content stringlengths 0 129k |
|---|
পল্লী বিদ্যুতের শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমে এই অঞ্চলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করায় বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে এসব এলাকার প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক |
১. আল্লাহর সার্বভৌম ও সার্বিক ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা : ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহঃ) বলেছেন, 'সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার, তাঁর সঙ্গে শরীক করা, নিজেকে তাঁর সমকক্ষ দাবী করা কিংবা তাঁকে বাদ দিয়ে নিজেকে মা'বূদ আখ্যা দেওয়া সবচেয়ে বড় পাপ |
শেষোক্ত দু'টি পাপও মানুষ করেছে |
মিশররাজ ফেরাঊন আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেকে মা'বূদ বা উপাস্য বলে দাবী করেছিল |
সে বলেছিল,مَا عَلِمْتُ لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرِيْ 'হে আমার পারিষদবর্গ! আমি ছাড়া তোমাদের আর কোন উপাস্য আছে বলে তো আমি জানি না' (ক্বাছাছ ২৮/৩৮) |
সে আরো বলেছিল, أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى 'আমিই হচ্ছি তোমাদের সবচেয়ে বড় প্রভু' (নাযি'আত ৭৯/২৪) |
সে মূসা (আঃ)-কে বলেছিল,لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَهاً غَيْرِيْ لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِيْنَ 'যদি তুমি আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মা'বূদ হিসাবে গ্রহণ কর তাহ'লে আমি অবশ্যই তোমাকে জেলে ভরব' (শু'আরা ২৬/২৯) |
তার জাতি এ কথা হাল্কাভাবে নিয়েছিল এবং তার প্রভুত্ব মেনে নিয়েছিল |
ইবলীস শয়তানও চায় যে, মানুষ তার ইবাদত করুক এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে তার কথা মেনে চলুক; আনুগত্য ও ইবাদত কেবল সেই লাভ করুক, আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য মোটেও না করা হোক |
ফেরা'ঊন ও ইবলীসের এহেন প্রবণতা বদমায়েশি ও মূর্খতার চূড়ান্ত পর্যায়ভুক্ত |
সকল মানুষ ও জিনের অন্তরে এরূপ দাবীর মানসিকতা কিছু না কিছু বিরাজ করে |
বান্দা আল্লাহ তা'আলার সাহায্য ও হেদায়াত না পেলে তার পক্ষে ফেরাঊন ও ইবলীসের মত একটা কিছু করে ফেলা অসম্ভব নয় |
২. আমলের মাঝে একনিষ্ঠতার অভাব দেখা দেয়া : রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাপ্রার্থীর চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকে ক্ষমতায় আসীন হওয়া এবং বরাবরের মতো তা ধরে রাখা |
ফলে তার মিত্রতা-শত্রুতা, দেয়া-না দেয়া, ঘৃণা-ভালবাসা সবকিছুই ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় |
এমতাবস্থায় তার কোন কাজে ইখলাছ বা সদিচ্ছা থাকে না |
ফলে সে ধ্বংসশীলদের শ্রেণীভুক্ত হয়ে পড়ে |
৩. ক্ষমতা না পেলে হাত গুটিয়ে বসে থাকা : ক্ষমতালোভী ব্যক্তি ক্ষমতা না পেলে কাজ না করে হাত গুটিয়ে বসে থাকে |
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দানে সে কৃপণতা করে |
বরং অনেক সময় সে অপর পক্ষ যাতে ব্যর্থ হয় সে আশায় তাকে এড়িয়ে চলে |
ব্যর্থ হ'লে সে তার স্থলে নেতৃত্ব দিতে পারবে সেজন্য |
৪. লোকের দোষ আলোচনা এবং অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করা : ক্ষমতাপ্রিয় প্রত্যেক ব্যক্তিই অন্যদের দোষ-ত্রুটি সমালোচনা করতে খুব ভালবাসে |
সে বুঝাতে চায় পূর্ণ যোগ্যতা কেবল তার মধ্যেই আছে |
তার সামনে কেউ অন্যের গুণগান করুক- তা সে মোটেও পসন্দ করে না |
যে ক্ষমতার প্রেমে মাতোয়ারা হয় তার নিকট থেকে সৎ গুণগুলো বিদায় নেয় |
৫. দ্বীনদারী ও বিদ্যা-বুদ্ধিতে তার থেকে কেউ শ্রেয় আছে বলে সে মানতে নারায : সে অন্যদের যোগ্যতা ও মাহাত্ম্য লুকিয়ে রাখে, তাদের তথ্যাদি জানতে দিতে চায় না- যাতে মানুষ তাদের খোঁজ না পায় |
