text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
জালিয়াতির মাধ্যমে চাহিদাপত্র ও ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রায় ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান ১০ কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৩ মে) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা ১-এর উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদক সূত্র জানায়, একটি মামলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম (৬২), সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আবুল হাশিম (৬১), দেওয়ানহাট হার্টিকালচারের সাবেক নার্সারি তত্ত্বাবধায়ক কাজী নুরুল আবছার, দেওয়ানহাট হার্টিকালচার সেন্টারের উচ্চমান সহকারী আব্দুল হালিম ওরফে মোহাম্মদ আবদুল হালিম (৪৩), টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (৪২), ক্যাশিয়ার ফিরোজ খাঁনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে মাঠ পর্যায়ের উপজেলা কৃষি অফিস ও হর্টিকালচার সেন্টার থেকে অর্থ বরাদ্দের চাহিদাপত্র ছাড়া অনুমোদনের নথি উপস্থাপন না করে জালিয়াতি, প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে একক স্বাক্ষরে ২০১৬-২০১৭ ও ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বিভিন্ন উপজেলা কৃষি অফিস ও হর্টিকালচার সেন্টারে ৫ কোটি ৩২ লাখ ৭ হাজার ৮৫ টাকা বিশেষ অর্থ বরাদ্দ প্রদান করেন। পরে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে বরাদ্দকৃত বিশেষ অর্থ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোডগুলোর আওতায় ব্যয় দেখিয়ে নিজেরা আত্মসাৎ করেছেন। দুদক সূত্র জানায়, দ্বিতীয় মামলাটিতে আসামি করা হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের স্টোর কিপার অলিউল্লাহ প্রধান, সিনিয়র হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নাফিসা সরকার (৪৮), প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল হাসেম ও ক্যাশিয়ার জাহিদ হাসানকে। তাদের বিরুদ্ধে একই অর্থ বছরে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে মোট ৫৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎকারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই চক্রের নাটের গুরু হলেন সাবেক সহকারী পরিচালক সৈয়দ শরীফুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে।
6
আগামী তিন দিন দেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। সূত্র : বাসস
7
করোনার (কোভিড-১৯) সংক্রমণরোধে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধের আজ ছিল ১২তম দিন। এদিন সকাল থেকে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে বের হওয়ায় ডিএমপির আটটি বিভাগের রমনা, লালবাগ, মতিঝিল, ওয়ারী, তেজগাঁও, মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা এলাকায় ৩৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে রাজধানীতে মোট গ্রেফতার হলেন ৫ হাজার ৬ জন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার বিকালে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
রাজশাহীতে হঠাৎ করেই সর্বোচ্চ আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে এসেছে। এর ফলে অনুভূত হচ্ছে শীত। আর তাই ভিড় বেড়ে গেছে শীতের পোশাকের দোকানে। দাম তুলনামূলক কম বলে ফুটপাতেই এই ভিড় দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। শীতের পোশাক বিক্রেতারাও হয়ে উঠেছেন ব্যস্ত।রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার থেকে তাপমাত্রা কমে গেছে। রোববার পর্যন্ত রাজশাহীর আকাশে সূর্য দেখা যায়নি। শনিবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন রোববার সর্বনিম্ন ২০ দশমিক ২ এবং সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছিল তাপমাত্রা। গতকাল সোমবার দিন শুরু হয় ২০ দশমিক ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর দুপুর ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ২৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী তারেক আজিজ বলেন, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে গেছে। রাতে তাপমাত্রা আরও কমছে। ফলে সবসময় এখন শীত-শীত অনুভব হচ্ছে। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা আরও কমতে থাকবে বলেও জানান তিনি।গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর সাহেববাজার, রেলগেট, কোর্ট ও শিরোইল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ফুটপাতে শীতের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। অল্প মূল্যেই এসব কাপড় কিনতে পারছেন ক্রেতারা। এসব দোকানে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষেরাই ভিড় করছেন। সামর্থ্যবানেরা যাচ্ছেন আরডিএ, গণকপাড়া কিংবা নিউমার্কেটে।সাহেববাজারের ফুটপাতে কথা হয় গৃহবধূ তানিয়া খাতুনের সঙ্গে। তিনি জানান, গত বছরের শীতের পোশাক এবার আর হচ্ছে না তাঁর মেয়ের। তাই বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি গরম কাপড় কিনতে এসেছেন। দাম কমই আছে।রানীবাজার এলাকায় রাস্তায় কম্বল দেখছিলেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি নাটোর। গ্রাম থেকে কম্বল আনা হয়নি। এখন রাতে শীত লাগছে। ভোররাতে তো শীত আরও বেশি। সে কারণে তিনি কম্বল কিনতে এসেছেন।গণকপাড়া এলাকায় ভ্যানে সাজিয়ে শীতের পোশাক বিক্রি করছিলেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত বছর শীতে ব্যবসা ভালো যায়নি। সেই সময়ের কিছু পোশাক থেকেই গিয়েছিল। এবার হঠাৎ করে শীত পড়তে শুরু করায় তিনি গত বছরেরই পোশাকগুলো এনে কম দামে বিক্রি করছেন।আরেক বিক্রেতা তুহিন আলী বলেন, তিনি ঢাকা থেকে কিছু সোয়েটার, মোটা সুতির গেঞ্জি, উলের গেঞ্জিসহ অন্যান্য গরম কাপড় এনেছেন। দাম কিছুটা কমই আছে। তুহিন বলেন, এখন দাম কম। শীত যত বাড়বে চাহিদাও তত বাড়বে। তখন দাম একটু বাড়তে পারে।
6
জয়পুরহাট জেলা বিএনপি'র উদ্যোগে 'বাকশাল-গণতন্ত্র হত্যার কালো দিবস' উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক অধ্যক্ষ শামছুল হকের সভাপতিত্বে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কমিটির (রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবাইদুর রহমান চন্দন। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
কেউ কেউ হয়তো আফসোস করেছেন। আফগানিস্তান কেন আর কিছু রান করল না! তাহলে হয়তো বিশ্ব রেকর্ড গড়তে পারতেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব।মাত্র ৪ রানের জন্য সেটা হয়নি। ১৭৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জেতে ৪ উইকেটে। আফগানদের ২১৫ রানে অলআউট করার পর তামিম ইকবালের দল জয় নিশ্চিত করে ৭ বল হাতে রেখে।বাংলাদেশের জয়ের দুই কান্ডারি মিরাজ ও আফিফ। দুজনই ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন; মিরাজ ৮১ এবং আফিফ ৯৩ রানে। ইনিংস খেলার পথে এই দুজন ভেঙেছেন সপ্তম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১২৭ রানের জুটি। ২০১৮ সালে মিরপুরে ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের জুটিটা দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ হলেও সর্বজনীন রেকর্ডে চতুর্থ সেরা ছিল।আজ ইমরুল-সাইফ জুটিকে পাঁচে ঠেলে দিল মিরাজ-আফিফ জুটি। ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর দুজন মিলে গড়েন ১৭৪ রানের জুটি। বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য জয়ে থামতে হয় এই জুটির পথচলা। আফগানরা আর কিছু রান করলে হয়তো জস বাটলার ও আদিল রশিদ জুটিকে পেছনে ফেলতে পারতেন তাঁরা। ২০১৫ সালে বার্মিংহামে জুটিতে ১৭৭ রান করেছিলেন বাটলার-রশিদ। যা এখন পর্যন্ত সপ্তম উইকেটে সেরা জুটি।রেকর্ডটা অক্ষত থাকায় দুই ইংলিশ ব্যাটার ধন্যবাদ দিতে পারেন বাংলাদেশের বোলারদের। মোস্তাফিজদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণেই তো 'অল্প'তে আটকে যায় আফগানরা। অথচ শুরুর ভয়ংকর ব্যাটিং বিপর্যয়ে তামিমদের সামনে ২১৫ রানই হিমালয়তুল্য হয়ে ওঠে। সেটা জয় করেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটার। তবে মিরাজ-আফিফ দুই ইংলিশ তারকার রেকর্ড ভাঙতে না পারলেও তাঁরা পেছনে ফেলেন বাটলার-ওকস (১৩৮ রান), ফ্লাওয়ার-স্ট্রিক (১৩০) জুটিকে।তবে একটা দিক দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করে ফেলেছেন মিরাজ-আফিফ। ৫১ বছরের ওয়ানডে ইতিহাসে রান তাড়ায় সপ্তম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ জুটি।
12
২০১৮ সালের ১৩ই মে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন টলিউডের তারকা নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী ও অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি। চলতি বছরে বিয়ের দুই বসন্ত পার করলেন তারা। বিয়ের দ্বিতীয় বর্ষে এসেই ভক্তদের উদ্দেশ্যে জানান তাদের ঘরে নতুন সদস্যের আগমন ঘটতে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসেই সম্ভবত তিনি আসবেন এমন বার্তাও দেন তারকা দম্পতি। ধীরে ধীরে আগমনের দিন এগিয়ে আসছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য শুভশ্রী নিজেকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রাখছেন। সেদিকে দেখভাল করছেন স্বামী রাজ। মহামারীর এই সময়ে নিজেকে মানসিক ভাবে চাঙ্গা রাখতে শুভশ্রী নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করছেন। এছাড়াও রাজ চক্রবর্তীর মায়ের সঙ্গে বসে বিভিন্ন সিনেমা দেখে বর্তমান সময় পার করছেন তিনি। এ বিষয়ে রাজ চক্রবর্তী বলেন, ১০ মিনিট পর পর সিনেমায় বিরতি দিয়ে মাকে সিনেমার বাংলা অর্থ বুঝি দিতে হয়। এছাড়াও শুভশ্রীর খাবার প্রতি বেড়েছে আগ্রহ। বিশেষ করে ভ্যানিলা আইসক্রিমের প্রতি। প্রতিবার খাবারের পর তার আইসক্রিম চাই বলে জানান রাজ চক্রবর্তী। প্রসঙ্গত, রাজ চক্রবর্তী বর্তমানে তার আপকামিং সিনেমা 'হাবজি গাবজি'র পোস্ট প্রোডাকশন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বর্তমানে সিনেমার ডাবিংয়ের কাজ চলছে। সিনেমা প্রসঙ্গে রাজ বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতে শুভশ্রীর ডাবিং শুরু হবে। তাছাড়া সিনেমার বাকি কাজ শেষ করতে আরো খানিকটা সময় লাগবে
2
করোনা মহামারিতে কাজ হারিয়ে অর্থ সঙ্কটে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে অসংখ্য পরিবার। এ অবস্থায় অসহায় ১০০ পরিবারের হাতে খাবার তুলে দিয়েছে বিসিএস (কাস্টমস এন্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ১১নম্বরে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা পশ্চিম) অফিস থেকে দুস্থ মানুষের মধ্যে এ খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এসময় বিসিএস (কাস্টমস এন্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা পশ্চিম) অফিসের কমিশনার সৈয়দ মুসফিকুর রহমান, ঢাকা পশ্চিমের অতিরিক্ত কমিশনার মো. কামরুজ্জামান, যুগ্ম কমিশনার মীর আবু আবদুল্লাহ আল সাদাদ, ডেপুটি কমিশনার শামীমা জেসমিন, সহকারী কমিশনার সাগুপ্তা মেহজাবীন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আইয়ুব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শেষে বিসিএস (কাস্টমস এন্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ মুসফিকুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা মহামারিতে কাজ হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ফলে আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়ে মিরপুর এলাকার ১০০ দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হলো। আমরা প্রান্তিক পর্যায়ের দুস্থ মানুষের মাঝেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখতে চাই। সবার প্রতি আবেদন জানাবো, এই দুঃসময়ে যে যার জায়গা থেকে যদি দুস্থ মানুষের পাশে দাড়াই, তাহলে তারাও সহজে করোনাকে মোকাবিলা করতে পারবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, করোনা অতিমারিতে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে অর্থনৈতিক স্থবিরতা থাকলেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যথেষ্ট গতিশীলতা রয়েছে। দেশের কর রাজস্ব আহরনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের তথা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে রাজস্ব আহরনের মাধ্যমে অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখতে সচেষ্ট হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে রাজস্ব আহরনের পাশাপাশি বিসিএস (কাস্টমস এন্ড ভ্যাট) এসোসিয়েশন এ ধরনের আরো মানবিক কর্মসূচি গ্রহণ করার মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
6
মাঠ পর্যায়ের সাফল্য বিবেচনায় সেনাবাহিনীতে নিয়োজিত সদস্যদের আহ্বান পদোন্নতির আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ সেনা সদর দফতরে আর্মি সিলেকশন বোর্ড-২০১৭'র বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসসের। প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদেও নেতৃত্ব গ্রহণে ক্ষেত্রে চারটি বিশেষ গুণ থাকতে হবে। যেগুলো হচ্ছে-একজন কমান্ডার, কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষক হবার জন্য প্রথমত, সেনা কর্মকর্তাদের দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। দেশ ও সমাজের সেবার মানসিকতা এবং উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। তৃতীয়ত, তাদের মাঠ পর্যায়ের সাফল্য থাকতে হবে। এবং চতুর্থত, তাদের অবশ্যই নেতৃত্বের যোগ্যতা, পেশাগত এক্সিলেন্স, নিয়মানুবর্তিতা, সততা এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গণতন্ত্রিক দেশে সেনবাহিনীর খুব গুরত্বিপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষম করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীর ভূমিকা পালন করতে পারে। কাজেই সেনাবাহিনীতে তাদের কাছেই নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করা উচিত-যারা সুশিক্ষায় শিক্ষিত, প্রতিযোগিতায় দক্ষ, মেধাবী এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রের প্রতি পুরোপুরি শ্রদ্ধাশীল। তিনি এ সময় কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য সিলেকশন বোর্ডকেও যোগ্যতার এই মাপকাঠি বিবেচনায় আনার আহ্বান জানান। বিডি-প্রতিদিন/০৯ জুলাই, ২০১৭/মাহবুব
6
কুড়িগ্রামে এখনো কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক জেলায় কেজিতে বিক্রি করায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ব্যবসায়ীদের জরিমানা করলেও কুড়িগ্রামে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো দাম হাঁকিয়ে তরমুজ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। নিম্ন আয়ের মানুষেরা এ বছর তরমুজের স্বাদ নিতে খুবই হিমশিম খাচ্ছেন। গত বছর জেলা শহরে সর্বত্রই তরমুজের ছড়াছড়ি ছিল এবং দাম হাতের নাগালে ছিল। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। চলতি মৌসুমে বাজারে পর্যাপ্ত তরমুজ উঠলেও এ বছর তরমুজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি তরমুজের দাম হাঁকানো হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। জেলা শহরের পৌরবাজার, জিয়াবাজার, ত্রিমোহণী, ভকেশনাল মোড়সহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্রেতা বিক্রেতার সাথে দাম নিয়ে রীতিমতো বিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন। আবার অনেক ক্রেতা যেহেতু কেজিতে বিক্রি হচ্ছে তাই বাগবিতণ্ডায় ১ কেজি তরমুজ চাচ্ছেন দোকানির কাছে। এ নিয়েও চলছে বাগবিতণ্ডা। তৌহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, এ লকডাউননে এখন আমাদের ইনকাম অনেক কমে গেছে। দিন শেষে যা আয় হচ্ছে কোনোরকমে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে হচ্ছে। এ বছর তরমুজ খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একেতো কেজিদরে, আবার দাম আকাশছোঁয়া। এরকম আরও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশ্ন, তরমুজ কেজিতে বিক্রি হওয়ার কারণ কী? পৌরবাজার এলাকার পিটিআই গেট সংলগ্ন ইসহাক পাইকারি দোকানদারের সিরাজুল ইসলাম জানান, আমরা বগুড়া ও খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বড়-ছোট মিলে তরমুজ পিস অনুযায়ী কিনে আনি। এখানে মণ কিংবা কেজিতে বিক্রি করি। তাছাড়া আমাদের কেরিং কস্টও অনেক পড়ে। জানতে চাইলে অপর এক ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা জমি থেকে কীভাবে তরমুজ কিনে আনি সেটা আপনি কী জানেন? অতএব প্রশাসন বুঝি না, আমরা পিস নয় কেজিতেই বিক্রি করব। জিয়া বাজারের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, বড় ব্যবসায়ীরা তরমুজ পাইকারি বাজার হতে প্রতিশত হিসেবে কিনে তা কেজিতে বিক্রি করছেন। আমরা পৌরবাজার থেকে মণ কিনে খুচরা কেজিতে বিক্রি করি। পৌরবাজারে আড়তদার ইসহাক ও মোস্তাফিজারের কাছ থেকে কিনি।তারা দূর থেকে পিস হিসেবে কিনে আনে। তারা পিস বিক্রি করতে পারেন। আমরা কেন পারব না। তাছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট তো এসে দেখে গেছেন। অনুমতি পেয়েছি, কেজি দরে বিক্রি করার। আলতাফ হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, প্রশাসনের বাজার মনিটরিং প্রয়োজন। ইফতারিতে তরমুজ পুষ্টিকর ও রসালো খাবার। অথচ এর উচ্চ দাম, সেইসঙ্গে কেজিদরে হওয়ায় তা অনেকের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
বাক-প্রতিবন্ধী মানুষ কতটা সংগ্রাম করে বেঁচে থাকেন সেই গল্পে ভালোবাসা দিবসে নির্মাণ হয়েছে নাটক 'হৃদ মাঝারে'। মাহমুদ মাহিনের গল্প ও পরিচালনায় নাটকটিতে অভিনয় করেছেন ছোট পর্দার এ সময়ের জনপ্রিয় জুটি মুশফিক আর ফারহান ও কেয়া পায়েল। সুলতান এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে অবমুক্ত হওয়ার পর নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন মুশফিক আর ফারহান। নাটকটিতে একজন বাক-প্রতিবন্ধীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। মুশফিক আর ফারহান বলছিলেন, 'এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয়। প্রায় ৬১ মিনিটের নাটকে একজন বোবার চরিত্রে অভিনয় কঠিন ব্যাপার। যখন আমার হাতে স্ক্রিপ্ট আসে তখনই মনে হয়েছিল চ্যালেঞ্জিং কাজ।' এই চরিত্রের জন্য কীভাবে প্রস্তুত হলেন এমন প্রশ্নে মুশফিক আর ফারহান জানিয়েছেন, 'এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচালকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল শুটে একজন ইন্সট্রাক্টর থাকবে। কারণ সব সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ আমার জানা নেই। যাতে আমাকে ধরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু শুটিংয়ে যাওয়ার আগে আসলে কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা খুব বেশি চার্জ চাচ্ছিল। ধরেন, তিন দিনের জন্য দেড় লাখ, দুই লাখ করে চার্জ চাচ্ছিল। ভালো করেই জানেন, একটা নাটকে যে বাজেট থাকে তাতে এই চার্জ এফোরট করা কঠিন হয়ে যায়।' এই অভিনেতা আরও যুক্ত করেছেন, 'যখন শুটিং করতে যাই প্রতিটি শর্টের আগে গবেষণা করতে হয়েছে। ইউটিউব থেকে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজগুলো বের করে পারফর্ম করতে হয়েছে। খুব চ্যালেঞ্জিং একটা কাজ ছিল। কারণ, মনের কথাগুলো ভাষায় যেভাবে প্রকাশ করতে পারি সেটা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে বোঝানো কঠিন হয়ে যায়। তবে উপভোগও করছি। নাটকটা করার পর যারা কথা বলতে পারে না তাদের কষ্টটা মন থেকে অনুভব করতে পেরেছি।' এমন চ্যালেঞ্জিং কাজ করার পর কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে ফারহান বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ্, এখন অবধি অনেক মানুষ নাটকটা দেখেছে। যে পরিমাণ সাড়া পাচ্ছি, আমাদের ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক, শিল্পীদের কাছ থেকে ফোন পাচ্ছি। সবাই আমার অভিনয়ের প্রশংসা করলো। অনেক রিভিউ পাচ্ছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো থেকে। দেশের বাইরে থেকেও সাড়া পাচ্ছি। এখন মনে হচ্ছে, শুটিংয়ের সময় কষ্টটা করতে হয়েছে সেটা সার্থক হয়েছে।' মুশফিক আর ফারহান আর জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ভালোবাসা দিবসের প্রকাশ পেয়েছে তাঁর 'ডিয়ার ভ্যালেন্টাইন', 'মনের সাথী', 'হৃদ মাঝারে', 'তুমি আসবে বলে' সবগুলোই একটা থেকে আরেকটা আলাদা। অভিনয়, ডায়লগ, পোশাক কোনটার সঙ্গে কোনটার মিল নেই। এইটা আমি নিজে দায়িত্ব নিয়েই করেছি। কারণ একই জিনিস দেখলে দর্শকরা বিরক্ত হয়। তাই বিশেষ দিবসের কাজে তো সব সময় সচেতন থাকি।
2
বদলি হিসেবে মাঠে নামছেন। অথচ প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকরা উচ্চকিত, উচ্ছ্বসিত। গলা ফাটিয়ে ডাকলেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে। এমন দৃশ্য ফুটবলে খুবই বিরল। কিন্তু ফুটবলারটি নাম যখন লিওনেল মেসি, তখন সব কিছু হয় ওলটপালট, অবতারণা হয় নতুন দৃশ্যের। রোববার রাতে তেমনই দেখা গেল। ফরাসি লিগ ওয়ানে এমবাপের জোড়া গোলে রেঁসের বিরুদ্ধে জিতেছে পিএসজি। এই খবরের চেয়ে বড় খবর, এই ম্যাচেই পিএসজির জার্সিতে অভিষেক হলো লিওনেল মেসির। বার্সার ইতিহাস পেছনে ফেলে পিএসজির হয়ে বল নিয়ে দৌড়ালেন মেসি। গোলের দেখা পাননি, কিন্তু জিতে নিলেন মানুষের মন। রেঁসের বিরুদ্ধে মেসির অভিষেক হবে, এটা অনেকটাই ছিল অনুমিত। তবে নিয়মিত একাদশে নাম না থাকায় অনেকে ছিলেন হতাশ। সবার চোখ ছিল সাইড বেঞ্চের দিকে। কখন মেসি নামেন। প্রথমার্ধ শেষ। দ্বিতীয়ার্ধেরও অনেকটা সময় পার হয়ে গেল। এর মধ্যে দুই গোল দিয়ে পিএসজির জয়ের রাস্তা মসৃণ করেন এমবাপে। ৬৬ মিনিটে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নেইমারের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। রেঁসের স্তাদ অগোস্ত-দোলন স্টেডিয়াম তখন অনেকটা যেন দুলে উঠলো। গোটা মাঠ প্রকম্পিত হয়ে উঠল 'মেসি', 'মেসি' চিৎকারে। আর সেটা যতটা না পিএসজির ততটা বেশি রেঁসের ভক্তদের। মেসি নামলেন, খেললেন। ম্যাচ শেষে রেসের খেলোয়াাড়দের সাথে চলল অনেকক্ষণ ফটোসেশন। রেঁসের সার্বিয়ান গোলকিপার প্রেদ্রাগ রাইকোভিচ আবার এককাঠি সরেস। নিজের শিশুপুত্রকে এ দিন মাঠে নিয়ে আসা রাইকোভিচ ম্যাচ শেষে ছেলেকে তুলে দিয়েছিলেন মেসির কোলে, তুলেছেন ছবিও। মেসি বলে কথা। মাঠে নামার পাঁচ মিনিট পর একজনকে এড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে ফাউলের শিকার হন মেসি। কিছুক্ষণ পর প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে বাড়ান এমবাপেকে। তিনি নতুন সতীর্থকে ফিরতি পাস দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন; কিন্তু মাঝপথে বাধা পায়। শেষ দিকে আরো একবার কড়া ট্যাকলের শিকার হন মেসি। চার ম্যাচের সবকটি জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষেই পিএসজি। ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে অঁজি।
12
'কোথাও কেউ নেই' নাটকের এক 'বদি' চরিত্রই আবদুল কাদেরকে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি'তে নিয়মিত অভিনয় করতে দেখা গেছে। চাকরির কারণে নাটক বা অন্য মাধ্যমে খুব একটা নিয়মিত না হলেও এই ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের মামা-ভাগনে স্কিড নিয়ে নিয়মিত ছিলেন তিনি। আজকের পর থেকে ইত্যাদি অনুষ্ঠানের আর কোনো নতুন পর্বে দেখা যাবে না তাঁকে। ইত্যাদি অনুষ্ঠানের পরিকল্পক ও উপস্থাপক হানিফ সংকেত দেশের এই গুণী অভিনয়শিল্পীকে হারিয়ে ভীষণ শোকাহত।গতকাল শনিবার সকালে যখন হানিফ সংকেতের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তাঁর কণ্ঠ জড়িয়ে আসছিল। তাঁর মতে, তিন দশক ধরে ইত্যাদি অনুষ্ঠানের নিয়মিত শিল্পী ছিলেন। তাঁদের একসঙ্গে অজস্র স্মৃতি। অসুস্থ হওয়ার আগেও ইত্যাদি অনুষ্ঠানের দৃশ্য ধারণে অংশ নেন আবদুল কাদের। হানিফ সংকেত জানালেন, ইত্যাদি অনুষ্ঠানে আবদুল কাদের সর্বশেষ অংশ নেন অক্টোবরে। তখনো তিনি শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ। কিন্তু সবাইকে খুব একটা বুঝতে দেননি। তবে হানিফ সংকেতকে তাঁর অসুস্থতার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। হানিফ সংকেত বললেন, 'তিন দশকে আমার ইত্যাদি অনুষ্ঠানে সব সময় থাকতেন তিনি। এই লম্বা সময়ে একজন মানুষের তো অনেক ধরনের সমস্যাই হয়। জ্বর কিংবা অন্যান্য অসুস্থতা। কখনো কোনো কারণে ইত্যাদি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে না পারলে, তাঁর খুব কষ্ট লাগত। এবারও যখন শুটিংয়ে দেখলাম, তাঁকে খুবই অসুস্থ দেখাচ্ছিল। জিজ্ঞেস করলাম, আপনি অসুস্থ নাকি? শরীরের এতটা খারাপ অবস্থা হলো কীভাবে। তখন না বললেও যাওয়ার আগে বললেন, আমার শরীরটা ভালো না। ব্যাকপেইন।'শুটিং স্পট থেকে যাওয়ার সময় হানিফ সংকেতের কানে ফিসফিস করে বলছিলেন, 'আমার শরীরটা খুব বেশি ভালো না। আমার জন্য দোয়া কইরেন।' তিন দশকে অভিনয়শিল্পী আবদুল কাদেরের পাশাপাশি মানুষ আবদুল কাদেরকেও কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে হানিফ সংকেতের। তিনি বললেন, 'এক জীবনে অনেক শিল্পী দেখেছি, অনেক মানুষ দেখেছি। সত্যিকার অর্থে ব্যক্তি আবদুল কাদের অসম্ভব একজন ভালো মানুষ ছিলেন, যিনি কারও সাতেপাঁচে ছিলেন না। সব সময় নিয়মশৃঙ্খলার জীবন যাপন করেছেন। আমার শুটিংয়ে সময়মতো চলে আসতেন। আবার সময়মতো চলে যেতেন। কখনো যদি ১০-১৫ মিনিট দেরি হবে বুঝতেন, আগেই জানিয়ে রাখতেন। কোনো ধরনের বাজে অভ্যাসও ছিল না।' শোকাহত হানিফ সংকেত সবশেষে বললেন, আজ খুব কানে বাজছে, চোখে ভাসছে তাঁর সঙ্গে শেষ দেখাটা। শুটিং শেষে চলে যাওয়াটা। এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন, ভাবতেই যেন কেমন লাগছে।
2
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি। এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসছে। বাড়ছে দেশি বিনিয়োগও। একই সঙ্গে দেশে বিদেশী বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। শনিবার (২৭ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সম্মেলন কক্ষে প্রি-সামিট প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দুদিনব্যাপী বিনিয়োগ সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি জানাতে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। রবিবার ভার্চুয়ালি বিনিয়োগ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৬ সালের পর আবার রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে এ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে সালমান এফ রহমান বলেন, বিনিয়োগ একটা চলমান পক্রিয়া। বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন করেছে সরকার। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ভূমির নামজারি অনলাইনের আওতায় আনার মধ্য দিয়ে অধিকাংশ সেবা যুক্ত করা হয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশসহ ৫৪ দেশ থেকে ২ হাজার ৫৭৪ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এরমধ্যে ২ হাজার ১০৯ জন বাংলাদেশী। বাকি ৪৬ জন বিদেশী নাগরিক। সম্মেলনে অংশ নিতে ইতোমধ্যে সৌদি আরবসহ অন্তত ১৫ দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা ঢাকায় এসেছেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য, 'বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা, যেখানে রয়েছে অসীম বিনিয়োগের সম্ভাবনা'। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলফনসো গার্সিয়া মোরা এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেরেমি জারগেনস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। সম্মেলনের সার্বিক বিষয় নিয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনে কয়েকটি প্ল্যানারি সেশনের পাশাপাশি খাতভিত্তিক কারিগরি অধিবেশন হবে। সেখানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রতিযোগিতা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, তথ্যপ্রযুক্তি, তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রিক শিল্প, কৃষি, চামড়া, ওষুধশিল্প, স্বাস্থ্য, পুঁজিবাজার, পরিবহনসহ ১১টি খাত নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিটি সেশনে একজন বিশেষজ্ঞ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এর উপর দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা আলোচনা করবেন। সংশ্লিষ্ট খাতের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টারা বক্তব্য রাখবেন। বিডা জানিয়েছে, বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (বেজা), বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (বেপজা), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি (বিএইচটিপিএ), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ), ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) এই সম্মেলনে বিডাকে সহযোগিতা করছে। এক হাজার বিনিয়োগকারী এতে অংশ নেবেন। ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন অয়োজকরা।
0
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গণগ্রেপ্তারের পাশাপাশি খুলনা সিটিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাণ্ডব চলছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রিজভী এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, 'সেখানে (খুলনায়) বিএনপি নেতা-কর্মী ও ভোটারদের জন্য অঘোষিতভাবে চলছে কারফিউ আর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের চলছে ফাঁকা মাঠে উৎসব।' বিএনপির এই নেতা বলেন, 'গতকাল খুলনায় বিএনপির পোলিং এজেন্টদের ট্রেনিং দেওয়ার সময় ১০-১২ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে পুলিশ। শিল্প এলাকায় দা-রামদা নিয়ে বাড়ি বাড়ি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে।' রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি না করে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় খুলনাকে এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত করেছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন। রিজভী বলেন, 'খুলনায় যা হচ্ছে, তা হলো একনায়কতন্ত্রী শাসনব্যবস্থার প্রত্যক্ষ প্রতিফলন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনগণের কোনো ভরসা নেই বলেই আমরা বারবার সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলেছিলাম, কিন্তু সরকার এ বিষয়ে গ্রিক মূর্তির মতো নিশ্চল ও নিশ্চুপ থেকেছে, যা দুরভিসন্ধিমূলক।' এ সময় বিদেশি বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও গণমাধ্যমকর্মীদের খুলনার ভয়ংকর পরিস্থিতির সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী। 'কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতারণা'সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাল ঢেউ সামলাতে না পেরে প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলেও এখনো গেজেট প্রকাশ না করায় আবারও আন্দোলনে নামছেন শিক্ষার্থীরা। যদিও শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল কোটা সংস্কার, বাতিল নয়; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ক্রুদ্ধ হয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। রিজভী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও গেজেট প্রকাশ করছে না সরকার। আমরা সেদিন বলেছিলাম, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের প্রতি প্রতারণা ও ধাপ্পাবাজি। আমাদের সেই কথাটিই প্রমাণিত হলো। প্রতারণা না করে অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছি।'
9
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের আওতাধীন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের জায়গায় তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড স্থাপন না করে গাইবান্ধার ঢোলভাঙ্গায় সাকোয়া ব্রিজ এলাকায় ইপিজেড বাস্তবায়নের দাবিতে আজ শনিবার ঢোলভাঙ্গা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'সাকোয়া ব্রিজ ইপিজেড বাস্তবায়ন মঞ্চ'-এই কর্মসূচির আয়োজন করে। মঞ্চের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম হোসেন বাদলের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, একসময় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন থেকে সাকোয়া ব্রিজ এলাকায় ইপিজেড নির্মাণের প্রস্তাব ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু একটি মহল ষড়যন্ত্র করে সে প্রস্তাব ধামাচাপা দেয়। তারা এখন রংপুর চিনিকলের যে জায়গা নিয়ে সাঁওতালদের সাথে বিরোধ চলছে সেই জায়গার তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড নির্মাণ করার পায়তারা করছেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, সিপিবির গাইবান্ধা জেলা কামিটির সভাপতি মিহির ঘোষ, জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম ফারুক মনা, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর কবীর তনু প্রমুখ। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত
6
২০০৪ সাল থেকে আ.লীগের নেতৃত্বে কাজ করছে ১৪-দলীয় জোট আন্দোলনের পাশাপাশি গত তিন নির্বাচনেও জোটবদ্ধ ছিল তারা আগের দুই মন্ত্রিসভায় থাকলেও এবার শরিকদের রাখা হয়নি শরিকদের বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখতে চায় আ.লীগশরিকেরা মনঃক্ষুণ্ন হয়ে ঘর গোছাতে শুরু করেছে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা দেখছে না আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিকেরা। সরকারের বাইরে থেকেই সংসদের ভেতরে ও বাইরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে-সরকারের এ মনোভাব এখন অনেকটাই পরিষ্কার। এর ফলে এক দশক ধরে সরকারের সঙ্গে অন্য দলের মিলেমিশে থাকার ধারাবাহিকতায় একধরনের ছেদ পড়ছে। শরিক দলগুলোর সামনেও নিজেদের ঘর গোছানো ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। সরকারপ্রধানসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট যে শরিক দলগুলোকে বিরোধী দল হিসেবে কার্যকর ভূমিকায় দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। এর আরেকটি লক্ষ্য, বিএনপিকে চাপে রাখা। তবে সরকারের লক্ষ্য যা-ই হোক, শরিক দলগুলো নিজ নিজ ফোরামে সভা করে তাদের অবস্থান চূড়ান্ত করবে। ইতিমধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি পলিটব্যুরোর এবং জাসদ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে। ২০০৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কাজ করছে ১৪-দলীয় জোট। আন্দোলনের পাশাপাশি গত তিনটি নির্বাচনেও জোটবদ্ধ ছিল তারা। তবে এর আগের দুই মন্ত্রিসভায় থাকলেও এবার তাদের রাখা হয়নি। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার আশা করা হলেও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বক্তৃতা-বিবৃতিতে সেই সম্ভাবনা দেখছে না তারা। এমনকি ভবিষ্যৎ নির্বাচনেও জোট না থাকার আভাস পাচ্ছে শরিকেরা। শরিক দলের দুজন নেতা প্রথম আলোকে জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে আগের চেয়ে কম প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া ওই সময় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এবার শরিকদের দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে সব নৌকার প্রার্থী করা হবে। আর গত শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তো শরিকদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা বলেই দিয়েছেন। নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী সরকারি দলের কথায় মনে হচ্ছে তাদের আর কাউকে প্রয়োজন নেই। এ প্রসঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা যাঁরা রাজনৈতিক দল করি, তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই রাজনীতি করি। তাই প্রধানমন্ত্রী কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা ঠিক পরিষ্কার নয়।' এখন উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা। তবে শরিক দলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটকে গত ১০ বছরে অনেক দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপিকে আরও চাপে রাখতে সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কিত দলগুলোকে বিরোধী দলের ভূমিকায় রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। তাই জাতীয় পার্টিকেও এবার পুরোপুরি বিরোধী দলের ভূমিকায় রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা সরকার ও বিরোধী দলে থাকুক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি। তাই সরকারে না থেকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে ভূমিকা রাখতে পারে শরিকেরা। আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তিও বাড়াতে পারে। তবে আদর্শিক জোট হিসেবে ১৪ দল টিকে থাকবে বলেও জানান তিনি। সূত্র জানায়, ২০ জানুয়ারি পলিটব্যুরোর সদস্যদের বৈঠক ডেকেছে ওয়ার্কার্স পার্টি। ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। আর ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে জাসদের (আম্বিয়া) একাংশ। সরকারি দলের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়া, সরকারের বাইরে থেকে বিরোধী দল হিসেবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে সভায়। মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করা হবে। জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক দিন ধরেই শরিক দলগুলোকে আরও শক্তিশালী হওয়ার তাগিদ দিয়ে আসছেন। জাসদও দলের শক্তিমত্তা বাড়ানোর বিষয়ে আরও মনোযোগী হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবার ৪৭ জনের নতুন মন্ত্রিসভার সবাইকে নেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ থেকে। ১৯৭৩ সালের পর শতভাগ দলীয় মন্ত্রিসভা পেয়ে খুশি হয়েছেন তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। তবে মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেয়ে হতাশ হয়েছেন ১৪-দলীয় জোটের শরিকেরা। তাঁরা মনে করছেন, শরিকদের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে। জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক কারণে জোট হয়েছে, রাজনৈতিক কারণেই তাঁরা জোটে থাকবেন। তবে জোটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে। লম্বা বিরতির পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে ১৪৬ আসনে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। সরকার গঠনের জন্য ৩২টি আসন নিয়ে জাপা ও একটি আসন নিয়ে জেএসডির সমর্থন পায় তারা। জাপা থেকে আনোয়ার হোসেন ও জেএসডি থেকে আ স ম আবদুর রবকে মন্ত্রিসভার সদস্য করা হয়। এরপর ২০০৮ সাল থেকে গত তিনটি নির্বাচনেই জোটবদ্ধভাবে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও গত দুই সরকারের মন্ত্রিসভায় শরিকদের রেখেছিল আওয়ামী লীগ। তবে এবার সে ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন গঠিত মন্ত্রিসভার ৪৭ জনের মধ্যে ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ জন উপমন্ত্রীর ৪৩ জন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সাংসদ। আর টেকনোক্র্যাট কোটায় আসা তিনজনও আওয়ামী লীগের। জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন-অর-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন ও নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়েছে। ১৪ দলের শরিক দলগুলো মন্ত্রিসভায় নেই, তবে তারা যদি বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে, তাহলে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই। বরং তারা যদি সংসদের ভেতরে ও বাইরে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে, তাহলে গণতান্ত্রিক চর্চার যে ধারা শুরু হয়েছে, তা আরও এগিয়ে যাবে এবং রাজনীতিতে নতুন মাত্রা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। আরও পড়ুন:সরকারে নেই আ.লীগের শরিকেরামন্ত্রিত্ব পাওয়ার আশা ছাড়ছেন না শরিকেরামন্ত্রিসভার আকার প্রয়োজনে বাড়তে পারে: কাদের
9
ঢাকা: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার স্থলসীমান্ত আজ সোমবার সকাল ৬টা থেকে ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে তিনটি বাদে সব সীমান্ত দিয়ে চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। তবে এ সময়েও ভারতীয়রা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন।ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় নগরিকদের জানায়, আগামী ১৪ দিনের জন্য স্থলসীমান্ত ব্যবহার করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ স্থগিত করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকেরা ভারতে ফিরতে চাইলে তাদের সহযোগিতা করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এসম্পর্কিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যেসব ভারতীয় নিজ দেশে ফিরে যেতে চান, তাঁদের সম্ভাব্য ভ্রমণ পরিকল্পনা ভারতীয় হাইকমিশনে [] এবং [] ঠিকানায় ই-মেইলের মাধ্যমে জানাতে হবে।এ ছাড়া নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ভিসা নম্বর, ই-মেইল, বাংলাদেশে থাকাকালে যোগাযোগ নম্বর এবং বেনাপোল বা আখাউড়া কোন সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশে পরিকল্পনা রয়েছে, তা যাত্রা দিনের আগে হাইকমিশনকে জানাতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছে ভারতীয় হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ।গতকাল বোরবার রাতে ১৪ দিনের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সীমান্ত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়। এতে জানানো হয়, যেসব বাংলাদেশি বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন, তাঁরা শুধু বেনাপোল, বুড়িমারি ও আখাউড়া স্থলসীমান্ত বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এ সুযোগ শুধু তাঁরাই পাবেন, যাদের ভিসার মেয়াদ ১৫ দিনের কম। ফিরতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কলতাকায় উপ হাইকমিশন অথবা আগরতলা সহকারী হাইকমিশন থেকে অনুমতি নিতে হবে। সেই সঙ্গে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করানো করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে আসার পর সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই দুই সপ্তাহ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এ তিন স্থলসীমান্ত বন্দর ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাকি সীমান্ত দিয়ে সব মানুষের চলাচল দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।এ ছাড়া ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যবাহী যানবাহন বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশের আগে ভালো করে জীবানুমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি যানবাহনের চালক ও সহযোগীদের অবশ্যই কোভিড-১৯ এর নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলতে হবে। রেলপথ দিয়ে এ সময়ে দুই দেশের আমদানি ও রপ্তানিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এসব সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট সময়ে আবার পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।এদিকে কলতাকায় বাংলাদেশ উপ হাইকমিশন গতকাল বোরবার এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, আজ সোমবার থেকে আগামী ৯ মে পর্যন্ত ভিসা সেবা বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে ফিরতে চাওয়া বাংলাদেশিদের বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের অনুমতির জন্য পাসপোর্ট ও ভিসার কপি, ভারতে যোগাযোগের ঠিকানা ও ফোন নম্বর এবং বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।প্রসঙ্গত, বর্তমানে প্রবাসী শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও সিঙ্গাপুরে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহায়তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বাংলাদেশ।দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতায় নিশ্চিত হবে অগ্রযাত্রা। আজ শুক্রবার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর ১০ম দিনে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
গিয়াসউদ্দিন সেলিমের 'গুনিন' ছবির শুটিংয়ের আগে কয়েক দিন ধরে হয়েছিল রিহার্সাল। সেখানেই প্রথম দেখা পরীমণি-শরিফুল রাজের। তখনই ভালো সম্পর্ক তৈরি হয় তাঁদের। ওই সময় আজকের পত্রিকাকে সহশিল্পী রাজকে নিয়ে পরী বলেছিলেন, 'ও একদম পাগলা। তবে ওর প্রতি সবচেয়ে যে ভালো লাগা, কাছ থেকে মিশে ওর শিল্পসত্তার প্রেমে পড়েছি। ও পাগল, আমিও পাগল। অল্পদিনেই দুজনের বেশ ভালো বন্ধুত্ব হয়ে উঠেছে।' কেমন পাগল? পরী বলেন, 'সারাক্ষণ আমাদের সবাইকে আনন্দে মাতিয়ে রাখে। আবার অভিনয়ে শতভাগ সিরিয়াস।'সুখবর দিলেন পরীমণি, জানালেন-মা হতে চলেছেনসেই পাগলের প্রেমে পড়লেন পরী। বিয়ে করলেন। গত বছরের ১৭ অক্টোবর অভিনেতা শরিফুল রাজের সঙ্গে পারিবারিক আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছে। সোমবার দুপুরে মা হওয়ার খবরও এসেছে পরীর। গতকাল বিকেলে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। ওই পোস্টে তিনি নিজেকে শুভকামনা ও শরিফুল রাজকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।পুলিশ ঠিকভাবে তদন্ত করেনি, দাবি পরীমণিরগিয়াসউদ্দিন সেলিমের 'গুনিন' ছবির শুটিং চলাকালীন গোপনে বিয়ে করেন তাঁরা। রাজ জানান, প্রেম হওয়ার ঠিক সাত দিনের মাথায় বিয়ে হয়েছে তাঁদের। পরী বলেন, 'পারিবারিকভাবে রাজের আফতাব নগরের বাসায় বিয়ে হয় আমাদের। এর আগে দুই পরিবারের সম্মতি নিয়েছি।'কবে বুঝতে পারলেন মা হচ্ছেন? পরী বলেন, 'কয়েক দিন ধরেই বুঝতে পারছিলাম। এরপর চিকিৎসকের কাছে যাই। চিকিৎসক আমাদের নিশ্চিত করেছেন। খবরটি শুনে আমি আর রাজ দুজন দুজনকে ধরে কেঁদেছি। নানাভাইকে সবার আগে খবরটি জানাই।'স্থায়ী জামিন পেলেন পরীমণিএখন থেকে পরীমণি বিশ্রামে থাকবেন। অংশ নেবেন না কোনো শুটিংয়ে। সন্তান জন্মের পরও থাকবেন বিরতিতে। পরী বলেন, 'চিকিৎসক আমাকে সাবধানে চলাফেরা করতে বলেছেন। শুটিং থেকেও আমি এখন নিজেকে দূরে রাখছি। আগামী দেড় বছর কোনো শুটিং করব না। এখন কেবল নতুন অতিথির অপেক্ষা। একদম ছুটি, আমার দেড় বছরের ছুটি। বাচ্চাকে সুন্দরভাবে পৃথিবীতে আনতে চাই। ওর জন্মের পর সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই। আমি অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও রাজ নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাবে।'পরীমণির জন্য গাইলেন মমতাজপরী জানান, কন্যাসন্তান হলে তার নাম রাখবেন রাণী আর পুত্রসন্তান হলে রাজ্য। পরী বলেন, 'আমাদের সন্তানের হার্ট বিট শুনেছি আমরা। মনে হচ্ছে, আমি পৃথিবীর সব থেকে পাওয়ারফুল নারী। আমার সত্যি সত্যি ডানা মেলে উড়তে ইচ্ছে করছে। এ অনুভূতি প্রকাশ করা যায় না, বলে বা লিখে বোঝানো যায় না।'আরও পড়ুন:সে রাতের বর্ণনা দিলেন পরীমণিচরিত্রের জন্য চুল কাটালেন পরীপরীমণি-কাণ্ড: নাগরিকের অধিকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্বপরীমণি নিশ্চয়ই দোষী'এক পরীমণি হারিয়ে গেলে সম্ভাবনাময় হাজারো পরীমণি হারিয়ে যাবে'মাদকাসক্তি থেকেই মিনিবার গড়ে তোলেন পরীমণি: র্যাব
6
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বাংলাদেশের জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিক্যাব টকে এসব কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। এসময় ডিক্যাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈন উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ভয়-ভীতিহীন সাংবাদিকতা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় উৎসাহ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৫০ বছরে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করে যাবে, যেভাবে গত ৫০ বছর কাজ করে গেছে। র্যাবের ওপর অভিযোগের সুরাহায় সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ও বাহিনীটিকে জবাবদিহিতায় আনা ছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। তিনি বলেন, আমরা র্যাবকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কার্যকর একটি বাহিনী হিসেবে দেখতে চাই। তবে তাদের মৌলিক মানবাধিকারও মেনে চলতে হবে। এ সময় পিটার ডি হাস শ্রীলঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং জিসোমিয়া নিয়েও বক্তব্য রাখেন।
6
বাংলার মর্যাদা আদায়ে ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি আজ বিশ্বব্যাপী। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ ৭০ বছর হলে গেলেও পীরগাছায় দেড় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গড়ে ওঠেনি শহীদ মিনার। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানে ২১ ফেব্রুয়ারি কোনো কর্মসূচি পালিত হয় না। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু বইয়ে বন্দী হয়ে আছে।উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পীরগাছায় ১৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৫টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। আর মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৩০টি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মধ্যে ৫৫টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে।প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারির পাশাপাশি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে উপজেলা পর্যায়ে নানা আয়োজন থাকলেও গ্রামাঞ্চলের এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র পুষ্পমাল্য অর্পণ ছাড়া আর কোনো অনুষ্ঠান করা হয় না। যদিও এ জন্য সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের দুরাগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু রায়হান, জসিম উদ্দিন, কাঞ্চন বালা জানায়, তাঁদের বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার নেই। ফুল দিতে অনেক দূরে যেতে হয়। তাই তারা যায় না।কান্দি ইউনিয়নের দাদন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, 'আমার স্কুলে কোনো শহীদ মিনার নেই। তাই কোনো কর্মসূচিও পালিত হয় না। শহীদ মিনার অনেক দূরে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা যেতে চায় না।'উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ওয়াজেদ আলী সরকার বলেন, নতুন প্রজন্মকে ভাষা শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, অনেক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। ধীরে ধীরে তৈরি করা হচ্ছে। আরও কিছু বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তবে করোনার জন্য কাজ করা যাচ্ছে না।পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ শামসুল আরেফীন বলেন, 'যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, আমরা সেসব বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনার নির্মাণের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'
6
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা থেকে অপহৃত এক কিশোরকে তিন মাস পরে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করেছে মহেশখালী থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো: জাহিদুল ইসলাম মহেশখালী সার্কেলের নির্দেশে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মো: আশিক ইকবালের সহযোগিতায় এসআই মো: মফিজুল ইসলাম ও এএসআই আলী আকবর ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম মোজাহিদ মিয়াকে (১৬) উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। অপহৃত কিশোরকে উদ্ধারের পরে বুধবার দুপুর ১টার দিকে মহেশখালী থানায় প্রেস ব্রিফিং করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো: জাহিদুল ইসলাম মহেশখালী সার্কেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুল হাই ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মো: আশিক ইকবাল। প্রেস ব্রিফিংকালে সহকারী পুলিশ সুপার মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, মহেশখালী থানায় মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে এজাহার নামীয় এক নম্বর আসামি রোজিনা আক্তারকে (২৭) কক্সবাজার পুলিশের হেফাজতে জিঙ্গাসাবাদ করে জানা যায়, ভিকটিম মো: মোজাহিদ উখিয়া থানাধীন কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আছে। পরে আসামির দেয়া তথ্য মতে রাত-দিন অভিযান পরিচালনা করে উখিয়া থানার কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা বসির আহামদের (৪০) বসত ঘর থেকে মোজাহিদকে উদ্ধার করা হয়। পরে ভিকটিমের সাথে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রামে ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তির কাছে ভিকটিম কাজ করতেন। ইব্রাহিম কৌশলে তাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে রোহিঙ্গা বসির আহামদকে বুঝিয়ে দেন। রোহিঙ্গা বসির আহামদ তার সহযোগী রোহিঙ্গা আসামি মো: আমিন আনুমানিক তিন মাস ধরে ভিকটিমকে বসির আহামদের ঘরে আটক করে রেখেছে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনারমূল রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই।
6
চট্টগ্রাম ফুল ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, করোনায় খুব খারাপ সময় কাটছে ফুল ব্যবসায়ীদের। দোকানে ফুল পচে যাচ্ছে। দোকান বন্ধ থাকায় অনেক ব্যবসায়ী-কর্মচারী মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিস্তারিত বলেছেন আজকের পত্রিকাকে।প্রশ্ন: ফুল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কত মালিক-শ্রমিক রয়েছেন চট্টগ্রামে?জসিম উদ্দিন: চট্টগ্রামের প্রায় চার শ ফুলের দোকান রয়েছে। এর সঙ্গে মালিক, শ্রমিকসহ তিন হাজার লোক জড়িত। এ তিন হাজার পরিবারের এখন চরম দুর্দিন যাচ্ছে। কেউ আমাদের খবর রাখেন না।প্রশ্ন: বর্তমানে ফুলের চাহিদা কেমন?জসিম উদ্দিন: ফুল ব্যবহার হয়, এমন সব অনুষ্ঠান বন্ধ। যেমন বিয়ে, আক্দ, আকিকা, জন্মদিন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান। এসব বন্ধ থাকায় ফুলের চাহিদা নেই। করোনার মহামারি শুরু থেকে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক অনুষ্ঠান না থাকায় ফুলের কদর নেই। তাই আমরা অবহেলিত।প্রশ্ন: সরকারি ত্রাণ বা প্রণোদনা পেয়েছেন কি না?জসিম উদ্দিন: আমরা প্রতিবছর গড়ে ২০ হাজার টাকা করে কর প্রদান করি। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা মিলে আমাদের এ খাত থেকে প্রতিবছর এক কোটি পায়। ফুলের দোকানের ৪০০ জন মালিক রয়েছেন। আমরাই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে হয়েছে প্রতি মাসে মাসে। কিন্তু আমরা কোরো ধরনের প্রণোদনা তো পাইনি। আমাদের শ্রমিকেরা ত্রাণ পায়নি। শ্রমিকেরা সরকারি ত্রাণ পেলে আমাদের ভালো লাগত।প্রশ্ন: করোনার এ সময়ে আপনাদের ক্ষতির পরিমাণ কত হতে পারে?জসিম উদ্দিন: করোনাকালে ফুল ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। আমাদের ব্যবসা হয়নি; বরং শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা দিতে হয়েছে। এই টাকাগুলো আমাদের পকেট থেকে গেছে।প্রশ্ন: সরকারে কাছে আপনাদের দাবি কী?জসিম উদ্দিন: লকডাউন খুলে দিয়েছে সরকার। কিন্তু আমাদের ফুলের চাহিদা যা যা প্রয়োজন তা এখনো চালু হয়নি। আমাদের দাবি হচ্ছে বিয়ে, কমিউনিটি সেন্টার খুলে দিতে হবে। অনুষ্ঠান চালু করতে হবে। আমাদের দোকানে প্রতিদিনই ফুল পচে নষ্ট হচ্ছে।
8
চরফ্যাসনে সরকারি চাল আত্মসাতের ঘটনায় দুলারহাট থানার আহমদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন মাহামুদের নেতৃত্বেঅভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে দুলারহাট থানা পুলিশ মেম্বার কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার বসতঘর থেকে জেলেদের পূর্নবাসনের জন্য বরাদ্দকৃত ৫ বস্তা সরকারি চাল ও ১১টি খালিবস্তা উদ্ধার করা হয় । এ ঘটনায় ওই রাতেই কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুলারহাট থানায় দায়ের করা পরদিন শুক্রবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে জেল হাজতে আছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের থেকে পাঠানো এক চিঠিতে ইউপি সদস্য কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছে।
6
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত প্রণব মুখার্জির ছেলে কংগ্রেসের সাবেক সাংসদ অভিজিৎ মুখার্জি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য দপ্তরে আজ সোমবার তিনি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলটিতে যোগ দেন। তৃণমূল দপ্তরে অভিজিৎকে উত্তরীয় পরিয়ে দলে বরণ করে নেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় পাশে ছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব ও রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলে যোগদানের জন্য অভিজিৎকে স্বাগত জানান। বলেন, এই রাজ্য থেকে বিজেপি হটাতে মমতার হাত আরও শক্তিশালী হবে। এ সময় অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনিও এবার এই রাজ্যের উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতার পাশে থেকে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করবেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমাণ করেছেন তিনিই বিজেপিকে রুখতে পারবেন। অভিজিৎ বলেন, 'আমার বিশ্বাস, আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্য থেকে মমতা বিজেপিকে হটিয়ে দিতে পারবেন।' অভিজিতের বাবা প্রয়াত প্রণব মুখার্জি কংগ্রেসের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। কংগ্রেস থেকে সাংসদ হয়েছিলেন। কয়েক দফায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তৃণমূল দপ্তরে অভিজিৎ বলেন, 'আমার বাবা আমাকে কোনো দিন কংগ্রেসে যোগ দিতে বলেননি। আমি আমার নিজের সিদ্ধান্তে সেদিন কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলাম।'পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর থেকে কংগ্রেসের সাংসদ হয়েছিলেন অভিজিৎ। গত লোকসভা নির্বাচনে হেরে যান তিনি। তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে কয়েক সপ্তাহ ধরে গুঞ্জন চলছিল। সেই গুঞ্জনে ঘি ঢেলে দেন অভিজিৎ নিজেই। করোনাভাইরাসের ভুয়া টিকা নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে মমতার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন অভিজিৎ। এক টুইট বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ভুয়া টিকার জন্য যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত করা হয়, তবে নীরব মোদির ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিযুক্ত করতে হবে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলে যোগ দিলেন অভিজিৎ।
3
জাটকা ও মা ইলিশ ধরা বন্ধে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ২ মাসের অভয়াশ্রম কর্মসূচি। এ কর্মসূচি চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। এতে সাময়িকভাবে বেকার হয়ে পড়বেন চাঁদপুরের প্রায় ৪২ সহস্রাধিক জেলে। জেলেদের জন্য প্রয়োজনীয় চাল এখনো বরাদ্দ হয়নি। এর মধ্যে নতুন তালিকাভুক্ত ১২ সহস্রাধিক জেলে এখনো চাল বরাদ্দের আওতার বাইরে রয়েছে। তাছাড়া তালিকাভুক্ত জেলেদের বরাদ্দ কবে আসবে তাও বলতে পারছে মৎস্য বিভাগ। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুর রহমান জানান, জাটকার অন্যতম বিচরণ ক্ষেত্র চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়ন পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার পদ্মা-মেঘনা এলাকাটি অভয়াশ্রম। গত কয়েকবছর ধরেই এ অঞ্চলে মার্চ-এপ্রিলে ইলিশ রক্ষায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ অভিযান চলাকালে এ বছর নদী এলাকা চাঁদপুরের হাইমচর, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ এবং সদর উপজেলার ৪১ হাজার ৪২ জেলে এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। তিনি জানান, জেলেদের প্রতি পরিবারে ৪০ কেজি চাল গত দু' তিন বছর যাবৎ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু এবার জেলেদের অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কথা বিবেচনা করে মৎস্য অধিদপ্তর মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কাছে বরাদ্দ দ্বিগুণ চাওয়া হয়। তিনি জানান, জেলেদের মাসিক বরাদ্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রস্তাব পাঠালেও এখনও চাল আসেনি। মঙ্গলবার থেকে অভিযান পরিচালনার জন্য মৎস্য বিভাগ থেকে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, তাও মেলেনি। কবে নাগাদ মিলবে তা তিনি বলতে পারছেন না। মৎস্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ এবং চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৪১ হাজার ৪২ জেলের মধ্যে হাইমচরে ১৩ হাজার ৩৩, মতলব উত্তরে ৭ হাজার ৭২৬, মতলব দক্ষিণে ৩ হাজার ৫৯২ এবং চাঁদপুর সদর উপজেলায় ১৬ হাজার ৬৯১ জন জেলে এ বছর সরকারি তালিকাভূক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯ হাজার ৭৬০ জন জেলে নতুন তালিকাভুক্ত হয়েছেন। গত বছর জাটকা রক্ষায় অভয়াশ্রমে দু'মাসে মাছ শিকারের দায়ে ৩৬০ জন জেলে আটক হন। আটককৃতদের কাছ থেকে ৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাস নদীতে ইলিশসহ সব ডিমওয়ালা মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় নদীতে জাল ফেলা, মাছ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
6
চট্টগ্রামের বাঁশখালী সাগর উপকূলীয় পুইছড়ি-ছনুয়া ইউনিয়নে জলকদর খালের ওপর স্টিলের বেইলি সেতুটির পাটাতন দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। বাঁশের চাটাই পেতে লোকজন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হন। এতে তাঁদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল সম্ভব নয়। এ কারণে লবণ পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।সেতুটিতে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে এলজিইডি চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমানসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গত শনিবার সেতুটি পরিদর্শন করেছেন।এদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে ছনুয়ার সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরী বাঁশের পাটাতন তৈরি করে দিয়েছেন।স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানান, ছনুয়া থেকে লবণ পরিবহনের জন্য তাঁদের এই সেতু পার হতেই হয়। এ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। ১০ বছর আগে সেতুর ভাঙা পাটাতন মেরামত করা হয়। কিন্তু দুই বছর আগে আবার সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়ে। এত দিনেও মেরামত করা হয়নি। এতে তাঁদের সীমাহীন সমস্যা হচ্ছে।ছনুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, 'আমাদের চলাচলের একমাত্র জরাজীর্ণ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ইতিমধ্যে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। এটি শিগগির মেরামত করা দরকার।'জানতে চাইলে ছনুয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম হারুনুর রশিদ বলেন, ছনুয়া-পুইছড়ি জলকদর খালের ওপর জরাজীর্ণ সেতুটি সংস্কার করা জরুরি। এ জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন এবং উপজেলা পরিষদের সভায় বহুবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, 'প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজ প্রকল্পের আওতায় এ স্টিল বেইলি ব্রিজটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ব্রিজটি মেরামত করা হবে।'
6
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বোরো ধানের জমিতে পর্যাপ্ত পানি দিতে পারছেন না কৃষকেরা। উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সরবরাহ করা বিদ্যুতের লো ভোল্টেজ আর লোডশেডিংয়ের কারণে এমনটা হচ্ছে। এতে আবাদ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন সাধারণ কৃষক।লো ভোল্টেজের কারণে সেচপাম্প চালানো যাচ্ছে না। পুড়ে যাচ্ছে মোটর। পর্যাপ্ত পানি সেচ না দিতে পারলে ধান উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুচ্চালিত ১ হাজার ১৩টি সেচপাম্পের আওতায় রয়েছে ৪ হাজার ৮৫ হেক্টর জমি। বর্তমানে বোরো ধানগাছে শিষ আসা শুরু করেছে।বোরো ধানের থোড় বা ধান বের হওয়ার সময় অনেক পানির দরকার হয়। এ সময় পানি কম থাকলে ধানের শিষ ছোট হয়, ধানে চিটার পরিমাণ বেড়ে যায়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক।স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলেও প্রায় দুই সপ্তাহ বিদ্যুতের লুকোচুরি চরমে উঠেছে। কখন বিদ্যুৎ আসে, কখন যায় তার ঠিক নেই। বিদ্যুতের লো ভোল্টেজের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সেচপাম্প পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লো-ভোল্টেজ আর লোডশেডিংয়ের কারণে শুধু সেচপাম্প নয়, সব শ্রেণির গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের সেচপাম্পের মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, 'বেশ কিছুদিন ধরে ঠিকমতো জমিতে পানি দিতে পারছি না, এ নিয়ে প্রতিদিন কৃষকের নানান কথা শুনতে হচ্ছে। লো-ভোল্টেজের কারণে সেচপাম্প পুড়ে যাচ্ছে। রাতের বেলায় কিছুক্ষণ ভোল্টেজ পাওয়া যায়, কিন্তু দিনের বেলায় একদম থাকে না।একই এলাকার কৃষক আফজাল মিয়া বলেন, 'এখন জমিতে বেশি করে সেচ দেওয়া লাগবে। পানি দেওয়া কম হলে প্রতি বিঘায় ৪-৫ মণ ধান কম হবে। এত কষ্ট করে যদি ফলন ঠিকমতো না পাওয়া যায়, তাহলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।'ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, 'খরার পাশাপাশি এ সময় ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু এ বছর আকাশে মেঘ দেখা দিলেও এই অঞ্চলে বৃষ্টি একদমই হয়নি। এ সময়ে সেচ-সংকট মানে কৃষকের সর্বনাশ। পানিসংকটে ধানে চিটা হবে, ব্যাহত হবে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা।বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ধুনট জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মাহবুব জিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'জাতীয় পর্যায় থেকে বিদ্যুৎ সাপ্লাই কম থাকায় লো ভোল্টেজ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে কথা বলেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে।'
