text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
নানামুখী চাপের মুখে পড়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার তিনি প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। এর আগে তিনি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পার্লামেন্টে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটির সময় তাঁর দলের কেউ যাতে অংশ না নেন, সেই নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তবে সমর্থন পেতে একটি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন ইমরান। দেশটির নাম তিনি জানাননি। এদিকে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর আজও আলোচনা শুরু করা যায়নি। গত সোমবারের পর আজ বিকেল চারটায় জাতীয় পরিষদে অধিবেশন শুরু হয়। কিন্তু শুরুর কয়েক মিনিটের মাথায় আগামী রোববার পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি। ওই দিনই অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হতে পারে। অধিবেশনের শুরুতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাবর আওয়ান অধিবেশন মুলতবির আবেদন জানানোর পর তা কার্যকর করা হয়। তবে বিরোধীরা গতকালই ভোটাভুটির আবেদন জানান। তারকা ক্রিকেটার ইমরান ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাঁকে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও দিন দিন বাড়তে থাকা ঘাটতির জেরে ইমরানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সমালোচনার মুখে পড়েছে। এ ছাড়া সামরিক বাহিনীর সঙ্গে টানাপোড়েনের কথাও শোনা যাচ্ছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যে গত ২৮ মার্চ জাতীয় পরিষদে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন বিরোধী দলের নেতারা। মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তানসহ (এমকিউএম-পি) কয়েকটি দল ইমরান সরকারের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় বিরোধীরা এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে দাবি করা হচ্ছে। গতকাল প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিরোধী পক্ষে এখন পর্যন্ত ১৭৭ জন আইনপ্রণেতা রয়েছেন। এ ছাড়া ইমরানের দল পিটিআইয়ের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে পারেন এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে অন্তত ১৭২ ভোট প্রয়োজন হয়। পরিষদে মোট আসনসংখ্যা ৩৪২টি। ইমরান খানের দাবি, সরকারের পতন ঘটাতে 'বিদেশি চক্রান্ত' রয়েছে। গত রোববার ইসলামাবাদে এক বিশাল জনসভায় একটি কাগজ দেখিয়ে সেটাকে 'বিদেশি চক্রান্তের নথি' বলে দাবি করেন ইমরান। গতকাল বুধবার মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকেও ওই নথিটি দেখানো হয়। ওই বৈঠকে সদ্য জোট ত্যাগ করা এমকিউএম-পি ও বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির (বিএপি) সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁরা উপস্থিত হননি। ইমরান খানের গদি নড়বড়ে অবস্থায় আজ তিনি জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইমরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, ষড়যন্ত্রকারী দেশটির বিরুদ্ধে 'শক্তিশালী রাজনৈতিক পদক্ষেপ' নেবে কমিটি। তবে দেশটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাম এসেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার কথা অস্বীকার করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ইমরান। এর আগে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ইমরান একাধিক বৈঠক করেছেন বলে বুধবার দাবি করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। জিও নিউজের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, কথিত ওই চিঠি প্রকাশ করলে পিটিআইয়ের অনেক সদস্য ও ক্ষমতাসীন জোটের অনেক দল অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে বলে মনে করছেন ইমরান খান। | 3 |
ঢাকা: একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ৪ টি। আরেকজনের অভিজ্ঞতা ১টি ম্যাচ খেলার। সেই ইমরান উজ্জামান ও শামীম হোসেনই এই বৃষ্টিস্নাত দিনের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়ও আজ ঘাম বের করলেন দুই তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদের। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) আজ সাভারে বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে দুই তরুণের ব্যাটিংয়েই উড়ে গেছে সাকিবের মোহামেডান। ২২ রানে হেরে এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচে হার দেখল লিগের 'হেভিওয়েট' দল মোহামেডান।সকাল থেকেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। ৯০ মিনিট পর খেলা শুরু হলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসে ৬ ওভারে। বৃষ্টি দেখেই কিনা মোডামেডান অধিনায়ক টস জিতে ব্যাটিংয়ে পাঠান প্রাইম দোলেশ্বরকে। সাকিবের সিদ্ধান্তকে 'ভুল' প্রমাণ করে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন প্রাইম দোলেশ্বরের দুই ওপেনার। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ইমরান লিগের শুরু থেকেই ওপেনিংয়ে নামছেন। আজ তাঁর সঙ্গে নামিয়ে দেওয়া হলো এর মধ্যেই হার্ড হিটার হিসেবে পরিচিত পেয়ে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার শামীম হোসেনকে। দুজনে ৩.৫ ওভারেই স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলেন ৬৮ রান। ১৪ বলে ৫ ছক্কা ও ২ চারে ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ইমরান আউট হলেও শামীম ছিলেন অবিচল। ইরফানের চেয়ে ঝড় তোলায় কিছুটা পিছিয়ে থাকা শামীম অপরাজিত ছিলেন ১৬ বলে ২৯ রানে।ঝড়টা বেশি বয়ে গেছে সাকিব ও তাসকিনের ওপর দিয়ে। মোহামেডানের হয়ে প্রথম ওভারটা করেন তাসকিন। ওই ওভারেই দুই ছক্কা ও এক চারে দিয়েছেন ১৮ রান। সেই ঝড় থামাতে দ্বিতীয় ওভারেই সাকিব আসলেও কোনো লাভ হলো না। সাকিবের ওভারেও দুই ছক্কা, ১ চারে আসে ১৭ রান। পরে চতুর্থ ওভারে সাকিব বোলিংয়ে এসে ইমরানকে ফেরালেও ওই ওভারেও দেন ১০ রান। দুই তরুণের ঝড়ে নির্ধারিত ৬ ওভারেই ৭৮ রান তোলে প্রাইম দোলেশ্বর।বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় মোহামেডান। লিগে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা শফিউল ইসলাম ইনিংসের শুরুর প্রথম তিন বলেই দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও শুভাগত হোমকে ফেরালে ধুঁকতে থাকে মোহামেডান। সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি। সাকিব চেষ্টা করলেও (১৪ বলে ২২) সেটি জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না মোহামেডানের। ২২ রানে হেরে টানা দ্বিতীয় হার দেখল মোহামেডান। | 12 |
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজীবাজারে ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট কাজ করছে।আগুনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শিমুল মোহাম্মদ রাফি। তিনি বলেন, আজ রোববার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।তবে প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ ও হতাহতের কোনো তথ্য তিনি জানাতে পারেননি। | 6 |
জলবায়ুসহিষুষ্ণ ফসলের জাত ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনই কৃষি খাতের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম। সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, করোনাকালেও বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা অটুট ছিল। সেই সঙ্গে কৃষিপণ্য এবং উপকরণ বিক্রিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহার বেড়েছে। এর মধ্যেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অতিবৃষ্টির প্রভাব পড়েছে কৃষিতে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে সামনের দিনগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ আরও বাড়বে। আগামীতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে সৃষ্ট বিপদ থেকে দেশকে রক্ষা করতে কৃষির ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। তা না হলে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে ভয়াবহ বিপদে পড়তে পারি আমরা। এ জন্য চাই কৃষি খাতে উন্নত প্রযুক্তি, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার এবং গবেষণা বাড়ানো। এক কথায়, টেকসই আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা।
মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন বিভিন্ন দেশের কৃষি খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের কৃষিতেও এর বিরাট প্রভাব পড়বে। অথচ নিকট অতীতেও আমাদের দেশ ছিল কৃষিনির্ভর। এখনও শ্রমশক্তির ৪০ শতাংশের বেশি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের প্রধান খাদ্য ভাত, মাছ, ডিম ও মাংসতে স্বনির্ভর হওয়া গেছে। কিন্তু এখনও দেশের বহু মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার পায় না। ফলে সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য টেকসই কৃষির অগ্রগতির বিকল্প নেই। আগামীতে একটি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হলে শুধু উন্নত কৃষি উৎপাদন নয়, উন্নত পুষ্টি ও উন্নত পরিবেশও নিশ্চিত করা আবশ্যক।
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের এ বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিনা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শুরু থেকেই বিনার প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারসহ প্রচলিত প্রজনন পদ্ধতি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ফসলের (ধান, গম, তৈলবীজ, ডাল, আঁশ ফসল) স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন উচ্চফলনশীল, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও ঘাতসহিষুষ্ণ জাত উদ্ভাবন। এ ছাড়া পুষ্টিসমৃদ্ধ নানা জাত উদ্ভাবন করেছে বিনা। কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর জন্য বিনার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ উদ্ভাবিত জাত সারা দেশে চাষ হচ্ছে। বিভিন্ন জাতের বীজ বিনামূল্যে ও অল্প মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকরাও বিনার উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাত চাষে ব্যাপক আগ্রহী হচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'সিলেকশনের মাধ্যমে যেটা ভালো পারফর্ম করে, সেটা নিয়ে গবেষণা করি। এ ছাড়া ফিজিক্যাল মিউটেশনে গামা রেডিয়েশন দিই। কেমিক্যাল মিউটেশনে ইথেন, মিথেন, সালফেনামাইড দিয়ে ভেতরে জেনেটিক্যাল লেভেলে পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন ভ্যারাইটি আনার চেষ্টা করি। গবেষণার ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত উচ্চফলনশীল ১১৯টি জাত উদ্ভাবন হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ জাত চাষ হচ্ছে। আমরা জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নে গবেষণা করছি। এতে উৎপাদন প্রতিনিয়ত বাড়ছে।'
তিনি জানান, বিনা উদ্ভাবিত লবণসহিষুষ্ণসহ অনেক জাত মাঠপর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। এতে কৃষকরাও উপকৃত হচ্ছেন। পাহাড়ের ফল সমতলে চাষ, শীতের ফল গ্রীষ্ফ্মের আবহাওয়ায় চাষ, বারোমাসি বিভিন্ন ফলের জাতে উদ্ভাবনের ফলে কৃষকরা উৎসাহ নিয়ে এসব ফসল চাষ করছেন। দেশের কৃষি খাতকে গতিশীল করার জন্য বিনার গবেষণামূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনাকে মাঠপর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বিনার প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। দেশে কৃষি বিপ্লবের জন্য বিনা যে অবদান রেখেছে, তিনি তা বিশেষভাবে স্মরণে রেখেছেন। কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে, এ লক্ষ্যেই বিনা কাজ করছে।
সবার আন্তরিকতায় বিভিন্ন ফসলের ঘাতসহিষুষ্ণ উন্নত জাত চাষাবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিনার মহাপরিচালক। তিনি বলেন, বিনা উদ্ভাবিত জলবায়ু চাপ সহনশীল বিভিন্ন প্রযুক্তি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ইতিবাচক অভিযোজক হিসেবে কাজ করছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষিকে টেকসই অবস্থানে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন ধারাবাহিক গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও স্থানান্তর।
মির্জা মোফাজ্জল ইসলামের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই কঠিন সময়ে জাতি হিসেবে আমাদের নিরলস পরিশ্রমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের জ্ঞানগত, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক অবদান এখন সময়ের দাবি। বিভিন্ন ফসলের আরও ঘাত সহনশীল জাত উন্নয়নে জোর দিতে হবে। উন্নত প্রযুক্তিকে কৃষকের হাতের নাগালে রাখার জন্য তা সহজলভ্য করতে হবে। এর মাধ্যমেই আমরা সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবো। | 5 |
কক্সবাজারের উখিয়ায় ৫০ হাজার ইয়াবাসহ তিন যুবককে আটক করেছে র্যাব-১৫। বুধবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।আটককৃতরা হলেন-থাইংখালীর ধামনখালী এলাকার মোহাম্মদ ছৈয়দের ছেলে মোহাম্মদ মোবারক (১৮), উত্তর রহমতেরবিল এলাকার মোহাম্মদ মফিজের ছেলে সরওয়ার আলম (২২) এবং একই এলাকার মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২১)।কক্সবাজার র্যাব-১৫ 'র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অ্যান্ড অপারেশনস) আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, টেকনাফ-কক্সবাজার সড়ক হয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ইয়াবা পাচার হবে এমন গোপন সংবাদ ছিল। পরে র্যাব সদস্যরা উখিয়ার থাইংখালী বাজার সংলগ্ন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে। একপর্যায়ে কক্সবাজার অভিমুখী একটি সিএনজিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। সিএনজিটি সংকেত অমান্য করে গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে সিএনজি থেকে তিন যুবককে আটক করলেও আরও দুজন পালিয়ে যায়। এসময় আটককৃতদের কাছ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব। | 6 |
ইরানকে মোকাবেলা করার জন্য আমেরিকা নতুন করে পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জন সি স্টেইনিস এবং তার সঙ্গে কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ বর্তমানে ভারত মহাসগর পাড়ি দিচ্ছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে তা পারস্য উপসাগরে পৌঁছাবে। মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর দিয়েছে। এ খবর যদি সত্যি হয় তাহলে গত আট মাসের মধ্যে এই প্রথম আমেরিকা পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পদক্ষেপ নিল। গত দুই দশকের মধ্যে এটাই সবচেয়ে দীর্ঘসময় যখন পারস্য উপসাগরে আট মাস ধরে আমেরিকার কোনো বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ছিল না। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি প্রভাবের সরাসরি জবাব দিতে আমেরিকা যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে। অবশ্য এ জাহাজ থেকে ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে চলমান সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পারবে মার্কিন জঙ্গিবিমান।সূত্র : পার্স টুডে | 3 |
ঢাকা শহর থেকে বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণ বন্ধ চেয়ে অভিনেত্রী জয়া আহসানের করা রিটটি আদালতের কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নাসিম ইসলাম। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য বলেন, যেহেতু সিটি করপোরেশন এখন আর কুকুর অপসারণ করছে না, সেহেতু রিটের কার্যকরণ নেই। তাই রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানিয়েছেন, তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছেন। আপাতত কুকুর অপসারণের সিদ্ধান্ত নেই। যদি কখনও অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাহলে রিটকারী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে কুকুর অপসারণের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি অবহিত করা হলে আদালত কুকুর অপসারণ নিয়ে রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন। রাজধানী থেকে বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যক্রম বন্ধ চেয়ে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর অভিনেত্রী জয়া আহসান, প্রাণী কল্যাণ সংগঠন অভয়ারণ্য ও পিপলস ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার সম্মিলিতভাবে রিটটি দায়ের করেন। | 6 |
দারিদ্র্যের কশাঘাতে লেখাপড়া মাধ্যমিকেই থেমে যায় চৌগাছার আজিজুর রহমানের। বেকার ঘুরে বেড়ানো কিশোর আজিজুর পেটের দায়ে দিনমজুরের কাজ করতে থাকেন।একপর্যায়ে বাড়ির পাশের আখের রস বিক্রেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমানের পরামর্শে তিনিও আখ চাষ শুরু করেন। এখন তিনি সেই আখ চাষেই স্বাবলম্বী হয়েছেন।আজিজুর চৌগাছা পৌরসভার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাড়া (কুঠিপাড়া) গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে এখন সুখে দিন কাটান। প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন পাকা বাড়ি। সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চান আজিজুর।গত শনিবার আজিজুরের আখখেতে গিয়ে দেখা যায়, তিনিসহ আরও কয়েকজন আখ কেটে পরিষ্কার করছেন। তাঁদের একজন স্থানীয় সবজি চাষি শামছুল আলম এবং দুই সহোদর যশোর সদর উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও সোহাগ হোসেন। তাঁরা প্রতি সপ্তাহে দুবার আখ কিনে নিয়ে গিয়ে রস বিক্রি করেন। আর পাতা সংগ্রহ করছিলেন আজিজুরের খেত থেকে। প্রায় ১৫ বছর ধরে আখের পাতা নিয়ে গরু-ছাগল পালন করেন সবুরা খাতুন।আজিজুর বলেন, '২০০২ সালের দিকে দিনমজুরি করে অনেক কষ্ট করেও সংসার চালাতে পারছিলাম না। তখন চৌগাছা বাজারে আখের রস বিক্রি করতেন বাড়ির পাশের বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান। তাঁর কাছে দুঃখের কথা বললে তিনি আখের রস বিক্রির পরামর্শ দেন। তাঁর পরামর্শে ধারদেনা করে হাতে চালানো একটি আখ চাপা মেশিন নিয়ে রস বিক্রি শুরু করি। তিনি পরামর্শ দেন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের পতিত জমি ইজারা নিয়ে নিজেই আখ চাষ করতে। তখন ওই জমি ইজারা নিয়ে আখ চাষ করতে শুরু করি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আখের খেতে পরিচর্যা করি আর দুপুরের পর থেকে শহরে আখের রস বিক্রি করি। এভাবেই চলতে থাকে। আজিজুর বলেন আগে হাতে চাপা মেশিনে চেপে রস বিক্রি করতাম। এখন মোটরচালিত মেশিনে চেপে রস বিক্রি করি।'অজিজুর বলেন, 'শুরুতে এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছিলাম। এখন সোয়া পাঁচ বিঘা জমিতে আখ চাষ করি। চাষের আখ নিজে রস করে বিক্রি এবং আখও বিক্রি করি। যশোর সদর উপজেলার ছিলিমপুরের সাইফুল ও সোহাগকে দেখিয়ে তিনি বলেন এরা সপ্তাহে দুদিন খেত থেকে আখ কিনে নিয়ে যান। নিজেদের এলাকায় রস বিক্রি করেন।'আজিজুর বলেন, 'রস বিক্রি করে কয়েক শতক জমি কিনে সেই জমিতে প্রায় পনের লাখ টাকা খরচ করে ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণ করেছি। তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে এবার স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। ছোট মেয়ে অষ্টম শ্রেণি এবং একমাত্র ছেলে শিশু শ্রেণিতে পড়ছে।'আজিজুর রহমান বলেন, 'এক বিঘা জমিতে বছরে ৫০০ মণের বেশি আখ উৎপাদন হয়। শীতের শুরুর দিকে ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি শুরু হয়। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। প্রতি বিঘা জমি ১৩ হাজার ৫০০ টাকা বাৎসরিক ইজারা নিয়ে আখ চাষ করি। আখের চারা, চাষ, সার, কীটনাশক স্প্রে ও জমি ইজারা, আখ কাটা মজুরিসহ এক বিঘা জমিতে বছরে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আখ একবার রোপণ করলে দুই বছর উৎপাদন হয়। বছরে ৫০০ মণ আখ উৎপাদন হয় এবং গড়ে ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে পারলে প্রথম বছরে এক বিঘা জমির আখে দুই লাখ টাকা লাভ হয়। পরের বছরের লাভ হয় আরও বেশি।'তবে আজিজুরের দুঃখ, উপজেলা কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তা তাঁর খোঁজ নেন না।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, 'কোনো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেউ এমন লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নিরাপত্তা সহায়তা হিসেবে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ বরাদ্দের কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। আজ শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করার পর ইউক্রেনকে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয় ওয়াশিংটন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে নিরাপত্তাসহায়তা বরাদ্দ করা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাসহায়তা প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, গোলাবারুদ, নাইট-ভিশন ডিভাইস, কৌশলগত সুরক্ষিত যোগাযোগব্যবস্থা, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং খুচরা যন্ত্রাংশ।পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত রাশিয়ার পছন্দের যুদ্ধকে প্রতিহত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অটুট সমর্থনও নির্দেশ করে এই নিরাপত্তা সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত।'হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে, গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে পরস্পরের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে পূর্ব ইউরোপে ইউক্রেন ও ন্যাটো মিত্রদের মানবিক ও সামরিক সহায়তার জন্য ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল পাস করেছে মার্কিন কংগ্রেস। সেই বিল পাসের কিছুক্ষণ পরেই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনে নিরাপত্তা সহায়তার জন্য ১ বিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেন।যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে যে সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে, তার একটি বড় অংশ তার নিজস্ব মজুত থেকে দিয়েছে। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দিয়েছে তা 'প্রেসিডেনশিয়াল ড্রডাউন' নামে পরিচিত। সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী শুক্রবার ঘোষিত ৩০ কোটি ডলার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বিভাগ পাবে। | 3 |
চট্টগ্রামের মুরাদপুরে নালায় পড়ে নিখোঁজ সালেহ আহমদের ছেলে সাদেকুল্লাহ মাহিনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে চাকরি দিয়েছেন মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে মেয়র অফিস কক্ষে চাকরির কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক।জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট বৃষ্টির পানির স্রোতে নগরীর মুরাদপুরে পা পিছলে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের মনসা গ্রামের ব্যবসায়ী ছালেহ আহমদ। নিখোঁজ হওয়ার পর ছালেহ আহমদের বাসায় গিয়ে পরিবারকে সান্ত্বনা দেন সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম। এ সময় তিনি ছালেহ আহমদের পরিবার থেকে একজনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে ছালেহ আহমদের একমাত্র ছেলে সাদেকুল্লাহ মাহিনকে চসিক পরিচালিত সিএনজি ফিলিং স্টেশনে চাকরি দিয়েছেন মেয়র।এ ব্যাপারে সাদেকুল্লাহ মাহিন বলেন, মেয়র আমার পরিবারকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা রেখেছেন। আগামী ১ নভেম্বর চাকরিতে যোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।মাহিন আরও বলেন, বাবাকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের দুসময়ে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী পাশে দাঁড়িয়েছেন। এর জন্য আমার পরিবার তাঁর কাছে চির কৃতজ্ঞ।চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক বলেন, মেয়র মহোদয় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা পালন করেছেন। আমার ডিপার্টমেন্ট মাহিনকে চাকরি দিয়েছেন। | 6 |
খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানার আলমগর এলাকায় মহুয়া খাতুন (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।তিনি খুলনা নর্দান ইউনিভার্সিটির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী এবং বাগেরহাট সদর থানা এলাকার শাহাদাত হোসেনের মেয়ে। খালিশপুর থানার এসআই মো. শওকত আলী জানান, পরিবারের সদস্যদের প্রতি অভিমান করে মঙ্গলবার দুপুর ও রাতে মহুয়া কিছু খাননি। রাতে ঘরের দরজা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। বুধবার সকাল গড়িয়ে দুপুরে হলেও দরজা না খোলায় ডাকাডাকি করেন পরিবারের সদস্যরা। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এসআই শওকত আরও জানান, মহুয়ার মা মারা যাওয়ার কিছুদিন পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর নানীর বাড়ি খালিশপুরে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বাবার সঙ্গে মনমালিন্যের কারণে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন তিনি। তারশরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদকে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবেই তিনি বিবেচনা করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাষ্ট্র পরিচালনা এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ আমার কাছে যতটা না মূল্যবান তার চাইতে এইটা একটা বড় সুযোগ জনকল্যাণের এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের'। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন।তিনি বলেন,'আমি মানুষের সেবায় এবং দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি । বাংলাদেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে, ইনশাল্লাহ।'প্রধানমন্ত্রী বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার-পরিজন এবং মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মানে সেনানিবাসের মাল্টি পারপাস কমপ্লেক্সে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন। সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো.মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমদ এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর ১০১ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং ৭জন বীরশ্রেষ্ঠের ঘনিষ্ট পরিবার-পরিজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেল এবং এটি একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন,'বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই আজকে আমরা এই সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি এবং বিশ্বের বহু দেশ এখন বাংলাদেশ অনুকরণ করতে চাইছে।'শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং তাঁর সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে উন্নয়নের এই গতিকে অব্যাহত রাখা।তিনি বলেন,'আমরা অবশ্যই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হব এবং অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি এবং কেউই এই গতিকে রুখতে পারবে না, ইনশাল্লাহ।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ একটি স্বাধীন দেশ এবং লক্ষ্য প্রাণের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি।তিনি বলেন,'বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ, এই স্বাধীনতা কখনই ব্যর্থ হতে পারে না। আমরা দেশের প্রত্যেকটি ঘরে স্বাধীনতার এই সুফলকে পৌঁছে দিতে চাই এবং এই দেশের আর কোন মানুষ দরিদ্র থাকবে না, অনাহারে কষ্ট পাবে না।'বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষণের অংশ 'আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না'র উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশকে আর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।' | 9 |
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে সরকারদলীয় প্রার্থী বর্তমান সাংসদ আবদুল হাইয়ের ব্যবসার অবস্থা ভালো না। আগে বছরে ৩৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা আয় করলেও বর্তমানে আয় হচ্ছে মাত্র ৫ লাখ টাকা। কৃষি খাতে তাঁর কোনো আয়ই বাড়েনি। তবু এবার তাঁর ও স্ত্রীর হাতে নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে কয়েক গুণ। এর মধ্যে সাংসদের হাতে নগদ ১ কোটি ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৬৬১ টাকা, আর স্ত্রী গৃহিণী মোছাম্মৎ সেলিনা পারভিনের হাতে ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০১৪ সালে আবদুল হাইয়ের হাতে নগদ টাকা ছিল ৬ লাখ টাকা, আর তাঁর স্ত্রীর হাতে ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ১৬৭ টাকা। হিসাব অনুযায়ী সাংসদের এই ৫ বছরে নগদ টাকা বেড়েছে ২০ গুণ, আর স্ত্রীর বেড়েছে ৫ গুণ। ৫ বছর আগেও কৃষি খাতে সাংসদের বার্ষিক আয় ছিল ২৫ হাজার টাকা, এখনো সেই পরিমাণই রয়েছে। এই খাতে কোনো আয় বাড়েনি। অবশ্য উল্লেখিত সময়ে সাংসদ হিসেবে আবদুল হাইয়ের সম্মানী বেড়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তিনি সাংসদ হিসেবে সম্মানী পেয়েছেন বছরে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৭৭ টাকা। আর বর্তমানে সাংসদ হিসেবে পাচ্ছেন বছরে ২৫ লাখ ১২ হাজার ১৬৪ টাকা। হিসাব অনুযায়ী, এই খাত থেকে তিনি গত সংসদের ৫ বছরে পেয়েছেন ৭২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৮৫ টাকা। আর বর্তমান সংসদে পেয়েছেন ১ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার ৮২০ টাকা। গত সংসদে ৫ বছর দায়িত্ব পালনকালে ওই টাকা পাওয়ার পরও তাঁর হাতে নগদ টাকা ছিল মাত্র ৬ লাখ টাকা। আর এবার ১ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার ৮২০ টাকা পেয়েও হাতে নগদ আছে ১ কোটি ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৬৬১ টাকা। হলফনামায় ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় সাংসদ উল্লেখ করেছিলেন, তাঁর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ টাকা। ওই সময়ে স্ত্রীর নামে কোনো জমা না থাকলেও এবার তাঁর নামে ২ লাখ টাকা জমা দেখানো হয়েছে। আগে তাঁর একটি জিপ গাড়ি ছিল। এবার সাড়ে ৪ লাখ টাকার আরেকটি প্রাইভেট কার যুক্ত হয়েছে। ২০১৪ সালে সাংসদের নিজের ছিল ২০ ভরি স্বর্ণালংকার আর তাঁর স্ত্রীর ছিল ৩০ ভরি। গত ৫ বছরে দুজনের কোনো স্বর্ণালংকার বাড়েনি। হলফনামায় তাঁর স্ত্রীর ৩০ ভরি স্বর্ণালংকারের সবই উপহার হিসেবে পাওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে। | 9 |
