content stringlengths 0 129k |
|---|
বৌদ্ধ ধর্ম (৪.৬০৭৯%) |
খ্রিস্ট ধর্ম (০.০৯৭৯%) |
অন্যান্য (০.০১৯৫%) |
ধর্মবিশ্বাস অনুসারে এ উপজেলার ২,৮০,৩৫৯ জন ইসলাম, ৪২,৬২৬ জন হিন্দু, ১৫,৬২১ জন বৌদ্ধ, ৩৩২ জন খ্রিস্ট এবং ৬৬ জন অন্যান্য ধর্মের অনুসারী |
এ উপজেলায় চাকমা ও মারমা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে |
শিক্ষা[সম্পাদনা] |
আরও দেখুন: বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা |
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাক্ষরতার হার ৪৮.৯২% (পুরুষ ৪৮.৭৪% এবং নারী ৪৯.০৯%) |
১৯৬৩ সালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উচ্চ শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে হাজী মাওলানা আহমেদ, জনাব ওয়াকিল আহমেদ তালুকদার চেয়ারম্যান , বাবু ডাঃ বিনয় ভূষণ দে এবং বাবু সন্তোষ ভূষণ দাশের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় উপজেলার সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ |
১৯৬৩ সালের জুলাই মাসে এ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান শুরু হয় এবং ১৯৬৫ সালে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনে ডিগ্রী কলেজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে |
বর্তমানে এ কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়দ্বয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু আছে |
২০১৮ সালের ১২ আগস্ট রাঙ্গুনিয়া কলেজকে সরকারিকরণ করা হয় |
[২৮][২৯] এছাড়া উপজেলার আরও ৭টি কলেজে স্নাতক পর্যায়ে পাঠদান করা হয় |
সেগুলো হলো- দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া পদুয়া ডিগ্রী কলেজ (১৯৮১), উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রী কলেজ (১৯৮৩), রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রী কলেজ (১৯৮৫), এম শাহ আলম চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ (১৯৮৭), রাঙ্গুনিয়া হাসিনা জামাল ডিগ্রী কলেজ (১৯৯৫) এবং সৈয়দা সেলিমা কাদের চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ (১৯৯৮) |
রাঙ্গুনিয়ায় বর্তমানে দুইটি মহিলা কলেজ রয়েছে, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দুইটি কলেজেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান করা হয় |
কলেজ দুটি হলো- দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিলক বালিকা মহাবিদ্যালয় এবং রাঙ্গুনিয়া মহিলা কলেজ |
১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রাঙ্গুনিয়া আলমশাহপাড়া কামিল মাদ্রাসায় উপজেলার একমাত্র কামিল (মাস্টার্স সমমান) মাদ্রাসা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান করে আসছে |
২০১৯ সালের ৩ আগস্ট উপজেলার দ্বিতীয় কামিল মাদ্রাসা হিসেবে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে কামিল (হাদিস) বিভাগে পাঠদানের জন্য ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত রাঙ্গুনিয়া নুরুল উলুম মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অনুমোদনপত্র হস্তান্তর করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় |
[৩১] এছাড়া বর্তমানে ফাযিল (স্নাতক সমমান) পর্যন্ত পাঠদান করছে ৪টি মাদ্রাসা; যথাক্রমে- পোমরা জামেউল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা (১৯৩০), জামেয়া নঈমিয়া তৈয়্যবিয়া ফাযিল মাদ্রাসা (১৯৭৪), মাদ্রাসা-এ তৈয়্যবিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (১৯৭৭) এবং রানীরহাট আল আমিন হামেদিয়া ফাযিল মাদ্রাসা |
আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যায় পর্যন্ত পাঠদান করা হয় শুধুমাত্র ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মরিয়মনগর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় এবং ১টি বালিকা মাদ্রাসা সহ এ উপজেলায় মোট দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে ৯টি |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মোট মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৪৩টি |
উপজেলার প্রথম মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় |
