text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাঁদের মৃত্যু হয়। হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁর দুজন করে মারা গেছেন। এর মধ্যে নাটোরের একজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। অন্য পাঁচজন মারা গেছেন করোনার উপসর্গে। তাঁদের নমুনা পরীক্ষা হয়নি।মৃতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও চারজন নারী। রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চলতি মাসে এ নিয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হলো। ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯ জন। শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটে মোট রোগী ছিলেন ৮৮ জন।এর মধ্যে রাজশাহীর ৩৪ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৫ জন, নাটোরের ৯ জন, নওগাঁর ১৩ জন, পাবনার ১১ জন, কুষ্টিয়ার তিনজন এবং সিরাজগঞ্জ ও মেহেরপুরের একজন করে রোগী ছিলেন। জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার জেলার ২০৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ১৩ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট হয়েছে। সংক্রমণের হার ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। | 6 |
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের যে প্রত্যাশা, সেগুলোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন-এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত কী বলেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সম্বন্ধে বিশ্বব্যাপী সবাই অবগত আছে। এখানে নতুন করে বলার কিছু নেই। এসব ব্যাপারে তাঁরা উদ্বিগ্ন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে আমীর খসরু বলেন, নির্বাচনের বিষয় বাদ দিয়ে তো কোনো আলোচনা হতে পারে না। কারণ, আগামী নির্বাচন প্রশ্নে সবার চোখ তো বাংলাদেশের দিকে। স্বাভাবিকভাবে তারা জানতে চেয়েছেন, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে, আগামী নির্বাচনে কী হতে যাচ্ছে? এ ব্যাপারে তাদেরও পর্যবেক্ষণ আছে। নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত কিছু জানতে চেয়েছেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, 'এ ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ তো আমাদের দলের নিজস্ব ব্যাপার।' তিনি জানান, বৈঠকে জার্মানির রাষ্ট্রদূত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন। আজ বিকেল তিনটা থেকে প্রায় পাঁচটা পর্যন্ত ওই বৈঠক হয়। বৈঠকে জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের উপপ্রধান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান সুজনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করেছে জেলা ছাত্রলীগ। বুধবার সংগঠনের প্যাডে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সেরনিয়াবাত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সুপারিশ করা হয়।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগে গত ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চরকাউয়া পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের কর্মী জাফর ইকবাল, মাহফুজ, পরিতোষ ও সুমনকে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতা সুজন। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মানবেন্দ্র সরকার বাদি হয়ে ২৬ এপ্রিল বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় চার দিনে হিংস্র শিয়ালের আক্রমণে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শিয়ালের উৎপাতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী হামলা চালিয়ে অন্তত চারটি শিয়াল মেরে ফেলেছেন। শিয়ালের আক্রমণ থেকে বাঁচতে স্থানীয় লোকজন দল বেঁধে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন। ভয়ে সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না লোকজন। স্থানীয় লোকজন জানান, রাত নামলেই গ্রামের ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা মানুষ দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে শিয়াল, মানুষকে আক্রমণ করছে। আত্মরক্ষার জন্য মানুষও লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিয়াল পিটিয়ে মারছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার রাতে ফুলকোর্ট গ্রামের চায়ের স্টলে বসে ছিলেন গ্রামের পাঁচ-ছয়জন। পাশের ঝোপজঙ্গল থেকে দল বেঁধে আসা শিয়াল হঠাৎ তাঁদের আক্রমণ করে। শিয়ালের কামড়ে সাইদুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও আবদুর রহমান নামের তিনজন আহত হন। তার এক দিন আগে ভোরে ফুলকোর্ট দক্ষিণপাড়া গ্রামের মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার সময় চারজন শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন। নজরুল ইসলাম বলেন, চার দিনে শিয়ালের আক্রমণে দুই গ্রামের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। মানুষের হামলায় মারা গেছে চারটি শিয়াল। আহত ব্যক্তিরা শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন কানিছ ফারজানা বলেন, বাসস্থান ও খাদ্য-সংকটে দিশেহারা এবং জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে শিয়ালের দল কয়েক দিন ধরে ওই দুই গ্রামে মানুষ দেখলেই আক্রমণ করছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছেন। তবে শিয়াল মেরে না ফেলার জন্য স্থানীয় লোকজনকে পরামর্শ দেন তিনি। | 6 |
সব শঙ্কা কাটিয়ে অবশেষে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ অলিম্পিকের পর্দা উঠেছে। শুক্রবার (২৩ জুলাই) প্রায় দর্শকবিহীন মঞ্চে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হয়। শুরুতেই জ্বলে অলিম্পিকের বাতি। ক্রমে ক্রমে পারফরমাররা এসেছেন। নৃত্যশিল্পীরা নেচেছেন, বাতাসে ছিল জাপানি সংগীতের আবহ। জাতীয় পতাকার প্রদশর্নের পর জাতীয় সঙ্গীতও গাওয়া হয়েছে স্টেডিয়ামে, গেয়েছেন প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী মিসিয়া। জাতীয় পতাকা বহন করেছেন জাপানের শীর্ষ কয়েকজন অ্যাথলেট, স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মকর্তারা, সম্রাট নারুহিতো এবং আইওসি প্রধান থমাস ব্যাক। অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় যত গড়িয়েছে ততই বৃদ্ধি পেয়েছে পারফরমারদের সংখ্যা। জমে উঠেছে রঙিন-জমকালো অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এই আসর আয়োজনের পেছনে যাদের আত্মত্যাগ রয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন করা হয় অলিম্পিক উপলক্ষ্যে চলমান প্যানডেমিকে যাদের মৃত্যু হয়েছে। প্রদর্শনী হয় অলিম্পিকের পাঁচটি রিংসও। এরপর শুরু হয় স্টেডিয়ামে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর আগমণ। প্রথমেই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে গ্রীস। এরপর একেক রঙে ঢঙে স্টেডিয়ামে আসে বড়-ছোট দলগুলো। পতাকা হতে বাংলাদেশ বহর স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে একেবারে শেষের দিকে। লাল-সবুজের পতাকা বহন করেন সাঁতারু আরিফুল ইসলাম।এবারের এই অলিম্পিকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয় বাংলাদেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ইউনুসকে। তাকে সম্মাননা দেয়ার সময় বিশেষ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয় অলিম্পিক কমিটির পক্ষ থেকে। ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান ও ইউনুস স্পোর্টস হাব প্রতিষ্ঠার জন্য তাকে এই পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। এবারের অলিম্পিকে ৩৩টি খেলার ৫০টি ডিসিপ্লিনে ৩৩৯টি ইভেন্ট তথা স্বর্ণপদকের জন্য লড়বেন প্রায় ২০৫টি দেশের ১১ হাজার ৩২৪ জন ক্রীড়াবিদ। এবার দশম অলিম্পিকে অংশ নিচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। গত শনিবার জাপানে পৌঁছেন তীরন্দাজ রোমান সানা, দিয়া সিদ্দিকী ও শ্যুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি। তাদের সঙ্গে আছেন আর্চারির টিম লিডার কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল, রোমান ও দিয়ার প্রশিক্ষক মার্টিন ফ্রেডেরিক ও শ্যুটিংয়ের প্রশিক্ষক গোলাম শফিউদ্দিন খান। ধাপে ধাপে টোকিও পৌঁছাবেন সুইমিংয়ের আরিফুল ইসলাম, জুনাইনা আহমেদ ও অ্যাথলেটিকসের আব্দুল্লাহ হেল কাফি। সব মিলিয়ে অলিম্পিকের ৩২তম আসরে অংশগ্রহণ করছে ৬ বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদ। ১৯৮৪ সাল থেকে এই পর্যন্ত নয়টি অলিম্পিক গেমসে অংশ নিলেও এখনও একটি পদকও পায়নি বাংলাদেশ। দশম আসরে পদক ভাগ্য খুলে কি না দেখা যাক। | 12 |
যানজটে অচল হয়ে আর বায়ু ও শব্দদূষণে বিষাক্ত হয়ে ঢাকা প্রায় পরিত্যক্ত মহানগরে পরিণত হয়েছে। দুই বছর টানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সরকার ও প্রশাসন ঢাকার যানজট বিষয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর ঢাকা যেন অচল হয়ে পড়েছে। অন্ধ হলেই প্রলয় বন্ধ থাকে না! বিগত আড়াই দশকে বিএনপি, তত্ত্বাবধায়ক ও আওয়ামী লীগের ছয়টি সরকার মিলে ঢাকায় সাতটি উড়াল সড়ক করেছে, কিন্তু যানজট কমেনি। বর্তমানে একটি মেট্রো রেললাইনের কাজ চলছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি বিআরটিসহ আরও চার রুটে মেট্রোরেল তৈরির পরিকল্পনা আছে। ১৩ বছর পর সব রুটে যখন মেট্রোরেল চালু হবে, তখনো পরিবহনব্যবস্থার মাত্র ১৭ ভাগ চাপ সামাল দেওয়া যাবে। তার মানে, যানজট পরিস্থিতি পুরোপুরি সমাধান হচ্ছে না এত উন্নয়নের পরও। রাজধানীর যানজট নিরসনে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় দৈনিক গড়ে তিন কোটি ট্রিপ বা লোক চলাচল ছিল (একজন লোক যতবার চলাচল করে, ততটা ট্রিপ তৈরি হয়)। ২০২৫ সালে ৪ কোটি এবং ২০৩৫ সালে ৫ কোটির বেশি ট্রিপ তৈরি হবে। এর বাইরেও আছে পণ্য পরিবহন। বিষয়টি বুঝতে পেরে সরকার এখন ঢাকার মাটির নিচের ২৫ থেকে ৭০ ফুট গভীরে গিয়ে ৪০ লাখ যাত্রীর পারাপার সক্ষমতার ১১টি সাবওয়ে নির্মাণের কথা ভাবছে। সমস্যা হচ্ছে, ২০১২ সালে একনেকে পাসকৃত মেট্রোরেলের একটি লাইনও ১০ বছরে এসে উদ্বোধনের মুখ দেখেনি। ঘনবসতিপূর্ণ ইটপাথরের বস্তিতে ২০৩৫ বা ২০৪০ আগে তারা আদৌ কোনো সাবওয়ে উদ্বোধন করতে পারবে কি? তত দিনে ঢাকা কি শতভাগ পরিত্যক্ত হয়ে পড়বে না? তাহলে উপায় কী? এখানে সাত ধাপের 'বিগ-সেভেন' নামে একটা মডেল প্রস্তাব করছি। তদবিরভিত্তিক প্রশাসন পুরোপুরি রূপান্তর করে মেধা, যোগ্যতা ও বিধিবদ্ধ আইনি প্রক্রিয়াভিত্তিক উন্মুক্ত ডিজিটাল প্রশাসন করতে হবে। ঢাকার বাইরের কর্মচারী-কর্মকর্তা কিংবা যেকোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানপ্রধান-উপপ্রধানসহ লাখ লাখ মানুষকে দাপ্তরিক কাজ, বরাদ্দ, ক্রয়, অনুমতিপত্র, অনুমোদন, পদায়ন, বদলি কিংবা সমস্যা নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার সচিবালয়ে ডেকে আনা বন্ধ করতে হবে। সব কাজ ডিজিটাল সফটওয়্যার, আউটলুক মেইল ও জুম মিটিং ও গুগল মিটের মতো ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে করতে হবে। এতে রাস্তায় লোক ও গাড়ি চলাচল কমবে, সরকারের পরিবহন ও জ্বালানি খরচ, সর্বোপরি চুরি-দুর্নীতিও কমে আসবে।সরকারি অফিসের প্রতিটি তদবির, 'লাঞ্চের পরে আসেন, বিকেলে আসেন, স্যার বাইরে, কাল আসেন, স্যার ব্যস্ত, আজকে হবে না' ইত্যাদি ঘটনা একবারের জায়গায় পাঁচ-দশবার যাতায়াত বা ট্রিপ তৈরি করে (পড়ুন রাস্তার যানজট)। তাই এসব স্যারদের শতভাগ যোগাযোগ ই-মেইলভিত্তিক, রেকর্ডেড ফোন কল এবং অন্তত নব্বই শতাংশ মিটিং অনলাইনে করতে হবে। আবশ্যকীয় দৈহিক সাক্ষাৎগুলোর কিছু আঞ্চলিক অফিসে যাবে। সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় কাজ বিকেন্দ্রীকরণ করে উপজেলার অফিসে যাবে। কাগজের ফাইলের পরিবর্তে ডিজিটাল ডোসিয়ার হবে। সব ধরনের ফাইল প্রসেসিং সময় নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। যেকোনো ফাইল কাগজভিত্তিক না হয়ে সফটওয়্যার ও ডেটাবেইসভিত্তিক হবে। সচিব-কর্তা-স্যারদের নিরীক্ষা, পর্যালোচনা অনুমতির অনুমোদন স্বাক্ষরের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকবে, ওই সময়ের মধ্যে কাজ না করলে কাজ উচ্চ স্তরে চলে যাবে। জরিমানা হিসেবে স্যাররা পদায়ন ও প্রমোশনে শাস্তির পয়েন্ট পাবেন। রাজধানীর দুই কোটি মানুষসহ সারা দেশের আরও কয়েক কোটি মানুষ আগারগাঁওয়ের অফিসগুলোতে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ইত্যাদি অফিসে যান। দেশের প্রায় ২০ লাখ গাড়ির ফিটনেসের কাজে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাজে, মামলা নিষ্পত্তির কাজে একবারের জায়গায় তিন থেকে দশবার মিরপুরে যেতে হয়। এতে যানজট তৈরি হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স গোপনীয় ডাকযোগে ব্যক্তির ঠিকানায় ডেলিভারি দিতে হবে, আর যাবতীয় আবেদন নিরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার হবে অনলাইনে এবং ওয়ার্ডের ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল সেবাকেন্দ্রে। ফিঙ্গার শনাক্তকরণ আইরিশ যন্ত্রপাতি নিয়ে যেতে হবে থানায় থানায় বিশেষ সময়ে। কোটি মানুষ কেন্দ্রীয় সেবাকেন্দ্রে যাবে না, বরং সেবাকেন্দ্র বিকেন্দ্রীভূত হয়ে মানুষের দোরগোড়ায় আসবে।ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটর গাড়ির ফিটনেস যাচাই প্রতিটি কাজ থানাভিত্তিক লাইসেন্স দিয়ে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে হবে, বিআরটিএ শুধু কাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও অডিট করবে। মোটরগাড়ি সড়ক আইন ভাঙলে, দুর্ঘটনা করলে ডিজিটাল ক্যামেরায় শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকের ব্যাংক থেকে জরিমানা কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশ রাস্তায় কোনো গাড়ি থামাতে পারবে না। প্রাথমিক পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজ ওয়ার্ডের সীমানায় এবং প্রত্যেক মাধ্যমিক শিক্ষার্থীকে নিজ থানায় অবস্থিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানে বাধ্য করতে হবে। এতে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং যানজট কমবে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত থাকবে, তবে ঢাকার বাইরের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সব আধুনিক, কর্মোপযোগী এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদামাফিক কারিগরি বিভাগ খুলতে হবে। ঢাকার বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সভাপতিকে বাধ্যতামূলক আবাসিক হতে হবে। এভাবে জেলা, উপজেলা ও মফস্বল চিকিৎসকদের কর্মস্থলে বসবাসের বাধ্যবাধকতা থাকবে। নগরে বসবাস করে মফস্বল নিয়ন্ত্রণের বর্তমান যানজট সহায়ক মডেল বন্ধ করতে হবে। কার্যকর স্থানীয় শাসন এবং ডিজিটাল প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষমতা ও শাসনব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করে ঢাকার বাইরে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-সেবা-চাকরি-নিরাপত্তা ইত্যাদি নিয়ে যাতে হবে। নগরায়ণের, কর্মের, শিক্ষার, স্বাস্থ্যের, নিরাপত্তার; অর্থাৎ জীবনের সব ঘটনা ও প্রয়োজনের একমুখী ঢাকাকেন্দ্রিক স্রোত থামাতে হবে। সুস্পষ্টভাবে বলতে গেলে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয় এবং জাতীয় সংসদ থেকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকৃত হয়ে সিটি করপোরেশন, পৌর করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তরে না নিলে এবং যাবতীয় সরকারি ও বেসরকারি সেবা শহরের ওয়ার্ড, গ্রাম ও মফস্বলের উপজেলা ও ইউনিয়নে না গেলে ঢাকার ও অপরাপর মহানগরের যানজটের স্থায়ী কোনো সমাধান হবে না; অর্থাৎ স্থানীয় সরকারকে টেকসই মডেলে ক্ষমতায়ন করে সত্যিকারের ডিজিটাল প্রশাসন প্রবর্তনই মূল কাজ। মানুষ যেখানে বসবাস করে সেখানেই তাকে জন্মসনদ থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট, পুলিশি সেবা এবং সর্বোপরি কর্মের জোগান দিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় শহরে উন্নত স্কুল-মাদ্রাসা, হাসপাতাল, ব্যাংকিং সেবা, বিনোদনকেন্দ্র এবং শিল্প, উদ্যোক্তালয়সহ নিবিড় নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে মানুষকে ঢাকা থেকে সরাতে হবে। ডিজিটাল প্রশাসন নিশ্চিত করতে পারলে কেন্দ্র বা সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার কথা বলে ঢাকায় প্রধান কার্যালয় রাখার বাধ্যবাধকতা উঠে যাবে। সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়, সেনা-নৌ-বিমান-আনসার-পুলিশের সদর দপ্তর, সচিবালয় ও মন্ত্রণালয়ের প্রধান অফিসগুলোকে জেলা ও বিভাগে নিতে হবে; অর্থাৎ আঞ্চলিক কর্ম তৈরির পরিকল্পনায় যেতে হবে। ডিজিটাল প্রশাসনের যুগে একটি শহরে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস করার যুক্তি নেই। করপোরেট কর ও শুল্কে পর্যাপ্ত ছাড় ও প্রণোদনা দিয়ে বেসরকারি ব্যাংক বিমা ও করপোরেট কোম্পানির প্রধান কার্যালয় বিভাগীয় শহরে পাঠানো খুবই সহজ। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে বিশেষ সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রকোপ বেড়েছে। ঢাকায় বৃষ্টির পানিতে মাটি ফিল্টার করার জন্য পুকুর লেক কিংবা উন্মুক্ত পার্ক নেই। বাসাবাড়ির চারপাশ বাঁধাই করা। বৃষ্টি ও ড্রেন-স্যুয়ারেজের পানি সব মিলিয়ে জলাবদ্ধতার মহাবিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা। অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে তুলতে পানির স্তর নেমে গেছে। এমতাবস্থায় খাল উদ্ধার, ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন ও আরবান রানঅফ না কমিয়ে পাতালরেল ঝুঁকিপূর্ণ স্বপ্ন। ঢাকার দরকার কম খরচের আধুনিক সারফেইস ট্রাম, বৈদ্যুতিক ট্রাম বাস ও বিআরটি। এগুলো বর্তমান রাস্তায় চলবে, ট্রামের জন্য ফ্লাইওভার লাগে না। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক করা হবে, তবে অত্যধিক জলাবদ্ধতায় ট্রামগুলোকে পার্কিংয়ের জন্য ঢাকার আশপাশের এলাকায় কয়েকটি উঁচু পার্কিং লট বানাতে হবে। ট্রাম, বৈদ্যুতিক ট্রাম বাস সব এলাকার সব মাঝারি ও বড় রাস্তায় বাস্তবায়ন করা হবে, অলিগলি ছাড়া। প্রয়োজনে পুরো রাস্তাই বা তার অর্ধেক ট্রামকে ছেড়ে দিতে হবে, সেখানে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে না। ঢাকায় কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস থাকবে না। শুধু চৌরাস্তায় একটা রাস্তাকে ড্রেনেজ, পাম্পিং সুবিধাসহ আন্ডারপাসে নিয়ে যেতে হবে। এরপরে আসবে একমুখী রাস্তা, জোড়-বিজোড় গাড়ির ধারণা, রাজধানীর ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানির দ্বিগুণ মূল্য, অতি উচ্চ কার্বন কর, ব্যক্তিগত গাড়ির উচ্চ রুট ফি, দ্বিতীয় গাড়িতে প্রথম গাড়ির ৬ থেকে ১০ গুণ শুল্কারোপ এসবের বাস্তবায়ন।পাশাপাশি ঢাকার বাইরের ও প্রবেশপথগুলোকে আন্তসংযোগ করুন। জলপথ, সার্কুলার রেল, রিং-রডের মাধ্যমে। ঢাকার ভেতর দিয়ে বাইরের পরিবহন চলাচল বন্ধ করুন। আন্তজেলা বাসস্টেশন ঢাকার প্রবেশপথের বাইরে চলে যাবে। ট্রাম, বিআরটি ও মেট্রোরেলের সঙ্গে প্রবেশপথগুলো সংযুক্ত হবে। আশি ও নব্বই দশকে প্রকৌশলী-স্থপতিরা কাঞ্চন ব্রিজের ওপারে রূপগঞ্জে সচিবালয় সরাতে পরামর্শ দিয়েছিলেন অনেকটা মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ার আদলে। কোনো সরকারই সে কথা শোনেনি। শীতলক্ষ্যা, বালুসহ কয়েকটি নদ-নদীর ক্যাচমেন্ট এলাকা বালু ভরাট করে একের পর এক অভিজাত আবাসিক প্রকল্প করা হয়েছে, সেগুলো আর বাড়ানোর সুযোগ নেই। মেট্রোরেল কিংবা পাতালরেল অসহনীয় যানজট ও বিশৃঙ্খল গণপরিবহনব্যবস্থা থেকে স্থায়ী মুক্তি দেবে না, মুক্তি আসবে সেবাদানের পদ্ধতিগত পরিবর্তনে, রাজনৈতিক-প্রশাসনিক ক্ষমতার কার্যকর চূড়ান্ত বিকেন্দ্রীকরণে এবং ব্যবসা-সেবা-শিক্ষা-চাকরিকে ঢাকার বাইরে বিকেন্দ্রীভূত করে। ঢাকাকে বাঁচানোর উপায়-কৌশল আছে, সিদ্ধান্ত নেতৃত্বের! ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব টেকসই উন্নয়নবিষয়ক লেখক। গ্রন্থকার-চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ, বাংলাদেশ: অর্থনীতির ৫০ বছর, অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নের অভাবনীয় কথামালা। [] | 8 |
করোনা মহামারীর মধ্যে বাজার কিংবা শপিংমলের সব ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক না থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার। এসব স্থানে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে আকস্মিক অভিযান পরিচালিত হবে এবং ওইসব স্থানে যে কোনো দিন যে কোনো মার্কেটে আকস্মিক অভিযান চালানো হবে বলে সতর্ক করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানানোর সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, আমি সম্প্রতি একটি কাজে একটি মার্কেটে গিয়েছিলাম, আমি সেখানে বেশি লোককে মাস্ক পরতে দেখিনি। পরে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, আমরা ক্রস চেক করব যে কোনো দিন, সে মার্কেটে যদি সবাইকে মাস্ক পরা না দেখি তাহলে উই উইল টেইক অ্যাকশন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, 'অনেক দেশেই বিশেষত শীতপ্রধান দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন নভেম্বরের শেষ থেকে সেকেন্ড ওয়েভ আসে কি-না সেই প্রিপারেশন রাখতে হবে। ম্যাসিভ যেন প্রিপারেশন থাকে। মঙ্গলবার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বান করেছি।' প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন আমাদের যেন প্রস্তুতি থাকে। প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন সেকেন্ড ওয়েভ যদি আসে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যদি সচেতন হই তাহলে আমাদের জন্য এটা সুবিধা হবে। পাশাপাশি উনি নির্দেশনা দিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ঠান্ডার প্রকোপটা বাড়তে পারে, সেক্ষেত্রে আমাদের লোকজনের নিউমোনিয়া, সর্দি, জ্বর বা অ্যাজমাটিক সমস্যা থাকে, সবাই যাতে প্রস্তুতি নেয়। এসবে আক্রান্ত হলে যেন চিকিৎসা করান। কোভিডের সেকেন্ড ওয়েভ এলে মাঠ পর্যায়ে সেটাকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে সেটার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। কাল বসে বিস্তারিত কর্মসূচি নেব। সবার মাস্ক ব্যবহার করা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সবাই মিলে ঠিকভাবে মাস্ক যদি ব্যবহার না করি তাহলে কিন্তু মুশকিল। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই তরফ থেকে যদি মাস্ক পরা থাকে তাহলে ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ নিরাপদ। আর এক তরফ থেকে মাস্ক থাকলে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ নিরাপদ। মাস্ক যদি না পরে তাহলে কিন্তু কোনো কিছুই সফল হবে না। এজন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সব মসজিদে জোহর ও মাগরিবের নামাজের সময় যেন ঘোষণা দেওয়া হয়, মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, এটা রাষ্ট্রীয় কল্যাণকর নির্দেশ। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অভিযান অব্যাহত আছে। মোবাইল কোর্ট চলছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। করোনার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হলে সরকার আগের মতো আবার শাটডাউনে যাবে কিনা- জানতে চাইলে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যাওয়া হবে কি-না, মাত্রাটা কেমন হবে আমরা তো জানি না। আমাদের প্রস্তুতি রাখতে হবে। | 6 |
২০০২ সালে সাতক্ষীরায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। তাঁর নাম আরিফুর রহমান রঞ্জু। তিনি শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি।শনিবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, আরিফুর রহমান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান ধর্ষণের শিকার এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে। চিকিৎসাধীন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখে সড়কপথে ঢাকায় ফিরছিলেন শেখ হাসিনা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পথে কলারোয়া বিএনপি অফিসের সামনে আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়।হামলাকারীরা শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন ও বোমা নিক্ষেপ করেন। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান শেখ হাসিনা। এ সময় গাড়িবহরে থাকা ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দীন বাদী হয়ে যুবদলের সভাপতি আশরাফ হোসেনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭০-৭৫ জনকে আসামি করা হয়।এরপর বিচার শেষে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় ৫০ জনের দণ্ড দেন। এর মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও আরিফুর রহমানসহ তিনজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর করে সাজা হয়। বাকি ৪৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডে দেওয়া হয়। | 6 |
বুড়িচংয়ে লরিচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের নাজিরা বাজার মদিনা ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতদের মধ্যে একজন বুড়িচং উপজেলার পারুয়ারা গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে মো. মোরশেদ (২২)। অপরজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১টায় কুমিল্লাগামী একটি মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে একটি লরি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন।ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল আরোহী দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। বৃহস্পতিবার দুপুরে রায় ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এর আগে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত। এই মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিডি-প্রতিদিন/০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮/মাহবুব | 6 |
খুলনা বিভাগীয় বিনিয়োগ ও ব্যবসায় উন্নয়ন সহায়তা কমিটির সভা রোববার সকালে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দেশে স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারী যত বৃদ্ধি পাবে দেশে অর্থনীতির চাকা তত বেগবান হবে। এজন্য সরকার বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরি করছে। তিনি আরও বলেন, খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্পাঞ্চল। পদ্মা সেতু চালু হলে এ অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্পকারখানার সৃষ্টি হবে এবং মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্তি বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সুবাস চন্দ্র সাহা। এ সময় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সৈয়দ রবিউল আলম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ হাবিবুল হক খান, খুলনা বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক প্রণব কুমার রায়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্তমানে ৭০ লাখ টিকার ডোজ রয়েছে। সেগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায়, উপজেলায়, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে টিকাদান শুরু হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে টিকার স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামীকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুর্মিটোলা হাসপাতালে টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এদিন ২৫ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হবে। ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, পুলিশ ও আর্মি- এদের মধ্যে যারা টিকা পাবেন তাদের ৫ জনের টিকা দেওয়া দেখবেন প্রধানমন্ত্রী। টিকা নিয়ে অপপ্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার টিকা আমাদের জন্য কোনো রাজনীতি নয়, মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্যই এই টিকা নিয়ে আসা। এটা নিয়ে যারা অপপ্রচার করে, তারা কোনোভাবেই দেশের মঙ্গল চায় না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী টিকা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধনের পর টিকার জন্য নিবন্ধন শুরু হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েও টিকার জন্য নিবন্ধন করা যাবে। উল্লেখ্য, ব্যাপক হারে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চারশ থেকে পাঁচশ' জনকে টিকা দিয়ে সাত দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতিদিন দুই লাখ ডোজ করে প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। এর আগে সোমবার ভারত থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ ফ্লাইটে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৫০ লাখ টিকা দেশে আসে। বিমানবন্দর থেকে টিকাগুলো বেক্সিমকোর টঙ্গীর ওয়্যারহাউসে নিয়ে রাখা হয়। এরপর সেগুলোর নমুনা পরীক্ষার জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে পাঠানো হলে মঙ্গলবার মানবদেহে এই টিকা প্রয়োগের অনুমতি দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের উপহার হিসেবে অক্সফোর্ডের টিকার ২০ লাখ ডোজ দেশে আসে। | 6 |
শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন আমাদের নতুন সময় পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল বাশার নুরু। গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর দক্ষিণখানের বাসায় শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, কিছুক্ষণ পর নিস্তেজ হয়ে যান। পরে উত্তরা লুবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।ঢাকায় তিন দফা এবং গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারির বাইখীর বনচাকী দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আজ শনিবার চতুর্থ দফা নামাজে জানাজা শেষে মাদ্রাসা কবরস্থানে মায়ের কবরে দাফন করা হয়। সিনিয়র এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, জাতীয় প্রেসক্লাব, ডিআরইউ, ডিইউজেসহ সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।আবদুল বাশার নুরু দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক রূপালী, বাংলাবাজার পত্রিকা, আমাদের সময়, আমাদের অর্থনীতি, সংবাদ সারাবেলা, আমাদের নতুন সময়সহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি আমাদের নতুন সময় পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন।শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটায় মরহুমের দক্ষিণখানের বাসার পাশে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল সোয়া চারটার দিকে মরদেহ নেওয়া হয় তার দীর্ঘ স্মৃতি বিজড়িত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে। ডিআরইউ চত্বরে জানাজার আগে মরহুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব। তাঁর মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ বিটে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দরা। এরপর বাশার নুরুর মরদেহ নেওয়া হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। তাঁর কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ও মরহুমের বড় জামাতা শিবলী সাদিক।জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আবদুল বাশার নুরু রিপোর্টিংয়ে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। আপাদমস্তক সাংবাদিক ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও লালন করতেন। তিনি খুব সহজ সরল মানুষ ছিলেন। | 6 |
