text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
সরকার জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের উন্নয়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত প্রয়োজন।বৃহস্পতিবাররাজধানীর মিরপুরে বস্তিবাসীদের জন্য প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি একথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ধানমণ্ডি ও মোহাম্মদপুরে পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে প্রথমবারের মতো আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। খবর বাসসেরঅনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, '২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল-দীর্ঘ ৯ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছি। উন্নয়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত জরুরি।'সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, 'দেশে কেউ আবাসনহীন থাকবে না। আমাদের নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে গৃহহীন থাকবে না।'তিনি বলেন, 'সরকার কঠোরভাবে জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসীদের দমন করেছে। আমরা জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা চাই এবং ২০১৪ সালে সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় উন্নয়নের জন্য আমরা যথেষ্ট সময় পেয়েছি।'শেখ হাসিনা বলেন, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে শুরু করা সকল উন্নয়ন কাজ বিএনপি-জামায়াত সরকার বন্ধ করে দেয়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় এসে একটি কাজও এগিয়ে নেয়নি, তারা লুণ্ঠনের মাধ্যমে সবকিছু ধ্বংস করেছে।তিনি বলেন, ২০১৪ সালে সকল বাধা অতিক্রম করে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ায় দেশের উন্নয়ন জোরদার হয়েছে।বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল-একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিতে চাই এবং বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।'তিনি গত নির্বাচনে তার দলকে সমর্থন দেওয়ায় দেশের সকল মানুষকে ধন্যবাদ জানান।শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বস্তিবাসীসহ দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।তিনি বলেন, 'আমরা চাই না দেশে কোনো বস্তি থাকুক। কোনো দেশের জন্য এটি অহংকারের বিষয় নয়। বস্তিবাসীরাও মানুষ। তাদেরও সমাজে মর্যাদার সাথে বসবাস করার অধিকার রয়েছে। তাদের এই অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।'প্রধানমন্ত্রীবলেন, 'বস্তিবাসীরা বস্তিতে অমানবিক জীবন যাপন করে। তাদেরকে ঘর ভাড়ায় অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। অথচ বস্তিতে তাদের জন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের দুর্ভোগ লাঘব করা।'তিনি বলেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিন্নমূল মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আমরা যদি সমাজের ছিন্নমূল মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তাহলে আমাদের জীবন সাথর্ক হবে।'শেখ হাসিনা বলেন, সরকার সারাদেশে বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে। ভাড়ার টাকায় তারা এ সকল ফ্ল্যাটে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবে।তিনি বলেন, 'এখন আর গ্রামাঞ্চলে কুঁড়েঘর দেখা যায় না। বরং কুঁড়েঘরের জায়গায় এখন টিনের ঘর তৈরি হচ্ছে। আমাদের এটা করার সামর্থ্য হয়েছে।'প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৯৯৬-২০০১ সালে তার সরকারের শাসনামলে আশ্রায়ণ প্রকল্প এবং গৃহহীন ও বস্তিবাসীদের জন্য 'ঘরে ফেরা' কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, 'আমরা নগরীর ভাষানটেক এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১৬ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছিলাম।'রাজধানীর জলাবদ্ধতার সমস্যা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর, খাল, নালা ও অন্যান্য জলাশয় ভরাট করার ফলে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষাসহ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সর্বত্রই পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে হবে।শেখ হাসিনা জনগণকে যথাযথভাবে ফ্ল্যাট ব্যবহার ও সংরক্ষণের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে যাতে হয়রানির শিকার না হতে হয় সেজন্য ফ্ল্যাট গ্রহীতাদের পরিচয়পত্র তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।রাজধানীতে সবার জন্য পরিকল্পিত বাসস্থান নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সরকার মিরপুর ১১ তে বস্তিবাসীদের জন্য ১০ হাজার ফ্ল্যাট এবং ধানমণ্ডি ও মোহাম্মদপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের জন্য ২০২টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবং জাতীয় আবাসন নীতিমাল-২০১৬ এর আলোকে বস্তিবাসীদের জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে রাজধানীর মিরপুর-১১ নং সেকশনে ১০ একর জমির ওপর ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে।প্রকল্পের প্রথম ধাপে দুই একর জমির ওপর ১৪ তলা বিশিষ্ট পাঁচটি ভবনে ৫৩৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে বাকি আট একর জমিতে আটটি ১৪ তলা বিশিষ্ট ভবনে ৯ হাজার ৪৬৭ টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রথম ধাপে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১১১ কোটি টাকা।এদিকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ রাজধানীর ধানমণ্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ২ দশমিক শূন্য ৭ একর জমির ওপর ৩৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে।এর মধ্যে ২০২টি ফ্ল্যাট সরকারি চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিক্রি করা হবে এবং অবশিষ্ট ৫১টি ফ্ল্যাট গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে থাকবে।প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।অনুষ্ঠানে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে গৃহায়ন সচিব শহীদুল্লা খন্দকার প্রকল্পের একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।এসময় অন্যান্যের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সুরাইয়া বেগম এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অন্যান্যের মধ্যে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি এবং ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা এমপি বক্তব্য দেন।
| 6 |
স্কটল্যান্ডের নবম উইকেটের পতন ঘটেছে। খেলা এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। ১৭.১ ওভারে মার্ক ওয়াটকে ফেরান তাসকিন। ২টি বাউন্ডারির সাহায্যে ১৭ বলে ২২ রান করে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন ওয়াট। বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার বিদায়ে স্কটল্যান্ড ১০৪ রানে ৭ উইকেট হারাল। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান জোস ডেভি। ইতোমধ্যেই স্কটিশ ব্যাটিং লাইনে ধস নামিয়েছেন মেহেদি হাসান আর সাকিব আল হাসান। এ পর্যন্ত মেহেদি নিয়েছেন ৩ উইকেট, আর সাকিব নিয়েছেন ২টি। অপর তাসকিন আর সাইফুদ্দিন নিয়েছেন একটি করে উইকেট। মুনসি আউটনিজের প্রথম ওভারে মাত্র ৩ রান খরচ করে ২টি উইকেট তুলে নেন মেহেদি হাসান। দ্বিতীয় বলে তিনি তুলে নেন ক্রসের উইকেট। পঞ্চম বলে বোল্ড করেন জর্জ মুনসিকে। ২টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ২৩ বলে ২৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন জর্জ। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে স্কটল্যান্ড ৩৯/১প্রাথমিক ধাক্কা সামলে তারা পাওয়ার প্লে-তে শক্তপোক্ত ভিত গড়ে তুলেছে বলা যায়। ৬ ওভার শেষে স্কটল্যান্ড ১ উইকেটে বিনিময়ে ৩৯ রান তোলে। কোয়েটজারকে ফেরালেন সাইফুদ্দিনতৃতীয় ওভারে সাইফুদ্দিনের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। চতুর্থ বলে তিনি বোল্ড করেন কোয়াটজারকে। ৭ বলে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন স্কটিশ অধিনায়ক। স্কটল্যান্ড ৫ রানে ১ উইকেট হারায়। স্কটল্যান্ডের প্রথম একাদশকাইল কোয়েটজার (ক্যাপ্টেন), জর্জ মুনসি, ম্যাথিউ ক্রস (উইকেটকিপার), রিচি বেরিংটন, কালাম ম্যাকলেয়ড, মাইকেল লিস্ক, ক্রিস গ্রেভস, মার্ক ওয়াট, জোস ডেভি, সফিয়ান শরিফ ও ব্র্যাড হোয়েল। বাংলাদেশের প্রথম একাদশলিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ (ক্যাপ্টেন), আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান (উইকেটকিপার), মেহেদি হাসান, মোহম্মদ সাইফুদ্দিন, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। | 12 |
'বঙ্গ আমার, জননী আমার, ধাত্রী আমার, আমার দেশ'- এমন আবেগদীপ্ত শব্দাবলিতেই দেশকে সম্বোধন করতে পছন্দ করেছিলেন আমার দেশের কবিকুল। তখনও আমার দেশজননী পরাধীনা। অশ্রুসিক্ত তার চোখ, মলিন তার বেশ। দেশজননীর সে রকম রূপ দেখেই তার সন্তানদের আবেগ যেন আরও বেশি বন্ধনহীন হয়ে উঠেছিল। সমস্ত দৈন্য ও মলিনতা সত্ত্বেও 'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি'- এ রকমটি কবি নিজে বিশ্বাস করতেন এবং সকলকে বিশ্বাস করাতে চেয়েছিলেন। সেই পরাধীনতার যুগেই বৈশ্বিক মানবতায় স্নাত কবি জীবনানন্দ দাশও বাংলার মুখ দেখে এমনই অভিভূত হয়ে পড়েন যে তিনি পৃথিবীর আর কোনো দেশেরই রূপ দেখার আগ্রহ বোধ করেন না। দেশের প্রতি এ রকম আবেগই মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে দেশমাতৃকার শৃঙ্খল মোচনে প্রবৃত্ত হতে, মুক্তির মন্দির সোপানতলে হাসিমুখে প্রাণ বিসর্জন দিতে। এভাবেই সাদা চামড়ার বিদেশি ইংরেজদের কালো শাসনের হাত থেকে আমার দেশ একসময় মুক্তি লাভ করে। কিন্তু অচিরেই দেখলাম ও বুঝলাম যে এই মুক্তি মোটেই মুক্তি নয়; বিদেশি ইংরেজ শাসকদের তাড়িয়েও আমাদের দেশ আমার হয়ে ওঠেনি। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি আমাদের আবার নতুন এক অধীনতার শেকলে বেঁধে ফেলেছে। তাই শুরু করতে হলো শেকল ছেঁড়ার নতুন লড়াই। বড় কঠিন সে লড়াই। সে লড়াইয়ে জিততে হলো লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে। কিন্তু এত যে প্রাণের মূল্যে বিজয়ী হলাম, বিজয়ী হয়ে আমাদের দেশটিকে পরিণত করলাম একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে- তারপরও কি আমাদের দেশ আমাদের হয়েছে? এ প্রশ্নটির মুখোমুখি হলে আমি খুব দুঃখে-বিষাদে-হতাশায়-আত্মধিক্কারে একেবারে কুঁকড়ে যাই। আমার সব ভাবনা-চিন্তা এলোমেলো হয়ে যায়। তবু প্রশ্নটি এড়িয়ে যেতে পারি না। বারবারই এ প্রশ্ন আমাকে বিদ্ধ করে। আগে আমরা বিদেশি ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়েছি। বলেছি, ওরা বণিক বেশে এসে ছলে-বলে-কৌশলে আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। ওদেরকে ঘাড় থেকে নামাতে না পারলে আমাদের দেশটি আমাদের হবে না। নামালাম ওদের। তবু আমাদের ঘরটি খালি হলো কই! আবার ঘাড়ে চেপে বসল পাকিস্তান। ইংরেজ শাসকের মতো পাকিস্তান শাসকও বিদেশি। তাড়ালাম সেই বিদেশি শাসককেও। কিন্তু তারপর? তারপর তো সবই স্বদেশি। আমাদের এ দেশে চারপাশে সব আমাদের মানুষ। চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, যে চুরি করে সেও আমার মানুষ- তাদের যে ধরে আনে বা ঘুষ খেয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, সেও আমার মানুষ। বিচারপ্রার্থী ও বিচারক উভয়েই আমার মানুষ। উকিল-মক্কেল, রোগী-ডাক্তার, ছাত্র-শিক্ষক, আমলা-পাবলিক সবাই আমার মানুষ। যে গাড়ি চড়ে সেও আমার মানুষ, যে গাড়ি চাপা পড়ে সেও আমার মানুষ। বস্তিবাসীও আমার মানুষ, প্রাসাদবাসীও আমার মানুষ। হাটে-বাজারে, বাড়িতে, রাস্তায়, ট্রেনে-বাসে যারা ভিক্ষা করে, তারা যেমন আমার মানুষ- তেমনি ভিক্ষুক দেখে যারা মাফ করো বলে মুখ ফিরিয়ে নেয় কিংবা কাজ করে খেতে পারো না বলে তিরস্কার করে বা উপদেশ ঝাড়ে, তারাও আমার মানুষ। সবাই আমারই মানুষ। অর্থনৈতিকভাবে শ্রেণিবৈষম্যপূর্ণ আমার এই দেশ, এ কথা যেমন সত্য; এটিও সত্য যে সামাজিকভাবে গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়েছে। এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে এ দেশের মানুষের প্রবল প্রাণশক্তি। প্রচুর কাজের ক্ষেত্র যেমন আবিস্কৃত হয়েছে এই সময়ে, তেমনই প্রচণ্ডভাবে মানুষ সেগুলোকে নিজেদের কর্মক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম আমাদের সকল প্রত্যাশার আলো বারবার নিভিয়ে দিয়েছে। আগে আমরা একজনও কোটিপতি ছিলাম না। পাকিস্তানের বাইশটি কোটিপতি পরিবারের রমরমা দেখে কেবলই আমাদের চোখ টাটাত। গায়ে জ্বালা ধরে যেত। এখন তো আমাদের এ স্বাধীন দেশে বাইশের চেয়ে অনেক বেশি পরিবার শুধু কোটিপতি নয়, কোটি কোটিপতি হয়েছেন। কিন্তু সেই কোটি কোটিপতি স্বদেশি হয়েও তো আমাদের চোখ টাটানো কিংবা গায়ের জ্বালা জুড়াতে পারেনি। আমি তো দেখেছি, বিদেশি বাইশ কোটিপতি পরিবারের চেয়েও এখন স্বদেশি কোটিপতিদের আমলে আমাদের দুর্গতির মাত্রা শনৈ শনৈ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুর্মুখেরা বলে, আমাদের মতো অজস্র মানুষের দুর্গতিকে বাড়িয়ে দিতে পেরেছে বলেই কিছু সংখ্যক মানুষের ঊর্ধ্বগতি সম্ভব হয়েছে। বিত্তহীন সংখ্যাগুরু মানুষের মাথার ওপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিত্তবান সংখ্যালঘুরা। এ রকম সংখ্যালঘুরাই বিগত দিনে যেমন ছিল সংখ্যাগুরুদের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, এখনও তাই আছে। তবে আগে ওরা ছিল বিদেশি, এখন স্বদেশি- তফাৎ শুধু এটুকুই। সংখ্যালঘু স্বদেশিরা যখন আগেকার সেই বিদেশিদের মতই আমাদের কিল-ঘুসি-লাথি মারে, তখন কি সেসব আমাদের কাছে খুব মিষ্টি লাগে? বিদেশিরা আমাদের দেশের মানুষের রক্ত চুষে নিত বলে তাদের সহ্য করতে পারিনি। সহ্য করতে না পেরে তাদের তাড়িয়েছি। সেই বিদেশি রক্তচোষাদের তাড়িয়েছি কি স্বদেশি রক্তচোষাদের আমাদের রক্ত চুষবার সুযোগ অবারিত ও অধিকার নিরঙ্কুশ করে দেওয়ার জন্য? এমনটিই কি আমরা চেয়েছিলাম? আমরা না চাইলেও হয়েছে তো তাই। আমাদের স্বাধীন দেশের এই বিত্তবান সংখ্যালঘুরা আজ হয়ে উঠেছে চরম দুর্বৃত্ত। এরাই রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের হোতা, অর্থনীতিতে লুটেরা, সমাজে সন্ত্রাসীদের গডফাদার। এরাই ধর্মের পবিত্রতাকে ধর্মান্ধতার কলুষে আবৃত্ত করে অমানবিক বিদ্বেষের আগুনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে দগ্ধ করে। এরাই মানুষকে মাদকাসক্ত বানিয়ে তার সুস্থ চেতনার অবলুপ্তি ঘটায়। নারীকে লাঞ্ছিত করে ও পতিতা বানায়। নর-নারী নির্বিশেষে সকলের জীবনকে পণ্যে পরিণত করে। এরাই মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। তার স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকারকেও ছিনিয়ে নেয়। এই সংখ্যালঘুদের হাতে আর কতকাল জিম্মি হয়ে থাকতে হবে আমাদের দেশের সংখ্যাগুরু মানুষকে? এ রকম জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো উপায় আছে কি? উপায় খুঁজে বের করতেই হবে। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের এ লগ্নে দাঁড়িয়ে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। | 6 |
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপি নেতা তারেক গংদের সার সিন্ডিকেটের কারণে সার কিনতে পারতেন না গ্রামের কৃষকরা। এ কারণে ফসল উৎপাদন কমে যায় দেশে। তিন থেকে চার কোটি প্রান্তিক কৃষক পরিবারের দু'বেলা ভাত জোটানো অসম্ভব হয়ে ওঠে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক পোস্টে সজীব ওয়াজেদ জয় এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সেই সুযোগে বিএনপির নেতাকর্মীরা দাদন ব্যবসা জমিয়ে তুলে সর্বশান্ত করে ফেলেন কৃষকদের। এমনকি ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা থেকেও লাখ লাখ বস্তা সার লোপাট করে বিএনপির দৃর্বৃত্তরা। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয় বলেন, সারের অভাবে চাষাবাদ করতে না পেরে, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মেহেরপুর, খুলনা, রংপুর, রাজশাহীতে কাফনের কাপড় নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছিল কৃষকরা। কিন্তু সাধারণ কৃষকদের ওপর দলীয় সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে তৎকালীন বিএনপি সরকার। এমনকি কুড়িগ্রাম ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ১২ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়। সারের অভাবে তখন বোরো-ইরি চাষাবাদ ব্যাহত হয় বাংলাদেশে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। এদেশের অমূল্য সম্পদ দেশের মানুষ, উর্বর মাটি আর কৃষি। কৃষকদের জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক-হিসাব খোলার সুযোগ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। কৃষিকাজের জন্য কৃষকরা এখন পাচ্ছেন বিনাসুদে ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা। ফলে ভাগ্য বদলাচ্ছে প্রান্তিক কৃষকদের। | 9 |
মেহেরপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী অনুজ কুমার দে কে পিটানোর অভিযোগে ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মেহেরপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী অনুজ কুমার দে নিজে বাদী হয়ে মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন (৩৫) ও সদর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম আনন্দ (৩২) এর নামে মেহেরপুর সদর থানায় ৩৩২, ৩৫৩, ৩৪২ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং- ৩৪/২০২১ ইং। বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেহেরপুর সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহ দারা খান। উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে সড়ক বিভাগের উপসহকারীর কক্ষে প্রবেশ করে মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন ও সদর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনন্দ মিলে অনুজ কুমার দে কে মারধর করে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, সংস্কার কাজের জন্য পাথর, বালি, জ্বালানী কাঠ, ব্যাগ ইত্যাদী ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে শহীদুল এন্টাপ্রাইজ দরপত্র পাই। পরে সেই কাজ বারিকুল ইসলাম লিজন নেয়। গত ১৮ জুন মালামাল সরবরাহের শেষ তারিখ ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০-৩০ ভাগ মালামাল সরবারাহ করেছে যার মূল্য ১২-১৩ লাখ টাকা হতে পারে। কিন্তু শতভাগ মালামাল সরবারাহের কথা বলে বিল সাবমিট করে। আমি তাদের বলি , যততুটু মালামাল সরবরাহ করেছেন সেই পরিমান টাকা দিতে পারবো। কিন্তু লিজন ও আনন্দ পুরো টাকা দিতে হবে বলে আমার উপর চাপ প্রয়োগ করে। পরে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে লিজন আমাকে আমার কক্ষেই মারধর শুরু করে। এসময় আমি চিৎকার করলে, আমার অফিসরে অন্যরা এসে আমাকে উদ্ধার করে। | 6 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জেঁকে বসেছে শীত। ভোর থেকেই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে চারপাশ। ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ।সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলায় বিকেল হলেই কুয়াশাচ্ছন্ন হতে থাকে চারদিক। সন্ধ্যার পর থেকে সারা রাত বৃষ্টির ফোঁটার মতো পড়তে থাকে কুয়াশা। প্রতিদিনই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে চারদিক। চলতে-ফিরতে খুব কষ্ট হয় অসহায় খেটে খাওয়া মানুষগুলোর।এদিকে শুরু হয়েছে বোরো আবাদের মৌসুম। গত বছরের শেষ দিকে হওয়া অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত আমনচাষিদের কিছুটা ক্ষতি পোষাতে বোরো আবাদে মনোযোগী হওয়ার ইচ্ছা ছিল। ঘন কুয়াশার কারণে তাঁরা কাজে যেতে পারছেন না। তবে কয়েকটি এলাকায় ঘন কুয়াশার মধ্যেই নিরুপায় হয়ে মাঠে কাজ করতে হচ্ছে কৃষকদের। ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড শীতে শিশু ও বৃদ্ধ বয়সী লোকজন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।উপজেলার সৈয়দাবাদ গ্রামের কৃষক কাওসার মিয়া জানান, প্রচণ্ড শীতে ঘর হতে বের হওয়াই মুশকিল। তা ছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে ১০ হাত দূরেও কিছু দেখা যায় না। কৃষিকাজের জন্য ভোরবেলা উত্তম সময় হলেও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো আবাদেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।শিকারপুর গ্রামের বোরোচাষি উজ্জ্বল মিয়া জানান, তীব্র শীতের কারণে ভোরবেলা জমিতে কাজ করার মতো লোক পাওয়া যায় না। পরিচিত কাজের লোকজন যাঁরা আছেন, তাঁদের বললেও শীত ও কুয়াশার বাহানায় কাজে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে কুয়াশা কমার অপেক্ষা করা হচ্ছে।বৃষ্টির কারণে যেমন আমন ধান দেরিতে কাটতে হয়েছে, তেমনি সময়মতো কাজের লোক না পাওয়া গেলে বোরো আবাদেও বিলম্বের আশঙ্কা করছেন কৃষক।আলম মিয়া, নান্টু মিয়া, ছিদ্দিক মিয়াসহ বেশ কয়েকজন খেটে খাওয়া মানুষ বলেন, শীত এবং কুয়াশায় হাতই মেলা যায় না।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র শীতের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগ শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। অধিকাংশ রোগীরাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। তবে এই সময়ে শিশু ও বৃদ্ধদের একটু বেশি বাড়তি যত্ন নিতে হবে। | 6 |
নিরাপদ সড়কের দাবি ও শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কিছু শিক্ষার্থী এ কর্মসূচি পালন করেন।কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, 'সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশে মহামারি আকার ধারন করেছে। দেশে প্রতিনিয়ত সড়কে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এর সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারের নিতে হবে। আমরা আজ দাবি জানাচ্ছি আর যেন সড়কে একটিও প্রাণ না ঝরে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে অবিলম্বে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।'কর্মসূচিতে বাংলা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সাধন মন্ডল বলেন, 'সারা দেশজুড়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে আমরাও তাদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি। বর্তমানে আমাদের দেশের রাজপথে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ঝরে যাচ্ছে। মায়ের কোল খালি হয়ে যাচ্ছে। আমরা এর দ্রুত নিরসন চাই।' | 6 |
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে এখন পর্যটকের ভিড়। প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের পদভারে মুখর হয়ে ওঠে সৈকতের বালুচর। কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতির মাঝেও মাস্ক পরা বা স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই বেশিরভাগ পর্যটকের মধ্যে। সৈকতের সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে নিয়মিতই মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সচেতন করে চলেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। জেলা প্রশাসনের কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করছেন। জরিমানাও করা হয়। কিন্তু এরপরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই। ম্যাজিস্ট্রেট দেখলে কেউ মাস্ক বের করেন, একটু পরে সেই মাস্ক গড়াগড়ি খায় সৈকতের বালুতে। আর এই মাস্ক কুড়াতেই হিমশিম খাচ্ছেন সৈকতের অর্ধশত পরিচ্ছন্নতাকর্মী। করোনা সংক্রমণ বাড়তেই থাকায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে এক সপ্তাহ ধরে শহরজুড়ে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে উদাসীনতার অভিযোগে করা হচ্ছে মামলা ও জরিমানা। তার পরও পরিস্থিতির উন্নতি নেই। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া সুলতানা জানান, প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে আসছেন। ফলে কক্সবাজারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। পর্যটকসহ সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে। মাস্ক যত্রতত্র না ফেলতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া চলাফেরা না করতে মাইকিং করে বলা হচ্ছে। সাদিয়া বলেন, জরিমানা করা আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। জনসচেতনতা বাড়ানোই আসল লক্ষ্য। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, দেশব্যাপী করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জন্য কক্সবাজারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এখানে আসা পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে চান না। সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক অনিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'মাস্ক সঙ্গে এনেছিলাম। এখন পানিতে নামব, তাই ফেলে দিয়েছি। পানিতে নামলে তো মাস্কটা ভিজে যাবে। পরে মাস্ক কিনে পরব।' রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা পর্যটক ওয়াজেদ ইসলাম বলেন, 'বাসায় থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছি। তাই কক্সবাজার ছুটে আসা। এখানে স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছে না।' মাস্ক ব্যবহার নিয়ে নানা অজুহাত দিচ্ছেন পর্যটকরা। কিন্তু এর পর সবকিছু যেন স্বাভাবিক। পানিতে, বালিয়াড়ি ও কিটকটে (ছাতায়) বসে আনন্দ আর হৈ-হুল্লোড়ে মেতে রয়েছেন সবাই। সি-সেইভ লাইফ গার্ডের ইনচার্জ সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, 'করোনার সংক্রমণ বাড়ার কারণে লাইফ গার্ডের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পর্যটকদের মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা। পর্যটকরা মাস্ক ব্যবহার না করে তা ফেলে দিচ্ছেন সৈকতের বালুচরে।' ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক এরশাদ হোসেন বলেন, প্রতিদিনই সৈকতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আগে পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করতাম। এখন করোনা পরিস্থিতিতে পর্যটকদের সচেতন করতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ করছি। | 6 |
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার শুক্রবার পাঞ্জাবের গভর্নর চৌধুরী মোহাম্মদ সারওয়ারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। দেশটির জাতীয় পরিষদে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন শুরু এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী উসমান বুজদারের পদত্যাগের পরে নতুন নেতা নির্বাচনে পাঞ্জাব আঞ্চলিক পরিষদের বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে এ ঘোষণা এলো। কেন্দ্রীয় সরকার কী কারণে তাকে অপসারণ করেছে তা স্পষ্ট নয়। তথ্যমন্ত্রী তার টুইটার অ্যাকাউন্টে এ ঘোষণা দেন। তবে তিনি এর কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, 'সংবিধান অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পাঞ্জাব পরিষদের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হবেন।' ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য চৌধুরী সারওয়ার ২০১৩ সালে গ্লাসগোতে তার দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে পাকিস্তানে আসেন এবং পিএমএল-এন-এ যোগ দেন। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলে তাকে পাঞ্জাবের গভর্নর করা হয়েছিল। পরে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে পাঞ্জাবের গভর্নর পদে ইস্তফা দিয়ে ইমরান খানের দল পিটিআই-এ যোগ দেন তিনি। পিটিআই ক্ষমতায় এলে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য গভর্নর হিসেবে শপথ নেন। সূত্র : ডন | 3 |
ফেনীর ফুলগাজীতে বাপ্পি বণিক (৩১) নামের এক ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটার পর চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।আহত বাপ্পি বণিক ফুলগাজী সদরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।আহত বাপ্পি বণিকের বাবা সাধন চন্দ্র বণিক জানান, শনিবার রাতে তাঁদের বাড়ির পাশে এক আত্মীয়ের বিয়ে ছিল। মেহমান এগিয়ে আনতে তাঁর ছেলে পাশের কালী মন্দিরের রাস্তায় গেলে ঝিকু বণিক পেছন থেকে এসে তাঁর মাথায় আঘাত করে। খবর পেয়ে তাঁকে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।আহত বাপ্পি বণিকের মামা প্রবাসী দেবু বণিক বলেন, 'অমির বণিকের পরকীয়ার বিষয়টি জেনে যাওয়ায় তাঁর ছেলে ঝিকু বণিক আমার ভাগিনা বাপ্পির ওপর হামলা চালায়। সে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।'অমির বণিকের ভাই রবি বণিক বলেন, 'শনিবার রাতে যে ঘটনা ঘটেছে তা শুনেছি। তবে ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।'অমির বণিক বলেন, 'আমাদের বাড়ির সামনে কালী মন্দিরের পাশে বাপ্পি বণিক আমার সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এ সময় সে আমাকে গালাগাল করছিল। এসব শুনে ঝিকু এসে বাপ্পিকে আঘাত করে। পরে আমি দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'কয়দিন আগে নির্বাচনে আমি এক নারী ইউপি সদস্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করি। এ কারণে তারা আমার নামে পরকীয়া প্রেমের কুৎসা রটায়।'ফুলগাজী থানার ওসি মো. মঈন উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। মামলা হলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
