content
stringlengths
0
129k
তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিন
সেই সাথে মহান আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তায়ালা আমাদের সীরাতুল মুস্তাকীমে রাখুন
আমাদের ঈমানের পথে অবিচল থাকার সাহস দান করুন
আমরা যাতে কুরআন থেকে আলাদা না হয়ে যাই
আমরা যাতে সেক্যুলারদের ফিতনায় না পড়ি
রাষ্ট্রব্যবস্থা ও কুরআন একসাথে রাখার আন্দোলন তথা ইকামাতে দ্বীনের আন্দোলন আমরা যেন চালিয়ে নিয়ে যেতে পারি
মহান রব আমাদের তাওফিক দান করুন
আমরা যেন দ্বীন কায়েমের পথে শহীদ মাওলানা তিতুমীরের মতো জীবন দিতে পারি! আল্লাহ তায়ালা আমাদের কবুল করুন
:
১৭ নভেম্বর, ২০২১
ইতিহাস, রাজনীতি
মাওলানা ভাসানীর সাতকাহন
নভেম্বর ১৭, ২০২১
বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও কম্যুনিজমকে একসাথে লালনকারী নেতা ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
নিজে মাওলানা নামধারী হলেও রাজনীতিতে ইসলামকে প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ছিল তার ঘোর আপত্তি
আজ ১৭ নভেম্বর
আজ থেকে ৪৫ বছর আগে ১৯৭৬ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন
আব্দুল হামিদ খান ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি সিরাজগঞ্জের একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন
তার পিতা হাজী শারাফত আলী
ছেলে-মেয়ে বেশ ছোট থাকা অবস্থায় হাজী শারাফত আলী মারা যান
কিছুদিন পর এক মহামারীতে বেগম শারাফত ও দুই ছেলে মারা যায়
বেঁচে থাকেন ছোট শিশু আব্দুল হামিদ খান
পিতৃহীন হামিদ প্রথমে কিছুদিন চাচা ইব্রাহিমের আশ্রয়ে থাকেন
ওই সময় ইরাকের এক আলেম ও ধর্ম প্রচারক নাসির উদ্দীন বোগদাদী সিরাজগঞ্জে আসেন
হামিদ তার আশ্রয়ে কিছুদিন কাটান
এরপর ১৮৯৩ সালে তিনি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার জমিদার শামসুদ্দিন আহম্মদ চৌধুরীর বাড়িতে লজিং থাকেন
সেখানে তিনি মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন এবং জমিদারের ছেলে-মেয়েকে পড়ানোর দায়িত্ব নেন
১৮৯৭ সালে পীর নাসির উদ্দীনের সাথে আসাম যান
সেখানে পীরের সাথে দাওয়াতের কাজ করেন
উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯০৭ সালে দেওবন্দ মাদ্রসায় যান
দুই বছর সেখানে অধ্যয়ন করে আসামে ফিরে আসেন
সেখানে মাদ্রাসায় পড়ান ও দাওয়াতের কাজ করেন
১৯১৭ সালে দেশবন্ধু নামে পরিচিত চিত্তরঞ্জন দাস ময়মনসিংহ সফরে গেলে তার ভাষণ শুনে ভাসানী অণুপ্রাণিত হন
১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগদান করে অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে দশ মাস কারাদণ্ড ভোগ করেন
১৯২৩ সালে গান্ধীর সাথে বিরোধ করে চিত্তরঞ্জন
গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলে চিত্তরঞ্জন কংগ্রেস ত্যাগ স্বরাজ্য পার্টি গঠন করেন
ভাসানী স্বরাজ্য পার্টিতে যোগ দেন এবং আসামে এই দল সংগঠিত করার ব্যাপারে ভূমিকা পালন করেন
চিত্তরঞ্জনের সাথে থেকেই ভাসানী কম্যুনিস্ট আন্দোলনের সাথে পরিচিত হন এবং কম্যুনিজম দ্বারা প্রভাবিত হন
১৯২৫ সালে তিনি তার লজিং ছাত্রী ও জমিদার কন্যা আলেমা খাতুনকে বিয়ে করেন
১৯২৬ সালে তাকে নিয়ে আসাম গমন করেন এবং আসামে প্রথম কৃষক-প্রজা আন্দোলনের সুত্রপাত ঘটান
তিনি কৃষকদেরকে কম্যুনিস্টদের চটকদার কথা শুনিয়ে তাদের নিয়ে সম্মেলন করেন
১৯২৯ সালে হওয়া ভাসান চরের এই সম্মেলনের পরেই তার নামের সাথে ভাসানী যুক্ত হয়