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও নিজেদের অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে পাকিস্তান। মাঠের পারফরম্যান্স, খেলার পর বিনয়ী আচরণে ক্রিকেটভক্তদের মন জিতেছেন দেশটির ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানের ছোট ছোট শিশুদের নতুন আদর্শের নাম এখন বাবর আজম।অস্ট্রেলিয়ার কাছে শেষ চার থেকে বিদায় নিলেও বাবরদের খেলা মন কেড়েছে আট বছরের খুদে ভক্ত হারুন সুরিয়ার। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের নিয়ে গর্বের কথা জানিয়ে সবার অটোগ্রাফ চেয়ে বাবর আজমকে একটি চিঠিও লিখেছে সে। হারুনের চিঠির উত্তরে বাবর আজম যা লিখেছেন তা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।হারুনের চিঠিটি টুইটারে পোস্ট করেছিলেন পাকিস্তানি সাংবাদিক আলিনা শিগরি। আলিনার পোস্টটি রি-টুইট করে উত্তরে বাবর লিখেছেন, 'চ্যাম্পিয়ন, আমাদের চিঠি লেখায় তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তোমার ওপর আমার ভরসা আছে এবং আমি বিশ্বাস করি তুমি তোমার বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম আর লক্ষ্য দিয়ে যেকোনো উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে।'পাকিস্তান দলের সবার অটোগ্রাফের ব্যবস্থা করে দেবেন বলেও খুদে ভক্তকে আশ্বাস দিয়েছেন বাবর, 'তুমি তোমার অটোগ্রাফ পেয়ে যাবে। আমি কিন্তু ভবিষ্যৎ অধিনায়কের অটোগ্রাফ পাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।'এবারের বিশ্বকাপে বাবরের নেতৃত্বগুণ ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মন কেড়েছে। ব্যাটিংয়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, প্রায় সব ম্যাচেই তার অধিনায়কত্ব ছিল প্রশংসনীয়। নেতৃত্বে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, সব ঠিক থাকলে পাকিস্তানের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হওয়ার যোগ্যতা বাবরের আছে বলে নিজের কলামে লিখেছেন ভারত কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার। | 12 |
প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কৃষকের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে নবান্ন উৎসবের আমেজ।সোনালি ফসল ঘরে তুলে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।নতুন ধানের আটা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি ও ক্ষীর তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামীণ নারীরা।সাদ্দাম হোসেন, ঠাকুরগাঁওঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কৃষকের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে নবান্ন উৎসবের আমেজ। সোনালি ফসল ঘরে তুলে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। বাজারে ধানের দাম বাড়তি থাকায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন চাষিরা। কৃষকপাড়ায় পিঠা-পুলি তৈরির ধুম পড়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরা নবান্ন উৎসব পালনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। নতুন ধানের আটা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি ও ক্ষীর তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামীণ নারীরা।সদর উপজেলার নারগুন গ্রামের কৃষাণী সালেহা বেগম বলেন, প্রতিবছরই আমরা নবান্ন উৎসব পালন করার চেষ্টা করি। চলতি বছর আমন ধানের ফলন ও দাম ভালো থাকায় আমরা খুশি।একই গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, কয়েক বছর ধরে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহেই নবান্নের আয়োজন করা হয়। পাশের বিলপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল খায়ের বলেন, একই দিনে গ্রামের সবাই মিলে নবান্ন উৎসবের আয়োজনে খুব মজা হয়। নবান্নের দিনে নতুন ধানের পিঠা-পায়েসসহ ভালো খাবারের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিশেষ প্রার্থনা করা হবে, যাতে আগামী দিনেও মহাধুমধামের সঙ্গে নবান্ন উৎসব উদ্যাপন করতে পারি। আখানগর ইউনিয়নের কৃষক সাহাবউদ্দিন জানান, তিনি ইতিমধ্যে পাঁচ বিঘা জমির ধান কেটেছেন। ফলন খুবই ভালো হয়েছে বলে জানান। ওই এলাকার মাজেদুর রহমান বললেন, বৃষ্টি ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হলেও শেষ মুহূর্তে ফলন ভালোই হয়েছে।ঠাকুরগাঁও সরকারি রিভারভিউ স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তি আশরাফ উল আলম আজকের পত্রিকাকে জানান, নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ। কিন্তু নবান্নের এই উৎসব আমাদের জীবন থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, এবার জেলার পাঁচটি উপজেলায় এক লাখ ৩৭ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে ধান কাটা-মাড়াই পুরোদমে চলছে। বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে কৃষকেরা অনেকটাই খুশি। বাজারে মোটা ধান এক হাজার ৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে এলাকার কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষকেরা নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছেন। জেলাজুড়ে কৃষক পরিবারে চলছে আনন্দের জোয়ার। | 6 |
রিতাপা ফোন করেই জানতে চেয়েছিলেন সারা দিন কী করেছি, ঈদ কীভাবে পালন করেছি। সত্যি বলতে কি, ওর ফোনের পরই জানতে পেরেছিলাম যে সেদিন ঈদ ছিল, সিডনির বাঙালিরা ঈদ পালন করেছে। সিডনিতে ওটাই ছিল আমাদের প্রথম ঈদ।আজ থেকে ২৭ বছর আগের গল্প এটা। সেদিন সন্ধ্যায় ছেলের বাবা কাজ থেকে ফিরে কাছের ইন্ডিয়ান দোকান থেকে প্রয়োজনীয় বাজার করেছে, রাতেই পোলাও-মাংস, সেমাই রেঁধেছি, ঈদ পালন করেছি, একাকী, শুধুই নিজেরা। মাত্র কয়েক শ বাঙালির সেদিনের সিডনি আজ অনেক বদলে গেছে, বাঙালির সংখ্যা বেড়েছে। পরিচিত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বাঙালিরা এখন চাঁদরাতে মেলার আয়োজন করে। রমজানে ইফতার উৎসব করে। চাঁদ কোথায় দেখা গেল, সেটা নিয়ে বিতর্ক হয়। খালি চোখে চাঁদ দেখা না গেলে ঈদ উদ্যাপন করা যাবে কি না, সেই বিতর্ক হয়। সৌদি আরব কবে ঈদ করবে সেটা আলোচনা হয়, আরও কত-কী!এখন আর ইন্ডিয়ান দোকানে যেতে হয় না, অনেক বাঙালি দোকান। কালিজিরা কিংবা চিনিগুঁড়া চাল, খেজুরের গুড়, হলুদের গুঁড়া, কৌটায় আদা-রসুন বাটা, সবকিছুই পাওয়া যায়, আর ইউটিউবের কল্যাণে সবকিছুর রেসিপি।সিডনিতে এখন অনেক বাঙালি। ঘটা করে ঈদ উৎসব হয়। বেশ কয়েকটা ঈদ জামাত হয়। ছেলেরা দেশের মতো করে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে ঈদ-জামাতে যায়। আমি পছন্দের শাড়ি পরি, লালটিপ দিই, কন্যা কখনো কখনো সালোয়ার-কামিজ পরে। লুচি, সবজি ভাজি, সেমাই-পায়েস দিয়েই সকালটা শুরু হয়। দুপুরে পোলাও-মাংস কিংবা কাচ্চি বিরিয়ানি। আর বিকেলে বাঙালি বন্ধু-আত্মীয়দের বাসায় বেড়াতে যাওয়া। অনেকেই আবার হাতে বানানো গরম-গরম লুচি আর সবজির স্বাদ নিতে আমাদের আতিথ্য গ্রহণ করেন।উৎসবের আনন্দটা বড় বেশি অন্তর্নিহিত, বাইরে কী হচ্ছে তা বড় ব্যাপার নয়, মন কীভাবে সাড়া দেয় সেটাই মুখ্য, ভেতরটা কীভাবে আন্দোলিত হচ্ছে, সেটাই আসল। ঈদ আমার কাছে এমনই। সারাটা দিন অকারণেই ভালো লাগে। সব খাবারেই মায়ের হাতের রান্নার সেই স্বাদ ফিরে আসে, ছোটবেলার মতো বন্ধুদের সঙ্গে পাড়া বেড়াতে ইচ্ছে হয়। আজকাল নাকি বাংলাদেশের বিত্তবানেরা ঈদের ছুটিতে বিদেশে যায়, কোলাহল থেকে দূরে চলে যায়। আর আমার মন বারবার দেশের মাটিতে ফিরে আসে, আজিমপুরের সেই ছোটবেলায় ফিরে আসে।আমাদের সন্তানেরা হয়তোবা আমাদের মতো করে ঈদ আনন্দে উদ্বেলিত হয় না, বিশেষ করে যারা এই সিডনিতে বড় হচ্ছে। ওদের অনুভূতি-আবেগ একটু অন্য রকম, পরিবেশ পারিপার্শ্বিকতা সমাজ বাস্তবতা একটু আলাদা, উৎসবের ভাবনাটা বড় বেশি সাদামাটা কিংবা অস্পষ্ট। দোষ দেওয়ার কিছু নেই, চারাগাছ অন্য মাটিতে রোপণ করেছি, গোলাপের রং একটু অন্য রকম হতেও পারে।অস্ট্রেলিয়ায় ঈদে কোনো সরকারি ছুটি নেই। সমস্যা শুরু হয় তখনই যখন ঈদ কোনো কর্মদিবসে পড়ে। নিরন্তর চেষ্টা চলে এক দিন এগিয়ে কিংবা পিছিয়ে ছুটির দিনে ফেলার। আর তা না হলে উৎসবের দ্বিতীয় অধ্যায় ওই ছুটির দিনেই শুরু হয়।নতুন জুতার মনে হয় আলাদা একটা গন্ধ আছে। আমার ছোটবেলায় তেমনটাই মনে হতো। ঈদের আগে বাবা ঢাকার নিউমার্কেটের বাটার দোকান থেকে এক জোড়া লাল রঙের ফিতেওয়ালা জুতা কিনে দিতেন, ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত ওটা লুকিয়ে রাখতাম, মাঝে মাঝে গন্ধ শুঁকতাম। নতুন জুতায় প্রায়ই পায়ে ফোসকা পড়ত, কিন্তু কখনো কষ্ট পেয়েছি মনে হয় না। সিডনিতে ছেলেমেয়েকে ঈদে নতুন জামাকাপড়-জুতা কিনে দিতে চেয়েছি। নতুন পোশাক যে উৎসবের অংশ এরা তা বুঝতে চায় না, কিনতে চায় না, আবেগহীন অনুভূতি।সিডনি বদলে গেছে, বদলে যাচ্ছে। রমজানে সুপার মার্কেটে এখন খোরমা খেজুর বিক্রি হয়, দামি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ঈদ মোবারক লেখা ব্যানার ফেস্টুন দেখা যায়, আমাদের সন্তানেরা বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ধর্মচর্চা সম্বন্ধে জানতে চায়, আগ্রহ প্রকাশ করে। এখন আর সেই ২৭ বছর আগের, ঈদ ভুলে যাওয়া ঈদ নেই। | 5 |
এবার জাপানে থাকা ছোট মেয়েকে হাইকোর্টে হাজির করানোর নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক ইমরান শরীফ। পাশাপাশি এ রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ছোট মেয়েকে তার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশনাও চেয়েছেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে দুই মেয়েকে হাজিরের পর এখন গুলশানের একটি ভাড়া বাসায় দিন-রাত পাল্টাপাল্টি করে এরিকো ও শরীফ মেয়েদের দেখাশোনা করছেন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে দু'টি রিট শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত রয়েছে। এরিকোর আইনজীবী শিশির মনিরের তথ্য মতে, ২০০৮ সালের ১১ জুলাই জাপানি নাগরিক ডা. এরিকো নাকানো (৪৬) ও বাংলাদেশি আমেরিকান নাগরিক শরীফ ইমরান (৫৮) জাপানি আইনানুসারে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা টোকিওতে বসবাস শুরু করেন। ১২ বছরের সংসারে তিনটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। তারা হলো-জেসমিন মালিকা (১১), লাইলা লিনা (১০) এবং সানিয়া হেনা (৭)। এরিকো পেশায় একজন চিকিৎসক। তিন মেয়ে টোকিওর চফো সিটিতে অবস্থিত আমেরিকান স্কুল ইন জাপানের (এএসজেআই) শিক্ষার্থী ছিল। ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি ইমরান তার স্ত্রী এরিকোর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের (ডিভোর্স) আবেদন করেন। এরপর ২১ জানুয়ারি ইমরান স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তার মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু তাতে এরিকোর সম্মতি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ তার প্রস্তাব নাকচ করে। পরে স্কুলবাসে বাড়ি ফেরার পথে বাস স্টপেজ থেকে ইমরান তাদের বড় দুই মেয়ে জেসমিন ও লিনাকে অন্য একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। চারদিন পর ২৫ জানুয়ারি ইমরান তার আইনজীবীর মাধ্যমে এরিকোর কাছে সন্তানদের পাসপোর্ট হস্তান্তরের আবেদন করেন। কিন্তু এরিকো তা প্রত্যাখ্যান করেন। এর মধ্যে ২৮ জানুয়ারি এরিকো টোকিওর পারিবারিক আদালতে তার সন্তানদের জিম্মার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়ে মামলা করেন। আদালত ৭, ১১ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক সাক্ষাতের আদেশ দেন। ইমরান আদালতের আদেশ ভঙ্গ করে মাত্র একবার মায়ের সঙ্গে দুই মেয়ের সাক্ষাতের সুযোগ দেন। এদিকে ৯ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ইমরান তার মেয়েদের জন্য নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন পাসপোর্ট নেন। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি দুই মেয়ে জেসমিন ও লিনাকে নিয়ে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। ৩১ মে টোকিওর পারিবারিক আদালত এরিকোর অনুকূলে জেসমিন ও লিনার জিম্মা হস্তান্তরের আদেশ দেন। পরে ছোট মেয়ে সানিয়া হেনাকে মায়ের কাছে রেখে ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলংকা হয়ে বাংলাদেশে আসেন। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
করোনাভাইরাসের কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ থেকে এবার ৫৭ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজে যেতে পারবেন। কিন্তু খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই সংকটে পড়েছেন। এর মধ্যেই ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সরকারি খরচে তিনজন করে হজে পাঠানোর আবদার করেছেন। সরকারি খরচে এবার হজে যেতে পারছেন কমপক্ষে ৮০০ জন। এদের মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ডাক্তার, নার্স ছাড়াও বিভিন্ন পেশার লোকজন থাকবেন। এজন্য সরকারের মোট খরচ পড়বে অন্তত ৪০ কোটি টাকা। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেছেন, সংসদীয় কমিটির বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তারা ১০ জনের প্রত্যেককে "দুস্থ কোটায়" তিন জন করে পাঠাতে চান। বাকি যারা সরকারি খরচে যাবেন তারা নানা সেবামূলক কাজে যাচ্ছেন। আরও পড়ুন-হজের নিবন্ধন শুরু ১৬ মে এবার সরকারিভাবে হজে যেতে প্যাকেজ-১ এ পাঁচ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ এবং প্যাকেজ-২ এ চার লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা খরচ হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে খরচ ধরা হয়েছে চার লাখ ৫৬ হাজার ৬৩০ টাকা। সর্বশেষ ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন হজযাত্রীরা। তখন প্যাকেজ-১ এ চার লাখ ১৮ হাজার ৫০০ এবং প্যাকেজ-২ এ খরচ ধরা হয়েছিল তিন লাখ ৪৪ হাজার টাকা। তাই এবার সরকারি-বেসরকারি সব প্যাকেজেই এক লাখ টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। খরচ বাড়ার কারণ হিসেবে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১৯ সালে সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার ছিল ২৩ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৪ টাকা ৩০ পয়সা। সৌদি আরব হজ পর্বের সকল খাতের ওপর ১৫% ভ্যাট, সার্ভিস চার্জ, কর অন্তর্ভুক্ত করেছে। মোয়াচ্ছাছার (সৌদি আরবে মোয়াল্লেমদের সংগঠন) খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। বাড়ি ভাড়া বেড়েছে। হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, "সৌদি আরবের দিকে সব খরচই বেড়ে গেছে। হোটেল ভাড়া বাড়ার কারণ হলো করোনাভাইরাসের কারণে এবার রুম শেয়ারিং-এ লোকের সংখ্যা কমানো হয়েছে। আগে এক রুমে চার জন থাকলে এখন দুইজন করা হয়েছে। ভাড়াও বেড়েছে। মোয়াল্লেম ফি ও এক্সট্রা মোয়াল্লেম ফি বেড়েছে। বিমান ভাড়াও বেড়েছে।" আরও পড়ুন-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে লাগবে ৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ২০১৯ সালে ৬৭ হাজার হজযাত্রী টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ১৩ হাজার এরইমধ্যে টাকা ফেরত নিয়েছেন। এবার তাই হজে যাচ্ছেন সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন হজে যাচ্ছেন। নতুন কোনো নিবন্ধন হবে না। হজের জন্য বাড়তি অর্থ জমা দিতে এখন অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন। সেরকমই একজন নরসিংদীর মাওলানা আবু আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, "দুই বছর ধরে আমর টাকা সরকারের কাছে জমা ছিল। এখন আরও টাকা দিতে কষ্ট হচ্ছে। তারপরও যেহেতু হজের নিয়ত করেছি তাই কষ্ট করে হলেও টাকা জোগাড় করছি। সরকার চাইলে সাবসিডি বা বিমান ভাড়া কমিয়ে দিতে পারত। আর সরকারি খরচে প্রয়োজনের বাইরে লোক না পাঠিয়ে সেই টাকা এখানে দিলে আমাদের খরচ কমত।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, তিনি বাড়তি খরচের কারণে তার টাকা তুলে নিয়েছেন। তার পক্ষে অতিরিক্ত খরচ বহন করা সম্ভব নয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ অণু বিভাগ) মো. মতিউল ইসলাম বলেন, "সৌদি আরবে সব ধরনের সার্ভিসের ওপর আগে ভ্যাট ছিল শতকরা ৫%। এবার ১৫% করায় মূলত খরচ বেড়ে গেছে। আর মোয়াল্লেমসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ফলে মোট খরচ বেড়েছে। আমাদের দেশে কোনো ভর্তুকির ব্যবস্থা না থাকায় আমরা তাদের কোনো সহযোগিতা করতে পারছি না। আর যারা আগে নিবন্ধন করেছেন তারাই যেতে পারছেন। কোটা কম থাকায় সবাই হজে যেতে পারছেন না।" হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, "সরকার চাইলে বিমান ভাড়ায় ভর্তুকি দিতে পারত। আমাদের পাশের দেশ ভারতে সাবসিডি দেয়। ইন্দোনেশিয়া হজ নিয়ে আলাদা ব্যাংক করেছে। ফলে সেখানে খরচ কম পড়ে। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দিলে খরচ যাই হোক একটা সময় পর ওই অর্থেই হজে পাঠায়।" আরও পড়ুন-'নিবন্ধন করলেও এ বছর হজে যেতে পারবেন না ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা' ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেন, "এবার পর্যাপ্ত সময় না থাকায় শেষ মুহূর্তে আমাদের হজের কাজ শেষ করতে হচ্ছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও আমরা অনেক কিছু করতে পারছি না। আর সাবসিডির ব্যবস্থা না থাকায় এবার বেশি খরচেই হজযাত্রীদের হজে যেতে হচ্ছে।" এবার সরকারি খরচে কমপক্ষে ৮০০ জন হজে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রহুল আমিন মাদানি। তিনি বলেন, "তার মধ্যে আমাদের কমিটির আমরা ১০ জন সদস্য তিনজন জন করে মোট ৩০ জনকে পাঠানোর জন্য বলেছি। এলাকার লোকজন যেতে চায়, তাই আমরা এই সুবিধা চেয়েছি। কিন্তু সেটা হবে কি-না জানি না।" তিনি বলেন, "ওই ৮০০ জনের মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ডাক্তার, নার্স ছাড়াও বিভিন্ন খাতের লোকজন রয়েছেন। গরিব লোকদেরও কোটা আছে।" সংসদীয় কমিটির পছন্দের ৩০ জনকে পাঠালে সরকারের খরচ হবে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, "হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, সহায়তাকারী পাঠাতে হয়। এবারও পাঠানো হবে। এর বাইরে দুস্থদের কোটা আছে। দুস্থ কোটায় সংসদীয় কমিটির ১০ জনের প্রত্যেকে তিনজন করে পাঠাতে চান। আমি প্রথমে না বলেছি। তবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। দেখি কী করা যায়।" আরও পড়ুন-এ বছর হজের প্রথম ফ্লাইট ৩১ মে গরিবদের হজ করা ফরজ কী-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, "না এটা এমন ব্যক্তিদের জন্য যারা অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, দেশের জন্য অনেক করেছেন কিন্তু হজে যাওয়ার ইচ্ছে পূরণ হয়নি অর্থ না থাকার কারণে।" এদিকে ভারতে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও মোট কত খরচ হবে তা এখনও জানানো হয়নি। এক লাখ ২০ হাজার রুপি দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে বলেছে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়। পশ্চিমবঙ্গ হজ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে হজে যেতে তিন-চার লাখ রুপি লাগতে পারে। তিনি আরও জানিয়েছেন, আগে ভারতে হজযাত্রীদের সাবসিডি দিতো সরকার। এখন আর দেওয়া হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবার ছয় হাজার ৩০০ জন হজে যেতে পারবেন। ভারতের সব রাজ্যেরই কোটা আছে। | 6 |
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন নয়, বরং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অস্থিতিশীল ও প্রশ্নবিদ্ধ এবং নির্বাচন সম্পর্কে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট করতেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সৃষ্টি করা হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মৌচাক মোড়ে ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংযোগ কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় সমাজকল্যাণমন্ত্রী মেনন এ কথা বলেন। মেনন বলেন, বিএনপি-জামায়াত জানে তারা সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থন পাবে না। তাই ওই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যাতে প্রশ্ন সৃষ্টি হয় এবং তা নিয়ে দেশে অশান্তি জিইয়ে রাখা যায়, তার জন্য তারা মাঠ গরম রাখতে চাচ্ছে। এসব চক্রান্ত প্রতিরোধ করে নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন ও নির্বাচনে সুস্পষ্ট জনরায় নিয়ে আসতে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের সব নেতা-কর্মীকে কাজ করতে হবে। গণসংযোগ শুরুর আগে একাত্তরের মার্চের প্রথম শহীদ ফারুক ইকবালের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।গণসংযোগে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম আশরাফ তালুকদার, সাবেক কমিশনার ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক সেকেন্দার আলী, শাহজাহানপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুকিত হাওলাদার প্রমুখ। | 9 |
দেশে এই মুহূর্তে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবছর ২৬ লাখ টন ইউরিয়া লাগে, টিএসপি সাড়ে ৭ লাখ টন, ডিএপিপি সাড়ে ১৬ লাখ টন, এমওপি সাড়ে ৭ লাখ টন লাগে। আজ পর্যন্ত আমাদের মজুদে কোনো সমস্যা হয়নি। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী। কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরই অর্থবছরের শেষে আমরা আগামী অর্থ বছরের জন্য কি পরিমাণ সার প্রয়োজন সেটি নির্ধারণ করি। এই বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য কি ধরনের নীতি বা কৌশল নেবো। যাতে করে কৃষি উৎপাদন কোনোক্রমে বাধাগ্রস্ত না হয়। সার নিয়ে আমাদের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। সার না পেয়ে ১৯৯৫ সালে ১৮ জন কৃষককে জীবন দিতে হয়েছে। তারা কোনো সাহায্যে চায়নি, তারা শুধু ন্যায্যমূল্যে সার চেয়েছিল এজন্য তাদের রক্ত দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, এরপর ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫সহ প্রায় প্রতিবছর সারের সংকট হয়েছে। ডিলারদের কারসাজিসহ সবকিছুর মধ্যেই ত্রুটি ছিল। ফলে সার সংগ্রহ ও বিতরণে চরম অব্যবস্থাপনা ছিল। তবে বর্তমান সরকার তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনা করছে। খাদ্য নিরাপত্তা আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মন্ত্রী জানান, আমাদের অর্থনীতির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে একটি হলো কৃষি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষির গুরুত্ব অতীতেও ছিল, আগামীতেও থাকবে। দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের জীবিকা কোনো না কোনোভাবে কৃষির সাথে জড়িত। এজন্য সারের বিষয়টি অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখি। প্রধানমন্ত্রী সে নির্দেশ দিয়েছেন সার ব্যবস্থাপনা যাতে কোনো সমস্যা না হয়। সার নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি বলেন, করোনা মহামারী ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন উপকরণ ও কাঁচামাল শিপিং নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। তাই বলা হচ্ছে সারা বিশ্বে খাদ্য ঘাটতির সমস্যা দেখা দেবে। কানাডার মতো দেশে মানুষ লাইন ধরে রুটি কিনছে, কাউকে ৫ লিটারের বেশি ভোজ্যতেল দেয় না। এই পরিস্থিতিতে আজকের সভাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কৃষির উৎপাদন আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে, কোনোক্রমেই আমরা বিদেশের উপর নির্ভরশীল না হই। ড. রাজ্জাক বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই সারের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে সারের দাম বাড়েনি। আজকে আমরা সংগ্রহের পরিমাণ সমান রেখে দাম ঠিক রেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এটাই মূল কথা। ৩০ হাজার কোটি টাকা সার সংগ্রহ করতে এ বছর দিতে হবে। আগামী বছর পরিস্থিতি কি হবে আমি জানি না। কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে দীর্ঘক্ষণ পর্যালোচনা করেছি সার নিয়ে। এপর্যন্ত মজুদ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপিপি বেশি আছে। ইউরিয়া যেটুকু দরকার সেটাই আছে। তবে সামনে কি হবে সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। এসময় শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম, কৃষি সচিব মো: সাইদুল ইসলাম ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : ইউএনবি | 0 |
ইউরোপ 'অগ্রহণযোগ্য ধীরগতিতে' করোনার টিকাদান কর্মসূচি চালাচ্ছে বলে নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ ছাড়া করোনার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সম্প্রতি ফ্রান্স করোনার সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে নতুন করে সেখানে বিধিনিষেধ জারি করেছে। ইউরোপ করোনার তৃতীয় ঢেউ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক হ্যান্স ক্লুগ বলেছেন, 'মহামারি থেকে বের হতে টিকা সেরা পথ। তবে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম অগ্রহণযোগ্য ধীরগতির। আমাদের অবশ্যই উৎপাদন বাড়িয়ে টিকাদান কর্মসূচির গতি বাড়াতে হবে, টিকাদানের প্রশাসনিক বাধা দূর করতে হবে এবং গচ্ছিত প্রতিটি ভায়াল ব্যবহার করতে হবে।' ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পক্ষ থেকে টিকাদানের ধীরগতির জন্য সরবরাহ সমস্যাকে দায়ী করা হয়। তবে ইউরোপের কিছু দেশে সংক্রমণ বাড়লেও টিকা দেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। অন্যদিকে, টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও বায়োএনটেক আশার আলো দেখাচ্ছে। তারা বলছে, করোনাভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকান ধরনটির বিরুদ্ধে তাদের টিকা অত্যন্ত কার্যকর। তরুণদের মধ্যে টিকার উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফলের পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে শিশুদের টিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার আশা করছে, টিকা মানুষকে আবার স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে নিতে পারবে। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা মহামারিতে ইতিমধ্যে বিশ্বের ২৮ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছেন। এএফপি, কোপেনহেগেন | 3 |
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দুর্ঘটনাকবলিত তেলবাহী ট্রেন উদ্ধার ও রেললাইন মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে ট্রেন উদ্ধার ও লাইন মেরামতের পর দীর্ঘ ২৩ ঘন্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁওয়ে জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুতের ঘটনায় শনিবারই ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ৭ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, দুটি ইঞ্জিন ও ব্রেকারসহ ২৭টি ওয়াগন নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করে ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেন। শনিবার দুপুরে শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও নামক স্থানে ট্রেনটি পৌঁছানোর পর ইঞ্জিন ও পাঁচটি ওয়াগন বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত পাঁচটি ওয়াগনে এক লাখ ৬০ হাজার লিটার ডিজেল ছিল। এতে ট্রেনলাইন ও ট্রেনের চাকা দুমড়ে মুচড়ে যায়। কুলাউড়া ও আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন আসার পর শনিবার দুপুর থকে রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত রেললাইন মেরামত ও লাইনচ্যুত ট্রেন উদ্ধারে কাজ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরপর ট্রেন চলাচল শুরু হয়। শ্রীমঙ্গল স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন রেললাইন মেরামত ও ওয়াগন উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোববার সকাল ১১টা থেকে রেল চলা শুরু হয়েছে। এদিকে এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা (ঢাকা) মাইনুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম তদন্ত কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। | 6 |
