content
stringlengths
0
129k
লুডু খেলার ছক এবং সরঞ্জাম
"প্ৰকারভেদ" লুডু বিভিন্ন প্ৰকার হয়ে থাকে
যে সকল লুডু খেলার প্ৰচলন বাংলাদেশে দেখা যায় তা হলোঃ
ঘর লুডু
সাপ লুডু
পৃথিবী ভ্ৰমণ লুডু
"নিয়মাবলী" এই খেলায় প্রতিটি প্রতিযোগীর চারটা করে গুটি থাকে, প্রতিটি খেলোয়াড় একটি নির্দিষ্ট ঘর দখল করে
যে প্রতিযোগী ডাই চেলে প্রথম ছক্কা ফেলতে পারে সে'ই তার ঘর থেকে গুটি বের করে যাত্রা শুরু করতে পারে
প্রতিটি প্রতিযোগীকে এভাবে ঘর থেকে বের হয়ে পুরো ছক অতিক্রম করে নিজের ঘরে ফিরে এসে গুটি পাকাতে হয়
সবশেষে যার সবগুলো গুটি নির্দিষ্ট ঘরে পৌছায় সে বিজয়ী হয়
"সাপ লুডু" লুডু খেলার ছকের পেছনে সাপ খেলার ঘর আঁকা থাকে
এই খেলায় যে প্রতিযোগী ডাই চেলে প্রথমে ১ (এক) ফেলতে পারে সে ঘর থেকে বের হবার সুযোগ পায়
এক থেকে একশ পর্যন্ত যে প্রতিযোগী যেতে পারে সে'ই জয়ী হয়
যে গুটি সাপের মুখে এসে পড়ে সাপ তাকে কেটে দেয় অর্থাৎ সাপের মুখ থেকে লেজ অঙ্কিত ঘরে পিছিয়ে আসে এবং যে গুটি মই এর গোড়া অঙ্কিত ঘরে আসে সেটি মই বেয়ে মই এর উপরের ঘরটিতে পৌঁছে যায়
"পৃথিবী ভ্ৰমণ লুডু" পৃথিবী ভ্ৰমণ লুডুর মাধ্যমে বিশ্বকে জানা যায়
এ লুডুও একইভাবে খেলা হয়
বোর্ডে উড়োজাহাজ, ট্ৰেন, বাস ইত্যাদির উল্লেখ থাকে
ছক্কায় এক ফোঁটা উঠলে গুটি ঘর থেকে বের হবে
এরপরে ছক্কায় যে নম্বরের ফোঁটা উঠবে সে নম্বরের সাহায্যে খেলোয়াড় সেই দেশে যাবে
এভাবে একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে শুরু করে সারা পৃথিবী ঘুরে যে সকলের আগে পাক্কা ঘরে পৌঁছাবে সেই জয়ী হবে
ষোল গুটি[সম্পাদনা]
ষোল গুটি বাংলাদেশের গ্রামীণ পুরুষদের অন্যতম প্রধান খেলা
[১] অলস অবসরে গ্রামের যুবক ও মধ্যবয়সী পুরুষেরা ষোলগুটি খেলে
মাটিতে দাগ কেটে শুকনো ডাল ভেঙ্গে গুটি বানিয়ে চলে এই দীর্ঘমেয়াদি খেলা
খেলার এত সহজ সরঞ্জাম গ্রামবাসীর উৎসব মুখর মনের বহিঃপ্রকাশকেই প্রমাণ করে
"খেলার নিয়মাবলী"
ষোল গুটি খেলার ছক
সাধারণত মাটিতে দাগ কেটে ষোল গুটির ঘর বানানো হয়
প্রতি পক্ষেই ১৬টি করে গুটি থাকে
শুধু ঘরের মাঝখানের দাগটি দান চালার জন্য খালি থাকে
কোনাকুনি দাগের গুটিগুলো সারা ঘর জুড়ে এক ঘর করে কোনাকুনি খেতে পারে
উলম্ব দাগ কাটা ঘরের গুটিগুলো লম্বভাবে এক ঘর করে খেতে পারে
অপর পক্ষের গুটিকে ডিঙ্গাতে পারলেই সে গুটি কাটা পড়ে
এই ভাবে প্রতিপক্ষের গুটির সংখ্যা কমিয়ে শূন্য করে ফেলতে পারলেই খেলা শেষ হয়ে যায়
তবে অঞ্চলভেদে ১৩টি কিংবা নির্দিষ্ট সংখ্যক গুটি খেয়ে ফেলতে পারলেই খেলা শেষ হয়ে যায়
সেক্ষেত্রে খেলা শুরুর আগেই সংখ্যাটি ঠিক করে নেয়া হয়
ষোল গুটির আর একটি রূপান্তর হলো বাঘ ছাগল খেলা
এক পক্ষ ষোলটি গুটি নেয় এবং অন্য পক্ষ একটি গুটি নিয়ে বাঘ ছাগল খেলা খেলে
একটি গুটিকে বাঘ এবং ষোলটি গুটিকে ছাগল বলে
বাঘের কোনাকুনি এবং লম্বালম্বি সব ধরনের গতিই বৈধ