6
রাজশাহীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আবারও অভিযান চালানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে 'সমন্বিত ও অংশীদারত্বমূলক প্রকল্পের' আওতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযান চালান।দুপুর ১২টা থেকে পৌনে একটা পর্যন্ত এই অভিযান চলে। শব্দদূষণে বিশ্বে চতুর্থ হওয়ার পর থেকে রাজশাহীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।মঙ্গলবার অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিয়া খাতুন। এতে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কবির হোসেন।এ সময় আদালত মাত্রাতিরিক্ত মাত্রায় হর্ন বাজানো এবং নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করায় একটি ট্রাককে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ ছাড়া অনেক গাড়ির চালককে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয় এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়। জনস্বার্থে এ বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।
6
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ তথা বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। দেশের চলমান উন্নয়ন, অর্জন ধরে রাখতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামীতেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। সকালে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে রাজধানীর বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধনী বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ সব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ও আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে এখন থেকেই দলকে সুসংগঠিত ও স্মার্ট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। আওয়ামী লীগ করে যারা কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে, তাদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, অবৈধ অর্থ পাচারকারীদের কোনোভাবেই দলে রাখা যাবে না। তিনি বলেন, দেশের এত উন্নয়ন-অর্জন বিএনপি চোখে দেখে না, তারা দিনের আলোয় রাতের অন্ধকার দেখতে পায়। বিএনপির শাসনামলে দেশে ২৪ ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল, বর্তমান বাংলাদেশকে শেখ হাসিনা আলোয় আলোকিত করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হুংকার দিয়ে লাভ নেই, দেশের জনগণকে দেখাবার মতো আপনাদের এমন কোনো উন্নয়ন নেই, তাই সরকারের পদত্যাগ দাবি না করে নিজেরা পদত্যাগ করুন। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ডক্টর আবদুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডক্টর আবদুস সোবহান গোলাপ ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
9
প্রকৃতি পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনই তার ধর্ম। আজ যে পাহাড় আমরা দেখি, কোনো একসময় সেটা হয়তো ছিল না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রকৃতির পরিবর্তনের ধারায় সৃষ্টি হয়েছে পাহাড়-উপত্যকা, নদী-নালা, বন-জঙ্গল, মরুভূমি কিংবা জলাশয়। এই যে পরিবর্তন, তার মধ্যে লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য, অনেক বিস্ময়। আমাদের চারপাশে রোমাঞ্চকর, আশ্চর্য অনেক বিষয় আছে-যেগুলোর রহস্যের জট এখনো খোলেনি।বলছি ইস্টার আইল্যান্ডের কথা। ইস্টার আইল্যান্ড নামটি শুনেই হতো অনেকে এর সঙ্গে ইস্টার সানডের যোগসূত্র খুঁজবেন। মজার ব্যাপার হলো, আসলেই ইস্টার সানডের সঙ্গে এই দ্বীপের নামকরণের ইতিহাস জড়িত। ১৭২২ সালের এক ইস্টার সানডেতে জ্যাকব রোগেভিন নামের একজন ডাচ পর্যটক এই দ্বীপে এসে পড়েন। তিনিই এর নাম দেন '-', ডাচ ভাষায় যার অর্থ ইস্টার আইল্যান্ড। প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপটিতে মূলত দক্ষিণ আমেরিকার আদি পলিনেশীয় জাতি রাপা নুইয়ের বাসস্থান। এ জন্য এটি রাপা নুই নামেও পরিচিত।বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন জনপদের একটি এই ইস্টার আইল্যান্ড। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৬ কিলোমিটার চওড়া এই দ্বীপটিতে হাজার বছর আগে কীভাবে মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেটিই বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় বিস্ময়। কারণ, ইস্টার আইল্যান্ডের সবচেয়ে কাছের বাসযোগ্য দ্বীপ পিটকেয়ার্ন আইল্যান্ড। তবে এটিও রহস্যঘেরা ইস্টার থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে। ইস্টার আইল্যান্ড থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে রয়েছে মাঙ্গারেভা আইল্যান্ড। তবে সেখানে বসবাস করা মানুষের সংখ্যা হাজারের নিচে। আর ইস্টার থেকে সবচেয়ে কাছের স্থলভাগ ধরা হয় চিলিকে। কাছে বলা হলেও এর দূরত্ব দ্বীপ থেকে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি।তবে সবকিছু ছাপিয়ে চিলির দ্বীপ ইস্টার আইল্যান্ডের মূল আকর্ষণ সেখানকার শত বছরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। বিশেষ করে গোটা দ্বীপে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধাঁচের তৈরি মোয়াই মূর্তিগুলো, যা দেখতে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে ইস্টার আইল্যান্ডে।ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত এই দ্বীপে থাকা অনন্য বৈশিষ্ট্য ও বিশাল আকৃতির মূর্তিগুলো তৈরির পেছনের কাহিনি নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মত। এ ছাড়া পুরো ইস্টার আইল্যান্ড সম্পর্কে যেসব ইতিহাস জানা যায়, সে বিষয়েও নেই লিখিত বা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য। দ্বীপটিতে কবে থেকে মানুষের বসবাস, তা নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। তবে ধারণা করা হয়, ইস্টার দ্বীপের স্থানীয় পলিনেশিয়ান বাসিন্দারা ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে অন্য কোনো দ্বীপ থেকে এখানে এসেছিল এবং একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছিল। যার প্রমাণ ১৪০০-১৬৫০ সালের মধ্যে খোদাই করে তৈরি করা আট শরও বেশি মোয়াই মূর্তি।বসবাস শুরুর পর পলিনেশিয়ানদের জনসংখ্যা বাড়তে শুরু করে। ১৩৫০ সালের মধ্যেই তা পৌঁছে যায় তিন থেকে চার হাজারে। কিন্তু ১৮৭৭ সালের দিকে রহস্যজনকভাবেই এই জনসংখ্যা নেমে আসে ১১১ জনে। কেন ইস্টার আইল্যান্ডের জনসংখ্যা কমে গিয়েছিল, সে বিষয়েও তেমন কিছু জানা যায় না।শুধু লাটাম (পূর্বের ল্যান) এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ইস্টার আইল্যান্ডে যাওয়া সম্ভব। চিলির সান্তিয়াগো থেকে প্রতিদিন একটি ফ্লাইট এই দ্বীপে যায়, সময় লাগে পাঁচ ঘণ্টার মতো।
7
রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলামকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। কামরুল ইসলাম নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কামরুল ইসলামের দোকানের কর্মচারী জয় হোসেন জানান, দুপুর পৌনে ৩টার দিকে একটি জলপাই রং-এর মাইক্রোবাসে সাত আটজন লোক এসে তাকে দোকানের বাইরে বের হতে বলেন। কামরুল ইসলাম দোকানের বাইরে বের হওয়া মাত্র তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি শাহাদত হোসেন খান জানান, নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বুধবার দুপুরে তার শিরোইল কলোনি ২ নম্বর গলির ওয়েলডিং এর দোকানে বসে ছিলেন। ওই সময় একটি মাইক্রোবাসে কয়েকজন লোক এসে তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। নগরীর বোয়ালিয়া জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার (এসি) ইবনে মিজান বলেন, 'কারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে তা বোঝা যাচ্ছে না। কারও সাথে টাকা পয়সার কোন লেন দেন বা বিরোধ ছিল কি না পুলিশ তা তদন্ত করে দেখছে।'
6
ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে প্রায় এক সপ্তাহ বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি খেতে জমে যাওয়ায় পচে যাচ্ছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চিনাবাদাম। তাই বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব বাদাম তুলছেন কৃষকেরা। অপরিপক্ব বাদাম ও পচে যাওয়ায় চাষি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।সরেজমিনে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাতে উপজেলার বেশির ভাগ জমিতে পানি জমে রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার নিচু এলাকায় রবিশস্যের খেত পানিতে ডুবে যায়। এতে অপরিপক্ব চিনাবাদাম পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চরফ্যাশন উপজেলায় ৮৫ হাজার ১৯২ হেক্টর আবাদি ও ৩ হাজার ৩৩৭ হেক্টর অনাবাদি জমি রয়েছে। আবাদি জমির মধ্যে এ বছর ৭ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে জমিতে পানি জমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিনাবাদামের। এতে কৃষকের মাথায় হাত।উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের চর যমুনা গ্রামের কৃষক সালাউদ্দিন (৩৫) বলেন, 'গত বছর এক একর জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছিলাম। ভালো ফলন হওয়ায় এবার তিন একর জমিতে চাষ করি। পোকামাকড়ের আক্রমণের পরও এবার ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টিতে প্রায় সব খেতেই পানি জমেছে। পানিতে পচে যাওয়ার ভয়ে প্রায় অর্ধেক জমির অপরিপক্ব বাদাম তুলে ফেলছি। লাভের পরিবর্তে এবার লোকসান গুনতে হবে।'একই এলাকার কৃষক মো. মিরাজ (২৭) বলেন, 'বাদাম চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। গত বছর ৩০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছিলাম। আর বাদাম বিক্রি করেছি ৮০ হাজার টাকার। তাই গত বছর লাভ হওয়ায় এ বছর আরও ২০ শতাংশ জমিতে চিনাবাদাম চাষ করি। এতে মোট খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। শতাংশপ্রতি খরচ ২ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে আমার খেতের বাদাম নষ্ট হচ্ছে। তাই অপরিপক্ব বাদাম তোলা শুরু করেছি। পরিপক্ব হলে বেশ লাভবান হতাম।'চরফ্যাশন বাজারের আড়তদার আবদুল কাইয়ুম মিয়াজি বলেন, 'আমার আড়তে চর মাদ্রাজের মাঝি বাড়ির বাছেদ মাঝি, ফারুক মাঝি, জামাল আহন, আবদুল্লাহপুর এলাকার রফিক হাওলাদার, নূরনবি ডাক্তার, নিলকমল ইউনিয়নের চর যমুনা গ্রামের আবুল কালাম, মো. মিরাজসহ ২৫-৩০ জন চাষি বাদাম বিক্রি করেন। তাঁদের রবিশস্য চাষের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা দাদন দেওয়া হয়। তাঁরা রবিশস্য চাষ করে আমার আড়তে বিক্রি করেন। পর্যায়ক্রমে দাদনের টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু এবার অতিবৃষ্টিতে কৃষকদের ফসল নষ্ট হয়েছে। এবার দাদনের টাকা উঠবে না বলে মনে হয়।'চরফ্যাশন উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঠাকুর কৃষ্ণ বলেন, 'চরফ্যাশন উপজেলায় বারি চিনাবাদাম ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ চাষ হয়েছে। বাদাম চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। তাই কৃষকেরা এবার বাদাম চাষ বেশি করেছেন। গত বছর বাদামের চাষ হয়েছিল প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এবার ৭ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে চীনা বাদাম চাষ হয়েছে। গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে পানি জমে অনেক খেতের বাদাম নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হবে। তবে বৃষ্টি না হলে আগামী ১০ দিন পর পরিপক্ব বাদাম তোলা যেত।'
6
লোহিত সাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী একটি জাহাজ দখল করে নিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হাউছি যোদ্ধারা। তাদের দাবি, এই জাহাজে করে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিলো। সোমবার এক টুইটবার্তায় হাউছি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি এই তথ্য জানান। টুইটবার্তায় ইয়াহইয়া সারি বলেন, জাহাজটি ইয়েমেনের হোদাইদা বন্দরের উপকূলে 'ইয়েমেনের সমুদ্রসীমায় অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করে' এবং শত্রুতামূলক আচরণ করে। রাওয়াবি নামের এই জাহাজটি দখল করে নেয়ার ঘটনা আমিরাতের জাহাজে হাউছিদের আক্রমণের নতুন এক ঘটনা। এর আগে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর অধীন ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এই জাহাজ দখলের কথা জানায়। তবে তাদের বার্তায় অজ্ঞাত এক জাহাজের ওপর মধ্যরাতে হামলার কথা জানানো হয়। জাহাজ চলাচল নজরদারি করা ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফ্রিক ডট কম জানিয়েছে, রাওয়াবি নামের জাহাজটি কয়েক ঘণ্টা স্যাটেলাইটে তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো ডাটা দিচ্ছিলো না। এর কয়েক ঘণ্টা পর, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে রাওয়াবি নামের এই জাহাজটিতে হামলার খবর জানানো হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বরাত দিয়ে খবরে জানানো হয়, জাহাজটিতে হাউছিরা 'সশস্ত্র দস্যুতামূলক' কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। সৌদি সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, জাহাজটিতে ইয়েমেনের দ্বীপ সোকোতরা থেকে সৌদি এক অস্থায়ী জাহাজ থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। সৌদি জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালকির বিবৃতির বরাত দিয়ে ওই খবরে বলা হয়, 'হাউছি যোদ্ধাদের অবশ্যই উচিত অবিলম্বে জাহাজটি ছেড়ে দেয়া, না হয় জোট বাহিনী শক্তির ব্যবহারসহ এই সহিংসতা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।' এর আগে ২০১৬ সালে আমিরাতের জাহাজ সুইফট-১ ইরিত্রিয়া-ইয়েমেনে দেশটির দুই সামরিক ঘাঁটিতে চলাচলের সময় লোহিত সাগরে হাউছি যোদ্ধাদের হাতে আক্রান্ত হয়। ২০১১ সালে আরব বসন্তের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের বিক্ষোভের জেরে ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক আলী আবদুল্লাহ সালেহ সরকারের পতন ঘটে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদি দায়িত্ব নেন। নতুন সরকার গঠন হলেও ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকে। বিবাদমান পক্ষগুলোর দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৪ সালের শেষে ইরান সমর্থিত উত্তর ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করলে প্রেসিডেন্ট হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বের জোট হাউছিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে আগ্রাসন করলে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মুখে পড়ে আরব উপদ্বীপের দরিদ্রতম দেশটি। ছয় বছরের বেশি সময় চলমান এই গৃহযুদ্ধে হাউছি নিয়ন্ত্রিত সানাকেন্দ্রীক উত্তর ইয়েমেন ও বন্দর নগরী এডেনকেন্দ্রীক দক্ষিণাঞ্চলীয় সরকারের অধীন দক্ষিণ ইয়েমেনে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ২০২০ সালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সৌদি মধ্যস্থতায় দক্ষিণের সব শক্তিকে একত্রিত করে নতুন এক ঐক্য সরকার গঠন করা হয়। সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদি ও আমিরাতের সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী এসটিসিকে একত্রিত করে এই সরকার গঠিত হয়। ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধ-সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই বেসামরিক লোকজন। এছাড়া যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ। ছয় বছরের টানা যুদ্ধ ও অবরোধে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইয়েমেন। ইতোমধ্যে ক্ষুধায় ৫০ হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে দেশটিতে। ইয়েমেনের চলমান পরিস্থিতিকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম মানবসৃষ্ট মানবিক সংকট হিসেবে হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসঙ্ঘ। সূত্র : আলজাজিরা
3
ঢাকা: সময়টা খুবই ভালো যাচ্ছে বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশির। 'গ্যাংস অব ওয়াসিপুর'-এর পর এত ঝলমলে সময় আসেনি হুমার ক্যারিয়ারে। এ মাসেই মুক্তি পেয়েছে তাঁর হলিউডের সিনেমা 'আর্মি অব দ্য ডেড'। এতে হুমা 'জাস্টিস লিগ' খ্যাত নির্মাতা জ্যাক স্নাইডারের পরিচালনায় কাজ করেছেন। এতে তাঁর নাম গীতা। একজন জোম্বি সারভাইভার। সিনেমাটির রেশ কাটতে না কাটতেই এই মাসে মুক্তি পেল হুমার নতুন ওয়েব সিরিজ 'মহারানি'।ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সোনি লিভ-এ প্রকাশিত হয়েছে সিরিজটি। বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের স্ত্রী রাবড়ি দেবীর থেকে অনুপ্রাণিত চরিত্রে অভিনয় করেছেন হুমা কুরেশি। পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির ঘটনায় সমালোচনার মুখে ১৯৯৭ সালে রাজনৈতিক জ্ঞানশূন্য স্ত্রী রাবড়িকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন লালু। লালুপ্রসাদের দুর্গ হিসেবেই পরিচিত বিহারের একটি আসন থেকে নির্বাচনের সুযোগ করে দেন তাঁকে।দেখুন 'মহারানি' ওয়েব সিরিজের ট্রেলার:স্ট্রিমিংয়ের পর এক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে সিরিজ। বিহারের দর্শক মনে করছে আসল রাবড়ি দেবীর 'হোয়াইটওয়াশ ভার্সন'। সিনেমা সমালোচক আর জে প্রদীপ বলেন, 'এটি কোন রাবড়ি দেবী? তিনি কখন এই ঝাঁসির রানি এবং ইন্দিরা গান্ধী একসঙ্গে হয়েছিলেন? আমার মনে হয় সিরিজটি লালুজির শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বন্ধুরা স্পনসর করেছেন।'আর জে প্রদীপ বলেন, 'তারা লালুপ্রসাদ যাদব এবং রাবড়ি দেবীর নাম পরিবর্তন করে সঠিক কাজ করেছে। এটি রাবড়ি দেবীর গল্প নয়। যদি এটি তাদের নিজস্ব কল্পনা হয়, তবে সিরিজ সম্পর্কে লালু ও রাবড়ি দেবীর ওপর ভিত্তি করে অভিনেতারা কেন সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন? আপনার দুটো দিকে থাকতে পারে না। হেডলাইনে নেই আবার ফিকশনে আছেন।'হুমার ছবি এখন পর্যন্ত বিহারে তেমন প্রশংসা পায়নি। কিন্তু এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। 'মহারানি'-তে তাঁর চরিত্রের প্রসঙ্গে ঘরে ঘরে কথা হচ্ছে। হুমা বলেন, 'আমার চরিত্রটি সংকল্প এবং নমনীয়তার আদর্শ মিশ্রণ। অবশ্যই রাজনৈতিক ঘটনাবলির ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে গল্প বলা হয়েছে। সঞ্জয় লীলা বনসালীর 'পদ্মাবত' কী ছিল? কিংবা "মোগল-এ-আজম"?'সব সময় এমন চরিত্র করার সুযোগ আমি পাই না। রানী ভারতী চরিত্রে অভিনয় করে ভালো লেগেছে। তিনি এমন এক ব্যক্তি হিসেবে শুরু করেন, যাঁর সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। কিন্তু তিনি যেখানে গিয়ে পৌঁছান, এই যুগেও আমাদের মধ্যে খুব কমজন তা আশা করতে পারি।হুমা কুরেশি, 'মহারানি' অভিনেত্রী
2
দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, শিক্ষা সার্ভিস কমিশন ও স্কুল-কলেজে ব্যবস্থাপনা কমিটি বিলুপ্তি করাসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজশিক্ষক সমিতি (বাকশিস) ও বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদ (বিপিসি)।আজ সোমবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের এ দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার চরমভাবে উপেক্ষিত। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ৯৫ শতাংশই পরিচালনা করেন বেসরকারি শিক্ষকেরা। একটি স্বাধীন দেশের জন্য এ বেসরকারি শিক্ষকতার অবস্থা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পরেও চলমান ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি দুইটি ধারায় বৈষম্য সৃষ্টি করছে। দেশে কোনোক্রমেই এ ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান এসব সমস্যা সমাধানে নয়টি দাবি তুলেছেন দুই সংগঠনের নেতারা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো-সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুরূপে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য ভাতা দেওয়া। সরকারি কলেজের অনুরূপ পদ্ধতিতে সমযোগ্যতা ও সম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকের পদে পদোন্নতি, উচ্চতর ডিগ্রির জন্য উচ্চতর বেতন স্কেল দেওয়া। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুরূপ বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় বদলি প্রথা চালু করা। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটি প্রথা বিলুপ্ত করা।সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বাকশিস সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান, বিপিসির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, বাকশিসের মহা-সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ কে এম আব্দুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
1
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নানাবিধ পরিচয় আছে। গ্রিক অ্যাম্ফিথিয়েটারের আদলে নির্মিত মুক্তমঞ্চ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, অনিয়ম-অন্যায়বিরোধী প্রতিবাদ, প্রতিরোধের উর্বর ভূমি এই বিশ্ববিদ্যালয়। জাহাঙ্গীরনগরই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা সাহসের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-প্রতিরোধ শুরু করেছিলেন। জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা দেখিয়েছেন কীভাবে রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে প্রতিবাদ জারি রাখতে হয়। এসব দিক থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একটি স্বতন্ত্র পরিচয় আছে-দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক হলগুলোয় একটি করে সিট বরাদ্দ নিশ্চিত থাকবে। কিন্তু প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি এই পরিচয় থেকে বেরিয়ে আসছে। একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় সবার অলক্ষ্যে অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হচ্ছে। বিষয়টি খুব বেশি আলোচনায়ও আসছে না। হয়তো আমরা খেয়াল করছি না বা সারা দেশের মতোই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যায়-অনিয়ম এতটাই সহনীয় যে আবাসিক চরিত্র হারানোকে বড় করে দেখছে না। গতকাল ১০ মার্চ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুসারে ক্লাস শুরু হওয়ার দু-তিন দিন আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের হলগুলোয় সিট বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু এবার কয়েকটি হল বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে হলে কোনো আসন বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব না। কমপক্ষে তিনটি হলে এ রকম বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এমনকি গণরুমেও থাকতে দেওয়ার মতো অবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ দায়িত্বে থাকতে হবে। এই অবস্থায় দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশে বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য হবেন। একজন শিক্ষার্থী যদি বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পুরোটা হলেই থাকতে না পারেন, তবে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা তিনি কীভাবে পাবেন। আমি নিজে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬তম ব্যাচে পড়েছি। আমাদের সময় মোট হল ছিল নয়টি। শিক্ষার্থী ছিল ৪ হাজার ৫০০-এর মতো। আর এখন হলের সংখ্যা ১৬। শিক্ষার্থীর সংখ্যা সম্ভবত ১২ হাজারের বেশি। আমাদের সময় আবাসিক সমস্যা এতটা প্রকট ছিল না। কিন্তু এখন শিক্ষার্থীকে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই তীর্থের কাক হয়ে বসে থাকতে হয় কখন হলে একটা সিট পাওয়া যাবে। কেউ কেউ নাকি বড় একটা সময় গণরুমেই পার করে দেন। এখন নতুন নতুন হল হয়েছে। কিন্তু হলে সিট-সংকটের সমাধান হচ্ছে না কেন? একসঙ্গে অনেকগুলো ব্যাচ থাকার কারণে জট তৈরি হয়েছে বলে অনেকেই জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গিয়েছে, ৩৯ ব্যাচ থেকে আবাসিক সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। তবে এই সমস্যার শুরু ২৮ বা ২৯ ব্যাচ থেকে ২০০০ বা ২০০১ সালের দিকে। ওই সময় শিক্ষার্থীদের হলে সিট দিতে না পারা কারণে বিআরটিসি বাস ভাড়া করে ঢাকা থেকে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করানো হতো। এরপর থেকেই জাহাঙ্গীরনগরের আবাসিক চরিত্র একটু একটু করে হারাতে শুরু করে। আমাদের সময় মীর মশাররফ হোসেন হলে কয়েকজনকে ক্যানটিন ও হলের লাইব্রেরিতে থাকতে বলা হয়েছিল। এ ছাড়া অন্যান্য হলের সব শিক্ষার্থী যথানিয়মেই সিট বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এমনকি অন্যান্য হলে কিছু কিছু সিট ফাঁকাও থাকত। মীর মশাররফ হোসেন হলে সিট না পেয়ে অনেকেই অন্য হলে গিয়ে থেকেছেন। পরে আবার ফিরেও গিয়েছেন। এখন শুধু কাগজে-কলমেই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। সেশনজট কমানো কথা বলে হলে সিট খালি হওয়ার আগেই ক্লাস শুরু কোনো সুফল মেলেনি। আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে সেশনজট কমছে না বলে সব সময়ই সরকারপন্থী শিক্ষকেরা বলেন। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সেশনজট তৈরি হয়। অনেক শিক্ষক পরীক্ষার খাতা দেখতে অযথাই বিলম্ব করেন। এসব শিক্ষককে আবার কিছু বলাও যায় না। শিক্ষকদের অনেকেই দুপুরে বাসায় গিয়ে ভাতঘুম দেন। দুপুরের পর খুব বেশি ক্লাস হয় না। আন্দোলন-ধর্মঘটের কারণে যে জটের তৈরি হয়, তা দুইবেলা ক্লাস করে নিয়মিত পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ করে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। শিক্ষকেরা আরও দায়িত্বশীল হলে আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। সেশন জট কমানোর জন্য দুইবেলা ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার আগ্রহ না থাকলেও সন্ধ্যাকালীন কোর্স ও সপ্তাহান্তের কোর্স নিয়ে তাদের আগ্রহের কমতি নেই। আরও মজার বিষয় হচ্ছে, আন্দোলন-প্রতিবাদ চলাকালে শিক্ষকেরা সান্ধ্য ও সপ্তাহান্তের কোর্স নিয়মিত সময়েই শেষ করে দেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, কিছু না বুঝেই নতুন নতুন বিভাগ খোলা হয়। বিভাগগুলোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া হয় কম। যত নতুন বিভাগ, তত বেশি নিজেদের লোকদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যায়। এসব বিভাগ খোলার কারণে ধারণ ক্ষমতার বেশি শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে বাধ্য হন। জাহাঙ্গীরনগরও এই সমস্যা থেকে মুক্ত না। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকার পরও নতুন নতুন বিভাগ শুরু করা হয়েছে। এতে শিক্ষকরাজনীতির সুবিধা হয়। ভোট বাড়ে। কিন্তু সমস্যায় পড়েন শিক্ষার্থীরা। গণরুমে থাকতে হয় আর ক্লাস করার জন্য এদিক-সেদিক ছুটে বেড়াতে হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতীকমাত্র। সব বিশ্ববিদ্যালয়েই একই অবস্থা বিরাজ করছে। অনেক শিক্ষকই ক্লাস ও পরীক্ষার বিষয়ে মনোযোগী নন। শিক্ষকতা ও গবেষণা থেকে প্রভোস্ট, প্রক্টর, হাউস টিউটর হওয়ার দিকে বেশি নজর থাকে তাঁদের। অনেকে সপ্তাহে এক দিন বিভাগে আসেন। বেশির ভাগই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। এমনও অনেক শিক্ষক আছেন, যাঁরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো কোনো সমস্যা না; বরং এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। একজন ভালো শিক্ষক যখন একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় পাঠদান করেন, তখন শিক্ষার্থীরাই উপকৃত হন। সমস্যা হয় তখনই, যদি শিক্ষকেরা নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা সম্পন্ন না করে বিভিন্ন জায়গায় ব্যস্ত থাকেন। এতে নিজের বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমেই সমস্যার খাদে গড়িয়ে যেতে শুরু করে। জাহাঙ্গীরনগরও এই গড়ানি দিতে দিতে আবাসিক থেকে অনাবাসিক হয়ে যাচ্ছে। একে এখন আর আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় বলার কোনো জো নেই। ড. মারুফ মল্লিক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক
8
ওমানে চলমান ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন যাররপনাই বিরক্ত। বাছাইপর্বের গ্রুপ বি-তে ফেভারিট হিসেবে গণ্য হওয়া সত্ত্বেও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ রানে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বায়ো-বাবল নিরাপত্তার কারণে নাজমুল হাসান পাপন বর্তমানে দলের সঙ্গে অবস্থান করতে পারছেন না। অবশ্য দলের সঙ্গে না থাকলেও বিসিবি সভাপতি দলের ব্যর্থতার পেছনের কারণ জানতে আগ্রহী। সেই কারণ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় সোমবার (১৮ অক্টোবর) প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো, অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ এবং তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। এই অনলাইন বৈঠকে বিসিবি ক্রিকেট অপারেশন কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান এবং পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিকের পাশাপাশি নাজমুল হাসান পাপনের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন জাতীয় দলের প্রতিনিধিরা। কিন্তু সে উত্তরে তারা ১০০% সন্তুষ্ট ছিলেন না। বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন বলেন, "আমরা তার (ডোমিঙ্গোর) উত্তরে খুশি নই। আমরা বৈঠকে বেশ কিছু বিষয় জানার চেষ্টা করেছি এবং তার নিজের ব্যাখ্যা ছিল। আমাদের কাছে যা সঠিক মনে হয়েছে আমরা তাকে তাই বলেছি।" জানা যায়, বোর্ডের প্রভাবশালী পরিচালকরা ডোমিঙ্গোর সিদ্ধান্তে গ্রহণে অসন্তুষ্ট এবং বিসিবি'র সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও এখন ঝুঁকির মুখে। ডোমিঙ্গোকে বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে নতুন করে দুই বছরের চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এই দক্ষিণ আফ্রিকানও আনন্দের সঙ্গেই তাতে রাজি হয়েছিলেন। সোমবার মাস্কাটে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় নাজমুল হাসান বলেন, "বৈঠকে আকরামও আমার সঙ্গে ছিলেন। আমরা তাকে (ডোমিঙ্গো) প্রশ্ন করেছিলাম যে, গত কয়েক মাস ধরে নাইমকে টি -টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্যে প্রস্তুত করা সত্ত্বেও কেন তাকে বাদ দেওয়া হলো?" বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, "আমি এখানে যে বিষয়টি জোর দেওয়ার চেষ্টা করেছি তা হলো স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পরিকল্পনা আমরা বুঝতে পারিনি। তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। প্রথম ছয় ওভারের সুযোগ নেওয়ার জন্যে যারা হাত খুলে বাউন্ডারি মারার সাহস করে তাদের আরও ওপরে ব্যাটিং করতে হবে।" টুর্নামেন্টে টিকে থেকে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে এখন পরের ম্যাচটি জিততেই হবে। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) আল আমিরাত স্টেডিয়ামে অতি আত্মবিশ্বাসী স্বাগতিক ওমানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
12
