content stringlengths 0 129k |
|---|
আমরা বাংলাদেশে আমাদের বাপ দাদাদের ঘার ত্যারা আর রগচটা ছেলেপিলেদের দিকে দেখিয়ে বলতে শুনেছি - 'তরুণ বয়স তো, তাই ছেলের রক্ত গরম |
দেখবেন বয়স হলে রক্তও ঠাণ্ডা হয়ে আসবে' |
উনারা হয়তো চারপাশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে এই কথাগুলো বলেন |
আসল কারণ হল, যৌনতার প্রতিযোগিতাসূচক ব্যাপারগুলো যখন কমে আসে, তখন এমনিতেই সহিংসতা আর সেভাবে ব্যবহারে প্রকাশিত হয় না |
এটাকেই হয়তো চলতি কথায় 'রক্ত ঠাণ্ডা' হয়ে যাওয়া বলে ভেবে নেয়া হয় |
ব্যাপারগুলো 'কমন সেন্স' হিসেবে জানা ছিলো অনেক আগে থেকেই কিন্তু বিবর্তন মনোবিজ্ঞান রঙ্গমঞ্চে আসার আগ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কোন গবেষণা ছিলো না |
১৯৮৩ সালে দুই গবেষক ট্রাভিস হির্শি এবং মাইকেল গডফ্রেসন " " নামক প্রবন্ধের মাধ্যমে দেখালেন বয়স এবং অপরাধপ্রবনতার এই ধারাটি সংস্কৃতি নির্বিশেষে একইরকম পাওয়া যাচ্ছে[5] |
অর্থাৎ, যে কোন সংস্কৃতিতেই দেখা যায় বয়ঃসন্ধির সময় থেকেই পুরুষদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে, আর তা একেবারে শীর্ষে পৌঁছায় যৌবনের প্রারম্ভে, বিশ থেকে ত্রিশের দশকের সময়টায় তা দ্রুতগতিতে কমতে থাকে, আর মধ্যবয়সে তা আনুভূমিক হয়ে যায় |
নীচের রেখচিত্রটি দেখলে ব্যাপারটি আরো ভালভাবে বোঝা যাবে - |
ছবি - ট্রাভিস হির্শি এবং মাইকেল গডফ্রেসন তাদের গবেষনায় দেখিয়েছেন যে, বয়ঃসন্ধির সময় থেকেই পুরুষদের মধ্যে অপরাধ-প্রবণতা বাড়তে থাকে, আর তা একেবারে শীর্ষে পৌঁছায় যৌবনের প্রারম্ভে, বিশ বছরের পর থেকে তা দ্রুতগতিতে কমতে থাকে, আর মধ্যবয়সে তা আনুভূমিক হয়ে যায় |
দু-চারটি ক্ষেত্রে এই গ্রাফের ব্যতিক্রম পাওয়া গেলেও সার্বজনীনভাবে এই গ্রাফের গড়নের সাথে প্রায় সকল অপরাধ-বিশেষজ্ঞই এখন একমত পোষণ করেন[6],[7] |
অপরাধপ্রবণতা আর প্রতিভা কি তবে এক সূত্রে গাঁথা? |
এই অংশের শিরোনাম দেখে অনেকেই হয়তো আঁতকে উঠবেন |
কোথায় অপরাধপ্রবণতা আর কোথায় প্রতিভা! কোথায় বাঘেরহাট আর কোথায় সদরঘাট! কিন্তু বাগের হাট থেকে সদরঘাট যাবার রাস্তা যেমন একটু খুঁজলেই পাওয়া যায়, তেমনি অনেক গবেষক মনে করেন অপরাধপ্রবণতার সাথেও প্রতিভার একটা অলিখিত সম্পর্কও পাওয়া যাবে একটু নিবিষ্ট মনে খুঁজলেই |
আগের অংশেই অপরাধ প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দেখেছি যে, বয়ঃসন্ধির সময় থেকেই পুরুষদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকে, আর তা একেবারে শীর্ষে পৌঁছায় যৌবনের প্রারম্ভে, বিশ থেকে ত্রিশের দশকের সময়টায় তা দ্রুতগতিতে কমতে থাকে, আর মধ্যবয়সে তা আনুভূমিক হয়ে যায় |
বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছেন ঠিক একই ধারা পাওয়া যাচ্ছে বয়স এবং মানব প্রতিভার মধ্যেও |
বিভিন্ন বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, শিল্পীদের জীবনী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে অধিকাংশরই প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে যৌবনের প্রারম্ভেই, আর যৌবনের শেষ হতে না হতেই অতিদ্রুত প্রতিভার মৃত্যু ঘটে যায় |
আসলে বয়স হলে প্রতিভাধরদের মাথা যে আগের মত কাজ করে না, এর অনেক উদাহরণই তুলে ধরা যায় |
পল ম্যাকার্টনি সেই কবে বিটলসের সময় জনপ্রিয় ছিলেন,ব্যতিক্রমধর্মী বহু গান লিখে সঙ্গিত পিপাসুদের পাগল করে দিয়েছিলেন যাট সত্তুরের দশকে |
অবধারিতভাবে তিনি তখন ছিলেন যৌবনের প্রারম্ভে |
তার পর বহু বছর পার হয়েছে, গঙ্গা যমুনা দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গেছে, তিনি একটিও 'জনপ্রিয় সঙ্গীত' দর্শকদের জন্য লিখতে পারেননি |
তার অধিকাংশ সময় এখন নাকি ছবি আঁকাতেই কেটে যায় |
বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষ, আলোর বিচ্ছুরণ সহ তার সফল এবং বিখ্যাত আবিস্কারগুলো তরুণ বয়সেই করে ফেলেছিলেন |
আরো পরিস্কার করে বললে তার ২৪ বছর বয়সের মধ্যেই |
বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের জীবনীর দিকে তাকাই |
তার প্রায় সবগুলো আবিস্কারই হয়েছে তাঁর 'বিস্ময় বছর' যাকে আমরা অভিহিত করি হিসবে -সেই বছরটিকে কেন্দ্র করে |
সে বছরের প্রথমভাগে আইনস্টাইন প্রকাশ করেছিলেন ব্রাউনীয় গতির উপর একটা গবেষণাপত্র- যেটি সে সময় দিয়েছিলো অনুর অস্তিত্বের বাস্তব প্রমাণ, বানিয়েছিলেন আলোর কনিকা বা কোয়ান্টাম তত্ত্ব, আর সে সময়েই প্রকাশ করেছিলেন সবচাইতে জনপ্রিয় আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বটি ( ) |
তার বিখ্যাত সমীকরণ =2 সেসময় বাজারে এসেছিলো একটি অতিরিক্ত (সংযোজনী) তিন পৃষ্ঠার পেপার হিসেবে |
একটি পেপারের জন্য আবার পরবর্তীতে পেয়েছিলেন নোবেল |
তখন তার বয়স চল্লিশও পেরোয়নি |
মূলতঃ সার্বিক অপেক্ষিক তত্ত্ব ( ) আবিস্কারের পর আইনস্টাইন আরো পঞ্চাশ বছর বেঁচেছিলেন কিন্তু আর কোন বড় ধরনের আবিস্কার করতে পারেননি |
মূলতঃ মধ্যবয়স থেকে শুরু করে বার্ধক্যের পুরোটা সময় জুড়েই আইনস্টাইন চেষ্টা করেছেন কোয়ান্টাম বলবিদ্যাকে অসম্পূর্ণ বা ভুল প্রমাণ করতে আর প্রকৃতি জগতের বলগুলোকে একটিমাত্র সুতায় গাঁথতে |
তার সেই উচ্চাভিলাসী চেষ্টা কিন্তু সফল হয়নি |
বরং জীবনের শেষ বছরগুলোতে তিনি পদার্থবিজ্ঞানের মূল ধারার গবেষণা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক 'নিঃসঙ্গ গ্রহচারী'তে পরিণত হন[8] |
বিজ্ঞানীদের প্রতিভা আর বয়সের সম্পর্ক নিয়ে আইনস্টাইন নিজেই করে গেছেন মজার এক উক্তি[9] - |
