content stringlengths 0 129k |
|---|
০৮ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ২:৩৮ |
ছবিঃ আমার তোলা |
পৃথিবীটা কেন এত খারাপ? |
কেন এত নিষ্ঠুর? কেন চারদিকে সবসময়েই এত বিপদ আপদ? এত সব ঝামেলা আর গন্ডগোলের মধ্যে কী করে বেঁচে থাকবে ভবিষ্যত প্রজন্ম? সকালে ঘুম থেকে উঠে একথাটাই মনে হলো |
অথচ রবীন্দ্রনাথ তাঁর সমস্ত শিল্পকর্ম দিয়ে একটি কথাই যেন বলতে চেয়েছেন- জীবন সুন্দর |
বিশ্বের সব শ্রেষ্ঠ কবিই মূলত মানব জাতির গৌরব |
সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য পাঠককে আনন্দ দান করা |
তাই যে সাহিত্য পড়ে পাঠক আনন্দ লাভ করে, সেটাই প্রকৃত সাহিত্য |
এখন আমি যে পোষ্ট লিখতে শুরু করেছি, সেটা নিয়ে কিছুটা বেকায়দায় আছি |
কারন, আগে থেকে ঠিক করিনি আজ কি লিখব |
কি নিয়ে লিখব |
অবশ্য সুবিধা হলো- লিখতে শুরু করলে লেখা কোথাও না কোথাও গিয়ে পৌঁছাবে |
সাথেই থাকুন |
এটা আমাদের গ্রামের গল্প |
আমাদের গ্রামে দুই নির্বোধ ছিলো |
তাদের বাপ- মা নেই |
এদের একজনের নাম লোকমান, আরেক জনের নাম ভোলা |
স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫ বছর আগে কোথা থেকে জানি আমাদের গ্রামে এসে হাজির হয় |
তখন তাদের বয়স অল্প ছিলো |
গ্রামের লোকজন তাদের সহজ ভাবেই গ্রহন করে |
গ্রামের মানুষ ভাবলো- দুই একটা ছন্নছাড়া গ্রামে থাকা ভালো |
এদের একপেট ভাত খাইয়ে অনেক কাজ করানো যায় |
যেদিন যে বাড়ির কাজ করবে সেদিন সে বাড়িতে ভাত খাবে |
দেখা গেলো- তাঁরা অনেক পরিশ্রমী |
কাজে ফাঁকি দেয় না |
তাদের যে কাজ'ই দেওয়া হোক তাঁরা আপ্রান চেষ্টা করে কাজটা সুন্দর ভাবে শেষ করতে |
টাকা পয়সা চায় না |
এক থালা ভাত পেলেই খুশি |
ভাতের সাথে বাসী তরকারী পেলেও মহা খুশি হয় |
একসময় দেখা গেলো- লোকমান আর ভোলা আমাদের বাড়িতে থাকে |
দাদা কলকাতা থেকে আশার সময় একবার লোকমান আর ভোলার জন্য দুটা লুঙ্গি আর পাঞ্জাবী নিয়ে আসে |
লুঙ্গি আর পাঞ্জাবি পেয়ে তাঁরা অনেক খুশি |
খুশিতে অনেকক্ষন কান্না করলো |
আমার দাদা বিকেলে প্রতিদিন পদ্মার পারে হাঁটতে যান |
তাঁরা দুইজনই দাদার সাথে থাকে সারাক্ষণ |
দাদা প্রতিমাসে একবার নৌকায় করে পদ্মানদীতে ঘুরে বেড়ান |
জমিজমার খোঁজ খবর করেন |
সেই নৌকা চালায় লোকমান আর ভোলা |
এমন কি লোকমান আমার দাদার পা টিপে দেয় |
আর ভোলা দাদার তামুক এগিয়ে দেয় |
দাদা ওদের পারফরমেন্সে খুব খুশি |
একদিন লোকমান আর ভোলা সাহস করে দাদাকে বললেন, আমাদের টাকা দেন |
আমরা ব্যবসা করবো |
কামলা খাটতে মন চায় না |
দাদা বললেন, ব্যবসা তোমরা পারবে না |
তোমরা বোকা |
ব্যবসা করতে হয় চালাক চতুর মানুষদের |
