content
stringlengths
0
129k
তার সাজা স্থগিত আছে
মানবিক কারণেই তার দেখভাল করার জন্য একজন কাজের বুয়াকেও সঙ্গে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে
এসবই সত্য
বিএনপির দাবি, সেই মানবিকতাকে আরও প্রসারিত করে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো!
আইনমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই
যদিও ফৌজদারি কার্যবিধি ভিন্ন কথা বলে
বর্তমানে তার সাজা স্থগিত রয়েছে
তবে কিছু শর্ত রয়েছে
তার মধ্যে অন্যতম শর্ত হচ্ছে, তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না
(ফৌজদারি কার্যবিধির সিআরপিসি) ৪০১ ধারায় বলা হয়েছে, ''কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইলে সরকার যে কোনো সময় বিনা শর্তে বা দণ্ডিত যাহা মানিয়া নেয় সেইরূপ শর্তে যে দণ্ডে সে দণ্ডিত হইয়াছে, সেই দণ্ডের কার্যকরীকরণ স্থগিত রাখিতে বা সম্পূর্ণ দণ্ড বা দণ্ডের অংশবিশেষ মওকুফ করিতে পারিবেন
কাজেই সরকার চাইলে শর্ত তুলে নিয়ে সাজা স্থগিত করতে পারে
এমনকি সাজা মওকুফও করতে পারে
সিআরপিসি'র ৪০১ (৬)-এর অধীনে তাকে কয়েকটি শর্ত দিয়ে সাজা স্থগিত করা হয়েছে
৪০১(৬) ধারা বলছে, 'সরকার সাধারণ বিধিমালা বা বিশেষ আদেশ দ্বারা দণ্ড স্থগিত রাখা এবং আবেদনপত্র স্থগিত রাখা এবং আবেদনপত্র দাখিল ও বিবেচনার শর্ত সম্বন্ধে নির্দেশ দিতে পারিবেন
কাজেই ৪০১(৬) ধারা প্রয়োগ করে যে নির্বাহী আদেশে শর্ত দিয়ে সাজা স্থগিত করা হয়েছে, সেই একই ধারা প্রয়োগ করে আরেকটি নির্বাহী আদেশে জারি করে উক্ত শর্তটি তুলে দিলেই তার বিদেশে যাওয়ায় আর কোনো বাধা থাকে না
বিএনপি সেই দাবিটিই করছে
অর্থাৎ নির্বাহী আদেশটি আরেকবার পরিবর্তন করে জারি করাই যথেষ্ট
তবে, এক্ষেত্রে ৪০১(২) ধারা অনুযায়ী আসামির তরফ থেকে আবেদন করতে হবে
এছাড়াও সরকার চাইরে ১৯৬০ ও ১৯৭৫ অনুযায়ীও যেকোনো সময় যেকোনো সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে পারে
সরকার থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার কথা আগেও বলেছে
কিন্তু বিএনপি সে পথে যায়নি
তারা কৌশলগত কারণেই সে পথে যায়নি
কারণ, ক্ষমা চাইতে হলে দোষ স্বীকার করতে হবে, মানে সব অভিযোগ স্বীকার করে নিতে হবে
তবে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার অধিকারটি সার্বভৌম নয়
কারণ, সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ মোতাবেক রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া সব ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন
কাজেই ক্ষমা করার অধিকারটিও প্রধানমন্ত্রীর হাতে
তিনি চাইলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমাও মিলতে পারে
কিন্তু বিএনপি সে পথে যাবে কি না সেটাই প্রশ্ন
দুই নেত্রীর মধ্যে আজকে বিভেদের দেয়াল থাকলেও তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সদ্ভাব ও সহমর্মিতার কথাও আমরা ভুলে যাইনি
এক/এগারোকালে শেখ হাসিনা বন্দি হলে খালেদা জিয়া তার মুক্তির দাবি করেছিলেন
পরে খালেদা জিয়াও অন্তরীণ হলে দুই নেত্রী পাশাপাশি থেকেছেন
তাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে
শেখ হাসিনা তাকে রান্না করা খাবারও পাঠিয়েছেন
শেখ হাসিনার মুখেই আমরা একথা শুনেছি
এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দুই নেত্রীর সেই হাস্যোজ্জ্বল মুখ এদেশের জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রিয় এক মুহূর্ত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই দুই নেত্রীর নিজস্ব একটি জায়গা আছে
সেখানে তারা অনন্য
অতীতে তাদের দুইজনকেই রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে
কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি
তাদের বিকল্প তারা নিজেরাই
এই দুই দল ও নেত্রীর মধ্যে শত বিভেদ থাকলেও তাদের একটু পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ও এদেশের মানুষকে যার পর নাই আশান্বিত করে
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানবিকতা দাবি করছে
এদিকে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ও ক্ষোভ তার ঊর্ধ্বে উঠে আরও মানবিকতা দেখাবেন কি না সেটি একান্ত তার ব্যক্তিগত বিষয়
তবে এ ব্যাপারে তাকে দায়ী করা কোনোভাবেই সংগত হবে না
বিশেষ করে ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ গুরুতর
বঙ্গবন্ধুকন্যা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দুবারের বিরোধীদলীয় নেত্রী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, মাদার অব হিউম্যানিটি ও একজন নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, দুবারের বিরোধী দলের নেত্রী, বিরোত্তমের স্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী ও একজন মরণাপন্ন বয়োবৃদ্ধ নারী খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার ...
