার সুতপা লিখেছেন,'আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ও সঙ্গী একজন যোদ্ধা। তিনি বীরত্ব ও শৌর্যের সঙ্গে প্রতিটি সমস্যার মোকাবিলা করছেন। আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি অনেকের ফোন বা মেসেজের জবাব এতদিন না দেওয়ার জন্য। কিন্তু আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সারা বিশ্ব থেকে অনেক আরোগ্য বার্তা আমি পেয়েছি।' এছাড়া ইরফানের অসুস্থতা নিয়ে 'অহেতুক কানাঘুষা' না করার এবং চিন্তা ও আলোচনা করে 'অযথাসময় ও এনার্জি নষ্ট' না করারআহ্বান জানিয়ে সুতপা ফেসবুক পোস্টে জানান, সময় হলে তিনি নিজেই সব কথা বলবেন। সুতপার মতো ইরফানের সহকর্মী মনোজ বাজপেয়ীও দাঁড়িয়েছেন পাশে। তিনিও ইরফানের অসুস্থতা নিয়ে কোনো ধরনের গুজব বা জল্পনা না ছড়াতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অপেক্ষা করতে বলেছেন ইরফানের পরবর্তী বার্তার জন্য। এছাড়া যাবতীয় বিপদ কাটিয়ে ইরফান শিগগিরই আবার স্বমহিমায় ফিরে আসবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক টুইটে ইরফান নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি 'বিরল রোগে' আক্রান্ত। এরপর খবর বেরোয়-ইরফান মস্তিষ্কের ক্যান্সারে ভুগছেন, যদিও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস | 2 |
প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকার আর নেই। তিনি শুক্রবার রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। খ্যাতিমান এই চিত্রশিল্পীর মৃত্যুতেপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।খবর বাসসের গ্যালারি কসমসের নির্বাহী শিল্প ব্যবস্থাপক সৌরভ চৌধুরী শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, চারুকলায় একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকারকেবেলা দেড়টার দিকে তার ইস্কাটনের বাসার গোসলখানায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। বেলা ২টার দিকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকারের মরদেহ বর্তমানে বারডেমের হিমাঘরে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে সৌরভ জানান,শিল্পীর দুই মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী। বাবার মৃত্যুর সংবাদ শুনে তারা ইতিমধ্যে দেশের উদ্দেশ রওয়ানা হয়েছেন। তারা দেশে আসার পর কালিদাস কর্মকারের শেষকৃত্যের বিষয়ে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ রোববার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে নেয়া হবে। পরে তার মরদেহ সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হবে। শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৮ সালে একুশে পদক, শিল্পকলা পদকসহ অসংখ্য স্বীকৃতি পেয়েছেন এই গুণী চিত্রশিল্পী। কালিদাস কর্মকারের জন্ম১৯৪৬ সালে ফরিদপুরে। শৈশবেই তিনি আঁকতে শুরু করেন। স্কুল জীবন শেষে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব আর্টস থেকে তিনি ১৯৬৩-৬৪ সালে চিত্রকলায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীকালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব ফাইন আর্টস অ্যান্ড ক্রাফট থেকে ১৯৬৯ সালে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান নিয়ে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউরোপীয় আধুনিকতার ঘরানার শিল্পী ছিলেন। | 6 |
দুই আর পাঁচ ইঞ্চি সাইজের দুইটি কাঠের টুকরা ভেতরে রেখেই সেলাই দিয়েছেন মাদারীপুর সদর হাসপাতালের এক নার্স। শুধু তাই নয়, এক হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে তাড়াহুড়া করে সেলাই দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন মাদারীপুর সদরের হোগলপাতিয়া এলাকার আলম সর্দারের শিশুপুত্র রাকিব সর্দারকে। এরপর শুরু হয় যন্ত্রণা। এভাবে দুই মাস অসহনীয় যন্ত্রণা ভোগ করে অবশেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ-হাসপাতালে দুই দফা অস্ত্রপাচারের পর যন্ত্রণা থেকে মুক্ত মেলে। তবে এরই মধ্যে অসহায় পরিবারের শিশুটির হাত বাঁকা হয়ে যায়। তাই দোষীদের উপযুক্ত বিচার আর ক্ষতিপূরণ চেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আলম সর্দার। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ১৫ মে দুপুরে ঘরের মাচা থেকে পা পিছলে পড়ে যায় মাদারীপুর সদরের আলাম সর্দারের ১২ বছরের সন্তান রাকিব সর্দার। এসময় গাছের কাঠের টুকরা হাতের ভেতর ঢুকে যায়। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় ছুটে আসে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। তাৎক্ষণিক কোন চিকিৎসক না পেয়ে অস্থির হয়ে ওঠেন দিনমজুর আলম সর্দার। তখন চিকিৎসার জন্য দুই হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন জরুরি বিভাগের নার্স (ব্রার্দার) মো. তোতা মিয়া। উপায় না পেয়ে এক হাজার টাকা দিয়ে অনুরোধ করলে ওই নার্সসহ আরো দুইজন মিলে তাড়াহুড়া করে রাকিবের ক্ষতস্থান সেলাই করে দেন। এরপর কিছু ওষুধ লিখে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কিন্তু বাড়িতে পাওয়ার পর শুরু হয় তীব্র যন্ত্রণা। এরপর থেকে প্রায়ই আসেন ড্রেসিং করাতে। কিন্তু ব্যথা কমার কোন লক্ষণ না দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্ত সেখানেও উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে ফরিদপুরে 'রয়েল হাসপাতাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়গনিস্ট সেন্টারের' চিকিৎসক আবু সালেহ আহমেদ সৌরভের শরনাপন্ন হলে তিনি রাকিবের অপারেশন করে হাত থেকে দুই টুকরো কাঠ বের করেন। যা প্রায় পাঁচ ইঞ্চি ও দুই ইঞ্চি হবে। আলাম সর্দার বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা দেয় আমাদের মতো গরিবদের চিকিৎসার জন্যে। কিন্তু এখানে চিকিৎসকরা কসাইয়ের মতো ব্যবহার করে। তাদের ভুল চিকিৎসায় আমার ছেলের জন্য প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হলো। বিষয়টি নার্স মো. তোতা মিয়াকে জানালে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন তিনি। আমরা দোষি ব্যক্তির শাস্তি চাই। সেই সঙ্গে ভুল চিকিৎসার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি করছি।' ভুক্তভোগি শিশু রাকিব সর্দার বলে, 'আমার হাতে এখনো খুব ব্যথা করে। রাতে ঘুমাতে পারি না। হাতও বাঁকা হয়ে আছে। আমরা অসহায় দেখে ডাক্তাররা ভুল চিকিৎসা করেছে। আমি তাদের বিচার চাই। যেন আগামীতে এমন কাজ কারো সঙ্গে না করতে পারে।' অভিযুক্ত মো. তোতা মিয়া বলেন, 'আমার সেদিন করোনার ডিউটি ছিল। সেখান থেকে জরুরি বিভাগে এসে দেখি শিশুটা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তখন তাদের থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে সুতা কিনে সেলাই করে দিয়েছি। হাতের ভেতর কিছু ছিল কিনা সেটা বুঝতে পারেনি। আমি ভালো করতে গিয়ে এখন দোষি হচ্ছি। এভাবে আর কারো উপকার করবো না। আমার ভুল হয়েছে।' বিষয়টি জানাজানি হলে টনক নড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের। জেলার সিভিল সার্জন মো সফিকুল ইসলাম বলেন, 'শিশুটির বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা তাযাচাই-বাচাই করে দেখবো। এর জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তারা যদি সদর হাসপাতালের কারো দোষ পায়, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া এই কাজটিও জঘন্য হয়েছে, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি খোঁজখবর নেব।' ঘটনার দিন জরুরি বিভাগে কোন চিকিৎসক দায়িত্বে ছিলেন, তাৎক্ষণিভাবে সেটি সিভিল সার্জন জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, সেদিন যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। | 6 |
দেশের বাজারে জ্বালানি তেল ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে শনিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে যে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল- সেটি হচ্ছে না।বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা শরীফ মাহুমুদ অপু সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠকটি কবে কখন হবে সে সম্পর্কেও জানাননি তিনি। এর আগেগত বুধবার রাতে ডিজেলের দাম এক লাফে ১৫ টাকা বা ২৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করে জ্বালানি বিভাগ। বৃহস্পতিবার সকালেই পণ্যবাহী গাড়ির মালিক-শ্রমিকদের সংগঠন ধর্মঘটে যাওয়ার ডাক দেয়। এতে চরম চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শনিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে যে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তেলের দাম বৃদ্ধিতে মালিক ও শ্রমিকদের সিদ্ধান্তে সারাদেশে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধের সমস্যা ও এর সমাধান নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাস-ট্রাক পরিবহন মালিক সমিতি ও এর নেতারা এই বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। এদিকে জ্বালানি তেলের দাম কমলে বা ভাড়া সমন্বয় হলে অথবা যৌক্তিক সমাধান মিললে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। শনিবার ধানমন্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তারা। এর আগে রাজধানীর ধানমন্ডিতে শনিবার বেলা ১২টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহবুল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ মনিরসহ ১৫ সদস্যের একটি দল। এসময় বৈঠকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারসহ আরও দুটি দাবি জানিয়েছে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন। অপর দুই দাবি হলো পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান থেকে চাঁদা আদায় বন্ধ করা এবং বিভিন্ন ব্রিজের বাড়তি টোল আদায় বন্ধ করা। দাবিগুলো না মানলে ধর্মঘটও প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন। | 6 |
ব্যাংকিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে সফল হয়েছেন অনেক নারী। শীর্ষ পদে নারীর সংখ্যা এখনো পুরুষের তুলনায় কম হলেও আস্তে আস্তে শীর্ষ পদে উঠে আসছেন নারীরা। আবার বাড়ছে নারী গ্রাহকের সংখ্যাও। নারী দিবস সামনে রেখে ব্যাংক খাতে নারীর নানামুখী অংশগ্রহণ নিয়ে কথা বলেছেন বেসরকারি দ্য সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহিয়া জুনেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফয়জুল্লাহ ওয়াসিফ। প্রথম আলো: ব্যাংকিং পেশায় আপনার পথচলার শুরুটা কীভাবে? মাহিয়া জুনেদ: আমার ভিত্তিটা গড়ে ওঠে মূলত ছোটবেলায়, আমার পরিবারে। পরিবারে আমি কোনো বৈষম্যের শিকার হইনি। দুই বোন, এক ভাইয়ের মধ্যে কখনো মনে হয়নি আমি কোথাও বঞ্চিত হচ্ছি। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে দেশের বাইরে পড়াশোনা করেছি। এতে করে দিনে দিনে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তাই আমার মনে হয়, ছোট থেকেই নারীর আত্মবিশ্বাস তৈরি করে দেওয়াটা খুবই জরুরি। এরপর দেশে ফিরে চাকরি শুরু করি বিদেশি মালিকানাধীন সিটি এনএ ব্যাংকে। আট বছর সেখানে চাকরি করে পরে আবার ছয় বছর দেশের বাইরে ছিলাম। এরপর ২০০৭ সালে এসে দেশীয় মালিকানাধীন সিটি ব্যাংকে যোগ দিই। আমার কাজই আমাকে ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। প্রথম আলো: আমাদের দেশের ব্যাংকিং পেশা ও সেবা কতটুকু নারীবান্ধব? মাহিয়া জুনেদ: কর্মীর জায়গা থেকে বিবেচনা করলে প্রতিষ্ঠানে বসে কাজ করতে হয় ব্যাংকের এমন পদ যথেষ্ট নারীবান্ধব। তবে কিছু ক্ষেত্রে, বিপণনের মতো কাজ, যেগুলো বাইরে গ্রাহকদের কাছে গিয়ে করতে হয়, সে ধরনের কাজ এখনো পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে উঠেছে, তা বলা যাবে না। বিশেষ করে রাতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিবহন সুবিধা চালু করা এখন সময়ের দাবি। এটা নিয়ে ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। তবে গ্রাহক সেবার দিক থেকে ব্যাংক এখন যথেষ্ট নারীবান্ধব। ব্যাংকগুলোতে নারীদের জন্য বিশেষায়িত সেবার আলাদা ডেস্ক থাকে। অধিকাংশ ব্যাংকই নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা দিয়ে থাকে। প্রথম আলো: ব্যাংকিং পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো কী ধরনের ভূমিকা রাখছে? মাহিয়া জুনেদ: দেশে বেসরকারি ব্যাংকের প্রসার শুরুর পর এ খাতে নারীদের কাজের সুযোগ বেড়েছে। তবে এই পেশায় নারীদের জন্য আলাদা কোনো কোটা নেই। তাই নারীরা যাতে কোনোভাবে বৈষম্যের শিকার না হন, সে ব্যাপারে সবাই সতর্ক। আমাদের ব্যাংকে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা খেয়াল রাখি যেন নারী-পুরুষের অনুপাত ৫০ শতাংশ করেই থাকে। এ ছাড়া একটা ব্যাংকে নারীকে কাজের সুযোগ করে দেওয়া মানেই তার অভিজ্ঞতা বেড়ে যাচ্ছে। পরে