যে ব্যক্তি ত্রিশ বছর বয়সের আগে বিজ্ঞানে কোন অবদান রাখতে পারেনি, সে আর কখনোই পারবে না |
আইনস্টাইনের এই উক্তির সত্যতা আমরা পাই শুধু তার নিজের জীবনেই নয় পাশাপাশি বহু প্রতিভাধরদের জীবনেই |
গনিত এবং পদার্থিবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোকে বহুদিন ধরেই 'ইয়ং ম্যান্স গেম' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে[10] |
গনিতবিদ জন ভন নিউম্যান গনিতে যে অবিস্মরনীয় অবদানগুলো রেখে গেছেন, তার প্রায় সবগুলোই ২৫ বছর বয়সের মধ্যে |
এর পর থেকে শুরু হয়েছিল মূলত প্রতিভার পতন[11] |
জেমস ওয়াটসন যে ডিএনএ তথা যুগল সর্পিলের রহস্যভেদ করার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন, তিনিও তা করেছিলেন ২৫ বছর বয়সে (সেই আবিস্কারটির জন্য ওয়াটসন পরবর্তীতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন) |
তারপর থেকে যত দিন গেছে তার ক্যারিয়ারে আর কোন সফলতার পালক যোগ করতে পারেননি |
এধরণের অনেক উদাহরণই দেয়া যায় |
বিল গেটস তরুণ বয়সে 'কম্পিউটার উইজার্ড'বালক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, আজকে প্রৌঢ় বয়সে তিনি হাতে কলমে প্রোগ্রামিং টোগ্রামিং বাদ দিয়ে পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হয়ে নিরাপদ জীবন যাপন করছেন |
বিভিন্ন সময়ে গবেষকেরা বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের বয়স এবং তাদের জীবনের সাফল্যমণ্ডিত স্বর্ণালী সময়গুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ হাজির করেছেন |
এইচ. সি. লেহমান ১৯৫৩ সালেই তার একটি গবেষণায় দেখিয়েছিলেন দুনিয়ার অধিকাংশ সফল বৈজ্ঞানিক আবিস্কারগুলোই মূলত তরুণ বিজ্ঞানীরা করেছিলেন, বয়স্ক বিজ্ঞানীরা নয়[12] |
১৯৭৯ সালে এস. কোল[13] এবং ১৯৯১ সালে লেভিন এবং স্টিফেন তাদের গবেষণায় আলাদাভাবে দেখিয়েছেন যে, পিএইচডি করার সময় এবং তার পর পরেই বিজ্ঞানীদের উৎপাদনশিলতা এবং কর্মমুখরতা হু হু করে বাড়তে থাকে,আর তারপর থেকেই আবার তা লক্ষ্যনীয়ভাবে কমে আসতে থাকে[14] |
২০০৩ সালে সাতোশি কানাজাওয়া ২৮০ জন প্রোথিতযশা সমসাময়িক বিজ্ঞানীর উপর গবেষণা চালিয়ে দেখান যে,বয়স-অপরাধ রেখচিত্রের মতই (আগের অংশে আলোচিত) প্রতিভার ক্ষেত্রেও বয়ঃসন্ধির সময় থেকেই পুরুষদের মধ্যে প্রতিভার স্ফুরণ বাড়তে থাকে, আর তা একেবারে শীর্ষে পৌঁছায় যৌবনের প্রারম্ভে, ত্রিশ বছরের পর থেকে তা দ্রুতগতিতে কমতে থাকে, আর তারপরে তা একেবারেই আনুভূমিক হয়ে যায় |
তার গবেষণাপত্র থেকে পাওয়া ফলাফল নীচে রেখচিত্রের সাহায্যে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল - |
ছবি - সাতোশি কানাজাওয়া সমসাময়িক বিজ্ঞানীদের জীবন নিয়ে গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, বয়ঃসন্ধির সময় থেকেই তাদের মধ্যে প্রতিভার স্ফুরণ বাড়তে থাকে, আর তা একেবারে শীর্ষে পৌঁছায় যৌবনের প্রারম্ভে, ত্রিশ বছরের পর থেকে তা দ্রুতগতিতে কমতে থাকে, আর তারপরে তা একেবারেই আনুভূমিক হয়ে যায় |
অধ্যাপক কানাজাওয়া তার ফলাফল সম্পর্কে গবেষণাপত্রে বলেছেন এভাবে[15] - |
280 . . (23.6%) 30. - (65.0%) -; 80% . |
বয়সের সাথে প্রতিভার প্যাটার্নটি শুধু বিজ্ঞানে নয়, শিল্প, সাহিত্য,সঙ্গীত কিংবা খেলাধুলার ক্ষেত্রগুলোতেও একই রকম পাওয়া গেছে |
যদিও সাহিত্যের সাথে হার্ডকোর গণিত/ বিজ্ঞানের একটু পার্থক্য আছে |
সাহিত্যের ক্ষেত্রে দেখা গেছে বহু সাহিত্যিকদেরই প্রতিভার চূড়া স্পর্শ করে মধ্য বয়সে এসে (৪০ থেকে ৫০ বছর বয়েসের মধ্যে) এবং অধিকাংশ সাহিত্যিকেরাই অল্প বয়সে ফুঁরিয়ে যান না, বরং বহুদিন ধরে সাহিত্য চর্চা চালিয়ে যেতে পারেন[16] |
রবীন্দ্রনাথ তার বার্ধক্যে এসেও অবলীলায় কবিতা গল্প নাটক উপন্যাস লিখেছেন তরুণ সাহিত্যিকদের সাথে পাল্লা দিয়ে |
শওকত ওসমান, সুফিয়া কামাল, শামসুর রাহমান সহ অনেকেই থাকবেন উদাহরণে |
পাশ্চাত্যেও এমন উদাহরণ বিরল নয় |
মার্কটোয়েন কিংবা আলফ্রেড হিচককের মতো সাহিত্যিক কিংবা শিল্পীরা জীবনের প্রান্তসীমাতে এসেও আমাদের জন্য অসাধারণ সাহিত্য বা শিল্পকর্ম উপহার দিয়েছেন |
অবশ্য বিপরীত উদাহরণও খুঁজলে পাওয়া যাবে |
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২১ বছর বয়সে অকাল প্রয়াণের আগেই তার সমস্ত ক্ষুরধার কবিতাগুলো লিখে ফেলেছিলেন |
কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার বিদ্রোহী কবিতাটি লেখেন তার মাত্র ২৩ বছর বয়সে |
আসলে নজরুলের সকল সাহিত্যকর্মই তরুণ বয়সের প্রতিভার বিচ্ছুরণ |
১৯৪২ সালে স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হবার পরে পরবর্তী দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর কোন সাহিত্যচর্চা করতে পারেননি, বরং একেবারে পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় জীবণ অতিবাহিত করেন, এবং সেভাবেই মৃত্যুবরণ করেন |
পশ্চিমেও এ ধরণের উদাহরণ আছে |
প্রথম জীবনে অত্যন্ত সফল সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচিত হলেও পরবর্তীকালে প্রতিভার স্ফুরণ আর সেভাবে দেখা যায় নি |
এমনি একজন আমেরিকান সাহিত্যিক ছিলেন জ়ে ডি. স্যালিঙ্গার (. . ), যিনি তরুণ বয়সে উপন্যাস লিখে বিখ্যাত হয়েছিলেন, কিন্তু জীবনের শেষ তিন দশক ধরে আক্ষরিক অর্থে কিছুই প্রকাশ করতে পারেননি |
তবে ক্ষেত্রবিশেষে বিচ্ছিন্ন ভাবে ফলাফল যাই পাওয়া যাক না কেন,গড়পরতা রেখচিত্রের আকার এবং ট্রেন্ড মোটামুটি একইরকমের পাওয়া গেছে |
সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রকর এবং সাহিত্যিকদের বয়স-প্রতিভার তুলনামুলক রেখচিত্র নীচে দেওয়া হল - |
