content
stringlengths
0
129k
কিন্তু সেদিনের সেই দুর্ঘটনার পর থেকে আর আমি তার সাথে ঘুমাতে যাই নি একবারও
ও ঘরে এলেই আমি নামাযে দাঁড়িয়ে যাই
লম্বা নামায পড়ি
আমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে টিভি দেখতে দেখতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে ও
আমি টিভি অফ করে মশারি ঠিকঠাক করে দিয়ে বাচ্চাদের সাথে ঘুমিয়ে পড়ি
পরদিন ছুটি পেয়েই বাড়ী চলে যায় আলী
আমি যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচি
রোজা শুরু হয়ে যায়
আমি সব কিছু ভুলে ব্যস্ত হয়ে পড়ি ইবাদতে
এমনিতে আমার মাসিক নিয়মিত
কিন্তু রোযা শুরু হয়ে প্রায় শেষ হতে থাকে
এমন সময় আমার খেয়াল হলো আমার মাসিক হচ্ছে না
অথচ হিসাব মত রোজা প্রথম সপ্তাহেই আমার পিরিয়ড শুরু হওয়ার কথা
আমি ভাবনায় পড়ে গেলাম
এমন তো হওয়ার কথা নয়! এটা কি কোন অনিয়ম, নাকি কোন কিছু ঘটে গেলো আবার! হিসাব করে দেখলাম প্রায় দুই মাস হতে চললো আমার মাসিক বন্ধ
এর মধ্যে আমি স্বামীর সাথে একবারের জন্যও বিছানায় যাই নি
তাহলে কি আলীর কারণে আমি কনসিভ করে ফেলেছি? ভাবতেই আমি ভীত হয়ে পড়লাম
সববনাশ, কি হবে এখন? আমি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যাই
আমার স্বামী যদি বিষয়টা খেয়াল করে তবেই সেরেছে
অবশ্য আমাকে নিয়ে তার উল্টাপাল্টা কিছু ভাববার মতো কোন কারণ ঘটে নি আজো অবধি
তাহলে কি করা যায়? ডাক্তারের কাছে গিয়ে খালাস করে আসবো? ভাবতেই আমার গা কাঁটা দিয়ে উঠলো
না না, তা করা যাবে না, তাতে আমি ধরা পড়ে যাবো
ভাবনায় আমার ঘুম-খাওয়াদাওয়া হারাম হয়ে যায়
আমি অথৈ পানিতে পড়ি
কারো সাথে শেয়ারও করতে পারি না বিষয়টা
শেষে নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নেই স্বামীর বাহুবন্ধনে ধরা দেবার
বিষয়টা যদি কনসিভ হয়ে থাকে তবে মাসখানেক পরে জানালেই হবে তাকে
তাহলে এ ব্যাপারে আর কোন সন্দেহ হবে না তার
স্বাভাবিক ব্যাপারই মনে করবে সে
এতসব কিছু কিছু ভেবে ভেবে মনস্থির করতেই ঈদ চলে এলো
এই সুযোগটাকেই কাজে লাগালাম
স্বামীকে প্রলুব্ধ করার জন্য খুব সেক্সি স্টাইলে শাড়ী পড়তে শুরু করলাম
তাতে কাজ হলো
স্বামী বেচারা আমার দিকে মনোযোগী হলো খুব
বহুদিনের অপ্রাপ্তি যেন চাগিয়ে তুললো তাকে
খেয়াল করলাম, এখন আর টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে যায় না
একটার পর একটা চ্যানেল ঘোরাতে ঘোরাতে আমার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ভোর ছুঁই ছুঁই রাত অবধি
আব্দুল আলী:
.................