মাওলানা আব্দুল হামিদ ওঠেন মাওলানা ভাসানী
সহজাত নেতৃত্ব যোগ্যতার কারণে তিনি একাই কম্যুনিজমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন
১৯৩১-এ সন্তোষের কাগমারীতে, ১৯৩২-এ সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় ও ১৯৩৩-এ গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন
১৯৩৭ সালে মাওলানা ভাসানী কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলিম লীগে যোগদান করেন
জিন্নাহর দাওয়াতে ১৯৪০ সালে তিনি মুসলিম লীগের লাহোর সম্মেলনে যোগদান করেন
১৯৪৪ সালে মাওলানা ভাসানী আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন
১৯৪৫-৪৬ সালে আসাম জুড়ে বাঙালিদের বিরুদ্ধে "বাঙ্গাল খেদাও" আন্দোলন শুরু হলে ব্যাপক দাঙ্গা দেখা দেয়
এসময় বাঙালিদের রক্ষার জন্য ভাসানী বারপেটা, গৌহাটিসহ আসামের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়ান
১৯৪৭ সালে সিলেট গণভোটের সময় মারামারির অভিযোগে গ্রেফতার হন
১৯৪৮-এ মুক্তি পান
ততক্ষণে আসাম ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে
এরপর তিনি আসাম ছেড়ে টাঙ্গাইলের সন্তোষে চলে আসেন
পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করার কালে মোটাদাগে বাংলায় রাজনৈতিক দল ছিল দুইটি
এক মুসলিম লীগ, দুই কৃষক প্রজা পার্টি
১৯৪৫-৪৬ সালের পরিস্থিতিতে শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি অস্তিত্ব হারিয়েছে হিন্দুদের সাথে মিলিত হওয়ার দায়ে
একইসাথে বাংলার মানুষের কাছে ফজলুল হক প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন
তাই পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পর তিনি রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে আইন পেশায় সময় দিতে থাকেন
সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে নবগঠিত পাকিস্তানে মুসলিম লীগ ছাড়া আর কারো প্রভাব ধর্তব্য ছিল না
১৯৪৮ সালে পাকিস্তান হওয়ার পরে ঢাকায় মুসলিম লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন মাওলানা আকরম খাঁ এবং খাজা নাজিমুদ্দিন
তাদের প্রভাবে দলের মধ্যে প্রায় কোণঠাসা ছিলেন সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেম নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের অনুসারীরা
তারা মূলত ইসলামী চেতনা ধারণ করতেন না
তারা মুসলিম জাতীয়তাবাদটাকেই বেশি ধারণ করতেন
তারা মোঘলটুলিতে ১৫০ নম্বর বাড়িতে একটি কর্মী শিবির স্থাপন করেছিলেন
সেখানে তারা একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার কথা চিন্তা করছিলেন
সোহরাওয়ার্দির নির্দেশে তার অনুগত শেখ মুজিবুর রহমান কলকাতা থেকে এসে তাদের সাথে যুক্ত হন
এদিকে ভাসানী এবং তার অনুসারীরা মুসলিম লীগকে সমাজতান্ত্রিক বামধারায় রূপান্তর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন
কিন্তু ইসলামী চেতনাধারীদের তোপের মুখে সেটা সম্ভব হচ্ছিল না
তাঁর কর্মস্থল আসাম ভারতের অধীনে হওয়ায় তিনিও ঢাকায় অনেকটা প্রভাবহীন অবস্থায় ছিলেন
তখন ভাসানী মুসলিম লীগ ছেড়ে অন্য দল তৈরি করার কথা ভাবছিলেন
ভাসানী টাঙ্গাইলের আরেক মুসলিম লীগ নেতা শামসুল হককে বাঙালি জাতীয়তাবাদ বুঝান এবং তার সাথে রাখেন
ভাসানী আদর্শিক বিষয় গোপন রেখে বাঙালিদের নিয়ে আলাদা দল গঠনের উদ্যোগ নিতে থাকেন
তারই প্রস্তুতি হিসেবে সোহরাওয়ার্দির সাথে যোগাযোগ করেন
