content stringlengths 0 129k |
|---|
বাঁশ কাটলে টাকা থোং |
এত টাকা নেবো না |
লাইলির বিয়া দিব না |
লাইলির আম্মা কাঁন্দে |
গলায় রশি বান্দে |
আয়তক্ষেত্রাকার মোট ৭/৮টি ঘর আঁকা হয় এবং এই ঘরগুলোর শেষ মাথায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির আর একটি ঘর বানানো হয় |
প্রথম ঘরে গুটি ফেলে এক পা শূন্যে রেখে এবং দম দিতে দিতে গুটিকে সবগুলো ঘর অতিক্রম করে অর্ধচন্দ্রাকৃতির ঘরে এনে পা নামিয়ে দম ফেলা যায় |
তার পর এই ঘর থেকে গুটিকে পা দিয়ে আঘাত করে সব ঘর অতিক্রম করানোর চেষ্টা করা হয় |
গুটিটি সব ঘর অতিক্রম না করলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির ঘর থেকে বের হয়ে শূন্যে পা তুলে দম নিতে নিতে তাকে আবার আগের নিয়মে ঘর থেকে বের করে আনতে হয় |
খেলোয়াড়রা কপালে গুটি রেখে উপর দিকে তাকিয়ে ৮টা ঘরের দাগে পা না ফেলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির ঘরে যেয়ে আবার প্রথম ঘরে ফেরত আসতে পারলে সে ঘর কেনার যোগ্যতা অর্জন করে |
কুতকুত খেলায় যে ঘর কেনা হবে সেই ঘরে পা বা গুটি ফেলা যাবেনা |
ঘর কেনার প্রক্রিয়াকালীন সময় খেলোয়াড়ের দাঁত দেখা গেলে ঐ খেলোয়াড়ের খেলা ঐ অবস্থায় মারা যায় |
ক্রমান্বয়ে ঘর কিনে শেষ ঘরটি দখল করার মাধ্যমে খেলার নিষ্পত্তি হয় |
গোল্লাছুট[সম্পাদনা] |
গোল্লাছুট বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা |
গ্রাম ছাড়াও বাংলাদেশের শহরাঞ্চলেও এই খেলা ব্যাপক প্রচলিত |
ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল , খুলনা, পাবনায় এই খেলার প্রচলন সবচেয়ে বেশি |
[১] এই খেলা বাইরে অর্থাৎ স্কুলের মাঠ অথবা খোলা জায়গায় শিশুরা খেলে থাকে |
গোল্লাছুট খেলায় দুটি দল থাকে |
মাটিতে এক জায়গায় গর্ত করে একটি লাঠি পুতে তাকে কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়, এই লাঠিকে কেন্দ্র করে বৃত্ত তৈরি করে ২৫/৩০ ফুট দূরে আরো একটি রেখা টেনে সীমানা নির্ধারন করা হয় |
বৃত্ত তৈরি করে ঘুরতে হয় বলে একে "গোল্লা" এবং আঞ্চলিক ভাষায় ছুট হলো দৌড়ানো |
এভাবেই খেলার নাম হয়েছে গোল্লাছুট |
খেলার শুরুতে প্রথম দুজন দলপতি নির্ধারন করা হয় |
দলপতিদের বলা হয় "গোদা" |
দুদলেই সমান সংখ্যক খেলোয়াড় থাকে (৫ অথবা ৭ জন) |
দলপতি মাটিতে পুঁতা কাঠি এক হাতে ধরে অপর হাতে তার দলের অন্য খেলোয়াড়ের হাত ধরে থাকে |
এভাবে তারা পরস্পরের হাত ধরে কেন্দ্র স্পর্শ করে ঘুরতে থাকে |
তাদের লক্ষ্য হলো বৃত্তের বাইরে যে কাঠি বা গাছ (দ্বিতীয় লক্ষ্যবস্তু) থাকে তা দৌড়ে স্পর্শ করা |
অপরদিকে দৌড়ে কাঠি স্পর্শ করার আগেই বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা যদি ওই দলের কোন খেলোয়াড়কে স্পর্শ করতে পারে তাহলে সে এই দানে (পর্ব) খেলা থেকে বাদ যাবে |