আমি জানি না আমার কি হবে, অপেক্ষা ছাড়া আমার আর কোন কিছুই করার নেই
কিন্তু কিসের জন্য অপেক্ষা! মায়া, মরীচিকা, কুহেলিকা, নাকি কোন রমনী মাতা'র জন্য? জানি না আমি, কিছুই জানি না
আজ মোবাইলে সে আমাকে যা বলল, তাতে সারা জীবন অপেক্ষা করা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই
দুইবার টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করে মেট্রিক পাশ করার আশা ছেড়েই দিলাম
ঘরে বসে সারাক্ষণ ছবি আঁকি, গান শুনি আর প্রহর গুণি দুবাই যাবার
বাবা আর ভাইদের মতো আমিও দুবাই যাব, চাকরি করে টাকা জমাব, আর এক সময় দেশে ফিরে এসে বড় কোন ব্যবসা করব, এ রকমই চিন্তা
ঠিক এমন সময় ছোট মামার এক বন্ধু আমাকে ঢাকায় কাজ করবো কি না জানতে চাইল
মালিক নাকি খুব ভালো, অমায়িক এবং সহজ-সরল
আপন ছোট ভাইয়ের মতোই রাখবেন আমাকে
কম্পিউটার-ফটোকপির দোকান
খাওয়া-দাওয়া মালিকের বাসায়ই
থাকার কোন ভাল ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত দোকানেই থাকতে হবে
মামার প্রস্তাবটা শুনেই আমি এক কথায় রাজি হয়ে গেলাম
হাতের কাছে কম্পিউটার পাব ভাবতেই আমার দেহে শিহরণ জাগলো
শখ করে কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম ক্লাস নাইনে ওঠার পর
কিন্তু চর্চার অভাবে তা ভুলেই গেছি এতদিন
সেটা ঝালাই হয়ে যাবে
তাছাড়া পড়ালেখা তো করিই না, সময়টা কেটে যাবে তরতর করে
দুবাই যাওয়ার আগ পর্যন্ত ওখানেই থাকতে পারব মনের আনন্দে
তারপর একদিন চলে এলাম ঢাকায়
পাড়া-মহল্লার ছোটখাট দোকান একটা
একটা কম্পিউটার, একটা ফটোকপি ছাড়া আর কিছু নেই দোকানে
স্যার প্রথম দিনই আমাকে মায়ায় ফেলে দিলেন
ড্রয়িং রুমে নিয়ে বাড়ীর সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন
ভিতরের বাথরুমে গিয়ে গোসল করতে দিলেন আর যত্ন করে খাওয়ালেন
জীবনে এই প্রথমবারের মতো বাড়ীর বাইরে কারো বাসায় গিয়ে খেলাম
খুব ভালো হয়েছে এমন নয়, তবে ফেলে দেওয়ার মতো নয়
ম্যাডাম আমার সামনে আসেন নি
উনি খুব কড়া পর্দা করেন
আড়াল থেকেই আমার নাম জিজ্ঞেস করলেন
আমি বললাম, আবুইল্যা
শুনে তো উনি হাসি আর ধরে রাখতে পারলেন না
হাসতে হাসতেই আমার স্যারকে বললেন, এই তুমি এ কোন আবুল আনলা দোকানে, হ্যাঁ! তারপর তিনি পর্দার ওপার থেকেই সমন জারি করলেন, এই ছেলে শোন তোমার নাম আজকে থেকে আব্দুল আলী, বুঝলা?
আমি একটু হতভম্ব হয়ে গেলাম ম্যাডামের এই ব্যবহারে
তারপরও আমার মনে হলো নামটা তো বেশ হয়েছে
আব্দুল আলি, বাহ সুন্দর নাম
মনে মনে বেশ ক'বার আওড়ালাম
আর কেমন যেন ম্যাডামের প্রতি একটু দুর্বল হয়ে গেলাম সেই প্রথম দিনই
আমি ছোট মানুষ, মাত্র ষোল পার হলো, কিন্তু ম্যাডামের প্রতি যে আকর্ষণ তৈরি হলো তা কোনভাবেই ষোল বছরের বালকের নয় এ আমি বিলক্ষণ বুঝতে পারলাম
সে যাক, সেই প্রথম দিনের মুগ্ধতাই আমাকে ম্যাডামের দিকে কেবলই চুম্বকের মতো আকর্ষণ করতে থাকে
ম্যাডাম স্কুলে চাকরি করতেন
স্কুলে আসা-যাওয়ার ফাঁকে দোকানে ঢুকে খোঁজখবর নিতেন, রিক্সা করে দিতে বলতেন, রিক্সা ভাড়া চেয়ে নিতেন ইত্যাদি ইত্যাদি
যতবার আমি ম্যাডামকে দেখতাম, ততবারই আমার ভেতর কি একটা যে হতো বোঝাতে পারব না
উনি বয়সে আমার মায়ের বয়সী হবেন নিঃসন্দেহে, কিন্তু দেখতে ছোটখাট বালিকাসদৃশ
উনার আঙ্গুলগুলো চাপাফুলের মতো, চোখজোড়া হংসবলাকার মতো সুন্দর
চেহারা তো তখনো দেখি নি
কি এক উদগ্র বাসনা বার বার চেপে বসতো উনাকে দেখার জন্য
আমি আর স্যার পালা করে খেতে যেতাম ঘরে
বেশির ভাগ সময়ই দোকান রাত বারটার দিকে বন্ধ করতাম
স্যার কম্পিউটারে বসে ইন্টারনেট চালাতেন, মুভি দেখতেন অথবা কোন বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতেন
ঘরে যেতেই চাইতেন না
ঘুম আর খাওয়া ছাড়া যেন তার ঘরে যেতে মানা
আমি রাতের খাবার খেতে যেতাম রাত ন'টার দিকে
ড্রইং রুমে বসে টিভি দেখতাম
এই ফাঁকে ম্যাডাম খাবার বেড়ে এনে পর্দার ওপাশ থেকে ডাক দিতেন
আমি হাত বাড়িয়ে নিতাম
ম্যাডামের প্রতি আমার প্রথম দিনের মোহ কোনদিনই কমে নি
বরং খেয়াল করলাম প্রতিদিনই তা কেবল বাড়ছেই
খেতে খেতে ম্যাডামের সাথে কথা বলতাম, খুব ভালো লাগতো আমার
আর কেবল ইচ্ছে করতো ম্যাডামকে দেখার
তো একদিন ইচ্ছে করে