content stringlengths 0 129k |
|---|
এরপরেই রাতের শেষভাগে যন্ত্রসংগীত নিয়ে মঞ্চে উপনিত হন-সাসকিয়া রাও দ্য-হাস এবং পন্ডিত বুদ্ধাদিত্য মুখার্জি |
এর প্রথমেই 'চেলো' পরিবেশনায় অংশ নেন-সাসকিয়া রাও দ্য-হাস |
অতঃপর রাতের একেবারে শেষভাগে পন্ডিত বুদ্ধাদিত্য মুখার্জি 'সরোদ'-এ শাস্ত্রীয় সংগীতের সুর-সূধায় শেষ হয় চতুর্থ দিনের আয়োজন |
নৃত্যের ছন্দে, রাগে, সুরে, খেয়ালে, ঠাটে, তালে, লয়ে সুরের শিল্পী, শিল্প ও শিল্পের অনুরাগীদের ঘটিয়ে সমস্ত বিশ্ব ব্রহ্মা-কেই যেন কিছু সময়ের জন্য দূরে ঠেলে দিয়েছে সুরপিয়াসীরা |
সংগীতের বিশুদ্ধতায় শুদ্ধ হওয়ার জন্য সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত দর্শক শ্রোতাদের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা প্রমাণ করে-সংগীত যে সব কিছুর ঊর্ধ্বে |
ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুরের আসর শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন বিচ্ছেদের চিহ্ন ফুটে উঠে অনুষ্ঠাস্থলে আগতদের মাঝে |
সারারাত পর্যন্ত সংগীতের সাধনায় মত্ত থাকার পরও যেন মনে হয়েছিল আরও কিছুক্ষণ থাকলেই ভালো হতো |
আগামী ৩১ ডিসেম্বর ভোরে শেষ হবে পাঁচরাতের এই সংগীতাসর |
তৃতীয় দিনের সম্পূর্ণ আয়োজন : উৎসবের তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের সেতার-বাদনের মধ্য দিয়ে |
সেতার দলে ছিলেন প্রসেনজিৎ মন্ডল, টি এম সেলিম রেজা, রিঙ্কু চন্দ্র দাস, মেহরীন আলম, জ্যোতি ব্যানার্জি, মোহাম্মাদ কাউসার এবং জাহাঙ্গীর আলম শ্রাবণ |
তাদের সঙ্গে তবলায় ছিলেন প্রশান্ত ভৌমিক ও সুপান্থ মজুমদার |
পন্ডিত কুশল কুমার দাসের কম্পোজিশনে তারা কিরওয়ানি রাগে সেতার অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন |
এরপর শিল্পীদের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন গ্র্যামি বিজয়ী শিল্পী বিদ্বান ভিক্ষু বিনায়ক রাম |
এরপরেই কর্ণাটকি যন্ত্রসংগীত নিয়ে মঞ্চে আসেন পিতা-পুত্র বিদ্বান ভিক্ষু বিনায়ক রাম ও সেলভাগণেশ বিনায়ক রাম |
ভিক্ষু বিনায়ক রাম বাজিয়ে শোনান ঘাটম আর কঞ্জিরা বাদন করেন সেলভাগণেশ বিনায়ক রাম |
তাদের সঙ্গে কাঞ্জিরা ও কোনাক্কল বাজিয়েছেন স্বামীনাথন এবং মোরসিংয়ে ছিলেন এ গণেশন |
নিজেদের পরিবেশনার শুরুতেই তারা ঘাটমে শিব তা-ব ও সেভেন অ্যান্ড হাফ বিট কম্পোজিশন বাজান |
পরে তারা গুরুবন্দনা ও গণপতি তালম বাজিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন |
শিল্পীদের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ |
এরপর খেয়াল পরিবেশন করেন সরকারি সংগীত কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা |
১৮ সদস্যের এ দলটিতে ছিলেন আশা খন্দকার, বিটু কুমার শীল, দেবজানি দাস, ড. ফকির সুমন, জিএম সাইফুল ইসলাম, জোহরা হোসাইন, মল্লিকা ওঝা, গোলাম মোস্তফা, মমিন মিয়া, মুরাদ হোসাইন, নিউটন বৈরাগী, নিত্য গোপাল ঠাকুর, অর্বি শর্মি, শারমিন সুলতানা স্মৃতি, কৃষ্ণ গোপাল, সুমা বেপারী, সুস্মিত সাহা ও তমালিকা হালদার |
দলটি পরিবেশন করে রাগ মালকোষ |
তাদের সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেছেন সৈয়দ সাজিদ হোসেন ও মো. রাশেদুল হাসান, হারমোনিয়ামে ছিলেন মো. মফিজুর রহমান, এবং সারেঙ্গীতে মতিয়ার রহমান |
পরিবেশনা শেষে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন শাস্ত্রীয় সংগীতের খ্যাতিমান শিল্পী পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী |
এরপর সরোদ পরিবেশন করেন শিল্পী আবির হোসেন |
তার সঙ্গে তবলায় ছিলেন যোগেশ শামসি এবং তানপুরায় অভিজিৎ দাশ |
শিল্পী পরিবেশন করেন রাগ আভোগী |
পরিবেশনা শেষে আবির হোসেনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী |
সরোদ পরিবেশনার পর বাঁশি বাদন নিয়ে মঞ্চে আসেন গাজী আবদুল হাকিম |
তিনি দেশ রাগ, পিলু ঠুমরী ও কয়েকটি ধুন পরিবেশন করেন শ্রোতাদের জন্য |
তার সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেন দেবেন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি এবং তানপুরায় সঙ্গত করেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী সামীন ইয়াসার ও এস এম আশিক আলভি |
পরিবেশনা শেষে শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আবাহনী লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান |
বাঁশির পর ধ্রুপদ সংগীতে দর্শকদের মোহিত করেন শাস্ত্রীয় সংগীতের সনাতন ধারার বিশিষ্ট পন্ডিত উদয় ভাওয়ালকর |
তিনি পরিবেশন করেন রাগ মাড়ু ও রাগ তিলং |
তার সঙ্গে পাখোয়াজে সঙ্গত করেন সুখাদ মুন্ডে, এবং তানপুরায় সংগত করেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ কুন্ডু ও টিংকু কুমার শীল |
পরিবেশনা শেষে পন্ডিত উদয় ভাওয়ালকরের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের |
ধ্রুপদ পরিবেশনা শেষে গায়কী অঙ্গের বেহালা বাদন নিয়ে মঞ্চে আসেন বিদূষী কলা রামনাথ |
তিনি পরিবেশন করেন-রাগ নট ভৈরব, এবং রাগ বসন্ত |
শিল্পীকে তবলায় সঙ্গত করেন-যোগেশ শামসি, এবং তানপুরাতে সঙ্গত করেন জ্যাতাশ্রী রায় চৌধুরী ও চন্দ্রা সাহা স্মৃতি |
পরিবেশনা শেষে শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর |
এরপরেই এবারের 'বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৭'-এর তৃতীয় দিনের শেষ পরিবেশনাটি ছিল পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর খেয়াল |
তিনি তার পরিবেশনার শুরুতেই পরিবেশন করেন-রাগ গুনকেলি, এবং যোগিয়া রাগে বাংলা গান |
শেষে তিনি একটি ভজন পরিবেশন করেন |
শিল্পীকে তবলায় সঙ্গত করেন পন্ডিত যোগেশ শামসি, হারমোনিয়ামে গৌরব চ্যাটার্জি এবং তানপুরায় বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী উজ্জ্বল কুমার মালাকার ও অভিজিৎ দাশ |
পরিবেশনা শেষে পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল ?মুহিত |
আজকের আয়োজনে যা থাকছে : আজ এ উৎসবের পঞ্চম ও শেষ দিন |
এ পঞ্চম ও শেষ দিনের এবারের এ উৎসব শুরু হবে ওড়িশি নৃত্য পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে |
নৃত্য পরিবেশন করবেন-বিদুষী সুজাতা মহাপাত্র |
এরপর মঞ্চে উঠবে যন্ত্রসংগীতের সুর-ঝঙ্কার |
এতে 'মোহনবীণা' বাঁজিয়ে শোনাবেন পন্ডিত বিশ্বমোহন ভট্ট |
মোহনবীণা'র মোহনীয় সুরের রেশ কাটতে না কাটতেই কণ্ঠে খেয়াল পরিবেশন করতে মঞ্চে আসবেন-ব্রজেশ্বর মুখার্জি |
তারপরেই শুরু হবে যুগল সেতার বাদন |
এ যুগল সেতার বাদনে অংশ নেবেন-পন্ডিত কুশল দাস ও কল্যাণজিত দাস |
এরপর রাতের একেবারে রাতের শেষ ভাগেও থাকবে মনমোহিত 'সেতার'-এর সুর |
এ পর্যায়ে সেতারে শাস্ত্রীয় সংগীতের সুর ছড়াবেন-পন্ডিত কৈবল্যকুমার গুরাভ |
আর তারপরেই একবছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মঞ্চে আসবেন-পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া |
