content
stringlengths
0
129k
আমার একটু অবাক লাগলো
এমন তো ইদানিং হয় না তার, প্রথম প্রথম হতো দেখার আব্দার করলে, তাহলে আজ কি হলো!
আমি এমনতরো কিছু ভাবছিলাম
বাইরে বৃষ্টি মাত্রা বেড়ে গেলো, বাতাস বইতে শুরু করলো ঝড়ের রূপে
চালের ওপর মেহেদী গাছের ডালপালা বাড়ি খেতে লাগলো
আর আলী হঠাৎ করে ঝড়ের বেগে পর্দা সরিয়ে এপাশে এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো
আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম
সে পাগলের মতো আমার চোখে-মুখে-গালে চুমু খেতে লাগলো
আমার বিমূঢ় ভাবটা কাটতে না কাটতেই আমি ওকে দু'হাতে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চাইলাম
সে আরো শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরলো আমাকে
আমার ঠোঁটে দীর্ঘ চুমু খেলো
আমি ওকে সরাতে ব্যর্থ হয়ে ঢিল ছেড়ে দিলাম
আর এই সুযোগে সে আমাকে নিয়ে মেঝেতে পাতা বিছানায় গড়িয়ে পড়লো
এবার আমি সর্বশেষ চেষ্টা করলাম নিজেকে বাঁচাতে, কিন্তু পারলাম না
আলী পূর্ণাঙ্গ পুরুষ হয়ে উঠলো
ততক্ষণে সে আমাকে সম্পূর্ণ দখল করে ফেলেছে
আমি তার শরীরের নিচে পিষ্ট হতে হতে কেঁদে ফেললাম
কাঁদতে কাঁদতে বললাম, এ তুমি কি করলে আলী? আমার এত বড় সর্বনাশ তুমি করতে পারলে?
আলী আমার কান্নাকে পাত্তা দিল না
জিহবা দিয়ে আমার চোখের জল শুষে নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো, আজ আমার ভালবাসা পূর্ণ হলো সখি
তুমিই আমার জীবনের একমাত্র নারী, তুমিই প্রথম, তুমিই শেষ
আমি তোমাকে ভালবাসি
ভালবাসবো চিরকাল
তোমার জন্য আমি সারাটি জীবন অপেক্ষা করব
এই কথা বলতে বলতে আলী তার সমস্ত ভালবাসা এবং পৌরুষ ঢেলে দিল আমার ভেতর
অসহায় আমি লজ্জা-বেদনা-ঘৃণা-আনন্দের মিশ্র অনুভূতিতে মৃয়মান হয়ে গেলাম
আমার একেকবার মনে হচ্ছিল একটি ভয়ংকর কুকুর আমাকে খুবলে খুবলে খেয়ে ফেলছে, আবার মনে হচ্ছিল আমাকে ভালবাসায় পূর্ণ করে দিচ্ছে এক কামার্ত পুরুষ
একেকবার মনে হচ্ছিল আমি নোংরা হয়ে গেছি, আবার মনে হচ্ছিল- ভালবাসায় পূর্ণ আমার দেহ
ঝড় তার পূর্ণ বেগ ধারণ করলো, চালের ওপর পূর্ণ বেগে আছাড়িবিছাড়ি খেতে লাগলো মেহেদী গাছের ডালপালা
প্রচণ্ড শব্দে কাছাকাছি কোথাও বজ্রপাত হলো
বিছানায় বাচ্চারা চমকে উঠে কেঁদে দিয়েই আবার ঘুমিয়ে পড়লো
আর আমাকে ছেড়ে লাফিয়ে উঠে ঘর থেকে সন্তর্পনে ভিজতে ভিজতে বেরিয়ে গেলো আলী
এমন একটি ঘটনা আমার জীবনে ঘটে যাবে কোনদিন আমি কল্পনাও করি নি
