content stringlengths 0 129k |
|---|
স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন প্রতিটিতেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বের বিষয়টি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন নেই |
আগামীতে অনুষ্ঠেয় তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন এবং স্থানীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠিতব্য অন্যান্য নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণা ও ভোটগ্রহণ যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেদিকে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ নজর দিতে হবে |
লেভেল প্লেইং ফিল্ড প্রস্তুতসহ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে |
প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকদেরও নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলতে হবে |
নির্বাচনের সব অংশীজন উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিচয় না দিলে এককভাবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা বেশ কঠিন |
কাজেই উন্নত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আগামীতে সব নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন, এটাই দেশবাসী কামনা করে |
লেখক: গবেষক, কলাম লেখক |
সাবেক উপমহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি |
শেয়ার করুন |
ফিলিস্তিনের জন্য ভালোবাসা |
আহমেদ রিয়াজ |
২৯ নভেম্বর, ২০২১ ১৫:২৫ |
আপডেট: ২৯ নভেম্বর, ২০২১ ১৫:৪১ |
লিংকডইনে শেয়ার করুন |
ইমেইল করুন |
ওয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করুন |
ব্লগস্পটে শেয়ার করুন |
অনেক আগে থেকেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি দেখিয়ে আসছে বাংলাদেশ |
১৯৭২-এর ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে তৃতীয় দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল ইসরায়েল |
কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে |
১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বাংলাদেশ মেডিক্যাল টিম ও ত্রাণ পাঠিয়েছিল |
ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু |
স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছিলেন ইয়াসির আরাফাত |
পৃথিবীর ইতিহাসে ইংরেজদের বেইমানির অগণিত উদাহরণ আছে |
তবে সবচেয়ে মর্মান্তিক ও দুঃখজনক উদাহরণ হচ্ছে ফিলিস্তিন |
ইংরেজরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৮) সময় ফিলিস্তিনি আরবদের কথা দিয়েছিল- তোমরা যদি তুর্কিদের সঙ্গে যোগ দিয়ে লড়াই না করো, তবে তোমাদের (সেলফ ডিটারমিনেশন) স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দেব |
ওদিকে আরবদের অগোচরে ইহুদিদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যদি তোমরা জার্মানিকে অর্থসাহায্য বন্ধ করে সে অর্থ ইংরেজকে দাও, তবে যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনে তোমাদের 'ন্যাশনাল হোম' নির্মাণ করতে দেয়া হবে |
ইংরেজদের এই দুমুখো নীতি প্রকাশ পেল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে |
এই যুদ্ধের আগে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ছিল তুরস্কের উসমানিয়া সাম্রাজ্যের অধীন |
ইংরেজদের ষড়যন্ত্রে তুরস্কের মুসলিম খেলাফত ভেঙে যায় এবং একটি গুলিও খরচ না করে ইরাক, সিনাই উপত্যকা, ফিলিস্তিন ও জেরুজালেম দখল করে নেয় ব্রিটিশ বাহিনী |
ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, জর্ডান ও লেবানন চলে যায় ইংল্যান্ড-ফ্রান্সের দখলে |
১৯১৭-এর ২ নভেম্বর সে সময়ের ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর একটি চিঠিতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন, যেটা বেলফোর ঘোষণা নামে পরিচিত |
ইউরোপের নানা দেশে ইহুদিরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল |
তবে এই বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি হতেই দলে দলে ইহুদি আসতে শুরু করল ফিলিস্তিনে |
ওদিকে বেইমান ইংরেজ ক্ষমতালিপ্সু ও আরেক বেইমান জাতি ইহুদিদের ইউরোপে রাষ্ট্র তৈরির পক্ষে কখনও সমর্থন দেয়নি |
বরং ঝামেলাবাজ ইহুদিদের ঠেলে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে |
রোমান সময় থেকে ইহুদিদের ছোট্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী সেখানে বাস করত |
তাদের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক হাজার |
নিজেদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হওয়ায় বিপুলসংখ্যক ইহুদি ইউরোপ থেকে পাড়ি জমায় ফিলিস্তিনে |
ব্রিটিশদের সহায়তায় ১৯১৮ সালের মধ্যে ইহুদিদের সংখ্যা হয়ে যায় ২০ হাজার |
যা ১৯২৩ সালে দাঁড়ায় ৩৫ হাজার এবং ১৯৩১ সালে ১ লাখ ৮০ হাজারে |
এর মধ্যেই ব্রিটিশদের সহযোগিতায় ১৯১৮ সালে তৈরি হয় গুপ্ত ইহুদি বাহিনী 'হাগানাহ' |
এই বাহিনী প্রথম দিকে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদীদের সহায়তা করত |
পরবর্তী সময়ে তারা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত হয় |
শুধু ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও ক্ষেত-খামার দখল করেই তারা ক্ষান্ত থাকেনি, জোর করে বিতাড়িতও করত |
বাজার ও রাস্তাঘাটে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা ছিল তাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ |
ইউরোপে ইহুদিদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও হিটলারের কঠোরতায় ১৯৪৮ সালেই ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সংখ্যা হয়ে যায় ৬ লাখ |
টনক নড়ে আরবদের |
ততদিনে দেরি হয়ে গেছে |
নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ফিলিস্তিনি আরবরা বিদ্রোহ শুরু করে |
ব্রিটিশ সৈন্যরা ভয়ংকর দমন-পীড়নের মাধ্যমে সে বিদ্রোহ দমন করে কঠোরভাবে |
বিবিসির খবরে প্রকাশ, এ সময় ৩২ হাজার ইহুদি ব্রিটিশ বাহিনীতে যোগ দিয়ে রণকুশলী হয়ে ওঠে |
ইহুদিরা সেই রণকৌশল প্রথমে প্রয়োগ করে আরবদের বিরুদ্ধে |
এরপর ইহুদি রাষ্ট্র তৈরিতে চাপ সৃষ্টি করার জন্য ব্রিটিশ সৈন্যদের ওপর |
ওদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইসরায়েল রাষ্ট্রের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান |
হিটলারের কবল থেকে বেঁচে যাওয়া এক লাখ ইহুদিকে অতিদ্রুত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জায়গা দেয়ার জন্য চাপাচাপি করতে থাকেন |
যদিও ব্রিটেন বুঝে গিয়েছিল এত ইহুদিকে তাদের উপনিবেশ ফিলিস্তিনে নিয়ে গেলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে |
অর্থাৎ ইংরেজ তখন গৃহস্থকে ঘর পাহারা দেয়ার কথা বলে চোরকে চুরি করার অনুমতি দিল |
জাহাজ বোঝাই করে পঙ্গপালের মতো হাজার হাজার ইহুদি এসে আস্তানা গাড়তে থাকে ফিলিস্তিনে |
ধীরে ধীরে দখলদার ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে পরিস্থিতি |
এবার জাতিসংঘের মাথায় কাঁঠাল ভাঙতে শুরু করে ইংরেজরা |
১৯৪৭-এর নভেম্বরে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে দুটি রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ |
একটি ইহুদিদের, অন্যটি আরবদের জন্য |
এই আরব কিন্তু শুধু মুসলিম নয় |
এখানে মুসলমানদের সঙ্গে খ্রিষ্টানসহ অন্য ধর্মের অনুসারীও ছিল |
এটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে দ্বিখণ্ডিতকরণসংক্রান্ত ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৮১ নম্বর প্রস্তাব ছিল |
এ প্রস্তাব অনুসারে ফিলিস্তিনের ৪৫ শতাংশ জমি ফিলিস্তিনি এবং ৫৫ শতাংশ জমি ইহুদিদের হাতে ছেড়ে দেয়া হয় |
অথচ তখন অবধি জোরজবরদস্তি ও সন্ত্রাসী কায়দায় দখল করার পরও ইহুদিরা ছিল মাত্র ১০ শতাংশ জমির মালিক |
স্বাভাবিকভাবে এই চক্রান্তকে মেনে নেয়নি ফিলিস্তিন ও অন্যান্য আরব দেশ |