বাজাবেন বাঁশি |
বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও তিনি তার মন্ত্রমুগ্ধকর বাঁশির সুরে মাতিয়ে তুলবেন হাজার হাজার সংগীতপ্রিয় মানুষদের |
তার বাঁশির সুরেই হবে ভোর, মানুষের মনে ঘরে ফেরার তাগিদ না থাকলেও একসময় ফিরতে হবে বাড়ি |
আর এর সঙ্গেই যেমন শেষ হবে হবে না হবে না করেও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া 'বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব-২০১৭'-এর আয়োজন, তেমনই শুরু হবে আবারও একবছরের অপেক্ষার প্রহর গুনন |
স্কয়ার নিবেদিত এবারের এ উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ ও ভারত ও পশ্চিমাদেশ কাজাখস্থানের ২শতাধিক শিল্পী |
শিল্পী ও দর্শকের অশগ্রহণ এবং ব্যাপ্তির বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উচাঙ্গসংগীতাসরে পরিণত হওয়া বৃহৎ এ আয়োজনটি সাজানো হয়েছে দেশের নবীন শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পীদের সঙ্গে শ্রোতার মন উচাটন করা উপমহাদেশের ওস্তাদ, পন্ডিত. গুরু ও বিদুষীদের অনবদ্য পরিবেশনা দিয়ে |
আয়োজনে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞদের পরিবেশনার পাশাপাশি উৎসব প্রাঙ্গণে চলছে বাংলাদেশের সংগীত সাধক ও তাদের জীবনী নিয়ে সচিত্র প্রদর্শনী |
এ ছাড়াও বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটলমেন্ট আয়োজন করেছে 'সাধারণের জায়গা' শীর্ষক স্থাপত্য প্রদর্শনী |
ভারত সরকারের 'স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (মিনিস্ট্রি অব হেল্থ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার / এম ও এইচ এফ ডাব্লু') অন্তর্ভূক্ত 'জাতীয় স্বাস্থ্য প্রবেশদ্বার (ন্যাশনাল হেল্থ পোর্টাল /এন এইচ পি)'-র 'স্বাস্থ্য-তথ্য জ্ঞাপক কেন্দ্র (সেন্টার ফর হেল্থ ইনফরমেটিক্স/সি এইচ আই)' দ্বারা এই প্রবেশদ্বার (পোর্টাল)-টি পরিকল্... |
দূর্গাপূজায় হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না - । 26 |
তথ্য সার্চ করুন |
আন্তর্জাতিক |
বিশেষ প্রতিবেদন |
দূর্গাপূজায় হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না |
প্রকাশিত নভেম্বর ১৮, ২০২১ |
মুহম্মদ জাফর ইকবাল : |
১. কয়দিন থেকে আমার নিজেকে অশুচি মনে হচ্ছে |
মনে হচ্ছে আমি বুঝি আকণ্ঠ ক্লেদে নিমজ্জিত হয়ে আছি |
শুধু আমি নই, এই দেশে আমার মতো অসংখ্য মানুষের একই অনুভূতি, মনে হচ্ছে জাতির একটি বড় একটি অংশ বিষণ্ণতায় ডুবে আছে |
কারণটি নিশ্চয়ই সবাই বুঝতে পারছেন |
যে দুর্গাপূজাটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় আনন্দোৎসব হওয়ার কথা সেটি এবারে সবচেয়ে বড় তাণ্ডবের কেন্দ্রস্থল |
আমি যে এটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে নিজেকে সান্ত্বনা দেবো সেটিও করতে পারছি না |
কুমিল্লা থেকে শুরু হয়ে এটি শুধু কুমিল্লায় থেমে থাকেনি, বলতে গেলে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে |
যার অর্থ সারা দেশের প্রতিটি আনাচে-কানাচে ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক মানুষ রয়েছে, তারা লুকিয়ে নেই, তারা প্রকাশ্যে আছে, বুক ফুলিয়ে আছে |
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ বছরে এই দেশে ৩৬৮৯ বার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পর হামলা হয়েছে |