সেই ঘটনার পর আত্মহত্যা করার ইচ্ছা জেগেছিল আমার ভিতর
কিন্তু কেন আত্মহত্যা করব? আত্মহত্যা করা তো মহাপাপ
আর আমি তো স্বেচ্ছায় এমনটি করি নি
আমি তো আমার সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম নিজেকে বাঁচাতে, কিন্তু পারি নি
আমাকে ক্ষমা করে দাও প্রভু, ক্ষমা করে দাও
আমি নামাজের বিছানায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি
নিজের ওপর প্রচণ্ড ঘৃণা জন্মায় আমার, ছেলেটাকে এতটা প্রশ্রয় দেওয়া উচিত হয় নি
প্রথম থেকেই কঠোর হওয়া উচিত ছিল আমার
কিন্তু কি করবো, আমি তো অতশত চিন্তা করি নি
বিয়ের আগেই যে একটা পুঁচকে ছেলে এমন পুরুষ হয়ে উঠবে সে কথা আমার মাথায়ও ঢোকে নি কখনো
আমি আলীর ভালবাসাকে খেলা খেলা বলেই ধরে নিয়েছিলাম
কিন্তু এখন, এখন কি হবে আমার? আমি এই ঘৃণিত, নোংরা শরীর নিয়ে কি করে যাবো আমার স্বামীর কাছে? ভাবতে ভাবতে আমি অস্থির হয়ে পড়ি এবং কঠিন সিদ্ধান্ত নেই, এ জীবনে আর স্বামীর শয্যাসঙ্গী হবো না
সধবা হয়েই বৈধব্যব্রত পালন করব
পরদিন সকালে স্কুলে যাবার সময় স্বামীকে টিফিন ক্যারিয়ার কিনে আনার কথা বললাম
সেদিন থেকেই খাবার পাঠিয়ে দিতে লাগলাম দোকানে
কিন্তু লক্ষ্য করলাম, খাবার যেভাবে পাঠাতাম সেভাবেই ফেরত আসতে থাকে প্রতিদিন
স্বামীকে জানালাম খাবারের বিষয়টা
উনি ধমক লাগালেন ছেলেটাকে
তাতেও কাজ হলো না
টানা এক সপ্তাহ এমন হলো, এই ক'দিন একবারও তার সাথে দেখা করি নি
আগে-পরে সব সময় স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় দোকানে উঁকি দিয়ে দেখা করে যেতাম
দুয়েকটি কথা বলতাম
রিক্সা খুঁজে দিতে বলতাম
কিন্তু এই এক সপ্তাহ আমি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেলাম আলীকে
সপ্তাহ পার হওয়ার পরও যখন দেখলাম আগের মতই খাবার ফেরত আসছে তখন ভীষণ মায়া লাগলো ছেলেটার প্রতি
ছেলেটা তো না খেয়ে না খেয়ে বড় কোন অসুখ বাঁধিয়ে ফেলবে
আমার স্বামীই আমাকে বোঝালো- ঘরে খেতে খেতে ওর অভ্যাস হয়ে গেছে, এজন্যই বোধহয় টিফিন ক্যারিয়ারে খেতে চায় না
তাছাড়া না খেতে খেতে ওর শরীরটা এই কয় দিনে বেশ খারাপ হয়ে গেছে
খেয়াল করে দেখ তুমি, কি অবস্থা হয়েছে ওর? তুমি এক কাজ কর, টিফিন ক্যারিয়ারে খাবার দেয়া বন্ধ কর
ঘরে বসেই খাক না, তাতে কি এমন ক্ষতি? না হয় একটু দেরীই করলো, আমি সে সময়টা দোকান চালাচ্ছি না! ওকে ঘরেই খেতে দাও
আমার দয়ালু স্বামী কি সুন্দর করেই না বললেন ওকে ঘরে খেতে দেয়ার কথা