ছাগল বা ষোল গুটির চাল অন্য খেলার মতই
১৬ গুটি দিয়ে বাঘের চাল বন্ধ করে দিতে পারলেই খেলা শেষ হয়ে যায়
আর বাঘ চেষ্টা করে প্রতিপক্ষের সবগুলো গুটিকে খেয়ে নিতে
১৬ গুটি খেলাটির সবচেয়ে আধুনিক সংস্করন বর্তমানে আন্ড্রয়েড প্লাটফর্মের জন্য ডেভেলাপ করা হয়েছে
এই অ্যাপ্লিকেশনটি গুগল প্লে স্টোর থেকে সংগ্রহ করা যাবে
এক্কাদোক্কা[সম্পাদনা]
এক্কাদোক্কা বাংলাদেশের মেয়েদের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা
[১]
"খেলার উপকরণ" মাটির ভাঙ্গা হাড়ি বা কলসির টুকরা দিয়ে তৈরি চাড়া বা ঘুটি
"খেলার স্থান" বাড়ির উঠান কিংবা খোলা জায়গা
আয়তাকার দাগ কেটে খেলা হয় এক্কাদোক্কা
আয়তাকার ঘরের মধ্যে লম্বালম্বি দাগ টেনে দুইটি ও আড়াআড়ি দাগ টেনে তৈরি করা হয় আরো চারটি খোপ
"খেলার নিয়ম" পর্যায়ক্রমে এক এক করে প্রতিটি ঘরে চাড়া ছুঁড়ে ফেলতে হয়
তারপর এক পায়ে লাফ দিয়ে দাগে পায়ের স্পর্ষ এড়িয়ে ঐ চাড়া পায়ের আঙ্গুলের টোকার সাহায্যে ঐ ঘর থেকে বের করে বাইরে আনতে হয়
চাড়া ছোঁড়ার পর নির্দিষ্ট ঘরের বাইরে পড়লে,দাগের উপর পড়লে,পা দাগে লাগলে,চাড়া আঙ্গুলের টোকার ফলে কোন দাগের উপর পড়লে কিংবা দুই পাশের রেখা পার হয়ে গেলে খেলোয়াড় আউট হয়ে যায়
ফলে খেলার সুযোগ পায় দ্বিতীয় জন
এভাবে পর্যায়ক্রমে যে আগে সব ঘর পার হয়ে আসতে পারে সে এক্কাদোক্কা খেলায় জিতে যায়
"অঞ্চলভেদে ভিন্নতা" বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এক্কাদোক্কা খেলার নিয়মে কিছু কিছু ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়
যেমন: নিচের দিকে না তাকিয়ে চাড়া কপালের উপর রেখে ঘর অতিক্রম করা, দাগে পা পড়লে আউট হওয়া আবার কোথাও দম নিয়ে শেষ ঘরটি পার হয়ে না ঘুরে চাড়াটি ছুড়ে মারা হয়
এলাটিং বেলাটিং[সম্পাদনা]
নামটি শুনেই বোঝা যায় বেশ মজার খেলা এলাটিং বেলাটিং
খেলার শুরুতেই মেয়েরা মাটিতে আঁকা একটি রেখার দুই দিকে মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ায়
প্রথমে একদল দুই কদম এগিয়ে ছড়ার প্রথম লাইন 'এলাটিং বেলাটিং' বলে আবার পিছনে সরে দাঁড়ায়
একই ভাবে দ্বিতীয় দল আবার সামনে এগিয়ে এসে 'কি খবর আইল' বলে পাল্টা চরণ বলে
এভাবেই কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে খেলাটি চলতে থাকে
ছড়ার শেষ লাইন 'নিয়ে যাও বালিকারে' বলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় পক্ষের একটি মেয়েকে ধরে টেনে নিজেদের দলে নেয়ার চেষ্টা করে
তাকে ধরে রাখতে বা টেনে নিতে পারলে প্রথমবারের খেলা শেষ হয়
হৈ-চৈ আর আনন্দে খেলা চলে এলাটিং বেলাটিং
এই খেলায় অতীতে দাস হিসেবে নারীদের বিক্রি করা কিম্বা নারী অপহরণের ছবি ফুটে ওঠে
ঘুড়ি উড়ানো[সম্পাদনা]
ঘুড়ি বা আঞ্চলিক ভাষায় গুড্ডি কেবল আমাদের দেশেই নয় সারা বিশ্বেই একটি জনপ্রিয় খেলা