এছাড়াও ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয় আরও ৫টি বিদ্যালয়; যথা- রাঙ্গুনিয়া খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৬), রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৭), পোমরা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৮), উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪২) এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিলক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৫) |
[৩] উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পোমরা বঙ্গবন্ধু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়[৩২] এবং একমাত্র সরকারি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর সরকারি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় |
[৩৩] এছাড়া এ উপজেলায় রয়েছে আরও ৪টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি কওমী মাদ্রাসা, ২০টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও ৫৪টি কিন্ডারগার্টেন |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশের অন্য সব অঞ্চলের মতোই |
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রধানত পাঁচটি ধাপ রয়েছে: প্রাথমিক (১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী), নিম্ন মাধ্যমিক (৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ৮ম শ্রেণী), মাধ্যমিক (৯ম শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী), উচ্চ মাধ্যমিক (১১শ শ্রেণী থেকে ১২শ শ্রেণী) এবং উচ্চ শিক্ষা (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর) |
প্রাথমিক শিক্ষা সাধারণত ৫ বছর মেয়াদী হয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়, ৩ বছর মেয়াদী নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণত নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), ২ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক শিক্ষা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) এবং ২ বছর মেয়াদী উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণত উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয় |
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে পর্যায়ক্রমে স্নাতক বা স্নাতক সম্মান এবং স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রী অর্জন করা যায় |
চট্টগ্রাম জেলার অন্যান্য উপজেলার মতো রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ করে থাকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এবং স্নাতক পর্যায়ের কলেজগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত |
মূলত বাংলা ভাষায় পাঠদান করা হয়, তবে ইংরেজি ভাষায় পাঠদানও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় |
অনেক মুসলমান পরিবার তাদের সন্তানদের বিশেষায়িত ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন মাদ্রাসাতে প্রেরণ করে থাকে |
মাদ্রাসাগুলোতেও প্রায় একই ধরনের ধাপ উত্তীর্ণ হতে হয় |
প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ বছর মেয়াদী ইবতেদায়ী শিক্ষা ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা, ৩ বছর মেয়াদী নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণত জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি), ২ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক শিক্ষা দাখিল এবং ২ বছর মেয়াদী উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণত আলিম পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয় |
আলিম শিক্ষা শেষে পর্যায়ক্রমে ফাযিল (স্নাতক সমমান) এবং কামিল (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রী অর্জন করা যায় |
দাখিল ও আলিম পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং ফাযিল ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন |
অর্থনীতি[সম্পাদনা] |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অর্থনীতি প্রধানত কৃষি নির্ভর |
কথায় আছে- আঁতত কাঁচি, কোঁরত দা, ভাত হাইতু চাইলি রইন্যা যা |
এই ভাতের ভাণ্ডার হচ্ছে গুমাই বিল |
চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশে রাঙ্গুনিয়ার নিশ্চিন্তাপুর পাহাড়ের পাদদেশে চন্দ্রঘোনা কদমতলী, মরিয়মনগর, হোসনাবাদ, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া, লালানগর ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার প্রায় তিন হাজার হেক্টর আয়তনের গুমাই বিল চট্টগ্রামের শস্যভাণ্ডার নামে খ্যাত |
বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিলগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় |
প্রবাদ আছে গুমাই বিলে এক মৌসুমের উৎপাদিত মোট ধান দিয়ে সারা দেশের আড়াই দিনের খাদ্য চাহিদা মেটানো যায় |
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গুমাই বিলে হেক্টরপ্রতি গড়ে চার থেকে সাড়ে চার টন ধান পাওয়া যায় |
এ বিলে চাষ করে প্রায় সাত হাজার কৃষক |
ধান কাটার মৌসুমে নেত্রকোণা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, রংপুর এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষিশ্রমিকেরা গুমাই বিলে ধান কাটার জন্য এসে জড়ো হয় |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র মতে, গুমাই বিলসহ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রি-৪৯, ব্রি-৫১, ব্রি-৫২, ব্রি-৭৫, পাইজাম, বিআর-১১, বিআর-২২, বিআর-২৩ জাতের ধানের চাষ বেশি হয় |
তন্মধ্যে পাইজামের মতো সরু চালের ফলন ভালো হওয়ায় নতুন জাতের ব্রি-৪৯ এর দিকে বেশি ঝুঁকেছে কৃষকরা |
ব্রি-৭৫ জাতের ধানের চাল সুগন্ধি ও আগাম কেটে ফেলতে পারায় এ জাতের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে |
রাঙ্গুনিয়ার একটি কাকরোল ক্ষেত |
ধান ছাড়াও এ উপজেলায় তামাক, আলু, বেগুন, মরিচ, টমেটো, শিম, করলা, কাকরোল, পিঁয়াজ, রসুন, পান এবং বিভিন্ন প্রকারের শাকসবজির চাষ হয়ে থাকে |
এছাড়া বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের বাগান, গবাদি পশু পালন এবং মৎস্য চাষের মাধ্যমেও এ উপজেলার অর্থনীতিতে অবদান রাখছে অনেকে |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় রয়েছে ৩টি চা বাগান |
উপজেলার কোদালা ইউনিয়নে গড়ে উঠা চা বাগানটি দেশের প্রথম চা বাগান এবং শীর্ষ চা বাগানগুলোর মধ্যে অন্যতম |
এলাকায় জনশ্রতি রয়েছে, ব্রিটিশরা কর্ণফুলী নদী দিয়ে আসা যাওয়ার সময় কোদালা এলাকায় বিস্তীর্ণ জায়গা দেখে চা বাগান করার উদ্যোগ গ্রহণ করে |
আর সেই থেকে প্রায় ৪,২০০ একর এলাকা জুড়ে কোদালা চা বাগান গড়ে উঠে |
১৮৯৪ সালে চা বাগানটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে |
স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৬ সালে তৎকালিন সরকার ব্যক্তি মালিকানায় লিজ দিয়ে চা বাগানগুলো ছেড়ে দেয় |
এর মধ্যে প্লান্টাস বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কোদালা চা বাগান পরিচালনা করে এসেছে |
লোকসানের কবলে পড়ায় ১৯৯৩ সালে প্লান্টাস বাংলাদেশ থেকে আনোয়ার গ্রুপ চা বাগানটি লিজ নিয়ে নেয় |
আনোয়ার গ্রুপও লাভের মুখ দেখতে না পাওয়ায় ২০০৪ সালের ৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্র্যাক কোদালা চা বাগানের লিজ নেয় |
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ চা বোর্ডের আওতায় সরকার থেকে আড়াই হাজার একর জায়গা চা বাগানের জন্য লিজ গ্রহণ করে ব্র্যাক |
প্রতি বছর গড়ে এ বাগান থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়, যা সারাদেশে ১৬২টি চা বাগানের মধ্যে বর্তমানে তৃতীয় |
ব্র্যাক চা ও রাবার বাগানের পাশাপাশি নানা প্রজাতির গাছের চারা নবনায়ন করছে এখানে |
পাশাপাশি আম, আগর, নিম ও মুলি বাঁশের চাষও করা হয়েছে এই বাগানে |
দেশের চা শিল্পে কোদালা চা বাগানের চা গুণগত মান ও শীর্ষ চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়ন এবং রাঙ্গামাটি জেলাধীন কাপ্তাই উপজেলার ওয়াজ্ঞা ইউনিয়নের প্রায় ৩,০০০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠা আগুনিয়া চা বাগানে কাজ করে প্রায় দেড় হাজার কর্মচারী |
এ বাগানের উৎপাদিত ক্লোন চা পাতা বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় দেশে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা |
১৯৪৯ সাল পর্যন্ত এ বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব ছিল ব্রিটিশ পরিবারের হাতে |
ব্রিটিশরা বাংলাদেশ ত্যাগ করলে ১৯৫২ সালে বাগানটি নিলাম হয়ে যায় |
১৯৫৪ সালে এটির তদারকির দায়িত্ব নেন লালানগর ইউনিয়ন নিবাসী মীর সোলতানুল হক |