কেননা তারা তাদের কথা জানতে পারলে তাকে ছেড়ে ওদের কাছে চলে যাবে |
আবার পারস্পরিক তুলনা করে হয়তো তার মর্যাদা কম গণ্য করতে পারে |
৬. ক্ষমতা হারিয়ে গেলে কিংবা কেড়ে নেওয়া হ'লে আফসোস করা : ক্ষমতাই যার ধ্যান ও জ্ঞান তার হাত থেকে যখন ক্ষমতা অন্যের হাতে চলে যায়, তখন তার মন দুঃখ-বেদনায় কাতরাতে থাকে এবং আফসোস-অনুশোচনায় জ্বলে-পুড়ে যায় |
৭. জনগণের সামনে দাম্ভিকতা প্রকাশ এবং তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা : মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে একটি কাজের দায়িত্বভার অর্পণ করেন |
(তিনি তাঁকে এক এলাকার গভর্ণর নিযুক্ত করেছিলেন |
) আমি দায়িত্ব পালন শেষে মদীনায় ফিরে এলে তিনি বললেন, মিকদাদ, সরকারী দায়িত্ব কেমন অনুভব করলে? আমি বললাম, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)! আমার কেবলই মনে হয়েছে, সকল মানুষ আমার অধীনস্ত দাস-দাসী |
আল্লাহর কসম! আগামীতে আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন আর কোন কাজের দায়িত্ব নেব না' |
ইবনু হিববান বলেন, 'সুলতান বা ক্ষমতাধরদের নিকট যাদের আনাগোনা ও ওঠাবসার সুযোগ ঘটে তাদের অবশ্য কর্তব্য হ'ল ক্ষমতাসীনের গালিকে গালি মনে না করা, তার কড়া কথা ও ব্যবহারকে কড়া মনে না করা এবং তার অধিকার প্রদানে গড়িমসি করাকে অপরাধ মনে না করা |
কেননা তার কথা ও কাজের কঠোরতা ও বাড়াবাড়ির মাঝেই ইয্যত প্রাপ্তির সুযোগ মিলবে' |
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, কোন লোক ক্ষমতা লাভ করলে তার অনেক সঙ্গী-সাথী ক্ষমতা লাভের আগে সে তাদের সাথে যেমন আচরণ করত, ক্ষমতা লাভের পরেও তার থেকে তেমন আচরণ প্রত্যাশা করে |
কিন্তু তা না পাওয়ার দরুন তাদের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক টুটে যায় |
এটা ঐ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যাশী সঙ্গীর অজ্ঞতা |
সে যেন একজন মাতাল সঙ্গী থেকে তার স্বাভাবিক সুস্থ অবস্থার সময়কালীন আচরণ কামনা করছে |
এটা তো কখনো হবার নয় |
কেননা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা মাদকের মতই এক প্রকার নেশা, এমনকি তার থেকেও মারাত্মক |
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যদি নেশাকর না হ'ত তবে এই ক্ষমতার পূজারীরা কখনই চিরস্থায়ী পরকালের বদলে তা গ্রহণ করত না |
সুতরাং তার নেশা চা-কফির নেশা থেকেও অনেক অনেক বেশী |
আর চরম নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ-সবল মানুষের আচরণ লাভ অসম্ভব |
[4] তাই আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টির মহান ব্যক্তিত্ব মূসা (আঃ)-কে মিশরের কিবতী (কপটিক) সম্প্রদায়ের প্রধান নেতা ফেরা'ঊনের সাথে বিনয়-নম্র ভাষায় সম্ভাষণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন,فَقُوْلاَ لَهُ قَوْلاً لَيِّنًا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى 'তোমরা দু'জন তাকে নরম ভাষায় বুঝাও |
হ'তে পারে সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভীত হবে' (ত্বা-হা ২০/৪৪) |
সুতরাং রাষ্ট্রনায়ক বা ক্ষমতাসীনদের সাথে বিনম্র বচনে কথা বলা শরী'আত, বিবেক, প্রথা ইত্যাদি সবকিছুরই দাবী |
কিন্তু অনেক সময় লোকে তা করে উঠতে পারে না বলে সমস্যা সৃষ্টি হয়' |
৮. অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালনে আল্লাহর সাহায্য না পাওয়া : ইবনু রজব বলেছেন, রাষ্ট্রক্ষমতালিপ্সু খুব কম লোকই এমন মেলে যার কাজে-কর্মে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সাহায্য মেলে |
বরং তাকে তার নিজের যিম্মায় সোপর্দ করা হয় |
