text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
একদিকে তথ্য গোপন আর অন্যদিকে করোনা মোকাবিলায় ভুল পদক্ষেপের কারণে দেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মোশাররফ বলেন, সরকার যে তথ্য দিচ্ছে, তা রোগকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নয় রোগীকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। যা-ই ঘটুক না কেন, তথ্যটা সঠিক প্রকাশ করতে হবে। তথ্য সঠিকভাবে প্রকাশ করা না গেলে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে না। প্রথম থেকে সঠিকভাবে তথ্য প্রকাশ করিনি।' তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে কাবু করে ফেলেছে। ডিসেম্বরের শেষে চীনে এ ভাইরাসের কথা প্রথম জানা যায়। আর বাংলাদেশে মার্চে এই ভাইরাসের সংক্রমণের ঘোষণা দেওয়া হয়। মাঝে এত সময় পাওয়ার পরও প্রস্তুতির ব্যাপারে বড় ঘাটতি হয়েছে। এ সময়ে সারা বিশ্ব থেকে যে প্রবাসীরা এসেছেন, বিমানবন্দরে তাঁদের কার্যকর কোনো পরীক্ষা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হলে এ অবস্থা হতো না বলেও জানান। সরকারের ব্যবস্থাপনার গাফিলতি ছিল উল্লেখ করে মোশাররফ বলেন, ছুটি ঘোষণার পরেও মানুষ নিজ নিজ এলাকায় ফিরেছে। এতে ভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই সময়টায় আরও হুঁশিয়ার হওয়া দরকার ছিল। গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার সমালোচনাও করেন তিনি। এ ছাড়া বলেন, বিভিন্ন দেশে লকডাউন করা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ ছুটি আর লকডাউনের মধ্যে পার্থক্য আছে। সাধারণ ছুটি দেওয়াতেই এই অবস্থা হয়েছে। শর্ত সাপেক্ষে দোকানপাট, অফিস খুলে দেওয়ার ঘোষণায় কিছুই মানা হচ্ছে না। সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'ভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষায় সারা পৃথিবী থেকে পিছিয়ে আছি। প্রথম দিকে খুবই কম পরীক্ষা হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন আছে। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার খবর আসছে অনেক। উপসর্গ নিয়ে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁরা কয়জন আক্রান্ত ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পরীক্ষায় আমরা অবহেলা করছি। পর্যাপ্ত কিট আমদানি হয়নি।' মোশাররফ হোসেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট নিয়েও সরকার গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেন। এ ছাড়া মাস্ক, পিপিই নিম্নমানের দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। বিএনপি থেকে সরকারকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সরকার তা আমলে নেয়নি বলে জানান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, ভর্তি রোগী পালিয়ে যাচ্ছে কারণ হাসপাতালগুলো প্রস্তুত করা হয়নি। প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য ব্যবস্থাপনা। যারা ঈদ শপিং করছেন, তাঁদের উদ্দেশে মোশাররফ হোসেন বলেন, বেঁচে থাকলে জীবিকা হবে। তাই জীবন রক্ষা করতে হবে। একটি ঈদে কিছু না কিনলে ক্ষতি হবে না। জীবনের মূল্য অনেক বেশি। জীবন রক্ষার জন্য শিথিল করলেও নিজেকে সাবধান হতে হবে।
6
সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আঁলা বেরসে ৪ দিনের সরকারি সফরে আজ দুপুরে বাংলাদেশে এসেছেন। বেরসেকে বহনকারী প্লেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ দুপুরসোয়া ১টায় অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রথম কোনো সুইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আঁলা বেরসে বাংলাদেশে আসলেন। জানা যায়, সফরকালে সুইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হবে। এদিকে, বিমানবন্দরে থেকে বেরসে যান তার সফরকালীন আবাসস্থল হোটেল সোনারগাঁওয়ে। আজ সন্ধ্যায় হোটেলে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার
6
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসন মোকাবিলার লক্ষ্যে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এই মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্তৃত্ববাদী একদলীয় শাসনের অবসান ঘটাতে হবে। তা না হলে দেশ থেকে দুর্দিন কখনো যাবে না। শুক্রবার দলের সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রহীনতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুপস্থিতির কারণেই নির্বাচন নিয়ে দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। বিনাভোটে স্থানীয় ক্ষমতা আয়ত্ত্বে নিতে বিএনপিসহ বিরোধী প্রার্থীদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্যাতন-নিপীড়ন। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নেই বলেই ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী আধিপত্য বজায় রাখতে বিরোধী প্রার্থীদের রক্তে হাত রঞ্জিত করছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার ভোট নিয়ে হুমকি প্রদান ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, যাতে ভোটাররা নির্বাচনী পদ্ধতি ভুলে যায়। আর সেটারই ধারাবাহিক অংশ হিসেবে কুমিল্লার লাকসামে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা সশস্ত্র তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। লাকসাম পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী বেলাল রহমান মজুমদার, কাউন্সিলর প্রার্থী ও পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মানিক, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি বাবুল মিয়া, বিএনপি নেতা শাহ আলমের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিষ্ঠুর হামলা এবং তাদেরকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান দূরের কথা, বিএনপিসহ বিরোধী প্রার্থীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে বিনা ভোটে নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, আমি অবিলম্বে লাকসামে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
সুস্থ হয়ে ওঠায় তিনটি হিমালয়ান শকুনকে মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকীছড়া এলাকায় শকুনগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দুই মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় তিনটি শকুনকে উদ্ধার করে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তত্ত্বাবধানে জানকীছড়া রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের দেওরাছড়া থেকে, ১ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থেকে ও ৬ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জের রেমা থেকে শকুন তিনটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। এরপর তাঁদের কর্মীদের খবর দেওয়া হলে শকুনগুলোকে গিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। এ সময় শকুন তিনটি অসুস্থ ও অত্যন্ত দুর্বল ছিল। এরপর এগুলোকে জানকীছড়া রেসকিউ সেন্টারে রেখে সেবা-শুশ্রূষা দেওয়া হয়। এক দিন পরপর প্রতিটি শকুনকে আধা কেজি করে গরুর মাংস খাওয়ানো হয়েছে। এতে ধীরে ধীরে তারা সুস্থ-সবল হয়ে ওঠে। মঙ্গল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানকীছড়ায় তাদের মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, 'হিমালয়ান গ্রিফন শকুনের আবাস হিমালয়-সংলগ্ন নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, ভুটান এলাকায়। শীতের সময় বরফে আচ্ছাদিত এলাকা থেকে আমাদের দেশের দিকে আসে। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের আসা চলতে থাকে। গরম পড়লে চলে যায়।' তিনি বলেন, 'দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে ওড়ার কারণে একপর্যায়ে দুর্বল হয়ে মাটিতে পড়ে যায় শকুন তিনটি। ছাড়া পেয়ে ওরা খোলা আকাশে উড়ে গেছে। আশা করছি শিগগিরই শকুন তিনটি হিমালয় অঞ্চলে ফিরে যাবে।' প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর জোট আইইউসিএন শকুনকে মহাবিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করে লাল তালিকাভুক্ত করেছে। শকুনমাত্রই এখন বিপন্ন। এ ধরনের শকুন আমাদের দেশে নেই। বিশ্বে বিপদাপন্ন। পরিবেশবিদেরা বহু আগেই শকুনকে প্রকৃতির "পরিচ্ছন্নতাকর্মী" বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। মৃত প্রাণীর মাংস খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে শকুন। অন্তত ৪০টি রোগের ঝুঁকি থেকে মানুষকে রক্ষা করে এই পাখি। মৃতদেহ থেকে যেসব জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে, তা থেকে মানুষকে রক্ষা করে শকুন। এখন শকুনও কমে গেছে, একই সঙ্গে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার হারও বেড়ে গেছে।'
6
রাশিয়ার হামলার পর গত ১০ দিনে ১৫ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার কমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি আজ রোববার এমনটি জানিয়েছেন।এক টুইটার পোস্টে গ্র্যান্ডি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শরণার্থী সংকট এটি।এদিকে জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিএনএনকে জানিয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে জার্মানিতে গেছে।জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, জার্মান ফেডারেল পুলিশের কাছে রোববার পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৭৮৬ শরণার্থী নিবন্ধন করেছে।জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেসার জার্মান সংবাদপত্র বিল্ড অ্যাম সোনট্যাগকে বলেছেন যে ইউক্রেনের যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের জার্মানি আতিথ্য দেবে, তাদের জাতীয়তা যাই হোক না কেন।
3
বিগত ৫ বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে আজ সোমবার প্রেস ব্রিফিং করেছেন বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। এসময় তার পাশে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম। তবে বরাবরের মতোই ব্রিফিংয়ে হাজির ছিলেন না নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে ভিন্ন মত প্রদান করায় আলোচিত মাহবুব তালুকদার। বিভিন্ন বিষয়ে সিইসি ও তার মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। বিদায়ী এ নির্বাচন কমিশনার আলাদা করে ব্রিফিং করবেন বলে জানা গেছে।
6
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তর্কবির্তকের জেরে স্বামী আব্দুর রহিমের (২৫) ধারালো দায়ের কোপে তার স্ত্রী তৈয়বা বেগম (২০) ঘটনাস্থলে খুন হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২০ এসবি ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামীকে ক্যাম্প পুলিশ আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, এ ঘটনায় ঘাতক স্বামী আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত তৈয়বা বেগমকে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
6
করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্পেনের সরকার আগামী ৬ মাসের জন্য জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে। আগামী ২০২১ সালের মে পর্যন্ত এই লকডাউনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দেশটির পেদ্রো সানচেজ সরকার। আজ রবিবার মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে বৈঠকের পর টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, স্পেনে করোনার দ্বিতীয় দফা ঢেউ আঘাত হেনেছে। গত বুধবার প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ অতিক্রম করেছে। এরপরই জরুরী অবস্থার আসলো দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
3
ঘরের মাঠে ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে আলো ছড়িয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অলরাউন্ড নৈপুণ্য ব্যাটিংয়ে চার ফিফটিসহ ৬০.৫০ গড়ে ২৪২ রান করেন তখনকার বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই অধিনায়ক। পাশাপাশি ১৭.৬৬ গড়ে শিকার করেন ১২ উইকেট।সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন মিরাজ। যুব বিশ্বকাপের আলোচনা এলে তাই সামনের সারিতেই থাকেন এই অলরাউন্ডার। এবার সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া সর্বকালের সেরা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন মিরাজ।গত রাতে শেষ হয়েছে আরেকটি যুব বিশ্বকাপ। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে যুব বিশ্বকাপের আলোচনায় সর্বকালের সেরা যুব বিশ্বকাপ একাদশ বেছে নেন আকাশ। একমাত্র ইংল্যান্ড থেকে দুইজন আছেন এই একাদশে। ওপেনিংয়ে বিরাট কোহলির সঙ্গে পাকিস্তানের তিন সংস্করণের অধিনায়ক বাবর আজমকে রেখেছেন আকাশ। তিনে তাঁর পছন্দ সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে।চারে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে রেখেছেন আকাশ। তাঁর পরেই আছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটথিতু হতে না পারা সাবেক শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল। চান্দিমালের পর আকাশের সেরা একাদশে আছেন ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটের অধিনায়ক এউইন মরগান। সাতে নামবেন ক্যারিবিয়ান বাঁহাতি ব্যাটার শিমরন হেটমায়ার।একাদশে অলরাউন্ডার হিসেবে এর পরেই আছেন মিরাজ। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে একাদশে আকাশ বেছে নিয়েছেন ক্রিস ওকসকে। পেসার হিসেবে ব্যাটারদের পরীক্ষা নেবেন দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা ও পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি।আকাশ চোপড়ার সেরা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ একাদশ:বাবর আজম, বিরাট কোহলি, স্টিভেন স্মিথ, কেন উইলিয়ামসন, দিনেশ চান্দিমাল, এউইন মরগান, শিমরন হেটমায়ার, মেহেদী হাসান মিরাজ, ক্রিস ওকস, কাগিসো রাবাদা, শাহিন শাহ আফ্রিদি।মেহেদী হাসান মিরাজ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:মিরাজ-চট্টগ্রামকে সতর্ক করে ছেড়ে দিল বিসিবিমিরাজ ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ডাকবে বিসিবিচট্টগ্রামের নেতৃত্ব পেয়ে সিনিয়রদের সহযোগিতা চাইলেন মিরাজলিটন-মিরাজদের 'মনের চোট' সারান তিনি
12
প্রতিপক্ষের হামলায় মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ও হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছাত্রলীগ কর্মী মাহাদি জে আকিবের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রথম অস্ত্রোপচারের পর মাথার একটি হাড়ের অংশ পেটের চামড়ার মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। সেই অংশটি ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে অস্ত্রোপচার করে আকিবের মাথায় জোড়া লাগানো হবে।গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চমেকের অধ্যাপক ও নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. এস এম নোমান খালেদ চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মাহাদি আকিব ভালো আছেন। নিয়মিত তরল খাবার খাচ্ছেন। সবকিছু ঠিকঠাক আছে। মাথার যে অংশটি পেটের চামড়ার মধ্যে রাখা হয়েছে সেই অংশটি ৩-৬ মাসের মধ্যে আবারও অপারেশন করে জোড়া লাগিয়ে দেওয়া হবে।গত ৩০ অক্টোবর সকাল ৯টায় চমেকের মূল ফটকের অদূরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় আহত হন মাহাদি আকিব। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে তাঁকে ঘিরে ধরেন প্রতিপক্ষের সদস্যরা। এ সময় গলায় রিকশার চেইন দিয়ে বাঁধা হয়। কাচের বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। রামদা দিয়েও কোপানো হয়। পরে হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়।নটরডেম কলেজ থেকে পাশ করে চমেকে ভর্তি হন মো. মাহাদি জে আকিব। তিনি ৬২ তম ব্যাচের ছাত্র। গত ২৯ অক্টোবর রাত ১২টায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এর পরদিন আকিবের ওপর হামলা হয়।মাহাদি আকিবকে মারধরের ঘটনায় চমেক শিক্ষার্থী তৌফিকুর রহমান বাদী হয়ে গত ৩০ অক্টোবর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। আসামিদের সবাই চমেকের ছাত্র। এদের মধ্যে রক্তিম দে (২১) ও এনামুল হোসেন সীমান্ত (২১) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
6
চলতি মাসে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। যদিও চিরপ্রতিদ্বন্দী আর্জেন্টিনার বিপক্ষের ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর পর পরই বন্ধ হয়ে যায়। ওই ম্যাচগুলোতে ব্রাজিল কোচ তিতে ইংলিশ লিগে খেলা বেশ কিছু খেলোয়াড়কে দলে পাননি। পরে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) আবেদনে সেসব খেলোয়াড়দের ইংলিশ লিগে পাঁচদিন নিষিদ্ধ করে ফিফা। অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে তিনটি ম্যাচে মাঠে নামবে ব্রাজিল। তাই বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইংল্যান্ডে খেলা ৮ ফুটবলারকে পেতে আত্মবিশ্বাসী ব্রাজিল। তাদের রেখেই পরবর্তী তিন ম্যাচের জন্য ২৫ সদস্যের দল সাজিয়েছেন কোচ তিতে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আগামী মাসে ম্যাচগুলো খেলবে সেলেকাওরা। ৮ অক্টোবর ভেনেজুয়েলা, ১১ অক্টোবর কলম্বিয়া এবং ১৫ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। ব্রাজিলীয় কোচ তিতে ঘোষিত দলে ইংলিশ লিগে খেলা ৮ ফুটবলার হলেন এলিসন, ফ্যাবিনহো, গাব্রিয়েল জেসুস, এদারসন, থিয়াগো সিলভা, ফ্রেদ, এমারসন ও রাফিনহা। ব্রাজিল দল: গোলরক্ষক: অ্যালিসন (লিভারপুল), ওয়েভেরটন (পালমেইরাস), এডারসন (ম্যানচেস্টার সিটি) ডিফেন্ডার: দানিলো (জুভেন্তাস), গিলেরমো আরানা (আতলেতিকো মিনেইরো), আলেক্স সান্দ্রো (ইউভেন্তুস), এমারসন রয়াল (টটেনহ্যাম হটস্পার), এডারর মিলিতাও (রিয়াল মাদ্রিদ), লুকাস ভেরিসিমো (বেনফিকা), মার্কিনিয়োস (পিএসজি), থিয়াগো সিলভা (চেলসি) মিডফিল্ডার: ক্যাসেমিরো (রিয়াল মাদ্রিদ), ফ্যাবিনিয়ো (লিভারপুল), ফ্রেড (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), এদেনিলসন (স্পোর্ত ক্লাব ইন্তারনাসিওনাল), জেরসন (মার্সেই), লুকাস পাকেতা (অলিম্পিক লিওঁ), এভারটন রিবেইরো (ফ্লামেঙ্গো) ফরোয়ার্ড: নেইমার (পিএসজি), আন্তোনি (আয়াক্স), রাফিনিয়া (লিডস ইউনাইটেড), ভিনিসিয়াস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), গাব্রিয়েল জেসুস (ম্যানচেস্টার সিটি), মাথেউস কুনিয়া (হের্থা বার্লিন), গাবি (ফ্লামেঙ্গো)।
12
জীবন সুন্দর-এ কথা কে না জানে! আমরা বিশ্বাস করতে চাই, বেঁচে থাকার প্রতিটি দিনই নতুন। প্রতিদিনই আমরা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও এ কথা সত্য, আমাদের কাছে-পিঠের অনেক স্বজনই দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত। ক্যানসার, ডিমেনশিয়া, কিডনি ফেইলর বা এমন কোনো অসুস্থতা, যা সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়; রোগী যত দিন বাঁচবে, তত দিন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হবে; এমন ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্যালিয়েটিভ কেয়ার। শব্দটা অনেকের জন্য নতুন।জীবন সুন্দর, বেঁচে থাকার প্রতিটি ক্ষণই গুরুত্বপূর্ণ। প্যালিয়েটিভ কেয়ারের কাজ হচ্ছে, একজন মানুষের শারীরিক কষ্টের বাইরে মানসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের ভোগান্তি কমানো। একজন মানুষ যখন নিরাময় অযোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, তখন কিন্তু নির্দিষ্ট করে বলা যায় না মানুষটির স্থায়িত্বকাল কতটুকু। নিরাময় অযোগ্য রোগে একজন মানুষ কিছুদিন থেকে বহু বছর ভুগতে পারে। ভোগান্তির কয়েক সপ্তাহ, মাস, বছর যেতে পারে। দেখা গেছে, প্যালিয়েটিভ কেয়ার সার্ভিস নিতে যারা আসে, তারা জীবনের শেষ ছয় থেকে বারো মাসের একটা সময় পার করে।প্যালিয়েটিভ কেয়ার নিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবীর দল কাজ করে। সেখানে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাইকোলজিস্ট আছেন।মূলত এ ধরনের রোগীর ব্যথার চারটি ভাগ রয়েছে। শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক। প্যালিয়েটিভ কেয়ারে এই সব জায়গা নিয়ে কাজ করা হয়। একটু উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায় থেকে যখন আমরা ক্যানসার চিকিৎসা শুরু করি, তখনই সমানভাবে প্যালিয়েটিভ কেয়ারও শুরু হয়। দেশে বছরে যত ক্যানসারের রোগী পাওয়া যায়, তার মধ্যে ৭০ শতাংশ রোগীই নির্ণয় হয় একদম শেষ ধাপে। এই ৭০ শতাংশ রোগী কিন্তু অনিরাময়যোগ্য। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্যানসার আমরা নিরাময় করতে পারি না। কিন্তু চিকিৎসা দিই। চিকিৎসার সঙ্গে আরও যেসব চিকিৎসা চলে, সেগুলোকে বলা হয় সিনট্রম রিলিভ; অর্থাৎ রোগীর কষ্ট ও যন্ত্রণা লাঘব করে।ফলে প্যালিয়েটিভ চিকিৎসার বিষয়ে রোগীর পরিবারকেও সচেতন হতে হবে।লেখক: চিকিৎসক ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, ঢাকা
4
বরিশাল নগরীতে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে টেম্পুযাত্রী মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। শনিবার দুপুরে নগরীর সাগরদী সেতু সংলগ্ন কুয়েত প্লাজার সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মা দেলোয়ারা বেগম (৬০) ও ছেলে শিপন (৩৫)। তাদের বাড়ি ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার শ্রীরামকাঠী গ্রামে। বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনায় আহত আনিস (৪২), স্বপন (৫০), শিপন (৪৫) ও মোর্শেদা বেগমকে (৩০) বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী টেম্পুটি নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যাচ্ছিল। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা অ্যাংকর সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রাকের সঙ্গে টেম্পুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় দেলোয়ার বেগম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পথে শিপনের মৃত্যু হয়।
6
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু সার্জারি বিভাগে দুই মাথাবিশিষ্ট কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। তিন দিন আগে জন্ম নেওয়া শিশুটি বেঁচে থাকলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকায় রেফার্ড করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় চিকিৎসার ভার বহনে অক্ষম শিশুটির পিতা।কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের সেকেন্দার আলীর স্ত্রী আফরোজা বেগম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে জন্ম দেন দুই মাথাবিশিষ্ট ওই কন্যাশিশুর। এ ধরনের নবজাতক অস্বাভাবিক এবং শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।নবজাতকের পিতা সেকান্দার আলী পেশায় একজন মুদি দোকানি। শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন পরিবারের সদস্যরা। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নবজাতকের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি করেছে শিশুটির পরিবার।শিশুটির বাবা সেকেন্দার আলী জানান, 'আমি সামান্য মুদি দোকানদার, আমার পক্ষে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। আমি সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছি।'হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, 'গত শনিবার রাতে সিজারের মাধ্যমে দুই মাথাবিশিষ্ট কন্যাশিশুটি জন্ম নেয়। এ ধরনের নবজাতক অস্বাভাবিক হওয়ায় আমরা ঝুঁকি নিতে চাইনি।'
6
আমেরিকার 'ব্ল্যাকমেইল' ও 'অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের' মোকাবিলায় ইরান যে আচরণ করছে সে সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো ধারনা ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের ধারণা ছিল সামান্য চাপ প্রয়োগেই ইরান আমেরিকার সামনে আত্মসমর্পণ করবে এবং ওয়াশিংটনের ইচ্ছার সামনে ধরা দেবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তার দেশের পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার চতুর্থ দফা পদক্ষেপ নেয়ার কথা ঘোষণা করার পর এক টুইটার বার্তায় জারিফ এ মন্তব্য করেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার টুইটার বার্তায় বলেন, তার দেশ চতুর্থ দফায় পরমাণু সমঝোতার ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা ওই সমঝোতার গঠনকাঠামোর আওতায়ই করা হয়েছে। ওই সমঝোতার ৩৬তম প্যারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, একপক্ষ এটি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে অন্য পক্ষ ধীরে ধীরে তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে পারবে। তিন ইউরোপীয় দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে পরমাণু সমঝোতা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা এটি পুরেপুরি মেনে চললে ইরানও আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব
3
নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আগাম টমেটো চাষ করে লাভের আশা দেখছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার টমেটো চাষিরা। বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকেরা নানা প্রতিকূলতা ও ঝুঁকি নিয়ে আগাম টমেটো চাষ করে থাকেন। জানা যায়, চলতি মৌসুমে ধুনট উপজেলার প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে আগাম টমেটোর চাষ করা হয়েছে। আরও প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করতে জমি প্রস্তুত করছে টমেটো চাষিরা। এ জন্য রবি মৌসুমের অনুকূল আবহাওয়ার সম্পূর্ণ সুযোগ নিতে হলে মৌসুম আসার আগেই চাষের আয়োজন করতে হয়। বর্ষাকালের চাষের জন্য এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত এবং আগাম জাতের ক্ষেত্রে জুলাই থেকে আগস্ট মাস এবং শীতকালীন চাষের জন্য সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চারা উৎপাদনের জন্য বীজ তলায় বীজ বপন করতে হয়। চারা তৈরির দুই মাস আগে বীজ বপনের জন্য বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিতে হয়। বীজতলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ জৈব সার ও অন্যান্য সার প্রয়োগ করতে হয়। ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন শেখ জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে আগাম টমেটো চাষ করেছেন। তার টমেটোর গাছে ফুলে ফুলে ভরে গেছে। তিনি আরও জানান, শীতকালে আগাম টমেটো চাষ করতে বেশি ঝুঁকি থাকে। তারপরও বেশি লাভের আশায় ঝুঁকি নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও টমেটো চাষ করেছি। প্রতিটি গাছেই ফুল ধরেছে। ভাল ফলন পেতে নিয়মিত পরিচর্যা, কীটপতঙ্গ ও রোগবালাই দমনে নিয়ম মেনে কীটনাশক প্রয়োগ করছি। আশা করছি চলতি মৌসুমে ফলনও ভাল পাওয়া যাবে। তবে সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে মনে করেন এই টমেটো চাষি। পারধুনট গ্রামের আরেক টমেটো চাষি মিন্টু মিয়া বলেন, এক বিঘা জমিতে ২০ হাজার টাকা খরচ করে টমেটো চাষ করেছি। প্রায় প্রতিটি গাছেই ফুল ধরেছে। ফলন আসা পর্যন্ত আরও প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার খরচ হতে পারে। বাজারে দাম ভাল পেলে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছি। ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক জানান, টমেটো চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সরকারিভাবে এই উপজেলার ২০০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষের জন্য ১ হাজার ৫০০ জন কৃষককে কৃষি প্রণোদনা প্রদান করা হবে। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর
6
ভারতীয় সনি টেলিভিশনে প্রচারিত গানের রিয়েলিটি শো 'ইন্ডিয়ান আইডল-২০২১' চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন পবনদ্বীপ রাজন। বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় (ভারতীয় সময় রাত ১২টায়) এই রিয়েলিটি শোয়ের ৭৫তম এপিসোড শেষে দর্শকদের ভোটে নির্বাচিত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিন ১২ ঘণ্টা ধরে চলে গ্র্যান্ড ফাইনাল। দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা। তালে, সুরে, নাচে, গানে, উৎসবে মেতে উঠেছিল ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চ। বিজয়ী হলেন উত্তরাখণ্ডের ছেলে পবনদীপ রাজন। ফাইনালে 'কাফিরানা', 'হাওয়ায়ে', 'নাদান পারিন্দে', 'সাদদা হক' গানগুলি গেয়েছেন পবন। ভারতের উত্তরাঞ্চলের রাজ্য উত্তরাখণ্ডের চম্পাওয়াতের ছেলে পবনদীপ। তিনি ২০১৫ সালের 'দ্য ভয়েস ইন্ডিয়া'র চ্যাম্পিয়ন। তার বাবা সুরেশ রাজন স্থানীয় কৌমানী লোকশিল্পী। পবনদীপ চম্পাওয়াতের ইউনিভার্সিটি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। আর স্নাতক করেছেন কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।পবনদীপ 'রোমিও এন বুলেট' নামের হিন্দি সিনেমার চারটি গান গেয়েছেন। ২০১৬ সালে ছয়টি গান নিয়ে 'ছোলিয়ার' নামের একক অ্যালবামও প্রকাশ করেছেন।অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বনগাঁর মেয়ে অরুণিতা কাঞ্জিলাল। তৃতীয় হয়েছেন মহারাষ্ট্রের সাইলি কাম্বলে। চতুর্থ হয়েছেন মুজফফরনগরের ছেলে মোহাম্মদ দানিশ। পঞ্চম হয়েছেন নিহাল টরো। ষষ্ঠ স্থানে নিয়েছেন সন্মুখপ্রিয়া। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন জয় ভানুশালী ও আদিত্য নারায়ণ। গত আট মাস ধরে সুর দিয়ে যেন ছবি এঁকে চলেছিলেন পবনদীপ-অরুণিতারা। আর তাঁদের সুরেই ডুব দিয়েছিল ভারত। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ফাইনালে ৬ জন প্রতিযোগী জায়গা করে নিয়েছিলেন।সব লড়াই শেষে ট্রফি ওঠে পাহাড়ের পবনদীপের হাতেই। ইন্ডিয়ান আইডলের সোনালি ট্রফি এবং ২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কারমূল্য জিতে নেন। সেই সঙ্গে একটি গাড়ির চাবিও তুলে দেওয়া হয় পবনদীপের হাতে।এই ফাইনালে হার বা জয় পাওয়াটা বোধহয় বড় বিষয় ছিল না। রোববার সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়ে সুরে সুরে ভরে গিয়েছিল সকলের হৃদয়। কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে হলে, 'তোমার কন্ঠে রাখিয়া এসেছি মোর কন্ঠের গান/এইটুকু শুধু রবে পরিচয়? আর সব অবসান?' সত্যি সব কিছুরই অবসান হয়ে যায়। থেকে যায় শুধু শিল্প। ইন্ডিয়ান আইডল-এর মঞ্চে শুধু সুরের ঝংকার থেকে গেল, থেকে গেল গানের মূর্ছনা। আর থাকল কিছু রঙিন স্মৃতি।'ইন্ডিয়ান আইডল'র এবারে আসরে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সোনু কাক্কার, অনু মালিক এবং হিমেশ রেশমিয়া। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন আদিত্য নারায়ণ। গ্র্যান্ড ফিনালেতে তার সঙ্গে উপস্থাপনায় ছিলেন জয় ভানুশালি।
2
রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করা এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সর্বশেষ রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে কূটনীতিকদের অবহিত করার পর সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন শুরুর সর্বশেষ প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের এ বিষয়ে অবহিত করেন ড. মোমেন।পররাষ্ট্র পতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মিয়ানমারের 'একগুঁয়েমি' আচরণের কারণে সর্বশেষ প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা অনুষ্ঠানে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল। সেই সাথে মিয়ানমারের দায় চাপানোর খেলা এবং সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রাক্কালে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখার বিষয়টি স্থান পায়। বর্তমানে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গাবাংলাদেশেআশ্রয় নিয়ে আছেন। তাদের মধ্যে ৭ লাখ ৩০ হাজারের অধিক মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বর্বর অভিযান থেকে জীবন বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মিয়ানমারের এই মুসলিম জাতিগোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে 'গণহত্যার অভিপ্রায়' ছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত কমিটি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর চুক্তি সই করে। পরে দুই দেশ ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে 'ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট' নামে চুক্তি করে। 'ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট' অনুযায়ী, প্রত্যাবাসন শুরুর দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে অগ্রগতি খুবই সামান্য। রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের আগে যাচাইয়ের জন্য ২৯ জুলাই ছয় হাজার পরিবারের ২৫ হাজার রোহিঙ্গার নতুন একটি তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। এ নিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পেয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মাত্র ৩ হাজার ৪৫০ রোহিঙ্গাকে ছাড়পত্র দিয়েছে। তবে ব্যাপক প্রস্তুতির পরও রোহিঙ্গাদের অনিচ্ছার কারণে ২২ আগস্ট দ্বিতীয়বারের মতো আটকে যায় স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন শুরুর কার্যক্রম। এর আগে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলের ফেরার কথা ছিল গত বছরের ১৫ নভেম্বর। কিন্তু রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ নেই দাবি করে রোহিঙ্গারা ফিরতে রাজি না হওয়ায় সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
6
