content stringlengths 0 129k |
|---|
দেশের ইতিহাসে সবচে বড় ঋ'ণ কে'লে'ঙ্কা'রি কা'রণে হলমার্কের ব্যবস্থাপনা |
পরিচালক তানভীর মাহমুদ ও তার ভায়রা প্রতিষ্ঠানের জিএম তুষার ২০১২ সাল থেকে কা'রাগা'রে রয়েছেন |
← ঘরে উঠার আগেই ভেঙে পড়ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর → মেয়ের মায়ের এক কথা, তুমি সরকারি চাকরি করো,পরে দেখা জাবে! |
ঈদ নিয়ে অনেকেই হরেক রকমের পোস্ট দিয়েছে ঈদের আগে ও পরে |
আমি পোস্ট দেবার মতো তেমন কোনো কিছু খুঁজে পাইনি |
বন্ধুরা অনেকেই তার জিএফ কে নিয়ে বিভিন্ন পার্কে ঘুরাফেরা করার প্লান করলেও |
আমার প্লান ছিলো সারা দিন ফেসবুক আর ঘুম পারার |
তেমন ধনীর দুলা না, যে বাবা পনেরো বা বিশ হাজার টাকা হাতে দিয়ে বলবে....! যাও বাবা ঈদের শপিং করে নিয়ে আসো |
আমি খুব সাধারন একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান |
তাছারা মা বেঁচে নেই! তাই আমার ঈদের শপিং নিয়েও তেমন তোরজোড় নেই পরিবার থেকে |
ঘরে থাকা সৎ মা পাঁচ হাজার টাকার মতো শপিং করেছে |
আমার শপিং নিয়ে তেমন মাথা ব্যথা নেই |
আমার আগে থেকেই প্লান ঈদের দিন অনেক ঘুমাবো |
তাছাড়া বাহিরের কোলাহল আমার খুব একটা ভালো লাগে না |
বন্ধুবান্ধব বলতে তেমন কেউ নেই! ফেসবুকে কয়েকটা ছেলে মেয়ে পরিচিত আর রিয়েল লাইফে কাওছারের সাথে পরিচয় |
কাওছার আমার অনেক ক্লোজ একটা বন্ধু |
ছেলেটার সাথে আমার বন্ধুত্ত হয় ২০১১ সালের মার্চ মাসে |
এর মাঝে বেশ কয়েকবার আমাদের ভুল বুঝাবুঝি হলেও তা ছিলো সাময়িক সময়ের জন্য! পরে নিজেরাই আবার মিটমাট করে নিয়েছি নিজেদের মধ্যে |
আমাদের ভুল বুঝাবুঝির কারনটা ছিলো একটা মেয়েকে কেন্দ্র করে |
শেষমেশ মেয়েটার বিয়ে হলে পরে বুঝতে পারলাম মেয়ে ক্ষণিকের জন্য আসলেও বন্ধুত্ত থেকে যায় হাজার বছর |
সেদিনের পর থেকে আর কোনো মেয়ে দিয়ে ভালো লাগার নজরে তাকাইনি |
বন্ধুরা কথা বলতে ছিলাম ঈদ নিয়ে |
ঈদের চার দিন আগে বাবা বলতেছে....... |
- সানভি তুই ঈদের শপিং করবি না? |
- না বাবা, আগের যা আছে সেগুলো দিয়েই চলবে |
- তোর কি কোনো কারনে মন খারাপ? |
- না তো বাবা, হঠ্যাৎ তোমার এমন মনে হলো কেনো? |
- না, এমনি বললাম! পনেরোশ টাকা রাখ |
- এত টাকা দিয়ে কি করবো বাবা? |
- ঈদের কিছু শপিং করিস |
বাবা হনহন করে রুম থেকে বের হয়ে চলে গেলো |
বুঝলাম সৎ মা হয়তো বাবাকে আমার শপিং নিয়ে কিছু বলেছে |
যাগগে এসব কথা! ম্যানিব্যাগে পনেরোশ টাকা রাখলাম |
সুয়ে সুয়ে ফেসবুকে চালাচ্ছি হঠ্যাৎ কাওছারের কল |
- দুলা ভাই কি করেন? |
- দোস্তো সুয়ে আছি |
- ডিনার করছিস? |
- করছি! তুই করছিস |
- হ্যা! ঈদের শপিং করছিস দোস্তো? |
- না, করি নাই! তুই করছিস? |
- আমি ও তো করি নাই |
কালকে যাবি শপিং করতে? |
- হুম, যাওয়া যায় |
দোস্তো তাহলে ওই কথাই থাকলো! কালকে সকালে দুই বন্ধু মিলে শপিং করতে যাচ্ছি |
সকাল হয়েছে অনেক সময় হলো |
বাবা আর সৎ মা নাস্তা করছে |
সৎ মা বাবাকে আমার নামে কানপড়া দিচ্ছেন |
মানে হলো আমার নামের যত খারাপ কথা বলা যায় আর কি? তোমার ছেলে কোনো কাজ করে না, সারা দিন রুমের মধ্যে ঝিমায় আর মোবাইল টিপাটিপি করে...... এই সেই নানান কথা |
মনটা একটু খারাপ হয়ে গেলো |
যাই হোক কোনো প্রতিউত্তর না দিয়ে ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে বাসা থেকে বের হলাম |
