content stringlengths 0 129k |
|---|
৩- ডিফেন্স টক |
৪- মিলিটারি হিস্ট্রি নাও () |
: |
২২ জুলাই, ২০১৭ |
ইতিহাস, ইসলামিক প্রবন্ধ |
বাইতুল মুকাদ্দাসের ইতিবৃত্ত |
জুলাই ২২, ২০১৭ |
মসজিদুল আকসা |
অতি প্রাচীন এক নগরী |
বিশ্বাসী মানুষদের প্রিয় নাম |
পৃথিবীতে এটি একমাত্র শহর যাকে দু'টি বিবাদমান রাষ্ট্র নিজেদের রাজধানী বলে দাবী করে |
ফিলিস্তিন ও ইসরাঈল উভয়েরই রাজধানী জেরুজালেম |
আর এই শহরের বিখ্যাত ও প্রাচীন মসজিদ বাইতুল মুকাদ্দাস |
এই মসজিদকে আল আকসাও বলা হয় |
আকসা মানে দূরবর্তী |
মক্কা থেকে দূরের মসজিদ বুঝানোর জন্য আল আকসা বলা হয় |
এটি মুসলিমদের প্রথম কিবলা |
এছাড়া আল্লাহর রাসূল সা. মিরাজ যাওয়ার সময় এই মসজিদে নামাজ পড়েন |
জেরুজালেম ইসরাঈল ও ফিলিস্তিনের সীমান্তে অবস্থিত |
এর পূর্বে মৃত সাগর এবং পশ্চিমে ভুমধ্যসাগর অবস্থিত |
পুর্ব দিকের অল্প কিছু অংশ ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণে আর পুরো শহর ইসরাঈলের অধীনে |
শহর ইসরাঈলী নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মসজিদটি জর্ডানি/ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন ইসলামি ওয়াকফের তত্ত্বাবধানে রয়েছে |
এই মসজিদে মুসলিমরা এখনো সালাত আদায় করেন |
তবে প্রায়শই ইসরাঈলী নিরাপত্তা রক্ষীরা নানা ধরণের বিধি নিষেধ আরোপ করে |
এই নিয়ে সংঘাত নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার |
মুসলমানদের কাছে জেরুসালেম শহর আল কুদস নামে পরিচিত |
কুদস শব্দের অর্থ পবিত্র |
জেরুজালেম শহরে মুসলমান, ইহুদী, খ্রিষ্টানের ধর্মীয় উপাসনালয়ের কারণে এখানে বহু পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর আগমন ঘটে |
হযরত ইসা(আঃ)এর জন্মও এই জেরুজালেম শহরে |
এখানে মসজিদে আকসা ব্যতীত আরও ৩৫ টি মসজিদ আছে |
কুরআনে জেরুজালেম শহরকে বরকতময় ও পবিত্র ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ্ বলেন, |
"পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি,যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই |
নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল |
-সূরা আল ইসরাঃ১ |
এখানে মসজিদে আকসার চারদিক বলতে জেরুসালেম শহরকেই বুঝানো হয়েছে |
রাসূল সাঃ বলেন আল কুদসের এমন কোন জায়গা খালি নেই যেখানে একজন নবী সালাত আদায় করেননি বা কোন ফিরিশতা দাঁড়াননি |
(তিরমিজি) |
রাসুল মুহাম্মাদ সা. যখন মক্কায় ছিলেন তখন সালাত আদায় করার সময় তার সামনে কা'বা এবং আকসা দুটোই থাকতো |
কিন্তু তিনি যখন মদিনা হিজরত করলেন, তখন মক্কা পড়ে গেল একদিকে, আর আকসা পড়ে গেল আরেকদিকে |
যার ফলে তিনি যখন আকসামুখী হয়ে সালাত পড়তেন, তখন কা'বা থাকতো তাঁর পেছন দিকে |
নিচের মানচিত্র লক্ষ্য করলে সহজেই বুঝতে পারবেন |
এখানে জেরুজালেম, মদিনা ও মক্কাকে লাল বৃত্ত দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে |
আল্লাহর রাসূল সাঃ কা'বাকে খুব ভালবাসতেন |
কারণ এই কা'বার জন্যই সারা বিশ্বে কুরাইশরা ছিল সম্মানিত |
কা'বার প্রতি টানের কারণে তিনি সালাতে মাঝে মাঝেই আকাশের দিকে নির্বাক হয়ে তাকাতেন |
যদিও তিনি মুখে কিছু বলতেন না, কিন্তু তিনি মনে মনে চাইতেন আল্লাহ যেন কা'বাকে কিবলা করে দেন |
আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তায়ালা তাঁর এই অব্যক্ত চাওয়া পূরণ করলেন |
সূরা আল-বাকারাহ'র আয়াত নাজিল হলো |
আকসা থেকে কিবলা ঘুরে গেল কা'বার দিকে |
আল্লাহ বলেন, আমি অবশ্যই দেখেছি তোমাকে বার বার আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে |
তাই আমি তোমাকে সেই কিবলা দিলাম, যা তুমি পছন্দ করো |
এখন তুমি মাসজিদুল-হারাম-এর (কা'বা) দিকে মুখ করো |
তোমরা যেখানেই থাকো না কেন এর দিকে মুখ করো |
যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তারা খুব ভালো করে বোঝে যে, এটি তাদের প্রভুর কাছ থেকে আসা সত্য |
ওরা কী করে সে ব্যাপারে আল্লাহ বেখেয়াল নন |
-সূরা আল-বাকারাহ ১৪৪ |
বাইতুল মুকাদ্দাসের নির্মাণ |
অনেকে মনে করেন বাইতুল মুকাদ্দাস হযরত সুলাইমান আঃ তৈরী করেছেন |
ব্যাপারটা ঠিক নয় |
হযরত নবী ইব্রাহিম (আঃ) এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করছিলেন |
শুরুর কথাঃ |
খ্রিষ্টপূর্ব ২১৭০ সালে কা'বা নির্মাণের চল্লিশ বছর পর এটি প্রতিষ্ঠা করেন |
এই প্রসঙ্গে হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেন, আবূ যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! পৃথিবীতে কোন মসজিদটি সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল? তিনি বললেন, মসজিদুল হারাম |
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোনটি |
তিনি বললেন, আল মাসজিদুল আকসা বা বায়তুল মাকদিস |
আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, এ দু'টি মাসজিদের নির্মাণকালের মধ্যে ব্যবধান কত? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর |
(সহীহ মুসলিম) |
ইব্রাহিম আঃ এর দুই পুত্রের একজন ঈসমাইল আঃ থাকতেন মক্কায় আর ইবাদত করতেন কা'বায় আর অন্য পুত্র ইসহাম আঃ থাকতেন জেরুজালেমে আর ইবাদত করতেন বাইতুল মুকাদ্দাসে |
তবে হজ্ব পালন করতেন মক্কায় গিয়েই |
পরবর্তীতে ইসহাক (আঃ) এর দ্বিতীয় পুত্র ইয়াকুব (আঃ) এই অঞ্চলের বিশ্বাসীদের জন্য ইবাদতের স্থান হিসাবে এটিকে বর্ধিত করেছিলেন |
আরো পরে খ্রিষ্টপূর্ব ১০০৪ সালে সুলায়মান (আঃ) এই মসজিদটির নান্দনিক স্থাপনা তৈরি ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেন |
মুসলমানরা বিশ্বাস করে এই কাজে তিনি জ্বীনদেরকে নিয়োগ করেছিলেন এবং সেখানে আল্লাহ "গলিত তামার ঝরণা" প্রবাহিত করেছিলেন |
এই ব্যাপারে সূরা সাবার ১২ ও ১৩ আয়াতে ইঙ্গিত রয়েছে |
এরপর খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮৬ ব্যবিলনের সম্রাট দ্বিতীয় নেবুচ্যাডনেজার সুলায়মান (আঃ) এর তৈরি স্থাপত্যগুলি ধ্বংস করে |
