content stringlengths 0 129k |
|---|
এবার দুই হাত বাড়িয়ে পেতে দিলাম কিছু নেওয়ার জন্য |
ছেলেটা করলো কি, আমার দুই হাত খপ করে ধরে ফেলে চুমুর পর চুমু দিতে শুরু করে |
বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি, কিছুটা ঝড়ো বাতাসও বইছে সাথে |
বাচ্চারা ঘুমিয়ে, বাসায় আমরা দু'জন ছাড়া আর কেউ নেই |
এমন সময় এ রকম একটি কাণ্ড কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা কল্পনাতীত |
আলী'র এই দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডে বিস্ময়ে, ভয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই আমি |
আমি এতটাই বিস্ময়াহত হয়ে পড়ি যে, আমার হাত টেনে নেওয়ার কথাও ভুলে যাই বেমালুম |
ছেলেটা আমার হাতে চুমু দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে থেমে যায় |
আমার হাত তার গালে চেপে ধরে করুণাপ্রার্থীর প্রলাপ বকতে থাকে, আমি আপনাকে ভালবাসি ম্যাডাম, আমি আপনাকে ভালবাসি |
এটাই আমার জীবনের প্রথম ভালবাসা, দয়া করে আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না, পিস্নজ... |
আরো কি সব বলতে থাকে |
ততক্ষণে আমি ভয়ে, দ্বিধায়, উত্তেজনায় ঘেমে-নেয়ে একাকার |
আমার কি হলো কে জানে, আমি ছেলেটার উপর রাগ করতে পারলাম না |
জোর করে ছাড়িয়েও নিলাম না হাতদুটো |
আমার জীবনে এই প্রথম কোন পুরুষ মানুষ ভালোবাসার করুণাপ্রার্থী হলো |
আমাকে আর কেউ কখনো এভাবে ভালবাসার কথা বলে নি |
আমার স্বামীর সাথে আমার সম্পর্ক তো স্বাভাবিক স্বামী-স্ত্রী'র সম্পর্ক |
এর বাইরেও যে ভালবাসার সম্পর্ক থাকতে পারে তা এই প্রথম আমি জানলাম |
তার ভালবাসাকে আমি অস্বীকার করে ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারলাম না |
আমার মনে হলো একজন মানুষ আমাকে ভালবাসে তো বাসুক না, ক্ষতি কি |
এতে তো আর মহাভারত শুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে না! আর তা ছাড়া ভালবাসলেই তো আর সবকিছু শেষ হয়ে গেল না! আমার মায়া লাগলো ছেলেটার প্রতি, আমিই নাকি তার জীবনের প্রথম ভালবাসা, আহ্ কি অবিশ্বাস্য উচ্চারণ! একজন বিবাহিত নারী, দু'সন্তানের জননীকেও কেউ ভালোবাসতে পারে, আশ্চর্য! আমি তার প্রথম ভালবাসাকে দলিত-মথিত করে দিতে পারলাম না |
আমি শুধু কম্পিত কণ্ঠে বললাম, তুমি সত্যিই আমাকে ভালবাস? |
ছেলেটা তার ধরে আসা, বুঁজে আসা কম্পিত কণ্ঠে বললো, হ্যাঁ আমি আপনাকে ভালবাসি |
আমি এবার দ্বিধা ঝেড়ে ফেললাম, বেশ তো |
এখন হাত ছাড়ো, বাচ্চারা উঠে যাবে |
ছেলেটা আমার হাত ছেড়ে দিলো |
পর্দার এপারে আমি, ওপারে আলী নামের দুঃসাহসী ছেলেটা |
সে কিনা আমাকে ভালবাসে! কি আশ্চর্য কথা, আমার স্বামী-সংসার সব কিছুই তার চোখের সামনে, তারপরও সে আমাকে ভালবাসে! ছেলেটা আমার স্বামীর দোকানের শিক্ষানবিশ কর্মচারী, তারপরও সে আমাকে ভালবাসে! আমি এই ভালোবাসা রাখবো কোথায়! আমি অস্থির হয়ে পড়ি |
বেশ কিছুক্ষণ কেটে যায় এভাবে |
