content
stringlengths
0
129k
অর্থ : 'হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই
মাতাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই
কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই
আর দূরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে আপনার আশ্রয় চাই
তিরমিজিতে এসেছে, আরও একটি দোয়া পড়তে বলেছেন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ وَ الْاَدْوَاءِ
উচ্চারণ : 'আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ'মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি
অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ (নষ্ট-বাজে) চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং বাজে অসুস্থতা ও নতুন সৃষ্ট রোগ বালাই থেকে আশ্রয় চাই
' _সূনানে তিরমিজি
ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তান হবার কারনে জীবনে নানা অজানা অনুভূতির ভেতর দিয়ে পথ চলতে হয়েছে আমাকে
গতকালও একজন কলিগ বলে বসলেন, "আপনি তো বেশ ভাগ্যবান, ফ্যামিলির ঝুট ঝামেলা থেকে বেঁচে গেলেন
" উনার সুক্ষ খোঁচা বুঝেও সিঙেল মাদারের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা আমি নিশ্চুপ ছিলাম
বয়স যখন কম ছিলো, তখন নানান জনের বাঁকা কথায় চোখ জলে ভাসতো
এখন সবই গায়ে সয়
তবুও আজ মনটা ভীষন ভার, যেনো শতমণ ওজনের পাথর বুকে বইছি
কিছুতেই ঘুম আসছেনা
পাশ ফিরলাম
ঘরের মৃদু আলোয় ইরার ঘুমন্ত মুখটা দেখে ভেতরটা কেমন হু হু করে উঠলো
মাত্র মিনিট তিরিশ আগেই ঘুমিয়েছে ও
ইনসম্নিয়ার সমস্যাটাও ইদানিং বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে
রাত নিশ্চই এখন অনেক
ক'টা বাজে দেখতে মোবাইল ফোনটা হাতে নিলাম
তিনটা বেজে সাতাশ মিনিট
ফোনটা সাইড টেবিলে রাখতে যাবো ঠিক তখনই, রাতের নিশ্ছিদ্র নীরবতায় ঝংকার দিয়ে বেজে উঠলো যন্ত্রটা
এই শেষ রাতে কার মনে পড়লো আমার কথা? স্ক্রিনে ভেসে উঠলো অচেনা নাম্বার
অপরিচিত নাম্বার থেকে আজকাল আর তেমন একটা কল আসেনা
তবুও সবুজ বোতামে দ্বিধাজড়িত আঙুল ছুঁইয়ে বললাম,
ওপাশ থেকে কান্না জড়িত পুরুষ গলায় একজন বলে উঠলেন,
- আপনি কি আতিক বলছেন? আতাহার আহমেদ কিছুক্ষন আগে ইন্তেকাল করেছেন
চিনেছেন তো উনাকে? ফরিদপুরের এডভোকেট আতাহার সাহেব
বাড়ির নাম মাধবীলতা
আমি কি বলবো ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা
হাত পা অবশ হয়ে আসছে
মুহুর্তেই যেনো বাকশক্তি লোপ পেয়েছে
আমার কন্ঠের সাড়া না পেয়ে ওপাশ থেকে ক্রমাগত হ্যালো হ্যালো করে যাচ্ছেন উনি
আমি উনাকে চিনিনা
আচ্ছা উনি কি হন আমার? আমাকে নিরুত্তর দেখে উনি এবার কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললেন,
- কাল বাদ জুমা জানাজা
আপনি কি আসবেন? আমি ঠিকানা মেসেজে পাঠিয়ে দিচ্ছি
এবার আর নির্বাক থাকাটা নিজের কাছে অশোভন মনে হলো
- দেখি, আমি যোগাযোগ করবো
ওনার গলায় যেনো কান্নার রেশ স্বজোরে ছড়িয়ে পড়লো
- উনার শেষ ইচ্ছে ছিলো, আপনি যেনো তার জানাজায় সামিল হন
শেষবার তাকে কবরে শুইয়ে দিয়ে আসেন
বুঝতে পারছিলাম, এই দুই বাক্য বলতেই ভদ্রলোক বাঁধভাঙা কান্নায় হিমশিম খাচ্ছেন
গলার ভেতরে বসত করা তীব্র ইচ্ছেটাকে আর দমিয়ে না রেখে জিজ্ঞেস করলাম,
- আচ্ছা, আপনার নামটা? মানে যদি যোগাযোগ করতে চাই তখন
- আমার নাম আসিফ
আসিফ আহমেদ
আমার নাম্বারটা সেইভ করে রাখুন
রাখছি এখন
কথা শেষে নিশ্চুপ হয়ে বসে রইলাম কিছুক্ষন
এভাবে ঠিক কতক্ষণ বসে ছিলাম জানিনা
মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনিতে সম্বিৎ ফিরলো
আম্মা নিশ্চই এতক্ষনে উঠে গিয়েছেন
বাইরে আলো ফোটার এখনো অনেক দেরী
রুমে উঁকি দিয়েই দেখি আম্মা জায়নামাযে বসে
সবেমাত্র সালাম ফিরিয়েছেন
খবরটা জানাবো কি জানাবোনা এই নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছি
কাছে গিয়ে পাশে বসলাম
ছুটির দিনে এত ভোরে উঠতে অভ্যস্ত নই আমি
তিনি জানেন সেকথা
একমনে দোয়া দরুদ পড়ছেন
চোখের ইশারায় কাছে যেতে বললেন
- এদিকে আয়, ফুঁ দিয়ে দেই
আমি শান্তভঙিতে মাথা নিচু করে কাছে গেলাম
- আম্মা, একটা কথা ছিলো
ভীষণ জরুরী
- কাল রাতে ঘুমোসনি নাকি? ভোরবেলা আবার কি এমন জরুরী কথা মনে পড়লো?
