text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
লালমনিরহাটে হাত-পায়ে শিকল বাঁধা বস্তাবন্দী এক যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ এলাকার ত্রিমোহনী নদীর ব্রিজের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। উদ্ধার যুবকের নাম জাহিদ হোসেন। তিনি সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের হুদুরবাজার এলাকার মৃত আবু বক্করের ছেলে। লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার কামরুল হাসান প্রিন্স বলেন, ছেলেটির শরীরে সম্ভবত কোনো চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে অজ্ঞান করা হয়েছিল। বর্তমানে ছেলেটি সুস্থ আছে। তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহা আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যুবকটিকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে অজ্ঞান করে বস্তায় ভরে ফেলে দেওয়া হয়, নাকি অন্য কোনো ঘটনা আছে, সে বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
ফোর্বস ম্যাগাজিনের করা মার্কিন ধনীদের তালিকায় এবার নেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম। ম্যাগাজিনটির বরাত দিয়ে এমনটি জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই।ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছর আগে ট্রাম্পের যে সম্পদ ছিল, এখনো সেই পরিমাণ সম্পদই আছে। বর্তমানে ট্রাম্পের সম্পদের পরিমাণ ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার। তাঁর সম্পদের পরিমাণ আরও ৪০ কোটি বেশি হলে এ তালিকায় নাম থাকতে পারত।মার্কিন আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্প গত বছর ম্যাগাজিনে শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ৩৩৯ নম্বরে ছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে ট্রাম্পের আবাসন ব্যবসায় ধস নামায় প্রায় ৬০ কোটি ডলারের লোকসান হয়। এ কারণেই ধনীদের ক্লাবে এবার স্থান হয়নি সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের। | 3 |
গাজীপুর সদর উপজেলার একটি তুলার গুদামে আগুন লেগে তুলা ও গুদামটি পুড়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার মনিপুর এলাকার ইউটা স্পিনিং মিলের গুদামে এ আগুন লাগে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. তাশারফ হোসেন বলেন, আগুনের শিখা দেখে এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে জয়দেবপুর ও শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।তাশারফ হোসেন বলেন, আগুনে টিনশেডের তৈরি গুদাম ও গুদামে রক্ষিত তুলা পুড়ে গেছে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। | 6 |
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বহুল প্রত্যাশিত বৈঠকের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আজ বুধবার জেনেভার স্থানীয় সময় বেলা একটায় বাইডেন ও পুতিনের মধ্যে বৈঠক শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই নেতার মধ্যকার বৈঠকটি চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মতো স্থায়ী হতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাইডেন এই প্রথম পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। তাঁদের এই বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জোর আলোচনা চলছে। বাইডেন-পুতিন এমন একসময় বৈঠকে বসছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে বলে উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে। দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। বার্তা সংস্থা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে মতভিন্নতা বিস্তর। এ অবস্থায় বাইডেন ও পুতিনের আজকের বৈঠকের সম্ভাব্য প্রাপ্তি নিয়ে প্রত্যাশা খুবই কম। বিবিসি বলছে, বৈঠক থেকে বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে না, এ কথা ঠিক। তবে কিছু ছোট ক্ষেত্রে দুই নেতা একমত হতে পারেন। বাইডেন ও পুতিনের বৈঠকে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে বলে উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব ইস্যুর মধ্যে থাকতে পারে-যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, সাইবার হামলা, মানবাধিকার, ইউক্রেন, বেলারুশ, কৌশলগত স্থিতিশীলতা, আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, করোনা মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি। বৈঠকের প্রাক্কালে গত সোমবার বাইডেন বলেছেন, 'আমি রাশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে যাচ্ছি না। তবে রাশিয়া যদি তাদের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তবে আমরা তার জবাব দেব।' | 3 |
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের স্কুল-কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের নোবেলজয়ী শিক্ষা ও নারী অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই। গতকাল মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় এই উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি।কর্ণাটকের চলমান পরিস্থিতির ব্যাপারে টুইটে মালালা বলেন, 'মেয়েদের হিজাব পরে স্কুলে যেতে না দেওয়া ভয়ংকর ঘটনা। নারী কম অথবা বেশি পোশাক পরলেও আপত্তি থাকে। ভারতীয় নেতাদের অবশ্যই মুসলিম নারীদের প্রান্তিকীকরণ বন্ধ করতে হবে।'গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কর্ণাটকের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে একদিকে হিজাব পরে ক্লাস করার অনুমতির দাবিতে আন্দোলন করছে মুসলিম ছাত্রীরা। অন্যদিকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা গেরুয়া ওড়না পরে হিজাববিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তিন দিনের জন্য সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করলেও গতকাল মঙ্গলবার সেখানকার একটি কলেজে হিন্দু-মুসলিম শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে।২০১২ সালে তালেবানের হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পাকিস্তানের নাগরিক মালালা ইউসুফজাই ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। ২০১৪ সালে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে তিনি শান্তিতে নোবেল পান। | 3 |
গতিশীল অর্থনীতির স্বার্থে আগামী অর্থবছরের বাজেট বিনিয়োগ সহায়ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও ইশরাক টেক্সটাইল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক। তিনি বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সহসভাপতি। সমকালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের ওপর অর্থনীতির বড় নির্ভরশীলতা রয়েছে। রপ্তানি খাত এগিয়ে গেলে পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প এগোবে। কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে অর্থনীতিতে আরও গতির সঞ্চার হবে। অন্যদিকে রপ্তানি খাত এগোতে না পারলে রপ্তানি আয় যেমন কমবে, কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আগে থেকেই কর্মসংস্থানে এক ধরনের স্থবিরতা ছিল। অতিমারি করোনা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
তিনি বলেন, করোনার ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠেছে শিল্প খাত। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব খুব সহজেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় উৎপাদনশীল অর্থনীতির জন্য সব ধরনের শিল্প খাতে সহায়তা প্রয়োজন। প্রতিযোগিতার বিশ্বে সময় একটা বড় ফ্যাক্টর। আমদানি-রপ্তানিতে সময়ক্ষেপণের বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা থাকতে হবে। মসৃণ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য বন্দরের আধুনিকায়ন জরুরি। বাজেটে এ বিষয়ে পদক্ষেপ থাকতে হবে। এ ছাড়া মূলধনি যন্ত্রপাতির মতো খুচরা যন্ত্রাংশও একই হারে শুল্ক্ক দিয়ে আমদানির সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
বস্ত্র ও পোশাক খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, কৃত্রিম আঁশের ব্যবহার বেড়েছে বিশ্ববাজারে। ব্যাপক এ চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হয়। একটা বিশাল সম্ভাবনাও রয়েছে এ ধরনের পণ্যে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম আঁশ আমদানিতে শুল্ক্ক এবং ভ্যাট প্রত্যাহার করে নেওয়া প্রয়োজন। এতে আমদানি সহজ হলে পণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি বাড়বে ব্যাপক হারে। এ ছাড়া সহজ শর্তে এবং নূ্যনতম সুদে ঋণ সুবিধা, পণ্য খালাস কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং বস্ত্র ও পোশাক খাতের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং গবেষণা উন্নয়নে বাজেটে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। এর মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ফজলুল হক বলেন, অসহনীয় যানজটে নগরজীবন ওষ্ঠাগত। সম্প্রতি রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। এ বাস্তবতার শিকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে নগরজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। বাজেটে এ বিষয়ে সাহসী পদক্ষেপ দরকার। তিনি মনে করেন, সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকারের নেওয়া মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া প্রয়োজন। গ্যাস-বিদ্যুতের মতো জরুরি অবকাঠামো সম্পর্কে তিনি বলেন, শিল্প উৎপাদন এবং নতুন বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাস সংকট। নির্বিঘ্ন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। মিল পর্যায়ে গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ থাকে না। নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের গ্যাস নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। এ অবস্থায় গ্যাস বিতরণ লাইনগুলোকে আধুনিকায়ন করে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবু হেনা মুহিব | 5 |
দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের হলের বাজার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নুরুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে দোহার থানা-পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে মরদেহটি উদ্ধার করে করে পুলিশ।নিহত নুরুল ইসলাম পূর্ব সুতারপাড়া এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ এই বাজারে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করত। বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা মাছের আড়তের পাশে জিআই তার দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা তাকে চিহ্নিত করে সে হলের বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নুরুল ইসলাম।পরে গ্রাম পুলিশ ও বাজারের ব্যবসায়ীরা দোহার থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।এ বিষয়ে দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। | 6 |
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদরাসায় দুর্বৃত্তদের হাতে ৬ জন হত্যার ঘটনায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ ও ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় এজাহারনামীয় ৫ জনসহ ১০ আসামিকে গ্রেফতার করেছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। আজ রবিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৮ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কামরান হোসেন। তিনি জানান, শুক্রবার ভোরে ক্যাম্প-১৮ এর এইচ-৫২ ব্লকে অবস্থিত 'দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়াহ' মাদরাসায় অবস্থানরত ছাত্র-শিক্ষকের ওপর দুষ্কৃতিকারীরা হামলা চালায়। এ হামলায় ৬ জন নিহত হন। নিহত আজিজুল হকের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২৫ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০-২৫০ জনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা করেন। গ্রেফতার বাকি ৯ আসামি হলেন ক্যাম্প-৮ এর আবু তৈয়বের ছেলে দিলদার মাবুদ ওরফে পারভেজ (৩২), সৈয়দ আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আয়ুব (৩৭), ক্যাম্প ৯ এর নুর বাশারের ছেলে ফেরদৌস আমিন (৪০), মৌলভী জাহিদ হোসেনের ছেলে আব্দুল মজিদ (২৪), ক্যাম্প ১৩ এর আলী আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আমিন (৩৫), আবু সিদ্দিকের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস ওরফে ফয়েজ (২৫), ক্যাম্প ১২ এর ইলিয়াছের ছেলে জাফর আলম (৪৫), ক্যাম্প ১০ এর ওমর মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ জাহিদ (৪০) ও মৃত নাজির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আমিন (৪৮)। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোরে উখিয়ার ১৮ নং ক্যাম্পে এর দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামীয়া মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণ এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ৮-১০ জনের সশস্ত্র গ্রুপ। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন ও পরে হাসপাতালে তিনজনের মৃত্যু হয়। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সরকার মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব যেন সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর না পড়ে সে জন্য তাদের বেতন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে দেশের সাধারণ জনগণ ও খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়ছে।গতকাল সোমবার বেলা ১২টায় বিএনপি কার্যালয়ে খুলনা মহানগর ও জেলায় উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তে বাড়ানো কেরোসিন, ডিজেল ও এলপি গ্যাসের মূল্য ও বর্ধিত পরিবহন ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জানান নেতারা।এ সময় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন আমির এজাজ খান, শেখ মোশাররফ হোসেন, জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, শাহ জালাল বাবলু, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আব্দুর রশিদ, আব্দুল রাকিব মল্লিক, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, সিরাজুল হক নান্নু, আবু হোসেন বাবু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, শামসুল আলম পিন্টু, মেহেদি হাসান দিপু, মহিবুজ্জামান কচি প্রমুখ।আরও উপস্থিত ছিলেন মুজিবর রহমান, ইকবাল হোসেন খোকন, সাদিকুল রহমান সবুজ, নিজামুর রহমান লালু, ওহেদুজ্জামান রানা, মুজিবুর রহমান লিটন, ইউসুফ হারুন মজনু, সাজ্জাদ হোসেন পরাগ, সাজ্জাদ আহসান তোতন, হাসানুর রশিদ মিরাজ, মিজানুর রহমান মিলটন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, মুজিবর রহমান ফয়েজ, কাজী শফিকুল ইসলাম শফি, শরিফুল ইসলাম বাবু প্রমুখ। উদ্বোধন শেষে কেডি ঘোষ রোড, স্যার ইকবাল রোড, হেলাতলা রোডে পথচারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন নেতারা। | 6 |
আজ চিত্রনায়ক মান্নার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনে তাঁকে স্মরণ করেছেন ঢালিউডের আরেক নায়ক শাকিব খান। মান্নার অভিনয় এবং কাজের প্রশংসা করে শাকিব খান লিখেছেন, মান্নার সমকক্ষ দ্বিতীয় কেই নেই। তিনি অভিনেতা হিসেবে ছিলেন অদ্বিতীয়। তাঁর অভিনয়ের আলাদা স্বাক্ষর আছে। মান্না ও শাকিব খানের প্রথম পর্দায় দেখা হয় ২০০১ সালে। ছবির নাম 'গণদুশমন'। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল। ছবিতে নায়িকা ছিলেন পপি। এরপর ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই দুই অভিনয়শিল্পীকে দেখা গেছে মাত্র চারটি ছবিতে। অন্য ছবিগুলোর নাম 'সিটি টেরর', 'মায়ের মর্যাদা' ও 'ভালোবাসার দুশমন'। শাকিব খান জানান, মান্না ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার অনেক স্মৃতি রয়েছে। তিনি বাস্তব ও ক্যামেরার সামনে ছিলেন একদমই ভিন্ন চরিত্রের মানুষ। বললেন, 'মান্না ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক স্মৃতি তৈরি হয়েছে। শুটিং ইউনিটে মান্না ভাইকে সব সময় দেখতাম, খুবই সাধারণ একটা মানুষ। সেই মানুষটাই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে পুরোটা বদলে যেতেন। প্রতিটি জায়গায় নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করে গেছেন। তিনি প্রতিটি পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়াতেন।' আশি ও নব্বই দশকের হাতে গোনা কিছু ছবিতে অশ্লীলতা ছিল। ১৯৯৭ সাল থেকে অশ্লীল ছবির সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২০০৩ সাল থেকে টানা কয়েক বছরে বাংলা ছবিতে ব্যাপকভাবে অশ্লীলতা চলতে থাকে। বিরতি দিয়ে এই পরিস্থিতি চলতে থাকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত। এই সময়ে চলচ্চিত্রে 'কাটপিসের' পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। এ কারণে চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন অনেক তারকা, নির্মাতা ও প্রযোজক। ভালো মানের ছবির সংখ্যা কমে যেতে থাকে। এই সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রকে ধ্বংসের গহ্বর থেকে একাই বেশ খানিকটা তুলে আনেন প্রয়াত নায়ক মান্না। এ সম্পর্কে শাকিব খান বলেন, 'অশ্লীল সময়ের পর আমার যখন "স্ট্রাগল পিরিয়ড", তখন মান্না ভাই তাঁর অবস্থান থেকে একচুলও নড়েননি। তিনি একের পরে এক তাঁর প্রডাকশন হাউস থেকে ভালো ছবিতে লগ্নি করেছেন। আর ভালো ছবিতে অভিনয় করে গেছেন। মান্না ভাই মানেই আলাদা কিছু। তাঁর ছবির একটা দৃশ্য দেখলেই বোঝা যেত, এটা মান্নার সিনেমা। এমন একজন অভিনেতা হঠাৎ চলে যাওয়ায় ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে যায়।' দিলীপ বিশ্বাসের সর্বশেষ ছবি 'মায়ের মর্যাদা'। এই ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন মান্না ও শাকিব খান। সেই সিনেমার একটি দৃশ্যের ছবি ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন শাকিব খান। ছবিতে তাঁর সঙ্গে মান্না। ছবিটি পোস্ট করে শাকিব লিখেছেন, 'আপনি ছিলেন অতুলনীয় (আনপ্যারালাল)। আপনার কাজগুলোতে আলাদা স্বকীয়তা ছিল। ভীষণ মিস করি আপনাকে। ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আপনার রুহের মাগফিরাত কামনা করি। প্রিয় মান্না ভাই, যেখানেই থাকুন শান্তিতে থাকুন।' মান্নাকে নিয়ে এমন স্ট্যাটাসের নিচে অনেকেই শাকিব খানের প্রশংসা করছেন। রাকিব হোসেন নামের একজন মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, 'মহানায়ক মান্নাকে স্মরণ করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনারা দুজনই বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি।' আরেকজন লিখেছেন, 'মান্নাকে আনপ্যারালাল বলে সম্মান দিয়ে আপনি বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। অভিনেতা হিসেবে আপনি এগিয়ে যান।'অভিনেতা মান্নার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিনটিতে তাঁকে স্মরণ করে টাঙ্গাইল ও ঢাকায় থাকবে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া সমাবেশ। মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না জানান, সম্প্রতি তিনি টাঙ্গাইলে গিয়ে মান্নার স্মরণ অনুষ্ঠানের সব ব্যবস্থা করে এসেছেন। মান্নার কর্মস্থল এফডিসি, তাঁদের বাসা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্র থেকে এ অভিনেতাকে স্মরণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রয়াত অভিনেতা মান্নার জন্ম টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতীতে। তাঁর আসল নাম এস এম আসলাম তালুকদার। ছোটবেলা থেকে সিনেমার প্রতি তাঁর ছিল প্রচণ্ড ঝোঁক। ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রমের মাধ্যমে চলচ্চিত্র অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। ১৯৯১ সালে মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত 'কাশেম মালার প্রেম' ছবিতে প্রথম নায়ক হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন মান্না। নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর পর পরিচালকদের চোখে একমাত্র আস্থার নাম ছিল মান্না। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় মারা যান। | 2 |
ঢাকার আমিনবাজারের তুরাগ নদে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাডুবির ঘটনায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়েছে। অভিযানে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ রয়েছে আরও দুজন। নিখোঁজদের মধ্যে একজন নারী ও একজন শিশু। এরা হলেন রুপায়ন ও শিশু আলমিনা।আজ রোববার দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করেন বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক শেখ রবিউল ইসলাম। তবে চ্যানেলে টহল অব্যাহত থাকবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা-২ জোনের কমান্ডার আবুল বাশার।ঘটনার দিন ১৮ জন কয়লাশ্রমিক নিয়ে রাজধানীর আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জনকে জীবিত ও পাঁচজনকে মৃত উদ্ধার করা হয়। গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে।এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নারী, শিশুসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আজ দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়েও বাকি দুজনকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।একই পরিবারের নিখোঁজ পাঁচজনের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা গেছে। এরা হলো আরমান (৪), ইমরান (৬), জেসমিন (দেড় বছর) ও সায়লা বিবি (২০)। অন্য পরিবারের ফারহান মনি (৫) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আমিনবাজার নৌ থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর শেখ আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ওসি আলমগীর শেখ বলেন, প্রতিটি মরদেহের পরিবারকে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ডুবুরি দল, জেলা পুলিশসহ নৌ পুলিশের কয়েকটি দলসহ নৌবাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ ও কোস্টগার্ড উদ্ধার অভিযান চালায়। | 6 |
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ আশপাশের এলাকা থেকে কয়েক শ' রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে পাঁচজন নারী এবং অন্যরা শিশু। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাওলানা ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা রোহিঙ্গা হলেও আমাদেরও ঈদ-আনন্দ আছে। আমাদের রোহিঙ্গা সন্তানরা ঈদে একটু বিনোদনের জন্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেছে। এরা ক্যাম্পে আবার ফিরে আসবে। শুনেছি রোহিঙ্গা শিশুদের পুলিশ আটক করে রেখেছে। জিয়াউর রহমান মাঝি বলেন, আমরা রোহিঙ্গা মুসলমান। বিশেষ বিশেষ দিনে এবং বিশেষ করে ঈদের দিনে অভিভাবকদের সাথে ঈদ-আনন্দ ভাগাভাগি করতে আমাদের সুযোগ দেয়া দরকার। অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পের বাহিরে যাওয়া নিষেধ। এরপরও কেন রোহিঙ্গা শিশুরা বেরিয়ে গেল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদ-আনন্দে শিশুরা কি তা মানে? এ ক্যাম্প থেকে ওই ক্যাম্পে আত্মীয়-স্বজনের কথা বলে রোহিঙ্গা শিশুরা দলবেঁধে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এদিকে রোহিঙ্গা শিশুরা ক্যাম্পে ফিরে না আসায় তাদের মা-বাবারা অস্থির হয়ে আছে। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে আসতে হলে অনুমতি নেয়ার নিয়ম রয়েছে। তা ভঙ্গ করে তারা সৈকতে আসে। এছাড়া পর্যটকদের উৎপাত করার অভিযোগও পেয়েছে পুলিশ। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত মো: সেলিম উদ্দিন জানান, সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে রোহিঙ্গারা পর্যটককে উৎপাত করছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৪৭৬ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। আটকদের বেশির ভাগই শিশু। এখনো অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, ক্যাম্প ছেড়ে তারা কিভাবে সৈকত পর্যন্ত পৌঁছেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। | 6 |
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে কথা বলেছেন আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগের পঞ্চম বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া আফরিন। গতকাল সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক সুমনকুমার দাশ। প্রথম আলো: আপনি তো বেগম সিরাজুন্নেসা হলের আবাসিক ছাত্রী। এ হলে মূলত কী কী সমস্যা ছিল? কত দিন ধরে এসব সমস্যা ছিল? সমাধানের জন্য কি আপনারা এর আগে প্রাধ্যক্ষকে বলেছিলেন? সাদিয়া আফরিন: আমাদের হলে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক দুর্বল। খাবারের মান দিনে দিনে কমছিল, এ ধরনের বেশ সমস্যা আছে। করোনা পরিস্থিতির আগে এক থেকে দেড় বছর ধরে এমন সমস্যা ছিল। পরে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়ার পর একই সমস্যায় পড়তে হয়েছে ছাত্রীদের। এ নিয়ে ম্যামের (প্রাধ্যক্ষ) সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি আন্তরিক ব্যবহার করতেন না। বলতেন, এসব নাকি সমস্যা না। থাকতে হলে এভাবেই থাকতে হবে। প্রথম আলো: হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। প্রাধ্যক্ষও পদত্যাগ করেছেন। তাহলে এখন কেন উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন? সাদিয়া আফরিন: আমরা যখন প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করছিলাম, তখনই কিন্তু আমাদের ওপর পুলিশি হামলা হয়। এর প্রতিবাদে আমরা যখন উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করি, তখন জানানো হয় প্রাধ্যক্ষ পদত্যাগ করেছেন। প্রথম আলো: উপাচার্য গণমাধ্যমে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ওপাশ থেকে 'গুলি ছোড়ায়' পুলিশ অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ যে মামলা করেছে, সেখানে ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ ও পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? সাদিয়া আফরিন: আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ইটপাটকেল ছোড়া হয়নি, আর গুলি-ককটেল তো দূরের কথা। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী। আমরা নিজেদের ক্যাম্পাসে কখনো গুলি, টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিয়ে ঢুকি না। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলাম। এটা শুধু ছাত্রীদের আন্দোলন ছিল। আর ছাত্রীদের আন্দোলনে কখনো এই ধরনের ইটপাটকেল ছোড়া এসব আসে না। যখন পুলিশ আমাদের ওপর হামলা করেছে, নির্বিচার লাঠিপেটা শুরু করেছে, তখন সেখান থেকে ছাত্রীদের বাঁচানোর জন্য কিছু ছেলে পুলিশদের দিকে ইটপাটকেল ছুড়েছে। তবে সেটা পুলিশ আমাদের ওপর হামলা করার পরই তারা করেছে। আমরা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, সেখানে বাইরে থেকেও কারও ঢিল ছোড়ার সুযোগ নেই। পুরো বিষয়টিই মিথ্যাচার। পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এটা প্রত্যাহারের দাবি আমরা জানিয়েছি। কিন্তু এখনো সেটি মানা হয়নি। পুলিশ এল, পুলিশ হামলা করল, আবার পুলিশই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করল। আমরা মনে করি, উপাচার্য স্যারের ইন্ধনে পুলিশ হামলা করেছে। তাই তাঁকে পদত্যাগ করতেই হবে। প্রথম আলো: পুলিশের হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটা তদন্ত কমিটি করেছে... সাদিয়া আফরিন: তদন্ত কমিটি যে গঠন করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত কমিটিতে কে কে আছেন, সে বিষয়েও আমরা জানি না। তদন্ত কমিটি কবে গঠন করা হয়েছে, তাদের কার্যক্রম কীভাবে চলছে বা শেষ পর্যন্ত তদন্ত কবে শেষ করবে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। প্রথম আলো: উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার আগে নাকি কিছু শিক্ষার্থী তাঁকে লাঞ্ছিত করারও চেষ্টা করেছিলেন? এমনটাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করছে... সাদিয়া আফরিন: আমরা উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলার জন্য সেদিন সবাই পেছন পেছন যাচ্ছিলাম। কিন্তু স্যারের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁকে ঘিরে রেখেছেন। এরপর আইসিটি ভবনের ভেতরে উপাচার্য স্যার ঢুকে যান। পরে এ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। উপাচার্য স্যারকে লাঞ্ছিত করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রথম আলো: আমরণ অনশন শুরুর পর সংকট নিরসনে শিক্ষকেরা বারবার আপনাদের কাছে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে ছুটে গিয়েছেন। কিন্তু আপনারা প্রত্যাখ্যান করেছেন, কেন? সাদিয়া আফরিন: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার আমাদের আন্দোলন নিয়ে মিথ্যাচার করছিল। এতে তাদের প্রতি আমাদের অবিশ্বাস জন্মেছে। শিক্ষকেরা বলেছেন, শিক্ষার্থীরা নাকি শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেছে। আমরা এটা করিনি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলাম। এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে তাঁরা নানা ধরনের মিথ্যাচার ছড়িয়েছেন। এসব কারণে তাঁদের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাই তাঁদের প্রতি আমাদের আস্থা ছিল না। প্রথম আলো: উপাচার্য দাবি করেছেন, বহিরাগতরা আপনাদের আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে। সাদিয়া আফরিন: এ বিষয়ে একটাই কথা বলব, আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন করছি। আমাদের যিনি উপাচার্য রয়েছেন, তাঁকে আমরা 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করছি। এই উপাচার্যকে আমরা চাচ্ছি না। প্রথম আলো: আপনারা এত দিন ধরে অহিংস আন্দোলন করে আসছেন। হঠাৎ কী এমন ঘটল, যে কারণে উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন? সাদিয়া আফরিন: অনশনকারীরা অভুক্ত অবস্থায় কষ্ট করে আছে, আর তিনি বাসায় বসে আরামে আছেন, খাওয়াদাওয়া করছেন। মানুষজন তাঁর বাসায় যাচ্ছে-আসছে। এ কারণে আমরা বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। আমরা যেমন আছি, এখন তিনিও তেমন থাকুন। তখনই আমাদের যন্ত্রণা তিনি অনুভব করতে পারবেন। প্রথম আলো: শেষ পর্যন্ত তাহলে সমাধান কী? সাদিয়া আফরিন: আমরাও চাই বিষয়টি দ্রুত শেষ হোক। কারণ, যাঁরা আমরণ অনশন করছেন, তাঁদের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। এখানে আমাদের আপস করার কিছু নেই, আমরাও দ্রুত সমাধান চাই। আমাদের একটাই দাবি, যে উপাচার্য আমাদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, যে উপাচার্য আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছেন, তারপর মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন, সেই উপাচার্যকে আমরা আমাদের ক্যাম্পাসে চাই না। এই উপাচার্য থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কখনো শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাসে পরিণত হতে পারবে না, এটা আমরা মনে করি। তাই আমাদের এক দফা এক দাবি। সেটা হলো উপাচার্যকে পদত্যাগ করেই সংকট দূর করতে হবে। এর আগপর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরব না। | 6 |