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ভ্যাকসিন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন পেতে যাচ্ছে ফার্মা জায়ান্ট মডার্নার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন। বৃহস্পতিবার দেশটির বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল জরুরি ব্যবহারের জন্য ভ্যাকসিনটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। অনুমোদন পেলে ফাইজার-বায়োএনটেক ভ্যাকসিনের পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ভ্যাকসিন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্য ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এই সুপারিশ গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এতে করে আগামী সপ্তাহে দেশটিতে মডার্নার ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হবে। বৃহস্পতিবার বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্যরা ২০-০ ভোটে মডার্নার ভ্যাকসিনকে অনুমোদনের সুপারিশ করেছেন। তাদের মতে, ১৮ ও এর চেয়ে বেশি বয়সীদের জন্য ভ্যাকসিনটি ঝুঁকিপূর্ণ না। গত সপ্তাহে মডার্নার ভ্যাকসিন ৯৪ শতাংশ নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলো। যুক্তরাষ্ট্র কোম্পানিটির সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন কেনার চুক্তি করেছে। এফডিএ'র অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৬০ লাখ ডোজ পরিবহনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।।
3
চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারে কোনো ফাটল নেই, কন্সট্রাকশন জয়েন্টের ফোম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ফাটল মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন গঠিত নিরপেক্ষ তদন্ত টিম। মঙ্গলবার সকালে পরিদর্শন শেষে তারা ফ্লাইওভারটি যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল পরিহার করতে পরামর্শ দেন। তদন্ত টিমে ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান, সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক মো: হাফিজুর রহমান এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি দল। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটের এম এ মান্নান ফ্লাইওভার পরিদর্শনের পর বিশেষজ্ঞ দল এটি ফাটল নয় দাবি করলেও এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি করতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দ্বারস্থ হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। তদন্তে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততা এড়িয়ে সংস্থা দুটির প্রতিনিধির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের সিদ্ধান্ত হয় সেসময়। গত ২৫ অক্টোবর সোমবার বহদ্দারহাট এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের কালুরঘাটমুখী আরাকান সড়কের সাথে সংযুক্ত র্যাম্পটিতে ফাটলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ওইদিন রাতেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সিএমপি মিলে যান-চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। সেদিন রাত ১১টা থেকেই র্যাম্পটিতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরদিন ২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ফাটলের কারণ হিসেবে নির্মাণত্রুটির কথা জানিয়েছিলেন। সূত্র : বাসস
6
রাষ্ট্রনেতার সমালোচনা ও দেশের বিষয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে কুয়েতের কবি জামাল আল সায়েরকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। বুধবার কবি জামাল আল সায়েরের পরিবার এ কথা নিশ্চিত করার পর থেকে কুয়েতের মানবাধিকার কর্মী ও নেতারা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ সরকারের স্বৈরাচারী আচরণের লক্ষণ। সরকারের দুর্নীতি বিষয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই টুইটারে নানা ধরনের কবিতা পোস্ট করছিলেন জামাল। সরাসরি দেশের আমিরেরও নিন্দা করেন তিনি। বলেন, কুয়েতের 'অসহনীয়' অবস্থার জন্য আমির দায়ী ও তার সরকার 'সংবিধানের অবমাননা' করেছে। কুয়েতের রাজনীতিতে গণআন্দোলন ও সমালোচনার সংস্কৃতি থাকলেও আমিরের নিন্দা বা অসম্মানকে কড়া নজরে দেখা হয়। সংবিধান অনুযায়ী কুয়েতের সংসদ সদস্যদের সরকার ও তার মন্ত্রীদের প্রশ্ন করার অধিকার থাকলেও দেশটির আমির, শেখ নাওয়াফ আল আহমাদ আল সাবাহ'র অবস্থান এসব কিছুর ঊর্ধ্বে। সোমবারে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে কবি আল সায়ের রাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন ও আদালতে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা ওঠার অপেক্ষা করছেন বলে জানান কবির পরিবারের সদস্য মুহান্নাদ আল সায়ের। কবির বিরুদ্ধে মানহানির দুটি ধারায় মামলা দায়ের করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, কবি তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এবিষয়ে কুয়েতের কোনো মন্ত্রণালয়ের মন্তব্যও পাওয়া যায়নি। কবি জামাল আল সায়ের কুয়েতে জনপ্রিয় হয়েছেন দেশপ্রেম বিষয়ে বেশ কিছু কবিতা লিখে। তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দেশটির বহু অধিকারকর্মী ও কয়েকজন রাজনীতিকও। কুয়েতের টুইটার অ্যাকাউন্টগুলোতে মঙ্গলবারে ট্রেন্ডিং ছিল 'ফ্রি জামাল আল সায়ের' হ্যাশট্যাগ। সরকারের বিরোধীপক্ষের আইনজীবী খালেদ আল ওতাইবি বলেন, 'কুয়েত একটি সাংবিধানিক রাষ্ট্র। সেখানে এই ধরনের স্বৈরাচারী আচরণ ও সমালোচনা বন্ধ করার রাজনীতি আমরা বরদাস্ত করব না।' সূত্র : ডয়চে ভেলে
3
দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর এবার আঘাত হানছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। এ অবস্থায় আবারো অনিশ্চিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প উপায়ে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে না পারলেও একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ চলছে। খুব শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এসব বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অবহিত করতে একটি রোডম্যাপ দেয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। করোনার প্রভাবে গত ১৫ মাস ধরেই বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাতিল হয়েছে গত শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক পরীক্ষাও। অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী অটো প্রমোশন নিয়ে উপরের ক্লাসে উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্য দিকে করোনার কারণে বাতিল হয়েছে সবগুলো পাবলিক পরীক্ষা। এর মধ্যে বেশি আলোচনায় ছিল গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল ও অটো পাসের বিষয়টি। তবে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসিসহ সমমানের অন্যান্য পরীক্ষা বাতিল না করে বরং সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে সেগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১২ জুন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়ে ১৩ জুন থেকে স্কুল কলেজ খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু ইতোমধ্যে সারা দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অতিক্রম করে এখন তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানছে। তাই চলমান লকডাউনও বাড়িয়ে আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। তাই সহজেই ধারণা করা হচ্ছে স্কুল-কলেজ শিগগির খুলছে না। এই বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের বিকল্প উপায়ে পড়ার টেবিলে ফেরাতে নানামুখী পরিকল্পনা নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। খুব শিগগিরই এমন একটি রোডম্যাপ দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিকল্প হিসেবে দু'টি পদ্ধতিকেই এখন বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। প্রথমত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস্টার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানোর বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে শিক্ষা টিভি চালু করে শিক্ষার্থীদের অধিক উপস্থিতি নিশ্চিত করে তাদের পড়ালেখায় মনোযোগী করা। আর এ লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবরে একটি চিঠিও দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্য দিকে করোনার মধ্যেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি না খুলে আংশিক বা ক্লাস্টারভিত্তিক ক্লাস করার একটি উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর, বয়স এবং শাখাভিত্তিক ডিভিশনে ভাগ করা হতে পারে। তারপর শ্রেণী বা বিভাগ অনুযায়ী সপ্তাহে এক বা দু'দিন করে ক্লাস করানো হতে পারে। আর এই নিয়ম চালু করতে পারলে একেক দিন একেক ক্লাস্টারের শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে আসবে। ক্লাস্টারের আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা সে দিন শ্রেণিকক্ষে আসবে না তাদের অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে। বাড়িতে বসে তারা অ্যাসাইনমেন্টের কাজ করবে। পাশাপাশি অনলাইনে ক্লাস করানো হবে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর সীমিত পরিসরে ক্লাসে উপস্থিত করাটাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য। আর এটার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এ বিষয়ে জানান, আমরা শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে অথবা ক্লাসে ফেরাতে একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছি। আমরা মনে করি, করোনার এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার মতো নয়। তারপরেও আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষাতে কাজ করছি। তিনি জানান, ক্লাস্টারভিত্তিক শিক্ষাদান ছাড়াও শিক্ষা টিভি চালু করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। শিক্ষা টিভি চালু হলে হয়তো একসাথে জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দেখবে এবং তা থেকে ১০ থেকে ১২ শতাংশও যদি উপকৃত হয় তাহলেও অনেক শিক্ষার্থী সুফল পাবে।
9
ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. শাহজাদ জাহার দিহানকে ১৪ দিনের অতিরিক্ত ইন্টার্নশিপ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দীপক ও মেহেদিকে যশোর মেডিকেল কলেজ থেকে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।গতকাল সোমবার যশোর জেলা হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ইন্টার্নি চিকিৎসক ও তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার ২৫ দিন পর এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে বিচারের দাবিতে কর্মবিরতিসহ আন্দোলন করে আসছিলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।গত ১৫ নভেম্বর এক্স-রে কক্ষে ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে এক কর্মচারীর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।সোমবার দুপুরে যশোর সদর হাসপাতালে সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, যশোর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন বিপ্লব হোসেন জয় প্রমুখ।
6
কুমিল্লায় জাতীয় শ্রমিক লীগের তিতাস উপজেলা শাখার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মৌসুমী আক্তারকে ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে তিতাস উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল-আমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। মামলার সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের মো. মনু মিয়ার মেয়ে শারমিন সোনালী ব্যাংক হোমনা বাজার শাখায় টাকা জমা দিতে যায়। ব্যাংকে ভীড় থাকায় টাকা জমা না দিয়ে তিনি বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে হোমনা বাজারের অভিযুক্ত মৌসুমীসহ ৪ সহযোগী শারমিনের ব্যাগ থেকে ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় শারমিনের চিৎকারে উপস্থিত লোকজন তিন নারী ছিনতাইকারীকে আটক করে। তবে এ সময় মৌসুমী পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে কৌশলে যোগাযোগ করে ১ লাখ টাকার মধ্যে ৮০ হাজার টাকা দিলেই আটকদের ছেড়ে দেয়া হবে এমন প্রলোভন দিলে তিতাস শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মৌসুমী ৮০ হাজার টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। এরপর স্থানীয়রা তাকেসহ এই চার নারী ছিনতাইকারীকে আটকে রেখে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। হোমনা থানার ওসি মো. আবুল কায়েস আকন্দ জানান, ভোক্তভোগী মনু মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের পর প্রাথমিক তদন্ত করে শ্রমিক লীগ নেত্রী মৌসুমীসহ চার নারীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই এ ঘটনায় মৌসুমী (২৫), হাছিনা আক্তার (২৬), আঁখি সরকার (২০) ও শিউলীকে (২০) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিতাস উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অবৈধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় উত্তর জেলা শ্রমিক লীগ নেতৃবৃন্দের নির্দেশ ক্রমে মৌসুমীকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে শুরু হয়েছে। এ কনফারেন্সিং সঞ্চালনা করছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস। সোমবার(২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই ভিডিও কনফারেন্স শুরু হয়। এতে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সকলে যুক্ত আছেন। জেলাগুলো হচ্ছে- বগুড়া, চাপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী এবং সিরাজগঞ্জ। ভিডিও কনফারেন্স চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ বাহিনী, সিভিল সার্জন, নার্স, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সেনাসদস্য, মসজিদের ইমাম, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি ও ত্রাণ বিতরণ নিয়ে মতবিনিময় করবেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করবে।
6
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাসায় শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। বুধবার রাতে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত আইভীর বাসভবন চুনকা কুটিরে উপস্থিত হন মন্ত্রী।এ সময় বিজয়ী মেয়রকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান গোলাম দস্তগীর গাজী। পরে একসঙ্গে বসে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন দুই জনপ্রতিনিধি। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে নেতাকর্মীদের নিয়ে ফিরে আসেন তিনি।পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, 'আমার খুব ইচ্ছা ছিল নির্বচনের দিন থাকার। তবে আমি দেখেছি কীভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমার আইভী আপা জিতে এলো। জনগণ যেখানে থাকে সেখানে আর কিছু লাগে না। তিনি এর আগে দুবার নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়াতে কাজের মাধ্যমে তিনি জনগণের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন। সাধারণত দেখা যায় নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচন কঠিন হয়। তারপরের বার আরও কঠিন হয়। কিন্তু তিনি এমনভাবে মন জয় করেছেন, যাতে করে এত বেশি ভোট পেয়েছেন যা অভাবনীয়।'মেয়র আইভী বলেন, 'এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে যেই শঙ্কা ছিল সেগুলো কিছুই হয়নি। বরং দেখা গেল নারায়ণগঞ্জবাসী তাদের সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেনি। নারায়ণগঞ্জের মানুষ প্রমাণ করে দিল তা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করে।'এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আসাদুজ্জামান, আব্দুল কাদির, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান প্রমুখ।
6
এ বছরের শেষের দিকে আমেরিকান কিংবদন্তি বক্সার টাইগার উডসকে নিয়ে ২ পর্বের একটি ডকু সিরিজ প্রকাশ করতে যাচ্ছে এইচবিও। ৪ ঘন্টার এই ডকু সিরিজটিতে জানা যাবে ৪৪ বছর বয়সী টাইগার উডসের জানা অজানা নানা তথ্য। ডকু সিরিজটি নির্মান করা হচ্ছে সাংবাদিক আরমেন কেটেরিয়েনের বই ওয়ার্র্টস এন্ড অল বায়োগ্রাফি টাইগার উডসের আলোকে। এই বইটি লিখতে সাংবাদিক আরমেন টাইগার উডসের ঘনিষ্ট মোট ২৫০ জন লোকের সঙ্গে কথা বলে উডস সম্পর্কে নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। এই ডকুসিরিজটির মাধ্যমে টাইগার উডসের বিশ্বের সেরা গলফার হওয়ার গল্প। আবার যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িতে হয়ে পরার বিশদ ধারণা পাবেন দর্শকরা। তাছাড়া তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা দুঃখ্যজনক অধ্যায়ের ব্যপারেও জানতে পারবেন তার ভক্ত অনুরাগীরা। এদিকে কয়েকদিন আগে নেটফ্লিক্স প্রকাশ করে আমেরিকান বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানের উপর র্নিমিত ধারাবাহিক ডকুমেন্টারি সিরিজ। বিশ্বে সর্বকালের সেরা বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত মাইকেল জর্ডানের এই ডকুমেন্টারিটি বিশ্বের বহু মানুষ দেখেন। এখন এইচবিও এর কর্তৃপক্ষও আশা করছে টাইগার উডসের ডকুসিরিজটিও তেমনই জনপ্রিয়তা পাবে।
12
অতিবৃষ্টির কারণে ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের প্রায় ৮-৯টি গ্রাম। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলসহ বেশ কিছু রাস্তাঘাট। পুকুরের পাড় ডুবে গিয়ে বেরিয়ে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ। এখন পর্যন্ত বাড়িঘরে পানি না উঠলেও পানিবন্দী হওয়ার আতঙ্কে রয়েছে প্লাবিত গ্রামের মানুষজন। অপরদিকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।বায়েক ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন ভূঁইয়া জানান, গত কয়েক দিন ধরে অতিবৃষ্টির কারণে ভারতের উজান এলাকার পানি নেমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এত দিন অল্প পানি নামলেও গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পানি বেশি বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রামের ফসল ও রাস্তাঘাট। এ ছাড়া প্রায় শতাধিক পুকুরের মাছ বেড়িয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছচাষিরা। তলিয়ে গেছে প্রায় সাত একর বীজতলা। যেভাবে পানি বাড়ছে আজ শুক্রবার রাতের মধ্যে অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।প্লাবিত গ্রামগুলো মধ্যে বায়েক ইউনিয়নের সীমান্তবতী খাদলা, মাদলা, শ্যামপুর, পুটিয়া, বেলতলী, অষ্টজঙ্গল, সস্তাপুর, সাগরতলা ও গৌরাঙ্গলাসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রাম রয়েছে।ইউপি আওয়ামী লীগ নেতা নুরুন্নবী আজমল বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা ঢলের পানির কারণে বায়েকের সালদানদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ রাতের মধ্যে গ্রামগুলোর বাড়ি ঘরেও পানি ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নজরদারি রাখছেন স্থানীয় প্রশাসন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলম প্লাবিত এলাকা পরিদর্শক করে বলেন, ঢলের পানিতে গ্রামের বিলগুলো এবং বেশ কিছু রাস্তাঘাটও তলিয়ে গেছে। তবে বাড়িঘরে এখনো পানি ওঠেনি। এখন পর্যন্ত ৭ একর ধানের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। মানুষ পানিবন্দী হয়ে গেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসদ উল আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজেরা বেগমসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা।
6
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যাঁরা দল ছেড়ে যেতে চান, তাঁরা দেরি করবেন না, তাড়াতাড়ি যান, ট্রেন ছেড়ে দেবে। সোমবার দুপুরে হুগলির পুরশুড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। মমতা বলেন, 'একবার দল ছাড়লে আর ফিরিয়ে নেওয়া হবে না। দলের চোরেরা পালিয়ে গেছে। আর যাঁরা যেতে চান, তাঁরা দেরি করবেন না, এখনই চলে যান। চোরেরা জানে, আসন্ন নির্বাচনে আর তাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না; সেটা বুঝেই পালাতে শুরু করেছে। পালান। দলও চায় এরা দল থেকে পালিয়ে যাক। কারণ, তৃণমূলে আর ঠাঁই হবে না, সেটা ওরা বুঝতে পেরেছে। তাই বলছি, লেজ গুটিয়ে পালাও। লেজে না হয় লঙ্কাকাণ্ডের মতো একটা কিছু লাগিয়ে দ্রুত পালাও।' মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, 'সিপিএম ও কংগ্রেস এই এই বাংলায় বিজেপিকে এনেছে। তাইতো ওরা জগাই-মাধাই-গদাই। এই জগাই-মাধাই-গদাইদের ঠাঁই হবে না এই বাংলায়। আর সিপিএম তো ৩৪ বছর অত্যাচার করেছে এই বাংলার মানুষের ওপর। তপসিলি, দলিত ও আদিবাসীদের জন্য কিছুই করেনি। আমরা করেছি। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ওদের উন্নয়নের জন্য। কারণ, তৃণমূল প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে জানে। জানে এই বাংলার মানুষও।' মমতা বলেন, 'এবারও বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি টাকার থলি নিয়ে আসবে আপনাদের কাছে। ওদের টাকা নেবেন না। আর যদি নিতেই হয়, তবে নেবেন, কিন্তু একটি ভোটও দেবেন না ওদের। ওদের টাকা তো বাংলার মানুষের কষ্টার্জিত টাকা। তাই ওদের টাকা প্রয়োজনে নেবেন কিন্তু একটি ভোটও দেবেন না। কারণ ওদের দল বহিরাগতদের দল। ওদের ঠাঁই নেই এই বাংলায়। আমাদের দল এই বাংলার। মনে রাখবেন, ওদের এবার একটিও ভোট নয়। তাই বলছি, এবার আর তাদের ঢুকতে দেওয়া হবে না এই বাংলায়। তাদের প্রতিহত করবে বাংলার মানুষ। আমি আজও বলছি, আমি আপনাদের পাহারাদার। আমিই আপনাদেরর রক্ষা করব। রেশন আর জুন পর্যন্ত নয়। বিনা মূল্যে আপনাদের এই রেশন চলবে আগামী দিনেও। তৃণমূল মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয় না। বাংলার উন্নয়নের জন্য তৃণমূল কাজ করে যাচ্ছে।' মমতা আরও বলেন, 'যাঁরা লাইন দিয়ে আছেন, তাঁরা ওদের পায়ে গিয়ে পড়েন। বিজেপি তো একটি ওয়াশিং মেশিন। চোরগুলো বিজেপিতে গিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। ওরা কালোটাকাকে সাদা করছে। নেতাজিকে ওরা অপমান করেছে। ২৩ জানুয়ারি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বাংলাকে অপমান করেছে ওরা। ওরা কবিগুরুকে অপমান করেছে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে অপমান করেছে। ভিক্টোরিয়ার ঘটনাও ছিল ওদের পূর্বপরিকল্পিত। আজ ওরা বাংলার মেয়েদের ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে। এটা মানবে না বাংলার মানুষ। এর জবাব দেবে। বিজেপি তো একটি ভুয়া দল। তাই বিজেপিকে বিশ্বাস করবেন না। বিশ্বাস করবেন না ওদের ভিডিওকে। সব ভুয়া। বানানো। ওদের কথা আর ভিডিওকে বিশ্বাস করবেন না। ওরা মিথ্যাকে সত্য বানাতে চায়।' আগামী এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচন সামনে রেখে মমতার তৃণমূল থেকে অনেকেই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।
3
ভোলার বোহানউদ্দিন উপজেলার মুলাইপত্তন গ্রামের মো. জামাল নামের এক ব্যক্তির বসতবাড়ি ভাঙচুর করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। এরপর হত্যার হুমকির মুখে সন্তানদের নিয়ে বাদী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগও রয়েছে।মামলার বাদী জান্নাত বেগম গত বৃহস্পতিবার ভোলা শহরের একটি পত্রিকা অফিসে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে জান্নাত বলেন, তাঁর স্বামী জামাল চট্টগ্রামে চাকরি করেন। তিন সন্তান নিয়ে তিনি মুলাইপত্তন গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। সম্প্রতি একই গ্রামের মো. নোয়াব মিয়া ওই জমির মালিকানা দাবি করেন। গত ১২ মে নোয়াব ও তাঁর ছেলে মো. ফিরোজ, ফয়েজ, সেলিমসহ একদল মানুষ তাঁদের পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যান। পর দিন বাগানের গাছ কেটে নেন। ১৮ মে নোয়াব দলবল নিয়ে তাঁদের বসতঘর ভাঙচুর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় বোহানউদ্দিন থানায় নোয়াব ও তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়। এর চার দিন পর তিনি বাদী হয়ে ভোলার আদালতে মামলা করেন। এতে প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের হত্যার হুমকি দেন। তাঁরা জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে হামলা ও জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াব মিয়া বলেন, এমন কোনো কিছু হয়নি। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।বোরহানউদ্দিন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টির তদন্ত চলছে।
6
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ভারত কখনও ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়ে না করেনি। কিন্তু বাস্তবতার কারণে তারা দিতে পারছে না। এমনকি কবে নাগাদ ভ্যাকসিন দিতে পারবে তারও কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার (২০ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ভ্যাকসিন পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সংখ্যা দিক দিয়ে বাংলাদেশ দেশটির অগ্রাধিকার তালিকায় না আসায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভ্যাকসিন আসছে না। একইসঙ্গে ব্রিটেনকে অনুরোধ জানানো হলেও সাড়া মেলেনি। চীনের ভ্যাকসিনের বিষয়ে এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, তিনটা ডকুমেন্টস এর দুটো পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কিছুটা দেরি হচ্ছে। এ সপ্তাহে এ কাজ শেষ হবার আশা করা হচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গেও কাগজপত্রের কাজকর্ম চলছে। কানাডার কাছেও অ্যাস্ট্রাজেনেকা চাওয়া হয়েছে। আলোচনা করে জানাবে দেশটি। কোরিয়ার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপনের স্মরণে ছবির একটি ঐতিহাসিক ফ্রেম হস্তান্তর করেন কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত। এসময় আইটি সেক্টরে বিনিয়োগ, এক হাজার ১১৪ জন শিক্ষার্থী যারা ফিরতে পারেনি, তাদের ফেরাসহ আরো শিক্ষার্থী নেবার আহবান জানান মন্ত্রী। এছাড়াও র্যাপিড টেস্ট সেন্টার এয়ারপোর্টে স্থাপনের বিষয় এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আলাপ হয়েছে এই বৈঠকে। বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক টিকা দেওয়ার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু করোনার মহামারীতে সবচেয়ে বিপর্যস্ত এখন দেশটি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের কাছে বিক্রি ও উপহার হিসেবে ৬ কোটি ৬০ লাখ ডোজ সরবরাহ করেছে তারা। কিন্তু এক মাস আগে সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এসময় ভারতেই টিকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন্দ্রীয় সরকার যখন প্রায় ৯৬ কোটি ভারতীয়র জন্য টিকা দেওয়ার কথা জানান তখন সরকারের হাতে প্রয়োজনের কাছাকাছি পরিমাণ টিকাও ছিল না। এর আগে মঙ্গলবার ড. মোমেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দ্রুত টিকা পাঠানোর অনুরোধ করেন। এসময় ভারত সময়মতো টিকা দিতে না পারায় বাংলাদেশকে টিকা দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরাধ করবেন বলে জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। কিন্তু করোনার আক্রান্তের হার ও মৃতের সংখ্যা তুলনামুলকভাবে কম থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশের অগ্রাধিকার নেই। যেসব দেশের আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেশি সেসব দেশ অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
6
ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে হামলার শিকার বাংলাদেশি জাহাজ 'এমভি বাংলার সমৃদ্ধি'-এর ২৮ নাবিককে রোমানিয়ায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এক নাবিকের মরদেহও নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন আজ শুক্রবার প্রথম আলোকে এ কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে (বাংলাদেশ সময়) জাহাজটি থেকে নাবিকদের ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের কাছে নিরাপদ একটি স্থানে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ইউক্রেনের পাশের দেশ পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে সবাইকে নেওয়ার কথা ছিল। গত বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টার দিকে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দর জলসীমায় নোঙর করে রাখা এমভি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজের তৃতীয় প্রকৌশলী মো. হাদিসুর রহমান নিহত হন। হামলার পর জাহাজ থেকে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন নাবিকেরা। বাংলাদেশি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় এবং নাবিকদের উদ্ধারে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় বৈঠক করে।
6
আফ্রিকার দেশ মালিতে সেনাবাহিনীর একটি দলের সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে ৮ সেনাসদস্য ও ৫৭ বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আহতদের মধ্যে ১৪ জন সেনাসদস্য। শুক্রবার মালি-বুরকিনা ফাসো-নাইজার তিন দেশের সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানিয়েছে।মালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একদল মোটরসাইকেল আরোহী বিদ্রোহী সৈন্যদের ওপর হামলা করলে ৮ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হন। পরে দেশটির সেনাবাহিনী বিমানবাহিনীর সহায়তায় হামলা চালালে ওই ৫৭ জন বিদ্রোহী যোদ্ধা মারা যান।দেশটির ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার শুক্রবার দেশটির বিদ্রোহীদের দমনে 'অতি দ্রুত' ফরাসি সেনা ও অস্ত্র সহায়তা কামনা করার মাত্র একদিনের মাথায় এই হামলা হল।প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মালি-বুরকিনা ফাসো-নাইজার সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনীর ওই দলটির ওপর প্রথমে একদল অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তি আক্রমণ করে। ওই আক্রমণেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা হতাহত হন।ওই এলাকায় গত সপ্তাহে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহত বেসামরিক নাগরিকেরা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সমর্থক ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে স্থানীয় গোষ্ঠীসহ ইসলামিক স্টেটস ইরাক অ্যান্ড লেভান্ট (আইএসআইএল) ও রয়েছে। সংবাদসসংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে আইএসআইএলের যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারনা করছে দেশটির সরকার।সাহেল অঞ্চলে বিস্তৃত সংঘাতের উপকেন্দ্র হল মালি। এই সংঘাতের ফলে এরই মধ্যে কয়েকহাজার মানুষ মারা গিয়েছে এবং অন্তত ২০ লাখ মানুষকে ঘরহারা হতে হয়েছে।
3
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে রোববার যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহিদুল ইসলাম কর্তৃক দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্ণারে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ, দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা এবং 'মুজিবনগর সরকার' শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন। আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন এবং মুজিবনগর বাঙালি জাতির বীরত্বের প্রতীক। রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর নামকরণ করা হয়। তিনি আরো বলেন, প্রথম সরকার মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক মতামতকে সুসংহত করেছে। ডেপুটি চিফ অব দ্য মিশন ফেরদৌসি শাহরিয়ার, মিনিস্টার (ইকোনোমিক) মেহেদি হাসান এবং কাউন্সিলর (পাবলিক ডিপ্লোমেসি) আরিফা রহমান রুমা আলোচনায় অংশ নেন। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের উত্তোরোত্তর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে একটি বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।
4
ঈদের পর রাজধানীর গণপরিবহনে যাত্রী পরিবহনে টিকিটিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ফলে বিদ্যমান গণপরিবহনগুলো টিকিট ছাড়া আর কোনো যাত্রী ওঠা-নামা কিংবা যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। আজ সোমবার (২০ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে সাংবাদিকদের একথা জানান ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন। বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির নবম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মেয়র বলেন, বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ঢাকা শহরের কোথাও টিকিট ছাড়া গণপরিবহনে যাত্রী চলাচল করতে পারবে না। এতে করে বিদ্যমান যে বাস সংকট এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ তার পরিত্রাণ হবে। 'তাই ডিটিসি, বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি এবং পরিবহন মালিকদের সমন্বয়ে বাসের টিকিট এবং কাউন্টার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে পরিকল্পনা নেওয়া হবে। আর ঈদের পর পরই যাতে এটি কার্যকর করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে'।
