content stringlengths 0 129k |
|---|
অকারণ যুদ্ধবাজি করে সৈন্যসামন্ত সমেত রওনা দিলেন 'বালেশ্বর চললুম' বলে |
কিন্তু ব্যাটার প্রাথমিক টার্গেট ছিল সুতানুটি |
সে'খানে পৌঁছে আমার লাশ থেকে নস্যির ডিবেটা নিতে পারলেই রসগোল্লার রেসীপি তাঁর হাতের মুঠোয়, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত |
আর একবার সেই রেসীপি হাতে এলে কোম্পানিকে কাঁচকলা দেখিয়ে নিশ্চিন্তে নিজের রসগোল্লা সাম্রাজ্য স্থাপন করতে কোনও অসুবিধেই হবে না |
কিন্তু যাবতীয় উত্তেজনা নিয়ে সাহেব সুতানুটিতে নেমে দেখেন কোথায় কী? সমস্ত ঘরদোর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে |
স্থানীয় লোকেরাই বললে যে বৃকোদর মল্লিকের ভূতই এ'সব করেছে |
চার্নকের ব্যাটার সে কী মন খারাপ |
- তা এই সেই নস্যির দিবে? |
- তা এ'টা এদ্দিন কোথায় রাখছিল? |
- মাইরি, বিশ্বাস করবেন? ওই অভিশপ্ত নস্যির দিবে আমি কারুর হাতে দিতে চাইনি |
গভীর জঙ্গল দেখে একটা জায়গার মাটির অনেক নীচে পুঁতে এসেছিলাম |
অবিশ্যি রেসীপিটা হারিয়ে যেতে দিইনি |
সোজা গিয়ে কয়েকজন ময়রার স্বপ্নে সে রেসীপি বলে দিয়ে এসেছিলাম |
ভূত হওয়ার অ্যাডভান্টেজ তো কম নয় বলুন |
- কিন্তু কী কাণ্ড ভাবুন |
নস্টালজিয়ার ঠেলায় অনেকদিন পর খেয়াল হল নস্যির ডিবেটা খুঁজে বার করি কিন্তু কিছুতেই সে জায়গা খুঁজে পাই না |
সাড়ে তিনশো বছর আগের ঘটনা তো, তার মধ্যে গ্রামটা এত পালটে গেল |
অবশেষে বছর খানেক খুঁজে জায়গাটা চিনতে পেরে আমার মাথায় হাত |
ভাবতে পারেন, নস্যির ডিবে যে'খানে পুঁতে এসেছিলাম, জোব চার্নককে সে'খানেই গোঁড় দেওয়া হয়েছে? অ্যামেজিং না? |
- বটে! কিন্তু এই নস্যির কৌটের মধ্যে রেসিপি...! |
- রান্না ছাড়াও আমার একটা বিশেষ গুণ ছিল লেখক মহাশয় |
আমি মসলিনের ওপর আঁকতে এবং লিখতে পারতাম |
- সে'সময়ে বাংলার মসলিনের খ্যাতি বিশ্বজোড়া |
দাম আকাশ ছোঁয়া |
আর সে মসলিন যে কী জিনিস মশাই |
কেউ চার হাজার টাকা দিয়ে এক খণ্ড মসলিন কিনেছে সে সময়, এমন গল্পও শোনা যেত |
পাশাপাশি ভাবুন ফরাসীরা গোটা চন্দননগর কিনেছিল চল্লিশ হাজার টাকায় |
আরবিরা সে মসলিনকে বলত আর-ই-রওয়ান, অর্থাৎ চলন্ত জলধারা |
সেই চলন্ত জলধারার ওপর আমি আমার রোজনামচা লিখতাম |
এই নস্যির ডিবেতে প্রায় ষাট গজ মসলিন রয়েছে, আর সেই ষাট গজের ওজন বারো আউন্সের বেশি নয় |
সেই কাপড়ের ওপর আমার বালেশ্বরের একবছরের ডায়েরী |
এই নস্যির ডিবেটা কাকে দেব ভেবে পাচ্ছিলাম না |
সবাই তো ধান্দাবাজ |
আপনি সজ্জন মানুষ |
আপনাকে দিয়ে যেতে চাই |
ডিবেটা খুলে দেখারও সাহস হয়নি |
আর পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে কী হবে বলুন |
থ্যাঙ্ক ইউ ফর দ্য কফি |
ভদ্রলোক ভূত হোক বা না হোক, আশ্চর্যজনক ভাবে কফি হাউসের ভিড়ে মিশে গিয়ে অবাক করে দিলে অরূপ সান্যালকে |
নস্যির ডিবেটা অবশ্য বাড়ি ফেরার আগে খুলতে ইচ্ছে হয়নি তাঁর, তবে ডিবেটা যে খাঁটি সোনার সে'টা স্পষ্ট |
বাড়ি ফেরার পথে মিনিবাসে খবরের কাগজের পাতা ওলটানোর সময় একটা ছোট্ট খবর দেখতে পেয়ে অল্প বিষম খেলেন সান্যালবাবু; কে বা কারা যেন গত রাত্রে চার্নকের সমাধি খুঁড়েছে, কিন্তু বিশেষ কিছু ক্ষতি করেনি |
কড়া পাহারা থাকা সত্যেও এমন ঘটনাকে প্রায় ভৌতিক মনে করছেন কর্তৃপক্ষ |