লেখক: আইনজীবী ও কলাম লেখক
শেয়ার করুন
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও বিএনপির মামাবাড়ির আবদার
তাপস হালদার,
২৮ নভেম্বর, ২০২১ ১৪:৪২
লিংকডইনে শেয়ার করুন
ইমেইল করুন
ওয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করুন
ব্লগস্পটে শেয়ার করুন
খালেদা জিয়া যে মামলায় দণ্ড ভোগ করছেন সেটা তো আওয়ামী লীগ সরকার করেনি
তারপরও বিএনপি অভিযোগ করে আসছে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সরকার তাদের নেত্রীকে কারাদণ্ড দিয়েছে
মামলার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এতিমের টাকা আত্মাসাতের কারণে দুদক ২০০৮ সালের ৪ জুলাই এ মামলাটি করে
এ মামলায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পুত্র তারেক রহমানও আসামি ছিলেন
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দেশবাসী ধোঁয়াশার মধ্যে আছে
কখনও মুত্যুগুজব, কখনও বলা হচ্ছে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, আবার কখনও শোনা যাচ্ছে তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন
এ প্রসঙ্গে ঈশপের একটি গল্প মনে পড়ে গেল
যদিও গল্পটি প্রায় সবাই জানে
এক মিথ্যাবাদী রাখাল বালক প্রতিদিন বাঘ আসছে, বাঘ আসছে বলে গ্রামবাসীকে মিথ্যে ভয় দেখাত
সত্যিই একদিন যখন বাঘ এল, সেদিন কিন্তু তার কথাকে আর কেউ বিশ্বাস করে এগিয়ে যায়নি
পরিণতি যা হওয়ার তাই হয়েছে
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে
বেগম জিয়া জেলে যাওয়ার পর থেকেই বিএনপির নেতারা বলে আসছে- তিনি মারাত্মক অসুস্থ, জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, সরকার চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করছে এসব অবান্তর গল্প শুনতে শুনতে জনগণ এখন ক্লান্ত
এখন তাদের কোন কথা সত্য আর কোনটি মিথ্যা সাধারণ মানুষ যথেষ্ট সন্দিহান
খালেদা জিয়া যখন জেলে ছিলেন তখন বিএনপি থেকে দাবি করা হতো তাকে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে
কিন্তু তিনি মুক্তি পাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে চিকিৎসা নিচ্ছেন এভারকেয়ার হাসপাতালে (সাবেক অ্যাপোলো) আবার যখন নিজেরদের পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে তখন আবার নতুন উছিলা তুলেছে, খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি যে রাজনীতি করছে সেটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট
তাদের নেত্রীর সুচিকিৎসার থেকে বেশি মনোযোগ রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করা
বিএনপির নেতারা সচেতনভাবে জানেন একজন দণ্ডিত আসামির বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ নেই
তারপরও তারা এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করতে চাইছে
খালেদা জিয়া যে মামলায় দণ্ড ভোগ করছেন সেটা তো আওয়ামী লীগ সরকার করেনি
তারপরও বিএনপি অভিযোগ করে আসছে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সরকার তাদের নেত্রীকে কারাদণ্ড দিয়েছে
মামলার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এতিমের টাকা আত্মাসাতের কারণে দুদক ২০০৮ সালের ৪ জুলাই এ মামলাটি করে
এ মামলায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পুত্র তারেক রহমানও আসামি ছিলেন
পিতা মারা গেলে পুত্র এতিম হবে সেটাই তো স্বাভাবিক
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তারেক জিয়া নিঃসন্দেহে এতিম হন
কিন্তু মা যখন প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান তখন কি আর ছেলেটা এতিম থাকে? ১৯৯১ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশের এতিমদের সহায়তার জন্য 'প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে' সাড়ে ৪ কোটি টাকা দান করে
পরবর্তী সময়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল নামে ভুয়া দুটি ট্রাস্ট গঠন করে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করে খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান
জিয়া অরফানেজ মামলায় এতিমের টাকা আত্মসাতের কারণে বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়
তবে হাইকোর্টে সাজা বাতিল চেয়ে আবেদন করলে উল্টো সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে দেন
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও খালেদা জিয়াকে আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন
খালেদা জিয়া কতটুকু অসুস্থ সে বিষয়ে সার্টিফিকেট দেবে চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা
গণমাধ্যমসূত্রে জানা যাচ্ছে, এভারকেয়ার হাসপাতালে বিশজনের চিকিৎসক প্যানেল বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন
কিন্তু চিকিৎসকরা তার অসুস্থতা বিষয়ে মুখে কলুপ এঁটেছেন
প্রতিদিন বিএনপি নেতারা বলে যাচ্ছেন, খালেদা জিয়া জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন
যে কথাটা বলার কথা চিকিৎসকদের, কিন্তু সেটি বলে যাচ্ছে ফখরুল সাহেবরা
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা এবিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব
বিএনপি নেত্রী কেমন আছেন সেটা জানার অধিকার জনগণের আছে
কিন্তু জনগণ তো দূরের কথা বিএনপির নেতাকর্মীরাই ধোঁয়াশার মধ্যে আছে, আদৌ তাদের নেত্রীর কী অবস্থা
বিএনপি নেত্রী এখন মুক্তভাবে জীবনযাপন করছেন
পরিবার ও দলের কিছু নেতা চিকিৎসা-সংশ্লিষ্টতায় জড়িত
তারা ছাড়া সবাইকে অসুস্থতার বিষয়টি নিয়ে অন্ধকার রাখা হচ্ছে
এখানেই রাজনৈতিক দুরভিসন্ধির আভাস পাওয়া যায়
খালেদা জিয়া এবারই প্রথম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, এমনটি নয়