text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
চীনের পর ইউরোপে করোনা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পরেছে এবং প্রতিনিয়ত প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। মাত্র এক রাতের ব্যবধানে স্পেনে করোনা ভাইরাসে ৫৩ জনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ৬৩ জন আক্রান্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দেশটিতে 'স্টেট ইমার্জেন্সি' জারি করেছে। নতুন করে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪ হাজার ২০৯ জনে এবং মৃত্যু হয়েছে ১২০ জনের। জরুরি সতর্কতার প্রথম অংশ হিসেবে এ এলার্ট ১৫ দিন বলবৎ থাকবে। এ জরুরী অবস্থার মাধ্যমে জনগণকে আবদ্ধ থাকার আদেশ দেয়া যাবে অথবা গণ জমায়েত নিষিদ্ধ করতে পারবে দেশটি। ইতোমধ্যে দেশটির নাইট ক্লাব, ডিসকো ক্লাব, জিম, এবং কেসিনো বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। দেশটির গণমাধ্যম জানাচ্ছে মাদ্রিদে খাবারের হোটেল, বার ও দোকানগুলোও বন্ধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। শুধুমাত্র সুপারশপ ও ঔষধের দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেয়া হচ্ছে।
3
নাটোরের সিংড়ায় মোর্শেদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মীর বাঁম পা কেটে নিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় তার ডান পা কুপিয়ে জখম করা হয়।রোববার সকালে উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের দুর্গম বামিহাল বাজারে এই ঘটনা ঘটে। আহত মোর্শেদুলের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, সুকাশ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আফজাল হোসেনের নির্দেশে তার লোকজন হামলা চালিয়ে মোর্শেদের একটি পা কেটে নিয়ে গেছে। মোর্শেদের অপর পা কুপিয়ে জখম করায় সেটিও কেটে বাদ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোর্শেদুল জানান, সকাল ১০টার দিকে প্রতিপক্ষ আফজালের সমর্থক আফতাব ও ঠান্ডু ফোন করে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। তাদের ডাকে বাজারের চাউলপট্টি গেলে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে বাঁম পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন এবং অপর পা কুপিয়ে জখম করে। পরে তার কাটা পা নিয়ে তারা চলে যায়। পুলিশ জানায়, এলাকার আধিপত্য নিয়ে কুদ্দুস ও সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদের সঙ্গে আফজালের পূর্ব বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত মোর্শেদের ওপর প্রতিপক্ষ আফজাল গ্রুপের লোকজন হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর ওই বাজারের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাবেক ইউপি সদস্য এবং সুকাশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বলেন, '২০১৪ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য জুনাইদ আহমেদ পলক তাদের দুই পক্ষকে ডেকে দীর্ঘদিনের পঞ্জিভুত বিরোধ মিটিয়ে দেন। এর পর থেকে আমরা উভয় পক্ষই স্বাভাবিক অবস্থায় একে অপরের সঙ্গে মেলামেশাসহ চলাচল করেছি। আজ পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু আফতাব ও ঠান্ডু কি কারণে আজ হঠাৎ করে মোর্শেদকে ডেকে নিয়ে হামলা চালালো তা জানি না।' তিনি বলেন, মোর্শেদ আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী। প্রতিপক্ষও আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা-কর্মী। সিংড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মীর আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখন পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
6
রাজধানীর নীলক্ষেতে বইয়ের মার্কেটে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিটের চেষ্টায় রাত ৮টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর আগুন লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। রোজিনা আক্তার এর আগে জানিয়েছিলেন সন্ধ্যা ৭ টা ৪৮ মিনিটে নীলক্ষেত বইয়ের দোকানে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। শুরুতে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে একে একে আরও ইউনিক যুক্ত হয় আগুন নেভানোর কাজে। সর্বশেষ ১০টি ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। কিভাবে আগুনের সূত্রপাত সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে এখনও কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, একটি দোকানে আগুন লাগার পর তা দ্রুত অন্যান্য দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ বলছেন খাবারের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত, আবার কেউ কেউ বলছেন বইয়ের দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। অন্যান্য মঙ্গলবার এ মার্কেট বন্ধ থাকলেও ২১ ফেব্রুয়ারিতে গতকাল মার্কেট বন্ধ থাকায় আজ খোলা ছিল এটি। এদিকে খাজা স্টেশনারি দোকান থেকে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বলে জানান মায়ের দোয়া বুক হাউজের বিক্রয়কর্মী সুমন মিয়া। তিনি বলেন, দোকানটিতে গ্যাস সংযোগের কাজ চলছিল। সেখানে হঠাৎ আগুনের ফুলকি দেখা যায়। পরক্ষণেই সেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
6
রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আম বাগানগুলো পর্যক্ষেণ করবে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার এ কথা জানান। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন আজ মঙ্গলবার চেম্বার বিচারপতি মো: নুরুজ্জামানের আদালত থেকে প্রত্যাহারের পর তিনি এ কথা জানান। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, হাইকোর্টের আদেশ সঠিক হয়েছে। এ কারণে আমরা স্থগিতের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এর আগে গতকাল রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৯ এপ্রিল রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এক সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একইসাথে ফলের বাজার ও গুদামগুলোতে যেন আমে কেমিক্যাল ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করতে বলা হয়েছে। পুলিশের আইজি, বিএসটিআইয়ের চেয়ারম্যান, র্যাবের মহাপরিচালক এ আদেশ বাস্তবায়ন করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আদালত বলেছেন, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণেই মানুষের শরীরে রোগব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
6
পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধদের দানোত্তম কঠিন চীবর দান ২০ অক্টোবর শুরু হবে। ভারত-বাংলাদেশের মোট ৭৩টি বনবিহারে টানা এক মাস চলবে এ অনুষ্ঠান। পরিনির্বাপিত বনভান্তের শিষ্য সংঘ এই সূচি ঘোষণা করেছে।চীবর দান অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েত হয় রাঙামাটি শহরের রাজবন বিহারে। এ বিহারে ১১-১২ নভেম্বর চীবর দান অনুষ্ঠিত হবে।বৌদ্ধভিক্ষুরা আষাঢ়ি পূর্ণিমা তিথিতে বর্ষাবাস শুরু করেন। তিন মাস বর্ষাবাসের সময় ভিক্ষুরা ধর্ম চর্চা করেন। প্রবারণার মধ্য দিয়ে এ বর্ষাবাস শেষ হয়। এ দিন থেকে কঠিন চীবর দানের মধ্য দিয়ে ধর্ম প্রচারে বেরিয়ে পড়েন ভিক্ষুরা।বৌদ্ধভিক্ষুরা আষাঢ়ি পূর্ণিমা তিথিতে বর্ষাবাস শুরু করেন। আশ্বিনী পূর্ণিমায় এর সমাপ্ত করেন, যা প্রবারণা পূর্ণিমা নামে পরিচিত। এ দিন থেকে কঠিন চীবর দানের মধ্যে দিয়ে ধর্ম প্রচারে বেরিয়ে পড়েন বৌদ্ধভিক্ষুরা।তথাগত গৌতম বুদ্ধের সময়কালীন পুণ্যবতী বিশাখা চীবর (ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র) দান করেন। সে নিয়ম অনুসরণ করে পরিনির্বাপিত বনভান্তে ১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামে এ রীতি অনুসরণ করে চীবর দান প্রচলন করেন। এ থেকে তাঁর শিষ্যমণ্ডলীর বন বিহারগুলোতে কঠিন চীবর দান করা হয়।অন্যান্য বিহারেও দুই দিন করে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হবে। ২০ অক্টোবর থেকে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার প্রশান্তি অরণ্য কুটির চীবর দান হবে। একইভাবে ২১ অক্টোবর বান্দরবানের বালাঘাটার করুণাপুর বনবিহার, খাগড়াছড়ির ধর্মপুরের আর্যবন বিহার, খাগড়াছড়ির পানছড়ির শান্তিপুর অরণ্য কুটির, চট্টগ্রামের মৈত্রী বনবিহার, রাঙামাটির বালুখালীর মরিশ্যাবিল বনবিহার ও কাউখালীর অজর অমর বনবিহার। ২২ অক্টোবর থেকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির শান্তিপুর বনবিহার, খাগড়াছড়ির পানছড়ির হারুবিল বনবিহার, রাঙামাটির জুরাছড়ির সুবলং শাখা বনবিহার।২৩ অক্টোবরে রাঙামাটির কাউখালীর রস্যাবিলি বনবিহার ও বাঘাইছড়ির মেদিনীপুর বনবিহার। ২৪ অক্টোবরে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির নব করুণা বনবিহার ও নানিয়ারচর মৈত্রী কল্যাণ বৌদ্ধ বিহার। ২৫ অক্টোবরে খাগড়াছড়ির পানছড়ির লোগাং বনবিহার। ২৬ অক্টোবরে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ির আর্য কল্যাণ বনবিহার, ভাইবোনছড়ার দেওয়ানপাড়া বনবিহার ও মহালছড়ির জ্ঞানদয় বনবিহার।২৭ অক্টোবরে রাঙামাটির কাউখালীর বৈজয়ন্ত বনবিহার, বরকলের অপর্ণাচরণ বনবিহার, সদর উপজেলার কাটাছড়ি বনবিহার ও হাজারিবাকের সাধনানন্দ বনবিহার। ২৮ অক্টোবরে খাগড়াছড়ির পানছড়ির তারাবন ভাবনা কেন্দ্র, রাঙামাটির ধনপাতা বনবিহার, বাঘাইছড়ির আর্যপুর ধর্মোজ্জ্বল বনবিহার ও নানিয়ারচরে রত্নাঙ্কুর বনবিহার। ২৯ অক্টোবরে রাঙামাটির কাউখালীর ত্রিরত্নাঙ্কুর বনবিহার ও সুবলংয়ে শ্রাবস্তী বনবিহার, খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে মুবাছড়ি বনবিহার ও রাঙাপানিছড়ার শান্তিগিরি বনবিহার।৩০ অক্টোবরে রাঙামাটির নানিয়ারচরে শাসনোদয় বনবিহার। ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পুণ্যগিরি বনবিহার, রাঙামাটির নানিয়ারচরে বনশাখা চিত্তারাম বৌদ্ধ বিহার, বন্দুকভাঙার ইন্দ্রপুর শাখা বনবিহার। ১-২ নভেম্বরে রাঙামাটির কান্দেবছড়ায় মুনিরত্ন জেতবন বনবিহার, ৩ নভেম্বরে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে শাক্য সিংহ বিশুদ্ধ সাধনা বনবিহার।৪ নভেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ির কুশীনগর বনবিহার, পানছড়ির দেবগিরি বনবিহার ও মহালছড়ির ত্রিশিক্ষা বনবিহার; রাঙামাটি জেলার লংগদুতে আর্যগিরি বনবিহার, ফুরমোন আন্তর্জাতিক সাধনাতীর্থ বনধ্যানকেন্দ্র, নানিয়ারচরে রাজগিরি বনবিহার, বন্দুকভাঙায় ভারবোয়াচাপ বনবিহার ও নানিয়ারচরে তক্ষশিলা বনবিহার। ৫ নভেম্বর খাগড়াছড়ির গড়গয্যাছড়ির ক্ষান্তিপুর বনকুটির, ৬ নভেম্বর রাঙামাটির বালুখালীতে জয়দ্বীপ বনবিহার ও নানিয়ারচরের চৌধুরীপাড়ায় আর্যবিমুক্তি বনবিহার।৭ নভেম্বর রাঙামাটির তৈমিদুং বনভাবনা কুটির। ৮ নভেম্বরে রাঙামাটি জেলার পেরাছড়ায় সারনাথ বনবিহার, কাউখালীতে বিনয়াঙ্কুর বনবিহার ও বন্দুকভাঙায় খারিক্ষ্যং শাক্য বনবিহার। ৯ নভেম্বর রাঙামাটির বিলাইছড়িতে রাইখ্যং শাখা বনবিহার ও কুতুকছড়িতে জীবকল্যাণ বনবিহার। ১০ নভেম্বর রাঙামাটির পুটিখালীতে টিখালী ফল বনবিহার ও বরকলে আইমাছড়া বনবিহার। ১২ নভেম্বর রাঙামাটির নানিয়ারচরে বেনুবন অরণ্য কুটির, বাঘাইছড়িতে বনানী বনবিহার ও জুরাছড়িতে ধর্মোদয় বনবিহার, খাগড়াছড়ির পানছড়ির শীলাচার বনবিহার।১৩ নভেম্বর খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে মিলনপুর বন বিহার। ১৪ নভেম্বর রাঙামাটির বরকলে লুম্বিনী বনবিহার ও জুরাছড়িতে ঐক্য বনবিহার। ১৫ নভেম্বর রাঙামাটির লংগদুতে তিনটিলা বনবিহার। ১৬ নভেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালীতে শীলরক্ষিত প্রজ্ঞা বিমুক্তি বনবিহার। ১৭-১৮ নভেম্বর খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে সারনাথ বনবিহার, রাঙামাটি জেলার বোধিপুরে বোধিপুর বনবিহার, নানিয়ারচরের বেতছড়িমুখ ধর্মোদয় বনবিহার, বরকলের বরকল শাখা বনবিহার ও কুসুমছড়ির ধর্মগিরি বনকুটির।
6
লাকসামে বজ্রপাতের পর আগুনে ৫টি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। মারা গেছে ২টি গরু। এতে ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত সোমবার রাতে উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের অশ্বতলা ও ভাকড্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।অশ্বতলা গ্রামের বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগের নেতা মোস্তফা কামাল বলেন, গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বিদ্যুতের লাইনে আগুন ধরে যায়। আগুনে আমির আলির ছেলে বাবুল, আবদুল মজিদ, লতিফা বেগম ও ছকিনা বেগমের বসতঘর, গোয়ালঘর ও রান্নাঘর পুড়ে।আগুনে আবদুল মজিদের দুই ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য জমানো নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা,২টি পাসপোর্ট ও মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।লাকসাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, আমরা রাত ৪টা ৫ মিনিটে খবর পায়। স্টেশন অফিসার ফয়েজ আহমদের নেতৃত্বে একটি দল ৪টা ১১ মিনিটে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।এদিকে রাত ৩টায় বজ্রপাতে ভাকড্ডা গ্রামের কৃষক মমতাজ মিয়ার দুটি গরু মারা গেছে।গতকাল মঙ্গলবার লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম সাইফুল আলম, কান্দিরপাড় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক, ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করা হবে।
6
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সশরীরে ক্লাস শুরু করেছেন গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক আ-আল মামুন। আজ সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে লিপু চত্বরে তিনি ক্লাস শুরু নেন।এর আগে গত শুক্রবার নিজের ফেসবুক ওয়াল থেকে পোস্ট করে সশরীরে ক্লাস নেওয়ায় ঘোষণা দেন তিনি।প্রথম দিনের ক্লাসে তিনি মিডিয়া ও ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।এ দিকে সশরীরে ক্লাসের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন ক্লাসে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ, ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক। ইতিমধ্যে আমিরুল ইসলাম কনক আগামী বুধবার ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আমিরুল ইসলাম কনক আজকের পত্রিকাকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা খাত সবচেয়ে অবহেলিত। আমাদের ক্লাস মূলত একটা প্রতিকৃতি। আমরা সরকারে মেসেজ দিতে চাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়।'প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণের পর থেকে প্রায় ১৭ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার একাধিক তারিখ দিয়েও পরে তা বাতিল করা হয়। সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
1
ভারতে ১৪ লাখেরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৩২ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরেই ভারতের অবস্থান। পরিস্থিতি বিবেচনায় সে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লকডাউন চলছে। যখন সে দেশের পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে নাকানিচুবানি খাচ্ছে, তখনই ফ্ল্যাটে জুয়ার আসর বসিয়েছিলেন জনপ্রিয় তামিল চিত্রনায়ক শাম। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চেন্নাই পুলিশ হানা দিয়ে জুয়ার আসর থেকে জনপ্রিয় অভিনেতা শামসহ আরও ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির অনলাইন সংস্করণ সূত্রে জানা গেছে, লকডাউন পর্বে তামিলনাড়ুজুড়ে জুয়ার রমরমা ব্যবসা শুরু হয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়ছিল। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে পুলিশ ব্যবস্থাও নিয়েছিল। কিন্তু তাতেও জুয়ার আসর পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউনের ভেতর নাঙ্গামবক্কমের ফ্ল্যাটে নিয়মিত জুয়ার আসর বসাতেন দক্ষিণের অভিনেতা শাম। ওই জুয়ার আসরে তামিল চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে যুক্ত প্রচুর অভিনেতা-পরিচালকও যোগ দিতেন। এই খবর পেয়েই সেখানে হানা দেয় চেন্নাই পুলিশের একটি দল। সেখান থেকেই তথ্য-প্রমাণসহ গ্রেপ্তার করা হয় শামসহ ১৩ জনকে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বেশ কয়েকজন নতুন পরিচালক, বেসরকারি অফিসের আধিকারিক, হোটেল মালিক, ব্যবসায়ী এমনকি আইনজীবীরাও। তবে অন্য কোনো অভিনেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, তল্লাশির সময়ে টাকার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা বেশ কিছু টোকেনও উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়াও প্রচুর তাস ও টাকাও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আরও এক জনপ্রিয় অভিনেতা সম্প্রতি শামের বাড়িতে জুয়া খেলে বিরাট অঙ্কের অর্থ খুইয়েছিলেন। তারপরই বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। স্নাতক স্তরে তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র অনলাইন গেমে প্রচুর টাকা খুইয়ে আত্মঘাতী হওয়ার পরদিনই শামের জুয়ার ঠেকে হানা দিল পুলিশ। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অফিস থেকে ধার করা ২০ হাজার টাকা জুয়ায় হেরে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ওই যুবক। এরপরই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। কর্মক্ষেত্রে শেষ 'কাভিয়াঁ'তে দেখা গিয়েছে শামকে। ২০০০ সালে 'খুশি' চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু। তবে পরের বছর ২০০১ সালে '' ছবিতে নায়ক হিসেবে তাঁর অভিষেক হয়। তামিল, তেলেগু ও কন্নড় ভাষায় বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ২০১৭ সালে মালায়লম ফিল্মেও অভিষেক হয় তাঁর। ছবির নাম ছিল 'দ্য গ্রেট ফাদার'। 'লেসা লেসা', 'ইয়ারকাই', 'উল্লাম কেতকুমাই' ও অন্যান্য বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ফিল্মে অভিনয় করে সাড়া জাগিয়েছেন এই অভিনেতা। তাঁর আসল নাম শামসুদ্দিন ইব্রাহিম। চলচ্চিত্রাঙ্গনে শাম নামেই পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। ১৯৭৭ সালের ৪ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেছেন তিনি।
2
বৈশ্বিক মহামারি করোনায় শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে ৫৪৩ দিন। দীর্ঘ সময় পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার খবরে স্কুলে স্কুলে শুরু হয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। অ্যাসাইনমেন্ট নিতে ও দিতে এসে শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি দেখে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে পড়েছেন।আজ রোববার সকালে মানিকছড়ি উপজেলার বেসরকারি পর্যায়ের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ তিনটহরী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ৬ষ্ঠ-দশম শ্রেণির ১২তম অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে এবং ১৩তম অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ৬ষ্ঠ অ্যাসাইনমেন্ট জমা ও ৭ম অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করতে আসা শিক্ষার্থীদের স্কুল খোলার আনন্দ উপভোগ করতে দেখা যায়।অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারাবী নুরে নাজাত বলেন, 'স্কুল খোলার খবরে খুব আনন্দ লাগছে, মন দিয়ে ক্লাস করতে পারব। অনেক দিন পর নিজেকে পড়ালেখায় আঁকড়ে ধরে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ায় মনোযোগী হব।'নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী দ্বীপ বিশ্বাস বলেন, 'স্কুল খোলার সংবাদে আমি নিজেকে উৎফুল্ল মনে করছি। আহা কি আনন্দ!' বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিউল ইসলাম বলেন, 'করোনা শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে ৫৪৩ দিন কেড়ে নিল। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল খোলার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আমরা স্কুলের আঙিনা, শ্রেণি কক্ষ, আসবাবপত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন শুরু করেছি। সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নির্ধারিত তারিখে পাঠদানের বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।'এ ছাড়া মানিকছড়ির বড়ডলু উচ্চ বিদ্যালয়েও গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষক-কর্মচারীরা স্কুল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সকলে একটা উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে স্কুলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন।
6
শিঙাড়া বিক্রি করেই এক জীবন পার করে দিচ্ছেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীকৃষ্টপুর দক্ষিণ পাড়া মহল্লার বাসিন্দা আব্দুস ছামাদ (৬০)। ছোটবেলা থেকেই তিনি শিঙাড়া বিক্রি করে আসছেন। তাঁর শিঙাড়ার বিশেষ দিক হচ্ছে, স্বাদে ভালো এবং দামে কম। ৩ পিস শিঙাড়া পাঁচ টাকা, ৭ পিস শিঙাড়া ১০ টাকা এবং ১৪ পিস শিঙাড়া মাত্র ২০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।আব্দুস ছামাদ বলেন, 'এলাকায় আমার শিঙাড়ার চাহিদা আছে। স্কুলের ছেলেমেয়েরা খুব পছন্দ করে আমার শিঙাড়া। তাই দাম বেশি নেই না। লাভ করি কম। সংসারটা কোনোমতে চলে যাচ্ছে।'আব্দুস ছামাদ আরও বলেন, 'আমার স্ত্রী মিনু বালা প্রতিদিন ভোরবেলায় শিঙাড়া তৈরির কাজে সহযোগিতা করেন। সকালে সেগুলো নিয়ে বের হই। মাথায় শিঙাড়া আর হাতে একটি পানির বালতি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিঙাড়া বিক্রি করি। স্বাদে ভালো আর দামে কম হওয়ায় ছোট বড় সকলেই শিঙাড়া খেতে ছুটে আসে।'আব্দুস ছামাদ প্রতিদিন সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিঙাড়া বিক্রি করেন। এরপর তিনি পৌরসভার একটি বেসরকারি মাদ্রাসার সামনে গিয়ে বসেন। সেখানে মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকশ শিঙাড়া বিক্রি হয়ে যায়। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, 'সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়াতে নিয়ে এসেছি। ভালো শিঙাড়া তাই প্রতিদিন আমি ও আমার সন্তান কিনে খাই। ২০ টাকা দিয়ে ১৪ পিস শিঙাড়া কিনেছি।'আব্দুস ছামাদের স্ত্রী মিনু বালা বলেন, 'আমরা গরিব মানুষ। আমার স্বামী ছোট বেলা থেকেই শিঙাড়া, আলুর চিপস ভাজা বিক্রি করে আসছেন। তাঁর প্রধান পেশাই এটা। আমি প্রতিদিন খুব ভোরবেলা উঠে শিঙাড়া তৈরির কাজে স্বামীকে সহযোগিতা করি।'পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম চপল বলেন, 'আমি অনেক ছোট থেকে আব্দুস ছামাদের শিঙাড়া খেয়ে আসছি। সে খুব পরিষ্কারভাবে শিঙাড়া তৈরি করে। তাঁর শিঙাড়া খেয়ে কারও কোন সমস্যা হয়েছে এমন কথা এখনো পর্যন্ত শুনিনি। তিনি খুব অল্প দামে শিঙাড়া বিক্রি করে থাকেন।'
6
চলছে রোজা। এখন স্বাভাবিক সময়ের মতো ওষুধ খাওয়া যায় না। কিন্তু যাঁরা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন, তাঁদের প্রতিদিনই ওষুধ খেতে হয় এবং ওষুধগুলো বাদ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে ওষুধ খাওয়ার সময় ও ডোজে পরিবর্তন আনতে হয়। যেমন ডায়াবেটিসের রোগীরা যদি ওষুধ বাদ দেন, তাহলে তাঁদের রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে। আবার হার্টের রোগীরা রোজার সময় দুপুরের ওষুধ কখন খাবেন, সেটি ঠিক করে নিতে হবে। অথবা হার্টের যেসব ওষুধের কারণে প্রেশার কমে যায়, সেসব ওষুধের ডোজ সমন্বয় করার প্রয়োজন রয়েছে। লিখেছেন ডা. গোলাম মোর্শেদ। প্রেশারের ওষুধ খাওয়ার নিয়মরোজার সময় যেহেতু দিনে পানি ও খাবারদাবার খাওয়া যায় না, তাই প্রেশার এমনিতেই কমে যেতে পারে। সে জন্য প্রেশারের ওষুধ কমিয়ে খেতে হবে। কতটুকু কমাবেন, সেটা চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে ঠিক করে নিতে হবে। যাঁরা এক বেলা প্রেশারের ওষুধ খান, তাঁরা যেকোনো বেলায় খেতে পারবেন। যাঁরা দুই বেলা প্রেশারের ওষুধ খান, তাঁরা সাহ্রি ও ইফতারের পরে খাবেন। আর যাঁরা তিন বেলা প্রেশারের ওষুধ খান, তাঁরা দুপুরের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শে বন্ধ রাখতে পারেন। দুপুরের ডোজ বন্ধ করার কারণে যদি প্রেশার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে ওষুধ পরিবর্তন করে লং অ্যাক্টিং এক বেলা বা দুই বেলার আরেকটি ওষুধ সিলেক্ট করে দিতে হবে।যাঁরা কিডনির রোগী, তাঁদেরও পানি কমানোর ওষুধ খেতে হয়। সেই ওষুধগুলো এই সময়ে কিন্তু কম লাগতে পারে। অথবা আগের ডোজে খেলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়ে প্রেশার অনেক কমে যেতে পারে এবং পানিশূন্যতা বেড়ে গিয়ে কিডনির অবস্থা খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই যাঁরা কিডনির রোগী, তাঁরা যদি রোজা পালন করতে চান, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিন। হৃদ্রোগের ওষুধ খাওয়ার নিয়মযাঁরা হৃৎপিণ্ডের পানি কমানোর ওষুধ খান, তাঁরা সেটি খাবেন সাহ্রিতে। আগের ডোজের চেয়ে অর্ধেক পরিমাণ খাবেন। রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাবেন ইফতারের পরে। কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধও ইফতারের পরে খাবেন। দুপুরবেলা হার্টের যে ওষুধ খেতেন, সেটি রাতে খাবেন। হার্টের যেসব ওষুধে প্রেশার কমে যায়, সেই ওষুধগুলোর ডোজ সমন্বয় করতে হবে বা ডোজ কমাতে হবে।যেসব হার্টের রোগীর অবস্থা ভালো নয়, অর্থাৎ স্ট্যাবল নয়, যেমন বুকে ব্যথা আছে কিংবা শ্বাসকষ্ট হয়, তাঁরা রোজা পালনের জন্য উপযুক্ত নন। তাঁরা যদি একান্তই রোজা পালন করতে চান, তাহলে রোজার দুই মাস আগে চিকিৎসককে দেখিয়ে ওষুধ সমন্বয় করে হার্টের অবস্থা ভালো করে নিতে হবে। তারপর আপনি রোজা পালন করতে পারবেন। যাঁদের এক মাসের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বা বুকে ব্যথা হয়েছে, তাঁরাও কিন্তু রোজা পালনের জন্য উপযুক্ত নন।আবার যাঁদের হার্টের রিং লাগানো আছে বা বাইপাস করা আছে, তাঁরা যদি স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন, বুকে ব্যথা না হয়, শ্বাসকষ্ট না হয়, তাহলে তাঁরা নিশ্চিন্তে রোজা পালন করতে পারবেন। ডায়াবেটিসের রোগীদের ওষুধ খাওয়ার নিয়মডায়াবেটিসের রোগীরা রোজার আগে সকালে যে ওষুধটি খেতেন, সেটি এখন খাবেন ইফতারের পরে। দুপুরের ওষুধটি খাবেন রাতের খাবারের পরে। আর রাতের ওষুধ খাবেন সাহ্রির সময়।যাঁরা দুই বেলা ইনসুলিন নেন, তাঁরা সকালের ইনসুলিন ইফতারের পর নেবেন। মাত্রার কোনো পরিবর্তন করবেন না চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া। আর রাতের ইনসুলিন নিন সাহ্রির সময়। তবে পরিমাণ কমিয়ে নিতে হবে এবং সেটা আগের ডোজের অর্ধেক নেবেন। যাঁরা দিনে এক বেলা ইনসুলিন নেন, তাঁরা সেটি ইফতারের পর নিন এবং রোজার আগের ডোজ থেকে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম ডোজে নিন।এরপর সকাল ১০টার সময় সুগার মাপাবেন। সুগার খুব বেশি হলে পরের রাতে সাহ্রিতে ডোজ আর একটু বাড়াবেন। রোজার কারণে সুগার নিল বা হাইপো হতে পারে। তাই বিকেল ৪টার সময় আরেকবার সুগার মাপাবেন। খুব কম হলে, অর্থাৎ ৩-এর কম হলে রোজা ভেঙে ফেলুন।যেসব ডায়াবেটিসের রোগীর সুগার খুব বেশি ওঠানামা করে, তাঁদের কিন্তু রোজা রাখা বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ দিনের শেষভাগে যদি সুগার ৩-এর নিচে চলে যায়, তাহলে হাইপো হয়ে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। আবার যদি সুগার ১৬-এর বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে কিন্তু নানা রকম সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই রোজার আগেই আপনার উচিত হবে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে ঠিক করে নেওয়া যে রোজা থাকতে পারবেন কি পারবেন না। নিয়ম হলো, রমজানের দুই মাস আগেই ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে এবং চিনির মাত্রা স্থির করে নিয়ে রোজা পালন করা।
4