মোবাইল হাতে নিতেই দেখি কাওছারের নাম্বার থেকে দশ বার মিসকল উঠে আছে |
কল ব্যাক করতেই...! |
কিরে হালায় তুই কোথায় এখন! আমরা রিফাত মোরে সেই কখন থেকে দাড়িয়ে আছি |
তোরা মানে কি? তোর সাথে আর কে আছে |
দোস্তো তন্বী আছে আমার সাথে! প্লিজ তারাতারি আয় না ভাই তোর দুটো পায়ে পরি |
বুঝলাম বন্ধু আমার অনেক প্যারায় আছে মেয়েটাকে সাথে নিয়ে |
আমি না গেলে হয়তো মারাই যাবে |
বাসা থেকে একটা রিক্সা নিয়ে দশ মিনিট পরে রিফাত মোরে গেলাম |
রিফাত মোর থেকে একটা সিএনজি করে নিউ মার্কেটে আসলাম তিনজন |
মেয়েটা আগের থেকে দেখতে সুন্দরি হয়েছে |
তাছারা আটা ময়দা হয়তো একটু বেশি করে মেখেছে তাই হয়তো একটা বিলাতি মেয়েদের মতো লাগছে |
কাওছার বাবা মায়ের এক মাত্র সন্তান |
তাছারা ওদের পরিবারটাও একটু উচ্চ বংশের টাকা পয়সার তেমন অভাব নেই |
জিএফ জন্য শপিং করতে তাই একটু মোটা অংকের টাকা নিয়ে আসছে |
সানভি তোর শপিং একটু পরে করি! আগে তন্বীর শপিং করে নেই |
কানের কাছে এসে ফিসফিস করে কথা গুলো বললো |
আরে ব্যাপার না, তন্বীর কি কি লাগবে দেখ? জান এটা লাগবে, ওটা লাগবে, এটা পছন্দ না, এ দোকানের জিনিসপত্র পছন্দ না, ওই দোকানে চলো |
অবশেষে পাঁচ ঘন্টা দৌড়াদৌড়ি করার পর মেয়েটার শপিং কম্পিলিট হলো |
জান আমাকে এত কিছু কিনে দিলে আর তোমাকে কিছু কিনে দিবো না সেটা কি হয় |
চলো ওই দিকে এই বলে 'সিটি মার্কেটের' দিকে আসলাম |
সিটি মার্কেটের সামনে বেশ কয়েকটা ফুটপাতের দোকান বসেছে |
আমি আগে থেকেই আন্দাজ করতে ছিলাম পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য মনে হয় দেখতে যাচ্ছি |
যা ভাবছিলাম তাই হলো....! ফুটপাতের দোকান থেকে আশি টাকা দিয়ে একটা ছোট প্যান্ট কিনে বন্ধুর হাতে ধরিয়ে দিলো |
যারা ছেলেদের ছোট প্যান্ট বুঝেন না |
তারা এখনো মায়ের গর্ভে ঘুমিয়ে আছেন মনে হয় |
গার্লফ্রেন্ডের এত বড় উপহার পেয়ে বন্ধু আমার প্যাঁচার মতো একটা সুইট হাসি দিয়ে বললো "লাবু জান" |
আমার তো অজ্ঞান হবার মতো অবস্থা |
মেয়েটাকে ঠাডিয়ে একটা চর মারতে মন চাচ্ছিলো |
কিন্তু বন্ধুর জানের জান বলে কথা |
একটা পাঁচ তারা রেস্টুরেন্টে দুপুরের লাঞ্চ করে তন্বীকে একটা সিএনজিতে উঠিয়ে দিয়ে বিদায় জানালাম |
কাওছারের ফ্রেশ দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে বন্ধু আমার মারাক্তক রকমের শর্ক্ট খাইছে |
- বন্ধু জিএফ এর জন্য তো অনেক হলো! তুই জন্য কিছু কিনবি না |
- আমার তেমন কিছু কেনার শখ নাই |
চল তোর জন্য কিছু শপিং করি |
- কাওছার আমার যথেষ্ট আছে! আগে তোর জন্য একটা কিছু কিনবো |
সিটি মার্কেটের বেশ কয়েকটা দোকান ঘুরেফিরে দেখলাম |
কিন্তু আমার কোনো টিশার্ট পছন্দই হচ্ছে না |
অনেক দেখাদেখির পর একটা টিশার্ট আমার পছন্দ হলো |
সিটি মার্কেটের সকল পণ্য একরেটে বিক্রি করা হয় |
ভাইয়া প্রাইজ কত এই টিশার্টের! ৯০০ শত ৯০ টাকা |
টাকা প্রেইড করে কাওছারের হাতে ব্যাগটা ধরিয়ে দিলাম |
এবার যেনো কাওছার পৃথিবীর নবম আশ্চর্য দেখলো |
- সানভি এই টিশার্ট কার জন্য ? |
- আমার সালা বাবুর জন্য! |
- দোস্ত আমার টিশার্ট লাগবে না |
- লাগবে লাগবে আমি জানি |
- সত্যি তুই টিশার্টটা নিবি না? |
- আমার অনেক আছে তো! |
কাওছার দেখ তুই আমার বন্ধু হলেও আছিস ভাই হলেও আছিস |
আমার উপহার যদি ফিরিয়ে দিস তবে তোর সাথে এখানেই আমার সব সম্পর্ক শেষ |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.