content
stringlengths
0
129k
সোমবার এই ঘটনায় জেলার সহকা‌রী সি‌ভিল সার্জন‌কে প্রধান ক‌রে তিন সদস্যবি‌শিষ্ট তদন্ত ক‌মি‌টি জেলা সিভিল সার্জনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে
তদন্তে দেখা যায়, তিনি অন্তত ৩০ জন টিকা গ্রহীতাদের শরীরে সিরিঞ্জ পুশ করে ভ্যাকসিন না দিয়ে তা বের করে ফেলে দিচ্ছিলেন
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিন সে সময় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হাসপাতা‌লে অনেক মানুষ টিকা নি‌তে আসায়, সেখা‌নে অনেক চাপ ছিল
এতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটি ঘটে গেছে
1 |
' , :
, .
1 |
: 11-
© 2021 . | :
: .
ভারত থেকে মঈন-উদ্-দৌলা টুর্নামেন্ট খেলে দেশে ফেরত এসেছে 'বিসিসিবি একাদশ' নামের মোড়কে বাংলাদেশ দল
ফেরার পর সেই দলের অধিনায়ক নান্নু আমাকে বললেন, 'ইন্ডিয়া ট্যুর নিয়ে আপনাকে আমি একটা ইন্টারভিউ দিতে চাই
' তৎক্ষণাৎ কাগজ-কলম নিয়ে বসে যে ইন্টারভিউ করলাম, তা প্রকাশের পর রীতিমতো তোলপাড়
১৯৯৪ আইসিসি ট্রফির জন্য বাংলাদেশ দলের কোচ হয়ে আসা মহিন্দর অমরনাথকে খুশি করতে নান্নুর ক্যাপ্টেনসি কেড়ে নেওয়া হলো
সেই ইন্টারভিউয়ের আগে-পরের গল্প
আমাকে দেওয়া নান্নুর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ইন্টারভিউটাও আরেকটি ভারত সফর থেকে ফিরে
১৯৯৪ আইসিসি ট্রফির প্রস্তুতি হিসেবে বিসিসিবি একাদশ নামে ভিন্ন দু-তিনটি দল গড়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে পাঠানো হয়েছিল
একেক দলের একেক অধিনায়ক
নান্নুর নেতৃত্বে ভারতে যাওয়া দলটি হায়দরাবাদে মঈন-উদ্-দৌলা টুর্নামেন্টে খেলার পর মুম্বাইয়ে আরও কয়েকটি ম্যাচ খেলে দেশে ফিরেছে
বাংলাদেশে ফুটবল-ক্রিকেট দুটিরই ঠিকানা তখন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম
প্রতিদিনই তাই সেখানে যেতে হয়
তখন আবার ক্রিকেটের দলবদল চলছে
ক্রিকেট বোর্ড অফিস রীতিমতো জমজমাট
তার মধ্যেই নান্নু আমাকে আলাদা করে নিয়ে বললেন, 'ইন্ডিয়া ট্যুর নিয়ে আপনাকে আমি একটা ইন্টারভিউ দিতে চাই
' একটু আড়াল খুঁজে কাগজ-কলম নিয়ে তখনই বসে গেলাম
কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার চোখ বিস্ফারিত
নান্নু তো বিধ্বংসী সব কথাবার্তা বলছেন
কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ দলের কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন মহিন্দর অমরনাথ
যাঁর ভাবসাবই আলাদা
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাই বলেন না, বোর্ড কর্মকর্তারাও তাঁর প্রবল ব্যক্তিত্বের সামনে কেঁচো হয়ে থাকেন
ক্রিকেট বোর্ডের অফিসে অমরনাথের রাজাধিরাজের মতো টেবিলের ওপর পা তুলে বসে থাকাটাও তখন রুটিন দৃশ্য
আর নান্নু কি না প্রবল পরাক্রান্ত সেই মহিন্দর অমরনাথের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ তুলছেন