বাড়ি ফিরেই হুড়মুড়িয়ে শোওয়ার ঘরে গিয়ে দরজায় খিল এঁটে সামান্য নিঃশ্বাস নিলেন অরূপ সান্যাল |
নস্যির ডিবেটা খুলে আরও ঘাবড়ে যেতে হল |
মসলিনের কোনও চিহ্ন নেই |
আদ্যি কালের ইংরেজিতে লেখা ছোট্ট চিরকুট |
কাগজটাও বহু পুরনো |
যার তর্জমা করলে এই দাঁড়ায়; |
"কালা গবেটটার মনে এই ছিল? যাক! আমি যখন বেঁচে থাকতে অমৃতের রেসীপি পাইনি তখন আর কাউকে পেতে দেব না |
এই মসলিন আমি আমার বৌয়ের মড়ার গায়ে জড়িয়ে দিলাম |
এ দেশে দু'টো ভালোবাসাই খুঁজে পেয়েছিলাম, সে দু'জন একে অপরকে জড়িয়ে থাকুক" |
কক্সবাজার সদরের বাণিজ্যিক এলাকা ঈদগাঁওতে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবিটি গনদাবিতে পরিণত হয়েছে |
এলাকাবাসীসহ ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন |
কর্তৃপক্ষ এখানো ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন স্থাপনের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার ফলে সর্ব মহলে হতাশা বিরাজ করছে |
জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত |
এ ঈদগাঁও বাস স্টেশন সহ বাজারে ব্যাংক,হাসপাতাল, বিভিন্ন মার্কেট,সপিংমলসহ প্রায় ১২ হাজারের ও অধিক ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে |
অন্যদিকে পার্শবর্তী এলাকায় রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান |
ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন,আলমাছিয়া ফাজিল মাদ্রাস,দারুল পাতা একাডেমি,জাহানারা বালিকা বিদ্যালয়, অরবিট মডেল স্কুল |
সংলগ্ন ঈদগাঁও বাসষ্টেশন, অদুরে ঈদগাও পুলিশ তদন্তকেন্দ্র |
এ সবকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আবাসিক এলাকা |
সব মিলে এটি একটি ব্যস্ততম উপ শহরে পরিনত হয়েছে |
এ এলাকায় স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মানে কেউ কথা রাখেনি এমন অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসী সহ ব্যবসায়ীদের |
এখানকার মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মানে বাধা কোথায়? এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে |
কয়েক বছরের মধ্যে বেশকিছু প্রাণহানিসহ শতকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সত্বেও কেনো জনগুরুত্বপূর্ণ এমন একটি দাবির প্রতি কেউ নজর দিচ্ছে না? বৃহত্তর ঈদগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার কিংবা বাসা বাড়ীতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রানহানিসহ বিপুল পরিমান মালামালের ক্ষতিসাধন হয়েই আসছে |
সর্বশেষ ১০ জানুয়ারী কক্সবাজার সদর উপজেলা ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড চরপাড়া এলাকার আব্দু সালামের বাড়িতে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে |
এতে কমপক্ষে ২ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায় |
এর পাঁচ দিন আগে ভারুয়াখালীতে অগ্নিকান্ডে ১০ বসতবাড়ি পুুুুড়ে ছাই হয়ে যায় |
এতে পনের লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয় |
এক আগে ৪ ডিসেম্বর ঈদগাঁও বাস স্টেশনের কলেজ গেইট সংলগ্ন স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার ক্রসফিলিং ডিপোতে আগুন লেগে ডিপোটি পুড়ে ছাই হয়ে যায় |
এসময় দুই কর্মচারী নিহত হয়েছে |
এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ৬০ লক্ষাধিক টাকা |
স্থানীয় জনগনের এক ঘন্টা চেষ্টার পর আগুণ নিয়ন্ত্রনে আসে |
এরই আগে ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে মোঃ আমিনের মালিকানাধীন আশা কলোনীতে এনজিও আশার ক্ষুদ্র ঋণ পরিচালনার অফিসে অগ্নিকান্ডে ১০-১৫টি ফ্লাটের পুড়ে ছাই হয়ে যায় |
এতে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান অনুমানিক ৩০ লক্ষাধিক টাকা |
এর কয়েক মাস আগে ভোমরিয়া ঘোনা অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে |
এতে দুই শিশু নিহত হয় এবং ৮ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয় |
অপরদিকে শাহ ফকির হাট বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে |
এতে রাইসমিলসহ ৭টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায় |
অনুমানিক ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় |
এর আগে ঈদগাঁও বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয় |
অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু ভস্মিভূত হওয়ার পরে কক্সবাজার থেকে ফায়ার সার্ভিসে আসলেে ক্ষুব্ধ জনগন ফায়ার সার্ভিসের লোকজনের উপর চড়াও হয় |
বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, এভাবে আর কত দিন |
ঈদগাঁওতে ঘটেছে অসংখ্য অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা |
ক্ষয়ক্ষতির পরিমান শত কোটি টাকা |
কিন্তু অগ্নিকান্ড থেকে জনগনের জানমাল রক্ষার স্বার্থে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা আজও হয়নি |
ঈদগাঁওতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন না হওয়ার প্রতিবাদে কক্সবাজার থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে |
শুধুমাত্র একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলে অগ্নিকান্ডে এতো বিশাল ক্ষতি হতো না |
এছাড়া প্রায়ই বিভিন্ন বসত বাড়িতে অগ্নিকান্ডের খবর পাওয়া যায় |
শুধু মাত্র একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলে অগ্নিকান্ডে ক্ষতির পরিমান অনেক কমে আসতো বলে মনে করেন সচেতন জনগন |
ঈদগাঁওতে প্রায় ১০ লাখ জনসাধারণের জানমাল রক্ষার স্বার্থে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী |
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া আক্তার সুইটির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সব বিষয়ে আমার বক্তব্য দিতে হয় নাকি বলে লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন |
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদের সাথে |
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,যত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বেশি থাকে তথ ভালো, ঈদগাঁওতে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রয়োজন ছিল |
আমি দেখে ঈদগাঁওতে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের ব্যবস্থা করব বলে জানান |
আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল |
তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো |
কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন |
পাঠকের মন্তব্যঃ |
সর্বশেষ সংবাদ |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.