ডিএমপির গুলশান থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত আছেন আব্দুল কাদের। গত ৬ বছরে হারানো ও ছিনতাই হওয়া তিন হাজার মুঠোফোন উদ্ধারের রেকর্ড করেছেন। ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ১৬ বার পুলিশ কমিশনার পুরস্কার। তিনি শুধু তার কর্মস্থলের আওতাধীন এলাকার মুঠোফোন উদ্ধার করেন না। দেশের বিভিন্ন স্থানে হারিয়ে যাওয়া মুঠোফোন উদ্ধারের জন্য তার দ্বারস্থ হন অনেকে। সাধ্যমতো চেষ্টা করে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাদের মুঠোফোন উদ্ধার করে দিয়েছেন। উদ্ধারের ক্ষেত্রে কোনটিতে তিনি দু'দিন থেকে শুরু করে দুই বছর পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। আবদুল কাদের বলেন, মুঠোফোনউদ্ধারের ক্ষেত্রে আমিদাম বা ব্যক্তির মূল্যায়ন করি না। যত কম দামের মুঠোফোন হোক বা গরিব রিকশাচালক বা শ্রমিকের হোক সমান গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার করি। কারণ মানুষের অনেক মূল্যবান জিনিস হারিয়ে গেলে সে ততটা কষ্ট পায় না যতটা কষ্ট পায় একটি মুঠোফোনহারিয়ে গেলে। কারণ মুঠোফোনেঅনেক স্মৃতি, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। যা হারিয়ে গেলে তার অনেক ক্ষতি ও কষ্ট হয়। জিডি করার পর মুঠোফোন উদ্ধার করে ভুক্তভোগীকে ফোন দিয়ে যখন বলি আপনি একটা জিডি করেছিলেন, আপনার ফোনটি উদ্ধার হয়েছে.... তখন তারা অনেকে বিশ্বাসই করতে চায় না। এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার হারানো মুঠোফোন উদ্ধার করেছি। গত আড়াই বছরে শুধু গুলশান থানার জিডির বিপরীতেই ৬০০ মোবাইল উদ্ধার করে গ্রাহককে ফিরিয়ে দিয়েছি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাঁচ শতাধিক অভিযোগ আসে। নিজ থানা ছাড়াও নানা স্থান থেকে হারানো মুঠোফোন খুঁজে পেতে ভুক্তভোগীরা আসেন গুলশান থানায়। অনেকে আমাকে ফোন দেয়। ব্যস্ততার কারণে ধরতে পারি না। কয়েক ঘণ্টা পরে নিজেই মুঠোফোন করে জানতে চাই সমস্যার কথা। সবারই একই সমস্যা ফোন হারিয়েছে। আমার কাছে যারাই ফোন দেয় তারা শুধু মুঠোফোন উদ্ধারের জন্য দেয়। ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, কাদেরের একাগ্রতা, নিষ্ঠা, চেষ্টা বা কাজের প্রতি যে ভালোবাসা এগুলো এই সময়ে সত্যিই বিরল। সেই দিক দিয়ে নিঃসন্দেহে কাদের একজন ভালো অফিসার। ভালো কাজ করেছে। তার ওপর সকল অর্পিত দায়িত্ব পালন করেই এই কাজগুলো করছে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
দেশের অধিকাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বাড়ছে। যথাযথ আর্থিক শৃঙ্খলার অভাবে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অডিট আপত্তির সম্মুখীন হচ্ছে। সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু ও শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।আজ সোমবার ইউজিসিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর 'অডিট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন' শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ পরামর্শ দেওয়া হয়। ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।অনুষ্ঠানে অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম বলেন, 'অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ হচ্ছে না। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে খরচও বেড়ে যাচ্ছে।' অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শুরু ও শেষ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, রাজস্ব বাজেটে বরাদ্দ করা অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না হওয়ায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অব্যয়িত অর্থ থেকে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা ও অদক্ষতা প্রমাণিত হচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে অডিট আপত্তি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে ইউজিসির অডিট মনিটরিং সেল জোরদার করা হবে।অধ্যাপক আবু তাহের বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যয়ে যেকোনো মূল্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে কোথাও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়নি। বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানকে পাশ কাটিয়ে যারা বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট সেলকে স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অডিট সতর্কতার সঙ্গে নিষ্পন্ন করা এবং উন্নয়ন বাজেটে ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেন অধ্যাপক আবু তাহের।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মবিষয়ক নিরীক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম শামসুর রহমান। ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজার রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এতে ইউজিসির বিভাগীয় প্রধান এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট সেলের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। | 1 |
কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় কর্মস্থলে ফিরতে গ্রাম ছাড়ছে মানুষ। শনিবার ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, লালমরিহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও দিনাজপুর থেকে আসা হাজারো শমিকের ঢল নামে রংপুরের মডার্ন মোড়ে। কিন্তু এতো মানুষের জন্য নেই কোনো পরিবহন ব্যবস্থা। তাই কর্মস্থলে ফিরতে গাড়ির দাবিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তখন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বাধা দিলে ফুঁসে ওঠেন তারা। প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে পণ্যবাহী ট্রাকসহ প্রাইভেটকার চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। প্রশাসনের অনুরোধ উপেক্ষা করে সড়কে বসেই আন্দোলন চালিয়ে যান তারা। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিবহন চালকদের মামলা ও জরিমানা করলে তারা ফুঁসে ওঠেন। প্রতিবাদে রংপুর-ঢাকা ও দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে তারা। তিন ঘণ্টা পর সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকটি বিআরটিসির বাসে মডার্ন মোড় থেকে শ্রকিমদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। যানবাহন চলাচল বন্ধের পরও বিআরটিসি বাসে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, জরুরি পরিসেবার আওতায় তাদের মৌখিকভাবে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা বলছিলেন, সরকার ১৫ দিনের বিধিনিষেধ দিয়ে সব গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি ও শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। হঠাৎ করে শুক্রবার ঘোষণা দেয় রবিবার থেকে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিসহ কারখানা খোলা থাকবে। তাদের এ ঘোষণা দেওয়ার আগে শ্রমিকদের ঢাকায় যাওয়ার জন্য পরিবহনের কোনো ব্যবস্থা না করে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে কারণে চরম বেকায়দায় পড়েছি আমরা। কুড়িগ্রামের পোশাক শ্রমিক হাসনা বানু বলেন, হঠাৎ করে শুক্রবার রাতে আমার মোবাইল ফোনে মেসেজ আসে, ১ আগস্ট কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ। আমাদের অনেকেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-টঙ্গীর বিভিন্ন কারখানায় কাজ করে। এখন গাড়ি চলে না। আমরা কীভাবে যাব? 'প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আগে তাদের কর্মস্থলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা উচিত ছিল', বলেন গার্মেন্ট শ্রমিক নেতা আহাম্মেদ আলী। তিনি বলেন, 'রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার প্রায় ২৫ লাখ নারী ও পুরুষ শ্রমিক গার্মেন্টে বা বিভিন্ন কারখানায় কাজ করছেন। বিকাল ৩টার দিকে পুলিশ এসে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করলে তারা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। অন্যদিকে কর্মস্থলে যোগ দিতে কুড়িগ্রামের চিলমারি দিয়ে নদীপথে শতশত মানুষ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
দেশের চরম আর্থিক দুর্দশার মধ্যে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অজিথ নিভারদ কাবরাল পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। শ্রীলঙ্কার চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে গতকাল রোববার রাতে দেশটির মন্ত্রিসভার সদস্যরা পদত্যাগ করার পর আজ গভর্নরও পদত্যাগ করলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অজিথ নিভারদ কাবরাল টুইটারে এক বার্তায় পদত্যাগের এ ঘোষণা দিয়েছেন। অজিথ টুইট করেছেন, 'মন্ত্রিসভার সবার পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে আমি আজ গভর্নর হিসেবে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।' , , . টুইটার গতকাল রাতে এক জরুরি বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে এবং প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে ছাড়া মন্ত্রিসভার ২৬ সদস্যের সবাই পদত্যাগপত্র জমা দেন। দেশটিতে চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে গত ৩১ মার্চ মধ্যরাতে রাজধানী কলম্বোয় প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েক শ মানুষ। বিক্ষোভকারীরা এ সময় প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঠেকাতে দেশটিতে গত শনিবার থেকে ৩৬ ঘণ্টার কারফিউ চলছে। কারফিউ উপেক্ষা করে গতকালও দেশটিতে বিক্ষোভ হয়েছে। এদিকে আজ সকাল পর্যন্ত দেশটিতে কারফিউ বহাল থাকার কথা ছিল। | 3 |
চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান সেলিম খানকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। এছাড়া হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন পাটওয়ারীকে শোকজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আজ শনিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় সেলিম খানকে দল বহিষ্কারের ঘোষণা দেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির অনুসারী জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এই সভায় উপস্থিত ছিলেন না।চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম (দুলাল) পাটোয়ারী জানান, 'দলের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন পাটোয়ারীকে শোকজ করা হয়েছে।' | 6 |
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা হাকিম নামের এক শ্রমিককে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলায় নারীসহ ৩ প্রতিবেশীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বারুহাঁস ইউনিয়নের পালাশী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ওই গ্রামের আবের প্রামাণিকের ছেলে আব্দুল হাকিম (৫৫) নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকের কাজ করতেন। তিনি শুক্রবার দুপুরে বাড়ি আসলে প্রতিবেশী নজরুল ইসলামের ছেলে এনামুল হক (২২) তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলেন। এসময় শ্রমিক হাকিম তার সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হাকিম প্রতিবেশী এনামুলকে মারধর করতে থাকেন। এ সময় এনামুলের মা ও বোন তাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসলে তাদের ওপরেও হামলা করা হয়। এতে ৩ জন আহত হন। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বারুহাঁস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন জানান, বিষয়টি পরবর্তীতে গ্রাম্যভাবে মিমাংসা করা হবে। আর নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা শ্রমিক আব্দুল হাকিমকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। | 6 |
যতই দিন যাচ্ছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সিরিজের অনিশ্চয়তা যেন ততই বাড়ছে। মূলত এখন বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার টেস্ট সিরিজটি ঝুলে আছে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কড়াকড়ির কারণে। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে শ্রীলঙ্কায় মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। আর এই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের সময় টাইগাররা কোনো প্রকার অনুশীলনতো করতে পারবেই না। এমনকি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা হোটেল রুম থেকেও বের হতে পারবে না। তবে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য বিভাগ ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন নিয়ে গো ধরে বসে থাকলেও লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড চাইছে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি হোক। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশকেও আবার উপেক্ষা করতে পারছেন না তারা। কারণ তারাও চান না দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো যখন করোনার থাবায় নাকাল তখন শ্রীলঙ্কাতে করোনার পরিস্থিতি বেশ ভালোই। আর বাংলাদেশে যেহেতু করোনার প্রভাবটা একটু বেশি তাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটু বেশিই কড়াকড়ি দেখাচ্ছে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য বিভাগ। ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাভিন বিক্রমারত্নে বলেন, 'কোভিড-১৯ টাস্কফোর্সের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে। সবাই একমত যে এই সফরটা হওয়া উচিত। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শও বিবেচনায় আনতে হবে আমাদের। আর তাই তো গত পরশু দিন বাংলাদেশের কাছে আরেকটি প্রস্তাব পাঠায় শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ড। আর সেটি হলো ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের ৭ দিন বাংলাদেশে আর ৭ দিন শ্রীলঙ্কায় করার জন্য। তবে এই প্রস্তাবে বিসিবি গতকাল পর্যন্ত কোনো হ্যাঁ বা না উত্তর জানায়নি। বিসিবির এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কা তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শর্তই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে মানতে বলছে। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আগেই জানিয়ে দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার শর্ত অনুযায়ী দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে সফর করবে না টাইগার ক্রিকেটাররা। শ্রীলঙ্কার ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের প্রস্তাবে এখন পর্যন্ত বিসিবির রাজি না হওয়ার পেছনে কারণ আছে যথেষ্ট। এই সময়টায় খেলোয়াড়রা হোটেলের বাইরে যেতে পারবেন না। বিসিবি মনে করছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটা সিরিজের আগে দীর্ঘ সময় খেলোয়াড়রা অনুশীলনের বাইরে থাকলে দলের পারফরমেন্সে তার প্রভাব পড়বে। শ্রীলঙ্কায় বড় স্টেডিয়ামগুলোর সঙ্গে লাগোয়া হোটেলও নেই, যেমনটা সাউদাম্পটন এবং ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের আছে। ফলে কোয়ারেন্টাইন মানেই হোটেলে ক্রিকেটারদের বন্দি থাকা। আর বন্দিদশা মুক্ত হওয়ার পরই যদি সিরিজের প্রস্তুতি নিতে হয়, তবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের আগে মাঠে নামার উপায় থাকবে না টাইগারদের। আর খেলা যেহেতু শুরু হবে ২৪ অক্টোবর থেকে। ফলে টাইগাররা সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে মাত্র ১০ দিনের মতো অনুশীলন করতে পারবে। আর ৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলার আগে মাত্র ১০ দিনের অনুশীলন অপর্যাপ্তই বটে। | 12 |
জন্মনিবন্ধন সনদ পেতে হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশ্লিষ্ট চারজনকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ সোমবার এই নোটিশ পাঠান। কয়েক কোটি মানুষের জন্মনিবন্ধন তথ্য সার্ভারেই নেই-এমন অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে পাঁচ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে নোটিশে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।সম্প্রতি 'জন্মনিবন্ধন সনদ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে নাগরিকেরা' এবং 'জন্মসনদ: বাংলাদেশে কয়েক কোটি মানুষের জন্মনিবন্ধন তথ্য সার্ভারেই নেই' শিরোনামে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন প্রতিবেদন যুক্ত করা হয় নোটিশে।এখন স্কুলশিক্ষার্থীর জন্য ডিজিটাল ইউনিক আইডি তৈরির কাজ চলছে। যার জন্য জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের জন্মসনদের আবেদন করতে হলে তাদের বাবা-মায়েরও জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে বহু অভিভাবক জানিয়েছেন, তাঁদের আগে নেওয়া জন্মসনদ এখন আর সরকারি সার্ভারে প্রদর্শন করছে না। তা ছাড়া নতুন করে জন্মসনদ করতে গিয়েও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের। | 6 |
আদালতে মামলা করেও স্ত্রী-সন্তানকে ফিরে না পাওয়ার অভিমানে পেটে ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যা করেছেন হাফিজুর রহমান (২৮) নামে এক যুবক। তিনি হবিগঞ্জ শহরতলীর কামড়াপুর এলাকার নুর মিয়ার ছেলে। তবে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুলতান মাহমুদপুর এলাকায় বসবাস করতেন। সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণের নিমতলায় এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) দৌস মোহাম্মদ নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, প্রায় দুই বছর আগে নিহত হাফিজুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে বুশরা বেগমের। বিয়ের পর তাদের ছেলে সন্তান হয়েছে। সম্প্রতি পারিবারিক বিষয় নিয়ে হাফিজুল ও তার স্ত্রী বুশরার মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। এরই জেরধরে কিছুদিন আগে বুশরা তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে হাফিজুর তার স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে বার বার শ্বশুরবাড়ি গেলেও বিষয়টির কোন সুরাহা হয়নি। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে গত ১৫ অক্টোবর হাফিজুল ইসলাম ১০০ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি উদ্ধার মামলা করে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ বুশরার জবানবন্দি দিলে আদালত তাকে তার মা খুদেজা বেগমের জিম্মায় দেন। ইন্সপেক্টর (তদন্ত) দৌস মোহাম্মদ বলেন, এরপর ক্ষোভে অভিমানে হাফিজুর আদালত প্রাঙ্গণের নিমতলায় এসে ছুরি দিয়ে নিজ পেটে উপর্যুপরি আঘাত করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতাল ও থানা প্রাঙ্গণে শতশত লোক ভিড় জমায়। দৌস মোহাম্মদ আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তের পর এর পেছনে অন্য কোন কারণ আছে কি না জানা যাবে। | 6 |
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া তছনছের ঘটনায় স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে দায়ী করেছে হেফজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শাখা। বুধবার (৩১ মার্চ) শহরের জামিয়া ইউনূছিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় সংগঠনটির জেলা শাখার নেতারা সংবাদ সম্মলনে লিখিত বক্তব্যে এমনটায় দাবি করেন তারা। লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানায় মুসলমানদের আঘাত লাগে। প্রতিবাদে তারা শান্তিপূর্ণ মিছিল করে কর্মসূচি শেষ হয়। ২৭ মার্চ বিক্ষোভ ও ২৮ মার্চ হরতাল কর্মসূচি দেয়। হেফজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শাখার দাবি, পুলিশের গুলিতে চট্টগ্রামে চার জন মারা যাওয়ার খবর ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় পৌঁছালে স্বাভাবিকভাবেই মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপরে হেফাজতের নেতৃত্বে শহরে মিছিল বের করে। কিন্তু পরে শহরের টিএ রোড দিয়ে স্থানীয় সাংসদ র আ ম মোকতাদির চৌধুরির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, যুবলীগ যে মিছিল করে সেই মিছিল যখন জামিয়া ইউনূছিয়া মাদ্রাসা অতিক্রম করে তখন এমপির নির্দেশে ছাত্রলীগ মাদ্রাসায় ২০/২৫টি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটায়, দরজা-জানালা ভাংচুর করে। সংবাদ সম্মেলনে হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সবসময়ই শান্তিপূর্ণ। কিন্তু সেদিন মিছিল থেকে এমপির প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ নির্দেশে মাদ্রাসায় হামলা করলে মুসলিম জনতা উত্তেজিত হয়ে উঠে। এরপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পুলিশ, বিজিবি। তাতে ১৫ জন শহীদ হয়েছেন এবং ৫শ জন আহত হয়েছেন। এর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে স্থানীয় সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরিকে। তারা বলেন, সেদিনের ঘটনায় ছাত্রলীগ মাদ্রাসায় যে ভাংচুর চালিয়েছে তার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণে রয়েছে। প্রশাসন চাইলে তাদের হাতে সেই ফুটেজ দেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া তছনছের ঘটনায় হেফাজত কোনোভাবেই জড়িত নয়। মুসলিম জনতার আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নানা গুজব ছড়াচ্ছে। ওই ঘটনা এমপির নির্দেশে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ঘটিয়েছে। এর দায় এমপিকে নিতে হবে। পুলিশের গুলিতে নিহত ১৫ জনের হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। একইসঙ্গে তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে হেফাজতে ইসলাম। | 6 |
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার তিনজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। আজ বুধবার ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলি করা হয়।ডিএমপি সদর দপ্তরের এই আদেশে জানানো হয়, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ্জাহানকে গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগে, গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. জসীম উদ্দিন দেওয়ানকে আইসিটি বিভাগে এবং গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক বিপ্লব কিশোর শীলকে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগে বদলি করা হয়েছে। | 6 |
শিখেছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীত। মুম্বাইয়ে যান পড়তে। নায়িকা হিসেবে পছন্দ করা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু পরে ছবিটাই আর হয়নি। তবে নূপুর থেমে থাকেননি। এখন তিনি অভিষেকের অপেক্ষায়। নূপুর শ্যাননের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ছবি সেটাই বলে।গতকাল ইনস্টাগ্রামে নূপুর যে ছবি পোস্ট করেন, সেই একই ছবি দেখা গেল নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকীর ইনস্টাতেও। ছবিতে নওয়াজ ও নূপুর হাসছেন। পেছনে সকালের সূর্যালোক গড়িয়ে পড়ছে তাঁদের গায়ে। নূপুর এখনো বলিউডে পা রাখেননি। নওয়াজ বলিউডের পোস্টার বয়। দুজনের একই ছবি পোস্ট করার কারণ কী?ভারতীয় গণমাধ্যম 'টাইমস অব ইন্ডিয়া' বলছে, আর কিছু নয়। বোন কৃতি শ্যাননের পথ ধরেছেন নূপুর। বলিউডে অভিষেক হচ্ছে তাঁর। পাঞ্জাবি একটি ছবির হিন্দি রিমেকে দেখা যাবে তাঁকে। আর অভিষেকেই তাঁর সঙ্গী বলিউডের নামকরা অভিনেতা নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী। পাঞ্জাবি ছবি 'কালা শাহ কালা'-এর রিমেক হচ্ছে হিন্দিতে, নাম 'নুরানি চেহরা'। ছবির প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। মিডিয়াতে কাজ বলতে নূপুরের ঝুলিতে আছে 'ফিলহাল' ও 'ফিলহাল টু' গানের ভিডিও চিত্রে অভিনয়। সেখানে সঙ্গী বলিউডের আরেক তারকা অক্ষয় কুমার। বোন কৃতি শ্যানন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। 'মিমি' ছবিতে কৃতির অভিনয় ছুঁয়ে গেছে দর্শকের মন। এবার বোন নূপুরের পালা। শুরু থেকেই বোনের পথে পা বাড়াননি নূপুর। মুম্বাইয়ে তিনি এসেছিলেন পড়তে। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কোর্স করার ইচ্ছা ছিল। তবে পারফর্মিং আর্টে তৃষ্ণা যাঁর, তাঁকে কি অন্য কিছু টানে? শৈশবে শাস্ত্রীয় সংগীত শেখা নূপুর বলেন, 'আমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শাস্ত্রীয় সংগীতের শিল্পী। ২০১৭ সালে মুম্বাইয়ে পড়তে এসেছিলাম। কিন্তু আমি গানে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিই। আমি গান গেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতাম। একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে ফোন এল। তারা বলল যে আমার ভিডিও তাদের ভালো লেগেছে। তারা আমার অডিশন নিতে চায়। ভেবেছিলাম, গান নিয়ে কথা বলবে। কিন্তু তাদের অফিসে গিয়ে অবাক হয়ে যাই। তারা বলল, আমাকে তাদের ছবির নায়িকা হিসেবে কাস্টিং করতে চায়।' সেই ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন নূপুর। কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি ছবিটি। নূপুরের মতে, তিনি কখনোই নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি। কারণ, তিনি মনে করতেন, নায়িকা হিসেবে যে গুণ থাকা দরকার, তাঁর মধ্যে সেসব নেই। মুম্বাই আসার সময় তাঁর ওজন ছিল ৮৩ কেজি। তাঁকে দেখে একজন তখন বলেছিলেন, 'তোমাকে তো নায়িকার মতো লাগছে।' সেদিন থেকেই আত্মবিশ্বাসী নূপুর। শুরু করলেন অভিনয়ের কর্মশালা। অবশেষে ফল মিলছে। | 2 |
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় কারও মৃত্যু হয়নি। তবে গত একদিনে দেশে আরও ৯২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এসব রোগী শনাক্ত হন।আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত করোনায় মোট মৃত্যু ২৯ হাজার ১১৮ জনের এবং শনাক্ত হয়েছেন ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৭২ জন।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একদিনে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১১৪ জন এবং এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮০ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন মিলিয়ে ৮৭৯টি সক্রিয় ল্যাবে ১২ হাজার ১১১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে। | 6 |
অবিলম্বে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার, সাশ্রয়ী দামে সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুরানা পল্টন মোড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-সমাবেশে এ দাবি জানান দলটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের হামলায় মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। করোনাকালে বেকারত্ব, দারিদ্র্য বেড়েছে। করোনাকালে একদিকে লুটপাট বেড়েছে, অপরদিকে শ্রমজীবী মানুষের ওপর হামলাও বেড়েছে। করোনার হামলার মধ্যেই চলছে সরকারের মূল্য বৃদ্ধির হামলা। অবিলম্বে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার, সাশ্রয়ী দামে সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর দাবি জানান হয় সিপিবির পক্ষ থেকে। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. দিবালোক সিংহ, ঢাকা কমিটির সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন। সমাবেশটি পরিচালনা করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদেকুর রহমান শামীম। সমাবেশে সেলিম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লুটেরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সরকার এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি করছে। স্বয়ং সরকারি সংস্থাই বলছে, বড় জাহাজে করে গ্যাস আনা গেলে সিলিন্ডার প্রতি ৩০০-৪০০ টাকা কম রাখা সম্ভব। আবারও বিইআরসি'র মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে, সরকার ব্যবসায়ীদের অনৈতিক ও অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ করে দিয়েছে। চাল, ভোজ্য তেল, চিনি, আদা-ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষ যখন অতিষ্ঠ, তখন গ্যাসের দাম বৃদ্ধি জনজীবনকে আরো অতিষ্ঠ করে তুলেছে। সমাবেশে সিপিবির সভাপতি আরো বলেন, বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে লুটপাটের স্বার্থে। দেশকে আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার গ্যাস উৎপাদন না করে একচেটিয়া ব্যবসার মাধ্যমে লুটেরাদের পকেট ভারী করার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। অথচ যথাযথভাবে গ্যাস উত্তোলন করে সরকারি উদ্যোগে সাশ্রয়ী দামে ঘরে ঘরে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। কিন্তু সরকার সেই পথে না হেঁটে, জনগণের স্বার্থের বিপরীত পথে হাঁটছে। জনগণের স্বার্থ নিয়ে সরকার ছিনিমিনি খেলছে। জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায় নেই, সরকারের দায় লুটেরাদের প্রতি। তিনি বলেন, গণবিরোধী সরকার হঠাতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প সরকার কায়েম করতে হবে। সমাবেশের শুরুতে সিপিবির একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। | 6 |
