content
stringlengths
0
129k
15, 2013
নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি
মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়
(-: 54)
সকাল-সন্ধায় পঠিতব্য দুয়া ও যিকির সমূহ (উচ্চারণ ও বাংলা অনুবাদ সহ)
১) আয়াতুল কুরসী [সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত]
২) নিম্নোক্ত সূরা সমূহ পড়া:
কুল্ হুওয়াল্লাহু আহাদ
ক্বুল আউ-যু বিরাব্বিল ফালাক্ব
ক্বুল আউযু বিরাব্বিন্নাস
৩) لا إله إلا الله وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ উচ্চারণঃ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা-কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর
অর্থঃ "আল্লাহ্ ছাড়া প্রকৃত কোন মা'বুদ নেই, তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং যাবতীয় প্রশংসার অধিকারীও তিনি, তিনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান
" (১০ বার বা ১০০ বার)
৪) سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ উচ্চারণঃ সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াবি হামদিহি
অর্থঃ প্রশংসার সহকারে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি
(১০০ বার)
৫) (اللهمَّ عاَفِنِيْ فِيْ بَدَنِيْ، اللهمَّ عاَفِنِيْ فِيْ سَمْعِيْ، اللهمَّ عاَفِنِيْ فِيْ بَصَرِيْ لا إله إلا أنْتَ )
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আ'ফেনী ফী বাদানী, আল্লাহুম্মা আ'ফেনী ফী সাম্য়ী, আল্লাহুম্মা আ'ফেনী ফী বাছারী, লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা
অর্থঃ হে আল্লাহ্! তুমি আমার দেহের নিরাপত্তা দান কর, শ্রবন শক্তি ও দৃষ্টি শক্তিকে নিরাপদ রাখ
তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন ইলাহ্ নেই
৬) (اللهمَّ إنِّيْ أعُوذُ بِكَ مِنَ الكُفْرِ والْفَقْرِ وأعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ لا إله إلا أنتَ) উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল কুফরী ওয়াল ফাক্বরি ওয়া আঊযুবিকা মিন আযাবিল কবরী, লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা
অর্থঃ হে আল্লাহ্! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কুফুরী ও দারিদ্র্য থেকে এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি ক্ববরের আযাব থেকে
তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন ইলাহ্ নেই
৭) (اللهمَّ أنْتَ رَبِّيْ لا إله إلا أنتَ، خَلَقْتَنِيْ وَأناَ عَبْدُكَ، وأناَ على عَهْدِكَ، وَوَعْدِكَ ماَ اسْتَطَعْتُ، أعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مِلْئَ صَنَعْتُ، أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوْءُ بِذَنْبِيْ، فاَغْفِرْ لِيْ فَإنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إلاَّ أنْتَ)
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আন্তা রব্বী লা-ইলা-হা ইল্লা- আন্তা, খালাক্বতানী
ওয়া আনা আ'বদুকা, ওয়া আনা আ'লা আ'হদিকা, ওয়া ওয়া'দিকা মাসতত্ব'তু,
আঊযুবিকা মিন শাররি মা সনা'তু,
আবূউ লাকা বিনি'মাতিকা আ'লাইয়্যা,
ওয়া আবূউ বিযাম্বী,
ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আন্তা
অর্থঃ হে আল্লাহ্ তুমি আমার প্রভু প্রতিপালক, তুমি ছাড়া ইবাদত যোগ্য কোন ইলাহ্ নেই, তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো এবং আমি তোমার বান্দা
আমি সাধ্যানুযায়ী তোমার সাথে কৃত ওয়াদা-অঙ্গীকার রক্ষা করছি
আমার কৃত কর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় কামনা করছি, আমার প্রতি তোমার নেয়া'মত স্বীকার করছি এবং তোমার দরবারে আমার পাপকর্মেরও স্বীকারোক্তি দিচ্ছি
সুতরাং তুমি আমায় ক্ষমা কর, কেননা তুমি ছাড়া পাপরাশী কেহই ক্ষমা করতে পারে না
৮)( (اللهمَّ صَلِّ عَلى محمدٍ وَعَلَى آلِ مُحمدٍ كَماَ صَلَّيْتَ على إبْراَهِيْمَ وَ على آلِ إبراهيمَ إنَّكَ حَميدٌ مجيدٌ)
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা সল্লি আ'লা মুহাম্মাদিঁওয়া আ'লা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সল্লায়তা আ'লা ইব্রাহীমা ওয়া আ'লা আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ
অর্থঃ হে আল্লাহ্ তুমি রহমত নাযিল কর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবার বর্গের উপর, যেমন তুমি রহমত নাযিল করেছো ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর পরিবার বর্গের উপর, নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত
- - - - - - - - -+++++++++++++ - - - - - - - - -
:
4 = 1
20 = 1
80 = 1
120 = 1
:
( ) 1/20 (720 2 66.89 2). -20 , .
