text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
ব্রিটিশ বিলিওনেয়ার ব্যবসায়ী রিচার্ড ব্র্যানসনকে নিয়ে ভার্জিন গ্যালাকটিক নামে একটি যান মহাকাশের দ্বারপ্রান্তে ভ্রমণের পর নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিউমেক্সিকোতে অবতরণ করেছে। এক ঘণ্টাব্যাপী যাত্রায় ইউনিটি-২২ নামের এই মহাকাশযানটি ঘণ্টায় তিন হাজার কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে উড়ে যায়। ব্র্যানসন বলেছেন, এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের ভেতর দিয়ে মহাকাশে পর্যটনের নতুন এক যুগের সূচনা হবে। আগামী বছর বাণিজ্যিকভাবে এই এ ধরনের পর্যটন শুরুর কথা রয়েছে। তবে মহাশূন্যে যারা বেড়াতে যেতে চাইবেন তাদের বেশ অর্থবান হতে হবে। মহাশূন্যে কয়েক মিনিটের অভিজ্ঞতার জন্য প্রতিটি টিকেটের ব্যয় পড়বে আড়াই লাখ ডলার। রিচার্ড ব্র্যানসনের মতোই আরেকজন বিলিওনিয়ার উদ্যোক্তা অ্যামাজনের মালিক জেফ বেজোসও এমাসের পরের দিকে তার কোম্পানির তৈরি রকেটে চড়ে মহাশূন্যে উড়ে যাবেন বলে কথা রয়েছে। তবে মহাশূন্যে অভিযানের এই পথটি রিচার্ড ব্র্যানসনের জন্য সহজ ছিল না। তিনি ২০০৪ সাল থেকে মহাশূন্যে বাণিজ্যিক ভ্রমণ চালু করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। কথা ছিল ২০০৭ সালেই এই ভ্রমণ চালু হবে, কিন্তু রকেটে প্রাণঘাতী এক বিস্ফোরণের পর উদ্যোগটি মাঝপথে থেমে যায়। "ছেলেবেলা থেকেই মহাকাশ ভ্রমণের শখ আমার ছিল, বিবিসিকে ব্র্যানসন বলেন, আমি আশা করছি আগামী ১০০ বছরের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ মহাশূন্যে সফর করতে পারবেন।" বিডি প্রতিদিন/কালাম | 11 |
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল ছিল রাজনৈতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন এবং উৎপাদন-উন্নয়নের যুদ্ধ পর্ব। ২০১৯ সালে রাজনীতির নতুন পর্ব শুরু হয়েছে, সুশাসনের জন্য যুদ্ধ পর্ব। লুটেরা, দুর্নীতিবাজ, মাস্তান ও গুণ্ডাদের সিন্ডিকেটের ঘাঁটি ও খুঁটি ধ্বংস করে দিতে হবে। যারা আইন-কানুন এবং রাষ্ট্র-সরকার কোনো কিছুর তোয়াক্কা করছে না- এমন বেপরোয়াদের শায়েস্তা করতেই সুশাসনের জন্য রাজনৈতিক চুক্তি দরকার। বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাসদ ঘোষিত দেশব্যাপী 'সুশাসন দিবস'-এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে হাসানুল হক ইনু এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের স্তরে স্তরে জবাবদিহি, দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির কারণে মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও দুর্ভোগ বাড়ছে। রাষ্ট্র-প্রশাসনের সব স্তরে আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক কর্মী ও জনগণকে সোচ্চার হতে হবে। ডেঙ্গু রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং বন্যাকবলিত মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মানুষ বাঁচাতে সবাইকে একসঙ্গে মাঠে নামতে হবে। হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে মানবন্ধনে বক্তব্য দেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা মীর হোসাইন আখতার, আফরোজা হক রীনা, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান শওকত, নুরুল আখতার, নাদের চৌধুরী, সফি উদ্দিন মোল্লা, শহীদুল ইসলাম, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, শওকত রায়হান, নইমুল আহসান জুয়েল, রোকনুজ্জামান রোকন, সাইফুজ্জামান বাদশা, মাইনুর রহমান, ইদ্রিস ব্যাপারী, আহসান হাবিব শামীম প্রমুখ। | 9 |
রাজধানীর কলাবাগান থানায় মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আল-আমিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।আজ দুপুরের দিকে আল-আমিনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আল-আমিনের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষ জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন মঞ্জুর করেন।গত সোমবার আল-আমিন ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত রোববার রাতে রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে আল-আমিন ও শারমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া ২৬ আগস্ট কলাবাগান থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেন সিআইডির এসআই নাফিজুর রহমান।মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস লিমিটেড নামের ই-কমার্স ব্যবসার আড়ালে আসামিরা অনুমোদনহীন মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাঁরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে কৌশলে নানা প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেন। এ ছাড়া তাঁরা কোম্পানির হিসাব থেকে এক কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে মানি লন্ডারিং করেন। | 0 |
রমনার বটমূলে বোমা হামলা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার উভয় মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়ার (৬৩) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে তার মৃত্যু হয়। মৃত হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া তিনি সিলেটের কানাইঘাট থানার পর্বতপুর গ্রামের মৃত মাওলানা আব্দুর রশিদের ছেলে। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মো. শাহজাহান জানান, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আলোচিত দুই মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। পরে তাকে দ্রুত কারা হাসাপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়াও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই হাসপাতালেই তিনি মারা যান। তবে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস জানান, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়াকে মৃত অবস্থায় এ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কাশিমপুর কারাগার সূত্রে জানা গেছে, হাফেজ ইয়াহিয়া ২০০১ সালে রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হন (রায় হয় ২০১৪ সালের ২৩ জুন)। ২০১২ সাল থেকে তিনি কাশিমপুর হাইকিসিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলাও (রায় হয় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর) তাকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন আদালত। | 6 |
ঢাকা: করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ঘরে ঘরে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ মঙ্গলবার শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের ৫৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সমাধিস্থলে আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, মহামারির এই সময়ে অপরাজনীতি পরিহার করে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ঘরে ঘরে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির প্রতি জনগনের কোন আস্থা নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নিজের দলকে চাঙা রাখতে যখন যা খুশি তাই বলে যাচ্ছে, তাদের রাজনীতি হচ্ছে সরকার বিরোধিতার নামে অন্ধ সমালোচনা করা।বিএনপি আন্দোলন ও নির্বাচনেও ব্যর্থ এমন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই যেখানে আন্দোলন করতে হবে। দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবেও বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে।সেতুমন্ত্রী বলেন, শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের রাজনীতির মূল মন্ত্র ছিলো সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন করা।তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ।ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতায় গেলে অনেকেই জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে জন্য কাজ করেন না,তবে শেরে বাংলা ও বঙ্গবন্ধু ছিলেন ব্যতিক্রম । তাঁদের পথ অনুসরণ করেই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই কাজ করে যাচ্ছেন। | 9 |
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে চালককে অজ্ঞান করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা যাত্রীবেশে উপজেলা সদর বাজার থেকে সুরুজ আলী (২২) নামে ইজিবাইক চালকের গাড়িতে উঠে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আসে। এখানে এসে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা চালক সুরুজ আলীকে অজ্ঞান করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেলে রেখে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে চম্পট দেয়। সুরুজ আলী উপজেলার বন্দভাটপাড়া গ্রামের ফজল হকের ছেলে। পরে উপজেলা পরিষদ ভবন থেকে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লাইলী বেগম রাস্তায় বের হলে অজ্ঞান অবস্থায় ওই চালককে পড়ে থাকতে দেখে। লাইলী বেগমের দেয়া তথ্যমতে সুরুজ আলীর গ্রামের বাড়ি থেকে তার আত্মীয় স্বজনরা এসে অজ্ঞান অবস্থায় সুরুজ আলীকে উপজেলা সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। জানা গেছে, সুরুজ আলীর পরিবারের লোকজন ওই ইজিবাইকটি ঋণ-ধার করে প্রায় দুই লাখ টাকায় ইজিবাইকটি ক্রয় করে। ইজিবাইকটি ছিনতাই হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে সুরুজ আলীর পরিবারের সদস্যরা। ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। | 6 |
ঢাকা-৫ আসনে উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনু বিজয়ী হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেসরকারি ফলাফলে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্থাপিত নির্বাচন কমিশনের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। | 6 |
আরেক দফায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। করোনা মহামারি ও অন্যান্য কারণে যারা নিবন্ধন করতে পারেননি, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবারও অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ঢাকা বোর্ড।আগামী রোববার থেকে অষ্টম শ্রেণির বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এ তিন দিন বিলম্ব ফি ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ ও শিক্ষার্থীদের তথ্য আপলোড করা যাবে। এর আগে গত ২৩ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর এবং ১০ ও ১১ নভেম্বর বাদ পড়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দিয়েছিল ঢাকা বোর্ড।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১ সালে ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে যেসব শিক্ষার্থী নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেননি বা অন্য কোনো কারণে বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেসব শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেননি বা অন্য কোন কারণে বাদ পড়েছেন সেসব শিক্ষার্থীদের অনলাইনে তথ্য আপলোড, নিবন্ধনের সময় বিলম্ব ফিস ছাড়া ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট তিন দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। | 1 |
কাতারে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ শাখা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসিফ জামান রূপম ও সাধারণ সম্পাদক সাকির মজুমদার স্বাক্ষরিত একটি পত্রে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ছাত্রলীগ নেতা আশরাফ হোসেনকে সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ কাতার শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে কাতার শাখার ২৫ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক রাসেল, শেখ এ আর মামুন, তােফায়েল আহমদ তুহিন, মাশরুল আহমদ, মাে. ফখরুদ্দীন রাব্বি। সাংগঠনিক সম্পাদক - রফিক মাহমুদ, শাহরিয়ার আলম, কামরান আহমদ কিবরিয়া, লিংকন দে। দফতর সম্পাদক রাসেল আহমদ, প্রচার সম্পাদক মাসুম মিয়া। সদস্য ফয়সল আহমদ, আহমেদ হাসান। অনুমোদিত বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ কাতার শাখার সভাপতি আশরাফ হোসেন বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিতেই এ সংগঠনের যাত্রা। আমরা প্রবাসী হলেও দেশমাতৃকার ভালোবাসা আমাদের হৃদয়ে। আমরা প্রবাসেও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজ করারও পরিকল্পনা আছে আমাদের।' সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ কাতার শাখা কমিটি অনুমোদন দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসিফ জামান রূপম, সহ-সভাপতি সাইফুল আহমদ ছফু ও সাধারণ সম্পাদক সাকির মজুমদারসহ কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, 'আমরা আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, দেশের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।' এসময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাতার শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক ও দোহা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তাহের চৌধুরীসহ বৃহত্তর সিলেট আওয়ামী যুব পরিবার কাতারের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 4 |
গতকাল রোববার ছিল চিত্রনায়িকা চম্পার জন্মদিন। জন্মদিনটা চম্পা কী করে কাটান, সেদিকে লক্ষ রেখেছিলাম আমরা। জন্মদিন নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হলো, কথা হলো আরও অনেক বিষয়ে। ছোট ও বড় পর্দা মিলিয়ে ৩৯ বছর ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। সম্প্রতি এই অভিনয়শিল্পী শুটিং শেষ করছেন 'বিশ্বসুন্দরী' সিনেমার। এসব নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় কথা বললেন তিনি জন্মদিন কেমন কাটল?এত ফোন, এসএমএস, ফেসবুকে শুভেচ্ছা বার্তা-আমি মুগ্ধ। অনেকগুলো কেক কেটেছি। বিকেলে বের হয়েছি সন্তানদের নিয়ে, নাতি-নাতনিদের সঙ্গেও কেক কেটেছি। আর রাতে ববিতা আপা, সুচন্দা আপাসহ পরিবারের রেস্টুরেন্টে সময় কাটানোর পরিকল্পনা। ছোটবেলার জন্মদিনের কথা মনে পড়ে কি?ছোটবেলায় তো আনন্দ ছিল অন্য রকম। উপহারের জন্য উদ্গ্রীব থাকতাম। তখন জামাকাপড় পেতাম সবচেয়ে বেশি। সারা দিন মনমতো নতুন জামা পরতাম, আর বারবার বদল করতাম। এটা আলাদা একটা আনন্দের। জন্মদিন এলে কী মনে হয়?জীবন থেকে একটা বছর করে কমে যাচ্ছে। মানুষের ভালোবাসায় আনন্দের অনুভূতি হয়। জীবন থেকে বয়স কমে যাওয়ার বিষয়টি তখন আর মনে থাকে না, ভালোই লাগে। আফসোস, ছোটবেলা থেকে মাকে পাইনি। ৮ বছর বয়স থেকে মা নেই। বড় বোনেরা আমাকে লালন-পালন করেছেন। মাতৃস্নেহে বড় করেছেন। আমি মনে করি, একটা মেয়ের বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মায়ের প্রয়োজন বাড়ে। যদিও মায়ের অভাব পূরণ করেছে আমার বোনেরা। তবে এই দিনে মায়ের কথা বেশি মনে পড়ে। ফেসবুকেও দেখলাম, অনেকে শুভেচ্ছাবার্তা জানাচ্ছে...অনেক অনেক। পড়ছি আর ভালোবাসায় ভাসছি। একজনের শুভেচ্ছা বার্তা তো আমাকে নস্টালজিক করেছে, তিনি আমার অভিনীত বিশ্বসুন্দরী ছবির চিত্রনাট্যকার রুম্মান রশীদ খান। বিশেষ করে ফেসবুকে তাঁর পোস্ট করা ছবিগুলো আমাকে পুরোনো দিনের অনেক স্মৃতি কিছু মনে করিয়ে দিয়েছে। 'বিশ্বসুন্দরী' ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?এই ছবিতে আমার চরিত্রটি ভীষণ সুন্দর। গল্পটাও অন্য রকম। ছবির পরিচালক চয়নিকা চৌধুরীর সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। খুব যত্ন নিয়ে কাজটি করেছেন। গতানুগতিকতার বাইরে গল্প বলার চেষ্টা করেছেন। এর বাইরে শান নামে আরেকটি ছবিতে অভিনয় করছি। 'বিশ্বসুন্দরী' ছবির গল্পের শক্তিটা কী?নাম শুনে ছবিটি একরকম মনে হতে পারে। তবে গল্পটা পুরোই উল্টো। সব ছবিতে নায়ক-নায়িকার ব্যাপারটাই আমাদের চোখে পড়ে, এখানে তেমন ব্যাপার নেই। ছেলের সঙ্গে মায়ের সুন্দর সম্পর্কের গল্প দর্শকেরা দেখতে পাবেন। এখন ছবি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেন?সিনেমায় কাজের ক্ষেত্রে পরিবেশটা কেমন হবে, তা বোঝার চেষ্টা করি। এরপর আমার চরিত্র ও ইউনিট দেখি। দেশের চলচ্চিত্র এখন কেমন আছে?সবাই দেখছি এগিয়ে যাওয়ার কথা বলছে। কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার জন্য কীভাবে কাজ করা উচিত, তা করছে না। এতে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। পাশের দেশ, কলকাতার সিনেমার অবস্থা দেখছিলাম তালা ঝোলার মতো অবস্থা, এখন তালাগুলো খুলে তারা আলোয় ঝলমল করছে। অন্যদিকে আমাদের আলো-ঝলমল ইন্ডাস্ট্রি হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া তালা ঝোলার মতো অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। এফডিসি কেমন যেন নিষ্প্রাণ। দু-চারটা ভালো ছবি হচ্ছে, আমাদের ভালো ছবির সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। সবাইকে একত্র হতে হবে। একা একা একটা ইন্ডাস্ট্রি এগোতে পারে না। দলাদলি বন্ধ করতে হবে। কাজের মানুষদের কাজ করতে দিতে হবে। এ সময়ের নায়ক-নায়িকাদের অনেকে আপনার সঙ্গে কাজ করছেন। কয়েকজনের নাম শুনতে চাই, যাঁরা আপনার দৃষ্টিতে সম্ভাবনাময়।পূজা চেরিকে অনেক বেশি সম্ভাবনাময় মনে হয়। পরীমনি যদি যত্নশীল হয়, তাহলে ঠিক আছে, তা না হলে নয়। নুসরাত ফারিয়ার আরও বেশি কাজ করতে হবে। নায়কদের মধ্যে আরিফিন শুভ ও সিয়ামকে ভালো লাগে। | 2 |
নানা নাটকীয়তা ও বিতর্কের পর অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। আজ রাতে ১১টায় ঢাকা ছেড়েছেন এই অলরাউন্ডার। অবসাদে শুরুতে সফর থেকে সরে দাঁড়ালেও, পরে সিদ্ধান্ত বদলে খেলতে যাওয়ার কথা জানান তিনি। যাওয়ার বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের দক্ষিণ আফ্রিকায় জিততে হলে কী করতে হবে তাও জানিয়ে গেছেন তিনি।দক্ষিণ আফ্রিকায় কখনো জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার প্রত্যাশা কী জানতে চাইলে সাকিব বলেন, 'প্রত্যাশা তো থাকবেই যেন আমরা জিততে পারি। সিরিজ জিততে পারলে খুবই ভালো কিন্তু একটা ম্যাচও যদি জিততে পারি আমি মনে করি ভালো একটা অর্জন হবে। তাই পুরা দলেরই সেরকম একটা লক্ষ্য থাকবে, আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নেব।'অবসাদ কাটাতে সরে দাঁড়িয়েছিলেন সাকিব। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় সতীর্থদের সঙ্গে সময়টা উপভোগ করার কথা জানিয়েছেন সাকিব, 'দলের সঙ্গে থাকাটাও তো সব সময় অনেক মজার ব্যাপার। যেটা শেষ ১৫ বছর ধরে আছি, সামনেও থাকতে পারলে ভালো লাগবে। তবে দলের সঙ্গে থাকাটাই একটা আনন্দের ব্যাপার, আশা করি সবাই মিলে ভালো একটা ফল আনতে পারব।''আমি আগেও বলেছি যে, জায়গা পরিবর্তন হলে মানসিকতাতেও পরিবর্তন আসে। আমি সেই আশাটাও করছি। আমার মনে হয় যে টিম ম্যানেজমেন্ট, সাপোর্ট স্টাফ, কোচ সবাই আমাকে সাপোর্ট করেছে। এবারও তারা একই রকম সাপোর্ট করবে। আমিও চেষ্টা করব সেটার প্রতিদান দিতে।' যোগ করেন সাকিব।দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন কন্ডিশনে জিততে হলে কী করতে হবে জানতে চাইলে সাকিব আরও বলেন, 'দেখুন ওদের শেষ যেই সিরিজটা হয়েছে ভারতের সঙ্গে সেটায় ওরা বেশ ভালোই খেলেছে। তিনটা ম্যাচই জিতেছে তারা। সেই কন্ডিশনে বোলিংটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। আমাদের বোলিং বিভাগকে অনেক ভালো করতে হবে। আমাদের অ্যাওয়ে সিরিজগুলাতে আমরা বেশ সংগ্রাম করি বোলিংয়ে। তাই আমাদের বোলিংটা অনেক ভালো কতে। পাশাপাশি আমাদের ব্যাটিংটাও ভালো করতে হবে। বড় মাঠে যেটা হয় আমাদের ফিল্ডিংটা খারাপ হয় অনেক সময়। তাই তিনটা বিভাগেই আমাদের ভালো করতে হবে।'তবে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ভালো করার জন্য পেস বোলারদের বিশেষ অবদান দেখতে চান সাকিব। তিনি বলেন, 'স্পিন না ওয়ানডেটা ফাস্ট বোলারদের জন্যও অনেক চ্যালেঞ্জিং। যদি নতুন বলে যদি তারা উইকেট না নিতে পারে তাহলে সেটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায় স্পিনারদের জন্য। তাই একজন আরেকজনকে যদি সাহায্য করতে পারি তাহলে ভালো ফল আসবে।' | 12 |
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান ১ হাজারের বেশি যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিষ্পত্তির জন্য ৪৯ কোটি মার্কিন ডলার দিতে রাজি হয়েছে। অভিযোগ যাঁরা তুলেছেন, তাঁরা বলেন, প্রায় চার দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বে থাকা একজন চিকিৎসক তাঁদের যৌন নিপীড়ন করেছেন। খবর এএফপির। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান ও যৌন নিপীড়নের ঘটনার নিষ্পত্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকাল বুধবার বলেছে, মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যৌন নিপীড়নের শিকার ১ হাজার ৫০ জনের মধ্যে এই অর্থ ভাগ করে দেওয়া হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের আইনজীবীরা ৪৬ কোটি ডলার কীভাবে ভাগ করা হবে, তা ঠিক করবেন। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ বিষয়ে কিছু বলা হবে না। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এমন অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বাকি তিন কোটি ডলার রেখে দেওয়া হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রিজেন্টসের চেয়ারপারসন জর্ডান আকার বলেন, 'আমরা আশা করছি, ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো যাঁরা বেঁচে আছেন, এর মাধ্যমে তাঁদের দুঃখ লাঘবের প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সঙ্গে দুই বছর আগে প্রথম একজন সাহস নিয়ে এগিয়ে আসার পর যে কাজ শুরু হয়, তা-ও অব্যাহত থাকবে।'আইনজীবী পারকার স্টিনার বলেন, এক রাত আগে যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিষ্পত্তি করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যৌন নিপীড়নের ঘটনায় হওয়া একাধিক মামলায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিল। রবার্ট অ্যান্ডারসন নামের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যাঁরা অভিযোগ তুলেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই পুরুষ। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় এসব মানুষের সঙ্গে রবার্ট অ্যান্ডারসন যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তারই ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা মামলা নিষ্পত্তি করল বিশ্ববিদ্যালয়। যৌন নিপীড়নের শিকার প্রায় ২০০ জনের আইনজীবী পারকার স্টিনার। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর তিনি বলেন, 'এটা ছিল অনেক দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং এক বিষয়। আমার বিশ্বাস, ক্ষতিপূরণ দিয়ে এভাবে মামলাগুলো নিষ্পত্তির মাধ্যমে এমন অনেকে ন্যায়বিচার পাবেন, যাঁরা এই যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি নিয়ে চুপ থাকেননি।'১৯৬৬ সালে রবার্ট অ্যান্ডারসন নামের ওই চিকিৎসক ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে যোগ দেন। ২০০৩ সালে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির হেলথ সার্ভিস বিভাগের পরিচালক ও ফুটবলসহ বেশ কিছু খেলাধুলার চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করেন। যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত অ্যান্ডারসন ২০০৮ সালে মারা গেছেন। | 3 |
ইকুয়েডোরে রোববার একটি বাস দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। বাসটিতে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা এস.সি'র সমর্থকরা ছিল। ট্রাফিক পুলিশ একথা জানিয়েছে। স্থানীয় একটি টুর্নামেন্টের ম্যাচ শেষে বাসটি দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী কুয়েঙ্কা থেকে উপকূলীয় নগরী গুয়াইয়াকুইল নগরীতে যাচ্ছিল। বার্লেলোনা গুয়াইয়াকুইল ভিত্তিক একটি ফুটবল দল। ইকুয়েডোরের ট্রানজিট কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, বাসটি দৃশ্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে উল্টে যায়। জাতীয় দলের সাবেক গোলকিপার ও বার্সেলোনার সভাপতি জোস ফ্রান্সিসকো কেভালস টুইটারে বলেন, 'আমরা আমাদের সমর্থকদের দুর্ঘটনার খবরে গভীর দুঃখ পেয়েছি।' কর্মকর্তারা বলেন, বাসটির অতি সম্প্রতি নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। | 12 |
সিভিল সার্জন এসেছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করতে। চিকিৎসক-নার্সদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে একটি প্রশিক্ষণের উদ্বোধনও করেছেন। প্রশিক্ষণে বক্তৃতা চলছে। এমন সময় হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ড থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিকট ইন্টারকমে নার্সরা জানান, জরুরি সিজার করতে হবে দুজন প্রসূতিকে। তবে গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাবিবুন্নাহার ফুয়ারা রয়েছেন ছুটিতে।চিকিৎসক না থাকা চিন্তিত হয়ে পড়েন প্রসূতিদের স্বজনরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোছা. লুৎফুন্নাহার সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাসকে বিষয়টি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওপারেশন থিয়েটার রেডি করার নির্দেশ দেন। পরে সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিলে দুই প্রসূতিকে সিজার করেন। এ ঘটনা ঘটেছে গতকাল শনিবার দুপুরে যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার দুটি হলেও প্রসূতি মায়ের কেউই চৌগাছা উপজেলার বাসিন্দা নন। প্রসূতি সুমাইয়া খাতুন (১৯) ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বৈচিতলা গ্রামের জনৈক রিংকু এবং প্রসূতি শাহানারা (৩০) যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের মুত্রাপুর গ্রামের মো. টিটোর স্ত্রী।প্রসূতি সুমাইয়ার একজন স্বজন বলেন, আমাদের বাড়ি মহেশপুর হলেও চৌগাছায় প্রসূতি চিকিৎসা ভালো হয় বলে এখানে এসেছি। তিনি বলেন, বড় আপা (উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) ও বড় স্যার (সিভিল সার্জন) সিজার না করলে আমাদের হয় প্রাইভেট ক্লিনিকে নয়তো যশোরে নিতে হতো। আমাদের সে সামর্থ্য ছিল না। তিনি বলেন এখানকার বড় আপা ও যশোরের বড় স্যার অনেক ভালো মানুষ।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রসূতি সেবায় ২০০৪ সাল থেকে পরপর কয়েক বছর উপজেলা পর্যায়ে খুলনা বিভাগের সেরা হয়ে আসছে। প্রসূতি স্বাস্থ্য সেবায় অনন্য অবদানের জন্য হাসপাতালটি বারবার পুরস্কৃত হয়ে আসছে। এ কারণে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরা জেলার ৮ থেকে ১০টি উপজেলার বাসিন্দারা প্রসূতি সেবা নিতে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। ফলে প্রতিদিন হাসপাতালটিতে গড়ে ৪ থেকে ৬টি সিজারিয়ান অপারেশন হয়ে থাকে। তবে হাসপাতালটিতে স্থায়ী কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। প্রেষণে একজন গাইনি কনসালট্যান্ট দিয়ে এখানকার প্রসূতি বিভাগের কার্যক্রম চালানো হয়। তবে ব্যক্তিগত কারণে শনিবার গাইনি কনসালট্যান্ট ডা. হাবিবুন্নাহার ফুয়ারা ছুটিতে ছিলেন।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. লুৎফুন্নাহার বলেন, আমাদের স্থায়ী কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ডা. হাবিবুন নাহার ফোয়ারা একাই সিজারিয়ান অপারেশন করে থাকেন। তবে শনিবার তিনি ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে ছিলেন। অথচ দুজন প্রসূতির সিজার করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছিল। আমরা তখন একটি প্রশিক্ষণে ছিলাম। বিষয়টি বলতেই সিভিল সার্জন স্যার বললেন, 'চলুন আমরা সিজার দুটি করে দিই।'ডা. লুৎফুন্নাহার জানান, দুজন প্রসূতি মা এখন সুস্থ আছেন। দুজনের ছেলে সন্তান হয়েছে। | 6 |
করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। মেনে চলতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি। সর্বত্র মাস্ক পরিধানের বিধান জারি থাকলেও যশোরের অভয়নগরের হাটগুলোতে মাস্কবিহীন মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। শুক্রবার ও শনিবার উপজেলার বিভিন্ন হাটে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।উপজেলায় দীর্ঘ ১৯ দিন পর বিভিন্ন দোকানপাট, বিপণি বিতান খুলেছে। শুরু হয়েছে গণপরিবহন চলাচল। দেখে মনে হচ্ছে সবকিছুই ফিরেছে আগের অবস্থায়। দোকানগুলোতে সকাল থেকে ক্রেতা বিক্রেতারা বিকিকিনি শুরু করেন। তা ছাড়া সরকারের পরবর্তী কোন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকল দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলো খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।অপরদিকে মহাসড়কে রয়েছে গণপরিবহনের চাপ। এ ছাড়া আগের মত স্বাভাবিকভাবে অটোরিকশা চলছে। তবে শহরে স্বাস্থ্যবিধি কিছুটা মানলেও গ্রামের বাজারগুলোর চিত্র ভিন্ন। ভাটপাড়া গ্রামের হাটে মাছ-তরকারী কিনতে আসা মানুষের মধ্যে ছিল না কোন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা। বেশির ভাগ মানুষ হাটে এসেছে মাস্ক ছাড়া। সামাজিক দূরত্বের বালাই তো নেইই।স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ভাটপাড়া বাজারের হরিপদ বলেন, লকডাউন উঠে গেছে। এখন আর মাস্ক পরতে হবে না। মাছ বিক্রেতা ছলেমান বলেন, করোনার টিকা নিছি। এখন আর করোনা হবে না। তাই মাস্কের দরকার নেই।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান বলেন, সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। | 6 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে চারুকলা অনুষদভুক্ত 'চ' ইউনিটের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। আজ রোববার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রশাসনিক ভবনের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন।এ বছর 'চ' ইউনিটে সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ১০ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ২৫৮ জন শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বাকি ৯৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থীই ফেল করেছেন। আবেদন করেছিলেন ১৫ হাজার ৪৯৫ জন।চারুকলা অনুষদের অধীন অঙ্কন ও চিত্রায়ণ, গ্রাফিক ডিজাইন, প্রিন্টমেকিং, প্রাচ্যকলা, মৃৎশিল্প, ভাস্কর্য, কারুশিল্প এবং শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগে ১৩৫টি আসন রয়েছে।ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন ময়মনসিংহ মহিলা ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থী কাবেরি আজাদ রেমি। দ্বিতীয় হয়েছেন সরকারি নাজিমুদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী মারিয়ম মালিহা এবং তৃতীয় হয়েছেন জয়পুরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান নিপু।যেভাবে ফলাফল জানা যাবে:'চ' ইউনিটের শিক্ষার্থীরা তাঁদের উচ্চমাধমিক পরীক্ষার রোল নম্বর, বোর্ডের নাম, পাসের সন এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার রোল নম্বরের মাধ্যমে ওয়েবসাইট থেকে পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারবেন।তা ছাড়া, আবেদনকারীরা রবি, এয়ারটেল, বাংলালিংক অথবা টেলিটক নম্বর থেকে টাইপ করে ১৬৩২১ নম্বরে করে ফিরতি -এ তার ফলাফল জানতে পারবেন।পাসকৃতদের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা:(ক) পাসকৃত শিক্ষার্থীদের আগামী ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে বিস্তারিত ফরম ও বিষয়ের পছন্দক্রম ফরম পূরণ করতে হবে।(খ) ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিভিন্ন কোটায় আবেদনকারীদের ১৬ থেকে ২২ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোটার ফরম চারুকলা অনুষদের ডিন অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। এরপর যথাযথভাবে পূরণ করে উক্ত সময়ের মধ্যে ডিন অফিসে জমা দিতে হবে।(গ) ফলাফল নিরীক্ষণের জন্য ফি প্রদান সাপেক্ষে আগামী ১৬ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চারুকলা অনুষদের ডিন অফিসে আবেদন করা যাবে। | 1 |
মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইলে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলে প্রাণ গেলো দুই কিশোরের। সেতুরপাশে পিলারের সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে তারা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তারা। এর আগে, বৃহস্পতিবার সাড়ে ৮টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের হবিগঞ্জ সেতুর উত্তরপাড়ে চাছার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবার ও এলাকাবাসী বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি মোটরসাইকেযোগে হবিগঞ্জ সেতু'র দক্ষিণপাড় থেকে উত্তরপাড়ে যাচ্ছিল জনি ও নাঈম। এসময় মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সেতুর পিলারের সাথে ধাক্কা লেগে গুরুতর জখম হয়। এতে মোটরসাইকেলের সামনের অংশ ধুমড়েমুচড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। রাত ১১টার দিকে সদর হাসপাতালে নাঈম ফরাজী ও ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে জনি ফরাজী মারা যায়। পরে মৃতদেহ নিহতের বাড়িতে নিয়ে আসে স্বজনরা। সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, 'রাতে অতিরিক্ত স্পিডে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবার তাদের মৃতদেহ নিয়ে গেছেন। প্রত্যেকের পরিবারের উচিত উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের মোটরসাইকেল চালানোর বিষয় সাবধান করে দেওয়া।' বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির একদিন পর এনজিওপ্লাস্টি করা হয়েছে আবিদ আলীর। বৃহস্পতিবার আরেকটি এনজিওপ্লাস্টি করা হবে এই পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেটারের। বাংলাদেশের বিপক্ষে দারুণ একটি সিরিজ শেষে দেশে ফিরেই কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে খেলছিলেন আবিদ।সেন্ট্রাল পাঞ্জাবের হয়ে খেলছিলেন আবিদ। গতকাল খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিপক্ষে ব্যাটিং করার সময় দুবার বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরে হাসপাতালে নিলে তাঁর হৃদযন্ত্রে সমস্যা ধরা পড়ে।করাচির ইউবিএল গ্রাউন্ডে শেষ দিনে ৬১ রানের সময় বুকে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন আবিদ। মাঠ ছাড়লে হাসপাতালে পাঠানো হয় তাঁকে। নিবিড় স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জানা গিয়েছিল, অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোমে ভুগছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ওপেনার। পরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে জানানো হয়েছিল, আপাতত ভালো আছেন আবিদ। তবে তাঁকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। এই মুহূর্তে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে পিসিবির মেডিকেল বিভাগ। | 12 |
রাজধানীর গুলশানে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অভিনেতা শরিফুল ইসলাম রাজ ও লাক্সতারকা নাজিফা তুষিসহ পাঁচ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে গুলশান এভিনিউয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।আহত অপর তিন জন হলেন, অভিনেতা খাইরুল বাসার, জোনায়েদ বোগদাদি ও শরিফুল রাজের বন্ধু নাফিজ।ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে আহতদের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন পরিচালক মিজানুর রহমান আরিয়ান। তিনি বলেছেন, জোনায়েদ আইসিইউতে আছে। কাল সার্জারি করবে। তবে আলহামদুলিল্লাহ, এখন শঙ্কামুক্ত। কথা বলতে পারছে। নাফিস (রাজের বন্ধু) আইসিইউতে আছে, সার্জারি লাগবে, তবে অবস্থা এখন উন্নতির দিকে। নাজিফা তুষির ঘাড়ের হাড় সরে গেছে। ডাক্তার তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। শরিফুল রাজের একটি হাতের জয়েন্ট ডিসব্যালেন্স হয়ে গেছে, ট্রিটমেন্ট চলছে। খায়রুল বাসারের বুকের পাঁজরের দুটি হাড় ভেঙেছে, চিকিৎসা চলছে। সুস্থ আছে।তিনি যোগ করেন, সারারাত হাসপাতালে থেকে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরে অনেক সাংবাদিক ভাই এবং মিডিয়ার সহকর্মী বন্ধুদের ফোন ধরতে পারিনি। ফোন ধরতে না পারার জন্য দুঃখিত। আপনারা ওদের সবার জন্য দোয়া করবেন যেন ওরা সুস্থ হয়ে দ্রুত আমাদের মাঝে ফিরে আসে।'একই দিনে আরেকটি দুঃসংবাদ, পরিচালক জাকারিয়া সৌখিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্কয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে আছেন। প্রচণ্ড অস্থির আর মন খারাপ করা একটা সময়। আল্লাহ আমাদের ধৈর্য ধরে সবকিছু মোকাবিলা করার শক্তি দিক।'পুলিশ জানিয়েছে, বেপরোয়া গতির কারণে শিল্পীদের বহন করা ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে গাড়ির সামনের অংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।সম্প্রতি ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তি পাওয়া মিজানুর রহমান আরিয়ানের 'নেটওয়ার্কের বাইরে' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শরিফুল ইসলাম রাজ, নাজিফা তুষি ও খায়রুল বাসার ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন। | 2 |
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে চারটি বাস কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এসব বাস পরিবহন পুলে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিশ্চিত করেন। এদিকে গতকাল সোমবার বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের একটি বিকল বাস মেরামত করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এর আগে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ১৪টি বাস বরাদ্দ ছিল। গতকাল পুরোনো আরেকটি বাস যুক্ত হওয়ায় মোট বাসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫। নতুন আরও ৪টি বাস কেনা হলে এর সংখ্যা ১৯টিতে দাঁড়াবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি আবাসিক হলে থাকেন। এর বাইরে বাকি সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীকে সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে আসতে হয়। প্রতিদিন সাতটি নির্দিষ্ট সময়ে সিলেট নগর ও শহরতলির ১৪টি স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের পরিবহন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক মো. জহির বিন আলম প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি নতুন বাস কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী এপ্রিলের মধ্যেই দুটি বাস কেনা হবে। বাকি বাসগুলোও কয়েক মাসের মধ্যেই পরিবহন পুলে যুক্ত হবে। | 6 |
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আগামী নির্বাচন রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে। এটা তাঁর দায়িত্ব। রাষ্ট্রপতি সংলাপ শুরু করেছেন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন কমিশনের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে আইন করা সম্ভব না। তবে আইন করা উচিৎ। আমিও বলি আইন হবে।আজ বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।মন্ত্রীবলেন, করোনার সময়ে সংসদ বসে, তবে আমরা সব সংসদ সদস্যদের ডাকি না। আমাকে বলা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ব্যাপারে একটি অর্ডিন্যান্স (অধ্যাদেশ) করে দেন। আমি বলেছি, সেটা সম্ভব না। সংবিধান বলছে আইন করে দিতে, এ রকম একটা আইন সংসদকে পাশ কাটিয়ে করতে রাজি না।আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি গত দুবার সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে সার্চ কমিটি গঠন হবে। কমিটিতে ছয়জনের মধ্যে চারজন সাংবিধানিক পদধারী, বাকি দুজন সিভিল সোসাইটির। এখানে রাজনৈতিক দলের কেউ নেই। সার্চ কমিটি ১০টি নাম সুপারিশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। রাষ্ট্রপতি পাঁচজনকে নির্বাচিত করবেন। এটা করার পর একটি গেজেট হয়েছে। এর পরে দুটি নির্বাচন হয়েছে। যদিও এটা আইন না, তবু এটার 'ফোর্স অব ল' আছে। তাই নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্কের কোন অবকাশ নেই। | 9 |
নির্দিষ্ট এক মৌসুমে চার শিরোপা জয়ের হাতছানি লিভারপুলের সামনে। কিন্তু গত রাতে ঘরের মাঠে টটেনহাম হটস্পারের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ধাক্কা খেয়েছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল।ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না লিভারপুলের সামনে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পয়েন্ট খুইয়েছে অলরেডরা। ড্র করে ১ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠেছে ঠিকই, তবু অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মোহামেদ সালাহরা। কারণ এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্টও লিভারপুলের সমান। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় আপাতত টেবিলের এক নম্বরে আছে লিভারপুল। আগামীকাল নিউক্যাসেলের বিপক্ষে সিটিজেনরা জিতলেই আবার ৩ পয়েন্ট এগিয়ে যাবে পেপ গার্দিওলার দল।এদিকে এই ড্রয়ে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল টটেনহাম। টেবিলের চারে থাকা আর্সেনালের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে আছে স্পার্সরা। তবে টটেনহাম অবশ্য আর্সেনালের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলেছে। স্বপ্ন পূরণ করতে তাই পরের ম্যাচগুলো তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচেই আর্সেনালকে টপকে যাওয়ার সুযোগ ছিল টটেনহামের। ম্যাচের শুরুর লিড তারাই নিয়েছিল। ৫৬ মিনিটে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে জাল কাপান হিউং মিন সন। তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি হ্যারি কেনরা। ৭৪ মিনিটে লুইস দিয়াজের গোলে ম্যাচে ফেরে লিভারপুল। ম্যাচের বাকি সময় আর গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। | 12 |
বাংলাদেশ সফররত মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি ফয়সাল নাসিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তাদের বৈঠক হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি ফয়সাল নাসিমের বরাতে বলা হয়েছে, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন সংস্কৃতির দেশ। বাংলাদেশের কর্মীরা মালদ্বীপের বিভিন্নখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশটির দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশে কার্যক্রমের প্রশংসা করেন উপ-রাষ্ট্রপতি। এ সময় মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীদের করোনার টিকা দেওয়ায় উপ-রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান ইমরান আহমদ। বৈঠকে মালদ্বীপে শ্রমবাজার পরিস্থিতি, বাংলাদেশি কর্মীদের প্রসঙ্গে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সফররত মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ড. ইবরাহিম হাসান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আহমেদ নাসিম, প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মালদ্বীপের পররাষ্ট্র সচিব আবদুল গফুর মোহাম্মদ প্রমুখ। | 6 |
বছরের একেবারে শেষে এসে প্রকাশ পলো ১৪ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য। নাম 'বাজি'। যার গল্পে দেখা যাবে কেউ কেউ আবার নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে ধরে বসেন বাজি। কেউ বাজিতে জয় লাভ করেন কেউ বা আবার হেরে গিয়ে ভালোবাসাকেই হারিয়ে ফেলেন। এমন গল্প নিয়েই সিলভার স্ক্রীনের প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে 'বাজি'। এতে ব্যতিক্রমী একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাটকের পরিচিত মুখ পার্সা ইভানা। তার বিপরীত আছেন মুশফিক আর ফারহান। আরও আছেন রাজকুমারী রিয়া। বড়দিন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বরসিলভার স্ক্রীনের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পায় এটি। | 2 |
ঢাকার রাস্তায় যানজটের প্রধান কারণ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নয়, বরং ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য। সরকার রাস্তার চিত্র প্রাইভেট কারে বসে দেখে বলেই অটোরিকশাকে যানজটের প্রধান কারণ মনে করছে।আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।প্রগতি সম্মেলনকক্ষে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত 'বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার সংকট ও নিরসনের উপায়' শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন আনু মুহাম্মদ।অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, 'রাজধানীতে ৫ শতাংশ যাত্রী ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন এবং তাঁরা রাস্তার ৭০ শতাংশ জায়গা দখল করে রাখেন। তাঁরা মনে করেন, যানজটের প্রধান কারণ রিকশা-অটোরিকশা। আমাদের সরকারও ব্যক্তিগত গাড়িতে বসে রাস্তার সমস্যা দেখে। তাই তারাও এমনটাই মনে করছে।'দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, 'দেশে অনেকগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তারা অভিযোগ করে, ব্যাটারিচালিত বাহনগুলো দুর্ঘটনা ঘটায়। কিন্তু এই বাহনগুলো উন্নত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা কী?'অটোরিকশা নিষিদ্ধ করলেই এর ব্যবহার বন্ধ হবে না জানিয়ে আনু মুহাম্মদ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থানে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের দাবি জানান।বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, 'অটোরিকশার পক্ষে হাইকোর্টের রায় প্রমাণ করে দেশব্যাপী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিকদের আন্দোলন ন্যায্য দাবির আন্দোলন।' এ সময় তিনি গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে ব্যক্তিগত পরিবহন নিয়ন্ত্রণের প্রতি জোর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন উল্লেখ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, 'শেখ হাসিনার সরকার বলেছিল, ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়া হবে। কিন্তু এখন নিজ উদ্যোগে মানুষ কিছু করতে গেলেও সরকারি বাধা আসে। "বড়লোককে বড় করো, গরিবকে গরিব করো", সরকারের এমন নীতি বাদ দিতে হবে। ব্যাটারিচালিত এসব বাহন নিষিদ্ধ করে সরকার পুলিশকে আরও বেশি করে চাঁদা তোলার সুযোগ করে দিয়েছে। কারণ এই পুলিশই দিনের ভোট রাতে করার সুযোগ করে দেবে।'রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস বলেন, 'দাবি করলেই মুক্তি পাওয়া যায় না। আন্দোলন চালিয়ে নিতে হবে। সংগঠিত হতে হবে। সংগঠিত আন্দোলন ছাড়া কোনো দাবি আদায় হয় না।'রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাসদের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এম আকাশ, বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আজম প্রমুখ। | 6 |
বিএনপিকে অসাংবিধানিক পথ ছেড়ে সংবিধান মেনে এই সরকারের আমলেই নির্বাচনে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, 'লাখো শহীদের রক্তভেজা এই সংবিধানকে অবজ্ঞা করার এখতিয়ার কারও নেই।'আজ শুক্রবার রাজধানীর সবুজবাগ এলাকার বালুর মাঠে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ৫ নং ওয়ার্ডের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'দলটির নেতারা এখন থেকে নির্বাচন নির্বাচন করে ধুয়া তুলছে। তাঁরা বলছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না। তাহলে কোন সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে তাঁরা? আপনারা যদি সংবিধান মানেন তাহলে সংবিধান অনুযায়ী এই সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যেতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।'যারা জাতীয় সরকার স্বপ্ন দেখে তাঁদের জনভিত্তি নেই বলে দাবি করে হানিফ বলেন, 'তাঁরা মনে করে অনির্বাচিত সরকার হলেই তাঁরা ক্ষমতায় বসে যাবে। এ জন্য নানা ফর্মুলা তাঁরা দিচ্ছে। এই বাংলাদেশে ১ / ১১ হওয়ার আর সম্ভাবনা নেই। এই বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা জাতীয় সরকার আর হবে না। এই বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ীই চলবে। এই সংবিধানের জন্য ত্রিশ লাখ মানুষের রক্ত দিতে হয়েছে। দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রম হানি হয়েছে। এত ত্যাগের বিনিময়ে যে সংবিধান সেটা বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।'যারা এই দেশের নাগরিক, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাঁদের সংবিধান অনুযায়ী চলতে হবে বলে জানান হানিফ। তিনি বলেন, 'মির্জা ফখরুল সাহেবদের বলব অসাংবিধানিক কথাবার্তা বন্ধ করুন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি জয় লাভ করার ইচ্ছা থাকে তাহলে নির্বাচনে অংশ নিন। আপনারা যদি মনে করেন আপনাদের জনভিত্তি বা জনসমর্থন আছে নির্বাচন এলে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেখুন জনগণ আপনাদের চায় কিনা।'নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আগামী বছরের ডিসেম্বরে অথবা পরের বছরের জানুয়ারিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে জয়ী করতে হবে। এ জন্য দলের নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যাদের জনভিত্তি আছে। জনগণ জেনে গেছে শেখ হাসিনার হাতে দেশ থাকলে দেশের মানুষ নিরাপদে থাকে। বিজয় অব্যাহত রাখতে সবাইকে মাঠে নেমে কাজ করতে হবে।'অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শহীদ সেরনিয়াবাত, সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, সদস্য মামুন রশীদ শুভ্র, আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ। | 9 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানির বিচারপতি হিসেবে যখন ড. কামাল হোসেনের নাম আসে, তখন এটা গণশুনানির নামে গণতামাশা ছাড়া কিছু না। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও জেএসডির সভাপতির আ স ম আবদুর রব গতকাল বুধবার বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের 'অনিয়ম' নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি গণশুনানি করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজ সেই গণশুনানি আয়োজনে ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণার বিষয়েই কথা বললেন কাদের। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের মামলা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আমি আগেই বলেছি, একটি রাজনৈতিক দল যখন আন্দোলনেও পরাজিত হয়, নির্বাচনেও পরাজিত হয়, তখন তাদের সামনে নালিশ ও মামলা ছাড়া অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আর কোনো পথ খোলা থাকে না। এসব করে হতাশ কর্মীদের চাঙা রাখাই হলো তাদের উদ্দেশ্য। এ ছাড়া তো আর কোনো অবলম্বন নেই, আর কোনো পুঁজিও নেই। এখন মামলা, নালিশই তাদের সম্পদ।' তিনি আরও বলেন, 'নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের মামলা হচ্ছে, এতে অসুবিধা কোথায়? আমরা মামলা মোকাবিলা করব।' উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রার্থীর রদবদল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী কাদের বলেন, তৃণমূলের অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখে তদন্ত করেই রদবদল করা হয়েছে। তবে এর সংখ্যা বেশি নয়, চার-পাঁচটি। ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, 'দেশ এখন পুলিশি রাষ্ট্র।' তাঁর এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষোভ-দুঃখ থেকে তিনি এ কথা বলতে পারেন। তবে রাশেদ খান মেননের এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা তিনি জানেন না। আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ঠিক সময়ে হবে বলেও সাংবাদিকদের জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, 'কাউন্সিল ঠিক সময়ে হবে। অক্টোবরের ২৩ তারিখে আমাদের জাতীয় সম্মেলন হয়। অক্টোবরেই সম্মেলন করার চিন্তাভাবনা আছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে তাঁর কথা হয়েছে।' আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুব, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ-বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
দাম নিয়ন্ত্রণে বেসরকারিভাবে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। সচিবালয়ে সোমবার (৬ জুন) চাল পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, চাল আমদানির সিদ্ধান্তের সার সংক্ষেপ এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করা হবে। শুল্কমুক্তভাবে যেন আনা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। এতে করে কৃষক, বাজার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রী বলেছেন, চলমান অভিযানের মাধ্যমে লাইসেন্সের আওতায় আনা হচ্ছে মজুতদারদের। কাজেই চাইলেই যাচ্ছে তাই করতে পারবেন না কেউ। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে 'সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম'র যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত মতবিনিময় সভায় রাইপেনের প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছেন রাইপেন() টাস্কফোর্সের সদস্য ড. এ কে এ আব্দুল মোমেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩২ বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস-জীবন ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া অর্থনীতির এমিরিটাস প্রফেসর ড. মোমেন বলেন, 'রাইপেনের 'আর' হচ্ছে রেমিটেন্স, আই-ইনভেস্টমেন্ট তথা বিনিয়োগ, পি-ফিলনথ্রপি তথা সেবামূলক কর্মকাণ্ড, ই-এক্সপেরিয়েন্স তথা অভিজ্ঞতা এবং এন হচ্ছে নেটওয়ার্ক। ড. মোমেন তার দীর্ঘ প্রবাস-জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, 'চিকিৎসক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, শিল্পী, সাংবাদিক, আইটি বিশেষজ্ঞরা প্রায় বছরই বাংলাদেশে যান। এ সংক্রান্ত একটি 'সেল' থাকলে, তার সাথে ওই প্রবাসীরা আগে থেকেই যোগাযোগ করে স্বদেশ ভ্রমণের সময় নির্দিষ্ট একটি সময়ে বিনামূল্যে সার্ভিস দিতে পারবেন। এছাড়া, অনেক প্রবাসী নিজ এলাকার হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসা-সরঞ্জাম, স্কুল-কলেজে কম্প্যুটার, বই-পত্র, শীতবস্ত্র, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা চালানোর ক্ষেত্রেও ওই 'সেল' সমন্বয়কারির ভূমিকা পালন করবে। রাইপেন গঠনের প্রত্যাশা পূরণ করতে প্রবাসের মুক্তিযোদ্ধা এবং একাত্তরের চেতনায় উজ্জীবিতরা একযোগে কাজ করবে বলে উপস্থিত সকলে এ সময় সম্মতি দেন। যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। নির্বাহী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার স্বাগত বক্তব্য দেয়ার পর পুরো মতবিনিময় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি। বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন কন্ঠযোদ্ধা ফকির আলমগীর, রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সহ-সভাপতি রফিক আহমেদ এবং হারুন ভূইয়া, যুগ্ম সম্পাদক হাজী আব্দুল কাদের মিয়া, মহিলা সম্পাদিকা সবিতা দাস, নির্বাহী সদস্য হাজী জাফরউল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা-সন্তান ফাহাদ সোলায়মান, উইলি নন্দি প্রমুখ। বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো ছিলেন সাপ্তাহিক বর্ণমালা পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম, শো-টাইম মিউজিকের কর্ণধার আলমগীর খান আলম। বিডি-প্রতিদিন/০৫ মে, ২০১৮/মাহবুব | 4 |
ম্যাচের পরিস্থিতি যেমনই হোক দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং-ধস এক প্রকার নিয়ম হয়ে গেছে। ঢাকা টেস্ট যেটার আরেকটা উদাহরণ হয়ে থাকল। চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৪ রান তুলতে ৪ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ১৪১ রানে এগিয়ে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ১০৭ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সফরকারীদের অলআউট করে ব্যাটিংয়ে নেমে যেন উল্টো বিপর্যয় ডেকে আনে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও শূন্য রানে আউট হন তামিম ইকবাল। ৬৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে প্রথমবার জোড়া শূন্য রানে আউট হলেন বাংলাদেশ ওপেনার।আউটের মিছিলে তামিমকে অনুসরণ করেন নাজমুল হোসেন শান্ত (২), মাহমুদুল হাসান জয় (১৫) ও মুমিনুল হক (০)। ব্যাটিংয়ে হতাশার সময়টা ত্বরান্বিত করেছেন মুমিনুল। সর্বশেষ সাত ইনিংসে দুই অঙ্কের দেখা পাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৪ উইকেটের দুটি নিয়েছেন আসিদা ফার্নান্দো। একটি আরেক পেসার কাসুন রাজিথা। রানআউটের শিকার হয়েছে শান্ত।হতাশা বাড়ছে বাংলাদেশেরবিপর্যয় সামালের দায়িত্বে আবার মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাস। ১৪ রানে অপরাজিত থেকে শেষ দিনের খেলা শুরু করবেন মুশফিক। তাঁর সঙ্গী লিটনের শুরু করবেন ২ রানে।এর আগে চতুর্থ দিনের প্রথম দুই সেশনে শ্রীলঙ্কার একটি উইকেটও ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে দিনের শেষ সেশনে ভিন্ন এক বাংলাদেশের দেখা মিলল। ৫ উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে ৫০৫ রানে থামিয়েছে স্বাগতিকেরা।বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৪০ রানে এগিয়ে থেকে নিজেদের ইনিংস শেষ করে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেটের দুটি নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। বাকি তিনটির মধ্যে দুটি নিয়েছেন ইবাদত হোসেন, একটি রানআউট। শ্রীলঙ্কাকে বড় লিডের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন অ্যাঞ্জোলো ম্যাথুস আর দিনেশ চান্ডিমাল। চান্ডিমালকে তামিমের ক্যাচ বানিয়ে ১২৪ রানে থামা ইবাদত।ডোনাল্ডের চাওয়া পূরণ করলেন সাকিবম্যাথুস-চান্ডিমালের জুটি থেকে আসে ১৯৯ রান। এ উইকেট পতনের পর দ্রুতই শ্রীলঙ্কার লেজ ছেঁটে ফেলে বাংলাদেশ। উইকেটকিপার ব্যাটার নিরোশান ডিকভেলাকে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি করে ফিরিয়েছেন সাকিব। রামেশ মেন্ডিসকে (১০) এলবিডব্লিউ করেন ইবাদত।বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা-সম্পর্কিত সবশেষ সংবাদ পেতে - এখানেক্লিককরুনসাকিবের ৫ নম্বর শিকারে পরিণত হন প্রাভিন জয়াবিক্রমা। টেস্ট ক্যারিয়ারের সাকিবের ১৯ তম পাঁচ উইকেট। শ্রীলঙ্কার শেষ ব্যাটার হিসেবে রানআউট হন আসিথা ফান্দার্দো। এক প্রান্তে ১৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাথুস। এর আগে দিনের প্রথম সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮৭ রান করে শ্রীলঙ্কা। পরের সেশনেও উইকেট হারায়নি তারা। শেষ সেশনের প্রথম ভাগে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান সাকিব-ইবাদত। যদিও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেটা ফিকে হওয়ার পথে।খেলাসম্পর্কিত খবর পড়ুন:হঠাৎ উল্টো রথে দুই দলের পেসাররাতৃপ্তি-অতৃপ্তির দিনে সাকিবে একটুখানি হাসিজিম্বাবুয়েকে হারিয়ে নামিবিয়ার ইতিহাসদুর্দান্ত লিটনের র্যাংকিংয়ে ৩টা লাফ | 12 |
মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য দেশটির সঙ্গে 'ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ)' স্বাক্ষর করা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল সচিবালয়ে বাংলাদেশে সফররত মালয়েশিয়ার প্ল্যান্টেশন, ইন্ডাস্ট্রি এবং কমোডিটি বিষয়ে মন্ত্রী দাতুক হাজাহ জুরাইদা বিনতে কামারুদ্দিনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এসব কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এফটিএ স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয় দেশের আলোচনা অনেক এগিয়ে গেছে। মালয়েশিয়া এগিয়ে এলে এই চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব। এতে করে উভয় দেশ উপকৃত হবে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক, হালকা যন্ত্রপাতি ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করছে। | 6 |