দুই দিন পর নিখোঁজ শিশুর লাশ পাওয়া গেলো মাদ্রাসার সেপটিক ট্যাংকিতে। নিহত শিশুর নাম মিম আক্তার (৭)। সে কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা গ্রামের মোঃ শরীফুল ইসলামের মেয়ে। পুলিশ শনিবার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা শাহ ইসরাফিল কামিল মাদ্রাসার সেপটিক ট্যাংকি থেকে লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে ট্যাংকিতে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। মীমের বাবা মোঃ শরীফুল ইসলাম জানান, তিনি পেশায় সিএনজি চালতি অটোরিকশা চালক। তার এক ছেলে এক মেয়ে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির বাহিরে খেলতে গিয়ে নিঁখোজ হয় তার মেয়ে মীম। পরে বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এদিকে ট্যাংকিতে মীমের বস্তাবন্দি লাশের সন্ধান দেন ওই গ্রামের ছেলে মোঃ কাইয়ুম (১৬)। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে কাইয়ুম ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা যায়। আটক কাইয়ুম ওই মাদ্রাসায় দফতরীর কাজ করতো। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ ফরিদ আহমেদ জানান, কাইয়ুমের বাবা গত ৪০ বছর ধরে এ মাদ্রাসায় দফতরীর কাজ করতেন। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যায় কাইয়ুমের বাবা আবদুল মবিন। পরে বাবা আবদুল মবিনের অনুরোধে পরবর্তী দফতরি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ১৫ শ টাকা বেতনে মৌখিক নিয়োগে চাকরি করতো কাইয়ুম। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। আমরা একজনকে আটক করেছি। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলবো। বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন | 6 |
বগুড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এজন্য তার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজনকরা হয়েছে। পৌর আওয়ামী লীগ ২ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল আলম শাওনের আয়োজনে শুক্রবারবাদ জুমা সুবিল জামে মসজিদে এই দোয়া মাহফিল করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজী জুয়েল, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডোনিজ বাবু তালুকদার, মাহমুদুন্নবী রাসেল, এস এম তারিক, ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম মিনু, জেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুজ্জামান তুষার ও জেলা শ্রমিকলীগের সদস্য আজিজুল শেখ। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
যৌথভাবে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে বাংলাদেশ চুক্তি করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। সোমবার (২ আগস্ট) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (২ আগস্ট) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সিনোফার্ম বাংলাদেশকে নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নোফার্মের কাছ থেকে টিকা কেনা শুরুর পর এক মাসে ৭০ লাখ টিকা পেয়েছি আমরা। চলতি মাসেও আসবে। চীনের টিকার বিপুল চাহিদা রয়েছে। এ জন্য আগেই বাড়তি টিকার সংখ্যা জানাতে চেয়েছিল চীন। আমরা সেটা দিয়েছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী আগস্ট থেকে তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উৎপাদনে যাচ্ছে সিনোফার্ম। আমার সঙ্গে আলোচনার পর চীনের রাষ্ট্রদূত যৌথ উৎপাদনের খসড়া সমঝোতা স্মারক তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।' এই চুক্তি সইয়ের পর উৎপাদন শুরু করতে দুই মাস লাগতে পারে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ডি-এসএইচ | 6 |
আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা, বিগত বছরে ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভর্তি পরীক্ষার সময় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং ভর্তি-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা- এই তিন দফা দাবিতে বুধবার ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিন সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এ আন্দোলনের ৬ ঘণ্টা পর উপাচার্য সরাসরি এসে তাদের দাবি মেনে নেন। বুধবার সকাল ১১টায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দুপুরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর ফটকের সামনে ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিকেলের দিকে উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ মৌখিকভাবে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেন। পরে তারা উল্লাস প্রকাশ করে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। | 6 |
বেনাপোলে ওপারে ভারতের পেট্রাপোল পুলিশ ইমিগ্রেশনে অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্বক ভোগান্তিতে পড়ছেন ভারতগামী বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীরা। শুধু বাংলাদেশি নয়, ভোগান্তিতে পড়ছেন ভারতীয় নাগরিকরাও। অধিকাংশ সময় বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি শারিরীকভাবে নির্যাতনও করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ হাতে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনা ঘটলেও এ নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের। পাসপোর্ট যাত্রীরা বলছেন, বৈধ পথে পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে এরকম দুর্ভোগ ও নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজর দেওয়া দরকার। ভিসা নিতে ভারতীয় হাই কমিশন পাসপোর্ট প্রতি ৭০০ টাকা ভিসা প্রসেসিং ফি আর বাংলাদেশ সরকার নিচ্ছে ৫৪২ টাকা ভ্রমণ কর। এছাড়া ভিসার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরও খরচ হয় প্রায় ২ হাজার টাকা। কিন্তু যাত্রীদের সুবিধার জন্য কিছুই করেনি ভারতীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় কাস্টমসে যাত্রী সাধারণের জন্য নেই কোন বিশ্রামাগার ও টয়লেট সুবিধা। প্রখর রোদ, বৃষ্টিতে ভিজে ও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কাজ শেষ করে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে ঢোকার অপেক্ষায় পেট্রাপোল চেকপোস্টে নো-ম্যান্সল্যান্ডে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় পাসপোর্ট যাত্রীদের। এ সময় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভারতীয় আইবি পুলিশের পাসপোর্ট ও ভিসা চেকিংয়ের নামে সময়ক্ষেপণের জন্য নো-ম্যান্সল্যান্ডে পাসপোর্ট যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে বলে পাসপোর্ট যাত্রীরা অভিযোগ করেন। তারা এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান। যাত্রী সুবিধার্থে বাংলাদেশ সরকার অনেক আগেই এপার সীমান্তে আন্তর্জাতিক কাস্টমস-ইমিগ্রেশন ভবন, যাত্রী টার্মিনাল ও বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থাপনার উন্নয়ন করেছে। বাড়ানো হয়েছে কাস্টমস ও পুলিশের জনবল। কিন্তু ভারত অংশে যাত্রী সেবায় এসবের কিছু নেই। এতে ভারত যাত্রায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশিসহ সকল পাসপোর্ট যাত্রীদের। বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশনে মিনহাজ আরাফাত (২৯) নামে এক বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীকে নির্যাতন করেছে ভারতীয় পুলিশ। গত শুক্রবার তাকে নির্যাতন করা হয়। মিনহাজ নেত্রকোনা জেলার কেন্ডুয়া থানার খালিশপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। মিনহাজ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে ভারতের হরিদাসপুর কাস্টমস পার হয়ে সে দেশের ইমিগ্রশনে প্রবেশ করি। এর পর পাসপোর্টের ফরম পূরণ করে লাইনে দাঁড়াই। এ সময় আমার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনে কল আসে। রিসিভ করে কথা বলার সময় সাদা পোশাকের ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ এসে কাঁচঘেরা একটি কক্ষে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে। এক পর্যায়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে পাসপোর্টে রিফিউজ সিল মেরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশি অন্যান্য পাসপোর্ট যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেমনের অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তারা বার বার অভিযোগ জানিয়ে আসছেন ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বিডি প্রতিদিন/২২ এপ্রিল, ২০১৮/ফারজানা | 6 |
পৃথক পাঁচ মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েছেন হাইকোর্ট।জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি চেয়ে খালেদা জিয়ার করা পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের পৃথক দুটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। মানহানির অভিযোগে ঢাকায় তিনটি ও নড়াইলে করা একটি মামলায় বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চমঙ্গলবারখালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে, নাশকতার অভিযোগে কুমিল্লায় করা এক মামলায় বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চসোমবারবিএনপির চেয়ারপারসনের জামিনের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েছেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কায়সার কামাল। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এ এইচ এম কামরুজ্জামান মামুন, শামীমা সুলতানা দীপ্তি ও রোকনুজ্জামান সুজা। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে ঢাকায় তিনটি ও নড়াইলে একটি মামলা হয়। পৃথক মামলায় জামিন চেয়ে তিনি ২০১৮ সালে হাইকোর্টে আবেদন করেন। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছর হাইকোর্ট রুল দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে ২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এই মামলায় ২০১৯ সালে হাইকোর্ট থেকে খালেদা জিয়া জামিন পান। পৃথক পাঁচ মামলায় জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। | 6 |
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জামালপুর জেলার বাসিন্দা। গতকাল বুধবার বিকেলে করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. মহিউদ্দিন খান মুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।মুখপাত্র জানান, আইসিইউতে তিনজনসহ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মোট ৩৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। নতুন ভর্তি হয়েছেন দুজন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন চারজন।এদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ২৪ ঘণ্টায় মমেক হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব ও এন্টিজেন টেস্টে ৮৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়। তবে করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। ৮৩টি নমুনা পরীক্ষায় করোনাও শনাক্ত হয়নি। | 6 |
বিজয় মালিয়া, যাকে বলা হতো 'কিং অব গুড টাইম'। এখন পলাতক এই ব্যবসায়ীকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন লন্ডনের হাইকোর্ট। সোমবার 'স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া'র নেতৃত্বে সরকারি ব্যাংকগুলোর করা মামলায় এই রায় দেন আদালত। লন্ডন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন লিকার ব্যারন বিজয় মালিয়া। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াসহ একাধিক ভারতীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ৯ হাজার কোটি রুপির ঋণ নিয়ে ব্রিটেনে গা ঢাকা দিয়েছেন কিংফিশার এয়ারলাইন্সের এই কর্ণধার। ২০১৯ সালের ১৪ মে ইংল্যান্ডের আদালতে বিজয় মালিয়ার ভারতে প্রত্যার্পণ ঠেকানোর আরজি খারিজ হয়ে যায়। ইডি'র তরফে জানানো হয় খুব শিগগির বিজয় মালিয়াকে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে প্রত্যার্পণ করা হবে। কেননা তিনি প্রত্যার্পণ রোধের মামলায় পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু তারপর থেকে আইনি জটিলতা চলছেই। নিম্ন আদালতে পরাস্ত হওয়ার পর প্রত্যার্পণ ঠেকাতে ব্রিটেনের উচ্চ আদালতগুলোতে আবেদন করেন লিকার ব্যারন। কিন্তু সেখানেও তাকে পরাস্ত হতে হয়। ব্রিটেনের সুপ্রিম কোর্ট স্তরের আদালতেও প্রত্যার্পণ মামলায় পরাস্ত হন মালিয়া। কিন্তু তারপরও তাকে ভারতের হাতে তুলে দেয়নি ব্রিটেন। এতদিন ব্রিটেন সরকার দাবি করছিল, মালিয়া সংক্রান্ত 'গোপন' একটি মামলার শুনানি এখনও চলছে। সেই মামলাটির নিস্পত্তি হলেই তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আজও ভারতে ফেরানো যায়নি তিন পলাতক শিল্পপতি বিজয় মালিয়া, মেহুল চোকসি ও নীরব মোদিকে। তিনজনের কারণে ভারতে সরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৫০০ কোটি রুপিরও বেশি। কয়েকদিন আগেই তিনজনের মোট ৯ হাজার ৩৭১ কোটি রুপি জমা পড়ে ব্যাংকে। এর মাধ্যমে আংশিক ক্ষতিপূরণ হবে ব্যাংকগুলোর। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন, দ্য ইকোনমিক টাইমস বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দেশটিতে দায়িত্বরত অল্প সংখ্যক কূটনীতিকদের কিয়েভ থেকে সরিয়ে পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ শহরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনি ব্লিনকেন এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রুশ বাহিনীর অবস্থান জোরদারের পরিপ্রেক্ষিতে 'সাময়িকভাবে' তাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'শুধু একটি কারণেই আমি এই পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছি-- তা হলো আমাদের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা এবং আমরা জোরালোভাবেই আহ্বান জানাচ্ছি ইউক্রেনে থেকে যাওয়া বাকি মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ওই দেশ ছেড়ে আসার জন্য।' এর আগে গত শুক্রবার যেকোনো সময় ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সতর্কতা জানিয়ে মার্কিন নাগরিকদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন ছাড়ার আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদ্ষ্টো জ্যাক সুলিভ্যান ওই সতর্কতায় জানান, যুদ্ধ পূর্ণমাত্রায় লেগে গেলে ইউক্রেন থেকে নাগরিকদের উদ্ধারের জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন মার্কিন সৈন্যদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেশটিতে পাঠাবেন না। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইতালি, জাপান, ইসরাইল এক ডজনের বেশি দেশ ইউক্রেন ছাড়ার জন্য নিজ নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালে ইউক্রেনে রুশপন্থী সরকারের পতনের পর রাশিয়া দেশটিতে আগ্রাসন চালিয়ে ক্রিমিয়া অঞ্চলটি দখল করে নেয়। পাশাপাশি মস্কোর পৃষ্ঠপোষকতায় পূর্ব ইউক্রেনে বিপুল অঞ্চল দখল করে নেয় বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ওই সংঘর্ষ বন্ধে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় ২০১৫ সালে বেলারুশের মিনস্কে ইউক্রেন ও রাশিয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তি করে। গত বছরের ডিসেম্বরে ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সৈন্য সমাবেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের পর দুই দেশের মধ্যে আবার সম্পর্কে উত্তেজনা শুরু হয়। ইউক্রেনের অভিযোগ, দেশটির পূর্বাঞ্চলে কিয়েভের বিরুদ্ধে লড়াইরত রুশপন্থী বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সহায়তার নামে ইউক্রেনে আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো। অপরদিকে ইউক্রেনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া। দেশটি বলছে, সামরিক বাহিনীর মহড়ার অংশ হিসেবে ওই সৈন্য সমাবেশ করা হয়েছে। একইসাথে ইউক্রেনের পূর্বে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের যোদ্ধাদের নিপীড়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে রাশিয়া। সৈন্য সমাবেশের জেরে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে রাশিয়ার সম্পর্কে উত্তেজনা চলছে। উত্তেজনা প্রশমনে বিভিন্ন পন্থায় কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। সূত্র : সিএনএন | 3 |
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আরেক বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এবার পদ্ম ছেড়ে ঘাসফুলে নাম লেখালেন কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়। শনিবার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে তার হাতে পতাকা তুলে দেন দলটির মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এর আগে মুকুল রায়, তন্ময় ঘোষ ও বিশ্বজিৎ দাস বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছেন। অনেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সৌমেন রায় আগে থেকে তেমন কোনো আভাস দেননি। কয়েক দিন আগেই উত্তরবঙ্গে বিজেপির বৈঠকে তিনি অংশ নেন। বৈঠক শেষে তিনি অভিযোগও করেছিলেন, শাসক দল কাজ করতে না দেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। জেলা শাসকদের সাহায্য পাচ্ছি না। ফলে অনেকেই অসন্তুষ্ট। তবে আমরা বিজেপিতেই আছি এবং থাকব। মুখে এমন বললেও কয়েকদিন পরই তা উল্টে গেল। শনিবার যোগদান অনুষ্ঠানে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের দল থেকে যারা অন্য দলে গিয়েছিলেন, তাদের কয়েকজনকে এরই মধ্যে আমরা দলে ফিরিয়ে নিয়েছি। বিজেপির বিধায়ক সৌমেন রায়ও চেয়েছিলেন তিনি তৃণমূলে আসবেন। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী মমতার পাশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাই তাকে দলে নেওয়া হলো। সৌমেন রায় বলেন, মাঝখানে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। সেজন্য ক্ষমাপ্রার্থী। দিদির উন্নয়নকে সামনে রেখেই উত্তরবঙ্গের জন্য কাজ করতে চাই। এ দিন শুভেন্দু অধিকারীর নাম না নিয়েই তিনি বলেন, বিরোধী দলনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন না। এ ছাড়া বিজেপির কালচারের সঙ্গে বাংলার কালচার মেলে না। আর বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি বাঙালি পছন্দ করে না। বাংলা এক ছিল- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একই থাকবে। | 3 |
প্রায় তিন দশকের গানের ক্যারিয়ার। এই সময়ে অনেক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন আগুন। গান নিয়ে পেয়েছেনও প্রত্যাশার বেশি। এবারই প্রথম নতুন একটি গান নিয়ে আশাহত হতে হলো। আগুন বলেন, '''কালো পাথর" নামে একটি গান মুক্তি দিয়েছি। আমার ক্যারিয়ারের সেরা গানের একটি। দীর্ঘদিন গানটির পেছনে সময় দিয়েছি। কিন্তু গানটিকে কোনোভাবেই শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারছি না। অনেক চ্যানেলে বারবার গানটি গাইছি। জি সিরিজ থেকে গানটি প্রকাশ পেয়েছে। তারপরও শ্রোতারা কেন গানটি শুনছেন না, বুঝতে পারছি না। আমি কখনোই আমার অন্য গানের ক্ষেত্রে এমন প্রচার করিনি। এই গান নিয়ে মনটাও খারাপ। অন্য কাজেও স্বস্তি পাচ্ছি না। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী, কোনো একদিন গানটি মানুষ শুনবেন।' 'কালো পাথর' আত্মশুদ্ধির গান। 'গানের কথায় বলতে চেয়েছি, কালো পাথর তোমার কষ্ট আমাকে দাও, তুমি সাদা হয়ে যাও। ভিন্ন ধারার একটি আধ্যাত্মিক গান। গানটি লেখা ও সুর আমার করা। প্রত্যয় খান সংগীতও ভালো করেছে। আমার ক্যারিয়ারে গান নিয়ে সব সময় প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এই গান নিয়েও অসম্ভব আশা ছিল। গানটি শুনে মানুষ অন্তত প্রশংসা করবেন। সেখানে বলতে গেলে ৯০ ভাগ আশাই পূরণ হয়নি', বলেন আগুন। 'প্রেম প্রীতি আর ভালোবাসা', 'পৃথিবীতে সুখ বলে যদি কিছু', 'আমার স্বপ্নগুলো কেন এমন', 'বাবা বলেছে ছেলে নাম করবে', 'ভালোবেসে অন্তরে অন্তরে'সহ অনেক জনপ্রিয় গানের তিনি স্রষ্টা। ১৯৯২ সালে 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমায় প্রথম গান করেন। বর্তমানে কী গান করছেন জানতে চাইলে আগুন বলেন, 'এখন "কালো পাথর" গানের প্রমোশন নিয়ে আছি। মানুষ গান না শুনলে কষ্ট করে সময় দিয়ে গান করে কী লাভ। ভালো একটি গান মানুষ শুনছে না।' | 2 |
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে "মুজিববর্ষ" বানান ভুলের কারণ "ব্যাখ্যা" দেওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রাট। এত বড় আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ এই শব্দের ভুল মেনে নিতে পারছিলেন না নেটিজেনরা। বানান ভুল কেন হল তার কারণ সাংবাদিকদের কাছে ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে "ব্যাখ্যা" করেন মিডিয়া কনসালটেন্ট আসিফ কবীর। আসিফ কবির তার ব্যাখ্যায় বলেন, "পোডিয়ামের বানান ভ্রান্তিটির প্রাথমিক খোঁজখবরে যা জানতে পেরেছি তা হলো- আমরা একটি চিপের মাধ্যমে পিসি থেকে ট্রান্সফার করে লেখাটি উৎকীর্ণ করেছি। ডিভাইস ট্রান্সফারের একপর্যায়ে একটি 'ব' অক্ষর অমিট হয়ে গেছে। আমরা পিসিতে চেক করে দেখেছি এটা ঠিকই আছে। অ্যাডভান্স টেকনোলজির বিষয়টি হয়তো স্যুট করেনি।" এরপর সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, তার এই বক্তব্য উদ্ধৃত করা যাবে কিনা? তখন তিনি বলেন, "তাকে কোট করে এটা দেওয়া যাবে"। ফলে সব গণমাধ্যম তখন নিউজটি করেছে। কিন্তু শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে এই "ব্যাখ্যা"র বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে গঠিত কমিটির প্রধান সমন্বয়ক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, "কোনো ব্যাখ্যাই দেওয়া হয়নি।" অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী (মিডিয়া সেন্টার) নামের সেই মেসেঞ্জার গ্রুপে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ১২৩ জন সাংবাদিক রয়েছেন। এই গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্নসময় নিউজ ও প্রেস রিলিজ পেয়ে আসছেন তারা। এখানে দেওয়া কোনো বার্তা আন-অফিসিয়াল হওয়ার সুযোগ নেই। গণমাধ্যমে কর্মরত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বলছেন, বানান ভুল এবং ব্যাখ্যা দেওয়ার পর সেই ব্যাখ্যা অস্বীকার করলে বোঝা যায়-যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা আসলে দায়িত্বটা পালনের যোগ্য নন। আর এ ধরনের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা দেওয়া-না দেওয়া নিয়ে যে অস্বীকার করার যে প্রবণতা সেটাও দুঃখজনক। কামাল নাসের চৌধুরী বলেন, "এটা ভুল হয়েছে। বানান ভুল কেন হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আমাকে উদ্ধৃত করে যারা সংবাদ প্রকাশ করেছে তাদের সঙ্গে আমার আলাপ হয়নি।" উল্লেখ্য, ১৬ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় পোডিয়ামে দেখা যায় "মুজিববর্ষ" বানানটি ভুল, সেখানে লেখা হয়েছে "মুজিবর্ষ"। | 6 |
সেমিফাইনালে যেতে হলে জয়ের বিকল্প নেই। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৩২ রানের বেশি করতে পারেনি সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। এবারের বিশ্বকাপে এখন কোনো ম্যাচে আড়াইশ রান করতে পারেনি লংকানরা। ইংল্যান্ডের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ৫০ ওভারে ২৩২ রান তুলতে সক্ষম হয় লংকানরা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১১৫ ব বলে ৮৫ রান করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। এছাড়া ৪৯ ও ৪৬ রান করেন ফার্নান্দো ও মেন্ডিস। আজ শুক্রবার ইংল্যান্ডের হেডিংলি লিডসে বিশ্বকাপের ২৭তম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। দলীয় ২.২ ওভারে মাত্র ৩ রানে দুই ওপেনারের উইকেট হারায় লংকানরা। তৃতীয় উইকেটে কুশল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে ৫৯ রানের জুটি গড়েন অভিষেক ফার্নান্দো। ইংলিশ পেসারদের তোপের মুখে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন তারা। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ফিফটির পথেই ছিলেন ফার্নান্দো। কিন্তু মার্ক উডের বলে আদিল রশিদের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে ৩৯ বলে ৬টি চার ও দুটি ছক্কায় ৪৯ রান করেন অভিষেক ফার্নান্দো। এরপর অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও কুশল মেন্ডিসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে খেলায় ফিরে শ্রীলংকা। ইংলিশ পেসারদের চাপ এড়িয়ে অনবদ্য ব্যাটিং করেন তারা। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে খেলায় ফিরে লংকানরা। অনবদ্য ব্যাটিং করে যাওয়া কুশল মেন্ডিস ফিফটির ঠিক আগ মুহূর্তে গিয়ে হোচট খান। আদিল রশিদের বলে আউট হওয়ার আগে ৬৮ বলে ৪৬ রান করে ফেরেন মেন্ডিস। তার বিদায়ের পর আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। পরপর দুই বলে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় লংকানরা। এরপর ডি সিলভার সঙ্গে জুটি বেধে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। ৪৭ বলে ২৯ রান করে ফেরেন সিলভা। তার বিদায়ের পর মাত্র ২ রানে ফেরেন থিসেরা পেরেরা। ছন্দে ফিরেছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। তার ব্যাটে বিপর্যয় এড়িয়ে খেলায় ফিরেছে শ্রীলংকা। এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই অফ ফর্মে ছিলেন অ্যাঞ্জেলো। সবশেষ তিন ম্যাচে তার সংগ্রহ মাত্র ৯ রান। প্রথম দুই ম্যাচে ডাক পেয়েছেন তিনি। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুক্রবার ছন্দে ফিরেছেনশ্রীলঙ্কার সাবেক এই অধিনায়ক। তার ব্যাটে ভর করে সম্মানজনক স্কোর গড়ার স্বপ্ন দেখছে শ্রীলঙ্কা। | 12 |
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্র্যাজুয়েশন পাওয়াকে টেকসই করতে উত্তরণের সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি 'জাতীয় সরল উত্তরণ কৌশল' প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। আজ রোববার সকালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি প্রদান আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যাপন অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণকে টেকসই করতে একটি জাতীয় সরল উত্তরণ কৌশল (স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি) প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছি।'২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই জাতীয় দলিলে উত্তরণের সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব ধরনের দিকনির্দেশনাসহ কার্যকর কৌশল থাকতে হবে।'সম্যক গবেষণা ও সমীক্ষা থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রমাণনির্ভর সময়োপযোগী কার্যকর কৌশল প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবই। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের স্বীকৃতি এই স্বপ্ন বাস্তবায়নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।'শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি জানি, স্বাধীনচেতা হলে অনেক বাধা আসে। আর দেশকে ভালোবেসে শুধু দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে যারা পথ চলে, তাদের পথচলা কখনো সহজ হয় না। অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়। চলার পথ যত অন্ধকারাচ্ছন্নই হোক না কেন, যত বন্ধুর হোক না কেন, যত কণ্টকাকীর্ণ হোক, সেখানে আমরা থেমে থাকব না। অন্তত আমি এই প্রতিজ্ঞা করছি, থেমে থাকব না।'প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি জানি অনেক বুলেট, বোমা, গ্রেনেড আমার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। আমি কখনো সেগুলো নিয়ে পরোয়া করি না। আমি জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করি। আর যাঁরা আমার সহযোগী, আমার সঙ্গে আছেন, তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানাই। কেননা, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁরা সবাই কাজ করে যাচ্ছেন।'এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সব সহযোগী সংগঠন, বাংলাদেশের সব জনগণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। | 6 |
বাগেরহাটের শরণখোলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের লোকালয়ে বাঘ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই গ্রামে একটি বেঙ্গল টাইগার দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই মসজিদ থেকে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে।উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের খেজুরবাড়িয়া ওয়ার্ডের সদস্য আবুল হোসেন খান বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ও তাঁর ছেলে শাহিন নিজেদের মৎস্যখামার পাহারা দিতে যান। এ সময় খামারের পাশের খোলা মাঠে টর্চের আলোতে একটি বাঘকে শুয়ে থাকতে দেখেন। এতে তাঁরা চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন। একসময় বাঘটি পাশের ছোট নালা খালে লাফিয়ে পড়ে সুন্দরবনের দিকে চলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব দুই কিলোমিটারের বেশি।খেজুরবাড়িয়া গ্রামের এনামুল হক খান বাঘ-আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটানোর কথা জানিয়ে বলেন, এলাকার মসজিদগুলো থেকে গ্রামে বাঘ ঢোকার খবর মাইকিং করে জানিয়ে মানুষজনকে সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে।পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুস সবুর বলেন, 'খবর পেয়ে গতকাল সকালে বনরক্ষী, সিপিজি ও ভিটিআরটি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। গ্রামবাসীকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাঘটি খুঁজে পেতে কাজ করছেন বনরক্ষীরা। | 6 |