খালেদা জিয়ার জামিন সুপ্রিম কোর্ট স্থগিত করলেও আইনি লড়াই চলবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, 'সুপ্রিম কোর্ট দেশের উচ্চতম আদালত। মান্য করি আর না করি তাদের রায় মানতে হবে এবং আইনের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।'জাতীয় প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার বৃহত্তর নোয়াখালী জাতীয়তাবাদী যুব ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।মওদুদ বলেন, সময় আসছে। বেশি দিন আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে থাকবে না বিএনপি। একটা পর্যায় আসবে দেশের মানুষ আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পছন্দ করবে না। তখন বাধ্য হয়ে তাদের বিএনপির সঙ্গে থাকতে হবে। তখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার আবার ফিরে আসবে।আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাসুদ রানার সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। | 9 |
বাঁশ কিংবা কাঠের সারা সারি মাচা, তার ওপর বিছানো ছোট-বড় নানা জাত, নানা মাপের বাহারি মাছ। ছোট-বড় মাচার সংখ্যা এক শরও বেশি। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে লইট্যা, ফাইস্যা, চিংড়ি, ছুড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ খোলা জায়গায় কড়া রোদে পুড়িয়ে শুটকি বানানো হয় এখানে। চট্টগ্রামের মানুষের কাছে শুঁটকির কদরই আলাদা। অবশ্য দেশের অন্য জেলার মানুষও এখন শুঁটকির মজা বুঝে ফেলেছেন। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায়।কর্ণফুলী উপজেলার নদী পাড়ের চরপাথরঘাটা, ইছানগর, খোয়াজনগর, জুলধা ডাঙ্গারচর, শিকলবাহা কালারপোল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পুরো এলাকায় শুঁটকি বানানোর ধুম পড়েছে। মাছ শুকাতে দেওয়ার আগে প্রথমে পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বের করে নেয় একটি দল। আরেক দল পেট কাটা মাছ ধুয়ে নিচ্ছে পানিতে। কেউ ধোয়া মাছ শুকাচ্ছে কেউবা হালকা শুকানো মাছে লাগাচ্ছে লবণ। এরপর মাছ শুকাতে দেওয়া হয় চাঙে। ধাপে ধাপে শুঁটকি বানাতে সময় লাগে এক থেকে তিন সপ্তাহ।উৎপাদনে জড়িতরা বলছেন, শুঁটকি শুকানোর কাজ চলে আগস্ট থেকে শুরু হয়ে টানা ৮-৯ মাস।খুচরা বাজারে প্রতি কেজি লইট্যা ৪০০-৫০০ টাকা, ফাইস্যা ৩৫০-৪৫০, ছুরি ৭০০-৯৫০, বড় চিংড়ি (চাগাইছা) ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। শুঁটকির গুঁড়া পোলট্রি ফার্মে ও ফিস ফিড হিসেবে সরবরাহ হয়। প্রতিদিন ৮০-১০০ কেজি সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি উৎপাদিত হচ্ছে ওই মহালে। এ উপজেলায় চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী ও স্থানীয়সহ প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছে। কাজ করছেন অন্তত ৫০০ শ্রমিক।শিকলবাহার শুঁটকি পল্লিতে কাজ করা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, মাছ সংগ্রহ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে রোদে শুকানোর কারণে এই এলাকার শুঁটকির মান ভাল হয়। এটা কখনো হার মানায় দেশের প্রসিদ্ধ সোনাদিয়া-রাঙাবালির শুঁটকিকে।চাক্তাই খাতুনগঞ্জের পাইকারি শুঁটকি ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, কর্ণফুলীর মুখরোচক শুঁটকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, হংকং, চীন ও তাইওয়ানের মতো দেশেও রপ্তানি হচ্ছে।কর্ণফুলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) লুৎফর রহমান বলেন, শুঁটকির আসল স্বাদ ধরে রাখতে অনেক সময় কীটনাশক মেশানো হয়, এখানে যাতে সেটা না হয় সেদিকেও নজর আছে আমাদের। | 6 |
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়টি সরকার আন্তরিকভাবে বিবেচনা করে। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিব শতবর্ষ এবং বাংলাদেশ ডক্টরস ফোরামের ৩য় বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত "বিডিএফ মেম্বারস সামিট-২০২২" এ এ কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, চিকিৎসকদের সব সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন রোগীরা কোনো ধরনের দুর্ব্যবহারের শিকার না হন। তাই প্রতিটি চিকিৎসককে রোগীদের হাসিমুখে আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ডা. মো. শাহেদ রফি পাভেলের সভাপতিত্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি, অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ এমপি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেজবাহ উদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 9 |
করোনা সংক্রমণের মধ্যে বুধবার সারাদেশে শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ অনাড়ম্বর পরিবেশে ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেছেন। সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে করোনার কারণে বাড়িতে বাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিহার ও প্যাগোডায় বুদ্ধপূর্ণিমার তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। বৌদ্ধ বিহারে অবস্থানরত ভিক্ষুরা বিহারের ভেতরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা, বন্দনাসহ ধর্মীয় কার্য সমাধা করেন। বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বুধবার সরকারি ছুটি ছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করেছে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদ রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সম্মিলিত প্রতীকী শান্তি শোভাযাত্রা ও সম্প্রীতি উৎসবের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সর্বজনীন সম্প্রীতির চেতনায় কালিমা লেপনকারীদের অপচেষ্টা রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অনেক অপপ্রচার চালানো হয়। ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হচ্ছে, প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা এবং বিশ্ব যেন অচিরেই করোনামুক্ত হয় সে জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'সবার আগে আমাদের পরিচয় আমরা বাঙালি। তারপর আমরা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বা অন্য ধর্মের অনুসারী। তবে দেশে একটি পক্ষ ধর্মের পরিচয়কেই আগলে রাখে। তারা বাঙালি না বাংলাদেশি- এ নিয়ে সার্বক্ষণিক দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগেন। সেখানেই তাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য।' বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. উত্তম কুমার বড়ূয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ বড়ূয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহাথেরো আশিনো দীনরক্ষিত প্রমুখ। | 6 |
ভারতে ঘূর্ণিঝড় তকতের কবলে পড়ে ডুবে যাওয়া বার্জের নিখোঁজ ক্রুদের মধ্যে ২৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার মুম্বাই উপকূলে ২৬১ জন ক্রু নিয়ে বার্জটি ডুবে যায়। তাঁদের মধ্যে ৯০ জনের বেশি নিখোঁজ হন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, গতকাল বুধবার ২৬ জন ক্রুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো ৫৩ জন ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন। ডুবে যাওয়া বার্জটি ভারতের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস করপোরেশনের (ওএনজিসি) মালিকানাধীন। উপকূলীয় এলাকায় খনিজ অনুসন্ধানের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের অনুসন্ধান ক্ষেত্রগুলোয় নিয়ে যাওয়ার জন্য এসব বার্জ ব্যবহার করা হয়। যখন ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে, তখন উপকূলে নোঙর করা এসব বার্জ নোঙর ছিঁড়ে ভেসে যায়। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন শচীন শেকুইরা বলেন, 'নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে আমরা এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের আশা রাখা উচিত। এ মুহূর্তে আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভালো। খারাপ কিছু আমরা পিছে ফেলে এসেছি আশা করছি।' বেঁচে যাওয়া এক ক্রু বলেন, 'বার্জটি যখন ডুবে যাচ্ছিল, আমি সাগরে ঝাঁপ দিই। ১১ ঘণ্টা আমি সাগরেই ছিলাম। পরে নৌবাহিনী আমাকে উদ্ধার করে।' ঘূর্ণিঝড় তাকতের আঘাতে আরও তিনটি বাণিজ্যিক বার্জ প্রায় ৭০০ লোক নিয়ে উত্তাল সাগরে আটকা পড়ে। সাগরে ভাসতে থাকা ওই বার্জগুলোর ক্রুদের উদ্ধারে তিনটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়। এসব বার্জের মধ্যে দুটি মুম্বাই উপকূল থেকে এবং আরেকটি গুজরাট উপকূল থেকে ভেসে যায়। একটি ছিল কার্গো। এটি গত সোমবার মুম্বাই উপকূল থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে নোঙর করা ছিল। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস' জানায়, সোমবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় তকতের তাণ্ডবে গুজরাটের ১২ জেলায় অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজ্যটির সৌরাত্র অঞ্চলের আমরেলি জেলা। সেখানে মারা গেছেন অন্তত ১৫ জন। গুজরাটে ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষায় দুই লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কয়েকটি বন্দর ও বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টির কারণে অনেক গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। এ কারণে বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিগত ৩০ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। | 3 |
তিন বছর চলে গেছে কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ আর অত্যাচারের মাধ্যমে উৎখাত হওয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। এক হিসাব অনুযায়ী, শরণার্থীশিবিরগুলোতে প্রতিবছর ৬০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করছে। ক্রমবর্ধমান এবং এত বড় এই জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের মিয়ানমার-সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কিছুদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্য পশ্চিমা দেশগুলো এই সংকট সমাধানে যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না। (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২৩ আগস্ট ২০২০)। তিনি রোহিঙ্গাদের নিজের দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনের দাবিও জানিয়েছেন। তিনি আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের ২৭তম বৈঠকে বলেছেন, এই সমস্যা দ্রুত সমাধান না করলে এখানে চরমপন্থীদের উত্থানের আশঙ্কা রয়েছে। (দ্য ইনডিপেনডেন্ট, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০)। এটা পরিষ্কার যে গত তিন বছর রোহিঙ্গাদের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিজের দেশের ভিটামাটিতে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সব দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার কোনো চিন্তাভাবনাও করছে বলে মনে হয় না। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের (আইসিজে) মামলাও দেশটিকে খুব একটা বিচলিত করছে না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই মামলা নিয়ে মিয়ানমার নিরুদ্বেগ থাকতে পারছে। কারণ, এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও এশিয়ার প্রধান দুই শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে মিয়ানমার বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। এ মাসের (অক্টোবর ২০২০) প্রথম সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এবং সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভান মিয়ানমার সফর করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের এই সফরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সফরকালে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে তা হচ্ছে, মিয়ানমারে ভারতের কালাদান প্রকল্প, আগামী বছর রাখাইনের রাজধানী সিত্তেতে উন্নত বন্দর চালু করা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন এবং বিপুল অর্থ লগ্নি, যার মধ্যে রয়েছে ছয় বিলিয়ন ডলারের ইয়াঙ্গুন-সংলগ্ন এলাকায় তেল শোধনাগার তৈরি। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের জ্বালানি খাতের বিনিয়োগের প্রায় ৭০ ভাগই হয়েছে চীনের অর্থায়নে। রাখাইন অঞ্চলে কৃষি সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া চীন সীমান্তসংলগ্ন কাচিন রাজ্যের প্রধান শহর মাইটকিইনাতে সফটওয়্যার উন্নয়ন ও ট্রেনিং সেন্টারের ভার্চ্যুয়াল উদ্বোধন করা হয়েছে। ওই অঞ্চল ও শহর চীন সীমান্তসংলগ্ন এবং সেখানে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। ভারত-মিয়ানমার সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত লেডো রোডের উন্নয়ন। এই রাস্তা ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ তৈরি করবে। রাস্তাটি আসামের লেডো থেকে চীনের কুনমিং পর্যন্ত ছিল। আরও রয়েছে মিয়ানমারের চিন রাজ্য ও মিজোরামের সীমান্ত হাট প্রকল্প। ভারতের দুই কর্তাব্যক্তির এই সফর ও কর্মকাণ্ড মিয়ানমারে চীনের প্রভাব কমানোর প্রচেষ্টাই অংশ। স্মরণযোগ্য যে ভারত চীনবিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিক জোটের অন্যতম সদস্য। এই জোটের বাকি দুই সদস্য হচ্ছে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এ অঞ্চলে, বিশেষ করে ভারত মহাসাগরে চীনবিরোধী অন্যতম শক্তি। ভারতের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদের প্রধান লক্ষ্য বেল্ট রোড উদ্যোগের মাধ্যমে চীন যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, তা খর্ব করা এবং দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রতিপক্ষ দাঁড় করানো। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের প্রসঙ্গ ও আলোচনায় এই ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও হিসাব-নিকাশকে অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। ভারত আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশী এবং সবচেয়ে কাছের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। কাজেই বাংলাদেশের এ সংকটে ভারত অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এমনই আশা বাংলাদেশের। কিন্তু আলোচিত সফরে রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও স্টেট কাউন্সেলরের সঙ্গে তেমন কোনো আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়নি। অবশ্য সফরের আগে ভারতের পক্ষ থেকে এমন একটি ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। মিয়ানমারকে ভারতের প্রয়োজন পূর্ব ভারতের স্থিতিশীলতা, যোগাযোগ ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য। অন্যদিকে চীন-মিয়ানমার সম্পর্কের ইতিহাস এবং বর্তমানের প্রেক্ষাপটে চীনের কাছে মিয়ানমারের গুরুত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে চীনের কাছ থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের তেমন কিছু পাবে বলে মনে হয় না। ২ রোহিঙ্গা উপস্থিতি এরই মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তসীমান্ত সমস্যায় জটিলতা তৈরি করছে। বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমার যে সেনাসমাবেশ করেছে, তা এ অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়াতে যথেষ্ট। অপরদিকে মিয়ানমার দাবি করেছে, বাংলাদেশও সেনাসমাবেশ করেছে এবং একে মিয়ানমারের সেনাসমাবেশের কারণ দেখানোর চেষ্টা করেছে। মিয়ানমারের ভাষ্য, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আসন্ন নির্বাচন এবং আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের কারণে এই সেনাসমাবেশ। মিয়ানমারের তরফে এই অভিযোগও রয়েছে যে বাংলাদেশ আরাকান আর্মি ও কথিত আরসাকে সহায়তা করছে। উল্লেখ্য, এই প্রথম আরাকান আর্মি আরাকানে রোহিঙ্গাবিরোধিতা থেকে অনেকটা সরে এসেছে। বিষয়টি অবশ্যই মিয়ানমারকে উদ্বিগ্ন করেছে। বিভিন্ন তথ্য ও সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাখাইন অঞ্চলে 'থ্রি ব্রাদার্স' নামে উত্তর জোটের অংশ হিসেবে আরাকান আর্মি ছাড়া আরও দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন যুক্ত হয়েছে, যাদের সঙ্গে কথিত রোহিঙ্গা সংগঠন আরসা এবং নতুন আরেকটি কথিত রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির (এআরএ) সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মিয়ানমারের মধ্যে উৎকণ্ঠা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, এসব ভীতি থেকেই মিয়ানমার সীমান্তে তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ এই সেনাসমাবেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘের দৃষ্টিগোচর করেছে। কাজেই বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় থাকেনি। সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য যা করা প্রয়োজন, তা করার অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। তবে ১৯৯১-এর পর দুই দেশের সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো সীমান্তে এই মাত্রার তৎপরতায় জড়িয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য কতটা ঝুঁকি বাড়িয়েছে, তার প্রমাণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্থিরতা, অহরহ গোলাগুলি এবং অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। একই সঙ্গে কক্সবাজার এখন অনেকটাই মাদকের পাইকারি বাজারে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ থেকে জনপ্রতিনিধিরাও এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ হত্যার ঘটনায় বিষয়গুলো আমাদের সামনে পরিষ্কারভাবে ধরা পড়েছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে ভূকৌশলগত, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনীতির বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ক্রমে বৃহত্তর অস্থিরতার মধ্যে পড়তে পারে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের, বিশেষ করে আঞ্চলিক ও ইন্দো-প্যাসিফিক ভূরাজনৈতিক ঘূর্ণির মধ্যে বাংলাদেশ পড়তে পারে, যা বাংলাদেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সহায়ক হবে না। বাংলাদেশের সবচেয়ে জরুরি চাওয়া রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান, যা দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিতে সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের সামনে প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে এ সমস্যার সমাধান হবে? এর উত্তরে বলা যায়, বাংলাদেশের সম্ভবত আরও আগ্রাসী কূটনীতির প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ সমস্যা সমাধানের উপায় এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের উপায় বাংলাদেশকেই খুঁজতে হবে। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তসীমান্ত সমস্যায় নিমজ্জিত হতে হবে। ড. এম সাখাওয়াত হোসেন: নির্বাচন বিশ্লেষক, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং এসআইপিজির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো (এনএসইউ) [] | 8 |
ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ার (আইএফএফআই) সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণ ময়ূর জিতেছে জাপানি সিনেমা 'রিঙ্গু ওয়ান্ডারিং'। সিনেমাটির পরিচালক মাসাকাজু কানেকো। পুরস্কার বাবদ সিনেমাটি পাবে ৪০ লাখ রুপি বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৬ লাখ টাকা। গোয়ায় পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ২৮ নভেম্বর শেষ হয় আইএফএফআইয়ের ৫২তম আসর। উৎসবটি শুরু হয়েছিল ২০ নভেম্বর। টোকিওতে থাকেন সসুকে। তাঁর ইচ্ছে একজন মাঙ্গা শিল্পী হওয়া। শিকারি আর নেকড়েকে নিয়ে লেখা তাঁর কাজটি মাঝপথে আটকে যায়। এর মধ্যে যে নির্মাণাধীন সাইটে তিনি থাকেন, সেখানে একটা প্রাণীর খুলি খুঁজে পান তিনি। এই নিয়েই এগিয়ে যায় ড্রামা ও ফ্যান্টাসি ঘরানার সিনেমা রিঙ্গু ওয়ান্ডারিংয়ের কাহিনি। ১ ঘণ্টা ৪৪ মিনিটের এই সিনেমা এর আগে ওয়ারশ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে জুরি ও আন্তর্জাতিক বিভাগে পুরস্কার জিতেছে। এটি নির্মাতা মাসাকাজু কানেকোর তৃতীয় সিনেমা। সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শো কাসামাতসু। আইএফএফআইতে এই বছর আন্তর্জাতিক বিভাগে ১৫টি সিনেমা প্রতিযোগিতা করে। 'সেভিং ওয়ান হু ওয়াজ ডেড' সিনেমার জন্য এই বছর সেরা নির্মাতার পুরস্কার পায় ভাকলাভ কাদ্রাঙ্কা। আজ পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মনোজ বাজপেয়ী, রণধীর কাপুর, প্রধান অতিথি ছিলেন মাধুরী দীক্ষিত ও ইউনিয়ন মিনিস্টার অনুরাগ ঠাকুর ও গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওন্ত। | 2 |
দেশের নন-লাইফ (সাধারণ) বিমা কোম্পানিগুলোর এজেন্ট কমিশনের উচ্চ হার নিয়ে অভিযোগ অনেক পুরোনো। গোপনে ৫০, ৬০ ও এমনকি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দেওয়াটা বিমা খাতে একধরনের 'ওপেন সিক্রেট'। প্রতিকার হিসেবে ২০১২ সালের এপ্রিলে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এক প্রজ্ঞাপন জারি করে তা ১৫ শতাংশ বেঁধে দেয়। কিন্তু সেটাও কেউ মানছিল না। আইডিআরএ তাই এবার ৪৬টি সাধারণ বিমা কোম্পানির এজেন্ট কমিশন পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছে। কারণ হিসেবে সংস্থাটি বলেছে, সাধারণ বিমা খাতে আইডিআরএ অনেক পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও কমিশনসংক্রান্ত বিষয়ে শৃঙ্খলা পুরোপুরি নিশ্চিত হচ্ছে না। আইডিআরএ সব সাধারণ বিমা কোম্পানির উদ্দেশে গত বৃহস্পতিবার কমিশন বাতিলের কথা জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বিমা দিবস অর্থাৎ আগামী ১ মার্চ থেকে তা কার্যকর হবে। ফলে এজেন্টরা কাগজে-কলমে এত দিন যে ১৫ শতাংশ কমিশন পেয়ে আসছিলেন, আগামী মাস থেকে তা বন্ধ হয়ে যাবে। আইডিআরএর চেয়ারম্যান এম মোশারফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, 'বিমা খাতে শৃঙ্খলা আনার স্বার্থেই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে কোম্পানিগুলোর অবস্থান শক্ত হবে।' প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিমা খাতে শৃঙ্খলা আনার স্বার্থে বিমা আইনের ধারা অনুযায়ী বিমা এজেন্ট নিয়োগ ও নিবন্ধন প্রবিধানমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ বিমা খাতে এজেন্টদের কমিশন দেওয়া বন্ধ থাকবে। এজেন্ট কমিশন বাতিলের পাশাপাশি সাধারণ বিমা খাতে ব্যবসা অর্জন বা সংগ্রহের বিপরীতে ১৫ শতাংশ এজেন্ট কমিশন দেওয়ার যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ২০১২ সালের ১ এপ্রিল, পরে আবার কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত থাকবে। বলা হয়েছে, উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা-সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন পরের মাসের ৭ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত ছকে আইডিআরএর কাছে পাঠাতে হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাদে সব উন্নয়ন কর্মকর্তার নিয়োগপত্রে বেতন-ভাতার কথা উল্লেখ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী তা দিতে হবে। অর্থাৎ তাঁদের বেতন-ভাতা প্রিমিয়ামের শতকরা হারে আর দেওয়া যাবে না। সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের জন্য যে নির্ধারিত ব্যাংক থাকবে, কোম্পানিগুলোর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ওই হিসাব থেকেই ব্যয় করতে হবে। ওই হিসাব থেকে যার যার ব্যাংক হিসাবে তা স্থানান্তরিত হবে অথবা অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেক দেওয়া হবে। আইডিআরএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এজেন্ট কমিশন নিয়ে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল। সেটা এখন বন্ধ হয়ে যাবে। প্রকারান্তরে কোম্পানিগুলোই লাভবান হবে। গত বছরের জুলাই মাসে বিমা কোম্পানিগুলোর মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সঙ্গে বৈঠক করে আইডিআরএ, যে বৈঠকে ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন বন্ধের সুপারিশ আসে। কমিশন বন্ধই করে দেওয়া হলো, ব্যাপারটা কীভাবে দেখছেন বিআইএর সভাপতি শেখ কবির হোসেন, জানতে চাইলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, 'কোম্পানিগুলোর ব্যবসা সংগ্রহ করে আসছিলেন মূলত উন্নয়ন কর্মকর্তারাই, এজেন্ট মূলত ছিলই না। এত দিন কমিশন যে নেওয়া হচ্ছিল, সেটাই ঠিক ছিল না। ফলে আইডিআরএর পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।' | 0 |
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রিং রোড ধরে রিকশা চালাচ্ছিলেন মো. আলমগীর। রাস্তার পাশেই ভ্রাম্যমাণ গাড়ির পেছনে ছোট জটলা দেখে থামলেন। দেখলেন, গাড়ির গায়ে লেখা-গরুর মাংস ৫৫০ টাকা কেজি। এরপর বিক্রেতার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করে নিশ্চিত হলেন, সত্যিই গরুর মাংস এ দামে বিক্রি হচ্ছে কি না। পকেটে হাত দিয়ে মো. আলমগীর বিক্রেতাকে বললেন, আজ টাকা নেই সঙ্গে। কাল যদি বিক্রেতা আসেন, তাহলে তিনি কিনতে আসবেন। আজ শনিবার দুপুরে মোহাম্মদপুরের সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনের ঘটনা এটি। সেখানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে সুলভ মূল্যে বিক্রি হচ্ছিল গরু, খাসি ও মুরগির মাংস এবং দুধ ও ডিম। খাসির মাংস ৮০০ টাকা, ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি প্রতিটি ২০০ টাকা, দুধ লিটার ৬০ টাকা ও ডিম ৯০ টাকা ডজনে বিক্রি হয়। মো. আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, 'কয়েক মাস ধরে মেয়েটা বলছে, গরুর মাংস খাবে। ও ক্লাস এইটে পড়ে। রিকশা চালিয়ে এক কেজি গরুর মাংস কিনলে সারা দিনের কামাই শেষ। প্রত্যেক দিন কামাই দিয়ে তেল, চাল কিনতে হয়।' বাজারে গরুর মাংস কিনতে প্রায় ৭০০ টাকা লেগে যায় বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন আলমগীর। তিনি বলেন, রিকশা চালিয়ে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করে প্রতিদিন মাছ, মাংস কেনা সম্ভব নয়। গত ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়েছে, গরুর মাংস কেনা হয়নি। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গাড়িতে সুলভ মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে দেখে দাঁড়িয়েছেন তিনি। আলমগীর বলেন, 'এখন নিতে পারব না। কালকে আসব। পোলাপান স্কুলে পড়ে। বাবা হিসেবে ছেলেমেয়েকে কিছু খাওয়াইতে মন চায়। কিন্তু সামর্থ্য হয় না। এখানে কিছুটা কম দামে বেচতে দেখে আশা পাইলাম।' সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে আজ ১২৫ কেজি গরুর মাংস, প্রায় এক কেজি ওজনের ৫০টি ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি, ১২ কেজি খাসির মাংস, ১ হাজার ৬০০টি ডিম ও ১৫০ লিটার পাস্তুরিত গরুর দুধ বিক্রি হয়। ক্রেতাদের মধ্যে গরুর মাংসের চাহিদা বেশি দেখা গেছে। সকাল সোয়া ১০টার দিকে বিক্রি শুরু হয়। বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকেই গরুর মাংস শেষ হয়ে যায়। প্রতিজনের কাছে এক কেজি করে মাংস বিক্রি করা হয়েছে। বিকেল তিনটায় সব পণ্য বিক্রি হওয়ার আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন এসে গরুর মাংস খুঁজেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২৯০ জন ক্রেতা পণ্য ক্রয় করেছেন। তবে বিপত্তি বাধে খাসির মাংস নিয়ে। গরুর মাংসের পর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে শেষ হয় ডিম ও মুরগি। তখনো দুই কেজি খাসির মাংস ও কয়েক প্যাকেট দুধ বিক্রি বাকি ছিল। আরও আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় খাসির মাংস বিক্রি করতে। যদিও এর আগেই দুধ বিক্রি হয়ে যায়। বেলা সোয়া দুইটার দিকে এক কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয়। পরে ক্রেতা না পেয়ে খামারবাড়ি মোড়ে এসে বাকি এক কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয় বিকেল তিনটার দিকে। বিক্রেতা ফাহাদ সাকিব প্রথম আলোকে বলেন, 'অফিসে খাসির মাংসের চাহিদা আজকে একটু কম। অন্য দিনগুলোতে আগে খাসি শেষ হয়ে যায়।'প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ গাড়ি থেকে পণ্য কিনতে আসা ব্যক্তিরা মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের। তাঁদের মধ্যে আজ দুজন রিকশাচালককে গাড়ির কাছে আসতে দেখা গেছে। রিকশাচালক মো. আলমগীর গরুর মাংস কিনতে না পারলেও, দুধ-ডিম কিনেছেন অপর রিকশাচালক শরিফুল ইসলাম। তিন লিটার দুধ ও এক ডজন ডিম কিনেছেন তিনি। দুধের প্যাকেটগুলো রেখেছেন রিকশার আসনের নিচে। আর ডিমগুলো হাতে ঝুলিয়ে যাচ্ছিলেন ঢাকা উদ্যানের বাসায় রেখে আসতে। প্রতি লিটার দুধে ১০ টাকা করে ছাড় ও ডিমে ডজনে ২০ টাকার মতো ছাড়। সব মিলিয়ে বাজারের তুলনায় ৫০ টাকা কমে দুধ-ডিম কিনেছেন শরিফুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'রোজার মধ্যে বেশি খাইতে হয়। ছাড় দেখে বেশি করে কিনলাম। দেড় বছরের বাচ্চার জন্য বেশি দুধ কিনতে হয়। অন্য সময় দামের কারণে কিনতে পারি না।' | 6 |
