content stringlengths 0 129k |
|---|
: নদিয়ায় নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে সাহায্য প্রধানমন্ত্রীর দফতরের, আহতদের ৫০ হাজার টাকা |
: রাজ্যে বাড়ল পজিটিভিটি রেট, একদিনের মৃত্যুতে শীর্ষে ফের উত্তর ২৪ পরগনা |
: স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও জাতপাতের বেড়াজাল থেকে মুক্তি মেলেনি: সুপ্রিম কোর্ট |
1 4 : চতুর্থ দিনের শেষে উইলের উইকেট হারিয়েছে কিউয়িরা, শেষ দিনে উইলিয়ামসনদের তুলতে হবে ২৮০ রান |
আসিফকে আগেই বিদায় দেয়া হয়েছে |
তবে এই একটা বন্ধুকে আমার কখনোই ছাড়তে ইচ্ছে করে না |
ও নিজেই মিরপুরে বোনের বাসায় হাজিরা দিতে চলে গেলো |
আমি জানি রাত হতে হতে সে ফিরে আসবে |
আমার ডেরা তার অপরিচিত নয় |
যুথীরা চলে যাবার পর ঠিক সন্ধ্যে নামার মুখে আমি আবারো একা হয়ে গেলাম |
একটা বিষয় ভেবে আশ্চর্য লাগলো |
কেন আজ কোথাও বেশিক্ষণ বসতে পারছি না? |
সেবার কক্সবাজার গিয়েছিলাম একটা অফিসিয়াল কাজে |
আমাদের দেশেই কাজ করে এমন একটা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে |
একদিন রাতে অফিসের কাজ-টাজ সেরে বাড়িতে ফিরে সবে গোসল দিয়ে বেরিয়েছি |
চারটা ভাত খেয়ে শুয়ে পড়ার কথা ভাবছি, কারণ শরীরটা বিশেষ ভালো লাগছে না |
শুয়ে শুয়ে মুভি দেখার চেষ্টা করলে ঘুমও আসবে, শরীর খারাপজনিত বিরক্তিও কেটে যাবে- এই ছিলো আমার চিন্তা |
কিন্তু মোবাইল বেজে উঠলো |
দেখলাম অফিসের কর্তাবাবুর ফোন |
কালকে সকাল দশটায় তুই 'অমুক' কোম্পানীর সঙ্গে কক্সবাজার যাবি |
তোকে ওরা ফোন করবে |
বলেই তিনি আমার কোনো কথা না শুনে কেটে দিলেন লাইন |
বিদ্রুপের একটা সীমা থাকা উচিত |
আমি শুয়ে শুয়ে নিজের কপালকে শাপ-শাপান্ত করতে থাকলাম |
সঙ্গে ফোনের জন্য অপেক্ষা |
কোনো এক কোম্পানীর কোনো এক মহাজন ফোন করে আমায় উদ্ধার করবেন |
ভাবতেই বিরক্তি লাগছিলো |
অপেক্ষার প্রহর প্রলম্বিত হলো না |
তিনি নিজের পরিচয় দিলেন আলী নামে |
পরদিন সকালে যেখান থেকে গাড়ি ছাড়ার কথা সে জায়গাটার নাম বলার আগে আমার কাছ থেকে জানতে চাইলেন, আমি কোথায় থাকি |
অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন আর কি |
আমি যে জায়গার কথাই বলবো, তার উল্টো কোনো একটা জায়গায় গাড়ি দাঁড়ানোর কথা বলবেন উনি |
তারপরে একটা দীর্ঘ ধানাই-পানাই, যার মূলকথা অতোটা পথ গাড়ি পাড়ি দিতে পারবে না |
আমাকেই তাই এগিয়ে আসতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি |
পূর্বাভিজ্ঞতা যে সবসময় সঠিক দিকনির্দেশনা দেয় না সে কথা প্রমাণের জন্যই হয়তো; আমি নিজের এলাকা বলতেই অপরপাশ থেকে আলী সাহেব চমকে উঠলেন, আরে আমাদের গাড়ি তো ওখান থেকেই ছাড়বে! |
আমিও চমৎকৃত হলাম |
আমার বাড়ির মতো ব্যাকওয়ার্ড এলাকা থেকে তাদের গাড়ি ছাড়ার কোনো কারণই নেই |