এরপর খ্রিস্টপূর্ব ৫১৬ সালে সেখানে হেরড সেকেন্ড টেম্পল তৈরী করে |
ইহুদীরা সুলাইমান আঃ এর বাইতুল মুকাদ্দাসকে সুলেমানের টেম্পল বলে |
তাই হেরডের টেম্পলকে সেকেন্ড টেম্পল বলে |
ইহুদীরা জেরুজালেমে হজ্বের মত করে আচার অনুষ্ঠান পালন করতো |
তাদের পূর্ব পুরুষদের মত মক্কায় যাওয়া বন্ধ করে দেয় |
৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমানরা জেরুজালেমে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় |
সেসময় এই মন্দির ক্ষতিগ্রস্থ হয় |
এরপর নানান উত্থান-পতন হয় জেরুজালেমে |
জেরুজালেম মুসলিম শাসনের আগ পর্যন্ত আর তার জৌলুশ খুঁজে পায়নি |
জেরুজালেম বিজয়ঃ |
৬৩৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মুসলিম সৈন্যরা জেরুজালেমের কাছাকাছি চলে আসে |
তখন জেরুজালেমের দায়িত্বে ছিলেন বাইজেন্টাইন সরকারের প্রতিনিধি ও স্থানীয় খ্রিস্টান গীর্জার প্রধানঃ যাজক সোফ্রোনিয়াস |
খালিদ ইবন আল-ওয়ালিদ (রাঃ) এবং আম্র ইবন আল-আস্ (রাঃ) এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শহর পরিবেষ্টন করা শুরু করলেও উমর (রাঃ) নিজে এসে আত্মসমর্পণ গ্রহণ না করলে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানান যাজক সোফ্রোনিয়াস |
এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে উমর ইবন আল-খাত্তাব (রাঃ) একাই একটি উট এবং এক চাকরকে নিয়ে মদীনা ছেড়ে জেরুজালেমের উদ্দেশে যাত্রা করেন |
জেরুজালেমে সোফ্রোনিয়াস তাঁকে স্বাগত জানান |
মুসলিমদের খলিফা, তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি উমর (রাঃ) ছিলেন খুব সাধারণ মানের পোষাকে |
তাঁকে ও ভৃত্যের মধ্যে কে উমর তা আলাদা করা যাচ্ছিলনা |
এ অবস্থা দেখে সোফ্রোনিয়াস খুবই বিস্মিত হন |
এরপর উমর (রাঃ) কে পবিত্র সমাধির গীর্জাসহ পুরো শহর ঘুরিয়ে দেখানো হয় |
নামাজের সময় হলে সোফ্রোনিয়াস তাঁকে গীর্জার ভেতর নামাজ আদায় করার আমন্ত্রণ জানান, কিন্তু উমর (রাঃ) তা প্রত্যাখ্যান করেন |
তিনি বলেন, যদি তিনি সেখানে নামাজ আদায় করেন তাহলে পরবর্তীতে মুসলিমরা এই অজুহাত দেখিয়ে গীর্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করবে - যা খ্রিস্টান সমাজকে তাদের একটি পবিত্র স্থান থেকে বঞ্চিত করবে |
বরং উমর (রাঃ) গীর্জার বাইরে নামাজ আদায় করেন যেখানে পরবর্তীতে একটি মসজিদ নির্মিত হয় (যা "মসজিদে উমর" নামে পরিচিত) |
উমর (রাঃ) এর চুক্তিনামাঃ |
ইতিপূর্বে জয় করা শহরগুলোর মতো জেরুজালেমেও মুসলিমদের একটি চুক্তিনামা লিখতে হয় |
চুক্তিনামাটি ছিল জেরুজালেমের সাধারণ জনগণ এবং মুসলিমদের নাগরিক অধিকার এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়ে |
চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করেন উমর (রাঃ) ও যাজক সোফ্রোনিয়াস, এবং মুসলিম বাহিনীর কতিপয় সেনাপতি |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.