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যখন আর দুই বছর বাকি, তখন দেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। রোববার রাতে সারাদেশে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক উদ্বোধনের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনি ভার্চুয়ালি এই আয়োজনে যুক্ত হন। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, 'যখন বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, কিছু কিছু ষড়যন্ত্র আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। এটা আমি খেয়াল করেছি যখনই আমাদের নির্বাচনের বছর দুয়েক চলে আসে,তখনই কিন্তু এই ষড়যন্ত্র বেড়ে যায়। ঠিক দু বছর পর আরেকটা নির্বাচন আছে, তখনই দেখছি এই সেই ষড়যন্ত্র শুরু হচ্ছে।' তিনি বলেন, 'আপনারা জানেন, এই বিদেশি শক্তি কারা। যারা আমাদের একাত্তরে বিরোধিতা করেছে, যাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই করে স্বাধীন হতে হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্র আবার শুরু এখন।' বিএনপির সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, 'আমাদের এক শ্রেণি আছে, এক শ্রেণির মানুষ .. তারা হচ্ছে আমাদের বিরোধী দল। তারা তখন তাদের বিদেশি মালিকদের কাছে নালিশ করা শুরু করে, তাদের কাছে হাত পাততে থাকে, তাদের আশায় বসে থাকে যে তারা বিদেশ থেকে এসে ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে আবার ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।' দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে সজীব ওয়াজেদ বলেন, 'আপনাদের সতর্ক করে দিতে চাই, এই ষড়যন্ত্রের সাফল্য আমরা হতে দেব না। এই ষড়যন্ত্র যদি আবার সাফল্য হয়, তাহলে কিন্তু আবার বাংলাদেশ আবার পিছিয়ে যাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ তো দূরের কথা। আমরা সেই আমলে নেমে যাবো যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে আবার নিম্ন আয়ের দেশে নেমে যাবে।' দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, 'তবে আমার আত্মবিশ্বাস যে, দেশের মানুষ এখন অনেক সতর্ক, অনেক শিক্ষিত। আমরা অনেক যে পরিমাণ এগিয়ে এসেছি, আমাদের কেউ দাবায় রাখতে পারবে না। আওয়ামী লীগ যত দিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন আমরা পিছিয়ে যেতে দেব না।' | 6 |
বরিশালে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ প্লাটুন বিজিবি ও ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছেন জেলা প্রশাসক। বুধবার দিবাগত রাতে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাঁটানো অবৈধ ব্যানার-বিলবোর্ড-প্লাকার্ড অপসারণকে কেন্দ্র করেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় উপজেলা পরিষদ এলাকা। তিন দফা গুলি ও দফায় দফায় লাঠিচার্জে আহত হন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্যানেল মেয়র, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের পদদিধারী নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন জেলা আনসার কমান্ডারসহ পুলিশের দুইজন সদস্য। এ ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান ও জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। | 6 |
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কোকতারা এলাকায় রেললাইন ভাঙা দেখে নিজ গলার লাল গামছা উড়িয়ে ট্রেনযাত্রীর জীবন বাঁচানো সেই দুঃসাহসী যুবক নাজির আকন্দকে সম্মাননা ও অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ রেল বিভাগ রাজশাহী অঞ্চল। নাজির আকন্দ উপজেলার কোকতারা এলাকার মৃত আফছার আকন্দের ছেলে।আজ বুধবার দুপুরে পাঁচবিবি স্টেশনে নাজিরকে এ সম্মাননা ও অর্থ প্রদান করেন রেলওয়ে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার মিহির কান্তি গুহ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ফিরোজী, বিভাগীয় বাণিজ্য কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন (পাকশী), বিভাগীয় ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম (পাকশী), সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাকিব হাসান (পার্বতীপুর) ও পাঁচবিবি স্টেশন মাস্টার আব্দুল আউয়ালসহ রেলের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।উল্লেখ্য, গত ২০শে আগস্ট শুক্রবার ভোরবেলা ঢাকার থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী ''পঞ্চগড় এক্সপ্রেস" পাঁচবিবির কোকতারা এলাকায় রেললাইন ভাঙা দেখে নাজির আকন্দ গামছা উড়িয়ে ট্রেনটি দাঁড় করালে ট্রেনটি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায়। | 6 |
কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর ছোট ভাইয়ের বন্ধু মিজানুর রহমান সোহাগ ১৬ দিন পর বাড়ি ফিরেছেন, যাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিল পরিবার।
মঙ্গলবার সকালে সোহাগের চাচা সেলিম জানান, ফজরের নামাজ শেষে ফেরার পথে তিনি কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন নাজিরাবাজার এলাকায় সাকুরা পাম্পের সামনে সোহাগকে দেখতে পান। পরে তাকে বাড়ি নিয়ে আসেন।
তবে সোহাগ এতোদিন কোথায় ছিল ও কীভাবে বাড়ির কাছে এলো-এসব বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি তিনি। তবে সোহাগকে খুব বির্মষ দেখাচ্ছিল বলে জানান তিনি।
গত ২০ মার্চ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের মধ্যেই ২৭ মার্চ সোহাগকে ধরে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছিলেন তার বাবা নুরুল ইসলাম। তখন তিনি বলেছিলেন, ২৭ মার্চ রাত দেড়টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সাধারণ পোশাকে আটজন লোক তাদের বাড়িতে ঢোকেন। প্রথমেই তারা তার মেয়ের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। পরে সোহাগের দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে সাদা একটি মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যায়।
তবে র্যাব বা পুলিশ কেউই সোহাগ নামে কাউকে গ্রেফতার কিংবা আটকের কথা স্বীকার করেনি। ছেলের খোঁজ না পেয়ে ৩০ মার্চ বুড়িচং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সোহাগের বাবা নুরুল ইসলাম।
সোহাগের বোন খালেদা আক্তার সে সময় বলেছিলেন, তনু হত্যার খবর টিভিতে দেখে তার ভাই আনোয়ারকে ফোন দিয়েছিলেন সোহাগ। কিন্তু আনোয়ারের ফোন বন্ধ পান।
সোহাগের চাচা আব্দুল বাতেন জানিয়েছিলেন, কলেজে পড়ার সময় তনুর ভাই আনোয়ারের সঙ্গে সোহাগের বন্ধুত্ব হয়।
কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় তনুদের বাসার কয়েকশ গজের মধ্যে তার মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল। এই তরুণীকে খুনের আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করছিল পুলিশ। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেননি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
| 6 |
পত্রিকার প্রতিবেদকদের যার যার বিটে বছর শেষে সালতামামি করার রেওয়াজ রয়েছে। এবার লেখার আগে নারী ও শিশু বিটের কর্মী হিসেবে পুরো বছরের একটা 'মানসিক ভ্রমণ' দিয়ে দেখে নেওয়ার চেষ্টা করলাম আলোচিত কী কী আছে। তবে বছরের শেষ প্রান্তের তিনটা ঘটনা জানান দিল লেখায় পুরোনোগুলোর উল্লেখ অল্পস্বল্প করলেও চলবে। তিনটি ঘটনাই ধর্ষণের। তাহলে বিশেষভাবে তিনটির উল্লেখই-বা কেন! ধর্ষণ ঘটছেও প্রতিদিন। শুধু ঢাকায় জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাসে দিনে গড়ে ২টি ধর্ষণ বা দলবদ্ধ ধর্ষণ বা ধর্ষণের পর হত্যার মামলা হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হচ্ছে দিনে গড়ে ৬টির বেশি। গত বছরের চেয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা এবার ৩ শতাংশ বেশি (সূত্র: ঢাকা মহানগর পুলিশ)। বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ১১ মাসের হিসাব ধরলে আপনি প্রতিদিন প্রায় ৪টি ধর্ষণের খবর পত্রিকায় পড়েছেন। অন্যান্য নির্যাতন ধরলে এ-সংক্রান্ত খবরে আপনার চোখ আটকেছে আরও বেশি। নিত্যদিন সহিংসতার খবর দেখে আপনি অভ্যস্ত হয়ে পড়ার বিপজ্জনক অবস্থায় চলে যাচ্ছেন কি না, সে রায় আমি দিতে পারি না। বরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের 'জনতার রায়' গল্পের শুরুর মতো বলতে চাই না, 'হিসেব করে দেখলে এই শহরে এমন ঘটনা হামেশাই ঘটে থাকে। অধিকাংশেরই এতে বিচলিত হওয়ার অবসর থাকে না...।' তবে নিশ্চিত করে বলতে পারি, ওই তিনটি ঘটনায় তিনটি শব্দ আপনার-আমার বুকে ধাক্কা দিয়েছে। এক. 'কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার' (কক্সবাজার, ২২ ডিসেম্বর), দুই. 'সন্তানদের আটকে রেখে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণ' (বান্দরবান, ২২ ডিসেম্বর), ৩. 'উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে' চলন্ত বাসে ধর্ষণ (নারায়ণগঞ্জ, ১৯ ডিসেম্বর)। আমার চোখে ধাক্কা খাওয়া শব্দগুলো উদ্ধার-চিহ্নে বেঁধে দিলাম। নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় মামলা করা মেয়েটির নম্বরে ফোন দিলাম ২৫ ডিসেম্বর। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গৃহবধূ পরিচয়ের মেয়েটির বয়স মাত্র ১৮ বছর। এ বছরের ১১ মাসে চলন্ত বাসে ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের যে ৩৪টি খবর প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে (সূত্র: বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি), তার মধ্যে ১৮ বছরের মেয়েটির ঘটনা এখনো যুক্ত হয়নি। মেয়েটির সঙ্গে কথা শেষ করার আগে আগে বললাম, 'আপনার কোনো প্রয়োজন হলে ফোন দিয়েন'। ফোন ছাড়ার আধঘণ্টা পর মেয়েটি ফোন দিয়ে বললেন, 'কিছু মনে করবেন না, একটা উপকার করতে পারবেন! ঘটনার সময় আমার কাছে ঘরভাড়ার তিন হাজার টাকা ছিল। টাকাগুলো ওরা (আসামিরা) নিয়ে নেয়। স্বামী বারবার সেই টাকার কথা তোলে। পুলিশের কাছে টাকাটা আছে কি না, একটু খোঁজ নিতে পারবেন!' তিন হাজার টাকা আর মামলার বিষয়ে জানতে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহাকে ফোন দিলাম। তিনি বললেন, টাকার বিষয়ে জানা নেই। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের সত্যতা পেয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী মেয়ে ও আসামিদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামির মধ্যে চালক প্রাপ্তবয়স্ক। বাকি দুজন কিশোর। মেয়েটি আমাকে বলেছিলেন, তিনি আসামিদের শাস্তি চান। স্বামী এখন পর্যন্ত তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন। তবে আসামিদের সাজা না হলে এই সমর্থন কত দিন থাকবে, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। আমি ভাবছিলাম, এ দেশে মামলার যে দীর্ঘসূত্রতা, মেয়েটি মামলাটি নিয়ে ঠিক কতখানি যেতে পারবেন। যাঁকে স্বামীর 'কথা শোনার ভয়ে' ঘরভাড়ার তিন হাজার টাকার খোঁজ নিতে হয়, তিনি কত দিন বিত্তবিহীন অবস্থায় লড়াই করার শক্তি ধরে রাখবেন? কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের ভেতর কাহিনিতে কম মোচড় আসেনি। গত সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সংবাদ সম্মেলনে জানায়, হৃদ্রোগে আক্রান্ত আট মাসের সন্তানের চিকিৎসার জন্য পর্যটকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে থাকা মেয়েটি আসামিদের নজরে পড়েন। ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে মেয়েটিকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। মেয়েটি গত বছর সিলেটের এমসি কলেজে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার মেয়েটির মতো স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাননি। কিন্তু দুটি ঘটনায় মিল একটাই, দুজনই ভুক্তভোগী। এসব ঘটনা একটি নারীকে ভীতি, সংকুচিত করে ফেলার জন্য যথেষ্ট। স্বাভাবিক জীবনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট। আমি নিজে নারী হিসেবে এসব ঘটনায় প্রভাবিত হই। নভেম্বর মাসে পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে হবিগঞ্জে বেড়াতে গিয়ে নির্ধারিত হোটেলে পৌঁছাতে রাত হয়ে গিয়েছিল। নির্জন, অন্ধকার সরু রাস্তায় চলতে গিয়ে গাড়ির ভেতরে বসেও আমি স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। মাস দু-এক আগে স্বামী, শিশুসন্তান নিয়ে কাশফুল দেখতে গিয়ে একপর্যায়ে অনেক গভীরে চলে গিয়েছিলাম। আশপাশে দু-একজন লোক ছাড়া কেউ ছিল না বলে হঠাৎ ভয় এসে গ্রাস করল। সৌন্দর্য উপভোগে সমাপ্তি টেনে আক্ষরিক অর্থেই পালিয়ে এলাম। গত বছর কুয়াকাটায় বেড়াতে গিয়ে খুব ভোরে সাগর দেখতে স্বামীর সঙ্গে বেরিয়েছিলাম। হোটেল থেকে সাগরে দ্রুত পৌঁছানোর একটি মাটির পথ পেয়ে যতটা খুশি হয়েছিলাম, তত দ্রুতই মিইয়ে গিয়েছিলাম যখন দেখলাম চারপাশ খুব বেশি নির্জন। শেষ পর্যন্ত লোক চলাচল বেশি এমন পথ ধরেছিলাম সাগর ছুঁয়ে দেখতে। তবে এমন মনোভাব সমস্যার সমাধান আনে না, সমস্যা বাড়ায়। ছুটতে হবে, লড়তে হবে, নিজের জন্য জায়গা তৈরি করতে হবে-তবেই তো এগোনো যাবে। সঙ্গে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের সংখ্যা বাড়লে সেই পথ চলা কিছুটা সহজ হবে। সরকারপ্রধানও নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলোতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধানের উপায় বলে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৯ ডিসেম্বর 'বেগম রোকেয়া দিবস উদ্যাপন' এবং 'বেগম রোকেয়া পদক-২০২১' প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেছেন, 'সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা আমাদের জন্য পীড়াদায়ক, তা হচ্ছে নারীর প্রতি সহিংসতা। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন করেছি। কিন্তু শুধু আইন করলেই এসব বন্ধ করা যাবে না, এ জন্য মানসিকতাও বদলাতে হবে। চিন্তাচেতনার পরিবর্তন আনতে হবে এবং বিশ্বাসটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় জিনিস। এই বিশ্বাসটা করতে হবে যে নারীরা কেবল ভোগের বস্তু নয়, নারীরা সহযোদ্ধা।' (সূত্র: ইত্তেফাক) যেদিন কক্সবাজার ও বান্দরবানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেই ২২ ডিসেম্বরই বাংলাদেশের জন্য আনন্দ বয়ে এনেছে মারিয়া মান্দাইয়ের দল। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ফাইনালে আনাই মগিনির করা একমাত্র গোলে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয় করেছে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দল। মেয়েদের হাসিতে হেসেছে পুরো বাংলাদেশ। জয়ের পর প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধিনায়ক মারিয়া মান্দাই বলেছিলেন, এটা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশবাসীকে দেওয়া উপহার। বিষাদ-বিষণ্নতা নয়, আশাই বাঁচিয়ে রাখে মানুষকে। স্বপ্ন আগামী দিনের জন্য বাধা ডিঙাতে উৎসাহ জোগায়। দেশটি নারীর জন্য তেমন নিরাপদ হোক যেন নারীরা মান্দাইয়ের মতো হাসিতে ভাসতে পারে। স্বপ্ন হোক অনেক বড়। উত্তর আমেরিকায় ক্যারিবীয় সাগরে 'সেন্ট লুসিয়া' নামে বিশ্বে একটি দেশই আছে, যেটি এক মহীয়সী নারীর নামে নামকরণ হয়েছে (অবশ্য আয়ারল্যান্ডের নাম এরা দেবীর নামে নামকরণ বলা হয়)। মনে সাধ জাগে, নারীর প্রতি সহিংসতা শূন্যে নামিয়ে প্রথম দেশ হিসেবে উচ্চারিত হোক বাংলাদেশের নাম। নাজনীন আখতার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, প্রথম আলো | 8 |
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় আহত দেলোয়ার হোসেন সাগর (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার ভোররাতে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।নিহত দেলোয়ার হোসেন সাগর মাছিয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। সে সলঙ্গা ইসলামি উচ্চবিদ্যালয়ের ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রোববার দুপুরের দিকে হাটিকুমরুল ইউনিয়নের মাছিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুই মেম্বর প্রার্থী সেলিম হোসেন ও হীরা সর্দারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।এ ঘটনায় স্কুলছাত্র দেলোয়ার হোসেন সাগরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেলোয়ার হোসেন সাগরকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোররাতে মারা যায় দেলোয়ার হোসেন সাগর।সলঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকিরুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এক স্কুলছাত্র আহত হওয়ার পর শজিমেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সেখানে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহ সিরাজগঞ্জে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় কারা জড়িত এবং নেপথ্যে কারা উস্কানি দিয়েছে তাদের খোঁজা হচ্ছে। তদন্ত চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবকটি ইউনিট এবং গোয়েন্দারা এ নিয়ে কাজ করছে। শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালায় আয়োজিত ডকু ড্রামা 'দুটি যুদ্ধের একটি গল্প'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি সকলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনার পেছনের কারণ খোঁজা হচ্ছে। যারা এ ঘটনায় জড়িত শিগগিরিই তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এরআগে গত বুধবার ভোরে কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দীঘির পাড়ে একটি পূজা মণ্ডপে প্রতিমার কাছে কোরআন শরীফ পাওয়া যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে বিভিন্ন জায়গায় পূজা মণ্ডপ ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধরা। | 6 |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমেদের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে ভোট চলাকালে শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সালাউদ্দিনের ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চতুর্থ তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় কে বা কারা সালাউদ্দিনকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি নাকে ও পায়ে আঘাত পান। পরে লোকজন নিয়ে সেখান থেকে চলে যান সালাউদ্দিন। সালাউদ্দিনের ছেলে মো. রবিনের অভিযোগ, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার খবর পেয়ে তারা শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। ওই ভবনের চতুর্থ তলায় প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মহাজোটের প্রার্থী সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলার লোকজন তাদের ধাক্কা দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এতে সালাউদ্দিনসহ কয়েকজন আহত হয়। পরে সালাউদ্দিনকে অ্যাপালো হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তবে হামলার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশের শ্যামপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, তেমন কিছুই হয়নি। ধানের শীষের প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমেদ লোকজন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এসেছিলেন। এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রিসাইডিং অফিসারের ওপর চড়াও হয় তার লোকজন। পরে লাঙল প্রতীকের প্রার্থীর লোকজনের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর সালাউদ্দিন বাসায় যান। পরে বাসা থেকে বের হলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তমাখা ব্যান্ডজ দেখা যায়। শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার রেজাউল করিম পলাশ বলেন, 'এই কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রার্থী সালাউদ্দিনের কোনো এজেন্ট আসেনি। সকালে ভোট চলাকালে সালাউদ্দিন আহমেদ এসে আমাকে বলেন, আমার এজেন্ট কই? তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি কেন? আমি তাকে বলি, আপনার কোনো এজেন্ট আসেনি। কোনো এজেন্ট থাকলে এখন আসতে বলেন। কিন্তু তা না করে তিনি উত্তেজনার সৃষ্টি করেন, আমাদের ওপর চড়াও হন।' এ ঘটনায় ১০-১৫ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল বলেও জানান তিনি। এদিকে অ্যাপোলো হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার সাংবাদিকদের জানান, কর্তব্যরত চিকিৎকরা সালাউদ্দিন আহমদকে দেখছেন। তিনি হেঁটেই হাসপাতালে ঢুকেছেন। তেমন গুরুতর কিছু তাদের মনে হয়নি। | 6 |
করোনায় দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এছাড়া ৪৫ হাজার নমুনার মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ২৩৬ জনের। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৭ হাজার ২৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। মোট শনাক্ত হয়েছে ১০ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৪ জন। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৩৯৫ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৫ হাজার ৮০৭ জন। পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ৭৪ জন এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে খুলনায় ৫২ জন। এর আগে বুধবার দেশে করোনা ভাইরাসে ২১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১২ হাজার ৩৮৩ জন। শনাক্ত কমলেও বেড়েছে মৃত্যু। এর আগে ১১ জুলাই দেশে সর্বোচ্চ ২৩০ জন মারা যান। ১০ জুলাই ১৮৫ জন, ৯ জুলাই ২১২, ৮ জুলাই ১৯৯ জন, ৭ জুলাই ২০১ জন, ৬ জুলাই ১৬৩ জন, ৫ জুলাই ১৬৪ জন, ৪ জুলাই ১৫৩ জন, ৩ জুলাই ১৩৪ জন, ২ জুলাই ১৩২ এবং ১ জুলাই ১৪৩ জন করোনায় মৃত্যুবরণ করেন। | 6 |
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাখতুমের মেয়ে রাজকুমারী শেখা লতিফা বিনতে মোহাম্মদ আল-মাখতুমকে যত্নের সাথেই তার বাড়িতে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকরা তাকে দেখাশোনা করছেন। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের লন্ডন দূতাবাস থেকে সরবরাহ করা দুবাইয়ের শাসকের পরিবারের এক বিবৃতিতে এই কথা বলা হয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিবিসি ও অন্য সংবাদমাধ্যমে রাজকুমারীর অবস্থা বিষয়ে প্রচারিত সংবাদ 'প্রকৃত অবস্থার প্রতিফলন করেনি।' এর আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি ব্রিটেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে রাজকুমারী লতিফার গোপনে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের পর জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্বনেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে তার সন্ধান চেয়েছেন। ওই ভিডিওতে ৩৫ বছর বয়সী লতিফা নিজেকে বন্দী হিসেবে দাবি করে নিজের নিরাপত্তা ও জীবন সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাবার দুর্ব্যবহারের অভিযোগে রাজকুমারী লতিফা ২০১৮ সালের ৪ মার্চ নিজস্ব ইয়টে দুবাই ছেড়ে পালান। পালিয়ে যাওয়ার সময় ভারত মহাসাগরে তাকে ধরে আবার দুবাই ফিরিয়ে নেয়া হয়। সূত্র : মিডল ইস্ট আই | 3 |
মানিকগঞ্জে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার দুই যাত্রীসহ চালক তিনজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে জেলার মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন-অটোরিকশাচালক জাহিদ (৪০) এবং যাত্রী রহমান (২৫) ও রাজ্জাক (৩০)। তাদের বাড়ি হরিরামপুর উপজেলার হাপানিয়া গ্রামে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রিয়াদ মাহমুদ। তিনি বলেন, দুপুরে পাটুরিয়ামুখী কমফোর্ট লাইন পরিবহনের একটি বাস মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার চালক জাহিদ ও যাত্রী রহমান মারা যান। গুরুতর আহত অটোরিকশার আরেক যাত্রী রাজ্জাককে হাসপাতালে নেওয়া পথে তার মৃত্যু হয়।তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাস চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। | 6 |
'তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ দেশে আর আসবে না। নির্বাচন হবে, যাঁরা নির্বাচিত প্রতিনিধি, যারা সরকার গঠন করেছেন, সেই সরকারের অধীনই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কেউ নির্বাচনে এল কি না, সেটা দেখার বিষয় না। আওয়ামী লীগ সরকার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন দেবে।'গতকাল সোমবার দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে যৌথ কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন সাবেক চিফ হুইপ ও সাংসদ আ স ম ফিরোজ।কর্মিসভায় ফিরোজ আরও বলেন, 'খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া দুজনই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা নির্বাচন করতে পারবেন না। তাই বিএনপি অগণতান্ত্রিক পথে এসে দেশে অপশক্তি উত্থানের চেষ্টা করছে।'কালিশুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন সিকদারের সভাপতিত্বে কর্মিসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোসারেফ হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সামসুল আলম মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম ফারুক, আনিচুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার নিশু প্রমুখ।সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এরপর বেলা ৩টায় কালিশুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। | 6 |
তারাগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। এতে পুরো এলাকায় দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার তারাগঞ্জ-কিশোরগঞ্জ সড়কের অগ্রণী মোড়ের বাটা শোরুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক তারাগঞ্জ বাজারের ওই সড়ক দিয়ে আসছিল। হঠাৎ বাটা শোরুমের কাছে পৌঁছালে সড়কের ধারে থাকা পল্লী বিদ্যুতের কাঠের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে খুঁটিটি ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে জানায়। অফিস বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। | 6 |
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমা হামলায় বাসের ৮ যাত্রী পুড়িয়ে হত্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত। একইসাথে এ মামলার চার্জ গঠনের তারিখ আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: আলী আকবর এ আদেশ দেন। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, বাসের আট যাত্রী হত্যা মামলায় গত ৭ জানুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চার্জ গঠন এবং বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির আবেদন ছিল। ওইদিন আদালত থেকে ১৬ জানুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে তার জামিন শুনানি পিছিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন পরে খালেদা জিয়ার এ মামলায় আমরা জামিন শুনানী করতে পেরেছি এবং আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপন করেছি। বিজ্ঞ আদালত উভয়পক্ষের শুনানী শেষে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন এবং চার্জ গঠনের জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন। ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ২০ দলীয় জোটের অবরোধের সময় চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে আট যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ছয়জন নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়। ৭৭ জন আসামির মধ্যে তিনজন মারা যান, পাঁচজনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়। পরে জেলা ডিবির পরিদর্শক ফিরোজ হোসেন অধিকতর তদন্ত শেষে খালেদা জিয়াসহ অপর ৬৯ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। | 9 |
ভারতের তীব্র সমালোচনা করলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধরীর পর আফ্রিদিও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে পাঠানো ই-মেইল ভুয়া বলে ভারতের ঘাড়েই দোষ চাপিয়ে দিলেন। নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড পরপর পাকিস্তান সফর বাতিল করায় ক্ষুব্ধ আফ্রিদি। তিনি মনে করেন নিউজিল্যান্ড যেভাবে পাকিস্তান ছেড়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য। এই ঘটনায় ভারতের হাত দেখছেন তিনিও। আফ্রিদি বলেন, 'আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গোটা বিশ্বকে এটা বোঝাতে হবে আমরাও একটা দেশ এবং নিজেদের দেশ নিয়ে আমরা গর্বিত। মেনে নিচ্ছি, একটা দেশ সমানে আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাকিদেরও এক ভুল করা উচিত নয়। তারা তো শিক্ষিত। তারা কেন অন্ধের মতো ভারতকে অনুসরণ করবে?' তিনি আরো বলেন, 'ক্রিকেটের মাধ্যমে অনেক সম্পর্ক ঠিক হতে পারে। একটা সময় ভারত থেকে আমাদের উদ্দেশে হুমকি আসত। পাকিস্তান সরকার তার পরও আমাদের ভারতে যেতে বলে। আমরা গিয়ে খেলে এসেছিলাম। কোভিডের সময় ইংল্যান্ডেও অবস্থা খুব খারাপ ছিল। তবুও আমরা সেখানে গিয়ে খেলেছি। আর ভুয়া ইমেইলে ভয় পেয়ে দেশে ফিরে গেল নিউজিল্যান্ড। এটা একেবারেই ঠিক নয়।' আফ্রিদি দাবি করেন, নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা যথেষ্ট ভালো ছিলেন পাকিস্তানে। তিনি বলেন, 'যদি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকত তবে তা সবার আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে জানানো উচিত ছিল। তা ছাড়া একটা সফর আয়োজন করার আগে নিরাপত্তা নিয়ে প্রচুর কাটাছেঁড়া হয়। সফরকারী দল নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার জন্য তাদের প্রতিনিধি পাঠায়। এটা একটা লম্বা প্রক্রিয়া। পুরোটা শেষ হওয়ার পরে তবেই সবুজ সঙ্কেত দেয়া হয়। আর নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটাররাই জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানকে ভালোবেসে ফেলেছিল।' সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা | 12 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'শেখ হাসিনা আছেন বলেই আজ পদ্মা সেতু হচ্ছে। শেখ হাসিনা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। পদ্মা সেতু প্রকল্পের শুরুতে আমাদের চোর আখ্যায়িত করেছিল বিশ্বব্যাংক। শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন, আমরা বীরের জাতি।' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আজ বুধবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (ডুপডা) বার্ষিক সাধারণ সভা, পুনর্মিলনী ও গুণীজন সম্মাননার এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকায় মেট্রোরেল হচ্ছে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে। এর নির্মাণকাজ শেষ হলে ঢাকার চেহারাই পাল্টে যাবে। ঢাকার বাইরেও নয়টির মতো ফ্লাইওভার হয়েছে এবং হচ্ছে। শেখ হাসিনার আমলে একটা বিস্ময়কর উন্নয়ন হচ্ছে। আগে স্যাটেলাইট ভাড়া করতে হতো, কিন্তু এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করতে পারছে। আজ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। শেখ হাসিনার উন্নয়নের জন্য আজ বিশ্বসভায় বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, যা উন্নয়ন হয়েছে, তা কোনো দলের জন্য নয়। যেমন শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগের জন্য করেননি, করেছেন ১৬ কোটি মানুষের জন্য। আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিএনপিকে স্বাগত জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, 'শেখ হাসিনা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে চান। কে জিতল, তাতে কিছু আসে-যায় না। আওয়ামী লীগ হেরে গেলে আমাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে না। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।' বাংলাদেশে বারবার বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আমরা চিরদিন ক্ষমতায় থাকব না। কখন কী হয় তা কি বলা যায়! চোখের পলকে এই দেশে অনেক কিছু ঘটে গেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।' ওবায়দুল কাদের বলেন, 'দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, অসহিষ্ণুতা আমাদের রাজনীতি ও পরিবেশকে বিষাক্ত করেছে। রাজনীতির অলঙ্ঘনীয় দেয়াল ক্রমেই উঁচু হচ্ছে। আমি সেতুমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আমাকে পদ্মা সেতু নির্মাণের দায়িত্ব দিয়েছেন, ছোট-বড় অনেক সেতু নির্মাণ করেছি। কিন্তু আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক জীবনে এবং রাজনীতিতে অনেক সেতু দরকার।' নিজের সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, 'গত মার্চে আমার ওপর যা নেমে এসেছিল, কিছুক্ষণের জন্য এমনও মনে হয়েছিল যে আমি আর নেই। সেদিন মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম। নেত্রী যদি আশ্চর্য দ্রুততায় আমার চিকিৎসার সিদ্ধান্ত না নিতেন, তাহলে কী হতো জানি না। আমি জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে রয়েছি। আমার পুরো জীবনটাই সংগ্রামের। কঠিন পরিশ্রম করে জীবনের অনেকগুলো স্তর পেরিয়ে এই পর্যায়ে উন্নীত হয়েছি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে আমার চেয়ে অনেক মেধাবী ছাত্র ছিলেন। কিন্তু আমি যে উচ্চতায় পৌঁছেছি, তা সবার ভাগ্যে জোটে না। আমি প্রতিকূল স্রোতে সাঁতার কাটতে ভালোবাসি।' | 9 |