যেমনটা নবী করীম (ছাঃ) আব্দুর রহমান ইবনু সামুরা (রাঃ)-কে বলেছিলেন,يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ، لاَ تَسْأَلِ الإِمَارَةَ، فَإِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ مَسْأَلَةٍ وُكِلْتَ إِلَيْهَا، وَإِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ أُعِنْتَ عَلَيْهَا، 'হে আব্দুর রহমান! তুমি ইমারত বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা চেয়ো না |
কেননা চাওয়ার দরুন তোমাকে যদি তা দেওয়া হয়, তবে তোমাকে তার নিকট সোপর্দ করা হবে; আর যদি না চাইতে তোমার তা মেলে তাহ'লে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) তুমি সাহায্যপ্রাপ্ত হবে' |
ইয়াযীদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মাওহিব ছিলেন একজন নেক্কার ও সুবিচারক |
তিনি প্রায়শ বলতেন, যে সম্পদ ও সম্মান ভালবাসে, কিন্তু সেজন্য মুছীবতে পড়ার ভয় করে সে তাতে সুবিচার বজায় রাখতে পারে না |
আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ) হ'তে বর্ণনা করেছেন, إِنَّكُمْ سَتَحْرِصُوْنَ عَلَى الإِمَارَةِ، وَسَتَكُوْنُ نَدَامَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَنِعْمَتِ الْمُرْضِعَةُ وَبِئْسَتِ الْفَاطِمَةُ 'অচিরেই তোমরা রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের জন্য অবশ্যই পাগলপারা হয়ে উঠবে |
কিন্তু ক্বিয়ামতের দিন তা আফসোসের কারণ হবে |
তার সূচনা তো কত ভাল, কিন্তু তার পরিণতিটা কত মন্দ'![7] |
৯. কাফির-মুশরিকদের সাথে সখ্যতা : কাফির-মুশরিকদের সঙ্গে মুসলিম রাজা-বাদশাহদের সখ্যতা ঐতিহাসিকভাবেই সুবিদিত |
স্পেনের বাদশাহগণ এমনটা করে তাদের ধ্বংস ত্বরান্বিত করেছিলেন |
বর্তমান যুগে অমুসলিম নাস্তিক মূর্তিপূজকদের সঙ্গে সখ্যতা ও তাদের আদর্শ গ্রহণে প্রতিযোগিতা চলছে |
তাদের কোন সংস্থার পদ লাভ, তাদের কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ডিগ্রী কিংবা তাদের কোন আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভের আশায় তারা নিজেদের স্বকীয়তা বিকিয়ে দেয় |
১০. সত্য দ্বীন ইসলাম গ্রহণে অনীহা এবং বিদ'আত ও বাতিল মত অবলম্বন : কবি আবুল আতাহিয়া বলেছেন, |
أخي من عشق الرئاسة خفت أن *يطغى ويحدث بدعة وضلالة |
'ভাইয়া আমার, যে কি-না রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রেমে দিওয়ানা তার সম্পর্কে আমার ভয় হয় সে আল্লাহর দেয়া সীমালংঘন করবে অথবা বিদ'আত ও বাতিল পথ অবলম্বন করবে' |
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, 'রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও জীবিকা দ্বীন গ্রহণের অন্যতম বাধা |
আমরা ও আরো অনেকে শাসকদের পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি |
তাদের সামনে যখন তাদের মতাদর্শ ভ্রান্ত বলে ধরা পড়েছে, তখন তারা বলেছে আমরা যদি ইসলাম গ্রহণ করি তাহ'লে নিম্ন শ্রেণীর মুসলমান বলে গণ্য হব, আমাদের মান-মর্যাদা বলে কিছুই থাকবে না |
অথচ দেখ, আমাদের জাতির ধন-সম্পদ, পদ-পদবী সব কিছুর উপর আমরা কর্তৃত্ব করছি, তাদের মাঝে আমাদের মর্যাদা কত উঁচুতে |
ফেরাঊন ও তার দলবলের মূসা (আঃ)-এর অনুসরণে এছাড়া আর কোন বাধা ছিল কি'?[8] |
তিনি আরো বলেছেন, মানবকুলে কিছু লোক সব সময়ই বাতিলকে গ্রহণ করে |
কিছু লোক তা গ্রহণ করে অজ্ঞতা এবং ব্যক্তি বিশেষের প্রতি সুধারণা হেতু তার অন্ধঅনুসরণ বশত |
আবার কেউ বাতিলকে বাতিল জেনেও অহঙ্কার ও বাড়াবাড়ি বশত তা অবলম্বন করে |
কেউবা আবার জীবিকা, পদ কিংবা ক্ষমতার লোভে পড়ে বাতিলকে আঁকড়ে ধরে |
কেউবা হিংসা ও বিদ্বেষবশত তা অবলম্বন করে |
অনেকে আবার প্রেম-ভালবাসায় মজে গিয়ে তা গ্রহণ করে |
কেউবা আবার ভয়ে এবং কেউবা আরাম-আয়েশে বিভোর হয়ে বাতিলকে বেছে নেয় |
