content
stringlengths
0
129k
এই মল্লবীরেরাই ছিলেন বলিখেলার প্রধান আকর্ষণ ও বলিখেলা আয়োজনের মূল প্রেরণা
[১৭] চট্টগ্রামের বাইশটি মল্ল পরিবার ইতিহাস প্রসিদ্ধ
আশিয়া গ্রামের আমান শাহ মল্ল, চাতরি গ্রামের চিকন মল্ল, কাতারিয়া গ্রামের চান্দ মল্ল, জিরি গ্রামের ঈদ মল্ল ও নওয়াব মল্ল, পারি গ্রামের হরি মল্ল, পেরলা গ্রামের নানু মল্ল, পটিয়ার হিলাল মল্ল ও গোরাহিত মল্ল, হাইদগাঁওর অলি মল্ল ও মোজাহিদ মল্ল, শোভনদন্ডীর তোরপাচ মল্ল, কাঞ্চননগরের আদম মল্ল, ঈশ্বরখাইনের গনি মল্ল, সৈয়দপুরের কাসিম মল্ল, পোপাদিয়ার যুগী মল্ল, খিতাপচরের খিতাপ মল্ল, ইমামচরের ইমাম মল্ল, নাইখাইনের বোতাত মল্ল, মাহাতার এয়াছিন মল্ল, হুলাইনের হিম মল্ল, গৈরলার চুয়ান মল্ল
[১৮]
"বর্তমানে" এখন পেশাদার বলির (কুস্তিগীর) অভাবে বলিখেলার তেমন আকর্ষণ না থাকলেও জব্বারের বলীখেলার মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছে মেলা
তাই অনেকে বলীখেলার পরিবর্তে একে বৈশাখী মেলা হিসেবেই চিনে
জব্বার মিয়ার বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অহংকারে পরিণত হয়েছে
বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় লোকজ উৎসব হিসেবে এটিকে চিহ্নিত করা হয়
খেলাকে কেন্দ্র করে তিন দিনের আনুষ্ঠানিক মেলা বসার কথা থাকলেও কার্যত পাঁচ-ছয় দিনের মেলা বসে লালদীঘির ময়দানের চারপাশের এলাকা ঘিরে
জব্বারের বলী খেলার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে যেমন কক্সবাজারে ডিসি সাহেবের বলী খেলা, সাতকানিয়ায় মক্কার বলী খেলা, আনোয়ারায় সরকারের বলী খেলা, রাউজানে দোস্ত মোহাম্মদের বলী খেলা, হাটহাজারীতে চুরখাঁর বলী খেলা, চান্দগাঁওতে মৌলভীর বলী খেলা এখনও কোনরকমে বিদ্যমান
টোপাভাতি[সম্পাদনা]
টোপাভাতি বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের মেয়েদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা
[১৯] সাধারনত শিশুরা এই খেলা খেলে থাকে
টোপা মানে হাঁড়ি বা রান্না করার বাসন এবং ভাতি হলো ভাত রান্না করা
[২০] এজন্য রান্না করার এ খেলাকে টোপাভাতি বলা হয়
"নিয়মকানুন" প্রথমে শিশুরা পাটকাঠি বা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ছোট ঘর তৈরি করে
এরপর এর উপরে গাছের পাতা, কলা পাতা অথবা পলিথিন দিয়ে ছাউনি দেয়
প্রথমে একজনকে কাছেই কোথাও কাল্পনিক বাজারে পাঠানো হয়
সে বাজার থেকে বিভিন্ন কাল্পনিক জিনিসপত্র বাজার করে আনে
সাধারনত গাছের পাতা তরকারি হিসেবে, বালু ভাত হিসেবে বাজার থেকে নিয়ে আসে
বাজার করার সময় কাঁঠাল গাছের পাতা টাকা হিসেবে ব্যবহার করা হয়
এরপর একজন সেসব জিনিসপত্র রান্না করে সবাইকে খেতে দেয়
শিশুরা রান্নার জন্য সাধারনত খেলনা হাড়ি-পাতিল ব্যবহার করে
খাওয়ার সময় থাল হিসেবেও গাছের পাতা ব্যবহার করে থাকে
এই খেলার মধ্যে গ্রাম বাংলার পারিবারিক আবহ ফুটে উঠে
ডাংগুলি[সম্পাদনা]