ওই নারীর জন্য অন্য কোনো চাকরিতে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে নারীরা যে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন না, তা নয়। যেমন ধরুন বেতনবৈষম্য। এখনো একই কাজ করেও নারী কর্মী পুরুষ সহকর্মী থেকে কম বেতন পেয়ে থাকেন। এমন বৈষম্য দূর হওয়া জরুরি। প্রথম আলো: অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিংয়ে নারীদের সেবা গ্রহণের প্রবণতা এখন কেমন? মাহিয়া জুনেদ: নারীরা ব্যাংকিংয়ে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে এসেছেন। তবে এখনো তা ছোট ছোট কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন বা সঞ্চয়ের মতো ব্যাপারগুলোতেই তাঁরা বেশি আগ্রহী। ব্যবসার জন্য ঋণ গ্রহণ বা প্রচলিত ধারার ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে নারীরা এখনো পুরুষের ওপরই নির্ভরশীল। তবে এখন অনেক নারী গ্রাহক বড় ব্যবসায়িক কাজ ব্যাংকের মাধ্যমে করছেন। অনেকে ভালো উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি তৈরি করে নিয়েছেন। ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। অনেকে আবার ব্যবসার পরিধি বাড়াতেও ঋণ নিচ্ছেন। প্রথম আলো: নারীদের আরও বেশি ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন? মাহিয়া জুনেদ: এ ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে পারি। মৌলিক ব্যাংকিং সেবাগুলো যদি অনলাইনে দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে নারী গ্রাহক অনেক বাড়বে। ঘরে বসেই পুরুষের পাশাপাশি নারীরা ব্যাংকিংয়ের প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারবেন। এ ছাড়া নারীদের জন্য আরও বিশেষায়িত কোনো সেবা চালু করা যায় কি না, সেটা নিয়েও ভাবতে হবে সবাইকে। আমাদের ব্যাংকে নারীদের জন্য 'সিটি আলো' নামে একটি সেবা রয়েছে। আবার নতুন করে আমরা দেশে 'ডিজিটাল ন্যানো ঋণ' চালু করেছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, নতুন চালু হওয়া এ ঋণের প্রতি নারীদের বেশ আগ্রহ রয়েছেন। তাই এ ধরনের নতুন নতুন পণ্য চালুর দিকে মনোযোগী হতে হবে। প্রথম আলো: এবারের নারী দিবসে আপনার চাওয়া কী? মাহিয়া জুনেদ: নারীরা নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য উপযুক্ত-এমন ভাবনা থেকে যেন আমরা সবাই বেরিয়ে আসতে পারি, এটাই আমার প্রথম চাওয়া। আমি কোনোভাবেই চাই না, মেয়েদের জন্য কোটা ব্যবস্থা থাকুক। তবে কোটা না থাকলে তাঁদের জন্য কাজের সুযোগের ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নারীদের আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে নারীরা দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে যেভাবে সাফল্য দেখাচ্ছেন, তাঁদের একটু আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে আর্থিক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের শীর্ষ পদেও নারীরা নেতৃত্ব দেবেন। আমরা সে লক্ষ্যে এগোতে চাই। এ জন্য দরকার সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। শুধু নারীরা নারীদের এগিয়ে নিতে পারবে না। পুরুষেরও সহযোগিতা লাগবে। | 0 |
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দেশে তৈরি অস্ত্রসহ এক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছেন ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। আজ শুক্রবার ভোরে এই অভিযান চালানো হয়।গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি ক্যাম্প-১১ (ব্লক-বি/ ১৫)-এর আজিম আলীর ছেলে।৮ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. কামরান হোসেন শুক্রবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উখিয়ার বালুখালী ময়নারঘোনা ক্যাম্প থেকে মোস্তাক আহমদ (২৭) নামের এক রোহিঙ্গাকে একটি ওয়ান শুটারগান ও দুটি কার্তুজসহ গ্রেপ্তার করা হয়।মো. কামরান হোসেন জানান, মোস্তাকের বসতঘর তল্লাশি করে তাঁর বিছানার বালিশের নিচ থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। আটক রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।উখিয়া থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মদ সনজুর মোরশেদ বলেন, অস্ত্রসহ আটক রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.