এপি, সিবিএস-এর মতো চারটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করল চীন। বেইজিংয়ের ব্যাখ্যা, আমেরিকায় চীনা সংবাদ সংস্থাগুলির উপর যে ভাবে নজরদারি শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, এটা তারই পাল্টা পদক্ষেপ। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ন বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জানিয়েছেন, সে দেশে কর্মরত এপি, ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনাল, সিবিএস এবং ন্যাশনাল পাব্লিক রেডিয়োর মতো চারটি মার্কিন সংবাদ মাধ্যমকে সাত দিনের মধ্যে তাদের সংস্থাগুলির কাজকর্ম নিয়ে তথ্য হাজির করাতে হবে। এদের কর্মী, আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি ও অন্যান্য কিছু বিষয় নিয়ে জানাতে হবে চীন সরকারকে। লিজিয়নের দাবি, চীনের এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আইনসঙ্গত। আমেরিকায় চীনা সংবাদমাধ্যমগুলিকে যেভাবে অযথা হেনস্থা করার চেষ্টা হয়েছে, এটা তারই পাল্টা পদক্ষেপ। গত মাসেই আমেরিকায় কর্মরত সিসিটিভি-সহ চারটি চীনা সংবাদমাধ্যমকে কর্মী, সম্পত্তি সম্পর্কে তথ্য দিতে বলা হয়েছিল। | 3 |
'ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কি হবে তা বোঝা হয়ে গেছে। নির্বাচনের সাধও মিটে গেছে। এখন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে বাড়ি থাকতে দিন।' কথাগুলো বলেছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দু'জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। আজ শুক্রবার বেল ১১টা ও ১২টায় অবর'দ্ধ অবস্থায় নিজ নিজ বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে এমন আকুতি জানিয়েছেন হোগলাপাশা বিএনপির প্রার্থী প্রধান শিক্ষক মফিজুল হক ও বনগ্রামের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জব্বার মোল্লা। পৃথক লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিদিন কর্মীদেরকে মারপিট করছে। প্রার্থীসহ আত্মীয়-স্বজন ও কর্মীদের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। রাতে বাড়িতে গুলি ও ককটেল হামলা করছে। বিডি-প্রতিদিন/১১ মার্চ ২০১৬/শরীফ | 6 |
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ হাজার ৫৭৩ জন। এ সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৬১৭ জন। এখন পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৬ জন। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২১ হাজার ২৪৬ জনের। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারির পর গত সাত মাসে এটিই সর্বনিমম্ন শনাক্তের হার। রবিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরও জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১১২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ১৮ হাজার ৭৫৪ জন। দেশে করোনার প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। | 4 |
ঈদুল আজহায় ফ্রিজ ক্রেতাদের মিলিয়নিয়ার হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ওয়ালটন। ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-৪ এর আওতায় ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজার কিনে রেজিস্ট্রেশন করলেই প্রতিদিনই পেতে পারেন এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ টাকা। এছাড়াও থাকছে কোটি কোটি টাকার নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচারসহ হাজার হাজার ফ্রি পণ্য। এ উপলক্ষ্যে শনিবার রাজধানীতে ওয়ালটন করপোরেট অফিসে আয়োজন করা হয় এক ডিক্লারেশন প্রোগ্রামের। যার স্লোগান হচ্ছে 'কে হবেন আজকের মিলিয়নিয়ার'। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই সুযোগ থাকছে ঈদুল-আজহা বা কোরবানির ঈদ পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা বা পরিবেশক শোরুম কিংবা অনলাইনে ই-প্লাজা থেকে ফ্রিজ কিনে মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করবেন ক্রেতা। এরপর ফিরতি এসএমএস-এ ক্রেতাকে টাকার পরিমাণ, ক্যাশ ভাউচার অথবা ফ্রি পণ্য সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হবে। অনলাইনে দ্রুত সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সারা দেশে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে ওয়ালটন। এতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ক্রেতার নাম, ফোন নম্বর এবং ক্রয়কৃত পণ্যের মডেল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য ওয়ালটনের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে, ওয়ারেন্টি কার্ড হারিয়ে ফেললেও দেশের যেকোনো ওয়ালটন সার্ভিস সেন্টার থেকে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলবে। সার্ভিস সেন্টারের প্রতিনিধিরাও গ্রাহকের ফিডব্যাক জানতে পারবেন। এ কার্যক্রমে ক্রেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে মিলিয়নিয়ারসহ ফ্রি পণ্য এবং নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচারের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের আগের তিন সিজনে নতুন গাড়ি, আমেরিকা ও রাশিয়া ভ্রমণের ফ্রি বিমান টিকিট ছাড়াও ক্রেতারা কোটি কোটি টাকার ক্যাশ ভাউচার, মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টিভি, এসিসহ বিভিন্ন ওয়ালটন পণ্য পেয়েছেন। ওয়ালটন ফ্রিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুর্শেদ জানান, এ বছর দেশের বাজারে ২০ লাখ ফ্রিজ বিক্রির টার্গেট নেয়া হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসেই প্রায় ১০ লাখ ফ্রিজ বিক্রি হয়ে গেছে। আর কোরবানির ঈদ ঘিরে আরো ১০ লাখ ফ্রিজ বিক্রির টার্গেট রয়েছে। অর্থাৎ ঈদের মধ্যেই ২০ লাখ ফ্রিজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী। ওয়ালটন ফ্রিজের প্রোডাক্ট ম্যানেজার শহীদুজ্জামান রানা জানান, স্থানীয় বাজারে ওয়ালটনের রয়েছে শতাধিক মডেলের ফ্রস্ট, নন-ফ্রস্ট, ডিপ ফ্রিজ ও বেভারেজ কুলার। ফ্রস্ট ফ্রিজের মধ্যে রয়েছে চোখ ধাঁধানো আকর্ষণীয় ডিজাইনের গ্লাস ডোর এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির বিএসটিআই'র 'ফাইভ স্টার' এনার্জি রেটিং প্রাপ্ত ফ্রিজ। এছাড়া ইনভার্টার ও গ্লাস ডোরের ৫৬৩ লিটারের সাইড বাই সাইড ডোরের নন-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটর অভিজাত গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এসব ফ্রিজ স্ট্যাবিলাইজার ছাড়াই নিশ্চিন্তে চালানো যাবে। দেশে তৈরি পণ্যের সর্বোচ্চ গুণগতমান এবং শ্রেষ্ঠত্বের আত্মবিশ্বাসে ফ্রিজে ১ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি সুবিধা দিচ্ছে ওয়ালটন। পাশপাশি ফ্রিজ কম্প্রেসরের গ্যারান্টি সুবিধা আরো দুই বছর বাড়িয়ে ১২ বছর করা হয়েছে। রয়েছে সহজ কিস্তি সুবিধায় কেনার সুযোগ। বিডি-প্রতিদিন/২৯ জুন, ২০১৯/মাহবুব | 0 |
আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার জন্য প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিনকে (৪৫) দোষী সাব্যস্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। এই মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীরা মনে করছেন, কমপক্ষে ৪০ বছর চৌভিনকে কারাগারে কাটাতে হবে। গত বছরের মে মাসে গ্রেফতারের পর যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসের রাস্তায়ফ্লয়েডের ঘাড়ে নয় মিনিটেরও বেশি সময় ধরে হাঁটু চেপে বসেছিলেন ডেরেক চৌভিন। শ্বাস নিতে না পেরে মারা যান ফ্লয়েড। সেই ভিডিওটি ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়লে বর্ণবাদ এবং পুলিশদের দ্বারা অত্যধিক শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ১২ সদস্যের বিচারক বেঞ্চ এক দিনেরও কম সময় নিয়ে চৌভিনকে দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। সাজা ঘোষণার আগ পর্যন্ত বিচারকদের একটি হোটেলে আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা এসময় বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। সাজার বিষয়ে তাদের সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সাজা ঘোষণার আগ পর্যন্ত তারা বাড়ি ফিরতে পারবেন না।
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 3 |
দিনে শহরতলি ও গ্রাম এলাকা আর রাতে নগরবাসীর কেনাবেচায় জমজমাট এখন সিলেট নগর। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত, কোথাও ভোররাত পর্যন্ত সরব ঈদবাজার।নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, কুমারপাড়া, লামাবাজার এলাকায় রাতের বেলা বিকিকিনি জমজমাট। এসব এলাকার বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতে নানা শ্রেণির মানুষের ভিড় বেশি।লামাবাজারের পোশাকের দোকান ষড়ঋতু-এর স্বত্বাধিকারী নাজমা পারভীন বলেন, 'রাতের বেলা ভিড় একটু বেশি হচ্ছে। তবে দিনের বেলাও ক্রেতাদের উপস্থিতি মন্দ নয়। ক্রেতাদের চাহিদা ও নতুনত্বের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ও থ্রি-পিসের পসরা সাজিয়েছি।' ভিড় দেখা গেছে নগরের লামাবাজারে মণিপুরি পোশাক বিপণন এলাকায়ও।ঈদবাজারে ক্রেতাদের টানতে বিপণিবিতানগুলোতে উপহারের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার কেনাকাটা করলেই ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ কুপন। আর ঈদের পর কুপন বিজয়ীদের দেওয়া হবে হরেক রকমের পুরস্কার। এ প্রসঙ্গে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক প্রশাসক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'ঈদবাজারে কুপনের ব্যাপারটা যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এতে ক্রেতারাও লাভবান হচ্ছেন। ব্যবসায়ও বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।'ঈদ সামনে রেখে নগরের শতাধিক বিউটি পারলার সেজেছে নতুন সাজে। সেখানেও ভিড় বেশ। সম্প্রতি নগরের কুমারপাড়ায় উদ্বোধন হয়েছে পারসোনার সিলেট শাখা। | 4 |
'কী অপরাধ করছিল আমার মাইয়া। দুইডা ভাতের লাইগা শাকিলের বাড়িতে কাজে দিছিলাম। আর শাকিলের বউ ঝুমুর আমার মাইডারে নির্যাতন কইরা মাইরা হালাইল। আল্লাহ তুমি ওই ডাইনির বিচার কইরো।' নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সাদিয়ার মৃত্যুর পর তার মা আনোয়ারা এভাবেই চিৎকার করে আহাজারি করছিলেন আর মেয়ে হত্যার বিচার চাইছিলেন। শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় গৃহকর্মী সাদিয়া। সে শ্রীবরদী পৌরশহরের মুন্সীপাড়া এলাকার হতদরিদ্র ট্রলি চালক সাইফুল ইসলামের মেয়ে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব শাকিলের বাসভবন থেকে রাত দেড়টায় গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে শিশু সাদিয়াকে। শাকিলের স্ত্রী রুমানা জামান ঝুমুর (৩৫) শিশুটিকে নানা অজুহাতে নির্যাতন করতেন। এক পর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, শিশুটির গায়ের বিভিন্ন স্থানে গরম ছ্যাঁকা দেওয়া থেকে শুরু করে গোপনাঙ্গে পর্যন্ত আঘাত করা হয়। নির্যাতনের ফলে তার মাথায় ব্যাপক ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পিঠে আগুনের ছ্যাঁকায় ঘা দেখা দেয়। ওই দিন গভীর রাতে নির্যাতনের শিকার শিশুটির আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ৯৯৯ ফোন করেন। পরে পৌরশহরের বিথি টাওয়ারের ৬ তলায় শাকিলের ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে শিশুটিকে। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে শেরপুর জেলা হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে। এ ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শ্রীবরদী থানায় একটি মামলা করেন। পরদিন গ্রেপ্তাররের পর আদালতের মাধ্যমে আসামি ঝুমুরকে কারাগারে পাঠানো হয়। শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ হোসেন খোকা জানান- ছেলে শাকিলের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। অনেক আগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে সে ভাড়া বাসায় থাকতো। পরে শ্রীবরদী বিথি টাওয়ারে ওঠে। কাজের মেয়ের সঙ্গে ছেলে বউয়ের সম্পর্ক তার জানা নেই। শ্রীবরদী থানার ওসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, মেয়েটিকে আমানষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এর ফলে শুক্রবার শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তিনি বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করে। সেই মামলায় গৃহকত্রী ঝুমুর বর্তমানে জেলা কারাগারে আছে। শিশু সাদিয়া মারা যাওয়ায় মামলাটি এখন হত্যা মামলার দিকে যাবে। | 6 |
গ্যাটকো দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। রবিবার ঢাকার ৩ নম্ব বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন নতুন এ তারিখ ধার্য করেন। আদালতের পেশকার আরিফুল ইসলাম সোহাগ সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু দুই আসামির সময় আবেদনের কারণে বিচারক নতুন দিন ধার্য করেন। রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠসংলগ্ন অস্থায়ী ভবনে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে এ মামলার বিচারকাজ চলছে। নথি সূত্রে জানা গেছে, এ মামলার আসামি খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া হাজিরা দেন। আসামি তানভীর আহমেদ এবং গালিব হোসেনের পক্ষে এ মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ রয়েছে। তাই তাঁদের পক্ষ থেকে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি মুলতবি রাখার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া, তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন দুদক। পরে ঘটনার তদন্ত করে ২০০৮ সালের ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভুইয়া, এমকে আনোয়ার এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ৫ জন মারা গেছেন। এছাড়া জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। | 6 |
রোববার মিনার রহমানের জন্মদিন। শনিবার বড়দিনে সাউন্ডটেক থেকে প্রকাশিত হলো তাঁর নতুন একটি গান 'মিছে মায়ার শহরে'-এর ভিডিও। গানটির কথা, সুর ও সংগীত করেছেন মিনার নিজেই। নতুন গান প্রসঙ্গে মিনার বলেন, 'এটি ভালোবাসার গান, প্রেমের গান। এ সময়ের তরুণদেরই বেশি ভালো লাগবে গানটি। দেখলাম গানের কথার সঙ্গে ভিডিওটাও সুন্দর হয়েছে। দেখতে ভালো লাগছে।' তিনি জানালেন, বছরখানেক আগে সাউন্ডটেকে এ গান জমা দিয়েছিলেন। জন্মদিনের আগের দিন প্রকাশিত হওয়ায় আনন্দিত মিনার বলেন, 'অনেক দিন আটকে ছিল গানটি। জন্মদিনের মতো শুভ দিনের আগমুহূর্তে নিজের একটি নতুন গান প্রকাশিত হওয়ায় ভালো লাগাটা বেড়ে গেল। আমার ভক্ত-শ্রোতাদেরও আনন্দ দেবে গানটি।' জন্মদিনে বিশেষ কোনো আয়োজন নেই মিনারের। তিনি বলেন, 'বাসায় আমার মা আছেন। বোন আসবেন। পরিবারের লোকেদের নিয়ে ঘরোয়াভাবে দিনটি উদ্যাপন করব। তা ছাড়া ফেসবুকে ভক্তদের সঙ্গেও কিছু সময় কাটাব।' সর্বশেষ প্রায় পাঁচ মাস আগে মিনারের গাওয়া 'অচেনা অভিমানের গান' নামে একটি গানের ভিডিও তাঁর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া 'আবার হারিয়ে যাই' শিরোনামে নতুন আরেকটি গান করেছেন মিনার। ভালোবাসা দিবসে গানটি প্রকাশের কথা রয়েছে। শিগগির গানটির ভিডিও নির্মাণ শুরু হবে, পরিচালনা করবেন তানিম রহমান। 'মিছে মায়ার শহরে' গানটির সংগীতায়োজন করেছেন সাজিদ আর ভিডিও নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা। | 2 |
রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর আচরণ মেনে নেয়ায় 'শাখারভ' বিজয়ী কমিউনিটি থেকে বহিষ্কার হয়েছেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি। এখন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ মানবাধিকারবিষয়ক পুরস্কার শাখারভ বিজয়ীদের কোনো কার্যক্রমে আর অংশ নিতে পারবেন না তিনি। বৃহস্পতিবার সু চিকে এই কমিউনিটি থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট। শান্তিতে নোবেল পাওয়ার এক বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯০ সালে সু চি এই পুরস্কার জয়লাভ করেন। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে দেশটির সেনাবাহিনী। নির্বিচার হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন থেকে বাঁচতে কয়েক মাসে লাখ-লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এই ঘটনায় সু চির নীরব ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা সৃষ্টি করে। সু চির নীরব ভূমিকার কারণে তাকে দেওয়া সম্মানজনক ডিগ্রি কেড়ে নেয় বহু খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়। কানাডায় তার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব বাতিল করে দেশটির পার্লামেন্ট। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
ঝিনাইদহ শহরের মহিষাকুন্ডু পাড়ায় আজিমুদ্দীন (২৪) নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কোরআন বিভাগের এক ছাত্র বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি মহিষাকুন্ডু গ্রামের আব্দুল হান্নান মহুরির ছেলে। নিহতের দাদা আব্দুল মালেক জানান, চাকরি না পেয়ে কিছুদিন যাবত হতাশায় ভুগছিলেন আজিমুদ্দীন। এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার তিনি বিষপান করেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। আব্দুল মালেক আরও জানান, আল-কোরআন বিষয়ে মাস্টার্স পাস করার পর আজিমুদ্দীন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেন। কিন্তু কোন জায়গায় তার চাকরি হয়নি। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মহিউদ্দীন বলেন, শুনেছি চাকরি না পেয়ে আজিমুদ্দীন আত্মহত্যা করেছে। ছেলেটি খুব নম্র-ভদ্র হিসেবে এলাকায় পরিচিত। বেশ কিছুদিন সে পঞ্চগ্রাম জামে মসজিদে ইমামতিও করেছে। অন্যদিকে প্রতিবেশিরা জানায়, পাবনার একটি মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। দুই বছর আগে মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার মেয়েটি আজিমুদ্দীনের সঙ্গে দেখা করে তার কাছে ফিরে আসার প্রস্তাব দেয়। ওই দিনই শহরের হামদহ এলাকায় আজিমুদ্দীন বিষপান করে। তবে প্রেমের কারণে বিষপানের বিষয়টি অস্বীকার করে আব্দুল মালেক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য আজিমুদ্দীনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। | 6 |
আইন অনুসারে কেরোসিন ও ডিজেলসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম জাতীয় জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কনভেনর স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), বিইআরসির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-কে রিটে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়েছে। আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন পেট্রোলিয়াম জাতীয় জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের জন্য ২০১২ সালে প্রস্তুতকৃত তিনটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ না করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং কেন কেরোসিন ও ডিজেলসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম জাতীয় জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের আদেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে এক সপ্তাহের রুল জারি করেছেন আদালত। | 0 |
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রাতের অন্ধকারে ২৮-৩০টি বাড়িতে হামলা, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বাধা দিতে গিয়ে হামলাকারীদের মারধরে রক্তাক্ত জখম হয়েছেন ১৫-১৬ জন নারী-পুরুষ। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত আটজনকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত দুর্গম নারায়ণপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝাউকুটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।এলাকাবাসী জানায়, দক্ষিণ ঝাউকুটি গ্রামের শফিউল্ল্যার ছেলে নুর ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য আবু হানিফ, মোন্নাফ মেম্বার গংদের সঙ্গে একই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ ও তাঁর মামা রিয়াজুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে একাধিকবার হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটে। রিয়াজুল ইসলামের করা মামলায় নুর ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য আবু হানিফসহ প্রায় ২০-২২ জন গত রোববার সকালে জামিন নিতে কুড়িগ্রাম আদালতে যান। এই সুযোগে আমজাদ মেম্বারের পক্ষের প্রায় ৭০-৮০ জন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই দিন রাত আটটার দিকে নুর ইসলামের পক্ষের প্রায় ২৮-৩০টি বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায়। বাড়ি-ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। লুট করে টাকা-পয়সা, জমির দলিল, ধান-চালসহ ১৮টি গরু। তিনটি বাড়িতে দেওয়া হয় আগুন। বাড়ির পাশের মাঠে থাকা একটি সেচের শ্যালো মেশিনও নিয়ে যায় হামলাকারীরা। বাড়িতে থাকা লোকজনকে বেধড়ক পেটানো হয়। আহতদের মধ্যে সবুরা বেগম, আবুল হোসেন, আমীর হোসেন, রুপচাঁদ, কদভানু, নুর হোসেন, সোমেদ আলী, মোন্নাফ মেম্বারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।আহত আমীর হোসেন বলেন, 'বাইতে মানুষ কম আছিল। খাওন শ্যাষ কইরা ঘুমাইতে গেছিলাম। সেই সুম হেরা হামলা কইরা আমগোরে সব শ্যাষ কইরা দিছে।'এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত আমজাদ মেম্বার ও রিয়াজুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব।'কচাকাটা থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম বলেন, 'এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ না করলেও ঘটনা শোনার পরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু এলাকাটি নদী বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নৌকার অভাবে পুলিশ সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। আজ সকালে (সোমবার) পুলিশ সেখানে গেছে। তাঁরা ফিরে এলে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
পাঁচ দিন আগেও রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ টাকা। গতকাল সেই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৬০ টাকায়। এক সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়। আর গতকাল মঙ্গলবার সেই পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদারেরা বলছেন, এই সময়ে দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি ভারত থেকেও পেঁয়াজ আসত। কিন্তু কয়েক মাস ধরেই দেশটি থেকে পেঁয়াজ আসছে না। আবার পাবনা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ফরিদপুরসহ যেসব জেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন বেশি হয়, সেসব এলাকার হাটে এখন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারে প্রভাব ফেলছে। মসলাজাতীয় পণ্যের বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারের একাধিক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী জানান, দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসার পর থেকেই সরকার ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় আমদানি অনুমোদন (আইপি) দেওয়া বন্ধ রেখেছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের অনেকেই মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত দিয়ে চলাচল বন্ধের মেয়াদ ১৪ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর কারণে আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে। এই ধারণা থেকেও অনেক ব্যবসায়ী হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকার বাইরে দেশি পেঁয়াজ বিক্রির বিভিন্ন হাটে প্রতি মণ (৪০ কেজি হিসাবে) পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়। স্থানীয়ভাবেই প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ছে ৫০-৫২ টাকা। আমদানিতে দেরি হলে পেঁয়াজের দাম আরও তিন থেকে চার টাকা বাড়তে পারে। শ্যামবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নারায়ণ সাহা বলেন, গত সপ্তাহে পেঁয়াজের পাইকারি দাম ছিল প্রতি কেজি ৩১-৩২ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৫০-৫১ টাকায়। গতকাল কারওয়ান বাজারের আড়তে এক পাল্লা (পাঁচ কেজি) পেঁয়াজ ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজির দাম পড়েছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা। আর খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। শ্যামবাজার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজেদ প্রথম আলোকে বলেন, সরকার আমদানির সুযোগ বন্ধ করে রেখেছে। আমদানির অনুমোদন দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। দিলে কয়েক দিনের মধ্যে দাম স্বাভাবিক হবে। আর যদি না দেয়, তাহলে দাম আরও বাড়বে। | 0 |
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে নিয়োগে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। চক্রটি অন্তত ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর কাছে থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভুক্তভোগী এক তরুণী রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করার পর চক্রের হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-এমরান হোসেন ও আহমদ উল্লাহ ফয়সাল।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছেন, পরীক্ষার সময় বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে ঘুরে ঘুরে চাকরি প্রত্যাশীদের টার্গেট করতেন তাঁরা। পরবর্তীতে সেখানে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে মোবাইল নম্বর নিয়ে আসতেন। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। এ জন্য প্রতি চাকরি প্রত্যাশীর সঙ্গে তিন লাখ টাকার চুক্তি করতেন। চুক্তির পরই নিজেদের মতো করে বানানো নিয়োগ পত্র তাঁদের হাতে ধরিয়ে দিতেন।সাদিয়া খাতুন নামের ভুক্তভোগী নারী মামলার অভিযোগে বলেছেন, তাঁর গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরে। তিনি বর্তমানে ঢাকার রামপুরা এলাকায় থাকেন। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে চাকরির আবেদন করেন। রাজধানীতেই এক পরীক্ষা কেন্দ্র তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় এমরান হোসেনের। তিন লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরির চুক্তি করেন। এরপর গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিন ধাপে দেড় লাখ টাকা দেন। পরে চক্রটির দেওয়া নিয়োগপত্র নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শাখা এটা ভুয়া নিয়োগপত্র বলে জানান। এরপর তিনি মামলা করেন।ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সংঘবদ্ধ অপরাধ তদন্ত বিভাগে টিম লিডার অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নাজমুল হক বলেন, এই চক্র এভাবেই অনেকের কাছে থেকে ভুয়া নিয়োগ দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছে। চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি কেউ থাকলে তাঁদেরও খোঁজা হচ্ছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা সহজ উপায়ে চাকরি নিতে গিয়ে এমন প্রতারণার ফাঁদে না পড়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন।প্রতারণা সম্পর্কিত পড়ুন:ই-অরেঞ্জের ৭৭ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে ৫০০ গ্রাহকের রিটটাকা না দিলে কঠোর ব্যবস্থাসহজের জটিলতায় ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি'তোমার চেক ফেরত নাও, আমার টাকা আমায় দাও'আইয়ুব আলীর কি সত্যিই সবুজ নামে ছেলে আছেচাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১৩ | 6 |
চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানালেও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়েছে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৯ মার্চেই ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত আছে। এখন পর্যন্ত পরীক্ষা পেছানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই। পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ১৯ মার্চ এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তই আছে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এই পরীক্ষার তারিখ পেছানোর দাবিতে আজ রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করেছে ৪১তম বিসিএসের পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ তাঁদের দাবি, ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের হল খোলা ও করোনার টিকা কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনঃ নির্ধারণ করতে হবে। সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত হওয়া মানববন্ধনে অংশ নেন ৪১তম বিসিএসের কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী । তাঁদের দাবি, তাঁদের সঙ্গে অনেক পরীক্ষার্থীর সমর্থন রয়েছে তবে পিএসসির যুক্তি হলো, এমনিতেই চারটি বিসিএসের জট লেগেছে। এ ছাড়া এই পরীক্ষাটি শুধু ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে না; দেশের বিভিন্ন এলাকায় হবে। স্বাস্থ্যওবিধিও কঠোরভাবে মেনে পরীক্ষাটি নেওয়া হবে। সার্বিক দিক বিবেচনায় কমিশন পরীক্ষাটি নির্ধারিত সময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার ৪১তম বিসিএসে আবেদন করেছেন প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ চাকরিপ্রার্থী। | 1 |
ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে ভারী বর্ষণের ফলে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় গত মঙ্গলবার সকালের টানা বর্ষণের পর থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনেরা। অনেকে চিকিৎসাসেবা না নিয়ে ফিরে গেছেন বলেও জানা গেছে।জানা যায়, ভারী বর্ষণে মধুপুর পৌর শহরের মাস্টারপাড়া, আদালতপাড়া, মধুমতি আবাসিক এলাকা, রায়পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকাতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন হলেও পয়োনিষ্কাশনের দিকে তেমন দৃষ্টি দেয়নি কেউ। ফলে বর্ষা শুরুর প্রথম ভারী বর্ষণেই দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ।মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখভাগে মধুপুর-জামালপুর মহাসড়কের সঙ্গে বৃহদাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণাধীন। সেই ড্রেন দিয়েও পানি প্রয়োজনমতো নিষ্কাশন না হওয়ায় হাসপাতাল চত্বর ময়লা পানিতে ভেসে গেছে। এতে করে সেবা নিতে আসা রোগী, হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাঁদের স্বজন এবং সেবাদাতা চিকিৎসকসহ অন্যদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়। জলাবদ্ধতা দেখে অনেক রোগী চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল গেটে অবস্থান করা ব্যক্তিরা।অরণখোলা থেকে আসা জাহিদুল ইসলাম জানান, মধুপুর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য যাওয়ার মতো কোনো অবস্থা না থাকায় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়েছি।হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক আকলিমা বলেন, ভারী বর্ষণের মাঝেও আমাদের হাসপাতাল থেকে বেশ কিছু রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তবে অন্যদিনের তুলনায় কম।নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন কর্মচারী বলেন, মধুপুর হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু এই হাসপাতালের পয়োনিষ্কাশনের দিকে কেউ কোনো দৃষ্টি দেয়নি। আগে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছিল। দখলদারেরা ধীরে ধীরে তা দখল করে ফেলায় দুর্ভোগ স্থায়ী রূপ নিয়েছে।তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা মানুষদের পচা দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি মাড়িয়ে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। এটা তাঁদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক।মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান বলেন, সড়ক জনপথ বিভাগের নির্মাণাধীন ড্রেনের পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতা বেশি দেখা গেছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এই সমস্যা আর থাকবে না।জানতে চাইলে মধুপুর পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী খন্দকার আব্দুল আলীম বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিন গিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। | 6 |
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে যাবেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দল। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে তার গুলশানের বাসভবনে যাবেন তারা। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক আল মামুন বলেন, আমরা ম্যাডামের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বেলা আড়াইটার দিকে তার বাসভবনে যাবো। তার শরীরে করোনার কোনো উপসর্গ নেই। এরপর শরীরের অভ্যন্তরে কোনও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে কিনা তার জন্য নিয়মিত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল আজ তাকে দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান ড. মামুন। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডামের শরীরের করোনার কোনও উপসর্গ নেই। তার অবস্থা স্থিতিশীল আছে। কিন্তু বাড়তি সর্কতার অংশ হিসেবে আমরা প্রতিনিধি একজন করোনার রোগীর যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা দরকার, সেগুলো করছি। খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, গুলশানের বাসভবন ফিরোজার দ্বিতীয় তলায় একটি রুমে আছেন খালেদা জিয়া। লন্ডনে অবস্থানরত বড় ছেলের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। এই মেডিকেল বোর্ডে বিভিন্ন দেশের ডাক্তাররা যুক্ত হয়েছেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের মিড়িয়া ইউংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ডাক্তাররা জানিয়েছেন ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা আগের মতোই আছে। তার জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট কোনও কিছুই নেই। গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে দলের পক্ষ থেকে স্বীকার হয়নি। পরে বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি ভালো আছেন। | 6 |
এই পৃথিবীতে বাবা-মার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের যে রসায়ন, তার তুলনা আর কোনও কিছুর সঙ্গেই করা যায় না। সন্তানকে কীভাবে বড় করে তুলবেন এই বিষয়ে সব বাবা-মার মনেই নিজ নিজ ধারণা কাজ করে। কেউ কেউ মনে করেন যে, সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই কড়া শাসন আর নিয়মানুবর্তিতার পাঠ শিখিয়ে তাকে বড় করে তোলা জরুরি। আবার কোনও কোনও বাবা-মার মতে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশতে হবে, জানতে হবে তার সব অনুভূতির কথা। আমরা বলব সন্তানকে নিয়মানুবর্তিতা অবশ্যই শেখান, তাকে ভালো মন্দের বিচার করতে শেখান। কিন্তু তার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক যেন হয় সহজ সরল বন্ধুর মতো। সন্তান যদি আপনাকে ভয় পায়, তাহলে ছোট থেকেও আপনাকে কখনও নিজের মনের কথা সাহস করে বলে উঠতে পারবে না। ও কীসে আনন্দ পায়, কীসে দুঃখ পায় এবং কীসে ভয় পায়, বাবা-মা হিসেবে তার আপনাদের জানা জরুরি। জেনে নিন, কীভাবে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশবেন। * সব সন্তানই চায় যে তাদের পাশে সব সময় দাঁড়ানোর মতো কেউ যেন থাকে। স্কুলে বা বন্ধুদের সঙ্গে কোনও সমস্যা হলে সেগুলো আলোচনা করার জন্য ওদের কাউকে চাই। আপনার মধ্যে যদি ওরা সেই ভরসার জায়গাটা খুঁজে পায়, তা হলে আপনিই হয়ে উঠবেন ওদের বেস্টফ্রেন্ড। সন্তানের সঙ্গে সারাদিনের শেষে মুখোমুখি বসে কিছুটা সময় কথা বলুন। * আজকালকার দিনে সবাই খুব ব্যস্ত। কিন্তু আপনার সেই ব্যস্ত শিডিউলের মধ্যে থেকেও সন্তানের জন্য কিছুটা সময় বের করুন। অনেক সন্তানই মনে করে যে তাদের বাবা মা তাদের যথেষ্ট সময় দেন না। তখন ওরা নিজেদের বঞ্চিত ও অবহেলিত মনে করতে থাকে। আপনার সন্তানের মনে যেন এই ধারণা কোনও দিন না উঁকি দেয়। তাই সন্তানের সঙ্গে একসঙ্গে বসে সিনেমা দেখুন, বেড়াতে যান। * সন্তানের জীবনে কী ঘটছে, সেই বিষয়ে খেয়াল রাখা খুব জরুরি। কিন্তু অতিরিক্ত প্রোটেকটিভ হয়ে পড়বেন না। এতে ওদের মনে হতে পারে যে আপনি ওদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন। ওদের কোনটা ভুল, কোনটা ঠিক তা প্রথম থেকেই শেখান। যাতে ওরা নিজেরাই ঠিকটা বেছে নিতে পারে। সন্তানকে বোঝান যে আপনি ওকে বিশ্বাস করেন। * সন্তান কী পোশাক পরবে বা কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করবে, সেই বিষয়ে ওকেই সিদ্ধান্ত নিতে দিন। সন্তানের জীবনের সব কিছু আপনি ঠিক করে দিতে যাবেন না। সন্তানের জীবনের সব সিদ্ধান্ত আপনি নিতে গেলে সে আপনার ওপর বিরক্ত হবে এবং সম্পর্কে ফাটল দেখা দেবে। আপনি ওকে পরামর্শ দিতেই পারেন, কিন্তু নিজের সিদ্ধান্ত ওর ওপরে চাপিয়ে দেবেন না। * সন্তানের সঙ্গে সময় অবশ্যই কাটাবেন। তবে কিছুটা সময় ওকে ওর মতো করে 'একা' কাটাতে দিন। নিজের মতো নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর অধিকার সকলেরই আছে। | 4 |
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ইস্যুতে সরকার আইনি লড়াইয়ে সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার সংসদের বৈঠকে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম তার প্রশ্নে বলেন, 'হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল- ডিসফাংশনাল পার্লামেন্ট। হাইকোর্টে যেদিন রায় হয়েছিল, সেদিন আপনি বলেছিলেন- কিছুতেই এটা হতে পারে না। আমরা সুপ্রিম কোর্টে অবশ্যই জিতব। বিষয়টির সর্বশেষ অবস্থান কী, জানতে চাই।'জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, 'আমি এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, মামলার এক পক্ষ হিসাবে আমরা নিশ্চয় জিতব। রায় দেওয়ার মালিক আপিল বিভাগ। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু আমার বিশ্বাস, আইনি পদক্ষেপে ষোড়শ সংশোধনী মামলায় আমরা সফল হবো।' উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ২০১৪ সালে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিলেও আপিল বিভাগের রায়ে তা বাতিল হয়ে যায়।
| 6 |
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ঢাকা-মদিনা-ঢাকা নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ওইদিন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা-মদিনা ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া ৩১ অক্টোবর থেকে বিমানের চট্টগ্রাম-মদিনা-চট্টগ্রাম রুটে ফ্লাইট শুরু হবে। ঢাকা-মদিনা ফ্লাইট প্রাথমিকভাবে প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সোমবার, বুধবার ও শনিবার এবং চট্টগ্রাম-মদিনা-চট্টগ্রাম ফ্লাইট চলবে বৃহস্পতিবার চলবে। বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার জানান, ২৭১ আসনের নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক ও সুপরিসর বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার দিয়ে এই রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুপুর সোয়া একটায় বিমানের ফ্লাইটটি ছেড়ে মদিনার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পৌঁছাবে। আবার মদিনার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় ফ্লাইটটি ছেড়ে পরের দিন ভোর চারটা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। একই শিডিউলে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম-মদিনা ফ্লাইটটি পরিচালিত হবে। তাহেরা খন্দকার বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ ও হজ করতে যান। এই সংখ্যা প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। উড়োজাহাজ স্বল্পতার কারণে এই রুটে এত দিন ফ্লাইট চালু করতে পারেনি বিমান। বিমানের রুট সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই চালু হচ্ছে ঢাকা-মদিনা-ঢাকা এবং চট্টগ্রাম-মদিনা-চট্টগ্রাম ফ্লাইট। সম্প্রতি সৌদি সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিজিট ভিসা চালু করায় এ রুটে যাত্রী সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-মদিনা-ঢাকা রুটে ইকোনমি ক্লাসের রিটার্ন টিকিটে সব ট্যাক্স ছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া ৬০৫ মার্কিন ডলার এবং চট্টগ্রাম-মদিনা-চট্টগ্রাম রুটে ইকোনমি ক্লাসের রিটার্ন টিকিটে সব ট্যাক্স ছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া ৬২২ মার্কিন ডলার। মদিনা ফ্লাইট উদ্বোধন উপলক্ষে যাত্রীদের জন্য ১৫ শতাংশ হ্রাসকৃত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি করছে। বিমানের সব বিক্রয় কেন্দ্র, ট্রাভেল এজেন্ট, অনলাইনে বিমানের ওয়েবসাইট .-. ও বিমানের কল সেন্টার (মোবাইল: ০১৭৭৭৭১৫৬১৩-৬) থেকে ঢাকা-মদিনা-ঢাকা রুটের টিকিট কেনা যাবে। | 0 |
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে গাছে গাছে আমের গুটি শোভা পেলেও বৃষ্টি না হওয়ায় চিন্তায় পড়েছেনের বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা। আম বিশেষ অর্থকরী ফসল হিসেবে বিবেচিত হলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় আম ব্যবসায়ীদের মুখে রয়েছে চিন্তার ছাপ।উপজেলার বিষ্ণুপুর, কৃষ্ণনগর, চাম্পাফুল, মৌতলা, রতনপুর, মথুরেশপুর, নলতা, তারালীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে বের হওয়া আমের গুটি বড় হচ্ছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় আমের গুটির স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক জায়গায় গুটি ঝরে পড়ছে, যা আমচাষিদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সাইফুল ইসলাম নামে এক আমচাষি বলেন, এ বছর নতুন গাছগুলোতে আমের গুটি মোটামুটি এসেছে। কিন্তু পুরোনো গাছগুলোতে মুকুল নেই বললেই চলে। যেসব গাছে গুটি ধরেছে, সেগুলোও বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ঝরে পড়ছে। যদি এ বছর বৃষ্টি না হয়, তাহলে আমের সব গুটি ঝরে যেতে পারে।এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত গাছ ও আমের অবস্থা ভালো আছে। গাছগুলোতে যতটুকু মুকুল ছিল এবং আমের গুটি এসেছে, তা চোখে পড়ার মতো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে। তবে ভালো ফলনের জন্য বৃষ্টি হওয়াটা জরুরি। বৃষ্টি না হলে আম উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি করোনাভাইরাসে নিভে গেল নিশাত আফছা চৌধুরী (২৮) নামের এক গৃহবধূর প্রাণ। সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়তার মৃত্যু হয়। জানা গেছে, নিশাত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে স্বামী আফাজুর রহমান চৌধুরী ফাহাদের সঙ্গে বসবাস করতেন। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের করের গ্রামে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর দুইদিনে আগে জ্বর-কাশি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি হন। নিশাতের স্বামী ফাহাদ জানান, নিউইয়র্কে পার্ক মুসলিম ফিনারেল সেন্টারের তত্ত্বাবধানে নিশাতের জানাযা শেষে নিউজার্সিতে অবস্থিত কুলাউড়া সমিতির কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। | 6 |
সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে সরকারি কলেজ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজগেট সংলগ্ন রাস্তায় এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এ সময় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।সম্মিলিত ছাত্র জনতা সাতক্ষীরা পৌরসভার আয়োজিত এ বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত ছাত্র জনতার আহ্বায়ক ফাহিমুল হক কিসলু।সম্মিলিত ছাত্র জনতার সদস্য শেখ আমিনুর রহমান কাজলের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, জেলা জাসদের সভাপতি শেখ ওবায়েদুস সুলতান বাবলু, নাগরিক নেতা এজাজ আহম্মেদ স্বপন, সম্মিলিত ছাত্র জনতার সদস্যসচিব শেখ ফারুকুজ্জামান ডেভিড, আহছানুল কাদির স্বপন, বাংলাদেশ জাসদ সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী প্রমুখ।বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিসের সামনে থেকে সরকারি কলেজ হয়ে পুরোনো সাতক্ষীরা রাস্তা, শহিদ রীমু সরণি থেকে সরকারি কলেজ রোড, হোস্টেল রোড, রথখোলার রাস্তাসহ পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তা সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা করতে হবে।আগামী ৯ জুনের আগে পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তা সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন করা না হলে পৌরসভা চত্বরে নাগরিকদের অবস্থান, পৌরসভার মেয়রের ও কাউন্সিলরদের বাড়ি ঘেরাও করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। | 6 |
বাহরাইনে সড়ক দুর্ঘটনায় অমিও রঞ্জন দেবনাথ (৫৪) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেনসুভাস রায় (৪১) নামের অপর এক বাংলাদেশি। গত রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বাহরাইনের চিতরা নামক স্থানের মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সুভাসকে স্থানীয় পুলিশ উদ্ধার করে স্থানীয় মানামা সালমানিয়া মেডিকেল কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে ভর্তি করেন। নিহত অমিও রঞ্জনের মৃতদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। অপর গাড়ি ও চালককে আটক করেছে পুলিশ। দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার স্বীকার ২ বাংলাদেশি দীর্ঘদিন বাহরাইনে বসবাস করে আসছে। রবিবার সকালে সুভাস রায়ের একটি পিক আপ গাড়ি নিয়ে অমিও রঞ্জন তার ব্যাক্তিগত কাজে একটি অফিসে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে পিছনের দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী প্রাইভেট কার পাশ থেকে সজোরে ধাক্কা মারলে দুর্ঘটনায় স্বীকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় অমিও রঞ্জন দেবনাথ। খবর পেয়ে পুলিশ এসে আটক করে ওই গাড়ি ও চালককে। দূতাবাসের আইন কর্মকর্তা আহাম্মদ জানান, আমি একটু অসুস্থ হলেও নিহতের মরদেহ দেশে প্রেরন করতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি। তথ্য ও জনকল্যান প্রতিনিধি তাজ উদ্দিন সিকান্দার জানান, যে কোন মরদেহ দ্রুত দেশে প্রেরন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল(অবঃ) কে এম মমিনুর রহমান স্যারের জোর নির্দেশ রয়েছে। তাই মৃত দেহ দেশে প্রেরনে আইনী জটিলতাসহ যাবতীয় প্রক্রিয়ায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর | 4 |
ঢাকা: পুরো গল্পজুড়েই রয়েছে বৃষ্টি। কখনো ঝুমবৃষ্টি, কখনো ঝিরিঝিরি। গল্পের প্রয়োজনেই তাই টানা তিন দিন শুটিং করতে হলো বৃষ্টিতে। বৃষ্টি তো আর বলেকয়ে আসে না, তাই কৃত্রিমভাবেই তৈরি করা হয়েছিল বৃষ্টির। অবশ্য বেশ কয়েকটি দৃশ্যে সত্যি সত্যিই নেমেছিল অঝোর ধারা। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিএমভি বানিয়েছে 'হ্যালো শুনছেন?' নামের নাটকটি। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও তানজিন তিষা। নাটকের পুরো গল্পটা এখনই প্রকাশ করতে না চাইলেও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এটা একটা অদ্ভুত প্রেমের গল্প। রাসয়াত রহমান জিকোর গল্পে নাটকটির চিত্রনাট্য ও নির্মাণ করেছেন মিজানুর রহমান আরিয়ান। তিনি বলেন, 'এটা এক অদ্ভুত প্রেমের গল্প। বিশেষ করে ছেলেটার চরিত্র অদ্ভুত। এক বৃষ্টির দিনে টি-স্টলে আটকা পড়ে গল্পের পাত্র-পাত্রী। আমরা গল্পটিকে সত্যি করে তুলতে টানা তিন দিন শুটিং করেছি বৃষ্টির মধ্যে। বৃষ্টি অবশ্য কৃত্রিমভাবে তৈরি।'নাটকের অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সেতু, আজম খান, মম আলী প্রমুখ। | 2 |
২৭ বছর আগে চলচ্চিত্র পরিচালক সৈয়দ সালাহ উদ্দিন জাকীর রচনা ও পরিচালনায় আফজাল হোসেন ও তুষার খান অভিনয় করেছিলেন দুই বন্ধুর চরিত্রে। ওটাই ছিল টিভি নাটকে দুজনের একসঙ্গে অভিনয়। 'আকাশ কুসুম' নামের নাটকে আফজাল হোসেন অভিনয় করেছিলেন আকাশ চরিত্রে আর কুসুম চরিত্রে ছিলেন শাবনাজ। এরপর অবশ্য আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় কয়েকটি বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন তুষার, তবে একসঙ্গে নাটকে অভিনয় আর হয়ে ওঠেনি।২৭ বছর পর আবার একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন আফজাল ও তুষার। অভিনয় করলেন চ্যানেল আইয়ের ঈদের বিশেষ ধারাবাহিকে।বেশ কয়েক বছর ধরেই চ্যানেল আইয়ের দর্শকদের জন্য আফজাল হোসেন নির্মাণ করছেন ঈদের বিশেষ নাটক 'ছোট কাকু সিরিজ'। সেই সিরিজের এবারের পর্বে আফজাল হোসেনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তুষার খান। ফরিদুর রেজা সাগরের গল্প অবলম্বনে মাসুম রেজার চিত্রনাট্যে তৈরি হচ্ছে সাত পর্বের ধারাবাহিক নাটক 'সৈয়দপুরের সৈয়দ সাহেব'।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আফজাল হোসেন বলেন, 'সিরিজের এবারের কাজটি শুরু করেছিলাম করোনার আগে। দুই দিন শুটিংও করেছিলাম। করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় শুটিং বন্ধ হয়ে গেল। দুই বছর পর আবার কাজটি শুরু করেছি। এবার যেমন স্ক্রিপ্ট হয়েছে, সেখানে গল্পের প্রয়োজনেই চরিত্র বিবেচনায় তুষার খানকে অভিনয়ের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ভালো লাগছে, দীর্ঘদিন পর দুজন একসঙ্গে অভিনয় করতে পেরে।'২৭ বছর পর আফজাল হোসেনের সঙ্গে একই ফ্রেমে কাজ করার অনুভূতি জানিয়ে তুষার খান বলেন, 'ডাক্তার আমাকে নিষেধ করেছেন শুটিং করতে। কিন্তু আফজাল ভাইয়ের নির্দেশনায় এবং তাঁর সঙ্গে একই ফ্রেমে কাজ করার লোভটুকু সত্যিই সামলানো মুশকিল ছিল। তাই আবারও শুটিং করছি। খুব ভালো লাগছে। এ নাটকে আমাকে কমেডিয়ান চরিত্রে দেখা যাবে।'এবার ঈদে চ্যানেল আইয়ে চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত 'প্রথম প্রথম প্রেম' নাটকেও দেখা যাবে আফজাল হোসেনকে। আর তুষার খান জানিয়েছেন, আপাতত আরও কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে চান তিনি।' | 6 |
দেশের জন্য সাংবাদিকদের ঐক্য অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ মানুষের সামনে তুলে ধরে সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বরেণ্য সাংবাদিক আতাউস সামাদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করে আতাউস সামাদ স্মৃতি পরিষদ। সভায় বক্তারা তাঁর কর্মজীবনের কৃতি স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সভায় বিশিষ্ট সাংবাদিক এ বি এম রফিকুর রহমানকে আতাউস সামাদ স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয়।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'দেশের জন্য সাংবাদিকদের ঐক্য অত্যন্ত জরুরী। কারণ বর্তমানে যে মতামত ব্যক্ত করা একেবারে অপরিহার্য, তা সাংবাদিকেরাই করতে পারেন। সংবাদ এখন মালিকের কাছে গেলে বদলে যায়। তাই সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য ঐক্য দরকার। সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে যে হেয় আচরণ করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে যেমন ঐক্য তৈরি হয়েছে, এটা ধরে রাখতে হবে।'সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'বর্তমানে সবাই সূর্যমুখীর মতো হয়ে গেছে। শুধু ক্ষমতার দিকে তাকিয়ে থাকে। নিজেকে ক্ষমতাবান করতে চায়। এই মহামারিতে লাখ লাখ মানুষ গরিব হয়েছে। বৈষম্য বেড়েছে সমাজে। আজ কেবল সভ্যতার সংকট নয়, আজ এই পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বের সংকট তৈরি হয়েছে। এই করোনা, এই তালেবান হচ্ছে পুঁজিবাদ ও ফ্যাসিবাদের ফলাফল।'আতাউস সামাদের স্মরণে তিনি বলেন, 'রফিকুর রহমানের ছবি আমরা দেখেছি, কিন্তু সেই ছবির পেছনে যিনি ছিলেন, সেই আতাউস সামাদের কথা আজ আরও ভালোভাবে জানলাম। সবাই তাঁকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন আর আমি তাঁকে ছাত্র হিসেবে পেয়েছি। তাঁকে গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেখেছি, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেখেছি। কোনটা খবর, উনি সেটা খুব ভালো বুঝতেন।'পুরস্কার গ্রহণের পর এ বি এম রফিকুর রহমান বলেন, 'আমি রয়টার্সে চল্লিশ বছর ধরে যে কাজটা করি, সেটা সামাদ ভাইয়ের অনুরোধেই শুরু করেছিলাম। তিনি আমার জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। প্রতিদিনই আমি তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।'জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দীন আহমেদ, কাদের গণি চৌধুরী, বাংলাদেশ সাংবাদিক ফেডারেশনের সভাপতি রুহুল আমিন খোকন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, আমাদের নতুন সময় পত্রিকার সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, এটিএন নিউজের সিনিয়র সাংবাদিক মুন্নি সাহা, আজকের পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক গোলাম রহমান, মোস্তফা কামাল মজুমদার, কবি হেলাল আহমেদ, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এ কে এম মহসিন প্রমুখ। | 6 |
দরপতন অব্যাহত আছে শেয়ারবাজারে। আজ সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস লেনদেন শেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪৮ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ৪ হাহার ৬৫০ পয়েন্টে। এই নিয়ে গত তিন কার্যদিবসে এই সূচকটি দর হারাল ১০৮ পয়েন্ট।অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসআই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই আজ কমেছে ১১৭ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। ডিএসইতে আজ মোট লেনদেন হয়েছে ৬০০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। গত কার্যদিবস লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৬৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকার। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৩টির, কমেছে ২০১টির, অপরিবর্তিত আছে ৫১টির দর। ডিএসইতে আজ লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো ভিএফএস থ্রেড ডায়িং লিমিটেড, গ্রামীণফোন, ওরিয়ন ফার্মা, কনফিডেন্স সিমেন্ট, এসকে ট্রিমজ, বাংলাদেশ স্টিল রি রোলিং মিলস লিমিটেড, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড, গোল্ডেন বাংলাদেশ অ্যাগ্রো বাংলাদেশ লিমিটেড, সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ডিএসইতে আজ দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো ভিএফএস থ্রেড ডায়িং লিমিটেড, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস লিমিটেড, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড, বিকন ফার্মা, সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও মেট্রো স্পিনিং। ডিএসইতে আজ দর কমার শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড, গ্রামীণফোন, হাক্কানি পাল্প, জনতা ইনস্যুরেন্স, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, এমআই সিমেন্ট, তুংঘাই, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, পূরবী জেনারেল ইনস্যুরেন্স লিমিটেড ও জিকিউ বলপেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধের পর বাকি এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধে তিন মাস সময় পেয়েছে গ্রামীণফোন। এ সংবাদের পর আজ পুঁজিবাজারে টেলিকম খাতের এ কোম্পানির শেয়ারের দাম গতকালের চেয়ে কমেছে ২১ টাকা ২০ পয়সা। লেনদেন শেষে টেলিকম খাতের এই কোম্পানিটির শেয়ারের দর দাঁড়িয়েছে ২৯৮ টাকা ৪০ পয়সা। গতকাল দিন শেষে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম ৩১৯ টাকা ৬০ পয়সায় ওঠে। অন্যদিকে, সিএসইতে হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৩টির, কমেছে ১৯৫টির এবং অপরিবর্তিত আছে ১৬টির দর। | 0 |