যশোর সদর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) দুপুরে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত ৩ জুন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরজাহান ইসলাম নীরার মৃত্যু হলে পদটি শুন্য হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব মমতাজ বেগম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, 'যশোর জেলার সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরজাহান ইসলাম নীরা গত ৩ জুন মৃত্যুবরণ করায় উক্ত উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উপজেলা পরিষদ (কার্যক্রম বাস্তবায়ন) বিধিমালা, ২০১০ এর ১৫ ধারা অনুযায়ী বর্ণিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুপস্থিত থাকাকালীন সময়ে উপজেলা পরিষদের আর্থিক ক্ষমতা প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আনোয়ার হোসেনকে নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।' দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি যশোর শহরের গরীবশাহ রোডে ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যালে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে প্রায়ত উপজেলা চেয়ারম্যান নুরজাহান ইসলাম নীরার কবর জিয়ারত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় আনোয়ার হোসেন বিপুলের সঙ্গে ছিলেন লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলীমুজ্জামান মিলন, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের আলী, চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বিশ্বাস, যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাহেদ হোসেন নয়ন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি দাউদ হোসেন দফাদার, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহরাব হোসেন, জেলা যুবলীগের পাঠাগার সম্পাদক শেখ আলাউদ্দিন মুকুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ইমামুল কবির, জেলা শ্রমিকলীগের অর্থ সম্পাদক মোফাজ্জেল হোসেন, শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সেলিম রেজা পান্নু, কাশিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুর রহমান শহীদ, চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান, কচুয়া ইউনিয়ন। আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, হৈবতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু সিদ্দিক, চিত্র নায়ক সাহের খান রবি, দেয়াড়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক জাফর ইকবাল, বসুন্দিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক সাগর খান, যুগ্ম-আহবায়ক আখতারুল কবির মিলন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জাবের হোসেন জাহিদ, জাকির হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের জেলা সভাপতি মাহাবুবুর আলম বিদ্যুৎ, সাধারণ সম্পাদক আহসানুল করীম রহমান, শহর ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক রেযোয়ান হোসেন মিথুন, শহর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আব্দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক তছিকুর রহমান রাসেল, সদর উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রুহুল কুদ্দুস, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য ইমরান হোসেন, সদস্য সাজিদুর রহমান পিয়াস, ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক, শামীম আহমেদ, রায়সুল ইসলাম প্রমুখ। | 6 |
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে টেস্ট ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখেন স্যাম কুরান ও টম কুরান। ১৯৯৭ সালে ইংল্যান্ডের হয় একইসঙ্গে টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন দুই সহোদর অ্যাডাম ও বেন। এরপর ইংল্যান্ডের হয়ে আর কখনো দুই ভাই একসঙ্গে টেস্ট ম্যাচ খেলেনি। টম ও স্যাম কুরান দুজনই ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। তবে এর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলে যাচ্ছেন স্যাম কুরান। তিনি এ পর্যন্ত ইংলিশদের হয়ে ১৭ টি টেস্ট খেলেছেন। অপরদিকে টম ইংল্যান্ডের হয়ে মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছেন। কিন্তু দুই ভাইয়ের এখনো একসঙ্গে খেলা হয়নি। টম কুরান মূলত ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়মিত সুযোগ পান। এমনকি গত বছর ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলেও ছিলেন তিনি। অপরদিকে স্যাম কুরান মূলত খেলেন চেস্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে। ২০১৮ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ম্যান অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে স্যাম জানিয়েছেন তাদের ইচ্ছা দুই ভাই এক সঙ্গে টেস্ট ম্যাচ খেলবেন। এ ব্যাপারে স্যাম বলেন, 'আমরা দুই ভাই এক সঙ্গে বেশ কয়েকটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু আমাদের ইচ্ছা আমরা একসঙ্গে টেস্ট ম্যাচ খেলব। আশাকরি একদিন তা সম্ভব হবেও।' | 12 |
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান ও ইউটিউবের টক শোর উপস্থাপক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন হেলাল নাহিদ ওরফে নাহিদ হেলালের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ফেরদৌস মানিক লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি সদর আদালতে মামলার আবেদন করেন। তবে আদালত মামলার বিষয়ে এখনো কোনো আদেশ দেননি। আদালত সূত্র জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনি ও তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় এ মামলার আবেদন করা হয়েছে। সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান সম্প্রতি একটি টক শোতে অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন। ওই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন নাহিদ হেলাল। আহমেদ ফেরদৌস মানিক বলেন, মুরাদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমানের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এটা নারীসমাজের জন্য অপমানজনক। এ জন্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে মামলার আবেদন করা হয়েছে। আদালতের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেন শুনানি শেষে আবেদনটি আমলে নিয়েছেন। তবে কোনো আদেশ দেননি। পরে আদেশ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। | 9 |
পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের সবচেয়ে বড় 'মিলন মেলা' হলো অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এবারের বইমেলা শেষ হতে মাত্র কয়েক দিন বাকী। প্রতি বছর এই মেলা এলেই বই প্রকাশের ধুম পড়ে যায়। এবারের বইমেলার পরিবেশ, বিক্রি ও মেলা পরবর্তী বইয়ের বিপণন নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশিষ্ট লেখক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক এবং কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম। আনিসুল হক, কথাসাহিত্যিক এবারের বইমেলা অনেক ভালো হচ্ছে। আমার কাছে মনে হয়, অতীতের সব মেলার চেয়ে এবারের মেলা সুন্দর। চমৎকার করে সব প্যাভিলিয়ন সাজানো হয়েছে। বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যতটা জায়গা জুড়ে বইমেলা হচ্ছে তাতে পাঠকের চলাফেরায় কোন সমস্যা হচ্ছে না। ফাঁকা পরিসরও রাখা হয়েছে। মেলায় ফোয়ারা, বসার বেঞ্চ, মোড়ক উন্মোচনের মঞ্চ আছে। একাডেমি অংশে আলোচনা চলছে আবার উদ্যান অংশে নাটক হচ্ছে। শিশু চত্বরটাও যথেষ্ট সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। মেলার মধ্যে ইট বিছিয়ে পথ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বইমেলার পরিবেশ অনেক ভালো। প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, বইয়ের বিক্রিও অনেক ভালো এবার। প্রচুর বই বিক্রি হয়েছে। মেলায় যে চার হাজার বই বেরিয়েছে তার মধ্যে অন্তত চারশ' বই মানসম্মত, যা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক। এবারে এমন অনেক বই আছে যেগুলো দেখে মনে হয়েছে কেনা যায়। তবে প্রকাশকদের আরও বেশি পেশাদার হওয়া উচিত। বেশিরভাগ প্রকাশকই মনে হয় যেন একটা দোকান দিয়ে বসেছেন। একটা ভালো প্রকাশনার জন্য যা যা প্রয়োজন যেমন-সম্পাদনা, মুদ্রণ, বাঁধাই ব্যবস্থা-এগুলো বেশিরভাগ প্রকাশনা সংস্থারই নেই। একারণে বইমেলা এলেই প্রকাশকরা তাড়াহুড়া করে বই বের করছেন। যে কারণে অনেক ভুল থাকছে বইয়ে। আমার মতে, সময় নিয়ে বই বের করা উচিত। যদি কোন লেখক বইয়ের পাণ্ডুলিপি দিতে দেরি করেন তাহলে তার বইও দেরিতে প্রকাশ করা উচিত। এমন হলে তিনি বুঝতে পারবেন বই বের করতে হলে কতদিন আগে পান্ডুলিপি জমা দিতে হবে। আরেকটা ব্যাপার হলো, আমাদের এখানে শৌখিন প্রকাশকের সংখ্যা বেশি। বেশিরভাগেরই নিজস্ব শোরুম নেই। এত প্রকাশক না হয়ে যদি মাত্র ৩০ জন প্রকাশকও পেশাদার হতেন তাহলে তারা উদ্যোগ নিয়ে বইয়ের বিপণন বাড়াতেন। বইমেলা থাকায় লেখকরা এখন পরিচিতি পাচ্ছেন বিনা খরচে। প্রকাশকদের সেইরকম কোনও উদ্যোগ না থাকায় অনেক বই-ই কিন্তু পৌঁছাচ্ছে না জেলা শহরগুলোতে। বইয়ের বিপণন ব্যবস্থা বাড়াতে বেসরকারি উদ্যোগে বছরের বিভিন্ন সময়ে বইমেলার ছোট ছোট আয়োজন করা যেতে পারে। পাঠকের কাছে বই পৌঁছানোর জন্য সারাদেশে লাইব্রেরি গড়ার বিকল্প নেই। আফসানা বেগম,কথাসাহিত্যিক বিশাল জায়গা জুড়ে বইমেলা হওয়ার কারণে লোক সমাগম বেশি হলেও ভিড় মনে হয়নি। সাজানোও সুন্দর হয়েছে। প্রচুর বইও এসেছে এবার। অনেক নতুন লেখকের বইও আসছে। তবে সারা বছর যারা লেখালেখি করেন কিংবা যারা সত্যিকারের লেখক তাদের বই মেলায় বিক্রি হচ্ছে কম। আবার যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা ব্লগে লেখালেখি করছেন, তারা সে লেখাগুলোই একত্রিত করে বই আকারে বের করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা ব্লগে পরিচিতি থাকার কারণে তাদের বই প্রকৃত লেখকদের বইয়ের তুলনায় বিক্রি হচ্ছে বেশি। এ ধরনের উঠতি লেখকের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। তাদের কারণে আমাদের প্রকাশনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিনা এখনই তা নিয়ে মন্তব্য করা যাবে না। অন্যদিকে প্রকৃত লেখকদের বই কিন্তু সারা বছরই দোকানে বিক্রি হচ্ছে। তাদের বইয়ের বিক্রি মেলানির্ভর নয়। তবে আমাদের প্রকাশনা এখন বইমেলা কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। অনেক বই ঢাকার বাইরে যাচ্ছে। বইমেলা শুরুর কয়েক দিন পর থেকেই ঢাকার বাইরে কিছু জেলা শহরে বইয়ের দোকানে বইমেলার বই নিয়ে আলাদা র্যাক সাজানো হচ্ছে। এই সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। ছোট পরিসরে সারা বছরই যদি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বইমেলার আয়োজন করা যায় তাহলে আরও বেশি বই পাঠকের কাছে পৌঁছবে। যে হারে বই বের হচ্ছে তাতে বিভ্রান্তিকর একটা অবস্থাও তৈরি হচ্ছে। এত বইয়ের ভিড়ে কারও পক্ষে যাচাই বাছাই করে বই কেনা সম্ভব না।তাই বইয়ের মান নির্ণয়ের জন্য আলাদা কমিটি দরকার; যা এখন নেই। বাংলা একাডেমিতে প্রকাশকদের একটা তালিকা আছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ওই প্রকাশনীগুলোর বাইরে অনেক স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন ওঠে, ওই ষ্টলের প্রকাশক কারা? তালিকাভুক্ত না হওয়ার পরও তারা কিভাবে স্টল বরাদ্দ পেলেন? এই বিষয়গুলোতে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত। আরেকটা ব্যাপার হলো, অনেক প্রকাশক আছেন যারা শুধু ব্যবসার খাতিরে তাড়াহুড়া করে বই বের করছেন। মান, সম্পাদনা- এগুলো নিয়ে ভাবছেন না! বাঁধাইয়ের সময় বইয়ের পাতা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। আমার মতে, সংখ্যা নয় বরং কিভাবে একটা বই পাঠকের কাছে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়, প্রকাশকদের সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। | 8 |
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে । বুধবার (২৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে এই স্মারকলিপি দেয়া হয়। এসময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির, ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম,ঢাকা জেলা বিএনপি নেতা আবু আশফাক, দেওয়ান সালাউদ্দিন, নিপুন রায় চৌধুরী সহ স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
চিরতরে চলে গেলেন অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। করোনা আক্রান্ত হয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গুণী অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে সুহৃদ থেকে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সব মানুষের মনে। তার মৃত্যুতে শোকার্ত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে ভোরের কাগজের প্রতিবেদক। সাদেক বাচ্চু একটা নাম, একজন অভিনেতা, একটা ইতিহাস। বহু বছর আগে হুমায়ুন ফরীদি ভাই যখন সুপারস্টার তখন তার শিডিউল পাওয়া ভীষণ দুষ্কর। পরিচালক উত্তম আকাশ দাদা এবং আমি চিন্তা করলাম কী করা যায়! বাচ্চু ভাইয়ের কাছে গেলাম। বাচ্চু ভাই বলল উত্তম তুমি আমার সঙ্গে মজা করছো, তোমার ছবিতে নিবা আমারে ওমর সানির সঙ্গে। আমি বললাম না বাচ্চু ভাই, আপনি থাকবেন। সেই 'আখেরি হামলা', 'মুক্তির সংগ্রাম', 'রঙিন রংবাজ'সহ আরো বহু ছবিতে একসঙ্গে জুটি হলাম। আমার কাছে মনে হতো একটা ভালো মানুষের ডিকশনারি তিনি। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন। আমার ক্যারিয়ারে বহু বহু কাজ তার সঙ্গে করেছি। বাচ্চু ভাই অভিভাবক ছিলেন। আমি মিশেছি তার সঙ্গে ছোট ভাইয়ের মতো। তিনি ছিলেন আমার আত্মার আত্মীয়। সিম্পল জীবনযাপন ছিল তার। অহমিকতা, দম্ভ দেখিনি কোনোদিন। তার সঙ্গে এত এত স্মৃতি, কোনোদিন এসব ভোলা যাবে না। আল্লাহ বাচ্চু ভাইকে বেহেস্ত নসিব করুন। আঙ্কেল আমাকে মেয়ের মতো আদর করতেন। অভিনয়ে যেভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন ঠিক সেভাবে আমার আর নাঈমের সম্পর্কের সময়ও সাহায্য করেছেন। আমাদের বিয়ের সাক্ষীও তিনি। পর্দায় হয়তো বেশির ভাগ সময় তাকে খলচরিত্রে দেখা যায়। কিন্তু আমার দেখা ভালো মানুষদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য। এমন একজন অভিনেতা-অভিভাবককে হারিয়ে আমার মনের শূন্যতা আরো বেড়ে গেল। তিনি অভিনেতা হিসেবে যতটুকু ভালো ছিলেন, তার চেয়েও ভালো ছিলেন একজন মানুষ হিসেবে। ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথমদিকে সন্তানের মতোই তার স্নেহ পেয়েছি। এই সময়ে বা করোনাকালে ইন্ডাস্ট্রির শূন্যতা বেড়েই চলছে। দিন দিন অনেক গুণী অভিনেতা আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে প্রথম কাজ করা শুরু হয় ২০০০ সালে। তারপর থেকে আমার প্রতিটি সিনেমার কোনো না কোনো চরিত্রে তিনি থাকতেন। খুব বড় মনের মানুষ ছিলেন। তিনি যে এত বড় মাপের একজন অভিনেতা তা আমরা নতুন হলেও আমাদের কখনো বুঝতে দিতেন না। সেটে কখনো কারো সঙ্গে তাকে দুর্ব্যবহার করতে দেখিনি। করোনায় তাকে হারালাম, তার চলে যাওয়াটা আমার জন্য দুঃখের। সাদেক বাচ্চু আঙ্কেলের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বাবা-ছেলের মতো। আমার অভিনীত বেশিরভাগ সিনেমাতেই তাকে সঙ্গে পেয়েছি। অনেক স্মৃতি আজ মনে পড়ছে। কাজের ফাঁকে আমরা কত গল্প করেছি। তার কাছ থেকে জেনেছি এ অঙ্গনের অনেক ঘটনা। আমাকে সব সময় অনুপ্রেরণা দিতেন। বলতেন, পরিশ্রম আর একাগ্রতার কোনো বিকল্প নেই। করোনাকালে আমরা অনেক কাছের মানুষকে হারিয়ে ফেলছি। তার চলে যাওয়াটাও ভীষণ শূন্যতার। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি একে একে সব শক্তিমান অভিনয়শিল্পীদের হারিয়ে ফেলছে। এসব ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে নেয়ার নয়। বাচ্চু আঙ্কেলের আত্মার শান্তি কামনা করছি। | 2 |
ড্র-তে একই গ্রুপে নাম ওঠার পর থেকেই বায়ার্ন মিউনিখ-বার্সেলোনা ম্যাচ নিয়ে উচ্চারিত হচ্ছে স্কোরলাইনটি- '৮-২'। ২০২০ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিতে এমনই বড় ব্যবধানে বায়ার্নের কাছে পর্যুদস্ত হয়েছিল বার্সা। সেই বার্সা আবার মুখোমুখি বায়ার্নের। ঠিক 'সেই বার্সা'ও নয় আসলে; লিওনেল মেসি নেই, লুইস সুয়ারেজ, আন্তোনিও গ্রিজম্যানও নেই। চলতি মৌসুমের শুরুতে ক্যাম্প ন্যু ছেড়েছেন মেসিসহ ১১ জন। পরিবর্তে রোনাল্ড কোম্যানের দলে এসেছেন মেম্পিস দেপাই, এরিক গার্সিয়া, সার্জিও আগুয়েরোরা। বলা যায় 'নতুন' বার্সা। কাতালুনিয়ার রাজধানীতে আজ নবরূপের বার্সেলোনার মুখোমুখি হতে যাওয়া জার্মান জায়ান্টরা অবশ্য প্রায় পুরোনোই। আক্রমণভাগে রবার্ট লেভানডস্কির সঙ্গে থমাস মুলার, সার্জ জিনাব্রিসহ মূল স্কোয়াড একই আছে। তবে মৌসুমের প্রথম ম্যাচ বলে এবারকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ খুব বেশি নয়। ২০২১-২২ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম রাতে আজ আরও নামছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেলসি। ম্যানইউর প্রতিপক্ষ সুইস ক্লাব ইয়ং বয়েজ, চেলসির প্রতিপক্ষ ক্লাব মালিক রেমান আব্রামোভিচের দেশের জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। ন্যু ক্যাম্পে বার্সার আরেকটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিশন শুরুর সময়ে বেশি আলোচনা অবশ্য মেসির অনুপস্থিতি নিয়ে। সোমবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সার্জিও বুসকেটসকে প্রথম প্রশ্নটিই শুনতে হয়েছে আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে ঘিরে, 'সে যা কিছু বার্সাকে দিয়ে গেছে, আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত যে হৃদ্যতা ছিল, সব মিলিয়ে ওর চলে যাওয়াটা ছিল ধাক্কা। এক ধরনের আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়া, যা হজম করা কঠিন ছিল। তবে আমাদের এখন পথ চলতে হবে। মৌসুম মাত্র শুরু হলো। লিওকে ছাড়াই অভ্যস্ত হতে হবে আমাদের।' এদিকে পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী রোনালদো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন শুরু করতে যাচ্ছেন পুরোনো ক্লাব ম্যানইউর সঙ্গে। 'এফ' গ্রুপে ইংলিশ ক্লাবটির প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ডের ইয়ং বয়েজ। ম্যাচটি হবে বার্নে। রোনালদো-ভারানেসহ এবার যোগ দেওয়া সবাই আছেন ম্যানইউ স্কোয়াডে, তবে চোটজনিত সমস্যায় কাভানি ও হেন্ডারসন যুক্তরাজ্য ছাড়েননি। এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইউরোপা লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভিয়ারিয়াল ও ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তা। | 12 |
থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে গেল শেন ওয়ার্নের মৃতদেহ। মৃত্যুর ছয় দিন পর ফিরল দেহ। ডং মুয়াং বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করার ৮ ঘন্টা পর মেলবোর্নের এসেনডন ফিল্ডস বিমান বন্দরে অবতরণ করল বিশেষ চার্টার্ড বিমান। অস্ট্রেলিয়ায় কোভিড-১৯ আঘাত হানার পর বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়ানদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ক্রিকেট লিজেন্ড শেন ওয়ার্ন। অস্ট্রেলিয়ার এই মহাতারকা করোনাকালে নিজের কারখানায় মদ বানানো বন্ধ করে স্যানিটাইজার উৎপাদন করেন এবং তা পৌঁছে দেন করোনা হাসপাতালগুলোতে। ওয়ার্নের মদের কারখানার নাম ছিল 'সেভেন জিরো এইট জিন'। নিজের ৭০৮ টেস্ট উইকেটের সঙ্গে মিলিয়েই তিনি কম্পানির নাম রেখেছিলেন। ২০২০ সালের শুরুতে সারাবিশ্বে করোনাভাইরাস যখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল, তখনই ওয়ার্ন নিজের ফ্যাক্টরিতে স্যানিটাইজার উৎপাদনের ঘোষণা দেন। ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে তার কারখানায় মদের বদলে ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল দিয়ে তৈরি হচ্ছিল হ্যান্ড স্যানিটাইজার। অজি স্পিন কিংবদন্তি ওই সময় বলেছিলেন, 'বর্তমান সময়টা আমাদের জন্য খুবই কঠিন। এই সময়ে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে, মানুষের জীবন বাঁচাতে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে যে যেভাবে পারি সাহায্য করা উচিত আমাদের। আমার খুব খুশি লাগছে যে এই কাজটা (মদের বদলে স্যানিটাইজার তৈরি) সেভেন জিরো এইট করতে পেরেছে। অন্যদেরও অনুরোধ করছি সম্ভব হলে এমন কিছু করার।' | 12 |
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, 'বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন জনগণের ভোটের মাধ্যমে। আর শেখ হাসিনা তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন জনগণের ভোট চুরি করে। এই সরকারের জনগণের প্রতি কোনো মায়া-দয়া নেই। কারণ তাদের ভোটের প্রয়োজন নেই। যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে, আপনারা আর কোনোদিন ভোট দিতে পারবেন না। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যখন নির্বাচন হবে, সেদিনই বাংলার জনগণ ভোট দিতে পারবে। ইনশাল্লাহ বিএনপি সেদিন সরকার গঠন করবে। বিএনপি নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না।' দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগাউন্ড স্কুল মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এই সমাবেশ চলাকালে যুবদল কর্মীমের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে বিএনপি ও যুবদলের নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনেন। মির্জা আব্বাস বলেন, 'একদিকে মানুষ দ্রব্যমূল্য নিয়ে দিশেহারা আর সরকারের নেতারা ব্যস্ত লুটপাটে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় গেছে, তখনই তাদের নেতাকর্মীরা লুটপাট করেছে, হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। ১৯৭৩-৭৪ সালে তারা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন গণতন্ত্র হত্যা করে বাকশাল কায়েম করেছিল। গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলায় হাজার হাজার নেতাকর্মীকে খুন করেছিল। চারটি পত্রিকা বাদে সব পত্রিকা নিষিদ্ধ করেছিল। কোনো টেলিভিশন চ্যানেল ছিল না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে গণতন্ত্র এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আজকের আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো তফাৎ নেই।' নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রিয় শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দিন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল। উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ আজিজ, মিয়া ভোলা, আবদুস সাত্তার, এসএম সাইফুল আলম, এসকে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, কাজী বেলাল প্রমুখ। সমাবেশে যুবদলের হাতাহাতি বিকেল সোয়া ৩টায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিমুর রহমান বক্তব্য রাখার সময় দর্শক সারিতে হঠাৎ হৈ-চৈ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সভায় যুবদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য দেখাতে গিয়ে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। এ সময় বিএনপি ও যুবদলের সিনিয়র নেতারা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। সমাবেশে অংশ নেওয়া নগর বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতাকর্মী সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। | 6 |
মুসলমানদের পবিত্র মাস রমজানকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রামে মিছিল করেছে মহানগর ছাত্রলীগ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ ময়দান থেকে মিছিল বের করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।মিছিলটি নগরীর ওয়াসা মোড় হয়ে কাজির দেউড়ির মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগির, সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত কচি, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম মানিক প্রমুখ।সমাবেশে ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রমজানকে সামনে রেখে সব সময় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। আমরা ব্যবসায়ী ভাইদের অনুরোধ করব, তারা যেন এই ধরনের কাজ না করেন। আমরা আশা করছি, আপনারা (ব্যবসায়ীরা) রমজানে বাজারদর স্বাভাবিক রাখতে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলবেন।' এ সময় ছাত্রলীগ নেতারা ব্যবসায়ীদের প্রতি পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান।রমজানকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন মিছিল বের করলেও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এ ধরনের মিছিল বের করার নজির খুব একটা দেখা যায় না। সম্ভবত এবারই প্রথম এ ধরনের মিছিল বের করেছে ছাত্রলীগ। এর আগে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের অন্য কমিটির সময় এ ধরনের মিছিল বের করতে দেখা যায়নি। যদিও ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির নেতারা দাবি করেছেন, অনেক আগ থেকে এ ধরনের মিছিল বের করে আসছে মহানগর ছাত্রলীগ।মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু আজকের পত্রিকাকে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল এবারই প্রথম নয়। রমজানকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল বের করার রেওয়াজ অনেক আগ থেকে চলে আসছে। প্রতি বছর রমজানে আগে এ ধরনের মিছিল বের করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা রমজানকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেছি।এ সম্পর্কে জানতে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, এর আগে একবার রমজানকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল বের করেছে ছাত্রলীগ। সম্ভবত ২০১৯ সালে প্রথমবার রমজানকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল বের করা হয়। এর আগে কখনো ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল বের করা হয়নি।তবে ছাত্রলীগের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, আমরা ছাত্রলীগের এই কার্যক্রমকে ভিন্ন চোখে দেখছি না। কারণ আমরা যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী আছি, তাদের কাছে রমজান মাস অনেক মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস। এই মাসকে মুসলমানরা সব সময় স্বাগত জানায়। এটা আমাদের সংস্কৃতির একটা অংশ। হয়তো সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ছাত্রলীগ রমজানকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল বের করেছে। | 6 |
জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা ফারুক মাহফুজ আনাম জেমসের দায়ের করা মামলায় দেশের অন্যতম বেসরকারি টেলিকম অপারেটর বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক অ্যাসসহ (সিইও) শীর্ষস্থানীয় ৫ কমর্কর্তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে। দেশের অন্যতম দৈনিক ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। অভিযুক্ত বাকিরা হলেন- চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসার এম নুরুল আলম, চিফ করপোরেট রেগুলেটরি অফিসার তৈমুর রহমান, হেড অব ভ্যাস অনিক ধর এবং চিফ ডিজিটাল অফিসার সঞ্জয় ভাঘাসি।অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন জনপ্রিয় গান ব্যবহারের অভিযোগে কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে গত ১০ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন জেমস। মামলায় বাংলালিংকের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া কলার টিউন, ওয়েলকাম টিউন ও বিজ্ঞাপনে নগরবাউল জেমসের ছয়টি গান ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলা আমলে নিয়ে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বাংলালিংকের কর্মকর্তাদের হাজির হওয়ার জন্য সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতে যান জেমস। তবে সে সময় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় আদালত। একইসঙ্গে গুলশান থানায় যাওয়ারও পরামর্শ দেন আদালত। তবে পুলিশ এ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। | 2 |
ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের বওলা গ্রামে বংশাই নদ থেকে অবৈধভাবে যন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। প্রশাসনকে ফাঁকি দিতে দিনের বেলায় উত্তোলন বন্ধ থাকলেও রাতে শুরু হয়। এতে ভাঙনের ঝঁকিতে পড়েছে ফসলি জমি, সেতু, সড়ক ও বেশ কিছু স্থাপনা। এ ছাড়া বর্ষার পানি এলে দেখা দেয় ভাঙন। কয়েকজন নেতা রাজনৈতিক দাপটে এ কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।ভুক্তভোগীরা জানান, বছরজুড়েই এ নদ থেকে বালু তোলা হয়। এ কাজে কেউ প্রতিবাদ করলে দেখানো হয় রাজনৈতিক দাপট। গত বছর আশপাশের ফসলি জমি চলে গেছে নদীগর্ভে। আর প্রশাসন বলছে, তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না।বওলা গ্রামের বংশাই নদের পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, পাশে জামালপুর জেলা সীমান্তঘেঁষা যদুনাথপুর ইউনিয়ন। দুই পাশের যোগাযোগের জন্য নদের ওপর নির্মিত হয়েছে সেতু। সেতুর ঠিক উত্তর গোড়ালি পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলে নদের পাড়ে রাখা হচ্ছে। দু-এক জায়গায় ফসলি জমির মাটি ভেঙে পড়ছে নদে। ভারী যানবাহন চলাচলে কাঁপছে সেতু। পাশের জামালপুর-নান্দিনা মহাসড়কে দেখা দিয়েছে ভাঙন।স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম হোসেন, আব্দুল মালেক আয়ুব আলীসহ অনেকেই বলেন, বছরজুড়েই নানা কায়দায় মেশিন দিয়ে নদে থেকে বালু তোলা হয়। আর এবার জমির পাশ থেকেই বালু তুলছে। দিনের বেলায় বন্ধ থাকলেও রাতে চলে পুরো দমে। এলাকাবাসী না করলেও মানে না। এতে ফসলি জমি ভেঙে নদে বিলীন হচ্ছে।তাঁরা আরও বলেন, ওই ব্যক্তি বালুর ব্যবসা করেন। চুক্তিতে এখান থেকে বালু তোলেন। কিছু বললে দলের দাপট দেখান। এভাবেই নদে জমি চলে গেলে তাঁদের অনেক ক্ষতি হবে। এ জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন তাঁরা।এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ময়নাল বলেন, 'প্রতিবছরই গিয়াস নামের এক ব্যক্তি নদ থেকে বালু উত্তোলন করছেন। তিনি কারও কথা শুনতে চান না। দলের ক্ষমতা দেখান। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করি।'জানতে চাইলে অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, নদের ভেতর আমার জমি। তাই নদের জমি আমার। আমি তো বালু কাটমুই। বালুর ব্যবসা করি।'এ ব্যাপারে ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসলাম হোসাইন বলেন, 'বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। যদি তিনি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকেন, তাঁর বিরুদ্ধে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বালু উত্তোলন বন্ধ করতে বাধ্য করা হবে।' | 6 |
সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেছেন, স্বাস্থ্যসম্মত সুরক্ষিত জীবন প্রতিষ্ঠায় ভাসমান মানুষকে টিকাদানে উৎসাহিত ও সচেতন করে তুলতে সমাজের নেতৃস্থানীয় মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ জীবন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।গতকাল বৃহস্পতিবার ভাসমান মানুষের মধ্যে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খাদিমপাড়া ইউনিয়নের পীরেরবাজারে বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য সিলেট কার্যালয়ের আয়োজনে এবং স্থানীয়ভাবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিলেট সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড ম্যাস মিডিয়ার (সিফডিয়া) সহযোগিতায় করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রক) ডা. নূরে আলম শামীম, পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সিধু সিংহ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার সুজন বণিক, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)-এর প্রশাসনিক অফিসার এম গৌছ আহমদ চৌধুরী, সিলেট সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড ম্যাস মিডিয়া সিফডিয়ার উপদেষ্টা সাংবাদিক আব্দুল বাতিন ফয়সল, সিফডিয়ার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল মুহিত দিদার প্রমুখ।উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ভাসমান মানুষের মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ভাসমান মানুষের মধ্যে করোনা প্রতিরোধে জনসন অ্যান্ড জনসন ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। যে সব জায়গায় মানুষের সব সময় যাতায়াত বেশি সে সকলস্থানে ভ্রাম্যমাণ টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। | 6 |
দুই সপ্তাহ ধরে ময়মনসিংহ নগরীতে ফুটপাতে নেই হকার। ফলে চলাচলে স্বস্তি মিলেছে মানুষের। বেড়েছে বেচাকেনা। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে হকারমুক্ত ফুটপাত যাতে সব সময় থাকে, সেই আহ্বান নগরীর বাসিন্দাদের। তবে উচ্ছেদ করা হকারদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।ময়মনসিংহ নগরীর প্রাণকেন্দ্র এ বি গুহ রোড, যা সবার কাছে গাঙ্গিনারপাড় হিসেবে পরিচিত। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটিতে মানুষের চলাচল সবচেয়ে বেশি। নিত্য পণ্য কেনাকাটাসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক এবং হোটেল রয়েছে সেখানে। এই গাঙ্গিনারপাড় থেকে তাজমহল মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে রাস্তার দুই পাশে প্রায় আড়াই শ হকার পণ্যের পসরা সাজিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসত।এসব ঘিরে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট। ফলে ফুটপাত উচ্ছেদ রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তি ও প্রশাসনের কাছে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পুলিশের উদ্যোগে ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের দাবিও উঠেছে।দুই সন্তান নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন সানকিপাড়ার হাফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'আগে রাস্তার পাশে হকার বসার কারণে হেঁটে চলাও দায় ছিল। ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করার কারণে আমার মতো সবাই স্বস্তিতে চলছে। ফুটপাত উচ্ছেদ অব্যাহত থাকলে মানুষের ভোগান্তি কমে যাবে।' শনিবার গাঙ্গিনাপাড় ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতহীন রাস্তায় মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। কিছুটা যানজট থাকলেও হেঁটে চলতে কারও সমস্যা হচ্ছে না। মানুষ স্বচ্ছন্দে কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরছেন।বড় বোনের বিয়ের শাড়ি কিনতে আসা শারমিন সুলতানা বলেন, 'ফুটপাত দখলে থাকায় রাস্তা দিয়ে মেয়েদের চলাফেরা করতে বেশি সমস্যা হতো। ছিল ছিনতাই আতঙ্ক। এখন রাস্তার দুপাশ অনেকটা ফাঁকা, চলতে সমস্যা হয় না। গাঙ্গিনারপাড় এমন ফাঁকা হবে কোনো দিন ভাবিনি। এমন সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।'সরকার ম্যানসনের কাপড় ব্যবসায়ী গোলাম মোন্তুফা বলেন, 'ফুটপাত উচ্ছেদে স্বস্তির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। আগের তুলনায় এখন আমাদের বিক্রি বেশি হচ্ছে।'এ বিষয়ে হকার শাহ আলম বলেন, 'মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে আমাদের রুটি রোজগারের কথা চিন্তা করে প্রশাসন মালগুদাম ছাড়া অন্যত্র বসার ব্যবস্থা করে দেবে বলে প্রত্যাশা করছি।'ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র সহসভাপতি শংকর সাহা বলেন, 'সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গাঙ্গিনাপাড় হকারমুক্ত হয়েছে। এখন সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে চলাফেরা করছে। তবে হকারদের কথা বিবেচনায় সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং জেলা প্রশাসককে বলে তাঁদের জন্য মালগুদাম জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে হকাররা বসতে রাজি নয়।'কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, 'যোগদানের তিন মাস পর্যবেক্ষণের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে ফুটপাত উচ্ছেদ কার্যক্রমে হাত দিই। প্রথমে দুর্গাবাড়ি পরে চরপাড়া এরপর গাঙ্গিনারপাড় ফুটপাত উচ্ছেদ করা হয়েছে। এটি মানুষের ভোগান্তি লাঘবে করেছি। হকাররা যাতে বসতে না পারে সে জন্য নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।' তাঁদের পুনর্বাসনে বিকল্প চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, 'গাঙ্গিনারপাড় থেকে হকার উচ্ছেদে স্বস্তি মেলায় আমাদেরও ভালো লাগছে। তবে প্রায় আড়াই শ হকারের একটি তালিকা দিয়েছে। তাঁদের অন্যত্র বসানোর বিষয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। অচিরেই সমাধান হবে বিষয়টি। তবে গাঙ্গিনারপাড়ে কোনো হকার বসতে পারবে না, এটা চূড়ান্ত।' | 6 |
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে অভিযান চালিয়ে ২৭টি মামলায় দুই লাখ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার ডিএনসিসির ১ নম্বর অঞ্চলে দুইটি মামলায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলকার নায়ন। ২ নম্বর অঞ্চলে দুই মামলায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম সফিউল আজম পরিচালতি ভ্রাম্যমাণ আদালতে। উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল বাসার মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। সিটির ৩ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল বাকী পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে আট মামলায় ৩৪ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪ নম্বর অঞ্চলে চার মামলায় ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহা বিনতে সিরাজ। ৫ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মামলায় ৭৫ হাজার টাকা, ৮ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবেদ আলির ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঁচ মামলায় ১০ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ৯ নম্বর অঞ্চলে ৩ মামলায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পারসিয়া সুলতানা প্রিয়াংকা। অভিযানের সময় মাইকিং করে জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হয় এবং সবাইকে এডিস মশা এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ডিএনসিসি মেয়রের আহবান 'তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন' মানার নির্দেশনা দেওয়া হয়। | 6 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় মানুষের জমায়েত ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে না পারায় সরাইলের সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাসুদ রানাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রবিবার পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেশে উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে কোনোরকম পূর্ব-ঘোষণা ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরাইল উপজেলার বেড়তলা গ্রামে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন | 6 |
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি আজ সোমবার দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গুলশানে চেয়ারপারসনের দফতরে ইস্যু করা হয়েছে। আজকের মধ্যেই চিঠিটি মারুফ কামাল খানের কাছে পাঠানো হবে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়। এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দফতরের দায়িত্ব পাওয়া নেতা এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খানকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্তটি দলের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে। আমি আদিষ্ট হয়ে অব্যাহতিপত্রটি গুলশান অফিসে পাঠিয়েছি। বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ২০১৮ সাল থেকেই মারুফ কামাল খান নিষ্ক্রিয়। তিনি তার কর্মস্থলে আসছেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্ত ও দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তার এসব বক্তব্যে দলের শৃঙ্খলা ভঙ হচ্ছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা। তাকে নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল বিএনপিতে। এ জন্য স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে মারুফ কামাল খান বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিবের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। | 9 |
স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া সংসারজীবনে হয়েই থাকে। কিন্তু ঝগড়ার পর ইতালির এক ব্যক্তি যা করলেন, তা হয়তো কেউ কল্পনাতেও আনেননি। রাগ কমাতে তিনি এক বা দুই মাইল না, হেঁটেছেন ২৮০ মাইল। দেশটির কঠোর লকডাউন ভঙ্গের অপরাধে পুলিশ না ধরলে হয়তো আরও পথ পাড়ি দিতেন তিনি। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম 'ইনডিপেনডেন্ট'-এর খবরে বলা হয়েছে, ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাস সুইজারল্যান্ডের সীমান্তবর্তী ইতালির একেবারে উত্তরের এলাকা কোমোতে। সেখান থেকে হেঁটে হেঁটে লোকটি যান দক্ষিণ দিকে ফানো শহরে। আদ্রিয়াটিক উপকূলের ছোট্ট একটি শহর ফানো। কোমো থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৮০ মাইল। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ইতালিতে কঠোর লকডাউনের নিয়ম জারি রয়েছে। সেই নিয়ম ভাঙার অপরাধে গত শুক্রবার পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকে আটক করেন। কিন্তু প্রথমে কর্মকর্তারা বিশ্বাসই করতে পারেননি যে তিনি এত দূরে হেঁটে এসেছেন। পরে তাঁর নাম যাচাই করতে গিয়ে দেখেন, এক সপ্তাহ আগে তাঁর স্ত্রী তাঁর নিখোঁজ হওয়ার কথা পুলিশকে জানিয়েছেন। ইতালির সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি শীতে জড়সড় হয়ে গিয়েছিলেন। খুব ক্লান্ত ছিলেন। তবে মাথা ঠান্ডা করতে এতটা পথ হেঁটে আসবেন, তা তিনি নিজেও কল্পনা করেননি বলে স্বীকার করেছেন। ওই ব্যক্তি বলেছেন, 'ঐতিহাসিক' এই ভ্রমণের সময় তিনি অপরিচিত লোকজনের কাছ থেকে খাবার চেয়ে খেয়েছেন। দিনে তিনি গড়ে হেঁটেছেন ৪০ মাইল। ফানোর একটি পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, স্বামীর খোঁজ পেয়ে তাঁর স্ত্রী তাঁকে নিতে ফানো শহরে আসেন। তখন তিনি পুলিশকে জানান, এক সপ্তাহ আগে কোমোর নিজ বাড়িতে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। তখন থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। লকডাউন ভাঙার অপরাধে তাঁকে ৪০০ ইউরো জরিমানা পরিশোধ করতে হয়েছে বলেও জানান ওই নারী। | 3 |
ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরানের প্রভাব রুখতে যেই জোট গঠন করেছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, সেই উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) কাতার সঙ্কটের কারণে এখন অনেক বেশি বিভাজিত ও দুর্বল। ইতোমধ্যেই সামরিক মহড়া সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে কাতারের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে এসেছেন। জিসিসি গঠিত হয়েছে ৬টি সদস্যরাষ্ট্রের সমন্বয়ে: বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত বছরের ৫ই জুন একযোগে কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর। কাতারের ওপর অবরোধ আরোপিত হলে কাতার ইরানের সাথে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে, সম্পর্ক ভালো হয়। সংকট শুরুর সঙ্গে সঙ্গে কাতার এয়ারওয়েজের জন্য নিজের আকাশসীমা খুলে দিয়েছে ইরান, দোহায় পাঠিয়েছে খাদ্যসামগ্রী। যুক্তরাষ্ট্র ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পরও, কাতার একটুও নতি স্বীকার করেনি। জিসিসিকে সবসময়ই ইরানের আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হতো। মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্যও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হতো এই জোটকে। বাহরাইনে যেমন মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহর অবস্থান করছে। কুয়েতে রয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে রয়েছে আমেরিকান যুদ্ধবিমান, ড্রোহ ও সেনা। দুবাইর জেবেল আলি বন্দর হলো মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যস্ততম বৈদেশিক বন্দর। কাতারের প্রকান্ড আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। ওমানে কোনো মার্কিন সেনা নেই। তবে দেশটি নিজের বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয় মার্কিন বাহিনীকে। ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মার্কিন ও পশ্চিমা কূটনীতিকদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করে ওমান। সৌদি আরব আবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল। আশির দশকে পারশ্য উপসাগরে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের যেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ততকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার, তখন থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন বাহিনী এনে রেখেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়েও ক্রমেই অস্বস্তিতে আছে উপসাগরীয় দেশগুলো। কাতার সঙ্কট শুরুর প্রায় সাথে সাথে ট্রাম্প তাতে সমর্থন দেন। অবশ্য পরে তিনি পুরোনো অবস্থান থেকে সরে আসেন। উপসাগরীয় অনেক দেশই ওয়াশিংটনে লবিস্টের পেছনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। | 3 |
করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির কারণে ২০২০ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যজুড়ে চলছিল লকডাউন। তখন দেশটিতে জমায়েত, পার্টি-সবকিছুর ওপরই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ওই সময়ই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টি করেছিলেন জনসন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।ওমিক্রনে প্রথম মৃত্যু যুক্তরাজ্যেযুক্তরাজ্যের সম্প্রচারমাধ্যম আইটিভি জানাচ্ছে, ই-মেইলের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হয় অতিথিদের। সেই ই-মেইল তাঁরা দেখেছে। ই-মেইলে বলা হয়, 'ভয়ংকর ব্যস্ত সময়ের পর সুন্দর আবহাওয়ার সুযোগ নিন। আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে ১০ নম্বরের বাগানে সন্ধ্যায় সমবেত হব। দয়া করে ৬টার সময় আসবেন এবং নিজের মদ নিজে নিয়ে আসবেন।'প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য: জনসনরয়টার্স বলছে, যুক্তরাজ্যে ওই সময় মাত্র দুজন বাড়িতে মিলিত হতে পারতেন। পাব, রেস্তোরাঁ সবই বন্ধ ছিল। তখন জনসন এই পার্টি করেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল প্রাইভেট সেক্রেটারি মার্টিন রেনল্ডস এই ই-মেইল ১০০ জনেরও বেশি কর্মীকে পাঠিয়েছিলেন।আইটিভি জানিয়েছে, জনসন ও তাঁর স্ত্রীসহ মোট ৪০ জন সেদিন পার্টি করেছিলেন।বরিস জনসনকে হাতে বানানো বাইসাইকেল উপহার দিলেন বাইডেনব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লকডাউনের বিধিভঙ্গের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২০ সালে তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে একাধিক পার্টি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে জনসনের বিরুদ্ধে। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এ রকম পাঁচটি পার্টির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছেন।গতকাল সোমবার বরিস জনসনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি ও তাঁর স্ত্রী কি করোনাবিধি ভঙ্গ করে পার্টি করেছিলেন? তাঁর কোনো জবাব ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দেননি।বরিস জনসনের নতুন ছবি ঘিরে বিতর্কতবে বিরোধী দলগুলো বরিস জনসনের তীব্র সমালোচনা করেছে। বিরোধী লেবার পার্টি, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি সবাই বরিসের সমালোচনায় মুখর হয়েছে। | 3 |
মিঠাপুকুরে আগাম পেঁয়াজ চাষে আশার আলো দেখা দিয়েছে। অতি বৃষ্টির পরও বীজতলায় অঙ্কুরিত হয়েছে চারা।উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ১০০ বিঘা জমিতে এই প্রথম সরকারি প্রণোদনায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজের ওপর নির্ভরতা কমাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অসময়ে এই পেঁয়াজ চাষের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় মিঠাপুকুরের ১০০ কৃষককে পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। কিন্তু এ জন্য বীজতলা প্রস্তুত করে বীজ বপন করার পরই শুরু হয়েছিল বৃষ্টিপাত। তখন পলিথিন দিয়ে এসব বীজতলা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করা হয়।উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের চুহড় ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র জানান, বৃষ্টিতে বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে, তারপরও চারা গজিয়েছে। গত শুক্রবার চুহড় ব্লকের ইসলামপুর গ্রামের চাষি আরিফুল ইসলাম, আবু তালেব ও শাহ আলম মিয়ার বীজতলায় অঙ্কুরিত চারা দেখা গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পেঁয়াজ চাষে সাফল্য আসতে পারে বলে আশাবাদী এই কর্মকর্তা।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বীজতলায় চারা গজিয়েছে। অনেকেই খেতে চারা রোপণ শুরু করেছেন।আনোয়ার হোসেন জানান, বীজতলা থেকে ৩০ থেকে ৪৫ দিন বয়সের চারা তোলে জমিতে রোপণ করতে হয়। চারা রোপণ করার ৬০ থেকে ৬৫ দিন পর পেঁয়াজ ওঠানো যায়। | 6 |
এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান এবং একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোজাম্মেল বাবুর কাছে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেছেন চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর।
বুধবার চ্যানেল আই-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।
এতে জানানো হয়, মঙ্গলবার ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ফরিদুর রেজা সাগর।
মামলার আবেদনে বলা হয়, গত ১৩ নভেম্বর 'মিডিয়া ইউনিটি'র এক সভায় মাহফুজুর রহমান এবং মোজাম্মেল বাবু ফরিদুর রেজা সাগরকে লক্ষ্য করে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেন।
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আছেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। তার সহযোগী হিসেবে আছেন ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান।
আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি।
| 6 |
সিলেটে জেলা পরিষদ-ইনোভেটর বইপড়া উৎসব ২১ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হবে। এই উৎসবের এবারের প্রতিপাদ্য 'জ্ঞানের আলোয় অবাক সূর্যোদয়! এসো পাঠ করি বিকৃতির তমসা থেকে আবিষ্কার করি স্বাধীনতার ইতিহাস'। ওই দিন বেলা ২টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান উদ্বোধন হবে।আয়োজকেরা জানান, চলতি আসরের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এ বছর দুটি বিভাগে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে। তাঁদের মধ্যে সিলেট মহানগর, জেলা, বিভিন্ন উপজেলা এমনকি সিলেট বিভাগের বাইরের শিক্ষার্থীও রয়েছেন। এ বছরই প্রথম অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালু ছিল। ফলে আগ্রহী সবাই অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।উদ্বোধনের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে মুক্তিযুদ্ধের বই তুলে দেওয়া হবে। বইপড়া উৎসবে নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত তারিখে যথাসময়ে অনুষ্ঠানস্থলে এসে বই নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।ইনোভেটরের নির্বাহী সঞ্চালক প্রণবকান্তি দেব বলেন, ২১ ডিসেম্বরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি কার্যক্রম চলছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার এ উৎসবে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তাঁরা সাগ্রহে অপেক্ষা করছে বই নেওয়ার জন্য। ইনোভেটরের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে। | 6 |
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের বিদেশিকর্মীদের কাজ করার অনুমতি দিয়েছে সরকার। অচিরেই কর্মীরা তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে কাজ শুরু করতে পারবেন। কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন বেশিরভাগ অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্তের ফলে গত চার মাস ধরে বিদেশি শ্রমিকদের কাজ করার অনুমতি মেলেনি। তবে যারা নিজ নিজ দেশে ছুটিতে রয়েছেন তাদের ফিরে আসার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি দেশটির সরকার। এর আগে গত মে মাসের শেষের দিকে ইসমাইল ঘোষণা করেছিলেন, বিদেশিকর্মীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার। এ সময় মন্ত্রী আরো জানান, ইতোমধ্যে পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি এবং বর্ডার সিকিউরিটি এজেন্সি ১ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ১,৬২৩ জন অনিবন্ধিত বিদেশি, ৫২৬ মিডিলম্যান এবং ১১০ জন চোরাচালানকারীকে আটক করেছে। এদিকে নিয়ন্ত্রণ আদেশ চলাকালীন কর্তৃপক্ষ ৫৯টি সমুদ্র জাহাজ এবং ১৬১টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। মন্ত্রী আরও জানান, ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৬৭টি সড়ক অবরোধ ও ৩৯,১৮৩টি যানবাহন রাজধানী শহরে প্রবেশ করার সময় চেকিং করা হয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 4 |
দৈনিক ভোরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার রাশেদ আলীর বাসায় কয়েক মাসের ব্যবধানে দুইবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় দফায় জানালার গ্রীল কেটে চুরির ঘটনায় ৩টি দামি মোবাইলসহ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (১০ অক্টোবর) খিলগাঁও থানায় ভুক্তভোগী এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন। রাশেদ আলী জানান, গত শনিবার রাত ১টার দিকে রাজধানী খিলগাঁও চৌরাস্তার একতা সড়কের বাসায় স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে শয়ন কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। পরে রবিবার ভোরে সোয়া ৫টার দিকে স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে পাশের কক্ষে গিয়ে আলমারি খোলা অবস্থায় ও জিনিসপত্র এলোমেলো দেখতে পান। এ সময় স্ত্রীর চিৎকারে ওই ঘরে গিয়ে রাশেদ আলী দেখতে পান জানালার গ্রিলের একটি অংশ কাটা। ওই ঘরের বিছানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে মানিব্যাগ, তিনটি মোবাইল ফোনের কাভার ও জামাকাপড়। পরে দেখা যায়, তার আইফোন, স্ত্রী ও ছেলের মোবাইলফোন ও নগদ টাকা দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে। রাশেদ আলী আরও বলেন, ঘটনার পর বাড়ির কেয়ারটেকার ও অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের জানাই। পরে সকাল পৌনে ৬টার দিকে খিলগাঁও থানায় গিয়ে পুলিশকে অবহিত করি। কিছুক্ষণ পরই থানার এসআই রাসেলসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখে যায়। এর আগেও গত জুলাই মাসে এ বাসা থেকেই একটি ল্যাপটপ ও মোবাইলফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় মামলা হলেও এখনো মালামাল উদ্ধারসহ চোর শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। খিলগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুকুল আলম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমারা তদন্ত শুরু করেছি। আশা করছি দ্রুতই চোরদের শনাক্ত করতে পারবো। | 6 |
কথিত পির দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও নানাজনকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করার প্রমাণ মিলেছে। ওই সিন্ডিকেটের মূল হোতা এক সরকারি আইন কর্মকর্তা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. ফেরদৌস। তিনি রাজারবাগ পিরের মুরিদ। মিথ্যা মামলার এই সিন্ডিকেটে তাঁর সহযোগী হিসেবে রয়েছে হামিদা বেগম, মিনু বেগম, সোনিয়া আক্তার, নাহিদা আক্তার রত্না ও লালন।সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে এই সিন্ডিকেটের বিষয়টি জানা গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে অনুসন্ধান শেষে ওই প্রতিবেদন দাখিল করেন সিআইডি কর্মকর্তা জহিরুল হক কবির।প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুক্তভোগী বিভিন্ন ব্যক্তি, ঘটনা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে রাজারবাগ পির সিন্ডিকেটের মিথ্যা মামলার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। চক্রের সদস্যদের করা একাধিক মামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তে জানা যায়, রাজারবাগ দরবার শরীফের পির দিল্লুর রহমান তাঁর মুরিদদের দিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এই সিন্ডিকেট সারা দেশে মিথ্যা মামলা দিয়ে লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করে। পির দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেয়, তদবির করে ও সাক্ষ্য দেয় তাদেরই সিন্ডিকেট সদস্যরা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। এই সিন্ডিকেটের মূল লক্ষ্য-মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ভূমি দখল ও অর্থ হাতানো। সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রথমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। পরে অর্থ বা জমির বিনিময়ে আপস করে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পির সিন্ডিকেটের মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেছেন এমন অন্তত পাঁচজনের ঘটনা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এর মধ্যে সোহেল চৌধুরী মেরিন একাডেমির রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক প্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট। দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে তালাক দেন। এরপর ওই সিন্ডিকেট বিভিন্ন জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা করে। ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার হয়ে নয় মাস জেল খাটেন। শ্বশুর তাঁর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ কয়েকটি মামলা করেন। আশুলিয়া থানায়ও নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়। মামলাগুলোর বাদী সিন্ডিকেটে ছিলেন হামিদা বেগম। ঢাকায় তাঁর নামে মামলা করেন পির দিল্লু রহমান নিজে।সোহেল চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'একটি চক্র সারা দেশে মিথ্যা মামলা দিয়ে লোকজনকে হয়রানি করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ চক্রের হোতা এপিপি ফেরদৌস ও তাঁর মুহুরি। টাকা দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব মামলায় আপস করলেও বর্তমানে ঢাকায় মানহানি ও নারী-শিশুর মামলা চলছে।'আরেক ভুক্তভোগী মো. কমিন শাহ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনের কুলির সর্দার। তাঁর ছেলে বিয়ের পরপরই বৃত্তি পেয়ে কানাডায় পিএইচডি করতে যান। এরপর দুই মাস পর ছেলের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। আর এর সূত্র ধরেই এপিপি ফেরদৌসের সহযোগিতায় সারা দেশে ১১টি মামলা হয় কমিন শাহের বিরুদ্ধে। কমিন শাহ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ঢাকার কাফরুল থানার একটি হত্যা মামলায় সাজা হয়েছে ৩০ বছর। যেখানে আসামির নাম ইকবাল। আমি বারবার বলেছি আমার নাম কমিন শাহ, তারপরও সাজা দিয়েছে। টাকা দিয়ে মানবপাচারের তিন মামলায় আপস করেছি। যশোরের একটিতে খালাস পেয়েছি। এখনো সাতটি মামলা আছে বিস্ফোরক আইনের। সব মামলাই রাজারবাগ পিরের মুরিদেরা করেছে।' ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মামলার বিষয়টি আইনজীবী ফেরদৌস ও তাঁর মুহুরি সাহেদ দেখে বলে জানান তিনি।ভুক্তভোগী বদরুল ইসলাম শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক। কলেজের জমি ক্রয় ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ হয়। পরে সহযোগী অধ্যাপক আবু নাঈম মো. রাফি তাঁর নিকটাত্মীয় শাহ আলমকে দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানব পাচার আইনে মামলা করান। শাহ আলম পির দিল্লুর রহমানের মুরিদ। মামলার বাদী কুলছুমা আক্তার। বদরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইন সচিব, পুলিশের আইজি, ডিবি, সিআইডি, ডিজিএফআই, এনএসআই ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে আবেদন করেন তিনি।পরবর্তীতে ডিবি বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদী ও সাক্ষীদের ঠিকানার তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। একটি চক্র সত্য গোপন করে এই মামলা করেছে। এ ছাড়া ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলে জরু মিয়া, শাহ আলম ও জামাল মিয়াকে দিয়ে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ানো হয়েছে।বদরুল ইসলাম বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আইনজীবী ফেরদৌস, তাঁর জামাতা অ্যাডভোকেট শরীফ ও মুহুরি সাহেদ। একটি মামলা হয়েছে। তবে আরও অনেক মামলা হতে পারে।নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একরামুল আহসান কাঞ্চনের পৈতৃক ২৫ শতাংশ জমির দখল নিয়ে কথিত পির দিল্লুর রহমানের সঙ্গে বিরোধের সূচনা হয়। এরপর পির সিন্ডিকেট দেশের বিভিন্ন জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা করে। এর মধ্যে ৩৬টি মামলায় তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। কাঞ্চন আজকের পত্রিকাকে বলেন, এখনো মানব পাচার, ধর্ষণ, নাশকতা, হত্যা চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা চলমান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিন্ডিকেটের লালন যশোরে ও নাহিদা আক্তার রত্না খুলনায় মানব পাচার মামলা দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এপিপি ফেরদৌস ও তাঁর মুহুরি সাহেদের নির্দেশনায় এসব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।ঢাকার আশুলিয়ার মাহবুবুর রহমান খোকনের চাচাতো বোন পির দিল্লুর রহমানের স্ত্রী। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে পির সিন্ডিকেট তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় চারটি মামলা করে। আর তার বড় ভাই সোহরাব হোসেন ও ভাইয়ের ছেলে হামীম সায়মনের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় পাঁচটি মামলা। এ ছাড়া খোকনের ফুপাতো ভাই হাবিবুল্লাহ, ভায়রা ওমর ফারুক ও ভাতিজা শাহ আলমের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা দেয় পির সিন্ডিকেট। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মানব পাচার আইনে মামলা করা হয় রোজিনা আক্তারকে দিয়ে। রোজিনা সিন্ডিকেট সদস্য মুহুরি সাহেদের ভাড়াটিয়া।এর আগে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) একটি প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। সেখানে বলা হয়, রাজারবাগ পির ও তাঁর অনুসারীরা জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে।এ ছাড়া হাইকোর্টে সিআইডি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। যেখানে বলা হয়, একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় নানা অভিযোগে করা ৪৯ মামলার মূল হোতা রাজারবাগ পির দিল্লুর রহমান। সম্পত্তি হস্তান্তর না করায় পির এবং তার অনুসারীদের সঙ্গে একরামুলের শত্রুতা সৃষ্টি হয়। এর জেরেই মামলা।এসব অভিযোগ ও সিআইডির প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য চাইলে এপিপি ফেরদৌস আজকের পত্রিকার কাছে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। সিআইডির প্রতিবেদন সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।মাঝে মাঝে পিপির দায়িত্ব পালন করেন এপিপি আজাদ রকিব আহমেদ। তিনি বলেন, 'এপিপি ফেরদৌস রাজারবাগ পিরের মুরিদ এটা সত্য। তবে তাঁর ভুয়া মামলা সিন্ডিকেটের বিষয়টি আমার জানা নেই। কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'এই সিন্ডিকেটে একজন সরকারি আইন কর্মকর্তা জড়িত থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমি রিপোর্টটি দেখিনি, আগে দেখে নিই। অপরাধ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।' | 6 |
কানাডার লেক অন্টারিও'র উত্তর উপকূলে প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারদেশটিরট্রান্সপোর্ট সেফটি এজেন্সি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের। যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত সিঙ্গেল ইঞ্জিনের পিপার পিএ-৩২ প্লেনটি টরেন্টোর বাটনভিল বিমানবন্দর থেকে কুইবেক সিটি যাচ্ছিলো। বুধবার সন্ধ্যায় অনাটারিও'র কিংসটন বিমানবন্দরের কাছে এটি বিধ্বস্ত হয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন আমেরিকার ও দুইজন কানাডার নাগরিক। সামরিক সদস্যরা উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার নিয়ে দুর্গম ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্লেনটির দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (টিএসবি) তদন্তকারী কেন ওয়েবস্টার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। | 3 |
নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটের বাস (নন এসি) ভাড়া ৩৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বাস মালিকদের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম বলছে ৪৫ টাকাও অতিরিক্ত। সঠিক দূরত্ব অনুযায়ী এটা ৩৯ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।তেলের দাম বাড়ার ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাস মালিকেরা নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করছিলেন কোনোরকম ঘোষণা ছাড়াই। এ নিয়ে যাত্রী অসন্তোষ তৈরি হলে তিন দিন বাস চলাচল বন্ধ রাখেন তারা। পরে সরকার কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১৫ পয়সা ভাড়া নির্ধারণ করে দিলে ৪৩ টাকা ভাড়া ও ৭ টাকা টোল হিসাবে ৫০ টাকাই আদায় করতে থাকেন বাস মালিকেরা। ভাড়া নির্ধারণের জন্য জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর সঙ্গে আলোচনার পর বাস মালিকেরা ৪৫ টাকা ভাড়া আদায়ে সম্মত হন। তবে বিআরটিসি বাস ৪০ এবং শীতল এসি বাস ৬৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে।তবে এই ভাড়াকেও অতিরিক্ত বলছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম। ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বী বলেন, 'আমরা ডিসিকে বারবার অনুরোধ করেছি, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের দূরত্বটি সঠিকভাবে মেপে তারপর ভাড়া ঠিক করতে, কিন্তু আশ্বাস দিলেও সেটি হয়নি। আগামীকাল (বুধবার) মিটিং করে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি জানাব।'এ ব্যাপারে বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান মো. জুয়েল হোসেন বলেন, 'ডিসি সাহেবের সঙ্গে মিটিংয়ের পর আমরা ৫০ থেকে কমিয়ে ৪৫ টাকা ভাড়া ঠিক করেছি।'এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান ডিসি অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, 'বাস মালিকেরা ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছিল সরকারি হিসাব মতো। আমি তাঁদের অনুরোধ করায় তাঁরা ৫ টাকা কমিয়েছে। এটা আরও কমানো যাবে যদি সাইনবোর্ড মোড়ের জ্যাম ও নারায়ণগঞ্জ শহরের জ্যাম কমানো যায়। কারণ জ্যামে আটকে থাকলে প্রচুর তেল অপচয় হয়।'জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, 'আলোচনা করে বাস মালিকেরা ৪৫ টাকা ভাড়ায় সম্মত হয়েছেন। এর চেয়ে বেশি কেউ আদায় করলে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব।' | 6 |
গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনী প্রচার ঘিরে লাঙ্গলের কর্মীদের ওপর স্বতন্ত্র (মোটরসাইকেল) প্রার্থীর সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে মহিপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল্লা আল হাদীর কর্মী মমিন, শিমুল, লাল মিয়া ও মাহফুজার রহমান। তাঁদের মধ্যে মাহফুজারকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাঙ্গলের চার কর্মী বেলা ২টার দিকে মহিপুর হাইস্কুল গেটসংলগ্ন আল আমিন রেস্তোরাঁয় এসে নাশতার অর্ডার দেন। এ সময় মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান মাবুর সাত থেকে আটজন কর্মী এসে ওই চারজনকে গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় তাঁরা হুমকি দিয়ে বলেন, এরপর যদি চারজন এই এলাকায় এসে লাঙ্গলের কথা বলেন তাহলে তাঁদের গুলি করে মেরে ফেলা হবে।লাঙ্গলের কর্মীরা কথার উত্তর দিতে গেলে মোটরসাইকেলের কর্মীরা রেস্তোরাঁর ভেতরেই তাঁদের এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন। হামলায় চারজন আহত হন। সেই সঙ্গে রেস্তোরাঁর কয়েকটি চেয়ার, গ্লাস, কাপ, পিরিচসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভেঙে যায়।রেস্তোরাঁর মালিক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, 'আমি দুপুরে একজন কর্মচারী রেখে ভাত খেতে বাড়িতে গিয়েছিলাম। এসে দেখি দোকানের আসবাবপত্র ভাঙা ও তছনছ অবস্থায় রয়েছে। জানতে পাই মোটরসাইকেল মার্কার কর্মীদের সঙ্গে লাঙ্গল মার্কার কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে আমার দোকানের ভেতরে।'লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল্লা আল হাদী বলেন, 'আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ওয়াহেদুজ্জামান মাবু বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কর্মীদের দিয়ে আমার নির্বাচনী কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। এতে আমার চার কর্মী আহত হয়েছে। গুরুতর আহত মাহফুজার রহমান বর্তমানে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। তাকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনায় থানায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।'তবে ওয়াহেদুজ্জামান মাবু বলেন, 'আমার কর্মীদের সঙ্গে দুপুরের দিকে মারামারি নয়, ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।' উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নুরুজ্জামান জানান, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে আহত মাহফুজারকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে।এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, 'মহিপুরে নির্বাচনী সংঘর্ষের ঘটনা জেনেছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে সেখানে স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে।' | 6 |
সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকসভা আগামী ১৪ জানুয়ারী ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে নগরের চশমা হিলে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম। শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা রয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের।নগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক জানান, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। সেটা শেষ করে আগামী ১৪ জানুয়ারি মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকসভা করা হবে। প্রথমে উত্তর দক্ষিণ মহানগর শাখা যৌথভাবে সভার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর মহানগর কমিটি এবং পরে নাগরিক শোকসভা হবে। এছাড়া ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শোকসভার কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের দেশে ফেরার পর শোকসভা নিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতি শুরু হবে বলে জানান তিনি।সভায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী, নঈম উদ্দিন চৌধুরী, সুনীল সরকার ও ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, আইন বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর উপস্থিত ছিলেন।গত ১৪ ডিসেম্বর গভীর রাত ৩টায় মারা যান বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর।
| 6 |
মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করে এই দেশসহ ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডায় চাকরি পাওয়া তুলনামূলক সহজ। মালয়েশিয়ায় রয়েছে অনেক বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায়ই বৃত্তি দেওয়া হয়। তেমনি স্নাতকোত্তর ও পিএইচডিতে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ নিয়ে অধ্যয়নের সুযোগ দিচ্ছে মালয়েশিয়ান সরকার। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপ নিয়ে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।'মালয়েশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ (এমআইএস)'-এর আওতায় শিক্ষার্থীদের কোনো টিউশন ফি লাগবে না। তবে কোনো ভ্রমণ খরচ বহন করা হবে না। মালয়েশিয়ান সরকার এই স্কলারশিপের অর্থায়ন করবে।যেসব বিষয় নিয়ে অধ্যয়ন করা যাবেতথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবায়োটেকনোলজিবিজ্ঞান ও প্রকৌশলকৃষি ও মৎস্যঅর্থনীতিইসলামিক ফাইন্যান্সবায়োসিকিউরিটিফুড সেফটিইউটিলিটিপরিবেশবিদ্যানার্সিংমেডিসিনক্লিনিক্যাল ফার্মেসিএই স্কলারশিপের মাধ্যমেযেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে-ইউনিভার্সিটি পেন্ডিডিকান সুলতান ইদ্রিস (ইউপিএসআই)ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেঙ্গানু (ইউএমটি)ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহ (ইউএমএস) ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়া (ইউটিএম)ইউনিভার্সিটি সেন্স মালয়েশিয়া (ইউএসএম) ইউনিভার্সিটি পুত্র মালয়েশিয়াইউনিভার্সিটি মালয়াইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মারাইউনিভার্সিটি ইসলাম আন্তরাবাংসা মালয়েশিয়াইউনিভার্সিটি উতারা মালয়েশিয়াইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়াইউনিভার্সিটি তুন হুসেইন অন মালয়েশিয়া ইউনিভার্সিটি টেকনিক্যাল মালয়েশিয়া মেলাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ইসলাম মালয়েশিয়া ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া পাহাংইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সারাওয়াক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া পার্লিসইউনিভার্সিটি সুলতান জয়নাল আবিদীনইউনিভার্সিটি পেরতাহানান ন্যাশনাল মালয়েশিয়াইউনিভার্সিটি তেনাগা ন্যাশনালমাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটিইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া কেলান্টানইউনিভার্সিটি টেকনোলজি পেট্রোনাসে পড়াশোনা করতে পারবেন।সুযোগ-সুবিধাশিক্ষার্থীদের কোনো টিউশন ফি লাগবে না।প্রতি মাসে উপবৃত্তি হিসাবে ১ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত প্রদান করা হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার টাকা।বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ।আবেদনের যোগ্যতাস্নাতকোত্তরের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ বছর বয়সী হওয়া যাবে।পিএইচডির জন্য সর্বোচ্চ ৪৫ বছর বয়সী হওয়া যাবে।স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৫ পেতে হবে।পিএইচডির জন্য আবেদনকারীদের স্নাতকোত্তরে অবশ্যই ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫ পেতে হবে।ইংরেজি দক্ষতা সনদ।মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন সনদ প্রদান করলেও হবে।ওয়েবসাইট: ...আবেদনের শেষ সময়: ১৫ জুন, ২০২২মুসাররাত আবির | 1 |
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ইউক্রেনের সমর্থনে রাশিয়ার ওপর জোরালো চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার আকস্মিক ইউক্রেন সফরে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। ইউক্রেন আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বরিস। খবর বিবিসির। শনিবার কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফর করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সেখানে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পর দুই নেতা কিয়েভের রাস্তায় হেঁটে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে বরিস বলেন, 'সহযোগীদের সঙ্গে একত্র হয়ে আমরা অর্থনৈতিক চাপ (রাশিয়ার ওপর) তৈরি করব।'বরিস আরও বলেন, 'আবারও স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ইউক্রেন ঘুরে দাঁড়াবে, সে ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই। ইউক্রেনের জনগণের সাহসিকতা ও নির্ভীকতার মধ্য দিয়ে তা সম্ভব হবে।' কিয়েভে জনসনের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার মাত্রা অবশ্যই বাড়াতে হবে।' জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা সম্পর্কে জনসনকে অবহিত করেছেন তিনি। জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেন, এ প্রক্রিয়ায় লন্ডন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে কিয়েভে আবারও দূতাবাস খুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর পর এ দূতাবাসকে অস্থায়ীভাবে পোল্যান্ডে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিমালা-বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল ইউক্রেন সফর করেছেন। ইউক্রেনীয় প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শিমোয়হালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। বোরেল বলেন, অদূর ভবিষ্যতে ইইউ-ইউক্রেন অ্যাসোসিয়েশন কাউন্সিল গঠনের ব্যাপারে একমত হয়েছেন তাঁরা। | 3 |
অবশেষ গুঞ্জনই সত্যি হয়েছেন সামান্থা ও নাগার বেলায়। ২ অক্টোবর চার বছরের সংসারজীবনের ইতি টেনেছেন দক্ষিণ ভারতীয় এই দুই তারকা। সাামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যৌথ বিবৃতিতে নাগা চৈতন্য ও সামান্থা দুজনেই বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। বিচ্ছেদের দুইদিন যেতে না যেতেই পুরোনো নামে ফিরে এসেছেন সামান্থা। যদিও এর আগে নামের শেষ থেকে 'আক্কিনেনি' পদবি তুলে দিয়েছেন তিনি। ইনস্টাগ্রাম থেকে আক্কিনেনি বাদ দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছিলো তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন। ভারতের বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বলিউড বাবলের খবর, এবার পুরোনো নামে ফিরেছেন সামান্থা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন তিনি সামান্থা রুথ প্রভু। বিচ্ছেদের পর নতুন পোস্টও দিয়েছেন সামান্থা। সেখানে নিজেকে বদলানোর বার্তা তার। সেখানে তিনি লিখেন, 'যদি পৃথিবীকে বদলাতে চাই, তবে আগে নিজেকে বদলাতে হবে। স্বশয্যা তৈরি করতে হবে। তাক থেকে সরাতে হবে ধুলোময়লা। দিবাস্বপ্ন দেখলে চলবে না এবং আমি সেটা করতে চাই।' দীর্ঘ ৭ বছর প্রেমের পর ২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন নাগা চৈতন্য ও সামান্থা আক্কিনেনি। চার বছরের সংসারের পর ইতি ঘটলো তাদের সম্পর্কের। দক্ষিণী মেগাস্টার নাগার্জুনার পুত্র নাগা চৈতন্য। ২০০৯ সালে 'জোশ' সিনেমার মধ্য দিয়ে তিনি সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন। অন্যদিকে সামান্থার ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১০ সালের 'ইয়ে মায়া চেসাভ' সিনেমা দিয়ে। যেখানে তার নায়ক ছিলেন চৈতন্য। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই তাদের মধ্যে ভালোলাগা ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। | 2 |
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হলো কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের ২৭তম সভা। গত বুধবার ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত এ সভায় কয়েকটি বিনিয়োগের প্রস্তাব ও ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. মইনুর রহমান চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মসিউল হক চৌধুরী, অ্যাডিশনাল আইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড ইন্সপেকশন) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, আবু হাসান মুহম্মদ তারিক, হাবিবুর রহমান, ড. শোয়েব রিয়াজ আলম, ফেরদৌস আলী চৌধুরী প্রমুখ। -বিজ্ঞপ্তি | 6 |
মানুষের শ্রেণিসংগ্রাম, নানাবিধ বিভেদ, শোষণের বিরুদ্ধে জীবনসংগ্রাম নিয়ে রচিত স্যামুয়েল বেকেটের নাটক 'ওয়েটিং ফর গডো'। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিপর্যস্ত নিঃসঙ্গ মানুষের জীবনের গল্প নিয়ে গত শতাব্দীতে লেখা হয়েছে এই নাটক। নাটকটির ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ মঞ্চে আনছে এটি। নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগীয় অধ্যাপক নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইসরাফিল শাহীন। অভিনয় করেছেন স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা। ১৪, ১৫ ও ১৬ মার্চ প্রতি সন্ধ্যা ৭টায় বিভাগের নাটমণ্ডল মিলনায়তনে এবং ১৮, ১৯ ও ২০ মার্চ একই সময়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হবে নাটকটি। | 6 |
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের ইসফাহান প্রদেশের ভূগর্ভস্থ নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি এবং স্থাপনার কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় পারমাণবিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণ করেছেন ইরানি তদন্তকারীরা। তবে দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান শুক্রবার বলেছেন, নিরাপত্তা জনিত কারণে এখনই তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত জানানো হবে না। সে দেশের তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, সাইবার হামলার কারণেই ওই অগ্নিকাণ্ড হয়। তবে ওই কর্মকর্তারা নিজেদের দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান কেভান খোসরাভি শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রীয় আইআরএনএ'কে বলেছেন, বিশেষজ্ঞরা ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে নির্দিষ্ট সময় পরে তা ঘোষণা করা হবে। 'চিতা অব হোমল্যান্ড' নামে একটি গ্রুপ ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবর প্রকাশের পর ওই ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধে ওঠে। একই সময়ে ইরানি সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
দেশের অন্যতম প্রধান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ২০২২ সালের গ্রীষ্মকালীন সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করল। বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আফতাবনগরে এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই সেমিস্টারে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে প্রায় এক-হাজার শিক্ষার্থীকে বরণ করা হয়েছে। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শহিদুল হাসান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ জিয়াউল হক মামুন এবং অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তিনটি অনুষদের ডিনবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের উদার নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন একজন সহনশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাদের মতে, একজন সহনশীল মানুষ শুধু তার নিজের জন্যই নয়, পুরো মানবসমাজের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। একইসাথে নবীন শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে শিক্ষা জীবনকে কাজে লাগিয়ে দেশের সুনাগরিক এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 0 |
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হেফাজতে থাকা ৩৩৩-এর জরুরি ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হওয়ার ঘটনায় ইউএনও রুনা লায়লাকে শোক দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস নয়া দিগন্তক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী রোববারের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাবের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসতে থাকে থলের বিড়াল। শনিবার দুপুরে সরেজমিনে পৌর এলাকার সিংগাইর আবাসন প্রকল্পে গিয়ে কথা হয় একাধিক ত্রাণ প্রত্যাশীর সাথে। সুরিয়া, জবেদা, রুপমা, রিতা আক্তার, আমেনা ও রিতা রানীসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ত্রাণের জন্য ফোন দেয়ায় ইউএনও স্যার এসে আমাদের সাথে রাগারাগি করেছেন। এমনকি পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে নেয়ার ভয়ও দেখান তিনি। ৩৩৩-এর ত্রাণ পাওয়া মমতা ও লাইলী বেগম বলেন, প্যাকেটে থাকা আলু-পেঁয়াজগুলো পচে গেছে। অন্যান্য পণ্য সামগ্রীগুলো দুর্গন্ধযুক্ত। এ দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটিকে মিথ্যা অপপ্রচার ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অপব্যাখ্যা দিয়ে 'উপজেলা প্রশাসন সিংগাইর' নামের ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেয়া হয়। যা সুধী মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। | 6 |
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নোয়াখালীতে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী উদ্যোক্তাদের মাঝে বিশেষ প্রণোদনা ও ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর উদ্যোগে আজ রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার বিশজন ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী উদ্যেক্তা নারী-পুরুষের মাঝে নগদ ৪০ লক্ষ টাকা বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে জেলা বিআরডিবির উপ-পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম সামছুদ্দিন জেহান, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতিমা সুলতানা, মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন ও উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা কামরুল হাছান প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 4 |
কবি নজরুলের বাণী 'গাহি সাম্যের গান-কে ধারণ করে বিভিন্ন পেশাজীবীদের
সমন্বয়ে যাত্রা শুরু করলো 'সম্প্রীতি বাংলাদেশ' নামের একটি সংগঠন। গত
কয়েকমাসের মতবিনিময় ও পরামর্শ সভা শেষে শনিবার রাজধানীতে জাতীয়
জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। এ
উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন সমাজের বিশিষ্টজনেরা। তাদের মধ্যে
ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক,
বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা। তারা সকলে মিলে কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বিভাজনমুক্ত
একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। সে সঙ্গে দেশের সকল ধর্মের
মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার আহ্বান
জানান। আয়োজনের শুরুতেই সংগঠনের আহ্বায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ
বন্দোপাধ্যায় ও সদস্য সচিব মামুন আল মাহতাব বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান
চেতনা 'ধর্মনিরপেক্ষতা', সেটার দিকে আমরা ফিরে যেতে চাই। তাহলে আমরা
ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ, শোষণহীন বাংলাদেশ ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
সাম্প্রদায়িক শক্তির কোনো আঘাত আসলে সেটা প্রতিহত করতেও নতুন এই সংগঠন
প্রস্তুত থাকবে বলেও জানান তারা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই এক ভিডিও বার্তায় জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন,
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে হাজার হাজার বছর ধরে নানা
ধর্ম-বর্ণের মানুষ সম্প্রীতি নিয়ে বসবাস করছে। দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে
গেছে। বিভেদ এবং সংঘাত যে হয়নি তা নয়। সব মিলিয়ে যে সম্প্রীতির অবনতি
হয়েছে, তা স্বত্ত্বেও আমরা এর উপরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রেখে সামনের
দিকে অগ্রসর হয়েছি। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়
সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সামনে আনা হয়েছে। তার ফলে আমরা দেখি, একাত্তরের
মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ ও বাহাত্তরের সংবিধানের যে আদর্শ সেটা সাময়িকভাবে
হলেও ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। তারপরে মানুষ আবার এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ফিরিয়ে এনেছে। বাংলাদেশের প্রত্যেক ধর্মের
মানুষের একই অধিকার এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষ তার ধর্মবিশ্বাস স্বত্ত্বেও
অথবা ধর্মবিশ্বাসের অভাব স্বত্ত্বেও পরস্পরের হাতে হাত রেখে সামনের দিকে
এগিয়ে যাবেন এবং বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ-সভ্য জাতি হিসাবে বিশ্বের দরবারে
প্রতিষ্ঠিত করবেন। ইমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা ছাড়া কোনো
গণতান্ত্রিক দেশ চলতে পারে না। রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক থাকবে
না, রাষ্ট্র ধর্ম পালনে বাধা দিবে না এবং ধর্ম পালনে উৎসাহিতও করবে না।
গণতান্ত্রিক দেশে এসব শর্ত মানতে হবে। শাসকদের কারণেই জনগণ ধর্মের দিকে
ঝুঁকছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শাসকরা চান, জনগণ ইহজাগতিকতা নিয়ে না
ভাবুক, পরজগৎ নিয়ে ভাবুক। তাদের শাসন-শোষণে সুবিধা হয়। আবার দুনিয়ায়
অপরাধের বিচার হচ্ছে না, সে বলছে একদিন বিচার হবে; তার মানে পরকালমুখী
হচ্ছে। মানুষে মানুষে যদি সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, ধর্মে ধর্মে
সম্প্রীতি আসবে না। হানাহানি বাড়তে থাকবে। কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষদের ভালো
রাখার দায়িত্ব সংখ্যাগুরুদের নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভিন্ন
ভিন্ন রঙের, ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে থাকলে সেটাতে এক ধরনের আনন্দ
আছে। আমাদের খুবই দুঃখ যে, আমরা সেই আনন্দটা পাইনি। আমরা সবাই একরকম।
আমাদের মধ্যে যারা ভিন্ন তারা অমূল্য সম্পদ। তাই এদেরকে রক্ষা করার দায়িত্বটা
বাঙালি মুসলমানের ওপর পড়ে গেছে। তারা দেখে শুনে রাখবেন, যাতে ভিন্ন ধর্মের
মানুষ যারা আছেন তারা যেন এখানে শান্তিতে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আছেন, পাহাড়ি মানুষ আছে, আদিবাসী মানুষ
আছে। তাদের সবার জন্য যদি আমরা এদেশ তৈরি করতে না পারি, তাহলে এই বাংলাদেশ
দিয়ে কী করব। বিশাল মেট্রোরেল হবে, বিশাল পদ্মাসেতু হতে অনেক গুলো, দেশের