ছবি- সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রকর এবং সাহিত্যিকদের বয়স-প্রতিভার তুলনামুলক রেখচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে তারা একই ধরণের প্যাটার্ন অনুসরণ করে |
উপরের রেখচিত্রগুলো নিয়ে খুব বেশি জটিল আলোচনায় না ঢুকেও কেবল সাদা চোখেই বলে দেয়া যায় যে,বয়স-অপরাধ রেখচিত্রের (- ) সাথে বয়স -প্রতিভা রেখচিত্রের (- ) অদ্ভুত ধরণের মিল পাওয়া যাচ্ছে |
দুটোর ক্ষেত্রেই দেখা যায় মূলত বয়ঃসন্ধির পর থেকেই গড়পরতা এ বৈশিষ্টগুলোর স্ফুরণ ঘটতে থাকে, শীর্ষে পৌঁছায় যৌবনের প্রারম্ভে, আর মধ্যবয়সের পর থেকে তা দ্রুতগতিতে কমতে থাকে |
হয়তো সাধারণ পাঠকদের কাছে পুরো ব্যাপারটি কাকতালীয় মনে হতে পারে,কিন্তু বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন জৈববৈজ্ঞানিক কারণেই এদের মধ্যে একটা অলিখিত সম্পর্ক থেকে যায় |
আমরা আগের আলোচনা থেকে কিছুটা আলামত পেয়েছি যে, বয়ঃসন্ধি বা পিউবার্টির সময় থেকেই সবার মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে,তারা অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হয়, কারো কারো মধ্যে সহিংসতা বৃদ্ধি পায়, কারো বা মধ্যে প্রতিভা |
জৈবিকভাবে চিন্তা করলে, বয়ঃসন্ধির আগে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের কোন প্রজননগত উপযোগিতা নেই |
কারণ সেই প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবকে প্রজননগত সফলতায় স্থানান্তরিত করা সেই সময় সম্ভব হয় না |
কিন্তু বয়ঃসন্ধিকাল স্পর্শ করার সাথে সাথে প্রতিযোগিতামূলক অভিব্যক্তিগুলো যেন ধাবমান অশ্বের মতোই দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে |
যখন থেকে দেহ সর্বপোরি প্রজননের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠে তখন থেকেই প্রতিটি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র (সেটা সহিংসতাই হোক, অথবা হোক বিশেষ দিকে প্রতিভাময় দীপ্তি) স্ফুরিত হতে থাকে তীব্র বেগে |
মধ্য বয়সের পর সেই আকাঙ্ক্ষা স্তিমিত হয়ে আসে জৈবিক নিয়মেই |
অর্থাৎ, এই তত্ত্ব অনুযায়ী[17]- |
অপরাধপ্রবণতা আর মেধা দুটোই আসলে তারুন্যের প্রতিযোগিতামুলক অভিব্যক্তির ফসল, আদিম শিকারী-সংগ্রাহক পরিস্থিতিতে যার চূড়ান্ত নিয়ামক ছিলো প্রজননগত সাফল্য |
এই ধারার প্রভাব আজকের সমাজেও একটু চেষ্টা করলেই লক্ষ্য করা যাবে |
মারামারি কাটাকাটি এবং সহিংসতায় কম পরিমাণে নিজেকে নিয়োজিত করে বরং বহু পুরুষ তার উদ্দীপনাকে কাজে লাগায় প্রতিভার নান্দনিক (কেউ বৈজ্ঞানিক আবিস্কার, কেউ সঙ্গিত সাধনা, কেউ খেলাধূলা, কেউ শিল্প সাহিত্য সৃষ্টি, কেউবা অর্থোপার্জন) বিকাশে |
