content
stringlengths
0
129k
পকেটে পাঁচশ দশ টাকা আছে
সানভি তোর নিজের জন্য কিছুই নিবি না
তোকে তো আগেই বললাম
আমার যথেষ্ট আছে দোস্ত
তাছারা আমার রুচি সম্পর্কে তুই তো ভালো করেই জানিস
চাহিদার বেশি অতিরিক্ত কোনো কিছুই আমার পছন্দ না
সালা তুই এ জনমেও চেন্জ হবি না
অনেক তো হলো এবার বাসায় যাই চল
রাতের ডিনার করার সময় বাবার হাতে পাঁচশ টাকা তুলে দিলাম
বাবা পাঁচশ টাকার নোট টা পকেটে রেখে দিয়ে আবার খাওয়া শুরু করলেন
দেখতে দেখতে ঈদের দিন চলে আসলো
ঈদের দিন সকালে সালা বাবুর ফোনে ঘুম ভাংলো
- দুলা ভাই ঈদ মোবারক
কেমন আছেন
- ভালো আছি! সালা বাবু বাসায় আসেন
- নারে দোস্তো! আজ পার্কে বেড়াতে যাবো
- আচ্ছা আপনার জন্য শুভ কামনা
- আপনিও ভালো থাকেন দুলা ভাই
কাওছারের সাথে কথা শেষ করে ফেসবুকে লগিন দিলাম
অনেকেই ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে
সব গুলো মেসেজ সিন করলেও কারো মেসেজর রিপ্লাই দিলাম না
এদিক থেকে আপনারা আমাকে সেলফিস ভাবতে পারেন
কিন্তু আমার তাতে কিছুই যাবে বা আসবে না
আগেই বলেছি কোলাহল আমার ভালো লাগে না
ঈদের নামায শেষ করে রুমে আসলাম
ফোনটা সাইলেন্ড করে বিছানায় সুয়ে পড়লাম
ঘুমাচ্ছি তো ঘুমাচ্ছি
ঘুম ভাংগার কোনো নাম গন্ধই নেই
দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেছে
বিকাল চারটার দিকে সালা বাবুর ফোনে ঘুম ভাংলো
- হ্যালো! দোস্তো বল?
- দুলা ভাই এখনো আপনার ঘুম ভাংগে নাই
- নারে দোস্তো! অনেক ক্ষুধা লাগছেরে
- আমার বাসায় চলে আয়! একটা ম্যাজিক দেখাবো
- তুই দেখাবি ম্যাজিক? পাগল হবো আবার!
- আয় না ভাই! তোর দুটা পায় ধরি!
- আচ্ছা তুই বাসাতেই থাক আসেছি
অনিচ্ছা সর্তেও বন্ধুর বাসায় আসলাম
আন্টি কাওছার কোথায়? আরে সানভি যে! কেমন আছো বাবা
কত দিন পরে তোমায় দেখলাম
কাওছার ওর রুমে আছে
সালা বাবু রুম বন্ধ করে ডিজে গান শুনছে
- কিরে সালা অনেক খুশি মনে হচ্ছে?
- হ্যা আজ অনেক হ্যাপি আমি
- তা এত খুশির কারনটা জানতে পারি
সব বলবো আগে চল কিছু নাস্তা করে নেই
দুই বন্ধু মিলে কিছু নাস্তা করলাম
সানভি চল বাইক নিয়ে বের হই
সালা বাবুর বাপের টাকার কেনা সদ্য চকচকে অ্যাপাসি বাইকে চরে দুই বন্ধু মিলে অনেক দূরে ঘুরতে আসলাম
চারিদকে শুনশান জায়গা একবারে জনশূন্য
একটা সবুজ ঘাসের জমিতে বাইক পার্ক করলো
দুই বন্ধু সবুজ ঘাসের উপর সুয়ে আছি
কাওছার এক প্যাকেট ব্লাক সিগারেট বের করলো
কাওছার সিগারেট খাচ্ছে আমি দূরের নীলচে আকাশ দেখছি
সূর্য ডুবি ডুকি করে নীলচে নীলভ রঙে নিজেরে বাঙ্গাচ্ছে
সানভি এই ফোনটার দাম কত হতে পারে
এই ফোন তুই কোথায় পাইলি
এই ফোনের মার্কেট প্রাইজ তো ১৯ হাজার ৯শ ৯৯ টাকা
এটা তন্বীর ফোন
তন্বীর নিউ বিএফ গিফট করছে
আমি একদিন ইউজ করার কথা বলে নিয়ে আসছি
কিন্তু ফোনটা আর রিটার্ন দিবো না
তন্বী আমাকে লাভ করে না, ভালোবাসে আমাকে বাপের টাকাকে
সো আজ থেকে তন্বীকে গুড বাই
বন্ধুরা তন্বীর মতো হাজারো মেয়ে আমাদের চারপাশে আছে
তারা আপনাকে নয় ভালোবাসে আপনার বাপের টাকাকে
সত্যি কারের ভালোবাসায় টাকা, শরীর, সম্পদের কোনো চাহিদা থাকে না
কোনো সম্পর্কে যখন টাকা ও শরীরের চাহিদা চলে আসে
সে সম্পর্কে তখন প্রতারণার ভাইরাস ধরে যায়
যা চাইলেও দূর করা যায় না
এখানে আমি পুরো মেয়ে জাতকে ছোট করে দেখায়নি
গল্পের মাধ্যমে সভ্য সমাজের কিছু অসভ্য মেয়ে মুখকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি
এই গল্পের তন্বী চরিত্র নিয়ে যদি কারো গা জ্বল
তবে বুঝে নিবো তার মনের মধ্যে ঘাপলা আছে
গল্পটা ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না
তবে গল্পের ৭০% কাহিনী লেখকের বাস্তব জীবনের সাথে মিল রয়েছে
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ শিরোনাম ছিলো, "৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আসছে না