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের ক্যাপিটল হিলে তাণ্ডবের ঘটনায় রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ১২ ঘণ্টার কারফিউ জারি হয়েছে।কারফিউ জারির পর সহিংসতা করার কারণে ৪৭ জনসহএখন পর্যন্ত মোট ৫২ জনকেআটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টার পর ডিস্ট্রিক অব কলাম্বিয়ার (ডিসি) মেয়র মুরিল বসের এই কারফিউ জারি করেন।যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় এই কারফিউ শুরু হয়েছে, চলবে সকাল ৬টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় শুরু হয়েছে, চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত) । খবর বিবিসির উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের মারমুখী বিক্ষোভের মুখে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ওয়াশিংটনে আমেরিকার আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটল ভবন। স্থানীয় সময় বুধবার ওই ভবনে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্রাট প্রার্থী জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। বিক্ষোভ ঠেকাতে ফাঁকা গুলি এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। অবরুদ্ধ করা হয় ভবন। এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন এক নারী। পরে তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পরে হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। | 3 |
চরজুড়ে ইটভাটা। নদীর বুকে মাটি ফেলে বাঁধ দিয়ে তৈরি হয়েছে রাস্তা। নদীর পাড় কেটে ওই মাটি যাচ্ছে ভাটায়। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে পদ্মার চরে ৫১টি ইটভাটা অবৈধভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পদ্মাপাড়ের মাটি দিয়ে ইট তৈরি হচ্ছে এসব ভাটায়। অন্যদিকে মাটি নিতে পদ্মা নদীতে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছয়টি অবৈধ রাস্তা। ফলে এলাকার পরিবেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি বিপন্ন হচ্ছে পদ্মা নদী। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের জেনারেল শাখা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৫৭টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টি ভাটাই রয়েছে ওই চরে। এসব ভাটার মধ্যে চলতি বছর মাত্র দুটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। বাকি ভাটাগুলো অবৈধভাবে চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রবহমান নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ অবৈধ। এতে নদীতে বাধার সৃষ্টি হয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়। নদীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। গত বুধবার এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, ইউনিয়নের নবীনগর গ্রাম থেকে চর কুরুলিয়া পর্যন্ত নদীর পাড় দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। বাঁধের একপাশে গ্রাম অন্য পাশে পদ্মা নদী। দূরে তাকালে দেখা যাবে নদীর বুক চিরে জেগে উঠেছে বিশাল চর। আর এই চরজুড়ে সারি সারি ইটভাটা। ফলে নদীর বুকে মাটি ফেলে বাঁধ দিয়ে তৈরি হয়েছে রাস্তা। নদীর পাড় কেটে সে রাস্তা দিয়ে মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে এই চরে ইটভাটা তৈরি শুরু হয়েছে। এক এক করে গত কয়েক বছরে তৈরি হয়েছে ৫৩টি ইটভাটা। ফলে এলাকাটির নাম হয়েছে গেছে '৫৩ ভাটার গ্রাম'। খুব সহজে নদী কেটে মাটি পাওয়া যাচ্ছে, এ জন্য দিন দিন এলাকাটিতে ভাটার সংখ্যা বাড়ছে। ট্রাকে করে মাটি যাচ্ছিল চরের শাহপাড়া অংশের কয়েকটি ইটভাটায়। ট্রাকের পিছু ধরে এগিয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুরোদমে কাজ চলছে প্রতিটি ভাটায়। একদিকে নতুন ইট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে চলছে পোড়ানো। ব্যস্ত সময় কাটছে ভাটাশ্রমিকদের। শাহপাড়া চরের ভাটামালিক কামলার হোসেন বলেন, আরও দুই মাস পুরোদমে ভাটা চলবে। নতুন ইট তৈরির পাশাপাশি ইট পোড়ানো হবে। ইটভাটার বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজপত্র ছাড়া ভাটা চালানো যায় না। অবশ্যই বৈধ কাগজপত্র নিয়েই ব্যবসা করছেন। নদীর মধ্য দিয়ে বাঁধ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভাটামালিকদের পক্ষ থেকেই বাঁধ দেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলে এসব বাঁধ থাকবে না। লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম বলেন, চলতি বছর চরের সব কটি ভাটা চালু হয়নি। ৩৯টি ভাটায় ইট তৈরি হচ্ছে। ইট তৈরির জন্য মাটির জোগান দিতে পদ্মার চর থেকে দিনরাত এক্সকাভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) মেশিন দিয়ে চরের ফসলি জমি কাটার মহোৎসব চলছে। পদ্মার বুকে তৈরি করা বাঁধ দিয়ে ট্রাক আর ট্রাক্টরযোগে মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। ইটভাটার কারণে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, এলাকার প্রকৃতি ও পরিবেশদূষণ হচ্ছে। অন্যদিকে একের পর এক বাঁধ দেওয়ায় নদী পরিণত হয়েছে পুকুরে। এত সব অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘটলেও কেউ কিছু দেখছে না। উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, অবৈধভাবে কিছু করা হচ্ছে না। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই চরের মাটি কাটা হচ্ছে, ভাটা চলছে। বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান বলেন, নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ একটি অপরাধ। অন্যদিকে নদীর পাড় কেটে মাটি তোলা আরও একটি বড় অপরাধ। তাঁরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অপরাধযজ্ঞ বন্ধের দাবি জানান। পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সব দপ্তরের অনুমোদন নিয়ে ভাটাগুলো চলছে কি না, তা জানতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। এর মধ্যে কোনো অভিযোগ পেলেও সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে এবং নদীর বাঁধ অপসারণ ও জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, সেখানে অবৈধ কিছু ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
১৯৯০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা গিয়েছিল, তার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র আট মাস। ১৯৯০ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১৯৯১ সালের মার্চ পর্যন্ত। অর্থনীতি দ্রুতই সেই ক্ষত সারিয়ে উঠতে সমর্থ হলেও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ তাঁর প্রতি আস্থা ফেরাতে পারেননি। তাই এক মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবেই আত্মতৃপ্ত হতে হয় তাঁকে। এটি তো কেবল একটি উদাহরণ, আসলে বরাবরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ভূমিকা রেখেছে দেশটির অর্থনীতি। রাজায় রাজায় যুদ্ধ হলেও পাশার দান ঘুরিয়েছেন সে দেশের সাধারণ মানুষ বা ভোটাররা। তবে বরাবরই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বড় ভূমিকা রেখেছে নির্বাচনে। একবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ (সিনিয়র বুশ হিসেবে পরিচিত) নিজের হারের কারণ সম্পর্কে বলেন, 'আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার কাজ করেছি। আমার ভুলগুলো প্রকাশ করেছি। আমি মনে করি, মানুষ আমাকে পছন্দ করত। তবে তাদের মধ্যে হতাশা ছিল। তারা পরিবর্তন চেয়েছিল।' ১৯৯০-এর দশকের যে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বুশ দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি, সেই মন্দার জন্য কোনোভাবেই বুশ দায়ী ছিলেন না। ওই মন্দার প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে বেকারত্ব বেড়ে গিয়েছিল, যা নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষকেরাও মনে করেন, ১৯৯০-এর মন্দার শিকার হয়েছিলেন সিনিয়র বুশ। বিশ্লেষকদের মতে, মন্দা একেবারে সময়মতো হয়েছিল, যা কাজে লাগিয়েছিল ক্লিনটন শিবির। এই মন্দা যদি এক বছর আগে বা পরে হতো, তাহলে হয়তো নির্বাচনে হারতেন না বুশ। তবে ১৯৯২ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কোনো বিচ্ছিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বজুড়েই ভোটাররা চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দেখেই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এমনকি এমন অনেক ঘটনার জন্য জনগণ নেতা পাল্টান, যার দায় হয়তো সেই নেতার নয়। অর্থনীতির স্বল্পমেয়াদি প্রবণতাই নেতা বদলে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেসব প্রেসিডেন্টের সময় অর্থনীতি খারাপ ছিল, তাঁদের বেশির ভাগই পুনর্নির্বাচনে জিততে পারেননি। ১৯৩০ সালের মহামন্দার পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দা মানুষ দেখেছিল ২০০৮ সালে। যার সূচনা হয়েছিল ২০০৭ সালের শেষে। এই মন্দায় সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ছিল লেম্যান ব্রাদার্সের পতন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একসময়ের নামী এ বিনিয়োগ ব্যাংককে একনামে চিনত সারা দুনিয়া। সেখানে যাঁরা কাজের সুযোগ পেতেন, তাঁদের কদর বেড়ে যেত। লেম্যান ব্রাদার্সের পতন সে সময় বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় আঘাত বয়ে আনে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের বহু দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা সংকটে পড়ে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ রিপাবলিকান নেতা নয়, ডেমোক্র্যাট নেতা বারাক ওবামাকেই বেছে নেয়। মার্কিন ইতিহাসে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্টদের অন্যতম ওবামা। পুনর্নির্বাচনে জিতে পুরো আট বছরের মেয়াদ শেষ করেন তিনি। অতীতের তথ্য পর্যালোচনায় বলা যায়, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পুনর্নির্বাচনে জেতার বিষয়টি। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো থাকলে পুনর্নির্বাচনে জেতেন বিদ্যমান প্রেসিডেন্টরা। আর অর্থনীতি খারাপ হলে তাঁরা নির্বাচনে হারেন। আশির দশকে রোনাল্ড রিগ্যান পুনর্নির্বাচনে জিতেছিলেন, কারণ, তাঁর সময় মার্কিন অর্থনীতি বেশ চাঙা ছিল। ১৯৮১ সালে রিগ্যান প্রথম যেবার প্রেসিডেন্ট হন, সেবার জিমি কার্টার পুনর্নির্বাচনে হারেন ওই অর্থনৈতিক কারণেই। তবে মার্কিন নির্বাচনের পুরো বিষয়টিকে এভাবে সরলীকরণ করতে রাজি নন বিশ্লেষকেরা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ১৯৯২ সালে যখন জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ হারেন, তখন অর্থনীতিতে বেকারত্ব থাকলেও প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে ওবামা যখন পুনর্নির্বাচনে জয়ী হন, তখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে কম, ২ দশমিক ২ শতাংশ। বিশ্লেষকেরা বলেন, বহুদিন ধরেই অর্থনীতিতে ভোক্তার আস্থা ভোটার অনুভূতি নির্ধারণের অন্যতম সেরা উপায়। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরা যা-ই বলুন না কেন, ভোটাররা আশাবাদী, মানে অর্থনীতি ভালো করছে। ভোটার হতাশাগ্রস্ত, মানে অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক এই অঙ্গীকার তাঁকে নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে দেয়। তীব্র জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ মানুষ মার্কিন অর্থনীতির শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে ভোট দেন ট্রাম্পকে। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পও সেদিকে মনোযোগ দেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও চেষ্টা করেছেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী করপোরেট ও ব্যক্তিগত আয়করও কমিয়েছেন। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যাপারে পুরো অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়েছেন। ট্রাম্পের প্রথম তিন বছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে মনে করা হচ্ছিল, ট্রাম্পও হয়তো তাঁর প্রেসিডেন্সির আট বছর পার করতে পারবেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শেষ বছরে হানা দিল করোনা। একেবারেই অপ্রত্যাশিত এই সংকট মন্দা নিয়ে এল অর্থনীতিতে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেকারত্বের হার যেখানে রেকর্ড কমে নেমে গিয়েছিল, সেই হার এপ্রিলে রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আমেরিকার ইতিহাসে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে অনেক ব্যতিক্রম। সেই সঙ্গে প্রার্থীদের জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। | 0 |
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নোমান মিয়া সরকারকে বিজয়ী করতে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার গৌরীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে বন্ধন কমিউনিটি সেন্টারে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব ঘোষ, দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ভিপি সালাহউদ্দিন রিপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু সরকার, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ আরও অনেকে।সভায় বক্তাগণ আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে নোমান মিয়া সরকারকে বিপুল ভোটে জয়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নোমান মিয়া সরকার বলেন, আপনারা যদি সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকেন তাহলে নৌকার বিজয় কেউই ঠেকাতে পারবে না। সকলের কাছে দোয়া ও ভোট চেয়ে তিনি আরও বলেন, 'এই নৌকা বঙ্গবন্ধুর মার্কা, এই নৌকা শেখ হাসিনার মার্কা, এই নৌকা মেজর সুমন ভাইয়ের মার্কা, এই নৌকা আমাদের সকলের মার্কা।'অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মো. ইসমাইল সরকার। | 6 |
করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে কঠোর লকডাউন চলছে। মাঠ পর্যায়ে লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। লকডাউনের তৃতীয় দিন শনিবার ও চতুর্থ দিন রবিবার মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানার নেতৃত্বে উপজেলার ১১ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা বলেন, লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৭ দফা দাবিতে রেজিস্ট্রারের দপ্তরে তালা দিয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার দপ্তরের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তবে দপ্তরের ভেতরে কেউ আটকা পড়েননি। এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রার দপ্তরের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হোসেন বলেন, করোনাকালীন অর্ধেক জনবল নিয়ে অফিস করা, উচ্চতর স্কেল প্রদান, অটো পদোন্নতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কমিটিতে কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করাসহ ১৭ দফা দাবি গত ২৪ জানুয়ারি লিখিতভাবে রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে উপাচার্যকে জানানো হয়। তিনি ২৯ জানুয়ারি কর্মকর্তাদের তাঁর বাসভবনে ডেকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেন এবং পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা জানান। কিন্তু উপাচার্য দাবি পূরণ বা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেননি। তিনি মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন কর্মকর্তাদের। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তাঁরা।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, কর্মকর্তারা তাঁকে কিছু জানাননি বা তাঁর মাধ্যমে কোনো দাবি জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই বিষয়টি দেখবে।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হোসেন বলেন, 'গত মঙ্গলবার আবার দাবির বিষয়টি রেজিস্ট্রারকে জানানো হয়। এ সময় রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন যে তিনি উপাচার্য স্যারকে জানিয়েছেন। উপাচার্য স্যার দুই দিন সময় নিয়েছেন সমাধানের। তখন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রারকে জানানো হয়, দুই দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে রেজিস্ট্রার দপ্তর তালাবদ্ধ থাকবে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ কর্মসূচি।'এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম রোস্তম আলীকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। | 6 |
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিভাবে ছুটি না থাকলেও বিদ্যালযয়ে গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। জানা যায়, সারাদেশে মধুপূর্ণিমা উপলক্ষে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর । এদিকে তাহেরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের কাউকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় সরকারি ভাবে ছুটি ঘোষণা করা না হলেও বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন ব্যাক্তিগত ভাবে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করেছেন। ফলে সোমবার বিদ্যালয়ে কোন ছাত্র-ছাত্রী আসেনি। সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টা অবধি বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণী কক্ষের দরজা তালাবদ্ধ রয়েছে। কাউকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিদ্যালয় ছুটির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানায়, স্যার আমাদেরকে বলেছেন আজ বিদ্যালয় ছুটি তাই আমরা বিদ্যালয়ে যাইনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিরুল ইসলামের কাছে ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোন ছাত্র/ছাত্রীদের বিদ্যালয় ছুটির নোটিশ দেইনি। সহকারী শিক্ষকগণ বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করেছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, আজ সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে তবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো খোলা আছে। কাউকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছুটির বিষয়টি শুনেছি এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান কবির বলেন, শিক্ষকরা কেন ব্যাক্তিগত ভাবে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করলেন বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর বিয়ে হয়ে যায় নাদিয়ার। আদরে বড় হওয়া নাদিয়া শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে কঠিন বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেন। কিন্তু আর পাঁচটা মেয়ের মতো সংসারের নিয়মে অভ্যস্ত না হয়ে, হয়ে উঠেছেন একজন ফ্রিল্যান্সার। সফল ফ্রিল্যান্সার। প্রতিকূল পরিবেশকে তোয়াক্কা না করে নাদিয়া ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। একজন নারী কীভাবে জীবনসংগ্রাম করে নিজেকে বদলেছেন, এটি 'ফ্রিল্যান্সার নাদিয়া' টেলিছবির গল্পে দেখা যাবে। গল্পটি একটি বাস্তব ঘটনার অবলম্বনে লেখা।নাদিয়া চরিত্রটিতে অভিনয় করছেন মেহজাবীন চৌধুরী। তিনি জানান, দুই বছর আগে কাজটি করার কথা হয়েছিল। সে সময় এক দিন শুটিংও করেছিলেন তিনি। পরে করোনার কারণে আটকে যায়। বছরখানেক আগে আরেকবার উদ্যোগ নিয়েও কাজটি করা যায়নি। মেহজাবীন বলেন, 'শেষ পর্যন্ত তৃতীয়বারের বেলায় কাজটি শেষ করতে যাচ্ছি। আর এক দিন শুটিং করলে কাজ শেষ হয়ে যাবে।' এই অভিনেত্রী জানান, দুই বছর আগে যখন উপন্যাসটি পড়ার সুযোগ হয়েছে, তখনই চরিত্রটি পছন্দ হয়েছিল তাঁর। চরিত্রটি করতে কেমন লাগছে জানতে চাইলে শুটিং লোকেশন থেকে মেহজাবীন বলেন, 'বাস্তব জীবনে গ্রাম থেকে শহরে উঠে আসা একজন নারী নাদিয়া। দুরারোগ্য ক্যানসারের সঙ্গে সংগ্রাম করেও এগিয়ে যাওয়ার যে প্রত্যয় তার, আমি মনে করি, আমাদের নারীদের একজন আদর্শ তিনি। আমি নিজেও একজন নারী। এমন সংগ্রামী সফল নারীর চরিত্রটি করতে পেরে নিজের কাছে সত্যিই ভালো লাগছে।' মানিকগঞ্জের একটি গ্রামে শুটিং চলছে টেলিছবিটির। মেহজাবীন বলেন, 'গ্রাম থেকে শহরে আসা সংগ্রামের একটা গল্প আছে নাদিয়ার। আমরা ইচ্ছা করলেই ঢাকার আশপাশে সেট ফেলে করে নিতে পারতাম। কিন্তু না, করিনি। সংগ্রাম, কষ্টকে অনুভব করে কাজটি করার জন্যই গ্রামে এসেছি। গ্রামের সেই নাদিয়ার সঙ্গে মিশে যেতে চেয়েছি।' 'ফ্রিল্যান্সার নাদিয়া' লিখেছেন রাহিতুল ইসলাম। পরিচালনা করছেন ইমরাউল রাফাত। আরও অভিনয় করেছেন সুদীপ বিশ্বাস দীপ, শামীমা নাজনীনসহ অনেকে। এর বিশেষ একটি দৃশ্যে অভিনয় করেছেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ। | 2 |
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মালদ্বীপে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মুহাম্মদ সলিহ। আজ বুধবার বেলা ১১টায় শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেন তিনি। এ সময় দুই নেতার মধ্যে কিছুসময় কথা হয়। তারা উভয় দেশের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করেন। এছাড়া তারা আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 6 |
ময়মনসিংহে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের কারণে কর্মহীন ইজিবাইক শ্রমিকসহ দুস্থদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে নগরীর কালীবাড়ি এলাকার প্রিমিয়ার আইডিয়াল স্কুল চত্বরে জেলা প্রশাসন আয়োজিত খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ। এদিন বিকেল ৪টায় সময় দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই অসহায় মানুষ জড়ো হন খাদ্য সহায়তা নিতে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাদের দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারসামগ্রী। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হকের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু, পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল প্রমুখ। করোনার প্রাদুর্ভাবে অসহায় হয়ে পড়াদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক। | 6 |
কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের অন্যরকম বিনোদন দিত 'রংমালা'। শিশুদের পিঠে চড়িয়ে ঘুরে বেড়াত পার্কের এদিক-সেদিক। কয়েক দিন ধরে রংমালার দেখা পাচ্ছেন না দর্শণার্থীরা। তাতে মন বেজার শিশুদের। এত দূর থেকে এসে যদি 'রংমালার' পিঠে চড়া না যায়, তাহলে মন তো খারাপ হওয়ারই কথা! রংমালা-হচ্ছে ৮০-৮৫ বছর বয়সী একটি মাদি হাতি। কয়েক দিন ধরে হাতিটি অসুস্থ। চোখের দুই কোনে দুটি টিউমার উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রংমালর টিউমারের অস্ত্রোপচার করেছেন বন্যপ্রাণী চিকিৎসকেরা। এখন চলছে ড্রেসিং ও চিকিৎসা। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে আরও কিছুদিন সময় লেগে যেতে পারে বলে জানাল পার্ক কর্তৃপক্ষ। সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'রংমালা'র বয়স এখন ৮০-৮৫ বছর হতে পারে। একটি হাতি গড়ে ৯০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। বার্ধক্যজনিত কারণ ছাড়াও রোগশোক রংমালাকে দুর্বল করে তুলেছে। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভোগার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পার্কে সোহেল নামে ২২ বছর বয়সী একটি পুরুষ সিংহের মৃত্যু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাফারি পার্কের হাতি বেষ্টনীতে গিয়ে দেখা গেছে, ভেতরে চারটি হাতি দাঁড়িয়ে আছে। আরেকটি হাতি শাবক আশপাশে দৌঁড়ঝাপ করছে। বেষ্টনীর বাইরে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা হাতির অবস্থা দেখছেন। বেষ্টনীর বাইরে আইসোলেশন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে অসুস্থ রংমালাকে। মাঠের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে রংমালা। পার্কের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, স্ত্রী হাতি রংমালার চোখের দুই কোনে দুটি টিউমার হয়েছিল। তন্মধ্যে একটি ফেটে পানি ঝরছিল, পার্কের হাসপাতালে নিয়ে ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। এখন ড্রেসিং এর পাশাপাশি চিকিৎসাও চলছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হাতিটি কাবু হয়ে পড়েছে। ঠিকমত খাবারও মুখে নিতে চাইছে না। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি ঘটছে। ব্যক্তি মালিকানায় থাকা হাতি রংমালাকে চট্টগ্রাম থেকে জব্দ করে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। হাতির মাহুত মোহাম্মদ হোছাইন বলেন, এক বছর ৭ মাস আগে রংমালাকে পার্কে আনা হয়। এই হাতি দিয়ে গাছপালাসহ ভারী মালামাল টানানো হতো। সর্বশেষ হাতিকে দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে লোকজনের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা হতো। এ সময় বনবিভাগ হাতিটিকে জব্দ করে চকরিয়ার এই সাফারি পার্কে পাঠায়। সাফারি পার্ক ভ্রমণে আসা দর্শণার্থীরা তাঁদের শিশুসন্তানদের রংমালার পিঠে চড়িয়ে আনন্দ উপভোগ করতেন। গত কয়েকদিন ধরে শিশুদের পিঠে চড়ানো বন্ধ আছে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে টেকনাফের সংরক্ষিত বন থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল কয়েক দিন বয়সী একটি হাতি শাবক। প্রসবের কয়েক দিন পর বনাঞ্চলের পাহাড় থেকে নিচে ছিটকে পড়ে মারা যায় মা হাতিটি। এরপর বিপদে পড়ে হাতি শাবকটি। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের কর্মীরা জঙ্গল থেকে হাতি শাবকটি উদ্ধার করেন। দেখাশোনার জন্য সেটিকে চকরিয়া বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। এখানে আসার পর হাতি শাবকটির নাম রাখা হয় 'যমুনা'। মায়ের বয়সী বড় কয়েকটি হাতির সঙ্গে হেলেদুলে কাটছে যমুনার জীবন। যমুনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পার্কের ভারপ্রাপ্ত তত্ববাধায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, প্রথম যখন দুগ্ধপোষ্য হাতি শাবকটি পার্কে আনা হয়েছিল-তখন অবস্থা ছিল শোচনীয়। মুখ ও পায়ে আঘাতের দাগ ছিল, ওজন ছিল প্রায় ১০৭ কেজি। বর্তমানে শাবকের ওজন ৪৫০ কেজি। প্রতিদিন হাতি শাবকের পেছনে খরচ হচ্ছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। এখন প্রতিদিন ১০ প্যাকেট ল্যাকটোজেন দুধ, ৮০টি কলার পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে দুধ-দইয়ের সাথে জাওভাত (নরম ভাত) খাওয়ানো হচ্ছে। তাতে শরীরের ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০১ সালের ১৯ জানুয়ারি ২ হাজার ২৫০ একর বনাঞ্চলে গড়ে তোলা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। এর আগে ১৯৮০ সালে এটি ছিল হরিণ প্রজননকেন্দ্র। বর্তমানে পার্কে আছে জেব্রা, ওয়াইল্ড বিস্ট, জলহস্তী, ময়ূর, অজগর, কুমির, হাতি, বাঘ, ভালুক, সিংহ, হরিণ, লামচিতা, শকুন, কচ্ছপ, রাজধনেশ, কাকধনেশ, ইগল, সাদা বক, রঙিলা বক, সারস, কাস্তেচরা, মথুরা, নিশিবক, কানিবক, বনগরুসহ ৫২ প্রজাতির ৩৪১টি প্রাণী। এগুলো আবদ্ধ অবস্থায় আছে। এ ছাড়া উন্মুক্তভাবে আছে ১২৩ প্রজাতির ১ হাজার ৬৫টি প্রাণী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গুইসাপ, শজারু, বাগডাশ, মার্বেল ক্যাট, গোল্ডেন ক্যাট, ফিশিং ক্যাট, খ্যাঁকশিয়াল ও বনরুই। | 6 |
প্রথমবারের মতো ধারাভাষ্য দিতে বাংলাদেশে এসেছেন হিল্টন ডিওন অ্যাকারম্যান। গতকাল চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনে ধারাভাষ্য দেওয়ার এক ফাঁকে সাবেক এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার কথা বললেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে। ৪ টেস্টেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সীমাবদ্ধ হলেও ক্রিকেট নিয়ে অ্যাকারম্যানের অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ।প্রশ্ন: প্রথমবার বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে?হিল্টন ডিওন অ্যাকারম্যান: এখানে আসার কথা শুনে মনের মধ্যে অন্য রকম উত্তেজনা কাজ করছিল। আমি শ্রীলঙ্কায় কিছু কাজ করেছি (ধারাভাষ্য)। অসাধারণ জায়গা, এখানকার মানুষজন দারুণ। বাংলাদেশকে টেস্টে ভালো করতে দেখা ভালো ব্যাপার। এখানে রাসেল ডমিঙ্গো, অ্যালান ডোনাল্ডকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। খেলোয়াড়ি জীবনে রাসেল আমার কোচ ছিল, দক্ষিণ আফ্রিকায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে। আমি ডোনাল্ডের সঙ্গে খেলেছি। এখানে আসার ব্যাপারটা তাই আরও বিশেষ রূপ নিয়েছে। তাদের কাজ দেখতে পারছি। খেলা শেষে দেখা হওয়ার ব্যাপার তো আছেই।প্রশ্ন: ডমিঙ্গো-ডোনাল্ডের কথা বলছিলেন। বাংলাদেশ কোচিং প্যানেলে দক্ষিণ আফ্রিকানদের দাপট দেখতে নিশ্চয়ই ভালো লাগে?অ্যাকারম্যান: আমি সব দক্ষিণ আফ্রিকানের জন্যই গর্বিত। যখন দেখি, অন্য দেশগুলো দক্ষিণ আফ্রিকানদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, এটা আমার জন্য আরও গর্বের ব্যাপার। রাসেলের কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল আমার খেলোয়াড়ি জীবনেই। তার উন্নতি দেখতে ভালো লাগছে। তখনই মনে হয়েছিল, সে একদিন আন্তর্জাতিক কোচ হবে। খেলাটা হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে। সবার মনে ধরার মতো এক ব্যক্তিত্ব। অ্যালানের ক্ষেত্রেও একই কথা বলব-দুর্দান্ত এক ফাস্ট বোলার, যে কারও জন্য অনুপ্রেরণার। বাংলাদেশে অনেক তরুণ ফাস্ট বোলার রয়েছে। আরও উঠে আসছে। তাদের জন্য অ্যালানের মতো কাউকে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। সময়টা কাজে লাগাবে তারা। অ্যালানের জ্ঞানের ভান্ডার তাদের শুধু সমৃদ্ধিই করতে পারে।প্রশ্ন: গত মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর অনেক প্রোটিয়া কিংবদন্তি প্রশংসায় ভাসিয়েছে বাংলাদেশকে। এটি নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ কী?অ্যাকারম্যান: এটা অবিশ্বাস্য! খুব বেশি দল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সিরিজ জিতে ফিরতে পারেনি। সেখানে তাদের হারানো খুবই কঠিন কাজ। দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে খেলার অনভ্যস্ত বাংলাদেশের জন্য তো আরও কঠিন। ভুলতে না পারার মতো এক অর্জন।প্রশ্ন: ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও জিতেছে।অ্যাকারম্যান: এটা বড় এক অর্জন। এখানে ভালো করা ক্রিকেটাররা জাতীয় দলে আসা শুরু করেছে। এই তরুণেরা জাতীয় দলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হতে চলেছে। ভালো পরিচর্যায় আরও পরিণত হবে তারা। শুধু দরকার ছিল বিশ্বমানের কোচ। ডমিঙ্গো, ডোনাল্ড, সিডন্সদের মতো কোচ বাংলাদেশ পেয়েও গেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই টেস্টেও তারা চালকের আসনে আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটা রোমাঞ্চকর সময়। এ টেস্টের ভবিষ্যৎ এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে আমি নিশ্চিত, এখান থেকে তারা আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঢাকায় যেতে পারবে।প্রশ্ন: ওয়ানডেতে ভালো করলেও টেস্টে বাংলাদেশের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে করণীয় কী?অ্যাকারম্যান: আমাদের বোঝা উচিত, বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট অন্যদের মতো নিয়মিত খেলে না। অন্য দেশের ক্রিকেটাররা বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট খেলতে খেলতে বেড়ে ওঠে। বাংলাদেশে সাদা বলের ক্রিকেটের চর্চাটা বেশি। তারা এখনো লাল বলের খেলাটা শিখছে। টেস্ট ক্রিকেট কীভাবে খেলতে হয়, তরুণ খেলোয়াড়েরা এখন সেটা আয়ত্ত করতে শিখছে। তারা এখনো ফ্রেশ দল হিসেবে ভালো করছে, ফ্রেশ বলতে আমি বলছি না, এক-দুই বছরের নতুন। তারা ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর চেয়ে এখনো ফ্রেশই। তারা যখন টেস্টে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারে না, ব্যাপারটা আমি অনুভব করতে পারি। তবে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে এগোচ্ছে, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।প্রশ্ন: প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ হলেও খুব বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হয়নি আপনার। মাত্র চারটা টেস্ট খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে আক্ষেপ কাজ করে?অ্যাকারম্যান: আরও বেশি খেলতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগত। এটার অনেক কারণ আছে। একটা হচ্ছে, আমি খুব বেশি ভালো করতে পারিনি। ভালো মানের স্পিনের বিপক্ষে, বিশেষ করে মুত্তিয়া মুরালিধরনের বিপক্ষে কয়েকবার বোল্ড হয়েছি (হাসি)। খারাপ লাগা কাজ করে, তবে তখন আমার চেয়ে অনেক ভালো ক্রিকেটার ছিল (দক্ষিণ আফ্রিকা দলে)। আমার তাই বেশি কিছু করার ছিল না। তবে বর্তমান পথচলা নিয়ে খুশি।খেলাসম্পর্কিত সাক্ষাৎকার:স্ত্রী আমাকে বাংলাদেশে আসতে নিষেধ করেছিল৫-১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করবমুমিনুলকে ১০-এ ১০ দেবখুব ভালো মুডে আছিএটা আইপিএলের চেয়ে অনেক বড় বিষয়বিশ্বকাপ ধরে রাখার চেষ্টা করব | 6 |
