content stringlengths 0 129k |
|---|
বাবুর দোকানে |
রাজার বেটির বিয়ে হইছে পাক্কা দালানে |
মা দেবে খোঁপা বান্ধে |
বাবা দিবে বিয়ে |
ফুলের আগায় কড়ি |
দশমনকা ভরি |
"খেলার নিয়মাবলী" দলপতি সহ দুই দলে ভাগ হয়ে কিছুটা দূরত্বে মুখোমুখি বসে এই খেলা শুরু করতে হয় |
দুই দল নিজেদের খেলোয়াড়দের নাম ফুল অথবা ফলের নামে রেখে থাকে |
দলপতি অপর পক্ষের যে কোনো খেলোয়াড়ের চোখ দুইহাতে চেপে ধরে সাংকেতিক নামে তার যে কোনো একজন খেলোয়াড়কে ডাকে |
সে খেলোয়াড় এসে চোখ ধরে রাখা খেলোয়াড়টির কপালে আলতো করে টোকা দিয়ে নিজের জায়গায় গিয়ে বসে |
চোখ খোলার পর ঐ খেলোয়াড়কে যে টোকা দিয়েছে তাকে শনাক্ত করতে হয় |
সফল হলে সে সামনের দিকে লাফ দেবার সুযোগ পায় |
এইভাবে যে দলের খেলোয়াড় লাফ দিয়ে প্রথমে সীমানা অতিক্রম করে সেই দলই জয়ী হয় |
বাঘ ছাগল খেলা[সম্পাদনা] |
বাঘ ছাগল খেলা, গ্রামীণ বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় খেলা |
এই খেলা সাধারনত শিশুরা খেলে থাকে |
[২৪] বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই এ খেলা খেলে থাকে |
এই খেলাটি কোন কোন জায়গায় অ্যাঙ্গা অ্যাঙ্গা খেলা নামেও পরিচিত |
[২৫] |
"নিয়মকানুন" বাঘ ছাগল খেলায় প্রথমে মাটিতে দাগ কেটে বৃত্ত তৈরি করা হয় |
এরপর দল থেকে একজনকে বাঘ নির্বাচন করা হয় এবং দলের বাকী খেলোয়াড় ছাগল হিসেবে বৃত্তের ভেতর অবস্থান করে |
বাঘের কাজ হলো বৃত্তের বাইরে থেকে, বৃত্তের ভেতর আক্রমণ করা এবং একটি ছাগল ছিনিয়ে নেয়া |
এভাবে বাঘ একজন একজন করে নিয়ে তার দল ভারী করে |
শেষ পর্যন্ত যে ছাগল বৃত্তের ভেতরে টিকে থাকতে পারে, সে পরবর্তী দানের জন্য বাঘ নির্বাচিত হয় |
[২৪] |
বাঘ, ছাগদলকে আক্রমণ করার সময় বিভিন্ন রকম কৌশল অবলম্বন করে |
এবং কোন ছাগলকে আক্রমণ করলে ছাগদলের অন্য সদস্যরা তাকে টেনে ধরে রাখে |
খেলা চলতে থাকে দুই পক্ষের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে, বাঘ প্রথমে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকে, অ্যাঙ্গা, অ্যাঙ্গা |
এরপর ছাগলরা সমস্বরে বলে, "কান্দো ক্যান?" এভাবে কথোপকথনের মাঝেই বাঘ ছাগদলকে আক্রমণ করে |
বাঘঃ অ্যাঙ্গা, অ্যাঙ্গা |
ছাগদলঃ কান্দো ক্যান? |
বাঘঃ গরু হারাইছে |
ছাগদলঃ কি গরু? |
বাঘঃ নাঙ্গা গরু |
ছাগদলঃ শিঙ্গি কী? |
বাঘঃ কুষ্টার আঁশ |
ছাগদলঃ একটা গান গাও, শুনি |
বাঘঃ এতি চোর, বেতি চোর |
চলে আয় আমার স্যায়না চোর |
মার্বেল খেলা[সম্পাদনা] |