ভুয়া এলসির বিপরীতে জনতা ব্যাংকের ৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ টাকা আত্মসাতের মামলায় হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল শুনানির জন্য আগামী ৭ জুলাই দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ঠিক করেন। আদালতে জেসমিন ইসলামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। খুরশীদ আলম খান বলেন, ভুয়া এলসির বিপরীতে জনতা ব্যাংকের ৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ টাকা আত্মসাতের মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ চলতি ২০১৯ সালের ১০ মার্চ তাকে রুল মঞ্জুর করে জামিন দেন। এর বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করে। একই বছরের ১৬ জুন আপিল বিভাগ তার জামিন বাতিল করে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে আদালত রুল জারি করেন। বৃহস্পতিবার সেই রুলের শুনানির জন্য ৭ জুলাই দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। | 6 |
কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে আইন প্রণয়নের দাবিসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীতে রিকশা শোভাযাত্রা ও মানববন্ধন করেছে 'কর্মজীবী নারী' নামের একটি সংগঠন। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২১ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর ১৪ থেকে ১ পর্যন্ত রিকশা শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।'নারী নির্যাতন বন্ধ করি, কমলা রঙের বিশ্ব গড়ি' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে অস্ট্রেলিয়ান এইড ও অ্যাকশনএইড। কর্মজীবী নারীর সমন্বয়ক রাজীব আহমেদের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচিতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের গবেষণা সমন্বয়ক ফারহানা আফরিন তিথি, প্রকল্প সমন্বয়ক রাবিতা ইসলাম। কর্মসূচিতে সংহতি জানান জাতীয় শ্রমিক-জোট বাংলাদেশের ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শাহনাজ। এতে সংগঠনের কর্মী ও নারীশ্রমিকেরা উপস্থিত ছিলেন।কর্মজীবী নারীর দাবিগুলো মধ্যে ছিল নারীর জন্য নির্যাতনমুক্ত ও নিরাপদ পরিবার এবং কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলতে হবে। নারী-পুরুষের সমঅধিকার গড়ে তোলা, নারীর প্রতি সব রকম সহিংসতা বন্ধ; সব ক্ষেত্রে নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত ও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত; কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে আইন প্রণয়ন এবং 'আইএলও কনভেনশন-১৯০' অনুসমর্থন করা।ফারহানা আফরিন বলেন, নারীর অগ্রসর হওয়ার পথে বাধাগুলো যেমন, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ইত্যাদি রোধে নারীকেই সচেতন হয়ে সুন্দর সমাজ গড়তে প্রত্যয়ী হতে হবে।রাবিতা ইসলাম তাঁর বক্তব্যে নারীর জন্য নির্যাতনমুক্ত ও নিরাপদ পরিবার ও কর্মক্ষেত্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান। শেখ শাহনাজ সব নারীকে যেকোনো নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান।সভাপতির বক্তব্যে রাজীব আহমেদ সমসাময়িক ইস্যুতে কর্মজীবী নারীর পক্ষ থেকে নারীর প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। | 6 |
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে টাইগারদের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে সেই রিয়াদের কাধেঁ অর্পিত হয়েছে জেমকন খুলনার দায়িত্ব। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খুলনা টাইটানসের হয়ে অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতা আছে এই অলরাউন্ডারের। ফলে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে খুলনা তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে। ৮ নভেম্বর প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর বের হয় জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। দুদিন বাদে পরীক্ষার পরও ফলাফল পজিটিভ আসে এই অলরাউন্ডারের। এবার করোনা মুক্ত হয়েছেন তিনি। ফলে এখন আর তার মাঠে ফিরতে কোনো বাধা নেই। করোনার ফল নেগেটিভ আসার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেই জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জেমকন খুলনার অধিনায়ক নির্বাচিত করায় ভীষণ আনন্দিত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেন, 'আমার উপর আস্থা রাখার জন্য জেমকন খুলনার কর্ণধার কাজী ইনাম আহমেদ ও টিম ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাই। আমাকে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে জেমকন খুলনার নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমার তিনটি মৌসুম এই ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টিতেও এই সুযোগ পেয়ে আমি দারুণ খুশি। পাকিস্তান সুপার লিগের প্লে অফে খেলতে যাওয়ার আগে করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তখন ফলাফল পজিটিভ আসায় পাকিস্তান যাওয়ার ক্ষেত্রে ধোয়াশা তৈরি হয় তাকে নিয়ে। দুদিন পর ফের পরীক্ষার পরও যখন তিনি করোনামুক্ত হননি তখন এবারের মৌসুমে তাকে পিএসএলে খেলার আশাই ছাড়তে হয়। সামনেই বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের খেলা। ওই সময় এই টুর্নামেন্টে মাহমুদউল্লাহর খেলা নিয়েও ধীরে ধীরে শঙ্কা তৈরি হতে থাকে। তবে ৮ দিন ব্যবধানে এখন তিনি মুক্ত। আসন্ন টি-টোয়েন্টি কাপে খেলতে তার সামনে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। করোনা মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে মাহমুদউল্লাহ বলেন, 'আসসালামু আলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ! সর্বশক্তিমান আল্লাহর দয়ায় আমার আজ করোনা নেগেটিভ এসেছে। আমি এখন যত দ্রুত সম্ভব মাঠে ফেরার চেষ্টা করব। ইনশাআল্লাহ। দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।' | 12 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকালে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। খবর ইউএনবির দুর্ঘটনায় আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত, সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নীশিতার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক যাত্রী। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ও রেলওয়ে থেকে চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাতেই রেল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। মঙ্গললবার সকালে স্কাউট সদস্য ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন। | 6 |
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় সংসদ সদস্য (এমপি) ভবনে নতুন এমপিদের ফ্ল্যাট এবং শেরেবাংলা নগরের এমপি হোস্টেলে অফিস কক্ষ বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংসদের চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরীকে প্রধান করে চার সদস্যের উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে এ কমিটি গঠন করা হয়। উপ-কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি ও ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। বৈঠকে দ্রুততম সময়ে সরেজমিনে ফ্ল্যাট ও অফিস পরিদর্শন করে একটি রিপোর্ট উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ার সংসদ সদস্য ভবনের ফ্ল্যাট এবং শেরেবাংলা নগরের এমপি হোস্টেলে এখনো বহু বহিরাগত সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের আত্মীয়-স্বজন অবস্থান ও ব্যবহার করে চলেছে। নতুন করে বরাদ্দ প্রদানের স্বার্থে যারা এবার এসব বরাদ্দ পাওয়ায় যোগ্য নন তাদের ফ্ল্যাট ছেড়ে দেয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে কোনো বহিরাগত সেখানে প্রবেশ করতে না পারে বা অবস্থান করতে না পারে সেজন্য নিরাপত্তা জোরদার করার সুপারিশ করেছে কমিটি। কমিটি সংসদ সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি ভবনে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন, ইন্টারকম ও টেলিফোন সংযোগ স্থাপন, সংসদ সদস্য ব্যতীত ফ্ল্যাটে অন্য কারো অবস্থান নিষিদ্ধকরণ, সংসদ সদস্যদের ফ্ল্যাট ও অফিসে দর্শনার্থী সংখ্যা নির্দিষ্টকরণ, রাত ১১টার পর সদস্য ভবনে অবস্থান নিষিদ্ধকরণ, সংসদ লবিতে নাস্তা কিংবা খাবার পরিবেশন সীমিত করে শুধু চা-কফি পরিবেশন, ক্যাফেটেরিয়ার খাদ্যমান ও সার্বিক পরিবেশ উন্নত করার সুপারিশ করেছে। কমিটির সভাপতি নূর ই আলম চৌধুরী লিটনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এ বি তাজুল ইসলাম এমপি, হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনি এমপি, নূর মোহাম্মদ এমপি, মনজুর হোসেন এমপি, আশেক উল্লাহ এমপি এবং বিশেষ আমন্ত্রণে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি ও হুইপ আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি অংশ নেন। এ ছাড়াও সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
আজ দুপুরে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)। এই এজিএমে আমন্ত্রিত ১৬৬ কাউন্সিলরের জন্য উপহার হিসেবে থাকছে একটি ল্যাপটপ ও এক লাখ টাকার চেক।বর্তমান পরিচালনা পরিষদের এটিই প্রথম বার্ষিক সভা। সর্বশেষ এজিএম হয়েছে ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর। গত ১১ বছরে এটি বিসিবির তৃতীয় এজিএম। প্রতি এজিএমের মতো এবারও বার্ষিক সভায় বিশেষ উপহার থাকছে আমন্ত্রিত কাউন্সিলরদের জন্য। একাধিক কাউন্সিলর আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, এজিএমে তাঁদের এক লাখ টাকার চেক ও একটি ল্যাপটপ উপহারের কথা। পরশু আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীও, 'হ্যাঁ, আমরা প্রতি এজিএমেই সম্মানিত কাউন্সিলরদের উপহার দিয়ে থাকি, এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না।'লাখ টাকার চেক ও ল্যাপটপসহ পুরো এজিএম আয়োজনে নিশ্চিতভাবে বড় অঙ্কের ব্যয় হবে বিসিবির, যেটি ২ কোটি টাকার নিচে হওয়ার কথা নয়। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৭ সালের এজিএমে বিসিবির ব্যয় ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। | 12 |
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের কাশিড়া উচ্চবিদ্যালয়ে তিন পদে নিয়োগ পরীক্ষার আগেই নাম প্রকাশ ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশী দুই প্রার্থী।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক 'কাশিড়া ভাইরাল গ্রুপ' নামের একটি গ্রুপ ও দুটি অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাশিড়া উচ্চবিদ্যালয়ে তিন পদে নিয়োগ বাণিজ্যের তথ্য পাঁচ দিন আগে ওই গ্রুপে ফাঁস হয়। সেখানে অফিস সহকারী, আয়া ও নিরাপত্তাকর্মী পদে ঘুষ বাণিজ্যর তথ্য ফাঁস করা হয়। এরপর সেটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।পরে অফিস সহায়ক পদে চাকরিপ্রত্যাশী প্রার্থী আনোয়ার জাহিদ ও নিরাপত্তাকর্মী পদে আশরাফুল ইসলাম 'আয়া পদে তারা বানু, অফিস সহায়ক পদে মোর্শেদা খানম এবং নিরাপত্তাকর্মী পদে দাবীরুল ইসলাম' নামের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা নাম উল্লেখ করে গত রোববার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অনুলিপি দেওয়া হয় আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও।এ বিষয়ে মোর্শেদা খানম বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সত্য নয়। চাকরির বিষয়ে আমি কাউকে টাকা দিইনি। আমি ওই স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছিলাম।'বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় তিন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই পদগুলোর পরীক্ষা হবে ২৯ ডিসেম্বর।নিরাপত্তাকর্মী পদে প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, 'বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে উল্লিখিত তিন পদে তাঁদের পছন্দের তিনজনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য অর্থ নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র তাঁদের দেওয়া হবে বলে জানতে পেরেছি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া ও মেধাভিত্তিক যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।'আনোয়ার জাহিদ বলেন, 'আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্ট কোটা অনুসরণ না করে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেই সঙ্গে পূর্বে থেকে ঠিক করা তিন প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নামমাত্র নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।'বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব সাখিদার বলেন, 'বিদ্যালয়ে কোনো নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।'বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দীকুর রহমান বলেন, 'বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা সঠিক নিয়মে কোনো অর্থ লেনদেন ছাড়ায় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। একটি মহল মিথ্যে অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, 'নিয়োগ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।'জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, 'কাশিড়া উচ্চবিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কীভাবে, কে নিয়োগ দিচ্ছে-এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না। বিস্তারিত জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানাতে পারবেন।' | 6 |
শ্রীলংকার অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরার মাত্র ৭৪ বলে ১৪০ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের পরও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২১ রানে জিতলো স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ জয় নিশ্চিত করল কিউইরা। সেই সাথে ২-০ ব্যবধানে এগিয়েও থাকল নিউজিল্যান্ড। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় নিউজিল্যান্ড। আগের ম্যাচেও প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান করেছিলো কিউইরা। আজও বড় স্কোরের লক্ষ্য ছিলো নিউজিল্যান্ডের। কিন্তু এবার তাদের শুরুটা ভালো হয়নি। ৩৯ রানের মধ্যে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মার্টিন গাপটিল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ফিরে যান। গাপটিল ১৩ ও উইলিয়ামসন ১ রান করে ফিরেন। তবে কলিন মুনরো, রস টেইলর ও জেমস নিশামের হাফ-সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের পথ পায় নিউজিল্যান্ড। মুনরো ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৭ বলে ৮৭, টেইলর ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০৫ বলে ৯০ ও নিশাম মাত্র ৩৭ বলে ৬৪ রান করেন। তার ইনিংসে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা ছিলো। ফলে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩১৯ রানের সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। শ্রীলংকার অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গা ৪৫ রানে ২ উইকেট নেন।৩২০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শ্রীলংকার উপরের সারির পাঁচ ব্যাটসম্যানই দ্রুতই প্যাভিলিয়নে ফিরেন। তবে এর মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিলেন ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা। অন্য প্রান্ত আগলে ৭৩ বলে ৭১ রান করেন তিনি। এক পর্যায়ে ১২৮ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়ে দ্রুত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলংকা। কিন্তু সেটি হতে দেননি পেরেরা। সাত নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে নিউজিল্যান্ড বোলারদের উপর চড়াও হন পেরেরা।চারের চাইতে ছক্কার ফুলঝুড়ি বেশি ফোটান পেরেরা। ফলে ৫৮তম বলে সেঞ্চুরির স্বাদ নেন পেরেরা। ১৪৭ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ নিলেন পেরেরা। সেঞ্চুরি করেও ক্ষান্ত না হয়ে রানের চাকা সচল রেখেছিলেন তিনি। ম্যাচ জয়র স্বপ্ন দেখতে শুরু করে শ্রীলংকা। কিন্তু ৪ ৭ তম ওভারে ২৯৮ রানে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে পেরেরা আউট হলে হার বরণ করে শ্রীলংকা। তখনও ম্যাচের ২২ বল বাকী। ৮টি চার ও ১৩টি ছক্কায় ৭৪ বলে ১৪০ রান করেন পেরেরা। নিউজিল্যান্ডের ইশ সোধি ৫৫ রানে ৩ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন শ্রীলংকার পেরেরা।আগামী ৮ জানুয়ারি নেলসনে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। সংক্ষিপ্ত স্কোর :নিউজিল্যান্ড : ৩১৯/৭, ৫০ ওভার (টেইলর ৯০, মুনরো ৮৭, মালিঙ্গা ২/৪৫)।শ্রীলংকা : ২৯৮/১০, ৪৬.২ ওভার (পেরেরা ১৪০, গুনাথিলাকা ৭১, সোধি ৩/৫৫)।ফল : নিউজিল্যান্ড ২১ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা : থিসারা পেরেরা (শ্রীলংকা)।সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। | 12 |
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ রবিবার সকালে ৬ প্রতিষ্ঠানের স্থাপিত ল্যাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ। এর আগে শনিবার রাতে এই ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনপ্রাপ্ত ছয় প্রতিষ্ঠানের সবগুলোতেই পরীক্ষামূলক নমুনা পরীক্ষা করা হবে। এ পরীক্ষার রিপোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছে পাঠানোর পর নমুনা পরীক্ষার সকল প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, কোনো সংশোধন প্রয়োজন হবে কি না ইত্যাদি পর্যালোচনা করে, চূড়ান্তভাবে ল্যাবরেটরি কার্যক্রম শুরু হবে।' প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে ১০০ প্রবাসীকর্মীর নমুনা সংগ্রহ ও ল্যাবরেটরিতে স্থাপিত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি
করা হবে। ৬ প্রতিষ্ঠান হলো স্টেমজ হেলথকেয়ার (বিডি) লিমিটেড, সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, এএমজেড হাসপাতাল লিমিটেড, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড ও ডিএমএফআর মলিকুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক। ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাইরোলজিস্টরা বিমানবন্দরে হাজির হয়েছেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
স্পেনের রাজার 'নাইট অফিসার' উপাধি পাচ্ছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কুতুবউদ্দিন আহমেদ। কর্মময় জীবনে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য বেসামরিক এই খেতাব পাচ্ছেন তিনি। স্পেন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে বিষয়টি জানিয়েছে। শেলটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর আহমেদ সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবছর 'অর্ডার অব সিভিল মেরিটে'র আওতায় দেশ- বিদেশের নাগরিকদের বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করেন স্পেনের রাজা। কুতুবউদ্দিন আহমেদ তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এই খেতাব পাচ্ছেন। এর আগে বিদ্যুত ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং শিল্পী মনিরুল ইসলাম দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক এই খেতাব পান। স্পেনের রাজা আলফোনসো অষ্টম ১৯২৬ সালে সম্মানজনক এই খেতাব প্রবর্তন করেন। ৫টি ক্যাটাগ্যারিতে 'অর্ডার অব সিভিল মেরিট' প্রদান করা হয়। নাইট অফিসার এর একটি। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ, সৌদির প্রয়াত বাদশাহ ফাহাদ, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন যায়েদ ছাড়াও, আলজেরিয়া, রোমানিয়া, মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এর আগে এই খেতাবে ভূষিত হন। কুতুবউদ্দিন আহমেদ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, এনভয় ও শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান। এই দুটি গ্রুপের অধীনে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং, আবাসন, এভিয়েশন, সেবা ও সিরামিকসহ নানা ব্যবসা রয়েছে। বিজিএমইএ এবং মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে কিছুদিন ব্যাংকে চাকরি করেন। পরে নিজে ব্যবসা শুরু করেন। গার্মেন্টস দিয়ে শুরু করলেও পরে বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। কুতুবউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। খেলাধুলায় অবদানের জন্য ২০০২ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পান তিনি। ২০১৭ সালে তিনি ডিএইচএল এবং দ্য ডেইলি ষ্টারের বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন। | 6 |
বিশ্বের ১২৯টি দেশে জরিপ চালিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বলছে, ৯২ শতাংশ দেশেই স্বাভাবিক টিকাদান কার্যক্রমের মত মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা এবং এইডসের মত রোগের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে। ২০২১ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে চালানো ওই সমীক্ষার ফলাফল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তুলে ধরে ডব্লিউএইচও। সেখানে বলা যায়, এসব দেশে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রমগুলো মহামারীর কারণে 'মারাত্মক বিঘ্নিত' হয়েছে। ২০২১ সালের শুরুর দিকে চালানো আগের সমীক্ষার সঙ্গে তুলনা করে দেখা যাচ্ছে, কোথাও কোথাও পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে খুব সামান্য, কোথাও আবার একদমই উন্নতি হয়নি। ডব্লিউএইচও বলেছে, এই সমীক্ষার ফল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বড় সংকটগুলো মোকাবেলা, স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব সামলানোর জন্য জরুরি উদ্যোগ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। এবারের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩৬ শতাংশ দেশে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি বিভাগের সেবাসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মানের অবনতি হয়েছে। ২০২১ সালের শুরুর সমীক্ষায় এরকম দেশের হার ছিল ২৯ শতাংশ। আর ২০২০ সালে চালানো প্রথম সমীক্ষায় ছিল ২১ শতাংশ। সর্বশেষ সমীক্ষায় দেখা গেছে, কোমর ও হাঁটু পরিবর্তনের মত অস্ত্রোপচার বিঘ্নিত হচ্ছে ৫৯ শতাংশ দেশে। সমীক্ষার প্রায় অর্ধেক দেশে পুনর্বাসন সেবা ও প্যালিয়াটিভ কেয়ারের মত সেবায় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ডব্লিউএইচও বলছে, মহামারী শুরুর আগে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যে দুর্বলতাগুলো ছিল, সেগুলোও পরিস্থিতির এতটা অবনতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আবার মহামারীর কারণে অনেক সেবার জন্য মানুষ হাসপাতালে কম যাচ্ছে, সেটাও একটি বিষয়। | 3 |
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে চড় মারার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। দক্ষিণপূর্ব ফ্রান্সের দ্রোম অঞ্চলে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় গণমাধ্যম বিএফএম টিভি ও আরএসসি রেডিও এই খবর দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক সমর্থকের সাথে হাত মেলাতে ম্যাক্রোঁ তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলে ওই ব্যক্তি তার মুখে চড় মারেন। তার আগে ওই ব্যক্তিকে 'ডাউন উইথ ম্যাক্রোঁনিয়া' বলে চিৎকার করতে শোনা গেছে। ওই ঘটনার পর ম্যাক্রোঁর সাথে থাকা দুই নিরাপত্তা কর্মী ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন। অন্যজন ম্যাক্রোঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। তবে তারপরও ম্যাক্রোঁ সেখানে কয়েক সেকেন্ড ছিলেন। ওই ঘটনার আগে করোনার পর মানুষ কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে তা জানতে রেস্টুরেন্ট কর্মী ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন ম্যাক্রোঁ। সূত্র : ডয়চে ভেলে | 3 |
চলমান পিএসএল (পাকিস্তান সুপার লিগ) থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন জেমস ফকনার। অস্ট্রেলিয়ান এ অলরাউন্ডারে অভিযোগ, পারিশ্রমিক নিয়ে চুক্তির বরখেলাপ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে পিসিবি দাবি করছে, ফকনার মিথ্যা বলছেন। ভবিষ্যতে আর কখনও পিএসএলের ড্রাফটে তাকে রাখা হবে না। কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের ক্রিকেটার ফকনার টুইট করে গতকাল এই অভিযোগ জানান। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার মাত্র ক'দিন আগে ছেড়ে যাচ্ছেন বলে পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেষ দুই ম্যাচের আগে পিএসএল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে হচ্ছে। পিসিবি আমার চুক্তি আর পারিশ্রমিক নিয়ে কথার বরখেলাপ করেছে। আমি টুর্নামেন্টের পুরোটা সময়ই ছিলাম, কিন্তু তারা আমার সঙ্গে মিথ্যাচারই করে যাচ্ছিল।' ফকনারের এই টুইটের জবাবে বেশ দ্রুতই পাল্টা টুইট করে পিসিবি, 'জেমস ফকনারের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ পিসিবি ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের নজরে এসেছে। খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে বিবৃতি দিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।' এর পরই গতকাল সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ভবিষ্যতে ফকনারকে আর কখনও পিএসএলের ড্রাফটে রাখা হবে না। শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে পিসিবি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার সময় রাগে হোটেল লবিতে ব্যাট ও হেলমেট ছুড়ে মারেন ফকনার। এজন্য তার বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ এনেছে পিসিবি। | 12 |
ভারতে গতকাল শনিবার ৩ লাখ ৯২ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ। আজ রোববার দ্য হিন্দু পত্রিকার অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। স্থানীয় সময় গতকাল রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত ভারতে এক দিনে ৩ হাজার ৬৭৩ জন করোনায় মারা যান। আগের দিন শুক্রবার ৩ হাজার ৫২৩ জন করোনায় মারা যান। সবশেষ মৃত্যুর এই সংখ্যা নিয়ে ভারতে করোনায় মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৫৪ জন। গতকাল রাত সোয়া ১১টা নাগাদ ভারতে এক দিনে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৬০৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। আগের দিন শুক্রবার ভারতে ৪ লাখ ১ হাজার ৯৯৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। সবশেষ তথ্য নিয়ে ভারতে করোনায় সংক্রমিত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯৪৩। ভারতে শুক্রবারই প্রথম এক দিনে চার লাখের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়। তার আগে টানা নয় দিন ধরে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ছিল তিন লাখের বেশি। তারও আগে ১৫ এপ্রিল থেকে দেশটিতে প্রতিদিন দুই লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছিল। আর টানা এক সপ্তাহ ধরে ভারতে দুই হাজারের বেশি মানুষ করোনায় মারা যাওয়ার পর গত ২৭ এপ্রিল থেকে দৈনিক মৃত্যু তিন হাজারের বেশি। বিশ্বের কোনো দেশে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ড এখন ভারতের দখলে। ২২ এপ্রিলের আগপর্যন্ত এই রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে গত জানুয়ারিতে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। ভারতে শুক্রবার রেকর্ড চার লাখের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়। ওয়ার্ল্ডোমিটারস শুরু থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনাবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য দিয়ে আসছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৫ কোটি ২৮ লাখ ৮৩১। বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ৩২ লাখ ৬ হাজার ৪৫১ জন। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৩১ লাখ ৪৬ হাজার ৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোট মারা গেছেন ৫ লাখ ৯০ হাজার ৭০৪ জন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ভারত। ভারতের পর রয়েছে ব্রাজিল। সম্প্রতি সংক্রমণের দিক দিয়ে ব্রাজিলকে টপকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে ভারত। ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫ জন। ভারতে করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্রে। তারপর রয়েছে কেরালা, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু, দিল্লি, অন্ধ্র প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ। ছত্তিশগড়, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানার পরিস্থিতিও অবনতিশীল। গতকাল স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে ৬৩ হাজার ২৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। কর্ণাটকে ৪০ হাজার ৯৯০ জন। কেরালায় ৩৫ হাজার ৬৩৬ জন।করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির মুখে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ১ মে থেকে সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে (১৮ বছরের ঊর্ধ্বে) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে ভারত। তবে বিভিন্ন রাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের টিকার সংকট রয়েছে।ভারতে সংক্রমণের 'বিস্ফোরণের' জন্য করোনার ভারতীয় ধরনকে অনেকাংশে দায়ী করা হচ্ছে। ভারতে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশটি তার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অক্সিজেন, জরুরি ওষুধ, হাসপাতালে শয্যার সংকটসহ নানা সমস্যায় দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। দেশটিতে করোনা রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। শুধু অক্সিজেনের অভাবেই অনেক রোগী মারা গেছেন। বিদেশ ও দেশের অন্য এলাকা থেকে অক্সিজেন এনে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। ভারতের করোনা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সৌদি আরব, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা জরুরি চিকিৎসাসহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। বিদেশি সহায়তা ভারতে পৌঁছানো শুরুও হয়েছে। ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে আরম্ভ হয়। দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখনো পিক বা চূড়ায় উপনীত হয়নি। এ কারণে দেশটিতে করোনার সংক্রমণ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনার এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কবে নাগাদ নিম্নমুখী হতে পারে, সে সম্পর্কে দেশটির বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। | 3 |
