content
stringlengths
0
129k
তারপর না হয়...
আর কিছু না হোক, গল্পের জব্বর প্লট পাবেন
- বলে যান বৃকোদরবাবু
সে নামেই ডাকব তো আপনাকে?
থ্যাঙ্ক ইউ
আর এক কাপ কফি বলি? এই ওয়েটার! অউর দো কাপ
- এ'বার বলুন
- কিছু পর্তুগীজ তখনও রয়ে গেছিল ব্যান্ডেল চার্চের আশেপাশে
অল্প সংখ্যক সৈন্যসামন্তও ছিল, সে ছোট্ট সেনাদলেই আমি ছিলাম
কিন্তু তারপর তাঁদের অবস্থা আরও পড়ে যাওয়ায় ইংরেজদের কুঠিতে চলে যাই
পর্তুগীজদের সঙ্গে থাকার সময় দুধ কেটে ছানা করে মেঠাই বানানোর কিছু প্রক্রিয়া আমি শিখেছিলাম ফিরিঙ্গি রাঁধুনির থেকে
রান্নাবান্নার দিকে আমার বিশেষ ইন্টারেস্ট ছিল বরাবরই
- প্লীজ বলবেন না এ'বার যে আপনিই রসগোল্লা আবিষ্কার করেছিলেন
- আপনি ভীষণ শার্প স্যার
- খুব প্রেডিক্টেবল গাঁজা হয়ে যাচ্ছে
- আমার কাছে প্রমাণ আছে স্যার
কথাগুলো মিথ্যে যে নয় তার প্রমাণ
কফি যখন আসছেই, বলে যান
- তবে আবিষ্কারটা ঠিক ব্যান্ডেলে থাকার সময় হয়নি
সে'খান থেকে হুগলীর ইংরেজ কুঠিতে যাই
সে'খানে কিছুদিন কাজ করার পর আমায় বদলি করে দেওয়া হয় বালেশ্বরে
সে'খানে সাহেবদের রান্নার ঠাকুর অখাদ্য সব রান্না করত, বাধ্য হয়ে নিজেকেই মাঝে মধ্যে ঢুঁ মারতে হত হেঁসেলে
তখনই এক্সপেরিমেন্ট শুরু
আধুনিক ভাষায় যাকে বলে স্যুইট টুথ, সে'টা আমার গত সাড়ে তিনশো বছর ধরে আছে
কাজেই পড়ে রইলাম মেঠাই নিয়েই
বালেশ্বরে কিছুদিন বেশি হাত পা ছড়িয়ে ছিলাম
সময়ও ছিল অঢেল
তখনই রসগোল্লা আবিষ্কারটা করে ফেলি
তবে স্পঞ্জ নয়
সে'টা পরে কলকাতাতেই...
- আপনার কথা অনুযায়ী রসগোল্লার আবিষ্কার উড়িষ্যাতেই হয়েছে
- কিন্তু করেছে একজন বাঙালি
সো ফার সো গুড
এরপর? সমস্যাটা কোথায়? আপনার আমাকে দরকার হল কেন!
- এইটার জন্য
- এ'টা কী
- কী মনে হচ্ছে?
- নস্যির কৌটো
- খাঁটি সোনার
- সোনারই তো মনে হচ্ছে
পুরনোও বটে
এর ভিতরে নস্যি রয়েছে?
- নস্যি নেই
তবে যে'টা আছে সে'টাই প্রমাণ স্যার
সে'টাই তো প্রমাণ
যে আমিই বৃকোদর মল্লিক
- একবার বালেশ্বরের কুঠিতে এসে চার্নক সাহেব আমার হাতের তৈরি রসগোল্লা খেয়ে মুগ্ধ হন
এবং এতটাই আহ্লাদিত বোধ করেন যে আমায় বালেশ্বর থেকে উঠিয়ে ওয়াপিস নিয়ে যান হুগলী
এরপর প্রথমবার সুতানুটিতে আসেন সম্পূর্ণ অন্য এক বদ ফিকির নিয়ে
উনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ফাঁকি দিয়ে নতুন কারখানা গড়তে চেয়েছিলেন
নতুন সাম্রাজ্য
রসগোল্লার কারখানা
ওনার ধারণা ছিল রসগোল্লার ফর্মুলা হাতিয়ে গোটা পৃথিবীর মেঠাই মার্কেট তিনি কব্জা করবেন
সুতানুটি হবে রসগোল্লা ক্যাপিটাল
জাহাজে করে হাজারে হাজারে লোক হুগলীতে তরী ভেড়াবে রসগোল্লা আস্বাদন করতে
শুধু...শুধু তাঁর বুদ্ধিতে একটাই ফাঁক ছিল...