মিয়ানমারে সেনা ক্যু ও জান্তা সরকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পথে এগিয়েছে যুক্তরাজ্য ও কানাডা। এবার এই দেশ দুটিও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বেশ কজন জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চি সরকারকে উত্খাত করে ক্ষমতা দখল ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাজ্য ও কানাডা ওই নিষেধাজ্ঞা দেয়। কানাডার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ৯ জন জেনারেলের নাম রয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় জান্তা সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল মিয়া তুন ও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল সো তুত এবং উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল থান লাইং রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়। খবর: আলজাজিরা, ইউরোঅবজারভার ও গ্লোবাল নিউজ এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল অং মিন লাইংসহ বর্তমান ও সাবেক ১০ জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। নিষিদ্ধ সেনা কর্মকর্তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাসহ তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক গারনিউ এক টুইট বার্তায় জানান, মিয়ানমারে সে ক্যুর প্রতিক্রিয়া হিসেবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনা কর্মকর্তাদের ওপর কানাডা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আমরা আন্তর্জাতিকমহলের সঙ্গে মিলে মিয়ানমারের জনগণের পাশে আছি। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত, দমন-পীড়ন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ ও নির্বিচারে গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলেছেন। এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের সেনা জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক মহলকে সঙ্গে নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিতের কথা বলেছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখবে না। জান্তা সরকার যাতে যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থ না পায়, তা নিশ্চিত করতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ইউরোপের ২৭টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ইইউ সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামী সোমবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে গত ১ ফেব্রুয়ারির 'ক্যু'তে নেতৃত্ব দেওয়া মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেল ইইউ অঞ্চলে ঢুকতে পারবেন না। এ ছাড়া ইইউতে তাঁদের কোনো সম্পদ থাকলে তা বাজেয়াপ্ত হবে। | 3 |
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি নেবেন বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী মো. ইউনুস আলী আকন্দ।গতকাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট করা হয়। এর পর আজ মঙ্গলবার আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করলে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়।রিটে আইনসচিব, মন্ত্রী পরিষদসচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের সচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, চিকিৎসা সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। তাই মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে একজন আইনজীবী হিসেবে এই রিট করেছি। যেহেতু সরকার তাঁকে এরই মধ্যে কারাগার থেকে মুক্ত করে দিয়েছে। তাই তিনি কোর্টের নিয়ন্ত্রণে নেই, সরকারের নিয়ন্ত্রণে। সুতরাং তাঁকে এখন বিদেশে পাঠাতে বাধা নেই। কেবল শর্ত প্রত্যাহার করলে বিদেশে তাঁর সুচিকিৎসা সম্ভব। তিনি বলেন, 'আমার চাওয়া হলো-শর্ত ছাড়া বিদেশে তাঁর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। কারণ তিনি যে ধরনের অসুস্থ, মেডিকেল বোর্ড বলেছে, এই রোগের চিকিৎসা এখানে নেই।'এ বিষয়ে ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, 'ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১), সংবিধানের ১১,৩২ ও ৪৯ অনুচ্ছেদের পাশাপাশি জাতিসংঘের সর্বজনীন ঘোষণার অনুচ্ছেদ ৩,৫, ১১ ও ১৩ (২)-এর অধীনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে। খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে অনুমতির জন্য বিবাদীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না-মর্মে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে রিটে। সেই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।গত ১৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। এরই মধ্যে তাঁর কয়েক দফায় রক্তক্ষরণ হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। রায়ের পর থেকেই কারাগারে ছিলেন তিনি। তবে জামিন না পেয়ে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে গত বছরের ২৫ মার্চ প্রথম দফায় দণ্ড স্থগিত করার পর তিনি কারাগার থেকে সাময়িক মুক্তি পান। এর পর কয়েক দফায় ওই মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়।জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া ওই বছরই হাইকোর্টে আপিল করেন। একই সঙ্গে দুদকও আবেদন করে সাজা বাড়াতে। শুনানি শেষে সাজার পরিমাণ বাড়িয়ে খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। এর পর ওই বছরের ১৮ নভেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তার পর থেকে এ মামলা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলায় করা আপিল হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। | 6 |
প্রিমিয়ার লিগের দুরন্ত ম্যাচে জয় পেল চেলসি। লিডস ইউনাইটেডকে একেবারে শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোলে হারিয়ে খেতাবি লড়াইতে টিকে থাকল তারা। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর আশঙ্কায় পড়েছিল চেলসি। ম্যাচে মোট তিন পেনাল্টি পায় থমাস টুচেলের দল। নিজেদের ঘরের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে শনিবার প্রিমিয়র লিগের ম্যাচে ৩-২ গোলে জয় পেল চেলসি। এদিন ম্যাচে ২৮তম মিনিটে রাফিনিয়ার পেনাল্টি গোলে পিছিয়ে যায় চেলসি। বিরতির আগে মার্কো আলোনসোর ক্রসে কাছ থেকে শটে গোল করে সমতা ফেরান ম্যাসন মাউন্ট। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করে চেলসিকে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন জর্জিনহো। আন্টোনিও রুডিগারকে লিডসের ডি-বক্সে ফাউল করার ফলে পেনাল্টি পায় টুচেলের ছেলেরা। নির্ধারিত সময়ের সাত মিনিট বাকি থাকতে ফের ম্যাচে সমতা ফেরায় লিডস। গোল খেয়ে চাপে পড়ে যায় চেলসি। বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচে নিজের প্রথম টাচেই গোল করেন লিডসের ১৯ বছর বয়সী ইংলিশ ফরোয়ার্ড জো গেলহার্ড। ম্যাচের অন্তিম লগ্নে যোগ করা সময়ে লিডসের ডি-বক্সে রুডিগারকে বাজেভাবে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় চেলসি। সেই পেনাল্টি থেকেই জয়সূচক গোল করেন চেলসিকে এক শ্বাসরুদ্ধকর জয় উপহার দেন ইতালিয়ান মিডফিল্ডার জর্জিনহো। | 12 |
ইসরাইলের কাছ থেকে গ্যাস কেনার বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে নাকচ করে দিয়ে লেবাননি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইসরাইলে থেকে কোনো গ্যাস কিনবে না। রোববার লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে এমন দাবি জানানো হয় বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি। এর আগে প্রকাশিত ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরাইল তার সমুদ্রতীর থেকে দূরবর্তী লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্র থেকে লেবাননে গ্যাস সরবরাহ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া এক চুক্তির আওতায় জর্ডানের নিচ দিয়ে লেবাননে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। ইসরাইলি চ্যানেল-১২ বলেছে, ইসরাইলি গ্যাস প্রথমে জর্ডানে যাবে। তারপর এ গ্যাস সিরিয়ার মধ্য দিয়ে লেবাননে সরবরাহ করা হবে। এক বিবৃতিতে লেবাননের লেবাননের জ্বালানি ও পানি মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো লেবাননে গ্যাস সরবরাহের ব্যাপারে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। গ্যাস সরবরাহের চুক্তি অনুসারে লেবাননের সরকার মিসরের সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাস কিনবে। এ গ্যাস মিসর থেকে সরাসরি লেবাননে সরবরাহ করা হবে। লেবাননের জ্বালানি ও পানি মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, মিসর থেকে লেবাননে গ্যাস সরবরাহ করার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে। লেবাননের বিদ্যুৎ সঙ্কট সমাধানের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তিটিরউদ্যোগ নেয়। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি | 3 |
এবারের মত জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) বা যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার চাহিদা প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের জেআরপিতে ২০২২ সালের জন্য ৮৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের চাহিদা ধরা হয়েছে। যাতে কক্সবাজারের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা এবং সেখানকার আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী চাহিদা মাথায় রাখা হয়েছে। আর এবারই প্রথমবারের মত ভাসানচরের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে জেআরপিতে। প্রকাশিত ২০২২ সালের জেআরপি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।৫ম জেআরপি প্রস্তাব নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, 'গতবারের জেআরপি ৯৪ কোটি ডলার চাহিদার মধ্যে ৬৭ কোটি ডলার সংগ্রহ করা গেছে। এ বছরের জেআরপির বাজেট ধরা হয়েছে ৮৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। ভাসানচরের জন্য প্রায় ১০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভাসানচর নিয়ে এবারের জেআরপিতে বিভ্রান্তি দুর হয়েছে।'রোহিঙ্গা নিয়ে দুটি মূল বিষয় প্রত্যাবাসন ও মানবিক সহায়তার বিষয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, জেআরপির বৈঠকটি মানবিক সহায়তার হলেও এখানে বক্তারা প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়েছেন। বৈঠকে ৯টি দেশের রাষ্ট্রদূতরাসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা কথা বলেছেন। এবারের আবেদনের রাষ্ট্রগুলো কতটুকু অর্থ সহযোগিতা দিতে পারবে, সে বিষয়ে জানানো হয়েছে।বৈঠকে বাংলাদেশের বক্তব্যের বিষয়ে মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, 'রোহিঙ্গাদের তখন বাংলাদেশে আশ্রয় না দেওয়া হলে, সমসাময়িক বিশ্বে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতো। এটি এড়ানো গিয়েছে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্তের করণে।'প্রত্যাবাসন নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'জেআরপির মূল বৈঠকের আগে জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর, আইওএম ও আমি একটি বৈঠক করেছি। জাতিসংঘ জানিয়েছে প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে পূর্বের করা চুক্তিটি নবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে মিয়ানমারের যে ধরনের সরকারই থাকুক না কেন, আপাতত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রতিশ্রুতি রাখবেন।'২০২২ এর জেআরপিতেও রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যকার সুসম্পর্কের বিষয়টিতে জোর দিয়েছে জাতিসংঘ। এটি এখনো মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ২০১৭ সালে বাংলাদেশি স্থানীয়ই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। আর বর্তমানে মানবিক সংকটের ৫ম বছর চলছে। এখনো উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয়রা রোহিঙ্গাদের উদারভাবে আশ্রয় দিয়ে আসছে। স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর আর্থসামাজিক পরিস্থিতির চাপ সামলাতে মানবিক সহায়তাকারীদের জন্য রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের সুসম্পর্ক অন্যতম অগ্রাধিকার। আর এ নিয়ে কাজও করছে মানবিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।ক্যাম্প এলাকা ও স্থানীয়দের মধ্যে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ফ্রেমওয়ার্ক নিয়েছে সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। মানবিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে কমিউনিটি সুরক্ষা ফোরাম, কমিউনিটি ভিত্তিক সংলাপ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের মধ্যে যোগাযোগ শক্তিশালী করতে কাজ করছে।উল্লেখ, ২০১৭ পর থেকেই রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা করে আসছে জাতিসংঘ। এরই মধ্যে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দ্বারা সেখানে বেশ কিছু অপরাধও সংগঠিত হয়েছে। | 6 |
নাম আনফিনিশড, কিন্তু সেটাই ফিনিশড করে ছাড়লেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তাঁর নিজের স্মৃতিকথাগুলো বইয়ের মোড়কে আসছে অবশেষে। আর তা তিনি জানান দিলেন ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে। সেখানে দেখা গেল প্রিয়াঙ্কার হাসির ছবি। তাতে লেখা 'আনফিনিশড বাই প্রিয়াঙ্কা চোপড়া'। এটাই বইয়ের প্রচ্ছদ কি না, তা অবশ্য নিশ্চিত নয়। ছবিটির সঙ্গে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসও দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি লিখেছেন, 'অসম্পূর্ণ এবার সম্পূর্ণ হলো। মাত্র চূড়ান্ত কপি পাঠালাম। ওয়াও! আপনাদের সঙ্গে এটি শেয়ার না করে পারলাম না। স্মৃতিকথার প্রতিটি শব্দ আমার আত্মদর্শন এবং আমার জীবনের প্রতিচ্ছবি।' হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখেছেন-'আসছে', 'আনফিনিশড'।দুই বছর আগে এই স্মৃতিকথা লেখা নিয়ে শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। তখন জানা যায়, নিজের জীবনকে এবার ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করতেই স্মৃতিকথা লেখার তোড়জোড়। তারপর অনেক সময় পেরিয়েছে। লকডাউনের দীর্ঘ বন্ধ কাজে লাগিয়ে এবার শেষ করে ফেললেন কাজ। প্রিয়াঙ্কার মতে, বইটির লক্ষ্য একজন নারীকে বিশাল স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করা। একজন অভিনেতার বেশ কিছু গল্প ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে সাজানো হয়েছে এই স্মৃতিকথা। বইটি প্রকাশ করছে ভারতের পেঙ্গুইন র্যানডম হাউস। প্রিয়াঙ্কা বইটির ব্যাপারে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'বইটি একেবারে সৎ, মজার, আধ্যাত্মিক, দৃঢ় ও প্রতিবাদী, ঠিক যেমনটি আমি। আমি সব সময়ই একজন ব্যক্তিগত মানুষ। আমি কখনোই আমার জীবনের এসব গল্প বলিনি। কিন্তু এবার বলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।' প্রিয়াঙ্কা ইনস্টাগ্রামে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে লেখেন, 'আমি সব সময়ই একটি বই লিখতে চেয়েছি। কিন্তু সময় ঠিকঠাক ধরা দেয়নি। আমি সব সময়ই ধৈর্যকে প্রাধান্য দিয়েছি। কারণ, আমি তখনো প্রস্তুত ছিলাম না। আমি অনেক কিছু করতে চেয়েছি, অনেক বেশি বাঁচতে চেয়েছি, অনেক বেশি অর্জন করতে চেয়েছি স্মৃতিকথা লেখার আগে, যা সব সময়ই ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করেছি।' প্রিয়াঙ্কা তাঁর জীবনের নতুন এই অধ্যায় নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। শেষে তিনি লিখেছেন, 'যদি আমি পারি, তাহলে যে কেউ পারবে।' তাঁর এই শেষ কথা দিয়েই বোঝা যায়, জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার নানা চড়াই-উতরাইয়ের গল্পই হয়তো ধরা দিয়েছে তাঁর এই স্মৃতিকথায়। | 2 |
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বন্ধ হয়ে থাকা একটি মিলের পরিত্যক্ত কক্ষের বারান্দায় শহিদুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে ফুলবাড়ীর শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর পুরাতন বন্দরে বন্ধ থাকা একটি হাসকিং মিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় সেখান থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও আদালতের মামলার কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। নিহত শহিদুল ইসলাম (৬০) ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর নয়াপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফ মণ্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষি শ্রমিক ছিলেন। আফতার আলী হাসকিং মিলের পাহারাদার কানু মহন্ত সাংবাদিকদের বলেন, ওই মিলটি দেড়মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। পাহারারত অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে মিলের পেছনে দেখি পরিত্যক্ত একটি কক্ষের বারান্দায় এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ। পরে বিষয়টি মিল মালিক ও স্থানীয়দের জানালে তারা পুলিশে খবর দেয়। ফুলবাড়ী থানার এসআই রওশন আলী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শহিদুল ইসলামের মরদেহটি বন্ধ থাকা মিলের পরিত্যক্ত কক্ষের বারান্দায় ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার পায়ের নখ কাটা অবস্থায় ছিল। এসময় মরদেহর পাশে একটি ছুরি ও মামলার কাগজপত্র পড়েছিল। ফুলবাড়ী থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হলেও এটি হত্যার আলামত। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে পুলিশ। বিডি প্রতিদিন/এসআই | 6 |
এখনো তফসিল ঘোষণা করা হয়নি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর তোড়জোড়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা শুরু করেছেন গণসংযোগ। দল থেকে মনোনয়ন পেতে ছুটছেন জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে।তবে উপজেলার চারটি ইউপিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন করতে বেকায়দায় পড়তে হতে পারে আওয়ামী লীগ ও নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ড। ইউনিয়নগুলো হলো হেমনগর, ঝাওয়াইল, নগদা শিমলা ও হাদিরা। এসব ইউপি নির্বাচনে একাধিক প্রভাবশালী প্রার্থী থাকায় মনোনয়নে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। দল থেকে মনোনীত না হলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বেগ পোহাতে হবে আওয়ামী লীগ নেতাদের।স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনে প্রবীণদের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারাও মনোনয়নপ্রত্যাশী। দল থেকে মনোনয়ন পেতে ছুটছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে। এমনকি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন অনেকে।মির্জাপুর ইউপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হালিমুজ্জামান তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবলু মাস্টার, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী হাসান জুয়েল।আলমনগর ইউপিতে চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মোমেন, রকিব উদ্দিন আতিক, মফিজুর রহমান লুৎফর ও আনোয়ার হোসেন কন্টু মাস্টার।ধোপাকান্দি ইউপিতে নৌকাপ্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম তালুকদার আরিফ, মো. সিরাজুল ইসলাম ও মো. আব্দুর রহিম।নগদা শিমলা ইউপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান এম হোসেন আলী, গোপালপুর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস মারুক হাসান জামি, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সোহেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য শাহ আলম মাস্টার, গোপালপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আঙুর ও মো. সোহেল রানা।হাদিরা ইউপিতে নৌকাপ্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল কাদের তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের গণসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক সেলিম আজাদ তালুকদার, নিহত নিক্সন তালুকদারের স্ত্রী বিলকিছ জাহান, গোপালপুর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. গোলাম ফারুক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রভাষক হুমায়ুন কবির, মো. আলমগীর হোসেন।ঝাওয়াইল ইউপিতে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার, মো. মিজানুর রহমান তালুকদার, মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী আয়েশা আক্তার শিখা, মো. একামত আলী সরকার, মিজানুর রহমান মজনু, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. খাইরুল ইসলাম, মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, মাহমুদুল হাসান তালুকদার।হেমনগর ইউপিতে নৌকাপ্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য রওশন খান আইয়ুব, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিছুর রহমান তালুকদার হিরা, ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, মাসুদ খান নাসির, মো. ছানোয়ার হোসেন, মো. আব্দুস সালাম, মো. সোহেল খান, মোল্লা মো. বিপ্লব পণ্ডিত।গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ বলেন, 'আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। তাই মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাও বেশি। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বিচারে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। প্রয়োজনে তৃণমূলের ভোটে প্রার্থী ঠিক করা হবে। ভোটারেরা যাঁকে মনোনীত করবেন, তাঁকে নিয়ে সবাই মাঠে নামব।' | 6 |
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে 'ভিসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি'র চিকা মারা হয়েছে। 'ভিসি পদ ফাঁকা আছে' লেখা এই চিকা গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষার্থীদের নজরে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, আন্দোলনকারী ২৪ শিক্ষার্থীর অনশন সত্ত্বেও উপাচার্যের 'টনক না নড়ায়' দেয়ালে দেয়ালে এ 'চিকা' মেরে থাকতে পারেন কেউ। উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে উত্তাল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বশেষ গত বুধবার উপাচার্যের বাসার সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন নজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রোববার রাতে উপাচার্য তাঁর বাসভবনে প্রবেশ করেছেন, এরপর আর বের হননি। এদিকে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারপরও ভিসির টনক নড়ছে না। অনশনকারীদের মধ্যে কেউ মারা গেলেই উপাচার্যের টনক নড়বে। আন্দোলনকারী আরেক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'উপাচার্য শিক্ষার্থীদের পুলিশ দিয়ে পিটিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং গুলি ছোড়া হয়েছে উপাচার্যের নির্দেশে। তিনি আমাদের কথা চিন্তা করেন না, বিধায় এসব করিয়েছেন। আমরা তাঁকে চাই না। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেন, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসবেন, সে রকম একজন ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হোক।' 'নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি'র চিকা মারার বিষয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবির প্রথম আলোকে বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে প্রচুর বহিরাগত আছেন। এটি কারা দিয়েছে, তা বলতে পারছি না।' আন্দোলনের সূত্রপাত ১৩ জানুয়ারি। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রোববার বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ও তাঁদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, খুলনা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। | 6 |
'বেজক্যাম্পেই অবস্থান করছি। আবহাওয়া আজ খুবই খারাপ। পুরোটাই প্রতিকূলে। একটু অনুকূলে হলেই উপরের দিকে রওনা দিব।' ওয়্যারলেস ফোনের মাধ্যমে হিমালয়ের বেজক্যাম্প থেকে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এভাবেই নিজের অবস্থান জানালেন মৃদুলা। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই তার হাত দিয়ে এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়তে যাচ্ছে আরও একবার। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় হিমালয়ের বহুকাঙ্ক্ষিত বেজক্যাম্পে পৌঁছান তিনি। ভূমি থেকে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার, অর্থাৎ ১৭ হাজার ৫৯৮ ফুট ওপরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের এই তরুণী। ওয়্যারলেসে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ কথা নিশ্চিত করেন মৃদুলা নিজেই। এর আগে শুক্রবার ৫ হাজার ১৮০ মিটার উঁচু বরফে ঢাকা গোরাকশিপে পৌঁছান মৃদুলা। গতকাল থেকেই ভীষণ ঠান্ডা ও তীব্র বাতাসের সঙ্গে লড়াই চলছে তার। কিন্তু সেসব তার কাছে কিছুই নয়। এতটা পথ পাড়ি দিয়েছেন, এ বিষয়টিই তার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে। ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মৃদুলা আমাতুন নূর। নেপাল ও ভারতে বেশ কিছু পর্বতারোহী বন্ধুর কাছে পর্বতারোহণের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। গত বছর অক্টোবরে হিমালয়ের শীতিধার চূড়ায় আরোহণের পর থেকেই মৃদুলার স্বপ্ন মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা। এখন তিনি তার স্বপ্নের কাছাকাছি। সবকিছু ঠিক থাকলে মে মাসের প্রথমার্ধে মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের ব্যাজটাও পরতে সক্ষম হবেন তিনি। মৃদুলা মাউন্ড এভারেস্ট জয় করতে সক্ষম হলে তিনি হবেন তৃতীয় বাংলাদেশি নারী। এর আগে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীন বাংলাদেশের হয়ে এভারেস্ট জয় করেন। সামান্য একটি ঘটনাই বদলে দিয়েছে মৃদুলার জীবনের বাঁক। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে রাঙামাটিতে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি। হঠাৎ একটি পাহাড় দেখে চূড়ায় উঠতে ইচ্ছে করল। অথচ ট্র্যাকিংয়ের সামান্য জ্ঞানটুকুও ছিল না তার। কাউকে কিছু না বলেই ধীরে ধীরে উঠতে লাগলেন। কখনো পড়ে যাচ্ছিলেন, কখনো হাত ছড়ে যাচ্ছিল, কখনো পিছলে নেমে আসছিলেন কিছুটা। এর পরও সেবার একেবারে দুই হাজার ফুট ওপরে উঠেছিলেন তিনি। সেই থেকেই পাহাড় জয়ের নেশা পেয়ে বসে তাকে। গত বছর সেপ্টেম্বরে হিমাচল প্রদেশের মানালির অটল বিহারি বাজপেয়ি ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মৃদুলা। প্রতিষ্ঠানটি তাকে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করে। বাংলাদেশ থেকে একাই ছিলেন তিনি। ছিলেন ৮০ জনের গ্রুপে সবচেয়ে কম বয়সী। এ ধারাবাহিকতায় ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় তার টানা ২৬ দিনের বেসিক মাউন্টেনিয়ারিং কোর্স। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে হিমালয়ের শীতিধার চূড়ায় ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান। এই শৃঙ্গ জয় করা তিনিই সবচেয়ে কম বয়সী মেয়ে। ২৫ অক্টোবর ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন রণধীর সিং তাকে ওই চূড়া জয়ের ব্যাজ পরান।
বিডি প্রতিদিন/১৬ এপ্রিল ২০১৭/হিমেল | 6 |
'ভাঙা দুটি পায়ে জয়ের ভাগ্য লুটিয়া আনিল আজি'। পল্লি কবি জসিমউদ্দিনের 'ফুটবলখেলোয়াড়' কবিতার লাইন। মেসের ইমদাদ ভাইয়ের ভাঙা পা নিয়ে ম্যাচ জয়ের কাহিনী নিয়ে লিখেছিলেন কবি। এবার 'ভাঙা পা' নিয়ে এক গোল করে এবং ফিরমিনোকে দিয়ে দারুণ এক গোল করিয়ে জয় ছিনিয়ে আনলেন নেইমার। তাতে শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেছে সেলেকাওরা। দ্বিতীয় রাউন্ডের পঞ্চম ম্যাচে রোববার রাশিয়ার সামারায় প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে আটকে দেয় মেক্সিকো। গোল শূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে নেইমারের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। উইলিয়ানের দেওয়া ক্রসে পা ছুঁইয়ে দলের প্রথম লিড এনে দেন ব্রাজিলের সেরা তারকা নেইমার। এরপর ম্যাচের ৮৮ মিনিটে নেইমারের যেভাবে গোল করেছিলেন অনেকটা তেমন এক পাস ফিরমিনোকে দেন পিএসজি তারকা নেইমার। তা থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন ফিরমিনো। তাতে শেষ হয়ে গেল মেক্সিকোর স্বপ্ন। দেশটি সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠেছিল। এরপর আটটি আসরে দ্বিতীয় রাউন্ডে হেরে বিদায় নিতে হলো মেক্সিকোর।প্রথমার্ধে মেক্সিকো ব্রাজিলের গোল মুখে ভালো কিছু আক্রমণ করে। চাপে ফেলে দেয় ব্রাজিলকে। কিন্তু সে চাপ বেশিক্ষণ নিজেদের ওপরে রাখতে দেয়নি ব্রাজিল। পরক্ষণেই মেক্সিকোর গোলে ভালো কিছু আক্রমণ করে সেলেকাওরা। কিন্তু গোল হতে দেননি মেক্সিকো গোলরক্ষক ওচোয়া। প্রথমার্ধে এবং দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ কিছু সেভ করেন মেক্সিকো গোলরক্ষক। কৌতিনহো, উইলিয়ান, জেসুস থেকে নেইমার সবার শট ফিরিয়েছেন এই গোলরক্ষক। কিন্তু গোলবার অক্ষত রাখেতে পারেননি। ম্যাচের দুই মিনিটের মাথায় প্রথম আক্রমণ করে মেক্সিকো। এরপর ৫ মিনিটের মাথায় আক্রমণ করে ব্রাজিল। কিন্তু ২০ গজ দুর থেকে নেইমারের মারা শট ঠেকান মেক্সিকো গোলরক্ষক। ২২ মিনিটের আক্রমণ আবার ছিল মেক্সিকোর। ফাগনারকে কাটিয়ে ঢুকে পড়ে মেক্সিকো। কিন্তু গোলবারে যায়নি তাদের আক্রমণ। ২৫ মিনিটে আবার নেইমারের শট ঠেকান মেক্সিকো গোলরক্ষক। ৩২ মিনিটে কৌতিনহোর শটনি বাইরে দিয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষ বাঁশির আগে শেট আক্রমণ করেন জেসুস। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে উইলিয়ানের দারুণ শট ঠেকান ওচোয়া। ৬৯ মিনিটে মেক্সিকোর ভালো একটি আক্রমণ প্রতিহত করেন অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা। এরপর ম্যাচের ৮৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে ঢোকেন রবার্তো ফিরমিনো। সাবেক লিভারপুল সতীর্থ কৌতিনহোর বদলে দলে সুযোগ মেলে তার। মাঠে ঢোকার দুই মিনিট পরে গোল করে দলের ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ম্যাচে অবশ্য মেক্সিকো বল দখলের প্রতিযোগিতায় ব্রাজিলের সমানে সমানে ছিল। ব্রাজিলের ৪৯ ভাগ বল দখলের পাশাপাশি তারা ৫১ ভাগ বল পায়ে নিয়ে খেলেছে। তবে আক্রমণে ছিল পিছিয়ে। ব্রাজিল ১৬টি শটের পাশে তার শট নিতে পেরেছে মাত্র ছয়টি। তার মধ্যে ব্রাজিলের ১০টি শট ছিল লক্ষ্যে। আর মেক্সিকোমোটে একটি শট গোলের লক্ষ্যে নিতে পেরেছে। সোমবার রাত ১২ টায় বেলজিয়াম-জাপান মুখোমুখি হবে। তাদের মধ্যে যারা জিতবে ৬ জুলাই ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে তারা। | 12 |