লোকমান বলল, কি করলে চালাক চতুর হবো? |
কমলা নামের এক মেয়ের প্রেমে পড়লো তাঁরা দুজনেই |
কমলা চৌধুরীদের বাড়িতে কাজ করে |
দেখতে আহামরি কিছু না |
গালের হনু বের গেছে |
কথা বললে মাড়ি বের হয়ে যায় |
হাত পা গুলো দেখতে ব্যাটাছেলেদের মতোন |
কমলা কাকে পছন্দ করে সেটা স্পষ্ট না |
একদিন কমলাকে পুকুর পাড়ে লোকমান আর ভোলা ধরলো |
বলল, আমরা দুজনই তোমাকে ভালোবাসি |
কিন্তু তুমি তো দুজনকে বিয়ে করতে পারবে না |
এখন তুমি বলো- আমাদের দুজনের মধ্যে তুমি কাকে বিয়ে করতে রাজী আছো? কমলা বলল, তোমাদের কাউকেই বিয়ে করবো না |
কারন তোমরা কামলা |
তোমাদের বাড়ি নেই |
আচ্ছা, ঠিক আছে- তোমাদের দুজনকেই এক বছর সময় দিলাম |
বাড়ি করো, টাকা করো |
লোকমান আর ভোলা টাকা কামানোর উদ্দ্যেশে কাউকে কিচ্ছু না জানিয়ে ঢাকা গেলো |
শহরে এসেছে লোকমান আর ভোলা |
তাদের ভালো কাজ দরকার |
তাঁরা অনেক টাকার মালিক হতে চায় |
গাড়ি, বাড়ি করতে চায় |
সুন্দরী মেয়ে কমলাকে বিয়ে করতে চায় |
তার জন্য দরকার টাকা |
সারা শহর ঘুরেও তাঁরা কাজ পায়নি |
অচেনা অজানা লোককে কে কাজ দিবে এই শহরে? লোকমান শহরে এসে কিভাবে যেন গাড়ি চালানোটা শিখে ফেলে |
আর ভোলা কি করবে ভেবে পায় না |
একদিন তাঁরা ঠিক করলো এই শহর ভালো মানুষদের জন্য না |
কত মানুষের হাতে পায়ে ধরলো কাজের জন্য কিন্তু কেউ এগিয়ে এলো না |
তাঁরা ঠিক করলো তাঁরা অপহরন করবে |
যেই ভাবা সেই কাজ |
রাস্তায় এক মেয়েকে অপহরন করলো |
মেয়েকে মুহুর্তের মধ্যে গাড়িতে ঢুকিয়ে ফেলল |
কিন্তু কপাল খারাপ |
গাড়ি স্টার্ট নিলো না |
মেয়েটার চিৎকার চেচামেচিতে পুলিশ এসে পড়লো |
ভোলা বলল, বিরাট মিসটেক হয়েছে |
সিনেমা দেখে অপরহন করতে গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা পড়লাম |
আমার দাদা থানা থেকে তাদের ছাড়িয়ে আনলেন |
লোকমান আর ভোলা দাদার পা ধরে কান্না করলো খুব |
তাঁরা ভুল করেছে |
জীবনে আর এরকম করবে না |
এরপরে তিন বছর পার হয়ে গেলো |
লোকমান আর ভোলার খুব শখ তাঁরা কলকাতা যাবে |
এই শখ দাদাকে মিটাতেই হবে |
একদিন দাদা তাদের কলকাতা নিয়ে গেলেন |
দাদার বাড়ি কলকাতা বৈঠকখানা রোডে |
কলকাতা শহর দেখে লোকমান আর ভোলা একদম মুগ্ধ |
দাদাকে তাঁরা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে- এই শহর ছেড়ে তাঁরা আর কোথাও যাবে না |
কলকাতা হলো যাদুর শহর |
তখন দাদা তার নিউজ প্রিন্ট কাগজের কারখানায় কাজে লাগিয়ে দিলেন |
বললেন, এই শহর যাদুর শহর নয় |
এটা ভয়াবহ দুষ্টলোকদের শহর |
এই শহরে তোমরা টিকে থাকতে পারবে না |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.