সেই ইন্টারভিউটা খুঁজে বের করে নান্নুর যা ভাষ্য পাচ্ছি, তা এ রকম - অমরনাথের সঙ্গে তাঁর প্রথম লাগল সার্ভিসেস টিমের বিপক্ষে ম্যাচে, যখন টসের আগে অমরনাথ নান্নুকে বললেন, 'তুমি শুধু প্লেয়ার হিসেবে খেলো, এই ম্যাচ ক্যাপ্টেনসি করবে এনামুল হক মনি
নান্নু তখন জাতীয় দলের অধিনায়ক
স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবাদ করলেন, 'বোর্ড তো আমাকে কিছু বলেনি
ক্যাপ্টেনসি নিয়ে তোমার এমন কিছু করার রাইট নাই
অমরনাথ জবাব দিলেন, 'আমি দেখতে চাই মনি কেমন করে
' নান্নু কি আর ছাড়ার পাত্র! 'মনি কেমন করে, সেটি তুমি বোর্ডের কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে দেখো
মুম্বাইয়ে টাটার বিপক্ষে ম্যাচে আরেক কেলেঙ্কারি
বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের সময় দুই/তিন ওভার পর নিজেই মাঠে নেমে ক্যাপ্টেনসি করতে শুরু করেন অমরনাথ
ক্রিকেটারদের হাতে-কলমে ফিল্ডিং শেখাবেন বলে
কোনো অধিনায়ক এতে অপমানিত বোধ না করলে বুঝতে হবে তাঁর মান-অপমান বোধই নেই
নান্নু ওই ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন
অমরনাথের ওই কাণ্ডে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়েছে বলেও যৌক্তিক অভিযোগ তোলেন
নামেমাত্র একটা সিলেকশন কমিটি থাকলেও কার্যক্ষেত্রে মহিন্দর অমরনাথই তখন ওয়ান ম্যান সিলেকশন কমিটি
এটা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন নান্নু, 'অমরনাথ তো ঠিকমতো প্লেয়ারই চেনে না, ও কীভাবে সিলেকশন করবে?' শুধু অমরনাথই নন, দলের ম্যানেজার আলিউল ইসলামকে নিয়েও এন্তার অভিযোগ ছিল নান্নুর
ম্যানেজারের কোনো দায়িত্বই নাকি তিনি পালন করেননি
জয়পুরে বেড়াতে চলে গেছেন
সহকারী ম্যানেজার হিসেবে তানজীব আহসান সাদ ছিলেন বলে ভালোয় ভালোয় ট্যুরটা শেষ করে আসা গেছে
সাংবাদিকের জন্য স্বপ্নের ইন্টারভিউ
আমার খুশি হওয়ার কথা
কিন্তু এই ইন্টারভিউ ছাপা হলে তো আগুন জ্বলে যাবে
নান্নুও নির্ঘাত বিপদে পড়বেন
আমি তাই পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করেই নান্নুকে বললাম, 'আপনি কি সত্যিই চান, এই ইন্টারভিউটা ছাপা হোক? আপনি কিন্তু বিপদে পড়বেন
নান্নুকে ছাপার ব্যাপারে অনড় দেখে বললাম, 'ঠিক আছে, আমি লিখি
কাল আপনাকে দেখাই
তারপর আপনি যা বলবেন, তা-ই হবে
আমার সাংবাদিকতা জীবনে সেই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত শেষবারের মতো কারও ইন্টারভিউ করে সেটি আবার তাঁকে দেখানো
পরদিন ক্রিকেট বোর্ড অফিসে নান্নু ইন্টারভিউটা মাত্র পড়তে শুরু করেছেন, হুড়মুড় করে ঢুকে গেল আবাহনী সমর্থকেরা
ছয় বছর মোহামেডানে খেলার পর সেদিনই আবার আবাহনীতে যোগ দিয়েছেন
'নান্নু ভাই জিন্দাবাদ' 'নান্নু ভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম' স্লোগান দিতে দিতে সমর্থকেরা মিছিল করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল নান্নুকে