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট খাদ্য গুদামের চাল পাচারকালে হাতেনাতে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শনিবার সকালে গুদামের রক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন রাজৈর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান। স্থানীয়রা জানায়, মাদারীপুরের টেকেরহাট সরকারি খাদ্য গুদামের রক্ষক গাজী সালাউদ্দিনসহ কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারি দীর্ঘদিন ধরে চাল পাচার করে আসছিল। শুক্রবার দুপুরে গুদামে রক্ষিত প্রতি চালের বস্তা থেকে ৩-৪ কেজি চাল বের করছিলেন তারা। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খবর দিলে তিনি পুলিশ নিয়ে এসে সেলিম শেখ ও মমরাজ মৃধা নামে দুই কর্মচারিকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা চাল পাচারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গুদাম রক্ষক গাজী সালাহ উদ্দিনের নির্দেশে আমরা বস্তা থেকে চাল বের করেছিলাম। আমরা তার চাকরি করি। তাই তার হুকুম মানতে হয়েছে। তবে গাজী সালাহ উদ্দিন চাল পাচারে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে টেকেরহাট খাদ্য গুদামের ঠিকাদার উজির শেখ বলেন, বিষয়টি টের পেয়ে আমরা ইউএনওকে খবর দিলে তিনি এসে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেন। দীর্ঘদিন থেকেই একটি চক্র এই অপকর্ম করে আসছিল। রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন বলেন, একটি চক্র গুদামের প্রতি বস্তা থেকে ৩-৪ কেজি চাল বের করে আলাদা বিক্রি করছিল। চাল পাচারের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এ ঘটনায় গুদাম সিলগালা ও জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত গুদাম রক্ষককে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনে আমি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। সেই হিসেবে শনিবার সকালে রাজৈর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বাদি হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের মধ্যে দুইজন গ্রেফতার রয়েছে। রাজৈর থানার ওসি শাহজাহান মিয়া বলেন, রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার লিখিত অনুমতিতে হাফিজুর রহমান বাদি হয়ে মামলা করলে সেটি আমলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের দেশের প্রকৃত ইতিহাস শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে কোনো স্বার্থান্বেষী (হায়েনা) গোষ্ঠী বাঙালির অর্জনগুলো আবারও ছিনিয়ে নিতে না পারে। তিনি বলেন, 'এ জন্য দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখতে হবে।' আজ শুক্রবার বিকেলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে শেখ হাসিনা একথা বলেন।গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হনতিনি। খবর বাসসের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদেরকে ইতিহাসটা শিখাতে হবে। ২১শে ফ্রেব্রুয়ারি আমাদের ভাষা দিবস, বাংলা ভাষার জন্য এদেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে গেছে। যে দিবসটা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এটা কিন্ত প্রজন্মের পর প্রজন্মের সব শিশুদের জানতে হবে এবং শিখাতে হবে। তিনি বলেন, ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। এই বিজয় এবং স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে যে আত্মত্যাগ সেই আত্মত্যাগ সম্পর্কেও সবাইকে জানতে হবে। তাহলেই তাদের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে। জাতির পিতার জন্মদিন ১৭ মার্চ এবং জাতীয় শিশু দিবস সহ প্রত্যেকটি জাতীয় দিবস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে দীক্ষা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি বলবো আমাদের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নিতে হবে ছেলে-মেয়েসহ সবাই যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই সত্যগুলো জানতে পারে। কারণ ২১টি বছরতো সবকিছুই নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু সত্যকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না। আজকে সেটাই প্রমাণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবার কখনো কোনো হায়েনার দল বাঙালির যে অর্জন সেগুলোকেযেনকেড়ে নিতে না পারে। তার জন্য দেশবাসীকে সাথে নিয়ে উন্নয়নের এই গতিধারাটা অব্যাহত রাখতে হবে। আর এই উন্নয়নের প্রত্যেকটি ধারার সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করেই তাদের জন্য কাজ করে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের যে দারিদ্রের হার ছিল ৪০ ভাগেরও ওপরে তাকে আমরা এখন ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। সেনসাস রিপোর্ট বের হলে এই সংখ্যা আরো কমে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার সরকার জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমর্থ হওয়ার পরপরই পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে তাই আজকের দিনে সকলের কাছেই তিনি নিজ পরিমণ্ডলে কিছু না কিছু উৎপাদন করার আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বার্তাটা শুধু আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কাছেই নয়, আওয়ামী লীগের মাধ্যমে সমগ্র দেশের কাছে। দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। যার যেখানে যতটুকু সুযোগ আছে এবং যে যেখানে যতটুকু পারেন উৎপাদন করবেন। অর্থাৎ কারো কাছে ভিক্ষা চেয়ে বাংলাদেশের মানুষ চলবেনা, কারণ জাতির পিতা বলেছিলেন 'ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না।' তিনি বলেন, 'আমাদের যে মাটি আছে এবং মানুষ আছে তাই দিয়েই আমরা নিজেদের দেশকে গড়ে তুলবো'- এটাই ছিল জাতির পিতার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার সময়কার অঙ্গীকার। আর তাই '৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে মাত্র দুই বছরের মধ্যেই দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে আমরা দেখিয়েছি আমাদের মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং আমরা চেষ্টা করলেই পারি। কিন্তু সেটাও আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারপ্রধান বলেন, গৃহহীনকে ঘর করে দেয়ার পদক্ষেপ হিসেবে '৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ঘর বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। আরো দেড় লাখ ঘর তৈরির পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ৫০ হাজার ঘর তৈরি করা হচ্ছে। এ জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ডে ৫ কোটি টাকা দিয়ে একটি ফান্ড করে দেয়া হয়েছে। সেখানে শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবং ব্যাংক মালিকরা অনেকে অনুদান দিয়েছেন- যেখান থেকে ২ কাঠা জমিসহ বিনে পয়সায় ঘর করে দেয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তিনি আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রত্যেকের এলাকাতেই এ ধরনের ঘর তৈরি হচ্ছে। এই করোনাভাইরাসের সময় যেমন প্রণোদনা দিয়েছি পাশাপাশি এই ঘরগুলো নির্মাণ কাজে যারা সম্পৃক্ত সেখানেও একটা আর্থিক স্বচ্ছলতা মানুষ পেয়েছে। কাজেই সেখানেও আপনাদের কিন্তু একটা দায়িত্ব রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, এদেশের প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষা এবং গৃহহীনদের-দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার জন্যও আপনাদের স্ব স্ব অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টা আপনাদের সবসময় মাথায় রাখতে হবে। মাঠ পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়ে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা সম্প্রসারণে তার সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যেমনটি চেয়েছিলেন তেমনটি করার জন্যই আমরা একে একে সব পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা সকলকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে করোনাভাইরাস দূর না হওয়া পর্যন্ত তা অবশ্যই মেনে চলার আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার অনুরোধ থাকবে মিটিংয়ে থাকেন, কথা বলেন, স্লোগান দেন- ঠিক আছে। সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষাটাও কিছু মেনে চলেন। এটা নিজের জন্য ভালো হবে। সবার জন্য ভালো হবে। সরকার প্রধান বলেন, ভ্যাকসিন আমরা দিয়ে দিয়েছি। প্রায় ৭৩ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়ে গেছেন। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে হবে। 'জয় বাংলা'কে তার সরকারের জাতীয় স্লোগানে পরিণত করায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এখনো 'জয় বাংলা' জাতীয় স্লোগান দেয় না, তারা আসলে দেশের স্বাধীনতায় অবিশ্বাস করে। তিনি বলেন, যারা এখনো 'জয় বাংলা' স্লোগান দেয় না, তারা আসলে দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার আদর্শে বিশ্বাস করে না। আমাদের এই কথাটাই মনে রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,'জয় বাংলা' স্লোগান একসময় দেশে নিষিদ্ধ ছিল এবং সেই সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে গিয়ে, এই স্লোগান দিতে গিয়ে বহু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী প্রাণ হারান। কিন্তু আজকে সেই স্লোগান আবার ফিরে এসেছে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা এই স্লোগান দিয়ে রক্ত ঝরিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছেন, শহীদ হয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি ও খুনি চক্র এই স্লোগানকে নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। তার সরকার দেশকে আজকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং একদিন এদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ করেও গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন-এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে কর্তব্য পরায়ণতায় ব্রতী করে তোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। দাদা-দাদিসহ আত্মীয় পরিজনের কাছ থেকে জাতির পিতার শৈশব-কৈশোর সম্পর্কে শোনা অনেক ঘটনাই আলোচনায় তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী। যার মূলে ছিল মানবিকতা ও দেশের মানুষের কল্যাণ চিন্তা। যুদ্ধ বিধবস্থ দেশ পুনর্গঠনকালে সম্ভ্রমহারা নারীদের পুনর্বাসন এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণের মাধ্যমে দেশের তৃণমূলের মানুষের ক্ষমতায়নে তার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এসব নির্যাতিত মা-বোনদের অনেককেই আমাদের সমাজ তখন গ্রহণ করতে চায়নি। তাদের পুনর্বাসন বোর্ড করে চাকরিতে ১০ শতাংশ কোটার ব্যবস্থা করে দেন তিনি। তার মা বঙ্গমাতার সহায়তায় নির্যাতিত মেয়েদের অনেককে বিয়ে দেয়ার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল সেখানে বাবার নামের স্থানে জাতির পিতা লিখে দিতে বলেন, 'লিখে দাও পিতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান, ঠিকানা ধানমন্ডি ৬৭৭ নম্বর প্লট ৩২ নম্বর সড়ক। শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ মানুষের প্রতি ছোটবেলা থেকে তার অনেক দয়া ছিলো, তাদের জন্য সবকিছু বিলিয়ে দিতেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অস্ত্র হাতে মানুষ এদেশ স্বাধীন করেছে। পরবর্তী সময়ে এ দেশকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতেও কাজ শুরু করেছিলেন, স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলা গড়ার। তখনই ষড়যন্ত্র করে তাকে এবং তার পরিবারকে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, '১৫ আগস্ট আমাদের জাতীয় জীবনে একটি দুর্ভাগ্যের দিন। কারণ এ দিন ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নেয় জাতির পিতার প্রাণ। যার মাধ্যমে এদেশের মানুষ তাদের সকল সম্ভাবনাকেও হারিয়ে ফেলে। আমরা দুই বোন তখন বিদেশে থাকায় বেঁচে যাই কিন্তু স্বজন হারাবার বেদনা নিয়ে দুর্বিসহ ছিল সে জীবন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছিল, তারা তাদেরকে তখন দেশে ফিরতে দেয়নি। ফলে রিফিউজি হিসেবে জীবন কাটাতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ তাকে '৮১ সালে সভাপতি নির্বাচন করার পরেই শত বাধা উপেক্ষা করেও তিনি দেশে ফিরে আসেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ফিরে এসেছিলাম একটি লক্ষ্য সামনে নিয়ে। সেই লক্ষ্য হলো- যেজন্য আমার বাবা সারাজীবন যে সংগ্রাম করে গেছেন, তা যেন ব্যর্থ না হয়। তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, হারিয়েছিলাম বাবা, মা, ভাই সহ সবাইকে কিন্তু এই বাংলার মানুষের মাঝে আবার ফিরে পেয়েছিলাম হারানো বাবা-মায়ের স্নেহ ও ভালবাসা। এটাই ছিল আমার সব থেকে বড় শক্তি। এটা এখনো আমার সব থেকে বড় শক্তি। আজ শবে বরাতের রাতে দেশের জন্য দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চান তিনি । শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যেন সম্পূর্ণ করোনা ভাইরাস মুক্ত হতে পারি এবং বাংলাদেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান সহ মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত হবার পাশপাশি তারা যেন উন্নত জীবনের অধিকারি হতে পারে। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ যাদেরকে আমরা হারিয়েছি, যারা আপনজন হারিয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনারও তিনি আহ্বান জানান এবং তিনি নিজেও সকলের জন্য দোয়া করবেন বলেও উল্লেখ করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দলের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম এমপি, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খানও বক্তৃতা করেন এবং গণভবন থেকে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এমপি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
6
কুড়িগ্রামের উলিপুরে অস্বচ্ছল ও গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত আবাসন প্রকল্পের কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা অডিটরিয়াম হলে সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, সাবেক কমান্ডার এম,ডি ফয়জার রহমান তার অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভূল বুঝিয়ে গত ১৭ জুন আমার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টুর বিরুদ্ধে মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগের অবতারণা করেন। এম,ডি ফয়জার রহমান তার ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে এমন মিথ্যা অভিযোগ আনেন, যাহা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সাবেক কমান্ডার এম,ডি ফয়জার রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অর্থের বিনিময়ে ডা. মোকছেদ আলী, নূর মোহাম্মদ প্রধান, আয়নাল হক সহ ৭৫ জনের নাম জামুকায় প্রদান করেন, যাদের অধিকাংশই অমুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। তিনি বলেন, আমি ২৭ বছর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের দায়িত্ব পালন কালে অত্যন্ত সুনামের সহিত মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করেছি। এমডি ফয়জার রহমান তখন আমার অধীনে ডেপুটি কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন। তখন এসব অভিযোগের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তাকে বিএনপি সমর্থিত ও অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন কোনো তত্ত্ব, উপাত্ত বা প্রমাণাদি নেই যে বিগত প্যানেলটি বিএনপি সমর্থিত ছিল। এমডি ফয়জার রহমান তার ব্যক্তি স্বার্থ ও রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই এমন মিথ্যা অভিযোগ আনেন। যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। স্থানীয় সাংসদ আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন এবং জানেন। তিনি একজন উচ্চ শিক্ষিত ও বিজ্ঞ সৎজন ব্যক্তি। তিনি সব কিছু বিবেচনা করে আমাকে ওনার প্রতিনিধি হিসেবে ওই আবাসন প্রকল্পের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সুপারিশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু বলেন, সাবেক কমান্ডার এম,ডি ফয়জার রহমান আমাকে জড়িয়ে পানি ঘোলা করে তার দুর্নীতি ও অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার নীল নকশা চালাচ্ছেন। আমি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। বাস্তবচিত্র হচ্ছে এই সাবেক কমান্ডার এমডি ফয়জার রহমান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভুলিয়ে ভালিয়ে নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এমন অনেক প্রমাণ তার কাছে আছে বলেও দাবি করেন তিনি। সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ২০০৯ সালে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর প্রদান প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার মনে পড়ছে না। অভিযোগ পত্রে সেই সময়ে কেউ আমার জাল স্বাক্ষর দিয়ে থাকতে পারেন। উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন সাবেক কমান্ডার এমডি ফয়জার রহমান আবাসন প্রকল্পে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি গোলাম মোন্তফাকে ভূয়া ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টুর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্বারকলিপি প্রদান করেন। এরই প্রতিবাদে বুধবার (২৪ জুন) মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
6
আফগানিস্তানের নারীদের শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দৃঢ় সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই। যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মালালা গতকাল সোমবার এই আহ্বান জানান।ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে লেখা ১৫ বছর বয়সী আফগান কিশোরী সোতোদাহের একটি চিঠি পড়ে শোনান মালালা।চিঠিতে লেখা ছিল, নারীদের জন্য যত বেশি দিন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে, ততই এটি তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে। নারীদের শিক্ষা শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। নারীরা না শিখলে আফগানিস্তানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তালেবান ক্ষমতায় আসার পর শুধু ছেলেরাই আফগানিস্তানের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে যেতে পারে।অনুষ্ঠানের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে বৈঠকে ইউসুফজাই বলেন, আমরা আশা করি যে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আফগান নারীদের ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে।'২০১২ সালে তালেবানের হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পাকিস্তানের নাগরিক মালালা ইউসুফজাই ব্রিটেনের রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। ২০১৪ সালে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে তিনি শান্তিতে নোবেল পান।
3
দুই বছর আগে গোটা ভারত তোলপাড় ফেলা হায়দরাবাদের 'দিশা সংঘর্ষকে' ভুয়া সংঘর্ষ বলে জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের শিরপুরকর কমিশন। দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।২০১৯ সালের নভেম্বরে হায়দরাবাদের শামশাবাদে ২৬ বছরের এক পশু চিকিৎসককে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ ওঠে চারজনের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা ভারতে। তার পরই গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। পুলিশের বক্তব্য ছিল, অভিযুক্তরা পালাতে গিয়ে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে। তখন গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁদের। আজ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত শিরপুরকর কমিশন তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই দিনের সংঘর্ষ ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। খুনের সংকল্প নিয়ে পুলিশ যাঁদের ওপর গুলি চালিয়েছিল, সেই চারজনের মধ্যে তিনজনই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক।২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ২৬ বছরের এক পশু চিকিৎসককে অপহরণ করা হয়। তার পর তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। ওই নারীর মরদেহ হায়দরাবাদের ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে একটি নির্জন জায়গায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই তাঁর পোড়া দেহের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তের পর মহম্মদ আরিফ, চিন্তাকুন্তা চেন্নাকেশভালু, জলু শিবা এবং জলু নবীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পুলিশ দাবি করেছিল, সেখানেই পালানোর চেষ্টা করে ওই অভিযুক্তরা। পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে তাদেরই ওপরেই গুলি চালানোর দাবি করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি ছিল, পাল্টা গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয়।পরে সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি কমিশন গঠন করে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শিরপুরকরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিশন তদন্ত করে আজ শুক্রবার প্রধান বিচারপতি এন ভি রমণা, বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি হিমা কোহলির বেঞ্চে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশন রিপোর্টে বলেছে, দোষী ১০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে খুনের মামলার রুজু করতে।
3
তেরখাদা উপজেলার বি আর বি আজগড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে ১৯৯৪ সালে। এ বিদ্যালয়ে নেই কোনো শহীদ মিনার। দীর্ঘ ২৭ বছর পর একটি শহীদ মিনার পেতে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি। গত মঙ্গলবার এ শহীদ মিনার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার।জানা গেছে, খুলনা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে তেরখাদা উপজেলার একটি গ্রাম আজগড়া। সেনেরবাজার-তেরখাদা সড়কের দুই পাশে বসতির প্রায় ৪ কিলোমিটার লম্বা এই গ্রামটি রোস্তম, বিরি ও বিপ্র আজগড়া নামে পরিচিত। ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে এলাকার চিত্র।প্রথমদিকে অল্প শিক্ষার্থী হলেও বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বেতন নেয়নি। বিদ্যালয়টিতে স্থায়ী কোন শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারতো না। অথচ শিক্ষার্থীরা দেশ মাতৃকার টানে বিশেষ দিবসগুলোতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে ব্যাকুল থাকত।গত মঙ্গলবার উদ্বোধনকালে খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, মূলত নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধকরণ, মহান মুক্তিযুদ্ধ, মাতৃভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধ সৃষ্টি ও ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানানোর জন্য শহীদ মিনার স্থাপন করা হচ্ছে। এত দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশেষ দিবসগুলোতে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শ্রদ্ধা জানাতো। এখন শহীদ মিনার নির্মিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আপন মনে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবে।বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মল্লিক সুধাংশু'র সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা সুলতানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন।অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শারাফাত হোসেন মুক্তি, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা, প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্রনাথ মল্লিক, ইউপি চেয়ারম্যান কৃষ্ণ মেনন রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী আবুল খায়ের, আওয়ামী লীগ নেতা সুনীল কুমার বালা ও বাদশা মল্লিক প্রমুখ।
6
লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে বাড়ছে বেশি লবণসহিষ্ণু গেওয়া ও গরান গাছ। আর কমছে যে গাছের নাম থেকে এই বনের নাম, সেই সুন্দরী গাছ। এ ছাড়া কমছে কম লবণসহিষ্ণু পশুরসহ কয়েকটি প্রজাতির গাছ। এ অবস্থায় ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের পুরোনো বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে। এ ছাড়া গাছপালার এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে বন্যপ্রাণীর ওপরও। এমন অবস্থায় আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে সুন্দরবন দিবস। ২০০১ সাল থেকে সুন্দরবনসংলগ্ন জেলাগুলোতে বেসরকারিভাবে পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের মধ্যে পশুর নদে ২০১০ সালে লবণাক্ততার সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ১৭ দশমিক ৫ পিপিটি, আর এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৬ পিপিটিতে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরের পানির চাপ বৃদ্ধি ও উজান থেকে মিষ্টিপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনের পানি ও মাটিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়েছে। এ ছাড়া পশুর নদের হাড়বারিয়া এলাকায় ২০১৩ সালে পলি পড়ার পরিমাণ ছিল ৯ সেন্টিমিটার, পরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২-এ। নদীটির করমজল এলাকায় আগে ছিল ১৯ সেন্টিমিটার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯-এ। বন গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০১৯ সাল থেকে 'ইমপ্যাক্ট অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অন ফ্লোরাল বায়োডাইভারসিটি ইন দ্য সুন্দরবন' শিরোনামে একটি গবেষণা করছে, যা শেষ হবে ২০২৩ সালে। ওই গবেষণায় প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে সুন্দরবনে বেশি লবণসহিষ্ণু গেওয়া, গরান, খলসি ও বাইন গাছ বেড়ে গেছে। বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের খুলনার বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. আ স ম হেলাল সিদ্দিকী জানান, তারা গবেষণা করে দেখেছেন, সুন্দরবনে গেওয়া গাছের চারা অনেক বেড়ে গেছে। ১৯৮৫ সালে সুন্দরবনে গেওয়া গাছ ছিল ১৬ শতাংশ এলাকায়। আর গত বছর গেওয়া গাছের চারা পাওয়া গেছে বনের ৫০ শতাংশে। ভবিষ্যতে যদি এভাবে গেওয়া গাছের চারা বেড়ে যায়, তাহলে তা খুবই উদ্বেগের। তিনি জানান, গেওয়া গাছের বীজের পরিমাণ অনেক বেশি। এর পাতা, গাছ ও বীজে এক ধরনের আঠা রয়েছে। সে কারণে হরিণ বা অন্য কোনো প্রাণী গেওয়া গাছের চারা বা পাতা খায় না। এ ছাড়া খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল আগে কয়েক লাখ মণ গেওয়া গাছ সংগ্রহ করত। দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরিও কিছু গেওয়া গাছ নিত। এখন গেওয়া আহরণ বন্ধ রয়েছে। গেওয়া গাছে পাখিও বাসা বাঁধে কম। কারণ, এর ডালপালা কম। ড. হেলাল সিদ্দিকী আরও জানান, গেওয়া গাছের পাশাপাশি বেশি লবণ সহনশীল গরান গাছও বেড়ে যাচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকে বন থেকে গরান আহরণ বন্ধ রয়েছে। ফলে বনজুড়ে গেওয়া ও গরানে আধিক্য বাড়ছে। এ দুটি গাছ বেড়ে যাওয়া সুন্দরবনের জন্য উপকারী নয়। এ ছাড়া বাইন গাছও বেড়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরী, পশুর, ধুন্দল, খলিসা, ঝানা, মঠগরান, নুনিয়া, ভাতকাঠিসহ কম লবণসহিষ্ণু বেশ কয়েকটি প্রজাতির গাছ কমে যাচ্ছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে সুন্দরীসহ ১০টি গাছের চারা গজানোর হার কমেছে। সুন্দরী গাছের আগামরা রোগ জেঁকে বসেছে। বনের কমপক্ষে ৩৮ শতাংশ সুন্দরী গাছ আগামরা ও ৫০ শতাংশ পশুর গাছ হার্ট রট রোগে আক্রান্ত। ড. হেলাল সিদ্দিকী জানান, রোগাক্রান্ত সুন্দরী গাছ কম ফল-বীজ ধারণ করছে এবং চারার পরিমাণও কমে গেছে। স্থায়ী ও অস্থায়ী নমুনা প্লটগুলোতে গবেষণা করে দেখেছেন, সুন্দরী গাছের চারার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। আগে যেখানে চারা ও বড় গাছের পরিমাণ বেশি ছিল, সেখানে কমে গেছে। আগামরা সুন্দরী গাছে বীজ হয় কম। যে পরিমাণ বীজ জন্মায়, তার মধ্য থেকেও অঙ্কুরিত হয় কম। ওই চারার টিকে থাকার হারও কম। হার্ট রট রোগে আক্রান্ত পশুর গাছে বীজ ও চারা কম হচ্ছে। পশুর গাছের অনেক চারা, ফল, পাতা ও বীজ হরিণ খেয়ে ফেলে। বন গবেষণায় নিযুক্ত এই কর্মকর্তা আরও জানান, পলি পড়ার হার বেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় গাছের শ্বাসমূল ঢেকে যাচ্ছে। এর ফলে কেওড়া গাছ মারা যাচ্ছে। বনের কটকা এলাকায় আগে যে পরিমাণ কেওড়া গাছ ছিল, এখন তা নেই। কেওড়া গাছ মরে বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে। কটকা বন অফিসের পেছন পাশে বিশাল এলাকায় গেলে এ অবস্থা দেখা যাবে। আগে যেখানে হরিণের অবাধ বিচরণ ছিল, এখন সেখানে আর আগের মতো হরিণ দেখা যায় না। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী সমকালকে বলেন, সুন্দরবনের জন্য এখন সবচেয়ে বড় হুমকি পানি ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি। এর ফলে অপেক্ষাকৃত কম লবণসহিষ্ণু সুন্দরী, পশুর, গোলপাতা ও খলিসা গাছের সংখ্যা কমছে। অন্যদিকে বেশি লবণসহিষ্ণু গরান, গেওয়া, কেওড়া, বাইন গাছ, কালিয়ালতা, গিলালতাসহ লতাগুল্ম বাড়ছে। এ অবস্থায় সুন্দরবনের পুরোনো জীববৈচিত্র্যে পরিবর্তন ঘটছে। তিনি তার গবেষণার উদ্ৃব্দতি দিয়ে জানান, লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে অনেক গাছের বীজ আগের মতো অঙ্কুরিত হচ্ছে না। উদ্ভিদ সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিবর্তনের কারণে প্রাণী সম্প্রদায়েরও পরিবর্তন ঘটছে। বন্যপ্রাণীগুলো তাদের জায়গা পরিবর্তন করছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত জানান, লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনের কিছু কিছু গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির সমকালকে বলেন, যে বৈশিষ্ট্য নিয়ে সুন্দরবন গড়ে উঠেছিল, তা এখন আর নেই। যে গাছের নামানুসারে বনের নাম, সেই সুন্দরী গাছ কমে গেছে। বেশি লবণসহিষ্ণু গাছ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সুন্দরবনের যে বিশেষত্ব, তা হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বনে সুন্দরী গাছ কমে গেছে। এ ব্যাপারে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন সমকালকে বলেন, আগে যেখানে সুন্দরী গাছ ছিল, এখন তার অনেক জায়গায় অপেক্ষাকৃত খাটো গেওয়া ও গরান গাছ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাছপালার এই পরিবর্তনের প্রভাব বন্যপ্রাণীর ওপরও পড়ছে। যেসব পশুপাখি, কীটপতঙ্গ বনের বিভিন্ন ফুল-ফলের ওপর নির্ভরশীল ছিল- তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য উজান থেকে পশুর ও বলেশ্বর নদ দিয়ে মিষ্টিপানির প্রবাহ বাড়ানোর বিকল্প নেই।
6
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান দুই দিনের সফরে ভারতে আসছেন। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোববার তার নয়াদিল্লি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। খবর এনডিটিভি ও সিনহুয়ার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রুচি ঘনশ্যাম জানান, সফরকালে এরদোয়ান দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য ও জ্যেষ্ঠ কমকর্তা এবং ইন্ডিয়া-তুরস্ক ব্যবসায়ী ফোরামের একটি বৈঠকে অংশ নিতে ১৫০ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল থাকবে বলে জানানো হয়।
3
বিদেশে যাওয়া ও আসার সময়ে বিমানবন্দরে বারবার হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, দেশের বড় বড় অপরাধী যখন-তখন বিদেশে যেতে পারেন। কিন্তু একজন লাল পাসপোর্টধারী হিসেবে দেশের বাইরে যাওয়া ও আসার সময় বারবার হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। শনিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। রুমিন ফারহানা বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার পরে একটা লাল পাসপোর্ট নিয়ে বহু দেশের বিমানবন্দরে যথেষ্ট সম্মান পেয়েছি। শুধু বাংলাদেশ আসা-যাওয়ার সময় হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। এসময় স্পিকার তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'আপনার পয়েন্টটা নোটেড।' রুমিন ফারহানা বলেন, সংবিধান রাষ্ট্রের সঙ্গে তার নাগরিকের চুক্তি। এতে নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে বলা আছে। নাগরিক হিসেবে কী মৌলিক অধিকার পাবো সেটা বলা আছে। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য গত সাত-আট বছর ধরে যতবারই তিনি দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট থাকা সত্ত্বেও তাকে বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। যদিওবা দুই-একবার গিয়েছেন তখন তাকে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিমানবন্দর থানায় আটকে রাখা হয়েছে। পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আড়াই-তিন ঘণ্টা পরে ফ্লাইটের সময় থাকলে যাওয়া সম্ভব হয়েছে, না হলে সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশে আসার সময়ও একই ধরনের হেনস্তার শিকার গত সাত-আট বছর ধরে হচ্ছি। বিএনপির এই এমপি বলেন, ২০১৭ সালে আমার এক রিটের দায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার নির্দেশনায় বলছেন তাকে কোনো রকমের বাধা দেওয়া যাবে না। স্পষ্টত নির্দেশনা থাকা সত্বেও আজ অবধি কখনও তিনি বিদেশ যাওয়া চেষ্টা করলে তখন একইভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কার নির্দেশে, কোন অধিদপ্তরের কারণে.. কোনো কারণ কোনদিন তা তাকে দেখানো হয়নি। রুমিন বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগ। সংবিধান এমনভাবে লিখিত যেখানে আইন বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের একটা ওভারল্যাপিং হবেই। ৭০ ধারা যতদিন আছে, ততদিন কোনো কার্যকর আইন বিভাগ পাব এই আশা করা যায় না। সরকারে যে থাকুক না কেন। এই সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত। সেই অবস্থায় বিচার বিভাগ স্বচ্ছতা ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে রাষ্ট্রের নাগরিকেদের টিকে থাকা প্রায়ই অসম্ভব। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বিচার বিভাগের অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ খুব স্পষ্ট রায় দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যায়ের পক্ষে রায় দেয়। সেই জায়গায় বিচার বিভাগের রায়কে প্রশাসন একেবারে অগ্রাহ্য করে রাষ্ট্র টিকে থাকবে কি করে? নাগরিকরা তাদের অধিকার কি করে ভোগ করবে? তিনি বলেন, বহু বড় বড় অপরাধী যখন খুশি তখন দেশ থেকে চলে যান। তারা দেশে ফিরে আসেন। তাদের নামে মামলা হয়। তারা পালিয়ে যান। আদালত খুঁজে পান না। তারা কিন্তু ঠিকই বিদেশে চলে যান। তাদের ক্ষেত্রে তো কোনো বাধা দেখি না। বিরোধী দলে একজন কর্মীর ক্ষেত্রে কেন এই ধরনের বাধার মুখোমুখি বারবার হতে হয় জানতে চান এই এমপি।