" শিরোনামের দ্বিতীয় প্যারায় উল্লেখ, "বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জানিয়েছেন, করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে চালু হয়েছিল বিছিন্নভাবে কিছু স্থানে শিক্ষার্থী করোনা সংক্রমন হওয়ায়, অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা ভীতি কাজ করছে
এ কারনেই অনুপস্থিত সংখ্যা কিছুটা হলেও বাড়ছে
" সাংবাদিক বন্ধু এই রিপোর্টে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গত কয়েকদিনের উপস্থিতি-অনুপস্থিতির একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন
শিক্ষা সংশ্লিট উধ্বর্তনদের সাথে কথাও বলেছেন
সেক্ষেত্রে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যও গ্রহণ করেছেন
দায়িত্বশীলরা যার যার অবস্থান থেকে গতানুগতিক জবাবই দিয়েছেন
প্রধান শিক্ষকরা সাংবাদিককে যা বলেছেন,তার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই
করোনা ইস্যুতে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১২সেপ্টেম্বর খুলে দেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব অবস্থা খুবই দুঃখজনক
শহরের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসছে না সপ্তাহে এক বা দুইদিনের জন্য দুটি ক্লাস করতে
গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা আসছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুলটাইম ক্লাস না হওয়ার কারনে
ভয়াবহ সমস্যার বিষয়টি হচ্ছে, টানা দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গ্রামাঞ্চলের প্রায় ৩০শতাংশ শিক্ষার্থী লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে বাবা-মায়ের সাংসারিক কাজে সম্পৃক্ত হয়েছে
অধিকাংশ মেয়ে শিক্ষার্থীদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে
২০ শতাংশ শিক্ষার্থী গ্রাম ছেড়ে শহরে কিংবা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় কাজের জন্য পাড়ি জমিয়েছে
এরা লেখাপড়া করতে চায় কিংবা করবে, কিন্তু ফুলটাইম ক্লাস না হওয়ায় এলাকায় আসতে রাজী নয়
অথচ তথা কথিত বিশ্লেষকরা বলছেন, "করোনার ভয়ে কোন কোন অভিভাবক তাদের সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন না
এধরনের বিশ্লেষণ, গবেষণা 'মস্তিষ্কে করোনা'সংক্রমনেরই শামিল
সম্প্রতি কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে করোনা সংক্রামনের যে খবর, 'সংবাদ' এবং 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে' পাওয়া গেছে তা যে কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কারনে হয়েছে এবং যা আতংকের বিষয় তা কিন্তু নয়
ঋতু বৈচিত্রের এই দেশে মৌসুমী সর্দি-জ্বর-কাশি যুগ যুগ ধরে চলমান
যে দেশের হাটে-বাজারে, মাঠে-ঘাটে,মিছিল-মিটিংয়ে,যান -বাহনে ঠেলা-ঠেলি, ধাক্কাধাক্কিতেও করোনা সংক্রমন মাত্রা নিম্নগতিতে, সেখানে দেশের দুইটি প্রিন্ট মিডিয়া, একটি অনলাইন পোর্টাল এবং একটি বাহাত্তুরা টিভি চ্যানেল প্রতিদিন, প্রতিমূহুর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে করোনা খুঁজে বেড়াচ্ছে
এদের বিকৃতি চিন্তা-চেতনার ফলে দেশের শিক্ষা পরিস্থিতির আজ কঠিন দুঃখজনক অবস্থা
আর একটিবার যদি কোন প্রকার অযৌক্তিক ইস্যুতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়, তবে স্বাধীন, উন্নয়নশীল এই বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষা সেক্টর "অন্ধকার যুগে"র কলংক কলংকিত হবে
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে ঠিকই, তবে শিক্ষা কার্যক্রম এখন স্বাভাবিক হয় নি; কোন দূর্যোগ, মহামারিকালীন কোন সেক্টর ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা জন্য একটি সময় পার করা হয়