কুমিল্লায় অটোরিকশা ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আলমগীর নামে এক অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জের কালিকাপুরে এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর দেবীদ্বার উপজেলা ফতেহাবাদ ইউনিয়নের কোড়ালপাড়া বাড়ির বাসিন্দা। ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং প্রত্যক্ষদর্শী আরিফুর রহমান। ওসি বলেন, "বিকেলে আমি টহলে বের হয়েছিলাম। কালিকাপুরে যাওয়ার পর দেখলাম সিলেট থেকে ঢাকামুখী একটি ট্রাক রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে আছে। তখন সেখানে আর কোনো লোকজন ছিল না। আমি গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে গিয়ে দেখি ট্রাকের নিচে একটি অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে। আর অটোরিকশার চালক ট্রাকের পেছনের চাকার নিচে আটকে আছেন। তখনও তিনি বেঁচেছিলেন। কিন্তু, বহু চেষ্টা করেও চাকার নিচ থেকে তাকে বের করতে পারিনি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান। পরে আমি ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ফাঁড়িতে ঘটনাটি জানাই।" তিনি আরও জানান, ট্রাকচালক পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পালিয়ে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
6
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই গ্রামের নিতান্ত সাধারণ এক গৃহবধূ রহিমা খন্দকার ববিতা। গৃহশয্যা সামগ্রী তৈরি এবং বাজারজাত করে রহিমা নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন, আয়ের পথ দেখিয়েছেন আরও অন্তত ৩০টি পরিবারকে। ববিতার অধীনে কাজ করেন ৪০ জনের বেশি কর্মচারী। গত শনিবার জয়িতা ফাউন্ডেশনের দশ বছরপূর্তি অনুষ্ঠানে এসে নিজের গল্প শোনালেন এই ববিতা। জানালেন, কারও ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকাটা তাঁর পছন্দ না। তাই ২০০১ সালে নিজ বাড়ির আঙিনায় বসেই শুরু করেন চাদর, কুশন ও পর্দা বানানোর কাজ। তখন যারা টিপ্পনি কেটেছিলেন, এখন তারাই ববিতার কাছে আসে কাজের খোঁজে।ববিতার মতো আরেক সফল উদ্যোক্তা রাহেলা জাকির। টাঙ্গাইলের এই নারী ১৯৯২ সালে কয়েকজন সহকারীকে নিয়ে নিজ বাড়ির উঠানে বসে শুরু করেছিলেন বুটিক-বাটিকের কাজ। এখন তাঁর কর্মীর সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি। তাঁর উৎপাদিত তাঁতপণ্যের চাহিদা এখন সারা দেশে।১০ বছরপূর্তি উপলক্ষে জয়িতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য নিয়ে হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজন করা হয়েছে দুই দিনব্যাপী প্রদর্শনী। সেখানেই মিলল ববিতা, রাহেলার মতো সারা দেশ থেকে আসা আরও অনেক নারী উদ্যোক্তার দেখা।গতকাল ছিল এ আয়োজনের উদ্বোধনী পর্ব। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, প্রাচীনকালে যেমন বাঙালিদের উৎপাদিত পোশাকের জনপ্রিয়তা ছিল, তেমনি বর্তমানেও বাংলাদেশে তৈরি পোশাক বিশ্ব জয় করছে। ব্র্যান্ড হিসেবে জয়িতার সুনামও ছড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বে। আস্থা ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে জয়িতা সবার হৃদয়ে স্থান পাবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সিনিয়র সচিব সাহিন আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আসা নারী উদ্যোক্তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এ সময় আলপনাচিত্রের স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষাংশে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। আজ বেলা তিনটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার উন্মুক্ত থাকবে।
6
বল নিয়ে ডি-বক্স থেকে রক্ষণভাগের ফুটবলারদের বাধা অতিক্রম করে গোলরক্ষকের সামনে গেলেন। গোলরক্ষককে একা পেয়ে তাকেও দুই পায়ের জাদুতে কাটিয়ে নিলেন। গোলপোস্ট ফাঁকা, কিন্তু গোল হয়নি। সাধারণ কোনো ফুটবলার হলেও ঘটনাটি মেনে নেয়া যায় না। কিন্তু বল পায়ে সেক্ষেত্রে যদি পর্তুগিজ তারকা রোনালদো থাকে তাহলে সেটি কল্পনাও করাও দুরূহ। তবে অকল্পনীয় বিষয়টিকে গতকাল বাস্তবে রূপ দিয়েছে সিআর সেভেন খ্যাত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শুধু গতকালই নয়। নতুন বছরের শুরু থেকেই চিরচেনা রূপে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সিআর সেভেনকে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি পর্তুগিজ তারকার জন্মদিনের আগের দিনও পেনাল্টির সুযোগ পেয়ে স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন রোনালদো। নতুন বছরের শুরু থেকে এ নিয়ে টানা ছয় ম্যাচ নামের পাশে গোলসংখ্যা লিখাতে পারেননি তিনি। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচগুলোতে ৩ জানুয়ারিতে রোনালদোর উপস্থিতিতেও উলভার হ্যাম্পটনের সাতে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছে ম্যানইউ। এরপর ১০ জানুয়ার এফ এ কাপে রোনালদোকে রেখেই ১-০ গোলের জিতেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী ম্যাচে ১৫ জানুয়রি অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে রোনালদোকে ছাড়াই ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ডের ডেভিলসরা। পরবর্তী ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের সাতে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পেলেও দলে থেকে গোলশূন্য থেকেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২২ জানুয়ারিও সাউদাম্পটনের সঙ্গে গোল পায়নি। ৪ ফেব্রুয়ারি স্পট কিক থেকেও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। গতকালও গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও গোলের খরা কাটাতে ব্যর্থ হয়েছে ম্যানইউর ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সর্বশেষ ২০০৮-০৯ মৌসুমে এরকম গোল খরায় ছিলেন সিআর সেভেন। সেই আসরে টানা সাত ম্যাচ গোলের দেখা পাননি তিনি। এ আসরে সর্বশেষ গোলের দেখা পেয়েছিলেন গত ৩০ ডিসেম্বর। তারপর থেকে ছয় ম্যাচেও কোনো গোলের দেখা পাননি তিনি। অথচ এই সিআর সেভেন বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে কত খ্যাতি অর্জন করেছেন। একই ক্লাবের হয়ে প্রথমবার ২০০৭-০৮ মৌসুমে সর্বমোট ৪৯টি ম্যাচে গোল করেছিলেন ৪২টি। পরবর্তী সময়ে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গোল বন্যায় ভেসেছেন তিনি। মাত্র ৯ মৌসুম খেলেই লা লিগায় ৩৩টি হ্যাটট্রিক করে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এছাড়া লা লিগায় দ্রুততম দেড়শত, দুইশত ও তিনশত গোলের রেকর্ডও তার অধীনে। টানা ৬টি মৌসুমে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ৫০ গোলের রেকর্ড গড়েছেন এ পর্তুগিজ তারকা। আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে যুগ্মভাবে ফিফার বর্ষসেরা দলে জায়গা করে নিয়েছেন ১১ বার। ইউরোপিয়ান ফুটবলে রোনালদোর আধিপত্য আরো প্রখর। উয়েফার বর্ষসেরা দলে জায়গা করে নিয়েছেন ১২ বার। পাঁচবার জিতেছেন ব্যালন ডি'আর। দেশের হয়েও কম যাননি তিনি। ২০১৫ সালেই পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে রোনালদোর নাম ঘোষণা করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
12
উপকরণমরিচ ৫০ গ্রাম, রসুন বড় ৪টা, পেঁয়াজ মাঝারি আকারের ৮টা, টমেটো ২টা, ইলিশ মাছ ৩ টুকরো, লবণ দেড় টেবিল চামচ।প্রণালিপ্রথমে সব উপকরণ খুব ভালোভাবে মিহি করে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এরপর চুলায় একটি প্যানে আধা কাপ পরিমাণ সরিষার তেল দিতে হবে।এরপর তার মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন ও মরিচবাটা দিন। ২ মিনিটের মতো সেগুলো ভেজে নেওয়ার পর তার মধ্যে ৩ টুকরো ইলিশ মাছ দিয়ে দিন। ইলিশ মাছ না থাকলে শিং মাছ বা অন্য মাছ দিয়ে করতে পারেন। ভালো স্বাদের জন্য ইলিশ মাছই দিতে হবে।এখন এগুলো ১৫ মিনিটের মতো ঢাকনা দিয়ে ঢেকে মাঝে মাঝে নেড়েচেড়ে রান্না করুন যেন প্যানের তলায় লেগে না যায়। ১৫ মিনিট পর ২টি টমেটোকুচি এবং দেড় টেবিল চামচ লবণ দিন। সব উপাদান ২ মিনিট কষিয়ে নেওয়ার পর পরিমাণমতো পানি দিন। যতক্ষণ পর্যন্ত ভাজা ভাজা হয়ে না আসে, ততক্ষণ চুলার আঁচ কমিয়ে রান্না করতে থাকুন।লেখা ও ছবি: সুমাইয়া আক্তার আর্থী
6
তেরখাদা উপজেলার জয়সেনা গ্রামের মো. এস্কেন্দার আলীর মুদি দোকানে গভীর রাতে চুরি হয়েছে। চোরেরা দোকানের তালা ভেঙে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে দোকান মালিকের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।তাঁর অভিযোগে জানা যায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে চোরেরা দোকানের তালা ভেঙে এলইডি টিভি, মিনিট কার্ড, তৈল, সাবান, সিগারেট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, নগদ টাকাসহ প্রায় ৪৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়।এ ব্যাপারে তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. জহুরুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
6
রাজধানীর রামপুরা বউ বাজারে ভাঙারীর দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনে ৫জন দগ্ধের ঘটনায় হেলাল (৫০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. এসএম আইউব হোসেন। তিনি জানান, হেলালের শরীরে ৮৫ শতাংশ দগ্ধ ছিলো। দগ্ধ বাকি ৪জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভাঙারী দোকানের মালিকের ছেলে মো. রাসেল জানান, হেলালের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। লেবার হিসেবে তাদের দোকানে কাজ করতো। গত ২ মার্চ দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে রাসেল এন্টারপ্রাইজ নামে ওই ভাঙারীর দোকানে এই ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাকি দগ্ধরা হলেন, দোকানের মালিক নাদের আলী (৫০), শ্রমিক সিদ্দিক (৬০), নূরনবী (৫১) ও ইউসুফ (৪৯)। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া আকরাম হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, মধ্যরাতে মালিকসহ ৪ শ্রমিক একটি পিকআপে ভাঙারী মালামাল তুলছিল। তখন সেখানে আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে মালিক ও ৪ শ্রমিক দগ্ধ হয়। পরে খবর পেয়ে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরাতন গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন লেগেছে বলে জানান তিনি। ঘটনার পরদিন ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার রাফি আল-ফারূক জানান, ওইদিন রাত ১ টা ৪২ মিনিটে বউবাজার মাটির মসজিদ সংলগ্ন ভাঙারীর টিনসেড দোকানে আগুন লাগে। সে আগুন পাশের আরেকটি গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ২টা ১২মিনিটে আগুন নির্বাপণ করে। পুরাতন গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। চিকিৎসক জানান, নাদের আলীর শরীরের ৪৩শতাংশ, সিদ্দিকের ৭৪, হেলালের ৮৫, নূরনবী ৪২ ও ইউসুফের ১২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
6
করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় দুর্নীতি কাণ্ডে জড়িত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ আসিফুজ্জামান প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় দুর্নীতির বিষয়ে ছয়জনের বিচার শুরু হলো। আগামী ৪ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই দিন মামলার বাদীকে আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে গত ৬ জুন অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি হয়। ওই দিন আসামি ছয়জনের পক্ষে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আজ রোববার আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়। স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজিসহ জামিনপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ ১২ জুনগত ২২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। মহানগর দায়রা জজ ও জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালতে প্রেরণ করেন।মামলার অন্য আসামিরা হলেন-অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা ডা. মো. দিদারুল ইসলাম।সাহেদ ছাড়া অন্য পাঁচ আসামি জামিনে আছেন। তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি ও সাহেদের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্রগত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। মামলার এজাহারে স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি ডা. আবুল কালাম আজাদের নাম না থাকলেও তদন্তে তাঁর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ায় পরে চার্জশিটে তাঁকেও আসামি করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং সম্পাদন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে তিন হাজার ৯৩৯ জন রোগীর করোনা নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করান।এতে আরও বলা হয়, যেখান থেকে অবৈধ পারিতোষিক বাবদ রোগী প্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা হিসেবে এক কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক-নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বরাদ্দের বিষয়ে এক কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরা হয়।মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ / ৪২০ / ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।এই সম্পর্কিত পড়ুন:অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় রিজেন্টের সাহেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুস্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির জামিনের মেয়াদ বাড়লআত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজিপ্রতারণার মামলায় সাহেদের বিচার শুরুঅর্থ পাচার মামলায় রিজেন্টের শাহেদের জামিন প্রশ্নে রুল জারি
6
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় উল্টো ফেঁসে গেলেন সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পাল্টা মামলায় সাবেক এই যোগাযোগমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের অনুমোদন করেছে কমিশন। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এর অনুমোদন করা হয়। খবরটি দুদক সূত্রে জানা গেছে। দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিজের বিরুদ্ধে নিষ্পত্তি হওয়া একটি মামলার রায় বদলে দেয়া হয়েছে ও উৎকোচ চাওয়া হয়েছে, এস কে সিনহার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলা করেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। মামলায় নাজমুল হুদা দাবি করেন, উচ্চ আদালতে খারিজ হওয়ার পরেও প্ররোচিত হয়ে ওই মামলার রায় পরিবর্তন করা হয়। মামলাটি খারিজ করতে দুই কোটি টাকা এবং আরও একটি ব্যাংক গ্যারান্টির অর্ধেক অর্থাৎ এক কোটি ২৫ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন সিনহা। তবে দেড় বছরের তদন্তে নাজমুল হুদার এ অভিযোগের কোনো প্রমাণ পায়নি দুদক। পরে মিথ্যা অভিযোগ করার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। আরেক পরিচালক মো. বেনজীর আহম্মেদকে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। মামলার বিষয়ে তৎকালীন দুদকের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেছিলেন, নাজমুল হুদা যে মামলাটি করেছেন, সেটি একেবারেই ভিত্তিহীন। দুদকের অনুসন্ধানেও আমরা সেটা প্রমাণ পেয়েছি। দুদক আইনের ২৮ (২) ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন আর সেটি যদি তদন্তে বেরিয়ে আসে, তাহলে অভিযোগ দায়েরকারীর বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে। দুদকের দায়ের করা সেই মামলায়ই এখন বিচারের মুখে নাজমুল হুদা।
6
কোনো ধরনের হুমকি, বাধার তোয়াক্কা না করে আগামী ২৮ মার্চ অর্ধদিবস হরতাল পালিত হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ। শনিবার সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা জানান তাঁরা।বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, 'আগামী ২৮ মার্চ হরতালের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে হুমকি দিয়েছেন, সেই হুমকির তোয়াক্কা না করে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হবে। হুমকি, বাধাসহ যেকোনো চাপ উপেক্ষা করবে জনগণ। যদি কেউ কোনো রকম চাপ দিতে আসে, জনগণই পাল্টা চাপ দেবে।'হরতালের পক্ষে মানুষের ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এই ইস্যু, হরতাল জনগণের। জিনিসপত্রের দাম বাড়লে জনগণের ওপর প্রভাব পড়ে। এমনকি যারা বিএনপি-আওয়ামী লীগ করে, তাদের ওপরও প্রভাব পড়ে। সবাই এই হরতালের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।'রুহিন হোসেন প্রিন্স আরও বলেন, 'দেশে বৈষম্য পাহাড় পরিমাণ। এক দেশে চলছে দুই অর্থনীতি। ভয়ের পরিবেশে তৈরি করা হয়েছে। গণতন্ত্র নির্বাসিত। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দাপট চলছে। তাদের সঙ্গে আপস করে ক্ষমতায় থাকতে ও ক্ষমতায় যেতে ব্যস্ত শাসকগোষ্ঠী। এ অবস্থায় থেকে দেশ বাঁচাতে ও গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে নীতিনিষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে।'এ সময় তিনি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ানোর অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে আগামী ২৮ মার্চ দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল পালনের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, 'দুর্বৃত্ত আমলা, দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ী আর দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক মিলে জনগণের উপার্জিত সম্পদ লুটপাট করে নিচ্ছে। বর্তমান দুঃশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতির ভিত্তিতে দেশকে অগ্রসর করতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।'জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড মিহির ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, আহসান হাবীব লাভলু, ডা. সাজেদুল হক রুবেল, লুনা নূর, রাগীব আহসান মুন্না, লাকী আক্তারসহ প্রমুখ।
6
অবশেষে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভা উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় করতোয়া খালের দু'পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে খালটির দু'পাশের দোকান ও বাড়ি মালিকেরা ভরাট করে জায়গা দখল করায় এর অস্তিত্ব হারিয়ে যেতে বসেছিল। পৌরবাসী দীর্ঘদিন ধরে খালের দু'পাশের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দিয়ে একটি পার্ক তৈরির প্রস্তাব দিয়ে আসছে। বুধবার সকালে পৌর মেয়র এসএম নজরুল ইসলাম পুলিশের সহযোগিতায় প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ করতোয়া খালের দু'পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করেন। শতাধিক শ্রমিক একাজে অংশ নেয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ কুমার সরকার ও উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান কউশিক আহমেদ এসময় উপস্থিতি ছিলেন। পৌর মেয়র স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, পৌরবাসীর দাবি পূরণের লক্ষ্যে পৌর কর্তৃপক্ষ করতোয়া খালটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের সহযোগিতায় দু'পাশের স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে এখানে একটি দৃষ্টিনন্দন পার্ক গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও জানান, খালটি লেকে রূপান্তরিত হবে। লেকের ওপরে তিনটি আকর্ষণীয় সেতু নির্মাণ করা হবে। দু'পাশে মার্কেটও গড়ে তোলা হবে। এতে করতোয়া খালটি পৌরবাসীর বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে। এ ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য স্থানীয় সুধীজন ও পৌরবাসীকে ধন্যবাদ জানান মেয়র।
6
রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই কমছে। গত ২৪ ঘন্টায় (০৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগী ২৪ শতাংশ কমেছে। যা আগের তুলনায় ১৮৬ জন কম। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬০৭ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ২৩৩ জন ও ঢাকার বাইরে ৩৭৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) নতুন করে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৯৩ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২৫ ও ঢাকার বাইরে আক্রান্ত হয়েছিলো ৪৬৮ জন। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪৪৭। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ৭১৯ জন এবং অন্যান্য বিভাগে ১ হাজার ৭২৮ জন ভর্তি আছেন। প্রসঙ্গত, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কাছে ডেঙ্গু সন্দেহে ১৯২ টি মৃত্যুর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৫৭ টি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানের ডেথ রিভিউ কমিটি।
4
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে রণাঙ্গনে সম্মুখ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও 'মহামায়ায় মুক্তিযুদ্ধ' শীর্ষক স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানহয়েছে।গতকাল বুধবার বিকেলে মহামায়া ইউনিয়নের উত্তর যশপুর গ্রামের সুলতান ভিলায় ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পোর্টল্যান্ড গ্রুপের এমডি মিজানুর রহমান মজুমদার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।মহামায়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুল হুদা মজুমদারের সভাপতিত্বে সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ফেনীর উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ড. মঞ্জুরুল ইসলাম।বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পরশুরাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার, ছাগলনাইয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ মোস্তফা, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক মজুমদার, ফেনী জেলা পরিষদ সদস্য কাজী ওমর ফারুক, ছাগলনাইয়া প্রেসক্লাব সমন্বয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শেখ কামাল ও মো. নুরুজ্জামান সুমন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই মেম্বার, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাহার উদ্দিন আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামসহ উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদ।
6
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বামদলগুলোর ডাকা আগামীকালের হরতালে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে বিএনপি।সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা বৃহস্পতিবারের সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশে এই হরতালের কর্মূসচি দিয়েছে।হরতালের আগেরদিন বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে হরতালে সমর্থনের ঘোষণা দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রতি সপ্তাহে আদালতে হাজিরার নামে খালেদা জিয়াকে হয়রানি করার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম নামের একটি সংগঠন।বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, যা কার্যকর হবে আগামী ডিসেম্বর থেকে। গত ২৩ নভেম্বর বিইআরসির ওই ঘোষণার পরপরই হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করে বাম দলগুলো। তাদের ভাষায়, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ওই সিদ্ধান্ত গণবিরোধী।মানববন্ধনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'আমরা মনে করি, জনস্বার্থে এই হরতাল অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। আগামীকাল বাম দলগুলো যে হরতাল ডেকেছে, আমি বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপি সেই হরতালকে পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করছি।'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, জনগণের প্রতিরোধে আপনার সব অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়ন মাটি চাপা দিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পতাকা উড়বেই। এখন তো ক্ষমতার ঝাড়বাতি কার্পেট দেখছেন কিন্তু আপনার আশপাশে রয়েছে আর্তনাদ। কারণ আপনি যে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা জনগণের কারাগারে বন্দি।এ সময় স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি ও বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান সারোয়ার, হাবিবুল ইসলাম, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শ্যামা ওবায়য়েদ, আব্দুস সালাম, নিপুন রায় প্রমুখ।
9
ক্রিকেটার তামিম ইকবালের ছোট চাচা আকবর খান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্ন)। বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে বিষয়টি জানান তামিম ইকবাল। পোস্টে তামিম ইকবাল লেখেন, 'আমার ছোট চাচা আকবর খান আজ ভোরে আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন। উনি নিজেও একসময় ক্রিকেটার ছিলেন। অনেকেই হয়তো জানেন না, আমার প্রথম ক্রিকেট কোচ ছিলেন তিনিই। ক্রিকেটের মৌলিক শিক্ষার অনেকটুকুই আমি পেয়েছিলাম তাঁর কাছ থেকে। ক্রিকেট বলে আমার প্রথম ম্যাচটিও খেলেছিলাম তাঁর তত্ত্বাবধানে। ক্রিকেটের পথে আজ যতদূর আসতে পেরেছি, উনি যত্ন করে ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বলেই। মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে জান্নাতবাসী করুন। আমার চাচা ও তার পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।'
12
ঢাকার দোহার উপজেলায় মৈনট ঘাট ও আশপাশে থাকা ফসলি জমি নষ্ট করে চলছে বালু ব্যবসা। এতে দিন দিন উর্বরতা হারাচ্ছে মৈনট ঘাট এলাকার ফসলি জমি।একসময় মৈনট ঘাট এলাকায় প্রচুর বাদাম, সরিষা, ধনিয়া, গমসহ নানা ধরনের সবজি ও ফসল উৎপাদিত হতো। কিন্তু বালুর কারণে এই এলাকায় ফসলের উৎপাদন অনেক কমে গেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, মিনি কক্সবাজারখ্যাত মৈনট ঘাটে বিশাল এলাকাজুড়ে স্তূপ তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে বালু। এই বালু বাতাসে উড়ে গিয়ে পাশে থাকা ফসলি জমিতে পড়ছে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি।স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন বলেন, 'আমাদের জমিতে বালু পড়ে জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওই সব জমিতে এখন ফসল উৎপাদন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগে এই মৈনটে আমরা প্রচুর পরিমাণে ধান, বাদাম, কলাই, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করতাম। কিন্তু এখন সারা মৈনট ঘাট ঘুরেও এসব ফসলের দেখা পাওয়া যায় না। আর এর মূল কারণ এই বালু ব্যবসা।'স্থানীয় আরও কয়েকজন কৃষক জানান, এখানে বালু ব্যবসা করছেন সব প্রভাবশালী। তাঁদের কিছু বলা যায় না। আর এই বালুর কারণে তাঁরা কোনো ফসলই আবাদ করতে পারছেন না। সব জমি আস্তে আস্তে বালু ব্যবসায়ীরা কিনে নিচ্ছেন। এ রকম চলতে থাকলে কিছুদিন পর আর চাষযোগ্য জমি থাকবে না।সবুজ নামে এক পথচারী বলেন, 'প্রথম দিকে আমরা সময় পেলেই মৈনট ঘাটে আসতাম। তখন মৈনট ছিল সবুজ ফসলে ঘেরা। আর এখন প্রয়োজনেও আসতে ইচ্ছে করে না। এখন এলেই বালুতে তলিয়ে যাই, এর ফলে গোসল না করা পর্যন্ত সারা দিন শরীর চুলকায়।'আর এসব বালু পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাক। উপজেলার প্রতিটি সড়কে দাপিয়ে বেড়ায় বেপরোয়া ওই ট্রাকগুলো। এসব ট্রাকের বেশির ভাগেরই নেই বৈধ কাগজপত্র। এ ছাড়া তাঁরা বেপরোয়া গতিতে হাইড্রোলিক হর্ন বাজিয়ে গাড়ি চালান। বেশির ভাগ চালকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। সব মিলিয়ে নিয়মকানুন ছাড়াই দিনরাত সড়কগুলো দখল করে রেখেছে মাটি ব্যবসায়ীদের এই যন্ত্রদানবগুলো।বিশেষ করে স্কুল চলাকালে ট্রাকের বেপরোয়া গতি জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এযাবৎকালে উপজেলার বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এসব ট্রাকের চাপায়।স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিচয়ে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মিলে শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে এই বালু ব্যবসা করে যাচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কোনো কথা বলতে পারেন না।স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ফসল বুনে যে টাকা আয় হয়, তাঁর থেকে বেশি হয় বালু বিক্রি করে। আর সে জন্যই অনেকেই ফসল বোনা বাদ দিয়ে বালুর ব্যবসা ধরেছেন।বালুর ট্রাকের কারণে ফসলি জমির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাঘাট। এ ছাড়া মৈনট ঘাট ইতিমধ্যে মিনি কক্সবাজারের খ্যাতি অর্জন করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে পর্যটকেরা ঘুরতে আসেন। কিন্তু বালুর কারণে এখানে পর্যটকেরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।বেপরোয়া এই বালু ব্যবসা ও ট্রাকের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে একসময় মৈনট ঘাট পর্যটকশূন্য হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি বলেন, 'আমরা বিষয়টি জেনেছি। সেখানে খুব দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে।'