ডাংগুলি বাংলাদেশ ও উত্তর ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলা
[১] সাধারণত কিশোর বয়সী ছেলেরা এই খেলা খেলে
উত্তরভারতে এর নাম গোলি ডাণ্ডা
ক্রিকেট আসার পর এর জনপ্রিয়তা অনেকটাই ম্রীয়মান হয়ে এসেছে
বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে খেলাটি ড্যাংবাড়ি, গুটবাড়ি, ট্যামডাং, ভ্যাটাডান্ডা ইত্যাদি নামে পরিচিত
খেলার উপকরণ দু'টি- একটি দেড় থেকে দুই ফুট লম্বা লাঠি (ডাং বা ডাণ্ডা), অপরটি গুলি যা নামে গোল মনে হলেও গোল নয়, আসলে প্রায় দুই ইঞ্চি লম্বা আরেকটি ছোট লাঠি যার দুই প্রান্ত কিছুটা সূঁচালো করা থাকে
ডাংগুলি বাংলার সর্বাঞ্চলীয় একটি জনপ্রিয় খেলা
প্রধানত কম বয়সের ছেলেরা এটি খেলে থাকে; মেয়েরা সাধারণত ডাংগুলি খেলে না
দুই থেকে পাঁচ-ছয়জন করে দুই দলে বিভক্ত হয়ে এটি খেলতে পারে
দেড় হাত লম্বা একটি লাঠি এবং এক বিঘত পরিমাণ একটি শক্ত কাঠি খেলার উপকরণ
প্রথমটিকে ডান্ডা ও দ্বিতীয়টিকে গুলি বা ফুত্তি বলা হয়
প্রথমে খোররলা মাঠে একটি ছোট গর্ত করা হয়
যারা দান পায় তাদের একজন গর্তের ওপর গুলি রেখে ডান্ডা মেরে সেটিকে দূরে ফেলার চেষ্টা করে
প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা চারিদিকে দাঁড়িয়ে থেকে সেটিকে লুফে নিতে চায়
তারা সফল হলে ঐ খেলোয়াড় আউট হয়, আর ধরতে না পারলে গর্তের ওপর রাখা ডান্ডা লক্ষ করে ছুড়ে মারতে হয়
ছোঁয়া গেলে সে দান হারায়, আর তা না হলে সে ডান্ডা দিয়ে তুলে গুলিকে আবার দূরে পাঠায়
তারপর গুলি থেকে গর্ত পর্যন্ত ডান্ডা দিয়ে মাপতে থাকে
সাত পর্যন্ত মাপের আঞ্চলিক নাম হলো: বাড়ি, দুড়ি, তেড়ি, চাঘল, চাম্পা, ঝেঁক, মেক
এরূপ সাত মাপে এক ফুল বা গুট এবং সাত ফুলে এক লাল হয়
ভাঙা ফুলের ক্ষেত্রে যেখানে শেষ হয়, পরের খেলা সেখান থেকে শুরু হয়
বাড়ি, দুড়ি ইত্যাদি প্রতিটি মারের পৃথক পৃথক পদ্ধতি আছে
আউট না হওয়া পর্যন্ত একজন খেলোয়াড় খেলতে পারে, আউট হলে দ্বিতীয় একজন একই পদ্ধতিতে খেলবে
এভাবে সবাই আউট হয়ে গেলে বিপক্ষ দল দান পেয়ে খেলা শুরু করে
বস্তুত এ খেলাটি বর্তমান যুগের ক্রিকেটের গ্রাম্য সংস্করণ এবং ব্যাট ও বল ডান্ডা ও গুলির সমতুল্য
এক্ষেত্রেও ক্যাচ হলে অথবা ডান্ডার আঘাত করে আউট করার বিধান আছে
"খেলার নিয়মাবলী" ডাণ্ডা দিয়ে গুলির সূচালো প্রান্তে মারলে তা লাফিয়ে ওঠে
তার পর সেই লাফানো অবস্থায় তাকে দ্বিতীয় বার ডাণ্ডা দিয়ে মেরে অনেক দূরে পাঠাতে হয়
"বিপদ" গুলিটি চোখে লেগে অনেক সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে
দ্বিতীয়বার মারার পর এর তীব্র বেগ ও সূচালো প্রান্তের চোট এই খেলাকে দুর্ঘটনাপ্রবণ করেছে
দাড়িয়াবান্ধা[সম্পাদনা]
দাড়িয়াবান্ধা বাংলাদেশের গ্রামীণ খেলাধুলার মধ্যে একটি পরিচিত খেলা
[১] বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হাডুডুর মতোই সকল অঞ্চলের আরেকটি জনপ্রিয় খেলা
এ দেশের সর্বত্র স্থানীয় নিয়ম কানুন অনুযায়ী এ খেলা হয়ে থাকে