720 1/20 . .
1 ( ) = 720
20 ( ) = 1
3 = 1 . (1600 )
20, 2013
9740444699
আমার জন্ম জামালপুর জেলার এক অজপাড়াগাঁয়ে
১৪ কিলোমিটার দূরের শহরে যেতে হতো পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে
পুরো গ্রামের মধ্যে একমাত্র মেট্রিক পাস ছিলেন আমার চাচা মফিজউদ্দিন
আমার বাবা একজন অতি দরিদ্র ভূমিহীন কৃষক
আমরা পাঁচ ভাই, তিন বোন
কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো আমাদের
আমার দাদার আর্থিক অবস্থা ছিলো মোটামুটি
কিন্তু তিনি আমার বাবাকে তাঁর বাড়িতে ঠাঁই দেননি
দাদার বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে একটা ছনের ঘরে আমরা এতগুলো ভাই-বোন আর বাবা-মা থাকতাম
মা তাঁর বাবার বাড়ি থেকে নানার সম্পত্তির সামান্য অংশ পেয়েছিলেন
তাতে তিন বিঘা জমি কেনা হয়
চাষাবাদের জন্য অনুপযুক্ত ওই জমিতে বহু কষ্টে বাবা যা ফলাতেন, তাতে বছরে ৫/৬ মাসের খাবার জুটতো
দারিদ্র্য কী জিনিস, তা আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি- খাবার নেই, পরনের কাপড় নেই; কী এক অবস্থা !
আমার মা সামান্য লেখাপড়া জানতেন
তাঁর কাছেই আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি
তারপর বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই
কিন্তু আমার পরিবারে এতটাই অভাব যে, আমি যখন তৃতীয় শ্রেণীতে উঠলাম, তখন আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলো না
বড় ভাই আরো আগে স্কুল ছেড়ে কাজে ঢুকেছেন
আমাকেও লেখাপড়া ছেড়ে রোজগারের পথে নামতে হলো
আমাদের একটা গাভী আর কয়েকটা খাসি ছিল
আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওগুলো মাঠে চরাতাম
বিকেল বেলা গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতাম
এভাবে দুই ভাই মিলে যা আয় করতাম, তাতে কোনরকমে দিন কাটছিল
কিছুদিন চলার পর দুধ বিক্রির আয় থেকে সঞ্চিত আট টাকা দিয়ে আমি পান-বিড়ির দোকান দেই
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানে বসতাম
পড়াশোনা তো বন্ধই, আদৌ করবো- সেই স্বপ্নও ছিল না !
এক বিকেলে বড় ভাই বললেন, আজ স্কুল মাঠে নাটক হবে
স্পষ্ট মনে আছে, তখন আমার গায়ে দেওয়ার মতো কোন জামা নেই
খালি গা আর লুঙ্গি পরে আমি ভাইয়ের সঙ্গে নাটক দেখতে চলেছি
স্কুলে পৌঁছে আমি তো বিস্ময়ে হতবাক ! চারদিকে এত আনন্দময় চমৎকার পরিবেশ ! আমার মনে হলো, আমিও তো আর সবার মতোই হতে পারতাম
সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে আবার স্কুলে ফিরে আসতে হবে
নাটক দেখে বাড়ি ফেরার পথে বড় ভাইকে বললাম, আমি কি আবার স্কুলে ফিরে আসতে পারি না ? আমার বলার ভঙ্গি বা করুণ চাহনি দেখেই হোক কিংবা অন্য কোন কারণেই হোক কথাটা ভাইয়ের মনে ধরলো
তিনি বললেন, ঠিক আছে কাল হেডস্যারের সঙ্গে আলাপ করবো
পরদিন দুই ভাই আবার স্কুলে গেলাম
বড় ভাই আমাকে হেডস্যারের রুমের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ভিতরে গেলেন
আমি বাইরে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট শুনছি, ভাই বলছেন আমাকে যেন বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগটুকু দেওয়া হয়
কিন্তু হেডস্যার অবজ্ঞার ভঙ্গিতে বললেন, সবাইকে দিয়ে কি লেখাপড়া হয় ! স্যারের কথা শুনে আমার মাথা নিচু হয়ে গেল
যতখানি আশা নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম, স্যারের এক কথাতেই সব ধুলিস্মাৎ হয়ে গেল
তবু বড় ভাই অনেক পীড়াপীড়ি করে আমার পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি যোগাড় করলেন
পরীক্ষার তখন আর মাত্র তিন মাস বাকি
বাড়ি ফিরে মাকে বললাম, আমাকে তিন মাসের ছুটি দিতে হবে
আমি আর এখানে থাকবো না
কারণ ঘরে খাবার নেই, পরনে কাপড় নেই- আমার কোন বইও নেই, কিন্তু আমাকে পরীক্ষায় পাস করতে হবে