এভাবে শেষ পর্যন্ত দলপতিরও দৌড়ে কাঠি স্পর্শ করতে হবে |
কোন খেলোয়াড়ই লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা দান পায় |
ষাঁড়ের লড়াই[সম্পাদনা] |
অতীতে বাংলাদেশে ষাঁড়ের লড়াই একটি প্রসিদ্ধ খেলারূপে প্রচলন ছিল |
লড়াই করার জন্য ষাঁড় গরু আলাদাভাবে লালন পালন করা হতো |
এর দ্বারা হাল চাষ বা অন্য কোন ধরনের কাজ করা হতো না |
ষাঁড়টিকে মোটাতাজা করা হতো শুধু লড়াই করার জন্য |
শুকনো মৌসুমে গ্রামের বাজারে ঢোল পিটিয়ে ষাঁড়ের লড়াই দেখার আমন্ত্রন জানানো হতো |
মাঠে ষাঁড়ের মালিকগণ তাদের ষঁড়গুলোকে বিভিন্ন রঙিন কাপড়, ঘুংগুর, দোয়াল দিয়ে গেঁথে নিয়ে আসতেন |
দুদিকে দুজন রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে এসে দুপক্ষের ষাঁড়কে ছেড়ে দিয়ে সবাই মিলে ঢাক ঢোল পিটিয়ে ও বিভিন্ন তালে তালে গান করত |
এভাবে উপস্থিত সকল ষাঁড়ের মধ্যে যে ষাঁড়টি প্রথম স্থান পেত তাকে পুরস্কার দেয়া হতো |
সে পুরস্কার গরুর গলায় বেঁধে বাজারে বাজারে দেখানো হতো |
বর্তমানে এই শৌখিন প্রথা বিলুপ্তির পথে |
[১৫] |
বউচি[সম্পাদনা] |
বউচি বাংলাদেশের একটি গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী খেলা |
[১] বউচি খেলায় দুইটি দলের প্রয়োজন হয় |
প্রত্যেক দলে ৮ থেকে ১০ জন করে খেলোয়াড় হলে খেলা জমে |
মাঠ অথবা বাড়ির উঠোন যেখানে খুশি সেখানে এই খেলা খেলা যায় |
খেলার প্রারম্ভে ২০-২৫ ফুট দূরত্বে মাটিতে দাগ কেটে দুটি ঘর তৈরি করতে হয় |
দুই দলের মধ্যে যারা প্রথমে খেলার সুযোগ পায় তাদের মধ্যে থেকে একজনকে বউ বা বুড়ি নির্বাচন করা হয় |
দুটি ঘরের মধ্যে একটি ঘর হবে বড়, যেখানে এক পক্ষের বউ বাদে সব খেলোয়াড় থাকবে |
আর ছোট ঘরে দাঁড়াবে বউ |
ছোট ঘরটিকে বউঘর বা বুড়িঘর বলে |
বউয়ের বিচক্ষণতার ওপর খেলার জয় পরাজয় নির্ভর করে |
খেলায় বউঘর থেকে বউকে ছুটে আসতে হবে বড় ঘরটিতে |
বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়েরা সব সময় পাহারায় থাকে যেন বউ ঘর থেকে বের হতে না পারে |
বউ বাইরে এলে যদি বিপক্ষ দলের কেউ তাকে ছুঁয়ে দেয় তাহলে ওই পক্ষের খেলা শেষ হয়ে যায় |
পরবর্তীতে বিপক্ষ দল খেলার সুযোগ পায় |
বড় ঘরটিতে যারা থাকে তারা দম নিয়ে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের তাড়া করে |
দম নিয়ে তাড়া করলে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা দিগ্বিদিক ছুটে পালায় |
তা সত্তে ও সবসময় খেয়াল রাখে বউ যেন যেতে না পারে |
দম নিয়ে যাওয়া খেলোয়াড় যদি বিপক্ষ দলের কাউকে ছুঁয়ে দেয় তবে সে খেলোয়াড় মারা পড়ে |
মারা পড়া খেলোয়াড় চলতে থাকা খেলায় অংশ নিতে পারে না |
এভাবে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় মেরে বউকে বড় ঘরে ফিরে আসতে সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে বউয়ের সঙ্গী খেলোয়াড়েরা |
বউ যদি বিনা ছোঁয়ায় বড় ঘরে চলে আসতে পারে তাহলে বিজয় অর্জন হয় |
বিজয়ী দল পুনরায় খেলা শুরু করবে |
যদি বউকে বিপক্ষ দল ছুঁয়ে দেয় তাহলে বিপক্ষ দল খেলার সুযোগ পাবে |
এভাবে পর্যায়ক্রমে খেলা চলতে থাকে |
জব্বারের বলীখেলা[সম্পাদনা] |
(বলী খেলা) |
লক্ষ্য |
কঠোরতা |
উৎপত্তির দেশ |
বিখ্যাত অনুশীলনকারী |
দিদারুল আলম, মর্মর সিং |
মূল |
ঐতিহাসিক |
অলিম্পিক খেলা |
না |
জব্বারের বলীখেলা এক বিশেষ ধরনের কুস্তি খেলা, যা চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে প্রতিবছরের ১২ই বৈশাখে অনুষ্ঠিত হয় |
[১] এই খেলায় অংশগ্রহণকারীদেরকে বলা হয় বলী |
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কুস্তি বলীখেলা নামে পরিচিত |
১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই প্রতিযোগিতার সূচনা করেন |
[১৬] তার মৃত্যুর পর এই প্রতিযোগিতা জব্বারের বলী খেলা নামে পরিচিতি লাভ করে |
জব্বারের বলীখেলা একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যমন্ডিত প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত |
বলীখেলাকে কেন্দ্র করে লালদিঘী ময়দানের আশে পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে বৈশাখী মেলার আয়োজন হয় |
এটি বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকার সবচেয়ে বৃহৎ বৈশাখী মেলা |
"ইতিহাস" ভারতবর্ষের স্বাধীন নবাব টিপু সুলতানের পতনের পর এই দেশে ব্রিটিশ শাসন শুরু হয় |
বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ এবং একই সঙ্গে বাঙালি যুবসম্প্রদায়ের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলা এবং শক্তিমত্তা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর বলী খেলা বা কুস্তি প্রতিযোগিতার প্রবর্তন করেন |
১৯০৯ সালের ১২ বৈশাখ নিজ নামে লালদীঘির মাঠে এই বলীখেলার সূচনা করেন তিনি |
ব্যতিক্রমধর্মী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য ব্রিটিশ সরকার আবদুল জব্বার মিয়াকে খান বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন |
ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও বার্মার আরাকান অঞ্চল থেকেও নামী-দামি বলীরা এ খেলায় অংশ নিতেন |
"মল্ল পরিবার ও বলীখেলা" |
চট্টগ্রামে বলি খেলার একটি দৃশ্য |
চট্টগ্রাম বলির দেশ |
কর্ণফুলী ও শঙ্খ নদীর মধ্যবর্তী স্থানের উনিশটি গ্রামে মল্ল উপাধিধারী মানুষের বসবাসের ছিল |
প্রচণ্ড দৈহিক শক্তির অধিকারী মল্লরা সুঠামদেহী সাহসী পুরুষ এবং তাদের বংশানুক্রমিক পেশা হচ্ছে শারীরিক কসরৎ প্রদর্শন |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.