content stringlengths 0 129k |
|---|
৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা কীভাবে কনসেশন প্রদান করে তা জানা দরকার |
৫. শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন কার্ড চালু করা দরকার যা প্রতিষ্ঠান প্রদান করবে |
তাহলে যাত্রী কোন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র তা নিশ্চিত সম্ভব হবে |
৬. এ বছর শিক্ষাবাজেট ৭১ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা |
এর সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মিলে মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা |
প্রতিবছর শিক্ষাবাজেট থেকে বেশ কিছু টাকা ফেরত যায় |
ফেরত যাওয়া এই টাকাটা পরিবহন ভর্তুকি হিসেবে দেয়া যেতে পারে |
৭. যে সমস্ত পরিবহন শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া কার্যকর করবে, তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে |
৮. দেশের ছাত্রসমাজের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব আছে |
তাদের শিক্ষা সহায়ক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবহনে সাবসিডি দেয়া এবং একটি যুক্তিসংগত নিয়ম-বিধি প্রণয়ন করা হলে তা ছাত্র এবং পরিবহন শ্রমিক উভয়ের জন্য মঙ্গলজনক |
৯. দেশের বড় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে নগর পরিবহন আছে আবার এই দুই শহরেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ছাত্রসংখ্যা বেশি |
বাকি সারা দেশে সাধারণত স্বল্প দূরত্বে শিক্ষার্থীরা বাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করে |
এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরিবহন সহায়তার জন্য বাজেটে থোক বরাদ্দ করা যেতে পারে |
১০. বিভিন্ন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরিবহন ফি নেয়া হয় |
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেতন ও ফি বেশি |
উভয়ক্ষেত্রেই যারা গণপরিবহনে যাতায়াত করে তাদের কাছ থেকে নেয়া পরিবহন ফি এবং সরকারপ্রদত্ত বরাদ্দ দিয়ে একটি কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করা যেতে পারে |
১১. সরকার, পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও ছাত্র প্রতিনিধি সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠন করা যেতে পারে |
তাহলে যেকোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে |
লেখক: রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক |
শেয়ার করুন |
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব |
এরশাদুল আলম প্রিন্স |
২৮ নভেম্বর, ২০২১ ১৬:১৩ |
লিংকডইনে শেয়ার করুন |
ইমেইল করুন |
ওয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করুন |
ব্লগস্পটে শেয়ার করুন |
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিনি যে অভিযোগগুলো করেছেন তা কি ভিত্তিহীন? ১৫ আগস্টের দায়ভার থেকে কি জিয়া পুরোপুরি মুক্ত? জিয়াউর রহমান কি ১৫ আগস্টের খুনিদের পুরস্কৃত করেননি? ১৫ আগস্টে নিজের ভুয়া জন্মদিন পালন করে তিনি কি সমঝোতার পথ রুদ্ধ করে দেননি? ২১ আগস্টের খুনিদের তিনি বিচার না করে মদদ দেননি? প্রধানমন্ত্রীর এ অভিযোগগুলোর ... |
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের সিসিইউতে রয়েছেন |
বিএনপির দাবি তাকে সুস্থ করে তুলতে হলে এ মুহূর্তে বিদেশে নেয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই |
কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চপর্যায় থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, তাকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেয়া সম্ভব নয় |
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, উচ্চরক্তচাপ, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা রোগে ভুগছেন |
তার হাঁটুতে অপারেশন হয়েছে দুবার |
চোখেও অপারেশন হয়েছে |
আক্রান্ত হয়েছেন কোভিডে |
কোভিড-পরবর্তী জটিলতায় তার ফুসফুস, লিভার, হার্ট ও কিডনির অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলে জানা যায় |
এমতাবস্থায় তিনি ২০১৮ সাল থেকে কারাভোগ করছেন |
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপির দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার |
তার বিরুদ্ধে সব মামলাই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক |
তবে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ বিএনপি করতেই পারে |
কিন্তু তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলার সুযোগ নেই |
আদালতে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং তিনি সাজাপ্রাপ্ত |
খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঁচবার আবেদন করা হয়েছে |
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা প্রসঙ্গে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন |
তিনি বলেছেন, 'নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা তিনি ইতোমধ্যেই ব্যবহার করেছেন |
আমার হাতে যেটুকু পাওয়ার, সেটুকু আমি দেখিয়েছি |
এখানে আমার কিছু করার নাই |
আমার যেটা করার, আমি করেছি |
এটা এখন আইনের ব্যাপার |