6
হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন আবিদ আলী। বুকে ব্যথা নিয়ে গত মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পাকিস্তানের এই টেস্ট ওপেনার। চার দিন পর গতকাল শনিবার তিনি ছাড়া পেয়েছেন। দুটি এনজিওপ্লাস্টি করানো হয়েছে তাঁর।আবিদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা। তিনি জানান, সেরে ওঠার পথে আছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ব্যাটার, 'তার (আবিদের) পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দুই সপ্তাহের। এরপর করাচিতে পরীক্ষা করানো হবে। পিসিবি আমাদের থাকার ব্যবস্থা করেছে। আবিদের সেরে ওঠার জন্য যাঁরা প্রার্থনা করেছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।'পাকিস্তানের ঘরোয়া লিগে সেন্ট্রাল পাঞ্জাবের হয়ে খেলছিলেন আবিদ। করাচির ইউবিএল গ্রাউন্ডে শেষ দিনে ৬১ রানের সময় বুকে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে হাসপাতালে পাঠানো হয় তাঁকে। নিবিড় স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জানা যায়, অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোমে ভুগছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ওপেনার।হাসপাতালে ভর্তির এক দিন পর এনজিওপ্লাস্টি করানো হয় আবিদের। গত বৃহস্পতিবার আরেকটি এনজিওপ্লাস্টি করানো হয়। শুরু থেকেই একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে পিসিবির মেডিকেল বিভাগ।
12
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪ জন নতুন রোগী। নতুন রোগীদের মধ্যে দুইজন ঢাকার এবং বাকি দুই জন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিভাগের। শনিবার (১ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এ তথ্য জানিয়েছে। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ৫২ জন ডেঙ্গু রোগী সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৪ জন ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২৮ জন রোগী ভর্তি আছেন। আর ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৪ জন রোগী। এদিকে ২০২১ সালে রাজধানীসহ সারাদেশে এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই সময়ে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা যান ১০৫ জন। ২০২১ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে নভেম্বরে তিন হাজার ৫৬৭ জন, অক্টোবরে পাঁচ হাজার ৪৫৮ জন, সেপ্টেম্বরে ৭ হাজার ৮৪১ জন, আগস্টে ৭ হাজার ৬৯৮ জন, জুলাইয়ে ২ হাজার ২৮৬ জন এবং জুন মাসে ২৭২ জন ও মে মাসে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন।
6
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জের আওতাধীন হারবাং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিটের মসজিদের মোড়া বার আউলিয়া মাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ৯ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ।আজ রোববার সকালে চুনতি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলামের নেতৃত্বে বনবিভাগের একটি টিম সাপটি উদ্ধার করে।এ ব্যাপারে বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম সাংবাদিকদেরকে জানান, এলাকাবাসী অজগর সাপটি মসজিদের মোড়া বার আউলিয়া মাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকায় দেখতে পেয়ে আমাদের খবর দেয়। আমরা দ্রুত সেখানে গিয়ে অজগর সাপটি উদ্ধার করি। পর্যবেক্ষণের পর চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়েছে। সাপটির দৈর্ঘ্য ৯ ফুট লম্বা এবং ওজন প্রায় ১৬ কেজি।
6
পাকিস্তানের সাবেক নেতা নওয়াজ শরিফকে আদালত সোমবার সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সরকারি সংবাদ মাধ্যমে এ কথা বলা হয়েছে।তার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আদালত সর্বশেষ এ রায় দেয়। দুর্নীতির দায়ে গত বছর তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।পাকিস্তানের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি দেশটির ক্ষমতাশালী নিরাপত্তা বাহিনীর লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয়েছেন। খবর এএফপি'র। পানাম পেপার্সে ফাঁস হওয়া মধ্যপ্রাচ্যে তার পারিবারিক ব্যবসা কেন্দ্রিক অভিযোগ তদন্তের পর আদালত সর্বশেষ এ রায় দেয়। কারাদন্ড ছাড়াও তাকে জরিমানাও করা হয়। কিন্তু জরিমানার পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে আদালতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও শরীফ সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।এর আগে চলতি বছর জুলাই মাসে দুর্নীতির একটি অভিযোগে আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদন্ড দেয়।
3
কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে তার কফিন। এ সময় অনেকেই বলছিলেন, রাবেয়া খাতুন তার লেখার মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সোমবার বিকেলে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় তার জামাতা প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে রোববার মারা যান রাবেয়া খাতুন। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে অস্থায়ী বেদিতে তার শ্রদ্ধানুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই আওয়ামী লীগের পক্ষে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়া শ্রদ্ধা জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান ও মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ প্রমুখ। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা জানায় তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গণসঙ্গীতশিল্পী সমন্বয় পরিষদ, ঢাকা পদাতিক, জাতীয় কবিতা পরিষদ, চন্দ্রাবতী একাডেমি, পঞ্চভাস্বর, টইটুম্বর, জাসদ, বাংলাদেশ টেলিভিশন নাট্যশিল্পী সংসদ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও পরিবেশক সমিতি, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। পৃথক বিবৃতিতে শোক জানিয়েছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, মহিলা পরিষদ, যুব মৈত্রী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও টিম অ্যাসোসিয়েট। রাবেয়া খাতুনের চলে যাওয়া সাহিত্য অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'বাংলা সাহিত্যে রাবেয়া খাতুনের মতো নারী লেখিকা খুব বেশি নেই। তিনি দেশের এমন একজন লেখিকা, যিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। ৫০টির বেশি উপন্যাস, চারশ ছোটগল্প তিনি রচনা করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তিনি যে সময় সাহিত্যচর্চা শুরু করেছিলেন, তখন একজন নারীর পক্ষে সাহিত্যচর্চা এত সহজ কাজ ছিল না। সেই সময় সাহিত্যচর্চা শুরু করে তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন।' তিনি আরও বলেন, 'রাবেয়া খাতুন শুধু নিজে লেখিকা হিসেবে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন তা নয়, তিনি তার পুরো পরিবারকে একটি সংস্কৃতিমনা পরিবার হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ফরিদুর রেজা সাগর তারই সন্তান, যিনি শুধু টেলিভিশন পরিচালনা নয়, চ্যানেল আইর মাধ্যমে সংস্কৃতি অঙ্গনে দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করছেন। রাবেয়া খাতুনের অন্য সন্তান ও পরিবারের সবাই দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।' রামেন্দু মজুমদার বলেন, 'আমাদের যারা পথ দেখিয়েছেন জাগতিক নিয়মে তারা চলে যাচ্ছেন। মহামারি করোনার কারণে এই চলে যাওয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। রাবেয়া খাতুন বর্ণাঢ্য ও দীর্ঘজীবন পালন করেছেন। তিনি সব ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। তিনি যে কাজ করেছেন, সে কাজ থেকে যদি তরুণরা উজ্জীবিত ও উৎসাহিত হয় তাহলেই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হবে।' নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, 'পঞ্চাশের দশকে তিনি কলম ধরেছিলেন। সেই সময়টি ছিল পশ্চাৎপদ সময়। বাংলাদেশের অগ্রসরতার পেছনে তার অবদান রয়েছে। একজন নারী লেখক হিসেবে তার অনমনীয় মনোভাব উদাহরণস্বরূপ। তিনি শুধু নিজেই সফল হননি, নিজের সন্তানদেরও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।' হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, 'রাবেয়া খাতুন একজন সচেতন লেখক ছিলেন। তিনি সব সময় সমাজের নিপীড়িত মানুষের জন্য কলম ধরেছেন।' অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, 'সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে তিনি কাজ করেননি। শিশুসাহিত্য থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য- সব ধরনের রচনা তিনি করেছেন। তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক লেখিকা। মুক্তিযুদ্ধের ওপর তার লেখা অমর হয়ে থাকবে।' পরিবারের পক্ষে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, 'আজ আপনারা যারা এখানে এসেছেন সবাই রাবেয়া খাতুনকে ভালোবেসে এসেছেন। লেখার মাধ্যমে তিনি আপনাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। আপনাদের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা তাকে আজীবন স্মরণীয় করে রাখবে।' বাংলা একাডেমি থেকে রাবেয়া খাতুনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তেঁজগাওয়ের চ্যানেল আই কার্যালয়ে। চ্যানেল আইয়ে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলেন মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি রাবেয়া খাতুনের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া চান। দোয়া চান চ্যানেল আইর পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। জানাজায় অংশ নেন চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস গ্রুপের আরেক পরিচালক রিয়াজ আহমেদ খানসহ চ্যানেল আই পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়াও দেশের নানা অঙ্গনের বিশিষ্টজন অংশ নেন। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৮ জানুয়ারি বাদ জুমা চ্যানেল আই মসজিদে রাবেয়া খাতুনের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
2
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বারী হকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের ছালাভরা নামক মাঠে একটি বেগুন খেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, বারী হক এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। হত্যা, গুম ও চাঁদাবাজিসহ তার নামে ১২টি মামলা রয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের মৃত পচু শেখের ছেলে বারী হক। ওসি আরও বলেন, কৃষকরা মাঠে কৃষি কাজ করতে গিয়ে লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বারী হক এলাকার রুহুল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলে এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে বারী হকের মৃত্যুতে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ মিষ্টি বিতরণ করেছেন বলেও জানা গেছে।
6
পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেছেন, 'আওয়ামী লীগ সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। কৃষকের উন্নয়নে যা যা পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন সরকার তা করছে।' আজ শনিবার দুপুরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটায় কৃষকলীগের এক সমাবেশে ঢাকার সংসদ ভবনের বাসা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করে চলছে। ওসব অঞ্চলে স্থায়ী প্রকল্প করছে। যাতে বন্যা খরা ও জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে কৃষকদের সাশ্রয়ী মূল্যে সার ও হাইব্রিড বীজ দিতে ২০২১ সালে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। কৃষি উপকরণ সহায়তার জন্য ২ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪ জন কৃষককে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়েছে। সরকার কৃষকদের জন্য মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিয়েছে। ১১ মিলিয়নেরও বেশি কৃষক এখন এই ব্যাংক পরিষেবা গ্রহণ করছেন। কৃষকরা এখন কৃষিকাজের জন্য সুদমুক্ত ও স্বল্প সুদে ঋণ পাচ্ছেন। ফলে প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে এবং তাদের আগামী প্রজন্ম শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে।' উপমন্ত্রী বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সবুজ বাংলাদেশকে আরও সবুজ করতে হবে। এজন্য প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।' নড়িয়া উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান মাস্টারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রফিক হাওলাদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক গাজী মনির হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান রশিদ লিমন বেপারী, চামটা ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন রাড়ী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার বক্কর ছৈয়াল প্রমুখ। এসময় দলের বিভিন্ন স্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
9
সাম্প্রতিক কালে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিকে অনেকে দ্বিতীয় ঢেউ বলেন। তবে আমি মনে করি এটি তৃতীয় ঢেউ। এই ঢেউয়ে সংক্রমণের হার উচ্চ ছিল। এ সময়ে অনেকেই সংক্রমিত হয়েছেন। ফলে সংক্রমিত ব্যক্তিদের করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তারা নতুন করে সংক্রমিত হবে না। ধারণা করছি, দেশের অন্তত ৫০ ভাগ মানুষ তৃতীয় ঢেউয়ে করোনায় সংক্রমিত হয়েছে। এ সময়ে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি করোনার টিকাদানও বেড়েছে। যদিও দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশই এখনো দুই ডোজ টিকার আওতায় আসেনি। তবু বলা যায়, সংক্রমণ কমে আসার একটা কারণ টিকা, অবশ্য বড় কারণ নয়। করোনায় উচ্চ হারে সংক্রমণ হয়ে যাওয়ার পরপরই নতুন করে সংক্রমণ হার বাড়ে না। বর্তমানে সংক্রমণ হার কম হওয়ার মূল কারণ এটাই। দেশে করোনার সবশেষ ঢেউয়ের কারণ ছিল ডেলটা ধরন (ভারতে শনাক্ত)। নতুন কোনো ধরন এলে আবার হয়তো সংক্রমণ বাড়বে। তাই পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কাও আছে। পৃথিবীজুড়ে যদি করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে দেশেও সংক্রমণ আবার বাড়তে পারে। অবশ্য নতুন ধরন না এলে সংক্রমণ বাড়ার ক্ষেত্রে সময় নেবে। দেশের মধ্যেও মানুষ এখনো করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে। যদিও হার কম। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মানুষের চলাচল ও জনসমাগম যত বাড়বে, সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কাও তত থাকবে। তাই শিথিলতা, গা ছাড়া ভাব দেখানোর সুযোগ নেই। করোনার রোগী শনাক্তে যদি আমরা আরও দক্ষ হতে পারতাম, সংক্রমণের প্রাথমিক উৎস নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম, তাহলে সংক্রমণ আরও আগে কমানো যেত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ তৈরি করতে হতো। এই উদ্যোগ এখনো দুর্বল। শুধু প্রচার করলেই হয় না। সংক্রমণ এখন কমে এসেছে। এ পরিস্থিতি ধরে রাখতে হলে রোগী শনাক্তকরণ ও তাঁদের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জোর দিতে হবে। করোনার লক্ষণ দেখা দিলেই যেন মানুষ পরীক্ষা করতে যায়, তেমন অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। করোনায় আক্রান্ত হলে রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শের আওতায় এনে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মানুষকে উৎসাহী করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। প্রাপ্যতা সাপেক্ষে সবাইকে টিকা দিতে হবে। তখন সংক্রমণ বাড়লেও মৃত্যুঝুঁকি কমে আসবে। টিকাদানে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। টিকার প্রাপ্যতা বড় সমস্যা। টিকা পড়ে আছে বা গাফিলতি হচ্ছে, বিষয়টা এমন নয়। টিকা দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের অনেক বেশি। কিন্তু সেই পরিমাণ টিকা আমরা পাচ্ছি না। সম্ভাব্য সবাইকে টিকার আওতায় আনতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। উন্নত বিশ্ব টিকা ধরে রেখেছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে উৎপাদন করতে দিচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উদ্যোগে মেধাস্বত্ব আইন শিথিল করা প্রয়োজন। স্বল্পোন্নত দেশেও অনেক টিকা উৎপাদন সম্ভব হবে। বিশ্বের ৮০ ভাগ মানুষ টিকা পাবে।
8
মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধান। ২৬ মে-র চন্দ্রগ্রহণের পর আগামী ১০ জুন হবে সূর্যগ্রহণ। এই সময় সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝে চলে আসবে চাঁদ। ফলে সূর্যের প্রায় ৯৪.৩ শতাংশ ঢাকা পড়ে যাবে। তখন শুধু একটা বলয় দেখা যাবে। যাকে অনেকেই 'রিং অব ফায়ার' বলে থাকেন। আগামী ১০ জুনের সূর্যগ্রহণ কানাডা এবং আমেরিকার উত্তর-পূর্ব অংশ, গ্রিনল্যান্ড ও উত্তরমেরু থেকে ভাল ভাবে দেখা যাবে। রাশিয়ার সাইবেরিয়া থেকেও নজরে আসবে 'রিং অফ ফায়ার'। পাশাপাশি, ইউরোপ এবং এশিয়ার উত্তরাংশ এবং কুমেরুর উত্তরাংশ থেকে আংশিক ভাবে গ্রহণ নজরে আসবে। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা বেজে ১২ মিনিট শুরু হবে এ গ্রহন এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিট। আর এই সময়ের মধ্যে গ্রহণের চরম গ্রাস দেখা যাবে বিকেল বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে।
3
'নো-মাস্ক, নো-সার্ভিস' নীতি বাস্তবায়ন এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে বরিশাল নগরীতে রাতে ও দিনে দুই দফা অভিযান চালিয়ে ২৫ ব্যক্তিকে ৭ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ দস্তগীর সকালে এবং সন্ধ্যায় এই অভিযান পরিচালনা করেন। আজ শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর বাংলাবাজার, জিয়া সড়ক, চৌমাথা, বটতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনাকালে ৪ ব্যক্তির কাছ থেকে ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি একটি মুদি দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর
6
ঢাকার গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের নেতা দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে কোটি কোটি টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের পর তাদের এক বন্ধু ও কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালিয়েও মিলেছে টাকা ও অস্ত্র। মঙ্গলবার র্যাবের ওই অভিযানে মোট তিন জায়গা থেকে নগদ পাঁচ কোটি টাকা, ৭২০ ভরি বা ৮ কেজি স্বর্ণালঙ্কার ও ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। এনামুল হক এনু গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং রুপন একই ইউনিটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দুই ভাই পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের বানিয়ানগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। ১৫ বছর আগে নবাবপুর রোডের মাথায় তাদের একটি লেদ মেশিনের ওয়ার্কশপ ছিল। এখন তারা অন্তত ১৫টি বাড়ির মালিক। নিজেদের, বন্ধু এবং কর্মচারীর বাসায় রীতিমতো ব্যাংকের মতো ভল্ট বানিয়ে তাতে রাখেন কোটি কোটি টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার। এসব সম্পদ রক্ষায় তাদের রয়েছে অবৈধ অস্ত্রধারী ক্যাডারও। র্যাব বলছে, মতিঝিলে ক্যাসিনো চালিয়ে এই দুই ভাই রাতারাতি বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। এরমধ্যে এনামুল মতিঝিলে ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও রুপন আরামবাগ ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন। তবে অভিযানের সময় দুইজনের কাউকেই গ্রেফতার করা যায়নি। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র্যাব-৩-এর অধিনায়ক শাফীউল্লাহ বুলবুল বলেন, কয়েকদিন আগে তারা মতিঝিলে কয়েকটি ক্লাবে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় তথ্য পান সেখান থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপরই তদন্ত করতে গিয়ে এনামুল ও রুপনকে চিহ্নিত করা হয়। নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার ভোর থেকে তাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, বানিয়ানগরে এনামুলের ছয়তলা বাড়ির দোতলা ও পাঁচতলায় তিনটি বড় ভল্ট পাওয়া যায়। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভল্টগুলো খুলে এরমধ্যে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা ও ৭২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। ৮ কেজি ওজনের এই স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য চার কোটি টাকার বেশি। তিনি জানান, এরপরই ওই বাড়ি থেকে তথ্য নিয়ে লালমোহন সাহা স্ট্রিট ও নারিন্দার শরৎগুপ্ত রোডে এনামুলের কর্মচারী ও বন্ধুর বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই কোটি টাকা এবং তার এক কর্মচারীর বাসায় রাখা ভল্ট থেকে দুই কোটি টাকা জব্দ করা হয়। র্যাব অধিনায়ক বলেন, অভিযানে তিনটি রিভলবার, রাইফেলসহ বিভিন্ন ধরনের ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক দুই ভাই এসব অস্ত্র ব্যবহার করে অনেককে জিম্মি করতেন বলে র্যাব জানতে পেরেছে। কয়েকদিন আগে এনামুল থাইল্যান্ডে পালিয়ে গেছেন। রুপন ভূঁইয়াকেও গ্রেফতার করা যায়নি। ভল্ট তৈরি হয় ইংলিশ রোডে এনামুল ও রুপনের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পেরেছে, মতিঝিলে ক্যাসিনোর আসর থেকে ওই দুই ভাই টাকা নিয়ে বাসায় রাখতেন। এজন্য পুরান ঢাকার ইংলিশ রোড থেকে তারা সুরক্ষিত ভল্ট তৈরি করেন। ইংলিশ রোডে একটি দোকানে আরও পাঁচটি ভল্ট তৈরির বায়না দিয়েছিলেন দুই ভাই। র্যাব-৩ এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এনামুল ও রুপনের কাছে আরও নগদ টাকা থাকতে পারে। তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভল্টে টাকা রাখার জায়গা নেই, তাই কেনা হতো স্বর্ণালঙ্কার র্যাবের অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, বানিয়ানগরে এনামুলদের ছয়তলা বাড়ি ঘিরে রেখেছে র্যাব। ওই বাসায় ঢুকে লোহার তিনটি সিন্দুক (ভল্ট) দেখা যায়। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সেগুলো খোলা হলে ভেতরে সারি সারি এক হাজার টাকা ও পাঁচশ টাকার নোট সাজানো দেখা যায়। এর একটি ভল্টে ছিল শুধু স্বর্ণালঙ্কার। এনামুলের পরিবারের একজন সদস্য জানিয়েছেন, প্রতিদিনই নগদ টাকা নিয়ে আসতেন তারা। এত টাকা রাখার জায়গা ছিল না। এজন্য টাকা দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার কিনে ভল্ট ভর্তি করা হচ্ছিল। ওই অভিযানের পরই র্যাব লালমোহন সাহা স্ট্রিটে ঘিরে রাখা এনামুলের কর্মচারী আবুল কালামের বাসায় অভিযান শুরু করে। সেখানেও পাওয়া যায় একটি ভল্ট। সেটি ভাঙার পর দেখা যায় থরে থরে সাজানো দুই কোটি টাকা ও একটি পিস্তল। বাসার লোকজন জানিয়েছেন, কালাম ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। এরপরই অভিযান শুরু হয় শরৎগুপ্ত রোডে এনামুলের বন্ধু হারুন অর রশিদের বাড়িতে। ওই বাড়িটিও আগেই ঘিরে রেখেছিল র্যাব। সেখানেও পাওয়া যায় একটি ভল্ট। এটি খুলে পাওয়া যায় দুই কোটি টাকা। অভিযানের সময়ে হারুনকেও বাসায় পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী দাবি করেন, হারুন ট্রাকস্ট্যান্ডের কর্মচারী। তারা এ টাকার বিষয়ে কিছুই জানেন না। কয়েক দিন আগে এনামুল এসে সিন্দুকসহ টাকাগুলো বাসায় রেখে গেছেন। র্যাব-৩ এর অধিনায়ক শাফীউল্লাহ বুলবুল বলেন, তারা জানতে পেরেছেন, এনামুল ও রুপন প্রতি রাতেই বাসায় নগদ টাকা নিয়ে আসতেন। এসব টাকা রাখার জায়গা হচ্ছিল না। অভিযানের মুখে নগদ টাকা রক্ষা করতে তা স্বর্ণালঙ্কারে রূপান্তরের চেষ্টায় ছিলেন তারা। এজন্য স্বর্ণালঙ্কারও কেনা শুরু করেছিলেন। ওই দুই ভাই যে থানা আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা তা স্বীকার করেছেন গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত জাহান। তিনি বলেছেন, 'তাদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো চালানো ও অবৈধ টাকার রাখার যে অভিযোগ উঠেছে তা প্রমাণ হলে আমরা এ দুজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।'
6
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ইতালির রোমে অনুষ্ঠিতব্য প্রি-কপ-২৬ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সে অংশ নিতে আজ বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) ভোরে রোমের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। কনফারেন্সটি আগামী ৮-৯ অক্টোবর ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপঙ্কর তালুকদার, জাফর আলম এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব কে, এম, আব্দুস সালাম এই কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করবেন। এরপর ১৩-১৫ অক্টোবর, রাশিয়ার সেন্ট-পিটার্সবার্গে ৩য় ইউরেশিয়ান ওমেন্স ফোরামে অংশগ্রহণ শেষে আগামী ১৭অক্টোবর স্পিকার দেশে ফিরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। স্পিকারের নেতৃত্বে এ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, আদিবা আনজুম মিতা এবং খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন অংশ নেবেন। স্পিকারের স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন উভয় সফরে তার সফরসঙ্গী হয়ে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। স্পিকারসহ সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানাতে সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
6
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতেদুই জন ইউপি সদস্যসহ কাদের মির্জার ছয় অনুসারীর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের চরকালী ভূঁইয়া বাড়ির সামনের শাহ আলমের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চরকালী ৩ নং ওয়ার্ডের কামাল উদ্দিনের ছেলে মেহেদী( ৩২), রুহুল আমিনের ছেলে আয়াতে সাব্বীর( ২০), মৃত নাদেরের জামানের ছেলে ভুট্টু পাটওয়ারী (৪৫), আলাউদ্দিনের ছেলে আনসার উদ্দিন শাওন (২০), চরফকিরা ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজাদ ও চর ফকিরা ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ভুট্টু । এরা সবাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী হিসেবে পরিচিত এবং আহতরা সবাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এর পুরাতন বাড়ির। আহতরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। স্থানীয় একাদিক সূত্রে জানা যায়, রাতে শাহ আলমের দোকানে বসে ছিল মেহেদী, আয়াতে সাব্বির ও ভুট্টু পাটয়ারীসহ আরও কয়েকজন। এ সময় চর ফকিরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রবেন্স ও জায়েদুল হক কচির নেতৃত্বে ৭-৮ জন এসে অতর্কিতে হামলা চালায়। এসময় তারা হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে মেহেদী, আয়াতে সাব্বির ও ভুট্টু পাটয়ারীকে বেদম মারধর করে। পরে মুমুর্ষ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আহত দুইজনের অবস্থা গুরুতর। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের আলোকে পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
6
বিশ্বের এ প্রান্তে খরা তো অন্য প্রান্তে বন্যা। একদিক যখন ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে, অন্য কোথাও তখন পুড়ছে দাবানলে। উষ্ণতায় গলা উত্তরের বরফের পানিতে ডুবতে বসেছে দক্ষিণের একাংশ। এত কিছুর জন্য সবচেয়ে দায়ী তো প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি মানুষের অনাচার। এই যে নিজেদের অস্তিত্বের শেকড় ধরে টান দিচ্ছে, সেটাও মানুষ জানে বহু আগে থেকে। কিন্তু এবার হাজার হাজার বিজ্ঞানীর গবেষণা মানবজাতিকে সাফ জানিয়ে দিল, যা হয়েছে অনেক। পৃথিবী নামের এই গ্রহটাকে বাঁচাতে হলে, নিজেদের বাঁচতে হলে, নষ্ট করার মতো সময় আর হাতে নেই। এখনই সজাগ হতে হবে, সোচ্চার হতে হবে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে। যত দ্রুত সম্ভব কমাতে হবে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন।জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশিত এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ গবেষণায় জানানো হয়েছে এমন সতর্কতা আর আহ্বান। গতকাল সোমবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টার-গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। দেশে করা বিজ্ঞানীদের বহু গবেষণার সারাংশ এই প্রতিবেদন। ৪২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিকে 'মানব জাতির জন্য লাল সংকেত' হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।জলবায়ু ইস্যুতে বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যালোচনার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৮ সালে গঠিত হয় আইপিসিসি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুমণ্ডল থেকে শুরু করে সমুদ্র ও ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি মূলত মানুষের কারণেই হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১৯৭০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত গত ৫০ বছরে যে হারে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়েছে, গত দুই হাজার বছরের মধ্যে তেমনটি কখনোই ঘটেনি। আর এর ফল ইতিমধ্যে নানা দুর্যোগের মধ্য দিয়ে পৃথিবীবাসী ভোগ করতে শুরু করেছে।জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ কীভাগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা উল্লেখ করে পরিবেশ ও পানিবিশেষজ্ঞ ড. এ আতিক রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের একটা চরম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এতে দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চল ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে। বহু এলাকায় মানুষ থাকতে পারছে না। মানুষকে স্থানান্তর করতে হচ্ছে। মানুষ তার ঘরবাড়ি হারিয়ে ফেলছে। লবণাক্ততার জন্য ধানসহ কৃষিজাত ফসল হচ্ছে না।'জলবায়ুবিষয়ক প্রতিবেদনটিতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ দিক চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করা যায়, ১৮৫০ সাল থেকে রেকর্ড করা তথ্যানুযায়ী, গত পাঁচ বছরই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে গরম সময়। আর ১৯০১ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার তিন গুণ বেড়ে গেছে। এ ছাড়া ১৯৯০-এর দশক থেকে মেরু অঞ্চলে যে হারে বরফ গলছে, তার ৯০ ভাগই হচ্ছে মানবঘটিত কারণে। এসবের জন্যই নজিরবিহীনভাবে বর্তমানে গ্রিস ও তুরস্কে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি জার্মানি আর চীনের বন্যার যে রূপ দেখা গেছে, অদূরভবিষ্যতে তেমনটি আর দেখা যায়নি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকেই যাবে। সমুদ্র আরও গরম আর অম্লীয় হয়ে উঠবে। উপকূলীয় এলাকাগুলো খুব দ্রুতই তলিয়ে যেতে শুরু করবে।বৈশ্বিক বিপর্যয় ঠেকাতে ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তিতে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে, এই শতাব্দীর শেষে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। তবে সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই লক্ষ্যমাত্রা ঠিক থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, দুই দশকেরও কম সময়ের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে। আর আসন্ন বছরগুলোয় যদি নিঃসরণ কমানো না হয়, তবে এই বৃদ্ধি ধারণার চেয়েও আগে হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের অনুমান অবশ্য ২০১৮ সালেই করেছিল আইপিসিসি। পৃথিবীর এমন রুগ্ণদশার জন্য মানুষকেই দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে।প্রতিবেদনটিকে 'মানবজাতির জন্য লাল সংকেত' হিসেবে অভিহিত করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, 'আমরা যদি সব প্রচেষ্টা এক করি, তাহলে এই জলবায়ু বিপর্যয় এড়িয়ে যেতে পারি। আজকের প্রতিবেদনে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আমাদের আর দেরি করার সময় নেই। কোনো অজুহাত দেখানোরও উপায় নেই আর।'জলবায়ু ইস্যুতে আসন্ন কপ-২৬ সম্মেলনে সফল করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। নভেম্বরের শুরুতেই স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই সম্মেলন। সম্মেলনের তিন মাসেরও কম সময় হাতে রেখে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মূলত বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতির একটি সারগর্ভ। সামনের মাসগুলোয় এ সংক্রান্ত বেশ কিছু পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
7
