content
stringlengths
0
129k
কিন্তু কোথাও তাদের না পেয়ে আমরা শহরে বির্তর্কিত কমিটি বাতিলের দাবিতে মিছিল করি
অপরদিকে বিদ্রোহীদের নেতা রানা মুজিব জানান, মহানগর যুবদল কমিটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়ে ছিল
কেন্দ্রীয় কমিটিকে ভুল বুঝিয়ে কতিপয় কয়েক নেতা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করায়
কিন্তু দীর্ঘদিন পর আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়, যাদের নেতা বানানো হয়েছে তাদের কোন গ্রহণযোগ্য এখনো হয়নি রাজপথে রাজনীতি করার জন্য
বির্তর্কিত কমিটি এখন ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের নিয়ে শো-ডাউন করছে, আহবায়ক যুগ্ম আহবায়ক ও সদস্য সচিবদের কোন কর্মী নেই
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, রেল ও সড়ক যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গভীরতর হচ্ছে
ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে বাংলাদেশে তাকে স্বাগত জানিয়ে এসব কথা বলেন
শাহরিয়ার আলম বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকে দু'দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্র ইতিবাচক বলে তিনি মন্তব্য করেন
প্রতিমন্ত্রী রেল ও নৌ-পথে আরো যোগাযোগ বৃদ্ধির চলমান কার্যক্রমকে স্বাগত জানান
এছাড়া তারা দু'দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিদ্যুৎ আমদানি-রপ্তানির বিষয়েও আলোচনা করেন
আগামীতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো গভীরতর হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভারতীয় নতুন হাইকমিশনারকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং বাংলাদেশে তার কার্যকালীন সময় সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন
__ মাস ছয়েক অতিক্রান্ত
আমার সাথে রক্তিমের, একপ্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে
অনেক চেষ্টা করেছি, যোগাযোগ রাখার
ফোন ও করেছিলাম বার কয়েক
প্রতিবার ই হতাশ হয়েছি
এর কারণে আমার পড়াশোনায় ব্যঘাত ঘটছিল বুঝতে পারছিলাম
এর কারণে স্যারের কাছে খুব বকা খেতাম
রাজবল্লভ পাড়া থেকে বাসে উঠলে, বুকটা হু হু করে উঠত
শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় এলে সেই শব্দ আরও বাড়ত
মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠত, বন্ধু বিহীনে
__ মানুষ অভ্যাসের দাস
সবরকম পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে পারে
আমিও পেরেছিলাম
নিজেকে প্রচণ্ডভাবে ব্যস্ত করে নিয়েছিলাম
কারোর কারণে, জীবন তো আর থমকে থাকে না! কিন্তু, তবু; যদি এগুলো এসেই যেত
মনে হত রক্তিম থাকলে খুবই ভালো হতো
__ সামনে আমার অনেক পরীক্ষা থাকার দরুন, রক্তিমের চিন্তা থেকে নিজকে মুক্ত করে পড়াশোনায় মন দিলাম
কারণ? এবছর কিছু না করতে পারলে বাড়ি থেকে, কপালে জুটত অনেক রকম 'মন্ডামিঠাই'
আমার বাবা কে তো আর চেনা নেই আপনাদের
পুরোদস্তুর চলছে পরীক্ষা প্রস্তুতি
রক্তিম টপিক ভুলে মন এখন, মন দিয়েছে নিজের জীবনকে গড়তে
___ পরীক্ষার হাঁসফাঁস অবস্থায় থাকার দরুন, কোনো দিকে মন ছিল না
সদ্য একটু চাপ কমেছে
হাঁফ ছেড়ে একটু বেঁচেছি
মেসের বন্ধুদের সাথেও বাক্যালাম কমই হত
ছুটির দিন আজ
সবাই একসাথে হয়েছি অনেকদিন পর
মেসের, রান্নার মাসির হাতের 'সুস্বাদু' চিকেন খেয়ে দুপুরে আড্ডায় বসেছি সবাই