ভিড়ে এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে যাবে কে? আজকের পত্রিকার বরিশাল সংস্করণের পাতা ওলটাতে গিয়ে চোখে পড়ল খবর দুটি। একটি খবরের জন্ম মুলাদিতে, অন্যটির মঠবাড়িয়ায়। একটিতে স্কুল সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যটিতে প্রধান শিক্ষক স্কুলে ঢুকতে পারছেন না সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ কিছুসংখ্যক শিক্ষকের হুমকিতে। আমরা স্কুল ও শিক্ষকদের নাম উচ্চারণ করলাম না। কে দোষী, কে নির্দোষ না জেনে সম্পাদকীয় স্তম্ভে নাম উল্লেখ না করাই সংগত।আমাদের দেশে টাকা আত্মসাতের ঘটনা খুব বিরল কোনো খবর নয়। হরহামেশাই সে রকম ঘটনা ঘটছে নানাভাবে। এ মুহূর্তে অর্থ আত্মসাতের দিক থেকে আলোচনায় আছে ই-অরেঞ্জ, সাধারণ মানুষের সরলতা কিংবা লোভের সুযোগ নিয়ে এরা টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। শিক্ষকদের নিয়ে এ ধরনের খবরের গুরুত্ব অন্যদিক থেকে।শিক্ষাব্যবস্থা আর সব ব্যবস্থা থেকে একটু আলাদা। এখানে গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক হয়। শিক্ষকেরাই অনেকাংশে গড়ে তোলেন শিক্ষার্থীর ভাবনার জগৎ। শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়াতে হলে শিক্ষককেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হয়। শিক্ষার্থীর একটি যৌক্তিক মন তৈরি করে দিতে না পারলে শিক্ষকের সব পরিশ্রমই ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতার দিকেই আমরা ধাবিত হচ্ছি।শিক্ষকদের নিয়ে দুর্নীতির প্রশ্ন ওঠায় সবচেয়ে ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তারা সততা, ন্যায়নীতির প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। আমরা বিভিন্ন স্কুলের গভর্নিং বডির নাম করে হওয়া দুর্নীতির খবর মাঝে মাঝেই দেখতে পাই। নামীদামি স্কুলে অর্থের বিনিময়ে ভর্তি করানোর একটা ব্যবসা গড়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। স্কুলের নাম উল্লেখ না করেই কয়েকটি প্রবণতার কথা বলা যায়। একটি হচ্ছে, শিক্ষকেরা তাঁদেরই শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন, যাঁরা তাঁদের আত্মীয়। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতিও নিয়োগ-বাণিজ্যের এই রমরমা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই দেখা যায়। অর্থ আত্মসাতের জন্য সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলা হয়েছে, এমন খবর মাঝে মাঝেই দেখা যায়। এমনকি ভালো ফলাফলের জন্য সরকারের দেওয়া এক লাখ টাকা প্রণোদনা-ভাতাও এক স্কুলের শিক্ষক আত্মসাৎ করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। সেকায়েপ-এর (সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট) উদ্দীপনা পুরস্কারের অর্থ বিতরণেও অনিয়ম করেছেন কোনো একজন প্রধান শিক্ষক, তাঁর বেতন-ভাতা কেন বন্ধ রাখা হবে না, তা জানতে বলা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে। ভবন নির্মাণসহ উন্নয়নকাজ মানেই তহবিল তছরুপের অভিযোগ, এটা তো বহুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে।খুব শঙ্কা নিয়ে বলতে হচ্ছে, 'শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড' ধরনের আপ্তবাক্যের এখন মূল্য আছে বলে মনে হয় না। যাঁরা জাতির মেরুদণ্ডটি সোজা রাখবেন বলে শিক্ষকতা পেশায় এসেছেন, তাঁরাই নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হলে নিজেদের মেরুদণ্ড খুইয়ে বসলে জাতির মেরুদণ্ড যে নড়বড়ে হবে-এ তো জানা কথা। | 6 |
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি সহিংসতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে বাংলাদেশ। সোমবার (১৭ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত অবস্থান চায় বাংলাদেশ এ সময় প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সংঘাত নিরসনে শক্ত ভূমিকা প্রত্যাশার কথা জানান। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা অক্সফোর্ড-আ্যস্ট্রাজেনেকার ৪০ লাখ টিকা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিমন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন, সম্প্রতি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন দ্রুত সময়ে ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। আলোচনায় রাষ্ট্রদূত মিলার প্রতিমন্ত্রীকে জানান, বাংলাদেশের টিকার অনুরোধের বিষয়টি তাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যে চিঠি লিখেছেন, তার উত্তর এক-দুই দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে টিকা উৎপাদন করা যায় কিনা, সে বিষয়ে তারা আলোচনা করছেন। তবে অবশ্যই এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় যৌথভাবে টিকা উৎপাদনের বিষয়ে এর মধ্যেই ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। প্রতিমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যু, বিশেষ করে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি), প্রত্যাবাসন, করোনাভাইরাস ও টিকা নিয়ে আলোচনা করেন। | 6 |
ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। শনিবার ঐতিহাসিক দিনটি উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ৭ মার্চের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ৭ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য দিন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইতিহাসের একমাত্র ভাষণ যার মাধ্যমে একটা জাতি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। রাষ্ট্রদূত বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐহিত্যের অমূল্য প্রামাণ্য দলিল হিসেবে তাদের ওয়ার্ল্ড মেমোরি রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভূক্ত করে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয় এবং রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। বাণীগুলো পাঠ করেন দূতাবাসের ডিফেন্স এ্যাটাসে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈনুল হাসান এবং মিনিস্টার (প্রেস) শামিম আহমদ। পরে বঙ্গবন্ধু এবং ১৫ আগস্টে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। | 4 |
তিক্ততা ভুলে কাছাকাছি আসছেন তারা? জোড়া লাগতে চলেছে ভেঙে যাওয়া দাম্পত্য? এই প্রশ্নগুলোই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নাগা চৈতন্য এবং সামান্থা প্রভুর অনুরাগীদের মনে। সচরাচর খ্যাতনামীদের জীবনের ওঠাপড়ার আভাস দেয় তাদের নানা ইঙ্গিতমূলক পোস্ট। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যেন উলটপুরাণ। একটি পোস্ট উধাও হতেই শুরু যাবতীয় জল্পনা। সামান্থার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তার বিবাহ বিচ্ছেদের বিবৃতি। অর্থাৎ সেই পোস্ট যে দায়িত্ব নিয়ে সামান্থাই মুছে দিয়েছেন, তা আর বুঝতে বাকি থাকে না। দিন কয়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে নাগার একটি মন্তব্য আরও উস্কে দিয়েছে এই জল্পনা। পর্দায় কোন নায়িকার সঙ্গে তাকে সব চেয়ে ভাল মানায় জানতে চাওয়া হলে প্রাক্তন স্ত্রীর নাম নেন দক্ষিণী তারকা। বেশি শব্দ খরচ না করে শুধু বলেন, "সামান্থা"। দু'জনের মতিগতি লক্ষ্য করে অনেকেই বলছেন, অভিমানের বরফ নাকি গলছে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? দুই তারকার মুখে কুলুপ। যদিও এক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, নিজের ইনস্টাগ্রাম থেকে 'অপ্রয়োজনীয়' পোস্ট সরিয়ে দিচ্ছেন সামান্থা। তাই বিচ্ছেদের বিবৃতিটিও আর রাখেননি তিনি। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 2 |
আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে চাল আমদানির ওপর ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম দিন থেকে এ প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার কথা। যদিও জাতীয় সংসদে এ প্রস্তাব অনুমোদিত হতে হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার আগেই খুচরা বাজারে সবধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ টাকা। পাইকারি ও মিলপর্যায়ে দাম বৃদ্ধির পরিমাণ যথাক্রমে তিন ও দুই টাকা। অসাধু ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাজেট প্রস্তাবের সাথে সাথেই দাম বাড়িয়ে দেয়ার এমন অনৈতিকতার বিরুদ্ধে সরকারের কোনো ভূমিকা না দেখে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।জানা যায়, চাল আমদানির ওপর বরাবরই ২৮ শতাংশ শুল্ক ছিল। গত বছর আগাম বন্যায় সিলেটের হওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানির ঘটনায় বাজারে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাময়িকভাবে চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে প্রথমে ১০ শতাংশ এবং একপর্যায়ে পুরোপুরি শুল্কমুক্ত করা হয়। তাতেও চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে না কমলেও কিছুটা সহনীয় হয়ে আসে। ৫৫ টাকা থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে ৭২ টাকায় উঠে যাওয়া সরু চালের দাম শেষ পর্যন্ত ৬৮ থেকে ৬০ টাকায় দাঁড়ায়। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে প্রত্যাহার করা আমদানি শুল্ক পুনর্বহালের প্রস্তাব করার চালের দাম আবার বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। যদিও প্রস্তাবিত বাজেট কার্যকর হতে আরো অনেক সময় এবং প্রক্রিয়া বাকি। রাজধানীর ঢাকার কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি চালের দাম চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। পাকারি বাজারে দাম বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা দাম বাড়িয়েছেন মিল মালিকেরা। এর অর্থ দাঁড়ায় মিল মালিকেরা দাম যা বাড়িয়েছেন পাইকারি আড়তদাররা বাড়িয়েছেন তার চেয়ে বেশি। খুচরা বিক্রেতারা বাড়িয়েছেন পাইকারদের চেয়েও বেশি। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো, শুল্কমুক্ত উপায়ে আমদানি করে মজুদ রাখা লাখ লাখ টন চালের দাম আমদানিকারকেরা কোনো কারণ ছাড়াই বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সুযোগে মিল মালিকেরাও দেশী চালের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ যে কৃষকের স্বার্থের কথা ভেবে চাল আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে তাদের ঘরে কোনো ধান নেই। ধান চলে গেছে মধ্যস্বত্বভোগী এবং মিল মালিকদের নিয়ন্ত্রণে। খুচরা বাজারে গতকাল প্রতি কেজি সরু চাল বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৬৪ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এ মানের চালের দাম ছিল ৫৬ থেকে ৬০ টাকা। ৪০ টাকার মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, কয়েক দিনের মধ্যে চালের দাম আরো বাড়বে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত শুল্কহার যদি জাতীয় সংসদ অনুমোদন করে তবে চালের দাম আরো আস্বাভাবিক হয়ে উঠবে। কারণ হিসেবে তাদের যুক্তি, দেশে যে পরিমাণ চাল মজুদ আছে তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। তা ছাড়া চালের চাহিদা ও জোগানসংক্রান্ত সরকারি পরিসংখ্যানও সঠিক নয় বলে সংশ্লিষ্টদের অনুমান।চাল আমদানির ওপর বরাবরই ২৮ শতাংশ শুল্ক ছিল মন্তব্য করে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, গত বছর হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যার কারণে আমাদের ফসলহানি হয়েছিল। তখন আমাদের বাইরে থেকে চাল আমদানির প্রয়োজন ছিল। তখন শুল্ক উঠিয়ে দেয়ায় বাইরের থেকে চাল এসে বাজার স্থিতিশীল হয়। তার দাবি, এ বছর দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই আর চাল আমদানির প্রয়োজন নেই। তা ছাড়া এখনো তো বাজেট কার্যকর হয়নি। এখনই চালের দাম বাড়ার কী কারণ থাকতে পারে? | 0 |
৪৩তম বিসিএসে আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়ায় ৮১ প্রার্থীর আবেদনপত্র বাতিল করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। একই সঙ্গে ৩০ জুনের মধ্যে এই প্রার্থীদের আবার অনলাইনে আবেদন করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২০ মে) কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভুল তথ্য দিয়ে ৪৩তম বিসিএসের ফরম পূরণ করায় ৮১ জনের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এই ৮১ প্রার্থীকে অনলাইনে আবেদনের অনুরোধ জানিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাতিল করা হয়েছে। এই প্রার্থীদের ৩০ জুনের মধ্যে নতুন করে অনলাইনে আবেদন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন অনুমতি দিয়েছে। এই প্রার্থীদের আগামী ৩০ জুন সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে আবেদন করতে হবে। এ সময়ের পর কোনো প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৬ মার্চ ভুল তথ্য দিয়ে ৪৩তম বিসিএসে আবেদন করায় ৮৫ প্রার্থীর আবেদনপত্র বাতিল করেছিল পিএসসি। তাঁদের আবার অনলাইনে আবেদন করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বাতিল হওয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বরগুলো হলো- | 1 |
ভোরের কাগজ পত্রিকার প্রকাশক সাবের হোসেন চৌধুরী (এমপি), সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বার্তা সম্পাদক ইখতিয়ার উদ্দিন, সিনিয়র রিপোর্টার রুহুল আমিনসহ ৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় ১০ কোটি টাকার মিথ্যা মানহানি মামলার প্রতিবাদে মাদক ব্যবসায়ী আরফানুল হক রিফাতের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া ও মামলা প্রত্যাহার দাবিতে বুধবার (২৫ মে) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাকেরগঞ্জ-বরগুনা মহাসড়কে মির্জাগঞ্জ উপজেলার সকল সাংবাদিকদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মির্জাগঞ্জে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন ও কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্ব-বান্ধবে অংশগ্রহণ করেন। মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি মো. রিয়াজ হোসেন এর সভাপতিত্বে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে বক্তারা কুমিল্লার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আরফানুল হক রিফাতের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভোরের কাগজের প্রকাশক, সম্পাদক ও সিনিয়র রিপোর্টারসহ পাঁচজন সাংবাদিকের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। মামলা প্রত্যাহার না করলে সামনে এর চেয়েও কঠিনতম কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশ ব্যাপী আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন। মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারির মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় নাম থাকাসহ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডারবাজির হোতা, বালি খেকো ও কুমিল্লার মাদকের গড ফাদার হিসেবে পরিচিত বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আগেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সিটি নির্বাচনের আগে সংগঠিত অপকর্মগুলোকে ছাপিয়ে সকল অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার কৌশল হিসেবে ভোরের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মানহানি মামলা দায়ের করেন। যেখানে সরকার মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, সেখানে শীর্ষ মাদক কারবারি আরফানুল হক রিফাত কীভাবে ভোরের কাগজের বিরুদ্ধে মামলা করেন? কিন্তু মামলা দিয়ে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখা যাবে না। অবিলম্বে নিঃশর্ত মামলা প্রত্যাহার না করলে দেশ জুড়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে সাংবাদিকরা। এ সময় মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের ক্লাবের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাবের উপজেলা প্রতিনিধি মো. মেহেদী হাসান মুবিন এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এতে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী জেলার দেশটিভির সংবাদদাতা সাইদ ইব্রাহিম, মির্জাগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. ফারুক খান, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান বাধঁণ, সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ হোসেন, উপজেলা প্রেস ক্লাব মির্জাগঞ্জের সভাপতি মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জোমাদ্দার প্রমুখ। এছাড়া উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে উপজেলা ও জেলা থেকে আগত সাংবাদিকরা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ স্ব-বান্ধবে উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
গৃহহীন প্রতিবন্ধী আকিবের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা ইয়াসমিন। তিনি গতকাল সোমবার দুপুরে আকিবের পরিবারের সদস্যদের নিজ কার্যালয়ে এনে প্রতিবন্ধী আকিবের চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। এ সময় বেশ কিছু খাদ্যসামগ্রীও দেওয়া হয় তাঁকে। অপর দিকে স্বামীহারা আকিবের মা রাজিয়া বেগমের জন্য বিধবা ভাতা ও মাথা গোঁজার জন্য বাড়ির ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দেন ইউএনও।জানা গেছে, মধুপুর পৌরশহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোপীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া বেগম। তাঁর স্বামী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাজিব হোসেন হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান চার বছর আগে। ভিটেমাটিহীন রাজিয়া বেগম কোনো উপায় না দেখে দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে গোপীনাথপুরে ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। তাঁদের পরিবারের ছোট ছেলে আকিব বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য না থাকায় গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে মা রাজিয়া বেগম কাজে যেতে বাধ্য হন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বড় ছেলে আরিফ পরের দোকানে কাজ করে সংসারে জোগান দেন। বড় মেয়ে বাড়িতেই দিন কাটায়, আর ছোট মেয়ে স্থানীয় মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে।এ বিষয়ে আজকের পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে ২ এপ্রিল প্রকাশিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা ইয়াসমিন দ্রুত পদক্ষেপ নেন। সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে আকিবের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করেন এবং প্রতিবন্ধীসেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের মুসলিমা আক্তার মাসুদার মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া আকিবের মায়ের জন্য বিধবা ভাতা ও গৃহহীন হিসেবে তাঁকে বাড়ি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।পরে তিনি ওই পরিবারের জন্য উপহারসামগ্রী হস্তান্তর করেন।এ সময় মধুপুরের ইউএনও শামীমা ইয়াসমিনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি মো. জাকির হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা। | 6 |
ভয়াল নিকষ কালো রাতের অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে ভারত। দিল্লিতে যে দাঙ্গা হচ্ছে তাকে কোনো দলের মামুলি কৌশলগত বিচ্যুতি বা নজরদারির অন্যমনস্কতাজনিত ঢিলেমি বলে চালানো যাবে না। আমাদের সাহায্য-সহযোগিতায় যে শাসকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, তারা আমাদের ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিতে যাচ্ছে, এ দাঙ্গাগুলো তার নির্ণায়ক হয়ে উঠেছে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, নিষ্ঠুরতা, ভয়, বিভক্তি ও সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া একটি শাসকগোষ্ঠী ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ওপর কার্পেটবোমা বিছিয়ে দিতে চায়। গোড়াতেই এটি পরিষ্কার ছিল যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা অমুসলিমদের সমস্যা সমাধান নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) মূল মোক্ষ ছিল না। ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে বৈষম্যের মুখে না ফেলা এবং নাগরিকত্ব অর্জনে কারও ধর্মীয় পরিচয় টেনে না আনার নীতির ভিত্তিতে একটি বিল পাস করেই এ লক্ষ্য পূরণ করা যেত। এনআরসি, সিএএ এবং এনপিআরের মধ্যে কোনো সম্পর্ক খোঁজা হবে না বলে সরকারের দিক থেকে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা প্রথম থেকেই কারও কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। এর ফল হিসেবে কোটি কোটি ভারতীয় মনে, বিশেষ করে মুসলমানদের মনে প্রবল ভয় ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কোন পর্যন্ত গড়াবে তা তারা আন্দাজ করতে পারছে না। আটক শিবির নিয়ে যে আতঙ্ক ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে তাকে উড়িয়ে দেওয়া খুবই কঠিন। এ বিক্ষোভ ও সহিংসতা অতি সহজেই থামানো যেত এবং এখনো থামানো যায়, যদি সরকার নাগরিকদের মধ্যে এ আস্থা তৈরি করতে পারে যে ভারতে বসবাসকারী কেউ ঝুঁকির মধ্যে নেই এবং কাউকে ধর্মীয় বা অন্য কোনো পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না। সরকার যদি এতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে তা সংখ্যালঘুদের অবমাননাকর পরিস্থিতি বাড়াবে এবং সহিংসতা আরও ফেঁপে উঠবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছেন সুপ্রিম কোর্ট। 'প্রতিরোধমূলক আটকাবস্থায়' থাকা ব্যক্তিকে সশরীরে আদালতে হাজির করতে হবে-আমাদের সংবিধানে রাখা এ মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ আদালত পাশ কাটিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট আসামিকে সশরীরে আদালতে হাজির করার বাধ্যবাধকতাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। প্রতিটি ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টকে সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের পাশে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে। মৌলিক বৈষম্যমূলক আচরণ করার অভিযোগের শুনানিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং ক্ষমতাসীন নেতাদের প্রতি নতজানু হওয়ার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সাংবিধানিক বিচারের সব আশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন। উপায় না দেখে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নামতে হয়েছে। এ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সমাজের সব স্তরের নর-নারী, ছাত্রছাত্রী ও সংখ্যালঘুরা ছিলেন। কোনো ধরনের উসকানি না থাকা সত্ত্বেও আইনের মারপ্যাঁচে এসব বিক্ষোভ মিছিল বা সমাবেশ করা কঠিন করে তোলা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মতো কিছু রাজ্যে কিছু সহিংসতা হয়েছিল। এ ঘটনাগুলোকে সরকারবিরোধীদের দমিয়ে রাখার বড় অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ না করতে দিলে সব সময়ই উগ্রবাদীদের সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সরকারের কূটকৌশলের মধ্যেও চরম নিষ্ঠুরতা লুকিয়ে আছে। দিল্লিতে শাহিনবাগে বিক্ষোভ মিছিল করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এ কারণে নয় যে সরকার নমনীয় ছিল। সরকার বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় নামতে দিয়ে সংখ্যাগুরুদের সংঘবদ্ধ করার একটা অজুহাত তৈরি করছিল। তারা সংখ্যাগুরুদের দেখাচ্ছিল: দেখো, সংখ্যালঘু মুসলমানরা কীভাবে রাস্তাঘাট অবরোধ করে হিন্দুদের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে। বিজেপির বিষাক্ত নীতি হলো, প্রথমে আমরা তাদের বৈষম্যের শিকার বানাব। তারা প্রতিবাদে নামলে সেটিকে যথাসম্ভব উসকে দিয়ে একটি অজুহাত তৈরি করব। এরপর তাদের ওপর চড়াও হব। এর বাইরে সংবাদমাধ্যমের ব্যর্থতা একটি বড় বিষয়। আমরা দেখেছি, বহু সাহসী সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে আমাদের মূল ঘটনা জানাতে চেয়েছেন, কিন্তু সরকারের চাপের কারণে সংবাদ প্রকাশ বা সম্প্রচার করা কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশ বা সম্প্রচার করতে পারেনি। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভয়ে এতটাই ভীত যে তাদের সাংবাদিকতার পেশাদারি এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা হয়েছে আটকে পড়া হরিণের মতো। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন এখন রাজঘাটে গিয়ে ছবি তোলা এবং অন্য বিরোধী নেতাদের কর্মতৎপরতা বড়জোর টুইট করায় সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। বিরোধী দলে এখন কর্মীর চেয়ে পরামর্শকের সংখ্যা অনেক বেশি। সুশীল সমাজের মধ্য থেকে বিজেপির তৎপরতার বিরোধিতা জোরালোভাবে আসছে না। রাস্তায় মানুষ 'জয় শ্রীরাম' বলে যে স্লোগান দিচ্ছে তা আসলে ভগবান রামের জয়ধ্বনি বলে মনে হচ্ছে না, বরং এটিকে এখন মানুষ হত্যায় ছুটে আসার আহ্বানের সমার্থক স্লোগান বলে মনে হচ্ছে। দিল্লির এ সহিংসতা হয়তো থেমে আসবে। কিন্তু সেখানেই সব সহিংসতার সমাপ্তি, তা ধরে নেওয়া যাবে না। তার আগে সরকারকে শান্তির মনোভঙ্গিতে আসতে হবে। এর অন্যথা হলে কিছুই সম্ভব হবে না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিতপ্রতাপ ভানু মেহতা: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর কন্ট্রিবিউটিং এডিটর | 8 |
করোনাভাইরাস বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পথে নামলেন চলচ্চিত্রের শিল্পীরা। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ব্যানারে আজ শনিবার দুপুরে র্যালি করেছেন শিল্পীরা। প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি পথচারীদের মধ্যে ৯০০ মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও গ্লাভস বিলিয়েছেন বলে জানালেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষ ততটা সচেতন নয়। দেশের মানুষকে সচেতন করতে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় র্যালি করতে নেমেছেন বলে জানালেন জায়েদ খান। তিনি বলেন, 'আমরা নিজেরা মুখে মাস্ক পরে, হ্যান্ড গ্লাভস পরে র্যালিতে নেমেছি। র্যালিতে একজন আরেকজনের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য, সংকটময় এই পরিস্থিতে দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা।' চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির উদ্যোগে শনিবার বেলা দেড়টার দিকে এফডিসির প্রবেশমুখে ইলিয়াস কাঞ্চন, রুবেল, অঞ্জনা, মিশা সওদাগর, অরুণা বিশ্বাস, জায়েদ খান, আলেকজান্ডার বো, জয় চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন নবীন চলচ্চিত্রকর্মী একত্র হন। এফডিসির প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করেন তাঁরা। অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনও ছিলেন র্যালি এবং মাস্ক বিতরণের এ কার্যক্রমে। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'পুরো পৃথিবী এখন করোনাভাইরাসের আতঙ্কে থমকে গেছে। এই রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সচেতন থাকা। করোনায় আক্রান্ত দেশ থেকে বাংলাদেশে আসা প্রবাসীদের প্রথম দিকে আমরা সচেতন করতে পারিনি। এ জন্য আমরা ঝুঁকিতে পড়ে গেছি।' ইলিয়াস কাঞ্চন পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, 'জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। নিয়মিত হাত ধোয়া থেকে শুরু করে সবকিছুতেই সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজনে ঘরে বসে নামাজ বা প্রার্থনা করতে হবে। নিজেকে রক্ষা করার জন্য সচেতন হলে অন্যরাও ভালো থাকবে। আমরা শুধু সচেতন থাকলেই করোনা থেকে বাঁচতে পারব।' শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর জানিয়েছেন, 'করোনাভাইরাসের আতঙ্কে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ। সবাই জনসমাগম এড়িয়ে চলছে। যতটা সম্ভব ঘর থেকে বেরও হচ্ছে না। আমরাও সিদ্ধান্ত নিয়েছি শিল্পী সমিতির কার্যক্রম ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার। সবাই সচেতন থাকার চেষ্টা করছি। আমার স্ত্রী-সন্তানেরা নিউইয়র্কে লকডাউন অবস্থায় আছে। মন চাইলেও তাদের দেখতে যেতে পারছি না।' খলচরিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনয়শিল্পী বললেন, করোনা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সচেতন হওয়াটা বেশি জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সরকার করোনা নিয়ে অনেক সিরিয়াস। সরকার ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নির্দেশনা সঠিকভাবে মানলেই করোনাভাইরাস থেকে দূরে থাকা যাবে। তৃণমূল থেকে একেবারে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। | 2 |
ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান নিখোঁজ থাকা অবস্থায় তার প্রথম স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। ইন্টারনেটভিত্তিক একটি নম্বর থেকে এ মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে যার ছবি ও নাম ব্যবহার করা হয়েছিল সেই মেহেদি হাসান বলছেন তার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে এটা করা হয়েছে। তিনি শুক্রবার নয়া দিগন্তকে জানান, তিনি পেশায় একজন দন্ত চিকিৎসক। থাকেন ঢাকায়। তার ছবিসহ এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তিনি মর্মাহত, তিনি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন। তিনি জানান, এ ব্যাপারে তিনি রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। শুক্রবার দুপুরে কাফরুল থানায় করা জিডিতে মেহেদি হাসান উল্লেখ করেন, অদ্য ১৮/০৬/২০২১ ইং তারিখে রাত্র ১:৪২ ঘটিকার সময় আমার বর্তমান ঠিকানায় কাফরুল থানাধীন উত্তর কাফরুলস্থ বাসা ৫৭৩/২, ৪র্থ তলা, ফ্ল্যাট ৩/সি বসে ফেইসবুক চালানোর সময় হঠাৎ দেখিতে পাই আমার ছবি ও নাম ব্যবহার করে 'আবু ত্ব-হা আদনানের স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ চাওয়া মেহেদির অস্তিত্ব পায়নি পুলিশ' লিখে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত সংবাদটি ফেসবুক, অনলাইন ও ইউটিউবে প্রচার হয়। তিনি লেখেন, ' ' এই ফেইক আইডি থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে যা আমার নিজস্ব আইডি নয়। উপরোক্ত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে মেহেদি হাসান নয়া দিগন্তকে জানান, কে বা কারা কী উদ্দেশ্য নিয়ে আমার নাম, ছবি ব্যবহার করে মুক্তিপণ দাবি করলো বুঝতে পারছি না। আমি ও আমার পরিবার মানসিকভাবে চাপে পড়েছি। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কারণে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। প্রকৃত দোষীদের খুঁজে আইনের আওতায় আনা হোক। উল্লেখ্য, মেহেদি হাসান পরিচয় দিয়ে ইমোতে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। তবে সেই পরিচয়টি তখন শনাক্ত করতে পারেনি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ বিষয়ে আদনানের বোন রিতিকা রুবাইয়াত ইসলাম অনন্যা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন শনিবার সন্ধ্যায় ইন্টারনেটভিত্তিক নম্বর (০৯৬৯৬৯৭৭০৬৪৭) থেকে আমার ভাবি আবিদা নুরের মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। নাম্বারটি আমার ভাইয়া ব্যবহার করতেন। কিন্তু বহুদিন থেকে সেটি বন্ধ ছিল। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে নিজেকে মেহেদি হাসান বলে পরিচয় দেন এক ব্যক্তি। বলেন, আদনানসহ অন্যরা তাদের কাছে আছে। টাকাপয়সা দিলে ছেড়ে দেয়া হবে। এসময় তিনি ইমো নাম্বার খুলতে বলেন। পরে ফোন কেটে দেন। আমরা বার বার চেষ্টা করলেও ওই ফোনে কল ঢুকেনি। ভাবির নাম্বারে আমি ইমো খুললে ওই ব্যক্তি ইমোতে মেসেজ করেন এবং সেখানেও তিনি একই ধরনের কথা বলেন ও টাকা চাওয়ার বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বলেন। সবশেষ, নিখোঁজের ৮ দিন পর শুক্রবার দুপুরে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। | 6 |
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভোলায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ। ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি দোস্ত মাহামুদের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন টুলু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল হোসেন বিপ্লবসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
