content
stringlengths
0
129k
মতামত দিন
আপনার মতামত
আপনার নাম *
আপনার ইমেইল *
আপনার ওয়েবসাইট (যদি থাকে)
, , .
@*
নিয়মিত পোস্ট পেতে
মাসিক সংখ্যা
মাসিক সংখ্যা 2021 (2) 2021 (1) 2021 (1) 2021 (4) 2021 (1) 2021 (3) 2019 (1) 2019 (7) 2019 (1) 2019 (1) 2019 (1) 2018 (2) 2018 (1) 2018 (4) 2018 (13) 2018 (8) 2018 (21) 2018 (2) 2018 (17) 2018 (23) 2018 (36) 2018 (42) 2018 (24) 2017 (24) 2017 (27) 2017 (30) 2017 (21) 2017 (3) 2017 (9) 2017 (12) 2017 (30) 2017 (41) 2017 (15) 2017 (23) 2016 (42) 2016 (20) 2016 (17) 2016 (30) 2016 (20) 2016 (10) 2016 (48) 2016 (20) 2016 (21) 2016 (49) 2016 (71) 2016 (47) 2015 (24) 2015 (35) 2015 (29) 2015 (30) 2015 (31) 2015 (18) 2015 (47) 2015 (59) 2015 (46) 2015 (43) 2015 (30) 2014 (3) 2014 (33) 2014 (33) 2014 (36) 2014 (43) 2014 (61) 2014 (45) 2014 (38) 2014 (47) 2014 (71) 2014 (34) 2014 (42) 2013 (10) 2013 (14) 2013 (10) 2013 (22) 2013 (9) 2013 (48) 2013 (29) 2013 (28) 2013 (27) 2013 (3) 2013 (1) 2012 (9) 2011 (2) 2010 (3)
এ বয়সে আর হুড়মুড় সহ্য হয় না
ধড়াচূড়া খুলে কোন রকমে শরীরটা চেয়ার পর্যন্ত হেঁচড়ে নিয়ে গিয়ে বসতে হল তাকে
একে এই পশমের ভারী কোট, তাতে কাঁধে বস্তাভরা এই প্যাকেট, সেই প্যাকেটের বোঝা
শখের বসে কী কাজই যে নিয়ে বসে আছেন! আবার স্লেজে না গেলেও নয়, কেতায় বাঁধবে
কিন্তু এদিকে বয়স তো কম হচ্ছে না
আয়নায় নিজেকে দেখে রীতিমত ঘাবড়ে যেতে হল, একদিনের ধকলেই চোখ বসে গেছে
পৃথিবী জুড়ে টইটই করে বেরানো কি মামুলি ব্যাপার? তাও আবার একদিনের মধ্যে
এর চেয়ে হেডমাস্টারি করা অনেক সহজ!
- কিন্তু সহজ বললেই বা ছাড়ান পাওয়া যাচ্ছে কোথায় ডাম্বলডোর?
- এই তোমার এক বাতিক হয়েছে বিবেক
যখন তখন হুট করে উদয় হয়ে পিলে চমকে দেওয়া
- বলি থকে গেলে চলবে কেন? ফি বছরে একবারটি বেরোও আনন্দধারা বইয়ে আসতে, তা নিয়েও এত টালবাহানা? না না
- বলি বয়স হচ্ছে তো
আর কদ্দিন? আর কয়েকশো বছর না হয়ে মুখে রক্ত তুলে টেনেও দেব
কিন্তু তারপর? তারপর কী হবে? ক'হাজার বছর ধরে তো জোয়াল টানলাম
আর দেহ দিচ্ছে না
- একটা কাজও তো করলে পার
- এই যে আনন্দ বিলি করার কাজ, কয়েক হাজার বছরের আনন্দ সমস্তটাই একবারে বিলিয়ে দিয়ে এলে হয় না? তারপর থাক তুমি হগওয়ার্ট আলো করে বছরে তিনশো পঁয়ষট্টি দিন
কেউ কিচ্ছুটি আর বলবে না
আমিও জ্বালাব না, পঁচিশে ডিসেম্বর এলো গো...লাল কোটখানা পর গো...আনন্দ বস্তা কাঁধে ফেলো গো...
- সমস্ত আনন্দ একবারে বিলিয়ে আসা? হাজার হাজার বছরের আনন্দ এক দিনে?
- এক দিনে ঠিক নয়
তবে একবার গিয়ে যদি তুমি সত্তর আশি বছর কাটিয়ে আসতে পার মানুষের মধ্যে হে ডাম্ব্‌লডোর, তাহলে তুমি পারবে যথেষ্ট আনন্দ রেখে আসতে সেখেনে
তখন আর ফি বছর এত হ্যাঙ্গাম করে যাওয়ার দরকার পড়বে না
- সত্তর আশি বছর মানুষের মধ্যে থেকে হাজার হাজার বছরের জন্য আনন্দ ছড়িয়ে আসা? কোন জাদুতে সে কাজ হবে হে?
- কেন? কবিতার জাদুতে! সঙ্গীতের জাদুতে
- আমি পারব?
- তুমি না পারলে কে পারবে বাবু?
- আশি বছর কাটিয়ে সে জাদু ছড়িয়ে এই স্যান্টাবাজির থেকে যদি লাইফলং ছুটি পাওয়া যায় হে বিবেক, তার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে?
- বাহ! এই না হলে কথা
তা কবে যাবে? ছদ্মবেশই বা কেমন নেবে?