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস শুরু হবে ১৭ অক্টোবর। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় উক্ত সভার সভাপতিত্ব করেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. আশিক মোসাদ্দিক। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের ভাইস-চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন, মোহাম্মাদ আলী দ্বীন, ট্রেজারার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোখলেসুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক মো. শামীম আহসান পারভেজ, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. শহীদুর রহমান এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান ড. কানিজ হাবিবা আফরিন। আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. তানজিমা ইয়াসমিন এবং ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্র।সভায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। টিকা না নেয়ার কারনে যে সকল শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে না তাদেরকে অনলাইনে ক্লাস করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস শুরু হবে ১৭ অক্টোবর। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় উক্ত সভার সভাপতিত্ব করেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. আশিক মোসাদ্দিক। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের ভাইস-চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন, মোহাম্মাদ আলী দ্বীন, ট্রেজারার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোখলেসুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক মো. শামীম আহসান পারভেজ, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. শহীদুর রহমান এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান ড. কানিজ হাবিবা আফরিন। আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. তানজিমা ইয়াসমিন এবং ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্র। সভা শেষে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. আশিক মোসাদ্দিককে ২০২১ সালের বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পাওয়ায় শুভেচ্ছা স্বরূপ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। | 6 |
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে মালিক, শ্রমিক-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের কারখানা ও নিজ নিজ বাসাবাড়ি নিয়মিত পরিস্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান। বুধবার (১৮ আগস্ট) ইউনি গার্মেন্টস লিমিটেডের কারখানায় চেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আয়োজিত সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় বিজিএমইএ'র সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী, পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল রাকিব, হারুন অর রশিদ, নাভিদুল হক, ইমরানুর রহমান, তানভির হাবিব, এএম শফিউল করিম (খোকন), হাসান (জ্যাকি), এম, এহসানুল হক, সাবেক পরিচালক ও কাস্টমস (সমুদ্র) বিষয়ক বিজিএমইএর স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান অঞ্জন শেখর দাশ এবং ইউনি গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা সারওয়ার রিয়াদ উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি বিজিএমইএ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে ১০ দফা নির্দেশনা দিয়ে একটি গাইডলাইনও সদস্যভুক্ত কারখানাগুলোর কাছে পাঠিয়েছে বিজিএমইএ। সভায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, যার বাহক এডিস মশা। স্থির পানিতে এডিস মশা বংশ বৃদ্ধি করে। তাই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে মশার উৎপত্তিস্থল ও প্রজনন উৎসে নজর দিতে হবে। সভায় বিজিএমইএ-এর ১ম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, বর্ষার এই সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া না হলে ভয়াবহ রূপে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সবাই মিলে প্রতিরোধক ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করলে ডেঙ্গুর এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব। তিনি এ বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসা এবং নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে অনুরোধ জানান। সভা শেষে বিজিএমইএ সভাপতি পোশাক কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধক লিফলেটও বিতরণ করেন। এছাড়াও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিজিএমইএ কর্তৃক গৃহীত ধারাবাহিক কর্মসূচির আওতায় বিজিএমইএ নেতারা ইউনি গার্মেন্টসের কারখানা চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। একইসঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। | 0 |
ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সেনাপ্রধান জেনারেল আভিভ কোহাভি বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা জোরদার করা হয়েছে। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা যখন পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে তখন ইহুদিবাদী সেনাপ্রধান এ হুমকি দিলেন। খবর-পার্সটুডের। তিনি বলেন, "এটি একটি খুবই জটিল কাজ, অনেক বেশি গোয়েন্দা তৎপরতা প্রয়োজন, অভিযান চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে, অনেক বেশি অস্ত্র প্রয়োজন হবে। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি।" পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্রদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মধ্যদিয়ে এই প্রচেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, "হামলার মূল লক্ষ্য হবে-মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সিরিয়ায় ইরানের উপস্থিতি কমানো। তবে এই অভিযান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চলবে; অভিযান চলবে হামাসের বিরুদ্ধে, চলবে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে।" বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
লিওনেল মেসিকে হারিয়ে আর সোজা হতে পারছে না টিম বার্সেলোনা। মেসিবিহীন দলটি লা লিগায় ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে। এবারো তারা হেরে গেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে। ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় শনিবার দিবাগত রাতে স্প্যানিশ লা লিগায় বার্সেলোনাকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ম্যাচের ২৪ মিনিটে লেমারকে দিয়ে গোল করান সুয়ারেজ। আর ৪৪ মিনিটে নিজে বল জালে জড়ান এ উরুগুয়েন কিংবদন্তি। এতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়শূন্য রইলো বার্সেলোনা, এর তিনটিতেই পরাজয়। এর মধ্যে লা লিগায় চার ম্যাচে দুটি করে হার ও ড্র। আর ২০২১ স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে ৩-২ গোলে হেরেছিল কাতালান ক্লাবটি। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ৮ ম্যাচে ৫ম জয়ে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে গোল গড়ে দ্বিতীয় স্থানে। এক ম্যাচ কম খেলে রিয়াল মাদ্রিদ সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই। বার্সেলোনা ৭ ম্যাচে প্রথম হারে আগের ১২ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে। | 12 |
বয়স হয়েছে সবেমাত্র ২০। বিশ্বসেরা কোনো তারকাও নয়। এমনই এক খেলোয়াড়কে ৮ কোটি টাকার প্রস্তাবনা দিয়েও নিতে পারল না ফুটবল জগতের সেরা ক্লাব বার্সেলোনা। বার্সার দেয়া প্রস্তাবনা প্রত্যাখ্যান করলেন ইতালিয়ান ক্লাব ব্রেসিয়ার এক মিডফিল্ডার। ক্লাবটার নাম ব্রেসিয়া। আর মিডফিল্ডারটির নাম সান্দ্রো তোনালি। অনেকের চোখেই, ইতালিয়ান এই মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়া পিরলোর নতুন সংস্করণ। বল পায়ে পারদর্শী মিডফিল্ডার খেলানোর দিক দিয়ে বহু আগে থেকেই ব্রেসিয়ার সুনাম আছে। বার্সার ঘরের ছেলে পেপ গার্দিওলা ক্যারিয়ারের শেষদিকে এই ক্লাবের হয়ে খেলেছিলেন। সে হিসেবে ক্লাবটা ও তার খেলোয়াড়দের প্রতি বার্সেলোনার আলাদা টান কাজ করা স্বাভাবিক। সে কারণেই বার্সা তোনালির দিকে হাত বাড়িয়েছিল কি না, কে জানে। তবে করোনাভাইরাসের উটকো উপদ্রব সে আলোচনা বেশিদূর এগোতে দেয়নি। ব্রেসিয়ার মালিক নিজেই জানিয়েছেন তোনালির প্রতি বার্সেলোনার আগ্রহের কথা, 'কিছু কিছু খেলোয়াড়ের খেলার ধরণ দেখে আমি তাঁদের ভালোবেসে ফেলি, বিক্রি করতে পারি না। তোনালি এমনই এক খেলোয়াড়। কোভিড-১৯ আসার আগে বার্সেলোনা তোনালির জন্য ৬ কোটি ৫০ লাখ ইউরো ও দেড় কোটি ইউরো মূল্যমানের দুজন খেলোয়াড় দিয়ে তোনালিকে কিনতে চেয়েছিল। আমার মনে হয় প্রস্তাবের বিনিময়ে আমাদের পক্ষ থেকে ওই বার্সেলোনা পরিচালক এমন এক প্রত্যুত্তর শুনেছেন, যা তিনি বিশেষ পছন্দ করেননি। আর সে প্রত্যুত্তরটা তাঁরা খেলোয়াড়ের কাছ থেকে পাননি।' তবে গত দেড় বছর ধরেই তোনালির পিছে লেগে আছে জুভেন্টাস, ফিওরেন্টিনা, ইন্টার মিলান, এসি মিলান, লিভারপুল, পিএসজির মতো বড় বড় ক্লাব। ব্রেসিয়ার মালিক মাসিমো সেলিনো সেটাই উল্লেখ করেছেন, 'পিএসজির সভাপতি নাসের আল খেলাইফি আমাকে আজও তোনালিকে চেয়ে চিঠি লিখেছেন। তবে ও ফ্রান্সে যেতে চায় না। ইতালিতেই থাকতে চায়। ইন্টার ও জুভেন্টাসের মতো ক্লাবগুলো ওর পছন্দ। ওদিকে নাপোলির সভাপতি অরেলিও দি লরেনাইতিস ওর জন্য চার কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছেন। ফিওরেন্টিনাও ওকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল।' | 12 |
আগামী ২৮ নভেম্বর জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। বাকি রয়েছে মাত্র ছয় দিন। শেষ সময়ে পুরোদমে চলছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। আর এই প্রচারণার প্রতিযোগীয় বিধিবিধানের তোয়াক্কা করছেন না কেউই। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাইকে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা। উচ্চশব্দের কারণে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা। আর সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে চলতি এসএসসি ও আগামী ২ ডিসেম্বর অংশগ্রহণ করা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এই শোরগোলের মধ্যে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে তাদের।উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ২৯ জন প্রার্থী। সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ১৯০ জন পুরুষ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৫৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোটের প্রচারের নিয়ম থাকলেও তা চলছে সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। এতে অতিষ্ঠ চলমান পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকেরা। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থী আর তাঁদের সমর্থকেরা নির্বাচনী প্রচারে ততই বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে হাট-বাজার এলাকাগুলোতে প্রচার মাইকের শব্দ আর শব্দ। ফলে সন্তানদের ভালো পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা।সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুর ১২টা থেকেই অধিকাংশ প্রার্থীর পক্ষে মাইকে ভোটের প্রচার চালানো হয়। রাত ৮টার পরেও মাইক বাজানো হয়। উপজেলা সদর, পলবান্ধা, গাইবান্ধা, গোয়ালেরচর, চরগোয়ালিনী, চরপুটিমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম একযোগে একাধিক মাইকে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদপ্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে।গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতের চর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান জুয়েল জানান, সকাল থেকেই ভোটের মাইকের কারণে বিরক্ত তাঁরা। শব্দে বাড়িতে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে তাঁদের। পরীক্ষার্থীরা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারছেন না।পরীক্ষার্থী রাজন, বেলাল, সুজন, শারমিন, আবিদা, সায়লা জানান, গভীর রাত পর্যন্ত চলে প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচনী প্রচার মাইকের শব্দে পড়াশোনা করা মুশকিল হয়ে পড়ছে তাদের।গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মামারা গ্রামের আকবর আলী বলেন, তাঁর ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাঁর ছেলের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। এমনকি নামাজের সময়ও প্রচার মাইক বন্ধ করা হয় না।চরপুঁটিমারী ইউনিয়নের ডিগ্রিচর গ্রামের এইচএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক আবুল কালাম বলেন, দিনরাত উচ্চশব্দে মাইক বাজিয়ে মিছিল করা হচ্ছে। এতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের খুব ক্ষতি হচ্ছে।গাইবান্ধা ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আফছার আলী সরদার বলেন, নির্বাচন অফিস থেকে প্রচারের বিষয়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা মেনেই প্রচার চালাচ্ছি। কিন্তু যারা সরকারদলীয় প্রার্থী, তাঁদের লোকজন প্রচারণায় নিয়ম মানছে না।'উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোছা. হোসনে আরা বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময়ের বাইরে কেউ যেন ভোটের প্রচার চালাতে না পারেন, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইন ভঙ্গ করে প্রচার চালানো হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। | 6 |
গত মার্চ মাসে দিল্লিতে নিজামুদ্দিন মারকাজ মসজিদে তাবলিগের লোক সমাগম নিয়ে ভারতে চলছে আতঙ্ক ও নানা সমালোচনা। ওই লোক সমাগমকে কেন্দ্র করে তাবলিগের বেশ কয়েকজন মুরব্বিকে করোনায় আক্রান্ত সনাক্ত করা হয়েছে। মাওলানা সাদ'কে খুঁজছে প্রশাসন। ভারতে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পেছনেও অনেকটা দায়ি করা হচ্ছে তাবলিক জামাতকে। হিন্দুস্তান টাইমস এক খবরে জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাত সংশ্লিষ্ট ৬৪৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করেছে ভারত। দেশটির ১৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ১ মার্চ থেকে শুরু হয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চলে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। অনুষ্ঠান শেষেও অনেকে সেখানে অবস্থান চালিয়ে যেতে থাকে। ২৪ মার্চ ভারতজুড়ে লকডাউন শুরুর সময়েও সেখানে প্রায় দেড় হাজার মানুষের অবস্থান ছিল। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব ও কিরগিজস্তানের প্রতিনিধিসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ ওই আয়োজনে অংশ নেয়। ভারত সরকার জানিয়েছে, ওই জমায়েতে অংশ নেওয়াদের মধ্য থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, আসাম, দিল্লি, হিমাচল, হরিয়ানা, জম্মু ও কাশ্মির, ঝাড়খন্ড, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, তামিল নাড়ু, তেলেঙ্গানা, উত্তরাখন্ড এবং উত্তর প্রদেশ থেকে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি লাভ আগারওয়াল বলেন, ভারতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৩০১ জন ও মৃতের সংখ্যা ৫৬ জন। এর মধ্যে গতকাল থেকে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। তবে দিল্লিতে সমবেতদের মধ্যে কত জন মারা গেছে তা সুনির্দিষ্ট করে জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। ভারতের অন্যতম উপদ্রুত রাজ্য তামিল নাড়ুতে শুক্রবার পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ১০২ জনের মধ্যে একশো জনই নিজামুদ্দিনের আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সি বিজয়াবস্কর জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৬৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪১১টি পজিটিভ রেজাল্ট এসেছে। উত্তর প্রদেশে শুক্রবার ৫১ জন নতুন আক্রান্তের মধ্যে ৪৭ জনই তাবলিগ সদস্য। সেখানকার সদর বাজার এলাকা বন্ধ করে দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। | 3 |
রাজধানীর গুলিস্তানের মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের সামনে নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী কুদ্দুস মিয়া (৫৫) নামে এক বৃদ্ধকে বাঁচালেন পল্টন থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গিয়াস উদ্দিন ও কনস্টেবল আশরাফুল ইসলাম। রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কুদ্দুস মিয়া জনসমক্ষে তার পুরুষাঙ্গ কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় এএসআই গিয়াস উদ্দিন দৌড়ে গিয়ে কুদ্দুসকে এ থেকে বিরত করেন। পরে তার নাম-ঠিকানা জানার চেষ্টা করা হলেও প্রথমে তিনি তার নাম-ঠিকানা বলেননি। পরে গুলিস্তান সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই ওবায়দুর রহমান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিনের আপ্রাণ চেষ্টা ও অনুরোধে আহত কুদ্দুস মিয়া তার নাম-ঠিকানা ও ছেলের ফোন নম্বর দেন। এসময় এএসআই গিয়াস উদ্দিন ও কনস্টেবল আশরাফুল ইসলাম ইসলাম দ্রুত আহত কুদ্দুস মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত কুদ্দুস মিয়ার পুরুষাঙ্গের প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ কেটে গেছে। তবে তার রক্ত যাওয়া বন্ধ হয়েছে। এএসআই গিয়াস উদ্দিন নয়া দিগন্তকে বলেন, 'মানুষটি নিশ্চয়ই খুব কষ্ট ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে এই বয়সে এমন নির্মমভাবে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি আমাকে খুব মর্মাহত করেছে।' তিনি বলেন, 'আহত কুদ্দুস মিয়া তার সন্তানকে কোপানোর যে কথা বলেছেন তার সত্যতা আমরা এখনো পাইনি। তার ছেলেকে (সোহাগ) আমরা ফোন দিয়েছি। তার ছেলে হাসপাতালে আসছেন। তিনি এলে বিস্তারিত জানা যাবে।' এএসআই গিয়াস উদ্দিন আরো জানান, আহত কুদ্দুস মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উত্তর পাইরতলা গ্রামের মৃত আলী মিয়ার ছেলে। | 6 |
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বিদেশী অস্ত্র ও গুলিসহ জেলা যুবলীগ নেতা ও অপর একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চরগোয়ালদী গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মাহফুজ ও বিএনপি কর্মী মাসুদ রানা। সোনারগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম মিয়া জানান, বিএনপি কর্মী মাসুদ রানা পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। সে সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলার অন্যতম পলাতক আসামী। গত বুধবার রাতে সে দুইটি বিদেশি অস্ত্রসহ গোপনে জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমার মাহফুজের বাড়িতে অবস্থান করছে এমন খবরে সোনারগাঁও থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়। মাহফুজুর রহমান মাহফুজ পিরোজপুর ইউনিয়নের চরগোয়ালদী গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম ইমানের ছেলে ও মাসুদ রানা মঙ্গলেরগাঁও মিরবহরকান্দী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম পিপিএম জানান, গত বুধবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চরগোয়ালদী গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মাহফুজ ও মাসুদ রানা নামে এক বিএনপি কর্মীকে একটি ওয়ান শুটারগান, একটি ইয়ারগান ও চার রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে। মাটি খুঁড়তে বের হয়ে এলো ১৮টি খইয়া পানশ সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক এলাকার বারেক মিয়ার বসতবাড়ি থেকে ১৮টি বিষধর গোখরা (খইয়া পানশ) সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ফজলু ও মোস্তফা নামের সাপুড়ে বসতবাড়ির বিভিন্ন ঘর থেকে এ বিষধর সাপগুলো উদ্ধার করে। এলাকাবাসী জানান, বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক টেকপাড়া গ্রামের বারেক মিয়ার বসত বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে সাপের আনাগোনা লক্ষ্য করেন। বাড়ির মালিক বারেক মিয়া বৃহস্পতিবার সকালে রূপগঞ্জ উপজেলা থেকে ফজলু ও মোস্তফা নামের দুইজন সাপুড়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। সাপুড়ে বসতঘর বাড়ির তিনটি ঘর থেকে মাটি খুঁড়ে দুই ঘন্টা চেষ্টার পর একটি বড় গোখরা (খইয়া পানশ) ও সাথে আরো সতেরটি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার শত শত উৎসুক জনতা বারেকের বাড়িতে জড়ো হন। বাড়ির মালিক বারেক মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে সাপের উপস্থিতি টের পান। এতে সাপের ভয়ে বাড়ির লোকজন ঘরে প্রবেশ করছিল না। তাই সাপুড়ে ডেকে নিয়ে আসি সাপগুলো উদ্ধার করা হয়। এতে আমি ও আমার পরিবার স্বস্তিতে আছি। সাপুড়ে ফজলু জানান, সাপ দেখে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নাই। সাহস করে ধরে ফেললেই চলে। সাপ ধরতে কোনো মন্ত্র বা কোনো কিছু করা লাগে না। এসব সাপ মুলত বাচ্ছা দেয়ার জন্য লোকলয়ে আসে। অহেতুক কোনো মানুষ দংশন করে না। | 6 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) অনুষ্ঠিত কাওয়ালি কনসার্টে হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এ সময় মঞ্চ ভাঙচুর ও দর্শনার্থীদের পেটানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে অনলাইন গণমাধ্যম জাগো নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশি অস্ত্র নিয়ে কনসার্টে হামলা করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজ শাখার নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আয়োজকদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা এ হামলা চালানো হয়। তারা জানান, গত সপ্তাহে কনসার্টের জন্য টিএসসির পরিচালক আকবর হোসেনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়। এরপর তাদের কার্যক্রম শুরু করেন। আজ দিনের মধ্যে স্টেজের কার্যক্রম সম্পন্ন করলেও বিকেলে সাউন্ড সিস্টেমের কাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে থাকা তৈয়ব জানান, সাদ্দাম হোসেন তাকে নিষেধ করেছেন। পরে তারা অন্য জায়গা থেকে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া করে আনেন। এর আগেই সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা এসে অনুষ্ঠানে হামলা করেন। এতে তাদের বেশ কয়েকজন আহত হন। আয়োজকদের অন্যতম হুজাইফা বলেন, আজ আমরা কাজ শুরু করার আগে টিএসসির পরিচালক আকবর তাদের জানান, সাদ্দাম ফোন দিয়ে এই প্রোগ্রাম করতে নিষেধ করেছে। তিনি আমাদের সাদ্দামের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে সাদ্দাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে দিয়েও অনুষ্ঠানটি না করতে চাপ প্রয়োগ করেন। তারপরও আমরা প্রোগ্রামটি করার চেষ্টা করি। সাদ্দাম হোসেন কোনোভাবে প্রোগ্রামটি বাতিল করতে না পেরে তার কর্মীদের দিয়ে হামলা করান। অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এ হামলায় ছাত্রলীগ জড়িত থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না। যতদূর জানি আয়োজকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ হামলা হয়েছে। এটি শরিয়াবিরোধী কি-না, নারীরা এখানে থাকতে পারবে কি না এটা নিয়ে তাদের দুইপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এদিকে, হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা। তারা ক্যাম্পাসে এই হামলার প্রতিবাদ ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান। হামলার পর ঘটনাস্থলে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমি মর্মাহত। কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় এটা পিছিয়ে দিতে বলেছিলাম আয়োজকদের। তারা আমাদের অনুরোধ রাখেনি। আর যারা হামলা করেছে তাদের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখনো রেডিও জনপ্রিয় নয়। জনপ্রিয় হলো রেকর্ড। গান রেকর্ড করার ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানরা ছিল পিছিয়ে। আবুল কাসেম মল্লিক গান করতে ভালো বাসতেন। কিন্তু এই নামে গান করলে রেকর্ড বিক্রি হবে না বলে সন্দেহ করল গ্রামোফোন কোম্পানি। তাই তাঁর নাম হলো কে মল্লিক। 'লোহারই বাঁধনে বেঁধেছ সংসার' তাঁর গাওয়া একটি জনপ্রিয় গান। কাজী নজরুল ইসলামের 'আমারে চোখ ইশারায়' আর 'বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে' গান দুটি দিয়ে প্রথম রেকর্ডও করেন কে মল্লিক।দ্বিতীয় মুসলমান গায়ক আব্বাসউদ্দীন। তাঁর সুললিত কণ্ঠে মদিরা ছিল। কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংয়ে চাকরি করতেন তিনি। থাকতেন বউবাজার স্ট্রিটে এক মেসে। আবদুল আহাদ প্রায়ই বিকেলের দিকে আব্বাসউদ্দীনের মেসে যেতেন। একদিন বিকেলে আবদুল আহাদ আসতেই আব্বাসউদ্দীন বললেন, 'চলো, আমার সঙ্গে। আমাকে গান করতে হবে এক জায়গায়।'ক্যামবেল হাসপাতালে কোনো এক প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়োজনে গান হবে। তখন গাইছিলেন সুধীরলাল চক্রবর্তী। এরপর মঞ্চে উঠলেন আব্বাসউদ্দীন। তখনো মঞ্চে মাইক্রোফোনের প্রচলন হয়নি। খালি গলায়ই গাইতে হতো গান। আব্বাসউদ্দীন ধরলেন 'আমার হাড়কালা হলোরে, দেহ কালার লাগি'। প্যান্ডেলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছড়িয়ে গেল ঢেউখেলানো কণ্ঠ। স্তব্ধ হয়ে মানুষ শুনতে লাগল গান। গান শেষ হতেই করতালিতে ফেটে পড়ল চারদিক।সেটা মুসলিম জাগরণের সময়। আব্বাসউদ্দীন তখন পল্লির গানগুলোকে সামনে নিয়ে আসছেন। উত্তর বাংলার ভাওয়াইয়া, পূর্ব বাংলার ভাটিয়ালি, পল্লিগীতি, মুর্শিদি, মারফতি, সারি ইত্যাদি গান সুধীসমাজে পরিচিত হলো আব্বাসউদ্দীনের মাধ্যমেই। মুকুন্দ দাসের পর আব্বাসউদ্দীনই ছিলেন প্রকৃত গণশিল্পী। পল্লির হাজার হাজার মানুষের সামনে তিনি গান করেছেন।আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ' গানটি এখন ধ্রুপদি সংগীতে পরিণত হয়েছে।সূত্র: আবদুল আহাদ, আসা যাওয়ার পথের ধারে, পৃষ্ঠা ৪৬-৪৮ | 6 |
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে শীতের আগমনের শুরুতেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এখন চলছে আলু রোপণের শেষ সময়ের কাজ। তবে উপজেলার বিস্তীর্ণ নিচু জমিতে এখনো আলু রোপণ হয়নি। এসব জমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।গতকাল শনিবার দেখা যায়, উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিচু জমি থেকে পানি ও ধানগাছের নাড়া (খড়) সরানোর কাজ করছেন কৃষকেরা। এখনো অনেক কৃষক জমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে পারেননি। এ ছাড়া বিভিন্ন নিচু জমিতে জমে রয়েছে পানি। আরও কয়েক দিন লেগে যাবে এ জমি থেকে পানি সরতে। সে জন্য সেচ দেওয়ার স্পাম মেশিন লাগিয়ে জমি থেকে পানি সরানোর কাজ করছেন তাঁরা।জানা যায়, উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের প্রায় ৭০০ হেক্টর নিচু জমিগুলোতে আলুর আবাদ হতে পারে।কৃষক আওয়াল দেওয়ান বলেন, 'আমরা ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে আলু রোপণ শুরু করি। এ ইউনিয়নের জমিগুলো নিচু। তাই বোনা আমন ধান রোপণ করি। সে ক্ষেত্রে জমি থেকে পানি যেতে একটু দেরি হয়। আমরা দেরিতেই আলু রোপণ করি এবং আলু অন্য ইউনিয়নের কয়েক দিন পর ওঠানো শুরু করি।'আরেক কৃষক আলী মিয়া বলেন, 'এই জমিগুলোতে আলু রোপণ একটু দেরিতে হয়। এই ইউনিয়নের অনেক স্থানে আগে পানি নিষ্কাশনের জন্য খালের মতো ছিল। সেগুলো না থাকায় এখন পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। সে হিসেবে আমাদের দেরিতে আলু রোপণ করতে হচ্ছে। অন্য ইউনিয়নগুলোতে আলু রোপণ প্রায় শেষ। আর আমরা এখন মাত্র খড় উল্টিয়ে জমি থেকে সরিয়ে নিচ্ছি এবং নালা করে দিচ্ছি যাতে পানি সরে যেতে পারে। আর কয়েক দিন পর আলু রোপণ শুরু হবে।'উপজেলা কৃষি অফিসার রোজিনা আক্তার বলেন, 'জৈনসার ইউনিয়নের কিছু নিচু জমিতে প্রতিবারেই একটু দেরিতে আলু রোপণ করে। আর উপজেলার অন্য ইউনিয়নে এখন আলু রোপণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এটা তাদের প্রতিবারেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে।' | 6 |
করোনার উপসর্গ নিয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য সিরাজুল ইসলাম মল্লিকের (৪৮) মৃত্যু হয়েছে। রবিবার ভোর ৬টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যু হয় এই আইনজীবীর। তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নাড়িয়া উপজেলার চানতা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে জানাজা নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। ঢাকা আইনজীবী সমিতির দপ্তর সম্পাদক এইচ এম মাসুম বলেন, একজন মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে সারারাত ঘুরেও হাসপাতালে ভর্তি করতে না পারাটা দুর্ভাগ্যজনক। শেষ পযর্ন্ত অ্যাম্বুলেন্সেই আমাদের এ সহকর্মীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। আমরা তার মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
যশোর-৬ ও বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচনে আজ ভোটগ্রহণ হবে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন ভোটাররা। ভোটের আয়োজনে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে আগেই এ নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবি ছিল দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির। তারা নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণাও দিয়েছে। অন্যদিকে, সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ১৪ জুলাই হাওয়ায় এদিনটির পরিবর্তে যেকোনো দিন ভোট গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ইসি বলেছে, নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ তাদের নেই। সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে ইসির যুগ্মসচিব (জন সংযোগ) এসএম আশাদুজ্জামান জানান, নির্বাচনী স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোটারদের ভোট প্রদান এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্ব পালনে আহ্বান জানানো হয়েছে। আসন দুটির উপনির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান। নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া ১২ জুলাই দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৫ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত সব ধরনের মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, খিলাফত আন্দোলন, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি ও একজন স্বতন্ত্রসহ মোট ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এ আসনের মোট ভোটার তিন লাখ ৩০ হাজার ৯১৮ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১২৩ এবং ভোট কক্ষ ৭১০টি। অন্যদিকে, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৪ হাজার ৩৯৭ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৭৯টি ভোট কক্ষ ৩৭৪ টি। যশোর-৬ আসনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে গত ২১ জানুয়ারি এ আসনটি শূন্য। একইভাবে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে গত ১৮ জানুয়ারি বগুড়া-১ আসন শূন্য হয়। | 6 |
বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হকের সহধর্মিনী ও বাংলাদেশ শ্রিম্প এন্ড ফিস ফাউন্ডেশনের এবং ফ্রান্স বাংলাদেশ চেম্বার এন্ড কমার্সের সভাপতি সৈয়দ মাহমুদুল হকের মাতা আনোয়ারা বেগম আর নেই। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ২ টার দিকে তিনি পরলোক গমন করেন। মরহুমাকে চট্টগ্রামের লালখান বাজারস্থ "রূহআফজা"-য় বাংলার রুমির কবরের পাশে দাফন করা হবে। | 6 |
ইক্যুয়ালিটি ফর এভরিওয়ান অর্থাৎ 'সকলের জন্যে সমতা' নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও)'র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটির কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (১১৬ স্টিট এবং ব্রডওয়ে, নিউইয়র্ক, এনওয়াই ১০০২৭ )। সকাল ১১টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলবে। বাংলাদেশের হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত নারী ও হিজড়া সম্প্রদায়ের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করার অভিপ্রায়ে টেক্সাসের হিউস্টনের ২০ বছর বয়েসী (কলিন কলেজের ছাত্রী) কিসমা কমলের স্বপ্নের এ সংগঠনের সাথে হৃদয়বান প্রবাসীদের একাত্মতা কামনা করা হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 4 |
রাজধানীতে চলন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশায় মায়ের কোল থেকে পড়ে খাদিজা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর আড়াইটার সময় পল্লবী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির বাবা মো. আজম আবুল খায়ের গ্রুপে চাকরি করেন এবং মিরপুরের ১২ নম্বর সেকশনে পরিবার নিয়ে থাকেন। তাদের গ্রামের বাড়ী দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলা ঝিনর গ্রামে। জানা গেছে, মো. আজম অফিসের এক কর্মকর্তার নিমন্ত্রণে স্বপরিবারে দাওয়াত খেয়ে ব্যাটারীচালিত রিকশা যোগে বাসায় ফিরছিলেন। রিকশায় ছিলো তার দুই মেয়ে ও তারা স্বামী-স্ত্রী। রিকশাটি যখন কালশী রোডে আসে তখন একটি ঘুড়ির সুতা চালকের গলায় লাগে। এতে রিকশাটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খায় এবং মায়ের কোল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পায় শিশু খাদিজা। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিকাল সাড়ে ৫ টায় খাদিজাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এএসআই আবদুল খান বলেন, চলন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। | 6 |
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইক্যাব) এর যৌথ উদ্যোগে দেশে শুরু হয়েছে আম মেলা ই-বাণিজ্যে সারাবেলা। দেশে ই-কমার্সের উন্নয়ন, অনলাইনে দেশীয় পন্যের প্রসার ও ই-বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে অনলাইন আম মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে অনলাইন ভিত্তিক আমমেলার উদ্ভোধন করেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ওবায়দুল আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- বানিজ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব ও ডব্লিউ সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সচিব এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান, রাজশাহী জেলা প্রসাশক মো. হামিদুল হক প্রমুখ। অনলাইনে আমমেলার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইক্যাব প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন বলেন, করোনার কারণে অর্থবাজারে যে প্রভাব পড়েছে তাতে চাষীদের দুঃখ দুর্দশা দেখে এই উদ্যোগের কথা চিন্তা করা হয়েছে। করোনা যেমন অর্থনৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে তেমনি নতুন কিছু করার সুযোগও তৈরী করেছে। ই-ক্যাবকে সাথে নিয়ে এই কর্মসূচী বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের উৎপাদনকারীকে ই-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত করে সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করার পথ সুগম হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মো. ওবায়দুল আজম বলেন, আম দিয়ে যে যৌথ উদ্যোগের সূচনা হয়েছে আম বাজারজাতকরণের সহায়ক ভুমিকার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্যান্য গ্রামীণ ও কৃষিপন্যের ক্ষেত্রে এধরনের অনলাইন বাজার সম্প্রসারনের ব্যবস্থা করা হবে। রাজশাহীর পাশাপাশি অন্যান্য জেলার আম এবং এই চেইনে যুক্ত করা হবে। বর্তমানে কুরিয়ারের মাধ্যমে আম প্রেরণে যেসব সমস্যা ও অভিযোগ রয়েছে সেগুলো সমাধানের জন্য ই-ক্যাব ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করবে। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, রাজশাহী জেলায় আমবাণিজ্যের সাথে ৯০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। আমের সরবরাহ সহজীকরনের মাধ্যমে আমের বাজার বৃদ্ধি করলে এই কর্মসংস্থান আরো বৃদ্ধি পাবে। চলতি বছর আমের মুকুল আসার পর থেকে কেনো ধরনের ক্যামিকেল দেয়া থেকে বিরত রাখা হয় এবং বিটিআরসির মাধ্যমে বিনামূল্যে আম প্রেরণের সুবিধা গ্রহণ করার মাধ্যমে আমের দাম যেন বৃদ্ধি না পায় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার বলেন, সারাদেশে অন্তত ৫০ লাখ মানুষকে ন্যায্যমুল্যে এবং নিরাপদে অনলাইন থেকে আম সংগ্রহ করার সুযোগ করে দেয়া হলো এই উদ্যোগের মাধ্যমে। ই-ক্যাবের জেনারেল সেক্রেটারী আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, আমচাষীরা যেন তাদের ফলনের ন্যায্যমূল্য পায় এবং ক্রেতাসাধারণ যেন ঘরে বসে নিরাপদে আম পেতে পারেন পাশাপাশি অনলাইন শপগুলোর আম সরবরাহ পর্যাপ্ত করতে এই আয়োজন করা হয়েছে। কোভিড শুরু হওয়ার পর থেকে জনসাধারণ নিরাপদ সেবা দিতে ই-কমার্স সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বিরতিহীন কাজ করে চলেছে। এই আম মেলা তারই একটা অংশ। মূলত ই-ক্যাবের ১২শ মেম্বার প্রতিষ্ঠান থেকে আম বাণিজ্যের সাথে যারা যুক্ত রয়েছেন তারা এ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে চাষী ও বাগানমালিকদের কাছ থেকে আম সংগ্রহ করবেন। | 6 |
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে ভারত। এ পরিস্থিতিতে সেখানে চিকিৎসা করাতে গিয়ে মহা ঝক্কিতে পড়ে গিয়েছিলেন! বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজের মুশকিল আসান হয়ে এসেছিলেন ভারত জাতীয় দলের ডিফেন্ডার প্রীতম কোটাল। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নাবিবকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন তিনি। অনুশীলন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় মোহনবাগানের ডিফেন্ডার প্রীতমকে। তাই বাংলাদেশি বন্ধুর দেখাশোনার বড় অংশটা করেছেন মূলত তাঁর স্ত্রী সোনেলিয়া। আজ সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করেছেন নাবিব। কিন্তু ভারতীয় দিদির মায়ামমতায় ডুবে রয়েছেন এখনো। নাবিবের ডান পায়ের হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছে। ওষুধপত্রসহ কত আনুষঙ্গিক বিষয় চূড়ান্ত করেই না দেশে ফিরতে হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দুই দেশের চলাচল নিষেধাজ্ঞা। স্বাভাবিকভাবে অস্ত্রোপচার করানো পা নিয়ে নড়ার জো নেই নাবিবের। তাতে সমস্যা নেই, তাঁর 'দিদি' সোনেলিয়া তো ছিলেন। আজ সকালে হোটেল ছাড়া থেকে শুরু করে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত পশ্চিম বাংলার পেট্রাপোল স্থলবন্দরে নাবিবের সঙ্গে ছিলেন সোনেলিয়া। বিপদের সময়ে এই কয়েক দিনে সোনেলিয়ার ভালোবাসায় মুগ্ধ নাবিব। তাঁর এই ঋণ শোধ করার মতো নয় বলে মনে করেন নাবিব, 'নিজের বোনের মতো উপকার করেছেন সোনেলিয়া। গেল কয়েকটি দিন আমার খুব যত্ন নিয়েছেন। আজ সকাল হোটেলে থেকে আমাকে বের করে এনেছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিলেন আমার সঙ্গেই। বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে ফেরার জন্য অনেক কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হয়েছে। দৌড়াদৌড়ি করে সব করেছেন উনিই। আমি তাঁর ঋণ শোধ করতে পারব না।' সরকার গতকাল ভারতের সঙ্গে স্থলপথেও চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিলে নাবিবের দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আবাহনী অবশ্য বিশেষ ব্যবস্থায় তাঁকে আজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করে। মঙ্গলবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি তাঁকে। আজই ভারত থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় আরও কিছু বাংলাদেশির সঙ্গে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। কথায় আছে বিপদের বন্ধুই আসল বন্ধু। তাই এমন মানুষের কাছে থেকে বিদায় বেলায় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নাবিব, 'আমি সারা জীবন তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। তাঁর কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আমার চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গিয়েছে। মনে হলো উনিও কাঁদছেন।' দেশে ফিরে এলেও এখনই ঢাকায় এসে ক্লাবে ওঠা হচ্ছে না নাবিবের। বেনাপোলের একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে তাঁকে। | 12 |
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এই রাজ্য ডাকযোগে আসা লাখ লাখ ভোট বাতিলের দাবিতে মামলা করা হয়েছিল। শনিবার দেয়া ওই রায়ে ফেডারেল আদালতের বিচারক ম্যাথু ব্র্যান বলেছেন, অনিয়মের অভিযোগে যে মামলা হয়েছে, তা কোনো 'যোগ্যতা ছাড়াই' করা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই রায়ের ফলে পেনসিলভানিয়াতে জো বাইডেনের জয়ের নিশ্চিত পথ তৈরি হয়েছে। তিনি ট্রাম্পের চেয়ে ৮০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন। এখন এই রাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করার জন্য আর কোনো বাধা রইলো না। ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য হিসেবে পেনসিলভানিয়ার এই ঘটনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সর্বশেষ ধাক্কা। এদিকে জো বাইডেনের জয়কে এখনো মেনে নিতে পারছেন না ট্রাম্প। ফলে কোনও প্রমাণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগে বিভিন্ন রাজ্যে মামলাও করা হয় ট্রাম্পের পক্ষ থেকে। কিন্তু সে সব মামলা আর ধোপে টেকেনি। মার্কিন নির্বাচনে বাইডেন ৩০৬ ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। আর ২৩২ ইলেকটোরাল ভোট পান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পদ্ধতিতে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট যিনি পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট হবেন। | 3 |
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকসহ নিহত দু্জন ও আহত হয়েছেন একজন ।প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মান্নান জানান গতকাল বুধবার সকাল ৯টার সময় পাটকেলঘাটা হারুন-অর-রশিদ ডিগ্রি কলেজের কাছে মোটরসাইকেলটি ইঞ্জিনভ্যান কে পাশ কাটাতে গিয়ে এক পথচারীকে ধাক্কা দিলে চালকসহ দুজন মারাত্মক আহত হয়।আহত ব্যক্তি হলেন পাটকেলঘাটা হারুন অর রশিদ কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আব্দুল আলিম (৩৮)। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে পাটকেলঘাটা পপুলার ক্লিনিকে ভর্তি করে। মোটরসাইকেল চালক যুগিপুকুরিয়া গ্রামের শাহজাহান গাজীর পুত্র আব্দুল্লাহ গাজীর (৩৫) অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সাতক্ষীরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।এদিকে সকাল ১০টার সময় পাটকেলঘাটা পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের কাছে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তালার গণডাঙ্গা গ্রামের সুবাস হালদার (৭০) আহত হন।স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে পাটকেলঘাটা স্বাগতা ক্লিনিকে ভর্তি করে। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর খুলনা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করে জানান বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশ দেখছে। | 6 |
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চাঁদাবাজির মামলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। গত বুধবার রাতে পৌরসভার শ্যামলীপাড়ার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।ইকবাল উল্লাপাড়ার দাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় ইকবালকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কার্যালয়।উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, সিরাজগঞ্জ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে চাঁদাবাজি মামলায় ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী একরাম হোসেন বলেন, বারবার বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর কারণে ইকবাল হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।উল্লাপাড়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন জানান, ইকবাল হোসেন এর আগেও চাঁদাবাজি ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর করা নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। | 6 |
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসা ইতিহাসের নতুন বাঁক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ১৯৮৪ সালে সংসদ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন 'এই সংসদ জনতার'। গণতন্ত্র ও গণমানুষের সমর্থনের প্রতি অগাধ বিশ্বাসই তার রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসা ইতিহাসের নতুন বাঁক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ১৯৮৪ সালে সংসদ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন 'এই সংসদ জনতার'। গণতন্ত্র ও গণমানুষের সমর্থনের প্রতি অগাধ বিশ্বাসই তার রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে রোববার বনানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (সিইউবি) আয়োজিত 'বাংলাদেশ :উন্নয়নের এক যুগ' শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্পিকার এসব কথা বলেন। সিইউবির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, কানাডার হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন এবং সিইউবি বোর্ড অব ট্রাস্টির চিফ অ্যাডভাইজার অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত। এর আগে কেক কাটার মাধ্যমে 'শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনের যাত্রাপথ, তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম, ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, শিক্ষা, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, বিচক্ষণ কূটনীতি নিয়ে তিন দিনব্যাপী প্র্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্পিকার।
শিরীন শারমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গণতান্ত্রিক দুর্গম সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস নবীন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। ছেলেবেলায় টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম থেকে শুরু করে তার শিক্ষাজীবন, বৈবাহিক জীবন, পারিবারিক জীবন, রাজনীতিতে আসা, আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন, অনেক গবেষণালব্ধ বিষয় এই প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, পঁচাত্তরে ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর ইতিহাসকে ভিন্ন পথে পরিচালিত ও স্বাধীনতার চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। ১৯৮১ সালে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে নিহিত রয়েছে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা। তখন থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত হয় নতুন মাত্রা। বাংলার মানুষ তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। কানাডার হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের অনেকে কানাডায় বসবাস করেন এবং অনেক কানাডিয়ান বাংলাদেশিদের সম্পর্কে জানতে খুবই আগ্রহী। বাংলাদেশকে কানাডা সবসময় বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে মনে করে। তিনি বলেন, এই দেশ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার সম্পর্কে জানতে পেরে তার অনেক ভালো লাগছে। দুই দেশ একযোগে কাজ করে আরও এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। | 6 |
জঙ্গি হামলার আশঙ্কা না থাকলেও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে বাড়তি চার স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের ভিতরে বিক্ষিপ্ত কিছু বোমা হামলার ঘটনায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং এ কারণেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার দুপুরে শোলাকিয়া ঈদগাহে জেলা পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ঈদের দিন এক হাজার ২শ পুলিশ, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, ১শ র্যাব সদস্য ছাড়াও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে, বোম্ব ডিসপোজাল টিম থাকবে এবং মাইন মেটাল ডিটেক্টর দ্বারা ঈদগাহ সুইপিং করা হবে। পুলিশের চারটি ওয়াচ টাওয়ার ও র্যাবের দুটি ওয়াচ টাওয়ার থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ভিডিও ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ওপেন সার্কিট ক্যামেরা অর্থাৎ ড্রোন দিয়েও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদের দিন মুসল্লিদেরকে শুধুমাত্র জায়নামাজ নিয়ে মাঠে প্রবেশের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
সরকারের সমালোচনা করছেন না জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাঁরা সাহায্য করতে চেয়েছেন এবং একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। আজ সোমবার দুপুরে ঢাকার উত্তরার বাসায় কয়েকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফখরুল এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা কখনোই সমালোচনার জন্য সমালোচনা করছি না, আমরা সরকারকে সাহায্য করতে চেয়েছি। আমরা বলেছি যে আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছি।' জাতীয় কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'এখন পর্যন্ত একটা জাতীয় কমিটি তৈরি হয়নি, যেটা করা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। এই ধরনের সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে যদি একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা যায়, সেটাই হবে দেশের জন্য ভালো কাজ। আমরা মনে করি যে এখনো সময় আছে জাতীয় কমিটি করা দরকার, এটা গঠন করা উচিত।' কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, 'আপনার পলিটিক্যাল পার্টি, সিভিল সোসাইটি, এগুলো নিয়ে একসঙ্গে বসে মিটিং করতে হবে, তা বলছি না। ঘোষণা করে আপনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই এটা করতে পারেন। তখন সকলের মধ্যে একটা ধারণা আসবে-উই আর ওয়ান, আমরা এক।' বিএনপির নেতা-কর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে খেটে খাওয়া মানুষের কাছে খাবার পৌঁছানোর কাজ করছেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, যারা দিন আনে দিন খায়, তারা কয়েক দিন ধরে কোনো আয় করতে পারছে না এবং আর্থিক সংকটে পড়েছে। সেই সব মানুষের জন্য যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না যায়, তাহলে কিন্তু একটা বড় রকমের বিপর্যয় দেখা দেবে। মির্জা ফখরুল বলেন, সেনাবাহিনী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে আছেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে যদি সম্পৃক্ত করা যায়, তা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। সে জন্য বরাদ্দ থাকতে হবে, পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'হাসপাতালগুলোয় ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না। আছে যে, একজন অ্যাপেন্ডিসাইটিসের রোগী আটটা হাসপাতালে ঘুরে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে পারছে না। আমরা যে কারণে বারবার বলেছি, বিষয়টাকে পুরোপুরি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে এই জাতিকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।' ফখরুল বলেন, এখন সরকারকে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। বিরোধী দলকে কীভাবে কাজে লাগাবে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কীভাবে কাজে লাগাবে, পরিবেশ কীভাবে সৃষ্টি করবে। ছুটি ঘোষণা করে তার দুদিন পর পর্যন্ত পরিবহন চালু রাখা সরকারের ভুল ছিল বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, মানুষ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমে দেখেছেন, ৪০ হাজার বিদেশফেরত প্রবাসীর খোঁজ নেই। চীনের ঘটনার পর সরকার যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি নিলে সমস্যা প্রকট হতো না বলে জানায় বিএনপি। | 9 |
দক্ষিণ আফ্রিকায় গত ২০ বছর যত দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ, কোনোটিতেই জিততে পারেনি তারা। তিন সংস্করণ মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত যে ১৯টি ম্যাচ খেলেছে, প্রতিটিতে শুধুই হারের গল্প। কখনো কখনো পরাজয়ের বড় ব্যবধান অসহায় আত্মসমর্পণের ছবিই তুলে ধরেছে। পরিসংখ্যান-রেকর্ডে চোখ রেখেই বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এবার সফরের শুরুতেই নিজেদের 'আন্ডারডগ' হিসেবে মেনে নিচ্ছেন।আজ জোহানেসবার্গে সাংবাদিকদের ডমিঙ্গো বলেছেন, 'ওরা কদিন আগে ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে (ওয়ানডেতে) হারিয়েছে। আমরা অবশ্যই এখানে আন্ডারডগ হিসেবে এসেছি, যেহেতু আগে কখনো এখানে ম্যাচ জিততে পারিনি।' সামগ্রিকভাবে সিরিজে নিজেদের আন্ডারডগ বললেও ডমিঙ্গো ৫০ ওভারের ক্রিকেটে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। কেন আত্মবিশ্বাসী, সেটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ, 'আমরা ওয়ানডে দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। লম্বা সময় এই সংস্করণে আমরা ভালো খেলছি। খেলোয়াড়েরা নিজেদের ভূমিকা জানে। একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ আশা করছি। তবে অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্য ফেবারিট হিসেবেই শুরু করবে। ওরা নিজেদের কন্ডিশনে খেলছে। এই কন্ডিশনে তাদের হারানো কঠিন।'নিজেদের আন্ডারডগ বলার আরও একটি কৌশলগত কারণ আছে ডমিঙ্গোর-শুরুতে প্রত্যাশার চাপটা দূরে সরিয়ে রাখা। প্রত্যাশা কম থাকলে ভালো করার সুযোগ সব সময়ই বেড়ে যায়। বাংলাদেশ দলের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ তাই বলছেন, 'এটা (নিজেদের আন্ডারডগ ভাবা) বিশেষ কিছু করার সুযোগ করে দিচ্ছে। আমরা এখানে বিশেষ কিছু করতে চাই, যেটা আগে কোনো বাংলাদেশ দল এখানে করতে পারেনি।'আগামী পরশু জোহানেসবার্গে শুরু তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রোটিয়াদের বিপক্ষে দারুণ কিছু করতে হলে ওয়ানডেতে প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। ডমিঙ্গো অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। বলছেন, 'আমরা আমাদের ওয়ানডে দল নিয়ে খুশি। দলের ভারসাম্য খুব ভালো। ব্যাটিংয়ে ভালো গভীরতা আছে। টপ অর্ডারে অভিজ্ঞ ব্যাটার আছে। কিছু দুর্দান্ত বোলার উঠে এসেছে। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে আমাদের দলটা ভারসাম্যপূর্ণ, যেটি এই সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাসী করছে।' | 12 |
বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক হাতির মধ্যে অন্যতম ছিল ভারতের কর্ণাটক প্রদেশের এলিফ্যান্ট ক্যাম্পের হাতি 'ইন্দিরা'। সেই 'ইন্দিরা' এবার মারা গেলো মৃত্যুকালে 'ইন্দিরা'র বয়স হয়েছিল ৮৫ থেকে ৯০ বছর। জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে স্থানীয় একটি বন থেকে ইন্দিরাকে ধরা হয়। তারপর থেকে সে ওই ক্যাম্পেই ছিল। উল্লেখ্য একটি হাতি মূলত ৭০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। এর আগে ২০০৩ সালে ৮৬ বছর বয়সী এক হাতির মৃত্যুর পাওয়া যায়। যা ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বয়স্ক হাতি। বিডি-প্রতিদিন/ ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/ আব্দুল্লাহ সিফাত-১৬ | 5 |
সরকারি অনুদানের ছবি 'জলে জ্বলে তারা' বানাচ্ছেন অরুণ চৌধুরী। ছবিটির এক লট শুটিং শেষে জানা গেল এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন মিথিলা ও নাঈম। মিথিলা কলকাতায় থাকা অবস্থায় ছবির প্রথম লটের শুটিং হয়েছে। ফোনে সব কথা ঠিক হয়ে ছিল। গত মঙ্গলবার ছবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হন মিথিলা। আজ থেকে শুরু করছেন শুটিং। ছবিতে প্রথমবারের মতো মিথিলার নায়ক হিসেবে অভিনয় করবেন অভিনেতা এফ এস নাঈম।'জলে জ্বলে তারা' একটি নদী ও নারীর গল্প। নারীর নাম তারা। সেই চরিত্রে মিথিলা অভিনয় করছেন। ছবিতে মিথিলা থাকবেন গ্রামের একজন পোড় খাওয়া নারীর চরিত্রে। মিথিলাকে সাধারণত শহুরে চরিত্রেই দেখা যায় বেশি। তাই গ্রামীণ পটভূমিতে অভিনয় মিথিলার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।'জলে জ্বলে তারা' ছবিতে মিথিলা-নাঈম ছাড়াও আছেন ফজলুর রহমান বাবু, আজাদ আবুল কালাম, মনিরা মিঠু, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, ওবিদ রেহান প্রমুখ। গল্প লিখেছেন ইফফাত আরেফিন তন্বী। | 6 |
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে শরীরে জ্বর থাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে স্বামী পরিত্যক্তা মানসিক ভারসম্যহীন এক নারীকে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে স্বজনরা। তার নাম রেনিস বেগম মালা (৪২)। তিনি ওই গ্রামের মৃত নুর হোসেন হাওলাদারের মেয়ে। রোববার রাতে রাঙ্গাবালী উপজেলার উনিশ নম্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে কাটান মালা। সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান এবং রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আহম্মদ ওই নারীকে উদ্ধার করে খাবারসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং তার সৎ ভাই মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদারের হাতে তুলে দেন। স্বজনরা জানান, এরপর কোনো বোনের বাড়িতেই মাথা গোজার ঠাঁই হয়নি। এমনকি ভাইর ঘরেও জায়গা হয়নি থাকার। স্বজনদের ধারণা, মালার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। তাই জ্বরে উঠেছে। এ কারণে করোনাভাইরাস আতঙ্কে তাকে ঘর থেকে বের করে দেন তারা। এ ব্যাপারে মালার সৎ ভাই মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, 'মালা আমার ছোট বোন। ও ঢাকার উত্তর মুগদাপাড়ায় থাকত। এক সপ্তাহ আগে ঢাকা থেকে রাঙ্গাবালী এসে উনিশ নম্বর গ্রামের বোনের বাড়িতে ওঠে। মূলত স্বামীর সঙ্গে দূরত্বের পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে মালা। রাঙ্গাবালীতে এসে জ্বরে পড়ে ও। করোনাভাইরাসের ভয়ে সেখান থেকে তাকে পাঠিয়ে দেয় আরেক বোনের বাড়িতে। ওই বাড়িতে যাওয়ার পর আমার ভাগ্নে করোনার ভয়ে তাকে রাস্তার ওপর রেখে চলে যায়। খবর পেয়ে আমি গিয়ে তাকে আমার বাড়িতে আনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি ভাড়া বাড়িতে থাকি। আমার বাড়িওয়ালা করোনাভাইরাসের ভয়ে তার বাড়িতে উঠাতে দেয়নি।' রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আহম্মদ জানান, তিনি মালার সৎ ভাই জসিম উদ্দিন হাওলাদারকে খবর দিয়ে আনেন এবং তার হাতে মালাকে তুলে দেন। মালা বর্তমানে তার হেফাজতে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনে মালাকে উদ্ধার করে তার খাবারের ব্যবস্থা করা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হবে। | 6 |
সময়টা ভালো যাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদের। নতুন বছরের শুরুতে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুটিতেই হারের মুখ দেখতে হলো সান্তিয়াগো সোলারির রিয়ালকে। সর্বশেষ কোপা দেল রের শেষ ষোলর দ্বিতীয় লেগে লেগানেসের মাঠে ০-১ ব্যবধানে হারলো। যদিও এই হারের ফলে কোয়ার্টারে উঠতে তেমন অসুবিধা হয়নি রিয়ালের। কেননা প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে কাজটা আগেই সহজ করে রেখেছিল তারা। দলের মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রেখে এদিন একাদশ সাজান সোলারি। প্রথমবারের মত সোলারির একাদশে এদিন জায়গা করে নেন ইস্কো। ভিনিসিয়াসকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলিয়ে পরিবর্তনের চেষ্টা করেন আর্জেন্টাইন কোচ। ম্যাচের প্রথমার্ধেই লিড নেয় লেগানেস। ৩০ মিনিটে রিয়াল ডি বক্সের ভেতর জটলা থেকে লেগানেসকে এগিয়ে দেন ব্রাথওয়েট। ঐ এক গোলে এগিয়ে থেকেই ম্যাচ শেষ করতে হয় তাদেরকে। পুরো ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের উপর ছড়ি ঘুরিয়েছে পুঁচকে লেগানেস। তাদের নেওয়া ১১টি শটের ভেতর ৬টিই ছিল গোলমুখে, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদ মাত্র ৪টি শট নিয়ে ৪টিই গোলমুখে রাখতে পেরেছিল। বল পজিশনেও ছিল রিয়াল মাদ্রিদের সমান ৫০-৫০। ১৮ই জানুয়ারি, শুক্রবার কোপা দেলরের কোয়ার্টার ফাইনালের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। | 12 |