ছেলেটার কথায়ই আমার ঘোর ভাঙে |
পর্দার ওপাশ থেকে সে ফিসফিসিয়ে বলে, আমি আপনার চেহারাটা দেখব একটু, পিস্নজ |
আমি এবার স্তম্ভিত হয়ে পড়ি |
স্কুলের আঙিনা পার হবার পর আমি কঠোরভাবে ধর্ম পালন করা শুরু করি |
নাক-মুখ ঢেকেই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করি |
আমার স্বামী ছাড়া আর কোন পুরুষকে আমি দেখা দেই নি |
অথচ এই পুঁচকে ছেলেটা কি না আমাকে ভালোবাসার কথা বলছে, আবার সেই দাবী নিয়ে দেখতেও চাইছে, আশ্চর্য! ছেলেটা আবারও আমাকে একবার দেখার জন্য মিনতি করে |
আমি ভাবি, যে ছেলে আমাকে এত ভালোবাসে, সে একবার দেখুক না আমাকে, ক্ষতি কি! আমি চোখ বন্ধ করে ফেলি, অস্ফুটে বলি, পর্দা সরিয়ে দেখে নাও, শুধুমাত্র একবার |
আমি প্রচণ্ড ঘামতে শুরু করি |
অনুভব করি ছেলেটা পর্দা সরিয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে |
আমি ভয়ে, লজ্জায় চোখ খুলতে পারি না |
এ আমার কি হলো! আমি তো এত তরল ছিলাম না কখনো! এত সহজেই গলে যাবার পাত্রী তো কখনোই ছিলাম না আমি! আজ এ কি হলো আমার! |
এভাবে কেটে গেলো বেশ কিছুক্ষণ |
বাইরে ঝড়-বৃষ্টি কমে এলো |
বৃষ্টি কমতে শুরু করেছে, হয়তো থেমে যাবে অল্প কিছুক্ষণের ভেতর |
ছেলেটা কম্পিত কণ্ঠে বললো, আপনি কাঁদছেন কেন? |
তার কথায় আমার ভেতরের অস্থিরতা আশঙ্কায় পরিণত হলো |
ভাবলাম হয়তো ছেলেটা সীমালংঘন করে ফেলবে |
আর অগ্রসর হতে দেয়া যায় না |
একটু কঠিন স্বরেই বললাম, তুমি সীমালংঘন করছো, যাও, বৃষ্টি কমে গেছে, খাওয়া শেষ করে চলে যাও |
কাজ হলো কথায়, পর্দার ওপারে সরে গেলো সে |
সোফায় বসে নাকে-মুখে দু'চারটে খেয়ে কমে আসা বৃষ্টির ভেতরই ভিজতে ভিজতে চলে গেলো |
সেদিন থেকে আমার ভেতরে ভাংচুর শুরু হলো প্রবলভাবে |
আমার স্বামীর প্রতি আমার ভালোবাসা যদিও কমে নি |
কিন্তু আলীর প্রতি আমার মায়া জন্মে গেলো খুব |
আমাদের ঘরটা লম্বা স্কুল ঘরের মতো একচালা টিনশেড বিল্ডিং |
মূল বাড়ীর উত্তর পাশে মেস ঘর ভাড়া দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল |
আমাদেরকে একান্নবর্তী সংসার থেকে আমাকে আলাদা করে দেবার পর এ পাশে চলে আসি |
তখন রাস্তার সাথের একটি রুম দোকান বানানো হয়, তার পরের রুমটা ভাড়া দেওয়ার মতো করে রেখে ঐ রুমের দরজা পার করে বড় লোহার গেট বসানো হয় |
ভিতরের সার সার তিনটা রুম নিয়ে আমরা বসবাস শুরু করি |
ওই তিন রুমের ভিতরে স্নাইডিং দরজা করে রুমগুলোয় একটা থেকে আরেকটায় যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয় |
আমাদের রুমের সামনে ছয় ফিট চওড়া লম্বা উঠোন |
উঠোনের শেষ প্রান্তে আমাদের রুমের বিপরীতে বাথরুম আর রান্নাঘর পাশাপাশি |
উঠোনের উল্টো দিকটা আমার শাশুড়ীর ঘরের পিছন দিক |
যোগাযোগের জন্য একটা দরজা খোলা হয়েছে আমরা এ পাশে থাকতে শুরু করার পর |
বাইরের রুমটা আমার স্বামীই পরিচালনা করতো |
সেখানে আলীর থাকার ব্যবস্থা করে আরো তিনটি সিট ভাড়া দেওয়া হতো |