- ছদ্মবেশ আর যাই নিই না কেন, এই দাড়িটাকে ছাড়তে বলো না বিবেক
হেডমাস্টারি হোক কি স্যান্টাগিরি, এ দাড়ি ছাড়তে আমি কোনদিন পারিনি, পারার দরকারও দেখছি না
একটা কিছু ভেবে নেব
তা রওনা হচ্ছ কবে? আগামী পঁচিশে ডিসেম্বর?
- হগওয়ার্টে ব্যবস্থা-ট্যাবস্থা করে যেতে খানিক সময় তো লাগবে
তবে পরের বছরের পঁচিশে ডিসেম্বরের অপেক্ষা করারও মানে হয় না
শুভস্য শীঘ্রম
- দাঁড়ান, আমার পরিচয়টা দেওয়ার আগে একটা কফি বলে নিই
ওয়েটার! এইদিকে
দু'টো কফি বলি? আপনার পেয়ালাটা তো প্রায় শেষের দিকে...
- দু'টো ব্ল্যাক কফি
এ'বারে আমার পরিচয়টা দিয়ে নি, আমি বৃকোদর মল্লিক
- বৃকোদর মল্লিক? নামটা যেন...
- চেনা চেনা ঠেকাটা অস্বাভাবিক নয়
বিশেষত আপনার পুরনো কলকাতার ব্যাপারে আগ্রহ আছে যখন, নামটা চেনা ঠেকাই উচিৎ
- চেনা চেনা ঠেকছে কিন্তু ঠিক...
- পেটে আসছে কিন্তু মনে পড়ছে না
চার্নক সাহেবের কথা মনে করুন
মনে পড়েছে
চার্নক সুতনুটিতে এসে কিছু মাটির বাড়ি তৈরি করেন সাময়িক বসবাসের জন্য এবং ফিরে যান হুগলীতে
পরে নবাবের হুকুমকে কাঁচকলা দেখিয়ে যখন হুগলী চন্দননগর জ্বালিয়ে পালিয়ে আসেন এ'খানে তখন দেখেন যে কেউ সেই মাটির বাড়িগুলো ভেঙে ফেলেছে
জানা যায় সে'টা বৃকোদর মল্লিক নামে কেউ ভেঙেছে
শুধু ভাঙেনি, মাটির সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছিল
- তবে সে'টা ভুল তথ্য
ঘটনাটা বরখুরদার মালিক পদের কোনও মোগল কর্মচারীর কাজ
ইতিহাসে সে'সব গুলিয়ে ফেলে বৃকোদর মল্লিক তৈরি করেছে
আপনার বাপমা যদি সেই বৃকোদর মল্লিকের কথা ভেবে আপনার নাম রেখে থাকেন, তাহলে ভুল করেছেন
- থ্যাঙ্কস ফর দ্য কফি
- কফিটা খাওয়াচ্ছেন কিন্তু আপনি
আমি সেধে এসে টেবিলে বসলাম বটে, তবে আমার দাম দেওয়ার উপায় নেই
- অভদ্র ভাববেন না প্লীজ
একান্তই উপায় নেই
- তবে আপনার সঙ্গে আলাপ করাটা দরকার ছিল জানেন
কারণটা ওই, আপনি ভূতের গল্প লেখেন বলে
- কারণটা শুনি
- সরি টু ডিস্যাপয়েন্ট ইউ স্যার
বরখুরদার মল্লিকের থিওরিটা সঠিক নয়
সব কিছু ধান কাল কাটা থেকে ক্যালক্যাটা হয় না
- আপনি নিশ্চিত হয়ে জানলেন কী করে?
- সুতানুটি তখন জলাজঙ্গল
সে'খানের এক দু'টো মাটির বাড়ি ধসিয়ে নবাবের কি মোক্ষলাভ হবে বলুন! আর ওই কুটীর বানিয়ে নেওয়াই বা এমন কী আর চ্যালেঞ্জ
মনে রাখবেন তখন কোম্পানি টপাটপ ফ্যাক্টরি, দুর্গ বা জেটি বানিয়ে চলেছে
জনশ্রুতি যে আতশকাচের তাপে জাহাজ থেকে চন্দননগরের বাজার জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন চার্নক
তেমন তোপ মানুষের দু'একটা মাটির বাড়ি রইল না গেল, তা'তে কী এসে যায়?
তা'তে কী হল? আপনার বক্তব্যটা কী?
- বক্তব্য এই যে আমি যে সে বৃকোদর মল্লিক নই স্যার
আমি সেই বৃকোদর মল্লিক
আপনার কফি শেষ হলে উঠতে পারেন
- বড় আশা করে আপনার কাছে এসেছি
- অদ্ভুতুড়ে গল্প ফাঁদতে?
- ভূতের গল্পের লেখক আপনি
আমি বড় আশা করে এসেছি যে আপনি অবিশ্বাস দিয়ে শুরু করবেন না
- আপনার পোশাক ভাষা, এগুলো কোনওটাই কি ১৬৮০ সালকে মনে করিয়ে দিচ্ছে?
- ভূত বলে কি মূর্খ হয়ে থাকব স্যার? ক্রমাগত শিখেছি
নিজেকে আপডেট করেছি
- আমার কপালেই যত জোটে
- প্লীজ শুনুন
একবার আমায় অন্তত বলতে সুযোগ দিন