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে আজ বুধবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শুরুটা ভালো করতে পারেনি টাইগাররা। এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। কিন্তু দলীয় ৮ রানে ২ উইকেট খুইয়ে বেশ চাপে ছিল টাইগাররা। এরপর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মুমিনুল। এমনকি বিপদ কাটিয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪ তম হাফসেঞ্চুরি। মুমিনুল ৬৪ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৫২ রান করেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩ উইকেট হারিয়ে ২৭ ওভারে বাংলাদেশ ১০৩ রান করেছে। আর ব্যাট হাতে অপরাজিত আছেন মুমিনুল হক ৫৪ ও মুশফিকুর রহিম ১১ রান। এর আগে আজ টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওপেনার সাইফ হাসান জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন শূন্য রানে। এরপর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে খেলতে গিয়ে ব্লেসিং মুজারবানির বলে শান্ত ক্যাচ তুলে দেন ডায়ন মায়ার্সের হাতে। আউট হবার আগে শান্ত ২ রান করেন। এরপর দেখে শুনে খেলতে শুরু করেন মুমিনুল ও সাদমান। তবে নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি সাদমান। জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি পেসার রিচার্ড এনগারাভারের ফুলার লেন্থ বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন ২৩ রান করা সাদমান। মুমিনুল ও সাদমানের জুটিতে এসেছিল ৬০ রান। | 12 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টায় উপজেলার বৈশামুড়া এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই ইটভাটার শ্রমিক বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মো. শাহজালাল আলম জানান। নিহতরা হলেন- সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের জন মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫), শান্ত মিয়ার ছেলে মাহফুজ মিয়া (৩২) ও আক্কাস আলীর ছেলে আমজাদ (৩০)। আহত খেঁজুর মিয়া (৪৫) ও কামাল মিয়াকে (৪০) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওসি বলেন, অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরায় ইটভাটায় যাচ্ছিলেন পাঁচ শ্রমিক। পথে বৈশামুড়া এলাকায় অটোরিকশাটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে তিন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান। | 6 |
বহুমাত্রিক লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) চার জঙ্গিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চার জঙ্গি হলেন মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ, আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগনে শহীদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ ওরফে শামীম। চারজনের মধ্যে জেএমবির শুরা সদস্য মিজানুর ও আনোয়ারুল কারাগারে আছেন। সালেহীন ও নূর মোহাম্মদ পলাতক। ১৮ বছর আগের এ ঘটনার মামলায় গত ২৭ মার্চ আদালতে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। সেদিন আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজের দিন ধার্য করেন। সে অনুসারে আজ রায় হলো। মামলা ও আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে অমর একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে হুমায়ুন আজাদকে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায় জঙ্গিরা। এ ঘটনায় পরদিন তাঁর ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। বিদেশে উন্নত চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর একই বছরের ১২ আগস্ট জার্মানিতে মারা যান হুমায়ুন আজাদ। এরপর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলাটি তিন বছর তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১৪ জানুয়ারি পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। এ মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে একজন বেঁচে নেই। তাঁর নাম হাফিজ মাহমুদ। | 6 |
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে বালু না ঢেকে বহন করছে মাহিন্দ্রা ও ড্রামট্রাক। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বেপরোয়া গতিতে এ যান চলার সময় বালু উড়ে পড়ছে। সে বালু অনেক সময় পথচারীদের চোখেমুখে এবং রাস্তার পাশের বাড়িঘরে গিয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।সম্প্রতি দেখা যায়, সিরাজদিখান-নিমতলা সড়কের ওপর দিয়ে শতাধিক গাড়ি বালু না ঢেকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার রশুনিয়া, বয়রাগাদী, লতব্দী, বালুচর, মালখানগর, মধ্যপাড়সহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের সড়কেও একই অবস্থা দেখা গেছে। বেপরোয়া গতির গাড়ি চলায় বালু বাতাসে উড়ে মানুষের চোখেমুখে গিয়ে পড়ে। এ ছাড়া রাস্তার পাশে বাড়িঘরেও গিয়ে পড়ছে এসব বালু। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।মোটরসাইকেল আরোহী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'রাস্তা দিয়ে বালু না ঢেকে বহন করে নিয়ে যায় মাহিন্দ্রা ও ড্রামট্রাক। মাঝেমধ্যেই সেই বালু গাড়ি থেকে বাতাসে উড়ে চোখেমুখে পড়ে। এতে দুর্ঘটনার মতো ঘটনাও ঘটে। তাই প্রশাসনের কাছে এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ কামনা করছি।'রাজানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা কাওছার হোসেন বলেন, 'ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে রিকশা দিয়ে চলাচল করা যায় না। শাখা সড়ক দিয়ে বালু বা মাটি বহন করে নিয়ে যায় মাহিন্দ্রা ও ড্রামট্রাক। গাড়িগুলো চলার কারণে গাড়ি থেকে মাটি ও বালু পড়ে রাস্তায় ধুলায় একাকার হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে গাড়ি থেকে বালু উড়ে চোখেমুখে পড়ে। এতে মানুষের দুর্ভোগ হয়। কিন্তু প্রশাসনের নজরে পড়ে না।'ড্রামট্রাকের চালক মো. কবির আহমেদ বলেন, 'আমার গাড়িতে বালু ঢাকার জন্য কাগজ আছে। কিন্তু তাড়াহুড়ার কারণে না ঢেকে এসেছি। তবে ভবিষ্যতে আর এ রকম করব না। আগে জানতাম না যে, বালু উড়ে মানুষের চোখেমুখে পড়ে ক্ষতি হয়। এখন যেহেতু জানতে পারলাম, ভবিষ্যতে এ রকম কাজ আর আমার দ্বারা হবে না।'হাসাড়া হাইওয়ে থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, 'আমরা হাইওয়ে সড়ক ছাড়া স্থানীয় সড়কের গাড়িগুলোর কাগজপত্র যাচাই করতে পারি না। তবে উপজেলা প্রশাসন চাইলে আমাদের নিয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারে।' | 6 |
পবিত্র রমজান মাসে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে ২০ রমজান পর্যন্ত প্রাথমিক স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। রবিবার (২৭ মার্চ) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট দায়ের করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, অন্য বছর রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও এবার ক্লাস হবে। ঈদের যে স্বাভাবিক ছুটি সেগুলো বহাল থাকবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে জানানো হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে আগামী ২০ রমজান পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলো। গত বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক আদেশে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রমজান মাসে ক্লাস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে নামাজ পড়ার জন্য ৩০ মিনিট বিরতি পাবেন শিক্ষকরা। তার আগে শনিবার (১৯ মার্চ) কুড়িগ্রামে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন জানান, করোনাকালে বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার ২০ রমজান পর্যন্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে। | 6 |
করোনা ভাইরাসে আতঙ্কগ্রস্থ সারাদেশ। প্রতিদিন বাড়ছে এর ভায়বহতা। করোনা পরীক্ষার হার অনুয়ায়ী বলা যায় হাজারে শতাধিক আক্রান্ত রয়েছে দেশে। এ পর্যন্ত দেশে ১৫৭২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৬০ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪৯ জন। এদিকে সারাবিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২১ লাক্ষ ৯৭০৯ জন। এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছে এক লাক্ষ ৩৭ হাজার ৬৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৫ লাক্ষ ২৬ হাজার ৭৭০ জন। একনজরে জেলা সমূহে আক্রান্তের সংখ্যা: ঢাকা ৬৩৬, নারায়ণগঞ্জ ২৫৫, গাজীপুর ৮২, নরসিংদী ৪৩, চট্টগ্রাম ৩৬, মুন্সীগঞ্জ ২৬, মাদারীপুর ২৩, কিশোরগঞ্জ ২২, গোপালগঞ্জ ১৭, কুমিল্লা ১৪, গাইবান্ধা ১৩, জামালপুর ১২, বরিশাল ১২, টাঙ্গাইল ৯, ময়মনসিংহ ৯, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৮, দিনাজপুর ৮, রাজবাড়ী ৭, চাঁদপুর ৭, শরীয়তপুর ৬, নীলফামারী ৬, নেত্রকোনা ৬, মানিকগঞ্জ ৫, বরগুনা ৪, রাজশাহী ৪, পিরোজপুর ৪, রংপুর ৩, সিলেট ৩, শেরপুর ৩, ঠাকুরগাঁও ৩, ঝালকাঠী ৩, মৌলভীবাজার ২, পটুয়াখালী ২, লালমনিরহাট ২, ফরিদপুর ২, কুড়িগ্রাম ২, নোয়াখালী ২, চুয়াডাঙা ১, কক্সবাজার ১, হবিগঞ্জ ১, লক্ষ্মীপুর ১, সুনামগঞ্জ ১, খুলনা ১, নড়াইল ১ । | 6 |
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ১১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০টি প্রধান শিক্ষকসহ ৯৪টি শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এ ছাড়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাসহ শিক্ষা অফিসের লোকবল-সংকট থাকায় অফিসের কার্যক্রমও চলছে ধীরগতিতে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে।উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১৭টি স্কুলের মধ্যে ২০টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এ ছাড়া ৭৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদও দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। এদিকে ছয়জন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন।ফলে দুজনের পক্ষে এতগুলো বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি করা সম্ভব হয় না। এদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঁচজন কর্মচারী মধ্যে দুটি পদ শূন্য রয়েছে। এতে করে প্রশাসনিক কার্যক্রম যথাসময়ে করা সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে।চাটখিলের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ের ৮ জন শিক্ষকের স্থলে দুই থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান। শিক্ষক-সংকট থাকায় পাঠদানে মারাত্মকভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে কয়েকজন শিক্ষককে। ফলে যতগুলো ক্লাস নেওয়া দরকার, তা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না অনেক বিদ্যালয়ে।নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বিদ্যালয়ে ৮ জন শিক্ষকের স্থলে আমরা তিনজন শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের যথাযথ পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।'হাটপুকুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক ফখরুল ইসলামসহ একাধিক অভিভাবক আজকের পত্রিকাকে বলেন, করোনার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল। বর্তমানে পাঠদান শুরু হয়েছে। তবে শিক্ষক-সংকটের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।এদিকে পৌর শহরের সুন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র জাহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'করোনাকালে দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। এখন আমরা বিদ্যালয় যাচ্ছি। আমাদের শিক্ষক মাত্র তিনজন হওয়ার কারণে কখনো ঘণ্টা হয়, আবারও কখনো ঘণ্টা হচ্ছে না।'এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এহছানুল হক চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, নতুন নিয়োগ দেওয়া ছাড়া এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তবে শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগ দিলে এ সংকট সমাধান হবে। | 6 |
রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে ভবনে অবরুদ্ধ শিশু ও নারীসহ অন্তত ৮ জনকে উদ্ধার করেছে দমকলকর্মীরা। উত্তরা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সফিকুল ইসলাম বলেন, আগুন ভবনের সিঁড়ির পাশে ছড়িয়ে পড়ায় ধোয়া এবং তাপের কারণে ওই ভবনের বাসিন্দারা নিচে নামতে পারেননি। এক পর্যায়ে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে উত্তরা ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা বিকল্প ব্যবস্থায় মই দিয়ে শিশু ও নারীসহ মোট ৮ জনকে উদ্ধার করে এনেছে। তিনি বাসসকে জানান, আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন উত্তরা ১১ সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৪তলা একটি বাড়িতে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই ওই ভবনের চতুর্থ তলার নিচ তলায় বৈদ্যুতিক বোর্ডে আগুন লেগেছে। তারপর উত্তরা ফায়ার স্টেশনের ২টি ইউনিটের প্রায় আধা ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।সূত্র : বাসস | 6 |
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেছেন,করোনা মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। এ পর্যন্ত দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে করোনাভাইরাসের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এখনো টিকার কার্যক্রম চলমান। ক্রমান্বয়ে দেশের প্রতিটি মানুষই টিকা পাবে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা চান্দিনার মহিচাইলে ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আন্তঃবিভাগের কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. ফাতেমা রহমান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন বকসী, সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর, পৌর মেয়র শওকত হোসেন ভূইয়া, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়া আক্তার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান প্রমুখ। | 6 |
উপকরণজলপাই ১ কেজি, লবণ পরিমাণমতো, হলুদের গুঁড়ো আধা টেবিল চামচ, মরিচের গুঁড়ো আধা টেবিল চামচ, সরিষাবাটা ১ কাপের ৪ ভাগের ১ ভাগ, রসুনের কোয়া ১ কাপের ৪ ভাগের ১ ভাগ, আস্ত শুকনো মরিচ ৫-৬টি, পাঁচফোড়ন ১ টেবিল চামচ, বিটলবণ ১ টেবিল চামচ, সরিষার তেল ২৫০ মিলি, চিনি আধা কাপ, সাদা ভিনেগার আধা কাপ।স্পেশাল মসলার জন্যআচারের স্পেশাল মসলার জন্য জিরা আধা টেবিল চামচ, ধনে আধা টেবিল চামচ, মৌরি আধা টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন আধা টেবিল চামচ, শুকনো মরিচ ৬-৭টি। সব মসলা একসঙ্গে শুকনো তাওয়ায় হালকা ভেজে আধভাঙা করে গুঁড়াে করে নিতে হবে।প্রণালিজলপাইগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করে পানি মুছে বা শুকিয়ে নিতে হবে। জলপাইয়ের গা চিরে লবণ, হলুদ ও মরিচের গুঁড়াে দিয়ে মাখিয়ে ৩০ মিনিট রাখতে হবে। ৩০ মিনিট পর চুলায় কড়াই বসিয়ে তাতে সরিষার তেল দিতে হবে। তেল গরম হলে শুকনো মরিচ ও পাঁচফোড়ন দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ভেজে রসুনের কোয়াগুলো দিতে হবে। রসুনের কোয়া একটু ভাজা হলে সরিষাবাটা দিয়ে সব মসলা একসঙ্গে কষিয়ে নিয়ে আগে থেকে মাখিয়ে রাখা জলপাইগুলো দিতে হবে।এবার চিনি মিশিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। জলপাই সেদ্ধ হয়ে এলে বিটলবণ, আচারের স্পেশাল মসলা মিশিয়ে দিতে হবে। সবশেষে ভিনেগার দিয়ে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। আচার পুরোপুরি ঠান্ডা হলে কাচের বয়ামে ভরে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে জলপাইগুলো যেন তেলের নিচে ডুবে থাকে। তেল কম হলে সরিষার তেল ফুটিয়ে ঠান্ডা করে আচারে দিতে হবে। | 6 |
১৯৭১ সালের সাতই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ শেষ করেছিলেন এই বলে যে 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'। বাঙালি জাতির সংগ্রামকে তিনি একাধারে 'স্বাধীনতার সংগ্রাম' ও 'মুক্তির সংগ্রাম' বলে আখ্যায়িত করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, এ হয়তো নিছকই স্বাভাবিক শব্দচয়ন। কিন্তু আমার মনে হয়, তা কিন্তু নয়। অত্যন্ত সচেতনভাবে বঙ্গবন্ধু শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন তাদের অন্তর্নিহিত অর্থ মনে রেখে। 'স্বাধীনতা' ও 'মুক্তির' ব্যঞ্জনা ভিন্ন।একটি জাতির রাজনৈতিক স্বাধীনতা এলেই তার অর্থনৈতিক মুক্তি আসে না। স্বাধীনতা অর্জন করার পরেও একটি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বঞ্চনা থাকতে পারে, অসাম্য থাকতে পারে, অন্যায় থাকতে পারে। এগুলো দূর করতে পারলেই তখন কেবল অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব। সুতরাং বঙ্গবন্ধু জানতেন যে বাঙালি জাতির সংগ্রাম শুধু স্বাধীনতা প্রাপ্তিতে শেষ হবে না, তার অর্থনৈতিক মুক্তিও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থনৈতিক মুক্তির আবশ্যকীয় শর্ত, কিন্তু পর্যাপ্ত শর্ত নয়।এই চালচিত্র মাথায় রেখে চারটি বিষয়কে জাতীয় নীতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল-জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। জাতীয়তাবাদ আমাদের বাঙালি আত্মসত্তার জন্য আবশ্যিক শর্ত। আত্মসত্তার বোধ একটি জাতির রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য দরকার।গণতন্ত্রকেও বঙ্গবন্ধু শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র হিসেবে দেখেননি। তিনি এটাকে অর্থনৈতিক গণতন্ত্র হিসেবেও দেখেছেন। সুতরাং সম্পদে সবার সমান অধিকার, অর্থনৈতিক সুযোগে সাম্য নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে সব মানুষের সমান কণ্ঠস্বরের কথা তিনি বলেছেন। এ ব্যাপারে তিনি সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পদ ও সুযোগে সম অধিকার এবং সেই সঙ্গে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি। নর-নারীর মধ্যে সাম্যের ব্যাপারটিও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।অর্থনৈতিক গণতন্ত্র সুনিশ্চিত করার জন্য কতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রথমত, ব্যাংক-বিমাশিল্প জাতীয়করণের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলো যেন বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ হয়েই থাকে, তার সেবাগুলো যেন সাধারণ মানুষের কাছে লভ্য হয়। পাট ও বস্ত্রশিল্প জাতীয়করণের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে দেশের বৃহৎ শিল্পের মালিকানা যেন বড় পুঁজিপতিদের হাতে না চলে যায়। বৃহৎ পুঁজির শোষণ তিনি পাকিস্তান আমলে দেখেছেন।দ্বিতীয়ত, প্রথম থেকেই বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতার পথে বাংলাদেশকে চালনা করতে চেয়েছেন। তাই স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশ অর্থনীতিকে তিনি লাগামছাড়া বাজার অর্থনীতির হাতে ছেড়ে দেননি এবং বিশ্ব অর্থনীতির কাছে উন্মুক্ত করে দেননি। তিনি জানতেন যে নবীন কিন্তু সম্ভাবনাময় এই অর্থনীতিকে বৃহৎ পুঁজির হাতে ছেড়ে দিলে তারা এটা কুক্ষিগত করে নেবে এবং সাধারণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী এতে শোষিত হবে। তেমনিভাবে তিনি বিশ্বাস করতেন যে বাংলাদেশে অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করে দিলে এই নবীন ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এঁটে উঠবে না এবং শিগগিরই এই অর্থনীতি অন্য অর্থনীতির বাজারে পরিণত হবে।তৃতীয়ত, বঙ্গবন্ধু জানতেন যে গ্রামীণ অর্থনীতি, বিশেষত কৃষি খাত হচ্ছে বাংলাদেশ অর্থনীতির প্রাণের চালিকা শক্তি। বাংলাদেশের জনশক্তির সর্বোচ্চ অংশই এই খাতের কর্মে নিয়োজিত। বাংলাদেশের দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরও আয় ও কর্মের মূল বলয় হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি খাত। নগর অর্থনীতিরও প্রধান চালিকা শক্তি এই খাত।গ্রামীণ অর্থনীতির দরিদ্র এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা এবং তাঁদের অর্থনৈতিক জীবনে গতিময়তা সুনিশ্চিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের কৃষি খাতে সমবায় প্রথার প্রচলনের কথা বলেছেন। তিনি চেয়েছিলেন যে কৃষিকাজে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষির অধিকার এবং প্রাপ্য যেন সুনিশ্চিত হয়। সে লক্ষ্যেই জমি-মালিকানার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, যাতে বাংলাদেশের কৃষি জোতদারদের হাতে চলে না যায়। ভূমির পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে দরিদ্র চাষিদের ভূমির মালিক করার প্রয়াস ছিল তাঁর।উৎপাদন বৃদ্ধি, সুষম বণ্টন, কর্মসংস্থান ও গ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন-এই চারটি মূল লক্ষ্য সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু তাঁর বিশেষ গ্রাম প্রকল্প প্রণয়ন করেছিলেন। উন্নতমানের বৈমানিক ব্যবস্থায় উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট সব খাতে উৎপাদন বর্ধিত করতে হবে। সুষম বণ্টনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য একদিকে যেমন উৎপাদন উপকরণগুলো সমবায় সমিতির আওতায় এনে সম্পদ ও উপকরণে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা, তেমনি অন্যদিকে ফলাফলের বণ্টনেও সমানুপাতিকতা বহাল রাখা। গ্রামাঞ্চলে চাষাবাদের মাত্রা বাড়িয়ে, অকৃষি খাতে নানান কার্যক্রম গ্রহণ করে এবং ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবার জন্য উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।বঙ্গবন্ধুর মতে, বিশেষ গ্রাম সমবায় প্রকল্পের সামগ্রিক লক্ষ্য হবে বাস্তবানুগ পরিকল্পনার দ্বারা গ্রামের সর্বাঙ্গীণ উন্নতির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে গ্রাম ও গ্রামবাসীকে স্বাবলম্বী ও স্বয়ম্ভর করে তোলা, গ্রাম উন্নয়নমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং গ্রামের ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো গড়ে তুলে গ্রামোন্নয়নে পূর্বশর্ত সৃষ্টি করা এবং গ্রামীণ সমাজের যাবতীয় দিককে এই প্রকল্পের আওতায় এনে গ্রামের সার্বিক ও সর্বাত্মক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন যে বাংলাদেশে সব মানুষ ধর্ম ও জাতনির্বিশেষে সম অধিকারে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে। সেটাই তো বাংলাদেশের ঐতিহ্য। ধর্মনিরপেক্ষতাকে তিনি তাই একটি সমতার উপকরণ হিসেবে দেখেছিলেন। একটি বহুধা ধর্মসম্পন্ন সমাজে সবার অধিকারকে নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হতেই হবে। ধর্ম সেখানের ব্যক্তিগত ব্যাপার, রাষ্ট্রীয় সত্তার ব্যাপার নয়। বঙ্গবন্ধু বারবার বলেছেন, 'ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়।'রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ও সমাজজীবনে তিনি ধর্ম এবং জাতীয়তাবাদকে এমন জায়গায় রেখেছেন, যেখানে বাঙালি জাতির আত্মসত্তা-অস্তিত্বে কোনো দ্বন্দ্ব না থাকে, আর ধর্ম বিষয়ে কোনো সংশয় না থাকে। পরবর্তী সময়ের সব দ্বন্দ্ব ও সংশয়ের স্রষ্টা আমরাই-বহু মীমাংসিত বিষয়কে আবার ঘোলাটে করে দিয়ে।শোষণের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন। সারা জীবন তিনি শোষণের বিরুদ্ধে বলেছেন, বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, রুখে দাঁড়িয়েছেন শোষকদের বিরুদ্ধে। শোষণকে তিনি দেখেছেন বঞ্চনার একটি শক্তিশালী খুঁটি হিসেবে, সাম্যের পরিপন্থী হিসেবে এবং মানবাধিকারের সঙ্গে সংগতিহীন হিসেবে। সেই পরিপ্রেক্ষিত থেকেই তিনি বলেছেন, 'বিশ্ব আজ দুটো শিবিরে বিভক্ত- শোষক ও শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।'তাই বঙ্গবন্ধু সমাজতন্ত্রকে একটি যান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেননি, দেখেছেন সামাজিক ন্যায্যতার পরিপ্রেক্ষিত থেকে। সামাজিক ন্যায্যতাকে তিনি একটি শোষণমুক্ত সমাজের অপরিহার্য প্রাক-শর্ত হিসেবে দেখেছেন। তিনি গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের কথা বলেছেন, কিন্তু দুটোকেই দেখেছেন সামাজিক ন্যায্যতার এক একটি স্তম্ভ হিসেবে। তাই সত্তর দশকের প্রথম দিকে নানা মনে 'গণতন্ত্র' ও 'সমাজতন্ত্র' বিষয়ে নানা রকমের ধোঁয়াটে ভাব থাকলেও, এ বিষয় দুটোতে বঙ্গবন্ধুর ধারণা ছিল শার্সির মতো স্বচ্ছ। 'গণতন্ত্র'কে তিনি শুদ্ধ একটি বিষয় হিসেবে ভাবেননি। ভেবেছেন, 'সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র' হিসেবে; আবার 'সমাজতন্ত্র'কেও একটি যান্ত্রিক মাত্রায় দেখেননি। দেখেছেন, 'গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র' হিসেবে এবং এ দুটোকেই সম্পৃক্ত করেছেন সামাজিক ন্যায্যতার সঙ্গে।মনেপ্রাণে বাঙালি হয়েও বঙ্গবন্ধুর ছিল একটি বিস্তৃত বৈশ্বিক মানসিকতা। এ ব্যাপারে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অনেকটা রবীন্দ্রনাথের মতো। তাই তিনি শুধু বাঙালির নেতা ছিলেন না, ছিলেন বিশ্বনেতা। বৈশ্বিক অঙ্গনে তিনি যূথবদ্ধতার পক্ষে ছিলেন, কিন্তু স্বার্থ জোটবদ্ধতার পক্ষে নয়। তাই তাঁকে দেখা গেছে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতা হিসেবে-টিটো, কাস্ত্রোর সঙ্গে একই কাতারে। বিশ্বশান্তির সপক্ষে তাঁর জোরালো বাণী, বিশ্ব শান্তি কাউন্সিলের প্রতি তাঁর সমর্থন ও মানবতাবাদী বিশ্ব ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর আলাপ-আলোচনা তাঁকে এক বিশ্ববরেণ্য নেতায় পরিণত করেছিল। তাই তিনি শুধু 'বঙ্গবন্ধুই' নন, 'বিশ্ববন্ধুও' বটে।শেষের কথা বলি। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারের পরে ফিদেল কাস্ত্রো বলেছিলেন, 'আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। আমার আর হিমালয় দেখার প্রয়োজন নেই।' আমরা অনেকেই হয়তো হিমালয় দেখেছি, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি। কিন্তু তাতে কি? হিমালয়ের বিস্তার থেকে আমরা বঙ্গবন্ধুর বিশালতা বুঝতে পারি, তাঁর চিন্তা-চেতনা থেকে পাই এক স্থির দিকনির্দেশনা, তাঁর স্মৃতি থেকে পাই এক অনন্য প্রেরণা। প্রাপ্তি আমাদেরইবা কম কিসে? চেতনার সিঁড়ি বেয়ে আমাদের পথচলা অক্ষয় হোক।সেলিম জাহানভূতপূর্ব পরিচালক, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য বিমোচন বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র | 6 |
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী মাসে তার ইউরোপ সফরের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে করোনাভাইরাস ও টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় এ আশা প্রকাশ করেন তিনি। জুন মাসের ইউরোপ সফরের সময় রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে জো বাইডেন বলেন, "আমি সেরকমটি আশা করছি। আমরা এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি।" গত এপ্রিল মাসের গোড়ার দিকে পুতিনের সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে তৃতীয় কোনও দেশে তার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন বাইডেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনই পুতিনকে আমেরিকায় আমন্ত্রণ জানাতে বা নিজে মস্কো সফর করতে রাজি নন। তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যক সুলিভান গত শুক্রবার বলেছিলেন, চলতি গ্রীষ্মেই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরত এই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের উদ্যোগে মস্কো ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
চলতি মাসেই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ বুধবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আজকে রাতে জাতীয় পরামর্শ কমিটির সঙ্গে সভা আছে। আমরা করোনার অবস্থা পর্যালোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারব। এ বিষয় নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হবে। তারপর খুব শিগগিরই আমরা মনে করছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারব। নির্ধারিত তারিখ বলতে না পারলেও আমরা আশা করছি চলতি মাসেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। তবে সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।'শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় যেভাবে যতটুকু ক্লাস নেওয়া সম্ভব আমরা ততটুকু করব। যত দ্রুত করোনা পরিস্থিতি থেকে আমরা স্বাভাবিকে যেতে পারব তত দ্রুত আমাদের সব ক্লাস স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়ে যাবে।'দিন দিন শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন বৃদ্ধি হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'শ্রেণিকক্ষ খুলে দেওয়া হলেই নতুন কারিকুলাম ট্রাইআউটে যাবে। ২০২৩ সাল থেকে দুটি ক্লাস নতুন কারিকুলামে করা হবে। তা ছাড়া ২০২৫ সাল থেকে পুরো কারিকুলাম বাস্তবায়ন করা হবে। এই কারিকুলাম বাস্তবায়ন হলে আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষার যেই গুণগত মান আমরা খুঁজছি সেটি বাস্তবায়িত হবে।'অনুষ্ঠানে হাইমচর, ফরিদগঞ্জ ও কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়ী ৩১ জন চেয়ারম্যানকে শপথবাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন চাঁদপুর-১ আসনের সাংসদ ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও চাঁদপুর-৪ আসনের সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান, হাইমচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন। | 1 |
ক্যানসারে আক্রান্ত ছেলে অমল রায়ের (৪৮) মৃত্যুর এক ঘণ্টা পার না হতেই মা শোভা রায়েরও (৭০) মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শোভা রায়ের দুই ছেলে বিমল রায় ও অমল রায়। স্থানীয় লেছড়াগঞ্জ বাজারে তাঁদের সাইকেল মেরামত ও যন্ত্রাংশ বিক্রির দোকান রয়েছে। অমল রায় দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। আজ সকাল সাতটার দিকে বাড়িতে তিনি মারা যান। ছেলের মৃত্যুতে শোভা রায় আহাজারি করছিলেন। অমলের মৃত্যুর এক ঘণ্টা পর সকাল আটটার দিকে ছেলের লাশের পাশেই মাটিতে ঢলে পড়েন তিনি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইমদাদুল হক বলেন, ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মা শোভা রায়ও মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক ঘণ্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মা ও ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি। | 6 |