- তিনি আমার সঙ্গে রসগোল্লা সাম্রাজ্যের মুনাফা ভাগ করতে অস্বীকার করেন
কালা আদমি বলে খিস্তি করতেও ছাড়েননি
অথচ ভদ্রলোকের পুরো বিজনেস আইডিয়াটাই আমার আবিষ্কারকে ঘিরে
কী খলিফা আদমি ভাবুন
হাড় বজ্জাত
- জোবের একটা মস্ত অসুবিধে ছিল
আমায় জনসমক্ষে কড়কাতে পারত না কারণ ওঁর ফন্দীর কথা কোম্পানি বাহাদুরের কানে পৌঁছলেই ওর চাকরী নট হত, বন্দী হওয়ার আশ্চর্য ছিল না
অথচ আমার থেকে ফর্মুলা হাতাতেও পারছিল না
আমার মুশকিল হয়েছিল অন্য জায়গায়
বালেশ্বরে শুরুর দিকে একবার বলে ফেলেছিলাম আমার রোজনামচার কথা
অর্থাৎ ডায়েরি
এও বলেছিলাম রসগোল্লার রেসীপি সে'খানেই আমি লিখে রেখেছি
হুগলীতে ফিরে জোব সাহেব ঘ্যানঘ্যান আরম্ভ করল ওই ডায়েরী আমায় দাও
আমিও স্পীকটি নট
অবশেষে ব্যাটাচ্ছেলে উপায়ন্তর না দেখে বাজে অছিলায় কিছু সৈন্য নিয়ে সুতানুটিতে এসে হাজির হলে
সঙ্গে আমিও, সমস্ত মালপত্তর সমেত
সুতানুটিতে ল্যান্ড করে বাবাজীর আসল মূর্তি প্রকাশ পেল
মাটির ছ'টা বাড়ি তৈরি হয়েছিল, একটায় সে নিজে থাকত
চারটেয় বাকি সৈন্যরা, আর অন্যটায় আমাকে সে বন্দী করলে
আর সে কী অকথ্য অত্যাচার! আমিও গোঁ ধরে রইলাম, জান কবুল কিন্তু রসগোল্লার রেসীপি আমি ওই সাহেবদের হাতে তুলে দেব না
এর মধ্যে ফরমান আসায় তাঁকে সুতানুটি ত্যাগ করতে হয়
ব্যাটাচ্ছেলে আমায় সুতানুটির সেই শিকলে বেঁধে রেখে চলে চায়
যাওয়ার আগে বলে যায় "তুই মর ব্যাটা কালা আদমি
কিন্তু তোর মালপত্তরের মধ্যেই কোথাও তোর ডায়েরি আছে তা আমি বেশ জানি
এখানে যখন পেলাম না, তখন নিশ্চয়ই হুগলী বা বালেশ্বরে আছে
আমি চললাম, তুই মর"
- আরিব্বাস
ড্রামাটিক
- তারপর আবার কী! অত্যাচারে আধমরা হয়েই ছিলাম
দু'হপ্তার মধ্যেই মারা গেলাম
মারা গিয়ে সুবিধে এই হলো যে শিকলে আরা বাঁধা পড়ে থাকতে হল না
সোজা সাপটা বেরিয়ে এসে ছ'টা কুটির জ্বালিয়ে খাক করে দিলাম
- আপনার রসগোল্লার রেসীপি লেখা ডায়েরি?
- সে জিনিসের খোঁজ চার্নক সাহেব বালেশ্বর আর হুগলীর কুঠিতে আমার ঘর তন্নতন্ন করে খুঁজেও পান নি
বেশ কিছুদিন পর সাহেবের খেয়াল হয় একটা ছোট ব্যাপারে ভুল করে ফেলেছেন তিনি
আমি সবে নস্যি নেওয়ার অভ্যাস ধরেছিলাম
নস্যি নেওয়ার চলটাই তখন এ দেশে নতুন
এত খোঁজ করেও, চার্নক সাহেবের কোনোদিন আমার নস্যির ডিবেটার প্রতি সন্দেহ যায়নি
অথচ বন্দীদশায় এ ডিবে থেকে নস্যি না নিলেও এ ডিবে আমার কোমরে বাঁধা ছিল
দুয়ে দুয়ে চার করতে সামান্য সময় লেগেছিল সাহেবের
- নস্যির ডিবের মধ্যে ডায়েরি? গুলের সীমা থাকবে না একটা?
- টানা এক বছরের রোজ নামচা রয়েছে এই নস্যির ডিবের ভিতরে স্যার
কী ভাবে, সে প্রসঙ্গে আসছি
চার্নক সাহেবের যখন টনক নড়ল তখন তিনি হুগলী ছাড়ার অছিলা খুঁজতে লাগলেন