content
stringlengths
0
129k
ইড়া পিঙ্গলার তেজদীপ্তি নিয়েই তো তারা ডান-বামের শিরোপা ধরেছে
পূর্ণচন্দ্রকে বাউল প্রেম বলেন
প্রেমের ভেতরে তো চিরকালই নরম মাধুর্য এক জ্বলজ্বল করে, বাউল তাই পূর্ণচন্দ্রকে প্রেম প্রতীকে রেখেছেন
ক্ষীরকেও প্রেম নামেই অভিহিত করে থাকেন তারা
ক্ষীরের জমাট নরম মিষ্টতার সঙ্গে প্রেমের ভাষার উৎসার তো সঠিক অর্থেই যায়
নীর তাঁদের কাম বা রজ
আভিধানিক নীর তো জলসূচক
রজ উন্মোচিত আবরণ তাই সে নিয়েছে বাউল-প্রতীকে
তিন, ছয়, পাঁচ প্রতীকেও তো শরীরের কেন্দ্রগত সব মাংসময়তা আছে
দেহে সপ্তস্বর্গ, সপ্ত পাতালের কথা বলেছেন রাধাশ্যাম গানে
শরীরস্থ প্রলয়ঙ্কর শক্তি সব
সাধকগণ তাঁদের প্রতীকময়তার দেহেই জীবন্ত করে রেখেছে
দেহ ব্ৰহ্মাণ্ড
নিয়েই সহজিয়া তাই অন্তর্লোকের অনুসন্ধিৎসাকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন গুরুর সংযুক্ত আধারে
দেহকে বাউল 'পরম পুরুষ' হিসাবে দেখেন
দেহ আত্মোপলব্ধির একেকটি স্তর
গুরু নির্দেশিত সেই স্তর ভেদ করে সাধক আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে উপণীত হন
আধ্যাত্মিক এই বিকাশ বাউল সাধকের আত্মিক বিকাশ
যুগল সাধনে শরীরস্থ অস্থি চর্মময় আধারে তারা মহারসের আনন্দধারা উপলব্ধ করে থাকেন
বাউল ক্রিয়ামূলক আচরণে চক্রস্থ নাড়িকে সতেজ করে, ষড়রিপুকে দমন করে পঞ্চভূতকে, সপ্তপাতাল আর
সপ্তস্বর্গকে বিকশিত করে সঙ্গিনীর শরীরে সাড়ে চব্বিশ চন্দ্র ছুঁয়ে, অষ্টম ইন্দুকে প্রতিলব্ধ করে 'অটল' হয়ে ওঠেন
.....-কালী তো রতিযোগের নারী ক্রিয়াশীল
তিন রতির এক রতি হল গিয়ে কালী
বিপরীত বিহার করছেন তিনি
শিব নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে
যেন মরে রয়েছে
যুগল সাধনায় নিষ্ক্রিয় শিবকে, পুরুষকে তো শক্তি জাগায়
তাই পুরুষ ব্রহ্মলাভের জন্য শক্তিরূপা কালীর কামনাকে হরণ করে নেন
নিণা কালী অর্থাৎ কামনা সগুণা হয়
আর তা হলেই সাধক অটল অমর হয়ে যায়
.....পাঁচ পিড়িতে বসে শিবশঙ্কর গাইছিলেন তিনটি ধারার সঙ্গম স্থল ত্রিবেণীর গান
নারীকে বাউল নদীর প্রতীক দিয়েছেন
যোনি বা জননাঙ্গ হল নারী দেহের নদী
তাঁর স্রোতপ্রবাহ রজঃপ্রবৃত্তির সমাচ্ছন্নতা
বাউল সাধনা রস-রতির মিলন
সাধনমার্গে এই মিলন আত্মার সঙ্গে আত্মার
রজের সঙ্গে বীর্যের নয়
দুই আত্মা বা সাধন শরীরের একত্র মিলনে জন্ম হয় পরমাত্মার
বাউল বলেন তাঁদের সিদ্ধদশার করনকারণ তিনদিনের
সঙ্গিনীর শরীরে রজ-উদয়ের সময়কে তারা অমাবস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে থাকেন
ওই দিনে সঙ্গিনীর শরীরে তমগুণের বিকাশ ঘটে
তম হল তামসিক ভাব
এই অজ্ঞানতা কামের বশীভূত দশা আসলে
সঙ্গিনীর এই কামের মত্ততাকে সাধক বাউল বলেন 'জীবাচার'
জীবাচারের ঊর্ধ্বে উঠে যেতে চান তারা
তাই তারা বলেন প্রকৃতি বা সঙ্গিনীর অন্তর্নিহিত সত্তাই হল রজ
পুরুষের বীর্য বা বীজ
এর মিলনে তাঁরা বিশ্বাসী
তাই জন্যই তাঁদের দেহসাধনা
কেননা তাঁদের মিলন জীবাচারের কখনও নয়-জীবাচারের মিলনে রজবীজের মিলন ঘটে দেহের ভিতরে
প্রাজ্ঞ বাউল শশাঙ্কশেখর একবার আমায় বলেছিলেন, পুরুষ পুরুষ তো নয়
জিজ্ঞাসা করেছিলাম, পুরুষ তাহলে কে?