প্রথম ব্রিটিশ-দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলার হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে অভিষেক হল জিদান ইকবালের। ১৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। ওল্ড ট্রাফোর্ডে গতরাতে ইয়ং বয়েজের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের ৮৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নামানো হয় জিদানকে।আগেই চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়েছে ম্যানইউর। এই ম্যাচে তাই বেঞ্চের খেলোয়াড়দের বাজিয়ে দেখতেই জিদানকে মাঠে নামান রেড ডেভিলদের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ রালফ রাংনিক। ম্যানইউর হয়ে মাঠে নামতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত জিদান বলেছেন, 'এই অনুভূতি অন্যরকম। আমি সারা জীবন এমন এক সুযোগের জন্য কাজ করেছি। আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। মাত্র তো শুরু। আশা করি আরও এগিয়ে যেতে পারব।'জিদানের বাবা একজন পাকিস্তানি ও মা ইরাকি। স্থানীয় সেইল ইউনাইটডের হয়ে খেলেছেন জিদান। সেখানেই তাকে খুঁজে বের করেন ম্যানইউয়ের স্কাউটরা। পরে এই বছরের এপ্রিলে ইংলিশ জায়ান্টদের সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন জিদান। ম্যানইউতে নাম লেখানোর ৭ মাস পর অভিষেকও হয়ে গেল। এর আগে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী লেস্টার সিটির হয়ে খেলেছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে জিদানই প্রথম। | 12 |
মহাশূন্যে যেতে ইচ্ছে কার না হয়। গ্রহ-নক্ষত্র কাছ থেকে দেখার লোভ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে তার জন্য যে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়, তা সকলের কপালে থাকে না। কিন্তু এবার এমনই এক সুযোগ এনে দিচ্ছে সান ফ্রানসিস্কোর এক কোম্পানি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন'র এক প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, 'এলিসিয়াম স্পেস' নামে এক কোম্পানি আজই মহাকাশের পথে এক সফর লঞ্চ করতে যাচ্ছে। তবে সেই স্পেসক্রাফ্টে জীবিত নয়, ১০০ জন মৃত মানুষের ভস্ম নিয়ে যাওয়া হবে। মহাকাশে ওই স্যাটেলাইটের গতিবিধি দেখার জন্য একটি অ্যাপও তৈরি করা হয়েছে। এই ১০০ জনের পরিবার-পরিজন নিজের মোবাইল ফোন থেকে তা সহজেই দেখতে পারবেন। জানা গেছে, প্রত্যেক ব্যক্তির ভস্মের সঙ্গে তাদের পরিবারের তরফ থেকে চাইলে কোনও বার্তাও লিখে দিতে পারে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী চার বছর পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে ওই স্পেসক্রাফ্ট। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১২ সালেও এমন একটি মিশনে ৩২০ জনের ভস্ম পাঠানো হয়েছিল মহাকাশে।
বিডি প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত | 11 |
দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে জেল খেটেছেন। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়েছেন। সেই লুলাই এখন রাজনীতির মাঠ কাঁপাতে আসছেন। আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা শুরু করেছেন লুইস ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট। একসময় বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হিসেবে বিবেচিত হতেন তিনি। ৭৬ বছর বয়সী লুলা নির্বাচনে লড়বেন; এমনটা প্রত্যাশা করেছেন এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম। কারণ তার ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। যদিও পরে তা খারিজ হয়ে যায়। শনিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতার ঘোষণা দেন। ব্রাজিলের দুইবারের প্রেসিডেন্ট লুলার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না বলসোনারো। তিনি লুলাকে 'অপরাধী' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 3 |
আবারও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন এক ইরানি মন্ত্রী। দেশটির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ অযারি জাহরোমির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের নামে একদল বিক্ষোভকারীরা ইরানে ব্যাপক নাশকতামূলক তৎপরতা শুরু করে। এই প্রেক্ষিতে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। এর আগে আরো বহু ইরানি কর্মকর্তার ওপর এরকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর তেহরান বলেছে, ইরানি কর্মকর্তাদের কোনো সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র নেই এবং ওই দেশ সফরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছাও তাদের নেই। গত বুধবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য আবুলফজল হোসেইনবেগি বলেন, একদল দুর্বৃত্ত ইন্টারনেট সংযোগের অপব্যবহার করে তাদের নাশকতামূলক তৎপরতার স্থান ও সময় সম্পর্কে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিল বলে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিছক আইসিটি মন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে নেই। প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর থেকে ইরানে জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন শহরে বিধ্বংসী তৎপরতা চালায়। তারা জনগণের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, ব্যাংক, হাসপাতাল ইত্যাদি স্থানে হামলা চালিয়ে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।এসব বিক্ষোভকারীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
সাভার বাসস্ট্যান্ডের রাজ্জাক প্লাজার সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ট্রাক চাপায় গতকাল শনিবার সকাল ৬ টার সময় এক মাছ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। নিহত ব্যবসায়ীর নাম মনজুরুল আলম (৫৫)। তিনি বরগুনা জেলার বেতাগী থানার দক্ষিণ বকুলতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং সাভার পৌর এলাকার মধ্য রাজাশনের আব্দুর রশিদের বাড়ীতে ভাড়া থাকতেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ডের রাজ্জাক প্লাজার সামনে থেকে কিছু দূরত্বে ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার না করে সকালে মাছ কেনার জন্য আড়ৎ -এ আসার সময় রেলিংয়ের উপর দিয়ে সড়ক পার হতে গেলে পেছন থেকে একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্র জানায়- ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে রেলিং পার হওয়ার সময় এর আগেও বেশ কয়েকজন এ ভাবে নিহত হয় । সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবিদ হোসেন খান জানান- লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। | 6 |
বিবাহিত ভারতীয় ক্রিকেটারদের লিগে যোগ দিয়েছেন ব্যাটসম্যান রবিন উথাপ্পা ও পেসার ধাওয়াল কুলকার্নি। দুজনই গতকাল জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন। মুম্বাইয়ে গতকাল এক ঘরোয়া পরিবেশে ফ্যাশন কো-অর্ডিনেটর শ্রদ্ধা খারপুড়েকে বিয়ে করেন কুলকার্নি। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের লোকজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেটার ও কুলকার্নির মুম্বাই ক্লাবের সহ-খেলোয়াড় রোহিত শর্মা এক টুইট বার্তায় নবদম্পতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রায় চার বছর আগে উভয়ের এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় ঘটেছিল কুলকার্নি ও শ্রদ্ধার। এরপর দীর্ঘ প্রেম শেষে গতকাল তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। বিডি-প্রতিদিন/৪ মার্চ ২০১৬/শরীফ | 12 |
ভাড়া করা ভেকু মেশিন পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক কৃষক। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ সালাউদ্দীনের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করলে কুমিল্লা আমলী আদালত-৫ এর বিচারক ফারহানা সুলতানা পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ সালাউদ্দীন। মামলার বাদী উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের একেএম সেলিম বলেন, "আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের খননের সুপারিশ পত্র পেয়ে কাশিনগর ইউনিয়ন জুগিরকান্দি গ্রামের বোয়ালঝুড়ি জলাশয় খননের জন্য ৪টি এক্সক্যাভেটর (স্থানীয়ভাবে ভেকু মেশিন নামে পরিচিত) লিখে দিয়েন ভাড়া করি। কিন্তু আমরা অনুমতির অপেক্ষায় ছিলাম, তাই খনন কাজ শুরু করিনি। গত ১৯ জানুয়ারি ইউএনও এস এম এম মনজুরুল হক হঠাৎই প্রশাসনের লোকজন নিয়ে বোয়ালঝুড়ি জলাশয়ে না গিয়ে জুগিরকান্দি গ্রামের অন্য জলাশয়ে গিয়ে আমাদের রাখা ভাড়া করা ৪টি এক্সকভেটর কেরোসিন দিয়ে জ্বালিয়ে দেন। এতে আমাদের প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাই আজ আদালতে ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করি। বিজ্ঞ বিচারক আমাদের অভিযোগটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।" তিনি আরও বলেন, "আমরা যেহেতু এলাকার মানুষ মিলে এক্সক্যাভেটর গুলো এনেছি তাই তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে মামলা করতে একটু দেরি হয়ে গেছে।" এই বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম মঞ্জুরুল আলম বলেন, "আমাকে এখনও অফিসিয়ালি অভিযোগের বিষয়ে কেউ জানায়নি। অফিসিয়ালি জেনে বলবো সবকিছু।" | 6 |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের প্রার্থীর জন্য কাজ করতে গিয়ে হয়রানি, মামলা ও হামলার শিকার কর্মীরা নেতাদের পাশে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের পর তারা ভয়ে ভয়ে এলাকায় থাকেন।আজ শুক্রবার রাজধানীর মতিঝিলের আরামবাগে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচনোত্তর শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় কর্মীরা এসব কথা বলেন।ঢাকা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। তাঁর পক্ষে কাজ করা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনসহ গণফোরামের শীর্ষ নেতারা। তাঁদের সামনেই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করা স্থানীয় নেতা-কর্মীরা নিজেদের ক্ষোভের কথা জানান। মো. অলি খান নামের এক কর্মী বলেন, ভোটের দিনে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর বাসায় গিয়ে হামলা চালায় এবং এতে তাঁর স্ত্রী আহত হয়। তিনি বলেন, 'দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, এই পর্যন্ত কোনো নেতা বলল না কেমন আছি, কেউ আশ্বাস দিল না যে তোমার পাশে আছি। মাঠ পর্যায়ে কাজ করে ভালোবাসা না পেলে কোথায় যাব দাদা?' উপস্থিত নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবুল কাসেম নামের আরেকজন বলেন, নেতারা জেল থেকে বের হয়ে এলে দল চাঙা হবে। তাঁদের সহযোগিতা করতে হবে। তিনি অনুরোধ করে বলেন, 'বন্দী ভাই-বোনদের প্রতি একটু নজর দেন। আটক নেতাদের জামিনের ব্যবস্থা করেন।' নির্বাচনের পরে কোনো নেতা খোঁজ না নেওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে মো. সোলেমান নামের এক কর্মী বলেন, 'কেউ কারও খবর নেয় না। নেতাদের বলতে চাই আমাদের খবর নিয়েন।' কর্মীদের সহযোগিতা করার জন্য নেতাদের পাশে থাকার আহ্বান জানান আরও কয়েকজন নেতা। নির্বাচনের সময় সরকার দলীয় কর্মীদের দ্বারা হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানান অনেকে। নিজ এলাকায় ভয়ে ভয়ে থাকতে হচ্ছে বলেও অনেকেই অভিযোগ করেন। তবে নিজেদের বক্তব্যের সময় ড. কামাল হোসেন বা সুব্রত চৌধুরী কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। | 9 |
আফগান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের দল ঘোষণার ঠিক পরেই অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে দিয়েছেন রশিদ খান। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে পদত্যাগের স্পষ্ট কারণ জানিয়েছেন তারকা স্পিনার। যদিও তিনি এও জানিয়েছেন যে বরাবরের মতো আফগানিস্তানের হয়ে গর্বের সঙ্গে মাঠে নামবেন। রশিদ টুইটার বিজ্ঞপ্তিতে লেখেন, 'ক্যাপ্টেন হিসেবে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমার দল নির্বাচনে অংশ নেয়ার অধিকার আছে। আফগানিস্তান বোর্ডের তরফে যে দল ঘোষণা করা হয়েছে, তার জন্য নির্বাচকরা বা বোর্ড আমার সম্মতি নেয়নি। আমি অবিলম্বে আফগানিস্তানের টি-২০ অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আফগানিস্তানের হয়ে খেলা আমার কাছে সবসময় গর্বের।' আফগান বোর্ডের তরফে টি-২০ বিশ্বকাপের যে দল ঘোষণা করা হয়, তাতে রশিদের নেতৃত্বে ১৮ জনের স্কোয়াডে কামব্যাক করেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মোহম্মদ শেহজাদ। দলে নবি, মুজিব, আসগর, হজরতউল্লাহের মতো প্রায় সব তারকাই জায়গা পেয়েছেন। যদিও রশিদ নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এখনও নতুন ক্যাপ্টেন বেছে নেয়নি আফগান বোর্ড। খুব সম্ভবত মোহাম্মদ নবিই দায়িত্ব নেবেন। আফগানিস্তানের টি-২০ বিশ্বকাপ স্কোয়াড : রশিদ খান (ক্যাপ্টেন/পদত্যাগ করেছেন দল ঘোষণার পরে), রহমানুল্লাহ গুরবাজ (উইকেটকিপার), হজরতউল্লাহ জাজাই, উসমান গনি, আসগর আফগান, মোহাম্মদ নবি, নাজিবুল্লাহ জাদরান, হাশমতউল্লাহ শাহিদি, মোহাম্মদ শেহজাদ (উইকেটকিপার), মুজিব উর রহমান, করিম জানাত, গুলবদিন নায়েব, নবিন উল হক, হামিদ হাসান, শরাফুদ্দিন আশরাফ, দৌলত জাদরান, শাপুর জাদরান, কায়িস আহমেদ।স্ট্যান্ড-বাই : আফসর জাজাই, ফরিদ আহমেদ মালিক।সূত্র : ক্রিকইনফো ও হিন্দুস্তান টাইমস | 12 |
'রকস্টার' ছবি দিয়ে বলিউডে আপনার অভিষেক হয়। এখন আপনি 'দিল বেচারা' ছবির নায়িকার চরিত্রে। বলা যেতে পারে স্বপ্ন সত্যি হলো। কেমন লাগছে? 'রকস্টার' ছবিতে যখন কাজের সুযোগ পাই, তখন আমার বয়স ১৩ বছর। শুটিং শেষ করে যথারীতি পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এর মধ্যে কিছু বিজ্ঞাপনের কাজ করেছি। 'রকস্টার' ছবির জন্য মুকেশ ছাবড়াই ('দিল বেচারা' ছবির পরিচালক) আমাকে আবিষ্কার করেছিল। আর এই ছবির জন্যও তিনিই আমাকে নির্বাচন করে। স্নাতক শেষ করার মাস দুই পর হঠাৎ মুকেশের ফোন আসে। অডিশনের জন্য ডাক পাই। একাধিক অডিশন দেওয়ার পর আমি নির্বাচিত হই। আর তখনই জানলাম মুকেশ এই ছবির পরিচালক। হলিউড ছবি 'দ্য ফল্ট ইন আওয়ার স্টারস'-এর হিন্দি রিমেক 'দিল বেচারা'। ১৬ বছর বয়সে এই ছবিটা দেখেছিলাম। দারুণ লেগেছিল। আর এখন আমি এই ছবির নায়িকা। হ্যাঁ, স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতোই ব্যাপার। 'দিল বেচারা' ছবিতে আপনি বাঙালি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। স্বস্তিকা আর শাশ্বত আপনার মা-বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই দুই বাঙালি অভিনেতা কি আপনাকে বাঙালি হতে সাহায্য করেছেন? স্বস্তিকাদি (স্বস্তিকা মুখার্জি) আর শাশ্বত দার (শ্বাশত চ্যাটার্জি) সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ। বাঙালি মেয়ের চরিত্রের জন্য আমাকে প্রায় আট মাস ধরে বাংলা শিখতে হয়েছে। এনএসডির একজন বাঙালি শিক্ষিকার কাছ থেকে বাংলা উচ্চারণ শিখেছি। আসলে মুকেশ (পরিচালক) চেয়েছিল আমি স্বস্তিকা আর শাশ্বতদার সঙ্গে মিলিয়ে যেন রীতিমতো বাংলায় কথা বলি। এটা আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। স্বস্তিকা আর আমার প্রথম দিনের রিডিং ছিল। মুকেশও ছিল সেখানে। রিডিংয়ের পর স্বস্তিকা মুকেশকে বলে, 'তুমি এই চরিত্রের জন্য বাঙালি মেয়েকে কীভাবে পেলে? ও তো একদম পারফেক্ট।' তখন মুকেশ আর আমি একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলি। আমি তো আনন্দে একরকম লাফিয়ে উঠলাম। কারণ, এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রশংসা। মুকেশ তখন স্বস্তিকাকে জানাল যে আমি দিল্লির, উত্তর ভারতীয় পরিবারের মেয়ে। আমার মা গুজরাটি, বাবা পাঞ্জাবি। সুশান্তের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের ঘটনাটা বলুন। বাস্তবে আপনাদের সম্পর্কের রসায়ন কেমন ছিল?মুকেশের অফিসে রিডিংয়ের জন্য আমি গিয়েছিলাম। তখন সুশান্তের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ। আর প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছিল যে আমরা একে অপরের ভালো বন্ধু হতে পারি। আমাদের মানসিকতা অনেকটা এক। আর অনেক ব্যাপারে আমাদের মিল আছে। আমি আর সুশান্ত দুজনই পড়াশোনা করতে ভালোবাসি। আমাদের দুজনেরই খাওয়াদাওয়া, নাচ আর সিনেমা দারুণ পছন্দ। আমরা প্রচুর আড্ডা মারতাম। প্যারিসে গিয়ে আমরা বাচ্চাদের মতো চকলেট, ব্রাউনি খেয়েছি। শুটিংয়ের ফাঁকে নাচ করতাম। সুশান্ত অত্যন্ত বিনয়ী। বলতে পারি, আমি আর সুশান্ত দুজনই সৃষ্টিশীল আর বন্ধুপরায়ণ। সুশান্তকে কীভাবে মনে রাখতে চান? সুশান্ত যে শুধু স্মৃতি, তা আমার এখনো বিশ্বাস হয় না। আমি সুশান্তের ভক্তদের অনুরোধ করছি যে সব রাগ, অভিমান, দুঃখকে ভালোবাসায় রূপান্তর করুন। 'দিল বেচারা'কে সুশান্তের দেওয়া শেষ উপহার হিসাবে গ্রহণ করুন। আর সুশান্তের প্রতি এর চেয়ে বড় শ্রদ্ধাঞ্জলি আর কিছু হতে পারে না। আমি নিজেও অন্যদের মতোই সুশান্তভক্ত।গত এক মাসে বলিউডের চেহারা বদলে গেছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নিজেকে কীভাবে ইতিবাচক রেখেছেন?'দিল বেচারা' আমাকে পজিটিভ থাকতে শিখিয়েছে। মাত্র ২৩ বছর বয়সে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমি সব নেতিবাচক দিককে রেডিওর ভলিউমের মতো কমিয়ে রাখি। আমি শুধু মন দিয়ে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য স্থির রেখে এগোতে চাই। এই সফরে আমার যারা সঙ্গী, তাদের সঙ্গে আমার যেন ভালোবাসার সম্পর্ক বজায় থাকে। | 2 |
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর খাল একসময় সেচসহ মৎস্য উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হতো। ১২ মাস পানি পাওয়া যেত। এখন দখল-দূষণের কারণে এটি অস্তিত্ব হারাচ্ছে। এর ফলে কৃষকেরা পানির সংকটে পড়েছেন। উপজেলার কৃষকেরা ধান, আলু, সরিষা, ভুট্টাসহ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তবে বছরের বেশির ভাগ সময় খালে পানি না থাকায় ফসল ফলাতে নলকূপ ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাই খালটি পুনর্খনন করার দাবি কৃষকদের।গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, মালখানগর খালটি নাব্যতা সংকটে শুকিয়ে গেছে। এখন বছরের বেশির ভাগ সময় পানি পাওয়া যায় না। এ খালটির বিভিন্ন অংশে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই খালের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কয়েক বছর পরই খালটি আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া দখল-দূষণ তো আছেই। তাই পুনর্খনন করে খালটিতে পানি সচল করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকসহ এলাকাবাসী।জানা যায়, মালখানগর, বয়রাগাদী, ইছাপুরা, মধ্যপাড়া, জৈনসার, কোলা, শ্রীনগর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় বয়ে গেছে এ খালটি। অনেক বছর ধরে খনন না হওয়ায় বিভিন্ন অংশ দখল-দূষণে পড়েছে।মালখানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা আহসানুল ইসলাম বলেন, 'মালখানগর খালটি বছরের বেশির ভাগ সময়ে শুকিয়ে থাকে। এ খেলাটি ভালোভাবে খনন করে দিলে বছরের অনেকটা সময় পানি থাকত এবং কৃষকদের অনেক সুবিধা হতো। কিন্তু খালটি শুকিয়ে থাকার কারণে আমাদের কোনো সুবিধাই হয় না। দীর্ঘদিন শুকিয়ে থাকায় এ খালটি দখল-দূষণ হচ্ছে। এ খালটি পুনর্খনন করে দিলে আমাদের জন্য ভালো হবে এবং কৃষিবান্ধব এলাকা হবে। তাই খালটি পুনর্খননের দাবি জানাচ্ছি।'কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, 'এ খালে পানি থাকলে আমরা আলু ও ধানের জমিতে পানি দিতে পারি। এতে করে আমাদের দূর-দূরান্ত থেকে পানি এনে দিতে হবে না। ফসল ফলাতে অনেকটাই সাশ্রয় হবে। তাই প্রশাসন এ খালটি খনন করে দিলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হবে। অতি দ্রুত খালটি খনন করার দাবি জানাচ্ছি।'উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মালখানগর খালটি খনন করা হলে কৃষক অনেক উপকৃত হবেন। এ খাল থেকে কৃষকেরা ফসল ফলাতে সেচ দিতে পারেন এবং অনেক খরচ কম হবে। এতে কৃষকেরা লাভবান হবে। সে জন্য এখান খালটি খনন করা জরুরি।উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শোয়াইব বিন আজাদ বলেন, 'মালখানগর খালটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এটি খনন হলে এলাকাবাসী ও কৃষকের অনেক উপকার হবে। আমরা তিন কিলোমিটার খাল খননের আবেদন করেছি, অনুমোদনের অপেক্ষা করছি।' | 6 |
রাজধানীর বাড্ডায় স্থানীয় সাংসদ ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চারজন। একটি সিমেন্ট কোম্পানিতে সরবরাহের কাজকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। নিহত কামরুজ্জামান ওরফে দুখু বেরাইদ ইউপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই। গুলিবিদ্ধ বাকি চারজন হলেন জাহাঙ্গীরের আরেক ভাই তাজ মোহাম্মদ, চাচা নাজির হোসেন, ফুপাতো ভাই শরিফ হোসেন ও কামাল হোসেন। তাজ মোহাম্মদের গলায়, নাজিরের পায়ে, শরিফের পেটে ও কামালের চোখে গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া চেয়ারম্যানের ভাগনে সানিও আহত হয়েছেন। এর আগে থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থিতা নিয়ে ওই স্থানীয় সাংসদ ও ইউপির চেয়ারম্যানের মধ্য দ্বন্দ্ব ছিল। বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহত ব্যক্তিদের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত কামরুজ্জামানের ভাই মো. শাহীন আলম জানান, বেরাইদ এলাকার একটি সিমেন্ট কোম্পানির রেডি মিক্স কংক্রিট তৈরির কাঁচামাল (পাথর ও বালু) সরবরাহ করে আসছিলেন কামরুজ্জামান। চলতি মাসে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ এ কে এম রহমতুল্লাহর ভাগনে মো. ফারুক, আইয়ুব ওই কাজের দখল নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছিল। রোববার বেলা দেড়টার দিকে কামরুজ্জামান, তাঁর ভাগনে সানি, ভাতিজা আবদুল হাকিমকে নিয়ে আগের কাজের বিল জমা দিতে সিমেন্ট কারখানায় যান। সেখানে ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে আজাদ, মহসিন, মারুফ, সাজ্জাদসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাংসদের লোকজন সানির মাথা ফাটিয়ে দেয়। শাহীন আলম বলেন, ওই অবস্থায় তাঁরা এলাকায় চলে আসেন। সাড়ে তিনটার দিকে আরও লোকজন নিয়ে তাঁরা পাটনিপাড়ার এলাকায় যান। সেখানকার ৩০ ফিট রাস্তার বাঁকে ফোর্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বিল্ডার্সের সামনে পৌঁছালে সাংসদের লোকজনের মুখোমুখি পড়েন তাঁরা। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি বাধে। একপর্যায়ে তাঁদের উদ্দেশ করে গুলি করতে থাকে সাংসদের লোকজন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিয়ারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাংসদের ভাগনে ফারুকের বাসার কাছে এ ঘটনা ঘটে। তাঁরা গুলি করা শুরু করলে কামরুজ্জামান ঘাড়ের পেছনে হাত দিয়ে পড়ে যান। ঘটনাস্থলের ১০০ গজের মধ্যে তখন দুই গাড়ি পুলিশ ছিল। তারা তাঁকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চেয়ারম্যানের লোকজন কেবল সাংসদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে গুলি ছোড়ার অভিযোগ আনলেও পুলিশ বলছে দুই পক্ষই গোলাগুলি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেরাইদ ইউনিয়ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে এটি ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। এই ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংসদ রহমতউল্লাহ ও বেরাইদ ইউপির সর্বশেষ নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, কাউন্সিলর নির্বাচনের আগে (আদালতের আদেশে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হয়নি) বেরাইদ মুসলিম হাইস্কুল মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বসে কাউন্সিলর হিসেবে রহমতউল্লার ছেলে হেদায়েত উল্লাহকে প্রার্থী ঠিক করেন। ওই সময় জাহাঙ্গীর আলমও উপস্থিত ছিলেন। জাহাঙ্গীর সাংসদের ছেলের প্রার্থী হওয়া নিয়ে হ্যাঁ-না কিছু বলেননি। কিন্তু মনোনয়ন ফরম ছাড়ার পর হেদায়েত উল্লাহর পাশাপাশি জাহাঙ্গীর কাউন্সির প্রার্থী হিসেবে মনোনোয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এরপর থেকে সাংসদ ও জাহাঙ্গীরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। এমন দ্বন্দ্বের মধ্যেই জাহাঙ্গীর উচ্চ আদালতে নির্বাচন স্থগিতের জন্য আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত আর নির্বাচন হয়নি। জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে 'বেরাইদ নাগরিক কমিটির' ব্যানারে একাধিকবার মুসলিম হাইস্কুল মাঠে সমাবেশ করেছেন রহমতউল্লাহর কর্মী-সমর্থকেরা। এসব সমাবেশে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। সাংসদ এ কে এম রহমতুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ছেলেমেয়েরা ঝগড়া করতে করতে ঘটনাটা হয়ে গেছে। হত্যার চিন্তা করে কেউই এটা করতে যায়নি। দুই পক্ষের মধ্যে যে মারামারি হয়েছে, তখন দুর্ঘটনাক্রমে ঘটনাটি ঘটেছে। ভাগনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে সাংসদ বলেন, ফারুক ওই সময় বসুন্ধরায় তাঁর টাকা তোলার জন্য গিয়েছিলেন। এর প্রমাণও তাঁর কাছে রয়েছে। ঘটনাটি কী নিয়ে হয়েছে-এ জবাবে সাংসদ বলেন, তুচ্ছ একটি ঘটনা নিয়ে এটা হয়েছে। তুচ্ছ ঘটনাটি কী সেটা জানতে চাইলে উত্তরে তিনি বলেন, 'ওদের মধ্যে কী হয়েছে, সেটা আমি না জানলে বলব কীভাবে।' ব্যবসায় সাংসদের লোকজন বাধা দিয়েছে বলে এই মারামারি হয়েছে বলে চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজনের অভিযোগ করছেন। এ বিষয়ে সাংসদ বলেন, 'আমি একজন সাংসদ, আর সে চেয়ারম্যান। এখানে আমি ৯২ শতাংশ ভোট পাই। সে একসময় আমার লোকই ছিল। সহায়-সম্পত্তিও করেছে আমার নাম বিক্রি করে।' এ বিষয়ে মোবাইলে এর বেশি কথা বলতে পারবেন না বলে জানান তিনি। | 9 |
পটুয়াখালী পৌরসভার গেটের সামনের বিদ্যুতের খুঁটিটি সম্প্রতি ট্রাকের ধাক্কায় ভেঙে গেছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। খুঁটির সঙ্গে রয়েছে বিদ্যুতের লাইন। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, শর্টসার্কিটের মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত সময়ে খুঁটিটি মেরামত করা হবে।সরেজমিন দেখা যায়, পটুয়াখালী পৌরসভার গেটের পশ্চিম পাশের বিদ্যুতের খুঁটি থেকে চার দিকে বিদ্যুতের তার সংযুক্ত রয়েছে। খুঁটিটির চারদিকে বৈদ্যুতিক তার থাকায় এমনিতেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি একটি ট্রাকের ধাক্কায় খুঁটিটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।পটুয়াখালী শহরের মুসলিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বেল্লাল বলেন, 'যেকোনো সময় খুঁটিটি ভেঙে যেতে পারে। এটির পাশেই লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে ছাত্রছাত্রীরা ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটির নিচ দিয়েই চলাচল করছে। এ ছাড়া এটি শহরে প্রবেশের অন্যতম একটি সড়ক।'এলাকার বাসিন্দা এনামুল রহমান বলেন, 'গুরুত্বপূর্ণ শহরে এ রকম একটি খুঁটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কর্তৃপক্ষের এটি দ্রুত মেরামত করা উচিত।'এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রকৌশলী মো. আজাদ বলেন, 'এ বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। গত শনিবার রাতে একটি ট্রাকের ধাক্কায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খুঁটিটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুত এটি মেরামত করা হবে।' | 6 |
প্রতিবছরের মতো এবারও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ঈদবস্ত্র বিতরণ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নোত্থানের সদস্যরা।গতকাল শনিবার সকালে নগরীর পীরেরবাজারে দুটি মুসলিম বেদেপল্লির ২১টি পরিবারের ৭৮ জন সদস্যের মধ্যে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় পুরুষদের ঈদের পোশাকের সঙ্গে আতর, টুপি এবং নারীদের নতুন পোশাকের সঙ্গে মেহেদি, আলতা ও চুরি দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বপ্নোত্থানের প্রচার সম্পাদক আবু রায়হান।ঈদ বস্ত্র বিতরণের এ উদ্যোগ সম্পর্কে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইবম দর্পণ সিংহ বলেন, স্বপ্নোত্থান সর্বদা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করে। স্বপ্নোত্থান প্রতিবছরের মতো এবারও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বেদেদের মধ্যে ঈদের খুশি ছড়াতে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করেছে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি ধীমান দাস দিব্য, সাধারণ সম্পাদক মাইবম দর্পণ সিংহ, প্রধান সমন্বয়ক শায়লা হুসাইন মনীষা, সহসভাপতি নুসরাত জাহান ইউনা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান, কোষাধ্যক্ষ মারজিয়া রহমান নিঝুম, সহকারী কোষাধ্যক্ষ, রাতিক হাসান রাজীব, সাংগঠনিক সম্পাদক, আবদুল্লাহ আল সাইফ শান্ত, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মাফি, সহকারী যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক নুসরাত জাহান নীলা, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মৌনতা জাহান, সহকারী শিক্ষা বিষয়ক সমন্বয়ক মো. তৌফিকুল ইসলাম সৌরভ, রক্তদান বিষয়ক সমন্বয়ক রেজওয়ানুল ইসলাম রাহাত, সহকারী রক্তদান বিষয়ক সমন্বয়ক বন্যা দাস, মুহাইমিনুল রাহীন, চ্যারিটি বিষয়ক সমন্বয়ক প্রজ্ঞা রায়, খন্দকার ইনজামামুল হক, আল-আমিন, সহকারী চ্যারিটি বিষয়ক সমন্বয়ক তানজিলা পারভীন, এস এম জাহিদ হাসান, শারলীনা তাবাচ্ছুম প্রমুখ। | 6 |
