content stringlengths 0 129k |
|---|
আর গত নয় মাসে বেড়েছে ১২ হাজার ৪১৬ কোটি |
কারণ গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা |
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বর শেষে দেশের মোট ৬০টি ব্যাংকের ঋণ পরিসংখ্যান নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে |
এতে দেখা যায়, ব্যাংকগুলোর সেপ্টেম্বর শেষে মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা |
জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল-এর বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সেপ্টেম্বর শেষে দুই লাখ ১৯ হাজার ২৯২ কোটি ৬০ লাখ টাকা |
এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৪৪ হাজার ১৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা |
আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ২৮ হাজার ৪৯৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা |
এরমধ্যে খেলাপি হয়েছে ৫০ হাজার ৭৪৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা |
অর্থাৎ খেলাপির হার পাঁচ দশমিক ৪৭ শতাংশ |
তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ০৭ শতাংশে, বেসরকারি খাতের ব্যাংকের পাঁচ দশমিক ৪৭ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকগুলোতে চার দশমিক ১২ শতাংশ ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ |
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে |
এদিকে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৩৪১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা |
খেলাপির পরিমাণ তিন হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা |
খেলাপির হার ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ |
এছাড়া বিদেশী ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ২৬১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা |
এরমধ্যে খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬৯১ কোটি টাকা |
খেলাপির হার চার দশমিক ১২ শতাংশ |
গত দেড় বছরে করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববাণিজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে |
আমদানি ও রপ্তানিসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে করোনা ভাইরাসের কারণে চলমান বিরূপ প্রভাবের ফলে অনেক ঋণগ্রহীতাই সময়মতো ঋণের অর্থ পরিশোধে সক্ষম হবেন না ধারণা ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক |
সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ধীরে ধীরে সেসব সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক উঠিয়ে নিচ্ছে |
আর এতে বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ |
ঋণ শ্রেণীকরণের তিনটি ধাপ সেগুলো হলো, সাব-স্ট্যান্ডার্ড, সন্দেহজনক এবং মন্দমান |
সব ধরণের চলতি ঋণ, ডিমান্ড ঋণ, ফিক্সড টার্ম লোন অথবা যেকোনো ঋণের কিস্তি তিন মাসের বেশি, কিন্তু ৯ মাসের কম অনাদায়ী থাকলে তা সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণ হিসেবে হিসাবায়ন করা হয় |
৯ মাসের বেশি কিন্তু ১২ মাসের কম অনাদায়ী থাকলে তা ডাউটফুল লোন বা সন্দেহজনক ঋণ হবে |
আর ১২ মাসের বেশি অনাদায়ী ঋণ ব্যাড ডেবট বা মন্দ ঋণ হবে |
নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণিকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয় |
নিম্নমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয় |
ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে এ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয় |
খেলাপি ঋণ বাড়লে, আর সে অনুযায়ী ব্যাংকের আয় না হলে প্রভিশন ঘাটতি দেখা দেয় |
স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার খবর তো প্রায়ই শোনা যায় |
কিন্তু রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে যাওয়া স্ত্রীকে ফেরাতে এই যুবক অভিনব পদক্ষেপ নিয়ে শিরোনামে এসেছেন |