বললেন, পুরুষ বীর্য
আর রজ হল নারী
যোনি-লিঙ্গ তাকে নারী-পুরুষ হিসাবে দেখে ঠিকই
আসলে নারী-পুরুষ কেউই তারা নয়, সবাই একেকজন হিজড়া
জিজ্ঞাসা করলাম, কী হিসাবে একথা বলছেন আপনি?
-দুই দেহেই বাবা রজ-বীর্য থাকে
তাহলে দাঁড়ায় কী না তাঁরা ছেলে, না মেয়ে
সাধনই বাবা হিজড়াকে নারী বা পুরুষের রূপে এনে দেয়
-কীভাবে আনে?
-তোমার দেহের উর্ধ্বচক্রে বীহ আছে
নিম্নে রজ
স্রোতধারা যে বয় মৈথুনে, ঊধ্বচক্রের বীজ নীচে নামে
বীজ তখন রজ হয়
সাধক রজকে রজর সঙ্গে মিশায় না কখনও
আবারও উর্ধ্বে তুলে বীজ করে দেয়
এভাবে সাধক সিদ্ধ হয়
পুরুষ হয়
.....জীবাচারে আবদ্ধ যেহেতু মানুষ তাই তাঁরা কামকে উপভোগ করেন
আমাদের কামশাস্ত্র সেই কামোপভোগকে সুন্দর সব ধারাভাষ্যেই চালিত করেছে
আর তা করতে গিয়ে পুরুষ বিভাগ এসেছে - 'শশো বৃষোহশ্ব ইতি লিঙ্গতো নায়কবিশেষাঃ
' পুরুষের লিঙ্গমাপ অনুসারে তাকে শশ, বৃষ ও অশ্ব-এই তিনভাগে ভাগ করা হয়
যেসব পুরুষের লিঙ্গের দৈর্ঘ্য ছোট তাদের শশকের রূপ দেওয়া হচ্ছে
মধ্যম লিঙ্গ ধারণের অধিকারী পুরুষ বৃষ
আর দৈর্ঘ্যের দিক থেকে বারো আঙুল পরিমাপক যে লিঙ্গ ধারণের অধিকারী পুরুষ তিনি অশ্ব শ্রেণির বাৎস্যায়ন এখানে বোধহয় যথেষ্ট বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন লিঙ্গ পরিমাপক স্যাংখ্যিক হিসাব আনতে
শশ = ছয়, বৃষ = নয়, অশ্ব = বারো
আদতে শেষ দুটো যথেষ্ট রকম বাড়াবাড়ির
পর্ণগ্রাফি এই মাপকে অবশ্য গ্রহণ করে মনোরঞ্জন করছে
নীল ছবিতে তাই এখন ঠাঁই হয়েছে বাৎস্যায়নের বৃষ ও অশ্ব পুরুষের
নারীর তিনটি ভাগ হল-'নায়িকা পুনমৃগী বড়বা হস্তিনী চেতি
' নায়িকাও আবার পশুদের সঙ্গে উপমা অনুসারে তিন ধরণের হয়ে থাকে-মৃগী, বড়বা বা ঘোটকী, হস্তিনী
লিঙ্গের দৈর্ঘ্য অনুসারে ভেদ-সূচিত তিন প্রকারের পুরুষ আর নারীর এই পরিমাপকে যোনির সেই ছয়, আট, বারো আঙুল মাপকেই সামনে আনা হয়েছে
চওড়াতে তাকে স্যাংখ্যিক পরিমাপকের আধার দেওয়া হয়েছে
