content stringlengths 0 129k |
|---|
নভেম্বর ২৪, ২০২১ |
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা ক্রিটিক্যাল বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |
তিনি বলেন, 'ম্যাডাম গুরুতর অসুস্থ |
প্রথম থেকেই বলে এসেছি তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, এটিই অ্যাপ্রোপ্রিয়েট |
তার অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল (সংকটাপন্ন) |
তাকে বিদেশে অ্যাডভান্স সেন্টারে পাঠানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, এটা চিকিৎসকদের কথা |
সুনির্দিষ্টভাবে তারা দেশের নামও বলেছেন |
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানিN এ তিনটি দেশের যে কোনো জায়গায় হতে হবে |
' গতকাল মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন |
মির্জা ফখরুল যখন মতবিনিময়ে বক্তব্য রাখছিলেন তার কয়েক ঘণ্টা আগে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে |
খবর পেয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠান থেকে রাজধানীর গুলশানের এভারকেয়ার হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল |
রাত ১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, 'চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও ম্যাডামের শরীর যথাযথভাবে সাড়া দিচ্ছে না |
তার শরীর ওষুধ গ্রহণ করতে পারছে না |
' বিএনপির একটি সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে খালেদা জিয়ার হিমোগ্লোবিন ও রক্তচাপ কমে গিয়েছিল |
ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত |
রক্তও দিতে হয়েছে |
গতকাল বিকাল থেকেই এ অবস্থা চলছে |
গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে |
বিভিন্ন ধরনের গুজবও ছড়াতে থাকে |
এতে সারাদেশ থেকে উদ্বিগ্ন বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেত্রীর খোঁজখবর নিতে শুরু করেন |
এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির কিছু নেতাকর্মী |
গত ১২ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় |
তাকে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল বোর্ড চিকিৎসা দিচ্ছে |
সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং কিডনি, ফুসফুস ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন |
এর আগে ২৬ দিন এ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি |
এ সময় তার বায়োপসি পরীক্ষাও হয় |
এর আগে গত এপ্রিলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক মাসের বেশি সময় এ হাসপাতালের সিসিইউতে ছিলেন তিনি |
গতকাল মতবিনিময়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যাডামের চিকিৎসার ব্যাপারে বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে |
আমাদের ও পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে |
কোথাও কোনো ত্রুটি নেই |
তিনি আরও বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রতিদিন বোর্ড মিটিং করেন, আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত বৈঠক করেন, আপ্রাণ চেষ্টা করছেন |
কখনো (খালেদা জিয়ার অবস্থা) একটু ভালো হয়, কখনো একটু খারাপ হয়N এ অবস্থার মধ্যে চলছে |
এদিকে, গতকাল মধ্যরাত থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয় |
এরপরই পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিটে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া শুরু হয় |
একাধিক সূত্র বলছে, চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবি ঘিরে কেউ যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্যই দেশব্যাপী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে |
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে ফেসবুকে গুজব বা অসত্য তথ্য ছড়ানোর কারণে বিশৃঙ্খলার বিষয়টিতেও নজর রাখা হচ্ছে |
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার পর খালেদা জিয়াকে কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই বছর বন্দিজীবন কাটাতে হয় |
করোনা সংক্রমণের মধ্যে পরিবারের আবেদনে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয় |
এর পর কয়েক দফা মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সরকার |
সেই অপারেশনে কতলোক মারা গিইলো, তা গুনতি পারিনি |
কিন্তু একটা খেজুরগাছের মাথায় দুই পাক সেনার মাথাবিহীন দুটো লাশ ক্রসচিহ্নের মতো ঝুলে ছিল |
'- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অনেক অপারেশনের একটি বর্ণনা দিতে গিয়ে কথাগুলো বলছিলেন বীর প্রতীক আবদুল জলিল |
তিনি রকেট জলিল নামেই পরিচিত- গোটা যশোরের পরিচিত মুখ |
মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার পাক বাহিনীর কাছে তিনি ছিলেন সাক্ষাত এক আতঙ্কের নাম! এই নাম দিয়েছিল পাক বাহিনীই |
তিনি বিভিন্ন জায়গায় দ্রুত অপারেশন করে দ্রুত সটকে পারতেন |
পাক সেনারা যেখানেই যায়, সেখানেই শোনে জলিলের নাম |
জলিল শব্দটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয় পেয়ে তারা কেঁপে উঠত |
আতঙ্কে এদিক-ওদিক তাকাত |
পাক সেনারা বলে, 'রকেট হ্যায় না কিয়া হ্যায়!' এরপর থেকেই তার নাম হলো রকেট জলিল |
মুক্তিযোদ্ধা রকেট জলিল বলেন, সেটা জুলাইয়ের প্রথম দিকের ঘটনা |
যশোরের ঝিকরগাছার দোসতিনা প্রাইমারি স্কুলের মাঠে ক্যাম্প করেছে পাকিস্তানীরা |
পাশের ছুটিপুরে তাদের হেডকোয়ার্টার |
তখন বর্ষাকাল |
ক্যাম্পের সেনারা প্রতিদিন বদলি হয় |
সকাল দশটা থেকে সাড়ে দশটা নাগাদ তারা ক্যাম্প বদল করে |
আমরা ২০ জনের একটি টিম নিয়ে বড় একটি অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিই মধুখালীর শালবাগান এলাকায় |
জলিলের ভাষ্যমতে, রাত চারটার দিকে, আমি আবদুস সাত্তার, গোলাম মোরশেদ, রফিকুল ইসলাম, চাপাতলার সাত্তারসহ ২০ জন সেখানে এ্যাম্বুশ করি |
এরই মধ্যে রাস্তায় বারোটি এ্যান্টি-পারসোনাল জাম্পিং মাইন পুঁতে রাখা হয় |
খুবই দক্ষতার সঙ্গে কাজটি করেন তিনি |
সকাল দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে সেনারা স্থান বদল করে |
কিন্তু যথাসময়ে পাকিস্তানী সেনারা কেউ আসছে না |
বেলা এগারোটার দিকে রকেট জলিল রেকি করতে বের হন |
টিপটিপ বৃষ্টি হচ্ছে |
মাথায় টোকা, হাতে নিড়ানী আর কাঁস্তে |
হঠাৎই আবির্ভূত হয় পাকিস্তানীরা! জিজ্ঞেস করে, তুম মুক্তি?' জবাব দেন, 'নেহি |
' এর পর সেনারা তাকে আটক করে নিয়ে যেতে থাকে দোসতিনার মধ্য দিয়ে |
বেশ বিচলিত হন রকেট জলিল, কলেমা পড়েন, ভাবেন, রাজাকাররা যদি দেখিয়ে দেয়, তবেই শেষ! মাথায় একটা গুলির বাক্স দিয়ে তাকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেনারা |
কিছু দূর যাওয়ার পর কাদামাটিতে ইচ্ছা করেই পড়ে যান |
ভাবেন, যদি অসুস্থ মনে করে তাকে ছেড়ে দেয় |
কিন্তু বিধি বাম! উল্টো লাথি মেরে তাকে জোর করে উঠিয়ে আবারও মাথায় বাক্সটি তুলে দেয় |
এভাবে পৌঁছে যান দোসতিনার মোমিন মাস্টারের কাঁঠালবাগানে |
সেখানে দুজন সেনার উপস্থিতিতে গাঁতি দিয়ে তাকে মরচে (বাঙ্কার) খুঁড়তে বলে |
দু-এক কোপ দেয়ার পর জলিল দেখেন, পাকিস্তানী সেনা দুজন দুই দিকে মুখ ঘুরিয়ে গাছের শেকড়ের ওপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছে |
এই সুযোগ! আস্তে আস্তে চলে আসি তাদের কাছে |
গাঁতি (খেজুর গাছ কাটার দা) দিয়ে মাথা বরাবর কোপ! দুই ভাগ হয়ে গেল নিমেষে |
শব্দে অপরজন সামনে ফিরতেই সেটাকেও ... |
মাথার ঘিলু-রক্তের ছোপ ছিটকে মুখে লাগে |
দুটি চায়নিজ রাইফেল নিয়ে দিই ভোঁ-দৌড় |
পরদিন সেই জায়গায় আবারও বারোটি মাইন স্থাপন করি |
সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সেনাসদস্যরা সেখানে হল্ট করায় বাহিনীকে |
তিন শতাধিক সৈন্য কাদামাটিতে, অস্ত্র কাঁধে সতর্ক অবস্থায় |
রকেট জলিল বলেন, আমরা ২০ জনের মতো এ্যাম্বুশে |
একজনের দায়িত্ব ছিল মাইনের সঙ্গে যে শক্ত সুতো বাঁধা, সেটা টান দেয়ার |
আর্মিদের উপস্থিতিতে ফিরে দেখি সে নেই, পালিয়েছে আরও পাঁচ-ছয়জন |
আমি বাঙ্কারে, এসএলআর হাতে |
এখান থেকে পালানো সম্ভব নয় |
ইয়া আলী বলে সুতো ধরে দিই টান |
বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় মাইনগুলো |
এসএলআরটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ব্রাশফায়ার করি |
অপর সঙ্গীরাও তখন ফায়ার করছে |
ফায়ার করতে করতে আমরা পিছিয়ে আসছি |
লাশ পড়ছে কাদার মধ্যে |
' কত লোক মারা (সৈন্য) গিইলো, গুনতি পারিনি |
কিন্তু মাইন বিস্ফোরণের পর দেখতি পাই, একটি খেজুরগাছের ডালে মাথাবিহীন দুই সেনা ক্রসচিহ্নের মতো ঝুলে আছে |
' জলিল বলেন, 'গরুর গাড়িতে করে লাশগুলো নিয়ে যাওয়া হয় ঝিকরগাছা থানার মদ্যি (মধ্যে) |
যারা নিয়ে গিইল, তারা লাশ গুনে কইলো ৩২ |
পরদিন কপোতাক্ষের পানিতে পাওয়া যায় আরও ছয় লাশ |
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের মনোরম একটি গ্রামের নাম পাল্লা |
১৯৬৩ সালে এই গ্রামের মহর আলী মোড়ল আর চেয়ারবানুর ঘরে জন্ম আব্দুল জলিলের |
স্থানীয় স্কুলেই লেখাপড়া |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.