text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১৮২ চিকিৎসক জাতীয় বেতন স্কেল চতুর্থ গ্রেডে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতি পাওয়া সহযোগী অধ্যাপকদের বদলি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এই পদোন্নতির কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিভাগীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সার্ভিসের চিকিৎসকদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর চতুর্থ গ্রেডে এ পদোন্নতি ও বদলি করা হয়েছে। প্রথম প্রজ্ঞাপনে ১৭৭ জনকে এবং অপর প্রজ্ঞাপনে ৫ জনকে ৫০০০০-৭১২০০ টাকা বেতনক্রমে সহযোগী অধ্যাপক পদে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদায়নকৃত চিকিৎসকদের ১৮ মার্চের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। অন্যথায় ২২ মার্চ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য হবেন। প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, বদলি বা পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া যোগদানের পর যোগদানপত্র গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রণালয়ে অবহিত করতে হবে। পদোন্নতি পাওয়া যেসব কর্মকর্তা লিয়েন বা প্রেষণ বা ট্রেনিং কিংবা ছুটিতে আছেন, তাঁদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদানের পর পদোন্নতি কার্যকর হবে। তালিকা ১ ও তালিকা ২ এখানে দেখুন | 1 |
সোয়েটার পুরোনো হলে খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা সেগুলো জমিয়ে রাখি। সুযোগ এলেই সেগুলো বাক্সবন্দী করে শীতার্তদের সহায়তায় পাঠানো হয়। এ গেল এক দিকের কথা। কিন্তু পরার অনুপযোগী হলে সে সোয়েটার অন্য কোনো কাজে লাগানো যায়, তা একবার দেখে নেওয়া যাক।সোয়েটার গায়ে চড়ানোর উপযুক্ত না থাকলেও হাতা দুটো কিন্তু ঠিকই আপনাকে ওম দিতে পারে। হাতার কবজি থেকে শুরু করে কনুইয়ের একটু ওপর পর্যন্ত মেপে হাতাটা কেটে ফেলুন। এবার হাতে পরে নিন। ফিঙ্গারলেস হ্যান্ড গ্লাভস দুটো ঠান্ডা প্রতিরোধে বেশ কাজে দেবে।পা-ঢাকা জুতার সঙ্গে শীতকালে তো আমরা মোজা পরি-ই। স্টাইলিশ লুক পেতে বা পায়ের আরামের জন্য মোজা পরার পর পায়ে গলানোর জন্য বুট টপার বানাতে পারেন সোয়েটারের হাতা দুটো দিয়ে।পাতলা লম্বা সোয়েটারগুলো দিয়ে অনায়াসে ঘরে বসেই বানাতে পারেন বালিশের কভার। শীতে বসার ঘরে উষ্ণতা যোগ করতে এই বালিশের কভারগুলো কিন্তু দারুণ হতে পারে।শীতের দিনে চা-কফি অল্প সময়েই জুড়িয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে সোয়েটারের হাতার অংশ কেটে তা পরিয়ে দিন মগে। দেখতেও দারুণ লাগবে আর পানীয় থাকবে গরম।পুরোনো রঙিন সোয়েটার দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন নানা রকম চুলের ব্যান্ড। শীতের পোশাকের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যাবে সেগুলো।সূত্র: ট্রি হাগার | 6 |
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সংসদে জানিয়েছেন, তিনি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকা নেবেন। টিকা নেওয়ার পর শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণে বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করেছে। গতকাল বুধবার বরিস জনসন অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেওয়ার ঘোষণা দেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি খুব শিগগিরই করোনার টিকা নেবো। এটা নিশ্চিতভাবেই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা হবে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 4 |
কেরানীগঞ্জে চীন-মৈত্রী সেতু (বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু) থেকে বুড়িগঙ্গা নদীতে লাফিয়ে আত্মহত্যা করা নুসরাত আক্তার মালার (১৮) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেতুটির ওপর থেকে লাফ দেন নুসরাত।দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'লাশটি ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।'নিহত নুসরাতের মা রুমা বেগম গত শুক্রবার বলেন, 'আমার মেয়ের স্বামী মজিবর যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমার মেয়েকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। আমি এর বিচার চাই।' বৃহস্পতিবার রাতে ওই তরুণী তাঁর স্বামীর সঙ্গে সেতুর ওপর আসেন।পরে তাঁদের দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হাতাহাতির একপর্যায়ে ওই তরুণী সেতু থেকে নদীতে লাফ দেন। | 6 |
উপকরণদেশি চুইয়ের কাণ্ড আধা কেজি, রসুন ১০০ গ্রাম, পাঁচফোড়ন ২০ গ্রাম, শুকনো মরিচ ৬-৭টি, সরিষার তেল ২৫০ গ্রাম, লবণ স্বাদমতো, তেজপাতা ২টি, আদাবাটা ১ চা-চামচ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, বোম্বাই মরিচ ৬-৭টি।প্রণালিচুইয়ের কাণ্ড নির্দিষ্ট মাপে কেটে নিন। শুকনো মরিচ ও পাঁচফোড়ন কড়াইয়ে ভেজে ভালোভাবে গুঁড়ো করে নিন। কড়াইয়ে সরিষার তেল দিন।তেল কিছুটা গরম হলে ১ থেকে ২টি শুকনো মরিচ ও কিছু পাঁচফোড়ন তেলে ছেড়ে দিন। এরপর আদা ও রসুনবাটা তেলে ছেড়ে ৫ মিনিট কষিয়ে নিন। চুইয়ের কাণ্ডগুলো মসলায় ছেড়ে লবণ, ছিলে রাখা রসুনের কোয়া, তেজপাতা দিয়ে ১০ মিনিট নেড়ে নিন। গুঁড়ো মসলাগুলো দিয়ে ৭-৮ মিনিট নেড়ে নিন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল চুইয়ের আচার। | 4 |
অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স অর্থাৎ অস্কার লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ করা হবে আলোচিত 'পার্চড' ছবির চিত্রনাট্য। অভিনেতা আদিল হুসেন টুইট করে খবরটি জানিয়েছেন গণমাধ্যমকে। ১৯২৮ সালে তৈরি হয় অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের লাইব্রেরি। সেখানে সংরক্ষন করা হয় বিশ্বের বিখ্যাত সিনেমাগুলো। এই লাইব্রেরিটি বেভার্লি হিলে অবস্থিত 'পার্চড' ছবিটি মুক্তির আগেই শিরোনামে চলে এসেছেন ছবির অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে। রাধিকা অভিনীত এই ছবির বেশ কিছু নগ্ন দৃশ্য ইতিমধ্যেই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। এমনকি ছবিতে রাধিকা-আদিলের অন্তরঙ্গ যেসব দৃশ্য লিক হয়ে যায় বিভিন্ন জায়গায় পর্ন হিসেবে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা যায়। অজয় দেবগণ প্রযোজিত ছবিটি ইতিমধ্যেই দেখানো হয়েছে ২৪টি আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালে। এরই মধ্যেই 'পার্চড' জিতে নিয়েছে ১৮টি পুরস্কার। ছবিতে রাধিকা আপ্তে ও আদিল হুসেন ছাড়াও অভিনয় করেছেন তন্নিষ্ঠা চট্টোপাধ্যায় ও সুরভিন চাওলা। ২৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে ছবিটি। বিডি-প্রতিদিন/তাফসীর | 2 |
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দাবি করেছেন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা ভণ্ডুল করে দিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুইদো মঙ্গলবার সকারে ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন বলে দাবি করা হয়েছে। সিএনএন, বিবিসি, রয়টার্স ইত্যাদি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী এখন শান্ত রয়েছে। তবে এখনো দেশটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মাদুরো জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। তিনি স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টায় অভ্যুত্থানপরবর্তী প্রথমবারের মতো জনসাধারণের সামনে আসেন।মাদুরো দাবি করেন, 'অভ্যুত্থান' ভণ্ডুল করে দেয়া হয়েছে। অভ্যুত্থানের চেষ্টাকরীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর ঘণ্টা দেড়েক আগে এক ভিডিও বার্তায় গুইডো রাজপথে নেমে আসার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন। তিনি শান্তিপূর্ণ বিদ্রোহ করার আহ্বানও জানান। তবে একে তিনি অভ্যুত্থানচেষ্টা বলতে অস্বীকৃতি জানান। দৃশ্যত সামরিক বাহিনীর সমর্থনের জোরে মাদুরো তার অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মাদুরো পরাজিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু সামরিক বাহিনীর সমর্থনে তিনি টিকে যেতে সক্ষম হয়েছেন।উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে মাদুরো যেন পদত্যাগ করেন। আর রাশিয়া তাকে সমর্থন দিচ্ছে। মাদুরো দাবি করেন, কিছু কুচক্রি কারাকাসের ব্রাজিল দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছে। গুইদো কোথায় আছেন, তা জানা যায়নি। একটি সূত্র জানায়, তিনি কারাকাসে স্প্যানিশ দূতাবাসে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। | 3 |
মহামারী শুরুর ঠিক পরেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিবৃতি চীনকে বাঁচিয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, চীনের কোনও গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েনি করোনাভাইরাস। কিন্তু এবার চীনের এক ভাইরাস বিশেষজ্ঞই অভিযোগ করলেন, করোনাভাইরাসকে ইচ্ছাকৃতভাবেই পরিবেশে ছড়িয়েছিল বেইজিং। এক সাক্ষাৎকারে চীনের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লে মেং-ইয়ানের অভিযোগ, বাদুর, প্যাঙ্গোলিন বা পরিবেশ থেকে অন্য কোনওভাবে ছড়িয়ে পড়েনি সার্স-কোভ ২ ভাইরাস। তা ছড়িয়ে পড়েছিল চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর গবেষণাগার থেকেই। আর জীবাণুযুদ্ধের মহড়া হিসেবে তা ইচ্ছাকৃতভাবেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পরিবেশে। কিন্তু সেই সন্দেহটাকেই ফের উস্কে দিলেন চীনের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লে-মেং-ইয়ান। তিনি বলেছেন, "আমেরিকার বিদেশ দফতরের হাতে আসা ওই তথ্যাদি একেবারেই সঠিক। গোটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অপ্রচলিত জীবাণু অস্ত্র ব্যবহারের কর্মসূচি বেইজিংয়ের অনেক দিনের পুরনো। কীভাবে সেই জীবাণু অস্ত্র ধাপে ধাপে বানানো যায় আর তা ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে চীন দীর্ঘ দিন ধরে কী কী পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছে, গত মার্চে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে আমিও সবিস্তারে তার উল্লেখ করেছি। করোনাভাইরাস গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়েছে এটা রটে গেলে, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে কী কী পদক্ষেপ জরুরি বেইজিং তা-ও অনেক আগেই ভেবে রেখেছিল।" কিসের ভিত্তিতে তার এই অভিযোগ, জানতে চাওয়া হলে ইয়ান বলেন, "আমি গত জানুয়ারি থেকেই তথ্যপ্রমাণ-সহ এসব কথা ইউটিউবে বলে চলেছি। এও বলেছি, এই ভাইরাস আবিষ্কারের জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থবরাদ্দ করেছিল বেইজিং। আর ইচ্ছাকৃতভাবেই তা বাতাসে ছড়ানো হয়েছিল, যাতে মানুষের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া যায় এবং যাতে শত্রু দেশগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও নড়বড়ে করে দেওয়া যায়।" সূত্র: বিজনেস টুডে বিডি প্রতিদিন/কালাম | 4 |
গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ লাখ মানুষ চাকরি ছেড়েছে, যা আগের মাসের চেয়ে ৩ লাখ ৮২ হাজার বেশি। একই সময়ে দেশটির নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ, যা আগের মাসের তুলনায় ৫ লাখ কম হলেও ঐতিহাসিকভাবে বেশ ভালো। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক জরিপে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি চাকরি ছেড়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে ওই একই খাতে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাকরি ছাড়ার চেয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সংখ্যা যেহেতু বেশি, তাই ধরে নেওয়া যায়, তুলনামূলক ভালো চাকরির জন্যই মানুষ চাকরি ছাড়ছেন।২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরুর পর বিভিন্ন কোম্পানি যে পরিমাণ শ্রমিক ছাঁটাই করে, তার একটা বড় অংশ এখনো পূরণ হয়নি। যোগ্য লোক না পাওয়ায় নভেম্বরে বাজারটিতে ২ লাখ ১০ হাজার চাকরির পদ শূন্য থাকে।অনেক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এখনো কেন প্রয়োজনীয় লোক নিয়োগ দিতে পারছে না, তা নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। একদল অর্থনীতিবিদ মনে করেন, চাকরি থাকলেও করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে অনেকে চাকরি নিচ্ছেন না। | 6 |
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতেই বড় পর্দায় একটু পরপর দেখানো হচ্ছিল ভিডিওচিত্রটা। পরশু হারারেতে পাকিস্তান নারী দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। সেই জয়ের পর নিগার সুলতানাদের দল বেঁধে করা উদ্যাপনচিত্রটা দেখিয়ে পুরুষ দলকে যেন অনুপ্রেরণা দেওয়ার চেষ্টা করা হলো গতকাল।সেখান থেকে উজ্জীবিত হয়েই কিনা পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে গতকাল অল্প পুঁজি নিয়েও শেষ বল পর্যন্ত লড়েছে বাংলাদেশ।শেষ ওভারে জিততে হলে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৮ রান। তাসকিন আহমেদের চোটে পড়ার 'দৈব দুর্বিপাকে' শেষ ওভারে বল হাতে তুলে নিতে হলো মাহমুদউল্লাহকে। বিপিএলে শেষ ওভারে বোলিং করে দুবার ম্যাচ জেতানোর রেকর্ড আছে তাঁর। প্রথম তিন বলেই ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন অধিনায়ক। তবে চতুর্থ বলে বিশাল এক ছক্কা মেরে আবার ম্যাচটি পাকিস্তানের দিকে নিয়ে আসেন ইফতেখার আহমেদ। পঞ্চম বলে ইফতেখার ফিরতেই ফের উত্তেজনা। নাটকের পর নাটক আর স্নায়ুর লড়াইয়ে শেষ বলে ঠান্ডা মাথায় মোহাম্মদ নওয়াজ চার মেরে জেতান পাকিস্তানকে। তাদের জয় ৫ উইকেটের।পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচও হেরে যাওয়ায় নতুন যুগের শুরুতে ধবলধোলাইয়ের অভিজ্ঞতা হলো মাহমুদউল্লাহদের। এর আগে কখনো ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল না বাংলাদেশের।গতকালও টস জিতে মাহমুদউল্লাহ আগে ব্যাটিং নিয়েছেন। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ বলতে গেলে তুলনামূলক সহজই ছিল। শাহিন শাহ আফ্রিদি-হাসান আলী-শাদাব খান কেউ ছিলেন না একাদশে। তবে একঝাঁক নতুন বোলারের বিপক্ষেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা পারেননি স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে। আরও একবার শুরুতে বদল এনেও ওপেনিং জুটির 'জ্বালানি' শেষ সেই ১০ রান জমা হওয়ার আগেই। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলেই অভিষিক্ত শাহনেওয়াজ ধানির ইয়র্কারে বেল উড়ল আগের ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করা নাজমুল হোসেন শান্তর। বিশ্বকাপ থেকেই অদ্ভুতুড়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আসা বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট গতকালও 'চমক' দেখাল! শামীম হোসেনকে খেলানো হলো তিন নম্বরে। শামীমের প্রথম স্কোরিং শটেই বাউন্ডারি। এরপর আরও তিনটি বাউন্ডারি মেরেছেন। ভালো ইঙ্গিত দিয়েও ২২ রানের বেশি করতে পারেননি শামীম, তাঁর স্ট্রাইক রেট ৯৫.৬৫।শামীমের বিদায়ের পর দুই বাঁহাতি ব্যাটার নাঈম ও আফিফে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে ৪৩ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু হাতে উইকেট থাকার পরও চালিয়ে খেলার ঝুঁকিটা নেননি। ৪৩ রানের জুটি গড়তেই দুজনে খেলেছেন ৪২ বল। বিশেষ করে নাঈম যেভাবে খেলছিলেন, যেন টেস্টের দলে রাখার দাবিটাও জানিয়ে রাখলেন! ৫০ বলে খেলে তাঁর রান ৪৭।ব্যাটিংয়ের সেই ঘুমপাড়ানি ভাবটা ভাঙতে পারলেন না অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও। কোথায় শেষদিকে 'ফিনিশিং টাচ' দেবেন, উল্টো ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ করে অধিনায়ক আউট ১৪ বলে ১৩ রান করে। একটা জিনিস গতকালও ধরে রেখেছে বাংলাদেশ-ডট বলের 'ফিফটি'! প্রথম দুই ম্যাচে ৫৮ ও ৫৬ রানের পর শেষ ম্যাচে ৫৮ বলে কোনো রানই নিতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। দলের মাত্র তিন ব্যাটার ১০০-এর ওপর স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন।টি-টোয়েন্টিতে ১২৫ রানকে কঠিন লক্ষ্য বলার কোনো কারণই নেই। সেই সহজ লক্ষ্য ছুঁতেও পাকিস্তানের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার পেছনে কৃতিত্ব পাবেন বোলাররা। শামীম-আফিফদের ফিল্ডিং আর শরীরীভাষাটাও বলছিল, ভিন্ন কিছু হতেও পারে। মাহমুদউল্লাহর করা শেষ ওভারের নাটক স্নায়ুর পরীক্ষাও নিল। কিন্তু ব্যাটাররা যে পুঁজিটা এনে দিয়েছিলেন, তাতে তীরে এসে তরি ডোবার যন্ত্রণাই সইতে হলো বাংলাদেশকে।গতকাল গ্যালারিতে পাকিস্তানের পতাকা প্রবেশ করা নিয়ে বেশ কড়াকড়ি ছিলেন নিরাপত্তাকর্মী আর বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা। গ্যালারিতে উড়েছে শুধু লাল-সবুজ পতাকা। গ্যালারিতে পাকিস্তানের পতাকা রুখে দেওয়া গেলেও সফরকারীদের মাঠের জয়টা রুখতে পারেননি মাহমুদউল্লাহরা। | 6 |
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে আগেই দলে নেয় ঢাকা পরে ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে দলে ভেড়ান। এরই মাধ্যমে তিন রত্নকে দলে পেল ঢাকা। এবার ড্রাফট থেকে সর্বনিম্ন ৩ এবং সর্বোচ্চ ৮ জন বিদেশী ক্রিকেটার নিতে পারবে দলগুলো। স্থানীয় ক্রিকেটারের হিসেবে দলগুলো নিতে পারবে ১০ থেকে ১৪ জনকে। ড্রাফটের আগে একজন স্থানীয় ও তিনজন বিদেশী ক্রিকেটার নিতে পারবে দলগুলো। এবার ড্রাফটে নেই তারকা কোনো বিদেশী ক্রিকেটার। যা বিপিএলকে অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে। এর আগে রোববার রাতে হুট করেই খবর বেরিয়েছে, ঢাকার মালিকানা হারিয়েছে রুপা ও মার্ন গ্রুপ। তাই আজকের ড্রাফটে এই দলটির পক্ষে ড্রাফট টেবিলে বসবে বিসিবির কর্তারাই। অর্থাৎ বিসিবিই আপাতত ঢাকার দল গঠন করবে। যার ধারাবাহিকতায় মাহমুদউল্লাহকে দলে নিয়েছে তারা। অটো চয়েজ হিসেবে একজন করে দেশী খেলোয়াড় ছাড়াও তিনজন করে বিদেশী খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর সুযোগ ছিল সব ফ্র্যাঞ্চাইজির সামনে। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে শুধুমাত্র খুলনা ও সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি। তারা তিনজন বিদেশী এরই মধ্যে নিয়েছে নিজেদের দলে। ঢাকাতে আছেন মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফি বিন মুর্তাজা, তামিম ইকবাল, রুবেল হোসেন, শুভাগত হোম, মো: শেহজাত ও ফজল হক ফারুকি। | 12 |
অবশেষে মাটিতে পা পড়লো ব্রিটিশ টেনিসকন্যা এমা রাদুকানুর। ১৮ বছর বয়সী এ টেনিস তারকা গত মাসে ইউএসে ওপেনে জিতেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম গ্রান্ড স্লাম। এরপর কোচ অ্যান্ড্রু রিচার্ডসনকে ছাঁটাই করে দিয়েছিলেন এমা। ৮ বছর এমাকে কোচিং করিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু রিচার্ডসন। স্থায়ী কোচ ছাড়া ইন্ডিয়ান ওয়েলসে খেলে শুক্রবার রাতে ২২ তম বাছাই এমা হেরেছেন ১০০ তম বাছাই বেলারুশের আলিয়াক্সান্দ্রা সাসনোভিচের (২৭) সাথে। ৬-২ ৬-৪ সেটে হেরেছেন এমা। ম্যাচটি জিততে পারলে টানা ১১টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড হতো তার। ১০ দিন পর মস্কোতে ক্রেমলিন কাপ খেলতে যাচ্ছেন এমা। সূত্র : বিবিসি বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 12 |
রাজধানীর বনশ্রীতে তেলবাহী একটি ট্যাংকার উল্টে তার নিচে চাপা পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি। সোমবার (২৩ মে) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে বনশ্রী এ ব্লকের প্রধান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন । তিনি জানান, বনশ্রী এ ব্লকের মেইন রোডে তেলবাহী একটি ট্যাংকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় উল্টে যায়। উল্টে যাওয়ার সময় ট্যাংকারের নিচে এক ব্যক্তি চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার পরিচয় জানা যায়নি। এ সময়ে সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে আসতে খবর দিলে তারা এসে রেকার দিয়ে ট্যাংকারটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়। নিহতের মরদেহ ট্যাংকারের নিচ থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। দুর্ঘটনার শিকার ট্যাংকারের গায়ে উড়োজাহাজের জ্বালানি বহনের কথা লেখা রয়েছে। এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমরা নিশ্চিত নই। তবে ট্যাংকারে লেখা আছে 'জরুরি সরবরাহ বিমানের তেল নারায়ণগঞ্জ-ঢ০১০০৪৩"। | 6 |
জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে 'প্রেম' করে আওয়ামী লীগ তিনবার ক্ষমতায় গেছে। তাদের সঙ্গে আর প্রেম নেই। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাপা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে।আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বর্ধিত সভায় এভাবেই ক্ষোভের কথা বলেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।সভার উদ্বোধনী বক্তৃতা করেন জাপার চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। প্রয়োজন ছাড়াই তেলের দাম বাড়িয়ে মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এই অজুহাতে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন তো তেলের দাম কমছে। কিন্তু দাম কমানো হচ্ছে না কেন? এর আগেও তেলের দাম বিশ্ববাজারে খুবই কম ছিল, তখনো তেলের দাম কমানো হয়নি।'তেলের দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে সরকারের অনেকে পাচার হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করছেন। এ প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, 'জ্বালানি তেল চোরাচালান করা সম্ভব নয়। ট্যাংকার বা পাইপলাইন ছাড়া তেল পাচার করা অসম্ভব। কোনো দেশেই জ্বালানি তেল চোরাচালান করা সম্ভব নয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম প্রতি লিটার ৭ টাকা রেখেছিলেন। এখন সেই ডিজেলের দাম ৮০ টাকা।'সভায় বক্তৃতাকালে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, 'আওয়ামী লীগের সঙ্গে আর কোনো প্রেম নেই। আমাদের সঙ্গে প্রেম করে আওয়ামী লীগ তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে। এখন আমাদের ওপর নির্যাতন করছে। আর কোনো জোট নয়, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করবে।'জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির প্রমুখ। | 9 |
জোড়া পেনাল্টি মিস করলেন চলতি মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকা করিম বেনজেমা। তবে সতীর্থদের কল্যাণে ওসাসুনার বিপক্ষে বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগার ম্যাচে বুধবার রাতে ৩-১ গোলে ওসাসুনাকে হারিয়েছে রিয়াল। প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে নেমে ম্যাচের ১২তম মিনিটেই আলাবার গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। দানি সেবাওসের তুলে দেয়া বল করিম বেনজেমার কাটব্যাক থেকে আলাবার প্রথম দফার শট ওসাসুনা গোলকিপার ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে আচমকা শট জাল খুঁজে নেয়। তবে পরের মিনিটেই সমতায় ফেরে ওসাসুনা। ডান প্রান্ত থেকে আভিলার দারুণ ক্রস দূরের পোস্টে ফাঁকা থাকা অ্যান্তে বুদিমির পা লাগিয়ে বল জালে জড়ান। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে আবারো এগিয়ে যায় রিয়াল। ওসাসুনার বক্সের সামনে থেকে কামাভিঙ্গার তুলে দেয়া বল পোস্টের বা প্রান্তে স্লাইডে গোলমুখে শট নেন সেবাওস। কিন্তু তার শট গোলকিপার হেরেইরা ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে জাল খুঁজে নেন আসেনসিও। বিরতির পরই পেনাল্টি পেয়েছিল রিয়াল, কিন্তু স্পট কিকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন বেনজেমা। এরপর ৫৯ মিনিটে ফের পেনাল্টি পায় রিয়াল, এবারো গোল করতে ব্যর্থ হন দলের সেরা তারকা করিম বেনজেমা। ব্যবধান বাড়াতে আক্রমণে ধার বাড়ায় রিয়াল। বেশ কয়েকবার ওসাসুনার রক্ষণে হানা দেয় বেনজেমা, আসেনসিওরা। শেষ মুহূর্তে লুকাস ভাসকেসের গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয় রিয়ালের। | 12 |
বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-১ সনি সিনেমা হলের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাস্তায় নামেন তারা। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় চিড়িয়াখানা সড়ক ও মিরপুর-১ থেকে মিরপুর-১০ নম্বর যাওয়ার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ। পোশাক কারখানার মালিক বেতন-বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৫টায় শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। এর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, চিড়িয়াখানা সড়ক এলাকার মল্লিক টাওয়ারের জারা জিন্স নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানার মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস না দিয়ে কালক্ষেপণ করছিল। বেতন ও বোনাসের দাবিতে বুধবার সন্ধ্যায় শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন। কিছুক্ষণ পর তারা বাসায় ফিরে যান। গতকাল সকালে কারখানায় উপস্থিত হন বেতন-বোনাসের প্রত্যাশায়। তবে বেতন-বোনাস দেওয়া হয়নি। পরে ১২টায় শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ। পুলিশের দারুস সালাম জোনের সহকারী কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, মালিকপক্ষ বেতন-বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দিলে বিকেলে শ্রমিকরা রাস্তা থেকে সরে যান। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। | 6 |
হবিগঞ্জে 'নদী দখল, শিল্পবর্জ্য দূষণ ও পরিবেশ সংকট রোধ' বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা হয়েছে। গত রোববার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজনে এ সভা হয়।সভায় বক্তারা বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন এবং অপরিকল্পিতভাবে শিল্প কারখানা স্থাপন হচ্ছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত বর্জ্য ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে নদী-খাল-বিলে। এতে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে নদী ও খাল দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। জেলার সব কটি নদীরই করুন অবস্থা। দখল আর দূষণের কারণে জেলার খোয়াই, সুতাং, করাঙ্গী ও শাখা বরাকসহ ছোট-বড় সব নদীই মৃতপ্রায়।বাপা হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিন্টু চৌধুরী।বক্তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান, হবিগঞ্জ শহর বর্তমানে আবর্জনা ও দুর্গন্ধের শহরে পরিণত হয়েছে। তাই জেলাবাসীর মৌলিক নাগরিক অধিকার সংরক্ষণে পুরোনো খোয়াই নদীর দখল উচ্ছেদ, শিল্পবর্জ্য দূষণ রোধসহ সার্বিক পরিবেশগত সংকট নিরসনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, 'জেলারপ্রায় সবগুলো নদীরই একই অবস্থা। কোনো নদীই এখন আর নদী নেই। সবগুলো খালে পরিণত হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদী তীরবর্তী মানুষেরা। এ ছাড়া জেলা শহরের সবগুলো পুকুর-জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে।'জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, 'হাওর-নদী সবকিছুই ভালো রাখতে হবে। আমরা উন্নয়ন করব, তবে পরিবেশকে ক্ষতি করে নয়।' | 6 |
১৩ দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম আবার ইতিহাস গড়েছে। ভরিতে ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৭ হাজার ২১৬ টাকা। দেশের ইতিহাসে আগে কখনও সোনার দাম এতো উঁচুতে পৌঁছেনি। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি আজ বুধবার রাত সোয়া নয়টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম বৃদ্ধির বিষয়টি জানায়। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট ও চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ইউএস ডলার দুর্বল, তেলের দর পতন ও নানাবিধ অর্থনৈতিক সমীকরণের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্যে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। সেই ধারাবাহিকতা দেশীয় বুলিয়ন মার্কেটে সোনার দাম বেড়েছে। জুয়েলার্স সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সারা দেশে সোনার নতুন দর কার্যকর হবে। তাতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার অলংকার কিনতে লাগবে ৭৭ হাজার ২১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ৭৪ হাজার ৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৬৫ হাজার ৩১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি বিক্রি হবে ৫৪ হাজার ৯৯৬ টাকায়। অবশ্য বুধবার পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনা ৭২ হাজার ৭৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬৯ হাজার ৬৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৬০ হাজার ৮৮৬ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা বিক্রি হয়েছে ৫০ হাজার ৫৬৩ টাকায়। বৃহস্পতিবার থেকে ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরিতে ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়ছে। গত দুই মাস ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর উধ্বমুখী। সেই কারণে দেশের বাজারেও দফায় দফায় দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ী। গত ২৩ জুন সোনার দাম ভরিতে ৫ হাজার ৮২৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। সর্বশেষ গত ২৪ জুলাই ভরিতে ২ হাজার ৯১৬ টাকা বৃদ্ধি করে জুয়েলার্স সমিতি। বিশ্ববাজারে আজ বুধবার প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর আগে সোনার দাম এতো উঁচুতে কখনই উঠেনি। রাত ১১টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দর ছিল ২ হাজার ২৯ ডলার। | 0 |