6
বাগেরহাটের মোংলায় স্বামীর খোঁজ নিতে গিয়ে এক ইউপি সদস্যের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন এক নারী। উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রণব কুমার মজুমদার শুধু যৌন হয়রানিই করেনি ১৯ দিন ধরে ওই নারীকে ফোন দিয়ে কুপ্রস্তাবও দিয়েছেন। যার অডিও কল রেকর্ড এরই মধ্যে ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য প্রণবকে আসামি করে আজ মঙ্গলবার মোংলা থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। পাশাপাশি মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও একটি অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তাতে সাড়া না দেওয়ায় তার বাড়িতে এসেও বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে মেম্বর প্রণব। গত ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ টানা ১৯ দিন ওই নারীর মোবাইলে ফোন করে মেম্বর প্রণব কুমার দৈহিক মেলামেশা করার জন্য নানা ধরনের কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। সেসব কুপ্রস্তাবের কল রেকর্ড তার শ্বশুর মাখন লাল দাসকে শোনালে তিনি মেম্বরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে শ্বশুরকে গুম ও আমাকে এসিড দগ্ধ করবে বলে হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে মিঠাখালী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বর প্রণব কুমার মজুমদারের দাবী 'সব ষড়যন্ত্র, ওই কল রেকর্ড এডিট করা'। তবে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল বলেন, কল রেকর্ড শুনেছি এটি মেম্বর প্রণবের কণ্ঠ। অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাবে তিনি যে কথা বলেছেন তা নিয়ে মন্তব্য করার ভাষা আমার নাই। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোংলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার বলেন, তিনি এই কল রেকর্ড শুনেছেন এবং লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে এবং এ কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেয়েই ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর
6
জয়তুনবুরনু বসফরাসতীরের অন্যতম একটি ব্যস্ত এলাকা। চমৎকার সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমাহারের পাশাপাশি প্রায় অর্ধশতকেরও বেশি দেশের শরণার্থীদের বসবাস জয়তুনবুরনুকে মুড়িয়ে দিয়েছে সীমাহীন বৈচিত্র্যের চাদরে। তাদের বিশাল একটি অংশ আফগানি। রাষ্ট্রীয় চোখে 'অবৈধ'। কাগজপত্র নেই। পুলিশও মোটাদাগে ধরপাকড় এড়িয়ে যায়। রাষ্ট্র ও শরণার্থীদের এই পারস্পরিক 'অসম' সম্পর্কের ক্রিয়াপ্রণালিতে তুরস্কের সিএনএন তুর্ক চ্যানেলে কর্মরত সাংবাদিক বন্ধু ভলকানের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। এই আগ্রহ নিবারণে আফগানিদের নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে যুক্ত হওয়ার জন্য নিয়মিত তাগাদা দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। অবশেষে গত গ্রীষ্মে 'হ্যাঁ বলেছিলাম' নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে থাকার শর্তে। মাঠকর্মের প্রথম দিনেই বিপুলসংখ্যক আফগানির ক্রিকেট ম্যাচের এলাহি আয়োজন দেখলাম জয়তুনবুরনুর সমুদ্রতীরে। এই আফগানি দলের নেতা ও অভিভাবক জালাল। ঐতিহাসিক বলখ শহরের বাসিন্দা তিনি। বছরখানেক আগে জালাল বন্ধুদের সমান ভাগীদার রেখে জয়তুনবুরনুতে খুলেছে ব্যাগের কারখানা। অনেকটা ঢাকার জিঞ্জিরার কায়দায় ক্রিশ্চিয়ান ডিওর থেকে শুরু করে ভালেন্তিন, পশ্চিমের দামি দামি ব্র্যান্ডের ব্যাগ জালালের কারখানায় তৈরি হয়ে যায় মুহূর্তেই। সখ্য বৃদ্ধির দরুন মাঠকর্মের পরবর্তী দিনগুলোতে জালালি গ্রুপের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতাম। আর ভলকান সেই ম্যাচের সময়ে ক্যামেরাবন্দী করে নিয়েছিল তথ্যচিত্রের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছু। দুইগ্রীষ্ম শেষ। মাঠকর্মও শেষ। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভলকানের তৈরি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার হয়েছে স্থানীয় সিএনএন তুর্ক চ্যানেলে। গত সপ্তাহে অনেকটাই অদৃষ্ট তাড়িত হয়ে আবার গিয়েছিলাম জয়তুনবুরনুতে। কিন্তু জালাল দলবলসহ উধাও। নিদারুণ ঝক্কিঝামেলা শেষে খোঁজ মিলল তাঁদের। পাঁচতলা ভবনের বেসমেন্ট, সবাই সমবেত জালালের ঘরে। খসখসে সবুজ দেয়ালে হেলান দিয়ে কোরআন পড়ছিলেন জালাল, বন্ধুদের কেউ ঘরের মেঝেতে উপুড় হয়ে শুয়ে ছিলেন, কেউবা আগরবাতির নির্মল ধোঁয়ার সামনে বসে ছিলেন নিঃসাড় হয়ে। ঘরের মেঝেতে ইরানি সবুজ গালিচায় সূর্যের কিরণের প্রতিবিম্বে সৃষ্টি হয়েছিল এক বেদনাময় বিকেল। তাঁদের একজন আত্মহত্যা করেছেন। নাম আশরাফ। জালালের ব্যাগের দোকানেই তিনি কাজ করতেন। সাপ্তাহিক আয়ও ছিল বেশ ভালো। আত্মহত্যার আগের দিনও আশরাফ কারখানায় কাজে গিয়েছিলেন, সন্ধ্যায় জয়তুনবুরনুর সমুদ্রতীরে বসে উপভোগ করেছিলেন রাতের সমুদ্র, বন্ধুদের সঙ্গে খেলেছিলেন ক্রিকেটও। স্থানীয় পুলিশ লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বলখে পাঠিয়েছে আশরাফের লাশ। আসলেই কি আত্মহত্যা ছিল, নাকি ধীরে ধীরে আশরাফদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে আত্মহত্যার দিকে, নৃবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে এই খটকা আমার দীর্ঘদিনের। তিনটুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর দুনিয়াজুড়ে মার্কিনিরা আরম্ভ করে 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ' নামক এক বিভীষিকা। এই যুদ্ধ-বিভীষিকা বোমা, ট্যাংক আর ড্রোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিস্তৃত হয়েছে জ্ঞানকাণ্ডের নানান শাখায়। 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের' ডিসকোর্স কিংবা চিন্তাধারায় একটি জনগোষ্ঠীকে হাজির করা হয় সন্ত্রাসী, আধুনিকতাবিরোধী ও অসভ্য হিসেবে। হলিউডের সিনেমাতে খারাপ, অসভ্য মানুষ হিসেবে চিত্রিত করা হয় আরব ও মুসলিমদের। সবুদ করার চেষ্টা করা হয় দেড় হাজার বছর বয়সী ইসলামকে মানবতাবিরোধী ধর্ম হিসেবে। অপরাধী করা হয় মুসলমান জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপকরণগুলোকে। ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী গার্গী ভট্টাচার্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধকে দেখেছেন মানুষের মূল্যবোধ, চেতনা এবং জীবনযাত্রা প্রণালির ওপর হামলা হিসেবে। লাগাতার এই কুখ্যাত চিত্রায়ণ এমন শোচনীয় বাস্তবতা নির্মাণ করেছে যে চাইলেই পশ্চিমা দেশগুলো সন্ত্রাস দমনের অজুহাত দেখিয়ে আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়ায় কিংবা অন্যান্য দেশে হামলা চালাতে পারে হরহামেশাই। নির্দ্বিধায় বধ করতে পারে তথাকথিত সন্ত্রাসী ও সাধারণ মানুষদের। আইন-কানুন, সবুদ কিংবা কৈফিয়ত নিষ্প্রয়োজন। চারঅন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো মার্কিনিদের 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের' ভয়াবহতা কিঞ্চিৎ কাটিয়ে উঠলেও ইরাক এবং আফগানিস্তানের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস হয়েছে মানুষের জীবনের স্বাভাবিকতা। দারিদ্র্য, অহরহ হামলা ও আশাহীনতা ধূলিসাৎ করেছে আফগানিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে। সম্ভবত স্বজন হারানোর ক্ষতমুক্ত কোনো পরিবার অবশিষ্ট নেই আফগানিস্তানে। এই স্বজনেরা হয় নিহত হয়েছেন কুখ্যাত গুয়ানতানামো বন্দিশিবিরে কিংবা বাগরাম সেনা ঘাঁটিতে নির্যাতনে অথবা স্বদেশে মার্কিনিদের নৃশংস ড্রোন হামলায়। তছনছ হয়েছে কোটি কোটি মানুষের জীবন। ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে স্বপ্নগুলো। পশ্চিমা এই আধুনিক সন্ত্রাস এবং নৃশংস ড্রোন হামলা থেকে বেঁচে থাকার আকুতি আফগানিদের জন্মভূমি থেকে দূরে পৃথিবীর নানান দেশে দেশান্তরিত করলেও মনস্তাত্ত্বিকভাবে মুক্তি দেয়নি মার্কিন সন্ত্রাসের ভয়াবহতা থেকে। এই মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনে লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, হতাশা, অনাহার আর পুলিশি হয়রানির দরুন সৃষ্ট দুর্বিষহ পরিস্থিতির কাছে পরাস্ত হয়ে জীবনের ইতি টানছেন আশরাফের মতো বহু আফগানি। পাঁচপ্রায় এক কোটি শরণার্থীর দেশ তুরস্কের গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি আশরাফের আত্মহত্যার বিষয়টি। আশরাফের কুলখানির প্রায় দুই সপ্তাহ পর আবার গিয়েছিলাম জয়তুনবুরনুতে জালালের বাসায়। মননে আশরাফের স্মৃতি দগদগে থাকায় তখনো বেদনায় মুষড়ে ছিলেন জালালি গ্রুপের সদস্যরা। বহু তাগাদায় মুখ খুললেন জালাল। জানালেন বয়সে ছোট হলেও আশরাফ ছিল তাঁর অত্যন্ত কাছের বন্ধু। বলখের এক মাদ্রাসায় একসঙ্গে পড়েছেন তাঁরা। ২০১২ সালের গ্রীষ্মে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন আশরাফের বাবা ও মেজ ভাই। চরমভাবে আহত হন বড় ভাই এবং মা, যখন আশরাফ ছিলেন কিশোর। বলখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক মাসের মধ্যেই শীতের কনকনে এক ভোরে দেহত্যাগ করেন আশরাফের বড় ভাই মুহিব্বুল্লাহ। কিশোর বয়সে কপর্দকশূন্য আশরাফ ভিটেবাড়ি এবং ভেড়াগুলো দুবাই নিবাসী প্রতিবেশীর কাছে বিক্রি করে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে বলখ থেকে কাবুল নিয়ে গিয়েছিলেন মাকে। শারীরিক ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে আশরাফের ৭১ বছর বয়সী মায়ের দুই পা কেটে ফেলা হয়েছিল; কিন্তু ক্ষত শুকায়নি। আর্থিকভাবে নিঃস্ব আশরাফের পক্ষে অসম্ভব ছিল মায়ের চিকিৎসার ভার বহন। সার্বিক বিবেচনা করে জালালের ছোট বোন জামিলাকে মায়ের দায়িত্ব অর্পণ করে ইস্তাম্বুলের পথ ধরেন আশরাফ। লক্ষ্য ছিল মায়ের চিকিৎসার জন্য কিছু অর্থ আয় এবং কয়েক বছরের মধ্যে ইস্তাম্বুল থেকে ফিরে গিয়ে পছন্দের নারী জামিলাকে জীবনসঙ্গী করে নেবেন। বলখ থেকে ইস্তাম্বুলের পথে ঘাটে ঘাটে মানব পাচারকারীদের নির্যাতনে বাম পা প্রায় অকেজো হয়ে গিয়েছিল আশরাফের। ভয়াবহ নির্যাতনের শেষে গত গ্রীষ্মের শুরুতে ইস্তাম্বুলে পৌঁছান তিনি। শুরু হয় নতুন অনিশ্চয়তা। লাগাতার কারখানার কাজ, নীরস শরণার্থীজীবনের সীমাবদ্ধতা, শারীরিক অসুস্থতা, অতীতের সীমাহীন সন্ত্রাসের ভয়াবহতা আর বলখে রেখে আসা অসুস্থ মায়ের জন্য দুশ্চিন্তা মানসিকভাবে পরাস্ত করে ফেলেছিল আশরাফকে। এই পরাজয় আত্মহত্যায় রূপ নেয়, যখন মায়ের মৃত্যুর খবর আশরাফ কাছে পৌঁছায়। দুই পা কেটে ফেলার দরুন সৃষ্ট ক্ষতের অসহ্য ব্যথা কেড়ে নিয়েছে আশরাফের মায়ের জীবন। মায়ের মৃত্যু এবং ছেলের আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে নিশ্চিহ্ন হয়েছে পুরো একটি পরিবার। আদতে আশরাফ আত্মহত্যা করেনি; খুন হয়েছেন। ধাপে ধাপে অপরাধীকরণের মাধ্যমে জীবনের আশাগুলোকে ড্রোন দিয়ে হত্যা করে, অনাহার এবং অচিকিৎসায় রেখে খুন করা হয়েছে আশরাফদের। খুনি ব্যক্তি বিশেষ নয় বরং মার্কিনিদের চাপিয়ে দেওয়া 'সন্ত্রাসের' বিরুদ্ধে অনবরত 'যুদ্ধ' নীতি। ছয়পুঁজিবাদী পশ্চিমা আধুনিক সন্ত্রাসের স্বীকার হয়ে আশরাফরা যেভাবে জীবনকে বিদায় বলছেন, ঠিক একইভাবে সিরিয়ানরা ডুবে মরছেন ভূমধ্যসাগরে। যেখানে যুদ্ধ সম্ভব হয়নি সেখানে হয় অর্থনৈতিক অবরোধ নতুবা সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে মার্কিনিরা দায়িত্ব নিয়েছেন মানুষকে 'সভ্য' করার। তুরস্ক আর তিউনিসিয়া সাম্প্রতিককালের জ্বলন্ত উদাহরণ। সচেতন পাঠকেরা একমত হবেন যে পশ্চিমা গণমাধ্যম এবং বিদ্যায়তনগুলোর একটি অংশের লাগাতার প্রচারণা শুধুই তালেবান, নারী শিক্ষা, হেরোইন উৎপাদন, নেশা, ব্যর্থ রাষ্ট্র এবং গণতন্ত্র নিয়ে। এসব ডিসকোর্সের মধ্য দিয়ে আফগানদের বোঝার একটি শক্ত প্রবণতা গেঁথে দেওয়া হয়েছে আমাদের চিন্তার মধ্যে। সাম্রাজ্যবাদীদের এই ডিসকোর্সের বাইরে গিয়ে একটি নিরপেক্ষ জমিনের পাটাতনে দাঁড়িয়ে আফগানিদের বোঝার সংগ্রামে অন্তভুক্ত না হলে অজান্তেই আমরা শত্রু হিসেবে গণ্য করতে শুরু করব জালাল, আশরাফসহ লাখ লাখ খেটে খাওয়া, মজদুর, অসহায় মানুষদের। বৈধতা পাবে সাম্রাজ্যবাদীদের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং নব্য উপনিবেশবাদ। উত্তর ঔপনিবেশিক সমাজগুলোয় কিংবা আধুনিক জাতি রাষ্ট্রব্যবস্থায় শত্রু-মিত্র কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু খেলা সব সময় সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ নিশ্চিত করেছে। রাহুল আনজুম মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক
8
পিরোজপুরের শংকরপাশা ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফয়সাল মাহাবুব শুভ মারা গেছেন। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত ১১টায় শুভর মৃত্যু হয়। জানা যায়, গত ৭ নভেম্বর বিকেলে সদর উপজেলার জি হায়দার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. তোফাজ্জেল হোসেন মল্লিক স্বপনের নির্বাচনী সভায় অংশগ্রহণ শেষে রাত সাড়ে সাতটার দিকে শহরে ফিরছিল নৌকা প্রতীকের সমর্থক দলীয় নেতাকর্মীরা। ফেরার পথে ওই ইউনিয়নের মল্লিক বাসস্ট্যান্ডে স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাও. নাসির উদ্দিন মাতুব্বরের লোকজনের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়। নির্বাচনী সহিংসতায় গুলি ছোড়ার ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত মাও. নাসির উদ্দিন মাতুব্বরকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রধান আসামি করা হয় তাকে। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকেও তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
6
বাংলাদেশ শুধু একটি জনবহুল দেশ নয়, অতিঘটনাবহুল দেশ। সমাজ বিশৃঙ্খল বলে এখানে ঘটে যত সব অস্বাভাবিক ঘটনা। একটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করার আগেই ঘটে আরেকটি ঘটনা, তাতে আগেরটি চাপা পড়ে যায়। সমাজে নানা রকম সমস্যা থাকবেই। সেগুলো সমাধানেরও উপায় থাকবে। তবে মানুষের যত রকম সমস্যা রয়েছে, তার মধ্যে খাদ্যদ্রব্যের অপ্রতুলতার সমস্যা প্রধানতম। অন্য যেকোনো কিছুর অভাব কিছু সময় পর্যন্ত সহ্য করা যায়, কিন্তু খাদ্য ও পানির অভাব অসহনীয়। গত দেড় শ বছরে খাদ্যসংকটের কারণে বাংলাদেশ এবং উপমহাদেশের যত সরকার বিপর্যস্ত হয়ে বিদায় নিয়েছে, অন্য কোনো কারণে তা হয়নি এবং বাস্তবতা হলো পরিস্থিতি সংকটাপন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো সরকারেরই টনক নড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে টনক যখন নড়ে, তখন আর কিছুই করার থাকে না। সেটা দেখা গেছে চল্লিশের দশকে দুর্ভিক্ষের সময়, পঞ্চাশের দশকে যুক্তফ্রন্টের সরকারের দুর্ভিক্ষাবস্থার মধ্যে এবং ১৯৭৪-এ। সম্প্রতি পেঁয়াজ নিয়ে যা ঘটেছে, তা কোনো সামান্য ব্যাপার নয়। তবে সেটি এমন এক খাদ্যবস্তু, যা না খেলে মানুষ মরে না। এক ভোক্তা টেলিভিশনে বলেছেন, তাঁর বাড়িতে ১৮ দিন যাবৎ পেঁয়াজ ছাড়াই রান্নাবান্না চলছে। কিন্তু চাল, ডাল, আটা, লবণ ছাড়া ১৮ ঘণ্টার বেশি চলা কঠিন হতো। মজুতদারি ও মুনাফাখুরির একটা মাত্রা আছে। প্রশাসনের প্রশ্রয় ছাড়া সেই মাত্রা অতিক্রম করার ক্ষমতা তাঁদের নেই। বাংলাদেশের পরিবহনমালিক-শ্রমিকেরা যেমন দুঃসাহসী, মজুতদারেরা তাঁদের চেয়ে কম দুঃসাহসী নন। পেঁয়াজ নিয়ে তাঁরা যে ড্রেসরিহার্সাল দিলেন এবং তাতে তাঁদের যে বিপুল সাফল্য, তাতে ভবিষ্যতে বড় রকমের বিয়োগান্ত নাটক মঞ্চায়নে তাঁদের জন্য কোনো সমস্যাই হবে না। প্রশাসন ও সরকারের দৌড় কতটা, তা তাঁরা বুঝে গেছেন। পেঁয়াজের দাম যা বাড়ার, তা তো বেড়েছেই, মানুষ তা মেনে নিয়েছে তাদের নিয়তি বলে, কিন্তু যা মেনে নিতে পারেনি তা হলো দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সুবচন। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিতে অনেকেরই সংকোচ নেই। বড় বড় কথা বলতেও লজ্জা হয় না। সর্বোচ্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্তা বললেন, দু-তিন বছর পর বাংলাদেশ ভারতে পেঁয়াজ রপ্তানি করবে। সব ব্যাপারে জনগণের সঙ্গে পরিহাস চলে না। তাঁর এই কথা বিশ্বাস করত মানুষ, যদি তাঁর আগের আর একটি কথা সত্য প্রমাণিত হতো। ১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকা কেজি হবে, এমন কথা তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন। আমার এই লেখা যেদিন প্রকাশিত হবে, সেদিন তাঁর ১০ দিনের সময়সীমা শেষ হবে। অবশ্য বাঙালি ঠাট্টা-মশকরা পছন্দ করে। কোনো কারণে কারও বক্তব্য ভুল বা অসত্য হলে ক্ষমা চাওয়াটাই রীতি। ক্ষমা চাইতে ভালো না লাগলে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত। আত্মপ্রতারণায় আমরা অদ্বিতীয়। এ সম্পর্কে আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে কৃষি পরিসংখ্যান নিয়ে। কর্মকর্তাদের সব মুখস্থ। কয়েক বছর আগে আমি এক উপজেলার একজন কৃষি কর্মচারীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তাঁর এলাকায় মাষকলাই চাষ হয় কী পরিমাণ জমিতে। তিনি একটা অঙ্ক বললেন এবং সেই সঙ্গে যোগ করলেন সারা দেশে কত একর বা হেক্টর জমিতে মাষকলাই চাষ হয়। আমি তাঁকে বললাম, আমার সারা দেশের খবরের দরকার নেই। আপনার এলাকার কোন মাঠে চাষ হয়, বলুন, আমি সেখানে দেখতে যাব। তিনি আমতা-আমতা করে মাথা চুকলাতে লাগলেন। যে দেশে আদমশুমারি হয় ঘরে বসে, সেখানে কৃষি পরিসংখ্যান টেবিলে বসেই হবে। বাংলাদেশে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউটের অভাব নেই। সেসব প্রতিষ্ঠানে লোকবলেরও ঘাটতি নেই। তবে কোনো গবেষক ও বিজ্ঞানী যদি একবার কর্মকর্তায় পরিণত হন, তখন তাঁর মনোযোগ থাকে ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতির প্রতি। তাঁর কাছে গবেষণার আনন্দের চেয়ে চাকরির বেতন-ভাতার আনন্দ বড় করে দেখা দেয়। প্রায় সব ধরনের মসলা আমাদের আমদানি করতে হয়। কোনো কোনো মসলা আমদানি করতেই হবে, যেমন এলাচি, দারুচিনি, লবঙ্গ প্রভৃতি। অধিকাংশ মানুষের ওসবের প্রয়োজন পড়ে না। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে মসলা গবেষণা প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানে গবেষকেরা আছেন। আমাদের বহু কৃষিবিজ্ঞানীর অবদানও অসামান্য। উচ্চফলনশীল অনেক কিছু তাঁরা উদ্ভাবন করেছেন। সেগুলো ফলিয়ে সাধারণ কৃষকেরা কৃষিতে উন্নতি ঘটিয়েছেন। মাছ, ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদনে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিপুল। কৃষিবিজ্ঞানীদের গবেষণা এক জিনিস, কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারকদের গবেষণা ও পর্যালোচনা অন্য বিষয়। দেশে কোন কৃষিপণ্যের প্রয়োজন কতটা, তা কৃষিবিজ্ঞানী নন, সরকারি কর্মকর্তাদের অঙ্ক কষে দেখার কথা। জনসংখ্যা বাড়লে চাহিদা বাড়বে, সুতরাং সেই অনুপাতে উৎপাদন বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সেইভাবে কৃষককে প্রণোদনা দিতে হবে। নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে সমস্যা দেখা দেবেই। সরকার অঙ্ক কষে দেখেছে যে বছরে ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ লোকে খায় এবং এটাও দেখেছে যে উৎপাদন ১৭-১৮ টন। আমরা আমাদের পারিবারিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, খেত থেকে তোলার পর পেঁয়াজের যে ওজন থাকে, তিন-চার মাসের মধ্যে তার ওজন কমে যায় ১০-১২ ভাগ। সে জন্য বাংলাদেশকে ১০ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। পেঁয়াজ-রসুনের ঘাটতি কমানোর পথ দুটি-উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানি করা। প্রথমটি ছিল সহজতর, অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর, কিন্তু সেটি না করে দ্বিতীয়টির ওপর নির্ভর করা হচ্ছে; কারণ, সেটা আমদানিকারকদের পছন্দ এবং তাঁদের উপকারে আসে। অন্যদিকে কৃষকেরাই-বা আরও বেশি উৎপাদন করতে চান না কেন? তাঁদের তা না চাওয়ার সংগত কারণ রয়েছে। পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রতি কেজিতে খরচ হয় ২৩-২৪ টাকা। সেই পেঁয়াজ উৎপাদন মৌসুমে তাঁরা বিক্রি করেন ১৫-১৬ টাকায়। কৃষকের ছেলেমেয়েদের এক-আধ দিন ইলিশ বা রুই মাছ খাওয়ার ইচ্ছা হয়। এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ বা রুই মাছ কিনতে বিক্রি করতে হয় ৪০ কেজি পেঁয়াজ। বাংলাদেশের জিডিপি তরতর করে বাড়ছে। জিডিপি বাড়ার জন্য আমরা ভারী শিল্পকারখানার ওপর জোর দিচ্ছি। তাড়াতাড়ি বড়লোক হওয়ার জন্য শিল্পকারখানা দরকার। এ যুগে শিল্পেও উন্নতি করতে হবে। তবে শিল্পে যদি অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভালো করতে না পারি, আমরা মরব না, কিন্তু কৃষিতে ভালো না করলে না খেয়ে মরার আশঙ্কা। কৃষির প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি আরও ইতিবাচক হওয়া দরকার। কৃষকেরা স্যুট-কোট পরেন না বলে সরকারি কার্যালয়ে তাঁদের কদর নেই। তাঁরা সড়ক পরিবহন ও নৌপথশ্রমিকদের মতো কথায় কথায় ধর্মঘট করতে পারেন না। তাঁরা সড়কে ধান ফেলে দিয়ে যে প্রতিবাদ করেন, তা সরকারের গায়ে লাগে না। ক্রেতা পর্যায়ে কৃষিপণ্যের দাম বাড়ার কারণ বর্তমান ব্যবস্থা। একটি পণ্য তিন-চার জায়গায় হাতবদল হয়ে ভোক্তার হাতে আসে। ফড়িয়া আছে, মজুতদার আছে, চাঁদাবাজি তো সীমাহীন। জাতীয় সংসদের মাননীয়দের অধিকাংশই হয় ব্যবসায়ী, নয় তো ব্যবসায়ীবান্ধব। দানাদার শস্য এবং শাকসবজি প্রভৃতির ফলন বাড়ছে। কিন্তু জমি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক অতিমাত্রায় ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ালে তা হবে আত্মঘাতী। সে জন্য খুব সতর্কতার সঙ্গে সমস্যা শনাক্ত করে কৃষিনীতি প্রণয়ন করতে হবে। খাদ্যশস্যের বাফার স্টক বা পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে হবে, যেমন অনেক উন্নত দেশ করে। মজুতদার, মুনাফাখোরদের প্রতি সদয় থেকে খাদ্যশস্যের ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রোধ করা সম্ভব নয়। কৃষক পান না ধানের দাম, অন্যদিকে চালের দাম বেশি-রহস্য কোথায়? চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন অটো চালকলের মালিকেরা। কিন্তু তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করার বা নজরদারিতে রাখার ক্ষমতা রাষ্ট্রযন্ত্রের নেই। সিন্ডিকেট নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠন করে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। খাদ্যে স্বয়ম্ভরতাকে অগ্রাধিকার না দিলে শুধু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল জাতি গঠন সম্ভব হবে না। সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও গবেষক
8
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের পর আজ পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে নিউমার্কেট এলাকা শান্ত দেখা গেছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।এসময় সড়কে ব্যবসায়ী-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। নিরাপত্তার জন্য এলাকায় বিপুল পুলিশ রয়েছে। তবে মার্কেটে দোকানপাট খোলেনি। নিউমার্কেট এলাকায় গত সোমবার দিবাগত রাতের পর গতকাল মঙ্গলবার দিনভর সংঘর্ষ হয়। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেট এলাকার বিপণিবিতানের দোকানমালিক ও কর্মচারীদের এই সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে আহত নাহিদ হোসেন (২০) নামের এক পথচারী গতকাল রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সংঘর্ষে অনেক আহত হন। ঢাকায় সাম্প্রতিক কালে এ ধরনের সংঘর্ষ হয়নি। সংঘর্ষের কারণে গতকাল প্রায় পুরো দিন রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক মিরপুর রোডের সায়েন্স ল্যাব থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল। তার প্রভাবে আশপাশের সড়ক কার্যত অচল হয়ে যায়। নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকার বিপণিবিতানগুলো গতকাল খোলা সম্ভব হয়নি। দফায় দফায় সংঘর্ষের পর গতকাল রাত সাড়ে ১০টার পর ছাত্র, দোকানমালিক ও কর্মীরা সড়ক থেকে সরে যান। পরে নীলক্ষেত-নিউমার্কেট এলাকার সড়কে যানচলাচল শুরু হয়। আজ সকাল থেকে নীলক্ষেত-নিউমার্কেট এলাকার সড়কে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। সকাল ১০টায় মিরপুর রোডের এই অংশে কোনো যানজট দেখা যায়নি। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও সংঘর্ষের পর আজও নিউমার্কেটসহ আশপাশের মার্কেটগুলো খোলেনি। নীলক্ষেত-নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী বা কর্মচারীদের উপস্থিতি নেই। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ট্রাফিক) নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার হারুন অর রশীদ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, 'এলাকার পরিস্থিতি আজ শান্ত রয়েছে। বিবদমান কোনো পক্ষকে আজ সড়কে দেখা যায়নি। নীলক্ষেত-নিউমার্কেট এলাকার সড়কে যানচলাচল এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।' এদিকে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার নিউ মার্কেট এলাকায় দিনভর সংঘর্ষের পর আজ বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নামতে পারে বলে সতর্ক রয়েছে পুলিশও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাতটি কলেজের মধ্যে ঢাকা, ইডেন ও কবি নজরুল কলেজ ছাড়াও রয়েছে বদরুন্নেসা কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ।
6
'আমি বাংলার জন্য কাজ করতে চাই। বাংলারই মেয়ে আমি। মমতাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আমায় আপন করে নিন। আমি আপনাদের জন্যই কাজ করতে চাই।' তৃণমূলের দলীয় অনুষ্ঠানে সভামঞ্চে এভাবেই বললেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। আজ সোমবার পশ্চিমবঙ্গে বাসন্তী ব্লকের মসজিদবাটিতে তৃণমূলের ওই দলীয় অনুষ্ঠান ছিল। সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ধন্যবাদও জানান নায়িকা। এদিন বাসন্তীর এই সভায় হাজির ছিল ঘাসফুল শিবিরের পাঁচ বিধায়ক। শ্রাবন্তীকে সভামঞ্চে দলীয় উত্তরীয় পরিয়ে দলের তরফে সম্মান জানানো হয়। ফলে স্পষ্ট বিজেপি ছাড়লেও রাজনীতির ময়দান থেকে সরতে নারাজ শ্রাবন্তী। বরং শিবির বদলে এবার মমতার ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক কেরিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। শ্রাবন্তী আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি অভিনেত্রী। তবে বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল জানান, 'শ্রাবন্তী এখন তৃণমূলে, অন্য কোনো দলে নেই'। গোটা ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতিতে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি পৌরনির্বাচনের আগেই তৃণমূল শিবিরে আরও তারকা প্রাপ্তি? চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে আচমকা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন শ্রাবন্তী। কিন্তু ভোটের ফল বের হওয়ার পর দেখা যায়, বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন ঘরের মেয়ে শ্রাবন্তী। তারপর থেকেই বিজেপির সঙ্গে আলগা হয় শ্রাবন্তীর সম্পর্ক। এরপর আগস্ট মাসে নায়িকার জন্মদিনে মমতা ব্যানার্জি তাকে শুভেচ্ছা চিঠি পাঠান। এতে আপ্লুত হয়ে মমতার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন শ্রাবন্তী। তারপর থেকেই শুরু হয়েছিল অভিনেত্রীর তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা, আর সেই জল্পনায় আজ কার্যত সিলমোহর পড়ে গেল। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
2
টানা দুই দিন বড় দরপতনের পর আজ টেনে তোলা হলো শেয়ারবাজার। আজ বুধবার সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৩১ পয়েন্ট, অবস্থান ৪ হাজার ৬৮ পয়েন্টে। লেনদেনের শুরুতে প্রথম আধা ঘণ্টায় সূচকটি ৮৩ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়েছিল। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৯৩ পয়েন্ট। বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তারল্য সংকট নিরসনে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে বাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার কিনতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে অবশেষে আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাজার। গত দুই কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচকটি কমে ১৭৫ পয়েন্ট। গতকাল মঙ্গলবার ডিএসইএক্স ৮৭ পয়েন্ট কমে ভিত্তি পয়েন্টের নিচে নেমে যায়। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ডিএসইএক্স ও ডিএস৩০ সূচক চালু হয়। ওই সময় ডিএসইএক্স সূচকের ভিত্তি পয়েন্ট ছিল ৪ হাজার ৫৫ পয়েন্ট। ডিএসইতে গতকালের তুলনায় আজ মোট লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। গতকাল মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৬২ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আজ লেনদেন হয়েছে ২৪২ কোটি ৮২ লাখ টাকার। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ২১০টির, কমেছে ৯৪টির এবং দর অপরিবর্তিত ৪৯টির। ডিএসইতে আজ লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মা, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড, এডিএন টেলিকম লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড, জেনেক্স ইনফয়েজ লিমিটেড ও এস এস স্টিল। দর বাড়ার শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো তোসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড, প্রিমিয়ার সিরামিকস, বিডি অটোকার, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইনস্যুরেন্স, এআইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও এপেক্স ফুডস। দর কমার শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড, স্টাইল ক্রাফট, এডিএন টেলিকম লিমিটেড, এটলাস বাংলাদেশ, লিবরা ইনফিউশন, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স ও জেমিনি সি ফুড লিমিটেড। অন্যদিকে, সিএসইতে হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ১২৫টির, কমেছে ৭৭টির এবং দর অপরিবর্তিত আছে ৩০টির।
0
ঢাকা: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে নিয়ে গোটা বিশ্ব সোচ্চার হয়ে উঠেছে। হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৪ শিশু ও ৩৮ নারীসহ ২২৭ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। বিপরীতে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১২ জন নিহত হয়েছে।ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশে দেশে প্রতিবাদ হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনও এর প্রতিবাদ জানাচ্ছে। করছে বিক্ষোভ। আজ বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লা জেলার একাধিক স্থানে, মাদারীপুর, ঢাকার দোহারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন আয়োজিত এসব কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে এই আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।ফিলিস্তিনের ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও বুয়েট শিক্ষার্থীদের সংগঠন অর্গানাইজেশন ফর স্টুডেন্টস অ্যাডভান্সমেন্ট (ঊষা)। আজকের পত্রিকার বুড়িচং প্রতিনিধি জানান, এই প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা ফিলিস্তিনের মানুষের পক্ষে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। আক্রান্ত ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং ইসরায়েলের বর্বর হামলার নিন্দা জানিয়ে এ সময় তাঁরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। উষা সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উষার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও কালিকাপুর আবদুল মতিন খসরু সরকারি কলেজের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মাছুম, সংগঠনের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও বুড়িচং প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি মো. ইকবাল হোসেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সোলায়মান প্রমুখ। এ সময় উষার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মামুনুর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুছাদ্দিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হারুনুর রশিদ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমরান আহমেদ সৈকত ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মেসবাহুল বারিসহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও ইউনিয়ন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।একই দিনে কুমিল্লার লাকসাম ও কুমিল্লা নগরে সামাজিক সংগঠন স্পার্ড প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বলে জানিয়েছেন আজকের পত্রিকার কুমিল্লা প্রতিনিধি। নগরের টাউন হলের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও দৈনিক কালজয়ী পত্রিকার সম্পাদক মিজানুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি ফয়েজ আহমেদ মোল্লা, কার্যনির্বাহী সদস্য শাহ জালাল মজুমদার, বিপনানন্দ দে, মো. জাভেদ হোসাইন, সৈয়দ খালেদ হোসেনসহ অন্যরা।ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে ঢাকার দোহার উপজেলায়। আজকের পত্রিকার দোহার প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জয়পাড়া থানার মোড় এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে বিলাসপুর ইসলামী কল্যাণ ফাউন্ডেশন।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এবারের ঈদুল ফিতরে বিশ্বের অন্য মুসলমানেরা যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন, ফিলিস্তিনি অধিবাসীরা তখন ব্যস্ত স্বজনের লাশ দাফনে। দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করছে। মানববন্ধন থেকে ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানান বক্তারা।একই আহ্বান জানানো হয়েছে মাদারীপুর জেলার শিবচরে স্থানীয় ছাত্র-যুবক ও সাধারণ মানুষ আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি থেকেও। শিবচর প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিবচরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে তা শিবচর প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে প্রায় আধ ঘণ্টা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বিক্ষোভকারীরা।