ধান চাষ বাংলাদেশের ঐতিহ্য আর পরিচয়ের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আছে। দেশে-বিদেশে যেখানেই বাস করি না কেন, এক মুঠো ভাত পেটে না পড়লে বাঙালির খিদে মেটে না। আর গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিটি এখন পর্যন্ত ধান উৎপাদনকে আবর্তন করে রয়েছে। বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার নিশ্চিত করতে ধান উৎপাদন যেমন মুখ্য ভূমিকা পালন করে, তেমনি দেশের সিংহভাগ নাগরিক, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বাঁচা-মরা তথা আর্থসামাজিক উন্নয়ন ধান উৎপাদন ও মূল্যের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে। কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, এটা এখন বাংলাদেশের সর্বত্র আলোচনার বিষয়। এখন পর্যন্ত কৃষিমন্ত্রী বা খাদ্যমন্ত্রী কেউই এ বিষয় নিয়ে কোনো আশাব্যঞ্জক কথা বলেননি। নতুন বছরের বাজেটেও সুসংবাদ নেই। বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদও নীরব। যে দু-একজন কথা বলছেন, তা পুরোটা বিশ্লেষণের নিরিখে বলছেন বলে ধরে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশের উন্নয়নে কৃষকের ভূমিকা বলে শেষ করা যাবে না। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে আজকের অনেকটা খাদ্যে উদ্বৃত্ত বাংলাদেশ কোনো জিয়নকাঠির ছোঁয়ায় হয়নি। এর পেছনে রয়েছে কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম। গত এক দশকে বাংলাদেশে কৃষির গর্ব করার মতো যে অর্জন হয়েছে তার পেছনে সরকারের অবদানও প্রশংসা করার মতো। এ ছাড়া রয়েছে বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানীদের অগ্রযাত্রা আর সম্প্রসারণ কর্মীদের পরিশ্রম।বলা হচ্ছে, এ বছর বোরো মৌসুমে ধানের উৎপাদন বেশি হয়েছে। সূত্রমতে, এবার গত বছরের তুলনায় কম জমিতে বোরো চাষ হলেও অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাত (৮৮ শতাংশ উফশী, ১১ শতাংশ হাইব্রিড) ও প্রণোদনা দেওয়ার কারণে বোরোর উৎপাদন ৭ শতাংশ বেড়ে যাবে বলে পূর্বাভাস ছিল। তা ছাড়া আমন ও আউশের ফলনও ভালো হয়েছে। ধান উৎপাদনের এই ক্রমবর্ধিত প্রবণতা গত কয়েক বছর থেকেই দৃশ্যমান। আর গত কয়েক বছরই কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। ধান কাটার মজুর-সংকট ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবারের অবস্থা গত বছরগুলো থেকে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে কৃষকেরা আজ মধ্যস্বত্বভোগী মুনাফাখোর ধান-চাল ব্যবসায়ীদের কাছে মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ হারে ধান বেচতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে এক মণ ধানের উৎপাদন খরচ নিদেনপক্ষে হাজার টাকার ওপরে। উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম না পাওয়ার কারণে অনেকের স্বপ্ন পূরণের পথ বন্ধুর হয়ে গেছে, অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষি সারা বিশ্বেই যেমন একটি মহৎ পেশা, তেমনি এতে রয়েছে অনেক বাধা-বিপত্তি ও ঝুঁকি। এই বাধা-বিপত্তি ও ঝুঁকি উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশেই কৃষির জন্য কম-বেশি প্রযোজ্য। কৃষককে যেমন প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে হয়, তেমনি তাঁর উৎপাদিত পণ্যের দামের জন্য নির্ভর করতে হয় উৎপাদনশীলতার ওপর, জোগান ও চাহিদার ভারসাম্যের ওপর। আর আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য তো আছেই। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ আর কৃষকেরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি অনেক দেশেই সরকার প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ করে থাকে। বাংলাদেশে নতুন হলেও, আধুনিক কৃষির প্রণোদনা গত শতাব্দীর শুরুতেই শুরু করেছিল আমেরিকা। আজ কৃষিতে উন্নয়নের শিখরে অবস্থান পাওয়া জাপান বিশ্বে কৃষিতে সবচে বেশি প্রণোদনা প্রদানকারী দেশ হিসেবে বিবেচিত। কৃষিতে প্রণোদনা বিভিন্ন পদ্ধতিতে দেওয়া হয়ে থাকে যেমন সরাসরি প্রণোদনা, রেগুলেশন করে সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ, আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি, শস্যবিমা, সরকার কর্তৃক ন্যায্যমূল্যে শস্য ক্রয় ও সংরক্ষণের মাধ্যমে মূল্য সহায়তা প্রদান করে কৃষককে সরাসরি লোকসান থেকে মুক্তি দেওয়া প্রভৃতি। মূল্য সহায়তার মাধ্যমে কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল, কম উপার্জনের কৃষককে সহায়তা, কৃষিকাজ থেকে অভাবনীয় ক্ষতি কমিয়ে আনা, খাদ্যনিরাপত্তার নিশ্চয়তা, কৃষিপণ্যের রপ্তানিকে সহজ করাসহ গ্রামীণ উন্নয়নকে বেগবান করা সম্ভব। আর এ জন্য অনেক বছর থেকে বহু দেশে কৃষির সঙ্গে জড়িত বা কৃষকের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য এটিকে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমেরিকা প্রতিবছরই দানাশস্য থেকে শুরু করে গবাদিপশু পালন ও উৎপাদনে ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চয়তার জন্য প্রণোদনা ও মূল্য সহায়তা দিয়ে আসছে। নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, কোরিয়া, জাপান, আইসল্যান্ডসহ অনেক দেশেই কৃষিপণ্যের উৎপাদন মূল্যের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে আসছে। জাপান ও কোরিয়া ধানের উৎপাদনে বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রণোদনা দিয়ে আসছে। অনেক অর্থনীতিবিদ মূল্য সহায়তা তথা কৃষিতে প্রণোদনার বিরোধিতা ও ডেডওয়েট লসের ( ) যুক্তি দেখালেও কৃষকের ক্ষতি পোষাবার অন্য কোনো বিকল্পের জুতসই ব্যবস্থাপনার সন্ধান দিতে পারেননি। আজ আমাদের কৃষকেরা তাঁদের কৃষিপণ্যের দাম নিয়ে যে এক হতাশার মধ্যে পড়েছেন, তা থেকে মুক্তির সঠিক পথ বের করবার গুরুদায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়, এটি সরকারেরই দায়িত্ব। এটি স্পষ্ট যে ধান উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষককে সমূহ ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মূল্য সহায়তার অন্য কোনো বিকল্প এখন নেই বললেই চলে। আর কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চয়তার জন্য ভেল্যু চেইনের অব্যবস্থাগুলো দূর করাও জরুরি। মধ্যস্বত্বভোগী ও পণ্যমূল্যের সিন্ডিকেট, অনৈতিকতা রোধ ও সার্ভিসের অব্যবস্থাও জরুরি ভিত্তিতে নিরসন করাও অত্যন্ত জরুরি। কৃষককে কীভাবে মূল্য সহায়তা দিলে কৃষক লাভবান হবেন, তা নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। আর দ্রুত একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নীতি প্রণয়নেরও প্রয়োজন রয়েছে। কৃষি ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত অনেকের মতে কৃষককে মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সরকারের উচিত হবে কৃষকের কাছ থেকেই ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয় করা। সরকারি উদ্যোগেই এই ধান সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা। সরকারের কেনা ধান আংশিক সরকারি ব্যবস্থাপনায় রপ্তানি আর আংশিক চাল বানিয়ে ন্যায্যমূল্যে বাজারজাত করার পরামর্শ দিয়েছেন অনেক অভিজ্ঞ কৃষি বিশেষজ্ঞ। সঙ্গে সঙ্গে ধান-চাল আমদানিতে নিষেধজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যত দিন পর্যন্ত দেশে উদ্বৃত্ত ধান-চাল রয়েছে। অনেকেই প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ধান সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার আবশ্যকতার কথা বলেছেন, যেখানে কৃষক প্রয়োজনমতো ধান মজুত করতে পারবেন আর মজুত করা ধানের ৮০ শতাংশের ন্যায্যমূল্যের সমপরিমাণ অর্থ যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন। এতে ব্যাংক যেমন লাভবান হবে, তেমনি কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং মূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে। সঙ্গে সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থেকে রেহাই পাবেন কৃষক। আজ যে ধানের অধিক ফলন হয়েছে, দেশে ধানের উৎপাদন উদ্বৃত্ত হয়েছে, তা আমাদের জন্য বড় সুখবর। আমরা এ নিয়ে গর্ব করতে পারি। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষির এই সাফল্যেরও একটি সূচনা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দূরদর্শিতার কারণেই মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনে প্রাণের স্পন্দন পেয়েছিল। ধানের উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও ন্যায্যমূল্যের অব্যবস্থাপনা আজ এক অন্য রকম সংকট, যা মোকাবিলা করার জন্যও চাই দূরদর্শিতা। আমাদের কৃষককে কৃষিতে অনুপ্রাণিত করেই দেশের কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, 'কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে'। ড. এজাজ মামুন: প্রবাসী, বিজ্ঞানী। | 8 |
অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সেরা স্কুলের তালিকায় উঠে এসেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১০ স্কুলের নাম। বিগত কয়েক বছর ধরে ঘুরে ফিরে ওই সব স্কুলই সেরা দশের তালিকায় উঠে আসছে। এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতভাগ পাস করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রথম হয়েছেন নগরীর জামালখান এলাকার ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। গতবার প্রতিষ্ঠানটি সেরার তালিকায় চতুর্থ স্থানে ছিল।অন্যদিকে, প্রতিবার যেখানে শতভাগ পাস এবং জিপিএ-৫ শিক্ষার্থীর দিক থেকে এগিয়ে সেরার তালিকায় থাকত চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল। সেখানে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবার তালিকার শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার ১ হাজার ৭৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে সেরার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। গতবার চতুর্থ অবস্থানে থাকা এ স্কুল এবার রয়েছে সেরার তালিকার প্রথমে। দ্বিতীয় স্থানে কলেজিয়েট স্কুল। তৃতীয় স্থানে আছে নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়। এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৭০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ১ জন ফেল করে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯১ জন।অপরদিকে, ৪০৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস ও ৩৬৩ জন জিপিএ-৫ পেয়ে ৪র্থ অবস্থানে রয়েছে মুসলিম হাই স্কুল। ৫ম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২১ জন।পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর ভিত্তিতে সেরা দশে থাকা নগরীর বাকি পাঁচ বিদ্যালয়ের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪৮১ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮৬ জন। সপ্তম স্থানে রয়েছে বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এই স্কুল থেকে ৩৮৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করে ২ জন। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫৮ জন। অষ্টম স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার ৩০৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩০২ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪৮ জন।নবম স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১৩ জন। দশম স্থানে আছে অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৭৫ জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৭০ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০১ জন। ফলাফলে দেখা গেছে, এই বছর খাস্তগীর স্কুল থেকে ৪৭৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫৯ জন। এরপরেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কলেজিয়েট স্কুল। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার ৪৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪৬ জন।তবে কলেজিয়েট স্কুল ফলাফলে অনুপাতে এগিয়ে আছে বলে দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, শিক্ষাবোর্ডের ফলাফলে আমরা দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করলেও ফলাফলের আনুপাতিক হারে আমরা কিন্তু খাস্তগীর স্কুল থেকে কিছুটা এগিয়ে আছি। ওই স্কুলের চেয়ে এবার আমাদের কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। সেই হিসেবে আমাদের জিপিএ-৫ বেশি।গত বছর ফলাফলে কলেজিয়েট স্কুল প্রথম স্থান দখল করেছিল। এবার পিছিয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের স্কুল থেকে শতভাগ পাস করেছে। ৪৬২ জনের মধ্যে ১৬ জন জিপিএ-৫ পায়নি। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তারাও পাবে। কিন্তু করোনার কারণে এবার সব শিক্ষার্থীদের আমরা ঠিকভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় রাখতে পারিনি। তাই এই ১৬ জন আমাদের প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।অন্যদিকে, অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবার ভালো ফলাফল করেছে বলে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, করোনার মধ্যে শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ সময় বাসায় কাটিয়েছে। অভিভাবকেরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একান্ত প্রচেষ্টা ছিল। যে কারণে এবার আমরা ফলাফলে শীর্ষে উঠে এসেছি। | 1 |
স্কুলে ভর্তি হতে গেলে বাবার নাম লাগে। তাই নিমসানা আক্তারের বাবার নামের জায়গায় লেখা হয়েছিল লাল খান। যে লোকটাকে নিমসানা কখনো দেখেনি, যাকে নিয়ে কিছু জানতও না, সে-ই হয়ে গিয়েছিল তার বাবা। বাবাকে নিয়ে কিছু জানতে চাইলেই তাকে বলা হতো-বাবা মারা গেছে। আর পাড়াপড়শিরা বলত, 'তুই বেজন্মা'। আজকের পত্রিকাকে নিমসানা বলেন, 'মাইর কাচে কিচু জানতি চাইলিই শুধু কান্দত। কতু দিন গ্যাছত শুদু দুইজন গলা দইরা কন্দছিত।'একটু বড় হওয়ার পর নিমসানা জানতে পারে একাত্তরে তাঁর মায়ের ওপরে ছয় মাস ধরে নির্যাতন চালানো চারজনের মধ্যে যে ছিল সবচেয়ে বর্বর সে-ই লাল খান। তীব্র ঘৃণা নিয়েও এই লোককেই বাবা হিসেবে পরিচয় দিতে হয়েছে নিমসানাকে। কারণ, বাবার নাম তো লাগবে।বিজয় দিবসের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা হয় নিমসানার মা জয়গুন্নাহার খানমের। করোনা পজিটিভ হওয়ায় ফোনেই জানালেন, একাত্তরে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার কথা। পাকিস্তানি সেনারা জয়গুনের বাবা-মা ও ভাইদের মারতে মারতে অচেতন করে যখন তাকে তুলে নিয়ে যায়, তখন তার বয়স দশ কি বারো। সিলেটের মৌলভীবাজারের শমসেরনগর ডাকবাংলো সেনা ক্যাম্পে এপ্রিল থেকে শুরু করে ছয় মাস পর্যন্ত তার ওপর চালানো হয় নৃশংস নির্যাতন।জয়গুন্নাহার জানান, খুপরি মতো একটা গুদাম ঘরে রাখা হয়েছিল তাঁকে। সুবেদার লাল খান, মেজর আজিজ, ক্যাপ্টেন রফিক, ক্যাপ্টেন দাউদ-এই চারজন মিলে চালাত নির্যাতন। সারা শরীরে ক্ষত হয়ে গিয়েছিল তাঁর। পায়খানা-প্রস্রাবের জন্য দেওয়া হয়েছিল একটা বালতি। প্রতি রাতে তাঁকে দিয়েই সেটা পরিষ্কার করানো হতো। যুদ্ধ শেষ হওয়ার এক-দু মাস আগে জয়গুন সুযোগ বুঝে পালিয়ে বের হয়ে আসেন সেই 'দোজখ' থেকে। বাহাত্তরের ফাল্গুনে জন্ম হয় তাঁর সন্তান নিমসানার।এর পর পেরিয়ে গেছে ৫০ বছর। সেদিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। বদলে গেছে সবকিছুই। এই দেশটাকে জন্ম দিতে যে জয়গুনকে ছয় মাস পৈশাচিক নির্যাতন সইতে হয়েছিল, বদলায়নি শুধু তাঁর ভাগ্য। রাষ্ট্রীয় সাহায্য, সম্মানী, ভাতা তো অনেক দূরের বিষয়, মেলেনি কোনো স্বীকৃতিও। এ তো গেল জয়গুনের গল্প। নিপীড়ন ও নির্যাতনের এক দগদগে ক্ষত তাঁকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। সেই 'দোজখ' থেকে বেরিয়ে আসার পর এই একলা লড়াইয়ের জন্য তাঁর মন হয়তো কিছুটা প্রস্তুতও হয়ে থাকবে। কিন্তু নিমসানা? শুধু যুদ্ধশিশু হওয়ার কারণে তাঁকে বেড়ে উঠতে হয়েছে এক বৈরী পরিবেশে। ছোট থেকেই তাঁকে শুনতে হয়েছে একটি শব্দ বারবার-'বেজন্মা'। নিমসানা বলেন, 'আমি যদি বেজন্মা হই। এই দেশটা তাইলে কী? এই দেশ স্বাধীন হওয়ার জন্য আমার মায়ের অবদান আছে। তাইলে আমরা কেন স্বীকৃতি পাব না?'নিমসানার মা জয়গুন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন। গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুর রহমান, আব্দুল হাই, আবু বকর বীরাঙ্গনা হিসেবে জয়গুন্নাহারের নাম অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করেছেন। তাঁরা স্থানীয় উপজেলা পরিষদে গিয়ে এর পক্ষে সাক্ষ্যও দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ফল মেলেনি।বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুর রহমান বলেন, 'জয়গুন যে বীরাঙ্গনা, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। একাত্তরে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তাঁর ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে স্বীকৃতি পাওয়াটা তাঁর অধিকার।'জয়গুনকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আরও সুপারিশ করেছেন শমসেরনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ বাহার আলীসহ আরও কয়েকজন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি।জয়গুনের এলাকা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, 'জয়গুনের বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। দু-এক মাস আগে জয়গুন এবং স্থানীয়দের ডেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এর পর সরেজমিনে তদন্ত হবে। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা পরিষদের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারপরই জয়গুন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন কিনা, সেই সিদ্ধান্ত আসবে।'রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না মিললেও বীরাঙ্গনা হিসেবে জয়গুনকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল। এ হাসপাতাল থেকে বিজয় দিবসে তাঁকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়ার কথা থাকলেও জয়গুন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বীর মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যেসব রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বীকৃতি এবং সহায়তা পান, জয়গুনেরও সেটা প্রাপ্য। শুধু জয়গুন নন, দেশের সমস্ত বীরাঙ্গনারই তা প্রাপ্য।জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪১৬ জনকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, 'যুদ্ধের সময় ১ লাখ মুক্তিযোদ্ধা থেকে এখন ৩ লাখ মুক্তিযোদ্ধা হইতে পারল। আর ২ লাখ বীরাঙ্গনার কথা বলা হয়। সেটা কেন ৫০ বছরে মাত্র ৪১৬ জন?'২০১৪ সালের ২৭ জানুয়ারি উচ্চ আদালতের একটি আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপরই বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। কিন্তু এর পর পাঁচ বছরেও করা যায়নি পূর্ণাঙ্গ তালিকা। এ কারণে এখনো একাত্তরের নির্যাতিতা জয়গুনকে বলতে হচ্ছে, 'দুবেলা দুটু খাওয়ার জন্য যে টাকা লাগে, তাও আমার নাই। আর কয়দিনই বা বাঁচুম? আমার কিছু চাওয়ার নাই।' | 6 |
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে ইউক্রেনের অন্তত ১৫ লাখ শিশু। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ তথ্য দিয়েছে। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এলডার সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গত ২০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৭০ হাজারের বেশি শিশু শরণার্থী হয়েছে। প্রতি মিনিটে ৫৫টি শিশু বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১টি শিশু শরণার্থী হচ্ছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যে গতিতে মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালাচ্ছে এবং যে হারে শরণার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, এটা নজিরবিহীন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত অল্প সময়ের ব্যবধানে এত শরণার্থীর ঢল এর আগে দেখেনি ইউরোপ। জেমস এলডার আরও বলেন, তিনি অনেক শিশুকে দেখেছেন যারা কান্না করছে না। যা মোটেও স্বাভাবিক বিষয় নয়। কারণ, কান্না না করা এসব শিশু ট্রমার মধ্যে চলে গেছে। মেদিকা বর্ডারের তাবুতে ৬ ও ৯ বছরের শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিলো তারা যেনো পাথর হয়ে গেছে! পাশে বসা মা জারনা বলছিলেন, দীর্ঘ যাত্রায় পায়ে হেটে, শুকনো খাবার খেয়ে সেই ধকল সামলাতে পারছে না তারা। সেই সাথে কিয়েভে ৩ দিন তারা ছিলেন ট্রেন ষ্টেশনের শেল্টারে। সেখান থেকে ১২ দিনে হেটে এসেছেন এখানে। এই দীর্ঘ ও কষ্টের যাত্রার ভেতর দিয়ে গিয়েছে ১৫ লক্ষ শিশু। শারীরিক কষ্ট ও ক্লান্তি হয়তো মুছে যাবে, কিন্তু মন ও মননে যে ছাপ ফেলে গেলো, সেটা কি কোনদিন যাবে? বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 3 |
নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। বুধবার দুপুরে নগরীর খালিশপুর এলাকার নির্মাণাধীন ৪ তলা একটি ভবনের নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। এর আগে গত মাসে আরও পাঁচটি ভবনের নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে দেয় কেডিএ। এ সময় কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, সিনিয়র বৈষয়িক কর্মকর্তা শামীম জেহাদ, নিয়োজিত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। কেডিএর কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, ভবন নির্মাণের জন্য খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নকশা অনুমোদন নেন নগরীর খালিশপুর থানার গোয়ালপাড়া এলাকার সুশান্ত বিশ্বাস। কিন্তু নকশা না মেনেই ভবনের কাজ সম্পন্ন করেন তিনি। নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলতে তাকে কয়েক দফা নোটিশ দেয় কেডিএ। কিন্তু তিনি আইন না মেনে কাজ অব্যাহত রাখেন। ফলে ভবনের বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। | 6 |
বরগুনার পাথরঘাটা থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের গুলিতে ট্রলারের মাঝি আল-আমিন (৩২) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। নিহত আল-আমিন বরগুনা জেলার সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের মরখালী গ্রামের আ. ছত্তার মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ১২ জন জেলে আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে ওই জেলের মরদেহ পাথরঘাটায় নিয়ে আসা হয়। এর আগে বুধবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের ছেলে জেলে আসাদ ও মানিক জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাগরে ফেলানো জাল টানার সময় হঠাৎ ১০ থেকে ১৫ জনের সশস্ত্র জলদস্যু বাহিনী সেলিম খানের মালিকানা এফবি তামান্না ট্রলারের উঠে কোন কিছু না বলে গুলি ছুড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই ট্রলারের মাঝি আল-আমিন মারা যান। এসময় ট্রলারে থাকা ১২ জেলেকে পিটিয়ে আহত করে তারা। এরপর জেলেরা চিৎকার করলে ট্রলারে থাকা লাখ টাকার রসদ সামগ্রী লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায় জলদস্যু বাহিনী। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, আহত জেলেদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জলদস্যুদের নাম-পরিচয় এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হানিফ শিকদার বলেন, নিহত জেলের বাড়ি বরগুনায়, কিন্তু ঘটনাস্থল শরণখোলা থানা এলাকায়। সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। মরদেহ ময়না-তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। নিহতরে শরীরে দেশীয় তৈরি বন্দুকের ছররা গুলির অসংখ্য ক্ষত চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা। | 6 |
গম রপ্তানিতে ভারত যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেটি প্রতিবেশী দেশগুলোর উপর প্রযোজ্য নয়। তাই এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছে দেশটি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, সম্প্রতি ভারত থেকে গম রপ্তানিতে দেওয়া নয়াদিল্লির নিষেধাজ্ঞা প্রতিবেশীদের জন্য নয়। ইতোমধ্যে গম ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত যে চুক্তিগুলো হয়েছে, সেটিও এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এটি স্পষ্ট করা হচ্ছে যে ভারত থেকে গমের বাণিজ্যিক রপ্তানির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশাবলী রপ্তানির জন্য ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ গমের চালানের উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। এই নির্দেশাবলী ভারতের প্রতিবেশী এবং অন্যান্য দেশগুলোতে গম রপ্তানি বন্ধ করবে না। তীব্র দাবদাহের কারণে ভারতে এবার গমের উৎপাদন কম হয়েছে। যে কারণে স্থানীয় বাজারেও গমের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। ভারতের এই সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববাজারে গমের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের গম রপ্তানি বন্ধের খবরে দেশে গমের বাজারও অস্থির হয়ে উঠে। খাদ্যপণ্যে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ভারতের এই খবর ভোক্তাদের খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার রোববার সিলেট গিয়ে বলেন ভারত সরকার বাংলাদেশে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তিনি বলেন, গম আমদানি করা হতো ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে। কিন্তু এ দুই দেশের যুদ্ধের সময়ে আমরা সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে তিন লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করেছি। পরবর্তী সময়ে যা দরকার তাও ভারত থেকে আমদানি করা হবে। | 6 |
দুর্দান্ত একটি টেস্ট খেললো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৩ বল খেলেই জিতে নিলো অ্যান্টিগা টেস্ট। ১০ উইকেটের বিশাল জয় পেলো তারা। পাশাপাশি তিন ম্যাচ সিরিজের দুটিতে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয় ক্যারিবীয়রা। এর আগে প্রথম টেস্টে ৩৮১ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতেছিল তারা। অ্যান্টিগা টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১৮৭ রানে ইংল্যান্ডকে অলআউট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের শেষেভাগে ব্যাট হাতে নেমেদুই ওপেনার ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ও জন ক্যাম্পবেল ৩০ রান করেন। দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকে রান জড়ো করার কাজটা ভালোভাবেই করছিলেন এই জুটি। কিন্তু হাফ-সেঞ্চুরির দোড়গোড়ায় গিয়ে থেমে যান তারা। ব্র্যাথওয়েট ৪৯ ও ক্যাম্পবেল ৪৭ রান করে থামেন। তাদের বিদায়ের পর মিডল-অর্ডার দুই ব্যাটসম্যানও শাই হোপ ও ড্যারেন ব্রাভো ছোট ছোট ইনিংস খেলেন। হোপ ৪৪ রানে ফিরলেও অর্ধশত করেন ব্রাভো। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০৬ রান। ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড ও স্পিনার মঈন আলি তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া পেসার জেমস অ্যান্ডারসন এবং বেন স্টোকস দুটি করে উইকেট নেন। ১১৯ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। কিন্তু ক্যারিবীয় পেসারদের বোলিং তাণ্ডবে কোনো ব্যাটসম্যানই ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন জস বাটলার। ১৭ রান করেন জো ড্যানলি আর ১৬ ররি বার্নস। ৪২তম ওভারেই ১৩২ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ফলে ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৪ রান! দুই ওপেনার কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ও জন ক্যাম্পবেল মাত্র ২.১ ওভারেই সেই সংগ্রহ তুলে জয়ের আনন্দে ভাসায় দলকে। | 12 |
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আমেরিকান গায়িকা টেইলর সুইফটের অনেক ভক্তের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এমন দুর্দিনে তাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এই তারকা। মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক ভক্তকে ৩ হাজার ডলার (আড়াই লাখ টাকারও বেশি) করে দেয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে কয়েকজন তার অনুদান পেয়েছে। টেইলর সুইফটের ভক্তদের একজন হলেন হলি টার্নার। পেশায় তিনি ফ্রিল্যান্স মিউজিক ফটোগ্রাফার ও গ্রাফিক ডিজাইনার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টাম্বলারে তিনি উল্লেখ করেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তার জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে এবং নিউইয়র্ক সিটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। টাম্বলারে তথ্যটি দেখে হলি টার্নারের কাছে ৩ হাজার ডলার পাঠিয়ে সুইফট লিখেছেন, 'হলি, আপনি সব সময় আমার পাশে ছিলেন। এখন আমি আপনার পাশে থাকতে চাই। আশা করি, টাকাগুলো কাজে লাগবে। ভালোবাসা রইলো, টেলর।' টাকা পেয়ে অবাক হলি টার্নার। তার ভাষায়, 'শহরে থাকতে আমার যা সামর্থ্য প্রয়োজন তা আক্ষরিকভাবে একাই ব্যবস্থা করে দিলেন সুইফট। নিজের চোখকে এখন আমার বিশ্বাস হচ্ছে না!' বকেয়ার ভারে জর্জরিত আরেক ভক্তকে তিন হাজার ডলার পাঠিয়েছেন সুইফট। কৃতজ্ঞচিত্তে তিনি বলেন, 'এমন সুন্দর, জাদুকরী ও অবিশ্বাস্য মানুষ আর দেখিনি। কী বলবো ভেবে পাচ্ছি না!' টুইটারে আরেক ভক্ত অ্যালেক্স গোল্ডশ্মিটের মন্তব্য, 'যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রত্যেক নাগরিককে ১২০০ ডলার দিতে পারে। সুইফট ৩ হাজার ডলার করে দিচ্ছেন। সুতরাং দেশটিতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো একজনই উপযুক্ত!' দুঃসময়ে অন্যদের সহায়তা করতে সামর্থ্যবান ভক্তদের উৎসাহিত করছেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ফিডিং আমেরিকায় অনুদান দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই পাশ্চাত্য সঙ্গীতের রানী টেইলর সুইফট। | 2 |