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, মঙ্গলবার ভোর হতে না হতেই ভারি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে কিয়েভে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট বলছে, ভোরে কিয়েভ শহরে ভারী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। খবর আলজাজিরার . রাসমাস থ্যানথোল্ড নামে একজন বিদেশি সাংবাদিক টুইটারে বলছেন, মধ্য কিয়েভে বেশ কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ঘুম ভেঙেছে তার। | 3 |
নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদধারী ও অবমাননার আবেদনকারীদের উচ্চ আদালতের রায়ের নির্দেশনা অনুসারে চার সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগের সুপারিশ করতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন। আদালত বলেছেন, এ সময়ে বিজ্ঞপ্তির (এনটিআরসিএর দেওয়া তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি) কার্যক্রম আবেদনকারীদের (অবমাননার আবেদনকারী) ক্ষেত্রে স্থগিত থাকবে। আগামী ৩০ জুন পরবর্তী আদেশের জন্য বিষয়টি আসবে। এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ পূরণে ৫৪ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত ৩০ মার্চ এনটিআরসিএর দেওয়া তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিতসংক্রান্ত ৬ মের আদেশ সংশোধিত আকারে প্রত্যাহার করে এ আদেশ দেওয়া হয়। নিয়োগ বিষয়ে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পৃথক আদালত অবমাননার আবেদন করেন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রত্যাশী নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী।পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ মে হাইকোর্ট এক আদেশে সাত দিনের মধ্যে অবমাননার আবেদনকারীদের নিয়োগের সুপারিশ করতে এনটিআরসিএকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শূন্যপদ পূরণে ৩০ মার্চ প্রকাশিত ওই গণবিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ আবেদনগুলো আদেশের জন্য কার্যতালিকায় ওঠে।অবমাননার আবেদনকারী ও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রত্যাশীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান, জাফর সাদেক, মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া ও মহিউদ্দিন মো. হানিফ। এনটিআরসিএর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান ভূঁইয়া। এ ছাড়া আদালতের আহ্বানে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন শুনানিতে অংশ নেন। পৃথক ৩টি আবেদনে ৮০০ নিয়োগপ্রত্যাশী শিক্ষকের আইনজীবী মহিউদ্দিন মো. হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, সনদধারী প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী আদালত অবমাননার পৃথক আবেদন করেন। নিয়োগ বিষয়ে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনা অনুসারে অবমাননার আবেদনকারীদের চার সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগের সুপারিশ করতে এনটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁদের ক্ষেত্রে ওই গণবিজ্ঞপ্তি স্থগিত থাকবে বলেছেন আদালত। অর্থাৎ আড়াই হাজার জনকে নিয়োগের জন্য পদ শূন্য রাখতে হবে। আবেদনকারীদের আইনজীবীর তথ্যমতে, এর আগে সনদধারীদের নিয়োগ বিষয়ে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সাত দফা নির্দেশনাসহ রায় দেন। পঞ্চম দফা ছিল সম্মিলিত মেধাতালিকা অনুযায়ী রিট আবেদনকারীদের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ। দীর্ঘ সময় পেরোলেও রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় রিট আবেদনকারী, তথা নিয়োগপ্রত্যাশী শিক্ষকেরা পৃথক আদালত অবমাননার আবেদন করেন। এর শুনানি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্ট আদালত অবমাননার রুল দেন। আইনজীবীরা জানান, রুলের পর আবেদনকারীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৮ মার্চ হাইকোর্ট পঞ্চম দফা বাস্তবায়নে এনটিআরসিকে ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন। এরপরও আদেশ বাস্তবায়ন না করে এনটিআরসি ৩০ মার্চ তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যা আবেদনের মাধ্যমে আদালতে তুলে ধরা হয়। এর শুনানিতে গত ৬ মে হাইকোর্ট সনদধারীদের মধ্যে অবমাননার আবেদনকারীদের সাত দিনের মধ্যে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করতে এনটিআরসিকে নির্দেশ দেন এবং ৩০ মার্চ প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি স্থগিত করেন। ৬ মে দেওয়া আদেশ সংশোধন সাপেক্ষে প্রত্যাহার করে আজ আদেশ দেওয়া হয়। | 1 |
নলেভ করোনাভাইরাসে ইতালিতে দুই হাজার ৬২৯ জন চিকিৎসক ও নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটিতে মোট করোনা রোগীর ৮ শতাংশ ৩ ভাগ এখন তারাই। বুধবার রাতে ইতালির হেলথ ফাউন্ডেশন এ তথ্য জানিয়ে বলে, এতো বেশি সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স করোনা আক্রান্ত হওয়ায় এটা প্রমাণিত হয় যে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। খবর ডেইলি মেইলের করোনার উৎসস্থল চীনেও এতো পরিমাণ চিকিৎসক-নার্স করোনায় আক্রান্ত হননি। চীনের চেয়ে এ সংখ্যা দ্বিগুণ। করোনা আক্রান্ত দুই হাজার ৬২৯ জন চিকিৎসক ও নার্সের মধ্যে গত আট দিনেই ১৫০০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ দিকে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশটির লকডাউন ব্যবস্থা আগামী এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। গত ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে সর্বোচ্চ ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চার হাজার ২০৭ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড এটি। প্রায় প্রতিদিন নতুন মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে সেখানে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনায় ইতালিতে মারা গেছে দুই হাজার ৯৭৮ জন, আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৭১৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার জন। ইতালির দক্ষিণের শহর লম্ববার্ডি করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। একদিনে সেখানে মারা গেছেন ৩১৯ জন। চীনের করোনার ছোবল সবচেয়ে বেশি ইতালিতে। গত ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৭৫৮ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ। এশিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপসহ সব মহাদেশ মিলে ১৭০টি দেশ ও অঞ্চলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। চীন, ইতালির পর বর্তমানে সংক্রমণ ও মৃত্যুহারে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে ইরান, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে। ফ্রান্সে বুধবার একদিনেই মারা গেছে ৮৯ জন। এসব দেশের অর্থনীতির চাকা থমকে গেছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে মন্দার ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। | 3 |
ডিসেম্বরের হিমেল হাওয়ায় শহরের এদিকে-ওদিকে ঘুরে বেড়ানো, পার্টি করার একেবারে আদর্শ পরিবেশ এটাই। আর তাই বাইরে বেড়িয়ে পড়লেন টলিউডের মোস্ট হট অ্যান্ড হ্যাপেনিং কাপল রাজ এবং শুভশ্রী। রাজকে পাশে বসিয়ে ড্রাইভ করলেন এই সুন্দরী। শুভশ্রী তাদের আউটিংয়ের ছবি শেয়ার করেছেন ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে। সেখানে অসাধারণ এক পোশাকে দেখা গিয়েছে টলি নায়িকাকে। নায়িকার উছলে পড়া গ্ল্যামার আপনাকে ঈর্ষান্বিত করবে। শুভশ্রী এ দিন পড়েছিলেন একটি সাদা আউটফিট। খোলা চুল, নামী ব্র্যান্ডের ব্যাগ। নিজেদের গাড়ির সামনে পোজ দেন তিনি। সেই ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ক্যাপশনে শুভশ্রী লেখেন ""। অর্থাৎ ডিসেম্বরকে ছুটিয়ে উপভোগ করছেন তারা। এ দিন পদ্মনাভ দাশগুপ্তের বাড়িতে গিয়েছিলেন এই লাভ বার্ডস। রাজ এবং শুভশ্রীর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে তাদের দু'জনের পাশাপাশি দেখা গিয়েছে সস্ত্রীক পদ্মনাভ এবং রুদ্রনীলকেও। | 2 |
প্রথমবারের মতো গুচ্ছ ভুক্ত ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত আবেদন আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। প্রাথমিক আবেদন শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ আবেদন চলবে।ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের পছন্দের ক্রমানুসারে কমপক্ষে পাঁচটি পরীক্ষাকেন্দ্র সিলেক্ট করতে হবে। আবেদনকারীকে আবেদন ফি বাবদ ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারী বর্তমানে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকলে, সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ও অধ্যয়নের বিষয়সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে হবে।এ বছর মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের যেসব শিক্ষার্থী প্রাথমিকভাবে আবেদন করেছেন, সবাই চূড়ান্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন। বিজ্ঞান বিভাগে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত আবেদন করতে পারবেন। তবে বিজ্ঞান বিভাগের সবাইকে যাতে চূড়ান্ত পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয় সে জন্য কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন বিজ্ঞান বিভাগের বাদ পড়া শিক্ষার্থীরা। | 1 |
প্রথম বার আইপিএল খেলতে নেমেই চ্যাম্পিয়ন গুজরাত টাইটান্স। দলের কেউ কৃতিত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডকে, কেউ কোচ আশিস নেহরাকে, কেউ বোলারদের। কিন্তু সবার মতে মূল কৃতিত্ব দলের পরিবেশের। গোটা দলটা একটা পরিবার হয়ে উঠেছিল। সেটাই গুজরাতের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথটা সহজ করে দিয়েছে। লকি ফার্গুসন: আমি একা নয়, আমরা সবাই খুব ভাল বল করেছি। হার্দিক দুর্দান্ত। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। শুভমন গিল: অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় আমার কাছে যতটা বড় ছিল, আইপিএল জেতাও ততটাই বড়। এটা আমার চতুর্থ বছর। শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থাকাই লক্ষ্য ছিল। কোচেদের সঙ্গে সেরকমই কথা হয়েছিল। বোলাররা সত্যিই ভাল বল করেছে। না হলে ১৩০ রানে ওদের আটকে রাখা সম্ভব হত না। আমরা চেয়েছিলাম ওদের ১৫০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে। তার থেকেও কম রানে আটকে রাখতে পেরেছি। ডেভিড মিলার: দুর্দান্ত একটা যাত্রা। এটা দলগত প্রচেষ্টার ফল। প্রত্যেকে ভাল খেলেছে। আমাদের অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য সারক্ষণ খোশ মেজাজে থাকে। হার্দিক এবং আশিস নেহরা, দু'জনের সঙ্গেই আমাদের বোঝাপড়াটা খুব ভাল। প্রতিযোগিতা যত এগিয়েছে, ওর পরিকল্পনাগুলো তত অসাধারণ হয়েছে। একটু একটু করে আমরা শক্তিশালী হয়েছি। ম্যাথু ওয়েড: সবার আগে গোটা দলের পরিবেশের কথা বলব। প্রতিযোগিতা জুড়ে আমরা খুব হালকা মেজাজে ছিলাম। পুরোটাই একটা পরিবারের মতো। সবাই খুব একাত্ম বোধ করেছি। এই ব্যাপারটা নেহরা দেখেছে। হার্দিক আর রশিদ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই দলে সবাই নেট প্র্যাকটিস পেয়েছে, সবাই সুযোগ পেয়েছে। অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আশা করব সামনের বছরও এই দর্শকদের সামনে খেলতে পারব। রশিদ খান: উইকেটটা খুব ভাল বুঝতে পেরেছিলাম আমরা। জানতাম এই উইকেটে ১৫০ রান তাড়া করাও খুব কঠিন হবে। সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। মাঝের দিকে ওভারগুলিতে আমরা ভাল খেলেছি। (শুভমনকে দেখিয়ে) ও এমন একজন ছেলে যে কোনওদিন বল করতে চায় না। আমরা সবাই খুশি ওকে দলে পেয়ে। আইপিএল জয়ী দলে থাকা ক্রিকেটজীবনের অন্যতম সেরা কৃতিত্ব। এই ধরনের বড় প্রতিযোগিতা সবাই জিততে চায়। রাহুল তেওতিয়া: আমরা এই মরসুমে ভাল খেলেছি। মরসুমের শুরুতে একজন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, আমার লক্ষ্য কী? আমি বলেছিলাম, আমার ব্যক্তিগত কোনও লক্ষ্য নেই। তবে দলকে জেতানোর চেষ্টা করব। নতুন দলের পরিবেশ আলাদা। একটা দল হিসাবে আমরা খেলেছি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল শেষ পর্যন্ত খেলা নিয়ে যাওয়া। সেটা করতে পেরেছি। সারা রাত ঘুমাবো না। আনন্দ করব। আইপিএলের নিলামের পরে সবাই বলেছিল, আমাদের দলে এক জন ব্যাটার কম রয়েছে। কিন্তু যে ভাবে সবাই খেলেছে তাতে সবার প্রশংসা প্রাপ্য। গ্যারি কার্স্টেন: খুব ভাল লাগছে। আমরা দলে সঠিক ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছিলাম। আশিস নেহরা দলকে ভাল ভাবে পরিচালনা করেছে। ওর ক্রিকেট জ্ঞান খুব ভাল। ওর সঙ্গে কাজ করতে খুব ভাল লেগেছে। আমাদের দলের বোলিং আক্রমণ এ বারের আইপিএলের অন্যতম সেরা। সেই সঙ্গে মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা খুব ভাল খেলেছে। হার্দিক পাণ্ড্য অধিনায়ক হিসাবে দুর্দান্ত। যে ভাবে দলকে ও নেতৃত্ব দিয়েছে তার জন্য কোনও প্রশংসা যথেষ্ট নয়। অধিনায়ক হওয়ার পরে অনেক দায়িত্ব নিয়েছে হার্দিক। এটা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ভাল ইঙ্গিত। ঘরের মাঠে এত দর্শকের সামনে আইপিএল জেতার মজা আরও বেশি। | 12 |
নাটোরের গুরুদাসপুরে ধারাবাড়িষা ও নাজিরপুর ইউনিয়নের একটি বিল এবং পাঁচ কিলোমিটারের সরকারি জলাশয় দখল করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এ জন্য বিলের পানি নিষ্কাশনের উৎসমুখে এবং জলাশয়ের বিভিন্ন জায়গায় বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রবিশস্য আবাদ নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষকেরা।গুরুদাসপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলনালী, কান্দিপাড়া, চরকাদাহ সোনাবাজু, চাকলের বিলের পানি জলাশয় দিয়ে মান্দা নদীতে নেমে যায়। বাঁশ নেট খোলপা দিয়ে বেড়া দেওয়ায় পানি অপসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে পানি নামতে পারছে না। ফলে ঠিক সময়ে চাষাবাদ করতে না পারলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গুরুদাসপুরের নারী বাড়ি উত্তর পড়ার কান্টাগাড়ি বিলের মধ্য দিয়ে চলনালী, কান্দিপাড়া হয়ে চরকাদহ বিলে গিয়ে মিশেছে ওই জলাশয়। এ জলাশয়ের পানিতেই চলনালী-কান্দিপাড়া, কান্টাগাড়ি, পাটপাড়া, সোনাবাজু ও চাকলের বিলের চাষাবাদ হয়। আবার বর্ষার পানি ওই জলাশয় দিয়েই নিষ্কাশন হয়।কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে সরকারি ওই জলাশয়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলনালী বিল উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ডাকের ওই টাকা মসজিদের উন্নয়নে ব্যবহার করার কথা বলছে মসজিদ কমিটি। এ বছর স্থানীয় দুলাল নামের এক ব্যক্তি দুই লাখ টাকায় চলনালি বিল ও সরকারি জলাশয় ডেকে নিয়ে পূর্বপাড়ায় বিলের উৎস মুখে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করছেন।স্থানীয় কৃষক আবুল মিয়া বলেন, প্রভাব খাঁটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলনালী বিল ডেকে নিয়ে মাছ শিকার করে চরকাদহ মসজিদ কমিটি। বিলের মুখে বাঁশের বেড়া দেওয়ায় পানি নামতে দেরি হচ্ছে। এ কারণে রবিশস্য চাষাবাদ করতে পারবেন কিনা এ নিয়ে তাঁরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।চরকাদহ মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই বিল ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করে মসজিদ কমিটি। তা ছাড়া সরকারি ওই জলাশয়ে বা বিলে গ্রামের মানুষ একসঙ্গে মাছ শিকার করতে গেলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে বর্তমান কমিটিও সামাজিকভাবে বিলটি উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করেছে।চলনালী গ্রামের বাসিন্দা ও ধারাবাড়িষা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য এম এ মুনসুর রহমান মিন্টু বলেন, চলনালী বিল এবং সরকারি জলাশয়টি চলনালী মৌজাতে হলেও চরকাদহ মসজিদ কমিটি অবৈধভাবে ডাকের মাধ্যমে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করে।এ বিষয়ে গুরুদাসপুর কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ বলেন, চলনালী, কান্দিপাড়া, চরকাদহ, সোনাবাজু, চাকলের বিলে মোট ২ হাজার ৫০০ বিঘা জমি আছে। রবিশস্যের সময় আসছে। যদি মাঠের পানি সময় মতো না নামে, কৃষকেরা সঠিক সময়ে আবাদ করতে পারবেন না। তাই দ্রুত জলাশয় খুলে দিয়ে পানি বের করা দরকার।গুরুদাসপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু রাসেল বলেন, কোনো বিল বা সরকারি জলাশয় ডাকের অধিকার কারও নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে প্লাটুন থেকে যাত্রীসহ মাইক্রোবাস পানিতে পড়ে গেছে। মঙ্গলবার (১১ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ডুবে যাওয়া মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়। তবে ভেতরে থাকা ৫ থেকে ৬ জন যাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর আগে সোমবার (১০ মে) কিবেলে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়ার পাঁচ নম্বর ঘাট এলাকায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে যাত্রীসহ একটি মাইক্রোবাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। তবে কোনো হতাহত ঘটেনি। জানা যায়, ঢাকা মেট্রো চ-১৪-২৬০৮ নম্বরের মাইক্রোবাসটিতে ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী ছিল। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস গাড়ির পেছনের বনেটে দড়ি বেঁধে গাড়িটি উদ্ধার করে। তবে এ সময় গাড়ির ভেতর কোনো যাত্রী পাওয়া যায়নি। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনো অনিশ্চিত। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি এবং পুলিশ ঘাট এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এদিকে, পুলিশ গাড়ির নম্বর সংগ্রহ করে মালিক কে খোঁজার চেষ্টা করছে এবং গাড়িটি কোথায় যাচ্ছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। | 6 |
যমুনা ও বাঙালি নদীর তীরবর্তী এলাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বন্যার ভয়াবহতা কম ছিল। পানি নেমে যাওয়ার পর তীরবর্তী জমিতে চাষিরা ভুট্টার চাষ করেন। খেতে লকলকিয়ে বেড়ে উঠছে ভুট্টা গাছ। পোকা-মাকড় ও রোগ বালাইয়ের আক্রমণ না হলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট চাষিরা। গত বছর ভালো দাম পেয়ে ভুট্টায় আগ্রহ বেড়েছ কৃষকদের।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যমুনা ও বাঙালি নদীর চরে বছরের পর বছর অনেক জমি পতিত পড়ে থাকে। এ সব পতিত জমিতে ফসলের তেমন চাষ হয় না। এ বছর কৃষকেরা জমিতে আগাম ভুট্টার চাষ করেছেন। গাছগুলো ৬ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। নতুন মোচা বের হতে শুরু করেছে।উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় চাষিরা জানান, যমুনা ও বাঙালি নদীর বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে উর্বর পলি মাটির চর জেগে উঠে। অসমতল চরের এসব জমিতে সেচ নির্ভর অন্য কোনো ফসল করা সম্ভব না হওয়ায় চাষিরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এ বছর উপজেলায় এক হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল দুই হাজার ৭৬০ হেক্টর।গত বছর কামালপুর ইউনিয়নের চপল টিকাদার ১৫ বিঘা, দুলাল তিন বিঘা, নুরুনবী মণ্ডল চার বিঘা, কর্নিবাড়ী ইউনিয়নের চাষি আলমগীর হোসেন দুই বিঘা, কাজলার ছালাম ব্যাপারী ছয় বিঘা, হাসেম আলী ২০ শতক ও চন্দনবাইশা ইউনিয়নের টেকামাগুড়া চরের চাষি খয়বর প্রামাণিক ১৮ বিঘা, রশিদ মুন্সী চার বিঘা, আব্দুল আকন্দ ১৩ বিঘা ও আজিজার রহমান ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছিলেন। এ বছর তারা দ্বিগুণ জমিতে আগাম ভুট্টার চাষ করেছেন।কৃষক চপল ঠিকাদার জানান, গত বছর বিঘা প্রতি মোট খরচ হয়েছিল ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা। বাম্পার ফলন হওয়ায় গত বছর ৪৫-৫০ মণ ভুট্টা পেয়েছেন। কাটা মাড়াইয়ের পর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতি মণ ভুট্টা ৬৫০ টাকা থেকে ৭২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এবার আরও বেশি ফলনের আশা করছেন তিনি।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছেন শিক্ষিত বেকার যুবকেরাও। চাষিদের যাবতীয় কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার ভালো ফলনের বিষয়ে আশাবাদী তিনি। | 6 |
আগেই শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা ছিল পার্নো মিত্রের। কিন্তু করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বাংলাদেশে আসতে দেরি হয় তার। তাকে ছাড়াই অন্য শিল্পীদের নিয়ে 'বিলডাকিনী' ছবির কাজ শুরু হয়ে যায় নওগাঁয়। পরিচালক ফজলুল কবীর তুহিন জানিয়েছেন, নওগাঁ জেলার বিভিন্ন লোকেশনে চলচ্চিত্রটির শুটিং চলছে। ১৮ জানুয়ারি থেকে শ্যুটিংয়ে যোগ দিয়েছেন পার্নো মিত্র। নূরদ্দিন জাহাঙ্গীরের উপন্যাস 'বিলডাকিনী' অবলম্বনে নির্মীয়মাণ এই ছবিতে পার্নোর চরিত্রের নাম হনুফা। হনুফার জীবন-সংগ্রাম নিয়েই তৈরি হচ্ছে এই চলচ্চিত্র। এই ছবিতে পার্নোর সঙ্গে অভিনয় করছেন দুই বাংলার প্রিয় অভিনেতা মোশারফ করিম। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা চমৎকার জানিয়ে পার্নো বলেছেন, "এর আগে 'ডুব' সিনেমার শুটিং করেছিলাম বাংলাদেশে। সেটার অভিজ্ঞতাও খুব ভাল ছিল। এবার যেখানে শুটিং করছি সেটা একটা গ্রাম। এখানকার মানুষ খুব ভাল। সহযোগিতা, ভালবাসা সবই পাচ্ছি। এই তো রাতে নদীতে একটা শুট ছিল। অনেক দেরি হল। কাজ শেষে পাশের বাড়ির মানুষেরাই আমাদের থাকতে ও খেতে দিয়েছেন। এই ভালবাসা অভিভূত করেছে আমাকে।" বিডি প্রতিদিন/কালাম | 2 |
হালুয়াঘাট উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের বাহিরশিমুল-চকেরকান্দা এলাকায় কংস নদের ওপর সেতু না থাকায় কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। পারাপারের জন্য নদের ওপর কাঠ ও স্টিল দিয়ে ১৫০ মিটার সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। দুই পাড়ের ১৫টি গ্রামের মানুষ ওই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন।এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাঁকোটি দিয়ে বাহিরশিমুল, কোনাপাড়া, বিষমপুর, যোগানিয়া, আমতৈল সওয়ারিকান্দা ও চকের কান্দা গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ফুলপুরে যাতায়াত করে। অপরদিকে বনোয়াকান্দা, পুটিয়া, বড় পুটিয়া, গোনাপাড়া, মাওরা কান্দি, নিশুনিয়া কান্দাসহ কয়েক গ্রামের মানুষ বাহিরশিমুলসহ হালুয়াঘাটের বিভিন্ন গ্রামে যাতায়াত করে থাকেন।এ ছাড়া নদের উত্তরে রয়েছে বাহিরশিমুল উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কওমী মাদ্রাসা। সেতু না থাকায় দুর্ভোগের শেষ নেই শিক্ষার্থীদের।বিষমপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, 'আমার বয়স তো শেষ। অনেকেই আসছে, মাপও নিছে। কিন্তু সেতু আর অইলো না। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এখানে একটা স্থায়ী সেতু নির্মাণের।' স্থানীয় বাহিরশিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আ. খালেক বলেন, 'বিভিন্নজনকে বিভিন্ন সময় বলে কোনো লাভ না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা উদ্যোগ নিই সাঁকো তৈরি করার। গ্রামবাসীর অর্থায়নে প্রথমে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে সেতু তৈরি করা হয়। পরে কাঠ ও স্টিলের প্লেনশিট দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দুপাশের কাঠের রেলিং ছিল, ভেঙে পড়েছে।'স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে তাঁদের বিরাট উপকার হতো। কিন্তু সেতু না থাকায় তাঁরা বাধ্য হয়ে সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছেন। প্রতি বছর সাঁকোটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ জন্য শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয় লোকজনের অর্থায়নে ও উদ্যোগে সাঁকোটি সংস্কার করা হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, সেতু না থাকায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এটা বেশির ভাগ সময় সম্ভব হয় না। কেউ অসুস্থ হলে যথাসময়ে হাসপাতালে নিতে পারেন না তাঁরা।সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোটি নড়বড়ে, ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন দুই পাড়ের মানুষ। সাঁকোর দুই পাশে নেই কোনো রেলিংও। চকের কান্দা গ্রামের আ. হাই ক্ষোভ নিয়ে বলেন, 'যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এই এলাকায় মানুষ আত্মীয় করতে চায় না। আর কত কষ্ট করবে এই এলাকার মানুষ? আমরা আর কিছু চাই না, এখানে একটা সেতু চাই।'বানোয়াকান্দা গ্রামের কৃষক আ. হাকিম বলেন, 'ধান বেচতে গেলে যাওন লাগে নাগলা বাজারে। ধান নিয়ে গেলে মণপ্রতি দিতে হয় ৫০ টাকা। অথচ এখানে সেতু থাকলে খরচ পড়ত মাত্র ১০ টাকা।'আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান বলেন, 'কংস নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে প্রস্তাবনা পাঠানো রয়েছে। অনুমতি পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'হালুয়াঘাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাফুজুর রহমান বলেন, 'এ বিষয়ে জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য দেশে অভ্যন্তরীণ রুটের রাজশাহী, বরিশাল, সৈয়দপুর, যশোর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা একেবারেই ঢিলেঢালা। কোনো বিমানবন্দরে সীমানাপ্রাচীরের নিচে সুড়ঙ্গ, কোনোটার প্রাচীর ধসে পড়েছে, কোথাও রানওয়েতে মনের আনন্দে চরে বেড়াচ্ছে গরু। আর সন্ধ্যা নামলে তো কথাই নেই। সংরক্ষিত স্থাপনাগুলো ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়।এ তো গেল অভ্যন্তরীণ রুটের কথা। আন্তর্জাতিক রুটের তিনটি বিমানবন্দরের সমস্যা আরও বড়। নিরাপত্তার ফাঁক গলে সেখানে কখনো ছিনতাইকারী ঢুকে পড়ছে, কখনো বোমা আতঙ্ক, ব্যাগ-লাগেজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মালামালও চুরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অরক্ষিত এসব বিমানবন্দরের কারণেই সার্বিকভাবে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।গত মঙ্গলবার কক্সবাজার বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ ওড়ার সময় দুটি গরুর সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে গরু দুটি মারা যায়। তবে ভাগ্যক্রমে রক্ষা পায় বিমানের ৯৪ যাত্রী। এর এক দিন পর মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনের ঢাকাগামী একটি ফ্লাইটের যাত্রীর কাছে বোমা থাকার খবর আসে। রাতেই ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান-বন্দরে সতর্কতামূলক অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।তবে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ মানতে চান না বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, প্রতিটি বিমানবন্দর নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত। আন্তর্জাতিক প্রটোকল মেনেই বিমানবন্দর পরিচালনা করা হয়। এখানে কোনো কর্মকর্তার গাফিলতির সুযোগ নেই।দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়েছেন আজকের পত্রিকার ছয় প্রতিনিধি। তাঁদের পাঠানো তথ্য, ছবি ও ভিডিও চিত্রে উঠে এসেছে এসব বিমানবন্দরে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির চিত্র। আর অভ্যন্তরীণ রুটগুলোর ক্ষেত্রে রয়েছে অরক্ষিত সীমান্তসহ নানা অব্যবস্থাপনা।বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তিনটি-ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম। অভ্যন্তরীণ রুটের মতো সীমানাপ্রাচীর অরক্ষিত না হলেও এখানে রয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা। এসব কারণে ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা প্রশ্ন তোলায় ইউরোপের দেশগুলোতে কার্গো পণ্য সরাসরি অবতরণ নিষিদ্ধ করা হয়। কয়েকটি রুটে সরাসরি বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।২০১৯ সালের দেশে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন একজন যুবক। পরে অবশ্য কমান্ডো অভিযানের মুখে ওই যুবক নিহত হন। আবার চেকিং বা স্ক্যানিং দুর্বলতা ও অবহেলা তো রয়েছেই। এগুলোর সুযোগ নিয়ে যে কেউই হরহামেশা অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ছেন বিমানবন্দরে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিভিল অ্যাভিয়েশনের অপারেশনস ও প্ল্যানিংয়ের দায়িত্বে থাকা সদস্য এয়ার কমোডর সাদিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে সব বিমানবন্দরেই যথাযথ ব্যবস্থা রয়েছে। যে দু-একটি ঘটনা ঘটেছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত।সৈয়দপুরে ঢিলেঢালা নিরাপত্তা সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে দিনে ৮টি ফ্লাইট চলাচল করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য 'সেন্ট্রি পোস্ট' ও 'ওয়াচ টাওয়ার' নেই। উড়োজাহাজ উড্ডয়ন-অবতরণের সময় যাত্রীদের লাগেজসহ মালামাল ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় না। তল্লাশি নেই পার্কিং এলাকা, ভিআইপি গেটসহ প্রবেশমুখে। আর সীমানাপ্রাচীরের নিচে তৈরি হয়েছে সুড়ঙ্গ।২০১২ সালে রানওয়ে ধরে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। সাত বছরের মাথায় ২০১৯ সালের ২৪ আগস্ট প্রাচীরের এক শ ফুট ধসে পড়ে। পরবর্তী সময়ে মেরামত করা হলেও সীমানাপ্রাচীরের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে নিচে ফাঁকা রয়ে যায়। এসব ফাঁকা জায়গা দিয়ে স্থানীয় লোকজন ছাগল ও গরু-বাছুর নিয়ে ঢুকছে রানওয়েতে।সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সুপ্লব কুমার ঘোষ জানান, সীমানাপ্রাচীরের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আর নিরাপত্তার জন্য ৩৬ জন আনসার সদস্যের চাহিদা দেওয়া হয়েছে।অন্ধকার বরিশাল১৯৯৫ সালে ঢাকা-বরিশাল রুটে বিমানের চলাচল শুরু হয়। এখানের রানওয়েকে মানুষ রাস্তা মনে করে যাতায়াত করে। গোটা বিমানবন্দরের নিরাপত্তাপ্রাচীরের দেড় শতাধিক বাতি এক বছর থেকে অকেজো হয়ে রয়েছে। বিমানবন্দরের একজন নিরাপত্তাকর্মী বলেন, বাল্ব না থাকায় বাতিগুলো জ্বলছে না। বন্দরের আশপাশে উঁচু ভবন আর বড় বড় গাছের জন্য পাইলটরা বারবার অভিযোগ করেছেন।কক্সবাজারে সমস্যা সীমানাপ্রাচীরকক্সবাজারে দিনে ১০-১২টি উড়োজাহাজ আসা-যাওয়া করে। কিন্তু এই বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চোখে পড়ার মতো। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীরটি নুনিয়াছড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ৬ নম্বর এলাকায় ভেঙে পড়েছে। এসব অংশ দিয়ে অবাধে রানওয়ের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করে স্থানীয় লোকজন। তারা রানওয়েকে ব্যবহার করছে চলাচলের 'শর্টকাট' পথ হিসেবে। কিন্তু কেউ এ নিয়ে কিছু বলে না।সুড়ঙ্গ আছে সিলেটেওসিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে রয়েছে দুই স্তরের সীমানাপ্রাচীর। একটি সীমানাপ্রাচীরের নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে মানুষ ভেতরে ঢুকে ঘাস কাটে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের লালবাগ দক্ষিণ এলাকায় সীমানাপ্রাচীরের নিচ দিয়ে দুটি সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়েছে। সুড়ঙ্গ দিয়ে মানুষ নিয়মিত চলাচল করছে। বিমানবন্দরটির পরিচালক হাফিজ আহমদ বলেন, রানওয়ের আশপাশে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ টহল সড়ক রয়েছে। এ সড়ক ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক রানওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকি করা হচ্ছে।রাজশাহীতে রানওয়েতে গরুরাজশাহীর হজরত শাহ্ মখদুম বিমানবন্দরের পশ্চিম দিকে আছে দুটি সীমানাপ্রাচীর। প্রথম প্রাচীরটি রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক ঘেঁষে। আরেকটি রানওয়ের পশ্চিম পাশে। দুই প্রাচীরের মধ্যে বিমানবন্দরের বিভিন্ন অফিস, টার্মিনাল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন। এর ভেতরেই কোয়ার্টারে গরু পালন করেন কয়েকজন কর্মচারী। তাঁদের একজন সিভিল এভিয়েশনের লাউঞ্জ রুম অ্যাটেনডেন্ট ইউসুফ আলী। ইউসুফ বলেন, ২০০৮ সাল থেকে তিনি এই কোয়ার্টারে থাকেন। দুধ খাওয়ার জন্য গরু পোষেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গরুগুলো বিমানবন্দরের সীমানার ভেতর ছেড়ে রাখেন।সীমানাপ্রাচীর ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক দিলারা খানম বলেন, 'এগুলো তো চাইলেই আমি ঠিক করতে পারি না। এ বিষয়ে আমি স্যারদের জানিয়েছি।'বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে কথা হয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'আমাদের বিমানবন্দরগুলো আধুনিকীকরণে অনেক জায়গা আছে। বিশেষ করে সচেতনতা আর দায়িত্বে গাফিলতি রয়েছে। এসব কাটিয়ে ওঠা জরুরি হয়ে পড়েছে।'(প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন ঢাকায় শাহরিয়ার হাসান, সহযোগিতা করছেন, সৈয়দপুর, বরিশাল, কক্সবাজার, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।) | 6 |