6
সারা বিশ্বেই এখন অর্থনীতির মাথাব্যথার প্রধান কারণ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। উন্নত দেশগুলো কোভিডের প্রভাব মোকাবিলায় মানুষকে নগদ প্রণোদনা দিয়েছে। তাতে মানুষের সঞ্চয় বেড়েছে, কমেছে ঋণ। এতে কেনাকাটা বেড়েছে। আইএমএফের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরবিআইয়ের সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন মনে করেন, এবারের মূল্যস্ফীতির ভিন্ন এক মাত্রা আছে। সেটি হলো শ্রমবাজারের শক্তি। এবার শ্রমিকদের মনোভাবে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের শ্রমিকেরা এখন নিম্নদক্ষতার কাজে আগ্রহী নন, বিশেষ করে যেসব পেশায় একসঙ্গে অনেক মানুষকে কাজ করতে হয়, সেসব কাজে। তাঁরা এখন ক্যারিয়ারের অগ্রগতি নিয়ে চিন্তিত। এ পরিস্থিতিতে কাজের বাজারের চাহিদার সঙ্গে জোগানের সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হয়েছে। রঘুরাম রাজন বলেন, নিউইয়র্ক শহরে এখন বেকারত্বের হার ১০ শতাংশের মতো। এ শহরের নিম্নদক্ষতার কাজ, অর্থাৎ যেসব পেশায় শ্রমিকদের গাদাগাদি করে কাজ করতে হয়, সেসব কাজ এখনো শুরু হয়নি। আবার অনেক জায়গায় নিয়োগদাতারা লোকের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন, কিন্তু লোক পাচ্ছেন না। রেস্তোরাঁর খাবার পরিবেশনকারী থেকে শুরু করে ঝালাইয়ের কাজ যাঁরা করেন, তাঁদের সবার মধ্যেই পরিবর্তন আসছে। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন যেটা ঘটে গেছে, সে সম্পর্কে রঘুরাম রাজন বলেন, বেশ কিছু কারণে মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতি সমর্থন করতে শুরু করেছেন।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রঘুরাম রাজন এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ। মূল্যস্ফীতি নিয়ে রঘুরাম রাজন আলোচনার সূত্রপাত করার পর আলোচনা করেন গীতা গোপীনাথ। তিনি বলেন, রঘুরামের ভাষ্যমতে, এবারের মূল্যস্ফীতি কত দিন বাড়তি থাকবে, সেটা আলোচ্য বিষয় নয়। রঘুরাম সম্ভবত বলতে চাচ্ছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সত্তরের দশকের অবিশ্বাস্য রকমের উচ্চ মূল্যস্ফীতির যুগে ফিরে যাচ্ছে, যার রাশ টানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন ৭-৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। গীতা গোপীনাথ আরও বলেন, শ্রমবাজারে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর চাপ আছে। নিম্নদক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিকদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ছে। আর করপোরেট মুনাফার পুনর্বণ্টন হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি হারে। কিন্তু এই মজুরি বাড়ার কারণে যে চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাবে, তেমনটা হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, কোম্পানিগুলোর সেটা ধারণ করার সক্ষমতা নেই। সংকটের আগেও এটা দেখা গেছে। এবার যা দেখা যাচ্ছে, সেটা হলো এই মজুরি বৃদ্ধির প্রভাব পণ্যমূল্যে পড়ছে। মহামারির ধাক্কায় বিশ্ব নিশ্চিতভাবেই আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে অটোমেশন বা স্বতশ্চলীকরণের দিকে এগোবে। অর্থ আগের চেয়ে আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হবে, এর বাইরে আছে বিশ্বায়ন। বিশ্বায়নের বর্তমান গতিপ্রকৃতির কারণে বৈশ্বিক সংযোগ বরং কমেছে। প্রতিযোগিতা কমে গেছে এবং পরিণামে প্রযুক্তির স্থানান্তরের গতি খুবই কম। এসবের প্রভাব প্রকৃত অর্থেই অনুভূত হবে। মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ মেয়াদে বাড়তি থাকবে। গীতা গোপীনাথ মনে করেন, মূল্যস্ফীতির হার দুই অঙ্কের ঘর হয়তো ছোঁবে না, তবে দীর্ঘ কোনো এক সময় মূল্যস্ফীতির হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি থাকবে। আর তা লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে নিয়ে আসতে কঠোর নীতি প্রণয়ন করতে হবে। কিন্তু বাজার সেই জায়গায় আছে বলে মনে করছেন না গীতা।২০০৭-০৮ সালে আর্থিক সংকটের পর উন্নত দেশগুলো কঠোর মুদ্রানীতির মাধ্যমে ঋণের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা কমে যায়, যার আরেকটি কারণ হচ্ছে আয় বা সম্পদ বণ্টনে অসমতা। রঘুরাম রাজন মনে করেন, সম্পদ বিতরণে গরিবের চেয়ে ধনীর অংশীদারি বেশি হলে সমস্যা হলো, ধনীদের ভোগপ্রবণতা গরিবের তুলনায় কম। এতে বাজারে গতি আসে না। এবারের সংকটে অবশ্য ঠিক তার উল্টোটা ঘটছে বলে দেখছেন রঘুরাম-নিম্ন আয়ের মানুষের মজুরি ও আয় বাড়ছে। সমাজে দীর্ঘ মেয়াদে চাহিদা বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, ২০০৭-০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর যার অভাব দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার অবকাশে আছে। তবে সবচেয়ে সুখের খবর হলো, আয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সমতা আসছে, তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির যুগ২০০৭-০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর দীর্ঘ সময় উন্নত দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতির হার কম ছিল। কিন্তু এখন সম্ভবত উচ্চ হারের মূল্যস্ফীতির যুগ শুরু হচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। উন্নত দেশে মূল্যস্ফীতির হার বার্ষিক হিসাবে ৫ থেকে ১০ শতাংশের ঘরে চলে যাবে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি বিভাগের সাবেক সদস্য চার্লস গুডহার্ট ও মর্গ্যান স্ট্যানলির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোজ প্রধান 'দ্য গ্রেট ডেমোগ্রাফিক রিভার্সাল: এজিং সোসাইটিস, ওয়েনিং ইনইকুয়ালিটি অ্যান্ড ইনফ্ল্যাশন রিভাইভাল' শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন, 'যেসব কারণে বর্তমানে আমরা নিম্ন সুদহারের জমানায় বসবাস করছি, তা সম্ভবত শেষ হতে যাচ্ছে। সেই কারণগুলো হলো চীনের উত্থানের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উত্থান, মজুরি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষমতা হ্রাস, ক্রমবর্ধমান বিশ্বায়ন ও প্রতিযোগিতার কারণে মূল্য হ্রাস।' তাঁরা বলেছেন, বর্তমান জমানা যে কেবল শেষ হতে যাচ্ছে, তা-ই নয়, হাওয়া বিপরীত দিকেও বইতে পারে। আগামী ২০-৩০ বছরে চীন ও পশ্চিমা পৃথিবীতে জাপানের মতো বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাবে। অর্থাৎ যত মানুষ কাজ করবে, তার চেয়ে বেশি মানুষ কর্মক্ষম মানুষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এখন তো কোভিড-১৯-এর প্রকোপ চলছে, তার আগে থেকেই পশ্চিমা দুনিয়া এই ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধ মানুষদের চিকিৎসার খরচ, পেনশন ও ভরণপোষণ দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলাফল হিসেবে এই মহামারি সামলাতে ও বৃদ্ধ মানুষদের ভরণপোষণ দিতে দেশে দেশে ঋণের বোঝা বাড়বে। এর সঙ্গে বিশ্বায়ন বিরোধিতার পালে আরও হাওয়া লাগবে, সরবরাহব্যবস্থার সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ কারখানা নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে। তখন কম শ্রমিক বেশি কাজ করবে, বৃদ্ধ মানুষদের দেখাশোনার মানুষও কমে যাবে। কারখানা দেশে ফিরে এলে স্বাভাবিকভাবে শ্রমিকদের মজুরি বাড়বে, সেই সঙ্গে কমবে অসমতা, বাড়বে মূল্যস্ফীতি। এই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির রাশ টানতে সুদহার বৃদ্ধি করে থাকে। কিন্তু লেখকেরা বলছেন, 'সরকার ও বেসরকারি খাতের ওপর যে পরিমাণ ঋণের বোঝা তৈরি হবে, তাতে রাজনৈতিকভাবে ব্যাপারটা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সেই চাপ থেকে মুক্তি পেতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়াবে বার্ষিক ৫ থেকে ১০ শতাংশ, কোভিড-উত্তর পুনরুদ্ধারকালে আমরা সেটা দেখতে পাব।'
0
আলজেরিয়ার একটি অ্যাপার্টমেন্টে দুই ফিলিস্তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানীর লাশ পাওয়া গেছে। তাদের মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে তাদের নিহতের পিছনে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ' জড়িত থাকতে পারে। নিহতরা হলেন, গাজা উপত্যকর খান ইউনিসের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলবানা এবং ৩৪ বছর বয়সী সুলাইমান আল ফারা। আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের শহরতলি জেরাল্ডায় আল ফারা'র অ্যাপার্টমেন্টে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আলজেরিয়ায় ফিলিস্তিনি দূতাবাস নিহতদের একজনের পরিবারকে জানিয়েছে, তারা গ্যাস ইনহেলেশন বা শর্ট সার্কিটের কারণে মারা যেতে পারেন। অনেক ফিলিস্তিনি মনে করছেন, তাদেরকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং এর জন্য ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ'কে তারা দায়ী করছেন। তবে, আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্ক নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। রোববার আলবানা'র ভাই গণমাধ্যমকে বলেন, 'আমাদের কাছে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই। সেখানে কি ঘটেছে তা জানাতে আলজেরিয়া এবং ফিলিস্তিনি দূতাবাস কর্তৃপ প্রয়োজনীয় সব পদপে গ্রহণ করবে বলে আমি আশা করি।' সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ গুপ্ত হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের পিছনে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের গুপ্তচরদের হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়ার একটি মসজিদে প্রবেশের সময় হামাসের একজন সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাদি আল-বাথকে হত্যা করা হয়। নিহতের পরিবার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই হত্যার জন্য মোসাদকে দায়ী করে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তার হত্যার পিছনে 'বিদেশি এজেন্ট' জড়িত ছিল। দুই বছর আগে হামাসের ড্রোন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ জাওয়াহিরিকে তিউনিসিয়ায় হত্যা করা হয়েছিল। আরো দেখুন :ফিলিস্তিনিদের নীরবে হত্যা করতে চায় ইসরাইল! চলতি সপ্তাহে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে 'ফেসবুক বিল' নামের একটি আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনের ভিত্তিতে সন্ত্রাস উসকে দেয় এমন কোনো বিষয় মুছে ফেলতে ফেসবুক, গুগলসহ অন্যান্য ইন্টারনেট জায়ান্টকে অনুরোধ জানাতে পারবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার নেসেট অপর একটি আইন পাস করেছে যার মাধ্যমে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে দেশটি। কারণ, ওই মানবাধিকার সংস্থাগুলো ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেনাদের দমনপীড়নের বিষয়টি প্রকাশ করছে বলে মনে করছে ইসরাইল। এই নতুন আইনের বিষয়ে ইসরাইলি শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট জানান, যারা ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে তারাই এই আইনের লক্ষ্যবস্তু।শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেটই ওই আইনটির বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন । নাফতালি বেনেট বলছেন, যেসব সাবেক ইসরাইলি সেনা ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন ও নির্মম আচরণ করেছে তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে ইসরাইলি এনজিওগুলো গর্হিত কাজ করছে। তারা আমাদের গোপনীয়তা ফাঁস করে দিচ্ছে। ইসরাইল প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরাইলি বর্বরতার তথ্য বহির্বিশ্ব যাতে অবগত না হতে পারে সেজন্যই ইসরাইলের ওই প্রচেষ্টা। আর এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিরবে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে যাওয়া এবং তাদের হত্যা করা।
3
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩৯ কোটি ২৯ লাখ। একইসঙ্গে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৭ লাখ ৩২ হাজার ৭৫৮ জন। রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জন্স হপকিনস ইউনিভার্সিটির করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টার এ তথ্য জানিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে আরও ২২ লাখেরও বেশি মানুষ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা ছিল ২৯ লাখেরও কিছু বেশি। একই সময়ে মৃত্যু হয় আরও ১১,২৮৪ জনের। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত ও মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে শনাক্ত হয়েছেন ৭ কোটি ৬৪ লাখ ৪৮ হাজার ২৯০ জন এবং মারা গেছেন ৯ লাখ ২ হাজার ১৮২ জন। আক্রান্তের দিক থেকে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতে শনাক্ত হয়েছেন ৪ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৪ জন। মৃত্যুর দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫ লাখ ১১৪ জন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল।মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় ও সংক্রমণের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকা দেশটিতে শনাক্ত হয়েছেন ২ কোটি ৬৪ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪৬ জন এবং মারা গেছেন ৬ লাখ ৩২ হাজার ৯৫ জন।
3
একাত্তরে বয়স মাত্র তিন বছর। অথচ ভুয়া জন্মসনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করে ২০০৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শিশু মুক্তিযোদ্ধা খ্যাত বিমল চন্দ্র মজুমদার।গত ১৭ বছর ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন তিনি। অবশেষে ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার ঘটনাটি ফাঁস হয়ে গেলে, তিনি নিজেই মুক্তিযোদ্ধা নন বলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটিকে জানান।আজ মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউল হক মীর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনা পেয়ে গেজেটপ্রাপ্ত সন্দেহভাজন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কমিটিতে ডাকা হয়। উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোহন্ত ডাক্তার বাড়ির মৃত পরেশ চন্দ্র মজুমদারের ছেলে বিমল চন্দ্র মজুমদার একাত্তর সালের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না বলে লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিমল চন্দ্র মজুমদার ২০০৪ সালে ভুয়া জন্ম সনদ দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি তাঁর প্রকৃত জন্মতারিখ ১৯৬৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্মসনদ দিয়ে ১৯৯৯ সালে কোম্পানীগঞ্জের বামনী ডিগ্রি কলেজে সাচিবিক বিদ্যা বিষয়ে প্রদর্শক পদে নিয়োগ পান। কিন্তু ১ জানুয়ারি ১৯৫৭ সালের ভুয়া জন্মসনদ ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ২০০৪ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় গেজেটভুক্ত হন তিনি। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বই নম্বর-২৪৮। এ ছাড়া সন্তানের ক্ষেত্রেও তিনি এই সুবিধা নেন।উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্র জানায়, তিনি ২০০৪ সাল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেলেও তাঁর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রাপ্তি শুরু হয় ২০১৪ সালে জুলাই মাস থেকে।সোনালী ব্যাংক বসুরহাট শাখা সূত্রে জানা যায়, বিমল চন্দ্র মজুমদারের মুক্তিযোদ্ধা হিসাব (হিসাব নম্বর-১৫০৭৪) নম্বরে মোট চার লাখ ৭৫ হাজার ৯৬২ টাকা জমা হয়েছে। সেখান থেকে দুই লাখ ২৮ হাজার ৫২৪ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে এই হিসাবে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৩৮ টাকা জমা আছে।বিমল চন্দ্র মজুমদার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'দুষ্ট লোকের প্ররোচনায় আমি মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া কাগজ দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলাম। বর্তমানে আমি সেই তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে আবেদনও করেছি।' উত্তোলনকৃত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, অনৈতিক পন্থায় উত্তোলনকৃত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ফেরত দেবেন।উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (মুজিব বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান বলেন, 'বিমল চন্দ্র মজুমদার কখনোই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তখনকার সময়ে রাজনৈতিকভাবে তাঁকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে। এখনো কোম্পানীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।'উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. রাসেল আহমেদ বলেন, 'বিমল চন্দ্র মজুমদারের বীর মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি সন্দেহ হলে ২০১৯ সালে সোনালী ব্যাংক বসুরহাট শাখাকে তাঁর ভাতা উত্তোলন স্থগিত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এখন তাঁর ওই হিসাব নম্বরে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৩৮ টাকা জমা আছে। বিমলের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উত্তোলনকৃত টাকা উদ্ধারের বিষয়ে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
'মাইয়া মানুষের তেজ থাকতে নাই', 'দাসী-বান্দির মতো পড়ে থাক' এমন নানান কথা শুনতে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের অ্যাসিডদগ্ধ মহসিনাকে। হার না-মানা এক জীবনের গল্পে আর হতাশার কথা বলতে ভালো লাগে না মহসিনা বেগমের (৫২)। আলাপের একপর্যায়ে বললেন, 'না খাইয়া মরি মরি অবস্থা ছিল। তখনো কাজ করতে গেলে শুনতে হইছে নিজের দোষেই নাকি মুখ পুড়ছে। মাইয়া মানুষের নাকি ত্যাজ থাকতে নাই। দাসী-বান্দির মতো নাকি স্বামীর ঘরে পইড়া থাকতে হয়। আমি ওই সব বিশ্বাস করি নাই। বাঁচতে হয় সম্মান নিয়া।' নিজের আয়ে তৈরি ছোট্ট দোচালা ঘরে সেলাই মেশিনে কাজ করতে করতেই জীবনের গল্প বলছিলেন মহসিনা বেগম (৫২)। মেশিনের সুই-সুতার এফোঁড়-ওফোঁড় করা ওঠানামায় তখন মহসিনার হাতে সেলাই হচ্ছিল আরও একটি নতুন জামা। পায়ে মেশিন চেপে মহসিনা যখন কথা বলছিলেন, তখন তাঁর চোখ নিখুঁত সেলাইয়ে। দুঃখের দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে সে চোখ অশ্রুতে ভরে ওঠে। ওড়নায় চোখ মুছে আবারও লড়াকু জীবনের গল্প বলতে শুরু করেন মহসিনা। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ব্রাহ্মণদী ইউনিয়নে মহসিনার বাবার বাড়ি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে একই গ্রামের মো. জাকারিয়াকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর শুরু হয় আরেক বিভীষিকার জীবন। যৌতুকের জন্য দিনরাত স্বামীর নির্যাতনের শিকার হন। বিয়ের বছরেই স্বামীর ঘর ছাড়েন। আশ্রয় নেন বাবার বাড়িতে। সেখানেই একদিন ঘুমের মধ্যে স্বামীর ছোড়া অ্যাসিডে ঝলসে যায় মহসিনার মুখ। আবারও বিয়ে হয় মহসিনার। কিন্তু সাত বছরের সে সংসারেও সুখ আসেনি। ছোট দুই মেয়েকে রেখে আরেকটি বিয়ে করে আলাদা ঘর বাঁধেন মহসিনার দ্বিতীয় স্বামী। আবারও বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। নিজেই শুরু করেন ভাগ্য গড়ার কাজ। অত্যাচার নির্যাতনের স্মৃতি আর অ্যাসিডে ঝলসানো মুখ নিয়ে সেলাই মেশিনের কাজ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মহসিনা। আশপাশের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন লড়াকু এক জীবনের উদাহরণ। 'নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুনে উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী' ক্যাটাগরিতে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মহসিনার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় সেলাইয়ের কাজ শেখেন। নিজেই জামা বানিয়ে বিক্রি শুরু করেন। সেই আয়ে দুই সন্তানের পড়াশোনা হয়, নিজের ছোট ঘর আর আসবাবপত্রও হয়। অ্যাসিডে ঝলসানোর পর নিজের চিকিৎসা করতে না পারা মহসিনা বছর দশেক আগে নিজের চিকিৎসাও করিয়েছেন ঢাকার একটি হাসপাতালে। মহসিনা বলেন, 'পোড়া মুখ নিয়া সমাজে বাঁইচা থাকাটা সহজ না। নারীরা আগাইতে চাইলে সমাজ পেছন থেইকা টাইনা ধরে। পদে পদে যুদ্ধ কইরা আগাইতে হয়। এই যুদ্ধটা নিজের একার। ঘরে-বাইরে যুদ্ধ কইরাই বাঁইচা আছি।'
6
নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির চলমান সংলাপকে 'সময়ের অপচয়' বলে উল্লেখ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এ সংলাপে তাঁর দল অংশ নেবে না বলেও জানান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। এর আগে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংলাপের আমন্ত্রণ পেয়েও অংশ নেয়নি। এ ছাড়া বিএনপি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ সংলাপে অংশ নেবে না। সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল হক বলেন, এ সংলাপ অপ্রয়োজনীয় ও প্রচারসর্বস্ব। রাষ্ট্রপতি ব্যক্তিগতভাবে যা-ই মনে করুন না কেন, প্রধানমন্ত্রীর মতামত ও পরামর্শের বাইরে সাংবিধানিকভাবে তাঁর কিছুই করার অবকাশ নেই। বিগত দুই নির্বাচন কমিশন এবং তার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও সার্চ কমিটির অভিজ্ঞতাই এর বড় নজির। সরকারি দলের পছন্দের বাইরে এবারের নির্বাচন কমিশন গঠিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই মন্তব্য করে সাইফুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচনী ব্যবস্থা ধসে পড়ার সংকটটি রাজনৈতিক। রাষ্ট্রপতির ওপর ভর দিয়ে এ সংকটের সমাধান করা যাবে না। প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে দ্রুত উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রপতি সরকারকে পরামর্শ দিতে পারেন। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে সময় কোনো সমস্যা নয়।
9
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্তরা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তারা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যান। সোমবার মেজর সিনহা হত্যা মামলায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেন মামলার প্রধান আসামি পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত ও টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশকে মৃত্যুদণ্ড, অপর ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন ও বাকি সাতজনকে বেকসুর খালাস দেন। কক্সবাজার জেল সুপার নেছার আলম বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পান সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, এপিবিএনের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ।
6
সঠিক দামে যেমন দুর্মূল্য হীরা-জহরত পাওয়া যায়, তেমনি পাওয়া যায় আরাম-আয়েশ। আরামপ্রিয়, বিলাসী আর শৌখিন ধনী মানুষের জন্য পৃথিবীতে আছে বহু দামি পেন্ট হাউস। পেন্ট হাউস হলো কোনো অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং, কন্ডোনিয়াম, হোটেল বা টাওয়ারের একেবারে টপ ফ্লোর। এগুলোর ভাড়া সাধারণত হোটেলের চেয়ে বেশি হয়।৫২ তলায় ৫২ লাখবলা হচ্ছে আমেরিকার টাই ওয়ার্নার পেন্ট হাউসের কথা। এটি ফোর সিজনস নেটওয়ার্কের পেন্ট হাউস। পেন্ট হাউসটি যে বিল্ডিংয়ে, সেটি ১৯৮৯ সালে তৈরি হয়। সময় লাগে সাত বছর, খরচ হয় ৫০ মিলিয়ন ডলার। ৫২ তলায় অবস্থিত এই পেন্ট হাউস থেকে পুরো নিউইয়র্ক শহর দেখা যায়। এক বেডরুমের পেন্ট হাউসটিতে আলাদাভাবে রয়েছে বসার জায়গা। সেখানে বসে পিয়ানো বাজানো বা বই পড়ার সুবিধা আছে। চাইলে ম্যাসাজও করিয়ে নিতে পারবেন। হোটেল ছেড়ে বের হলে আপনাকে রোলস রয়েসে করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ পেন্ট হাউসে এক রাত কাটানোর জন্য খরচ করতে হয় ৬০ হাজার ডলার বা প্রায় ৫২ লাখ টাকা।দ্য মার্ক পেন্ট হাউসমার্ক পেন্ট হাউসে এক রাত থাকার খরচ ৭৫ হাজার ডলার বা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের পেন্ট হাউসটি দুটি ফ্লোরজুড়ে বানানো। ছাদ ২৬ ফুট উঁচু। বেডরুম, ৬টি বাথরুম, ৪টি ফায়ার প্লেস ও বড় লিভিং রুম আছে এ পেন্ট হাউসে। ছাদে উঠলে দেখা যাবে নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্কের প্যানোরমিক দৃশ্য।দ্য রয়্যাল পেন্ট হাউসআপনি যদি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যান, তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট উইলসনের নামে একটি হোটেল পাবেন। সে হোটেলের ৮ তলার পেন্ট হাউসটির নাম দ্য রয়্যাল পেন্ট হাউস। তার এক রাতের ভাড়া ৮০ হাজার ডলার বা প্রায় ৬৯ লাখ টাকা। এখানে সিনেমা দেখা, পিয়ানো বাজানো ও বিলিয়ার্ড খেলার ব্যবস্থা আছে। হট বাথটাবে গোসল করতে করতে দেখা যাবে মঁ ব্লঁ পাহাড় ও জেনেভা লেক। ১২টি রুম, ১২টি বাথরুমের এই পেন্ট হাউসের গ্লাসগুলো বুলেটপ্রুফ। সার্বক্ষণিক সেবায় থাকবে একজন ব্যক্তিগত সহকারী, শেফ ও বাটলার।এম্প্যাথি স্যুট দ্য পামসআমেরিকার লাসভেগাস শহর মানেই বিলাস আর আমোদপ্রমোদের অফুরান সম্ভার। লাসভেগাসের হোটেলটির এক রাতের ভাড়া ১ লাখ ডলার বা প্রায় ৮৬ লাখ টাকা। এই পরিমাণ অর্থ খরচের সামর্থ্য থাকলে আপনি পাবেন দুটি মাস্টার বেডরুম, ম্যাসাজ টেবিল। ৯ হাজার বর্গফুটের বিশাল এই স্যুট নানা রকমের চিত্রকর্ম দিয়ে সাজানো। এতে আরও আছে জাকুজি বা হট বাথটাব। কাচের জানালা দিয়ে লাসভেগাসের চোখধাঁধানো আলোও দেখতে পাবেন স্যুটে বসেই।লাভার'স ডিপ লাক্সারি সাবমেরিন হোটেলএক রাতের জন্য যদি সমুদ্রতলে থাকার সুযোগ পান, তবে কী না করবেন? সাবমেরিনের ভেতর বসে কাচের জানালায় চোখ রাখলেই দেখতে পাবেন সমুদ্রতলের বাসিন্দাদের। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দ্বীপদেশ সেন্ট লুসিয়ায় পাবেন এই পাঁচ তারকা হোটেল। সেখানে থাকবে ব্যক্তিগত শেফ ও ক্যাপ্টেন। যে লোকেশনে যেতে বলবেন, ক্যাপ্টেন আপনাকে সেখানে নিয়ে যাবে। আয়েশ করে সামুদ্রিক প্রাণী দেখার বিলাসিতা করতে চাইলে এক রাতের জন্য খরচ করতে হবে দেড় লাখ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা।সূত্র: ট্র্যাভেল টপলিস্ট
6
প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপির পিতা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি'র ১৬তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। করোনা কারণে মরহুমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সকল আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত করা হয়েছে। আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি জানান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গ্রামের বাড়ি হায়দ্রাবাদে মরহুমের কবরস্থান প্রাঙ্গনে ৭ জন কোরানে হাফেজের সমন্বয়ে শুধু কোরানখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি করোনা সময়ে মরহুমের পারিবারিক কবরস্থান প্রাঙ্গনে না এসে দেশবাসীকে তাঁর ভাইয়ের জন্য ঘরে বসে দোয়া করার আবেদন জানিয়েছেন। এই হত্যা মামলার রায়ে ২০০৫ সালের ১৬ মে ২২ জনের ফাঁসি ও ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। ২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্ট ডিভিশন আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, জেল আপীল ও আবেদনের শুনানী শেষে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে ১১ জনকে খালাস দেয় আদালত। বিচার চলাকালে ২ আসামীর মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপীল নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামির কোন আপিল না থাকায় তার পূর্বের রায়ই বহাল রাখা হয়। আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি গাজীপুর-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দুইবার সংসদ সদস্য, ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৩ ও ১৯৮৭ সালে দু'দফা পূবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মরহুম আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সস্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য, শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