বিকেলের প্ল্যান চলছে
শম্পা বলে উঠল,
- "চল সিনেমা যাই"
__ ওই অন্ধকারময় হলঘরে বসে পফ কর্ন চিবিয়ে, চুকচুক করে কোল্ড ড্রিংকস খেতে খেতে আড়াই ঘন্টা নষ্ট করার পক্ষপাতী কদাপি নই
তাই বিরোধীতা করলাম
এর চেয়ে গঙ্গার পাড়ে বসে, স্টীমারের আওয়াজ শুনতে শুনতে মাটির ভাঁড়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ে চুমুক দিতে বেশী পছন্দ আমার
তাই মতামত দিয়ে বসলাম, গঙ্গার পাড়ে বসে ফুরফুরে হাওয়া খাওয়ার
অবিশ্বাস্য ভাবে সবাই রাজীও হয়ে গেল
___ বিকেলের দিকে বাগবাজার ঘাটের কাছে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি, ভাঁড়ের পর ভাঁড় চায়ে চুমুক পড়ছে সবার
রাজনৈতিক থেকে সিনেমা সবই ছিল আলোচনার বিষয় বস্তু
বেশ জমে উঠেছে সে আলোচনা
হঠাৎই আমার মুঠোফোনে টুং করে একটা শব্দ হল
জিন্সের পকেট থেকে বের করে দেখলাম, স্ক্রিনে লেখা
- "রিসিভ ওয়ান নিউ মেসেজ"
__ দিনে এরকম হাজারো মেসেজ আসে
দুনিয়া সুদ্ধু সবাই ভুলে গেলেও একজনই আমায় মনে রাখে
যার দৌলতে আমার, সবার সাথে যোগাযোগ প্রতিস্থাপিত হয়েছে
সারাদিনে হাজারো কলস সমেত মেসেজস
এই ভেবে মুঠোফোন পুনরায় জিন্সের পকেটে সাঁটিয়ে দিলাম
__ আকাশ তখন গোধূলির রঙ মেখেছে
জেটির কাছে আসছে একে একে স্টীমার
ভট ভট শব্দ তুলে
যাত্রীদের ওঠা নামা কখনও বাড়ছে বা কমছে
সেই সব পর্যবেক্ষণ করছি বুঁদ হয়ে
রুমাদির ডাকে হুঁশ ফিরল,
- "ওরে আমার প্রকৃতি প্রেমিকা, ওঠ"
- "মেসে ফেরার সময় যে হল"
__ চোখ টিপে মুচকি হেসে উঠে পড়লাম
গঙ্গার ঘাট ছেড়ে মেসের দিকে পা বাড়ালাম
__ একটু ফ্রেশ হয়ে বই নিয়ে বসলাম
সন্ধ্যায় বইপত্রে একটু ধূপ ধূনো না দিলে মা সরস্বতী আবার রাগ করবেন
মা সরস্বতীর থেকেও যিনি বেশী রাগ করবেন, তিনি হলেন আমার পরম পিতৃদেব
পড়তে পড়তে হঠাৎই মুঠোফোনের লক টা খুলে মেসেজ বক্সের দোরগোড়ায় গেলাম
একের পর এক না পড়া মেসেজ গুলো ডিলিট করছি
একটা জায়গায় গিয়ে আঙ্গুল থেমে গেল
__ ফোন টা নিয়ে বসেই আছি
আর পড়ার দিকে মন নেই
কখন যে রাতের খাবারের সময় হয়ে গিয়েছে! ভ্রুক্ষেপ ও নেই
মেসের এক বন্ধু,মনামীর ডাকে ইহজগতে ফিরে এলাম
রাতের খাওয়া সেরে বেশ পরিপাটি করে শুয়েছি
ঘুম না হলে আমার আবার মেজাজ খানা খিটখিটে হয়ে যায়
অনেকক্ষণ থেকে চেষ্টা করছি ঘুমোনোর
এদিক ওদিক করে, বার পাঁচেক জল খাওয়ার জন্য উঠে এবং বার কয়েক সেই জল ত্যাগ করেও ঘুম আর আসে না
অগত্যা মেসের বারান্দায় পায়চারি করলাম কিছুক্ষণ
__পায়চারি করছি আর ভাবছি
কী করা যায়
এতদিন পর রক্তিম কেন মেসেজ করল? আর এরকমই একটা মেসেজ কেন? কি এমন হল? হাজারো প্রশ্নের ভিড় মাথার মধ্যে
সব প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে আমাকে আবারও মেদিনীপুর যেতে হবে
ওখানেই লুকিয়ে আছে সব উত্তর
ঠিক করলাম পরদিন ই রওনা দেব
__ গতরাত্রে ঘুমোতে যখন এসেছিলাম, তখন প্রায় ভোররাত
একঘুমে সকাল হল ঠিক সওয়া ন'টায়
উঠে ব্রেকফাস্ট সেরে পেপারের পাতা উল্টেপাল্টে বেলায় যখন বাথরুম দখলে পেলাম
তখন প্রায় একটা
সব কাজকর্ম সেরে দুপুরের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে
__ রাজবল্লভ পাড়ার মোড় থেকে হাওড়া গামী বাসে চড়ে যখন হাওড়া পৌঁছলাম তখন প্রায় বিকেল
টিকট কাউন্টারে টিকিট কেটে স্টেশানে অপেক্ষা করছি
অ্যানাউন্সমেন্ট আসছে একের পর এক মেদিনীপুর গামী ট্রেন ক্যান্সেল এর
বিকেল গড়িয়ে একটু সন্ধ্যার আভাস দেখা দিয়েছে