আভাস আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। এবার তা প্রকাশ্যে এলো। অবশেষে টালিউডের সাংসদ অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছেন নিখিল জৈন! তবে এ বিষয় নিয়ে এখনই কিছু বলতে চান না নিখিল, যা বলার তিনি পরে বলবেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। জানা গেছে, আজও নিখিলের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন নুসরাত। নিখিল তাতে কোনও দিন বাধা দেননি। যশ দাশগুপ্তার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো, একসঙ্গে রাজস্থানে ছুটি কাটাতে যাওয়া কোনও কিছু নিয়েই- কোনো দিন মুখ খোলেননি নিখিল। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়ায়ও নুসরাত-বিরোধী কোনো পোস্ট দেননি। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 2 |
দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা বছরে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। সোমবার (১৭ মে) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক এক বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। গণভবন থেকে বৈঠকে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বার্ষিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বাংলাদেশের শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষ প্রতি মাসে আয় করে ১৫ হাজার ৭৩৯ টাকা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গত বছরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এত দিন মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৬৩ ডলার, আগের বার থেকে যা ৯ শতাংশ বেশি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ ৮৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, আগে যা ছিল ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। এই অর্জনে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত বছরের আগস্টে বিবিএস প্রাথমিক হিসাব দিয়ে জানিয়েছিল, ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। সাময়িক হিসাব এখনো সাময়িকই আছে। অথচ ২০২০-২১ অর্থবছরও শেষ হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রাক্কলন করেছিল, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। সংস্থাটির হিসাবে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেও এর প্রভাব থাকবে।দেশের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগও (সিপিডি) বলেছিল, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ শতাংশের মতো হতে পারে। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাস্তবতার সঙ্গে এ ধরনের পরিসংখ্যানের কোনো মিল দেখতে পাই না। কারা এই টাকার মালিক হচ্ছে? সাধারণ মানুষের আয় কি ৯ শতাংশ বাড়ল? কয়েকটা জরিপে এসেছে, কোভিডের কারণে নিম্ন আয়ের অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষের আয় কমে গেছে। | 0 |
বগুড়া শহরের রেলওয়ে স্টেশনের বিপরীতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ২০০ দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যদের নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লাইসেন্স ফি না দিয়েই দোকানগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আব্দুল মান্নান আকন্দ নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণের ওই জায়গা 'বরাদ্দ পাওয়ার' কথা বলে সেখানে দোকান নির্মাণ করে আয়তন অনুযায়ী সেগুলো তিন লাখ টাকা থেকে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। তবে যারা দোকানগুলো কিনেছিলেন উচ্ছেদ অভিযানে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেও ভাঙার দৃশ্য চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া তাদের আর করার কিছুই ছিল না। কেউ কেউ নীরবে শুধু চোখের পানি ফেলেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণে ফাঁকা জায়গা বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়ার জন্য কয়েকটি প্লটে ভাগ করে ২০১৮ সালের শুরুতে টেন্ডার আহবান করা হয়। তখন যারা সর্বোচ্চ দর দাখিল করেছিলেন তাদের নামে ডিমান্ড নোট ইস্যু করা হয় এবং ২০১৮ সালের ২৬ আগস্টের মধ্যে লাইসেন্স ও নকশা ফি'র টাকা জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা সেই অর্থ জমা না দিয়েই বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান আকন্দের মাধ্যমে রেলওয়ের ওই জায়গায় দোকান নির্মাণ করে তা বিক্রি করা শুরু করেন। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণে ডি এবং ই ব্লকে যারা টেন্ডারে সর্বোচ্চ দর দাখিল করেছিলেন তাদের মধ্যে মাত্র ৬৭জন ছাড়া বাকিরা টাকা জমা দেননি। কিন্তু টাকা জমা না দিলেও সেখানে ২০০টি দোকান নির্মাণ করা হয়। যাতে টাকা জমা দেওয়া ৬৭জনের জন্যও কোন দোকান রাখা হয়নি। এমনকি টেন্ডার করা হয়নি এমন জায়গাতেও দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়। রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজোয়ানুল হক জানান, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরেও যারা ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দেননি তাদের বরাদ্দপত্র চলতি বছরের ২৭ মে বাতিল করা হয়। যেহেতু সেগুলো অবৈধ হয়ে গেছে তাই এখন উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দোকানের জায়গা বরাদ্দ পাওয়া শহরের চকসুত্রাপুর এলাকার আবুল হোসেন নামে একজন জানিয়েছেন, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সমস্যার কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স ও নকশা ফি জমা দিতে পারেন নি। তবে পরবর্তীতে সমুদয় ফি জমা দেওয়ার সুযোগ চেয়ে তিনি গত ১০ নভেম্বর তিনি রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) বরাবর আবেদন করেছিলেন। দোকানগুলোর ক্রেতাদের একজন হায়দার আলী জানান, দু'টি দোকান কেনার জন্য তিনি আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান আকন্দকে ৬ লাখ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু এখন তিনি জানতে পারছেন তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও তা রেলওয়ে বিভাগে জমা করা হয়নি। তাই সেগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে। বগুড়া রেলয়ের ফিল্ড কানুনগো গোলাম নবী জানান, যে ৬৭ ব্যক্তি টাকা জমা দিয়েও দোকান বরাদ্দ পাচ্ছিলেন না উচ্ছেদ অভিযান শেষে তাদেরকে জায়গাগুলো বুঝে দেওয়া হবে। যোগাযোগ করা হলে বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান আকন্দ জানান, তার নামে কোন জায়গা কিংবা দোকান বরাদ্দ নেই। তিনি শুধু দোকান ঘর নির্মাণের ঠিকাদার ছিলেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, যারা দোকান বরাদ্দ পেয়েছিলেন তারা তার পাড়ার লোকজন। তিনি বলেন, 'রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এভাবে উচ্ছেদ না করে দোকানগুলোর কাঠামো ঠিক রেখে নতুন করে টেন্ডার আহবান করতে পারতেন।' রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, উচ্ছেদ শেষে আবারও নতুন করে টেন্ডার আহবান করা হবে। | 6 |
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথায় মনে হচ্ছে আইন-আদালত কোন কিছুরই দরকার নেই, সরকার চাইলেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে পারে। আসলে নিজেরাতো কোন আইন আদালত মানেননা, সেই কারণেই তারা এ ধরনের লাগামহীন ও দায়িত্বহীন কথা বলতে পারেন। তাহলে সরকারকে জজকোর্ট, হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের ভুমিকাও পালন করতে হবে কিনা এমন প্রশ্ন রাখেন তথ্যমন্ত্রী। শনিবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে শঙ্করমঠ ও মিশনের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার পঞ্চমদিনের যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সরকার চাইলে বিএনপি নেত্রীকে বিদেশ নিতে পারবেন বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দূর্গা পুজার সময় যারা দেশে বিবেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছে এরা স্বাধীনতার শত্রু, এদের পূর্ব পুরুষ আমাদের স্বাধীনতা চাইনি, এরা আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেননা। এরা এখনো পাকিস্তানি ভাবধারা মনে ধারন করে, এরা দেশের শত্রু, এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। শ্রীমৎ তপনানন্দ গিরি মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সীতাকুন্ড উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন শ্রীমৎ পরমানন্দ মহারাজ।বক্তব্য দেন বিমল কান্তি দাশ, কাউন্সিলর শফিউল আলম মুরাদ, দুলাল দে প্রমুখ। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, আইনানুযায়ি খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর কোন সুযোগ নাই। যখন খুশী তখন বিদেশ নিয়ে যাবার ধোঁয়া তোলার মাধ্যমে তারা আমাদের চিকিৎসক এবং আমাদের হাসপাতাল গুলোকে অবজ্ঞা করছেন। বিশেষ করে চিকিৎসকদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছেন। আর মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে মনে হচ্ছে আইন আদালত কোন কিছু দরকার নাই, সরকারকে হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সুপ্রীমকোর্ট সবকিছুর ভুমিকা পালন করতে হবে। যেটি কখনো সম্ভব নয় এবং সমীচিন নয়। তিনি বলেন, আজকে যারা সাম্প্রদায়িক বিবেদ সৃষ্টি করতে চায়, ধর্মীয় বিভাজন তৈরী করে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরী করতে চান তারা শুধু সমাজের শত্রু নয় রাষ্ট্রের শত্রু। কারণ এই রাষ্ট্র রচিত হয়েছে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র রচনা করার জন্য। ধর্ম যার যার এই রাষ্ট্র সবার, আমাদের দেশে যখন ঈদ উৎসব হয় সেই উৎসবের আনন্দ শুধুমাত্র মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা। ঈদ উৎসবে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষও যান। একইভাবে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মুসলমানরা আনন্দ উৎসবে শামিল হন। এটিই আমাদের সংস্কৃতি। এই চেতনায় আবহমান বাঙালি, বাংলা এবং বাংলাদেশ ধারণ করে। তাই ছোটখাট বিচ্ছিন্ন ঘটনা আমাদের এই সম্প্রীতির বন্ধনে কখনো বিবেদ তৈরি করতে পারে নাই এবং পারবে না। | 6 |
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে পাঁচ দিনব্যাপী 'জয় বাংলার জয়োৎসব' কর্মসূচি রাজধানীর ঐতিহাসিক শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে পাঁচ দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানের শুরু হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর তথ্য একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংক্রান্ত নাচ-গান, কবিতা আবৃত্তিসহ বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। পরিবেশিত হয় ২৫ মার্চের গণহত্যার গল্প নিয়ে একটি মঞ্চনাটক।এ ছাড়া, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত প্রামাণ্য চিত্র 'সেই রাতের কথা বলতে এসেছি!' প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে নিরীহ বাঙালিদের হত্যা করে। সেদিন রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যে হত্যাকাণ্ড চালায় তাকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয় এই প্রামাণ্যচিত্রটি।উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত নারী, পুরুষ, শিশু, ছাত্র, শ্রমিক নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে। জঘন্যতম গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। আমরা আশা করি বিশ্বের বিবেকবান মানুষের বিবেক নাড়া দেবে। এই জঘন্য গণহত্যার বিশ্বব্যাপী মানুষ যেভাবে এর নিন্দা করবে এবং আমরা এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করব। | 6 |
ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশন কে এম নূরুল হুদা। নির্বাচনে কোথাও কোনো অসুবিধার সৃষ্টি হয়নি। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ নেই বলে দাবি করেছেন সিইসি। শনিবার এ দু'টি আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন সিইসি। করোনাকালে ভোটে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, করোনার জন্য আমরা সার্বিক সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছি। মাস্ক পরে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া নির্দেশনা আছে। এজন্য অতিরিক্ত মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা রয়েছে। সেনিটাইজেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইভিএমের ফিঙ্গার প্রিন্টের জায়গাটি বার বার জীবানুমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য বিধি মেনেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাতের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি তারপরও ব্যালটের পরিবর্তে ব্যালটের পরিবর্তে কেন ইভিএম জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগেই আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে ইভিএম ব্যবহারের। আমরা ব্যালটের পরিবর্তে ইভিএমে ভোট গ্রহণে স্বাচ্ছন্দবোধ করি। তাছাড়া ভোটারদের মধ্যেও ইভিএম নিয়ে অনাগ্রহ এখন আর নেই। ইভিএমে তাদের অনীহা নেই। আগ্রহ আছে। ঢাকা-৫ আসনে ভোটারদের ঢুকতে বাধা দেয়া হয়েছে, আইডি কার্ড কেড়ে নেয়া হয়েছে এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আইডি কার্ড নেয়ার কোনো রিপোর্ট আমাদের কাছে নেই। বাইরে কোনোসহিংস ঘটনা ঘটেছে এমন তথ্যও নেই। একটি জায়গায় কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়েছিলাম। তবে সাথে সাথে তা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও দুর্গত পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদানসহ চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করেছেন সেভ দ্যা সুন্দরবরন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বিএনপির কেন্দ্রীয় পরিবেশ বিষয়ক সাবজেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। রোববার সারাদিন তিনি বাগেরহাটের মোংলা ও রামপাল উপজেলায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে দেখেন এবং কয়েকশ' ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা ও ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ফকির শাহাদাৎ হোসেন, কাজী জাহিদুল ইসলাম, শেখ আব্দুল্লাহ আজমি, আবু জাফর, যুবদল নেতা শেখ সিরাজুল ইসলাম, শেখ বাবলা তাঁতীদল নেতা সরদার বাকি বিল্লাহ ও মৎস্যজীবি দল নেতা লিয়াকত হোসেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদান দেওয়ার সময় ড. ফরিদ বলেন, সমাজের প্রতি প্রত্যেকেরই একটা দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই জায়গা থেকেই আমি চেষ্টা করি সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় দরিদ্র মানুষের সেবা করতে। আমি চাইবো, সমাজের যারা বিত্তবান রয়েছেন তারাও যেন দূর্গতদের কল্যাণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। | 6 |
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সব অপকর্মের জন্য জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি করার সময় অত্যন্ত সন্নিকটে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আজ গণমাধ্যমে পাঠানো দলের সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন। এতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের ভোট এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে পাত্তা না দিয়ে বিরোধী দল ও বিরোধী মত দমনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিরামহীন গতিতে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনী তৈরির মাধ্যমে মামলা দিয়ে কারান্তরীণ করছে সরকার। তিনি বলেন, ভুয়া, বানোয়াট ও সাজানো মামলায় ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল আহসান রাশেদকে কারাগারে পাঠানো সরকারের ধারাবাহিক অপকর্মেরই অংশ। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি গণবিরোধী সরকারের চলমান দমন-নীতিরই অংশ। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময়ে জেলেদের খাদ্যসহায়তা হিসেবে বরিশাল জেলার চার উপজেলায় ৫১ হাজার ৭০০ পরিবারের জন্য দুই ধাপে ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কিন্তু জেলেদের চাল নিয়ে নয়-ছয় করার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল সদর, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও বানারীপাড়ার কিছু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে।কোথাও জেলে নয় তবু চাল পাচ্ছেন, কোথাও পরিমাণে কম দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও চাল দেওয়ার নামে নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। চাল নিয়ে এমন কাণ্ডে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন জেলেরা।বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, জেলার ৪ উপজেলায় ৫১ হাজার ৭০০ পরিবার চাল পাবে। কিন্তু জেলে আছেন ৭৮ হাজার। যে কারণে অনেকে না পেয়ে নানা অভিযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, জেলে নয় এমন কেউ চাল পেয়েছেন এ ধরনের বিষয় তাঁরা খতিয়ে দেখবেন। জেলেদের মধ্যে অসন্তোষও তাঁরা যাচাই করছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসে বিভিন্ন ইউনিয়নে চাল দেওয়া নিয়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে স্থানীয় সাংসদের নাম ভাঙিয়ে জেলে না হওয়া সত্ত্বেও ২৪ জনকে চাল দেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে। চন্দ্রমোহন ইউপির জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আকবর হোসেন এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, তাঁরা সাংসদের কাছে গিয়ে জানবেন ওই ২৪ জনের তালিকা তিনি দিয়েছেন কি না।গত ২১ মার্চ বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা হয়। নাম তালিকায় থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত জেলেরা সেখানে চাল না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলেরা দাবি করেছেন, কিছু লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ওই ব্যক্তিদের চাল পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। ৯ জন ব্যক্তি এই ইউনিয়নের লোক না হওয়া সত্ত্বেও তাদের চাল দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চরমোনাই ইউনিয়ন ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।সেখানকার চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা বাবুল আকন, রুবেল আকন জানান, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে চরমোনাই ইউনিয়ন শাখায় প্রায় ১২০০ জেলে রয়েছেন। সবাইকে চাল দেওয়া সম্ভব নয়। চরমোনাই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. জুয়েল জানান, এখানে ১৫ জন চাল পেয়েছেন, যাঁরা জেলে নয়।সদর উপজেলার চরমোনাই ইউপির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো জিয়াউল করিম জানান, জেলেদের তালিকা করেছেন ইউপি সদস্যরা। এ বিষয়ে তিনি জানেন না।এদিকে সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নেও জেলেদের ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ৬৫ থেকে ৭০ কেজি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলার হিজলা উপজেলার হরিনাথপুরে জেলেরা চাল না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। গত ৬ এপ্রিল ইউপির অর্ধশত জেলে তাঁদের কার্ড থাকা সত্ত্বেও চাল না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজের কাছে। জেলে বাবুল হোসেন, জাকির সিকদার জানান, তাঁরা জেলেরা লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন, চাল দেওয়ার নামে ট্যাক্স বাবদ ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ করেন। তবে ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিক এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।এদিকে গত রোববার জেলেদের চাল আত্মসাৎ ও টাকার বিনিময়ে জেলে কার্ড বিতরণের অভিযোগে বরিশালের বানারীপাড়ার সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের বিচারের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন করেছেন জেলেরা। নগরীর সদর রোডে সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের জেলেদের ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়। সেখানকার জেলে আলম ব্যাপারী, নারায়ণ বলেন, সৈয়দকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মৃধা দুই ধাপে ৮০ কেজি সরকারি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দিয়েছেন মোট ৩৮ কেজি। তা ছাড়া কার্ড বিতরণে দেড় শ থেকে দু শ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে এ ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়।বানারীপাড়ার সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মৃধা সাংবাদিকদের জানান, চাল বিতরণের কার্ড দেওয়ার টাকা গ্রহণ ও চাল কম দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার দড়িরচর খাজুরিয়া ইউনিয়নে ১২০০ জেলে এখনো চাল পাননি। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাচ্চু জানান, তাঁর ওয়ার্ডের জেলেরা চাল না পেয়ে অসহায় দিন যাপন করছেন। তবে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢ়ীকে ফোন দেওয়া হলেও পাওয়া যায়নি।বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, জেলেদের চাল বিতরণ নিয়ে অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁরা এ ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। | 6 |
দিনাজপুরে মো. মারুফ হোসেন (১০) নামে এক শিক্ষার্থীকে পায়ে শিকল বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে দিনাজপুরের বিরামপুরের ত্বালিমউদ্দীন ইসলামিয়া মাদরাসার মোহতামিম লুৎফর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শিশুটির বাবা মাছুম মিয়া বাদী হয়ে ২০১৩ সালের শিশু আইনে মামলা করলে রাতেই ওই মাদরাসার মোহতামিম লুৎফর রহমানকে আটক করা হয়। পরে আজ বুধবার তাকে দিনাজপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, বিরামপুরের দিওড় ইউপির কাদিপুর গ্রামে ত্বালিমউদ্দীন ইসলামিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন গত ১ মাস যাবত লেখা পড়া করছে। মঙ্গলবার দুপুরে ওই মাদ্রাসার মোহতামিম লুৎফর রহমান তার অফিস কক্ষে দু'পায়ে লোহার শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে লাঠি দিয়ে হাত, মাথা, পিঠসহ শারীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন এবং শিশুটির ডান পা ও বামপায়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। অমানুষিক নির্যাতনের ফলে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে মাদরাসার মোহতামিম অফিস কক্ষের বাহিরে যায়। পরে সন্ধ্যার দিকে শিশুটি কৌশলে অফিস থেকে বের হয়ে পাশের গ্রামের তৈয়বপুর চৌধুরী পাড়ায় ধান ক্ষেতের মধ্যে দুই পায়ে শিকল বাঁধা তালাসহ শিশুটিকে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার বাবার হেফাজতে দেওয়া হয়। রাতেই শিশুটির বাবা মাছুম মিয়া ২০১৩ সালের শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই মাদ্রাসার মোহতামিম মো. লুৎফর রহমানকে আটক করে। বিরামপুর থানার ওসি মো.মনিরুজ্জামান মনির এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধান ক্ষেতে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় ওই শিশু পড়ে আছে এমন খবরে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মো. মারুফ হোসেনকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার বাবা মাছুম মিয়ার কাছে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিশুটিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। শিশুটির বাবা শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করলে রাতেই ওই মাদরাসার মোহতামিমকে আটক করে আজ বুধবার সকালে দিনাজপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর | 6 |
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। আজ সোমবার ভোরে উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে এ কারখানার সন্ধান পেয়ে অভিযানে নামে র্যাব-১৫। সেখান থেকে ১০টি দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।এ সময় অস্ত্র তৈরির কারিগর কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের সি ব্লকের বায়তুল্লাহ (১৯), তাঁর ভাই হাবিব উল্লাহ (৩২) ও একই ক্যাম্পের জি ব্লকের মোহাম্মদ হাছুনকে (২৪) আটক করা হয়েছে।র্যাব-১৫-এর উপ অধিনায়ক তানভীর হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনসংলগ্ন পাহাড়ে অস্ত্র কারখানা গড়ে তুলেছে। এ কারখানায় তারা অস্ত্র তৈরি করে ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের সরবরাহ করে আসছিল। এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর র্যাবের একটি দল সেখানে অভিযানে যায়। সন্ত্রাসীরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়েই গুলি ছুড়তে শুরু করে। জবাবে র্যাবও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়।তানভীর হাসান জানান, প্রায় চার ঘণ্টা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলির পর সেখান থেকে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিন রোহিঙ্গা অস্ত্র কারিগরকে আটক করা হয়েছে।স্থানীয় রোহিঙ্গারা জানান, আটক হাবিব উল্লাহ মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) নেতা।জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার লাম্বাশিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে শীর্ষ রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ আততায়ীর গুলিতে খুন হন। তিনি রোহিঙ্গাদের সংগঠন 'আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডেও আরসাকে দায়ী করে আসছিল মুহিবুল্লাহর পরিবার। এ ঘটনার পর গত মাসের ২৩ অক্টোবর ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনাতেও আরসাকে দায়ী করা হয়।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরসার অস্তিত্ব স্বীকার না করলেও রোহিঙ্গা শিবিরে এ সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে সাধারণ রোহিঙ্গারা জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে রোহিঙ্গা নেতারা জানান।রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে অন্তত ২৫০ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি আজকের পত্রিকায় রোহিঙ্গা শিবিরে অস্ত্রের পাহাড় শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সনজুর মোরশেদ বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় র্যাবের তরফ থেকে মামলা রুজু ও তিন আসামিকে হস্তান্তর করা হয়েছে। | 6 |