বান্দরবানের রুমা সেনা জোনের আওতাভুক্ত বড়থলি পাড়াসংলগ্ন বথি ম্রোপাড়ায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধে উভয় পক্ষের চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে একজন সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান এবং অন্য তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের সদস্য। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রুমা সেনা জোনের দায়িত্বরত ২৮ বীর ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দলের সঙ্গে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধ ঘটে। এ সময় সেনাবাহিনীর অন্য এক সৈনিক ফিরোজ হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে সামরিক হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর নিহত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমানকে গতকাল সন্ধ্যায় পটুয়াখালীতে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে তাঁর লাশ পটুয়াখালী নেওয়া হলে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বান্দরবানের স্থানীয় সূত্রগুলো নিহত তিন সন্ত্রাসীর নাম-পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। এরা হলেন- রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের নিয়ক্ষ্যং পাড়ার বাসিন্দা চ মং প্রু, রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার জয় চাকমা ও বড়কল উপজেলার দিলীপ চাকমা। সূত্রগুলো জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পরিচয়ে তাদের প্রায়ই রুমা বাজারে এসে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। বিডি-প্রতিদিন/আবুল্লাহ সিফাত/শফিক
6
কাউনিয়ার মেনাজবাজার গোল্ডেন ঘাটে তিস্তার শাখায় একটি পাকা সেতুর জন্য অপেক্ষা আর শেষ হচ্ছে না ১০ গ্রামের মানুষের। জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাস দেন, কিন্তু সেতু আর হয় না। এলাকাবাসী ১২ বছর ধরে নদী পাড়ি দিচ্ছেন বাঁশের সাঁকোতে করে।এই পারাপারের জন্য দিতে হচ্ছে টোল। মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের জন্য দিতে হয় পাঁচ টাকা। আর ১৫ বছরের নিচের শিশুদের দুই এবং বড়দের তিন টাকা পরিশোধ করতে হয়।সরেজমিনে দেখা গেছে, হারাগাছ পৌরসভার ওই ঘাটে নদীর ওপর রয়েছে প্রায় ১৫০ মিটার লম্বা বাঁশের সাঁকো। এটি হারাগাছ পৌরসভা, হারাগাছ ইউনিয়ন ও উপজেলাকে যুক্ত করেছে। আশপাশের চরচতুরা, টাংরিরবাজার, মায়ারচর ও চরচারমাথাসহ ১০ গ্রামের মানুষ এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৮৮ সালের দিকে এখানে ছিল মূল তিস্তা নদী। ওই বছর বাঁধ নির্মাণের ফলে গতিপথ পরিবর্তন করে নদী ভাটির দিকে চলে যায়। এখানে থেকে যায় শাখা। এরপর উত্তর প্রান্তের মানুষেরা দীর্ঘদিন ধরে ভেলা ও নৌকায় করে নদী পারাপার হতো। শেষে অনেক দাবি জানানোর পরও সেতু না পেয়ে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন।বর্তমানে শিক্ষার্থীসহ এলাকার সব মানুষকে সাঁকো দিয়েই ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হচ্ছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নদী পারাপারে এটিই একমাত্র ভরসা।ঠাকুরদাস গ্রামের আবুল কালাম জানান, নদীর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে খানসামা হাট। সপ্তাহে দুই দিন বসা এ হাটে চরাঞ্চলের ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ কেনাকাটা করেন। তখন সাঁকো পারাপারে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।চরচতুরা গ্রামের কৃষক আজহার আলী জানান, বছরের বেশির ভাগ সময় তিস্তার শাখায় পানি থই থই করে। সেতুর অভাবে কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করতে না পারায় কৃষকেরা পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করে দেন।একই এলাকার ছাবেদ আলী বলেন, 'আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত, চলাফেরা, হাটে পণ্য আনা-নেওয়ায় অনেক কষ্ট হয়। অসুস্থ রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।'বর্ষাকালে নদীতে পানি বেশি হলে সাঁকোর ওপর দিয়ে ছোট ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে অনেক অভিভাবক ভয় পান বলে জানান গোল্ডেন ঘাট এলাকার ইমাম আল হোসাইন।ঘাট এলাকার নুর জামাল সানাই জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানোর পরও সেতু না পেয়ে এলাকাবাসী বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করে। এটি সংস্কারে অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু সংস্কারের জন্য কোনো সহায়তাও মেলে না। তাই সোম ও শুক্রবার সপ্তাহে দুই দিন টোল তোলা হয়। সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থী ও কৃষকসহ সব লোকজনের কাছ থেকে এই টোল আদায় করা হয়।নদীতে পাকা সেতু নির্মাণ করা হলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান পাল্টে যাবে বলে মন্তব্য করেন হারাগাছ পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুবর রহমান। তিনি জানান, নদীর দক্ষিণ পাশে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি মাদ্রাসাসহ দুটি বাজার ও একটি হাট রয়েছে। এ জন্য নদীর উত্তর পাড়ের গ্রামের সব মানুষকে সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়।হারাগাছ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মর্তুজা এলাহী জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে গোল্ডেন ঘাটে ১৪০ মিটার দৈর্ঘ্য পাকা সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।হারাগাছ পৌরসভার মেয়র এরশাদুল হক এরশাদ বলেন, 'গোল্ডেন ঘাট এলাকায় পাকা সেতু নির্মাণের জন্য আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি। বরাদ্দ পেলে সেতু নির্মাণ করা হবে।
6
নিজ নিজ দপ্তরে যোগদানের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসন ভবন ও উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সদ্যনিয়োগ পাওয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তারা তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন। বেলা ১১টার সময়ও তাদের কর্মসূচি চলছিল। এর আগেও কয়েক দফায় প্রশাসন ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন করেছেন তারা। আন্দোলনকারীরা জানান, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটির মিটিং হওয়ার কথা ছিল। এছাড়াও ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা রয়েছে।তাদের কাজে যোগদানের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকাণ্ড চলতে দেবেন না। আন্দোলনকারী মতিউর রহমান মর্তুজা বলেন, আমরা নিজ দপ্তরে যোগদানের দাবিতে অবস্থান নিয়েছি। যতদিন যোগদান করতে না পারব ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে। রুটিন উপাচার্য আমাদের কাজে যোগদান করতে না দিয়ে নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। তিনি অর্থ কমিটির সভা, সিন্ডিকেট সভা করছেন। এটা হতে দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, তালা লাগানোর ঘটনাটি আমি শুনেছি। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা কয়েকদিন থেকেই শুনেছিলাম। সে কারণে প্রক্টরের মাধ্যমে থানায় মৌখিক ও লিখিতভাবে জানিয়েছি। উচ্চ পর্যায়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গত ৬ মে উপাচার্য হিসেবে শেষ কার্যদিবস পালন করেন অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। মেয়াদের শেষ দিনেই অ্যাডহকে নিয়োগ দেন ১৪১ জনকে। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্তান, স্ত্রী ও স্বজন, ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান নেতাকর্মী ও সাংবাদিক রয়েছেন। 'বিতর্কিত' এই নিয়োগকে অবৈধ উল্লেখ করে ওইদিন সন্ধ্যায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তদন্ত করে গত ২৩ মে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এতে এ নিয়োগকে 'অবৈধ' উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কমিটি এ নিয়োগে বিদায়ী উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে।
6
মাঘ মাসে আকস্মিক অবিরাম বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়ার কারণে দেশের সর্ববৃহৎ আলু উৎপাদনকারী বিভাগ রংপুরের ৫ জেলায় আলু ক্ষেতের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। গত দুদিনে অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমির রোপন করা আলুর ক্ষেতে পানি প্রবেশ করায় বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ক্ষেতে থাকা আলুতে পচন ধরে বেশির ভাগ আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ। এছাড়াও সরিষা, ধানের চারাসহ নানা ফসলের ব্যপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬ টা থেকে শনিবার সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মাঘ মাসে এধরনের অবিরাম বৃষ্টিপাতের ঘটনা গত ৫০ বছরেও হয়নি বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। সরেজমিন রংপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে জেলার ৬টি উপজেলায় আলুর ও সরিষা ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে জমিতে থাকা আলুতে পচন ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া তাদের আলু বাঁচাতে কৃষকরা ক্ষেত থেকে পানি অপসারণের চেষ্টা করছেন। নগরীর উপকন্ঠে মাহিগঞ্জ, রঘু কলাবাড়ি এলাকা ঘুরে আলু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন জমিতে পানির প্রয়োজন নেই, আর মাত্র ১৫ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে তাদের আলু ক্ষেত থেকে তোলার কথা। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৯৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এ্যাস্টারিক্স, মিউজিকা, কার্ডিনাল, কারেজ, সাদিকা, গ্র্যনুলা, ডায়মন্ড, লরা, রোমনা ও সেভেন্টি জাতেরসহ আলু রয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে বিভিন্ন জাতের ২২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন আলুর উৎপাদন সম্ভব হতো। যা দেশের মোট চাহিদার ৪ ভাগের এক ভাগ। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টি কৃষকদের সব স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে গেছে। বেশিরভাগ কৃষকই চড়া সুদে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান বলেন, "এবার রংপুর বিভাগে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে আলু আবাদে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে । এই ক্ষতি থেকে কাটিয়ে উঠতে আলু চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।"
6
শুধু যে কনের পোশাকে বৈচিত্র্য এসেছে তা নয়, বরের পোশাকও হয়েছে বর্ণিল। আর তাই দেখা গেল একটি কিউতে। কনেরা পরে এলেন গাউন, লেহেঙ্গা, শেরওয়ানি, জ্যাকেট আর বরেরা পরে এসেছিলেন শেরওয়ানি, স্যুট ও প্রিন্সকোট। একে একে হাঁটেন মডেল রিবা, মিথিলা, মেঘলা, মাশিয়াত, তাবিন্দা, জলি, রাজ ম্যানিয়া, সালমান, রূপম, অর্ক, সুজন, রাব্বি, সামির ও অপূর্ব।
4
রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর লম্বা সময় ধরে বেকার সময় পার করেছেন জিনেদিন জিদান। বিভিন্ন সময়ে একাধিক ক্লাবকে জড়িয়ে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্লাবের সঙ্গে ঘর বাঁধেননি এই কিংবদন্তি ফরাসি ফুটবল তারকা।গত কদিন ধরে জিদানকে ঘিরে শোনা যাচ্ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নাম। গুঞ্জন আছে, সাবেক শিষ্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও রাফায়েল ভারানের সঙ্গে নতুন করে জুটি গড়তে পারেন জিদান। তবে জিদানের ম্যানইউতে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন তাঁর স্ত্রী ভেরোনিক জিদান।পারফরম্যান্সের কারণে ম্যানইউর ভক্তরা ওলে গুনার সুলশারের ওপর অনেক দিন ধরেই চটে আছেন। সুলশারের জায়গায় নতুন কোচ দেখার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। নতুন চাকরির খোঁজে থাকা জিদানকেও কোচ হিসেবে চেয়েছিলেন অনেকে। এর আগে কোচ হয়ে আসার কথা ছিল আন্তেনিও কন্তেরও। তবে কন্তে টটেনহামে চলে যাওয়ার পর জিদানের ম্যানইউতে আসার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু স্ত্রীর কারণে জিদানের হয়তো আপাতত ইংল্যান্ডে আসা হচ্ছে না।স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা বলছে, জিদানের ম্যানইউতে আসার পথে বড় বাধা তাঁর স্ত্রী ভেরোনিক। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ম্যানচেস্টারে জীবনযাপনের যে ধরন, তার সঙ্গে ভেরোনিক অভ্যস্ত নন। যে কারণে তিনি চান ম্যানইউতে কাজ করার বদলে প্রয়োজনে জিদান আরও বিশ্রাম নিন। কিংবা জিদান চাইলে অন্য কোথাও চাকরি খুঁজে নিতে পারেন। স্ত্রীর এই অনড় অবস্থানকে এখন জিদান-রোনালদোর পুনর্মিলনীর পথে বড় বাধা বলে ধরা হচ্ছে।
12
পরিবেশবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ফুটপাত দখলমুক্ত এবং নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার বিষয়ে জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনাকালে নগরবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে (রাসিক) পরিচ্ছন্ন রাখার অংশ হিসেবে মেয়র লিটনের নেতৃত্বে রাসিকের কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম চালানো হয়। এ অভিযান চালানো হয় নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে কুমারপাড়া মোড়, সাহেববাজার, রাজশাহী কলেজ, সিটি কলেজ, মালোপাড়া, গণকপাড়া, ভুবন মোহন পার্ক, নাজমুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, নিউ মার্কেট রোড, বিন্দুর মোড় হয়ে নগর ভবন গেট পর্যন্ত। এ সময় মেয়র ও কাউন্সিলররা দোকানদার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করতে লিফলেট ও প্রতিটি দোকানে একটি করে ডাস্টবিন বিতরণ করেন। ফুটপাত পরিদর্শনকালে মেয়র ব্যবসায়ীদের মালপত্র নিজ দোকানের মধ্যে রেখে ব্যবসা করতে অনুরোধ জানান। ফুটপাত দখল করে যারা দোকান বসিয়েছেন এবং ব্যবসা করছেন, তাদের তা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাসিকের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মমিন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু, মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফিরোজ কবির সেন্টু, মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মামুন প্রমুখ।
6
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক নিহত হওয়ার বিষয়কে 'দুর্ঘটনা' বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে অঙ্গরাজ্যটির ব্রুকলিন সেন্টার শহরে পুলিশের গুলিতে ডন্টি রাইট (২০) নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক নিহত হন। ব্রুকলিন সেন্টার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাফিক আইন অমান্য করার পর ডন্টি রাইটকে থামাতে গেলে বিপত্তি বাধে। তার সঙ্গে পুলিশের তর্ক হয়। একপর্যায়ে ডন্টি রাইট ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে উদ্যত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তা বৈদ্যুতিক শক ছুড়ে অজ্ঞান করার যন্ত্র বা ট্যাজার দিয়ে তাকে থামাতে উদ্যত হন। খবর আল জাজিরার ব্রুকলিন সেন্টার পুলিশের প্রধান টিম গ্যানন জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা তার কোমরে থাকা ট্যাজার ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ভুলক্রমে পিস্তল ব্যবহার করে ফেলেন। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ডন্টি রাইট। এদিকে এ ঘটনায় ব্রুকলিন সেন্টারসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রুকলিন সেন্টার শহরে কারফিউ জারি করা হয়। তবে কারফিউ অমান্য করেই বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ করেন। শহরটির মেয়র মাইক ইলিয়ট জানিয়েছেন, একটি যৌথ কমান্ড সেন্টার থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে লোকজনকে রাজপথের বিক্ষোভ থেকে ঘরে পাঠানোকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে গত বছরের মে মাসে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে নিহত হন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড। তার মৃত্যুর জেরে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো যুক্তরাষ্ট্র।
3
বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্ভিস প্রোভাইডার পরিবর্তনের কারণে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ ও সিস্টেম সেটআপের সুবিধার্থে আগামী ২০ মার্চ মধ্যরাত থেকে ২৫ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রেনের অনলাইন টিকেট বিক্রি বন্ধ থাকবে। এ সময় কাউন্টার থেকে পুরোনো পদ্ধতিতে শতভাগ টিকেট বিক্রি হবে। আজ সোমবার (১৪ মার্চ) রেলভবনে সাংবাদিকদের সামনে এ তথ্য তুলে ধরেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। রেলমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি'র সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেটিং সিস্টেম পরিচালনার জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে টিকেট বিক্রির দায়িত্ব পালন করত সিএনএস নামক প্রতিষ্ঠান। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সহজ কাজটি পায়। নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, রেলকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। মানুষকে আরো ভালো সেবা দেয়ার উদ্দেশ্যে আমরা নতুন কোম্পানিকে দায়িত্ব দিয়েছি। কারণ রেলওয়ের টিকেট বিক্রিতে স্বচ্ছতা আনা ও সহজলভ্য করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, রেলওয়ের টিকেট বিক্রির নিজস্ব সক্ষমতা এখনও গড়ে ওঠেনি। কাজেই এ ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
6
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ে ২২০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমির দলিল ও গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপকারভোগীদের মাঝে এসব গৃহ হস্তান্তর করা হয়। ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিমউদ্দিনের সভাপতিত্বে ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হল রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুবর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহিমা কাদের চৌদুরী, ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মুস্তাফিজুর রহমান, ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব হোসেন মোতালেবসহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিকরা। ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিমউদ্দিন জানান, এর আগে দুই দফায় ভাঙ্গায় ৩৮৯ জনকে জমিসহ ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এ দফায় ২২০ জন অন্তর্ভুক্ত হয়ে ভাঙ্গায় মোট ৬০৯ জন ভূমিহীন পরিবার সরকারের এ সুবিধা পেল। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
করোনায় সংক্রমিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে কেবিনে তাঁর চিকিৎসা চলছে।দলটির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত সোমবার রাতে খন্দকার মাহবুব হোসেনকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগের চেয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন বেশ ভালো। স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন বলেও জানান তিনি।খন্দকার মাহবুব হোসেন গত ১৬ আগস্ট করোনা সংক্রমিত হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।
6
বিরোধপূর্ণ একটি অঞ্চল নিয়ে প্রতিবেশী আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ফের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। দু'পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছে আরও শতাধিক মানুষ। খবর বিবিসির আর্মেনিয়ায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, আজারবাইজানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেছেন, আজারবাইজান বিমান ও গোলন্দাজ হামলা শুরু করেছে। অন্যদিকে, আজারবাইজান বলেছে, পুরো সীমান্তজুড়ে শুরু হওয়া গোলাবর্ষণের জবাব দিচ্ছে তারা, আর্মেনীয়দের গোলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দু'দেশের বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির মধ্যে আর্মেনিয়া তার দেশটিতে সামরিক আইন জারি ও বিপুলসংখ্যক সেনা সমাবেশ করেছে। প্রতিবেশী রাশিয়া দেশ দুটিকে দ্রুত গোলাগুলি বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছে। আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৮টা ১০ মিনিট থেকে আরাতসাক রিপাবলিকের (নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত) রাজধানী স্তেপানাকের্তসহ বেসামরিক এলাকাগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে। এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, আমরা সমানুপাতিকভাবে সাড়া দেব আর পুরো পরিস্থিতির দায়দায়িত্ব আজারবাইজানের সামরিক-রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বহন করতে হবে। এর আগে আজারবাইজান এক ঘোষণায় বলে, 'আর্মেনিয়ার সশস্ত্র বাহিনীগুলোর যুদ্ধজনিত ক্রিয়াকলাপ দমন করতে ও বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সেনারা পুরো সীমান্তজুড়ে পাল্টা আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছে। রোববার আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বলেছেন, তিনি এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি গ্রামে তীব্র গোলাবর্ষণে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লড়াইয়ে তাদের একটি হেলিকপ্টার খোয়া গেলেও এর ক্রুরা জীবিত আছেন। এর আগে, জুলাই মাসে সীমান্তে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৬ হন নিহত হন।
3
ক'দিন পরই নতুন বছরের ক্যালেন্ডার উঠবে দেয়ালে। ২০১৯-এর পরিবর্তে ২০২০-এর ক্যালেন্ডার। অতীত হয়ে যাওয়া পুরো বছরের সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব কষে নতুন বছরকে বরণ করে নেবেন সবাই। নতুন ছকে হাঁটবে ঢাকাই শোবিজও। বিগত বছরের ঢাকার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি কতটা সাফল্য আর ব্যর্থতার পথে হাঁটল তার একটা হিসাব-নিকাশ নিয়েই এই প্রতিবেদন। হতাশার মেঘ সরছে না ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি থেকে। দিন যায় দিন আসে, বছর ঘুরে আসে নতুন বছরও। পুরো বছরেই নানা আশার বাণী শোনা যায়। কেটে যাবে হতাশা, আসবে সুদিন। কিন্তু সুদিন আসে না। তাই দৃঢ়তার সঙ্গে বলা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই যেন বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্প। কিছুতেই বিপর্যয় থেকে কাটিয়ে উঠতে পারছে না দেশের সবচেয়ে বড় এই বিনোদন মাধ্যমটি। বিগত আট-নয় বছর ধরেই দেশীয় চলচ্চিত্র দর্শক-খরায় ভুগছে। সেটা এখন চলে এসেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা। এখন মুক্তিপ্রাপ্ত কোনো ছবিই যেন ব্যবসা সফল হতে পারছে না। ব্যবসা সফল তো দূরের কথা, মূলধনও তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সালতামামি টানলে চলতি ২০১৯ সালটা চলচ্চিত্রের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। বাণিজ্যিক ও বিকল্প ধারার ছবি মিলিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির তথ্যমতে, ৫৭টি ছবি মুক্তি পেয়েছে( ২৩ ডিসেম্বর মুক্তি প্রতিক্ষিত মায়া: দ্য লস্ট মাদার ও কাঠবিড়ালী সহ)। এর মধ্যে খাতা-কলমের হিসাবে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবি দুটি। ভারত থেকে সাফটা চুক্তির আওতায় আমদানিকৃত ছবির সংখ্যা ১০টি। তবে মুক্তিপ্রাপ্ত নিরেট দেশি ছবি দাঁড়ায় ৪৫টি। ১২ মাসে মুক্তি পেয়েছে মাত্র ৪৫টি দেশি ছবি। এই হলো ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির পুরো বছরের হিসাব। তাই বলা যায়, বছর যাচ্ছে আর ঢাকার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি আরও নামছে নিচের দিকে। কমছে ছবি মুক্তির সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে হলের সংখ্যাও। ঢাকাই চলচ্চিত্রের নির্ভরযোগ্য কোনো বক্স অফিস নেই। মুক্তির পর তাই কোন সিনেমা কত ব্যবসা করল বা কত লস করল তার নিরেট হিসাব পাওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এর মধ্যেই বুকিং এজেন্ট, প্রযোজক সমিতি ও প্রদর্শক সমিতির একাধিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৪৭টি ছবির মধ্যে মাত্র একটি ছবিই ব্যবসা করতে পেরেছে চলতি বছর। বাকি ছবিগুলো ব্যবসা তো নয়ই, মূলধনও ঘরে নিতে পারেনি বলে মন্তব্য তাদের। ২০১৯ সালের একমাত্র ব্যবসাসফল ছবি হচ্ছে শাকিব খান-বুবলী অভিনীত 'পাসওয়ার্ড'। মালেক আফসারী পরিচালিত এ ছবিটি উজ্জ্বল করেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের মুখ। না হলে লোকসানের তালিকায় সব ছবিই চলে যেত এ বছর। যদিও বিগত দুই যুগ ধরে পাসওয়ার্ডের নায়ক শাকিব খানের কাঁধে ভর করেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িযে চলছে ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি। তার ছবির বাইরে কোনো ছবিই ব্যবসা করতে পারছে না। তবে শাকিব খানের আরেক ছবি জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত 'মনের মতো মানুষ পাইলাম না' ও সাকিব সনেটের 'নোলক' ব্যবসা দিতে পারেনি। দেশীয় ছবি ব্যবসা করতে পারছে না। তাই ভারত থেকে সাফটা চুক্তির আওতায় 'বিসর্জন', 'ভোকাট্টা', 'কিডন্যাপ', 'শেষ থেকে শুরু', 'বিবাহ অভিযান', 'প্যানথার', 'বচ্চন', 'কণ্ঠ', 'জানবাজ' ও 'পাসওয়ার্ড (দেব) আমদানি করে এনেও রক্ষা মেলেনি। আমদানি করা সব ছবিই সুপার ফ্লপের তালিকায় আছে। পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনার দুই ছবি 'প্রেম আমার-২' ও 'তুই আমার রানী'ও বাংলাদেশে মুখ থুবড়ে পড়েছে। তারকাদের পরিসংখ্যানে গেল বছর মুক্তিপ্রাপ্ত শাকিব খান অভিনীত ছবি রয়েছে তিনটি। বাপ্পি চৌধুরী অভিনয় করেছেন তিনটি ছবিতে, ইমন অভিনয় করেছেন দুটি ও আরিফিন শুভ, জায়েদ খান, নিরব ও সিয়ামকে দেখা গেছে মাত্র একটি ছবিতে। পরিচিত নায়কদের মধ্যে এটাই হচ্ছে ছবির পরিসংখ্যান। আর নায়ক সাইমন সাদিকের কোনো ছবিই মুক্তি পায়নি। পরিচিত নায়িকাদের মধ্যে নুসরাত ইমরোজ তিশা তিনটি, মৌসুমী দুটি, বুবলী দুটি, জয়া আহসান দুটি, মাহিয়া মাহি দুটি, ববি দুটি, আইরিন দুটি এবং বিদ্যা সিনহা মিম, পূজা চেরি আর আলোচিত নায়িকা পরীমনি ফেসবুকে উত্তাপ ছড়িয়ে গেলেও হলে মুক্তি পেয়েছে একটি মাত্র ছবি।
2
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় বার্সেলোনা-পিএসজির লড়াইটা হওয়ার কথা ছিল লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রের। কিন্তুনেইমারের ইনজুরির কারণে লড়াইটা হয়ে যায় বর্তমান সময়ের সেরা তারকা মেসি এবং ভবিষ্যত তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের। সেই লড়াইয়ে পিএসজি তারকা শুধু জয় পাননি কাঁপিয়ে দিয়েছেন ক্যাম্প ন্যু। ভালো ফর্ম দিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া বার্সাকে তাদেরই দুর্গে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছেন তরুণ ফ্রান্স ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে। দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে মেসিদের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে ৪-১ ব্যবধানে। দ্বিতীয় লেগের আগেই একপ্রকার বার্সাকে বিদায় করে লিগ ওয়ানের দলটি এক পা দিয়ে রেখেছে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ের শেষ আটে। ম্যাচের ২৭ মিনিটের মাথায় প্রথমে গোল করে এগিয়ে যায় কাতালানরা। বিতর্কিত এক পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন লিওনেল মেসি। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে চারটি গোলই তিনি করেছেন পেনাল্টি থেকে। এরপর ৩২ মিনিটের মাথায় দারুণ এক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান সাবেক মোনাকো তরুণ এমবাপ্পে। বার্সেলোনা ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী তারকা এমবাপ্পের রুদ্ররূপ দেখে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। ৬৫ মিনিটের মাথায় গোল করে তিনি দলকে ২-১ গোলের লিড এনে দেন। পাঁচ মিনিট পরই ব্যবধানটা দ্বিগুন করেন তরুণ ফরোয়ার্ড ময়েস কিন। তার হেড থেকে তিনটি অ্যাওয়ে গোলের স্বস্তি পেয়ে যায় সর্বশেষ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলা দলটি। এরপর ৮৫ মিনিটে গোল করে ক্যাম্প ন্যু কাঁপানোর শেষ কাজটা করেন কিলিয়ান। চ্যাম্পিয়নস লিগের বার্সেলোনার বিপক্ষে তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। তাও ২৪ বছর পর। আর বার্সাকেঠেলে দিলেনচলতি মৌসুমেও শিরোপা শূন্য থাকার পথে। গত মৌসুমে কোন শিরোপা জিততে না পারায় ক্ষুব্ধ মেসি বার্সা ছাড়তে উঠে পড়ে লেগেছিলেন। তার সেই পথটাও কি পরিষ্কার করে দিলেন এমবাপ্পে?