গত এক যুগে ফিলিস্তিনের হামাস ও ফাতাহর মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও বাস্তবে শান্তির দেখা মেলেনি। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে। আরব রাষ্ট্রগুলো যখন ফিলিস্তিনিদের পরিত্যাগ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য উদগ্রীব, যখন ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করা হয়, যখন শতাব্দীর চুক্তি নামে ফিলিস্তিনিদের ভূমি কেড়ে নেওয়া চলে, যখন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকে বৈধতা দেওয়া হয়, তখন ফিলিস্তিনের প্রধান দুই স্বাধীনতাকামী দল হামাস ও ফাতাহ দীর্ঘ বৈরিতা ভুলে আলোচনায় সম্মত হয়েছে। এই আলোচনা ফিলিস্তিনিদের জীবনে আশার সঙ্গে সঙ্গে শঙ্কারও উদ্রেক ঘটিয়েছে। আল-জাজিরার খবরে প্রকাশ, ফাতাহ ও হামাসের শীর্ষ নেতৃত্ব ইসমাইল হানিয়া এবং মাহমুদ আব্বাস দীর্ঘ আলোচনার পর আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাজি হয়েছেন। কয়েক ধাপে হবে এই নির্বাচন, যার শুরু স্থানীয় সরকার থেকে আর শেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। নির্বাচনের খবরে গাজা, রামাল্লা ও পশ্চিম তীরের মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ উৎসব করেছেন। প্রধান দুই দলের মধ্যে মীমাংসার আশা দেখছেন তাঁরা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা দুই কারণে নির্বাচন নিয়ে আশার আলো দেখছেন না। প্রথমত, ফাতাহ ও হামাসের মধ্যকার এই বিভেদ নিছক বিবাদ নয়, এই বিবাদ আদর্শিক। এই আদর্শিক বিভেদের সঙ্গে ওয়াশিংটন, লন্ডন, মস্কোসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুই বলয় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তাই নির্বাচন বরং আদর্শিক এই বিভেদকে উসকে দিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ স্থায়ী করবে। দ্বিতীয়ত, আমিরাতে নির্বাসিত মোহাম্মাদ দাহলানের ফিলিস্তিনে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি। একসময়ের ফাতাহ নেতা দাহলান বর্তমানে আমিরাতের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদের উপদেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর মধুচন্দ্রিমার প্রধান রূপকার বলা হয় দাহলানকে। ইসরায়েলের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সৌদি বলয় এবং মার্কিনরা মাহমুদ আব্বাস-পরবর্তী সময়ে মোহাম্মাদ দাহলানকে ফাতাহর প্রধান হিসেবে দেখতে চায়। পশ্চিমাদের প্রিয় দাহলান ফাতাহর প্রধান হলে হামাস ও ফাতাহ দীর্ঘ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। তাই নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষ পরিত্যাগ করা দুষ্কর হয়ে উঠবে। ফিলিস্তিনিদের প্রথম ইন্তিফাদা-পরবর্তী সময়ে ভিন্নমতাবলম্বী গ্রুপের একটি অংশ এবং তৎকালীন মুসলিম ব্রাদারহুডের সহযোগিতায় ১৯৮৭ সালে গাজায় হামাস গঠিত হয়। আদর্শিকভাবে ফাতাহ ও হামাস সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফাতাহ যেখানে সমাজবাদী ও সেক্যুলার আদর্শকে প্রাধান্য দিত, সেখানে হামাস সম্পূর্ণ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে সংজ্ঞায়িত করে। সময়ের পরিক্রমায় হামাস ও ফাতাহর দ্বন্দ্ব স্থায়ী রূপ নেয়। সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি হয় যখন ১৯৯৩ সালে আরাফাত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিনের সঙ্গে পশ্চিমা বিশেষ করে মার্কিনদের প্রচেষ্টায় অসলো চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে ফাতাহ ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং ইসরায়েল ফিলিস্তিনের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ফাতাহকে স্বীকৃতি প্রদান করে হামাসকে আলোচনার মঞ্চ থেকে বের করে দেয়। এই চুক্তির মাধ্যমে আরাফাত ফিলিস্তিনের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এমনকি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বৃহৎ অর্থে সশস্ত্র সংগ্রামের ইতি টেনেছিলেন। এডওয়ার্ড সাইদ থেকে শুরু করে উপনিবেশবাদবিরোধী সব চিন্তকেরা আরাফাতের চুক্তিতে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। সাইদ আরাফাতের এই চুক্তিকে আলোচনা নয়, বরং ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ হিসেবে অবহিত করেছিলেন, যা উঠে এসেছে সাইদের 'দ্য এন্ড অব দ্য পিস প্রসেস' গ্রন্থে। ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরই মূলত ফিলিস্তিনিদের উপনিবেশবাদবিরোধী আন্দোলনে ভাটা পড়ে। আন্দোলনের নৈতিক অবস্থান বিলীন হতে থাকে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিতে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পশ্চিমাদের সহায়তায় ফাতাহর বেশ কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অন্যান্য আরব ও পশ্চিমা দেশে আবাস গড়েন। যেকোনো সংগ্রামের প্রধান শক্তি আপসহীনতা। এই সংগ্রামে সামান্য আপস সমগ্র আন্দোলনকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে; এমনকি সংঘবদ্ধ শক্তির দখলদারত্বের বৈধতাও প্রদান করতে পারে। কালের পরিক্রমায় ফাতাহ এই পরিণতি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারেনি। ফাতাহ যেভাবে পশ্চিমাদের বগলবন্দী হয়ে উপনিবেশবাদবিরোধী আন্দোলনকে থামিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ঠিক একইভাবে সিরিয়ার পিকেকে মার্কিনদের সহযোগিতায় নতুন জাতিবাদী কুর্দি রাষ্ট্র গঠনের আশায় কুর্দিদের ইরাক, সিরিয়া, ইরান ও তুরস্কের বিরুদ্ধে নিজেদের আদর্শিক সংগ্রামকে পরিত্যাগ করে, মার্কিনদের বগলবন্দী হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সমাজবাদী আন্দোলনকে নিস্তেজ করে দিয়েছে। উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে লড়াই একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া সময়, ধৈর্য ও প্রছন্ন কর্মপদ্ধতি দাবি করে। অটোমানদের শেষ সময় থেকেই ফিলিস্তিনিরা ইউরোপে থেকে উচ্ছেদকৃত ইহুদিদের কাছে নিজেদের খামারি জমি, বসতবাড়ি হারাতে শুরু করে। শুরুতে মহল্লাকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। কিন্তু প্রশিক্ষিত ব্রিটিশ সৈন্যদের বুলেটের সামনে এই প্রতিরোধ আন্দোলন ব্যর্থ হলেও ওই আন্দোলন ফিলিস্তিনের নতুন প্রজন্মকে দীর্ঘমেয়াদি উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করেছিল। ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ফিলিস্তিনিদের মাটিতে ইহুদিবাদীরা ফিলিস্তিনি ভূমির প্রায় ৮০ ভাগ দখল, প্রায় ৮ লাখ বাসিন্দাকে উচ্ছেদ এবং হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি গ্রাম ধ্বংস করে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠন করলে ভয়াবহ এক মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। মাতৃভূমির এই বিপর্যয়কে সঙ্গী করে মাতৃভূমিকে দখলদারত্ব থেকে মুক্ত করতে কুয়েতপ্রবাসী ফিলিস্তিনিদের প্রচেষ্টায় ১৯৫০ সালে ইয়াসির আরাফাত এবং তাঁর সহকর্মীদের সংগ্রামী স্পৃহায় ফাতাহ গঠিত হয়েছিল। ইসলামপন্থী ও সমাজবাদী চিন্তার এক বিরল মিশ্রণে গঠিত ফাতাহ-পরবর্তী কয়েক দশকের জন্য ফিলিস্তিনের সব মানুষের কণ্ঠস্বর এবং ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গোটা বিশ্বে ইয়াসির আরাফাত সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তবে ইয়াসির আরাফাত এবং তাঁর ফাতাহকে উৎখাতের জন্য ইসরায়েলের ১৯৮২ সালের লেবানন আক্রমণ ও পরবর্তী সময়ে আরব রাষ্ট্রগুলোর ক্রমাগত বৈরিতা ও বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া আরাফাত যখন ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় সম্মতি জানান, তখন থেকেই ফিলিস্তিনিদের জনমনে এবং দুনিয়ার মানুষের মধ্যে আরাফাতের উপনিবেশবাদবিরোধী চিত্রে ফাটল শুরু হয়। আরাফাতের আত্মঘাতী এই শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ আন্দাজ করতে পেরে নিজস্ব কায়দায় উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম জারি রাখার পরিকল্পনা নিয়ে একটি অংশ ফাতাহ ত্যাগ করে। ত্যাগী এই গ্রুপের প্রধান যুক্তি ছিল, বৃহৎ পশ্চিমা শক্তি এবং সুসংগঠিত ইসরায়েল রাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় ফাতাহ পেরে উঠবে না। আর ইসরায়েল ও মার্কিনরা কখনোই দুই রাষ্ট্র গঠনের চুক্তিও মানবে না। তাই আদতে এই শান্তি আলোচনা ইসরায়েলের দখলদারত্বকে বৈধতা প্রদান করা ছাড়া অন্য কিছুই নয়। এই ঘোষণা দিয়ে সংগ্রামের অবিরত ধারাতেই মুক্তি নিহিত বলে মনে করেন ফাতাহ ত্যাগ করা ভিন্নমতাবলম্বীরা। প্রথম ইন্তিফাদায় জন্ম নেওয়া হামাস ২০০০ সালের দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় আপসহীনতার দরুন ফিলিস্তিনিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে হামাস ২০০৬ সালের নির্বাচনে ইয়াসির আরাফাতের ফাতাহকে হারিয়ে দেয়। নির্বাচনে ১৩২ আসনের মধ্যে হামাস ৭৬টি এবং ফাতাহ ৪৩টি আসন পায়। নির্বাচনে ফাতাহর পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল, ইসরায়েলের সঙ্গে আপস এবং ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামকে বিকিয়ে দেওয়া। হামাসের সরকার গঠনের এক বছরের মাথায় মার্কিনদের বিশেষ করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনবরত যুদ্ধের অন্যতম রূপকার কন্ডোলিৎসা রাইসের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস হামাসের সরকারকে বরখাস্ত করে। এখানেই রয়েছে পশ্চিমা গণতন্ত্রের আসল চোরাবালি। আদতে গণতন্ত্রের নামে পশ্চিমারা নিজেদের মিত্রদের নির্বাচনে জিতিয়ে আনতে চায়, যেখানে সাধারণ মানুষের ইচ্ছার কোনো মূল্যায়ন নেই। মিত্ররা পরাজিত হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধুয়া তুলে অর্থনৈতিক অবরোধ অথবা সেনা অভ্যুত্থান দিয়ে সরকারের পতন ঘটায়। বৃহৎ অর্থে হামাসের পরিণতি সমকালীন ভেনেজুয়েলার মাদুরো, বলিভিয়ার ইভো মোরালেস থেকে খুব ভিন্ন নয়। আদতে পশ্চিমারা কি অপশ্চিমা দেশগুলোকে গণতন্ত্রচর্চার সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নে প্রস্তুত আছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে পারে। ফিলিস্তিনিরা জানে না আদৌ নির্বাচন হবে কি না, কিংবা নির্বাচনের ফল পশ্চিমারা মেনে নেবে কি না। তবে এই আংশিক আলোচনা ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের মধ্যে ফাতাহ ও হামাসের মধ্যকার বিবাদ মীমাংসার বিষয়ে আশার সঞ্চার করেছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ফাতাহ এবং সৌদি বলয় হামাসকে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিত্যাগ করতে আবার চাপ প্রয়োগ করবে নিশ্চয়ই। তবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির পরিক্রমা মাথায় রেখে যদি হামাস অস্ত্র পরিত্যাগ করে, তাহলে আগামী এক দশক পর ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের অস্তিত্ব থাকবে কি না, সেই বিষয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। এই দুর্দশার মধ্যে ফিলিস্তিনের জন্য আশার সংবাদ হলো, গাজা, রামাল্লা ও পশ্চিম তীরে স্থানীয় সমাজে প্রভাবশালীরা আবার একত্র হয়েছেন ফাতাহ ও হামাসের মধ্যকার 'বিবাদ' নিরসনে। ভূমিহারা ও নির্যাতিত এই সব বঞ্চিত মানুষ মনে করেন, ট্রাম্প ও সৌদি বলয় 'শতাব্দীর চুক্তি'র মাধ্যমে ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনের ওপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রদান করছে। তাই এখন আবার সময় এসেছে উপনিবেশবাদ ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে নতুন করে সম্মিলিত সংগ্রামের। রাহুল আনজুম: আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিষয়ক গবেষক। | 8 |
মুন্সিগঞ্জে একাধিক মামলার আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবল আহত হন। এ ঘটনায় জিতু রাঢ়ি ও লিটন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলার গজারিয়া উপজেলার জামালপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।পরে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে পুলিশ।ঘটনার পরপরই হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিনহাজ উল ইসলাম ও গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রইছ উদ্দিনের নেতৃত্বে জামালপুর ও বালুয়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই জড়িতরা গা ঢাকা দেওয়ায় ওই দিন কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরুল হক জানান, অভিযান অব্যাহত আছে। অচিরেই জড়িতরা আইনের আওতায় আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।পুলিশ জানিয়েছে, গত বুধবার রাত ৮টার দিকে জামালপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একাধিক মামলার আসামি ফিরোজ কসাইয়ের ছেলে লিটনকে ২৫ পিছ ইয়াবাসহ ও বালুয়াকান্দি গ্রামের মৃত হাফেজ রাঢির ছেলে জিতু রাঢিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে নিয়ে থানায় ফেরার পথে লিটনের স্বজনরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশের এসআই নুরুল হক ও কনস্টেবল মুসাকে পিটিয়ে আহত করে আসামি লিটন ও জিতু রাঢ়ি কে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় রাতেই এসআই নুরুল হক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, 'পুলিশের ওপর হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি খুব দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।' | 6 |
ছবিটা দেখেছেন? একটি ভবন থেকে টুপ টুপ করে পড়ছে মানুষ। আঘাতপ্রাপ্তির নিশ্চিত সম্ভাবনা সত্ত্বেও তাঁরা লাফ দিয়েছিলেন। কারণ আগুন ও কালো ধোঁয়ায় পুড়ে শেষ হতে চাননি তাঁরা। জীবিত থাকার সীমিত সম্ভাবনাকেও কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কারও কারও ভাগ্যে আর 'জীবন' ফিরে আসেনি। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন। প্রথম সূত্রে বলা হয়েছে, স্থির অবস্থান হতে বিনা বাধায় পড়ন্ত সব বস্তু সমান সময়ে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে। বিনা বাধায় বলতে গ্যালিলিও বুঝিয়েছিলেন, বস্তুর ওপর অভিকর্ষ বল ছাড়া অন্য কোনো বল কাজ করবে না। তবে পড়ন্ত বস্তুর সংজ্ঞায় নিশ্চয়ই মানুষের কথা ভাবেননি গ্যালিলিও। এ দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার মানুষই পড়েছে 'পড়ন্ত বস্তু' হয়ে। সেখানে অভিকর্ষ বল ছাড়াও কাজ করেছিল মৃত্যুভয়। এমন ভয়ের অনুভূতির প্রাবল্য সত্যিই বেশি। ঢাকায় বনানীর এফ আর টাওয়ারে গতকাল ভয়াবহ আগুন লাগে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতের তালিকায় যোগ হয়েছে ২৫টি লাশ। পুলিশ বলছে, এর বাইরে আর কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি নেই। মনে চূড়ান্ত মৃত্যুভয় নিয়ে আহত হয়ে বেঁচে গেছেন ৭৩ জন। আগুন ও কালো ধোঁয়ার দুঃস্বপ্ন তাঁরা আদৌ ভুলতে পারবেন কি না, কে জানে। আমাদের দেশে প্রতিটি দুর্ঘটনার পরই কিছু অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। এবারও আসছে। সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বনানীর এফ আর টাওয়ারে নাকি পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। ছিল না ওই ভবন থেকে বেরিয়ে আসার জরুরি কোনো পথ। এফ আর টাওয়ার ও এর আশপাশের ভবনগুলো ছিল একেবারেই লাগোয়া। অর্থাৎ দুই ভবনের মধ্যে যে সামান্য ফাঁকা জায়গাটুকু প্রয়োজন, তা-ও নাকি যথেষ্ট ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, যেকোনো ভবন সাততলার ওপর হলেই সেটিকে বহুতল ভবন হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই হিসাবে ২৩ তলা এফ আর টাওয়ারও বহুতল ভবন। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলছেন, ফায়ার এক্সিট বা আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জরুরি নির্গমন পথ থাকলে এফ আর টাওয়ারে হয়তো এত প্রাণহানি ঘটত না। কিংবা আগুন নেভানোর নিজস্ব ভালো ব্যবস্থা থাকলে ক্ষয়ক্ষতি এতটা হতো না। প্রশ্ন হলো, এত বড় একটি ভবন তৈরি হলো, সেখানে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো ভাড়া নিল এবং কাজও শুরু করে দিল কিন্তু তাতে যে আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই, সেটি দেখবে কে? দেখার দায়িত্ব কার? ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র বলছেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে অবশ্যই নিরাপত্তার দায়িত্ব ভবনমালিককে নিতে হবে। 'নিজের নিরাপত্তা নিজেরা বিবেচনা করে দেখার' বলে অনুরোধ করেছেন তিনি। মেয়র এও স্বীকার করে নিয়েছেন, সিটি করপোরেশন ও রাজউকের কাজের মধ্যে সমন্বয় নেই। আর সমন্বয়হীনতার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। আচ্ছা, এই কথাগুলো পরিচিত মনে হচ্ছে না? দোষারোপের গন্ধ আছে কথাগুলোয়। দুর্ঘটনার দিনে এ দেশে শেষ ঢাল সব সময়ই 'দোষারোপের রাজনীতি'। এক পক্ষ বলবে, 'ও ঠিকভাবে কাজ করলে এমনটি হতো না।' আরেক পক্ষ বলবে, 'সে কেন করল না?' দুই পক্ষই জানে, নিজেরা একটা ভালো ঝগড়ায় জড়ালে মানুষকে ভুলিয়ে রাখা যাবে! কারণ আমরা বাহাস খুব ভালোবাসি, জটলা করে দেখি। ওতেই আমাদের কৌতূহল ব্যাপক, তাতে সময় নষ্ট হলে হোক! আমাদের কৌতূহলী মন কখনো কখনো যে সর্বনাশারূপে আবির্ভূত হয়, তাও কিন্তু সত্যি। জানা গেছে, গতকাল এফ আর টাওয়ারে উৎসুক জনতার ভিড় ঠেলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল উৎসুক মানুষের ভিড়। পানিবাহী গাড়িগুলোর ভিড় ঠেলে যেতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগছিল। যে সময়ে কিছু ক্ষেত্রে ১ সেকেন্ডে ১টি প্রাণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, তখন নষ্ট হওয়া সময়ের দাম অনেক। অথচ 'আল্লাহর দোহাই লাগে গাড়ি যেতে দেন' বলেও মানুষের জটলা তৈরির উৎসাহে ভাটার টান আনা যায়নি। পুলিশের সদস্যরা বারবার চেষ্টা করেও তাদের খুব বেশি দূরে সরাতে পারছিলেন না। সব দেখে এ প্রশ্ন উঠতেই পারে-এ দেশে কৌতূহল দামি, নাকি মানুষের জীবন? সিটি করপোরেশন বলছে, এখন থেকে অ্যাকশনে নামা হবে। বহুতল ভবনের আনুষঙ্গিক কাগজপত্র রাজউকের কাছে চাওয়া হয়েছে। অবশ্যই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেষ বাক্যটি বহুল চর্চিত। চুড়িহাট্টায় ৭১টি প্রাণ পুড়ে ভস্ম হওয়ার দিনও আমরা এমন কথা শুনেছি। শুনেছি নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের সময়ও। তার পরও চুড়িহাট্টা দেখতে হয়েছে, ঢাকার বাতাসে মিশেছে পোড়া লাশের গন্ধ। প্রতিটি মৃত্যুই অনাকাঙ্ক্ষিত। আর তা অপঘাতে হলে, মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। কিছুদিন ধরেই এ দেশে একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যু দেখতে হচ্ছে। যেন মৃত্যুর দোকানে শুরু হয়েছে বৈশাখী সেল! অনিয়ম ও অসচেতনতার দামে তা কিনছি আমরা। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার ১৯ মার্চ সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কাছে বাসের চাপায় নিহত হন। জেব্রা ক্রসিংয়ের সাদা রং সেদিন ছোপ ছোপ রক্তে রাঙা হয়েছিল। পরে জানা গেছে, আবরারকে চাপা দেওয়া বাসটি চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী, চালক নন। আর গতকাল সারা দেশে শুধু সড়কেই জান গেছে ২৩ জনের। মৃত্যু কত সহজলভ্য এখানে! তার পরও আমরা জীবন কাটাই, কাটিয়ে দিই আর কি। দুঃসময় পেছনে ফেলে নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করি। কিন্তু সেই শুরুটায় যেন আগের মতো গলদ না থাকে। বদলের সুর যেন থাকে। কবি আবুল হাসান তাঁর 'উদিত দুঃখের দেশ' নামের কবিতায় সুসময় ফেরানোর ডাক দিয়েছিলেন। আরেক কবিতায় জানিয়েছিলেন বদলের আহ্বান। কবির ভাষায়- 'কিছুটা বদলাতে হবে বাঁশীকিছুটা বদলাতে হবে সুরসাতটি ছিদ্রের সূর্য; সময়ের গাঢ় অন্তঃপুরকিছুটা বদলাতে হবে মাটির কনুই, ভাঁজ রক্তমাখা দুঃখের সমাজ কিছুটা বদলাতে হবে...' - বদলে যাও, নিজেকে বদলাও অর্ণব সান্যাল: সাংবাদিক [] | 8 |
নবজাতকের সচরাচর ওজন আড়াই থেকে সাড়ে তিন কেজি। তবে গতকাল বিকেলে শেরপুরে ৬ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের এক নবজাতকের জন্ম হয়েছে। প্রসূতির নাম মোছা. শেফালি বেগম (২৮)।গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে শহরের জেনি জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই শিশুর জন্ম হয়। এখন পর্যন্ত নবজাতকের নাম রাখা হয়নি। শেফালি শ্রীবরদী উপজেলার দহেরপাড় এলাকার সজল মিয়ার স্ত্রী। তিনি গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মী, স্বামী সজল গাজীপুরে অটো ভ্যান চালায়।হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জায়েদুর রশীদ শ্যামল জানান, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে শেফালিকে হাসপাতালের ২০৩ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে ৫টা ১০ মিনিটে সিনিয়র গাইনি বিশেষজ্ঞ মো. লুৎফর রহমানের সিজারিয়ান অপারেশনে একটি কন্যাশিশু ভূমিষ্ঠ হয়। পরে শিশুটির ওজন মেপে ৬ কেজি ২শ গ্রাম ওজন পাওয়া যায়। অস্বাভাবিক ওজনের শিশুর জন্মের খবর পেয়ে নার্স, চিকিৎসকসহ অনেকে হাসপাতালে ভিড় করেন। স্বাভাবিকের চেয়ে এত বেশি ওজনের শিশুর জন্ম বিরল ঘটনা।নবজাতকের বাবা মো. সজল মিয়া মুঠোফোনে আজকের পত্রিকাকে বলেন, তিনি গাজীপুর থেকে বাসে শেরপুরে আসছেন। এই সন্তানের আগে স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের দুই ছেলের জন্ম হয়েছে। ওই শিশুদের স্বাস্থ্যও অনেক ভালো ছিল। তবে এই মেয়ে বাচ্চাটি আরও বড় হয়েছে। নিরাপদে মেয়ে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ায় খুব খুশি বলেও জানান তিনি।শিশুটির মামা মো. সঞ্জু মিয়া জানান, তাঁর বোন ও ভাগনি দুজনেই সুস্থ আছে। তাদের জন্য সবার দোয়া কামনা করেন তিনি।অস্ত্রোপচারের অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি কখনো এত বেশি ওজনের নবজাতক দেখেননি। শিশুটির ওজন হয়েছে ৬ কেজি ২শ গ্রাম। একটি নবজাতকের স্বাভাবিক ওজন হয়ে থাকে আড়াই কেজি থেকে চার কেজি পর্যন্ত।কিন্তু এই শিশুটির ওজন ৬ কেজি ২০০ গ্রাম। এটি প্রায় বিরল। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওই নারী পর্যাপ্ত সুষম খাবার খেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।এ ব্যাপারে গাইনি বিশেষজ্ঞ মো. লুৎফর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, নবজাতক সুস্থ আছে। তবে তাঁর মায়ের অবস্থা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। প্রসূতিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। | 6 |
মৃত্যুশোক যেন কাটছে না কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডা. সুরেশ চন্দ্র শীলের পরিবারের। এবার পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন পিকআপের ধাক্কায় আহত আরেক ভাই রক্তিম শীলও। আজ মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শেষ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে বাবার শ্রাদ্ধ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি পিকআপভ্যানের চাপায় ঘটনাস্থলে নিহত হন চার ভাই। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর আরেক ভাইও মারা যান। তারা হলেন- নিরুপম শীল (৪০), দীপক শীল (৩৭), চম্পক শীল (৩০) ও অনুপম শীল (২২)। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্মরণ শীল (৩২)। গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি ছিলেন রক্তিম শীল ও হীরা শীল। তাদের মধ্যে আজ মারা যান রক্তিম শীল। এ ঘটনায় ওই রাতেই নিহতদের আরেক ভাই প্লাবন চন্দ্র শীল বাদী হয়ে অজ্ঞাত পিকআপভ্যান চালককে আসামি করে চকরিয়া থানায় মামলা করেন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে সাহিদুল ইসলাম ওরফে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। | 6 |
রাজধানীর সবুজবাগের মধ্য বাসাবোর ৯ তলা 'নাভানা টাওয়ারের' ছাদ থেকে পড়ে শওকত হোসেন ফকির (৩৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শওকত বেসিক ব্যাংকের ফকিরাপুল শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।তৌফিক হোসেন নামের এক পথচারী জানান, নাভানা টাওয়ারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ভবনের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় শওকত হোসেনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তখন তিনি নিজেই আহত শওকত হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা সোয়া ১১টায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন নিহতের বড় বোন সুলতানা মাহমুদা বেগম। মাহমুদা বলেন, তাঁদের বাড়ি গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর গ্রামে। বাবার নাম মৃত আবুল হোসেন। বড় বোন মোরশেদা সুলতানার সঙ্গে মধ্য বাসাবোর খেলার মাঠসংলগ্ন নাভানা টাওয়ারের পঞ্চম তলায় স্ত্রী আয়শা আক্তারকে নিয়ে থাকতেন শওকত হোসেন। তাঁর স্ত্রী আয়শা ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলেও উল্লেখ করেন মাহমুদা।সুলতানা মাহমুদা আরও বলেন, সকালে মোবাইলে খবর পান, শওকত ভবন থেকে পড়ে গেছেন। এরপর তিনি হাসপাতালে গিয়ে শওকতের মৃতদেহ দেখতে পান। কেন বা কীভাবে ছাদ থেকে পড়ে গেলেন, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি। তবে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়তে বা অসচেতনতার কারণে পড়ে যেতে পারেন বলে ধারণা তাঁদের।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃতদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। | 6 |
সারাদেশের মতো বরিশালে চলছে একদিনের টিকা ক্যাম্পেইন। বরিশাল জেলা ও মহানগরীর ১৪১টি কেন্দ্রে দেওয়া হচ্ছে এই টিকা। প্রতিটি কেন্দ্রে টিকায় আগ্রহীদের ভিড় দেখা গেছে। টিকা কেন্দ্রে যাওয়া প্রত্যেককে নিবন্ধন করে টিকা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় ৮৭টি ইউনিয়নের ৮৭টি কেন্দ্রের ২৬১টি বুথ এবং সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের ৫৪ কেন্দ্রের ৬৪টি বুথে গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় শুরু হয় টিকা ক্যাম্পেইন। সকাল ৯টায় নগরীর নতুনবাজার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে টিকা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার টিকা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। এসময় তিনি বলেন, নগরীরবাসীকে টিকার আওতায় আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা করেছে সিটি করপোরেশন। উপজেলা পর্যায়ে দেয়া হচ্ছেচীনের সিনোফার্মার ভেরসেল টিকা এবং সিটি এলাকায় দেয়া হচ্ছে আমেরিকার তৈরী মডার্না টিকা। জেলার ১০ উপজেলার ২৬১ বুথে আজ ৫২ হাজার ২শ' মানুষ এবং সিটি করপোরেশনের ৬৪ বুথে ১৮ হাজার মানুষকে টিকা দেয়ারলক্ষ্য নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ২৫ উর্ধ্ব বয়সের যে কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে কেন্দ্রে গেলেই টিকা নিতে পারবেন তারা। তবে বয়োজেষ্ঠ (বয়স ৫০ বছরের উপরে), নারী ও প্রতিবন্দীদের টিকায় অগ্রাধিকার রয়েছে। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 6 |
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন কার্যতপক্ষে একজন খুনি ও বিশ্বাসঘাতক। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপির নেতারা ক্রমাগতভাবে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাকে অস্বীকার করে আসছেন। তাঁরা একজন খলনায়ককে নায়ক বানানোর অপচেষ্টা চালান। জিয়াউর রহমান ছিলেন কার্যতপক্ষে একজন খুনি ও বিশ্বাসঘাতক। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। এই খুনির দলের রাজনীতি যাঁরা করেন, তাঁরা বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাকে অস্বীকার করেন।' আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতাদের খুনি এবং বিশ্বাসঘাতকের রাজনীতি ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'জাতির সামনে জিয়াউর রহমানের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে যদি সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারা চালু করতে হয়, ইতিহাস ও রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করতে হয়, তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করা নিষিদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সাথে যারা বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাকে খাটো করে দেখে এবং বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালায়, তাদের রাজনীতিও এ দেশে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। একজন খুনি এবং বিশ্বাসঘাতকের পক্ষে যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁদের রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিত নয়।' হাছান মাহমুদ বলেন, 'যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাকে অস্বীকার করা হয়, এটি পৃথিবীর কোনো দেশে নাই।' তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, 'ভারতে মহাত্মা গান্ধী, পাকিস্তানে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ওয়াশিংটনের ভূমিকাকে খাটো করে কেউ কি রাজনীতি করতে পারবে, পারবে না। কিন্তু আমাদের দেশে পারে।' বঙ্গবন্ধু বহু আগেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিকল্পনা করেছিলেন উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু জানতেন কখন কোন কথাটি বলতে হয়। তিনি পরিকল্পনা করেছিলেন, প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কিন্তু তিনি সেটি প্রকাশ করেননি। বঙ্গবন্ধু স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণা করলেন। ছয় দফার ভিত্তিতে জনমত গঠন করলেন। জনমত গঠন করে মানুষের মনন তৈরি করে তিনি নির্বাচনে গেলেন। নির্বাচনে গিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, বাংলার মানুষ তাঁর ছয় দফার পক্ষে আছে। এরপর ধীরে ধীরে বাঙালিকে আরও উদ্বেলিত করে ৭ মার্চ স্বাধীনতার ডাক দেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি হয়। | 9 |
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে চাল সংগ্রহে আশার মুখ দেখলেও মুখ থুবড়ে পড়েছে ধান সংগ্রহ। গত দুই মাসে সরকারিভাবে ৯শ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হলেও ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৪ মেট্রিক টন। ফলে চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অর্জিত হলেও ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অর্জিত হওয়া নিয়ে সংঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলায় সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ আমন মৌসমে ২৭ টাকা কেজি দরে ৯৬৯ মেট্রিক টন ধান সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ক্রয় করার লক্ষে ও ৪০ টাকা কেজি দরে ১৩শ' ৩৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল মিলারদের নিকট থেকে ক্রয় করার জন্য গত বছরের পহেলা ডিসেম্বর ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। মিলারদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, উদ্বোধনের দিন থেকে এ পর্যন্ত গত দুই মাসে ৯শ' মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। আর কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৪ মেট্রিক টন। আগামী ২৮ ফেরুয়ারি পর্যন্ত ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের নির্ধারিত সময় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে মিলারদের নিকট থেকে চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অর্জিত হওয়ার আসা থাকলেও সরকার নির্ধারিত দামের চাইতে স্থানীয় বাজারে দেড় থেকে দুই শ' টাকা ধানের দাম বেশি পাওয়ায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছেন না কৃষকরা। ফলে ধান সংগ্রহ অভিযান মুখ থুবরে পড়েছে। এদিকে কৃষকরা বলছেন, সরকার ২৭ টাকা কেজি দরে ধানের দাম নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সরকার নির্ধারিত দামের চাইতে স্থানীয় বাজারে মন প্রতি দেড়শ' থেকে দুইশ' টাকা ধানের দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তাই বাজারে ধানের দাম বেশি পাওয়া খোলা বাজারেই ধান বিক্রি করছেন। ফলে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছি না কৃষকরা। রাণীনগর উপজেলা ধান-চাল মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিতানাথ ঘোষ বলেন, সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, উপজেলার মিলাররা খাদ্যগুদামে চাল দিচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন চাল সরবরাহ করা হবে বলে আসা করছেন তিনি। রাণীনগর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন বলেন, আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্র অর্জিত হবে। তবে বাজারে ধানের দাম পাওয়ায় গুদামে ধান দিচ্ছেন না কৃষকরা। রাণীনগর উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছেন না কৃষকরা। এসব বিষয় ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। | 6 |