শীতকাল মানেই তো পিঠা-পুলির মৌসুম। নানা স্বাদের পিঠার রেসিপি দিয়েছেন ফাতিমা আজিজ স্টেক চিতই উপকরণ: পোলাওয়ের চাল ২ কাপ, লবণ আধা চা-চামচ, পানি এক কাপ, সেদ্ধ চাল ১ টেবিল চামচ।প্রণালি: চাল ভালো করে ধুয়ে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। প্রথমে আধা কাপ পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে লবণ মিশিয়ে আরও আধা কাপ অথবা পরিমাণমতো পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে মসৃণ ব্যাটার তৈরি করুন।ননস্টিক কড়াই বা প্যান ভালো করে গরম করুন। সামান্য তেল ব্রাশ করা যেতে পারে। এবার ডালের চামচের ২ চামচ ব্যাটার দিয়ে ঢেকে দিন। ৩-৪ মিনিট পর ঢাকনা খুলে পিঠা উঠিয়ে একটি পাত্রে রাখুন। এভাবে প্রতিটি পিঠা তৈরি করুন। তারপর ফয়েল পেপার দিয়ে ঢেকে রাখুন।স্টেকের উপকরণ: মাংসের কিমা ১ কেজি, ডিম ২টি, পেঁয়াজ মিহি কুচি ৪ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ মিহি মিহি ২ চা-চামচ, পাউরুটি ৪ স্লাইস, সরিষা গুঁড়া ১ চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, জায়ফল গুঁড়া ১ চা-চামচ, লবণ ১ চা-চামচ, চিনি ২ চা-চামচ, আদা বাটা ১ চা-চামচ, রসুন বাটা ১ চা-চামচ, অয়েস্টার সস ১ টেবিল চামচ, তাবাস্কো সস ২ চা-চামচ, কর্নফ্লাওয়ার আধা কাপ, পুদিনা পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, তেল সেঁকা ভাজার জন্য। প্রণালি: তেল বাদে সমস্ত উপকরণ একত্রে মিশিয়ে মেখে নিন। বেশি নরম হলে সামান্য একটু বিস্কুটের গুঁড়ো মেশাতে পারেন। মাংস ১০-১২ ভাগ করুন। হাতের তালুতে তেল মেখে মাংস দিয়ে চ্যাপ্টা গোলাকার স্টেক তৈরি করুন। রুটি বা পিঠার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্টেকের মাপ হবে। একটি বড় শুকনো ট্রেতে কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে স্টেকগুলো তাতে গড়িয়ে নিন। ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে স্টেক সেঁকা তেলে ভেজে তুলুন। স্টেক চিতই তৈরি উপকরণ: চিতই পিঠা ১০টি, স্টেক ৫টি, পনির টুকরা ১০টি, লেটুস ৫টি, পেঁয়াজ (রিং করে কাটা) ৪টি করে রিং প্রতিটির জন্য। কাঁচা মরিচ কুচি ইচ্ছামতো, টমেটো কেচাপ ১ চা-চামচ প্রতিটির জন্য। প্রণালি: প্রথমে ১টি চিতই পিঠার ওপরে ১টি লেটুস বিছিয়ে নিন। তার ওপর একে একে পনির টুকরা, স্টেক, টমেটো কেচাপ, পেঁয়াজের রিং, কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে আরেকটি চিতই পিঠা দিয়ে টুথপিক দিয়ে আটকে নিন। মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ৩০ সেকেন্ড ভাপিয়ে পরিবেশন করুন। মেরা পিঠার শাশলিকউপকরণ: মেরা পিঠা (গোল চাক চাক করে কাটা) ৫-৬টি, পনির (কিউব করে কাটা) সসেজ (১ ইঞ্চি পুরু করে কাটা) প্রতিটির জন্য ২টি। লাল, সবুজ ও হলুদ বেল পেপার (চৌকা করে কাটা) প্রতিটির জন্য ২টি কিউব, পেঁয়াজ (একেকটি পেঁয়াজ ৪ টুকরো করে নিন) প্রতিটির জন্য ২ টুকরো, গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, মাখন, কাঠি ৫-৬টি, মাখন পরিমাণমতো।প্রণালি: প্যানে মাখন গলিয়ে পিঠা ও সসেজের টুকরোগুলো গোলমরিচ গুঁড়া দিয়ে কিছুক্ষণ সাঁতলে নিন। এগুলো উঠিয়ে আরও ১ টেবিল চামচ মাখন গলিয়ে বেল পেপারগুলো ও পেঁয়াজ সাঁতলে নিন। এবার শাশলিকের কাঠিতে প্রথমে পিঠার একটি চাক দিন। তারপর পর্যায়ক্রমে এক রঙের বেল পেপার, সসেজ, আরেক রঙের বেল পেপার, পনির ও আবার বেল পেপার গেঁথে নিন। আরেক দফা একইভাবে গেঁথে তৈরি করুন মেরা পিঠার শাশলিক। মুগ পুলিউপকরণ: ভাজা মুগডাল ১ কাপ, ময়দা ৪ টেবিল চামচ, খিরসা ১ কাপ, লবণ আধা চা-চামচ, কোরানো নারকেল ২ কাপ, চিনি ২ কাপ, সয়াবিন তেল ভাজার জন্য, জাফরান আধা চা-চামচ, গোলা জল দেড় টেবিল চামচ, ঘি ২ চা-চামচ, ডিম ১টি।প্রণালি: মুগডাল ঝেড়ে ভেজে নিন। তবে বেশি ভাজা ভাজা করবেন না। ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ২ কাপ পানিতে ডাল সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। শুকনো পাটায় শুকনো করে বেটে নিন। ২ কাপ পানিতে ১ কাপ চিনি দিয়ে শিরা তৈরি করুন। নারকেলের সঙ্গে ১ কাপ চিনি মিশিয়ে চুলায় দিন। আধা কাপ খিরসা মিশিয়ে অনবরত নাড়ুন। আঠালো হয়ে এলে নামিয়ে একটি বাটিতে বেড়ে রাখুন।ময়দায় ১ চা-চামচ ঘি ও খাওয়ার সোডা দিয়ে ভালো করে ময়ান দিন। এবার মুগডাল বাটায় বাকি এক চা-চামচ ঘি দিয়ে অল্প অল্প করে ময়দা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ডিম দিয়ে মেখে পিঠার ডো তৈরি করুন। এখান থেকে ২০-২৫টি গোলা তৈরি করুন বা ভাগ করুন। প্রতিটি ভাগ হাতের তালুতে নিয়ে গোল করে ভেতরে খিরসা ও নারকেলের মিশ্রণ দিয়ে ভালো করে মুখ বন্ধ করে দিন। ডুবো তেলে লালচে করে ভেজে তেল ছেঁকে চিনির শিরায় ছাড়ুন। পরিবেশন পাত্রে সাবধানে পিঠাগুলো উঠিয়ে সাজিয়ে রাখুন। ওপরে শিরা ঢেলে দিন। প্রতিটি পিঠার ওপর সামান্য করে খিরসা লম্বালম্বিভাবে বসিয়ে দিন। এই পিঠা ও খিরসার ওপরে গোলাপজলে ভেজানো জাফরান দিয়ে পরিবেশন করুন মুগের পুলি। ঝুরি মাংসে মেরা পিঠাউপকরণ: মেরা পিঠা ১টি, ঝুরি মাংস ২ কাপ, পেঁয়াজ (মিহি স্লাইস) ১ কাপ, লবণ আধা চা-চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ৪টি, তেল ২ টেবিল চামচ।প্রণালি: মেরা পিঠা লম্বা স্লাইস করে কেটে নিন। প্রতিটি স্লাইস আবার ৩ টুকরা করে কেটে নিন।প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ সোনালি করে ভেজে ঝুরি মাংস, লবণ ও কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে নেড়ে পিঠাগুলো দিয়ে দিন। ভালোভাবে মিশিয়ে নাড়ুন। নামিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।মেরা পিঠার উপকরণ: চালের গুঁড়া ২ কাপ, লবণ ১ চা-চামচ, তেল ১ চা-চামচ, পানি আড়াই কাপ।প্রণালি: চাল ধুয়ে ৮-১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। ভালো করে পানি ঝরিয়ে পেপার ন্যাপকিনে রাখুন। পানি শুষে নিলে গ্রাইন্ডারে গ্রাইন্ড করুন অথবা মেশিনে ভাঙিয়ে নিন। একটি ছড়ানো কড়াই বা প্যানে চালের গুঁড়ো টেলে নিন। লবণ দিয়ে ভাজবেন। চালের গুঁড়ির রং পরিবর্তন হওয়ার আগে নামিয়ে রাখুন। ৪ কাপ কুসুম গরম পানি চালের গুঁড়ির সঙ্গে মিশিয়ে কাঠের চামচ দিয়ে নাড়ুন। এবার এটা ভালো করে মথে ডো তৈরি করুন। পানি ও তেল একত্রে দিয়ে মথবেন। এই ডো থেকে ১৫-১৬টি ভাগ করুন। একেকটি ভাগ হাতের তালুতে দিয়ে গোল করে পিঠা তৈরি করুন। হাঁড়িতে পানি ফুটিয়ে তার ওপর ঝাঁঝরি বোল বসিয়ে পিঠাগুলো বিছিয়ে দিন। তারপর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। ঝাঁঝরির ওপর একটি পাতলা মসলিন বা সুতি কাপড় বিছাতে ভুলবেন না। পনেরো থেকে আঠারো মিনিট ভাপ দিন। নামিয়ে একটি বোলে উঠিয়ে ফয়েল পেপার দিয়ে ঢেকে রাখুন। গাজরের মালাই পাটিসাপটাউপকরণ: সেদ্ধ করে ম্যাশ করা গাজর ৪ টেবিল চামচ, কোরানো নারকেল সিকি কাপ, ঝুরি করা গাজর (ভাপিয়ে নেওয়া) আধা কাপ, মাওয়া সিকি কাপ, রোস্টেড কাজুবাদাম (আধা ভাঙা) ২ টেবিল চামচ, এলাচি গুঁড়া সিকি চা-চামচ, ময়দা ৬ টেবিল চামচ, পোলাওয়ের চালের গুঁড়া ৪ টেবিল চামচ, সুজি ৪ টেবিল চামচ, ঘি ১ চা-চামচ ও সিকি চা-চামচ, জাফরান এক চা-চামচের একটু কম, কিশমিশ ১ টেবিল চামচ, চিনি আধা কাপ ও ১ টেবিল চামচ, দুধ ২ কাপ, ক্রিম সিকি কাপ ও ২ টেবিল চামচ, অরেঞ্জ ফুড কালার সামান্য।প্রণালি: প্যানে ১ চা-চামচ ঘি গলিয়ে তাতে কোরানো নারকেল ও ঝুরি করা গাজর দিয়ে ভালো করে বেশ কিছুক্ষণ ভেজে নিন। মাওয়া মিশিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। তারপর চিনি দিয়ে মিশিয়ে নেড়ে ক্রিম ও এলাচি গুঁড়া দিয়ে হালকা নেড়ে চুলা বন্ধ করে দিন। বাটিতে এই মিশ্রণ ঢেলে ছড়িয়ে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর তাতে রোস্টেড কাজুবাদাম, আধা টেবিল চামচ কিশমিশ কুচি ও ১ চা-চামচ জাফরান দিয়ে মেখে রাখুন। ব্যাটারের জন্য অন্য একটি বাটিতে সিকি চা-চামচ জাফরান, ম্যাশ করা গাজর, ময়দা, সুজি ও দুধ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবারে ১ টেবিল চামচ চিনি ও আধা চা-চামচের কম অরেঞ্জ ফুড কালার দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে প্রথমে ঘড়ির কাঁটার দিকে ও পরে তার বিপরীতে মেশাবেন। মসৃণ ব্যাটার তৈরি করুন। একটি ননস্টিক প্যান গরম করে সিকি চা-চামচ ঘি দিয়ে প্যানের চারপাশ ঘুরিয়ে নিন, যেন ঘি পুরো প্যানে ছড়ায়। এবার হাত ঝাড়া পানি দিয়ে আবার প্যান ঘুরিয়ে একটি পাতলা সুতি কাপড় ভিজিয়ে বা পেপার ন্যাপকিন দিয়ে আলতোভাবে মুছে নিন। ডালের চামচের ২ চামচ ব্যাটার দিয়ে পুরো প্যান ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চারপাশে ছড়িয়ে রুটির মতো তৈরি করে নিন। তাতে লম্বালম্বি করে গাজর ও নারকেলের মিশ্রণ দিয়ে রোল করে পেঁচিয়ে নিয়ে পরিবেশন পাত্রে একটি করে রাখুন। গাজরের সস/সিরাপ উপকরণ: এলাচি গুঁড়া ২টি, ঘি আধা চা-চামচ, জাফরান সিকি চা-চামচ, ভাপিয়ে নিয়ে ম্যাশ করা গাজর ১ টেবিল চামচ, পানি ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, অরেঞ্জ ফুড কালার খুব সামান্য। প্রণালি: প্যানে ঘি গরম করে গাজর দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নিয়ে পানি দিয়ে নাড়ুন। তারপর একে একে চিনি, ফুড কালার, এলাচি গুঁড়া ও জাফরান দিয়ে মিশিয়ে নাড়ুন। এবার এই সস ফুটে উঠলে ঘন ঘন নাড়তে থাকুন। সসের ঘনত্ব মাঝারি হলে নামিয়ে পিঠার ওপর ঢেলে পরিবেশন করুন গাজরের পাটিসাপটা। মুগ-পাকন পিঠা উপকরণ: চালের গুঁড়া ১ কাপ, ভাজা মুগডালের গুঁড়া ১ কাপ, ময়দা ১ কাপ, মুরগির ডিম ২টি, ঘি বা সয়াবিন তেল ৩ টেবিল চামচ, পানি ১ কাপ, লবণ আধা চা-চামচ, তেল ভাজার জন্য। শিরার জন্য: গুড় ২ কাপ, পানি ১ কাপ। একত্রে জ্বাল দিয়ে ঘন শিরা তৈরি করে ঠান্ডা করে নিন। প্রণালি: ময়দা, চাল ও ডালের গুঁড়া একত্রে মিশিয়ে চেলে নিন। এবার ১ কাপ পানিতে লবণ ও ১ টেবিল চামচ তেল দিয়ে ফুটিয়ে নিন। তাতে মুগডালের গুঁড়া, চালের গুঁড়া ও ময়দার মিশ্রণ কাই করে নিন। এবার ১টি ডিম ও ২ টেবিল চামচ তেল মিশিয়ে মসৃণ করে ময়ান দিন। ময়ান দেওয়ার সময় যদি মনে হয় ফেটে যাচ্ছে, তাহলে আরও একটি ডিম ও ১ টেবিল চামচ তেল মিশিয়ে ভালো করে ময়ান দিন। দু-তিন ভাগ করে গোলাকার তাল করুন। একটি করে তাল সিকি ইঞ্চি পুরু করে বেলে রুটি বানান। তারপর খেজুর কাঁটা দিয়ে আম, মাছ, পাতা, কলকা ইত্যাদি পছন্দমতো আকারে কেটে কাঁটা দিয়েই নকশা করুন। কড়াইয়ে তেল গরম করে অল্প আঁচে গাঢ় সোনালি করে ভেজে নিন। তেল ছেঁকে উঠিয়ে ঠান্ডা শিরায় ছাড়ুন। ৫-১০ মিনিট শিরায় রেখে তুলে নিয়ে পরিবেশন পাত্রে সাজিয়ে দিন। মসলাদার কিমা ইডলিকিমার উপকরণ: সেদ্ধ করা গরু বা মুরগির মাংসের কিমা আধা কাপ, তেল দেড় চা-চামচ, পেঁয়াজ মিহি স্লাইস ৩ টেবিল চামচ, লবণ সিকি চা-চামচ, চিনি আধা চা-চামচ, সিরকা ১ চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, গরম মসলার গুঁড়া আধা চা-চামচ।প্রণালি: ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে ২ টেবিল চামচ পেঁয়াজ সোনালি করে ভেজে তাতে মাংসের কিমা, লবণ ও সিরকা দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ভেজে নিন। গোলমরিচ গুঁড়া বাদে অন্যান্য বাকি উপকরণ দিয়ে সামান্য পানিতে ভালো করে কষিয়ে নিন। এবার আধা কাপ পানি দিয়ে ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ পর ঢাকনা খুলে আরও একবার নেড়ে গোলমরিচ গুঁড়া দিয়ে ভাজা ভাজা করে ঢেকে চুলা বন্ধ করে দিন। পাঁচ মিনিট পর একটি পাত্রে বেড়ে রেখে দিন।ইডলির উপকরণ: ঝুরি করা গাজর ২ টেবিল চামচ, চেলে নেওয়া সুজি ১ কাপ, টকদই ১ কাপ (আধা কাপ পানি দিয়ে গোলানো), আধা ভাঙা রোস্টেড কাজুবাদাম ১ টেবিল চামচ, বেকিং সোডা সিকি চা-চামচ, পেঁয়াজ মাঝারি ১টি (বেটে নেওয়া), থেঁতো করা রসুন ২ কোয়া, কাঁচা মরিচ (মিহি কুচি) ৪টি, লবণ স্বাদমতো, রান্না করা কিমা আধা কাপ, ঝুরি করা আদা সামান্য, তেল ১ টেবিল চামচ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, হলুদ, লাল ও সবুজ বেল পেপার (ছোট কিউব করে কাটা) প্রতিটি ২ টেবিল চামচ, ধনে পাতা কুচি আধা টেবিল চামচ। প্রণালি: ফ্রাইপ্যানে ঘি গরম করে কাজুবাদাম হালকা ভেজে বাটিতে উঠিয়ে রাখুন। তারপর ঝুরি করা আদা সোনালি করে ভেজে পেঁয়াজ ও রসুনবাটা দিয়ে নেড়ে কাঁচা মরিচ কুচি দিন। দু-একবার নেড়ে ভেজে রাখা কাজুবাদাম ও সুজি দিয়ে আবার অল্প আঁচে ভাজুন। ঘি ও সুজির সুন্দর গন্ধ বের হলে লবণ দিয়ে মিশিয়ে নেড়ে চুলা বন্ধ করে একটি শুকনো পাত্রে এই মিশ্রণ রেখে ঠান্ডা হতে দিন। একটি বাটিতে বোলে টকদই পানি দিয়ে ফেটে নিয়ে তাতে একে একে ভাজা সুজির মিশ্রণ, ধনেপাতা কুচি, ঝুরি করা পনির, বেকিং সোডা, রান্না করা কিমা, ১ টেবিল চামচ ঝুরি করা গাজর ও ১ টেবিল চামচ করে সব ধরনের বেল পেপার দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ফেটে নিন। ব্যাটার ঘন হওয়ার জন্য আধা ঘণ্টা রেখে দিন। মাইক্রোওয়েভ কুকারে আধা কাপ পানি দিয়ে ১ মিনিট গরম করে তাতে স্টিমার বসিয়ে দিন। তার ওপর ইডলি স্ট্যান্ড বসিয়ে বা ছোট ছোট বাটিতে চামচ দিয়ে ব্যাটার ঢেলে দিন। প্রতিটির ওপর সামান্য ঝুরি করা গাজর ছিটিয়ে তার ওপর ১ চা-চামচ করে ঝুরি করা পনির ছিটিয়ে দিন। এর ওপর সব ধরনের ক্যাপসিকাম দিয়ে সাজিয়ে ঢেকে দিন। মাইক্রোওয়েভে ফুল পাওয়ারে ২ মিনিট ভাপ দিন। প্রয়োজন হলে ও পরে আরও ২ মিনিট ভাপ দিন। ঝটপট তৈরি হয়ে গেল মসলাদার কিমা ইডলি। নারকেলের চাটনি, ধনেপাতার চাটনি অথবা পুদিনাপাতার চাটনি দিয়ে পরিবেশন করুন। এই ইডলি চুলায়ও স্টিমারে ইডলির ছাঁচে ১৫ থেকে ২০ মিনিট স্টিমে তৈরি করতে পারেন। দই পিঠাউপকরণ: (পিঠার জন্য) ময়দা দেড় কাপ, টকদই ১ কাপ, বেকিং সোডা সিকি চা-চামচ, লবণ এক চিমটি, চিনি সিকি কাপ ও ১ টেবিল চামচ, রোস্টেড কাজুবাদাম গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, তেল সেঁকা ভাজার জন্য।ক্ষীরের উপকরণ: দুধ ৩ লিটার, চিনি সিকি কাপ, ফ্রেশ ক্রিম আধা কাপ, মাওয়া আধা কাপ।প্রণালি: ৩ লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে দেড় লিটার হলে চিনি দিয়ে অনবরত নাড়ুন। ঘন থকথকে হয়ে ১ লিটার হলে মাওয়া ও ক্রিম মিশিয়ে নেড়ে চুলা বন্ধ করে দিন।একটি বাটিতে ময়দা, লবণ, বেকিং সোডা ও চিনি মিশিয়ে টকদই এবং রোস্টেড কাজুবাদাম গুঁড়ো দিয়ে নরম ডো বা খুব ঘন ব্যাটার তৈরি করুন।প্যানে তেল গরম করে ডালের চামচের ১ চা-চামচ করে ব্যাটার দিয়ে একত্রে ৩-৪টি পিঠা সেঁকা ভাজা করে নিন। এভাবে সবগুলো পিঠা ভেজে নিন।পরিবেশন পাত্রে কিছু খিরসা ঢেলে তার মধ্যে পিঠাগুলো ছেড়ে দিন। ওপরে বাকি খিরসা দিয়ে ওপরে রোস্টেড কাজু গুঁড়া, বাদাম ও পেস্তা দিয়ে কুচি ছিটিয়ে পরিবেশন করুন। কিশমিশ লবঙ্গ-লতিকাউপকরণ: লবঙ্গ (প্রতিটির জন্য) ১টি করে, কিশমিশ (প্রতিটির জন্য) ১টি করে, ময়দা ২ কাপ, তেল সিকি কাপ, লবণ ১ চা-চামচ, পানি আধা কাপ, নারকেল (কোরানো) ১ কাপ, খিরসা আধা কাপ, ছানা (চিনি দিয়ে জ্বাল দিয়ে মাখা মাখা হবে) আধা কাপ, মাওয়া আধা কাপ, চিনি দেড় কাপ, এলাচি গুঁড়া সিকি চা-চামচ, তেল ভাজার জন্য, রোস্টেড সাদা তিল ১ টেবিল চামচ।প্রণালি: নারকেলের সঙ্গে আধা কাপ চিনি, খিরসা ও ছানা মিশিয়ে জ্বাল দিন। কিছুটা মাখা মাখা হয়ে এলে মাওয়া ও এলাচি গুঁড়া দিয়ে আঠালো হয়ে হালুয়ার মতো হলে নামিয়ে রাখুন। একটি বাটিতে বেড়ে রাখুন। ময়দার সঙ্গে লবণ মিশিয়ে তেলের ময়ান দিন। আধা কাপ পানি দিয়ে ময়দা মথে নিন। ২০টি ভাগ করে হাতের তালুতে নিয়ে গোল করে একটি বাটিতে ঢেকে রাখুন। কিছুক্ষণ পর রুটি বেলার পিঁড়িতে প্রতিটি ভাগ দিয়ে একেকটি ছোট ছোট রুটি বেলুন। প্রতিটি রুটির মাঝখানে ২ চা-চামচ করে হালুয়ার মিশ্রণ দিয়ে দুপাশের রুটি দিয়ে হালুয়া ঢেকে দিন। প্রথমে রুটির এক কিনার তুলে ঢাকুন। তারপর অন্য কিনারটি প্রথমটির ওপর তুলে দিন। উল্টে আবার দুমাথা থেকেই একটির ওপর আরেকটি তুলে দিয়ে চেপে বন্ধ করুন। মাঝখানে মুখ বন্ধের জায়গায় প্রথমে একটি কিশমিশ বসিয়ে তার ওপর একটি লবঙ্গ দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিন। লবঙ্গ-লতিকা দেখতে চার কোনা হবে। এক কাপ চিনিতে পরিমাণমতো পানি দিয়ে শিরা করুন। ঘন হলে চুলা বন্ধ করে দিন। ডুবো তেলে ভাজার জন্য তেল গরম করে পিঠা সোনালি করে ভেজে নিন। তেল ছেঁকে শিরায় ছাড়ুন। এবারে শিরাসহ পরিবেশন পাত্রে সাজিয়ে ওপর থেকে রোস্টেড সাদা তিল ছিটিয়ে পরিবেশন করুন লবঙ্গ-লতিকা। | 4 |
সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির মুসলমানদরে আজ শনিবার সন্ধ্যায় ঈদের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বিবৃতির বরাত দিয়ে আজ এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে আরব গণমাধ্যম গালফ নিউজ।সৌদি প্রেস এজেন্সির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেউ খালি চোখে বা দুরবিনের মাধ্যমে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখলে নিকটস্থ আদালতকে অবগত করার জন্য জনগণকে অনুরোধ করেছেন সৌদি সুপ্রিম কোর্ট।আজ পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে।এদিকে সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্সের মন্ত্রী শেখ ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আল শেখ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের জন্য সমস্ত মসজিদ ও আউটডোর নামাজের স্থানগুলো প্রস্তুত করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ঈদুল ফিতরের নামাজের সময়ও নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেছেন, 'ঈদুল ফিতরের নামাজ শুরু হবে সূর্যোদয়ের ১৫ মিনিট পর।'এর আগে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী বলেছেন, 'সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে চার দিনের ঈদুল ফিতরের ছুটি থাকবে।' মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ শনিবার কার্যদিবস শেষে ছুটি শুরু হবে।গত সপ্তাহের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছিল, ২ মে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ১৪৪৩ হিজরির শাওয়াল মাসের চাঁদ সম্ভবত শনিবার দেখা দেবে। | 3 |
সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই হয়তো বর্ণবিদ্বেষের শিকার কৃষ্ণাঙ্গরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর পর একের পর এক কাণ্ড বেরিয়ে আসছে। বর্ণবাদ আসলে যে বিশ্বব্যপী একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। ক্রীড়াজগতেও একের পর এক তারকা মুখ খুলছেন। জানাচ্ছেন, কোথায়, কীভাবে তারা বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন। আর এবার মুখ খুললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ড্যারেন সামি। তিনি জানিয়েছেন, ভারতে আইপিএল খেলতে এসে তিনি বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছিলেন। ফ্লয়েডের মৃত্যু যেন আরও অনেক গোপন কথা এবার প্রকাশ্যে আনবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক সামি জানিয়েছেন, আইপিএলে হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলার সময় তাকে সতীর্থদের অনেকেই কালু বলে ডাকতেন। তবে সেই সময় তিনি এই নামের অর্থ বুঝতে পারতেন না। তাই তখন তিনি এই নিয়ে তেমন প্রতিবাদ করেননি। সতীর্থদের মধ্যে অনেকের কাছে তিনি কালু বলেই পরিচিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
আগুনের খালা শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনের সাবেক স্বামী নৃত্যশিল্পী আমির হোসেন বাবুর ভাগনি তান্না। পারিবারিক নানা অনুষ্ঠানে দেখা হতো দুজনার। আগুন যখন ক্লাস সেভেনে পড়েন, তান্না তখন ক্লাস টুতে। আগুন বলেন, 'আমি ওকে বলতাম, বড় হয়ে তুই আমার বউ হবি। কোন আবেগ থেকে বলা, তা এখন বলতে পারব না।'একসময় সাবিনা-বাবুর বিচ্ছেদ হয়ে গেল। অনেক বছর দেখা নেই আগুন ও তান্নার। একদিন শিশু একাডেমিতে আগুনের গানের শো, তান্নারও নাচের শো। কথা হয় দুজনার। আগুন বললেন, 'তুই বিয়ে করেছিস? বয়ফ্রেন্ড আছে?' তান্না বললেন, 'না।' তান্নার ফোন নাম্বার নিলেন আগুন। ওই রাতেই ফোন করলেন। অনেক কথার পর বিয়ের প্রস্তাবটাও দেন আগুন। কিন্তু তান্না সম্মতি জানান এক মাস পর।দুই পরিবার রাজি ছিল না। বিয়েটা হলো লুকিয়ে। মাত্র পাঁচ মিনিটের পরিকল্পনায়। খালার বাসায় গিয়ে আগুনকে ফোন করলেন তান্না। আগুন সিদ্ধান্ত নিলেন, কালকেই বিয়ে। ছয় হাজার টাকায় বাসা ভাড়া নিলেন। তান্না বলেন, 'আমার কখনো বউ সাজা হয়নি। একটা খাট, তোশক, দুটো বালিশ-এভাবেই আমাদের সংসার শুরু। এরপর আগুন একটা শো করত, আমরা সংসারের কিছু কিনতাম। এভাবেই গড়ে ওঠে আমাদের ভালোবাসার সংসার।' | 6 |
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৯ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছেছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সিস্টেম সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসএসই) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৯ লাখ ১৮ হাজার ২৬৯ জনে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৯৫ জনের। আর এ পর্যন্ত সেড়ে উঠেছে ২ কোটি ১১ লাখ ৫২ হাজার ৩১২ জন। বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে।সোমবারসকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ জনের। যুক্তরাষ্ট্রের পর মৃত্যু বিবেচনায় করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ব্রাজিল। আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকলেও মৃত্যু বিবেচনায় দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। লাতিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৯৫ জনের। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত মৃত্যু বিবেচনায় আছে তৃতীয় স্থানে। এ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ লাখ ৬১৯ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৮৬ হাজার ৭৫২ জনের। মৃত্যু বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী মেক্সিকো চতুর্থ স্থানে থাকলেও আক্রান্ত বিবেচনায় দেশটির অবস্থান সাত নম্বরে। মেক্সিকোতেসোমবারসকাল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬৬৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭৩ হাজার ৪৯৩ জনের। ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্য মৃত্যু বিবেচনায় রয়েছে পঞ্চম স্থানে, তবে আক্রান্তের দিক থেকে দেশটির অবস্থান ১৪তম।সোমবারসকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪১ হাজার ৮৬৬ জনের। গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ১৮৮টি দেশে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশেরোববারসকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৪৪জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে আরও ২৬ জনের। সবমিলিয়েরোববারসকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৬জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মোট মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৯৩৯জনের। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৬৫জন। | 3 |
নওগাঁর ধামইরহাটে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় এক আদিবাসী শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার উপজেলার এক নম্বর ধামইরহাট ইউনিয়ন বেনিদুয়ার মিশন দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।নিহত শিশুটির নাম বাসন্তী মারাং (১১)। সে ওই গ্রামের মৃত দানিয়েল মারাংয়ের মেয়ে।এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা মারা যাওয়ায় সংসারের অর্থ জোগান দিতে তার মা লুচি তপ্ন। তিনি ঢাকায় মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করেন, এই কারণে মেয়েকে মামার কাছে রেখে যান।এ বিষয়ে মামা এমিল তপ্ন বলেন, 'ওর মা এলাকায় না থাকাই আমি তার দেখাশোনা করতাম। সে সারা দিন ইচ্ছে মতো খেলতো, ঘুরতো ফিরত। গত তাকে দেখতে পাইনি। তারপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাতে তার ঘরে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার মর্গে পাঠিয়েছে। | 6 |
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেছেন, যে আশা নিয়ে নূর হোসেন আত্মদান করেছিলেন তা পূরণ হয়নি। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে 'গণতন্ত্র দিবস' পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, 'তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তর করেন। কিন্তু '৯১ সালের নির্বাচনের পর তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করে সংসদীয় পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। সংবিধানের ৭০ ধারা সংসদীয় পদ্ধতির মূল স্বাদ নষ্ট করেছে। ৭০ ধারা অনুযায়ী সরকারদলীয় সদস্যরা সরকারি দলের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যে দল সরকার গঠন করে, সেই দলের প্রধানই সংসদীয় দলের নেতা এবং সরকার প্রধান হন। সরকার প্রধান যে সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই বাস্তবায়ন হয়।' জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের তন্ত্র। এতে জনগণের শাসন নিশ্চিত হয়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভুল করে না। বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভুল মানুষকে নির্বাচিত করেনি। প্রকৃত গণতন্ত্র নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রের সব স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। জবাবদিহি নিশ্চিত হলে দেশে সুশাসন নিশ্চিত হবে যাতে সামাজিক ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকবো। প্রতিবছর গণতন্ত্র দিবসে এই হবে আমাদের অঙ্গীকার।' উল্লেখ্য, আজ ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন-সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বুকে-পিঠে 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক' লেখা স্লোগান নিয়ে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন নূর হোসেন। মিছিলটি রাজধানীর জিরো পয়েন্ট (বর্তমান শহীদ নূর হোসেন চত্বর) এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নূর হোসেন শহীদ হন। আজকের দিনটিকে 'গণতন্ত্র দিবস' হিসেবে পালন করেছে জাতীয় পার্টি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য পদত্যাগ করা সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার শেরপুর শহরের টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা অনার্স কলেজের মিলনায়তনে বিশেষ জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়েছে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদকে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার। সভা শেষে রাত সাড়ে আটটায় শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল ইসলাম পোদ্দার বলেন, দলের এ বিশেষ জরুরি সভায় সদ্য পদত্যাগকারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিবকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তের সুপারিশ কপি শিগগিরই বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হবে। বদরুল ইসলাম আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে কটূক্তি করায় আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে শেরপুর শহরে শত শত নেতা-কর্মী ও সমর্থক বিক্ষোভ করেছেন। এ ঘটনায় গতকাল দলের জরুরি বিশেষ সভায় তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আইনজীবী গোলাম ফারুক, শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী, মুন্সি সাইফুল বারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গৌড়দাস রায় চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ জামাল সিরাজী, ইলিয়াস উদ্দিন, মোছা. আজমিরা পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল ইসলাম পোদ্দার, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ প্রমুখ। আহসান হাবিব গত ২৭ নভেম্বর রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমানের কাছে তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে দলীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেন। | 9 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, এমন কোনো রোগীর জিনোম সিকোয়েন্সিং করে গত এক মাসে অমিক্রন শনাক্ত হয়নি। সংগৃহীত ৯৬টি নমুনার মধ্যে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে অমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে। তবে এর কোনোটি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নমুনা নয়।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিএসএমএমইউ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জিনোম সিকোয়েন্সের মূল তথ্য উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। উপাচার্য বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের থেকে সংগৃহীত করোনার নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে শতভাগ রোগীর ক্ষেত্রে ডেলটা ধরন শনাক্ত হয়েছে। জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা আঞ্জুমান বানু। তিনি বলেন, ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত করোনার ৯৬টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়। এসব নমুনা হাসপাতালে ভর্তি রোগী, হাসপাতালের আউটডোরে আসা রোগী ও বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত ৯৬টি নমুনার মধ্যে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে অমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে। তবে এর কোনোটি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নমুনা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, দুই ডোজ করোনার টিকা নিয়েছেন, এমন একাধিক ব্যক্তির অমিক্রন ধরনে আক্রান্ত হওয়ার নজিরও তাদের কাছে রয়েছে। উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, অমিক্রনের উপসর্গ সাধারণত মৃদু হতে দেখা যাচ্ছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী অন্যান্য রোগ আছে, এমন ব্যক্তি অমিক্রন বা যেকোনো ধরনে আক্রান্ত হলে জীবনের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। সুতরাং অমিক্রনকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। | 6 |