আমি নিশ্চিত হওয়ার জিজ্ঞেস করলাম, কেন এখান থেকে ছাড়া হবে? জানা গেল, আলী ভাইয়ের বাসাও আমার এলাকাতেই |
এজন্য সেখান থেকেই হবে যাত্রা শুরু |
পরদিন সকালে সময়মতো ও জায়গামতো বান্দা দাঁড়িয়েছিলো |
আলী ভাই সঠিক বান্দাকে প্রথম সুযোগেই চিনে নিয়েছিলো |
দিনের সবকিছুই ঠিকঠাক ছিলো, শুধু যানজটটা ছাড়া |
যানজটের পরিকল্পনা করে আমরা বাসা থেকে বের হয়েছিলাম দুই ঘন্টা আগে |
কিন্তু মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম এয়ারপোর্টে |
বাকি এক ঘন্টা ৪৫ মিনিট তাই বসে, দাঁড়িয়ে, গল্প করে এবং বিড়ি খেয়ে পার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলো |
এর মধ্যে আলী ভাই মাঝে মাঝে তার বস্ খান ভাইএর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন |
তিনিও আমাদের যাত্রাপথের সঙ্গী |
কিন্তু তখনো এসে পৌঁছান নি |
যানজটের কবলে বিপর্যস্ত হয়েছেন |
ঢাকা শহরটা যে দিন দিন আনপ্রেডিক্টেবল হয়ে উঠছে সেটা আরো একবার টের পেলাম |
আমাদের নিয়মিত জ্যামের রাস্তা ফাঁকা, অথচ ওই ভদ্রলোকের 'জ্যাম হয় না' এমন রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে যানজটে |
খান ভাই আসার পর দেখা গেল তিনি একজন মধ্যবয়স ছুঁই ছুঁই টাক না পড়া ভদ্রলোক |
সামান্য ভুড়িও আছে |
ছাটানো গোঁফও আছে |
তবে কোনো অসামঞ্জস্য নেই |
মুখের আলাপী হাসিটা বলে দিচ্ছিলো, ইনি মজার মানুষ |
তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিড়ি টানার সময় ভারতীয় নাগরিকেরা কিপটামীটাকে কিভাবে উন্নয়নশীল খাতে কাজে লাগায় তা নিয়ে বেশ একচোট আলোচনা হয়ে গেলো |
বিমান যখন রানওয়ে ছেড়ে প্রথমবার বাতাসে নিজের শরীরটা ছেড়ে দেয়, সে সময় মৃদু একটা ঝাঁকুনি মতো লাগে |
ঝাঁকুনিটা ম্যাজিক কার্পেটের মতো তো নয়ই, এমনকি রোলার কোস্টারের মতোও না |
তারচে'ও নিচুদরের |
প্রায় টের পাওয়া যায় না, এমন |
কিন্তু অনেককে দেখলাম, এই ঝাঁকুনিতেই বিড়বিড় করে দোয়া-দুরুদ পড়ে নিজের বুকে ফুঁ দিচ্ছেন |
হয়তো নিজেকে ওস্তাদের হাতে ছেড়ে দিলেন |
আমি ওস্তাদকে তাদের রক্ষণাবেক্ষণের পরামর্শ দিলাম মনে মনে |
সঙ্গে নিজের ব্যপারেও |
আমার মজা লাগলো, বিমান-মাইকের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এক বিমানবালার অঙ্গসঞ্চালনের অভূতপূর্ব সমন্বয় দেখতে |
জরুরি বহির্গমনের দুইটি রাস্তা আছে, একটি সামনে আরেকটি পেছনে |
এই কথাটা যখন মাইকে বললো, তখন সামনের সুবেশিনী মেয়েটি দু'হাত বাঁকিয়ে সেটি দেখিয়ে দিলো |
যদিও এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা |
কিন্তু কথা বলছে একজন আর কাজ করে দেখাচ্ছে আরেকজন- ব্যপারটা বেশ ফানি |
বিমান যত উপরে উঠতে লাগলো, নিচের বিল্ডিংগুলো ততই ছোট হতে লাগলো |
মেঘগুলোর ওপরে উঠে মনে হচ্ছিলো হিন্দুধর্মে বর্ণিত স্বর্গে চলে এসেছি |
জায়গাটার সঙ্গে মুসলমানদের বেহেশতের মিল পেলাম না |