জাতিসংঘে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে চাপ দিতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র |
এই সুযোগে আরবদের মাঝে বিষফোড়া ইহুদি ঢুকিয়ে ফিলিস্তিন থেকে ইংরেজরা সটকে পড়ে ১৯৪৮-এর ১৪ মে |
সেদিনই পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গঠিত হয় ইসরায়েল রাষ্ট্র |
পৃথিবী অবাক হয়ে দেখল, কার জমিতে কারা রাষ্ট্র গঠন করেছে! সাম্রাজ্যবাদী শক্তির তোড়ে ভেসে গেল সব নীতিনৈতিকতা |
যদিও আরব দেশগুলো এটা মোটেই মেনে নিতে পারেনি |
সে কারণে রাষ্ট্র ঘোষিত হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে মিসর, ইরাক, লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়া সম্মিলিতভাবে ইসরায়েল আক্রমণ করে |
তীব্র লড়াইয়ে ইসরায়েলের পরাজয় তখন ছিল সময়ের ব্যাপার |
ইহুদিদের অস্ত্রের মজুতও ফুরিয়ে যায় |
আর কিছুটা এগোলেই মিসরীয় বাহিনী তেল আবিব কবজা করে ফেলতে পারত |
কিন্তু তখনই ইসরায়েলের সৃষ্টিদাতার মতো ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয় জাতিসংঘ |
ইহুদি ও আরব দেশগুলোকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয় সংস্থাটি |
১৯৭১-এর ১১ ডিসেম্বর পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের সামরিক উপদেষ্টা গণহত্যাকারী মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী জাতিসংঘের সদর দপ্তরে যুদ্ধবিরতির জন্য জরুরি বার্তা পাঠান |
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত যুদ্ধবিরতির এ প্রস্তাব মেনে নিতে জোরালো দাবি জানায় যুক্তরাষ্ট্র |
এমনকি হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র পর্যন্ত বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব মেনে নেয়া ভারত-পাকিস্তান উভয়ের জন্যই অত্যাবশ্যক |
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সে ফাঁদে পা দেয়নি মুক্তিযুদ্ধের সম্মিলিত বাংলাদেশ ও ভারতীয় বাহিনী |
আর সে ফাঁদে পা না দেয়ার সুফল হিসেবে ফাঁদ পাতার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয় 'বাংলাদেশ' |
তবে ২৩ বছর আগে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এই যুদ্ধবিরতির ফাঁদে পা দেয় আরব বাহিনী |
যুদ্ধবিরতির সুযোগে চেকোস্লোভাকিয়ার কাছ থেকে আধুনিক অস্ত্রের চালান এসে পৌঁছায় ইসরায়েলে |
ফাঁদটা কাজে লাগিয়ে আরবদের ওপর নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইহুদিরা |
আরবদের হটিয়ে নতুন কিছু জায়গাও কবজা করে নেয় |
আরব দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা না থাকার কারণেই নতুন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হিসেবে মাথা তোলার সুযোগ পায় ইহুদিরা |
পরের জায়গা পরের জমিতে ঘর বানিয়ে থাকলেও উদ্বাস্তু ইহুদিরা কখনোই সে ঘরের মালিক ছিল না |
ওদিকে নিজেদের জায়গাজমি-ঘর ও ঠিকানা হারিয়ে আসল মালিক ফিলিস্তিনিরা এখন উদ্বাস্তু হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দুনিয়ার নানা দেশে |
একসময় ইহুদিরা যে রকম ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল |
সময় গড়ানোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইহুদি-ফিলিস্তিন সমস্যা প্রকট থেকে প্রকটতর হয়ে উঠেছে |
পরজমি দখলকারী ইহুদিদের নৃশংসতার শিকার হচ্ছে অসংখ্য ফিলিস্তিনি নাগরিক |
ফিলিস্তিনি ইস্যুতে ১৯৫৬, ১৯৬৭ ও ১৯৭৩ সালে আরও তিনবার আরব-ইহুদি যুদ্ধ হয় এবং প্রতিটা যুদ্ধই আরবদের জন্য আরও দুর্ভোগ বয়ে এনেছে |
আরও অপ্রতিরোধ্য ও সাম্রাজ্যবাদী হয়ে উঠেছে ইসরায়েল |
নিরীহ আরবদের করুণ আর্তনাদ আর হাহাকারে গুমোট হয়েছে ইহুদি অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলো |
গায়ের জোরে টিকে আছে ইসরায়েল |
আর তাদের এই গায়ের জোরের ইন্ধন জুগিয়েছে বিশ্বের দুই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি মার্কিন-ইংরেজ |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.