স্কোরবোর্ড দেখে মনে হচ্ছিল জয় নাগালের বাইরে। চোখ রাঙাচ্ছিল হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা। ধীরগতির ব্যাটিংয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর শঙ্কায় স্বয়ং অধিনায়ক। কিন্তু শেষ তিন ওভারে রেকর্ড গড়া ব্যাটিংয়ে সব বদলে দিলেন দাসুন শানাকা। পরাজয়ের দুয়ার থেকে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ঝড়ে শ্রীলঙ্কাকে জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে শনিবার (১১ জুন) এই ব্যাটিং বীরত্ব দেখান শানাকা। পাল্লেকেলেতে ১৭৭ রান তাড়ায় একসময় বড় পরাজয়ের মুখে ছিল লঙ্কানরা। ষোড়শ ওভারে যখন ভানিন্দু হাসারাঙ্গা আউট হলেন, দলের রান তখন ৬ উইকেটে ১০৮। স্রেফ ৪ উইকেট নিয়ে তখনও প্রয়োজন ২৬ বলে ৬৯ রান। শানাকা টাইমিং করতে ভুগতে থাকায় সেই সমীকরণ পরে দাঁড়ায় ৩ ওভারে ৫৯ রানে। ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন চামিকা করুনারত্নে। পরের চার বলে টানা দুটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন শানাকা। শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে ধরে রাখেন স্ট্রাইক। ওভার থেকে আসে ২২ রান। পরের ওভারে তিনি ছক্কা-চার মারেন জাই রিচার্ডসনকে। সঙ্গে করুনারত্নের বাউন্ডারিতে ওভার থেকে আসে ১৮ রান। শেষ ওভারে তারপরও প্রয়োজন ১৯ রানের। কেন রিচার্ডসন প্রথম দুটি বল করেন ওয়াইড, পরের দুই বলে আসে সিঙ্গেল। এরপর আবার শানাকার ঝলক। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে চার মারার পর তিনি আরেকটি বাউন্ডারি মারেন সোজা। পঞ্চম বলে ফুল টস পেয়ে উড়িয়ে দেন বিশাল ছক্কায়। পরের বল আবার ওয়াইড। এক বল বাকি থাকতেই অসাধারণ জয় শ্রীলঙ্কার। শানাকা অপরাজিত থাকেন ২৫ বলে ৫৪ রানে। শেষ তিন ওভারে ১৩ বল খেলে লঙ্কান অধিনায়ক করেন ৪৮ রান তার এই ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ সাবেক অধিনায়ক ও লঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে বললেন, সমালোচনার দারুণ জবাব এটি। শেষ ম্যাচে সেই শানাকার বিধ্বংসী ইনিংস দেখে তার হয়ে টুইটারে এমন জবাব দিয়ে দেন সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে। তিনি বলেন, সব সমালোচকের জন্য শানাকার দুর্দান্ত জবাব। দারুণ খেলেছো ছেলেরা, অসাধারণ জয়। বিশ্বাস রাখো নিজেদের প্রক্রিয়া আর স্কিলে। এদিকে, শানাকা দলকে জিতিয়ে বললেন, সমীকরণ কঠিন হয়ে উঠলেও ভড়কে না গিয়ে নিজের সামর্থ্যে ভরসা রেখেছেন তিনি। তিনি বলেন, ক্রিজে যাওয়ার পর আমি শুরুতে কিছুটা সময় নিতে চেয়েছি। আমার স্ট্রাইক রেট সম্ভবত পঞ্চাশের মতো ছিল। পিচ খুব ভালোভাবে পড়তে পেরেছিলাম, তাই উইকেট ছুঁড়ে দেইনি। শেষ দিকে আশা ছিল যেন শেষটা করতে পারি। সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 12 |
ব্রিটিশ ভোগ সাময়িকীর জুলাই সংস্করণে প্রচ্ছদকন্যা হয়েছেন নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। মাত্র ১৭ বছর শান্তিতে নোবেল পান মালালা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষে ২৩ বছর বয়সী কাজ শুরু করেছেন টিভি প্রযোজক হিসেবে। ভোগ সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বিশ্বাস, জীবনযাপনের ধরন, ভবিষ্যৎ, বিয়ে ও কাজ নিয়ে কথা বলেছেন মালালা। ভোগের প্রচ্ছদে মডেল হয়ে খুশি মালালা। তিনি বলেন, আমি আশা করি যে মেয়েই এ প্রচ্ছদ দেখবে সে জানবে, সেও এ বিশ্বটাতে পরিবর্তন আনতে পারে। নিজের বিয়ে নিয়ে মালালা জানান, বিয়ের বিষয়ে বেশ সতর্ক তিনি। এখনো বিয়ের বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত নন। মালালা বলেন, আপনি কাউকে বিশ্বাস করবেন, কী করবেন না, সে বিষয়ে কীভাবে নিশ্চিত হবেন? মালালা বলেন, আমি বুঝি না মানুষকে কেন বিয়ে করতে হবে। আপনি যদিও জীবনে কাউকে চান তাহলে বিয়ের কাগজপত্রে কেন স্বাক্ষর দিতে হবে? এমন একে অপরের সহযোগী হয়ে থাকা যায় না? তবে মালালা এও বলেছেন, তার এসব কথা একেবারের শুনতে চান না তার মা। মেয়েকে বকে দিয়ে তিনি বলেন, আর কখনো এসব কথা মুখে আনবে না। তোমাকেও বিয়ে করতে হবে। বিয়ের বিষয়টি সুন্দর। সূত্র : ভোগ সাময়িকী
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 3 |
পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণার ইউনানি ডাক্তার সমির কুমার দত্ত আর বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত পলাতক খুনি রিসালদার মোসলেহউদ্দিনকে নিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। প্রভাবশালী পত্রিকাগুলো বলছে খুনি মোসলেউদ্দিন 'সমির ডাক্তারের' পরিচয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। পরে তাকে আটক করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। আবার কলকাতার কিছু পত্রিকা ও গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে ঘুরে এসে বলছেন, সমির ডাক্তার মারা গেছেন। আর প্রমাণ হিসেবে তার শেষ শয্যা কৃত্যের ছবিসহ পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। পরিবার ও প্রতিবেশীরা বলছেন, গত ১০ জানুয়ারি সমির ডাক্তার মারা গেছেন। তাকে দাহ করা হয়েছে। অপরদিকে, সমির দত্তকে আটক করতে তার বাড়িতে পুলিশি অভিযানের সময় পরিবারের সদস্যরা কিছু তথ্য আড়াল করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। গাইঘাটার পুলিশ মোবাইলে মোসলেউদ্দিনের ছবি সমিরের পরিবারের সদস্যদের দেখালে তারা চেনেন না বলে জানান। তবে এক ফাঁকে পুলিশ সদস্যরা ঘরের ভেতর থেকে সমির দত্তের ছবি মোবাইলে তুলে নেয়। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ধারণা, মোসলেউদ্দিনকে আড়াল করতেই সমিরের মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আনতে চেষ্টা করা হয়েছে। এই ফাঁকে সমির ডাক্তার নিজেকের আড়ালের চেষ্টা করেছে। তবে শেষ অবধি সমিররূপী মোসলেউদ্দিন গোয়েন্দাদের জালে আটকে গেলে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। এমন সংবাদ ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকাগুলোতে উঠে এসেছে। সেসব সংবাদের সূত্র ধরেই বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির পত্রিকাগুলোও খবর প্রকাশ করেছে। দিনতারিখ ঠিক করে তথ্য দেয়া হয় যে, বঙ্গবন্ধুর খুনি মোসলেউদ্দিনকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। আর বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও বাংলাদেশের কোনো পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়নি যে মোসলেউদ্দিনকে ভারত থেকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তালগোল পাকানো এসব সংবাদ নিয়ে তুমুল আলোচনা বিতর্ক চলছে দুই দেশেই। কলকাতায় দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে আত্মগোপন করে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ গ্রেপ্তার ও তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এসব আলোচনা শুরু হয়। ফাঁসি কার্যকর হওয়ার আগে মাজেদ বঙ্গবন্ধুর বাকি খুনিদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে গেছে- এমনটাই বিশ্বাস সবার। মাজেদের দেয়া তথ্যেও ভিত্তিতেই কলকাতায় আত্মগোপন করে থাকা মোসলেউদ্দিনকে ধরার অভিযানে নামে কলকাতা পুলিশ। তবে পুলিশি অভিযানের পর থেকেই নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমগুলো বলছে, মোসলেহউদ্দিন আত্মগোপন করেছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার যশোর রোড সংলগ্ন ঠাকুরনগরে। শহর কলকাতা থেকে যা ১০০ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত। আর এই এলাকায় মোসলেহউদ্দিন তার পরিচয় আড়াল করতে নাম বদলে হয়ে যান সমীর কুমার দত্ত। পেশা হিসেবে বেছে নেন ইউনানি চিকিৎসা। 'দত্ত ডাক্তার' নামে খ্যাতিও অর্জন করেন। তাহলে কীভাবে সেখানে পৌছেছিলেন মোসলেউদ্দিন? এমন প্রশ্ন উঠলে জানানো হয়, আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে সমীর কুমার দত্তরূপী মোসলেউদ্দিনের সঙ্গে দমদমে পরিচয় হয় পরেশ চন্দ্র অধিকারীর। অভুক্ত বেকারের মতো দমদম স্টেশনে পড়ে থাকতেন সমীর। অপরদিকে ইউনানি চিকিৎসক ছিলেন পরেশ চন্দ্র অধিকারী। পরিচয়ের পর তার হয়েই পথে পথে পোস্টার লাগাতেন সমীর দত্ত। ধীরে আলাপ আর বন্ধুত্ব জমে উঠে দুজনের মধ্যে। এরই মধ্য দিয়ে মোসলেউদ্দিন স্থায়ী আশ্রয় আর পরিচয় আড়াল করার অপূর্ব সুযোগ পায়। তবে সর্বশেষ খবরে যদি সমির ডাক্তার মারা গিয়েই থাকেন তাহলে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা ব্যক্তিটি কে? তাহলে কি সমির দত্ত বলে যে লোকটিকে আমরা মোসলেউদ্দিন বলছি সেটা কি মিথ্যা? | 6 |
সরকারের বর্তমান মেয়াদে এসে অর্থ মন্ত্রণালয় এখন সরাসরি বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দিচ্ছে। বিভিন্ন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করছে। দেশের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার পুরো দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের। এ জন্য ব্যাংক খাত নিয়ে সরকারও লিখিতভাবে কোনো নির্দেশনা দেয় না-শুরু থেকে এমনটাই চলে আসছে। তবে সরকারের বর্তমান মেয়াদে এসে অর্থ মন্ত্রণালয় এখন সরাসরি বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দিচ্ছে। বিভিন্ন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করছে। আর এসব সিদ্ধান্ত যাচ্ছে ব্যাংক খাতের আমানতকারীদের বিরুদ্ধে। এতে দুর্বল হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর ঝুঁকিতে পড়ছে পুরো খাত। গত এক দশকে সরকারের ইচ্ছায় ও পরামর্শে নতুন ব্যাংক অনুমোদন, ঋণখেলাপিদের ছাড় ও সুবিধা দেওয়া, ঋণের সুদহার নির্দিষ্ট করে দেওয়াসহ নানা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এসব নির্দেশ ও পরামর্শ বেশির ভাগ এসেছে মৌখিকভাবে বা কোনো অনানুষ্ঠানিক সভায়। এখন নির্দিষ্ট একটি গ্রুপকে বিশেষ সুবিধা দিতে লিখিত নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বাড়তি টাকা ঢালতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ডেকে সভা করেছে, নির্দেশনা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথিপত্র পর্যালোচনায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, 'মনে হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন কোনো অধিদপ্তরে পরিণত হয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মন্ত্রণালয় কোনো নির্দেশনা দিতে পারে না। যেদিন হোটেলে বসে সিআরআর কমানোসহ নানা সিদ্ধান্ত হয়েছে (২০১৮ সালে), সেদিন থেকে এই প্রথা চালু হয়েছে।' মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন আরও বলেন, 'আমাদের সময়ে এটা চিন্তাও করা যেত না। মন্ত্রণালয় জানত এমন নির্দেশনা পালন করা হবে না। ব্যাংক খাত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভালো জ্ঞান আছে, তাই ব্যাংক খাত নিয়ে তাদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। নচেৎ খাতটির ক্ষতি হয়।' ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত গভর্নর ছিলেন তিনি। ব্যাংক কোম্পানি আইনে বেসরকারি ব্যাংক নজরদারি ও তদারকির দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। অন্যদিকে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তদারকির জন্য ২০১০ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ে নতুন করে তৈরি করা হয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, এখন যা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। অথচ ১৯৯৪ সালে বিএনপি আমলে শুরু হওয়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ বিভাগ ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারই বাতিল করে দিয়েছিল। এখন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ শুধু সরকারি ব্যাংক নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও তদারক করতে শুরু করেছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা দিন দিন কমছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতাশালী ব্যবসায়ী ও ব্যাংকমালিকদের হস্তক্ষেপও চলছে। পাশাপাশি অর্পিত ক্ষমতার চর্চা নিজেরাও কমিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহর কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান। ২০২০ সালের শুরুতে শেয়ারবাজার টালমাটাল হয়ে পড়ে। এ সময় শেয়ারবাজারে পতন ঠেকাতে অর্থমন্ত্রী, বিএসইসি, গভর্নরসহ বিভিন্ন পক্ষ দফায় দফায় সভা করে। শেষ পর্যন্ত পতন ঠেকানোর দায়িত্ব গিয়ে পড়ে ব্যাংকগুলোর ওপর। আইনি সীমার বাইরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য নতুন তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক কোম্পানি আইনের বাইরে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকা তহবিল গঠনের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। যার মেয়াদ দেওয়া হয় পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পাশাপাশি এই অর্থ কোন খাতে খাটাতে পারবে, তা-ও নির্দিষ্ট করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ২০২১ সালের ২৩ জুন একটি কোম্পানিকে (বেক্সিমকো লিমিটেড) গ্রিন সুকুক বন্ড ছেড়ে তিন হাজার কোটি টাকা তোলার অনুমোদন দেয় শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এই অর্থের ৭০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে বিনিয়োগ হবে, যার মেয়াদ দেওয়া হয় পাঁচ বছর। ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব নাহিদ হোসেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে এক নির্দেশনা প্রদান করেন। এতে বলা হয়, 'শেয়ারবাজারে গ্রিন সুকুক বন্ডে বিনিয়োগের শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা থেকে অব্যাহতি অথবা বিনিয়োগ সীমা শিথিলের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে বিবেচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হলো।' এর মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকা তহবিলের পুরোটাই গ্রিন সুকুক বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই দিন নতুন করে আগের নির্দেশনা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যেখানে তহবিলের পুরো টাকা গ্রিন সুকুকে বিনিয়োগ করতে পারার সুযোগ দেওয়া হয়, তহবিলের মেয়াদও বাড়ানো হয়। এতে এক দিনেই সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ নিয়ে বলেন, 'মন্ত্রণালয়ের চিঠি এলেও আর্থসামাজিক বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' বিভিন্ন সূত্র জানায়, শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থান-পতনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ জানুয়ারি অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে একটি অনির্ধারিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের, বিএসইসির কমিশনার শেখ সামসুদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। এতে কয়েকটি বিষয়ে সুপারিশ গ্রহণ করা, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংককে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয় দুটি দায়িত্ব। যেমন ব্যাংক শেয়ারবাজারে যে বিনিয়োগ করে, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬ক ধারায় 'বাজারমূল্য'-এর সংজ্ঞা পর্যালোচনা এবং এ জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মতামত গ্রহণ করা। বর্তমান ব্যাংক কোম্পানি আইনে কোনো ব্যাংক অন্য কোনো কোম্পানির যে শেয়ার ধারণ করবে, তার শেয়ারের মূল্য ওই সময়কার বাজারমূল্যে হিসাব করা হয়। তবে এই হিসাব বাজারমূল্যে না ক্রয়মূল্যে হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মুখোমুখি অবস্থানে আছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। এ ছাড়া শেয়ারবাজারের জন্য ব্যাংকগুলোর ২০০ কোটি টাকা তহবিল বিনিয়োগকে সীমার বাইরে রাখার বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মতামত গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয় ওই সভায়। তবে গভর্নর ফজলে কবির এই দুই সুপারিশই নাকচ করে দেন এবং জানান, অর্থ মন্ত্রণালয় প্রয়োজন মনে করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শ নিতে পারে। যেসব ব্যাংক তালিকাভুক্ত হয়নি, তাদের আর সময় না দেওয়ার কথা বলা হয়। ওই সভায় অর্থসচিব নির্দেশ দেন, সভার সুপারিশগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাজ করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য কেউ মন্ত্রণালয়ের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। এখন ডেপুটি গভর্নরদের ডেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতেই ব্যাহত হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণ। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিন সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এমন নির্দেশনা ভালো লক্ষণ না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতায় আঘাত। এর ফলে পুরো ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বসে থাকলে চলবে না। নিজে উদ্যোগী হয়ে সমস্যা ধরতে হবে, শাস্তি দিতে হবে। মন্ত্রণালয় হস্তক্ষেপ করলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানাতে হবে। | 0 |
ঘরের মাঠেও অনেক দিন কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ দল। সর্বশেষ ২০২০ সালের নভেম্বর ঢাকায় নেপালের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছিলেন জামাল ভূঁইয়ারা। করোনার কারণে সেই সময় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এক-তৃতীয়াংশ দর্শককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রায় সতেরো মাস পর আবারও হোমগ্রাউন্ডে ফুটবল উন্মাদনা। গ্যালারিতে ফিরছে শতভাগ দর্শক। প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে লড়াইটি বাংলাদেশের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ। মালেতে মালদ্বীপের কাছে হারের ক্ষত মুছে ফেলার সুযোগ হ্যাবিয়ের ক্যাবরেরার দলের সামনে। ম্যাচটি যখন সৌভাগ্যের ভেন্যু সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে, তখন ভাগ্যবদলের আশা করতেই পারেন ফুটবলপ্রেমীরা। আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু প্রীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, ফিরিয়ে আনছে ২১ বছর আগের স্মৃতি। ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সৌদি আরবে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে দু'বারের দেখায় প্রথমটিতে ৩-০ গোলে জেতা বাংলাদেশ পরেরটিতে ২-২ গোলে ড্র করেছিল। সেই ম্যাচে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন বর্তমান দলের ম্যানেজার ইকবাল হাসান, সহকারী কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্য ও হাসান আল মামুন। এ তিন ফুটবলারের চাওয়া সিলেটে ফিরে আসুক দুই দশক আগের সেই সুখস্মৃতি। দীর্ঘদিন পর দুটি দেশ মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবলের লড়াইয়ে। মাঝের এই সময়ে অনেক কিছু পরিবর্তন হলেও বদলায়নি বাংলাদেশ ও মঙ্গোলিয়ার ফুটবল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এ দুই দেশের অবস্থানে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বাংলাদেশ ১৮৬, মঙ্গোলিয়ার অবস্থান ১৮৪তম। আর নিজেদের শেষ ম্যাচে হারের স্বাদ পেয়েছে দু'দল। লাওসের কাছে ১-০ গোলে মঙ্গোলিয়া আর মালদ্বীপের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। নতুন কোচ হিসেবে প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে ব্যর্থ ক্যাবরেরা মঙ্গলবার সিলেটে জিততে মরিয়া, 'জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব। মঙ্গোলিয়া প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর দল। মালদ্বীপের মতো কৌশলী নয়, সম্ভবত সোজাসাপটা খেলে। তবে নিজেদের গেমপ্ল্যান নিয়েই আমাদের মনযোগী হতে হবে। আমরা কৌশলগুলো কীভাবে রপ্ত করব, মাঠে প্রয়োগ করব সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।' ২০১৮ সালে এই সিলেটেই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে লাওসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রথমবার অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেন জামাল ভূঁইয়া। সময়ের পরিক্রমায় চার বছর পর আবারও সেই সিলেটে লাল-সবুজের দলটি। এবারও বাংলাদেশের নেতৃত্বে জামাল। সিলেটের মাঠে দর্শকদের নিরাশ করতে চান না তিনি, 'আমি এই স্টেডিয়ামে (সিলেট জেলা) খেলতে সবসময় পছন্দ করি। মনে হয় দর্শকরা সব সময় খুব কাছে আছে। আমরা সব ফুটবলার চাই দর্শক মাঠে আসুক। আমরা ভালো খেলা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব।' | 12 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেছেন, সোমবার এসপি অফিসে গিয়ে তাকে পাইনি। আজ গিয়ে বলব আমার কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজনে আপনার অফিসের সামনে বসে পড়ব। এখান থেকেই আমি আমার নির্বাচন পরিচালনা করব। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) সকালে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে তিনি এ কথা বলেন। তৈমুর বলেন, আমি শঙ্কিত হব না কেন? নেতাকর্মীদের বাড়িতে যখন পুলিশ হামলা করে। হেফাজতের মামলায় নির্বাচনি এজেন্টকে যখন পুলিশ ধরে নিয়ে যায়, তখন তো শঙ্কা সৃষ্টি হবেই। তিনি বলেন, ভাই-বোনকে জিজ্ঞেস করে নির্বাচনে দাঁড়াইনি। তারা এক দলেরই লোক। তাদের মধ্যে বিভাজন পরিষ্কার। আমরা মামলা খেয়ে খেয়ে এবং গ্রেপ্তার হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছি। বিএনপির এ সাবেক নেতা বলেন, এতদিন জনগণ প্রার্থী পায়নি আমরা রাজিও হইনি। এখন আমরা রাজি হয়েছি জনগণ মনের মতো প্রার্থী পেয়েছে। যে প্রার্থী সবসময় জনতার থাকবে। তৈমুর বলেন, ভাই-বোন এক হয়ে গেলে ভালোই হত। মিডিয়ার কল্যাণে এসব কথাবার্তা শুধু নারায়ণগঞ্জের মানুষ শোনে না, বিশ্বব্যাপী মানুষ শোনে। বাইরে কোথাও গেলেই নারায়ণগঞ্জের বিষয়ে অনেক কথা উঠে যায়। এ সময় তিনি বলেন, কার নামে ওয়ারেন্ট নেই? বিএনপি চেয়ারপারসন নিজে জেলে আছেন। তারেক রহমানও তো ওয়ারেন্ট নিয়েই বিদেশে আছেন। কে মামলার মধ্যে নেই। রবি করে বিএনপি, তাকে ধরা হয়েছে হেফাজতের মামলায়। হেফাজতের লোকেরাই তো প্রধানমন্ত্রীকে কওমি জননীর উপাধি দিয়েছে। এখন গোলযোগ হেফাজতের সঙ্গে আর মামলা খায় বিএনপি। আমার সঙ্গে শুধু বিএনপি নয় সব দলের লোকেরা আছে। আমি দুই তিন ধাপে এজেন্ট তৈরি করছি। নারায়ণগঞ্জের যারা নাগরিক, যারা ট্যাক্স দেয় তাদের ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারা পানি পাচ্ছে না, শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণের শিকার নগরবাসী। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার জন্য জনগণ পরিবেশবান্ধব নগরী পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তৈমুর। | 6 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভালো আছেন ও শারীরিক অবস্থা খুবই স্থিতিশীল বলে মন্তব্য করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার বাসভবন 'ফিরোজা'য় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। চিকিৎসকরা বলেন, খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এখনো তাকে কোনো হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজন নেই। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় বিদেশ থেকে কোনো চিকিৎসক ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সাথে ইউকে থেকে চিকিৎসক যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া বেগম জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানও যুক্ত ছিলেন। তিনি সব কিছু তদারকি করছেন। চিকিৎসক জানান, খালেদা জিয়া দেশের সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। এবং বলেছেন সবাই যেন সাবধানে থাকে, স্বাস্থবিধি মেনে চলে। সোমবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের বাসা 'ফিরোজায়' বসেন মেডিসিন ও বক্ষ ব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ড। মেডিকেল টিমে আরও রয়েছেন বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুস শাকুর খান, ইউরোলোজিস্ট অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন ও ডা. মো. আল মামুন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদের (৫৩)ওপর বোমা হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার আধুহাম আহমেদ রশিদ (২৫) নামক এই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে শনিবার পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছিল। তারা হলেন মুয়াজ আহমেদ (২১) ও তাহমিন আহমেদ (৩২)। এরপরই রবিবার মালদ্বীপের পুলিশ এক টুইটে প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের কথা জানায়। সূত্র: বিবিসি বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
টুইটারের একটি বড় অঙ্কের শেয়ার কেনার পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির বোর্ড সদস্য হলেন টেসলারের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। আর এ খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন টুইটারের অনেক কর্মী। টুইটারের অভ্যন্তরীণ কয়েকজন কর্মী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ের মধ্যে রয়েছেন।টুইটারের চারজন কর্মী (রয়টার্স যাদের নাম প্রকাশ করেনি) বলেছেন, ক্ষতিকারক ব্যবহারকারী ও কনটেন্ট নিয়ে টুইটারের যে নীতিমালা রয়েছে, সেখানে মাস্ক প্রভাব বিস্তার করতে পারেন। এ জন্য মাস্কের ক্ষমতা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। কর্মীরা বলেন, 'মতামত প্রকাশবিষয়ক নীতিমালার ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় টুইটার এখন যে পর্যায়ে এসেছে, সেখানে মাস্কের উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি টুইটারের অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে। এতে টুইটারে 'ট্রলিং' বেড়ে যেতে পারে এবং ব্যবহারকারীরা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।'এদিকে টুইটারের নতুন বোর্ড সদস্য হওয়ার পর মাস্ক সেখানে কীভাবে ভূমিকা রাখতে চান, তা এখনো স্পষ্ট করেননি। তবে টুইটারের ৯ দশমিক ১ শতাংশ শেয়ার কেনার আগে তিনি তাঁর ৮ কোটি অনুসারীর উদ্দেশ্যে পোল করে জানতে চেয়েছিলেন, টুইটার বাক্স্বাধীনতার নীতি মেনে চলে কি না। সেই পোলে সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুসারী 'না' বলে ভোট দিয়েছেন।ফেসবুক ও টুইটার থেকে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে ইলন মাস্ক টুইটার পোস্টে বলেছেন, 'মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্রকৃতপক্ষে বাক্স্বাধীনতার বিচারক হিসেবে কাজ করে, তবে সাধারণ মানুষ অসন্তুষ্ট হবে।'নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেছেন, 'ইলন মাস্কের টুইটার ব্যবহারের ইতিহাস দেখুন। ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের একটি গুহায় আটকে পড়া শিশুদের উদ্ধারকারী নিয়ে তিনি কটূক্তি করেছিলেন এবং তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।' | 11 |