বগুড়া শহরে একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিনসহ এক তরুণকে আটক করেছে র্যাব। আজ সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে বগুড়া শহরের উপকণ্ঠে বনানী এলাকায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে এ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। আটক তরুণের নাম সানোয়ার হুসেন (২২)। তিনি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাংগাপাড়া এলাকার হজরত আলীর ছেলে। র্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানির কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার সোহরাব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, অস্ত্রসহ আটক সানোয়ার হুসেনকে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে র্যাব বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের স্পেশাল কোম্পানির কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় যাত্রা করা একটি দূরপাল্লার কোচে একজন ফেনসিডিল পাচার করে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে আজ ভোররাতে বগুড়া শহরের উপকণ্ঠে পর্যটন মোটেলের সামনে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা ওই কোচ সেখানে পৌঁছালে তা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যাত্রী সানোয়ার হুসেনের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। | 6 |
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভ্রাম্যমাণ ভূমি অফিস স্থাপন করে সেবা কার্যক্রম শুরু করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই সেবা চালু করা হয়েছে।জনগণকে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন মো. মাসুদ রানা।উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত থেকে ই-নামজারি আবেদন, নামজারি, শুনানি, অনুমোদিত নামজারি (ডিসিআর) ও খতিয়ান সংগ্রহ, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দেওয়াসহ ভূমি-সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান বা পরামর্শ দেবেন।এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা বলেন, 'ভূমি অফিসে দালালদের মাধ্যমে সেবা নিতে গিয়ে গ্রহীতারা প্রতারিত হন। অনেকেই সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান না। ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতাও বোঝে না অনেকে। ফলে সুযোগ নেন দালালেরা।'মো. মাসুদ রানা আরও বলেন, 'ভোগান্তি কমাতে এবং মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এ ভ্রাম্যমাণ ভূমি অফিস স্থাপন করা হয়েছে। ভূমি সেবাগ্রহীতারা এতে সহজে সেবা পাবেন। দালালদের খপ্পরে পড়বেন না। সাধারণ মানুষ সরাসরি আমাকে তাঁদের সমস্যার কথা বলতে পারবেন। এ জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'এ উদ্যোগটি অব্যাহত থাকবে বলে জানান মো. মাসুদ রানা। | 6 |
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ চট্টগ্রাম আসছেন আজ। তিনি আর্মি অ্যাভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস, চট্টগ্রামের উদ্বোধন এবং ২ টি বেল ৪০৭ ডিএক্সআই হেলিকপ্টারের অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। গত রোববার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার কর্মসূচির বিষয়টি জানানো হয়।আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, সেনাপ্রধান সকাল ৮ টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে আর্মি অ্যাভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস, চট্টগ্রামের উদ্বোধন করবেন। এরপর চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ২ টি বেল ৪০৭ ডিএক্সআই হেলিকপ্টারের সংযোজন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। | 6 |
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ভ্যাকসিন কার্যক্রম দেশে শুরু হয়েছে। যারা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন, তারা সবাই সুস্থ আছেন, কোনো রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নাই। তাই কোনো অপপ্রচারে কান দেবেন না। জনগণেরনিরাপত্তার জন্য সরকার সবসময় চিন্তা করছে। উন্নত-আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। শনিবার বিকেলে নাটোরের সিংড়া উপজেলারসুকাশ ইউনিয়নের বোয়ালিয়া, জয়কুড়ি ও বামিহালে ১১০০ পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, করোনাকালীন সিংড়ার ৭২ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। ১২ হাজার পরিবারকে শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়েছে। ইউনিয়ন তথ্য সেবায় মানুষ ২৭০ রকম সেবা পাচ্ছে। ১৩ হাজার উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ঘরে বসে অনলাইনে সকল সেবা পাচ্ছে জনগণ। ডিজিটাল সরকারের কারণে করোনার সময় পড়ালেখা বন্ধ নাই। অনলাইনে ক্লাস করতে পারছে। ৬৬ দিন অফিস বন্ধ থাকলেও ই-ফাইলে কার্যক্রম চলছে বলেও জানান জুনাইদ আহমেদ পলক। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ রাজু আহমেদ নাজিম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন, সুকাশ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল, সুকাশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক হালিম মো. হাসমত, সহ-সভাপতি ফরিদুল ইসলাম, সদস্য সুলতান আহমেদ, ভিপি মোফাজ্জল হোসেন মোফা ও যুবলীগ সভাপতি প্রভাষক আলম হোসেন প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 9 |
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার হাটফুলবাড়ী বাজারে মো. রফিকুল ইসলামের তিনটি মুদি খানার দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। উক্ত মুদিখানা দোকানের তেল, সাবান, সিগারেট, চিনি, ময়দা, ডাল বিভিন্ন ধরনের পণ্যসহ দোকানের প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।সারিয়াকান্দি থানার সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটির তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বৈশাখী পূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষে রাঙামাটিতে বর্ণাঢ্য ধর্মীয় শোভাযাত্রা করেছে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ ও আনন্দ বিহার সদ্ধর্ম দায়ক-দায়িকারা। শুক্রবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন রাঙামাটি আসনের সাংসদ দীপংকর তালুকদার। পরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আনন্দ বিহার প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। এতে রঙ-বেরঙের বৌদ্ধ পতাকা হাতে নিয়ে পূর্ণার্থী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষ অংশ নেন। সভায় ধর্মীয় গুরুরা বুদ্ধ ধর্মের আদর্শিত হয়ে সৎ কর্ম, সৎ চিন্তা, জীবন-যাপন করার উপদেশ দেন এবং বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনা করে পঞ্চশীল গ্রহণ, সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান, বুদ্ধমূর্তি দানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কার্য সম্পাদনা করা হয়। মহামতি গৌতম বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধান বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাজবন বিহার, মৈত্রী বিহার, আনন্দ বিহার, মিলন বিহার, লুম্বিনী বন বিহার, স্বর্গপুর বন বিহার, সাপছড়ি মধ্যপাড়া বৌদ্ধ বিহারসহ প্রতিটি বৌদ্ধ মন্দিরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এদিকে, বুদ্ধ পুর্ণিমায় জঙ্গী হামলার হুমকিতে রাঙামাটিতে আইন-শৃংখলা বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করেছে। রাঙামাটির রাজ বন বিহারসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দিরে অস্থায়ী চেক পোষ্ট বসিয়ে গাড়ি ও লোকজনদের ব্যাগে তল্লাশি করছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
দেশে হতদরিদ্র পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে সরকারি চাল দেওয়ার কর্মসূচি চালু আছে। বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ছেলে এবং অনেক সচ্ছল পরিবার এমনকি দোতলা বাড়ির মালিকের নামও দেওয়া হয়েছে এই ধরনের সুবিধাভোগীর তালিকায়। তালিকাটি তৈরি করা হয় গত ৫ সেপ্টেম্বর। চেয়ারম্যান ছাড়াও ইউপি সচিব এবং বেতাগীর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গোলাম মাওলার যৌথ সই আছে তালিকায়।জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া এই তালিকা ধরেই প্রতিবছরের মার্চ থেকে নভেম্বর-এই পাঁচ মাস ১০ টাকা কেজি দরে সরকারি চাল বিতরণ করা হয়। চাল-চুলাহীন হতদরিদ্র পরিবারগুলোতে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচিতে।প্রশাসন সূত্র জানায়, বেতাগীর সদর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির সেপ্টেম্বর মাসে নতুন ৪৫ জন সুবিধাভোগীর নাম হতদরিদ্রদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। এ তালিকার ১০ নম্বর ক্রমিকে চেয়ারম্যানের ছেলে মো. গোলাম শাহরিয়ার মনির নাম আছে, তাঁর পেশা দেখানো হয় দিনমজুর। শাহরিয়ার বেতাগী সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।তালিকায় নাম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. গোলাম শাহরিয়ার মনির আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমার কোনো ইনকাম নেই। এটা প্রধানমন্ত্রীরএকটা খাদ্য কর্মসূচি। এ জায়গায় যে কারও নাম থাকতে পারে। আমার চেয়ে বড় বড় ফ্যামিলির নামও এ জায়গায় আছে।'যোগাযোগ করা হলে মনিরের বাবা মো. হুমায়ুন কবির তালিকায় ছেলের নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, অন্য একজন দিনমজুরকে সরকারি চাল দিতে ছেলের নাম দেওয়া হয়।তালিকায় ৪০ নম্বরের নাম আছে সামসুল হকের ছেলে মোখলেছুর রহমানের। মোখলেছুর পেশায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মী। তাঁর স্ত্রী স্থানীয় কিসমত করুণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সদরের কেওড়াবুনিয়া গ্রামে তাঁদের একটি দোতলা বাড়ি আছে। মোখলেছুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমি গরিব মানুষ, এ জন্য তালিকায় নাম উঠেছে।'একইভাবে তালিকার ৩৪ ও ৩৫ নম্বরে আছে আপন দুই বোন আমেনা আক্তার মনি এবং ফাতেমা আক্তার লাকীর নাম। তাঁরা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাইজুল ইসলামের খালা। তাঁদের বাবার নাম আবদুল আজিজ হাওলাদার, যার নিজের মালিকানায় ঘরবাড়ি এবং চাষাবাদের জমি আছে। এই দুই নারী স্বামীদের নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন, গ্রামে খুব কমই আসেন বলে এলাকাবাসী জানান।এলাকাবাসীর অভিযোগ, চেয়ারম্যান-মেম্বারের পছন্দের লোকদের নাম সস্তায় সরকারি চাল পাওয়ার তালিকায় তোলা হয়েছে। টাকাপয়সার বিনিময়ে সচ্ছল পরিবার এবং দলীয় লোকজনের নাম তালিকায় দেওয়া হয় বলে জানান তাঁরা।বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সুহৃদ সালেহীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের নামের তালিকায় স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের জন্য এর মালিককে দায়ী করেছেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। অনুমোদন না নিয়ে এখানে বেশি তলা তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।আজ শুক্রবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেটরস কাউন্সিল (ডব্লিউসিসি) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি। এফআর টাওয়ারের মতো দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের কথা উল্লেখ করে সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভবনটি 'নির্মাণ বিধি (বিল্ডিং কোড)' অনুসরণ করে নির্মিত নয়। অনুমোদনবিহীন বেশি তলা নির্মিত এ ভবনে বিধিমোতাবেক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না। অর্থাৎ মালিকের লোভের আগুনে পুড়ে হতাহত হয়েছে নিরীহ মানুষ। এর পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।'ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেটরস কাউন্সিলের উদ্যোগের প্রশংসা করে হাছান মাহমুদ বলেন, 'নিজ দেশ, সংস্থা ও আত্ম-উন্নয়নের জন্য যোগাযোগের বিকল্প নেই। তৈরি পোশাক শিল্পে জিএসপি সুবিধা বাতিলের পরও বাংলাদেশ বিশ্ব প্রতিযোগিতায় এ শিল্পে তার প্রবৃদ্ধি অটুট রেখেছে, চীন আজ আমাদের প্রতিযোগী।' তিনি বলেন, 'গত ১০ বছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে আজ প্রায় দুই হাজার ডলার। উচ্চ প্রবৃদ্ধির হার অব্যাহত রাখা পৃথিবীর প্রথম পাঁচটি দেশের অন্যতম বাংলাদেশ। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশ যেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১১ শরও বেশি মানুষের বাস, আর মানুষপ্রতি জমির পরিমাণ দেশে সর্বনিম্ন, যে দেশ পঞ্চাশের দশক থেকেই খাদ্য ঘাটতির দেশ, সেই বাংলাদেশ আজ খাদ্য রপ্তানির দেশ।' ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেটরস কাউন্সিল-বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এ এস এম আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অধ্যাপক গোলাম রহমান এবং পাবলিক রিলেশনস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (পিআরসিআই) চিফ মেন্টর ও চেয়ারম্যান ইমেরিটাস এম বি জয়রাম বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং পিআরসিআইয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে গভর্নিং কাউন্সিল চেয়ারম্যান বি এন কুমার, ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক বি কে সাহু এবং কলকাতা চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ দাস অতিথি হিসেবে সভায় বক্তব্য দেন। সমাপনী বক্তব্য দেন ডব্লিউসিসি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব আবীর শ্রেষ্ঠ। | 9 |
৫ মার্চ আমি বণিক বার্তা আয়োজিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলাম। ওই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও আমার বক্তব্যের সূত্র ধরে ১১ মার্চ প্রথম আলো পত্রিকায় খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ 'মন্ত্রী ও উপদেষ্টা কতটা সঠিক বলেছেন?' শীর্ষক একটি মতামত প্রবন্ধ লিখেছেন। আমি মনে করি, তিনি আমার বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ প্রসঙ্গ-বহির্ভূতভাবে উল্লেখ করে মনের মতো করে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি লিখেছেন, '...সালমান এফ রহমান বলেছেন, উন্নয়ন হলে বৈষম্য বাড়বে।' শ্রদ্ধেয় ইব্রাহিম খালেদ যেভাবে আমার পুরো বক্তব্যের সারাংশ একটিমাত্র বাক্যে প্রকাশ করেছেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তির অবকাশ রয়ে যায়। আমি বলেছিলাম, 'বলা হচ্ছে যে [বাংলাদেশের] প্রবৃদ্ধি অসম। আমার কথা হলো, যেই দেশেই প্রবৃদ্ধি হবে, উন্নত দেশ হোক আর উন্নয়নশীল দেশ হোক, অসমতা থাকবেই। অসমতা বা বৈষম্য মূলত প্রবৃদ্ধির স্বাভাবিক ধর্ম। আপনি যদি চান, বৈষম্য ছাড়া প্রবৃদ্ধি হবে, এটা কিন্তু সম্ভব না। আপনাকে দেখতে হবে যে নিম্ন পর্যায়ে বৈষম্য ভালোর দিকে যাচ্ছে কি না। আর এ ক্ষেত্রে আপনারাই তো স্বীকার করেছেন যে দারিদ্র্যের হার কমেছে।' ইব্রাহিম খালেদ এ বিষয়ে অবতারণা করতে গিয়ে সুইডেন নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। পুরো লেখা পড়ে মনে হলো, তিনি বলতে চেয়েছেন যে বাংলাদেশ উন্নয়ন করছে-এই কথা বলতে হলে বাংলাদেশকে আগে সুইডেন বানিয়ে দেখাতে হবে। সন্দেহ নেই যে আমাদের কাছ থেকে জনাব খালেদের প্রত্যাশার পারদ একটু আকাশচুম্বী। তারপরও তাঁর কিছু কথা নিয়ে কৌতুক বোধ না করে পারা গেল না। তিনি সুইডেন ও বাংলাদেশের আয়বৈষম্য পরিমাপ করতে জিনি সহগের কথা বলেছেন। বলেছেন এই সহগে সুইডেনের অবস্থান ০.৩-এর আশপাশে, বাংলাদেশের ০.৫-এর কাছাকাছি। প্রথমত, আয়বৈষম্য পরিমাপের কোনো সর্বজনস্বীকৃত মানদণ্ড নেই। জিনি সহগের বড় দুর্বলতা হলো, এটি কেবল সামগ্রিক চিত্র পরিমাপের মানদণ্ড; জনসংখ্যার কোনো বিশেষ শ্রেণির (ধনী হোক বা দরিদ্র) জীবনের উন্নয়ন বা অবনমনের চিত্র এখানে ফুটে ওঠে না। ফলে জিনি সহগে আমাদের অবস্থান যদি আমি মেনেও নিই, তাহলেও আমার বক্তব্য ভুল প্রমাণিত হয় না। আমি বলেছি, উত্তরবঙ্গে এখন আর মঙ্গা দেখা যায় না। দেশে দারিদ্র্য কমেছে। নিম্ন আয়ের মানুষ হয়তো ধনী বা মধ্যবিত্তদের মতো দ্রুতহারে জীবনমান উন্নত করতে পারেনি। কিন্তু তাদের অবস্থা যে অতীতের চেয়ে ভালো, তা বোঝা যায় বাংলাদেশের অভাবনীয় দারিদ্র্য হ্রাসের পরিসংখ্যান থেকে। শ্রদ্ধেয় খালেদ নিজেই স্বীকার করেছেন যে সুইডেনকে ব্যতিক্রম মনে হতে পারে। এ কথা বলেই তিনি আরও গোটা কয়েক স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ ও নিউজিল্যান্ডের উদাহরণ টেনে আনলেন! আমার সমালোচনার জন্য তাঁকে এত দূরে যেতে হলো ভেবে দুঃখ লাগছে। তবে আশপাশের দেশগুলোর দিকে যদি একটু তাকাতেন, তাহলে হয়তো কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখতে পেতেন। ইব্রাহিম খালেদ কোনো তথ্যসূত্র উদ্ধৃত করেননি। ধরে নিচ্ছি তিনি বহুল-ব্যবহৃত অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) উপাত্ত ব্যবহার করেছেন। অপরদিকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হয়তো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) উপাত্ত ব্যবহার করেছেন, কেননা ওইসিডি বাংলাদেশ নিয়ে উপাত্ত প্রকাশ করে না। তা ছাড়া, বিবিএস-এর বিভিন্ন পরিসংখ্যান অপছন্দ করলেও বৈষম্যের পরিসংখ্যান জনাব খালেদদের মতো অনেকের কাছে খুবই প্রিয়। ওইসিডি আয়কর হিসাবের আগে ও পরে দুই ধরনের জিনি সহগ পরিমাপ করে। আয়কর ধরা না হলে, বেশির ভাগ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ও ইউরোপিয়ান দেশের জিনি সহগ ০.৫-এর কাছাকাছি বা বেশি। তৎক্ষণাৎ নিশ্চিত হতে পারিনি যে বিবিএস-এর জিনি সহগের হিসাবে আয়কর ধরা হয়েছে কি না। তাই আমি বিশ্বব্যাংকের 'বিশ্ব উন্নয়ন নির্দেশক' সংগ্রহ করেছি, যেখানে জিনি সহগ দিয়ে একই মানদণ্ডে (১-১০০-এর স্কেল) সব দেশের আয়বৈষম্য পরিমাপ করা হয়েছে। এতে দেখা যায় যে জিনি সহগ অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সবকটি দেশ ও মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, থাইল্যান্ডের মতো উন্নয়নশীল দেশ এবং যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো উন্নত দেশের চেয়ে আমাদের দেশে আয়বৈষম্য কম। সুইডেন এখন অনেক পরিণত অর্থনীতির দেশ। ফলে সেখানে প্রবৃদ্ধির হার কম। দেশটি আমাদের মতো বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মতো প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে উন্নত হয়নি। নয়তো উন্নয়নশীল অবস্থায় সুইডেনের প্রবৃদ্ধি ও বৈষম্যের হিসাব কষে বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করা যেত। কিন্তু সম্প্রতি যেসব দেশেরই প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৈষম্য বেড়েছে। একে প্রবৃদ্ধির একধরনের বৈশিষ্ট্য বলা যেতে পারে। ফরাসি বামপন্থী অর্থনীতিবিদ থমাস পিকেটি তাঁর আলোড়ন সৃষ্টি করা বই ক্যাপিটাল ইন দ্য টোয়েন্টিথ সেঞ্চুরিতে ১০০ বছরের অর্থনৈতিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, উন্নত দেশগুলোতেও বৈষম্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছিল। তিনি দেখিয়েছেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রায় একই হারে আয়বৈষম্য কমেছে ও বেড়েছে। ১৯১০-১৯৭০/৮০ পর্যন্ত বৈষম্য কমেছে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত কেবল বাড়ছেই। পিকেটি বলেছেন, এই বৈষম্য আবার কমবেও। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বৈষম্য বাড়তে পারে বলে কি আমরা প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চাইব না? বিশ্বব্যাংকের ২০১৩ সালের সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ী, আফগানিস্তান (২৭.৮) ও সুইডেনের (২৫) আয়বৈষম্যের পার্থক্য অনেক কম। খালেদ সাহেবদের কাছে কি তাহলে বাংলাদেশের চেয়ে আফগানিস্তানের উন্নয়নই বেশি আকাঙ্ক্ষিত? আবার ২০১০-২০১৬ সালে আমাদের জিনি সহগ বেড়েছে ০.৩ (৩১.১ থেকে ৩১.৪)। অপরদিকে ২০১০-২০১৫ সালে সুইডেনের জিনি সহগ বেড়েছে ১.৫ (২৭.৭ থেকে ২৯.২)। সুতরাং, কোন দেশে বেশি হারে আয়বৈষম্য বাড়ছে? ইব্রাহিম খালেদ বারবার ভারতের উদাহরণ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯০-২০১৬ পর্যন্ত ভারতের আয়বৈষম্য বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে। এসবই সর্বশেষ উপলভ্য উপাত্ত। শ্রদ্ধেয় খালেদ এরপর লিখেছেন, 'সালমান এফ রহমান আরেকটি ধোঁয়াশা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, কর ছাড় প্রদানের জন্য বাংলাদেশের কর জিডিপি অনুপাত কম।' প্রথমত, আমাদের আয়কর-জিডিপি অনুপাত যে কম, তা আমরা স্বীকার করি। আমি ওই অনুষ্ঠানেই বলেছি যে এটি আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। দ্বিতীয়ত, আমি ওই কথা বলিনি। আমার আগে মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন যে বাংলাদেশে এখন অসংখ্য মেগা উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে। এসব প্রকল্প দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা কর ছাড় দিয়েছি। না হলে আমাদের কর-জিডিপি হার আরও বাড়ত। আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেছি যে এই কর ছাড় দেওয়া প্রয়োজনও ছিল। নয়তো এসব বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যেত। কর নিলে হয়তো কর-জিডিপি হার বাড়ত, কিন্তু নিট কর সংগ্রহ কমই রয়ে যেত। এ জন্য আমি আয়কর জালে আরও বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে বলেছি। ইব্রাহিম খালেদ জবাবে ভারতের উদাহরণ টেনে বলেছেন, ভারতে ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত আয়কর ছাড় দেওয়া হয়। প্রথমত, ভারতে এখন বাংলাদেশের মতো বাৎসরিক ২.৫ লাখ রুপির বেশি আয়ের ওপর ৫ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তিনি বলেছেন আয়করসীমা কমাতে। তিনি কি জানেন যে ডেনমার্কের মতো দেশে জাতীয় গড় আয়ের ১.৩ গুণ যাঁরা আয় করেন, তাঁদের ওপর ৫৫.৯ শতাংশ কর আরোপ করা হয়? অর্থাৎ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা যাঁদের বার্ষিক আয়, তাঁদের ওপর ৫৫.৯ শতাংশ করের কথা কি তিনি ভাবতে পারেন? তৃতীয়ত, তিনি বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের চেয়ে শিল্পায়নে বেশি কর ছাড় দেয়। এই তথ্যের সত্য-মিথ্যা জানি না, তবে আমি শিল্পায়নে কর ছাড়ের কথা বলিনি। অর্থমন্ত্রী মূলত বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের কথা বলেছিলেন। চতুর্থত, তিনি বলেছেন, ভারতের কর-জিডিপি হার ২০ শতাংশ, আর বাংলাদেশের নিচে। প্রকৃতপক্ষে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতের কর-জিডিপি হার ছিল ১০.৯ শতাংশ! আমাদের কাছে জনাব খালেদ 'সঠিক তথ্য' চেয়েছেন। এই প্রত্যাশা অবশ্যই যৌক্তিক। কিন্তু তিনি নিজে কি সঠিক তথ্য ও চিত্র তুলে ধরেছেন? আমরা সমালোচনা অপছন্দ করি না। কিন্তু কেবল সমালোচনা করতে হবে, সে জন্য সমালোচনা করাটাও অনভিপ্রেত। আমরা আশা করব যে বাংলাদেশের অগ্রগতির যথার্থ স্বীকৃতি দিতে কেউ কার্পণ্য করবেন না। উন্নত দেশে এখনো পরিণত হতে পারিনি বলে এই উন্নয়ন কোনো উন্নয়নই নয়, এই ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত ক্ষুদ্র মানসিকতার পরিচায়ক। অবশ্য আমি মনে করি, সমালোচনার জন্য হলেও আমাদের সঙ্গে যখন সুইডেন বা উন্নত দেশের তুলনা করা হয়, তখন এটি প্রকারান্তরে আমাদের সাফল্যেরই স্বীকৃতি। সালমান ফজলুর রহমান:সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা আরও পড়ুন: মন্ত্রী ও উপদেষ্টা কতটা সঠিক বলেছেন? | 8 |
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেছেন, আপনারা অবসর গ্রহনের পর নিজেরা সাধারণ নাগরিক হিসেবে যেমন পুলিশি সেবা পেতে চান ঠিক সে রকম সেবা এখন থেকেই মানুষকে দিন। মঙ্গলবার (২২ জুন) বিকালে পুলিশ সদরদপ্তরে শাপলা কনফারেন্স রুমে পুলিশের ৩৬টি ইউনিটের সাথে ২০২১-২২ অর্থ বছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অতিরিক্ত আইজি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত আইজি মো. মাজহারুল ইসলাম প্রমুখবক্তব্য রাখেন। আইজিপি বলেন, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আধুনিক প্রশাসনিক কৌশল। তিনি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দেশ এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃংখল রাখার মাধ্যমে রুল অব ল প্রতিষ্ঠা ও অ্যাকসেস টু জাস্টিস নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ। উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষে এপিএ একটি সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা, যা নির্দিষ্ট অর্থ বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। বাংলাদেশ পুলিশ ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের এপিএ চুক্তিতে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য দপ্তর ও সংস্থা সমূহের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। | 6 |
অমিতাভ রেজা চৌধুরী। বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ তিন মাস বিজ্ঞাপন নির্মাণ থেকে বিরত ছিলেন। সম্প্রতি আবারও বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তার। এ ছাড়া তার পরিচালিত নতুন ছবি 'রিকশাগার্ল' বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রর্দশনীর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে- অনেক দিন পর শুটিংয়ে ফিরলেন। কেমন লাগছে অনেক দিন পর কাজে ফিরে? কাজে ফেরা নিয়ে এখন পর্যন্ত উচ্ছ্বসিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রায় তিন মাস পর শুটিং করছি। নাটক, সিনেমা না, কাজ শুরু হয়েছে বিজ্ঞাপন দিয়ে। ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর এতে মডেল হয়েছেন। আগেও দেখেছি, ঊর্মিলা কাজের বিষয়ে বেশ সচেতন, এবারও তার প্রমাণ পেলাম। ঠিক যেভাবে বিজ্ঞাপনের গল্প তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে, ঊর্মিলা সেটাই করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। কাজ কীভাবে ভালো করা যায়- শুরু থেকেই তার ভাবনায় ছিল। কিন্তু এত কিছুর পর শুটিং ছিল বিরক্তিকর। বছরের পর বছর যে কাজটি করছেন, হঠাৎ সেই কাজের শুটিং বিরক্তকর মনে হলো কেন? যে কোনো কিছুতে নিয়মনীতির বোঝা চাপিয়ে দিলে, তা বহন করা কঠিন। করোনার কারণে কাজকর্মের যে নিয়ম-নীতি বেঁধে দেওয়া হয়েছে, সেটাই হয়ে গেছে যন্ত্রণার কারণ। তারপরও সবধরনের নিয়মনীতি মেনেই শুটিং করেছি। কিন্তু কাজের যে আনন্দ- তা কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। এভাবে কাজের চেয়ে আগামী ছয় মাস শুটিং না করে ঘরে বসে থাকলেই ভালো লাগত। কিন্তু সেটা সম্ভব না, কারণ আমার কাজের সঙ্গে আরও কিছু মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয় জড়িয়ে আছে। আপনার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র 'রিকশাগার্ল'-এর মুক্তি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে? ভাবনায় ছিল, এই বছর সিনেমাটি মুক্তি দেবো। তবে করোনার কারণে আপাতত সেই ভাবনা থেকে সরে এসেছি। এখন বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রর্দশনীর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। যেহেতু এর সিংহভাগ অংশ ইংরেজিতে নির্মিত। তাই আগে ছবিটি বিদেশে মুক্তি দেওয়া হবে। তারপর আগামী বছর দেশের দর্শকের জন্য ছবিটি মুক্তির সবরকম পরিকল্পনা নেওয়া হবে। 'রিকশাগার্ল' ছবির সাফল্য নিয়ে কতটা আশাবাদী? কমবেশি সবাই নিজের কাজ নিয়ে আশাবাদী থাকেন। কিন্তু সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভর করে দর্শকের ওপর। নৈর্ব্যক্তিক জায়গা থেকে যদি বলি, আমি সন্তুষ্ট। কারণ ছবির প্রত্যেক কলাকুশলী নিজের সর্বোচ্চ দিয়েছেন। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নভেরা চৌধুরী। এটি তার প্রথম সিনেমা। তার আন্তরিকতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা আমায় মুগ্ধ করেছে। অভিনেত্রী চম্পাও নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে হাজির হয়েছেন। এই সিনেমা আপনাকে নতুন কোনো অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে কি? অবশ্যই, প্রতিটি নির্মাণে নতুনভাবে কিছু না কিছু জানার সুযোগ থাকে। এ ছবিতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। 'রিকশাগার্ল' ছবির জন্য রিকশা পেইন্টিং নিয়ে অনেক পড়াশোনা করতে হয়েছে। সত্যি বলতে কি, আগে কখনও বিলুপ্তপ্রায় রিকশা পেইন্টিং নিয়ে অতটা জানার সুযোগ হয়নি। ছবির জন্য বিভিন্ন স্থানে গিয়ে অনেক রিকশা পেইন্টারের সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে। তখন নতুনভাবে এই পপ আর্ট সম্পর্কে অনেক কিছু জানার সুযোগ পেয়েছি। 'ঘরে বসে আয়নাবাজি' ওয়েব সিরিজের মতো কিছু ভাবছেন? আপাতত এই ধরনের কিছু নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। বাসায় বসে কিছু করার তাগিদ থেকেই 'ঘরে বসে আয়নাবাজি' নির্মাণ করেছিলাম। এর পেছনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছিল না। এই ওয়েব সিরিজকে তাই আপৎকালীন প্রযোজনা বলাই ভালো। বিশ্বজুড়ে করোনার যে মহামারি, তার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস ছিল। | 2 |