তাপমাত্রা বেড়ে কেটেছে কয়েকটি জেলায় চলা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। হালকা বৃষ্টির পর তাপমাত্রা আবার কমে বাড়তে পারে শীতের প্রকোপ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশের ছয় বিভাগ ও দুই জেলায় বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, 'দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। এ সময় তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তারপর আবার তাপমাত্রা কমতে থাকবে।'বৃষ্টির পর রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের ৭ জেলা ও এক উপজেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। একদিনের ব্যবধানে শৈত্যপ্রবাহের আওতা কমে ৪ জেলা ও এক উপজেলায় নেমে আসে। রোববার নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, মৌলভীবাজার জেলা এবং সীতাকুণ্ড উপজেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছিল। সোমবার রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, নওগাঁ জেলা ও সীতাকুণ্ড উপজেলাসহ রংপুর বিভাগে ছিল মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। মঙ্গলবারও দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, পাবনা, মৌলভীবাজার জেলা ও সীতাকুণ্ড উপজেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছিল। কিন্তু বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দূর হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ।কয়েক দিনের তুলনায় মঙ্গলবার রাত থেকে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে এখনো রয়ে গেছে উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেটে বিভাগের দুই এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশের রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে উত্তরাঞ্চলের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যত্র দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। | 7 |
পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার ছবি 'মিশন এক্সট্রিম' দিয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে নতুন প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থা কপ ক্রিয়েশনের। সিনেমা ব্যবসার মন্দাভাবের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি 'সুদিন' ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় কাজ করে যাচ্ছে। সেজন্য নিজেদের ছবির বাইরেও তারা অন্য প্রযোজক ও পরিচালকের সিনেমার স্বার্থে এগিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর।সে ভাবনা থেকে বহুল প্রতীক্ষিত ও আলোচিত ছবি 'মুখোশ'র পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছে কপ ক্রিয়েশন। ইফতেখার শুভ'র পরিচালনায় ছবিটি সরকারি অনুদান ও ব্যাচেলর ডট কম প্রডাকশনের প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে।বুধবার (১০ নভেম্বর) রাতে কপ ক্রিয়েশনের পরিবেশনা ম্যানেজিং পার্টনার মাশফিকুর রহমান ও ইফতেখার শুভ'র মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেসময় উপস্থিত ছিলেন কপ ক্রিয়েশনের সানী সানোয়ারও।এ প্রসঙ্গে পরিচালক ইফতেখার শুভ বলেন, 'কপ ক্রিয়েশনের মতো প্রডাকশন হাউজ 'মুখোশ' পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছে, এটা আমার জন্য খুব আনন্দের। এ জন্য 'ঢাকা অ্যাটাক' ও 'মিশন এক্সট্রিম'-এর অন্যতম প্রযোজক সানী সানোয়ার ভাইকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি আমরা যৌথভাবে সকল দর্শকের কাছে খুব সহজে 'মুখোশ' পৌঁছে দিতে পারব।' এ চুক্তি নিয়ে সানী সানোয়ার বলেন, 'তৈরিকৃত মানসম্পন্ন সিনেমার যথাযথ পরিবেশনা নিশ্চিত করার সংকল্প নিয়ে কপ ক্রিয়েশন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একদল পেশাদার লোকের সমন্বয়ে পরিবেশনায় যুক্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে 'মুখোশ' সিনেমাটি আমাদের ইন-হাউজ সিনেমার বাইরে প্রথম সিনেমা। আশা করছি সিনেমাটি আশানুরূপ ফলাফল পাবে।'পরিচালক ইফতেখার শুভ আরো জানান, 'মুখোশ'র ফার্স্টলুক প্রকাশ পাবে আগামী ১৫ নভেম্বর। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, রোশান, পরীমণি, আজাদ আবুল কালাম, ইরেশ যাকের, প্রাণ রায়, রাশেদ মামুন অপু, ফারুক আহমেদ, তারেক স্বপন, ইলিনা শাম্মি প্রমুখ। | 2 |
ইতালি হয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক জলসীমা অতিক্রম করেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। অনেক সময় ঘটে দুর্ঘটনা। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে ডুবে যায় নৌকা। মারা যান অনেকেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনকভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে যাওয়া এমন চার শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সিসিলির অগাস্তা বন্দরে এসব অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিরাপদে পৌঁছে দিয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ জিও ব্যারেন্টস। তাঁদের বেশির ভাগই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে যাচ্ছিলেন। এই দলে শতাধিক শিশু রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অনেকে নানা অসুখে আক্রান্ত হয়েছেন। ১০ জুন লিবিয়া উপকূল থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রথম দলটিকে উদ্ধার করে জিও ব্যারেন্টস। এরপর ধাপে ধাপে আরও কয়েকটি দলকে উদ্ধার করা হয়েছে। অবশেষে আজ সবাই ইতালির উপকূলে পৌঁছেছেন। সিসিলি পৌঁছালেও করোনার সংক্রমণ এড়াতে তাঁদের এখন অন্য একটি জাহাজে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এদিকে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ১৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী ইতালির উপকূলে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৬৯৬। | 3 |
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। আজ মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসায় তাঁদের এ সাক্ষাৎ হয়। মাহমুদুর রহমান মান্না প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। কেমন আছেন-এই সব বিষয়েই কথা হয়েছে। রাজনীতি বিষয়ে আলোচনা হয়নি।' খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর দেখা করতে চেয়েছিলেন জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, 'উনি যখন বেরিয়ে আসেন তখনই আমি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলাম। আজকে উনি সময় দিয়েছেন।' ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি, নাগরিক ঐক্য, গণফোরাম, জেএসডি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। খালেদা জিয়া ৬ মাসের জন্য মুক্তি পাওয়ার পর এই জোটের শরিক দল থেকে মান্নাই প্রথম তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এ ছাড়া গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমটির সদস্যরাও খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। | 9 |
ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের কর্ণধার রফিকুল আমীনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসএমএমইউ ছাড়পত্র দেওয়ার পর সেখান থেকে রফিকুল আমীনকে ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। 'অসুস্থতার কথা বলে' প্রায় তিন মাস এই হাসপাতালের প্রিজন সেলে ছিলেন তিনি। শনিবার (৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেলে রফিকুল আমিনকে কারাগারে আনা হয়েছে। তিনি গত ১১ এপ্রিল থেকে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের প্রিজন সেলে থেকে তিনি জুমে ব্যবসায়িক বৈঠক এবং নতুন এমএলএম কোম্পানি খোলার কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটি জুম মিটিংয়ের প্রায় এক ঘণ্টার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ রফিকুল আমীনের পাহারায় থাকা প্রধান কারারক্ষীসহ আটজনকে গত বৃহস্পতিবার প্রত্যাহার করে নেয়। গতকাল ৪ প্রধান কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত ও ১৩ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। কারাগার সূত্র জানায়, এরপর থেকে রফিকুল আমীন একেক সময় একেক রোগের কথা বলে হাসপাতালের প্রিজন সেলে থেকেছেন। তিনি মূলত ঘুরেফিরে বিএসএমএমইউ ও বারডেম হাসপাতালে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। এর মধ্যে বেশির ভাগ সময় ছিলেন বিএসএমএমইউতে। তবে এবারের মতো একটানা এত লম্বা সময় তিনি এর আগে ছিলেন না। এর আগে সেখানে সর্বোচ্চ টানা দেড় মাস থেকেছেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ১১ এপ্রিল তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউর প্রিজন সেলে আসেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক সুভাষ কুমার ঘোষ গণমাধ্যমে বলেন, রফিকুল আমীন গত ১১ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে আসেন এবং হৃদ্যন্ত্র, কিডনি, অর্থোপেডিকস ও ডায়াবেটিসের সমস্যার কথা জানান। | 6 |
চকরিয়ায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে মো. দুলাল মিয়া (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ আগস্ট) বিকালে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুলাল উপজেলা কোনাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ জঙ্গলকাটা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কোনাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ জঙ্গলকাটা গ্রামের সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশু বাড়ির পাশে অন্য বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ির অদূরে একটি পুকুর থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। থানা পুলিশ মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। দীর্ঘ ৫ মাস ৮ দিন পর ময়না তদন্তের রিপোর্টে আসে থানায়। রিপোর্টে ওই শিশুকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া যায়। পরে অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়। এ মামলায় আসামি করা হয় মো. দুলালকে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক দুলালকে গ্রেপ্তার করেন। চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে দুলাল পলাতক থাকায় তার বিষয়ে সন্দেহ ঘনিভূত হয়। এ ঘটনায় ওই শিশুর পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সোমবার অভিযুক্ত দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
যুদ্ধ ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা পর ইউক্রেনকে আলোচনায় বসার বার্তা দিল মস্কো। শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শর্তসাপেক্ষ আলোচনায় বসার এই ঘোষণা দেন। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানান। খবর এএফপি ও বিবিসির। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, ইউক্রেন যদি অস্ত্র ত্যাগ করে তাহলে তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। রুশ সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি খবর দিচ্ছে যে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন রাশিয়া, বেলারুসের রাজধানী মিনস্কে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা বসতে রাজি আছে। তবে তিনি বলেছেন তার আগে ইউক্রেনকে একটা 'নিরপেক্ষ অবস্থান' ঘোষণা করতে হবে - যার অন্তর্ভুক্ত থাকবে 'বেসামরিকীকরণ'। রাশিয়া বরাবরই বলে আসছে তারা চায় না, ইউক্রেন কখনই নেটোতে যোগদান করে। পেসকভ বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির আলোচনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রতিনিধি দল পাঠাতে পারেন। প্রতিনিধি দলে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্টের দপ্তরের কর্মকর্তারা থাকবেন। এই প্রতিনিধি দল ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে আলোচনার আহ্বান জানান, কিন্তু রাশিয়ার শর্তে তিনি আলোচনায় বসতে সম্মত হবেন কিনা সে বিষয়ে কোন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। আলোচনার ভেন্যু হিসাবে মিনস্ক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০১৪ সালে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল নিয়ে সংঘাত অবসানের চেষ্টায় এই মিনস্কেই একটা চুক্তি সই হয়েছিল। ইউক্রেন আক্রমণের মধ্যে দিয়ে রুশ নেতা সেই চুক্তিপত্র কার্যত ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। এর আগে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ইউক্রেনের সৈন্যরা যতক্ষণ না অস্ত্র নামিয়ে নিচ্ছে, ততক্ষণ কোনরকম আলোচনা হবে না। বৃহস্পতিবার ভোরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তারপর থেকে ইউক্রেনের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করতে শুরু করে রুশ সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের যুদ্ধে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় শহর খারকিভ এবং পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র চেরনোবিলের দখল নেয় রুশ বাহিনী। যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনে পুতিন বাহিনী রাজধানী কিয়েভের রাস্তায় ট্যাংকসহ প্রবেশ করে। চেরনোবিলকে আমরা সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করেছি: রাশিয়া রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে বলেছে, চেরনোবিলের পারমাণবিক কেন্দ্রটি রক্ষা করার জন্য তাদের সৈন্যরা সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তারা বলছে এর কারণ: "জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো এবং অন্য সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো দেশের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন পারমাণবিক উস্কানির পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে।" রাশিয়া আরও জানিয়েছে, পারমাণবিক কেন্দ্রের আশেপাশে তেজষ্ক্রিয়তা বিকিরণের হার খুবই স্বাভাবিক এবং তাদের কর্মীরা পরিস্থিতি তদারক করছে। বৃহস্পতিবার এই পারমাণবিক কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় রাশিয়ার সৈন্যরা। বিবৃতিতে রাশিয়া আরও দাবি করেছে, তারা যুদ্ধে জয় লাভ করছে। তাদের সৈন্যরা দোনেৎস্ক এবং লুহানস্কের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি ইউক্রেনের সৈন্য আত্মসমপর্ণ করেছে এবং অসংখ্য সামরিক স্থাপনা, অস্ত্র ও যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী এর আগে একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছে যে, তারা দোনেৎস্ক এবং লুহানস্কে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে এবং রাশিয়ার সৈন্যরা হামলা করে সফলতা পায়নি। বরং তাদের নিজেদের এলাকায় হটিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে কোন পক্ষের দাবিই নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। | 3 |
কর দাতাদের তিন কোটি ৪৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪১৯ টাকা আত্মসাতের মামলায় খুলনার সহকারী কর কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে জামিনের আবেদন করলে বিচারক মো. শহিদুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন। জানা যায়, ২০১৭-১৮ সালে কর সার্কেল-১৪, বাগেরহাটে সহকারী কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে মেজবাহ উদ্দিন করদাতাদের প্রদানকৃত করের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রাখেন। পরবর্তীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে একাধিক বেতন হিসাব খুলে ব্যাংক থেকে ওই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে দুদকের মামলার পর গত ১৬ অক্টোবর নগরীর নূরনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে 'এহসান গ্রুপ পিরোজপুর-বাংলাদেশ' নামের এক কোম্পানির চেয়ারম্যান রাগীব আহসান এবং তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আজ শুক্রবার র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন আজকের পত্রিকাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফ করে বিস্তারিত জানানো হবে।জানা যায়, রাগীব আহসান নূরে মদিনা ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। একসময় তিনি মসজিদের ইমাম ছিলেন। বাড়ি পিরোজপুর সদরের খলিশখালি এলাকায়। এক সময় তিনি এমএলএম ব্যবসা শুরু করেন এবং ২০১০ সালে এহ্সান রিয়েল এস্টেট নামে একটি কোম্পানি খোলেন। এর আগে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে দেশের বিভিন্ন জেলার মামলাও হয়েছে।এর আগে গত রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে গ্রুপটির বিরুদ্ধে ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি মাঠকর্মী ও গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থ ফেরত দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে মাওলানা হারুনার রশীদ বলেন, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্সের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুফতী রাগীব আহসান এলাকার মানুষের সঞ্চয়ী হিসাব চালু করেন। জমা করা টাকার ওপর মাসিক মুনাফা দেওয়ার কথা বলে পাস বইসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট দিয়ে টাকা জমা নেন।তিনি বলেন, এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কয়েক মাস মাসিক মুনাফা দেওয়ার পর বন্ধ করে দেন। এরপর নানা কথায় সময় পার করতে থাকে। একপর্যায়ে আমরা টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে টালবাহানা শুরু করে। এভাবে প্রায় তিন বছর চলার পর টাকা-পয়সা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়।২০১৯ সালে রাতের আঁধারে শের-ই-বাংলা পাবলিক লাইব্রেরির ৪র্থ তলায় এহসান গ্রুপের প্রধান অফিস তালাবন্ধ করে দেয়। পরে জানা যায়, অফিস বন্ধের আগেই তারা অফিসের সব ডকুমেন্ট সরিয়ে ফেলেন।হারুনার রশীদ বলেন, অফিস সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে পিরোজপুর এহসান গ্রুপের এমডি রাগীব আহসান গ্রাহদের পাওনা টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তাদের প্রতারণায় পিরোজপুর ও আশপাশের প্রায় লক্ষাধিক গ্রাহক ও মাঠকর্মী ক্ষতির শিকার।তিনি বলেন, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড প্রতারণার উদ্দেশ্যেই আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে পরিচালিত হতো। ধীরে ধীরে তা সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাগীব আহসানের স্ত্রী সালমা বেগম চেয়ারম্যান, রাগীব আহসানের শ্বশুর মাওলানা শাহ আলম সহ-সভাপতি, রাগীব আহসানের বাবা আব্দুর রব খান উপদেষ্টা, রাগীব আহসানের বোনের স্বামী মো. নাজমুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার, রাগীব আহসানের ভাই আবুল বাশার প্রতিষ্ঠানের সহ-পরিচালক, আর এক ভাই মাহমুদুল হাসান প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও বাজার মসজিদের ইমাম, আর দুই ভাই শামিম খান ও খাইরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। | 6 |
আমি এখনো বেঁচে আছি। আপনাদের সামনে কথা বলছি মহান রাব্বুল আলামিনের পরে, আমার বাবা-মার জন্ম দেওয়ার পরে সাংবাদিকরাই আমাকে দ্বিতীয়বারের মতো জন্ম দিয়েছেন।আজ মঙ্গলবার সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে এমন মন্তব্য করেন জাতীয় পার্টির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবিদার বিদিশা। উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরের হোয়াইট হলে ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টি এ আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদিশা বলেন, '২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াত যখন আমাকে ধরে জেলে পাঠায়, জেল জুলুম অত্যাচার করে। আমাকে রিমান্ডে নিয়ে ইলেকট্রিক শক ও বিবস্ত্র করে অত্যাচার করেছিল। এসবের কারণ হচ্ছে এই মহাজোট যেন হয় এবং মহাজোটের সঙ্গে যেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ থাকেন সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি ছিলাম। এটাই ছিল আমার দোষ।'এরশাদের সাবেক স্ত্রী আরও বলেন, 'এই নির্যাতিত রমণী, নির্যাতিত মা একদিন ঘুরে দাঁড়াবে। জেল থেকে বের হওয়ার পর আমি পদে পদে শুধু যুদ্ধই করেছি। একের পর এক আমার নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। লড়তে লড়তে কখন যে আমার জীবন থেকে ১৪টি বছর চলে গেছে তা আমি নিজেও জানি না। টেরও পাইনি।'বিদিশা বলেন, 'আমার লড়াই কিন্তু শেষ হয়নি। আমার লড়াই চলছেই। আমার জন্মই হয়েছে শুধু দেওয়ার জন্য। নেওয়ার জন্য নয়। আমি কোনো কিছু ভাঙতে আসিনি, গড়তে এসেছি।'মিডিয়াই শক্তি উল্লেখ করে বিদিশা বলেন, 'উপর আল্লার দয়ায়, জনগণের দোয়ায় আমার ও আমার সন্তানের ওপর দিয়ে যত বিপদ আপদ গেছে, মিডিয়াকে কখনো ফোন দেওয়া লাগে নাই। তাঁরাই দৌড়ে এসেছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন।'ইফতার পার্টিতে জাতীয় পার্টির একাংশের কো-চেয়ারম্যান দয়াল কুমার বড়ুয়া সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন পার্টির দপ্তর সম্পাদক নাফিজ মাহবুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির আইন ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কাজী রুবায়েত হাসান, পার্টির যুগ্ম মহাসচিব কর্নেল (অব.) শাহজাহান সিরাজসহ প্রমুখ। | 9 |
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চতুর্থ দফায় ১০ দিনের চিরুনি অভিযার শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কপোরেশন ( ডিএনসিসি)। অভিযানের প্রথম দিনে ৯৪টি স্থাপনায় মিলেছে এডিসের লার্ভা। সোমবার ১৩ হাজার ৮২৫টি বাড়ি, স্থাপনা ইত্যাদি পরিদর্শন করে ৯৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়াও ৮ হাজার ৭১৩ টি স্থাপনায় জমে থাকা পানি পাওয়ায় সেখানে মশার কীটনাশক প্রয়োগ করে জমে থাকা পানি ফেলে দেয়া হয়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৬টি মামলায় ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ডিএনসিসির সকল ওয়ার্ডে (৫৪টি) একযোগে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযার পরিচালনার উদ্দেশে প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। আবার প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডের ১টি সেক্টরে অর্থাৎ ১০টি সাবসেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এভাবে ১০দিনে সমগ্র ডিএনসিসিতে চিরুনি অভিযান সম্পন্ন করা হবে। প্রতিটি সাবসেক্টরে ডিএনসিসির ৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ১ জন মশক নিধনকর্মী, অর্থাৎ প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৪০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ১০ জন মশককর্মী ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন বাড়ি, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোথাও এডিস মশার লার্ভা আছে কিনা, কিংবা কোথাও ৩ দিনের বেশি পানি জমে আছে কিনা, কিংবা ময়লা-আবর্জনা আছে কিনা, যা এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক, তা পরীক্ষা করছে। অভিযান চলাকালে যেসব বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা কিংবা এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যাবে, তার ছবি, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি অ্যাপে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে অভিযান শেষে ডিএনসিসির কোন কোন এলাকায় এডিস মশা বংশবিস্তার করে তার একটি ডাটাবেস তৈরি হবে। ডাটাবেস অনুযায়ী পরবর্তীতেও তাদেরকে মনিটর করা হবে। চলমান অভিযানে বিগত চিরুনি অভিযান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চতুর্থ প্রজন্মের কীটনাশক নোভালিউরন প্রয়োগ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরে চিরুনি অভিযানে এ পর্যন্ত ৪ লক্ষ ৫ হাজার ৫৫০টি বাড়ি, স্থাপনা ইত্যাদি পরিদর্শন করে ২ হাজার ৬৮৬টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৮১০ টাকা জরিমানা করা হয়। | 6 |
ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা চরমে। কিছুটা পিছু হটলেও এখনও পুরোপুরি সরেনি চীনের সৈন্যরা। লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের (এলওএসি) এপারে দাঁড়িয়ে আছে তারা। সম্প্রতি গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনা সেনাবাহিনীর রক্তাক্ত সংঘর্ষের পর গতকাল শুক্রবার রাতে সর্বদলীয়বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। -ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনাসেনা ঢুকতেই পারেনি। কোনো সেনা চৌকিও দখল হয়নি। - কোনও বাহ্যিক চাপের কাছে ভারত নতিস্বীকার করবে না। - ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়েছেন। কিন্তু সেনারা যে স্পর্ধা দেখিয়েছেন তাতে চীনকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। - সীমান্ত রক্ষা করতে যা যা করার দরকার তাই করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। - প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা ভারত সরকার দিয়েছে। - ভারত শান্তি এবং বন্ধুত্বের পক্ষে কিন্তু দেশকে অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে কোনও আপোস করা হবে নাতবে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে। - সার্বভৌমত্ব আমাদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্ব বহন করে এবং আমরা গত ৫ বছরে সীমান্তের অবকাঠামোকে উন্নত ও উন্নত করার চেষ্টা করেছি। - উন্নত অবকাঠামোর ফলে আমাদের বাহিনী কর্তৃক উচ্চতর টহল ও চীনের গতিবিধির উপর নজর রাখা হয়েছে। এদিকে, সর্বদলীয়বৈঠকে মোদির 'ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনাসেনা ঢুকতেই পারেনি। কোনো সেনা চৌকিও দখল হয়নি' বিষয়টি সর্ব মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি যদি তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন তাহলে জাতীয় স্বার্থ আরও উন্নত হবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 3 |
অসুস্থ মাকে সঙ্গে নিয়ে জনবিচ্ছিন্ন এক পাহাড়ের গুহায় থাকে কুবো। সারা দিন গ্রামে গিয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, অরিগামী বানিয়ে গল্প শোনায় সে। সন্ধ্যা নামার আগেই ফিরে আসে গুহায়। কিন্তু একদিন বাড়ি ফেরার আগেই সন্ধ্যা নামে। আর সঙ্গে সঙ্গে দুই ডাইনি নেমে আসে কুবোর চোখ খুবলে নিতে। ছোটবেলায় কুবোর এক চোখ নিয়ে গেছে তারা। আর এক চোখ খুবলে নিতে পারলেই ডাইনিদের পরিবারের সদস্য হয়ে যাবে কুবো। কিন্তু কুবোর অসুস্থ মা টের পেয়ে নিজের জীবন দিয়ে কুবোকে বাঁচিয়ে দেন।মায়ের জাদুতে পিঠে পাখা গজায় কুবোর। উড়তে উড়তে গিয়ে পড়ে হিমশীতল বরফঢাকা এক জায়গায়। কুবো জানতে পারে, এই দুই ডাইনি আর শয়তান মুন কিং মিলেই তার বাবাকে মেরে ফেলে। মা-বাবার হত্যার শোধ নিতে ছুটে চলে কুবো। পথে তার সঙ্গে দেখা মেলে এক বানর আর পোকার মতো মানুষের। তিনজনের বেশ বন্ধুত্ব হয়ে ওঠে। সবাই এক পথে চলতে শুরু করে। লক্ষ্য কুবোর বাবার লুকিয়ে রাখা বর্ম স্যুট উদ্ধার করে শয়তান মুন কিং আর দুই ডাইনিকে পরাজিত করে গ্রামের মানুষকে নিরাপদে রাখা। পথে অনেক বিপদের মুখোমুখি হয় তারা। তারপরও এগিয়ে চলে তিনজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে কুবো আর তার বন্ধুরা? শয়তান মুন কিংকে কি সত্যি সত্যিই কুবো পরাজিত করতে পারে? আর কুবোর চোখ খুবলে নিয়ে তারাই বা তাকে পরিবারের সদস্য বানাতে চায় কেন?এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে দেখে ফেলো ট্রাভিস নাইটের 'কুবো অ্যান্ড দ্য টু স্ট্রিংস' নামের সিনেমাটি। | 6 |
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডের দুইজন নার্সের বিরুদ্ধে ভুয়া করোনা টিকার সনদ সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। এই টিকা সরবরাহ করে তারা দেড় মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ। এই অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন অ্যামিটিভিলের ওয়াইল্ড চাইল্ড পেডিয়াট্রিক হেলথকেয়ারের মালিক জুলি ডিভুওনো ও তার কর্মচারী মারিসা উরারো। শুক্রবার তাদের দুজনকে আদালতে হাজির করা হয়। 'নার্স প্র্যাকটিশনার ডিভুওনো ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স উরারো স্টেটের ইমিউনাইজেশন ডাটাবেসে ভুয়া তথ্য সরবরাহ করেছেন,' যোগ করেন তিনি। প্রসিকিউটররা জানান, ওই দুই নার্স একজন আন্ডারকভার গোয়েন্দাকে ভুয়া টিকা সনদ দিয়েছেন। অথচ ওই গোয়েন্দাকে তারা টিকাই দেননি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ডিভুওনোর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর জানিয়েছেন যে, সেখানে নগদ প্রায় ৯ লাখ ডলার পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, একটি খাতায় দেখা গেছে যে ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে তারা দেড় মিলিয়ন ডলারেরও বেশি টাকা আয় করেছেন। নার্স উরারোর আইনজীবী মাইকেল আলবার এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রায়ের জন্য তাড়াহুড়ো না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমরা তদন্তের ত্রুটিগুলো উপস্থাপন করার জন্য প্রস্তুত। একটি অভিযোগ অবশ্যই চিকিৎসা ক্ষেত্রে মিস উরারোর ভারো কাজকে ছাপিয়ে যাবে না।' সূত্র : এপি, ইয়াহু নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 4 |
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে আবারো বন্ধ হয়ে গেছে ফেরি চলাচল। রবিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে অনেক মানুষ। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাটে অনেক যাত্রী ফেরিপারের অপেক্ষায় পন্টুনে অপেক্ষা করছে। দূরপাল্লার যানবাহনসহ আন্তজেলা গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভেঙে ভেঙে যে যার মতো গাড়িতে করে ঘাটে এসে পারের অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে গতকাল শনিবারও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ঈদে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে। দুপুরে ফেরি চলাচল শুরু হলে ভিড় কিছুটা কমতে থাকে। যাত্রীদের অভিযোগ, 'গভীর রাতে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বিআইডাব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ ফেরি বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের এ দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানা থাকলে অবশ্যই তারা বের হতেন না। ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলগামী কয়েকজন যাত্রী জানান, তাঁরা পরিবার নিয়ে সকালে ঘাটে এসে পারের অপেক্ষায় রয়েছেন। ফেরি বন্ধের বিষয়টি তারা জানতেন না। এখন ঘাটে এসে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। ঘাট কর্তৃপক্ষের দাবি, লকডাউনের শুরু থেকেই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি চলাচল সীমিত করা হয়েছে। শুধু জরুরি যানবাহন ছাড়া কিছুই পারাপার করা হচ্ছে না। | 6 |