6
অর্থ পাচার মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই বরকত-রুবেলের ১২টি বাস পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার জন্য দুই পক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করছে। শহরের ওয়ারেল পাড়া এলাকার বাসিন্দা মিজান চৌধুরী এবং রুবেলের মেয়ে আফনান রাদিয়া তাঁদের বক্তব্যে একে অন্যকে দোষারোপ করেছেন। আজ বুধবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই দুজন তাঁদের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। জব্দ করা ওই বাসগুলো কারা পুড়িয়ে দিয়েছে, তা এখনো শনাক্ত হয়নি। জেলা পুলিশ এ ব্যাপারে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। যে জায়গায় ওই বাসগুলো রাখা ছিল, সে জায়গা নিজের দাবি করে মিজান চৌধুরী তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মৌজায় ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে কেনা ৪৬৩ শতাংশ জমির মধ্যে জোরপূর্বক ১৬০ শতাংশ জমি সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল দখল করেন। দুজনে তৎকালীন ওসি মো. নাজিম উদ্দিনের মাধ্যমে তাঁকে (মিজান চৌধুরী) থানায় আটকে রেখে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অবৈধভাবে কয়েকটি স্ট্যাম্পে ও রেজিস্ট্রি অফিসের টিপসহি বইতে টিপ ও স্বাক্ষর রেখে রাতে তাঁকে ছেড়ে দেন। বরকত ও রুবেল ধরা পড়ার পর এ বিষয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। মিজান চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে মেলা করার জন্য তাঁর কিছু জমি ভাড়া নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টিনশেড ঘর তোলেন বরকত-রুবেল। পরে মেলা না করে জোরপূর্বক দখলে নিয়ে ওই জায়গায় সাউথ লাইন পরিবহনের বাসগুলো রাখা শুরু করেন তাঁরা। এ ব্যাপারে লিখিত বক্তব্যে রুবেলের মেয়ে আফনান রাদিয়া বলেন, তাঁর বাবা গ্রেপ্তার হওয়ার আগে মিজান চৌধুরীকে অ্যাকাউন্ট পে-চেকের মাধ্যমে বিভিন্ন জমির অগ্রিম মূল্যবাবদ প্রায় দুই কোটি টাকা দেন। প্রতিটি ভাউচারে জমির মূল্য ও চেকের বিবরণসহ মিজান চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে এবং তিনি ইসলামী ব্যাংক ফরিদপুর শাখা থেকে এই টাকা উত্তোলন করেছেন। এখন তিনি জমি লিখে দিচ্ছেন না বা টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। জায়গা উদ্ধারের বিষয়ে মিজান চৌধুরী বলেন, বরকত ও রুবেল দুই ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি বরকত ও রুবেলের দখল করা জায়গাগুলো ছাড়ানোর উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘোরেন। সেই সঙ্গে জমিগুলো ফেরত পেতে মামলা করেন। সিআইডির জব্দ করা গাড়িগুলো তাঁর মালিকানাধীন জায়গায় রাখার কারণে তিনি সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য অথবা ওই জায়গার ভাড়া দেওয়ার জন্য লিখিতভাবে আবেদন করেন। এরপর সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের লিখিত আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ফরিদপুর পুলিশ সুপার ও তাঁর অধীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাহায্যে অন্যায়ভাবে দখল করা ওই জমির কিছু অংশ পুনর্দখল নিতে পেরেছেন। মিজান চৌধুরী বলেন, 'শত্রুতাবশত বরকতের স্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় আমার নামে বদনাম করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করছেন। তা ছাড়া আমার নিজের প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের জায়গা আমি তাদের দখল থেকে পুনরুদ্ধার করায় তাঁরা আমার ওপর খুবই অসন্তুষ্ট। তা ছাড়া ওই গাড়িগুলো নিজেরাই পুড়িয়ে দিয়ে আমার নামে বদনাম ছড়াচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপপ্রচার করছেন।' রুবেলের মেয়ে আফনান রাদিয়া বলেন, 'আমার বাবা ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. ইমতিয়াজ হাসান রুবেল মিথ্যা মামলায় ২২ মাস ধরে কারাগারে আছেন। কেউ অপরাধ করলে তাঁর বিচার হবে, এটাই আইনের শাসন। কিন্তু নিরপরাধ ব্যক্তিকে অপরাধী বানানোর জন্য এবং বিচারকে প্রভাবিত করার জন্য যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তার তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাই। নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের জিম্মায় থাকা আমাদের বাসে আগুন দেওয়া নিয়ে ফরিদপুর পুলিশের সংবাদ সম্মেলন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিজান চৌধুরীর মিথ্যা বক্তব্য প্রমাণ করে, বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। ভূমিদস্যু মিজান চৌধুরী নিজেকে বাঁচানোর জন্য প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে ব্যবহার করছেন।' আফনান রাদিয়া আরও বলেন, পুলিশ বাসের ইনস্যুরেন্স ও ব্যাংকের দায় সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ, যে ১২টি বাসে আগুন লেগেছে, তার কোনোটির ইনস্যুরেন্স চলমান নেই। শুধু তিনটি বাসের বিপরীতে লোন রয়েছে মাত্র ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই ১১ লাখ টাকার জন্য কেউ তার ৩ কোটি টাকার বাসে আগুন দেবে? যে জায়গায় বাসগুলো ছিল, সেই জায়গা নিয়ে মিজান চৌধুরীর সঙ্গে বিরোধ ছিল। এই জায়গা দখল করার জন্য এই ঘটনার কিছুদিন আগে স্থাপনাগুলো আদালতের অনুমতি ছাড়া বিক্রি করে দেয় এবং সেই জায়গা দখল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের পরিবারের ধারণা। মিজান চৌধুরী বলেন, তিনি মনে করেন তাঁর জায়গার ওপরে রাখা জব্দ করা গাড়িগুলো অরক্ষিতভাবে থাকায় যেকোনো সময় ওই গাড়িগুলোতে পুনরায় অগ্নিসংযোগ হতে পারে। তাই যত দিন পর্যন্ত গাড়িগুলো সরানো না হয়, তত দিন পর্যন্ত পুলিশি পাহারা দরকার। তিনি বলেন, 'প্রশাসন আমার সম্পদ ও জীবননাশের হাত থেকে রক্ষা করার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।' ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় ওজোপাডিকো গোয়ালচামট শাখার সামনে অর্থ পাচার মামলার আলামত হিসেবে বরকত-রুবেলের মালিকানাধীন সাউথ লাইন পরিবহনের ২২টি যাত্রীবাহী বাস রাখা ছিল। এলাকাটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে রঘুনন্দপুরে পড়েছে। ঢাকা সিআইডি মামলার আলামত হিসেবে ওই বাসগুলো জব্দ করে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলা পুলিশকে দেয়। ওই বাসগুলোর মধ্যে ১২টি বাস ১১ মার্চ দিবাগত রাতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল গফফার ১২ মার্চ বাদী হয়ে নাশকতার অভিযোগে মামলা করেন। ২১ মার্চ জেলা পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ইনস্যুরেন্সের টাকা পাওয়া ও ব্যাংকের দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অর্থ পাচার মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা বরকত-রুবেলের মালিকানাধীন ১২টি বাস পোড়ানো হয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাস পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের ঘনিষ্ঠ তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন জহুরুল ইসলাম ওরফে জনি (২৪) ও মোহাম্মদ আলী (৪১) ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলামের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাতে ইনস্যুরেন্সের টাকা পাওয়া ও ব্যাংকের দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বাস পোড়ানো হয় বলে তাঁরা জানিয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া জহুরুল ইসলাম গোয়ালচামট এলাকায় রাখা বরকত ও রুবেলের মালিকানাধীন ২২টি বাস দেখাশোনা করতেন। মোহাম্মদ আলী ওই বাসগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এ ছাড়া পারভেজ মৃধা (২১) নামের অপর একজনকে এ মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
6
দক্ষিণ এশিয়ান স্পিকারস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে গেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন এবং সাউথ এশিয়ান স্পিকার ফোরামের বর্তমান চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ভারতের উদ্দেশে শুক্রবার ঢাকা ত্যাগ করেন। খবর বাসসের আগামী ১৮-২০ ফেব্রুয়ারি ভারতের লোকসভা ও আইপিইউ -এর যৌথ উদ্যোগে ভারতের ইন্দোরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সাউথ এশিয়ান স্পিকারস সামিট অন এচিভিং দ্য সাসটেইনেবল ডেবলপমেন্ট গোল অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে এই স্পিকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সম্মেলনে যোগদানের জন্য আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী এমপিও একই বিমানযোগে ভারতের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। সংসদ সদস্য মো. হাবিবে মিল্লাত স্পিকারের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে উক্ত সম্মেলনে যোগদান করবেন। উল্লেখ্য, স্পিকার ইন্দোর সফর শেষে ২১ ফ্রেব্রুয়ারি ঢাকা ফিরবেন। স্পিকারকে বিদায় জানাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. আবদুর রব হাওলাদারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
6
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শীতের উপহার দিয়েছে 'শিশুদের হাসি ফাউন্ডেশন' নামের একটি সংগঠন। গতকাল মঙ্গলবার হোসেনপুরের প্রশিকা অফিস প্রাঙ্গণে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বেলা ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে শীতবস্ত্র বিতরণ ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠানে ৫০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে জ্যাকেট ও সোয়েটার দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কপ্রবাসী নুরুল হাসান ও হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোস্তাফিজুর রহমান।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুদের হাসি ফাউন্ডেশন সংগঠনটি স্কুলশিক্ষার্থীদের টিফিনের জমানো টাকায় পরিচালিত হয়। ২০১৭ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে সংগঠনটি ইতিমধ্যে উপজেলায় সুনাম কুড়িয়েছে।বিশাল রবিদাস (১২) ও আকাশ রবিদাস (১০) দুই ভাই। দুজনই লেখাপড়া করে হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুলে; পাশাপাশি হোসেনপুর বাজারে আকাশ মুদিদোকানে এবং বিশাল মুচির কাজ করে তাদের মতো বাজারে আরও অর্ধশতাধিক শিশু বিভিন্ন দোকানে কাজ করে। প্রত্যেক শিশুর পরিবারেই রয়েছে অভাব-অনটন। এই বয়সেই এসব শিশু পরিবারের আয়ের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এমন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দেওয়া হয় শীতবস্ত্র উপহার।
6
পশমের তৈরি পোশাকের ব্যবহার বন্ধ করলেন ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। হোক দুধ সাদা টুপি কিংবা হাল্কা বাদামি ওভারকোট, রানী এলিজাবেথের পোশাকে পশুর লোম বা 'ফার' এত দিন বেশ পরিচিত উপাদান ছিল। পশুর পশমের তৈরি পোশাক আর পরবেন না ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'তবে রাজকীয় অনুষ্ঠানে রানী পশমের তৈরি পোশাক পরবেন। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য যে পোশাকগুলো বিশেষভাবে পশমের তৈরি সে গুলোই শুধু পরবেন রানী।' রানীর এ সিদ্ধান্তে খুশি বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠন। পেটা-ইউকে জানিয়েছে, ব্রিটেন য সব ফারের পোশাক বিক্রি হয়, তার ৮৫ শতাংশ আসে বিদেশ থেকে। অত্যন্ত নৃশংসভাবে মারা হয় সেই সব পশুকে। 'এই সিদ্ধান্তের জন্য রানীকে আমাদের অভিবাদন।' 'হিউম্যান সোসাইটি' নামে একটি সংস্থার ডিরেক্টর ক্লেয়ার বাসের কথায়, 'রানীর এই সিদ্ধান্তের পরে আশাকরি সবাই বুঝবেন যে, ফার মানেই ফ্যাশনদূরস্ত নয়।' বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন লেবেল ইতোমধ্যেই পশম বা ফারের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। এই সব সংস্থার মধ্যে রয়েছে প্রাদা ও গুচি। মার্কিন সংস্থা মেসি'জ জানিয়েছে, ২০২০ অর্থবছরের মধ্যে তাদের সব দোকানে ফারের জিনিস বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সপ্তাহ দুয়েক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফর্নিয়া রাজ্যে ফারের জিনিসের উৎপাদন ও বিক্রি বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গ্রাহ্য হবে বলে ঘোষণা করা হয়। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
নগরীর পাঁচলাইশ থানার অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি থেকে ১০ মামলার আসামি কুখ্যাত ডাকাত মো. মানিককে (৩৫) একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, ঘর ভাঙার সরঞ্জাম এবং চোরাই মালামালসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭ এর একটি টিম। র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, গত ১৬ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এস এম এম জিয়া হোসাইনের (৮৬) নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির বাসায় জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার ছায়া তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩ জনকে শনাক্ত করা হয়। গতকাল ভোর ৪টার দিকে র্যাবের একটি টিম অভিযান চালিয়ে ডাকাত মো. মানিককে একটি ওয়ান শুটার গান ও ২ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করে। এ সময় আরো কিছু দেশীয় অস্ত্র ও ঘর ভাঙার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে মানিককে নিয়ে চান্দগাঁও থানা এলাকায় তার বাসা ও তার সহযোগীদের বাসায় অভিযান চালিয়ে আরো কিছু অস্ত্র ও ডাকাতির সরঞ্জামসহ উদ্ধার করে র্যাব।
6
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বুক সর্টার, নিরাপত্তাপ্রহরী, মালি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব পদের পরীক্ষা ২০ মার্চ রাজধানীর ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষার আসনবিন্যাস প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বলেছে, ২০ মার্চ বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বুক সর্টার, নিরাপত্তাপ্রহরী, মালি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষার প্রবেশপত্র টেলিটকের নির্ধারিত ওয়েবসাইট (://...) থেকে ডাউনলোড করতে হবে। মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চার ক্যাটাগরির লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার সময় তাঁদের উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা হবে। এতে গরমিল পাওয়া গেলে প্রার্থীতা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনাগুলো হলো- ১. এ পরীক্ষার প্রবেশপত্র ://... ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে হবে। ২. এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রার্থীদের নিজ নিজ মুঠোফোন নম্বরে টেলিটক কর্তৃক এসএমএসের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে। এসএমএসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। ৩. পরীক্ষার হলে প্রবেশের পূর্বে প্রয়োজনীয় তল্লাশি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মুখে মাস্ক পরে প্রার্থীদের কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। প্রবেশপত্র ও মাস্ক ছাড়া কোনো প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। ৪. পরীক্ষার্থী কোনোক্রমেই পরীক্ষার কেন্দ্রে ফোন, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, প্রবেশপত্রের একাধিক কপি, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। ৫. প্রবেশপত্রের ছবি ও স্বাক্ষরের সঙ্গে উপস্থিতিপত্রের ছবি ও স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখা হবে। গরমিল পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ৬. পরীক্ষা শেষে প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন। প্রত্যাবেক্ষকেরা উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে বুঝে নেওয়ার পর প্রার্থীরা পরীক্ষাকক্ষ ত্যাগ করবেন। প্রার্থীরা প্রশ্নপত্র নিয়ে যেতে পারবেন না। চাকরির আসন বিন্যাস এখানে দেখুন
1
ঝালকাঠি নলছিটিতে গলায় মাফলার প্যাঁচানো অবস্থায় সোবাহান খলিফা (৬০) নামে ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁকে হত্যা করে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার সকালে ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলার মগর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকার সড়কের পাশে তাঁর মরদেহ দেখে এলাকাবাসী নলছিটি থানায় খবর দেয়।পুলিশ এসে মরদেহের পাশে থাকা একটি মুঠোফোন উদ্ধার করে সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মৃতের পরিচয় নিশ্চিত করে।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোবাহান খলিফা তিনি পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। তিনি নলছিটি তিমিরকাঠি এলাকার মৃত রসিদ খলিফার ছেলে। সোবাহান প্রতিদিনের মতো শুক্রবার ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাত থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়।নলছিটি থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈনুল হক জানান, 'সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি হাসপাতালে প্রেরণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
6
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আজ শনিবার সকালে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের কাউন্সিল শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। স্লোগান দিয়ে হঠাৎ মিলনায়তনের ভেতরে ঢোকেন কয়েকজন। এ নিয়ে হইচই, মারধর, কথা-কাটাকাটি ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ১০টায় কাউন্সিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ঘণ্টাখানেক পরে তা শুরু হয়। এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর গণফোরাম নেতা মোস্তফা মোহসীনের (মন্টু) নেতৃত্বাধীন গণফোরামের কাউন্সিল হয় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। সেখানে মোস্তফা মোহসীনকে সভাপতি ও সুব্রত চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে গণফোরাম দৃশ্যত বিভক্ত হয়। আজ সকালে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের কাউন্সিল উপলক্ষে নেতা-কর্মীরা মিলনায়তনে আসতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাউন্সিল শুরুর আগে সোয়া ১০টার দিকে স্লোগান দিয়ে হঠাৎ মিলনায়তনের ভেতরে ঢোকেন কয়েকজন। তাঁদের কারও কারও হাতে পাইপ দেখা যায়। শুরু হয় হইচই। তাঁদের আক্রমণে কাউন্সিলে আসা কয়েকজন আঘাত পান। একপর্যায়ে মিলনায়তনে রাখা চেয়ারও ছুড়ে মারেন তাঁরা। অন্যপক্ষ তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে। ছিঁড়ে ফেলা হয় কাউন্সিলের ব্যানার। শুরু হয় ছোটাছুটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে কয়েকজন ছাড়া কাউন্সিলে আসা কর্মী-সমর্থকেরা মিলনায়তনের বাইরে বেরিয়ে আসেন। সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। হামলার শিকার হন কাউন্সিলে থাকা গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানসহ কয়েকজন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মিলনায়তনে ১১টায় কাউন্সিল শুরু হয়। এর আগে মিলনায়তনের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, চেয়ারগুলো স্তূপ করা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মঞ্চের পেছনে ব্যানারও নেই। প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে শাহবাগ থানার পরিদর্শক শেখ আবুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, প্রেসক্লাবের ফটকের বাইরে রাস্তায় যেসব মানববন্ধন বা কর্মসূচি হয়, সেগুলোর দিকে তাঁরা নজর রাখেন। ভেতরের অনুষ্ঠানের বিষয়ে খবর রাখেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গণফোরামের কাউন্সিল চলছিল। বাইরেও যুব ফোরামের একটি মানবন্ধন শুরু হয়। হঠাৎ এই যুব ফোরামের লোকজন ভেতরে চলে আসছিলেন। হঠাৎ হট্টগোল শুনে ভেতরে ঢুকে দেখেন, এক পক্ষের সঙ্গে আরেক পক্ষের চেয়ার-ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। পরে জানতে পারেন, তারা (গণফোরামের) অন্য একটি পক্ষের যুব সংগঠন, এখানে হামলা করেছে। পরে তাদের প্রেসক্লাব থেকে বের করে দেওয়া হয়। হামলার পর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মোকাব্বির খান সাংবাদিকদের বলেন, 'সম্মেলন শুরুর আগমুহূর্তে কিছু দুষ্কৃতকারী সম্মলন পণ্ড করে দেওয়ার জন্য হামলা করে। আইনজীবী মহসীন রশীদের নেতৃত্বে হেলাল উদ্দিন ও আফ্রিক ছিল। তারা ভাড়াটে গুন্ডাদের আনে। তাদের হাতে রড ছিল। তারা অতর্কিত মিলনায়তনে ঢুকে আমাকেও রক্তাক্ত করেছে। নারীনেত্রী-কর্মীসহ কয়েকজনকে রক্তাক্ত করেছে। প্রায় দুই ডজন নেতা-কর্মীকে রক্তাক্ত করেছে।' সম্মেলনের বিষয়ে পুলিশকে জানানো হলেও হামলার সময় তারা ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ করেন মোকাব্বির খান। অতঃপর কাউন্সিল, সভাপতি ড. কামাল হোসেন বেলা ১১টায় মোকাব্বির খানের সভাপতিত্বে কাউন্সিল শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সুরাইয়া বেগম। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিক উল্লাহ, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মফিজুল ইসলাম কামাল, আলতাফ হোসেন, এ এইচ এম খালেকুজ্জামান, সগীর আনোয়ার, সেলিম আকবর; সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মোশতাক আহমেদ, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব নূরুজ্জামান প্রমুখ অংশ নেন। সভাপতির বক্তব্যে মোকাব্বির খান বলেন, 'সন্ত্রাসীরা, এজেন্টরা দল থেকে এখন পালিয়ে গেছে। এই সভাকক্ষে ও সম্মেলনে যাঁরা আছেন, তাঁরাই প্রকৃত ড. কামাল হোসেনের নীতি-আদর্শের সৈনিক।' জনগণের অধিকার আদায়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান। তিনি বলেন, 'ভোটাধিকারসহ জনগণের অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এখন জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলেই জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা যাবে।' গণফোরামের সভাপতি হিসেবে ড. কামাল হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন মোকাব্বির খান। তিনি বলেন, 'একটি আবেদন রাখতে চাই। ড. কামাল হোসেন উপস্থিত নেই। তারপরও এই কাউন্সিল থেকে আমি প্রস্তাব রাখতে চাই ড. কামাল হোসেনকে আমরা আবার এই সম্মেলন থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তাব রাখছি।' এ সময় সম্মেলনে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকেরা হাত তুলে ওই প্রস্তাবে সমর্থন জানান। তখন ড. কামাল হোসেনের একটি চিঠি পড়ে শোনান মোকাব্বির খান। চিঠির ভাষ্য, অসুস্থতার কারণে কামাল হোসেন সশরীর উপস্থিত হতে পারেননি। জাতীয় কাউন্সিলের সমাবেশকে স্বাগত ও আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সফলতা কামনা করেছেন তিনি। চিঠিতে ড. কামাল হোসেন আরও উল্লেখ করেন, 'আমি সব সময় ঐক্যের কথা বলেছি। আশা করি, গণফোরামের সব নেতা-কর্মী ও সমর্থক ঐক্যবদ্ধভাবে দল পরিচালনা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাবেন।' শেষ পর্যায়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মোশতাক আহমেদ বলেন, 'অপশক্তি আমাদের কাউন্সিলের শুরুতে আক্রমণ করেছিল। তারা পরাজিত হয়েছে। আমরা কাউন্সিল সফল করেছি।' এরপর ড. কামাল হোসেন, মোকাব্বির খান, মফিজুল ইসলাম কামালসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সাবজেক্ট কমিটির প্রস্তাব করেন মোশতাক আহমেদ।
6
আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল বলে পরিচিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই ধর্মব্যবসায়ীদের পাল্লায় পড়ে বিভ্রান্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ যারা করে, তাদের অনেকের মনেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা নেই। সম্ভবত বিজয়ের সবচেয়ে বড় পরাজয় হয়েছে এখানেই।যে রথী-মহারথীরা এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বোঝাতে চাইছেন যে, পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখেছিল ইকবাল নামের যে লোকটি, সে উন্মাদ, কিংবা আরেক দল বৈজ্ঞানিক বোঝাতে চাইছেন, সিসিটিভিতে দেখানো ঘটনাবলিতে 'রহস্য' আছে, তারা এই বাকোয়াজ চালিয়ে যাক। এটা চলতেই থাকবে। তাতে মূল যে সংকট, তা কাটবে না। মূল সংকট হলো, দুর্গাপূজার সময় হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ কোরআনের অবমাননা করেনি, করেছে একজন মুসলমান। সেই কোরআন উদ্ধারের সময় ভিডিও করে ফেসবুকে তা ছড়িয়ে দিয়েছে যে, সে-ও মুসলমান এবং সেই ভিডিও দেখে কাণ্ডজ্ঞানশূন্য হয়ে যারা দলে দলে ছুটে গিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হিন্দুবাড়িতে আগুন দিয়েছে, তারাও মুসলমান।তাহলে 'মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতি'তে যারা আঘাত করল, তারা মুসলমান হওয়ায় এখন কি দেশজুড়ে সব মুসলমানের বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালাবে এই ধর্মোন্মাদেরা?আলোচনায় আসা উচিত এই ব্যাপারটাও যে 'ইসলামের অবমাননা'র ধুয়া তুলে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িঘর লুট, অগ্নিসংযোগ, প্রহার, ধর্ষণ, হত্যা করার ইন্ধন যারা দিচ্ছে এবং যারা তা করে দেখাচ্ছে, তারা সবাই একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোসর নয়। ধর্মান্ধ হতে হলে এখন কোনো নির্দিষ্ট রাজনীতির লেবাস পরা লাগে না। যেকোনো দলেই ঘাপটি মেরে থাকতে পারে এই বীরপুঙ্গবেরা। রংপুরের পীরগঞ্জের জেলেপল্লিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হামলার নেতৃত্বে যখন সৈকত মণ্ডল নামে ছাত্রলীগের একজন নেতা থাকেন, তখন বুঝতে হয়, ছেলেভোলানো ছড়া দিয়ে দেশের নাগরিকদের ঘুম পাড়িয়ে রাখা যাবে না। সমাজকাঠামোটা যে ভেতরে-ভেতরে ক্ষয়ে গেছে, পারস্পরিক সম্পর্কগুলো যে আর দৃঢ়ভাবে টিকে নেই, সেটা যদি এখনো বোঝা না যায়, তাহলে এই গড্ডলিকা প্রবাহই হয়তো আমাদের নিয়তি বলে একদিন স্বীকৃত হবে। একদিন বলা হবে, এই জাতি নিজেই নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছিল।আলোচনাটা এখান থেকেই শুরু হওয়া দরকার। অন্য ধর্মের প্রতি কতটা ঘৃণা মনে পুষে রাখলে এহেন তাণ্ডব চালানো যায়, সেটাই আসলে দেখা দরকার।কয়েকটি দিক দিয়ে দেখা যাক ঘটনাটি।এক. দেশের সবখানেই কি ধর্মান্ধ গোষ্ঠী হামলা চালিয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে বিবেচনাবোধকে কাজে লাগিয়ে। যা ঘটেছে, তা পৈশাচিক। কিন্তু তাই বলে সব মুসলমানকে হামলাকারী ভাবা হবে বোকামি। বদমাশদের প্ররোচনায় মোটেই সবাই বিভ্রান্ত হয়নি। কিন্তু তাতে তৃপ্তিলাভের অবকাশ নেই। যেসব এলাকায় হামলা হয়েছে, সেসব এলাকার মানুষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময়মতো প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারেনি। তোলার চেষ্টা কি হয়েছিল? এখানে যে প্রশ্নটি এসে যায় তা হলো, হামলা ঠেকানোর মানসিকতা কেন ছিল না সিংহভাগ মানুষের? যেখানে আগুন জ্বলেছে, সেখানকার সিংহভাগ মুসলমান কেন সব মেনে নিয়েছিল? ভয়টা ছিল কিসের? তার মানে সত্যিই ধর্মান্ধ মানুষকে ভয় করার মতো কারণ সমাজে বিদ্যমান আছে? প্রতিবছরই প্রতিমা ভাঙার কাজটা অক্লেশে করে যাচ্ছে এরা। প্রতিবছরই একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারছে। বিচারহীনতাকে এর একটা বড় কারণ বললে কি খুব বেশি বাড়াবাড়ি হবে?সেই সঙ্গে জোর দিয়ে আগে বলা কথাটি আবার বলতে চাই, সমাজে মানুষে-মানুষে সম্পর্কে ঘুণ ধরেছে। মানুষ নিজেকে মানুষ হিসেবে পরিচয় না দিয়ে ধর্মীয় পরিচয়টা বড় করে দেখায় ধর্মবিদ্বেষটা উসকে দেওয়া সহজ হয়েছে। তাই ধর্মান্ধদের এই আস্ফালনের প্রতি কি একধরনের পরোক্ষ সায়ও আছে কারও কারও মনে?দুই. কোনো কোনো জায়গায় মুসলিম জনগণই এই হামলাকারীদের প্রতিরোধ করেছে। অন্য এলাকা থেকে এসে প্রতিমা ভাঙচুর করার সময় হিন্দু-মুসলমান সবাইকে মেরেছে বহিরাগতরা। হামলাকারীদের কাউকে কাউকে আটক করার পর তারা স্বীকার করেছে যে, অন্য এলাকা থেকে প্রতিমা ভাঙতে তারা এসেছে। কারা এদের ইন্ধন দিয়েছে, সেটা খুঁজে বের করা কি খুব শক্ত ব্যাপার? খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই তরুণদের বয়স কিন্তু আঠারো থেকে পঁচিশের মধ্যে। এখানেও আমরা একটা প্যাটার্ন দেখতে পাব। এরা ইন্টারনেট, স্মার্টফোন নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে পারা প্রজন্ম। বিংশ শতাব্দীর একটা বড় সময় পৃথিবীজুড়ে এই বয়সী তরুণদের বেশির ভাগই বামপন্থায় বিশ্বাসী হতো। এই বিশ্বাস কীভাবে ধর্মান্ধতার দিকে গেল, সেটাও তো বিবেচনা করে দেখা দরকার।তিন. ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা গোটা বিশ্বেই বাড়ছে। তার বহু কারণ রয়েছে। ধর্মবিরোধ উসকে দেওয়ার কাজটি সব ধর্মের উন্মাদেরাই করে যাচ্ছে। এবং তা করা হচ্ছে সবগুলো মহাদেশেই। সে আলোচনা নিশ্চয়ই একদিন করতে হবে। আজ আমাদের ঘরে এসে আঘাত করা সংকটটা নিয়েই কথা বলা দরকার।যখন আমাদের দেশের সংকট নিয়ে কথা বলতে চাই, তখন অনেক মতলবি প্রশ্নের মধ্যে যেটা অহরহ শুনতে হয় তা হলো, 'ভারতেও তো মুসলিম নির্যাতন হচ্ছে।' প্রশ্নটা এমন এক অহংকার নিয়ে করা হয় যে মনে হয়, ওরা ওখানে মুসলমানদের মারছে বলেই আমরা এখানে হিন্দুদের মারব।এটা যে মূর্খতার চূড়ান্ত, সেটা নতুন করে বলার নয়। ঘর জ্বলছে আমার, আর আমি সে আগুন নেভানোর চেষ্টা না করে বলছি, 'ওরাও তো আমার জ্ঞাতি ভাইয়ের ঘর পোড়াচ্ছে!' মানুষ কতটা অবিবেচক হলে এ ধরনের মানসিকতা বহন করতে পারে!একাত্তরের পরাজিত শক্তিই যদি এই নির্মমতা একহাতে ঘটাতে পারে, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের স্থানীয় নেতারা কোথায় আছেন? তাঁরা কেন এই উন্মাদনা রুখে দিতে পারেন না? কেন তাঁরা পূজার আগে নিজ এলাকার নিরাপত্তা বিধান করতে পারেন না?এর কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যাবে, আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল বলে পরিচিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই ধর্মব্যবসায়ীদের পাল্লায় পড়ে বিভ্রান্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ যাঁরা করেন, তাঁদের অনেকের মনেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা নেই। সম্ভবত বিজয়ের সবচেয়ে বড় পরাজয় হয়েছে এখানেই। মানবতার মূল সুরটাই হারিয়ে গেছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মের নামে শোষণ চালাতে পারবে না কেউ, এ-ই তো ছিল মুক্তির জন্য যে যুদ্ধ হয়েছিল, তার মূল মর্মবাণী। আমরা নিজেদের দিকে তাকিয়ে একটু দেখলেই বুঝতে পারব, সেগুলোর কিছুই এখনো অর্জিত হয়নি।এ লেখায় সংকটের সব বিষয় আনা গেল না। শুধু একটা জায়গাকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে বলছি: ধর্মান্ধতার বীজ ছড়িয়েছে, কারণ ধর্মকর্ম নিয়ে কথা বলার অধিকার যাঁদের আছে, তাঁদের অনেকে ধর্মের অপব্যাখ্য দিয়ে অন্য ধর্মের প্রতি মানুষের মনে ঘৃণার জন্ম দিয়েছেন। মসজিদে-ওয়াজে অন্য ধর্মের প্রতি যে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে বছরের পর বছর, সেই বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য কাউকে বিচারের সামনে পড়তে হয়নি (ইদানীং কিছু ভণ্ড হুজুরকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে)। এই প্রচারণার কারণে শুধু স্বাধীনতাবিরোধী চক্রই ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করছে না, আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল সব দলের সদস্যরাও তাতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং একসময় বানোয়াট গুজবের পাল্লায় পড়ে তিনিও তাঁর 'ধর্মীয় অনুভূতি'তে আঘাত পাচ্ছেন। অর্থাৎ তাঁদের মধ্যেও প্রচ্ছন্নভাবে জন্ম নিচ্ছে ধর্মান্ধতা। এ যেন বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা।ধর্ম নয়, ধর্মের লেবাসে ধর্মের অপব্যাখ্যার শিকার হয়ে যাঁরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সেটাই শঙ্কার সবচেয়ে বড় ব্যাপার।লেখক: উপসম্পাদক, আজকের পত্রিকা।
8
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ উইকেট ক্লাবে প্রবেশ করতে আর মাত্র ২ উইকেট প্রয়োজন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। টি-টোয়েন্টিতে ৩৫০ ম্যাচে ৩৯৮ উইকেট শিকার আছে সাকিবের। আগামীকাল শুক্রবার চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে গ্রুপ-১-এ নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে ২ উইকেট নিতে পারলেই সংক্ষিপ্ত ভার্সনে চতুর্থ বোলার হিসেবে ৪০০ উইকেট শিকার করবেন সাকিব। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মালিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্রাভো, সুনীল নারাইন, দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির। ব্রাভোর ৫০৯ ম্যাচে ৫৫১টি, নারাইনের ৩৮৩ ম্যাচে ৪২৫টি এবং তাহিরের ৩৩৪ ম্যাচে ৪২০টি উইকেট রয়েছে। সূত্র : বাসস
12
তিনি তামিল সিনেমার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। তিনি রজনীকান্ত, শত শত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তাঁর একটি সংলাপ ভক্তদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এটি হলো, 'কীভাবে বা কখন কী করব, তা আমি কখনোই তোমাকে বলব না। যখন করব, তখনই বুঝতে পারবে।' অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল তিনি রাজনীতিতে নামবেন। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নামলেন তিনি। নেমেই বললেন, তিনি কোনো দিন মুখ্যমন্ত্রী হতে চাননি। তিনি শুধু চেয়েছেন রাজনৈতিক পরিবর্তন।তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন আগামী বছর। তার আগে রাজনীতিতে প্রবেশের পরিকল্পনা করে ফেলেন থ্যালাইভা। গত সপ্তাহে তিনি ঘোষণা করেন, তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন। তা নিয়েই বৃহস্পতিবার আয়োজিত সাংবাদ সম্মেলনে রজনীকান্ত বলেন, 'আমি কখনো মুখ্যমন্ত্রী পদের কথা ভাবিনি। বিধানসভায় বসব, এটা ভাবিনি। আমি শুধু রাজনীতিতে একটা পরিবর্তন চেয়েছি। এখনই যদি রাজনীতি ও সরকারে পরিবর্তন না আসে, তাহলে আর তা কখনো হবে না। আমি দলের প্রধান হয়েই থাকতে চাই।' সত্তর ছুঁইছুই রজনীকান্ত চেন্নাইয়ের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'দুজন লিজেন্ড ছিলেন আমাদের রাজনীতিতে, একজন জয়ললিতা ও অপরজন করুণানিধি। মানুষ তাঁদের ভোট দিয়েছেন। কিন্তু একটু ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে। এখন পরিবর্তন আনতে আমাদের নতুন আন্দোলন শুরু করা দরকার।' অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানান তিনি। যে দলগুলো বর্তমানে আছে, তাদের কারও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা নেই বলে মত থ্যালাইভার। তাঁর নয়া দলে তরুণ প্রজন্মকে কাজ করার সুবিধা করে দিতে চান বলে রজনী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'বিগত বছরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে যে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছি, তাকে কাজে লাগাতে চাই। আশা করি আমাদের লোকদের প্রতি আপনারা বিশ্বাস রাখবেন।'এর আগে ভারতীয় সাময়িকী 'ইন্ডিয়া টুডে'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রজনীকান্ত বলেছিলেন, রাজনীতি একটি বিপজ্জনক খেলা। রজনীকান্তের ভাষায়, 'রাজনীতি অনেক বড় খেলা এবং খুব বিপজ্জনকও। তাই আমাকে খুব সতর্কভাবে খেলতে হবে। সঠিক সময় বেছে নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'এর আগে দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং বৃহস্পতিবার বলা বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনীতিকে খুব হালকাভাবে নিচ্ছেন না রজনীকান্ত। এতই যখন চিন্তা, তখন কেন রাজনীতিতে? রজনীকান্ত বললেন, 'এর সবই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। যখন আমি সৃষ্টিকর্তার কথা বলি, এটি একটি উত্তর। এর মধ্যেই সব আছে।'রজনীকান্তের আসল নাম শিবাজি রাও গায়কোয়াড। বিশ্ববাসী চেনে রজনীকান্ত হিসেবে। এক মারাঠি পরিবারে জন্ম, ১৯৫০ সালের ১২ ডিসেম্বরে। মা রমাবাই ছিলেন গৃহবধূ ও বাবা রামোজি রাও গায়কোয়াড ছিলেন পুলিশের কনস্টেবল। পর্দায় অভিষেক ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত তামিল সিনেমা 'অপূর্ব রাগাঙ্গাল'-এ অভিনয়ের মাধ্যমে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্রসহ অন্যান্য দেশের সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। ভারত সরকার রজনীকান্তকে 'পদ্মভূষণ' ও 'পদ্মবিভূষণ' দিয়ে সম্মানিত করেছে।
2
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সরকার দুর্নীতি বন্ধে দু'জন চুনোপুঁটির নামে টোকাই ধরেছে। এই টোকাইয়ের পকেট থেকে যদি এত টাকা বের হয়, তাহলে বাঘা বাঘা নেতাদের পকেট থেকে কত টাকা বের হবে- এটা দেশবাসী জানতে চায়। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কৃষক দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির কারণেই বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এখন পেঁয়াজের কেজি ১২০-১৩০ টাকা। এক সচিব বলেন, উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। পেঁয়াজের দাম কত টাকা হলে উদ্বিগ্ন হবেন- এটা প্রকাশ করলে জনগণ খুশি হতো। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঘর থেকে শুরু শুদ্ধি অভিযানের বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। খুব তাড়াতাড়ি রাঘববোয়ালদের ধরবেন- এটাও প্রত্যাশা করছি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ২০০৬ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অফিসে হিসাব দিতে দিতে, আদালতের বারান্দায় হাজিরা দিতে দিতে বিএপির নেতাকর্মীদের জান শেষ। বিএনপির নেতারা এক যুগ ধরে তো হিসাব দিচ্ছেনই। এখন সরকারের ব্যাপক লুটপাটের একটু হিসাব দেন। মির্জা আব্বাস বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ৫০০ টন ইলিশ উপহার হিসেবে ভারতে পাঠানো হয়েছে। ৫০০ টাকা কেজি হিসাবে সেখানে গেছে। খুব ভালো। বিনিময়ে ভারত ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি স্লুইসগেট খুলে দিয়েছে। এখন দেশ বন্যায় ডুবে যাবে। আবার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
9
'জয় বাংলা'কে জাতীয় স্লোগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে রাষ্ট্রীয় বা সরকারি অনুষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভা-সেমিনার ও অ্যাসেম্বলিতে এই স্লোগান দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে যাচ্ছে।আজ রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আজ সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে 'জয় বাংলা'কে জাতীয় স্লোগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, 'আজ একটা বিষয় কেবিনেটে এসেছে-সেটা হলো "জয় বাংলা"কে জাতীয় স্লোগান করার বিষয়ে। এটা কেবিনেটে আলোচনা হয়েছে। ২০২০ সালে হাইকোর্টে একটি রায়ও আছে-"জয় বাংলা"কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা কেবিনেটে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, "জয় বাংলা"কে কেবিনেট থেকে একটি সার্কুলার দিয়ে জাতীয় স্লোগান হিসেবে প্রচার করে দিতে হবে। আমরা অবিলম্বে একটা নোটিফিকেশন করে দেব।'নোটিফিকেশন দিতে কত দিন লাগতে পারে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, 'দু-চার দিনের বেশি লাগার কথা নয়।'কোথায় কোথায় 'জয় বাংলা' বলতে হবে-এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, 'তিন-চারটি ক্যাটাগরির কথা জাজমেন্টে আছে। সাংবিধানিক পদধারীগণ, রাষ্ট্রের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী রাষ্ট্রীয় বা সরকারি অনুষ্ঠানের শেষে এটা বলবেন। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদরাসাসহ তাদের কোনো সভা-সেমিনার যদি হয়, অ্যাসেম্বলি বা যে কোনো ধরনের সমাবেশ হলে সেখানে "জয় বাংলা" স্লোগান দিতে হবে।''যদি কোনো অনুষ্ঠান হয়, অ্যাসেম্বলি হয় সরকারি-বেসরকারি যারা থাকবেন জয় বাংলা স্লোগান ব্যবহার করবেন। এটা কেবিনেটের সিদ্ধান্ত', যোগ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
6
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকঅধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদেরদেয়া পদত্যাগপত্র এখনো গৃহীত হয়নি। এটি এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। বুধবার তিনি জানান, সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত হলে তাকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি প্রজ্ঞাপন আকারে জানানো হবে। তবে আজ প্রজ্ঞাপন হবে কিনা তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি জনপ্রশাসন সচিব। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদে রয়েছেন অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চুক্তিতে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার আগে ডা. আবুল কালাম আজাদ এই অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) দায়িত্বে ছিলেন। মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। আক্রান্ত হওয়ার পর গত মে মাসে তিনি সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
সেপ্টেম্বর শেষে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি ১১ ব্যাংক। আর ১৫টি ব্যাংকের মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা বেশি উদ্বৃত্ত রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বাড়ছে। ফলে মুনাফা থেকে বাড়তি নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার প্রয়োজন পড়ছে। আবার আয় কমে যাওয়ায় অনেক ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতেও পড়েছে। তবে কিছু ব্যাংকের মূলধন ঘাটতিতে থাকার ঘটনা নতুন নয়। সেপ্টেম্বর শেষে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি ১১ ব্যাংক। করোনার মধ্যে বিশেষ ছাড়েও ব্যাংকগুলো নিজেদের সেই সমস্যা থেকে বের হতে পারেনি, বরং কারও কারও অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। তবে কিছু ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির বিপরীতে কিছু ব্যাংকের রয়েছে উদ্বৃত্ত মূলধন। বিশ্বজুড়ে ব্যাংকের ভিত্তি শক্তিশালী করতে মূলধনের বিকল্প নেই। ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় মালিক ও শেয়ারধারীরা মূলধন জোগান দেন। এরপর ব্যাংক বন্ড ছেড়ে মূলধন বাড়ায়, আবার নতুন শেয়ার ইস্যু করেও কখনো কখনো মূলধন বাড়ানো হয়। ফলে পুরোনো ব্যাংকগুলোর মূলধন ভিত্তি কিছুটা শক্তিশালী। তবে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য খারাপ হলে মূলধনের ওপর চাপ পড়ে। এতে একসময় মূলধন ঘাটতি দেখা দেয়। জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি মূলধন উদ্বৃত্ত ছিল ১৩টি ব্যাংকের। এর মধ্যে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উদ্বৃত্ত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংকের ১ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়ার ১ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, পূবালী ব্যাংকের ১ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা ও ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন প্রথম আলোকে বলেন, 'ব্যাংক শক্তিশালী করতে মূলধন বাড়ানোর বিকল্প নেই। আমাদের পরিচালকেরা মুনাফা তুলে না নিয়ে মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করার পক্ষে। এ জন্য আমাদের ব্যাংকের উদ্বৃত্ত মূলধন সবচেয়ে বেশি। ফলে যেকোনো ঝুঁকি আমরা সবচেয়ে সহজভাবে মোকাবিলা করতে পারব।' বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে দেশীয় মালিকানাধীন সিটি ব্যাংকের উদ্বৃত্ত মূলধন ১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংকের ১ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা ও ইউসিবিএলের ১ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া ট্রাস্ট ব্যাংকের উদ্বৃত্ত ১ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকের ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা, যমুনা ব্যাংকের ১ হাজার ৬৯ কোটি টাকা ও সাউথইস্ট ব্যাংকের ১ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। আর বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোর মধ্যে এইচএসবিসির উদ্বৃত্ত মূলধন ২ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ৩ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। এদিকে সেপ্টেম্বর শেষে মূলধন ঘাটতিতে থাকা ১১ ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, অগ্রণী, বেসিক, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংক। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে এবি, বাংলাদেশ কমার্স, আইসিবি ইসলামিক, পদ্মা ব্যাংক। ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী ন্যূনতম যে মূলধন থাকা প্রয়োজন, এসব ব্যাংকের তা নেই।
0
গত ফেব্রুয়ারিতে বাবা মারা যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তানজিন তিশা। তাই লম্বা ছুটি নিয়েছিলেন শুটিং থেকে। পরিচালকদের অনুরোধে ঈদের আগে অংশ নেন কয়েকটি নাটকের শুটিংয়ে। ভিকি জাহেদ পরিচালিত 'চোখ', রাফাত মজুমদার রিংকু পরিচালিত 'সাইলেন্স' নাটকগুলো বেশ প্রশংসাও কুড়ায়। এ ছাড়া মহিদুল মহিমের 'লাভ ট্রিপ', জাকারিয়া সৌখিনের 'ওয়েডিং ক্রাশ', শিহাব শাহীনের 'হাফ চান্স', সাগর জাহানের 'পুকুরে ভাসা সংসার' ও 'চিত্রা তার অপেক্ষায়' নাটকগুলো থেকেও পেয়েছেন প্রশংসা। তিশা বলেন, 'ঈদে অল্প কাজ করেছি, তবে যে কাজটিই করেছি, মনোযোগ দিয়ে অভিনয় করেছি।'দুই সপ্তাহ আগে বিরতি শেষে শুটিংয়ে ফিরেছেন তিশা। একটি নাটকের শুটিং শেষ করে অংশ নেন একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে। রাজধানীঘেঁষা বিরুলিয়ার এক রিসোর্টে একটি মুঠোফোনের বিজ্ঞাপনের শুটিং করছিলেন। সেই শুটিংয়ে হাতে গুরুতর চোট পেয়ে আবার বিশ্রামে যেতে হয় তাঁকে। চিকিৎসকের পরামর্শে এখনো আছেন বিশ্রামে।আজ তানজিন তিশার জন্মদিন। তিশা বলেন, 'আব্বু-আম্মুকে নিয়েই জন্মদিনের পরিকল্পনা করি। কিন্তু এবার আব্বু নেই। গ্রামের বাড়িতে কবরে শুয়ে আছেন। ইচ্ছা ছিল গ্রামে যাওয়ার, অসুস্থতার কারণে যেতে পারছি না। এবার তাই কোনোই প্ল্যান নেই জন্মদিন নিয়ে।'সব সহশিল্পীরই কাজ দেখেন তিশা। নিজেকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেন। এবার তিনি সিনেমায় অভিনয়ের কথা ভাবছেন। তিশা মনে করেন, অভিনয়জীবনে অন্তত একটি সিনেমায় হলেও অভিনয় করা উচিত। সেই ভাবনা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিনেমায় অভিনয় করার। সেভাবেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। সব চূড়ান্ত হলেই বিস্তারিত জানাবেন তাঁর অভিনীত প্রথম সিনেমা নিয়ে।
6
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় মেয়র প্রার্থী রহমত উল্লাহ খাজাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।গত সোমবার সন্ধ্যায় পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম ব্লক বাজারে চৌরাস্তা বন্ধ রেখে সমাবেশ করায় এই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত রহমত উল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীকের নির্বাচন করছেন।নির্বাচন কমিশন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাইনুল ইসলাম খান অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচনের দায়িত্ব প্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন।অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে পরেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।বাঘাইছড়ি রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করে জনসমাবেশ করা যাবে না, এটা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ভোটের পরিবেশ সুন্দর ও নিরপেক্ষ রাখতে এমন অভিযান চলমান থাকবে।রহমত উল্লাহ খাজা বলেন, 'আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একই এলাকায় সমাবেশ করেছেন, তাঁকে জরিমানা করা হয়নি। কমিশন পক্ষপাত মূলক আচরণ করেছে। আইন যেন সবার জন্য সমান হয়।' অপর দিকে নৌকা প্রতীকে মেয়র প্রার্থী মো. জমির হোসেন বলেন, 'আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই নির্বাচনী নিয়মনীতি মেনেই প্রচার করছি।'উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘাইছড়ি পৌরসভায় ১৫ জুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হবে।এতে মেয়র পদে ২ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।পৌরসভায় মোট ভোটার ১১ হাজার ১৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৮২০ ভোটার, নারী ভোটার ৫ হাজার ৩৫১ জন। সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৯ টি। এর মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড সংখ্যা ৩ টি। প্রার্থীরা প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
6
আফগানিস্তানে শান্তি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও ইরানসহ কাবুলের প্রতিবেশী কয়েকটি এশীয় দেশের গোয়েন্দাপ্রধান বৈঠক করেছেন। পাকিস্তানের উদ্যোগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খবর ডনের। এশীয় দেশগুলোর গোয়েন্দাপ্রধানদের এই বৈঠক নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে একটি গোয়েন্দা সূত্র বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে পাকিস্তান ছাড়াও রাশিয়া, চীন, ইরান ও মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানেরা অংশগ্রহণ করেছেন। সূত্র বলেছে, পাকিস্তানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক আফগানিস্তান ও এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের ঐকান্তিক ইচ্ছারই প্রতিফলন। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি সরকারের পতন ও তালেবানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসায় এক নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিন্ন আঞ্চলিক কৌশল খুঁজে বের করতে পাকিস্তানের সাম্প্রতিকতম উদ্যোগ এটি। এর আগে গত কয়েক দিনে প্রতিবেশী ছয়টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশেষ দূতদের নিয়ে আরও কয়েকটি বৈঠক আয়োজন করেছে দেশটি। গোয়েন্দাপ্রধানদের বৈঠকের আগে গত বুধবার অনুষ্ঠিত হয় আফগানিস্তানের প্রতিবেশী ছয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক। ওই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আফগানিস্তানের উন্নয়নে শরিক থাকতে এবং একটি সামগ্রিক, ব্যাপক ও শান্তিপূর্ণ সাড়াদানের জন্য একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে সম্মত হন। বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবরে বলা হয়, আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে এর প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারও কারও ধারণা, আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশটির মাটি ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দেশে হামলা চালাতে পারে। ছড়িয়ে দিতে পারে চরমপন্থী কর্মকাণ্ড। আবার আফগানিস্তান থেকে ওই সব দেশে শরণার্থীর ঢল নামতে পারে। নতুন করে শুরু হতে পারে মাদক পাচার ও আন্তর্দেশীয় অপরাধ। ইতিমধ্যে বুধবার মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান উইলিয়াম বার্নস পাকিস্তান সফরে দেশটির চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল কামার বাজওয়া ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইজ হামিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিকে আফগানিস্তানে তালেবানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনকে স্বাগত জানিয়ে ইসলামাবাদ আশা প্রকাশ করেছে, দেশটিতে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সমন্বিত প্রচেষ্টা নতুন নেতৃত্ব নিশ্চিত করবে।
3
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের গাড়ি দেওয়ার অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মো.আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশের উন্নয়ন হয়েছে বলেই কৃষক ধানের দাম পাচ্ছেন না। খবরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও অধিকাংশ সংবাদপত্রের ভেতরের পাতায় কোনোমতে একটুখানি জায়গা পেয়েছে। অনেক কাগজে কোনো জায়গাই পায়নি। পাবে কী করে, চারদিকে এত মুখরোচক ও উত্তেজক খবরের ছড়াছড়ি! শুধু ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়েই যত খবর হয়েছে, তার খসড়া তালিকা করলে দাঁড়াবে এই: ১. নতুন কমিটিতে পদ বিক্রির অভিযোগ; ২. শিবির কর্মীর কমিটিতে পদ লাভ; ৩. পদবঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলনে হামলার কারণে মধুর ক্যানটিনে মারামারি; ৪. অতীতে অন্য সংগঠনের ছাত্রীকে প্রায় বিবস্ত্র করার মতো অপরাধে অপরাধীর নিজ দলের কমরেডদের হাতে মার খেয়ে আহত হওয়া; ৫. কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাতের বেলায় হলের বাইরে বিক্ষোভ করায় সাধারণ ছাত্রীরা তিরস্কৃত হলেও ছাত্রী হলের নেত্রীদের গভীর রাতে টিএসসিতে আপসরফার বৈঠকে গিয়ে লাঞ্ছিত হওয়া; ৬. রাতের বেলায় রাজু ভাস্কর্যে পদবঞ্চিতদের অবস্থান ধর্মঘট; ৭. টিভি চ্যানেলে ও ফেসবুকে ছাত্রলীগ নেতাদের ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে সহযোগী নেত্রীদের নানা অভিযোগ; ৮. আওয়ামী লীগের নেতাদের হস্তক্ষেপ ও সমস্যা সমাধানের আশ্বাস; এবং ৯. সর্বসম্প্রতি বহিষ্কৃত একজন ছাত্রলীগ নেত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা। প্রতিপক্ষদের ঠেঙাতে অভ্যস্ত হাতগুলো যখন নিশপিশ করে, তখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ না থাকলে নিজেদের ওপরই শক্তিপ্রয়োগের চর্চা বজায় রাখার প্রয়োজন হয়। না হলে হাত-পায়ে জং ধরার আশঙ্কা তৈরি হয় বলেই এ সাংগঠনিক বিবাদের উপকারিতা অস্বীকার করা যাবে না। এর সঙ্গে আবার যোগ হয়েছে ডাকসুর ভিপিকে 'ধাক্কাধাক্কি' এবং ইফতার খাওয়ায় বাধা দেওয়া । তা ছাড়া ফেসবুক খ্যাতির যুগে কৃষকের খরচ কমানোর নামে শহর থেকে যাওয়া ছাত্রলীগ নেতারা ধানের শিষ হাতে ছবি প্রকাশই বা পিছিয়ে থাকবেন কেন? কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সরকারি গাড়ি দেওয়ার খবরটিতে বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন দর্শনের নিখুঁত প্রতিফলন রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সরকারি গাড়ি উন্নয়নের প্রতীক। এসব গাড়ি দিয়ে বোঝানো যায় যে গ্রামাঞ্চলেও অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে, গাড়ি চালানোর মতো রাস্তা হয়েছে, তা সেই রাস্তা যত খারাপ অথবা ভাঙাচোরাই হোক না কেন। সরকারি কর্মকর্তাদের কৃষির উন্নয়নে মাঠপর্যায়ে আরও সচল ও সক্রিয় করতে সরকার যে উদ্যোগী, তেমন একটি ধারণাও এতে তৈরি করা সহজ হবে, আসল উদ্দেশ্য যদি আমলাদের খুশি করাও হয়। মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এ উন্নয়ন দর্শনে কৃষির উন্নয়ন মানে কৃষকের উন্নয়ন নয়। তাঁর কথায় উন্নয়নের কারণে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু ফলন ভালো হলেও তা বেচে চাষের খরচ না ওঠায় কৃষক যে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন, তাতে কারও কিছুই আসে-যায় না। কৃষকের সুরক্ষা সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয় হলে হতাশাগ্রস্ত কৃষক যখন মাঠের ধানে আগুন লাগিয়েছেন, তখন কৃষির উন্নয়নের নামে আমলাদের জন্য শত শত গাড়ি হস্তান্তর নিষ্ঠুর তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। কৃষিবিদ কৃষিমন্ত্রী ফলন বৃদ্ধি, উন্নত চাষাবাদ, বীজ-সার-কীটনাশকের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতেই পারেন এবং এগুলোর ব্যবস্থাপনায় উৎসাহিত করতে কৃষিবিদদের প্রণোদনাও দিতে পারেন। কিন্তু কৃষক যদি ফলনের দাম না পান, তাহলে এসব আয়োজন তো অর্থহীন। তখন তো চাষাবাদ ছেড়ে দেওয়াই তাঁর জন্য ভালো। উন্নয়নের এ নতুন দর্শনে কৃষিমন্ত্রীর চেয়ে সম্ভবত এগিয়ে আছেন খাদ্যমন্ত্রী। নইলে কৃষকের ক্ষোভকে তাঁর নাশকতা মনে হওয়ার কী ব্যাখ্যা থাকতে পারে? ১৫ মে সিরাজগঞ্জে সরকারিভাবে বোরো সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনের সময় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, 'সরকারকে বিপর্যস্ত ও বিব্রত করতে একটি অশুভ চক্র কৃষকদের উসকানি দিয়ে ধানের জমিতে আগুন দিয়েছে।' মন্ত্রী হওয়ার আগে তাঁর পেশাগত পরিচয় ছিল ব্যবসায়ী হিসেবে। তাঁর সেই সময়ের মূল ব্যবসা খাদ্যদ্রব্যের, সুনির্দিষ্টভাবে বললে ধানের ব্যবসা। এ ব্যবসার ভেতর-বাইরের সবকিছু তাঁর নখদর্পণে থাকার কথা। সরকারি ধান কেনার প্রক্রিয়ায় কৃষকেরা যে কত অসহায় এবং এ ব্যবস্থার পুরো সুবিধাটা যে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা (ধানকল ও চাতালের মালিক) পেয়ে থাকেন, সেটা তাঁর অজানা থাকার কথা নয়। তা ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশে এ প্রক্রিয়ায় কীভাবে দুপয়সা কামিয়ে নেন, সেটাও কোনো নতুন তথ্য নয়। সম্ভবত সে কারণেই তিনি ওই অনুষ্ঠানে বলেছেন যে সরকারি দলের লোকজন কোনো ঝামেলা করবেন না। অথচ একজন ইউএনও ও একজন জেলা প্রশাসকের উদ্যোগী হয়ে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা ব্যতিক্রম হিসেবে সংবাদ হয়েছে। অন্য সব জায়গায় কৃষকেরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ধান ক্রয়ের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা মোট উৎপাদনের দশ শতাংশেরও কম হওয়ায় বাজার চাঙা করার জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। ঋণখেলাপিদের সুদ মওকুফের জন্য রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকার সংস্থান করা গেলেও কাদামাখা কৃষকের ক্ষতি পোষানোর ব্যবস্থা করার সামর্থ্য আমাদের নেই। ঈদে সন্তানের চাহিদা মেটাতে পারবেন না বলে পাবনার ভাঙ্গুরায় যে অভাবী কৃষকের আত্মহত্যার খবর দিয়েছে ইত্তেফাক (২১ মে), আমার আশঙ্কা, তাকেও না শেষ পর্যন্ত নাশকতা বলা হয়। পাঁচ বছর আগে একজন মন্ত্রী নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়ায় টিভি ক্যামেরার সামনেই কেঁদে ফেলেছিলেন, কারণ তাঁর স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল। যে কৃষক ধান চাষ করেছেন, তাঁর স্বপ্ন ভেঙে গেলে প্রতিক্রিয়াটা কী হওয়া উচিত, তা নিশ্চয়ই কাউকে বলে দিতে হবে না। সরকার কৃষকদের উৎপাদন খরচের ওপরে নির্ধারিত দামে ধান-চাল কিনলে বাজারে ধান-চালের দাম বাড়ে। ফলে এ পদ্ধতি অনেক দিন ধরেই চালু আছে। কিন্তু এবারের সমস্যা জটিল হওয়ার কারণ: ১. প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভালো ফলন ২. সরকারের অপ্রয়োজনীয় আমদানি; ৩. অতীতের মজুত ব্যবহৃত না হওয়ায় গুদাম না থাকা; ৪. মধ্যস্বত্বভোগী চাতাল-ধানকলের মালিকদের সংঘবদ্ধ দৌরাত্ম্য; এবং ৫. ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের কমিশন-বাণিজ্য। অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মূল কারণ অস্বাভাবিক মাত্রায় আমদানি। নির্বাচনের বছরে বিদেশে টাকা পাচার অস্বাভাবিক রকম বেড়ে যাওয়ার যে দৃষ্টান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সমীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে, তার আলোকে গেল মৌসুমে চাল আমদানিতে উৎসাহের একটা ব্যাখ্যা মেলে। ফলে অল্প কয়েকজন আমদানিকারক আর কিছু মধ্যস্বত্বভোগীর সমৃদ্ধির বিপরীতে লাখ লাখ কৃষকের দুর্ভোগ বাড়া ছাড়া কমার কথা নয়। ভারতে গত বছর এবং এ বছরের গোড়ায় কৃষকদের অভূতপূর্ব জাগরণ দেখা গিয়েছিল। বছরখানেকের মধ্যে অন্তত পাঁচবার সেখানকার কৃষকেরা মুম্বাই ও দিল্লির উদ্দেশে দীর্ঘ পদযাত্রা করেছিলেন। মুম্বাইতে ছিল রাজ্য পর্যায়ের আন্দোলন। আর দিল্লিতে ভারতজুড়ে আন্দোলন। কৃষকদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল ফসলের ন্যূনতম দাম নির্ধারণ, কৃষিঋণ মওকুফ, খরার মোকাবিলায় বিশেষ সহায়তা ইত্যাদি। গণতন্ত্রে যা হয়, ভারতে তাই হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো কৃষকদের দাবিগুলোর দিকে নজর দিতে বাধ্য হয়েছে। কৃষকদের দেনা মওকুফের অঙ্গীকার করে কংগ্রেস মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে সরকার গঠনে সফল হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনেও কংগ্রেস একই অঙ্গীকার করেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি নির্বাচনের আগে স্বীকার করেছে যে কৃষক আন্দোলন তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে। বাংলাদেশে চিত্রটা একেবারেই আলাদা। গণতন্ত্রের নাজুক অবস্থায় এমনকি বামপন্থীরাও কৃষক আন্দোলনের সামর্থ্য হারিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, মন্দ ঋণ অবলোপন, ঋণখেলাপিদের বকেয়া সুদে ছাড় এবং সুবিধাভোগী বিভিন্ন ব্যবসায়িক খাতে নানা ধরনের কর রেয়াতে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার সুবিধা দিতে পারলে বিপন্ন কৃষকদের সুরক্ষা দিতে এত অনীহা কেন? উত্তরটা জানা থাকলেও তা বলতে পারার সাহসটা সম্ভবত হারিয়ে গেছে। সরকারের উন্নয়ন দর্শনে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থ প্রধান নয়, মুষ্টিমেয়ই প্রধান। সে কারণে দেশে বৈষম্য বেড়েই চলেছে। খেতের ধানে আগুন লাগানো কি বৈষম্যের উন্নয়নকেই নাকচ করছে না? কামাল আহমেদ সাংবাদিক
8
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর বিষয়ে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকা এ মতামতে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। বেগম জিয়ার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত হচ্ছে।আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রী বলেন, আমরা ওনার (খালেদা জিয়া) দণ্ড আরও ছয় মাস স্থগিতের জন্য মতামত দিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য মতামতসহ প্রস্তাব আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।মেয়াদ বাড়লেও আগের দুটি শর্ত বহালই থাকছেন। শর্ত দুটি হচ্ছে-বিদেশে যাওয়া যাবে না এবং বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হবে।প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এই মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।গত বছরের মার্চে করোনা মহামারি শুরু হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে সরকার শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়। প্রথম দফা মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসলে গত বছরের ২৫ আগস্ট বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দ্বিতীয় দফায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাসের জন্য তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায়। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ থেকে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়।আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই অবস্থায় খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে চলতি মাসের শুরুর দিকে তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মতামতের জন্য আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
9