রাশিয়ার বিজয় দিবস ৯ মে'র মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধকে সীমাবদ্ধ করার জল্পনা-কল্পনাকে নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি বলেছেন, একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে দেশটিকে তাদের বিজয় দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। খবর এএফপি'র। এর আগে ইউক্রেন সেনার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, আগামী নয় মে'র মধ্যে যুদ্ধ শেষ করে বিজয় দিবস উদযাপন করবে রাশিয়া। ইতালীয় আউটলেট মিডিয়াসেটের সাথে কথা বলার সময় ল্যাভরভ জোর দিয়ে বলেন, বিজয় দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে মস্কো তার তথাকথিত 'বিশেষ সামরিক অভিযান' সময়মতো শেষ করতে তাড়াহুড়ো করবে না। দিবসটিতে ১৯৪৫ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নসহ-মিত্র বাহিনীর কাছে নাৎসি জার্মানির আত্মসমর্পণকে উদযাপন করে থাকে। রোববার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ বলেন, সামরিক বাহিনী বিজয় দিবসসহ কোনো তারিখে কৃত্রিমভাবে তাদের কর্মকাণ্ডের সুরাহা করবে না। তিনি আরো বলেন, ইউক্রেনে অভিযানের গতি নির্ভর করে প্রথমত বেসামরিক জনসংখ্যা ও রুশ সামরিক কর্মীদের ঝুঁকি কমানোর প্রয়োজনের উপর। মধ্য মস্কোতে একটি বড় সামরিক কুচকাওয়াজ ও ইউরোপে ফ্যাসিবাদের পরাজয়ে দেশটির অগ্রণী ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের একটি ভাষণসহ রাশিয়া সাধারণত বিজয় দিবসকে গ্র্যান্ড স্টাইলে উদযাপন করে থাকে। কিন্তু এ বছরের উদযাপন হবে ইউক্রেনে মস্কোর রক্তাক্ত সামরিক অভিযানের পটভূমিতে। ল্যাভরভ বলেন, 'আমরা সবসময়ের মতোই ৯ মে গভীরভাবে উদযাপন করব। যারা ইউরোপের মুক্তির জন্য রাশিয়া ও সাবেক ইউএসএসআর-এর অন্যান্য প্রজাতন্ত্রের নাৎসি প্লেগ থেকে মুক্তির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাদের মনে রাখব। আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে ন্যাটের প্রভাব ঠেকাতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। এর পর থেকে হাজার হাজার বেসামরিক লোক নিহত ও লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা ইউক্রেন দাবি করেছে, এ যাবত যুদ্ধে রাশিয়ার অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মস্কো বলেছে, অভিযানে তাদের এক হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ মাঝে মাঝে যেসব পরিসংখ্যান দিচ্ছে তার সাথে কোনো মিল পাওয়া যায় না দু'দেশের দেয়া খবরের। যুদ্ধে উভয় দেশের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কোনো পরিসংখ্যানই যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এ পর্যন্ত। সূত্র : বাসস
3
সিলেটে প্রেমের বিয়ের দেড় মাস পর স্ত্রী সৈয়দা তামান্নাকে খুনের ঘটনায় স্বামী আল মামুনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার রাতে কোতোয়ালি থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বড় ভাই সৈয়দ আনোয়ার হোসেন রাজা। এদিকে আল মামুনের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে ওই নারীকে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রেমের সম্পর্ক করে তামান্নাকে বিয়ে করলেও মামুন তার আগের বিয়ের তথ্য গোপন ও ভুল ঠিকানা ব্যবহার করেন। হত্যার মামলায় আসামি আল মামুনের বোন জামাই এমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামি বোন পারভীন, ভাই মাহবুব সরকার, বিলকিস ও ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা শাহনাজ পারভিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিলেটের জিন্দাবাজারের আল মারজান শপিং সেন্টারের ঐশি ফেব্রিক্সের মালিক আল মামুনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জের চরহোগলায়। বিয়ের এক মাস ২২ দিনের মাথায় সোমবার নগরীর উত্তর কাজীটুলার এলাকার একটি বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে তামান্নার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর তার স্বামী মামুন পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের খালাতো ভাই ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, আল মামুন প্রতারণা করে তামান্নাকে বিয়ে করে। মামুন আগেও একটি বিয়ে করে। সে ওই বিয়ের বিষয়টি গোপন করে। বিয়ের ক্ষেত্রে তাকে সহায়তা করেন মেঘনা লাইফ ইন্সুরেন্সে সিলেট অফিসের কর্মকর্তা শাহনাজ পারভিন নামের এক নারী। মামুনের জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া দাবি করে ইকবাল আরও বলেন, আমরা এনআইডি কার্ডের নাম্বারটি নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের নির্দিষ্ট অপশনে গিয়ে সাবমিট করলে এতে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মান্নান জানিয়েছেন, পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। কী কারণে তামান্নাকে হত্যা করা হয়েছে, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এদিকে মঙ্গলবার সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার বড় মুকাম কবরস্থানে সৈয়দা তামান্নার লাশ দাফন করা হয়েছে। এর আগে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
6
জার্মানি ২৭ ডিসেম্বর থেকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করতে পারে। শুরুতে প্রবীণ নিবাসের বাসিন্দারা এই টিকা পাবেন। গতকাল বুধবার জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন্স স্পান এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেন। আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানায়। একই দিন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২৭টি সদস্যরাষ্ট্রে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়েছে। এক বিবৃতিতে জার্মানির ১৬টি রাজ্য পর্যায়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা বলেছেন, জার্মান সরকার বায়োএনটেকের করোনার টিকা অনুমোদন ও সরবরাহ করতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইয়েন্স স্পান। চলতি বছর শেষ হওয়ার আগে আগে এই টিকার বিতরণ শুরু হবে। বর্তমানে ইইউ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছে জার্মানি। তাই ২৭ ডিসেম্বর জার্মানিতে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হলে সেদিন ইইউর সব সদস্যরাষ্ট্রেও তা আরম্ভ হতে পারে। বুধবার ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্স বলেছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ফ্রান্সে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হতে পারে। ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেন বলেছেন, ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনার টিকা অনুমোদন দেওয়া হলে ইইউর সব দেশ তা একই দিনে দেওয়া শুরু করতে পারে। ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) টিকার বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২১ ডিসেম্বর দিতে পারে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইতিমধ্যে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা অনুমোদন দিয়ে তার প্রয়োগ শুরু করে দিয়েছে। আরও একাধিক দেশ এই টিকার অনুমোদন দিয়েছে। মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে জানানো হয়েছে।
3
আওয়ামী লীগের দুদিন ব্যাপী কাউন্সিল আজ শনিবার শেষ হয়েছে। ২১-তম কাউন্সিলে পরবর্তী তিন বছরের জন্য দলটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বর্তমান সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাধারণ সম্পাদক পদেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে শেখ হাসিনার সঙ্গে দলের নেতৃত্বে থাকছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরই। আজ কাউন্সিলে দলের সভাপতিমণ্ডলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সব কটি পদে নেতা নির্বাচন করা হয়েছে। আটটি সাংগঠনিক সম্পাদক পদের মধ্যে ৫টিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি সম্পাদক পদে কমিটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ৮১ জন। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন পদে ৪২ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে কমিটিতে একেবারেই নতুন দুজন। যারা আগের কমিটিতে ছিলেন না। আর পদোন্নতি পেয়েছেন আটজন। কমিটিতে পদোন্নতি পেয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিপ্লব বড়ুয়া, নজিবুল্লাহ হিরু, এস এম কামাল, মির্জা আজম। নতুন মুখ শাজাহান খান ও মেহের আফরোজ চুমকি। ঘোষিত কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীতে সাবেক নৌ মন্ত্রী ও শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের অন্তর্ভুক্তি ছাড়া তেমন কোনো চমক নেই। এই নেতা আগের কমিটিতে কোনো পদে ছিলেন না। এবার সরাসরি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। আর আগের কমিটির দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এবারের কমিটিতে প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন। এটি আগের পদের চেয়ে বড় না ছোট তা নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে আলোচনা আছে। সভাপতি: শেখ হাসিনাসভাপতিমণ্ডলীর সদস্য: এই পদে তিনজন নতুন সদস্য এসেছেন। এঁরা হলেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান এবং শাজাহান খান। বাকিরা সবাই আগের কমিটিতে ছিলেন। কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। তাঁরা হলেন, সাজেদা চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, সাহারা খাতুন, মোশাররফ হোসেন, পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আবদুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, আবদুল মান্নান, আবদুল মতিন খসরু। সাধারণ সম্পাদক: ওবায়দুল কাদেরযুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: এ পদে পদোন্নতি পেয়ে নতুন যুক্ত হয়েছেন বিগত কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম। এ পদে বহাল আছেনমাহবুব উল আলম হানিফ ও দীপু মনি। দপ্তর সম্পাদক: আগের কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব কুমার বড়ুয়া পদোন্নতি পেয়ে দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: আগের কমিটির দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এসেছেন এই পদে। সাংগঠনিক সম্পাদক: আগের কমিটির সদস্য এস এম কামাল ও মির্জা আজম পদোন্নতি পেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন। আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল ও আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন এবারও একই পদে আছেন। গত কমিটির আরও তিন সদস্য মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এই পদে থাকছেন না কি পদোন্নতি বা কমিটিতে থাকছেন কি না তা পরে জানা যাবে। সম্পাদক হলেন যারাআন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদস্বপদে বহাল আছেন। আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু পদোন্নতি পেয়ে এ পদে এসেছেন। আগের কমিটিতে সদস্য ছিলেন তিনি। কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক পদে বহাল আছেন ফরিদুন্নাহার লাইলী। ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে বহাল আছেন সুজিত রায় নন্দী। বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে বহাল আছেন দেলোয়ার হোসেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদ বহাল আছেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর। নতুন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মেহের আফরোজ চুমকি। আগের কমিটিতে তিনি ছিলেন না। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক পদে বহাল আছেন অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে বহাল আছেন হারুন অর রশীদ। শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক পদে বহাল আছেন শামসুন নাহার চাঁপা। সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে বহাল আছেন অসীম কুমার উকিল। স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক পদে ডা. রোকেয়া সুলতানা। আগের কমিটিতে একই পদে ছিলেন তিনি। সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড: শেখ হাসিনা, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্লাহ, ওবায়দুল কাদের ও মো. রশিদুল আলম। স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড: শেখ হাসিনা, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, কাজী জাফর উল্লাহ, মোহাম্মদ নাসিম, মো. আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, ওবায়দুল কাদের, মো. রশিদুল আলম, মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, আব্দুস সোবহান গোলাপ।
9
'সোনালি আঁশের সোনার দেশ, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ' এই স্লোগানে আগামী রোববার পালিত হবে জাতীয় পাট দিবস-২০২২। দিবসটি উপলক্ষে পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে অবদানের জন্য ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় পাট দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রউফ, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম, মো. মুহিবুর রহমান, এস এম সেলিম রেজা, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী রোববার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পাট দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। ওই দিনই জেডিপিসি চত্বরে তিন দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য প্রদর্শনী ও মেলা শুরু হবে। মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, কালের পরিক্রমায় কৃত্রিম তন্তুর (পলিথিন) ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান টেকসই উন্নয়নের যুগে বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পাটজাত পণ্যের প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাটচাষি, পাটজাত পণ্যের উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী, বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উদ্যোক্তা, পাটজাত পণ্যের ব্যবহারকারী সবাইকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আগামী রোববার জাতীয় পাট দিবস দেশব্যাপী উদ্যাপিত হবে। পাটমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পাটজাত পণ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের লক্ষ্যে 'পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০' বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এই আইনের আওতায় ১৯টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাট চাষ নিশ্চিতকরণে বীজ সরবরাহ সঠিক রাখার পাশাপাশি কৃষককে অন্যান্য উপকরণ সহায়তার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাটের উৎপাদন বেড়েছে। গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বিজেএমসির সাময়িক বন্ধ হওয়া পাটকলগুলো অবসায়নের পর সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান আছে। ইতিমধ্যে দুটি পাটকল (নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিল এবং চট্টগ্রামের কেএফডি জুট মিলস) ভাড়াভিত্তিক ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আরও দুটি পাটকল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলামান আছে। অবশিষ্ট ১৩টি পাটকল ইজারা দিতে দ্বিতীয়বারের মতো প্রদানের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরও কিছু পাটকল চালু করা সম্ভব হবে।
0
গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনা তদন্তে এখনও পর্যন্ত ব্যবসায়ীর ছেলে তাহমিদ হাসিব খানের সন্দেহাতীত সম্পৃক্ততা খুঁজে পাননি তদন্ত কর্মকর্তারা। সে দিনের নৃশংস জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেফতারের পর দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার মামলার তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা তাহমিদকে আদালতে হাজির করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আপাতত 'সন্দেহমুক্ত' হলেও প্রয়োজনে তদন্ত সংস্থা তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শনিবার নতুন করে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়নি। গুলশান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির সমকালকে জানান, ছয় দিনের রিমান্ড শেষে সন্দেহজনক আসামি তাহমিদকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে রিমান্ড আবেদন না থাকায় আদালত তাহমিদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট অপর এক কর্মকর্তা বলেন, তাহমিদ আপাতত সন্দেহমুক্ত হলেও গুলশান হামলার ঘটনাটি অনেক বিস্তৃত। তদন্ত কার্যক্রমের কোনো পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে তা করা হবে। গত ১ জুলাই হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৩২ জন জিম্মিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদ হাসিব খানও ছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া একটি ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ ওই দু'জনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখায়। তাদের আট দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পর হাসনাত রেজা করিমকে জঙ্গি হামলার মূল মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তাকে নতুন করে আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে টিএফআই সেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই দিন সন্দেহভাজন হিসেবে তাহমিদকে দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলেও শনিবার তা শেষ হলে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে। তবে তাকে মূল মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি। আটকের পর তাহমিদের স্বজনরা জানিয়েছিলেন, তাহমিদ কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে। গুলশান হামলার আগের দিন তিনি বাংলাদেশে আসেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি হলি আর্টিজানে বন্ধুদের নিয়ে খেতে গিয়ে জঙ্গিদের হাতে জিম্মি হন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া ছবিতে তাহমিদের হাতে অস্ত্র দেখা গেছে। তাকে এক জঙ্গির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায়ও দেখা গেছে। তাহমিদকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউন্টার টেররিজমের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, তাহমিদকে দু'দফায় ১৪ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ছবিতে থাকা তার হাতে অস্ত্রের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দাবি করেন, জঙ্গিরা তার হাতে সেটি দিয়েছিল। তবে তাতে গুলি ছিল না। বাধ্য হয়েই তিনি সেটি নিয়েছিলেন। বাঁচার জন্য জিম্মি অবস্থায় জঙ্গিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রাখার চেষ্টা করেছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্র পরীক্ষার প্রতিবেদনেও তাহমিদের বক্তব্যের সত্যতা মিলেছে। ওই অস্ত্র থেকে কোনো গুলি বের হওয়ার তথ্য মেলেনি। এ ছাড়া প্রযুক্তিগত তদন্তেও এখনও পর্যন্ত ঘটনার আগে জঙ্গিদের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জবানবন্দিতে এবং এ পর্যন্ত তদন্তে হলি আর্টিজানে হামলায় ওই তরুণের সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। এ জন্য তাকে মূল মামলায় গ্রেফতারের আবেদন করা হয়নি। অপর এক কর্মকর্তা বলেন, তাহমিদের জড়িত থাকার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সন্দেহাতীত কোনো ক্লু মেলেনি। এ জন্য তাকে মহৃল মামলায় গ্রেফতার বা নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়নি।
6
নিয়ম মেনে জীবনযাপন করার পরও দীর্ঘদিন কোমরব্যথায় ভুগছেন অনেকে। কোমরে ব্যথা কারও কারও ক্ষেত্রে তিন মাস বা তার বেশি সময় পর্যন্ত থাকে, এমনকি বছরের পর বছরও! দীর্ঘ সময় ধরে থাকা ব্যথাকে ক্রনিক ব্যথা বলা হয়। শুরু থেকে সঠিক চিকিৎসা নিলে সাধারণত দু-এক দিন বা সপ্তাহখানেকের মধ্যে ব্যথা ঠিক হয়ে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরামর্শ না মানার কারণে প্রাথমিক কোমরব্যথা ধীরে ধীরে দীর্ঘদিনের কোমরব্যথায় পরিণত হয়।কেন হয় কোমরে ব্যথাকেন কোমরে ব্যথা হয়, সে জন্য কোমরের গঠন সম্পর্কে জানা জরুরি। আমাদের মেরুদণ্ড মোট ২৪টি ভার্টিব্রাল দিয়ে গঠিত। প্রতিটি ভার্টিব্রাল একে অপরের সঙ্গে ইন্টার ভার্টিব্রাল ডিস্ক দিয়ে সংযুক্ত থাকে। লিগামেন্ট ও মাংসপেশি দিয়ে পুরো মেরুদণ্ড এমনভাবে গঠিত হয়, যাতে মেরুদণ্ড সহজেই নড়াচড়া করতে পারে। যেমন, আমরা যখন ঝুঁকে কোনো কাজ করি বা পেছনের দিকে কোমর বাঁকিয়ে নিই, তখন কোমরের লিগামেন্ট ও মাংসপেশি কাজ করে। যদি কোনো কারণে মাংসপেশি দুর্বল হয় বা স্পাজম হয়ে শক্ত হয়ে যায় বা মাংসপেশি বা লিগামেন্ট অসামঞ্জস্য হয়, তখনই মূলত কোমরে ব্যথা হয়।কী করা প্রয়োজনসাধারণত কোমরব্যথার চিকিৎসাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।ব্যায়ামরিল্যাক্সেশনওষুধব্যায়াম সবচেয়ে কার্যকর। কখনো কখনো এটাই একমাত্র জরুরি চিকিৎসাপদ্ধতি। তবে কোন ধরনের ব্যায়াম করা উচিত, তা একজন ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শে করা প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা যেকোনো ব্যথাকে বাড়িয়ে দেয়।ব্যায়ামপ্রথমে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। তারপর ধীরে ধীরে সামনের দিকে হাতে চাপ দিয়ে ঘাড়সহ শরীরের ওপরের অংশ তুলতে চেষ্টা করুন। ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করে আবার শুয়ে পড়ুন। এভাবে একবারে ১০ বার করে করতে থাকুন।সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে কোমরে হাত দিয়ে পেছনের দিকে যাওয়া এবং কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করে পুনরায় সোজা অবস্থায় আসা। এভাবে ১০ বার প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করুন।রিল্যাক্সেশনকোনো একটি রিল্যাক্স পজিশনে থেকে মেডিটেশন করতে পারেন।সব সময়ই ইতিবাচক চিন্তা করুন। কারণ গবেষণা বলছে, ইতিবাচক চিন্তা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।কোমর বাঁকাতে হয় বা বেশি চাপ পড়ে এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন।ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অতিরিক্ত ওজন মেরুদণ্ডের হাড়ের ওপরে চাপ সৃষ্টি করে ব্যথা বাড়িয়ে দেয়।লেখক: ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট, ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার (পিটিআরসি)
4
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কোনাপাড়ায় একটি বাসায় ফ্রিজের কম্প্রেশার মেশিন বিস্ফোরণে শিশু সহ একই পরিবারের ৩ জন দগ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে তিনটার দিকে আড়াবাড়ি বটতলার আব্দুল কালামের ৪ তলা বাড়ির নিচ তলাতে এই ঘটনা ঘটে। পরে তাদেরকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধরা হলেন- আব্দুল করিম (৩০), তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার (২৫) ও দেড় বছরের মেয়ে ফাতেমা। তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বাড়িটির তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ হাসান জানান, রাতে খাদিজা সেহরি রান্না করতে উঠেছিলেন। এরপর চুলা জ্বালাতে বিকট শব্দে বিস্ফারণ হয়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে দৌঁড়ে বাসায় গিয়ে দেখি জিনিসপত্রে আগুন জ্বলছে। এ সময় ওই তিন জন দৌঁড়ে বাসা থেকে বাইরে বের হলে তাদেরকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওযা হয়। পরে ঘরে জ্বলা আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। তিনি জানান, বাসায় গিয়ে ফ্রিজের নিচের অংশ ক্ষতবিক্ষত অবস্থা দেখতে পেয়েছি। যাতে হচ্ছে ধারণা হচ্ছে ফ্রিজের কম্প্রেসার মেশিন বিস্ফোরণে এই ঘটনা ঘটেছে। খাদিজার বড় ভাই সুরুজ রানা জানান, তাদের বাড়ি পাবনা সুজানগর উপজেলার বনাখোলা গ্রামে। তার ভগ্নিপতি আব্দুল করিমের বাড়িও একই গ্রামে। আব্দুল করিম, স্ত্রী খাদিজা ও মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বটতলার ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। কোনাপাড়ায় তার একটি মুদি দোকান রয়েছে। বার্ন ইন্সটিটিউটের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আব্দুল করিমের শরীরের ৫৪ শতাংশ, খাদিজার ৯৫ ও ফাতেমার ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন। করিমকে এইচডিইউ এবং বাকি দু'জনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
6
একের পর এক চাকরির চেষ্টা করছিলেন কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা উত্তর পাড়ার বাসিন্দা মো. জুয়েল রানা (২৮)। আশা ছিল লেখা পড়া শেষ করে বড় চাকরি করবেন তিনি। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতেই সার্টিফিকেটের ফাইল হাতে ইন্টারভিউ দিতে ছুটছিলেন বিভিন্ন কোম্পানিতে, দিচ্ছিলেন নিয়োগ পরীক্ষাও।একটি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার বাসের চাপায় পথেই প্রাণ হারিয়েছেন জুয়েল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, ওই দিনই জুয়েলের পরিবার জানতে পারে একটি সরকারি চাকরি পেয়েছেন তিনি। জানা গেছে, জুয়েল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে হিসাব সহকারী পদে চাকরির জন্য মনোনীত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর দিন বিকেলেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ওয়েব সাইটে জুয়েলের রোল নম্বর প্রকাশ করে।জুয়েলের বাবা মো. বাবুল বলেন আমার ছেলে সরকারি চাকরির জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। বেঁচে থাকতে তার চাকরি হয়নি অথচ তার লাশ দাফনের পর চাকরির খবর পেলাম।জুয়েলের বন্ধু মো. আসিফ জানায়, জুয়েল এ চাকরির বিষয়ে খুবই আশাবাদী ছিল। সে ভাইভা দিয়ে এসে বলেছিল এবার তার চাকরিটা হয়ে যেতে পারে। চাকরিও হলো, কিন্তু জুয়েল তার চাকরির খবরটা জেনে যেতে পারল না।
6
১৮ বছর বয়সের ঊর্ধ্বের যেকোনো নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গেলেই তাঁকে টিকা দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ টিকা কার্যক্রম মনিটরিং করবেন। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় ৫ আগস্ট পর্যন্তই লকডাউন চলবে। এ সময় পর্যন্ত শিল্প কলকারখানা বন্ধ থাকবে। শিল্প কলকারখানা মালিকরা অনুরোধ জানালেও তাদের অনুরোধ রাখা সম্ভব হচ্ছে না। করোনা প্রতিরোধকল্পে আরোপিত বিধি-নিষেধের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও কোডিড-১৯ প্রতিরোধক টিকা প্রদান কার্যক্রম জোরদারকরণ' বিষয়ে সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন চলমান থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে টিকাদান কার্যক্রমও চলবে।
6
কুড়িগ্রামের উলিপুরে পল্লী বিদ্যুতের মিটার চাইতে গিয়ে দালালের হাতে মারধরের শিকার হলেন একটি অসহায় পরিবারের লোকজন। গুরুত্বর আহত এক গৃহবধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পৌর সভার নারিকেল বাড়ি গাছেরতল নামক এলাকায়। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভূক্তভোগী পরিবারটি উলিপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশি তৎপড়তা লক্ষ্য করা যায়নি। এ অবস্থায় ঐ পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার নারিকেল বাড়ি গাছেরতল এলাকার তরনী কান্তের পুত্র কালু দীর্ঘদিন ধরে ঐ এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ এর দালালি করে আসছিল। এক ঠিকারদার প্রতিষ্ঠান ঐ গ্রামে বিদ্যুতের লাইন সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে। এ সুযোগে কালু ঐ গ্রামের শুকুর উদ্দিনের পুত্র সাইফুল ইসলামসহ শতাধিক লোকের কাছ থেকে দ্রুত বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার কথা বলে জনপ্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, কোন কোন পরিবারের কাছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে কালু কয়েকজনকে মিটার সংযোগ দিয়েছে। তবে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নেয়। সংযোগ না পাওয়ায় সে বারবার কালুর কাছে সংযোগ চাচ্ছিল। সে সময় কালু তার কাছে আরো অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দাবি করে। দাবীকৃত টাকার মধ্যে ৩০০ টাকা সাইফুল তাকে দিলেও সে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। সাইফুল অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তার টাকা ফেরত চাইলে কালু সাইফুল ইসলামের শার্টের কলার ধরে কিল ঘুষি মারতে থাকে। এ সময় স্থানীয় লোকজন সাইফুল ইসলামকে উদ্ধার করে। মারধরের খবর পেয়ে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মর্জিনা বেগম, পুত্র মশিউর রহমান, শ্বাশুড়ী গোলেনুর বেগম ঘটনাস্থলে যায়। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে কালুসহ তার পরিবারের লোকজন তাদের উপর আক্রমণ চালায়। এ সময় তারা মর্জিনা বেগম ও গোলেনুর বেগমকে বেধড়ক মারধর করে বিবস্ত্র করে ফেলে। তাদের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় মর্জিনাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। স্পর্শকাতর এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত বুধবার বিকাল ৫টায় ভূক্তভোগী পরিবারটি লিখিত অভিযোগ উলিপুর থানার ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে থাকা এ এস আই সেলিম মিয়ার হাতে দেন। এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়জ্জেম হোসেনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল ৪টায় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে এ এস আই সেলিমকে বলে দেব। উলিপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম নাসির উদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকার বিনামূল্যে মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছাচ্ছে কিন্ত একশ্রেণির দালাল চক্র টাকা নিয়ে সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া উচিত ।
6