চীন, জাপানসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে বিচিত্র ধরনের ঘুড়ি দেখা যায়
আমোদ-প্রমোদের খেলা হিসেবে এটি এখনও শীর্ষ স্থানীয়
গ্রামাঞ্চলে একে গুড্ডি খেলা বলে
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে ধান-পাট লাগানোর পর কৃষকরা যখন অবসর থাকে, তখন ঘুড়ি উড়ানোর ধুম পড়ে যায়
লাল-নীল, সাদা-কালো, সবুজ-হলুদ, বেগুনি কাগজের ঘুড়িতে তখন ছেয়ে যায় আকাশ
বিস্তৃত আকাশের পটে সে দৃশ্য যে কত সুন্দর তা ভাষায় বর্ণনা করা যায়না
পুরুষ-মহিলা, ছেলে-বুড়ো সকলেই আনন্দের সাথে আকাশে তাকিয়ে এই দৃশ্য উপভোগ করে
কখনো রঙ মাখানো মাঞ্জা সুতো, কখনো বিনা রঙের সুতো দিয়ে ঘুড়ি ওড়ানো হয়
ডিমের কুসুম, সাবু সিদ্ধ, ভাতের ফ্যান, অ্যারারুট (কাপড়ের মাড় দিতে ব্যবহৃত হয়), গাবসিদ্ধ, তেঁতুল-বিচি সিদ্ধ, বালি ইত্যাদির সঙ্গে কাঁচের মিহি গুড়ো মিশিয়ে দেয়া হয় সরু, চিকন ও মোটা সুতায়
একজনের ঘুড়ির সুতো দিয়ে অন্যের ঘুড়ির সুতোয় প্যাঁচ লাগিয়ে কেটে দেয়া এই গুড্ডি খেলার একটি আকর্ষণীয় বিষয়
আর এই উদ্দেশ্যেই ঘুড়ির মালিকরা কাঁচ মিহি গুড়ো করে, আঠায় মিশিয়ে সুতোয় লাগায়
যার সুতার ধার বেশি সে সারাক্ষণ অন্যের গুড্ডির সাথে প্যাঁচ খেলে ঘুড়ির সুতা কেটে দেয়
এই সুতা-কাটা ঘুড়িগুলো বাতাসে ভাসতে ভাসতে চার-পাঁচ মাইল দুরেও চলে যায়
আর সেই সুতা-কাটা ঘুড়ি ধরারা জন্য বাচ্চা ছেলে থেকে বুড়োরা অব্দি মাইলের পর মাইল দৌঁড়ায়
বলার অপেক্ষা রাখেনা, এ ধরনের ঘুড়ি যে ধরতে পারে সেটা তারই হয়
সব সুতো কাটা ঘুড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হয়না
কোন ঘুড়ি বিলের পানিতে পড়ে নষ্ট হয়ে, কোনটি গাছ বা খুঁটির আগায় বেঁধে ছিঁড়ে যায়
কিন্তু এমন ঘুড়ি উদ্ধারের জন্য শিশু-কিশোরদের চেষ্টার অন্ত থাকে না
ঘুড়ি খেলা প্রথম কোথায় আবিষ্কৃত হয় তাএখনো ঠিক জানা যায়নি
অনেকে মনে করেন চীনদেশে প্রথম ঘুড়ি খেলা চালু হয়
কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও হামামটসের শহরে ঘুড়ি খেলা উপলক্ষ্যে জাতীয় ছুটি উদযাপিত হয় খেলা আরম্ভের প্রথম দিনটিতে
আমাদের দেশে এখনও এই খেলার চল উঠে যায়নি, তবে আগের চেয়ে কম হারে ঘুড়ি উড়ানো হয়
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা ধরনের ঘুড়ির প্রচলন দেখা যায়
এগুলোর আকৃতি ও বানানোর কৌশল একটি আরেকটির থেকে সমপূর্ণ আলাদা
কোনটিতে লেজ থাকে, কোনটি লেজ ছাড়া
আমাদের দেশে সচরাচর যে সব ঘুড়ি দেখা যায় সেগুলো হলো - চং গুড্ডি, পতিনা গুড্ডি, নেংটা গুড্ডি, শকুনি গুড্ডি, ফেইচকা গুড্ডি, সাপ গুড্ডি, ডোল গুড্ডি, ডোল গুড্ডি, মানুষ গুড্ডি ইত্যাদি
গাইগোদানি/কডদু[সম্পাদনা]
রাখাল ছেলেরা মাঠে গরু-ছাগল চড়ায় আর অবসরে খেলে গাইগোদানি
মেঘনা উপজেলায় অঞ্চলে খেলাটি কডদু নামে পরিচিত