তারা সবাই মিলে একটি সভা ডাকেন
সেই সভা ডাকার প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী আর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ইয়ার মোহাম্মদ খান
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়, যার সভাপতি হন আর সেক্রেটারি শামসুল হক
সহ-সভাপতি হন আতাউর রহমান খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আলী আহমদ
শেখ মুজিবুর রহমান, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ কে রফিকুল হোসেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়
কোষাধ্যক্ষ হন ইয়ার মোহাম্মদ খান
এসময় শেখ মুজিব কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন
অন্যদিকে, পুরো পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সংগঠনটির নাম রাখা হয় নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ
আর এর সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
নিখিল পাকিস্তানে এই দলটি আসলে কার্যকর ছিল না
এটা মূলত বাঙালিদের একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে উঠেছে
এভাবেই ভাসানীর প্রত্যক্ষ প্রভাবে এই অঞ্চলের মানুষের মুসলিম চেতনা বিলুপ্ত করে বাঙালী জাতীয়তার বীজ রোপিত হয় এবং ফ্যাসীবাদী দল আওয়ামী লীগের জন্ম হয়
পূর্ববঙ্গের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৫৩ সালের ৩ ডিসেম্বর কৃষক-শ্রমিক পার্টির সভাপতি শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট নামক নির্বাচনী মোর্চা গঠন করেন
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল বিজয় অর্জন করে এবং পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদে ২৩৭ টির মধ্য ২২৮ টি আসন অর্জনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে
শেরে বাংলা ফজলুল হকের নেতৃত্বে সরকার গঠন হলেও তার সাথে ভাসানী-শেখ মুজিবের দন্দ্বে প্রাদেশিক সরকার টিকে নি
১৯৫৫ সালের শুরুর দিকে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ভাসানী মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে দলের নাম শুধু আওয়ামী লীগ করে
এই 'মুসলিম' শব্দ বাদ দেবার কারণে ২০ জন প্রাদেশিক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে দলবদ্ধ হয়
১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ-রিপাবলিকান পার্টির কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়
এর মাধ্যমে ভাসানীর দল আওয়ামী লীগ পাকিস্তানে ক্ষমতার শীর্ষে চলে যায়
সোহরাওয়ার্দি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন
মাওলানা ভাসানী সোহরাওয়ার্দিকে আমেরিকাকে বন্ধু না বানিয়ে চীনকে বন্ধু বানানোর পরামর্শ দেয়
কিন্তু বেশিরভাগ আওয়ামীলীগ ও পাকিস্তানী রাজনীতিবিদেরা কম্যুনিস্টদের অপছন্দ করতো বিধায় সেই পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি
মাওলানা ভাসানী নিজ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করেন
১৯৫৬ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে যে খসড়া শাসনতন্ত্র বিল পেশ করা হয় তাতে পাকিস্তানকে ইসলামিক রিপাবলিক বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল
এর জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ইসলামপন্থীরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছিলেন
মাওলানা ভাসানী এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন