content
stringlengths
0
129k
১ নম্বর ঘরকে কোন কোন অঞ্চলে বদন ঘর, ফুল ঘর বা গদি ঘর বলে
২ নম্বর ঘরটি লবণ ঘর বা পাকা ঘর বা নুন কোট নামে পরিচিত
ঘরগুলোর মাঝ বরাবর যে লম্বা দাগটি থাকে তাকে কোথাও বলে দৌড়েছি, আবার কোথাও বলে শিড়দাড়া বা খাড়াকোট
আর প্রস্ত বরাবর রেখাগুলোকে বলে পাতাইল কোট
দাড়িয়াবান্ধা খেলার জন্য প্রয়োজন সমতল জমি যেখানে কোদাল দিয়ে কেটে কিম্বা চুন দিয়ে দাগ দিয়ে নিতে হয়
সমান্তরাল রেখার মধ্যে অন্তত এক হাত জায়গা থাকতে হবে যাতে যে-কোন খেলোয়াড় এই জায়গা দিয়ে যাতায়াত করতে পারে
যাতায়াত করার সময় দাগে যাতে পা না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়
অন্য ঘরগুলোতেও খেলোয়াড়ের দাড়ানোর জন্য কমপক্ষে এক হাত পরিমাণ জায়গার লাইন থাকবে
দাগে কারোই পা পড়া চলবে না
খেলার শুরুতে গদি ঘরে একদলের খেলোয়াড়রা অবস্থান নেয়
অন্যেরা প্রতিঘরের সঙ্গে অঙ্কিত লম্বরেখা বরাবর দাঁড়ায়
যেহেতু এই খেলায় ছোঁয়াছুয়ির ব্যাপার আছে, সেজন্যে কোন খেলোয়াড় যদি ছোঁয়া বাঁচিয়ে সব ঘর ঘুরে এসে আবার গদি ঘরে ফিরতে পারে তবে সে এক পয়েন্ট পায়
একদল প্রথমে খেলার সুযোগ পায়, সেই সুযোগকে বলে ঘাই
পয়েন্ট পেলে ঘাই তাদের দখলে থাকে
তবে সব ঘর ঘুরে আসার সময় বিপক্ষের কোন খেলোয়াড় যদি ছুঁয়ে ফেলে তবে পুরো দলই ঘাই হারায়
এভাবে চলতে থাকে খেলা
সবাই সব ঘর ঘুরে আসার উপর নির্ভর করে খেলার ফলাফল
একজনের অসতর্কতা বা অক্ষমতা পুরো দলকেই ঘাই হারিয়ে বিপক্ষ দলের ভূমিকায় নামায়
এই খেলায় কোন খরচ লাগে না এবং বেগ, তেজ প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের দরুন এটি দেশের ছোট-বড় সবার জনপ্রিয় খেলা
নুনতা খেলা[সম্পাদনা]
নুনতা বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের শিশু/ কিশোররা এই খেলা খেলে থাকে
এই খেলা সাধারনত দলবেধে খেলতে হয়
দল যত ভারী হয় খেলা তত মজার হয়
নুনতা খেলায় একজন একটি বৃত্তাকার ঘরের মলিক থাকে এবং তাকে অন্যদের দৌড়ে ধরতে হয়
[১]
নুনতা খেলায় প্রথমে মাটিতে দাগ কেটে বৃত্তাকার ঘর বানানো হয়
এরপর একজনকে "নুনতা" নির্বাচন করা হয় ও সে ঘরের বাইরে থাকে
অন্যরা ঘরের ভেতরে অবস্থান করে
নুনতা ঘরের বাইরে থেকে ছড়া কাটতে থাকে "নুনতা বলোরে"
অন্যরা সমস্বরে বলতে থাকে "এক হলোরে"
এভাবে "নুনতা" সাত পর্যন্ত বলার পর অন্যদের প্রশ্ন জিগ্গেস করে
প্রশ্ন করা শেষ হলে ঘরের ভেতর থেকে সবাই দৌড়ে পালায় ও "নুনতা" সেই ঘর দখল করে
এরপর "নুনতা" শ্বাস বন্ধ করে গুণ-গুণ শব্দে বা ছড়া কাটতে কাটতে বের হয়ে অন্যদের ধরার চেষ্টা করে
যাকে প্রথম ধরতে পারে সে এসে "নুনতার" সাথে যোগ দিয়ে অন্যদের ধরার চেষ্টা করে আর এভাবেই নুনতার দল ভারী হয়
যে সবার শেষে ধরা পরে, সে পরবর্তী পর্বের জন্য ঘরের মালিক হয়
এখানে উল্লেখ্য "নুনতা" যদি দৌড়ানো অবস্থায় শ্বাস নেয় তাহলে অন্যরা তাকে ছুঁয়ে দেয় এবং ঘেরে পৌঁছানো না পর্যন্ত পিঠে মারতে থাকে
নুনতা খেলার সময় যে ছড়াটি বলতে হয়ঃ
নুনতা বলোরে
এক হলোরে
নুনতা বলোরে
দুই হলোরে....(এভাবে সাত পর্যন্ত)
...আমার ঘরে কে?
-আমি রে
কি খাস?
-লবণ খাই
লবণের সের কত?
-এইটা
লবণের দাম দিবি কবে?
-লাল শুক্কুরবারে (শুক্রবার)
কয় ভাই? কয় বোন?