অর্থনীতি অনেক বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু কোনো ভিন্ন ধর্মাবলম্বী যদি মাথা নিচু
করে বলে, 'আমি ভালো নেই', তাহলে এতে দেশ ভালো থাকা হবে না। আমাদের এখানে
হিন্দু আছে, বৌদ্ধ আছে, খ্রিস্টান আছে- তারা যদি বলে, ভালো আছি, তাহলে বোঝা
যাবে দেশ ভালো চলতেছে। অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ যে লক্ষ্য নিয়ে স্বাধীন হয়েছিলো,
সেখান থেকে কক্ষচ্যুত হয়ছে। 'কক্ষচ্যুত' হওয়ার কারণ ব্যাখা দিয়ে তিনি বলেন,
সাম্য, মানবিক মর্যাদা আর সামাজিক ন্যায়বিচার কি আছে? সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম
আছে, আবার ধর্মনিরপেক্ষতাও আছে। তেলে আর জলে কখনো মেলে না। ধর্ম, রাজনীতি ও
ব্যক্তিস্বার্থ- মানুষের মধ্যে বিভাজনের এই তিনটি উপাদান তিনটি দূর করার ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কেবল বায়বীয় বাচনিক উচ্চারণের মাধ্যমে নয়,
সক্রিয় কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশকে কক্ষপথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমিরেটাস অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী
বলেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের আঘাত গিয়ে পড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপরে।
মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরি করা জরুরি। ব্যক্তিস্বার্থ সবসময় সম্প্রীতিকে
নষ্ট করে। সাম্যতো নেই। সমতার কথাও যদি বলি, আমাদেরকে মানুষের মধ্যে বিভেদ
দূর করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক
বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে হত্যা করা হয়েছে,
আধুনিকতাকে হত্যা করা হয়েছে, ধর্মনিরপেক্ষতাকে হত্যা করা হয়েছে। সে কারণে
একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমাদেরকে ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বলতে হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার জন্য কেবল সংগঠন গড়ে তুলে নয়, নাগরিকদেরকে
ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন,
সংবিধানের চার মূলনীতি আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। ফলে কিছু স্বপ্ন
স্বপ্নই থেকে গেছে। ধর্ম নিরপেক্ষতা এখন ফিরে এসেছে, সমাজতন্ত্রকে ফিরিয়ে
আনতে হবে। নতুন প্রজন্মকে রাজনীতি বদলাতে হবে। ডাকসুর সাবেক ভিপি অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ মূল
মন্ত্র ছিলো একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর
থেকে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা এখনও
চলমান। এখন তরুণ সমাজের দায়িত্ব বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ার। বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে
ধর্মের রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনা হয়। জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় বসার পরে সম্প্রীতির
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিলেন। এসব তিনি কোন
সাম্প্রদায়িক সরকারকে ক্ষমতা না আনতে মহাজোট সরকারকে আবারও ক্ষমতায় আনতে সবার
প্রতি আহ্বান জানান। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, খণ্ড খণ্ড ভাবে প্রকাশের চেয়ে একটি
পত্যাটফর্ম থেকে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। সাম্প্রদায়িক শক্তির যে উত্থান, তাতে
তরুণ প্রজন্ম কোনো না কোনোভাবে বিভ্রান্ত হবে। তাদেরকে সেই
বিভ্রান্তি থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দূরে সরিয়ে আনতে হবে।
একাত্তরের সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মহাসচিব সাংবাদিক হারুন হাবীব বলেন,
যে বাংলাদেশের সৃষ্টি সম্প্রীতির শক্তির মধ্য দিয়ে, যে বাংলাদেশের সব
অর্জন সম্প্রীতির শক্তির মধ্য দিয়ে, সেই বাংলাদেশকে এগোতে সম্প্রীতির
শক্তির মধ্য দিয়ে। যদিও আমরা অনেক উত্থান পতন দেখেছি, তবুও সাম্প্রদায়িক
সম্প্রীতি অটুট ছিল বিভিন্ন অর্জনে। আমরা অনেক ক্ষেত্রে অনেক এগিয়েছি। কিন্তু
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দিক থেকে এগোতে পারিনি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে
সম্প্রীতি নেই- এমন ধারণা সঠিক নয়। কিছু দুষ্টু লোক সম্প্রীতি নষ্ট করার
চেষ্টা করছেন, তারা সম্প্রীতি নেই বলে মন্তব্য করছেন। মদীনা সনদের উদাহরণ টেনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মো. আফজাল
বলেন, মদীনা সনদ সব ধর্মের সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত; আর তার প্রতিফলন ঘটেছে
বাহাত্তরের সংবিধানে। সবধর্মের মানুষের অধিকার সেখানে সমুন্নত রাখা হয়েছে।
জামায়াত প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী, মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড, তুরস্কের ফতেহ গুল
এবং জাকির নায়েকরা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে ও দিচ্ছে। রামকৃষ্ণ মিশনের সহ-সম্পাদক স্বামী গুরু সেবানন্দ বলেন, ধর্মের বিভাজন
নয়, ধর্মের সহাবস্থানের কথাই তুলে ধরা হয়েছে সব ধর্মে। বাংলাদেশের
সংখ্যালঘুরাও সে মতো তাদের জীবন পরিচালনা করতে চায়। সবার মধ্যে সম্প্রীতি
বজায় থাকুক। বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা শুদ্ধানন্দ মহাথেরো বলেন, আমরা বাঙালি। বাঙালিরা যদি
মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান মিলে একসঙ্গে কাজ করতে পারি, তাহলে
সম্প্রীতি বজায় থাকবে। কারণ, আমরাতো এক ভাষায় কথা বলি। সাম্প্রদায়িক
সম্প্রীতি রক্ষা করতে পারলে বাঙালিত্বও ফিরে আসবে।
খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, হিন্দু, মুসলমান,
বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার দেশ বাংলাদেশ। এর জন্য সকলকে একসঙ্গে দেশকে সমৃদ্ধির
দিকে এগিয়ে নিতে হবে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে আমরা এর কিছুটা ব্যত্যয় হতে
দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে গেলে সেখান থেকে উত্তরণ করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার
আলী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, ইসকনের প্রতিনিধি
সুখীল দাস। | 6 |
রাশিয়া যদি ইউক্রেনে শক্তি প্রয়োগ করে তাহলে দেশটিকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে জানিয়েছেন ন্যাটো সামরিক জোটের প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ। বৃহস্পতিবার তিনি এমন হুঁশিয়ারি দেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি। ন্যাটো সামরিক জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করার পর জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, আমরা রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছি যেন তারা সঙ্ঘাতে লিপ্ত না হয়, শান্তি বজায় রাখে এবং উত্তেজনা প্রশমন করে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের ওপর শক্তি প্রয়োগ করে তাহলে দেশটিকে চড়া মূল্য দিতে হবে। ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে রাশিয়াকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে। এদিকে লাটভিয়ার রাজধানী রিগা শহরে অনুষ্ঠিত এ দু'দিনের সম্মেলনে ন্যাটো সামরিক জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকরা অংশ নিয়েছেন। ওই বৈঠকে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। ন্যাটো সামরিক জোটের এ সম্মেলনের প্রথম দিনে, উইক্রেনের ভিতরে ও বাইরে রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপ, বেলারুশ সীমান্ত সঙ্কট ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ন্যাটো জোটের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি | 3 |
যে কুষ্টিয়াতে আমি জন্মেছিলাম, তা খুব ছিমছাম শুনসান ছিল। বলতে গেলে গ্রামের মতোই ছিল। আমাদের বাড়িতে কুয়োতলা ঘেঁষে একটি বড় নিমগাছ ছিল। সেখানে সারাদিন পাখিরা ডেকে যেত। নির্জন দুপুরে ঘু ঘু ডাকে ঘুঘু পাখিও ডাকত! একবার মিয়াভাই আমার জন্য নিমগাছে উঠে কয়েক থোকা নিমফল পেড়ে দিয়ে আমাকে ভালোবেসেছিল। সেই ভালোবাসাটার কথা মনে আছে। আমি চোখ বন্ধ করে মিয়াভাইয়ের আরও ভালোবাসার কথা মনে করতে চাই, মনে পড়ে না। তিনি আমার স্মৃতিতে খুব বেশি নেই।বাড়ির সামনে দিয়ে লাল ইট-সুড়কির রাস্তাটা কসাইখানার দিকে চলে গেছে। ওখানেই ভাগাড়। ওখানেই কসাইখানা । ওখানে টিবি হাসপাতাল। ওদিকে যাওয়া বারণ ছিল। যেতাম না। বাড়ির সামনে ডজ গাড়ি যেত দুনিয়ার ধুলো উড়িয়ে। ট্রাককে আমরা ডজ গাড়ি বলতাম । ওগুলোর ইঞ্জিন বোধহয় ডজ কোম্পানির ছিল। এ কি মুক্তিযুদ্ধের আগের কথা, না-কি পরের-তা মনে করতে পারি না। একদম ছোটবেলাকার কথা এসব। ৫০ বছর আগের কথা।তখনকার বন্ধুবান্ধবদের কথাও মনে আসে না। শুধু জেসমিনের কথা মনে আছে। পাশের বাড়ির তোফাজ্জল ভাইয়ের বড় মেয়ে জেসমিন। আমরা সমবয়সী। আমরা একসঙ্গে খেলতাম। জেসমিনের সঙ্গে ডজ গাড়ির পেছনের রড ধরে ঝুলতে ঝুলতে অনেকটা যেতাম। গায়ে রাস্তার সব ধুলো-কালি মেখে ভূত হয়ে বাড়িতে ফিরতাম। আর বাড়ি ফিরলেই প্রথমে মার দিত আম্মা । তারপর কুয়াতলায় নিয়ে গিয়ে আচ্ছা করে সাবান মেখে ঠান্ডা পানির চান। কুয়াতলাটি ভীষণ নিরিবিলি আর নির্জন ছিল । আমার ওই বয়সী আরও বন্ধু ও খেলার সাথি ছিল, এখন মনে করতে পারি না ।যখন ক্লাস ফোর-ফাইভে পড়ি, তখন আমার বন্ধু হলো কামরুল, আনিস। স্কুলে ভর্তি হয়ে পেয়েছিলাম মাসুম রেজা, কর্নেল আর ফেরদৌসকে। ফেরদৌসকে ক্লাস ফাইভের পর আর পাইনি। ওর আব্বার বদলির চাকরি ছিল। তখন কুষ্টিয়াতে গাড়ি ছিল না তত। পুরো শহরে প্রাইভেট গাড়ি তিন-চারটি ছিল। রিকশা ছিল, ওটাই একমাত্র বাহন । আম্মা কোথাও বেড়াতে গেলে রিকশায় যেতেন । রিকশা শাড়ি দিয়ে পেঁচানো হতো। আমরা বড় বাড়ি (লাল মোহাম্মদ নানার বাড়ি) যেতাম । ওটাই কুষ্টিয়ার সবচেয়ে বড় বাড়ি ছিল তখন। আম্মার চাচাদের বাড়ি। ওদের বড় তেলকল ছিল। আম্মার চাচাদের ব্যবসা ছিল মূলত নারায়ণগঞ্জে । তাঁরা খুব বিত্তবান ছিলেন । আমাদের বাড়ি থেকে বড় বাড়ি পাঁচ-সাত মিনিটের পথ । সোনালী ব্যাংক হাতের ডানে রেখে বাবুর আলি রেলগেট পার হয়ে আরও উত্তরে যেতে হতো। আর রিকশায় চড়ে আম্মার সঙ্গে যেতাম কখনো উদিবাড়ি, কখনো জগতি, কখনো বা মঙ্গলবাড়ি বাজার পার হয়ে বারখাদা। উদিবাড়ি-জগতি বারখাদা দূরের রাস্তা ছিল। আম্মা সঙ্গে করে নাড়ু, মোয়া, তিলেরখাজা নিতেন। লম্বা পথে আমি খেতে খেতে যেতাম। উদিবাড়ির পীর সাহেব ছিলেন আম্মার দাদা । সেখানে বিরাট ওরস ও মিলাদ মাহফিল হতো। শত শত মুরিদ আসতেন দেশের নানান জায়গা থেকে। উদিবাড়িতে আম্মার অনেক নিকটজন থাকতেন। উদিবাড়ি জায়গাটা আমার ভালো লাগত।বন্ধুত্ব ব্যাপারটা অনুভব করলাম ক্লাস নাইনে উঠে। সরওয়ার মুর্শেদ রতন আমার সেই রকমের বন্ধু! এরপর কলেজে ভর্তি হয়ে মামুন, বেলাল, বাবু, বাচ্চু, মোকাদ্দেস, সাদী, শংকর-এভাবে সমবয়সী সহপাঠী অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব আপনা থেকেই হয়ে গেল। কিছু কিছু বন্ধুত্বের বেলায় আলাদা টান তৈরি হয়। সেও এক রহস্য। কলেজে আমি আমার মেয়ে সহপাঠীদের দিকে তাকাতে সাহস পেতাম না । কিন্তু তাঁরা খুব সুন্দর ছিল, রূপবতী ছিল। অত্যন্ত সভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে ছিল তারা।মেয়ে বন্ধুরা খুব মায়াবতী হয় । সুন্দর করে নিচু স্বরে কথা বলে। এটা আমি বহু পরে বুঝেছিলাম। আর্ট কলেজে যখন পড়ছি, থার্ড ইয়ারে। একবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলাম। ওখানে আমার এক কলেজ সহপাঠীর সঙ্গে দেখা হলো । ও-ই এগিয়ে এসে কথা বলল । একটা অপরূপ ভঙ্গীতে তাকিয়ে নিচু স্বরে আমার সঙ্গে কথা বলছিল। কথা বলতে বলতে এত সুন্দর করে হাসছিল। ওর প্রতিটি মুদ্রাভঙ্গিমাগুলো এত অপূর্ব? আমি অভিভূত হয়ে ভাবছিলাম, এই মেয়ে আমার সহপাঠী ছিল কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে! তখনও কি অমন করে মিষ্টি করে কথা বলত? হাসত? বিশ্ববিদ্যালয় জীবন অন্য এক পরিশীলিত জীবন। মন, মনন, সাহস, রুচি, দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়। একটা ভদ্র, নম্র, পরিমিতি, পরিশীলিত জায়গা তৈরি করে দেয়। তবে, সবার বেলায় তা হয় না। যার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন নেই, হলের আবাসিক জীবন নেই-সে সত্যি অভাগা!যেভাবে কথা বলতে শুরু করেছি। তা শেষ হওয়ার নয়। এত কথা মনে মনে ভাবছি তা মূলত মনকে অনেক খারাপ অনুভব থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্যে। কাল বাচ্চুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বললাম । বাচ্চু কোভিড-১৯ আাক্রান্ত। অথচ ওর ভ্যাকসিনের দুটো ডোজই নেওয়া ছিল। ওর সঙ্গে কথা বলে মন আরও খারাপ হলো। আমি কোভিডের পেশেন্ট। আমি এর মর্মযন্ত্রণা হাড়ে-মজ্জায় বুঝি। বাচ্চু আমার বন্ধু। কলেজ সময়ের বন্ধু। ওকে আমরা সবাই আপন ভাবি, ভালোবাসি। দুর্দান্ত ফুটবল খেলত। কী যে সুদর্শন! ও রাস্তা ধরে হেঁটে গেলে মেয়েরা ওকে দেখার জন্য বাড়ির ছাদে ছোটাছুটি লেগে যেত।বাচ্চু একসময় ঢাকায় থাকত। পুরানা পল্টনে আমার 'দৈনিক সংবাদ' অফিসের পাশেই ছিল ওর অফিস। এমন অনেক দিন হয়েছে যে আমরা একই সঙ্গে বিকেলে অফিস শেষ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে বেড়াতাম ঢাকা শহরে । হ্যাং আউট করতাম। রমনা পার্ক, শাহবাগ, চারুকলা, শিল্পকলা, সাইন্সল্যাব হয়ে রাত ১০-১১টায় যে যার বাড়ি ফিরতাম।আমি জাপান সরকারের স্কলারশিপ পেয়ে প্রথম যাকে খবরটা জানিয়েছিলাম, সে হলো বাচ্চু। বাচ্চু সেই সন্ধ্যায় আমার সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমির ডিরেক্টরের রুমে ছিল। বাচ্চু খুব খুশি হয়েছিল।যেদিন ফ্লাই করব। আমাকে এয়ারপোর্ট সি অফ করেছিল অ্যাঞ্জেলা ও বাচ্চু। খুব মনে পড়ে, বাচ্চু আমার জন্য ফুলের তোড়া নিয়ে গিয়েছিল এয়ারপোর্টে । সে দৃশ্য খুব ভাসে । আমি যখনই কুষ্টিয়া যাব, বাচ্চু আমাকে আলাদা করে সময় দেবেই । সারাক্ষণ নজরে রাখবে । আগলে রাখবে । আমাকে রিসিভ করতে যাবে । আবার বিদায় দিতেও আসবে । বাচ্চু তুই তাড়াতাড়ি সেরে উঠবি ইনশাল্লাহ। বেলাল, ওয়াসে, টিপু, আরজু, মোকাদ্দেস, বুল্লাহ, ঠান্ডু সবাই তোকে ঘিরে আছে । তোর রোগমুক্তির অপেক্ষায় আছি।আমি চোখ বন্ধ করে আমার নিম গাছটির কথা ভাবছি। ঘু ঘু ডাকের ঘুঘুরা এখনও কি আসে গাছটিতে? দুপুরে সেই নির্জনতায় কুয়াতলা কি আগের মতোই শীতল থাকে? আমি জানি কিছুই আর আগের মতো নেই। এসব শৈশব স্মৃতি এখন সুদৃশ্য রাংতা মোড়া যেন। | 8 |
মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করার জেরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। এরই মধ্যে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ থেকে পিছু হটলেও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে 'গুরুতর' অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। 'আমরা আগের অবরোধগুলোর বাইরে আরও কিছু অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা অনেক দ্রুতই এগোচ্ছি,' সাংবাদিকদের জানান ট্রাম্প। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও হুমকির দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি বলেছেন, সীমান্তে আমেরিকার কোনো আগ্রাসী তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না। ইরানকে সর্তক করে ট্রাম্পের দেয়া বিবৃতির পাল্টা জবাবে ইরানের মুখপাত্র জানান, 'সীমা লঙ্ঘন করা হলে আমরা তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করব। সেখানে হুমকি থাকুক আর না-ই থাকুক। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনও রকম যুদ্ধ চায় না। কিন্তু ইরান যদি তাদের অবস্থান থেকে না সরে আসে তাহলে ধংসের মুখে পড়বে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
মুন্সিগঞ্জের মেঘনায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় ১৮ জন শ্রমিককে নিখোঁজ রেখেই সাতদিন পর উদ্ধারকাজ পুরোপুরি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন এ ঘোষণা দেয়। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান সাদী বলেন, নিখোঁজ ট্রলারের উদ্ধারকাজ পুরোপুরি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২০ জানুয়ারি) মেঘনা নদী থেকে নিখোঁজ ২০ শ্রমিকের মধ্যে দু'জনের মরদেহ উদ্ধার করে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর বাকি ১৮ শ্রমিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। শ্রমিকদের স্বজনরা নিজেদের গ্রামের বাড়ি পাবনায় ফিরে গেছেন। যদি পরে আর কোনো মরদেহ উদ্ধার করা হয় বা ভেসে ওঠে সেক্ষেত্রে স্বজনদের খবর দিয়ে আনা হবে। মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) ভোর ৪টায় মেঘনায় মালবাহী জাহাজের সঙ্গে ধাক্কায় জাকির দেওয়ান নামে মাটিবোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়। এসময় ৩৪ জন শ্রমিকের মধ্যে ১৪ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হয় ২০ শ্রমিক। ট্রলার ডুবির ষষ্ঠদিনে রোববার মেঘনা নদী থেকে দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। | 6 |
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন ভারতের আদিল হুসেন। ছবির নাম 'ব্যাটল ফর বেঙ্গল' বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে প্রেক্ষাপটে রেখে ভারতীয় নতুন ছবিটি তৈরি করছে 'দিল্লি ক্রাইম'খ্যাত পরিচালক রিচি মেহতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যে এবছর ১০ মার্চ নাগাদ পরিচালকসহ ছবির একটি টিম রেকি করতে বাংলাদেশে আসে। পরিচালকের সঙ্গে সেই টিমে ছিলেন 'ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস'-এর সিনেম্যাটোগ্রাফার আমির মোকরি ও অ্যাকশন ডিরেক্টর শ্যাম কৌশল (ভিকি কৌশলের বাবা)। ঠিক সে সময়েই করোনার কারণে দেশ জুড়ে ঘোষণা হয় লকডাউন।ফলে ছবির শুটিং স্থগিত রেখেই ভারতে ফিরে যায় গোটা টিম। আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, আগামী বছর মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ শুরু হবে ছবির শুটিং। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি প্রযোজনা সংস্থা ছবিটির প্রযোজনা করছে। একাধিক বাঙালি অভিনেতাকেও দেখা যাবে ছবিতে। | 2 |
১৬ সেপ্টেম্বর টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব থেকে সরে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করার পর, ১৫ জানুয়ারি ভারতের টেস্ট দলের নেতৃত্বও ছেড়ে দিলেন বিরাট কোহলি। মাঝে ভারতীয় ক্রিকেটে ঘটে গিয়েছে বহু ঘটনা। চরমে পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলির সাথে বিরাট কোহলির তীব্র মনোমালিন্য। ইগোর লড়াইয়ের জেরেই শনিবার টেস্ট দলের অধিনায়কের পদ থেকেও ইস্তফা দিলেন কোহলি। এই চার মাসে ঠিক কী কী ঘটেছে, দেখে নিন এক ঝলকে ১৬ সেপ্টেম্বর : স্বেচ্ছায় টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন বিরাট কোহলি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর যে তিনি এই ফর্ম্যাটে দলকে নেতৃত্ব দেবেন না জানিয়ে দিয়েছিলেন কোহলি। ৮ নভেম্বর : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ নামিবিয়ার বিরুদ্ধে খেলে ভারত। আর সেই ম্যাচেই শেষবার টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে নেতৃত্ব দেন বিরাট কোহলি। ৮ ডিসেম্বর : বিরাট কোহলিকে ওডিআই-এর নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয় বিসিসিআই। সেই জায়গায় রোহিত শর্মাকে তারা অধিনায়ক বেছে নেয়। ১৫ জানুয়ারি : টেস্টের অধিনায়কত্ব স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিলেন বিরাট কোহলি। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি, প্রায় চার মাস ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে কম পানিঘোলা হয়নি। হয়েছে বহু বিতর্ক। অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১-২ সিরিজ হেরে শনিবার সব ধরনের নেতৃত্ব থেকেই অব্যাহতি নিলেন বিরাট কোহলি। মাঝে কোহলিকে ঘিরে কিছু বিতর্ক এখনো ভারতীয় ক্রিকেটকে প্রভাবিত করছে- ১. টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে শেষ বার নেতৃত্ব দিতে নেমে ব্যর্থ হয়েছেন কোহলি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দু'টি ম্যাচে পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেই সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল ভারতের। এই দু'টি ম্যাচে টিম নির্বাচন নিয়ে কোহলিকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কোহলিও ঘুরিয়ে দাবি করেছিলেন, তিনি তার পছন্দ মতো দল পাননি। ২. স্বেচ্ছায় টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়লেও কোহলি ওডিআই নেতৃত্ব ছাড়তে চাননি। জোর করেই তাকে সরিয়ে দেয় বিসিসিআই। বোর্ড নাকি কোহলিকে সরে দাঁড়ানোর জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল, কিন্তু কোহলি রাজি না হওয়ায় তাকে বিসিসিআই-এর তরফেই সরিয়ে দেয়া হয়। ৩. টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলির সাথে কোহলির মত-পার্থক্য ঘিরে তীব্র পানিঘোলা হয়েছে। এবং যার রেশ এখনো রয়েছে। বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ বলেছিলেন, বোর্ড বিরাট কোহলিকে টি-২০ ক্যাপ্টেন্সি ছাড়তে বারণ করেছিল। তিনি নিজে এই বিষয়ে কথা বলেছিলেন বিরাটের সাথে। এ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় উড়ে যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বিরাট কোহলি জানান, তাকে কেউ ক্যাপ্টেন্সি ছাড়তে বারণ করেননি। সুতরাং কে সত্যি বলেছেন, আর কে মিথ্যে, তা নিয়ে এখনো জল্পনা রয়েছে। ৪. ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ জিতলেও, দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে কোহলির নেতৃত্বে মুখ থুবড়ে পড়ে ভারত। প্রথম টেস্ট ম্যাচ জিতলেও, পরপর দুই টেস্টে হেরে সিরিজ ১-২ হেরে যায় ভারত। কোহলির স্ট্র্যাটেজি নিয়েও সুনীল গাভাসকরের মতো অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। ৫. সব মিলিয়ে বিসিসিআই-এর দিক থেকে কোহলি চাপ অনুভব করছিলেন বলেই টেস্টের নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অনেকেই দাবি করছেন। আর কোহলির নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে সৌরভকেই। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস | 12 |
কিংবদন্তি সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মরদেহ আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ লন্ডন থেকে ঢাকায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ দূতালয়।তিনি বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন।বাংলাদেশ দূতালয়ের একজন মুখপাত্র শুক্রবার আজকের পত্রিকাকে জানান, তাঁর প্রথম জানাজা লন্ডনের ব্রিকলেন মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, দূতালয়ের সকল কর্মকর্তা, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন।এরপর স্থানীয় শহীদ আলতাব আলী পার্কে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।বাংলাদেশ সরকারের তরফে মরহুমের কফিন জাতীয় পতাকায় ঢেকে শ্রদ্ধা জানান হাইকমিশনার মুনা তাসনিম।মুখপাত্র বলেন, মরহুমের মরদেহ আগামী বুধবার দেশে পাঠানোর জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে যুক্তরাজ্য সরকারের তরফে তাঁর তিন ছেলের, যাঁরা কফিনের সঙ্গে ঢাকা যাওয়ার কথা রয়েছে, ভ্রমণের কাগজপত্র প্রস্তুত হতে আরও সময় লাগলে মরদেহ আগামী শুক্রবার পাঠানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মরদেহ আগামী শনিবার ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা আছে। তত দিন মরদেহ লন্ডনে একটি হিমঘরে সংরক্ষণ করা হবে।গাফ্ফার চৌধুরী ভাষা আন্দোলনের স্মরণে একুশের প্রভাতফেরির কালজয়ী গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'-এর রচয়িতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। | 6 |
মাদারীপুর সদর উপজেলার গাছবাড়িয়া এলাকায় এক পীরের লালশার শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন এক তরুণী। বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবার ওই পীরকে চাপ প্রয়োগ করেন এলাকাবাসী। এতে উপায়ন্ত না পেয়ে ওই তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের ভাংগা থানার বাকপুরার ওই পীরের নাম ওয়াহিদ চান। সম্প্রতি তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার গাছবাড়িয়া এলাকায় আস্তানা গড়ে তুলেন। এলাকার সহজ সরল ও সাধারণ মানুষ তার ভক্ত ও মুরিদ হন। এই ভক্তদের মাঝে এক তরুণীর উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে পীর ওয়াহিদ চানের। পরে ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে। এক পর্যায়ে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে গত মঙ্গলবার পীরকে চাপ প্রয়োগ করে। উপায়ন্ত না পেয়ে ওই তরুণীকে বিয়ে করে তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে যান। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, এ বিষয়ে যদি কেউ অভিযোগ করেন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 6 |
আজকাল ভিডিও লিংক পাঠানো একধরনের ফ্যাশন। সে কারণে মাঝে মাঝেই নানা ধরনের ভিডিও দেখতে হয়। বেশির ভাগ ভিডিও একধরনের হাস্যকৌতুক। তবে হঠাৎ হঠাৎ এক-দুটি সিরিয়াস ভিডিও চলে আসে। কিছুদিন আগে সে রকম দুটি ভিডিও দেখেছি। একটিতে একজন পাকিস্তানি মহিলা মাথা চাপড়ে হাহুতাশ করছেন। বাংলাদেশ কীভাবে সাঁই সাঁই করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে আর পাকিস্তান কীভাবে হুড় হুড় করে অন্ধকারের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে, সেটি নিয়ে তাঁর হাহাকার। এই ভিডিওটি দেখে আমি বিশেষ অবাক হইনি। কারণ, আমি বহুদিন থেকেই জানি পাকিস্তান নামক দেশটি তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে শুরু করেছে। (আমার অবশ্য একটা নিজস্ব ভিন্ন হিসাব আছে। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা নানা ধরনের অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়। যখনই ফলাফল বের হয়, আমি আশপাশের দেশের সঙ্গে তুলনা করি। আমরা প্রায়নিয়মিতভাবে আশপাশের দেশ থেকে ভালো করি, আজকাল তুলনা করার জন্যও পাকিস্তানের নাম খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই অনুমান করতে পারি পাকিস্তানের অবস্থা ভালো নয়, মোটামুটি গুরুতর, তাদের জিডিপিও আমাদের অর্ধেক!)তবে দ্বিতীয় ভিডিওটি দেখে আমি অবাক হয়েছি। সেখানে বলা হয়েছে আমাদের জিডিপি ভারতের থেকে বেশি। সোজা বাংলায় অনুবাদ করলে সেটা বোঝায় আমরা আজকাল ভারত থেকে বড়লোক (এটি আমার নিজেরকথা নয়, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কথা)! আমাদের বামপন্থী অর্থনীতিবিদেরা অবশ্য প্রাণপণে আমাদের বুঝিয়ে যাচ্ছেন এগুলো আসলে 'ভুয়া' এবং এই 'তথাকথিত উন্নতি' আসলে একধরনের সর্বনাশের লক্ষণ ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি যেহেতু অর্থনীতি বুঝি না, তাই বড়লোক হয়ে যাওয়ার ছেলেমানুষি আনন্দের হাসিটা লুকাতে পারি না।কিন্তু তারপরেই আমার মাথায় নতুন একটা চিন্তা এসে বাসা বাঁধে। আমরা যদি ভারত থেকে বড়লোক হয়ে থাকি তাহলে আমাদের দেশে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছিও একটি বিশ্ববিদ্যালয় নেই কেন? হলিউডে একটা সিনেমা তৈরি করতে যে পরিমাণ টাকা লাগে, তার থেকে কম টাকা খরচ করে ভারত কেমন করে মহাকাশে মহাকাশযান পাঠায়? তারা কেমন করে মঙ্গল গ্রহে অভিযান করে। আর কেন আমাদের ইলন মাস্ক থেকে রকেট কিনে সেটাতে করে বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহ পাঠাতে হয়? যখন করোনাভাইরাস সারা পৃথিবী তছনছ করে দিচ্ছে, তখন ভারত কেমন করে করোনার টিকা তৈরি করে সারা পৃথিবীকে টিকা দিতে পারে, আমরা কেন পারি না? আমাদের কেন টাকা পরিশোধ করেও টিকা না পেয়ে মাথা চাপড়াতে হয়? ভারতে কেমন করে এতগুলো অসাধারণ ল্যাবরেটরি, সেখানে কেমন করে এত বড় বড় বিজ্ঞানী, আমাদের দেশে কেন বড় কোনো ল্যাবরেটরি নেই, এখানে কেন নিয়মিতভাবে বিশ্বমানের গবেষণা হয় না? ভারতে বিজ্ঞানীরা কেন বিদেশ থেকে লেখাপড়া, গবেষণা করে তাঁদের দেশে ফিরে আসেন?মাদের মেধাবী ছেলেমেয়েরা কেন কেউ ফিরে আসে না? ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের থেকে দরিদ্র হয়েও কেমন করে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে আকাশছোঁয়া আর আমরা কেন ছেলেমানুষি মোবাইলের অ্যাপস ছাড়া আর কিছু বানাতে পারি না?যখন এসব চিন্তা করি তখন বুঝতে পারি যে শুধু অর্থনীতিতে উন্নতি করলে হয় না, একই সঙ্গে লেখাপড়া আর জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চাতেও উন্নতি করতে হয়। যদি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি তাহলে বুঝতে পারব আমরা আসলে কখনোই ঠিকভাবে আমাদের লেখাপড়ার দিকে নজর দিইনি। আমাদের শুধু যে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় নেই তা নয়, আমাদের স্কুল-কলেজের অবস্থা মোটেও ভালো নয়। এখন ছেলেমেয়েরা শুধু পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার জন্য লেখাপড়া করে। সে জন্য তারা কোচিং সেন্টারে দৌড়াদৌড়ি করে, গাইড বই মুখস্থ করে। প্রায় সব স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরা তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না পড়িয়ে প্রাইভেট পড়ান।এই দেশের সব হর্তাকর্তা বিধাতারা সেগুলো দেখেও না দেখার ভান করেন, মেনেই নিয়েছেন এটা এখন এই দেশের কালচার। দেশের সবচেয়ে হতদরিদ্র মানুষেরাও না খেয়ে না দেয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়ানোর জন্য টাকা আলাদা করে রাখেন। তাঁরা জানেনও না যে লেখাপড়া করতে প্রাইভেট পড়তে হয় না, কোচিং করতে হয় না, শুধু স্কুলে গেলেই হয়। ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য আলাদা কোচিং হয়, 'মেডিকেল কোচিং', 'ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং' নামে আলাদা কোচিং আবিষ্কার হয়েছে। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পর গ্রাম থেকে ছেলেমেয়েরা ঢাকা শহরে এসে মেসে থেকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোচিং করে। কোচিং সেন্টারগুলোর সে কী রমরমা ব্যবসা! (আমার খুব কৌতূহল জানার জন্য তারা বছরে কত টাকা কামাই করে আর কত টাকা ইনকাম ট্যাক্স দেয়।) কোচিং সেন্টারের লোকজনের জীবনে অনেক আনন্দ থাকতে পারে। কিন্তু এই দেশের ছেলেমেয়েদের থেকে নিরানন্দ জীবন পৃথিবীর আর কোনো দেশের ছেলেমেয়েদের আছে কি না, জানি না। চোখের সামনে এগুলো হচ্ছে দেখেও আমরা থামানোর চেষ্টা করি না। এসব দেখে আমি নিশ্চিত হয়েছি যে আমরা আসলে লেখাপড়ার দিকে নজর দিইনি। কেউ কেউ নিশ্চয় আমার এই কঠিন কথাগুলো শুনে মন খারাপ করবেন। অনেকেই হয়তো আমরা লেখাপড়ার দিকে নজর দিইনি কথাটা মানতে চাইবেন না। অন্য সবকিছু ছেড়ে তাদের আমি শুধু একবার আমাদের দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের কর্মকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিতে পারি। খবরের কাগজে পড়ি আর লজ্জায় আমার মাথা কাটা যায়। সবাই কি জানেন খবরের কাগজে শুধু সেই ঘটনাগুলোর কথা আসে, যেগুলোর তথ্য-প্রমাণ আছে। এর বাইরে অসংখ্য আরও ভয়ংকর ঘটনার কথা আছে, যেগুলো বাইরের মানুষেরা জানে না। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব সময় একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অর্থাৎ দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাবিদদের একজন। কাজেই আমাদের ধরে নেওয়ার কথা তিনি দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন। কিন্তু তাঁদের কারও কারও কর্মকাণ্ড দেখে তাঁর প্রতি কোনো মানুষের কী বিন্দুমাত্র সম্মান থাকা সম্ভব? শুধু কি অনৈতিক কাজ? তাঁদের কর্মকাণ্ড কি সরাসরি অপরাধের মাঝে পড়ে না? দেশের একজন সাধারণ নাগরিক সেই কাজ করলে তাকে জীবনের বড় অংশ জেলখানায় কাটাতে হতো। কিন্তু আমাদের উপাচার্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাঁদের কখনো কোনো শাস্তি পেতে হয় না। (যখনই এ রকম কিছু দেখি তখন আমার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাইকেল চোরের কথা মনে পড়ে। ধরা পড়ার পর তাঁকে সে কী বেদম মার, অনেক কষ্টে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলো। অথচ এর থেকে আরও হাজার গুণ বড় অপরাধ করার পরেও উপাচার্যদের কিছু হয় না। আমি নিজের কানে একজন উপাচার্যকে তাঁর আগের উপাচার্য সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে তিনি নাকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা মেরে দিয়েছেন।)দুর্নীতির কথা শুনতে শুনতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি, সমাজের অন্য যেকোনো মানুষের দুর্নীতির কথা শুনে হজম করা সম্ভব, কিন্তু একজন উপাচার্যের দুর্নীতির কথা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। আমি অন্য হাজারটি মানুষের দুর্নীতির কথা শুনতে রাজি আছি, কিন্তু একজন উপাচার্যেরও দুর্নীতির কথা শুনতে রাজি নই। যখন এটি ঘটবে তখন বুঝতে হবে লেখাপড়ার আর কিছু অবশিষ্ট নেই।এই উপাচার্যদের কেউ আকাশ থেকে এসে পড়েন না। অনেক বিচার-বিবেচনা করে সরকার থেকে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়। আসলে যে যত ধরাধরি করতে পারবেন, তাঁর উপাচার্য হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। আমি নিজের কানে একজন উপাচার্যকে বলতে শুনেছি, তিনি আমাকে বলেছেন, 'কোনো উপাচার্য যদি দাবি করেন তিনি কোনো রকম লবি না করে উপাচার্য হয়েছেন, তাহলে বুঝতে হবে তিনি চরম একজন মিথ্যাবাদী!' যে দেশে লবি করে উপাচার্য হওয়া যায় বুঝতে হবে সেই দেশে লেখাপড়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। সেই দেশে লেখাপড়া নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। যেহেতু সরকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন সত্যিকারের উপাচার্য পর্যন্ত নিয়োগ দিতে আগ্রহী নয়, তাই আমার মনে হয়েছে এই দেশে আমাদের লেখাপড়া নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। যদি লেখাপড়ার দিকেই আগ্রহ না থাকে তাহলে গবেষণার দিকে আর কার আগ্রহ থাকবে? আমাদের সারা জীবন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাতে হলে ফ্রান্স থেকে স্যাটেলাইট কিনতে হবে, ইলন মাস্কের কাছ থেকে রকেট কিনতে হবে। করোনার টিকার জন্য টাকার বান্ডিল নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে। এই দেশের সোনার টুকরা মেধাবী ছেলেমেয়েরা আমেরিকা, ইউরোপে থেকে গবেষণা করবে, ডিসেম্বর মাসে দেশে বেড়াতে এসে আমাদের দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে।কিন্তু আমাদের দেশ এখন একটা ক্রান্তিকালে পৌঁছেছে। আমরা এখন দুঃসহ দরিদ্র নই, টাকার জন্য এখন কিছু আটকে থাকে না। আমরা ইচ্ছা করলে এখন সবকিছু ঠিক ঠিক চালাতে পারি। এই দেশে এখন বিশাল একটি তরুণ গোষ্ঠী, তাদের ঠিক ঠিক লেখাপড়ার সুযোগ দিলেই তারা দেখতে দেখতে একটা দক্ষ জনশক্তি হয়ে যাবে। গবেষণার পরিবেশ করে দিলেই এই দেশে বিশাল গবেষণা হতে পারে। আমাদের মেধাবী ছেলেমেয়েরা তাদের যোগ্য সুযোগ পেলেই দেশে ফিরে আসতে থাকবে। স্কুল-কলেজের লেখাপড়া আধুনিক করে দেওয়া যেতে পারে। পরীক্ষার অশুভ চক্র থেকে তাদের বের করে আনা যেতে পারে। কোচিংকে আইন করে বন্ধ করতে হবে না, সেটা অর্থহীন হয়ে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। একটুখানি চাইলেই যে দেশের কোটি কোটি ছেলেমেয়েকে আনন্দময় একটা জীবন দেওয়া যেতে পারে, কেউ কি সেটা অনুভব করতে পারে না?হাত বাড়ালেই বন্ধ দরজা স্পর্শ করতে হবে কে বলেছে, হাত বাড়ালেই রয়েছে অসীম দিগন্ত, আমরা সেটা স্পর্শ করার চেষ্টা করব না?লেখক: শিক্ষাবিদ ও লেখক | 8 |
ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগামীকাল সিরিজের প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর আড়াইটায় ম্যাচটি শুরু হবে। বিশ্বকাপের আগে সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ।' অপরদিকে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিলটন মাসাকাদজা বলেছেন, 'সিরিজটি প্রতিযোগীপূর্ণ হবে।' এবং সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ফেবারিট হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে গতকাল শুক্রবার বিসিবি একাদশের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল জিম্বাবুয়ে। পাত্তাই পায়নি তারা। ৬৬ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি করেছেন সৌম্য সরকার। প্রথম ওয়ানডের আগে বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ!জিম্বাবুয়ে সিরিজকে সামনে রেখে পাঁচ দিন আগে থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্যাম্প। জ্বরের কারণে শুরু থেকে ক্যাম্পে থাকতে পারেননি পেসার রুবেল হোসেন ও স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। জ্বর কাটিয়ে মিরাজ ফিরলেও রুবেলের এখনো ফেরা হয়নি। অবস্থার বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন ডানহাতি এই পেসার। দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারায় আগামীকাল রুবেলকে ছাড়াই মাঠে নামতে হতে পারে বাংলাদেশ দলকে। এদিকে শরীরের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে রুবেল বলেন, 'এই মুহূর্তে আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো আছি। তবে শরীর বেশ দুর্বল।' তিনি আরো বলেন, 'যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে ম্যাচ খেলতে চাই। তবে নিশ্চিত খেলতে পারব কি না সেটি বলতে পারছি না। কাল (শনিবার) অনুশীলনে যোগ দেয়ার পর বোঝা যাবে।' রুবেল প্রথম ওয়ানডে খেলার ব্যাপারে আশাবাদী হলেও জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলছেন অন্য কথা। তার কথায়, 'এই মুহূর্তে রুবেল অনেকটাই সুস্থ। তারপরও খেলতে না পারলে সমস্যা নেই। আমাদের হাতে যথেষ্ট অপশন রয়েছে। প্রথম ওয়ানডে সে খেলতে পারবে কি না সেটা নিশ্চিত নয়। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ওয়ানডে থেকে সে খেলবে।' শেষ পর্যন্ত রুবেলকে ছাড়াই মাঠে নামতে হলে বাংলাদেশের জন্য হিসাবটা কঠিনই হয়ে যাবে। তার অনুপস্থিতিতে পেস আক্রমণ কিছুটা ধারহীন হয়ে পড়বে, সেটা বলার অপো রাখে না। কারণ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও পুরোপুরি ফিট নন। ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ও ঊরুর ইনজুরিতে ভুগছেন তিনি। রুবেল ছাড়াও স্কোয়াডে আছে আরো চার পেসার। অধিনায়ক মাশরাফি ছাড়াও আছেন মুস্তাফিজুর রহমান, আবু হায়দার রনি ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। পেস বোলিং করেন আরিফুল হকও। তাই রুবেলের অনুপস্থিতি নিয়ে অতটা মাথা ঘামাচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। | 12 |
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্ত্রীর আপত্তিকর অশ্লীল ভিডিও ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে স্বামী মিলন গাঙ্গুলীকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে শহরের জামতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মিলন গাঙ্গুলী জামতলা ধোপাপট্টি এলাকার বৃন্দাবন গাঙ্গুলীর ছেলে। স্ত্রীর অভিযোগের বরাত দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, গত তিন বছর পূর্বে মিলন গাঙ্গুলীর সাথে ওই নারীর বিয়ে হয়। একবছর পূর্বে শাশুড়ি, ননদ ও স্বামী তাকে যৌতুকের দাবিতে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে ওই গৃহবধূকে বার বার বাড়ি ফিরতে বললেও ফিরেননি। এর জেরে পূর্বে ধারণ করা ৭টি ভিডিও ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দেয়া হয়।ওসি আরো জানান, মিলন গাঙ্গুলীর ল্যাপটপ থেকে ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে আপলোড করা ভিডিওগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। | 6 |
বরিশাল নগর বিএনপির পদবঞ্চিত নেতারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। আগামীর সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে আলাদাভাবে মাঠে থাকবেন তাঁরা। আন্দোলনের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা বাস্তবায়নের মাঠে থাকার ঘোষণা দিচ্ছেন পদবঞ্চিত নেতারা।তবে বর্তমান কমিটি দিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে সফলতা সম্ভব নয়। বর্তমান কমিটির নেতারা চাঁদাবাজিতে রেকর্ড করেছেন বলে দাবি পদবঞ্চিত নেতাদের।এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির। তিনি বলেন, 'দলের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে তাঁরা এ ধরনের কথা বলতে পারতেন না।'জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে নগরের অভিজাত কমিউনিটি সেন্টার 'পার্টি হাইজ' ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করেন বরিশাল নগর বিএনপির বঞ্চিত নেতারা। এই পুনর্মিলনীতে আসা নেতাদের জন্য ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়। মূল নতুন সমীকরণে গত কমিটির নেতারা আবারও সক্রিয় হচ্ছেন। দীর্ঘ এক যুগ নগর বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া নেতারা পুনর্মিলনীতে বর্তমান কমিটির সম্পর্কে বিষোদ্গার মন্তব্য করেন। নতুন কমিটিকে অকার্যকর দাবি করে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।সভায় নগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু বলেন, 'আগামীর আন্দোলন সংগ্রামে বর্তমান কমিটি মাঠেই দাঁড়াতে পারবে না। ল্যাংড়া, লুলা কমিটি দিয়ে কোনো কাজ হবে না। আমরা এই কমিটির দিকে তাকিয়ে থাকব না। নিশি রাতের ভোট ঠেকাতে রাজপথে থাকব।'অপর সহসভাপতি সৈয়দ আহসানুল কবির হাসান বর্তমান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'জোর করে ক্ষমতা আটকে রাখা যাবে না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার হটানো হবে।'সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আকবর বলেন, 'বিএনপির দুঃসময়ে যখন একসঙ্গে দুজন হাঁটা যায়নি, তখনো এই দল আঁকড়ে রেখেছিলাম। যাঁরা ১৫ বছর দলের খবর রাখেননি তাঁদের নেতৃত্ব আনা হয়েছে। তাঁরা ইফতারির নামে চাঁদাবাজি করে রেকর্ড করেছেন। এটার তাঁরা ভালো পারেন। কিন্তু সভা সমাবেশে দলীয় কর্মীদের আনতে পারেন না। তাহলে আন্দোলনের সময় কীভাবে মাঠে দাঁড়াবে এ কমিটি?'সাবেক সহসম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, 'নতুন কমিটির কেউ কেউ নাকি বলেন, আমরা বিএনপির কেউ না। আরে আমরা বরিশালে বিএনপির জন্ম দিয়েছি। আমরা কারও অনুসারী না, দলের চেয়ারপারসনের অনুসারী।'এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শহীদ, আব্বাস উদ্দিন বাবলা, সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ নোমান, রফিকুল ইসলাম শাহিন, যুবদল নেতা আলাউদ্দিন, শ্রমিক দল নেতা রফিক আকন, মহিলা দল নেত্রী তাছলিমা কালাম পলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের শমির, ছাত্রদল নেতা তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।এদিকে পদবঞ্চিত নেতাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বর্তমান কমিটির নেতারা। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, 'চেয়ারম্যান নতুন নেতৃত্বের কাজের তদারকি করছেন। তাঁর দেওয়া কমিটিকে কটাক্ষ করা সমীচীন নয়। আন্দোলন সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলেন, তবে তাঁদের স্বাগত জানানো হবে।'তবে বর্তমান কমিটির চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, 'আমি নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন এ ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ আসেনি। যাঁরা এ ধরনের অভিযোগ করছেন, তাঁদের কাছে প্রমাণ থাকলে দলের হাইকমান্ডের কাছে তুলে ধরুক।'এদিকে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির বলেন, 'বরিশালবাসী দেখেছেন, কমিটি ল্যাংড়া-লুলা কি না। দলের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে তাঁরা (পদবঞ্চিত নেতা) এ ধরনের কথা বলতে পারতেন না। তাঁরা দলের কর্মসূচিতে থাকেন না। তাঁরা যদি পারেন, শক্তিশালী কমিটি নিয়ে আসুক। আর ইফতারিকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেউ তা প্রমাণও করতে পারবেন না। বরং ইফতারের বড় আয়োজন ও ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি দেখে একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে এ ধরনের অপপ্রচার করছেন।'মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, 'আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর দলের গুটিকয়েক নেতা নতুন নেতৃত্ব নিয়ে কটূক্তি করছেন। ওয়ার্ড নেতা-কর্মীদের কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধা দিচ্ছেন। তাঁরা সীমা লঙ্ঘন করলে দলই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।'প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরে বিএনপির কমিটি গঠনের পর থেকে নগর বিএনপির পদ বঞ্চিত নেতারা দলের হাইকমান্ডের কাছেও বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। | 6 |
বিশ্বে ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া হলে চলতি বছরের মাঝামাঝি শেষ হতে পারে করোনা মহামারির তীব্রতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার এমনটি জানানো হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।দক্ষিণ আফ্রিকায় সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ড. তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, এই বছরের জুন, জুলাই মাসের মাঝামাঝি ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হতে পারে। এমনটি হলে এই বছর মহামারির তীব্র পর্যায় শেষ হবে। যদি ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া হয় তাহলে তীব্র পর্যায় সত্যিই শেষ হতে পারে এবং আমরা এটাই আশা করছি। এটা আমাদের হাতে। এটা সুযোগের বিষয় নয়। এটা পছন্দের ব্যাপার।আফ্রিকার করোনা টিকার সংকট মেটাতে এমআরএনএ প্রযুক্তিতে টিকা তৈরি করছে দক্ষিণ আফ্রিকান কোম্পানি আফ্রিজেন বায়োলজিক্স অ্যান্ড ভ্যাকসিন ও বায়োভ্যাক। এই কোম্পানিগুলো গতকাল শুক্রবার পরিদর্শনে যান ড. তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস।দক্ষিণ আফ্রিকায় তৈরি টিকাগুলো আগামী নভেম্বরে ট্রায়াল দেওয়া হবে। আশা করা যাচ্ছে ২০২৪ নাগাদ টিকাগুলো অনুমোদন পাবে। | 3 |
রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা করেছে পল্টন থানা-পুলিশ। এতে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের ৬১ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা তিন-চার শজনকে আসামি করা হয়েছে। আজ সোমবার রাজধানীর পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুল হাসান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।গত রোববার সন্ধ্যায় পল্টনে ছাত্রদল মিছিল নিয়ে বের হলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। ঘটনাস্থল থেকে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে সোমবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াপল্টন থানায় করা মামলায় ৬১ আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল আলম মজনু, যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির কর্মী মোহাম্মদ আলী মান্নান, মো. মফিকুল ইসলাম, সোহেল শিকদার, সুনীল রবি দাস, মৎস্যজীবী দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ প্রমুখ।এ বিষয়ে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন বলেন, মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।এদিকে নয়াপল্টনের ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল আলম মজনুসহ গ্রেপ্তার হওয়া নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। এদিন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এই কর্মসূচি পালিত হবে।নয়াপল্টনে সংঘর্ষে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলাএ সম্পর্কিত আরেক বিবৃতিতে নয়াপল্টনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান ও সদস্যসচিব আমিনুল হক। বিবৃতিতে অবিলম্বে গ্রেপ্তার হওয়া নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তাঁরা।এই ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। রাজধানীর পান্থপথে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত নাটোরের বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজকে দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর সরকারি নিপীড়ন বেড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ অনেক বেড়েছে। গণতান্ত্রিক সব স্পেসগুলোকে তারা ধ্বংস করে দিচ্ছে। একটা মিটিং করতে দেয় না। নয়াপল্টনের অফিসের সামনে ছাত্র দলের উত্তরের ছেলেরা একটা সভা করতে গিয়েছিল। সেখানে জায়গা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। কোনো স্পেস দেওয়া হচ্ছে না।' | 6 |
১০ মে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় তিউনিসিয়ার কাছাকাছি নৌকাডুবিতে ৩৯ জন বাংলাদেশি মারা গেছে; ১৪ জন বাংলাদেশিকে ডুবন্ত নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পাচারকারীরা লিবিয়া থেকে যাত্রা করে বড় একটি নৌকা থেকে তাদের আরেকটি ছোট নৌকায় গাদাগাদি করে তুলে রওনা দেওয়ার পর অতিরিক্ত যাত্রীর ভারে নৌকাটি ডুবে যায়। ২০১৯ সালের শুরু থেকে ১০ মের মধ্যেই এ রকম নৌকাডুবির শিকার হয়ে ভূমধ্যসাগরে ১৭৫ জন ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে; তাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশি নাগরিক। ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, হংকং, এমনকি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে জীবন বাজি রেখে অবৈধ অভিবাসী হওয়ার জন্য হাজার হাজার বাংলাদেশি তরুণ মানব পাচারকারী চক্রগুলোর হাতে লাখ লাখ টাকা তুলে দিচ্ছে। অনেক দিন ধরেই বিশ্বব্যাপী মানব পাচার সিন্ডিকেটগুলোর বড় খদ্দের বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী তরুণেরা। এটা গবেষকদের কাছে পুরোনো খবর। বাংলাদেশের রাজধানী থেকে শহর-বন্দর-গঞ্জ-গ্রামে ছড়িয়ে রয়েছে আদম ব্যাপারী চক্রগুলোর মাঠপর্যায়ের দালালেরা, যাদের ফাঁদে ধরা পড়ছে সোনার হরিণের পেছনে ছুটে চলা তরুণেরা। একজন তরুণকে ৮-১০ লাখ টাকা খরচ করতে হয় ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টায়। এ জন্য পরিবারের শেষ সম্বল জমিটুকু হয়তো বিক্রয় হয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতারিত হয়ে দেশে ফিরছে, নয়তো সাগর-মহাসাগরে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে কিংবা মরুভূমিতে ও জঙ্গলে মারা পড়ছে। পরিবারগুলো নাম লেখাচ্ছে নিঃস্ব-ভূমিহীনদের তালিকায়। কিছুদিন পরপর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন সাগর-উপসাগরে ভাসমান 'বোট-পিপলের' কাহিনি কিংবা সাগর-উপকূলের জঙ্গলে আবিষ্কৃত গণকবর ও অবৈধ বন্দীশিবির বিশ্বের জনগণের বিবেকে নাড়া দিয়ে চলেছে। সেগুলো হয়তো বাংলাদেশের কয়েক শ অভিবাসনপ্রত্যাশীর ব্যর্থ অভিযানের শেষ গন্তব্য। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার জঙ্গলে শত শত গণকবর আবিষ্কৃত হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রগুলোর নৃশংস খুন-জখম, জঙ্গলে যত্রতত্র লাশ পুঁতে ফেলা বা সাগরে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া এবং অভিবাসীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠনের অপরাধগুলো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মানুষের জীবিকার জন্য এই প্রাণান্তকর সংগ্রামকে পুঁজি করে মানব পাচারকারীরা যে অমানবিক বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, 'দাস ব্যবসা'র মতো তার বীভত্স রূপ উদ্ঘাটিত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের তরুণদের প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব থেকে সৃষ্ট মরিয়া অভিবাসন-প্রয়াসও বটে। বাংলাদেশের শ্রমশক্তিতে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৮ লাখ কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণী যুক্ত হচ্ছে, অথচ দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ৮ থেকে ১০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছে না। তাহলে বাকি ৮-১০ লাখের জন্য কী ব্যবস্থা? জীবনের শেষ সম্বল বিক্রি করে এরাই মরিয়া হয়ে আদম ব্যাপারীদের কাছে ধরনা দিচ্ছে নিজেদের ও পরিবারকে বাঁচানোর আশায়। বৈধ পথে বিদেশে অভিবাসী শ্রমিক-পেশাজীবী হিসেবে যেতে পারছে প্রতিবছর ৬ থেকে ৭ লাখ। এখনো একজন বাংলাদেশি অভিবাসীর বিদেশে যেতে অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের তুলনায় চার-পাঁচ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ২০ মে প্রথম আলোয় কোন দেশে যেতে কত টাকা লাগছে, তার গবেষণালব্ধ বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। ওই বিবরণ মোতাবেক, জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সির দালাল ধরে বিদেশে যেতে বাংলাদেশিদের গড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে। মালয়েশিয়া যেতে খরচ পড়ছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, সৌদি আরবে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। অথচ শ্রীলঙ্কার একজন অভিবাসীকে কুয়েতে যেতে খরচ করতে হচ্ছে মাত্র সাড়ে ২৭ হাজার টাকার সমপরিমাণ অর্থ। মধ্যপ্রাচ্যে যেতে ভারত, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার তরুণদের খরচ পড়ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় এক লাখ টাকার নিচে। চার-পাঁচ গুণ বেশি খরচ করা অভিবাসনেচ্ছু তরুণদের শোষণ-বঞ্চনা নিরসনে সরকারের কি কোনো দায়িত্ব নেই? বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর প্রচ্ছন্ন বেকার তরুণদের সাধনা হলো, যেভাবেই হোক বিদেশে পাড়ি দিতে হবে। গত কয়েক বছর দেশের জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যায়নি। তাই জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ৮ শতাংশ অতিক্রম করলেও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তেমন গতি সঞ্চার করা যায়নি। অন্যদিকে বর্তমান সরকার অভিবাসনের ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে সরাসরি ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যক্তি খাতের জনশক্তি রপ্তানিকারকদের দৌরাত্ম্যের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের লাখ লাখ বৈধ-অবৈধ অভিবাসীর প্রতিবছর পাঠানো ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার (২০১৮ সালে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ডলার) এবং অনানুষ্ঠঅনিক চ্যানেলের রেমিট্যান্স এবং হুন্ডি পদ্ধতিতে পাঠানো আরও ৮০০ থেকে ১ হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ হয়তো অভিবাসীদের পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায়। এই অর্থ কি আমাদের অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার করছে না? বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ এখনো তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়ে গেছে। কিন্তু জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছে যাবে বলে খোদ অর্থমন্ত্রী যে দাবি করেছেন, তার জন্য এই ২৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ কী বিপুল অবদান রাখছে, তা কি আমরা সঠিকভাবে উপলব্ধি করছি? প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের কার্যকর বিকল্প হলো এই ২৫ বিলিয়ন ডলার। মানি লন্ডারিংয়ে নিয়োজিত দুর্নীতিবাজ আমলা, পুঁজি লুটেরা ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক, হুন্ডি পদ্ধতির সহায়তায় পুঁজি পাচারকারী ঋণখেলাপি ও লোভাতুর আদম ব্যাপারীরা মানসিকভাবে অসুস্থ বলে আমার মনে হয়। আমি একাধিক কলামে বলেছি, কীভাবে রেমিট্যান্সের ফরমাল চ্যানেলগুলো অপব্যবহৃত হয়ে চলেছে মানি লন্ডারিং বা কালোটাকা বৈধকরণের প্রক্রিয়ায়। দেশের দুর্নীতিবাজ আমলারা তাদের দুর্নীতিজাত অর্থ পরিবারের অভিবাসী সদস্য বা আত্মীয়দের ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হুন্ডি পদ্ধতিতে অতি সহজে বৈধ রেমিট্যান্সে রূপান্তরিত করে চলেছে, এ খবর কি আমাদের নীতিপ্রণেতারা জানেন না? বিদেশে অবস্থানকারী একজন বাংলাদেশি তার প্রবাসের কর্মস্থলে কী কাজ করছে বা আদৌ উপার্জনশীল কিছু করছে কি না, তা জানার কোনো আইনি ব্যবস্থা নেই। কিন্তু প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক প্রবাসীর যেহেতু ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে, তাই ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যত অর্থই দেশে প্রেরিত হোক, সেগুলো গ্রহণ করতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। ২০০২ সালে এ দেশে 'প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট' পাস হয়েছে; ২০০৯ সালে ও ২০১২ সালে তা সংশোধনও করা হয়েছে। এই আইনে 'নো ইয়োর ক্লায়েন্ট' এবং 'সাসপিশাস ট্রানজেকশন রিপোর্ট' চালু করা হলেও বিদেশ থেকে প্রেরিত রেমিট্যান্স নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি এখনো ব্যাংকগুলো করতে চায় না। প্রকৃতপক্ষে যে ১৪-১৫ বিলিয়ন ডলার প্রতিবছর বৈধ রেমিট্যান্স আসছে, তার একটা অংশ দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্ট দুর্নীতিজাত কালোটাকা, যা প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের সহায়তায় হুন্ডি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রং বদলে ফেলতে সক্ষম হচ্ছে। এমনিভাবে হুন্ডি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতিবাজেরা ও ব্যাংকঋণ লুটেরারা অর্থ পাচার করছে বিদেশে, গড়ে উঠছে টরন্টোর 'বেগমপাড়া' ও মালয়েশিয়ার 'সেকেন্ড হোম'। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৯০০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটি ঘোষণা করেছে কয়েক বছর আগেই। এই পুঁজি পাচারকারী ও আদম ব্যাপারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে দেশের কল্যাণ হবে। ড. মইনুল ইসলাম:অর্থনীতিবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক | 8 |
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গ্রাম্য দলাদলিকে কেন্দ্র করে এক আওয়ামী লীগ নেতাসহ তার পরিবারের ওপর হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যক্তির নামশফিকুল ইসলাম শফি। তিনি২ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি মঙ্গলবার ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেছেন। পরে এজাহারভুক্ত সৈয়দ মামুন নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। পরে রবিউল ইসলাম ঘর থেকে বের হয়ে গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা রবিউলের ওপর হামলা করে তার মাথার ডান ও বামপাশে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে রবিউলের চিৎকার শুনেপাশের স্কুলমাঠ থেকে আওয়ামী লীগ নেতা শফি দৌঁড়ে আসলে অভিযুক্তরা তাকেও মারধর করেজখম করে। এসময় চিৎকার শুনে শফির চাচাতো ভাইয়ের ছেলে সুমন খান (২৫) ও শফির ভাইয়ের স্ত্রী রুমা বেগম এগিয়ে আসলে তাদেরও মারধর করে আহত করা হয়। এরপর অভিযুক্তরা আওয়ামী লীগ নেতার বসতঘরে প্রবেশ করে বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে মামলা সূত্রে জানা গেছে। পরে প্রতিবেশীরা এসে আহতদের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বর্তমানেতারা সেখানে চিকিৎসাধীন। এবিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বাবর জানান, 'আমি তখন বাড়িতে ছিলাম। পরে জেনেছি তারাও আমাদের লোকজনকে মারধর করেছে। আমাদের লোকজনও তাদের মেরেছে।' এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিবেশ শান্ত করা হয়েছে। মামলা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার স্বর্ণদ্বীপে মেঘনা নদীতে আবার তিন মণ ওজনের একটি হাঙর ধরা পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতেই হাঙ্গরটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। পরে সেটিকে কেটে কেটে বিক্রি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক। এর আগে ৭ জানুয়ারি উপজেলার হরিশপুর ২ নম্বর ঘাটের জেলেদের জালে ১৫০ কেজি ওজনের একটি হাঙর ধরা পড়ে। সেটি ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এর চার দিন আগে ৩ জানুয়ারি সন্দ্বীপ চ্যানেলে একটি ২০০ কেজি ওজনের বিশালাকৃতির শাপলাপাতা মাছ ধরা পড়ে। সেটিও ৪২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ সূত্র জানায়, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন, ২০১২ অনুযায়ী, শাপলাপাতা মাছ ও হাঙর ধরা সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। তবুও প্রায়ই এসব মাছ ধরছেন জেলেরা। এসবের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ কিংবা উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয় না। আইনে ক্ষমতা না দেওয়ায় মৎস্য কর্মকর্তাও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। ৭ জানুয়ারি প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে 'মেঘনায় ধরা পড়া ১৫০ কেজির হাঙর বাজারে কেটে বিক্রি' শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরও টনক নড়েনি প্রশাসনের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট খীসা প্রথম আলোকে বলেন, হাঙর নিধন যে অপরাধ, জেলেরা সে বিষয়ে সচেতন নন। আগামী সপ্তাহে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি বড় অভিযান চালানো হবে। এ সময় জেলেদের সচেতনও করা হবে। এরপরও তাঁরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে জেল-জরিমানা করা হবে। | 6 |