আম্মার চোখে মুখে উৎকন্ঠা ভেসে উঠলো
আমি পরবর্তী অবস্থার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করছি
আম্মা কিভাবে ব্যাপারটা সামলে নেন
কিংবা আদৌ সামলে নিতে পারেন কিনা
তাই ভেবে আমার অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে
আমি গলার স্বর সর্বনিম্নে নামিয়ে আম্মার মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম,
- এডভোকেট আতাহার আহমেদ আর বেঁচে নেই
ঘন্টা খানেক আগে মারা গিয়েছেন
আম্মার চোখের কর্ণিয়ায় হীরের কণার মতো বিচ্ছুরিত হতে শুরু করেছে নোনা জল
কিন্তু তিনি সে জলকে চোখের সীমানা প্রাচীর ডিঙোতে দিলেননা
সমস্ত কৌতুহল দমন করে নিশ্চুপ বসে রইলেন
আমিই কথা চালিয়ে নিয়ে গেলাম
- যিনি আমাকে খবরটা জানিয়েছেন, তিনি সম্ভবত ওনার আত্নীয়
আমাকে কাল যেতে বলছেন ফরিদপুর
আমি কি যাবো আম্মা? এবারও আম্মা প্রত্যুত্তর করলেন না
জানলার বাইরে ভোরের নরম আলোর রোশনাইতে ঘরময় স্নীগ্ধ একটা আবেশ ছড়িয়ে পড়েছে
সেই আবেশে আম্মার শোকাতুর মুখটাকে মনে হচ্ছে একটা জীবন্ত এপিটাফ
প্রানের স্পন্দন আছে কিন্তু তাতে জীবনের আনন্দ নেই
হাওয়াই মিঠাই রঙের সুতি ওড়নায় আবৃত আম্মার মুখাবয়ব
লম্বাটে মুখটাতে অস্বচ্ছ মার্বেলের মতো চোখদুটো আমার দৃষ্টি থেকে পালাতে চাইছে বারবার
শুকনো ঠোঁট জোড়া নড়ে উঠছে থেকে থেকে
আয়াতুল কুরসি পড়ছেন
পড়া শেষে আমার সর্বাঙ্গ এ মৃদু ফুঁ বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
- যাওয়া না যাওয়া তোর ইচ্ছে
তবে মানুষের ইচ্ছের মুল্য দেয়া উচিৎ
আম্মার কথাটা যেনো সেকেন্ডে তিন লক্ষ মিটার গতিতে মস্তিস্কে ঘুরপাক খেতে লাগলো
'ইচ্ছের মুল্য' এই শব্দ দুটি যে বড় চেনা আমার
জন্মাবধি নিজের ইচ্ছেগুলোকে মুল্য না দিয়ে বরং জলাঞ্জলি দিতেই শিখেছি
ক্লাস সিক্সে যখন হাল ফ্যাশনের একজোড়া জাম্প কেডসের আবদার করেছিলাম
তখন এগারো বছর বয়েসী আমাকে শেখানো হয়েছিলো কিভাবে অদম্য ইচ্ছেগুলোকে শামুকের মত শক্ত খোলসে গুটিয়ে ফেলে নিঃশ্বাস নিতে হয়
একবার মাঘের শীতে আম্মার কাছে ব্যাডমিন্টনের র‍্যাকেট আর শাটলকক কেনার টাকা চেয়েছিলাম,পাইনি