শোক আর শ্রদ্ধায় হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণ করা হয়েছে। বুধবার গুলশান-২-এ হামলায় নিহতদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার সাধারণ মানুষের সেখানে যাতায়াতের প্রতি ছিল বিধিনিষেধ। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত ও পুলিশ-র্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ফুলেল শ্রদ্ধাজ্ঞ অর্পণ করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, হলি আর্টিসান হামলার পর আমরা একের পর এক জঙ্গি আস্তানা গুড়িয়ে দিয়েছি। জঙ্গিদের সক্ষমতা যে পর্যায়ে ছিল সেটি এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে। ইমপ্রভাইড্ বোমা বানানোর মত এক্সপার্ট এখন আর নেই। তারা কেউ জেলে আছে অথবা বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে। তাদের ছোটখাটো সক্ষমতা থাকতে পারে কিন্তু বড় ধরনের কোনও ঘটনা ঘটানোর সক্ষমতা নেই। ডিএমপি কমিশনার বলেন, হলি আর্টিসানে হামলার আজ ৪ বছর পূর্তি হলো। আমরা এই জঙ্গি হামলায় নিহত আমাদের দুইজন সহকর্মী ও দেশি-বিদেশি নিহত নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। যারা সরাসরি এই ঘটনায় জড়িত ছিল তারা সেনাবাহিনীর অভিযানে ঘটনাস্থলে নিহত হন। এই পুরো ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল পরবর্তী সময়ে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করি এবং সবারই সাজা হয়েছে। হলি আর্টিসানের ঘটনার পরে বাংলাদেশ পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেভাবে ঢেলে সাজানো হয়েছে, একইভাবে যারা জঙ্গিবাদে জড়িত তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়েছে। কমিশনার বলেন, করোনাকালে স্বাভাবিকভাবে মানুষ বাসায় বেশি থাকে। তারা অনেকেই ধর্মীয় সাইটগুলোতে বেশি ভিজিট করছে। এই সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমরা তাদের প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছি। কাউকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছে বা জঙ্গিবাদের কার্যক্রমকে পরিচালনার জন্য যে ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন সে ধরনের কোনো সংগঠন আবার গড়ে তুলতে পেড়েছে সেরকম কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। জঙ্গিদের হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, র্যাব জঙ্গিদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। র্যাব জঙ্গিবাদ নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গি হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান র্যাব মহাপরিচালক। র্যাব মহারিচালক আরও বলেন, অভিযানিক কর্মকাণ্ড হিসেবে জঙ্গিদের গ্রেফতার ও জঙ্গিবিরোধী যে কোনো কর্মকাণ্ডকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রত্যেক ব্যাটালিয়নে রয়েছে জঙ্গিবিরোধী সেল। তিনি জানান, হলি আর্টিসানের পর থেকে চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত সারাদেশে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ৩৯৫টি অভিযান চালায় র্যাব। এর মধ্যে জঙ্গিদের আস্তানা ছিল ১৭টি। হলি আর্টিসানের পর থেকে গত চার বছরে ১ হাজার ১৬ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করে র্যাব। আত্মসমর্পণ করে ৭ জঙ্গি। র্যাবের অপারেশনে ২৫জঙ্গি নিহত হয়। | 6 |
আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনা ফুটবল বিশ্বকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। বুধবার নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান তিনি। বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি এই ফুটবল তারকার মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ গোটা ফুটবল বিশ্ব। ম্যারাডোনার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বকালের সেরা ফুটবলারের প্রতি শোক জানাচ্ছেন ফুটবলের রথী-মহারথীরা। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 12 |
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার রস টেলর। বাংলাদেশের আসন্ন টেস্ট সিরিজ শেষেই সাদা পোশাককে বিদায় জানাবেন তিনি। এরপর অস্ট্রেলিয়া এবং নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের পর ওয়ানডে ক্রিকেট থেকেও বিদায় নেবেন এ কিউই ব্যাটার। ২০০৭ সালে নিউজিল্যান্ডের হয়ে টেস্ট অভিষেকের পর ১১০ ম্যাচে ৪৪.৮৭ গড়ে ৭,৫৮৪ রান করেছেন ৩৭ বছর বয়সী টেলর, যা দেশের হয়ে সর্বোচ্চ। রস টেলর ছাড়া নিউজিল্যান্ডের হয়ে ১০০ টেস্ট খেলেছেন মাত্র তিন কিউই ক্রিকেটার। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ওয়ানডে রান (৮,৫৮১) এবং সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির (২১) মালিকও তিনি। এছাড়া, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই ন্যূনতম ১০০ ম্যাচ খেলা প্রথম ক্রিকেটার এ ডানহাতি ব্যাটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে টেলর বলেন, "আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি খুবই ভাগ্যবান এবং এটি দুর্দান্ত এক যাত্রা ছিল।" নিউজিল্যান্ডের সাবেক এ অধিনায়ক আরও বলেন, কিছু প্রতিভাবানদের সঙ্গে এবং কিংবদন্তির বিরুদ্ধে খেলে ক্রিকেটে অসংখ্য মনে রাখার মতো স্মৃতি তৈরি করাটা সত্যিই বিশেষ কিছু। কিন্তু সবকিছুরই একটি সমাপ্তি থাকে এবং আমি মনে করি আমার জন্য এটাই বিদায় বলার উপযুক্ত সময়।" এ বছরের শুরুর দিকে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের জয়সূচক রানটি এসেছিল টেলরের ব্যাট থেকেই। দলের হয়ে ২০২৩ বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছে থাকলেও তার আগেই বিদায়বার্তা দিলেন তিনি। আগামী ১ জানুয়ারি মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে নিউজিল্যান্ড। ৯ জানুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিতব্য ক্রাইস্টার্চ টেস্টের মাধ্যমে আরেক কিউই কিংবদন্তি ড্যানিয়েল ভেট্টোরির দেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট খেলার রেকর্ডে ভাগ বসাবেন টেলর। নিউজিল্যান্ড কোচ গ্যারি স্টিডের ভাষ্যমতে, দেশের একজন কিংবদন্তি হিসেবে মাথা উঁচু করেই ক্রিকেট ছাড়বেন টেলর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও আপাতত ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন টেলর। প্রাদেশিক দলের হয়ে চলমান ঘরোয়া মৌসুম শেষেই ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। | 12 |
রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট আগামী ১৭ জুলাই থেকে শুরুহবে বলে জানিয়েছে ঢাকার দুইদক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ হাট চলবে ২১ জুলাই পর্যন্ত। সূত্র জানায়, উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) বসবে ১০টি হাট। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) বসবে ৯টি হাট। অপরদিকে ঈদুল আজহায় বাড়ি ফেরা ও পশুর হাটে বেচাকেনার বিষয় বিবেচনায় এক সপ্তাহের জন্য শিথিল হতে পারে কঠোর বিধিনিষেধ। ফলে ১৫ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকতে পারে শপিংমল ও দোকানপাট। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। সূত্র জানায়, এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে গণপরিবহন। ভার্চুয়ালি চলবে সরকারি অফিস। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এসব বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, 'নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ৩০০ আসনেই জয়লাভ করবে বিএনপি। বাংলাদেশে এ যাবত যা কিছু ভালো হয়েছে তা বিএনপিই করেছে।' বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রুমিন ফারহানা বলেন, '১৯৭১ সালে যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার কেউ ছিল না, তখনই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনিই ছিলেন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, যে মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ নেতারা ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। আজ বিএনপি ভালো নেই, দেশও ভালো নেই।' তিনি আরও বলেন, 'বিগত সময়ে দলীয় এবং বিরোধীমত পোষণকারীদের বিরুদ্ধে যত ধরনের হামলা, নির্যাতন, পুলিশি হয়রানি ও মিথ্যা মামলা করা হয়েছে সময়মতো এর প্রত্যেকটির জবাব নেওয়া হবে। গুম-খুনের সঙ্গে অভিযুক্ত সরকারি এজেন্সির প্রত্যেক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় হবে।' এ সময় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রোকনউদ্দিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি জাহিদুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন প্রমুখ। | 9 |
সেটা ছিল ফাইনাল, এবার তার আগের ধাপ। রং চড়ছে কিন্তু আড়াই বছর আগের লর্ডসের গৌরবময় সেই ফাইনালকে কেন্দ্র করেই। সেই স্মরণীয় বিকেলে লর্ডসে যে নাটকের পর নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল, তার ছিটেফোঁটাও যদি আবুধাবিতে ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচে হয়, তাহলেই টি২০ বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে পৌঁছে যাবে। ক্রিকেটপ্রেমীরাও তেমন একটি দম বন্ধ ম্যাচের প্রতীক্ষায়। যদিও সেমির আগে ইংল্যান্ড শিবির কিছুটা চোটাক্রান্ত। এর পরও ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ইয়ন মরগানের দলই ফেভারিট। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও নিজেদের 'আন্ডারডগ'ই মনে করছেন। তাই বলে আপসেট ঘটানোর আশা ছাড়ছেন না তিনি। আবুধাবিতে লর্ডসের প্রতিশোধ নিয়ে ১৪ নভেম্বর দুবাইয়ের ফাইনালে জায়গা করে নিতে চান উইলিয়ামসন। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই বিকেলে ক্রিকেট তার সব রং নিয়ে হাজির হয়েছিল লর্ডসে। নাটকের পর নাটকে দর্শকদের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলেও ক্লাইম্যাক্স শেষ হচ্ছিল না। ৫০ ওভারের পর সুপার ওভারেও টাই হয়েছিল স্কোর। সুপার ফাইনালে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাউন্ডারি বেশি মারায়। সেই শিরোপা ইংল্যান্ডকে যেন আরও আগ্রাসী করে তুলেছে। বিশেষ করে টি২০ ফরম্যাটে তারা যে ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলে, তা বিরল। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে দিয়ে এবার সুপার টুয়েলভ সূচনা করে তারা। এরপর বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়াও তাদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তারা টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গেলেও বাটলার দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে দলকে উদ্ধার করেন। এই ম্যাচ দিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং গভীরতারও প্রমাণ মেলে। শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরে গেলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে মরগানের দল। ইংলিশদের এই দাপটের অন্যতম কারিগর ওপেনার জেসন রয় সেমির আগে ছিটকে গেছেন। তার বদলি হিসেবে জেমস ভিন্সকে নেওয়া হয়েছে। তাদের পেস বোলিংয়ের প্রধান অস্ত্র তাইমাল মিলসও ছিটকে গেছেন। ইংল্যান্ডের তুলনায় কিউইরা অবশ্য এতটা দাপট দেখাতে পারেনি। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় তারা। পরের ম্যাচেই হটফেভারিট ভারতকে হারিয়ে সেমির দৌড়ে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। তাদের সামনে শেষ বাধা ছিল আফগানিস্তান। ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত ক্রিকেট খেলে আফগান-বাধা টপকে ভারতের হৃদয় ভেঙে সেমিতে নাম লেখায় নিউজিল্যান্ড। নিজেদের আন্ডারডগ মনে করলেও ভীষণ ধারাবাহিক কিউইরা। আইসিসির সর্বশেষ চার টুর্নামেন্টের শেষ চারে খেলেছে তারা। এর মধ্যে ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর গত জুলাইয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে কিউইরা। আজকের সেমিতে কিউইদের খানিকটা নির্ভার থাকার আরেকটা কারণ হলো, ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের দুই নায়ক বেন স্টোকস ও জোফরা আর্চার নেই ইংল্যান্ড দলে। তার পরও ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকবে তাদের 'পাওয়ার প্যাকড' টপঅর্ডারের জন্য। যার নেতৃত্বে আছেন দুরন্ত ছন্দে থাকা ওপেনার জস বাটলার। চলতি বিশ্বকাপের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান এই ইংলিশ ওপেনার রান সংগ্রহে শীর্ষে থাকা বাবর আজমের পেছনেই রয়েছেন। এ ছাড়া ডেভিড মালান, জনি বেয়ারস্টো এবং লিয়াম লিভিংস্টোনের মতো বিগ হিটার আছে তাদের দলে। অধিনায়ক ইয়ন মরগার অতীতের সেই বিধ্বংসী ফর্মে না থাকলেও প্রয়োজনের সময় ঠিকই হাল ধরছেন। তবে ইংল্যান্ডের তুরুপের তাস হলেন মঈন আলি। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার দলের প্রয়োজনে টপঅর্ডারে নেমে উড়ন্ত সূচনা এনে দিচ্ছেন, আবার ফিনিশার হিসেবেও কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। সে সঙ্গে স্পিনেও উইকেট তুলছেন নিয়মিত। ওপেনার জেসন রয় ও পেসার তাইমাল মিলস ছিটকে যাওয়ার পরও ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখছেন কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসন, 'তারা দুজনই ইংল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্টের মাঝপথে এমন দুই জন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের চোটে পড়া দুঃখজনক। তার পরও আমি বলব, তারা ভীষণ শক্তিশালী একটি দল। ব্যাটিং গভীরতা ও বোলিং বৈচিত্র্যের জন্যই বছরের পর বছর তারা দারুণ পারফর্ম করছে। আর চোটাক্রান্ত দুই জনের অভাব পূরণ করার মতো যথেষ্ট মানসম্পন্ন ক্রিকেটার তাদের দলে রয়েছে।' একই সঙ্গে কিউই পেস আক্রমণের প্রশংসা করেছেন তিনি, 'তারা দুর্দান্ত। আমাদের জন্য দারুণ কাজ করছে। ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নিয়ে পারফরম্যান্স দিয়ে আমাদের আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা। আমাদের শক্তির জায়গা হলো এই পেস আক্রমণ।' তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিতে নিজেদের ফেভারিট মানতে নারাজ ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে কিউইদের সমীহই করেছেন তিনি, 'আমি নিজেদের হটফেভারিট বলতে পারছি না। নিউজিল্যান্ড পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। তারা কতটা ভালো ও ধারাবাহিক, সেটা আমরা জানি। তাদের হারাতে হলে আমাদের নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। তবে চ্যালেঞ্জ নিতে আমরা মুখিয়ে আছি।' একই সঙ্গে জেসন রয়কে হারানোর জন্য আক্ষেপও করেন তিনি, 'জেসন রয়ের মতো অভিজ্ঞ একজনকে হারানোর দলের জন্য বড় ক্ষতি। তার বদলি সম্ভব নয়। আমাদের গত দুটি বিশ্বকাপে সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।' সন্ধ্যার পর শিশির পড়ার কারণে এবারের বিশ্বকাপে টসজয়ী দল প্রথমে বোলিং করে নিতে চায়। অধিকাংশ ম্যাচে রান তাড়া করা দলই জয়ী হয়েছে। এ ম্যাচেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম, টস জয়ী দল ফিল্ডিংই নেবে। কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি দুই দলের ইতিহাসও ইংল্যান্ডেরই পক্ষে। দু'দলের ২১ মোকাবিলায় ইংল্যান্ড জিতেছে ১৩ ম্যাচে, কিউইদের জয় ৭টি, একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত। | 12 |
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়ের ডুবাইল জলমহালের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে দুই জনে দাঁড়িয়েছে। সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৭ জনকে আটক করেছে তাড়াইল থানার পুলিশ। নিহতরা হলেন- মো. শফিকুল ইসলাম (৩৫) ও আ. রাশিদ (৬৫)। এ ঘটনা অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৭ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের ডুবাইল জলমহলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দিগদাইড় পশ্চিমপাড়া গ্রামের সাদেক ভেন্ডারের লোকজনের সঙ্গে প্রবাসী মতি মিয়ার গ্রুপের লোকজনের বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুইপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ডুবাইল বিলের সামনে। এ সময় প্রতিপক্ষের ছোঁড়া বল্লমের আঘাতে দিগদাইড় গ্রামের মো. মতি মিয়ার ছেলে মো.শফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে সময় ডুবাইল বিলের পাড় থেকে আ. রাশিদ নামে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করে তাড়াইল থানার পুলিশ। নিহত আ. রাশিদের শরীরে বল্লমের আঘাতের চিন্হ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো.মোস্তাক সরকার। আজ মঙ্গলবার বিকেলে লাশ দাফনের সময় দিগদাইড় গ্রাম পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জ জেলার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (করিমগঞ্জ সার্কেল) ইফতেখারুজ্জামান। নিহত ওই দুইজন দিগদাইড় পশ্চিমপাড়ার গ্রামের সাদেক ভেন্ডারের পক্ষের লোক বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। আহতদের মধ্যে ২ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আজ দুপুরে সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দিগদাইড় গ্রামে কোনো পুরুষ লোক নেই। নিহতদের বাড়িতে চলছে কান্নার রোল। রাস্তাঘাটে সংঘর্ষে ব্যবহৃত সারি সারি ভাঙা ইট পড়ে আছে। দিগদাইড় বাজারের সব দোকান বন্ধ রয়েছে। তাড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। সোমবার রাতেই ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কিশোরগঞ্জ কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয়বার যেন কোনো রকম অঘটন না ঘটে সেই জন্য দিগদাইড় গ্রামে টহল দিচ্ছে তাড়াইল থানার পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। | 6 |
কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরকারের আনা ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের কোভিড-১৯ বিল সিনেটে পাস হয়েছে। শনিবার আনা এই বিল ৫০ ভোটে পাস হয়। এতে বিপক্ষে ভোট পড়ে ৪৯টি। বিলটি এখন অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। সেখানেও বিলটি পাস হবে বলে প্রত্যাশা বাইডেন প্রশাসনের। কোভিডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাইডেন এই বিল আনেন। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী কোভিডের কারণে আর্থিক সংকটে থাকা মার্কিন পরিবারগুলো এককালীন ১ হাজার ৪০০ ডলার করে পাবেন। এ খাতে বরাদ্দ হবে ১ লাখ কোটি ডলার। এ ছাড়া করোনা মহামারি মোকাবিলায় ৪১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া হবে ৪৪ হাজার কোটি ডলার। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 4 |
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহকে (৭০) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খ্যাতিমান এ অভিনেতাকে মঙ্গলবার (২৯ জুন) মুম্বাইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর এনডিটিভির। তার নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্ত্রী রত্না পাঠক। রত্না পাঠক জানান, নাসিরউদ্দিন শাহের ফুসফুসে নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। তবে তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। আপাতত তার অবস্থা স্থিতিশীল। আশা করি, খুব দ্রুত তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন। কিছুদিন আগেও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নাসিরউদ্দিন শাহ। তারপর সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরে যান। নিজের ফিল্মি ক্যারিয়ারে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন নাসিরউদ্দিন শাহ। শেষবার তাকে দেখা গেছে ২০২০ সালে 'মী রাকসাম' নাটকে। ২০২০ সালে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর ওয়েব-সিরিজ 'বান্দিশ ব্যান্ডিটস'- এ বন্দি দস্যু চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হন। 'মাসুম', 'সরফরোশ', 'ইকবাল', 'অ্যা ওয়েটনাস্টডে', 'মনসুন ওয়েডিং' এবং 'মকবুল' -এর মতো ছবিতে নাসিরউদ্দিন শাহর অভিনয় দর্শকদের হৃদয় কেড়েছে। | 2 |
বলিউডে এখন বিয়ের ধুম পড়েছে যেন। গত কয়েক দিনে সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন বিনোদনজগতের একাধিক তারকা। এই তালিকায় আছেন রাজকুমার রাও-পত্রলেখা, ভিকি কৌশল-ক্যাটরিনা কাইফ, অঙ্কিতা লোখন্ডে-ভিকি জৈন, মৌনি রায়-সুরজ নামবিয়ার। আজ সাত পাকে বাঁধা পড়ছেন অভিনেত্রী কারিশমা তান্না। এই অভিনেত্রী তাঁর প্রেমিক বরুণ বাঙ্গেরাকে আজ বিয়ে করছেন। কিছুদিন আগে থেকেই বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার ধুমধাম করে কারিশমা আর বাঙ্গেরার মেহেদি অনুষ্ঠান হয়েছে। কারিশমা তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গায়েহলুদ ও মেহেদি অনুষ্ঠানের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছেন। মেহেদি অনুষ্ঠানের দিন হলুদ রঙের লেহেঙ্গায় কারিশমা ছিলেন আর উজ্জ্বল। তাঁর হবু স্বামী বরুণ বাঙ্গেরা পরেছিলেন লাল রঙের পাঞ্জাবি ও পায়জামা। তাঁদের মেহেদি অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন অভিনেত্রী আমনা শরিফ, দলজিত কাউর, টেরেন্স লুইসসহ আরও অনেকে। এই আসরে কারিশমা ও বাঙ্গেরাকে জমিয়ে নাচ করতে দেখা গেছে। কারিশমার পোস্ট করা প্রতিটি ছবিতে ধরা পড়েছে, তাঁরা একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে দারুণ খুশি। গায়েহলুদের দিন এই হবু দম্পতি সাদা পোশাকে এ আসরকে আরও স্নিগ্ধ করে তুলেছিলেন। এদিন কারিশমা পরেছিলেন সাদা রঙের সারারা। আর বরুণের পরনে ছিল সাদা পাঞ্জাবি ও পায়জামা। জানা গেছে, কারিশমা ও বাঙ্গেরা প্রথমে গুজরাটি রীতি মেনে বিয়ে করবেন। এরপর তাঁরা দক্ষিণ ভারতীয় নিয়মমতে একে অপরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধবেন। কারিশমা ও বাঙ্গেরার পরিচয় প্রায় দেড় বছর আগে হয়েছিল। তাঁরা এক বন্ধুর মাধ্যমে অপরের সঙ্গে দেখা করেন। আর প্রথম দর্শনেই তাঁরা একে অপরকে দারুণ পছন্দ করেন। তারপর থেকেই কারিশমা ও বাঙ্গেরার প্রেমের গাড়ি চলতে শুরু করে। | 2 |
বিএনপি যে ক্রমাগত অবান্তর কথা বলে, সাহেদের গ্রেফতারে তা প্রমাণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সাহেদের দুর্নীতি সরকারই উদ্ঘাটন করেছে এবং সাহেদের প্রতিষ্ঠানের এমডিকে গতকালই গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠানের আরো অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছিল, সহসা সাহেদকে গ্রেফতার করতে তারা সক্ষম হবে। শেষ পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, এতে প্রমাণিত হয়, বিএনপি ক্রমাগত অবান্তর কথা বলে এবং এ নিয়ে বিএনপি এতোদিন যা বলে এসেছিল, সেগুলো তারই ধারাবাহিকতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দুর্নীতি অনিয়মের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন এ ক্ষেত্রে কে কোন দল বা মতের সেটি কখনই দেখা হয়নি। যদি আওয়ামী লীগের কেউ হয়, এমনকি পদধারী নেতাও যদি হয়, তার বিরুদ্ধেও কিন্তু অতীতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান বলেন, বিক্ষোভ যে কারো বিরুদ্ধেই হতে পারে, যে কেউ তার ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে, এটি গণতান্ত্রিক রীতিনীতিরই অংশ। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমি মনে করি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যখন বিভিন্ন হাসপাতালের সাথে চুক্তি করে, তখন প্রথম থেকেই তাদের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন ছিল। তাহলে সাহেদের রিজেন্ট কিম্বা জেকেজির মতো প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পেতো না। অনলাইন সংবাদ পোর্টাল নিবন্ধনের বিষয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। আবেদন করা অনলাইনগুলোর বিষয়ে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে ১৬শ'র বেশি এবং আরেকটি সংস্থা থেকে একশ'র মতো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এ মাসের মধ্যেই আরো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা অনলাইনগুলোকে রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু করবো। যে সমস্ত অনলাইনের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিবেদন এসেছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা সেগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। আর যে সমস্ত অনলাইন গুজব ছড়ায়, তাদের অনেকগুলোই আবার ক্ষণে ক্ষণে পরিচয় পরিবর্তন করে, দেশে বা বিদেশ থেকে যেসমস্ত অনলাইন পোর্টাল এভাবে পরিচয় পরিবর্তন করে পরিচালনা করছে, সেগুলোর ব্যাপারে প্রযুক্তিগতভাবে আমরা আরো দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অনলাইনের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হলে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: বাসস। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 9 |
মানিকছড়ি থেকে চট্টগ্রামে পাচারকালে ১২০ বোতলে ৩০ লিটার বাংলা মদ জব্দ করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত সোয়া ১০টায় এসব মদ জব্দ করা হয়। এ সময় মো. ফারুক হোসেন (২৯) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃত ফারুক হোসেন উপজেলার গাড়ীটানা এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে।জানা যায়, গতকাল রাতে সিএনজি করে ওই সব মদ নিয়ে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন মাদক ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন। এ সময় ফটিকছড়ির নয়াবাজারের ফরেন চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সিএনজি আটকিয়ে মদগুলো জব্দ করে। পরে আজ মঙ্গলবার মানিকছড়ি থানা-পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।মানিকছড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ শাহনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। | 6 |
ভারতের কর্ণাটকে একটি সরকারি কলেজে হিজাব পরাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আগামী তিন দিনের জন্য রাজ্যের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বাসাভারাজ এস বোম্মাই এক টুইটবার্তায় এই ঘোষণা দেন। খবর এনডিটিভির। টুইটে মুখ্যমন্ত্রী সব ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, স্কুল ও কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ রাজ্যের সাধারণ জনগণের প্রতি শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি সরকারি কলেজে নির্দিষ্ট পোশাক পরার নিয়ম জারি করা হয়েছে। তবে এর প্রতিবাদ জানিয়ে হিজাব পরার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মুসলমান ছাত্রীরা। এরই মধ্যে গত মাসে উদুপুর জেলায় এক কলেজে ছয় ছাত্রী হিজাব পরে কলেজে যান। তবে নির্দিষ্ট পোশাক না পরায় তাদের কলেজের গেটে আটকে দেওয়া হয়। এ সময় কলেজের ছাত্রীরা ক্লাসে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষের কাছে দাবি জানান। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্র ও শনিবার একদল শিক্ষার্থী হিজাব পরিধানের অনুমতি দেওয়ার দাবিতে মিছিল করে। তবে এর বিরোধিতা করছেন বিজেপি নেতারা। এরই মধ্যে মঙ্গলবার হিজাব পরার দাবিতে বের করা ওই মিছিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়। এরপরই স্কুল-কলেজ বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। এদিকে, ওই কলেজের পাঁচ শিক্ষার্থী হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে কর্ণাটকের হাইকোর্টে রিট করেছেন। এই রিটের শুনানিতে সব নাগরিককে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনুরোধ করেন আদালত। হিজাব বিতর্ক ক্রমেই রাজনীতির মহলে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে কংগ্রেস নেতা হিজাব পরাকে সমর্থন করে বলেছেন, 'শিক্ষার্থীদের হিজাবকে তাদের শিক্ষার পথে বাধা হতে দিয়ে আমরা ভারতের মেয়েদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিচ্ছি। মা সরস্বতী সবাইকে জ্ঞান দান করেন। তিনি পার্থক্য করেন না।' তবে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাককে সমর্থন করছেন বিজেপির নেতারা। তারা বলছেন, শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক প্রদর্শন করা যায় না। এ জন্য হিজাব নিষিদ্ধ করা যথাযথ হয়েছে। | 3 |