কিন্তু কি যে জ্বালাতন সে আমি বুঝি
কি করে আমি স্বামীকে সবকিছু খুলে বলি ভেবে পাই না
একবার বলি বলি করে বলেই ফেলেছিলাম আর কি, কিন্তু আবার চেপে গেলাম
উনি যত ভালোই হন না কেন, সবকিছু জানার পর কি তিনি আমাকে আর বিশ্বাস করবেন কখনো? সারা জীবনেও না
তাহলে? আমি সবকিছু চেপে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করলাম
স্বামীর ইচ্ছা, উপদেশ মেনে অনেকটা অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও আলীকে ঘরে খেতে আসতে বলে দিলাম স্কুল থেকে ফেরার সময়
সেদিন রাতে সে খেতে আসলো, কিন্তু খেলো না কিছুই
বসে বসে ভাত নাড়াচাড়া করলো অনেকক্ষণ, তারপর উঠে চলে যেতে উদ্যত হতেই আমি আড়াল থেকে ধমকে উঠলাম- এই দাঁড়াও দাঁড়াও
তুমি খাচ্ছ না কেন আজকাল? কি হয়েছে তোমার? হ্যা, কি হয়েছে? রাগ করার কথা আমার, সেখানে তুমি রাগ দেখাচ্ছ কেন?
এতগুলো কথা বলে আমি হাঁপিয়ে উঠি
থামতেই আলী বলে, না রাগ না
খেতে ইচ্ছে করে না, তাই খাই না
ইচ্ছে করে না কেন? হ্যা, তুমি কি কচি খোকা, তোমাকে জোর করে খাওয়াতে হবে?
না জোর করতে হবে না, আপনার হাতটা দেন, তাহলে খাবারে রুচি হবে
কি আশ্চর্য, কি স্পর্ধা ছেলেটার! ওর কথা শুনেই আমার শরীরটা ঝিম ঝিম করে উঠলো
এই ছেলেটা তো আমাকে ঘরছাড়া করে ছাড়বে? আমি থমকে গেলাম
দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম সিলিং ফ্যানের দিকে
বন বন করে ঘুরছে ফ্যান, আমার মাথা আর বুকের ভেতরও যেন এ রকম অনেকগুলো ফ্যান ঘুরপাক খাচ্ছে শুধু
তাহলে আমি গেলাম
ঠিক আছে? ওপাশ থেকে বলে উঠলো ছেলেটা
আমি স্থানুর মতো দাঁড়িয়ে রইলাম
চলে গেলো আলী
কিছুই বললাম না
শুধু আমার দু'চোখ বেয়ে নেমে এলো অবাধ্য অশ্রম্নধারা
আমার স্বামী ঘরে আসলে আমি কিছুই বললাম না
শুধু বললাম, তোমার সাগরেদ তো খায় না কিছু
ওকে ডাক্তার দেখাও, আবার কি না কি অসুখ হয়ে যায়
ও খুব চিন্তিত হলো, আচ্ছা কি করা যায় বলো তো? কি হলো ছেলেটার? সারাক্ষণ দেখি মনমরা হয়ে থাকে
কাজ-কর্মেও তো মনোযোগ নেই দেখি
এক কাজ করো
ওকে বাড়িতে পাঠিয়ে দাও
দুদিন বাদেই তো রোজা শুরু
একেবারে রোজা আর ঈদের ছুটি কাটিয়েই আসুক না হয়
আচ্ছা ঠিক আছে, কালকেই ওকে বাড়ি পাঠিয়ে দেব, ক'টা দিন বিশ্রাম নিয়ে আসুক
আমার স্বামী বেচারা ফ্রেশ হয়ে খেয়েদেয়ে শুয়ে শুয়ে টিভি দেখতে শুরু করলো
ও ড্রয়িং রুমের খাটে আলাদা ঘুমায়, প্রয়োজন হলে আমি তার সাথে শুই, তা না হলে বাচ্চাদের সাথেই ঘুমিয়ে পড়ি