তবে হিন্দী চ্যানেলে সকালের দিকে যেসব ধর্মীয় সিরিয়ালগুলো চলে, সেগুলোতে দেখানো স্বর্গের সঙ্গে মিল পেলাম |
মনে হচ্ছিলো এই বুঝি শিবঠাকুর তার উঁচু করে ধরে রাখা ডান হাত নিয়ে আসনে বসা অবস্থায় দেখা দেবেন |
আমি মাঝে মাঝে একটা জিনিস ভাবি; আমরা সবাই ইসলাম ধর্ম পালন করে-টরে মারা গেলাম, আর তারপরে দেখা গেল পরকালে সবকিছুর হর্তকর্তা হয়ে বসে আছেন শিবঠাকুর, দূর্গা, কালী, মেনকা, রম্ভা, উবর্শীরা |
তখন মুসলমানরা নিশ্চই কঠিন একটা পেইন খাবে! |
এইসব হাবিজাবি ঘন্টাখানেক ভাবতে না ভাবতেই প্লেন কক্সবাজারে পৌঁছে গেল |
সেখানে নেমে আমার মনে যেসব ধারনা তৈরি হলো সেগুলো হচ্ছে- এই এয়ারপোর্টটা খুবই ছোট্ট, এখানে কোনো ঝুট-ঝামেলা নেই, বাংলাদেশে এমন একটা সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে তা প্রায় অকল্পনীয় এবং ভিনদেশি ট্যূরিস্টরা এই এয়ারপোর্টে নেমেই খুশি হয়ে যায় |
আমরা যে হোটেলে উঠলাম সেটার নাম লম্বা-সৈকত |
হোটেলটার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বস্তুটি ছিলো প্রতিরুমে একটা করে মহা আরামের বিছানা |
কক্সবাজার শহরটাও লম্বাটে ধরনের |
সেটা উপসাগরের শরীর ঘেঁষে লম্বালম্বি চলে গেছে একদিকে বান্দরবান, আরেকদিকে টেকনাফ পর্যন্ত |
এবং এই গড়নের সুবিধাটা সরকার বুঝতে পেরেছে খুব সম্প্রতি |
বুঝতে পেরে সৈকত ঘেঁষা একটা মেরিন ড্রাইভ বানিয়েছে তারা |
রাস্তার একপাশে কাটা পাহাড় |
পাহাড়ের কাটা অংশের রঙ হলুদ, তার ওপরে রকমারি ঘন সবুজ স্থানীয় ফ্লোরার কার্পেট; আর নিচ দিয়ে 'নীড ফর স্পীড-২' গেইমে দেখানো রাস্তাগুলোর মতো একটা রাস্তা |
রাস্তার যে পাশে পাহাড় নেই সে পাশে পড়ে আছে দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া একটা সাগর |
রোডরাশের ফুল ভার্সনেও এমন একটা রাস্তা দেখেছিলাম আমি |
পড়ন্ত বিকালে আপনি যখন এই রাস্তা দিয়ে যাবেন, তখন আপনার চোখ থাকবে ঠান্ডা লাল রংয়ের সূর্যটার দিকে |
কারণ ওই জিনিসটা খুব দ্রুত নিচের দিকে নামবে এবং আপনি চাবেন, ও যেন আরো একটু সময় ঝুলে থাকে |
এই সূর্য-মানুষের টানাটানিটাই সম্ভবত এই রাস্তার সবচেয়ে বড় মজা |
পাহাড় কেটে বের করা জমিতে বানানো চিংড়ির ঘেরগুলোও মনোমুগ্ধকর |
পাশাপাশি এগুলোর অনেক সমালোচনাও শুনতে হবে আপনাকে |
খান ভাই এই এলাকায় মধ্য আশি থেকে মধ্য নব্বুই পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর কাজ করে গেছেন |
তখন নিজের হাতে পাঁচ লাখ গাছ লাগিয়েছেন তিনি, পুরো কক্সবাজার-বান্দরবান জোনে |
সে সময় মেরিন ড্রাইভ বা আর কিছু ছিলো না |
বীচ বলতে ছিলো কেবল, এখন যে জায়গাটা কলাতলী নামে পরিচিত সেটা |
আমি গাড়িতে বসে এসব শুনছিলাম আর কল্পনা করছিলাম, পাহাড়গুলোকে কেটে ফেলার আগে নিশ্চই সেগুলো সরাসরি সমুদ্রে গিয়ে পড়তো |
যাকে বলে ডাইরেক্ট বীচ |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.