content stringlengths 0 129k |
|---|
পাকবাহিনী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক গণহত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায় |
১৫ ডিসেম্বর রাঙ্গুনিয়া শত্রুমুক্ত হয় |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ২টি বধ্যভূমি এবং ৪টি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে |
স্মৃতিস্তম্ভগুলো যথাক্রমে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ, রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ইছাখালী উপজেলা সদর এবং বেতাগী ইউনিয়নস্থ কাউখালী আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে |
নামকরণ[সম্পাদনা] |
রাঙ্গুনিয়া নামের উৎপত্তি কবে কীভাবে হল এ সম্পর্কে কৌতুহলের শেষ নেই |
বলা হয়ে থাকে, আরাকানী রাজশক্তি মোগল রাজশক্তির সাথে যুদ্ধে পরাজিত হলে আরাকানী মগেরা তাদের অর্জিত ধন সম্পদ পরিত্যাগ করে এ অঞ্চল ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং এর থেকে অঞ্চলের নাম হয় রাইন্যা |
রাইন্যা একটি মগী শব্দ, যার অর্থ হল পরিত্যক্ত |
পরবর্তীতে রাইন্যা শব্দ থেকে রইন্যা তথা রাঙ্গুনিয়া শব্দের উৎপত্তি হয়েছে |
আরেকটি মত হচ্ছে, এককালে এ অঞ্চলের লোকজন অধিক সংখ্যায় বার্মার রেঙ্গুন শহরে চলে যেত এবং এজন্য এ অঞ্চলকে রেঙ্গুন্যা বলা হত, আর এ থেকেই রাঙ্গুনিয়া নামের উৎপত্তি |
আসলে এই দুইটি মতই ঐতিহাসিকভাবে ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে |
চট্টগ্রামের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক জনাব হামিদুল্লাহ খাঁ কর্তৃক ফার্সি ভাষায় রচিত চট্টগ্রামের প্রাচীন ইতিহাস আহাদিসুল খাওয়ানিন, যা ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং বর্তমানে এক কপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে |
তাতে রাঙ্গুনিয়াকে রঙ্গীনা নামে উল্লেখ করা হয়েছে |
রাঙ্গুনিয়ার বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও গবেষক মরহুম সৈয়দ আহমদুল হক রচিত প্রবন্ধ 'বিচিত্রা'য় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফার্সি ভাষায় রঙ্গীনা শব্দের অর্থ হল রঙে রঞ্জিত অর্থাৎ সৌন্দর্য্য |
তার মতে, রাঙ্গুনিয়ার মত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত মনোরম স্থান দক্ষিণ এশিয়ায় আর নেই |
চিরহরিৎ অনুচ্চ শৈল শিখর ও কর্ণফুলি নদী বিধৌত এ অঞ্চল সুলতানী আমলে পরিচিত ছিল রঙ্গীনা নামে |
পরবর্তীতে এই রঙ্গীনা শব্দ থেকেই রইন্যা বা রাঙ্গুনিয়া নামের উৎপত্তি হয়েছে |
ভূগোল[সম্পাদনা] |
১৯৭৩ সালের উপজেলা মানচিত্র |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আয়তন ৩৬১.৫৪ বর্গ কিলোমিটার (৮৯,৩৩৮ একর) |
[১] চট্টগ্রাম জেলার সর্ব-পূর্বে ২২°১৮' থেকে ২২°৩৭' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫৮' থেকে ৯২°০৮' পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অবস্থান |
এ উপজেলার দক্ষিণে চন্দনাইশ উপজেলা, দক্ষিণ-পশ্চিমে পটিয়া উপজেলা ও বোয়ালখালী উপজেলা, পশ্চিমে রাউজান উপজেলা ও রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা, উত্তরে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা, পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলা ও রাজস্থলী উপজেলা এবং দক্ষিণ-পূর্বে বান্দরবান জেলার বান্দরবান সদর উপজেলা অবস্থিত |
প্রশাসন[সম্পাদনা] |
১৯৬২ সালের ২৪ জানুয়ারি রাউজান উপজেলার তৎকালিন ৭টি ইউনিয়ন (রাজানগর, হোসনাবাদ, রাঙ্গুনিয়া, মরিয়মনগর, পারুয়া, পোমরা ও বেতাগী) এবং পটিয়া উপজেলার তৎকালিন ৩টি ইউনিয়ন (সরফভাটা, শিলক ও পদুয়া) সর্বমোট ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থানা গঠিত হয় |
[৬] পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে স্থানীয় জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষায় গণদাবীর প্রেক্ষিতে মরিয়মনগর ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ১১নং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন গঠন করা হয় |
[৭] ১৯৮৩ সালে তৎকালিন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে পৃথক পৃথক উপজেলা গঠন করলে রাঙ্গুনিয়া থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় |
[৩] ১৯৮৯ সালে শিলক ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ১২নং কোদালা ইউনিয়ন গঠন করা হয় |
[৮] ২০০০ সালের ৪ জুলাই উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া, মরিয়মনগর, পারুয়া ও পোমরা ইউনিয়নের অংশ নিয়ে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা ঘোষণা করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) |
[৩] সর্বশেষ ২০০৩ সালে বৃহত্তর রাজানগর ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ১৩নং ইসলামপুর ইউনিয়ন ও ১৪নং দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়ন এবং বৃহত্তর হোসনাবাদ ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ১৫নং লালানগর ইউনিয়ন গঠন করা হয় |