বুধবার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাম্পত্য কলহের জেরে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান এক স্ত্রী |
পরে 'আমার বউ, আমায় ফেরত চাই' পোস্টার সেঁটে শ্বশুরবাড়ির সামনে রীতিমতো অনড় অবস্থানে বসেন তার স্বামী |
বাংলালাইভের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ ( ) ফিডটি অনুসরণ করুন |
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালবাজারে মহকুমার কাঠামবাড়ি এলাকার এই ঘটনা ঘটে |
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরিদাস মণ্ডল নামে ওই যুবক মালবাজারের ক্রান্তি ব্লকের কাঠামবাড়ি এলাকার বাসিন্দা |
তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি |
বছর চারেক আগে জ্যোৎস্না মণ্ডলের সঙ্গে তার বিয়ে হয় |
তাদের একটি মেয়েও রয়েছে |
হরিদাসের দাবি, বছরখানেক আগে সামান্য কারণে দাম্পত্য অশান্তি হয় |
তারপরই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যান জ্যোৎস্না |
শ্বশুরবাড়ির মানুষ জোর করে তার স্ত্রী এবং সন্তানকে আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি |
তবে জোর করে আটকে রাখার বিষয়টি নাচক করে দিয়ে জোৎস্না গণমাধ্যমকে বলেন, আমি কোনো মতেই হরিদাসের সঙ্গে সংসার করতে চাই না |
কারণ তিনি আমার উপর শারীরিক অত্যাচার করেন |
সে কারণে আমি বাপের বাড়ি চলে এসেছি |
এতে আমার বাবা-মার কোনো দোষ নেই |
এদিকে, স্ত্রী এবং সন্তানকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর থেকে স্ত্রী এবং সন্তানের ছবি হাতে নিয়ে পিঠে পোস্টার লাগিয়ে শ্বশুরবাড়ির সামনে অবস্থানে বসেন হরিদাস |
তিনি জানান, যতক্ষণ না পর্যন্ত স্ত্রী এবং সন্তান ফিরে পাচ্ছেন ততক্ষণ তার এই অবস্থান চলবে |
এর জন্য তিনি মরতেও রাজি |
তবে মঙ্গলবার গভীর রাতে ক্রান্তি থানার পুলিশ এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের আশ্বাসে শ্বশুরবাড়ির সামনে থেকে সরে আসেন হরিদাস |
১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট |
কলকাতা শহর ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক এক দাঙ্গার সাক্ষী হয় |
মাত্র ৭২ ঘন্টার মধ্যে শহরে চার হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায় |
ইতিহাসে এই ভয়াবহ দাঙ্গা গ্রেট 'ক্যালক্যাটা কিলিং' নামে পরিচিত |
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন তরুণ |
দাঙ্গার সময় ছিলেন কলকাতায় |
বেশ কাছ থেকে দেখেছেন এই নরকীয় হত্যাযজ্ঞ |
আক্রান্তদের রক্ষা করতে ছুটে গিয়েছেন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় বড় ধরণের পরিবর্তন এনেছিল |
সেজন্য পরবর্তী সময়ে অসাম্প্রদায়িকতা তার রাজনীতির মূল ভিত্তি হয়ে উঠে |
দাঙ্গার প্রেক্ষাপট |
১৯৪০-এর দশকে ভারতের গণপরিষদের দুটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে ছিল মুসলিম লীগ এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস |
১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব থেকেই মুসলিম লীগ উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল গুলিকে 'স্বাধীন রাষ্ট্র' হিসাবে গঠন করার দাবি জানাতে থাকে |
১৯৪৬ সালে ক্যাবিনেট মিশনে ব্রিটিশ রাজ থেকে ভারতীয় নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনায় একটি ত্রিস্তরীয় পরিকাঠামো: ''কেন্দ্র, প্রদেশসমূহ এবং প্রদেশ''-এর প্রস্তাবনা করা হয় |
এই ত্রিস্তরীয় পরিকাঠামোর প্রদেশসমূহ বিভাগের মাধ্যমে মুসলিম লীগের দাবি গ্রহণ করা হয় |
মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেস উভয়ই নীতিগতভাবে মন্ত্রিপরিষদ মিশনের এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন |
এই মিশনের প্রস্তাব অনুসারে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা লক্ষ্য করে মুসলিম লীগ সন্তুষ্ট হয়েছিল |
কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে সম্মতি থাকলেও সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে প্রদেশগুলির শ্রেণিবিভাগ ও চিহ্নিতকরণ কংগ্রেসের মনঃপুত হয়নি |