আমি পেছন পেছন একটু গিয়ে রণে ভঙ্গ দিলাম
ভিড়ের মধ্যে নান্নুকে দেখাই যাচ্ছে না, তাঁকে আর পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না
ইন্টারভিউর কপিটা কোনোমতে আগেই হাতে নিয়ে নিয়েছিলাম বলে রক্ষা
তখন তো আর মোবাইলের যুগ নয়
নান্নুর সঙ্গে যোগাযোগ করারও উপায় নেই
ইন্টারভিউটা ছাপব কি ছাপব না, সেই সিদ্ধান্ত তো হলো না
ক্রিকেট বোর্ডে তো নান্নুর আর ফেরার কথা নয়
একটু মন খারাপ করেই তাই চলে এলাম নয়া পল্টনে আমার অফিসে
এ কি, আমি যাঁর জন্য হয়রান, সে তো দেখি আমারই অপেক্ষায় স্পোর্টস সেকশনে বসে আছে
সেখানে বসেই পুরো ইন্টারভিউটা মন দিয়ে পড়লেন নান্নু
পড়ে বললেন, 'কোনো সমস্যা নেই
আমি বললাম, 'আরেকবার ভাবেন
ঝামেলা হবে কিন্তু
নান্নুকে একটুও চিন্তিত মনে হলো না, 'এটা ছাপা দরকার
আর আমাকে বাদ দিয়ে কাকে ক্যাপ্টেন করবে?'
আমি ভবিষ্যৎ ঝামেলা পূর্বানুমান করে বললাম, 'পরে যদি প্রতিবাদ পাঠিয়ে বলেন, আমি এসব কিছু বলিনি, সেটি কিন্তু হবে না
নান্নু হাসলেন, 'আরে না, আমাকে চেনেন না আপনি!' পরদিন ভোরের কাগজ-এ সেই ইন্টারভিউ ছাপা হয়ে গেল
নান্নুর কথা দিয়েই শিরোনাম, 'অমরনাথকে সিলেকশনের পুরো ক্ষমতা দেওয়া ঠিক হয়নি
' ক্রিকেট বোর্ডে স্বাভাবিকভাবেই তোলপাড়
পরদিন কলকাতার দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা 'বাংলা ক্যাপ্টেন ব্লাস্টস্ অমরনাথ' হেডিং দিয়ে চার কলামজুড়ে নিউজ ছেপে এটিকে আন্তর্জাতিক রূপ দিয়ে ফেলল
মহিন্দর অমরনাথ এই খবর পেলেন লন্ডনে বসে
মহা ক্ষিপ্ত হয়ে বোর্ড কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিলেন, নান্নুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তিনি আর বাংলাদেশে আসছেন না
অনুমিতভাবেই নান্নুকে প্রতিবাদপত্র দিতে বলা হলো
কিন্তু আমি তো আগেই বলে দিয়েছি, যা বলেছেন, পরে তা অস্বীকার করা যাবে না
যত দূর মনে পড়ে, সাবধানের মার নেই ভেবে ইন্টারভিউয়ের কপিতে নান্নুর স্বাক্ষরও নিয়ে রেখেছিলাম
তারপরও ইন্টারভিউ প্রকাশের চার দিন পর নান্নু একটা প্রতিবাদপত্র নিয়ে হাজির
নান্নু তাঁর প্রতিশ্রুতি রেখেছেন
'আমি ওসব বলিনি' জাতীয় কোনো কথাই তাতে নেই
সাক্ষাৎকারে বলা কথাগুলোর মূলে বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থা, ভাবাবেগে আক্রান্ত হওয়াই যে কারণ ছিল, এমন কিছু তাঁর স্বীকারোক্তির সঙ্গে যা যা বলেছেন, সব বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা
যেটি পড়ে আমি বললাম, 'এটি ছাপতে আমার কোনো সমস্যা নেই
আপনি তো আর বলেননি যে ইন্টারভিউয়ে যা ছাপা হয়েছে, আপনি তা বলেননি
তবে এটি পড়ার পর নিজের মনের ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ ও বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নিয়েই কিন্তু মানুষ প্রশ্ন তুলতে পারে