[৯][১০][১১] |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে |
সম্পূর্ণ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আওতাধীন ছিল |
তবে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর বৈঠকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের ৪টি ইউনিয়নকে নিয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা গঠনের অনুমোদন দেয়া হয় |
বর্তমানে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আওতাধীন ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন |
রাঙ্গুনিয়া |
ইউনিয়নসমূহ: |
১নং রাজানগর |
২নং হোসনাবাদ |
৩নং স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া |
৪নং মরিয়মনগর |
৫নং পারুয়া |
৭নং বেতাগী |
১১নং চন্দ্রঘোনা কদমতলী |
১৩নং ইসলামপুর |
১৪নং দক্ষিণ রাজানগর |
১৫নং লালানগর |
এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার আওতাধীন ৪টি ইউনিয়ন |
ইউনিয়নসমূহ: |
৮নং সরফভাটা |
১০নং পদুয়া |
১২নং কোদালা |
আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন পদুয়া (৭২.১২ বর্গ কিলোমিটার) ও সবচেয়ে ছোট ইউনিয়ন মরিয়মনগর (৬.১৪ বর্গ কিলোমিটার) এবং জনসংখ্যার ঘনত্বের বিচারে সবচেয়ে জনবহুল ইউনিয়ন মরিয়মনগর (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৮,২১৯ জন) |
সংসদীয় আসন[সম্পাদনা] |
জাতীয় সংসদের ২৮৪নং নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-৭ এর সীমারেখা |
সংসদীয় আসন |
জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[১৫] |
সংসদ সদস্য[১৬][১৭][১৮][১৯][২০] |
রাজনৈতিক দল |
২৮৪ চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এবং বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়ন হাছান মাহমুদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
জাতীয় নির্বাচন অনুযায়ী সংসদ সদস্যগণের তালিকা[২১] |
নির্বাচন সন |
নির্বাচনকালীন আসন নং |
নির্বাচিত সংসদ সদস্য |
রাজনৈতিক দল |
১ম ১৯৭৩ ২৯০ চট্টগ্রাম-১০ আবুল কাসেম বাংলাদেশ জাতীয় পরিষদের প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য |
২য় ১৯৭৯ ২৮৭ চট্টগ্রাম-৭ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মুসলিম লীগ |
৩য় ১৯৮৬ ২৮৫ চট্টগ্রাম-৭ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী জাতীয় পার্টি |
৪র্থ ১৯৮৮ ২৮৫ চট্টগ্রাম-৭ নজরুল ইসলাম জাতীয় পার্টি |
৫ম ১৯৯১ ২৮৫ চট্টগ্রাম-৭ মোঃ ইউসুফ বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) |
৬ষ্ঠ ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) ২৮৫ চট্টগ্রাম-৭ নুরুল আলম স্বতন্ত্র |
৭ম ১৯৯৬ (জুন) ২৮৫ চট্টগ্রাম-৭ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল |
৮ম ২০০১ ২৮৫ চট্টগ্রাম-৭ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল |
৯ম ২০০৮ ২৮৩ চট্টগ্রাম-৬ হাছান মাহমুদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
১০ম ২০১৪ ২৮৪ চট্টগ্রাম-৭ হাছান মাহমুদ |
(বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) |
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
১১শ ২০১৮ ২৮৪ চট্টগ্রাম-৭ হাছান মাহমুদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন[সম্পাদনা] |
০১ উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) [২২] |
০২ ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম[২৩] |
০৩ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম[২৩] (২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯-এ মৃত্যু)[২৪] |
আয়েশা আক্তার (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত)[২৪] |
০৪ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার ইউনুস[২৫] |
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে জনপ্রতিনিধিদের তালিকা |
০১ থানা উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জহির আহমদ চৌধুরী ১৯৭৩-১৯৭৬ |
০২ মুহাম্মদ সৈয়দুল হক ১৯৭৭-১৯৮৩ |
০৩ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মুহাম্মদ নুরুল আলম ১৯৮৫-১৯৮৯ |
০৪ মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার ১৯৯০-১৯৯২ (বিলুপ্ত) |
০৫ আবু আহমেদ হাসনাত ২০০৮-২০১৪ |
০৬ মুহাম্মদ আলী শাহ্ ২০১৪-২০১৯ |
০৭ খলিলুর রহমান চৌধুরী[২২][২৬] ২০১৯ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত)২০২০ |
০৮ স্বজন কুমার তালুকদার ২০২০(বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) -বর্তমান |
জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা] |
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩,৩৯,০০৪ জন |
এর মধ্যে পুরুষ ১,৬৮,৪১২ জন এবং নারী ১,৭০,৫৯২ জন |
মোট পরিবার ৬৭,৭৯২টি |
[১] জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৯৩৮ জন |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ধর্মবিশ্বাস (২০১১) |
ইসলাম ধর্ম (৮২.৭০০৮%) |
হিন্দু ধর্ম (১২.৫৭৩৯%) |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.