12
মোবাইল সেবায় আরোপিত অতিরিক্ত ২ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারে অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। রোববার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিমকার্ড নিবন্ধন নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পর্যালোচানা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে কোনো সিমকার্ড নিবন্ধন হয়নি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার উচিত ছিল নাগরিক হিসেবে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে সিম নিবন্ধন করে ফেলা। তারানা হালিম জানান, গত ৩১ মে পর্যন্ত মোট ১১ কোটি ৬০ লাখ সিমকার্ড নিবন্ধিত হয়েছে। পর্যালোচনা বৈঠকে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব নুরুল কবীর বলেন, অতিরিক্ত দুই শতাংশ কর মোবাইল ফোনের সেবার সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে। এই কর ডিজিটাল বাংলাদেশের চিন্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ব্যাপারে তারানা হালিম বলেন, এর আগে সারচার্জ আরোপ না করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে তিনি চিঠি দিয়েছিলেন। এ ছাড়া নতুন করে করারোপ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েও তিনি চিঠি দেন। কিন্তু সে অনুরোধের প্রতিফলন বাজেটে দেখতে পাননি বলেও জানান তিনি। এ কারণে এই কর প্রত্যাহারের জন্য আবারও অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হবে। তিনি জানান, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিমকার্ড নিবন্ধনের পর এখন তার প্রধান লক্ষ্য গ্রাহকদের জন্য মোবাইল নম্বর পোর্টাবিলিটি বা নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করা। এ ছাড়া টেলিটককে দাঁড় করানো ও ডাক বিভাগকে আধুনিক করাও তার অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। পর্যালোচনা সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
11
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, উন্মুক্ত স্থানে বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠান বিকেল ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। মূল অনুষ্ঠানস্থল রমনা ও সোহরাওয়ার্দী পার্কে বিকেল ৫টার পর প্রবেশ বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। বৈশাখের সব অনুষ্ঠানস্থল ধূমপানমুক্ত রাখতে নিরাপত্তাকর্মীরা কাজ করবেন। শব্দদূষণ ও নারীদের উত্যক্তের মাধ্যম ভুভুজেলা এবারো নিষিদ্ধ থাকবে। ধূমপান করলে বা ভুভুজেলা ব্যবহার করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১০০ মাইক স্থাপন করা হবে। মাইকের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে যেকোন নির্দেশনা এবং তথ্য জানানো হবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
আসামের ২৮ জেলায় দুর্ভোগে অন্তত ১৯ লাখ মানুষ ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের প্রধান নদীগুলোর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের মধ্যে ভূমিধস ও অন্যান্য ঘটনায় এই দুই রাজ্যে অন্তত ৭৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বন্যায় আসামের ২৮ জেলার অন্তত ১৯ লাখ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে এসব জেলার তিন হাজার গ্রাম; জেলাগুলোর মধ্যে মধ্যে নবগঠিত বাজালি জেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। বুধবার আসাম ও মেঘালয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৭২ মিলিমিটার বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ এই দুই রাজ্যে জারি করা রেড অ্যালার্টের সময়সীমা রবিবার পর্যন্ত বাড়িয়েছে। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বুধবার ৮১১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের দুদিনের মধ্যেই শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা ১৯৯৫ সালের পর থেকে জুন মাসের সর্বোচ্চ এবং ১২২ বছরের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া কর্মকর্তারা এ বিষয়ে জানান, বহু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র ও গৌরঙ্গ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত দুদিনে আসামে বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। অপরদিকে, মেঘালয় রাজ্য সরকার গত দুদিনে ১৯ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে। আসামের বন্যা কবলিত জেলাগুলোতে সতর্কতা জারি করে স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসা বা অন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রাজ্য সরকার। ওই রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটিতে জলাবদ্ধতার কারণে টানা তিনদিন অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও নগরীর কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন। টানা বৃষ্টিপাতে ডিহিং নদীর পানির উচ্চতা বাড়ার পর বুধবার বাকসা জেলার সুবনখাতা এলাকার একটি সেতু আংশিক ধসে পড়েছে। এ বিষয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিম্ন আসামের রানগিয়া বিভাগের নালবাড়ি ও ঘোগরাপারের মধ্যবর্তী লাইন ডুবে যাওয়ায় অন্তত ছয়টি ট্রেন যাত্রা বাতিল ও চারটির আংশিক বাতিল করতে হয়েছে। প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় ভারতের ৬ নং জাতীয় মহাসড়কের কিছু অংশ ধসে পড়েছে ও বন্যায় তলিয়ে গেছে। এ কারণে মহাসড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। মহাসড়কটি ত্রিপুরা, দক্ষিণ আসাম, মিজোরাম ও মেঘালয়ের কিছু অংশের যোগাযোগের একমাত্র উপায় হওয়ার ফলে এসব রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছে এই মহাসড়ক।
3
গাজীপুরের শ্রীপুরে ছাত্রলীগের কর্মী নয়ন শেখ হত্যার ঘটনায় কাওরাইদ বাজারে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে দোকানপাট বন্ধ করেন ব্যবসায়ীরা। ব্যস্ততম বাজারে নেমে আসে সুনসান নীরবতা।আতঙ্কিত হয়ে আগের মতো মানুষ কাওরাইদ বাজারে তেমন আসে না। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বাজারে তেমন ক্রেতা নেই। তাই সন্ধ্যা নামার পর থেকে দোকানপাট বন্ধ করে বাড়িতে ফিরে যান তাঁরা। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাজারের ছোট-বড় কয়েক শ ব্যবসায়ী।জানা যায়, উপজেলার হাতে গোনা যে কয়েকটি বড় বাজার রয়েছে, তার মধ্যে কাওরাইদ বাজার অন্যতম। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এটি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হয়েছে।কাওরাইদ বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী পরিমল সাহা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বাজারে ক্রেতার পরিমাণ কমে গেছে। আর যাঁরা আসছেন, তাঁরা সন্ধ্যা আগেই বাজার ত্যাগ করছেন। এ জন্য ব্যবসায়ীরাও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে দোকানপাট বন্ধ করে দেন।আরেক ব্যবসায়ী রাজীব সাহা বলেন, 'কাওরাইদ বাজারে রাত ১১টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলত। সেই বাজারে সন্ধ্যার পর হাতে গোনা কয়েকটি দোকান বাদে সব বন্ধ হয়ে যায়। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।'কাওরাইদ বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন ফকির বলেন, 'বাজারে একটি খুনের ঘটনার পর থেকে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বাজারে মানুষ বেশি আসছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারের আগের অবস্থা ফিরে আসবে।'শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) গোলাম সারোয়ার বলেন, 'বাজারে নিয়মিত পুলিশের টহল রয়েছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে নয়ন হত্যা মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।'
6
আলেয়ার বেগম বয়স এখন ৭০। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধা ৩৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বরগুনা শহরের বিভিন্ন স্থানে খুপরি ঘরে বসবাস করেছেন। সর্বশেষ বরগুনা পৌরশহরের মাদ্রাসা ব্রিজের পশ্চিম পাড়ের কোণায় খুপরি ঘরে ছিলেন আলেয়া। অবশেষে খাজুরতলা এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর বরাদ্দ পেলেন তিনি।আলেয়া বেগমের গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী গ্রামে। শ্বশুরবাড়িও ছিল একই গ্রামে। ৩৩ বছর আগে সংসারে অভাব অনটনের কারণে মায়ের সঙ্গে বরগুনা শহরে পাড়ি জমান। তখন থেকেই শুরু হয় তাঁর আশ্রয়হীন জীবন। প্রথমে বরগুনার মাছ বাজার, সবজি বাজারে ভাসমানভাবে রাত্রিযাপন করার পর ভাড়ানী খালের বাজার ব্রিজের নিচে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ব্রিজের নিচের খুপরি ঘরেই জন্ম হয়েছে তাঁর ৮ ছেলে ও ১ মেয়ের। সন্তানদের কেউই সঙ্গে থাকে না। এক যুগ আগে স্বামীও আলেয়াকে ফেলে নিরুদ্দেশ। মানুষের দয়া ভিক্ষায় জীবন চলে।বরগুনা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আলেয়ার জন্য খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৮৩ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল (২৬ এপ্রিল) গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইদ উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রকল্পের আওতায় জমিসহ একটি টিনশেড ঘর পাবেন আলেয়া বেগম।আলেয়া বেগম বলেন, 'বাপ মায়ের অভাবের সংসারে বড় হইছি। বিয়ার পর স্বামীও হালাইয়া থুইয়া গেছে। বড় পোলা বউ বাচ্চা লইয়া আলাদা থাহে। জীবনেও কহনো ঈদের উপহার পাই নাই। তয় এবার আমার লইয়া সবচেয়ে দামি ঈদ উপহার পাইলাম। বয়স ৭০ ছাড়াইছে, বাঁচমুও বা আর কয়দিন! তবুও এহন যদি বাকিডা সময় শান্তিতে রাহে আল্লাহ।'আলেয়া বলেন, '৩৩ বছর কাডাইছি ব্রিজের তলে, খালের প্যাডে দিছি নয়ডা গুরাগারা, এত কিছুর পর হপায় একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই পাইলাম। শেখ হাসিনা আমার মা, হে আমারে ঘর দেছে। তার লইগ্গা খোদার দরবারে প্রাণ ভইরা দোয়া করমু।'বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, 'ব্রিজের নিচে থাকা আলেয়ার বিষয়টি নজরে এলে আমরা তাঁকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় আনি। মঙ্গলবার ঘরটি তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।'প্রসঙ্গত, বরগুনার ছয় উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ চলমান। প্রথম পর্যায়ে ২৩২ টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭৯৩টি এবং তৃতীয় পর্যায়ে ৭২৫টি ঘরের মধ্যে ৪১১টি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।এর মধ্যে আগামী ২৬ এপ্রিল সদর উপজেলার খাজুরতলায় ৫০টি জমিসহ ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন। এখানকার সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে ভিক্ষুক, স্বামী পরিত্যক্তা, শারীরিকভাবে অক্ষম, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিসহ গরিব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার।
6
পূর্বাচলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় শেষ সময়ে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে। প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। আর হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকানে ভিড় আরও বেশি। অনেকে সারি ধরে খাবার সংগ্রহ করে দাঁড়িয়ে খাবার খেয়েছেন। এ ছাড়া বাচ্চাদের দোলনাসহ পুরো মেলা প্রাঙ্গণ মানুষের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে।গতকাল সকালের দিকে মেলায় দর্শক ও ক্রেতাদের উপস্থিতি অনেকটাই কম ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকসমাগমও বাড়তে থাকে। দুপুরের পরে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করে। টিকিট কাউন্টার ও প্রবেশপথে মানুষের লম্বা সারি দেখা গেছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের অনেকে বিআরটিসি বাসের টিকিট কাউন্টারে সারি ধরে টিকিট সংগ্রহ করেন এবং সারি ধরেই বাসে ওঠেন।মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ও মেলার পরিচালক মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এবারে রাজধানীর বাইরে প্রথমবারের মতো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলা শুরুর দিকে লোকসমাগম কম ছিল। তবে গত শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় মানুষের ঢল নেমেছিল। মেলায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন।'রাজধানীর মুগদা থেকে মেলায় আসা কলেজ শিক্ষার্থী তামান্না-ই জান্নাতের সঙ্গে টেস্টি ট্রিটের দোকানে কথা হয়। তিনি বলেন, 'করোনা বৃদ্ধির ফলে স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেকোনো সময় মেলা বন্ধ হতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে তড়িঘড়ি করে মেলায় এসেছি। এখানে অন্য রকম একটা আনন্দ লাগছে।'আরেক দর্শনার্থী ময়নুল কবির বলেন, 'পরিবারের তিন সদস্যকে নিয়ে মেলায় এসেছি। প্লাস্টিক পণ্য, প্রসাধনী সামগ্রী, ক্রোকারিজ, ইলেকট্রিক পণ্য, মোবাইল ও প্রযুক্তিপণ্য, জুতা, খেলনা ও খাবারের দোকানে বেশ ভিড়।'নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকার রিক্তা বেগম বলেন, 'আমার এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে মেলায় এসেছি। শুধু একটা বাচ্চার খেলনা কিনেছেন ৩০০ টাকায়। এখানে কেনাকাটা বড় কথা নয়, আনন্দটাই গুরুত্বপূর্ণ।'আরএফএল প্লাস্টিক পণ্যের বিক্রয়কর্মী আতিক জানান, ছুটির দুই দিন তুলনামূলক বেশি বেচাকেনা হয়। কারণ, অনেকে মেলায় ঘুরতে আসেন।টেস্টি ট্রিটের বিক্রয়কর্মী সহিদ বলেন, 'আমরা মেলায় পণ্যে মূল্যছাড় দিয়েছি। মেলায় গ্রাহক এত বেশি যে আমরা সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছি। দোকানের বাইরে অনেকে দাঁড়িয়ে খাবার খাচ্ছেন।'
6
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার (৫ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মারা গেছেন এ ৮ জন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত এ ৮ জনের মধ্যে করোনা পজেটিভ ছিলেন ৪ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন বাকি ৪ জন। মৃতদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জেরই রয়েছেন ৫ জন। আর বাকি ৩ জন রাজশাহীর বাসিন্দা। রামেক হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, আগের দিনের তুলনায় মৃতের সংখ্যা কমলেও করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আগের দিন সর্বোচ্চ ১৬ জন মারা যান। তবে এ ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, মৃতের সংখ্যা কমলেও শঙ্কামুক্ত হওয়া যাচ্ছেনা। কেননা রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত সেবা দিতে তৎপর রয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা। আইসিইউ বেড সংখ্যা বাড়িয়ে চিকিৎসার পরিধি আরো বৃদ্ধি করতে হবে।
6
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, তাদের (জড়িতদের) ধরতে পুলিশ তৎপর আছে। তাদের (পুলিশ) অনুরোধ করেছি নরপিশাচকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য। বিডি প্রতিদিন/কালাম
1
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ১৭ জন। বুধবার (৪ আগস্ট) সকাল ৮ টা থেকে বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মারা যান এ ১৭ জন। আগেরদিন মারা যান ১৪ জন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘন্টায় মৃত ১৭ জনের মধ্যে করোনা পজেটিভ ছিলেন মাত্র ৬ জন এবং ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গে। এছাড়া তিনজনের প্রাণ গেছে করোনা নেগেটিভ থেকেও। মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর ৫ জন, নাটোরের ৪ জন এবং পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনজন করে ৬ জন। আর নওগাঁ ও কুষ্টিয়া জেলার মারা গেছেন একজন করে দুইজন। এদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং ৮ জন মহিলা। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন ৩৯ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬ জন। রামেকের করোনা ইউনিটে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৩৯১। এদের মধ্যে ১৮৮ জন করোনা পজেটিভ রোগী। হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে বর্তমানে ৫১৩টি বেডে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।
6
কুকুর বিশ্বস্ত ও প্রভুভক্ত প্রাণী। আমৃত্যু মালিক তথা মানুষের প্রতি বিশ্বস্ত থাকে। তবে অনেক সময় মানুষের মিথ্যা ও প্রতারণা ধরতে পারে প্রাণীটি। ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনার একদল গবেষক বিভিন্ন প্রজাতির ২৬০টি কুকুরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বলেছেন, নিজের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অনেক সময় মানুষের মিথ্যা ও প্রতারণা শনাক্ত করতে পারে কুকুর। তখন প্রাণীটি মানুষের নির্দেশনা অমান্য করে। রয়েল সোসাইটির বি জার্নালে এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মানুষের মিথ্যা কথায় কুকুরের প্রতিক্রিয়া নিয়ে করা গবেষণার বিষয়ে আজ বুধবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট। এতে বলা হয়েছে, গবেষকেরা প্রতিটি কুকুরের সামনে দুটি বাটি রাখেন। এর একটির নিচে খাবার রাখা ছিল। এরপর একজন মানুষ খাবারসহ বাটির প্রতি কুকুরকে নির্দেশ করেন। কুকুরটি বাটি পর্যবেক্ষণ করে, এরপর ওই বাটির কাছে যায় এবং খাবার খায়। এরপর আরেকজন মানুষ এসে খাবারসহ বাটি অদলবদল করে চলে যান। প্রথমজন আগে যে বাটির নিচে খাবার ছিল সেখানেই রয়ে যান এবং কুকুরকে সে বাটির দিকে আসতে নির্দেশ দেন। পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া অর্ধেক কুকুর এ মিথ্যা নির্দেশনা বুঝতে পারে। প্রভুভক্ত হলেও উপেক্ষা করে নির্দেশনা। নিজের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে খাবারসহ বাটি বেছে নেয় অর্ধেক কুকুর। একই পর্যবেক্ষণ পাঁচ বছরের কম বয়সী মানবশিশু, বানর ও শিম্পাঞ্জির ওপরও করেছেন গবেষকেরা। তাতে দেখা গেছে, মানুষের মিথ্যা কিংবা প্রতারণামূলক নির্দেশনা মানবশিশু ও এসব প্রাণীর তুলনায় কুকুর ভালোভাবে শনাক্ত করতে পারে। গবেষকেরা বলছেন, কুকুরের সত্য ও মিথ্যার প্রভেদ ধরতে পারার সক্ষমতা যাচাইয়ে এটাই প্রথম গবেষণা। এতে দেখা গেছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কুকুর কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অনেক সময় মানুষের মিথ্যা ও প্রতারণা ধরতে সক্ষম। পর্যবেক্ষণলব্ধ এ জ্ঞান ভবিষ্যতে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য ধরতে কুকুরের সহজাত প্রবৃত্তির বিবর্তন নিয়ে বিশদ গবেষণায় কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
3
জন্মান্ধরা কি স্বপ্ন দেখে? ঘাম কীভাবে রক্তকে শোধন করে? পরিবেশ দূষণ কমাতে মানব শরীরেই বৃক্ষের মতো প্রযুক্তি স্থাপন সম্ভব কি? রোবট মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিধর হলে কী হতে পারে? জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা নিয়ে এ রকম অনেক কৌতূহলী ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতা পর্বেও তারা দেখাল বুদ্ধিমত্তার স্বাক্ষর। তাতে অভিভূত বিশেষজ্ঞ ও গুণী অতিথিরা। সবার কণ্ঠে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হলো নতুনরাই গড়বে বিজ্ঞানভিত্তিক আগামীর সমৃদ্ধ দেশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক গুণের অধিকারী। এই প্রত্যয়ে গতকাল শনিবার ঢাকা উত্তর ও সিলেট অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হলো বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসব। আয়োজনে কারিগরি সহযোগিতা দেয় ল্যাব বাংলা এবং বিশেষ সহযোগিতা করে কথাপ্রকাশ ও ওয়ান ফার্মা। দুই অঞ্চল থেকে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্বে অংশগ্রহণের টিকিট পেয়েছে ৩৩৯ শিক্ষার্থী। ঢাকা অঞ্চল : রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলার সহস্রাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে বসেছিল জীববিজ্ঞান উৎসবের ঢাকা উত্তর অঞ্চলের আসর। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞানে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পদচারণায় দিনভর মুখর ছিল ক্যাম্পাস। সকালে সাড়ে ৮টায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। উৎসব উদ্বোধন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ। উপস্থিত ছিলেন জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ড. শহীদুর রশিদ ভূঁইয়া, জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের ঢাকা উত্তর অঞ্চল কমিটির সভাপতি ড. ছরোয়ার হোসেন প্রমুখ। এর আগে সকাল ৯টা থেকে এক হাজার ১৭ শিক্ষার্থী তিন ক্যাটাগরিতে দেড় ঘণ্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৩০ জন জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত হয়েছে। পরীক্ষা শেষে সকাল ১১ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। মানবদেহ, প্রাণিজগৎ, জিন প্রকৌশল নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও জানার ব্যাপকতায় বোঝা গেল তাদের চিন্তাশীল ও গভীর সব প্রশ্নে। অনেক প্রশ্নের ভিড়ে কয়েকটি সবার দৃষ্টি কাড়ে। 'আমরা মানুষ কেন? পরীজীবী বা অন্য গ্রহের কেউ কি মানব মস্তিস্কের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে? গর্ভাবস্থায় শরীরে ভালো গুণাবলির জিন প্রবেশ করানো সম্ভব কি? সিনেমার মতো লাঠির আঘাতে কি স্মৃতিশক্তি ফিরে পাওয়া সম্ভব? এসব প্রশ্নের সরস উত্তর দিয়েছেন উৎসবে আসা জীববিজ্ঞানী ও জিন প্রকৌশলীরা। বেলা ৩টায় শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। এ সময় প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পদক ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশ জ্ঞান-বিজ্ঞানের উর্বর ভূমি। সত্যেন বোস, জগদীশ চন্দ্র বসুর মতো বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীরা জন্মেছেন এই মাটিতে। তাদের দেখানো পথে তোমরা নতুনরাই বিজ্ঞানভিত্তিক সমৃদ্ধ দেশ গড়বে। তাদের মতো বিশ্বসেরা হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. সেকেন্দার আলী বলেন, প্রকৃত মেধাবীদের খুঁজে বের করতে জীববিজ্ঞান উৎসবের আয়োজন বড় ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে গড়ে উঠবে। সমকালের ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ বলেন, একা একা ভালো কিছু করা কষ্টকর। সবাইকে নিয়েই ভালো কিছু করা সম্ভব। দেশের প্রতি এই দায়বোধ থেকেই জীববিজ্ঞান উৎসবের মতো উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকে সমকাল। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের রক্তাক্ত ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিতে হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটাতে হবে। ড. ছরোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কথাপ্রকাশের কর্ণধার জসিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহেদুর রহমান, ওয়ান ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, ড. শহীদুর রশিদ ভূঁইয়া প্রমুখ। সিলেট অঞ্চল :সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসে সিলেট অঞ্চলের জীববিজ্ঞান উৎসব। এ বিভাগের চার জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বিজ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল ক্যাম্পাস। উৎসব উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান হাওলাদার। বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসব সিলেট আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় কুণ্ডের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবুল কাশেম ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ। স্বাগত বক্তব্য দেন সমকালের সহকারী সম্পাদক ও সুহৃদ সমাবেশের বিভাগীয় সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদ। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনন্যা তালুকদার জেনি, সমকালের সিলেট ব্যুরোপ্রধান চয়ন চৌধুরী। প্রশ্নোত্তর পর্বে উত্তর দেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুব ইকবাল, অধ্যাপক মাহবুব আলম, অধ্যাপক আবু জাফর ব্যাপারী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, অধ্যাপক ফারুক মিয়া, সহযোগী অধ্যাপক গোকুল চন্দ্র বিশ্বাস, মদন মোহন কলেজের অধ্যাপক সুপ্তী চৌধুরী, এমসি কলেজের নেছার আহমদ, ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক সাহেদা আক্তার। সিলেট বিভাগের চার জেলার ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫২৬ শিক্ষার্থী তিনটি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা পর্বে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১০৯ জন জাতীয় পর্যায়ের টিকিট পেয়েছে। উপাচার্য মতিয়ার রহমান হাওলাদার বলেন, গত শতাব্দী ছিল পদার্থবিদ্যার। বর্তমান শতাব্দীকে বলা হচ্ছে জীববিজ্ঞানের। সমাজের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন তিন। অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, জীববিজ্ঞান উৎসবের মাধ্যমে বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাহস সঞ্চয় হচ্ছে। টমাস আলভা এডিসনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভুল থেকে শিক্ষা নিলে জীবনে জয়ী হওয়া যায়। অধ্যাপক সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ বলেন, বিজ্ঞানকে জানার চেষ্টা করতে হবে। ভাসা ভাসা কোনো কিছু বিজ্ঞান নয়। কোনো কিছু প্রমাণ হলেই তা বিজ্ঞান। সমকালের সহকারী সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদ বলেন, তরুণ সমাজের সামনে তিনটি চ্যালেঞ্জ- মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস। এই জায়গা থেকে নতুন প্রজন্মকে বের হয়ে আসতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের নিয়ে বায়ো ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে সেরাদের সেরা চার শিক্ষার্থী অংশ নেবে হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠেয় ৩০তম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে।
6
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা রাজনৈতিক দলকে বাঁচাতে সংকটকালে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব তিনি নেননি। তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে এই দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন দাবি করে রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন, জাতির জন্য আমি এই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলকে বাঁচানো আমার লক্ষ্য এবং এই আত্মনিবেদন নয়। আমার উদ্দেশ্য এই দেশের সব মানুষ এবং আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। সোমবার শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইল মিরর এই খবর দিয়েছে। সোমবার এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে সানন্দে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও এই দায়িত্ব পালন করবো এবং যে চ্যালেঞ্জে পড়েছি তা কাটিয়ে উঠবো। আর এই কাজের জন্য আমি আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। দেশের জন্য আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো, আপনাদের কাছে এই আমার প্রতিজ্ঞা। বিবৃতিতে তিনি জানান, শ্রীলঙ্কার সব নাগরিকের জীবনের জন্য আগামী কয়েকমাস সবচেয়ে কঠিন সময় হবে। এই সময়ে কিছু ত্যাগ স্বীকার এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। রনিল বিক্রমাসিংহে দাবি করেন, সত্য লুকানো এবং জনগণের কাছে মিথ্যা বলার কোনো ইচ্ছা তার নেই। যদিও বিষয়গুলো সুখকর নয় এবং খুবই আতঙ্কজনক। তবে এটাই বাস্তব পরিস্থিতি। একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশবাসীর ভবিষ্যৎ অতীতের তুলনায় আরও বেশি কঠিন হবে। প্রসঙ্গত, চরম অর্থনেতি সঙ্কটকে কেন্দ্র করে গণবিক্ষোভের মুখে গত ৯ মেৎ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়ে যায় এবং মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। পরে দেশটির প্রেসিডেন্ট বিরোধী দলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে বলেন। কিন্তু তিনি শর্ত দেন, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলেই কেবল তিনি এই দায়িত্ব নেবেন। পরে গত ১২ মে রনিল বিক্রমাসিংহে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
3
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্লাকার্ডে খ্যাতনামা কবিদের ছড়া লিখে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ করেছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মেহেন্দিগঞ্জের পাতারহাট বন্দরের উত্তর বাজারে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের আয়োজন করেন চিত্রশিল্পি ও লেখক সাইফুল্লাহ নবীন। স্থানীয় মুক্তমনা মানুষ এবং বাজারের সাধারণক্রেতারা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত
6
ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্টের অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্ত ফারুক হোসেনের বাড়ি রংপুর জেলায়। দিনমজুর বাবার অভাবের সংসার, তার ওপর পাঁচ ভাইবোন। ফারুক জানত যে, তাঁকে লড়াই করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। স্কুলে ভর্তি হলেন কিন্তু পরিবারে এমন কেউ নাই যে তাঁকে পড়াশোনায় সাহায্য করবে। এলাকায় গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় সবাই যখন পড়াশোনা করত, তাদের পড়া শুনে শুনে ফারুক পড়তেন। এর মধ্যেই ২০০৩ সালে চতুর্থ শ্রেণি শেষে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠবেন। সেই সময়ে ফারুক তাঁর মাকে হারিয়ে যেন অসহায় হয়ে পড়েন। পড়াশোনার খরচ, জীবনের বাস্তবতা সব মিলিয়ে যখন পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো এগিয়ে এলেন ফারুকের স্কুলের সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান। সেই ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই ফারুক তাঁর শিক্ষকের কাছে থেকেই পড়াশোনা করেছেন। এমনকি আজ যখন ফারুক রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন, তখনো তিনি তাঁর সেই শিক্ষকের বাড়িতেই আছেন। দশম শ্রেণিতে ওঠার সময় নিজের বাবাকে হারানো ফারুক তাঁর শিক্ষককেই বাবা হিসেবে ডাকেন। পালিত বাবার কথা বলতে গিয়ে ফারুক বলেন, 'আমার শিক্ষককেই আমি বাবা বলে ডাকি। উনি আমাকে নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করেন। আমার একটাই স্বপ্ন ছিল, যেভাবেই হোক ভালো ফলাফল আমাকে করতেই হবে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতেই হবে।' সকলের আশীর্বাদ আর নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমে ফারুক জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। নিজের পরিশ্রমের ফলাফল পেয়ে শুধু যে ফারুক তা নয়, পুরো এলাকাবাসী যেন আনন্দে মেতে উঠেছিল সেদিন। কারণ ফারুক তো অনন্য, অদম্য। যেই বাবা ফারুকের জন্য এত কিছু করলেন, তিনি তো ছেলের ভালো ফলাফলের পর তাঁর হাত ছেড়ে দিতে পারেন না। বড় দুই ভাই আর পালক বাবার আর্থিক সহযোগিতায় ফারুক ঢাকার নটরডেম কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু ঢাকায় তো হোস্টেলে থাকতে হবে। হোস্টেলে থাকার পর মাস চলার জন্য কিছু টাকা প্রয়োজন। সেই খরচ দেওয়ার আর্থিক অবস্থা ফারুকের পালিত বাবার ছিল না। এক আত্মীয়ের মাধ্যমে প্রথম আলো ট্রাস্টের কথা জানতে পারেন তাঁরা। এরপর ফারুক ট্রাস্টের কাছে শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করলে ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্টের অদম্য মেধাবী তহবিলের সহায়তায় ফারুক প্রতি মাসে শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া শুরু করেন। শুরু হয় ফারুকের নতুন পথচলা। ফারুক বলেন, 'প্রথম আলো ট্রাস্টের শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার পর আমার পড়াশোনার পথটা সুগম হয়। অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার একটা ভালো কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু এই শিক্ষাবৃত্তি যদি না পেতাম তাহলে আমাকে বাড়ি ফিরে যেতে হতো। এমনও হতে পারত যে আমার পড়াশোনাই বন্ধ হয়ে যেতো। আমি সারা জীবন ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্টের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।' ২০১১ সালে এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেলেন ফারুক। ফারুক রংপুর বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান এবং সেখান থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) থেকে স্নাতক শেষ করে রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন। বর্তমান অদম্য মেধাবীদের জন্য ফারুক বলেন, 'পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার সময় আমার বাবার কেরোসিন কেনার আর্থিক ক্ষমতা ছিল না। সেই সময়ে আমি মসজিদের গিয়ে মসজিদের লাইটের আলোয় পড়াশোনা করি। আমাকে কেউ বলেনি এমন করতে। আমি নিজের ইচ্ছায় এই কাজটা করেছিলাম ভালো ফলাফলের জন্য। সামনের দিনে ভালো থাকার পথ তৈরি করার জন্য। মানুষের ইচ্ছাশক্তির চেয়ে বড় শক্তি কিছু নাই। চেষ্টা করলে কঠিন পথ পার করা যায়। নিজের ইচ্ছা থাকলে অনেক বাঁধা অতিক্রম করা যায়। সৎ থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস নিয়ে পথ চললে সব বাঁধা অতিক্রম করে সফল হওয়া সম্ভব।' সামনের দিনে বিসিএস পরীক্ষা দিতে চান ফারুক। তিনি বিশ্বাস করেন প্রশাসনের অংশ হয়ে তিনি বৃহৎ পরিসরে সমাজ ও দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন। জীবনে সেই জায়গায় যেতে চান যেখান থেকে তিনি তাঁর মতো যারা আছেন, যারা মেধাবী কিন্তু অর্থাভাবে পড়তে পারছেন না, তাদের সহায়তা করবেন। ফারুক বলেন, 'আমার ওপর সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ আছে, যে আমার বাবা-মা আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও আমাকে বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত করেননি। আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি আমার বাবার কাছে, বাবার সঙ্গে থাকতে চাই।'
6
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের তুলনা করলেন দলটির নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।আমীর খসরু বলেন, 'বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেশের কোনো নেতার তুলনা চলে না।'বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরুর মতে, বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকজন নেতার মধ্যে জিয়াউর রহমান অন্যতম। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের মতো নেতার সঙ্গেই কেবল জিয়ার তুলনা করা যেতে পারে।গতকাল রোববার রাতে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীর খসরু এ কথা বলেন। 'বিজয়ের ৫০ বছর-প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল।আমীর খসরু বলেন, 'জর্জ ওয়াশিংটন, উনি তাঁর দেশের ফাউন্ডেশনাল ভ্যালু দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফাউন্ডেশনাল ভ্যালু দিয়েছেন। যার ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার যুদ্ধ হয়েছে, সেই ফাউন্ডেশনাল ভ্যালুটা উনি এক্সিকিউট করেছেন। ওনাকে কোনো রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তুলনায় না এনে ওনার কর্মকাণ্ডকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া উচিত। যাতে করে বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। এত চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যেও বাংলাদেশ আজকে যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া শক্তিশালী ভিত্তির কারণে সেটা সম্ভব হয়েছে।'উল্লেখ্য, জর্জ ওয়াশিংটন একজন আমেরিকান যোদ্ধা এবং যুক্তরাষ্ট্রের 'ফাউন্ডিং ফাদার' বলা হয় তাঁকে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট। ১৭৮৯ থেকে ১৭৯৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ওয়াশিংটন।
9
সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত আদায় করলেন লক্ষাধিক মুসল্লি। মঙ্গলবারসকাল সাড়ে ৮টায় নগরীতে ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বরুণার পীর মাওলানা রশীদুর রহমান ফারুক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং শাহী ঈদগাহের মোতাওয়াল্লী জহির বক্ত নামাজের আগে আগত মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। শাহী ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতে মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর থেকেই মুসল্লিরা জমায়েত হতে থাকেন। মহামারি করোনাভাইরাসের জন্য দুই বছর পর নগরীর শাহী ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলো। ফলে ঈদের জামাতে ছিল মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড়। ঈদগাহের মূল মাঠ ছাড়িয়ে আশ-পাশের রাস্তাগুলোতেও হাজারো মুসল্লিরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ঈদের জামাত আদায় করেন। ঈদের নামাজ শেষে বরুণার পীর দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করেন। এসময় সদ্য প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। নামাজ শেষে কোলাকুলি করেন মুসল্লিরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত শুরু হলেও ভোর থেকেই শাহী ঈদগাহ ময়দানে জড়ো হতে থাকেন দুরদুরান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ঈদের নামাজে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান এই জামাত। এসময় ভেদাভেদ ভুলে রাজনৈতিক, সামাজিক মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদের জামাতে শামিল হন। পরনে নতুন পাঞ্জাবি, হাতে জায়নামাজ ও মাথায় নতুন টুপি পরে পরিবারের বড়দের সঙ্গে ঈদগাহ ময়দানে ছোট ছোট শিশুরাও উপস্থিত হয়। এদিকে নগরীতে এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের মোট ৪৪৪টি ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন মসজিদে ৩৫৩টি ও ঈদগাহে ৯১টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের আগে বয়ান পেশ করেন দরগাহ মাদরাসার শায়খুল হাদিস মুফতি মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী। নামাজে ইমামতি করেন হাফিজ মাওলানা আসজাদ আহমদ। করোনাকালে দুই বছর এখানেই নগরীর প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নগরীর হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ও সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে একই সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে নগরীর বন্দরবাজার হাজী কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা, সাড়ে ৮টা ও সাড়ে ৯টায় পৃথক ৩টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদ, টিলাগড় মাদানী ঈদগাহ, জিন্দাবাজারের বায়তুল আমান জামে মসজিদ, সিলেট রেজিস্টারি মাটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট জজ কোর্ট জামে মসজিদ, নগরীর রিকাবীবাজারের মধুশহীদ জামে মসজিদ, তেলিহাওর জামে মসজিদ ও মদিনা মার্কেট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ও দক্ষিণ সুরমার ঐতিহাসিক সিলাম শাহী ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টা ও ৯টায় দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া নগরীর প্রায় সকল বড় বড় মসজিদে সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে নির্বিঘ্নে ঈদের জামাত আদায় করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে নগরীতে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয় বলে জানান মহানগর পুলিশের মুখপাত্র আতিরিক্ত উপ-কমিশনার বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের। ঈদের দিন বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও সকালে কোনো প্রতিকূলতা ছাড়া ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে সকাল ১০টার দিকে নগরীতে এক পশলা বৃষ্টিপাত হয়।
6
২২ গজে জাদু ছড়িয়ে যাচ্ছেন পেসার মোহাম্মদ সিরাজ। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে দল পাওয়ার পর থেকেই আলোচনায় এই তরুণ। 'রিকশাচালকের ছেলে আইপিএলে'- এই শিরোনামেই পত্রিকায় পাতায় উঠেছিলেন তিনি। শুরুটা সেদিন থেকেই। পারফরেমেন্সের গতি দিনকে দিন দ্রুত হচ্ছে। ছুঁটছেন মার্সিডিজ গতিতে। যার সুবাদে পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছেন এখনো। সিরাজ এখন খেলছেন ভারতের 'এ' দলের হয়ে। জাতীয় দলেও খেলেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে ছিলেন তিনি। সেখানেও পারফরমেন্স দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তবে 'এ' দলে হয়েই বেশি খেলছেন সিরাজ। এখন হ্যামিলটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক টেস্ট খেলছেন। সেখানে প্রথম ইনিংসে আগুন ঝরানো পারফরমেন্স দিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এই তরুণ। চারটি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। তার বোলিং ফিগার ২৩-৫-৫৯-৪। ২৩ ওভারে মেডেন দিয়েছেন পাঁচটি। বৃষ্টি বিঘ্নিত টেস্টের দ্বিতীয় দিন কোনো খেলাই হয়নি। তৃতীয় দিন মাত্র ১৭ ওভার খেলা হয়েছে। মধ্যাহ্নের পর খেলা শুরু হয়। ক্রিজে রাজত্ব চালানো নিউজিল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে ভারতীয় শিবিরে স্বস্তি ছড়ান সিরাজ। শুরুতেই ভারতের জন্য ত্রাস সৃষ্টি করা কিউই ব্যাটসম্যান উইল ইয়াংকে ফেরান পেসার। ১২৩ রান নিয়ে বিদায় হন ইয়াং। এরপর অর্ধশত করা থিও ভ্যান ওয়েরকমকেও বিদায় করেন। এর আগে প্রথম দিনে সিরাজ ঝুলিতে পুরেন আরো দুটি উইকেট। মোট চারটি উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার এখন তিনিই।
12
আগৈলঝাড়ায় ২০ বছর আগে বানানো একটি সেতুর মাঝে গর্ত হয়ে রড বের হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। প্রতিদিন শত শত মানুষ ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি পার হচ্ছেন।সেতু দিয়ে লোকজন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। উপজেলা এলজিইডি অফিস এই সেতু সংস্কারে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাশাইল-বাটরা সড়ক-সংলগ্ন খালের ওপর বিশ বছর আগে এই সেতুটি বানানো হয়। সেতুটি নির্মাণের ৭-৮ বছর পর থেকেই সেতুর বিভিন্ন স্থান ভেঙে রড বের হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়।গর্তের কারণে ওই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। মাঝে মধ্যে মোটরসাইকেল, ভ্যান চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।স্থানীয় তন্ময় তালুকদার জানান, কৃষি মৌসুমে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক শ একর জমির ফসল আনা-নেওয়া করা হয় এই ভাঙা সেতু দিয়ে।বাশাইল গ্রামের বাসিন্দা রব মোল্লা বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে নির্মিত এই সেতুটির ঢালাই ধসে গিয়ে রড বের হয়ে গেলেও সংস্কারের জন্য তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস তালুকদার বলেন, বাশাইল-বাটরা সড়কে অবস্থিত এই সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি বেহাল। পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
হাওরের বুক চিরে ছুটছে লাল ঘোড়া। গন্তব্য কোনো এক মৃত বাড়ি। সোয়ারির এক হাতে ঘোড়ার লাগাম, অন্য হাতে শাবল। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে থাকে কোদাল, ছেনি, মাপের ফিতা, করাতসহ কবর খোঁড়ার হরেক যন্ত্র। ছুটছেন মৃত ব্যক্তির বাড়িতে, কাটবেন বাঁশ, খুঁড়বেন মানুষের শেষ ঠিকানা 'কবর'। তিনি মনু মিয়া; স্বেচ্ছাশ্রমে কবর খনন করাই তাঁর নেশা।গেল ৫০ বছরে ২ হাজার ৮৫৮টি কবর খুঁড়েছেন বলে দাবি মনু মিয়ার। জীবনের শেষ দিন অবধি এ কাজ করতে চান বলে নিজের আশার কথাও জানালেন।শেষ ঠিকানার নিপুণ কারিগর মনু মিয়া (৭০) কিশোরগঞ্জের ইটনার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল হেকিম ও সারবানু দম্পতির সন্তান। তিনি ১৯৭২ সাল থেকে গতকাল শনিবার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি, সিটি মেয়র, চেয়ারম্যান, আলেম, শিক্ষকসহ ২ হাজার ৮৫৮টি কবর খুঁড়েছেন।মনু মিয়া কারও মৃত্যুর খবর পেলেই ছোটেন মৃতের বাড়িতে। কবর খোঁড়ার যন্ত্রপাতি নিয়ে বাঁশ কাটা ও কবর খোঁড়া শুরু করেন। নিজ উপজেলাসহ ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বহু কবর খনন করেছেন তিনি। হাওরজুড়ে শেষ ঠিকানার নিখুঁত ও দক্ষ কারিগর হিসেবে মনু মিয়ার খ্যাতি রয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে মনু মিয়ার মা সারবানু মারা যান। গ্রামবাসী তাঁর কবর খনন করেন যত্নসহকারে। তা দেখে সেদিন থেকে মনু মিয়া কবর খোঁড়া শুরু করেন। তবে তাঁর জীবনের বড় আক্ষেপ জন্মদাতা বাবার কবর খুঁড়তে পারেননি তিনি। মোবাইলবিহীন আমলে ঢাকায় বেড়াতে যাওয়ার পর তাঁর বাবা আবদুল হাকিম মারা যান। বাবার মৃত্যুর সে খবর ১৫ দিন পর খবর পেয়েছিলেন তিনি।প্রথম দিকে কবর খননে অন্যদের সহযোগিতা করতেন মনু মিয়া। একসময় দেখেন তিনি নিজেই সুন্দরভাবে কবর খনন করতে পারেন। মানুষজনও প্রশংসা করেন। এতে তাঁর আগ্রহ বেড়ে যায়।ঝড়, বৃষ্টি, শরীর খারাপ-এমনকি কোনো কাজই মনু মিয়াকে থামাতে পারেনি। মোবাইলে বা লোকমুখে মৃতের খবর পেতে বিলম্ব হলেও খবর খোঁড়ার যন্ত্র নিয়ে ঘোড়ায় চড়তে তাঁর বিলম্ব হয় না। মৃতের পরিবার থেকে কোনো রকম টাকাপয়সা, যাতায়াত ভাড়া বা খাবার গ্রহণ করেন না তিনি। নিয়মিত দাফন শেষে বাড়ি ফিরে গোসল করেন। পরে লেখাপড়া জানা কাউকে ডেকে ডায়েরিতে মৃতের নাম ও ঠিকানা লিখে নেন। তারপর সাংসারিক কাজ করেন। অনেক সময় দাফন করা ব্যক্তির স্বজনেরা মৃত্যু তারিখ জানতে আসেন।মনু মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'রাতে কবর খোঁড়ার চিন্তা নিয়ে যদি তিনি ঘুমান, তাহলে সারা রাত ভালো ঘুম হয় না তাঁর। শুধু অপেক্ষা করেন, কখন সকাল হবে। আর কেউ মারা গেলে তিনি কেমনে যে খবর পান, আমি বুঝি না। যদি কোথাও বেড়াতে গিয়ে শোনেন কেউ মারা গেছেন, তাহলে সেখানেই কবর খুঁড়তে লেগে যান তিনি। কখনো যদি শরীর একটু খারাপ থাকে, তখনও মৃতের খবরে ঘোড়া ও ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।'মনু মিয়া বলেন, 'মানুষ পৃথিবীতে সবকিছু ফেলে চলে যাওয়ার সময় তাঁর আর কিছুই থাকে না। চুড়ান্ত আশ্রয় শেষ ঠিকানা কবরটা একটু সুন্দর হোক-এটাই আমি সব সময় চাই। বিয়ের পর স্ত্রী রহিমা খাতুন আমার এ কাজে বাধা দিতেন। তারপরও নিষেধ অমান্য করে কবর খনন অব্যাহত থাকায় একসময় আমার স্ত্রীও মৃত নারীর গোসল করানো শুরু করেন।'বহু মানুষের কবর খুঁড়েছেন জানিয়ে মনু মিয়া বলেন, 'জীবনে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, রাষ্ট্রপতির ছোট ভাইসহ বহুজনের কবর খুঁড়েছি। শরীর ভালো থাকলে জীবনের শেষদিনও কবর খুঁড়তে চাই। সবচেয়ে খারাপ লাগছিল মায়ের কবর খুঁড়তে গিয়ে। আরেক দুঃখ রয়েছে যে, বাবার কবর খুঁড়তে পারি নাই।'
6
নরসিংদীর শিবপুরে আগামী ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে আওয়ামী লীগের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিবপুর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলার ইটাখোলা গোল চত্বরে এই সভার আয়োজন করা হয়।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খান। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মহসিন নাজিরের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ভূইয়া রাখিল।এ ছাড়া বক্তব্য দেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম মাহবুবুল হাসান মাহবুব। এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।সভায় আগামী ইউপি নির্বাচনে উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বক্তব্য দেন।
6
টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নিজ সংগঠনের কর্মীদের হামলায় এক ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের কালিবাড়ী মোড়ে সবুর খান টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই ছাত্রলীগ কর্মীর নাম শান্ত সিকদার। তিনি শহরের দেওলা সিকদারবাড়ি এলাকার ইব্রাহিম সিকদারের ছেলে। শান্ত সিকদার জানান, আজ সকালে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ছিল। মিছিল শেষে আজ দুপুরে সেখানে সমাবেশের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সেখান থেকে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী তাঁকে ডেকে ২০-৩০ গজ দূরে সবুর খান টাওয়ারের সামনে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর তাঁর বাসা কোথায় জিজ্ঞেস করেই তাঁর ওপর হামলা করা হয়। এ সময় কাঠের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে আহত করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়েছেন। পরে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। শান্ত সিকদার বলেন, তিনি হামলাকারীদের নাম জানেন না। তবে তাঁরা শহরের আদালতপাড়ার বাসিন্দা ও ছাত্রলীগের কর্মী বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান বলেন, অনুষ্ঠানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে মিছিল করতে গিয়ে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।
9
মেয়ে জিভার ছোট্ট টাট্টু ঘোড়ার সঙ্গে দৌড়াচ্ছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় সেই ভিডিও। ধোনির স্ত্রী সাক্ষী সিং ধোনি সেই ছবি তুললেন ও নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করলেন। তারপর মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। ছবির পাশে তিনি ক্যাপশানে লেখেন শক্তিশালী ও দ্রতগামী। যেমন লেখা তেমন কাজ মাত্র ১৪ ঘন্টায় ৩.৭ লক্ষ মানুষ এই ভিডিওকে দেখে ফেলেছেন। এই নম্বরটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বারতেই চলেছে। শুধু ভিডিওটা দেখাই নয়, বহু মানুষ এই ভিডিওতে নিজেদের মত প্রকাশ করছেন। খবর হিন্দুস্তার টাইমসের। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সবুজ গালিচার মতো লনে টগবগিয়ে ছুটছে জিভার দুধসাদা টাট্টু ঘোড়া। সেই ঘোড়ার গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। কালো ট্রাউজার্স ও ধূসর রঙের গোলগলা টি শার্ট পড়েই নিজের লনে এই কাজটি করছেন তিনি। ক্যাপ্টেন কুল, ভারতের হয়ে জোড়া বিশ্বকাপ ও একবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী অধিনায়ক, এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আলবিদা জানিয়েছেন। নিজের বাড়িতে নিজের পরিবারের সঙ্গে এভাবেই সময় কাটাচ্ছেন মাহি। এই ভিডিও প্রমাণ করল ধোনির ফিটনেসেও মরচে পড়েনি। এদিন ধোনির স্ত্রী সাক্ষী ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে রাঁচির রিং রোডের ফার্ম হাউসে পোষ্য ঘোড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়তে দেখা গিয়েছে ধোনিকে। ক্যাপশনে সাক্ষী বেশ ইঙ্গিতপূর্ণভাবে লেখেন, 'আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। আগের চেয়েও বেশি ক্ষিপ্র।' সুরেশ রায়না থেকে শুরু করে অনেকেই সেই ভিডিওতে রিঅ্যাক্ট করেন। ভারতীয় দলে হোক বা আইপিএলে, ধোনি বরাবরই ক্ষিপ্র গতিতে দৌড়ান। তার রানিং বিট্যুইন দ্য উইকেটস বিশ্বের অন্যতম সেরা। যার প্রমাণ পাওয়া গেল সাক্ষীর পোস্ট করা ভিডিওতে।
12
পাকিস্তানের ১৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভারতের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকা দাঁতের চিকিৎসক ডা. আরিফ আলভি। রবিবার ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্ট হাউস আইওয়ান-ই-সাদরে আরিফ আলভিকে শপথবাক্য পাঠ করান পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি মিয়া সাকিব নিসার। আলভী পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ছাত্রজীবনে লাহোরের একটি ডেন্টাল কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে, বৈরী প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডা. আরিফ আলভির। তার আত্মজীবনীর বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধম জানায়, আলভির বাবা ডা. হাবিব-উর-রেহমান ইলাহি আলভি স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর দাঁতের চিকিৎসক ছিলেন। কেবল নেহেরুর দাঁতের চিকিৎসকের সন্তান হিসেবে নয়, ভারতের সঙ্গে তার আরও একটা সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি হলেন আরেকজন প্রেসিডেন্ট যিনি দেশ বিভাগের পর ভারত থেকে পাকিস্তানে পাড়ি জমান। তার পূর্বসূচি মামনুন হোসাইনের পরিবার ভারতের আগ্রা এবং পারভেজ মোশাররফের পরিবার নয়া দিল্লি থেকে পাকিস্তানে যান। আরিফ আলভির বাবা ডা. হাবিব উর রহমান আলভি দেশভাগের আগে জওহরলাল নেহেরুর দাঁতের চিকিৎসক ছিলেন। প্রেসিডেন্ট আলভির পুরো নাম ডা. আরিফ উর রেহমান আলভি। তিনি ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন, দেশ বিভাগের পর তার বাবা সেখানে স্থায়ী হন। ১৯৬৯ সালে আলভি জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের একজন প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য তিনি। ১৯৯৭ ও ২০০২ সালের দেশটির সাধারণ নির্বাচনে সিন্ধুর প্রাদেশিক পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে ওই নির্বাচনে জয় লাভ করেননি। পরে ২০১৩ সালের নির্বাচনে করাচি থেকে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পিটিআই'য়ের সহ-সভাপতি ও পরে ২০০৬ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আলভি বিডি-প্রতিদিন/১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮/মাহবুব
3
রাডার ফাঁকি দিতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্রবাহী স্পিডবোট নিচ্ছে ইরান। পারস্য উপসাগরে এই স্পিডবোট ব্যবহার করবে দেশটি। স্টিলথ টেকনোলজির পাশাপাশি এতে নতুন পেণাস্ত্র উৎক্ষেপকও যুক্ত করতে চায় ইরান। বিজনেস ইনসাইডার। এমন এক সময় ইরান নিজেদের প্রযুক্তি বাড়ানোর খবর দিলো, যখন তেলবাহী জাহাজের ওই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের উত্তেজনা বাড়ছে। এ অঞ্চলে মার্কিন রণতরীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর গত সপ্তাহে ইউএসএস জন সি স্টেনিস পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর স্পিডবোট যাতে ছায়ার মতো নজর রেখেছে। এক সময় উপসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌযানের মধ্যে প্রায়ই মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটত। তবে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে এমন ঘটনার সংখ্যা খুবই কমে গেছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌপ্রধান আলী রেজা তাংসিরি বলেন, আমরা বিপ্লবী গার্ডের প্রিতা বাড়াতে চাই। এ জন্য অভিযানকে আরো সহজতর করতে এতে স্টিলথ প্রযুক্তি যোগ করতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, পেণাস্ত্র সজ্জিত এ স্পিডবোট ঘণ্টায় ৮০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে পারবে। তবে ইতোমধ্যে তারা এমন প্রযুক্তি তৈরি করতে পেরেছেন, নাকি এ নিয়ে গবেষণা চলছে তা নিশ্চিত করেননি তিনি। যুদ্ধবিমান ও নৌযানের জন্য নিজস্ব স্টিলথ প্রযুক্তির বিকাশের কথা জানিয়েছে ইরান। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি বলেন, শান্তি ও স্থিতির নীতির পাশাপাশি ইরানের আঞ্চলিক শত্রুদের এ বিষয়টিও জানা উচিত যে ইরানের একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আছে। তারা ইরান ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রায় প্রস্তুত।
3
লকডাউন দীর্ঘ হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত, দোকানি, হকার, রিকশাচালক ও স্বল্প আয়ের মানুষেরা সমস্যায় পড়বেন বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ছুটির পরিবর্তে এবার এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে জরুরি সেবা ছাড়া সবই বন্ধ থাকবে। এতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে। লকডাউন দীর্ঘ হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত, দোকানি, হকার, রিকশাচালক ও স্বল্প আয়ের মানুষেরা বড় সমস্যায় পড়বেন বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, করোনা ঠেকাতে আরও আগে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এখনই স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকারকে কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের পরিবর্তে স্মার্ট লকডাউনের দিকে যেতে হবে। এতে অর্থনীতি ধরে রাখা যাবে, মানুষের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কমবে। আর দোকান মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, এবার দোকান বন্ধ রাখতে হলে পথে বসা ছাড়া কোনো পথ থাকবে না। গত বছরের শুরুতে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে সরকার ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে, যা কয়েক দফায় বাড়ানোর পর ৩০ মে শেষ হয়। এই সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি সব দপ্তর বন্ধ ছিল। খাদ ও ওষুধ ছাড়া বন্ধ ছিল সব দোকানপাট। পোশাক কারখানার পাশাপাশি ব্যাংকের সেবা সীমিত আকারে চালু ছিল। এর ফলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নগদ টাকা, কম সুদের ঋণসহ ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। যার আকার দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা, যা এখনো বাস্তবায়ন চলছে। এর মধ্যে করোনার সংক্রমণ আবার বেড়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার থেকে সাত দিনের লকডাউনের কথা জানিয়েছে সরকার। এমন সময়ে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, করোনা মোকাবিলায় লকডাউন এখন ভোঁতা যন্ত্র। এখন সময় স্মার্ট লকডাউনের। অফিস চলবে, তবে কম লোকবল দিয়ে। দোকানপাট খোলা থাকবে ২৪ ঘণ্টা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটা চলবে। মাস্ক ছাড়া কেউ বের হতে পারবে না। তাহলে সবকিছু ঠিক থাকবে। এ জন্য সরকারকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করা উচিত। আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, 'দাতারা যে টাকা দিয়েছে, তা দিয়ে সহজেই হাসপাতালগুলোতে সক্ষমতা বাড়ানো যেত। তাহলে শ্বাসকষ্টে কাউকে মারা যেতে হতো না। এদিকে দ্রুত নজর দিতে হবে। কারণ, সামনে আরও বেশি রোগীকে হাসপাতালে নিতে হতে পারে। এটা ঠেকানো না গেলে পরিস্থিতি উত্তরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।' গত বছরে যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়, তাতে দোকানমালিকদের অংশগ্রহণ ছিল খুবই কম। যদিও বেশি ক্ষতিতে পড়েছেন তাঁরাই। এবারের লকডাউন নিয়ে তাঁরা বেশ শঙ্কিত। এ নিয়ে চাঁদনী চক ব্যবসায়ী ফোরামের সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, 'গত বছরে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর লাগবে। কেউ সম্পদ বিক্রি ও কেউ ঋণ নিয়ে টিকে আছে। আমরা ভেবেছিলাম, এবারের বৈশাখ ও ঈদে কিছু বিক্রি করে লোকসান সামাল দেব। এখন মনে হচ্ছে সেই সুযোগও শেষ হয়ে আসছে। পোশাক কারখানা ও খাবারের দোকান খোলা থাকলে আমাদের দোকানও খোলা থাকতে পারে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কড়াকড়ি করতে হবে।' তবে ফ্যাশন হাউসগুলোর মালিকদের সংগঠন ফ্যাশন এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) সভাপতি শাহীন আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, 'এক সপ্তাহ লকডাউন থাকলে আমাদের তেমন সমস্যা নেই। আমাদের মূল্য লক্ষ্য বৈশাখ ও ঈদ। গতবার ঈদে কোনো ব্যবসা হয়নি, তাই এবার আমরা বড় বিক্রির আশা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি লকডাউন দীর্ঘ হয়, তাহলে আমাদের জন্য বড় বিপদ হয়ে যাবে।' গত বছরে যে প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়, তার প্রথমটা ছিল পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতা। পুরো সময় কারখানা খোলাও ছিল। এ ছাড়া কম সুদের ঋণেও পোশাকমালিকেরা ভালো সুবিধা পেয়েছেন। রপ্তানি খাতের জন্য দেওয়া হয় নানা সুবিধা। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, 'শ্রমিকদের কারখানায় আসা-যাওয়ার সময় ভাগ করে দিতে আমরা উদ্যোক্তাদের অনুরোধ করেছি। সেটি হলে সড়কে বেশি লোকের গাদাগাদি হবে না। লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে অধিকাংশ শ্রমিকই কারখানার আশপাশেই থাকেন। আর প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গাড়িতে কর্মীরা আসা-যাওয়া করতে পারবেন। আশা করি, এবারও সমস্যা হবে না।' গত বছরে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরণে সব সময় খোলা ছিল ব্যাংক। এ ছাড়া পুরো বছর ঋণ শোধ না করেও ভালো গ্রাহক হিসেবে থাকার সুযোগ পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এবারও এমন কোনো সিদ্ধান্ত আসবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
0
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় করা প্রতারণার মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিপন মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একদিনের রিমান্ড শেষে আজ শুক্রবার তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম মামুন-উর রশীদ। রিপন মিয়াকে গত ৩ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় শুনানি শেষে তার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমাম। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের মা ও বাবা। আর তাই জিম্বাবুয়ে থেকে দেশে ফিরে আসছেন মুশফিক। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মা-বাবার অসুস্থতার খবর শুনে বুধবারই জিম্বাবুয়ে থেকে দেশের পথ ধরেছেন মুশফিক। মা-বাবার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ভাবিয়ে তুলেছে জাতীয় দলের এই তারকা ক্রিকেটারকে। তাদেরও বগুড়া থেকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এর আগে বুধবার সকালেই জানা যায়, জিম্বাবুয়ে সফরের বাকি অংশ শেষ না করেই দেশে ফিরে আসছেন মুশফিকুর রহিম। পারিবারিক কারণে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ না খেলে জিম্বাবুয়ে থেকে বুধবারই তার ফেরার খবরটি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, টি-টোয়েন্টির আগে ১৬ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজেও পাওয়া যাবে না তাকে। বিসিবি সবাইকে এই মুহূর্তে মুশফিকুর রহিম ও তার পরিবারের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান রাখতে অনুরোধ করেছে। এই খবরের রেশ মিলিয়ে না যেতেই জানা গেল মুশফিকের মা-বাবা দু'জনই করোনায় আক্রান্ত। নিজ শহর বগুড়াতেই ছিলেন তারা। সেখানেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।
12
ঢাকা: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারত। শুরুতে শুধু অক্সিজেন সংকটেই মারা গেছে বহু মানুষ। দিনরাত জ্বলতে দেখা গেছে চিতা। তবে ধীরে ধীরে সেই ধাক্কা সামলে উঠছে দেশটি। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এখন কমতির দিকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসছে অক্টোবরে আসতে পারে তৃতীয় ঢেউ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ৩-১৭ জুনের মধ্যে বিশ্বের ৪০ জন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, ভাইরোলজিস্ট, এপিডেমিওলজিস্ট ও অধ্যাপকের মধ্যে একটি জরিপ চালিয়ে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞদের ৮৫ শতাংশের (২৪ জনের মধ্যে ২১ জন) মতে, চলতি বছরের অক্টোবরে ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসবে। তবে তিনজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসবে আগস্ট মাসে। ১২ জন বলেছেন সেপ্টেম্বরে। আর বাকি তিনজন বলেছেন, তৃতীয় ঢেউ আসবে নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারির মধ্যে।তবে ৭০ শতাংশের (৩৪ জনের মধ্যে ২৪ জন) বেশি বিশেষজ্ঞের মতে, তৃতীয় ঢেউ সামলা দেওয়া ভারতের জন্য তুলনামূলক সহজ হবে। কারণ এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কিছুটা প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গেছে। ফলে দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় তৃতীয় ঢেউ আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। ভারতে প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতা ছিল বেশি। এতে টিকা স্বল্পতা, হাসপাতালে ওষুধ, অক্সিজেন ও বেডের অভাব ছিল ভয়াবহ।অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস)-এর পরিচালক ড. রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। কেননা এখন অনেকেই টিকা নিয়েছেন। তাছাড়া কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় অনেকের দেহেই প্রতিরোধশক্তি তৈরি হয়েছে।জরিপে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চলতি বছর ভারতের টিকাদান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটবে। তবে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিধিনিষেধ শিথিল করা ও লকডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তাঁরা।তৃতীয় ঢেউয়ে ১৮ বছরের কম বয়সীরা বেশি ঝুঁকিতে কি-না-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৪০ জনের মধ্যে ২৬ জন) বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, এ আশঙ্কা রয়েছে।এদিকে আজ শুক্রবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে শিগগিরই করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কারণে সংক্রমণ ফের বাড়তে পারে।মহারাষ্ট্র রাজ্যের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে, করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মোট শনাক্তের ১০ শতাংশই হবে শিশু। বিশেষ করে রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় করোনা বিধিনিষেধ শিথিল করায় এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়বে।রাজ্যের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সের সদস্য ডা. রাহুল পণ্ডিত বলেন, আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। শিগগিরই করোনার তৃতীয় ঢেউ চলে এলেও যেন মোকাবিলা করতে পারি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কী প্রভাব পড়েছে এসব পরিসংখ্যানের দিকে তাকাতে হবে। সাধারণত করোনার একটি ঢেউ থেকে আরেকটি ঢেউয়ের মাঝে ১০০-১২০ দিনের ব্যবধান থাকে। তবে অনেক দেশে ১৪-১৫ সপ্তাহ এমনকি আট সপ্তাহের কম ব্যবধানেও করোনার নতুন ঢেউ শুরু হয়। তাই প্রস্তুত থাকার বিকল্প নেই। টিকা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে এবং মানুষদেরও বাইরে বের হলে দুটি মাস্ক পরতে হবে।টাস্কফোর্স শঙ্কা জানিয়ে বলেছে, তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিতীয় ঢেউয়ের চেয়েও বাড়তে পারে। সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যা বর্তমানে ১ লাখ ৪০ হাজারের মতো।এরই মধ্যে রাজ্যের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্স এসব কথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে জানিয়েছে। টাস্কফোর্স বলেছে, যারা করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত হননি তাঁরা তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তের ঝুঁকিতে আছেন।উল্লেখ্য, করোনার প্রথম ধাক্কায় মহারাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৯ লাখ মানুষ আর দ্বিতীয় ধাক্কায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪০ লাখ মানুষ। মহারাষ্ট্রের মতো দিল্লিতেও করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সেখানকার চিকিৎসকেরা। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লিতে লকডাউন তুলে নেওয়ার পর সেখানকার চিকিৎসকেরা দিল্লির সরকারকে সতর্ক করেন।
3
ইরাকে মার্কিন হামলায় ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল ঘানি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির সিদ্ধান্তে দায়িত্ব নেন তিনি। ইসমাইল ঘানি ১৯৫৭ সালের ৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ। বর্তমানে তার বয়স ৬২ বছর। জেনারেল সোলাইমানি ১৯৯৭ সালে কুদস বাহিনীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ইসমাইল ঘানি। তিনি মূলত ইরানের বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও আফ্রিকার বিভিন্ন গেরিলা সংগঠনসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠনকে অর্থনৈতিক যোগান দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও গাম্বিয়ায় ইরানি বিপ্লবী গার্ডের অস্ত্র চালানেরও দায়িত্ব ছিল এই ইসমাইল ঘানির হাতেই। ইসমাইল ঘানি ২০ বছর বয়সে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডে যোগ দেন। এরপর থেকে বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় কাজ করে ব্যাপক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। তাকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, "কুদস বাহিনীর হয়ে নিহত জেনারেল সোলাইমানির সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ইসমাইল ঘানির। যেহেতু তিনি সোলাইমানির ডেপুটি ছিলেন, সুতরাং কুদস বাহিনীর পরিকল্পনা ও কার্যাবলি আগের মতই অপরিবর্তিত থাকবে।" সূত্র: গ্লোবাল সিকিউরিটি ও ডেইলি ওয়ার। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
মাগুরা সদর উপজেলা গাংনি গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করার জের ধরে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে পান্না খাতুন নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা অভিযোগ উঠেছে স্বামী সাহেব মোল্লার বিরুদ্ধে।শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। নিহতের ভাই তরিকুল ইসলাম জানান, শহরতলীর পারন্দুয়ালী গ্রামের সোহেব মোল্লার সঙ্গে ২০ বছর আগে তার বোনের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কিছুদিন আগে সোহেব মোল্লা স্ত্রীকে না জানিয়ে আবারও বিয়ে করেন। পরে বিয়ের ঘটনা জানাজানি হলে স্ত্রী প্রতিবাদ করায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সাহেব মোল্লা স্ত্রী পান্না খাতুনকে বেদম মারপিট করে। পরে প্রতিবেশীরা পান্নাকে গুরুতর আহতাবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
6
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা ৭০ শতাংশ মানুষের প্রথম ডোজের টিকা নিশ্চিত হলেও তৃতীয় ও শেষ দিনের মত আজ রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে গণটিকা কার্যক্রম। তবে প্রথম দুদিনে টিকা কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় থাকলেও শেষ দিন অনেকটাই ব্যতিক্রম। কোথাও ফাঁকা, কোথাও ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে দুপুর হতেই সব কেন্দ্র মানুষ শূন্য হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড ধানমন্ডির ডিঙি রেস্তোরাঁর পাশের একটি কেন্দ্রে তৃতীয় দিন সকাল ৯টায় শুরু হয় টিকাদান কার্যক্রম। শুরুতেই মানুষের ভিড় দেখা গেলেও ঘণ্টাখানেক পরই মানুষ শূন্য হয়ে পড়ে কেন্দ্রটি। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে দেড় শ জনের মত টিকা নিয়েছেন।অপরদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের মধ্য বাড্ডার ব্যাপারী টাওয়ারে প্রথম দুদিনের তুলনায় টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা কম হলেও এখনো অনেকেই টিকা নিতে আসছেন। যাদের বেশির ভাগই দিনমজুর ও নানা কারণে এত দিন টিকা নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।টিকাকেন্দ্রের দায়িত্ব পালনকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) তাসনিয়া খানম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'প্রথম দুদিনের মত একেবারে উপচে পড়া ভিড় না হলেও একেবারে কম নয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। টিকার কোন সংকট নেই। মানুষ যতক্ষণ আসবেন, ততক্ষণ টিকা দেওয়া চলবে।'নিবন্ধন করার সুযোগ থাকলেও এত দিন অলসতা করে টিকা নেননি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সিদ্দিকুর রহমান (৪৮)। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তেমন ভিড় না পেয়ে এই কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে যান টিকা নিতে।কথা হলে আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, 'আসলে ইচ্ছেকৃতভাবেই এত দিন নেওয়া হয়নি। এখন দেখছি টিকা নেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। সঙ্গে এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) না থাকলেও মোবাইল নম্বর দিয়ে নাকি নেওয়া যায়। আজই নাকি শেষ, তাই অফিস যাওয়া সময় দাঁড়িয়ে গেলাম।'স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলমান বিশেষ এই গণটিকা ক্যাম্পেইনের প্রথম দুদিনে ১ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার ৫শ জনকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনে এক কোটি ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১৫ জনকে এবং দ্বিতীয় দিনে ১৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৫ জনকে।দেশের ৭০ শতাংশ তথা ১২ কোটির বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে সেটি পার করে মোট জনগোষ্ঠীর ৭৩ শতাংশকে টিকা দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ১২ বছরের ওপরে সব বয়সীকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারে। সে অনুযায়ী ১৩ কোটির বেশি মানুষকে টিকা দিতে হবে। তাই বাদ পড়াদের টিকার আওতায় আনতে আসতে পারে নতুন নির্দেশনা।
6
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গোপালগঞ্জ সফর নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকেলে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানার সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি ) মো. ইলিয়াছুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর হিল্টু, টুঙ্গিপাড়াউপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কাজী লিয়াকত আলী লেকু, টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরাউপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গোপালগঞ্জ সফরে আসবেন। এদিন তিনি টুঙ্গিপাড়ায় স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। পরে নরেন্দ্র মোদি কাশিয়ানী উপজেলায় মতুয়াদের প্রধান তীর্থপীঠ শ্রীধাম ওড়াকান্দিযাবেন।
6
মিরপুরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) ছাত্র সৈয়দ মাসুদ রানা নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে আটক করা হয়েছে অভিযুক্ত সেই বাসচালককে। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে বিইউবিটির সহকারি রেজিস্ট্রার (জনসংযোগ) জিসান আল জুবায়ের এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে লহ্মীপুর থেকে অভিযুক্ত দিশারী পরিবহনের ড্রাইভারকে আটক করেছে পুলিশ। বিডি-প্রতিদিন/০৪ জুলাই, ২০১৮/মাহবুব
1
ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে এই হামলা শুরু হয়। রাশিয়া-ইউক্রেনের এই যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজধানী শহর কিয়েভে পৌঁছে গেছে রুশ বাহিনী। সেখানে তুমুল লড়াই হচ্ছে ইউক্রেনীয় ও রুশ বাহিনীর মধ্যে। ইউক্রেনিয়ান মিলিটারি ফেসবুক পেজে এক পোস্টে দাবি করা হয়, এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি রুশ সৈন্য হত্যা ও প্রায় দুইশ' সেনাকে বন্দি করা হয়েছে। এছাড়া পোস্টে আরও দাবি করা হয়, এই দুই দিনে রাশিয়া ১৪টি বিমান, আটটি হেলিকপ্টার, ১০২টি ট্যাংক হারিয়েছে। তবে রাশিয়া ইউক্রেনের এসব দাবি এখনও স্বীকার করে নেয়নি। সূত্র: বিবিসি বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইভ্যালির কাছে গ্রাহকদের দেনা পরিশোধসহ যেসব প্রশ্নের উত্তর চেয়েছিল আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সেগুলোর উত্তর না দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ বুধবার বিকেলে ইভ্যালির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির বৈঠকে প্রতিষ্ঠানটিকে তিন সপ্তাহের সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। বৈঠক শেষে ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।হাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ইভ্যালি কীভাবে গ্রাহকদের দেনা পরিশোধ করবে এবং তাদের আয় ব্যয়ের সার্বিক তথ্য জানাতে আমরা চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু ৩১ জুলাই চিঠি পাঠিয়ে ইভ্যালি জানায়, সমস্ত তথ্য দিতে তাদের ছয় মাস সময় লাগবে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইভ্যালির বিষয়ক কমিটির বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ছয় মাস নয়, তাদের তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। এর মধ্যে জবাব না দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, কমিটি সদস্যরা আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।তিন সপ্তাহের সময় পাওয়া প্রসঙ্গে ইভ্যালির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, থার্ড পার্টি দিয়ে অডিট করিয়ে আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে চেয়েছিলাম। এ জন্য ছয় মাস সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছে এটা আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানানো হয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে জানার পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
0
'তানু ওয়েডস মানু' ও 'তানু ওয়েডস মানু রিটার্নস' এই দুইটি ছবি ব্যাবসায়িকভাবে সফল হয়। ছবি দুইটির পরিচালক আনন্দ এল রাই। ছবি দুইটির সাফল্যের পর শাহরুখ খানকে নিয়ে পরবর্তী ছবির কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। ছবিতে শাহরুখ নাকি এক বামনের চরিত্রে অভিনয় করছেন। বলিউড পাড়ায় এই ছবির সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দ রাই-এর আরেক ছবি নিয়েও যথেষ্ট চর্চা চলছে। পরীক্ষামূলক ছবি করতে পছন্দ করা আনন্দের এই নতুন ছবির বিষয় বেশ নতুন ও ব্যতিক্রম। শোনা যাচ্ছে, ৯ বছরের নাবালকের সঙ্গে ১৯ বছরের তরুণীর প্রেমই আনন্দ এল রাই তার পরবর্তী ছবিতে তুলে ধরেছেন। বিডি-প্রতিদিন/২ নভেম্বর, ২০১৬/তাফসীর-১৫
2
ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে এবি ব্যাংক থেকে ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় ব্যাংকটির ১৫ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের কী পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও অ্যাডিশনাল এসপির (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৬ জুনের মধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ সময় আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। গত ৭ ডিসেম্বর এবি ব্যাংকের ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ব্যাংকটির ১৫ কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই ১৫ আসামি হলেন এরশাদ আলী, এবিএম আব্দুস সাত্তার, আনিসুর রহমান, রুহুল আমিন, ওয়াসিকা আফরোজী, মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান, সালমা আক্তার, মোহাম্মদ এমারত হোসেন ফকির, তৌহিদুল ইসলাম, শামীম এ মোরশেদ, খন্দকার রাশেদ আনোয়ার, সিরাজুল ইসলাম, মাহফুজ উল ইসলাম, মশিউর রহমান চৌধুরী, শামীম আহমেদ চৌধুরী। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছিলেন, 'প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয় এবি ব্যাংকের ১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। এ সূত্র ধরে গত ৯ জুন একটি মামলা হয়। ওই মামলায় ১৭ জনকে আসামি করা হয়। এ ১৭ জনের মধ্যে আসামি শহীদুল ইসলাম ও আব্দুর রহিম আগাম জামিনের আবেদন করেন। আগাম জামিনের পরে তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। নিম্ন আদালত তাদের জেলে পাঠিয়ে দেন। এরপর জেল থেকে তারা জামিন চেয়ে নিয়মিত আপিল করেন। আজকে(৭ ডিসেম্বর) আদালতে শুনানি শেষে দুজনের জামিন প্রশ্নে রুল দেন।
0
বাঙালির জাতীয় ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ। এই যুদ্ধের স্থায়িত্বকাল ছিল অল্প কিছুদিনের, মাত্র ৮ মাস ২০ দিন। কিন্তু এই কয়েক মাসের যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ব্যাপক। ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলেও এই সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই, ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর বাঙালি বুঝে গিয়েছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে সহাবস্থান সম্ভব নয়। ধর্মবিশ্বাসে অভিন্ন হলেও জাতিতে ও সংস্কৃতিতে আমরা ছিলাম ভিন্ন। আমাদের সত্তা, আমাদের কৃষ্টি কোনোভাবেই পাকিস্তানিদের সঙ্গে যায় না। ওদের লুটেরা মনোভাব বাঙালিরা মেনে নিতে পারেনি। সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিল অবধারিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার চূড়ান্ত নির্দেশনাটি আসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে। ১৯৭১ সালের সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে সেদিন বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' বাঙালি জাতির জীবনে এর চেয়ে সত্য ও সুন্দর আহ্বান আর হতে পারে!১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়ার পর আলোচনার নামে টালবাহানা করে ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এই হামলা মোকাবিলায় আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি না থাকলেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ছাত্র-জনতা বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে বাঙালি নিধনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে। যদিও এই ব্যবস্থা ছিল অপ্রতুল। একইভাবে তৎকালে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআরের বাঙালি অফিসার ও সৈনিক এবং পুলিশ সদস্যরা পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে স্বাধীনতাযুদ্ধে শামিল হন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনের পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ অধিবেশনের আহ্বান করেন। কিন্তু পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর পরামর্শক্রমে ১ মার্চ দুপুরে পাকিস্তান রেডিও মারফত সেই অধিবেশন স্থগিত করা হয়।দেশবাসী অধীর আগ্রহে আশা করেছিল জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। কিন্তু পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বাঙালির এই আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাল। জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সমগ্র বাঙালি জাতি। ভুট্টো-ইয়াহিয়া চক্রের এই কূটকৌশলকে দেশবাসী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিবাদে রাজপথে বেরিয়ে আসে। বঙ্গবন্ধু তখন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের নিয়ে ঢাকার হোটেল পূর্বাণীতে মিটিং করছিলেন। ততক্ষণে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল একে একে হোটেল পূর্বাণীর সামনে এসে সমবেত হতে থাকে। উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধু পরবর্তী কী নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধু হোটেল থেকে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভরত জনতার মুখোমুখি হলেন। তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং এর প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় ও ৩ মার্চ সারা দেশে হরতালের ডাক দেন।দেশের অন্যান্য জেলার মতো ৩ মার্চ রংপুরে হরতাল পালিত হয়। শহরের রাস্তায় সেদিন কোনো যানবাহন চলেনি, এমনকি বাইসাইকেলও চলেনি। অফিস-আদালত বন্ধ। শহরের দোকানপাটও সেদিন খোলেনি। সেদিন পৌর বাজারে কাঁচামালের দোকানও বসেনি। সকাল থেকেই চারদিকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল সাড়ে ৯টা কি ১০টা হবে, রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম গোলাপ তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী হারেছ উদ্দিন, নূরুল হাসান, আবুল মনসুর আহমেদসহ বেশ কয়েকজন হরতালের পক্ষে পিকেটিং করতে কাচারি বাজারের দিকে যান। কিছুক্ষণ পর তাঁরা ঠিক করেন একটি মিছিল বের করবেন। কিন্তু সমস্যা হলো লোকবল তাঁরা মোটে ছয়-সাতজন। তাঁরা কিছুটা ইতস্তত করে স্লোগান দিতে দিতে মিছিল শুরু করেন। 'ইয়াহিয়ার মুখে লাথি মারো বাংলাদেশ স্বাধীন করো,' 'তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'ইয়াহিয়া খানের ঘোষণা মানি না মানব না...।' স্লোগানে স্লোগানে চারদিকে যখন মুখরিত মিছিলের দৈর্ঘ্য, তখন এক কিলোমিটারের অধিক হয়ে গেছে। মিছিলের সম্মুখভাগে ছিলেন রফিকুল ইসলাম গোলাপ ও তাঁর সঙ্গে আসা ছাত্রনেতারা ছাড়াও কারমাইকেল কলেজের ছাত্র সংসদের নেতা মুখতার ইলাহী, জিয়াউল হক সেবু, জায়েদুল ইসলামসহ অনেক রাজনৈতিক ও সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের রংপুর জেলার নেতারা।ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক-যুবা সর্বস্তরের প্রতিবাদী মানুষ এ মিছিলে যোগ দেন। মিছিলটি ডিসি অফিস, প্রধান ডাকঘর, শিক্ষা অফিস, পৌর বাজার অতিক্রম করে গগনবিদারি স্লোগান দিতে দিতে তেঁতুলতলা অভিমুখে চলেছে। মিছিলটি যখন আলমনগর এলাকার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল, তখন মিছিলে অংশগ্রহণকারী শংকু সমজদার নামে ১২ বছরের এক কিশোর রাস্তার পাশেই অবস্থিত এক অবাঙালি ব্যবসায়ী সরফরাজ খানের বাড়ির দেয়ালে উর্দুতে লেখা একটি সাইনবোর্ড দেখতে পায়। দেখামাত্র সে যখন সাইনবোর্ডটি নামিয়ে আনতে যাবে, ঠিক সে সময় সরফরাজ খানের বাসা থেকে মিছিলের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে শংকু সমজদার গুলিবিদ্ধ হয়। সঙ্গে সঙ্গে শংকু রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শংকু সমজদার মারা যায়। শংকু সমজদারের মৃত্যুর সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে ওঠে গোটা রংপুর শহর। মিছিলে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সেদিন শংকু সমজদার ছাড়াও আবুল কালাম আজাদ ও ওমর আলী নামে আরও দুজন যুবককে অবাঙালিরা গুলি করে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধে রংপুরের প্রথম শহীদ শংকু সমজদার ছিল এক বিধবা মায়ের সন্তান এবং তাদের বাসা রংপুর শহরের গুপ্তপাড়ায়। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণে পাকিস্তানিরা যে কজন বাঙালি সূর্যসন্তানকে হত্যা করেছিল, তাদের কথা স্মরণ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী জেলার পাশাপাশি রংপুর জেলার নামও উল্লেখ করেছিলেন।বিনা উসকানিতে মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনার জের পরদিনও অব্যাহত থাকে। ৪ মার্চ বিক্ষুব্ধ জনতা আরও মারমুখী হয়ে ওঠে। ওই দিন শহরের কয়েকটি জায়গায় বাঙালি ও বিহারিদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এর উত্তেজনা শহরময় ছড়িয়ে পড়ে। বাঙালি-বিহারি সংঘর্ষের এই উত্তাপ রংপুর সেনানিবাসের অভ্যন্তরেও প্রবেশ করে। বাঙালি সৈনিকদের প্রতি অবাঙালি সৈনিকদের আচরণের মধ্য দিয়ে তা প্রকাশ পেতে শুরু করে। অতঃপর শহরের উত্তেজনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাধারণ সৈনিকদের সেনানিবাসের বাইরে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এভাবেই রংপুরের স্বাধীনতাকামী সংগ্রামী মানুষ হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। শংকু সমজদার স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রাণ বিসর্জনকারী প্রথম সারির শহীদদের মধ্যে অন্যতম। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে রংপুরের মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু করেছিল। ৩ মার্চ শংকু সমজদারের প্রয়াণ দিবস। বাংলাদেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে তার অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। শংকু সমজদার এ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন হয়ে আমাদের হৃদয়ে চিরজাগরূক থাকুক; এটাই হোক আমাদের সবার কামনা।
6
মিসরের সোহাগ প্রদেশে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার তিন সপ্তাহ পর আবার রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে। কায়রো-মানসুরা সংযোগকারী রেললাইনে কালিউবিয়া প্রদেশে রোববারের এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত ও ৯৮ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমে খবর জানানো হয়। মিসরের জাতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে খবরে জানানো হয়, রাজধানী কায়রো থেকে চার বগির একটি ট্রেন রোববার উত্তরে নীলনদের বদ্বীপ শহর মানসুরার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পরে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে কায়রো থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে কালিউবিয়া প্রদেশের ছোট শহর তুখের কাছে লাইনচ্যুত হয়ে ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পড়ে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনার কারণ জানতে তারা বর্তমানে তদন্ত করছেন। তদন্তের জন্য ট্রেনটির চালক ও তার সহকারীসহ আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। এদিকে মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ৫৮টি অ্যাম্বুলেন্সে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রদেশের তিনটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবরে জানানো হয়। এর আগে গত ২৬ মার্চ মিসরের সোহাগ প্রদেশের তাহতা জেলায় ভয়াবহ এক রেল দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও আরো দুই শ' জন আহত হয়। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের পর কৌঁসুলিরা জানান, রেলওয়ে কর্মচারীদের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সূত্র : আহরাম অনলাইন ও আরব নিউজ
3
রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের একজন রংপুরেরমোস্তাফিজার রহমান। পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাংগুরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদ মুন্সী ও আয়শা খাতুন দম্পতির ছেলে মোস্তাফিজার রহমান। ৭ ভাই ও ৫ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ৮ম। ৫ বছর বয়সী এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মতিঝিলের টিকাটুলিতে বসবাস করছিলেন তিনি। এফ আর টাওয়ারের অষ্টম তলায় একটি প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরি করতেন। শুক্রবার সকালে মোস্তাফিজারের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে এ তথ্য জানান। তারা সকলেই রাজধানীতে বসবাস করেন। শহিদুল ইসলাম বলেন, এরপর তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে এফ আর টাওয়ারে গিয়ে তার কোনো খবর পাইনি। পরে রাতে সিএমএইচে গিয়ে মোস্তাফিজারের মরদেহ সনাক্ত করা হয়। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় কবরস্থানে জমি দান করে পরে তা ফেরত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দাইপুকুরিয়া ইউপি নির্বাচনে পরাজিত সদস্য প্রার্থী তসলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের সময় স্থানীয় দারিগাছা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দুই কাঠা জমি দান করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোটে পরাজিত হওয়ার পর তিনি জমি দানের কথা অস্বীকার করেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।এ বিষয়ে পরাজিত সদস্য প্রার্থী তসলিম উদ্দিন বলেন, 'আমি কবরস্থানে জমি দানের কথা বলিনি। স্থানীয় লোকজন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন।'জানা গেছে, তৃতীয় ধাপে গত ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউপিতে ভোট হয়। এতে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ফুটবল প্রতীক নিয়ে ভোট করেন মো. তসলিম উদ্দিন। তিনি ৫১০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।দারিগাছা কেন্দ্রীয় কবরস্থানের সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ বলেন, 'আমরা এই কবরস্থান ২০০৯ সালে তৈরি করি। তখন থেকে আমরা আশপাশের জমি কিনে গোরস্থানের আয়তন বড় করার চেষ্টা করি। কিন্তু কবরস্থানের কোনো প্রবেশপথ ছিল না। তাই তসলিম উদ্দিন নির্বাচনের সময় প্রবেশপথের জন্য দুই কাঠা জমি দিতে চান। আমরা পাশের এলাকা থেকে মাটি কিনে প্রবেশপথ তৈরি করি। কিন্তু নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তিনি জমি দিতে অস্বীকার করছেন। পরে আমরা ওই জমি কেনার প্রস্তাব দিই। কিন্তু তিনি ওই জমির দাম চাচ্ছেন ৪ লাখ টাকা। অথচ আশপাশের জমির মূল্য ৩০-৪০ হাজার টাকা কাঠা।স্থানীয় বাসিন্দা রজিনা বেগম বলেন, 'নির্বাচনের আগেই শুনেছি, তিনি কবরস্থানের জন্য ২ কাঠা জমি দান করেছেন। আমরা খুশিতে তাঁকে ভোট দিয়েছি। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক দিন পরই জানতে পেরেছি, তিনি জমি দান করবেন না।'দাইপুকুরিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মরজেম আলী বলেন, 'ভোটের আগে আমিও শুনেছি তিনি জমি দান করেছিলেন। তবে এখন অস্বীকার করছেন তা লোকমুখে শুনেছি।'
6
টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এর মধ্যে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পাচার হওয়া দশ বস্তা চালসহ একজন, দশ কেজি গাঁজাসহ দুজন এবং ৯৮ লিটার চোলাই মদসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-১২ (সিপিসি-৩) টাঙ্গাইলের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।গত সোমবার রাতে থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত র্যাবের পৃথক এ অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার বড়বেলতা গ্রামের মুকুল মণ্ডল (৪৯), শহরের কান্দাপাড়া এলাকার শংকর রবি দাস (৫০), সুশান্ত রবিদাস (২৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হরিপুর এলাকার মো. রুবেল (৩২) ও সাগরতলা এলাকার সুমন মিয়া (২২)।আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে পোড়াবাড়ী বাজারের একটি গুদাম ঘরে অভিযান চালিয়ে দশ বস্তা চালসহ মুকুল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে ভোরের দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের রাবনা বাইপাসে অভিযান চালিয়ে দশ কেজি গাঁজাসহ রুবেল ও সুমন এবং শহরের কান্দাপাড়া এলাকায় ৯৮ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ শংকর ও সুশান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় পৃথক মামলা করা হয়।
6
জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোরবানি পশুর হাট বসাবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএনসিসির নগর ভবনে গণমাধ্যমের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মেয়র এ কথা বলেন। মেয়র বলেন, আমার কাছে বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে ফোন আসছে। আমরা যদি ঢাকার পশুর হাট বন্ধ করে দেই তবে তাদের কী হবে! এটিই কিন্তু এখন বাস্তবতা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কিন্তু একটি বছর অপেক্ষা করে থাকে এই কোরবানি পশুর হাটের জন্য। তাদের অনেকেই পশু পালন করে বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করে। একইসাথে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু কোরবানি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন। আবার এটিও সত্য যে আমাদের শহরে ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে যদি পশুর হাট বসে সেটি কিন্তু জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য কিছু কিছু সিদ্ধান্ত আমি পরিবর্তন করতে বলেছি। তিনি বলেন, আমাদের তেজগাঁও, আফতাবনগর, ভাষাণটেক এলাকায় বড় হাট বসে প্রতিবার। সেখান থেকে আমাদের অনেক টাকা আয়ও হতো। কিন্তু এবছর করোনা বিবেচনায় আমরা এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এই স্থানে হাট বসতে দিবো না। অন্যান্য এলাকার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, উত্তরা ১০, ১১ ও ১২ এই তিনটি সেক্টরে বড় হাট বসত। গত বছর এই হাটে ইজারা মূল্য পাওয়া গিয়েছিল ৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কিন্তু এবছর এখানে আমরা হাট বসতে দেব না। উত্তরাবাসীর জন্য উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন এলাকায় বড় হাট বসবে, তারা সেখান থেকে পশু কিনতে পারবেন এবং ঐ এলাকায় মানুষের বসবাসও কম। এছাড়া মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের জন্য বসিলায় একটা হাট দেওয়া হবে। হাট থাকবে পূর্বাচল ব্রিজ সংলগ্ন মস্তুল ডুমনী ও ১০০ ফুট সড়কের সাইদ নগর এলাকায়, কাউলায়। গাবতলীতে আমাদের স্থায়ী পশুর হাট আছে, সেটি থাকবে। 'তবে ঢাকা উত্তরের সকল হাটেই মেনে চলতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। আমি অনুরোধ করবো যাতে শারীরিকভাবে দুর্বল, অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং শিশুরা পশুর হাটে না আসে এবার।' 'ইজারদারদেরকে বলা থাকবে যাতে পশুর হাটে ন্যূনতম ৫ ফুট দূরে দূরে গরু রাখার ব্যবস্থা করে তারা। হাটে পর্যাপ্ত বেসিন এবং হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে, জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে একটু পর পর মাইকিং থাকতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে সব হাটে ম্যজিস্ট্রেট টহল থাকবে। ইজারাদারদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, আমাদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, অন্যথায় ইজারা বাতিল করা হবে।' কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণ বিষয়ে মেয়র বলেন, বরাবরের মতো এবারও ডিএনসিসি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করতে প্রস্তুত। তিনি নগরবাসীকে অনুরোধ করে বলেন, আপনারা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি দেবেন, কোনো অবস্থাতেই বর্জ্য ড্রেনে ফেলবেন না, ইনশাআল্লাহ আমরা এবারও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা উত্তরের সকল বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হবো। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের জেরে এনায়েত শেখ নামে এক যুবক বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ভাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।এনায়েত উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বালিয়াচরা গ্রামের লুতফর শেখের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি রাতে স্বামী-স্ত্রী মিলে শোবার ঘরে ঘুমাতে যান। একপর্যায়ে স্ত্রী তার স্বামীকে ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়ান। গভীর রাতে হটাৎ এনায়েতের ঘুম ভেঙে গেলে তিনি শোবার ঘরে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন। সকালে ঘটনাটি উভয় পরিবার ও প্রতিবেশীর মধ্যে জানাজানি হয়। একপর্যায়ে লোকলজ্জয়া গত ৮ জানুয়ারি দুপুরে নিজের ঘরে এনায়েত বিষপান করেন। নিহত এনায়েতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৬ মাস আগে এনায়েতের সঙ্গে ওই তরুণীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে। আমরা জানতাম না বিয়ের আগে থেকেই তার সঙ্গে অন্য ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে এনায়েতের এমন মৃত্যু হল। নিহতের (ভগ্নিপতি) আলগীর ৮নং ইউপি সদস্য শওকত মোল্লা জানান, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর মেয়ের পরিবারের পক্ষ মিমাংসার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ম.ম. সিদ্দিক মিয়া জানান, এ ঘটনায় ওই তরুণীর পরিবারের সদস্য নুর মোহাম্মদ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে মিমাংসার কথা বলেছিলেন। কিন্তু ঘটনার প্রায় ১১ দিন পার হয়ে গেলেও কোন সমাধান হয়নি। বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। এ বিষয়ে জানতে ভাঙ্গা থানার ওসি সৈয়দ লুৎফর রহমানের মোবাইলে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
6
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে স্থানীয় কয়েক যুবক মারধর করায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার বেলা দুইটা থেকে নগরের লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে শেরেবাংলা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষর্থী মো. সবুজ হোসেন ও ভাস্কর্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আলহাজ মোল্লা মোটরসাইকেলে করে গল্লামারী থেকে নগরের ময়লাপোতা মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ঘষা লাগে। এ সময় ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ও যাত্রী নেমে কয়েক যুবককে ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। একজনকে জোর করে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ময়লাপোতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে কোনো রকম দৌড়ে পালিয়ে ওই দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে ফেরেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নগরের গল্লামারী মোড় ও লায়ন্স স্কুলের সামনের সড়কে বাঁশ ফেলে অবরোধ করেন। বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে খুলনায় সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যে সড়ক অবরোধে বিপাকে পড়েন ওই সড়কে চলাচলকারীরা। পরে খুলনা মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক শরীফ হাসান, স্থানীয় ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবরসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা এসে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, মারধরের ওই ঘটনায় বিকেল সাড়ে চারটা থেকে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, স্থানীয় কাউন্সিলর সবাইকে নিয়ে বৈঠক চলছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ও যাত্রীদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া চলছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
6
করোনা পরিস্থিতির মধ্যে গ্রেফতার হলেন জিম্বাবুয়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওবাদিয়াহ মোয়ো। পিপিই ও কিট কেনায় দুর্নীতির অভিযোগে দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা তাকে গ্রেফতার করে। খবর আলজাজিরার। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার গ্রেফতারের পর তাকে হারারের একটি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। শনিবার তাকে আদালতে তোলা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
এটা আমার না নাটকটির নির্মাতা কাজল আরেফিন অমির ক্রেডিট। সে চরিত্রগুলো এমন ভাব দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে যে দর্শকরা সে চরিত্রগুলোকে ধারণ করছে। নাটক বিজ্ঞাপন বানানোর জন্য সীমাবদ্ধ মানুষের কাছে আমার পরিচয় ছিল। 'ব্যাচেলর পয়েন্ট' নাটক করার পর দর্শক মনে করে পরিচালক অমি আমাকে নতুনভাবে নিয়ে আসছেন। রাস্তাঘাটে মানুষ আমাকে এখন 'বোরহান ভাই' বলে ডাকেন। বিষয়টা পজেটিভ। খুবই পজেটিভ। বোরহান ভাই হিসেবে অনেকেই ফেসবুকে বার্তা দিচ্ছেন, ভাই আপনি এতদিন কোথায় ছিলেন? ফেসবুক খুললেই ইনবক্সে ভরা থাকে। এতে করে বুঝলাম বোরহান ভাইকে মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে। তবে আমি তো অভিনেতা নই, আমি আগাগোরা একজন নির্মাতা। নির্মাতা পরিচয়টাই আমার আসল পরিচয়। তবে অমির এমন হিট সিরিয়ালে আমাকে নিচ্ছে তখনই তাকে বলেছিলাম, বুইঝো আমার জন্য যেন সিরিয়ালের ইমেজ নষ্ট না হয়। সে শুধু বলেছিল, তার উপর ছেড়ে দিতে। পরিচালক অমি আমার চরিত্রটা এমনভাবে পোট্রে করছে যে মানুষ আসল নামটা ভুলে বোরহান ভাই হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। বলছেন অভিনেতা নই, কিন্তু নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন? আমার তো অভিনয় করার কখনো ইচ্ছা ছিল না। কাছের লোকজন ক্যারেক্টার সেট করে আমাকে ডাকত। বলত, তুমি ছাড়া হবেই না। তখন বাধ্য হয়ে অভিনয় করতে হয়। সরয়ার [মোস্তফা সরয়ার ফারুকী] ভাই বলেন, 'এটা জীবন করবে।' অমিতাভ রেজা ভাই বলেন, 'তোর করতেই হবে।' অনম বিশ্বাস ভাই বলেন, 'আরে এইটা তো তোকে ভেবেই লেখা।' তাদের না করতে পারতাম না। তখন থেকেই টুকটাক কাজ করা। সেই টুকটাক করতে এখন তো সমানে সবাই ডাকে। এখন যারা নিয়মিত কাজ করছে তাদের প্রায়জনই আমার ছোট ভাই। তারা অনুরোধ করে বলেন জীবন ভাই অমুক চরিত্র আপনাকে ভেবে লিখেছি করেন দিবেন। আগে বড় ভাইয়ের করতেন এখন ছোট ভাইদের অনুরোধ করেন। ছোটদের অনুরোধ ফেলতে পারি না। বিগত কয়েকমাস ধরে আমি প্রচুর নাটকে অভিনয় করেছি। আমি পেশাদার অভিনেতা নই। এইযে এতো অভিনয় করেছি কারও কাছ থেকে কিন্তু আমি কখনও পেমেন্ট নেইনি। এখনো নিচ্ছি না। তবে যেভাবে চাহিদা বাড়ছে ভাবছি এখন থেকে পেমেন্ট নিতে হবে (হাসি)। তার মানে আপনি অনুরোধ রাখতে অভিনয় করেই যাবেন? আসলে অভিনেতা হওয়ার কোনো ইচ্ছাই নেই আমার। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ যদি ডাকেন, আমাকে দিয়ে যদি তারা বিন্দুমাত্র উপকৃত হন, তাহলে না করব কেন। আপনার কাজের শুরুটা হয়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে । সেই শুরুটা কিভাবে হয়েছিলো? ফারুকী ভাই আমাদের গুরু। তার সঙ্গে কাজের শুরু ২০০২ সালে। তারও প্রায় একবছর আগে থেকে তার সঙ্গে ফোনে আলাপ করতাম। রীতিমত বিরক্ত করতাম। বলতাম, আমাকে আপনার সঙ্গে নিতেই হবে! সরয়ার ভাই বলতেন, তুমি তো ছোটমানুষ। গোঁফ দাঁড়ি ওঠে নাই। তুমি কীভাবে পারবে! অভিনয় নাকি ইউনিটে কাজ করতে চাও? আমি ইউনিটে কাজ করতে চাইতাম। সরয়ার ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল আজিজ সুপার মার্কেটে। তখন বলেছিলান, ভাই আমি সেই জীবন যে আপনাকে বিরক্ত করি। উনি বলেছিলেন, কেন কাজ করতে চাও? বলেছিলাম, আমি অনেক ক্রিয়েটিভ। মনে হয় আমি করতে পারবো। তাছাড়া আপনি যে কাজ করেন আমার কাছে মনে হয় কাজগুলো অনেক সহজ। তখন ফারুকী ভাইয়ের হিট কাজ হয়েছিল চ্যানেল আইয়ের 'চড়ুইভাতি'। তখনতার 'একান্নবর্তী'র শুটিংয়ে আমাকে যেতে বলেছিলেন ঠিকানা দিয়ে। সেখানে পৌঁছানো ছিল আরেক মজার ঘটনা। আমাকে দেয়া হয় মহাখালী ডিওএইচএস এর ঠিকানা, আমি চলে যাই ধানমন্ডি ১৭ নাম্বার রোডের ২৩৬ নাম্বার বাড়ির খোঁজে। কিন্তু সেখানে এই ঠিকানায় বাড়ি ছিল না। পরে খুঁজে খুঁজে বিকেলে মহাখালী ডিওএইচএস এর ঠিকানায় যাই। এই দিনটা ছিল ২০০২ সালের ৫ মে। সেদিন থেকে সরয়ার ভাইয়ের সংস্পর্শ পাই। কেবল নির্মাতা হতেই কিময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন? নির্মাতা হতে আমার ঢাকা আসা নয়। আমার ঢাকায় আসার উদ্দেশ্য ছিল সার্ভাইভ করা। লেখাপড়া করা এবং একটা থাকার জায়গা নিশ্চিত করা। মিডিয়াতে কাজের ইচ্ছে ছিল তবে মূল উদ্দেশ্য ছিল লেখাপড়া আর সার্ভাইভ। মফঃস্বলে বড় হয়েছি। তখনই বুঝেছিলাম ঢাকা যেহেতু কেন্দ্র তাই এখানে আসতেই হবে। দর্শকপ্রিয় অনেক নাটকের নির্মাতা আপনি। এখন নাটক নির্মাণ করছেন না কেনো? এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। তবে বড় কারণ হচ্ছে বাজেট। নাটকে বাজেট কম পাই ফলে যেভাবে কাজ করতে চাই কিংবা গল্পের ডিমান্ড অনুযায়ী নির্ধারিত জায়গায় যখন শ্যুট করতে পারি না। বিষয়টা আমার কাছে খারাপ লাগে। তাই বিজ্ঞাপনে বেশি মনযোগী হলাম। কারন বিজ্ঞাপনে নানান ধরনের কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করা যায় এবং যখন যেখানে যা ডিমান্ড থাকে ঠিক সেইভাবে শুটিং করতে পারি। তবে এখন একেবারেই যে নাটক নির্মাণ করছি না তা কিন্তু নয়। বিশেষ দিবস কিংবা উৎসব পার্বণে নাটক নির্মাণ করছি। তবে আমি বিজ্ঞাপনেও গল্প বলার চেষ্টা করি। আমার নির্মিত গ্রামীণফোনের 'আমরা আমরাই তো'নাম্বার ওয়ান চা, ইউ ক্যাশ, বিকাশের ৩টা সিরিজ, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড এটুআই, মরটিন, প্রাণ আরএফএল, মিনিস্টার ফ্রিজ সহ শতাধিক বিজ্ঞাপনের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন। এখনকার নির্মাতারা গল্প বলার চেয়ে কিভাবে ভিউ হবে সেদিকে মনোযেগী বেশি। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি? কিভাবে ভিউ বেশি হবে ভাবনা মাথায় নিয়ে কাজ করা দোষের কিছু না। এটাকে নেতিবাচক ভাবে দেখিনা আমি। তবে পরিচালকের মাথায় যদি শুধু এটাই থাকে তাহলে খারাপ। একজন নির্মাতার প্রধান চাওয়া হতে হবে সুন্দর করে গল্প বলা। এরপর অন্যান্য বিষয়ে থাকতেই পারে। কিন্তু এখন গল্প বলার দিকেই মনোযোগ কম দেখা যায়। এর জন্য আমি মনে করি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোই দায়ি। কোন দিক থেকে চ্যানেলকে দায়ি করছেন? আমি জানিনা চ্যানেলগুলো এ বিষয়ে রাগ করবে কিনা। হিসেবে করে দেখুন ভারতীয় চ্যানেলগুলোর দর্শক কি কমে গেছে? কমে নাই কিন্তু। তাহলে আমার দেশের দর্শকদের দর্শক কমছে কেনো? কেনো কমে যাচ্ছে এটা চ্যানেলকেই বের করতে হবে। বের করে সে দিকটার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তারা বিজ্ঞাপন পাচ্ছেন না বলে নাটকের বাজেট কমিয়ে দিয়েছেন। আর বিজ্ঞাপনদাতারা চ্যানেলগুলো দর্শক দেখছেন না বলে বিজ্ঞাপন দিতে চান না। তাহলে বুঝেছেন সমস্যাগুলো কোথায়। চ্যানেলের উচিত ক্ষতিপূরণ দিয়ে হলেও দর্শক পছন্দ করেন এমন নাটক ও প্রোগ্রাম বানানো। আর ভালো কন্টেন্ট যারা বানান সেই নির্মাতাদের আমি প্রমোট করবো। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে উল্টা জিনিস। ইউটিউবে যে নাটক হিট হয় সে নাটক চ্যানেলগুলো চালায়।আবার নাটক নির্মাণ করা হয় ইউটিউব চ্যানেলের জন্য সেটা অর্ধেক দামে আবার কিনে নেয় চ্যানেল। এই গুজামিলের জন্য আমি চ্যানেলকেই দায়ি করবো। বিষয়টি দেখভালের জন্য আসলে চ্যানেলের শক্ত ও মেধাবি একটা টিম থাকা দরকার। আপনি তো সিনেমা নির্মাণ করবেন বলেছিলেন। তার খবর কি? ধৈর্য্যই হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রার্থনা, বলেছেন গৌতম বুদ্ধ । আমিও এটা মানি। সবসময় ধৈর্য্য ধরে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু সিনেমার ব্যাপারে আমি ভীষণ ডেসপারেট। এটা বানাতেই হবে। এই যে হল নাই, চালানোর জায়গা নাই শুনি। কিন্তু আমার বিশ্বাস, ভালো সিনেমা বানাতে পারলে মানুষ খুঁজে খুঁজে দেখবে। কে বানিয়েছে এটা দেখবে না। আমার ওস্তাদ সরয়ার ফারুকী, গাউসুল আলম শাওন ভাই, তানভীর হোসেন, আনিসুল হক এই মানুষগুলো আমার শুভাকাঙ্ক্ষী। ব্যক্তিগত জায়গা থেকে সবকিছু নিয়ে আমি তাদের পরামর্শ নেই। তাদের সঙ্গেও আলাপ করেছি। দুই তিনটা গল্প নিয়ে গত দুই বছর নিয়ে কাজ করছি। এরমধ্যে সৈয়দ শামসুল হকের 'রক্ত গোলাপ' নামের একটি অসাধারণ উপন্যাস নিয়ে আগাচ্ছি। আরও একটা গল্পের চিত্রনাট্যের কাজ চলছে। হুমায়ূন আহমেদের পর বাংলাদেশে চিত্রনাট্য লেখায় যদি কারও নাম বলতে হয় আমি আনিসুল হকের কথা বলবো।বিষটি নিয়েই এখন দৌড়ঝাপ চলছে। সিনেমার বিষয়টি কিন্তু অনেক বড় ক্যানভাস। তাই প্রস্তুতির পর্বও অনেক দীর্ঘ হতে হয়। প্রযোজক পাওয়ার একটা বিষয়ও থাকে। দেশে একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সিনেমা বানিয়ে চালাবেন কোথায়? এখন তো সিনেমা হল সবাই পকেট নিয়ে ঘুরেন। প্রতিটি মানুষের মোবাইল একটা সিনেমা হল। সিনেমা দেখানোর মাধ্যমের এখন অভাব নেই। এছাড়াওনেটফ্লিক্স, অ্যামাজান প্রাইমসহ বড় বড় ওটিটি রয়েছে। মেক্সিকান 'রোমা' নেটফ্লিক্সের সিনেমা। যেটি বড় বড় অ্যাওয়ার্ড পাওয়া। সিনেমা বানানো হয় মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য। যে কোনো মাধ্যম দিয়ে গেলেই হলো। সিনেমা হলের দরকার কী? সিনেমা দেখানোর মাধ্যমের অভাব নেই।
2
ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে বন্যায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দেশটির কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন।এক কর্মকর্তা বলেন, 'বন্যার ঢেউয়ের তোড়ে এ পর্যন্ত নয় জন প্রাণ হারিয়েছেন। বারাক উপত্যকায় কাচার, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি এই তিনটি দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার বন্যার পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করেছে।'কর্মকর্তারা বলেন, বন্যায় ছয়টি জেলার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।কর্মকর্তারা বলেন, 'দুর্যোগ প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্যরা ছয় হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এদের অস্থায়ী শিবিরগুলোতে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। সেখানে তাদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় খাবার ও নিরাপদ পানি দেয়া হয়েছে।'বন্যায় রাস্তাঘাট, নদীর তীরবর্তী এলাকা ও ফসলি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
3
রাজু ভাস্কর্যের সামনে পাখির মতো শূন্যে উড়ছেন নৃত্যশিল্পী 'মুবাশশীরা কামাল ইরা'। ইউরোপীয় ব্যালে নাচের মুদ্রায় তোলা তাঁর বেশ কিছু ছবি এখন ভাইরাল। ইরার জন্মস্থান নওগাঁয়। ছবিগুলো যখন চারদিকে আলো ছড়াচ্ছে, ইরা তখন বাড়িতে বসেই মিডিয়া সামলাচ্ছেন। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে মেয়েকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান তাঁর মা-বাবা।সম্প্রতি ইরার ছবিগুলো তোলেন ক্যানসারে আক্রান্ত নারী ফটোগ্রাফার জয়িতা আফরিন। মূলত ব্যালে নাচের ধরনে ছবিগুলো তোলা হয়। ইরার বাড়ি নওগাঁর সদর উপজেলার বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বটতলা মোড়ের পাশে। তিনি স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী আবু হায়াৎ মোহম্মদ কামালের তৃতীয় কন্যা।জানা গেছে, ইরার অনুশীলন ও বেড়ে ওঠা নওগাঁয়। তিনি নওগাঁ সীমান্ত পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসিতে পেয়েছেন জিপিএ-৫। এখন লেখাপড়া করছেন নওগাঁ সরকারি কলেজে। প্রথমে নওগাঁয়, পরে ঢাকায় ভরতনাট্যম শিখেছেন। তবে লকডাউনের সময় ঘরে বসেই শিখতে শুরু করেন ব্যালে নৃত্য। মুবাশশীরা কামাল ইরা বলেন, 'মূলত একটা নৃত্য উৎসবে ঢাকায় গিয়েছিলাম। তারপর হঠাৎ করেই জয়িতা আপুর সাথে ছবি তোলা হয়। আর আমি যেহেতু নৃত্য করি, সেই জায়গা থেকেই এ ধরনের ছবিগুলো তোলা হয়। তারপর সেগুলো ফেসবুকে দেওয়ার পর অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এখন সারাক্ষণ বিভিন্ন টিভি ও পত্রিকা থেকে আমার সাথে যোগাযোগে করা হচ্ছে। ওটা নিয়েই ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।'ইরা আরও বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি অন্যরকমের একটা ভালোবাসা ছিল। নাচের মধ্য দিয়েই আমি কিছু করতে চাই। সামনে নাচ নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছে আসে। সেটা যদি দেশের বাইরে হয়, তাহলে তো ভালো হয়। দেশীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি ব্যালে নাচে নতুন কিছু করার ইচ্ছেও আছে।'ইরার মা ফাহমিদা কামাল বলেন, 'ছোট থেকেই নাচ ভালোবাসে ইরা। নাচের প্রথম হাতেখড়ি স্থানীয় সুলতান মাহমুদের কাছে। নাচে ইরার অনেক অর্জন আছে। পড়ালেখা আর নাচের পাশাপাশি জিম, স্কেটিং, টেনিস ও ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করে।' তবে প্রথম দিকে ইরার নাচ নিয়ে পরিবার থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এখন অবশ্য সবাই তাকে সহযোগিতা করে। ইরার বাবা আবু হায়াৎ মোহম্মদ কামাল বলেন, 'সবকিছুর ঊর্ধ্বে ইরাকে আগে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। নাচের পাশাপাশি ভালোভাবে পড়ালেখা করার কথা বলি। আমি আশা রাখি আমার মেয়েটা সফল হবে। কারণ ওর ইচ্ছেশক্তি অনেক। মেয়েকে নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী।'ফটোগ্রাফার জয়িতা আফরিন বলেন, 'আইডিয়াটা আসলে আমার অনেক দিন ধরেই ছিল যে ঢাকার রাস্তায় ইরাকে নিয়ে কাজ করার। টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ব্যানার দেখে মাথায় আসে যে এটা এভাবে এখন করা যেতে পারে। সেটাই করা হয়।'জয়িতা আরও বলেন, 'সবাই যখন শুধু সাফল্য দেখছে এবং অভিনন্দন জানাচ্ছে আমাকে, কিন্তু এর পেছনে আমার যুদ্ধের গল্প হয়তো অনেকেই জানে না। ভাইরাল হওয়া ছবি নিয়ে অনেক গল্প, প্রশংসা হচ্ছে। আমি এই সাফল্য উৎসর্গ করলাম সব ক্যানসারে আক্রান্তদের জন্য। কারণ আমি নিজে গত বছর থেকে ক্যানসারের সাথেই যুদ্ধ করছি।'
6
প্রশ্ন: করোনায় হিমায়িত মৎস্য রপ্তানি খাতে কী প্রভাব পড়েছে?আশরাফ মাসুদ: করোনায় আমাদের রপ্তানি খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ৭৫ শতাংশ বাজার হারিয়েছি আমরা। চট্টগ্রামে বছর পাঁচেক আগে হিমায়িত মৎস্য রপ্তানি করে এমন প্রায় ৭৫টি প্রতিষ্ঠান ছিল। বন্ধ হতে হতে করোনার আগে ৪৪টি প্রতিষ্ঠানে এসে ঠেকে। এখন মাত্র বড় ১০-১২টি প্রতিষ্ঠান চলছে। তাদের অবস্থাও খুব নাজুক।প্রশ্ন: রপ্তানি কেমন কমেছে?আশরাফ মাসুদ: ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত আমাদের রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। প্রায় ৫২৭ কোটি টাকা রপ্তানি কমেছে এ বছর। বর্তমান অবস্থা আরও খারাপ।প্রশ্ন: বাংলাদেশ থেকে কী কী ধরনের মাছ রপ্তানি হয়? কোন কোন দেশে?আশরাফ মাসুদ: সামুদ্রিক বড় চিংড়ি, ইলিশ, রূপচাঁদা, কোরাল থেকে শুরু করে নানা ধরনের মাছ রপ্তানি হয়। মিঠা পানির রুই, কাতল, তেলাপিয়া, পাঙাশসহ কার্পজাতীয় মাছ। এ ছাড়া কুচিয়া, কাঁকড়া এবং অল্প ঝিনুকও রপ্তানি হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষ করে সৌদি আরব আমাদের প্রধান ক্রেতা। এর বাইরে ইউরোপ, আমেরিকারসহ বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশ ক্রেতা।প্রশ্ন: রপ্তানিতে ধস নামার পেছনে কী কারণ দেখছেন?আশরাফ মাসুদ: করোনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউনে হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ। পর্যটন খাতও স্থবির। তাই রপ্তানি কমেছে। তা ছাড়া সৌদি আরব আমাদের থেকে আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের সাগরে মাছের পরিমাণও কমেছে, বাগদা চিংড়ির উৎপাদনও কমে গেছে।প্রশ্ন: সরকারের কাছে কী সুপারিশ করবেন?আশরাফ মাসুদ: আমাদের চট্টগ্রামেই প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছে এ খাতে। আমাদের টিকিয়ে রাখতে হলে শিগগিরই সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাজার খুলে দেওয়া জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে এ খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সহযোগিতা করতে হবে সরকারকে।
8
আদৌও তিনি প্রথম একাদশে থাকবেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। আর সেই তিনিই আইপিএলের এলিমিনেটরে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) জেতালেন। তিনি আর কেউ নন, বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সেইসাথে যেন নাইট ম্যানেজমেন্টকে বার্তা দিলেন, ক্ষমতা থাকলে প্রথম একাদশের বাইরে রেখে দেখাও। সোমবার আইপিএলের এলিমিনেটরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে সাকিব যখন নেমেছিলেন, তখন ১৩ রান বাকি ছিল। হাতে ছিল ১৪ বল এবং চার উইকেট। রানটা বড় না হলেও বেশ চাপে ছিল কেকেআর। সেই ওভারেই জোড়া উইকেট হারিয়েছিলেন নাইটরা। সেখান থেকে নিজের যাবতীয় অভিজ্ঞতা কাজে লাগান সাকিব। প্রথম বলেই এক রান নেন। বড় শট না খেলে এক রান নিয়ে দলকে টানতে থাকেন। শেষ ওভারে সাত রান বাকি থাকা অবস্থায় শর্ট ফাইন লেগের উপর দিকে স্কুপ মেরে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দেন বল। তারপরই হাতের মুঠোয় ম্যাচ পুরে নেয় কেকেআর। জয়সূচক রানও নেন সাকিব। শেষপর্যন্ত ছয় বলে ৯ রানে অপরাজিত থাকেন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার। শুধু ব্যাট হাতে নয়, বল হাতেও ভালো পারফরম্যান্স করেন সাকিব। বিরাট কোহলিদের বিরুদ্ধে শুরুতেই বোলিং শুরু করেন। শেষপর্যন্ত উইকেট না পেলেও চার ওভারে মাত্র ২৪ রান দেন। তার বোলিংয়ের প্রশংসা করেন বিরাটও। ম্যাচের পর বিরাট জানান, শুধু সুনীল নারিন নন, বরুণ চক্রবর্তী ও সাকিবও দারুণ বল করেছেন। সেই সার্বিক পারফরম্যান্সের পর একাংশের বক্তব্য, সাকিব আবারও বুঝিয়ে দিলেন যে কেন তিনি যেকোনো দলের কাছে অপরিহার্য সম্পদ। অথচ তাকে প্রথম একাদশে নেয়া হচ্ছিল না। বিশেষত বিরাটদের বিরুদ্ধে সাকিব যে চার মারেন, তা যেন ২০১২ সালের আইপিএল ফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
12