-পাঁচ ভাই, পাচঁ বোন
একটা বোন দিয়ে যা..
-ছঁতে পারলে নিয়ে যা
নৌকা বাইচ[সম্পাদনা]
নৌকাবাইচ হলো নদীতে নৌকা চালনার প্রতিযোগিতা
"বাইচ" শব্দটি ফার্সি "বাজি" শব্দজাত যার বিবর্তন এরূপ: বাজি>বাইজ>বাইচ
এর অর্থ খেলা
তবে এখানে দাঁড় টানার কসরত ও নৌকা চালনার কৌশল দ্বারা বিজয় লাভের লক্ষ্যে আমোদ-প্রমোদমূলক প্রতিযোগিতা বোঝায়
একদল মাঝি নিয়ে একেকটি দল গঠিত হয়
এমন অনেকগুলো দলের মধ্যে নৌকা দৌড় বা নৌকা চালনা প্রতিযোগিতাই হল নৌকা বাইচ
ফার্সি শব্দ বাইচ'এর অর্থ বাজি বা খেলা
নৌকার দাঁড় টানা ও নৌকা চালনার কৌশল দিয়ে প্রতিযোগীরা জয়ের জন্য খেলেন বা বাজি ধরেন
[১] নদীমাতৃক বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আনন্দ আয়োজন, উৎসব ও খেলাধুলা সবকিছুতেই নদী ও নৌকার সরব আনাগোনা
হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংস্করণ বাংলাদেশের নৌকা বাইচ
এক সময় এ দেশে যোগাযোগ ছিল নদী কেন্দ্রিক আর বাহন ছিল নৌকা
এখানে নৌ শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে বিভিন্ন শিল্পকেন্দ্র
এসব শিল্পে যুগ যুগ ধরে তৈরি হয় দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগর
এভাবে একসময় বিভিন্ন নৌযানের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়
"ইতিহাস"
নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকাবাইচ লোকায়ত বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি অংশ
তবে কবে এদেশে গণবিনোদন হিসেবে নৌকাবাইচের প্রচলন হযেছির তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না
"বাইচ" শব্দটির ব্যুৎপত্তি বিবেচনা করে অনুমিত হয়েছে যে মধ্যযুগের মুসলমান নবাব, সুবেদার, ভূস্বামীরা, যাদের নৌবাহিনী, তারা এই প্রতিযোগিতামূলক বিনোদনের সূত্রপাত করেছিলেন
তবে এ বিষয়ে দুটি জনশ্রুতি আছে
একটি জনশ্রুতি জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে
জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রার সময় স্নানার্থীদের নিয়ে বহু নৌকার ছড়াছড়ি ও দৌড়াদৌড়ি পড়ে যায়
এতেই মাঝি-মাল্লা-যাত্রীরা প্রতিযোগিতার আনন্দ পায়
এ থেকে কালক্রমে নৌকাবাইচের শুরু
দ্বিতীয় জনশ্রুতি পীরগাজীকে কেন্দ্র করে
আঠারোো শতকের শুরুর দিকে কোন এক গাজী পীর মেঘনা নদীর এক পাড়ে দাঁড়িয়ে অন্য পাড়ে থাকা তা ভক্তদের কাছে আসার আহ্বান করেন
কিন্তু ঘাটে কোন নৌকা ছিল না
ভক্তরা তার কাছে আসতে একটি ডিঙ্গি নৌকা খুঁজে বের করেন
যখনই নৌকাটি মাঝ নদীতে এলো তখনই নদীতে তোলপাড় আরম্ভ হল
নদী ফুলে ফেঁপে উঠলো
তখন চারপাশের যত নৌকা ছিল তারা খবর পেয়ে ছুটে আসেন
তখন সারি সারি নৌকা একে অন্যের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলে
এ থেকেই নৌকা বাইচের গোড়াপত্তন হয়
মুসলিম যুগের নবাব-বাদশাহদের আমলে নৌকা বাইচ বেশ জনপ্রিয় ছিল
অনেকে মনে করেন, নবাব বাদশাহদের নৌ বাহিনী থেকেই নৌকা বাইচের গোড়াপত্তন হয়
পূর্ববঙ্গের ভাটি অঞ্চলের রাজ্য জয় ও রাজ্য রক্ষার অন্যতম কৌশল ছিল নৌ শক্তি
বাংলার বার ভূঁইয়ারা নৌ বলেই মোগলদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন
মগ ও হার্মাদ জলদস্যুদের দমনে নৌ শক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখে
এসব রণবহর বা নৌবহরে দীর্ঘাকৃতির ছিপ জাতীয় নৌকা থাকত
বর্তমানে নৌকা কেন্দ্রিক নৌবাহিনী নেই
"বাইচের নৌকার গঠন" বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের নৌকা দেখা যায়
বাইচের নৌকার গঠন কিছুটা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ
এই নৌকা হয় সরু ও লম্বাটে
লম্বায় যেমন অনেক দঘল ; ঠিক তেমনই চওড়ায় খুবই সরু
কারণ সরু ও লম্বাটে হওয়ার দরুন নদীর পানি কেটে দরতরিয়ে দ্রুত চলতে সক্ষম এবং প্রতিযোগিতার উপযোগী
নৌকার সামনের গলুইটাকে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়
তাতে কখনো করা হয় ময়ূরের মুখ, কখনো রাজহাঁস বা অন্য কোনো পাখীর মুখাবয়ব