মিলনে সুখদায়ক অনুভূতির জন্যই কামশাস্ত্রের নির্দেশিকা সব
সেজন্যই শশ শ্রেণীর পুরুষের সঙ্গে মৃগী, বৃষর সঙ্গে বড়বা, অশ্বর সঙ্গে হস্তিনীর মিলন বেঁধে দেওয়া হয়েছে
নারীদের ক্ষেত্রেও শেষ দুই শ্রেণীর বিভাজনকে নীল ছবি পুরোপুরি গ্রহণ করেছে
চৌষট্টি কলার উল্লেখ আছে কামশাস্ত্রে
মিলনের সময় আলিঙ্গনাদিকে চৌষট্টি প্রকার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে - 'আলিঙ্গন-চুম্বন-নখচ্ছেদ্য-দর্শনচ্ছেদ্য-সম্বেশন সৌকৃত-পুরুষায়িতৌ-পরিষ্টকানাদ্মষ্টানমষ্টধা
' আলিঙ্গন, চুম্বন, নখ দিয়ে আঘাত করা, দাঁত দিয়ে উত্তেজনা জাগানো, অঙ্গমর্দন করা, উত্তেজিত অবস্থাতে সাড়া দেওয়া, মিলন, চূড়ান্ত পর্বের পর স্থিতাবস্থা-এই আট প্রকার ভেদের প্রত্যেকটির আট ভাগের উপবিভাগ করে চৌষট্টি কলার কথা বলা হয়েছে
তবে একথারও উল্লেখ আছে যে, মিলনে সব সময়ই যে চৌষট্টিটি দশার সূত্রপাত ঘটবে এরকম কোনো কারণ নেই
বিশেষণ হিসাবে বলা হয়েছে সপ্তপর্ণ অর্থাৎ কিনা ছাতিম গাছের প্রত্যেক পল্লবেই যে সাতটি করে পাতা থাকবে বা পূজা সবসময় যে পঞ্চাপচারে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা যেমন নেই তেমনই মিলনে যে সব সময় এই চৌষট্টিকলার প্রয়োগ ঘটবে এরও কোনো মানে নেই
পদাবলি আমাদের কিন্তু চৌষট্টি নায়িকার সন্ধান দিয়েছে
আবার আমরা চৌষট্টি রসের কীর্তনের সম্বন্ধেও কিন্তু অবহিত আছি
বৈষ্ণবীয় আচরণে চৌষট্টি প্রকার সেবারও উল্লেখ পাই
বৌদ্ধ-সহজিয়াতেও চৌষট্টি পাপড়ির পদ্মের কথা উল্লেখ আছে
আমাদের শরীরস্থ যে সপ্তম পদ্মচক্র তাঁর দলকেও কিন্তু চৌষট্টিদল বিশিষ্ট হিসাবে দেখানো হয়েছে
বাউলও তাঁর গানে চৌষট্টির প্রতীককে সামনে এনেছেন
মানবদেহকে কোলকাতার সঙ্গে তুলনা করে পদকর্তা বলেছেন: 'তাঁর বাইরে আলো ভিতরে আঁধার / মানবদেহ কলিকাতা অতি চমৎকার / চৌষট্টি গলির মাঝে ষোলোজন প্রহরী আছে / তিনশত ষাট নম্বরে হয় রাস্তা বাহাত্তর হাজার
' চৌষট্টি গলি হল রক্তবাহী প্রধান ধমনী, তা সংখ্যারূপ