বাংলাদেশের গ্রামীণ কিশোর ছেলেদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় খেলা মার্বেল |
[১] কোন কোন অঞ্চলে মার্বেল খেলাকে বিঘত খেলাও বলে |
সম্ভবত অভিভাবকদের নিষেধাজ্ঞাই এই খেলার প্রতি কিশোরদের অদম্য আকর্ষণ সৃষ্টি করে |
এই খেলার নিষ্পত্তি হয় অন্যের মার্বেল খেলে জিতে নিজের করে নেবার মাধ্যমে |
"খেলার নিয়মাবলী" মার্বেল খেলার জন্য কমপক্ষে দুইজন খেলোয়াড় দরকার হয় |
তিন, চার, পাঁচ, বা সাতজন মিলেও খেলা যায় |
পরিষ্কার সমতল ভুমি এই খেলার জন্য উপযোগী |
প্রথমে দুইটি একটি রেখা টানতে হয় |
রেখা থেকে চার-পাঁচ হাত দূরে একটি গর্ত করতে হয় যেন একটি মার্বেল সেই গর্তে বসতে পারে |
আঞ্চলিক ভাষায় রেখাটিকে 'জল্লা'(কোথাও 'জই' নামে পরিচিত) এবং গর্তটিকে 'কেপ' বলে |
জল্লার বাইরে পা রেখে প্রত্যেকে একটি করে মার্বেল কেপ এ ফেলার চেষ্টা করে |
যার মার্বেল কেপ এ পড়ে বা সবচেয়ে কাছে যায় সে প্রথম দান পায় |
সবাই প্রথম যে দান পায় তার হাতে ২/৩/৪টি করে মার্বেল জমা দেয় |
সে মার্বেলগুলো ছকের বাইরে বসে সামনের দিকে ওই গর্তের আশপাশে আলতো করে ছড়িয়ে দেয় |
এরপর অন্য খেলোয়াড়রা একটা নির্দিষ্ট মার্বেলকে বলে 'বাদ' |
অর্থাৎ ওই মার্বেল ছাড়া বাকি যে কোন একটি মার্বেলকে অন্য একটি মার্বেল ছেড়ে দিয়ে স্পর্শ করতে হবে |
যদি এমনটা পারে তাহলে ওই দান সে জিতে যায় |
আর না পারলে পরবর্তী জন একইভাবে খেলার সুযোগ পায় |
তবে 'বাদ' দেয়া মার্বেল কিংবা অন্য একাধিক মার্বেলকে ছুড়ে দেয়া মার্বেল স্পর্শ করলে ওই খেলোয়াড়কে ফাইন দিতে হয় |
এবং দান জেতার জন্য পরবর্তী খেলোয়াড় ফাইন হওয়া মার্বেলসহ সেগুলো ছড়িয়ে দিয়ে খেলতে থাকে |
যে কেউ দান জিতলে আবার পুনরায় খেলা শুরু হয় |
এভাবেই চলতে থাকে যতক্ষণ না প্রতিপক্ষ আত্মসমর্পণ করে কিংবা তার কাছের মার্বেল শেষ না হয়ে যায় |
মোরগ লড়াই[সম্পাদনা] |
মোরগ লড়াই খেলার একটি মূহুর্ত |
মোরগ লড়াই বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এই খেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে |
[২৬] এটি সাধারনত ছেলেদের খেলা |
[২৭] গ্রামাঞ্চলের ছেলেদের কাছে এটি অতন্ত্য জনপ্রিয় একটি খেলা |
"নিয়মকানুন" মোরগ লড়াই খেলায় একদল ছেলে গোল হয়ে একপায়ে দাড়িয়ে থাকে |
দুই হাত দিয়ে অপর পা পিছনে ভাজ করে রাখতে হয় |
রেফারি যখন বাশিঁতে ফুঁ দেন তখনই খেলোয়াড়রা একে অপরকে ভাজ করা পা দিয়ে মারতে থাকে |
কেউ পরে গেলে সে বাতিল বলে গণ্য হয় |
এভাবে শেষ পর্যন্ত তিনজন থাকে |