ফেসবুকে হামাগুড়িয় দিয়ে চলার ভিডিওচিত্র পোস্ট করার পর হুইলচেয়ার পেয়েছে সরাইলের রুহুল (৮) নামের এক প্রতিবন্ধী শিশু। গতকাল রোববার সকালে উপজেলার অরুয়াইল বাজারে তাকে হুইলচেয়ার দেন গরিবের বন্ধু যুব ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা প্রভাষক এলাই মিয়া।এ সময় অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম, সাংবাদিক এম মনসুর আলী ও মিজানুর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।জানা যায়, সম্প্রতি গরিবের বন্ধু ফাউন্ডেশনের এক সদস্য প্রতিবন্ধী রুহুলের হামাগুড়ি দিয়ে চলার একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট দেন। বিষয়টি সংগঠনের দাতা সদস্য জয়নাল হোসেন জনি ও দুই প্রবাসীর নজরে এলে তাঁরা তিনজনে মিলে রুহুলকে হুইলচেয়ারটি কিনে দেন।প্রতিবন্ধী রাহুলের মা কুহিনুর বেগম বলেন, 'হুইলচেয়ার কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। বিভিন্ন জায়গায় একটি হুইলচেয়ারের জন্য ঘুরেছি। কেউ দেয়নি। আজ ছেলের জন্য হুইলচেয়ার পেয়ে আমি খুব খুশি হয়েছি।' | 6 |
ঢাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবিতে রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক। রোববার থেকে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা খোলার খবরে শনিবার সকাল থেকে রংপুর ও আশপাশের জেলা থেকে মডার্ন মোড়ে আসে শ্রমিকরা। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো যানবাহন না পেয়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তারা। এ সময় ঢাকা পৌঁছে দিতে যানবাহনের ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে তারা দাবি জানায়। কুড়িগ্রাম থেকে সকাল ৯টায় রংপুরের মডার্ন মোড়ে এসেছেন আমিনুল ইসলাম। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি কারখানায় কাজ করেন। তিনি জানান, রোববার সকাল ৮টায় কারখানা খুলবে। চালু হবে সব কার্যক্রম। এ কথা জানিয়ে সময়মতো উপস্থিত থাকার জন্য মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আমিনুল বলেন, কারখানায় যেতে না পারলে চাকরি থাকবে না। কারখানা খোলার বিষয়ে হঠাৎ সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা বিপাকে পড়ে গেছি। লকডাউনের কারণে সরকার দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ রেখেছে। আবার রপ্তানিমুখী কল-কারখানা খুলে দিয়েছে। তাই মডার্ন মোড়ে ভিড় করেছি গাড়ির অপেক্ষায়। শনিবার সকাল থেকেই রংপুর নগরীর বাসস্ট্যান্ডসহ মডার্ন মোড়ে ভিড় জমায় ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষ। রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর থেকে আসতে থাকে তারা। এতে লোকারণ্য হয়ে পড়ে মডার্ন মোড়। ঢাকা যেতে গাড়ি না পেয়ে তারা মডার্ন মোড়ের রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে সেখানে কয়েক কিলোমিটার সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তাজহাট থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালে বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়ে। ঢাকা ফিরতে অবিলম্বে পরিবহন চালুর দাবিতে তারা বিক্ষোভ করে। পরে রংপুর মহানগর পুলিশ তাদের ঢাকায় পাঠাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিলে মহাসড়ক ছাড়ে তারা। বেলা ৩টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঢাকার উত্তরার একটি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবু কায়েস বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত সবকিছু বন্ধের ঘোষণা থাকায় বাড়িতে এসেছি ঈদ করতে। কিন্তু হঠাৎ ১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী কারখানা ও প্রতিষ্ঠান চালুর সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছি। রংপুরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে ঘুরছি। কিন্তু ঢাকাগামী কোনো বাস পাচ্ছি না। চাকরি বাঁচাতে হলে যে করেই হোক রোববারে অফিসে যোগ দিতে হবে। কীভাবে যাব, বুঝে উঠতে পারছি না! ঠাকুরগাঁওয়ের গার্মেন্ট কর্মী মনসুর পারভীন বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা ঠিক রাখতে যেমন গার্মেন্ট খোলা দরকার, তেমনি কর্মীদের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বও সরকারের। কিন্তু আমরা এর কিছুই দেখছি না। পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছি। রংপুরের গঙ্গাচড়ার গার্মেন্ট কর্মী আবু মোস্তফা বলেন, যদি গার্মেন্ট খোলারই পরিকল্পনা ছিল, তবে লকডাউনে বন্ধ দেওয়া হলো কেন? এখন আমাদের মতো বিপাকে পড়া মানুষদের পাশে কে দাঁড়াবে? তাজহাট থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে সহস্রাধিক মানুষ মডার্ন মোড়ে এসে ভিড় করেছিল। ঢাকাগামী বাস চলাচল না করায় তারা বিক্ষোভ করেছে। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। আমরা তাদের বুঝিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছি। | 6 |
দাম্পত্য একটা মাধুর্যপূর্ণ সম্পর্ক। এই সম্পর্কে কীভাবে ইতিবাচক ভারসাম্য বাড়বে, সেটা নিয়ে কমবেশি আমরা সবাই ভাবি। ছোট ছোট কাজে যত্ন দেখানো, আমি তোমার পাশে আছি বোঝানো, বের হওয়ার আগে বলে যাওয়া অথবা সারা দিন কাজ করে সে যখন ক্লান্ত, তখন তাকে এক কাপ চা বানিয়ে পাশে বসা-এগুলো ধীরে ধীরে আস্থা বাড়ায়। তবে এ কাজগুলো কিন্তু দুজনকেই করতে হবে, শুধু একজন করলে হবে না।সম্পর্কে বিনিয়োগ করুনপরস্পরের কাজে প্রশংসা, ধন্যবাদ বলা, মনোযোগ দেওয়া, সহযোগিতা করা সম্পর্কের জন্য এককথায় বিনিয়োগ। বিয়ে করেছে বলে একজন আরেকজনের ওপর আধিপত্য় বিস্তার করবে, সেটা করা যাবে না। কারণ বিয়ে যেহেতু চুক্তি, তাই যেকোনো সময় চুক্তি ভাঙাও সম্ভব।কথা শুনুনএখানে একটা ব্যাপার আছে। দম্পতিরা কি আসলে মনোযোগ দিয়ে নিজেদের কথাগুলো শোনেন? আমরা বলি বেশি, শুনি কম এবং শুনতে চাইও না। গবেষণা বলছে, একটা নেতিবাচক আচরণ ইমোশনাল ব্যাংক থেকে পাঁচ গুণ ইতিবাচক আচরণের টাকা খরচ করিয়ে দেয়; অর্থাৎ একটা খারাপ আচরণ পাঁচটা ভালো আচরণকে নষ্ট করে দেয়।প্রতিদিন সম্পর্কের যত্ন নিনআমরা ব্যাংকে টাকা জমিয়ে রাখি যাতে বিপদে কাজে লাগে। প্রতিদিন মাটির ব্যাংকে যেমন অল্প অল্প করে পয়সা জমাই, সে রকম আজ থেকে শুরু করুন। জিজ্ঞেস করুন, তোমার দিনটা কেমন ছিল? ৩৬৫ দিনের এক দিন হীরার নেকলেস দেওয়ার চেয়ে প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্ন অনেক বেশি মূল্যবান। প্রতিদিনকার ছোট ছোট যত্ন মানে আমি আমার সম্পর্কে প্রতিদিন বিনিয়োগ করছি। আমি থেকে আমরায় পরিবর্তিত হচ্ছি। সম্পর্ক প্রতিদিন যত্ন করতে হয় চারা গাছের মতো। না হলে সম্পর্ক মরে যায়। এই যত্ন প্রতিদিন চর্চার ব্যাপার।ম্যারিটাল কাউন্সেলিংম্যারিটাল কাউন্সেলিং আপনার সম্পর্ক মধুর রাখতে সহায়তা করে। সম্পর্কের জটিলতা বেড়ে গেলে একজন কাউন্সেলরের সহায়তা নিন। অনেক কিছু আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে। বলা বাহুল্য, তাতে সম্পর্ক তরতাজা থাকবে।লেখক: চিকিৎসক ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, ঢাকা | 4 |
নতুন বছরের শুরুতেই অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচনে কে কে প্রার্থী হচ্ছেন সেটি নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়। তখন সমিতির সভাপতির দায়িত্বে থাকা অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম জানিয়েছিলেন, আবার তিনি নির্বাচন করবেন। প্রার্থী হওয়া অনেকটাই পাকাপোক্ত ছিল। এদিকে গতকাল শুক্রবার ছিল শিল্পী সমিতির প্রার্থী পরিচিতি। সেখানে দেখা গেল এই অভিনেতা আগামী নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সেলিম জানান, অসমপ্রতিযোগীদের সঙ্গে নির্বাচন করাকে তাঁর কাছে অসম্মানজনক মনে হয়েছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই শিল্পী নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেননি। এমন সিদ্ধান্ত কেন নিলেন, প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, 'এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াটা আমার কাছে অসম্মান বলে মনে হয়েছে। যাঁদের সঙ্গে নির্বাচনে প্রার্থী হতে হবে, এটা আমার সঙ্গে ঠিক যায় না। এই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা একটি সমপর্যায়ে হওয়ার প্রয়োজন ছিল। এভাবে নির্বাচন করাকে একটি অসম্মানজনক ব্যাপার বলে মনে করছি। যে কারণে নির্বাচন থেকে সরে আসছি।' নির্বাচনের জন্য অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল। বলেছিলেন, সহকর্মীরাও আপনাকে চাচ্ছিলেন। অন্যদিকে অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করতে চান, নির্বাচন করলে তো যোগ্য প্রার্থীকেই সবাই বেছে নিতেন? এমন প্রশ্নে সেলিম বলেন, 'হ্যাঁ, চাচ্ছিলাম। আমার সহকর্মী অনেকেই চাচ্ছিলেন। এখন সবাই তো ভাবেন আমি জিতব। যোগ্যতার মাপকাঠি তো আমি নির্ধারণ করি না। আমি বলতে পারি, আমার সমপর্যায়ের একজন এবং যে শিল্পী সমিতির প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাঁকে একদম পুরোদস্তুর অভিনেতা হতে হবে। এই পদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃত একজন অভিনেতা হওয়া উচিত। তবে সবার জন্য শুভকামনা।' ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টেলিভিশন অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচন। ২০২২ সালের এই নির্বাচনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এবারের নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে ৪৮ জন অভিনয়শিল্পী প্রার্থী হয়েছেন। গত শুক্রবার ছিল অভিনয়শিল্পী সংঘের প্রার্থী পরিচিতি সভা। সেখানে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রার্থীরা নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। | 2 |
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা, গৃহপরিচারিকা, রিকশাচালক, দারোয়ান, ভিক্ষুকসহ নিম্ন আয়ের কয়েক হাজার মানুষের বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে 'দরিদ্র মঙ্গল সমবায় সমিতি' নামে একটি প্রতিষ্ঠান।আজ শনিবার দুপুরে ঋণ দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা জানান, রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান, নবীনগর হাউজিং, একতা হাউজিং, রায়েরবাজার, সুনিরবিল হাউজিংসহ বেশ কয়েকটি এলাকার প্রায় ২ হাজার গ্রাহক থেকে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করে ওই সমিতি। ৩০ হাজার থেকে শুরু করে প্রায় দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা বলে সদস্যদের কাছ থেকে ৪ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা জমা নেয় সমিতিটি।রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আজকে (১৯ ফেব্রুয়ারি) আমাদের লোন দেওয়ার কথা ছিল। আমরা সকাল ১০টায় অফিসে লোন নিতে আসি। অফিসে এসে দেখি কেউ নাই। তালা মারা। কিছুক্ষণ পর দেখি আরও ১০/১২ জন লোনের জন্য এসেছেন। এর কিছুক্ষণ পর দেখি আরও ৫০/৬০ জন। এভাবে কয়েক শ লোক অফিসে আসেন লোনের জন্য। আজকে সবাইকে লোন দেবে বলে বৃহস্পতিবার সবার কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার করে টাকা তুলে এনেছে। বহু কষ্ট করে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতে হয়। ভাবলাম সমিতিতে টাকা রেখে কিছু লোন নিয়ে একটা দোকান করে বসব। এখন সব টাকা নিয়ে সমিতি পালিয়ে গেছে। আমরা তাদের বিচার চাই।'হাওয়া বেগম রায়েরবাজার এলাকায় কাঁচাবাজার থেকে শাকসবজি কুড়িয়ে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, 'আমার কাছে সমিতির কয়েকজন লোক গিয়ে বলে গরিব মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটা সমিতি করা হয়েছে। ৭ হাজার টাকা জমা দিলে আমাদের ১ লাখ টাকা লোন দেওয়া হবে। আমরা ধীরে ধীরে টাকা পরিশোধ করে দিতে পারব। আমি আমার পরিবারের ৯ জনের নামে দেড় লাখ টাকা দিয়ে ৯টা বই করি। আজকে আমাদের প্রতি নাম বাবদ দেড় লাখ টাকা করে লোন দেওয়ার কথা ছিল। এখন অফিসে এসে দেখি তালা মারা। সমিতির লোকদের ফোন বন্ধ। আমরা গরিব মানুষ ভালো কিছু করার আশায় আমরা টাকা জমা দিয়েছি। এখন আমরা কোনদিকে যাব। রাস্তায় বসা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই এখন। তাদের দ্রুত আটক করে যেন আমাদের টাকা উদ্ধার করে দেওয়া হয়।'আরেক সবজি বিক্রেতা মাহবুব আশা করেছিলেন কিছু ঋণ নিয়ে একটা ছোট চা-দোকান দেবেন। এখন গরিবের সমিতি নাম দিয়ে তাঁদের টাকা নিয়ে সমিতি উধাও হয়ে গেল। তাঁদের রাস্তায় বসিয়ে দিয়ে গেল।শেফালী বানু বলেন, 'স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। এখন আমি মানুষের কাছ থেকে টাকা চেয়ে এনে সংসার চালাই। কিছু টাকা জমিয়ে সমিতির লোকদের দিই, তারা আমাকে লোন দিবে বলে টাকা নিয়ে সদস্য বানায়। এখন আমাদের টাকা নিয়ে হঠাৎ করে সমিতি উধাও হয়ে গেছে। বাচ্চাদের নিয়ে কী খাব কীভাবে চলব জানি না।' তাঁদের মতো রহিমা বানু, আব্দুল জব্বার, মিজান, শরীফুল, মিনারা, রফিক, ফাতেমা বানু, সাইদুল, হালিম, বেদানাসহ মোহাম্মদপুর এলাকার ২ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা পালিয়ে সমিতির লোকেরা। এ খবরে মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যান এলাকায় দরিদ্র মঙ্গল সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আজ কয়েক শ লোক জড়ো হয়। তাঁরা সমিতির মাঠকর্মী নাসরীন, সোহাগ ও মিজানকে করেন।তাঁরাও প্রতারণার শিকার জানিয়ে মাঠকর্মী মিজান জানান, তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে অফিসে জমা দিতেন। তাঁর মতো আরও দশ থেকে বারো জন মাঠ কর্মী গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাকা কালেকশন করে এনে অফিসে জমা দিতে হয়।মিজান বলেন, 'গতকাল শুক্রবার রাত থেকে সমিতির ম্যানেজার শাখাওয়াত হোসেনকে কল দিচ্ছি কিন্তু নম্বর বন্ধ। অডিট ম্যানেজার কাওসারের নম্বরও বন্ধ পাচ্ছি। অন্যান্য দিনের মতো আজকেও অফিস করতে এসে দেখি গ্রাহকেরা ভিড় করছে। আমরা আসামাত্রই আমাদের আটক করে। আমরাও প্রতারণার স্বীকার। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বিক্রয় ডটকমের মাধ্যমে আমরা চাকরির জন্য অ্যাপ্লাই করেছিলাম। তখন আমাদের সিভি জমা দিতে বলে। আমরা সিভি জমা দিলে আমাদের চাকরিতে জয়েন করতে বললে আমরা নিয়মিত অফিস করতেছি। এখন আমরাও এসে দেখি আমাদের ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরাও গ্রাহকদের মতো প্রতারণার স্বীকার হয়ে এখন বিপদে পড়েছি।' নাসরীন ও শরিফুলও একই কথা বলেন।এ বিষয়ে জানতে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'বিষয়টি আমি জেনেছি। থানা থেকে ফোর্স পাঠানো হয়েছে, আমরা কাজ করছি। বিস্তারিত জেনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে এখন কোনো সংকট নেই। সংকট বিএনপির মধ্যে।বিএনপি বর্তমানে এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন চরমে। দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা মারা হচ্ছে। হামলা-ভাংচুর হচ্ছে। তোপের মুখে দলীয় মহাসচিব। তিনি বলেন, এ অবস্থায় বিএনপি যদি নির্বাচন থেকে সরে যায়, এর জন্য সরকার দায়ী নয়। বিএনপি সরে না গেলেই দেশে একটি অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রোববার সকালে ফেনী সদর আসনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে অনেক ভালো পরিবেশ বিরাজ করছে। তার পরও শঙ্কা ও উদ্বেগ রয়েছে। আশা করি, শেষ ভালো হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে। ওবায়দুল কাদের আশা প্রকাশ করে বলেন, দলের মধ্যে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তারা অবশ্যই প্রত্যাহার করে নেবেন। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জোটের বা দলের যেসব প্রার্থী মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে তাদের আরও বেশি মূল্যায়ন করা হবে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ সদর আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-১ আসনের মহাজোট প্রার্থী জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, এই আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল বশর তপন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রহমান, পৌর মেয়র আলাউদ্দিন প্রমুখ। | 9 |
বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে সাদেক হোসেন খোকার মতো 'সাহসী ও দেশপ্রেমিকের' খুব বেশি প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে প্রয়াত এই বিএনপি নেতার স্মরণে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন। সাদেক হোসেন খোকা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৮দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয়তলায় আবদুস সালাম হলে তার জীবনীর ওপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র 'গেরিলা থেকে জননেতা' প্রদর্শিত হয়। পরে নিচতলায় ক্লাব মিলনায়তনে খোকার ওপর দুইদিন আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব। অনুষ্ঠানে কবি শামসুর রহমানের গেরিলা কবিতা পাঠ করেন শাকিলা মবিন মৃধলা। সাদেক হোসেন খোকার বর্ণাঢ্য জীবন তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এত জনপ্রিয় একজন মানুষ, এত দেশপ্রেমিক একজন মানুষ, এত সহনশীল একজন মানুষ আমি আমার জীবনে কম দেখেছি। উনি ছাত্র জীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীকালে অত্যন্ত সাহসী বীর এবং রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, গেরিলা ছিলেন। সেই মানুষটি যখন জনগণের জন্য রাজনীতিতে আসলেন, দেখা গেল তার সেই সম্পৃক্ততাটা অভাবনীয়ভাবে একেবারে মানুষের সঙ্গে মিলে গেল। একেবারে মাটি থেকে উঠে আসা মানুষ ছিলেন খোকা ভাই। তিনি বলেন, দেশনেত্রী খোতা ভাইকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন ভালোবাসতেন। উনি দেশনেত্রীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। আমি যখন তার সঙ্গে শেষবার দেখা করি- উনি আমাকে বলেছিলেন, কখনো ম্যাডামকে ছেড়ে যাবেন না, ওনার সঙ্গে থাকবেন। এই কথাগুলো নিয়ে আমরা পথ চলছি। উনি আমার বয়সের ছোট হলেও আমি মনে করি উনি আমার নেতা ছিলেন। তার আদর্শকে আমি ধারণ করি, সেভাবে চলার চেষ্টা করি এখন। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সাদেক হোসেন খোকা মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম ও সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কল্যান পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য সংস্থ্য ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্নোয়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিতসাধীন অবস্থায় মারা যান খোকা। পরে দেশে মরদেহ এনে জুরাইন কবরাস্থানে তাকে দাফন করা হয়। | 6 |
ফুটবল মাঠে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার কৌশল যেন ভুলেই গেছে জুভেন্টাস। লিগের ম্যাচই তার উদাহরণ। যে জুভেন্টাস এক দশক ধরে ৯ বার শিরোপা জয় করেছে, রোনালদোর অনুপস্থিতিতে সেই জুভেন্টাসই এসি মিলানের বিপক্ষে ড্র করেছে। গত মাসে জুভেন্টাস ছাড়ার ঘোষণা দেন রোনালদো। বর্তমানে আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ক্রীড়ামোদীরা বলছেন, জুভেন্টাস ছেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়ভাগ্যটাও নিয়ে গেছেন তিনি। খেলায় জুভেন্টাস নিজের মাঠে খেলার সুযোগ পেলেও খুব বেশি কাজে আসেনি। এসি মিলানের সঙ্গে ১-১ গোলে মাঠে ছাড়ে দলটি। শুরুতে আলভারো মোরাতার গোলে অগ্রগতি হলেও পরে এসি মিলানের হয়ে ক্রোয়েশিয়ান স্ট্রাইকার আনতে রেবিচ সমতা ফেরান। ফলে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় জুভেন্টাস। চার মিনিটের মাথায় এগোয় জুভেন্টাস। এরপর এসি মিলান কর্নার পেয়েছিলো। সেদিকে মনোযোগ দিতে গিয়ে নিজেদের রক্ষণ ফাঁকা করে ফেলেছিলো তারা। আর এই সুযোগই নিয়েছে জুভেন্টাস। দুর্দান্ত এক প্রতি আক্রমনে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার পাওলো দিবালার সহায়তা দলকে এগিয়ে নিয়ে যান স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মোরাতা। গত ২৫ বছরে জুভেন্টাসের হয়ে মিলানের বিপক্ষে এত দ্রুত কেউই গোল করতে পারেননি। ১৯৯৬ সালে তিন মিনিটে গোল করেন তখনকার ইতালির মিডফিল্ডার ও জুভেন্টাসের সাবেক কোচ আন্তোনিও কন্তে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, ফুটবল ম্যাচের প্রথম অংশ জুভেন্টাসের হলে দ্বিতীয় অংশ নিশ্চিতভাবেই ছিলো এসি মিলানের। ৭৬ মিনিটে তার ফলও পেয়েছে রোজোনেরিরা। ইতালির মিডফিল্ডার সান্দ্রো তোনালির কর্নারে মাথা স্পর্শ করে দলকে সমতায় ফেরান ক্রোয়েশিয়ান স্ট্রাইকার আনতে রেবিচ। এ নিয়ে জুভেন্টাসের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে গোল পেলে রেবিচ। ৮৭ মিনিটের দিকে ফরাসি ডিফেন্ডার পিয়েরে কালুলুর মাধ্যমে এসি মিলান আরেকটি সুযোগ পায়। কিন্তু এ সময় গোল হয়নি। এই ম্যাচ দিয়ে লিগে প্রথম চার ম্যাচেই জুভেন্টাসের জয় অধরা থাকলো। নিজেদের ফুটবলের ইতিহাসে এই নিয়ে চার বার এমন হয়েছে। | 12 |
উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া না-নেওয়া নিয়ে তৃণমূল বিএনপিতে ধোঁয়াশা রয়েছে। গত মাসে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে জানায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবে কি না, সেটা হলে বহিষ্কার করা হবে কি না-এসব বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা যায়নি। দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে অনেকে একমত হলেও জাতীয় নির্বাচনের পরপরই উপজেলা নির্বাচনসহ সাংগঠনিক ব্যাপারে দল থেকে সরাসরি নির্দেশনা আশা করেছিল তৃণমূল বিএনপি। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে 'ডাকাতি' ও 'প্রহসনের' নির্বাচন বলে আসছে বিএনপি। আর এই নির্বাচনের 'অভিজ্ঞতা' থেকে এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না। গত ২৪ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনে তাঁরা অংশ নেবেন না। ২০১৪ সালে সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি ১৯-দলীয় জোট নিয়ে নির্বাচন করে। যদিও সেবারের ভোট সরাসরি দলীয় প্রতীকে হয়নি। বিএনপির কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের ১৭৬ জন নেতা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ভাইস চেয়ারম্যানের দুটি পদে এই জোটের প্রায় ৩০০ জন নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথম দুই ধাপেই বিএনপি-জামায়াতের ১১৯ জন নির্বাচিত হন। প্রথম দুই ধাপে বিএনপি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে এগিয়ে ছিল। কিন্তু পরবর্তী তিন ধাপে আওয়ামী লীগ এগিয়ে যায়। অবশ্য বিএনপি বলছে, শেষ তিন ধাপে ক্ষমতাসীনেরা কারচুপি করে জিতেছে। বিএনপির বর্তমান নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের চিন্তা সবচেয়ে বেশি। তাঁদের অনেকেই ভোট করতে চান। কিন্তু দল থেকে তাঁদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসছে না। এ বছরের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পাঁচটি ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ভোট হবে ১১ মার্চ। এবারের নির্বাচনে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাম জোটও অংশ নিচ্ছে না। ২০১৪ সালে সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন হয়। ছয়টি ধাপের সে নির্বাচনে শুরুর দিকগুলোর নির্বাচনে বিএনপির অনেক প্রার্থী জয়লাভ করেন। সেই চেয়ারম্যানদের অনেকে এবং বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা বলছেন, উপজেলার ব্যাপারে তারা গণমাধ্যম থেকেই জেনেছেন। দল থেকে সরাসরি কোনো নির্দেশনা পাননি। রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত চিঠিপত্র দিয়ে জানানো হয় না বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'এটা গণমাধ্যমে এসেছে। নির্দেশনা তো এভাবেই আসে।' তিনি বলেন, ৩০ তারিখের নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি। আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। মানুষ ভোট দিতে না পারলে, সেই প্রহসনের মধ্যে নির্বাচন করে লাভ নেই। তবে ব্যক্তিস্বাধীনতা সবার আছে, উল্লেখ করে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, কেউ চাইলে নির্বাচন করতে পারেন। কেউ যদি স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করেন, তাহলে দল থেকে পদত্যাগ করে করতে পারেন। তখন তো দলের পরিচয় রাখার দরকার হয় না। পদত্যাগ করে নির্বাচন করলে তো বহিষ্কারের প্রশ্ন আসবে না। সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, 'উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। গণমাধ্যম থেকে আমরা জেনেছি। স্বতন্ত্রভাবে কেউ নির্বাচন করতে পারবে কি না, সে ব্যাপারেও কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাইনি।' তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর প্রার্থীরাই এখন সাহস করছেন না নির্বাচন করার। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দ্বিধায় থাকার কথা বললেন সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, 'কেন্দ্র থেকে এখনো নির্দেশনা আসে নাই। উপজেলা নির্বাচনে দল যাবে না, এটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তারাই বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।' বিএনপির এ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, এ সরকারের অধীনে সব নির্বাচন একই রকম হবে। তবে ইশতিয়াক আহমেদ জানান, 'স্থানীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দরকার। আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হব কি না, বা দল কী করবে, পদ ছেড়ে দিয়ে হবে কি না-এ বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। একটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।' মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে এ বিষয়ে তিনি কথা বলবেন। তিনি বলেন, 'দল থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। মহাসচিব এলে আমি তাঁর কাছে জানতে চাইব, আমরা স্বতন্ত্র নির্বাচন করব কি না।' আতাউর রহমান নিজেকে সারা দেশের উপজেলা পরিষদ ফাউন্ডেশনের সভাপতি জানিয়ে বলেন, অনেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাইছেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে। তিনি আরও জানান, কেউ কেউ পদত্যাগ করতেও প্রস্তুত উপজেলা নির্বাচন করার জন্য। মাঠপর্যায়ে দলকে চাঙা রাখতে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার অনুমতি দেওয়া উচিত, উল্লেখ করে মানিকগঞ্জের এই উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, 'আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপির কখনোই নির্বাচনে আসা উচিত হবে না। তবে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঠে চাঙা রাখার জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে বাধা হওয়া উচিত না। এতে স্থানীয় পর্যায়ে দল শক্ত থাকবে। মামলা-হামলা ভয় নিয়ে তো সব সময় থাকা যাবে না। ভয় কাটাতে হবে।' উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিতে পারত বলে মনে করছেন চৌহালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মামুনও। তিনি বলেন, এ নির্বাচনে অংশ নিলে মাঠের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় থাকতেন। উপজেলার প্রেক্ষাপট জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন। এখানে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান মিলিয়ে একেক দলের অনেক প্রার্থী হয়। নির্বাচন হলে এখানে একটা শক্ত সমর্থন তৈরি হয়। | 9 |
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আবদুল বাকি হাক্কানি বলেছেন, নতুন সরকার ছাত্রীদের জন্য ছাত্রদের থেকে আলাদা শ্রেণীকক্ষের ব্যবস্থা করবে। রোববার সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা এবং উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপকালে হাক্কানি বলেন, 'আফগান মেয়েদের লেখাপড়ার অধিকার আছে, কিন্তু তারা ছেলেদের সাথে একই শ্রেণীকক্ষে পড়াশোনা করতে পারবে না।' তিনি আরো বলেন, ছাত্রীদের জন্য নিরাপদে শিক্ষার পরিবেশ প্রদান করা হবে। এদিকে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী আব্বাস বসির একই অনুষ্ঠানে বলেন, তালেবান শিক্ষা খাতে এবং উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত দুই দশকের অর্জন সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বসির বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় অন্য যেকোনো বিভাগের চেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জন করেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংগঠনের কর্মকর্তারা অবশ্য বলেন, আগের অধিকাংশ আইন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা নতুন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর প্রতি বর্তমান সরকারের মাধ্যমে এই সমস্যাটিকে মোকাবেলা করার আহ্বান জানান । বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংগঠনের প্রধান তারিক কুমা বলেন, আসল সমস্যা আইনগুলোর মধ্যে। আমরা চাই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শিগগিরই সেগুলো নতুন করে প্রণয়ন করুক। নতুন ভারপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী বলেছিলেন, শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং প্রভাষক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হবে। সূত্র : তোলো নিউজ | 3 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.