content
stringlengths
0
129k
__ ভাবনায় ছেদ পড়ল
একটা রিক্সা আসতে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ছোট্ট শিশুর মতো লাফিয়ে উঠলাম
আমার কান্ড দেখে কাকিমা শুধু মুচকি হাসলেন
- "যাবেন দাদা"?
-"কালেক্টর রোড"
-"দু'জন আছি"
__ রিক্সার মালিক এমনভাবে আমার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল! যেন ভূত দেখেছে
আমরা রিক্সায় চড়ে বসলাম
এবার আমি একলাই বকবক করতে করতে যাচ্ছি
কাকিমার কোনো উত্তর নেই
বুঝলাম কাকিমার মন ভালো নেই, রক্তিমের জন্য
বিদ্যুতের ঝলকে দেখলাম, রিক্সার মালিক মাঝে মাঝে পেছন ফিরে দেখছে
__ মিনিট পনেরো পর কালেক্টর রোডে পৌঁছালাম
রিক্সা ভাড়া মিটিয়ে রক্তের বাড়ির দিকে এগোলাম
কাকিমার কথা মতো আমিই আগে ছিলাম
রক্তমকে চমকে দেব বলে
ওর বাড়ির সামনে এসে কড়া নাড়া দিলাম
অনেকবার আওয়াজ করাতে রক্তিমের বোন, রাকিয়া এসে দরজা খুলল
আমাকে দেখে অবাক হয়ে,
- "তিথি দি তুমি"?
__আমি সেসব পাত্তা না দিয়ে, পেছনে থাকা কাকিমার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে সোজা রক্তিমের ঘরে হানা দিলাম
__ চমকটা আমাকে ভালোই দিয়েছিল রক্তিম সহ ওর বাড়ির সবাই
রক্তিমকে চমক দিতে গিয়ে আমি নিজেই তার শিকার হই
__রক্তিমের ঘরে যখন প্রবেশ করলাম, ওর অবস্থা দেখে আমিই চমকে উঠি
তরতাজা একটা ছেলে বসে আছে হইল চেয়ারে
চুলগুলো উস্কো খুস্কো
মুখে সেই চার্মিং ভাব হারিয়ে গেছে
একরাশ হতাশা গ্রাস করেছে রক্তিমকে
__ রক্তিমের ওই অবস্থা দেখে আমি থ বনে গিয়েছিলাম কয়েক মুহুর্তের জন্য
হঠাৎই মনে পড়ল কাকিমার কথা
উচ্চস্বরে ডাকা শুরু করলাম,
__আমাকে থামিয়ে দিয়ে রক্তিম ই বলে ওঠে,
-"তুই কাকে ডাকছিস"?
- "কেন কাকিমা কে"
-"আমার সঙ্গে তো এলেন একসাথে "
-"পাঁশকুড়া থেকে ট্রেনে উঠলেন"
-"তোর কথা বললেন"
__ একপ্রকার বিরক্ত হয়েই রক্তিম বলে উঠল,
- "তোর ইয়ার্কি করার অভ্যাস আজও যায়নি, তিথি"!
- "ইয়ার্কি করব কেন"?
__ পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ি
__রক্তিমের বোন রাকিয়া ঘরে ঢুকল
সাথে কাকু
রাকিয়াই উত্তর দিল,
- "তুমি এলে বলে, দাদা তাও কথা বলল"
-"এতদিন হাতে গুনে কয়েকটি কথা বলেছে মাত্র"
__ আমি রাকিয়াকে থামিয়ে বলি,
- "কাকিমার কি হয়েছে"?
-"তোমার কাকিমা গত হয়েছেন কয়েক মাস হল"
__ কাকুর উত্তরে আমি অবাক হই বৈকি
উত্তেজিত ভাবেই বলি,
-"মানে? কি সব..."
-"এতটা রাস্তা কার সাথে এলাম আমি"?
__রক্তিমের দিকে তাকিয়ে নিজের মুঠোফোন থেকে ওর মেসেজ বের করে দেখালাম,
-"দেখ তোর মেসেজ"
-"তুই আমাকে মেসেজ করেছিলি তাই এসেছি"
__ নির্লিপ্ত কন্ঠে রক্তিম বলে ওঠে,
-"আমি তোকে মেসেজ করেছি"?
-"আমার ফোন কবেই ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে গেছে"
- "অ্যাক্সিডেন্টের পর"
__রক্তিম সমেত বাকিদের কথা আমাকে আরও অবাক করে তুলছিল
- অ্যাক্সিডেন্ট! কি অ্যাক্সিডেন্ট"?
__ আমার প্রশ্নে রক্তিম বলে ওঠে,
-"আমি বেশ কিছুদিন ধরে হতাশায় ভুগছিলাম
মনে হচ্ছিল রঞ্জনা আবার ফিরে এসেছে
আমাকে কিছু বলতে চায়
ওর বোধহয় অনেক কথা বলা বাকি ছিল
তাই আবারও ফিরে এসেছে
এসবের জন্য নিজেকেই নিজে বন্দি করে নিই
পাগল হবার উপক্রম প্রায় উপস্থিত
মা'র জন্য সেই অবস্থার হাত থেকে ফিরে এসেছি"
__ এগুলো কাকিমার থেকে শুনেছি
বাকিটা বল
মেজাজ তখন সপ্তমে রীতিমতো
কিছুটা বিরক্তির সুর চড়িয়েই বললাম
__ রক্তিম আবার বলা শুরু করল,
-"সাঁতরাগাছি অবধি বাসে এসে ওখান থেকে ট্রেন ধরতাম
এরকমই এক দিনে ট্রেনের ট্র্যাক পেরিয়ে প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্যে আসছি চোখের নিমেষে কিছু যাত্রীকে একটা এক্সপ্রেস ট্রেন পিষে দিয়ে চলে যায়
তার মধ্যে আমার মা ও ছিল
আমিই দায়ি মা'র মৃত্যুর জন্য"
__ আরও বিরক্তি যেন গ্রাস করছে আমাকে
আগের তুলনায় একটু বেশীই বিরক্তি সুরে বলতেই যাচ্ছিলাম, রক্তিম বলে উঠল,
- "আমি জানি তুই কি ভাবছিস"!
-"কি শুনি"?
-"আমি এসব বুঝলাম কিভাবে
তখন তো আমার ই পাগল পাগল অবস্থা "
-"ঠিক তাই"
-"মা'র কারণে আমি তখন একটু সেরে উঠেছি
তাই জানি"
- "মা কে নিয়ে মজা করব"!
-"তাও আবার মৃত্যু "
__রক্তিম আবার শুরু করে,
-"মা কে বাঁচানোর অহেতুক চেষ্টা করেছিলাম
সেই চেষ্টায় সফল হইনি
পা দুটো খুইয়েছি"
__ তবু মনটা খচখচ করছিল এসব শোনার পরও
বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল
মনে তখনও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ট্রেনে আমার সহযাত্রী কে ছিল? মেসেজ ই বা কে করেছিল আমাকে?
__ প্রথমটার উত্তর পেয়েছিলাম তৎক্ষণাৎ
রক্তিমের কথা শুনেও পাগলের মতো দৌড়ে বেরিয়ে এসেছিলাম ওদের বাড়ির বাইরে