গণমাধ্যম বিষয়ক বেসকারি উন্নয়ন সংস্থা ম্যাস্ লাইন মিডিয়া সেন্টারের (এমএসসি) নির্বাহী পরিচালক, দেশে কমিউনিটি রেডিওর অন্যতম উদ্যোক্তা ও খ্যাতিমান আবৃত্তিশিল্পী প্রয়াত কামরুল হাসান মঞ্জুর স্মরণে নোয়াখালীতে শোক-সংহতি সভার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা শহর মাইজদীতে বিআরডিবি মিলনায়তনে এ শোক-সংহতি সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান এমএমসি প্রাক্তন নোয়াখালী প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জু। নোয়াখালী অঞ্চলে এমএমসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজনের মধ্যে থাকছে প্রয়াত কামরুল হাসান মঞ্জুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা, প্রকাশনা এবং কামরুল হাসান মঞ্জুর আবৃত্তি অ্যালবাম থেকে আবৃত্তি পরিবেশন। উল্লেখ্য, কামরুল হাসান মঞ্জু ২১ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। | 6 |
মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার মুখে
পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন
বিশ্বনন্দিত ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বৃহস্পতিবার সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে দেয়া বার্তায় এ আহ্বান জানান ৩৩ বছর বয়সী
রিয়াল মাদ্রিদের এই পর্তুগাল তারকা। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বাংলাদেশে
সেভ দ্য চিলড্রেন পরিচালিত একটি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে আসা সন্তান কোলে এক বাবার
ছবির পাশে নিজের সন্তানদের নিয়ে একটি ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি। ছবির ক্যাপসনে পাঁচবারের ব্যালন
ডি'অর খেতাবজয়ী রোনালদো লিখেছেন, 'এক বিশ্বে আমরা সবাই নিজের সন্তানদের ভালোবাসি।' রোহিঙ্গা
শিশুদের সহায়তার জন্য একটি পেজের লিঙ্কও শেয়ার করেছেন রোনালদো। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি
ও আধা-সরকারি বাহিনীর নিপীড়ন-নির্যাতনের মুখে গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত জীবনের
ঝুঁকি নিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা; তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি মানুষের জরুরি ত্রাণ
সহায়তার প্রয়োজন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাড়ে ১৬ হাজার শিশু
রয়েছে; যাদের বয়স পাঁচ বছরেরও কম। উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ক্রীড়াবিদদের অন্যতম রোনালদো বিভিন্ন
দাতব্য কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় 'চ্যারিটেবল ক্রীড়াবিদ'
হিসেবেও পরিচতি। সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউনিসেফ,
ওয়ার্ল্ড ভিশনসহ কয়েকটি দাতব্য সংস্থার 'শুভেচ্ছা
দূত' হিসেবেও কাজ করছেন রোনালদো। ???? . . ://./ ../ | 12 |
সওজ বলছে, এ জমির মালিকানার বিরুদ্ধে গণপূর্ত বিভিন্ন সময়ে আদালতে মামলা করে। দুটি মামলায় গণপূর্ত পরাজিত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে আদালতের স্থিতাবস্থা রয়েছে। এতে বলা আছে, ওই জমিতে থাকা কোনো গাছগাছালি কাটা যাবে না, নির্মাণ করা যাবে না নতুন কোনো স্থাপনা। কুষ্টিয়া যুগ্ম জজ আদালতের এমন নির্দেশনা মানছে না গণপূর্তের কুষ্টিয়া কার্যালয়। ওই জমিতে হাঁটার পথ নির্মাণ করছে তারা। এ নির্মাণকাজে আপত্তি জানিয়েছে ওই জমির দাবিদার কুষ্টিয়া সওজ (সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর)। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের সাদ্দাম বাজার মোড় এলাকায় কুষ্টিয়া সড়ক ভবন ও গণপূর্তের কার্যালয়। একসময় সরকারি এ দুটি প্রতিষ্ঠান ছিল যোগাযোগ ও ভবন অধিদপ্তরের আওতায়, সংক্ষেপে যাকে সিঅ্যান্ডবি বলা হতো। ভাগাভাগি হওয়ার পর সরকারি এ জমি দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রেকর্ড হওয়ার কথা থাকলেও গণপূর্তের দাবি, ভুলক্রমে তা সড়ক বিভাগের নামে চলে গেছে। তবে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রায় তিন একর আরএস খতিয়ানভুক্ত ওই জমির খাজনা বছরে প্রায় এক লাখ টাকা করে সরকারকে দিয়ে আসছে সওজ। কিন্তু ওই জমির সব ভবন গণপূর্তের নামে। এমনকি যে ভবনে সড়কের অফিস আছে, সেটিও গণপূর্তের ছিল একসময়। পরে সড়কের ব্যবহারের জন্য দোতলা ভবনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। সওজ বিভাগ বেশ কয়েক বছর আগে কোটি টাকা খরচ করে দোতলা ভবনটি ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করে। ভবনটি এখন তিনতলায় রূপ নিয়েছে। এ ছাড়া সওজের আরেকটি অফিস রয়েছে শহরের চৌড়হাস মোড়ে, সেখানে সওজের কয়েক একর খালি জমি ও জলাধার রয়েছে। সেখানেই তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন। সড়ক বিভাগের দাবি অনুযায়ী, তারা ১৯৭৬ সাল থেকে আরএস খতিয়ানভুক্ত জমিটির প্রকৃত মালিক, তারাই খাজনা দিচ্ছে। আর গণপূর্তের নথি বলছে, তারা পৌর কর দিয়ে আসছে। কাগজে এ জমির মালিকানাও তাদের নামে। সিএস রেকর্ডে জমির মালিকানা ছিল সিঅ্যান্ডবির। পরে আরএস রেকর্ডে পুরো জমির মালিকানা চলে যায় সওজের নামে। তবে ভবন সবই গণপূর্তের। আর ক্যাম্পাসের যে বিশাল বাগান আছে, সেটিও গণপূর্তের লাগানো। বাগানের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছর। বাগানে সব মিলিয়ে তিন শতাধিক গাছ রয়েছে। সড়ক বিভাগ বলছে, এ জমির মালিকানার বিরুদ্ধে গণপূর্ত বিভিন্ন সময়ে আদালতে মামলা করে। দুটি মামলায় গণপূর্ত পরাজিত হয়েছে। আবারও তারা মামলার আবেদন করে জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করিয়েছে। এখন গণপূর্তই সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমিতে সড়ক নির্মাণ করছে। কাগজপত্র ঘেঁটে জানা যায়, জমির মালিকানা নিয়ে ২০০৮ সালে সদর আমলি আদালতে প্রথম মামলা করে গণর্পূত বিভাগ। ২০১২ সালের দিকে সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়। জমির মালিকানায় সওজই থাকে। এরপর ২০১৪ সালে আরেকটি মামলা করে গণপূর্ত। সেটিও চালাতে অপারগতা দেখিয়ে ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়। এরপরও একই দিন জেলা যুগ্ম জজ আদালতে আরেকটি মামলা করে গণপূর্ত। একই দিন ওই জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে ইট-বালু ফেলেছে গণপূর্ত বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকদের দিয়ে হাঁটার পথ তৈরি করা হচ্ছে। এ খবর সওজের কর্মকর্তাদের মধ্যে জানাজানি হলে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরেজিমন গিয়ে দেখা যায়, গণপূর্ত কার্যালয়ের সামনে ইট ও বালু ফেলে রাখা হয়েছে। বাগানের ভেতরে মাটি কেটে ইট বিছানোর কাজ চলছে। জানতে চাইলে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, জমিটা তাঁদের হলেও কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে অনেক আগে সওজের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। এ জমি বিরোধপূর্ণ থাকলেও উভয় পক্ষ সেখানে স্বাভাবিক কাজ কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। গাছ কাটা, ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হলেও হাঁটার পথ নির্মাণ করা যাবে না, সেটা বলা হয়নি। তারপরও কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিধিমোতাবেক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সব রকম কাজ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু গণপূর্ত আইন ভঙ্গ করে সড়কের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের নামে নেওয়া আরএস খতিয়ানের এ জমির মালিকানা কেন বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না, সেটা বোধগম্য হচ্ছে না। | 6 |
মা মমতাজ বেগমকে (৫৪) অপহরণ করা হয়েছে, এমন তথ্য উল্লেখ করে গত ২৫ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন ছেলে মুন্না বাবু (৩২)। এ ঘটনার কয়েক দিন পরই মমতাজ বেগমের মেয়েজামাইয়ের কাছে একটি মুঠোফোন থেকে কল আসে। বলা হয়, পাঁচ লাখ টাকা দিলে মমতাজের সন্ধান দেবেন তিনি। ওই মুঠোফোন নম্বর ধরেই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। পরে জানা যায় নিজের মাকে হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই অপহরণের জিডি করেছিলেন মুন্না। মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কাটদহ গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম নিখোঁজের তদন্ত শেষে আজ বুধবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানায় পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মাকে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন মুন্না ও তাঁর দুই সহযোগী। মমতাজ বেগমের সন্ধান দিতে টাকা দাবি করে যিনি ফোন করেছিলেন, তিনি মুন্নার সহযোগীদের একজন। তাঁর নাম রাব্বি হোসেন (২৭)। অপর সহযোগী মুন্নার চাচা আবদুল কাদের (৫২)। তাঁদের তিনজনকেই আটক করেছে পুলিশ। মায়ের সম্পত্তির লোভেই হত্যার ঘটনা ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত। তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মমতাজ বেগমের স্বামী ফজল বিশ্বাস অনেক আগেই মারা যান। তাঁদের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। ছেলে মুন্না জুয়া খেলতেন এবং মাদকাসক্ত। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে প্রায়ই তাঁর ঝগড়া হতো। সম্পদ ও টাকা চাওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় হত্যার পরিকল্পনা করেন মুন্না। এ কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন চাচা ও এক বন্ধু। পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২১ জানুয়ারি দুপুরে গলায় রশি পেঁচিয়ে মমতাজ বেগমকে হত্যা করেন তাঁরা। এরপর লাশ বস্তাবন্দী করে ঘরের ভেতর খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। পাড়া-প্রতিবেশীদের মুন্না জানান, তাঁর মা নিখোঁজ হয়েছেন। ওই দিন রাতে বাড়ির পাশের পুকুরে লাশ ডুবিয়ে রাখেন। তিন দিন পর ২৫ জানুয়ারি মিরপুর থানায় 'অপহরণ' হওয়ার সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত জানান, এ ঘটনার কয়েক দিন পর মমতাজ বেগমের বড় মেয়েজামাই সেকেন্দার আলীর মুঠোফোনে সন্ধান দেওয়ার কথা বলে কল করা হয়। পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করে নম্বরটি মুন্নার বন্ধু রাব্বি ব্যবহার করেন। গতকাল মঙ্গলবার গোয়েন্দা পুলিশ রাব্বিকে আটক করে। এরপর মুন্না ও তাঁর চাচাকে আটক করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, লাশটি পুকুরে রাখা আছে। সন্ধ্যায় সেই পুকুর থেকে গলিত লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা) ফরহাদ হোসেন বলেন, আজ বুধবার সকালে মিরপুর থানায় এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়। এই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নেয় পুলিশ। | 6 |
দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ ফের ছয় মাস বাড়ছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সোমবার সাজা ছয় মাস স্থগিত করে মতামত দেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে তা জানা গেছে। গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা দ্বিতীয় দফায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে, যা আগামী ২৪ মার্চ শেষ হবে। গত ২ মার্চ পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে গত বছর ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের মুক্তি দেওয়া হয়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- খালেদা জিয়া কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। পরিবারের সদস্য ছাড়া কারও সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। নিজ বাসায় থেকে তিনি চিকিৎসা নেবেন। দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো ও সাজা মওকুফ এবং শর্ত শিথিলের আবেদন গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। | 6 |
প্রথমবারের মতো ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন তানজিন তিশা। নিজের সৌন্দর্য নিয়ে এমন বিপাকে পড়েছেন যে, দুর্ভাগা বলে নিজেকে মনে হচ্ছে এক মেয়ের। এমনই গল্পে তৈরি হয়েছে সিরিজটি। নাম 'শিকল'। থ্রিলার ও নাটকীয়তায় ভরা এটি আগামী ১০ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) থেকে রেড ডিজিটালের ওটিটি প্লাটফর্ম বিন্জের পর্দায় দেখা যাবে। শিকলে অত্যন্ত সুন্দর এক মেয়ের র্দুভাগ্যে ভরা জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। নন্দিনী নামের এক মেয়ের সংগ্রাম, প্রেম, প্রলোভন এবং র্দুভাগ্য এই গল্পের মূল বৈশিষ্ট্য। নানা রকম নেতিবাচক ঘটনার কারণে এক সময় নিজের সৌন্দর্যকেই শত্রু মনে করে মেয়েটি। ভিন্নধর্মী এই ওয়েব সিরিজে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিন তিশা। এছাড়া শতাব্দী ওয়াদুদসহ আরো অনেকে রয়েছেন। প্রায় ১৪৫ মিনিটের এই ওয়েব সিরিজটি প্রযোজনা করেছেন মুশফিকুর রহমান মঞ্জু। সিরিজটি ১৩ বছরের উপরে সব বয়সীরাই দেখতে পারবেন বলে জানান তিনি। | 2 |
আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। আগামী বছরের শুরুতেই ১৫ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাবেন তিনি। তবে এটা হবে তার ব্যক্তিগত সফর। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা এ সংক্রান্ত একটি নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে চলতি বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ দিনের সফর করেন এই কমিশনার। তাছাড়াও একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে হঠাৎ করেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। তখন তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ইসির অন্য কমিশনারদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে 'নোট অব ডিসেন্ট' দিয়ে। ২০১৮ সালের ২০ থেকে ৩০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন তিনি। ফলে নির্বাচনের আগে বিধিমোতাবেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কমিশনাররা দেখা করলেও যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় অনুপস্থিত ছিলেন মাহবুব তালুকদার। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
ভারতে করোনার প্রভাবে মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায় আইপিএলের আসর। এবার আসরের বাকি ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে। এই পর্বে খেলতে পারবেন না নাইট রাইডার্সের পেস ভরসা প্যাট কামিন্স। ব্যক্তিগত কারণেই সরে দাঁড়াচ্ছেন অভিজ্ঞ অস্ট্রেলীয় পেসার। তার পরিবর্তে নতুন এক জন পেসারের খোঁজ চলছে কলকাতা নাইট রাইডার্স শিবিরে। নাইট রাইডার্স চোখ রাখছে ইংল্যান্ডের সাকিব মাহমুদের উপরে। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলে হয়েছেন সিরিজসেরা। ৪৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫৯ উইকেট পেয়েছেন সাকিব। অন্যদিকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুতে সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শ্রীলঙ্কার ওয়াহিন্দু হাসারাঙ্গা। তিনি বলেন, 'আমি খুব খুশি। আইপিএলে প্রথম বার খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে উজাড় করে দেব।' এছাড়া সিঙ্গাপুরের টিম ডেভিডকে পেয়ে খুশি আরসিবির কোচ মাইক হেসন। তিনি বলেন, 'ডেভিডকে পাওয়ায় মাঝের সারির ব্যাটিং আরও শক্তিশালী হয়েছে। এবি ডিভিলিয়ার্স ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকেও স্বস্তি দেবে ওর উপস্থিতি। ওদের মধ্যে কোনও এক জন একটি ম্যাচ না খেললে ডেভিডকে খেলানো যেতে পারে।' | 12 |
রাজাপুরে প্রায় ৮ মণ ওজনের শাপলা পাতা মাছ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাগড়ি হাটে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে মাছটি জব্দ করে। এ ঘটনায় ভান্ডারিয়ার ভিটাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মাছ ব্যবসায়ী মাইনুদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোক্তার হোসেন ওই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন। মাছটি উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী বিলুপ্তপ্রায় এ মাছ শিকার ও বাজারজাত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই মাছটি জব্দ করা হয়েছে। | 6 |
হিলিতে পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ফেনসিডিলসহ এক নারী ও দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন বগুড়া সদরের মালগ্রাম মহল্লার দেলোয়ার হোসেনে স্ত্রী মিলন বেগম (৪০), হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর মহল্লার নুর ইসলামের ছেলে রাসেল (২৫) এবং একই মহল্লার ফজুল হকের ছেলে রায়হান (৩৫)।
হাকিমপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, ভারত থেকে ফেনসিডিল পাচারকালে সীমান্তবর্তী সাতকুড়ি নামক স্থান থেকে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ মিলন বেগমকে আটক করা হয়। অপরদিকে হিলির দক্ষিণ বাসুদেবপুর (জিলাপীপট্টি) নামক স্থানে মাদক বেচা-কেনার সময় ৩৯ বোতল ফেনসিডিল ও ৯৮ বোতল এমকে ডাইলসহ রাসেল ও রায়হানকে আটক করা হয়।
| 6 |
রংপুর-বড়াইবাড়ি সড়কের পাশের মরা ও পুরোনো গাছের কারণে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বাতাসে গাছের ডালপালা ভেঙে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে পুরো গাছই রাস্তার ওপর উপড়ে পড়ছে। এতে সড়কের পাশের বাসিন্দা ও পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।স্থানীয় লোকজন জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি রাস্তার পাশের গাছের ডালপালা কেটে নেন। এতে করে গাছগুলো ধীরে ধীরে মরে যায়। সেই সঙ্গে গাছগুলো গোড়ার দিকে আংশিক কেটে রেখা দেওয়া হয়। একসময় সুযোগ বুঝে মরা গাছগুলো উপড়ে নেওয়া হয়। এসব গাছ দ্রুত অপসারণ করার দাবি জানিয়েছেন পথচারীরা।গঙ্গাচড়ার বড়বিল ইউনিয়নের আজিজার রহমান বলেন, 'এটি খুবই ব্যস্ত একটি সড়ক। মরা গাছের কারণে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে এই সড়কে যাতায়াত করতে হয়। সামান্য বাতাসে ডালপালা ভেঙে পড়ে। কিছুদিন আগে বাজারে যাওয়ার পথে মরা ডাল ভেঙে আমার বাইসাইকেলের হ্যান্ডেলে পড়ে। হ্যান্ডেলটি ভেঙে যায়। ওই দিন আমি বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যাই। সরকারের কাছে দাবি জানাই, যেন দ্রুত এই গাছগুলো কেটে নেয়। না হলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।'কিছুদিন আগে রাস্তার পাশের একটি গাছ উপড়ে কোলকোন্দ ইউনিয়নের আলকাছ মিয়ার ধানখেতে পড়ে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বেশ কিছু গাছ অনেক দিন থেকে মরে আছে। এখন এসব গাছ ও ডালপালা যখন-তখন ভেঙে সড়কের ওপর পড়ছে। রাস্তার ধারে মরা প্রায় ১০০ গাছ রয়েছে। এসব গাছ দ্রুত কেটে নেওয়া উচিত।গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা রকি প্রামাণিক জানান, কয়েক দিন আগে রাতের বেলা সামান্য ঝড়ে একটি গাছ উপড়ে তাঁর ঘরের ওপরে পড়ে। সেই দিন পরিবারের সদস্যরা কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে যান। ওই গাছ উপড়ে পড়ে ঘরের দেড় লাখ টাকার জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন এসে গাছটি সরিয়ে নেন।এ বিষয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম বলেন, 'এসব গাছ দ্রুত অপসারণ করে সেই জায়গায় ফলদ ও বনজ গাছের চারা লাগানো যেতে পারে। মারা গাছগুলোর কারণে প্রতিনিয়ত নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তারা যেন গাছগুলো দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেয়।'যোগাযোগ করা হলে রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, দ্রুতই মরা গাছগুলো কেটে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। | 6 |
২০১৫ সালের কথা। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক ফারুক আহাম্মদ আন্তর্জাতিক এক সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যান। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অচেনা মাটিতে এমন অসুস্থতা তাঁকে আরও ভাবিয়ে তোলে। তবে এটা বুঝতে পারেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে হয়তো শরীরটা একটু খারাপ হয়েছে। তাই ভাবেন, ফার্মেসিই ভরসা। ফার্মেসির চিকিৎসকেরা তাঁর রক্তচাপ মেপে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেখেন। ফারুককে সেই অনুযায়ী ডাক্তারও দেখাতে বলেন। পরে স্থানীয় এক বন্ধুর সহযোগিতায় ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ীই ওষুধ নিতে বাধ্য হয়েছিলেন ফারুক।যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর উন্নত ও অনেক উন্নয়নশীল দেশে এ রকমটাই স্বাভাবিক। সেখানে এ-সংক্রান্ত কঠোর আইন আছে, আছে সেগুলোর বাস্তবায়নও। অথচ দেশে ওষুধ বিক্রি করা হয় মুদি দোকানের মতো। এমনকি কিছু কিছু ফার্মেসিতে পাওয়া যায় চাল, ডাল, আটা-ময়দাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। ঔষধ প্রশাসন কর্তৃক ফার্মেসি ব্যবস্থাপনা নীতিমালার কোনো তোয়াক্কাই করছেন না এসব বিক্রেতা।১৭ নভেম্বর গ্রিন রোডের এ কে এস ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে আসেন আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন। ওই সময় ফার্মেসিতে দুজন বিক্রয়কর্মী উপস্থিত ছিলেন। যাঁদের কেউই ফার্মাসিস্ট নন। অথচ নীতিমালার ২ নম্বর শর্তানুযায়ী, ফার্মেসি পরিচালনার জন্য একজন রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট থাকতে হবে। ফার্মাসিস্টের অনুপস্থিতিতে কোনো ওষুধ ডিসপেন্স বা বিক্রি করা যাবে না। ওই ফার্মাসিস্টের রেজিস্টার্ড সনদ ফার্মেসিতে প্রদর্শন করতে হবে। ফার্মাসিস্ট পরিবর্তন হলে অবশ্যই তা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে।এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ ফার্মেসিতে এসি নেই। অথচ তাপ সংবেদনশীল নানা ওষুধ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখার বিধান আছে নীতিমালায়। সরেজমিন দেখা যায়, মিটফোর্ড, বাবুবাজার ও ইসলামপুর এলাকার অধিকাংশ মার্কেটের ওষুধের দোকানে এসি তো দূরের কথা, একটি ফ্রিজও নেই। মুদি দোকানের মতো চিপসের প্যাকেটের পাশেই তাকের মধ্যে রাখা হয়েছে ওষুধ।ফার্মেসি ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় বলা হয়েছে, সংবেদনশীল ওষুধ ফ্রিজে রাখতে হবে। ফ্রিজ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হবে। নির্ধারিত শেলফে ওষুধ সংরক্ষণ করতে হবে। ওষুধ ছাড়া অন্যান্য পণ্য আলাদা শেলফে রাখতে হবে। ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়ের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। সেবনবিধি সম্পর্কে ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। পূর্ণ কোর্সে ব্যবস্থাপত্রে নির্দেশিত নিয়মে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে পরামর্শ দিতে হবে।দেশের বেশির ভাগ ফার্মেসিতে কেন এসব মানা হয় না? এ প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, 'ওষুধ আসলে সেবাপণ্য। ওষুধ সাজিয়ে রাখলেই সেটা ফার্মেসি হয় না। ফার্মেসি হলে অবশ্যই সেবনপদ্ধতি বলার মতো লোকও (ফার্মাসিস্ট) রাখতে হবে। অথচ দেশের বিভিন্ন দোকানে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে ওষুধ।'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মানুযায়ী, ফার্মাসিস্টদের ৫৫ শতাংশ কমিউনিটি ফার্মাসিতে, ৩০ শতাংশ হসপিটাল ফার্মাসি, ৫ শতাংশ ম্যানুফ্যাকচারিং, ৫ শতাংশ সরকারি সংস্থায়, ৫ শতাংশ একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে কমিউনিটি কিংবা হসপিটাল ফার্মাসিতে কোনো গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নেই। কারণ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টের ফার্মেসিতে কাজ করতে আগ্রহী হন না বলে অভিযোগ।বাংলাদেশ ওষুধ ব্যবসায়ী সম্মিলিত পরিষদের সদস্যসচিব জাকির হোসেন রনি বলেন, 'ফার্মেসিগুলো এখনো সনাতনি পদ্ধতিতেই চলছে। গত পাঁচ বছরে এসব পরিবর্তনে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি (বিসিডিএস) কোনো কাজই করেনি।'আ ব ম ফারুক আরও বলেন, ফার্মাসিস্ট না থাকার কারণে ওষুধ কিনে অনেক রোগীই ভুল করে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছেন। ধরুন, এমন ওষুধ, যা খেলে রোদে যাওয়ার নিয়ম নেই। এসব তো দোকান থেকেই বুঝিয়ে দিতে হয়। এমন অনেক কারণেই ফার্মাসিস্টের প্রয়োজন আছে।'সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক আইয়ূব হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই যেকোনো ফার্মেসি থেকে ওষুধ ক্রয় করা যায়। তবে অ্যান্টিবায়োটিকসহ জটিল রোগের ওষুধ ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বেচাকেনা নিষিদ্ধ। পরিস্থিতি বদলাতে আমরা কাজ করব।' | 6 |
জাকের পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবার ও ভক্ত-অনুরাগীদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা জানান। এক শোক বাণীতে জাকের পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, ফকির আলমগীর তার উজ্জীবনী সংগীত দিয়ে নানাভাবে অবদান রেখে গেছেন। কৃষক-শ্রমিক, মেহনতি মানুষ এবং সে সাথে গ্রামের সরল সহজ নারী-পুরুষের সুখ-দুঃখের কথা অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠে এসেছে তার গানে। তার মৃত্যুতে সঙ্গীত জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।
বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 6 |
ভারতের উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে জেলার গোরক্ষনাথ মন্দিরের নিকটে বাস করা মুসলিম পরিবারগুলোকে তাদের বাড়ি ছেড়ে দিতে চাপ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মন্দিরের নিরাপত্তার অজুহাতে এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। অপরদিকে সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, পরিবারগুলো স্বেচ্ছায় নিজেদের বাড়ি খালি করতে সম্মতি দিয়েছেন। সরকারি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি সম্মতিপত্র উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর বক্তব্য হলো, মন্দিরের নিরাপত্তার স্বার্থে পরিবারগুলো স্বেচ্ছায় বাড়ি খালি করে যাবেন। সম্মতিপত্রে নয়টি মুসলিম পরিবারের স্বাক্ষর রয়েছে। পরিবারগুলো বলছে, স্থানীয় কর্মকর্তারা তাদের এই সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে বলেন। ইন্ডিয়া টুমোরোর এক প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ইনতিজার আহমেদের বরাত দিয়ে বলা হয়, তাদের বাড়ি খালি করার কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, 'হঠাৎ সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট আমাদেরকে বলেন এ সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে। পরে আমাদেরকে বাড়িগুলো খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়। আমাদেরকে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো ধরনের নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি।' ইন্ডিয়া টুমোরোর প্রতিবেদন অনুসারে, কিছু সরকারি কর্মকর্তা ভুক্তভোগীদের বাড়িতে যান, জমি মাপার কাজ করেন এবং চলে যান। এলাকাবাসীরা বলছেন, ২৮ মে তারিখে ওই সরকারি কর্মকর্তারা আবার আসেন এবং মুসলিম পরিবারগুলোকে বাড়ি খালি করতে বলেন। এক দিন পরে তারা আবার আসেন এবং ওই মুসলিম পরিবারগুলোকে সম্মতিপত্রগুলোতে স্বাক্ষর করতে বলেন। পরিবারগুলো সম্মতিপত্রগুলোতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু, তারা এক মুসলিম পরিবারের প্রধানের কাছ থেকে জোর করে ওই সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেন। বুধবার সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট, তহশিলদার ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা আবার ওই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে যান এবং তাদেরকে ওই সম্মতিপত্রগুলোতে স্বাক্ষর করতে বলেন। তারা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি। পরে তারা ওই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে তহশিল অফিসে যেতে বলেন এ বিষয়ে আরো আলোচনার জন্য। পরিবারগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আনুষ্ঠানিক কোনো সরকারি নোটিশ না আসা পর্যন্ত কোনো প্রকার বৈঠকে অংশ না নেয়ার এবং কোনো নথি বা সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর না করার। সমাজবাদী দলের প্রবীণ নেতা জিয়া-উল-ইসলাম বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নথিপত্রে পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে যে ওই ব্যক্তিদের একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হচ্ছে। ওই কাগজে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা ডিপার্টমেন্টের কথা উল্লেখ ছিলো না। এতে কোনো ধরনের আইনি বৈধতা নেই।' ভারতীয় কংগ্রেসের উত্তর প্রদেশ সংগঠনের সংখ্যালঘু শাখার সভাপতি শাহনেওয়াজ আলম প্রাদেশিক মূখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, 'যোগী আদিত্যনাথের জানা উচিত নবাব আসিফ উদ্দিন ছিলেন একজন মুসলিম, যিনি গোরক্ষনাথ মন্দির নির্মাণের জন্য জমি দিয়েছিলেন। তারপরেও বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীরা জমি দখল করছেন আর এখন মূখ্যমন্ত্রীও এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। এটি শুধু অবৈধই নয়, একইসাথে ধর্মবিরোধী।' সূত্র : মুসলিম মিরর | 3 |