ঋণের সুদ হার নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় ও করোনাভাইরাসের কারণে সব ব্যাংকের আয় কমে গেছে। চলতি বছর শেষে আয় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে অনেক ব্যাংক। খরচ কমাতে তাই বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংক এরই মধ্যে কর্মীদের বেতন কমিয়ে দিয়েছে। বাকি ব্যাংকগুলো বেতন না কমিয়ে অন্যান্য খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেসরকারি একাধিক ব্যাংক কার্যালয় ও শাখার ভাড়া বাবদ খরচ কমিয়ে আনছে। আবার কেউ কেউ পদোন্নতি, প্রণোদনা বোনাস ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বন্ধ করে খরচ কমানোর পথ বেছে নিয়েছে। কেউ গাড়ির খরচ, পরিসেবা বিল, প্রশিক্ষণ খরচ, বিভিন্ন ধরনের সভায় অংশগ্রহণের ভাতা কমিয়ে দিয়েছে। বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংক এখনই বেতন কমিয়ে কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে চাইছে না। বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এরই মধ্যে পুরো একটি ভাড়া ভবন ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। রাজধানীর গুলশান লিংক রোডের 'এমটিবি স্কয়ার' নামের এ ভবনের জন্য বছরে ৫ কোটি টাকা ভাড়া দিতে হতো ব্যাংকটিকে। এখন সেটি ছেড়ে কর্মীদের অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে তারা। জানতে চাইলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা এরই মধ্যে ভবনটি ছেড়ে দিয়েছি। তার বদলে বিভিন্ন শাখায় যেসব ফাঁকা জায়গা আছে, তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের ব্যাংকের যেসব এটিএমে কম টাকা উত্তোলিত হয়, তা স্থানান্তর করা হচ্ছে। অফিস পরিচালনার খরচও কমিয়ে আনা হচ্ছে। আমরা মনে করি, এসব উদ্যোগের ফলে বেতন না কমিয়েও ব্যাংকের খরচ কমে আসবে।' গত ১৪ জুন বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এক চিঠিতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ১৫ শতাংশ কমাতে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়। পাশাপাশি খরচ কমাতে পদোন্নতি, উৎসব ভাতা, প্রণোদনা ভাতা বন্ধ রাখাসহ আরও বেশ কিছু সুপারিশ করে বিএবি। বিএবির ওই সুপারিশের আগেই বেসরকারি খাতের এবি ও সিটি ব্যাংক কর্মীদের বেতন কমিয়ে দেয়। বিএবির চিঠির পর বেতন কমায় এক্সিম ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। এ নিয়ে ব্যাংকারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। এরপরই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ও করোনার ক্ষতি পোষাতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যাংকারদের উজ্জীবিত রাখতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কর্মীর বেতন না কমিয়ে অন্যান্য খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রাইম ব্যাংকও। ব্যাংকটির এমডি রাহেল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, 'করোনার কারণে আমাদের অনেক বিভাগের কর্মীরা বাসা থেকেই অফিস করছে। এর মধ্যে কিছু বিভাগের জন্য আলাদা জায়গা প্রয়োজন নেই। তাই কিছু ভাড়া জায়গা ছেড়ে দিয়ে ও অন্যান্য অফিস খরচ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।' কমে গেছে ব্যাংকের আয়কর্মীর বেতন না কমিয়ে ভবনভাড়া, গাড়ির খরচ, পরিষেবা বিল, প্রশিক্ষণ খরচ ও সভায় অংশগ্রহণের ভাতা কমিয়ে খরচ সমন্বয় করছে বিভিন্ন ব্যাংক বেতন না কমিয়ে অন্যান্য খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে এনসিসি ব্যাংকও। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নূরুন নেওয়াজ সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, 'যেখানে আমাদের কার্যালয় ও শাখা রয়েছে, সেখানকার ভাড়া কমাতে আমরা সংশ্লিষ্ট ভবনমালিককে চিঠি দিয়েছি। এ ছাড়া অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে আনারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও কীভাবে খরচ কমানো যায়, তা নিয়ে পরবর্তী পর্ষদ সভায় আলোচনা হবে।' নতুন ব্যাংকের মধ্যে এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকও ভাড়া কমাতে ভবনমালিকদের চিঠি দিয়েছে। রাজধানীর গুলশান, বনানী ও চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় নতুন আধুনিক বিলাসবহুল ভবন মানেই কোনো না কোনো ব্যাংকের শাখা। অনেক ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে এসব ভবনে জায়গা কিনে বা ভাড়া নিয়ে কার্যালয় বা শাখা খোলার প্রবণতা চলে আসছে দুই দশক ধরে। এসব ভবনের অনেকগুলোই আবার কোনো না কোনো ব্যাংকের পরিচালকের। তাই পরিচালকদের বাড়তি সুবিধা দিতে ও তাঁদের চাপে এসব ভবনে বেশি দামে জায়গা কিনতে বা ভাড়া নিতে বাধ্য হয় ব্যাংকগুলো। কোনো কোনো ব্যাংক আবার তাদের প্রধান কার্যালয়ে ব্যায়ামাগার, বিনোদন কেন্দ্রসহ আরও নানা স্থাপনার মাধ্যমে খরচের খাত বাড়িয়েছে। জানা গেছে, এসআলম গ্রুপের মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্প্রতি বেতন-ভাতা না কমিয়ে অন্যান্য খরচ কীভাবে কমানো যায়, তার একটা খসড়া তৈরি করেছেন। ব্যাংকগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, এনআরবি গ্লোবাল ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। তারা এখনই বেতন না কমিয়ে অন্যান্য খরচ কমিয়ে আনতে চায়। এ জন্য খরচ কমানোর খাত হিসেবে প্রণোদনা ভাতা, পদোন্নতি, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন নিয়োগ বন্ধের কথা বলা হয়েছে খসড়ায়। এভাবে পরিচালন খরচ ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে চায় তারা। এ ছাড়া করোনায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত ছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় অন্যান্য খাতে খরচ বন্ধ করতে চায় ব্যাংক ছয়টি। গাড়ি বাবদ খরচ, পরিসেবা বিল, নাশতা খরচ, অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা, বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণের ভাতা বন্ধ রাখতে চায় ব্যাংকগুলো। জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের এমডি মাহবুব-উল-আলম বলেন, 'করোনার কারণে বিভিন্ন সভা, আলোচনা এখন অনলাইনে হচ্ছে। এ ছাড়া নাশতা, স্টেশনারি, গাড়ির তেল, বিদেশ ভ্রমণ বাবদ খরচও কমে গেছে। এতে এমনিতেই খরচ অনেক কমে এসেছে। | 0 |
করোনার সংক্রমণের লাগাম টানতে টোকিও, ওসাকা এবং আরও সাতটি জেলায় চলমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ চতুর্থ দফায় বাড়িয়েছে জাপান সরকার। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব জায়গায় আগামী ২০ জুন পর্যন্ত জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকবে। তিন দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর আগামী ৩১ মে চলমান জরুরি অবস্থা শেষ হওয়া কথা ছিল। টোকিও এবং ওসাকা ছাড়া জরুরি অবস্থার আওতায় থাকা অন্য সাতটি জেলা হলো হোক্কাইডো, আইচি, হিওগো, ওকাইয়ামা, হিরোশিমা, ফুকুওকা এবং ওকিনাওয়া। জাপানের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকা এসব জায়গায় বসবাস করে। জরুরি অবস্থার মেয়াদ আবারও বাড়ানোর বিষয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত আটটায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'করোনার সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ পরিস্থিতিতে অলিম্পিকের আয়োজন সম্পর্কে দেখা দেওয়া উদ্বেগ সম্পর্কে আমি অবগত। নির্বিঘ্নে অলিম্পিক আয়োজনের জন্য আমাদের সংক্রমণ পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।' করোনার সংক্রমণে লাগাম টানতে টিকা প্রদানের কর্মসূচি জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সুগা। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের জনগণের জন্য দিনে ১০ লাখ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন তিনি। জাপান সরকার আগামী জুলাইয়ের মধ্যে দেশটির বয়স্ক মানুষদের সবাইকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। জরুরি অবস্থার মেয়াদ আবারও বাড়ায় টোকিও, ওসাকা ও আরও সাতটি জেলায় রেস্তোরাঁ, পানশালা এবং কারাওকে রাত আটটার পরে বন্ধ থাকবে। পানশালাগুলো মদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকবে। করোনাকালে কার্যক্রম সীমিত থাকায় জাপানের রেস্তোরাঁ ও পানাহার শিল্প ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে। লোকসান পুষিয়ে নিতে সরকার ভর্তুকির ব্যবস্থা করলেও তা অপর্যাপ্ত বলছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। চলমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত খুশি করতে পারেনি জাপানের ব্যবসায়ীদেরও। করোনা মহামারির ধাক্কায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশের অর্থনীতি ৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের অনেকেই বেশ উদ্বিগ্ন। চলমান জরুরি অবস্থার নেতিবাচক প্রভাব তাঁদের ভাবাচ্ছে। তবে ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিক শুরুর মুখে ব্যবসায়ীদের আপত্তি সত্ত্বেও জরুরি অবস্থা বাড়ানোর পথেই হেঁটেছে জাপান সরকার। | 3 |
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি শিল্প এলাকায় বন্দুকধারীর গুলিতে একজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে ব্রায়ান শহরের কেন্ট মুর ক্যাবিনেট নামে একটি প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ব্রায়ান পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের খবর পাওয়ার পরপরই ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গুলিবিদ্ধ চারজনের অবস্থা গুরুতর। সংকটমুক্ত আরেকজনকেও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গুলিবর্ষণের ঘটনা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। তবে হামলাকারীর উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি। ব্রায়ানের পুলিশ প্রধান এরিক বুসকে নিশ্চিত করেছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। টেক্সাস পাবলিক সেফটি বিভাগের (ডিপিএস) সদস্যরা তাকে ধাওয়া করে গ্রেফতার করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলাকারী কেন্ট মুর ক্যাবিনেটে কাজ করতেন। সেখানে তিনি হঠাৎ আক্রমণ চালালেন কেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। | 3 |
বৃক্ষরাজির শীতল ছায়া আর সবুজের বেষ্টনী। সেই পথ ধরে একটু এগোলেই উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন। ভবনটির পেছনেও রয়েছে পর্যাপ্ত খালি জায়গা। অথচ উন্নয়নের জন্য বর্তমান ভবনটির সামনে থাকা আট বছরের পুরোনো এই বাগানকেই সাবাড় করে দিয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। এমনকি গাছ কাটতে বন বিভাগের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে বাগানটির প্রায় আড়াই শ গাছের শতাধিক গাছই কেটে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের কাছে 'ডিসি আমবাগান' হিসেবে পরিচিত স্থানটির এমন করুণ পরিণতিতে পুরো এলাকাতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনোভাবেই গাছ কাটা যাবে না। উন্নয়নের নামে ভবনের জন্য গাছগুলো কেটে ফেলা আইনবহির্ভূত হয়েছে।উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ আমিরুজ্জামান রিপন জানান, ২০১৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম বাগানটি গড়ে তোলেন। সেখানে দুই শতাধিক আমগাছ ছিল। গত কয়েক বছরে এগুলোয় আমও ধরত বেশ। যে কারণে ২০২০ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক অজিয়ার রহমান নতুন ভবনের জন্য পেছনের জায়গাটিই বেছে নেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে আমবাগান সাফ করেই নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।বাকেরগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বেঙ্গল ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সোহেল মাহমুদ বলেন, 'পেছনে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বাগানটি সাবাড় করা হয়েছে। এমন অপরিকল্পিত উন্নয়ন কখনোই কাম্য নয়।'অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান সামশুল আলম চুন্নু বলেন, 'ভবনটি পেছনে করার কথা ছিল। কিন্তু এটা করলে সৌন্দর্য থাকে না। তা ছাড়া, এই বাগানে সব টক আম। এটা আসলে জঙ্গল। তাই আলোচনা করেই গাছ কাটা হয়েছে।'গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমতি রয়েছে বলেও জানান চুন্নু। কিন্তু উপজেলা বন কর্মকর্তা মহিদুর রহমান বলেন, 'বাগানের গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা পরিষদ আমাদের কোনো চিঠি দেয়নি। এমনকি গাছগুলো কাটলে সমস্যা নেই, এমন কোনো কথা মৌখিকভাবেও আমরা বলিনি।'বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'আমরা বিবেচনার জন্য চিঠি চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা পরে আর কিছুই জানায়নি। গেজেট অনুযায়ী গাছ কাটতে হলে উপজেলা পরিষদের একটি নির্ধারিত কমিটির সম্মতি থাকতে হবে। উপজেলা বন কর্মকর্তা ওই কমিটির সদস্য।' এ বিষয়ে জানতে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায়কে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর বরিশালের সমন্বয়কারী রফিকুল আলম বলেন, 'উন্নয়নের নামে ভবনের জন্য গাছগুলো কেটে ফেলা আইনবহির্ভূত হয়েছে। যদি কাটতেই হয়, তাহলে কেন গাছগুলো লাগিয়েছিল। গাছ কাটার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা উচিত। | 6 |
বনবাসী আমার মনটা বাস করে এক নাগরিক দেহে। তাই সুযোগ পেলেই ছুটে যাই, 'যে-জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের- মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা এই জেনে'ও। চা বাগানের স্নায়ু শীতল করা হাওয়া মেখে, ছড়া দেখে থামি। ছড়া বলতে ঝরনা ধরে নিতে পারেন। যদিও ছড়াকে পুরোপুরি ঝরনা বলা যায় না। 'দেখ তো বনের কাছে' নিজেকেই বলছিলাম আর মাঝেমধ্যে কারণে-অকারণে থেমে আঁকাবাঁকা মাটির পথ ধরে কাঁকড়াছড়াপুঞ্জিতে পৌঁছাতে সঙ্গীদের চেয়ে বেশ একটু দেরি করে ফেললাম।
খাসিরা গ্রামকে পুঞ্জি বলে। আমরা সাধারণত খাসিকে খাসিয়া বলে ডাকি, ওদের গ্রামকে বলি পানপুঞ্জি। পানপুঞ্জিকে পানজুম বলাটাই ঠিক হয়। কাঁকড়াছড়ায় পৌঁছে শুনলাম, একসময় পাশের ছড়ায় প্রচুর কাঁকড়া পাওয়া যেত বলে এই পুঞ্জির নাম কাঁকড়াছড়া। প্রথম যে টিলা পেলাম, সেখানে চা বাগান আছে। ওখানে টিলা কেটে হাঁটার পথ বানিয়েছে রেহানা চা বাগান পক্ষ। কয়েকবার হাতবদল হয়েছে চা বাগানটার।
পথের কাটা মাটি লালচে রঙের। কিছু পথ পেরিয়ে চিকন একটা ছড়া দেখা গেল, এটাই কাঁকড়াছড়াপুঞ্জি। এর অবস্থান মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায়। ছড়া দিয়ে কুলকুল শব্দে পানি বয়ে যাচ্ছিল। বাঁশের ছোট সাঁকো পার হলাম। আরেকটা টিলায় ছেলেরা বল খেলছিল। এখানে বল খেলতেন এই পুঞ্জির সবচেয়ে প্রবীণ বাসিন্দারাও। এই মাঠ এখন দখলের পথে। এখানকার জিংত্যাপ বা শ্মশানও দখল হয়ে গেছে। বছর কয়েক আগে মান্দি নারী মেরুনী রুরাং মারা গেলে তার ছেলে পানগাছ তুলে মাকে কবর দিয়েছেন। আমার জানা ছিল না, খাসিপুঞ্জিতে মান্দিদের দেখা পেয়ে যাব। গাছের পাশে বসে ছিল দুটো মেয়েবাচ্চা। পুঞ্জির প্রথম সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই গ্রাম শুরু হলো। মেয়ে দু'জনকে দেখে বিস্মিত হই, এখানে মান্দি মেয়ে কেন? সিলেট, মৌলভীবাজারের চা বাগানে মান্দি আছে জানি। কিন্তু খাসিপুঞ্জিতে আচিক স্বর? জানা গেল, এই পুঞ্জিতে মোট ১৭টি ঘরের মধ্যে আটটি মান্দিদের, একঘর বাঙালিও আছে। বাঙালি মেয়েটার মা-বাবা এদিকে কোনো কাজে এসেছিলেন। পরে মেয়েটাও পানচাষি হয়ে রয়ে গেছে এই পুঞ্জিতে। শুধু কাঁকড়াছড়ায় নয়, মান্দি আর খাসিরা যেখানেই সংখ্যায় কমে গেছে, সেসব জায়গায় একসঙ্গে বসত গড়ে তুলছে। গত আট বছরে এই পুঞ্জির ৩০টা ঘর উচ্ছেদ হয়েছে। পড়ে আছে তাদের ফেলে যাওয়া মাটির ঘরগুলো।
পুঞ্জি সচরাচর বাজার, পথ বা নাগরিক বসতি থেকে দূরে হয়। নিভৃতি ছাড়া স্বভাববাস হয় না তো। অনেকে বলে, অত জমি আদিবাসীরা কী করবে? জমির সব না নিলে, জমির সঙ্গে কেবল বাস করলে অত জমিই লাগে। ঘর বড্ড আপন কিছু। খুব দুঃখী মানুষ, দিনহীনজনেও নিজের কুঁড়েঘরকে মায়া করে। ছেঁড়া পলিথিনের ছাপড়া ঘরেও কত অমূল্য, কত প্রিয় কিছু থাকে মানুষের। পুরোনো জংধরা টিনের কৌটাজুড়ে হয়তো শিশুর প্রথম বিস্কুট খাওয়ার স্মৃতি লেগে থাকে কখনও। উদ্বাস্তু হওয়ার বেদনা বড় কঠিন।
গড়ে শ তিনেক বড় গাছ কাটলে একটা পরিবারকে উঠিয়ে দেওয়া যায়। এই পদ্ধতিতেই চা বাগান বছরে আড়াই শতাংশ বাগান বৃদ্ধি করে আর আদিবাসীরা আশপাশে সরে যেতে যেতে, গরিব হতে হতে বিলুপ্ত হয়ে যায়। তারা বহুকাল ধরে নীরবে এসব এলাকায় স্বনির্ভর এবং সুখী জীবনযাপন করছিল। রাষ্ট্রের উন্নয়ন-দর্শন তাদের জীবনকে বদলে দিয়েছে। চা গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য। পানগাছও ৫০ বছর ফলন দেয়। চা বাগানের মালিকরা সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে আদিবাসীদের সাব-লিজ দেয়। চা বাগানকে লিজ না দিয়ে আদিবাসীদেরও জমি লিজ দেওয়া যায়, যা থেকে উচ্চ অঙ্কের রাজস্ব আদায় করলেও প্রকৃতির সুরক্ষা হতো এবং আয় বাড়ত সরকারের। স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল সংস্কৃতির খাসিপুঞ্জিগুলো বাংলাদেশকে বহু বৈচিত্র্যের দেশ হিসেবে মর্যাদা বাড়াত। উন্নয়নে বৈষম্যের সূচক ধাই ধাই করে বেড়ে যেত না। এসব ভাবার সময় হয়নি হয়তো কারও। চাম্বিল, বণাকের মতো বড় গাছ কাটার সঙ্গে সঙ্গে মৌলভীবাজার, সিলেটের পানপুঞ্জিগুলো যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি এখানে এখন আর পাখি, বনরুইদের দেখা পাওয়া যায় না। বুনো মাশরুমও নেই বনে।
বাংলাদেশের মান্দি ও খাসি জাতি দুটি মাতৃসূত্রীয় হলেও তারা আলাদা ভাষা, রীতি এবং কৃষ্টি চর্চা করে। মান্দিদের মতো খাসি মেয়েরাই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। পারিবারিক সিদ্ধান্তের জন্য খাসি মেয়েরা নিজের মামা-নানার ওপরে বেশি ভরসা করে। খা অর্থ জন্ম, সি অর্থ মা। যাপাং, খা, খং লিংডো, নং, পাংখন, মাজাওর মতো অনেক গোত্র থাকলেও খাসিরা বিশ্বাস করে, তারা এক মা থেকে জন্মেছে। মান্দিরা জন্মেছে আচ্চু জানি আর আম্বি ফিলদি থেকে। যদিও মান্দি বিশ্বাসে বাগবা হলেন সকল প্রাণীর মা। খাসি পরিবারে মা-ই কর্ত্রী। পুরুষেরা বিয়ের পরে স্ত্রীর বাড়িতে থাকতে আসে এবং নিজের মায়ের বাড়ির সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা থাকলেও স্ত্রীর সংসারে ততটা ভূমিকা থাকে না। বাড়িতে স্ত্রী, শাশুড়ি এবং মামাশ্বশুরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়। সম্পত্তির উত্তরাধিকারী 'কা-খাদ্দু' সচরাচর ঘরের ছোট মেয়ে হয়ে থাকে। ছোট মেয়েটির যেমন সম্পদ থাকে, তেমনই মা-বাবা, শ্বশুরবাড়িফেরত ভাই এবং আত্মীয়দের দায়িত্বও থাকে।
খাসিবাড়িতে আগন্তুক-অতিথি এলে সচরাচর মান্ত্রীর ঘরেই বসতে দেওয়া হয়। মান্ত্রী হলো পুঞ্জি বা গ্রামপ্রধান। কাঁকড়াছড়ায় বসার পর আমাদের সম্ভাষণ জানালেন শতবর্ষী একজন ইয়াও বা দিদিমা, যার পুরো নাম কাকা লাকাছিয়াং। খাসিদের ঘরে অতিথিকে চা দিয়ে আপ্যায়ন করাটা অবধারিত। সেইসঙ্গে অনুষঙ্গ হিসেবে থাকবে ঝাঁজালো খাসি পান। কখনও কখনও ঐতিহ্যবাহী অন্য খাবার বা পানীয়ও দেওয়া হয়। খাসি পানের চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অন্য আদিবাসীদের তুলনায় তারা বেশ সচ্ছল। তবে কিছুদিন আগের এই সচ্ছলতা এখন আর থাকছে না সব পুঞ্জিতে। এ বছরও কাঁকড়াছড়াপুঞ্জি, আগারপুঞ্জি ও বনাখলাপুঞ্জিতে খাসিদের পানজুমে তাণ্ডব চালিয়েছে চা বাগান পক্ষ এবং বহিরাগত বাঙালি সন্ত্রাসীরা।
পান চাষ খাসিদের প্রায় সবার প্রধান জীবিকা। পান চাষে খরচ বেশি নয়, অথচ আয় বেশি। তবে খুব পরিচ্ছন্ন হয়ে পানক্ষেতে যায় খাসিরা। কারণ, একবার পান গাছে উৎরাম রোগ শুরু হলে বাগান উজাড় হয়ে যায়। উৎরাম এক ধরনের ছোঁয়াচে রোগ, যা একবার শুরু হলে পুরো পানজুম নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং এর ফলে খাসিপুঞ্জি উচ্ছেদ হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বিভিন্ন সময়। বড় গাছ জড়িয়ে থাকা এই পানলতা সারাবছর ফলন দেয়। তবে হেমন্তে ফলন হয় সবচেয়ে বেশি। একটা গাছ ৫০ বছরও ফলন দিতে পারে। একবার পানজুম করলে এবং জুমে পচন না হলে কেবল পানক্ষেত পরিস্কার রাখলেই চলে। আর সেসব মহাজনের কাছে অথবা বাজারে বিক্রি করে খাসিদের সংসার চলে।
অন্য সব আদিবাসীর মতো খাসিরাও জমির ব্যক্তিগত মালিকানায় বিশ্বাস করে না। জমি তাদের কাছে মা এবং সামাজিকভাবেই সেগুলো ব্যবহার করতে হয়। খাসিপুঞ্জির জমি পরিবারগুলোকে ভাগ করে দেন খাসি মান্ত্রী। কাঁকড়াছড়ার ১৭ পরিবারের কথা বলছিলাম। সাত-আট বছর আগেও সেখানে ৪৭টি পরিবার ছিল। চা বাগান মালিক বাগান সম্প্রসারণের জন্য কিছু বড় গাছ কাটে, সেইসঙ্গে কাটা পড়ে খাসিপুঞ্জির পানগাছগুলোও। আমরা কাঁকড়াছড়ায় যাওয়ার মাসখানেক আগে মিন্টু রেমা, রাবিয়া বেগম, রেলিস চেল্লা- কাঁকড়াছড়ার এই তিনজনের ছয় একর জমির পানজুম নষ্ট করা হয়েছে। আগারপুঞ্জিতে রিনোস পডুওয়ংয়ের ২১ বছর বয়সী পানজুম উজাড় করে দেওয়া হয়েছে, যে জুমে হাজারখানেক পানগাছ ছিল। আমরা ঘুরে আসার পর থেকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও বড়লেখায় পুঞ্জিগুলোর মানুষ পাহারা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখছিলেন তাদের গাছ। আসল কথা হলো চা বাগানের জন্য জমি লিজ দেওয়ার শর্তের মধ্যে আছে, প্রতিবছর চা বাগান সম্প্রসারণ করতে হবে শতকরা আড়াই শতাংশ। বাগান মালিকরা সরকারের কাছ থেকে জমি লিজ নেওয়ার পর প্রথমে বছর দশেকের জন্য সাব-লিজ দেয় পানচাষিদের। পরের ১০ বছর লিজ না দিলেও চাষিদের হাতেই থাকে পান জড়ানো বড় গাছগুলো। এই সময়ে প্রতিবছর কিছু গাছ কাটেন বাগান মালিকরা। গড়ে বছরে গোটা দশেক চাষির পানজুম নষ্ট করা গেলেই ১৫ বছরে গড়া একটা বসতি তুলে দেওয়া যায়। এ প্রক্রিয়া একইভাবে চলতে থাকে নানা এলাকায়। তো এই গাছগুলো, জমিগুলো কাদের? এসব অঞ্চলে বহুকাল আগে থেকেই আছে গাছগুলো। কখনও খাসজমি, কখনও সংরক্ষিত জমি হিসেবে এসব সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। নিয়ন্ত্রণবাদীরাই ক্ষমতাধর, কারণ তারা ক্ষমতাবাদী। এমন অবস্থায় দলবেঁধে মাটিকে মা ভেবে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারী মানুষের সংবেদকে সহ্য করা আমাদের মতো সভ্য মানুষের ধৈর্যে কুলাবে না। তাই প্রকৃতিকেই নিজের সুরক্ষা দিতে হবে হয়তো। তার এই মানব বন্ধুরা মানব অবন্ধুদের চাপে উদ্বাস্তু হতে হতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে কি? হয়তো অনেকে হারিয়ে যাবে, অনেকে যাবে না।
খাসিরা নিজ ঐতিহ্য ও কৃষ্টি সংরক্ষণে যথেষ্ট যত্নশীল। তবে তারা সংস্কার বিসর্জন দিয়ে রূঢ় হতে পারছেন না তো। যেসব আইন তাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেসব আইন তো তারা বানায় না। মিসাইল নিয়ে বা জঙ্গি বোমা হাতে তারা ধ্বংস করতেও পারে না। এই দৃঢ়তা তাদের কতখানি সুরক্ষা দেবে, তার উত্তর আছে রাজনীতিবিদদের কাছে। তার উত্তর হয়তো প্রাণপ্রকৃতিও জানে। হয়তো পাহাড় জানে। হয়তো পান বাগান জানে।
'তোমার দেহ আমি নিলাম, আমার দেহ তুমি নিয়ো'- ওষুধের জন্য গাছের দুটি পাতা ছেঁড়ার জন্য খাসি নারী চিকিৎসকের প্রার্থনা ছিল এটা। এ কাহিনি দুই দশক আগে শুনেছি পাভেল পার্থের কাছে, যখন সে উদ্ভিদবিজ্ঞান পড়ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। কয়েক দিন আগে পর্যন্তও খাসিরা হাসপাতালে যেতেন না একেবারেই। খাসি ও মান্দি- মাতৃতান্ত্রিক উভয় সমাজেরই নিজস্ব চিকিৎসাপদ্ধতি খুব কাজের। খাসিরা তাদের নিত্য অভ্যাসে সৎ জীবনযাপনের চেষ্টা করে। জীবন তাদের কাছে শান্ত-ধ্যান।
| 6 |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। গণতন্ত্রের জন্যই দেশের মানুষ নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। এখনো সময় আছে জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করুন। আজসোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিদ্যুৎ, গ্যাস, চাল, ডাল তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে সর্বত্র পণ্য সরবরাহের দাবিতে মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যেমির্জা ফখরুল বলেন, সরকার প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে আছে। নির্বাচনের আগে বলেছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে, কিন্তু এখন ৬০ টাকার নিচে চাল নেই। সয়াবিন ২০০ টাকা কেজি। মানুষের মধ্যে হাহাকার শুরু হয়েছে। বিএনপির ৬০০ নেতাকর্মীকে সরকার গুম করেছে। হাজারো মানুষ হত্যা করেছে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর নামে মামলা দিয়েছে। এর জন্য জবাব দিতে হবে। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেস আলী মামুন, শরীফুল আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। | 9 |
রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্তত সাতটি বড় শহরে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটিতে সামরিক আইন জারি করেছেন। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বহু দেশ ইউক্রেনীয়দের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছে। কঠিন এই মুহূর্তে হাল ছাড়তে নারাজ দেশটির বহু মানুষ। এর মধ্যে ক্রীড়াবিদরাও আছেন। রাশিয়ার অভিযান নিয়ে মুখ খুলেছেন ইউক্রেনের এই কিংবদন্তি বক্সার ভ্লাদিমির ক্লিটসকো। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, 'আমার দেশকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।' চলতি মাসেই নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া দুইবারের এই হ্যাভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন টুইটারে লিখেছেন, 'জেনে রাখুন, ইউক্রেন শক্তিশালী। আমাদের শক্তিশালী রাজধানী কিয়েভ রয়েছে, শক্তিশালী শহর, গ্রাম এবং শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জাতি রয়েছে; যাদের কাছে ইউরোপের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও শান্তি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অস্তিত্ব অসীম। ইউক্রেনের জয় হোক!' ক্লিটসকোর ছোট ভাই ও আরেক সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভিতালি ক্লিটসকো আবার কিয়েভের বর্তমান মেয়র। এদিকে, ইউক্রেনের কিংবদন্তি ফুটবলার এবং ব্যালন ডি'অরজয়ী আন্দ্রে শেভচেঙ্কো টুইটারে লিখেছেন, 'ইউক্রেন আমার মাতৃভূমি! এই দেশ এবং দেশের জনগণ নিয়ে আমি গর্বিত। আমরা অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি এবং গত ৩০ বছরে আমরা একটা জাতি হয়ে উঠেছি। আমরা আন্তরিক, পরিশ্রমী এবং স্বাধীনতাপ্রেমী জাতি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।' এদিকে, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালালেও রাশিয়া সবসময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাবরভ। তিনি বলেন, "দুঃখের বিষয় এই যে আমাদের পশ্চিমা বন্ধুরা আন্তর্জাতিক আইনকে মর্যাদা দেন না। বরঞ্চ তারা তাকে ধ্বংস করতে চেষ্টা করছেন এবং তাদের গড়া 'আইন-ভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থা' বাস্তবায়নে চেষ্টা করে চলেছেন।" রুশ সরকারি সংবাদ সংস্থাই আইআরএকে লাবরভ এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমেরিকান সহকর্মীদের সাথে আমাদের বিস্তারিত কথা হয়েছে। নেটো সদস্যদের সাথেও কথা বলেছি। আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব অনুসরণের পথ এখনো খোলা রয়েছে।' লাবরভ বলেন, 'ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘ চার্টারের মূল নীতিতে ফেরার জন্য যে কোনো আলোচনায় বসার জন্য রাশিয়া সবসময় প্রস্তুত থাকবে।' বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
বগুড়ার ধুনটে সেতুর নিচ থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার চরধুনট এলাকায় ইছামতী নদীর সেতুর নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরের দিকে পথচারীরা চরধুনট এলাকায় সেতুর নিচে পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তু পড়ে দেখেন। পরে সেখানে উপস্থিত এক ভ্যানচালক পলিথিন খুলে ভেতরে নবজাতকের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন খান ঘটনাস্থল থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেন। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপাসিন্ধু বালা বলেন, উদ্ধার হওয়া ছেলে নবজাতকের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নবজাতকের লাশটি গতকাল রাতে কোনো এক সময় সেতুর নিচে ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগে একই স্থান থেকে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মেয়ে নবজাতক এবং ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট দুপুরে ছেলে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। | 6 |
২০১৪ সালে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ার (মিশর) থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর নামে দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কিন্তু বছর যেতে না যেতেই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্লাইট পরিচালনার পর একটি উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল রাখার জন্য ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। পরে ওই ইঞ্জিনও নষ্ট হয়ে যায়। সেই ইঞ্জিন মেরামত করতে পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে। এতসব প্রক্রিয়ায় ইজিপ্ট এয়ার ও মেরামতকারী কোম্পানিকে পাঁচ বছরে বাংলাদেশ বিমানের গচ্চা দিতে হয়েছে ১১শ' কোটি টাকা। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তদন্তে বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানোর সুপারিশ করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুদক ইতিমধ্যে উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তারের সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে। সোমবার (৩০ মে) দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুদক সূত্র জানায়, গত ২৮ মে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র চেয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চিঠি পাঠায় অনুসন্ধান কমিটি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল বরাবর পাঠানো চিঠিতে অনুসন্ধান টিম লিজ নেয়ার দরপত্রসহ অন্তত ১৩ ধরনের নথিপত্র অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে। জানা যায়, বিমানের মিশরীয় এয়ারক্রাফট লিজ নেয়ার প্রক্রিয়ায় সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১নং সাব-কমিটি প্রাথমিক তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। দাখিল করা প্রতিবেদনে বিষয়টি আরো গভীরভাবে তদন্ত করার জন্য দুদকে পাঠানোর সুপারিশ ছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। যেসব নথিপত্র তলব করেছে দুদক, ইজিপ্ট এয়ার কর্তৃক রিপোর্ট অব ফিজিক্যাল ইন্সপেকশন অব টু ৭৭৭-২০০ ইআর এয়াক্রাফট শীর্ষক পরিদর্শন প্রতিবেদনের ছায়ালিপি। ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর ওই বিমান লিজ নেয়ার জন্য গঠিত টিম, তাদের আদেশ ও এ সংক্রান্ত নথির ছায়ালিপি, ২০০৯ সালের ১১ জুনে অনুষ্ঠিত ফ্লাইট প্ল্যানিং কমিটির লিজ নেয়া সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্তের ছায়ালিপি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ক্রয় নীতিমালা ও আর্থিক কার্যক্রমের সত্যায়িত ছায়ালিপি, বিমান লিজ নেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত নথি, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ও নোটসহ পূর্ণাঙ্গ নথির সত্যায়িত ছায়ালিপি, লিজ নেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দরপত্র ও বিজ্ঞপ্তি কোন কোন পত্রিকায় এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে তার রেকর্ডপত্র, দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটির প্রতিবেদন ও দরপত্রে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিসমূহের তালিকা, লিজ নেয়ার প্রক্রিয়ায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে এয়ারক্রাফট ২টি লিজ নেয়া এবং ফেরত দেয়া পর্যন্ত যাবতীয় ব্যয়ের বিল-ভাউচার, রেজিস্ট্রার, ব্যাংক হিসাব বিবরণী, মুড অব ট্রান্সজেকশন সংক্রান্ত রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ছায়ালিপি, এয়ারক্রাফট লিজ নেয়ার উদ্দেশ্যে গঠিত ইন্সপেকশন টিম সদস্যদের নাম, পদবি ও বর্তমান ঠিকানাসহ তালিকা, তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত ছায়ালিপি, পাসপোর্টের প্রথম ২ পৃষ্ঠার ফটোকপি এবং মিশরে অবস্থান সংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ছায়ালিপি, এয়ারক্রাফট দুটির বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্যাদি, বিমানের ৩টা চেক (এ.সি.ডি) সংক্রান্ত নিয়মাবলী বা নির্দেশিকা সংক্রান্ত ছায়ালিপি এবং এয়ারক্রাফট উড্ডয়নের সক্ষমতা, যোগ্যতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নিয়মাবলী বা নির্দেশিকা। | 6 |