তাদের মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় নির্ধারন করা হয় |
লাটিম[সম্পাদনা] |
লাটিম বাংলাদেশের [১] অন্যতম একটি গ্রামীণ খেলার উপকরণ |
"উপকরণ" আগে সুতার মিস্ত্রিরাই গ্রামের কিশোরদেরকে লাটিম বানিয়ে দিতো |
তারা সাধারণত পেয়ারা ও গাব গাছের ডাল দিয়ে এই লাটিম তৈরি করতো |
নির্বাচিত পাট থেকে লাটিমের জন্য লতি বা ফিতা বানানো হতো |
বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তুলাজাতীয় নরম কাঠ দিয়ে লাটিম এবং গেঞ্জির কাপড় দিয়ে লাটিমের ফিতা বানানো হয় |
(লাটিম), , , |
"কৌশল" লৌহশলাকাকে অক্ষ বানিয়ে কাঠের বানানো গোলকটিকে খেলোয়াড় ২-৩ হাত দীর্ঘ এক টুকরো দড়ি বা সূতলি দিয়ে অক্ষশীর্ষ থেকে ক্রমশ গোলকটির নিম্নার্ধ সুষমভাবে পেঁচিয়ে হাতের প্রধানত তর্জনী ও বৃদ্ধঙ্গুল ব্যবহার ক'রে উঁচু থেকে ছুঁড়ে মাটি বা কিছুর তলে ঘুরায় |
"ধরণ" সাধারণত তিন ধরনের লাটিম খেলা হয় |
১ |
বেল্লাপার ২ |
ঘরকোপ ৩ |
ঘুরতি কোপ |
"বেল্লাপার" বেল্লাপারে একটি দাগ কেটে সীমানা চিহ্নিত করা হয় |
প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় নির্ধারণী খেলায় যে লাটিম পরাজিত হয় তাকে ঘর থেকে নিজেদের লাটিম দিয়ে আঘাত করে করে প্রতিযোগীরা সীমানা পার করে দেয় |
ঘুর্ণায়মান লাটিম হাতে নিয়েও প্রতিযোগী লাটিমকে আঘাত করা যায় |
মাটিতে রাখা লাটিমকে আঘাত করতে ব্যর্থ হলে ঐ লাটিমের স্থানে ব্যর্থ লাটিমকে রাখা হয় এবং তাকে বেল্লা পার করা হয় |
শর্ত অনুযায়ী সীমানা পার করা লাটিমকে নিজের লাটিম বা দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয় |
"ঘরকোপ" লাটিমের ফিতা ও লাটিম দিয়ে একটি বৃত্ত আঁকার পর বৃত্তের ভিতর বন্দী লাটিমগুলোকে রাখা হয় |
বৃত্তের ভিতরের লাটিমগুলিকে বাইরের মুক্ত প্রতিযোগীদের লাটিম দিয়ে আঘাত বা কোপ মেরে ক্ষত করাই এই লাটিম খেলার উদ্দেশ্য |
ঘুরতি কোপ:প্রতিযোগীদের মধ্যে একজন লাটিম ঘুরিয়ে দেয় আর অন্যরা তাদের লাটিম ঘুরিয়ে ওটাকে আঘাত করার চেষ্টা করে |
এভাবে সবাই একবার করে ঘোরায় |
লুডু[সম্পাদনা] |
লুডু খেলা বাংলাদেশে অন্যতম বিনোদন হিসেবে বিবেচিত |
[১] ঘরের বিছানায় অথবা মাটিতে মাদুর পেতে কৈশোর অতিক্রান্ত ছেলে মেয়েরা এ খেলাটি খেলে থাকে |
এই খেলাটির সরঞ্জাম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করা হয় |
গ্রামের বিবাহিত মহিলারাও অবসর সময়ে এই খেলাটি খেলে থাকে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.