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক হিন্দু পশু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননা বা ব্লাসফেমি আইনের অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে। ঐ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইসলাম ধর্মের বাণী সম্বলিত একটি কাগজে মুড়িয়ে রোগীর কাছে ওষুধ বিক্রি করেছিলেন তিনি। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি যে কাগজটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি স্কুলের ইসলাম শিক্ষা বইয়ের একটি কাগজ ছিল। ওষুধ মোড়ানোর কাজে কাগজটি ব্যবহার করা তার ভুল হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের শাস্তি দেয়া হতে পারে। পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা বা ব্লাসফেমি আইন অনুযায়ী, ইসলাম ধর্মকে অপমানকারী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দেয়া হয়ে থাকে। সমালোচকদের মতে, এই আইনে ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘুদের অভিযুক্ত হওয়ার হার অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি। সেখান থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, স্কুলের ইসলাম শিক্ষা বইয়ের একটি পাতা দিয়ে মুড়িয়ে একজন গ্রাহককে তার গবাদি পশুর জন্য ওষুধ দেন ঐ চিকিৎসক। কিন্তু গ্রাহক ধর্মীয় লেখা দেখে সে প্যাকেটটি নিয়ে স্থানীয় ধর্মীয় নেতার কাছে গেলে তিনি পুলিশকে খবর দেন। রাজনৈতিক দল জামিয়াত উলেমা-এ-ইসলামী'র একজন স্থানীয় নেতা নেতা হাফিজ-উর-রেহমান বিবিসি উর্দুকে বলেন, চিকিৎক এই কাজটি ইচ্ছা করে করেছে। তবে পুলিশ বলেছে, ঐ চিকিৎসক এই কাজ ভুলবশত করেছে বলে তাদের জানিয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা এবং কোরাআন অবমাননার দায়ে সে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা প্রমাণিত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হতে পারে। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, এ ঘটনার পর চিকিৎসকের ক্লিনিকসহ চারটি স্থানীয় দোকান লুট করার পর সেখানে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। মিরপুর খাস এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা জাভেদ ইকবাল বিবিসিকে বলেছেন, যারা দোকানে আগুন দেয়া এবং লুটের সাথে জড়িত ছিলেন তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। ইসলাম পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ধর্ম এবং সেখানকার জনগণের মধ্যে কঠোর ব্লাসফেমি আইনের সমর্থন ব্যাপক। সংবাদদাতাদের মতে, সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদরা এই আইনের কঠোর শাস্তিগুলোকে অনেক সময়ই সমর্থন দিয়েছেন। গত কয়েক দশকে কয়েক শ' পাকিস্তানি নাগরিককে এই কঠোর ব্লাসফেমি আইনের অধীনে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।সূত্র : বিবিসি | 3 |
চীনে উইঘুর মুসলিমদের প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে তাকে গণহত্যা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিহিত করে ভোট দিয়েছে কানাডার হাউজ অফ কমন্স। প্রস্তাবটি ২৬৬ ভোটে পাস হয় যেখানে বিরোধী দলের সবাই এবং ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির কিছু অংশ ভোট দেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডা হলো দ্বিতীয় দেশ যারা উইঘুর মুসলিমদের প্রতি চীনা আচরণকে গণহত্যা বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। আইনপ্রণেতারা একই সঙ্গে একটি সংশোধনী পাশ করেছেন যেখানে 'চীন সরকার উইঘুর গণহত্যা অব্যাহত রাখলে' ২০২২ সালের শীতকালীন অলিম্পিক বেইজিং থেকে সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিকে আহ্বান জানানোর জন্য কানাডা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের প্রতি চীনা আচরণকে গণহত্যা বলতে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলেন এবং বলেছেন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিষয়টি আরও যাচাই বাছাই করা দরকার। ভোটের আগে বিরোধী দলীয় নেতা ইরিন ও'টুল বলেছে এ পদক্ষেপ হলো একটি বার্তা যে, 'আমরা মানবাধিকার ও মানুষের মর্যাদার পক্ষে দাঁড়াবো এমনকি কিছু অর্থনৈতিক সুযোগ ত্যাগ করে হলেও।' এদিকে কানাডায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত গণমাধ্যমকে বলেছেন, পার্লামেন্টের প্রস্তাব চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করছি কারণ, এটি সত্যের বিরুদ্ধে। সেখানে গণহত্যার মতো কিছুই ঘটছে না। চীন প্রায় দশ লাখ উইঘুরকে গত কয়েক বছর ধরে ক্যাম্পে আটক করে রেখেছে। এক অনুসন্ধানে উইঘুরদের জোরপূর্বক শ্রমিক হিসেবে ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে। | 3 |
আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার
আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল
কাদের। শনিবার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সফরের ট্রেনযাত্রায় উত্তরাঞ্চলের
বিভিন্ন জেলার পথসভায় তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে দেশের শতভাগ উন্নয়ন হবে।
ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। শেখ হাসিনা যে প্রতিশ্রুতি দেন, তা রক্ষা করেন।
নির্বাচন বানচালে বিএনপির ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান
জানিয়ে তিনি বলেন, গুজবসন্ত্রাস চালিয়ে বিএনপি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে
চায়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। এই ট্রেনযত্রার শুরুতে
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ
সম্পাদক। এরপর সকাল ৮টায় 'নীলসাগর এপপ্রেস' ট্রেনে যাত্রা শুরম্ন হয়ে
নীলফামারী যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোর, বগুড়ার
সান্ত্মাহার, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট, দিনাজপুরের বিরামপুর, ফুলবাড়ি,
পার্বতীপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুর রেল স্টেশনে ১১টি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে
নাটোরের আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ ও নলডাঙ্গার হাট স্টেশনে ট্রেন পৌঁছালে
নেতাকর্মীরা রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়লে এই দুটি স্থানে অনির্ধারিত পথসভা
করতে হয়েছে। সবশেষে রাতে নীলফামারী জেলা সদরের শিল্পকলা একাডেমিতে কর্মীসভা
অনুষ্ঠিত হয়। কমলাপুর রেলস্টেশনে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক আওয়ামী লীগে
নেতাদের বিদায় জানান। অন্যদিকে পাবনায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এবং
নীলফামারীতে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তাদের স্বাগত জানান। পথে পথে এসব পথসভায় হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে রীতিমত জনসভায় রুপ নেয়।
প্রতিটি স্থানেই ছিল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বর্তমান এমপি
এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মতো। রেলশেস্টশনগুলোতে
পথসভার আশাপাশ এলাকায়ও লোকে লোকারণ্য ছিল। এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ
হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন নেতার নামে স্লোগান দেন
নেতাকর্মীরা। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের উন্নয়নকাজ তৃণমূলে পৌঁছে দিতে এবং দলকে
শক্তিশালী করতে দেশের উত্তরাঞ্চলে এই ট্রেন সফরের আয়োজন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী
লীগ। মূলত এর মাধ্যমেই শুরু হলো আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সফর। আগামী ১৩
সেপ্টেম্বর লঞ্চযোগে বরিশাল ও বরগুনা এবং পরে সড়কপথে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার,
ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণা সফরে বের হবেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এসব পথসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, চারদিকে নৌকার গণজোয়ার দেখছি। পথসভাগুলো
রীতিমত জনসভায় রুপ নিয়েছে। নৌকা মার্কায় ভোট দিলে দেশের উন্নতি হয়।
সমৃদ্ধির পথে দেশ এগিয়ে যায়। বিশ্বের বুকে মর্যাদা বাড়ে। জনগণের
আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসা মানেই দেশের অর্থ
লুপাট কওে নিজেদের ভোগবিলাস ও বিদেশে পাচার, রাষ্ট্রীয় মদদে জঙ্গিবাদ
ঘটানো। কাজেই আগামী নির্বাচনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে সরকারের
ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। সে কারণে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায়
আনতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলের ভেতরে কোন্দল করবেন না।
বিশৃঙ্খলা করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্তোগান দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া যাবে
না। যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও জনগণ যাকে পছন্দ করে, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।
একটি নয়, পাঁচটি জরিপ হয়েছে। শেখ হাসিনার কাছে সবার আমলনামা রয়েছে। যারা
মানুষের হৃদয়ে নাম লেখাতে জানেন না, জনগণের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, অপরাধ
করেন- তারা মনোনয়ন পাবেন না। মনোনয়ন পেতে হলে জনগণের মনজয় করতে হবে। দলীয়
প্রার্থীর বিরম্নদ্ধে যারা বিদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতা করবে, সঙ্গে সঙ্গে
তাদের দল থেকে বহিস্কার করা হবে। অসুস্থ প্রতিযোগিতার কোনো ক্ষমা নেই। আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থতার দায়ে বিএনপির 'টপ টু বটম' নেতার পদত্যাগ করা
উচিত মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামে পরাজিত
হয়ে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির আন্দোলন
প্রতিহত করে নৌকা মার্কায় বিজয় ঘরে তুলবো। প্রতিটি পথসভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী
নির্বাচনে আবারো আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। নেতাকর্মী ও সাধারণ
মানুষ দু'হাত তুলে সেই প্রতিশ্রম্নতি দেন। টাঙ্গাইল রেল স্টেশনের প্রথম পথসভায় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে কাদের বলেন,
দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধ অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। তিনদিনের
মধ্যেই শোকজ যাবে। দিনাজপুর, রাজশাহী, বরগুনা ও সিলেট যাবে। তাই ঘরের মধ্যে
ঘর বানানোর চেষ্টা করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টানানোর চেষ্টা করবেন না।
শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন। উপস্থিত সাধারণ মানুষের দাবির
প্রেক্ষিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল অফিসগামী ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি দেন
সেতুমন্ত্রী। পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি রেলস্টেশনে পথসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০১৪
সালের মত বিএনপি-জামায়াত আগামী নির্বাচনেও নাশকতার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা
হবে। উন্নয়নের বাংলাদেশে কোনো নাশকতা চলতে দেওয়া হবে না। আর উন্নয়নের ধারা
অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। এজন্য নৌকা মার্কায়
ভোট দিতে হবে। সরকার ও দলের ভুলত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা চলছে বলে জানান
তিনি। নাটোর রেলস্টেশনে কাদের বলেন, বিএনপির এমন কোনো কাজ আছে, যে তারা ভোট চাইতে
পারে? দেশে উন্নয়ন অগ্রগতির এমন কী আছে, যা দেখে বিএনপিকে মানুষ ভোট দেবে?
কিছুই নাই। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করে তিনি বলেন,
মির্জা ফখরল বলেছেন আওয়ামী লীগের নাকি ভোট কমেছে। শেখ হাসিনার ইতিবাচক
রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভোট বরং বেড়েছে। আর বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতিতে
তাদের ভোট কমে গেছে। সেতুমন্ত্রী বলেন, ১০ বছরে ১০ মিনিটের জন্যও বিএনপি রাস্তায় নামতে
পারেনি। ভেবেছিল খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর সাগরের উত্তাল নামবে। কিন্তু
নদীর ঢেউও হলো না। বিএনপির আন্দোলনের মরা গাঙ্গে জোয়ার আর আসে না, আসবে না। বগুড়ার সান্তাহার, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও জয়পুরহাট সদরের পথসভায় তিনি
বলেন, দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ২০০১
সালের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। কেউ নিরাপদ থাকবে না। তিনি বলেন,
নৌকার পালে সুবাতাস বইছে। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি
গঠন ও উঠান বৈঠক করার নিদের্শ দেন তিনি। তরুণ ও নারী ভোটাররাই আগামী
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের হাতিয়ার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে, সকালে ট্রেনযাত্রার শুরম্নতে কমলাপুর রেলস্টেশনে ওবায়দুল কাদের
বলেন, এই যাত্রা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী যাত্রা। এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নবার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দিতেই এই নির্বাচনী
সফর। তৃণমূলের মানুষ যাতে বিএনপি-জামায়াতের গুজবের রাজনীতি বিষয়ে সচেতন হন,
সে বিষয়েও দলের এই সাংগঠিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নির্বাচনী এই
ট্রেনসফরে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন,
বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ড.
হাছান মাহমুদ, অসীম কুমার উকিল ও ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
| 9 |
রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে জড়াবে কি জড়াবে না-এমন উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পেন্টাগন বলছে, নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট বার্গ থেকে পোল্যান্ড ও জার্মানিতে ২ হাজার সৈন্য পাঠানো হবে। এছাড়া জার্মানিতে থাকা ১ হাজার সৈন্য রোমানিয়ায় পাঠানো হবে।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন আক্রমণের পরিকল্পনা অস্বীকার করেছে মস্কো। তবে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে কমপক্ষে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া।২০১৪ সালে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করেছিল রাশিয়া এবং পূর্ব ডানবাস অঞ্চলে রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহকে সমর্থন দিয়েছিল। এ ঘটনার ঠিক আট বছর পর ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।এলাকাটি রাশিয়া সমর্থিত বিদ্রোহীরা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। যদিও এই অঞ্চলে শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য 'মিনস্ক চুক্তি' রয়েছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক শান্তি চুক্তি। তার পরও ২০১৪ সাল থেকে এই এলাকায় কমপক্ষে ১৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের মোতায়েন করা সৈন্য ইউক্রেনে যুদ্ধ করবে না। তারা শুধু মার্কিন মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এজন্য গত মাসেই সাড়ে ৮ হাজার সৈন্যকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছিল পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য ছিল এরকম-যদি প্রয়োজন হয় তবে এই অতিরিক্ত সৈন্য ইউরোপে ব্যবহার করা হবে।পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা পুতিনকে একটি শক্তিশালী সংকেত পাঠাতে চাই। সংকেতটি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ন্যাটো খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং মার্কিন মিত্রদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।'রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণের কথিত পরিকল্পনার প্রশ্নে জন কিরবি বলেন, 'আমরা এখনো বিশ্বাস করি না যে তিনি ইউক্রেনে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।'এদিকে ইউরোপে সৈন্য বাড়ানোর মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে 'ধ্বংসাত্মক পদেক্ষপ' বলে অভিহিত করেছেন রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং রাজনৈতিক সমাধানের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে।বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।জনসন পুতিনকে বলেন, ইউরোপের সব গণতান্ত্রিক দেশের ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে পুতিন মিনস্ক চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি দীর্ঘস্থায়ী নাশকতা সৃষ্টি করেছে। এর জন্য ন্যাটোর অনিচ্ছাই দায়ী। | 3 |
রাজধানীর সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে একটি চায়ের দোকানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শনিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন রিপন (৩৫), কবির (৩০), শফিক (৪০), বিশ্বনাথ দত্ত (৫০) কালাম (৪৫) ও রবিন (২৫)। স্থানীয় সূত্র, জনপথ মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে সেখানে অবস্থান করা সকলেই দগ্ধ হয়েছেন। আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইউব হোসেন বলেন, "৬ জন রোগী এসেছেন। তারা কি পরিমাণ দগ্ধ হয়েছেন, তা বলতে কিছুক্ষণ সময় লাগবে। দগ্ধ ৬ জনের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশংকাজনক। আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা নিচ্ছি।" | 6 |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, মাদক পাচারের সঙ্গে যিনিই জড়িত থাকুন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।রোববার পিলখানায় 'সীমান্ত সম্পর্কিত সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে করণীয়' বিষয়ক সীমান্ত এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- সীমান্ত এলাকার সংসদ সদস্যবৃন্দ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহিদুল হক, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন আহমেদ, র্যাব মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ।সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সভায় সীমান্ত সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মত সংসদ সদস্যের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে।সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলন, টেকনাফ দিয়ে প্রচুর পরিমাণে মাদক ডুকছে- সেগুলো বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে চোরাচালান আসতে না পারে সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। প্রত্যেক সীমান্ত এলাকার এমপিদের জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনগণও মাদক পাচার রুখতে সহায়তা করেন।তিনি বলেন, মাদক এ দেশে তৈরি হয় না, মাদক পাশের দেশ থেকেই আসে। সেগুলো কিভাবে বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে আমরা এমপিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সংসদ সদস্যরা তাদের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি তারা মাদক পাচার বন্ধে ভূমিকা রাখবেন। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল বাড়ানোর জন্য সীমান্ত রাস্তা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।এ ছাড়া সীমান্ত হত্যা কমেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে সীমান্তে হত্যার শিকার হয়েছেন ৬৮ জন, ২০১৭ সালে তা নেমে এসেছে ২১ জনে। এতে প্রমাণ করে বাংলাদেশ-ভারতের সঙ্গে আগের চেয়ে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। আমাদের আশা সীমান্ত হত্যা জিরোতে চলে আসবে। আমরা চাই না একজন মানুষও সীমান্তে খুন হোক।
| 6 |
করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণের উধ্বগতিতে চলমান আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মধ্যে অবশেষে এলো সুখবর। শুরু হচ্ছে সারাদেশে টিকা কার্যক্রম। এর অংশ হিসেবে আগামী ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়েও টিকাদান শুরু হবে। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে গেলেই মিলবে টিকা। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে এ সুখবর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত ওই উচ্চ পর্যায়ের এই সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক বলেন, ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ান পর্যায়ে শুরু হবে করোনা টিকাদান কর্মসূচি। এদিকে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে গেলেই মিলবে করোনার টিকা। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় ৫ আগস্ট পর্যন্তই লকডাউন চলবে। শিল্প কলকারখানা মালিকরা অনুরোধ জানালেও তাদের অনুরোধ রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 'কোভিড-১৯ প্রতিরোধকল্পে আরোপিত বিধি-নিষেধের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও কোডিড-১৯ প্রতিরোধক টিকা প্রদান কার্যক্রম জোরদারকরণ' বিষয়ে সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, '৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন চলমান থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে টিকাদান কার্যক্রমও চলবে। এর আগে গতকাল সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি বয়স্ক ব্যক্তিকেই টিকার আওতায় আনা হবে। কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। ইউনিয়ন পরিষদ, গ্রাম, এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি গত শনিবার বলেছিলেন, গ্রামে বয়স্কদের অগ্রাধিকার দিয়ে অনলাইন নিবন্ধন ছাড়াই করোনা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে পরে সেসব নাম অনলাইনে নিবন্ধন করে নেওয়া হবে। | 6 |
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুরের বাসভবন পল্লীনিবাসে তার সমাধি করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর
সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। সোমবার সন্ধ্যায়
রংপুরে দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি। এসময় এরশাদের ইচ্ছার কথা তুলে ধরে তা পূরণে জাতীয় পার্টির নীতি নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান
জানিয়ে জাপা চেয়ারম্যানকে রংপুর পল্লীনিবাসে সমাধিস্থ করার কথা বলা হয়। জাতীয় পার্টির রংপুর বিভাগ, জেলা ও মহানগরসহ সহযোগী অঙ্গসংগঠন এবং
রংপুরবাসীর পক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর
জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, 'মৃত্যু একটি
প্রকৃতির নির্ধারিত নিয়ম। যা কখনো খণ্ডানো যায় না। চিকিৎসাধীন অবস্থায়
আমাদের রাজনৈতিক পিতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্যার যদি পৃথিবী থেকে চির
বিদায় নেন, তাহলে তার পবিত্র সমাধি কোথায় হবে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এক্ষেত্রে আমাদের একমাত্র দাবি স্যারের ওছিয়তকৃত স্থান পল্লীনিবাসে সমাধি করা
হোক।' তিনি বলেন, 'এরশাদ স্যার অসুস্থ শরীর নিয়ে সর্বশেষ এ বছরের মার্চে রংপুরে
এসেছিলেন। তিনি নিজেই বলেছিলেন-আমার শরীর ভালো নেই। আমি যে কোন সময়
মৃত্যুবরণ করতে পারি। তোমরা আমার ডিজাইনে পল্লীনিবাসে আমার সমাধি কমপ্লেক্স করিও। আমি মৃত্যুর পরও তোমাদের মাঝে থাকতে চাই।' এসময় মোস্তাফিজার রহমান
বলেন, 'স্যার অসুস্থ থাকার কারণে ওই ডিজাইন সম্পর্কে জনসম্মুখে বলতে পারেননি। সে কারণে আজ তার সমাধি কোথায় হবে, তা আলোচনা চলছে। আমরা রংপুরবাসী
এরশাদ স্যারের সমাধিকে আঁকড়ে ধরেই তার জীবন-দর্শন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে
ছড়িয়ে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।' এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী
আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আব্দুল বারী, রংপুর মহানগর
জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক
জাহিদুল ইসলাম, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, শ্রমিক নেতা
তোফাজ্জল হোসেন তোফা, মহানগর শ্রমিক পার্টির সভাপতি রাজু আহম্মেদ, জেলা
ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম জবা, যুগ্ম আহ্বায়ক আল-আমিন সুমন ও
জেপলিন প্রমুখ। | 6 |
তিস্তা নদীবেষ্টিত রংপুর জেলার কৃষিনির্ভর কাউনিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সোনালি হয়ে উঠেছে। এতে রঙিন হয়ে উঠেছে প্রান্তিক কৃষকের স্বপ্ন। নতুন ধানের আগমনী বার্তা কৃষকের পরিবারের আনছে আনন্দের ঢেউ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোনো বিপর্যয় না ঘটলে গত মৌসুমের মতো চলতি মৌসুমে ভালো ফলন ঘরে তোলার আশায় বুক বেঁধেছেন তাঁরা।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ৭ হাজার ৫১৪ হেক্টর জমিতে বোরো ও লেপ বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৬ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ করা হয়েছে ধান। তবে এবার আলুর আবাদ বেশি হওয়ায় গত মৌসুমের চেয়ে এবার ২ হাজার হেক্টর কম জমিতে বোরো আবাদ করেছেন কৃষকেরা। ইরি ও বোরোর চারা রোপণের শুরু থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা কৃষক পর্যায়ে নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কৃষকের ঘরে ধান তোলা পর্যন্ত এ সেবা অব্যাহত থাকবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে গত মৌসুমের মতো এবার চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।গতকাল উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, দৃষ্টিসীমা ছাপিয়ে মাঠে মাঠে সবুজের সমারোহে জ্যৈষ্ঠের বাতাসে সোনালি ধানের শিষ হাওয়ায় দুলছে। ধানের গাছগুলো সবুজের আভা কেটে হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। শ্রমিকেরা খেত থেকে পাকা ধান কেটে কৃষকের উঠানে নিয়ে যাচ্ছেন।হারাগাছ নাজিরদহ গ্রামের কৃষক আব্দুল হক, আউয়াল মিয়া, শরিফুল ইসলাম, কুর্শা গ্ামের আফজাল হোসেন, লতিফসহ বিভিন্ন গ্ামের কৃষক এই প্রতিবেদককে বলেন, ধানের চারা রোপণের পর থেকে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার সেচে কোনো রকম সমস্যা হয়নি। চলতি মৌসুমে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ না করায় খেতে মাজরা পোকাসহ অন্যান্য রোগের প্রকোপ কম ছিল। কিছু খেতে নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। এ জন্য ওই জমিতে দফায় দফায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছিল।রাজিব গ্রামের কৃষক সোবহান মিয়া ও তৈয়ব আলী বলেন, বিভিন্ন গ্রামে ইতিমধ্যে অনেক কৃষক আগাম রোপণ করা ধান স্বল্প পরিসরে কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন। এবার ফলন ভালোই হয়েছে। তবে বৈশাখের শেষ দিকে ঝড়ো বাতাস ও শিলাবৃষ্টিতে চরাঞ্চলের কিছু ধানের ক্ষতি হয়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ পারভিন বলেন, ধানের চারা রোপণ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এতে ধানখেতে রোগ-বালাই ছিল কম, ধান কাটা পর্যন্ত এমন আবহাওয়া থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। | 6 |
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের দুই মামলায় ৭৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত 'ইয়াবা সম্রাট' আমিন হুদার জামিন আবেদন আবারও কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ সোমবার জামিন আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এই আদেশ দেন।
এর আগে গত বছরের ১৩ অক্টোবর আমিন হুদার জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ।
আদালতে সোমবার আমিন হুদার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর গুলশানের একটি বাড়ি থেকে ৩০ বোতল ফেনসিডিলসহ আমিন হুদা ও তার সহযোগী আহসানুল হক ওরফে হাসানকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশানের আরেকটি বাসা থেকে ১৩৮ বোতল মদ, পাঁচ কেজি ইয়াবা বড়ি (সংখ্যায় ১ লাখ ৩০ হাজার) এবং ইয়াবা তৈরির যন্ত্র ও উপাদান উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়।
পরে ওই দুই মামলায় ২০১২ সালের ১৫ জুলাই এক রায়ে আমিন হুদা ও তার সহযোগী আহসানুল হককে বিভিন্ন ধারায় জরিমানাসহ মোট ৭৯ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৯ জুলাই হাইকোর্টে আপিল করার পাশাপাশি জামিনেরও আবেদন করেন আমিন হুদা। ওই আবেদনে ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তার ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে একই বছরের ৫ মে হাইকোর্টের ওই জামিন আদেশ বাতিল করেন আপিল বিভাগ। এরপর কারাগারে থেকেই আমিন হুদা দুই দফায় হাইাকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তবে দুইবারই জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন হাইকোর্ট।
| 6 |
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে বিএনপিকে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। তিনি বলেন, কোনো কয়েদিকে আইনগতভাবে যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, বিএনপি চেয়ারপাসনকে আইনবহির্ভূতভাবে তার চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে।আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (আইইবি) 'ভবনের কর্মদক্ষতাভিত্তিক অগ্নিসুরক্ষা: বর্তমান প্রেক্ষিত' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটি এ সভার আয়োজন করে।গতকাল খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এক গণ-অনশন কর্মসূচিতে বিএনপির নেতারা তাঁকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করার কথা বলেন। সে প্রসঙ্গে মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, 'আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। এ ধরনের আন্দোলনের হুমকি দিয়ে কোনো লাভ হবে না।' মানুষ বিএনপির আন্দোলনের সাড়া দেবে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'সত্যিকার অর্থেই খালেদা জিয়ার জন্য উদগ্রীব থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় চেষ্টা করুন। আইনি প্রক্রিয়ায় যদি মুক্ত করা সম্ভব সেই পথে হাঁটেন। এর বাইরে অন্য কোনো পথে লাভ হবে না।'সম্প্রতি প্যারোলে খালেদার মুক্তির বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্যারোল নিয়ে হানিফ বলেন, 'প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি কেন কীভাবে এসেছে আমরা জানি না। খালেদার পক্ষ থেকে যদি আবেদন করা হয়, সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবেচনা করতে পারে। এরা বাইরে আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।' আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদার রোগমুক্তি নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে। খালেদাকে বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে হানিফ বলেন, 'আমি তো আপনাদের দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি, বাংলাদেশে শুধু নয়, পৃথিবীর কোনো দেশে কোনো কয়েদিকে আইনগতভাবে যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, আপনাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে তার চেয়েও বেশি আইনবহির্ভূতভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে।' সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি নেতাদের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন মাহাবুবুল আলম হানিফ। তিনি বলেন, তারা শুধু সরকারের ব্যর্থতাই খুঁজে বেড়ায়, সফলতার কথা কখনো তাদের মুখে শোনা যায় না। গত ১০ বছরে যে উন্নয়ন ঘটেছে, তাতে দেশ এখন অনেক দূর এগিয়েছে জানিয়ে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, দেশে আধুনিক ভবনও তৈরি হচ্ছে, উঁচু ভবনও তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের ভবন যত বেশি তৈরি হচ্ছে, মানুষের একদিকে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাচ্ছে, পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির (বিডিইউ) উপাচার্য মুনাজ আহমেদ নূর। তিনি অগ্নিনিরাপত্তায় দক্ষ জনবল গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় 'ফায়ার প্রটেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' কোর্স চালু করার প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া প্রতিটি ভবনে একজন 'ফায়ার মার্শাল' ও ওই ভবনের সব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব 'সাবফায়ার মার্শাল' রাখার প্রস্তাব করেন তিনি। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান মো. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহম্মেদ খান, আইইবির সভাপতি আবদুস সবুর খান প্রমুখ। | 9 |