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত আনুমানিক ৪৫ বছরের এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে কাপাসিয়া সড়ক সংলগ্ন তুমলিয়া রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. শাহআলম। আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার মইনুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ভৈরব জিআরপি থানাকে অবগত করা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে মর্গে নিয়ে গেছে। নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. শাহআলম জানান, ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনে কাটা পড়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়। বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর হবে। মরদেহ ট্রেনে কাটা পড়ে অসংখ্য খন্ড হয়ে গেছে। তাই গায়ের কাপড় চিহ্নিত করা যায়নি। পাশে একটা হলুদ রংএর জামার টুকরা পাওয়া গেছে। সম্ভবত তার গায়ে হলুদ জামা ছিল। তিনি আরো বলেন, নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে যদি ওয়ারিসদার পাওয়া যায় তাহলে লাশ হস্থান্তর করা হবে। না পেলে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের পাশে কবরস্থানে দাফন করা হবে। এ ব্যাপারে ভৈরব জিআরপি থানায় অপমৃত্যু মামলা হবে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা। | 6 |
সফরকারী শ্রীলংকার বিপক্ষে আজ রবিবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এদিন টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাইগার দলপতি তামিম ইকবাল। আর সফরকারীদের ফিল্ডিংয়ে পাঠিয়েছে স্বাগতিকরা। যেহেতু ঘরের মাঠে খেলা তাই লঙ্কানদের বিপক্ষে বেশ দাপটেই খেলবেন তামিম বাহিনী। তাছাড়া গত কয়েক বছরে বেশ উন্নতি হয়েছে টাইগারদের। কারণ একটা সময় বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কা মানেই ছিল একপেশে লড়াই। টাইগারদের পাত্তাই দিত না লঙ্কানরা। এমনকি পরিসংখ্যানেও এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডে ফরমেটে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা মোট ৪৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে সিংহলিজরা জিতেছে ৩৯ টিতে। আর বাংলাদেশের জয়ের সংখ্যা মোটে ৭ টি। তবে যাইহোক এবার বদলা নেয়ার বাসনায় ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে টাইগাররা। যেহেতু ঘরের মাঠেই বাড়তি চ্যালেঞ্জ নিয়ে লঙ্কানদের বিপক্ষে লড়াই করতে মুখিয়ে আছেন তামিম-সাকিবরা। | 12 |
বিছানার চাদর ও বালিশের কভার কিনতে নয়, বরং এসব জিনিসে ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাইয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের জার্মানিতে যাওয়ার কথা ছিল। বিভিন্ন পণ্যের প্রাক্-জাহাজীকরণের আগে মান যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা আছে। সে কারণেই এই সফর। সরকারি আদেশে অনিচ্ছাকৃত ভুল থেকে এই বিভ্রান্তির উৎপত্তি। আজ শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. কামরুজ্জামান এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, এ সফরকে কেন্দ্র করে যে সরকারি আদেশ বা জিও জারি হয়েছিল, তাতে অসাবধানতাবশত ভুল রয়েছে। আপাতদৃষ্টে জিওটি পড়লে মনে হয়, পুলিশ মহাপরিদর্শক এক লাখ বিছানার চাদর ও বালিশের কভার কিনতে জার্মানিতে যাচ্ছেন। অথচ বিষয়টি তা নয়। চাদর ও বালিশের কভার-কোনোটিই বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে না। জিওর শব্দগত বিন্যাসের কারণেই এ ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মো. কামরুজ্জামান বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল (পিপিআর) অনুসরণ করেই কেনাকাটার কাজটি হচ্ছিল। এ ক্ষেত্রে যিনি বা যাঁরা কিনছেন, তাঁর বা তাঁদের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদনসংশ্লিষ্ট কাঁচামাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা আছে। এর অংশ হিসেবেই এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, জার্মানি থেকে চাদর আমদানি করা হবে না। বাংলাদেশে যেহেতু ভালো মানের রং তৈরি হয় না, সেহেতু রং যেন ইউরোপীয় মানের হয় সেটা দরপত্রে উল্লেখ ছিল। সেটা দেখতেই পুলিশ মহাপরিদর্শকের এই সফরে যাওয়ার কথা। এর আগের আইজিপিও একই সফর করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সরকারি আদেশের ভুল সংশোধন না হলে পুলিশ মহাপরিদর্শক জার্মানি সফরে যাবেন না। এ বিষয়ে কাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেবে সদর দপ্তর। | 6 |
মার্কিন কংগ্রেসে বুধবারের হামলায় ভূমিকা রাখার অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংসদীয় বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করছে দেশটির ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। অর্থাৎ আরেক দফা অভিশংসনের মুখে পড়তে যাচ্ছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের স্পিকার ন্যান্সী পেলসি বলছেন, ট্রাম্প যদি এ মুহূর্তে পদত্যাগ না করেন, তাহলে তারা বিচারের লক্ষ্যে একটি সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ নিয়ে কাজ শুরু করবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে 'অভ্যুত্থানে উসকানি' দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি হাউস ডেমোক্র্যাটরা সোমবার দায়ের করতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। খবর বিবিসির তাদের অভিযোগ, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উসকানিতে কংগ্রেসের ভেতরে বুধবার দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা ঘটেছে। যার জেরে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এবং মার্কিন রাজনীতিতে একটি কলঙ্কজনক ইতিহাস যোগ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, বিচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস। তবে তিনি বহুদিন ধরেই জানতেন 'ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত নন'। তবে হোয়াইট হাউস এ বিচার করার উদ্যোগকে নাকচ করে বলেছে, এটি 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' এবং এতে 'আমাদের শান্তির দেশ আরও বিভক্ত হয়ে পড়বে'। হাউস অব রিপ্রেজেনেটেটিভে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ১৬০ প্রতিনিধি ইতোমধ্যেই আর্টিকেল অব ইমপিচমেন্ট অর্থাৎ সংসদীয় বিচারের আইনের খসড়াটিতে সই করেছেন। বুধবার কংগ্রেসে ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামার মধ্যে আটকে থাকা অবস্থায় ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান টেড লিউ এবং রোড আইল্যান্ডের কংগ্রেসম্যান ডেভিড সিসিলিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিচারে আইনের খসড়াটি লিখতে শুরু করেন। উদ্যোগটি যদি সত্যিই কার্যকর হয়, তাহলে এটি হবে ট্রাম্পের বিচারের জন্য হাউস অব রেপ্রেজেনটেটিভের দ্বিতীয় দফা চেষ্টা। এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধাদানের অভিযোগে সংসদের নিম্নকক্ষে ট্রাম্পের বিচার করা হয়। কিন্তু পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে দুটি অভিযোগই খারিজ হয়ে যায়। একের পর এক ইতিহাসের মালিক ট্রাম্প। মার্কিন ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টই দুইবার বিচারের সম্মুখীন হননি। কিন্তু ট্রাম্প সে দিকেই যাচ্ছেন। তবে তার শাস্তির আশঙ্কা কম। কারণ সিনেটে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি বেশ শক্তিশালী। সিনেটের একজন নরমপন্থী রিপাবলিকান অ্যালাস্কার লিসা মারকোস্কি অ্যাঙ্কোরেজ ডেইলি নিউজ পত্রিকাকে বলেছেন, ট্রাম্পের এখন উচিত হবে কেটে পড়া। যদি বিচারে দোষী প্রমাণিত হন ট্রাম্প, তাহলে সাবেক প্রেসিডেন্টে হিসেবে তিনি প্রাপ্য বেতন-ভাতাদির কিছুই পাবেন না। এছাড়া তিনি যাতে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে অংশ না নিতে পারেন, সিনেটররা সেই প্রস্তাবও অনুমোদন করতে পারেন। | 3 |
জীবিকার জন্য যাঁরা সাগর-মহাসাগর চষে বেড়ান, তাঁদের ঝুলিতে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা জমা হয়। এর কিছু ভীষণ বিপজ্জনক, কিছু রোমাঞ্চকর। আবার কিছু প্রাণঘাতী। সম্প্রতি তেমনই এক বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মাইকেল প্যাকার্ড। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন তিনি। বিশাল এক তিমির মুখের ভেতর থেকে ঘুরে এসেছেন তিনি। ঘটনাটি গত শুক্রবারের। জীবিকার তাগিদে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুয়েটসের উপকূলে গিয়েছিলেন পেশায় জেলে মাইকেল। আটলান্টিকের নীল জলে ডুব দিয়ে বড় আকারের গলদা চিংড়ি ধরছিলেন। পানির নিচে চারপাশ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে আসে। মাইকেলের ভাষায়, 'আমি পানির নিচে চিংড়ি ধরায় ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খাই। এরপর চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। ভেবেছিলাম, হাঙরের আক্রমণের মুখে পড়েছি।' হাঙর নয়, বিশাল এক তিমি মুখে পুরে নিয়েছিল মাইকেলকে। তবে তাঁর ভাগ্য বেশ ভালো। কিছুক্ষণ পরই তিমিটি তাঁকে উগলে দেয়। মাইকেল বলেন, 'তিমির মুখে আমি ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড ছিলাম। হঠাৎ আলো দেখতে পাই। এরপর তিমিটি মাথা বাঁকিয়ে ফেলে। আমি নিজেকে বাইরে (পানির ওপর) আবিষ্কার করি।' তিমির মুখ থেকে ফিরে এলেও সামান্য ক্ষত তৈরি হওয়া ছাড়া বড় কোনো ক্ষতি হয়নি মাইকেলের। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন তিনি। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবন ফিরে পাওয়ার এই গল্প সবার সঙ্গে ভাগ করেছেন। মাইকেল বলেন, 'তিমিটি আমাকে গিলে খেতে চেয়েছিল। কিন্তু ইতালীয় কল্পকাহিনির ক্ল্যাসিক চরিত্র "পিনোচ্চিও"-এর মতো ফিরে এসেছি।' মাইকেল যে তিমির মুখের ভেতর থেকে ঘুরে এসেছেন, সেটি হাম্পব্যাক হোয়েল নামে পরিচিত। এই প্রজাতির পূর্ণবয়স্ক একেকটি তিমি লম্বায় ৩৯ থেকে ৫২ ফুট হতে পারে। ওজন হয় ৩০ টন পর্যন্ত। ম্যাসাচুয়েটসের সেন্টার ফর কোস্টাল স্টাডিজের তিমিগবেষক জোকি রবিনস বলেন, 'আমি মনে করি না মাইকেল ভুয়া গল্প বলছেন। যাঁরা সাগর-মহাসাগরে কাজের তাগিদে যান, তাঁরা বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরেন। তবে আমি এমন দুর্ঘটনার কথা আগে শুনিনি। মাইকেল হয়তো ভুল সময়ে ভুল জায়গায় চলে গিয়েছিলেন।' | 3 |
তাইওয়ান জানিয়েছে, তাদের অ্যান্টি সাবমেরিন হেলিকপ্টার কেনার সামর্থ্য নেই। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দেশটি ইঙ্গিত দিয়েছে, খুবই ব্যয়বহুল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উন্নতমানের নতুন অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধ হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা তারা ত্যাগ করেছে। বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।তাইওয়ান এর আগে জানিয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন করপোরেশনের তৈরি - অ্যান্টি-সাবমেরিন হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা করছে। তবে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপদেশের চাহিদা ও সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তাইওয়ানের কাছে বিক্রির বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।তাইওয়ানের পার্লামেন্টে নতুন মার্কিন অস্ত্র (হেলিকপ্টার) কেনার বিষয় সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কুও-চেং হেলিকপ্টার কেনার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, 'দাম খুবই বেশি, আমাদের দেশের সামর্থ্যের বাইরে।' এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও দুই ধরনের অস্ত্র ক্রয়ও পিছিয়ে গেছে। সেগুলো হলো- মাঝারি পাল্লার অটোমেটেড হাউইটজার আর্টিলারি সিস্টেম এবং বহনযোগ্য অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট স্টিংগার মিসাইল।চিউ কুও-চেং আরও জানিয়েছেন, এরই মধ্যে স্টিংগারের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মূল্যও পরিশোধ করা হয়েছে। তাইওয়ান সেগুলো দ্রুত সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দেবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য না দিয়ে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা অস্ত্র ক্রয়ের বিষয়টিকে তুচ্ছ কোনো বিষয় বলে বিবেচনা করি না। আমাদের অবশ্যই ব্যাক-আপ পরিকল্পনা আছে।'এদিকে, তাইওয়ানকে নিজস্ব ভূখণ্ড বলে ক্রমাগত দাবি করেই যাচ্ছে চীন। তবে তাইওয়ান বলছে, তারা স্বাধীন দেশ এবং তাদের অধিকার রয়েছে নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার। তাই দেশটি চীনা আক্রমণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করছে। | 3 |
বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে এক দশক আগে ৪৪ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। এ জন্য ২০১১ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরপর ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। এখনো শুরু হয়নি মূল রেললাইনের কাজ।নানা জটিলতায় ছয় মাস ধরে পুরোপুরি বন্ধ আছে প্রকল্পের কাজ। এ অবস্থায় আগামী বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের। ফলে আবারও বাড়তে পারে প্রকল্পের মেয়াদ। সেই সঙ্গে বাড়বে ব্যয়ও।১০ বছরেও প্রকল্পটি শেষ না হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি কারণ হচ্ছে-শুরুতে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও পরে ভারতের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত এবং রেলপথটি প্রথমে মিটার গেজ করার কথা থাকলেও পরে ডুয়েল গেজে করার সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া পরামর্শক নিয়োগ, দরপত্র প্রক্রিয়া, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ, ঋণচুক্তি ও ঋণ ছাড়সহ বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে এত সময় গড়িয়েছে।বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. সুলতান আলী আজকের পত্রিকাকে জানান, ঋণের অর্থ পেতে দেরি হচ্ছে। এ ছাড়া করোনা ও বর্ষার কারণেও কাজ বন্ধ ছিল। তবে চলতি মাসেই আবার কাজ শুরু হবে। ভারত থেকে প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ মালামাল আসার কথা থাকলেও সেগুলো ঠিকমতো আসেনি।রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অংশ হিসেবে ১৮৯৬ সালে চালু হয় কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনটি। এটি ভারতের আসাম রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল। দীর্ঘ ১০০ বছরের বেশি সময় চালু থাকা এই রেলপথ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করায়, একসময় ট্রেন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ২০০২ সালের ৭ জুলাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে দুর্ভোগে পড়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার মানুষ। রেলপথটির সংস্কার করে পুনরায় ট্রেন চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচি পালন করে তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে বিদ্যমান মিটার গেজ লাইন সংস্কারের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেলওয়ে। ২০১১ সালে মিটার গেজ লাইনটি পুনর্নির্মাণ করার জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথটি ভারতের আসাম রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য ২০১৫ সালে এই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পরিবর্তন করে লাইনটি ডুয়েল গেজে অন্তর্ভুক্ত করে আবারও অনুমোদন করা হয়। ঠিকাদার নিয়োগের পর ২০১৮ সালের আগস্টে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দুই বছর মেয়াদে ২০২০ সালের মে মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা হয়নি। ফলে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনে বর্তমানে কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। পুরো কাজ বন্ধ আছে। কোটি কোটি টাকা মূল্যের নির্মাণসামগ্রী পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের ছয় মাস ধরে বেতনও বন্ধ। এর আগে কিছু পুরোনো ব্রিজ ভেঙে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হলেও পুরো কাজ শেষ হয়নি। পুরোনো লাইনের আশপাশের অবৈধ স্থাপনা সরানো হয়েছে।বর্তমানে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে বলে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রকল্প এলাকায় এখনো কিছু গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর কাজ বাকি আছে। নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে পরামর্শক নিয়োগ নিয়েও। মেয়াদ শেষ হলেও এখনো নতুন করে পরামর্শক নিয়োগ হয়নি। ডিপিপিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে যে ব্যয় ধরা হয়েছিল, তার থেকে অনেক বেশি অর্থ লাগছে। ফলে এই কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না। এ কাজে আরও ১ কোটি টাকা বেশি লাগবে। সে ক্ষেত্রে ব্যয়ও বাড়বে।২০১১ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছিল ৬৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ বাংলাদেশ এবং বাকি ৭৫ শতাংশ ভারতের এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নিচ্ছে সরকার। ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে ভারতীয় নির্মাণপ্রতিষ্ঠান কালিন্দি রেল নির্মাণ কোম্পানি।কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৪৪ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার মেইন লাইন ও ৭ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার লুপ লাইনসহ মোট ৫১ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার রেললাইন হবে। এ সেকশনে গার্ডার ব্রিজ ১৭টি ও কালভার্ট ৪২টি পুনর্নির্মাণ করা হবে। থাকবে আধুনিক সিগন্যালব্যবস্থা। একই সঙ্গে ৬টি স্টেশন ভবন এবং প্ল্যাটফর্ম পুনর্নির্মাণ করা হবে।বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে ৩৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বেড়েছে। তার মধ্যে অন্যতম কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন প্রকল্পটি।এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারা। বিশ্বের কোথাও প্রকল্প নিয়ে এমনটি হয় না। কেন প্রকল্পগুলো ঝুলে যাচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ে হচ্ছে না, তার জন্য কোনো জবাবদিহি করতে হয় না কাউকে। এ কারণে এমনটি হচ্ছে। তাই সরকারের উচিত সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা। | 6 |
পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি (৭৫) মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫২ মিনিটে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। কলকাতার সাবেক মেয়র সুব্রত মুখার্জির মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সুব্রত মুখার্জির রাজনৈতিক উত্থান ষাটের দশকে। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, প্রয়াত সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের আমলে মাত্র ২৬ বছর বয়সে রাজ্যের মন্ত্রী হন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর প্রথম কলকাতা সফরে তাঁর কাঁধে ছিল গুরুদায়িত্ব। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য।দীর্ঘ বাম শাসনে কংগ্রেসের রাজনীতি মূলত প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, সৌমেন মিত্র এবং সুব্রত মুখার্জির কাঁধে ভর করে চলছিল। প্রিয়রঞ্জন ও সৌমেন আগেই মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সুব্রতও চলে গেলেন না ফেরার দেশে।বাম আমলেই ২০০০ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন সুব্রত। ২০০১ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন কলকাতার মেয়র। টানা পাঁচ বছর মেয়র থাকাকালীন সুব্রত পরিচয় দেন তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার।কিন্তু মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে গোলমালের জেরে তৃণমূল ছাড়েন সুব্রত। অথচ কংগ্রেস রাজনীতিতে মমতার উত্থান সুব্রতরই হাত ধরে। পরে অবশ্য ২০১০ সালে তৃণমূলে ফেরেন সুব্রত। ২০১১ থেকে টানা মন্ত্রী সুব্রত। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।সুব্রতর মৃত্যুতে মমতা বলেছেন, ভাবতেও পারিনি এত আলোর মধ্যেও এভাবে নেমে আসবে অন্ধকার। শোক নেমে এসেছে রাজ্য রাজনীতিতে। কারণ বিরুদ্ধ রাজনৈতিক মতবাদে বিশ্বাসীদের কাছেও তিনি ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র। ৫০ বছর ধরে একডালিয়া এভারগ্রিন ক্লাবের বিখ্যাত দুর্গাপূজার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুব্রত মুখার্জি। এবারও তাঁকে একই ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। পূজার পরই তাঁর অসুস্থতা বাড়ে।মে মাসে চতুর্থবারের মতো মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে তাঁকে নারদা ঘুষ মামলায় গ্রেপ্তার করেছিল ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই সময়েও অসুস্থ হয়েছিলেন তিনি। পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে পুরোদমে রাজনীতিতে ফিরেছিলেন। কিন্তু কালীপূজার রাতে নিভে গেল রাজ্য রাজনীতির বর্ণময় চরিত্রটির জীবনদীপ। | 3 |
মৃত্যুর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি শাসন ব্যবস্থার সংস্কারের কথা বলেছিলেন সাংবাদিক জামাল খাসোগি। নানা নাটকীয়কতার পর অবশেষে তুরস্কে সৌদি কনস্যুলেটে সৌদি রাজপরিবারের কঠোর এই সমালোচককে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সৌদি আরব। খাসোগিকে হত্যার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই আমেরিকার সাপ্তাহিক 'নিউজউইক'র ওই স্বাক্ষাৎকারের কথা প্রকাশ্যে আসে বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদেন বলা হয়েছে। সৌদি যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমানকে 'স্বৈরশাসক' দাবি করে খাসোগি নিজেকে সৌদি আরবের প্রতিদ্বন্দ্বি নয় বরং সৌদিকে 'উৎকৃষ্ট রাষ্ট্র' হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে খাসোগি সাক্ষাৎকারে বলেন, সৌদি শাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কথা আমি বলিনা; কারণ আমি জানি, এটি অসম্ভব এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কেউই এই ব্যবস্থাকে বন্ধ করতে পারবে না। তিনি বলেন, আমি শুধু বলব; এই শাসন ব্যবস্থার সংস্কার দরকার। কিছু কাগজপত্র তোলার জন্য গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর নিখোঁজ হন জামাল খাসোগি। ৫৯ বছর বয়সী জামাল খাসোগি আল-ওয়াতান পত্রিকা ও সৌদি টিভির সাবেক সম্পাদক ছিলেন। তিনি এক সময় সৌদি রাজপরিবারের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং ঊর্ধ্বতন সৌদি কর্মকর্তাদের উপদেষ্ট ছিলেন। তার কয়েকজন বন্ধুকে গ্রেফতার করার পর জামাল খাসোগি সৌদি আরব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং সেখান থেকে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছিলেন ও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন। খাসোগি মৃত্য রহস্য নিয়ে জলঘোলা হয়েছে অনেক। প্রথম পর্যায়ে তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়, খাসোগিকে কনস্যুলেটে হত্যা করা হয়েছে এবং এর পক্ষে তথ্য প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। তবে বারবার সৌদি কর্তৃপক্ষ এ দাবি অস্বীকার করে আসছিল। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরে যান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এ বিয়ষে কথা বলেন সংবাদ সম্মেলনে। ২ অক্টোবরের পর নানা নাটকীয়তা আর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এর প্রভাব পড়ার পর অবশেষে শনিবার সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রাথমিক তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, খাসোগি সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর কয়েকজনের সঙ্গে তার 'ধস্তাধস্তি' হয়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরই খাসোগির মৃত্যু হয়। | 3 |
গত ৭ বছরে ইয়েমেনে যুদ্ধে ১০ হাজারের বেশি শিশুর হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল-ইউনিসেফ এ তথ্য দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, প্রকৃত হতাহতের ঘটনা এর চেয়ে বেশি হতে পারে। গতকাল শনিবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলেছে, ইয়েমেনে গত বছর থেকে জোরোশোরে লড়াই শুরু হয়েছে। এ বছরও লড়াই অব্যাহত আছে। আর এ যুদ্ধে প্রধান এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে শিশুরা। ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধ করে সাধারণ মানষের জীবন রক্ষায় উভয়পক্ষের প্রতি এবং তাদের প্রভাবিত করতে পারে-এমন সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ। তারা বলেছে, শিশুদের নিরাপত্তা, তাদের মঙ্গল এবং সুরক্ষা সব সময় নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিসেফ বলেছে, সহিংসতা, কষ্ট এবং বঞ্চনার এক সাধারণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে ইয়েমেন। এ দেশে লাখ লাখ পরিবার আর এসব পরিবারের শিশুরা ভুগছে। এ অঞ্চলে শান্তি নিশ্চিত করতে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার এখন বড় সময়। ইউনিসেফের প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, সাত বছর আগে (২০১৫) সালে ইয়েমেন সংঘর্ষ শুরু হয়। ইউনিসেফ দেখেছে, এই ৭ বছরে ১০ হাজার ২০০-এর বেশি শিশুর হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে। | 3 |
সোমবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ডিবি পুলিশের একটি দল রাজধানীর উত্তরায় জেএসডি নেতা আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করে। দায়িত্বশীল এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, মইনুলকে গ্রেফতারে বিকাল থেকেই তাদের আয়োজন পাকাপাকি হয়। সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ রবের বাসার দিকে যায়। ওই বাসায় মইনুল অবস্থান করছিলেন। পরে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেফতার করা হবে জানিয়ে একটি এসএমএস পাঠানো হয়। অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ব্যারিস্টার মইনুলকে যখন গাড়িতে তুলে নেয়া হয় তখন তিনি জানতে চান, তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে? জবাবে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, আপনাকে মিন্টো রোডে নেয়া হবে। গাড়িতে ওঠার পরই ব্যারিস্টার মইনুল বাসায় ফোন করে তাকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানান। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের গ্রেফতারের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি জানান, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার চাওয়া প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক। সত্য প্রকাশ পাক। তার ওপর আমার ব্যক্তিগত কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করার অভিযোগে বগুড়ার শেরপুরে খানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা কটূক্তিকারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আহসান হাবিব আম্বীয়াকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান। এই দাবিতে তারা প্রায় ঘন্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর আগে খানপুর ইউনিয়নের শত শত নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে একটি মিছিল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে।আজ শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খানপুর ইউনিয়নের সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তারেকুল ইসলাম তারেক, খানপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মামুনুর রশিদ প্রমুখ। এ সময় খানপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা দাবি করেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আহসান হাবিব আম্বীয়া দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে বেইমানি করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়েও তাঁর ভাই বিএনপি নেতা পিয়ার হোসেন পিয়ারের পক্ষে কাজ করেছেন। এ জন্য নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগের সভা নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কেও কটূক্তি করেছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগ সারা দেশে ৩০ টির বেশি আসন পাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। বক্তারা আরও বলেন, এ ধরনের ব্যক্তি পদে থাকলে দলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। তাই তাকে অবিলম্বে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারণ করার জন্য দাবি জানান। এ বিষয়ে মো. আহসান হাবিব আম্বীয়া বলেন, 'মিছিলে নেতৃত্বদানকারী শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু গত ইউপি নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তাঁর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মো. খলিলুর রহমানকে খানপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। তারা নির্বাচনে হেরে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। আজকের বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী লীগের কেউ না।' বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকেই কটূক্তি করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, 'আমি কোথাও এ ধরনের কথা বলি নাই। ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপটি তার নয় দাবি করে তিনি বলেন, আমাকে অপদস্থ করার জন্যই তারা এই মিথ্যা আশ্রয় নিয়েছেন।' | 6 |
ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে কাতর শিবচরের মানুষ। ভোরে সূর্যোদয় হলেও কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশে নিখোঁজ রয়েছে আলোর ঝলকানি। ঘন কুয়াশার প্রভাবে সকালে অনুভূত হচ্ছে তীব্র শীত। ভোরে সূর্যোদয় হয়েছে ঠিকই। কিন্তু কুয়াশার কারণে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। মাঘের স্নিগ্ধ সকালে দাপুটে হয়ে উঠেছে শীতের প্রকোপ। শিবচরে শনিবার (২২ জানুয়ারি) সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে। তবে ঘড়ির কাঁটায় যখন সকাল সাড়ে ১১টা, তখনও দেখা যায়নি সূর্যের মুখ। শীত নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। কেউ কেউ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। এই শীতে শিশু ও বৃদ্ধরা ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এদিকে, ঘন কুয়াশার চাদরে প্রকৃতি ঢাকা পড়লেও জীবিকার তাগিদে আজও কাক-ডাকা ভোরে বের হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। তবে ঘন কুয়াশায় সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই মহাসড়কের দূরপাল্লার যানবাহনগুলো চলছে ধীরগতিতে। মাইক্রোবাস চালক জলিল মিয়া বলেন, 'হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। সামান্য দূরত্বেও কিছু দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ করেই কুয়াশায় চারপাশ ঢেকে গেছে। এ কারণে মহাসড়কে গাড়িও কম রয়েছে।' খেটে খাওয়া দিনমজুর রহিম বলেন, 'শীতে কাজ নেই। আমাদের বেঁচে থাকাটাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।' | 6 |
বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২২ সালের জন্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৩টি পদে সভাপতিসহ ৪টিতে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থী এবং ৯টিতে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীরা। ৩৬৫ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান পেয়েছেন ৩৩৬ ভোট। সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের অ্যাড. মো. আজবাহার আলী এবং সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক। তাদের ভোট যথাক্রমে ৩৫৭ ও ৩৪০ । ৩৪৬ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী অ্যাড. আব্দুল বাছেদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. এএইচ এম গোলাম রব্বানী খান রোমান পেয়েছেন ২৭৫ ভোট। গণতান্ত্রিক প্যানেলের আব্দুল লতিফ পশারী ববি পেয়েছেন ১০৬ ভোট। ৩৬৩ ভোট পেয়ে প্রথম যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. রিয়াজুল জান্নাত প্রিন্স এবং ৩৫৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী এনামুল হক পান্না। ৩৭৯ ভোট পেয়ে লাইব্রেরি ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. আজিজুল হক ফিরোজ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী অ্যাড. মো. উজ্জ্বল হোসেন পেয়েছেন ৩২৪ ভোট। ৩৭৮ ভোট পেয়ে ম্যাগাজিন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী অ্যাড. মো. গোলাম মোস্তফা মজনু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. সৈয়দ সাদী মোহাম্মদ পেয়েছেন ৩৩২ ভোট। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদের পাঁচটির মধ্যে চারটিতে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত ও মহাজোট থেকে। এদের মধ্যে ৪৩২ ভোট পেয়ে প্রথম সদস্য হয়েছেন মহাজোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. নুরে জান্নাত রূপা, ৪০৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় সদস্য হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের অ্যাড. মো. নুর-ই-আজম, ৪০৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন অ্যাড. মো. মিজানুর রহমান, ৪০২ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন অ্যাড. মো. আব্দুস সালাম এবং ৩৮১ ভোট পেয়ে পঞ্চম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাড. মোছা. শিপন খাতুন। রাত সাড়ে ১০টায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাড. বিনয় কুমার রজত নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। এবার ৭৭৮ জন ভোটারের মধ্যে ৭৪৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। | 6 |
সাভারে পুলিশ পরিচয়ে অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির সময় মোহাম্মদ হোসেন (৩২) নামের এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের বনগাঁ ইউনিয়নের বলিয়ারপুর এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে চাঁদা আদায়কালে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ হোসেন ভোলা জেলার সাকের হাট থানার চদুরচর গ্রামের শাহাবুদ্দীনের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজি করতেন মোহাম্মদ হোসেন। মঙ্গলবার আবারও সে চাদাঁ আদায় করতে আসে। কিন্তু চাঁদা দিতে রাজি না হলে সোহেল নামের এক রিকশা চালককে মারধর করে মোহাম্মদ হোসেন। এসময় ক্ষুদ্ধ অন্যান্য রিকশাচালকসহ স্থানীয়রা তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সাভার হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট বাহারুল সোহাগ জানান, আটক মোহাম্মদ হোসেন পুলিশের কোনো সদস্য নয়। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
রিও ডি জেনেরিওর ক্ষত শুকানোর আগেই ব্রাজিলের সামনে আবারও আর্জেন্টিনা। এবার কাতার বিশ্বকাপের কনমেবল অঞ্চলের বাছাই পরীক্ষা। গুরুত্বের দিক থেকে জুন-জুলাইয়ে কোপা ফাইনালের ধারেকাছে না হলেও দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে দোষ কী! ব্রাজিল কোচ তিতে সেটাই চাইছেন শিষ্যদের কাছ থেকে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও জিততে মরিয়া। কোপা আমেরিকায় শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা জেতায় আত্মবিশ্বাসটা তাদের তুঙ্গে। এমন নির্ভার সময়ে আরও একবার ব্রাজিলকে ডোবাতে চায় তারা। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় সাও পাওলোতে শুরু হবে ম্যাচটি। যে মঞ্চে এর আগে কখনও মুখোমুখি হয়নি দু'দল। ম্যাচটির অন্যতম বড় আকর্ষণ সময়ের সেরা দুই তারকা লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়র। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে মাঠে নামার আগে প্রস্তুত দুই দেশের দুই সেরা তারকা। যদিও প্রিমিয়ার লিগ কতৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে রবার্তো ফিরমিনো, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, অ্যালিসন বেকারের মত তারকাদের ছাড়াই মাঠে নামতে হচ্ছে সেলেসাওদের। পিএসজিতে মেসির সতীর্থ মারকুইনহোসকেও পাচ্ছে না তারা। সর্বশেষ কোপার ফাইনালে খেলা মাত্র ৪ জনকে এবারের দলে পাচ্ছে ব্রাজিল। তারা হলেন দানিলো, ক্যাসেমিরো, পাকুয়েতা এবং নেইমার। ব্রাজিলের থেকে মোটামুটি ভালো অবস্থানে আছে আর্জেন্টিনা। প্রিমিয়ার লিগ কতৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে দেশের টানে আর্জেন্টিনা শিবিরে যোগ দিয়েছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোরা। ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ: ওয়েভারটন, দানিলো, এডের মিলিতাও, মিরান্ডা, অ্যালেক্স সান্দ্রো, ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারেস/গারসন, লুকাস পাকুয়েতা, ভিনিসিয়াস জুনিয়র/এভারটন রিবেইরো, নেইমার ও গ্যাব্রিয়েল বারবোসা। আর্জেন্টিনা সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মলিনা/গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওটামেন্ডি, মার্কোস আকুনা/নিকোলাস তালিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, লেয়ান্দ্র পারেদেস/গুইদো রদ্রিগেজ, জিওভানি লো সেলসো, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, লাউতারো মার্টিনেজ ও লিওনেল মেসি। | 12 |
গত ২৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতে পানভেলে নিজের খামারবাড়িতে সাপের কামড় খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। তাও আবার তার জন্মদিনের (২৭ ডিসেম্বর) ঠিক আগের দিন। তারপরও পুকুরে নেমে গোসল অভিনেতার! না, সুইমিং পুল নয়। গাছগাছালি ভর্তি অকৃত্রিম পুকুর। শনিবার নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে দুইটি ছবি পোস্ট করেন সালমান। পুকুরে গোসল করার ছবি। গায়ে পোশাক নেই। কিন্তু মাথায় আছে ঘিয়ে রঙা টুপি। হাসিমুখে জলে গা ভাসিয়েছেন এই তারকা। একদিকে যেমন অন্যান্য বলিউড তারকা তার ছবিতে ভালোবাসা জানিয়েছেন, অন্যদিকে সালমান ভক্তরা খানিক উদ্বেগে। তাই সালমানকে সাপের কামড়ের কথা মনে করিয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। যদিও সালমানের ছবিতে কোথাও লেখা নেই যে, ছবিটি কোথায় তোলা। আদৌ সেই পুকুরটি তার পানভেলের খামারবাড়িতেই কিনা, তা স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না। বহু দিন আগেই খামারবাড়ির কেয়ারটেকারদের সালমান বলেছিলেন, খামারবাড়িতে প্রচুর সাপ আছে। তোমরা ব্যবস্থা নাও। সেই খামারবাড়ির মালিককেই সাপে কামড়াল। বন্ধুদের সূত্রে জানা যায়, খামারবাড়ির চারধারে প্রচুর জঙ্গল এবং আগাছা রয়েছে। পাখি এবং বিভিন্ন পশুর বাস সেখানে। জন্মদিনের আগে ২৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতে পানভেলে নিজের খামারবাড়িতে তখন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারছিলেন সালমান। হঠাৎ হাতে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। সেই মুহূর্তেই বন্ধুদের চোখে পড়ে সালমান যেখানে বসেছিলেন, একটি সাপ সেখান থেকে নেমে যাচ্ছে। তৎক্ষণাৎ চিৎকার করে সাহায্য চাইতে শুরু করেন বন্ধুরা। দেরি না করে নবী মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ভাইজানকে। রাত তখন তিনটা। ছয় থেকে সাত ঘণ্টা হাসপাতালে চলে চিকিৎসা। | 2 |
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ বললেও মনে হয় কম বলা হবে। একেবারে শেষ বলে এসে চিরপ্রতিদ্বন্দী ভারতের যুব দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতেল পাকিস্তান। অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ইতিহাসে একেবারে শেষ বলে ম্যাচ জেতা প্রথম দল হিসেবে নজির গড়ল পাকিস্তান। এর আগে এই নজির ছিল বাংলাদেশের। টাইগাররা ম্যাচ শেষের ঠিক আগের বলে নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতেছিল। সেই নজিরকেই ভেঙে দিলো পাকিস্তান দল। সদ্য শেষ হওয়া টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে হারতে হয়েছিল ভারতকে। এবার যুবদের এশিয়া কাপে ও হারতে হল তাদের। কোহলিদের পর পাকিস্তানের কাছে হারল ভারতের যুবরাও। উল্লেখ্য সিনিয়র ক্রিকেটে যে কোনো ফর্ম্যাটের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সেটাই ছিল পাকিস্তানের প্রথম জয়। ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের কাছে ২ উইকেটে হারল ভারতের যুব ক্রিকেট দল। শনিবার আমিরাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় পাকিস্তান। শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ভারত। ওপেনার হার্নুর সিংহ ছাড়া বাকিরা কেউ দুই অঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি। হার্নুর (৪৬) ফেরার পর আরাধ্য যাদব ও কৌশল তাম্বে ভারতীয় ইনিংসের হাল ধরার চেষ্টা করেন। আরাধ্য ৫০ রান করেন। জামির ১০ ওভারে ৬০ রানে নেন ৫ উইকেট।২৩৭ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। ভারতের ২৩৭ রানকে তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান প্রথমেই হারায় ওপেনার আব্দুল বঙ্গালজাইকে। তাঁদের ইনিংসের হাল ধরেন মাজ সদাকত ও মোহাম্মদ শেহজাদ। পাকিস্তানের হয়ে শেহজাদ এক প্রান্ত আগলে রাখেন। ইরফান খান ৩৩, রিজওয়ান মাহমুদ ২৯ রান করেন। শেহজাদ আউট হন ৮২ রানে। আহমেদ খান অপরাজিত ২৯ রান করে দলকে এক অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন। ফলে ম্যাচের শেষ বলে জিতে অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে এক অনন্য নজির গড়ে ফেলল পাকিস্তানের যুবরা। আসুন একনজরে দেখে নিন সেই নজির: ১) শেষ বলে জয়, ২০২১ পাকিস্তান বনাম ভারত ২) ১ বল বাকি থাকতে জয়, ২০১৭ বাংলাদেশ বনাম নেপাল ৩) ৩ বল বাকি থাকতে জয়, ২০১৩ পাকিস্তান বনাম ভারতসূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস | 12 |
'মশিউর রহমান রাঙ্গা সাহেব কী জন্য বায়াসড হলেন, আমি বুঝলাম না। তিনি একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে তিনি প্রতিমন্ত্রীও হয়েছেন। আপনার মতো একজন জাতীয় ব্যক্তিত্ব কথা বলার আগে সত্য বিষয়টা জানা উচিত ছিল। জাতীয় সংসদের মতো একটি পবিত্র জায়গায় আপনি মিথ্যাচার করেছেন।' গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টায় ফেসবুক লাইভে এসে এসব অভিযোগ করেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী দিনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গার দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন তিনি। ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতীয় পার্টির নেতা সাইফুল ইসলামকে বসুরহাট বাজারের কালা মিয়া ম্যানশন নামের একটি বিপণিবিতানের সামনে থেকে কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা তুলে নিয়ে যান। এরপর রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে তাঁকে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালী শহরে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ জাতীয় পার্টির দুজন সাংসদ জাতীয় সংসদে অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপন করেন। এ সময় তাঁরা কাদের মির্জার বিচার দাবি করেন এবং এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। জাতীয় পার্টির সাংসদদের বক্তব্যের জবাবে রাতে ফেসবুক লাইভে আসেন কাদের মির্জা। এ সময় তিনি বলেন, 'মশিউর রহমান রাঙ্গা সাহেব একরামের (সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী) মতো অপরাজনীতির হোতার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। কষ্ট হয়, কষ্ট হয়। আমি আজকে জি এম কাদের সাহেবের কাছে বলব, বিষয়টা আপনি সত্যতা যাচাই করেন। যদি আমি অপরাধ করে থাকি, তাহলে বিচার করেন। অন্যথায় যারা এই মিথ্যাচার করেছে, যারা জাতীয় সংসদের মতো পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো বলেছে, যারা এটার সঙ্গে জড়িত, নোয়াখালীতে আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে, তারা আপনাদের দলের একটা অংশ। জি এম কাদের সাহেব, আমি তাদের বিচার আপনার কাছে চাই।' কাদের মির্জার আত্মীয়স্বজন এবং পুলিশ প্রশাসনও তাঁর সঙ্গে নেই বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, 'আজকে আমার আত্মীয়রা আমার সঙ্গে নেই। মন্ত্রীর বউ আমার সঙ্গে নেই। পুলিশ প্রশাসনও আমার সঙ্গে নেই। মন্ত্রী আমার সঙ্গে যে ওয়াদা দিয়েছিল, তা একটাও রক্ষা করে নাই। আমি অনেক চেষ্টা করে টাকাপয়সা খরচ করে আমার তিনটা ছেলেকে জামিন করিয়েছিলাম। মন্ত্রীর ওয়াইফের (স্ত্রী) ইশারায় তাদের জামিন স্থগিত করা হয়েছে।' প্রায় ৪৬ মিনিটের এই ফেসবুক লাইভে নোয়াখালীর জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের কর্মকাণ্ডের বিষয়েও সমালোচনা করেন কাদের মির্জা। | 9 |
হলিউডের জনপ্রিয় তারকা কিয়ানু রিভসের সঙ্গে উইনোনা রাইডারের বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের মধ্যে একটা গুঞ্জন চলে আসছে। শোনা যায়, 'ড্রাকুলা' চলচ্চিত্রে বিয়ের একটি দৃশ্যে হলিউডের আরেক তারকা উইনোনা রাইডারের সঙ্গে সত্যিই বিয়ে হয়েছিল রিভসের।সম্প্রতি এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উইনোনা রাইডারও কয়েক বছর আগে গণমাধ্যমে এমন তথ্য দিয়েছিলেন। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিয়ানু এ প্রসঙ্গে বলেন, 'বিয়ের জন্য যা করতে হয় তাই হয়েছিল আমাদের। সিনেমার দৃশ্যে সবই ছিল। সব নিয়ম মেনেই একজন সত্যিকারের পুরোহিত আমাদের বিয়ে দিয়েছেন। উইনোনাও মনে করে যে এটি সত্যি ছিল। আমারও মনে হয়, ঈশ্বরের চোখে অন্তত আমরা বিবাহিত।'১৯৯২ সালে ফোর্ড কপলার প্রযোজিত বাম স্ট্রোকারসের কাহিনিতে নির্মিত হলিউড ফিকশন 'ড্রাকুলা'-তে জনাথন ও মিনা চরিত্রে ছিলেন যথাক্রমে কিয়ানু রিভস ও উইনোনা রাইডার। সেই ছবিতেই বিয়ের দৃশ্যে ছিলেন এ দুই তারকা।এর আগে ২০১৮ সালে কিয়ানু রিভস ও তারকা উইনোনা রাইডার তাদের নতুন সিনেমা 'ডেস্টিনেশন ওয়েডিং'-এর প্রচারের জন্য এন্টারটেইনমেন্ট উইকলিতে সাক্ষাৎকার দিতে এসেছিলেন। সে সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে উইনোনা বলেন, 'ওহ হো, আমরা তো বিবাহিত।' এটা বলার পর তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, 'আমরা ড্রাকুলায় আসলেই বিয়ে করেছিলাম। আমি ঈশ্বরের শপথ করে বলছি। আমরা বাস্তব জীবনে বিবাহিত বলে আমি মনে করি। ওই দৃশ্যের জন্য ফোর্ড কপলার রোমানিয়ার একজন পুরোহিতকে নিয়েছিলেন। আমরা শট হিসেবে দিয়েছি, কিন্তু পুরোহিত আমাদের দিয়ে সবই করিয়েছেন। সুতরাং আমি মনে করি তখনই আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে।'এ বিষয়ে সে বছরে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড্রাকুলা'র প্রযোজক ফোর্ড কপলারও এ কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'পুরো বিষয়টা ঘটে যাওয়ার পর আমাদের সবারই মনে হয় যে, কিয়ানু ও উইনোনার সত্যিই বিয়ে হয়ে গেছে।' এবার কিয়ানু রিভস নিজেও একই কথা শোনালেন।বর্তমানে ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট আলেকজান্দ্রা গ্র্যান্টের সঙ্গে গাঁটছড়া আছে কিয়ানু রিভসের। আর অন্যদিকে উইনোনা রাইডারও একা নন। ২০১১ সাল থেকেই একই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে স্থির আছেন তিনি।উল্লেখ্য, কিয়ানু রিভসকে তাঁর ভক্তরা ম্যাট্রিক্স সিরিজের চতুর্থ পর্ব 'দ্য ম্যাট্রিক্স রেজারেকশনস'-এ দেখতে পারবেন। সেই সঙ্গে এ সিনেমায় এশিয়ার দর্শকদের জন্য আরেক চমক হিসেবে দেখা যাবে বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে। | 2 |
'ইরানের পানিসীমায় প্রবেশের কোনো অধিকার আমেরিকার নেই। অতীতের মতোই তাদেরকে মোকাবেলা করা হবে।' এ কথা বলেছেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র নৌ বিভাগের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী রেজা তাঙ্গসিরি। তিনি আরো বলেছেন, 'ইরানের সাহসী তরুণেরা সব সময় মাতৃভূমির সম্মান রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছে। আজ যারা সাগরে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলছে তারা শহীদদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছে।' আলী রেজা তাঙ্গসিরি বলেন, 'শত্রুর মোকাবেলায় প্রতিরোধের শিক্ষা নিতে হবে শহীদদের কাছ থেকে। আল্লাহর রহমতে ইরানের ইসলামী যোদ্ধারা পারস্য উপসাগরে মার্কিনীদেরকে শক্ত চপেটাঘাত করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের অহংকার চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে।' সোমবার (৩১ জানুয়ারি) এ খবর দিয়ে ইরানি গণমাধ্যম পার্সটুডে লিখেছে, 'এ পর্যন্ত কয়েকবার সাগরে মার্কিন বাহিনীকে মোকাবেলা করে বিজয়ী হয়েছে ইরানিরা। সর্বশেষ গত ৩ নভেম্বর ওমান সাগরে ইরানের তেলবাহী একটি জাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় মার্কিন বাহিনী। কিন্তু ইরানের নৌ যোদ্ধারা তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়েছে।' | 3 |
বাইরে লকডাউন। তাই হ্যারি পটার-ভক্তরা এখন ঘরবন্দী। হুট করেই সিনেমা হলে ঘুরে আসার জো নেই। কতক্ষণ আর চার দেয়ালে আটকে থাকা যায়। মনটা ছটফট করে। ছটফটানি থেকে বাঁচতে স্বয়ং হ্যারি পটার-স্রষ্টা জাদুর কাঠি হাতে এগিয়ে এসেছেন। খুদে বন্ধুদের জন্য খুলে দিয়েছেন অনলাইনে হ্যারি পটারের জাদুর দুনিয়া। সেখানে তাঁর জম্পেশ আড্ডা দিতে পারবে। ফের ঘুরে আসতে পারবে হ্যারি পটারের দুনিয়া থেকে। হ্যারি পটার সিরিজের লেখক জে কে রাউলিং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় চালু করেছেন 'হ্যারি পটার অ্যাট হোম'। অনলাইনে এই সাইটে গিয়ে যে কেউ হ্যারি পটার-দুনিয়ার নানা কিছুর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। টুইটারে এই খবর জানিয়েছেন জে কে রাউলিং নিজেই। সঙ্গে দিয়ে দিয়েছেন ওই অনলাইন সাইটের লিংকও। তাঁর এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে ব্লুমসবারি ও স্কলাস্টিক। সেখানে দেখা যাবে ম্যাজিক্যাল ভিডিও, মজার মজার লেখা, কুইজ, ধাঁধাসহ আরও অনেক কিছু। আর এগুলো দেখা যাবে একদমই বিনা মূল্যে। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে কোনো টাকা দেওয়া ছাড়াই শোনা যাবে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার স্টোন বইয়ের অডিও ভার্সন। ওভারড্রাইভ লাইব্রেরির মাধ্যমে ২০টি আলাদা আলাদা ভাষায় শোনা যাবে এটি। অডিওবল স্টোরিস প্ল্যাটফর্মে গিয়ে এটি শুনতে হবে। সম্প্রতি রাউলিং টুইটারে এই অনলাইন হাব চালুর ঘোষণা দেন। অনলাইন হাবের লিংক শেয়ার করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, 'আমরা লকডাউনে থাকাকালীন শিশুদের আনন্দিত রাখতে এবং তাদের মাতা-পিতা, শিক্ষক ও দেখভালকারীদের কিছুটা জাদুর প্রয়োজন হতে পারে। তাই এই হাব চালু করতে পেরে আমি আনন্দিত।' একটি বিবৃতিতেও জানানো হয়, 'হ্যারি পটার অ্যাট হোম হাবের উদ্দেশ্য আপনাকে, আপনার পরিবার, আপনার বন্ধুবান্ধব ও বিশেষত সারা বিশ্বের বাচ্চাদের আনন্দ দেওয়া এবং গল্পগুলো উপভোগের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি হ্যারি পটারের জাদুর দুনিয়ার মাধ্যমে পরিবারের সবাইকে বিনোদন দেওয়া।' বলে রাখা ভালো, জে কে রাউলিংও করোনার সব লক্ষণ নিয়ে দুই সপ্তাহ বাসায় ছিলেন। এখন তিনি সুস্থ। সূত্র: ভ্যারাইটি | 2 |
আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের যমুনা বক্ষে পণ্যবাহী কার্গো ও যাত্রীবাহী ট্রলারের মুখোমুখী সংঘর্ষে ট্রলারটি ডুবে যায় । এতে চারজন যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ডুবে যাওয়া ট্রলারের শতাধিক যাত্রী ছিল। অন্যান্য যাত্রীরা সাঁতরে প্রাণে রক্ষা পেলেও দুই শিশুসহ চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দমকল বাহিনী উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে তারা হলেন, পাবনা আতাইকুলার নুরু বক্স (৪৫), সুজানগর উপজেলার রামনগর গ্রামের খোকন শেখের পুত্র মাসুম (২৫) ও নাজিরগঞ্জের নয়া গ্রামের মকুলের শিশুকন্যা মেঘলা (৬)। প্রশাসনের উর্দ্ধত্বন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধার হওয়া কয়েকজন যাত্রী জানান, পাবনার কাজিরহাট থেকে শতাধিক যাত্রী বোঝাই ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা আরিচা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে পথিমধ্যে এমবি প্রিমিয়ার-১১ নামে পণ্যবাহী কার্গোর সাথে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে যাত্রীবাহী নৌকাটি নদীতে ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া যাত্রীরা সাঁতরে পাড়ে উঠে। যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি ছিল বলে জানা গেছে। এতে নারী-শিশুসহ অর্ধশত আহত হয়। দুর্ঘটনায় নিখোঁজের সংখ্যা আরোও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ দমকল বাহিনীর ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া ট্রলার ও নিখোঁজদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া দমকল বাহিনীর মানিকগঞ্জ উপ-সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, উদ্ধার কাজে স্থানীয় ৩টি ইউনিট কাজ করছে। উদ্ধার কাজ তড়ান্বিত করার জন্য ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দল খবর দেয়া হয়েছে। দ্রুত তারা ঘটনাস্থলে পৌছবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ আরিচা অঞ্চলের পোর্ট অফিসার সেলিম রেজা জানান, এ রুটে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচলের কোন বৈধতা না থাকলেও স্থানীয়রা জোড় পূর্বকভাবে চলাচল করে। এ সকল অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠি ইশ্যু করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার শিকার কার্গো আটক করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের পক্রিয়া চলছে। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক শরিফ মোহাম্মদ ফেরদৌস জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনসহ অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে। | 6 |
পূজামণ্ডপে হামলাকারীরা কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধরা পড়েছে। তাদের পেছনে কারা আছে, সেই নাটের গুরুদেরও চিহ্নিত করে ধরা হোক। এসব ন্যক্কারজনক ঘটনার দ্রুত বিচার দেখতে চায় জনগণ। একটার পর একটা সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটে। কিন্তু বিচার হয় না বলে এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে। কত আর দেখব আর শুনব পূজামণ্ডপে আর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হামলার ঘটনা? শুনেই কি যাব? অপরাধীদের বিচার কি হবে না? বিচারের বাণী কি চিরকাল নিভৃতে-নীরবে কাঁদবে? এত বড় দুঃসাহস পায় কোথা থেকে? একটি এলাকায় হামলা আর ভাঙচুর করে যারা, এদের সংখ্যা বড়জোর দু-তিন শ। আর সেই এলাকায় হাজারো মানুষ কী করেন? কেন তাঁরা গুটিকয়েক দুষ্কৃতকারীকে রুখে দিতে পারেন না। সেসব অপকর্মকারীর শক্তির উৎস কোথায়, তা খুঁজে বের করা হোক। হামলার পর বিশিষ্টজনেরা বিবৃতি দেন, সম্প্রীতির বাংলাদেশে রুখতে হবে অপশক্তি। প্রতিটি ঘটনার পর এমন বিবৃতি আমরা দেখে আসছি। দায়সারা গোছের এসব বিবৃতি দিয়ে কি পরিস্থিতি বদলানো যায়? বিশিষ্ট নাগরিকেরা কেন বিচারকার্য দ্রুত শেষ করার জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছেন না? কেন হামলাকারীরা জামিন পেয়ে যায়?বিচার না হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এভাবে হামলার শিকার হতে থাকবে। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। মুসলমানের যে অধিকার আছে, ঠিক তেমনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, শিখ, চাকমা, মগসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর আছে একই অধিকার-এই তো আমাদের বাংলাদেশ। সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা হোক। কোনো নাগরিককে আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। লিয়াকত হোসেনরূপনগর, ঢাকা। | 8 |
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় নিখোঁজের ৪ দিন পর তিস্তা নদী থেকে ভেসে উঠল শহিদুল ইসলামের (২২) মরদেহ। শনিবার দুপুর ২টায় উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের চর চন্ডিমারী এলাকায় তিস্তা নদীতে লাশ ভেসে উঠে। পরে এলাকাবাসী নদীতে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। শহিদুল ইসলাম উপজেলার ফকিরপাড়া ইউপির দালালপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। নিহতের বড় ভাই হাফিজুল ইসলাম (৪০) জানান, দীর্ঘদিন থেকে শহিদুল কিডনি রোগে ভুগছিল। কিডনি ডায়ালাইসিসসহ চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে সব বিক্রি করে দিয়েছি। গত ৬ অক্টোবর সে বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে গেলে আর ফিরে আসেনি। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর থানায় একটি জিডি করা হয়। আজ শনিবার দুপুরে তিস্তা নদীতে লাশ ভেসে উঠলে মরদেহ দেখে আমরা লাশ শনাক্ত করি। এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম জানান, তিস্তায় লাশ উদ্ধারের খবর শুনে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
২০ বছর আগে প্রথমবারের মতো বাগদান সেরেছিলেন তারা। ২০০২ সালের সেই বাগদানের পর বিয়ের সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন । তবে বিয়ে করার বদলে জেনিফার ও বেন ঘোষণা দিয়েছিলেন বিচ্ছেদের। বিচ্ছেদের পর জেনিফার ও বেনদু'জনেই আলাদা আলাদা সঙ্গীকে বিয়ে করেছেন। দু'জনেরই সংসার ভেঙেছে। আবারও এক হয়েছেন বেনিফার। সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো বাগদান সেরেছেন হলিউডের আলোচিত বেনিফার জুটি। খবর পিপল সাময়িকীর। জেনিফার লোপেজের প্রতিনিধি পিপল সাময়িকীকে বাগদানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পিপল জানিয়েছে, জেনিফারের হাতে বড় আকারের সবুজ রঙের হীরার আংটি দেখা গেছে।
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
শিল্পী এস এম সুলতানের ছাত্রীর ভূমিকায় পর্দায় আসছেন ফারজানা ছবি। সিনেমায় সুলতানকে অবশ্য দেখানো হবে না। বরং দেখা যাবে চিত্রকলায় কীভাবে মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করা হয়েছে, এ নিয়ে এক গবেষকের দৌড়ঝাঁপ। প্রয়াত চলচ্চিত্রকার গবেষক সাজেদুল আউয়াল দীর্ঘ গবেষণার পর এ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন অনুদান। কিন্তু তাঁর অকালপ্রয়াণে থমকে যায় ছবির কাজ। প্রয়াণের পরও তাঁর স্বপ্নের চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু হচ্ছে কাল। 'মৃত্যুঞ্জয়ী' চিত্রকলা নিয়ে চলচ্চিত্র। গবেষণা, কাহিনি, সংলাপ ও চিত্রনাট্য প্রস্তুত করে রেখেছিলেন সাজেদুল আউয়াল। ছবির নির্বাহী প্রযোজক তাঁর স্ত্রী বদরুন নেছা খানম আর পরিচালক আউয়ালের ছাত্র উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল। ২০২০-২১ অর্থবছরে অনুদান পায় ছবিটি। চিত্রকলার হাত ধরে ছবিতে ভিন্ন আঙ্গিকে উঠে আসবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এ ছবিতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে ফারজানা ছবি বলেন, 'আমার চরিত্রের নাম পম্পা দাস। আমি চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ছাত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করব। পম্পা দাস চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের আঁকার স্কুল শিশুস্বর্গের একজন শিক্ষক। সুলতানের বিভিন্ন ছবির সঙ্গে দর্শককে পরিচয় করিয়ে দেবেন পম্পা। ছবিতে এভাবেই ইতিহাসের নানা কাহিনি দেখানো হবে।' সাজেদুল আউয়ালের সঙ্গে তাঁর 'ছিটকিনি' ছবিতে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েছিলেন ফারজানা ছবি। বিশেষ কারণে সে সময় কাজটি করা হয়নি। তিনি বলেন, 'আউয়াল ভাই চেয়েছিলেন তাঁর কোনো একটি কাজের সঙ্গে যেন আমি থাকি। তাঁর অনুপস্থিতিতে কাজটি করার সুযোগ পেলাম। এটা তাঁর একটি গবেষণাধর্মী কাজ। এ কাজে যুক্ত হওয়ায় আমার অত্যন্ত ভালো লাগার একটা অনুভূতি তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর টিম ছবির কাজটি করবে। তবে প্রতিমুহূর্তে তাঁর অনুপস্থিতি অনুভব করব।' সম্প্রতি বান্দরবান থেকে অঞ্জন আইচের 'কানামাছি' ছবির শুটিং করে ফিরলেন ফারজানা ছবি। আগামী মাসে আছে 'মৃত্যুঞ্জয়ী'র শুটিং। এর আগে শুক্রবার সাভারে শুরু হয়ে যাবে এ ছবির শুটিংয়ের কাজ। গবেষক হিমাংশু রায়ের চরিত্রে অভিনয় করবেন হামিদুর রহমান। এ ছাড়া ছবির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করছেন নরেশ ভূঁইয়া, জাহিদ হোসেন শোভন, কাজী রাজু প্রমুখ। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল মারা যান সাজেদুল আউয়াল। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাঁর লেখা কাব্যনাটক 'ফণিমনসা', পরিচালিত ছবি 'ছিটকিনি'। অন্যদিকে ফারজানা ছবি অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘ্য 'জনকের মুখ' মুক্তি পাচ্ছে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে। ছবিটির পরিচালক মান্নান হীরা গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রয়াত হন। | 2 |
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের জান্নাত চেয়ে মোনাজাত করা আব্দুর রাজ্জাককে পৌর আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের জরুরি এক বৈঠকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মোনাজাত করতে গিয়ে ভুলবশত এমনটি হয়েছিল। পরে ভুল স্বীকার করে তা সংশোধন করে নেওয়া হয়। কিন্তু আমরা মনে করি এই ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে আলাপ আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের জান্নাত চেয়ে মোনাজাত করা এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভাইরাল হওয়া ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে মোনাজাতে আবদুর রাজ্জাক বলেন, মাবুদ জাতির জনক এবং তার পরিবারকে যারা হত্যা করেছেন, আল্লাহ তাদের সবাইকে জান্নাত দান করে দিও আল্লাহ। এ সময় পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদসহ উপস্থিত সবাইকে আমিন বলতে শোনা যায়। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.