আসলে এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে সে নিশ্চিত করে অধিক নারীর দৃষ্টি, এবং সময় সময় তাদের অর্জন এবং প্রাপ্তি |
প্রতিভা ব্যাপারটাকে কেবল সঙ্গমী মননের অভিব্যক্তি ভাবতে হয়তো অনেকেরই মন সায় দেবে না |
কিন্তু আমরা আগের অংশের আলোচনায় দেখেছি যে, অর্থ-প্রতিপত্তি আর ক্ষমতায় বলীয়ান পুরুষেরাই বেশি পরকীয়ায় বেশি আসক্ত হন বেশি |
আমরা দেখেছি যে, কেতাদুরস্ত কাপড় চোপড়, দামি গাড়ি, বাড়ি, ঘড়ি এমনকি কথাবার্তা, চালচলন, স্মার্টনেস, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক বা সামাজিক ক্ষমতা বা প্রতিপত্তি সবকিছুকেই পুরুষেরা ব্যবহার করে নারীকে আকর্ষণের কাজে |
তাহলে প্রতিভাই বা তালিকা থেকে বাদ যাবে কেন? নিজের প্রতিভাকে কিভাবে নারীদের আকর্ষণের কাজে ব্যবহার করা যায় তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ বিজ্ঞানী সম্রাট আলবার্ট আইনস্টাইন |
প্রতিভাধর এই বিজ্ঞানী শুধু বিজ্ঞানের জগতেই অসাধারণ ছিলেন না, নারীলিপ্সায়ও ছিলেন অনন্যসাধারণ |
মেরী, মিলেইভা, এলসা, আইলস্, বেটি নিউম্যান, মার্গারেট লেনবাখ, টনি মেণ্ডেল, হেলেন ডুকাস - কত নারী যে এসেছে তার জীবনে, কোন ইয়ত্তা নেই |
একবার আবার একই সাথে প্রেম করেছেন মা (এলসা) এবং মেয়ের (আইলস) সাথে একই সময়ে, এমন উদাহরণও আছে |
আইনস্টাইনের প্রেমময় জীবন নিয়ে ড.প্রদীপ দেব একবার একটি চমৎকার প্রবন্ধ লিখেছিলেন মুক্তমনায় 'প্রেমিক আইনস্টাইন' শিরোনামে[18] |
সেই প্রবন্ধটি পাঠ করলে পাঠকেরা বুঝতে পারবেন কী ভাবে নিজের প্রতিভা, যশ এবং খ্যাতিকে আইনস্টাইন প্রতিটি ক্ষণে ব্যবহার করেছেন নারীদের আকর্ষণের উদ্দেশ্যে |
একাধিক নারীপ্রীতির ব্যাপারটা শুধু আইনস্টাইনের একচেটিয়া ছিল ভাবলে ভুল হবে |
ছবি- আইনস্টাইন, শ্রোডিংগার কিংবা টাইগার উডস সহ বহু প্রতিভাধরদের জীবন পর্যলোচনা করলেই দেখা যাবে, তারা তাদের স্বীয় প্রতিভার মাধ্যমে আকৃষ্ট করতে পেরেছিলেন একাধিক নারীর সঙ্গ এবং সান্নিধ্য |
বহু বিখ্যাত বিজ্ঞানীরাই নিজের প্রতিভার স্ফুরণ ঘটিয়েছিলেন নারীসঙ্গ কামনায়, কিংবা আরো পরিস্কার করে বললে - অনেক সময় নারীসঙ্গের মাধ্যমে |
অরভিন শ্রোডিংগারের নাম আমরা প্রায় সবাই জানি |
কোয়ান্টাম বলবিদ্যা কেউ পড়ে থাকলে তিনি শ্রোডিংগারের সমীকরণ পড়েছেনই |
শ্রোডিংগার গত হয়েছেন সেই কবে, কিন্তু 'শ্রোডিংগারস ক্যাট' এতদিন বাদেও পদার্থবিজ্ঞানের জগতে দার্শনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু |
কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে, সেই নোবেল বিজয়ী শ্রোডিংগার তার জগদ্বিখ্যাত তরঙ্গ সমীকরণটি তৈরি করেছিলেন যখন তিনি তার এক রক্ষিতাকে নিয়ে নির্জনে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.