content
stringlengths
0
129k
আমি ভয়াবহ নার্ভাস
যাই হোক শেষ পর্যন্ত ফোন দিয়ে বসলাম
- হ্যালো ! অমি... মানে আমি না তোমার বাসার কাছে অপেক্ষা করছি
আসলে তোমাকে আগেই বলা দরকার ছিল, ঈদে সারপ্রাইজ ছিল এটা তোমার
- তুমি কি সত্যি আমাদের বাসার কাছে
- মানে.. হ্যাঁ, এই যে মোড়ের কাছে একটা দোকান আছে ওইখানে আছি
এরপর কোন কথা হয়নি, ভাবলাম রাগ করেছে কিনা
আসলে ওর বাসায় আজকে কি অবস্থা সেটা না ভেবে আসাটা একেবারেই ভাল হয়নি
যাই হোক আমি তালগাছের মত দাঁড়িয়ে আছি, বসতে টেনশন হচ্ছে
এই এক ঘণ্টায় এক প্যাকেট সিগারেট বোধহয় শেষ
মেয়েটা একটা ম্যাসেজ লিখলেও পারত
আধ ঘন্টা পর বাসার দিকে রওনা দিতে হবে
সামনে ঈদ, আমাদের সবারই বাসায় ফেরা দরকার
দেখলাম আশিক বাইক নিয়ে এসেছে..
- কিরে দোস্ত দেখা হয়নি?
- তোর মনটা কি বেশি খারাপ ?
- আচ্ছা চল কাছে একটা নদী আছে সেখানে আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি
- আচ্ছা চল
বন্ধুদের সাথে বসে মনটা একটু হালকা হয়েছে, তবে এখন আমার নিজেরই খারাপ লাগছে
এদিকে আশিক আর সবুজকে থ্যাংকস দিলে তাদের ছোট করা হয়
আজকে নদীর পাড়টা অসাধারণ লাগছে
শেষ বিকালের আলো মিশে যাচ্ছে
এদিকে বিষণ্ণ যুবক পানিতে মাঝে মাঝে ঢিল ছুঁড়ছে
দোস্ত চল, যাই ঢাকার দিকে
আমরা সবাই অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করি
কিন্তু রিয়েল লাইফে অনেক কিছুই দাগ কেটে যায়
আমরা বেশ অনেক পথ চলে এসেছি
মানুষের ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় বলে একটা জিনিস আছে
সেটা আরো একবার সত্য হল
অমি ম্যাসেজ পাঠিয়েছে
সেখানে লেখা, আমি একটু পরে বাসা থেকে নামব
তুমি কাছাকাছিই থেক প্লিজ
আমি আশিককে বললাম..... আমাদের বাইকটা অনেক জোরে ছুটছে তবে রাস্তার বিপরীত দিকে
আমাদের সবার মাঝে একটা উত্তেজনা কাজ করছে
আমি ব্যাপারটা ঠিক কল্পনা করতে পারছি না, আমার হদয়ের স্পন্দন কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে
এই অনুভূতির সাথে আমি বাতাসে ভাসতে শুরু করেছি, আকাশের অনেক উপরে !
আব্দুল্লাহ আল মামুন সম্পর্কে
আমার পুরা নাম বেশ বড় তাই ডাক নাম দিয়েই চালাই, মেহেদী
এখন ইস্তানবুলে পড়াশুনা করছি
লেখালেখি আমার ভেতরের প্রতিফলন, তবে ইদানীং সময় পাচ্ছি না...আমাকে বিস্তারিত জানার ইচ্ছা হলে বন্ধু হতে পারেন : ://../
আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সকল পোস্ট দেখুন →
এই লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে গল্প, ভ্রমণ, সাহিত্য, স্মৃতিচারণ-এ
স্থায়ী লিংক বুকমার্ক করুন
← বুক রিভিউঃ রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন
এটা গল্প হলেও পারতো...... →
3 বন্ধুদিবস
রুহশান আহমেদ বলেছেনঃ
আগস্ট 7, 2013; 11:54 অপরাহ্ন এ
শেষ হইয়াও হইলোনা শেষ...
এই ঘটনা কি কোন এক বন্ধু দিবসে?
