content
stringlengths
0
129k
এখানে দর্শক গ্রিনরুমে ঢুকে পড়ে, যা কোনও সভ্য দেশে হয় না: অনির্বাণ
এর পর ২০০৮ সালে 'ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা'-তে সুযোগ পাই
ডিজাইন টেকনিক নিয়ে পড়াশোনা করি
ওটা যেন আমার স্বপ্নরাজ্য ছিল
অনুরাধা কাপুর, আদিল হুসেনের মতো শিক্ষকদের পেয়েছি
সজলের জুনিয়র ছিলেন অনির্বাণ
তবে এত কিছুর পরেওসুন্দরবনের শিকড় ভোলেননি সজল
পাশ করে ফের সুন্দরবন ফিরে আসেন
সুন্দরবনে প্রথম তিনি 'ম্যানগ্রোভ থিয়েটার সেন্টার' প্রতিষ্ঠা করেন ও বনবিবি পালার নির্দেশনা দেন
শুধু তাই নয়, সুন্দরবনে সমাজমূলক কাজেও জড়িত তিনি
আয়লা থেকে আমফান পর্যন্ত বহু কাজ করেছেন
লোকশিল্পীদের সবরকম সাহায্য করি
এছাড়াও মহিলাদের মধ্যে মেনস্ট্রুয়াল সচেতনতা নিয়ে কাজ করেন
এমন বর্ণময় চরিত্রের সঙ্গে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের পরিচয় অবশ্য রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েই
সেখামে সজলের চেয়ে এক বছরের জুনিয়র ছিলেন অনির্বাণ
সজল জানালেন, অনির্বাণ সেভাবে তাঁর শো না দেখলেও, তিনি যেহেতু নাটকের ক্লাসে ডিরেকশন দিতেন, তাই তাঁর কাজের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন অনির্বাণ
তারপর অনির্বাণ ও তাঁর স্ত্রী মধুরিমা লকডাউনের সময়ে সুন্দরবনে গিয়েছিলেন লোকাল আর্টিস্টদের সাহায্য করতে
তখন পরিচয় আরও গাঢ় হয়
'পচাদা তুমি নিজের মতো করো
সজল বললেন, "এর পরে অনির্বাণ যখন মন্দারের ডাইনি বৃদ্ধার চরিত্র আমাকে করতে বলল, সেটা করতে গিয়ে আমি আমার পর্যবেক্ষণগুলো কাজে লাগালাম
ট্রেনে আমি অনেক নিম্নবিত্ত বৃদ্ধাদের দেখেছি যারা দেখতে অনেকটা পুরুষ প্রকৃতির হয়ে যান বয়সকালে
এখানেও মেক আপ আর্টিস্ট সোমনাথদা ও তাঁর সহকারীরা আমায় সেভাবেই সাজিয়েছেন
একজন বৃদ্ধার সে অর্থে ভরা স্তন থাকে না, তাই এখানেও সেটা নেই
আর আমার মুখে প্রস্থেটিক মেক আপের ব্যবহার হয়েছে
অনির্বাণ দেখে বলল 'বাহ ঠিক আছে সজলদা!' কণ্ঠস্বর, শব্দোচ্চারণ নাটকের মতো করেই করেছি
ফুলসজ্জার স্বপ্নদৃশ্যটা অনির্বাণ বলেছিল, 'পচাদা তুমি নিজের মতো করো
' তাই করেছি
শাড়ি পরে যে অভিনয় করেছি, সেটা এই ভেবেই করেছি যে একজন থিয়েটার আর্টিস্টকে সবরকমের রোল করতে হয়
যেভাবে মজনু বুড়িতে অনির্বাণ আমাকে কাস্টিং করেছে সেটা আমার সৌভাগ্য
কিন্তু পরবর্তীকালে অন্য পরিচালকরা কি আমাকে সেভাবে ব্যবহার করবেন? জানি না
উচ্ছ্বাস সাময়িক, ভুলে যেতে সময় লাগে না ইন্ডাস্ট্রির
এই অভিযোগ, আক্ষেপের কারণ আছে বৈকী
মন্দারের লাইমলাইটে হয়তো সেসব সাময়িক ভাবে ঢেকে যাবে
কিন্তু জীবনযুদ্ধের কাণ্ডারী সজল অভিজ্ঞতা থেকে ভালই জানেন, উচ্ছ্বাস আদতেই সাময়িক
বলছিলেন, "একবার খ্যাতির শীর্ষে উঠে, সেলেব্রিটি হয়েও, একটা সময় ইন্ডাস্ট্রি থেকে আমায় দূরে সরে যেতে হয় বা সরিয়ে দেওয়া হয়
এগুলো আমি ফেস করেছি
তাই লোক জানিয়ে সাফল্য উদযাপন করতে ইচ্ছে হয় না
নিজের কাজে নিজেকে মনযোগী রাখি
থিয়েটারকে কেউ ডমিনেট করতে পারে না: অনির্বাণ ভট্টাচার্য
কলকাতার সমালোচক মহল নিয়েও ক্ষোভ আছে তাঁর
বললেন, "কলকাতায় সবাই যা দেখে, সেটাই বলে খুব ভাল বলে গণ্য হয়
কেউ সমালোচনা করতে চায় না
সব পরিচালক, অভিনেতা সমালোচনা নিতেও পারেন না