কর্মীদের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে কেনিয়ার চারটি প্রধান বিমানবন্দর; আটকা পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। জাতীয় বিমান সংস্থার সঙ্গে এবং বিমানবন্দরগুলোর একত্রীভূত করণের এক প্রস্তাবে কর্মীরা ওই ধর্মঘট শুরু করেন। রানওয়ে থেকে অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, নিরাপত্তা কর্মী, ব্যাগ তল্লাশির কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বদল না হলে তারা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন। তবে সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পূর্ব আফ্রিকার সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর বলে পরিচিত জমো কেনিয়াটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৬০টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। কোনও কোনও ফ্লাইট ছেড়েছে যাত্রী ছাড়াই। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী নাইরোবির প্রধান বিমানবন্দরে সহিংসতা প্রতিরোধ ও আন্দোলনকারীদের দমাতে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাদেরকে টিয়ার গ্যাসও নিক্ষেপ করতে হয়েছে। কেনিয়ার পরিবহনমন্ত্রী জেমস মাসারিয়া জানান, কর্তৃপক্ষের নেওয়া সিদ্ধান্তের ফলে কেউ চাকরিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ধর্মঘটের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 3 |
ভারতে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। নতুন এ ধরন অতি সংক্রামক। আগে থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। গত মার্চের শুরুতেই বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গঠন করা একটি ফোরাম সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছিল। তবে এ সতর্কবার্তায় কান দেয়নি সরকার। তারই চরম মূল্য দিতে হচ্ছে দেশটিকে। একদিনে চার লাখের বেশি শনাক্তের পাশাপাশি দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৩ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। ভারতের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। সংবাদমাধ্যমটির কাছে ওই ফোরামের পাঁচ বিজ্ঞানী ভারত সরকারকে সতর্ক করেছিলেন বলে জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, আগে থেকে সতর্ক হলে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে, ভারতকে আজ হয়তো এমন করুণ পরিস্থিতি দেখতে হতো না। করোনা সংক্রমণ রোধে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে ইন্ডিয়ান সার্স-কোভ-২ জেনেটিকস কনসোর্টিয়াম বা আইএনএসএসিওজি নামে একটি উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম কাজ করছে। গত ডিসেম্বরে এটি গঠন করা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতেই বিজ্ঞানীরা প্রথম করোনার ভারতীয় ধরন (বি.১.৬১৭) শনাক্ত করতে সক্ষম হন বলে জানান আইএনএসএসিওজির সদস্য অজয় পারিদা। তিনি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ইনস্টিটিউট অব লাইফ সায়েন্সের পরিচালক। এ ফোরামের একজন বিজ্ঞানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেন, মার্চের শুরুতেই সম্ভাব্য ভয়ংকর পরিণতির বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে এসব সতর্ক বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পৌঁছেছিল কিনা, তা নিশ্চিত নয়। সরকারি নথিপত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ১০ মার্চের আগেই আইএনএসএসিওজি তার উদ্ভাবন ও সুপারিশ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলে (এনসিডিসি) পৌঁছে দিয়েছিল। পরে তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। একই সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হয়ে একটি খসড়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে আইএনএসএসিওজি। রয়টার্সের হাতে ওই খসড়া বিজ্ঞপ্তির একটি কপি রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ নমুনায় করোনার নতুন শনাক্ত হওয়া ভারতীয় ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি রূপ বদলের (মিউটেশন) প্রমাণ মিলেছে। এটা অতি সংক্রামক ও খুবই উদ্বেগজনক। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের এ উদ্ভাবনের বিষয় মোদি সরকার প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে দুই সপ্তাহ পরে, ২৪ মার্চ। তবে এই সময় প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে 'উচ্চ উদ্বেগের' বিষয়টি বলা হয়নি। তবে কেন্দ্র সরকার করোনার পরীক্ষা বাড়ানো ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়। রয়টার্স বলছে, সংক্রমণ রোধে বিশেষজ্ঞরা এপ্রিলের শুরু থেকেই ভারতজুড়ে লকডাউন আরোপের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে অন্তত চারজন বিজ্ঞানী বলেছেন, ভারত সরকার তাঁদের সেই আহ্বান শোনেনি। উল্টো লাখ লাখ মানুষের মাস্ক না পরে, সামাজিক দূরত্ব না মেনে ধর্মীয় উৎসবে যোগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বিজেপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের জনসভায় হাজারো মানুষের সমাগম দেখা গেছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী মোদি হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে নির্বাচনী সভা করেছেন। দিল্লির চারপাশে দশ হাজারের বেশি কৃষক ক্যাম্প করে মোদি সরকারের কৃষি আইন পরিবর্তনের দাবিতে অবস্থান করেছিলেন। এসব ঘটনা ভারতজুড়ে করোনা সংক্রমণ ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে। ভারতে গতকাল শুক্রবার রেকর্ড চার লাখের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মহামারির শুরু থেকে বিশ্বজুড়ে কোনো দেশে এক দিনে এত মানুষ আক্রান্ত হয়নি। এর আগে টানা নয় দিন ধরে দেশটিতে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল তিন লাখের বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ৩ হাজার ৫২৩ জন করোনায় মারা গেছেন।এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৮৫৩ জনে। মোট রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১ কোটি ৯১ লাখ ছাড়িয়েছে। এ তথ্য ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের। করোনা সংক্রমণ শনাক্তে বিশ্বে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। আর মৃত্যুতে দেশটির অবস্থান চতুর্থ শীর্ষে। আইএনএসএসিওজির সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপের চেয়ার শহীদ জামেল বলেন, 'ওইসময় ভারত সরকার করোনা সংক্রমণ রোধে নীতি প্রণয়নে বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ওপর জোর কম দিয়েছিল। এটা নিয়ে আমি বেশ উদ্বিগ্ন ছিলাম। নীতি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, অন্য কোনো কিছুর ভিত্তিতে নয়। বিজ্ঞানী হিসেবে আমাদের কাজ ছিল তথ্য-প্রমাণ হাজির করে সরকারকে সুপারিশ করা। আমরা সেটা করেছি। কার্যকর নীতি প্রণয়নের দায়িত্ব সরকার, আইনপ্রণেতা ও আমলাদের।' নর্দার্ন ইন্ডিয়া রিসার্চ সেন্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্চের শুরুতে বিজ্ঞানীদের সংগ্রহ করা যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ ও সুপারিশ ভারতের কেবিনেট সচিব রাজিব গুবের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে এসব জানানো দায়িত্ব ছিল। তবে মোদি এসব জানতেন কিনা সেটা নিয়ে নিশ্চিত নন কেউ। রয়টার্সের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিক্রিয়া জানায়নি রাজিব গুবে ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। তবে ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল জেনোমিক্সের পরিচালক সৌমিত্র দাস বলছেন, 'করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিষয়ে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দোষারোপ করার সুযোগ নেই। কেননা, এখন সংক্রমণ যে হারে ছড়াচ্ছে, তা অনেক বিজ্ঞানীও অনুমান করতে পারেননি।' এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এনসিডিসির পরিচালক সুজিত কুমার সিং গত ১৯ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির একটি অনলাইন আয়োজনে 'এপ্রিলের শুরু থেকে কঠোর লকডাউন জারি করা প্রয়োজন ছিল' বলে মন্তব্য করেছেন। এর আগে ১৫ এপ্রিল বৈঠকে বসেছিল কোভিড-১৯ বিষয়ক ভারতের জাতীয় টাস্কফোর্স। এ কমিটিতে ২১ জন বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন করোনাবিষয়ক ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ভি কে পাল।বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন বিশেষজ্ঞ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ বলে টাস্কফোর্স সদস্যরা একমত হয়েছেন। সংক্রমণে লাগাম টানতে দেশজুড়ে লকডাউন আরোপের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের সময় নেওয়া উচিত হবে না বলেও মনে করছে টাস্কফোর্স। তবে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লকডাউন আরোপের বিপক্ষে তাঁর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, করোনার বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ের সর্বশেষ অস্ত্র হওয়া উচিত লকডাউন। এক বছর আগেই ভারত টানা দুই মাসের লকডাউনের ভেতর দিয়ে গেছে। ওই সময় লাখো মানুষ কাজ হারিয়েছেন। সংকটে পড়েছে অর্থনীতি। ওই অভিজ্ঞতা মানুষ এখনো ভোলেনি। মোদি লকডাউনকে 'সবশেষ বিকল্প' হিসেবে বিবেচনা করার জন্য রাজ্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন করে যাতে লকডাউন আরোপ করতে না হয়, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এর বদলে স্বল্প পরিসরে ও স্থানীয় পর্যায়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে মোদির এসব পরামর্শ খুব একটা কাজে লাগছে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। ভারতে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা সেটাই বলছে। মহারাষ্ট্র ভারতের দ্বিতীয় জনবহুল রাজ্য। করোনা সংক্রমণ রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার হাসপাতালগুলোয় শয্যা ও অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল থেকে মুম্বাইসহ পুরো মহারাষ্ট্রে লকডাউন আরোপ করেছে রাজ্য সরকার। ভারতের সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজির পরিচালক রাকেশ মিশ্র আইএনএসএসিওজির সদস্য। তিনি বলেন, 'আমাদের বিজ্ঞানীরা বেশ ভালো কাজ করেছিলেন। কিন্তু সময় মতো তাদের সুপারিশ মানেনি কেন্দ্রীয় সরকার। এখন কয়েকটি রাজ্য ঠিক সেই পথে হাটতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ইনস্টিটিউট অব কলেরা অ্যান্ড এন্টেরিক ডিজিজেসের বিজ্ঞানী শান্তা দত্ত আক্ষেপ করে বলেন, মানুষ বিজ্ঞানীদের চেয়ে রাজনীতিকদের কথা বেশি শোনে। আমরা এখন খুবই মারাত্মক পরিস্থিতিতে আছি।' ২০১৪ সালে ভারতে ক্ষমতায় আসেন নরেন্দ্র মোদি। এর পর থেকে তিনি সীমান্ত সমস্যা, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভ, কৃষক আন্দোলনসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন। তবে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোদি ও ভারতকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। ২০২৪ সালের পরবর্তী নির্বাচনে এ সংকটের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতে শনাক্ত হওয়া করোনার অতি সংক্রামক ধরন সংকট তৈরি করতে পারে পুরো বিশ্বে। কেননা এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, ইরানসহ বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে করোনার ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার খবর মিলেছে। বাংলাদেশসহ অনেক দেশ ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ও আকাশ পথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। | 3 |
কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, আঞ্চলিক ভাষার লড়াই শীর্ষক প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোমবার (২১শে ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি পরিবার। পরে গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: গোলাম সামদানী ফকিরের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জুরিডিক্যাল সায়েন্সেসের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নির্মল কান্তি চক্রবর্তী প্রধান অতিথি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা আফজাল হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: ফায়জুর রহমান, ডিন অধ্যাপক ড. মো: সাইফুল আজাদ, অধ্যাপক ড. ফারহানা হেলাল মেহতাব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারেক আজিজ, রেজিস্ট্রার মো: সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারপারসন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. নির্মল কান্তি চক্রবর্তী বলেন, নিজের ভাষাকে ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে আমরা বাংলার চেয়ে ইংরেজিকেই বেশি পছন্দ করছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্রের দেশে কেন এটা হবে? তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ও বাংলা ভাষার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আফজাল হোসেন বলেন, মাতৃভাষার জন্য বাঙালি জীবন দিলেও এই ভাষা সংরক্ষণের জন্য কোনো উদ্যোগ নেই। একুশে ফেব্রুয়ারি আসলে মহাসমারোহে দিনটি উদ্যাপন করা হয়। কিন্তু বাকি ৩৬৪টি দিন ভাষা নিয়ে কোনো চিন্তা আমাদের নেই। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা আজ আমরা যেমন-তেমনভাবে ব্যবহার করছি। যে ভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিলেন, সেই ভাষার জন্য কেন এই অবহেলা - তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। ভিসি অধ্যাপক ড. মো: গোলাম সামদানী ফকির বলেন, সাধারণত দেশের নামেই ভাষার নামকরণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ অন্যতম রাষ্ট্র, যেখানে আগে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারপর দেশ এসেছে এবং ভাষা অনুযায়ী দেশের নামকরণ হয়েছে। এখানেই একুশের মূল চেতনা নিহিত। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: সাইফুল ইসলাম। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল ক্লাবের পরিচালনায় মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি | 1 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হকের নূরের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে। উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে আজ দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল। মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনসহ ছাত্রলীগের ৬ জন নেতাকর্মীকে সাক্ষী করা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী একরাম হোসেন ডালিম জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম আদালতের হাকিম আয়েশা বেগম মামলাটি শুনানি করবেন। আমরা শুনানির প্রতীক্ষায় রয়েছি। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
নিরাপদ শারীরিক দূরত্বের ব্যবস্থাপনা ছাড়াই সৌদি আরবের মক্কার মসজিদুল হারাম পুরোদমে চালু করা হয়েছে। রোববার ফজর থেকেই মসজিদের পূর্ণ ধারণক্ষমতায় মুসল্লিরা মসজিদে এসে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করছেন। এর আগে শুক্রবার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদীনার মসজিদে নববী রোববার থেকে পুরোদমে চালু করার ঘোষণা করা হয়। গত বছরের মার্চে সৌদি আরবে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণের শনাক্তের পর দেশটিতে কঠোর লকডাউন দেয়া হয়। লকডাউনের অংশ হিসেবে তখন মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়। সাত মাস পর অক্টোবরে মসজিদ চালু করা হলেও মোট ধারণক্ষমতার চেয়ে কম মুসল্লি নিয়ে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় করা হতো। রোববার মসজিদে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দানকারী চিহ্ন মুছে ফেলা হয়। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, 'সতর্কতামূলক ব্যবস্থাপনা শিথিল করা এবং মসজিদুল হারামের পুরো ধারণক্ষমতার পরিমাণ মুসল্লি ও জেয়ারতকারীদের আসার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্তের আলোকে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।' করোনাভাইরাস মহামারীর জেরে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ১৭ মাস পর নতুন করে পুরোদমে মসজিদুল হারাম আবার চালু হলো। তবে মসজিদে প্রবেশের জন্য সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হচ্ছে। শুক্রবারের সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছিলো, মসজিদ পূর্ণ ধারণক্ষমতায় চালু করা হলেও আগের মতোই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এতমারনা ও তাওয়াক্কালনা অ্যাপের মাধ্যমেই পবিত্র দুই মসজিদে প্রবেশের অনুমতি নিতে হবে। বর্তমানে যারা করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজই নিয়েছেন, তাদেরকেই মসজিদে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। মসজিদ পূর্ণ ধারণক্ষমতায় চালু করা হলেও পবিত্র কাবাঘর এখনো ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য এখনো তা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়নি। এদিকে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী রোববার থেকে সৌদি আরবে প্রকাশ্যে উন্মুক্ত স্থানে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া হয়েছে। তবে অফিস-আদালতে আবদ্ধ জায়গায় মাস্ক পরে থাকার বিধান অব্যাহত রয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, সৌদি আরবে করোনা মহামারীর হার লক্ষণীয়ভাবে কমে আসায় এবং দেশটির বাসিন্দাদের বিপুল মাত্রায় টিকা গ্রহণের কারণে রোববার থেকে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়াসহ করোনাভাইরাস সংক্রমণের সতর্কতায় বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা শিথিল করা হয়েছে। গত বছরের মার্চে প্রথম সৌদি আরবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়। দেশটিতে এই পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি ভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। ভাইরাস সংক্রমণে সৌদি আরবে মোট আট হাজার সাত শ' ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সূত্র : আলজাজিরা | 3 |
ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরাও ঋণ পরিশোধে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের কিস্তি শোধ না করলেও খেলাপি হবেন না। আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর আগে ব্যাংকের গ্রাহকদেরও একই ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আজ তা বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোনো গ্রাহক কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে আগামী জানুয়ারি থেকে ওই কিস্তির পরিমাণ ও সংখ্যা পুনরায় নির্ধারণ করতে পারবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ যাঁরা চলতি বছরে ঋণ শোধ করবেন না, তাঁদের আগামী বছর থেকে কিস্তির সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে। যতসংখ্যক কিস্তি বকেয়া থাকবে, ঠিক ততসংখ্যক বাড়ানো যাবে। ঋণের ওপর সুদ হিসাবের ক্ষেত্রে কোনো দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না। বর্তমানে দেশে ৩৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত জুনের শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, করোনায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে যাঁরা ঋণ শোধ করতে পারছেন না, তাঁদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ব্যাংকের গ্রাহকেরাও এই সুযোগ পেয়েছেন। | 0 |
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বাংলাদেশকে অব্যাহত সহযোগিতা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান আলোচনা আমাদের দু'দেশের সম্পর্ককে আরো গভীর করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, 'বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কাজের ধারা, সারা বিশ্বব্যাপী সামাজিক গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জসহ অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।' তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছি, বাংলাদেশে যেভাবে গণমাধ্যম কাজ করে অনেক উন্নয়নশীল দেশে এভাবে কাজ করতে পারে না। আমি যুক্তরাজ্যের উদাহরণ দিয়েছি। সেখানে গণমাধ্যমে কোনো ভুল সংবাদ পরিবেশিত হলে, কারো বিরুদ্ধে অসত্য সংবাদ পরিবেশিত হলে, কারো চরিত্র হনন করা হলে যেভাবে গণমাধ্যমকে জরিমানা গুণতে হয়, আমাদের দেশে তেমনটি নয়। বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমের তুলনামূলক চিত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে।' বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে মার্কিন সহায়তা প্রদান বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ দমনে তাদের সহায়তার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, 'ভবিষ্যতে দু'দেশের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সর্ম্পকের লক্ষ্যে নানা দিক নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। মার্কিন রাষ্ট্রদূতও সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ যেভাবে কাজ করছে, তার প্রশংসা করেছেন।' র্যাবের কর্মকর্তাদের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেটি নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'সেটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়াও দীর্ঘ, তবে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।' এসময় রাষ্ট্রদূত পিটার হাস সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশকে আরো ভালোভাবে জানবার জন্য তিনি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করছেন। বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ বছরের সম্পর্ক দ্রুত আরো ঘনিষ্ঠ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রীর দফতর ও মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী পরে সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত 'ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এসময় ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'মুজিবনগর সরকার দেশের প্রথম সরকার যার রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন বিধায় উপরাষ্ট্রপতি তখন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সরকারের অধীনেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে এবং তখনকার অন্যান্য চাকুরেদের মতো বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানও এই সরকারের অধীনে চাকরি করেছেন, তার মাসিক বেতন ছিল ৪০০ টাকা।' বিএসএমএমইউয়ের শহীদ ডা: মিল্টন হলে অনুষ্ঠিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা: মো: শারফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা: এম ইকবাল আর্সনাল ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা: এম এ আজিজ। সভাপতির বক্তৃতায় ভিসি শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম কার্যকরী সরকারের শপথ নেয়ার এই দিন ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস বাঙালি জাতির জীবনে এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন এবং স্বাধীনতার চেতনা জাগরুক রাখার চিরন্তন প্রেরণা। সূত্র : বাসস | 9 |
দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মানিক উদ্দিনের হাতপাখার কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী এনামুল ইসলাম রোকন ও লাঙল মার্কার প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। গত বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে হাতপাখা মার্কার প্রার্থী মানিক উদ্দিন ২১৮৫ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙল মার্কার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম তার প্রাপ্ত ভোট ২১২৭ ও নৌকা মার্কার প্রার্থী এনামুল ইসলাম রোকন তিনি ভোট পেয়েছেন ২১২৬।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 6 |
উত্তর কোরিয়া চলতি মাসে চতুর্থবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার খবর নিশ্চিত করেছে। সর্বশেষ দুটি কৌশলগত নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র বা ট্যাকটিক্যাল গাইডেড মিসাইল পরীক্ষা করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) মঙ্গলবার জানায়, দেশের পশ্চিমাঞ্চলে প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান একাডেমি ট্যাকটিক্যাল গাইডেড মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পূর্ব উপকূলে 'সঠিকভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত করেছে'। খবর আলজাজিরার। কেসিএনএ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল এ অস্ত্র কতটুকু নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে তা দেখা। পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানার দক্ষতা দেখিয়েছে। এর আগে সোমবার উত্তর কোরিয়া সন্দেহভাজন স্বল্প-পাল্লার দুটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে দাবি করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বলেন, উত্তর কোরিয়া দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ং-এর সুনান বিমানবন্দর থেকে দুটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে, তিনি এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কতটা পথ পাড়ি দিয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলেননি। উত্তর কোরিয়া চলতি বছরের শুরু থেকে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে দেশটি সফলভাবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। গত শুক্রবারও পিয়ংইয়ং ট্রেন থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা জানিয়েছিল। ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনাও থমকে আছে ২০১৯ সাল থেকে। এদিকে জাতিসংঘের রেজ্যুলেশন অমান্য করে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোয় উত্তর কোরিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিতে নিরাপত্তার পরিষদকে চাপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের পুরনো টেকনিকে ফিরেছেন কিম জং উন। | 3 |
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় বিদেশি প্যাভিলিয়নে পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা দেশি পণ্যকে বিদেশি বলে চড়াদামে বিক্রি করছেন। অনেকে বিদেশি পণ্য মনে করে চড়াদামে তা কিনছেন। হরহামেশায় এমন প্রতারণার ঘটনা ঘটলেও মেলা আয়োজক কর্তৃপক্ষের চোখে পড়ছে না। বাণিজ্যমেলার প্রধান গেট দিয়ে ঢোকার পর বাঁ পাশে 'পাকিস্তানি প্যাভিলিয়ন'। সেখানে ৮ থেকে ১০টি দোকান রয়েছে। সেসব দোকানে নারীদের রেডিমেট থ্রি-পিস, টুপিস, কুর্তি, শাড়ি, ওড়না, প্রশাধনী, জুতাসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। অধিকাংশ দোকানে বিদেশি পণ্যের পাশাপাশি দেশি পণ্যের ছড়াছড়ি। আবার কেউ কেউ শুধুমাত্র দেশি পণ্য বিক্রি করছেন। তবে এই প্যাভিলিয়নের দুই-তিনটি দোকানে পাকিস্তানি শাল, চাদর ও বিভিন্ন পোশাক বিক্রি করতেও দেখা গেছে। এই প্যাভিলিয়নে কথা হয় রাজধানীর বারিধারা থেকে আসা মরিয়ম বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিদেশি প্যাভিলিয়নে দেশি পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। দেশি পণ্যকে বিদেশি বলে বিক্রি করছেন দোকানিরা। আমি একটি পাকিস্তানি থ্রি-পিস কিনেছি এই প্যাভিলিয়ন থেকে। কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখেছি, অনেকে দেশি থ্রি-পিস বিদেশি বলে দেখাচ্ছে। পাশেই রয়েছে 'মালয়েশিয়া প্যাভিলিয়ন'। সেখানেও দেশি পণ্যের ছড়াছড়ি। ঢুকতেই একটি জুতার দোকান সামনে পড়ে। এ দোকানে জাহাঙ্গীর নামে একজন বিক্রেতা জানান, তারা দেশি-বিদেশি জুতা বিক্রি করছেন। মেলার শুরু থেকেই তাদের দোকানে দেশি-বিদেশি জুতা বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি জানান, মিরপুর-১১ নম্বরে তাদের দোকান রয়েছে। মেলায় দোকান নিতে অনেক ব্যয় হওয়ায় দোকানের চেয়ে একটু বেশি দামে জুতা বিক্রি করা হচ্ছে। অপর পাশে 'ইরানি প্যাভিলিয়ন'। তাতে রত্নপাথর, বোরকা, কসমেটিকস, প্রেশার কুকার, মসলা ইত্যাদি পণ্যে ভরপুর। প্রেশার কুকারের ব্র্যান্ড 'কিয়াম' নিজেদের আলাদা প্যাভিলিয়ন থাকার পরও ইরানি প্যাভিলিয়নে কিয়ামের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। পাকিস্তানি পণ্য সম্ভারের পাশেই 'ভারতীয় পণ্য সম্ভার'। বিভিন্ন ধরনের কাশ্মিরি শাল নিয়ে এসেছেন ভারতীয় নাগরিক খুরশিদ আহমেদ। শালের দাম ৪০০ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। খুরশিদ আহমেদ জানান, ভারতীয় প্যাভিলিয়নের ভেতরে তিনিই একমাত্র ভারতীয় পণ্য বিক্রি করছেন। অন্যরা বিভিন্ন দেশের পণ্য নিয়ে এসেছেন। মেলা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি প্যাভিলিয়নে দেশি পণ্য বা এক দেশের নাম নিয়ে অন্য দেশের পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের ৪টি টিম কাজ করছে। মেলার মধ্যে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। | 0 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.