খালেদা জিয়াকে যে কারাগার থেকে বাসায় থাকতে দিয়েছি, চিকিৎসা করতে দিয়েছি, এটাই কি বেশি নয়?' |
প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে বিএনপিপন্থিরা নাখোশ হয়েছেন |
তা হতেই পারেন |
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সবগুলো কথাই সঠিক বলেছেন |
তিনি তার হাতে যে ক্ষমতা আছে সেটা প্রয়োগ করেছেন |
মানবিকতা দেখিয়ে তিনি খালেদা জিয়াকে বুয়াসহ জেল ও বর্তমানে সাজা স্থগিত রেখে বাড়িতে থাকতে দিয়েছেন |
এগুলো তিনি মানবিকতা দেখিয়েই করেছেন |
কিন্তু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিনি যে অভিযোগগুলো করেছেন তা কি ভিত্তিহীন? ১৫ আগস্টের দায়ভার থেকে কি জিয়া পুরোপুরি মুক্ত? জিয়াউর রহমান কি ১৫ আগস্টের খুনিদের পুরস্কৃত করেননি? ১৫ আগস্টে নিজের ভুয়া জন্মদিন পালন করে তিনি কি সমঝোতার পথ রুদ্ধ করে দেননি? |
২১ আগস্টের খুনিদের তিনি বিচার না করে মদদ দেননি? প্রধানমন্ত্রীর এ অভিযোগগুলোর কোনোটাই ভিত্তিহীন নয় |
তবে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রশ্নে বিএনপি এখন যথেষ্ট নমনীয় |
তারা পাল্টা যুক্তির পথে না গিয়ে বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টিকে মানবিকতার সঙ্গে দেখার দাবিই করে আসছেন |
সেই সঙ্গে হয়তো কিছু আইনি ও রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন |
খালেদা জিয়ার জীবনমৃত্যুর প্রশ্নটিকেই তারা বড় করে দেখছেন |
খালেদা জিয়া একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারী ও যথেষ্ট অসুস্থ |
এছাড়া তিনি তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও একজন বীরোত্তমের স্ত্রী |
বিএনপি এ কথাগুলোই বার বার বলছে |
কিন্তু একজন ভিকটিম বা সংক্ষু্ব্ধ ব্যক্তির কাছে তিনি শুধুই একজন হুকুমের আসামি ও বর্তমানে দণ্ডিত কয়েদি |
বিএনপি খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিকে রাজনৈতিকভাবেই আদায় করতে চায় বলেই মনে হয় |
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপি গত ১২ বছরে কোনো দাবিই আদায় করতে পারেনি |
খালেদা জিয়ার বিচারের বিষয়টিকেও তারা প্রথমে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি |
পরে আইনগতভাবে মোকাবিলা করতে চেয়েছিল, সেখানেও ব্যর্থ হয়েছে |
শেষমেশ তাকে কারাগারেই যেতে হয়েছে |
রাজনৈতিকভাবে দাবি আদায়ের শক্তি ও কৌশল কোনোটিই বিএনপি দেখাতে পারেনি |
এখনও তারা একটি আইনগত বিষয়কে আইনি প্রক্রিয়ায় সুরাহা করার চেষ্টা না করে রাজনৈতিক ইস্যু বানাতে চায় |
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিই এ মুহূর্তে তাদের একমাত্র রাজনৈতিক পুঁজি |
নেত্রীর অসুস্থতাকে মানুষের সহানুভূতি আদায়ের হাতিয়ার বানানো বা তার বিদেশে চিকিৎসার দাবির আড়ালে দলকে রাজপথমুখী করা মূলত এক ধরনের রাজনৈতিক দেউলিয়ার বহিঃপ্রকাশ |
দাবি আদায়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকতেই পারে |
কিন্তু এ বিষয়টি সুরাহা করতে হলে আইনগতভাবেই করতে হবে |
কারণ, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বা মুক্তির বিষয়টি অনেক আগেই আইনের আওতাধীন একটি বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে |
কাজেই, এ বিষয়টি আইনগতভাবেই সমাধান করতে হবে |
আওয়ামী লীগও যদি খালেদা জিয়াকে মু্ক্তি দিতে চায় বা বিদেশে চিকিৎসা দিতে চায় তাকেও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তা করতে হবে |
বিএনপি নেত্রী গত এক দশক ধরেই শোচনীয় অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন |
তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় ও নিয়মের কারণে বাসা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন |
বিচার শেষে তিনি কারাভোগ করেছেন |
বর্তমানে সাজা স্থগিত আছে |
সাজাভোগের এ মধ্যবর্তী অবস্থায় আওয়ামী লীগ তার প্রতি আরও মানবিকতা দেখাবে কি না সেটি একান্তই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপার |
তবে সেই মানবিকতা দেখালেও তা আইনানুযায়ীই হতে হবে |
আইনে এখনও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখানোর সুযোগ আছে |
মানবিক কারণ বিবেচনা করেই অনেক সময় আসামিকে জামিন প্রদান করা হয় ও তার সাজা স্থগিত করা হয় |
বিচারকালীন জামিন প্রদান করা আদালতের কাজ |
আদালত মানবিক বিবেচনায় জামিন দিতে পারেন |
সাজা হয়ে গেলে সরকার মানবিক বিবেচনায় সাজা স্থগিত করতে পারে |
এটাই ফৌজদারি আইনের বিধান |
এছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টিও রয়েছে |
রাষ্ট্রপতির ক্ষমার এ বিষয়টিও পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচারের অংশ |
রাষ্ট্রপতি ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে যেকোনো আসামিকে ক্ষমা করে দিতে পারেন |
বিএনপি দাবি করতেই পারে যে, এ দেশে খুনের আসামিকেও রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করেছেন |
সেখানে তিনবারের নির্বাচিত একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা করতে বাধা কোথায়? |
এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যটি পরিষ্কার |
তিনি ইতোমধ্যে মানবিকতা দেখিয়েছেন |
মানবিক কারণেই তিনি এখন বাসায় আছেন |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.