content
stringlengths
0
129k
নভেম্বর ২৪, ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা ক্রিটিক্যাল বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
তিনি বলেন, 'ম্যাডাম গুরুতর অসুস্থ
প্রথম থেকেই বলে এসেছি তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, এটিই অ্যাপ্রোপ্রিয়েট
তার অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল (সংকটাপন্ন)
তাকে বিদেশে অ্যাডভান্স সেন্টারে পাঠানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, এটা চিকিৎসকদের কথা
সুনির্দিষ্টভাবে তারা দেশের নামও বলেছেন
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানিN এ তিনটি দেশের যে কোনো জায়গায় হতে হবে
' গতকাল মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন
মির্জা ফখরুল যখন মতবিনিময়ে বক্তব্য রাখছিলেন তার কয়েক ঘণ্টা আগে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে
খবর পেয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠান থেকে রাজধানীর গুলশানের এভারকেয়ার হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল
রাত ১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, 'চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও ম্যাডামের শরীর যথাযথভাবে সাড়া দিচ্ছে না
তার শরীর ওষুধ গ্রহণ করতে পারছে না
' বিএনপির একটি সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে খালেদা জিয়ার হিমোগ্লোবিন ও রক্তচাপ কমে গিয়েছিল
ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত
রক্তও দিতে হয়েছে
গতকাল বিকাল থেকেই এ অবস্থা চলছে
গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে
বিভিন্ন ধরনের গুজবও ছড়াতে থাকে
এতে সারাদেশ থেকে উদ্বিগ্ন বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেত্রীর খোঁজখবর নিতে শুরু করেন
এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির কিছু নেতাকর্মী
গত ১২ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়
তাকে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল বোর্ড চিকিৎসা দিচ্ছে
সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং কিডনি, ফুসফুস ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন
এর আগে ২৬ দিন এ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি
এ সময় তার বায়োপসি পরীক্ষাও হয়
এর আগে গত এপ্রিলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক মাসের বেশি সময় এ হাসপাতালের সিসিইউতে ছিলেন তিনি
গতকাল মতবিনিময়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যাডামের চিকিৎসার ব্যাপারে বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে
আমাদের ও পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে
কোথাও কোনো ত্রুটি নেই
তিনি আরও বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রতিদিন বোর্ড মিটিং করেন, আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত বৈঠক করেন, আপ্রাণ চেষ্টা করছেন
কখনো (খালেদা জিয়ার অবস্থা) একটু ভালো হয়, কখনো একটু খারাপ হয়N এ অবস্থার মধ্যে চলছে
এদিকে, গতকাল মধ্যরাত থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়
এরপরই পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিটে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া শুরু হয়
একাধিক সূত্র বলছে, চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবি ঘিরে কেউ যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্যই দেশব্যাপী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে ফেসবুকে গুজব বা অসত্য তথ্য ছড়ানোর কারণে বিশৃঙ্খলার বিষয়টিতেও নজর রাখা হচ্ছে
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার পর খালেদা জিয়াকে কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই বছর বন্দিজীবন কাটাতে হয়
করোনা সংক্রমণের মধ্যে পরিবারের আবেদনে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়
এর পর কয়েক দফা মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সরকার
সেই অপারেশনে কতলোক মারা গিইলো, তা গুনতি পারিনি
কিন্তু একটা খেজুরগাছের মাথায় দুই পাক সেনার মাথাবিহীন দুটো লাশ ক্রসচিহ্নের মতো ঝুলে ছিল
'- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অনেক অপারেশনের একটি বর্ণনা দিতে গিয়ে কথাগুলো বলছিলেন বীর প্রতীক আবদুল জলিল
তিনি রকেট জলিল নামেই পরিচিত- গোটা যশোরের পরিচিত মুখ
মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার পাক বাহিনীর কাছে তিনি ছিলেন সাক্ষাত এক আতঙ্কের নাম! এই নাম দিয়েছিল পাক বাহিনীই
তিনি বিভিন্ন জায়গায় দ্রুত অপারেশন করে দ্রুত সটকে পারতেন
পাক সেনারা যেখানেই যায়, সেখানেই শোনে জলিলের নাম
জলিল শব্দটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয় পেয়ে তারা কেঁপে উঠত
আতঙ্কে এদিক-ওদিক তাকাত
পাক সেনারা বলে, 'রকেট হ্যায় না কিয়া হ্যায়!' এরপর থেকেই তার নাম হলো রকেট জলিল
মুক্তিযোদ্ধা রকেট জলিল বলেন, সেটা জুলাইয়ের প্রথম দিকের ঘটনা
যশোরের ঝিকরগাছার দোসতিনা প্রাইমারি স্কুলের মাঠে ক্যাম্প করেছে পাকিস্তানীরা
পাশের ছুটিপুরে তাদের হেডকোয়ার্টার
তখন বর্ষাকাল
ক্যাম্পের সেনারা প্রতিদিন বদলি হয়
সকাল দশটা থেকে সাড়ে দশটা নাগাদ তারা ক্যাম্প বদল করে
আমরা ২০ জনের একটি টিম নিয়ে বড় একটি অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিই মধুখালীর শালবাগান এলাকায়
জলিলের ভাষ্যমতে, রাত চারটার দিকে, আমি আবদুস সাত্তার, গোলাম মোরশেদ, রফিকুল ইসলাম, চাপাতলার সাত্তারসহ ২০ জন সেখানে এ্যাম্বুশ করি
এরই মধ্যে রাস্তায় বারোটি এ্যান্টি-পারসোনাল জাম্পিং মাইন পুঁতে রাখা হয়
খুবই দক্ষতার সঙ্গে কাজটি করেন তিনি
সকাল দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে সেনারা স্থান বদল করে
কিন্তু যথাসময়ে পাকিস্তানী সেনারা কেউ আসছে না
বেলা এগারোটার দিকে রকেট জলিল রেকি করতে বের হন
টিপটিপ বৃষ্টি হচ্ছে
মাথায় টোকা, হাতে নিড়ানী আর কাঁস্তে
হঠাৎই আবির্ভূত হয় পাকিস্তানীরা! জিজ্ঞেস করে, তুম মুক্তি?' জবাব দেন, 'নেহি
' এর পর সেনারা তাকে আটক করে নিয়ে যেতে থাকে দোসতিনার মধ্য দিয়ে
বেশ বিচলিত হন রকেট জলিল, কলেমা পড়েন, ভাবেন, রাজাকাররা যদি দেখিয়ে দেয়, তবেই শেষ! মাথায় একটা গুলির বাক্স দিয়ে তাকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেনারা
কিছু দূর যাওয়ার পর কাদামাটিতে ইচ্ছা করেই পড়ে যান
ভাবেন, যদি অসুস্থ মনে করে তাকে ছেড়ে দেয়
কিন্তু বিধি বাম! উল্টো লাথি মেরে তাকে জোর করে উঠিয়ে আবারও মাথায় বাক্সটি তুলে দেয়
এভাবে পৌঁছে যান দোসতিনার মোমিন মাস্টারের কাঁঠালবাগানে
সেখানে দুজন সেনার উপস্থিতিতে গাঁতি দিয়ে তাকে মরচে (বাঙ্কার) খুঁড়তে বলে
দু-এক কোপ দেয়ার পর জলিল দেখেন, পাকিস্তানী সেনা দুজন দুই দিকে মুখ ঘুরিয়ে গাছের শেকড়ের ওপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছে
এই সুযোগ! আস্তে আস্তে চলে আসি তাদের কাছে
গাঁতি (খেজুর গাছ কাটার দা) দিয়ে মাথা বরাবর কোপ! দুই ভাগ হয়ে গেল নিমেষে
শব্দে অপরজন সামনে ফিরতেই সেটাকেও ...
মাথার ঘিলু-রক্তের ছোপ ছিটকে মুখে লাগে
দুটি চায়নিজ রাইফেল নিয়ে দিই ভোঁ-দৌড়
পরদিন সেই জায়গায় আবারও বারোটি মাইন স্থাপন করি
সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সেনাসদস্যরা সেখানে হল্ট করায় বাহিনীকে
তিন শতাধিক সৈন্য কাদামাটিতে, অস্ত্র কাঁধে সতর্ক অবস্থায়
রকেট জলিল বলেন, আমরা ২০ জনের মতো এ্যাম্বুশে
একজনের দায়িত্ব ছিল মাইনের সঙ্গে যে শক্ত সুতো বাঁধা, সেটা টান দেয়ার
আর্মিদের উপস্থিতিতে ফিরে দেখি সে নেই, পালিয়েছে আরও পাঁচ-ছয়জন
আমি বাঙ্কারে, এসএলআর হাতে
এখান থেকে পালানো সম্ভব নয়
ইয়া আলী বলে সুতো ধরে দিই টান
বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় মাইনগুলো
এসএলআরটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ব্রাশফায়ার করি
অপর সঙ্গীরাও তখন ফায়ার করছে
ফায়ার করতে করতে আমরা পিছিয়ে আসছি
লাশ পড়ছে কাদার মধ্যে
' কত লোক মারা (সৈন্য) গিইলো, গুনতি পারিনি
কিন্তু মাইন বিস্ফোরণের পর দেখতি পাই, একটি খেজুরগাছের ডালে মাথাবিহীন দুই সেনা ক্রসচিহ্নের মতো ঝুলে আছে
' জলিল বলেন, 'গরুর গাড়িতে করে লাশগুলো নিয়ে যাওয়া হয় ঝিকরগাছা থানার মদ্যি (মধ্যে)
যারা নিয়ে গিইল, তারা লাশ গুনে কইলো ৩২
পরদিন কপোতাক্ষের পানিতে পাওয়া যায় আরও ছয় লাশ
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের মনোরম একটি গ্রামের নাম পাল্লা
১৯৬৩ সালে এই গ্রামের মহর আলী মোড়ল আর চেয়ারবানুর ঘরে জন্ম আব্দুল জলিলের
স্থানীয় স্কুলেই লেখাপড়া