গেটের ভেতরের অংশে আলীর রুমের জানালা পড়েছে, যা সাধারণত খোলা হতো না |
কিন্তু সেদিনের পর থেকে সেই জানালার একটা কপাট সব সময় খোলা থাকতে শুরু করে |
কারণে অকারণে যখনই আলী রুমে আসে গেটে একটা নির্দিষ্ট ছন্দে আওয়াজ তুলে রুমে ঢুকে যায় |
আর আমার কি হয়, আমি সমস্ত কাজ ফেলে হয়তো কাপড় নাড়ার ছুতোয় কিংবা উঠান ঝাড়ু দেওয়ার ছল করে জানালার কাছে চলে আসি, কথা বলি, একেবারেই অপ্রয়োজনে নক করলে কখনো কখনো ধমকেও দেই |
সে জানালা একটু ফাঁক করে আমাকে দেখে, আমি বুঝি, পুলকিত হই এবং কিছুক্ষণ পর আবার আমার সংসারের কাজে মনোযোগ দেই |
এ এক শিহরিত অনুভূতি |
আমি উচ্চ শিক্ষিত এবং পর্দানশীন হওয়ার পরও উচ্ছল কিশোরীর মত আচরণ করতে শুরু করি |
খাবার খেতে প্রায়ই হাত ধরে ফেলা, ওর হাতে চাটি মারা, পর্দা ফাঁক করে আমাকে সময়ে অসময়ে দেখা এসব এখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে |
আমি নিজেকে কন্ট্রোল করার অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারি নি |
এমনো ভেবেছি, সব কিছু খুলে বলি আমার স্বামীকে |
তাহলে ছেলেটাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিলেই আমি বেঁচে যাই |
কিন্তু কোন এক প্রচণ্ড দ্বিধায় আর সেই কর্মটি করা হয় নি |
এবারের বর্ষাটা অনেক লম্বা হয়েছে |
সেই যে শুরু হয়েছে আর থামার লক্ষণটি নেই |
প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে |
সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা কখন যে বৃষ্টি শুরু হবে তার কোন ঠিকঠাক নেই |
তবে রাত ন'টার পর বৃষ্টি শুরু হলে আমি খুব উৎফুল্ল হয়ে উঠতাম |
কারণ, তখন আলী বৃষ্টিতে ভিজে ভিজেই খেতে আসতো, আর বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত বের হতো না |
আমি কামনা করতাম বৃষ্টি যেন না থামে মাঝ রাত পর্যন্ত |
কিন্তু এই বৃষ্টির কারণেই যে আমার এত বড় সর্বনাশ হয়ে যাবে তা কে জানতো! আমার এখনো ভয় হয় সেদিনের কথা ভাবলে! সেদিন রাত দশটার দিকে খেতে আসে আলী |
ও আসার পর প্রবল বর্ষন শুরু হয় |
আমি ওকে খাবার বেড়ে দেই |
ও বসে থাকে, খাওয়া শুরু করে না |
অন্যদিন প্যান্ট পরে আসে ঘরে, কিন্তু আজ ওকে লুঙ্গি পরা দেখলাম |
হয়তো প্যান্ট বৃষ্টিতে ভিজে গিয়ে থাকতে পারে ভাবলাম |
বাইরের দরজা দিয়ে বৃষ্টির ছাট আসছিলো দেখে বন্ধ করে দিলাম |
বাচ্চারা ঘুমিয়ে আছে খাটে |
ফ্লোরে পাটি বিছিয়ে দুটো মোটা কাথা দিয়ে কোন রকমে শোয়ার ব্যবস্থা করলাম একটু বিশ্রাম নেব বলে |
এমন সময় মাঝের |
স্নাইডিং দরজার কাছে পর্দার ওপাশ থেকে ডাকলো আলী, ম্যাডাম |
আমি উঠে গিয়ে পর্দার এপাশে দাঁড়িয়ে ধমকে উঠলাম, কি ব্যাপার খাওয়া শুরু কর নি এখনো? |
না, খেতে ইচ্ছা করতাছে না |
আপনাকে দেখতে ইচ্ছা করতাছে |
একেবারে অনুনয়ের সুরে বলে ওঠে সে, টের পেলাম তার কণ্ঠ কাঁপছে উত্তেজনায় |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.