কিন্তু ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেসকে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংবিধান সভাকে যথাসম্ভব স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলে কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব গ্রহণ করে |
পরবর্তীতে ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল কংগ্রেস সভাপতি জওহরলাল নেহরুকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে আহ্বান জানালে মুসলিম লীগ ক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তান গঠনের দাবি করতে থাকে |
মাত্র ৭২ ঘন্টার মধ্যে শহরে চার হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায় |
১৯৪৬ এর জুলাইয়ে, মুসলিম লীগ ক্যাবিনেট মিশনের চুক্তি প্রত্যাহার করে এবং ১৬ আগস্ট একটি সাধারণ ধর্মঘটের (হরতাল) ডাক দেয় |
এই দিনটিকে মুসলিম লীগ প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস বা ডাইরেক্ট এ্যকশন ডে হিসাবে ঘোষণা দেয় |
শান্তিপূর্ণ ভাবে দিবসটি পালন করার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন মুসলিম লীগের নেতারা |
এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকার ও ক্যাবিনেট মিশনকে সক্ষমতা দেখানো |
কিন্তু কংগ্রস নেতারা এটাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা শুরু করেন |
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেন- |
"জিন্নাহ সাহেব ১৬ আগস্ট তারিখে 'ডাইরেক্ট এ্যকশন ডে' ঘোষণা করলেন |
তিনি বিবৃতির মারফত ঘোষণা করেছিলেন, শান্তিপূর্ণভাবে এই দিবস পালন করতে |
ব্রিটিশ সরকার ও ক্যাবিনেট মিশনকে তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন যে, ভারতবর্ষের দশ কোটি মুসলমান পাকিস্তান দাবি আদায় করতে বদ্ধপরিকর |
কোনরকম বাধাই তারা মানবে না |
কংগ্রেস ও হিন্দু মহসভার নেতারা এই 'প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস' তাদের বিরুদ্ধে ঘোষণা করা হয়েছে বলে বিবৃতি দিতে শুরু করলেন |
ডাইরেক্ট এ্যকশন ডে |
১৬ই আগস্ট শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করার জন্য সচেষ্ট ছিলেন মুসলিম লীগ কর্মীরা |
কংগ্রেস ও হিন্দু সভার নেতাকর্মীদের কথায় যেন সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত না হয় এজন্য মহল্লায় মহল্লায় পাঠানো হলো মুসলিম লীগ কর্মীদের |
শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী বিষয়টি তুলে ধরেছেন এভাবে- |
"হাশিম সাহেব আমাদের নিয়ে সভা করলেন |
আমাদের বললেন, 'তোমাদের মহল্লায় মহল্লায় যেতে হবে, হিন্দু মহল্লায়ও তোমরা যাবে |
তোমরা বলবে, আমাদের এই সংগ্রাম হিন্দুদের বিরুদ্ধে নয়, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে, আসুন আমরা জাতি ধর্ম নির্বিশেষে দিনটি পালন করি |
' আমরা গাড়িতে মাইক লাগিয়ে বের হয়ে পড়লাম |
হিন্দু মহল্লায় ও মুসলমান মহল্লায় সমানে প্রোপাগান্ডা শুরু করলাম |
অন্য কোন কথা নাই, 'পাকিস্তান' আমাদের দাবি |
এই দাবি হিন্দুর বিরুদ্ধে নয়, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে |
ফরোয়ার্ড ব্লকের কিছু নেতা আমাদের বক্তৃতা ও বিবৃতি শুনে মুসলিম লীগ অফিসে এলেন এবং এই দিনটা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে হিন্দু মুসলমান এক হয়ে পালন করা যায় তার প্রস্তাব দিলেন |
আমরা রাজি হলাম |
কিন্তু হিন্দু মহাসভা ও কংগ্রেসের প্রোপাগান্ডার কাছে তারা টিকতে পারল না |
হিন্দু সম্প্রদায়কে বুঝিয়ে দিল এটা হিন্দুদের বিরুদ্ধে |
কলকাতার গড়ের মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল |
বিভিন্ন জায়গা থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে মানুষ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হবে |
কলকাতার মুসলিম ছাত্ররা সকাল দশটায় ইসলামিয়া কলেজে জড়ো হবে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.