ডা. সৈয়দ এম আবরার জাবের প্রতিদিন অটোরিকশায় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে বেরিয়ে পড়েন হবিগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায়। রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেন তিনি। ফোন পেয়ে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যান। কারো ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে দেন। কারো রক্তচাপ মেপে দেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা দিয়ে বাসায় ফিরেন। ডা. সৈয়দ এম আবরার জাবের হবিগঞ্জ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চেম্বার করেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর এখন মাত্র ২ ঘণ্টা চেম্বারে বসেন তিনি। এছাড়া পাড়া প্রতিবেশিদের জন্য তার বাসার সামনে একটি রুমে চিকিৎসা পরামর্শ দেন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
এবারের ঈদে ইশো নিয়ে এসেছে বিশেষ ঈদ সেল, যেখানে তাদের সকল পণ্যে থাকছে ৩০ ভাগ পর্যন্ত ছাড়। গত ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই ঈদ সেইল চলবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত। ইশো'র এই ঈদ সেল-এর তালিকায় থাকছে ফার্নিচার, হোম ডেকোর এবং অন্যান্য জিনিসপত্রসহ ১৩০০ এরও বেশি বিভিন্ন প্রকার নজরকাড়া পণ্য সামগ্রী। গ্রাহকরা ইশো'র অনলাইন শপ এবং রাজধানীর প্রগতি সরনী-তে অবস্থিত ইশো'র আউটলেট থেকে এই বিশেষ ছাড়ে পণ্য কিনতে পারবেন। ইশো'র বিজনেস হেড মো: ফিরোজ-আল-মামুন বলেন, "পবিত্র মাহে রমজান যেহেতু প্রায় শেষের দিকে, সকলেই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং ঈদ উদযাপনে ঈদের কেনা-কাটা তো না হলেই নয়।" তিনি আরো বলেন, "এই সময়টিতে মানুষ তাদের বাসস্থানকে সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দর রাখতে চেষ্টা করে তবে অনেক সময় বাজেট সল্পতার কারণে সেটি মন মতো হয়ে ওঠে না। তাই আমরা এই ঈদে দিচ্ছি সবচেয়ে বড় ঈদ সেইল, যাতে করে গ্রাহকরা তাদের বাজেটের মধ্যে পছন্দের পণ্যটি কিনতে পারেন। যেহেতু এখন আমাদের সকল পণ্যেই বিশেষ এই ছাড়ের অন্তর্ভুক্ত, এই ঈদে তাই ইশো'র নান্দনিক, যুগোপযোগী ও বৈচিত্রময় ফার্নিচার দিয়ে বাসস্থানকে সাজিয়ে তুলতে গ্রাহকদের জন্য এটিই সুযোগ।" ফার্নিচার শিল্পে অন্যতম নাম ইশো, গত ঈদে অনলাইনে তাদের পণ্য বিক্রয় ৮ থেকে ৯শ শতাংশ বৃদ্ধি করেছিল। ব্যতিক্রমধর্মী এই ফার্নিচার ব্র্যান্ডটির রয়েছে ১৬০০ শ-এরও বেশি পণ্যের মোট ৩৫টি কালেকশন। এছাড়া তাদের তালিকায় এমন বেশ কিছু পণ্য রয়েছে যা এখনও বাজারজাত করা হয়নি, যেসবের মধ্যে পোষা-প্রাণীর মালিকদের জন্য, গেইমারদের জন্য এবং ঘরের মুরুব্বিদের জন্য রয়েছে নানা পণ্য সামগ্রী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি | 0 |
এবার গান নিয়ে সামনে আসছেন সংগীতশিল্পী অর্ণব। আয়োজন করা হয়েছে এ গায়কের একক কনসার্ট। এর নাম রাখা হয়েছে ?'সংস ফর হোপ'। আগামী ২৫ জুলাই অনলাইনে সরাসরি এটি দেখানো হবে। কনসার্টটির আয়োজক কল্যাণী ও আইসোশ্যাল নামের প্রতিষ্ঠান। তারা জানায়, করোনায় বিধ্বস্ত দেশ। বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাদের এই আয়োজন। এখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ দেয়া হবে অসহায় মানুষদের। এতে মানবিক কিছু বিষয়ও আছে। করোনার ফলে সারাদেশে বিপুল মানুষের কর্মজীবন স্থবির হয়ে গেছে। অনেকেই বেকার। প্রাপ্ত অর্থ এমন কিছু পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। এদিকে অর্ণব বলেন, কনসার্ট শুধু উপভোগের জন্যই নয়, জনহিতকর কাজের জন্যও। এটি দেখতে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। আমরা চাই, মানুষ কনসার্টটি দেখুক ও আমাদের পাশে দাঁড়াক। অনলাইনে নিবন্ধন করার ঠিকানাটি হচ্ছে ://../। আয়োজনটি বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা, ভারতের সময় রাত সাড়ে ৮টা, ইংল্যান্ড সময় বিকেল ৪টা ও ইউএসএ সময় বেলা ১১টায় দেখা যাবে। | 2 |
২০২১ সালে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ৬০ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি।বোর্ড বলছে, করোনাকালীন বিভিন্ন সংকটের কারণে এ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করতে পারেনি। তাই তাদের সুযোগ দিতে চায় তারা। বোর্ড জানায়, পরীক্ষার ১০ থেকে ১২ দিন আগ পর্যন্ত নিজ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থী।কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে এসএসসি এবং ২ ডিসেম্বর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা বোর্ডে রেজিস্ট্রেশন করেছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেনি ৩৫ হাজার ৪৯১ জন। এইচএসসি পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৭৪ জন। এর মধ্যে ফরম পূরণ করেনি ২৪ হাজার ৯৯৪ জন।নগরীর সংরাইশ সালেহা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন মোল্লা বলেন, 'আমাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ও অনিয়মিত ১৫০ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে ১২৭ জন ফরম পূরণ করেছে। আর ২৩ জনের মধ্যে অনেকের বিবাহ হয়ে গেছে।আবার অনেকেই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ফরম পূরণ করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে আমি ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে অসহায় ১০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করে দিয়েছি।'ফকিরবাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাসলিমা আক্তার বলেন, 'উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় তাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিল ৯৯ জন। পরীক্ষা দেবে ৬৬ জন। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিয়তি ক্লাস হয়নি। তাই তারা পরীক্ষা দিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে না। আবার অনেকের বিবাহ হয়ে গেছে।'কুমিল্লা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জামাল নাসের আজকের পত্রিকাকে বলেন, করোনাকালে অনেক অভিভাবক শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন। আর পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া একটি বড় অংশ হচ্ছে মেয়েরা। অভিভাবকেরা তাদের বিবাহ দিয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থায় তাদের টেনে এনে পরীক্ষার সুযোগ দিলে তারা একটা সনদ পাবে। পরে তারা কাজের ফাঁকে ফাঁকে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত হবে।কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষা না থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বাদ পড়েছে ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। নির্বাচনী পরীক্ষা না থাকায় সবার ফরম পূরণ করার কথা ছিল।পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও বলেন, করোনা মহামারি প্রভাব শিক্ষা খাতে বেশি পড়েছে। এ কারণে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বাধ্যতামূলক নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি বাদ দেয়। এরপরও অনেকেই ফরম পূরণ করতে পারিনি। তাই শিক্ষার্থীরা চাইলে দ্বিতীয় সুযোগ দেবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড।কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবদুস সালাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, করোনাকাল অনেকে শিক্ষার্থীর পরিবার বাসস্থান পরিবর্তন, চাকরিচ্যুতসহ নানা অর্থনৈতিক সংকট পড়েছিল। এ কারণে এবার পরীক্ষার্থী একটু কম। তবে এসব কারণে কেউ যদি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করতে পারে, তাদের আবার সুযোগ দেওয়া হবে। পরীক্ষায় ১০ থেকে ১২ দিন আগ পর্যন্ত আবেদন করলেও তারা সুযোগ পাবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফরম পূরণের আবেদন করতে পারবে। | 6 |
তুলা উন্নয়ন বোর্ড (সিডিবি) স্থগিত বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩য় শ্রেণিভুক্ত বিভিন্ন পদের লিখিত পরীক্ষা ১১ সেপ্টেম্বর বেলা ২টায় ধানমন্ডি গভ. হাই স্কুল কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে টেলিটকের মাধ্যমে আবেদনকারীদের পরীক্ষার সময়সূচি খুদে বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতবছর সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর ও উচ্চমান সহকারী (৭০টি) পদের জন্য জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। | 1 |
'বড় ইনিংস খেলে বড় খেলোয়াড়রা'- কথাটি লিটন দাসের হলেও সেই উক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। এশিয়া কাপে প্রথম চার ম্যাচে ভালো করতে না পারলেও ফাইনালে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি (১২১) করেন ওপেনার এই ব্যাটসম্যান। যেহেতু বড় ইনিংস খেলেছেন তাহলে তিনিও বড় খেলোয়াড়? না! নিজেকে বড় খেলোয়াড় মানছেন না। বুধবার মিরপুরে অনুশীলনের এক ফাঁকে বললেন, আমি এখনো বড় খেলোয়াড় হইনি। এশিয়া কাপের ফাইনালে সেঞ্চুরির পর জাতীয় লিগে খেলতে নেমেই মাত্র ১৪০ বলে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন লিটন। যেটি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের দ্রুততম ডাবল। ঘরোয়া ক্রিকেটে লিটন অবশ্য পরীক্ষিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে ঠিক মেলে ধরতে পারছিলেন না। এশিয়া কাপের সেঞ্চুরির পর আত্মবিশ্বাসী লিটন এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান। এশিয়া কাপের সেঞ্চুরি ও জাতীয় লিগের ডাবল সেঞ্চুরির মাঝে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিকে গুরুত্ব দিয়ে লিটন বলেন, 'অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেঞ্চুরি বেশি গুরুত্ব বহন করে। অনেক দিন ধরেই ব্যাকফুটে ছিলাম। পারফর্ম করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একই সাথে আমার জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। নিঃসন্দেহে বড় ব্যাপার। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স থাকে। ওটাই ঘাটতি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। চেষ্টা করছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করার। তবে আমি বলব না যে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিটির পর পূর্ণ আত্মবিশ্বাস আছে। তবে আগে থেকে একটু চাপ মুক্ত আছি। আমার কাছে মনে হয় প্রতিটা ম্যাচ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটা সত্যি, একটি ম্যাচ অনেকের ক্যারিয়ারে অনেক প্রভাব ফেলতে পারে। পরের ম্যাচে কিন্তু আবার শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে। আমার চেষ্টা শূন্য থেকে বড় কিছু করা।' জিম্বাবুয়ে স্কোয়াডে তামিম না থাকায় লিটন দাস সিনিয়র ক্রিকেটারের ভূমিকায় থাকবেন। নিশ্চয়ই বড় ব্যাপার। তবে এটিকে ভিন্নভাবে দেখছেন না তিনি, 'আমি দলে নিয়মিত ছিলাম, তাও না। তামিম ভাই ছিলেন নিয়মিত। তার সাথে সাথে সবাই আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। আমার নিয়মিত হওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না। আমার সাথে যিনি সঙ্গী হবেন, তিনিও নতুন হবেন, আমিও নতুন। হ্যাঁ, আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে একটু ভালো জায়গায় আছি। আগেও বলেছি, প্রতিটি ম্যাচ নির্ভর করে সেই দিনের ওপরে। প্রত্যাশার একটু চাপ তো থাকবেই। কিছু পেতে হলে কিছু দিতেও হবে। আমি জানি যে আমাকে রান করতে হবে।' | 12 |
গত ফেব্রুয়ারি মাসে মুক্ত আসর-স্বপ্ন'৭১ দ্বিতীয়বারের মতো বাংলা ভাষায় '১০০ শব্দে গল্প লেখা প্রতিযোগিতা' আয়োজন করে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে শতাধিক লেখক অংশ নেন। সেখানে থেকে ১০০টি গল্প নির্বাচন করে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষার প্রথম ১০০ শব্দের গল্প সংকলন 'শত কথার শত গল্প'। বইয়ের প্রকাশিত ১০০ জন লেখকের ৭টি গল্পকে 'সেরা গল্প' হিসেবে নির্বাচিত করে লেখকের পুরস্কৃত করা হয়েছে। শনিবার পরীবাগে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংগঠন 'মুক্ত আসর' আয়োজিত 'শত কথার শত গল্প: লেখক আড্ডা ও সেরা লেখক পুরস্কার' বিতরণী অনুষ্ঠানে সেরা সাত লেখককে পুরস্কার হিসেবে উত্তরীয়, ক্রেস্ট, সনদ ও বই দেয়া হয়। আরেফিন রেজোয়ান, আশান উজ জামান ও অনিন্দিতা চৌধুরীকে সেরা লেখক এবং সঞ্জিত দত্ত, প্রিয়তোষ মিশ্র সজীব, সাদিয়া জাফরিন ও কামরুল হাসানকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে লেখকদের পুরস্কার তুলে দেন কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস, মোহিত কামাল, ইতিহাসবিদ এ কে এম শাহনাওয়াজ, মুক্ত আসরের উপদেষ্টা রাশেদা নাসরীন, বন্ধুসভার জাতীয় কমিটির সভাপতি সাইদুজ্জামান রওশন, উপসচিব নুরুন আখতার, সমাজসেবী ফারাহ দিবা আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর লেখকদের পরিচিতি, তাদের প্রকাশিত লেখা পাঠ। এরপরই সেরা লেখক পুরস্কার ২০১৯ দেওয়া হয়। কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস তার বক্তব্যে বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে '১০০ শব্দের গল্প' বিষয়টি নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রম উদ্যোগ। একসময় লেখক বনফুল দুই লাইনের গল্প লিখেছেন। এমন একদিন আসবে, মানুষ দুই লাইনের গল্পের চর্চা করবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন লেখক ম্যারিনা নাসরীন, মুক্ত আসরের পরামর্শক ওমর ফারুক, মুক্ত আসরে সহসভাপতি সাহাদাত পারভেজ, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সংগীতা আচার্য্য ও শত কথার শত গল্পের লেখকবৃন্দ। কবিতা আবৃত্তি করেন ফরিদা ইয়াসমিন সুমি, তাহমিনা তম, সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নজরুল সংগীতশিল্পী শাহীনা আক্তার পাপিয়া। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন আয়শা জাহান নূপুর। অনুষ্ঠানে মুক্ত আসরের ২ বছরের জন্য ৬০ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন এ কে এম শাহনাওয়াজ। কমিটির সভাপতি হয়েছেন আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আশফাকুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাকদুসউজ্জমান ও প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সরকার। | 6 |
বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসান আহম্মেদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার রাত ১১টার দিকে মথুরাপুর ইউনিয়নের উলিপুর তিনমাথা এলাকার কাশিয়াহাটা সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ সোমবার দুপুরের দিকে হাসান আহম্মেদ বাদী হয়ে মথুরাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তজা এবং স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (আনারস প্রতীক) ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, নৌকার প্রার্থী হাসান আহম্মেদের ওপর হামলার অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গোলাম মোর্তজাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি ধুনট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এ বি এস সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা আজ দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে নৌকার প্রার্থীর ওপর হামলা করার অভিযোগে গোলাম মোর্তজাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। নৌকার প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর ধুনট উপজেলার ১০টি ইউপির সঙ্গে মথুরাপুর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই ইউপির নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসান আহম্মেদ গতকাল রাত ১১টার দিকে প্রচারণা শেষ করে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। পথে উলিপুর তিনমাথায় কাশিয়াহাটা সড়কে মথুরাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তজা ও আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলামসহ চারজন মোটরসাইকেল নিয়ে এসে হাসান আহম্মেদের ওপর হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীদের মোটরসাইকেলের ধাক্কায় হাসান আহম্মেদ মাটিতে পড়ে যান। এতে তিনি আহত হন। হামলাকারীরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান। অভিযোগের বিষয়ে গোলাম মোর্তজা বলেন, 'আমি না, আমার ভাই গোলাম মোস্তফা স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (আনারস প্রতীক) শফিকুল ইসলামের কর্মী। নৌকার প্রার্থী হাসান আহম্মেদের লোকজন আমার ভাইকে এ জন্য মারধর করেছেন। এখন হাসান আহম্মেদ নিজে আহত হওয়ার ঘটনা সাজিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।' তিনি বলেন, 'বহিষ্কারের বিষয়ে আমাকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি।' | 9 |
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, 'মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পঞ্চাশ বছরেও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হলেও মানুষ দরিদ্র ও কর্মহীনতার শিকার।' বুধবার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করতে গিয়ে রাশেদ খান মেনন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, 'দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক শাসন ও স্বৈরশাসন দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস মুখস্থ করতে বাধ্য করেছে। ষড়যন্ত্র থেমে নেই। ইউটিউব খুললেই জাতীয় পতাকা, সংগীত ও সংবিধান নিয়ে বিরূপ মন্তব্য শোনানো হয়।' মেনন বলেন, 'আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে তার ভাস্কর ও ম্যুরাল ধ্বংস করার ঔদ্ধত্য দেখা যায়। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে।' বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি। আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি আবুল হোসাইন প্রমুখ। | 6 |
করোনা পরিস্থিতিতে কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য সহজে ও কম খরচে বহন করার জন্য সরকারের নির্দেশনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন চালু করে। আমের মৌসুম শেষ হয়ে আসায় ১৬ জুলাই থেকে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই ট্রেনে আম পরিবহন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রেলওয়ের আয় হয়েছে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪০ টাকা।চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কুরিয়ারে এক কেজি আম পরিবহনে চাষিদের খরচ বেশি হয়। আমের পরিবহন সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে সরকার ট্রেনে আম বহনের সিদ্ধান্ত নেয়। ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনের মাধ্যমে গত ২৭ মে থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৫ কেজি আম বহন করা হয়। যেখান থেকে আয় করেছে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪০ টাকা।ব্যবসায়ীরা বলছেন, কম খরচে এবং সময়মতো রেলে আম পরিবহনের সুযোগ পেয়ে বেশ লাভবান হয়েছেন তারা। বিশেষ করে ট্রেনে যত্নসহকারে আম ওঠানোর ফলে নষ্টও হয়নি তেমন। সড়ক পথের চেয়ে রেলপথে পণ্য পরিবহন তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ জেলার প্রতি আন্তরিকতা রয়েছে বলেই ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে চালু করেছিলেন। আব্দুল আহাদ নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ট্রেনে ঢাকায় এক কেজি আম পাঠাতে এক টাকা ৩০ পয়সা খরচ হয়েছে। আর কুরিয়ার সার্ভিসে কেজি প্রতি ১২ টাকা লাগে। সে তুলনায় ট্রেনে স্বল্প খরচে পরিবহনের এমন সুযোগ পাওয়ায় খুশি আম ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে কম খরচে মালবাহী ট্রেনে আম পাঠানো ব্যক্তিরাও খুশি।চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ওবাইদুল্লাহ জানান, ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশন থেকে ছেড়ে আমনুরা বাইপাস, রহনপুর, নাচোল, কাঁকনহাট, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন, আড়ানি, লোকমানপুর, আবদুলপুর ও আজিমনগর স্টেশন থেকে আম নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন। এতে বহন খরচ কম হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে আম ঢাকায় বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে।মো. ওবাইদুল্লাহ জানান আরও জানান, চলতি আম মৌসুমে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে বাংলাদেশ রেলওয়ে যে সেবা দিয়েছে, তাতে ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যক্তিরাও সন্তুষ্ট। গত বছরের তুলনায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণে আম বহন করে রেলওয়ে। এতে গত ২৭ মে থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৫ কেজি আম বহন করে আয় করেছে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪০ টাকা। | 6 |
দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. রতন মাহমুদের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়েছে। তিনি জেলার হাকিমপুর থানার ঘনশ্যামপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। রতন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আবদুল জলিল জানান, দুই মাস আগে তার ছেলের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। ছেলের চিকিৎসায় এরই মধ্যে ১০ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। জমিজমা, স্ত্রী ও মেয়ের গহনাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। বিভিন্ন পরীক্ষা ও ওষুধসহ রতনের চিকিৎসার পেছনে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে রতন সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সে জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের হৃদয়বানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। রতনকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- মো. আবদুল জলিল, হিসাব নম্বর :১৮১২৭০১০১১৩১৯, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, হাকিমপুর শাখা, দিনাজপুর এবং মো. সাদ্দাম হোসেন শান্ত, হিসাব নম্বর :০১২২০২০০০১৫৫৬, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। | 6 |
খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাবাকে। রবিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১০টায় অভিযুক্ত ওই বাবাকে (৪৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভুক্তভোগীর মায়ের দায়ের করা মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বাবা গত একমাস ধরে কয়েক দফায় ধর্ষণ করে নিজ কন্যাকে (১৫)। মেয়েটির মা পেশায় বাবুর্চি। গত ১৩ জানুয়ারি রাত ৯টায় কাজ শেষে বাড়িতে ফেরেন তিনি। এ সময় ধর্ষণের বিষয়টি মায়ের কাছে খুলে বলে মেয়েটি। এ নিয়ে অশান্তি শুরু হয়। ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর মেয়েটির মা কাজ শেষে বাড়ি ফিরে আসার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনরায় ঝগড়া শুরু হলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। ১৬ জানুয়ারি রাত দশটার দিকে ধর্ষণের অভিযোগে ভাড়া বাড়ি থেকে অভিযুক্ত বাবাকে আটক করেপুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলো। খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, "এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে থানায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে স্বামীর নামে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" | 6 |
নববর্ষে উৎসবের রঙে পুরনো সকল ভেদাভেদ ভুলে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের প্যারিসে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ।এ উপলক্ষে ফ্রান্সের বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বরলিপি সাংস্কৃতিক শিল্পী গোষ্ঠী আয়োজন করে বৈশাখের বর্ণাঢ্য র্যালি,হাজারো কন্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা,যেমন খুশি তেমন সাজ,বৈশাখী পিঠা ঊৎসব, নৃত্যনুষ্ঠান, পান্তা ইলিশ এবং জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । এদিন হাজারো প্রবাসীর আনন্দঘন উপস্থিতিতে ফ্রান্সের প্যারিসের রিপাবলিক চত্বর জনসমুদ্রে পরিনত হয় । সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন আঁখি আলমগীর, মমো, মামুন,পার্থ প্রথিম বাপ্পী,সাকিব সহ প্যারিসের স্থানীয় শিল্পীরা । সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষদিকে স্টেজে এসে আঁখি ও মামুন সুরের মূর্ছনায় বিমোহিত দর্শকদের মাতিয়ে রাখে ,শিল্প-সংস্কৃতি,সংগীত ও চির তারুণ্যের শহর প্যারিস যেন কিছুসময় বাংলা গাণের সুরে একাকার হয়ে যায়। বাংলাদেশীদের পাশাপাশি ভিনদেশীরা ও নাচে তালে অনুষ্ঠানকে আলোকিত করে, সংস্কৃতি যেন স্বদেশ বিদেশের মধ্যে এক মেলবন্ধন এঁকে দিয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যৌথভাবে উপস্থাপনা করেন ইসরাত খানম ফ্লোরা ও হ্যাপি চৌধুরী। মেলা প্রাঙ্গনে দেশীয় বিভিন্ন প্রকার পন্যের ষ্টলে বিকিকিনিতে ব্যস্ত ছিলেন প্রবাসীরা , তাঁরা দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে এ ধরণের শুশৃঙ্খল আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। বিডিপ্রতিদিন/ ই-জাহান | 4 |
জরিমানা দিয়ে তৃতীয় টেস্টে ফিরছেন আর্চার। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে জৈব-নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রয়েছেন ইংলিশ এবং ক্যারিবীয় খেলোয়াড়রা। কিন্তু সে নিয়ম ভাঙায় দ্বিতীয় টেস্টে দলের বাইরে থাকতে হয় ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চারকে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় তথা শেষ টেস্টে বার্বাডোজে জন্ম নেয়া এই পেসারকে পাচ্ছে ইংল্যান্ড। ঠিক কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে সেটি যদিও প্রকাশ করেনি ইসিবি। তবে ইংলিশ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২য় টেস্টের ম্যাচ ফি অর্থাৎ ১৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে আর্চারকে, যেটি বাংলাদেশি অঙ্কে প্রায় ১৬ লাখ টাকা। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে থেকে এক বিবৃতিতে জানা যায়, ২৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় টেস্টের ৩ দিন আগে, ২১ জুলাই দলের সঙ্গে পুনরায় যোগ দিবেন আর্চার। ইসিবি তরফ থেকে গোটা শুনানি প্রক্রিয়ার তদারকি করেন ইংল্যান্ড পুরুষ ক্রিকেট দলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাবেক ক্রিকেটার অ্যাশলে জাইলস। এতে আর্চারের ভালো অতীত রেকর্ড, অপরাধের স্বীকারোক্তি এবং অনিচ্ছাকৃত অপরাধ বিবেচনা করে তার শাস্তি কমানোর অনুরোধ করা হয়। ফলে ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে আর্থিক জরিমানা ও আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তার প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় ইসিবি। গত ১৩ জুলাই দলের বায়ো-সিকিওর প্রোটোকল ভেঙে ব্রাইটনে নিজের ফ্ল্যাটে যান আর্চার। অ্যাজাস বোল থেকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে যাওয়ার পথে নিয়ম লঙ্ঘন করেন ফাস্ট বোলার। দ্বিতীয় টেস্টের জন্য স্কোয়াড ঘোষিত হওয়ার পরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকে ৫ দিন সেলফ-আইসোলেশনে ছিলেন আর্চার। এই সময়ের মধ্যে দুবার তার শরীরে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়। যার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার ব্যাপারে আর কোনো জটিলতা রইল না আর্চারের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে খেলার ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে তাকে। সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজের পরের দুটি হবে ওল্ড ট্রাফোর্ডে। দ্বিতীয় টেস্টের পঞ্চম দিন চলছে এখন। এর আগে নিয়ম লঙ্ঘন করে গোটা দলকে বিপদে ফেলার ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন এই স্পিডস্টার। আর্চার জানিয়েছেন, 'আমি যেটা করেছি সেটার জন্য আমি দুঃখিত। শুধু নিজেকেই নয়, গোটা দল এবং ম্যানেজমেন্টকে আমি বিপদে ফেলেছি। অন্যায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমায় যা শাস্তি প্রদান করা হবে আমি মাথা পেতে নেব। প্রত্যেকের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।' টিম বাসে সব খেলোয়াড়ের একত্রে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায়, ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত গাড়িতে ভ্রমণের পরামর্শ দেয় ইসিবি। কিন্তু আর্চার নিয়ম ভাঙেন। | 12 |
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বাজারের বিল্লি লেইনে অভিযান চালিয়ে এক দোকানির গুদাম থেকে ১৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এক অভিযানে 'অবৈধভাবে' মজুত করা এসব তেল জব্দ করা হয়। অভিযান চলাকালে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ সাংবাদিকদের বলেন, রমজানের আগে কেনা এসব তেল দোকান মালিক সিরাজ সওদারগর গুদামে রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু দোকানে তেল ছিল না। তিনি বলেন, মোট ১ হাজার ৫০ কার্টুনে অন্তত ১৫ হাজার লিটার তেল তিনি গুদামে রেখেছিলেন। আইন অনুযায়ী তাকে জরিমানা করা হবে। এর আগে রোববার নগরের ২ নম্বর গেটের কর্ণফুলী কমপ্লেক্সের খাজা স্টোরের দোকানের নিচের গুদামে ১ হাজার লিটার তেলের খোঁজ পায় সংস্থাটি। পরে এসব তেল আশপাশের দোকানি ও ক্রেতাদের কাছে গায়ের দামে বিক্রি করা হয়। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.