কিন্তু ক্রিটিসাইজ করলে তো সৃষ্টিটা আরও সুন্দর হবে! আমার ওপরওয়ালা আমাকে সেই চোখটা দিয়েছেন
অনেকে ভাবে আমি নাক উঁচু, আমি সব কাজ করি না
হ্যাঁ, এ কথা সত্যি, যে আমি আমার কাজের ব্যাপারে সচেতন
তাই বেছে কাজ করি
হয়তো আগামী দিনে আমাকে বেশি নাও দেখা যেতে পারে
নিজেও কারও কাছে যাইনি এতদিন, 'কাজ দাও কাজ দাও' বলে
যে ক'জন ডেকেছেন, ভাল লাগলে কাজ করেছি
ভালবাসা, ভরসা থেকেই ডেকেছেন অনির্বাণ
কাজের স্বাধীনতা আর কনটেন্টের উৎকর্ষও একটা নির্মাণকে আরও নিখুঁত করে তোলে বলে বিশ্বাস করেন সজল
তিনি বলেন, "সত্যি কথা বলতে, অভিনয় করার স্বাধীনতা সব হাউস দেয় না, এখানে যেমন অনির্বাণ দিয়েছে আমায়
স্ক্রিপ্ট, চিত্রনাট্য যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে সব কাজই ভাল হয়
প্রতীক আর অনির্বাণ দুজনে স্ক্রিপ্ট করেছে মন্দারের
আর একজন আমাদের সহযোগিতা করেছে, দারুণ ছেলে, অরিত্রপ্রতিম
সবাই রবীন্দ্রভারতীর ছেলে
সবাই আমাকে পচাদা বলে চেনে
একটু ভালবাসা, ভরসা থেকেই অনির্বাণ বোধহয় মনে করেছে এই ডাইনির রোলে পচাদাকেই চাই, পচাদাকে দিয়েই করাব
আমি না হয়ে এখানে অন্য কেউ করলে সে পঞ্চাশ শতাংশ উতরে যেত অনির্বাণের চিত্রনাট্য পরিচালনা আর সোমনাথ কুণ্ডুর মেক আপে
আর বাকি পঞ্চাশ শতাংশ তাকে নিজেকে জয় করতে হত
" সত্যি কথা বলতে, মন্দারের মাধ্যমে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেও খুব উচ্ছ্বসিত হতে পারেন না সজল
বলছিলেন সে কথাই
২০০২-০৩ সালে বিজ্ঞাপন নির্মাতা অমিত সেনের সঙ্গে বহু কাজ করেছেন তিনি
সে সময় তিনিও সেলেব্রিটি ছিলেন, টিভি খুললে তাঁকে দেখা যেত
অভিনেতা ভোলা তামাং আর তিনি বম্বেও গেছিলেন, 'পার্লে চয়েস মারি' বিস্কুটের বিজ্ঞাপনে
মটন মশা মারার ধূপ, তুমি ক্যান্ডি- অনেক বিজ্ঞাপন ছিল তখন তাঁর
সে সময় অভীক মুখার্জীর পরিচালনায় ঋতুপর্ণ ঘোষ দুর্গাপুজো নিয়ে একটা তথ্যচিত্র করেন, সেই ছবিতেও তিনি অভিনয় করেন
লাহা বাড়িতে শ্যুট হয়
তবে অনেক কাজ করেও প্রচারের আলো পাননি
'মন্দার'-এর পরে কী হয়, সেটাই দেখার
উত্তরবঙ্গবর্ধমানপূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরহাওড়া ও হুগলিপুরুলিয়া বীরভূম বাঁকুড়াউত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনানদিয়া মুর্শিদাবাদ
সম্পাদকের পাতা
আমাদের মতনিবন্ধসম্পাদক সমীপেষুবইপত্র
ফুটবলক্রিকেট
সাজকথারান্নাবান্নাসম্পর্কবেড়ানোঅন্দরকথাস্বাস্থ্যই সম্পদ
জ্যোতিষকথাশুভ দিনআজ জন্মদিন হলেআপনার প্রশ্ন জ্যোতিষীর উত্তর
আপনার টাকাসোনার দামরুপোর দামজ্বালানির দাম
রবিবাসরীয়পত্রিকাঅবসরকুইজ
পাত্রপাত্রী
© 2021 . .
০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার
     
প্রথম পাতা
পশ্চিমবঙ্গ
উত্তরবঙ্গবর্ধমানপূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরহাওড়া ও হুগলিপুরুলিয়া বীরভূম বাঁকুড়াউত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনানদিয়া মুর্শিদাবাদ
সম্পাদকের পাতা
আমাদের মতনিবন্ধসম্পাদক সমীপেষুবইপত্র
ফুটবলক্রিকেট
জীবন+ধারা
সাজকথারান্নাবান্নাসম্পর্কবেড়ানোঅন্দরকথাস্বাস্থ্যই সম্পদ
জ্যোতিষকথাশুভ দিনআজ জন্মদিন হলেআপনার প্রশ্ন জ্যোতিষীর উত্তর
আপনার টাকাসোনার দামরুপোর দামজ্বালানির দাম
রবিবাসরীয়পত্রিকাঅবসর
সাত পাকে বাঁধা
পাত্রপাত্রী