করোনাকালে দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ৮৪ শতাংশের বেশি মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের মধ্যে ৪ ভাগের ৩ ভাগ শিক্ষার্থী লেখাপড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। গ্রামে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। মানসিক সমস্যা বেশি হয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের। ৯ অক্টোবর প্রথম আলোয় প্রকাশিত বেসরকারি সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের 'করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক বিপর্যয়' শীর্ষক জরিপের ফলে এমন চিত্র উঠে এসেছে। যথার্থ এবং সমসাময়িক ওই জরিপে অংশ নেন দেশের প্রখ্যাত পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ৯২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী, যাঁদের গড় বয়স ২৩ বছর। জরিপের ফলের ওপর সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেন কয়েকজন শিক্ষাবিদ এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। জরিপের ফলকে আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের উচিত হবে অতি দ্রুত ছাত্রছাত্রীদের মানসিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক সমস্যার স্বরূপ বিশ্লেষণ জরুরি। করোনা ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের মানসিক সমস্যাগুলো ২ ভাগে দেখা যেতে পারে। প্রথমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পূর্বের অনিশ্চয়তা; দ্বিতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরের বাস্তবতা। আলোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পক্ষে জনমত ছিল বেশ তীব্র। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক, নীতিনির্ধারক সর্বমহলেই জীবন বাঁচানোকেই অগ্রাধিকার বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে, উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আবাসিক হলে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই এক কাপড়ে হল ছাড়েন। তাঁরা তাঁদের পাঠ্যবই, কম্পিউটার, নোট, খাতাপত্র-তেমন কিছুই সঙ্গে না নিয়ে যে যাঁর মতো গ্রামে, নিজের বাড়ি বা আত্মীয়স্বজনের কাছে চলে যান। শুরুতে কেউ ধারণা করতে পারেননি যে করোনার কারণে ঠিক কত দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। অনেকেই মনে করেছিলেন করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়তো কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকবে। কিন্তু সর্বমহলের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত করে করোনাকালের ব্যাপ্তি শুধু দীর্ঘায়িত হতে থাকে। প্রথমদিকে মানুষ জীবন বাঁচানোকে গুরুত্ব দিলেও সময়ের পরিক্রমায় অপরাপর কলকারখানা, ব্যাংক-বিমা, গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান খোলা হলে ধীরে ধীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি বিবেচনায় আসে। নানাদিক বিবেচনায় সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় সায় না দিলেও দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের বিষয়টি নৈতিকভাবে সমর্থন ও উৎসাহিত করে। অপরাপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২০ সালের এপ্রিল ও মে থেকে অনলাইনে পাঠদান শুরু হলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তা শুরু হতে জুলাই নাগাদ লেগে যায় এবং সেখান থেকেই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক সমস্যার শুরু হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা মনে করতে থাকে যে তাঁরা চাকরির বাজারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারা কোন সময়ে ক্লাস শুরু করল, পরীক্ষা নিল, ফল প্রকাশিত হলো, কে কোথায় চাকরি পেল বা চাকরি হারাল-সবই আজ উন্মুক্ত। তাই একই সেশনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের আশা এবং হতাশার চিত্র বিচিত্ররূপে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়াতে থাকে। করোনার সময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অনলাইনে ক্লাস শুরুর প্রাক্কালে আমাদের গ্রাম ও শহরভিত্তিক বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামোর আকাশ-পাতাল বৈষম্য ও দৈন্যদশা উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। অনেক আশা নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস শুরু হলেও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ধীরে ধীরে উৎসাহে ভাটা পড়তে দেখা যায়। কারণগুলোর মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকা, ইন্টারনেটের ধীর গতি, মোবাইলে নেটওয়ার্ক না পাওয়া, গ্রামে ছাত্রছাত্রীদের উপযুক্ত পড়ার পরিবেশের অভাব ছেলেমেয়েদের মধ্যে হীনমন্যতার জন্ম দেয়। গ্রাম বা মফস্বলের দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের অনেকের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ না থাকার কারণেও ক্লাস করতে পারেননি। তখন শহর এবং পূর্বে হলে থাকত কিন্তু করোনার সময় গ্রামে চলে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের শ্রেণি বৈষম্য প্রকটভাবে আত্মপ্রকাশ পায়। অনলাইনে পড়াশোনার ধরনেও পরিবর্তন আসায় গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা শহরের ছাত্রছাত্রীদের তুলনায় স্পষ্টত পিছিয়ে পড়ে এবং মানসিক সমস্যায় পতিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পূর্বে অনলাইনে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা নেওয়ার কথা আলোচনায় আসতেই ভিন্ন এক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় ছাত্র-শিক্ষক উভয় মহলকেই। একদিকে অবকাঠামোর সমস্যা সমাধানে কোনো কোনো মহলের সহায়তার আশ্বাস থাকলেও তা সেভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণে গুণগত মান প্রতিপালনের নিশ্চয়তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। দেশের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষার মডিউল তৈরি করতে না পারায় 'সবার জন্য সমান সুযোগ' তৈরি করা যায়নি। কুইজ, মিডটার্ম ইত্যাদি পরীক্ষাতেও অনেক ছাত্রছাত্রী নির্ধারিত সময়ে তাঁদের উত্তরপত্র জমা দিতে পারতেন না। এতে করে যাঁরা সময়মতো উত্তরপত্র জমা দিতে পারতেন না, তাঁরা নানামুখী উদ্বিগ্ন ও বিষণ্নতায় ভুগতে থাকেন। সে রকম পরিস্থিতিতে ফাইনাল পরীক্ষা হলে অনলাইন পরীক্ষা পদ্ধতি এবং কীভাবে উত্তরপত্র জমা দেওয়া হবে, সময় পাবেন কি না, এসব ভেবে ছাত্রছাত্রীরা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। করোনার সময় শহর ছেড়ে গ্রামে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের অনেকে আর্থিক সমস্যায়ও পতিত হন। শহরকেন্দ্রিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অনেকে খণ্ডকালীন চাকরি, প্রাইভেট-টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালান। করোনার থাবা দীর্ঘায়িত হতে থাকায় ছাত্রছাত্রীরা হলে ফিরতে পারেননি, অনেকেরই টিউশনি চলে যায়। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এসব ছাত্রছাত্রীদের মানসিক সমস্যার অন্যতম কারণও এটি। ২০২০ সালের শেষের দিকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় অনার্স শেষ বর্ষ এবং মাস্টার্সের পরীক্ষা সশরীর নেওয়ার সিদ্ধান্ত এলেও তা সার্বিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি করোনা বেড়ে যাওয়ায়। ঠিক একইভাবে ২০২১ সালেও বেশ কয়েকবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সময় ঘোষণা করেও পরে পিছিয়ে আসতে হয়। সবশেষ চলতি মাসের প্রথমদিকে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দেওয়া ও সশরীর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে এবং সব বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার ঘোষণাও একের পর এক আসতে থাকে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষাজট ও সেশনজট তেমন না থাকলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সমস্যা প্রকট। আবাসিক হল খোলার আগে ও পরে অনেক বিভাগ ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে। পরীক্ষার পদ্ধতি, প্রশ্নের ধরন, পূর্ণমান ও সময়ের ক্ষেত্রেও কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে। যেমন, পূর্ণমান ঠিক রেখে সময় কমানো, অথবা সিলেবাস পরিমার্জন ইত্যাদি। এসবের কোনো কোনো সিদ্ধান্ত ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে গেলেও সমস্যা হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের অনভ্যস্ততা। একদিকে অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে অনেক পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে এবং বসতে হবে-এরূপ বাস্তবতা ছাত্রছাত্রীদের মানসিক সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। এ যেন ছাত্রছাত্রীদের কাছে উভয়সংকট। তাঁরা চাচ্ছেন ক্লাস শেষ করার পাশাপাশি পরীক্ষা গ্রহণ করে দ্রুত ফল প্রকাশিত হোক। এতে তাঁরা দ্রুত চাকরির বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে নিজেদের প্রস্তুত করবেন এবং চাকরিতে আবেদন করতে চান। অন্যদিকে একাধারে একাধিক সেমিস্টার বা বর্ষের পরীক্ষায় বসতেও তাঁদের বেশ কষ্ট হচ্ছে। সেই সঙ্গে পরিবর্তিত নিয়মের অনভ্যস্ততা তো রয়েছেই। অনেক ছাত্রছাত্রী আবার যেহেতু এক বছরের বেশি সময় পর আবাসিক হলে উঠেই পরীক্ষায় বসছেন, তাই তাঁদের অনেকেরই পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি লক্ষণীয়। তাই তাঁরা পরীক্ষায় বসলেও তাঁদের পরীক্ষার ফল কেমন হবে, সে চিন্তায়ও ভুগছেন। কারণ, বাস্তবতা হলো ভালো ফল না হলে অনেকেরই চাকরিতে আবেদনের যোগ্যতা থাকবে না। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক হল খোলা হলেও ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়েও মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকতে পারেন। একে তো দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, অন্যদিকে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো জেঁকে বসেছে মহামারি করোনার অভিঘাত। সমাজের অপরাপর শ্রেণির মতো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দেখছে কীভাবে সমাজে বেকারত্ব বাড়ছে এবং কীভাবে অনেকে চাকরি হারাচ্ছেন। বেকারত্বের ভয়াল চেহারা চাকরি প্রত্যাশী ছেলেমেয়েদের মানসিক যন্ত্রণার যে অন্যতম কারণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।প্রথম আলোয় প্রকাশিত আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপে এও দেখা গেছে যে নারী শিক্ষার্থীরা বেশি মানসিক যন্ত্রণার শিকার। তার যথার্থ কারণও আছে বৈকি। আমাদের প্রচলিত সমাজ বাস্তবতায় এমনিতেই ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। প্রশ্ন হলো, উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক যন্ত্রণা লাঘবের কোনো পথ খোলা আছে কি? আপাত কঠিন হলেও বেশ কিছু পথই খোলা আছে। প্রথমত, আমাদের এটি মেনে নিতে হবে যে করোনা মহামারি আমাদের জীবন থেকে দুটি বছর কেড়ে নিয়েছে। অতীতে করোনার মতো শক্তিশালী কোনো মহামারি আমাদের জাতীয় জীবনে না এলেও স্মরণ করা যেতে পারে, মুক্তিযুদ্ধকালে নাতিদীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার বিষয়টি। রাজনৈতিক বিরূপ পরিস্থিতি, হরতাল-ধর্মঘট, বন্যা ইত্যাদি কারণেও অতীতে শিক্ষাজীবনে সেশনজট ছিল এবং একটা সময় এসে আমরা এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি। দ্বিতীয়ত, চাকরির বাজারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলোর সমন্বয় সাধন করতে হবে। করোনা-পরবর্তী সময় নিয়োগকর্তাদের উচিত হবে একসঙ্গে সবাই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে ধাপে ধাপে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া। সরকারি-বেসরকারি সব খাতের নিয়োগ কর্তাদের এরূপ সময়োপযোগী 'ধীরে চল নীতি' ছাত্রছাত্রীদের মনে আশার সঞ্চার করবে। এতে ছাত্রছাত্রীদের কিছুদিন আগে বা পরে পরীক্ষা হলেও একই সেশনের সবাই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া হলেও অসামঞ্জস্যতা দূর হবে ও মানসিক যন্ত্রণার লাঘব হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষক ও অভিভাবক মহলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কোনো শারীরিক সমস্যা হলে কয়েক দিনের ওষুধ একসঙ্গে খাওয়া যায় না এবং তা করলে হিতে বিপরীত হয়। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের এ চরম বাস্তবতা বিবেচনায় রাখতে হবে। আর ছয় মাসের পড়াশোনা তিন মাসে, ১৫ দিনের পরীক্ষা ৫ দিনে নেওয়ার মতো অতি আবেগী সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। একই ক্লাসে অধ্যয়ন করলেও মেধা ও সামর্থ্য বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের রকমফের আছে। সবার কথা বিবেচনা করে ক্লাস-পরীক্ষা ও এ-সম্পর্কিত নিয়ম ঠিক করলে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক সমস্যা কমবে।চতুর্থত, উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভৌত অবকাঠামোর উন্নতি সাধন করতে হবে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম, গেস্টরুম, র্যাগিংয়ের অপসংস্কৃতি চিরতরে দূর করা এবং ছাত্রছাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে পারে, সে জন্য উপযুক্ত ও বিশ্বমানের প্রযুক্তি সংবলিত আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক সমস্যা অনেকাংশে দূরীভূত হবে। সর্বোপরি, অভিবাদক মহলে সচেতনতা বাড়াতে হবে। করোনার এ সময় অভিভাবকদের উচিত হবে ছাত্রছাত্রীদের আর্থসামাজিক চাপ প্রয়োগ না করে সত্যিকার অর্থে সহযোগিতার মনোভাব পোষণ করা। মনে রাখতে হবে ছাত্রছাত্রীরা শারীরিক-মানসিকভাবে সুস্থ থাকলেই কেবল তাঁরা সুষ্ঠুভাবে শিক্ষাজীবন শেষে ভালো ফল নিয়ে স্ব স্ব কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবেন। ড. শহীদুল জাহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষক
8
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নাটোরের গুরুদাসপুরের এক পা ও এক হাত না থাকা প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমানের (৫০) পাশে দাঁড়ালেন গুরুদাসপুর উপজেলা র্নিবাহী অফিসার মো. তমাল হোসেন। শুক্রবার বিকালে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী এলাকায় বসবাস করা প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দুই মাসের খাদ্যসামগ্রী উপহার দেন তিনি। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের সাথে কথা বলে প্রধানমন্ত্রীর উপহার একটি ঘর তাকে দেওয়া যায় কি না, তা গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলেও আশ্বাস দেন ইউএনও। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু রাসেল। উল্লেখ্য, একটি পা ও একটি হাত নেই মিজানুর রহমানের। ঘোড়ার গাড়িতে অন্যের জমি থেকে ধান বহন করে সংসার চালান তিনি। ৩৩ বছর আগে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় তার বাম হাত ও বাম পা কাটা পড়ে। শত চেষ্টায়ও পঙ্গুত্ব থেকে রক্ষা পাননি তিনি। তবুও থেমে নেই তার জীবন। প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমানের গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলায়। তিনি বর্তমানে সাবগাড়ী এলাকায় ঘোড়ার গাড়িতে ধান বহন করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। মিজানুর রহমান বলেন, তার এক হাত এক পা না থেকেও পরিশ্রম করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। অভাব অনটনে দিন কাটে। এই দুঃসময়ে তাকে সহযোগিতা করার জন্য ইউএনওর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তমাল হোসেন জানান, গণমাধ্যমে সংবাদটি দেখার পরপরই আমি তার ঠিকানা সংগ্রহ করি। প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেছি। মিজানুর রহমানের গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলায়। তারপরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তাকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উপহার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
কেশবপুর, অভয়নগর ও ঝিকরগাছায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন, কুইজ, রচনা, সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার ও আগের দিন বুধবার সন্ধ্যায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এসব প্রতিযোগিতা হয়।কেশবপুর: কেশবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল উপজেলা পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন, কুইজ, রচনা, সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম আরাফাত হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা বিমল কুমার কুণ্ডু, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, আনিসুর রহমান, প্রভা রায়, প্রশিক্ষক রবিউলইসলাম প্রমুখ।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, 'উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মার্চ মাসব্যাপী স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে ৫০টি কর্মসূচি পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'অভয়নগর: অভয়নগর উপজেলার শংকরপাশা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শাহ্ হাদিউজ্জামান মঞ্চে মহান স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীর।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিলা আখতার, অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শামীম হাসান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তারু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিনারা পারভীন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী আহম্মেদ খান, ইউপি চেয়ারম্যান সানা আব্দুল মান্নান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ছামদানী, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রিজাউল করিম, সমাজসেবা কর্মকর্তা নির্মল কান্তি কর্মকার প্রমুখ।এদিকে নওয়াপাড়া পৌরসভার আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকেলে নওয়াপাড়া পৌরসভা মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্যানেল মেয়র মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিলা আখতার। আরও বক্তব্য দেন থানার ওসি এ কে এম শামীম হাসান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী আহম্মেদ খান প্রমুখ।ঝিকরগাছা: ঝিকরগাছার শঙ্করপুর ইউনিয়ন পরিষদে স্বাধীনতার ৫০তম সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।গতকাল পরিষদের হলরুমে এসব অনুষ্ঠান করা হয়। পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু গোবিন্দ চন্দ্র চ্যাটার্জীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
6
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে জয় বাংলা ঘুড়ি উৎসব। গতকাল সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ উৎসব হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চিল, কাক, ইগল, টাইগার, মাছ, কচ্ছপ, প্রজাপতি, বাদুড়ের আদলে দেড় শ ঘুড়ি স্থান পায় উৎসবে।বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশনের সহযোগিতায় এই বর্ণিল ঘুড়ি উৎসবে মেতে ওঠেন শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের মানুষ। চলে হই-হুল্লোড়। স্কুল মাঠের নীল আকাশে উড়তে থাকে অর্ধশত ছোট-বড় রং বেরঙের ঘুড়ি। এ সময় শুরু হয় ঘুড়ি সবচেয়ে উপরে তোলার প্রতিযোগিতা। তবে বাতাস কম হওয়ায় ঘুড়ি পুরোপুরি উড়ানো যায়নি জানান ঘুরি ফেডারেশনের সদস্যরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান, পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জিয়াউর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা রহমানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে ঢাকা থেকে আসা মো. ওমর ফারুক বলেন, 'প্রায় ১৫০ ধরনের ঘুরি নিয়ে আমরা এখানে এসেছি।'উৎসবে অংশগ্রহণকারী মনি আক্তার বলেন, 'ছোটবেলা গ্রামে একসঙ্গে অনেক ঘুড়ি উড়াতে দেখেছি। দীর্ঘদিন পর অনেক ঘুড়ি দেখে আনন্দিত। আমি নিজেও উড়িয়েছি।'বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবাই আনন্দে মেতে ওঠে। ঘুড়ি তৈরিতে রয়েছে শৈল্পিক নিদর্শন। সঠিকভাবে, সঠিক মাপে ঘুড়ি তৈরি করে সবাই সমবেত হন।নানা রঙের কাগজ, পলিব্যাগ ও বাঁশের অংশবিশেষ দিয়ে তৈরি হয় এসব ঘুড়ি। সঙ্গে থাকে বাহারি রঙের নাটাই, এ ছাড়া নাটাই ও ঘুড়িতে সংযোগ করা হয় বাহারি রঙের সুতো।জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার মীর নাহিদ আহসান বলেন, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে ভিন্ন ধরনের কিছু করার তাগিদ থেকে এ ঘুড়ি উৎসব। একদিনের জন্য হলেও শিশু কিশোরসহ সবাই একটা রঙিন উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছেন এটাই আমাদের উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের উৎসব আরও করা হবে।
6
দেশের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণিকে তিন দফা রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।এই মুহূর্তে পরীমণিকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিকেল তিনটার দিকে মহানগর হাকিম আশেক ইমামের আদালতে পরীমণির মামলার শুনানি হবে।গত বৃহস্পতিবার পরীমণিকে একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর আগে দুই দফা রিমান্ড শেষে রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরীমণি ও তাঁর সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপুকে গত ১৩ আগস্ট আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন রিমান্ডের আবেদন ছিল না। এই দুইজনের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত শুনানি শেষে তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। ১৬ আগস্ট হওয়ার পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। ১৯ আগস্ট ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়। একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।গত ৪ আগস্ট পরীমণিকে রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সঙ্গে আশরাফুল ইসলাম দিপুকেও আটক করা হয়। তাঁর বাসা থেকে বিদেশি মদসহ অন্যান্য দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এজাহার অনুযায়ী তাঁর বাসা থেকে ১৯ বোতল দামি বিদেশি মদ, ৪ গ্রাম আইস মাদক ও ১টি এলএসডি ব্লট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একটি বং পাইপও উদ্ধার করে র্যাব।এ ঘটনায় বনানী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। ৫ আগস্ট পরীমনি ও তাঁর সহযোগীকে চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত ১০ আগস্ট আবার এই দুইজনকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
6
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে দুই সিটি করপোরেশনকে নিয়ে আগামী সপ্তাহে বৈঠক করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম। শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীতে ঢাকা ওয়াসা ভবনে বুড়িগঙ্গা হলে আয়োজিত সরকারি-বেসরকারি ব্যাংককে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক 'বিল কালেকশন এওয়ার্ড-২০১৯-২০২০ইং' প্রদান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি। মো. তাজুল ইসলাম বলেন, নগরীর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ঢাকা ওয়াসা থেকে দুই সিটি করপোরেশনের নিকট দেওয়ার পর থেকেই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করলেও আগামী সপ্তাহে দুই সিটি করপোরেশকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হবে। দুই মেয়রের পরিকল্পনা জেনে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে দেয়া হবে। ঢাকা শহরের নাগরিক সমস্যা সমাধান করে একটি আধুনিক বাসযোগ্য দৃষ্টিনন্দন শহর করতে যা যা করার দরকার তা করা হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনপ্রতিনিধিরাই পারেন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তর করায় মেয়রদ্বয় নগরবাসীকে এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আমিনবাজারে বর্জ্যের যে স্তূপ সেখানে আর ময়লা ফেলার সুযোগ নেই এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। সে অনুযায়ী বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমিনবাজারে ইন্সিনেরেশন প্লান্ট স্থাপন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইন্সিনেরেশন প্লান্টে প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য লাগবে সে পরিমান বর্জ্য সরবরাহ করলে যেখানে সেখানে আর ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকবে না। এছাড়া সকল সিটি করপোরেশন এবং প্রতিটি জেলায় ইন্সিনেরেশন প্লান্ট স্থাপন করা হবে বলেও জানান মো. তাজুল ইসলাম। ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক ও বর্তমান মেয়রের দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সবার দৃষ্টি ভঙ্গি এক নয়। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্ত একটা সময়ের ব্যবধানে তা ঠিক হয়ে যায়। দুই মেয়রের দ্বন্দ্ব অচিরেই সমাধান হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে অনুষ্ঠানে দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো: তাজুল ইসলাম বলেন, উন্নত দেশের তালিকায় যেতে বাংলাদেশ আর খুব বেশি দূরে নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তাতে শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে অনেক অর্জন সাধিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৮ম পঞ্চবার্ষিকতে সমন্বিত উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিতে হলে প্রত্যেকের উপর যে দায়িত্ব রয়েছে তা সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সকলের অংশগ্রহণ থাকলে যে কোনো সমস্যা সমাধান করা সহজ যার বড় উদাহরণ রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ। নগরবাসীর অংশগ্রহণ ও সচেতনতা এবং সকলের সমন্বিত উদ্যোগে এখন পর্যন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও আইডিসিআর পূর্বাভাস দিয়েছিল ২০১৯ এর তুলনায় ২০২১সালে তিনগুণ মানুষ আক্রান্ত ও মৃত্যু হবে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার তাকসিম এ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইবরাহীম। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি ৩৭ টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের হাতে 'বিল কালেকশন এওয়ার্ড' প্রদান করা হয়।
6
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি সামরিক হাসপাতালে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে তালেবানের নিরাপত্তা বিভাগের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সায়েদ খোস্তি বলেছেন, ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট সরদার মুহাম্মদ দাউদ খান হাসপাতালে এই হামলা হয়। আফগানিস্তানের সর্ববৃহৎ সামরিক হাসপাতাল এটি। ঘটনার পরপরই সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে আফগানিস্তানের সরকারি সংবাদ সংস্থা বখতার প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের আগমুহূর্তে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বেশ কয়েকজন সদস্য ওই হাসপাতালে প্রবেশ করেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। সরদার মুহাম্মদ দাউদ খান নামের ওই হাসপাতালের একজন স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, তিনি কয়েক মিনিটের গোলাগুলির মধ্যে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনতে পান। এর ১০ মিনিটের মধ্যে তিনি আরেকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তবে তিনি নিশ্চিত নন, হাসপাতাল ভবনের কোন স্থানে ওই গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় বিভিন্ন হাসপাতালে ১৯ জনকে মৃত অবস্থায় এবং ৫০ জনকে আহত অবস্থায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের তিন কিলোমিটার দূরে ইতালির সহায়তা সংস্থা ইমার্জেন্সি পরিচালিত একটি ট্রমা হাসপাতাল রয়েছে। তারা জানিয়েছে, সেখানে এ ঘটনায় আহত ৯ ব্যক্তিকে পাঠানো হয়েছে। গত আগস্টে কাবুলে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে আইএস। এর আগে দেশটিতে ২০১৭ সালে এক হাসপাতালে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।
3
সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দাপটে খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। সফরকারী বোলারদের পিটিয়ে তুলাধুনা করেছেন মুশি। মজার বিষয় হলো টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি তার। আর এ মুহূর্তে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বাধিক তিন ডাবল সেঞ্চুরির মালিকও তিনি। তবে যাইহোক এর আগে দুইবার মুশফিকে ছাড়া পাকিস্তান সফরে গিয়ে কুপোকাত হয়েছে টাইগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টিতে দুটি হেরেছে তামিমরা। বৃষ্টির সুবাদে তৃতীয় ম্যাচে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এরপর রাওয়ালপিন্ডি টেস্টেও হার। তাই মুশফিকের অভাবটা হাড়ে-হাড়ে টের পেয়েছে বাংলাদেশ দল। এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন এপ্রিলে পাকিস্তানে খেলতে যাবে মুশফিক? অবশ্য গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি মুশফিক। তবে আসন্ন সফরে পাকিস্তানে মুশি যাবে এমন আশা ব্যক্ত করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করে মুশফিক ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়ার পর এই মন্তব্য করলেন পাপন। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) স্পিনার নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের বোলিং তোপের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি জিম্বাবুয়ে। সেই সঙ্গে যোগ হলো তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম আর মুমিনুল হকের দুর্দান্ত ফিল্ডিং। সবমিলিয়ে দুর্দান্ত দলীয় পারফরমেন্সে ভর করে জিম্বাবুয়েকে এক ইনিংস ও ১০৬ রানের ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। এই নিয়ে টানা ৬ টেস্ট এবং দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর জয়ের দেখা পেল টাইগাররা। এমন জয়ের পর বেশ আনন্দিত বিসিবি সভাপতি পাপন। তার কাছে সংবাদমাধ্যম কর্মীরা জানতে চেয়েছিল মুশিকে পাকিস্তানে যেতে বলবেন কিনা? জবাবে বিসিবি সভাপতি জানালেন তিনি আশা করছেন মুশফিক যাবে। এ বিষয়ে পাপন বলেন, আমরা আশা করছি মুশফিক যাবে। সে নয় শুধু, যাকেই নির্বাচন করা হবে, সে যাবে। চুক্তিবদ্ধ প্রতিটি ক্রিকেটারের উচিত যাওয়া। এটা আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। ক্রিকেটারদের দেশের কথাও চিন্তা করতে হবে, শুধু নিজের কথা চিন্তা করলে হবে না। আগের দুই দফায় দলের সেরা তারকাদের প্রায় সবাই ছিলেন। শুধু পারিবারিক কারণ দেখিয়ে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। যদিও তার আপন ভায়রা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ঠিকই খেলে এসেছেন দুই সফরেই। তাই বোর্ড সভাপতি টেনে আনলেন মাহমুদউল্লাহর প্রসঙ্গ। মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর স্ত্রী দুই বোন। সেদিকে ইঙ্গিত করে বোর্ড সভাপতি সংশয় প্রকাশ করলেন, মুশফিকের পরিবার সত্যিই শঙ্কিত কিনা। একটা ভয় ছিল (পাকিস্তান সফর নিয়ে)। কিন্তু এই সফরের পর আমাদের ছেলেরা যখন খেলে আসছে, তার বাড়ির লোকও তো খেলে আসছে! মাহমুদউল্লাহর কিছু হয়ে গেলে, পরিবারের কিছু হতো না? শুধু মুশফিকের বেলায় পুরো পরিবারের কান্নাকাটি? শুধু ওর ব্যাপারেই চিন্তিত? বিষয়টা কি এমন কিছু? মুশফিক এখন মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকেও শুনতে পারে যে, ওখানে (পাকিস্তান) কী অবস্থা বা কী হয়েছে? তিনি আরো বলেন, মুশফিক চাইলে সতীর্থদের কাছ থেকে শুনতে পারে, আমাদের কাছ থেকে শুনতে পারে (পাকিস্তানে নিরাপত্তার কথা), তাহলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে। পাকিস্তান একটা ভিন্ন ইস্যু। মুশফিক নিজে থেকে (না যাওয়ার কথা) বলেছে আমাদের, কাউকে আমরা জোর করিনি। আমি মনে করি সবার সঙ্গে কথাবার্তা বলে ওর এবার যাওয়া উচিত।
12
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য ব্যাংকগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (সিএসআর) টাকা খরচ করছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলো এই টাকা সেনাকল্যাণ সংস্থার মাধ্যমেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা (এমএফআই) ও ব্যাংকগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই টাকা খরচ অব্যাহত রাখতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আজ সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান সেনাকল্যাণ সংস্থা। কোভিড-১৯-এর কারণে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে সেনাকল্যাণ সংস্থা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত ত্রাণসামগ্রী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করছে। বর্তমানে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে জরুরি সেবার বাইরে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। তাই এ সময়ে ব্যাংকের বিশেষ সিএসআর তহবিল সেনাকল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে বিতরণ করা হলে তা দ্রুত ও কার্যকরভাবে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসক, বেসরকারি সংস্থা, ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা ও ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সেনাকল্যাণ সংস্থার মাধ্যমেও এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সেনাকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। সেনাকল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে বিশেষ সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আলাদা হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপনে বলেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা পরিপালনের উদ্দেশ্যে বিশেষ সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা-সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হয়।ব্যাংকগুলো তার মুনাফার একটা অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করে আসছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাংকগুলো এই টাকা ব্যয় করে আসছিল। তবে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর ব্যাংকগুলো এদিকে নজর দিয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) উদ্যোগে বিভিন্ন তহবিলে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
0
পরিচালক নায়ক বানান। বানিয়েছিলেন সত্যজিৎও। যেমন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। কত ছবি সত্যজিৎ বানিয়েছেন সৌমিত্রকে নিয়ে। তখনকার সুপারস্টার উত্তম কুমারকে ততটা নেননি। উত্তমকে বানানোর কিছু ছিল না তাঁর। তবু তিনি উত্তম কুমারকে নিয়ে তৈরি করেন 'নায়ক' নামের একটি সিনেমা, ১৯৬৬ সালে। আসছে বৃহস্পতিবার ছবিটি মুক্তির ৫৫ বছর। এই ছবিতে প্রতিষ্ঠিত একজন নায়ককে দিয়ে তিনি ফাঁস করেছেন একজন নায়ক, একজন তারকার ভেতরজগৎ। তারকার কত তাড়া! প্রশংসা, করতালি, অর্থপ্রাপ্তির তাড়না। সে কথা বেশির ভাগ লোকই জানেন না। জানেন কিছু লোক। আর সাধারণের তো জানারই কথা না যে, কত যাতনা থাকে তারকাজীবনের অন্তরালে। সত্যজিৎ রায় ৫৫ বছর আগে একজন বড় তারকাকে নিয়ে ছবি বানিয়ে সেসব জানিয়ে দিয়ে গেছেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন, তারকার হৃদয়ের গভীর বেদনা জনতাকে জানানোর নয়। মনে পড়ে ছবির গল্পটা? সুপারস্টার নায়কের নাম অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিতে যাবেন, কিন্তু বিমানের টিকিট পাননি বলে রওনা দিয়েছেন রেলগাড়িতে। বগিতে তাঁর পরিচয় হয় অদিতি সেনগুপ্ত নামের এক আধুনিক নারী সাংবাদিকের সঙ্গে। শিক্ষিত, রুচিশীল, মার্জিত এই তরুণী 'আধুনিকা' নামে মেয়েদের একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। সংলাপ আর হাবভাবে বোঝা যায়, মূলধারার এ রকম তারকাদের তিনি তেমন পাত্তা দেন না। তবে পত্রিকার প্রসারের জন্য অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের একটি সাক্ষাৎকার পেতে চান। ছবিটা দেখার সময় এই প্রজন্মের মূলধারার বাংলা ছবির দর্শকেরা হয়তো হতাশ হবেন! নায়কের সঙ্গে দেখা হলো নায়িকার, অথচ সেখানে প্রেমালাপ নেই, 'ফ্লার্ট' নেই। আছে কেবল সেয়ানে সেয়ানে টক্কর! নায়কের প্রতি তরুণীর স্বাভাবিক মুগ্ধতার বদলে অদিতির তৈরি হয় তাঁর ভেতরবাড়ির এই অনুভূতিগুলো জানার আগ্রহ। তিনি জানতে চান, 'এই যে বেশি করে পাওয়া, এর মধ্যে একটা ফাঁক, একটা অভাববোধ, কোনো অনুতাপ নেই?' নায়কও জবাব দেন, 'আমাদের খুব বেশি কথা বলতে নেই। আমরা ছায়ার জগতে বিচরণ করি তো, কাজেই আমাদের রক্ত-মাংসের জ্যান্ত শরীরটা জনসাধারণের সামনে খুব বেশি করে তুলে না ধরাই ভালো।' তবে জনসাধারণের জন্য না হলেও সুন্দরী ওই তরুণীর কাছে ধীরে ধীরে নিজেকে মেলে ধরেন অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। মনের অর্গল খুলে জানিয়ে দেন সফল নায়কের নানা অনুভূতি-জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়, নিঃসঙ্গতা, অপরাধবোধ, লোভের কথা! ফ্ল্যাশব্যাকে সেসব দেখে নেন দর্শকও। ধারণা করা হয়, উত্তমের জীবনের ওপর ভিত্তি করেই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন সত্যজিৎ। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে উত্তম প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন নায়ক হিসেবে। তারুণ্যপাড়ায় থিয়েটারের গুরু শঙ্কর দা উঠে আসেন নায়কের স্বপ্নে, দর্শকের জন্য ফ্ল্যাশব্যাকে। সত্যজিৎ সেই থিয়েটারসংগ্রামীর সংলাপে জানান তখনকার চলচ্চিত্র সম্পর্কে থিয়েটারের ধারণা, 'ফিল্মের একটা গ্ল্যামার আছে জানি, কিন্তু তার সাথে আর্টের কোনো সম্পর্ক নেই, থাকতে পারে না।' সত্যজিৎ কিন্তু তাঁর আর্ট বের করে এনেছেন। শিল্পনির্দেশক বংশী চন্দ্রগুপ্ত বিশেষভাবে বানিয়েছিলেন শুটিং সেটের রেলের কামরা। শুটিংয়ে ট্রেনের ঝাঁকুনি, ঝকঝক শব্দসহ কোনো কিছুতেই আর্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। মনে হয়নি যে ওটা শুটিং সেট। 'নায়ক'-এর নায়িকা শর্মিলা ঠাকুর বা মিস অদিতি সেনগুপ্তের মনে নায়কের ব্যাপারে যে কিঞ্চিৎ অবজ্ঞাভাব শুরুতে ছিল, সেটাকে সহানুভূতিতে রূপ দিয়েছেন পরিচালক। নায়ককে অবাক করে পুরো সাক্ষাৎকারটি ছিঁড়ে ফেলে দেন নায়িকা। নায়ক জানতে চান, 'মন থেকে লিখবেন নাকি?' নায়িকা বলেন, 'মনে রেখে দেব।' অর্থাৎ সবটা সবাইকে বলে দেওয়া যায় না। ১৯৬৬ সালে বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে 'স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ডের' পাশাপাশি 'শ্রেষ্ঠ ফিচার ফিল্ম' এবং 'শ্রেষ্ঠ কাহিনি ও চিত্রনাট্য' বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে 'নায়ক'। আমাদের এখনকার নায়কেরা উত্তমের মতো সাহস করবেন এমন ছবিতে অভিনয় করতে?
2
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারস খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। তিনি প্যারোলে, না জামিনে মুক্তি পাবেন তা আদালতই নির্ধারণ করবেন। এ ব্যাপারে দল বা সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জে নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা নার্সিং কলেজ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চলমান দূর্নীতিবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দল ও সরকারে ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ১৪ দল এবং জনগণ দূর্নীতিবিরোধী এ অভিযান সমর্থন করছে। আমরা বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী যেভাবে জঙ্গী দমন করেছেন, দেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন, ঠিক একইভাবে দূর্নীতিবিরোধী অভিযানেও সফল হবেন। এর আগে মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জের প্রবেশমুখ বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ের মুলিবাড়িতে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এম. মনসুর আলীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। শেখ হাসিনা নার্সিং কলেজ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শামমুজ্জামান আলো, কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
9
বাঘা (রাজশাহী): ভিক্ষার ঝুলি ফেলে নিজেই উপার্জনের পথ করে নিয়েছেন আব্দুস সাত্তার। নিজের চেষ্টায় জয় করেছেন শারীরিক অক্ষমতাকে। সম্মানজনক উপার্জনে এই করোনার মধ্যেও অন্তত দুবেলা খাবার জুটছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের।আব্দুস সাত্তারের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার অমরপুর গ্রামে। বাবার নাম মুন্তাজ প্রামানিক।অচল দুই পা জড়ো করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকের আসনে বসা আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে কথা হয় পেছনে যাত্রীদের আসনে বসে। ৩৫ বছর আগে তাঁর বয়স তখন ১৬ বছর। দিনমজুর ছিলেন। একদিন কাজে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সহকর্মীরা তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেন। দুই পায়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছিল তাঁর। হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো উপকার তো হয়ইনি, উল্টো দুই পা অচল হয়ে গেছে। এ অবস্থাতেই প্রায় ১৫ বছর কোনো রকম কাজ করে গেছেন। একসময় আর যখন পেরে উঠছিলেন না, তখন লজ্জার মাথা খেয়ে হাতে তুলে নেন ভিক্ষার ঝুলি।বিয়ারিং দিয়ে বানানো একটি গাড়িতে চড়ে ভিক্ষা করতেন তিনি। গ্রামের কালু নামের একজন পেছনে সেই গাড়ি ঠেলার কাজ করতেন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে। দিন শেষে যা কামাই হতো দুজনে ভাগ করে নিতেন। এভাবে চলতে চলতে টাকা জমিয়ে হাত দিয়ে চালানো একটি তিন চাকার সাইকেল কিনে ফেলেন আব্দুস সাত্তার। তখন কালুর সহযোগিতা ছাড়াই ভিক্ষা শুরু করেন। আয়ও বাড়তে থাকে। ভিক্ষার জমানো টাকা আর এনজিওর ঋণ নিয়ে একদিন হাজির হন আড়ানি বাজারের মাজদার মেকারের কাছে। তাঁর কাছ থেকে বানিয়ে নেন ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা। এতে খরচ হয় ৪৮ হাজার টাকা। এরপর আর ভিক্ষার জন্য হাত বাড়াননি আব্দুস সাত্তার।এই অটোরিকশাই হয়ে ওঠে আব্দুস সাত্তারের উপার্জনের বাহন। কিন্তু বিধিবাম! কিছুদিন পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য গাড়িটি বিক্রি করে দিতে হয়। সুস্থ হওয়ার পর আরও বিপাকে পড়েন। না পারেন আরেকটা অটোরিকশা কিনতে, না পারেন ভিক্ষার ঝুলি তুলে নিতে। পরিবারের লোকজনও প্রবল আপত্তি তোলে। বেশ কিছুদিন অনেক কষ্টে কেটেছে দিন। বছর দুয়েক আগের ঘটনা এটি।দেড় বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ৩০ হাজার টাকা পান তিনি। সেই টাকার সঙ্গে এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আবার কিনে ফেলেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। আবার ভাত-কাপড়ের কিছুটা নিশ্চয়তা মেলে। এর মধ্যে এসে পড়ে করোনা মহামারি। সম্প্রতি রাজশাহীর সীমান্ত এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন কঠোর লকডাউন দিয়েছে। ফলে আয় কমে গেছে আব্দুস সাত্তারের। তারপরও দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় হয়। এ টাকায় তিন সদস্যের পরিবারের খাওয়া-পরা চলে যাচ্ছে। ছেলে জাইদুল ইসলাম ও মেয়ে জেসমিন খাতুনের বিয়ে দিয়েছেন আগেই।বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান বলেন, আব্দুস সাত্তারকে উপজেলা প্রশাসনের ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি কিনে দেওয়া হয়েছে। সরকারের ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলায় যেসব ভিক্ষুক উপকৃত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আব্দুস সাত্তারও একজন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা।
6
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন 'মূল আসামি' আসাদুল ইসলাম। জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করছে, পরিকল্পিত চুরি করার টার্গেট নিয়ে ইউএনও'র বাসায় যান আসামিরা। তবে টের পেয়ে যাওয়ায় ইউএনও এবং তার বাবার ওপর হামলা করা হয়েছে। হামলায় রঙ মিস্ত্রীর হাতুড়ি ব্যবহার করা হয়। দু'জন রঙ মিস্ত্রীও সেই অপারেশনে অংশ নেয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুরে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৩ অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস বলেন, এ ঘটনার মূল আসামি আসাদুল ইসলাম। সে দাবি করেছে- পরিকল্পিতভাবে চুরির উদ্দেশ্য নিয়েই ইউএনও'র বাসায় তারা ঢুকেছিল। চুরির উদ্দেশ্যে ওই হামলা হয়েছিল। তবে এটা তার নিজস্ব বক্তব্য। এটা নিছক চুরি নাকি অন্য কোনো ঘটনা এই প্রশ্নের সমাধান বা উপসংহারে পৌঁছতে আরও তদন্ত প্রয়োজন। র্যাব ছায়া তদন্ত করছে। আগামীতেও করবে। তারা এই পর্যায়ে বলছে না এটা কেবলই চুরির ঘটনা। ইউএনও'র সরকারি বাসভবনে ঢুকে নৃশংস হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ-র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা মাঠে নামে। শুক্রবার পর্যন্ত এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়। তারা হলেন- উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ওসমানপুর সাগরপাড়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪২), ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও গোলাম মোস্তফার ছেলে মাসুদ রানা (৩৪), রানীগঞ্জ কশিগাড়ী এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আসাদুল ইসলাম (৩৫), ইউএনও'র বাসার প্রহরী নাহিদ হোসেন পলাশ, চকবামনদিয়া বিশ্বনাথপুর এলাকার বাসিন্দা রঙমিস্ত্রী নবীরুল ইসলাম (৩৮) ও রঙ মিস্ত্রী সান্টু চন্দ্র দাস (২৮)। আটকৃতদের মধ্যে আসাদুল, নবীরুল ও সান্টু চন্দ্র দাসকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাদের ছাড়া হয়েছে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় তাদের সন্দেহাতীত সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নেই। তবে ছেড়ে দেওয়া হলেও তারা নজরদারির মধ্যেই থাকবে। গত বুধবার রাতে ঘোড়াঘাটে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে ঢুকে তার ও তার বাবার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। উভয়েরই শরীর ও মাথায় আঘাত লেগেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বৃহস্পতিবার প্রথমে তাদের রংপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। পরে দুপুরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়। তার বাবা রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তির পর বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে তার বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
6
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগীয়) পদ থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সরিয়ে দেওয়ায় দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী ক্ষুব্ধ, হতাশ ও ব্যথিত হয়েছেন। গত শনিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মঞ্জুকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়। এই ঘটনায় খুলনা বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।ইতিমধ্যে মঞ্জুরের অনেক অনুসারী, নগরের সাবেক ও থানা-ওয়ার্ড কমিটির নেতা-কর্মী পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। অপরদিকে অপর পক্ষের দাবি, দলের প্রতি নেতিবাচক মন্তব্য থেকে সরে আসার জন্য মঞ্জুকে দল সতর্ক করেছে। পদ থেকে অব্যাহতি দিলেও দল তাঁকে বহিষ্কার করেনি। দলের প্রতি আনুগত্য ও আস্থা থাকলে তাঁর সামনে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।দলীয় নেতা-কর্মী সূত্রে জানা গেছে, মঞ্জুর অব্যাহতির পর থেকে তাঁর অসংখ্য নেতা-কর্মী ও সমর্থক হতাশ হয়েছেন। এর মধ্যে নগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ এস এম আরিফুর রহমান মিঠু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব কায়সার, আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, সাবেক দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চলসহ নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেশ কিছু নেতা-কর্মী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দল থেকে পদত্যাগের কথা ভাবছেন। ইতিমধ্যে একটি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কিছু নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।অপরদিকে মঞ্জুর এই অব্যাহতি বিষয়ে নগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'আমরা যদি দল করি তাহলে দলের সব সিদ্ধান্তকে আমাদের মেনে চলতে হবে।' এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নগর বিএনপির সদস্যসচিব শফিকুল আলম তুহিন বলেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দীর্ঘ ৪০-৪২ বছরের রাজনীতির কারণে তাঁর অনেক অনুসারী রয়েছেন। তাঁরা এই ঘটনায় ক্ষোভ জানাতেই পারেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, মঞ্জুকে তো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি, তিনি দলের নেতা আছেন। তাঁকে তাঁর নেতিবাচক বক্তব্য থেকে সরে আসতে দল সতর্ক করেছে। দলের প্রতি যদি তাঁর আনুগত্য থাকে, তবে দল তাঁকে পুনর্মূল্যায়নও করতে পারে। এদিকে খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সাংগঠনিক সভা করে নগরীর পাঁচ থানা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। গত শনিবার দলীয় কার্যালয়ে নগর আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা ছাত্র ও যুবরাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসা নেতৃত্বের সমন্বয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের বিজয়ে এই কমিটিই পারবে রাজপথে অতীতের ন্যায় দুর্বার ভূমিকা রাখতে।সভা থেকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী বিএনপি গঠন এবং নবগঠিত কমিটির বিরুদ্ধে নানা তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের পথ পরিহারের আহ্বান জানানো হয়।গত শনিবার দুপুরে কেন্দ্র থেকে অব্যাহতির চিঠি পাওয়ার পর খুলনা নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, 'এই অব্যাহতির মধ্য দিয়ে আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমি সত্যের পক্ষে কথা বলেছি। দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। দলের ভালোর জন্যই বলেছি।'মঞ্জু আরও বলেন, 'গত ৪ বছরে দল গঠনে যে দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছি। তা দল বিবেচনায় নেয়নি। আমি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কোনো অবজ্ঞা বা চ্যালেঞ্জ করিনি। আমি খুলনা বিএনপির দল গঠনে পুনর্মূল্যায়ন দাবি করেছি।'
6
কিছু শর্তেঅনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২০২০ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার জন্য যেসব শিক্ষার্থী অনলাইন কোর্স সম্পন্ন এবং ইনকোর্স পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করেছেন তাদেরই তৃতীয় বর্ষে উন্নীত করা হবে। এছাড়া ২০১৭-১৮, ২০১৬-১৭ এবং ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের যেসব অনিয়মিত শিক্ষার্থী তৃতীয় বর্ষে উন্নীত হয়নি এবং ২০২০ সালের অনার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছেন তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। প্রসঙ্গত, এর আগেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে অটোপাস দেওয়া হয়। যেসব শিক্ষার্থী ২০২০ সালে অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছেন তাদেরও শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে ক্লাস করার অনুমতি দেয় প্রতিষ্ঠানটি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, 'আমরা শর্তসাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
6
করোনাকালে জরুরি ভিত্তিতে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সরবরাহ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, প্রবাসী, টিকাদানে ইচ্ছুক ও নতুন ভোটাররা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। সরকার ঘোষিত কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যেও সপ্তাহে একদিন মঙ্গলবার অফিস খোলা রেখে এ সেবা দিচ্ছেন সংস্থাটির মাঠ কর্মকর্তারা। সোমবার (১২ জুলাই) ইসি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে প্রতি মঙ্গলবার এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর বাইরে একেক থানা বা উপজেলা নির্বাচন অফিস একেক দিন সেবা দেয়ার জন্য অফিস খোলা রাখা হচ্ছে। এর আগে গত ২০২০ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি গ্রাহককে অনলাইনে এনআইডি সেবা দেয়া হয়েছে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে। ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার জানিয়েছেন, গত ৭ জুলাই এক অনলাইন বৈঠকে মাঠ পর্যায়ে এনআইডি সেবা সতর্কতা অবলম্বন করে চালু রাখার সিদ্ধান্ত দেয় ইসি। এতে টিকা কার্যক্রম, বিদেশ গমন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম ইত্যাদির জন্য জরুরি ভিত্তিতে সেবা দিতে বলা হয়। সেজন্য কর্মকর্তারা সপ্তাহে একদিন অফিস খোলা রেখে স্বশরীরে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ভোটার অনলাইনে সেবা পেয়েছেন বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
6
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, কিছু গবেষণা ও সামাজিক সংস্থা মানুষকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে করোনায় দেশে দারিদ্র্য বাড়ার মনগড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। দেশে ২০২০ সালের চেয়ে ২০২১ সালে দারিদ্র্য কমেছে-বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে এসব কথা বলেন তিনি। সম্প্রতি বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে 'বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট-রিকভারি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স এমিড গ্লোবাল আনসার্টেইনটি' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। এ বিষয়ে আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে দারিদ্র্য শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ আগে যেখানে দারিদ্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেটি এখন ১১ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা যে এতদিন ধরে বলে এসেছি, করোনা মহামারির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে দারিদ্র্য কমেছে, সেই কথাটিই বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে উঠে এসেছে।' এ সময় বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, 'বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশে দারিদ্র্য কমছে; অথচ আমরা দেখেছি, কিছু পত্রপত্রিকায় দেশে দারিদ্র্য বাড়ছে বলা হয়েছে।' তিনি বলেন, যে পত্রিকা ও যাঁরা এ ধরনের মনগড়া তথ্য প্রকাশ করেছেন, আশা করি বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টের পর এখন তাঁরা সতর্ক হবেন। দারিদ্র্য নিয়ে বিভ্রান্ত্রিমূলক অপপ্রচারের অপচেষ্টা বন্ধ হবে। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০-২১ সালে পৃথিবীর মাত্র যে ২০টি দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধনাত্মক, সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। বাংলাদেশের আগের দুটি দেশ-দক্ষিণ সুদান ও গায়েনার অর্থনীতির আকার ও জনসংখ্যা আমাদের চেয়ে অনেক কম। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিনিয়ত যে বক্তব্য দিচ্ছেন, সেগুলো গতানুগতিক অভিযোগ করে হাছান মাহমুদ বলেন, 'তাঁদের রাজনীতি গতানুগতিক বক্তব্যের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। তাঁদের রাজনীতি তিনটি বিষয়ের মধ্যে আবর্তিত-খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য, তারেক জিয়ার শাস্তি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিরোধী দল হিসেবে যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার কথা, বিএনপি সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে ও হচ্ছে।'
6
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৬ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন। তিনি জানান,রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে তিনজন ময়মনসিংহের এবং একজন নেত্রকোনার বাসিন্দা। তিনি জানান, উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন ময়মনসিংহের, দুইজন নেত্রকোনার, একজন জামালপুরের ও একজন টাঙ্গাইলের বাসিন্দা। ডা. মহিউদ্দিন খান মুন আরও জানান, ৪০২ আসনের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে বর্তমানে রোগী ভর্তি আছেন ৩৬৩ জন। এদের মধ্যে ২২ জন আইসিইউতে আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৬ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪১ জন। এদিকে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলায় নতুন করে ৭০৮ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১৪৯ জনের শরীরে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
6
খাগড়াছড়িতে পুষ্টি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পুষ্টি সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ কর্মশালা হয়। দুই দিন ব্যাপী বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা বিষয়ক এই কর্মশালা গতকাল মঙ্গলবার দুপুর শেষ হয়। এতে জেলার পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায় নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।কর্মশালায় দেশের পুষ্টি পরিস্থিতি, জাতীয় নীতি, কর্ম পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ নিয়ে সার্বিক ধারণা দেন বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের (বিএনএনসি) উপপরিচালক ডা. মো. আক্তার ইমাম।জেলা প্রশাসক ও জেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটির সভাপতি প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন বিভাগের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।কর্মশালায় খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন মিটন চাকমা, জেলা সমবায় অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ দাশ, জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুমাইয়া নাজনীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
6
ঢাকা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হলেন ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আগাখান মিন্টু।আজ শুক্রবার ঢাকা-১৪ আসনের উপ-নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মো. আবু হানিফ, জাতীয় পার্টির মোস্তাকুর রহমান ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম-তিন প্রার্থী ব্যক্তিগত, পারিবারিক সমস্যা ও কোভিড-১৯ উল্লেখ করে আগারগাঁও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।ফলে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা আগাখান মিন্টুকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। আগামী ২৮ জুলাই এই আসনে উপনির্বাচনের দিন নির্ধারিত ছিলো।
9
বগুড়ার সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির মোমিন তালুকদার ওরফে খোকার বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আগামী বুধবার ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার (২২ নভেম্বর) বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই তারিখ ধার্য করেছেন বলে প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন জানান। এর আগে ১ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল বাদী ও বিবাদী- উভয় পক্ষের সমাপনী যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়। রেজিয়া সুলতানা জানান, মোমিন তালুকদার (৬৯) পলাতক। তার অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ চলছে। ৩টি অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার মতে, মোমিন বগুড়ার আদমদিঘি থানার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তিনি গণহত্যা ও অন্তত ১৯ জনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত। মোমিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) ছিলেন। ২০০১ ও ২০০৮ সালে বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া ও আদমদিঘি) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
6
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তাপসী রাবেয়া হলের এক শিক্ষার্থীকে রাতভর মারধরের পর ভোরে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই হলের ছয় ছাত্রীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাতে হলের খ ব্লকের চতুর্থ তলায় এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন-সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মেফতাহুল জান্নাত মনিকা, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস সূচনা, নাট্যকলার মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আসমা বিনতি, চারুকলার শিক্ষার্থী স্মৃতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মনীষা ও প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাম্মী আক্তার প্রেমা।লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার তাপসী রাবেয়া হলের 'খ' ব্লকের চারতলায় নিয়মিত সভা হয়। এ সভায় প্রতিটি রুমের বর্ডারদের সমস্যা ও ফ্লোরে থাকার নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা হয়। গত বৃহস্পতিবারের সভা চলাকালে ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অসুস্থ থাকায় রুমে চলে যায়। পরে সেখানে ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর রুমমেট তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। ফ্লোরের কয়েকজনকে ডেকে এনে গালিগালাজ করতে থাকে। বিষয়টি ভুক্তভোগী ফোনে রেকর্ড করছিলেন। এটি টের পেয়ে অভিযুক্ত ছাত্রীরা তাঁর কাছ থেকে ফোন কেড়ে নেয় এবং রেকর্ড ডিলিট করে। পরবর্তীতে তাঁরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোন থেকে রাত তিনটার দিকে তার স্বামী ফোন দেয়। ভোর চারটার দিকে অভিযুক্ত ছাত্রীরা তাকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, তারা আমার ফোন নিয়ে অনেকক্ষণ ব্যক্তিগত বিষয় ঘাঁটাঘাঁটি করে। মারধরের পর হল থেকে বের করে দিলে হল সুপার আমাকে আয়াদের রুমে রাখে। গত দুদিন ধরে আমি রুমে যেতে পারছি না। আমি আমার এক বান্ধবীর সঙ্গে অন্য হলে আছি। বিষয়টি আজ লিখিতভাবে জানিয়েছি প্রশাসনকে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগীর রুমমেট জান্নাতুল ফেরদৌস সূচনা বলেন, 'এটা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।'অপর অভিযুক্ত মেফতাহুল জান্নাত মনিকা বলেন, 'কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা কয়েকজন সিনিয়র ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে বসি। একপর্যায়ে সে অসুস্থ বোধ করলে তার রুমমেট তাকে রুমে নিয়ে যায়। এরপর রাত ১টার দিকে তার রুমমেট আমার কাছে এসে বলে ওই শিক্ষার্থী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। এ জন্য আমরা কয়েকজন ওদের রুমে যাই। সেখানে ওই শিক্ষার্থী আমাদের সঙ্গেও তর্ক করে ও গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে সে আমাকে ধাক্কা দেয়। পরে ম্যামকে জানালে তিনি এসে তাকে সঙ্গে নিয়ে যায়। তাকে হল থেকে বের করে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।'এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফেরদৌসী মহল বলেন, 'আমি বর্তমানে রাজশাহীর বাইরে আছি। তবে হলের ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। আগামীকাল ফিরব। তারপর দুই পক্ষকে ডেকে এ বিষয়ের সমাধান করব।'জানতে চাইলে ছাত্র উপদেষ্টা মো. তারেক নূর বলেন, 'হল থেকে শিক্ষার্থীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। হলের প্রভোস্ট এলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে সমাধান করব।'
6
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। তাঁর স্থলে প্যানেল মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন কাউন্সিলর মো. আসাদুর রহমান কিরন।বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিটি করপোরেশন শাখার এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে একই শাখা থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিন সদস্যের মেয়রদের একটি প্যানেল গঠন করা হয়েছে।গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রদের প্যানেল গঠনের আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ এর ২০ (২) এর বিধান মতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নিম্ন লিখিত কাউন্সিলরগণের সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি মেয়রের প্যানেল মনোনীত করা হল। মেয়রের প্যানেল হলো, সাধারণ ৪৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুর রহমান কিরন, ৫২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আব্দুল আলীম মোল্লা ও সংরক্ষিত ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোছা. আয়েশা আক্তার।মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ এর ১২ (২) এর বিধান মতে আদেশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র ক্রমানুসারে মেয়র প্যানেলের জ্যেষ্ঠ সদস্যের নিকট স্বীয় দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।যেসব অভিযোগে মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত হলেন জাহাঙ্গীরপ্রজ্ঞাপন জারির পর এক প্রতিক্রিয়ায় আসাদুর রহমান কিরন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে দায়িত্ব প্রদান করেছেন, আমি সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করব। জাতির জনকের সোনার বাংলা গঠনে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রেখে সব সময় কাজ করব। এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনেও তিনি কাউন্সিলর ছিলেন। তখনো তিনি সিটি করপোরেশনর ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসাবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।আব্দুল আলিম বলেন, তিন বছর পরে হলেও সরকার মেয়রদের প্যানেল করে দিয়েছে, ওই প্যানেলে আমি স্থান পেয়েছি, এতে আমি আনন্দিত। এ জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।আমারে মাইরা লাক: জাহাঙ্গীর আলমমেয়র প্যানেলের অপর নারী সদস্য আয়েশা আক্তার বলেন, আমি দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করব।
6
মোট ১২ শ' অবিস্ফোরিত ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক ও কামানের শেল ধ্বংস করেছে গাজা কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা করার সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ গোলাগুলো নিক্ষেপ করে। গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় কাজ করা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মিকাদ শনিবার আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, '১১ দিনে গাজার বিভ্ন্নি অঞ্চলে ইসরাইলের ভারী গোলাবর্ষণের পর যেসব অবিস্ফোরিত গোলা রয়ে গেছে তা নিষ্ক্রিয় করতে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের বিভিন্ন দল কাজ করে যাচ্ছেন। মোহাম্মদ মিকাদ আরো বলেন, 'যে বোমাগুলো ইসরাইল নিক্ষেপ করেছে তা যদি বিস্ফোরিত হতো তাহলে আশেপাশের এলাকাগুলোতে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা যেত। এ বোমাগুলো একটি গণহত্যার কারণ হতো।' পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকায় এ বোমা নিষ্ক্রিয় করার কাজটি ঠিক মতো করা যাচ্ছে না বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মোহাম্মদ মিকাদ। এ বোমা নিষ্ক্রিয় করার কাজে তিনি রেড ক্রসের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে বলেন। যাতে করে তারা এ কাজগুলো নিরীক্ষণ করতে পারেন এবং বোমা নিষ্ক্রিয় করার কাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবারহ করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, 'ইসরাইলের অবরোধের কারণে বোমা নিষ্ক্রিয় করার কাজে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞদের সুরক্ষা সামগ্রীগুলো গাজাতে পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে তাদের কাজ করাটা আরো কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। ২১ মে তারিখে মিসরের মধ্যস্ততায় যুদ্ধ বিরতির আগে গাজায় ১১ দিন ধরে বোমাবর্ষণ করে ইসরাইল। গাজায় ইসরাইলের হামলায় কমপক্ষে ২৮৯ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও আছেন। এ সময় ইসরাইলি হামলায় সমগ্র গাজা শহর ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। হাসপাতাল, গণমাধ্যম এমনকি স্কুল লক্ষ্য করেও বোমা হামলা করেছে ইসরাইল। সূত্র : ইয়েনি সাফাক আরো পড়ুন : শেখ জাররাহের মুনাকে আটক ইসরাইলি বাহিনীর
3
কক্সবাজারে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার জেরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মেম্বার প্রার্থী কুদরত উল্লাহ ও তার ভাই শ্রমিক লীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম সিকদার নামে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৫ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের লিংক রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম সিকদার তার ভাই কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী কুদরত উল্লাহ সিকদারের নির্বাচনী অফিসে বসে ছিলেন। এ সময়ে মোটর সাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা কুদরত উল্লাহ সিকদার ও জহির উল্লাহ সিকদারকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তারা ২ জনই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় কুদরত উল্লাহ সিকদারের সহকারীসহ আরও কয়েকজন আহত হয়। জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ আনছারী বলেন, "তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লিয়াকত বাহিনী এই ঘটনা ঘটায়। তারা বার বার কুদরত উল্লাহর নির্বাচনী সভায় হামলা করে আসছে।" পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস।
6
করোনাভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ফেনীর ৬টি উপজেলায় কর্মহীন ১ লাখ ২০ হাজার মানুষকে খাদ্য সহায়তার পর প্রতিদিন ভাসমান ২ হাজার মানুষের আহারের ব্যবস্থা করেছেন সদর আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ফেনী সরকারী কলেজ প্রাঙ্গনে এ খাবার তৈরী করছেন কলেজ ছাত্র সংসদ ও কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃবন্দরা। রান্না করা খাবারগুলো শহরে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ছিন্নমূল, পথশিশুসহ ২ হাজার মানুষকে খাবার দেওয়া হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ফেনী কলেজ ছাত্র সংসদের নেতাদের এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী। ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি তোফায়েল আহম্মেদ তপু জানান, শনিবার হতে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদিয়া সুলতানা রাত্রী ও ছাত্রসংসদ নেত্রী ইসরাত চৌধুরীসহ কয়েকজন ছাত্রলীগের নেত্রীকে দায়িত্ব দেয়া দেয়া হয়েছে। তপু বলেন, সাংসদ মহোদয়ের নির্দেশনামতে কলেজ ছাত্র সংসদ ও কলেজ ছাত্রলীগের মেয়েরা ক্যাম্পাসে নিজ হাতে খাবার রান্না করছে। রান্না শেষে প্যাকেট করে কলেজ ছাত্র সংসদের তত্ত্বাবধানে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে ভাসমান মানুষদের হাতে এসব খাবার বিতরণ করা হবে। ফেনী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদিয়া সুলতানা রাত্রী জানান, ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন ফেনীর অসহায় গরীব মানুষদের জন্য খাদ্য তৈরী করতে। ফেনী সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদের নারী সদস্য এবং ছাত্রলীগের নারী নেত্রী এবং কর্মীদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ জন মিলে আমরা প্রতিদিন নিজেরাই এ খাবার রান্না করছি এবং দুপুর ১টার পর তা বিতরণ করা হবে। রাত্রী বলেন, শুধু মানুষ নয়- শহরে অন্য যে সব প্রাণী অভুক্ত রয়েছে তাদের জন্যও খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর এ উদ্যোগকে প্রশংসার চোখে দেখছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন, নিজাম উদ্দিন হাজারীর এ উদ্যোগ সারাদেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের মত। ফেনী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর লুৎফর রহমান খোকন হাজারী বলেন, জেলায় লক্ষাধিক মানুষের খাবারের যোগান দেয়ার পরও প্রতিদিন ভাসমান মানুষের যে আয়োজন তাতে আমাদের নেতার বিশালত্বের প্রকাশ ঘটেছে। রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষগুলো অভূক্ত থাকবে না, এটি ফেনীকে সারা দেশে আলোকিত করবে। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতিতে জেলার ৬টি উপজেলায় কর্মহীন ১ লাখ ২০ হাজার মানুষকে খাদ্য সহায়তা করেছেন ফেনী-২ আসানের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। সে সহায়তা শেষ না হতেই এবার শহরের রাস্তাঘাটে ভাসমান মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
6
খুলনার ফুলতলা উপজেলায় ধানখেত থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর লাশের মাথার সন্ধান এখনো মেলেনি। গতকাল বুধবার সকালে লাশ উদ্ধারের পর আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় তা খুঁজেছে পুলিশ। নিহত নারীর বড় বোন বাদী হয়ে গতকাল রাতে ফুলতলা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত নারীর নাম মুসলিমা খাতুন (২০)। তাঁদের বাড়ি সাতক্ষীরায়। সাত বছর ধরে তাঁরা ফুলতলা উপজেলায় ভাড়া থাকতেন। মুসলিমা স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করতেন। থানা-পুলিশ জানায়, গতকাল সকালে ফুলতলার উত্তরডিহি এলাকার একটি ধানখেত থেকে এক নারীর মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে লাশটি উদ্ধার করা হলেও দুপুরের দিকে নিহত নারীর দুই বোন লাশের হাত-পা দেখে সেটি শনাক্ত করেন। পরে মুসলিমার বড় বোন আকলিমা বেগম এ ঘটনায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আকলিমা গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁদের ভাড়া বাসায় গিয়ে মুসলিমাকে খুঁজে পাননি। এরপর লোক মারফত বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে রাতে আকলিমার মুঠোফোনে একটি খুদে বার্তা (এসএমএম) পাঠায় মুসলিমা। তাতে লেখা ছিল, 'অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জন যুবক তাঁকে একটি বাগানে আটকে রেখেছে।' এরপর বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও মুসলিমার খোঁজ পাননি পরিবারের লোকজন। সকালের দিকে ধানখেতে নারীর লাশ পড়ে থাকার কথা শুনে মুসলিমার বোনেরা গিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করেন। ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস তালুকদার বলেন, মেয়েটি আশপাশের এলাকায় পরিচিত মুখ। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর তাঁর পরিচয় যেন কেউ শনাক্ত করতে না পারে, সে জন্য তাঁর মাথা অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলেছেন অপরাধীরা। পুলিশ তাঁর কাটা মাথাটি খোঁজার চেষ্টা করছে। গত দুই দিনে লাশ পাওয়ার স্থানসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, সেপটিক ট্যাংক, বাগানে খুঁজে কিছুই পাওয়া যায়নি। ইলিয়াস তালুকদার বলেন, মামলাটি একেবারে সূত্রহীন নয়। এ কারণে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এক ব্যক্তি মুসলিমাকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন তাঁর বোন। পুলিশ এখন তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না। থানা-পুলিশ আরও জানায়, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে বুধবার বিকেল হয়ে যায়। এ কারণে ওই দিন ময়নাতদন্ত করা হয়নি। তবে আজ ময়নাতদন্ত করে দুপুরের দিকে লাশটি পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আকলিমা বেগম বলেন, তাঁদের বাবা গুরুতর অসুস্থ। তাঁকে দেখাশোনার কেউ নেই। বাবাকে রেখে যে মুসলিমার লাশ গ্রহণ করবেন, তা-ও পারেননি। মুসলিমার মারা যাওয়ার কথা শুনে তাঁদের বাবা আরও বেশি ভেঙে পড়েছেন। মুসলিমার লাশ পরিবারের অন্য সদস্যরা গ্রহণ করেছেন। লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
6
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পলাশ শব্দকর (৮) নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কালিটি চা বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত পলাশ কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের বালিছিড়ি গ্রামের পরিমল শব্দকরের ছেলে। পুলিশ জানায়, শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র পলাশ শব্দকর (৮) বুধবার সকাল ১১টার দিকে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুজির পর তাকে না পেয়ে তার বাবা কুলাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর পুলিশ একই গ্রামের মিরজান আলীর ছেলে জাহেদ আলীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় কালিটি চা বাগানের জঙ্গলে রাখা পলাশের লাশ দেখিয়ে দেয়। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে পাঠায়। তার দেওয়া তথ্য মতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মিরজান আলী ও রাহেল নামে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণে আটক জাহেদ জানায়, গ্রামের নিকটবর্তী কালিটি চা বাগানের একটি গাছে থাকা পাখির বাসা থেকে বাচ্চা এনে দেওয়ার জন্য শিশু পলাশকে গাছে উঠিয়ে দেন জাহেদ ও রাহেল নামে আরও এক যুবক। তখন পা ফঁসকে গাছ থেকে পড়ে যায় সে। এ সময় তার পা ভেঙে যায়। এ সময় তারা পলাশকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে চা বাগানের গভীর জঙ্গলে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ফেলে আসে। কুলাউড়া থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে হত্যামামলা দায়ের করা হয়েছে।
6
খুলনার কয়রায় বাঁধ মেরামতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মূল ঠিকাদার তার প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করতে অন্যের কাছে দেড় কোটি টাকায় হাতবদল করেছেন। এর ফলে প্রায় ২ কোটি টাকা মেরামত কাজের বাইরে চলে যাচ্ছে। ঠিকাদারের এ হাতবদলের ফলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। ওমর ফারুক নামে স্থানীয় একজন শ্রমিক সরদার এ কাজটি কিনে নিয়েছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১৪ / ১ নম্বর পোল্ডারে কয়রা উপজেলার খাসিটানা ও গাতিরঘেরি এলাকার ২ হাজার ১০০ মিটার বাঁধ মেরামতের জন্য সোয়া ৪ কোটি টাকা বরাদ্দে দরপত্র আহ্বান করা হয়। চলতি বছরের ১৩ জুন শতকরা ২০ ভাগ কমমূল্যে ৩ কোটি ৩০ লাখ ৫৮ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে মেসার্স আরাধনা এন্টারপ্রাইজ নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ পাওয়ার পর তারা প্রথমে সাতক্ষীরার আব্দুস সবুর নামে একজন প্রভাবশালী ঠিকাদারের কাছে ৩ কোটি টাকায় কাজটি বিক্রি করেন।ঠিকাদার আব্দুস সবুর বিল্লাল হোসেন নামে এক শ্রমিক সরদারকে ২ কোটি টাকা চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব দেন। তিনি বাঁধের দুই পাশে গর্ত করে মাঝখানে বালু ভরাট করার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের বাঁধার মুখে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওমর ফারুক নামে স্থানীয় এক শ্রমিক সরদারের কাছে দেড় কোটি টাকায় কাজ বিক্রি করেন বিল্লাল। বর্তমানে ওমর ফারুক সেখানে শ্রমিক দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, প্রকল্পের গাতিরঘেরি এলাকার ভাঙনের পাশের শাকবাড়িয়া নদী থেকে খননযন্ত্রের মাধ্যমে বালু তুলে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে শ্রমিকেরা বস্তা ভরে দু'পাশ থেকে তা ভাঙনে ফেলছেন। এর একটু দুরে স্কেভেটরের মাধ্যমে বাঁধের কাছে মাটি কেটে উঁচু করার চেষ্টা চলছে। ভাঙনের কাছাকাছি নদী থেকে বালু তোলায় একদিকে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে তেমনি বাঁধের ঢালের মাটি কেটে উচ্চতা বাড়ানোর চেষ্টায় স্থায়িত্ব সংকট দেখা দিয়েছে।সেখানে উপস্থিত শ্রমিক সরদার ওমর ফারুকের কাছে কাজের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করেন। পরে মুঠোফোনে বিল্লাল হোসেন বলেন, 'কন্ট্রাক্টর সবুর সাহেব কাজটি আমাকে দিয়েছেন। তার সঙ্গে আমার দুই কোটি টাকায় চুক্তি হয়েছিল। এ মুহূর্তে বিশেষ অসুবিধার কারণে কাজটি ওমর ফারুকের দায়িত্বে দিয়েছি।'এদিকে কাজের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাধনা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহবুবুল হক রিপন বলেন, 'কাজটি আমার লাইসেন্সে হলেও সাতক্ষীরার সবুর সাহেব কাজটি করছেন।' জানতে চাইলে ঠিকাদার আব্দুস সবুর বলেন, 'প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আমাকে কাজটি করার জন্য অনুরোধ করা হয়। তাদের অনুরোধ রক্ষায় লোকজন দিয়ে কাজটি করিয়ে নিচ্ছি।'স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম বলেন, এভাবে প্রকল্প হাত বদল হলে কাজের মান কখনো ভাল হতে পারে না। যতটুকু জানি মূল ঠিকাদারের হাত ঘুরে চতুর্থ ব্যক্তি কাজটি করছেন। কাজ বিক্রির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাউবোর লোক রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের বরাদ্দ লুটপাটে তারা যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ করছেন।পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পটি মূলত জাইকার, আমরা তদারকির দায়িত্বে আছি মাত্র। তবে কাজ খারাপ হলে আমরা ঠিকাদারের বিল আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখি।
6
টানা পরিবহন ধর্মঘটে সারা দেশের মতো জামালপুরেও স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সব শ্রেণিপেশার মানুষ। হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত শুক্রবার সকাল থেকে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা ধর্মঘট শুরু করে।ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে। দ্রুত এর সমাধান দরকার। এজন্য তারা সরকারের দৃষ্টি কামনা করেন।জানা গেছে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষ যাতায়াতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ট্রাক বন্ধ থাকায় শীতের সবজি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো যাচ্ছে না। অন্যান্য পণ্য পরিবহনেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে সব জায়গায়।শহরের আনন্দগঞ্জ বাজারে মাছের আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, মাছের সংকট। মাছ ব্যবসায়ী নাছির বলেন, ৩দিন ধরে ধর্মঘট। এই কারণে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে মাছ আসা বন্ধ রয়েছে। জেলার আশপাশ থেকে যে মাছ বাজারে উঠছে তা দিয়ে জেলার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। শহরের কাচারীপাড়ার বাসিন্দা সুলতানা বেগম বলেন, আড়ত ঘুরে চাহিদা মতো মাছ পাচ্ছে না। বাড়িতে মেহমান। তাই বড় মাছ কিনতে এসেছি। কোনো মাছই পেলাম না। আব্দুল বারেক বলেন, মাছ না পেয়ে শুঁটকি মাছ কিনেছি।জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায় রোগীর সংখ্যা কিছুটা কম। ধর্মঘটের কারণে গাড়ি বন্ধ। তাই দূরদূরান্ত থেকে বহির্বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্বাভাবিক সময় বহির্বিভাগের সামনে রোগীর ভিড় থাকে। কিন্তু গতকাল বর্হিবিভাগের সামনে মাত্র ৫-৬ জন রোগী দেখা গেছে।আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তি বলেন, ধর্মঘটের কারণে রোগী কমে গেছে। উপজেলা থেকে রোগী আসছে। বকশীগঞ্জের সালাম বলেন, সকালে সিএনজি দিয়ে এসেছি। ৬০ টাকার ভাড়া ৮০ টাকা নিয়েছে।জামালপুর বাস টার্মিনালে গিয়ে গেছে, পরিবহন ড্রাইভারেরা সারি সারিভাবে বাস রেখে দিয়েছেন। ড্রাইভার মোফাজল হোসেন বলেন, সরকার যখন যা ইচ্ছা তাই করবে আর আমরা পাবলিকের হাতে মার খাব। সরকারের উচিত পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বসে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া।ইসলামপুর উপজেলার ইসলামইল হোসেন বলেন, সরকার আর পরিবহন মালিকদের রেষারেষিতে আমরা সাধারণ মানুষ বিপদে পড়েছি। বাস যাত্রী আব্দুল করিম বলেন, বাসে যাতায়াত করি। এতে অনেক সুবিধা হয়। এখন খরচ বেশি হচ্ছে। তিনি বলেন, ত্রিশাল যাবো। এখন ট্রেনে ময়মনসিংহ নেমে আবার রিকশা অটোরিকশায় যেতে হবে। বাস বন্ধ থাকায় আমরা নাজেহাল হচ্ছি।জামালপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ইকরামুল হক নবিন বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সব ধরনের মালামাল আসা বন্ধ রয়েছে। চাল, ডাল, সার, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আসছে না। পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাবে। তিনি দ্রুত এর সমাধানের জন্য সরকারের দৃষ্টি কামনা করেন।সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ধর্মঘটের কারণে এক দিকে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। সাধারণ মানুষের পণ্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। ৫০ টাকা কেজির বেগুন ৮০ টাকা, কপি ৬০ টাকা ছিল প্রতি কেজি। বর্তমানে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ৫৪ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে তেলের দাম কমানোর দাবি জানান।
6
চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস ঘিরে ক্রমেই ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। করোনা ভাইরাসের থাবায় লাফিয়ে লাফিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে চীনে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব বলছে, রবিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮১। আক্রান্তের সংখ্যাটাও বাড়ছে হু হু করে। এই সংখ্যাটা প্রায় দু'হাজার। এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বের কমপক্ষে ১১টি দেশে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের উহান থেকে নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। আজ সোমবার স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঞ্চা গঞ্জালেজ লায়া বলেন, চীনের উহান অঞ্চল থেকে নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করছি আমরা। করোনা ভাইরাসের আক্রমণের হাত থেকে স্পেনের নাগরিকদের রক্ষা করার জন্যই এই উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে রবিবার এই ধরনের ঘোষণা দেয় ফ্রান্স। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হুবেই অঞ্চল থেকে ৮০০ জন নাগরিককে সরিয়ে নেবে ফ্রান্স। এরপর আজ ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতর জানায়, হুবেই প্রদেশ থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছে তারা। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম
3
দেশে দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বিশ্বজুড়েই। কেউ কেউ বলছেন, চীনাদের অদ্ভুত বিচিত্র খাবার থেকেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। কেননা, চীনাদের খাবার উদ্ভট সব উপাদানে ভরপুর। এই যদি হয় আপনার বিশ্বাস তাহলে গোটা বিশ্বের বিচিত্র সব খাবারের সঙ্গে আপনার পরিচয়ই হয়নি। ধরুন, কোনো দেশে বহু পুরোনো ডিম বা ডুবো তেলে ভাজা মাকড়শা কিংবা টিকটিকির শুঁটকি দারুণ সুস্বাদু! কিন্তু আপনি কি পারবেন দারুণ সেই সুস্বাদু খাবার খেতে? আচ্ছা খেতে না পারুন, অন্তত চলুন জেনে নিই বিচিত্র কিছু খাবারের কথা। চীন দিয়েই শুরু হোক- ১। সী হর্স স্টিক (চীন): কাঠিতে লাগানো ললিপপ তো আপনারা অনেকেই খেয়েছেন। কিন্তু যদি কাঁকড়াবিছে, শতপদী, তারামাছ, সীহর্স ভাজা কাঠির আগায় ললিপপের মতো করে সাজানো দেখতে কিংবা এর স্বাদ নিতে চান তাহলে ঘুরে আসতে হবে আপনাকে চীন থেকে। ২। মাউস ওয়াইন (চীন): ওয়াইন শব্দের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। এটি অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়। ওয়াইন বিশ্বের সব দেশেই জনপ্রিয়। তবে চীনে ওয়াইনের বিশেষ ধরণ পাবেন। যা বাচ্চা ইঁদুর ডুবিয়ে রাখা ওয়াইন। খেতে পারবেন? ৩। সেঞ্চুরি এগ (চীন): ভিটামিন ও প্রোটিনের উৎস ডিম সকালের নাশতায় চাই-ই চাই। শুধু কি তাই? ডিম দিয়ে কত পদের খাবার খেয়ে থাকি আমরা। তবে চীনাদের কাছে ডিমের অদ্ভুত এক রেসিপি রয়েছে। একশ বা বেশি বছর ধরে চীনামাটি, ছাই বা কাদায় প্রিজার্ভ করে রাখা খালো হয়ে যাওয়া সেদ্ধ ডিম সুস্বাদু খাবার। ৪। ফুগু বা পাফারফিশ (জাপান): ফুগু নামে পরিচিত পাফারফিশের তৈরি খাবারটি যেমন অদ্ভুত তেমনি ভয়ঙ্কর বিপদজনকও বটে। কেননা, পাফারফিশটি ভীষণ বিষাক্ত। এর মধ্যে যে বিষ রয়েছে তা এক সঙ্গে ২০ জন মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে, যার কোনো অ্যান্টিডোটও নেই। ৫। জায়ান্ট টুনা আইবল (জাপান): জায়ান্ট টুনা আইবল হচ্ছে বিশাল আকৃতির টুনামাছের শুধুমাত্র চোখগুলো। ছবিটি দেখেই বুঝবেন কি কারণে এটি অদ্ভুত খাবারের তালিকায় রয়েছে। ৬। টিকটিকি শুঁটকি (হংকং): শুঁটকি মাছ তো অনেকেরই প্রিয় খাবার। তবে হংকং গেলে আপনি শুধু শুঁটকি মাছই পাবেন না, এর সঙ্গে পাবেন টিকটিকির শুঁটকিও! তাও তাদের কাছে দারুণ সুস্বাদু! ৭। বালুট (ফিলিপাইন): বালুট, নামটি বেশ স্মার্টই বটে। তবে এই খাবার হয়তো আপনার কাছে হতে পারে পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য খাবার! কারণ ভেতরে খানিকটা বাচ্চা হয়ে যাওয়া হাসের ডিম সেদ্ধ আপনি নিশ্চয়ই কোনোদিন খাননি! ৮। মুচমুচে মাকড়শা (কম্বোডিয়া): বিকেলের নাশতায় স্ন্যাকস হিসেবে তেলে ভাজা মুচমুচে পাকোড়া খেতে আমরা সকলেই ভালোবাসি। তবে কম্বোডিয়ার মানুষদের কাছে স্ন্যাকস হিসেবে তুমুল জনপ্রিয় তেলে ভাজা মুচমুচে টারান্টুলা মাকড়শা। শেষে এটা বলতেই হবে অদ্ভুত ধরণের খাবারের দিক থেকে চীন এবং জাপানই সব চাইতে এগিয়ে রয়েছে বিশ্বে।
4
২৭ ঘণ্টা পর নিখোঁজ মিজানুল হক আদিলের (১৬) মরদেহ উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। গতকাল শনিবার বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।এর গত শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়ার শিকলবাহা খালে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় যাত্রীবাহী নৌকা উল্টে নিখোঁজ হয় মিজানুল। তবে নৌকায় থাকা অন্য যাত্রীরা নিরাপদে তীরে উঠে আসে।মিজানুল পটিয়া উপজেলার চরকানাই এলাকার মো. ওবাইদুল্লাহর ছেলে। সে চরকানাই বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, গত বৃহস্পতিবার বাবার সঙ্গে শহরে বোনের বাসায় বেড়াতে যায় আদিল। গত শুক্রবার বাড়িতে ফেরার পথে কালারপুল খাল পার হওয়ার সময় একটি বালুবাহী বাল্কহেড ধাক্কা দিলে তাদের বহনকারী নৌকাটি উল্টে যায়। এ সময় নৌকায় ৭-৮ জন লোক ছিল। সবাই সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হয় আদিল। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল টানা ২৭ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
6
ত্রিশালে খানাখন্দে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে স্থানীয় অনেক সড়ক। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত ধুলাবালু। এতে একদিকে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, আবার সড়কে স্বাভাবিকভাবে চলাচলেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ধুলাবালুতে দেখা দিচ্ছে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জিসহ নানা রোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কগুলো সংস্কারের পাশাপাশি ধুলামুক্ত করতে পানি ছিটানোর দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৌরসভার মূল সড়ক, ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কসহ ছোটবড় অসংখ্য সড়কে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। কয়েকটি সড়কে চলছে সংস্কারকাজ। একদিকে ভাঙাচোরা সড়ক, অন্যদিকে ধুলাবালু। এসব সড়ক দিয়ে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলের সময় ধুলাবালুর কারণে পথচারী, দুই পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসিন্দাদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে।ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কের মুদি দোকানি দেলোয়ার বলেন, 'খানাখন্দ ভরা সড়কের কারণে পথে চলতে সমস্যা হয়। আবার অতিরিক্ত ধুলার কারণে দোকান খুলে বসা দায় হয়ে পড়েছে।'একই এলাকার বাসিন্দা রিয়াদ বলেন, 'রাস্তা ভাঙা, দীর্ঘদিন দাবি জানিয়েও সংস্কার হয়নি। বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহন চলাচলের সময় অতিরিক্ত ধুলার কারণে এলাকায় বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে।'সরেজমিন দেখা যায়, সড়কগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বালুবাহী ও মাটিবাহী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। বিভিন্ন ইটভাটায় এসব বহন করা হচ্ছে। জানা গেছে, উপজেলার বেশির ভাগ ইটভাটা গড়ে উঠেছে জনবহুল এলাকায়। এতে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। যেখানেই ইটভাটা রয়েছে, সেখানে ধুলোবালির ছড়াছড়ি। যানবাহন চলাচলের সময় এ ধুলাবালিতে সামনের কিছু দেখা যায় না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নাক-মুখ চেপে চলতে হয়।রাগামারা বাজারের ব্যবসায়ী এমদাদ হোসেন বলেন, 'রাগামারা বাজার হতে নওপাড়া রোডে সড়কের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি ইটভাটা রয়েছে। এতে তৈরি হয়েছে ধুলাবালি। এ রোডে নিয়মিতই চলছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। এ ছাড়া ইটভাটার মাটি ও ইটবাহী গাড়িগুলোর আনাগোনা বেশি থাকায় এক কিলোমিটার পাড়ি দিতেই শরীরে ধুলোবালি ভরে যায়।'পৌরসভার বাসিন্দা সুমন বলেন, 'পৌরসভার মূল সড়ক ভাঙাচোরা থাকায় কিছু যানবাহন বিকল্প পথে যাতায়াত করছে। সড়কের পাশেই বিভিন্ন পণ্য রাখার গোডাউনে খৈল, ভুসি, আটা, ময়দা, ভুট্টা, শুঁটকিসহ নানা ধরনের দ্রব্য রাখা হয়, কিছু পড়ে যায়। ভাঙাচোরা সড়কে যানবাহন চলাচলের সময় এসব উড়ে গিয়ে মানুষের নাকেমুখে ঢুকছে। এ ছাড়া চরম মাত্রার বায়ু দূষণ হচ্ছে। ২০২০ সালে ত্রিশাল ও ঢাকার সাভার বায়ু দূষণের রেকর্ড করেছিল। এবার তার চেয়েও বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।'এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, 'ধুলাবালুর কারণে শ্বাসনালি, অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস ও ফুসফুসে ক্যানসারসহ চর্ম রোগ হতে পারে। এখন ধুলাবালু বেড়ে যাওয়ায় এসব রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। বিশেষ করে শ্বাসজনিত রোগী বেশি আসছে। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হন। তবে যাঁরা জন্মগতভাবে শ্বাসকষ্টের রোগী, তাঁদের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে ধুলাবালু।'উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, 'এ সময় সাধারণত ধুলোবালি একটু বেশি থাকে। গুরুত্ব অনুসারে রাস্তার কাজ দ্রুত করা হবে। ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়ক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে করা হবে। আর ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে আপাতত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।'
6
২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত কর্ণফুলীর দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাতবার নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও সহযোগী সংস্থা। তবে এর একটিও বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের নেতারা।গতকাল সোমবার কর্ণফুলীতে নৌকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে বিষয়টি হাইকোর্টকে অবহিত করবেন তাঁরা।সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চৌধুরী ফরিদ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মনোকুমার দেব।সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম পেয়ার আলী, নির্বাহী সদস্য জাফর আহমদ, লোকমান দয়াল, জসিম উদ্দিন, এরাশাদ উল্লাহ প্রমুখ।সাংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১০ সালে মামলাটি দায়ের হওয়ার পর হাইকোর্ট কর্ণফুলী নদী ও তীর দখলকারী ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ২০১৪ সালে কর্ণফুলী তীর জরিপ করে ২ হাজার ১৮১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কর্ণফুলী নদী দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি হাইকোর্টকে অবহিত করে। জেলা প্রশাসন প্রতিবেদন দেওয়ার পর মামলা চলাকালীন সময়ে ২০১৬ সালে বিএস ১ নম্বর খতিয়ানের ৮৬৫১ দাগ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদী জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে ২০১৫ সালে ১৫ বছরের চুক্তিনামা দিয়ে লিজ দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, লিজ গ্রহীতারা কর্ণফুলী নদী দখল ও ভরাট করে মাছ বাজার ও বরফকল নির্মাণকালে তা বন্ধ রাখতে ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন এবং একই তারিখে চট্টগ্রাম সদর সার্কেল ভূমি এর সহকারী কমিশনার আছিয়া খাতুন বিএস ১ নম্বর খতিয়ানের ৮৬৫১ দাগের ১৪৭ দশমিক ১০ একর জায়গা কর্ণফুলী নদী হিসেবে চিহ্নিত করে উচ্ছেদ নোটিশ দিয়ে চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মুখ বন্ধ ও ভরাট করে জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ব্যানারে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়।
6
শুধু ঘুষ গ্রহণকারী নয়; ঘুষদাতাকেও সমান অপরাধী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।রোববার সকালে তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর বাসসের দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমনে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যে ঘুষ খাবে সেই কেবল অপরাধী নয়, যে দেবে সেও অপরাধী। এই বিষয়টা মাথায় রেখেই পদক্ষেপ নিলে এবং এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ হলে অনেক কাজ আমরা দ্রুত করতে পারবো।'এ সময় তার সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী উপার্জন অনুযায়ী ট্রাক্স প্রদানের বিষয়টিও লক্ষ্য রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'কে কত ট্যাক্স দিলো আর কে কত খরচ করলো তারও একটা হিসেবে নেয়া দরকার।'প্রধানমন্ত্রী যথাযথভাবে বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য মন্ত্রণালয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেন।তিনি বলেন, 'আমরা বাজেট দিয়েছি এবং উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছি। কিন্তু তা বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে প্রকল্প অনুযায়ী তাদের কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে।'এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়কে (পিএমও) বিষয়টির উপর লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'যেহেতু আমাদের একটা ভালো সেটআপ আছে তাই এই দপ্তর থেকেই এই বিষয়টা নিয়ে নজরদারি করা দরকার যাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়গুলো তাদের কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে পারে, আমাদের অর্জনগুলো আমরা ধরে রাখতে পারি।'শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বিশাল বাজেট পেশ করেছে এবং মন্ত্রণালয়গুলোকে অগ্রাধিকার নিয়ে তাদের ভৌত কাজ বন্যার পরই যাতে শুরু করা যায় সে লক্ষ্যে পেপার ওয়ার্ক শেষ করে দ্রুত উন্নয়ন কাজ করতে হবে।তিনি উল্লেখ করেন, প্রাকৃতিক নিয়মেই বাংলাদেশে বন্যা হবে এবং এ দেশের মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যার পরই বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজের গতি বাড়াতে হবে যাতে এসব প্রকল্প সঠিক সময়ে সম্পন্ন হয় এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে আরো সক্রিয় দায়িত্ব পালনের আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'প্রত্যেকটি এলাকায় একটু খোঁজ নেয়া দরকার আমরা সতর্ক করে দিয়েছি কোন এলাকায় কেউ গৃহহীন থাকবে না, কেউ ভিক্ষা করবে না। যেখানেই গৃহহীন থাকবে তাদের একটা ঘর করে দিতে হবে।'প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার 'ঘরে ফেরা' কর্মসূচি পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ' যারা ঘরে ফিরে যেতে চায় তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ হিসেবে আমরা বস্তিবাসীর উপর সার্ভে করেছিলাম। এই কাজগুলো আবার করতে হবে।' তিনি 'শান্তি নিবাস' এবং 'অবসর' কর্মসূচিও পুনরায় চালুর কথা বলেন।তার সরকার প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১ ভাগে উন্নীত করেছে এবং এরপর আরো যত উপরে ওঠার চেষ্টা করা হবে অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ীই তা দুরুহ হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় কাজের প্রতি সকলকে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেন।তিনি বলেন, 'এখন কিন্তু অত দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে না, অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ীই এটা হয়ে থাকে। আর এর থেকে যেন পিছিয়ে না যাই সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।'প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ড. মশিউর রহমান এবং ড.তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী,পিএমও'র এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো.নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বাংলাদেশে বৃষ্টি ও বন্যা হয় এবং এটা স্বাভাবিক। তবে, এতে জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি যেন কম হয় সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং বন্যা মোকাবেলায় আমরা যে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি সেটাও বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু ঘুষ গ্রহণকারী নয়; ঘুষদাতাকেও সমান অপরাধী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকালে তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর বাসসের দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমনে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যে ঘুষ খাবে সেই কেবল অপরাধী নয়, যে দেবে সেও অপরাধী। এই বিষয়টা মাথায় রেখেই পদক্ষেপ নিলে এবং এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ হলে অনেক কাজ আমরা দ্রুত করতে পারবো।' এ সময় তার সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী উপার্জন অনুযায়ী ট্রাক্স প্রদানের বিষয়টিও লক্ষ্য রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'কে কত ট্যাক্স দিলো আর কে কত খরচ করলো তারও একটা হিসেবে নেয়া দরকার।' প্রধানমন্ত্রী যথাযথভাবে বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য মন্ত্রণালয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, 'আমরা বাজেট দিয়েছি এবং উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছি। কিন্তু তা বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে প্রকল্প অনুযায়ী তাদের কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে।' এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়কে (পিএমও) বিষয়টির উপর লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'যেহেতু আমাদের একটা ভালো সেটআপ আছে তাই এই দপ্তর থেকেই এই বিষয়টা নিয়ে নজরদারি করা দরকার যাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়গুলো তাদের কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে পারে, আমাদের অর্জনগুলো আমরা ধরে রাখতে পারি।' শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বিশাল বাজেট পেশ করেছে এবং মন্ত্রণালয়গুলোকে অগ্রাধিকার নিয়ে তাদের ভৌত কাজ বন্যার পরই যাতে শুরু করা যায় সে লক্ষ্যে পেপার ওয়ার্ক শেষ করে দ্রুত উন্নয়ন কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাকৃতিক নিয়মেই বাংলাদেশে বন্যা হবে এবং এ দেশের মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গেই বসবাস করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যার পরই বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজের গতি বাড়াতে হবে যাতে এসব প্রকল্প সঠিক সময়ে সম্পন্ন হয় এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে আরো সক্রিয় দায়িত্ব পালনের আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'প্রত্যেকটি এলাকায় একটু খোঁজ নেয়া দরকার আমরা সতর্ক করে দিয়েছি কোন এলাকায় কেউ গৃহহীন থাকবে না, কেউ ভিক্ষা করবে না। যেখানেই গৃহহীন থাকবে তাদের একটা ঘর করে দিতে হবে।' প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার 'ঘরে ফেরা' কর্মসূচি পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ' যারা ঘরে ফিরে যেতে চায় তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ হিসেবে আমরা বস্তিবাসীর উপর সার্ভে করেছিলাম। এই কাজগুলো আবার করতে হবে।' তিনি 'শান্তি নিবাস' এবং 'অবসর' কর্মসূচিও পুনরায় চালুর কথা বলেন। তার সরকার প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১ ভাগে উন্নীত করেছে এবং এরপর আরো যত উপরে ওঠার চেষ্টা করা হবে অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ীই তা দুরুহ হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় কাজের প্রতি সকলকে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, 'এখন কিন্তু অত দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে না, অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ীই এটা হয়ে থাকে। আর এর থেকে যেন পিছিয়ে না যাই সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।' প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ড. মশিউর রহমান এবং ড.তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী,পিএমও'র এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো.নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। বাংলাদেশ পলিবাহিত ব-দ্বীপ হওয়ায় এর মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং ভূগর্ভন্থ পানির স্তর রক্ষায় বন্যার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'কিন্তু এর ক্ষতিটা আমাদের কমিয়ে আনতে হবে। যে কোন পরিকল্পনায় মাথায় রাখতে হবে বন্যা বন্ধ করে নয় বরং বন্যার সঙ্গে বসবাস করা আমাদের শিখতে হবে।' দেশে ডেঙ্গু সমস্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আরো সচেতন থাকার এবং এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, এবার শুধু আমাদের দেশেই নয়, আশপাশের অনেক দেশেই ডেঙ্গুটা দেখা গেছে। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে মহামারি আকারে যেমন ফিলিপাইনে মহামারি আকারে দেখা গেছে।প্রধানমন্ত্রী এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পিএমও এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোর প্রচেষ্টায় সন্তোষ প্রকাশ করে এ ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দেন।তিনি বলেন, নিজের ঘর-বাড়ি এবং কর্মস্থলের চারপাশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নিজেকে সচেতন হতে হবে। যাতে কোথাও পানি জমে এই রোগ সৃষ্টিকারী লার্ভা জন্মাতে না পারে।'প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনও এই রোগের প্রকোপ অনেকটা রয়ে গেছে এবং বিভিন্ন জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কাজেই এ ব্যাপারে আমাদের আরেকটু সতর্ক হতে হবে।দেশের মানুষকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের কাজটি নিজেই করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন, 'পাশ্চাত্য বিশ্বের অনেক কিছুই আমরা অনুকরণ করতে চাই। কিন্তু তারা যেভাবে নিজেদের কাজটা নিজেরা করে তা আমরা অনুকরণ করি না।'যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'যারা একদা বাংলাদেশের স্বাধীনতার শুধু বিরোধিতাই করে নাই তারা বলেছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে একটা বটমলেস বাস্কেট হবে। সেই দেশটার থেকেও যেন আমাদের দারিদ্রের হার কমাতে হবে।''তাদের চেয়ে অন্তত এক শতাংশ হলেও দারিদ্র কমাতে হবে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তারা উন্নত দেশ হতে পারে কিন্তু আমরা যে পারি সেটা আমাদের প্রমাণ করতে হবে' যোগ করেন তিনি।দারিদ্র বিমোচন এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে যেকোন কাজে তার কাছে যেকোন সময় যে কাউকে আসার অনুমতি দেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন,'আমাকে জনগণ ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী করেছে এটা ঠিক, কিন্তু আমি জাতির পিতার কন্যা কাজেই সেই হিসেবে, মনে করি দেশের প্রতি আমার একটা দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সেখানে প্রটোকলের বাধা আমি কখনও মানি না, মানতেও চাই না।'শেখ হাসিনা বলেন,' আমি চাই সকলের সাথে মিশতে, জানতে এবং কাজ করতে। আমরা সকলে একটা টিম হিসেবে কাজ করবো যাতে দেশের উন্নয়নটা ত্বরান্বিত হয়।'প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতে সকলকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়ে শোকের মাস এই অগাস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা এবং ১৫আগষ্টের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।৭৫ এর ১৫ই আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবার-পরিজন হারিয়ে এবং শোক ও ব্যথা নিয়ে জাতির পিতার আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে সরকারি সফরের উল্লেখ করে বলেন, চোখের চিকিৎসার কারণে তিনি এবার দীর্ঘদিন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, এবার শুধু আমাদের দেশেই নয়, আশপাশের অনেক দেশেই ডেঙ্গুটা দেখা গেছে। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে মহামারি আকারে যেমন ফিলিপাইনে মহামারি আকারে দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পিএমও এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোর প্রচেষ্টায় সন্তোষ প্রকাশ করে এ ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, নিজের ঘর-বাড়ি এবং কর্মস্থলের চারপাশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নিজেকে সচেতন হতে হবে। যাতে কোথাও পানি জমে এই রোগ সৃষ্টিকারী লার্ভা জন্মাতে না পারে।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনও এই রোগের প্রকোপ অনেকটা রয়ে গেছে এবং বিভিন্ন জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কাজেই এ ব্যাপারে আমাদের আরেকটু সতর্ক হতে হবে। দেশের মানুষকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের কাজটি নিজেই করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন, 'পাশ্চাত্য বিশ্বের অনেক কিছুই আমরা অনুকরণ করতে চাই। কিন্তু তারা যেভাবে নিজেদের কাজটা নিজেরা করে তা আমরা অনুকরণ করি না।' যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'যারা একদা বাংলাদেশের স্বাধীনতার শুধু বিরোধিতাই করে নাই তারা বলেছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে একটা বটমলেস বাস্কেট হবে। সেই দেশটার থেকেও যেন আমাদের দারিদ্রের হার কমাতে হবে।' 'তাদের চেয়ে অন্তত এক শতাংশ হলেও দারিদ্র কমাতে হবে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তারা উন্নত দেশ হতে পারে কিন্তু আমরা যে পারি সেটা আমাদের প্রমাণ করতে হবে' যোগ করেন তিনি। দারিদ্র বিমোচন এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে যেকোন কাজে তার কাছে যেকোন সময় যে কাউকে আসার অনুমতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,'আমাকে জনগণ ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী করেছে এটা ঠিক, কিন্তু আমি জাতির পিতার কন্যা কাজেই সেই হিসেবে, মনে করি দেশের প্রতি আমার একটা দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সেখানে প্রটোকলের বাধা আমি কখনও মানি না, মানতেও চাই না।' শেখ হাসিনা বলেন,' আমি চাই সকলের সাথে মিশতে, জানতে এবং কাজ করতে। আমরা সকলে একটা টিম হিসেবে কাজ করবো যাতে দেশের উন্নয়নটা ত্বরান্বিত হয়।' প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতে সকলকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়ে শোকের মাস এই অগাস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা এবং ১৫আগষ্টের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। ৭৫ এর ১৫ই আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবার-পরিজন হারিয়ে এবং শোক ও ব্যথা নিয়ে জাতির পিতার আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে সরকারি সফরের উল্লেখ করে বলেন, চোখের চিকিৎসার কারণে তিনি এবার দীর্ঘদিন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হন।
6
ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আইসিটি আইনের মামলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে কারাগারে পঠিয়েছেন আদালত। এর আগে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। সোমবার মামলার শুনানি শেষে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন এ আদেশ দেন বলে জানান পিপি সিরাজুল ইসলাম। জানা যায়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গত ২৩ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইফতেখারুল ইসলাম আয়াজ। আসামি পক্ষের আইনজীবী দুলাল লাল ভৌমিক বলেন, গত ৬ আগস্ট বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ তাকে আট সপ্তাহের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। এরপর তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল উচ্চ আদালতের আদেশটিতে। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম
1
স্টার জলসার পর্দায় আসছে নতুন ধারাবাহিক 'গুড্ডি'। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এই ধারাবাহিক। দেখা যাবে প্রতিদিন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। ধারাবাহিকের প্রোমো বেশ দর্শকপ্রিয় হয়েছে। প্রোমোতে পাহাড়ের সাধারণ এক মেয়ের গল্প দেখানো হয়েছে।কলেজপড়ুয়া মেয়ে গুড্ডির স্বপ্ন-পুলিশ অফিসার হওয়া। তাই সে যুক্ত হয়েছে কলেজের এন সি সি ইউনিটে। নিজের স্বপ্ন নিয়ে ভীষণ আবেগপ্রবণ গুড্ডি। পুলিশ অফিসার অনুজ চ্যাটার্জিকে সে রোলমডেল হিসেবে দেখে। এদিকে গুড্ডির স্কুলশিক্ষিকা শিরিনের সঙ্গে অনুজের সম্পর্কটা অনেক দিনের। গুড্ডির ইচ্ছে শিরিনের সঙ্গে বিয়ে হোক অনুজের। কিন্তু পরিস্থিতি ও ভাগ্য বদলে যায়। তৈরি হয় গল্পের নতুন বাঁক। চেনা-অচেনা এক ঝাঁক তারকার সমাহারে জীবনের জটিলতা ও স্বপ্ন পূরণের তাগিদের গল্প নিয়ে আসছে এই সিরিয়াল।গুড্ডির চরিত্রে অভিনয় করবেন শ্যামৌপ্তি মুদলি। কলকাতায় জন্ম তাঁর। ডাকনাম মিষ্টি। ছোটবেলা থেকেই নাচ শিখতেন। নাচের প্রতি আগ্রহই তাঁকে অভিনয়ে এনেছে। ২০১৭ সালে 'চোখের বালি' সিরিয়ালের মাধ্যমে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন শ্যামৌপ্তি। 'পটলকুমার গানওয়ালা', 'দাসী', 'করুণাময়ী রানী রাসমণি', 'বাজলো তোমার আলোর বেণু', 'ধ্রুবতারা'-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে কাজ করেছেন তিনি।শ্যামৌপ্তির বিপরীতে অনুজ চ্যাটার্জির চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা রণজয় বিষ্ণুকে। ছোট পর্দার বেশ পরিচিত মুখ তিনি। ইটিভি বাংলার 'সাঁঝবেলা' সিরিয়ালে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। এর পর 'রোশনি' ও 'দুই ভুবনের পারে' সিরিয়ালে তাঁর অভিনয় দেখা যায়। কিন্তু তারপর দীর্ঘদিনের জন্য তিনি সিরিয়াল থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। স্টার জলসার এই ধারাবাহিক দিয়ে তিনি নতুন করে পর্দায় ফিরছেন।
6
ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরুসহ ডাকসু ভবনে অর্ধশত ছাত্র নেতৃবৃন্দের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট স্টিয়ারিং কমিটির সভা থেকে জোটের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বছরের শেষে একদলীয় শাসনের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করে ছাত্র সমাজের উপর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের হামলার আমরা নিন্দা জানাই। এর আগে, বেলা ১২টার সময় জাতীয় কখন স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরাম নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ, দপ্তর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ। নুরুসহ ছাত্রদের উপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, সংবিধানেই বলা আছে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়ার কথা। এ সময় জেএসডি সভাপতি আসম রব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের নতুন দায়িত্ব দেয়ার পর আবরারকে হত্যা করা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের পর নতুন নেতৃত্ব আসার পর নুরুকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। এটা আওয়ামী লীগের চরিত্র। দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে আসম আব্দুর রব বলেন, আমরা আজকে জরুরি বৈঠকে বসেছি। সকল নেতৃবৃন্দ আসতে পারেনি। পরবর্তীতে আমরা আবারও বৈঠক করে আপনাদের বিস্তারিত জানাবো। বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব
6
নিজেদের সাবেক কর্মীদের স্টার্টআপ 'ডি টোয়েন্টিফোর লজিস্টিকস লিমিটেড'-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে গ্রামীণফোন। প্রতিষ্ঠানের সবার মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নতুন এ উদ্যোগকে কার্যকরভাবে সার্বিক সহযোগিতা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিকভাবে গ্রামীণফোনের জন্য ডেলিভারি ম্যানেজমেন্ট, নির্দিষ্ট ইনভেনটরি, আর্কাইভিং ও ডিসপোজাল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করবে ডি টোয়েন্টিফোর লজিস্টিকস।এ উপলক্ষে ২৬ অক্টোবর বসুন্ধরা এলাকার জিপি হাউসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গ্রামীণফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ইয়েন্স বেকার এবং ডি টোয়েন্টিফোর লজিস্টিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিয়াউল করিম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তি করেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার সৈয়দ তানভির হোসেন, ডিরেক্টর বিজনেস পার্টনার ও সার্কেল এইচ আর ইয়াসির মাহমুদ খান, হেড অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশন কে এম সাব্বির এবং প্রতিষ্ঠানটির হেড অব কমিউনিকেশনস খায়রুল বাশারসহ দুই প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মকর্তারা।
0
সংসদ নির্বাচনের তারিখ আরো পেছানোর দাবিতে আজ নির্বাচন কমিশনে কথা বলতে যাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিরোধীদের দাবির মুখে নির্বাচন ইতোমধ্যে এক সপ্তাহ পেছানো হয়েছে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বলছে, এটি যথেষ্ট নয়। সেই দাবি নিয়ে আজ নির্বাচন কমিশনে যাবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। নির্বাচন আরো পেছানোর পক্ষে তাদের যুক্তিগুলো কী? এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল গণফোরামের নেতা মোস্তাফা মহসীন মন্টু বিবিসিকে জানান, নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য শরিক দলগুলোর যে সময়টুকু দরকার সেটা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, "একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে গেলে প্রার্থীদের যার যার এলাকায় থাকা প্রয়োজন এবং কমপক্ষে এক মাস ধরে প্রচার ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করতে হয়।" তিনি বলেন, "প্রার্থীরা যারা আছেন তাদের সমর্থকদের বেশিরভাগই মামলা মোকদ্দমা নিয়ে ফেরারি হয়ে আছেন। সে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।" "এখানে হঠাৎ করে নির্বাচন কমিশন তফসিলটা ঘোষণা করলেন এরপর তারা মাত্র সাতদিন পেছালেন, আমাদের কিন্তু দাবি ছিল আরো একমাস পিছিয়ে দেয়া।" নির্বাচনের একটা সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে গেলে প্রার্থীদের প্রচার কাজে সহযোগিতা করা যেমন, লিফলেট বিতরণ, পোস্টার টানানো, তারপর মিছিল মিটিং করা - এসব নানা কাজের জন্য একটা পরিবেশ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনেরও একটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ বিষয়ে মোস্তাফা মহসীন মন্টু বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সাথে দুই দফা সংলাপে ড. কামাল হোসেন সংবিধানের মধ্যে দিয়েই নির্বাচনটা যে হতে পারে এবং নির্বাচনটা পেছানো যেতে পারে সেই ব্যাখ্যাগুলো দিয়েছেন।" আজ তারা যে কাগজটা নির্বাচন কমিশনে জমা দেবেন, সেখানে সেই বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করা আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে নির্বাচন কমিশন যদি ভোট গ্রহণের তারিখ না পেছায় তখন পরিবেশ পরিস্থিতি চিন্তা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান মোস্তাফা মহসীন মন্টু। তিনি বলেন, "নির্বাচনে আমাদের সাত দফা এবং ১১ দফা কর্মসূচি কিছুই তো মানা হয়নি। তারপরও কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমরা একটা নির্বাচন করার ইচ্ছা পোষণ করেছি।" "আমরা পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে, সবার সাথে আলোচনা করে যা সিদ্ধান্ত নেয়ার নেব।" তবে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে যে সমস্ত দাবিগুলো তোলা হয়েছে সেগুলো সরকারের ওপর এক ধরণের চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে তোলা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। এ প্রসঙ্গে মোস্তাফা মহসীন বলেন, "ভোটাধিকার ও তা প্রয়োগের মাধ্যমেই জনগণ যাচাই করে যে তারা কাকে সংসদে দেখতে চাইছে, কারা সরকার গঠন করবে, কারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। মানুষের এই সিদ্ধান্ত নিতে উপযুক্ত পরিবেশ দিতেই হবে।" "যদি সেই পরিবেশই না থাকে, মানুষ যদি ইচ্ছামতো ভোট দিতে না পারে, কার্যক্ষেত্রে যদি বাধা প্রদান করা হয়, বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমায় কর্মীদেরকে সরিয়ে রাখা হয়, তাহলে তো অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করতে করা যাবে না।"
9
খুলনা শিপইয়ার্ড এখন বেশ সমৃদ্ধ বলে উল্লেখ করে নৌবাহিনীর অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অব নেভাল স্টাফ (ম্যাটেরিয়াল) রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শফিউল আজম বলেছেন, এই শিপইয়ার্ড দেশীয় যুদ্ধজাহাজ তৈরির পাশাপাশি এখন বিদেশি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতেও সক্ষম। আজ সোমবার সকালে খুলনা শিপইয়ার্ডে নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধ জাহাজ লঞ্চিং অনুষ্ঠান শেষে শফিউল আজম সাংবাদিকদের বলেন, 'খুলনা শিপইয়ার্ডে বিদেশি নৌবাহিনীর জন্য যুদ্ধজাহাজ তৈরির সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। বিদেশে মার্কেটিং করার জন্যও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের বন্ধুপ্রতিম যেসব রাষ্ট্র আগ্রহ প্রকাশ করবে, অবশ্যই আমরা সেসব দেশকে বাংলাদেশের মতো যুদ্ধজাহাজ বা সমমানের অন্য ধরনের জাহাজ বানিয়ে দেব। আমরা আশাবাদী যে অদূর ভবিষ্যতে আমরা এ ধরনের কার্যক্রমে যাব।' নৌবাহিনীর এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, খুলনা শিপইয়ার্ডই নৌবাহিনীর জন্য প্রথম যুদ্ধজাহাজ তৈরি করেছে। এ ইয়ার্ড সাকল্য ৭৭৫টি জাহাজ নির্মাণ ও ২ হাজার ৩৬৩টি জাহাজ মেরামতের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য প্রথম ব্যাচে পাঁচটি প্যাট্রোল ক্রাফট (যুদ্ধজাহাজ) ও দুটি লার্জ প্যাট্রোল ক্রাফট তৈরি করে সফলভাবে হস্তান্তর করেছে। দ্বিতীয় ব্যাচে আরও পাঁচটি প্যাট্রোল ক্রাফট নির্মাণের চুক্তি করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রথম যুদ্ধজাহাজটি লঞ্চিং করা হলো। চলতি বছরের মধ্যে বাকি চারটি জাহাজ হস্তান্তর করা হবে। এর আগে সকাল ১০টার দিকে শফিউল আজম নৌবাহিনীর জন্য নির্মিত দ্বিতীয় ব্যাচের প্রথম যুদ্ধজাহাজটি লঞ্চিং (নির্মাণ শেষে পানিতে ভাসানো) করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে খুলনা নৌঘাঁটি তিতুমীর ও খুলনা শিপইয়ার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খুলনা শিপইয়ার্ডের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ৬৫ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল খুলনা শিপইয়ার্ড। আশির দশকের দিকে সেটি লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এরপর ১৯৯৯ সালের দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃতপ্রায় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন। এর পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ইয়ার্ডটি উন্নয়নশীল লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও গত ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি নিট মুনাফা করেছে ৪৩ দশমিক ২২ কোটি টাকা। নতুন তৈরি যুদ্ধজাহাজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য তৈরি করা নতুন যুদ্ধজাহাজটির নাম বানৌজা শহীদ দৌলত। এটি একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এর আকার আয়তন অপেক্ষাকৃতভাবে কিছুটা ছোট হলেও এর সক্ষমতা অধুনা বিশ্বে ব্যবহৃত স্টেট অব দ্য আর্ট টেকনোলজি-সংবলিত অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এই জাহাজে রয়েছে আধুনিক সামরিক সক্ষমতা। রয়েছে একটি ৪০-৬০ মিলিমিটারের বফরস গান ও দুটি ১২ দশমিক ৭ মিলিমিটারের মেশিনগান। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৫১ দশমিক ৬৫ মিটার ও প্রস্থ ৭ দশমিক ৫০ মিটার আর গভীরতা ৪ দশমিক ২০ মিটার। ৩০৭ টন ওজনের ওই জাহাজে দুটি ইঞ্জিন রয়েছে, যার প্রতিটির শক্তি ৩ হাজার ৪১ হর্স পাওয়ার। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২১ নটিক্যাল মাইল। চায়না ক্ল্যাসিফিকেশন সোসাইটি (সিসিএস) জাহাজটি নির্মাণে সার্বিক সহায়তা করেছে।
6
আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চরম নাজুক হওয়া সত্ত্বেও দেশটিতে আফিম ব্যবসা নিষিদ্ধ করেছে তালেবান। তবে অবৈধ এই ব্যবসার উপর নির্ভরশীল লাখ লাখ কৃষকের জন্য সরকার কী করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। রবিবার (৩ এপ্রিল) তালেবান জানিয়েছে যে, আফগানিস্তানে আফিম গাছ চাষ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। হিরোইনের মতো নিষিদ্ধ মাদক তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে আফিম ব্যবহার করা হয়। আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে চাষের মৌসুমে এমন ঘোষণা দিল দেশটির শাসকগোষ্ঠী। এই নির্দেশ অমান্য করা কৃষককে কারাদণ্ড এবং তার উৎপাদন করা আফিম গাছ পুড়িয়ে ফেলা হবে বলেও জানিয়েছেন এক তালেবান মুখপাত্র। গত বছর আগস্টে তালেবান কাবুল দখলের পর দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা আরও করুণ হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো সেদেশে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। ফলে চাকরি হারিয়েছেন অনেক সরকারি এবং বেসরকারি কর্মী। মানবিক সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশটিতে অনেক মানুষের অভুক্ত থাকতে হতে পারে। কেননা অনেকে খাবার কেনার সামর্থ্য হারাবেন। এদিকে, আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, আফিম নিষিদ্ধ করার পর কৃষকদের জন্য বিকল্প খুঁজতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল সালাম হানাফি। প্রসঙ্গত, গোটা বিশ্বের মধ্যে আফিমের সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে আফগানিস্তান। জাতিসংঘের মাদক এবং অপরাধ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে আফিমের চাহিদার ৮০%-এর বেশি আসে এশিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি থেকে। এই খাত থেকে দেশটির বাৎসরিক আয় ১.৬ বিলিয়ন ইউরো। উল্লেখ্য, এর আগে ক্ষমতায় থাকার সময় ১৯৯৪ সালের শেষের দিকে আফগানিস্তানে আফিম চাষ নিষিদ্ধ করেছিল তালেবান। তবে ২০০১ সালে মৌলবাদী গোষ্ঠীটিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হয়।
3
লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলায় 'বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অগ্রগতির মূল শক্তি' এই স্লোগানকে ধারণ করে দু'দিন ব্যাপী বিজ্ঞান মেলা বুধবার দুপুরে রায়পুর মার্চেন্টস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিজ্ঞান মেলায় ২২টি স্কুল থেকে ৩৮টি স্টল অংশগ্রহণ করছে এবার। এ উপলক্ষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম সাইফুল হকে'র সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মারুফ বিন জাকারিয়া ও বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মাইনুদ্দিন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন রায়পুর এল.এম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহাবুবুর রহমান, মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামছুদ তাওহীদ, লুধুয়া এমএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন, রায়পুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মঞ্জুর কাদের, কাজির দিঘির পাড় সমাজ কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজামউদ্দিন, রায়পুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শংকর মজুমদার ও সাংবাদিক এবং শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখ। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
6
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-২০ টুর্নামেন্ট ২০১৯ এর উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সন্ধ্যা সাতটার একটু আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে তিনি এই টি-২০ ক্রিকেট আয়োজনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। টি-২০ এই টুর্নামেন্ট ভালোভাবে শেষ হয় সেই আশা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু বিপিএল উদ্বোধন ঘোষণার পরপরই আতশবাজির ফোয়ারায় বর্ণিল হয়ে ওঠে মিরপুরের আকাশ। বিবিপিএলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি প্রায় পাঁচ ঘণ্টার, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানটি দুই ভাগে ভাগ করা হয়। দেশের শিল্পীরা পরিবেশন করছেন অনুষ্ঠানের প্রথমাংশ। 'দি রকস্টার' ব্যান্ডের মঈনুল ইসলাম খান শুভকে দিয়ে পারফরম্যান্স শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে রেশমি মির্জা, জেমস সংগীত পরিবেশন করছেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব ভারতীয় শিল্পী সনু নিগমের সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। ক্যাটরিনা কাইফ ও সালমান খানের পারফরম্যান্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানের শেষ আকর্ষণ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা গান 'শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি... বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ।' পরিবেশন করবেন সনু নিগম।
12
আন্তর্জাতিক মানের তথ্যপদ্ধতি তথা ফরমায়েশি সফটওয়্যার সরবরাহের মাধ্যমে এক যুগ ধরে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি তথা গোটা শিল্প খাতে অবদান রাখছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান স্যুবরা সিস্টেমস লিমিটেড। ২০০৮ সালে তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ শফিউল আজমের হাত ধরে যাত্রা শুরু হয় স্যুবরার। ২০০০ সালে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পড়াশোনা শেষ করে এই খাতে প্রতিষ্ঠান তৈরির স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ লক্ষ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং বা ইআরপি সফটওয়্যার উন্নয়নের মাধ্যমে কাজ শুরু করে স্যুবরা। স্যুবরা থেকে ২০০৯ সালে তৈরি করা হয় ক্যাপিটাল মার্কেটের ব্যাক অফিস সলিউশন। ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ লিমিটেডে ব্যবহার করা হয় সে সফটওয়্যার। এরপর আর ফিরে দেখতে হয়নি। একে একে সফলভাবে ৩৭টি সফটওয়্যার তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্যুবরার উল্লেখযোগ্য সেবার মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদনপ্রাপ্ত ভ্যাট সফটওয়্যার, অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার, ইনভেনটরি ম্যানেজমেন্ট, এইচ আর অ্যান্ড পেরোল, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ফান্ড, এন্টারপ্রাইজ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট, ডায়াগনস্টিক ম্যানেজমেন্ট, এলসি ম্যানেজমেন্ট, গার্মেন্টস প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট, লেদার গুডস প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট, বুককিপিং সলিউশন, ক্লাব ম্যানেজমেন্ট, কিউ ম্যানেজমেন্ট, সেন্ট্রাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট, বায়োমেট্রিক সলিউশন। বর্তমানে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাপান, ইংল্যান্ড, সৌদি আরব এবং কানাডায় সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে স্যুবরা। শিগগিরই মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রেও সেবা দেবে তারা। সাতজন কর্মী নিয়ে শুরু করা স্যুবরাতে বর্তমানে ৬৫ জন কর্মী রয়েছেন। স্যুবরা সিস্টেমস লিমিটেড ২০১৪ সালের জুন মাসে বিজনেস প্রসেস অ্যানালাইসিস এবং করপোরেট গভর্নেন্সের ওপর গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে লক্ষ্য নির্ধারণ করে। গবেষণার কাজে সংযুক্ত হন নাজমুল হোসেন সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীর কবির, সাইফুল্লাহ আল আজাদ, মামুন সিরাজুল মাজিদ এবং মাসুম রানা। এ ছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন সুমন চৌধুরী এবং কাজী হানিফ। ২০১৮ সালে গাজীপুরে ১১ বিঘা জমিতে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য আর অ্যান্ড ডি সিটির কাজ শুরু করেছে স্যুবরা।
0
ফেরি সংকট ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া প্রান্তে প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে তৈরি হয়েছে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ লাইন। ফলে ফেরির নাগাল পেতে ট্রাকচালকদের ২-৫ দিন সময় লাগছে। এছাড়া, যাত্রীবাহী যানবাহনের যাত্রীদেরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শত শত যাত্রীবাহী পরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাককে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া প্রান্ত সড়কে প্রায় ৪ কিলোমিটার এবং ঘাট থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরের গোয়ালন্দ মোড় সড়কে ৪ কিলোমিটারসহ প্রায় আট কিলোমিটার সড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী পরিবহন। এদিকে, আটকে থাকা গাড়িচালক, সহকারী ও বাসের যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সময় মতো মালামাল পরিবহন করতে না পারায় পরিবহন খরচের পাশাপাশি চালকদের খরচ বাড়ছে। সড়কের ওপর শুয়ে বসে অলস সময় পার করছেন তারা। আবার সড়কে খোলা আকাশের নিচে খাবার, গোসল ও টয়লেটের কোনো ব্যবস্থাও নেই তাদের জন্য। ট্রাকচালক ইকরাম সরদার ও আমিনুল ইসলাম জানান, তারা গতকাল এসে গোয়ালন্দ মোড়ের সড়কে আটকে পড়েছেন। এখান থেকে ঘাট প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। ফেরি পেতে চার থেকে ৫ দিন লাগতে পারে। এতে তাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ঠিকমত গোসল, টয়লেট, খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। ট্রাকচালক ও সহকারীরা ভোগান্তি লাঘবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ যাত্রীবাহী যানবাহন ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করলেও অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট সহকারী ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। যাত্রীবাহী যানবাহন ও ছোট গাড়ি পারাপার চলমান রয়েছে। কয়েকশ' পণ্যবাহী ট্রাক সিরিয়ালে রয়েছে। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী পরিবহন ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার করা হচ্ছে। এ রুটে বর্তমানে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে।
6
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ট্রাকচাপায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। শনিবার দুপুরে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সাতবর্গ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আদা ঐরের এলাকার মিঠু রায় চৌধুরীর স্ত্রী শান্তা রায় চৌধুরী (৩০), একই উপজেলার হালুয়াপাড়ার মিসির আলীর ছেলে আবু তাহের (৬০) ও বিল্লাল উদ্দিন (৪০)। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা হবিগঞ্জের মাধবপুরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামীর ট্রাক সিএনজিটি চাপা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা বিল্লাল উদ্দিন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শান্তা রায় চৌধুরী ও আবু তাহেরকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন- ফয়সাল মিয়া (২৫), ফারজিনা (২০) ও জুম্মান (২৮)। খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হোসেন সরকার জানান, ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
6