তিনি সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের লিজ নিয়ে আবার চা পাতা উৎপাদনের কাজ চালু করেন |
তিনিই বাগানের নাম রাখেন আগুনিয়া চা বাগান |
[৩৬] এছাড়াও উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নে রয়েছে ঠাণ্ডাছড়ি চা বাগান |
প্রায় ৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ব্যক্তি মালিকানাধীন এ চা বাগানে ৭৯০ জন কর্মচারী কাজ করে |
বাগানটির মালিক কাজী নুরুল আলম |
[৩৭] ঠাণ্ডাছড়ি চা বাগানের পাশে আছে বিশাল রাবার বাগান, এ বাগান থেকে প্রতিদিন কাঁচা রাবার উৎপাদন হয় |
এছাড়া উপজেলার কর্ণফুলি নদী তীরবর্তী সরফভাটা ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার একর পিএফ জমিতে হচ্ছে রাবার বাগান |
১০ম জাতীয় সংসদের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির ১৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় |
পাহাড়ী বাঁশ রাঙ্গুনিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে দীর্ঘ সময় ধরে |
বাঁশ দিয়ে সোফা, দোলনা, মোড়া, চেয়ার, র্যাক, বাঁশের ঝুড়ি, কুলা, খাড়াং, চালুন, তলুইসহ মানুষের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র তৈরি করে উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার লোক জীবিকা নির্বাহ করে থাকে |
এমনকি ঘরবাড়ি ও দালানকোটা নির্মাণেও বাঁশের জুড়ি নেই |
শিক্ষার প্রধান উপকরণ কাগজ তৈরি হয় বাঁশ থেকে |
আর এই বাঁশ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় |
বিশেষ করে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ইছামতি রেঞ্জের ইছামতি বনবিটের কাউখালী, ঠাণ্ডাছড়ি, বগাবিলী ও রাজানগরের পাহাড়ি এলাকা, দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া ও খুরুশিয়া রেঞ্জের পদুয়া, খুরুশিয়া, দুধ পুকুরিয়া, কমলাছড়ি, দশ মাইল, নারিশ্চা, পোমরা ও কোদালা বনবিটের পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে বাঁশ উৎপাদিত হয় |
ভৌগোলিক অবস্থান, উপযোগী জলবায়ু ও আবহাওয়ার কারণে রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় প্রাকৃতিক নিয়মে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ উৎপন্ন হয় |
উৎপাদিত বাঁশগুলোর মধ্যে বাইজ্জা, মিতিংগা, কালিছড়ি, বড়াক, শীল বড়াক ও মুলিবাঁশ উল্লেখযোগ্য |
এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অর্থনীতি সচল রাখার ক্ষেত্রে বেশ প্রভাব রয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো বৈদেশিক রেমিট্যান্স |
মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের কারণে অবস্থান করছে উপজেলার অসংখ্য রেমিট্যান্স যোদ্ধা |
২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্সের সর্বোচ্চ সংগ্রহ হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে তথ্য পাওয়া গেছে |
হাট-বাজার ও বিপণন কেন্দ্র[সম্পাদনা] |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রধান দুইটি বিপণন কেন্দ্র হলো পৌরসভাস্থ রোয়াজারহাট এবং চন্দ্রঘোনাস্থ লিচুবাগান ও দোভাষী বাজার |
এখানে কাপড়চোপড়, প্রসাধনী সহ সকল প্রকার পণ্য সামগ্রী পাওয়া যায় |
এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং অন্যান্য জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য এ উপজেলার উল্লেখযোগ্য হাট-বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে ইছাখালী বাজার, উত্তর রাঙ্গুনিয়া রাজারহাট, উদালবুনিয়া হাট, কোদালা হাট, ক্ষেত্রবাজার, গোচরা বাজার, দোভাষী বাজার, ধামাইরহাট, পদুয়া রাজারহাট, ব্যুহচক্র হাট, মোগলের হাট, রানীরহাট, রামগতির হাট, রোয়াজারহাট, শান্তি নিকেতন বাজার এবং শান্তিরহাট |
তাছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম্য বাজারসমূহে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যায় |
ব্যাংক[সম্পাদনা] |
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম জীবনীশক্তি হলো ব্যাংক এবং এই ব্যাংকগুলো দেশের মুদ্রাবাজারকে রাখে গতিশীল ও বৈদেশিক বাণিজ্যকে করে পরিশীলিত |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবস্থিত ব্যাংকসমূহের তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো: |
ব্যাংকের ধরন |
ব্যাংকের নাম |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.