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বিশেষ অধিবেশনে যোগ দিতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত এক দশকে এটি হবে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে মন্ত্রী পর্যায়ের কারও প্রথম সফর। যুদ্ধাপরাধ ইস্যু কেন্দ্র করে টানাপোড়েনের ফলে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ থেকে উচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফরে যায়নি।সর্বশেষ ২০১২ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। এর আগে ২০১০ সালে দ্বিপক্ষীয় পঞ্চম পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তান যান তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েস।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর পাকিস্তানে ওআইসির পক্ষ থেকে বিশেষ অধিবেশন শুরু হবে। এতে অংশ নেবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। অধিবেশনে ওআইসি সদস্যদেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেবেন। তবে ওআইসির অনুষ্ঠানের বাইরে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কোনো বৈঠক নেই বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।আফগানিস্তানের জনগণের ক্রমবর্ধমান গুরুতর মানবিক সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করার জন্য পাকিস্তান ওআইসির এই বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। মূলত সৌদি আরবের পরামর্শে এই সম্মেলন ডেকেছে পাকিস্তান। এই মুহূর্তে আফগানিস্তানে নারী ও শিশুসহ লক্ষাধিক মানুষ জরুরিভাবে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের তীব্র অভাবে ভুগছে। | 6 |
মহসেন জুট মিল শ্রমিক কর্মচারীদের চূড়ান্ত বকেয়া পাওনা চলতি মাসের মধ্যে এককালীন পরিশোধ, ব্যক্তিমালিকানায় পাটকল চালু ও ৬ দফা দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০ টায় মহসেন মিলের প্রধান ফটকের সামনে এ অনশন কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন ও মহসেন পাটকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা।বেসরকারি পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি শেখ আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ তারেকের পরিচালনায় অনশন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা তাঁতি লীগের সদস্যসচিব কাজী আজাদুর রহমান হিরোক।অনশন কর্মসূচিতে শ্রমিক নেতারা বলেন, 'বকেয়া পরিশোধের ব্যাপারে কোনো টালবাহানা করা হলে ও শ্রমিকদের দাবি পূরণ না করা হলে ২৬ নভেম্বর থেকে শুক্রবার শিরোমণি শহীদ মিনার চত্বরে শ্রমিক জনসভা থেকে রাজপথ, রেলপথ অবরোধসহ কঠিন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।অনশন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল খান, সহসভাপতি কাবিল হোসেন, নিজামউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্বারী আসহাফ উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দীন, আমির মুনশি, জুট স্পিনার্স মিলের শ্রমিক নেতা মো. আলাউদ্দিন, কেসমত প্রমুখ। | 6 |
আজকের পত্রিকা: করোনাকালে কেমন ছিল বড় বিনিয়োগের খান কিচেনের অবস্থা?আফরোজা খান: করোনার কারণে বাধ্য হয়ে আমাদেরও বন্ধ রাখতে হয়েছে। কারণ, এ সময়ে কোনো অফিসই বাইরের খাবার ঢুকতে দেয়নি। ফলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। করোনার আগে দিনে আমাদের বিপুল সংখ্যক খাবারের চাহিদা ছিল। করোনা আসায় এটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের দৈনিক প্রায় এক লাখ লোকের খাবার তৈরি ও সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। পুরো সক্ষমতা আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। কারণ, ব্যবসাটা গড়ে উঠতে শুরু করেছিল মাত্র। এর মধ্যেই ধাক্কা।আজকের পত্রিকা: এখন কি আবার চালু করেছেন কার্যক্রম?আফরোজা খান: যেহেতু সবকিছু খুলে দেওয়া হয়েছে, আমরাও চেষ্টা করছি চালু রাখতে। আর খুললেই খাবার সরবরাহ বাড়ে না। কারণ, বন্ধের একটা প্রভাব থেকে যায়। অফিসগুলো এখনো বাইরে থেকে খাবার নিচ্ছে না। আমাদের প্রায় ৩০০ কর্মী ছিল। বেশির ভাগই চলে গেছে। তাদের আমরা ধরে রাখতে পারিনি। চালু হওয়ার পর কেউ কেউ ফিরতে শুরু করেছে। আগে যেখানে এক হাজার বা দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার লোকের একসঙ্গে অর্ডার হতো। এখন হচ্ছে অনেক কম। বিয়েশাদি, বড় ইভেন্ট বলতে গেলে নেই।আজকের পত্রিকা: কী পরিমাণ লোকসান হলো করোনার কারণে? কীভাবে পোষাবেন ক্ষতি?আফরোজা খান: সামনে কী হবে তা-ও বুঝতে পারছি না। যে লোকসান হয়েছে, এটা কীভাবে পূরণ হবে এ নিয়ে আশঙ্কায় আছি। যদি সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিকও হয়, তাতেও অন্তত আড়াই-তিন বছর লাগবে বলে মনে হচ্ছে। আমার বিপুল অঙ্কের ব্যাংক ঋণ আছে। এখন হয়তো কিস্তি দেওয়া নিয়ে কিছুটা চাপ কম। আমি ব্যাংকে আবেদন করব, যাতে আমাদের ঋণটা আরও নমনীয়ভাবে পরিশোধ করতে পারি। সময়টা যাতে বাড়িয়ে দেয়। সুদের হারও যদি কমায় তাহলেও কিছু রক্ষা।আজকের পত্রিকা: আপনারা সরকারি প্রণোদনা পাননি?আফরোজা খান: সরকার প্রণোদনা দিয়েছে। তবে আমরা সেটা পাইনি। আমাদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে কি না তা-ও জানি না। বলেছে আছে। প্রথমবার একদলকে দেওয়া হয়েছে। হয়তো দ্বিতীয় দফায় আমাদের দেবে, এমনটাই শুনেছি। আমাদের প্রায় ১৬ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ মেগা কিচেনের জায়গার মূল্যসহ প্রায় শত কোটি টাকার বিনিয়োগ আছে। ব্যাংক থেকে অনেক টাকা ঋণ নিয়ে এখানে বিনিয়োগ করা হয়েছে।আজকের পত্রিকা: সামনে এ ব্যবসার মূল চ্যালেঞ্জ কী মনে করছেন?আফরোজা খান: পরিস্থিতি যদি ভালো হয়, তাহলে চলতে পারব। আর যদি আবারও খারাপ হয়, তাহলে আমাদের যে কত খারাপ হবে এটা ভাবতে পারছি না। আমাদের এখন ফোনকলের মাধ্যমে অর্ডার আসছে। যতটা অর্ডার সে হিসাবে খাবারটা এখন তৈরি করছি। অর্ডার করলে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কেউ অর্ডার করে এখানেও খেতে পারে। পাশেই আমাদের ঠিকানা নামের যে রেস্টুরেন্টটি রয়েছে, সেখানে বসে খেতে পারে।আজকের পত্রিকা: আপনাদের যারা সরবরাহকারী তাদের অবস্থা কেমন?আফরোজা খান: বিনিয়োগ তো করেছি, এটা থেকে পেছনে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। অনেক টাকার বিনিয়োগ। এখানে বহু লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আমার সঙ্গে অনেকগুলো ভেন্ডর বা স্টেকহোল্ডার কাজ করছে। কেউ সবজি সরবরাহ করছে, কেউ হয়তো মাছ দিচ্ছে, কেউ হয়তো অন্য কোনো পণ্য দিচ্ছে। আমার ব্যবসা ভালো হলে, এরা ভালো থাকে। আমার খারাপ হলে তাদেরও খারাপ হয়।আজকের পত্রিকা: কিচেনের পাশেই ঠিকানা রেস্টুরেন্ট করেছেন। এটা কেমন চলছে?আফরোজা খান: ওটা আসলে রিসোর্ট নয়, রেস্টুরেন্ট। এখানে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি বসে সময় নিয়ে, বিশ্রাম করে খাওয়া-দাওয়া করা যায়। খান কিচেন যেমন বাইরে খাবার সরবরাহ করে, আর এটাতে কেউ এসে অর্ডার করলে বসে খেতে পারে। এটাও আমরা খুলে দিয়েছি। এখানের বিশেষত্ব হলো এটি একটি খোলা জায়গায়, যে কেউ এসে সময় নিয়ে আশপাশে ঘুরে দেখতে পারবে আবার খেতেও পারবে।আজকের পত্রিকা: সব মিলিয়ে এ ব্যবসা নিয়ে কতটা আশাবাদী?আফরোজা খান: আশা ছাড়তে চাচ্ছি না। যদি করোনার প্রকোপ কমে যায়, সবকিছু স্বাভাবিক হতে থাকে, আমি আশা করি আবারও ঘুরে দাঁড়াব। হয়তো একটু সময় লাগবে। কারণ, মানুষের খাবারের চাহিদা তো আর কমবে না। এমনও হতে পারে, এ ব্যবসাটা আগের চেয়ে আরও ভালো হবে। | 8 |
উচ্চশিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও কূটনৈতিক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে চারটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, এবং দুবাই আমিরাত-এর শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন। উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য প্রথম সমঝোতা স্মারকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিক্ষামন্ত্রী হুসেইন বিন ইব্রাহিম আল হাম্মাদি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল কালাম আবদুল মোমেন স্বাক্ষর করেন। আর কূটনৈতিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য আরেকটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আলী আল সায়েগ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। এমিরেটস সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন এমিরেটস সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের মহাপরিচালক মহামান্য ড. সুলতান মোহাম্মদ আল-নুয়াইমি, এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সভাপতি কাজী ইমতিয়াজ হোসেন। চুক্তিতে দুবাই চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও অন্তর্ভুক্ত। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারের চেয়ারম্যান সুলতান বিন সুলায়েম এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। বৈঠকে দুবাই মিডিয়া কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ আহমেদ বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম এবং সহনশীলতা ও সহাবস্থানের মন্ত্রী শেখ নাহিয়ান বিন মুবারক আল নাহিয়ান এবং বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রে কে হতে যাচ্ছেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট তা জানতে হয়তো আপনাকে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে দেশটির কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের এক শহরের মেয়র নির্বাচনের ফল আপাতত দেখে নিতে পারেন! হ্যা, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সঙ্গে এই মেয়র নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু এটি খুবই মজার একটি নির্বাচন। কারণ, এতে শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছে একটি কুকুর। কুকুরটির নাম উইলবার। এটি হচ্ছে ছয় বছর বয়সী এক ফ্রেঞ্চ বুলডগ। কুকুরটিকে কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের র্যাবিট হ্যাশ শহরের মেয়র পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। আগামী চার বছর এই পদে থাকবে কুকুরটি। যেভাবে কুকুরকে নগরপিতা বানানো শুরু টিভি চ্যানেল এনবিসিকে এমি নোল্যান্ড জানান, একজন স্থানীয় বাসিন্দা ১৯৯০-এর দশকে প্রস্তাব করেন যে, সেখানে ইতিহাস চর্চা করে যে সমিতি তার অর্থ সংগ্রহের জন্য মানুষ নয় কোনো প্রাণীকে মেয়র নির্বাচিত করা হোক। আর তখন থেকেই এই রীতি চলে আসছে। 'উইলবার তার নতুন দায়িত্বকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে। তবে নতুন মেয়রকে তার পেটে এবং কানে নিয়মিতভাবে আদর করতে হয়',-বলেন এমি নোল্যান্ড। র্যাবিট হ্যাশে প্রথম যে কুকুর মেয়র নির্বাচিত হয় তার নাম গুফি। এরপর মোট পাঁচবার ওই শহরে সারমেয় নেতৃত্বকে বরণ করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 5 |
তুর্কি ধারাবাহিক 'জননী জন্মভূমি' নাটকে এ সপ্তাহের গল্পে এলো নতুন মোড়। তুর্কি সেনাবাহিনীর তুরুপের তাস জেভদেত, এবার লড়বে জীবন-মরণের লড়াই। জেভদেতকে নিয়ে সন্দিহান ফিলিপোস, ব্রিগেডিয়ার আদোনিসের দেয়া তথ্যে নিশ্চিত হলো জেভদেতই গ্রীক সেনাবাহিনীতে অনুপ্রবেশকারী সেই বিশ্বাসঘাতক। রাগে ক্ষুব্ধ ফিলিপোস অবিলম্বে জেভদেত আর তার পরিবারকে আটক করার নির্দেশ দিলো। শেষমেশ পরিবারকে বাঁচানোর জন্য নিজেকে বলি দিয়ে গ্রীক সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলো জেভদেত। অবশ্য সামরিক আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অকপটে অস্বীকার করলো সে। আদালতকে জানালো তুর্কি সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা জানার জন্যই দেশপ্রমিক সেজে তাদের মাঝে অনুপ্রবেশ করাই ছিলো তার আসল উদ্দেশ্য। যথাযথ প্রমাণের অভাবে জেভদেতের কথা কেউ বিশ্বাস করলো না। কারাগারে বন্দী হলো জেভদেত, চললো অমানবিক নির্যাতন। কিন্তু জেভদেত তার কথায় অটল। আদৌ কি নিজেকে বাঁচানোর কোনো পরিকল্পনা আছে জেভদেতের? নাকি এবার গ্রীক সেনাবাহিনীর বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই প্রাণ হারাতে হবে তাকে? দেখতে চোখ রাখুন দীপ্ত টিভির পর্দায়। প্রচারিত হচ্ছে প্রতিদিন রাত ৮টায়।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 2 |
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) দুই সদস্যকে আটক করেছে র্যাব।
শনিবার সকালে উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক দুই জঙ্গি- আব্দুল্লাহ আল মামুন ও রকিবুল ইসলামের কাছ থেকে জঙ্গিবাদী বই ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
ঝিনাইদহ র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মনির আহমেদ জানান, নাশকতার উদ্দেশ্যে কার্পাসডাঙ্গা এলাকায় হুজির ৬/৭ জন সদস্য জড়ো হয়েছে- এমন খবর পেয়ে র্যা বের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
তিনি জানান, অভিযানকালে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও রকিবুল ইসলাম রকিব নামে হুজির দুই সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে জঙ্গিবাদী বই, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
| 6 |
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম রোববার থেকে টানা ছয় দিন বন্ধ থাকছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (শনিবার) থেকে আবারও শুরু হবে আমাদানি-রফতানি কার্যক্রম।
তবে এই ছয় দিনও সাতক্ষীরার একমাত্র স্থলবন্দর ভোমরা ইমিগ্রেশন দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীরা যথারীতি যাতায়াত করতে পারবেন।
ভোমরা স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার মো. আব্দুল কাইয়ূম সমকালকে বলেন, 'পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রোববার থেকে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ছয় দিন ভোমরা স্থলবন্দরের যাবতীয় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।'
তবে এই ছুটিতেও ভোমরা ইমিগ্রেশন দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীরা যথারীতি যাতায়াত করতে পারবেন বলে তিনি জানান।
ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম সমকালকে জানান, এই ছয় দিনে সরকার প্রায় ৯ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে।
| 6 |
চট্টগ্রাম টেস্টে স্পিনারদের দাপট চলছেই। স্পিনে নাকানি-চুবানি খাচ্ছেন দুই দলের ব্যাটসম্যানরাই। প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশ তাদের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে হারায়। আগের দিন শেষে ৫ উইকেট হাতে রেখে ১৩৩ রানে এগিয়ে থেকে শনিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের খেলায় সকাল সাড়ে নয়টায় মাঠে নামে টাইগাররা। ইনিংসে মাত্র ৫৫ রান তুলতেই বাংলাদেশ হারিয়েছে টপঅর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে। প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের কেউই বড় স্কোর করতে পারেননি। এদিকে, তৃতীয় দিন ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই মুশফিকুর রহিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। উইন্ডিজ পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের নিচু হয়ে আসা বলের লাইন ভুল করলে মুশফিকের উইকেট ভেঙে যায়। ব্যক্তিগত ১৯ রানে বিদায় নিলেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। মাহমুদুল্লাহ ও মেহেদী মিরাজ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মিরাজও বেশিক্ষণ উইকেট থিতু হতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১৮ রান করে বিশুর বলে ডৌরিচের হাতে ক্যাট তুলে দেন। ৭ উইকেটে ১০৬ রান নিয়ে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহ ২০ ও নাঈম হাসান ব্যাটিং করছেন। | 9 |
নিবন্ধনকারীদের দ্রুত টিকা দিতে প্রতিটি কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।রোববার (২২ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মিরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।তিনি বলেন, নিবন্ধন করলেও এসএমএস পেতে সবাইকেই কম বেশি অপেক্ষা করতে হবে। আশা করছি দ্রুত টিকা দেওয়া হবে।ফ্লোরা বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে আমাদের প্রস্তুতির জায়গা থেকে এখনই সরে যাচ্ছি না, কারণ এখনও শনাক্তের হার ১৬ শতাংশের বেশি। কোভিড, নন-কোভিড সবাইকেই সমান গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।অন্যদিকে টিকা চুরির ঘটনায় তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম।তিনি বলেন, এ ঘটনায় অধিদপ্তরের কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচংয়ের কাবিলা থেকে দাউদকান্দির শহীদ নগর অংশে অন্তত ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে মহাসড়কের একাংশ বন্ধ করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর রাস্তার মেরামতের কাজ করার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর। এদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা-ই-রাব্বি জানিয়েছেন, মহাসড়কের নিমসারে দুর্ঘটনা এবং সড়ক মেরামতের কারণে মানুষকে কিছুটা ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। জানা যায়, মহাসড়কের চান্দিনা অংশে রাস্তার একপাশ বন্ধ রেখে মেরামত কাজ করা হচ্ছে। সড়কের একই অংশে দুই দিকের গাড়ি চলাচল করছে। যার কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে এসেছে। এতে আটকা পড়ছে হাজার হাজার গাড়ি। তাছাড়া সড়কের নিমসারে উল্টোপথে সড়ক বিভাজকের ওপর দুর্ঘটনাকবলিত একটি ট্রাক পড়ে আছে। রাস্তা বন্ধ ও সড়কে দুর্ঘটনা দুটি কারণেই যানজট ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ব্যক্তিগত কাজে ঢাকার উদ্দেশে বেলা ৩টায় রওনা হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক জহিরুল হক বাবু। তিনি বলেন, "আমার আজকে রাত ৮ টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছাতে হবে। কিন্তু মহাসড়কের বুড়িচং অংশের কাবিলাতেই আটকে আছি দুপুর থেকে। দিন গড়িয়ে রাত হয়েছে তবু যানজট ছাড়ছেনা।" শুক্রবার ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার্থী এমরান হোসেন বলেন, "বেলা ২টায় কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে এখনও চান্দিনাতেই আটকে আছি।" ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, "এক লেন বন্ধ করে মহাসড়ক মেরামতের কাজ করার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ সময়ে যানবাহনের চাপ থাকে, তাই সওজকে আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। আমাদের দুটি টিম যানজট নিরসনে কাজ করছে।" সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, "এখন শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় মেরামত কাজ এগিয়ে নিতে হচ্ছে। এক লেনে গাড়ি চলছে। নিমসারে দুর্ঘটনাও ঘটেছে। তাই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তাই মানুষের সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে।" | 6 |
মাত্র ৪৪ মিলিমিটার মাঝারি বৃষ্টি ঝরেছে গতকাল রোববার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। আর তাতেই হাঁটু থেকে কোমরপানিতে তলিয়ে গেছে নগরের অধিকাংশ এলাকা। অথচ এ নগরের জলাবদ্ধতা দূর করতে ১১ হাজার কোটি টাকার চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকারি তিনটি সংস্থা। সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব প্রকল্পে গত তিন বছরে ব্যয়ও করেছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু মেলেনি সুফল। চট্টগ্রামের মেয়র অবশ্য বলছেন, শিগগিরই নগরবাসীর মুক্তি মিলবে জলাবদ্ধতা থেকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই মুক্তি সহজে আসছে না। জলাবদ্ধতার জন্য চট্টগ্রামের সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দায়ী করছেন খালের মধ্যে দেওয়া বাঁধকে। তিন দিন আগে তিনি মন্তব্য করেন, 'একটু ধৈর্য ধরতে হবে নগরবাসীকে। তবে প্রকল্পের প্রয়োজনে খালের মুখে দেওয়া বাঁধ এখনই অপসারণ করতে হবে। তা না হলে এই বর্ষাতেই গলাপানিতে ডুববে চট্টগ্রাম।' তবে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলছেন, 'যে প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সেটির তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা নেই। সিডিএ কোনোভাবেই জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান নয়। খালের মুখের যে বাঁধের কথা বলা হচ্ছে, তা আগেই কেন মনিটর করা হয়নি? বর্ষার আগেই কেন তা অপসারণ করা হয়নি? আসলে হাজার হাজার কোটি টাকার কাজে নেই সমন্বয়হীনতা। তাই আসছে না কাঙ্ক্ষিত সুফল।' সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ আলী বলছেন, 'হঠাৎ অতিবৃষ্টি হয়েছে। তাই কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে পানি জমেছে। তবে নালা ও খালের প্রশস্ততা বেড়েছে, তাই পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। খালের বাঁধগুলোও কেটে দিয়েছি। আটকে থাকা পানি সরাতে কুইক রেসপন্স টিম ও ইমার্জেন্সি টিম কাজ করছে।' জলাবদ্ধতা দূর করতে চার প্রকল্প: নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে 'চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন' প্রকল্প ও দুই হাজার ৩১০ কোটি টাকা ব্যয়ে 'কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ' প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এক হাজার ৬২০ কোটি টাকা ব্যয়ে 'চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা বা জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিস্কাশন উন্নয়ন' প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এক হাজার ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরের বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। সিডিএর খরচ এক হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা: ২০১৭ সালের আগস্টে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে 'চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন' প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। এটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল খালের আবর্জনা অপসারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ প্রকল্পের কাজ। ইতোমধ্যে নগরের ৩৫টি খাল থেকে তিন হাজার ১৮৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ৫৪টি ব্রিজ-কালভার্টের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে পাঁচটি খালের মুখে স্লুইসগেট নির্মাণ এখনও শেষ হয়নি। খালগুলোর পাশে ১৭৬ কিলোমিটার প্রতিরোধ দেয়ালের মধ্যে ৫৮ কিলোমিটারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। পাহাড়ি বালু আটকানোর জন্য ৪২টি সিলট্র্যাপের মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে মাত্র ১৫টির। খালের দু'পাড়ে ৮৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও কাজ শেষ হয়েছে মাত্র দেড় কিলোমিটার। প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে কেবল অর্ধেক! অথচ ব্যয় হয়ে গেছে এক হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। চাক্তাই-কালুরঘাট সড়ক নির্মাণ প্রকল্প: ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল দুই হাজার ৩১০ কোটি টাকা ব্যয়ে 'কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ' প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। এ প্রকল্পের আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার সড়কসহ বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি ১২টি খালের মুখে রেগুলেটর ও পাম্প হাউস নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাতটি স্লুইসগেট নির্মাণকাজের ৮০ শতাংশ ও তিনটির ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি দুটির কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে। এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে চলতি মাসে। অথচ অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ আর ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে ৬৬৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশ বলেন, '১২টি স্লুইসগেটের মধ্যে পাঁচটির অবকাঠামো কাজ শেষ হয়েছে। এখন পাম্প ও গেট বসানোর কাজ বাকি আছে। এগুলো ইউরোপ থেকে আমদানি করা হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এগুলো আসতে দেরি হচ্ছে। তাই বর্ষায় গেটগুলো চালু করা সম্ভব হবে না।' বাড়ইপাড়া খাল খনন প্রকল্প: এক হাজার ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরের বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিলে ওই বছরের ২৪ জুন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। প্রায় সাত বছর পেরোলেও এর কাজ শুরুই করতে পারেনি সিটি করপোরেশন। ইতোমধ্যে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো মেয়াদও শেষ হবে চলতি মাসে। প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি এখনও শূন্যের কোটায়। অথচ জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে ৯১১ কোটি টাকা। পাঁচটি লটে ভাগ করে ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এখনও অনুমোদন মেলেনি তিনটি লটের। দুটি লটের অনুমোদন মিললেও এখনও ভূমি বুঝিয়ে দেয়নি জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, 'প্রকল্পের ৯০ শতাংশ টাকা ব্যয় হবে জমি অধিগ্রহণে। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণের ২০৮ কোটি ও ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের ১০৬ কোটি টাকা সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয়ের কথা ছিল। কিন্তু সিটি করপোরেশনের ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয়ের সামর্থ্য নেই। জেলা প্রশাসনকে এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা একসঙ্গে দিতে না পারায় ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও থমকে আছে। প্রকল্পের সম্পূর্ণ টাকা সরকারি তহবিল থেকে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্প সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।' ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে পাউবো: ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ৬২০ কোটি টাকা ব্যয়ে 'চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা বা জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিস্কাশন উন্নয়ন' প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রকল্পের আওতায় ২৩টি খালের মুখে রেগুলেটর বসানো হবে। কর্ণফুলী নদীতীরে নির্মাণ হবে ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল। ইতোমধ্যে মাত্র তিনটি রেগুলেটরের কাজ চলছে। বন্যা প্রতিরোধ কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে এর মধ্যেই ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক কর্নেল কবিরুল ইসলাম বলেন, 'আর্থিকসহ নানা সংকটে পুরোদমে কাজ করা যায়নি। প্রকল্পের অগ্রগতি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে।' সরেজমিন নগর চিত্র: মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাতেই গতকাল নগরের মুরাদপুর, ষোলশহর, চকবাজার, কাপাসগোলা, বহদ্দারহাট, কাতালগঞ্জ, চাক্তাই, বাকলিয়া, ডিসি রোড, রহমতগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর ও চান্দগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। সরেজমিন দেখা গেছে, কাপাসগোলায় ছিল হাঁটুপানি, মুরাদপুরে ছিল প্রায় কোমরপানি। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কাতালগঞ্জের বাসিন্দা ডা. সীমান্ত ওয়াদ্দেদার বলেন, 'বৃষ্টিতে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছি। বাসার সামনে কোমরপানি। তাই কর্মস্থলে যেতে পারিনি।' বহদ্দারহাট স্বজন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী ফরিদুল আলম বলেন, 'সড়ক থেকে কয়েক ফুট উঁচু মার্কেট, তবুও এর নিচতলা তলিয়ে গেছে।' কাপাসাগোলা আবদুল হাকিম সওদাগর লেনের বাসিন্দা ডা. এসএম জসিম উদ্দিন বলেন, 'বাসার সামনে কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরপানি জমে গেছে।' নগরের একটি বই বিপণি কেন্দ্রের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, 'কোমরপানি মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়তি ভাড়া গুনে রিকশায় করে কাজে এসেছি।' হাসপাতালেও হাঁটুপানি: টানা দু'দিনের বৃষ্টিতে নগরীর নিম্নাঞ্চলে হাসপাতালেও জমেছে হাঁটুপানি। আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলায় জমেছে হাঁটুপানি। জরুরি বিভাগও তলিয়ে গেছে পানিতে। জলাবদ্ধতার কারণে হালিশহরের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতাল এবং সাউথ পয়েন্ট হাসপাতালে আসা রোগীদেরও পোহাতে হয় ভোগান্তি। মা ও শিশু হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন শিপিং কর্মকর্তা আবদুল আহাদের স্ত্রী। তিনি বলেন, 'দিনভর পানিতে সয়লাব ছিল মা ও শিশু হাসপাতাল।' | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.