জমির নামজারি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। গতকাল শনিবার গাজীপুরে ভূমিসেবা ব্যবস্থার অটোমেশন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। গতকাল সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলনকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিকায়ন করতে কাজ করছে। মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, ভূমি নিয়ে হয়রানি বন্ধে সব কাজ অটোমেশন পদ্ধতিতে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।'মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, 'ভবিষ্যতে সাব-রেজিস্ট্রারের দপ্তরে জমি রেজিস্ট্রি হওয়ার পর দলিলের একটি কপি অনলাইনরে মাধ্যমে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে চলে যাবে। উক্ত দলিল পাওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমি নামজারির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। এতে করে জমির রেজিস্ট্রেশনকালে ও খারিজের সময় অনিয়ম ও হয়রানি কমবে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে।'কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস. এম. তরিকুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রার (আইজিআর) শহীদুল আলম ঝিনুক, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সব অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার, জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। | 6 |
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ফেনীর ছাগলনাইয়া ও পরশুরাম উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ছাগলনাইয়ার ২টি ও পরশুরামের একটি ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে বাকি ৫ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ২২ জন নির্বাচনে লড়ছেন। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ৮টি ইউনিয়নে ২৫১ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা পদে মোট ৫৬ জন নির্বাচনে প্রতিদন্ধিতা করছেন। ইতোমধ্যে বুধবার বিকেলে ছাগলনাইয়া উপজেলার ৩টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন করে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 6 |
নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুড়ি সদর ইউনিয়নের কয়েকটি হাওরের কয়েকশ একর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানিতে। অব্যাহতভাবে ঢলের পানি আসতে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই উপজেলার ২১ হাজার হেক্টর জমির ফসলই তলিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ সেন্টিমিটার। এ বিষয়ে খালিয়াজুরী কৃষি বিভাগ বলছে, ইতোমধ্যে ক্ষতি হয়েছে ১শ ১৩ হেক্টর জমির ধান। খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের কীর্তনখোলা হাওর, চুনাই হাওর, বাদিয়ারচর হাওর, টাকটারের হাওর, মনিজান হাওর, লেবরিয়া হাওর, হেমনগর হাওর চাকুয়া ইউনিয়নের গঙ্গবদও হাওর, নয়াখাল হাওর, গাজীপুর ইউনিয়নের বাগানী হাওর ও ডাকাতখালি হাওরের সব ধান তলিয়ে গেছে। খালিয়াজুরী কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ঢলের পানি প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। পানির এমন প্রবাহ থাকলে সপ্তাহখানের মধ্যেই ফসল রক্ষা বাঁধ উপচে খালিয়াজুরী উপজেলার সমস্ত বোরো ফসল তলিয়ে যাবে। এ উপজেলায় এবার ২১ হাজার ১শ ২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত জানান, ভারতের চেরাপুঞ্জি থেকে বৃষ্টির পানি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের যাদুকাটা ও সুরমা নদী দিয়ে খালিয়াজুড়ির ধনু নদীতে ঢল আকারে নামছে। ৩০ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত ধনু নদীর পানি বেড়েছে পৌনে ৬ ফুট। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে ৩ ফুট। তিনি আরো বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে আগামী কয়েকদিনও মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্ববাস রয়েছে। যদি সেখানে বৃষ্টি হয় তবে কয়েক দিনের মধ্যে সেই বৃষ্টির পানি এসে তা ধনু নদীতে বিপদসীমা অতিক্রম করবে। তিনি আরও বলেন, নেত্রকোণার হাওরে এবার ১৮৩ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ২৩ কোটি ৬ লাখ টাকার ব্যয় বরাদ্দের এ বাঁধ মজবুত হলেও অতিরিক্ত পানি বেড়ে উপচে পড়লে হাওরের বোরো ফসল রক্ষা কঠিন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট একটি নিয়মের উচ্চতায় প্রতি বছর হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এবারও নিয়ম অনুযায়ী, বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন অতিরিক্ত মাত্রায় পানি বেড়ে গেলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো বালু ভর্তি বস্তা দিয়ে পানি ঠেকিয়ে ফসল বাঁচাতে। আর ইতিমধ্যে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে সেসব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা মাধ্যমে সহায়তা দেয়া হবে।এবার জেলায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮ শ ২৮ হেক্টর জমিতে বোরো ফসলের চাষ করা হয়েছে। খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি অফিসার জসিম উদ্দিন জানান, আজ দুপুর পর্যন্ত ৫/৬ ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। দখিনা বাতাসে হাওরের পানি ধীরে ধীরে ফুলে উঠছে।এপর্যন্ত ডুবে যাওয়া মোট বোরো ফসলের ২৫ শতাংশ ফসল কৃষকরা তুলতে পেরেছে। | 6 |
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগর শহরে ডেঙ্গুর ভয়ে বিজেপির এক প্রার্থী মশারি টাঙিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। বলছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়া সত্ত্বেও তৃণমূল পরিচালিত পৌর কর্তৃপক্ষের ভ্রুক্ষেপ নেই। মশারি টাঙিয়ে প্রচারে নামা বিজেপি প্রার্থীর নাম গোপাল চৌবে। চন্দননগর পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী তিনি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) বিজেপি প্রার্থী গোপাল চৌবেকে মশারির ভেতর থেকে জনসাধারণের কাছে নির্বাচনী প্রচার করতে দেখা গেছে। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুড়শুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষসহ স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। গোপালের অভিনব কায়দায় নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে বিমান ঘোষ বলেন, করোনা মহামারির সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ উদাসীন। এলাকায় নর্দমার অবস্থা খুবই খারাপ। সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কারও করা হয় না। এ সমস্যা দূর করতে এলাকার মানুষের কাছে আবেদন করছি বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর জন্য। যদিও বিমানের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন চন্দননগর পুরসভার বিদায়ী মেয়র রাম চক্রবর্তী। তিনি বলেন, কোনও ইস্যু নেই। তাই এমন করছে। সারা বছর তাদের দেখা যায় না, এখন নির্বাচনের আগে চমক দিতে চাচ্ছেন। প্রচারে অভিনবত্ব দেখা গেছে চন্দননগরের অন্য ওয়ার্ডগুলোতে। ১৩ ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী শুভজিৎ সাউ প্রচার সেরেছেন এলাকায় স্যানিটাইজার স্প্রে করে। একই সঙ্গে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম প্রার্থী গোপাল শুক্ল ভোট প্রচারে গিয়ে বাড়ি বাড়ি স্যানিটাইজার স্প্রে করেছেন। রেড ভলান্টিয়াররা যেভাবে করোনাকালে কাজ করেছেন তাও নিজের প্রচারে তুলে ধরেন তিনি। | 3 |
সারাদেশের নিম্ন আদালতে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চলবে বৃহস্পতিবার থেকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালনা করা যাবে।বুধবার (১৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো.আলী আকবর এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করেছেন। সার্কুলারে বলা হয়েছে, উপযুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে আগামী ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত শারীরিক উপস্থিতি বাদ রেখে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে দেশের অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহ কর্তৃক 'তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন ২০২০' এবং এই কোর্ট কর্তৃক জারিকৃত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণপূর্বক সকল প্রকার দেওয়ানি ও ফৌজদারি দরখাস্ত/আপিল/রিভিশন/বিবিধ মামলাসহ সব শুনানি গ্রহণও (সাক্ষ্য গ্রহণ বাদে) নিষ্পত্তি করবেন। সার্কুলারে আরো বলা হয়, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক শারীরিক উপস্থিতিতে অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা যাবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনপূর্বক সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শারীরিক উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণপূর্বক সাকসেশন ও অভিভাবকত্ব নির্ধারণ বিষয়ক মামলা শুনানি ও নিষ্পত্তি করা যাবে। 'ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিগণ অধস্তন ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহে শারীরিক উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ আবেদন দাখিল করতে পারবেন। এক্ষেত্রে শুনানি কার্যক্রমের পদ্ধতি ও সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ ও সমন্বয় করতে হবে যাতে আদালত প্রাঙ্গণে এবং আদালত ভবনে জনসমাগম না ঘটে। আত্মসমর্পণ দরখাস্ত শারীরিক উপস্থিতিতে শুনানির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ছাড়া অন্য কোনো আইনজীবী এজলাস কক্ষে অবস্থান করবেন না। একটি আত্মসমর্পণের শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এজলাসকক্ষ ত্যাগ করার পর বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তী আত্মসমর্পণের দরখাস্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন।' সার্কুলারে বলা হয়েছে, অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে জামিন শুনানিকালে এবং মামলার অন্যান্য কার্যক্রমে হাজতি আসামিদের কারাগার থেকে প্রিজনভ্যান বা অন্য কোনোভাবে আদালতকক্ষে হাজির না করার নির্দেশ প্রদান করা হলো। হাজতি আসামির রিমান্ড শুনানির ক্ষেত্রে কারাগারে ভিডিও কনফারেন্সের লিংক প্রেরণ করে শুনানি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কারাগার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ভার্চুয়ালি দেখে রিমান্ড শুনানি করতে পারবেন। সার্কুলারে বলা হয়, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রত্যেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ স্বাস্থ্যবিবি অনুসরণপূর্বক শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন। | 6 |
নেপালের সিনিয়র নেতা ড. রাম সরেন মাহাতো বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে খুবই শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আজ শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিদেশি অতিথিদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/ ২২ অক্টোবর ২০১৬/ এনায়েত করিম | 6 |
মাগুরার শ্রীপুরে সাবেক ও বর্তমান ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে রেষারেষির জেরে রাজু শেখ (৩০) নামে এক যুবককে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের তখলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজু শেখ তখলপুর গ্রামের আক্তার শেখের ছেলেেএবং বর্তমান ইউপি সদস্যমকবুল হোসেনের সমর্থক। স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষসাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রউফেরলোকজন রাজু শেখের ওপর অতর্কিত হামলা করে কুড়াল দিয়ে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হলে পথিমধ্যে রাত সোয়া এগারটার দিকে তার মৃত্যু হয়। রাজু শেখের চাচা মুক্তার হোসেন সোমবার রাত ১২টার দিকে সমকালকে বলেন, প্রতিপক্ষের আবু দাউদ, ফারুক শেখ, খলিল শেখ, কাজী আবদুর রাশেদ, বেনজির শেখ রাজুকে মাথায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়েছে। তার মাথা থেকে মগজ বের হয়ে গিয়েছিল। তখলপুর গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রউফের সমর্থক জোয়ারদার আবু দাউদ, খলিল শেখ, ফারুক শেখ, কাজী আবদুর রাশেদ অতর্কিত হামলা চালিয়ে রাজুর মাথায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় রাজুর সঙ্গে থাকা আব্দুল হালিম মিয়া ও মাসুদ হোসেনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। বর্তমানে তারা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকদেব রায় সমকালকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সোমবার রাতেই তিন জনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন- জোয়ারদার আবু দাউদ, ফারুক শেখ, ও তরিকুল ইসলাম। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। | 6 |
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে আগের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে লড়াই করে হারলেও গতকাল জাপানের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে জাপানের বিপক্ষে স্বাগতিকেরা হেরেছে ৫-০ গোলে।এ নিয়ে তিন ম্যাচে মাঠে নেমে প্রতিটিতেই হারল বাংলাদেশ। আজ শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। ঘরের মাঠে জাপানকে ২০ মিনিট পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখে বাংলাদেশ। তবে পরের মিনিটে কেনতা তানাকার গোলে এগিয়ে যায় জাপান। এরপর আরও ৪ গোল করে তারা।এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে পাকিস্তান। | 6 |
উপকরণগাজর ১ কেজি, তরল দুধ ২ লিটার, চিনি ২ কাপ বা স্বাদমতো, ঘি ২ টেবিল চামচ, এলাচি ৬-৭টি, দারুচিনি ১ ইঞ্চি আকারের দুই টুকরো, পেস্তা, কাজু, কাঠবাদাম, কিশমিশ স্বাদমতো, গুঁড়োদুধ এক বাটি।প্রণালিএকটি পাত্রে তরল দুধ নিয়ে তাতে চিনি গুলিয়ে কুচি কুচি করে কাটা গাজর সেদ্ধ করে নিন। দুধ টেনে এলে বা শুকিয়ে গেলে গাজর ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এবার কড়াইয়ে এলাচি, দারুচিনি, বাদাম, কিশমিশ এগুলো ঘিয়ে ভেজে তাতে ব্লেন্ড করা গাজর ঢেলে ক্রমাগত নাড়তে নাড়তে মাখা মাখা করে নিন। এবার কিছুক্ষণ ঠান্ডা করে হাতের তালুতে ঘি মাখিয়ে গাজর নিয়ে গোল গোল করে লাড্ডু বানিয়ে সেগুলো গুঁড়োদুধের বাটিতে একটু গড়িয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন। | 6 |
অ্যাস্ট্রাজেনেকার কভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়ে ৩০ জনের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এ কথা জানিয়েছে। যা আগের দেওয়া তথ্যের চেয়ে ২৫ জন বেশি।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের মেডিসিন অ্যান্ড হেলথকেয়ার রেগুলেটরি এজেন্সি জানিয়েছে, ফাইজার-বায়োএনটেক-এর টিকা ব্যবহার করে এর আগে এমন কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।এর আগে বেশ কয়েকটি দেশ অক্সফোর্ডের টিকার বিষয়ে আপত্তি করে। শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার কথা সর্বপ্রথম বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে তখন যুক্তরাজ্য জানিয়েছিল, এই ভ্যাকসিনে তাদের দেশে এই ধরনের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।যুক্তরাজ্যের মেডিসিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গত ১৮ মার্চ প্রথমবারের মতো স্বীকার করে, তাদের দেশে ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ টিকা নিয়েছে। তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচ জনের রক্তা জমাট বাঁধার মতো ঘটনা ঘটেছে।তবে গতকাল বৃহস্পতিবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, টিকা নেওয়ার পর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে ২২ জনের। আর আট জনের শরীরে রক্ত জমাট বেঁধেছে। | 3 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থ ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে বৈশ্বিক অভিযোজন কর্মকান্ড কার্যকর হচ্ছে না। সোমবার (১ নভেম্বর) রাতে কপ২৬ অনুষ্ঠানে 'এ্যাকশন এন্ড সলিডারিটি- ক্রিটিক্যাল ডিকেড' শীর্ষক নেতাদের সভায় ভাষণে বলেন, অভিযোজন ও প্রশমনের জন্য উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই তাদের ৫০ : ৫০ বরাদ্দসহ বার্ষিক একশ' বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। খবর বাসসের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রতি উন্নত দেশগুলোর সমর্থন ও সহায়তা প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাগি এই সভার আয়োজন করেন। সিভিএফ (ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম) প্রেসিডেন্ট এবং গ্লোবাল সেন্টার অন এডাপটেশন'র দক্ষিণ এশিয়া অফিসের স্বাগতিক হিসেবে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় নেতৃত্বে অভিযোজন উন্নয়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে জানান, বাংলাদেশ এ বছর ৩ কোটি চারার রোপণ করেছে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে 'মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্লান' শুরু করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি উচ্চাভিলাসী ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি) পেশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার অভিযোজন উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণসহ জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার খসড়াও প্রণয়ন করেছে। | 6 |
আইপিএলে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানে সুরেশ রায়না ও বিরাট কোহলির মধ্যে ইঁদুর-বেড়াল খেলা চলছে। হিটম্যান খ্যাত রোহিত শর্মা তালিকার পরের স্থানে রয়েছেন। আর এই টুর্নামেন্টে এদের স্ট্রাইকরেটও অনেক। তবে মজার ব্যাপার স্ট্রোক ব্যাটসম্যান হিসেবে তাদের নাম থাকলেও আইপিএলের প্রথম ভারতীয় হিসেবে ২০০ ছক্কার রেকর্ড কিন্তু মহেন্দ্র সিং ধোনি গড়ে ফেলেছেন। রোববার রাতে এম চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ধোনি তার দল চেন্নাই সুপার কিংসকে প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন। তবে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২৬ রান লাগলে এক রানে হেরে যায় তার দল। ১৬২ রানের টার্গেটে ধোনি শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৫টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ধোনির আইপিএল ক্যারিয়ারে এটি আবার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এছাড়া ২০০ ছক্কার মাইলফলক গড়েছেন। যদিও সবমিলিয়ে আইপিএলে ছক্কা মারার রেকর্ডে ধোনি তৃতীয়। শীর্ষ দুটিস্থানে রয়েছেন ক্রিস গেইল (৩২৩) ও এবি ডি ভিলিয়ার্স (২০৪)। ধোনির বর্তমান ছক্কার সংখ্যা ২০৩। পরের দুটি অবস্থানের মধ্যে রোহিত শর্মা ও সুরেশ রায়না ১৯০ ও বিরাট কোহলি ১৮৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। এদিকে এদিন উমেশ যাদবের করা শেষ ওভারে ধোনি ২৪ রান তুলেছেন। এ নিয়ে আইপিএলে চতুর্থবারের মতো ২০তম ওভারে ২০ রানের বেশি তুললেন ধোনি। যা তার নতুন আরেকটি রেকর্ড। পরেই আছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান অধিনায়ক রোহিত। ইনিংসের শেষ ওভারে তিনবার বিশের বেশি রান তুলেছেন তিনি। | 12 |
প্রায় তিন দশক পর নতুন গান নিয়ে এল বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ব্যান্ড 'পিংক ফ্লয়েড'। 'হেই হেই রাইজআপ' শিরোনামের নতুন এই গানের মাধ্যমে রাশিয়ার হামলার শিকার ইউক্রেনের জনগণের প্রতি সংহতি জানায় রক ব্যান্ডটি।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ এপ্রিল) মধ্যরাতে পিংক ফ্লয়েডের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ করা হয়। পিংক ফ্লয়েডের এই গানে কালজয়ী সংগীতশিল্পী ডেভিড গিলমোর ও নিক ম্যাসনের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন যুদ্ধে আহত ইউক্রেনীয় শিল্পী আন্দ্রি খিলভনিউক।ডেভিড গিলমোর গণমাধ্যমকে বলেন, আন্দ্রি খিলভনিউক কিয়েভে প্রতিরক্ষা বাহিনীর হয়ে কাজ করছেন। ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার সময় তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি গান গাওয়ার ভিডিও পোস্ট করেন, যে ভিডিওতে ইউক্রেনের রাজধানী ছিল জনশূন্য। এই ভিডিও দেখেই পিংক ফ্লয়েড নতুন একটি গান তৈরির অনুপ্রেরণা পায়।কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের সামনে দাঁড়িয়ে আন্দ্রি খিলভনিউকের গাওয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একটি প্রতিবাদী গানের ভিডিও পিংক ফ্লয়েডের গানটিতে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। 'হেই হেই রাইজআপ' শিরোনামে গানটি লিখেছেন গিলমোর নিজেই। ব্যান্ডের বাকি সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে আন্দ্রি খিলভনিউককে দিয়েই গানটি গাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। যুদ্ধাহত আন্দ্রি এই গান রেকর্ড করে পাঠান বলে জানান গিলমোর।গিলমোরের পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা ইউক্রেনীয়। তিনি একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশের আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান। বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও গিটারিস্ট গিলমোর আরও বলেন, 'আমরা ইউক্রেনের সমর্থনে কথা বলতে চাই।'পিংক ফ্লয়েডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁদের যুদ্ধবিরোধী নতুন গানটি থেকে যা আয় হবে, তার পুরোটাই ইউক্রেনে মানবিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে গানটি শুনেছেন ২০ লাখের বেশি মানুষ।পিংক ফ্লয়েড সবশেষ ১৯৯৪ সালে 'দ্য ডিভিশন বেল' নামে গানের অ্যালবাম প্রকাশ করে। সে হিসেবে দীর্ঘ ২৮ বছর পর নতুন গান প্রকাশ করল বিশ্বখ্যাত এই ব্রিটিশ রক ব্যান্ড। | 2 |
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রায় এক দশক ধরে শিকলে বন্দি মানসিক প্রতিবন্ধী সাজেদুল ইসলাম (১৯)। তাড়াশ পৌর এলাকার সোলাপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের একমাত্র ছেলে। তিন সদস্যের সংসারে খাবারের চিন্তায় বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে একমাত্র প্রতিবন্ধী ছেলেটার পা শিকলে বেঁধে কাজে চলে যান বাবা-মা। আর কখনো রোদ পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে শিকলে বন্দি জীবন কাটে অসহায় সাজেদুলের। সাজেদুলের বাবা আব্দুস সামাদ জানান, অভাব অনটনের সংসারে একমাত্র ছেলের চিকিৎসার জন্য তারা স্থানীয়ভাবে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। কিন্ত কাজ হয়নি। তিনি বলেন, ভালভাবে চিকিৎসককে দেখালে হয়তো আমার ছেলেটি ভালও হয়ে যেতে পারে। দিনমজুরি করে কোনমতে চলি। চিকিৎসা করানোর সাধ্য আমাদের নাই। এদিকে, কয়েক মাস আগে সাজেদুলের বোন সালমা খাতুন (১১) মারা যাওয়ায় ওই পরিবারে কষ্ট আরো বেড়ে গেছে। আব্দুস সামাদ আক্ষেপ করে বলেন, আমার মেয়েটি মারা যাওয়ার পর এখন ছেলেটিই সম্বল। কেউ আমাদের একটু সাহায্য করলেই ছেলেটির চিকিৎসা করাতে পারি। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. আলাউদ্দিন বলেন, প্রতিবন্ধী সাজেদুলের ভাতার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে সমাজসেবার কার্যক্রমের আওতায় তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। | 6 |
পুলিশের আইজি ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, 'অ্যাভিয়েশন উইং চালুর ফলে বাংলাদেশ পুলিশ ত্রিমাত্রিক ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন করবে। বাংলাদেশ পুলিশের নবগঠিত অ্যাভিয়েশন উইং দুর্গম অঞ্চলে দ্রুত যোগাযোগ, গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি অভিযান এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।'পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আর্মি অ্যাভিয়েশন স্কুলের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। এ সময় আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাভিয়েশন উইং চালুর অনুমতি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।বেনজীর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের নবগঠিত অ্যাভিয়েশন উইংয়ের পাইলটদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে আর্মি অ্যাভিয়েশন স্কুল বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ করে সেনাবাহিনীর পেশাগত সুসম্পর্ক ও সহযোগিতা রয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়বে এবং সুসংহত হবে।নিরাপত্তাকে অক্সিজেনের সঙ্গে তুলনা করে আইজিপি বলেন, অক্সিজেন ছাড়া যেমন কোনো মানুষ বাঁচতে পারে না, তেমনি নিরাপত্তা ছাড়া একটি সমাজ বা রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। বাংলাদেশ পুলিশ দেশের ১৮ কোটি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত রয়েছে। দেশের প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজনে যখন যা করা দরকার, তা-ই করা হবে।মতবিনিময় সভায় আর্মি অ্যাভিয়েশন গ্রুপের গ্রুপ ক্যাপ্টেন মেজর জেনারেল আই কে এম মোস্তাহসিনুল বাকী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণার্থীরা অত্যন্ত আগ্রহ ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন। আশা করি, তাঁরা যোগ্য পাইলট হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবেন।আর্মি অ্যাভিয়েশন স্কুলে হেলিকপ্টার চালনায় বর্তমানে বিভিন্ন বাহিনীর দশজন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে চারজন বাংলাদেশ পুলিশের। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুলিশের প্রশিক্ষণার্থী এএসপি ফাতেমা তুজ জোহরা সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করতে সক্ষম হয়েছেন। পুলিশের চারজন প্রশিক্ষণার্থী এরই মধ্যে তাঁদের একক উড্ডয়ন সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তাঁরা পাইলট হিসেবে পুলিশের অ্যাভিয়েশন উইংয়ে যোগ দেবেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডিআইজি (লজিস্টিকস) মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী বক্তব্য দেন। প্রশিক্ষণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন সহকারী পুলিশ সুপার ফাতেমা তুজ জোহরা।পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাভিয়েশন উইংয়ের জন্য রাশিয়া থেকে দুটি আধুনিক হেলিকপ্টার ক্রয় বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। | 6 |
টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের (টিফ) সর্বোচ্চ পুরস্কার পিপল চয়েস জিতে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের সাদাকালো সিনেমা বেলফাস্ট। ৬০-এর দশকের উত্তাল সময়ে একটি বালক ও তাঁর শ্রমজীবী পরিবারের বাস্তব অভিজ্ঞতা পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে। বেলফাস্ট সিনেমাটি নির্মাতার জীবনের ঘটনা। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা কেনেথ ব্রানা। ১৮টি শাখায় পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সময় ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে টরন্টো উৎসবের পর্দা নামে। 'টরন্টোতে প্রথম প্রদর্শনী আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা।' পুরস্কার নিতে গিয়ে এভাবেই কথা বলা শুরু করেন কেনেথ ব্রানা। পুরস্কার হাতে এই সময় তিনি আরও বলে, 'এত সব কানাডীয় চলচ্চিত্রপ্রেমী যে বেলফাস্ট-এর সঙ্গে এত গভীরভাবে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন, এটাই আমাকে অভিভূত করেছে।' পাঁচবার মনোনয়ন পেয়ে একবারও অস্কার জিততে পারেননি কেনেথ ব্রানা। এ জন্য বিশেষভাবে এবার আলোচনায় রয়েছেন ব্রানা। অনেকেই মনে করছেন, টরন্টো থেকেই অস্কারের পূর্বাভাস পেলেন নির্মাতা। কারণ, গত ১০ বছরে এই উৎসবে পুরস্কার পাওয়া সিনেমাগুলোই অস্কার-দৌড়ে এগিয়ে থাকে। গত বছর নোমাডল্যান্ড এ বিভাগে পুরস্কার নিয়ে অস্কারে ছয়টি শাখায় মনোনয়ন পায়। তিনটি শাখায় অস্কার পুরস্কার জয় করে। সিনেমায় অভিনয় করেছেন জেমি ডরনান, ক্যাট্রিয়না বেলফে, সিয়ার এন হিন্ডস, কলিন মর্গান, জুডি ডেঞ্চ প্রমুখ। | 2 |