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জমকালো আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ( অনূর্ধ্ব-১৭ ) উদ্বোধন হয়েছে। বুধবার সকালে মুকসুদপুর উপজেলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে ১৬ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী ম্যাচে পশারগাতী ইউনিয়ন একদশ জলিরপাপাড় ইউনিয়ন একাদশকে ২-০ গোলে হারিয়েছে । অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন মুকসুদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ খান কুটি। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
এনার্জি এন্ড পাওয়ার আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, নিজস্ব জ্বালানি অনুসন্ধান ও ব্যবহারে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে আমদানি নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলপিজি পুরোটাই আমদানি নির্ভর। এজন্য এতে প্রভাব আরো বেশি। ইউক্রেন সংকট জ্বালানি সরবরাহে কোনো প্রভাব না ফেললেও তেল ও গ্যাসের দাম বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলপিজির ক্ষেত্রে তার প্রভাব ভোক্তাদের ওপর চলতি মাস থেকেই পড়তে শুরু করেছে। বক্তারা মনে করেন, এলপিজির আমদানি দাম ৭০০ ডলারের বেশি হলে সাবসিডি দিয়ে এবং আপাতত ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে তা ভোক্তাদের জন্য সহনীয় করার নীতি নেওয়া যেতে পারে। তবে সকলেই মনে করছেন, জ্বালানি দামের বৃদ্ধি কমাতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে রান্নায় জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। 'ইউক্রেন ক্রাইসিস: ইমপ্যাক্ট অন কুকিং ফুয়েল এন্ড ওয়ে আউট' শিরোনামের ইপি টকসে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল। মুখ্য বক্তা হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিজবেন থেকে যুক্ত ছিলেন এনার্জি এন্ড পাওয়ারের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর ইঞ্জিয়ার খন্দকার আবদুস সালেক। প্যানেলিস্ট হিসেবে কথা বলেছেন বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মকবুল ই এলাহী চৌধুরী, বুয়েটের সাবেক প্রফেসর ড. ইজাজ হোসেন, বিইআরসির সাবেক সদস্য আবদুল আজিজ খান, সাসটেনেবল এন্ড রিনিয়েবল এনার্জি অথরিটির সদস্য (পলিসি এন্ড রিসার্স) সালিমা জাহান, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের হেড অব ডিভিশন ইঞ্জিয়ার জাকারিয়া জালাল এবং যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজ মিশু। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন এনার্জি এন্ড পাওয়ার সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেন। বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির চাহিদা কমে গিয়েছিল, সেই সঙ্গে মূল্যও কমেছিল। বর্তমানে করোনার প্রকোপ কমলেও ইউক্রেন যুদ্ধ আমাদের মতো দেশের জন্য আঘাত হয়ে দেখা দিয়েছে। বর্তমান সঙ্কটে তেলের মূল্য অস্থির হয়ে পড়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যে সমস্যাগুলো আমাদের সামনে এসেছে তা হলো- জ্বালানির বর্ধিত মূল্য, জ্বালানি প্রাপ্যতা এবং জ্বালানি সরবরাহ। বর্তমানে সরবরাহে তেমন ব্যাঘাত ঘটেনি। অর্থাৎ জ্বালানি সরবরাহে সমুদ্র পথ অবশ্যই নিরাপদ রাখতে হবে। যদি কোনো কারণে বর্তমান জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কীভাবে সঙ্কট মোকাবেলা করা হবে তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। জ্বালানি চাহিদা যদি আরও বেড়ে যায় তাহলে মূল্য আরও বেড়ে যেতে পারে। তবে রান্নার জ্বালানি নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। বর্তমানে দেশের ৭৭ ভাগ মানুষ 'সলিড' জ্বালানি (কাঠ, লাকড়ি ইত্যাদি, যাকে আমরা ট্র্যাডিশনাল জ্বালানি বলতে পারি) ব্যবহার করে। বাকি ২৩ ভাগ পাইপ লাইন গ্যাস, এলপিজি এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্না করে। বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ পরিবার রান্নার কাজে পাইপ লাইনে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ২৫ থেকে ৩০ লাখ পরিবার এলপিজি যুক্ত হয়েছে। মানে দেশের ৩৩ মিলিয়ন পরিবারের মাত্র ৬.৫ থেকে ৭ মিলিয়ন পরিবার রান্নায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার করছে। শুধু ট্যারিফ বা সরবরাহ র্যাশনালাইজেশন করলে হবে না তথাকথিত সিস্টেম লস অবশ্যই এখনই বন্ধ করতে হবে। সঙ্কট কাটাতে নিজস্ব গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংকটময় সময়ের জন্য নিজস্ব তহবিল তৈরিতে মনযোগ দিতে হবে। বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, এলপিজির দাম সহনীয় রাখতে সাময়িকভাবে ট্যাক্স কমানো যেতে পারে। তবে ভ্যাট ১৫ ভাগ থেকে ৭ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে জরুরি বিষয় হলো ৭৭ ভাগ ব্যবহারকারীদের কীভাবে ক্লিন জ্বালানি সরবরাহ করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করা। সেফটি নেটওয়ার্কের আওতায় বস্তিবাসী বা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে বা বিনামূল্যে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। স্রেডা (টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) উন্নত, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব চুলা ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছে তা ভালো উদ্যোগ। প্রধান বক্তা হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার আবদুস সালেক সূফি বলেন, উত্তর গোলার্ধে শীতের কারণে জ্বালানির চাহিদা এবং মূল্য দুইই বেড়ে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে রান্নার জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন, এলপিজি, বিদ্যুৎ এবং শহর এলাকায় পাইপ লাইনে গ্যাস ব্যবহার হয়। এছাড়া ট্র্যাডিশনাল জ্বালানি ব্যবহার রয়েছে। এসডিজির আওতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য পরিবেশবান্ধব রান্নার জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। মকবুল ই এলাহী চৌধুরী বলেন, ১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু জ্বালানি তেলের অস্থির বাজার মূল্য থেকে অর্থনীতিকে বাঁচাতে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেল অনুসন্ধানে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্ত বর্তমানে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে কারণ অনুসন্ধানের জন্য যে নীতিমালা করা প্রয়োজন তা ঠিকমতো করা হয়ে উঠেনি। অনুসন্ধানের জন্য টাকার তেমন প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন যথাযথ নীতিমালা- বিশ্বজুড়ে তেমনটাই দেখা যাচ্ছে। ড. ইজাজ হোসেন বলেন, রাশিয়া থেকে যেহেতু তেল-গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়নি তাই বলা যায়, বর্তমান মূল্য বৃদ্ধি অনেকটা মনস্তাত্ত্বিক। এর আগেও জ্বালানির মূল্য অনেক বেড়ে গেছে বা অনেক কমে গেছে। এটা নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমানে তেল এবং গ্যাস দুইটারই মূল্য একসঙ্গে বাড়ছে। আগে এমনটা দেখা যায়নি। আব্দুল আজিজ খান বলেন, তিতাস ৫০ বছর পুরানো বিতরণ নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করছে। নতুন নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য কাজ শুরু করা জরুরি হয়ে পড়েছে। গ্যাস পাইপ লাইনে অসংখ্য ছিদ্র হয়ে গেছে। সিস্টেম লস কমানোর জন্য অন্যান্য উদ্যোগের পাশাপাশি এটাও জরুরি। সেলিমা জাহান বলেন, শতভাগ বাড়িতে সনাতন চুলার পরিবর্তে জ্বালানি দক্ষ চুলা ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে স্রেডা কাজ করে যাচ্ছে। এটা নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি সাশ্রয় এমনিতেই হবে। এছাড়া পরিবেশ দূষণ আরও কমবে। বর্তমানে রাইস কুকার, ইনডাকশন কুকার স্টার্ডাজাইশেনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে সম্ভব সেখানে সোলার ও গ্রিড হাইব্রিড পদ্ধতিতে রান্নার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাহফুজ মিশু বলেন, মাসের প্রথমে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। তা নিয়ে গ্রাহকদের তেমন কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু ডিজেল, পেট্রোল ইত্যাদির মূল্য যেভাবে নির্ধারণ হয় তা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ১০ দিনের ইউক্রেন যুদ্ধে ক্রুড অয়েলের মূল্য ১১৮ ডলার হলে ১০০ দিন যুদ্ধ চললে তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে? গার্মেন্ট খাতের কি হবে? জ্বালানি খাতে সুশাসন কবে আসবে? বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদের কাছে ইউরোপ বেশি গুরুত্ব পাবে না বাংলাদেশ? এমন সব প্রশ্নে গুরুত্ব দিতে হবে।
0
চীন বলছে, দক্ষিণ চীন সাগরে তার পানিসীমার ভেতর দিয়ে অনুমতি ছাড়াই দুটি জাহাজ ফিলিপিন্সের সামরিক বাহিনীর কাছে রসদ পৌঁছে দেয়ার সময় তারা বাধা দিয়েছে। সেকেন্ড টমাস শোল নামে একটি দ্বীপের চারপাশে পানিসীমা নিয়ে দু'দেশের মধ্যে বিরোধে এটাই সর্বশেষ সংঘাত। এই দ্বীপ এবং আশপাশের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে তেল-গ্যাসসহ প্রচুর খনিজসম্পদ রয়েছে। ম্যানিলা থেকে বিবিসি সংবাদদাতা হাওয়ার্ড জনসন জানাচ্ছেন, ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে চীনা কোস্ট গার্ড ওই দুটি জাহাজের ওপর জলকামান ব্যবহার করেছে। সেকেন্ড টমাস শোল দ্বীপে মোতায়েন ফিলিপিনো সামরিক ঘাঁটির জন্য জাহাজ দুটি রসদ বহন করছিল। বেইজিং সরকার বলছে, তার ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই তারা এ কাজ করেছে। বিবিসি সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, দুর্গম সেকেন্ড টমাস শোল দ্বীপে ১৯৯১ সাল থেকে ফিলিপাইনের মেরিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। সর্বশেষ ফিলিপাইনের দুটি জাহাজ যখন সামরিক বাহিনীর জন্য রসদপত্র বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন চীনা কোস্ট গার্ডের তিনটি জাহাজ তাদের গতিপথ বন্ধ করে তাদের মুখোমুখি দাঁড়ায়। এক পর্যায়ে চীনা জাহাজ থেকে জলকামান ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ফিলিপিনো জাহাজ দুটি ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এই ঘটনার জন্য ফিলিপিনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী টেওডোরো লকসিন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং চীনকে বলেন 'সরে যাও'। পাঁচ বছর আগে জাতিসঙ্ঘের একটি ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছিল যে ওই দ্বীপটি ফিলিপাইনের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলের অংশ। কিন্তু চীন রায়টি মেনে নেয়নি। সূত্র : বিবিসি
3
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা রক্ষার্থে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফয়জুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের চাহিদার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার রক্ষার্থে দেশব্যাপী বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কুমিল্লা, নরসিংদী ও মুন্সীগঞ্জসহ ২২টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
6
বাংলাদেশে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো নারী প্রকৌশলী সম্মেলন-২০২০। মহামারি করোনা ভাইরাস কোভিট-১৯ এর কারণে অনলাইনের মাধ্যমে এই সম্মেলন করা হয়। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৮টায় অনলাইনে দ্যা ইঞ্জিনিয়ার্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই সম্মেলন শুরু হয়ে রাত ১১টায় শেষ হয়। দেশে প্রথম নারী প্রকৌশলী সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)'র প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। সম্মেলনের সমাপনী করেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)'র সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ। ১৯১৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের উইমেনন্স ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটি ২৩ জুন কে নারী প্রকৌশলী দিবস হিসেবে পালন করতো। পরে ২০১৭ সাল এসে ইউনেস্কো দিনটিকে আর্ন্তজাতিক নারী প্রকৌশলী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই দিনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। তবে বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ৭মে 'ইঞ্জিনিয়ার্স ডে' হিসেবে পালন করা হয়। এবারের নারী প্রকৌশলী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ' '। অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আখতার, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রওশন মমতাজ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নীরা মজুমদার, এলজিইডি প্রজেক্ট ডাইরেক্টর প্রকৌশলী সালমা শহীদ, রাজউকের ডাইরেক্টর সরকারের উপসচিব, আইবির সেন্ট্রাল কাইন্সিল মেম্বার প্রকৌশলী তানজিলা খানম। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রকৌশলীদের মধ্য আরো বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী মৌসুমী সালমীন , প্রকৌশলী সোনিয়া নওরীন এবং অধ্যাপক প্রকৌশলী সালমা আখতার । অনুষ্ঠানের মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্যা ইঞ্জিনিয়ারস ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক এবং আইইবির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের সেক্রেটারী প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেন, চাকরি জীবনে নারী প্রকৌশলীরা কর্তব্যনিষ্ঠ ও সৎ হিসেবে পরিচিত। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা নেবার পর থেকেই বিভিন্ন পদে নারীদের পদায়ন করেছেন। প্রথম মহিলা বিচারপতি, প্রথম মহিলা সচিব, প্রথম মহিলা স্পীকার এবং এসবের ধারাবাহিকতায় প্রথম প্রধান প্রকৌশলীও বঙ্গবন্ধু কন্যার শাসন আমলের অবদান। এই সম্মেলনেও একজন প্রধান প্রকৌশলী উপস্থিত আছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন, "নারীদের উন্নয়নের বাইরে রেখে কখনো প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়"। তিনি আরো বলেন, নারী প্রকৌশলীরা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পরিকল্পনা করবেন কীভাবে আমাদের এ পৃথিবীটা আরও বাসযোগ্য, নিরাপদ, আরও সৃজনশীল ও আনন্দদায়ক করা যায়। আইইবি সব সময় নারী প্রকৌশলীদের সাথে থাকবে- আইইবির প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছি। সেই সাথে আইইবি থেকে নারী প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিসহ সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরসহ সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। এর আগে নারী প্রকৌশলীগণ নারীদের প্রকৌশলী পেশার যেসব প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজমান তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়া নারী প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্র বিভিন্ন সমস্যা ও সম্বাবনার কথা তুলে ধরেন নারী প্রকৌশলীগণ। নারী প্রকৌশলীগণ মনে করেন নারীদের কর্মক্ষেত্রে আরো বেশি সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে পারলে নারীরা প্রকৌশল পেশায় আগ্রহ হবেন। এক্ষেত্রে প্রকৌশল পেশায় বাংলাদেশের নারীদের আরো এগিয়ে নিতে আইইবি'র সহযোগীতা কামনা করেন নারী প্রকৌশলীগণ।
6
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের মতো স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আজ শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। জাহিদ হোসেন বলেন, 'করোনা-পরবর্তী সময়ের চিকিৎসার জন্য উনি (খালেদা জিয়া) ভর্তি আছেন। এখনো তিনি সিসিইউতে আছেন। সকালে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য দেখেছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষা-নীরাক্ষার পর আগের যে চিকিৎসা চলছিল তা অব্যাহত রেখেছে। গতকালের মতো আজও ওনার অবস্থা স্থিতিশীল আছে। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দোয়া কামনা করছি।' বিদেশে যাওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা আছে নাকি জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এটা তো সরকারের বিষয়। পরিবারের পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার অনুরোধ করেছেন। এখন সরকারের বিষয়, সরকার কবে নাগাদ উনাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিবে। অনুমতি দিলে মেডিক্যাল বোর্ড এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।' উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা 'ফিরোজায়' তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। ১৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট হলেও ফলাফল পজিটিভ আসে। এরপর ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য অধ্যাপক ডা: শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়।
9
কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থেকে ২২টি গরু নিয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন চারজন কৃষক। পথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের যৌথ চেকপোস্টে গরুগুলো আটকানো হয়। ভারতীয় গরু দেখিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সেগুলো নিলামে বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের দাবি, গরুগুলো তাঁদের বাড়িতে পোষা। শুধু যৌথ চেকপোস্টে টাকা না দেওয়ার কারণে এগুলো জব্দ করে নিলামে পানির দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।গরুর মালিকদের বাড়ি গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের বেগুনবাড়ি ও ব্রজনাথপুর গ্রামে। নিলামে বিক্রি করা গরুর মধ্যে বেগুনবাড়ি গ্রামের মো. রহিমের পাঁচটি, মো. মইদুলের চারটি, মো. সেলিমের আটটি এবং ব্রজনাথপুরের সাদিকুল ইসলামের আটটি গরু ছিল।সাদিকুল ইসলাম বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যও। গরুগুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামে নেওয়ার জন্য বাঙ্গাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সাদেরুল ইসলাম একটি প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছিলেন তাঁকে। এতে প্রত্যেকের নাম ও গরুর সংখ্যা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান লিখে দিয়েছিলেন, বাড়ির পোষা গরু বিক্রির জন্য তাঁরা চট্টগ্রামের বিবিরহাটে নিয়ে যাচ্ছেন।গতকাল বিকেলে যোগাযোগ করা হলে ইউপি চেয়ারম্যান এই প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। চেয়ারম্যান বলেন, 'গরুগুলো বাড়িতে পোষা। এটা ভারতীয় গরু নয়। তা-ও ধরে নিলাম দিয়েছে।'খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল দুপুরে রাজশাহী নগরীতে কাস্টমসের গুদাম থেকে গরুগুলো নিলামে তোলা হয়। নিলামে ২২টি গরু মাত্র ৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিটির দাম গড়ে ৪২ হাজার ৫০০ টাকা। মুন্না নামের এক ব্যক্তি গরুগুলো কিনেছেন। তবে সাদিকুল জানান, কোরবানির হাটে তাঁদের এসব গরুর প্রতিটির দাম হতো আনুমানিক ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা।গুদামের দায়িত্বরত কর্মকর্তা কাস্টমসের পরিদর্শক শাহরিয়ার হাসান সজীব বলেন, বিজিবি ও কাস্টমসের সদস্যরা তাঁদের গুদামে গরু দেওয়ার সময় বলেছেন, কোনো মালিক পাওয়া যায়নি। ট্রাক থামানো হলে ভারতীয় এসব গরু ফেলে সবাই পালিয়ে গিয়েছেন। জব্দ তালিকায় বিজিবি উল্লেখ করেছে, প্রতিটি গরুর দাম আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা।গরুর মালিক পাওয়া যায়নি বলে বিজিবি ও কাস্টমস দাবি করলেও ইউপি সদস্য সাদিকুল ইসলাম বলছেন, তাঁরা পালিয়ে যাননি। ট্রাকের চালক-হেলপারও পালাননি। কথা বলতে গতকাল বিকেলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের কার্যালয়ে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। কার্যালয়ের কেউ তাঁর ফোন নম্বর দিতেও রাজি হননি। রাজস্ব কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনি করোনাক্রান্ত হয়ে ঘরবন্দী।
6
গুয়াতেমালায় শতাধিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী কংগ্রেস (আইনসভা) ভবনের কিছু অংশে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন। বিবিসির আজ রোববারের খবরে জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল শনিবারের ওই হামলার সময় গুয়াতেমালা সিটির ওই ভবন একেবারে ফাঁকা ছিল। প্রায় ১০ মিনিট ধরে ভবনটিতে আগুন ছিল। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে বেশ কয়েকজন ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে কংগ্রেসের অনুমোদিত বাজেটের প্রতিবাদ করেন বিক্ষোভকারীরা। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এই বাজেটে বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব প্রকল্প নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে তহবিল কমানোয় ক্ষোভ জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো গিয়ামাতেইকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এর আগে বাজেটের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট গুইলারমো কাস্তিলো। তিনি বলেছেন, দেশের ভালোর জন্য তাঁর এবং প্রেসিডেন্ট গিয়ামাতেইয়ের একসঙ্গে পদত্যাগ করা উচিত।
3
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল গনি স্মৃতি লাখ টাকার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে।খেলায় ভাতশালা ফুটবল একাদশ ও মাহমুদপুর ফুটবল একাদশ অংশ নেয়। খেলায় ২-১ গোলে ভাতশালা ফুটবল একাদশ জয়লাভ করে।গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কামটা ফুটবল মাঠে কামটা মিতালি সংঘের সহযোগিতায়, সিমরা এগ্রো লিমিটেড সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে আব্দুল কায়ুম হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান।বিশেষ অতিথি ছিলেন দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ওবায়দুল্লাহ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ।উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর হোসেন সাহেব আলী, আলী, সিমরা এগ্রো লিমিটেডের পরিচালক শেখ তাহিরুল ইসলাম, ম্যানেজার শেখ রকিবুল ইসলাম, ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সভাপতি কাজী দেলোয়ার হোসেন রাজু প্রমুখ।
6
রিভার্স ডে উপলক্ষে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে একদিনের জন্য দায়িত্ব পালন করেছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার সকাল থেকেই স্কুল ও কলেজে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়।নবীন শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, দায়িত্ববোধ সৃষ্টি ও দেশপ্রেম জাগ্রত করাই এই রিভার্স ডে উদ্যাপনের মূল লক্ষ্য। বছরের একটি দিন বিদ্যালয়ের সকল দায়িত্ব পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করার এই প্রয়াসে খুশি অভিভাবক ও শিক্ষকেরা।সোমবার নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বান্দরবান সদরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে রিভার্স ডে উপলক্ষে সকাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ সকল প্রকার দায়িত্বশীল পদে অবস্থান করে ছায়া ভূমিকা পালন করে।কোনো কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে পরিচালনা করছে শ্রেণি কার্যক্রম, কেউ কেউ বিভিন্ন প্রকার দায়িত্বশীল পদে আসীন হয়ে পরিচালনা করছে বিদ্যালয়ের নানা কার্যক্রম। অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের দায়িত্বে একজন করে শিক্ষার্থী দায়িত্ব নিয়ে পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানের একদিনের সকল কর্মকাণ্ড। আর বছরের একটি দিন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব পেয়ে খুশি সকল ছায়া শিক্ষক।বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম উকিল বলেন, আগামী দিনে সু-নেতৃত্ব সৃষ্টি করা আর নবীন শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, দায়িত্ববোধ সৃষ্টি ও দেশপ্রেম জাগ্রত করাই এই রিভার্স ডে উদ্যাপনের মূল লক্ষ্য। এতে করে শিক্ষার্থীরা নতুন অভিজ্ঞতা লাভের মধ্য দিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও দায়িত্বশীল ভূমিকায় কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবে।অধ্যক্ষ বলেন, এখন থেকে প্রতি বছরই বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ এ ২৮ মার্চ রিভার্স ডে উদ্যাপন করা হবে। তিনি বলেন, 'আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করেছি একদিনের জন্য, আর এই নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা একদিনের জন্য প্রতিষ্ঠানের সকল দায়িত্ব পালন করছে।'অধ্যক্ষ লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম উকিল আরও বলেন, রিভার্স ডে উদ্যাপন উপলক্ষে একদিনের জন্য অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুল হাসান ফাহিম, উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছে চুইংক্রিমো চুচু, একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর এর দায়িত্ব পালন করেছে মো. ফাহিম বিন ফরিদ, শিক্ষকের দায়িত্বে দশম শ্রেণির ছাত্রী দেবী দীপ্তরূপা ঐশী, হোস্টেল সুপারের দায়িত্বে তাহসিন মোরশেদ শাকিল, একাডেমি কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করছে সামিয়া জিয়া জারা।কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২ হাজার শিক্ষার্থী, ৩১০ জন শিক্ষকের সম্মিলনে পরিচালিত বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের এমন কর্মকাণ্ড আগামী প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং দায়িত্ববোধ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের।
6
বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা ২৮ মার্চের হরতালে ঢাকা ও আন্তজেলা রুটে বাস-মিনিবাস চলাচল করবে বলে জানিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।আজ শনিবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা ২৮ মার্চের হরতালের ব্যাপারে ঢাকার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে একটি যৌথ সভা হয়েছে আজ বিকেলে।সভায় পরিবহন নেতারা জানিয়েছেন, অযৌক্তিক ও খোঁড়া অজুহাতে ডাকা এ হরতাল মালিক-শ্রমিকেরা কখনো সমর্থন করে না। তাই ২৮ মার্চ ঢাকা শহর এবং আন্তজেলার সব রুটে বাস-মিনিবাস চলাচল অব্যাহত থাকবে।তবে হরতালের দিন গাড়ি চলাচল যাতে কোনো প্রকার বাধাগ্রস্ত না হয় সে জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি।মালিক-শ্রমিকদের যৌথ সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। সভায় সায়েদাবাদ, মহাখালী, ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ ঢাকার প্রায় সব পরিবহন কোম্পানি এবং রুট মালিক সমিতির নেতারা এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক ওসমান আলী উপস্থিত ছিলেন।ভোজ্যতেল, চাল-ডাল, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ২৮ মার্চ সারা দেশে আধা বেলা হরতালের ডাক দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।
6
কুমিল্লায় অজ্ঞাত এক যুবকের (২৬) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকালে নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সকালে দক্ষিণ চর্থা এলাকায় রাস্তার পাশে এক যুবকের মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন জানান, নিহতের মাথার পেছনের অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া হাত-পা থেঁতলানোর রয়েছে। মরদেহটি শনাক্তে ঘটনাস্থলে আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করেছে পিবিআই।
6
সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দলের হাল ধরার পর বিদায় নিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৫। শান্ত করেছেন ৪০ রান। এ রান এসেছে ৩৪ বল থেকে। আছে ৫টি চারের মার। এর আগে মিরপুরের এ ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সুবিধা করতে না পারলেও তিনে নামা শান্ত হাল ধরেন দলের। শান্ত ছাড়া আফিফ হোসেন ২০ রান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১২ রান করে প্যাভেলিয়নে ফিরে গেছেন। পাকিস্তানের হয়ে শাদাব খান ২টি এবং শাহিন আফ্রিদি, মোহাম্মদ ওয়াসিম ও হারিস রউফ নিয়েছেন ১টি করে উইকেট। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান।
12
চলতি হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই'২০ থেকে মার্চ'২১) বিদ্যুৎ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি শাহজিবাজার পাওয়ারে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে। গত জুলাই থেকে মার্চ সময়কালে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৫৩ পয়সা। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ২০১৯-২০ হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৩৬ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে, অর্থাৎ, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে শাহজিবাজারের ইপিএস অর্জিত হয়েছে ১ টাকা ৫৬ পয়সা, যা এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ১৮ পয়সা।
0
একই ছাদের তলায় থাকা সত্বেও কোনরুপ কথা বা যোগাযোগ হচ্ছিলনা ওমর সানী-মৌসুমীর। মৌসুমী নাকি নিজ থেকেই এড়িয়ে চলতেন সানীকে। বিষয়টি ওমর সানীই প্রকাশ্যে আনেন। এরপরই শুরু হয়ে যায় নানা গুঞ্জন। তবে কি সানী-মৌসুমীর সংসার ভাঙছে? অবশেষে সকল গুঞ্জনের ইতি টেনে বৃহস্পতিবার রাতে খাবারের টেবিলে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার ছবি দিয়ে ওমর সানী বুঝিয়ে দিলেন তাদের ভালোবাসা এতো ঠুনকো নয়। মান-অভিমান থাকবে, ভুলবোঝাবুঝি হবে কিন্তু একে অপরকে ছাড়া যাবে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একটি ছবির ক্যাপশনে সানি লেখেন, সবাই ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন আমাদের জন্য।' তাই ধরেই নেওয়া হচ্ছে তাদের ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবন অটুটই থাকছে। ওমর সানী ও মৌসুমীর সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জনের সূত্রপাত হয় খল অভিনেতা ডিপজলের ছেলের বিয়ের আয়োজনে। সেখানে মৌসুমীকে ডিস্টার্ব করায় চড় দিয়ে বসেন। এরফলে জায়েদের বিরুদ্ধে পিস্তল বের করে গুলি করার হুমকির অভিযোগ উঠে। বিষয়টি নিয়ে শিল্পী সমিতিতেও অভিযোগ করেন ওমর সানী। সেখানে জানান জায়েদ তার সুখের সংসার ভাঙার চেষ্টা করছে। এরপর সকল অভিযোগ অস্বীকার করে এক অডিও বার্তায় জায়েদ খানের পক্ষ নেন মৌসুমী। তিনি বলেন, জায়েদ আমার ছোট ভাইয়ের মতো। সে আমার সম্মান করে। কখনও অসম্মান করেনি। এ নিয়ে গেল কয়েকদিন ধরে বেশ উত্তাল সিনেমাপাড়া। তবে সব ঘটনা-রটনা ডিঙিয়ে আবারও এক হলেন সানি-মৌসুমী।
2
টাইব্রেকারে সাদিও মানে বল জালে জরাতেই নিশ্চিত হয়ে গেল সেনেগালের আফ্রিকান নেশনস কাপ শিরোপা। ফাইনালে মিশরকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের আনন্দে আত্মহারা তখন সেনেগাল। যার কেন্দ্রে মানে। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টিতে গোল মিস করা মানে শাপমোচন করেছেন টাইব্রেকে গোল করে।মানের গোলের পর কমেন্ট্রিবক্স থেকে তখন ভেসে আসছে সেনেগাল এখন আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন। এদিকে টাইব্রেকারে নিজের শেষ শট নেওয়ার আগেই দলের হারে জার্সি দিয়ে মুখ লুকিয়ে ফেলেছেন মোহামেদ সালাহ। এই মিশরীয় তারকা শট নেওয়ার আগেই যে ৪-২ গোলে এগিয়ে গেছে মানের সেনেগাল। ২০০২ ও ২০১৯ আসরের রানার্সআপ সেনেগাল তৃতীয় চেষ্টায় ঘরে নিল আফ্রিকার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফি।এই ম্যাচের ট্র্যাজিক হিরো নিশ্চিতভাবেই মিশরের গোলরক্ষক মোহামেদ গাবাল। গাবালের নায়কোচিত পারফরম্যান্সেই তো ফাইনালে এত পর্যন্ত আসতে পেরেছে মিশর। ক্যামেরুনের ওলেম্বে স্টেডিয়ামে রোববার রাতে ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে সেনেগাল। শুধু কাজের কাজ গোল করতে পারেনি। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে এগিয়ে যেত পারত তারা। কিন্তু পেনাল্টি মিস করে দলকে হতাশ করেছেন মানে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সেনেগাল। কিন্তু গোলপোস্টের নিচে একাই লড়ে গেছেন মিশরের গোলরক্ষক গাবাল।নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়েও চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গাবাল। জমজমাট ফাইনালে বেশ কিছু গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছে সেনেগাল। শেষ পর্যন্ত ১২০ মিনিট পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। আর তাতে চমক দেখিয়ে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান ঘটন সেনেগাল।
12