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেনঃ
আগস্ট 8, 2013; 3:28 অপরাহ্ন এ
ঈদের আগের ঘটনা
তবে আমাদের বন্ধু সারকেলে এরকম বেশ কিছু নজির আছে
আমি তখন ইস্তানবুল
বাস্তবতা আরো বেশী সুন্দর ছিলো
আমাদের জন্য সেই দিনটাই তাই বন্ধু দিবস
শ্রাবণের মেঘগুলো পুরো আকাশকে যেন কাল চাদরে মুড়িয়ে রেখেছে
এই যে দুদিন ধরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে থামবার জো নেই
আজকে দুপুরের পর আর ল্যাব নেই
তাই রুম্পা কলেজ থেকে তাড়াতাড়িই ফিরেছে
বারান্দার গ্রিল বেয়ে টুপটুপ করে পানি পড়ছে আর রুম্পা একমনে তা আঙুল দিয়ে মুছে যাচ্ছে
মনটা ভীষণ খারাপ তার
না, সিরিয়াস কিছু হয়নি
রুম্পার বেস্ট ফ্রেন্ড পলির সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে
এক পর্যায়ে পলি বলেছে সে রুম্পাকে এতদিন ভুল চিনেছে, আর কখনও যেন রুম্পার মুখও দেখতে না হয় তার
'পলির মাথা এমনিতেই গরম থাকে প্রায়ই
হয়তো কি বলতে কি বলেছে...', মাকে থামিয়ে দিয়ে রুম্পা বলল, 'তুমি কিছু বুঝ না
পলি এই পর্যন্ত কখনও ওভাবে কথা বলেনি
' 'কি জানি বাবা
আজকালকার ছেলেমেয়েরা কি ভাবে, কি নিয়ে ঝগড়া করে, কি নিয়ে মন খারাপ করে অত কিছু বুঝি না
শুধু বুঝি তুই শুধুশুধু মন খারাপ করছিস
' 'যাও তো মা
তুমি কিছু বুঝ না
তুমি শুধু তোমার রোগী আর হাসপাতালই বুঝ'- রুম্পার কথায় অভিমান ঝরে পড়ে
রুম্পার মা মুচকি হেসে প্রস্থান করেন
বিকালের পর থেকে রুম্পার মা চেম্বারে বসেন
বাসা থেকে সেই চারটার সময় বেরোন আর ফিরতে ফিরতে বেজে যায় রাত ১১টা কি ১২টা
রুম্পার বাবা চাকরিসূত্রে শহরের বাইরে থাকেন
কলেজ থেকে ফেরার পর রুম্পাকে একরকম একাই থাকতে হয়
তবু আজকে ভাল লাগছে না
মনটা অনেক বেশিই খারাপ হয়ে আছে
শুধু যে পলির সাথে ঝামেলা হয়েছে তা নয়, গত টার্মের রেজাল্টও ভাল হয়নি
সব মিলিয়ে অনেক টেনশন রুম্পার
কি করা যায়?
খুব বাইরে বেরোতে ইচ্ছা করছে
কিন্তু উপায় নেই
যেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে বাইরে গেলে কাকভেজা হতে হবে
ঘরে ঢুকে কেবল একোণ ওকোণ তাকায় রুম্পা
জানালার কাছে শূন্য ক্যানভাস পড়ে আছে
হ্যাঁ, মন খারাপ হলে রুম্পা ছবি আঁকে
আজও সে সেই ক্যানভাসের দিকে এগিয়ে গেল
রঙের প্যালেট, রঙ আর তুলি
'মন খারাপ হলে এই রঙ আর তুলির আঁচরে ক্যানভাসটা রাঙাবি
দেখবি কত ভাল লাগে
আরে! ক্যানভাসটাই যে আমাদের মন
' হুম, নানাভাইয়ের কথা বেশ মনে পড়ছে
রুম্পা মনে মনে ভাবে, 'নানাভাই তুমি কোথায় চলে গেলে? তুমি ছাড়া আমাকে কেউ ঠিকমত বুঝে না
' প্রায় বছর ছয়েক হল রুম্পার নানা শরীফ সাহেব মারা গেছেন
বলা যায়, ব্যস্ত বাবা-মার একমাত্র সন্তান হিসেবে রুম্পার খেলার সাথী, স্কুলের যতরকম, 'যা খুশি তাই' গল্পের একমাত্র শ্রোতা, পার্টনার অফ ক্রাইম- সবই ছিলেন শরীফ সাহেব