সুতরাং কুফর অবলম্বনের কারণ শুধুই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও জীবন-জীবিকার প্রতি ভালবাসা নয়' |
১১. রাজা-বাদশাহদের প্রিয়পাত্র হওয়া এবং তাদের সাথে ওঠাবসা করা : ইবনু রজব বলেছেন, যালিম সরকারের নিকট যে বা যারা যাতায়াত করে তাদের বেলায় বড় ভয় যা জাগে তা হ'ল, তাদের মিথ্যা কথাকে এরা সত্য বলে সত্যায়ন করবে এবং তাদের যুলুম-অত্যাচারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে |
হ'তে পারে সে সাহায্য বাধা না দিয়ে নীরব থাকার মাধ্যমে |
কেননা যে সম্মান ও ক্ষমতার মোহে ক্ষমতাধরদের দরবারে যাতায়াত করে, স্বভাবতই সে তাদের কোন কিছুতে নিষেধ করতে যাবে না |
বরং অধিকাংশ সময় সে তাদের মন্দ কাজ-কর্ম খুব সুন্দর কাজ বলে আখ্যায়িত করে তাদের নৈকট্য লাভের জন্য |
যাতে করে তাদের নিকট তার অবস্থান ভাল হয় এবং তার উদ্দেশ্য সাধনে তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় |
কা'ব ইবনু উজরা (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ) হ'তে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, শীঘ্রই আমার পরে কিছু শাসকের আবির্ভাব ঘটবে |
যারা তাদের সঙ্গে ওঠাবসা করবে আর তাদের মিথ্যাকে সত্য গণ্য করবে এবং তাদের যুলুম-নিপীড়নে সাহায্য-সহযোগিতা করবে তারা না আমার দলভুক্ত থাকবে, না আমি তাদের দলভুক্ত থাকব |
তারা (কিয়ামতের দিন) হাওযে কাওছারের তীরে অবতরণ করতে পারবে না |
আর যারা তাদের সাথে ওঠা-বসা করবে না, তাদের যুলুম-নির্যাতনে সহযোগিতা করবে না এবং তাদের মিথ্যাকে সত্য গণ্য করবে না তারা আমার দলভুক্ত এবং আমিও তাদের দলভুক্ত |
তারা হাওযে কাওছারে অবতরণ করবে' |
পূর্বসূরিদের অনেকেই এজন্য যারা রাজা-বাদশাহদের সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করতে আগ্রহ প্রকাশ করত তাদেরকে ওদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতেই নিষেধ করতেন |
এই নিষেধকারীদের মধ্যে রয়েছেন ওমর বিন আব্দুল আযীয, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, সুফিয়ান ছাওরী প্রমুখ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ |
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেছেন, আমাদের মতে, যে শাসকদের নিকট যায় এবং তাদের আদেশ-নিষেধ করে সে আদেশদাতা ও নিষেধকর্তা নয়; বরং যে তাদের সংস্রব এড়িয়ে চলে সেই আদেশদাতা ও নিষেধকর্তা |
এর কারণ, তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও উঠা-বসায় ফিতনায় জড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে |
দূর থেকে মনে হয় শাসকদের সে ভাল কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ করবে, মন্দ কাজের জন্য হম্বি তম্বি করবে |
কিন্তু যখন কাছে আসে তখন আর এ সবের কোনটাই হয়ে ওঠে না; বরং মন তাদের দিকে ঝুঁকে যায় |
কেননা পদ ও মর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষা তো মানুষের মনের মাঝে সুপ্ত থাকে |
এসব পাবার পথ যখন সে খোলা দেখতে পায় তখন সে শাসকদের আদেশ-নিষেধ না করে বরং তাদের তেল মালিশ ও খয়েরখাঁ গিরি করতে থাকে |
এমন করতে গিয়ে এক সময় সে ঐ অন্যায়-অপকর্মকারী যালিম শাসকদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে এবং তাদের ভালবাসতে শুরু করে |
বিশেষ করে শাসকরা যদি তার সম্মান দেয় এবং মূল্যায়ন করে তখন তো সে আর নিজেকে সামলাতে পারে না |
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ তাঁর পিতার উপস্থিতিতে জনৈক শাসকের স্ত্ততি করলে তার পিতা তাউস তাকে এজন্য ধমকান |
সুফিয়ান ছাওরী (রহঃ) আববাদ ইবনু আববাদকে একটি পত্র লিখেছিলেন |
তাতে তিনি লিখেছিলেন, আমীর-উমারার কাছে ঘেঁষা থেকে সাবধান থাকবে |
কোন ব্যাপারেই তাদের সাথে মাখামাখি করবে না |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.