content stringlengths 0 129k |
|---|
নৌকাটিতে উজ্জ্বল রঙের কারুকাজ করে বিভিন্ন নকশা তৈরি করা হয় |
সর্বোপরি নৌকাটিকে দর্শকের সামনে যথাসম্ভব আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা থাকে |
"বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাইচের নৌকার গঠন" কারুকার্য ও গঠনের দিকে তাকালে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বাইচের নৌকাগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্যতা দেখা যায় |
একেক অঞ্চলের নৌকা বাইচের জন্য একেক রকমের নৌকার প্রচলন রয়েছে |
ঢাকা, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ এ অঞ্চলগুলোতে বাইচের জন্য সাধারণত কোশা নৌকা ব্যবহৃত হয় |
এর গঠন সরু এবং লম্বায় প্রায় ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুট পর্যন্ত হয় |
কোশা নৌকার সামনের ও পেছনের অংশ একেবারে সোজা |
কোশা নৌকা তৈরিতে শাল, শীল কড়ই, চাম্বুল ইত্যাদি গাছের কাঠ ব্যবহৃত হয় |
টাঙ্গাইল ও পাবনায় নৌকা বাইচে সরু ও লম্বা ধরনের ছিপ জাতীয় দ্রুতগতি সম্পন্ন নৌকা ব্যবহৃত হয় |
এর গঠনও সাধারণত সরু এবং লম্বায় প্রায় ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুট পর্যন্ত হয় |
এর সামনের দিকটা পানির সাথে মিশে থাকে আর পেছনের অংশটি পানি থেকে প্রায় ৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয় |
এই নৌকায় সামনের ও পেছনের মাথায় চুমকির বিভিন্ন কারুকার্য থাকে |
ছিপ জাতীয় বাইচ নৌকা তৈরিতেও শাল, গর্জন, শীল কড়ই, চাম্বুল ইত্যাদি গাছের কাঠ ব্যবহৃত হয় |
কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আজমিরিগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে বাইচের জন্য সারেঙ্গী নৌকা ব্যবহৃত হয় |
এর আকারও কোশা ও ছিপ জাতীয় বাইচ নৌকার মতই সরু লম্বায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট তবে এর প্রস্থ একটু বেশি ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত হয় |
এর সামনের ও পেছনের দিকটা পানি থেকে দু-তিন ফুট উঁচু থাকে এবং মুখটা হাঁসের মুখের মতো চ্যাপ্টা হয় |
চট্টগ্রাম, নোয়াখালী জেলার নিম্নাঞ্চল ও সন্দ্বীপে বাইচের জন্য সাম্পান ব্যবহৃত হয় |
সাম্পান দেখতে জাহাজের মতো |
ঢাকা ফরিদপুরে ব্যবহৃত হয় গয়না নৌকা |
গয়না দৈর্ঘ্যে প্রায় ১০০ ফুট থেকে ১২৫ ফুট মাঝখানে ৮ থেকে৯ ফুট প্রশস্ত |
এর সামনের দিকটা পানি থেকে ৩ ফুট ও পেছনের দিকটা পানি থেকে ৪, ৫ ফুট উঁচু হয় |
"বাইচে ব্যবহৃত নৌকার নাম" বাইচের নৌকাগুলোর বিভিন্ন নাম রয়েছে |
যেমন, অগ্রদূত, ঝরের পাখি, পঙ্খিরাজ, ময়ূরপঙ্খী, সাইমুন, তুফান মেল, সোনার তরী, দীপরাজ ইত্যাদি |
"বাইচের নিয়ম বা আনুষ্ঠানিকতা" নৌকায় ওঠার আবার অনেক আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে |
সকলে পাক-পবিত্র হয়ে গেঞ্জি গায়ে মাথায় একই রঙের রুমাল বেধে নেয় |
সবার মধ্যখানে থাকেন নৌকার নির্দেশক |
দাঁড়িয়ে থেকে নৌকা চালান পেছনের মাঝিরা |
প্রতিটি নৌকায় ৭, ২৫, ৫০ বা ১০০ জন মাঝি থাকতে পারেন |
উপযুক্ত নৌকায় দু'পাশে মাঝিরা সার বেধে বসে পড়ে বৈঠা হাতে |
মাঝিদের বৈঠা টানাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য একজন পরিচালক থাকে যাকে বলা হয় গায়েন |
সে বসবে নৌকার গলুই-এ |
মাঝিরা একত্রে জয়ধ্বনি সহকারে নৌকা ছেড়ে দিয়েই এক সাথে কোনো একটি গান গাইতে আরম্ভ করে এবং সেই গানের তালের ঝোঁকে ঝোঁকে বৈঠা টানে ; যার ফলে কারও বৈঠা ঠোকাঠুকি না-লেগে এক সাথে পানিতে অভিঘাত সৃষ্টি করতে থাকে |
গায়েন বা পরিচালক কাঁসির শব্দে এই বৈঠার এবং গানের গতি বজায় রাখতে সাহায্য করে |
অন্য সব নৌকাকে পেছনে ফেলে নিজেদের নৌকাকে সবার আগে যাওয়ার চেষ্টায় প্রয়োজন বোধে কাঁসির শব্দে বৈঠার গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয় এবং সেই সাথে গানের গতিও বেড়ে চলে |
এ ছাড়া এই সময় দেহ ও মনের উত্তেজনার বশেই গানের মধ্যে 'হৈ, হৈয়া" এই ধরনের শব্দের ব্যবহার দেখা যায় |
এটি সারি গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য |
"বাইচের গান" নৌকাবাইচের সময় মাল্লারা সমবেত কণ্ঠে যে গান গায় তা সারি গান নামে অভিহিত |
নৌকার মধ্যে ঢোল তবলা নিয়ে গায়েনরা থাকেন |
তাদের গানগুলো মাঝিদের উৎসাহ আর শক্তি যোগায় |
ঢোল ও করতালের সাথে সাথে নৌকা বাইচে সকল মাঝি মাল্লারা তালে তালে এক সুরে গান গেয়ে ছুটে চলেন |
নৌকাবাইচের সময় মাঝি-মাল্লারা সমবেত কণ্ঠে যে গান গায় |
একটি জনপ্রিয় সারিগান নিম্নরূপ: |
আল্লায় বলিয়া নাও খোল রে ভাই সক্কলি |
আল্লাহ বলিয়া খোল |
ওরে আল্লা বল নাও খোল শয়তান যাবে দূরে |
ওরে যে কলমা পইড়া দেছে মোহাম্মদ রাসূলরে ভাই সক্কল |
... |
"বাংলাদেশে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা" নৌকা বাইচকে উৎসাহ প্রদান ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার লক্ষে প্রতি বছর বাংলাদেশে জাতীয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় |
বাংলাদেশে প্রধানত ভাদ্র-আশ্বিন মাসে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা হয় |
বাংলাদেশের জাতীয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার দূরত্ব ৬৫০ মিটার |
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের নৌকা বাইচের উন্নয়নের জন্য 'বাংলাদেশ বোয়িং ফেডারেশন' গঠিত হয় |
সনাতন নৌকা বাইচ ও বোয়িং এর মধ্যে সমন্বয় সাধন করাই বাংলাদেশ বোয়িং ফেডারেশনের কাজ |
এ ফেডারেশনটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বোয়িং ফেডারেশনের সদস্য |
বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে একটি আন্তর্জাতিক নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে |
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় |
যেমন, ড্রাগন বোট রেস, বোয়িং বোট রেস, সোয়ান বোট রেস, কাইয়াক ও কেনিয় বোট রেস ইত্যাদি |
পুতুল খেলা[সম্পাদনা] |
পুতুল খেলা বাংলাদেশের গ্রামীণ শিশুদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় খেলা |
[২১] এটি সাধারনত মেয়েরা বেশি খেলে থাকে |
দেশের সর্বত্রই পুতুল খেলা সমান জনপ্রিয় |
[২২] পুতুল খেলেনি এমন মেয়ে বাংলাদেশে নেই বললো চলে |
বর্তমানে পুতুল শৌখিন মানুষের সংগ্রহেরও বস্তু |
ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের দুটি ছড়াগানে পুতুল বিয়ের আনন্দ-বেদনার চমৎকার ছবি ফুটে উঠেছেঃ |
বর ও কনের সাজে পুতুল |
চম্পা ফুলের গন্ধে |
জামাই আইছে আনন্দে |
চম্পা ফুলের সুবাসে |
জামাই আইছে আহাসে |
-(ময়মনসিংহ) |
হলদি গুটি গুটি |
চিরা কুটি কুটি |
আজ ফুতলির বিয়া |
ফুতলিরি নিয়া যাবে |
ঢাকে বাড়ি দিয়া |
ফেসী কান্দে ওসী কান্দে |
কান্দে মাইয়ার মা |
হোলা বিড়াল কাইন্দা মরে |
ঢোক মেলায় না |
-(ফরিদপুর) |
"উপকরন" |
শারদীয় মেলা উপলক্ষে পুতুল বানাতে ব্যস্ত কারিগর |
পুতুল সাধারনত মানবাকৃতিতে মাটি, কাঠ অথবা কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় |
পুতুল সাধারনত শিশুরা বাড়িতে বসেই তৈরি করে |
এছাড়া বিভিন্ন মেলা, যেমন বৈশাখী মেলা, পূজা, রথের মেলা, পৌষ সংক্রান্তি, চড়ক পূজা, শিবরাত্রি, মহররম, ঈদ ইত্যাদি অনুষ্টানের সময় পুতুল বিক্রি করা হয় |
এছাড়া বর্তমানে মাটির পুতুলের সাথে সাথে প্লাস্টিকের পুতুলও অনেক পাওয়া যায় |
[২৩] |
"নিয়মকানুন" প্রথমে নানা রকমের পুতুল কাপড় অথবা রং দিয়ে সাজানো হয় |
এরপর মেয়ে পুতুলকে গয়না দিয়ে কনে সাজানো হয় এবং ছেলে পুতুলকে বর সাজিয়ে শিশুরা তাদের বিয়ে দেয় |
রান্না-বান্না, সন্তান লালন-পালন, মেয়ে পুতুলের সাথে ছেলে পুতুলের বিয়ে ইত্যাদি নানা বিষয়ের অভিনয় করেই খেলা হয় পুতুল খেলা |
আসলে পুতুল খেলার মধ্যে পুরো সংসারের একটা ছবি ফুটে ওঠে |
পুতুলগুলুকে ছোট শিশুরা তাদের সন্তান মনে করে |
তারা পুতলদের মায়ের মতই আদর স্নেহ দিয়ে আগলে রাখে |
শুধু তাই নয় শিশুরা পুতুলদেরকে আবার শাষণও করে |
পুতুল খেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব হলো একজনের মেয়ের সঙ্গে আরেক জনের ছেলে পুতুলের বিয়ে দেয়া |
ফুল টোকা[সম্পাদনা] |
ফুল টোকা বাংলাদেশের গ্রামীণ শিশু কিশোরদের অন্যতম খেলা |
[১] বাড়ির আঙ্গিনাতে কিংবা স্কুলের মাঠে মেয়েরা ফুল টোকা খেলে থাকে |
শিশু বয়স থেকে কৈশোর পর্যন্ত এই খেলায় অংশ নেয় গ্রামের মেয়েরা |
এই খেলায় কোনো উপকরণ লাগে না |
সাইকেল বাজে ক্রিং ক্রিং |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.