যারা সংখ্যাটি কত ভয়ানক অনুভব করতে পারছেন না তাদের অন্যভাবে বলা সম্ভব, এই দেশে গড়ে প্রতিদিন একবার কিংবা তার বেশি দেশের কোথাও না কোথাও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা হয়েছে! এটি হচ্ছে প্রকাশিত তথ্যের কথা, প্রকৃত সংখ্যা আসলে আরো বেশি |
এই দেশটি আমরা যেভাবে গড়ে তুলবো বলে স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা সেভাবে গড়ে ওঠেনি |
এই দেশের শতকরা দশভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী, যদি তাদের জিজ্ঞেস করা হয় তারা কেমন আছেন, তাদের কেউ কী বলবেন ভালো আছেন? একটা দেশ কেমন চলছে সেটা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে সেই দেশের সংখ্যালঘুদের জিজ্ঞেস করা তারা কেমন আছে |
তারা যদি বলে ভালো নেই তাহলে বুঝতে হবে দেশটি ভালো নেই |
সেজন্য আসলে আমরাও ভালো নেই |
আমি ক'দিন থেকে আমার হিন্দু ধর্মাবলম্বী বন্ধুদের সাথে কথা বলতে সাহস পাচ্ছি না |
তীব্র এক ধরনের লজ্জা এবং অপরাধবোধে ভুগছি |
সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে এই বিষয়টি নতুন করে সবার সামনে এসেছে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে এটি প্রথমবার হয়েছে, কিংবা এটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা কেউ কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটি হঠাৎ করে ফেলেছে |
এই ভয়ংকর সাম্প্রদায়িকতা এখানে বহুদিন থেকে শিকড় গেড়েছে, আমরা কেউ কেউ নিজেদের মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা করছি, কেউ কেউ এটাকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করেছি |
কিন্তু আমরা যে আসলে আকণ্ঠ ক্লেদে নিমজ্জিত, কেন আমরা সেই সত্য অস্বীকার করার চেষ্টা করি? কেনো ভাণ করি সবকিছু ঠিক ঠিক চলছে? বিষয়টির একটু গভীরে গেলেই আমরা টের পাই সবকিছু ঠিক ঠিক চলছে না |
যে দুর্গাপূজায় একটি হিন্দু শিশুর আনন্দে আত্মহারা থাকার কথা, কেন সেই দুর্গাপূজায় শিশুটির বুকে ভয়ের কাঁপুনি? আমরা কেনো এই শিশুদের বুকে আগলে রক্ষা করতে পারি না? |
যখন পূজার সময় আসে, সারা দেশে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়, তখন থেকে আমি নিজের ভেতর এক ধরনের চাপা অশান্তি অনুভব করি |
অবধারিতভাবে খবর পাই দেশের এখানে সেখানে সেই প্রতিমা ভেঙে দেয়া হচ্ছে |
যখন পূজা শুরু হয় তখন আমি নিশ্বাস বন্ধ করে থাকি, যারা শোলাকিয়া ঈদের জামাতেও বোমা মারতে প্রস্তুত তারা পূজার অনুষ্ঠানে না জানি কী করার চেষ্টা করে |
যখন সবকিছু শেষ হয় আমি শান্তির নিশ্বাস ফেলি |
আমার মতো অতি সাধারণ একজন নাগরিকের ভেতর যদি পুরো ব্যাপারটা নিয়ে এক ধরনের চাপা অশান্তি থাকে তাহলে কী এই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সময়টিতে ঘুম নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা নয়? দুঃখটা আমার এখানে, আমি জানি তারা চাইলেই একটা তাণ্ডব থামাতে পারে |
আজকাল এই দেশের পুলিশ বাহিনী অনেক করিৎকর্মা, আমার হিসাবে এই বিষয়গুলো তারা আমাদের থেকে আরো অনেক ভালো করে জানে |
তাই কুমিল্লার অবাস্তব ষড়যন্ত্রটির খবর ভোর সাতটার সময় পাওয়ার পরও বেলা ১১টায় তাণ্ডব শুরু হতে দেওয়ার ঘটনাটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না |
বিশেষ করে যখন আমরা জানতে পেরেছি ভোরবেলা থেকে ওসি স্বয়ং সেখানে উপস্থিত ছিলেন |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.