জাতীয় রিক্রিয়েশন এ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের জন্য এ খেলার গ্রহণ যোগ্য আইন কানুন প্রণয়ন করেছে
প্রায় সব এলাকার শিশুরাই এ খেলাটি খেলতে পছন্দ করে
ছেলে, মেয়ে, এমনকি বড়দেরও এ খেলায় অংশ নিতে দেখা যায়
এ খেলার মাঠটি ৫০ ফুট লম্বা ও ২০ ফুট প্রস্থে, মাঝখানে সমান্তরাল ৫০ ফুট লম্বা ও ১ ফুট চওড়া একটি লাইন থাকবে
১ ফুট অন্তর আড়াআড়ি ৪টি লাইনে সমগ্র কোর্টটি ১০ইঞ্চি/১০টি খোপে ভাগ করা থাকবে
আড়াআড়ি ৬টি লাইন ১ ফুট চওড়া হবে
প্রত্যেক দলে ৬ জন করে খেলোয়াড় থাকে
টস করে আক্রমণকারী ও প্রতিরক্ষাকারী স্থির করা হয়
২৫ মিনিট খেলা, ৫ মিনিট বিশ্রাম, পুনরায় ২৫ মিনিট খেলা-এই নিয়মে খেলা চলে
খেলার সময় একজন মারা পড়লে অন্যদলের অর্ধাংশ আক্রমণ করার সুযোগ পাবে
খেলায় একজন রেফারী ৬ বা ১২ জন দাড়িয়া জজ ও ২ জন স্কোরার থাকে
খেলার ফলাফল অমীমাংসিত থাকলে ১০-১-১০ মিনিট পুনরায় খেলে খেলার ফলাফল নির্ধারিত করা যায়
প্রথমে মাটিতে দাগ কেটে ঘর তৈরি করা হয়
ঘর দেখতে অনেকটা ব্যাডমিন্টনের কোর্টের মতো
দুই দলে চার-পাঁচজন করে খেলোয়াড় হলে জমে
কম হলেও দুজন করে খেলোয়াড় লাগবেই
সমতলভূমিতে কোদাল দিয়ে দাগ কেটে ঘর কাটা যায়
বর্গাকার একটি ঘরে সামনে-পেছনে সমান দূরত্বে দুটি করে দাগ কাটতে হয়
এ দুই দাগের মাঝে এক হাত পরিমাণ জায়গা রাখতে হয়
এগুলোকে বলে আড়া কোর্ট
দুটি আড়া কোর্ট জোড়া দিয়ে মাঝখানে একটি কোর্ট তৈরি করা হয়
মাঝখানের এই কোর্টকে বলে 'খাড়া কোর্ট'
খেলোয়াড় যত বেশি হবে, কোর্টের সংখ্যাও তত বাড়বে
প্রতিটি আড়া কোর্টে একজন করে খেলোয়াড় দাঁড়ায়
এখানেই দাঁড়িয়ে অন্য দলের খেলোয়াড়দের ঘরের ভেতর ঢুকতে বাধা দেয়
কোর্টের ওপর বা ঘরের ভেতর অন্য দলের খেলোয়াড়কে ছুঁতে পারলে সে মারা পড়ে
সামনের খেলোয়াড় তার পেছনের খাড়া কোর্ট ব্যবহার করতে পারে
যে দল খেলার সুযোগ পায়, তারা সামনের ঘর দিয়ে ঢুকে পেছনের ঘর দিয়ে বেরোতে থাকে
সব ঘর পেরোনোর পর আবার পেছনের ঘর থেকে সামনে আসে
কোর্টে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য দলের খেলোয়াড়দের ছোঁয়া বাঁচিয়ে সবাই ফিরে আসতে পারলে গেম হয়
যারা কোর্টে দাঁড়িয়ে থাকে, তাদের খেলোয়াড়দের কারো পা যদি দাগে পড়ে তবে তারা ঘর ছেড়ে দেয়
অন্য দল ঘরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে
এভাবে অনেক সময় ধরে খেলাটি খেলা যায়
দাড়িয়াবান্ধার কোর্টের সঠিক কোনো মাপ নেই
একজন খেলোয়াড় দৌড়ে কতটুকু ঘর সামলাতে পারবে, তার ওপর ভিত্তি করে ঘর কাটা হয়
তবে সব ঘরের গঠন একই থাকে
অন্যভাবে বলা যায়, ছক বাধা ঘর দাড়িয়াবান্ধার আসল বৈশিষ্ট্য
খেলা হয় দুটি দলের মধ্যে
প্রত্যেক দলে ৫/৬ থেকে শুরু করে ৮/৯ জন পর্যন্ত খেলোয়াড় থাকে
খেলা শুরুর আগেই মাটির উপর দাগ কেটে ঘরের সীমানা নির্ধারণ করা হয়
খেলায় ঘরের সীমানার বাধ্যবাধকতা থাকায়, দ্রুত দৌড়ের চেয়ে কৌশল ও প্যাঁচের কসরত জানতে হয় বেশি