মঞ্চে উঠে দৃষ্টিটা ছড়িয়ে দিয়েছিলাম সামনে। সবাই উন্মুখ হয়ে আছে 'নাদিম গর্ডিমার স্মারক বক্তৃতা' শোনার জন্য। বছর তিনেক আগে কেপটাউনে যাওয়া ওই লক্ষ্যেই। অবশ্য একই সঙ্গে 'মানব সক্ষমতা ও উন্নয়ন পর্ষদ'-এর বার্ষিক সভায় আমন্ত্রিত হয়েছিলাম 'মাহবুবুল হক স্মারক ভাষণ' দেওয়ার জন্যও। সে বছর ওই পর্ষদের বার্ষিক সভারও স্থান ছিল কেপটাউন।'নাদিম গর্ডিমার স্মারক বক্তৃতা'র স্থান ছিল ১৫০ বছরের পুরোনো কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাট মিলনায়তন। ওপরে মাঝারি আকারের দুই সারি ঝাড়বাতি, মধ্যখানেরটি বিশালাকৃতি। নিচে ৭০০ আসন, ওপরে অর্ধচন্দ্রাকৃতি বেষ্টনীর মধ্যে আরও ৩০০ আসন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবিদ্বেষকালে ওই বেষ্টনীর মধ্যে বসত কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী। নিচের মূল আসনে বসার অধিকার ছিল শুধু শ্বেতাঙ্গদের। কত বছর আগের কথা? বেশি দিনের নয়-বড়জোর বছর তিরিশেক আগের কথা।মিলনায়তন উপচে পড়েছিল লোকে। উদ্যোক্তারা বলেছিলেন হাজারের বেশি লোক। কাছাকাছি তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্ররা এসেছিল। তার মধ্যে দুটো দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের, বিশেষত কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের জন্য। দলে দলে এসেছিল তারা। 'একবিংশ শতাব্দীর দক্ষিণ আফ্রিকা' কেমন হবে-তার রূপরেখা তারা জানতে চায়। এসেছিলেন রাজনীতিবিদ, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার লোকজন ও প্রচারমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। কে নেই সেখানে-সবাই উন্মুখ হয়ে ছিলেন ২০১৭ সালের নাদিম গর্ডিমার স্মারক বক্তৃতা শোনার জন্য।'মাতিয়ে দেবে, বুঝেছ,' বলেছিলেন কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ম্যাক্স প্রাইস। প্রায় চল্লিশ বছর আগে সতীর্থ ছিলাম আমরা কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। বক্তৃতার আগের রাতে ওর বাড়িতে নৈশভোজের আমন্ত্রণ ছিল। সেখানেই তার ওই 'মাতিয়ে দেওয়ার' উসকানি। আমি হেসে ফেলেছিলাম। 'মাতিয়ে দেব কী? আমি কি চটুল গানের গায়ক নাকি?' 'তাতিয়ে দেবে', দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের অন্যতম নেতা ম্যাক্স প্রাইস আমাকে তাতানোর চেষ্টা করেছিল। 'না পারলে ঠেঙিয়ে দেব'। তা আমাকে ঠ্যাঙানোর কথা ম্যাক্স বলতেই পারে।বলার শুরুতেই তাই এই বিশাল দর্শক-শ্রোতার দিকে দৃষ্টি বুলিয়ে নিয়েছিলাম। সামনের সারিগুলোয় বসেছিলেন ধনাঢ্য ক্ষমতাবান মানুষজন। যাঁদের পোশাকের চাকচিক্য আর চেহারার চেকনাই দেখলেই বোঝা যায়। তার মধ্যে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ দুই-ই ছিলেন। তারপরে অন্যরা। বেষ্টনীঘেরা সারিগুলোর সবাই প্রায় কৃষ্ণাঙ্গ। মনটা আমার কেমন করে উঠেছিল। তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকায় বদলালটা কী?বদলেছে অনেক কিছু। তবে ভালোর দিকে নয়, মন্দের দিকে। চূড়ান্ত অসমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের একটা অংশ রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার করে ফুলেফেঁপে উঠেছে। সাধারণ কৃষ্ণাঙ্গদের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। দুর্নীতি, লুটপাট ও শোষণের রাজনৈতিক অর্থনীতিতে সমাজ ডুবে যাচ্ছে। কৃষ্ণাঙ্গদের মুখে কোনো হাসি নেই-জীবনের জাঁতাকলে তাঁরা নিপিষ্ট। সাদা-কালো মিশ খায়নি। শহরের প্রান্তে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বসবাস। কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত জনপদে সাধারণ সেবাগুলোও নেই। অথচ ও জায়গা থেকে তিন মাইল এগোলেই মনে হবে, ইংল্যান্ডের এসেক্সের কোনো এলাকায় আছি।কেপটাউনের অদূরে সেই লাঙ্গা-দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে পুরোনো কৃষ্ণাঙ্গ জনপদ। ওই লাঙ্গা থেকেই তো দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সংগ্রামী মিছিল বেরিয়ে এসেছিল ১৯৮৯ সালে। শ্বেতাঙ্গ পুলিশের গুলিতে ২ ঘণ্টায় ১৩০০ লোক প্রাণ হারিয়েছিল। শুনেছি, সে লাঙ্গায় কোনো কৃষ্ণাঙ্গ ঢুকতে পারেন না। এমনকি আমার মতো বাদামি গাত্রবর্ণের লোকজনও। দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ পুলিশও সেখানে ঢুকতে ভয় পায়। একজন বলেছিলেন, ওখানের প্রধান খাদ্য সস্তা মদ-সকালে মদ, দুপুরে মদ, রাতে মদ। দাঙ্গা, বিবাদ ও সংঘর্ষ লাগার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।ততক্ষণে আমি আমার বক্তব্যের প্রথম লাইন পেয়ে গিয়েছিলাম। 'কে বলেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ নিঃশেষিত হয়েছে? বর্ণবাদ এ সমাজে এখনো আছে।' এ কথা উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ ১০০০ দর্শক-শ্রোতার সারা মিলনায়তন নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। একটা পিন পতনের শব্দও শোনা যাবে সেখানে। 'আপনাদের গাত্র-বর্ণভিত্তিক বর্ণবাদ তো যানইনি; বরং অর্থসম্পদের রংভিত্তিক এক বর্ণবাদ আপনারা সৃষ্টি করেছেন। ফলে সমাজে নতুন এক বিভাজন তৈরি হয়েছে।' সামনের সারিতে বসা গণ্যমান্যদের মাঝে একধরনের অস্বস্তি আমি টের পাই। তাঁরা নড়েচড়ে বসছেন। খুব সুখকর নয় ব্যাপারটি তাঁদের জন্য।কিন্তু আমি থামি না। রাস্তাঘাটে দেখা আমার পর্যবেক্ষণ, বর্তমান দক্ষিণ আফ্রিকার পরিস্থিতি, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আমি আমার যুক্তিকে ধারালো করি, আমার বিশ্লেষণকে শাণিত করি এবং আমার উপসংহারকে দুর্ভেদ্য করি। 'এটা ২০১৭ সাল। তাকিয়ে দেখুন, কারা বসে আছেন ওই বেষ্টনীঘেরা আসনগুলোয়।' টের পাই, রুদ্ধশ্বাসে শুনছেন আমার কথাগুলো ওখানে বসা শ্রোতা-দর্শক।মাদিবার স্বপ্নের কথা বলি। উল্লেখ করি অনতিদূরের রবেন দ্বীপের কথা, যেখানে ওই মানুষটি জীবনের ২৬ বছর বন্দিজীবন কাটিয়েছেন একটি খুপরিতে। কেন? কী স্বপ্ন ছিল তাঁর? শ্বেতাঙ্গ কর্তৃক নিপীড়নকে তিনি কি রূপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন একটি কৃষ্ণাঙ্গচালিত নিপীড়নে? না, তা তিনি চাননি। তিনি চেয়েছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার নিপীড়িত মানুষের মুক্তি। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে অসমবিত্তের দুটো শ্রেণি আপনারা সৃষ্টি করছেন এবং এ বিভাজন আপনারা বিস্তৃত করছেন। এভাবে চললে আপনারা একবিংশ শতাব্দীতে নয়, আপনারা ঊনবিংশ শতাব্দীতে ফেরত যাবেন।' এক অশনিসংকেতের কথা বলে বক্তব্য শেষ করি।বক্তব্য শেষে সারা মিলনায়তন দুই সেকেন্ড নিশ্চুপ। বুঝতে পারি, আবেগ সামলাচ্ছেন দর্শক-শ্রোতা। তারপর সারা মিলনায়তন উদ্বেলিত হয়ে পড়ে। দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন সবাই। এটা আমি আশা করিনি। লাফ দিয়ে মঞ্চে চলে এসেছিল ম্যাক্স। উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে বলেছিল, 'ফাটিয়ে দিয়েছ হে।' যাক বাবা, ঠ্যাঙানোর হাত থেকে সে যাত্রা বেঁচেছিলাম। কিন্তু আমি নিচুস্বরে ওকে বলেছিলাম: 'আমি কিছুই ফাটাইনি। তোমরা একটা তাজা বোমার ওপর বসে আছ। এটাই এক দিন ফাটাবে তোমাদের।'ওপরের বেষ্টনী থেকে দলে দলে নানা বয়সের মানুষ এগিয়ে এসেছিলেন। হাত ধরে, কথা বলে, জানতে চেয়েছিলেন বহু কিছু। একটু বয়স্ক যাঁরা, তাঁরা তাঁদের আশাভঙ্গের কথা বলেছিলেন।সংগ্রামের দিনগুলো স্মরণ করেছিলেন। হারানো সাথিদের কথা বলেছিলেন। অনেকের চোখে জল। অনেকে আবেগ সামলাতে চেষ্টা করছিলেন। কোথায় যেন তাঁদের সঙ্গে মেলাতে পারছিলাম।কোন জায়গায় যেন সুতোর গাঁটছড়া বাঁধা দেখতে পেয়েছিলাম। বুঝতে পেরেছিলাম, একই রকম পথ পেরিয়েই আমরা এসেছি।তরুণেরা বলেছিলেন, পরের দিন নিয়ে যাবেন লাঙ্গায় কৃষ্ণাঙ্গ জনপদে। যাব, নিশ্চয়ই যাব। এত দূর এসে তীর্থস্থলে না গেলে কি চলে? লাঙ্গায় যাওয়া! সে এক অন্য গল্প।লেখক: ভূতপূর্ব পরিচালক, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য বিমোচন বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র | 8 |
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, 'শেখ হাসিনার কাছে ধনী-দরিদ্রের কোন ব্যবধান নেই। তিনি মনে করেন এ দেশ কুলি-মজুর-চাষি, ধনী-দরিদ্র সকলের দেশ। এ দেশের মানুষের প্রতি মমত্ব শেখ হাসিনা যেভাবে লালন ও ধারণ করেন, এটা অতীতে কেউ পারেনি। তার অনুভূতিতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক। সেজন্য তার সরকারের পক্ষ থেকে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিটি নাগরিকের জন্য রাষ্ট্র তার অনিবার্য দায়িত্ব পালন করছে।' আজ বৃহস্পতিবার সকালে পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত উপজেলায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় সকলকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী। 'পিরোজপুরে অক্সিজেন সংকট যাতে দেখা না দেয় সেজন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন রিজার্ভের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অগ্রাধিকারভিত্তিতে পিরোজপুরের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিভিন্নভাবে উন্নত করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করি পিরোজপুরের মানুষকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে হবে না' বলেও জানান শ ম রেজাউল করিম। পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশির আহমেদের সভাপতি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান, পিরোজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমল চন্দ্র মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক গোপাল বসু, জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি ফারুক আব্দুল্লাহ, জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে পিরোজপুর সদর উপজেলায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট ৬৭৫ জন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সরকারের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক, অটোচালক, নরসুন্দর, সুইপার, ধোপা, হোটেল শ্রমিক এবং দোকান কর্মচারিদের মাঝে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 9 |
ভারতের গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আজ বুধবার সকালে নিজেই এক টুইট বার্তায় এই তথ্য জানান। আপাতত বাড়ি থেকেই তিনি তার দপ্তরের কাজ চালাবেন বলে জানিয়েছেন। এদিন সকালে ৪৭ বছর বয়সী সাওয়ান্ত জানান 'আমি সকলকে জানাতে চাই যে, আমার শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়েছে। আমি অ্যাসিম্পটোম্যাটিক (উপসর্গ হীন), তাই হাম আইসোলেশনে নিজেকে বন্দি রাখছি। আমি বাড়ি থেকেই কাজ চালিয়ে যাবো। যারা আমার সংস্পর্শে এসেছেন তাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে অনুরোধ করছি।' উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী মঙ্গলবার পর্যন্ত গোটা ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লাখের কাছাকাছি। আর মৃত্যু হয়েছে ৬৬ হাজার ৩৩৩ জনের। গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৩৫৭ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৪৫ জনের। বিডি প্রতিদিন/ আবু জাফর | 4 |
মহিউদ্দিন চৌধুরী বেঁচে থাকতে তাঁর সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল না সাংসদ এম এ লতিফের। লালদীঘি মাঠের জনসভায় হাজারো মানুষের সামনে লতিফের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করার অভিযোগ এনে লতিফের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তুলেছিলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি মহিউদ্দিন। তাঁর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের চশমা হিলে প্রয়াত নেতার বাসভবনে মেজবান অনুষ্ঠানে মহিউদ্দীনের প্রশংসা করার পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগের আলোচিত এই সাংসদ। মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।গতকাল চশমা হিলের বাসভবনে মহিউদ্দিন চৌধুরীর দুই ছেলের সঙ্গে খোশগল্প করেছেন সাংসদ লতিফ। রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। এ সময় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের অনেক নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের সাংসদ লতিফ বলেন, 'মহিউদ্দিন ভাই মারা যাওয়ার পর তাঁর বাসায় এসেছি, জানাজায়ও গিয়েছি। তাঁর দুই ছেলে উচ্চশিক্ষিত। কারও সঙ্গে তাঁরা খারাপ আচরণ করেন না। যাদের জ্ঞানের গভীরতা কম, তারাই মানুষকে খাটো করে। চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছিরের সঙ্গে এই সাংসদের ঘনিষ্ঠতা ছিল। দুজনের সম্পর্ক এখন আর আগের মতো নেই বলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লতিফ বলেন, 'তাঁর (মেয়র) সঙ্গে দূরত্ব তৈরির কারণ আমার কাছে পরিষ্কার নয়। হয়তো তিনি ভালো বলতে পারবেন। ব্যক্তিগত কারণে কেউ যদি দূরত্ব তৈরি করে তার দায় আমার নয়।'২১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম সফর করবেন। কিন্তু তাঁর জনসভা হবে নগরের পাশের পটিয়া উপজেলায়। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা পটিয়ায় চলে যাওয়ায় চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের নেতাদের ওপর সাংসদ লতিফ ক্ষুব্ধ। অবশ্য তিনি নিজেও নগরের সাংসদ।সাংসদের করা মন্তব্যের বিষয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে মেয়রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, 'মহিউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর (লতিফ) দূরত্ব ছিল। কিন্তু রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। মেয়রের সঙ্গে দূরত্ব কেন সৃষ্টি হয়েছে তা তিনিই (সাংসদ) ভালো জানেন।'গতকাল চশমা হিলের বাসায় সাংসদ লতিফের পাশে বসেছিলেন চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'আফছারুল আমীনের (নগরের সাংসদ) জন্য এমপি লতিফের সঙ্গে মহিউদ্দিন চৌধুরীর দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ২০০৯ সালে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল নিয়ে মূলত ঝামেলা হয়েছিল। কিন্তু এতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কোনো স্বার্থ ছিল না। ফরিদ বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর জীবদ্দশায় সাংসদ লতিফ ভুল স্বীকার করে নিলে নতুন সম্পর্ক আরও সুন্দর হতো। সাংসদ লতিফকে নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগে মেরুকরণ হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, কোনো মেরুকরণে তিনি নেই। সামনে নির্বাচন। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে হবে। নৌকা যিনি পাবেন, তাঁর পক্ষে সবাই থাকবে। কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। এদিকে পটিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাসমাবেশের আয়োজনের বিষয়ে সাংসদ লতিফ বলেন, 'এই মহাসমাবেশ চট্টগ্রাম শহরে হতে পারত। আমরা যারা নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি, এটা আমাদের ব্যর্থতা। মহিউদ্দিন ভাই বেঁচে থাকলে চট্টগ্রাম শহরেই মহাসমাবেশ হতো। তাঁর অনুপস্থিতি এখন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ ভোগ করছে।' | 9 |
বিশ্বকাপে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নটা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে টাইগারদের জন্য। ম্যাচ হারলেও লড়াকু মনোভাবের জন্য বিশ্ব মিডিয়ায় আবারও প্রসংশিত হয়েছে বাংলাদেশ। অনেক সাবেক ক্রিকেটার বাংলাদেশের রান তাড়া করার চেষ্টাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে বাংলাদেশ দলের সেমিফাইনালে খেলার আশা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বাকি তিন ম্যাচ জিতলেও কাগজ-কলমের হিসেবে এখনো সেই সম্ভবনা টিকে রয়েছে। টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও এখনো হাল ছাড়েননি। তিনি বলেছেন, 'আমি এখনও মনে করি আমাদের সেমিফাইনালের আশা শেষ হয়ে যায়নি। অনেক কিছুই হতে পারে। আমাদের তিন ম্যাচ এখনো বাকি আছে। আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। তবে কাজটি আমাদের জন্য কঠিন হবে। তিনটি ম্যাচ জেতার পরই দেখা যাবে কী অবস্থা। আমাদের জন্য এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো বাকি তিনটি ম্যাচ একটি একটি করে এগোনো এবং জেতা।' তবে মাশরাফির মতো ওপেনার তামিম ইকবালও মনে করেন সেমিফাইনালের আশা বাংলাদেশের এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তামিম বলেন, 'এখনও সুযোগ আছে আমাদের। দলের সবার একটাই লক্ষ্য যে তিন ম্যাচ জিতলে যে সুযোগ আসবে সেটা কাজে লাগানো। যখন সেমিফাইনালের শেষ হয়ে যাবে তখন পঞ্চম স্থানের কথা ভাববো।' উল্লেখ্য, আগামী সোমবার (২৪ জুন) পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। | 12 |
পদ্মা সেতু প্রকল্পের জাজিরা প্রান্তে বসানো শুরু হয়েছে রোডওয়ে স্ল্যাব। মঙ্গলবার ৪১ ও ৪২ নম্বর খুঁটির ওপর ২ মিটার প্রস্থ ও ২২ মিটার
দৈর্ঘ্যের স্ল্যাব বসানো শুরু হয়। এদিকে বৃহস্পতিবার জাজিরা
প্রান্তে পদ্মা সেতুর ৩৪ ও ৩৫ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হবে ১৫০ মিটার
দৈর্ঘ্যের '৬-ডি' নম্বরের নবম স্প্যান। তাই মঙ্গলবার দিনভর প্রকল্প
এলাকায় দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে একই প্রান্তে শুরু হয় রেলওয়ে বক্স স্ল্যাব
বসানোর কাজ। এরই মধ্যে ২ মিটার প্রস্থ ও ২২ মিটার দৈর্ঘ্যের ১১৫টি রেলওয়ে
স্ল্যাব জাজিরা প্রান্তের স্প্যানগুলোর মধ্যে বসানো হয়েছে। প্রকল্প সংশ্নিষ্টরা জানান, বুধবার থেকে রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ
অব্যাহত থাকবে। ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্প্যানে ৭৪টি রোডওয়ে স্ল্যাব
বসানো হবে। এসব স্ল্যাব বহন ও নির্ধারিত স্থানে বসানোর জন্য পৃথক ক্রেন
রয়েছে। জাজিরা ও মাওয়া প্রান্তে মোট দুই হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো
হবে বলে সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল পদ্মা সেতু ৪২টি খুঁটির ওপর
নির্মিত হবে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি। আর
৪২টি খুঁটির ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। এর মধ্যে ৪০টি খুঁটি থাকবে পানিতে আর
ডাঙায় থাকবে দুটি খুঁটি। ডাঙায় থাকা দুটি খুঁটি সংযোগ সড়কের সঙ্গে মূল
সেতুকে যুক্ত করবে। পদ্মা সেতুর পুরোটাই নির্মিত হবে স্টিল ও কংক্রিট
স্ট্রাকচারে। সেতুর ওপরে থাকবে কংক্রিটিং ঢালাইয়ের চার লেনের মহাসড়ক আর তার
নিচ দিয়ে যাবে রেললাইন। | 6 |
অভিনয় কি কমিয়ে দিলেন? এখন আমি কৃষিকাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। আগামী পয়লা বৈশাখে আমার কৃষিপণ্যের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। প্রতিষ্ঠানের লোগো উন্মোচনও হবে। এর মধ্যে সিনেমা নিয়ে ভাবছি। কী ভাবছেন? সরকারি অনুদান পেতে একটি ছবির চিত্রনাট্য জমা দিয়েছি। আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে ছবিটি তৈরি হবে। এই ছবির জন্য একধরনের কঠিন প্রস্তুতিও আছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালু করলেন কবে? কী নাম? বেশ কিছুদিন আগে। এখনই প্রযোজনা সংস্থার নাম বলতে চাই না। যদি অনুদান পাই, তখন ঘটা করে প্রতিষ্ঠানের নামটা বলতে চাই। এই প্রতিষ্ঠান থেকে নাটক বানানো হবে কি? নাটক বানানো নিয়ে আমার কোনো পরিকল্পনা নেই। আমার প্রতিষ্ঠান থেকে ডিজিটাল প্রিন্টিং, ইভেন্টের কাজ করছিলাম। কিছুদিন ধরে ভাবলাম, ছবিও বানাব। দুটি সিনেমা ডিস্ট্রিবিউটর করার প্রক্রিয়াও চলছে। চূড়ান্ত হলে তাও বলতে পারব। হঠাৎ সিনেমার প্রযোজক এবং পরিবেশক হতে চাইলেন কেন? আমি আসলে আমার ইচ্ছার মধ্যে বেঁচে থাকতে চাই। নিজের ভালো লাগার কাজ করতে হলে নিজের একটা প্রতিষ্ঠান থাকা জরুরি মনে করেছি। কারণ, নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থাকলে মনের মতো সিনেমা বানানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অসাধারণ কিছু ছবির পরিবেশনাও করতে চাই। দ্রুত এসব ঠিক করে ফেলতে পারলে অভিনয় মন দিয়ে করতে পারব। সরকারি অনুদান না পেলে ছবি বানাবেন কি? নিশ্চয় বানাব, কেন নয়। অনুদান পেলে এই যাত্রায় কিছুটা এগিয়ে যাব, এই আরকি। তা না হলে ভিন্নভাবে ভাবতে হবে। বিনিয়োগকারী খুঁজতে হবে। তখন কাজটা একটু পিছিয়ে যাবে। তাই এই মুহূর্তে অভিনয়ের চেয়ে কৃষিতে মনোযোগ দিচ্ছি। এরই মধ্যে বেচাকেনা শুরুও হচ্ছে। কৃষির দিকে ঝুঁকলেন, অভিনয়ের কী হবে? এটা খুবই অযৌক্তিক প্রশ্ন। অভিনয়ের সঙ্গে কৃষির কোনো বিরোধিতা নেই। বিরোধিতা বলিনি। অভিনয় এবং কৃষি দুটোকে সমন্বয় করবেন কীভাবে? বুঝতে পারছি। এই প্রশ্নটার সম্মুখীন আমাকে হরহামেশাই হতে হচ্ছে। অনেকে এ-ও বলেন, আরে, জ্যোতি তো অভিনয় ছেড়ে দিয়েছে। কৃষিকাজ করছে। সবাইকে বলতে চাই, অভিনয়ের পর যে সময়টা থাকে, তখনই কৃষিতে মনোযোগ দিয়েছি। যেহেতু গ্রাম এবং কৃষির প্রতি আগে থেকে আগ্রহ, তাই করোনার সময় কৃষি নিয়ে ভেবেছি। এই কাজে আমার সঙ্গে ভাইয়েরাও যুক্ত হয়েছেন। কোন কোন পণ্য নিয়ে কাজ করছেন? প্রাকৃতিক এবং অরগানিক পণ্য নিয়ে বেশি কাজ করছি। নদীর মাছ, দেশি হাঁস-মুরগি, হাঁসের ডিম, দেশি নানা সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে কাজ করছি। কোনো হাইব্রিড কিছু নিয়ে ভাবছি না। কারণ, আমি মনে করি, আমার দেশের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে ন্যাচারাল সবই ভালো। করোনার মধ্যেই এই পরিকল্পনা মাথায় এসেছে, তাই মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যাপারটা নিয়েও ভাবছি। খাঁটি পণ্য আউটসোর্সিং করছি। দেশি সব ধরনের মৌসুমি ফলও থাকবে। এত বড় পরিসরে মাছ চাষ করতে পুকুর লাগে। আপনার কি নিজের পুকুর আছে? না। আমরা নদীর মাছ নিয়ে ভাবছি। সবজি আমার নিজের জমিতে চাষাবাদ করছি। শুধু মাছের জন্য একটা নদী লিজ নিয়েছি। গৌরীপুরের জলবুরুঙ্গা নদীর মাছের সুনাম আছে। এই নদীর মাছের স্বাদই আলাদা। বোয়াল তো বিখ্যাত। নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয়ের ব্যাপারে কারও সঙ্গে আলাপ হয়েছে? সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছি। রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত ছবির পরে আমি সিনেমায় অভিনয় নিয়ে অনেক বেশি ভাবছি। এখন আমার পছন্দের বাইরে কোনো কাজ করব না। বিয়েশাদি করবেন কবে? বাসা থেকে বিয়ের কথা বলতে বলতে ক্লান্ত। আমার এই মুহূর্তে ইচ্ছা নেই। তবে পছন্দসই পাত্র পেলে বিয়ে করব। কেমন পাত্র প্রত্যাশা করেন? আমার কাজের সহযোগী হতে হবে। কাজের পাশাপাশি আমার প্রতিও সম্মান থাকতে হবে। | 2 |
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ ভারতের অকৃত্রিম বন্ধু, সহযোগী এবং হিতাকাক্সক্ষী। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে লেখা এক চিঠিতে এসব কথা বলেন তিনি। খবর বাসসের প্রণব মুখার্জী বলেন, তার সৌভাগ্য মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন এবং সেই সম্পর্ককে উত্তরোত্তর গভীরতার মধ্যে নিয়ে যাওয়াই ছিল তার প্রয়াস। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় ড. মোমেনের প্রশংসা করে ভারতের সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মনোনয়ন নিঃস্বন্দেহে যোগ্যতা, নিষ্ঠা এবং কর্ম দক্ষতার পরিচায়ক। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাই সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল বলেও প্রণব মুখার্জী উল্লেখ করেন চিঠিতে। চিঠিতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে তার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। | 6 |
চায়নাতে তিন বছরের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে পাঠানোর জন্য এ্যাক্রোবেটিক শিল্পীদের বয়স নিরপেক্ষভাবে স্ক্যানিং করে একটি দল গঠন করে মন্ত্রণালয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানোর জন্য সুপারিশ করেছে একাদশ জাতীয় সংসদের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন (রিমি) এর সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে কমিটির সদস্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, আসাদুজ্জামান নূর, অসীম কুমার উকিল এবং সুবর্ণা মুস্তাফা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, তাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম দেশে বিদেশে সুচারুভাবে তুলে ধরা এবং সর্বোপরি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকে আরও যুগোপযোগী ও গতিশীল করার জন্য দেশের ৭টি নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সস্টিটিউটগুলোকে একীভূত করে একটি আলাদা অধিদপ্তর তৈরির কাজ চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া পাহাড়ীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য তাদের তৈরি পণ্য সামগ্রী কিভাবে বাজারজাত করা যায় এবং বিদেশে বিপণন করা যায় সে সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পনা প্রস্তাব পাঠানের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে নেত্রকোণার বিরিশিরিতে অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমিকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন ও তাদের অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিষয়ক গ্রন্থের সমন্বয়ে একটি বইমেলা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে ৬৪টি জেলার শিল্পকলা একাডেমির বর্তমান অবস্থা বিষয়ে অবহিত করা হয় এবং একাডেমির উপজেলা পর্যায়ে জনবল নিয়োগ সম্পর্কে বিগত বৈঠকে গৃহিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। | 6 |
এটা তো আর অজানা নয়, ফুটবল দলগুলোর সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকে কোচদের। দলগুলোর সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে তাঁদের কৌশল ও পরিকল্পনার ওপর। এমনকি খেলোয়াড় কিনতেও স্বতন্ত্র কৌশল অবলম্বন করেন কোচরা। ইয়ুর্গেন ক্লপের মতো কোনো কোনো কোচ কম খরচে দল গোছাতে অভ্যস্ত হলেও পেপ গার্দিওলার মতো কোচ আবার খরচ করেন হাত খুলে। তাঁদের পুরো ক্যারিয়ার হিসাবে নিলে খরুচে কোচের তালিকায় আছেন জোসে মরিনহোর মতো সময়ের অন্যতম সেরা কোচরাও। পেপ গার্দিওলা১২৪৩৬ কোটি টাকাকারও কারও চোখে এই সময়ের সেরা কোচ পেপ গার্দিওলা। দলীয় সাফল্যের দিকে চোখ রাখলেও এর সত্যতা মিলবে। তবে শুধু মাঠের সাফল্যেই নয়, খরচের দিক থেকেও কেউ গার্দিওলার আশপাশে নেই।ম্যানসিটিকে ইউরোপের দাপুটে দল হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে বিপুল অর্থ খরচ করেছেন গার্দিওলা। এই স্প্যানিশ কোচ ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে খরচ করেছেন ১২৪৩৬ কোটি টাকা। গত মৌসুমে জ্যাক গ্রিলিশকে ১১৭.৫ মিলিয়ন ইউরোতে অ্যাস্টন ভিলা থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে নিয়ে আসেন গার্দিওলা।তাঁর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলবদলটি অবশ্য বার্সেলোনায়। ২০০৯ সালে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে ৬৯.৫ মিলিয়ন ইউরোতে বার্সায় নিয়ে এসেছিলেন তিনি।হোসে মরিনহো৯৭৭৪ কোটিফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত কোচদের অন্যতম হোসে মরিনহো। ঝাঁজাল প্রতিক্রিয়া আর মাঠের সাফল্য দিয়েই পরিচিত এই পর্তুগিজ কোচ। তবে খেলোয়াড় কেনার পেছনেও দেদার খরচ করে অভ্যস্ত মরিনহো। কোচ হিসেবে দারুণ সব দলবদলের সাক্ষী হয়েছেন দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা পর্তুগিজ কোচ। ১০৫ মিলিয়ন ইউরোতে পল পগবাকে ম্যানইউতে নিয়ে আসা ছিল তাঁর অধীন হওয়া সবচেয়ে বড় দলবদল। রোমেলু লুকাকুর পেছনে তাঁর দল খরচ করেছে ৮৪.৭ মিলিয়ন ইউরো। অন্যদের মধ্যে ফ্রেডের পেছনে মরিনহোর অধীন ম্যানইউ খরচ করে ৫৯ মিলিয়ন ইউরো। আর মাতিচকে কিনতে খরচ ৪৪.৭ মিলিয়ন ইউরো। মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি৮৯৭২ কোটিগত দশকে জুভেন্টাসকে ইউরোপের অন্যতম সেরা দল হিসেবে প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা আছে মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির। সেই লক্ষ্যে খরচও অবশ্য কম করেননি এই ইতালিয়ান কোচ। ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে আসার ক্ষেত্রে দারুণ মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। তবে অর্থের হিসাবেও অন্য অনেক কোচকে পেছনে ফেলেছেন আলেগ্রি। দলবদলে তাঁর খরচ ৮৯৭২ কোটি টাকা। আলিগ্রির অধীন হওয়া সবচেয়ে বড় অঙ্কের দলবদলটি ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। 'সিআর সেভেন'-এর পেছনে ১১৭ কোটি ইউরো খরচ করেছেন এই ইতালিয়ান কোচ। গঞ্জালো হিগুয়েনকে নাপোলি থেকে আনতে তিনি ব্যয় করেছেন ৯০ মিলিয়ন ইউরো। দিয়েগো সিমিওনে৮৮৩৫ কোটি'আন্ডারডগ' আতলেতিকো মাদ্রিদকে নিজেদের ইতিহাসের সেরা সময় উপহার দিয়েছেন দিয়েগো সিমিওনে। স্প্যানিশ লিগে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার দাপটেও ফাটল ধরিয়েছেন তিনি। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে বড় অঙ্কের অর্থ খরচেও পিছপা হন না এই আর্জেন্টাইন কোচ। সব মিলিয়ে সিমিওনে খরচ করেছেন ৮৮৩৫ কোটি টাকা। সিমিওনের হাত ধরেই গত কয়েক বছরে দেখা গেছে বড় অঙ্কের বেশ কিছু দলবদল। যেখানে ১২৭.২ মিলিয়ন ইউরোতে জোয়াও ফেলিক্সকে আনার ঘটনাও আছে। ৭২ মিলিয়ন ইউরোতে থমাস লেমার, ৬০ মিলিয়ন ইউরোতে ডিয়েগো কস্তা এবং ৫৪ মিলিয়ন ইউরোতে আতোয়াঁন গ্রিজমানকে দলে ভিড়িয়েছেন তিনি। আন্তোনিও কন্তে৮৬২৫ কোটি টাকাআধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা কোচদের একজন আন্তোনিও কন্তে। সাফল্যের নিরিখেও ওপরের দিকে থাকবে কন্তের নাম। বর্তমানে টটেনহামের কোচের দায়িত্বে থাকা কন্তে নিজের পছন্দের খেলোয়াড়দের নিয়েই সাজাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বড় অঙ্কের খরচেও কুণ্ঠিত হন না এই ইতালিয়ান কোচ। কন্তের বড় অঙ্কের সাইনিংয়ের তালিকায় আছে আলভারো মোরাতা, রোমেলু লুকাকু এবং আশরাফ হাকিমির নামও। চেলসিতে থাকতে মোরাতাকে কিনেছিলেন ৬৬ মিলিয়ন ইউরোতে। ইন্টার মিলানে লুকাকুর জন্য তাঁর দলের খরচ ছিল ৭৪ মিলিয়ন ইউরো। আর ইন্টারে আশরাফ হাকিমির পেছনে তাঁর খরচ ছিল ৪৩ মিলিয়ন ইউরো। | 6 |
এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। এতে ব্যবসায়ীরা সমস্যার মধ্যে পড়বে বলে মত দিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেছে, সামনে আরও কমবে। তেলের দাম ডলারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত এবং বাংলাদেশের বাজারে তেলের দাম কমানো দরকার।'আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে এফবিসিসিআই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।একবারে তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল না উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমাদের দেশে কোনো জিনিসের দাম একবার বাড়লে আর কমানোর ঠিক থাকে না। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, তেলের দাম কম থাকা অবস্থায় ব্যবসায়ীরা যেসব কাজ হাতে নিয়েছেন তাঁদের খরচ এখন বেড়ে যাবে। এতে ব্যবসায়ীদের সমস্যায় পড়তে হবে।এ সময় এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, 'ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ এখন সময়ের দাবি। আগে আমরা শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত ছিলাম। এখন আমরা চামড়া, জাহাজ, সিরামিকসসহ অন্যান্য পণ্যও রপ্তানি করছি। রপ্তানি বাজার আরও বাড়াতে হবে। না হলে আগামীতে বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কঠিন হবে।'এ ব্যবসায়ী নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে তাঁরা ছয়টি বাণিজ্য চুক্তি করেছেন। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে আগামীতে বাণিজ্য আরও বাড়বে। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশিদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।বাংলাদেশ ২০২৯ সাল পর্যন্ত জিএসপি সুবিধা পাবে উল্লেখ করে জসিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আমাদের এটাকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হবে।তিনি বলেন, আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পর যদি ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি সুবিধা পাই, তবে আমরা বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো।ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জসিম উদ্দিন বলেন, 'করোনার প্রভাবে খেলাপি ঋণ কিছুটা বেড়েছে। আমাদের ব্যবসা ঝুঁকির মধ্যে আছে। ৯৯ শতাংশ ব্যবসায়ীই ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করারমনোভাব রাখেন। আর এক শতাংশ ব্যবসায়ী আছেন, যারা বিভিন্ন প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তবে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা সরকারের সঙ্গে কাজ করছি। কারণ ব্যাংকিং খাত আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখছে। বিশেষ করে পাওয়ার সেক্টরে যেসব উন্নয়ন হয়েছে, তার অধিকাংশই দেশীয় ব্যাংকের ঋণের মাধ্যমে হয়েছে।' | 0 |
পাকিস্তানের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর এবার সাদা পোশাকের টেস্ট ক্রিকেটে নামবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তার আগে স্বাভাবিকভাবেই ঘুরে ফিরে আসছে টাইগারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। হচ্ছে সমালোচনা। তবে এসবে কান দিতে নারাজ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক। তার মতে, এর আগেও এমন পরিস্থিতি দেখেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। যেখান থেকে বের হয়ে আসারও নজির রয়েছে। তাই বাইরের কথায় কান না দিয়ে, নিজেদের কাজে মনোযোগ দেওয়াই শ্রেয় মুমিনুলের কাছে। কেন না মানুষের মুখ বন্ধ করার এখতিয়ার তার নেই। তিনি বলেন, 'দেখুন বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম না। এর আগেও কিন্তু কয়েকবার হয়েছে এমন। আপনারাও জানেন সবসময় এমন অবস্থা থেকেই আমরা বের হয়ে এসেছি।' তিনি আরও বলেন, এই সময়টায় মানুষ মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে থাকে। কারণ এই সময়টায় আমরা বাইরের কথা বেশি শুনি। আমি চেষ্টা করছি যে, সবাই যেন বাইরের কথায় কান না দিয়ে নিজের কাজের প্রতি বেশি মনোযোগ দেয়। আল্টিমেটলি নিজেদের ব্যাক করার জন্য নিজেদের কাজেই মন দেওয়া উচিত। সবাই সেটাই করছে। কারণ আপনি মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারবেন না, আমার কাছে মনে হয় যে নিজের কানটা বন্ধ করতে পারবেন। যেটা আমি বিশ্বাস করি। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 12 |
নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে অনুসন্ধান কমিটি যে ১০ জনের নাম সুপারিশ করবে, সেগুলো জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাপা চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রবেশদ্বার। সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রচর্চা সম্ভব হয় না। আর গণতন্ত্র না থাকলে রাষ্ট্রের কোথাও জবাবদিহি থাকে না। তাই সমাজের প্রতিটি স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনিবার্য। নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন হয়েছে কিন্তু কমিশনকে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত না হলে গণতন্ত্রচর্চা সম্ভব হয় না। আবার ক্ষমতাহীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে না। কারণ, ক্ষমতাহীন নির্বাচন কমিশনকে দলীয় সরকারের মুখাপেক্ষী হতে হয়। তাই ক্ষমতাবান নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের বিকল্প নেই। এ অনুষ্ঠানে সাবেক সাংসদ ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে যোগ দেন। | 6 |
টানা বর্ষণ আর উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি কমতে থাকায় গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার পরিবার ভাঙন কবলিত হওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। ইতোমধ্যে যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনটি। এছাড়া ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আশেপাশের দু'শতাধিক বসতবাড়ি। ফলে ভাঙন কবলিত মানুষ দ্রুত তাদের বাড়িঘর সরিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। উলেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠসহ দু'টি শ্রেণি কক্ষ নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। যে কোন সময় সম্পূর্ণ ভবনটি নদীতে বিলিন হতে পারে আশংকায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাকি শ্রেণি কক্ষগুলোর টিনের চাল, চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চসহ অন্যান্য সরঞ্জাম দ্রুত অন্যত্র সরে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে চরম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বাজার, নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা, ঈদগা মাঠ, একটি বিএস কোয়াটার, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, দুটি জামে মসজিদ, ৩টি মোবাইল টাওয়ার ও একটি বাজার এখন মারাত্মকভাবে ভাঙন কবলিত। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাথালিয়া, উত্তর সাথালিয়ার ফ্লাড সেন্টার, গোবিন্দী, হাটবাড়ি, বাঁশহাটা, হাসিলকান্দি মৌজার প্রায় ২শ' পরিবারের ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের শিকার এসব পরিবার অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। | 6 |
এদিন মুক্ত হয় মাদারীপুর শহর। প্রচণ্ড যুদ্ধের পর মুক্তিবাহিনী মাদারীপুর শহর দখল করে নেয়। তখন পাকিস্তানি সৈন্যরা পালাচ্ছিল। ওরা যেন পালাতে না-পারে, সেটা নিশ্চিত করতে মাদারীপুরের মুক্তিযোদ্ধারা রাজৈরের কাছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সমাদ্দার ব্রিজের কাছে সমবেত হন। তিন দিন প্রচণ্ড যুদ্ধের পর হানাদাররা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।এদিন ঢাকার ওপর ভারতীয় বিমানবাহিনীর কোনো বিমান আক্রমণ ছিল না। তিনটি বিমানে করে বিদেশিরা ঢাকা থেকে কলকাতায় যেতে সমর্থ হন। সেদিনই প্রথম ঢাকায় যৌথবাহিনীর কামানের গর্জন শোনা যায়।এদিকে আন্তর্জাতিক মহলে চলছিল আরেক নাটক। মার্কিন প্রশাসন সোভিয়েতকে হুঁশিয়ার করে বলেছিল, যদি তারা ভারতকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানকে জানিয়ে দিয়েছিল, এবার এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করতে যাচ্ছে তারা। এই সংবাদ পেয়ে জেনারেল গুল হাসান টেলিফোনে পশতু ভাষায় নিয়াজীকে জানিয়ে দেন, ১৩ ডিসেম্বর দুপুরে পাকিস্তান বাহিনীকে সাহায্য করার জন্য উত্তর ও দক্ষিণ দিক দিয়ে বন্ধুরা এসে পড়বে। হতোদ্যম নিয়াজী যেন প্রাণ ফিরে পান। দক্ষিণ দিক দিয়ে সপ্তম নৌবহর বঙ্গোপসাগরে আসবে। এদিন রাতে প্রাদেশিক সরকারের বেসামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী আলবদর ও আলশামসের কেন্দ্রীয় অধিনায়কদের ডেকে পাঠান সদর দপ্তরে। এই রাতে পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে আলবদর বাহিনী সাংবাদিক নিজামউদ্দিন আহমেদকে তাঁর বাসভবন থেকে অপহরণ করে।এদিন নীলফামারী, গাইবান্ধা, সরিষাবাড়ী, ভেড়ামারা, শ্রীপুর হানাদারমুক্ত হয়। সপ্তম নৌবহর যদি চলে আসে, তবে তার চলাচল বিঘ্নিত করার জন্য উপকূলীয় এলাকার ছোট-বড় নানা ধরনের জাহাজ এবং নৌযান ধ্বংস করে ফেলে ভারতীয় নৌবাহিনী। উপকূলীয় অবকাঠামো এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর অকেজো করে ফেলা হয়।পাকিস্তানের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী নূরুল আমিন কঠোর ভাষায় ভারতকে হুঁশিয়ার করে পাকিস্তান থেকে চলে যেতে বলেন। এদিন মওলানা ভাসানী এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দেওয়ার জন্য ভারত সরকার ও সে দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।মার্কিন হামলা কিংবা চীনের হস্তক্ষেপের হুমকি মোকাবিলায় দিল্লিতে সোভিয়েত কূটনীতিক কুজনিৎসোভ এবং মস্কোয় ভারতীয় কূটনীতিক ডি পি ধরের মধ্যে আলোচনা হয়। এদিন দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশেষভাবে আয়োজিত এক জনসভায় সামনে 'অন্ধকার দিন' ও 'দীর্ঘতর যুদ্ধের সম্ভাবনা' সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করে দেন। মার্কিন চরমপত্র প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘ মহাসচিব উ থান্টকে এক বার্তায় ইন্দিরা গান্ধী জানান, ভারত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং ভারতীয় সৈন্য দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রস্তুত আছে, তবে সেটা হতে পারবে শুধু পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করলে এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ মীমাংসায় পৌঁছতে সম্মত হলে।সূত্র: ১২ ডিসেম্বরের আনন্দবাজার পত্রিকা। হাসান ফেরদৌস, মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত বন্ধুরা। | 6 |
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ থাকতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।রাষ্ট্রপতি শনিবার দুপুরে এখানে ভাটিয়ারীতে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমিতে (বিএমএ) ৭৬তম বিএমএ লং কোর্সের ক্যাডেট অফিসারদের কমিশন লাভে রাষ্ট্রপতি পদক-২০১৮ অনুষ্ঠানে ভাষণকালে এ আহ্বান জানিয়ে তরুণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, একথা মনে রাখতে হবে যে অনেক রক্ত ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। এজন্য সকলকেই সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্নার সমান অংশিদার হতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান রাষ্ট্রপতি বলেন, যেকোন দুর্যোদ ও দুঃসময়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের কাজের মাধ্যমে এমন নজির স্থাপন করবে যা পরবর্তীদের জন্য অনুসরণীয় হবে।রাষ্ট্রপ্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দক্ষতা, মেধা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করবে। আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতির গৌরব। এই আনন্দের দিনে তিনি সকল নবীন কর্মকর্তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গড়ে উঠেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেক মুজিবুর রহমান একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী শক্তিশালী ও প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে ১৯৭৪ সালে প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ১৯৭৪ সালে কুমিল্লায় বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমির উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, বিএমএ আজ একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমি। ইতোমধ্যে এখানে ক্যাডেটদের ইনডোর প্রশিক্ষণের সব অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে এ একাডেমিতে বিভিন্ন বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদী অনার্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স রয়েছে।রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ এখন শুধু আমাদের সামরিক একাডেমি দেখতে আসে না, এখানে প্রশিক্ষণ নিতেও আসে। তিনি বলেন, বিগত প্রায় ১০ বছরে সেনাবাহিনীর অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি এ সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নসহ শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবকাঠামোগত, কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে এক দশক আগেকার সেনাবাহিনীর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদির সমন্বয়ে অনেক বেশি উন্নত, দক্ষ এবং চৌকস। এরআগে রাষ্ট্রপতি খোলা জীপে চড়ে চৌকস প্যারেড ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পদক প্রদান করেন।আজকের এই প্যারেডের মাধ্যমে ৩৭ জন মহিলা, দুই জন সৌদি এ্যারাবিয়ান ও এক জন শ্রীলংকানসহ মোট ২৫৭ ক্যাডেট কমিশনপ্রাপ্ত হন। বিএমএ ৭৬তম লং কোর্সে ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার এ কে এম ইনজামামুল বেস্ট অল রাউন্ড ক্যাডেট নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সোর্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এছাড়া সামরিক বিষয়গুলোতে সর্বোচ্চ মান লাভ করায় কোম্পানি সিনিয়র অফিসার ইবনে ইজাজ হাসান চীফ অব আর্মি স্টাফ (সিএএস) স্বর্ণপদক লাভ করেন। মন্ত্রীবর্গ, উপদেষ্টাবৃন্দ, কূটনীতিকবৃন্দ, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামুদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মশিহুজ্জামান সরিনিয়াবাত, সংসদ সদস্যবৃন্দ, রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ এবং নতুন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিভাবকগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
লিবিয়ার অভিবাসী বন্দিশালায় দালালদের শারীরিক নির্যাতনে মাদারীপুরের দুই তরুণের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই দুই তরুণ অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে লিবিয়ায় অবস্থান করছিলেন। নিহত দুই তরুণের স্বজনেরা লিবিয়া থেকে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন।মৃত দুই তরুণ হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার মধ্য খাগদী এলাকার আবুল কালাম খানের ছেলে সাব্বির খান (২১) ও বড়াইলবাড়ি এলাকার মো. হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে সাকিবুল হাসান ওরফে সুরুজ (২২)।নিহত তরুণদের স্বজন ও পুলিশের সূত্র জানায়, প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় দালাল সবুজ মীরের মাধ্যমে ৮ লাখ টাকা চুক্তিতে লিবিয়া হয়ে ইতালির উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন সাকিবুল। চুক্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ হলেও বাকি টাকা ইতালি পৌঁছানোর পর দেওয়ার কথা। তবে লিবিয়াতে পৌঁছানোর পরই বাকি ৪ লাখ টাকার জন্য দালাল চক্র সাকিবুলকে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালায়। এরপর গত শনিবার রাতে দালালদের নির্যাতনে মারা যান সাকিবুল।অন্যদিকে সাব্বির খান চরনাছনা এলাকার দালাল কাশেম মোড়লের মাধ্যমে সাড়ে সাত লাখ টাকার চুক্তিতে ছয় মাস আগে লিবিয়া পৌঁছান। এরপরে তাঁকেও লিবিয়ার বন্দিশালায় আটক রাখা হয়। টাকার জন্য তাঁকেও শারীরিক নির্যাতন করে দালালেরা।আজ সোমবার সকালে সাব্বিরের বাড়ি মধ্য খাগদী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি ভর্তি মানুষ। সবার চোখে পানি। বাড়ির আঙিনায় সাব্বিরের মা, ছোট দুই ভাই, এক বোনসহ স্বজনেরা আহাজারি করছেন। প্রতিবেশী কেউ কেউ তাঁদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। পুরো বাড়িতে চলছে মাতম।আহাজারি করতে করতে সাব্বিরের মা নাজমা বেগম বলেন, 'রাইতে আমি বাড়ি ছিলাম না। মেলা রাইতে ভাইর বিডি (ভাইয়ের মেয়ে) হঠাৎ ফোন দিছে, ভাবছি মায় মইরা গেছে। বাড়িতে আইসা শুনি আমার পোলা মইরা গেছে। হায় আল্লাহ আমার পোলারে তুমি ফিরাইয়া দাও। আমার পোলা এম্মে মরতে পারে না।'সাব্বিরের এক চাচি জানান, স্থানীয় দালাল আতিবার, তোতা ও কাশেম ছয় মাস ধরে সাব্বিরকে লিবিয়া নিয়ে আটকে রেখেছে। লবণ ছাড়া শুধু এক বেলা ভাত খেতে দিয়েছে। এত কষ্ট সহ্য করছে, তবু ওরা সাব্বিরকে মেরে ফেলল।সাব্বিরের খালু মো. ওবায়দুর রহমান তালুকদার বলেন, 'সাব্বিরের মাথায় ধারালো কিছু একটা দিয়ে আঘাত করেছে। এ কারণে সাব্বির মারা গেছে। সাব্বিরের সঙ্গে যারা ছিল, ওরা আমাগো ফোনে ভিডিও কলে সব দেখাইছে। সাব্বিরের মৃত্যুর জন্য যে কয়জন দালাল দায়ী, আমরা তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।'সোমবার সকালে সাকিবুল হাসানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়ি সুনসান। সাকিবুলের মা নেই। বৃদ্ধ বাবাও বয়সের ভারে ন্যুব্জ। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুতে চার ভাই শোকাহত। কিন্তু ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবর বাবার কানে গেলে সে হয়তো সহ্য করতে পারবেন না। তাই সবাই নীরব।সাকিবুলের মেজো ভাই আরিফুর রহমান বলেন, 'ভাইডা বিএ পড়ত। পড়ালেখা বাদ দিয়ে বিদেশে যাওয়ার জন্য পাগল ছিল। তাই আমরা আর আটকায় নাই। দালালের সঙ্গে চুক্তি ছিল, লিবিয়া পর্যন্ত পৌঁছালে অর্ধেক টাকা দিতে হবে। পরে ইতালি পৌঁছে দিতে হবে বাকি টাকা। কিন্তু পৌঁছানোর আগেই এভাবে মারা যাইবে, তা মানতে পারছি না। যারা আমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী, আমরা তাদের বিচার চাই।'মাদারীপুরে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে (অক্টোবর পর্যন্ত) মানব পাচার আইনে ৩০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এরপরেও দালালদের দৌরাত্ম্য কমছে না।এ ব্যাপারে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, 'লিবিয়াতে মাদারীপুরের দুজন মারা যাওয়ার খবর শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত নিহত তরুণদের পরিবার কোনো সহযোগিতার জন্য আসেনি। এরপরও নিহত ওই দুই পরিবারের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।'মানব পাচার বন্ধে পুলিশের ভূমিকার বিষয়ে এসপি গোলাম মোস্তফা বলেন, ভুক্তভোগীরা পুলিশের কাছে মামলা বা অভিযোগ দিতে তেমন একটা আসে না। আবার যাঁরা ইউরোপে যাচ্ছেন, জেনেশুনেই এই অবৈধ পথে যাচ্ছেন। তাঁরা জানে প্রথমে লিবিয়া হয়ে যাবে। পরে ঝুঁকি নিয়ে সেখান থেকে সাগরে নৌকায় করে ইতালি যাবে।এসপি আরও বলেন, 'এখানে সচেতনতা বা প্রচারণা করেও লাভ নেই। কারণ, বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছেন, তাঁরা বেশির ভাগ ইতালি পৌঁছে ভালো আছেন। দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন। এটা দেখে অন্যরা উৎসাহিত হচ্ছেন। তাই এঁদের ফেরানো যাচ্ছে না।' | 6 |
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি এবং তা আজই। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি হোটেলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। আগামী ১ মার্চ রাজধানীর লেকশোর হোটেলে সুবর্ণজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করবে বিএনপি। মাসব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি সূত্র জানায়, আজ বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের চিঠি নিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যাবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, 'আমরা জাঁকজমকভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করব। কারণ, এই স্বাধীনতা আমার অর্জন, এই স্বাধীনতা আমার অহংকার, এটা কারও দয়ায় নয়।' সাতই মার্চ বিএনপি এই প্রথম পালন করছে কি না-এমন এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, '৭ মার্চ ঐতিহাসিক সেই দিন শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমরা স্বাধীনতার আন্দোলন-সংগ্রামের ঐতিহাসিক দিনগুলো স্মরণ করব, পর্যালোচনা করব কাউকে ছোট বা বড় করার জন্য নয়। স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন ইশতেহার ঘোষণা নিয়েও আলোচনা করব।' মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
তুরস্কের আকিঞ্জি ড্রোনের তৃতীয় প্রটোটাইপ মডেল সর্বশেষ পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। সোমবার ড্রোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বায়কার মাকিনার প্রধান প্রযুক্তিবিদ সেলচুক বায়ারাকতার তুর্কি দৈনিক ডেইলি সাবাহকে এই তথ্য জানান। সেলচুক বায়রাকতার জানান, নতুন ড্রোনটি মধ্যম উচ্চতার শনাক্তকরণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তিনি আরো জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এ সামরিক ড্রোনের গণ-উৎপাদন শিগগির শুরু করা হবে। ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বছরই তুরস্কের সামরিক বাহিনীতে আকিঞ্জি ড্রোন সরবরাহের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তি ও সরবরাহের ক্ষেত্রে তুরস্ক বর্তমানে শীর্ষস্থানীয় দেশে পরিণত হয়েছে। সিরিয়া, লিবিয়া ও আজাররাইজান-আর্মেনিয়ার মধ্যে বিতর্কিত ভূখণ্ড নাগরনো-কারাবাখে তুর্কি ড্রোন তার সক্ষমতার প্রমাণ রেখেছে। এছাড়া কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) মোকাবেলায় দেশের ভেতরে ও বাইরে সফলভাবে তুর্কি ড্রোন অভিযান চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি তুরস্কের ড্রোন ইউক্রেনের ডানবাস অঞ্চল পর্যবেক্ষনে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে। সোমবার রাশিয়া তুরস্ককে সতর্ক করে বলেছে, তুরস্ক যেন ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে দেশটিকে প্ররোচিত না করে। সূত্র : আহভাল | 3 |
ভুটানের বিপক্ষে ১০ উইকেটের বড় জয় পেলেও আক্ষেপ ছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেট দলের। কারণ ক্রিকেটে 'পুচকে দল' ভুটানকে অলআউট করতে পারেনি বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার সেই হতাশার কথাও ব্যক্ত করেছিলেন। শনিবার এসএ গেমস ক্রিকেটে নেপালের বিপক্ষে ৪৪ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাগতিকদের বিপক্ষে না তুলতে পেরেছে বড় রান, না প্রতিপক্ষকে করতে পেরেছে অলআউট। টস জিতে নেপাল এ ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। কিন্তু টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানের চারজনই ব্যর্থ হন এ ম্যাচে। দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও নাঈম শেখ ৬ রান করে তুলে আউট হন। চারে নেমে সাইফ ডাক মারেন। এরপর ইয়াসির আলী ১৪ রানে আউট হন। অনূর্ধ্ব-২৩ দল ৫৯ রানে হারায় ৪ উইকেট। তবে তিনে নামা নাজমুল হোসাইন শান্ত এবং ছয়ে নেমে আফিফ হোসেন দলের হাল ধরেন। শান্ত ৬০ বলে চারটি চার ও চারটি ছক্কায় খেলেন ৭৫ রানের ইনিংস। আফিফ ২৮ বলে ছয় চার ও এক ছক্কায় ৫২ রান করেন। বাংলাদেশ ৫০ বল ডট দিয়ে ৬ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৫৫ রান। জবাব দিতে নেমে নেপালের ব্যাটসম্যানরা সুবিধা করতে পারেননি। নেপালের ওপেনার এবং অধিনায়ক গায়েনেন্দ্র মাল্লা ৪৩ বলে ৪৩ রান করেন। আর কেউ ২০ রানের ঘরে যেতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা ১১১ রানে থামে। বাংলাদেশের হয়ে সুমন খান, তানভির ইসলাম, সৌম্য সরকার এবং মেহেদি হাসান দুটি করে উইকেট নেন। | 12 |
বিশ্বব্যাপী মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় নাকাল নগরের দুস্থ-অসহায়, দিনমুজুর এবং খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে গোপীবাগের বাস ভবনের সামনে থেকে দুস্থ-অসহায়দের মাঝে প্রয়োজনীয় খাবার ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এ এই কার্যক্রমের কিছু ছবি শেয়ার করে বলেন, নগরীর প্রত্যেকটা ওয়ার্ডের দুস্থদের জন্য পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি করোনা মোকাবেলায় তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশ কিছু পদক্ষেপেরও ঘোষণা দেন তিনি। বিতরণ করা ত্রাণের মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, তেল,আলু, মুড়ি, টোস্ট বিস্কুট, সাবান, স্যাভলন, মাস্ক ওবং হ্যান্ড গ্লাভস উল্লেখযোগ্য। পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে প্রতিদিনই ঢাকার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দুস্থদের খুঁজে বের করে তাদের মাঝে ত্রাণ পৌছে দেয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যতদিন পর্যন্ত না স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে ততদিন পর্যন্ত তার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীকে করোনা মোকাবেলায় ভয় না পেয়ে আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পযন্ত গরীব দুস্থ্যদের পাশে থাকবো। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারা দেশের প্রত্যকটি বিত্তবানদেরকে দুস্থ-অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক। | 6 |
ডুমুরিয়ার সাহস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. মাহাবুবুর রহমানকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে আগত হাজার হাজার ইউনিয়নবাসী তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও ফুলেল শুভেচ্ছায় চেয়ারম্যানকে বরণ করে নেয়। এরপর ইউপি চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সিনহা ইবনে ওয়াহিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবর্ধনা ও অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব সরদার ইলিয়াস হোসেন।বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম। ইউপি সচিব ফারুক আহমেদ ও নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় ইউনিয়নবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. মাহাবুবুর রহমান। বক্তব্য রাখেন সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মাহামুদুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা এসএম মোবারক আলি, আলতাফ হোসেন ও মাহাবুবুর রহমান, আলহাজ আব্দুল কাদের, শেখ নান্নু, সরদার মোজাফ্ফার হোসেন, শাহাজালাল হোসেন, এসএম আনিচুর রহমান, ইউপি সদস্য সরদার সিরাজুল ইসলাম, নুর আলী মোল্লা প্রমুখ। সভার শুরুতে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পরিচিতি ও ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। | 6 |
পাঞ্জাব কিংসের শেষ ১৫ বলে ১০ থেকে লক্ষ্যমাত্রা নেমে এসেছিল ১২ বলে ৮ রানে। সেখান থেকে ১৯তম ওভারে মাত্র ৪ রান খরচ করেন মোস্তাফিজ। তাতেই মূলত ঘুরে যায় ম্যাচ, জাগে রাজস্থানের সম্ভাবনা। আর শেষ ওভারে দুই উইকেট নিয়ে মাত্র ১ রান দেন কার্তিক। তাতেই ২ রানের নাটকীয় জয় তুলে নেয় রাজস্থান রয়েলস। দুবাইতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পেয়েছিল রাজস্থান। ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন জসশ্রী জাসওয়াল ও এভিন লুইস। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ২১ বলে ৩৬ রান করে লুইস আউট হলে এই জুটি ভাঙে। ব্যাট হাতে এই ম্যাচেও ব্যর্থ হন রাজস্থান অধিনায়ক স্যাঞ্জু স্যামসন (৪)। এরপর লিয়াম লিভিংস্টোনকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় একশ পার করেন জাসওয়াল। দলীয় ১১৬ রানে ব্যক্তিগত ২৫ রান করে আরশদীপের শিকার হন লিভিংস্টোন। ফিফটি পূর্ণ হয়নি জাসওয়ালর, ফিরেছেন ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে। ৪৯ রানের ইনিংস খেলে হারপ্রীত ব্রারের বলে আউট হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরত যান।এরপর ঝড়ো ইনিংস খেলেন মাহিপাল লোমরর। ১৭ বলে ২টি চার ও ৪ ছয়ে ৪৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে। রিয়ান পরাগ (৪), রাহুল তেওয়াটিয়া (২) ও ক্রিস মরিসকে (৫) শিকার করেন মোহাম্মদ শামি। এরপর চেতন সাকারিয়া ও কার্তিক ত্যাগিকে আউট করে ক্যারিয়ারের প্রথমবার ৫ উইকেট দখলে নেন আরশদীপ সিং। ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে যায় রাজস্থান রয়্যালস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাঞ্জাবের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটির পরেও নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রানের বেশি করতে পারেনি পাঞ্জাব। তাদেরকে রুখে দিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর জয়েই আইপিএলের ফিরতি পর্ব শুরু করলো মোস্তাফিজের রাজস্থান। এই জয়ে ৮ ম্যাচে ৪ জয় ও সমান পরাজয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম অবস্থানেরাজস্থান রয়্যালস। | 12 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.